(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: -)
شذا العرف في فن الصرف   (أحمد بن محمد الحملاوي)

القسم: النحو والصرف

الكتاب: شذا العرف في فن الصرف

المؤلف: أحمد بن محمد الحملاوي (ت 1351هـ)

المحقق: نصر الله عبد الرحمن نصر الله

الناشر: مكتبة الرشد الرياض

عدد الصفحات: 170

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শাযাল আরফ ফী ফাননিস সারফ   (আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হামলাভি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ

বই: শাযাল আরফ ফী ফাননিস সারফ

লেখক: আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হামলাভি (মৃত্যু ১৩৫১ হিজরি)

গবেষক: নাসরুল্লাহ আব্দুর রহমান নাসরুল্লাহ

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭০

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المجلد الاول

‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:

فإنه مما لا يخفى على مُطَّلعٍ ودارسٍ بله طالب العلم الشرعي أهميةُ علم المصرف، هذا العلم: الذي اعتنى به العلماءُ قديمًا وحديثًا لما لهُ من مَزِيَّةٍ خاصة في علوم اللغة العربية، فهو لا يقل أهمية عن علم النَّحو -إن لم يكن أهم- لأنَّه علم يُعرف به تحول الأَصلِ الواحدِ إلى أمثلةٍ مختلفةٍ لمعانٍ مقصودةٍ لا تحصل إلا بها، وهذا من الناحية العملية، أما من الناحية العلمية: فهو علمٌ بأصول يُعْرَف بها أحوالُ أبنيةِ الكلمةِ التي ليست بإعرابٍ ولا بناءٍ، كما عرَّفه بذلك أهل الشأن، وكان ممن حَضِيَ كثرةً من هذا العلم العزيز الأستاذ الشيخ أحمدُ بنُ محمَّدٍ الحَمَلاوي -رحمه الله تعالى- فإنَّه رحمه الله قد تَكَلَّم فيهِ وكأنه هو الذي صنعه ووضعه، بسلاسة أسلوبٍ وحسن ترتيبٍ ليس بالإسهاب المُمِلّ ولا بالاختصار المقل، فكان لزامًا علينا طلبة العلم أن نكمل ما بَنَوْهُ ونَحْذُوَ حذْوَهُمْ لكي تبقى مسيرةُ العلم عاليةً خفاقة يحملها طلابُّ العلم وحافظوه من كل نسيان ودرس1، ولقد رأيت بعض طبعات هذا الكتاب قد حدث فيها تقصير كثير من حيثُ الطباعة من ناحية ومن حيث الاختصار والإجحافُ من ناحية أخرى. وهذا الكتاب قد تعرَّض كما رأيتُ لاختصار في تفصيلاتِهِ من ناحية وفي موضوعاته من ناحية أخرى، ولا يخفى: أنّ الاختصار نافعٌ ولا يخلو من فائدة، ولكن لا ينفع طلاب العلم الذين يبحثون عن الأصول التي تَجْعَلُ عندهم ملكة الاستنباط نشيطةً حيَّةً، وَمِن أجل هذا حرصنا على أن يخرج هذا الكتاب، الصغير الحجم الكبير الفائدة، بجميع ما فيه من غير حذف ولا إضافة في أصله، وحرصنا على أن يخرج هذا الكتاب خاليًا من الأخطاء الإملائية واللغوية، وما كان فيه من لغزٍ حاولنا فكَّهُ بقدر ما يجعل

--------------------------------------------

1 الدرس: بمعنى الضياع.
প্রথম খণ্ড

ভূমিকা

…

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

কোনো বিজ্ঞ পাঠক বা গবেষক, এমনকি শরয়ী ইলমের শিক্ষার্থীর কাছেও ইলমে সরফের (শব্দতত্ত্ব) গুরুত্ব অজানা নয়। এটি এমন এক ইলম, যার প্রতি প্রাচীন ও আধুনিক কালের আলেমগণ বিশেষ যত্ন নিয়েছেন আরবি ভাষা বিজ্ঞানে এর অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে। গুরুত্বের দিক থেকে এটি ইলমে নাহুর (বাক্যতত্ত্ব) চেয়ে কোনো অংশে কম নয়—বরং এটিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ—কেননা এটি এমন এক ইলম যার মাধ্যমে একটি মূল শব্দকে ভিন্ন ভিন্ন কাঙ্ক্ষিত অর্থ লাভের জন্য বিভিন্ন রূপে রূপান্তরের পদ্ধতি জানা যায়, যা সেই রূপান্তর ছাড়া অর্জন করা সম্ভব নয়। এটি হলো ব্যবহারিক দিকের সংজ্ঞা। আর তাত্ত্বিক দিক থেকে: এটি হলো এমন কতগুলো মূলনীতির জ্ঞান যার মাধ্যমে শব্দের কাঠামোগত অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়, যা ইরাব (বাক্যের শেষাবস্থার পরিবর্তন) বা বিনা (অপরিবর্তনীয়তা) সংক্রান্ত বিষয় নয়; যেমনটি এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। উস্তাদ শায়খ আহমদ বিন মুহাম্মাদ আল-হামালাভি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন—সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা এই মর্যাদাশীল ইলমে প্রভূত বুৎপত্তি লাভ করেছেন। তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন—এতে এমনভাবে আলোচনা করেছেন যেন তিনি নিজেই এই শাস্ত্রটি উদ্ভাবন ও প্রণয়ন করেছেন; যা অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গি ও চমৎকার বিন্যাস সমৃদ্ধ, যেখানে নেই বিরক্তিকর দীর্ঘসূত্রতা, আর নেই এমন সংক্ষিপ্ততা যা মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। তাই ইলমের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, পূর্বসূরিরা যা নির্মাণ করে গেছেন আমরা যেন তা পূর্ণ করি এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করি, যাতে ইলমের এই অগ্রযাত্রা সুউচ্চ ও সমুন্নত থাকে এবং ইলমের শিক্ষার্থী ও সংরক্ষকগণ একে বিস্মৃতি ও বিলুপ্তি১ থেকে রক্ষা করে বহন করে নিয়ে যান। আমি এই কিতাবের কিছু মুদ্রণ দেখেছি যেখানে একদিক থেকে মুদ্রণগত ত্রুটি এবং অন্যদিক থেকে বিষয়বস্তুর অতি-সংক্ষিপ্তকরণ ও কাটছাঁট করার মাধ্যমে ব্যাপক অবিচার করা হয়েছে। আমি যেমনটি দেখেছি, এই কিতাবটি একদিকে এর বিস্তারিত বর্ণনায় এবং অন্যদিকে এর বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে সংক্ষেপনের শিকার হয়েছে। এটি অবিদিত নয় যে, সংক্ষিপ্তকরণ উপকারী এবং তা উপযোগিতা বর্জিত নয়, তবে তা সেই সব ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য যথেষ্ট নয় যারা এমন সব মূলনীতির সন্ধান করেন যা তাদের মধ্যে উদ্ভাবনী ও গবেষণামূলক যোগ্যতাকে শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত রাখে। এই কারণেই আমরা সচেষ্ট হয়েছি যাতে আকারে ছোট কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ এই কিতাবটি এর মূল পাঠে কোনো প্রকার বর্জন বা সংযোজন ছাড়াই পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয়। আমরা এই কিতাবটিকে বানান ও ভাষাগত ভুল থেকে মুক্ত রাখতে সচেষ্ট হয়েছি এবং এতে যে সকল জটিলতা ছিল, আমরা তা যতটুকু সম্ভব নিরসনের চেষ্টা করেছি যা একে সহজবোধ্য করে তোলে...

--------------------------------------------

১ দারস: বিলুপ্তি বা হারিয়ে যাওয়া অর্থে।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ৬)
الكتاب محافظًا، وبالإضافة إلى هذا فلقد رأيت أن تكثُرَ النصوصُ القرآنية والحديثية في هذا الكتاب، فأتيت بما رأيته مهمًّا للبيان من آياتٍ وأحاديث وحرصتُ على أن تكون الأحاديث كلُّها صحيحة مسندةً لِنَسْلِمَ ويَسلم الكتابُ من كل تعارض هذا وقد رأيت بعض التعليقات للأستاذ مصطفى السقا فأبقيتها على ما هي عليه لكي تعم الفائدة فما كان من تعليق لي وضعت حرف (ن) لكي يتميز التحقيق وهذا ما توجه علينا الأمانة العلمية، أما ما يتعلق بحياة الشيخ العلمية فلقد اعتمدت على ما كتبه الأستاذ مصطفى السقا لأنه كان تلميذه رحمه الله تعالى، هذا ونسأل الله تعالى أن ينفع بهذا الكتاب وناشره وقارئه وكلّ من سعى في إخراجه لطالبيه إنه خير مسؤول، وفي الختام لا يسعني إلا أن أقول كما قال الشيخ الحملاوي رحمه الله تعالى: وإن رأيتَ هفوة فقل: طغى القلم فإنَّ ذلك من دواعى الكرم، وحاشاك أن تكون ممن قيل فيهم:

فإِنْ رَأوْا هَفْوَةً طَارُوا بهَا فَرَحًا … منّى وما عَلِمُوْا مِنْ صَالحٍ دَفَنُوا

هذا وقد وقع الفراغ منه ليلة الاثنين 25/ربيع الثاني/1422هـ

وكتبه

نصر الله عبد الرحمن نصر الله العَزّاوي

عمان - الأردن
বইটিকে সংরক্ষিত রাখার পাশাপাশি আমি এই গ্রন্থে কুরআনী ও হাদীসের পাঠ্যগুলোর আধিক্য রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। তাই বর্ণনার সুবিধার্থে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে হওয়া আয়াত ও হাদীসসমূহ এতে যুক্ত করেছি এবং প্রতিটি হাদীস যাতে সহীহ ও মুসনাদ (সূত্রযুক্ত) হয় সে বিষয়ে সচেষ্ট থেকেছি, যাতে আমরা এবং এই কিতাব সকল প্রকার বৈপরীত্য থেকে মুক্ত থাকতে পারি। এছাড়াও আমি উস্তাদ মুস্তফা আস-সাক্কার কিছু টীকা দেখেছি এবং ফায়দা ব্যাপক করার লক্ষ্যে সেগুলো অপরিবর্তিত রেখেছি। আমার পক্ষ থেকে কোনো টীকা থাকলে সেখানে (ন) অক্ষরটি যুক্ত করেছি যাতে তাহকীক বা সম্পাদনা পৃথক করা যায়, আর জ্ঞানগত আমানতদারিতা আমাদের নিকট এটাই দাবি করে। শাইখের ইলমী জীবন সম্পর্কে আমি উস্তাদ মুস্তফা আস-সাক্কার লেখনীর ওপর নির্ভর করেছি, কারণ তিনি তাঁর ছাত্র ছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। পরিশেষে, আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কিতাব দ্বারা এর প্রকাশক, পাঠক এবং জ্ঞানপিপাসুদের নিকট এটি পৌঁছে দেওয়ার জন্য যারা প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তাদের সকলকে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্য প্রার্থনার স্থল। পরিশেষে শাইখ আল-হামলাওয়ী (রহ.) যা বলেছিলেন, তা বলা ছাড়া আমার গত্যন্তর নেই: "যদি আপনি কোনো বিচ্যুতি দেখেন তবে বলুন: কলম লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে, কেননা এরূপ বলা মহানুভবতার পরিচায়ক। আর আপনার মতো ব্যক্তি কখনোই তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে:"

যদি তারা কোনো ভুল দেখে তবে আনন্দে তা নিয়ে ডানা মেলে … আমার পক্ষ থেকে, অথচ আমার কোনো সৎকর্মের কথা জানলে তা দাফন (গোপন) করে রাখে।

সোমবার দিবাগত রাতে ২৫/রবিউস সানি/১৪২২ হিজরিতে এর কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

এটি লিখেছেন

নাসরুল্লাহ আবদুর রহমান নাসরুল্লাহ আল-আযযাবী

আম্মান - জর্ডান
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تعريف بمؤلف الكتاب1

هو الأستاذ اللغوي الثقة الحافظ: أحمد بن محمد الحملاوي2 وتربى فى حجر والده وقرأ وتلقى كثيراً من العلوم الشرعية والأدبية عن أفاضل عصره أمثال الشيخ حسين المرصفى والشيخ حسن الطويل والشيخ محمد عبده والشيخ سليمان العبد وأضرابهم من الفحول.

نال الشيخ إجازة التدريس من دار العلوم، سنة1306هجرية - 1888ميلادية؛ فعين مدرسًا بالمدارس الابتدائية لوزارة المعارف، ثم نُقِل إلى دار العلوم مدرسًا للعلوم العربية إلى أن تركها سنة1897 مؤثرًا الإشتغال بالمحاماة فى المحاكم الشرعية، وفى أثناء ذلك أقبل على التحضير لنيل شهادة العالمية من الأزهر فنال بغيتهُ، وكان أول من جمع بين العالمية وإجازة التدريس من دار العلوم.

كان الشيخ رحمه الله تعالى: ضليعًا فى علوم العربية: نحوها وصرفها ولغتها وعَروضها وبلاغتها وأدبها، وكان النحوُ والصرفُ واللغةُ والشعرُ الميدانَ المحبَّب إليه يجول فيها فيمتع، ويتتبع أقوال الأوائل والأواخر فلا يكتفى ولا يَشْبَعُ.

وكان رحمه الله تعالى: شاعرًا مكثرًا من الشعر يقوله في المناسبات العامة والخاصة ويقوله فيما يعرض لحياته الخاصة من شئون وما يتطلع إليه من آمال وما يضطرم في نفسه من آلام، وأشعاره تنبئ عن صفاء روحه وقوة نَفسِهِ واستمساكِهِ بآداب الدين وفضائله حتى لقبه بعضهم: الشاعر الصوفي، وله أشعار في الالتجاء إلى الله تعالى وطلب المغفرة، وتَغَلَّبَ على حسِّهِ ونفسه حبُّ النبيِّ صلي الله عليه وسلم فقال في مدحه قصائد كثيرةً مُطَوَّلةً تبلغ المئين.

--------------------------------------------

1 هذه الترجمة مختصرة من ترجمة تلميذه مصطفى السقا. ن

2 نسبة إلى مُنية حَمَل من قرى (بُلْبِيس) بمديرية الشرقية.
গ্রন্থকারের পরিচিতি1

তিনি হলেন প্রখ্যাত ভাষাতত্ত্ববিদ, নির্ভরযোগ্য ও হাফেজ: আহমদ ইবন মুহাম্মদ আল-হামলাভি2। তিনি তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন এবং তাঁর সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে প্রচুর শরয়ী ও সাহিত্যিক জ্ঞান অর্জন করেন; যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শায়খ হুসাইন আল-মারসাফি, শায়খ হাসান আত-তাওয়িল, শায়খ মুহাম্মদ আবদুহ, শায়খ সুলাইমান আল-আবদ এবং তাদের মতো অন্যান্য শ্রেষ্ঠ মনীষীগণ।

শায়খ ১৩০৬ হিজরি - ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে দারুল উলুম থেকে শিক্ষকতার সনদ (ইজাজাহ) লাভ করেন। ফলে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর তাঁকে দারুল উলুমে আরবি শাস্ত্রের শিক্ষক হিসেবে স্থানান্তরিত করা হয় এবং ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে কর্মরত থাকেন। এরপর তিনি শারয়ী আদালতগুলোতে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করাকে অগ্রাধিকার দেন। এই সময়েই তিনি আল-আজহার থেকে 'আলামিয়্যাহ' সনদ অর্জনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং স্বীয় লক্ষ্য লাভে সমর্থ হন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি একই সাথে আলামিয়্যাহ ডিগ্রি এবং দারুল উলুমের শিক্ষকতার সনদ লাভ করেন।

শায়খ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—আরবি ভাষার বিভিন্ন শাস্ত্রে যেমন: নাহু, সরফ, লোগাত (অভিধান), আরূয (ছন্দতত্ত্ব), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও সাহিত্যে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। নাহু, সরফ, লোগাত ও কবিতা ছিল তাঁর প্রিয় ক্ষেত্র, যেখানে তিনি বিচরণ করে আনন্দ পেতেন এবং পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের মতামতগুলো এমনভাবে অনুসন্ধান করতেন যে তাতে তিনি কখনও তৃপ্ত হতেন না।

তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—একজন প্রচুর কবিতা রচনাকারী কবি ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সাধারণ ও বিশেষ উপলক্ষে কবিতা লিখতেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা, তাঁর আকাঙ্ক্ষা এবং মনের ভেতরে প্রজ্জ্বলিত বেদনাগুলো তিনি কবিতায় ফুটিয়ে তুলতেন। তাঁর কবিতাগুলো তাঁর আত্মার শুভ্রতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং দ্বীনি শিষ্টাচার ও গুণাবলির প্রতি তাঁর অবিচলতার সাক্ষ্য দেয়; এমনকি কেউ কেউ তাঁকে 'সুফি কবি' উপাধিও দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহর দরবারে আরজি পেশ এবং ক্ষমা প্রার্থনামূলক তাঁর অনেক কবিতা রয়েছে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা তাঁর চেতনা ও সত্তায় প্রবল ছিল, ফলে তিনি তাঁর প্রশংসায় অনেক দীর্ঘ কসিদা রচনা করেছেন যেগুলোর সংখ্যা কয়েকশতে পৌঁছাবে।

--------------------------------------------

1 এই জীবনীটি তাঁর ছাত্র মুস্তফা আস-সাক্কার লিখিত জীবনী থেকে সংক্ষেপে সংকলিত।

2 শারকিয়া প্রদেশের 'বিলবেইস' এলাকার 'মুনিয়াত হামাল' গ্রামের নিসবতে তাঁকে হামলাভি বলা হয়।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مؤلفات الشيخ

…

وللشيخ مؤلفات هي:

‌‌1-شَذَا العَرفِ فى فنِّ الصرفِ: طبع أول مرة سنة 1312هـ = 1894ميلادية.
শায়খের রচনাবলী

…

শায়খের রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:

১-শাযাল আরফ ফি ফান্নিস সরফ: এটি প্রথমবার ১৩১২ হিজরি মোতাবেক ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌2- زَهرُ الرَّبيع فى المعانى والبيان والبديع: طبع أول مرة سنة 1327هـ = 1909ميلادية بالمطبعة الأميرية.

‌‌3- مَوردُ الصَّفا فى سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم: طبع أول مرة سنة 1358هـ = 1939 ميلادية، بمطبعة مصطفى البابي وأولادي بالقاهرة.

‌‌4- قواعدُ التَأييد فى عقائدِ التَّوحيد: رسالة صغيرة: طبعت بمطبعة مصطفى البابي وأولاده بالقاهرة.

هذا وكانت وفاة الشيخ في يوم 22 من شهر ربيع الأول سنة 1351 للهجرة = 26 من يوليه سنة 1932 للميلاد رحمه الله تعالى رحمة واسعة.
২- জহরুর রাবী ফিল মাআনী ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী: প্রথমবার মুদ্রিত হয়েছে ১৩২৭ হিজরি = ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আল-মাতবাআতুল আমিরীয়ায়।

৩- মাওরিদুস সাফা ফী সিরাতিল মুস্তফা (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক): প্রথমবার মুদ্রিত হয়েছে ১৩৫৮ হিজরি = ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে কায়রোর মুস্তফা আল-বাবি ও তাঁর সন্তানদের ছাপাখানায়।

৪- কাওয়ায়িদুত তায়ীদ ফী আকায়িদিত তাওহীদ: এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা; কায়রোর মুস্তফা আল-বাবি ও তাঁর সন্তানদের ছাপাখানায় এটি মুদ্রিত হয়েছে।

অতঃপর শাইখ ১৩৫১ হিজরি সালের ২২শে রবিউল আউয়াল মোতাবেক ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জুলাই ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সুপ্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌خطبة الكتاب

اللَّهم إنا نحمدُك يا مصرِّف القلوب على مَزيد نعمتك، ومترادِف جُودك وكرمك، غَمَرْتَنَا بإِحسانكَ، الذى مَصدرهُ مجرَّدُ فضلِك، وشملتنا بُمضاعَفِ نعمِك وطَوْلِك؛ فسبحانَك تعالتْ صفاتُك عن الشبيهِ والمثالِ، وتنزهت أفعالُك عن النقصِ والاعلالِ؛ لا رادَّ لماضى أمرِك، ولا وصُولَ لقدْرِك حقَّ قدرك، ونستمطرك غيثَ صلواتك الهامِية، وتسليماتك الباهرة الباهية، على نبيك إنسان عين الوجود، المشتقّ من ساطع نوره كلُّ موجود1، محمد المصطفى من خير العالمين نسبًا، وأرفعِهم قَدْرًا، وأشرفِهم حسبًا، الذى صغَّر بصحيح عزمه جيشَ الجهالة، ومزّق بسالم حَزْمه شمْلَ الضلالةِ، وعلى آله مَظاهرِ الحِكَم، وصَحْبهِ مَصَادِرِ الهِممِ، الذين مَهّدوا بلفيف جمعهم المقرون بالسّداد سبيلَ الهُدى ومعالمَ الرَّشاد.

