(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
شبهات القرآنيين حول السنة النبوية   (محمود مزروعة)

القسم: كتب عامة


الكتاب: شبهات القرآنيين حول السنة النبوية

المؤلف: محمود محمد مزروعة

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 89

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহর (السنة) ব্যাপারে কুরআনিস্টদের সংশয়সমূহ   (মাহমুদ মাজরূআহ)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: সুন্নাহর (السنة) ব্যাপারে কুরআনিস্টদের সংশয়সমূহ

লেখক: মাহমুদ মুহাম্মদ মাজরূআহ

প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৯

[বইটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
شبهات القرآنيين حول السنة النبوية

إعداد: أ. د/ محمود محمد مزروعة

بسم الله الرحمن الرحيم

ال‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين - والصلاة والسلام على رحمة الله إلى العالمين، وعلى إخوانه وآله وأصحابه والتابعين.

أما بعد:

فلقد بعث الله سبحانه وتعالى محمداً صلى الله عليه وسلم على فترة من الرسل، وأنزل عليه القرآن الكريم، فختم الله - تعالى - به الرسل، وختم برسالته الرسالات، وختم بكتابه الكتب، وجعله مصدقاً لما بين يديه منها ومهيمناً عليها.

وقد جاء القرآن المجيد مشتملاً على الدين كله، بعضه مفصل والكثير منه مجمل. وقد وكل الله - تعالى - تبيين الكتاب المجيد، وتفصيله إلى رسوله محمد صلى الله عليه وسلم، ومن ثم، جاءت سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم مبينة لما أبهم ومفصلة لما أجمل. يقول الله عز وجل: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (النحل: 44)

ولما كان الكتاب المجيد بحاجة إلى السنة تبينه وتفصله، فقد كانت السنة من وحي - الله تعالى - إلى نبيه صلى الله عليه وسلم حتى يكون المبيِّن والمبيَّن من مصدر واحد، وعلى مستوى واحد، وحاشا - الله تعالى - أن ينزل الكتاب وحيا، ثم يترك بيان ما فيه لبشر بعيداً عن الوحي. فإن المبيِّن له نفس أهمية المبيَّن من حيث هو وسيلة الانتفاع به، وسبيل العمل بمقتضاه، من ذلك كان القرآن المجيد والسنة النبوية المطهرة يصدران من مشكاة واحدة، مشكاة الوحي الإلهي المعصوم. يقول الله عز وجل عن رسوله – صلى الله عليه وسلم: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} (النجم: 3-4)
সুন্নাহর বিষয়ে কুরআনপন্থীদের সংশয়সমূহ

উপস্থাপনায়: প্রফেসর ড. মাহমুদ মুহাম্মদ মাজরুআহ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আল-‌মুকাদ্দিমা (مقدمة)

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাকে জগতবাসীর জন্য আল্লাহর রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তাঁর ভাইগণ (অন্যান্য নবীগণ), তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং তাবেঈগণের ওপর।

অতঃপর:

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুহাম্মদ (সা.)-কে এমন এক যুগে প্রেরণ করেছেন যখন রাসূলদের আগমনের ধারা দীর্ঘকাল বন্ধ ছিল। তিনি তাঁর ওপর কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে রাসূলদের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন, তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে সকল রিসালাতের সিলসিলা পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর কিতাবের মাধ্যমে কিতাবসমূহের সমাপ্তি টেনেছেন। তিনি এই কিতাবকে তাঁর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী ও সেগুলোর ওপর তদারককারী ও সংরক্ষক (مهيمن) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

কুরআন মাজিদ পূর্ণাঙ্গ দ্বীনকে অন্তর্ভুক্ত করে অবতীর্ণ হয়েছে, যার কিছু অংশ বিস্তারিত (مفصل) এবং এর অধিকাংশ সারসংক্ষেপ (مجمل)। আল্লাহ তাআলা এই পবিত্র কিতাবের বিশদ বিবরণ ও ব্যাখ্যার দায়িত্ব তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অর্পণ করেছেন। ফলশ্রুতিতে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যাকারী (مبين) এবং সারসংক্ষেপ (مجمل) বিষয়গুলোর বিস্তারিত (مفصل) রূপ হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।" (আন-নাহল: ৪৪)

যেহেতু কুরআন মাজিদকে স্পষ্ট ও বিস্তারিত করার জন্য সুন্নাহর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তাই সুন্নাহকেও আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর নবীর (সা.) প্রতি ওহী (وحي) হিসেবে অবতীর্ণ করা হয়েছে; যাতে ব্যাখ্যাকারী (مبين) এবং ব্যাখ্যেয় (مبين) বিষয় উভয়টিই একই উৎস থেকে এবং একই স্তরের হয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কিতাবকে ওহী (وحي) হিসেবে অবতীর্ণ করবেন, আর তার ব্যাখ্যার দায়িত্ব ওহী (وحي) ব্যতিরেকে কেবল মানুষের ওপর ছেড়ে দেবেন—এমনটি হওয়া অসম্ভব। কেননা ব্যাখ্যেয় (مبين) বিষয় থেকে উপকৃত হওয়া এবং সে অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার (مبين) গুরুত্ব সমপর্যায়ের। এই কারণেই কুরআন মাজিদ এবং পবিত্র সুন্নাহ একই উৎস থেকে উৎসারিত, আর তা হলো মাসুম (নিষ্পাপ) ঐশী ওহী (وحي)। মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল (সা.) সম্পর্কে ইরশাদ করেন: "আর তিনি নিজের খেয়ালখুশিমতো কোনো কথা বলেন না। তা তো ওহী (وحي) যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।" (আন-নাজম: ৩-৪)
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
ومنذ جاءت الرسالة الخاتمة وأعداء الله لها بالمرصاد. وقد اتخذت العداوة لله ورسوله ولدينه صورا مختلفة، وتلبست أشكالاً عديدة. ونحن نستطيع أن نجمل هذه الصور والأشكال في نوعين اثنين. الأول، أعداء للإسلام أعلنوا عداءهم في وضوح، ونابذوا المسلمين في جلاء. من أمثال الصليبيين والشيوعيين والعلمانيين وأصناف الملاحدة بعامة، الذين أعلنوا عن إلحادهم، وهؤلاء ضررهم قليل، وخطرهم معروف، لأن عداءهم معلن، وكفرهم سافر، فالمسلمون منهم على حذر، ومن كيدهم ومكرهم على ترقب وتوجس. أما النوع الثاني، فهم المنافقون الذين يظهرون غير ما يبطنون، يتدثرون بعباءة الإسلام، ويصطنعون الحرص عليه، والدعوة إليه والعمل على وحدة الأمة، وبينما يعلنون ذلك يسعون إلى تحقيق أغراضهم الخبيثة من القضاء على الإسلام عن طريق التشكيك في مصادره الموحى بها من عند الله عز وجل وبخاصة السنة النبوية المطهرة. وذلك بإثارة الشبهات ضد سنة رسول الله – صلى الله عليه وسلم والزعم بأنها ليست من الدين، ولاصلة لها بالتشريع الإسلامي، ويزعمون أن القرآن هو المصدر الوحيد للشريعة الإسلامية.

وهذه الدعوى قديمة، والعداء لرسول الله صلى الله عليه وسلم ولسنته موروث. لكن الجديد هو هذه الفئة من أعداء الله ورسوله والمسلمين، منكري سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم التي بدأت في أواخر القرن التاسع عشر وأوائل العشرين الميلادي في بلاد الهند، ثم انتقلت إلى باكستان بعد استقلالها عن الهند، وما تزال. وأعجب أمر هؤلاء أنهم يُنْسَبون إلى القرآن المجيد، فهم يحبون أن يسموا أنفسهم "القرآنيون" نسبة إلى القرآن كتاب الله المجيد ظلماً وزورا. وقد اختاروا هذه النسبة إيهاماً للناس بأنهم ملتزمون بكتاب الله القرآن. هذا من جانب ومن جانب آخر يشيرون من طرف خفي إلى أن غيرهم من المسلمين
চূড়ান্ত রিসালাত আগমনের সূচনালগ্ন থেকেই আল্লাহর শত্রুরা ওত পেতে আছে। আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর দ্বীনের প্রতি এই শত্রুতা বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছে এবং বহুবিধ অবয়বে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমরা এই রূপ ও অবয়বগুলোকে প্রধানত দুই ভাগে সংক্ষেপ করতে পারি। প্রথমত, ইসলামের সেই সব শত্রু যারা স্পষ্টভাবে তাদের শত্রুতা ঘোষণা করেছে এবং প্রকাশ্যে মুসলিমদের সাথে বিবাদ করেছে। যেমন ক্রুসেডার, কমিউনিস্ট, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং সাধারণভাবে নাস্তিকদের বিভিন্ন গোষ্ঠী, যারা তাদের নাস্তিকতা প্রকাশ করেছে। এদের ক্ষতি সীমিত এবং বিপদ সুপরিচিত, কারণ তাদের শত্রুতা ঘোষিত এবং তাদের কুফর সুস্পষ্ট। ফলে মুসলিমরা তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকে এবং তাদের ষড়যন্ত্র ও চাতুর্য সম্পর্কে সজাগ ও সন্ধিহান থাকে। দ্বিতীয় প্রকার হলো সেই সব মুনাফিক যারা অন্তরে যা গোপন করে তার বিপরীতটা প্রকাশ করে। তারা ইসলামের লেবাস ধারণ করে, এর প্রতি গভীর মমতা ও এর দিকে আহ্বানের ভান করে এবং উম্মাহর ঐক্যের জন্য কাজ করার অভিনয় করে। অথচ এই প্রকাশ্য দাবির অন্তরালে তারা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি তথা ইসলামের উৎসসমূহ, বিশেষ করে পবিত্র সুন্নাহর (السنة) ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টির মাধ্যমে ইসলামকে নির্মূল করার হীন উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে। আর তা করা হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর (السنة) বিরুদ্ধে নানাবিধ সংশয় উত্থাপন করে এবং এই দাবি করে যে, এটি দ্বীনের অংশ নয় এবং ইসলামী বিধানের (تشريع) সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তারা দাবি করে যে, পবিত্র কুরআনই ইসলামী শরিয়তের (شريعة) একমাত্র উৎস।

এই দাবিটি প্রাচীন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সুন্নাহর (السنة) প্রতি শত্রুতা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। তবে নতুন বিষয় হলো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুসলিমদের শত্রুদের এই দলটি—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (السنة) অস্বীকারকারী—যাদের সূচনা হয়েছিল উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ভারতবর্ষের মাটিতে; পরবর্তীতে ভারত থেকে স্বাধীন হওয়ার পর তা পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয় এবং এখনও তা বিদ্যমান। এদের সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, তারা নিজেদের মহিমান্বিত কুরআনের সাথে সম্পৃক্ত করে; তাই তারা অত্যন্ত অন্যায় ও মিথ্যাভাবে আল্লাহর কিতাব মহিমান্বিত কুরআনের দিকে নিসবত করে নিজেদের "কুরআনি" (القرآنيون) বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। তারা এই নাম বেছে নিয়েছে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য যে, তারা আল্লাহর কিতাব কুরআনের প্রতি অনুগত। এটি একদিকের বিষয়, আর অন্যদিক থেকে তারা ইঙ্গিতে ইশারা করে যে, অন্য মুসলিমরা
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
الذين يؤمنون بسنة رسول الله – صلى الله عليه وسلم ويعملون بها ليسوا قرآنيين، وأنهم اشتغلوا بالسنة وتركوا القرآن، - وأيضاً - حتى يجنبوا أنفسهم المؤاخذة، ويقطعوا سبل الاعتراض عليهم، لأنه من ذا الذي يعترض على طائفة أعلنت أنها تنتسب إلى القرآن وتتمسك به؟.

وليس من المستغرب وجود مثل هذه الطائفة، فأعداء الإسلام كُثُر، ومنكرو السنة مضت بهم القرون جيلاً بعد جيل، وقد أخبر عنهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فعن المقدام بن معد يكرب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال "ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه، ألا يوشك رجل شبعان على أريكته يقول: عليكم بهذا القرآن، فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه، وما وجدتم فيه من حرام فحرموه ألا وإن ما حرم رسول الله مثل ما حرم الله" (1) لكن الغريب من هؤلاء هي تلك الشبهات التي أثاروها ضد سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم والتي يزعمون أنها أدلة على أن السنة ليست من الدين، ولا الدين منها وقد ملأوا بها مؤلفاتهم - وهي في جملتها أوردية - وندواتهم ومناظراتهم مع الآخرين - وقد كان لنا حظ من تلك المناظرات على مدى ثلاث جلسات بيننا وبين "البرويزيين" بمدينة "كراتشي" في عام 1983م. وذلك أثناء عملي أستاذاً بالجامعة الإسلامية العالمية بإسلام أباد بباكستان.

وشبهاتهم هذه المزعومة هي محل الغاية في هذا البحث الموجز الذي عقدناه لمناقشة هذه الشبهات والرد عليها.

نسأل الله - سبحانه - التوفيق والسداد والمعونة والاحتساب، إنه - سبحانه - ولي ذلك والقادر عليه.

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود في كتاب السنة، باب رقم 6، في لزوم السنة (5/11) والترمذي في كتاب العلم، باب رقم 10، ما نُهي عنه أن يقال (5/37) .

যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة)-র ওপর ঈমান রাখে এবং তদনুযায়ী আমল করে, তারা ‘কুরআনি’ নয়। তাদের সম্পর্কে এও বলা হয় যে, তারা সুন্নাহ (سنة) নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে কুরআন বর্জন করেছে; (তারা এটি বলে) যেন তারা নিজেদের জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা করতে পারে এবং তাদের ওপর আপত্তির পথ রুদ্ধ করতে পারে। কারণ, এমন কে আছে যে সেই দলের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলবে যারা ঘোষণা করেছে যে তারা কুরআনের অনুসারী এবং তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আছে?

এমন দলের অস্তিত্ব থাকা আশ্চর্যজনক নয়, কেননা ইসলামের শত্রু অনেক। সুন্নাহ (سنة) অস্বীকারকারীরা শতাব্দী পর শতাব্দী এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বিদ্যমান ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। মিকদাম ইবনে মা'দী কারিব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে। সাবধান, অচিরেই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তি আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বলবে: তোমরা এই কুরআনকেই গ্রহণ করো; এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল মানবে এবং যা হারাম পাবে তাকেই হারাম মানবে। অথচ রাসূলুল্লাহ যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়েরই অনুরূপ।” (১) তবে এই লোকদের পক্ষ থেকে বিস্ময়কর বিষয় হলো সেই সব সংশয়, যা তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة)-র বিরুদ্ধে উত্থাপন করেছে এবং দাবি করে যে এগুলোই প্রমাণ যে সুন্নাহ (سنة) দ্বীনের অংশ নয় এবং দ্বীনও সুন্নাহর অংশ নয়। তারা তাদের রচনাবলি—যার অধিকাংশ উর্দু—এবং সেমিনার ও অন্যদের সাথে বিতর্কের মাধ্যমে এগুলো প্রচার করেছে। ১৯৮৩ সালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক থাকাকালীন করাচি শহরে ‘পারভেজিদের’ সাথে তিন ধাপের মুনাজারায় আমাদের অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছিল।

তাদের এই তথাকথিত সংশয়গুলোই এই সংক্ষিপ্ত গবেষণার মূল লক্ষ্য, যা আমরা এই সংশয়সমূহ আলোচনা ও খণ্ডন করার জন্য প্রস্তুত করেছি।

আমরা মহান আল্লাহর নিকট তাওফিক, সঠিক পথনির্দেশ, সাহায্য ও সওয়াবের প্রত্যাশা করছি। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং সর্ববিষয়ে ক্ষমতাধর।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ এটি কিতাবুস সুন্নাহ-তে বর্ণনা করেছেন, অধ্যায় নং ৬, সুন্নাহর আবশ্যকতা অনুচ্ছেদে (৫/১১); এবং তিরমিযী এটি কিতাবুল ইলম-এ বর্ণনা করেছেন, অধ্যায় নং ১০, যা বলা নিষেধ করা হয়েছে সেই অনুচ্ছেদে (৫/৩৭)।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌المبحث الأول: التعريف بالسنة النبوية

أولاً: السنة في اللغة، هي: الطريقة، وهي السيرة حميدة كانت أو غير حميدة. ومن ذلك قول الرسول صلى الله عليه وسلم "من سنّ سنة حسنة كان له أجرها وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة، ومن سنّ سنة سيئة كان عليه وزرها ووزر من عمل بها إلى يوم القيامة". (1) وسنة الله - تعالى - في خلقه: حكمه - سبحانه - في خلقه، وما عودهم عليه (2) . وذلك كقولهم: سنة الله في خلقه أن يمهل العاصي لعلّه يتوب ويرجع.

