(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: -)
شبهات القرآنيين القسم: كتب عامة
الكتاب: شبهات القرآنيين
المؤلف: عثمان بن معلم محمود بن شيخ علي
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 68
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআনপন্থীদের সংশয়সমূহ বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: কুরআনপন্থীদের সংশয়সমূহ
লেখক: উসমান বিন মুয়াল্লিম মাহমুদ বিন শেখ আলী
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد، فإن أصدق الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، ثم إن الله رضي لنا الإسلام ديناً وأتم علينا النعمة بكتابه الداعي إلى اتباع رسوله محمد وطاعته وتعزيره وتوقيره، وأخذ ما أتى به والانتهاء عما عنه نهى، ولا يقبل الله دعوى من ادعى محبته سبحانه حتى يتبع نبيه محمداً صلى الله عليه وسلم، وجعل طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم طاعته، وضمن الهداية لمن أطاعه صلى الله عليه وسلم.
تصديق ذلك في الآيات الآتية:
قال تعالى: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} (الأعراف: 158) .
وقال سبحانه: {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ} (آل عمران: 32) .
وقال جلّ وعلا: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ} (محمد: 33) .
وقال عز من قائل: {إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِداً وَمُبَشِّراً وَنَذِيراً لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ} (الفتح: 8 و 9) .
ভূমিকা:নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য হাদিস হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-উদ্ভাবিত বিষয় (محدثات), এবং প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা। এরপর কথা হলো, আল্লাহ আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন এবং তাঁর কিতাবের মাধ্যমে আমাদের ওপর নেয়ামত পূর্ণ করেছেন, যা তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ, তাঁর আনুগত্য, তাঁকে সাহায্য করা ও সম্মান করার এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করার ও যা থেকে তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এমন কোনো ব্যক্তির ভালোবাসার দাবি গ্রহণ করেন না যে তাঁর ভালোবাসা দাবি করে অথচ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ করে না। তিনি রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্যকে তাঁর নিজেরই আনুগত্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং যে ব্যক্তি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্য করবে তার জন্য হেদায়াতের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
এর সত্যতা নিচের আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে:
আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর সেই রাসূল, যাঁর রয়েছে আসমান ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর ওপর এবং তাঁর রাসূল উম্মি নবীর ওপর, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের ওপর ঈমান রাখেন; এবং তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, যাতে তোমরা হেদায়াত প্রাপ্ত হও।} (আল-আরাফ: ১৫৮)।
তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের ভালোবাসেন না।} (আল-ইমরান: ৩২)।
তিনি জাল্লা ওয়া আলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না।} (মুহাম্মদ: ৩৩)।
তিনি আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে; যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো এবং তাঁকে সাহায্য করো ও সম্মান করো।} (আল-ফাতহ: ৮ ও ৯)।
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২)
وقال سبحانه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (الحشر: 7) .
وقال تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} (آل عمران:31) .
وقال سبحانه: {وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا} (النور: 54) .
وحثّ الرسول صلى الله عليه وسلم على الاعتصام بسنته بعد وفاته فقال: "إنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافاً كثيراً فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين عضّوا عليها بالنواجذ" وحذّر من الابتداع الذي من هجر سنته فقال بعد الكلمات السابقة: "وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة" (1) كما أخبر بالمترفين الذين يأتون بعده فيأبون من سنته فقال: "لا ألفين أحدكم متكئاً على أريكته يأتيه الأمر من أمري مما أمرت به أو نهيت عنه فيقول: لا أدري ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه" (2) .
فقد أخبر الله نبيه بما سيقع في أمته، فوقع كما أخبر دليلاً على نبوته ورسالته، وقد طابق خبره المخبر، وتتابعت الفرق الضالة على ردّ سنته وإلغاء حكمه من مقلّ ومستكثر من القرن الأول إلى اليوم.
ومن تلك الفرق المارقة الجماعة التي اتخذت " أهل القرآن " اسماً لها،
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} (আল-হাশর: ৭) ।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।} (আলে ইমরান: ৩১) ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো তবেই তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হবে।} (আন-নূর: ৫৪) ।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ওফাতের পর তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমরা আমার সুন্নাহ এবং সুপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরবে এবং তা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরে রাখবে।" তিনি তাঁর সুন্নাহ বর্জনকারী নতুন উদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত) সম্পর্কে সতর্ক করে পূর্বোক্ত কথাগুলোর পরেই বলেন: "আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয় থেকে বেঁচে থাকো; কারণ প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই হচ্ছে বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হচ্ছে পথভ্রষ্টতা (ضلالة)।" (১) একইভাবে তিনি সেই বিলাসপ্রিয় ব্যক্তিদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যারা তাঁর পরে আসবে এবং তাঁর সুন্নাহকে অস্বীকার করবে। তিনি বলেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার সুশোভিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, আর তার কাছে আমার আদেশ বা নিষেধ সম্বলিত কোনো বিষয় পৌঁছালে সে বলবে: 'আমি জানি না, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি শুধু তারই অনুসরণ করি'।" (২) ।
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে তাঁর উম্মতের মধ্যে যা ঘটবে সে সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। সুতরাং তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাতের প্রমাণস্বরূপ তা ঠিক সেভাবেই ঘটেছে যেভাবে তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন। তাঁর সংবাদ বাস্তবের সাথে হুবহু মিলে গিয়েছে। প্রথম শতাব্দী থেকে আজ অবধি পথভ্রষ্ট দলগুলো তাঁর সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করতে এবং এর বিধানকে বাতিল করতে একের পর এক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে—চাই তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি।
সেই বিচ্যুত দলগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ওই গোষ্ঠী, যারা নিজেদের নাম দিয়েছে "আহলে কুরআন"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৩)
وحلّت نفسها بحليته وهي عاطلة منه.
كان نشوءها في الربع الأول من القرن الرابع عشر الهجري في شبه القارة الهندية على يد زمرة من أبناء تلك البقعة التي تفرّعت فيما بعد إلى ثلاث دول.
وكان هؤلاء المؤسسون ممن تأثروا بالفكر الغربي ورأوا في التمسك بالسنة عائقاً عن التقدم ومضعفاً للجامعة الإسلامية وتنفيذاً لمؤامرة أعجمية، فجاءوا بما لم يأت به من سبقهم من أهل الضلال، فأنكروا حجية السنة كلياً وعدُّوا اتباعها شركاً ولم يفرّقوا بين متواترة مجمع عليها وغير ذلك بل سلكوا مسلكاً واحداً وهو الردّ والدفع، وقاموا بتأليف الجمعيات وإصدار الكتب والرسائل والمجلات في الصدّ عنها وإثارة الشبه في وجهها، فأقام الله لدفعهم من شاء من أهل العلم فصنّفوا الكتب والرسائل وأصدروا الفتاوى في تكفيرهم والتحذير منهم، وكان ممن انتبه لخطرهم مبكراً العلامة عبد العزيز بن عبد الله بن باز – رحمه الله – فأصدر منذ أربعين سنة تقريباً فتوى في تكفير زعيمهم الأخير اللاهوري النشط غلام أحمد برويز (1) ونُشرت الفتوى في الصحف السعودية في وقتها مما يدلّ على إسهام علماء هذا البلد في درء فتنة إنكار السنة وتحصين الأمة من سمومها وصيانة القرآن الكريم من عبث العابثين وتحريف المارقين الذين ضلّ سعيهم في الحياة الدنيا وهم يحسبون أنهم يحسنون صنعاً.
ولما كان خطرهم مستمراً ولم ينفكوا يدعون الناس إلى ضلالهم ولم
--------------------------------------------
এটি নিজেকে তার অলঙ্কারে সজ্জিত করেছে, অথচ এটি তা থেকে শূন্য।
এর উদ্ভব হয়েছিল চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশে ভারতীয় উপমহাদেশে, সেই ভূখণ্ডের একদল সন্তানের হাতে যা পরবর্তীতে তিনটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়েছে।
এই প্রতিষ্ঠাতারা ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা পশ্চিমা চিন্তাধারায় প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরাকে অগ্রগতির পথে অন্তরায়, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য দুর্বলতা এবং এক অনারব ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ন হিসেবে দেখেছিলেন। ফলে তারা এমন কিছু নিয়ে এসেছিলেন যা তাদের পূর্ববর্তী পথভ্রষ্টদের কেউ আনেনি। তারা সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন এবং এর অনুসরণ করাকে শিরক গণ্য করেন। তারা সর্বসম্মত (مجمع عليها) মুতাওয়াতির (متواترة) এবং এর বাইরের বর্ণনাগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি, বরং প্রত্যাখ্যান ও প্রতিহত করার একটি অভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন। তারা সুন্নাহ থেকে মানুষকে বিরত রাখতে এবং এর বিরুদ্ধে সংশয় উসকে দিতে বিভিন্ন সংগঠন গড়ে তোলেন এবং বইপত্র, গবেষণাপত্র ও ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন। আল্লাহ তাদের প্রতিহত করার জন্য একদল আলেমকে নিয়োজিত করেন, যারা তাদের কুফরি সাব্যস্ত করে এবং তাদের ব্যাপারে সতর্ক করে বিভিন্ন কিতাব ও রিসালা রচনা করেন এবং ফতোয়া প্রদান করেন। তাদের বিপদের কথা যারা শুরুর দিকেই উপলব্ধি করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি প্রায় চল্লিশ বছর আগে তাদের শেষ সক্রিয় লাহোরি নেতা গোলাম আহমদ পারভেজের কুফরি সম্পর্কে একটি ফতোয়া দিয়েছিলেন। সেই সময়ে সৌদি সংবাদপত্রে এই ফতোয়া প্রকাশিত হয়েছিল, যা সুন্নাহ অস্বীকারের ফিতনা দূর করতে এবং উম্মাহকে এর বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা করতে এবং যারা পার্থিব জীবনে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে অথচ মনে করছে তারা ভালো কাজ করছে, সেই বিকৃতি (تحريف) সাধনকারী ও লক্ষ্যচ্যুতদের হাত থেকে পবিত্র কুরআনকে সুরক্ষিত রাখতে এই দেশের আলেমদের অবদানের প্রমাণ দেয়।
যেহেতু তাদের বিপদ অব্যাহত ছিল এবং তারা মানুষকে তাদের ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করা থেকে বিরত হয়নি এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৪)
يبرح بعض الناس ينخدع بهم أحببت أن أشارك في التحذير منهم لعلّ الله ينفع بما كتبت من شاء من عباده فيتقوا حيل منكري السنة فلا يقعوا في حبائلهم أو يغتروا بمعسول كلامهم.
ولا يفهمن أحد من تسمية هذه الفرقة بالقرآنيين أنه مدح لهم أو تعبير عن شدّة تمسكهم بالقرآن، كلاّ، بل الواقع أن هذه التسمية آتية لهم من حيث إنهم تنكروا للقرآن ورفضوا ما ثبت فيه من اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم وطاعته مما نشأ عنه ضلال كبير في تطبيق الأوامر القرآنية فخرجوا بذلك عن جماعة المسلمين، فسمّوا قرآنيين من ذلك الجانب.
وهذا له نظير في تسمية فرقة القدرية إذ سُموا بذلك لا لأنهم أثبتوا القدر وسلّموا له، ولكن من حيث إنهم أنكروه ونفوه (1) .
وليس فيما سوّدت هذه العصابة أثارة من علم، أو بقية من بحث، فإن العلم إما نقل مصدّق، أو بحث محقق، وما سوى ذلك فهذيان مزوّق.
وإنما سلكوا فيما سوّدوا من صحائف مسالك السفهاء المارقين والزنادقة الملحدين، ولم تكن ضلالاتهم عن شبهات مؤثرة أو إيرادات محيّرة، وإنما كانت عماياتهم من جرّاء وساوس شيطانية وأهواء نفسية أو عمالات استعمارية (2) .
فاستعنت الله على ردّ باطلهم، وأدرت البحث على مقدمة وفصلين، أما
--------------------------------------------
যেহেতু কিছু মানুষ নিরন্তর তাদের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে, তাই আমি তাদের ব্যাপারে সতর্ক করার কাজে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছি; যাতে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এই লেখার মাধ্যমে উপকৃত করেন, ফলে তারা সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের অপকৌশল থেকে বেঁচে থাকতে পারে এবং তাদের জালে আটকা না পড়ে কিংবা তাদের মিষ্টিকথায় বিভ্রান্ত না হয়।
এই দলটিকে 'কুরআনি' নামকরণ করা থেকে কেউ যেন এমনটি না বোঝেন যে, এটি তাদের কোনো প্রশংসা অথবা কুরআনের প্রতি তাদের গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ; বরং প্রকৃত বাস্তবতা হলো, এই নামকরণ তাদের জন্য এই দিক থেকে প্রযোজ্য হয়েছে যে, তারা কুরআনকে অবজ্ঞা করেছে এবং রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ ও তাঁর আনুগত্য সম্পর্কে কুরআনে যা সুসাব্যস্ত হয়েছে, তা তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। এর ফলে কুরআনি নির্দেশনাসমূহ প্রয়োগের ক্ষেত্রে এক বিরাট বিভ্রান্তি (ضلال) সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে তারা মুসলিম উম্মাহর মূলধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। মূলত এই প্রেক্ষাপট থেকেই তাদেরকে 'কুরআনি' বলা হয়।
এর একটি সাদৃশ্য পাওয়া যায় ‘কাদারিয়া’ ফিরকার নামকরণের মধ্যে। তাদেরকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে এজন্য নয় যে, তারা তাকদিরকে সাব্যস্ত করেছে এবং তার সামনে আত্মসমর্পণ করেছে; বরং এই কারণে যে, তারা তাকদিরকে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করেছে (১)।
এই দলটি যা কিছু লিখেছে তাতে ইলমের কোনো লেশমাত্র নেই, কিংবা গবেষণার কোনো অবশিষ্টাংশ নেই। কেননা ইলম হলো হয় নির্ভরযোগ্য বর্ণনা (نقل), অথবা যাচাইকৃত গবেষণা (بحث محقق); এছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা কেবল সুসজ্জিত প্রলাপ মাত্র।
তারা তাদের লিখিত বিষয়গুলোতে মূর্খ ধর্মত্যাগী ও নাস্তিক যিন্দিকদের পথ অনুসরণ করেছে। তাদের এই পথভ্রষ্টতা (ضلالات) কোনো প্রভাবশালী সংশয় (شبهات) বা বিভ্রান্তিকর আপত্তির কারণে সৃষ্টি হয়নি; বরং তাদের এই অন্ধত্ব ছিল কেবল শয়তানি কুমন্ত্রণা, আত্মপূজা অথবা ঔপনিবেশিক দালালি ও গোলামির ফলশ্রুতি (২)।
তাই তাদের বাতিল (باطل) মতবাদ খণ্ডন করার জন্য আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা ও দুটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি। যথা—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمة فهذه قد أوشكت على الانتهاء.