وبعدُ: فما انتظم عِقدُ علمٍ إلَّا والصَّرْفُ واسطتُهُ، ولا ارتفع مَنارُه، إلا وهو قاعدته، إذ هو إحدى دعائم الأدب، وبه تُعرف سِعَةُ كلامِ العرب، وتنجلى فرائدُ مفرداتِ الآيات القرآنية، والأحاديث النبوية، وهما الواسطة فى الوصول إلى السعادة الدينية والدنيوية، وكان ممن تطلع لرشفِ أفاويقه، وتلطب جمع تفاريقه، طلبة مدرسةِ دار العلوم، فإنهم أحدقوا بى من كل جانب، وكان المطلاب فيهم أكثر من الطالب، فما وسَعني إلا أن أحفظ العلم ببذله، وألا أضنَّ به على أهله، فسرَّحت نواظر البحث فى فِجاجِ الكواغد، وبعثتها فى طلب الشوارد، فاقتفتِ الأثرَ، حتى أتت بالمبتدأ والخبر، ثم جعلتُ أميِّز الصحيح من العليل. وأُودِع ما أقتطفه من ثمار الكثير من السهل القليل، فجاء بحمد الله كتابًا تروق معانِيه، وتطيب مَجانيه، عباراتهُ شافيةٌ، وشواهدُه كافيةٌ،

--------------------------------------------

1) هذه العبارة مخالفة للشرع ولكل جواد كبوة بل كبوات والأفضل أن نقول عبارةً غيرها رحم الله المؤلف وغفر له. آمين. ن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌গ্রন্থের ভূমিকা

হে আল্লাহ! আমরা আপনারই প্রশংসা করছি হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আপনার বর্ধিত নিআমত এবং আপনার ক্রমাগত দান ও অনুগ্রহের জন্য। আপনি আমাদের আপনার ইহসান বা করুণায় সিক্ত করেছেন, যার উৎস হলো আপনার নিছক অনুগ্রহ; এবং আপনি আমাদের আপনার দ্বিগুণ নিআমত ও বদান্যতায় পরিবেষ্টন করেছেন। সুতরাং আপনি পবিত্র, আপনার গুণাবলি সদৃশ ও উপমা থেকে ঊর্ধ্বে, এবং আপনার কার্যাবলি ত্রুটি ও দুর্বলতা থেকে মুক্ত। আপনার অবধারিত আদেশের কোনো প্রতিরোধকারী নেই, আর আপনার মাহাত্ম্যের প্রকৃত হাকিকত অনুধাবন করার সাধ্য কারও নেই। আমরা আপনার কাছে আপনার বর্ষণশীল রহমতের বারিধারা এবং আপনার উজ্জ্বল ও সুন্দর শান্তিবর্ষণ প্রার্থনা করছি আপনার নবীর প্রতি, যিনি অস্তিত্বের মণি স্বরূপ, যাঁর উজ্জ্বল নূর থেকে সমস্ত বিদ্যমান বস্তু উদ্ভূত হয়েছে১; অর্থাৎ মুহাম্মদ আল-মুস্তফা, যিনি বংশমর্যাদায় বিশ্ববাসীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ, মর্যাদায় সর্বোচ্চ এবং আভিজাত্যে সবচেয়ে সম্মানিত। যিনি তাঁর সঠিক দৃঢ়তার মাধ্যমে মূর্খতার বাহিনীকে পরাভূত করেছেন এবং তাঁর নিখুঁত বিচক্ষণতায় গোমরাহির সমাবেশকে ছিন্নভিন্ন করেছেন। আরও রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, যারা হিকমত বা প্রজ্ঞার প্রকাশস্থল; এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর, যারা উচ্চাকাঙ্ক্ষার উৎস, যাঁরা তাঁদের সংহত ও সঠিক ঐক্যের মাধ্যমে হিদায়াতের পথ এবং সুপথের নিদর্শনসমূহকে প্রশস্ত করেছেন।

অতঃপর: ইলম বা জ্ঞানের কোনো মালা গাঁথা হয়নি যেখানে 'সরফ' (শব্দরূপান্তর বিদ্যা) তার মধ্যমণি নয়, এবং জ্ঞানের কোনো মিনার মাথা তুলে দাঁড়ায়নি যার ভিত্তি এটি নয়। কেননা এটি সাহিত্যের অন্যতম স্তম্ভ এবং এর মাধ্যমেই আরবি ভাষার প্রশস্ততা জানা যায়। এছাড়া এর মাধ্যমেই কুরআনের আয়াত ও নববী হাদিসের শব্দাবলির গূঢ় রহস্যসমূহ উন্মোচিত হয়; আর এ দুটিই হলো ইহকালীন ও পরকালীন সৌভাগ্য অর্জনের মাধ্যম। দারুল উলূম মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিল যারা এই বিদ্যার স্বাদ আস্বাদন করতে এবং এর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো একত্রিত করতে আগ্রহী ছিল। তারা আমাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছিল এবং তাদের মধ্যে জ্ঞান অন্বেষণের আকাঙ্ক্ষা শিক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়েও বেশি ছিল। এমতাবস্থায় জ্ঞান বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই তা সংরক্ষণ করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না এবং এর উপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে তা পৌঁছাতে কার্পণ্য করাও সমীচীন ছিল না। ফলে আমি পাণ্ডুলিপির অলিগলিতে গবেষণার দৃষ্টি নিবদ্ধ করলাম এবং দুর্লভ বিষয়গুলো সন্ধানে তা নিয়োজিত করলাম। অতঃপর তা পদচিহ্ন অনুসরণ করল, এমনকি আদ্যোপান্ত সংগ্রহ করে আনল। তারপর আমি ত্রুটিযুক্ত থেকে সঠিকটিকে পৃথক করতে শুরু করলাম এবং প্রচুর ফল থেকে যা আহরণ করেছি তা সহজ ও সংক্ষিপ্ত আকারে কিতাবটিতে সন্নিবেশিত করলাম। ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এমন এক কিতাব তৈরি হলো যার অর্থসমূহ হৃদয়গ্রাহী এবং এর আহরিত জ্ঞানসমূহ আনন্দদায়ক; এর ভাষাশৈলী অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং এর প্রমাণাদি পর্যাপ্ত।

--------------------------------------------

১) এই বাক্যটি শরিয়ত পরিপন্থী এবং প্রতিটি গুণী ব্যক্তিরই বিচ্যুতি থাকে, বরং অনেক বিচ্যুতি থাকতে পারে। এর পরিবর্তে অন্য কোনো বাক্য বলাই উত্তম ছিল। আল্লাহ লেখককে রহম করুন এবং তাকে ক্ষমা করুন। আমিন। (ন)
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ১০)
فأنعم نظرك فيه، وقل: {ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ} [الجمعة:4] وإن رأيت هفوة فقل: طغى القلم، فإنِّ ذلك من دواعى الكرم، وحاشاك أن تكون ممن قيل فيهم:

فإِنْ رَأَوْا هَفْوة طارُوا بها فرحًا

مني وما عملوا من صالح دَفَنُوا1

وقد سميته:

شذا العرف، فى فن الصرف

واللهَ أسأل أن يُلبسه ثوبَ القَبول، وأن ينفع به، إنه أكرم مسئول.

وقد جعلته مرتبًا على مقدمة وثلاثة أبواب: فالمقدمة فيما لا بد منه فيه. والباب الأول: فى الفعل. والثانى: فى الاسم. والثالث: في أحكام تعمهما.

--------------------------------------------

1 البيت لقعنب بن ضمرة.
সুতরাং এতে গভীর অভিনিবেশ সহকারে দৃষ্টিপাত করুন এবং বলুন: {এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন} [আল-জুমুআ: ৪]। আর যদি কোনো বিচ্যুতি আপনার নজরে আসে, তবে বলবেন: লেখনী তার সীমানা ছাড়িয়ে গেছে (ভুল করেছে), কেননা এটি উদারতারই বহিঃপ্রকাশ; আর আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে অনেক ঊর্ধ্বে, যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে:

যদি তারা আমার কোনো স্খলন দেখে তবে আনন্দে মেতে ওঠে,

অথচ আমার কোনো ভালো কাজ দেখলে তা তারা মাটিচাপা দেয়।১

আর আমি এর নামকরণ করেছি:

শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (সারফ শাস্ত্রের সৌরভ)

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন একে কবুলিয়াতের ভূষণে ভূষিত করেন এবং এর দ্বারা উপকার সাধন করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম আবেদন গ্রহণকারী।

আমি গ্রন্থটিকে একটি ভূমিকা ও তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি: ভূমিকাটি হচ্ছে ওই সব জরুরি বিষয় নিয়ে যা ব্যতিরেকে এ শাস্ত্র আলোচনা সম্ভব নয়। প্রথম অধ্যায়: ক্রিয়া (ফে’ল) সম্পর্কে। দ্বিতীয় অধ্যায়: বিশেষ্য (ইসম) সম্পর্কে। তৃতীয় অধ্যায়: এমন কিছু বিধান সম্পর্কে যা উভয় বিষয়কে শামিল করে।

--------------------------------------------

১ কবিতাটি কা’নাব বিন দামরাহ-এর।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ১১)
الصَّرفُ، ويُقال له التصريفُ، وَهُوَ لُغَةً: التَّغْييْرُ، وَمِنْهُ تَصريفُ الرِّياح، أى تَغييرُها. واصطلاحًا بالمعنى العَمَلي: تحويلُ الأَصلِ الواحدِ إلى أمثلةٍ مختلفةٍ، لمعانٍ مقصودةٍ، لا تحصُل إلا بها، كاسمَي الفاعِلِ والمفعولِ، واسمِ التَّفضيلِ، والتَثنية والجَمعِ، إلى غير ذلك. وبالمعنى العِلْمي: عِلمٌ بأصولٍ يُعرفُ بها أحوالُ أبنيةِ الكلمةِ، التى ليست بإعرابٍ ولا بناءٍ.

وموضوعُه: الألفاظُ العربيةُ من حيثُ تلك الأحوالِ، كالصحَّةِ والإعلالِ، والأصالةِ والزِّيادَةِ، وَنَحوِها.

ويختصُّ بالأسماءِ المُتَمَكِّنَةِ، والأفعالِ المتصرِّفةِ؛ وما وَرَدَ من تَثنِيَةِ بَعضِ الأسماءِ الموصولةِ وأسماءِ الإشارةِ، وَجمعِها وتَصغيرِها، فصُوريٌ لا حقيقيٌ.

وواضعُه: مُعاذ بن مُسْلِم الهَرَّاء1، بتشديد الراء، وقيلَ سَيِّدُنا عليٌ كرَّم الله وَجهَه.

وَمسائِلُه: قضاياهُ التى تُذكر فيه صريحا أو ضِمْنًا، نحو: كلُّ واو أو ياء تحرَّكت وانفتح ما قبلها قُلِبَت ألِفًا، ونحو إذا اجتَمَعَتِ الواوُ والياءُ وسُبقت إحداهُما بالسكون، قُلِبَت الواوُ ياء، وأدغِمَت فى الياءِ، وَهكذا.

وَثَمَرَتَهُ: صَونُ اللّسانِ عن الخطأِ فى المفرداتِ، ومراعاةُ قانون اللُّغَةِ في المكتابَةِ.

وَاستِمدادُه: من كلامِ الله تعالى، وكلامِ رَسولِهِ صلى الله عليه وسلم، وكلامِ العربِ.

وَحُكمُ الشّاعرِ فيه: الوجوبُ الكِفائي2.

والأبنيةُ جمعُ بناءٍ، وهى هَيئَةُ الكلمةِ الملحوظةِ، من حَرَكَةٍ وَسُكونٍ، وعددِ

--------------------------------------------

1 اسمه الهرّا: بألف مقصورة بدون همزة نسبة إلى هراة. ن

2 الوجوب الكفائي: هو الذي إذا عمله البعض سقط عن الباقين. ن
সরফ (Sarf), একে তাসরিফ (Tasrif)-ও বলা হয়। শাব্দিক অর্থে এর মানে হলো: পরিবর্তন করা; যেমন বাতাসের পরিবর্তন, অর্থাৎ তার রূপ পরিবর্তন হওয়া। ব্যবহারিক অর্থে পারিভাষিক সংজ্ঞা হলো: একটি মূল শব্দকে এমন বিভিন্ন রূপে রূপান্তর করা যা দ্বারা নির্দিষ্ট কিছু অর্থ অর্জন করা উদ্দেশ্য, যা এই রূপান্তর ছাড়া সম্ভব নয়। যেমন: ইসমে ফায়েল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) ও ইসমে মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য), ইসমে তাফদিল (আতিশয্যবাচক বিশেষ্য), দ্বিবচন এবং বহুবচন ইত্যাদি। তাত্ত্বিক বা শাস্ত্রীয় অর্থে: এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান যার মাধ্যমে শব্দের গঠনের অবস্থা জানা যায়, যা ইরাব (শব্দের শেষাবস্থার পরিবর্তন) বা মাবনি (অপরিবর্তনীয়তা) সংক্রান্ত নয়।

এর আলোচ্য বিষয়: উল্লিখিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আরবি শব্দাবলি; যেমন সুস্থতা ও অসুস্থতা, মৌলিকতা ও অতিরিক্ততা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।

এটি পরিবর্তনশীল বিশেষ্য এবং রূপান্তরযোগ্য ক্রিয়ার সাথে সুনির্দিষ্ট। আর কিছু ইসমে মাউসুল (সংশ্লেষক সর্বনাম) এবং ইসমে ইশারা (নির্দেশক সর্বনাম)-র যে দ্বিবচন, বহুবচন বা ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ পাওয়া যায়, তা কেবল বাহ্যিক গঠনগত, প্রকৃত রূপান্তর নয়।

এর প্রবর্তক: মুয়াজ বিন মুসলিম আল-হাররা১ (রা-বর্ণে তাশদিদসহ), এবং কেউ কেউ বলেন আমাদের নেতা আলী (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন)।

এর মাসয়ালাসমূহ: এর সেই সকল বিষয় যা এতে স্পষ্টভাবে বা পরোক্ষভাবে উল্লেখ করা হয়। যেমন: প্রতিটি ‘ওয়াও’ বা ‘ইয়া’ যদি হরকতযুক্ত হয় এবং তার পূর্বের বর্ণটি জবরযুক্ত হয়, তবে তা আলিফে পরিবর্তিত হয়। আবার যেমন: যদি ‘ওয়াও’ ও ‘ইয়া’ একত্রিত হয় এবং তাদের প্রথমটি সাকিন হয়, তবে ‘ওয়াও’-কে ‘ইয়া’ দ্বারা পরিবর্তন করা হয় এবং ‘ইয়া’-র মধ্যে সন্ধি করা হয়, ইত্যাদি।

এর ফল: একক শব্দ উচ্চারণে জিহ্বাকে ভুল থেকে রক্ষা করা এবং লেখার সময় ভাষার নিয়মকানুন অনুসরণ করা।

এর উৎস: মহান আল্লাহর কালাম, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী এবং আরবদের কথা।

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী এটি শিক্ষা করা: ফরজে কিফায়া২।

আর আবনিয়া (Abniyah) হলো বিনাহ (Binah)-এর বহুবচন, আর তা হলো শব্দের সেই দৃশ্যমান গঠন যা হরকত (স্বরচিহ্ন), সুকুন (স্থিরতা) এবং বর্ণের সংখ্যার সমন্বয়ে গঠিত...

--------------------------------------------

১ তাঁর নাম আল-হাররা: এটি হামজা ছাড়া আলিফ মাকসুরা দিয়ে গঠিত যা হিরাত শহরের সাথে সম্পর্কিত। (টীকা)

২ ফরজে কিফায়া: এটি এমন এক আবশ্যকতা যা সমাজের কিছু লোক পালন করলে বাকিদের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়। (টীকা)
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ১২)
حُروفٍ، وترتيبٍ. والكلمةُ: لفظٌ مفردٌ، وضعه الواضعُ ليدُلَّ على معنىً، بحيثُ متى ذُكر ذلك اللفظ، فُهِم منه المعنى الموضوعُ هو له.
বর্ণসমূহ এবং বিন্যাস। আর শব্দ হলো: এমন একটি একক উচ্চারণ, যা প্রণেতা কোনো একটি অর্থ নির্দেশ করার জন্য নির্ধারণ করেছেন; যাতে যখনই সেই শব্দটি উল্লেখ করা হয়, তখন তা থেকে সেই নির্ধারিত অর্থটিই অনুধাবন করা যায় যার জন্য সেটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تقسيم الكلمة

…

تنقسم الكلمة إلى اسمٍ وفِعلٍ وَحَرفٍ.

فالاسمُ: ما وُضِع ليَدُلَّ على معنى مستقلّ بالفهم ليس الزمنُ جزءًا منه، مثل رجل وكتاب. وَالفِعلُ: ما وُضِع ليَدُلَّ على معنى مستقل بالفهم والزمنُ جزء منه، مثل كَتَبَ ويقرأ واحفظ. والحرف: ما وُضِعَ ليَدُلَّ على معنى غيرِ مستَقِلٍّ بالفَهمِ، مثل هَلْ وفى وَلَم، ولا دَخْلَ لَهُ هنا كما مَرّ.

ويختص الاسمُ بقبولِ حرفِ الجرّ، وأل، وبلحوق التنوين1 له، وبالإضافة، وبالإسناد إليه، وبالنداء، نحو:

الحمدُ لله مُنْشئ الخَلْقَ مِنْ عَدَمِ

ونحو: {يَا إِبْرَاهِيمُ ، قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا}

ويختص الفعل بقبول قَدْ، والسين، والنواصب، والجوازم، وبلحوق تاء الفاعل، وتاء التأنيث الساكنة، ونون التوكيد، وياء المخاطبة له.

نحو: {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى} [الأعلى: 14] . {سَنُقْرِئُكَ فَلا تَنسَى} [الأعلى: 6] . {وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَى} [الضحى: 5] . {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} [آل عمران: 92] . {لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَد} [الإخلاص: 3] . {رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا} [غافر: 7] . {إِنَّ أَبِي يَدْعُوكَ لِيَجْزِيَكَ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا} [القصص: 25] . {لَيُسْجَنَنَّ وَلَيَكُونًا مِّنَ الصَّاغِرِينَ} [يوسف: 32] . {يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ، ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً} [الفجر: 27-28] .

ويختص الحرف بعدم قبول شيء من خصائص الاسم والفعل:

--------------------------------------------

1 التنوين: نونٌ سَاكِنةٌ تلحق الآخِرَ لفظًا لا خطًّا. ن
শব্দের প্রকারভেদ

…

শব্দ তিন ভাগে বিভক্ত: বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফেল) এবং অব্যয় (হরফ)।

বিশেষ্য (ইসম) হলো: যা এমন একটি স্বতন্ত্র অর্থ বোঝানোর জন্য গঠিত হয়েছে যা বুঝতে অন্য শব্দের প্রয়োজন হয় না এবং কাল (সময়) তার অংশ নয়; যেমন ‘ব্যক্তি’ এবং ‘বই’। আর ক্রিয়া (ফেল) হলো: যা এমন একটি স্বতন্ত্র অর্থ বোঝানোর জন্য গঠিত হয়েছে যা বুঝতে অন্য শব্দের প্রয়োজন হয় না এবং কাল (সময়) তার অংশ; যেমন ‘সে লিখেছে’, ‘সে পড়ছে’ এবং ‘তুমি মুখস্থ করো’। আর অব্যয় (হরফ) হলো: যা এমন অর্থ বোঝানোর জন্য গঠিত হয়েছে যা স্বতন্ত্রভাবে বোঝা যায় না; যেমন ‘কী?’, ‘মধ্যে’ এবং ‘না’। আর এখানে এর কোনো আলোচনা নেই যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

বিশেষ্য (ইসম)-এর বৈশিষ্ট্য হলো অব্যয় (হরফে জর), আলিফ-লাম (আল), তানভীন১ যুক্ত হওয়া, সম্বন্ধ (ইজাফত) হওয়া, কোনো কিছুকে তার দিকে সম্বন্ধ (ইসনান্দ) করা এবং সম্বোধন (নিদা) গ্রহণ করা; যেমন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি শূন্য থেকে সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন।

এবং যেমন: {হে ইবরাহীম, তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ।}

ক্রিয়া (ফেল)-এর বৈশিষ্ট্য হলো ‘ক্বাদ’, ‘সীন’, নসব প্রদানকারী অব্যয় (নাওয়াসিব), জজম প্রদানকারী অব্যয় (জাওয়াজিম), ফায়িল বা কর্তাবাচক ‘তা’, সুকুনযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’, তাকিদ বা নিশ্চয়তাবোধক ‘নুন’ এবং সম্বোধনবাচক ‘ইয়া’ গ্রহণ করা।

যেমন: {অবশ্যই সফলকাম হয়েছে সে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে।} [আল-আলা: ১৪]। {আমি আপনাকে পাঠ করাব, ফলে আপনি ভুলবেন না।} [আল-আলা: ৬]। {আর আপনার প্রতিপালক শীঘ্রই আপনাকে দান করবেন, ফলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন।} [আদ-দুহা: ৫]। {তোমরা কখনোই প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তা হতে ব্যয় করো যা তোমরা ভালোবাসো।} [আলে ইমরান: ৯২]। {তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেনওনি।} [আল-ইখলাস: ৩]। {হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার দয়া ও জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।} [গাফির: ৭]। {নিশ্চয়ই আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন যাতে আপনি আমাদের জন্য পানি পান করানোর পারিশ্রমিক তিনি আপনাকে প্রদান করতে পারেন।} [আল-কাসাস: ২৫]। {সে অবশ্যই কারারুদ্ধ হবে এবং অবশ্যই লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।} [ইউসুফ: ৩২]। {হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।} [আল-ফাজর: ২৭-২৮]।

অব্যয় (হরফ)-এর বৈশিষ্ট্য হলো বিশেষ্য ও ক্রিয়ার কোনো বৈশিষ্ট্য গ্রহণ না করা।

--------------------------------------------

১. তানভীন: সুকুনযুক্ত ‘নুন’ যা শব্দের শেষে উচ্চারণে আসে কিন্তু লেখায় আসে না।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الميزان الصرفي

‌‌مقدمة

…

الميزان الصرفى

‌‌1- لما كان أكثرُ كلماتِ اللغة العربية ثُلاثيًّا، اعتبر علماءُ الصرفِ أنَّ أصولَ الكلماتِ ثلاثةُ أحرف، وقابلوها عند الوزن بالفاء والعين واللام، مصوَّرة بصورةِ الموزون، فيقولون فى وزن قَمَر مَثَلًا: فَعَلْ، بالتحريك، وفي جمْل: فِعْل، بكسر الفاء وسكون العين، وفى كَرُمَ: فَعُل، بفتح الفاء وضم العين، وهَلُمَّ جَرَّا، ويُسمُّون الحرف الأوَّل فاء الكلمة، والثانى عين الكلمة، والثالث لام الكلمة.