ثانياً: السنة في الاصطلاح: يختلف معنى السنة في الاصطلاح حسب تخصص المصطلحين وأهدافهم واهتماماتهم. فهناك المحدِّثون، وهناك الأصوليون، وهناك الفقهاء.

أما علماء الحديث أو المحدِّثون فإنما يبحثون في السنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الإمام الهادي، النبي الرسول، الذي أخبرنا ربنا سبحانه وتعالى أنه أسوتنا وقدوتنا، ومن ثم فقد نقلوا كل ما يتصل به صلى الله عليه وسلم من أقوال وأفعال وتقريرات، سواء أثبت ذلك حكما شرعياً أم لم يثبت. كما نقلوا عنه عليه الصلاة والسلام أخباره وشمائله وقصصه وصفاته خَلْقاً وخُلُقاً. وهذا ما التأمت عليه كتب الحديث، وأنتجته مجهودات المحدثين. ومن هنا فقد عرفوا السنة بأنها: "كل ما أثر عن النبي -

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم، كتاب الزكاة، باب الحث على الصدقة وأنواعها 7/102.

(2) المعجم الوسيط 456 وغيره من المعاجم.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ (السنة) নববিয়ার পরিচিতি

প্রথমত: আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ (السنة) হলো: পদ্ধতি (الطريقة), আর তা হলো জীবনপদ্ধতি (السيرة), চাই তা প্রশংসনীয় হোক বা মন্দ। আর এ থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো উত্তম পদ্ধতির (سنة) সূচনা করবে, সে তার সওয়াব পাবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও পাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ পদ্ধতির (سنة) সূচনা করবে, তার ওপর সেই কাজের গুনাহ বর্তাবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের গুনাহও তার ওপর বর্তাবে।" (১) আর সৃষ্টিজগতে মহান আল্লাহর সুন্নাহ (سنة) হলো: তাঁর মাখলুকের ব্যাপারে তাঁর হুকুম (حكم) এবং যা তিনি তাদের অভ্যাসে পরিণত করেছেন (২)। যেমন বলা হয়ে থাকে: সৃষ্টিজগতে আল্লাহর সুন্নাহ (سنة) হলো নাফরমানকে অবকাশ দেওয়া যেন সম্ভবত সে তওবা করে এবং ফিরে আসে।

দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহ (السنة): বিশেষজ্ঞগণের শাস্ত্র, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও আগ্রহের ভিন্নতা অনুযায়ী পরিভাষায় সুন্নাহর অর্থ ভিন্ন ভিন্ন হয়। এখানে রয়েছেন মুহাদ্দিসগণ (المحدثون), উসুলবিদগণ (الأصوليون) এবং ফকিহগণ (الفقهاء)।

পক্ষান্তরে হাদিস বিশারদ বা মুহাদ্দিসগণ (المحدثون) সুন্নাহর (السنة) মধ্যে কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হিদায়াতকারী ইমাম এবং নবী ও রাসূল হিসেবেই অনুসন্ধান করেন, যাঁকে আমাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের জন্য আদর্শ ও অনুকরণীয় হিসেবে সংবাদ দিয়েছেন। সেই সুবাদে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্ত কথা (أقوال), কাজ (أفعال) ও মৌনসম্মতি (تقريرات) বর্ণনা করেছেন, চাই তা দ্বারা কোনো শারয়ি বিধান (حكم) প্রমাণিত হোক বা না হোক। তেমনিভাবে তাঁরা তাঁর থেকে তাঁর সংবাদসমূহ, শামায়েল, জীবনী এবং তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক গুণাবলিও বর্ণনা করেছেন। আর এ বিষয়গুলো মিলেই হাদিসের কিতাবসমূহ সংকলিত হয়েছে এবং এটিই মুহাদ্দিসগণের (المحدثون) মেহনতের ফসল। এখান থেকেই তাঁরা সুন্নাহর (السنة) সংজ্ঞা দিয়েছেন যে, তা হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (أثر) প্রত্যেক বিষয়-"

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুয যাকাত, দান-সদকা ও এর প্রকারভেদে উৎসাহ প্রদান অনুচ্ছেদ, ৭/১০২।

(২) আল-মু'জাম আল-ওয়াসিত ৪৫৬ এবং অন্যান্য অভিধান।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
صلى الله عليه وسلم - من قول أو فعل أو تقرير، أو صفة خَلْقِية أو خُلُقية، سواء كان ذلك قبل البعثة أو بعدها".

وأما علماء الأصول، فإنما يبحثون في السنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم المشرع الذي يضع القواعد، ويوضح الطريق أمام المجتهدين من بعده، ويبين للناس دستور الحياة، فاهتموا من السنة بأقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله وتقريراته التي تستقي منها الأحكام على أفعال العباد من حيث الوجوب والحرمة والإباحة، وغير ذلك. ولذلك عرفوا السنة بأنها: (ما نقل عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير ". مثال القول، قوله عليه الصلاة والسلام: - "إنما الأعمال بالنيات" (1) . ومثال الفعل، ما نقل إلينا من فعله صلى الله عليه وسلم في الصلوات من وقتها وهيئتها. ومناسك الحج وغير ذلك. ومثال التقرير، إقراره عليه الصلاة والسلام لاجتهاد الصحابة في أمر صلاة العصر في غزوة بني قريظة حيث قال لهم: "لا يصلين أحدكم العصر إلا في بني قريظة" (2) ، ففهم بعضهم النهي على ظاهره فأخَّر الصلاة فلم يصلِّها حتى فات وقتها، وفهم بعضهم أن المقصود حث الصحابة على الإسراع، فصلوها في وقتها قبل الوصول إلى بني قريظة. وبلغ النبي صلى الله عليه وسلم ما فعل الفريقان فأقرهما جميعا (3) .

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري، كيف كان بدء الوحي، 1/32، مكتبة الكليات الأزهرية ط1398.

(2) رواه البخاري، كتاب المغازي، باب مرجع النبي صلى الله عليه وسلم من الأحزاب، 15/294 برقم 4119.

(3) السنة ومكانتها من التشريع، د. مصطفى السباعي: 47، السنة قبل التدوين. د. عجاج الخطيب: 16.
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম, মৌন অনুমোদন (تقرير), অথবা তাঁর শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, চাই তা নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে হোক বা পরে।"

পক্ষান্তরে উসুলবিদগণ (علماء الأصول) সুন্নাহর মধ্যে কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একজন বিধানদাতা (مشرع) হিসেবে অনুসন্ধান করেন, যিনি মূলনীতি নির্ধারণ করেন এবং তাঁর পরবর্তী মুজতাহিদদের (مجتهدين) জন্য পথ স্পষ্ট করেন এবং মানুষের জন্য জীবনবিধান বর্ণনা করেন। তাই তাঁরা সুন্নাহর মধ্য থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা, কাজ এবং মৌন অনুমোদনের (تقرير) প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, যা থেকে বান্দার কর্মকাণ্ডের ওপর ওয়াজিব (وجوب), হারাম (حرمة), মুবাহ (إباحة) ইত্যাদি বিধান আহরণ করা হয়। এজন্য তাঁরা সুন্নাহর সংজ্ঞায় বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বাণী, কর্ম অথবা মৌন অনুমোদন (تقرير)"। বাণীর উদাহরণ হলো তাঁর (সা.) এই কথা: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" (১)। কর্মের উদাহরণ হলো—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামাজের ওয়াক্ত ও পদ্ধতি এবং হজের নিয়মাবলী (مناسك) ইত্যাদি সম্পর্কে যা আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে। আর মৌন অনুমোদনের (تقرير) উদাহরণ হলো—বনু কুরাইজা যুদ্ধের সময় আসরের নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের ইজতিহাদের (اجتهاد) প্রতি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মতি প্রদান। যখন তিনি তাঁদের বলেছিলেন: "তোমাদের কেউ যেন বনু কুরাইজায় না পৌঁছে আসরের নামাজ না পড়ে" (২)। তখন তাঁদের কেউ কেউ এই নিষেধকে তার বাহ্যিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে বুঝেছিলেন এবং নামাজ বিলম্বিত করেছিলেন, ফলে সময় অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা নামাজ পড়েননি। আবার তাঁদের কেউ কেউ বুঝেছিলেন যে, এর উদ্দেশ্য ছিল সাহাবীদের দ্রুত পৌঁছাতে উদ্বুদ্ধ করা, তাই তাঁরা বনু কুরাইজায় পৌঁছানোর আগেই যথাসময়ে নামাজ পড়ে নিয়েছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উভয় পক্ষের কর্মকাণ্ডের সংবাদ পৌঁছালে তিনি তাঁদের উভয় দলকেই অনুমোদন (أقر) করেছিলেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি বর্ণনা করেছেন, ওহীর সূচনা অধ্যায়, ১/৩২, মাকতাবাতুল কুল্লিয়্যাত আল-আজহারিয়্যা, ১ম সংস্করণ, ১৩৯৮ হি.।

(২) বুখারি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল মাগাজি, পরিচ্ছেদ: আহযাব যুদ্ধ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রত্যাবর্তন, ১৫/২৯৪, হাদিস নং ৪১১৯।

(৩) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরি, ড. মুস্তফা আস-সিবাঈ: ৪৭; আস-সুন্নাহ কবলাত তাদউইন, ড. আজজাজ আল-খতিব: ১৬।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وأما علماء الفقه فيبحثون في السنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي لا تخرج أقواله وأفعاله عن الدلالة على حكم من الأحكام الشرعية. ومن هنا كانت السنة عندهم هي: "ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم أمراً غير جازم". أو "ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير افتراض ولا وجوب". أو "ما في فعله ثواب، وفي تركه ملامة وعتاب لا عقاب". وهي تقابل الواجب وغيره من الأحكام الخمسة لدى الفقهاء - وقد تطلق السنة عندهم على ما يقابل البدعة، فيقال: فلان على سنة إذا كان يعمل على وفق ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم ويقال: فلان على بدعة، إذا عمل على خلاف ذلك. ويطلق لفظ السنة عندهم - كذلك - على ما عمل عليه الصحابة - رضوان الله عليهم - وجد ذلك في القرآن المجيد أو لم يوجد، لكونه اتباعاً لسنة ثبتت عندهم، لم تنقل إلينا، أو اجتهاداً مجتمعاً عليه منهم أو من خلفائهم. لقوله صلى الله عليه وسلم: - "عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي، عضوا عليها بالنواجذ" (1) (2) .

هذه معاني السنة، أو تعريفاتها والمراد بها في مصطلح العلماء، وقد تبين لنا أن علماء كل فن أو علم من العلوم لهم اهتمام وعمل في السنة يتناسب مع اهتمامهم، ويحقق ما يهدفون إليه في علومهم، دون أن تتعارض

--------------------------------------------

(1) أبو داود: كتاب السنة، باب في لزوم السنة 2/359 برقم 4583، وأحمد 4/126، والترمذي كتاب العلم باب رقم 16، وابن ماجة في المقدمة باب رقم 6، والدارمي في المقدمة باب 16.

(2) إرشاد الفحول: 31، والموافقات: 4 / 3، تدوين السنة. د. محمد مطر الزهراني: 17 والسنة ومكانتها من التشريع: 49.
পক্ষান্তরে ফিকহ শাস্ত্রবিদগণ (علماء الفقه) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর (السنة) মধ্যে এমন সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, যেগুলোর কথা ও কাজ শরয়ি বিধানের (الأحكام الشرعية) কোনো না কোনো নির্দেশনার বাইরে নয়। এ কারণেই তাদের নিকট সুন্নাহ (السنة) হলো: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু তা বাধ্যতামূলক নয় (غير جازم)"। অথবা "যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে ফরজ (افتراض) কিংবা ওয়াজিব (وجوب) হওয়া ব্যতিরেকেই"। অথবা "যার আমলে সওয়াব রয়েছে এবং বর্জনে তিরস্কার ও অনুযোগ রয়েছে কিন্তু শাস্তি (عقاب) নেই"। এটি ফকিহদের নিকট ওয়াজিব (الواجب) এবং অন্যান্য পাঁচটি বিধানের (الأحكام الخمسة) বিপরীতে ব্যবহৃত হয়—আবার কখনো তাদের নিকট সুন্নাহ (السنة) শব্দটি বিদআতের (البدعة) বিপরীতে ব্যবহৃত হয়; তাই বলা হয়: অমুক ব্যক্তি সুন্নাহর (سنة) ওপর রয়েছেন, যখন সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ অনুযায়ী আমল করে। আর বলা হয়: অমুক ব্যক্তি বিদআতের (بدعة) ওপর রয়েছেন, যখন সে এর পরিপন্থী আমল করে। সুন্নাহ (السنة) শব্দটি তাদের নিকট একইভাবে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর অনুসৃত আমলের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়—চাই তা পবিত্র কুরআনে থাকুক বা না থাকুক। কারণ তা হয় তাদের নিকট প্রমাণিত কোনো সুন্নাহর (سنة) অনুসরণ যা আমাদের পর্যন্ত বর্ণিত হয়নি, অথবা তা তাদের কিংবা তাদের খলিফাদের পক্ষ থেকে কোনো সর্বসম্মত ইজতিহাদ (اجتهاد)। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো; তা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরে রাখো।" (১) (২) .

এগুলোই সুন্নাহর অর্থ বা সংজ্ঞা এবং আলেমদের পরিভাষায় এর দ্বারা যা উদ্দেশ্য। আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রত্যেক শাস্ত্র বা বিজ্ঞানের আলেমদের সুন্নাহ নিয়ে এমন বিশেষ গুরুত্ব ও কাজ রয়েছে যা তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাদের শাস্ত্রীয় লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক, কোনো প্রকার বৈপরীত্য ছাড়াই।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ: কিতাবুস সুন্নাহ, সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা পরিচ্ছেদ, ২/৩৫৯, হাদিস নং ৪৫৮৩; আহমদ ৪/১২৬; তিরমিজি: কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ নং ১৬; ইবনে মাজাহ: মুকাদ্দিমা, পরিচ্ছেদ নং ৬; দারেমি: মুকাদ্দিমা, পরিচ্ছেদ ১৬।

(২) ইরশাদুল ফুহুল: ৩১; আল-মুওয়াফাকাত: ৪/৩; তাদউনুস সুন্নাহ, ড. মুহাম্মদ মাতার আল-জাহরানি: ১৭; আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরি’: ৪৯।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
هذه العلوم، فالحق أنها كلها في خدمة السنة النبوية وتيسير التعرف عليها والعمل بها، ومن أشرف أهداف القائمين على هذه العلوم هو جمع السنة النبوية وتمحيصها، وتنقيتها مما قد يكون دخيلاً عليها، ثم الدفاع عنها ضد الشاغبين عليها، المعارضين لها، الساعين إلى طرحها والاقتصار في التشريع الإسلامي على مصدر واحد هو القرآن العظيم.

وإذا كنا قد أشرنا إلى عدد من تعريفات العلماء للسنة النبوية الشريفة، فإن التعريف الذي يتوافق مع بحثنا هذا إنما هو تعريف الأصوليين تحديداً، لأنهم الذين يعنون - بالدرجة الأولى - ببيان حجية السنة، ومكانتها من التشريع، وسوق الأدلة على ذلك. وإن كان المحدثون والفقهاء لم يحرموا أجر البحث في هذه الجوانب، ولم يقصروا في بذل المجهود في سبيلها.
এই ইলমসমূহ—প্রকৃতপক্ষে এগুলোর সবই সুন্নাহে নববী-র সেবায় এবং তা জানা ও সে অনুযায়ী আমল করা সহজ করার জন্য নিবেদিত। আর এই ইলমসমূহের চর্চাকারীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য হলো সুন্নাহে নববী সংকলন করা, সেটির সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই (تمحيص) করা এবং যা কিছু এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে তা থেকে একে পরিশুদ্ধ (تنقية) করা। এরপর যারা সুন্নাহর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ায়, বিরোধিতা করে এবং ইসলামি আইন প্রণয়নের (التشريع) ক্ষেত্রে কেবল একটি উৎস—অর্থাৎ মহান কুরআন—এর ওপর সীমাবদ্ধ থেকে সুন্নাহকে বর্জন করতে চায়, তাদের হাত থেকে একে রক্ষা করা।

আমরা যদিও সুন্নাহে নববী শরিফ সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের বেশ কিছু সংজ্ঞার কথা উল্লেখ করেছি, তবে আমাদের এই গবেষণার সাথে যা সংগতিপূর্ণ তা হলো সুনির্দিষ্টভাবে উসুলবিদদের (الأصوليين) দেওয়া সংজ্ঞা। কারণ তাঁরাই মূলত সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) বর্ণনা করা, শরিয়তে এর অবস্থান নিরূপণ করা এবং এই বিষয়ে দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। যদিও মুহাদ্দিসগণ (المحدثون) এবং ফকিহগণ (الفقهاء) এই বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হননি এবং এই পথে প্রচেষ্টা ব্যয়ে কোনো ত্রুটি করেননি।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المبحث الثاني: مكانة السنة النبوية من التشريع وأدلة حجيتها

‌‌أولاً: مكانة السنة النبوية الشريفة من التشريع

إن السنة النبوية الشريفة هي المصدر الثاني للتشريع الإسلامي. وهذه حقيقة لا يعارضها أو يشغب عليها إلا شقي معاد لله ولرسوله وللمؤمنين، مخالف لما أجمعت عليه الأمة سلفاً وخلفاً وحتى قيام الساعة - بحول الله تعالى.

