(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: -)
سجود التلاوة معانيه وأحكامه   (ابن تيمية)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: سجود التلاوة معانيه وأحكامه

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

المحقق: فواز أحمد زمرلي

الناشر: دار ابن حزم، بيروت، لبنان

الطبعة: الأولى، 1416هـ/1996م

عدد الصفحات: 100

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তিলাওয়াতের সিজদাহ: এর অর্থ ও বিধানসমূহ   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: হাম্বলী ফিকহ


কিতাব: তিলাওয়াতের সিজদাহ: এর অর্থ ও বিধানসমূহ

লেখক: তাক্বীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল কাসেম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী)

তাহক্বীক্বকারী: ফাওয়াজ আহমাদ যুমারলী

প্রকাশক: দার ইবনে হাযম, বৈরুত, লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরী/১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০০

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
سجود التلاوة معانيه وأحكامه

تأليف: أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية الحراني

وَقَال شيخ الإِسلام:

‌‌[فصل في سجود القرآن] 1

وهو نوعان:

1- خبر عن أهل السجود، ومدح لهم.

2- أو أمر به، وذم على تركه.

--------------------------------------------

1- هذا العنوان وكل العناوين أيضا فيما سيأتي من زيادة المحقق
সিজদাহুত তিলাওয়াত: এর তাৎপর্য ও বিধিবিধান

লেখক: আহমদ বিন আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী

শাইখুল ইসলাম (রহ.) বলেছেন:

‌‌[কুরআনের সিজদাহ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ] ১

এটি দুই প্রকার:

১- সিজদাহকারীদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদান এবং তাদের প্রশংসা করা।

২- অথবা সিজদাহ করার নির্দেশ প্রদান এবং তা বর্জনের কারণে নিন্দা করা।

--------------------------------------------

১- এই শিরোনাম এবং সামনে আগত সকল শিরোনামগুলো সম্পাদকের পক্ষ থেকে সংযোজিত।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
فالأول: سجدة الأعراف: {إِنَّ الَّذِينَ عِندَ رَبِّكَ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيُسَبِّحُونَهُ وَلَهُ يَسْجُدُونَ} [الأعراف: 206] ، وهذا ذكره بعد الأمر باستماع القرآن والذكر.

وفي الرعد: {وَلِلّهِ يَسْجُدُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَظِلالُهُم بِالْغُدُوِّ وَالآصَالِ} [الرعد: 15] ، وفي النحل: {أَوَ لَمْ يَرَوْاْ إلى مَا خَلَقَ اللهُ مِن شَيْءٍ يَتَفَيَّأُ ظِلَالُهُ عَنِ اليمِينِ وَالْشَّمَآئِلِ سُجَّدًا لِلّهِ وَهُمْ دَاخِرُونَ وَلِلّهِ يَسْجُدُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مِن دَآبَّةٍ وَالْمَلآئِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ يَخَافُونَ رَبَّهُم مِّن فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} [النحل: 48 50] ، وفي سبحان: {إِنَّ الَّذِينَ أُوتُواْ الْعِلْمَ مِن قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَي عليهمْ يَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ سُجَّدًا وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِن كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولاً وَيَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا} [الإسراء: 107 109] ، وهذا خبر عن سجود مع من سمع القرآن فسجد.

وكذلك في مريم: {أُوْلَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عليهم مِّنَ النَّبِيِّينَ مِن ذُرِّيَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِن ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَائِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَي عليهمْ آيَاتُ الرَّحْمَن خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا} [مريم: 58] ، فهؤلاء الأنبياء سجدوا إذا تتلي عليهم آيات الرحمن، وأولئك الذين أوتوا العلم
অতএব প্রথমটি হলো: আল-আরাফের সিজদাহ: {নিশ্চয় যারা তোমার রবের সান্নিধ্যে রয়েছে, তারা তাঁর ইবাদত করতে অহংকার করে না, এবং তাঁর তাসবিহ পাঠ করে এবং তাঁরই উদ্দেশ্যে তারা সিজদাহ করে।} [আল-আরাফ: ২০৬], আর এটি কুরআন শ্রবণ ও যিকিরের নির্দেশের পর উল্লেখ করা হয়েছে।

আর সূরা আর-রাদে রয়েছে: {আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তারা ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে সিজদাহ করে এবং তাদের ছায়াগুলোও সকাল ও সন্ধ্যায় (সিজদাহ করে)।} [আর-রাদ: ১৫], এবং সূরা আন-নাহলে রয়েছে: {তারা কি লক্ষ্য করে না আল্লাহর সৃষ্টি করা বস্তুর প্রতি, যার ছায়া ডান ও বাম দিকে ঢলে পড়ে আল্লাহর প্রতি বিনীতভাবে সিজদাবনত হয়? আর আসমান ও জমিনে যত জীবজন্তু ও ফেরেশতা আছে তারা সবাই আল্লাহরই উদ্দেশ্যে সিজদাহ করে এবং তারা অহংকার করে না। তারা তাদের রবকে ভয় করে যিনি তাদের উপরে আছেন এবং তাদের যা নির্দেশ দেওয়া হয় তারা তাই করে।} [আন-নাহল: ৪৮-৫০], এবং সূরা সুবহানে (আল-ইসরা): {নিশ্চয় যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দান করা হয়েছে, যখন তাদের কাছে এটি পাঠ করা হয়, তখন তারা সিজদাবনত হয়ে থুতনির ওপর লুটিয়ে পড়ে। এবং তারা বলে, 'পবিত্র মহান আমাদের রব! আমাদের রবের ওয়াদা অবশ্যই কার্যকর হবে।' আর তারা কাঁদতে কাঁদতে থুতনির ওপর লুটিয়ে পড়ে এবং এটি তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।} [আল-ইসরা: ১০৭-১০৯], আর এটি তাদের সিজদাহ সম্পর্কে সংবাদ যারা কুরআন শোনার পর সিজদাহ করে।

অনুরূপভাবে সূরা মারিয়ামে রয়েছে: {এরাই তারা, নবীদের মধ্য থেকে যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—আদমের বংশধর হতে এবং যাদেরকে আমি নুহের সাথে (নৌকায়) আরোহণ করিয়েছিলাম তাদের বংশধর হতে, আর ইব্রাহিম ও ইসরাঈলের বংশধর হতে এবং যাদেরকে আমি হিদায়াত দিয়েছি ও মনোনীত করেছি তাদের মধ্য হতে; যখন তাদের কাছে পরম করুণাময়ের আয়াতসমূহ পাঠ করা হতো, তখন তারা কাঁদতে কাঁদতে সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ত।} [মারিয়াম: ৫৮], সুতরাং এই নবীরা সিজদাহ করেছিলেন যখন তাদের ওপর পরম করুণাময়ের আয়াতসমূহ পাঠ করা হতো, এবং তারা যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছিল—
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
من قبل القرآن إذا يتلي عليهم القرآن يسجدون.

وظاهر هذا سجود مطلق كسجود السحرة، وكقوله: {وَادْخُلُواْ الْباب سُجَّداً وَقُولُواْ حِطَّةٌ} [البقرة: 58] ، وإن كان المراد به الركوع. فالسجود هو خضوع له وذل له؛ ولهذا يعبر به عن الخضوع. كما قال الشاعر:

ترى الأُكُم فيها سجداً للحوافر

قال جماعة من أهل اللغة: السجود التواضع والخضوع وأنشدوا:
কুরআনের আগে থেকেই, যখন তাদের নিকট কুরআন পাঠ করা হয় তারা সিজদাহ করে।

এর বাহ্যিক মর্ম হলো সাধারণ সিজদাহ, যেমন জাদুকরদের সিজদাহ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা অবনত মস্তকে (সিজদাবনত হয়ে) প্রবেশদ্বারে প্রবেশ করো এবং বলো ‘ক্ষমা’} [আল-বাকারাহ: ৫৮], যদিও এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রুকু। মূলত সিজদাহ হলো তাঁর প্রতি বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশ করা; আর এ কারণেই একে বিনয় প্রকাশের রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেমন কবি বলেছেন:

তুমি সেখানে উঁচু টিলাগুলোকে দেখবে ঘোড়ার খুরের নিকট সিজদাবনত।

একদল ভাষাবিদ বলেছেন: সিজদাহ হলো বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশ করা এবং তারা কবিতা আবৃত্তি করেছেন:
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
ساجد المنخر ما يرفعه … خاشع الطرف أصم المسمع

قيل لسهل بن عبد الله: أيسجد القلب؟ قال: نعم، سجدة لا يرفع رأسه منها أبداً.

وفي سورة [الحج] الأولى خبر: {أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ وَكَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ وَكَثِيرٌ حَقَّ عليه الْعَذَابُ وَمَن يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِن مُّكْرِمٍ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يَشَاء} [الحج: 18] ،

والثانية: أمر مقرون بالركوع؛ ولهذا صار فيها نزاع.