‌‌2- فإذا زادت الكلمة على ثلاثة أحرف:

فإن كانت زيادتُها ناشئة من أصل وَضْعِ الكلمة على أربعة أحرف أو خمسة، زدتَ فى الميزان لامًا1 أَو لامين على أحرف، ف ع ل، فتقول فى وزن دَحْرَجَ مثلاً: فَعْلَلَ، وفى وزن جَحْمَرِش أفْعَلِلَ.

وإن كانت ناشئة من تكرير حرف من أصول الكلمة، كرَّرْتَ ما يقابله فى الميزان، قتقول فى وزن قدَّم مثَلًا، بتشديد العين: فعَّلَ2، وفي وزن جَلْبتَ: فعْلل؛ ويقال له مضعَّف العين أو اللام.

وإن كانت الزيادة ناشئة من زيادة حرف أو أكثر من حروف سألتمونيها، التى هى حروف الزيادة، قابلتَ الأصول بالأصول، وعبّرْتَ عن الزائد بلفظه، فتقول فى وزن قائم مثَلاً: فاعِل، وفى وزن تقدَّمَ: تَفَعَّلَ، وفى وزن استخرج: استفعل، وفي وزن

--------------------------------------------

1 زيادة لام واحدة عامة في الفعل والاسم، نحو دحرج وجعفر، وزيادة لامين: خاصة بالاسم، نحو سفرجل، وخصت اللام بالتكرير، لأنها أقرب. اهـ منه.

2 اعلم أنه لا يؤتى في الميزان بالحرف المزيد نفسه فلا يقال في "قَدَّمَ" إنَّه على زون "فَعدَل"، والغرض هنا هو التنبيه على أن الزيادة حصلت بتكرير حرفٍ أصلي هو العين. ن
রূপতাত্ত্বিক মানদণ্ড (আল-মিজানুস সারফি)

ভূমিকা

...

রূপতাত্ত্বিক মানদণ্ড (আল-মিজানুস সারফি)

১- যেহেতু আরবি ভাষার অধিকাংশ শব্দই তিন অক্ষর বিশিষ্ট, তাই রূপতত্ত্ববিদগণ শব্দের মূল উপাদান হিসেবে তিনটি অক্ষরকে গণ্য করেছেন এবং ওজনের সময় সেগুলোকে 'ফা' (ف), 'আইন' (ع) ও 'লাম' (ل) অক্ষরের মুখোমুখি রেখেছেন। এগুলোকে ওজনকৃত শব্দের স্বরচিহ্নের (হারাকাত) অনুরূপ আকৃতি প্রদান করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, তারা 'কামার' (قَمَر) শব্দের ওজনে বলেন: 'ফায়াল' (فَعَل) - স্বরচিহ্নসহ; 'জিম্ল' (جِمْل) শব্দের ওজনে বলেন: 'ফিল' (فِعْل) - 'ফা' অক্ষরে কাসরা এবং 'আইন' অক্ষরে সুকুন দিয়ে; আর 'কারুমা' (كَرُمَ) শব্দের ওজনে বলেন: 'ফাউলা' (فَعُل) - 'ফা' অক্ষরে ফাতহা এবং 'আইন' অক্ষরে দম্মা দিয়ে। এভাবেই নিয়ম চলতে থাকে। তারা প্রথম অক্ষরকে 'ফা কালিমাহ', দ্বিতীয় অক্ষরকে 'আইন কালিমাহ' এবং তৃতীয় অক্ষরকে 'লাম কালিমাহ' বলে অভিহিত করেন।

২- যদি শব্দটি তিন অক্ষরের বেশি হয়:

যদি সেই বৃদ্ধি শব্দের মূল গঠনের অন্তর্ভুক্ত হয় অর্থাৎ শব্দটি মূলত চার বা পাঁচ অক্ষর বিশিষ্ট হয়, তবে আপনি 'ফ', 'আ', 'ল' (ف ع ل) অক্ষরগুলোর সাথে মিজানে একটি বা দুটি লাম বৃদ্ধি করবেন। উদাহরণস্বরূপ, 'দাহরাজা' (دَحْرَجَ) এর ওজনে আপনি বলবেন: 'ফায়লালা' (فَعْلَلَ), এবং 'জাহমারিশ' (جَحْمَرِش) এর ওজনে বলবেন: 'আফআলিল' (أفْعَلِلَ)।

আর যদি এই বৃদ্ধি শব্দের কোনো মূল অক্ষরের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ঘটে, তবে মিজানেও তার বিপরীতে সেই অক্ষরটির পুনরাবৃত্তি করবেন। উদাহরণস্বরূপ, 'কাদ্দামা' (قَدَّمَ) এর ওজনে 'আইন' অক্ষরের তাশদিদসহ আপনি বলবেন: 'ফায়্যলা' (فعَّلَ); এবং 'জালবাবা' (جَلْبَبَ) এর ওজনে বলবেন: 'ফায়লালা' (فعْلل); একে 'আইন' বা 'লাম' অক্ষরের দ্বিত্ব (মুদাআফ) বলা হয়।

আর যদি বৃদ্ধিটি 'সাআলতুমুনিহা' (سألتمونيها) এর অন্তর্ভুক্ত কোনো এক বা একাধিক অক্ষর বৃদ্ধির কারণে হয়—যা মূলত অতিরিক্ত অক্ষর হিসেবে পরিচিত—তবে আপনি মূল অক্ষরগুলোর বিপরীতে মূল অক্ষরগুলোই রাখবেন এবং অতিরিক্ত অক্ষরটিকে তার নিজস্ব উচ্চারণে ব্যক্ত করবেন। উদাহরণস্বরূপ, 'কায়িম' (قائم) এর ওজনে বলবেন: 'ফায়িল' (فاعِل), 'তাকদ্দামা' (تقدَّمَ) এর ওজনে: 'তাফায়্যলা' (تَفَعَّلَ), 'ইস্তাখরাজা' (استخرج) এর ওজনে: 'ইস্তাফআলা' (استفعل), এবং...

--------------------------------------------

১. একটি লাম বৃদ্ধি করা ক্রিয়া (ফেল) ও বিশেষ্য (ইসম) উভয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম, যেমন: 'দাহরাজা' ও 'জা'ফার'। আর দুটি লাম বৃদ্ধি করা কেবল বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্ট, যেমন: 'সাফারজাল'। এখানে লাম অক্ষরটিকে পুনরাবৃত্তির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে কারণ এটি সবচেয়ে নিকটবর্তী। - সমাপ্ত।

২. জেনে রাখুন যে, মিজানে অতিরিক্ত অক্ষরটিকে হুবহু আনা হয় না। তাই 'কাদ্দামা' (قَدَّمَ) সম্পর্কে এমনটি বলা যাবে না যে এটি 'ফায়দালা' (فَعدَل) এর ওজনে। এখানে উদ্দেশ্য হলো এই বিষয়ের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করা যে, বৃদ্ধিটি একটি মূল অক্ষর তথা 'আইন' কালিমাহর পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ঘটেছে। - সংকলক।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
مجتهد: مُفْتَعِل، وهكذا.

وفيما إذا كان الزائد مبدلا من تاء الافتعال، يُنْطَقُ بها نظرًا إلى الأصل، يقال مثلا فى وزن اضطرَب: افتعل، لا افطعل، وقد أجازه الرضىّ.

‌‌3- وإن حصل حذف فى الموزون حُذِف ما يقابله فى الميزان، فتقول فى وزن قُلْ مثلاً: فُلْ1، وفى وزن قاضٍ: فعٍ، وفى وزن عِدَة: عِلَة.

‌‌4- وإن حصَل قلبٌ فى الموزون، حصل أيضا فى الميزان، فيقال مثلاً فى وزن جاه: عَفَلَ، بتقديم العين على الفاء.

ويعرف بأمور خمسة:

الأول: الاشتقاق، كناءَ بالمد، فإن المصدر وهو النَّأي، دليل على أن ناء الممدود مقلوب نأي، فيقال وزن فَلَعَ، وكما فى جاه، فإن ورُود وَجْه ووُجْهة، دليل على أن جَاه مَقلوب وَجْه، فيقال: جاه على وزن عَفَل. وكما فى قسِي، فإِن ورود مفرده وهو قَوْس، دليل على أنه مقلوب قُووس، فقُدِّمت اللام في موضع العين، فصار قُسُوْوٌ على وزن فُلُوعٌ، فقلبت الواو الثانية ياءً لوقوعها طَرَفا، والواو الأولى، لاجتماعها مع الياء وَسَبْق إحداهما بالسكون، وكُسِرت السينُ لمناسبة الياء، والقاف لعُسر الانتقال من ضمٍّ إلى كسر، وكما فى حادِى أيضا، فإن ورود وحْدَة دليلٌ على أنه مقلوب واحد، فوزن حادى: عالف.

الثانى: التصحيح مع وجود مُوجِب الإعلال، كما فى أيسَ، فإِن تصحيحه مع وجود الموجِب، وهو تحريك الياء وانفتاح ما قبلها، دليل على أنه مقلوب يئِسَ، فيقال: أيسَ على وزن عَفِلَ. ويُعرَفُ القلبُ هنا أيضًا بأصله، وهو اليَأس.

الثالث: نُدْرَة الاستعمال، كآرام جمع رِئم، وهو الظبيْ، فإنَّ نُدْرَتَه وكثرة آرام،

--------------------------------------------

1 وذلك لأن الماضي: "قال" والألف منقلبة عن "واو" فأصل الفعل: "قَوَلَ" على وزن "فَعَلَ" فلمّا حذفَتِ الواو في الأمر بقيت على وزن "فُلْ".ن
মুজতাহিদ: মুফতা’ইল, এবং এভাবেই।

আর যদি অতিরিক্ত অক্ষরটি ‘ইফতি’আল’ পরিচ্ছেদের ‘তা’ বর্ণের পরিবর্তিত রূপ হয়, তবে মূল অক্ষরের দিকে লক্ষ রেখে সেটি উচ্চারণ করা হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়, ‘ইদতরাবা’ শব্দের ওজন হলো ‘ইফতা’আলা’, ‘ইফততরালা’ নয়; তবে ইমাম রাদি এটিকেও বৈধ বলেছেন।

৩- আর যদি ওজনকৃত শব্দে (মওজুন) কোনো অক্ষর বিলুপ্ত হয়, তবে ওজনকারী ছাঁচেও (মিজান) তার সমান্তরাল অক্ষরটি বিলুপ্ত হবে। যেমন ‘কুল’ শব্দের ওজনে আপনি বলবেন ‘ফুল’, ‘কাদিন’ শব্দের ওজনে ‘ফা’ইন’, এবং ‘ইদাতুন’ শব্দের ওজনে ‘ইলাতুন’।

৪- আর যদি ওজনকৃত শব্দে অক্ষরের স্থান পরিবর্তন (কালব) ঘটে, তবে ওজনকারী ছাঁচেও তা ঘটবে। যেমন ‘জাহ’ শব্দের ওজন বলা হয় ‘আফালা’, যেখানে ‘আইন’ বর্ণটি ‘ফা’ বর্ণের আগে নিয়ে আসা হয়েছে।

এটি পাঁচটি বিষয়ের মাধ্যমে চেনা যায়:

প্রথম: বুৎপত্তি বা ইশতিকাক। যেমন দীর্ঘ স্বরযোগে ‘নাআ’। কারণ এর মূল উৎস বা মাসদার হলো ‘আন-নায়ু’, যা প্রমাণ করে যে, দীর্ঘ ‘নাআ’ শব্দটি ‘নায়া’ থেকে পরিবর্তিত। তাই বলা হবে এর ওজন হলো ‘ফালা’আ’। একইভাবে ‘জাহ’ শব্দটিও; কারণ ‘ওয়াজহুন’ ও ‘উযহাতুন’ শব্দের প্রয়োগ প্রমাণ করে যে ‘জাহ’ শব্দটি ‘ওয়াজহুন’ থেকে পরিবর্তিত। তাই বলা হয়: ‘জাহ’ এর ওজন হলো ‘আফালা’। তেমনি ‘কুসিয়্যুন’ শব্দটিও; কারণ এর একবচন ‘কাউসুন’ প্রমাণ করে যে এটি ‘কুউউসুন’ থেকে পরিবর্তিত। এখানে ‘লাম’ বর্ণটিকে ‘আইন’ বর্ণের স্থানে আগে আনা হয়েছে, ফলে তা ‘ফুলু’উন’ ওজনে ‘কুসুউউন’ হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ‘ওয়াও’ বর্ণটিকে প্রান্তিক হওয়ার কারণে ‘ইয়া’ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, এবং প্রথম ‘ওয়াও’ বর্ণটি ‘ইয়া’ এর সাথে একত্রিত হওয়ায় এবং তাদের একটির সুকুন থাকায় তা ‘ইয়া’ হয়ে গেছে। আর ‘সীন’ বর্ণে ‘ইয়া’ এর সাথে সংগতি রাখতে কাসরা (জের) দেওয়া হয়েছে এবং ‘কাফ’ বর্ণে পেশ থেকে জেরে স্থানান্তর কঠিন হওয়ায় কাসরা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ‘হাদী’ শব্দটিও; কারণ ‘ওয়াহদাতুন’ শব্দের ব্যবহার প্রমাণ করে যে এটি ‘ওয়াহিদুন’ থেকে পরিবর্তিত। তাই ‘হাদী’ এর ওজন হলো: ‘আলিফ’।

দ্বিতীয়: ইল্লাতের (পরিবর্তনের) কারণ থাকা সত্ত্বেও মূল রূপ বহাল থাকা (তাসহিহ)। যেমন ‘আইসা’ শব্দে। কারণ ইল্লাতের কারণ (যেমন ‘ইয়া’ বর্ণে হরকত এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণে ফাতহা থাকা) থাকা সত্ত্বেও এর মূল রূপ বহাল থাকা প্রমাণ করে যে এটি ‘যায়িসা’ থেকে পরিবর্তিত। তাই বলা হয়: ‘আইসা’ এর ওজন হলো ‘আফিলা’। এখানে এর মূল রূপ ‘আল-ইয়াসু’ দ্বারাও এই স্থান পরিবর্তন চেনা যায়।

তৃতীয়: ব্যবহারের বিরলতা। যেমন ‘আরামুন’ শব্দটি যা ‘রি’মুন’ (হরিণ) এর বহুবচন। এর বিরলতা এবং ‘আরাম’ এর আধিক্য...

--------------------------------------------

১. এটি এ কারণে যে, এর অতীতকাল হলো ‘কালা’ এবং আলিফটি ‘ওয়াও’ থেকে পরিবর্তিত। সুতরাং ক্রিয়াটির মূল রূপ ছিল ‘কাওয়ালা’, যা ‘ফাআলা’ ওজনের। এরপর যখন আদেশসূচক ক্রিয়ায় ‘ওয়াও’ বিলুপ্ত হলো, তখন তা ‘ফুল’ ওজনে রয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
دليل على أنه: مقلوبُ أرآم، ووزن أرآم، أفعال: فقدِّمت العينُ التى هى الهمزة الثانية، فى موضع الفاء، وسُهِّلَتْ، فصارت آرام، فوزنه، أعْفال. وكذا آراء، فإِنه على وزن أعفال، بدليل مفرده، وهو الرأى1. وقال بعضهم: إن علامة القلب هنا ورودُ الأصل، وهو رئم ورأى.

الرابع: أن يترتَّب على عدم القلب وجود همزتين فى الطرف. وذلك فى كل اسم فاعل من الفعل الأجوف المهموز اللام، كجاء وشاء، فإِن اسم الفاعل منه على وزن فاعل.

والقاعدة أنه متى أعلَّ الفعل بقلب عينه ألفًا، أعلَّ اسم الفاعل منه، بقلب عينه همزة، فلو لم نقل بتقديم اللام فى موضع العين، لزم أن ننطِق باسم الفاعل من جاء جائي بهمزتين، ولذا لَزِمَ القولُ بتقديم اللام على العين، بدون أن تقلب همزة، فتقول: جائيٌ بوزن فالع، ثم يُعلُّ إعلال قاض فيقال جاء بوزن.

الخامس: أن يترتب على عدم القلب منع الصرف بدون مقتض، كأشياء، فإننا لو لم نقل بقلبها، لزم منع أفعال من الصرف بدون مقتض، وقد ورد مصروفًا. قال تعالى: {إِنْ هِيَ إِلًّا أَسْمَاءٌ سَمَّيْتُمُوهَا} [النجم: 23] فنقول: أصل أشياء شيْأَاء على وزن فعْلاءَ قُدِّمَت الهمزة التى هى اللام فى موضع الفاء فصار أشياء على وزن لَفْعَاءَ، فَمنعها من الصرف نظرًا إلى الأصل، الذى هو فَعْلاء ولا شك أن فعلاء من موازين ألف التأنيث الممدودة، فهو ممنوع من الصرف لذلك، وهو المختار.

--------------------------------------------

1 رَأى: على وزن "فَعل" والجمع "أرآي" = "أرأاي": على وزن: أفعال. ن
এটি এর প্রমাণ যে: এটি 'আরআম' এর রূপান্তরিত রূপ, এবং 'আরআম' এর ওজন হলো 'আফআল'। এখানে 'আইন' কালিমা যা দ্বিতীয় হামযাহ, তাকে 'ফা' কালিমার স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে এবং সহজ করা হয়েছে, ফলে তা 'আরাম' হয়ে গেছে। অতএব এর ওজন হলো 'আ'ফাল'। অনুরূপভাবে 'আরা', কেননা এটি 'আ'ফাল' ওজনে, যার প্রমাণ হলো এর একবচন, যা হলো 'আর-রায়'। কেউ কেউ বলেছেন: এখানে রূপান্তরের চিহ্ন হলো মূল রূপের উপস্থিতি, যা হলো 'রি'ম' এবং 'রায়'।

চতুর্থত: রূপান্তর না ঘটলে শব্দের শেষে দুটি হামযাহ একত্রিত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। এটি সেই সমস্ত 'ইসম ফায়িল' এর ক্ষেত্রে ঘটে যা এমন 'আজওয়াফ' ক্রিয়া থেকে গঠিত যার 'লাম' কালিমা হামযাহযুক্ত, যেমন 'জা-আ' এবং 'শা-আ', কেননা এগুলোর 'ইসম ফায়িল' 'ফায়িল' ওজনে হয়ে থাকে।

আর নিয়ম হলো, যখনই কোনো ক্রিয়ায় তার 'আইন' কালিমাকে আলিফে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়, তখন তার 'ইসম ফায়িল'-এও 'আইন' কালিমাকে হামযাহতে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়। সুতরাং যদি আমরা 'লাম' কালিমাকে 'আইন' কালিমার স্থানে নিয়ে আসার কথা না বলি, তবে 'জা-আ' থেকে গঠিত 'ইসম ফায়িল' উচ্চারণ করার ক্ষেত্রে দুটি হামযাহসহ 'জা-ই' বলতে হতো। এই কারণে 'আইন' কালিমার পূর্বে 'লাম' কালিমা নিয়ে আসার কথা বলা আবশ্যক হয়ে পড়ে, তাকে হামযাহতে রূপান্তর না করেই। ফলে আপনি বলবেন: 'ফালি' ওজনে 'জা-ই', অতঃপর 'কাদি' এর মতো রূপান্তর করে একে 'ফাল' ওজনে 'জা-ইন' বলা হবে।

পঞ্চমত: রূপান্তর না মানলে কোনো কারণ ছাড়াই শব্দকে 'গাইরে মুনসারিফ' ধরা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যেমন 'আশইয়া'। কেননা আমরা যদি এতে রূপান্তর না মানি, তবে কোনো কারণ ছাড়াই 'আফআল' ওজনকে 'গাইরে মুনসারিফ' ধরা আবশ্যক হয়, অথচ এটি 'মুনসারিফ' হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এগুলো কেবল কিছু নাম যা তোমরা রেখেছ" [আন-নাজম: ২৩]। সুতরাং আমরা বলি: 'আশইয়া' এর মূল হলো 'শাইআ-আ' যা 'ফায়লা' ওজনে। এখানে হামযাহ যা 'লাম' কালিমা, তাকে 'ফা' কালিমার স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে, ফলে তা 'লাফআ' ওজনে 'আশইয়া' হয়ে গেছে। সুতরাং এর মূল রূপ 'ফায়লা'-কে বিবেচনায় নিয়ে একে 'গাইরে মুনসারিফ' ধরা হয়। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, 'ফায়লা' হলো 'আলিফে তানিছ মামদুদা'র ওজনগুলোর একটি, আর সেই কারণেই তা 'গাইরে মুনসারিফ'। আর এটিই হলো গ্রহণযোগ্য মত।

--------------------------------------------

১. রায়: 'ফাইল' ওজনে এবং এর বহুবচন হলো 'আরআই' = 'আরআই': যা 'আফআল' ওজনে।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الباب الأول: في الفعل وفيه عدّة تقاسيم

‌‌التقسيم الأوَّل: إلى ماضٍ ومضارع وأمر

ينقسم الفعل إلى ماضٍ، ومضارع، وأمر.