ذلكم أن المقرر لدى الأمة المسلمة أن الوحي المنزل على الرسول صلى الله عليه وسلم من قبل الله - سبحانه - نوعان: الأول: هو القرآن العظيم، كلام الله سبحانه - المنزل على رسوله صلى الله عليه وسلم بلفظه ومعناه، غير مخلوق، المتعبد بتلاوته، المعجز للخلق، المتحدي بأقصر سورة منه، المحفوظ من الله - تعالى - أن يناله التحريف، المجموع بين دفتي المصحف الشريف. أما النوع الثاني من الوحي: فهو السنة النبوية المطهرة بأقسامها القولية والفعلية والتقريرية، وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم هي من وحي الله عز وجل إلى رسوله صلى الله عليه وسلم باتفاق الأمة المسلمة، وذلك لما قام الدليل من كتاب الله - تعالى - على ذلك في آيات كثيرة، ثم لما صرحت به السنة النبوية، ثم لما أجمع عليه الصحابة والتابعون وتابعوهم إلى يوم الدين - بحول الله تعالى.

وإذا كان الشاغبون على سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم يزعمون أنهم يستمسكون بالقرآن المجيد مكتفين به عن السنة، فلنذكر بعض
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরিয়ত প্রণয়নে সুন্নাহর অবস্থান এবং এর প্রামাণিকতার (حجية) দলীলসমূহ

প্রথমত: শরিয়ত প্রণয়নে সুন্নাহর সুমহান অবস্থান

নিশ্চয়ই সুন্নাহ হলো ইসলামি শরিয়ত প্রণয়নের দ্বিতীয় উৎস। এটি এমন এক ধ্রুব সত্য, যার বিরোধিতা বা এটি নিয়ে বিভ্রান্তি কেবল সেই হতভাগ্য ব্যক্তিই সৃষ্টি করে, যে আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং মুমিনদের শত্রু; যে উম্মতের পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিগণের সর্বসম্মত ঐকমত্যের (إجماع) বিরোধী, যা আল্লাহর শক্তিতে কিয়ামত পর্যন্ত অটুট থাকবে।

মুসলিম উম্মাহর নিকট এটি সুনিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত যে, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ ওহি (وحي) দুই প্রকার: প্রথমটি হলো সুমহান কুরআন, যা শব্দ ও অর্থসহ মহান আল্লাহর কালাম হিসেবে তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, যা সৃষ্ট নয়, যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য, যা সৃষ্টির জন্য অপরাজেয় মুজিজা (معجزة), যার ক্ষুদ্রতম সূরার মাধ্যমেও চ্যালেঞ্জ প্রদান করা হয়েছে, যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিকৃতি (تحريف) থেকে সুরক্ষিত এবং যা পবিত্র মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে সংকলিত। আর দ্বিতীয় প্রকার ওহি (وحي) হলো: পবিত্র সুন্নাহ, যা এর সকল প্রকার—মৌখিক (قولية), কর্মগত (فعلية) এবং মৌনসম্মতিগত (تقريرية)—কে অন্তর্ভুক্ত করে। মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুসারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি প্রেরিত ওহি (وحي)। কারণ, আল্লাহর কিতাবের অনেক আয়াতে এর পক্ষে প্রমাণাদি বিদ্যমান, তদুপরি সুন্নাহতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে এবং সাহাবী (الصحابة), তাবিঈ (التابعون) ও তাঁদের অনুসারীগণ কিয়ামত পর্যন্ত এ ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন—আল্লাহর শক্তিতে।

যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং দাবি করে যে, তারা সুন্নাহ ব্যতিরেকে কেবল কুরআন মাজিদকেই আঁকড়ে ধরছে এবং এটিকেই যথেষ্ট মনে করছে, তবে তাদের জন্য আমরা কিছু বিষয় উল্লেখ করব...
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ما جاء به القرآن الكريم من الآيات البينات التي تشهد وتصرح بأن السنة وحي من عند الله - سبحانه- إلى رسوله صلى الله عليه وسلم ثم الآيات التي تصرح بوجوب طاعته- صلى الله عليه وسلم ووجوب حبه، ووجوب اتباعه، ووجوب الاحتكام إليه والتسليم له في كل ما يحكم به، لنا كان الحكم أو علينا، إلى غير ذلك.

فمن الآيات القرآنية التي تدل على أن السنة وحي قول الله عز وجل – {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} (النجم:3-4) وهذه الآية نص قاطع في أن الرسول صلى الله عليه وسلم لا يأتي بشيء من عنده، وأن كل ما ينطق به في مجال التشريع إنما هو وحيٌ من عند الله - تعالى - سواء كان وحياً من النوع الأول وهو القرآن، أو من النوع الثاني وهو السنة النبوية.

ومن ذلك - أيضاً - قوله تبارك وتعالى {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولاً مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ} (آل عمران:164) . وهذه الآية الكريمة لعلها استجابة من الله - تعالى - للدعاء الذي توجه به إبراهيم وإسماعيل - على نبينا وعليهما الصلاة والسلام - إليه - تعالى - حين كانا يرفعان القواعد من البيت.

وهذا الدعاء ذكره الله في القرآن الكريم في قوله سبحانه وتعالى: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولاً
পবিত্র কুরআন এমন সব সুস্পষ্ট নিদর্শন (آيات بينات) নিয়ে এসেছে যা সাক্ষ্য দেয় এবং স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে, সুন্নাহ হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ ওহী (وحي)। এরপর এমন সব আয়াত এসেছে যা তাঁর আনুগত্যের আবশ্যকতা (وجوب), তাঁকে ভালোবাসার আবশ্যকতা (وجوب), তাঁর অনুসরণের আবশ্যকতা (وجوب) এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁর বিচার প্রার্থনা ও তাঁর ফয়সালার সামনে আত্মসমর্পণ (تسليم) করার আবশ্যকতা (وجوب) ব্যক্ত করে—চাই সেই রায় আমাদের অনুকূলে হোক বা প্রতিকূলে; এ ছাড়াও আরও অনেক বিষয় এতে বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র কুরআনের যে সকল আয়াত প্রমাণ করে যে সুন্নাহ হলো ওহী (وحي), তার মধ্যে অন্যতম হলো মহান আল্লাহ তাআলার বাণী— "আর তিনি নিজ খেয়াল-খুশি মতো কোনো কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী (وحي), যা প্রত্যাদেশ করা হয়।" (আন-নাজম: ৩-৪)। এই আয়াতটি এ বিষয়ে একটি অকাট্য পাঠ (نص قاطع) যে, রাসূল (সা.) নিজের পক্ষ থেকে কিছু নিয়ে আসেন না এবং বিধান প্রণয়ন (تشريع)-এর ক্ষেত্রে তিনি যা কিছু উচ্চারণ করেন, তা মূলত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহী (وحي)। চাই তা প্রথম প্রকারের ওহী (وحي) তথা কুরআন হোক, অথবা দ্বিতীয় প্রকারের ওহী (وحي) তথা নববী সুন্নাহ।

অনুরূপভাবে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণীও এর প্রমাণ— "অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ (الحكمة) শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে নিমজ্জিত ছিল।" (আল-ইমরান: ১৬৪)। এই সম্মানিত আয়াতটি সম্ভবত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই দোয়ারই একটি সাড়া বা কবুলিয়াত, যা ইব্রাহিম ও ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম)—আমাদের নবী ও তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—আল্লাহর দরবারে পেশ করেছিলেন যখন তাঁরা পবিত্র কাবার ভিত্তি উত্তোলন করছিলেন।

এই দোয়ার কথা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন— "আর স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল কাবার ভিত্তি উত্তোলন করছিল এবং বলেছিল, হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর থেকে আপনার প্রতি অনুগত এক উম্মত (أمة) তৈরি করুন। আর আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলী (مناسك) দেখিয়ে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই আপনি অতিশয় তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু। হে আমাদের রব! আপনি তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করুন..."
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (البقرة:127- 129) . فهذا الدعاء من إبراهيم وإسماعيل - على نبينا وعليهما الصلاة والسلام - لقي القبول عند الله - سبحانه - فكان من قدره عز وجل أن جعل من ذريتهما تلك الأمة المسلمة التي هي خير أمة أخرجت للناس، ثم بعث فيها رسولاً من أنفسهم يتلو عليهم آياته ويزكيهم ويعلمهم الكتاب والحكمة.

وقد ذهب أهل العلم والتحقيق إلى أن المراد بالحكمة إنما هو: السنّة النبوية، فإن الله - تعالى - قد مَنَّ على المؤمنين بإرسال الرسول صلى الله عليه وسلم الذي جعل رأس رسالته أن يعلم أمته المؤمنة شيئين: الكتاب والحكمة. ولا يجوز أن تكون الحكمة هي الكتاب، فإنها معطوفة عليه، والعطف يقتضي المغايرة، ولا يجوز أن تكون شيئاً آخر غير السنة، فإنها عطفت على الكتاب، فهي من جنسه في المصدر والغاية. وقد منَّ الله - تعالى - بهما على المؤمنين، ولا يمنّ الله - تعالى - إلا بما هو حق وصدق، فالحكمة حق كما أن القرآن حق. وهذه الآية واضحة الدلالة على أن السنة من وحي الله - تعالى - على نبيه صلى الله عليه وسلم.

يقول الشافعي - رحمه الله تعالى: " فذكر الله الكتاب وهو القرآن، وذكر الحكمة، فسمعت مَن أرضى مِن أهل العلم بالقرآن يقول: الحكمة سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وهذا يشبه ما قال - والله أعلم - لأن القرآن ذُكر، وأُتْبِعَتْه الحكمة، وذكر الله منَّه على الخلق بتعليمهم الكتاب والحكمة، فلم يجز - والله أعلم - أن يقال الحكمة هنا إلا سنّة رسول الله صلى الله عليه وسلم وذلك أنها مقرونة بالكتاب، وأن الله افترض طاعة
"...তাদের মধ্য থেকে, যে তাদের নিকট আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবে এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" (আল-বাকারা: ১২৭-১২৯)। ইব্রাহিম ও ইসমাইল—আমাদের নবী ও তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এর এই দোয়া আল্লাহর নিকট কবুল হয়েছে। ফলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি পূর্বনির্ধারিত ছিল যে, তিনি তাঁদের বংশধরদের মধ্য থেকে সেই মুসলিম উম্মাহকে তৈরি করবেন, যারা মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠ উম্মাহ। অতঃপর তিনি তাঁদের মধ্যে তাঁদেরই মধ্য থেকে একজন রসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাঁদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাঁদের পবিত্র করেন এবং তাঁদের কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেন।

গবেষক ও বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কেরাম এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, হিকমাহ দ্বারা মূলত সুন্নাহ (سنة)-ই উদ্দেশ্য। কেননা আল্লাহ তাআলা মুমিনদের প্রতি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রেরণের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন, যিনি তাঁর রিসালাতের মূল ভিত্তি হিসেবে তাঁর মুমিন উম্মতকে দুটি বিষয় শিক্ষা দেওয়াকে নির্ধারণ করেছেন: কিতাব ও হিকমাহ। হিকমাহ কিতাব থেকে ভিন্ন কিছু হওয়া আবশ্যক, কারণ এটি কিতাবের ওপর সংযুক্ত (معطوف) হয়েছে, আর ব্যাকরণগতভাবে সংযুক্তি (عطف) বিষয়ের ভিন্নতা দাবি করে। আবার এটি সুন্নাহ (سنة) ব্যতীত অন্য কিছু হওয়াও সম্ভব নয়, কারণ কিতাবের সাথে এর সংযুক্তি প্রমাণ করে যে এটি উৎস ও লক্ষ্যের দিক থেকে কিতাবেরই সমগোত্রীয়। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের প্রতি এ দুটি বিষয়ের মাধ্যমেই অনুগ্রহ করেছেন, আর আল্লাহ তাআলা কেবল যা সত্য ও সঠিক তা দিয়েই অনুগ্রহ করেন। সুতরাং কুরআন যেমন সত্য, হিকমাহও তেমনি সত্য। আর এই আয়াতটি এ কথার সুস্পষ্ট প্রমাণ (دلالة) যে, সুন্নাহ (سنة) হলো তাঁর নবীর প্রতি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি (وحي)।

ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহ কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন যা হলো কুরআন, এবং তিনি হিকমাহর কথা উল্লেখ করেছেন। আমি কুরআনের জ্ঞানে পারদর্শী এমন ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের প্রতি আমি সন্তুষ্ট, তাঁদের বলতে শুনেছি যে: হিকমাহ হলো রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة)। এটি তাঁদের কথার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ—আল্লাহই ভালো জানেন—কারণ কুরআন উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার পরপরই হিকমাহ এসেছে। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতি কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে যে অনুগ্রহ করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এখানে—আল্লাহই ভালো জানেন—হিকমাহ বলতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة) ব্যতীত অন্য কিছু বলা সংগত নয়। কেননা এটি কিতাবের সাথে যুক্তভাবে এসেছে এবং আল্লাহ তাঁর আনুগত্যকে ফরয করেছেন..."
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
رسوله صلى الله عليه وسلم وحتم على الناس إتباع أمره، فلا يجوز أن يقال لقول فرض إلا لكتاب الله - تعالى - وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم....." (1) .

ومن الآيات التي تقطع بأن السنة وحي من عند الله - تعالى - وأن الرسول صلى الله عليه وسلم لا ينطق فيما يتصل بالتشريع إلا بما يوحي الله - تعالى - إليه، قوله - سبحانه - في شأن رسوله صلى الله عليه وسلم: {وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ} (الحاقة:44-47) .

فهذه الآيات تدل بوضوح شديد على أن الرسول صلى الله عليه وسلم لا يقول شيئاً - فيما يتصل بالدين - إلا بما يوحي إليه الله به - وكذلك لا يفعل، فإن القول أعم من الفعل ودليله - ولو أن الرسول صلى الله عليه وسلم قال شيئاً في الدين لم يوح الله - تعالى - به إليه، لأهلكه الله - تعالى - وما من أحد بقادر على أن يمنع الله - سبحانه - من إهلاكه آنئذ، وهذا وعيد من الله - تعالى - ووعد، وعيد لنبيه صلى الله عليه وسلم أن يتقول عليه ما لم يوح به إليه - وحاشاه صلى الله عليه وسلم أن يفعل ذلك - ووعد للمؤمنين بأنه - تعالى - حافظٌ دينَه من أن يدخل إليه أو يختلط به ما ليس منه على لسان نبيه، وهذه الآيات تعد - في الوقت ذاته - أمراً من الله - تعالى - جازماً لأمته أن يؤمنوا ويوقنوا ويسلموا لكل ما يأتيهم به النبي صلى الله عليه وسلم حيث إن الله عز وجل ضمن لهم أن نبيه لن

--------------------------------------------

(1) الرسالة: 78. وراجع في ذلك السنة ومكانتها من التشريع. د. مصطفى السباعي: 50.
...তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং মানুষের ওপর তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করা আবশ্যক করেছেন। অতএব, আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোনো কথাকে আবশ্যিক (فرض) বলা বৈধ নয়....." (১)।

সেই আয়াতসমূহের মধ্যে যা অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, সুন্নাহ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহি (وحي) এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শরিয়ত প্রণয়ন (تشريع) সংক্রান্ত বিষয়ে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি যা ওহি (وحي) করেন তা ব্যতীত অন্য কিছু বলেন না, তা হলো তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: {আর সে যদি আমার নামে কোনো কথা বানিয়ে বলত, তবে আমি অবশ্যই তার ডান হাত ধরে ফেলতাম, অতঃপর তার গ্রীবাস্থিত ধমনী কেটে দিতাম। তখন তোমাদের মধ্যে এমন কেউ থাকত না যে তাকে রক্ষা করতে পারত} (আল-হাক্কাহ: ৪৪-৪৭)।

এই আয়াতসমূহ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বীন (دين) সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আল্লাহ যা তাঁর প্রতি ওহি (وحي) করেন তা ব্যতীত অন্য কিছু বলেন না এবং তদ্রূপ কিছু করেনও না। কেননা উক্তি কর্ম অপেক্ষা অধিক ব্যাপক এবং এর প্রমাণ স্বরূপ—যদি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বীন (دين) সম্পর্কে এমন কিছু বলতেন যা আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি ওহি (وحي) করেননি, তবে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাঁকে ধ্বংস করে দিতেন। আর তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সেই ধ্বংস করা থেকে তাঁকে রক্ষা করার সামর্থ্য কারো থাকত না। এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি কঠোর হুঁশিয়ারি এবং প্রতিশ্রুতি; তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি হুঁশিয়ারি যেন তিনি আল্লাহর নামে এমন কিছু বানিয়ে না বলেন যা তাঁর প্রতি ওহি (وحي) করা হয়নি—অথচ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা করা থেকে পুত-পবিত্র—আর মুমিনদের জন্য প্রতিশ্রুতি যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনকে (دين) নবীর জবানের মাধ্যমে এমন কিছু প্রবেশ করা বা মিশে যাওয়া থেকে রক্ষা করবেন যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। একই সাথে এই আয়াতগুলো তাঁর উম্মতের প্রতি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক অকাট্য নির্দেশ যাতে তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের কাছে যা কিছু নিয়ে আসেন তার প্রতি ঈমান আনয়ন করে, দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আত্মসমর্পণ করে, যেহেতু আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে তাঁর নবী কখনও...

