(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الأصفهانية   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح العقيدة الأصفهانية

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728 هـ)

المحقق: محمد بن رياض الأحمد

الناشر: المكتبة العصرية - بيروت

الطبعة: الأولى - 1425 هـ

عدد الصفحات: 228

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 محرم 1433

শারহুল আকিদাহ আল-আস্ফাহানিয়্যাহ   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: শারহুল আকিদাহ আল-আস্ফাহানিয়্যাহ

লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আবদুল হালিম ইবনে আবদুল সালাম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবুল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ বিন রিয়াদ আল-আহমাদ

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম - ১৪২৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ মুহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

بسم الله الرّحمن الرحيم إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102) «1».

يا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ واحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْها زَوْجَها وَبَثَّ مِنْهُما رِجالًا كَثِيراً وَنِساءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسائَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحامَ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً (1) «2».

يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيداً (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً (71) «3».

أما بعد فإن أصدق الحديث كلام الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشرّ الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار، وبعد:

فهذا تعليق لطيف على كتاب شرح العقيدة الأصفهانية، لشيخ الإسلام ومفتي الأنام أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية الحرّاني الدمشقي رحمه الله تعالى وأسكنه فسيح الجنة.

وقد حوى الكتاب- على صغر حجمه- دررا كثيرة، وفوائد جمة من كلام شيخ الإسلام في نصرة العقيدة الصحيحة، عقيدة أهل السنّة والجماعة، والرد على ضلالات وأهواء أهل البدع، وتفنيد شبهاتهم، ودحض أباطيلهم، بأسلوب ماتع كما هي عادته رحمه الله تعالى.

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: 102.

(2) سورة النساء، الآية: 1.

(3) سورة الأحزاب، الآيتان: 70، 71.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২) «১»।

হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং সতর্ক থাকো রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা বন্ধন ছিন্ন করা হতে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন। (১) «২»।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল। (৭১) «৩»।

অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হচ্ছে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতা হলো জাহান্নামে। অতঃপর:

এটি শায়খুল ইসলাম ও নিখিল বিশ্বের মুফতি আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আদ-দিমাশকী (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর 'শারহু আকীদা আল-আস্পাহানিয়্যাহ' গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত টীকা। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে আসীন করুন।

গ্রন্থটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও শায়খুল ইসলামের বক্তব্যের বহু মুক্তা ও প্রচুর উপকারিতা ধারণ করেছে; যা সঠিক আকিদা—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার—সমর্থনে এবং বিদআতিদের পথভ্রষ্টতা ও কুপ্রবৃত্তির খণ্ডনে, তাদের সন্দেহ নিরসনে এবং বাতিল মতবাদ খণ্ডনের ক্ষেত্রে রচিত। এটি তাঁর চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী শৈলীতে রচিত হয়েছে (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১।

(৩) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০, ৭১।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ولأهمية هذا الكتاب وعظم فوائده استخرت الله تعالى في خدمته، فضبطت نصّه وخرّجت أحاديثه وعلقت عليه بما يسره الله تعالى.

هذا وأسأل الله تعالى بأسمائه الحسنى وصفاته العلى، أن يرحم شيخ الإسلام ابن تيمية وجميع علمائنا ومشايخنا رحمة واسعة ويعلي درجتهم في الجنان.

كما أسأله سبحانه وهو الرحمن الرحيم، أن يغفر للمسلمين والمسلمات، المؤمنين والمؤمنات، الأحياء منهم والأموات، إنه جواد كريم.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

وصلّى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

وكتب

محمد بن رياض الأحمد

كان الله معه بمنه وكرمه
এই গ্রন্থের গুরুত্ব এবং এর সুমহান উপকারিতার কথা বিবেচনা করে আমি এর খিদমতে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি; অতঃপর আমি এর মূল পাঠ সংশোধন ও পরিমার্জন করেছি, হাদীসসমূহের উৎস নির্দেশ করেছি এবং আল্লাহ তাআলা যা সহজ করেছেন সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টীকা সংযোজন করেছি।

অতঃপর আমি মহান আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ এবং তাঁর সুউচ্চ গুণাবলির উসিলায় তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং আমাদের সকল আলিম ও মাশায়েখগণকে প্রশস্ত রহমত দ্বারা সিক্ত করেন এবং জান্নাতে তাঁদের মাকাম সুউচ্চ করেন।

আমি পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নিকট আরও প্রার্থনা করছি, তিনি যেন সকল মুসলিম ও মুমিন নর-নারীকে ক্ষমা করেন—তাঁদের মধ্যে যারা জীবিত এবং যারা মৃত। নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও মহানুভব।

আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো—সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

ইতি—

মুহাম্মাদ ইবন রিয়াদ আল-আহমাদ

আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় তাঁর সহায় হোন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ترجمة المصنف «1»

‌‌أوّلا اسمه ونسبه ومولده

هو: شيخ الإسلام، تقي الدين أبو العباس، أحمد ابن الشيخ الإمام العلامة شهاب الدين عبد الحليم، ابن الإمام العلامة مجد الدين أبي البركات عبد السلام ابن أبي محمد عبد الله، ابن أبي القاسم الخضر بن محمد بن الخضر بن علي بن عبد الله بن تيمية الحرّاني.

وتيمية: يقال إنها أم جده محمد، وكانت واعظة، فنسب إليها، وعرف بها، ولهذا أطلق على هذه الأسرة «آل تيمية».

ولد شيخ الإسلام بحران، يوم الاثنين عاشر، أو ثاني عشر ربيع الأول سنة 661 هـ.

وبعد أن هجم التتار على بلده وعاثوا فيها فسادا سافر به والده مع إخوته إلى الشام فوصل دمشق سنة 667 هـ، واستقر بها.

 

‌‌ثانيا نشأته، وبداية حياته العلمية

نشأ شيخ الإسلام في بيت علم، ودين، فقد كان جده الشيخ مجد الدين أبو البركات من كبار علماء الحنابلة، وفقهاء مصر، تفقه على يد عمه فخر الدين الخطيب. قال عنه شيخ الإسلام: «كان الشيخ جمال الدين ابن مالك يقول: ألين للشيخ المجد الفقه كما ألين لداود الحديد» وقال أيضا: «كان جدنا عجبا في سرد المتون وحفظ مذاهب الناس وإيرادها بلا كلفة» اه، وقال عنه الذهبي: «تفقه،

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة كتاب الفتوى الحموية الكبرى لشيخ الاسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى، تحقيق الشيخ حمد التويجري حفظه الله تعالى ونفع بعلومه.
গ্রন্থকারের জীবনী «১»

‌প্রথমত: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম

তিনি হলেন: শাইখুল ইসলাম, তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন শাইখুল ইমামুল আল্লামা শিহাবুদ্দীন আব্দুল হালীম বিন ইমামুল আল্লামা মাজদুদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুস সালাম বিন আবি মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম আল-খিদর বিন মুহাম্মাদ বিন আল-খিদর বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী।

আর 'তাইমিয়্যাহ': বলা হয়ে থাকে যে, এটি ছিল তাঁর প্রপিতামহ মুহাম্মাদের জননীর নাম। তিনি একজন ধর্মোপদেশিকা নারী ছিলেন, যার কারণে তাঁর দিকেই বংশীয় সম্বন্ধ করা হয়েছে এবং তিনি সেই নামেই পরিচিতি লাভ করেছেন। এ কারণেই এই পরিবারকে ‘আলে তাইমিয়্যাহ’ বা তাইমিয়্যাহ পরিবার বলা হয়।

শাইখুল ইসলাম ৬৬১ হিজরির ১০ই অথবা ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার হাররানে জন্মগ্রহণ করেন।

তাতার বাহিনী তাঁর শহরে হামলা চালিয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করার পর, তাঁর পিতা তাঁকে ও তাঁর ভাইদের নিয়ে শামের (সিরিয়া) উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ৬৬৭ হিজরিতে তাঁরা দামেস্কে পৌঁছান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

 

‌দ্বিতীয়ত: তাঁর বেড়ে ওঠা এবং ইলমি জীবনের সূচনা

শাইখুল ইসলাম জ্ঞান ও দ্বীনদারীর এক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তাঁর দাদা শাইখ মাজদুদ্দীন আবুল বারাকাত ছিলেন হাম্বলী মাযহাবের শীর্ষস্থানীয় আলেম এবং মিসরের ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাঁর চাচা ফখরুদ্দীন আল-খতীবের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তাঁর সম্পর্কে শাইখুল ইসলাম বলেন: “শাইখ জামালুদ্দীন ইবনু মালিক বলতেন: শাইখ মাজদুদ্দীনের জন্য ফিকহ শাস্ত্রকে তেমনি সহজ করে দেওয়া হয়েছে যেমন দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য লৌহকে নরম করে দেওয়া হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন: “আমাদের দাদা ইলমী মতনসমূহ বর্ণনা করা এবং মানুষের মাযহাবসমূহ মুখস্থ রাখা ও তা অনায়াসে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব ছিলেন।” সমাপ্ত। ইমাম যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেন: “তিনি ফিকহ শাস্ত্র অর্জন করেছেন,

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত 'আল-ফাতওয়া আল-হামাবিয়্যাহ আল-কুবরা' গ্রন্থের ভূমিকা; তাহকীক: শাইখ হামাদ আত-তুওয়াইজিরী (হাফিযাহুল্লাহ), আল্লাহ তাঁর ইলম দ্বারা সকলকে উপকৃত করুন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وبرع واشتغل، وصنف التصانيف، وانتهت إليه الإمامة في الفقه … ».

من أهم مصنفاته «المنتقى من أحاديث الأحكام» الذي شرحه الشوكاني في كتابه «نيل الأوطار» ومن مؤلفاته «الأحكام الكبرى» في عدة مجلدات «1».

أما والده شهاب الدين عبد الحليم بن عبد السلام فقد سمع من والده مجد الدين أبي البركات، ورحل في صغره إلى حلب وسمع هناك من عدد من المشايخ، قال عنه الذهبي: «قرأ المذهب حتى أتقنه على والده، وأفتى وصنف، وصار شيخ البلد بعد أبيه وخطيبه وحاكمه، وكان إماما محققا لما ينقله، كثير الفوائد، جيد المشاركة في العلوم، له يد طولى في الفرائض … » وقال عنه البرزاني: «كان من أعيان الحنابلة، عنده فضائل وفنون، وباشر بدمشق مشيخة دار الحديث السكرية بالقضاعيين وبها كان يسكن، وكان له كرسي بالجامع يتكلم عليه أيام الجمع من حفظه» اه «2».

وممن اشتهر بالعلم والعبادة والزهد من هذه الأسرة إخوة الشيخ وهم ثلاثة:

أخوه: شرف الدين عبد الله «3». وزين الدين عبد الرحمن «4» وأخوه لأمه:

بدر الدين محمد «5».

أما والدة الشيخ فهي: ست النعم بنت عبد الرحمن بن علي بن عبدوس الحرانية «6».

فمن هذا البيت المبارك، والأسرة الصالحة خرج شيخ الإسلام فنشأ وتربى في حجر والده، وبدأ في طلب العلم مبكرا، وكانت علامات النجابة والفطنة تظهر عليه منذ حداثة سنه، ونعومة أظفاره، وكان مفرط الذكاء، «ذكر ابن عبد الهادي أن أحد علماء حلب قدم من دمشق وقال: سمعت في البلاد بصبي يقال له: أحمد بن تيمية، وأنه سريع الحفظ، وقد جئت قاصدا لعلي أراه. فقال له خياط: هذه طريق كتّابه، وهو إلى الآن ما جاء، فاقعد عندنا، الساعة يجيء يعبر علينا ذاهبا إلى الكتّاب. فجلس الشيخ الحلبي قليلا، فمر صبيان، فقال الخياط للحلبي: فذاك

--------------------------------------------

(1) انظر: السير (23/ 291)، البداية والنهاية (13/ 185)، ذيل طبقات الحنابلة (4/ 249)، شذرات الذهب (5/ 257).

(2) انظر: العبر للذهبي (3/ 349)، ذيل طبقات الحنابلة (4/ 310).

(3) انظر: ذيل طبقات الحنابلة (4/ 382)، شذرات الذهب (6/ 76).

(4) انظر: البداية والنهاية (14/ 220)، شذرات الذهب (6/ 152).

(5) انظر: ذيل طبقات الحنابلة (4/ 370)، شذرات الذهب (6/ 45).

(6) انظر: البداية والنهاية (14/ 79).
তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেন, জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন, গ্রন্থ রচনা করেন এবং ফিকহ শাস্ত্রে ইমামত বা নেতৃত্ব তাঁর মাধ্যমেই পূর্ণতা পায় … »।

তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রচনা হলো ‘আল-মুন্তাকা মিন আহাদিসিল আহকাম’, যার ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে ইমাম শাওকানী তাঁর ‘নাইলুল আওতার’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন। তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত ‘আল-আহকামুল কুবরা’ (১)।

আর তাঁর পিতা শিহাবুদ্দীন আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুল সালাম তাঁর পিতা মাজদুদ্দীন আবুল বারাকাতের নিকট হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি শৈশবে আলেপ্পোতে গমন করেন এবং সেখানে অনেক শায়খের নিকট হাদীস শোনেন। ইমাম যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেন: «তিনি তাঁর পিতার কাছে মাযহাব অধ্যয়ন করেন এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি ফতোয়া প্রদান ও গ্রন্থ রচনা করেছেন। পিতার পর তিনি শহরের শায়খ, খতিব এবং বিচারক মনোনীত হন। তিনি যা বর্ণনা করতেন তাতে একজন দক্ষ ও যাচাইকারী ইমাম ছিলেন। তিনি অনেক উপকারের আধার এবং বিভিন্ন বিদ্যায় তাঁর উত্তম অংশগ্রহণ ছিল। ফারায়েয শাস্ত্রে তাঁর বিশেষ ব্যুৎপত্তি ছিল … » এবং আল-বারজানি তাঁর সম্পর্কে বলেন: «তিনি হাম্বলী মাযহাবের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাঁর বহুমুখী গুণাবলি ও জ্ঞান ছিল। দামেস্কে তিনি কুদায়্যীনের দারুল হাদীস আল-সুক্কারিয়্যাহর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানেই বসবাস করতেন। মসজিদে তাঁর একটি বিশেষ আসন ছিল যেখানে তিনি জুমার দিনগুলোতে স্মৃতি থেকে বক্তৃতা প্রদান করতেন» সমাপ্ত (২)।

এই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জ্ঞান, ইবাদত এবং যোহদ বা দুনিয়াবিমুখতার জন্য শায়খের তিন ভাই প্রসিদ্ধ ছিলেন:

তাঁর ভাই: শরফুদ্দীন আব্দুল্লাহ (৩), যাইনুদ্দীন আব্দুর রহমান (৪) এবং তাঁর বৈমাত্রেয় ভাই:

বদরুদ্দীন মুহাম্মদ (৫)।

আর শায়খের মাতা হলেন: সিত্তুন নিআম বিনতে আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইবনে আব্দুস আল-হাররানিইয়্যাহ (৬)।

এই বরকতময় গৃহ ও নেককার পরিবার থেকেই শায়খুল ইসলাম আবির্ভূত হন। তিনি তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন এবং লালিত-পালিত হন। তিনি অতি শৈশবেই জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোর থেকেই শ্রেষ্ঠত্ব ও মেধার লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রখর মেধার অধিকারী। «ইবনে আব্দুল হাদী উল্লেখ করেন যে, আলেপ্পোর এক আলেম দামেস্কে এসে বললেন: আমি এই জনপদে এক বালকের কথা শুনেছি যার নাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়া এবং সে খুব দ্রুত মুখস্থ করতে পারে। আমি তাঁকে দেখার উদ্দেশ্যেই এসেছি। তখন এক দর্জি তাঁকে বলল: এটিই তাঁর মক্তবে যাওয়ার রাস্তা, তিনি এখনো আসেননি। আপনি আমাদের এখানে বসুন, এখনই তিনি মক্তবে যাওয়ার জন্য আমাদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করবেন। শায়খ আল-হালাবী কিছুক্ষণ বসলেন, এমন সময় কিছু বালক সেখান দিয়ে যাচ্ছিল, তখন দর্জি শায়খ আল-হালাবীকে লক্ষ্য করে বলল: ঐ যে তিনি...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সিয়ার (২৩/২৯১), আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৩/১৮৫), যাইয়লু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৪/২৪৯), শাযারাতুয যাহাব (৫/২৫৭)।

(২) দেখুন: আল-ইবার লিল যাহাবী (৩/৩৪৯), যাইয়লু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৪/৩১০)।

(৩) দেখুন: যাইয়লু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৪/৩৮২), শাযারাতুয যাহাব (৬/৭৬)।

(৪) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/২২০), শাযারাতুয যাহাব (৬/১৫২)।

(৫) দেখুন: যাইয়লু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৪/৩৭০), শাযারাতুয যাহাব (৬/৪৫)।

(৬) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/৭৯)।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
الصبي الذي معه اللوح الكبير هو أحمد بن تيمية، فناداه الشيخ فجاء إليه، فناول الشيخ اللوح، فنظر فيه، ثم قال: يا ولدي امسح هذا حتى أملي عليك شيئا تكتبه، ففعل فأملى عليه من متون الأحاديث أحد عشر، أو ثلاثة عشر حديثا، وقال له:

اقرأ هذا، فلم يزد على أن تأمله مرة بعد كتابته إياه ثم دفعه إليه، وقال: اسمعه عليّ، فقرأ عليه عرضا كأحسن ما أنت سامع، فقال له: يا ولدي امسح هذا، ففعل. فأملى عليه عدة أسانيد انتخبها ثم قال: اقرأ هذا، فنظر فيه كما فعل أول مرة فقام الشيخ وهو يقول: إن عاش هذا الصبي ليكونن له شأن عظيم، فإن هذا لم ير مثله. أو كما قال» اه «1».

حفظ القرآن في سنّ مبكرة ثم أكب على طلب العلم. فدرس على والده، وبعض مشايخ عصره «2»، ولم يتجه إلى فن معين بل درس الحديث وسمع المسانيد، والكتب الستة، وبعض المعاجم، وأقبل على التفسير، وعلم الفقه والأصول، إضافة إلى علم اللغة.

وقد جلس للإفتاء وعمره تسع عشرة سنة، وخلف والده في التدريس بدار الحديث السكرية وعمره اثنتان وعشرون سنة بعد أن توفي والده سنة 682 هـ، وجلس الشيخ للتدريس في الثاني من شهر الله المحرم سنة 683 هـ، وقد حضر درسه الأول كبار علماء دمشق، يقول ابن كثير واصفا هذا الدرس: « … وحضر عنده قاضي القضاة بهاء الدين ابن الزكي الشافعي، والشيخ تاج الدين الفزاري شيخ الشافعية، والشيخ زين الدين ابن المرحل، وزين الدين ابن المنجى الحنبلي، وكان درسا هائلا، وقد كتبه الشيخ تاج الدين الفزاري بخطه لكثرة فوائده، وكثرة ما استحسنه الحاضرون. وقد أطنب الحاضرون في شكره على حداثة سنّه وصغره، فإنه كان عمره إذ ذاك عشرين سنة وسنتين … » «3».

وأيضا في اليوم العاشر من شهر صفر من هذه السنة جلس للتفسير في الجامع الأموي بعد صلاة الجمعة، وقد استمر هذا الدرس سنين طويلة، وكان يحضره الجمع الغفير من الناس.

وقال الإمام الذهبي: «نشأ- يعني الشيخ تقي الدين- رحمه الله في تصون تام، وعفاف وتأله وتعبد، واقتصاد في الملبس والمأكل، وكان يحضر المدارس

--------------------------------------------

(1) العقود الدرية ص 4.

(2) وسيأتي ذكرهم في تعداد شيوخه وتلاميذه.

(3) البداية والنهاية (13/ 303).
বড় তখতি হাতে থাকা বালকটি হলেন আহমদ ইবনে তাইমিয়া। শায়খ তাকে ডাকলে তিনি তাঁর কাছে এলেন। শায়খ তখতিটি হাতে নিয়ে বললেন, "বৎস, এটি মুছে ফেলো, যাতে আমি তোমাকে কিছু লিখে দিতে পারি।" তিনি তা-ই করলেন। এরপর শায়খ তাকে হাদীসের মূল পাঠ (মতন) থেকে এগারো বা তেরোটি হাদীস শ্রুতিলিখন হিসেবে দিলেন এবং তাকে বললেন:

"এটি পড়ো।" তিনি তা লেখার পর কেবল একবার সেটির দিকে দৃষ্টিপাত করলেন, তারপর সেটি শায়খকে ফেরত দিয়ে বললেন, "আমার কাছ থেকে এটি শুনে নিন।" এরপর তিনি শায়খের সামনে এমন চমৎকারভাবে তা পাঠ করলেন যে, তা ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর। তখন শায়খ তাকে বললেন, "বৎস, এটি মুছে ফেলো।" তিনি তা-ই করলেন। এরপর শায়খ তাঁর নির্বাচিত বেশ কিছু বর্ণনাসূত্র (সনদ) তাকে লিখে দিলেন এবং বললেন, "এটি পড়ো।" তিনি প্রথমবারের মতো একবার সেটির দিকে নজর দিলেন। তখন শায়খ এই বলে উঠে দাঁড়ালেন: "যদি এই বালক বেঁচে থাকে, তবে তার এক মহান মর্যাদা ও খ্যাতি প্রতিষ্ঠিত হবে, কারণ এর কোনো নজির ইতিপূর্বে দেখা যায়নি।" অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন। সমাপ্ত। [১]।

তিনি অল্প বয়সেই কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন এবং এরপর জ্ঞান অর্জনে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন। তিনি তাঁর পিতা এবং সমসাময়িক কিছু শায়খের নিকট পড়াশোনা করেন [২]। তিনি কেবল কোনো বিশেষ শাস্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং হাদীস অধ্যয়ন করেছেন এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহ, কুতুবে সিত্তা (ছয়টি বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ) ও কিছু অভিধান শ্রবণ করেছেন। তিনি তাফসীর, ফিকহ শাস্ত্র ও উসূলে ফিকহ এবং সেইসাথে ভাষাতত্ত্বের প্রতিও গভীর আগ্রহী ছিলেন।

তিনি মাত্র ঊনিশ বছর বয়সে ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং ৬৮২ হিজরিতে তাঁর পিতার ইন্তেকালের পর, বাইশ বছর বয়সে তিনি 'দারুল হাদীস আস-সুক্কারিয়্যাহ'-তে শিক্ষকতায় তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হন। শায়খ ৬৮৩ হিজরির মুহাররম মাসের দ্বিতীয় তারিখে শিক্ষকতা শুরু করেন। তাঁর প্রথম পাঠদান মজলিসে দামেস্কের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ উপস্থিত ছিলেন। ইবনে কাসীর সেই পাঠের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: « … সেখানে প্রধান বিচারপতি বাহাউদ্দিন ইবনে আজ-জাকী আশ-শাফেয়ী, শাফেয়ী মাজহাবের প্রধান শায়খ তাজউদ্দীন আল-ফাযারী, শায়খ যাইনুদ্দীন ইবনুল মুরাহহাল এবং যাইনুদ্দীন ইবনুল মুনজ্জা আল-হাম্বলী উপস্থিত ছিলেন। সেটি ছিল এক বিশাল ও মহতী পাঠদান মজলিস। এতে প্রচুর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও উপস্থিত সকলের নিকট তা অত্যন্ত সমাদৃত হওয়ায় শায়খ তাজউদ্দীন আল-ফাযারী স্বহস্তে তা লিখে নিয়েছিলেন। উপস্থিত সকলে তাঁর অল্প বয়স ও নবীনতা সত্ত্বেও তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন, কারণ সে সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র বাইশ বছর … » [৩]।

এছাড়াও উক্ত বছরের সফর মাসের দশম তারিখে তিনি উমাইয়া মসজিদে জুমার সালাতের পর তাফসীরের মজলিস শুরু করেন। এই পাঠদান দীর্ঘ কয়েক বছর অব্যাহত ছিল এবং এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হতো।

ইমাম আয-যাহাবী বলেন: "তিনি—অর্থাৎ শায়খ তাকীউদ্দীন—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, পূর্ণ আত্মসংযম, পবিত্রতা, আধ্যাত্মিকতা, ইবাদত এবং আহার ও পোশাকে মিতব্যয়িতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত হতেন

--------------------------------------------

(১) আল-উকুদ আদ-দুররিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪।

(২) এবং সামনে তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রদের তালিকায় তাঁদের নাম উল্লেখ করা হবে।

(৩) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৩/৩০৩)।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
والمحافل في صغره، ويناظر ويفحم الكبار ويأتي بما يتحير منه أعيان البلد في العلم. فأفتى وله تسع عشرة سنة، بل أقل، وشرع في الجمع والتأليف من ذلك الوقت، وأكبّ على الاشتغال، ومات والده- وكان من كبار الحنابلة وأئمتهم- فدرس بعد بوظائفه وله إحدى وعشرون سنة، واشتهر أمره، وبعد صيته في العالم … «1».