فالماضى: ما يدل على حدوث شيء قبل زمن التكلم، نحو قام، وقعد، وأكل، وشرب.

وعلامته أن يقابل تاء الفاعل، نحو قرأتُ. وتاءَ التأنيث الساكنة1، نحو قَرَأتْ هِنْد.

والمضارع: ما دلَّ على حدوث شيء فى زمن التكلّم أو بعده، نحو يقرأ ويكتب، فهو صالح للحال والاستقبال. ويُعيِّنه للحال لام الابتداء، و "لا" وما النافيتان، نحو: {إِنِّي لَيَحْزُنُنِي أَنْ تَذْهَبُوا بِهِ} [يوسف: 13] . {لا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ} [البقرة: 142] . {وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَى} [الضحى: 5] . {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} [آل عمران: 92] . {وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ} [البقرة: 184] . {إِنْ يَنْصُرْكُمْ اللَّهُ فَلا غَالِبَ لَكُمْ} [آل عمران: 160] .

وعلامته: أن يصح وقوعه بعد لم، نحو: {لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ} . ولا بد

--------------------------------------------

1 تحرك هذه التاء بالكسر أو الفتح لالتقاء الساكنين، لا يخرجها عن كونها ساكنة أصالة.
প্রথম অধ্যায়: ক্রিয়া প্রসঙ্গে এবং এতে কয়েকটি বিভাজন রয়েছে

প্রথম বিভাজন: অতীতকাল, বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল ও আদেশসূচক ক্রিয়া

ক্রিয়া অতীতকাল, বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল এবং আদেশসূচক ক্রিয়া—এই তিন ভাগে বিভক্ত।

অতীতকাল: যা কথা বলার সময়ের পূর্বে কোনো কাজ সংঘটিত হওয়া বোঝায়, যেমন: সে দাঁড়াল, সে বসল, সে খেল এবং সে পান করল।

এর চিহ্ন হলো এটি ‘তা-এ-ফায়েল’ (কর্তৃবাচক তা) গ্রহণ করে, যেমন: আমি পড়লাম। এবং স্থির স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’১, যেমন: হিন্দ পড়ল।

বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল: যা কথা বলার সময়ে বা তার পরে কোনো কাজ সংঘটিত হওয়া বোঝায়, যেমন: সে পড়ছে এবং সে লিখছে। সুতরাং এটি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ উভয় কালের জন্যই উপযোগী। প্রারম্ভিক ‘লাম’, এবং না-বোধক ‘লা’ ও ‘মা’ একে বর্তমান কালের জন্য নির্দিষ্ট করে। যেমন: {নিশ্চয়ই তোমাদের তাকে নিয়ে যাওয়া আমাকে বিষণ্ণ করে} [ইউসুফ: ১৩]। {আল্লাহ মন্দ কথা প্রকাশ্যে বলা পছন্দ করেন না} [বাকারা: ১৪২]। {আর অচিরেই আপনার প্রতিপালক আপনাকে দান করবেন, ফলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন} [দুহা: ৫]। {তোমরা কখনোই পুণ্য অর্জন করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে ব্যয় করো} [আলে ইমরান: ৯২]। {আর তোমাদের রোজা রাখা তোমাদের জন্য কল্যাণকর} [বাকারা: ১৮৪]। {যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন, তবে তোমাদের ওপর বিজয়ী হওয়ার কেউ নেই} [আলে ইমরান: ১৬০]।

এর চিহ্ন হলো: এর পূর্বে ‘লাম’ আসা শুদ্ধ হওয়া, যেমন: {তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি}। এবং অবশ্যই...

--------------------------------------------

১. দুই স্থির বর্ণ (সাকিন) একত্রিত হওয়ার কারণে এই ‘তা’ বর্ণটি কাসরা (যের) বা ফাতহা (যবর) দ্বারা স্বরযুক্ত হয়, তবে এটি একে মূলগতভাবে স্থির হওয়া থেকে বিচ্যুত করে না।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أن يكون مبدوءًا بحرف من حروف أنيت، وتسمى أحرف المضارعة.

فالهمزة: للمتكلم وحده، نحو أنا أقرأ. والنون: له مع غيره أو للمعظِّم نفسَه، نحو نحن نقرأ. والياء: للغائب المذكر وجمع الغائبة، نحو محمد يقرأ، والنسوة يقرأن. والتاء: للمخاطب مطلقًا، ومفرد الغائبة ومثناها، نحو أنت تقرأ يا محمد، وأنتما تقرآن، وأنتم تقرءون، وأنتِ يا هند تقرئين، وفاطمة تقرأ، والهندان تقرآن.

والأمر: ما يُطْلَبُ به حصول شيء بعد زمن التكلم، نحو اجتهدْ. وعلامته أن يقبل نون التوكيد، وياء المخاطبة: مع دلالته على الطلب.

وأما ما يدلّ على معانى الأفعال ولا يقبل علاماتها، فيقال له اسمُ فِعل، وهو على ثلاثة أقسام اسم فعل ماض، نحو هيْهاتَ وَشتان، بمعنى بعُدَ وافترق. واسم فعل مضارع، كَوَيْ وأُف، بمعنى أتعجب وأتضجَّر، واسم فعل أمر، كصهْ بمعنى اسكتْ وآمينَ بمعنى استجب، وهو أكثرها وجودًا1.

--------------------------------------------

1 اعلم أن اسم الفعل ضربان: أحدهما ما وضع من أول الأمر كذلك، كشتان وصه ووي. والثاني: ما نقل من ظرف أو جار ومجرور نحو دونك بمعني خذ، ومكانك بمعنى اثبت، وأمامك بمعنى تقدم، وعليك بمعنى الزم، وإليك بمعنى تنح، أو من مصدر، سواء استعمل فعله نحو رويد زيدًا، بمعنى أمهله، فإنهم قالوا: أروده إروادًا، أم لم يستعمل، نحو بله زيد أو زيدًا، بمعنى ترك زيد أو اترك زيدًا، وهو سماعي في غير فعال، فإنه ينقاس في كل فعل ثلاثي متطرف. اهـ.
এটি ‘আনায়তু’ বর্ণের কোনো একটির মাধ্যমে শুরু হতে হবে, আর এগুলোকে ‘মুদারে’-এর বর্ণ বলা হয়।

হামজা: এটি কেবল উত্তম পুরুষ একবচনের জন্য, যেমন: আমি পড়ছি। নুন: এটি উত্তম পুরুষ বহুবচনের জন্য অথবা এমন ব্যক্তির জন্য যে নিজেকে সম্মান দিয়ে কথা বলে, যেমন: আমরা পড়ছি। ইয়া: এটি নাম পুরুষ একবচন পুংলিঙ্গ এবং নাম পুরুষ বহুবচন স্ত্রীলিঙ্গের জন্য, যেমন: মুহাম্মাদ পড়ছে এবং মহিলারা পড়ছে। তা: এটি সব ধরণের মধ্যম পুরুষ এবং নাম পুরুষ একবচন ও দ্বিবচন স্ত্রীলিঙ্গের জন্য, যেমন: হে মুহাম্মাদ, তুমি পড়ছ; তোমরা দুইজন পড়ছ; তোমরা সবাই পড়ছ; হে হিন্দ, তুমি পড়ছ; ফাতিমা পড়ছে; এবং দুই হিন্দ পড়ছে।

অমর বা আদেশসূচক ক্রিয়া: যার মাধ্যমে কথা বলার সময়ের পরবর্তী কোনো সময়ে কোনো কিছু অর্জনের দাবি করা হয়, যেমন: পরিশ্রম করো। এর চিহ্ন হলো এটি তাকিদের নুন এবং সম্বোধিত স্ত্রীলিঙ্গের ইয়া গ্রহণ করে, পাশাপাশি এটি কোনো কিছু চাওয়ার অর্থ প্রদান করে।

আর যা ক্রিয়ার অর্থ প্রকাশ করে কিন্তু ক্রিয়ার চিহ্নসমূহ গ্রহণ করে না, তাকে ‘ইসমে ফেল’ বা ক্রিয়া-সদৃশ বিশেষ্য বলা হয়। এটি তিন প্রকার: অতীতকালীন ইসমে ফেল, যেমন: ‘হায়হাতা’ ও ‘শাত্তানা’, যার অর্থ দূরে গেল ও পৃথক হলো। বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ইসমে ফেল, যেমন: ‘ওয়াই’ ও ‘উফ্’, যার অর্থ আমি আশ্চর্য হচ্ছি ও আমি বিরক্ত হচ্ছি। আদেশসূচক ইসমে ফেল, যেমন: ‘সাহ্’ যার অর্থ চুপ করো এবং ‘আমিন’ যার অর্থ কবুল করো। এটিই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত।১

--------------------------------------------

১ জেনে রাখুন যে, ইসমে ফেল দুই প্রকার: প্রথমত যা শুরু থেকেই এই উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে, যেমন: শাত্তানা, সাহ্ এবং ওয়াই। দ্বিতীয়ত যা স্থানবাচক অব্যয় অথবা জার ও মাজরুর থেকে স্থানান্তরিত হয়ে এসেছে, যেমন: ‘দুনাকা’ যার অর্থ গ্রহণ করো, ‘মাকানাকা’ যার অর্থ স্থির থাকো, ‘আমানাকা’ যার অর্থ সামনে এগিয়ে যাও, ‘আলাইকা’ যার অর্থ আঁকড়ে ধরো এবং ‘ইলাইকা’ যার অর্থ সরে যাও। অথবা এটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল থেকে আসতে পারে, চাই তার মূল ক্রিয়াটির ব্যবহার থাকুক—যেমন: ‘রুয়াইদা জাইদান’ যার অর্থ তাকে অবকাশ দাও, কারণ তারা বলে ‘আরওয়াদাহু ইরওয়াদান’—অথবা ব্যবহার না থাকুক—যেমন: ‘বালাহা জাইদ’ বা ‘জাইদান’ যার অর্থ জাইদকে ছেড়ে দেওয়া বা জাইদকে ছেড়ে দাও। এটি ‘ফায়ালি’ ওজন ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে শ্রবণনির্ভর, তবে এটি প্রত্যেক তিন অক্ষরবিশিষ্ট রূপান্তরযোগ্য ক্রিয়া থেকে নিয়ম অনুযায়ী গঠিত হতে পারে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌التقسيم الثاني للفعل

ينقسم الفعل إلى صحيح، ومعتَلّ:

فالصحيح: ما خلت أصوله من أحرف العلّة، وهى الألف، والواو، والياء، نحو كَتَبَ وجَلَسَ. ثم إنّ حرف العلة إن سُكِّنَ وانفَتَحَ ما قبله يسمى لِينًا، كَثْوب وسَيْف، فإن جانسه ما قبله من الحركات يسمة مدّاً، كقال يقُول قِيلا؛ فعلى ذلك لا تنفك الألف عن كونها حرفَ علة، ومدٍّ، ولين، لسكوِنها وفتح ما قبلها دائمًا، بخلاف أختيها.

والمعتلّ: ما كان أحد أصوله حرف عِلة، نحو وجد، وقال، وسعى.

ولكل من الصحيح والمعتل أقسام:

أقسام الصحيح

يقسم الصحيح إلى سالم، ومضعَّف، ومهموز.

فالسالم: ما سلمت أصوله من أحرف العلة والهمزة، والتضعيف كضرب ونصر وقعد وجلس، فإذَنْ يكون كل سالم صحيحًا، ولا عَكْس.

والمضعَّف: ويقال له الأصمّ لشدته، ينقسم إلى قسمين: مضعّف الثلاثىّ ومزيده، ومضعف الرباعىّ. فمضعف الثلاثىّ ومزيده: ما كانت عينه ولامه من جنس واحد، نحو: فرّ، مدّ، وامتدّ، واستمدّ، وهو محل نظر الصرفىّ. ومضعف الرباعىّ: ما كانت فاؤه ولامه الأولى من جنس، وعينه ولامه الثانية من جنس، كزلزلَ، وعَسْعَسَ، وقَلْقَلَ.

والمهموز: ما كان أحد أصوله همزة، نحو أخذ، وسأل، وقرأ.

أقسام المعتلّ

ينقسم المعتل إلى مثال، وأجوف، وناقص، ولفيف.

فالمثال: ما اعتلت فاؤه، نحو وَعَدَ ويَسَر، وسُمِّي بذلك لأنه يماثل الصحيح فى عدم
ক্রিয়ার দ্বিতীয় প্রকারভেদ

ক্রিয়া সহীহ (সুস্থ) এবং মু'তাল (অসুস্থ/দুর্বল) - এই দুই ভাগে বিভক্ত:

সহীহ: যার মূল অক্ষরগুলো হরফে ইল্লাত (দুর্বল বর্ণ) অর্থাৎ আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া থেকে মুক্ত থাকে, যেমন: কাতাবা এবং জালাসা। অতঃপর, হরফে ইল্লাত যদি সাকিন হয় এবং তার পূর্বের বর্ণে ফাতহা থাকে, তবে তাকে ‘লীন’ বলা হয়, যেমন: সাওব এবং সাইফ। আর যদি তার পূর্বের হরকত তার সমজাতীয় হয়, তবে তাকে ‘মাদ্দ’ বলা হয়, যেমন: ক্বলা, ইয়াক্বুলু, ক্বীলা। সেই হিসেবে আলিফ সর্বদা সাকিন এবং তার পূর্বে সর্বদা ফাতহা থাকার কারণে তা হরফে ইল্লাত, মাদ্দ এবং লীন হওয়া থেকে পৃথক হয় না, যা তার অপর দুই সহোদরের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে।

মু'তাল: যার মূল অক্ষরগুলোর কোনো একটি হরফে ইল্লাত হয়, যেমন: ওয়াজাদা, ক্বলা এবং সা’আ।

সহীহ এবং মু'তাল প্রত্যেকটিরই প্রকারভেদ রয়েছে:

সহীহ-এর প্রকারভেদ

সহীহ-কে সালিম, মুদা’আফ এবং মাহমুয - এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

সালিম: যার মূল অক্ষরগুলো হরফে ইল্লাত, হামযাহ এবং তাদ’ঈফ (দ্বিত্বতা) থেকে মুক্ত থাকে, যেমন: দরাবা, নাসারা, ক্বা’আদা এবং জালাসা। সুতরাং প্রত্যেক সালিম-ই সহীহ, কিন্তু প্রত্যেক সহীহ সালিম হওয়া আবশ্যক নয়।

মুদা’আফ: এর কাঠিন্যের কারণে একে ‘আসম্ম’ বলা হয়। এটি দুই ভাগে বিভক্ত: সুলাসী ও তার মাজীদের মুদা’আফ এবং রুবায়ী-এর মুদা’আফ। সুলাসী ও তার মাজীদের মুদা’আফ হলো: যার আইন এবং লাম কালিমা একই জাতীয় বর্ণের হয়, যেমন: ফাররা, মাদ্দা, ইমতাদদা এবং ইস্তামাদদা; আর এটাই সরফবিদের আলোচনার মূল বিষয়। রুবায়ী-এর মুদা’আফ হলো: যার ফা’ কালিমা ও প্রথম লাম কালিমা এক জাতীয় এবং আইন কালিমা ও দ্বিতীয় লাম কালিমা অন্য এক জাতীয় হয়, যেমন: যালযালা, আস’আসা এবং ক্বলক্বলা।

মাহমুয: যার মূল অক্ষরগুলোর কোনো একটি হামযাহ হয়, যেমন: আখাযা, সাআলা এবং ক্বরাআ।

মু'তাল-এর প্রকারভেদ

মু'তাল-কে মিসাল, আজওয়াফ, নাক্বিস এবং লাফীফ - এই চার ভাগে ভাগ করা হয়।

মিসাল: যার ফা’ কালিমায় হরফে ইল্লাত থাকে, যেমন: ওয়াদা এবং ইয়াসারা। একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে সহীহ ক্রিয়ার সদৃশ...
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ২০)
إعلال ماضيه.

والأجوف: ما اعتلت عينه، نحو قال وباع. وسمى بذلك لخلوّ جوفه، أى وسطه، من الحرف الصحيح. ويسمى أيضًا ذا الثلاثة، لأنه عند إسناده لتاء الفاعل، يصير معها على ثلاثة أحرفٍ، كقُلت وبعت، فى قال وباع.

والناقص: ما اعتلّت لامه، نحو غزا ورمى، وسُمِّي بذلك لنقصانه، بحذف آخره فى بعض التصاريف، كغَزَتْ ورَمَت، ويسمى أيضًا ذا الأربعة، لأنه عند إسناده لتاء الفاعل يصير معها على أربعة أحرف، نحو غَزَوْتُ ورَمَيْتُ.

واللفيف قسمان:

مَفْروق، وهو ما اعتلت فاؤه ولامه، نحو وَفى ووفَى، وسُمِّي بذلك لكون الحرف الصحيح فارقًا بين حرفَىْ العلة.

ومقْرون، وهو ما اعتلت عينُه ولامُه، نحو طَوَى ورَوَى. وسُمِّي بذلك لاقتران حرفَي العلة بعضِهما ببعض.

وهذه التقاسيم التى جرت فى الفعل، تجرى أيضا فى الاسم، نحو شمْس، ووجه، ويَمُنْ، وقَوْل، وسيف، ودلو، وظَبْي، وَوَحْي، وَجَوّ، وَحَيّ، وأمْر، وبئر، ونبأ، وَحَدّ، وبلبل.
এর অতীতকালীন ক্রিয়ার রূপান্তর।

এবং আজওয়াফ (মধ্য-বর্ণ রুগ্ন): যার ‘আইন’ বর্ণটি রুগ্ন, যেমন- ‘ক্বালা’ এবং ‘বাআ’। এর মধ্যভাগ অর্থাৎ মধ্য-বর্ণটি সহীহ বা সুস্থ বর্ণ থেকে শূন্য হওয়ার কারণে একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে। একে ‘যুত-তালাতাহ’ (তিন অক্ষর বিশিষ্ট)-ও বলা হয়; কারণ যখন একে ‘তা-য়ে ফায়িল’-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন এটি তার সাথে মিলে তিন অক্ষরের শব্দে পরিণত হয়, যেমন- ‘ক্বালা’ ও ‘বাআ’ থেকে ‘কুলতু’ ও ‘বি’তু’।

এবং নাক্বিস (শেষ-বর্ণ রুগ্ন): যার ‘লাম’ বর্ণটি রুগ্ন, যেমন- ‘গাযা’ এবং ‘রামা’। কিছু রূপান্তরের ক্ষেত্রে এর শেষ বর্ণটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে শব্দটিতে অপূর্ণতা সৃষ্টি হওয়ার কারণে একে এই নামে (নাক্বিস বা অপূর্ণ) অভিহিত করা হয়েছে, যেমন- ‘গাযাত’ এবং ‘রামাত’। একে ‘যুল-আরবাআহ’ (চার অক্ষর বিশিষ্ট)-ও বলা হয়, কারণ যখন একে ‘তা-য়ে ফায়িল’-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন এটি তার সাথে মিলে চার অক্ষরের শব্দে পরিণত হয়, যেমন- ‘গাযাওতু’ এবং ‘রামায়তু’।

এবং লাফীফ দুই প্রকার:

মাফরুক (বিচ্ছিন্ন): যার ‘ফা’ এবং ‘লাম’ বর্ণ দুটি রুগ্ন, যেমন- ‘ওয়াফা’। একটি সহীহ বা সুস্থ বর্ণ দুটি ইল্লত বা রুগ্ন বর্ণের মাঝে ব্যবধান তৈরি করার কারণে একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।

মাকরুন (সংযুক্ত): যার ‘আইন’ এবং ‘লাম’ বর্ণ দুটি রুগ্ন, যেমন- ‘তাওয়া’ এবং ‘রাওয়া’। দুটি রুগ্ন বর্ণ একে অপরের সাথে মিলিত থাকার কারণে একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।

ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিভাজনগুলো প্রচলিত রয়েছে, সেগুলো বিশেষ্যের (ইসমে-র) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়। যেমন- শামস (সূর্য), ওয়াজহ (মুখমণ্ডল), ইয়ামুন (বরকত), ক্বাউল (কথা), সাইফ (তলোয়ার), দালউ (বালতি), যাবয়ি (হরিণ), ওয়াহয়ি (প্রত্যাদেশ), জাওউ (আকাশ), হাইয়্যু (জীবিত), আমর (আদেশ), বি’রু (কূপ), নাবা’ (সংবাদ), হাদ্দ (সীমানা) এবং বুলবুল (একটি পাখির নাম)।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌التقسيم الثالث للفعل: بحسب التجرُّد والزيادة، وتقسيم كلّ

ينقسم الفعل إلى مجرَّد ومزيد، فالمجرد: ما كانت جميع حروفه أصلية، لا يسقط حرف منها فى تصاريف الكلمة بغير علَّة. والمزيد: ما زِيد فيه حرف أو أكثر على حروفه الأصلية.