وأما الفصل الأول ففي ثلاثة مباحث
المبحث الأول في ضرورة اعتماد السنة لسلامة فهم القرآن.
المبحث الثاني في إبراز شيء من دفاع أهل العلم عن السنة.
المبحث الثالث في حكم منكر السنة.
الفصل الثاني في شبه فرقة القرآنيين منكري السنة في شبه القارة الهندية والرد عليها، وهي ثماني شبه.
وكلّ ما نقلته من شبهات القرآنيين فعن " القرآنيون وشبهاتهم حول السنة " أخذته، وما سوى ذلك فقد حرصت على أن أرجع إلى المصادر الأصيلة.
فما كان في بحثي من صواب فمن الله وحده هو المانّ به، وما كان فيه من خطإ فمنّي ومن الشيطان، والله ورسوله بريئان منه.
ভূমিকা, এটি প্রায় সমাপ্তির পথে।
আর প্রথম অধ্যায়টি তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত।
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের সঠিক উপলব্ধির ক্ষেত্রে সুন্নাহর (السنة) ওপর নির্ভর করার প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ (السنة) রক্ষায় আলেমদের প্রতিরোধের কিয়দাংশ তুলে ধরা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ (السنة) অস্বীকারকারীর বিধান (حكم) প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ভারতীয় উপমহাদেশে সুন্নাহ (السنة) অস্বীকারকারী ‘কুরআনি’ সম্প্রদায়ের সংশয়সমূহ এবং সেগুলোর খণ্ডন প্রসঙ্গে; যা মোট আটটি সংশয়।
কুরআনিদের পক্ষ থেকে আমি যেসকল সংশয় উদ্ধৃত করেছি, তা ‘আল-কুরআনিউন ওয়া শুবুহাতুহুম হাওলাস সুন্নাহ’ গ্রন্থ থেকে গ্রহণ করেছি। এ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে আমি মূল উৎসগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম।
আমার এই গবেষণায় যা কিছু সঠিক হয়েছে, তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে—তিনিই অনুগ্রহকারী। আর যা কিছু ভুল হয়েছে, তা আমার এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত।
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৬)
الفصل الأول:
المبحث الأول: ضرورة اعتماد السنة لسلامة فهم القرآنأنزل الله القرآن تبياناً ((لكل شيء من أمور الدين إما بالنص عليه أو بالإحالة على ما يوجب العلم؛ مثل بيان رسول الله صلى الله عليه وسلم أو إجماع المسلمين)) .
هكذا فسّر ابن الجوزي (1) قوله تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَاناً لِكُلِّ شَيْءٍ} (النحل: 89) . ونسبه إلى العلماء بالمعاني.
وقال تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} يُعنى بالكتاب اللوح المحفوظ في قول ابن عباس الثابت عنه، قال: "ما تركنا شيئاً إلا وقد كتبناه في أمّ الكتاب". وتبعه قتادة وابن زيد.
وفُسِّر الكتاب بالقرآن في القول الثاني لابن عباس، قال: "ما تركنا من شيء إلا وقد بيناه لكم".
قال ابن الجوزي: "فعلى هذا يكون من العام الذي أريد به الخاص فيكون المعنى: ما فرطنا في شيء بكم إليه حاجة إلا وبينّاه في الكتاب إما نصاً وإما مجملاً وإما دلالة" (2) .
وقال القرطبي: "ما تركنا شيئاً من أمر الدين إلا وقد دللنا عليه في
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়:প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন সঠিকভাবে অনুধাবনের জন্য সুন্নাহর ওপর নির্ভর করার প্রয়োজনীয়তাআল্লাহ তাআলা দ্বীনের সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, যা হয় সরাসরি পাঠ (نص) এর মাধ্যমে অথবা এমন বিষয়ের দিকে নির্দেশ করার মাধ্যমে যা জ্ঞান অর্জনকে আবশ্যক করে; যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণনা অথবা মুসলিমদের ঐকমত্য (إجماع)।
ইবনুল জাওযী (১) মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা স্বরূপ} (আন-নাহল: ৮৯)-এর ব্যাখ্যা এভাবেই করেছেন। আর তিনি একে অর্থ বিশারদদের অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: {আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দেইনি}। ইবনে আব্বাসের নিকট থেকে প্রমাণিত (ثابت) বক্তব্য অনুযায়ী এখানে 'কিতাব' দ্বারা 'লাওহে মাহফুজ' উদ্দেশ্য। তিনি বলেছেন: "আমি কোনো কিছু বাদ দেইনি বরং তা উম্মুল কিতাবে লিখে রেখেছি।" কাতাদাহ ও ইবনে যায়িদ তাঁর অনুসরণ করেছেন।
ইবনে আব্বাসের দ্বিতীয় মত অনুযায়ী 'কিতাব' এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে কুরআন দ্বারা। তিনি বলেছেন: "আমি কোনো কিছু বাদ দেইনি বরং তা তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছি।"
ইবনুল জাওযী বলেন: "এই মত অনুযায়ী এটি সেই সাধারণ (عام) শব্দের অন্তর্ভুক্ত যা দ্বারা বিশেষ (خاص) অর্থ উদ্দেশ্য। সেক্ষেত্রে অর্থ হবে: তোমাদের প্রয়োজনীয় এমন কোনো বিষয় আমি বাদ দেইনি যা কিতাবে বর্ণনা করিনি; হয় সরাসরি পাঠ (نصاً) হিসেবে, নয়তো সংক্ষিপ্ত (مجملاً) ভাবে অথবা ইঙ্গিতের (دلالة) মাধ্যমে" (২)।
ইমাম কুরতুবী বলেন: "দ্বীনের এমন কোনো বিষয় নেই যা আমরা বাদ দিয়েছি বরং তার প্রতি আমরা নির্দেশ করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৭)
القرآن، إما دلالة مبينة مشروحة، وإما مجملة يُتلقى بيانها من الرسول عليه الصلاة والسلام، أو من الإجماع، أو من القياس الذي (1) ثبت بنص الكتاب، قال الله تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَاناً لِكُلِّ شَيْءٍ} وقال:
{وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} وقال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} فأجمل في هذه الآية وآية النحل ما لم ينص عليه مما لم يذكره، فصدق خبر الله بأنه ما فرّط في الكتاب من شيء إلا ذكره، إما تفصيلاً وإما تأصيلاً؛ وقال: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} (2) .
وعلى كثرة نظري في كتب التفسير لاستجلاء معنى الآيتين لم أر من فهم منهما أن القرآن لا يحتاج إلى بيان النبي صلى الله عليه وسلم، ومن خالف ما أجمع عليه المفسرون ظهر زيغه وانحرافه.
وقد كان الصحابة أرباب الفصاحة والزكانة وكانوا مستغنين عن علوم الوسائل التي افتقر إليها المتأخرون، بيد أنهم احتاجوا إلى تفسير النبي صلى الله عليه وسلم، فبين ((أن الظلم المذكور في قوله: {وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} هو الشرك، وأن الحساب اليسير هو العرض، وأن الخيط الأبيض والأسود هما بياض النهار وسواد الليل، وأن الذي رآه نزلة أخرى عند سدرة المنتهى هو جبريل، كما فسر قوله: {أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ} أنه طلوع الشمس من مغربها، وكما فسر قوله: {مَثَلاً كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ} بأنها
--------------------------------------------
কুরআন, হয় তো সুস্পষ্ট ও ব্যাখ্যাকৃত নির্দেশিকা প্রদান করে, অথবা তা সংক্ষিপ্ত (مجمل) যা কি না রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী, অথবা ইজমা (إجماع) কিংবা কিয়াস (قياس)-এর মুখাপেক্ষী যা (১) কিতাবের নস (نص) দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমি আপনার নিকট কিতাব অবতীর্ণ করেছি সব কিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে} এবং তিনি বলেছেন:
{আর আমি আপনার নিকট যিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে} এবং তিনি বলেছেন: {আর রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}। সুতরাং তিনি এই আয়াতে এবং সূরা নাহলের আয়াতে এমন অনেক কিছু সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন যা স্পষ্টভাবে নস (نص) দ্বারা উল্লেখ করা হয়নি বা যার উল্লেখ আসেনি। ফলে আল্লাহর এই সংবাদ সত্য প্রমাণিত হলো যে, তিনি কিতাবের মধ্যে কোনো কিছুই বাদ দেননি, হয় বিস্তারিতভাবে নতুবা নীতিগতভাবে; এবং তিনি বলেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম} (২)।
এই আয়াতদ্বয়ের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য তাফসিরের কিতাবসমূহে আমার ব্যাপক পর্যালোচনার পর আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি এ থেকে বুঝেছেন যে, কুরআন নবী (সা.)-এর ব্যাখ্যার প্রয়োজন রাখে না। আর যারা মুফাসসিরগণের ঐকমত্যের (أجمع عليه) পরিপন্থী অবস্থান নিয়েছে, তাদের বিভ্রান্তি ও বিচ্যুতি সুস্পষ্ট হয়েছে।
সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন সাবলীল ভাষা ও প্রখর মেধার অধিকারী এবং পরবর্তীকালের লোকদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়ক জ্ঞান থেকে তারা অমুখাপেক্ষী ছিলেন, তা সত্ত্বেও তারা নবী (সা.)-এর তাফসিরের মুখাপেক্ষী হতেন। ফলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, {যারা তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে সংমিশ্রিত করেনি} এই বাণীতে উল্লিখিত ‘জুলুম’ হলো শিরক, এবং সহজ হিসাব হলো কেবল আমলনামা উপস্থাপন (العرض), আর সাদা সূতা ও কালো সূতা হলো দিনের শুভ্রতা ও রাতের কৃষ্ণতা। আর সিদরাতুল মুনতাহার নিকট তিনি যাকে দ্বিতীয়বার দেখেছিলেন তিনি ছিলেন জিবরাঈল। যেমন তিনি তাঁর এই বাণীর ব্যাখ্যা করেছেন: {অথবা আপনার রবের কোনো নিদর্শন আসবে} এর অর্থ হলো পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্যোদয়। এবং যেমন তিনি তাঁর এই বাণীর ব্যাখ্যা করেছেন: {পবিত্র বাণীর উদাহরণ হলো পবিত্র বৃক্ষের ন্যায়} যে তা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৮)
النخلة، وكما فسر قوله: {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} أن ذلك في القبر حين يُسأل من ربك وما دينك، وكما فسر الرعد بأنه ملك من الملائكة موكل بالسحاب، وكما فسر اتخاذ أهل الكتاب أحبارهم ورهبانهم أرباباً من دون الله بأن ذلك باستحلال ما أحلوه لهم من الحرام وتحريم ما حرموه من الحلال، وكما فسر القوة التي أمر الله أن نُعدّها لأعدائه بالرمي، وكما فسر قوله: {مَنْ يَعْمَلْ سُوءاً يُجْزَ بِهِ} بأنه ما يجزى به العبد في الدنيا من النصب والهم والخوف واللأواء، وكما فسر الزيادة في قوله تعالى: {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ} (يونس: 26) بأنها النظر إلى وجه الله الكريم)) (1) .
وهي كما ترى معانٍ لا يُتوصل إليها بمجرد إتقان لسان العرب، فلو لم يأت بها بيان الرسول صلى الله عليه وسلم لكنا في عماية من أمرها.
فالسنة تبين مجمل القرآن، قال تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} وقال سبحانه: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ} وقال جل من قائل:
{وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً} ، فبين النبي صلى الله عليه وسلم بفعله وقوله أن الصلوات المفروضات خمس في اليوم والليلة وبين أعداد ركعاتها وشروطها وأركانها ثم قال: "صلوا كما رأيتموني أصلّي"، وبين أن الحائض لا صلاة عليها لا أداء ولا قضاء.