وهكذا بدأ شيخ الإسلام تقي الدين حياته العلمية حتى أصبح آية من آيات الله في الفهم وسعة الاطلاع، وقوة الحجة، وسرعة البديهة.

 

‌‌ثالثا بعض الصفات التي اتصف بها

‌‌أ- صفاته الخلقية:

وصفه الذهبي: بأنه كان أبيض، أسود الرأس واللحية قليل الشيب، شعره إلى شحمة أذنيه، كأن عينيه لسانان ناطقان، ربعة من الرجال، بعيد ما بين المنكبين، جهوري الصوت، فصيحا، سريع القراءة، تعتريه حدة لكن يقهرها الحلم «2».

 

‌‌ب- صفاته الخلقية:

‌‌1 - كرمه:

كان رحمه الله سخيّا جوادا، لا يرد سائلا قط، ويجود بكل ما يستطيع، حتى ولو يشاطره بعض لباسه الذي عليه، ومن طريف ما يروى في ذلك ما ذكره البزار قال: «حدثني الشيخ العالم الفاضل المقرئ أحمد بن سعيد قال: كنت يوما جالسا بحضرة شيخ الإسلام ابن تيمية رضي الله عنه. فجاء إنسان فسلم عليه فرآه الشيخ محتاجا إلى ما يعتم به. فنزع الشيخ عمامته من غير أن يسأله الرجل فقطعها نصفين، واعتم بنصفها ودفع النصف الآخر إلى ذلك الرجل … » اه «3».

وذكر البزار أيضا قال: «حدثني من أثق به أن الشيخ رضي الله عنه كان مارّا يوما ببعض الأزقة، فدعا له بعض الفقراء، وعرف الشيخ حاجته، ولم يكن مع

--------------------------------------------

(1) العقود الدرية ص 4 - 5.

(2) الدرر الكامنة (1/ 161)، البدر الطالع (1/ 64).

(3) الأعلام العلية ص 59.
এবং বিভিন্ন মাহফিলে শৈশব থেকেই অংশগ্রহণ করতেন। তিনি বড়দের সাথে বিতর্ক করতেন ও তাদের নিরুত্তর করে দিতেন এবং এমন সব বিষয় উপস্থাপন করতেন যা দেখে শহরের বিশিষ্ট আলেমগণও বিস্মিত হয়ে যেতেন। তিনি উনিশ বছর বয়সে, বরং তারও কম বয়সে ফতোয়া প্রদান শুরু করেন এবং সেই সময় থেকেই গ্রন্থ সংকলন ও রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি জ্ঞানার্জনে অত্যন্ত একনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁর পিতা—যিনি ছিলেন হাম্বলী মাযহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও ইমাম—মৃত্যুবরণ করলে তিনি ২১ বছর বয়সে তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে শিক্ষকতা ও অন্যান্য দায়িত্ব পালন শুরু করেন। অচিরেই তাঁর খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে তিনি সুপরিচিত হয়ে ওঠেন … «১»।

এভাবেই শায়খুল ইসলাম তাকীউদ্দীন তাঁর ইলমী জীবন শুরু করেন এবং একসময় প্রজ্ঞা, গভীর জ্ঞান, অকাট্য যুক্তি ও উপস্থিত বুদ্ধির ক্ষেত্রে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম এক নিদর্শনে পরিণত হন।

 

‌‌তৃতীয়ত: তাঁর কতিপয় বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি

‌‌ক- তাঁর শারীরিক গঠন ও অবয়ব:

ইমাম যাহাবী তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: তিনি ছিলেন উজ্জ্বল গৌরবর্ণের অধিকারী, তাঁর মাথার চুল ও দাড়ি ছিল কালো, যাতে বার্ধক্যের শুভ্রতা ছিল সামান্য। তাঁর চুল কানের লতি পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। তাঁর চোখ দুটি ছিল যেন দুটি মুখর জবান। তিনি ছিলেন মাঝারি উচ্চতার এবং সুঠাম ও প্রশস্ত কাঁধের অধিকারী। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল গম্ভীর ও উচ্চকিত, তিনি ছিলেন অত্যন্ত বাগ্মী এবং দ্রুত পঠনে সক্ষম। তাঁর মেজাজে কিছুটা তীব্রতা থাকলেও সহনশীলতা ও ধৈর্য দিয়ে তিনি তা দমন করতেন «২»।

 

‌‌খ- তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি:

‌‌১ - তাঁর দানশীলতা:

তিনি (রহ.) অত্যন্ত দানশীল ও বদান্য ছিলেন; কোনো যাঞ্চাকারীকে তিনি কখনো বিমুখ করতেন না। সাধ্যমতো সবকিছুই তিনি দান করে দিতেন, এমনকি নিজের পরিহিত বস্ত্রের অর্ধেক দিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করতেন না। এ প্রসঙ্গে আল-বাযযার একটি চমৎকার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ‘বিদ্বান ও বিশিষ্ট ক্বারী আহমদ বিন সাঈদ আমাকে বলেছেন: একদা আমি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাযি.)-এর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তখন জনৈক ব্যক্তি এসে তাঁকে সালাম দিল। শায়খ তাকে দেখে বুঝতে পারলেন যে, তার মাথায় বাঁধার কাপড়ের (পাগড়ি) প্রয়োজন। লোকটির কিছু চাওয়ার আগেই শায়খ নিজের পাগড়ি খুলে ফেললেন এবং তা কেটে দুই ভাগ করলেন। এরপর অর্ধেক নিজে মাথায় বাঁধলেন আর বাকি অর্ধেক ওই লোকটিকে দিয়ে দিলেন … ’ (সংক্ষেপিত) «৩»।

আল-বাযযার আরও উল্লেখ করেন: ‘আমার নির্ভরযোগ্য এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, শায়খ (রাযি.) একদিন একটি গলি দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন জনৈক দরিদ্র ব্যক্তি তাঁর জন্য দুআ করল। শায়খ তার অভাব বুঝতে পারলেন, কিন্তু তখন তাঁর নিকট...’

--------------------------------------------

(১) আল-উকূদ আদ-দুররিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪ - ৫।

(২) আদ-দুরার আল-কামিনাহ (১/ ১৬১), আল-বদর আত-তালি' (১/ ৬৪)।

(৩) আল-আ'লাম আল-আলিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৫৯।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الشيخ ما يعطيه، فنزع ثوبا من على جلده ودفعه إليه وقال: بعه بما تيسر وأنفقه.

واعتذر إليه من كونه لم يكن معه شيء من النفقة» اه «1».

وما يروى عنه في هذا الباب كثير مما يدل على كمال مروءته وسخاء نفسه.

 

‌‌2 - قوته وشجاعته:

لقد ضرب شيخ الإسلام أروع الأمثال في ميدان القوة والشجاعة ففي ميدان الجهاد بطل مغوار لا يشق له غبار، يتبين هذا جليّا ما فعله ضد التتار ويأتي الكلام على شيء من ذلك.

إضافة إلى أنه كان ذا شخصية قوية، ونفس لا تهاب الصعاب كان يقف أمام السلاطين والظلمة ينصحهم ويخوفهم ويحذرهم برباطة جأش يهابه كل من حضر، لا يخاف في الله لومة لائم.

من مواقفه المشهورة التي تترجم قوة شخصيته وتنبئ عن شجاعته: موقفه من «قازان» سلطان التتار- مع ما اشتهر عنهم من التسلط والظلم والبربرية- فقد ذهب إليه شيخ الإسلام مع مجموعة من تلامذته، وكلّمه بشدة ومما قاله له: «أنت تزعم أنك مسلم ومعك مؤذن وقاض وإمام وشيخ على ما بلغنا، فغزوتنا وغزوت بلادنا على ماذا؟ … إلى أن قال: وأنت عاهدت فغدرت، وقلت فما وفيت» ولما قربوا الطعام، فأكلوا إلا شيخ الإسلام، فقيل له: ألا تأكل؟ فقال: كيف آكل من طعام وكله مما نهبتم من أغنام الناس، وطبختموه بما قطعتم من أشجار الناس.

ووقعت له معه أمور تبين مقدار ما يتمتع به شيخ الإسلام من قوة وشجاعة يعجز عنها الوصف «2».

وكان إذا حضر الجهاد مع المسلمين يشجعهم ويثبتهم، ويعدهم النصر، ويقوي عزائمهم حتى كأنه هو القائد وهو الأمير وهو السلطان، وما هو إلا واحد من الجند.

ولم أر أمثال الرجال تفاوتوا لدى الفضل حتى عدّ ألف بواحد قال عنه الذهبي: «وأما شجاعته فبها تضرب الأمثال، وببعضها يتشبه أكابر الأبطال» اه «3».

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق ص 61.

(2) انظر تفصيل ذلك في البداية والنهاية (14/ 89).

(3) العقود الدرية ص 118.
শায়খের কাছে তাকে দেওয়ার মতো কিছু ছিল না। তাই তিনি নিজের শরীর থেকে একটি পোশাক খুলে তাকে দিয়ে দিলেন এবং বললেন: এটি তোমার পক্ষে যা সম্ভব সেই মূল্যে বিক্রি করো এবং তা খরচ করো।

আর তার কাছে ব্যয়ের জন্য কিছু না থাকার কারণে তিনি তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন।" সমাপ্ত «১»।

এই বিষয়ে তার সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা অনেক, যা তার পূর্ণ মনুষ্যত্ব এবং মনের উদারতাকে প্রমাণ করে।

 

‌‌২ - তার শক্তি ও বীরত্ব:

শায়খুল ইসলাম শক্তি ও বীরত্বের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জিহাদের ময়দানে তিনি ছিলেন এক দুঃসাহসী বীর, যার সমকক্ষ কেউ ছিল না। তাতারীদের বিরুদ্ধে তার কর্মকাণ্ড থেকে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় এবং এ সম্পর্কে কিছু আলোচনা সামনে আসবে।

এর পাশাপাশি তিনি শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন এবং তার অন্তর কোনো কঠিন পরিস্থিতিকে ভয় পেত না। তিনি সুলতান ও জালিমদের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতেন, তাদের নসিহত করতেন এবং আল্লাহর ভয় দেখাতেন ও সতর্ক করতেন। উপস্থিত সকলেই তাকে ভয় পেত। আল্লাহর পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় পেতেন না।

তার শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব এবং বীরত্বের পরিচয় বহনকারী একটি বিখ্যাত ঘটনা হলো তাতার সুলতান ‘গাজান’-এর সাথে তার অবস্থান—তাতারীদের আধিপত্য, জুলুম ও বর্বরতা সম্পর্কে যা সুবিদিত থাকা সত্ত্বেও। শায়খুল ইসলাম তার একদল ছাত্রসহ তার কাছে যান এবং তার সাথে কঠোর ভাষায় কথা বলেন। তিনি তাকে যা বলেছিলেন তার মধ্যে ছিল: "তুমি দাবি করো যে তুমি মুসলিম, তোমার সাথে মুয়াজ্জিন, কাজি, ইমাম এবং শায়খও রয়েছে—যেমনটি আমরা জানতে পেরেছি। তবে কিসের ভিত্তিতে তুমি আমাদের ওপর এবং আমাদের ভূখণ্ডের ওপর আক্রমণ চালালে? … পরিশেষে তিনি বললেন: তুমি অঙ্গীকার করেছিলে কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা করেছ, তুমি কথা দিয়েছিলে কিন্তু তা পূর্ণ করোনি।" যখন খাবার আনা হলো এবং তারা সবাই আহার করলেন শায়খুল ইসলাম ব্যতীত, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "আপনি কি খাবেন না?" তিনি বললেন: "আমি কীভাবে সেই খাবার খাব যা পুরোপুরি মানুষের লুণ্ঠিত মেষ থেকে তৈরি এবং যা রান্না করা হয়েছে মানুষের কেটে ফেলা গাছপালা পুড়িয়ে।"

তার সাথে তার এমন কিছু ঘটনা ঘটেছিল যা শায়খুল ইসলামের শক্তি ও সাহসিকতার এমন এক মাত্রা প্রকাশ করে যা বর্ণনা করা অসম্ভব «২»।

তিনি যখন মুসলমানদের সাথে জিহাদে উপস্থিত হতেন, তখন তাদের উৎসাহিত ও অবিচল রাখতেন, বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং তাদের মনোবল এমনভাবে বৃদ্ধি করতেন যে মনে হতো যেন তিনিই সেনাপতি, তিনিই আমির এবং তিনিই সুলতান, যদিও তিনি সৈনিকদের একজন মাত্র ছিলেন।

শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে পুরুষদের মধ্যে এমন ব্যবধান আমি আর দেখিনি যে, একজনকে হাজার জনের সমান গণ্য করা হয়। জাহাবি তার সম্পর্কে বলেছেন: "আর তার বীরত্ব সম্পর্কে প্রবাদ দেওয়া হয় এবং তার বীরত্বের কিছু অংশের অনুসরণ করেন মহান বীররা।" সমাপ্ত «৩»।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৬১।

(২) এর বিস্তারিত বিবরণের জন্য আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/৮৯) দেখুন।

(৩) আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১১৮।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ومن مواقفه البطولية التي خلدها التاريخ عند ما سار جيش التتار إلى الشام، ابتدر شيخ الإسلام وذهب مع البريد إلى مصر ودخل على السلطان، وخاطبه بقوة قائلا له: «إن تخليتم عن الشام ونصرة أهله، والذب عنهم» وهدده بأن أهل الشام سيقيمون لهم من يحميهم ويقوم بأمرهم فأجابه السلطان إلى ما أراد «1».

وبهذه المواقف وغيرها أصبحت شجاعة ابن تيمية وقوته مضرب المثل.

وقد وشي بالشيخ إلى السلطان الملك الناصر، فأحضره بين يديه، ومن جملة ما قال له الناصر: أخبرت أنك أطاعك الناس، وأن في نفسك أخذ الملك، فرد عليه بنفس مطمئنة وقلب ثابت، وثبوت عال سمعه كثير ممن حضر: أنا أفعل ذلك؟ والله إن ملكك وملك آبائك لا يساوي عندي فلسين. فتبسم السلطان لذلك «2».

ويذكر ابن القيم ما منحه الله من قوة القلب وانشراح الصدر وسرور النفس مع أنه كان محبوسا في القلعة ويقول: «وكنا إذا اشتد بنا الخوف وساءت منا الظنون وضاقت بنا الأرض، أتيناه، فما هو إلا أن نراه ونسمع كلامه فيذهب ذلك كله، وينقلب انشراحا وقوة ويقينا وطمأنينة … » «3».

ويقول خادمه إبراهيم بن أحمد الغياني: « … ثم بعد أيام جاء عند الشيخ- يعني ابن تيمية- شمس الدين بن سعد الدين الحراني وأخبره أنهم يسفرونه إلى الإسكندرية. وجاءت المشايخ التدامرة «4» وأخبروه بذلك، وقالوا له: كل هذا يعملونه حتى توافقهم، وهم عاملون على قتلك أو نفيك أو حبسك، فقال لهم:

«أنا إن قتلت كانت لي الشهادة، وإن نفوني كانت لي هجرة، ولو نفوني إلى قبرص لدعوت أهلها إلى الله وأجابوني، وإن حبسوني كان لي معبدا وأنا مثل الغنمة كيفما تقلبت على صوف» فيئسوا منه وانصرفوا … ثم ذكر أنه لما ركب مع نائب السلطان متوجها إلى الإسكندرية فقال له إنسان: «يا سيدي هذا مقام الصبر»، فقال له: «بل هذا مقام الحمد والشكر، والله إنه نازل على قلبي من الفرح والسرور شيء لو قسم على أهل الشام ومصر لفضل عنهم، ولو أن معي في هذا

--------------------------------------------

(1) انظر: ذيل طبقات الحنابلة (4/ 395 - 396)، شذرات الذهب (5/ 455).

(2) الأعلام العلية ص 65.

(3) الوابل الصيب ص 45.

(4) نسبة إلى «تدمر» إحدى مدن الشام.

انظر معجم البلدان (2/ 17).
ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকা তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবস্থানসমূহের অন্যতম হলো যখন তাতার বাহিনী শামের দিকে অগ্রসর হয়েছিল। শাইখুল ইসলাম তখন উদ্যোগী হয়ে ডাকবাহকের সাথে মিশরে গমন করেন এবং সুলতানের দরবারে উপস্থিত হন। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সুলতানকে সম্বোধন করে বলেন: «আপনারা যদি শাম এবং এর অধিবাসীদের সাহায্য ও প্রতিরক্ষা থেকে হাত গুটিয়ে নেন», এমনকি তিনি তাঁকে এই হুমকিও দেন যে, শামের অধিবাসীরা তখন নিজেদের মধ্য থেকেই এমন কাউকে দাঁড় করাবে যে তাদের রক্ষা করবে এবং তাদের বিষয়াদি পরিচালনা করবে। ফলে সুলতান তাঁর দাবিতে সম্মত হন «১»।

এসব এবং এই জাতীয় অন্যান্য অবস্থানের কারণে ইবনে তাইমিয়্যার বীরত্ব ও সাহসিকতা প্রবাদে পরিণত হয়েছে।

সুলতান আল-মালিকুন নাসিরের কাছে শাইখের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা হয়েছিল। ফলে সুলতান তাঁকে উপস্থিত করালেন। নাসির তাঁকে যা বলেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম হলো: আমাকে জানানো হয়েছে যে মানুষ আপনার অনুগত হয়ে গেছে এবং আপনার মনে ক্ষমতা দখলের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। শাইখ অত্যন্ত প্রশান্ত চিত্তে, স্থির হৃদয়ে এবং সুদৃঢ় কণ্ঠে—যা উপস্থিত অনেকেই শুনেছিলেন—জবাব দিলেন: আমি এমনটা করব? আল্লাহর কসম! আপনার রাজত্ব এবং আপনার পূর্বপুরুষদের রাজত্ব আমার কাছে দুটি পয়সার সমানও নয়। এতে সুলতান মৃদু হাসলেন «২»।

ইবনুল কাইয়্যিম বর্ণনা করেন আল্লাহ তাঁকে কীরূপ হৃদয়ের শক্তি, মানসিক প্রশস্ততা এবং আত্মিক প্রশান্তি দান করেছিলেন, যদিও তিনি তখন দুর্গে কারাবন্দী ছিলেন। তিনি বলেন: «যখন আমাদের মাঝে ভয় তীব্র হতো, কুধারণা সৃষ্টি হতো এবং পৃথিবী আমাদের ওপর সংকীর্ণ হয়ে আসত, তখন আমরা তাঁর কাছে আসতাম। তাঁকে দেখা মাত্রই এবং তাঁর কথা শোনা মাত্রই আমাদের সেই অবস্থা দূর হয়ে যেত এবং তা প্রশস্ততা, শক্তি, দৃঢ় বিশ্বাস ও প্রশান্তিতে রূপান্তর হতো … » «৩»।

তাঁর খাদেম ইবরাহিম ইবনে আহমদ আল-গাইয়ানি বলেন: « … অতঃপর কয়েক দিন পর শাইখের—অর্থাৎ ইবনে তাইমিয়্যার—নিকট শামসুদ্দিন ইবনে সা'দুদ্দিন আল-হাররানি আসলেন এবং তাঁকে জানালেন যে তারা তাঁকে আলেকজান্দ্রিয়াতে নির্বাসিত করছে। তাদমুরি শাইখগণ «৪» এসেও তাঁকে এ সংবাদ দিলেন এবং বললেন: তারা এই সব কিছু করছে যাতে আপনি তাদের সাথে একমত হন। তারা আপনাকে হত্যা, নির্বাসন অথবা কারারুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। তিনি তাঁদের বললেন:

«যদি তারা আমাকে হত্যা করে, তবে তা হবে আমার জন্য শাহাদাত; যদি তারা আমাকে নির্বাসিত করে, তবে তা হবে আমার জন্য হিজরত—এমনকি তারা যদি আমাকে সাইপ্রাসেও নির্বাসিত করে, তবে আমি সেখানকার মানুষদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করব এবং তারা আমার ডাকে সাড়া দেবে; আর যদি তারা আমাকে কারারুদ্ধ করে, তবে তা হবে আমার জন্য নির্জন ইবাদতখানা। আমি তো সেই ভেড়ার মতো, যার শরীরের যে পাশেই আপনি হাত দিন না কেন, তা পশমই।» এতে তারা নিরাশ হয়ে ফিরে গেল … অতঃপর বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তিনি সুলতানের নায়েবের সাথে আলেকজান্দ্রিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বললেন: «হে আমার সর্দার! এটি ধৈর্যের সময়», তিনি উত্তর দিলেন: «বরং এটি প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার সময়। আল্লাহর কসম! আমার অন্তরে এমন আনন্দ ও প্রশান্তি অবতীর্ণ হচ্ছে যা যদি শাম ও মিশরের মানুষের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হতো, তবে তা অতিরিক্ত হতো। আর আমার সাথে যদি এই

--------------------------------------------

(১) দেখুন: জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৪/ ৩৯৫ - ৩৯৬), শাজারাতুজ জাহাব (৫/ ৪৫৫)।

(২) আল-আ'লামুল আলিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৬৫।

(৩) আল-ওয়াবিলুস সাইয়্যিব, পৃষ্ঠা ৪৫।

(৪) এটি শামের অন্যতম শহর 'তাদমুর'-এর দিকে সম্পৃক্ত।

দেখুন: মু'জামুল বুলদান (২/ ১৭)।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الموضع ذهبا وأنفقته ما أديت عشر هذه النعمة التي أنا فيها». اه «1».

 

‌‌3 - زهده وتواضعه:

مع ما منح الله شيخ الإسلام من سعة العلم، وقوة الشخصية وعلو المكانة، مع هذا كله فقد كان في غاية التواضع، والإزراء على النفس، كان زاهدا قانعا بما في يده، لم يتطلع في يوم من الأيام إلى منصب أو جاه، ولم تكن الدنيا في عينه تساوي شيئا وقد رضي منها بالقليل، واكتفى بما يغنيه عن الناس، ويسد حاجته، وربما اكتفى بشيء من الخبز يأكله في الصبح وفي المساء، حتى قال عنه زين الدين الواسطي وقد أقام مع الشيخ: «وكنت أسأله أن يزيد على أكله فلا يفعل، حتى أني كنت في نفسي أتوجع له من قلة أكله … » «2».

وقال الحافظ البزار: «وأما تواضعه فما رأيت ولا سمعت بأحد من أهل عصره مثله في ذلك، كان يتواضع للكبير والصغير، والجليل والحقير، والغني الصالح والفقير، وكان يدني الفقير الصالح ويكرمه ويؤنسه ويباسطه بحديثه المستحلي زيادة على مثله من الأغنياء، حتى إنه ربما خدمه بنفسه، وأعانه بحمل حاجته، جبرا لقلبه، وتقربا بذلك إلى ربه … » ثم ذكر أنه لا يسأم ممن يسأله ويستفتيه مهما كان «3».

وقال أيضا في وصف الشيخ: «ولقد اتفق كل من رآه خصوصا من أطال ملازمته، أنه ما رأى مثله في زهده في الدنيا، حتى لقد صار ذلك مشهورا بحيث قد استقر في قلب القريب والبعيد من كل من سمع بصفاته على وجهها، بل لو سئل عامي من أهل بلد بعيد من الشيخ: من كان أزهد أهل هذا العصر، وأكملهم في رفض فضول الدنيا، وأحرصهم على طلب الآخرة؟ لقال: ما سمعت بمثل ابن تيمية … » «4».

 

‌‌رابعا مواقفه الجهادية

لم يكن شيخ الإسلام عالما يصدر الفتاوى، ويؤلف الكتب، ويجلس للطلاب في حلقات العلم فحسب، ولم يكن يعيش في معزل عن مجتمعه، بعيدا

--------------------------------------------

(1) ناحية من حياة شيخ الإسلام لإبراهيم بن أحمد الغياني ص 30، 32.

(2) الأعلام العلية ص 48.

(3) المصدر السابق ص 48 - 49.