--------------------------------------------

(১) আর-রিসালাহ: ৭৮। এই প্রসঙ্গে আরও দেখুন: আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা মিনাত তাশরি, ড. মুস্তফা আস-সিবাঈ: ৫০।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
يتقول عليهم، وأن كل ما ينطق به النبي قولاً، أو يأتيه فعلاً. إنما هو من وحي الله - تعالى - إليه. يقول العلماء: لقد أخبر الله عز وجل بأن رسوله صلى الله عليه وسلم لو تقول في الدين قولاً لم يوح - الله تعالى - به إليه لأهلكه الله - سبحانه - وحيث إن الله - تعالى - لم يهلك نبيه، فلم يأخذ منه باليمين، ولم يقطع منه الوتين - نياط القلب - بل سانده وأعانه، وأيده ونصره، وأظهره على أعدائه هو وأصحابه الذين آمنوا به واتبعوه، فإن ذلك دليل قاطع على أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يقل أو يفعل أو يقر شيئاً إلا بوحي من الله سبحانه وتعالى (1) .

ومن الآيات التي تدل على أن الرسول صلى الله عليه وسلم لا يقول أو يفعل شيئاً في الدين إلا بوحي من عند الله عز وجل قول الله - سبحانه - مخبراً عن رسوله-صلى الله عليه وسلم:- {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوباً عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْأِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ} (الأعراف:157) .

فالآية أسندت الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وإحلال الحلال، وتحريم الحرام إليه- صلى الله عليه وسلم مباشرة دون أن تقيد ذلك بكونه قرآناً أو سنة، والإطلاق العام هنا يشمل جميع ما يحله ويحرمه صلى الله عليه وسلم أعم من أن يكون ذلك بالقرآن أو بالسنة، فبان من ذلك أن ما يحل

--------------------------------------------

(1) يرجع في تفسير هذه الآيات إلى التفاسير المعروفة وبخاصة: الزمخشري، والرازي، والقرطبي.
...তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা করছেন, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু কথা হিসেবে উচ্চারণ করেন অথবা কাজ হিসেবে সম্পাদন করেন, তা মূলত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি প্রেরিত ওহি (وحي)। উলামায়ে কেরাম বলেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি দ্বীনের ব্যাপারে এমন কোনো কথা বানিয়ে বলতেন যা আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি ওহি (وحي) করেননি, তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অবশ্যই তাঁকে ধ্বংস করে দিতেন। যেহেতু আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে ধ্বংস করেননি, তাঁর ডান হাত পাকড়াও করেননি এবং তাঁর জীবনধমনী (وتين) -হৃদপিণ্ডের শিরা- বিচ্ছিন্ন করেননি; বরং তাঁকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন, তাঁকে সমর্থন ও বিজয় দান করেছেন এবং তাঁর শত্রুদের ওপর তাঁকে ও তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নকারী ও অনুসারী সাহাবীগণকে বিজয়ী করেছেন। অতএব এটি একটি অকাট্য প্রমাণ যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু বলেছেন, করেছেন কিংবা মৌন সন্মতি (إقرار) প্রদান করেছেন, তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে ওহি (وحي) ব্যতীত অন্য কিছু নয় (১)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বীনের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহি (وحي) ব্যতীত কোনো কিছু বলেন না বা করেন না—এ বিষয়ের নির্দেশক আয়াতসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী, যেখানে তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলছেন: “যারা সেই রাসূলের অনুসরণ করে, যিনি নিরক্ষর (أمي) নবী, যাঁর উল্লেখ তারা তাদের কাছে থাকা তওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; যিনি তাদের সৎকাজের আদেশ দেন ও অসৎকাজ (المنكر) থেকে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন এবং তাদের ওপর থেকে তাদের গুরুভার ও শৃঙ্খল যা তাদের ওপর ছিল তা অপসারিত করেন।” (আল-আরাফ: ১৫৭)।

এই আয়াতে সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজ (المنكر) থেকে নিষেধ, হালাল করা এবং হারাম করার বিষয়টি সরাসরি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, কোনো শর্তারোপ করা ছাড়াই যে তা কুরআন নাকি সুন্নাহ। আর এই ব্যাপক ও সাধারণ প্রয়োগ (الإطلاق العام) এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু হালাল ও হারাম করেছেন তার সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে, চাই তা কুরআনের মাধ্যমে হোক বা সুন্নাহর মাধ্যমে। এর দ্বারা এটি স্পষ্ট হলো যে, যা কিছু হালাল করা হয়...

--------------------------------------------

(১) এই আয়াতসমূহের তাফসীরের জন্য প্রসিদ্ধ তাফসীর গ্রন্থগুলোর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে, বিশেষ করে: যামাখশারী, রাযী এবং কুরতুবী।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
رسول الله صلى الله عليه وسلم وما يحرم بسنته هو مثل ما يحرم بقرآن الله - تعالى - كلاهما وحي من عند الله - سبحانه.

ومن الآيات التي تدل على أن السنة وحي من عند الله - سبحانه - وتنص على أن ما يحرم رسول الله صلى الله عليه وسلم بسنته مثل ما يحرم بالكتاب المجيد، كلاهما من عند الله - تعالى - قول الله عز وجل: {قَاتِلُوا الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ} (التوبة:29) . فهذه الآية الكريمة ذكرت نوعين من المحرمات، ما حرم الله - تعالى- وما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم وجمعت بين الأمرين في جملة واحدة عاطفة ما حرم رسول الله على ما حرم الله، وذلك يدل بوضوح على أمرين، الأول: أن ما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم هو مثل ما حرم الله، وأن الأمرين على منزلة واحدة من حجية التشريع وحكمه، وأن ما شرع الله - تعالى - في كتابه هو مثل ما شرع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سنته. الثاني: أن ما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم في سنته هو وحي من عند الله - تعالى - كمثل ما حرم الله - تعالى - في كتابه، فكلا التشريعين وحي من عند الله - سبحانه -.

ولعل ما ذكرناه كاف في بيان ما قصدنا إليه من الاستدلال بآيات القرآن المجيد على أن السنة وحي من عند الله - تعالى - كما أن القرآن وحي، وأن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا ينطق عن الهوى. ومن ثم ننتقل إلى ما يترتب على أن السنة وحي من عند لله -تعالى-، نقصد الآيات
রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে যা কিছু হারাম করা হয়েছে তা মহান আল্লাহর কুরআনের মাধ্যমে হারামকৃত বিষয়ের মতোই; উভয়টিই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহি (وحي)।

সুন্নাহ যে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি (وحي) এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে যা হারাম করেছেন তা যে মহাগ্রন্থের মাধ্যমে হারামকৃত বিষয়ের অনুরূপ এবং উভয়টিই যে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে—তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণকারী আয়াতসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: "তোমরা যুদ্ধ করো আহলে কিতাবদের ঐসব লোকদের বিরুদ্ধে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান আনে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না এবং সত্য দ্বীন অনুসরণ করে না; যতক্ষণ না তারা অনুগত হয়ে নিজ হাতে জিজিয়া প্রদান করে।" (সুরা আত-তাওবাহ: ২৯)। এই মহিমান্বিত আয়াতটিতে দুই ধরনের হারামের কথা উল্লেখ করা হয়েছে: যা মহান আল্লাহ হারাম করেছেন এবং যা আল্লাহর রাসুল (সা.) হারাম করেছেন। এখানে একটি বাক্যের মধ্যেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হারামকৃত বিষয়কে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের সাথে অন্বিত (عطف) করে উভয় বিষয়কে একত্রিত করা হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে দুটি বিষয়কে নির্দেশ করে। প্রথমত: রাসুলুল্লাহ (সা.) যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের মতোই এবং শরয়ি প্রামাণ্যতা (حجية) ও বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে উভয়ই সমমর্যাদাসম্পন্ন। এছাড়া মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা বিধান হিসেবে প্রবর্তন (تشريع) করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সুন্নাহতে যা প্রবর্তন (تشريع) করেছেন তা তারই অনুরূপ। দ্বিতীয়ত: রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে যা হারাম করেছেন তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি (وحي), যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে হারাম করেছেন। সুতরাং উভয় প্রকার বিধানই (تشريع) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহি (وحي)।

সম্ভবত আমরা যা উল্লেখ করেছি, তা পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ থেকে এই দলিল উপস্থাপন (استدلال) করার জন্য যথেষ্ট যে—কুরআন যেমন ওহি (وحي), সুন্নাহও তেমনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহি (وحي); এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না। এর ফলে সুন্নাহ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (وحي) হওয়ার অনিবার্য পরিণতিসমূহ কী হতে পারে, আমরা সেই আয়াতগুলোর পর্যালোচনায় মনোনিবেশ করব...
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
القرآنية التي توجب وتأمر بطاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم وتجعل طاعته صلى الله عليه وسلم فيما يأمر وما ينهى فيصلا بين الإيمان والكفر، والنجاة والهلاك. قد قلنا إن ذلك مرتب على ما سبق بيانه في الفقرة السابقة من أن السنة وحي من عند الله - تعالى - إذ لو لم تكن كذلك، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينطق عن الهوى - حاشاه - لما أمرنا الله - تعالى - باتباعه وطاعته في كل ما يأمر وما ينهي، كما سيبين لنا من الآيات الدالة على ذلك - بحول الله تعالى -. وإن الناظر في كتاب الله المجيد يراه قد أمر بطاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم في آيات كثيرة وبصيغ متنوعة عديدة.

من هذه الآيات الآمرة بطاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم ما هو قاعدة عامة في رسل الله أجمعين، وخاتمهم محمد - صلوات الله على نبينا وعليهم - وذلك قول الله عز وجل: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ} (النساء:64) .

فثمرة إرسال الرسل - صلوات الله عليهم أجمعين - إنما تنحصر في أن يطاعوا، وطاعتهم إنما هي بإذن الله سبحانه - وأمره، فالشاغب عليهم، التارك لسنتهم، الرافض لأوامرهم ونواهيهم، إنما هو محارب لله - سبحانه - ناقض لإذنه، فاسق عن أمره.

ومن ذلك ما هو قاعدة لرسولنا صلى الله عليه وسلم شاملة لكل ما يأخذ وما يدع، وما يأمر وما ينهى.

وذلك قول الله عز وجل {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} (الحشر:7) .
কুরআনের সেই সকল আয়াত যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করাকে ওয়াজিব করে ও নির্দেশ প্রদান করে এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে তাঁর আনুগত্যকে ঈমান ও কুফর এবং নাজাত ও ধ্বংসের মধ্যে একটি ফয়সালাকারী মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করে। আমরা ইতিপূর্বে বলেছি যে, বিষয়টি পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিষয়ের ওপর বিন্যস্ত যে, সুন্নাহ (السنة) হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী (وحي)। কেননা যদি বিষয়টি এমন না হতো এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের প্রবৃত্তি হতে কথা বলতেন —আল্লাহ তাঁকে তা থেকে পবিত্র রাখুন— তবে মহান আল্লাহ তাঁর প্রতিটি আদেশ ও নিষেধে আমাদের তাঁর অনুসরণ ও আনুগত্যের নির্দেশ দিতেন না, যেমনটি ইনশাআল্লাহ এই বিষয়ের ওপর দালিলিক আয়াতসমূহ থেকে আমাদের নিকট স্পষ্ট হবে। মহান আল্লাহর মহিমান্বিত কিতাবের প্রতি দৃষ্টিপাতকারী দেখতে পাবেন যে, তিনি অনেক আয়াতে এবং নানাবিধ আঙ্গিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের নির্দেশ প্রদানকারী আয়াতসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা আল্লাহর সকল রাসূল এবং তাঁদের সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ —আমাদের নবী ও তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক— এর ক্ষেত্রে একটি সাধারণ মূলনীতি। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তা কেবল এই জন্য যে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর আনুগত্য করা হবে} (আন-নিসা: ৬৪)।

সুতরাং রাসূলদের —তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক— প্রেরণের সার্থকতা কেবল তাঁদের আনুগত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর তাঁদের আনুগত্য কেবল মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অনুমতি ও নির্দেশের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদের বিরোধিতা করে, তাঁদের সুন্নাহ (السنة) বর্জন করে এবং তাঁদের আদেশ ও নিষেধকে প্রত্যাখ্যান করে, সে মূলত মহান আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী, তাঁর অনুমতির লঙ্ঘনকারী এবং তাঁর নির্দেশের অবাধ্য।

এরই অন্তর্ভুক্ত এমন একটি মূলনীতি যা আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য প্রযোজ্য, যা তিনি যা প্রদান করেন ও বর্জন করেন এবং যা তিনি আদেশ করেন ও নিষেধ করেন—সবকিছুর ক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত।

আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা হতে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা} (আল-হাশর: ৭)।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فهذه الآية تأمر المؤمنين بأن يأخذوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كل ما يأتيهم به، يستوي في ذلك ما كان قرآناً أو سنة، وكذلك أن ينتهوا عن كل ما نهاهم عنه، ثم توعدت المخالفين لرسول الله صلى الله عليه وسلم بالعقاب الشديد.

ومن الآيات الآمرة بطاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم ما جاء فيها الأمر بطاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم مقروناً بطاعة الله - سبحانه - مع تكرار فعل " أطيعوا ". ومن ذلك قول الله عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ} (محمد:33) .

ومن ذلك ما جاء فيه الأمر بطاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم مقروناً بطاعة الله - تعالى - دون تكرار الفعل "أطيعوا" مما يدل بشكل قاطع على أن طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم هي من طاعة الله - سبحانه -، وأنه لا يحل التفريق بين طاعة الله - تعالى - وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم ومن ذلك قول الله - سبحانه: {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ} (آل عمران:32) . وواضح من النص الكريم أن الذي يتولى عن طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم هو من الكافرين.

ومن الآيات الآمرة بطاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم ما جاء فيه الأمر بطاعة الرسول صلى الله عليه وسلم ابتداء، دون أن يسبقه الأمر بطاعة الله - سبحانه - وذلك يبين أن طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم هي في الوقت نفسه طاعة لله - تعالى - وأن طاعة الرسول وحدها
এই আয়াতটি মুমিনদের নির্দেশ দিচ্ছে যে, তারা যেন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের নিকট যা কিছু নিয়ে আসেন তা গ্রহণ করে; এক্ষেত্রে কুরআন হোক বা সুন্নাহ (سنة), উভয়ই সমান। অনুরূপভাবে তিনি যা কিছু থেকে তাদের নিষেধ করেছেন তা থেকেও যেন তারা বিরত থাকে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিরুদ্ধাচরণকারীদের কঠোর শাস্তির হুমকি প্রদান করা হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্যের নির্দেশ সম্বলিত আয়াতসমূহের মধ্যে এমন কিছু আয়াত রয়েছে যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্যের নির্দেশটি মহান আল্লাহর আনুগত্যের সাথে যুক্ত করে বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে 'আনুগত্য করো' (أطيعوا) ক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না।" (মুহাম্মদ: ৩৩)।

আবার এমন কিছু আয়াতও রয়েছে যেখানে 'আনুগত্য করো' (أطيعوا) ক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি ছাড়াই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্যের নির্দেশ মহান আল্লাহর আনুগত্যের সাথে যুক্ত হয়েছে। এটি অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য মূলত মহান আল্লাহরই আনুগত্য এবং আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মধ্যে পার্থক্য করা বৈধ নয়। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো। এরপর তারা যদি বিমুখ হয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের ভালোবাসেন না।" (আল ইমরান: ৩২)। পবিত্র নস (نص) থেকে এটি স্পষ্ট যে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য থেকে বিমুখ হয়, সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্যের নির্দেশ সম্বলিত আয়াতসমূহের মধ্যে এমন কিছু আয়াতও রয়েছে যেখানে মহান আল্লাহর আনুগত্যের নির্দেশের উল্লেখ ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্যের আদেশ এসেছে। এটি বর্ণনা করে যে, রাসূলের আনুগত্য একই সাথে আল্লাহর আনুগত্য এবং শুধুমাত্র রাসূলের আনুগত্যই...
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
مقياس لطاعة الله عز وجل ومن ذلك قول الله - تبارك وتعال-: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} (النور:56) .