وكذلك الزكاة بيّن حقيقتها وعلى من تجب؟ وبيّن أنصبتها، وأنها تؤخذ من العين من الذهب والفضة والمواشي من الإبل والغنم والبقر السائمة
--------------------------------------------
খেজুর গাছ, এবং যেমন তিনি আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা করেছেন: {আল্লাহ মুমিনদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে শাশ্বত বাণীর মাধ্যমে সুদৃঢ় রাখেন} যে এটি কবরের সেই সময়ের কথা যখন জিজ্ঞেস করা হবে 'তোমার রব কে এবং তোমার দ্বীন কী?'। এবং যেমন তিনি বজ্রের (رعد) ব্যাখ্যা করেছেন যে তা ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা যিনি মেঘমালার দায়িত্বে নিয়োজিত। এবং যেমন তিনি আহলে কিতাবদের তাদের আলেম ও দরবেশদের আল্লাহর পরিবর্তে রব হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাখ্যা করেছেন যে, তা ছিল তাদের জন্য আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে হালাল করা এবং হালালকৃত বিষয়কে হারাম করার ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করা। এবং যেমন তিনি সেই শক্তির ব্যাখ্যা করেছেন যা আল্লাহ তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন যে তা হলো তীর নিক্ষেপ। এবং যেমন তিনি আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা করেছেন: {যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে} যে, দুনিয়াতে বান্দাকে যে ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা, ভয় ও দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় তা-ই তার প্রতিফল। এবং যেমন তিনি আল্লাহ তাআলার বাণী: {যারা কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত এবং আরও বেশি কিছু} (ইউনুস: ২৬) এর মধ্যে 'অতিরিক্ত' বা 'বেশি' এর ব্যাখ্যা করেছেন মহান আল্লাহর মহিমান্বিত চেহারার দিকে তাকানো হিসেবে। (১)
আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে, এগুলো এমন সব অর্থ যা কেবল আরবি ভাষায় পারদর্শী হওয়ার মাধ্যমে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে এর বর্ণনা না আসত, তবে আমরা এ বিষয়ে অন্ধকারে থাকতাম।
সুতরাং সুন্নাহ কুরআনের সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট (مجمل) বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো।} মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে।} এবং মহান আল্লাহ বলেন:
{মানুষের মধ্যে যারা সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেই গৃহের হজ করা তাদের ওপর আবশ্যক}। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, ফরজ সালাত দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত। তিনি এর রাকাত সংখ্যা, শর্তসমূহ (شروط) এবং রুকনসমূহ (أركان) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছো।" তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, ঋতুবতী মহিলার ওপর সালাত আদায় করা আবশ্যক নয়—তা সময়মতো আদায় (أداء) করা হোক কিংবা কাজা (قضاء) হিসেবে হোক।
অনুরূপভাবে তিনি জাকাতের প্রকৃত রূপ এবং তা কার ওপর ওয়াজিব তা বর্ণনা করেছেন। তিনি এর নিসাবসমূহ (أنصبة) বর্ণনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে তা স্বর্ণ ও রৌপ্যের মতো নগদ অর্থ (عين) এবং গবাদি পশু যেমন উট, ছাগল ও চারণভূমিতে বিচরণকারী (سائمة) গরু থেকে গ্রহণ করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৯)
مرة كل عام، وأوجبها في بعض ما أخرجت الأرض دون بعض (1) .
"وبيّن أن الصيام هو الإمساك بالعزم على الإمساك عما أمر بالإمساك عنه من طلوع الفجر إلى دخول الليل" (2) .
وفرض على البالغين من الأحرار والعبيد ذكورهم وإناثهم إلا الحيّض فإنهن يقضين عدة من أيام أخر.
وبيّن الرسول صلى الله عليه وسلم أن الحج لا يجب في العمر إلا مرة واحدة وبيّن ما يلبس المحرم مما لا يلبسه وحدّد مواقيت الحج والعمرة وبيّن عدد الطواف وكيفيته، كلّ ذلك ليس بيانه في القرآن.
وأوجب الله سبحانه قطع يد السارق فقال: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} فبينت السنة أنها لا تقطع إلا في ربع دينارفصاعداً وأنها تقطع من مفصل الكوع.
فلو تُرِكْنا وعقولَنا لم نعرف هذه الأحكام، فتبيّن أنه لا يُستغنى عن السنة في فهم القرآن، وقد عرف الصحابة ذلك فكانوا يعرفون للسنة قدرها، فهذا جابر بن عبد الله يقول أثناء سرده صفة حج النبي صلى الله عليه وسلم "ورسول الله صلى الله عليه وسلم بين أظهرنا، وعليه ينزل القرآن، وهو يعرف تأويله، وما عمل به من شيء عملنا به" (3) .
وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ائذنوا للنساء بالليل إلى المساجد" فقال ابن له، يقال له واقد: إذن يتخذنه دَغَلاً.
--------------------------------------------
বছরে একবার, এবং তিনি ভূমির উৎপাদিত ফসলের কতিপয় প্রকারের ওপর এটি আবশ্যক (واجب) করেছেন, সবকিছুর ওপর নয় (১)।
"এবং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সিয়াম হলো সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে নিজেকে নিবৃত্ত রাখা" (২)।
এটি স্বাধীন ও দাসদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীদের ওপর ফরজ (فرض) করা হয়েছে; তবে ঋতুবতী নারীরা এর ব্যতিক্রম, তারা পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট দিনগুলোর কাজাহ (قضاء) আদায় করবে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বর্ণনা করেছেন যে, জীবনে মাত্র একবারই হজ পালন করা ওয়াজিব (واجب)। তিনি ইহরাম গ্রহণকারীর জন্য কি পরিধেয় আর কি বর্জনীয় তা বর্ণনা করেছেন, হজ ও উমরার মিকাত (مواقيت) বা নির্দিষ্ট সময় ও স্থান নির্ধারণ করেছেন এবং তাওয়াফের সংখ্যা ও পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন; যার কোনোটির বিবরণই কুরআনে নেই।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা চোরের হাত কাটার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: "চোর পুরুষ ও চোর নারী, তোমরা উভয়ের হাত কেটে দাও।" অতঃপর সুন্নাহ (السنة) বর্ণনা করেছে যে, সিকি দিনার বা তার বেশি মূল্যের সম্পদ চুরি না করলে হাত কাটা যাবে না এবং তা কবজি (الكوع) থেকে কাটতে হবে।
সুতরাং আমাদের যদি কেবল আমাদের আকল (عقل) বা বিবেকের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে আমরা এই বিধানগুলো জানতে পারতাম না। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, কুরআন অনুধাবনের ক্ষেত্রে সুন্নাহ (السنة) থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়। সাহাবীগণ বিষয়টি অবগত ছিলেন এবং তাঁরা সুন্নাহর যথাযথ মর্যাদা প্রদান করতেন। যেমন, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ নবী ﷺ-এর হজের পদ্ধতি বর্ণনা করার সময় বলেন, "রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল এবং তিনি এর ব্যাখ্যা (تأويل) জানতেন; আর তিনি যা আমল করেছেন, আমরাও তা-ই আমল করেছি" (৩)।
ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তোমরা নারীদের রাতে মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দাও।" তখন তাঁর এক পুত্র, যাকে ওয়াকিদ বলা হতো, বলল: তবে তো তারা একে অপকৌশল (دغلاً) হিসেবে গ্রহণ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১০)
قال: فضرب في صدره وقال: أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتقول: لا! (1) .
وروي عن عمران بن حصين رضي الله عنه أنه ذكر الشفاعة، فقال رجل من القوم: يا أبا نجيد، إنكم تحدثونا بأحاديث لم نجد لها أصلاً في القرآن، فغضب عمران وقال للرجل: قرأت القرآن؟ قال: نعم. قال: فهل وجدت فيه صلاة العشاء أربعاً ووجدت المغرب ثلاثاً، والغداةركعتين، والظهر أربعاً والعصر أربعاً؟ قال: لا. قال: فعمن أخذتم ذلك؟ ألستم عنّا أخذتمونا وأخذناه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ أوجدتم فيه: في كل أربعين شاة شاة، وفي كل كذا بعيراً كذا، وفي كل كذا درهماً كذا؟ قال: لا. قال: فعمن أخذتم ذلك؟ ألستم عنا أخذتموه وأخذناه عن النبي صلى الله عليه وسلم؟. وقال: في القرآن {وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ} (الحج: 29) . أوجدتم في القرآن: "لا جلب ولا جنب ولا شغار في الإسلام"؟ أما سمعتم الله قال في كتابه: {وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا} ؟! قال عمران: فقد أخذنا عن رسول الله أشياء ليس لكم بها علم (2) .
وعن أيوب السختياني أن رجلاً قال لمطرف بن عبد الله بن الشخير: لا تحدثونا إلا بالقرآن. فقال له مطرف: "والله ما نريد بالقرآن بدلاً؛ ولكنا
--------------------------------------------
তিনি বললেন: এরপর তিনি তার বুকে আঘাত করলেন এবং বললেন, "আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করছি, আর তুমি বলছ: না!" (১) .
ইমরান ইবনে হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি সুপারিশ (শাফায়াত) সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তখন গোত্রের এক ব্যক্তি বলল: হে আবু নুজাইদ, আপনারা আমাদের কাছে এমন সব হাদিস বর্ণনা করছেন যেগুলোর কোনো মূল ভিত্তি (أصل) আমরা কুরআনে পাচ্ছি না। এতে ইমরান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাগান্বিত হলেন এবং লোকটিকে বললেন: তুমি কি কুরআন পড়েছ? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি কি সেখানে ইশার নামাজ চার রাকাত, মাগরিব তিন রাকাত, ফজর দুই রাকাত এবং জোহর ও আসর চার রাকাত হওয়ার কোনো উল্লেখ পেয়েছ? সে বলল: না। তিনি বললেন: তাহলে তোমরা এসব কার কাছ থেকে গ্রহণ করেছ? তোমরা কি আমাদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করোনি? আর আমরা তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে গ্রহণ করেছি। তোমরা কি কুরআনে পেয়েছ যে: প্রতি চল্লিশটি ছাগলে একটি ছাগল এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক উট ও দিরহামে এই পরিমাণ (যাকাত)? সে বলল: না। তিনি বললেন: তাহলে তোমরা এসব কার কাছ থেকে গ্রহণ করেছ? তোমরা কি আমাদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করোনি? আর আমরা তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে গ্রহণ করেছি। তিনি আরও বললেন: কুরআনে রয়েছে {এবং তারা যেন প্রাচীন গৃহের তওয়াফ করে} (আল-হজ: ২৯)। তোমরা কি কুরআনে পেয়েছ: "ইসলামে জালাব (جلب), জানাব (جنب) এবং শিগার (شغار) নেই"? তোমরা কি আল্লাহকে তাঁর কিতাবে বলতে শোননি: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}? ইমরান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন অনেক বিষয় গ্রহণ করেছি যা সম্পর্কে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই (২) .
আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-শিখখিরকে বলল: আমাদের কাছে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু (হাদিস) বর্ণনা করবেন না। তখন মুতাররিফ তাকে বললেন: "আল্লাহর কসম, আমরা কুরআনের কোনো বিকল্প চাই না; কিন্তু আমরা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১১)
نريد من هو أعلم بالقرآن منا " (1) .
فبهؤلاء السلف فلنقتد، ولتعظُم السنن في قلوبنا، ولنُربّ الأجيال على احترامها وتطبيقها، وما لم يكن يومئذ ديناً فلن يكون اليوم ديناً، فيا تُرى من أين يأخذ القرآنيون دينهم؟ ومَنْ إمامهم في بدعتهم؟ ليتوبوا إلى الله قبل فوات الأوان، وليراجعوا دينهم قبل أن يأتي يوم لا بيع فيه ولا خلال.
--------------------------------------------
"আমরা আমাদের অপেক্ষা কুরআন সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী কাউকে চাই" (১)।
সুতরাং এই সালাফ বা পূর্বসূরিদের (السلف) আমরা যেন অনুসরণ করি, এবং আমাদের হৃদয়ে যেন সুন্নাহর (السنن) মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আমরা যেন পরবর্তী প্রজন্মকে সুন্নাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তা অনুশীলনের ওপর গড়ে তুলি। সেদিন যা দ্বীন হিসেবে গণ্য ছিল না, আজ তা কখনই দ্বীন হিসেবে গণ্য হতে পারে না। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই কুরআনপন্থীরা তাদের ধর্ম কোথা থেকে গ্রহণ করে? এবং তাদের এই বিদআত (بدعة) বা নব-উদ্ভাবিত কাজে তাদের ইমাম কে? সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই তারা যেন আল্লাহর কাছে তওবা করে এবং সেই দিন আসার আগেই যেন নিজেদের দ্বীন সংশোধন করে নেয়, যে দিন কোনো ক্রয়-বিক্রয় বা বন্ধুত্ব থাকবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الثاني: خلاصة جهود من سبقنا في الدفاع عن السنةألّف الشافعي كتاب " الرسالة " وهو صاحب السبق في هذا الباب وصاحب الإجادة والإتقان فيه وتبعه الإمام أحمد فصنّف "طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم" (1) ردَّ فيه على من احتج بظاهر القرآن في معارضة سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وترك الاحتجاج بها.
ثم قفاهما أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة فألف كتابه " تأويل مختلف الحديث " ردَّ فيه على أعداء السنة وبخاصة المعتزلة.
ثم تلاهم محمد بن نصر المروزي فصنّف كتابه " السنة " وأجاد فيه وأفاد ووصل إلينا ناقص الأول.
وألّف ابن عبد البر " جامع بيان العلم وفضله " وضمنه أبواباً كثيرة في الحث على لزوم السنة والدفاع عنها.
ثم جاء بعدهم أبو المظفر السمعاني فألف كتابه المستطاب " الانتصار لأهل الحديث "
ثم جاء شيخ الإسلام ابن تيمية فصنّف منهاج السنة وأبدع فيه، وأتى بعده تلميذه ابن قيم الجوزية فحرّر كتابه " الصواعق المرسلة " وبحث فيه مسألة خبر الواحد بما لا مزيد عليه، كما صنَّف " إعلام الموقعين " وخصص مئات الصفحات للذبّ عن السنن.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় আমাদের পূর্বসূরিদের প্রচেষ্টার সারসংক্ষেপইমাম শাফেয়ী 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থটি রচনা করেছেন এবং তিনিই এই বিষয়ের পথিকৃৎ এবং এতে অত্যন্ত নিপুণতা ও দক্ষতার অধিকারী। ইমাম আহমাদ তাঁকে অনুসরণ করে 'তাআত আর-রাসুল' (১) গ্রন্থটি রচনা করেন, যাতে তিনি ঐ সকল ব্যক্তিদের প্রতিবাদ করেছেন যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর বিরোধিতা করতে এবং সুন্নাহর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ (الاحتجاج) বর্জন করে কুরআনের বাহ্যিক অর্থের মাধ্যমে দলিল পেশ করত।
অতঃপর তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতায়বাহ। তিনি তাঁর গ্রন্থ 'তাওয়িল মুখতালিফ আল-হাদিস' রচনা করেন, যাতে তিনি সুন্নাহর শত্রুদের, বিশেষ করে মুতাজিলাদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন।
এরপর মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াজি তাঁর 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থটি রচনা করেন। তিনি এতে অত্যন্ত চমৎকার ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেছেন, তবে গ্রন্থটির শুরুর অংশটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় আমাদের নিকট পৌঁছেছে।
ইবনে আবদিল বার 'জামি বয়ান আল-ইলম ওয়া ফাদলিহি' রচনা করেন এবং এতে সুন্নাহর আবশ্যকতা ও তা রক্ষার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে অনেকগুলো অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
এরপর আবু আল-মুজাফফর আল-সাময়ানি তাঁর উত্তম গ্রন্থ 'আল-ইনতিসার লি-আহলিল হাদিস' রচনা করেন।
অতঃপর শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া 'মিনহাজুস সুন্নাহ' রচনা করেন এবং এতে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। তাঁর পরে তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়া তাঁর 'আস-সাওয়াইকুল মুরসালাহ' গ্রন্থটি সুসংবদ্ধভাবে রচনা করেন এবং এতে একক বর্ণনা (خبر الواحد) সংক্রান্ত মাসয়ালাটি নিয়ে এমন বিস্তারিত আলোচনা করেন যে, তাতে আর কোনো কিছু সংযোজনের অবকাশ নেই। পাশাপাশি তিনি 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' রচনা করেন এবং সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় শত শত পৃষ্ঠা উৎসর্গ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وألف محمد بن إبراهيم الوزير اليمني " العواصم والقواصم " (1) واختصره في "الروض الباسم في الذب عن سنة أبي القاسم " (2) .