(4) المصدر السابق ص 44 - 45.
...স্থানটি স্বর্ণে পরিণত হতো এবং আমি তা ব্যয় করতাম, তবুও আমি বর্তমানে যে নিয়ামতের মধ্যে আছি তার এক-দশমাংশও আদায় হতো না।" সমাপ্ত। (১)।

 

‌‌৩ - তাঁর যুহদ ও বিনয়:

আল্লাহ তাআলা শাইখুল ইসলামকে ইলমের বিশালতা, ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা এবং সুউচ্চ মর্যাদা দান করা সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞানকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ এবং নিজের কাছে যা থাকত তাতেই তুষ্ট। তিনি কখনো পদমর্যাদা বা খ্যাতির আকাঙ্ক্ষা করেননি। তাঁর দৃষ্টিতে দুনিয়ার কোনো মূল্য ছিল না; তিনি যৎসামান্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতেন এবং মানুষের মুখাপেক্ষিতা দূর করে প্রয়োজন মেটানোর জন্য যা যথেষ্ট হতো, তাতেই ক্ষান্ত হতেন। এমনকি মাঝেমধ্যে তিনি কেবল সামান্য রুটি খেয়ে সকাল-সন্ধ্যা পার করে দিতেন। তাঁর সাথে অবস্থানকারী যয়নুদ্দিন আল-ওয়াসিতি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "আমি তাঁকে খাবার বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করতাম, কিন্তু তিনি তা করতেন না। এমনকি তাঁর সামান্য আহার দেখে আমি মনে মনে অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করতাম..." (২)।

হাফেজ আল-বাযযার বলেন: "তাঁর বিনয়ের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, আমি তাঁর যুগে তাঁর মতো বিনয়ী কাউকে দেখিনি এবং কারো কথা শুনিওনি। তিনি ছোট-বড়, উচ্চ-নীচ এবং নেককার ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের সাথে বিনয়ী আচরণ করতেন। তিনি নেককার দরিদ্রকে নিজের কাছে টেনে নিতেন, তাকে সম্মান করতেন, সঙ্গ দিতেন এবং ধনীদের চেয়েও বেশি তাঁর সাথে হৃদ্যতাপূর্ণ ও মিষ্টি ভাষায় আলাপ করতেন। এমনকি অনেক সময় তিনি নিজের হাতে তাঁর সেবা করতেন এবং তাঁর আসবাবপত্র বহন করে সাহায্য করতেন—কেবল তাঁর মনস্তুষ্টির জন্য এবং এর মাধ্যমে স্বীয় রবের নৈকট্য লাভের আশায়..." এরপর তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রশ্নকারী বা ফতোয়া অন্বেষণকারী যে-ই হোক না কেন, শাইখ তাদের উত্তর দিতে কখনো ক্লান্তিবোধ করতেন না (৩)।

তিনি শাইখের বর্ণনায় আরও বলেন: "যাঁরাই তাঁকে দেখেছেন, বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘকাল তাঁর সাহচর্যে ছিলেন, তারা সকলেই এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, দুনিয়াবিমুখতার ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁর মতো দ্বিতীয় কাউকে দেখেননি। এমনকি বিষয়টি এতই প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল যে, দূর-নিকটের যারাই তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে শুনেছে, তাদের সবার হৃদয়েই তা গেঁথে গিয়েছিল। এমনকি শাইখ থেকে অনেক দূরের কোনো শহরের কোনো সাধারণ মানুষকেও যদি প্রশ্ন করা হতো: 'এই যুগের সবচেয়ে বড় যুহদ পালনকারী, দুনিয়ার অপ্রয়োজনীয় ভোগবিলাস বর্জনকারী এবং আখেরাত অন্বেষণে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ব্যক্তি কে?' তবে সে অবশ্যই বলত: 'আমি ইবনে তাইমিয়্যার মতো আর কাউকে দেখিনি...'" (৪)।

 

‌‌চতুর্থত: তাঁর জিহাদি অবস্থানসমূহ

শাইখুল ইসলাম কেবল ফতোয়া প্রদানকারী, গ্রন্থ প্রণেতা এবং ইলমি হালকায় ছাত্রদের পাঠদানকারী একজন আলিমই ছিলেন না; বরং তিনি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দূরে কোথাও বসবাস করতেন না

--------------------------------------------

(১) ইবরাহিম বিন আহমদ আল-গায়ানি রচিত 'নাহিয়াহ মিন হায়াতি শাইখিল ইসলাম', পৃষ্ঠা ৩০, ৩২।

(২) আল-আ'লামুল আলিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪৮।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪৮ - ৪৯।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪৪ - ৪৫।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
عن واقعه، لا يعلم ما يدور حوله، بل عايشه بقلبه وقالبه. وإذا قضى حياته مجاهدا بقلمه ولسانه، فقد كان من حملة السيف، وأبطال المعارك، ترجم علمه بعمله، وقوله بفعله، ولنأخذ أنموذجا وموقفا من مواقفه الجهادية التي خاض غمارها وشق غبارها، ومن خلالها يمكن أن نستشف ما كان يتمتع به هذا الرجل من روح جهادية، خلدت اسمه ورفعت شأنه.

عاش شيخ الإسلام عصرا محموما يعج بالفتن والقلاقل كانت الأمة الإسلامية فيه مليئة بالأحداث الجسام والمصائب المتلاحقة، تعيش تمزقا لم يسبق له مثيل، فما كادت الحملات الصليبية تنتهي، إلا وفجعت أمة الإسلام بالجيش التتري الغاشم يجتاح العالم الإسلامي، ويأتي على الرطب واليابس، وأصبحت ممالك المسلمين تتساقط في أيديهم الواحدة تلو الأخرى. وهم يعيثون فيها خرابا، وسلبا ونهبا، وأسرا وقتلا، حتى أتوا على حاضرة العالم الإسلامي «بغداد» وطوقوها عام 656 هـ وسقطت في أيديهم بعد أن قتلوا الخليفة العباسي «المستعصم» وما صاحب ذلك من سفك الدماء ودمار شامل لم يعرف التاريخ له نظيرا «1».

وبهذا أصبح شبح التتار يثير الرعب في نفوس المسلمين وترتعد له القلوب خوفا ورهبا.

وفي سنة 699 هـ عزم «قازان» حاكم التتار على غزو الشام- وسبقت الإشارة إلى موقف شيخ الإسلام من هذا ومقابلته قازان، ورجوع الأخير عن عزمه- «2».

وفي رجب سنة 702 هـ شاعت الأخبار بعزم التتار على دخول بلاد الشام، فأصاب الناس ذعر وهلع وخوف شديد، وبدءوا في الخروج إلى الديار المصرية، وهنا يبرز أثر الشيخ فيقف ويهدّئ الناس ويطمئنهم ويعدهم النصر، ويحثهم على الجهاد، ويأمرهم بالصبر والمصابرة، ويكثر من الابتهال إلى الله والتضرع إليه.

وفي هذه الأثناء سار إلى السلطان وحثه على قتال التتار فأجابه إلى ذلك، وكان يحلف للأمراء والناس أنهم لمنصورون، فيقول له الأمراء: قل: إن شاء الله، فيقول: إن شاء الله تحقيقا لا تعليقا. وكان يتلو بعض الآيات في ذلك.

وقد حصل عند الناس شبهة، وتردد في قتالهم، على أي شيء يقاتلون!

--------------------------------------------

(1) انظر تفصيل ذلك في: البداية والنهاية (13/ 200 - 204)، سير أعلام النبلاء (23/ 181 - 183)، دول الإسلام للذهبي ص 360 - 362.

(2) انظر: «شجاعة شيخ الإسلام وقوته».
তাঁর বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তিনি এমন ছিলেন না যে তাঁর চারপাশে কী ঘটছে সে সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না, বরং তিনি কায়মনোবাক্যে সেই বাস্তবতার সঙ্গেই বসবাস করতেন। তিনি যদি তাঁর কলম ও জিহ্বার মাধ্যমে মুজাহিদ হিসেবে জীবন অতিবাহিত করে থাকেন, তবে তিনি তরবারির ধারক এবং রণক্ষেত্রের বীরদেরও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তাঁর জ্ঞানকে কর্মে এবং কথাকে কাজে রূপান্তর করেছিলেন। আমরা তাঁর জিহাদি জীবন থেকে এমন একটি দৃষ্টান্ত ও অবস্থানের কথা উল্লেখ করতে পারি যার মাধ্যমে এই মহান ব্যক্তির জিহাদি স্পৃহা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব, যা তাঁর নামকে অমর করেছে এবং তাঁর মর্যাদাকে সমুন্নত করেছে।

শায়খুল ইসলাম এক উত্তপ্ত যুগে বসবাস করেছিলেন যা ছিল ফিতনা ও বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ। সেই সময়ে মুসলিম উম্মাহ বিশাল সব ঘটনা ও একের পর এক বিপদে জর্জরিত ছিল। তারা এমন এক অভূতপূর্ব অনৈক্য ও বিভক্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ক্রুসেড যুদ্ধগুলো শেষ হতে না হতেই তাতারদের নিষ্ঠুর বাহিনী মুসলিম বিশ্বকে তছনছ করে দিয়ে মুসলিম উম্মাহকে শোকার্ত করে তোলে। তারা সবুজ-শুষ্ক (ভালো-মন্দ) সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছিল এবং মুসলিম সাম্রাজ্যগুলো একের পর এক তাদের হাতে পতন হতে থাকে। তারা সেখানে ধ্বংসযজ্ঞ, লুটতরাজ, বন্দী এবং হত্যাকাণ্ডের তাণ্ডব চালায়। এমনকি তারা মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু ‘বাগদাদ’ পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং ৬৬৫ হিজরীতে তা ঘেরাও করে। আব্বাসীয় খলিফা ‘আল-মুস্তাসিম’কে হত্যার পর বাগদাদের পতন ঘটে। সেই সঙ্গে যে রক্তপাত ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সাধিত হয়, ইতিহাসে তার কোনো নজির নেই «১»।

এর ফলে তাতারদের আতঙ্ক মুসলমানদের মনে ত্রাসের সৃষ্টি করেছিল এবং ভয়ে ও আতঙ্কে তাদের হৃদয় থরথর করে কাঁপত।

৬৯৯ হিজরীতে তাতার শাসক ‘গাজান’ সিরিয়া (শাম) আক্রমণের সংকল্প করেন। এ প্রসঙ্গে শায়খুল ইসলামের অবস্থান এবং গাজানের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ও গাজানের সংকল্প থেকে ফিরে আসার কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে «২»।

৭০২ হিজরীর রজব মাসে তাতারদের সিরিয়া প্রবেশের সংকল্পের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক, ভীতি ও অস্থিরতা দেখা দেয় এবং তারা মিসরের দিকে পাড়ি জমাতে শুরু করে। ঠিক এই সময়ে শায়খের প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে; তিনি দাঁড়িয়ে যান এবং মানুষকে শান্ত করেন, তাদের অভয় দেন এবং বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করেন। তিনি তাদের জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করেন, ধৈর্য ও সহনশীলতার নির্দেশ দেন এবং আল্লাহর নিকট প্রার্থনা ও রোনাজারি বাড়িয়ে দেন।

এই সংকটকালীন মুহূর্তে তিনি সুলতানের কাছে যান এবং তাতারদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেন। সুলতান তাতে সাড়া দেন। তিনি আমীরদের ও সাধারণ মানুষের কাছে শপথ করে বলতেন যে, তাঁরা অবশ্যই বিজয়ী হবেন। তখন আমীররা তাঁকে বলতেন: ‘ইনশাআল্লাহ’ (আল্লাহ যদি চান) বলুন। তিনি বলতেন: আমি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলছি তা ঘটার দৃঢ় নিশ্চয়তা (তাহকীক) থেকে, কেবল অনিশ্চিত সম্ভাবনা (তা’লীক) হিসেবে নয়। তিনি এ প্রসঙ্গে কিছু আয়াতও তেলাওয়াত করতেন।

তবে মানুষের মনে একটি সংশয় ও দ্বিধা তৈরি হয়েছিল যে, তারা কিসের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে!

--------------------------------------------

(১) এর বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৩/ ২০০ - ২০৪), সিয়ারু আলামিন নুবালা (২৩/ ১৮১ - ১৮৩), আয-যাহাবীর দুওয়ালুল ইসলাম পৃষ্ঠা ৩৬০ - ৩৬২।

(২) দেখুন: ‘শায়খুল ইসলামের সাহসিকতা ও তাঁর শক্তি’।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فإن الظاهر منهم هو الإسلام. فسارع شيخ الإسلام وأزال هذه الشبهة وأوضح للناس أنهم من قبيل الخوارج الذين قاتلهم الصحابة- رضي الله عنهم وقال لهم بكل قوة وعزيمة: «إذا رأيتموني من ذلك الجانب- أي في جانب التتار- وعلى رأسي مصحف فاقتلوني». اه وبهذا زال ما وجد لدى بعض الناس وقويت عزائمهم.

وطلب منه السلطان أن يقف معه في المعركة، فقال له الشيخ: «السنّة أن يقف الرجل تحت راية قومه، ونحن مع جيش الشام لا نقف إلا معهم».

وأفتى الناس بالفطر مدة قتالهم، وليكون هذا أقبل للنفوس أوضح هذا عمليّا، فكان يدور على الأمراء والجند، ويأكل من شيء معه في يده.

ويقول: «إن الفطر أقوى لكم» ويتأول فعل النبي صلى الله عليه وسلم في غزوة الفتح حيث أصبح مفطرا.

وابتدأت المعركة، وكانت الدائرة في النهاية للمسلمين، وأعز الله جنده.

وكان لشيخ الإسلام فيها أعظم المواقف، وهي ما عرفت في التاريخ باسم «معركة شقحب» «1».

يقول ابن عبد الهادي في ذكر بعض مواقف الشيخ البطولية في هذه المعركة:

«ولقد أخبرني أمير من أمراء الشاميين ذو دين متين، وصدق لهجة معروف في الدولة قال: قال لي الشيخ- يعني شيخ الإسلام- يوم اللقاء، وقد تراءى الجمعان:

يا فلان أوقفني موقف الموت. قال: فسقته إلى مقابلة العدو، وهم منحدرون كالسيل، تلوح أسلحتهم من تحت الغبار المنعقد عليهم.

ثم قلت له: يا سيدي، هذا موقف الموت، وهذا العدو، وقد أقبل تحت هذه الغبر، فدونك وما تريد … إلى أن قال: ثم حال القتال بيننا والالتحام، وما عدت رأيته، حتى فتح الله ونصر … قال: وإذا أنا بالشيخ وأخيه يصيحان بأعلى صوتيهما، تحريضا على القتال، وتخويفا للناس من الفرار. اه «2».

وبهذا تبوأ ابن تيمية منزلة جهادية لا يستهان بها، وكان له الأثر الواضح في ميدان المعارك تنبئ عن هذا الإمام بأنه ليس إمام قلم فقط بل إمام قلم وسيف، وإنه رجل المواقف.

--------------------------------------------

(1) انظر تفصيل هذه المعركة في: البداية والنهاية (14/ 23 - 27)، دول الإسلام ص 399 - 400، العقود الدرية ص 175 - 177، ذيل مرآة الزمان لليونيني (1/ 85).

(2) العقود الدرية ص 177 - 178.
কেননা বাহ্যিকভাবে তাদের মাঝে ইসলামই প্রকাশ পাচ্ছিল। তখন শাইখুল ইসলাম দ্রুত পদক্ষেপ নিলেন এবং এই সংশয় দূর করে মানুষের নিকট স্পষ্ট করে দিলেন যে, তারা সেই খারেজীদের পর্যায়ভুক্ত যাদের বিরুদ্ধে সাহাবীগণ—রাদিয়াল্লাহু আনহুম—যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি পূর্ণ শক্তি ও দৃঢ়তার সাথে তাদের বললেন: "যদি তোমরা আমাকে ওই পক্ষ অর্থাৎ তাতারদের পক্ষে দেখ এবং আমার মাথায় কুরআন থাকে, তবে তোমরা আমাকে হত্যা করো।" এর মাধ্যমে মানুষের মনে বিদ্যমান সংশয় দূরীভূত হলো এবং তাদের সংকল্প সুদৃঢ় হলো।

সুলতান তাকে যুদ্ধের ময়দানে তাঁর পাশে অবস্থান করতে অনুরোধ করলে শাইখ তাকে বললেন: "সুন্নাহ হলো প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজ জাতির পতাকাতলে অবস্থান করবে। আর আমরা সিরীয় বাহিনীর সাথে রয়েছি, সুতরাং আমরা কেবল তাদের সাথেই অবস্থান করব।"

তিনি যুদ্ধের সময় লোকজনকে রোজা ভঙ্গের ফতোয়া দিলেন। মানুষের মন যাতে এটি সহজে গ্রহণ করে, সেজন্য তিনি তা কার্যত প্রদর্শন করলেন। তিনি সেনাপতি ও সৈন্যদের মাঝে ঘুরে বেড়াতেন এবং নিজের হাতে থাকা খাবার থেকে আহার করতেন।

আর তিনি বলতেন: "রোজা ভঙ্গ করা তোমাদের জন্য অধিকতর শক্তির কারণ।" এক্ষেত্রে তিনি মক্কা বিজয়ের অভিযানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম থেকে দলিল গ্রহণ করতেন, যেখানে তিনি রোজা ভঙ্গ করেছিলেন।

যুদ্ধ শুরু হলো এবং শেষ পর্যন্ত বিজয় মুসলিমদেরই করায়ত্ত হলো; আল্লাহ তাঁর বাহিনীকে সম্মানিত করলেন।

এই যুদ্ধে শাইখুল ইসলামের অত্যন্ত বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, যা ইতিহাসে 'শাকহাবের যুদ্ধ' নামে পরিচিত।

ইবনে আব্দিল হাদী এই যুদ্ধে শাইখের কিছু বীরত্বপূর্ণ অবস্থানের বর্ণনায় বলেন:

"শামবাসী একজন আমীর—যিনি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ, সত্যবাদী এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিচিত ছিলেন—আমাকে বলেছেন: শাইখ (অর্থাৎ শাইখুল ইসলাম) যুদ্ধের দিন যখন দুই বাহিনী মুখোমুখি হলো, তখন আমাকে বললেন:

হে অমুক, আমাকে মৃত্যুর মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে দাঁড় করাও। তিনি বলেন: আমি তাকে শত্রুর মোকাবিলায় নিয়ে গেলাম, যখন তারা প্লাবনের মতো ধেয়ে আসছিল এবং তাদের ওপর জমাটবদ্ধ ধুলোবালির নিচ থেকে তাদের অস্ত্রশস্ত্র ঝিলিক দিচ্ছিল।

অতঃপর আমি তাকে বললাম: হে আমার নেতা, এটিই সেই মৃত্যুর স্থান এবং এই তো শত্রু বাহিনী ধূলি উড়িয়ে ধেয়ে আসছে। এখন আপনার যা ইচ্ছা তা-ই করুন … এরপর বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমাদের মাঝে তুমুল লড়াই ও সংঘর্ষ শুরু হলো এবং আমি তাকে আর দেখতে পাইনি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ বিজয় ও সাহায্য দান করলেন … তিনি বলেন: হঠাৎ আমি দেখতে পেলাম শাইখ ও তাঁর ভাই যুদ্ধের উৎসাহ দিতে এবং পলায়ন থেকে মানুষকে সতর্ক করতে উচ্চস্বরে চিৎকার করছেন।"

এর মাধ্যমে ইবনে তাইমিয়্যাহ এক অনন্য জিহাদি মর্যাদা লাভ করেন এবং রণক্ষেত্রে তাঁর স্পষ্ট প্রভাব এই ইমাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি কেবল কলমের ইমাম ছিলেন না, বরং কলম ও তলোয়ার—উভয়েরই ইমাম ছিলেন এবং তিনি ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।

--------------------------------------------

(১) এই যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/ ২৩-২৭), দুওয়ালুল ইসলাম পৃষ্ঠা ৩৯৯-৪০০, আল-উকূদুদ দুররিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১৭৫-১৭৭, যাইলু মিরআতিল যামান (লিইউনিনী) (১/ ৮৫)।

(২) আল-উকূদুদ দুররিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১৭৭-১৭৮।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌خامسا محنته ووفاته- رحمه الله-

إن هذه الشهرة الكبيرة والمنزلة العالية التي حظي بها الشيخ، وذياع صيته في كل مكان بين الخاصة والعامة أثارت الضغائن، وحركت أصحاب النفوس الضعيفة لإيذائه، وتأليب الحكام عليه، وإلصاق التهم به، حسدا من عند أنفسهم، وهذه سنة جارية، أن من لمع نجمه وبرز اسمه كثر حاسدوه والناقمون عليه.

لقد سجن الشيخ أكثر من مرة، وأوذي وامتحن ولكن هذا لا يزيده إلا قوة في الحق وصلابة في الدين.

وفي سنة ست وعشرين وسبعمائة ظفر خصوم الشيخ بفتوى أفتى بها قبل سنوات «1» في مسألة شد الرحال إلى القبور «2»، وقد نقل أعداء الشيخ هذه الفتوى محرفة بعد أن زادوا فيها ونقصوا «3» وزعم أولئك أن الشيخ ينتقص جناب الأنبياء والأولياء، ونشروها بين العامة ليوغروا صدورهم عليه، لم يكتفوا بذلك، بل أرسلوا إلى السلطان آنذاك- الناصر- بذلك وحرضوا عليه.

وفي عصر يوم الاثنين السادس من شهر شعبان في نفس السنة اعتقل الشيخ- رحمه الله بعد أن ورد مرسوم سلطاني بذلك بقلعة دمشق، وأقام معه أخوه زين الدين ليخدمه.

لقد تقبل الشيخ هذا الخبر بسعادة ورحابة صدر، وقال بكل عزة وأنفة، وإيمان ويقين: «أنا كنت منتظرا ذلك وهذا فيه خير عظيم» «4» وقال: «لو بذلت

--------------------------------------------

(1) ذكر ذلك الشيخ نفسه في كتابه «الرد على الأخنائي» ص 8، وانظر: العقود الدرية ص 328، 331، وقد حددها ابن عبد الهادي أنها قبل سبع عشرة سنة.

(2) وقد أورد ابن عبد الهادي نص الفتوى التي نقموا بها عليه، انظر: العقود الدرية ص 330 - 340، الفتاوى (27/ 182 - 192، 214 - 225).

وانظر: الكلام حول هذه المسألة- شد الرحال إلى القبور- في: كتاب الرد على الأخنائي، والجواب الباهر في زوار المقابر. كلاهما لشيخ الإسلام، وانظر: الفتاوى (27/ 194 وما بعدها)، الصارم المنكي في الرد على السبكي، لابن عبد الهادي، جلاء العينين للآلوسي ص 505 - 518.

(3) يقول شيخ الإسلام في «الرد على الأخنائي» ص 9 موضحا التحريف الذي حصل في جوابه: «ونقل هذا المعارض عن الجواب ما ليس فيه، بل المعروف المتواتر عن المجيب في جميع كتبه وكلامه بخلافه، وليس في الجواب ما يدل عليه بل على نقيض ما قاله، وهذا إما أن يكون عن تعمد للكذب أو عن سوء فهم مقرون بسوء الظن وما تهوى الأنفس، وهذا أشبه الأمرين به … ».

(4) العقود الدرية ص 329.
পঞ্চম: তাঁর নিগ্রহ ও মৃত্যু—রহিমাহুল্লাহ-

শেখ যে বিশাল খ্যাতি ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন এবং বিশেষ ও সাধারণ সকল মহলে সর্বত্র তাঁর যে সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল, তা অনেকের মনে বিদ্বেষের জন্ম দেয়। এটি সংকীর্ণমনা লোকদের তাঁকে কষ্ট দিতে, তাঁর বিরুদ্ধে শাসকদের উস্কানি দিতে এবং কেবল হিংসাবশত তাঁর প্রতি নানাবিধ অপবাদ আরোপ করতে প্ররোচিত করে। আর এটিই জগতের প্রচলিত নিয়ম যে, যার নক্ষত্র উজ্জ্বল হয় এবং যার নাম সুখ্যাতি লাভ করে, তার হিংসুক ও সমালোচকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।

শেখ একাধিকবার কারাবরণ করেছেন, তাঁকে নানাভাবে কষ্ট দেওয়া হয়েছে এবং কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করা হয়েছে; কিন্তু এ সব কিছু সত্যের পথে তাঁর শক্তি এবং দ্বীনের ওপর তাঁর অবিচলতাকেই কেবল বৃদ্ধি করেছে।

সাতশো ছাব্বিশ হিজরি সনে শেখের বিরোধীরা তাঁর কয়েক বছর আগে «১» দেওয়া একটি ফতোয়া হস্তগত করে, যা কবরের উদ্দেশ্যে সফর করা «২» সংক্রান্ত ছিল। শেখের শত্রুরা এই ফতোয়াটিতে নানা হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটিয়ে একে বিকৃতভাবে প্রচার করে «৩»। তারা দাবি করে যে, শেখ নবী ও ওলীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছেন। সাধারণ মানুষের অন্তরকে তাঁর বিরুদ্ধে বিষিয়ে তোলার জন্য তারা এটি তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। তারা কেবল এতেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তৎকালীন সুলতান—নাসির—এর কাছে এ সংক্রান্ত সংবাদ পাঠায় এবং তাঁর বিরুদ্ধে সুলতানকে প্ররোচিত করে।

একই বছরের শাবান মাসের ছয় তারিখ সোমবার বিকেলে সুলতানি ফরমান জারির প্রেক্ষিতে দামেস্কের দুর্গে শেখকে—রহিমাহুল্লাহ—গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর সেবার জন্য তাঁর ভাই জয়নুদ্দিনও তাঁর সাথে সেখানে অবস্থান করেন।

শেখ অত্যন্ত আনন্দ ও প্রশস্ত চিত্তে এই সংবাদ গ্রহণ করেন এবং পূর্ণ আত্মমর্যাদা, ঈমান ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে বলেন: «আমি এরই অপেক্ষায় ছিলাম এবং এর মধ্যে মহৎ কল্যাণ নিহিত রয়েছে» «৪»। তিনি আরও বলেন: «যদি আমি ব্যয় করতাম...»