ومن علامات طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم واتباعه الأخذ عنه، والاحتكام إليه، وتحكيمه في كل ما يعرض لنا من شؤون الحياة، ثم الرضا بما يحكم به، والإذعان والتسليم له صلى الله عليه وسلم وقد جعل الله - سبحانه - ذلك من علامات الإيمان، وجعل نفي ذلك وعدم الاتصاف به من علامات الخلو من الإيمان، أي علامات الكفر، يقول الله عز وجل: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} (النساء:65) .

ولأن الاحتكام إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم والرضا والإذعان والتسليم له بكل ما يأمر به أو ينهى من علامات الإيمان، فقد كان رفض ذلك والإعراض عنه من علامات النفاق والكفر، مهما قال أولئك المعرضون أو زعموا أنهم مؤمنون. يقول الله عز وجل حكاية عن بعض هؤلاء: {وَيَقُولُونَ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالرَّسُولِ وَأَطَعْنَا ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَمَا أُولَئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ وَإِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِنْهُمْ مُعْرِضُونَ وَإِنْ يَكُنْ لَهُمُ الْحَقُّ يَأْتُوا إِلَيْهِ مُذْعِنِينَ أَفِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ أَمِ ارْتَابُوا أَمْ يَخَافُونَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُ بَلْ أُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ} (النور: 47-52) . فهذه الآيات الكريمة تتكلم على موقف المنافقين من الاحتكام إلى الله ورسوله، وتكشف
মহান আল্লাহর আনুগত্যের একটি পরিমাপদণ্ড; আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও} (আন-নূর: ৫৬)।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য এবং তাঁর অনুসরণের অন্যতম নিদর্শন হলো তাঁর নিকট থেকে দীন গ্রহণ করা, তাঁর নিকট বিচারপ্রার্থনা করা এবং আমাদের জীবনের প্রতিটি বিষয়ে তাঁকে বিচারক হিসেবে মেনে নেওয়া; অতঃপর তিনি যে ফয়সালা করেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি পূর্ণ বশ্যতা ও আত্মসমর্পণ করা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিষয়টিকে ঈমানের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। পক্ষান্তরে একে অস্বীকার করা এবং এই গুণাবলি অর্জন না করাকে ঈমানশূন্যতা তথা কুফরের আলামত হিসেবে গণ্য করেছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {না, আপনার রবের কসম, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} (আন-নিসা: ৬৫)।

আর যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বিচারপ্রার্থনা করা এবং তাঁর প্রতিটি আদেশ ও নিষেধের প্রতি সন্তুষ্টি, বশ্যতা ও আত্মসমর্পণ করা ঈমানের নিদর্শন, সেহেতু তা প্রত্যাখ্যান করা ও তা থেকে বিমুখ হওয়া নিফাক ও কুফরের লক্ষণ—চাই সেই বিমুখ ব্যক্তিরা মুখে যা-ই বলুক কিংবা নিজেদের মুমিন বলে দাবি করুক না কেন। মহান আল্লাহ এদের একাংশ সম্পর্কে বর্ণনা করে ইরশাদ করেন: {তারা বলে, 'আমরা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং আমরা আনুগত্য করেছি', অতঃপর তাদের একটি দল এরপর মুখ ফিরিয়ে নেয়; মূলত তারা মুমিন নয়। আর যখন তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে আহ্বান করা হয় যাতে তিনি তাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করেন, তখনই তাদের একটি দল বিমুখ হয়ে পড়ে। অবশ্য হক যদি তাদের সপক্ষে হয়, তবে তারা অত্যন্ত অনুগত হয়ে তাঁর নিকট ছুটে আসে। তাদের অন্তরে কি ব্যাধি রয়েছে? নাকি তারা সংশয়ে নিপতিত? নাকি তারা এই ভয় করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের ওপর অবিচার করবেন? বরং তারাই তো জালেম। মুমিনদের উক্তি তো কেবল এই যে, যখন তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যাতে তিনি তাদের মাঝে ফয়সালা করেন, তখন তারা বলে: 'আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।' আর তারাই হলো সফলকাম। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই মূলত কৃতকার্য} (আন-নূর: ৪৭-৫২)। সুতরাং এই মহিমান্বিত আয়াতসমূহ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিচার ও ফয়সালার বিপরীতে মুনাফিকদের অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা করে এবং তা উন্মোচন করে
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
عن زيف ما يزعمون من الإيمان بالله ورسوله، وأن ذلك نفاق وكفر، وتبين عن دليل ذلك وهو الإعراض عن الاحتكام إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم والرضا بحكمه، ثم تكشف عن دخائل نفوسهم من عدم الإيمان بالله والاطمئنان إلى حكم رسوله، ثم تبين - بالمقابل - موقف المؤمنين وهو السمع والطاعة لله ورسوله، ثم تختم المقام بأن الفوز والنجاة إنما هما لمن يطيع الله ورسوله.

من كل هذا الذي ذكرنا من الآيات القرآنية التي تنص بأسلوب قاطع على أن الرسول صلى الله عليه وسلم لا ينطق إلا عن وحي من الله - تعالى - ولا يقول في الدين إلا بما يوحي به الله - تعالى - إليه. وبأن طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم فرض على كل مؤمن، وأن من أطاع الرسول فقد أطاع الله، وبأن الاحتكام إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم والرضا والتسليم له، والأخذ عنه آية الإيمان. نقول: من كل هذا تتضح مكانة السنة النبوية من التشريع الإسلامي، وتتضح حجيتها، وأنها من حيث الحجية هي في منزلة القرآن المجيد، ولا ينبغي أن يفهم من هذا أننا نجعل السنة بمنزلة القرآن في المكانة والشرف، فهذا مما لا يقول به مسلم، فلا ريب أن القرآن يفضل السنة بأمور اتفقت عليها الأمة نشير إلى أهمها - بإيجاز: -

1- القرآن الكريم موحى به من الله عز وجل بلفظه ومعناه، فهو قول الله- سبحانه - أما السنة فهي قول الرسول صلى الله عليه وسلم وفعله وتقريره.

2- القرآن المجيد تكفل الله - تعالى - بحفظه، وليس ذلك للسنة.

3- القرآن العظيم يتعبد بتلاوته، وليس ذلك للسنة.
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনার ব্যাপারে তাদের দাবির অসারতা এবং তা যে নিফাক (نفاق) ও কুফর (كفر), তা এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফয়সালার প্রতি বিমুখতা এবং তাঁর বিচারের প্রতি অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অতঃপর তাদের অন্তরের গহীনে লুকায়িত ঈমানহীনতা এবং রাসূলের বিধানের প্রতি আস্থাহীনতা প্রকাশ করা হয়েছে। এর বিপরীতে মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে, যা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি শ্রবণ ও আনুগত্য। পরিশেষে এ কথা বলে বিষয়টি শেষ করা হয়েছে যে, প্রকৃত সফলতা ও মুক্তি কেবল তাদেরই জন্য যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে।

আমরা ইতিপূর্বে কুরআনের যেসব আয়াত উল্লেখ করেছি, যা অকাট্য (قاطع) পন্থায় নির্দেশ করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহি (وحي) ব্যতীত কোনো কথা বলেন না এবং দ্বীনের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি যা ওহি (وحي) করেন তা ব্যতীত অন্য কিছু বলেন না। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য করা প্রত্যেক মুমিনের ওপর ফরজ (فرض)। যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফয়সালা প্রার্থনা করা, তা সন্তুষ্টি ও আত্মসমর্পণের সাথে গ্রহণ করা এবং তাঁর থেকে জ্ঞান আহরণ করাই ঈমানের পরিচায়ক। আমরা বলি: এই সবকিছুর মাধ্যমে ইসলামী শরিয়তে সুন্নাহর অবস্থান এবং এর প্রামাণ্যতা (حجية) সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রামাণ্যতার (حجية) দিক থেকে এটি আল-কুরআনের সমপর্যায়ের। তবে এর দ্বারা কেউ যেন এমনটা না বোঝেন যে, আমরা মর্যাদা ও সম্মানের দিক থেকেও সুন্নাহকে কুরআনের সমকক্ষ মনে করি; কারণ কোনো মুসলিমই এমন কথা বলেন না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উম্মতের ঐকমত্য অনুযায়ী কয়েকটি বিষয়ের কারণে কুরআন সুন্নাহর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে। আমরা সংক্ষেপে এর প্রধান দিকগুলো উল্লেখ করছি:

১- কুরআনুল কারিম শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি (وحي), তাই এটি মহান আল্লাহর বাণী। পক্ষান্তরে সুন্নাহ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী (قول), কর্ম (فعل) ও মৌনসম্মতি (تقرير)।

২- মহান আল্লাহ নিজেই আল-কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু সুন্নাহর ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়।

৩- পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়, তবে সুন্নাহর বিষয়টি এমন নয়।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
4- القرآن العظيم معجز للبشر، وترتب على ذلك أن الله - تعالى - تحدى البشر، بل والجن أن يأتوا بمثل أقصر سورة منه، والسنة ليست كذلك.

5- لا تجوز روايته بالمعنى، ويجوز ذلك في السنة بضوابطه.

6- لا يجوز أن يمسه إلا المطهرون، وليس ذلك للسنة.

7- القرآن هو المجموع بين دفتي المصحف الشريف، والسنة موزعة في كتب ودواوين.

فهذه أمور يفضل القرآن فيها السنة، فهو لذلك أشرف منها وأرفع منزلة وقداسة، لكن كلامنا في مجال الاحتجاج بالسنة في أمور الدين وقضايا التشريع، ولا ريب أنها في هذا في منزلة مع القرآن، فكما يقال: الصلاة واجبة بقول الله عز وجل: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ} (النور:56) . فكذلك يقال صلاة الصبح ركعتان والظهر والعصر أربع والمغرب ثلاث والعشاء أربع. والدليل فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم والمثال هنا يوضح أن كلا الدليلين على مستوًى واحد في إفادة العلم وإيجاب العمل.

ولهذا المعنى فقد ذهب جلّة العلماء إلى التسوية بين كتاب الله - تعالى - وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم من حيث الحجية على الأحكام، ومن ذلك أن الخطيب البغدادي قد عنون في كتابه " الكفاية " لهذا الموضوع بقوله: "ما جاء في التسوية بين حكم كتاب الله - تعالى - وحكم سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم" يشير بهذا العنوان إلى أن القرآن والسنة متساويان في مرتبة واحدة من حيث الحجية في إثبات الأحكام الشرعية. وقد قال الدكتور عبد الغني عبد الخالق في كتابه "حجية السنة" إن السنة والكتاب في مرتبة واحدة من حيث الاعتبار والاحتجاج بهما على
4- মহান কুরআন মানবজাতির জন্য একটি মুজিজা, আর এর ফলে আল্লাহ তাআলা মানুষ এমনকি জিনদেরকেও এর ক্ষুদ্রতম সূরার অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন, কিন্তু সুন্নাহ এমন নয়।

5- কুরআনের ক্ষেত্রে অর্থগত বর্ণনা (رواية بالمعنى) জায়েজ নয়, তবে সুন্নাহর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে তা জায়েজ।

6- পবিত্র ব্যক্তিগণ ব্যতীত অন্য কারো জন্য এটি স্পর্শ করা জায়েজ নয়, যা সুন্নাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

7- কুরআন হলো যা পবিত্র মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে সংরক্ষিত, আর সুন্নাহ বিভিন্ন গ্রন্থ ও সংকলনসমূহে বিন্যস্ত।

এই বিষয়গুলোতে কুরআন সুন্নাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব রাখে, তাই এটি সুন্নাহর চেয়ে অধিক সম্মানিত এবং এর মর্যাদা ও পবিত্রতা অতি উচ্চ। তবে আমাদের আলোচনার ক্ষেত্র হলো দ্বীনি বিষয় ও বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج), আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এই ক্ষেত্রে সুন্নাহর মর্যাদা কুরআনের সমপর্যায়ের। যেমন বলা হয়ে থাকে: মহান আল্লাহর বাণী: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ} (নামাজ কায়েম করো) দ্বারা নামাজ ফরজ হয়েছে। একইভাবে বলা হয় যে, ফজরের নামাজ দুই রাকাত, জোহর ও আসর চার রাকাত, মাগরিব তিন রাকাত এবং এশা চার রাকাত। আর এর দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল। এই উদাহরণটি স্পষ্ট করে যে, জ্ঞান দান এবং আমল ওয়াজিব করার ক্ষেত্রে উভয় দলিলই একই স্তরের।

এই অর্থেই অধিকাংশ বিজ্ঞ আলেম বিধানের ওপর দলিলযোগ্যতা (الحجية)-র দিক থেকে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর মাঝে সমতার প্রবক্তা হয়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে খতিব বাগদাদি তাঁর কিতাব আল-কিফায়া-তে এই বিষয়ে শিরোনাম দিয়েছেন এই বলে: "আল্লাহ তাআলার কিতাবের বিধান এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর বিধানের মাঝে সমতা বিধানের বর্ণনা"। তিনি এই শিরোনামের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন যে, শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) প্রমাণের ক্ষেত্রে দলিলযোগ্যতা (الحجية)-র দিক থেকে কুরআন ও সুন্নাহ একই স্তরে অবস্থান করে। ড. আব্দুল গনি আব্দুল খালিক তাঁর হাজ্জিয়াতুস সুন্নাহ গ্রন্থে বলেছেন যে, বিবেচনা এবং উভয়ের মাধ্যমে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে সুন্নাহ ও কিতাব একই স্তরের।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الأحكام الشرعية، ولبيان ذلك نقول: من المعلوم أنه لا نزاع في أن الكتاب يمتاز عن السنة ويفضل عنها في أن لفظه منزل من عند الله سبحانه وتعالى متعبد بتلاوته، معجر للبشر أن يأتوا بمثله، بخلافها، فهي متأخرة عنه في الفضل من هذه النواحي، لكن ذلك لا يوجب التفضيل بينهما في الحجية، بأن تكون مرتبة السنة متأخرة عن الكتاب، ويعمل به وحده، وإنما كان الأمر كذلك - أي مماثلة السنة للكتاب في مرتبة الحجية - لأن حجية الكتاب إنما جاءت من كونه وحياً من عند الله - سبحانه - والسنة مساوية للقرآن من هذه الناحية فهي مثله" (1) .

مما تقدم من حديث عن حجية السنة ومكانتها من التشريع تتضح لنا الأمور الآتية:

أولاً: أن الوحي من عند الله - تعالى - إلى رسوله صلى الله عليه وسلم وحيان، وحي هو القرآن المجيد، ووحي هو السنة النبوية الشريفة، وقد ذكرنا الأدلة على ذلك من آيات القرآن البينات، كما بينا الفروق بين الوحيين، أي بين القرآن والسنة.

ثانياً: أن السنة النبوية المطهرة تأتي في المنزلة الثانية بعد القرآن العظيم في مصدرية التشريع، فهي المصدر الثاني بعد القرآن الكريم. أما من حيث الحجية فهي مع القرآن بمنزلة واحدة. بمعنى أن دليل التشريع من السنة يعدل دليل التشريع من القرآن، فكلاهما مفيد للعلم، موجب للعمل بمقتضاه، على أي نوع من الأحكام الخمسة كان العمل.