وألّف السيوطي " مفتاح الجنة في الاعتصام بالسنة " (3) .
وألّف مصطفى السباعي " السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي " (4) .
ألّف عبد الحليم محمود (
… - 1398 هـ) شيخ الأزهر الأسبق " السنة ومكانتها في التشريع " (5) .
وكتب عبد العزيز بن راشد آل حسين (
… - 1403 هـ) " رد شبهات الإلحاد عن أحاديث الآحاد " (6) .
وألف الدكتور محمد أمان الجامي " السنة ومنزلتها في التشريع
الإسلامي " (7) .
وأعدّ صالح أحمد رضا رسالة بعنوان " ظاهرة رفض السنة وعدم الاحتجاج بها ".
وكتب محمد عبد الرزاق حمزة " ظلمات أبي رية " وأبو ريّة أنكر السنة إنكاراً كلياً.
وردّ عليه أيضاً عبد الرحمن بن يحيى المعلّمي في كتابه " الأنوار الكاشفة
--------------------------------------------
মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-ওয়াজির আল-ইয়ামানি 'আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম' (১) রচনা করেছেন এবং 'আর-রওদুল বাসিম ফিজ জাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম' (২) গ্রন্থে তা সংক্ষেপ করেছেন।
সুয়ূতি 'মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইতিসাম বিস সুন্নাহ' (৩) রচনা করেছেন।
মুস্তফা আস-সিবাঈ 'আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরিইল ইসলামি' (৪) রচনা করেছেন।
আল-আজহারের প্রাক্তন শাইখ আব্দুল হালিম মাহমুদ (
… - ১৩৯৮ হি.) 'আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরি' (৫) রচনা করেছেন।
এবং আব্দুল আজিজ বিন রাশিদ আল-হুসাইন (
… - ১৪০৩ হি.) 'রাদ্দু শুবুহাতিল ইলহাদ আন আহাদিসিল আহাদ (أحاديث الآحاد)' (৬) লিখেছেন।
ড. মুহাম্মদ আমান আল-জামি 'আস-সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা ফিত তাশরিইল ইসলামি' (৭) রচনা করেছেন।
সালিহ আহমাদ রিদা 'যহিরাতু রাফদিস সুন্নাহ ওয়া আদামুল ইহতিজাজ (الاحتجاج) বিহা' শিরোনামে একটি গবেষণাপত্র তৈরি করেছেন।
মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক হামজা 'যুলুমাতু আবি রাইয়্যাহ' লিখেছেন; আর আবু রাইয়্যাহ সুন্নাহকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছিলেন।
আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি তাঁর 'আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ' গ্রন্থেও এর প্রতিবাদ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لما في كتاب أضواء السنة من التضليل والمجازفة " (1) وكتب عبد الغني عبد الخالق " حجية السنة " 2وهو أقوى المعاصرين.
وألّف محمد محمد أبو شهبة " دفاع عن السنة وردّ شبه المستشرقين والكتاب المعاصرين " (3) .
وكتب تقي الدين الندوي " السنة مع المستشرقين والمستعربين " (4) .
وأعدّ الدكتور أحمد محمود عبد الوهاب الشنقيطي رسالة بعنوان " خبر الواحد وحجيته " (5) طبع في الجامعة الإسلامية.
وهناك رسالة في جامعة أم القرى بعنوان " حجية السنة في التشريع الإسلامي"، ورسالة أخرى في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بعنوان "حجية السنة والرد على شبه المنكرين ".
ونشرت رابطة العالم الإسلامي كتاباً بعنوان " موقف الجمهوريين من السنة "
كما نشرت " السنة في مواجهة الأباطيل " لمؤلفه محمد طاهر حكيم (6) .
كما كتب محمد ناصر الدين الألباني ثلاث رسائل إحداها " الحديث حجة بنفسه في العقائد والأحكام " (7) ، والثانية " منزلة السنة في الإسلام،
--------------------------------------------
"আদওয়াউস সুন্নাহ" গ্রন্থে যে বিভ্রান্তি ও দুঃসাহসিক মন্তব্য (১) রয়েছে তার কারণে এবং আব্দুল গনি আব্দুল খালিক "হুজজিয়্যাতুস সুন্নাহ" (২) লিখেছেন, যা সমসাময়িকদের মধ্যে শক্তিশালী একটি কাজ।
মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু শাহবাহ "সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদ ও সমসাময়িক লেখকদের সংশয় নিরসন" (৩) রচনা করেছেন।
তাকি উদ্দীন নদভী "প্রাচ্যবিদ ও আরববিদদের নিকট সুন্নাহ" (৪) লিখেছেন।
ড. আহমদ মাহমুদ আব্দুল ওয়াহাব আল-শানকিতি "একক সংবাদ (خبر الواحد) ও তার প্রামাণ্যতা (حجية)" (৫) শিরোনামে একটি গবেষণাপত্র প্রস্তুত করেছেন, যা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুদ্রিত হয়েছে।
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে "ইসলামি বিধানে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية)" শিরোনামে একটি গবেষণাপত্র এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে "সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) ও অস্বীকারকারীদের সংশয়ের খণ্ডন" শিরোনামে আরেকটি গবেষণাপত্র রয়েছে।
রাবেতাতুল আলাম আল-ইসলামি "সুন্নাহর প্রতি জুমহুরিয়্যীনদের অবস্থান" শিরোনামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে।
তেমনি মুহাম্মদ তাহের হাকিমের "বাতিল মতবাদের মোকাবিলায় সুন্নাহ" (৬) প্রকাশিত হয়েছে।
একইভাবে মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি তিনটি পুস্তিকা লিখেছেন, যার একটি হলো "আকিদা ও বিধানের ক্ষেত্রে হাদিস নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ দলিল" (৭), এবং দ্বিতীয়টি হলো "ইসলামে সুন্নাহর মর্যাদা"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وبيان أنه لا يستغنى عنها بالقرآن "، والثالثة "وجوب الأخذ بحديث الآحاد في العقيدة والأحكام" (1) .
وكتب عبد المتعال محمد الجبري "حجية السنة ومصطلحات المحدثين وأعلامهم" (2) .
وألّف محمد الصادق بن محمود بسيّس التونسي (3) " دفاعاً عن السنة النبوية ".
وكتب صلاح الدين مقبول " زوابع في وجه السنة قديماً وحديثاً " (4) .
وألّف محمد لقمان السلفي " مكانة السنة في التشريع الإسلامي " (5) .
وصنّف أبو عبد الرحمن القاضي بَرهُون " خبر الواحد في التشريع الإسلامي" (6) .
وأعدّ الأمين الصادق الأمين رسالة ماجستير بعنوان " موقف المدرسة العقلية من السنة النبوية " (7) .
وألّف عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين " أخبار الآحاد في الحديث النبوي حجيتها، مفادها، العمل بموجبها " (8) وهي رسالته الماجستير.
--------------------------------------------
এবং এটি স্পষ্ট করা যে, কুরআনের উপস্থিতিতে সুন্নাহ থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়", এবং তৃতীয়টি হলো "আকিদাহ ও বিধানের ক্ষেত্রে একক সূত্রনির্ভর (آحاد) হাদিস গ্রহণ করার আবশ্যকতা" (১)।
আব্দুল মুতাআল মুহাম্মদ আল-জাবরী লিখেছেন "সুন্নাহর প্রামাণ্যতা এবং হাদিস বিশারদগণের পরিভাষা ও তাঁদের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ" (২)।
মুহাম্মদ আস-সাদিক বিন মাহমুদ বাসাইস আত-তিউনিসি (৩) "সুন্নাহর প্রতিরক্ষায়" গ্রন্থটি রচনা করেছেন।
সালাহউদ্দীন মাকবুল লিখেছেন "অতীত ও বর্তমানে সুন্নাহর পথে প্রতিবন্ধকতাসমূহ" (৪)।
মুহাম্মদ লোকমান সালাফি "ইসলামি শরিয়তে সুন্নাহর মর্যাদা" (৫) গ্রন্থটি রচনা করেছেন।
আবু আব্দুর রহমান আল-কাদি বারহুন "ইসলামি শরিয়তে একক ব্যক্তি বর্ণিত খবর (خبر الواحد)" (৬) সংকলন করেছেন।
আল-আমিন আস-সাদিক আল-আমিন "সুন্নাহর প্রতি যুক্তিবাদী ধারার দৃষ্টিভঙ্গি" (৭) শিরোনামে একটি মাস্টার্স থিসিস প্রস্তুত করেছেন।
আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন রচনা করেছেন "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে একক ব্যক্তি বর্ণিত খবর (أخبار الآحاد): এর প্রামাণ্যতা, তাৎপর্য ও তদনুযায়ী আমল" (৮), এটি তাঁর মাস্টার্স থিসিস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وكتب عبد العزيز بن فيصل الراجحي " قدوم كتائب الجهاد لغزو أهل الزندقة والإلحاد القائلين بعدم الأخذ بحديث الآحاد في مسائل الاعتقاد " (1) .
وألّف خادم حسين إلهي بخش كتابه المستطاب " القرآنيون وشبهاتهم حول السنة " (2) وهو رسالته الماجستير.
--------------------------------------------
আব্দুল আজিজ বিন ফয়সাল আল-রাজিহি "কুদুমু কাতায়েবিল জিহাদ লি-গাযওয়ি আহলিয যান্দাকাহ ওয়াল ইলহাদ আল-কাইলিনা বি-আদামি আল-আখযি বি-হাদিসিল আহাদ ফি মাসায়িলিল ইতিকাদ" (১) শীর্ষক গ্রন্থটি রচনা করেছেন।
এবং খাদেম হুসাইন ইলাহি বখশ তার চমৎকার গ্রন্থ "আল-কুরআনিউন ওয়া শুবুহাতুহুম হাওলাস সুন্নাহ" (২) রচনা করেছেন, যা ছিল তার মাস্টার্স থিসিস (স্নাতকোত্তর গবেষণাপত্র)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الثالث: حكم منكر حجية السنةلقد بيّن الرسول صلى الله عليه وسلم أن فيمن يقرأ القرآن منافقين فقال: "ومثل المنافق الذي يقرأ القرآن مثل الريحانة: ريحها طيب وطعمها مر
… " (1) .
وأوضح الله سبحانه أنه جعل أعداء للأنبياء يناوئونهم ويصدون الناس عنهم بكلام يزخرفونه فقال تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوّاً شَيَاطِينَ الْأِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُوراً} (الأنعام 112) ، فليعلم المسلمون أن كلّ كلام يخالف الشرع يزخرفه صاحبه لتمويهه والتلبيس به على الناس حتى يغتروا به ويتلقفوه. وكل عمل يخالف الشرع كذلك يزينونه حتى يروج بين الناس. فهؤلاء الأعداء الذين يتظاهرون بالإسلام ويكيدون له ليل نهار لم يَخْفَ أمرُهم على علماء الإسلام فنبّهوا الناس على سوء مذهبهم ورموهم بالكفر والإلحاد إما وصفاً أو أعياناً، فإليك بعض ما قاله أهل العلم في منكري السنة:
قال محمد بن نصر المروزي عن المسح على الخفين: "من أنكر ذلك لزمه إنكار جميع ما ذكرنا من السنن وغير ذلك مما لم نذكر، وذلك خروج عن جماعة أهل الإسلام" (2) .