وسجدة الفرقان: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اسْجُدُوا لِلرَّحْمَنِ قَالُوا وَمَا الرَّحْمَنُ أَنَسْجُدُ لِمَا تَأْمُرُنَا وَزَادَهُمْ نُفُورًا}
নাসিকা অবনমিত করে সে সিজদাবনত, যা সে কখনো উত্তোলন করে না … অবনমিত তার দৃষ্টি, শ্রবণ বিমুখ।

সাহল বিন আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হলো: অন্তর কি সিজদা করে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এমন এক সিজদা যা থেকে সে কখনো তার মাথা তোলে না।

এবং সূরা [হজ]-এর প্রথমটি একটি সংবাদ: {তুমি কি দেখনি যে, আসমানসমূহে যারা আছে এবং পৃথিবীতে যারা আছে তারা আল্লাহকে সিজদা করে, আর সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি, পাহাড়সমূহ, বৃক্ষরাজি, জীবজন্তু এবং মানুষের মধ্যে অনেকে? আবার অনেকের ওপর আজাব অবধারিত হয়েছে। আল্লাহ যাকে অপমানিত করেন, তার কোনো সম্মানদাতা নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন।} [হজ: ১৮] ,

এবং দ্বিতীয়টি: রুকুর সাথে যুক্ত একটি নির্দেশ; আর এ কারণেই তাতে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে।

আর ফুরকানের সিজদা: {এবং যখন তাদেরকে বলা হয়, “রহমানকে সিজদা করো”, তখন তারা বলে, “রহমান আবার কী? তুমি আমাদের যাকে আদেশ করবে আমরা কি তাকেই সিজদা করব?” আর এতে তাদের বিমুখতাই বৃদ্ধি পায়।}
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
[الفرقان: 60] ، خبر مقرون بذم من أمر بالسجود فلم يسجد، ليس هو مدحاً. وكذلك سجدة النمل: {وَجَدتُّهَا وَقَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشَّمْسِ مِن دُونِ اللَّهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَ أَلَّا يَسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي يُخْرِجُ الْخَبْءَ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُخْفُونَ وَمَا تُعْلِنُونَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ} [النمل: 24 26] ، خبر يتضمن ذم من يسجد لغير الله، ولم يسجد للَّه. ومن قرأ ألا يا اسجدوا، كانت أمراً.
[আল-ফুরকান: ৬০], এটি এমন এক সংবাদ যা সেই ব্যক্তির নিন্দার সাথে সম্পৃক্ত যাকে সিজদা করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সে সিজদা করেনি; এটি কোনো প্রশংসা নয়। অনুরূপভাবে সূরা আন-নামল-এর সিজদার আয়াত: {আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখেছি যে তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সিজদা করছে; শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের সামনে সুশোভিত করেছে এবং তাদেরকে সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত করেছে, ফলে তারা হেদায়েত পাচ্ছে না। (তারা এটি করেছে) যাতে তারা আল্লাহকে সিজদা না করে, যিনি আসমান ও জমিনের লুকায়িত বিষয়কে বের করেন এবং তিনি জানেন যা তোমরা গোপন করো আর যা তোমরা প্রকাশ করো। আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি মহান আরশের রব।} [আন-নামল: ২৪-২৬], এটি এমন এক সংবাদ যা তার নিন্দাকে অন্তর্ভুক্ত করে যে আল্লাহ ছাড়া অন্যের সিজদা করে এবং আল্লাহর জন্য সিজদা করে না। আর যারা ‘আলা ইয়া উসজুদু’ পাঠ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি একটি আদেশ হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২০)
وفي [ألم تنزيل السجدة] : {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [السجدة: 15] ، وهذا من أبلغ الأمر والتخصيص؛ فإنه نفي الإيمان عمن ذكر بآيات ربه ولم يسجد إذا ذكر بها.

وفي [ص] : خبر عن سجدة داود، وسماها ركوعاً،
আর [আলিফ-লাম-মীম তানযীল আস-সাজদাহ]-এ রয়েছে: {কেবল তারাই আমাদের নিদর্শনসমূহের প্রতি ঈমান আনে, যাদেরকে যখন তা দ্বারা উপদেশ দেওয়া হয়, তখন তারা সেজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে আর তারা অহংকার করে না।} [আস-সাজদাহ: ১৫]। এটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ নির্দেশ ও সুনির্দিষ্টকরণের অন্তর্ভুক্ত; কেননা এতে এমন ব্যক্তির থেকে ঈমানকে নাকচ করা হয়েছে, যাকে তার রবের নিদর্শনসমূহ দ্বারা উপদেশ দেওয়ার পরও সে সেজদা করেনি।

আর [সোয়াদ]-এ দাউদের সেজদা সম্পর্কে সংবাদ রয়েছে এবং একে রুকু হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে,
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২১)
و [حم تنزيل] أمر صريح: {وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ فَإِنِ اسْتَكْبَرُوا فَالَّذِينَ عِندَ رَبِّكَ يُسَبِّحُونَ لَهُ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُمْ لَا يَسْأَمُونَ} [فصلت: 37،38] ، والنجم أمر صريح: {فَاسْجُدُوا لِلَّهِ وَاعْبُدُوا} [النجم: 62] ، والانشقاق أمر صريح عند سماع القرآن: {فَمَا لَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ وَإِذَا قُرِئَ عليهمُ الْقُرْآنُ لَا يَسْجُدُونَ} [الانشقاق: 20،21] ، و {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} [العلق: 1] ، أمر مطلق: {وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبْ} [العلق: 91] . فالستة الأول إلى الأولى من الحج خبر ومدح. والتسع البواقي من الثانية من الحج أمر وذم لمن لم يسجد، إلا [ص] .
এবং [হা-মীম তানযীল] একটি সুস্পষ্ট আদেশ: {তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ। তোমরা সূর্যকে সিজদাহ করো না এবং চাঁদকেও না; বরং আল্লাহকে সিজদাহ করো যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো। অতঃপর তারা যদি অহংকার করে, তবে যারা তোমার রবের নিকট রয়েছে তারা রাত ও দিন তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্ত হয় না।} [ফুসসিলাত: ৩৭, ৩৮] , এবং আন-নাজম একটি সুস্পষ্ট আদেশ: {অতএব তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদাহ করো এবং ইবাদত করো।} [আন-নাজম: ৬২] , এবং আল-ইনশিকাক কুরআন শ্রবণকালে একটি সুস্পষ্ট আদেশ: {তাদের কী হলো যে তারা ঈমান আনে না? আর যখন তাদের নিকট কুরআন পাঠ করা হয় তখন তারা সিজদাহ করে না?} [আল-ইনশিকাক: ২০, ২১] , এবং {পাঠ করো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন} [আল-আলাক: ১] , একটি শর্তহীন আদেশ: {এবং সিজদাহ করো ও নিকটবর্তী হও।} [আল-আলাক: ১৯] । আল-হাজ্জ সূরার প্রথমটি পর্যন্ত প্রথম ছয়টি হলো সংবাদ ও প্রশংসা। আর আল-হাজ্জ সূরার দ্বিতীয়টি থেকে অবশিষ্ট নয়টি হলো আদেশ এবং যারা সিজদাহ করে না তাদের জন্য নিন্দা, তবে [সাদ] ব্যতিরেকে।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌[حكم سجود التلاوة]

فنقول: قد تنازع الناس في وجوب سجود التلاوة:
[তিলাওয়াতের সিজদাহর বিধান]

আমরা বলি: তিলাওয়াতের সিজদাহ ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে:
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
قيل: يجب.
বলা হয়েছে: তা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقيل: لا يجب. وقيل: يجب إذا قرئت السجدة في الصلاة، وهو رواية عن أحمد،

والذي يتبين لي أنه واجب: فإن الآيات التي فيها مدح لا تدل بمجردها على الوجوب؛ لكن آيات الأمر والذم والمطلق منها قد يقال: إنه محمول على الصلاة، كالثانية من الحج، والفرقان، واقرأ، وهذا ضعيف، فكيف وفيها مقرون بالتلاوة كقوله: {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [السجدة: 15] ، فهذا نفي للإيمان بالآيات عمن لا يخر ساجداً إذا ذكر بها، وإذا كان سامعاً لها، فقد ذكر بها.

وكذلك سورة [الانشقاق] : {فَمَا لَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ وَإِذَا قُرِئَ عليهمُ الْقُرْآنُ لَا يَسْجُدُونَ} [الانشقاق: 20،21] ، وهذا ذم لمن لا يسجد إذا قرئ عليه القرآن كقوله: {فَمَا لَهُمْ عَنِ التَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ} [المدثر: 49] ، {وَمَا لَكُمْ لَا تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ لِتُؤْمِنُوا بِرَبِّكُمْ} [الحديد: 8] ، {فَمَا لِهَؤُلاء الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا} [النساء: 78] ، وكذلك سورة [النجم] قوله: {أَفَمِنْ هَذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ وَأَنتُمْ سَامِدُونَ فَاسْجُدُوا لِلَّهِ وَاعْبُدُوا} [النجم: 59 62] ، أمرا بالغاً عقب ذكر الحديث الذي
আর বলা হয়েছে: এটি ওয়াজিব নয়। আবার বলা হয়েছে: যখন সালাতে সিজদার আয়াত পাঠ করা হয় তখন তা ওয়াজিব হয়, এবং এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত।

আর আমার নিকট যা স্পষ্ট হয় তা হলো, এটি ওয়াজিব: কারণ যে আয়াতগুলোতে প্রশংসা করা হয়েছে, সেগুলো কেবল প্রশংসার কারণে ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ বহন করে না; তবে আদেশ, নিন্দা এবং শর্তহীন আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে যে: এগুলো সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেমন সূরা হাজ্জের দ্বিতীয় সিজদা, ফুরকান এবং সূরা ইকরা-এর সিজদা; তবে এই মতটি দুর্বল। আর যেখানে তিলাওয়াতের সাথে বিষয়টি যুক্ত, সেখানে তা কীভাবে দুর্বল হয়? যেমন আল্লাহর বাণী: {কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে, যাদেরকে যখন তা দ্বারা উপদেশ দেওয়া হয়, তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করে, আর তারা অহংকার করে না} [আস-সাজদাহ: ১৫]। এখানে ঐ ব্যক্তির ঈমানকে অস্বীকার করা হয়েছে যে আয়াতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও সিজদায় লুটিয়ে পড়ে না; আর যদি সে তা শ্রবণকারী হয়, তবে তাকে তো তা দ্বারা স্মরণ করিয়ে দেওয়াই হয়েছে।