والمجرد قسمان:

ثُلاثي ورباعىّ.

والمزيد قسمان:

مزيد الثلاثي، ومزيد الرباعي. أما الثلاثىّ المجرد فله باعتبار ماضيه فقط ثلاثة أبواب، لأنه دائمًا مفتوحُ الفاء، وعينه إما أن تكون مفتوحة، أو مكسورة أو مضمومة، نحو نَصَرَ وضَرَبَ وفَتَحَ، ونحو كَرُم، ونحو فَرِح وحَسِبَ، وباعتبار الماضى مع المضارع له ستة أبواب، لأن عين المضارع إما مضمومةٌ أو مفتوحةٌ أو مكسورةٌ، وثلاثة فى ثلاثة بتسعة، يمتنع كسرُ العين فى الماضى مع ضمِّها في المضارع، وضم العين فى الماضى مع كسرها أو فتحِها فى المضارع، فإذن تكون أبواب الثلاثى ستةٌ:

الباب الأول: فَعَلَ يَفعُل

بفتح العين فى الماضى وضمها فى المضارع، كنَصَرَ يَنْصُر، وقَعَدَ يَقْعُدُ، وأخَذَ يأخُذُ، وبَرأ يَبْرُؤ، وقال يقُول، وغَزَا يغْزو، ومَرَّ يَمُرُّ.

الباب الثانى: فَعَلَ يَفْعِل

بفتح العين فى الماضى وكسرها فى المضارع كضَرَبَ يضْرب، وجَلَسَ يَجْلِسُ، ووَعَدَ يَعِد، وباع يبيع، ورَمى يرمِي، ووَقى يقِى، وطَوَى يطْوي، وفرَّ يفِرُّ، وأتى يأتي، وجاء يجيء، وأبَر النخل يأبِره، وهَنَأ يهنيء، وَأوى يَأوي، ووَأى يَئي، بمعنى وعد.

الباب الثالث: فعَل يَفْعَل

بالفتح فيهما: كفتَح يفتَح، وذَهب يذْهَب، وسَعى يَسْعى، ووَضَع يضع، ويفَع1

--------------------------------------------

1 يقال: يفع الجبل: صعده، والغلام: راهق العشرين كأيفع، ووهل إلى الشيء: ذهب وهمه إليه، وأله عبد. وألهه: أجاره وأمنه. اهـ منه.
‌‌ক্রিয়ার তৃতীয় প্রকারভেদ: মৌলিকতা ও অতিরিক্ততা অনুযায়ী এবং প্রত্যেকের উপবিভাজন

ক্রিয়া মৌলিক (মুজাররাদ) ও অতিরিক্ত (মাজিদ)—এই দুই ভাগে বিভক্ত। মুজাররাদ হলো তা যার প্রতিটি বর্ণই মৌলিক, শব্দের রূপান্তরের সময় কোনো সংগত কারণ (ইল্লত) ব্যতীত তার কোনো বর্ণ বিলুপ্ত হয় না। আর মাজিদ হলো তা যাতে মৌলিক বর্ণগুলোর সাথে এক বা একাধিক বর্ণ অতিরিক্ত যুক্ত করা হয়েছে।

মুজাররাদ দুই প্রকার:

ত্রিবর্ণীয় (সুলাসি) ও চতুর্বর্ণীয় (রুবায়ি)।

মাজিদ দুই প্রকার:

ত্রিবর্ণীয় মাজিদ ও চতুর্বর্ণীয় মাজিদ। সুলাসি মুজাররাদের ক্ষেত্রে কেবল মাজির (অতীতকাল) বিচারে তিনটি পরিচ্ছেদ (বাব) রয়েছে, কারণ এর ফা-বর্ণ সর্বদা জবরযুক্ত থাকে, আর আইন-বর্ণ হয় জবরযুক্ত, অথবা জেরযুক্ত, অথবা পেশযুক্ত হবে। যেমন: নাসারা (সাহায্য করা), দরাবা (আঘাত করা) ও ফাতাহা (খোলা); এবং কারুমা (সম্মানিত হওয়া); এবং ফারিহা (আনন্দিত হওয়া) ও হাসিবা (ধারণা করা)। আর মুজারের (বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল) সাথে মাজির সমন্বিত বিচারে এর ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে। কারণ মুজারের আইন-বর্ণ হয় পেশযুক্ত, অথবা জবরযুক্ত, অথবা জেরযুক্ত হবে। তিন গুণন তিন সমান নয়টি সম্ভাবনা থাকলেও, মাজিতে আইন-বর্ণ জেরযুক্ত হওয়ার সাথে মুজারেতে পেশযুক্ত হওয়া, এবং মাজিতে আইন-বর্ণ পেশযুক্ত হওয়ার সাথে মুজারেতে জেরযুক্ত বা জবরযুক্ত হওয়া অসম্ভব। সুতরাং সুলাসি মুজাররাদের পরিচ্ছেদসমূহ ছয়টি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ফায়ালা-ইয়াফউলু

মাজিতে আইন-বর্ণের জবর এবং মুজারেতে পেশের সাথে; যেমন: নাসারা-ইয়ানসুরু (সাহায্য করা), কায়াদা-ইয়াকউদু (বসা), আখাযা-ইয়াকখুযু (গ্রহণ করা), বারয়া-ইয়াবরুউ (সুস্থ হওয়া), ক্বলা-ইয়াকুলু (বলা), গাযা-ইয়াগযু (যুদ্ধ করা), মাররা-ইয়ামুররু (অতিক্রম করা)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফায়ালা-ইয়াফইলু

মাজিতে আইন-বর্ণের জবর এবং মুজারেতে জেরের সাথে; যেমন: দরাবা-ইয়াদরিবু (আঘাত করা), জালাসা-ইয়াজলিসু (বসা), ওয়াআদা-ইয়াইদু (ওয়াদা করা), বাআ-ইয়াবিউ (বিক্রয় করা), রামা-ইয়ারমি (নিক্ষেপ করা), ওয়াকা-ইয়াকি (রক্ষা করা), তওয়া-ইয়াতউই (ভাজ করা), ফাররা-ইয়াফিররু (পালানো), আতা-ইয়াতি (আসা), জা-আ-ইয়াজি-উ (আসা), আবারান নাখলা-ইয়াবিরুহু (খেজুর গাছে পরাগায়ন করা), হানাআ-ইয়াহনি-উ (সুখকর হওয়া), ওয়া-আ-ইয়াইউ (আশ্রয় নেয়া), ওয়া-আ-ইয়াই (ওয়াদা করা অর্থে)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফায়ালা-ইয়াফআলু

মাজি ও মুজারে উভয়টিতে আইন-বর্ণ জবর হওয়ার মাধ্যমে: যেমন ফাতাহা-ইয়াফতাহু (খোলা), যাহাবা-ইয়াযহাবু (যাওয়া), সাআ-ইয়াসআ (চেষ্টা করা), ওয়াদয়া-ইয়াদউ (রাখা), ইয়াফাআ।১

--------------------------------------------

১ বলা হয়: ইয়াফাআল জাবাল—অর্থাৎ সে পাহাড়ে আরোহণ করেছে (উঠেছে)। আল-গুলাম—অর্থাৎ বালকটি বিশ বছরের কাছাকাছি পৌঁছেছে যেমন 'আইফাআ' বলা হয়। ওয়াহালা ইলাশ শাই—অর্থাৎ তার ধারণা সেদিকে গিয়েছে। আল্লাহা আবদ—অর্থাৎ সে ইবাদত করেছে। আল্লাাহাহু—অর্থাৎ তাকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়েছে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ২২)
يَيْفَعُ، وَوَهَل يَوْهَل، وألَهَ يألَه، وسَأل يَسْأل، وَقَرأ يقرأُ.

وكل ما كانت عينهُ مفتوحةٌ فى الماضى والمضارع، فهو حَلْقيُّ العين أو اللام. وليس كل ما كان حلقيًّا مفتوحًا فيهما. وحروف الحلق ستة: الهمزة والهاء، والحاء والخاء، والعين والغين1.

وما جاء من هذا الباب بدون حرف حَلْقىّ فشاذّ، كأبَى يأبَى، وهَلَكَ يهْلك، فى إحدى لغتيه، أو من تدخل اللغات، كرَكَن يرْكن، وقَلَى يَقْلى2: غير فصيح3. وبَقَى يبقَى: لغة طيِّئ، والأصل كسر العين فى الماضى، ولكنهم قلبوه فتحة تخفيفًا، وهذا قياس عندهم.

الباب الرابع: فَعِل يَفْعَل

بكسر العين فى الماضى، وفتحها فى المضارع، كفرِحَ يفرَح، وعلِم يعلَم، ووجِل يوجَل، ويَبِسَ ييبَس، وخاف يَخاف، وهاب يَهاب، وغيدَ يغيْدُ، وعَوِر يَعْوَر، ورَضي يرضىَ، وقَوِي يقْوى، وَوَجِيَ يوْجَى، وعَضَّ يَعضّ، وأمِن يأمَن، وسَئِم يَسْأم، وصَدِئ يَصْدأ.

ويأتى من هذا الباب الأفعال الدالّة على الفرح وتوابعه، والامتلاء والخُلْو، والألوان والعيوب، والخِلق الظاهرة، التي تذكر لتحيلة الإنسان فى الغَزَل: كفرِح وطرِب، وبَطِر وأشِر، وغَضِب وَحزِن، وكشبِع ورَوي وَسكِر، وكعطِش وظمِئ وصَدِي وهَيم، وكحَمِر4 وسودِ، وكعورِ وعمِش وجهِر وكغِيد وهَيف وَلمي.

--------------------------------------------

1 وتسمّى: حروف الإظهار. ن

2 واللغة الثانية: بكسر عين مضارعه.

3 والفصيح: بكسر عين مضارعه.

4 هذا على القياس، لوجود مصدره "الحمرة"، والوصف منه "أحمر، وحمراء" ولكن العرب لم ينطقوا بالفعل الثلاثي استغناء باحمار، ولعله وجد ثم أميت. قال سيبويه: "استغنوا باحمار عن حمر".

"انظر شرح ابن جني على تصريف المازني، طبعة الحلبي ص 16" السقا.
ইয়াফাউ, ওয়াহালা-ইয়াওহালু, আলাহা-ইয়া’লাহু, সাআলা-ইয়াসআলু এবং ক্বারাআ-ইয়াক্বরাউ।

অতীত এবং বর্তমান উভয় কালে যার আইন বর্ণটি যবরযুক্ত হয়, তার আইন অথবা লাম বর্ণটি কণ্ঠনালীয় বর্ণ (হরফে হলকী) হয়ে থাকে। তবে কণ্ঠনালীয় বর্ণ হলেই যে উভয় কালে যবরযুক্ত হবে তা আবশ্যক নয়। কণ্ঠনালীয় বর্ণ ছয়টি: হামযা ও হা, হা ও খা, এবং আইন ও গাইন১।

কণ্ঠনালীয় বর্ণ ব্যতীত এই অনুচ্ছেদ (বাব) থেকে যা কিছু আসে তা অনিয়মিত (শায), যেমন: আবা-ইয়াবাউ। অথবা এক উপভাষার সাথে অন্য উপভাষার সংমিশ্রণে এমন হয়, যেমন: হালাকা-ইয়াহলিকু (এর এক উপভাষায়); অথবা রুকনা-ইয়ারকানু এবং ক্বলা-ইয়াক্বলা২ যা বিশুদ্ধ নয়৩। আর বাক্বা-ইয়াবক্বা হলো তাইয়ি গোত্রের ভাষা; এর মূল হলো অতীতকালে আইন বর্ণে যের হওয়া, কিন্তু তারা সহজীকরণের জন্য একে যবর দ্বারা পরিবর্তন করেছে এবং এটি তাদের নিকট একটি নিয়মিত ব্যাকরণগত নিয়ম।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ফায়িলা-ইয়াফআলু

অতীতকালে আইন বর্ণে যের এবং বর্তমানকালে যবর হওয়ার মাধ্যমে এই অনুচ্ছেদ গঠিত হয়। যেমন: ফারিহা-ইয়াফরাহু, আলিমা-ইয়া’লামু, ওয়াজিলা-ইয়াওজালু, ইয়াবিসা-ইইয়াবাসু, খাফা-ইয়াখাফু, হবা-ইয়াহবু, গায়িদা-ইয়াগায়িদু, আবিরা-ইয়া’ওয়ারু, রাদিয়া-ইয়ারদা, ক্বাওয়িয়া-ইয়াক্বওয়া, ওয়াজিয়া-ইয়াওজা, আদ্দা-ইয়াআদ্দু, আমিনা-ইয়া’মানু, সাইমা-ইয়াসআমু এবং সদিআ-ইয়াসদাউ।

এই অনুচ্ছেদ থেকে সাধারণত আনন্দ ও তার অনুষঙ্গ, পূর্ণতা ও শূন্যতা, রং ও শারীরিক খুঁত এবং বাহ্যিক অবয়ব সংক্রান্ত ক্রিয়াগুলো আসে, যা প্রেমকাব্যে মানুষের সৌন্দর্য বর্ণনায় ব্যবহৃত হয়: যেমন আনন্দিত হওয়া ও উল্লসিত হওয়া, দাম্ভিক হওয়া ও গর্বিত হওয়া, রাগান্বিত হওয়া ও দুঃখিত হওয়া; তৃপ্ত হওয়া, তৃষ্ণা নিবারণ করা ও মাতাল হওয়া; তৃষ্ণার্ত হওয়া, পিপাসার্ত হওয়া, অতিশয় তৃষ্ণার্ত হওয়া ও প্রেমে দিশেহারা হওয়া; লাল হওয়া৪ ও কালো হওয়া; একচক্ষু কানা হওয়া, চোখ পিটপিট করা ও চোখে ধাঁধা লাগা; এবং ঘাড় কোমল হওয়া, পাতলা কোমর হওয়া ও ওষ্ঠ শ্যামল হওয়া।

--------------------------------------------

১ এগুলোকে ইজহারের বর্ণও বলা হয়। ন

২ দ্বিতীয় উপভাষা অনুযায়ী: বর্তমানকালে আইন বর্ণে যের হয়।

৩ বিশুদ্ধ হলো: বর্তমানকালে আইন বর্ণে যের হওয়া।

৪ এটি নিয়মিত নিয়ম অনুযায়ী, কারণ এর মাসদার 'আল-হুমরাহ' এবং বিশেষণ 'আহমার ও হামরা' বিদ্যমান। তবে আরবরা এই তিন বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়াটি উচ্চারণ করেনি বরং 'ইহমাররা' ব্যবহারের মাধ্যমে এর প্রয়োজন পূরণ করেছে। সম্ভবত এটি এক সময় বিদ্যমান ছিল, পরে তা বিলুপ্ত হয়েছে। সিবওয়াইহি বলেছেন: 'তারা হামিরা-র বদলে ইহমাররা ব্যবহার করেছে'।

ইবনে জিন্নি-র শারহু তাসরিফিল মাযিনি দেখুন, হালাবি সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১৬। সাক্কা।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الباب الخامس: فعُل يفعُل

بضم العيبن فيهما، كشرُف يشرُف، وحسُن يحْسُن، ووسُم يوسُم، ويَمُن ييمُن، وأسُل يأسُل، ولؤُم يلؤُم، وجرُؤ يحْرُؤ، وسَرُوَ يَسْرُو.

ولم يرد من هذا الباب يائي اللعين إلا لفظةُ هَيُؤَ: صار ذا هيئة. ولا يائيَّ، اللام وهو متصرف إلا نَهُو، من النُّهية، بمعنى العقل، ولا مضاعفًا إلا قليلاً، كشَرُرْت مثلثَ الراء، ولَبُبْت، بضم العين وكسرها، والمضارع تَلَبُّ بفتح العين لا غير.

وهذا الباب للأوصاف الخِلْقية، وهى التى لها مُكْث.

ولك أن تحوِّل كل فعل ثلاثىّ إلى هذا الباب، للدلالة على أن معناه صار كالغريزة فى صاحبه. وربما استعملت أفعال هذا الباب للتعجُّب، فتنسلخ عن الحدَث.

الباب السادس: فعِل يَفْعِل

بالكسر فيهما، كحسِب يحسِب ونعِم ينعِم، وهو قليل فى الصحيح، كثير فى المعتلّ، كما سيأتى:

تنبيهات

الأول: كل أفعال هذه الأبواب تكون متعدية ولازمة، إلا أفعال الباب الخامس، فلا تكون إلا لازمة. وأما رَحُبَتْك الدارُ فعلى التوسع، والأصل رَحُبَتْ بك الدارُ، والأبواب الثلاثة الأولى تسمى دعائم الأبواب، وهى فى الكثرة على ذلك الترتيب.

الثانى: أن فَعَلَ المفتوحَ العين، إن كان أوَّله همزة أو واوًا، فالغالب أنه من باب ضرب، كأسَر يأسِر، وأتَى يأتِى، ووعد يعِد، ووزَن يزِن، ومن غير الغالب: أخَذوا أكَل ووَهَل. وإن كان مُضاعفاً فالغالب أنه من باب نصر، إن كان متعدّيا، كَمَدّه يَمُدُّه،
পঞ্চম অধ্যায়: ফাউলা-ইয়াফউলু

অতীত ও বর্তমান উভয় ক্রিয়ার আইন কালিমায় পেশ সহযোগে, যেমন: শারুফা-ইয়াশরুফু, হাসুনা-ইয়াহসুনু, ওয়াসুমা-ইয়াউসুমু, ইয়ামুনা-ইয়াইমুনু, আসুলা-ইয়াসুলু, লাউমা-ইয়ালউমু, জারুয়া-ইয়াজরুউ এবং সারুওয়া-ইয়াসরু।

এই অধ্যায়ে আইন কালিমায় ‘ইয়া’ যুক্ত কোনো শব্দ আসেনি কেবল ‘হাইউয়া’ শব্দটি ব্যতীত, যার অর্থ: আকৃতি বা গঠনের অধিকারী হওয়া। আর রূপান্তরযোগ্য ক্রিয়াগুলোর মধ্যে লাম কালিমায় ‘ইয়া’ যুক্ত কোনো শব্দও আসেনি কেবল ‘নাহুওয়া’ ব্যতীত, যা ‘নুহইয়াহ’ শব্দ হতে উদ্ভূত যার অর্থ আকল বা বুদ্ধি। আর এই অধ্যায়ে দ্বিত্বাক্ষর (মুদাআফ) শব্দও খুব সামান্যই এসেছে, যেমন: ‘শারুরতু’ (আমি মন্দ হয়েছি) যাতে র-এর ওপর তিনটি হরকতই সম্ভব; এবং ‘লাবুবতু’, আইন কালিমায় পেশ ও যের সহযোগে; তবে এর বর্তমান কাল কেবল ‘তালাব্বু’ আইন কালিমায় যবর সহযোগে ব্যবহৃত হয়।

আর এই অধ্যায়টি স্বভাবজাত গুণাবলির জন্য নির্ধারিত, যা দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়।

আপনি চাইলে প্রতিটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়াকে এই অধ্যায়ে রূপান্তর করতে পারেন এটি বোঝাতে যে, তার অর্থটি কর্তার মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয়েছে। কখনো কখনো এই অধ্যায়ের ক্রিয়াগুলো বিস্ময় প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়, তখন সেগুলো মূল ঘটনা (হাদাস) প্রকাশের অর্থ থেকে মুক্ত হয়ে যায়।

ষষ্ঠ অধ্যায়: ফায়িলা-ইয়াফিলু

উভয় ক্ষেত্রে আইন কালিমায় যের সহযোগে, যেমন: হাসিবা-ইয়াহসিবু এবং নাঈমা-ইয়ানঈমু। এটি সহীহ শব্দের ক্ষেত্রে কম এবং মো’তাল বা অসুস্থ বর্ণের শব্দের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়, যা সামনে আলোচিত হবে।

সতর্কতাসমূহ

প্রথম: এই সকল অধ্যায়ের ক্রিয়াগুলো সকর্মক ও অকর্মক উভয়ই হতে পারে, কেবল পঞ্চম অধ্যায়ের ক্রিয়াগুলো ব্যতীত; কারণ সেগুলো শুধু অকর্মকই হয়ে থাকে। আর ‘রাহুবাতকাদ দারু’ (ঘরটি তোমার জন্য প্রশস্ত হয়েছে) বাক্যটি সকর্মক হিসেবে ব্যবহারের প্রশস্ততা অর্থে বলা হয়েছে, যার মূল রূপ হলো ‘রাহুবাত বিকা আদ-দারু’। আর প্রথম তিনটি অধ্যায়কে অধ্যায়সমূহের স্তম্ভ বলা হয় এবং ব্যবহারের আধিক্যের দিক থেকে সেগুলো এই ক্রমধারা অনুযায়ী বিন্যস্ত।

দ্বিতীয়: আইন কালিমায় যবরবিশিষ্ট ‘ফায়ালা’ ক্রিয়ার শুরুতে যদি হামযাহ বা ওয়াও থাকে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা ‘দারাবা’ অধ্যায়ভুক্ত হয়। যেমন: আসারা-ইয়াসিরু, আতা-ইয়াতি, ওয়ায়াদা-ইয়াইদু এবং ওয়াযানা-ইয়াযিনু। আর এর ব্যতিক্রম হলো: আখা্যূ, আকালা এবং ওয়াহালা। আর ক্রিয়াটি যদি দ্বিত্বাক্ষর (মুদাআফ) হয় এবং তা সকর্মক হয়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা ‘নাসারা’ অধ্যায়ভুক্ত হয়, যেমন: মাদ্দাহু-ইয়ামুদ্দুহু (সে তাকে প্রসারিত করেছে)।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وصدّه يصُدُّه. ومن باب ضرب، إن كان لازما1، كَخفَّ يَخفُّ، وشذّ يشِذ، بالذال المعجمة.