قال الآجري: "جميع فرائض الله التي فرضها في كتابه لا يعلم الحكم فيها إلا بسنن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
هذا قول علماء المسلمين، من قال غير هذا خرج عن ملة الإسلام ودخل
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর (السنة) প্রামাণিকতা (حجية) অস্বীকারকারীর (منكر) বিধান (حكم)রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্ণনা করেছেন যে, কুরআন পাঠকারীদের মধ্যেও মুনাফিক (منافقين) রয়েছে। তিনি বলেছেন: "যে মুনাফিক (المنافق) কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো রায়হানা (সুগন্ধি লতা); যার সুঘ্রাণ চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিক্ত
… " (১) ।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি নবীদের জন্য শত্রু নির্ধারণ করেছেন যারা তাঁদের বিরোধিতা করে এবং চটকদার কথার মাধ্যমে মানুষকে তাঁদের থেকে বিমুখ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি, তারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে একে অপরকে চটকদার কথা দ্বারা প্ররোচিত করে} (আল-আনআম ১১২)। সুতরাং মুসলমানদের জেনে রাখা উচিত যে, শরিয়ত (الشرع) বিরোধী প্রতিটি কথা তার প্রবক্তা বাহ্যিকভাবে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করে যাতে সাধারণ মানুষের কাছে তা অস্পষ্ট থাকে এবং তারা বিভ্রান্ত হয়ে তা গ্রহণ করে। একইভাবে শরিয়ত (الشرع) বিরোধী প্রতিটি কাজকেও তারা সুশোভিত করে যাতে তা মানুষের মাঝে প্রচলিত হয়। এই শত্রুরা যারা ইসলামের ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং এর বিরুদ্ধে দিন-রাত ষড়যন্ত্র করে, তাদের বিষয়টি বিজ্ঞ আলেমদের কাছে গোপন থাকেনি। তাই তাঁরা মানুষকে তাদের ভ্রান্ত মতাদর্শ (مذهب) সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং তাদেরকে কুফর (كفر) ও ইলহাদ (إلحاد)-এর বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন অথবা সুনির্দিষ্টভাবে কাফের ও নাস্তিক আখ্যা দিয়েছেন। সুন্নাহর (السنة) অস্বীকারকারীদের বিষয়ে উলামায়ে কেরাম যা বলেছেন তার কিছু অংশ নিচে দেওয়া হলো:
মোজার ওপর মাসেহ (المسح على الخفين) করা প্রসঙ্গে মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযি বলেন: "যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করবে, তার জন্য আমাদের উল্লিখিত সকল সুনান (السنن) এবং যা আমরা উল্লেখ করিনি এমন সকল কিছু অস্বীকার করা আবশ্যক হয়ে পড়বে; আর তা হলো মুসলিম জামাত (جماعة أهل الإسلام) থেকে বহির্গমন।" (২) ।
আল-আজুরি বলেন: "আল্লাহ তাঁর কিতাবে যে সকল ফরজ (فرائض) বিধান নির্ধারণ করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুনান (سنن) ব্যতীত সেগুলোর বিধান (الحكم) সম্পর্কে অবগত হওয়া সম্ভব নয়।
এটিই মুসলিম উলামায়ে কেরামের অভিমত। যে ব্যক্তি এর বিপরীত কিছু বলবে সে ইসলামের মিল্লাত (ملة) থেকে বের হয়ে যাবে এবং প্রবেশ করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
في ملة الملحدين" (1) .
وقال ابن حزم: "لو أن امرأً قال: لا نأخذ إلا ما وجدنا في القرآن لكان كافراً بإجماع الأمة، ولكان لا يلزمه إلا ركعة ما بين دلوك الشمس إلى غسق الليل، وأخرى عند الفجر؛ لأن ذلك هو أقلّ ما يقع عليه اسم صلاة ولا حد للأكثر في ذلك، وقائل هذا كافر مشرك حلال الدم والمال، وإنما ذهب إلى هذا بعض غالية الرافضة ممن قد اجتمعت الأمة على كفرهم" (2) .
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: "محمد صلى الله عليه وسلم مبعوث إلى الثقلين إنسهم وجنهم، فمن اعتقد أنه يسوغ لأحد الخروج عن شريعته وطاعته فهو كافر يجب قتله" (3) .
وعلّق ابن دقيق العيد على طعون بعض الزائغين على حديث الذباب بقوله: "إن هذا وأمثاله مما تُرد به الأحاديث الصحيحة إن أراد به قائلها إبطالها بعد اعتقاد كون الرسول صلى الله عليه وسلم قالها كان كافراً مجاهراً، وإن أراد إبطال نسبتها إلى الرسول صلى الله عليه وسلم بسبب يرجع إلى متنه فلا يكفر، غير أنه مبطل لصحة الحديث" (4) .
قال السيوطي: "إن من أنكر كون حديث النبي صلى الله عليه وسلم قولاً كان أو فعلاً بشرطه المعروف في الأصول – حجة كفر، وخرج عن دائرة الإسلام وحشر مع اليهود والنصارى أو مع من شاء الله من فرق الكفرة " (5) .
--------------------------------------------
"...নাস্তিকদের মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত" (১) ।
ইবনে হাজম বলেন: "যদি কোনো ব্যক্তি বলে: আমরা কুরআনে যা পাই তা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করব না, তবে সে উম্মতের ঐক্যমতে (إجماع) কাফির (كافر) হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় তার ওপর সূর্য ঢলে পড়া থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত কেবল এক রাকাত এবং ফজরের সময় আর এক রাকাত নামাজ ছাড়া আর কিছুই আবশ্যক হতো না; কারণ নামাজের ক্ষেত্রে এটিই সর্বনিম্ন স্তর যার ওপর 'সালাত' শব্দটি প্রযোজ্য হয় এবং সর্বোচ্চ সীমার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। এই কথা যে বলবে সে কাফির (كافر), মুশরিক (مشرك) এবং তার রক্ত ও সম্পদ হালাল। মূলত চরমপন্থী রাফেজিদের (غالية الرافضة) মধ্যে একদল এমন পথ অবলম্বন করেছে যাদের কুফরির (كفر) ব্যাপারে উম্মাহ একমত হয়েছে" (২) ।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "মুহাম্মদ (সা.) উভয় জগতের (মানব ও জিন) নিকট প্রেরিত হয়েছেন। সুতরাং কেউ যদি এই বিশ্বাস করে যে, তাঁর শরিয়ত ও আনুগত্যের বাইরে যাওয়া কারো জন্য বৈধ, তবে সে কাফির (كافر) এবং তাকে হত্যা করা ওয়াজিব" (৩) ।
মাছির হাদিসের ওপর কিছু পথভ্রষ্ট ব্যক্তির আপত্তির প্রেক্ষিতে ইবনে দাকিক আল-ঈদ মন্তব্য করে বলেন: "এটি এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো যার মাধ্যমে সহিহ (صحيحة) হাদিসগুলোকে প্রত্যাখ্যান (رد) করা হয়; যদি এর প্রবক্তা রাসূল (সা.) সেটি বলেছেন বলে বিশ্বাস করার পরও তা বাতিল করতে চায়, তবে সে প্রকাশ্য কাফির (كافر) হবে। আর যদি সে মতন (متن) সংক্রান্ত কোনো কারণে রাসূল (সা.)-এর প্রতি এর সম্বন্ধকে বাতিল করতে চায়, তবে সে কাফির (كافر) হবে না, কিন্তু সে হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحة) বিনষ্টকারী হিসেবে গণ্য হবে" (৪) ।
সুয়ূতী বলেন: "উসুল (الأصول) শাস্ত্রের পরিচিত শর্তাবলি অনুযায়ী নবী (সা.)-এর হাদিস—তা কথা হোক বা কাজ—দলিল (حجة) হওয়ার বিষয়টি যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে, সে কাফির (كفر) হয়ে যাবে, ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে এবং ইয়াহুদি-খ্রিস্টান কিংবা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী অন্যান্য কাফির (كفرة) দলের সাথে হাশর হবে" (৫) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال المعلمي: "منكر وجوب العمل بالأحاديث مطلقاً تقام عليه الحجة، فإن أصرّ بان كفره. ومنكر وجوب العمل ببعض الأحاديث إن كان له عذر من الأعذار المعروفة بين أهل العلم وما في معناها فمعذور، وإلا فهو عاص لله ورسوله، والعاصي آثم فاسق. وقد يتفق ما يجعله في معنى منكر وجوب العمل بالأحاديث مطلقاً " (1) .
قال العلامة عبد العزيز بن باز رحمه الله:
"إن ما تفوّه به رشاد خليفة من إنكار السنة والقول بعدم الحاجة إليها كفر وردة عن الإسلام؛ لأن من أنكر السنة فقد أنكر الكتاب، ومن أنكرهما أو أحدهما فهو كافر بالإجماع، ولا يجوز التعامل معه وأمثاله، بل يجب هجره والتحذير من فتنته وبيان كفره وضلاله في كل مناسبة حتى يتوب إلى الله من ذلك توبة معلنة في الصحف السيارة، لقول الله عز وجل: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} (البقرة: 159، 160)) ) (2) .
وقال أيضاً: "من المعلوم عند جميع أهل العلم أن السنة هي الأصل الثاني من أصول الإسلام وأن مكانتها في الإسلام الصدارة بعد كتاب الله عز وجل، فهي الأصل المعتمد بعد كتاب الله عز وجل بإجماع أهل العلم قاطبة، وهي حجة قائمة مستقلة على جميع الأمة، من جحدها أو أنكرها أو زعم أنه يجوز الإعراض عنها والاكتفاء بالقرآن فقد ضلّ ضلالاً بعيداً، وكفر كفراً أكبر وارتدّ عن الإسلام بهذا المقال، فإنه بهذا المقال وبهذا الاعتقاد يكون قد
--------------------------------------------
আল-মুয়াল্লিমী বলেছেন: "হাদিসের ওপর আমল করার আবশ্যকতাকে নিরঙ্কুশভাবে অস্বীকারকারীর নিকট দলিল (حجة) পেশ করা হবে; অতঃপর যদি সে জেদ ধরে তবে তার কুফরি (كفر) স্পষ্ট হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি কতিপয় হাদিসের ওপর আমল করার আবশ্যকতা অস্বীকার করে, যদি তার নিকট আলেমগণের মধ্যে সুপরিচিত কোনো ওজর (عذر) অথবা তদ্রূপ কিছু থাকে, তবে সে ওজরপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবে। অন্যথায় সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য; আর অবাধ্য ব্যক্তি পাপী (آثم) ও পাপাচারী (فاسق)। আর কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি হতে পারে যা তাকে নিরঙ্কুশভাবে হাদিসের ওপর আমল করার আবশ্যকতা অস্বীকারকারীর পর্যায়ভুক্ত করে দেয়।" (১) ।
আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"রশাদ খলিফা সুন্নাহ অস্বীকার এবং এর প্রয়োজনীয়তা না থাকার ব্যাপারে যে উক্তি করেছে তা কুফরি (كفر) এবং ইসলাম থেকে ধর্মত্যাগ (ردة); কারণ যে সুন্নাহকে অস্বীকার করল সে কুরআনকেও অস্বীকার করল। আর যে এই উভয়টিকে অথবা এদের কোনো একটিকে অস্বীকার করল সে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) অনুযায়ী কাফির (كافر)। তার সাথে এবং তার ন্যায় অন্যদের সাথে কোনো প্রকার লেনদেন করা বৈধ নয়, বরং তাকে বর্জন করা এবং তার ফিতনা থেকে সতর্ক করা ওয়াজিব। সেই সাথে প্রতিটি সুযোগে তার কুফরি (كفر) ও পথভ্রষ্টতা (ضلال) বর্ণনা করা আবশ্যক, যতক্ষণ না সে সংবাদপত্রসমূহে প্রচারের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট তওবা করে। মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা গোপন করে আমি যেসব উজ্জ্বল নিদর্শন ও হেদায়েত নাযিল করেছি, মানুষের জন্য কিতাবে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার পর; তাদের প্রতি আল্লাহ লানত করেন এবং লানতকারীগণও তাদের প্রতি লানত করে। তবে যারা তওবা করে, সংশোধন করে এবং সত্য প্রকাশ করে দেয়, আমি তাদের তওবা কবুল করি। আর আমি অধিক তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।} (সূরা আল-বাকারাহ: ১৫৯, ১৬০)) ) (২) ।
তিনি আরও বলেছেন: "সকল আলেমগণের নিকট এটি পরিচিত যে, সুন্নাহ হলো ইসলামের মূলনীতিসমূহের (أصول) দ্বিতীয় মূল এবং ইসলামে আল্লাহর কিতাবের পরেই এর অবস্থান। আলেমগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) অনুযায়ী আল্লাহর কিতাবের পর এটিই নির্ভরযোগ্য মূল এবং এটি সমগ্র উম্মতের জন্য একটি স্বতন্ত্র দলিল (حجة)। যে ব্যক্তি একে প্রত্যাখ্যান করল বা অস্বীকার করল অথবা দাবি করল যে, সুন্নাহ থেকে বিমুখ হওয়া এবং কেবল কুরআনের ওপর তুষ্ট থাকা বৈধ, সে সুদূরপ্রসারী পথভ্রষ্টতায় (ضلال) পতিত হলো এবং সে তার এই উক্তি ও বিশ্বাসের কারণে বড় কুফরিতে (كفر أكبر) লিপ্ত হয়ে ইসলাম থেকে ধর্মত্যাগ করল। কেননা সে এই উক্তি ও বিশ্বাসের মাধ্যমে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২০)
كذّب الله ورسوله، وأنكر ما أمر الله به ورسوله، وجحد أصلاً عظيماً فرض الله الرجوع إليه والاعتماد عليه والأخذ به، وأنكر إجماع أهل العلم عليه وكذب به، وجحده.....
...... ونبغت نابغة بعد ذلك، ولا يزال هذا القول يذكر فيما بين وقت وآخر، وتسمى هذه النابغة الأخيرة " القرآنية " ويزعمون أنهم أهل القرآن، وأنهم يحتجون بالقرآن فقط، وأن السنة لا يحتج بها؛ لأنها إنما كتبت بعد النبي صلى الله عليه وسلم بمدة طويلة، ولأن الإنسان قد ينسى وقد يغلط، ولأن الكتب قد يقع فيها غلط؛ إلى غير هذا من الترهات، والخرافات، والآراء الفاسدة، وزعموا أنهم بذلك يحتاطون لدينهم فلا يأخذون إلا بالقرآن فقط. وقد ضلوا عن سواء السبيل، وكذبوا وكفروا بذلك كفراً أكبر بواحاً؛ فإن الله عز وجل أمر بطاعة الرسول عليه الصلاة والسلام واتباع ما جاء به وسمى كلامه وحياً في قوله تعالى: {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى. مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى. وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى. إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} (النجم:1-4) ، ولوكان رسوله لا يتبع ولا يطاع لم يكن لأوامره ونواهيه قيمة.
وقد أمر صلى الله عليه وسلم أن تبلغ سنته، فكان إذا خطب أمر أن تبلّغ السنة، فدل ذلك على أن سنته صلى الله عليه وسلم واجبة الاتباع وعلى أن طاعته واجبة على جميع الأمة
… ومن تدبر القرآن العظيم وجد ذلك واضحاً " (1) .