তদ্রূপ সূরা ইনশিক্বাক্ব: {তাদের কী হয়েছে যে তারা ঈমান আনে না? আর যখন তাদের সামনে কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তারা সিজদা করে না?} [ইনশিক্বাক্ব: ২০-২১]। আর এটি ঐ ব্যক্তির প্রতি নিন্দা যার সামনে কুরআন পাঠ করা সত্ত্বেও সে সিজদা করে না, যেমন আল্লাহর বাণী: {তাদের কী হলো যে তারা উপদেশবাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়?} [মুদ্দাস্সির: ৪৯], {তোমাদের কী হলো যে তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান আনো না, অথচ রাসূল তোমাদেরকে তোমাদের রবের ওপর ঈমান আনার জন্য আহ্বান করছেন?} [হাদীদ: ৮], {এই কওমের কী হলো যে তারা কোনো কথা বুঝতে চায় না?} [নিসা: ৭৮]। আর অনুরূপভাবে সূরা নাজমে আল্লাহর বাণী: {তবে কি তোমরা এই কথাতে বিস্ময়বোধ করছ? আর তোমরা হাসছ, কাঁদছ না? অথচ তোমরা গাফেল হয়ে রয়েছ। সুতরাং আল্লাহর উদ্দেশে সিজদা করো এবং ইবাদত করো।} [নাজম: ৫৯-৬২], যা সেই বাণীর বর্ণনার পর এক চূড়ান্ত আদেশ যা...
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
هو القرآن يقتضي أن سماعه سبب الأمر بالسجود، لكن السجود المأمور به عند سماع القرآن كما أنه ليس مختصا بسجود الصلاة فليس هو مختصا بسجود التلاوة، فمن ظن هذا أو هذا، فقد غلط، بل هو متناول لهما جميعاً، كما بينه الرسول صلى الله عيله وسلم.

فالسنة تفسر القرآن وتبينه وتدل عليه. فالسجود عند سماع آية السجدة هو سجود مجرد عند سماع آية السجدة، سواء تليت مع سائر القرآن، أو وحدها، ليس هو سجوداً عند تلاوة مطلق القرآن، فهو سجود عند جنس القرآن. وعند خصوص الأمر بالسجود، فالأمر يتناوله. وهو أيضاً متناول لسجود القرآن أيضاً وهو أبلغ؛ فإنه سبحانه وتعالى قال: {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [السجدة: 15] ، فهذا الكلام يقتضي أنه لا يؤمن بآياته إلا من إذا ذكر بها خر ساجداً، وسبح بحمد ربه، وهو لا يستكبر.

ومعلوم أن قوله: {بِآيَاتِنَا} ليس يعني بها آيات السجود فقط، بل جميع القرآن. فلابد أن يكون إذا ذكر بجميع آيات القرآن يخر ساجداً، وهذا حال المصلي، فإنه يذكر بآيات الله بقراءة الإمام، والإمام يذكر بقراءة نفسه، فلا يكونون مؤمنين حتى
এটি কুরআন যা দাবি করে যে, এটি শ্রবণ করা সিজদার নির্দেশের কারণ। তবে কুরআন শ্রবণের সময় যে সিজদার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা যেমন সালাতের সিজদার সাথে নির্দিষ্ট নয়, তেমনি তা কেবল তিলাওয়াতের সিজদার সাথেও সুনির্দিষ্ট নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি বা ওটি মনে করে, সে ভুল করেছে; বরং এটি উভয়টিকেই অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন।

সুন্নাহ কুরআনকে ব্যাখ্যা করে, সুস্পষ্ট করে এবং এর মর্মার্থ নির্দেশ করে। সিজদার আয়াত শ্রবণের সময়কার সিজদা হলো নিছক সিজদার আয়াত শোনার কারণে কৃত সিজদা, চাই তা কুরআনের অবশিষ্ট অংশের সাথে তিলাওয়াত করা হোক বা স্বতন্ত্রভাবে। এটি সাধারণভাবে কুরআন তিলাওয়াতের সিজদা নয়, বরং এটি কুরআনের বিশেষ নির্দেশের সিজদা। আর যখন সিজদার বিশেষ নির্দেশ আসে, তখন সেই নির্দেশ একে শামিল করে। এটি কুরআনের সিজদাকেও অন্তর্ভুক্ত করে যা অধিকতর অর্থবহ; কেননা তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে, যাদেরকে যখন তা দ্বারা উপদেশ প্রদান করা হয়, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে, আর তারা অহংকার করে না" [আস-সাজদাহ: ১৫]। এই বাণীটি দাবি করে যে, তাঁর আয়াতসমূহের ওপর সেই ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ ঈমান রাখে না, যাকে যখন তা দ্বারা উপদেশ দেওয়া হয়, তখন সে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে, আপন রবের প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করে এবং সে অহংকার প্রদর্শন করে না।

আর এটি সুবিদিত যে, তাঁর বাণী: "আমার আয়াতসমূহ" দ্বারা কেবল সিজদার আয়াতসমূহ উদ্দেশ্য নয়, বরং সমগ্র কুরআনই উদ্দেশ্য। সুতরাং আবশ্যক হলো যে, যখনই কুরআনের সকল আয়াত দ্বারা উপদেশ দেওয়া হবে, তখন সে সিজদায় লুটিয়ে পড়বে। আর এটি হলো সালাত আদায়কারীর অবস্থা; কেননা সে ইমামের তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর আয়াতসমূহ দ্বারা উপদিষ্ট হয়, আর ইমাম উপদিষ্ট হন স্বীয় তিলাওয়াতের মাধ্যমে। সুতরাং তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
يخروا سجداً، وهو سجودهم في الصلاة، وهو سجود مرتب ينتقلون أولا إلى الركوع ثم إلى السجود، والسجود مثني كما بينه الرسول ليجتمع فيه خروران: خرور من قيام وهو السجدة الأولى. وخرور من قعود، وهو السجدة الثانية. وهذا مما يستدل به على وجوب قعدة الفصل، والطمأنينة فيها، كما مضت به السنة؛ فإن الخرور ساجداً لا يكون إلا من قعود أو قيام. وإذا فصل بين السجدتين كحد السيف، أو كان إلى القعود أقرب، لم يكن هذا خروراً.

ولكن الذي جوزه ظن أن السجود يحصل بوضع الرأس على الأرض، كيف ما كان. وليس كذلك، بل هو مأمور به كما قال: {إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا} [السجدة: 15] ، ولم يقل: سجدوا. فالخرور مأمور به، كما ذكره في هذه الآية، ونفس الخرور على الذقن عبادة مقصودة، كما أن وضع الجبهة على الأرض عبادة مقصودة. يدل على ذلك قوله تعالى: {قُلْ آمِنُواْ بِهِ أَوْ لَا تُؤْمِنُواْ إِنَّ الَّذِينَ أُوتُواْ الْعِلْمَ مِن قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَي عليهمْ يَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ سُجَّدًا وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِن كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولاً وَيَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا} [الإسراء: 107 109] ، فمدح هؤلاء، وأثني عليهم بخرورهم للأذقان، أي على الأذقان سجداً. والثاني بخرورهم للأذقان: أي عليها يبكون.
তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে, আর এটি সালাতে তাদের সিজদা। এটি একটি সুশৃঙ্খল সিজদা, যেখানে তারা প্রথমে রুকুতে যায় এবং তারপর সিজদায় যায়। রাসূল যেভাবে বর্ণনা করেছেন সে অনুযায়ী সিজদা দু'বার করা হয়, যাতে এতে দুইবার লুটিয়ে পড়া একত্রিত হয়: প্রথমটি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থা থেকে লুটিয়ে পড়া—যা প্রথম সিজদা, এবং দ্বিতীয়টি বসে থাকা অবস্থা থেকে লুটিয়ে পড়া—যা দ্বিতীয় সিজদা। এটি দ্বারা দুই সিজদার মাঝখানের বৈঠকের আবশ্যকতা এবং তাতে স্থিরতা বজায় রাখার ওপর দলিল পেশ করা হয়, যেমনটি সুন্নাহ অনুযায়ী সাব্যস্ত হয়েছে। কেননা সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়া কেবল বসা বা দাঁড়ানো অবস্থা থেকেই হতে পারে। আর যদি দুই সিজদার মাঝে ব্যবধান তলোয়ারের ধারের মতো (অতি সামান্য) হয়, অথবা তা বসার কাছাকাছি হয়, তবে তা 'লুটিয়ে পড়া' হিসেবে গণ্য হবে না।