--------------------------------------------

(১) শেখ নিজেই তাঁর ‘আর-রদ্দু আলাল আখনাঈ’ গ্রন্থের ৮ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন। দেখুন: ‘আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ’, পৃষ্ঠা: ৩২৮, ৩৩১। ইবনুল হাদি নির্দিষ্ট করেছেন যে এটি সতেরো বছর আগের ঘটনা ছিল।

(২) ইবনুল হাদি সেই ফতোয়ার মূল পাঠ উদ্ধৃত করেছেন যার কারণে তারা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিল। দেখুন: ‘আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ’, পৃষ্ঠা: ৩৩০ - ৩৪০; ‘আল-ফাতাওয়া’ (২৭/ ১৮২ - ১৯২, ২১৪ - ২২৫)।

এ বিষয়টি—কবরের উদ্দেশ্যে সফর করা—সম্পর্কে আলোচনার জন্য দেখুন: শাইখুল ইসলাম রচিত ‘আর-রদ্দু আলাল আখনাঈ’ এবং ‘আল-জাওয়াবুল বাহির ফি জাওয়ারিল মাকাবির’। আরও দেখুন: ‘আল-ফাতাওয়া’ (২৭/১৯৪ এবং পরবর্তী অংশ), ইবনুল হাদির ‘আস-সারিমুল মুনকি ফির রদ্দি আলাস সুবকি’ এবং আল-আলুসীর ‘জালাউল আইনাইন’ পৃষ্ঠা: ৫০৫ - ৫১৮।

(৩) শাইখুল ইসলাম তাঁর ‘আর-রদ্দু আলাল আখনাঈ’ গ্রন্থের ৯ পৃষ্ঠায় তাঁর উত্তরে করা বিকৃতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন: «এই বিরোধী পক্ষ উত্তরের মধ্যে এমন কিছু উদ্ধৃত করেছে যা তাতে নেই; বরং উত্তরদাতার সকল কিতাব ও কথাবার্তা থেকে যা সুপ্রসিদ্ধ ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত, তা এর বিপরীত। উত্তরে এমন কিছু নেই যা তার দাবিকে প্রমাণ করে, বরং তার দাবির বিপরীতেই প্রমাণ বিদ্যমান। এটি হয় ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচারের ফল অথবা কুধারণা ও কুপ্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে ভুল বুঝাবুঝির ফসল, আর এ দুটির মধ্যে শেষেরটিই বেশি সম্ভাব্য...»।

(৪) ‘আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ’, পৃষ্ঠা: ৩২৯।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ملء هذه القلعة ذهبا ما عدل عندي شكر هذه النعمة، أو قال: ما جزيتهم على ما تسببوا لي فيه من الخير». اه «1».

ولما دخل القلعة وصار داخل سورها نظر إليه وقال: فَضُرِبَ بَيْنَهُمْ بِسُورٍ لَهُ بابٌ باطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظاهِرُهُ مِنْ قِبَلِهِ الْعَذابُ [الحديد: 13] «2».

لم يكن الشيخ أول من دخل السجن بل سبقه إلى هذا الطريق العلماء والأئمة، وقبلهم الأنبياء والرسل.

وهو لمثل هؤلاء كالنار للذهب، لا تزيده النار إلا صفاء ونقاء ولهذا قال الشيخ كلمته المشهورة: «ما يصنع أعدائي بي؟ أنا جنتي وبستاني في صدري، أنّى رحت فهي معي لا تفارقني. إن حبسي خلوة، وقتلي شهادة، وإخراجي من بلدي سياحة» اه «3».

وقد كان هذا الامتحان والإيذاء للشيخ من أسباب انتشار دعوته وعلمه، وقال في إحدى رسائله: «ومن سنة الله: أنه إذا أراد إظهار دينه، أقام من يعارضه فيحق الحق لكلماته، ويقذف بالحق على الباطل فيدمغه فإذا هو زاهق … » «4».

وضيق على الشيخ في سجنه شيئا فشيئا، ومنع دخول التلاميذ عليه، ثم صدر مرسوم بإخراج جميع أدوات الكتابة من عنده منعا له من التأليف، وبعد هذا تفرغ تفرغا تاما للعبادة والخلوة بربه، وكان يكثر من قراءة القرآن والتضرع إلى الله.

وقبل وفاته ببضعة وعشرين يوما ألمّ به بعض المرض فبقي على هذه الحالة إلى أن وافاه الأجل المحتوم في ليلة الاثنين لعشر بقين من ذي القعدة لسنة ثمان وعشرين وسبع ومائة- رحمة الله رحمة واسعة-.

وقد فوجئ الناس بهذا الخبر، وانزعجوا لذلك انزعاجا كبيرا، وحضروا زرافات وفردانا للقلعة حيث كان موجودا، وهالهم الخطب، وأغلقت المتاجر، وذكر أخوه زين الدين- الذي كان يصحبه حيث كان يصحبه في سجنه- أنه كان يقرأ هو وأخوه القرآن في داخل السجن. وأن آخر ما انتهى إليه الشيخ قبيل وفاته قوله تعالى: إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَهَرٍ (54) فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُقْتَدِرٍ (55) «5» «6».

--------------------------------------------

(1) نقله عنه ابن القيم في الوابل الصيب ص 44.

(2) المصدر السابق ص 44، وانظر: الذيل على طبقات الحنابلة (4/ 402).

(3) الوابل الصيب ص 44، الذيل على طبقات الحنابلة، (4/ 402).

(4) الفتاوى (28/ 57)، العقود الدرية ص 364.

(5) سورة القمر الآيتان: 54، 55.

(6) البداية والنهاية (14/ 138)، الذيل على طبقات الحنابلة (4/ 406).
"এই দুর্গটি পূর্ণ স্বর্ণ দিলেও তা আমার নিকট এই নিআমতের শুকরিয়ার সমতুল্য হবে না, অথবা তিনি বলেন: তারা আমার জন্য যে কল্যাণের কারণ হয়েছে, আমি তার প্রতিদান দিতে পারিনি।" সমাপ্ত। [১]।

যখন তিনি দুর্গে প্রবেশ করলেন এবং তার প্রাচীরের অভ্যন্তরে আসলেন, তখন তিনি তার দিকে তাকিয়ে বললেন: "অতঃপর তাদের মাঝখানে একটি প্রাচীর স্থাপন করা হবে যাতে একটি দরজা থাকবে; তার অভ্যন্তরভাগে থাকবে রহমত এবং তার বহির্ভাগে থাকবে আযাব।" [আল-হাদিদ: ১৩] [২]।

শায়েখই কারাগারে প্রবেশকারী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন না, বরং তাঁর পূর্বে উলামা ও আইম্মাহগণ এবং তাঁদেরও পূর্বে নবী ও রাসূলগণ এই পথে চলেছেন।

তাঁদের মতো ব্যক্তিদের নিকট এটি (কারাগার) স্বর্ণের জন্য আগুনের মতো; আগুন স্বর্ণকে কেবল স্বচ্ছতা ও বিশুদ্ধতাই বৃদ্ধি করে। আর এ কারণেই শায়েখ তাঁর সেই বিখ্যাত কথাটি বলেছিলেন: "আমার শত্রুরা আমার কী করবে? আমার জান্নাত ও বাগান তো আমার বক্ষেই রয়েছে; আমি যেখানেই যাই তা আমার সাথেই থাকে, কখনোই আমাকে ছেড়ে যায় না। আমার কারাবাস হলো নির্জন ইবাদত (খালওয়াত), আমার নিহত হওয়া হলো শাহাদাত, আর আমার দেশ থেকে বহিষ্কার হওয়া হলো পর্যটন।" সমাপ্ত। [৩]।

শায়েখের ওপর আপতিত এই পরীক্ষা ও কষ্টই ছিল তাঁর দাওয়াত ও ইলম ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। তিনি তাঁর একটি পত্রে বলেছিলেন: "আল্লাহর সুন্নাত বা রীতি হলো: যখন তিনি তাঁর দীনকে প্রকাশ করতে চান, তখন এমন কাউকে দাঁড় করিয়ে দেন যে তার বিরোধিতা করে; ফলে তিনি তাঁর বাণীসমূহ দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং সত্যের মাধ্যমে মিথ্যার ওপর আঘাত হানেন, ফলে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় এবং নিমিষেই মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে যায়..." [৪]।

কারাগারে শায়েখের ওপর ক্রমেই কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং তাঁর নিকট ছাত্রদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। অতঃপর তাঁর নিকট থেকে লেখালেখির যাবতীয় সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার রাজকীয় ফরমান জারি করা হয় যাতে তিনি কোনো গ্রন্থ রচনা করতে না পারেন। এরপর তিনি ইবাদত ও তাঁর রবের সাথে একান্তে সময় অতিবাহিত করার জন্য নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করেন। তিনি অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর নিকট রোনাজারি করতেন।

মৃত্যুর বিশ দিনের কিছুকাল পূর্বে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এই অবস্থাতেই অবস্থান করেন, অবশেষে ৭২৮ হিজরির যিলকদ মাসের বিশ তারিখ সোমবার রাতে তাঁর নির্ধারিত সময় (মৃত্যু) উপস্থিত হয়—আল্লাহ তাঁকে ব্যাপক রহমত দান করুন।

এই সংবাদে মানুষ হতবিহ্বল হয়ে পড়ে এবং দারুণভাবে মর্মাহত হয়। তারা দলে দলে ও একা একা দুর্গের দিকে ছুটে আসে যেখানে তিনি অবস্থান করছিলেন। এই মহাবিপদে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর ভাই যাইনুদ্দীন—যিনি কারাগারে তাঁর সঙ্গী ছিলেন—উল্লেখ করেন যে, তিনি ও তাঁর ভাই কারাগারের অভ্যন্তরে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। মৃত্যুর ঠিক পূর্বে শায়েখ মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর এসে তিলাওয়াত সমাপ্ত করেছিলেন: "নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাত ও নহরসমূহের মাঝে। যথাযথ মর্যাদাপূর্ণ আসনে, সর্বশক্তিমান অধিপতির সান্নিধ্যে।" [৫৪, ৫৫] [৫] [৬]।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাইয়্যিম এটি 'আল-ওয়াবিল আস-সাইয়্যিব' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন, পৃষ্ঠা ৪৪।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪৪; এবং দেখুন: 'আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ' (৪/৪০২)।

(৩) 'আল-ওয়াবিল আস-সাইয়্যিব', পৃষ্ঠা ৪৪; 'আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ' (৪/৪০২)।

(৪) 'আল-ফাতাওয়া' (২৮/৫৭), 'আল-উকুূদ আদ-দুররিয়্যাহ', পৃষ্ঠা ৩৬৪।

(৫) সূরা আল-কামার, আয়াত: ৫৪, ৫৫।

(৬) 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া' (১৪/১৩৮), 'আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ' (৪/৪০৬)।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وغسل شيخ الإسلام وكفّن وصلّى عليه في الجامع الأموي وقد حضره جم غفير من الناس، حتى وقفوا مرصوصين رصّا في داخل الجامع لا يتمكن أحد من السجود إلا بكلفة لكثرتهم، وذكر ابن كثير أنه لم يتخلف عن حضورها أحد من أهل العلم إلا ثلاثة نفر وهم ابن جملة، والصدر، والقفجاقي، وذكر أن هؤلاء اشتهروا بعداوة الشيخ، فاختفوا خوفا على أنفسهم من الناس «1» وقد صلي عليه الظهر، ولم يدفن إلا قرب العصر لكثرة الزحام، ودفن في مقبرة الصوفية إلى جانب أخيه شرف الدين عبد الله.

ورحم الله الإمام أحمد حيث قال: «قولوا لأهل البدع بيننا وبينكم الجنائز» «2». قال البرزالي بعد إيراد هذا الأثر: «ولا شك أن جنازة أحمد بن حنبل كانت هائلة عظيمة بسبب كثرة أهل بلده واجتماعهم لذلك، وتعظيمهم له، وأن الدولة كانت تحبه، والشيخ تقي الدين ابن تيمية توفي ببلده دمشق وأهلها لا يعشرون أهل بغداد حينئذ كثرة، ولكنهم اجتمعوا لجنازته اجتماعا لو جمعهم سلطان قاهر، وديوان حاصر لما بلغوا هذه الكثرة التي اجتمعوا في جنازته، وانتهوا إليها. هذا مع أن الرجل مات بالقلعة محبوسا من جهة السلطان … - ثم ذكر تشويه بعض المنتسبين إلى الفقه لشخصيته بين الناس» «3».

وقد رئيت له منامات طيبة، ورثي بمراثي كثيرة من علماء عصره، وممن بعدهم «4».

 

‌‌سادسا مكانته العلمية وثناء العلماء عليه

تبوأ الشيخ مكانة علمية واسعة فقد فاق أقرانه إذ هو الإمام حقا، وشيخ الإسلام صدقا، وهو البحر من أي جهة أتيته، ولا تكدره الدلاء.

إمام وأي إمام. لقد طبّق اسمه الدنيا وبلغت مؤلفاته ما بلغ الليل والنهار،

--------------------------------------------

(1) انظر: البداية والنهاية (14/ 139).

(2) ذكره الحافظ ابن كثير في «البداية والنهاية» (10/ 342) من رواية الدارقطني وفي (14/ 137)، من رواية أبي عثمان الصابوني عنه.

وذكره الذهبي في «السير» (11/ 340) من رواية السلمي عنه.

(3) البداية والنهاية (14/ 137 - 138)، وانظر: تقريظ الحافظ ابن حجر على الرد الوافر ص 12، 13، تحقيق محمد الشيباني.

(4) انظر في مراثيه: العقود الدرية ص 392 - 516، الكواكب الدرية ص 181 - 232.
শায়খুল ইসলামকে গোসল ও কাফন পরানো হয় এবং জামে উমাবিতে তাঁর জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মানুষের এক বিশাল জনসমাবেশ ঘটেছিল, এমনকি তারা মসজিদের ভেতরে এমনভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন যে, প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে কষ্টের সম্মুখীন না হয়ে কারো পক্ষেই সিজদা করা সম্ভব ছিল না। ইবনে কাসীর উল্লেখ করেছেন যে, তিনজন ব্যক্তি ব্যতীত ইলমের ধারক-বাহকদের কেউই তাঁর জানাযায় উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকেননি; তারা হলেন ইবনে জুমলা, আস-সদর এবং আল-কাফজাকি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ব্যক্তিরা শায়খের প্রতি তাঁদের শত্রুতার জন্য পরিচিত ছিলেন, তাই তাঁরা জনগণের ভয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। তাঁর জানাযার নামায যোহরের সময় অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে আসরের নিকটবর্তী সময়ের আগে দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে সুফিয়া কবরস্থানে তাঁর ভাই শরাফ উদ্দিন আবদুল্লাহর পাশে দাফন করা হয়।

আল্লাহ তাআলা ইমাম আহমদের ওপর রহম করুন, যিনি বলেছিলেন: «বিদআতপন্থীদের বলে দাও, আমাদের ও তোমাদের মাঝে ফয়সালা হবে জানাযার মাধ্যমে»। এই উক্তিটি উল্লেখ করার পর বারযালি বলেন: «এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আহমদ ইবনে হাম্বলের জানাযা তাঁর শহরের অধিবাসীদের আধিক্য, তাঁদের সমাবেশ এবং তাঁর প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধার কারণে অত্যন্ত বিশাল ও মর্যাদাপূর্ণ ছিল; তদুপরি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে পছন্দ করত। কিন্তু শায়খ তাকীউদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর নিজ শহর দামেস্কে ইন্তেকাল করেন, যার অধিবাসীরা তৎকালীন বাগদাদের অধিবাসীদের তুলনায় সংখ্যার দিক থেকে দশভাগের একভাগও ছিল না। তবুও তাঁর জানাযায় এমন এক জনসমাবেশ হয়েছিল যে, যদি কোনো পরাক্রমশালী সুলতান বা কোনো শক্তিশালী সংগ্রাহক বিভাগ তাঁদের একত্রিত করতে চাইতেন, তবুও তাঁরা এমন বিপুল সংখ্যায় পৌঁছাতে পারতেন না যা তাঁর জানাযায় সমবেত হয়েছিল। আর এটি ছিল এমন অবস্থায় যখন তিনি সুলতানের আদেশে দুর্গে কারারুদ্ধ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন … - এরপর তিনি ফিকহ শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর ব্যক্তিত্বকে কলঙ্কিত করার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন»।

তাঁর সম্পর্কে অনেক উত্তম স্বপ্ন দেখা গিয়েছিল এবং তাঁর সমসাময়িক ও পরবর্তী উলামায়ে কেরাম তাঁর স্মরণে অনেক শোকগাথা রচনা করেছিলেন।

 

‌‌ষষ্ঠত: তাঁর ইলমী মাকাম ও তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের প্রশংসা

শায়খ এক সুবিস্তৃত ইলমী মাকাম বা উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন। তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন, কারণ তিনিই ছিলেন প্রকৃত ইমাম এবং সত্যকার শায়খুল ইসলাম। তিনি ছিলেন এক অতল সমুদ্রের ন্যায়, আপনি যেদিক থেকেই তাঁর কাছে যান না কেন; কোনো বালতি বা পাত্রের ব্যবহার সেই সমুদ্রকে ঘোলাটে করতে পারে না।

তিনি এক মহান ইমাম। তাঁর নাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁর রচনাবলি ততদূর পৌঁছেছিল যতদূর দিন ও রাত পৌঁছে থাকে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/ ১৩৯)।

(২) হাফেজ ইবনে কাসীর এটি ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (১০/ ৩৪২) গ্রন্থে দারাকুতনীর বর্ণনা থেকে এবং (১৪/ ১৩৭) পৃষ্ঠায় আবু উসমান আস-সাবুনীর বর্ণনা থেকে উল্লেখ করেছেন।

যাহাবী ‘আস-সিয়ার’ (১১/ ৩৪০) গ্রন্থে সুলামীর বর্ণনা থেকে এটি উল্লেখ করেছেন।

(৩) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/ ১৩৭ - ১৩৮), আরও দেখুন: মুহাম্মদ আশ-শাইবানী সম্পাদিত ‘আর-রাদ্দুল ওয়াফির’ গ্রন্থের ওপর হাফেজ ইবনে হাজারের প্রশংসামূলক ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১২, ১৩।

(৪) তাঁর শোকগাথাগুলো সম্পর্কে দেখুন: আল-উকূদ আদ-দুররিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৩৯২ - ৫১৬, আল-কাওয়াকিব আদ-দুররিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১৮১ - ২৩২।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وأصبح علم المذهب السلفي، فكل من التزم المذهب الحق في باب العقائد قيل:

هو على مذهب ابن تيمية، فهو إذا مدرسة الأجيال تخرج منها فطاحل العلماء، والأئمة العظماء.

فإذا كان عصره يعج بالتيارات الفكرية المتباينة، ممثلا في مذاهب عقدية منحرفة من جهمية، ومعتزلة، وأشاعرة … إلخ، إضافة إلى صوفية خيمت على العالم الإسلامي بسلوكياتها وأصولها الفاسدة، أضف إلى أن بضاعة الفلاسفة والمناطقة رائجة، وسلعتهم نافقة، هذا مع ما كان المسلمون يتلقونه من حرب فكرية عاتية من الصليبية الحاقدة لا تقل خطرا عن حروبهم العسكرية الشرسة.

وقد تصدى الشيخ لكل هؤلاء، وانبرى للرد عليهم، وتفنيد أقوالهم، وكان يعمل على جميع الجبهات، فلم يشغل مناقشة هؤلاء عن الرد على أولئك.

وكان إذا تكلم في فنّ حسبه السامع لا يحسن غيره، وظنه قد تخصص في هذا الجانب بل إن أصحاب المذاهب الأخرى يستفيدون منه علوما في مذاهبهم كانوا يجهلونها وتخفى عليهم «1». حتى ذكر أنه ما تكلم في علم من العلوم سواء أكان علوم الشرع أم من غيرها إلا فاق فيه أهله، والمنسوبين إليه، وما ناظر أحدا فانقطع معه «2».

وإن القارئ ليقف منبهرا أمام هذه العلمية الفذّة. وخير من يجلّي الحقيقة ويوفّي الموضوع حقه أو بعضه، هم العلماء الفحول، صيارفة الرجال، والأئمة النقاد، الذين وصفهم هو الوصف، ومدحهم هو المدح، وثناؤهم هو الثناء.

يقول الإمام الذهبي في معرض وصفه لشيخ الإسلام: « .... وصار من أكابر العلماء في حياة شيوخه، وله المصنفات الكبار التي سارت بها الركبان، ولعل تصانيفه في هذا الوقت تكون أربعة آلاف كراس وأكثر، وفسّر كتاب الله تعالى مدة سنين من صدره في أيام الجمع، وكان يتوقد ذكاء، وسماعاته من الحديث كثيرة، وشيوخه أكثر من مائتي شيخ، ومعرفته بالتفسير إليها المنتهى، وحفظه للحديث ورجاله وصحته وسقمه، فما يلحق فيه، وأما نقله للفقه، ومذاهب الصحابة والتابعين، فضلا عن المذاهب الأربعة، فليس له فيه نظير. وأما معرفته بالملل والنحل، والأصول والكلام فلا أعلم له فيه نظيرا … وقال أيضا: كان آية في الذكاء وسرعة الإدراك، رأسا في معرفة الكتاب والسنة والاختلاف. بحرا في

--------------------------------------------

(1) انظر العقود الدرية ص 7.

(2) المصدر السابق ص 7.
তিনি সালাফি মাযহাবের প্রতীকে পরিণত হন; ফলে আকীদার ক্ষেত্রে যে কেউ সত্য পথ অনুসরণ করত, বলা হতো যে:

সে ইবনে তাইমিয়ার মাযহাবের ওপর রয়েছে। সুতরাং তিনি ছিলেন প্রজন্মের পর প্রজন্মের এমন এক বিদ্যাপীঠ, যেখান থেকে বড় বড় প্রাজ্ঞ আলেম ও মহান ইমামগণ তৈরি হয়েছেন।

তাঁর যুগ ছিল বিবিধ বুদ্ধিবৃত্তিক স্রোতধারায় পরিপূর্ণ, যা জাহমিয়া, মুতাজিলা, আশআরিয়া ... প্রভৃতি বিভ্রান্ত আকিদাগত মতবাদের মাধ্যমে ফুটে উঠেছিল। এর সাথে যোগ হয়েছিল সুফিবাদ, যা তার ভ্রষ্ট আচরণ ও মূলনীতির মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের ওপর জেঁকে বসেছিল। অধিকন্তু, দার্শনিক ও যুক্তিবিদদের বিদ্যা তখন ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রসৃত; তার পাশাপাশি মুসলমানদেরকে বিদ্বেষপরায়ণ ক্রুসেডারদের পক্ষ থেকে এক প্রচণ্ড বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের মোকাবিলা করতে হচ্ছিল, যা তাদের ভয়াবহ সামরিক যুদ্ধের চেয়ে কোনো অংশে কম বিপজ্জনক ছিল না।

শাইখ এই সকলের মোকাবিলা করেছেন এবং তাদের জবাব প্রদান ও তাদের বক্তব্য খণ্ডন করার জন্য সচেষ্ট হয়েছেন। তিনি সকল রণাঙ্গনে একযোগে কাজ করতেন; ফলে একদলের সাথে বিতর্ক তাঁকে অন্য দলের উত্তর প্রদান থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

তিনি যখন কোনো একটি বিষয়ে কথা বলতেন, শ্রোতা মনে করত যে তিনি এটি ছাড়া অন্য কিছু জানেন না এবং ধারণা করত যে তিনি কেবল এই বিভাগেই বিশেষজ্ঞ। এমনকি অন্যান্য মাযহাবের অনুসারীরাও তাদের নিজস্ব মাযহাবের এমন সব জ্ঞান তাঁর কাছ থেকে লাভ করত যা তারা জানত না বা তাদের কাছে অস্পষ্ট ছিল «১»। এমনকি উল্লেখ করা হয়েছে যে, শরয়ী বিজ্ঞান হোক বা অন্য কিছু, তিনি যখনই কোনো বিদ্যায় কথা বলতেন, তাতে সেই বিদ্যার বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে যেতেন। আর তিনি যার সাথেই বিতর্ক করেছেন তাকেই নিরুত্তর করে দিয়েছেন «২»।

পাঠক এই অনন্য পাণ্ডিত্যের সামনে বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়েন। এ সত্যটি ফুটিয়ে তোলার এবং এ বিষয়ে যথাযথ বা আংশিক হক আদায় করার জন্য শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন সেই প্রাজ্ঞ আলেমবৃন্দ, যারা মানুষ চেনার জহুরি এবং সমালোচক ইমাম, যাঁদের করা বর্ণনাই হলো প্রকৃত বর্ণনা, তাঁদের প্রশংসাই হলো প্রকৃত প্রশংসা এবং তাঁদের স্তুতিই হলো প্রকৃত স্তুতি।

ইমাম যাহাবী শাইখুল ইসলামের বর্ণনায় বলেন: « .... তিনি তাঁর শিক্ষকদের জীবিত থাকাবস্থায়ই প্রবীণ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। তাঁর এমন সব সুবিশাল গ্রন্থ রয়েছে যা দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভবত এই সময়ে তাঁর রচনার পরিমাণ চার হাজার কুরাস (বইয়ের খাতা) বা তার চেয়েও বেশি হবে। তিনি দীর্ঘ বছর যাবৎ জুমার দিনগুলোতে নিজের স্মৃতি থেকে আল্লাহর কিতাবের তাফসীর করেছেন। তিনি তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন ছিলেন, তাঁর হাদীস শ্রবণ ছিল প্রচুর এবং তাঁর উস্তাদগণের সংখ্যা দুইশ’রও অধিক। তাফসীর শাস্ত্রে তাঁর জ্ঞান ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের। হাদীস শাস্ত্র, এর রাবী এবং হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে তাঁর যে হিফজ ছিল, তাতে তাঁর নাগাল পাওয়া ভার। আর ফিকহ এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের মাযহাব নকল করার ক্ষেত্রে, বিশেষত চার মাযহাবের বিষয়ে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না। বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদ এবং উসূলে দ্বীন ও ইলমুল কালামের বিষয়েও তাঁর কোনো সমতুল্য কেউ আছে বলে আমি জানি না … তিনি আরও বলেন: তিনি প্রজ্ঞা ও দ্রুত অনুধাবন ক্ষমতার এক নিদর্শন ছিলেন। কিতাব ও সুন্নাহ এবং মতভেদ নিরসনের জ্ঞানে তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয়। তিনি ছিলেন এক সমুদ্র স্বরূপ।

--------------------------------------------

(১) আল-উকূদ আদ-দুররিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৭।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৭।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
النقليات، هو في زمانه فريد عصره علما وزهدا … إلى أن قال: وقرأ وحصل، وبرع في الحديث والفقه، وتأهل للتدريس والفتوى وهو ابن سبع عشرة سنة.