--------------------------------------------

(1) الكفاية للخطيب البغدادي: 29، وبحوث في السنة المشرفة. د. عبد الغني عبد الخالق. نقلاً عن: تدوين السنة النبوية. د. محمد مطر الزهراني: 18.
শরয়ী বিধানসমূহ; এই বিষয়টি স্পষ্ট করার লক্ষ্যে আমরা বলি: এটি সর্বজনবিদিত যে, এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই যে কুরআন সুন্নাহর চেয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। কারণ কুরআনের শব্দাবলি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং এর তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য, আর এটি মানবজাতির জন্য এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এক অলৌকিক চ্যালেঞ্জ; সুন্নাহর বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। ফলে এই দিকগুলো থেকে সুন্নাহর মর্যাদা কুরআনের পরে। তবে এটি প্রামাণিকতার (حجية) ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে এমন কোনো তারতম্য নির্দেশ করে না যে, সুন্নাহর স্তর কুরআনের পরে হবে এবং কেবল কুরআনের ওপর আমল করা হবে। বরং বিষয়টি হলো—অর্থাৎ প্রামাণিকতার (حجية) স্তরে সুন্নাহ কুরআনের সমপর্যায়ভুক্ত—কারণ কুরআনের প্রামাণিকতা (حجية) সাব্যস্ত হয়েছে মহান আল্লাহ সুবহানাহুর পক্ষ থেকে ওহি (وحي) হওয়ার কারণে, আর সুন্নাহও এই দিক থেকে কুরআনের সমান, তাই এটি কুরআনের মতোই। (১)

সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) এবং শরিয়তের বিধানে এর অবস্থান সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচিত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়:

প্রথমত: মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল (সা.)-এর প্রতি প্রেরিত ওহি (وحي) দুই প্রকার: এক প্রকার ওহি (وحي) হলো মহিমান্বিত কুরআন, আর অপর প্রকার ওহি (وحي) হলো সম্মানিত সুন্নাহ। আমরা পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ থেকে এর প্রমাণাদি উল্লেখ করেছি এবং ওহিদ্বয়ের (وحي) মধ্যে অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যকার পার্থক্যসমূহ বর্ণনা করেছি।

দ্বিতীয়ত: পবিত্র সুন্নাহ শরিয়তের বিধানের উৎস হিসেবে মহান কুরআনের পরে দ্বিতীয় স্তরে অবস্থান করে। অর্থাৎ এটি পবিত্র কুরআনের পর দ্বিতীয় উৎস। তবে প্রামাণিকতার (حجية) দিক থেকে এটি কুরআনের সাথে একই স্তরে অবস্থিত। এর অর্থ হলো, সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত শরয়ী দলিল কুরআনের দলিলের সমতুল্য। উভয়ই নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে এবং সে অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক করে, আমলটি শরিয়তের পাঁচ প্রকার বিধানের যে প্রকারেরই হোক না কেন।

--------------------------------------------

(১) খতিব বাগদাদীর আল-কিফায়া: ২৯, এবং বুহুস ফিস সুন্নাতিল মুশারাফাহ, ড. আব্দুল গনি আব্দুল খালেক। উদ্ধৃত: তাদওয়ীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ, ড. মুহাম্মদ মাতার আল-জাহরানি: ১৮।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ثالثاً: أن من رفض سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم أو شغب عليها، أو رفض أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أو نهيه، أو رفض الاحتكام إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يعرض له أو لم يقبل حكمه، كل من يفعل ذلك أو شيئاً منه يُعَدُّ فاسقاً عن الملة غير مؤمن، فإن الله - تعالى - قد جعل كل ذلك علامة الإيمان، ورفض ذلك أو شيء منه، آية الكفر والنفاق، وذلك في آياته البينات.

رابعاً: لقد اعتمدنا في بيان ما قدمنا على كتاب الله القرآن المجيد وحده، ولم نتكلم في السنة المطهرة أو آثار الصحابة وإجماع الأمة، ذلك أن هؤلاء الذين نخاطبهم في بحثنا هذا يزعمون أنهم "قرآنيون" لا يأخذون إلا عن القرآن، فآثرنا أن نخاطبهم بالقرآن الكريم. لكنا - بحول الله - سبحانه - سوف نوفي الموضوع حقه من خلال أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم وآثار الصحابة وإجماع الأمة، حين الرد على شبهاتهم، وذلك بمشيئة الله سبحانه.
তৃতীয়ত: যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করে অথবা এর বিরোধিতা করে, কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ বা নিষেধকে অস্বীকার করে, অথবা তার সামনে উপস্থাপিত কোনো বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিচারক হিসেবে মানতে অস্বীকার করে কিংবা তাঁর ফয়সালা গ্রহণ না করে; তবে এই কাজগুলোর যেকোনো একটি সম্পাদনকারী ব্যক্তি ধর্মচ্যুত পাপাচারী (فاسق) এবং মুমিন নয় বলে গণ্য হবে। কেননা মহান আল্লাহ এই সবকিছুকে ঈমানের নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; আর এগুলো বা এগুলোর অংশবিশেষকে প্রত্যাখ্যান করা হলো কুফর ও নিফাকের লক্ষণ, যা তাঁর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে।

চতুর্থত: আমরা যা উপস্থাপন করেছি তা বর্ণনার ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর কিতাব কুরআন মাজীদের ওপর নির্ভর করেছি। আমরা পবিত্র সুন্নাহ, সাহাবীগণের আসার (آثار) কিংবা উম্মাহর ইজমা (إجماع) নিয়ে কোনো আলোচনা করিনি। কারণ, আমাদের এই গবেষণায় আমরা যাদের সম্বোধন করছি তারা নিজেদেরকে "কুরআনপন্থী" বলে দাবি করে এবং কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করে না; তাই আমরা তাদেরকে পবিত্র কুরআনের মাধ্যমেই সম্বোধন করাকে শ্রেয় মনে করেছি। তবে আল্লাহর শক্তিতে—সুবহানাহু—আমরা যখন তাদের সংশয়গুলোর নিরসন করব, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস, সাহাবীগণের আসার (آثار) এবং উম্মাহর ইজমা (إجماع) উপস্থাপনের মাধ্যমে এই বিষয়ের পূর্ণ হক আদায় করব, ইনশাআল্লাহ।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الثالث: الجذور التاريخية لمنكري السنة وأشهر طوائفهم

إن تاريخ منكري سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم يكاد يقرن بتاريخ منكري رسالته صلى الله عليه وسلم فالكفر بسنته عليه الصلاة والسلام هو قرين الكفر برسالته - فهما أمران متقاربان زماناً متساوقان منزلة، ويكادان يكونان متماثلين حكماً، ولا يختلفان إلا باعتبار أن ثمة كفراً دون كفر، وإلا فإنكار سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وجحدها كفر، كما أن إنكار رسالته كفر -

ومن المسلم به أنه لم يخل زمان من الأمرين جميعاً كذلك، فكما أنه لم يخل زمان من منكري رسالة رسول الله صلى الله عليه وسلم فكذلك لم يخل زمان من منكري سنته صلى الله عليه وسلم مع زعمهم بأنهم مسلمون مؤمنون برسالته، والأخيرة هذه هي مثار العجب، إذ كيف يكونون مؤمنين برسالته صلى الله عليه وسلم ثم ينكرون سنته، ويرفضون اتباعه، ويصرون على عدم الأخذ عنه، والاحتكام إليه، والتسليم له ويقبلون على مخالفته في كل ما قال وفعل وأقر، فيقولون ما لم يقل، ويفعلون ما لم يفعل، ويرفضون ما أقره ورضي به.

ولقد بدأت مسيرة إنكار السنة والشغب عليها على هيئة فردية في حالات نادرة لا اعتبار بها. وكان ذلك في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن ذلك ما روى أصحاب السنن في أسباب نزول الآية الكريمة:
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং তাদের প্রসিদ্ধ উপদলসমূহ

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের ইতিহাস প্রায় তাঁর রিসালাত অস্বীকারকারীদের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কেননা তাঁর সুন্নাহর সাথে কুফরি করা তাঁর রিসালাতের সাথে কুফরি করারই নামান্তর। এই দুটি বিষয় যেমন কালানুক্রমিকভাবে নিকটবর্তী, তেমনি মর্যাদাগত দিক থেকেও সমান্তরাল এবং বিধানের ক্ষেত্রেও প্রায় অভিন্ন। এদের মধ্যে পার্থক্য কেবল কুফরির প্রকারভেদের বিবেচনায়; অন্যথায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহকে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করা কুফরি, ঠিক যেমন তাঁর রিসালাতকে অস্বীকার করা কুফরি।

এটি একটি স্বীকৃত বিষয় যে, কোনো যুগই এই উভয় প্রকারের মানুষ থেকে কখনো শূন্য ছিল না। অর্থাৎ যেমনিভাবে কোনো কাল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রিসালাত অস্বীকারকারীদের থেকে মুক্ত ছিল না, তেমনি এমন লোকদের থেকেও খালি ছিল না যারা তাঁর সুন্নাহকে অস্বীকার করে, অথচ তারা নিজেদের মুসলিম এবং তাঁর রিসালাতের প্রতি বিশ্বাসী বলে দাবি করে। আর এই শেষোক্ত বিষয়টিই হলো চরম বিস্ময়ের কারণ। কেননা তারা কীভাবে তাঁর রিসালাতের ওপর ঈমান আনার দাবি করে আবার তাঁর সুন্নাহকে অস্বীকার করে, তাঁর অনুসরণ করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাঁর থেকে (দ্বীন) গ্রহণ করতে, তাঁর ফয়সালা মেনে নিতে ও তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ করতে অনড় থাকে? উপরন্তু তারা তাঁর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি (تقرير)-এর বিরোধিতা করতে লিপ্ত হয়। ফলে তারা এমন কথা বলে যা তিনি বলেননি, এমন কাজ করে যা তিনি করেননি এবং তিনি যা অনুমোদন ও পছন্দ করেছেন তা তারা প্রত্যাখ্যান করে।

সুন্নাহ অস্বীকার করা এবং এর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এই পরিক্রমাটি শুরুতে অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পর্যায়ে শুরু হয়েছিল, যা ধর্তব্য ছিল না। এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশাতেই ঘটেছিল। এর একটি উদাহরণ হলো যা সুনান গ্রন্থকারগণ পবিত্র আয়াতের শানে নুযুলের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন:
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
{فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} (النساء:65) .

من أن الزبير بن العوام رضي الله عنه اختصم ورجل من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم لعله حاطب بن أبي بلتعة رضي الله عنه فحكم رسول الله صلى الله عليه وسلم للزبير أن يسقي زرعه أولاً، ثم يرسل الماء إلى صاحبه، فغضب الرجل وقال: يا رسول الله أن كان ابن عمتك؟. أي حكمت له بسبب أنه ابن عمتك، فتلون وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنزل الله - تعالى - الآية في ذلك (1) .

لكن هذه الحالات شاذة ولا تذكر في معرض التأريخ لمنكري سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وذلك لأمرين: لشذوذها وندرتها، ثم لعودة أصحابها إلى الحق سريعاً وانقضاء أثرها.

أما إنكار السنة على هيئة مؤثرة، وعلى أيدي طوائف لها ذكرها في التاريخ، فقد بدأت على أيدي الخوارج والشيعة، ثم انضم إليهم طوائف من المتكلمين وبخاصة من المعتزلة الذين انتسب إليهم كثير من الزنادقة والفاسقين عن الملة، كالنظام الذي كان " شاطراً من الشطار، يغدو على سكر ويروح على سكر ويبيت على جرائرها، ويدخل في الأدناس والفواحش، وهو القائل:

ما زلت آخذ روح الزق في لطف … وأستبيح دما من غير مجروح

حتى انثنيت ولي روحان في جسدي … والزق مطرَح جسما بلا روح (2)

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري، كتاب التفسير، باب قوله تعالى (فلا وربك لا يؤمنون) 17/120، برقم 4585.

(2) تأويل مختلف الحديث: ابن قتيبة: 15.
{অতএব তোমার রবের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ক্ষেত্রে তোমাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে, অতঃপর তুমি যে ফয়সালা প্রদান করবে সে বিষয়ে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়।} (আন-নিসা: ৬৫) ।

বর্ণিত আছে যে, যুবাইর ইবনুল আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি—সম্ভবত হাতিব ইবন আবি বালতাআ রাদিয়াল্লাহু আনহু—বিবাদে লিপ্ত হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইরের পক্ষে এই ফয়সালা দিলেন যে, তিনি প্রথমে তাঁর জমিতে পানি সেচ দেবেন, অতঃপর তাঁর প্রতিবেশীর জন্য পানি ছেড়ে দেবেন। এতে সেই ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! সে আপনার ফুফাতো ভাই বলে কি এমন ফয়সালা করলেন?' এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল এবং আল্লাহ তাআলা এই বিষয়ে আয়াতটি নাজিল করেন (১)।

তবে এই ঘটনাগুলো ব্যতিক্রমী (شاذة) এবং যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অস্বীকারকারী তাদের ইতিহাসের আলোচনায় এগুলো উল্লেখ করা হয় না। এর কারণ দুটি: প্রথমত, এগুলোর ব্যতিক্রমী (شاذة) ও বিরল প্রকৃতি; দ্বিতীয়ত, এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ দ্রুত সত্যের পথে ফিরে এসেছিলেন এবং এর প্রভাব নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল।

পক্ষান্তরে সুন্নাহর অস্বীকার যখন একটি প্রভাবশালী রূপ ধারণ করে এবং এমন সব গোষ্ঠীর মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ইতিহাসে যাদের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে, তখন দেখা যায় যে এর সূচনা হয়েছিল খারিজি ও শিয়াদের মাধ্যমে। পরবর্তীতে তাদের সাথে ইলমুল কালামের চর্চাকারী একদল যুক্ত হয়, বিশেষ করে মুতাজিলাদের মধ্য থেকে, যাদের মাঝে অনেক ধর্মত্যাগী (زنادقة) এবং দ্বীন থেকে বিচ্যুত পাপাচারী অন্তর্ভুক্ত ছিল। যেমন আন-নাজ্জাম, যে ছিল এক ধূর্ত ও শঠ ব্যক্তি; সে মদ্যপ অবস্থায় সকাল করত এবং মদ্যপ অবস্থায় সন্ধ্যা অতিবাহিত করত, আর মদ্যপানের গোনাহ নিয়েই রাত কাটাত। সে বিবিধ অশ্লীলতা ও নোংরামিতে লিপ্ত থাকত। সে-ই বলেছিল:

আমি অত্যন্ত সন্তর্পণে মদের পাত্রের প্রাণ হরণ করতে থাকলাম … এবং ক্ষতহীন দেহ থেকেই রক্ত হালাল করে নিলাম।

শেষ পর্যন্ত আমি এমনভাবে ফিরলাম যে আমার শরীরে ছিল দুই প্রাণ … আর মদের পাত্রটি পড়ে রইল প্রাণহীন দেহ হিসেবে (২)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুত তাফসির, পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার বাণী (ফলা ওয়া রব্বিকা লা ইউমিনুন), ১৭/১২০, হাদিস নং ৪৫৮৫।

(২) তাবিলু মুখতালিফিল হাদিস: ইবন কুতাইবা: ১৫।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
أما الشيعة والخوارج فكلتا الطائفتين شغبت على السنة النبوية المطهرة وأنكرتها، لكن الشيعة لم يقبلوا من سنة النبي صلى الله عليه وسلم إلا القليل الذي نُقل إليهم عن طريق من يدين بعقيدتهم في الإمامة ويشايع آل البيت - فيما يزعمون - ولو أننا عرفنا أنهم لم يوالوا من الصحابة - رضوان الله عليهم - إلا بضعة عشر صحابياً هم فقط الذين رضي عنهم الشيعة وأخذوا عنهم، لأدركنا ذلك القدر الضئيل من سنة النبي صلى الله عليه وسلم الذي قبله الشيعة (الرافضة) وعملوا به، وذلك الكم الهائل من السنة النبوية التي رفضوها وأنكروها لأنها أتت عن جمهرة الصحابة الذين لا يرضى عنهم الشيعة، فالشيعة - إذن - رفضوا السنة لأنهم طعنوا في عدالة الصحابة - رضوان الله عليهم - لأنهم بايعوا أبا بكر رضي الله عنه خليفة لرسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يبايعوا عليا الذي كان هو الخليفة من وجهة أنظار الشيعة، والشيعة منهم معتدل وغال، فالمعتدلون فسقوا الصحابة رضي الله عنهم والغالون كفروهم - عياذاً بالله - ولم يستثن الشيعة من ذلك سوى عدد يزيد قليلاً على أصابع اليدين. على أن الشيعة (الرافضة) أضافوا إلى إنكارهم السنة - على الوضع الذي ذكرناه - إضافة جديدة جعل جرمهم في هذا الباب مضاعفاً، ذلك أنهم لم يكتفوا بإنكار الحديث ورفض السنة، وإنما لجأوا إلى وَضع ما أسموه أحاديث، ونسبوها إلى النبي صلى الله عليه وسلم فألَّفوا كلاماً على هيئة أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم في تعظيم أئمتهم، وتأكيد نحلتهم، وتأصيل معتقدهم، وأيضاً في ذم مخالفيهم وعقائدهم. وقد كان لهذه الأحاديث المزعومة الموضوعة على رسول الله صلى الله عليه وسلم دور أصيل في حجية التشريع وأصول الدين عندهم.