তবে যারা এটি বৈধ মনে করেছেন, তারা ধারণা করেছেন যে, যে কোনো ভাবেই হোক মাটিতে মাথা রাখলেই সিজদা সম্পন্ন হয়ে যায়। বিষয়টি এমন নয়, বরং এটি সেভাবেই আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেভাবে তিনি বলেছেন: "যখন তাদের এর মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া হয়, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে" [আস-সাজদাহ: ১৫]। তিনি কেবল "তারা সিজদা করল" বলেননি। সুতরাং লুটিয়ে পড়া একটি নির্দেশিত বিষয়, যেমনটি তিনি এই আয়াতে উল্লেখ করেছেন। আর চিবুকের ওপর লুটিয়ে পড়া নিজেই একটি উদ্দিষ্ট ইবাদত, যেমনটি কপাল মাটিতে রাখা একটি উদ্দিষ্ট ইবাদত। মহান আল্লাহর এই বাণী এর ওপর প্রমাণ পেশ করে: "বলুন, তোমরা এতে ঈমান আনো বা না আনো, নিশ্চয়ই এর পূর্বে যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, যখন তাদের কাছে এটি পাঠ করা হয়, তখন তারা চিবুকের ওপর সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে। এবং তারা বলে, আমাদের প্রতিপালক পবিত্র ও মহিমান্বিত, আমাদের প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি অবশ্যই কার্যকর হবে। আর তারা চিবুকের ওপর কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং এটি তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।" [আল-ইসরা: ১০৭-১০৯]। এখানে আল্লাহ তাদের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের চিবুকের ওপর লুটিয়ে পড়ার কারণে তাদের গুণগান গেয়েছেন; অর্থাৎ চিবুকের ওপর সিজদাবনত হওয়া। আর দ্বিতীয়ত তাদের চিবুকের ওপর লুটিয়ে পড়ার কারণে; অর্থাৎ তার ওপর ক্রন্দন করা।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
فتبين أن نفس الخرور على الذقن عبادة مقصودة، يحبها الله. وليس المراد بالخرور إلصاق الذقن بالأرض، كما تلصق الجبهة، والخرور على الذقن هو مبدأ الركوع، والسجود منتهاه. فإن الساجد يسجد على جبهته لا على ذقنه، لكنه يخر على ذقنه، والذقن آخر حد الوجه، وهو أسفل شيء منه، وأقربه إلى الأرض. فالذي يخر على ذقنه يخر وجهه ورأسه خضوعاً للَّه. ومن حينئذ، قد شرع في السجود. فكما أن وضع الجبهة هو آخر السجود، فالخرور على الذقن أول السجود، وتمام الخرور أن يكون من قيام أو قعود، وقد روي عن ابن عباس: {وَيَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ} أي: للوجوه. قال الزجاج: الذي يخر وهو قائم إنما يخر لوجهه، والذقن مجتمع اللحيين، وهو غضروف أعضاء الوجه. فإذا ابتدأ يخر فأقرب الأشياء من وجهه إلى الأرض الذقن.

وقال ابن الأنباري: أول ما يلقي الأرض من الذي
সুতরাং এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, চিবুকের উপর লুটিয়ে পড়া স্বয়ং একটি উদ্দেশ্যমূলক ইবাদত, যা আল্লাহ ভালোবাসেন। আর লুটিয়ে পড়া দ্বারা চিবুককে মাটির সাথে লেপ্টে দেয়া উদ্দেশ্য নয়, যেমনটি কপাল লেপ্টে দেয়া হয়; বরং চিবুকের ওপর ভর করে লুটিয়ে পড়া হলো রুকুর সূচনা এবং সিজদাহ হলো এর সমাপ্তি। কেননা সিজদাহকারী তার কপালের উপর সিজদাহ করে, চিবুকের উপর নয়, তবে সে চিবুকের দিক হয়ে লুটিয়ে পড়ে। আর চিবুক হলো চেহারার শেষ সীমানা এবং এটি চেহারার সর্বনিম্ন অংশ ও মাটির নিকটতম স্থান। ফলে যে ব্যক্তি তার চিবুকের ওপর ভর করে লুটিয়ে পড়ে, সে আল্লাহর সামনে বিনম্র হয়ে তার চেহারা ও মাথা লুটিয়ে দেয়। আর তখন থেকেই সে সিজদার মধ্যে প্রবেশ করে। সুতরাং কপাল রাখা যেমন সিজদাহর শেষ অংশ, তেমনি চিবুকের ওপর ভর করে নুয়ে পড়া হলো সিজদাহর শুরু। আর পূর্ণাঙ্গভাবে লুটিয়ে পড়া হলো দাঁড়িয়ে থাকা বা বসে থাকা অবস্থা থেকে হওয়া। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে: "তারা চিবুকের ওপর ভর করে লুটিয়ে পড়ে" অর্থাৎ চেহারার ওপর ভর করে। আজ-জাজ্জাজ বলেন: যে ব্যক্তি দাঁড়ানো অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে, সে মূলত তার চেহারার ওপরই লুটিয়ে পড়ে; আর চিবুক হলো দুই চোয়ালের মিলনস্থল এবং এটি চেহারার অঙ্গসমূহের একটি তরুণাস্থি। সুতরাং যখন সে লুটিয়ে পড়তে শুরু করে, তখন তার চেহারার মধ্য থেকে মাটির সবচেয়ে নিকটবর্তী বস্তু হয় চিবুক।

وقال ابن الأنباري: প্রথম যে বস্তু মাটি স্পর্শ করে...
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
يخر قبل أن يصوب جبهته ذقنه، فلذلك قال: {لِلأَذْقَانِ} ، ويجوز أن يكون المعني يخرون للوجوه، فاكتفي بالذقن من الوجه. كما يكتفي بالبعض من الكل. وبالنوع من الجنس.

قلت: والذي يخر على الذقن لا يسجد على الذقن، فليس الذقن من أعضاء السجود، بل أعضاء السجود سبعة. كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: " أمرت أن أسجد على سبعة أعضاء: الجبهة وأشار بيده إلى الأنف واليدين، والركبتين، والقدمين "، ولو سجد على ذقنه
কপাল সোজা করার আগেই চিবুক লুটিয়ে পড়ে, তাই তিনি বলেছেন: {চিবুকের ওপর}। আর এটিও হতে পারে যে এর অর্থ হলো তারা চেহারার ওপর লুটিয়ে পড়ে, তবে পুরো চেহারার স্থলে কেবল চিবুক উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে; যেমনটি পূর্ণের পরিবর্তে আংশিক এবং সাধারণের পরিবর্তে বিশেষ প্রকার উল্লেখ করে প্রকাশ করা হয়।

আমি বলছি: যে ব্যক্তি চিবুকের ওপর লুটিয়ে পড়ে সে চিবুকের ওপর সিজদা করে না, কারণ চিবুক সিজদার অঙ্গসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং সিজদার অঙ্গ হলো সাতটি। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে: কপাল—এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে নাকের দিকে ইশারা করলেন—উভয় হাত, উভয় হাঁটু এবং উভয় পা।" আর যদি সে তার চিবুকের ওপর সিজদা করত...
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
ارتفعت جبهته، والجمع بينهما متعذر، أو متعسر؛ لأن الأنف بينهما وهو ناتئ، يمنع إلصاقهما معاً بالأرض في حال واحدة، فالساجد يخر على ذقنه، ويسجد على جبهته. فهذا خرور السجود. ثم قال: {وَيَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ يَبْكُونَ} [الإسراء: 109] ، فهذا خرور البكاء، قد يكون معه سجود، وقد لا يكون.

فالأول كقوله: {إِذَا تُتْلَي عليهمْ آيَاتُ الرَّحْمَن خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا} [مريم: 58] ، فهذا خرور وسجود وبكاء.

والثاني: كقوله: {وَيَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ يَبْكُونَ} ، فقد يبكي الباكي من خشية الله مع خضوعه بخروره، وإن لم يصل إلى حد السجود وهذا عبادة أيضاً لما فيه من الخرور للَّه، والبكاء له. وكلاهما عبادة للَّه، فإن بكاء الباكي للَّه، كالذي يبكي من خشية الله. من أفضل العبادات. وقد روي: " عينان لا تمسهما النار: عين باتت تحرس في سبيل الله، وعين يخرج منها مثل رأس الذباب من خشية الله ".
তার কপাল উন্নত থাকে, আর এই দুটির (চিবুক ও কপাল) মধ্যে সমন্বয় সাধন করা অসম্ভব বা কষ্টকর; কারণ নাক তাদের মধ্যস্থলে অবস্থিত এবং তা উন্নত হওয়ায় একই সাথে উভয়কে ভূমিতে লগ্ন করতে বাধা প্রদান করে। সুতরাং সিজদাকারী তার চিবুকের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং কপালের ওপর সিজদা করে। এটি হলো সিজদাকালীন লুণ্ঠন। অতঃপর তিনি বলেছেন: {তারা ক্রন্দনরত অবস্থায় চিবুক ঠেকিয়ে লুটিয়ে পড়ে} [আল-ইসরা: ১০৯], এটি হলো ক্রন্দনজনিত লুণ্ঠন; এর সাথে কখনো সিজদা থাকতে পারে, আবার কখনো নাও থাকতে পারে।

প্রথমটি তাঁর এই বাণীর মতো: {যখন তাদের নিকট রাহমানের আয়াতসমূহ পাঠ করা হতো, তখন তারা সিজদাবনত ও ক্রন্দনরত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ত} [মারইয়াম: ৫৮]। এটি হলো লুণ্ঠন, সিজদা ও ক্রন্দন একত্রে।

আর দ্বিতীয়টি হলো তাঁর এই বাণীর মতো: {তারা ক্রন্দনরত অবস্থায় চিবুক ঠেকিয়ে লুটিয়ে পড়ে}। কেননা ক্রন্দনকারী আল্লাহর ভয়ে অবনত হয়ে ক্রন্দন করতে পারে, যদিও তা সিজদার পর্যায় পর্যন্ত না পৌঁছায়। এটিও একটি ইবাদত, কারণ এতে আল্লাহর উদ্দেশ্যে লুণ্ঠন ও তাঁরই জন্য ক্রন্দন বিদ্যমান। আর উভয়টিই আল্লাহর ইবাদত; কেননা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ক্রন্দনকারীর কান্না—যেমন আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন—তা সর্বোত্তম ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। বর্ণিত হয়েছে: "দুটি চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না: যে চোখ আল্লাহর পথে পাহারাদারি করে রাত কাটিয়েছে, এবং যে চোখ থেকে আল্লাহর ভয়ে মাছির মাথার ন্যায় (অশ্রু) নির্গত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩১)
وفي الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: " سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله: إمام عادل، وشاب نشأ في عبادة الله، ورجلان تحابا في الله، اجتمعا على ذلك وتفرقا عليه، ورجل ذكر الله خالياً ففاضت عيناه، ورجل قلبه معلق بالمسجد، إذا خرج منه حتى يعود إليه، ورجل تصدق بصدقة فأخفاها حتى لا تعلم شماله ما تنفق يمينه، ورجل دعته امرأة ذات حسب وجمال، فقال إني أخاف الله رب العالمين ".