وتقدم في علم التفسير والأصول، وجميع علوم الإسلام: أصولها وفروعها ودقها وجلها، سوى علم القراءات. فإن ذكر التفسير فهو حامل لوائه، وإن عدّ الفقهاء فهو مجتهدهم المطلق، وإن حضر الحفاظ نطق وخرسوا، وسرد وأبلسوا، واستغنى وأفلسوا. وإن سمي المتكلمون فهو فردهم، وإليه مرجعهم، وإن لاح ابن سينا يقدم الفلاسفة فلّهم وتيّسهم، وهتك أستارهم وكشف عوارهم. وله يد طولى في معرفته العربية والصرف واللغة. وهو أعظم من أن يصفه كلمي، أو ينبه على شأوه قلمي … وقال: وإليه المنتهى في عزوه إلى الكتاب والسنة والمسند، بحيث يصدق عليه أن يقال: «كل حديث لا يعرفه ابن تيمية فليس بحديث» ولكن الإحاطة لله، غير أنه يغترف من بحر، وغيره من الأئمة يغترفون من السواقي … ، وقال:

فلو حلّفت بين الركن والمقام لحلفت أني ما رأيت بعيني مثله، ولا والله ما رأى هو مثل نفسه في العلم». اه «1».

وقال الشيخ تقي الدين ابن دقيق العيد، وقد سئل عن شيخ الإسلام بعد اجتماعه به، كيف رأيته؟ فقال: «رأيت رجلا سائر العلوم بين عينيه، يأخذ ما شاء منها، ويترك ما شاء … » «2».

وقال ابن عبد الهادي: «وأخبرني غير واحد أنه كتب مجلدا لطيفا في يوم، وكتب غير مرة أربعين ورقة في جلسة وأكثر، وأحصيت ما كتبه وبيّضه في يوم فكان ثمانية كراريس في مسألة من أشكل المسائل، وكان يكتب على سؤال الواحد مجلدا» اه «3».

هذه لمحات يسيرة من ثناء الأئمة على الشيخ، من خلالها يمكن للقارئ معرفة ما ميّز الله هذا الرجل من وفرة العلم وسعة الاطلاع. وما ذكرته ما هو إلا قطرة من بحر، وذرة من رمل وشيء يسير جدّا ومن أراد التوسع فليراجع بعض الكتب التي أفردت لهذا الشأن «4». وبنظرة سريعة على فهارس «مجموع الفتاوى»

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق ص 22 - 25، الذيل على طبقات الحنابلة (4/ 390 - 391)، الرد الوافر ص 68 - 72، الشهادة الزكية ص 40 - 43، شذرات الذهب (6/ 82).

(2) الرد الوافر ص 107، الشهادة الزكية ص 29، شذرات الذهب ص 83.

(3) العقود الدرية ص 64.

(4) ومن هذه الكتب: كتاب «العقود الدرية» لابن عبد الهادي، و «الأعلام العلية» للبزار، و «الرد الوافر» لابن ناصر الدين، و «الشهادة الزكية» لمرعي بن يوسف، وغيرها كثير.
উদ্ধৃতিসমূহ; তিনি তাঁর সময়ে জ্ঞান ও কৃচ্ছ্রসাধনায় ছিলেন যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব … বর্ণনাকারী বলেন: তিনি পড়াশোনা ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। মাত্র সতেরো বছর বয়সেই তিনি শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা অর্জন করেন।

তিনি তাফসির, উসুল এবং ইসলামের সকল জ্ঞান—এর মূলনীতি, শাখা-প্রশাখা এবং সূক্ষ্ম ও স্থূল উভয় বিষয়েই অগ্রগামী ছিলেন, কেবল কিরাআত শাস্ত্র ব্যতীত। যদি তাফসিরের আলোচনা করা হয়, তবে তিনি এর পতাকাবাহী; যদি ফকিহদের গণনা করা হয়, তবে তিনি তাঁদের মুজতাহিদে মুতলাক বা নিরঙ্কুশ গবেষক; যদি হাফেজদের সমাবেশ ঘটে, তবে তিনি কথা বলেন আর অন্যরা নির্বাক হয়ে যান, তিনি গড়গড় করে বর্ণনা করে যান আর অন্যরা বিমূঢ় হয়ে পড়েন, তিনি সমৃদ্ধ জ্ঞান প্রকাশ করেন আর অন্যরা রিক্ত হয়ে পড়েন। যদি কালামশাস্ত্রবিদদের নাম নেওয়া হয়, তবে তিনি তাঁদের মধ্যে অনন্য ও তাঁদের প্রধান আশ্রয়স্থল; আর যদি ইবনে সিনার মতো দার্শনিকরা তাঁদের দর্শনের পসরা নিয়ে হাজির হন, তবে তিনি তাঁদের যুক্তিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করেন এবং তাঁদের ত্রুটি ও অসারতা উন্মোচন করেন। আরবি ভাষা, সরফ ও ভাষাতত্ত্বে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি এতটাই মহান যে, আমার শব্দমালা তাঁর বর্ণনা দিতে অক্ষম অথবা আমার কলম তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের নাগাল পেতে অসমর্থ … এবং তিনি বলেন: কুরআন, সুন্নাহ এবং মুসনাদ গ্রন্থের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর জ্ঞান ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের, যা সম্পর্কে নির্দ্বিধায় বলা যায়: «যে হাদিস ইবনে তাইমিয়্যাহ জানেন না, তা হাদিসই নয়»। তবে নিরঙ্কুশ পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান কেবল আল্লাহরই রয়েছে; কিন্তু বাস্তবতা হলো, তিনি যেন এক মহাসমুদ্র থেকে জ্ঞান আহরণ করতেন, যেখানে অন্যান্য ইমামগণ কেবল ছোট ছোট নালা বা জলধারা থেকে আহরণ করেন … এবং তিনি বলেন:

আমি যদি রুকন ও মাকামের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কসম করি, তবে আমি এই কসমই করব যে, আমি নিজের চোখে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি; আর আল্লাহর কসম, তিনি নিজেও জ্ঞানের গভীরতায় নিজের সমতুল্য কাউকে দেখেননি। (সমাপ্ত) «১»।

শায়খ তাকিউদ্দীন ইবনু দাকিকিল ঈদকে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: «আমি এমন একজন ব্যক্তিকে দেখেছি যার চোখের সামনে সমস্ত জ্ঞান যেন জীবন্ত হয়ে আছে, তিনি সেখান থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করেন এবং যা ইচ্ছা বর্জন করেন … » «২»।

ইবনে আবদিল হাদি বলেন: «একাধিক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি এক দিনেই একটি ছোটখাটো খণ্ড লিখে ফেলতেন। তিনি এক বৈঠকে বা তার চেয়ে সামান্য বেশি সময়ে চল্লিশ পৃষ্ঠার বেশি লিখেছেন। এক দিনে তিনি যা লিখেছেন এবং পরিষ্কার অক্ষরে পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন তা আমি গণনা করে দেখেছি, যা ছিল অত্যন্ত জটিল একটি মাসআলার ওপর আটটি পুস্তিকা সমপরিমাণ। এমনকি তিনি কোনো একটি প্রশ্নের উত্তরে পুরো এক খণ্ড লিখে ফেলতেন»। (সমাপ্ত) «৩»।

এগুলো হলো শায়খের প্রতি ইমামগণের প্রশংসার সামান্য কিছু ঝলক, যার মাধ্যমে পাঠক বুঝতে পারবেন আল্লাহ তাআলা এই ব্যক্তিকে জ্ঞানের প্রাচুর্য ও ব্যাপক অধ্যয়নের ক্ষেত্রে কী পরিমাণ বৈশিষ্ট্য দান করেছিলেন। আমি যা উল্লেখ করেছি তা সমুদ্রের এক বিন্দু জল, বালুকারাশির একটি কণা এবং অত্যন্ত সামান্য কিছু মাত্র। যারা আরও বিস্তারিত জানতে চান, তারা এই বিষয়ে রচিত বিশেষ গ্রন্থসমূহ দেখে নিতে পারেন «৪»। আর «মাজমুউল ফাতাওয়া»-র সূচিপত্রের দিকে দ্রুত নজর দিলে দেখা যায়—

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২২ - ২৫; আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৪/ ৩৯০ - ৩৯১); আর-রাদ্দুল ওয়াফির, পৃষ্ঠা ৬৮ - ৭২; আশ-শাহাদাতুয যাকিইয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪০ - ৪৩; শাযারাতুয যাহাব (৬/ ৮২)।

(২) আর-রাদ্দুল ওয়াফির, পৃষ্ঠা ১০৭; আশ-শাহাদাতুয যাকিইয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৯; শাযারাতুয যাহাব, পৃষ্ঠা ৮৩।

(৩) আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৬৪।

(৪) এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইবনে আবদিল হাদি রচিত «আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ», আল-বাযযার রচিত «আল-আলামুল আলিয়্যাহ», ইবনু নাসিরুদ্দিন রচিত «আর-রাদ্দুল ওয়াফির», মারয়ী বিন ইউসুফ রচিত «আশ-শাহাদাতুয যাকিইয়্যাহ» এবং আরও অনেক।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
يمكن للشخص أن يأخذ من خلالها حكما أوليّا على المكانة العلمية الواسعة والشاملة لهذا الرجل.

ويكفيه فخرا واعتزازا أن له الفضل- بعد الله- في تجديد ما اندرس من المنهج السلفي القائم على الكتاب والسنة، ودعوة الناس من جديد للعودة إلى هذا المعين الصافي والأخذ منه مباشرة، وقد كان لذلك الأثر الكبير على الأمة الإسلامية إلى يومنا هذا.

يقول عبد الله بن حامد في معرض كلامه على مدى تأثره بشيخ الإسلام، وأنه كان سببا في هدايته للحق والصواب، بعد أن فتش في كتب أهل الكلام، متقدميهم، ومتأخريهم باحثا عن النهج السويّ، والطريق المستقيم، يقول- رحمه الله: «وكنت قبل وقوفي على مباحث إمام الدنيا رحمه الله، قد طالعت مصنفات المتقدمين، ووقفت على مقالات المتأخرين من أهل الإسلام، فرأيت فيها الزخارف والأباطيل والشكوك التي يأنف المسلم الضعيف في الدين أن تخطر بباله، فضلا عن القوي في الدين، فكان يتعب قلبي ويحزنني ما يصير إليه الأعاظم، من المقالات السخيفة، والآراء الضعيفة التي لا يعتقد جوازها آحاد الأمة، وكنت أفتش على السنّة المحضة في مصنفات المتكلمين من أصحاب الإمام أحمد على الخصوص، لاشتهارهم بمنصوصات إمامهم في أصول العقائد، فلا أجد عندهم ما يكفي، وكنت أراهم يتناقضون … إلى أن قال: فإذا جمعت بين أقاويل المعتزلة، والأشعرية، وحنابلة بغداد وكرامية خراسان، أرى إجماع هؤلاء المتكلمين في المسألة الواحدة على ما يخالف الدليل العقلي والنقلي، فيسوءني ذلك وأظل أحزن حزنا لا يعلم كنهه إلا الله … إلى أن قال: إلى أن قدّر الله سبحانه وقوع تصنيف الإمام إمام الدنيا في يدي قبيل واقعته الأخيرة بقليل، فوجدت فيه ما يبهرني في موافقة فطرتي، لما فيه من عزو الحق إلى أئمة السنّة وسلف الأمة مع مطابقة المعقول والمنقول، فبهتّ لذلك سرورا بالحق، وفرحا بوجود الضالة التي ليس لفقدها عوض … » «1».

وقال شهاب الدين أحمد بن مري الحنبلي- أحد تلامذة الشيخ- في رسالة إلى تلاميذ الشيخ يحثهم فيها على جمع مؤلفاته، يقول في معرض ذلك: «فإن يسر الله تعالى وأعان على هذه الأمور العظيمة صارت إن شاء الله مؤلفات شيخنا ذخيرة

--------------------------------------------

(1) رسالة قصيرة في فضل شيخ الإسلام ابن تيمية، ومحبة أهل العلم له، لعبد الله بن حامد الشافعي ص 12 - 14، تحقيق محمد الشيباني، وانظر: العقود الدرية ص 503 - 504، الأعلام العلية ص 33، الرد الوافر ص 196.
এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি এই মনীষীর সুদূরপ্রসারী ও ব্যাপক পাণ্ডিত্যপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা লাভ করতে পারেন।

তাঁর গর্ব ও সম্মানের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আল্লাহর রহমতের পর কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সালাফি মানহাজের বিলুপ্তপ্রায় আদর্শকে পুনর্জীবিত করার এবং মানুষকে পুনরায় এই স্বচ্ছ ঝরনাধারার দিকে ফিরে এসে তা থেকে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করার দাওয়াত দেওয়ার কৃতিত্ব তাঁরই। আর বর্তমান সময় পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে।

আব্দুল্লাহ বিন হামিদ শাইখুল ইসলামের প্রতি তাঁর মুগ্ধতার মাত্রা এবং শাইখ যে তাঁর সত্য ও সঠিক পথ পাওয়ার মাধ্যম ছিলেন তা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন—উল্লেখ্য যে, তিনি সঠিক পথের সন্ধানে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কালাম শাস্ত্রবিদদের গ্রন্থসমূহ তন্নতন্ন করে খুঁজেছিলেন—তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: «দুনিয়ার এই মহান ইমাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর গবেষণালব্ধ বিষয়গুলো অবগত হওয়ার পূর্বে আমি পূর্ববর্তীদের রচনাবলি অধ্যয়ন করেছিলাম এবং মুসলিমদের মধ্য থেকে উত্তরসূরিদের বক্তব্যসমূহও প্রত্যক্ষ করেছিলাম। কিন্তু আমি সেগুলোর মধ্যে এমন সব অলীক বাগাড়ম্বর, অসারতা ও সংশয় দেখতে পেলাম, যা দ্বীনের ব্যাপারে দুর্বল কোনো মুসলিমের হৃদয়ে উদিত হওয়াও অত্যন্ত অপছন্দনীয়, শক্তিশালী মুসলিমের কথা তো বলাই বাহুল্য। বড় বড় মনীষীরা যেসব অসার বক্তব্য ও দুর্বল মতামতের দিকে ধাবিত হচ্ছিলেন—যা উম্মাহর সাধারণ কোনো ব্যক্তিও সংগত মনে করে না—তা আমার অন্তরকে ক্লান্ত ও ব্যথিত করত। আমি বিশেষ করে ইমাম আহমদের অনুসারী কালাম শাস্ত্রবিদদের রচনাবলির মধ্যে বিশুদ্ধ সুন্নাহর অনুসন্ধান করতাম, যেহেতু তাঁরা আকিদার মূলনীতিসমূহে তাঁদের ইমামের সুস্পষ্ট বক্তব্যের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। কিন্তু আমি সেখানে পর্যাপ্ত কিছু খুঁজে পাইনি এবং দেখতাম যে তাঁরা পরস্পরবিরোধী কথা বলছেন … একপর্যায়ে তিনি বলেন: যখন আমি মুতাজিলা, আশারিয়া, বাগদাদের হাম্বলি এবং খোরাসানের কারামিয়াদের বক্তব্যগুলো একত্রিত করতাম, তখন দেখতাম যে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে এই কালাম শাস্ত্রবিদদের ঐক্যমতও যৌক্তিক ও প্রামাণ্য (আকলি ও নাকলি) দলিলের পরিপন্থী। এটি আমাকে এতটাই মর্মাহত করত যে আমি এমন বিষণ্নতায় নিমজ্জিত হতাম যার প্রকৃত স্বরূপ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না … পরিশেষে তিনি বলেন: অবশেষে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর জীবনের শেষ ঘটনার কিছুকাল পূর্বে দুনিয়ার এই ইমামের একটি রচনা আমার হস্তগত হওয়ার তকদির লিখে রেখেছিলেন। সেখানে আমি এমন কিছু খুঁজে পেলাম যা আমার সহজাত প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় আমাকে মুগ্ধ করল; কারণ এতে যুক্তি ও বর্ণনার নিরিখে সত্যকে সুন্নাহর ইমামগণ ও উম্মতের সালাফদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। সত্য প্রাপ্তির আনন্দে আমি অভিভূত হয়ে পড়লাম এবং আমার সেই হারিয়ে যাওয়া কাঙ্ক্ষিত বস্তু খুঁজে পাওয়ার সুখে আপ্লুত হলাম, যার কোনো বিকল্প ছিল না … » «১»।

শাইখের অন্যতম ছাত্র শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন মারি আল-হাম্বলি শাইখের অন্যান্য ছাত্রদের কাছে লেখা এক পত্রে তাঁদেরকে শাইখের রচনাবলি সংকলন করতে উৎসাহিত করে বলেন: «যদি আল্লাহ তায়ালা সহজ করে দেন এবং এই মহান কাজে সাহায্য করেন, তবে ইনশাআল্লাহ আমাদের শাইখের রচনাবলি একটি অমূল্য সম্পদে পরিণত হবে...

--------------------------------------------

(১) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি আলেমদের ভালোবাসা বিষয়ক সংক্ষিপ্ত রিসালাহ, আব্দুল্লাহ বিন হামিদ আশ-শাফেয়ি, পৃষ্ঠা ১২-১৪, তাহকিক: মুহাম্মদ আশ-শাইবানি। আরও দেখুন: আল-উকুদুদ দুরিইয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৫০৩-৫০৪; আল-আ’লামুল আলিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩৩; আর-রদ্দুল ওয়াফির, পৃষ্ঠা ১৯৬।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
صالحة للإسلام وأهله، وخزانة عظيمة لمن يؤلف منها وينقل، وينصر الطريقة السلفية على قواعده ويستخرج ويختصر إلى آخر الدهر إن شاء الله تعالى … » اه «1».

وصدق- والله- فإنه قلما يكتب أحد في أي مسألة من المسائل، وخاصة في ما يتعلق بالأصول، إلا وينقل عن شيخ الإسلام، ويستفيد مما كتب وألف.

ومن طريف ما يذكر عن سرعة بديهة الشيخ وقوة علميته أنه مرة كان جالسا في حلقته إذ جاءه سؤال على لسان ذمي ينكر صاحبه القدر، وكان السؤال عبارة عن أبيات من الشعر، ومطلعها:

يا علماء الدين ذمي دينكم تحير دلوه بأعظم حجة إذا ما قضى ربي بكفري بزعمكم ولم يرضه مني فما وجه حيلتي فلما قرأ الشيخ الأبيات فكر قليلا، ثم أنشأ يكتب في الحال جوابا لهذا الاعتراض، وكان الطلاب يظنون أنه يكتب نثرا، ولما فرغ وقرأه من حضر من أصحابه وإذا هو نظم من الشعر، من نفس البحر والقافية الذي ورد به السؤال، يزيد على مائة بيت، وقد ذكر أنه أبرز فيها من العلوم ما لو شرح لجاء شرحه في مجلدين كبيرين، يقول في مطلعها:

سؤالك يا هذا سؤال معاند تخاصم رب العرش باري البرية وهذا سؤال خاصم الملأ العلا قديما به إبليس أصل البلية ومن يك خصما للمهيمن يرجعن على أم رأس هاويا في الحفيرة إلى آخر الأبيات «2».

 

‌‌سابعا مؤلفاته وآثاره

كما سبق أن عرفنا فقد كان الشيخ أشبه ما يكون بموسوعة، له في كل فنّ نصيب، كان قلمه سيالا، تميز بسرعة الكتابة- ولولا ذلك والله أعلم- لما خلّف هذا التراث الضخم.

--------------------------------------------

(1) قطعة من مكتوب الشيخ الإمام الزاهد شهاب الدين أحمد بن مري الحنبلي ص 16، تقديم وتحقيق محمد الشيباني.

(2) انظر: الأعلام العلية ص 28، العقود الدرية ص 383 - 393، الكواكب ص 79 - 80، الدرر الكامنة (1/ 196).
ইসলাম ও এর অনুসারীদের জন্য কল্যাণকর এবং যারা এর থেকে রচনা ও উদ্ধৃতি গ্রহণ করবে তাদের জন্য এক মহান ভাণ্ডার। যা তাঁর মূলনীতির ভিত্তিতে সালাফী পদ্ধতির সহায়তা করবে এবং মহাকালের শেষ অবধি এর থেকে সারসংক্ষেপ ও নির্যাস বের করা হতে থাকবে, ইনশাআল্লাহ। ইতি (১)।

আল্লাহর কসম, তিনি সত্যই বলেছেন। কেননা খুব কমই এমন কেউ আছেন যিনি কোনো বিষয়ে, বিশেষত উসুল বা মূলনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে লিখতে গিয়ে শাইখুল ইসলাম থেকে উদ্ধৃতি দেননি অথবা তাঁর রচনা ও গ্রন্থাবলি থেকে উপকৃত হননি।

শাইখের তাৎক্ষণিক প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এবং তাঁর ইলমি সক্ষমতা সম্পর্কে বর্ণিত একটি চমৎকার ঘটনা হলো, একবার তিনি তাঁর মজলিসে বসা ছিলেন, এমন সময় জনৈক জিম্মির পক্ষ থেকে একটি প্রশ্ন এলো যার প্রবক্তা তাকদীর বা ভাগ্যকে অস্বীকার করছিল। প্রশ্নটি ছিল কয়েকটি পংক্তির কবিতায়, যার শুরুটা ছিল এমন:

হে দ্বীনের আলিমগণ, আপনাদের দ্বীনের ব্যাপারে এক জিম্মি বিভ্রান্তিতে পড়েছে, তাকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণের মাধ্যমে পথ দেখান; যদি আমার প্রতিপালক আপনাদের দাবি অনুযায়ী আমার জন্য কুফরিই ফয়সালা করে থাকেন এবং তিনি আমার থেকে তাতে সন্তুষ্ট না হন, তবে আমার বাঁচার উপায় কী? যখন শাইখ কবিতাগুলো পড়লেন, তিনি কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন। এরপর তৎক্ষণাৎ এই আপত্তির জবাব লিখতে শুরু করলেন। ছাত্ররা মনে করছিল তিনি গদ্যে লিখছেন। কিন্তু যখন তিনি লেখা শেষ করলেন এবং তাঁর উপস্থিত সঙ্গীরা তা পাঠ করলেন, দেখা গেল তা ছিল পদ্য আকারে, ঠিক একই ছন্দ ও অন্ত্যমিলে যা প্রশ্নে ব্যবহৃত হয়েছিল। কবিতাটি একশ পংক্তিরও বেশি ছিল। বর্ণিত আছে যে, তিনি সেখানে এমন সব ইলমি সূক্ষ্মতা প্রকাশ করেছিলেন যে, যদি তা ব্যাখ্যা করা হতো তবে তা দুই বিশাল খণ্ডে রূপ নিত। কবিতার শুরুটা ছিল এমন:

হে ব্যক্তি, তোমার এই প্রশ্ন তো একজন হঠকারীর প্রশ্ন, যে সৃষ্টির স্রষ্টা আরশের অধিপতির সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। এটি এমন এক প্রশ্ন যা নিয়ে অতীতে ইবলিস—বিপদ-মুসিবতের মূল—উচ্চাসীন ফেরেশতাদের সাথে বিতর্ক করেছিল। আর যে ব্যক্তি সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাথে বিবাদে জড়ায়, সে অধঃপতিত হয়ে মুখ থুবড়ে গর্তে নিপতিত হবে। কবিতার শেষ পর্যন্ত (২)।

 

‌‌সপ্তম: তাঁর রচনাবলি ও জ্ঞানজগত

আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি যে শাইখ ছিলেন অনেকটা বিশ্বকোষের মতো। প্রতিটি শাস্ত্রেই তাঁর অংশ ছিল। তাঁর কলম ছিল ক্ষিপ্রগতির, তিনি অতি দ্রুত লিখতে পারতেন। আর যদি তা না হতো—আল্লাহই ভালো জানেন—তবে তিনি এত বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার রেখে যেতে পারতেন না।

--------------------------------------------

(১) শাইখ ইমাম যাহেদ শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন মাররি আল-হাম্বলির পত্রের একটি অংশ, পৃষ্ঠা ১৬; সম্পাদনা ও গবেষণায়: মুহাম্মদ আশ-শাইবানি।

(২) দেখুন: আল-আ’লামুল আলিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৮; আল-উকূদুদ দুররিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩৮৩-৩৯৩; আল-কাওয়াকিব, পৃষ্ঠা ৭৯-৮০; আদ-দুরারুল কামিনাহ (১/১৯৬)।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
يقول أخوه أبو عبد الله: «وقد منّ الله عليه بسرعة الكتابة، ويكتب من حفظه من غير نقل» اه «1».