শিয়া ও খারিজি—এই উভয় দলই পবিত্র সুন্নাহর বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং তা অস্বীকার করেছে। তবে শিয়া সম্প্রদায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর মধ্য থেকে কেবল সেই সামান্য অংশই গ্রহণ করেছে, যা তাদের নিকট এমন ব্যক্তিদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যারা ইমামত (الإمامة) বিষয়ে তাদের আকিদায় বিশ্বাসী এবং তাদের দাবি অনুযায়ী আহলে বাইতের অনুসারী। আমরা যদি লক্ষ্য করি যে, তারা সাহাবীগণ (الصحابة) —রাদিয়াল্লাহু আনহুম— এর মধ্য থেকে মাত্র দশ-বারো জন সাহাবীকে মান্য করত যাদের ব্যাপারে শিয়ারা সন্তুষ্ট ছিল এবং কেবল তাদের থেকেই বর্ণনা গ্রহণ করত, তবে আমরা সহজেই অনুধাবন করতে পারব যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর কত সামান্য অংশ শিয়ারা (রাফেজি (الرافضة)) গ্রহণ করেছে ও তার ওপর আমল করেছে। অপরদিকে সুন্নাহর সেই বিশাল অংশ তারা বর্জন ও অস্বীকার করেছে যা এমন এক বিশাল সংখ্যক সাহাবীগণের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যাদের ওপর শিয়ারা সন্তুষ্ট নয়। মূলত শিয়ারা সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করেছে কারণ তারা সাহাবীগণ (الصحابة) —রাদিয়াল্লাহু আনহুম— এর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে; যেহেতু তাঁরা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আল্লাহর রাসুলের খলিফা হিসেবে আনুগত্যের শপথ (بيعة) প্রদান করেছিলেন এবং আলীকে খলিফা হিসেবে নির্বাচন করেননি, যিনি কি না শিয়াদের দৃষ্টিতে প্রকৃত খলিফা ছিলেন। শিয়াদের মধ্যে মধ্যপন্থী (معتدل) ও চরমপন্থী (غال) উভয় গোষ্ঠী বিদ্যমান। মধ্যপন্থীরা সাহাবীগণকে পাপাচারী (فاسق) সাব্যস্ত করেছে এবং চরমপন্থীরা তাঁদের কাফের (كافر) সাব্যস্ত করেছে —আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই— আর শিয়ারা এক্ষেত্রে হাতের আঙুলের সংখ্যার চেয়ে সামান্য বেশি সংখ্যক সাহাবী ছাড়া আর কাউকে এর ব্যতিক্রম রাখেনি। এছাড়া শিয়ারা (রাফেজি (الرافضة)) সুন্নাহ অস্বীকার করার পাশাপাশি—যে প্রেক্ষাপট আমরা উল্লেখ করেছি—আরও একটি নতুন বিষয় যুক্ত করেছে যা এই ক্ষেত্রে তাদের অপরাধকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে। আর তা হলো, তারা কেবল হাদিস অস্বীকার ও সুন্নাহ প্রত্যাখ্যান করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা তথাকথিত কিছু হাদিস জালিয়াতি (وضع) করার আশ্রয় নিয়েছে এবং সেগুলোকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে নিসবত করেছে। তারা তাদের ইমামদের মাহাত্ম্য বর্ণনা, তাদের নিজস্ব ধর্মাদর্শের (نحلة) সমর্থন, তাদের আকিদাকে (معتقد) প্রতিষ্ঠিত করতে এবং তাদের বিরোধীদের ও তাদের বিশ্বাসের নিন্দা করার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের আদলে কিছু কথা বানিয়ে নিয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে জালিয়াতি করা এই বানোয়াট (موضوع) হাদিসগুলো তাদের কাছে শরয়ী প্রামাণিকতা (حجية) এবং দীনের মূলনীতি (أصول الدين) নির্ধারণে মৌলিক ভূমিকা পালন করে থাকে।

(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
أما الخوارج فقد طعنوا في الصحابة - رضوان الله عليهم - بعد واقعة التحكيم الشهيرة أثناء الحرب بين علي ومعاوية رضي الله عنهما وبسبب واقعة التحكيم طعن الخوارج في عدالة الصحابة رضي الله عنهم فمن الخوارج مَنْ فَسَّقهم، وهم قلة لا تذكر، والأكثرون من طوائف الخوارج كفروا الصحابة - عياذاً بالله - بل منهم من جعلهم كالمشركين في الحرب والسبي وعدم قبول الجزية. إلى آخر تلك الآراء التي تدل على انحراف حاد عن جادة الإسلام، وقد دفع بهم إنكار السنة والرغبة الملحة عندهم في مخالفة جماعة المسلمين إلى العدوة القصوى بعيداً عن الإسلام، فافتروا على الله ورسوله وجماعة المسلمين، وتباروا في تكفير الأمة بأنواع من الكفر، فجمهرتهم يرون أن دار مخالفيهم دار حرب، يقتل فيها النساء والأطفال وأن جميع المسلمين كفار مثل كفار العرب، لا يقبل منهم إلا الإسلام أو القتل.

أما في الأحكام فقد أنكروا الرجم في الزاني المحصن لأنه ليس في القرآن، وأقاموا حد السرقة ولم يلتزموا ما ورد في السنة وإجماع الأمة بالحرز في السرقة ونصابها وكذلك قطع اليد من الرسغ، كما استحلوا كفر الأمانة التي أمر الله - تعالى - بأدائها وزعموا أن المسلمين مشركون يحل أكل أماناتهم، وأجاز فريق منهم - الميمونية - نكاح بنت البنت، وبنت الابن، لأن القرآن لم يذكرهن ضمن المحرمات. إلى غير ذلك من أنواع الضلال والزيغ الذي وقعوا فيه في أصول الدين، وفي أحكام الشريعة بسبب أنهم رفضوا السنة النبوية المطهرة، وزعموا أنهم يأخذون أحكامهم وقضايا دينهم عن القرآن، وما علموا أنهم نابذوا القرآن ونبذوه يوم نبذوا السنة واتخذوها ظهرياً، يقول عبد القاهر البغدادي عن الخوارج إنهم: "أنكروا حجية الإجماع والسنن الشرعية، وأنه لا حجة في شيء من أحكام الشريعة إلا من القرآن، ولذلك
পক্ষান্তরে খাওয়ারিজরা আলী ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যকার যুদ্ধের সময়কার প্রসিদ্ধ সালিশি (تحكيم) ঘটনার পর সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর সমালোচনা করে। আর এই সালিশি ঘটনার কারণেই খাওয়ারিজরা সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة)-এর ওপর অপবাদ দেয়। খাওয়ারিজদের মধ্যে কিছু সংখ্যক লোক সাহাবায়ে কিরামকে পাপাচারী (فسق) সাব্যস্ত করেছে, তবে তাদের সংখ্যা অতি সামান্য। আর খাওয়ারিজদের অধিকাংশ উপদলই সাহাবায়ে কিরামকে কাফির (كفر) ঘোষণা করেছে—আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাহাবায়ে কিরামকে যুদ্ধ, যুদ্ধবন্দি এবং জিজিয়া গ্রহণ না করার ক্ষেত্রে মুশরিকদের সমতুল্য জ্ঞান করেছে। এ ধরনের অন্যান্য মতাদর্শ ইসলামের মূল পথ থেকে তাদের চরম বিচ্যুতির প্রমাণ দেয়। সুন্নাহ (السنة)-কে অস্বীকার করা এবং মুসলিম উম্মাহর বিরোধিতা করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাদেরকে ইসলাম থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে। তারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুসলিম জামাতের ওপর অপবাদ দিয়েছে এবং উম্মতকে বিভিন্ন ধরনের কুফরিতে লিপ্ত বলে ঘোষণা করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তাদের অধিকাংশের মতে, তাদের বিরোধীদের ভূখণ্ড হলো 'দারুল হারব', যেখানে নারী ও শিশুদের হত্যা করা বৈধ এবং সকল মুসলিমই আরব মুশরিকদের মতো কাফির, যাদের থেকে ইসলাম গ্রহণ অথবা মৃত্যু ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করা হবে না।

আর বিধিবিধানের ক্ষেত্রে, তারা বিবাহিত ব্যভিচারীর পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড বা রজম (رجم)-কে অস্বীকার করেছে, কারণ এটি কুরআনে নেই। তারা চুরির হদ (حد) কার্যকর করলেও চুরির মাল নিরাপদ হিফাজতে (حرز) থাকা, নিসাব (نصاب) পূর্ণ হওয়া এবং কবজি থেকে হাত কাটার মতো সুন্নাহ (السنة) ও উম্মাহর ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা প্রমাণিত বিষয়গুলো মেনে চলেনি। একইভাবে তারা আমানত আত্মসাৎ করাকেও বৈধ মনে করেছে, যা আদায়ের নির্দেশ আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন। তাদের দাবি ছিল যে, মুসলিমরা মুশরিক, তাই তাদের আমানত ভোগ করা বৈধ। তাদের একটি দল—মাইমুনিয়্যাহ—কন্যার কন্যা (নাতনি) এবং পুত্রের কন্যার (নাতনি) সাথে বিবাহ বৈধ বলে মনে করত, কারণ কুরআনে নিষিদ্ধ নারীদের তালিকায় তাদের কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া তারা দ্বীনের মৌলিক বিষয় (أصول الدين) এবং শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে আরও বিভিন্ন ধরনের পথভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতির শিকার হয়েছে। এর কারণ হলো, তারা পবিত্র সুন্নাহ (السنة)-কে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং দাবি করেছিল যে তারা তাদের দ্বীনি বিধিবিধান ও বিষয়াবলি কুরআন থেকে গ্রহণ করে। তারা জানত না যে, যেদিন তারা সুন্নাহ (السنة)-কে বর্জন করেছে এবং পেছনে ফেলে দিয়েছে, সেদিন মূলত তারা কুরআনকেই বর্জন করেছে। আব্দুল কাহের আল-বাগদাদি খাওয়ারিজদের সম্পর্কে বলেন যে, তারা: "ঐকমত্য (إجماع) এবং শরয়ি সুন্নাহ (السنن)-এর প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করেছে এবং মনে করেছে যে কুরআনের বাইরে শরয়ি বিধিবিধানের অন্য কোনো দলিল নেই। আর এ কারণেই..."
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
أنكروا الرجم والمسح على الخفين لأنهما ليسا في القرآن، وقطعوا يد السارق في القليل والكثير لأن الأمر بالقطع في القرآن مطلق، ولم يقبلوا الرواية في نصاب القطع ولا الرواية في اعتبار الحرز فيه " (1) .

فهؤلاء وأولئك - الخوارج والشيعة - رفضوا - سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم لطعنهم في الصحابة - رضوان الله - تعالى - عليهم أجمعين - ومن المعلوم أن سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم إنما وصلت إلينا من خلال الصحابة - رضوان الله عليهم - بل إن الدين كله وصل إلينا من خلالهم، فهم الطبقة المعاصرة لرسول الله صلى الله عليه وسلم زمانا، المطلعة على أحواله قولاً وفعلاً، الحريصة على أن تحفظ عنه كل حركة وسكنة، وأن تنقل عنه كل لفظة وسكتة، الأمينة في وصف أحواله صلى الله عليه وسلم صغيرها وكبيرها، والصحابة - رضوان الله عليهم - هم الذين نقلوا إلينا أحوال النبي صلى الله عليه وسلم – كافة لم يخرموا منها شيئاً، حتى صرنا بفضلهم - جزاهم الله عن الأمة خيرا- كأننا نعايشه في أحواله صلى الله عليه وسلم كافة، ونعاين هيئاته كافة، فهم - رضوان الله عليهم- هم الذين نقلوا إلينا الدين كاملاً عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي تلقاه عن ربه وحيا في القرآن أو في السنة، فإذا جاء من الطوائف والفرق من يرفض الأخذ عنهم مستنداً إلى ما يزعمه من أنهم ليسوا عدولاً، فعن من يأخذ دينه، وأنى له أن يعرف شرائع الإسلام؟ ومن أين سيأخذ أحكام الدين في الصلاة وهيئاتها، والزكاة ومقاديرها، والصيام وأحكامه، والحج ومناسكه، ثم من أين له أن يعرف ما يحل وما يحرم، وما

--------------------------------------------

(1) راجع في ذلك: أصول الدين: 19، الفرق بين الفرق، مقالات الإسلاميين، الملل والنحل.
তারা রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) এবং মোজার ওপর মাসাহ করাকে অস্বীকার করেছে, কারণ এই দুটি কুরআনে নেই; এবং তারা অল্প বা অধিক—উভয় পরিমাণ চুরির ক্ষেত্রেই চোরের হাত কাটার বিধান দিয়েছে, যেহেতু কুরআনে হাত কাটার আদেশটি নিঃশর্ত (مطلق)। আর তারা হাত কাটার নেসাব (ন্যূনতম পরিমাণ) বিষয়ক বর্ণনা (رواية) কিংবা এতে হির্‌য (সুরক্ষিত স্থান) বিবেচনার বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করেনি। (১)

সুতরাং এরা এবং তারা—অর্থাৎ খারেজি ও শিয়াগণ—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ তারা সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন) সমালোচনা করত। এটি সর্বজনবিদিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ মূলত সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মাধ্যমেই আমাদের কাছে পৌঁছেছে। বরং সমগ্র দ্বীনই তাদের মাধ্যমেই আমাদের কাছে পৌঁছেছে। কারণ তাঁরা ছিলেন সময়ের দিক থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমসাময়িক স্তর (طبقة), যারা তাঁর কথা ও কাজের অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ অবগত ছিলেন; তাঁর প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতা সংরক্ষণে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং তাঁর প্রতিটি শব্দ ও নীরবতাকে বর্ণনা করতে সচেষ্ট ছিলেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছোট-বড় সকল অবস্থা বর্ণনায় অত্যন্ত আমানতদার ছিলেন। সাহাবীগণই (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের সমস্ত অবস্থা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন এবং তা থেকে সামান্যতম অংশও বাদ দেননি। ফলে তাঁদের বদৌলতে—আল্লাহ তাঁদেরকে উম্মাহর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন—আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল অবস্থার সাথে যেন ওতপ্রোতভাবে মিশে আছি এবং তাঁর সকল অবয়বকে যেন স্বচক্ষে অবলোকন করছি। অতএব তাঁরাই (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আমাদের কাছে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন, যা তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে ওহী হিসেবে কুরআন বা সুন্নাহর মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছিলেন। এখন যদি এমন কোনো দল বা ফিরকা আসে যারা সাহাবীগণ ন্যায়পরায়ণ (عدول) নন বলে তাদের কথিত দাবির ভিত্তিতে তাঁদের থেকে দ্বীন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, তবে সে কার কাছ থেকে তার দ্বীন গ্রহণ করবে? আর কীভাবে সে ইসলামের শরিয়ত সম্পর্কে অবগত হবে? আর সে কোথা থেকেই বা সালাত ও তার নিয়মাবলী, জাকাত ও তার পরিমাণ, সিয়াম ও তার বিধিবিধান এবং হজ্জ ও তার রুকনসমূহ সম্পর্কে দ্বীনি বিধান গ্রহণ করবে? তাছাড়া সে কোথা থেকেই বা জানবে কোনটি হালাল আর কোনটি হারাম, এবং কোনটি...

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে দেখুন: উসুলুদ দ্বীন: ১৯, আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
يأخذ أو يدع في شؤون الحياة جميعها، ثم أين نجد كل هذا في القرآن المجيد؟ وأين يجده هؤلاء الذين يزعمون أنهم يكتفون بالقرآن وحده دون السنة النبوية المشرفة؟

إن رفضهم السنة النبوية كان له الأثر الذي أشرنا إلى بعضه من خروجهم على الدين وابتداعهم فيه ما ليس منه، واعتناقهم عقائد، ومزاولتهم شرائع لا تمت إلى الإسلام، بل تناقض الإسلام وتعارضه، وقد انتهى بهم الأمر إلى أن نقضوا عرى الإسلام، وكفروا الأمة المسلمة، وما كفرت الأمة ولكن الظالمين كفروا، يهدمون الدين بحجة الحرص عليه، ويكفرون بالقرآن وهم يزعمون الاستمساك به والاعتماد عليه، فأين منهم آياته البينات التي تأمر بطاعة رسول الله – صلى الله عليه وسلم – والأخذ عنه والائتمار بأمره والانتهاء بنهيه؟ بل أين منهم آياته البينات التي تنص على أنه صلى الله عليه وسلم لا ينطق عن الهوى، وأن سنته وحي من عند الله - تعالى - وأين من هؤلاء الذين يخالفون عن أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم قوله تعالى - محذراً إياهم ومن على شاكلتهم: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (النور:64) .