এবং সহীহদ্বয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "সাত প্রকার ব্যক্তি রয়েছেন যাদেরকে আল্লাহ তাঁর ছায়ায় ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না: ন্যায়পরায়ণ ইমাম, সেই যুবক যার বেড়ে ওঠা হয়েছে আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে, এমন দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবাসে, তারা সেই মহব্বতের ভিত্তিতেই একত্রিত হয় এবং সেই মহব্বতের উপরেই পৃথক হয়, এমন ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর যিকর করে ফলে তার দুই চোখ বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়, এমন ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে ঝুলন্ত থাকে যখন সে সেখান থেকে বের হয় যতক্ষণ না আবার তাতে ফিরে আসে, এমন ব্যক্তি যে দান-সদকা করে এবং তা এমনভাবে গোপন রাখে যে তার বাম হাত জানতে পারে না তার ডান হাত কী ব্যয় করছে, এবং এমন ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চবংশীয় রূপবতী নারী (পাপের দিকে) আহ্বান করে, তখন সে বলে, ‘নিশ্চয়ই আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি’।"

(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩২)
فذكر صلى الله عليه وسلم هؤلاء السبعة، إذ كل منهم كمل العبادة التي قام بها، وقد صنف مصنف في نعتهم سماه: [اللمعة في أوصاف السبعة] . فالإمام العادل: كمل ما يجب من الإمارة، والشاب الناشئ في عبادة الله: كمل ما يجب من عبادة الله، والذي قلبه معلق بالمساجد: كمل عمارة المساجد بالصلوات الخمس؛ لقوله: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللهِ مَنْ آمَنَ بِاللهِ} [التوبة: 18] ، والعفيف: كمل الخوف من الله، والمتصدق: كمل الصدقة، والباكي: كمل الإخلاص.

وأما قوله عن داود عليه السلام: {وَخَرَّ رَاكِعًا وَأَنَابَ} [ص: 24] ، لا ريب أنه سجد. كما ثبت بالسنة، وإجماع المسلمين أنه سجد لله، والله سبحانه مدحه بكونه خر راكعاً، وهذا أول السجود، وهو خروره. فذكر سبحانه أول فعله وهو خروره راكعاً، ليبين أن هذا عبادة مقصودة، وإن كان هذا الخرور كان ليسجد. كما أثني على النبيين بأنهم
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সাতজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, যেহেতু তাঁদের প্রত্যেকেই সেই ইবাদতকে পূর্ণতা দান করেছেন যা তাঁরা পালন করেছিলেন। তাঁদের গুণাবলি বর্ণনায় এক লেখক একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: [আল-লুমআ ফি আওসাফিস সাবআ - সাতজন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যের উজ্জ্বল আভা]। সুতরাং ন্যায়পরায়ণ শাসক: তিনি নেতৃত্বের আবশ্যকীয় দায়িত্বসমূহ পূর্ণ করেছেন। আর আল্লাহর ইবাদতে বেড়ে ওঠা যুবক: তিনি আল্লাহর ইবাদতের আবশ্যকতা পূর্ণ করেছেন। আর যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে: তিনি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মাধ্যমে মসজিদ আবাদ করার বিষয়টি পূর্ণ করেছেন; কারণ আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ কেবল তারাই আবাদ করে যারা আল্লাহর ওপর ঈমান আনে} [আত-তাওবা: ১৮]। আর পবিত্র (চরিত্রবান) ব্যক্তি: তিনি আল্লাহর ভয়কে পূর্ণ করেছেন। দানকারী ব্যক্তি: তিনি দানকে পূর্ণ করেছেন। এবং রোদনকারী ব্যক্তি: তিনি ইখলাস বা একনিষ্ঠতাকে পূর্ণ করেছেন।

আর দাউদ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি অবনত হয়ে লুটিয়ে পড়লেন ও আল্লাহর অভিমুখী হলেন} [সোয়াদ: ২৪] প্রসঙ্গে বলা যায় যে, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি সাজদাহ করেছিলেন। যেমনটি সুন্নাহ এবং মুসলিমদের ঐকমত্যের দ্বারা প্রমাণিত যে তিনি আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাজদাহ করেছিলেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর প্রশংসা করেছেন রুকুকারী অবস্থায় লুটিয়ে পড়ার মাধ্যমে, আর এটিই হলো সাজদাহর প্রারম্ভ, যা হলো তাঁর লুটিয়ে পড়া। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কর্মের সূচনাটি উল্লেখ করেছেন যা হলো রুকুকারী অবস্থায় তাঁর লুটিয়ে পড়া, যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে এটি একটি স্বতন্ত্র লক্ষ্যযুক্ত ইবাদত, যদিও তাঁর এই লুটিয়ে পড়া ছিল সাজদাহ করার উদ্দেশ্যে। যেমন তিনি নবীদের প্রশংসা করেছেন এই বলে যে তাঁরা
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩৩)
كانوا: {إِذَا تُتْلَي عليهمْ آيَاتُ الرَّحْمَن خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا} [مريم: 58] ، {إِنَّ الَّذِينَ أُوتُواْ الْعِلْمَ مِن قَبْلِهِ} أنهم: {إِذَا يُتْلَي عليهمْ يَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ سُجَّدًا} ، {وَيَخِرُّونَ لِلأَذْقَانِ يَبْكُونَ} [الإسراء: 107 109] ، وذلك لأن الخرور هو أول الخضوع المنافي للكبر. فإن المتكبر يكره أن يخر، ويحب ألا يزال منتصباً مرتفعاً، إذا كان الخرور فيه ذل وتواضع، وخشوع؛ ولهذا يأنف منه أهل الكبر من العرب، وغير العرب. فكان أحدهم إذا سقط منه الشيء لا يتناوله، لئلا يخر وينحني.

فإن الخرور انخفاض الوجه والرأس، وهو أعلى ما في الإنسان وأفضله. وهو قد خلق رفيعا منتصبا، فإذا خفضه، لاسيما بالسجود، كان ذلك غاية ذله؛ ولهذا لم يصلح السجود إلا للَّه، فمن سجد لغيره، فهو مشرك، ومن لم يسجد له فهو مستكبر عن عبادته، وكلاهما كافر من أهل النار. قال تعالى: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} [غافر: 60] ، وقال تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ} [فصلت: 37] ، وقال في قصة بلقيس: {وَجَدتُّهَا وَقَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشَّمْسِ مِن دُونِ اللَّهِ
তারা ছিলেন: {যখন তাদের নিকট পরম দয়াময় (রাহমান)-এর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হতো, তখন তারা সিজদাবনত হয়ে ও ক্রন্দনরত অবস্থায় লুটিয়ে পড়তেন।} [মারইয়াম: ৫৮], {নিশ্চয় যাদেরকে এর পূর্বে জ্ঞান দান করা হয়েছে} তারা: {যখন তাদের নিকট এটি তিলাওয়াত করা হয়, তখন তারা চিবুক নুইয়ে সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে}, {এবং তারা চিবুক নুইয়ে ক্রন্দনরত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে} [আল-ইসরা: ১০৭ ১০৯], আর এটি এ কারণে যে, লুটিয়ে পড়া (খুরূর) হলো অহঙ্কারের পরিপন্থী বিনয়ের প্রাথমিক স্তর। কেননা অহঙ্কারী ব্যক্তি লুটিয়ে পড়াকে অপছন্দ করে এবং সে সর্বদা ঋজু ও উন্নত হয়ে থাকাকেই ভালোবাসে, যেহেতু লুটিয়ে পড়ার মধ্যে লাঞ্ছনা, বিনয় ও নম্রতা বিদ্যমান; এই কারণেই আরবের এবং অনারবদের অহঙ্কারী লোকেরা একে ঘৃণা করত। ফলে তাদের কেউ যদি কোনো কিছু হাত থেকে ফেলে দিত, তবে সে তা কুড়িয়ে নিত না, পাছে তাকে নিচু হতে বা নুইয়ে পড়তে হয়।

কেননা লুটিয়ে পড়া বলতে মুখমণ্ডল ও মাথা নিচু করাকে বোঝায়, যা মানুষের দেহের সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠ অংশ। আর তা সৃষ্টিগতভাবেই উন্নত ও ঋজু; তাই যখন সে এটিকে অবনমিত করে, বিশেষ করে সিজদার মাধ্যমে, তখন তা তার বিনয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়; এই কারণেই আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য সিজদা করা বৈধ নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করল, সে মুশরিক; আর যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করল না, সে তাঁর ইবাদত থেকে বিমুখ অহঙ্কারী। আর তারা উভয়ই জাহান্নামী কাফির। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা অহঙ্কারবশত আমার ইবাদত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।} [গাফির: ৬০], আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ। তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না এবং চাঁদকেও নয়; বরং তোমরা সিজদা করো আল্লাহকে, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করে থাকো।} [ফুসসিলাত: ৩৭], এবং তিনি বিলকিসের ঘটনায় বলেছেন: {আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম যে, তারা আল্লাহকে ছেড়ে সূর্যকে সিজদা করছে।}
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَ أَلَّا يَسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي يُخْرِجُ الْخَبْءَ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُخْفُونَ وَمَا تُعْلِنُونَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ} [النمل: 24،26] . والشمس أعظم ما يري في عالم الشهادة وأعمه نفعا، وتأثيراً. فالنهي عن السجود لها نهي عما هو دونها بطريق الأولى من الكواكب، والأشجار، وغير ذلك.