وقد ذكر ابن عبد الهادي أنه يكتب مجلدا لطيفا في يوم، بل إنه كتب «الحموية» في جلسة بين الظهر والعصر «2». وكتب «الواسطية» في قعدة بعد العصر «3».

وغالب ما كتب في «باب العقائد» إما ردّ على مبتدع، أو جواب لسؤال ورد عليه، كما ذكر ذلك هو عن نفسه، في مناظرة الواسطية قال:

«وأما الكتب، فما كتبت إلى أحد كتابا ابتداء أدعوه به إلى شيء من ذلك.

ولكنني كتبت أجوبة أجبت بها من يسألني من أهل الديار المصرية وغيرهم» اه «4».

وقد كان للفتن والمحن التي مرّ بها الشيخ أثر في ضياع بعض مصنفاته وكتبه فكثيرا ما يقول: «قد كتبت في كذا وكذا ويسأل عن الشيء، فيقول: كتبت في هذا، فلا يدري أين هو؟ فيلتفت إلى أصحابه، ويقول: ردّوا خطي وأظهروه لينقل. فمن حرصهم عليه لا يردونه، ومن عجزهم لا ينقلونه فيذهب ولا يعرف اسمه» «5».

وأيضا من أسباب ضياع بعض كتبه: أنه يكتب في بعض الأحيان الجواب لمن سأله، فإن وجد من ينقل الجواب ويبيضه، وإلا أخذ السائل الجواب وذهب «6».

وذكر ابن عبد الهادي أن الشيخ لما حبس تفرّق أتباعه، وتفرقت كتبه، وخوّفوا أصحابه من أن يظهروا كتبه، وذهب كل أحد بما عنده وأخفاه، ولم يظهروا كتبه. فبقي هذا يهرب بما عنده، وهذا يبيعه، أو يهبه، وهذا يخفيه ويودعه، حتى إن منهم من تسرق كتبه أو تجحد، فلا يستطيع أن يطلبها، ولا يقدر على تحصيلها فبدون هذا تتمزق الكتب والتصانيف «7».

--------------------------------------------

(1) العقود الدرية ص 64.

(2) انظر: المصدر السابق، ص 64، 67.

(3) انظر: الفتاوى (3/ 164)، العقود الدرية ص 311.

(4) انظر: الفتاوى (3/ 161)، العقود الدرية ص 207.

(5) المصدر السابق ص 65، وانظر: البداية والنهاية (14/ 134).

(6) انظر: العقود الدرية ص 65.

(7) المصدر السابق 65 - 66.
তাঁর ভ্রাতা আবু আবদুল্লাহ বলেন: «আল্লাহ তাঁকে দ্রুত লেখার নেয়ামত দান করেছেন এবং তিনি কোনো কিছু না দেখেই মুখস্থ থেকে লিখতেন» (১)।

ইবনুল হাদি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এক দিনে একটি ছোট খণ্ড লিখে ফেলতেন; এমনকি তিনি ‘আল-হামাউইয়্যাহ’ যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী এক বৈঠকে লিখেছিলেন (২)। আর ‘আল-ওয়াসিতিয়্যাহ’ আসরের পরের এক বৈঠকে লিখেছিলেন (৩)।

‘আকীদা’ অধ্যায়ে তিনি যা কিছু লিখেছেন তার অধিকাংশই হয় কোনো বিদআতির খণ্ডন, অথবা তাঁর কাছে আসা কোনো প্রশ্নের উত্তর। যেমনটি তিনি ওয়াসিতিয়্যাহর মুনাজারা (বিতর্ক) প্রসঙ্গে নিজের সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেছেন:

«আর বইপত্রের ব্যাপারে বলতে গেলে, আমি আগ বাড়িয়ে কাউকে এমন কোনো বই লিখে পাঠাইনি যা দ্বারা তাকে এ সবের কোনো কিছুর দিকে আহ্বান করছি।

বরং আমি মিশরের অধিবাসী ও অন্যদের পক্ষ থেকে আসা প্রশ্নের উত্তরে এসব লিখেছিলাম» (৪)।

শাইখ যে ফিতনা ও পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর কিছু রচনা ও বই হারিয়ে যাওয়ার পেছনে সেগুলোর প্রভাব ছিল। তিনি প্রায়ই বলতেন: «আমি অমুক অমুক বিষয়ে লিখেছি»; কোনো বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন: «আমি এ বিষয়ে লিখেছি», কিন্তু তিনি জানতেন না তা এখন কোথায়। তখন তিনি তাঁর সঙ্গীদের দিকে ফিরে বলতেন: «আমার লেখাগুলো ফিরিয়ে দাও এবং তা প্রকাশ করো যাতে অনুলিপি করা যায়।» কিন্তু তাঁর প্রতি অতি অনুরাগের কারণে তারা সেগুলো ফেরত দিত না, আবার নিজেদের অক্ষমতার কারণে তারা সেগুলো অনুলিপিও করত না; ফলে সেগুলো হারিয়ে যেত এবং সেগুলোর নামও জানা যেত না (৫)।

এছাড়াও তাঁর কিছু বই হারিয়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ হলো: মাঝে মাঝে তিনি প্রশ্নকারীর উত্তর লিখে দিতেন; যদি এমন কাউকে পাওয়া যেত যে তা অনুলিপি করবে এবং পরিষ্কার করে লিখবে, তবে হতো; অন্যথায় প্রশ্নকারী সেই উত্তরটি নিয়ে চলে যেত (৬)।

ইবনুল হাদি উল্লেখ করেছেন যে, শাইখ যখন কারারুদ্ধ হলেন, তখন তাঁর অনুসারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং তাঁর বইগুলোও ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়। তাঁর সঙ্গীদের ভয় দেখানো হয়েছিল যেন তারা তাঁর বইগুলো প্রকাশ না করে। ফলে প্রত্যেকে যার কাছে যা ছিল তা নিয়ে চলে যায় এবং তা লুকিয়ে ফেলে, তারা তাঁর বইগুলো প্রকাশ করেনি। কেউ তার কাছে যা আছে তা নিয়ে পালিয়ে বেড়ায়, কেউ তা বিক্রি করে দেয় বা দান করে দেয়, আর কেউ তা লুকিয়ে বা আমানত হিসেবে রেখে দেয়। এমনকি কারো কারো কাছ থেকে বই চুরি হয়ে যায় বা কেউ তা অস্বীকার করে বসে; ফলে তারা তা আর দাবি করতে পারত না এবং তা উদ্ধার করতেও সক্ষম হতো না। এভাবেই বই ও রচনাগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় (৭)।

--------------------------------------------

(১) আল-উকুুদুদ-দুররিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৬৪।

(২) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৬৪, ৬৭।

(৩) দেখুন: আল-ফাতাওয়া (৩/ ১৬৪), আল-উকুুদুদ-দুররিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৩১১।

(৪) দেখুন: আল-ফাতাওয়া (৩/ ১৬১), আল-উকুুদুদ-দুররিয়্যাহ পৃষ্ঠা ২০৭।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস পৃষ্ঠা ৬৫, এবং দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১৪/ ১৩৪)।

(৬) দেখুন: আল-উকুুদুদ-দুররিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৬৫।

(৭) পূর্বোক্ত উৎস ৬৫ - ৬৬।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولهذه الأسباب وغيرها تعذر إحصاء مصنفاته، وتباينت أقوال العلماء في تعدادها.

يقول الحافظ البزار: وأما مؤلفاته ومصنفاته فإنها أكثر من أن أقدر على إحصائها، أو يحضرني جملة أسمائها، بل هذا لا يقدر عليه غالبا أحد، لأنها كثيرة جدّا، كبارا وصغارا، وهي منشورة في البلدان. فقلّ بلد نزلته إلا ورأيت فيه من تصانيفه.

ثم ذكر أنه يمكن تعداد ما ينيف على المائتين من مؤلفاته «1».

أما تلميذه ابن القيم فقد ذكر نحوا من سبعة وثلاثين وثلاثمائة مصنف للشيخ، إجابة لمن سئل عن تعداد ما ألّفه شيخ الإسلام، وذكر أن هذا هو الذي يحضره وأنه لم يستوعبها «2».

وقد قيل: إن تعداد مؤلفاته تصل إلى الألف، وقيل خمسمائة وقيل ثلاثمائة، وقيل غير ذلك، وكل يذكر ما وصل إليه «3».

وإنه لمن الصعب ذكر جميع مؤلفاته عبر هذه الترجمة الموجزة، ولكن ما لا يدرك كله لا يترك جلّه، وسأذكر هنا أنموذجا لبعض مؤلفاته الكبار، وخاصة في ما يتعلق بالعقيدة والذي سبق أن طبع، فمنها:

1 - درء تعارض العقل والنقل:

والكتاب طبع بتحقيق د. محمد رشاد سالم، في عشرة أجزاء والحادي عشر فهارس. ط الأولى 1399 هـ- جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.

2 - منهاج السنة في نقض كلام الشيعة القدرية:

وأيضا طبع أخيرا بتحقيق د. محمد رشاد سالم، في ثمانية أجزاء التاسع منها فهارس. ط الأولى 1406 هـ- جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.

3 - نقض التأسيس:

طبع منه جزءان، بعناية: محمد بن عبد الرحمن بن قاسم، والكتاب حقق

--------------------------------------------

(1) الأعلام العلية ص 25، 27.

(2) انظر: كتاب «أسماء مؤلفات شيخ الإسلام ابن تيمية» لابن القيم، تحقيق: د. صلاح الدين المنجد.

(3) انظر: تذكرة الحفاظ (4/ 1497)، ذيول العبر (4/ 84)، الرد الوافر ص 72، المنهل الصافي (1/ 362)، طبقات الحفاظ للسيوطي ص 521، شذرات الذهب (6/ 84)، جلاء العينين ص 7، القول الجلي ص 100.
এসব এবং অন্যান্য কারণে তাঁর রচনাবলির সংখ্যা নিরূপণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং তাদের সংখ্যা নির্ধারণে আলেমগণের মতভেদ দেখা দিয়েছে।

হাফেজ আল-বাযযার বলেন: “তাঁর গ্রন্থ ও রচনাবলির কথা যদি বলতে হয়, তবে তা গণনা করার সক্ষমতা আমার নেই, অথবা তাদের সব নাম আমার স্মৃতিতে উপস্থিত নেই। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কারও পক্ষে এটি সম্ভব নয়; কারণ সেগুলো সংখ্যায় অত্যন্ত বেশি, ছোট-বড় নানা আকারের এবং বিভিন্ন দেশে তা ছড়িয়ে আছে। এমন জনপদ খুব কমই আছে যেখানে আমি গিয়েছি এবং তাঁর কোনো না কোনো রচনা দেখতে পাইনি।”

এরপর তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর দুইশতাধিক রচনার তালিকা করা সম্ভব হতে পারে «১»।

আর তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম শাইখুল ইসলামের রচনাবলির সংখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারীর উত্তরে তাঁর প্রায় তিনশত সাঁইত্রিশটি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, এটি কেবল তাঁর উপস্থিত স্মৃতি থেকে বলা এবং তিনি সবগুলোকে এখানে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি «২»।

বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর রচনাবলির সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছেছে, আবার বলা হয় পাঁচশত, কেউ বলেন তিনশত, আবার কেউ অন্য কিছুও বলেছেন। প্রত্যেকেই তাঁর কাছে যতটুকু সংবাদ পৌঁছেছে তা-ই উল্লেখ করেছেন «৩»।

এই সংক্ষিপ্ত জীবনীতে তাঁর সমস্ত রচনার উল্লেখ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তবে যা সম্পূর্ণরূপে অর্জন করা সম্ভব নয়, তার অধিকাংশটুকু পরিত্যাগ করা উচিত নয়। তাই আমি এখানে তাঁর বড় রচনাবলির কিছু নমুনা উল্লেখ করব, বিশেষ করে আকিদাহ বিষয়ক যে গ্রন্থগুলো ইতিপূর্বে মুদ্রিত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে:

১ - দাউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি (যুক্তি ও ঐতিহ্যের বিরোধ নিরসন):

বইটি ড. মুহাম্মদ রাশাদ সালিমের তাহকীকসহ দশ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে এবং একাদশ খণ্ডটি হচ্ছে নির্ঘণ্ট। প্রথম প্রকাশ ১৩৯৯ হিজরী - ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

২ - মিনহাজুস সুন্নাহ ফী নাকদি কালামিশ শিয়াতিল ক্বাদারিইয়াহ:

এটিও সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ রাশাদ সালিমের তাহকীকসহ আট খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, যার নবম খণ্ডটি হচ্ছে নির্ঘণ্ট। প্রথম প্রকাশ ১৪০৬ হিজরী - ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

৩ - নাকদুত তأسিস (ভিত্তি খণ্ডন):

এর দুটি খণ্ড মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন কাসিমের তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত হয়েছে এবং গ্রন্থটি তাহকীক করা হয়েছে

--------------------------------------------

(১) আল-আলামুল আলিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৫, ২৭।

(২) দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিম রচিত 'আসমাউ মুআল্লাফাতি শাইখিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ', তাহকীক: ড. সালাহুদ্দীন আল-মুনজিদ।

(৩) দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ (৪/ ১৪৯৭), যুয়ুলুল ইবার (৪/ ৮৪), আর-রাদ্দুল ওয়াফির পৃষ্ঠা ৭২, আল-মানহালুস সাফী (১/ ৩৬২), সুয়ূতী রচিত তাবাকাতুল হুফফাজ পৃষ্ঠা ৫২১, শাযারাতুয যাহাব (৬/ ৮৪), জালাউল আইনাইন পৃষ্ঠা ৭, আল-কাওলুল জালী পৃষ্ঠা ১০০।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
في عدة رسائل علمية- في قسم العقيدة بكلية أصول الدين- جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.

4 - الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح:

طبع في جزءين، وقد حقق في عدة رسائل علمية، في قسم العقيدة بكلية أصول الدين- جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.

5 - الاستقامة:

طبع بتحقيق د. محمد رشاد سالم، في جزءين. ط الأولى 1403 هـ- جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.

6 - اقتضاء الصراط المستقيم:

طبع أخيرا بتحقيق د. ناصر بن عبد الكريم العقل، في جزءين ط الأولى 1404 هـ- مكتبة الرشد للنشر والتوزيع- الرياض.

7 - وهناك عدة رسائل نحو: التدمرية، والتسعينية، والحموية، وشرح الأصفهانية، وغير ذلك.

كما أن كثيرا من مؤلفات الشيخ قد طبعت ضمن مجاميع، مثل: «مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية» جمع وترتيب: عبد الرحمن بن قاسم، و «مجموعة الرسائل الكبرى» و «الفتاوى الكبرى» و «مجموعة الرسائل والمسائل» و «مجموعة الرسائل المنيرية» «1».

 

‌‌ثامنا شيوخه وتلاميذه

لقد سمع وروى عن كثير من الشيوخ يصل عددهم إلى أكثر من مائتي شيخ، جاء ذكر بعضهم في «الأربعين لشيخ الإسلام» «2».

وممن روى عنه الشيخ: والده عبد الحليم بن عبد السلام، وابن

--------------------------------------------

(1) ومن العلماء الذين عنوا بذكر مؤلفات الشيخ: ابن القيم في كتابه «أسماء مؤلفات شيخ الإسلام ابن تيمية»، ومحمد بن شاكر الكتبي في «فوات الوفيات» (1/ 75 - 80)، وابن عبد الهادي في «العقود الدرية» ص 26، 67، وابن رجب في «ذيل طبقات الحنابلة» (4/ 403 - 404).

(2) طبعت ضمن مجموعة الفتاوى (18/ 76 - 121)، وهي: أربعون حديثا يرويها شيخ الإسلام بسنده إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وقد طبعت مفردة بتحقيق/ حسن بن أمين آل مندوه، وترجم في هذا الكتاب لشيوخ شيخ الإسلام.
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুল আদ-দীন অনুষদের আকীদা বিভাগে বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের (থিসিস) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

৪ - আল-জওয়াব আস-সাহীহ লি-মান বাদ্দাল দীনা আল-মাসিহ (খ্রিস্টধর্ম বিকৃতকারীদের জন্য সঠিক উত্তর):

এটি দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুল আদ-দীন অনুষদের আকীদা বিভাগে বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের মাধ্যমে এটি সম্পাদিত হয়েছে।

৫ - আল-ইস্তিকামাহ:

ড. মুহাম্মদ রাশাদ সালিমের সম্পাদনায় দুই খণ্ডে মুদ্রিত। প্রথম সংস্করণ ১৪০৩ হিজরি - ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

৬ - ইক্তিদা আস-সিরাত আল-মুস্তাকিম (সরল পথের আবশ্যকতা):

সম্প্রতি ড. নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আক্ল-এর সম্পাদনায় দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। প্রথম সংস্করণ ১৪০৪ হিজরি - মাকতাবাতুর রুশদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - রিয়াদ।

৭ - এ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি রিসালাহ বা পুস্তিকা রয়েছে যেমন: আত-তাদমুরিয়্যাহ, আত-তিসয়িনিয়্যাহ, আল-হামাউয়িয়্যাহ, শারহুল আসফাহানিয়্যাহ এবং অন্যান্য।

তেমনিভাবে শায়খের অনেক রচনাবলী বিভিন্ন সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে, যেমন: আব্দুর রহমান বিন কাসিম কর্তৃক সংকলিত ও বিন্যস্ত 'মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া', 'মাজমুআতুল রাসাইল আল-কুবরা', 'আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা', 'মাজমুআতুর রাসাইল ওয়াল মাসাইল' এবং 'মাজমুআতুর রাসাইল আল-মুনিরিয়্যাহ' (১)।

 

‌অষ্টম: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্রগণ

তিনি অনেক শায়খের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ ও বর্ণনা করেছেন যাদের সংখ্যা দুইশতেরও বেশি। তাদের কয়েকজনের উল্লেখ 'আল-আরবাউন লি-শাইখিল ইসলাম'-এ এসেছে (২)।

শায়খ যাদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: তাঁর পিতা আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম এবং ইবনে...

--------------------------------------------

(১) যেসব আলেম শায়খের গ্রন্থাবলি উল্লেখ করার প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন তারা হলেন: ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'আসমাউ মুআল্লাফাত শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ' গ্রন্থে, মুহাম্মদ বিন শাকির আল-কুতুবি 'ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত' (১/ ৭৫-৮০) গ্রন্থে, ইবনে আব্দুল হাদি 'আল-উকুদ আদ-দুররিয়্যাহ' (পৃষ্ঠা ২৬, ৬৭) গ্রন্থে এবং ইবনে রজব 'যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ' (৪/ ৪০৩-৪০৪) গ্রন্থে।

(২) এটি 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (১৮/ ৭৬-১২১)-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে। এটি মূলত শাইখুল ইসলাম কর্তৃক আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত নিজস্ব সনদে বর্ণিত চল্লিশটি হাদিস। এটি হাসান বিন আমিন আল-মানদুহ-এর সম্পাদনায় পৃথকভাবেও মুদ্রিত হয়েছে এবং এই গ্রন্থে শাইখুল ইসলামের শিক্ষকদের জীবনী আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
عبد الدائم، وابن أبي اليسر، والشيخ شرف الدين أحمد بن نعمة المقدسي، المجد ابن عساكر، ويحيى بن الصيرفي، وابن عبد القوي، وغيرهم «1».

أما تلاميذه، فشيخ الإسلام ليس إلا مدرسة تخرج منها علماء أفذاذ، وجهابذة حفاظ، وإنه من الصعب الإحاطة بجميع تلامذته، والمتأثرين به، وأنا أذكر هنا أنموذجا ممن تخرج من هذه المدرسة، ومن أشهر هؤلاء:

- محمد بن أبي بكر، المعروف «بابن قيم الجوزية». المتوفى 752 هـ.

- أبو عبد الله محمد بن أحمد الذهبي. المتوفى 748 هـ.

- الحافظ ابن كثير، أبو الفداء. المتوفى 774 هـ.

- محمد بن أحمد، المعروف «بابن عبد الهادي». المتوفى 744 هـ.

- عمر بن علي البزار. المتوفى 749 هـ.

وغير هؤلاء كثير.

هذه ترجمة موجزة جدا لهذا الإمام، ولا تعدو أن تكون قطرة من بحر حياته، وغيضا من فيض جهاده، ولو أقسم شخص، أنه لم يأت أحد بعده مثله، إلى يومنا هذا، لما حنث في يمينه، والله أعلم.

وإنه لمن الجدير بكل مسلم، وخاصة العلماء منهم والدعاة أن يدرسوا حياة هذا الشيخ دراسة متمعنة ووافية، وينهلوا من معينها الصافي.

ومع هذا كله لا يخرج عن كونه بشرا يصيب ويخطئ، ولكن كما قال الإمام ابن كثير: « .. ولكن خطؤه بالنسبة إلى صوابه كنقطة في بحر لجي وخطؤه أيضا مغفور له، كما في صحيح البخاري: «إذا اجتهد الحاكم فأصاب فله أجران، وإذا اجتهد فأخطأ فله أجر» «2» فهو مأجور … » «3».

والله أسأل أن يجزل لنا وله ولجميع المسلمين الأجر والمثوبة، وأن يرفع منزلته في أعلى عليين مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء، والصالحين، وحسن أولئك رفيقا «4».

--------------------------------------------

(1) انظر: العقود الدرية ص 3، البداية والنهاية (14/ 136 - 137)، معجم الشيوخ للذهبي (1/ 56)، ذيل طبقات الحنابلة (4/ 387)، شذرات الذهب (6/ 80).

(2) رواه البخاري في صحيحه (13/ 318) رقم (7352)، كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة، باب أجر الحاكم إذا اجتهد فأصاب أو أخطأ.

(3) البداية والنهاية (14/ 139 - 140).