وكفّر سماحة الشيخ عبد العزيز بن باز زعيم القرآنيين غلام أحمد برويز، وذلك في تعقيب له على مجلة الحج " التضامن الإسلامي " التي نشرت استفتاء من الشيخ محمد يوسف البنوري عن حكم الشريعة في غلام أحمد برويز وقدّم
--------------------------------------------
সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা নির্দেশ দিয়েছেন তা অস্বীকার করেছে। সে এমন এক মহান মূলনীতিকে (أصل) অস্বীকার করেছে যার প্রতি প্রত্যাবর্তন করা, যার ওপর নির্ভর করা এবং যা গ্রহণ করা আল্লাহ ফরজ করেছেন। এছাড়া সে এই বিষয়ের ওপর আহলুল ইলমের ঐক্যমত্যকে (إجماع) অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছে...
...এরপর একটি নতুন বিভ্রান্তি ও দলের উদয় হয়েছে এবং মাঝেমধ্যে এই মতবাদের কথা আলোচিত হয়। এই আধুনিক দলটিকে "কুরআনি" বলা হয়। তারা দাবি করে যে তারা কুরআনের অনুসারী এবং তারা কেবল কুরআনকেই দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) করে। তারা মনে করে যে সুন্নাহ দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) করা যায় না; কারণ তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের দীর্ঘ সময় পর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া মানুষ ভুলে যেতে পারে বা ভুল করতে পারে এবং কিতাবসমূহেও ভুল থাকতে পারে—এই জাতীয় অসার ও ভ্রান্ত কথাবার্তা, কুসংস্কার এবং ভুল মতাদর্শ। তারা দাবি করে যে এর মাধ্যমে তারা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করছে, তাই তারা কেবল কুরআন ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করে না। তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা মিথ্যাচার করেছে ও সুস্পষ্ট বড় কুফরিতে (كفر أكبر) লিপ্ত হয়েছে। কেননা মহান আল্লাহ রাসূলের (আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম) আনুগত্য করার ও তাঁর আনীত বিধান অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে তাঁর কথাকে ওহী (وحي) হিসেবে অভিহিত করেছেন: {কসম নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সাথী বিপথগামী হননি এবং লক্ষ্যভ্রষ্টও হননি। আর তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী (وحي) যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} (আন-নাজম: ১-৪)। যদি তাঁর রাসূলের অনুসরণ ও আনুগত্য করা না হতো, তবে তাঁর আদেশ ও নিষেধের কোনো মূল্য থাকত না।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সুন্নাহ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি যখন খুতবা দিতেন, তখন সুন্নাহ পৌঁছে দেওয়ার আদেশ করতেন। এটি প্রমাণ করে যে, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা ওয়াজিব (واجب) এবং সমগ্র উম্মতের ওপর তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব (واجب)
… আর যে ব্যক্তি মহান কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে সে এটি স্পষ্টভাবে খুঁজে পাবে (১)।
শ্রদ্ধেয় শাইখ আবদুল আজিজ বিন বাজ কুরআনিদের নেতা গোলাম আহমদ পারভেজকে কাফির সাব্যস্ত করেছেন। এটি তিনি 'আল-হজ্জ' ম্যাগাজিনের "আত-তাদামুন আল-ইসলামি" অংশে তাঁর এক মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন, যা শাইখ মুহাম্মদ ইউসুফ বানুরির পক্ষ থেকে গোলাম আহমদ পারভেজের ব্যাপারে শরীয়তের বিধান জানতে চেয়ে প্রেরিত একটি জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে প্রদান করা হয়েছিল এবং পেশ করা হয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২১)
عشرين نموذجاً مما تكلّم به برويز أو سطّرت يده، فقال ابن باز رحمة الله عليه: "كلّ من تأمل هذه النماذج المشار إليها من ذوي العلم والبصيرة يعلم علماً قطعياً لا يحتمل الشك بوجه مّا أن معتنقها ومعتقدها والداعي إليها كافر كفراً أكبر مرتد عن الإسلام، يجب أن يستتاب، فإن تاب توبة ظاهرة وكذّب نفسه تكذيباً ظاهراً يُنشر في الصحف المحلية، كما نشر فيها الباطل من تلك العقائد الزائفة وإلا وجب على وليّ الأمر للمسلمين قتله، وهذا شيء معلوم من دين الإسلام بالضرورة، والأدلة عليه من الكتاب والسنة وإجماع أهل العلم كثيرة جداً لا يمكن استقصاؤها في هذا الجواب، وكل أنموذج من تلك النماذج التي قدمها المستفتي من عقائد غلام أحمد برويز يوجب كفره وردته عن الإسلام عند علماء الشريعة الإسلامية".
ومن النماذج التي نقلت عنه نموذج مضمونه أن الأحكام المالية في القرآن من الصدقات والتوريث وغيرها مؤقتة وإنما يتدرج بها إلى " نظام الربوبية " وقد انتهت أحكامها.
وهناك نموذج آخر مضمونه أن الرسول والصحابة استنبطوا من القرآن أحكاماً كانت خاصة بهم، ولكل من جاء بعدهم من أعضاء شورى حكومة مركزية أن يستنبطوا أحكاماً أخرى وليسوا ملزمين بتلك الشريعة السابقة.
ونموذج آخر مضمونه أن المراد من طاعة الله وطاعة الرسول إطاعة مركز نظام الدين الذي ينفذ أحكام القرآن فقط.
ونموذج آخر نصه "ليس المراد بالجنة والنار أمكنة خاصة، بل هي كيفيات للإنسان" (1) .
--------------------------------------------
পারভেজ যা বলেছে বা তার কলম থেকে যা নিঃসৃত হয়েছে তার বিশটি নমুনা সম্পর্কে ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "জ্ঞান ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে যারা এই উল্লিখিত নমুনাগুলো নিয়ে চিন্তা করবেন, তারা কোনো প্রকার সন্দেহাতীতভাবে অকাট্য (قطعي) জ্ঞান লাভ করবেন যে, এসব মতবাদের অনুসারী, বিশ্বাসী এবং এর দিকে আহ্বানকারী ব্যক্তি বড় কুফর (كفر أكبر) এ লিপ্ত একজন কাফির (كافر) এবং ইসলাম থেকে বিচ্যুত একজন ধর্মত্যাগী (مرتد)। তাকে তওবা করার আহ্বান জানানো আবশ্যক; যদি সে প্রকাশ্য তওবা করে এবং স্থানীয় পত্রিকাসমূহে নিজের মিথ্যাচারকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করে—যেভাবে ওই বাতিল ও ভ্রান্ত আকিদাগুলো প্রকাশিত হয়েছিল—তবে ভালো, অন্যথায় মুসলিমদের শাসক বা কর্তৃপক্ষের ওপর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। এটি ইসলামের দ্বীন থেকে স্বতঃসিদ্ধভাবে জ্ঞাত (معلوم بالضرورة) একটি বিষয়। এর সপক্ষে কিতাব, সুন্নাহ এবং আলেমদের ঐকমত্য (إجماع) থেকে দলিল এত বেশি যে এই উত্তরে তা সবিস্তারে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। গোলাম আহমেদ পারভেজের আকিদা বা বিশ্বাসসমূহ থেকে প্রশ্নকর্তা যে নমুনাগুলো পেশ করেছেন, তার প্রতিটিই ইসলামী শরিয়তের আলেমদের নিকট তার কুফর (كفر) এবং ইসলাম থেকে ধর্মত্যাগ (ردة) সাব্যস্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট।"
তার থেকে বর্ণিত নমুনাগুলোর মধ্যে একটির বিষয়বস্তু এমন যে, কুরআনে বর্ণিত সদকা, উত্তরাধিকার এবং অন্যান্য আর্থিক বিধানগুলো ছিল সাময়িক এবং এর মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে 'রুবুবিয়্যাত ব্যবস্থা'র দিকে ধাবিত হওয়া উদ্দেশ্য ছিল, আর এখন সেগুলোর বিধান শেষ হয়ে গেছে।
সেখানে আরেকটি নমুনা রয়েছে যার বিষয়বস্তু হলো—রাসূল এবং সাহাবীগণ কুরআন থেকে এমন কিছু বিধান আহরণ (استنبط) করেছিলেন যা শুধুমাত্র তাদের সময়ের জন্য নির্দিষ্ট ছিল; তাদের পরবর্তী কেন্দ্রীয় সরকারের শুরা বা পরামর্শ সভার সদস্যদের অধিকার রয়েছে অন্য কোনো বিধান আহরণ (استنبط) করার এবং তারা পূর্ববর্তী সেই শরিয়ত মেনে চলতে বাধ্য নন।
আরেকটি নমুনার বিষয়বস্তু হলো—আল্লাহর আনুগত্য এবং রাসূলের আনুগত্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দ্বীনী ব্যবস্থার সেই কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের আনুগত্য করা যারা শুধুমাত্র কুরআনের বিধান বাস্তবায়ন করে।
অন্য একটি নমুনার পাঠ্য হলো: "জান্নাত ও জাহান্নাম দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট স্থান উদ্দেশ্য নয়, বরং এগুলো মানুষের আধ্যাত্মিক অবস্থার নাম।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২২)
الفصل الثاني
الشبهة الأولى…الفصل الثاني:
مل القرآنيون في هذا العصر لواء التشكيك في السنة النبوية، وأجلبوا عليه بخيل شبههم ورجلها لزحزحتها عن مقام الاحتجاج، غير أنهم لم يظفروا بطائل، وكان الأئمة لهم بالمرصاد.
وهذا الفصل معقود لدحض أباطيلهم، والتزمت بأن أصدِّر كلّ مبحث بإحدى شبههم على ما ترجمه خادم إلهي بخش في كتابه "القرآنيون وشبهاتهم" دون تصرف مني بزيادة أو نقص، ثم أكُرُّ عليها بالنقض بما ييسر الله، معتمداً على الكتاب والسنة، مفيداً من أقاويل أهل العلم، منوعاً الأجوبة ببراهين علمية، ومعارضات عقلية، وتأصيلات شرعية، فإليك أولى شبهاتهم مصروعة.
الشبهة الأولى:
قول برويز: 1) (2) . "لو كانت السنة جزءاً من الدين لوضع لها رسول الله صلى الله عليه وسلم منهجا كمنهج القرآن من الكتابة والحفظ والمذاكرة،.. لأن مقام النبوة يقتضي أن يعطي الدين لأمته على شكل محفوظ، لكنّه الله عليه وسلم صلى احتاط بكلّ الوسائل الممكنة لكتاب الله، ولم يفعل شيئا لسنّته، بل نهى عن كتابتها بقوله: لا تكتبوا عني غير القرآن، ومن كتب عني غير القرآن فليمحه " (
الرد:
نقول: ما هذا المنهج في القرآن؟ وإذا لم يكن منصوصا في القرآن
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
প্রথম সংশয় (الشبهة)…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
বর্তমান যুগের 'কুরআনপন্থীরা' নবুওয়াতের সুন্নাহর (سنة) ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করার ঝাণ্ডা উত্তোলন করেছে এবং সুন্নাহকে (سنة) প্রামাণ্যতার (الاحتجاج) অবস্থান থেকে বিচ্যুত করার জন্য তাদের সংশয়-সন্দেহের (شبهة) যাবতীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছে। তবে তারা কোনো লক্ষ্য অর্জনে সফল হতে পারেনি, আর ইমামগণ তাদের প্রতিরোধের জন্য সদা সজাগ ছিলেন।
এই পরিচ্ছেদটি তাদের অসারতা খণ্ডনের জন্য নিবেদিত। আমি প্রতিটি আলোচনার শুরুতে তাদের একটি করে সংশয় (شبهة) উল্লেখ করার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি, যেভাবে খাদেম ইলাহি বখশ তার "আল-কুরআনিউনা ওয়া শুবহাতুহুম" গ্রন্থে কোনো প্রকার কমবেশি বা পরিবর্তন ছাড়াই অনুবাদ করেছেন। অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে যা সহজ হবে তার মাধ্যমে আমি সেগুলো খণ্ডন করব। এ ক্ষেত্রে আমি কুরআন ও সুন্নাহর (سنة) ওপর নির্ভর করব, বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্য থেকে উপকৃত হব এবং বৈজ্ঞানিক দলিল, যৌক্তিক খণ্ডন ও শরয়ী মূলনীতি নির্ধারণের (تأصيلات شرعية) মাধ্যমে উত্তরগুলো বৈচিত্র্যময় করব। আপনার সামনে তাদের প্রথম সংশয়টি (شبهة) খণ্ডনসহ পেশ করা হলো।
প্রথম সংশয় (الشبهة):
পারভেজের বক্তব্য: ১) (২)। "যদি সুন্নাহ (سنة) দ্বীনের অংশ হতো, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য লিখন, মুখস্থকরণ ও মুজাকারার (আলোচনা) ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতির মতো কোনো পদ্ধতি (منهج) নির্ধারণ করে যেতেন। কারণ নবুওয়াতের মর্যাদা দাবি করে যে, তিনি তাঁর উম্মতের কাছে দ্বীনকে সংরক্ষিত অবস্থায় পৌঁছে দেবেন। কিন্তু তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কিতাবের জন্য সম্ভাব্য সকল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও তাঁর সুন্নাহর (سنة) জন্য কিছুই করেননি। বরং তিনি তা লিখতে নিষেধ করে বলেছেন: 'তোমরা আমার পক্ষ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখো না; আর কেউ যদি আমার পক্ষ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখে থাকো, তবে সে যেন তা মুছে ফেলে'।" (
উত্তর:
আমরা বলি: কুরআনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি (منهج) কী? আর যদি এটি কুরআনে স্পষ্টভাবে নির্দেশিত (منصوص) না হয়ে থাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وليس منصوصا قطعا - فمن أين علمتم بوجود هذا المنهج، وقد رفضتم السنة وجعلتموها مختلقة مفتراة؟ فكيف تستدلون بسنة مختلقة مفتراة بزعمكم على أهمّ المطالب عندكم وهي ادعاء أن النبي صلى الله عليه وسلم وضع للقرآن منهجا في كتابته وحفظه ومذاكرته، ولم يعمل للسنة مثله.
فهذا تناقض أصلع وتضارب أعمى كتب الله على معاندي الحق ومشاغبي الحجج ومناوئي الدين أن يتورطوا في أوحاله.