وقوله: {وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ} ، دلالة على أن السجود للخالق لا للمخلوق، وإن عظم قدره، بل لمن خلقه. وهذا لمن يقصد عبادته وحده. كما قال: {إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ} ، لا يصلح له أن يسجد لهذه المخلوقات، قال تعالى: {فَإِنِ اسْتَكْبَرُوا فَالَّذِينَ عِندَ رَبِّكَ يُسَبِّحُونَ لَهُ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُمْ لَا يَسْأَمُونَ} [فصلت: 38] ، فإنه قد علم سبحانه أن في بني آدم من يستكبر عن السجود له فقال: الذين هم أعظم من هؤلاء لا يستكبرون عن عبادة ربهم، بل يسبحون له بالليل والنهار ولا يحصل لهم سآمة ولا ملالة، بخلاف الآدميين، فوصفهم هنا بالتسبيح له، ووصفهم بالتسبيح والسجود جميعا في قوله: {إِنَّ الَّذِينَ عِندَ رَبِّكَ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيُسَبِّحُونَهُ وَلَهُ
"আর শয়তান তাদের নিকট তাদের আমলসমূহকে সুশোভিত করে দিয়েছে এবং তাদেরকে সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত করেছে, ফলে তারা হেদায়াত লাভ করে না। যাতে তারা আল্লাহকে সিজদাহ না করে, যিনি আসমান ও জমিনের লুকায়িত বস্তুকে বের করেন এবং জানেন যা তোমরা গোপন করো ও যা তোমরা প্রকাশ করো। আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি মহান আরশের রব।" [আন-নামল: ২৪, ২৬]। আর সূর্য হলো দৃশ্যমান জগতে যা কিছু দেখা যায় তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা মহান এবং উপকারিতা ও প্রভাবের দিক থেকে সর্বাধিক ব্যাপক। সুতরাং সূর্যকে সিজদাহ করার নিষেধাজ্ঞা থেকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তার চেয়ে নিম্নমর্যাদার গ্রহ-নক্ষত্র, বৃক্ষরাজি এবং অন্যান্য জিনিসের সিজদাহর নিষেধাজ্ঞাও প্রমাণিত হয়।

এবং তাঁর বাণী: "আর তোমরা সিজদাহ করো আল্লাহকে, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন", এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে সিজদাহ কেবল স্রষ্টার জন্যই, সৃষ্টির জন্য নয়—তার মর্যাদা যতই বিশাল হোক না কেন; বরং সিজদাহ হবে কেবল তাঁরই জন্য যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন। এটি তার জন্য যে কেবল তাঁরই ইবাদতের ইচ্ছা পোষণ করে। যেমন তিনি বলেছেন: "যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো", তবে এই মাখলুকাতকে সিজদাহ করা তার জন্য শোভনীয় নয়। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর যদি তারা অহংকার করে, তবে যারা আপনার রবের নিকট রয়েছে তারা দিবা-রাত্রি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্ত হয় না।" [ফুসসিলাত: ৩৮]। কেননা তিনি সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা জানেন যে আদম সন্তানের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা তাঁকে সিজদাহ করতে অহংকার বোধ করে। তাই তিনি বলেছেন: যারা এদের চেয়েও মহান তারা তাদের রবের ইবাদত করতে অহংকার করে না, বরং তারা দিনরাত তাঁর তাসবীহ পাঠ করে এবং তাদের কোনো ক্লান্তি বা অবসাদ আসে না, যা আদম সন্তানদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। অতঃপর তিনি এখানে তাদের তাসবীহ পাঠের মাধ্যমে গুণান্বিত করেছেন, এবং অন্য আয়াতে তাসবীহ ও সিজদাহ উভয়ের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: "নিশ্চয় যারা আপনার রবের নিকটে রয়েছে তারা তাঁর ইবাদত করতে অহংকার করে না এবং তাঁর তাসবীহ পাঠ করে এবং তাঁরই উদ্দেশ্যে..."
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩৫)
يَسْجُدُونَ} [الأعراف: 206] . وهم يُصَفُّون له صفوفاً كما قالوا: {وَإِنَّا لَنَحْنُ الصَّافُّونَ وَإِنَّا لَنَحْنُ الْمُسَبِّحُونَ} [الصافات: 165،166] .

وفي الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: " ألا تَصُفون كما تَصْف الملائكة عند ربها؟ "، قالوا: وكيف تصف الملائكة عند ربها؟ قال: " يسدون الأول فالأول، ويتراصون في الصف ".
তারা সিজদাবনত হয়} [আল-আরাফ: ২০৬]। এবং তারা তাঁর উদ্দেশ্যে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায় যেমন তারা বলেছিল: {এবং অবশ্যই আমরাই সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান এবং আমরা অবশ্যই মহিমা ঘোষণাকারী} [আস-সাফফাত: ১৬৫, ১৬৬]।

সহীহ হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "তোমরা কি সেভাবে কাতারবদ্ধ হবে না যেভাবে ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের নিকট কাতারবদ্ধ হয়?" তারা আরজ করলেন: ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের নিকট কীভাবে কাতারবদ্ধ হয়? তিনি বললেন: "তারা প্রথম কাতারগুলো আগে পূর্ণ করে এবং কাতারে একে অপরের সাথে মিলেমিশে দাঁড়ায়।"
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌فصل [آيات الله توجب فهمها، وعبادة الله]

فآياته سبحانه توجب شيئين:

أحدهما: فهمها وتدبرها، ليعلم ما تضمنته.

والثاني: عبادته، والخضوع له إذا سمعت، فتلاوته إياها وسماعها يوجب هذا وهذا، فلو سمعها السامع ولم يفهمها، كان مذموما. ولو فهمها ولم يعمل بما فيها كان مذموماً، بل لابد لكل أحد عند سماعها من فهمها والعمل بها. كما أنه لابد لكل أحد من استماعها، فالمعرض عن استماعها كافر، والذي لا يفهم ما أمر به فيها كافر. والذي يعلم ما أمر به فلا يقر بوجوبه ويفعله كافر. وهو سبحانه يذم الكفار بهذا، وهذا كقوله: {فَمَا لَهُمْ عَنِ التَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ كَأَنَّهُمْ حُمُرٌ مُّسْتَنفِرَةٌ فَرَّتْ مِن قَسْوَرَةٍ} [المدثر: 49،51] ، وقوله: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَسْمَعُوا لِهَذَا الْقُرْآنِ وَالْغَوْا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُونَ} [فصلت: 26] ، وقوله: {كِتَابٌ فصلتْ آيَاتُهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِّقَوْمٍ يَعْلَمُونَ بَشِيرًا وَنَذِيرًا فَأَعْرَضَ أَكْثَرُهُمْ فَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ} [فصلت: 3،4] ، ونظائره كثيرة.
পরিচ্ছেদ [আল্লাহর আয়াতসমূহ সেগুলোর অনুধাবন এবং আল্লাহর ইবাদতকে আবশ্যক করে]

সুতরাং আল্লাহর মহিমান্বিত আয়াতসমূহ দুটি বিষয়কে আবশ্যক করে:

এক: সেগুলোর অনুধাবন ও চিন্তা-গবেষণা করা, যাতে এতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা জানা যায়।

দুই: তাঁর ইবাদত করা এবং যখন তা শোনা হয় তখন তাঁর প্রতি বিনয়াবনত হওয়া। সুতরাং তা তেলাওয়াত করা এবং শ্রবণ করা এই উভয়টিকেই আবশ্যক করে। অতএব কোনো শ্রবণকারী যদি তা শোনে কিন্তু অনুধাবন না করে, তবে সে নিন্দিত হবে। আর যদি সে তা অনুধাবন করে কিন্তু তাতে যা রয়েছে সে অনুযায়ী আমল না করে, তবে সে নিন্দিত হবে; বরং তা শোনার সময় প্রত্যেকের জন্যই তা অনুধাবন করা এবং তদনুযায়ী আমল করা অপরিহার্য। ঠিক যেমনটি প্রত্যেকের জন্য তা শ্রবণ করা অপরিহার্য। সুতরাং যে ব্যক্তি তা শ্রবণ করা থেকে বিমুখ থাকে সে কাফির, আর যে ব্যক্তি তাতে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা অনুধাবন করে না সেও কাফির। আর যে ব্যক্তি তাকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা জানে, কিন্তু তার আবশ্যকতা স্বীকার করে না এবং তা পালন করে না, সেও কাফির। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর মাধ্যমেই কাফিরদের নিন্দা করেছেন, আর এটি তাঁর এই বাণীর ন্যায়: “তাদের কী হয়েছে যে তারা উপদেশ থেকে বিমুখ হয়ে আছে? যেন তারা ভীত-সন্ত্রস্ত বুনো গাধা, যা সিংহের নিকট থেকে পলায়ন করেছে।” [আল-মুদ্দাসসির: ৪৯-৫১], এবং তাঁর বাণী: “আর কাফিররা বলল, তোমরা এই কুরআনের প্রতি কর্ণপাত করো না এবং এতে শোরগোল সৃষ্টি করো, যাতে তোমরা জয়ী হতে পার।” [ফুসসিলাত: ২৬], এবং তাঁর বাণী: “এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে আরবি কুরআন হিসেবে এমন কওমের জন্য যারা জানে; সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ বিমুখ হয়েছে, ফলে তারা শোনে না।” [ফুসসিলাত: ৩-৪], এবং এর অনুরূপ দৃষ্টান্ত অনেক।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وقال فيمن لم يفهمها ويتدبرها: {وَلَوْ عَلِمَ اللهُ فِيهِمْ خَيْرًا لَّأسْمَعَهُمْ وَلَوْ أَسْمَعَهُمْ لَتَوَلَّواْ وَّهُم مُّعْرِضُونَ} [الأنفال: 23] ، فذمهم على أنهم لا يفهمون، ولو فهموا لم يعملوا بعلمهم. وقال تعالى: {وَلَا تَكُونُواْ كَالَّذِينَ قَالُوا سَمِعْنَا وَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ إِنَّ شَرَّ الدَّوَابَّ عِندَ اللهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ وَلَوْ عَلِمَ اللهُ فِيهِمْ خَيْرًا لَّأسْمَعَهُمْ} [الأنفال: 21،23] ، وقال: {وَالَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ لَمْ يَخِرُّوا عليها صُمًّا وَعُمْيَانًا} [الفرقان: 73] .