الثالث: مما تقدم من الأمثلة تعلم:

‌‌1- أن المضاعَف يجيء من ثلاثة أبواب: من باب نَصَر، وضَرَب، وفَرِحَ، نحو سرَّه يسرُّه، وفرَّ يفِرّ، وعضَّهُ يَعضه.

‌‌2- ومهموز الفاء يجيء من خمسة أبواب: من باب نصر، وضرب، وفتح، وفرِح، وشرُف، نحو: أخذ يأخُذ، وأسَرَ يأسِر، وأهَب يأهَبُ، وأمِنَ يأمَن، وأسُل يأسُل.

‌‌3- ومهموز العين يجيء من أربعة أبواب: من باب ضرب، وفتح، وفرح وشَرُف، نحو: وأى يَئى، وسأل يسأل، وسئِم يسأم، ولَؤُم يَلْؤُم.

‌‌4- ومهموز اللام يحيء من خمسة أبواب من باب نصر، وضرب وفتح، وفرح، وشَرُف، نحو: بَرَأ2 يبرُؤ، وهَنَأ يهنئ، وقرَأ يقرَأ، وصَدِأ يَصْدَأ، وجرُؤ يجرُؤ.

والمثال يجيء من خمسة أبواب: من باب ضرب: وفتح، وفرح، وشَرُف، وحسِب؛ نحو: وعَد يعِد، ووهِل يَوْهَل، ووجِل يوجَل، ووسُم يوسُم، وورِث يرِث،

--------------------------------------------

1 قوله: "ومن باب ضرب إن كان لازمًا.." ومن غير الغالب حبه يَحِبه، بفتح الياء وكسر الحاء، لغة في: أحبه يحبه.

وقد جاء الوجهان عدة أفعال متعدية، وعدة أفعال لازمة.

فمن الأول هو فلان الشيء يهره ويهره: بمعنى كرهه. وأصل الهرير: صوت الكلب الخلفي، وشد متاعه يشده ويشده: بمعنى أوثقه، وعله الشراب يعله ويعله، سقاه عللًا بعد نهل. والعلل: الشرب الثاني، والنهل محركًا: الشرب الأول، وبت الحبل وغيره يبته ويبته بتًّا: قطعه، ونم الحديث ينمه وينمه نما ونمة: حمله وأفشاه، على وجه الإفساد.

ومن الثاني: صد عن الأمر يصد ويصد صدودًا: أعرض عنه، وأث الشجر يؤث ويئث: أي: كثر والتف، وخر الحر يخر ويخر: أي سقط من علو إلى أسفل، وحدت المرأة على زوجها تحد وتحد: تركت الزينة، وثرب العين تثر وتثر، ثرورًا: عزر ماؤها: ودرت الشاة تدر وتدر، وجم الماء يجم ويجم: بمعني كثر: وعن له الشيء يعن ويعن: بمعنى عرض. وشذ عن الجمهور يشذ ويشذ: انفرد، وشطت الدار تشط وتشطط: بمعنى بعدت، وطش المزن يطش ويطش: أمطر دون الرش، وأل السيف يؤل ويئل: لمع.

2 أي من برأ المريض، وهذه إحدى لغاته، وكذلك هنأ يهنئ في إحدى لغاته اهـ.
এবং তাকে বাধা প্রদান করা। আর এটি যদি লাজিম (অকর্মক) হয় তবে তা 'দারাবা' বাব থেকে আসবে; যেমন: হালকা হওয়া, সে হালকা হয়; এবং বিচ্ছিন্ন হওয়া, সে বিচ্ছিন্ন হয়—'যাল' বর্ণের নুকতাহসহ।

তৃতীয়: পূর্ববর্তী উদাহরণগুলো থেকে আপনি জানতে পারলেন যে:

‌‌১- মুদাআফ (দ্বিত্ববর্ণ বিশিষ্ট ক্রিয়া) তিনটি বাব থেকে আসে: নাসারা, দারাবা এবং ফারিহা। যেমন: তাকে আনন্দিত করা, সে তাকে আনন্দিত করে; পালানো, সে পালায়; এবং তাকে কামড়ানো, সে তাকে কামড়ায়।

‌‌২- মাহমুযুল ফা (প্রথম মূলাক্ষরে হামযা বিশিষ্ট ক্রিয়া) পাঁচটি বাব থেকে আসে: নাসারা, দারাবা, ফাতাহা, ফারিহা এবং শারুফা। যেমন: গ্রহণ করা, সে গ্রহণ করে; বন্দী করা, সে বন্দী করে; প্রস্তুত হওয়া, সে প্রস্তুত হয়; নিরাপদ হওয়া, সে নিরাপদ হয়; এবং তীক্ষ্ণ হওয়া, সে তীক্ষ্ণ হয়।

‌‌৩- মাহমুযুল আইন (দ্বিতীয় মূলাক্ষরে হামযা বিশিষ্ট ক্রিয়া) চারটি বাব থেকে আসে: দারাবা, ফাতাহা, ফারিহা এবং শারুফা। যেমন: প্রতিশ্রুতি দেওয়া, সে প্রতিশ্রুতি দেয়; জিজ্ঞাসা করা, সে জিজ্ঞাসা করে; বিরক্ত হওয়া, সে বিরক্ত হয়; এবং নিচ হওয়া, সে নিচ হয়।

‌‌৪- মাহমুযুল লাম (তৃতীয় মূলাক্ষরে হামযা বিশিষ্ট ক্রিয়া) পাঁচটি বাব থেকে আসে: নাসারা, দারাবা, ফাতাহা, ফারিহা এবং শারুফা। যেমন: রোগমুক্ত হওয়া, সে রোগমুক্ত হয়; আনন্দদায়ক হওয়া, সে আনন্দদায়ক হয়; পাঠ করা, সে পাঠ করে; মরিচা ধরা, সে মরিচা ধরে; এবং সাহসী হওয়া, সে সাহসী হয়।

আর মিসাল (প্রথম মূলাক্ষরে দুর্বল বর্ণ বিশিষ্ট ক্রিয়া) পাঁচটি বাব থেকে আসে: দারাবা, ফাতাহা, ফারিহা, শারুফা এবং হাসিবা। যেমন: প্রতিশ্রুতি দেওয়া, সে প্রতিশ্রুতি দেয়; আতঙ্কিত হওয়া, সে আতঙ্কিত হয়; ভীত হওয়া, সে ভীত হয়; সুন্দর হওয়া, সে সুন্দর হয়; এবং উত্তরাধিকারী হওয়া, সে উত্তরাধিকারী হয়।

--------------------------------------------

১. লেখকের উক্তি: "এবং দারাবা বাব থেকে যদি তা লাজিম হয়..." আর বিরল ব্যবহারগুলোর মধ্যে রয়েছে 'হাব্বা ইয়াহিব্বু' (ইয়ার উপর ফাতহা এবং হার নিচে কাসরা সহ), যা 'আহাব্বা ইউহিব্বু' (সে তাকে ভালোবাসে) এর একটি ভাষা।

বেশ কিছু মুতাআদ্দি (সকর্মক) এবং লাজিম (অকর্মক) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে উভয় রূপই (নাসারা ও দারাবা) বর্ণিত হয়েছে।

প্রথম প্রকারের (মুতাআদ্দি) উদাহরণ হলো: অমুক ব্যক্তি বিষয়টিকে ঘৃণা করে—এ অর্থে 'ইয়াহুররু' এবং 'ইয়াহিররু' উভয়ই হয়। 'হুরীর' এর মূল অর্থ হলো কুকুরের ক্ষীণ ডাক। তার আসবাবপত্র শক্ত করে বাঁধা অর্থে 'ইয়াশুদ্দু' এবং 'ইয়াশিদ্দু' উভয়ই হয়। পানীয় পান করানো অর্থে 'ইয়াউল্লু' এবং 'ইয়ািল্লু'—অর্থাৎ তৃষ্ণা মিটানোর পর দ্বিতীয়বার পান করানো। 'আল-আলাল' হলো দ্বিতীয়বার পান করা এবং 'নাহাল' (হার উপর হারাকাতসহ) হলো প্রথমবার পান করা। দড়ি বা অন্য কিছু কেটে ফেলার অর্থে 'ইয়াবুততুহু' এবং 'ইয়াবিত্তুহু'। আর সংবাদ রটানো বা চোগলখুরি করার অর্থে 'ইয়ানুম্মুহু' এবং 'ইয়ানিম্মুহু'—বিপর্যয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

দ্বিতীয় প্রকারের (লাজিম) উদাহরণ হলো: কোনো বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অর্থে 'ইয়াসুদ্দু' এবং 'ইয়াসিদদু'। গাছ অধিক ও ঘন হওয়ার অর্থে 'ইয়াউস্সু' এবং 'ইয়াইস্সু'। উপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার অর্থে 'ইয়াখুররু' এবং 'ইয়াখিররু'। স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর শোক পালন বা সাজসজ্জা ত্যাগের অর্থে 'তাহুদ্দু' এবং 'তাহিদদু'। চোখের পানির আধিক্য হওয়া অর্থে 'ইয়াসুররু' এবং 'ইয়াসিররু'। ছাগলের ওলান দুধে ভরে যাওয়ার অর্থে 'তাদুরু' এবং 'তাদিননু'। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থে 'ইয়াজুম্মু' এবং 'ইয়াজিম্মু'। কোনো কিছু সামনে আসা বা প্রকাশ পাওয়ার অর্থে 'ইয়াউন্নু' এবং 'ইয়ািন্নু'। দলছুট বা একাকী হওয়ার অর্থে 'ইয়াশুযু' এবং 'ইয়াশিযি'। ঘর দূরে হওয়ার অর্থে 'তাশুততু' এবং 'তাশিততু'। মেঘ থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হওয়ার অর্থে 'ইয়াতুশশু' এবং 'ইয়াতিশশু'। আর তলোয়ার ঝকঝক করার অর্থে 'ইয়াউল্লু' এবং 'ইয়ািল্লু'।

২. অর্থাৎ অসুস্থ ব্যক্তির রোগমুক্ত হওয়া—এটি এর একটি ভাষা। একইভাবে 'হানাআ ইয়াহনিউ' এর ক্ষেত্রেও একটি ভাষায় এমনটি হয়। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد ورد من باب نصر لفظة واحدة فى لغة عامرية: وهى وَجَدَ يَجُد قال جرير:

لو شِئْتِ قد نَقَعَ الفؤادُ بشَرْبَةٍ

تَدَعُ الصَّوادِي لا يَجُدْنَ غَلِيلًا

رُوي بضم الجيم وكسرها. يقول لمحبوبته: لو شئت قد رُوي الفؤادُ بشربة من ريقك، تترك الصَّوادِي، أى: العِطاش، لا يَجِدن حرارة العطش.

6 والأجوفَ يجيء من ثلاثة أبواب: من باب نَصَر، وضَرَب، وفرِح، نحو: قال يقول، وباع يبيع، وخاف يخاف، وغَيد يَغْيَد، وعَوِر يعوَر، إلا أن شرطه أن يكون فى الباب الأول واويّا، وفى الثانى يائيًا، وفى الثالث مطلقًا، وجاء طال يطول فقط من باب شرُف.

‌‌7- والناقص يجيء من خمسة أبواب: من باب نصر، وضرب، وفتح، وفرح، وشرف. نحو: دعا، ورمى، وسعَى، ورضيَ، وسرُو. ويشترط فى الناقص من الباب الأول والثانى، ما اشترط فى الأجوف منهما.

‌‌8- واللفيف المقرون يجيء من ثلاثة أبواب: من باب ضرب، وفرح، وحسب. نحو: وَفَى يفِي، ووجَى يَوْجِي، وولِيَ يَلِي.

‌‌9- واللفيف المقرون يجيء من ضرب، وفرح. نحو: روَى يرْوي، وقوِيَ يَقْوَى، ولم يَرد يائىّ العين واللام إلا فى كلمتين من باب فرح، هما عَيِيَ، وحَيِيَ.

الرابع: الفعل الأجوف، إن كان بالألف فى الماضى، وبالواو فى المضارع، فهو من باب نصر، كقال يقول، ما عدا طال يطول، فإِنه من باب شرُف. وإن كان بالألف فى الماضى وبالياء فى المضارع، فهو من باب ضرع كباع يبيع. وإن كان بالألف أو بالياء أو بالواو فيهما، فهو من باب فرح، كخاف يخاف، وغَيد يُغِيْدُ، وعوِر يَعور.

والناقص إن كان بالألف فى الماضى وبالواو فى المضارع، فهو من نصر، كدعا يدعو. وإن كان بالألف فى الماضى وبالياء فى المضارع، فهو من باب ضرب، كرمى يرمى. وإن كان بالألف فيهما، فهو من باب فتح، كسعَى يسعَى. وإن كان بالواو فيهما، فهو باب شرُف كسرُو يسرُو. وإن كان بالياء فيهما، فهو من باب حسِب كولِي يلِي. وإن كان
আমেরী উপভাষায় নাসারা পরিচ্ছেদ থেকে মাত্র একটি শব্দ বর্ণিত হয়েছে: সেটি হলো ওয়াজাদা-ইয়াজুদু। জারীর বলেছেন:

যদি তুমি চাইতে, তবে এক ঢোক পানীয়ই অন্তরকে পরিতৃপ্ত করার জন্য যথেষ্ট হতো, যা তৃষ্ণার্তদের এমন অবস্থায় রেখে যেতো যে তারা আর পিপাসার জ্বালা অনুভব করত না।

এটি জীমের দম্মাহ (পেশ) এবং কাসরাহ (যের) উভয় পাঠে বর্ণিত হয়েছে। কবি তার প্রিয়তমাকে বলছেন: তুমি যদি চাইতে, তবে তোমার লালার এক ঢোক পানেই অন্তর পরিতৃপ্ত হতো, যা সাওয়াদী তথা তৃষ্ণার্তদের এমন অবস্থায় পৌঁছে দিত যে, তারা আর তৃষ্ণার দহন খুঁজে পেত না।

৬. আজওয়াফ (মধ্য-বর্ণ দুর্বল ক্রিয়া) তিনটি পরিচ্ছেদ থেকে আসে: নাসারা, দরাবা এবং ফারিহা। যেমন: ক্বলা-ইয়াক্বলু, বা'আ-ইয়াবিউ, খফা-ইয়াখফু, গয়িদা-ইয়াগইয়াদু এবং আউয়িরা-ইয়াওয়ারু। তবে শর্ত এই যে, প্রথম পরিচ্ছেদে একে 'ওয়াবী' (মূল বর্ণে ওয়াও বিশিষ্ট), দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে 'ইয়ায়ী' (মূল বর্ণে ইয়া বিশিষ্ট) এবং তৃতীয় পরিচ্ছেদে নিঃশর্তভাবে (উভয় প্রকারের) হতে হবে। আর 'ত্বলা-ইয়াত্বলু' শব্দটি শুধুমাত্র শারুফা পরিচ্ছেদ থেকে এসেছে।

‌‌৭- নাক্বিস (শেষ-বর্ণ দুর্বল ক্রিয়া) পাঁচটি পরিচ্ছেদ থেকে আসে: নাসারা, দরাবা, ফাতাহা, ফারিহা এবং শারুফা। যেমন: দা'আ, রমা, সা'আ, রদিয়া এবং সারুওয়া। প্রথম ও দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের নাক্বিস ক্রিয়ার ক্ষেত্রে সেই একই শর্ত প্রযোজ্য, যা আজওয়াফের ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

‌‌৮- লাফীফে মাক্বরূন তিনটি পরিচ্ছেদ থেকে আসে: দরাবা, ফারিহা এবং হাসিবা। যেমন: ওয়াফা-ইয়াফী, ওয়াজা-ইয়াওজী এবং ওয়ালিয়া-ইয়ালী।

‌‌৯- লাফীফে মাক্বরূন দরাবা এবং ফারিহা পরিচ্ছেদ থেকে আসে। যেমন: রওয়া-ইয়ারউয়ী এবং ক্বউইয়া-ইয়াক্বওয়া। 'আইন' এবং 'লাম' উভয় বর্ণ ইয়া-বিশিষ্ট শব্দ 'ফারিহা' পরিচ্ছেদে মাত্র দুটি শব্দে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো হলো: আইয়িয়া এবং হাইয়িয়া।

চতুর্থত: আজওয়াফ ক্রিয়া যদি মাদী-তে (অতীতকাল) আলিফ এবং মুদারে-তে (বর্তমানকাল) ওয়াও যুক্ত হয়, তবে তা নাসারা পরিচ্ছেদভুক্ত, যেমন: ক্বলা-ইয়াক্বলু; কেবল 'ত্বলা-ইয়াত্বলু' এর ব্যতিক্রম, কারণ এটি শারুফা পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি মাদীতে আলিফ এবং মুদারেতে ইয়া যুক্ত হয়, তবে তা দরাবা পরিচ্ছেদভুক্ত, যেমন: বা'আ-ইয়াবিউ। আর যদি উভয় ক্ষেত্রে আলিফ, ইয়া অথবা ওয়াও থাকে, তবে তা ফারিহা পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: খফা-ইয়াখফু, গয়িদা-ইয়াগইয়াদু এবং আউয়িরা-ইয়াওয়ারু।

আর নাক্বিস ক্রিয়া যদি মাদীতে আলিফ এবং মুদারেতে ওয়াও হয়, তবে তা নাসারা পরিচ্ছেদ থেকে হবে, যেমন: দা'আ-ইয়াদউ। যদি মাদীতে আলিফ এবং মুদারেতে ইয়া হয়, তবে তা দরাবা পরিচ্ছেদ থেকে হবে, যেমন: রমা-ইয়ারমী। যদি উভয় ক্ষেত্রে আলিফ থাকে, তবে তা ফাতাহা পরিচ্ছেদ থেকে হবে, যেমন: সা'আ-ইয়াস'আ। যদি উভয় ক্ষেত্রে ওয়াও থাকে, তবে তা শারুফা পরিচ্ছেদ থেকে হবে, যেমন: সারুওয়া-ইয়াসরুউ। যদি উভয় ক্ষেত্রে ইয়া থাকে, তবে তা হাসিবা পরিচ্ছেদ থেকে হবে, যেমন: ওয়ালিয়া-ইয়ালী। আর যদি...
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
بالياء فى الماضى وبالأَلف فى المضارع، فهو من باب فرح، كرضِىَ يرضَى.

الخامس:لم يرد فى اللغة ما يجب كسر عينه فى الماضى والمضارع إلا ثلاثةَ عَشَرَ فعلاً، وهى: وثِقَ به، ووجِد عليه: أى حزِن، وورِث المال، وورِع عن الشبهات، وورِك: أى اضطجع، وورِم الجُرح وورِي المخ: أى اكتنز، ووعِق عليه: أى عَجِل، ووَفِق أمرَه: أى صادفه موافقًا، ووقِه له أى سمع ووكِم: أى اغتمَّ وولِىَ الأمرَ، ووَمِقَ: أى أحبّ.