أما السنة فقد رغب الرسول صلى الله عليه وسلم الأمة في حفظها فقال: "نضر الله امرأ سمع منّا شيئاً فبلّغه كما سمع فرب مبلغ أوعى من سامع " (1) ، فهذا الحديث فيه أعظم حث على حفظ السنن، والمذاكرة من وسائل الحفظ وطرقه فليست مخالفة للحفظ، والوسيلة لها حكم المقصد.
وقال الرسول صلى الله عليه وسلم: "ليبلغ الشاهد الغائب" (2) ففيه حض على الحفظ أيضا إذ لا يمكن تبليغ ما لم يحفظ، إما اللفظ وإما المعنى.
فهذا كاف في حفظ السنة، مع علم الرسول صلى الله عليه وسلم بأنها من الذكر الذي تكفل الله بحفظه، وعلمه بحرص الصحابة على الحديث وأن بعضهم أحرص عليه من بعض. سأل أبو هريرة رسول الله صلى الله عليه وسلم من أسعد النّاس بشفاعتك يوم القيامة؟ فقال صلى الله عليه وسلم: لقد ظننت يا أبا هريرة ألاّ يسألني عن هذا الحديث أحد أوّل منك لما رأيت من حرصك على الحديث "أسعد الناس بشفاعتي يوم القيامة من قال لا إله إلا الله صدقاً من قلبه " (3) .
--------------------------------------------
এটি মোটেও অকাট্যভাবে উদ্ধৃত নয় - তবে আপনারা এই পদ্ধতির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানলেন কোথা থেকে, অথচ আপনারা সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সেটিকে বানোয়াট (مختلقة) ও মিথ্যারোপিত (مفتراة) গণ্য করেছেন? তবে আপনারা আপনাদের দাবি অনুযায়ী কীভাবে একটি বানোয়াট (مختلقة) ও মিথ্যারোপিত (مفتراة) সুন্নাহর মাধ্যমে আপনাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবির স্বপক্ষে দলিল পেশ করেন, যা হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনের লিখন, সংরক্ষণ এবং পাঠাভ্যাসের জন্য একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন, অথচ সুন্নাহর জন্য অনুরূপ কিছু করেননি?
এটি একটি প্রকাশ্য বৈপরীত্য এবং অন্ধ সংঘাত যা আল্লাহ সত্যের বিরোধিতাকারী, দলিলের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এবং দ্বীনের শত্রুদের জন্য লিখে রেখেছেন যে, তারা এর পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত হবে।
আর সুন্নাহর ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মতকে তা সংরক্ষণে উৎসাহিত করেছেন এবং বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমাদের থেকে কিছু শুনল এবং তা ঠিক যেভাবে শুনেছে সেভাবেই পৌঁছে দিল; কারণ অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয় সে শ্রোতার চেয়েও অধিক সমঝদার হয়।" (১) এই হাদিসটিতে সুন্নাহসমূহ সংরক্ষণের ব্যাপারে অত্যন্ত জোরালো উৎসাহ রয়েছে। আর পাঠাভ্যাস (মুজাকারা) হলো মুখস্থ ও সংরক্ষণের অন্যতম মাধ্যম ও পথ, তাই এটি সংরক্ষণের পরিপন্থী নয়; আর মাধ্যমের বিধান মূল উদ্দেশ্যের বিধানেরই অনুরূপ।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়।" (২) এতেও মুখস্থ ও সংরক্ষণের প্রতি তাগিদ রয়েছে, কারণ যা সংরক্ষিত নয় তা পৌঁছানো সম্ভব নয়—তা শব্দগতভাবে হোক কিংবা অর্থগতভাবে।
সুন্নাহ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এটিই যথেষ্ট, এর পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটিও জানতেন যে, সুন্নাহ সেই যিকিরের অন্তর্ভুক্ত যার সংরক্ষণের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া হাদিসের প্রতি সাহাবীগণের গভীর আগ্রহ এবং তাদের কেউ কেউ যে অন্যদের চেয়েও বেশি আগ্রহী ছিলেন সে সম্পর্কেও তিনি অবগত ছিলেন। আবু হুরায়রা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "কিয়ামত দিবসে আপনার শাফায়াতের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান কে হবে?" তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: "হে আবু হুরায়রা, আমি ধারণা করেছিলাম যে তোমার আগে এ হাদিস সম্পর্কে আমাকে কেউ জিজ্ঞাসা করবে না, কারণ হাদিসের প্রতি তোমার প্রবল আগ্রহ আমি লক্ষ্য করেছি। কিয়ামত দিবসে আমার শাফায়াতের মাধ্যমে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি হবে যে তার অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে।" (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والحديث الذي استدلوا به رواه مسلم من طريق همام عن زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار عن أبي سعيد مرفوعاً بلفظ: "لا تكتبوا عني ومن كتب عني غير القرآن فليمحه" (1) .
وهو الحديث الوحيد الصحيح فيما أعلم الناهي عن كتابة الأحاديث النبوية، ووردت أحاديث عديدة صحيحة في الأمر بكتابة الأحاديث النبوية والرخصة فيها.
وقد سلك أهل العلم في دفع ظاهر التعارض بين هذا الحديث والأحاديث الأخرى مسالك متعددة:
المسلك الأول: مسلك الترجيح لأحاديث الإذن على حديث النهي.
وقد وهَّم الإمام البخاري (2) ، والإمام أبو داود (3) همَّاماً في رفع هذا الحديث وصوَّبا وقفه على أبي سعيد الخدري، ولا تعارض بين حديث موقوف وأحاديث مرفوعة.
المسلك الثاني: مسلك النسخ، وهو القول بأن أحاديث الإذن متأخرة عن حديث النهي ناسخة له، وقد ذهب إلى ذلك ابن شاهين (4) وآخرون.
المسلك الثالث: مسلك الجمع بينهما وفيه طرائق:
قال البيهقي: "لعله إن شاء الله أذن في الكتابة عنه لمن خشي عليه النسيان، ونهى عن الكتابة عنه لمن وثق بحفظه، أو نهى عن الكتابة عنه من
--------------------------------------------
তারা যে হাদিসটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন তা মুসলিম বর্ণনা করেছেন হাম্মাম-এর সূত্রে, তিনি জায়দ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা আমার পক্ষ থেকে (কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু) লিখো না। আর যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে।" (১) ।
হাদিসটি লেখার নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে আমার জানামতে এটিই একমাত্র সহিহ (صحيح) হাদিস। অন্যদিকে হাদিস লেখার নির্দেশ ও অনুমতির বিষয়ে বহু সহিহ (صحيحة) হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
বিদ্বানগণ এই হাদিস এবং অন্য হাদিসগুলোর মাঝে আপাত বিরোধ (تعارض) নিরসনে বিভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন:
প্রথম পথ: নিষেধাজ্ঞার হাদিসের ওপর অনুমতির হাদিসগুলোকে প্রাধান্য প্রদান (ترجيح) করার পথ।
ইমাম বুখারি (২) এবং ইমাম আবু দাউদ (৩) এই হাদিসটিকে মারফু (رفع) করার ক্ষেত্রে হাম্মাম-কে ভ্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং তারা এটিকে আবু সাঈদ খুদরি-র ওপর মাওকুফ (وقف) হওয়াকে সঠিক বলেছেন। আর মাওকুফ (موقوف) হাদিস এবং মারফু (مرفوعة) হাদিসসমূহের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকে না।
দ্বিতীয় পথ: রহিতকরণ (نسخ)-এর পথ। এটি হলো এই মত যে, অনুমতির হাদিসগুলো নিষেধাজ্ঞার হাদিসের পরবর্তী সময়ের এবং তা আগের নির্দেশকে রহিতকারী (ناسخة)। ইবনে শাহিন (৪) ও অন্যান্যরা এই মত পোষণ করেছেন।
তৃতীয় পথ: উভয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন (جمع)-এর পথ, আর এতে কয়েক প্রকার পদ্ধতি রয়েছে:
বায়হাকি বলেন: "আল্লাহ চাহেন তো সম্ভবত তিনি তাদের হাদিস লেখার অনুমতি দিয়েছিলেন যাদের ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল, আর তাদের লিখতে নিষেধ করেছিলেন যাদের মুখস্থ শক্তির ওপর আস্থা ছিল। অথবা তিনি নিষেধ করেছিলেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
خاف عليهم الاختلاط وأذن في الكتابة عنه حين أمن منه" (1) .
وذكر الزركشي وجوها أخرى في الجمع بينهما فقال: "أحدها: أن النهي عن الكتابة مخصوص بحياة سيد البشر النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن النسخ يطرأ في كل وقت فيختلط الناسخ بالمنسوخ، ويشهد له حديث أبي شاه لما أذن له في كتابة الخطبة التي خطب بها النبي صلى الله عليه وسلم.. الثاني: أن النهي لئلا يتكل الكاتب على ما يكتب ولا يحفظ فيقل الحفظ.. الثالث: ألا يتخذ مع القرآن كتابا يضاهى به" (2) .
وهذا الخلاف كان في العصر الأول، ثم أجمعت الأمة على تسويغ كتابة الحديث والعلم، واستقر الأمر على ذلك (3) .
وليس في مسلك من هذه المسالك التي سلكها أهل العلم ما يشهد لما ضلت به هذه العصابة وفرقت به الأمة وشذت به عن السواد الأعظم،
{وَأُتْبِعُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ} (هود: 60) .
--------------------------------------------
"তিনি তাদের ওপর সংমিশ্রণের (الاختلاط) আশঙ্কা করেছিলেন এবং যখন তা থেকে নিরাপদ বোধ করলেন তখন তা লিখে রাখার অনুমতি দিলেন।" (১) ।
আল-যারকাশী এই দুটির মধ্যে সমন্বয় সাধনে আরও কিছু দিক উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "প্রথমত: লিখে রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞাটি ছিল মানবজাতির শ্রেষ্ঠ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশার জন্য নির্দিষ্ট; কারণ যেকোনো সময় রহিতকরণ (النسخ) ঘটতে পারত, ফলে রহিতকারী (الناسخ) রহিতকৃত (المنسوخ)-এর সাথে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকত। আবু শাহ-এর হাদিসটি এর স্বপক্ষে প্রমাণ দেয় যখন তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রদত্ত খুতবাটি লিখে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল... দ্বিতীয়ত: নিষেধাজ্ঞাটি ছিল যাতে লেখক তার লেখার ওপরই কেবল নির্ভর না করে এবং মুখস্থ করা ছেড়ে না দেয়, যার ফলে মুখস্থ (الحفظ) করার শক্তি কমে যেত... তৃতীয়ত: কুরআনের সাথে যেন অন্য কোনো কিতাব গ্রহণ করা না হয় যা এর সমকক্ষ হতে পারে।" (২) ।
এই মতভেদ প্রথম যুগে বিদ্যমান ছিল, অতঃপর উম্মাহ হাদিস ও ইলম লিখে রাখার বৈধতার ওপর ঐকমত্য (أجمعت) পোষণ করেছে এবং বিষয়টি এর ওপরই স্থির হয়েছে (৩) ।
আলেমগণ যে সকল পথ অনুসরণ করেছেন তার মধ্যে এমন কিছুই নেই যা এই বিভ্রান্ত গোষ্ঠীর মতবাদকে সমর্থন করে, যারা উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ (السواد الأعظم) দল থেকে বিচ্যুত হয়েছে,
"এবং এই দুনিয়ায় তাদের পেছনে লানত লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কিয়ামতের দিনেও।" (হুদ: ৬০) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الشبهة الثانية:قول عبد الله جكرالوي مؤسس الفرقة: "إن الكتاب المجيد ذكر كل شيء يحتاج إليه في الدين مفصلا ومشروحا من كل وجه، فما الداعي إلى الوحي الخفي وما الحاجة إلى السنة" (1) ؟
ويقول في موضع آخر: "كتاب الله كامل مفصل لا يحتاج إلى الشرح ولا إلى تفسير محمد صلى الله عليه وسلم له وتوضيحه إياه أو التعليم العملي بمقتضاه" (2) .
ويقول الحافظ أسلم في المعنى ذاته ما نصه: "قد انحصرت ضروريات الدين في اتباع القرآن المفصل ولا تتعداه" (3) .
الرد:
هذا كفر بالقرآن الذي يزعمون الانتساب إليه لأن الله يقول:
{وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} فموضع الرسول صلى الله عليه وسلم من القرآن موضع البيان له، فمن كذب ذلك فقد كذب نص القرآن. ومفهوم كتاب الله عند أهل العلم والإيمان يختلف عن مفهوم الكتاب عند هذه الفرقة المشبوهة.
حيث يطلق عند أهل العلم والإيمان على معنيين:
روى الشيخان من حديث أبي هريرة وزيد بن خالد قالا: كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم فقام رجل فقال: أنشدك الله إلا ما قضيت بيننا بكتاب الله فقام
--------------------------------------------
দ্বিতীয় সংশয়:এই ফিরকার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ চকরালভীর উক্তি: "নিশ্চয়ই কিতাবে মজিদ (আল-কুরআন) দ্বীনের প্রয়োজনীয় সকল বিষয় প্রতিটি দিক থেকে বিস্তারিত এবং ব্যাখ্যাসহ আলোচনা করেছে। এমতাবস্থায় অহি খাফি (الوحي الخفي)-এর কী কারণ থাকতে পারে এবং সুন্নাহ (السنة)-রই বা কী প্রয়োজন?" (১)?