قال ابن قتيبة: لم يتغافلوا عنها، فكأنهم صم لم يسمعوها عمي لم يروها.

وقال غيره من أهل اللغة: لم يبقوا على حالتهم
এবং যারা এটি বোঝেনি এবং এর ওপর চিন্তা-গবেষণা করেনি, তাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "আর আল্লাহ যদি তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ জানতেন, তবে অবশ্যই তাদের শোনাতেন; আর যদি তিনি তাদের শোনাতেনও, তবুও তারা বিমুখ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিত।" [আল-আনফাল: ২৩], সুতরাং তিনি তাদের নিন্দা করেছেন একারণে যে তারা বোঝে না, আর যদি তারা বুঝতও, তবে তারা তাদের জ্ঞান অনুযায়ী আমল করত না। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা বলে আমরা শুনেছি অথচ তারা শোনে না। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম বিচরণশীল জীব হচ্ছে সেই বধির ও বোবারা, যারা বোঝে না। আর আল্লাহ যদি তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ জানতেন, তবে অবশ্যই তাদের শোনাতেন।" [আল-আনফাল: ২১, ২৩], এবং তিনি বলেছেন: "আর যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ দ্বারা উপদিষ্ট হলে তার ওপর বধির ও অন্ধের মতো লুটিয়ে পড়ে না।" [আল-ফুরকান: ৭৩] ।

ইবনে কুতাইবাহ বলেন: তারা এ থেকে বিমুখ থাকেনি, তবে তারা যেন বধির যারা তা শোনেনি এবং অন্ধ যারা তা দেখেনি।

এবং ভাষাবিদদের মধ্যে অন্যগণ বলেছেন: তারা তাদের পূর্বাবস্থায় অবিচল থাকেনি।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩৮)
الأولى، كأنهم لم يسمعوا، ولم يروا، وإن لم يكونوا خروا حقيقة. تقول العرب: شتمت فلانا فقام يبكي، وقعد يندب، وأقبل يتعذر، وظل يفتخر، وإن لم يكن قام، ولا قعد.

قلت: في ذكره سبحانه لفظ الخرور دون غيره، حكمة. فإنهم لو خروا وكانوا صما وعمياناً، لم يكن ذلك ممدوحا، بل معيبا. فكيف إذا كانوا صما وعميانا بلا خرور. فلابد من شيئين: من الخرور، والسجود. ولابد من السمع والبصر لما في آياته من النور والهدي والبيان، وكذلك لما شرعت الصلاة شرع فيها القراءة، في القيام، ثم الركوع، والسجود.
প্রথম বিষয়টি হলো, তারা যেন শোনেননি এবং দেখেননি, যদিও বাস্তবে তারা সেজদাবনত হননি। আরবরা বলে থাকে: আমি অমুক ব্যক্তিকে গালি দিলাম, ফলে সে কাঁদতে দাঁড়িয়ে গেল, বিলাপ করতে বসে পড়ল, ওজর পেশ করতে এগিয়ে এল এবং অহংকার করতে লাগল; যদিও বাস্তবে সে দাঁড়ায়নি কিংবা বসেনিও।

আমি বলছি: মহান আল্লাহ অন্য কোনো শব্দের পরিবর্তে 'সেজদাবনত হওয়া' (খুরূর) শব্দটি উল্লেখ করার পেছনে নিগূঢ় প্রজ্ঞা রয়েছে। কেননা তারা যদি বধির ও অন্ধ অবস্থায় সেজদাবনত হতো, তবে তা প্রশংসনীয় হতো না, বরং ত্রুটিপূর্ণ বা দোষণীয় হতো। এমতাবস্থায় সেজদাবনত হওয়া ছাড়াই বধির ও অন্ধ হওয়ার বিষয়টি তো আরও ভয়াবহ! সুতরাং দুটি বিষয় অপরিহার্য: সেজদাবনত হওয়া ও সেজদা করা। আর অবশ্যই শ্রবণ ও দর্শনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, কারণ আল্লাহর আয়াতসমূহে নূর, হিদায়াত ও সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। ঠিক একইভাবে যখন সালাত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, তখন তাতে দণ্ডায়মান অবস্থায় কিরাত পাঠ এবং এরপর রুকু ও সেজদা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৩৯)
فأول ما أنزل الله من القرآن: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} [العلق: 1] ، فافتتحها بالأمر بالقراءة، وختمها بالأمر بالسجود، فقال: {وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبْ} [العلق: 19] ، فقوله تعالى: {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ} [السجدة: 15] ، يدل على أن التذكير بها كقراءتها في الصلاة موجب للسجود والتسبيح، وأنه من لم يكن إذا ذكر بها يخر ساجداً، ويسبح بحمد ربه، فليس بمؤمن، وهذا متناول الآيات التي ليس فيها سجود، وهي جمهور آيات القرآن، ففي القرآن أكثر من ستة آلاف آية، وأما آيات السجدة، فبضع عشرة آية.

وقوله: {ذُكِّرُوا بِهَا} ، يتناول جميع الآيات، فالتذكير بها جميعها موجب للتسبيح والسجود، وهذا مما يستدل به على وجوب التسبيح والسجود. وعلى هذا، تدل عامة أدلة الشريعة من الكتاب والسنة تدل على وجوب جنس التسبيح فمن لم يسبح في السجود، فقد عصي الله ورسوله، وإذا أتي بنوع من أنواع التسبيح المشروع أجزأه.

وللفقهاء في هذه المسألة ثلاثة أقوال.
সুতরাং আল্লাহ কুরআনের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম যা নাযিল করেছেন তা হলো: "পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন" [আলাক: ১]। তিনি এটি পাঠের নির্দেশের মাধ্যমে শুরু করেছেন এবং সিজদার নির্দেশের মাধ্যমে শেষ করেছেন, অতঃপর তিনি বলেছেন: "আর সিজদা করুন ও নিকটবর্তী হোন" [আলাক: ১৯]। অতঃপর মহান আল্লাহর বাণী: "কেবল তারাই আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে, যাদেরকে যখন এর দ্বারা উপদেশ দেওয়া হয় তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে" [সাজদাহ: ১৫]। এটি প্রমাণ করে যে, আয়াতসমূহের মাধ্যমে উপদেশ প্রদান করা, যেমন সালাতে সেগুলো পাঠ করা হয়, সিজদা ও তাসবিহকে আবশ্যক করে। আর যে ব্যক্তি এগুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়ার সময় সিজদায় লুটিয়ে পড়ে না এবং তার রবের প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করে না, সে মুমিন নয়। আর এটি সেইসব আয়াতকেও অন্তর্ভুক্ত করে যেগুলোতে সিজদা নেই, আর সেগুলোই কুরআনের অধিকাংশ আয়াত। কেননা কুরআনে ছয় হাজারেরও বেশি আয়াত রয়েছে, পক্ষান্তরে সিজদার আয়াতসমূহ মাত্র দশটির কিছু বেশি।

আর তাঁর বাণী: "তাদেরকে যখন এর দ্বারা উপদেশ দেওয়া হয়", এটি সমস্ত আয়াতকেই শামিল করে। সুতরাং সেগুলোর সমস্তটির মাধ্যমেই উপদেশ দেওয়া তাসবিহ ও সিজদাকে আবশ্যক করে। এটি এমন একটি বিষয় যার দ্বারা তাসবিহ ও সিজদা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে দলিল পেশ করা হয়। এর ভিত্তিতে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে শরীয়তের সাধারণ প্রমাণাদি তাসবিহের মূল বিষয় বা প্রকারটি ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে। সুতরাং যে ব্যক্তি সিজদাতে তাসবিহ পাঠ করল না, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো। আর যদি সে শরীয়তসম্মত তাসবিহের প্রকারসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি আদায় করে, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

আর এই মাসআলায় ফকীহগণের তিনটি অভিমত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৪০)
قيل: لا يجب ذكر بحال.

وقيل: يجب ويتعين قوله: " سبحان ربي الأعلى "، لا يجزئ غيره. وقيل: يجب جنس التسبيح، وإن كان هذا النوع أفضل من غيره؛ لأنه أمر به أن يجعل في السجود. وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم في الصحيح أنواع أخر. وقوله: " اجعلوها في سجودكم "، فيه كلام ليس هذا
বলা হয়েছে: কোনো অবস্থাতেই জিকির ওয়াজিব নয়।

আবার বলা হয়েছে: 'আমার সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি' বলা ওয়াজিব এবং সুনির্দিষ্ট, এটি ব্যতীত অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না। এবং এও বলা হয়েছে: মূল তাসবিহ পাঠ করা ওয়াজিব, যদিও এই প্রকারটি অন্যগুলোর চেয়ে শ্রেষ্ঠ; কারণ তিনি এটি সিজদাতে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহিহ বর্ণনায় অন্যান্য প্রকারও সাব্যস্ত হয়েছে। আর তাঁর বাণী: "তোমরা এটি তোমাদের সিজদাতে নির্ধারণ করো", এই বিষয়ে এমন আলোচনা রয়েছে যা এখানে করা হয়নি।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৪১)
موضعه، إذ قد يقال المسبح لربه: بأي اسم سبحه، فقد سبح اسم ربه الأعلى. كما أنه بأي اسم دعاه فقد دعا ربه الذي له الأسماء الحسني. كما قال: {قُلِ ادْعُواْ اللهَ أَوِ ادْعُواْ الرَّحْمَنَ أَيًّا مَّا تَدْعُواْ فَلَهُ الأَسْمَاء الْحُسْنَي} [الإسراء: 110] ، وقال: {وَلِلّهِ الأَسْمَاء الْحُسْنَي فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف: 180] .