وورَد أحد عشر فعلا، تُكْسَر عينها فى الماضى، ويجوز الكسر والفتح فى المضارع، وهى بَئِس، بالباء الموحدة، وحسِب، وَوَبِق: أى هلك، ووحِمَتِ الحُبْلىَ، ووحِرَ صدرُه، ووَغِر: أَى اغتاظ فيهما، وولِغ الكلب، وولِه، ووهِل، اضطرب فيهما، ويَئِسَ منه، ويبِس الغصن.

السادس: كون الثلاثى على وزن معين من الأَوزان الستة المتقدمة سماعىّ، فلا يعتمد فى معرفتها على قاعدة، غير أنه يمكن تقريبه بمراعاة هذه الضوابط. ويجب فيه مراعاة صورة الماضى والمضارع معًا، لمخافة صورة المضارع للماضى الواحد كما رأيت، وفى غيره تراعى صورة الماضى فقط، لأن لكل ماض مضارعًا لا تختلف صورته فيه.

السابع: ما بُني من الأفعال للدلالة على الغلبة في المفاخر، فقياس مضارعه ضمُّ عينُه، كَسَابَقَنِى زَيد ٌفسبقتُه، فأنا أسبُقه، ما لم يكن واويَّ الفاء، أو يائىّ العين أو اللام، فقياس مضارعه كسر عينه، كواثبته فَوَثَبْته، فأنا أثِبه وبايعته فبِعته، فأنا أبيعه، وراميته فرمَيْته، فأنا أرمِيه.

أوزان الرباعيِّ المجرَّد وملحقاته

وللرباعي المجرَّد وزن واحد، وهو فعلل، كدحرج يدحرج، ودَرْبَخَ1 يدربخ. ومنه أفعال نحتتها العرب من مُرَكَّباتِ، فتحفَظ ولا يقاس عليها، كبسمَل: إذا قال: بسم الله، وحوقل إذا قال: لا حول ولا قوة إِلا بالله، وطَلْبَق إذا قال: أطال الله بقاءك،

--------------------------------------------

1 دربخ الرجل، بالخاء المعجمة: وإذا طأطأ رأسه سوى ظهره.
অতীতকালে 'ইয়া' এবং বর্তমানকালে 'আলিফ' দিয়ে গঠিত, এটি 'ফারিহা' অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত, যেমন- 'রাদিয়া-ইয়ারদা'।

পঞ্চম: আরবি ভাষায় এমন কোনো ক্রিয়া পাওয়া যায় না যার অতীত ও বর্তমান উভয় কালেই 'আইন' বর্ণে কাসরা (জের) হওয়া অপরিহার্য, কেবল তেরটি ক্রিয়া ব্যতীত। সেগুলো হলো: সে তার ওপর আস্থা রাখল, সে তার প্রতি দুঃখিত হলো (অর্থাৎ বিষণ্ন হওয়া), সে সম্পদের উত্তরাধিকারী হলো, সে সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকল, সে কাত হয়ে শুলো (অর্থাৎ শয়ন করা), ক্ষতটি ফুলে উঠল, মজ্জাটি পুষ্ট হলো (অর্থাৎ ঘন হওয়া), সে তার ওপর তাড়াহুড়ো করল (অর্থাৎ ত্বরান্বিত করা), তার কাজ অনুকূল হলো (অর্থাৎ কোনো কিছুকে অনুকূল অবস্থায় পাওয়া), সে তার কথা শুনল, সে বিষণ্ন হলো (অর্থাৎ শোকাতুর হওয়া), সে বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করল, এবং সে ভালোবাসল (অর্থাৎ পছন্দ করা)।

এগারোটি ক্রিয়া এমন বর্ণিত হয়েছে যেগুলোর 'আইন' বর্ণে অতীতকালে কাসরা (জের) হয় এবং বর্তমানকালে কাসরা ও ফাতহা (জবর) উভয়টিই পড়া বৈধ। সেগুলো হলো: সে দুর্ভাগা হলো (একক 'বা' বর্ণের সাথে), সে ধারণা করল, সে ধ্বংস হলো (অর্থাৎ বিনাশ হওয়া), গর্ভবতী নারী নির্দিষ্ট খাবারের আকাঙ্ক্ষা করল, তার অন্তর সংকীর্ণ হলো, এবং সে ক্রুদ্ধ হলো (এই উভয় শব্দে ক্রুদ্ধ হওয়া অর্থ বোঝায়), কুকুর পাত্রে মুখ দিয়ে চাটল, সে ব্যাকুল হলো, এবং সে ভীত হলো (এই উভয়টিতে অস্থির হওয়া অর্থ বোঝায়), সে তা থেকে নিরাশ হলো এবং গাছের ডালটি শুকিয়ে গেল।

ষষ্ঠ: ত্রিবর্ণীয় মূল ক্রিয়াগুলো পূর্বে বর্ণিত ছয়টি ওজনের কোনো একটি নির্দিষ্ট ওজনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া হলো শ্রুতি-নির্ভর (সামায়ী)। তাই এগুলো চেনার ক্ষেত্রে কেবল কোনো ধরাবাঁধা নিয়মের ওপর নির্ভর করা যায় না; তবে এই নিয়মগুলো লক্ষ্য রাখার মাধ্যমে একে সহজবোধ্য করা সম্ভব। এতে অতীত ও বর্তমান উভয় রূপই একসাথে লক্ষ্য রাখা আবশ্যক, কারণ একই অতীত রূপের বিপরীতে বর্তমান রূপ ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যেমনটি আপনি দেখেছেন। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে কেবল অতীত রূপটিই বিবেচনা করা হয়, কারণ প্রতিটি অতীত রূপের জন্য এমন একটি বর্তমান রূপ থাকে যার কাঠামোতে কোনো ভিন্নতা ঘটে না।

সপ্তম: যেসব ক্রিয়া শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়া বোঝানোর জন্য গঠিত হয়, সেগুলোর বর্তমানকালে 'আইন' বর্ণে পেশ (দম্মাহ) হওয়া হলো সাধারণ নিয়ম। যেমন- 'যায়েদ আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করল এবং আমি তাকে হারিয়ে দিলাম, তাই আমি তাকে হারিয়ে দিই', যতক্ষণ না এর প্রথম বর্ণটি 'ওয়াও' হয় অথবা দ্বিতীয় বা তৃতীয় বর্ণটি 'ইয়া' হয়। যদি এমনটি হয় তবে নিয়ম হলো বর্তমানকালের 'আইন' বর্ণে কাসরা (জের) হওয়া। যেমন- 'আমি তার সাথে লাফ দেওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলাম এবং তাকে হারিয়ে দিলাম, তাই আমি তার চেয়ে বেশি লাফাই', এবং 'আমি তার সাথে বেচাকেনার প্রতিযোগিতা করে জয়ী হলাম, তাই আমি তার চেয়ে বেশি বিক্রি করি', এবং 'আমি তার সাথে তীর নিক্ষেপের প্রতিযোগিতা করে তাকে হারিয়ে দিলাম, তাই আমি তার চেয়ে ভালো নিক্ষেপ করি'।

চতুবর্ণীয় মূল ক্রিয়ার ওজনসমূহ এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ

চতুবর্ণীয় মূল ক্রিয়ার একটিই ওজন রয়েছে, আর তা হলো 'ফাল্লালা', যেমন- 'দাহরাজা-ইউদাহরিজু' (গড়ানো) এবং 'দারবখা-ইউদারবিখু'। এর অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু ক্রিয়া রয়েছে যা আরবরা একাধিক শব্দের সংমিশ্রণ থেকে তৈরি করেছে। এগুলো কেবল শ্রুতির ওপর নির্ভরশীল এবং এগুলোর ওপর ভিত্তি করে নতুন শব্দ গঠন করা যায় না। যেমন- 'বাসমালা' যখন কেউ বলে: বিসমিল্লাহ; 'হাওকালা' যখন কেউ বলে: লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ; এবং 'ত্বালবাকা' যখন কেউ বলে: আল্লাহ আপনার হায়াত বৃদ্ধি করুন।

--------------------------------------------

১. লোকটি 'দারবখা' করল (বিন্দুযুক্ত 'খা' বর্ণের সাথে): এর অর্থ হলো যখন সে তার পিঠ সোজা রেখে মাথা নিচু করল।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ودمْعَزَ إذا قال: أدام الله عزك، وجَعْفَل إذا قال: جعلني الله فداءك.

وملحقاته سبعة:

الأول: فعْلَلَ، كجلبَبَه: أى ألبسه الجلباب.

الثانى: فوْعل، كجوربه: أى ألبسه الجَوْرب.

الثالث: فعْوَل كرَهْوك في مِشيته: أي أسرع.

الر ابع: فَيْعَل كبَيْطَر، أى أصلح الدواب.

الخامس: فعْيَلَ، كشَرْيفَ الزرعَ. قطع شِرْيَافُه1.

السادس: فعْلى، كسَلقَى2: إذا استلقى على ظهره.

السابع: فعنَلَ كقلنسه: ألبسه القلنسوة.

والإلحاق: أن تزيد فى البناء زيادة، لتلحقه بآخرَ أكثر منه، فيتصرف تصرفه.

أوزان الثلاثيِّ المزيد فيه

الفعل الثلاثىّ المزيد فيه ثلاثة أقسام: ما زيد فيه حرف واحد، وما زيد فيه حرفان، وما زيد فيه ثلاثة أحرف. فغاية ما يبلغ الفعل بالزيادة ستة؛ بخلاف الاسم، فإنه يبلغ بالزيادة سبعة لِثقل الفعل، وخِفة الاسم، كما سيأتى فالذى زِيد فيه حرف واحد، يأتى على ثلاثة أوزان.

الأول: أفْعَلَ، كأكرم، وأولَى، وأعطى، وأقام، وآتى، وآمن، وأقرّ.

والثاني: فاعَلَ، كقاتل، وآخذ، ووالى.

الثالث: فَعَّلَ بالتضعيف، كفرَّح، وزكَّى، وَوَلَّى، وبَرَّأ. والذي زيد فيه حرفان يأتى على خمسة أوزان:

الأول: انفعَلَ، كانكسر، وانشقَّ، وانقاد، وانمحى.

الثانى: افتعلَ، كاجتمع، واشتق، واحتار، وادَّعى، واتَّصل، واتَّقى، واصطبر، واضطرب.

--------------------------------------------

1 قال في اللسان: "شَرنَفَ الزَّرعُ: إذا قُطِعَ شِرنافُه: والشِّرناف: ورق الزرع إذا كَثُر وطالَ وَخُشِيَ فسادهُ فَقُطِع".

قال الأزهري: وهي كلمة يمانية. ن

2 ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: "فانطلقا بي إلى ما بين المقام وزمزم فَسَلقاني على ظهري" أي: ألقياني على ظهري. لسان العرب. ن
'দমআজা' ব্যবহৃত হয় যখন কেউ বলে: "আল্লাহ আপনার সম্মান দীর্ঘস্থায়ী করুন", এবং 'জাফফালা' ব্যবহৃত হয় যখন কেউ বলে: "আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন।"

এর সাথে সংযুক্ত (মূলহাক) রূপ সাতটি:

প্রথম: ফাল্লালা, যেমন: জালবাবাহু; অর্থাৎ সে তাকে জিলবাব (চাদর) পরিয়েছে।

দ্বিতীয়: ফাওআলা, যেমন: জাওরাবাহু; অর্থাৎ সে তাকে মোজা পরিয়েছে।

তৃতীয়: ফাউয়ালা, যেমন: তার হাঁটার ক্ষেত্রে রাহওয়াকা; অর্থাৎ সে দ্রুত চলল।

চতুর্থ: ফাইআলা, যেমন: বাইতারা; অর্থাৎ সে চতুষ্পদ প্রাণীর চিকিৎসা বা পরিচর্যা করল।

পঞ্চম: ফায়লালা, যেমন: শারইয়াফায যারআ; অর্থাৎ সে শস্যের অতিরিক্ত পাতা কেটে ফেলল।১

ষষ্ঠ: ফা'লা, যেমন: সালকা;২ যখন সে পিঠের ওপর চিৎ হয়ে শুল।

সপ্তম: ফানআলা, যেমন: কালনাসাহু; অর্থাৎ সে তাকে টুপি পরিয়েছে।

আর ইলহাক (সংযুক্তকরণ) হলো: শব্দের মূল গঠনে এমন কিছু বৃদ্ধি করা, যাতে তাকে অন্য একটি অধিকতর অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের সমপর্যায়ে আনা যায় এবং সেটি সেই শব্দের মতো রূপান্তর লাভ করে।

সুলাসি মাজিদ ফিহ (অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ামূল)-এর ওজনসমূহ

সুলাসি মাজিদ ফিহ ক্রিয়া তিন প্রকার: যাতে একটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে দুটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং যাতে তিনটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে। অক্ষর বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি ক্রিয়া সর্বোচ্চ ছয় অক্ষর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে; বিশেষ্যের (ইসম) ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এটি বৃদ্ধির মাধ্যমে সাত অক্ষর পর্যন্ত হতে পারে। এর কারণ হলো ক্রিয়ার ভারী হওয়া এবং বিশেষ্যের হালকা হওয়া, যা সামনে বিস্তারিত আসবে। সুতরাং যেটিতে একটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে, তা তিনটি ওজনে আসে।

প্রথম: আফআলা, যেমন: আকরামা, আওলা, আ'তা, আকামা, আতা, আমানা এবং আকাররা।

দ্বিতীয়: ফাআলা, যেমন: কাতলা, আখাযা এবং ওয়ালা।

তৃতীয়: ফাউআলা দ্বিত্বকরণের মাধ্যমে, যেমন: ফাররাহা, যাক্কা, ওয়াল্লা এবং বাররা। আর যেটিতে দুটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে, তা পাঁচটি ওজনে আসে:

প্রথম: ইনফাআলা, যেমন: ইনকাসারা, ইনশাক্কা, ইনকাদা এবং ইনমাহা।

দ্বিতীয়: ইফতাআলা, যেমন: ইজতামাআ, ইশতাক্কা, ইহতারা, ইদ্দাআ, ইত্তাসলা, ইত্তাকা, ইসতাবারা এবং ইদতরাবা।

--------------------------------------------

১ 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "শারনাফায যারউ: যখন এর শারনাফ কাটা হয়। আর শারনাফ হলো শস্যের পাতা যখন তা প্রচুর ও লম্বা হয়ে যায় এবং নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করা হয় তখন তা কেটে ফেলা হয়।" আল-আযহারী বলেছেন: এটি ইয়ামেনী শব্দ। (ন)

২ এ থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "অতঃপর তারা আমাকে মাকাম ও যমযমের মধ্যবর্তী স্থানে নিয়ে গেলেন এবং আমাকে আমার পিঠের ওপর শোয়ালেন।" অর্থাৎ: তারা আমাকে আমার পিঠের ওপর স্থাপন করলেন। লিসানুল আরব। (ন)
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الثالث: افعَل كاحمرَّ، واصفرَّ، واعورَّ. وهذا الوزْن يكون غالبًا فى الألوان والعيوب؛ وندر فى غيرهما، نحو: ارْفَضّ عرَقًا، واخضلَّ الروضُ، ومنه ارْعَوَى.

الرابع: تفعَّل، كتعلَّم وتزكّى، ومنه اذّكر واطَّهَر.

الخامس: تَفاعَلَ كتباعَدَ وتشاوَرَ، ومنه تبارك وتعالى، وكذا اثَّاقل، وادَّاراك.

والذى زيد فيه ثلاثة أحرف يأتى على أربعة أوزان:

الأول: استفعلَ، كاستخرج، واستقام.

الثانى: افْعَوعَلَ، كاغدودَنَ الشعر: إذا طال، واعشوشب المكان: إذا كثر عُشْبه.

الثالث: افْعَالّ كاحمارَ واشهابّ: قَوِيَت حُمرته وشُهْبته.

الرابع: افْعَوَّلَ كاجلوَّد: إذا أسرع، واعلَوَّط: أى تعلق بعنق البعير فركبه.

أوزان الرباعيِّ المَزِيد فيه وملحقاته

ينقسم الرباعي المزيد إلى قسمين: ما زيد فيه حرف واحد، وما زيد فيه حرفان، فالذى زيد فيه حرف واحد، وزن واحد، وهو تفَعللَ كتدحرجَ. والذى زيد فيه حرفان وزنان:

الأول: افعنلَلَ، كاحرنجم.

والثاني: افعلَلَّ، كاقشعرّ، واطمأنَّ.

والملحق بما زيد فيه حرف واحد يأتى على ستة أوزان:

الأول: تفعلَلَ، كتجلبَب.

الثانى: تفعولَ، كترهوكَ.

الثالث: تُفَيْعَل، كتشيطَنَ.

الرابع: تَفَوْعَل، كتجوربَ.

الخامس: تَمَفْعَل، كتمسكنَ.
তৃতীয়: ইফআল্লা, যেমন ইহমাররা (লাল হওয়া), ইসফাররা (হলুদ হওয়া) এবং ই’ওয়াররা (একচোখা হওয়া)। এই ওজনটি সাধারণত রং এবং শারীরিক ত্রুটির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; আর এই দুটি বিষয় ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বিরল, যেমন: ইরফাদদা আরাকান (ঘামে ভিজে যাওয়া), আখদাল্লার রাওদু (বাগানটি সিক্ত হওয়া), আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ইরআওয়া (বিরত হওয়া)।

চতুর্থ: তাফাউল্লা, যেমন তাআল্লামা (শিক্ষা করা) এবং তাযাক্কা (পবিত্র হওয়া), আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ইযযাক্কারা (স্মরণ করা) এবং ইত্তাহহারা (পবিত্র হওয়া)।

পঞ্চম: তাফাআলা, যেমন তাবাআদা (পরস্পর দূরে সরে যাওয়া) এবং তাশাওয়ারা (পরস্পর পরামর্শ করা), আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাবারাকা ও তাআলা (তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ), এবং একইভাবে ইছছাকলা (ভারী হওয়া) এবং ইদ্দারা-কা (পরস্পর মিলিত হওয়া)।

আর যে শব্দে তিনটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে তা চারটি ওজনে আসে:

প্রথম: ইস্তাফআলা, যেমন ইস্তাখরাজা (বের করা) এবং ইস্তাকামা (দৃঢ় থাকা)।

দ্বিতীয়: ইফআওআলা, যেমন ইগদাউদানাশ শা’রু: যখন চুল লম্বা হয়, এবং ই’শাউশাবাল মাকানু: যখন সেই স্থানের ঘাস বৃদ্ধি পায়।

তৃতীয়: ইফআল্লা, যেমন ইহমারা এবং ইশহাব্বা: অর্থাৎ তার লাল বর্ণ বা ধূসর বর্ণ তীব্র হওয়া।

চতুর্থ: ইফআউওয়ালা, যেমন ইজলুউওয়াদা: যখন দ্রুত চলে, এবং ই’লাউওয়াতা: অর্থাৎ উটের গলার সাথে ঝুলে তাতে আরোহণ করা।

রুবায়ী মাজীদ ফিহি (চার অক্ষরবিশিষ্ট বর্ধিত রূপ) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট রূপগুলোর ওজনসমূহ

রুবায়ী মাজীদ দুই ভাগে বিভক্ত: যাতে একটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং যাতে দুটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে। যাতে একটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে তার ওজন একটিই, আর তা হলো তাফাল্লালা, যেমন তাদাহরাজা (গড়িয়ে পড়া)। আর যাতে দুটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে তার ওজন দুটি:

প্রথম: ইফআনলালা, যেমন ইহরানজামা (ভিড় করা)।

দ্বিতীয়: ইফআল্লাল্লা, যেমন ইকরাআররা (শিহরিত হওয়া) এবং ইতমান্না (প্রশান্ত হওয়া)।

আর এক অক্ষর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত শব্দের সাথে যা সংযুক্ত হয় তা ছয়টি ওজনে আসে:

প্রথম: তাফাল্লালা, যেমন তাজালবাবা (বড় চাদর পরিধান করা)।

দ্বিতীয়: তাফাউউলা, যেমন তারাওহাকা (মন্থর গতিতে চলা)।

তৃতীয়: তুফাইআলা, যেমন তাশাইতানা (শয়তানি করা)।

চতুর্থ: তাফাউআলা, যেমন তাজাওরাবা (মোজা পরিধান করা)।

পঞ্চম: তামা ফআলা, যেমন তামাসকানা (অসহায়ত্ব প্রকাশ করা)।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
السادس: تفَعَلَى، كتسلقى.

والملحق بما زيد فيه حرفان، وزنان:

الأول: افعنلَلَ، كاقعنسَسَ.

والثانى: افعنلَى، كاسلنقى.

والفرق بين وزْنَي احرنجم واقعنسس، أن اقْعَنْسَسَ إحدى لامه زائدة للإلحاق، بخلاف احرنجم، فإنهما فيه أصليتان.