(4) مصادر الترجمة:

- التذكرة والاعتبار والانتصار للأبرار «دفاعا عن ابن تيمية» لعماد الدين أحمد بن إبراهيم-
আব্দুল দায়িম, ইবনুল আবি ইল ইউসর, শায়খ শরফুদ্দিন আহমদ বিন নি'মাহ আল-মাকদিসি, আল-মাজদ ইবনে আসাকির, ইয়াহইয়া বিন আস-সাইরাফি, ইবনে আব্দুল কাবি এবং আরও অনেকে (১)।

পক্ষান্তরে তার ছাত্রদের কথা বলতে গেলে, শাইখুল ইসলাম মূলত এমন এক পাঠশালা যেখান থেকে অসামান্য আলেম এবং প্রাজ্ঞ হাফেজগণ বের হয়েছেন। তার সকল ছাত্র এবং তার দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা অত্যন্ত কঠিন। তবে আমি এখানে এই পাঠশালা থেকে উত্তীর্ণ হওয়া ছাত্রগণের একটি নমুনা উল্লেখ করছি, যাদের মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলেন:

- মুহাম্মাদ বিন আবি বকর, যিনি 'ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ' হিসেবে পরিচিত। মৃত্যু: ৭৫২ হিজরি।

- আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমদ আজ-জাহাবি। মৃত্যু: ৭৪৮ হিজরি।

- হাফেজ ইবনে কাসির, আবুল ফিদা। মৃত্যু: ৭৭৪ হিজরি।

- মুহাম্মাদ বিন আহমদ, যিনি 'ইবনে আব্দুল হাদি' হিসেবে পরিচিত। মৃত্যু: ৭৪৪ হিজরি।

- উমর বিন আলী আল-বাযযার। মৃত্যু: ৭৪৯ হিজরি।

এবং এছাড়াও আরও অনেকে।

এই ইমামের জীবনীর এটি একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণ মাত্র, যা তার জীবনের সমুদ্রের এক বিন্দুর চেয়ে বেশি নয় এবং তার সংগ্রামের প্রস্রবণের সামান্যতম অংশ। যদি কেউ শপথ করে বলে যে, তার পর থেকে আজ পর্যন্ত তার মতো দ্বিতীয় কেউ আসেনি, তবে সে তার শপথে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হবে না। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

প্রত্যেক মুসলিমের জন্য, বিশেষ করে আলেম ও দাঈদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি যে তারা এই শায়খের জীবন নিবিড় ও বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করবেন এবং তার স্বচ্ছ জ্ঞানধারা থেকে জীবনকে ঋদ্ধ করবেন।

এতসব সত্ত্বেও তিনি একজন মানুষই ছিলেন, যার দ্বারা ভুল এবং সঠিক উভয়ই হতে পারে। কিন্তু ইমাম ইবনে কাসির যেমনটি বলেছেন: "...তবে তার সঠিক কাজের তুলনায় তার ভুলগুলো এক বিশাল সমুদ্রের বিন্দুর মতো। আর তার ভুলগুলোও ক্ষমাযোগ্য, যেমনটি সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে: 'যদি বিচারক ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন তবে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব, আর যদি তিনি ইজতিহাদ করে ভুল করেন তবে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব' (২)। সুতরাং তিনি সওয়াবের অধিকারী … " (৩)।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের জন্য, তার জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান ও সওয়াব অবধারিত করেন এবং তাকে 'আলা ইল্লিয়্যিন'-এ উচ্চ মর্যাদা দান করেন—সেইসব নবীদের, সত্যবাদীদের, শহিদদের এবং নেককারদের সাথে যাদের উপর আল্লাহ নেয়ামত বর্ষণ করেছেন; আর তাদের সান্নিধ্য কতই না উত্তম (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-উকুদুদ দুরিইয়্যাহ পৃ. ৩, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/ ১৩৬-১৩৭), জাহাবির মু'জামুশ শুয়ুখ (১/ ৫৬), যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (৪/ ৩৮৭), শাযারাতুয যাহাব (৬/ ৮০)।

(২) ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১৩/ ৩১৮), হাদিস নং (৭৩৫২), কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, অনুচ্ছেদ: বিচারকের সওয়াব যখন সে ইজতিহাদ করে সঠিক বা ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।

(৩) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/ ১৩৯-১৪০)।

(৪) জীবনীর উৎসসমূহ:

- আত-তাযকিরাহ ওয়াল ই'তিবার ওয়াল ইনতিসারুল আবরার (ইবনে তাইমিয়্যার পক্ষ সমর্থনে) - রচনায়: ইমাদউদ্দিন আহমদ বিন ইব্রাহিম-
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
_________

- الواسطي، تحقيق: علي حسن عبد الحميد.

- «ناحية من حياة شيخ الإسلام ابن تيمية» لخادمه: إبراهيم بن أحمد الغياني، تحقيق محب الدين الخطيب.

- «العقود الدرية في مناقب شيخ الإسلام ابن تيمية» لابن عبد الهادي.

- «الأعلام العلية في مناقب شيخ الإسلام ابن تيمية» لابن القيم.

- «قطعة من مكتوب الشيخ شهاب الدين أحمد بن مري الحنبلي، أحد تلامذة شيخ الإسلام إلى حنابلة دمشق … » تحقيق: محمد الشيباني.

- «الوافي بالوفيات» للصفدي (7/ 15 - 33).

- «فوات الوفيات» للكتبي، (1/ 74 - 80).

- «البداية والنهاية» لابن كثير، (14/ 135 - 140).

- «دول الإسلام» للذهبي، ص 420.

- «تذكرة الحفاظ» للذهبي (4/ 1496 - 1498).

- «ذيول العبر» للذهبي (84).

- «معجم الشيوخ» للذهبي (1/ 56 - 57).

- «ذيل طبقات الحنابلة» لابن رجب (4/ 387 - 408).

- «الرد الوافر» لابن ناصر الدين الدمشقي.

- «رسالة قصيرة في فضل شيخ الإسلام ابن تيمية ومحبة أهل العلم له» لعبد الله بن حامد، تحقيق: محمد الشيباني.

- «الدرر الكامنة» لابن حجر (1/ 154 - 170).

- «تقريظ للحافظ ابن حجر على الرد الوافر لابن ناصر»، تحقيق: محمد الشيباني.

- «المنهل الصافي» لجمال الدين أبي المحاسن (1/ 358 - 362).

- «طبقات الحفاظ» للسيوطي ص 520 - 521.

- «شذرات الذهب» (6/ 80 - 86).

- «الكواكب الدرية في مناقب ابن تيمية» لمرعي بن يوسف الحنبلي.

- «الشهادة الزكية في ثناء الأئمة على ابن تيمية» لمرعي بن يوسف الحنبلي.

- «البدر الطالع» للشوكاني (1/ 63 - 72).

- «القول الجلي في ترجمة الشيخ تقي الدين ابن تيمية الحنبلي»، لصفي الدين الحنفي.

- «جلاء العينين في محاكمة الأحمدين» للآلوسي.

- «الفتح المبين في طبقات الأصوليين» للمراغي (2/ 134 - 137).

- «معجم المؤلفين» لعمر كحالة (1/ 261).

- «الأعلام» للزركلي (1/ 144).

- «ابن تيمية حياته وعصره» لأبي زهرة.

- «رجال الفكر والدعوة في الإسلام. خاص بحياة شيخ الإسلام» لأبي الحسن الندوي.

- «حياة شيخ الإسلام ابن تيمية» لمحمد بهجة البيطار.

- «الإمام ابن تيمية وموقفه من قضية التأويل» لمحمد السيد الجليند.-

- আল-ওয়াসিতি, সম্পাদনা: আলী হাসান আব্দুল হামিদ।

- তাঁর খাদেম ইব্রাহিম বিন আহমদ আল-গাইয়ানি রচিত ‘নাহিয়াতুন মিন হায়াতি শায়খিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ’ (শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার জীবনের একটি দিক), সম্পাদনা: মুহিব্বুদ্দিন আল-খাতিব।

- ইবনু আবদিল হাদি রচিত ‘আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ ফি মানাকিবি শায়খিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ’।

- ইবনুল কাইয়িম রচিত ‘আল-আলামুল আলিয়্যাহ ফি মানাকিবি শায়খিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ’।

- শায়খুল ইসলামের অন্যতম ছাত্র শায়খ শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন মাররি আল-হাম্বলি কর্তৃক দামেস্কের হাম্বলিদের প্রতি লিখিত চিঠির একটি অংশ … সম্পাদনা: মুহাম্মদ আশ-শাইবানি।

- আস-সাফাদি রচিত ‘আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত’ (৭/ ১৫ - ৩৩)।

- আল-কুতুবি রচিত ‘ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত’ (১/ ৭৪ - ৮০)।

- ইবনে কাসির রচিত ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (১৪/ ১৩৫ - ১৪০)।

- আয-যাহাবি রচিত ‘দুওয়ালুল ইসলাম’, পৃষ্ঠা ৪২০।

- আয-যাহাবি রচিত ‘তাযকিরাতুল হুফফাজ’ (৪/ ১৪৯৬ - ১৪৯৮)।

- আয-যাহাবি রচিত ‘যিয়ুলুল ইবার’ (৮৪)।

- আয-যাহাবি রচিত ‘মুজামুশ শুয়ুখ’ (১/ ৫৬ - ৫৭)।

- ইবনে রাজাব রচিত ‘যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ’ (৪/ ৩৮৭ - ৪০৮)।

- ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি রচিত ‘আর-রাদ্দুল ওয়াফির’।

- আবদুল্লাহ বিন হামিদ রচিত ‘রিসালাতুন কাসিরাতুন ফি ফাদলি শায়খিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া মাহাব্বাতি আহলিল ইলমি লাহু’ (শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি আলেমদের ভালোবাসা বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা), সম্পাদনা: মুহাম্মদ আশ-শাইবানি।

- ইবনে হাজার রচিত ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (১/ ১৫৪ - ১৭০)।

- ইবনে নাসিরের ‘আর-রাদ্দুল ওয়াফির’ গ্রন্থের ওপর হাফেজ ইবনে হাজারের প্রশংসা-বাণী, সম্পাদনা: মুহাম্মদ আশ-শাইবানি।

- জামালুদ্দিন আবুল মাহাসিন রচিত ‘আল-মানহালুস সাফি’ (১/ ৩৫৮ - ৩৬২)।

- আস-সুয়ুতি রচিত ‘তাবাকাতুল হুফফাজ’, পৃষ্ঠা ৫২০ - ৫২১।

- ‘শাযারাতুয যাহাব’ (৬/ ৮০ - ৮৬)।

- মারয়ি বিন ইউসুফ আল-হাম্বলি রচিত ‘আল-কাওয়াকিবুত দুররিয়্যাহ ফি মানাকিবি ইবনে তাইমিয়্যাহ’।

- মারয়ি বিন ইউসুফ আল-হাম্বলি রচিত ‘আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফি সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনে তাইমিয়্যাহ’।

- আশ-শাওকানি রচিত ‘আল-বাদরুত তালি’ (১/ ৬৩ - ৭২)।

- সফিউদ্দিন আল-হানাফি রচিত ‘আল-কাউলুল জালি ফি তারজামাতিশ শায়খ তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাম্বলি’।

- আল-আলুসি রচিত ‘জালাউল আইনাইন ফি মুহাকামাতির আহমাদাইন’।

- আল-মারগি রচিত ‘আল-ফাতহুল মুবিন ফি তাবাকাতিল উসুলিয়্যিন’ (২/ ১৩৪ - ১৩৭)।

- উমর কাহহালা রচিত ‘মুজামুল মুয়াল্লিফিন’ (১/ ২৬১)।

- আয-যিরিকলি রচিত ‘আল-আলাম’ (১/ ১৪৪)।

- আবু যাহরা রচিত ‘ইবনে তাইমিয়্যাহ: হায়াতুহু ওয়া আসরুহু’ (ইবনে তাইমিয়্যাহ: তাঁর জীবন ও যুগ)।

- আবুল হাসান নাদভি রচিত ‘রিজালুল ফিকর ওয়াদ দাওয়াহ ফিল ইসলাম: খাসুন বি-হায়াতি শায়খিল ইসলাম’ (ইসলামের চিন্তানায়ক ও দাওয়াতকর্মীগণ: শায়খুল ইসলামের জীবনী বিশেষ)।

- মুহাম্মদ বাহজাত আল-বিতার রচিত ‘হায়াতু শায়খিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ’।

- মুহাম্মদ আস-সায়্যিদ আল-জুলিন্দ রচিত ‘আল-ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া মাওকিফুহু মিন কাজিয়্যাতিত তাবিল’।-
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
_________

-- «باعث النهضة الإسلامية، ابن تيمية السلفي» لمحمد خليل هراس.

- «ابن تيمية المفترى عليه» لسليم الهلالي.

- «شيخ الإسلام ابن تيمية إمام السيف والقلم» لسعيد صادق محمد.

- «رسائل من السجن» لمحمد العبدة.

- «ابن تيمية وجهوده في التفسير» لإبراهيم خليل بركة.

- «أوراق مجموعة من حياة شيخ الإسلام ابن تيمية» لمحمد الشيباني.

- «شيخ الإسلام ابن تيمية سيره وأخباره عند المؤرخين» لصلاح الدين المنجد.

-- «ইসলামী রেনেসাঁর অগ্রদূত, সালাফি ইবনে তাইমিয়াহ» - মুহাম্মদ খলিল হাররাস।

- «ইবনে তাইমিয়াহ: যাঁর ওপর অপবাদ আরোপ করা হয়েছে» - সালিম আল-হিলালি।

- «শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ: তরবারি ও কলমের ইমাম» - সাঈদ সাদিক মুহাম্মদ।

- «কারাগার থেকে প্রেরিত পত্রাবলি» - মুহাম্মদ আল-আবদাহ।

- «ইবনে তাইমিয়াহ এবং তাফসির শাস্ত্রে তাঁর অবদান» - ইব্রাহিম খলিল বারাকাহ।

- «শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহর জীবন থেকে সংগৃহীত কিছু পাতা» - মুহাম্মদ আশ-শাইবানি।

- «ইতিহাসবিদদের দৃষ্টিতে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহর জীবনী ও ঘটনাবলি» - সালাহউদ্দিন আল-মুনজিদ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌[المدخل]

بسم الله الرّحمن الرّحيم سئل شيخ الإسلام أبو العباس تقي الدين ابن تيمية قدس الله روحه ونور ضريحه وهو مقيم بالديار المصرية في شهور سنة اثنتي عشر وسبعمائة أن يشرح العقيدة التي ألفها الشيخ شمس الدين محمد ابن الأصفهاني الإمام المتكلم المشهور الذي قيل إنه لم يدخل إلى الديار المصرية أحد من رءوس علماء الكلام مثله وأن يبين ما فيها.

فأجاب إلى ذلك واعتذر بأنه لا بد عند شرح ذلك الكلام من مخالفة بعض مقاصده لما توجبه قواعد الإسلام فإن الحق أحق أن يتبع، والله ورسوله أحق أن يرضوه إن كانوا مؤمنين، والله تعالى يقول: وَما آتاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَما نَهاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا «1»، النَّبِيُّ أَوْلى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ «2»، فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيما شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً (65) «3».

وقال تعالى: يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا (59) «4» وليعلم أن الشرح المطلوب الآتي ذكره اشتمل ولله الحمد مع اختصاره على غرر قواعد أصول الدين التي لم ينهض بتحقيق الحق فيها إلا الجهابذة النقاد من سادات الأولين والآخرين كما ستشهد ذلك ويشهد به وقت التأمل أهل العدل والإنصاف، من المحقين المحققين، والله سبحانه ولي التوفيق، والهادي إلى سواء الطريق، وهو حسبنا ونعم الوكيل.

وأول العقيدة المذكورة قوله: (الحمد لله حق حمده، وصلواته على محمد رسوله وعبده: للعالم خالق واجب الوجود لذاته واحد عالم قادر حي مريد متكلم سميع بصير.

--------------------------------------------

(1) سورة الحشر، الآية: 7.

(2) سورة الأحزاب، الآية: 6.

(3) سورة النساء، الآية: 65.

(4) سورة النساء، الآية: 59.
[উপক্রমণিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে নূরে উদ্ভাসিত করুন—যখন তিনি মিসর ভূখণ্ডে অবস্থান করছিলেন, ৭১২ হিজরী সনের মাসগুলোতে তাঁকে অনুরোধ করা হয় যেন তিনি প্রখ্যাত ইমাম ও কালামশাস্ত্রবিদ শায়খ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনুল আসফাহানী কর্তৃক সংকলিত আকিদাহ গ্রন্থের ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং এর বিষয়বস্তুসমূহ স্পষ্ট করেন; যাঁর সম্পর্কে বলা হতো যে, তাঁর মতো উঁচু স্তরের কোনো কালামশাস্ত্রবিদ ইতিপূর্বে মিসরে প্রবেশ করেননি।

তিনি সেই অনুরোধ রক্ষা করেন এবং এই বলে ওজর পেশ করেন যে, উক্ত আলোচনার ব্যাখ্যা প্রদানকালে এর কিছু উদ্দেশ্যের বিরোধিতা করা অনিবার্য, কারণ ইসলামের মূলনীতিসমূহ তাই দাবি করে। কেননা সত্যই অনুসরণের অধিক যোগ্য। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক হকদার যে, তারা যদি মুমিন হয় তবে যেন তাঁদের সন্তুষ্ট করে। মহান আল্লাহ বলেন: "রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো" (১), "নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ (অগ্রাধিকারযোগ্য)" (২), "অতএব তোমার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে বিচারক মান্য করে, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়" (৬৫) (৩)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য হতে উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করো। অতঃপর যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটাই উত্তম এবং পরিণতির দিক দিয়ে উৎকৃষ্টতর" (৫৯) (৪)। জেনে রাখা উচিত যে, কাঙ্ক্ষিত এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি—আল্লাহর প্রশংসা যে এটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও—দীনের মৌলিক নীতিমালার এমন সব শ্রেষ্ঠ ও উজ্জ্বল বিষয়বস্তু ধারণ করেছে, যার সঠিক স্বরূপ উন্মোচনে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যুগের কেবল বিজ্ঞ ও সূক্ষ্মদর্শী ওস্তাদরাই সক্ষম হয়েছেন, যেমনটি ইনসাফগার এবং সত্যাশ্রয়ী গবেষকগণ গভীর চিন্তার সময় সাক্ষ্য দেবেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী; তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

উক্ত আকিদাহর প্রারম্ভিক কথা হলো: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যেমনটি তাঁর প্রাপ্য, আর তাঁর সালাত (রহমত) বর্ষিত হোক তাঁর রাসূল ও বান্দা মুহাম্মদের ওপর। মহাবিশ্বের জন্য একজন স্রষ্টা রয়েছেন, যিনি স্বীয় সত্তাগতভাবে অস্তিত্ববান হওয়া অনিবার্য, তিনি এক, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, চিরঞ্জীব, ইচ্ছাময়, কথা বলেন, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭।

(২) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৬।

(৩) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৫।

(৪) সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৯।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
والدليل على وجوده: الممكنات لاستحالة وجودها بنفسها واستحالة وجودها بممكن آخر ضرورة استغناء المعلول بعلته عن كل ما سواه وافتقار الممكن إلى علته.

والدليل على وحدته: أنه لا تركيب فيه بوجه من الوجوه وإلا لما كان واجب الوجود لذاته ضرورة افتقاره إلى ما تركب منه، ويلزم من ذلك أنه لا يكون من نوعه اثنان إذ لو كان لزم وجود الاثنين بلا امتياز وهو محال.

والدليل على علمه إيجاده الأشياء لاستحالة إيجاده الأشياء مع الجهل بها.

والدليل على قدرته إيجاده الأشياء، وهي إما بالذات، وهو محال وإلا لكان العالم وكل واحد من مخلوقاته قديما وهو باطل فتعين أن يكون فاعلا بالاختيار وهو المطلوب.

والدليل على أنه حي: علمه وقدرته لاستحالة قيام العلم والقدرة بغير الحي.

والدليل على إرادته: تخصيصه الأشياء بخصوصيات واستحالة التخصيص من غير مخصص.

والدليل على كونه متكلما: أنه آمر وناه لأنه بعث الرسل لتبليغ أوامره ونواهيه ولا معنى لكونه متكلما إلا ذلك.

والدليل على كونه سميعا بصيرا: السمعيات.

والدليل على نبوة الأنبياء: المعجزات.

والدليل على نبوة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم القرآن المعجز نظمه ومعناه.

ثم نقول: كل ما أخبر به النبيّ محمد عليه الصلاة والسلام من عذاب القبر ومنكر ونكير وغير ذلك من أحوال القيامة والصراط والميزان والشفاعة والجنة والنار فهو حق لأنه ممكن، وقد أخبر به الصادق فلزم صدقه، والله الموفق).

فأجاب رضي الله تعالى عنه: الحمد لله رب العالمين، ما في هذا الكلام من الإخبار بأن للعالم خالقا وأنه واجب الوجود بنفسه «1» وأنه واحد عالم قادر حي مريد متكلم سميع بصير فهو حق لا ريب فيه وكذلك ما فيه من الإقرار بنبوة الأنبياء عليهم الصلاة والسلام ونبوة محمد صلى الله عليه وسلم وأنه يجب التصديق بكل ما أخبر به من

--------------------------------------------

(1) واجب الوجود هو الذي يكون وجوده من ذاته ولا يحتاج إلى شيء أصلا. وواجب الوجود على قسمين: واجب الوجود لذاته كالباري تعالى، وواجب الوجود بالغير كالموجودات.

انظر التعريفات للجرجاني (ص 304).
তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ হলো: সম্ভবপর বস্তুসমূহ (মুমকিনাত); কারণ তাদের অস্তিত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে হওয়া অসম্ভব এবং অন্য কোনো সম্ভবপর সত্তার মাধ্যমে অস্তিত্ব লাভ করাও অসম্ভব। এটি একারণে যে, কোনো কার্য তার কারণের মাধ্যমে অন্য সবকিছু থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যায় এবং সম্ভবপর সত্তা তার কারণের প্রতি মুখাপেক্ষী থাকে।

তাঁর একত্বের প্রমাণ হলো: কোনোভাবেই তাঁর মধ্যে কোনো সংমিশ্রণ বা অবয়ব নেই। অন্যথায় তিনি স্বীয় সত্তাগতভাবে অনিবার্য অস্তিত্ব সম্পন্ন (ওয়াজিবুল উজুদ) হতেন না; কারণ তখন তিনি তাঁর উপাদানসমূহের প্রতি মুখাপেক্ষী হতেন। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, তাঁর প্রকারের সমতুল্য দ্বিতীয় কেউ নেই। কেননা যদি থাকত, তবে কোনো পার্থক্য ছাড়াই দুই সত্তার অস্তিত্ব আবশ্যক হতো, যা অসম্ভব।

তাঁর জ্ঞানের প্রমাণ হলো সকল বস্তুর সৃষ্টি; কারণ অজ্ঞতা বজায় রেখে কোনো কিছু সৃষ্টি করা অসম্ভব।

তাঁর কুদরতের (ক্ষমতার) প্রমাণ হলো বস্তুর সৃষ্টি। আর সৃষ্টি প্রক্রিয়া যদি স্বীয় সত্তাগত বা স্বভাবজাত হতো, তবে তা অসম্ভব ছিল; অন্যথায় বিশ্বজগত ও তার প্রতিটি সৃষ্টি অনাদি হতো, যা অসার। সুতরাং এটি নিশ্চিত যে তিনি স্বেচ্ছায় কার্য সম্পাদনকারী (ফায়েলে মুখতার), আর এটিই উদ্দিষ্ট।

তিনি চিরঞ্জীব হওয়ার প্রমাণ হলো তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা; কারণ প্রাণহীন সত্তার মধ্যে জ্ঞান ও ক্ষমতার বিদ্যমান থাকা অসম্ভব।

তাঁর ইচ্ছার (ইরাদা) প্রমাণ হলো: বস্তুসমূহকে বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্যে নির্দিষ্ট করা, আর কোনো নির্ধারণকারী ব্যতীত কোনো কিছু নির্দিষ্ট হওয়া অসম্ভব।

তাঁর বাকশক্তিসম্পন্ন (মুতাকাল্লিম) হওয়ার প্রমাণ হলো: তিনি আদেশদাতা ও নিষেধকারী। কারণ তিনি তাঁর আদেশ ও নিষেধ প্রচারের জন্য রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন। তাঁর কথা বলার তাৎপর্য এছাড়া আর কিছু নয়।

তাঁর শ্রবণকারী ও দ্রষ্টা হওয়ার প্রমাণ হলো: শ্রুতিনির্ভর (নকলি) দলিলসমূহ।

নবীদের নবুওয়াতের প্রমাণ হলো: মুজিজাসমূহ।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের প্রমাণ হলো পবিত্র কুরআন, যার বর্ণনাশৈলী ও অর্থ অলৌকিক।

অতঃপর আমরা বলি: নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরের আজাব, মুনকার-নাকির এবং এছাড়া কিয়ামতের অবস্থা, পুলসিরাত, মিযান, শাফাআত, জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন, তা ধ্রুব সত্য। কারণ এগুলো সম্ভবপর বিষয়, আর একজন সত্যবাদী ব্যক্তি এর সংবাদ দিয়েছেন, তাই তাঁর সত্যতা স্বীকার করা আবশ্যক। আল্লাহই তাওফিকদাতা।

অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) উত্তর দিলেন: সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এই আলোচনার মধ্যে বিশ্বজগতের একজন স্রষ্টা থাকা, তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনিবার্য অস্তিত্ব সম্পন্ন (ওয়াজিবুল উজুদ) হওয়া, তিনি এক, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, চিরঞ্জীব, ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন, বাকশক্তিসম্পন্ন, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা হওয়ার যে বর্ণনা রয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সত্য। অনুরূপভাবে এতে নবীদের (তাঁদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) নবুওয়াত এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর প্রদত্ত সকল সংবাদের সত্যায়ন করা যে আবশ্যক বলা হয়েছে—

--------------------------------------------

(১) অনিবার্য অস্তিত্ব (ওয়াজিবুল উজুদ) হলো সেই সত্তা যাঁর অস্তিত্ব স্বীয় সত্তা থেকেই এবং যিনি কোনো কিছুরই মুখাপেক্ষী নন। ওয়াজিবুল উজুদ দুই প্রকার: সত্তাগতভাবে অনিবার্য অস্তিত্ব, যেমন মহান আল্লাহ; এবং অন্যের মাধ্যমে অনিবার্য অস্তিত্ব, যেমন বিদ্যমান বস্তুসমূহ।

দেখুন: আল-জুরজানি রচিত 'আত-তারিফাত' (পৃষ্ঠা ৩০৪)।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
عذاب القبر ومنكر ونكير وغير ذلك من أحوال القيامة والصراط والميزان، والشفاعة والجنة والنار، فإنه حق، فإن هذه الأسماء المقدسة المذكورة لله تعالى منها ما هو في كتاب الله تعالى كاسمه الواحد والعالم والقادر والحي والسميع والبصير.