তিনি অন্য এক স্থানে বলেন: "আল্লাহর কিতাব সম্পূর্ণ এবং বিস্তারিত; এটি ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে এর কোনো তাফসির, স্পষ্টীকরণ কিংবা এর দাবি অনুযায়ী হাতে-কলমে শিক্ষারও প্রয়োজন নেই।" (২)।
হাফেজ আসলাম একই অর্থে যা বলেছেন তার পাঠ হলো: "দ্বীনের যাবতীয় অপরিহার্য বিষয় বিস্তারিত কুরআনের অনুসরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং এটি এর বাইরে যায় না।" (৩)।
খণ্ডন:
এটি খোদ কুরআনের সাথেই কুফরি, যার সাথে তারা সম্পৃক্ত হওয়ার দাবি করে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন:
{আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা বর্ণনা করে দেন}। সুতরাং কুরআনের ক্ষেত্রে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থান হলো এর ব্যাখ্যাকারীর। যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করল, সে মূলত কুরআনের অকাট্য বর্ণনাকেই অস্বীকার করল। আহলে ইলম (জ্ঞানবান) এবং আহলে ঈমানের নিকট আল্লাহর কিতাবের যে ধারণা, তা এই সন্দেহভাজন ফিরকার ধারণার চেয়ে ভিন্ন।
কেননা আহলে ইলম এবং আহলে ঈমানের নিকট এটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
শাইখাইন আবু হুরায়রা এবং যায়েদ ইবনে খালিদ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করে দিন। তখন তিনি দাঁড়ালেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
خصمه وكان أفقه منه فقال: اقض بيننا بكتاب الله وائذن لي: قال: قل، قال: إن ابني كان عسيفاً على هذا فزنى بامرأته فافتديت منه بمائة شاة وخادم، ثم سألت رجالاً من أهل العلم فأخبروني أن على ابني جلد مائة وتغريب عام، وعلى امرأته الرجم فقال النبي صلى الله عليه وسلم: والذي نفسي بيده لأقضينّ بينكما بكتاب الله جل ذكره، المائة شاة (1) والخادم ردٌّ، وعلى ابنك جلد مائة وتغريب عام، واغد يا أنيس على امرأة هذا فإن اعترفت فارجمها فاعترفت فرجمها (2) .
وفي هذا الحديث طلب الخصمان من رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يحكم بينهما بكتاب الله وأجاب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى ذلك وحلف ليفعلنّ، والحكم الذي حكم به بينهما هو رد مائة الشاة والخادم وجلد مائة وتغريب عام على الزاني ورجم الزانية، وليس الرجم ولا التغريب ولاردّ مائة الشاة والخادم منصوصا عليها في القرآن المنزل، مع أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أطلق على هذا الحكم أنه كتاب الله أي حكم كتاب الله.
قال أهل العلم والإيمان: كتاب الله ينطلق على معنيين:
المعنى الأول: ما حكم الله به وكتب به على عباده سواء أكان منصوصا في القرآن أم في السنة، وإطلاق كتاب الله على القرآن والسنة إطلاق اشتراك (3) فما ثبت بالسنة يطلق عليه أنه كتاب الله، ومن حكم بالسنة
--------------------------------------------
তার প্রতিপক্ষ, যে ছিল তার চেয়ে অধিক ফকিহ (বিজ্ঞ), বলল: আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আমাকে কথা বলার অনুমতি দিন। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: বলো। সে বলল: আমার ছেলে এই ব্যক্তির নিকট শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল, অতঃপর সে তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। আমি এর বিনিময়ে একশটি বকরি ও একজন দাস মুক্তিপণ হিসেবে প্রদান করি। পরবর্তীতে আমি আলেমদের (বিদ্বানদের) নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা আমাকে জানান যে, আমার ছেলের শাস্তি হলো একশটি বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন, আর ওই ব্যক্তির স্ত্রীর শাস্তি হলো পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড (رجم)। তখন নবী ﷺ বললেন: যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! আমি অবশ্যই তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব। একশটি বকরি (১) এবং দাস ফেরতযোগ্য, আর তোমার ছেলের জন্য একশটি বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। হে উনাইস, তুমি সকালে এই ব্যক্তির স্ত্রীর নিকট যাও; সে যদি অপরাধ স্বীকার করে তবে তাকে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড (رجم) দাও। অতঃপর সে স্বীকারোক্তি দিলে তিনি তাকে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড (رجم) দিলেন (২) ।
এই হাদিসে বিবদমান পক্ষদ্বয় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট আবেদন করেছিলেন যেন তিনি তাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ তাতে সম্মত হন ও তা করার জন্য শপথ করেন। তিনি তাদের মাঝে যে ফয়সালা করেন তা হলো—একশটি বকরি ও দাস ফেরত দেওয়া, ব্যভিচারী পুরুষের জন্য একশটি বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন এবং ব্যভিচারিণী নারীর জন্য পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড (رجم)। অথচ পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড (رجم), নির্বাসন কিংবা বকরি ও দাস ফেরত দেওয়ার বিষয়টি অবতীর্ণ কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص) ছিল না; তা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ ﷺ এই ফয়সালাকে 'আল্লাহর কিতাব' অর্থাৎ আল্লাহর কিতাবের বিধান হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইলম ও ঈমানওয়ালাগণ (বিদ্বানগণ) বলেন: আল্লাহর কিতাব কথাটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
প্রথম অর্থ: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য যা বিধান করেছেন এবং অবধারিত করেছেন—তা কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص) হোক কিংবা সুন্নাহতে। কুরআন ও সুন্নাহর ক্ষেত্রে 'আল্লাহর কিতাব' শব্দটির ব্যবহার হলো সাধারণ বা সমার্থক প্রয়োগ (اشتراك) (৩)। সুতরাং সুন্নাহ দ্বারা যা প্রমাণিত তাকেও 'আল্লাহর কিতাব' বলা হয়; আর যে সুন্নাহ অনুযায়ী ফয়সালা করল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لم يخرج عن كتاب الله حكماً ومفهوما على هذا المعنى.
قال الواحدي: "وليس للجلد والتغريب ذكر في نص الكتاب، وهذا يدل على أن ما حكم به النبي صلى الله عليه وسلم فهو عن كتاب الله"، قال الرازي: وهذا حق لأنه تعالى قال: {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} فكل ما بينه الرسول عليه الصلاة والسلام كان داخلاً تحت هذه الآية (1) .
والمعنى الثاني عندهم: أن كتاب الله هو القرآن وحده ولكن يطلق على مدلول السنة بأنه في كتاب الله بواسطة أمر الله لنا بطاعة رسوله واتباع أمره، و " مَنْ قَبِلَ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فعن الله قَبِلَ، لِما افترض الله من طاعته، فيجمع القبولُ لما في كتاب الله وسنة رسول الله القبول لكل واحد منهما عن الله " (2) .
ومن حكم بالسنة لم يخرج عن كتاب الله حكما ومفهوما على هذا المعنى أيضاً.
روى الشيخان واللفظ لمسلم عن عبد الله بن مسعود قال: "لعن الله الواشمات والمستوشمات والنامصات والمتنمصات والمتفلجات للحسن المغيرات خلق الله فبلغ ذلك امرأة من بني أسد يقال لها أم يعقوب وكانت تقرأ القرآن فأتته فقالت: ما حديث بلغني عنك أنك لعنت الواشمات والمستوشمات والمتنمصات والمتفلجات للحسن المغيرات خلق الله؟ فقال عبد الله: وما لي لا ألعن من لعن رسول الله؟ وهو في كتاب الله، فقالت: لقد قرأت ما بين لوحي المصحف فما وجدته، فقال: لئن كنت قرأتيه لقد وجدتيه، قال الله
--------------------------------------------
তিনি এই অর্থের ভিত্তিতে বিধান (حكماً) এবং মর্ম (مفهوماً) এর দিক থেকে আল্লাহর কিতাব বহির্ভূত কিছু করেননি।
ওয়াহিদী বলেন: "কোরআনের মূল পাঠে (نص) বেত্রাঘাত ও নির্বাসনের কোনো উল্লেখ নেই, আর এটি প্রমাণ করে যে নবী (সা.) যা ফয়সালা করেছেন তা আল্লাহর কিতাব থেকেই।" আল-রাজি বলেন: "এটিই সত্য, কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {যাতে আপনি মানুষের কাছে তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে}। সুতরাং রাসুল (সা.) যা কিছু স্পষ্ট করেছেন, তা এই আয়াতের (১) অন্তর্ভুক্ত ছিল।"
তাদের নিকট দ্বিতীয় অর্থটি হলো: আল্লাহর কিতাব বলতে কেবল কোরআনকেই বোঝায়, তবে সুন্নাহর (سنة) নির্দেশিত বিষয়কে (مدلول) আল্লাহর কিতাবের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়; যেহেতু আল্লাহ আমাদের তাঁর রাসুলের আনুগত্য করার এবং তাঁর আদেশ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আর "যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর পক্ষ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করল, সে মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকেই তা গ্রহণ করল; কেননা আল্লাহ তাঁর আনুগত্য করা ফরজ করেছেন। সুতরাং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর (سنة) প্রতি এই গ্রহণযোগ্যতা—আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এই দুইটির প্রত্যেকটির গ্রহণযোগ্যতাকে একত্রিত করে" (২)।
আর যিনি সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী ফয়সালা করেন, তিনি এই অর্থের ভিত্তিতেও বিধান (حكماً) এবং মর্ম (مفهوماً) এর দিক থেকে আল্লাহর কিতাব বহির্ভূত কিছু করেননি।
শাইখাইন বর্ণনা করেছেন এবং শব্দশৈলী মুসলিমের; আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহ লানত করেছেন উল্কি অংকনকারিণী ও উল্কি গ্রহণকারিণী নারীদের, ভ্রূ উপড়ানো ও ভ্রূ উপড়াতে সাহায্যকারিণী নারীদের এবং সৌন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক তৈরি করা নারীদের, যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে।" এ খবর বনি আসাদ গোত্রের উম্মে ইয়াকুব নাম্নী এক মহিলার কাছে পৌঁছাল, যিনি কোরআন তিলাওয়াত করতেন। তিনি তাঁর (ইবনে মাসউদের) কাছে এসে বললেন: "আপনার পক্ষ থেকে আমার কাছে কোন হাদিস পৌঁছাল যে, আপনি নাকি উল্কি অংকনকারিণী, উল্কি গ্রহণকারিণী, ভ্রূ উপড়ানো এবং সৌন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক তৈরি করা নারীদের লানত করেছেন, যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে?" আবদুল্লাহ বললেন: "আল্লাহর রাসুল (সা.) যাকে লানত করেছেন তাকে আমি কেন লানত করব না? অথচ তা আল্লাহর কিতাবে রয়েছে।" মহিলাটি বললেন: "আমি মুসহাফের দুই মলাটের মধ্যবর্তী সবকিছু পড়েছি, কিন্তু আমি তো এমন কিছু পাইনি।" তিনি বললেন: "তুমি যদি তা পড়তে তবে অবশ্যই পেতে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
عز وجل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (1) .
فهذا ابن مسعود رضي الله عنه يقول عن حكمٍ ثبت بالسنة ولم يُنَصَّ عليه في القرآن أنه في كتاب الله.
وسئل عكرمة عن أمهات الأولاد؟ فقال: إنهن حرائر، قيل له بأي شيء تقوله؟ قال: بالقرآن، قال: بماذا من القرآن؟ قال: قول الله {وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} ، وكان عمر من أولي الأمر، قال: عتقت وإن كان سِقْطاً (2) .
بل ذهب الإمام المطلبي ناصر السنة إلى أبعد من ذلك إذ جعل ما ثبت عن عمر رضي الله عنه ثابتا في كتاب الله بنوع استنباط واستدلال بمراتب.
روى البيهقي بسنده عن عبد الله بن محمد بن هارون قال: سمعت محمد بن إدريس الشافعي يقول بمكة: سلوني عما شئتم أخبركم من كتاب الله فقال له رجل: أصلحك الله ما تقول في المحرم قتل زنبوراً؟ قال: بسم الله الرحمن الرحيم، قال الله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ} ، حدثنا سفيان بن عيينة عن عبد الملك بن عمير عن ربعي بن حراش عن حذيفة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اقتدوا بالذين من بعدي أبو بكر وعمر"، وحدثنا سفيان عن مسعر عن قيس بن مسلم عن طارق بن شهاب عن عمر أنه أمر بقتل زنبور (3) .
قال الواحدي: "فأجابه من كتاب الله مستنبطا بثلاث درجات" (4) .
--------------------------------------------
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (১)।
ইনি হলেন ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু), যিনি সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত এবং কুরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি এমন একটি বিধান সম্পর্কে বলছেন যে, এটি আল্লাহর কিতাবে রয়েছে।
ইকরিমাহকে ‘উম্মাহাতুল আওলাদ’ (সন্তান জন্মদাত্রী দাসী) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: তারা স্বাধীন। তাঁকে বলা হলো: আপনি কিসের ভিত্তিতে এটি বলছেন? তিনি বললেন: কুরআনের ভিত্তিতে। বলা হলো: কুরআনের কোন জায়গা থেকে? তিনি বললেন: আল্লাহর বাণী {এবং তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী)}, আর ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন উলুল আমরদের অন্তর্ভুক্ত; তিনি (ওমর) বলেছিলেন: সে স্বাধীন হয়ে যাবে, যদিও সেটি অকালজাত ভ্রূণ হয় (২)।
বরং ইমাম মুত্তালিবি, সুন্নাহর সাহায্যকারী, এর চেয়েও অগ্রসর হয়ে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে, তা এক প্রকার পর্যায়ক্রমিক উদ্ভাবন ও প্রমাণের মাধ্যমে আল্লাহর কিতাবেই সাব্যস্ত বলে গণ্য করেছেন।
বায়হাকী তাঁর সূত্রের (سند) মাধ্যমে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হারুন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস শাফিঈকে মক্কায় বলতে শুনেছি: "তোমরা আমাকে যা ইচ্ছা জিজ্ঞাসা করো, আমি আল্লাহর কিতাব থেকে তোমাদের উত্তর দেব।" তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, ইহরাম পরিহিত ব্যক্তি বলতা হত্যা করলে তার বিধান কী? তিনি বললেন: বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দান করেন তা গ্রহণ করো}। আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি রিবঈ ইবনে হিরাশ থেকে, তিনি হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার পরবর্তী এই দুই ব্যক্তির অর্থাৎ আবু বকর ও ওমরের অনুসরণ করো।" আর আমাদের নিকট সুফিয়ান মিসআর থেকে, তিনি কায়েস ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতা হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন (৩)।
ওয়াহিদী বলেন: "তিনি তিনটি স্তরের উদ্ভাবনের মাধ্যমে আল্লাহর কিতাব থেকেই তাকে উত্তর প্রদান করেছিলেন" (৪)।
--------------------------------------------