هكذا بدأت مسيرة إنكار سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم والشغب عليها ورفض اعتبارها مصدراً تشريعياً كالقرآن، والخروج على طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم بدأت مسيرة الضلال هذه على أيدي الخوارج والشيعة (الرافضة) ، ثم تلقفها منهم وسار على ضلالهم طوائف من المتكلمين وأشهرهم في هذا الباب المعتزلة، ثم استمرت مسيرة الضلال يسلمها ضال إلى ضال، ويأخذها ضال عن ضال، وقد افترقوا في ضلالهم إلى مذاهب وطوائف، فطائفة تنكر السنة النبوية المطهرة بجملتها، ما كان منها قولاً، وما كان عملاً،
জীবনের সকল বিষয়ে গ্রহণ করা বা বর্জন করা; আর এই সবকিছুই আমরা পবিত্র কুরআনে কোথায় পাব? আর সেই সমস্ত লোকই বা কোথায় এগুলো খুঁজে পাবে যারা দাবি করে যে তারা সম্মানিত সুন্নাহ ছাড়াই শুধু কুরআনের ওপর নির্ভর করে?

সুন্নাহ অস্বীকার করার ফলে তাদের ওপর সেই প্রভাব পড়েছে যার কিছু অংশ আমরা উল্লেখ করেছি—যেমন দ্বীন থেকে তাদের বিচ্যুতি এবং এতে এমন সব বিষয়ের উদ্ভাবন (ابتداع) যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, এমন সব আকিদা বা বিশ্বাস গ্রহণ করা এবং এমন শরয়ি বিধানের চর্চা করা যার ইসলামের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, বরং তা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক ও বিরোধী। তাদের পরিণাম এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা ইসলামের বন্ধন ছিন্ন করেছে এবং মুসলিম উম্মাহকে কাফের সাব্যস্ত করেছে। অথচ উম্মাহ কাফের হয়নি, বরং এই জালেমরা কুফরি (كفر) করেছে। তারা দ্বীনের প্রতি দরদ দেখানোর অজুহাতে দ্বীনকে ধ্বংস করছে এবং তারা কুরআনের ওপর কুফরি করছে অথচ দাবি করছে যে তারা একেই আঁকড়ে ধরেছে এবং এর ওপরই নির্ভর করছে। তাদের কাছে পবিত্র কুরআনের সেই সুস্পষ্ট আয়াতগুলো কোথায় যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য করার, তাঁর থেকে গ্রহণ করার, তাঁর আদেশ পালন করার এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়? বরং তাদের কাছে সেই সুস্পষ্ট আয়াতগুলোই বা কোথায় যা ব্যক্ত করে যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না এবং তাঁর সুন্নাহ হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহি (وحي)? যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশের বিরোধিতা করে, তাদের ও তাদের অনুসারীদের সতর্ক করে মহান আল্লাহর এই বাণী কোথায়: {অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (فتنة) বা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হতে পারে} (আন-নূর: ৬৪)।

এভাবেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ অস্বীকার করা, তার বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং কুরআনের মতো সুন্নাহকে একটি শরয়ি উৎস (مصدر تشريعي) হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য বর্জনের ধারা শুরু হয়। ভ্রষ্টতার এই পথচলা শুরু হয়েছিল খারিজি এবং শিয়া—রাফেজি (الرافضة)—দের হাত ধরে। এরপর মুতাকাল্লিমিন (متكلمين) সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোষ্ঠী তাদের থেকে এটি গ্রহণ করে তাদের ভ্রষ্টতার পথে পরিচালিত হয়, যাদের মধ্যে এই ক্ষেত্রে মুতাজিলা সম্প্রদায় সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। এরপর এই ভ্রষ্টতার ধারা অব্যাহত থাকে যেখানে এক পথভ্রষ্ট অন্য পথভ্রষ্টের কাছে এটি হস্তান্তর করে এবং এক বিভ্রান্ত ব্যক্তি অন্য বিভ্রান্ত ব্যক্তি থেকে তা গ্রহণ করে। তারা তাদের এই ভ্রষ্টতার মাঝে বিভিন্ন মাযহাব ও দলে বিভক্ত হয়েছে। একদল তো পবিত্র সুন্নাহকে সামগ্রিকভাবে অস্বীকার করে, চাই তা কোনো কথা (قول) হোক কিংবা কোনো কর্ম (عمل)।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وما كان تقريراً، ويعدون أقواله صلى الله عليه وسلم وأفعاله مثل أقوال الناس وأفعالهم لا صلة لها بالدين من قريب أو من بعيد.

وطائفة تأخذ من السنة بما كان عملاً وتطرح ما كان قولاً، دون تمييز أو سند من شرع أو عقل يسوغ هذه التفرقة، فإن صاحب العمل هو نفسه صاحب القول صلى الله عليه وسلم. وطائفة ثالثة هي أقل الطوائف جرماً في هذا الباب، ولكنها أعمها وأطمها وأكثرها عدداً، وما ذهبت إليه أعظم شيوعاً وذيوعاً، ذلكم الذين يقولون لا نأخذ من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا بما تواتر قولاً وعملاً، أما خبر الواحد فلا يأخذون به ولا يعتبرونه، ومن هؤلاء من يرفضه جملة، ومنهم من يرفضه في العقائد.

وقد ظلت مسيرة الضلال هذه تنتقل عبر التاريخ بطوائفها المختلفة وعلى مستوى الأمة المسلمة شرقاً وغرباً، حتى كانت نهاية القرن التاسع عشر وبداية القرن العشرين، حيث نبتت نابتة سوء بين المسلمين في بلاد الهند، وذلك بنشأة ما سمي بطائفة " القرآنيون " تلك الطائفة التي زعمت الاعتماد على القرآن وحده، وطرح السنة النبوية المطهرة، وأخذت تدعو إلى نحلتها بهمة ونشاط تحت رعاية الاستعمار الإنجليزي، ثم انتقلت من الهند إلى باكستان - بعد التقسيم - تحت مسمى "البرويزيين"

وهذه الطائفة هي موضوع بحثنا هذا، وسوف نبين بشيء من التفصيل تاريخ نشأتهم وأهم رؤسائهم على الصفحات التالية - بحول الله تعالى.
এবং যা ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৌন সম্মতি (تقرير); তারা তাঁর কথা ও কাজকে সাধারণ মানুষের কথা ও কাজের মতোই গণ্য করে, যার সাথে ধর্মের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই।

আর এক দল সুন্নাহ (سنة)-এর মধ্য থেকে কেবল কর্মগত বিষয়গুলো গ্রহণ করে এবং বক্তব্যধর্মী বিষয়গুলো বর্জন করে। তাদের এই পার্থক্যের সপক্ষে কোনো বাছবিচার কিংবা শরিয়ত বা যুক্তিনির্ভর এমন কোনো ভিত্তি (سند) নেই যা একে গ্রহণযোগ্য করতে পারে। অথচ যিনি কর্ম সম্পাদনকারী, তিনিই হলেন বক্তব্যের প্রবক্তা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তৃতীয় আরেকটি দল রয়েছে যাদের অপরাধের মাত্রা এই ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম, কিন্তু তারা সবচেয়ে ব্যাপক, বিপর্যয়কর এবং সংখ্যায় অধিক। তাদের গৃহীত মতবাদটিই সর্বাধিক পরিচিত ও প্রচলিত। তারা হলো সেই সব লোক যারা বলে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة) থেকে আমরা কেবল তা-ই গ্রহণ করব যা কথা ও কাজের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (تواتر) হয়েছে। পক্ষান্তরে, একক বর্ণনা (خبر الواحد)-কে তারা গ্রহণ করে না এবং ধর্তব্য মনে করে না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে পুরোপুরি বর্জন করে, আবার কেউ কেউ কেবল আকিদাহর ক্ষেত্রে তা বর্জন করে।

ভ্রষ্টতার এই ধারাটি ইতিহাসের বিভিন্ন পরিক্রমায় এর বিভিন্ন উপদলের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে অব্যাহত ছিল। অবশেষে উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ভারতের মুসলিম জনপদে এক অশুভ শক্তির উদ্ভব ঘটে। আর তা ছিল "কুরআনিউন" নামক একটি দলের আত্মপ্রকাশ। এই দলটি কেবল কুরআনের ওপর নির্ভর করার দাবি করে এবং পবিত্র সুন্নাহ (سنة)-কে ছুড়ে ফেলে দেয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পৃষ্ঠপোষকতায় তারা অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে তাদের ভ্রান্ত মতবাদের প্রচার চালাতে থাকে। পরবর্তীতে দেশভাগের পর তা ভারত থেকে পাকিস্তানে "পারভেজি" নামে স্থানান্তরিত হয়।

এই দলটিই আমাদের গবেষণার মূল বিষয়। পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে আমরা আল্লাহর শক্তিতে ও সামর্থ্যে তাদের উৎপত্তির ইতিহাস এবং প্রধান নেতাদের সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المبحث الرابع: التعريف بطائفة القرآنيين، وعوامل نشأتهم

‌‌مدخل

…

المبحث الرابع: التعريف بطائفة القرآنيين، وعوامل نشأتهم

وضع الإنجليز أيديهم على شبه القارة الهندية، ودانت لهم طوائفها وفرقها من الهندوس والبوذيين والجينيين وغيرهم ممن يدينون بغير الإسلام. أما المسلمون الذين كانوا يمثلون قلة في الهند فلم يسلس قيادهم للإنجليز المستعمرين، ولم يهادنوهم يوماً، وذلك انطلاقاً من الإسلام الذي يمنع المسلم من الخضوع والإذعان لحاكم غير مسلم يلي أمر المسلمين بالقوة والجبروت. لذلك كان المسلمون بالهند يمثلون للإنجليز المستعمرين قلقاً وإزعاجاً بل يمثلون خطورة على سلطتهم وبقائهم في تلك البلاد، وكان المسلمون لا يفتأون يلبون داعي الجهاد ضد الإنجليز، ويقومون بالثورات العديدة التي كان أشهرها ثورة مايو من عام سبعة وخمسين وثمانمائة وألف للميلاد.

وقد كان الإنجليز بالمقابل يمقتون المسلمين فوق مقتهم الطوائف الأخرى، وقد كانوا يدبرون المؤامرات والمكايد ضد الإسلام والمسلمين في تلك البقاع، ورغم خطط ومؤامرات الإنجليز الكثيرة ضد المسلمين، إلا أنهم تميزوا بخطة معينة أحكموها وبرعوا فيها، وقد حققت لهم أغراضهم وأهدافهم من تفريق صفوف المسلمين، وإضعاف شوكتهم، وبث النزاع بين طوائفهم. وكانت خطتهم تلك تقوم على أن يستقطبوا أشخاصاً من المسلمين، يرون فيهم قبولاً لبيع دينهم وأمتهم مقابل السلطة والمال، فيجندونهم للعمل ضد الإسلام والمسلمين، وكانت خطتهم التي يرسمونها لعملائهم واحدة، حيث يبدأ هؤلاء العملاء بالتظاهر بالإسلام، والحرص عليه، والدعوة إليه، والكتابة
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: 'কুরআনি' সম্প্রদায়ের পরিচয় এবং তাদের উদ্ভবের কারণসমূহ

‌‌ভূমিকা

…

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: 'কুরআনি' সম্প্রদায়ের পরিচয় এবং তাদের উদ্ভবের কারণসমূহ

ইংরেজরা ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং ইসলাম ব্যতীত অন্যান্য ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও দল তাদের বশ্যতা স্বীকার করেছিল। তবে ভারতের মুসলমানরা—যারা সংখ্যায় সংখ্যালঘু ছিল—তারা ঔপনিবেশিক ইংরেজদের কাছে সহজেই নতি স্বীকার করেনি এবং তাদের সাথে কখনো আপসও করেনি। এটি ছিল ইসলামের সেই মৌলনীতির প্রতিফলন, যা একজন মুসলিমকে এমন কোনো অমুসলিম শাসকের আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার করতে বাধা দেয়, যে শক্তি ও জবরদস্তির মাধ্যমে মুসলিমদের শাসনভার দখল করে। এ কারণে ভারতের মুসলমানরা ঔপনিবেশিক ইংরেজদের জন্য উদ্বেগ ও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, এমনকি ওই অঞ্চলে তাদের ক্ষমতা ও টিকে থাকার জন্য এক চরম বিপদ হিসেবে গণ্য হতো। মুসলমানরা অবিরাম ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাকে সাড়া দিত এবং অসংখ্য বিপ্লব সংগঠিত করত, যার মধ্যে ১৮৫৭ সালের মে মাসের বিপ্লব ছিল সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।

অন্যদিকে, ইংরেজরা অন্যান্য সম্প্রদায়ের তুলনায় মুসলমানদের প্রতি অধিকতর ঘৃণা পোষণ করত এবং তারা সেই ভূখণ্ডে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের জাল বুনছিল। মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইংরেজদের অসংখ্য পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও, তারা একটি নির্দিষ্ট কৌশলে বিশেষ পারদর্শিতা ও সুনিপুণতা প্রদর্শন করেছিল, যা মুসলমানদের সারিতে বিভেদ সৃষ্টি, তাদের শক্তি খর্ব করা এবং তাদের দলগুলোর মধ্যে বিবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইংরেজদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সফল করেছিল। তাদের সেই পরিকল্পনাটি ছিল মুসলমানদের মধ্য থেকে এমন কিছু ব্যক্তিকে নিজেদের দিকে টেনে নেওয়া, যাদের মধ্যে ক্ষমতা ও অর্থের বিনিময়ে নিজেদের ধর্ম ও উম্মতকে বিক্রি করার মানসিকতা দেখা যেত। অতঃপর তারা তাদের ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য নিয়োগ করত। তাদের এজেন্টদের জন্য তারা যে কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছিল তা ছিল অভিন্ন; এই এজেন্টরা প্রথমে ইসলামের প্রতি ছদ্ম-অনুরাগ ও একাগ্রতা প্রকাশ করে এবং এর প্রতি গুরুত্বারোপ, দাওয়াত প্রদান ও লেখালেখির মাধ্যমে কাজ শুরু করত...
(খণ্ড: ১) শুবহাতুল কুরআনিয়্যিন হাওলাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فيه، حتى إذ اشتهر أمرهم، والتف الناس حولهم. بدؤوا ينفذون خطة الإنجليز، التي رسموها لهم، وبدؤوا ببذر بذور الشك في عقيدة الإسلام، ثم في شريعته، ثم - وتحت دعواهم الحرص على الإسلام - يبثون سمومهم، فمنهم من يدعي النبوة مثل: " ميرزا غلام أحمد القادياني " - لعنه الله - ومنهم من يدعي حب رسول الله صلى الله عليه وسلم فيخلع على النبي - بهذه الحجة - بعض صفات الله سبحانه، وذلك مثل "أحمد رضا خان" ومنهم من يدعي أنه مجدد القرن مثل: " أحمد خان " الذي أخلص للإنجليز إلى حد أن باع دينه، وضحى بأمته في مقابل ولائه المطلق للإنجليز.

وفيما يلي سنذكر أهم رجالات القرآنيين في الهند، مع ذكر نبذة عن تاريخ كل منهم، وأهم آرائه.
এতে, এমনকি যখন তাদের বিষয়টি প্রসিদ্ধি লাভ করল এবং মানুষ তাদের চারপাশে সমবেত হলো, তখন তারা ইংরেজদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে শুরু করল যা তারা তাদের জন্য অঙ্কন করেছিল। তারা ইসলামের আকিদা ও পরবর্তীতে শরিয়তের বিষয়ে সন্দেহের বীজ বপন করতে লাগল; এরপর—ইসলামের প্রতি অনুরাগের দাবি তুলে—তারা তাদের বিষবাষ্প ছড়াতে শুরু করল। তাদের মধ্যে কেউ নবুওয়তের দাবি করে, যেমন: "মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী" — আল্লাহ তাকে লানত করুন — আবার কেউ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসার দাবি তুলে এই অজুহাতে নবিজির ওপর মহান আল্লাহর কিছু গুণাবলি আরোপ করে, যেমন: "আহমদ রেজা খান"। তাদের মধ্যে কেউ আবার নিজেকে শতাব্দীর মুজাদ্দিদ বা সংস্কারক হিসেবে দাবি করে, যেমন: "আহমদ খান", যে ইংরেজদের প্রতি এতটাই একনিষ্ঠ ছিল যে তার বিনিময়ে নিজের ধর্ম বিক্রি করে দিয়েছিল এবং ইংরেজদের প্রতি তার নিঃশর্ত আনুগত্যের খাতিরে নিজ উম্মতকে বিসর্জন দিয়েছিল।

নিম্নে আমরা ভারতের আহলে কুরআন বা কুরআনপন্থীদের প্রধান ব্যক্তিত্বদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও তাদের উল্লেখযোগ্য মতবাদসমূহ আলোচনা করব।