قال تعالى: وَإِلهُكُمْ إِلهٌ واحِدٌ «1» وقال تعالى: رَفِيعُ الدَّرَجاتِ ذُو الْعَرْشِ يُلْقِي الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِ عَلى مَنْ يَشاءُ مِنْ عِبادِهِ لِيُنْذِرَ يَوْمَ التَّلاقِ (15) يَوْمَ هُمْ بارِزُونَ لا يَخْفى عَلَى اللَّهِ مِنْهُمْ شَيْءٌ لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ لِلَّهِ الْواحِدِ الْقَهَّارِ (16) «2» وقال تعالى: اللَّهُ لا إِلهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ «3» وَعَنَتِ الْوُجُوهُ لِلْحَيِّ الْقَيُّومِ «4» وقال تعالى: وَاللَّهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ (17) عالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهادَةِ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (18) «5» وقال تعالى: إِنَّ اللَّهَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ «6» وقال تعالى: لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ «7» ومثل هذا في القرآن كثير.

أما تسميته سبحانه بأنه مريد وأنه متكلم فإن هذين الاسمين لم يردا في القرآن ولا في الأسماء الحسنى المعروفة، ومعناهما حق، ولكن الأسماء الحسنى المعروفة هي التي يدعى الله بها، وهي التي جاءت في الكتاب والسنة وهي التي تقتضي المدح والثناء بنفسها، والعلم والقدرة والرحمة ونحو ذلك وهي في نفسها صفات مدح، والأسماء الدالة عليها أسماء مدح.

أما الكلام والإرادة: فلما كان جنسه ينقسم إلى محمود كالصدق والعدل، وإلى مذموم كالظلم والكذب، والله تعالى لا يوصف إلا بالمحمود دون المذموم، جاء ما يوصف به من الكلام والإرادة في أسماء تخص المحمود كاسمه الحكيم والرحيم والصادق والمؤمن والشهيد والرءوف والحليم والفتاح ونحو ذلك مما يتضمن معنى الكلام ومعنى الإرادة.

فإن الكلام نوعان: إنشاء وإخبار، والإخبار ينقسم إلى صدق وكذب، والله تعالى يوصف بالصدق دون الكذب، والإنشاء نوعان: إنشاء تكوين وإنشاء تشريع، فإنه سبحانه له الخلق والأمر، وإنما أمره إذا أراد شيئا أن يقول له كن فيكون، والتكوين يستلزم الإرادة عند جماهير الخلائق، وكذلك يستلزم الكلام عند أكثر أهل الإثبات، وأما التشريع فيستلزم الكلام وفي استلزامه الإرادة نزاع، والصواب

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآية: 163.

(2) سورة غافر، الآيتان: 15، 16.

(3) سورة آل عمران، الآية: 2.

(4) سورة طه، الآية: 111.

(5) سورة التغابن، الآيتان: 17، 18.

(6) سورة فاطر، الآية: 1.

(7) سورة الشورى، الآية: 11.
কবরের আজাব, মুনকার ও নাকির এবং কিয়ামতের অন্যান্য অবস্থা যেমন সিরাত, মিজান, শাফায়াত, জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য। মহান আল্লাহর জন্য উল্লিখিত এই পবিত্র নামসমূহের কিছু আল্লাহর কিতাবে রয়েছে, যেমন তাঁর নাম: এক, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, চিরঞ্জীব, সর্বশ্রোতা এবং সর্বদ্রষ্টা।

মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্য" (১)। তিনি আরও বলেন: "তিনি সুউচ্চ মর্যদার অধিকারী, আরশের মালিক; তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা আপন আদেশে রূহ প্রেরণ করেন, যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে (১৫)। যেদিন তারা আত্মপ্রকাশ করবে, আল্লাহর কাছে তাদের কোনো কিছুই গোপন থাকবে না। আজ রাজত্ব কার? একমাত্র আল্লাহর, যিনি এক, পরাক্রমশালী (১৬)" (২)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক" (৩)। "চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারকের সামনে সকল মুখমণ্ডল অবনমিত হবে" (৪)। তিনি আরও বলেন: "আর আল্লাহ গুণগ্রাহী, সহনশীল (১৭)। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (১৮)" (৫)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান" (৬)। তিনি আরও বলেন: "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" (৭)। কুরআনে এই ধরনের দৃষ্টান্ত অনেক রয়েছে।

আর মহান আল্লাহকে 'ইচ্ছাকারী' এবং 'বক্তা' হিসেবে অভিহিত করার বিষয়টি হলো—এই দুটি নাম কুরআনে কিংবা সুপরিচিত 'আসমাউল হুসনা' বা সুন্দরতম নামসমূহের তালিকায় আসেনি। তবে এগুলোর অর্থ সত্য। মূলত সুপরিচিত 'আসমাউল হুসনা' হলো সেগুলোই, যা দ্বারা আল্লাহকে আহ্বান করা হয় এবং যা কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে। এগুলো এমন নাম যা স্বয়ং প্রশংসা ও স্তুতি দাবি করে, যেমন জ্ঞান, ক্ষমতা, দয়া ইত্যাদি। এগুলো মূলত প্রশংসাসূচক গুণাবলি এবং এগুলো নির্দেশকারী নামসমূহও প্রশংসামূলক নাম।

কথা ও ইচ্ছার বিষয়টি হলো: যেহেতু এগুলোর শ্রেণিবিভাগ রয়েছে—প্রশংসনীয় যেমন সত্যবাদিতা ও ন্যায়বিচার এবং নিন্দনীয় যেমন জুলুম ও মিথ্যা—আর মহান আল্লাহকে কেবল প্রশংসনীয় গুণেই গুণান্বিত করা যায়, নিন্দনীয় গুণে নয়; তাই তাঁর কথা ও ইচ্ছার বর্ণনায় এমন নামসমূহ এসেছে যা কেবল প্রশংসনীয় গুণকে নির্দিষ্ট করে। যেমন তাঁর নাম: প্রজ্ঞাময়, দয়াময়, সত্যবাদী, নিরাপত্তা দানকারী, সাক্ষী, অতি দয়ালু, সহনশীল, বিজয় দানকারী ইত্যাদি; যা কথা ও ইচ্ছার অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে।

কেননা কথা দুই প্রকার: সৃষ্টিধর্মী ও সংবাদধর্মী। সংবাদ প্রদান আবার সত্য ও মিথ্যায় বিভক্ত, আর মহান আল্লাহকে কেবল সত্যের গুণে গুণান্বিত করা যায়, মিথ্যার নয়। সৃষ্টিধর্মী কথা দুই প্রকার: মহাজাগতিক সৃষ্টি এবং বিধানগত নির্দেশ। কেননা সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই অধীন। তিনি যখন কোনো কিছু করার ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলেন 'হও', অমনি তা হয়ে যায়। অধিকাংশ সৃষ্টির মতে, মহাজাগতিক সৃষ্টি ইচ্ছাকে আবশ্যক করে। একইভাবে অধিকাংশ গুণাবলি সাব্যস্তকারী আলেমদের মতে তা কথাকেও আবশ্যক করে। আর বিধানগত বিষয়ের ক্ষেত্রে তা কথাকে আবশ্যক করলেও তা ইচ্ছাকে আবশ্যক করে কি না সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। সঠিক মত হলো...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৩।

(২) সূরা গাফির, আয়াত: ১৫, ১৬।

(৩) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ২।

(৪) সূরা ত্বহা, আয়াত: ১১১।

(٥) সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ১৭, ১৮।

(৬) সূরা ফাতির, আয়াত: ১।

(৭) সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
أنه يستلزم أحد نوعي الإرادة كما سنبين إن شاء الله، والإنشاء يتضمن الأمر والنهي والإباحة، والله تعالى يوصف بأنه يأمر بالخير وينهى عن الشر فهو سبحانه لا يأمر بالفحشاء، وكذلك الإرادة قد نزه نفسه عن بعض أنواعها بقوله تعالى: وَمَا اللَّهُ يُرِيدُ ظُلْماً لِلْعالَمِينَ «1».

وقوله: يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ «2» فلهذا لم يجئ في أسمائه الحسنى المأثورة: المتكلم والمريد.

وأما ما يوصف به الرب من الكلام والإرادة، فقد دلت عليه أسماؤه الحسنى، وقد اتفق سلف الأمة وأئمتها على أن الله تعالى متكلم بكلام قائم به وأن كلامه غير مخلوق «3»، وأنه مريد بإرادة قائمة به، وأن إرادته ليست مخلوقة، وأنكروا على الجهمية «4» من المعتزلة وغيرهم الذين قالوا: إن كلام الله مخلوق خلقه في غيره وإنه كلّم موسى بكلام خلقه في الهواء.

واتفق سلف الأمة وأئمتها على أن كلام الله منزل غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود ومعنى قولهم: منه بدأ أي هو المتكلم به لم يخلقه في غيره كما قالت الجهمية من المعتزلة وغيرهم أنه بدأ من بعض المخلوقات وأنه سبحانه لم يقم به كلام، ولم يرد السلف أنه كلام فارق ذاته فإن الكلام وغيره من الصفات لا تفارق الموصوف بل صفة المخلوق لا تفارقه وتنتقل إلى غيره فكيف تكون صفة الخالق تفارقه وتنتقل إلى غيره؟ ولهذا قال الإمام أحمد: كلام الله من الله ليس ببائن منه، ورد بذلك على الجهمية المعتزلة وغيرهم الذين يقولون كلام الله بائن منه خلقه في بعض الأجسام، ومعنى قول السلف: إليه يعود ما

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الآية: 108.

(2) سورة البقرة، الآية: 185.

(3) فهذه هي عقيدة أهل السنة والجماعة، وانظر لمزيد من الفائدة شرح شيخنا محمد بن عثيمين رحمه الله تعالى على العقيدة الواسطية (2/ 93 وما بعدها).

(4) الجهمية هي إحدى الفرق الكلامية التي تنتسب إلى الإسلام، قامت على البدع الكلامية والآراء المخالفة لعقيدة أهل السنة والجماعة، متأثرة بعقائد وآراء اليهود والصابئة والمشركين والفلاسفة الضالين.

وأول من قال بهذه العقيدة وإليه تنسب هو الجهم بن صفوان الذي أخذها عن الجعد بن درهم الذي أخذها عن أبان بن سمعان اليهودي.

وتتلخص آراء الجهمية العقدية في إنكار جميع أسماء الله تعالى وصفاته وجعلها من باب المجاز، وفي القول بالإرجاء في فعل الإنسان، وأن القرآن مخلوق، بالإضافة إلى نفي عذاب القبر والصراط والميزان ورؤية الله تعالى، بالإضافة إلى قولهم أن الله تعالى في كل مكان ومع كل أحد بذاته، تعالى الله عمّا يقوله الظالمون الجاحدون علوّا كبيرا.
এটি ইচ্ছার (ইরাদা) দুই প্রকারের একটিকে অপরিহার্য করে তোলে যেমন আমরা ইনশাআল্লাহ বর্ণনা করব। ইনশা (সৃষ্টি/প্রবর্তন) আদেশ, নিষেধ এবং অনুমোদনের (ইবাহাত) অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলাকে এই গুণে গুণান্বিত করা হয় যে তিনি কল্যাণের আদেশ দেন এবং মন্দের নিষেধ করেন; সুতরাং তিনি পবিত্র সত্তা অশ্লীলতার আদেশ দেন না। একইভাবে ইচ্ছার ক্ষেত্রেও তিনি নিজেকে এর কিছু প্রকার থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "এবং আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতি কোনো জুলুম করার ইচ্ছা পোষণ করেন না" (১)।

এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্য কঠিন তা চান না" (২)। এ কারণেই তাঁর বর্ণিত সুন্দর নামসমূহের (আসমাউল হুসনা) মধ্যে 'আল-মুতাকাল্লিম' (কথক) এবং 'আল-মুরিদ' (ইচ্ছাকারী) আসেনি।

আর রব-কে কথা ও ইচ্ছার গুণে যে গুণান্বিত করা হয়, তা তাঁর সুন্দর নামসমূহ দ্বারা প্রমাণিত। উম্মতের সালাফ এবং ইমামগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা এমন এক কথার মাধ্যমে কথা বলেন যা তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তাঁর কথা সৃষ্টি নয় (৩)। আর তিনি এমন ইচ্ছার মাধ্যমে ইচ্ছাকারী যা তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তাঁর ইচ্ছা সৃষ্টি নয়। তাঁরা মুতাজিলা ও অন্যদের মধ্য থেকে জাহমিয়াদের (৪) প্রতিবাদ করেছেন যারা বলেছিল: আল্লাহর কথা সৃষ্টি, যা তিনি অন্যের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি মুসার সাথে এমন কথার মাধ্যমে কথা বলেছেন যা তিনি বাতাসে সৃষ্টি করেছিলেন।

উম্মতের সালাফ এবং ইমামগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আল্লাহর কালাম অবতীর্ণ, তা সৃষ্টি নয়; তা তাঁর থেকেই শুরু হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে। তাঁদের এই কথার অর্থ যে 'তা তাঁর থেকে শুরু হয়েছে' হলো: তিনি নিজেই এর বক্তা, তিনি এটি অন্যের মধ্যে সৃষ্টি করেননি যেমনটি মুতাজিলা ও অন্যদের মধ্য থেকে জাহমিয়ারা বলেছিল যে এটি কোনো সৃষ্টি থেকে শুরু হয়েছে এবং মহান আল্লাহর সত্তার সাথে কোনো কথা সংশ্লিষ্ট নয়। সালাফগণ এ কথা বোঝাতে চাননি যে এটি এমন এক কথা যা তাঁর সত্তা থেকে পৃথক হয়ে গেছে, কারণ কথা এবং অন্যান্য গুণাবলি গুণান্বিত সত্তা থেকে পৃথক হয় না। বরং সৃষ্টির গুণই তার থেকে পৃথক হয়ে অন্যের কাছে স্থানান্তরিত হয় না, তবে কীভাবে স্রষ্টার গুণ তাঁর থেকে পৃথক হবে এবং অন্যের কাছে স্থানান্তরিত হবে? এ কারণেই ইমাম আহমাদ বলেছেন: আল্লাহর কথা আল্লাহ থেকেই, যা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এর মাধ্যমে তিনি মুতাজিলা জাহমিয়া ও অন্যদের প্রতিবাদ করেছেন যারা বলে যে আল্লাহর কথা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন যা তিনি কোনো বস্তুর মধ্যে সৃষ্টি করেছেন। আর সালাফদের বক্তব্য 'তাঁর দিকেই ফিরে যাবে' এর অর্থ হলো...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১০৮।

(২) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫।

(৩) এটিই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহ। অধিকতর উপকারের জন্য দেখুন আমাদের শায়খ মুহাম্মাদ বিন উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-এর শারহ বা ব্যাখ্যা (২/৯৩ এবং পরবর্তী অংশ)।

(৪) জাহমিয়া হলো ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত একটি কালামি বা দার্শনিক দল। এটি নব উদ্ভাবিত বিদআত এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহ পরিপন্থী মতবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা ইয়াহুদি, সাবিঈ, মুশরিক এবং পথভ্রষ্ট দার্শনিকদের বিশ্বাস ও মতামতের দ্বারা প্রভাবিত।

এই আকিদাহর কথা প্রথম যে ব্যক্তি বলেছিলেন এবং যার দিকে এটি সম্পৃক্ত করা হয়, তিনি হলেন জাহম বিন সাফওয়ান। তিনি এটি গ্রহণ করেছিলেন জা’দ বিন দিরহামের কাছ থেকে, আর তিনি এটি গ্রহণ করেছিলেন আবান বিন সামআন ইয়াহুদির কাছ থেকে।

জাহমিয়াদের আকিদাহগত মতামতগুলো সংক্ষেপে হলো: আল্লাহ তাআলার সকল নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করা এবং সেগুলোকে রূপক অর্থে গ্রহণ করা; মানুষের কর্মের ক্ষেত্রে ইরজা (মুর্জিয়াদের মতবাদ) পোষণ করা; কুরআন সৃষ্টি হওয়া; এছাড়া কবরের আজাব, সিরাত, মিযান এবং আল্লাহ তাআলার দিদার অস্বীকার করা। তদুপরি তাদের বক্তব্য হলো আল্লাহ তাআলা তাঁর সত্তাসহ প্রত্যেক স্থানে এবং প্রত্যেকের সাথে আছেন; জালিম ও অস্বীকারকারীরা যা বলে তা থেকে মহান আল্লাহ অনেক উর্ধ্বে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
جاء في الآثار: «إن القرآن يسرى به حتى لا يبقى في المصاحف منه حرف ولا في القلوب منه آية» «1».

وقد قال الله تعالى عن المخلوق: كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْواهِهِمْ إِنْ يَقُولُونَ إِلَّا كَذِباً «2» ومع هذا فكلمة المخلوق لا تفارق ذاته وتنتقل إلى غيره.

وما جاءت به الآثار عن النبيّ صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين لهم بإحسان وغيرهم من أئمة المسلمين كالحديث الذي رواه أحمد في مسنده وكتبه إلى المتوكل في رسالته التي أرسل بها إليه عن النبيّ صلى الله عليه وسلم أنه قال: «ما تقرب العباد إلى الله بمثل ما خرج منه» «3» يعني القرآن، وفي لفظ: «بأحب إليه مما خرج منه»، وقول أبي بكر الصديق لما سمع كلام مسيلمة: «إن هذا كلام لم يخرج من إل». أي من رب.

وقول ابن عباس لما سمع قائلا يقول لميت وضع في لحده: اللهم رب القرآن اغفر له، فالتفت إليه ابن عباس فقال: «مه. القرآن كلام الله ليس بمربوب منه خرج وإليه يعود»، هذا الكلام معروف عن ابن عباس.

وقول السلف: القرآن كلام الله غير مخلوق منه بدأ وإليه يعود كما استفاضت الآثار عنهم بذلك كما هو مذكور عنهم في الكتب المنقولة عنهم بالأسانيد المشهورة لا يدل على أن الكلام يفارق المتكلم وينتقل إلى غيره، ولكن هذا دليل على أن الله هو المتكلم بالقرآن.

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن ماجه في سننه برقم (4149) والحاكم في المستدرك (4/ 473 و545) ونعيم بن حماد في الفتن (ق 173/ 1) من حديث حذيفة بن اليمان رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:

«يدرس الإسلام كما يدرس وشي الثوب، حتى لا يدرى ما صيام ولا صلاة ولا نسك ولا صدقة، وليسرى على كتاب الله عز وجل في ليلة فلا يبقى في الأرض منه آية، وتبقى طوائف من الناس:

الشيخ الكبير والعجوز، يقولون: أدركنا آباءنا على هذه الكلمة (لا إله إلا الله) فنحن نقولها».

والحديث صححه العلامة الألباني في السلسلة الصحيحة برقم (87).

(2) سورة الكهف، الآية: 5.

(3) أخرجه الترمذي في سننه برقم (2911) وأحمد في المسند برقم (22306) والطبراني في معجمه الكبير برقم (7657) والخطيب في تاريخه (7/ 88) و (12/ 220) والمروزي في تعظيم قدر الصلاة برقم (178) من حديث أبي أمامة رضي الله عنه، ولفظه بتمامه: «ما أذن لعبد في شيء أفضل من ركعتين يصليهما، وإن البرّ ليذر فوق رأس العبد ما دام في صلاته، وما تقرب العباد إلى الله بمثل ما خرج منه» يعني القرآن.

والحديث ضعفه العلامة الألباني في الضعيفة برقم (1957) وفي ضعيف سنن الترمذي برقم (555).
আছারে (বর্ণনায়) এসেছে: "নিশ্চয়ই কুরআনকে রাতের বেলা উঠিয়ে নেওয়া হবে, এমনকি মুসহাফসমূহে (কুরআনের কপিতে) তার একটি হরফও অবশিষ্ট থাকবে না এবং অন্তরে তার কোনো আয়াত অবশিষ্ট থাকবে না।" (১)

আর সৃষ্টি সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: "তাদের মুখ থেকে যে কথা বের হয় তা অত্যন্ত ভয়াবহ; তারা কেবল মিথ্যাই বলে।" (২) তা সত্ত্বেও সৃষ্টির কথা তার সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্যের কাছে স্থানান্তরিত হয় না।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, উত্তমরূপে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীগণ এবং মুসলিমদের অন্যান্য ইমামদের থেকে আছারে যা বর্ণিত হয়েছে—যেমন সেই হাদীস যা ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন এবং আল-মুতাওয়াক্কিলের নিকট প্রেরিত তাঁর পত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "বান্দারা আল্লাহর নৈকট্য লাভে এমন কিছুর মাধ্যমে ধন্য হতে পারে না, যা তাঁর থেকে নির্গত হয়েছে (অর্থাৎ কুরআন) তার অনুরূপ।" (৩), এবং অন্য এক শব্দে এসেছে: "তাঁর কাছে তার চেয়ে অধিক প্রিয় আর কিছু নেই যা তাঁর থেকে নির্গত হয়েছে।" এবং আবু বকর সিদ্দিক (রা.) যখন মুসাইলামার কথা শুনলেন তখন তাঁর উক্তি: "নিশ্চয়ই এটি এমন কথা যা কোনো 'ইল' (অর্থাৎ রব বা প্রতিপালক) থেকে নির্গত হয়নি।"

এবং ইবনে আব্বাসের উক্তি, যখন তিনি একজনকে কবরে শায়িত এক মৃত ব্যক্তির জন্য বলতে শুনলেন: "হে আল্লাহ, কুরআনের রব! তাকে ক্ষমা করুন।" তখন ইবনে আব্বাস তার দিকে ফিরে বললেন: "থামো! কুরআন আল্লাহর কালাম, এটি সৃষ্টি নয়। তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর কাছেই এটি ফিরে যাবে।" ইবনে আব্বাসের এই উক্তিটি সুপ্রসিদ্ধ।

সালাফে সালেহীনের উক্তি: "কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়, তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর কাছেই এটি ফিরে যাবে"—যেমনটি তাঁদের থেকে বর্ণিত আছারসমূহ এ বিষয়ে মশহুর সনদে বর্ণিত কিতাবসমূহে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, কথা বক্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্যের কাছে স্থানান্তরিত হয়; বরং এটি এই কথারই প্রমাণ যে, আল্লাহ তাআলাই কুরআনের বক্তা।

--------------------------------------------

(১) এটি ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে (৪১৪৯), হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে (৪/৪৭৩ ও ৫৪৫) এবং নুআইম বিন হাম্মাদ আল-ফিতান গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৭৩/১) হুযাইফা বিন ইয়ামান (রা.)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"ইসলাম জীর্ণ হয়ে যাবে যেমন কাপড়ের নকশা জীর্ণ হয়ে যায়, এমনকি রোজা, নামাজ, হজ্জ ও সদকা কী—তাও জানা থাকবে না। এক রাতে মহান আল্লাহর কিতাবকে উঠিয়ে নেওয়া হবে, ফলে যমিনে তার একটি আয়াতও অবশিষ্ট থাকবে না। মানুষের মধ্যে কিছু দল অবশিষ্ট থাকবে:

বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা, তারা বলবে: আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এই কালিমার (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ওপর পেয়েছি, তাই আমরাও তা বলছি।"

আল্লামা আলবানী 'সিলসিলাতুস সহীহাহ'-তে (৮৭) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

(২) সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৫।

(৩) এটি তিরমিজি তাঁর সুনানে (২৯১১), আহমাদ মুসনাদে (২২৩০৬), তাবারানি আল-মুজামুল কাবীরে (৭৬৫৭), খতীব তাঁর তারিখে (৭/৮৮) ও (১২/২২০) এবং মারওয়াযী 'তাযীমু কদরিস সালাহ'-তে (১৭৮) আবু উমামাহ (রা.)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। এর পূর্ণাঙ্গ পাঠ হলো: "কোনো বান্দাকে দুই রাকাত সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম আর কোনো কিছুর অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিশ্চয়ই বান্দা যতক্ষণ সালাতে থাকে ততক্ষণ তার মাথার ওপর সওয়াব বর্ষিত হতে থাকে। আর বান্দারা আল্লাহর নৈকট্য লাভে এমন কিছুর মাধ্যমে ধন্য হতে পারে না, যা তাঁর থেকে নির্গত হয়েছে (অর্থাৎ কুরআন) তার অনুরূপ।"

আল্লামা আলবানী 'আদ-দঈফাহ' (১৯৫৭) এবং 'দঈফ সুনানে তিরমিজি'-তে (৫৫৫) হাদীসটিকে দঈফ বলেছেন।