تنبيهان

الأول: ظهر لك مما تقدم أن الفعل باعتبار مادته أربعة أقسام: ثُلاثي، ورُباعي، وخُماسي، وسُداسى وباعتبار هيئته الحاصلة من الحركات والسُّكنَات سبعةٌ وثلاثون بابًا.

الثانى: لا يلزم فى كل مجرَّد أن يُستَعمل له مَزِيدٌ، ولا فى كل مَزيد أن يُستعمل له مُجَرَّد، ولا في ما استُعْمِل فيه بعضُ المَزيدات، أن يُستعمل فيه البعضُ الآخر، بل المدار في كل ذلك السَّماع. ويُسْتثنى من ذلك الثلاثيُّ اللازمُ، فَتَطَّرِدُ، زيادةُ الهمزة فى أوله للتعدية، فيقال فى ذهب أذهب، وفى خرج أخرج.
ষষ্ঠ: তাফা‘আলা, যেমন—তাসালকা।

এবং যাতে দুটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয়েছে তার সাথে পরিশিষ্ট হিসেবে দুটি ওজন রয়েছে:

প্রথম: ইফ‘আনলালা, যেমন—ইক‘আনসাসা।

দ্বিতীয়: ইফ‘আনলা, যেমন—ইসলানকা।

ইহরানজামা এবং ইক‘আনসাসা—এই দুই ওজনের মধ্যে পার্থক্য হলো, ইক‘আনসাসা-এর শেষবর্ণদ্বয়ের একটি পরিশিষ্ট হিসেবে অতিরিক্ত, যা ইহরানজামা-এর বিপরীত; কারণ সেটিতে দুটি বর্ণই মূল।

দুটি দ্রষ্টব্য

প্রথম: পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আপনার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, ধাতুমূলের বিবেচনায় ক্রিয়া চার প্রকার: ত্রিপদী, চতুষ্পদী, পঞ্চপদী ও ষড়পদী। আর হরকত ও সুকুন থেকে উৎপন্ন কাঠামোর বিবেচনায় সাঁইত্রিশটি অধ্যায় রয়েছে।

দ্বিতীয়: প্রতিটি মূল ক্রিয়ার ক্ষেত্রে তার অতিরিক্ত রূপের ব্যবহার থাকা জরুরি নয়, আবার প্রতিটি অতিরিক্ত রূপের জন্য মূল রূপের ব্যবহার থাকাও আবশ্যক নয়। একইভাবে যেসব ক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত রূপের ব্যবহার রয়েছে, সেখানে অন্য রূপগুলোর ব্যবহার থাকাও আবশ্যক নয়; বরং এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো ভাষাগত শ্রুতি। তবে অকর্মক ত্রিপদী ক্রিয়া এর ব্যতিক্রম; সেক্ষেত্রে সকর্মক করার জন্য শুরুতে হামজা বৃদ্ধি করা একটি নিয়মিত নিয়ম। যেমন—‘জাহাবা’ থেকে বলা হয় ‘আজহাবা’, এবং ‘খারাজা’ থেকে বলা হয় ‘আখরাজা’।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌فصل فى معانى صيغ الزوائد

‌‌1- أفْعَلَ

تأتى لعدَّة معان:

الأول: التَّعدية، وهي تصييرُ الفاعِ بالهمزةِ مفعولاً، كأقمتُ زيداً، وأقعدتُه، وأقرأته. الأصل: قام زيد وقعد وقرأ، فلما دخلت عليه الهمزة صار زيد مُقاما مُقْعَدًا مُقْرَأ، فإذا كان الفعل لازمًا بها متعديًا لواحد، وإذا كان متعدياً لواحد صار بها متعدياً لاثنين وإذا كان متعديًا لاثنين، صار بها متعديًا لثلاثة. ولم يُوجد في اللغة ما هو متعد لاثنين، صار بالهمزة متعديًا لثلاثة، إلاّ رَأى وَعَلِم، كرأى وعلم زيدٌ بكراً قائمًا، تقول: أريتُ أو أعلمتُ زيدًا بكرًا قائمًا.
অতিরিক্ত অক্ষরবিশিষ্ট রূপসমূহের অর্থ প্রসঙ্গে একটি পরিচ্ছেদ

১- আফ'আলা

এটি বেশ কিছু অর্থের জন্য আসে:

প্রথমত: তা'দিয়া (সকর্মককরণ), আর তা হলো হামযাহ-এর মাধ্যমে কর্তাকে কর্মে রূপান্তরিত করা। যেমন: আমি যায়েদকে দণ্ডায়মান করলাম, আমি তাকে বসালাম এবং আমি তাকে পাঠ করালাম। এর মূল রূপ ছিল: যায়েদ দণ্ডায়মান হলো, সে বসলো এবং সে পাঠ করলো। অতঃপর যখন তাতে হামযাহ প্রবেশ করলো, তখন যায়েদ দণ্ডায়মানকৃত, উপবিষ্টকৃত এবং পাঠকৃত ব্যক্তিতে পরিণত হলো। সুতরাং ক্রিয়াটি যদি অকর্মক হয়, তবে এর মাধ্যমে তা এক-কর্মক হয়ে যায়; আর যদি তা এক-কর্মক হয়, তবে এর মাধ্যমে তা দ্বি-কর্মক হয়ে যায়; আর যদি তা দ্বি-কর্মক হয়, তবে এর মাধ্যমে তা ত্রি-কর্মক হয়ে যায়। আর আরবী ভাষায় এমন কোনো ক্রিয়া পাওয়া যায় না যা মূলে দ্বি-কর্মক এবং হামযাহ যোগে ত্রি-কর্মক হয়েছে, 'রাআ' (দেখা) এবং 'আলিমা' (জানা) ব্যতীত। যেমন: যায়েদ বকরকে দণ্ডায়মান দেখলো বা জানলো; আপনি বলবেন: আমি যায়েদকে দেখালাম বা জানালাম যে বকর দণ্ডায়মান।
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الثاني: صيروة شيءٍ ذا شيءٍ، كألبنَ الرجلُ وأتمَر وأفلسَ: صار ذا لبَن وتمْر وفُلُوس.

الثالث: الدخول في شيء، مكانًا كان أو زمانًا، كأشأم وأعرقَ وأصبحَ وأمسى، أى دخل فى الشأم، والعراق، والصباح، والمساء.

الرابع: السَّلْب والإزالة، كأقذيتُ عينَ فلان، وأعجمتُ الكتابَ: أى أزلتُ القذَى عن عينه، وأزلت عجمةَ الكتاب بنقطِه.

الخامس: مصادفة الشيء على صفة، كأحمدتُ زيدًا: وأكرمتُه، وأبخلتُه، أي صادفته محمودًا، أو كريمًا، أو بخيلاً.

السادس: الاستحقاق، كأحصَدَ الزرع، وأزْوَجَتْ هند، أى استحق الزرع الحَصاد، وهند الزَّواج.

السابع: التعريض، كأرهنت المتاع وأبَعْتُهُ: أى عرّضته للرهن والبيع.

الثامن: أن يكون استفعل، كأعظمته: أى استعظمته.

التاسع: أن يكون مطاوعًا لفعّل بالتشديد، نحو: فطَّرته فأفطر وبشَّرته فأبشر.

العاشر: التمكين، كأحفرته النهرَ: أى مكنته من حَفْره.

وربما جاء المهموز كاصله، كسَرَى وأسْرَى، أو أعنى عن أصله لعدم وروده، كأفلح: أي فاز. وندر مجيء الفعل متعديًا بلا همزة، ولازمًا بها، كَنَسلْتُ ريشَ الطائر، وأنسلَ الريشُ، وعرَضْتُ الشيء: أظهرته، وأعرض الشيءُ: ظهر، وكَبْبتُ زيدًا على وجهه، وأكبَّ زيد على وجهه، وقَشَعتِ الريحُ السحاب، وأقشعَ السحابُ قال الشاعر:

كما أبْرَقَت قوْمًا عِطاشًا غَمامةٌ … فلما رأوها أقْشَعَتْ وَتَجلَّتْ وتَجلَّتِ

‌‌2- فَاعَلَ

يكثر استعماله في معنين، أحدهما: التشارُك بين اثنين فأكثر، وهو أن يفعل أحدهما
দ্বিতীয়: কোনো কিছুর অধিকারী হওয়া। যেমন: ‘আলাবানা’ (সে দুধের অধিকারী হয়েছে), ‘আতমারা’ (সে খেজুরের অধিকারী হয়েছে) এবং ‘আফলাসা’ (সে মুদ্রার অধিকারী হয়েছে/নিঃস্ব হয়েছে)।

তৃতীয়: কোনো স্থান বা কালে প্রবেশ করা। যেমন: ‘আশআমা’, ‘আ’রাকা’, ‘আসুবাহা’ এবং ‘আমসা’; অর্থাৎ সে সিরিয়ায়, ইরাকে, সকালে এবং সন্ধ্যায় প্রবেশ করেছে।

চতুর্থ: রহিতকরণ ও অপসারণ করা। যেমন: ‘আকযাইতু আইনা ফুলান’ (আমি অমুকের চোখ থেকে ময়লা দূর করেছি) এবং ‘আ’জামতুল কিতাবা’ (আমি কিতাবের জড়তা তথা অস্পষ্টতা নুকতা প্রদানের মাধ্যমে দূর করেছি)।

পঞ্চম: কোনো বস্তুকে কোনো নির্দিষ্ট গুণে গুণান্বিত অবস্থায় পাওয়া। যেমন: ‘আহমাদতু যাইদান’, ‘আকরায়তুহু’ এবং ‘আবখালতুহু’; অর্থাৎ আমি তাকে প্রশংসিত, দয়ালু অথবা কৃপণ হিসেবে পেয়েছি।

ষষ্ঠ: যোগ্য বা উপযোগী হওয়া। যেমন: ‘আহসাদায যারউ’ এবং ‘আযওয়াজাত হিন্দা’; অর্থাৎ ফসল কাটার উপযোগী হয়েছে এবং হিন্দা বিবাহের যোগ্য হয়েছে।

সপ্তম: উপস্থাপন করা বা সম্মুখীন করা। যেমন: ‘আরাহান্তুল মাতাআ’ এবং ‘আবা’তুহু’; অর্থাৎ আমি পণ্যটি বন্ধক ও বিক্রয়ের জন্য পেশ করেছি।

অষ্টম: ‘ইস্তাফ’আলা’ এর অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। যেমন: ‘আ’যামতুহু’; অর্থাৎ আমি তাকে মহান মনে করেছি।

নবম: তাশদীদযুক্ত ‘ফা’আলা’ এর অনুগামী (মুতাবি’) হওয়া। যেমন: ‘ফাত্তারতুহু ফা-আফতারা’ (আমি তাকে ইফতার করালাম ফলে সে ইফতার করল) এবং ‘বাশশারতুহু ফা-আবশারা’ (আমি তাকে সুসংবাদ দিলাম ফলে সে আনন্দিত হলো)।

দশম: সামর্থ্য প্রদান করা। যেমন: ‘আহফারতুহুন্নাহরা’; অর্থাৎ আমি তাকে নদীটি খনন করার সামর্থ্য দিয়েছি।

কখনো কখনো এই হামযাহযুক্ত রূপটি তার মূল রূপের (সুলাসী মুজাররাদ) ন্যায় অর্থ প্রদান করে। যেমন: ‘সারা’ ও ‘আসরা’। অথবা মূল রূপের ব্যবহার না থাকার কারণে এটিই তার স্থলাভিষিক্ত হয়। যেমন: ‘আফলাহা’ অর্থাৎ সে সফল হয়েছে। বিরল ক্ষেত্রে ক্রিয়াটি হামযাহ ছাড়া সকর্মক (মুতা’আদ্দী) এবং হামযাহ যোগে অকর্মক (লাযিম) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ‘নাসালতু রিশাত তাইর’ (আমি পাখির পালক উপড়েছি), পক্ষান্তরে ‘আনসালার রিশু’ (পালক ঝরে গেছে)। ‘আরাযতুশ শাইআ’ (আমি বস্তুটি প্রকাশ করেছি), পক্ষান্তরে ‘আ’রাযাশ শাইউ’ (বস্তুটি প্রকাশিত হয়েছে)। ‘কাবাবতু যাইদান আলা ওয়াজহিহি’ (আমি যায়েদকে উপুড় করে ফেলে দিয়েছি), পক্ষান্তরে ‘আকাব্বা যাইদুন আলা ওয়াজহিহি’ (যায়েদ উপুড় হয়ে পড়ে গেছে)। ‘কাশা’আতির রীহুস সাহাবা’ (বাতাস মেঘমালাকে সরিয়ে দিয়েছে), পক্ষান্তরে ‘আকশা’আস সাহাবু’ (মেঘমালা অপসারিত হয়েছে)। কবি বলেছেন:

যেমন পিপাসার্ত এক কওমকে মেঘমালা বিদ্যুৎ চমকিয়ে আশা দেখাল, … অতঃপর যখন তারা তা দেখল, তখন তা অপসারিত হয়ে গেল এবং আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেল।

‌‌২- ফা’আলা

এটি সাধারণত দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। তার একটি হলো: দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে অংশীদারিত্ব প্রকাশ করা; আর তা হলো তাদের একজনের কোনো কাজ করা...
(খণ্ড: ১) শাযাল উরফ ফী ফাননিস সারফ (পৃষ্ঠা: ৩১)
بصاحبه فعلاً، فيقابله الآخر بمثله، وحينئذ فيُنْسَب للبادئ نسبة الفاعلية، وللمقابل نسبة المفعولية. فإذا كان أصل الفعل لازمًا صار بهذه الصيغة متعديًا، نحو ماشيته، والأصل مَشَيْت ومشى. وفى هذه الصيغة معنى المغالبة، ويُدَلُّ على غَلبَة أحدهما، بصيغة فَعَل من باب نَصرَ مالم يكن وَاوِىَّ الفاء، أو يائىّ العين أو اللام، فإِنه يَدُلُّ على الغلبة من باب ضرَب كما تقدم، ومتى كان فعلل للدلالة على الغلبة كان معتديًا، وإن كان أصله لازمًا، وكان من باب نصر أو ضرب على ما تقدم من أىّ باب كان.

وثانيهما: المُوالاة، فيكون بمعنى أفعل المتعدي، كواليت الصوم وتابعته، بمعنى أوليتُ، وأتبعتُ، بعضَه بعضًا.

وربما كان بمعنى فعَّل المضعف للتكثير، كضاعفت الشيء وضعَّفته، وبمعنى فَعَلَ، كدافع ودَفع، وسافر وسفَر، وربما كانت المفاعلة بتنزيل غير الفعل منزلته، كيُخادعون الله، جعلت معاملتهم لله بما انطوت عليه نفوسهم من إخفاء الكفر، وإظهار الإسلام، ومجازاته لهم، مخادعة.

‌‌3- فَعَّلَ

يكثر استعمالها فى ثمانيةٍ معانٍ، تُشارك أفْعَلَ فى اثنين منها، وَهُما التعدية، كقوَّمت زيدا وقعَّدته، والإزالة كجَرَّبتُ البعيرَ وقشَّرْتُ الفاكهة، أى أزلت جَرَبَه، وأزلت قشره.

وتنفرد بستة:

أولها: التكثير فى الفعل، كجُوَّل، وطوَّف: أكثر الجَوَلان والطَّوفان، أو في المفعول، كغلَّقَتِ الأبواب، أو فى الفاعل، كموّتَتِ الإبلُ وبرَّكَتْ.

وثانيها: صيروة شيءٍ شبه شيءٍ، كقوَّس زيدٌ وحجَّر الطين: أى صار شبه القوس في الانحناء، والحجر في الجمود.

وثالثهما: نسبة الشيء إلي أصل الفعل، كفسَّقْت زبدًا، أو كفَّرته1: نسبته إلى

--------------------------------------------

1 ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: "إذا كَفَّر الرَّجُلُ أخاه فَقَد باءَ بهما أحَدُهما" رواه مسلم عن ابن عمر رضي الله عنه. ن.
অন্যজনের সাথে কোনো কাজ করা বুঝায়, ফলে অপরজনও অনুরূপভাবে তার মোকাবিলা করে। এমতাবস্থায় প্রথম ব্যক্তিকে কর্তার দিকে এবং দ্বিতীয় ব্যক্তিকে কর্মের দিকে সম্বন্ধ করা হয়। যদি ক্রিয়াটি মূলত অকর্মক হয়, তবে এই রূপের মাধ্যমে তা সকর্মক হয়ে যায়। যেমন: 'মাশাইতুহু' (আমি তার সাথে হাঁটলাম), যার মূল হলো 'মাশাইতু' ও 'মাশা' (আমি হাঁটলাম ও সে হাঁটল)। এই রূপের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের অর্থও থাকে। এর মাধ্যমে একজনের ওপর অন্যজনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা হয়। এটি 'নাসারা' অধ্যায় থেকে আসে যদি তার প্রথম বর্ণ 'ওয়াও' অথবা মধ্য বা শেষ বর্ণ 'ইয়া' না হয়। অন্যথায় এটি 'দারাবা' অধ্যায় থেকে শ্রেষ্ঠত্বের অর্থ প্রদান করে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। যখন এটি শ্রেষ্ঠত্ব বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয় তখন তা সকর্মক হয়, যদিও তার মূল অকর্মক ছিল। এটি 'নাসারা' বা 'দারাবা' যে অধ্যায় থেকেই হোক না কেন।

দ্বিতীয়ত: পারম্পর্য বা ধারাবাহিকতা। এটি তখন সকর্মক 'আফআলা' এর অর্থ প্রদান করে। যেমন: 'ওয়ালাইতুস সাওমা' (আমি একাধারে রোজা রাখলাম) এবং 'তাবা'তুহু', যার অর্থ হলো আমি একটার পর একটা ধারাবাহিকভাবে করলাম।

কখনো কখনো এটি আতিশয্য বুঝাতে দ্বিত্ব করা 'ফাউআলা' এর অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'দাআফতুশ শাইয়া' (আমি বস্তুর আতিশয্য করলাম)। আবার কখনো 'ফায়ালা' (সাধারণ ক্রিয়া) এর অর্থেও আসে, যেমন: 'দাফায়া' ও 'দাফা' (সে প্রতিহত করল), 'সাফারা' ও 'সাফারা' (সে সফর করল)। কখনো কখনো কোনো কাজ না হওয়া সত্ত্বেও তাকে কাজের স্থলাভিষিক্ত করা হয়, যেমন: 'তারা আল্লাহকে প্রতারিত করতে চায়'। এখানে তাদের অন্তরে কুফর গোপন রাখা এবং ইসলাম প্রকাশ করার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে তাদের আচরণ এবং এর বিপরীতে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রতিফল প্রদান করাকে 'প্রতারণা' হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

‌‌৩- ফাউআলা

এটি প্রধানত আটটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে দু'টি অর্থে এটি 'আফআলা' এর সাথে শরিক হয়। যথা: সকর্মক করা, যেমন: 'কাউওয়ামতু জাইদান' (আমি জায়েদকে দাঁড়া করালাম) ও 'কাআদতুহু' (আমি তাকে বসালাম); এবং দূর করা, যেমন: 'জাররাবতুল বাইরা' (আমি উটের চর্মরোগ দূর করলাম) ও 'কাশশারতুল ফাকিহাতা' (আমি ফলের খোসা ছাড়ালাম)। অর্থাৎ আমি তার চর্মরোগ ও খোসা দূর করলাম।

এটি এককভাবে ছয়টি অর্থ প্রদান করে:

প্রথমত: কাজের মধ্যে আতিশয্য বা আধিক্য, যেমন: 'জুউয়ালা' ও 'তাউয়াফা' (সে প্রচুর ঘোরাঘুরি ও তাওয়াফ করল)। অথবা কর্মের মধ্যে আধিক্য, যেমন: 'গাল্লাকাতিল আবওয়াব' (সে সব দরজা বন্ধ করে দিল)। অথবা কর্তার মধ্যে আধিক্য, যেমন: 'মাউওয়াতাতিল ইবিলু' (উটগুলো একে একে মারা গেল) এবং 'বাররাকাত' (উটগুলো হাঁটু গেড়ে বসল)।

দ্বিতীয়ত: কোনো বস্তু অন্য বস্তুর সদৃশ হওয়া, যেমন: 'কাউওয়াসা জাইদুন' (জায়েদ ধনুকের মতো বেঁকে গেল) এবং 'হাজ্জারিত ত্বীন' (মাটি পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল)। অর্থাৎ বাঁকানোর ক্ষেত্রে ধনুকের মতো এবং কঠোরতার ক্ষেত্রে পাথরের মতো হয়ে গেল।

তৃতীয়ত: কোনো কিছুকে মূল ক্রিয়ার দিকে সম্বন্ধ করা, যেমন: 'ফাসসাকতু জাইদান' (আমি জায়েদকে পাপাচারী সাব্যস্ত করলাম) অথবা 'কাফফারতুহু': আমি তাকে কাফিরের দিকে সম্বন্ধ করলাম।

--------------------------------------------

১. এরই অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যখন কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে কাফির বলে, তখন তাদের একজনের ওপর তা আপতিত হয়।" ইমাম মুসলিম ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।