فإذا كان يدعي بجميع أسمائه الحسني، وبأي اسم دعاه، فقد دعا الذي له الأسماء الحسني، وهو يسبح بجميع أسمائه الحسني، وبأي اسم سبح فقد سبح الذي له الأسماء الحسني، ولكن قد يكون بعض الأسماء أفضل من بعض. وبسط هذا له موضع آخر.

والمقصود هنا أن الأمر بالسجود تابع لقراءة القرآن كله، كما في الآية. وفي قوله تعالى: {فَمَا لَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ وَإِذَا قُرِئَ عليهمُ الْقُرْآنُ لَا يَسْجُدُونَ} [الانشقاق 20،21] ، فهذا يتناول جميع القرآن، وأنه من قرئ عليه القرآن فهو مأمور بالسجود، والمصلي قد
তার স্থান, যেহেতু স্বীয় রবের তাসবিহ পাঠকারী সম্পর্কে বলা যেতে পারে যে: সে যে নামেই তাঁর তাসবিহ পাঠ করুক না কেন, সে মূলত তার সুউচ্চ রবের নামেরই তাসবিহ পাঠ করল। যেমনটি সে যে নামেই তাঁকে ডাকুক না কেন, সে মূলত তার সেই রবকেই ডাকল যাঁর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। যেমনটি তিনি বলেছেন: "বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।" [আল-ইসরা: ১১০], এবং তিনি বলেছেন: "আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো।" [আল-আরাফ: ১৮০]।

অতএব, যেহেতু তাঁকে তাঁর সকল সুন্দর নামের মাধ্যমে ডাকা যায়, এবং যে নামেই তাঁকে ডাকা হোক না কেন, মূলত সেই সত্তাকেই ডাকা হয় যাঁর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ; তেমনি তাঁর সকল সুন্দর নামের মাধ্যমেই তাসবিহ পাঠ করা হয়, এবং যে নামেই তাসবিহ পাঠ করা হোক না কেন, মূলত সেই সত্তারই তাসবিহ পাঠ করা হয় যাঁর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। তবে কিছু নাম অন্য কিছু নামের চেয়ে অধিক ফজিলতপূর্ণ হতে পারে। এর বিস্তারিত আলোচনার স্বতন্ত্র স্থান রয়েছে।

আর এখানে উদ্দেশ্য হলো, সিজদা করার নির্দেশটি পুরো কুরআন তিলাওয়াতের অনুগামী, যেমনটি আয়াতে রয়েছে। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের কী হলো যে তারা ঈমান আনে না? আর যখন তাদের নিকট কুরআন পাঠ করা হয় তখন তারা সিজদা করে না।" [আল-ইনশিক্বাক: ২০, ২১]। এটি পুরো কুরআনকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর যার সামনে কুরআন পাঠ করা হয় তাকে সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর সালাত আদায়কারী...
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৪২)
قرئ عليه القرآن، وذلك سبب للأمر بالسجود، فلهذا يسمع القرآن ويسجد الإمام والمنفرد يسمع قراءة نفسه وهو يقرأ على نفسه القرآن. وقد يقال: لا يصلون، لكن قوله: {خَرُّوا سُجَّدًا} [السجدة: 15] ، صريح في السجود المعروف؛ لاقترانه بلفظ الخرور. وأما هذه الآية ففيها نزاع، قال أبو الفرج: {وَإِذَا قُرِئَ عليهمُ الْقُرْآنُ لَا يَسْجُدُونَ} ، فيه قولان:

أحدهما: لا يصلون، قاله عطاء، وابن السائب.

والثاني: لا يخضعون له، ولا يستكينون له، قاله ابن جرير، واختاره القاضي أبو يعلى. قال: واحتج بها قوم على وجوب سجود التلاوة، وليس فيها دلالة على ذلك. وإنما المعني لا يخشعون، ألا تري أنه أضاف السجود إلى جميع القرآن، والسجود يختص بمواضع منه.

قلت: القول الأول هو الذي يذكره كثير من
তার ওপর কুরআন পাঠ করা হয়েছে, আর এটিই সিজদার নির্দেশের কারণ। এই কারণেই সে কুরআন শ্রবণ করে এবং সিজদা করে; ইমাম এবং একাকী ব্যক্তিও যখন নিজের ওপর কুরআন পাঠ করে তখন সে নিজের তিলাওয়াত শ্রবণ করে। আর বলা হয়ে থাকে যে, তারা সালাত আদায় করে না, কিন্তু তাঁর বাণী: {তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে} [আস-সাজদাহ: ১৫], সুপরিচিত সিজদার ব্যাপারে সুস্পষ্ট; কারণ এটি 'লুটিয়ে পড়া' শব্দের সাথে যুক্ত হয়েছে। আর এই আয়াতের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, আবু আল-ফারাজ বলেছেন: {আর যখন তাদের সামনে কুরআন পাঠ করা হয় তখন তারা সিজদা করে না}, এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে:

প্রথমটি: তারা সালাত আদায় করে না, এ কথা আতা এবং ইবনুল সাইব বলেছেন।

দ্বিতীয়টি: তারা এর সামনে অবনত হয় না এবং এর প্রতি বিনয়াবনত হয় না, এ কথা ইবনে জারীর বলেছেন এবং কাজী আবু ইয়ালা একে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন: একদল লোক এর মাধ্যমে তিলাওয়াত সিজদা ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন, অথচ এতে তার কোনো প্রমাণ নেই। বরং এর অর্থ হলো তারা বিনয় প্রকাশ করে না; আপনি কি দেখছেন না যে তিনি সিজদাকে সম্পূর্ণ কুরআনের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, অথচ সিজদা কুরআনের কেবল নির্দিষ্ট কিছু স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট?

আমি বলি: প্রথম মতটিই এমন যা অনেকে উল্লেখ করেন...
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৪৩)
المفسرين، لا يذكرون غيره كالثعلبي، والبغوي وحكوه عن مقاتل، والكلبي وهو المنقول عن مفسري السلف، وعليه عامة العلماء.

وأما القول الثاني فما علمت أحداً نقله عن أحد من السلف. والذين قالوه إنما قالوه لما رأوا أنه لا يجب على كل من سمع شيئاً من القرآن أن يسجد، فأرادوا أن يفسروا الآية بمعني يجب في كل حال.
মুফাসসিরগণ এটি ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করেন না, যেমন আস-সা'লাবি এবং আল-বাগাউয়ি। তাঁরা এটি মুকাতিল ও আল-কালবি থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এটিই সালাফ মুফাসসিরগণের থেকে বর্ণিত এবং এর উপরেই সাধারণ উলামায়ে কেরাম রয়েছেন।

আর দ্বিতীয় মতটির ব্যাপারে আমি এমন কাউকে জানি না যিনি তা সালাফদের মধ্য থেকে কারো সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর যারা এই মতটি ব্যক্ত করেছেন, তারা মূলত একারণেই করেছেন যে তারা দেখেছেন, কুরআন থেকে কিছু শ্রবণকারী প্রত্যেকের ওপর সিজদাহ করা ওয়াজিব নয়। ফলে তারা আয়াতটিকে এমন এক অর্থে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন যা সব অবস্থায় অবধারিত হয়।
(খণ্ড: ১) সুজুদুত তিলাওয়াহ মাআনিহি ওয়া আহকামুহু (পৃষ্ঠা: ৪৪)
فقالوا: يخضعون، ويستكينون. فإن هذا يؤمر به كل من قرئ عليه القرآن.

ولفظ السجود يراد به مطلق الخضوع، والاستكانة. كما قد بسط هذا في مواضع، لكن يقال لهم: الخضوع مأمور به، وخضوع الإنسان وخشوعه، لا يتم إلا بالسجود المعروف، وهو فرض في الجملة على كل أحد، وهو المراد من السجود المضاف إلى بني آدم: حيث ذكر في القرآن: إذ هو خضوع الآدمي للرب، والرب لا يرضي من الناس بدون هذا الخضوع؛ إذ هو غاية خضوع العبد، ولكل مخلوق خضوع بحسبه، هو سجوده.

وأما إن يكون سجود الإنسان لا يراد به إلا خضوع ليس فيه سجود الوجه، فهذا لا يعرف، بل يقال: هم مأمورون: إذا قرئ عليهم القرآن بالسجود، وإن لم يكن السجود التام عقب استماع القرآن، فإنه لابد أن يكون بين صلاتين، فإذا قاموا إلى الصلاة، فقد أتوا بالسجود الواجب عليهم، وهم لما قرئ عليهم حصل لهم نوع من الخضوع والخشوع باعتقاد الوجوب والعزم على الامتثال. فإذا اعتقدوا وجوب الصلاة وعزموا على الامتثال، فهذا مبدأ السجود المأمور به، ثم إذا صلوا، فهذا تمامه. كما قال في المشركين: {فَإِن تَابُواْ وَأَقَامُواْ
তারা বলেছেন: তারা বিনীত হয় এবং নতি স্বীকার করে। কেননা যার সামনেই কুরআন পাঠ করা হয়, তাকেই এর নির্দেশ দেওয়া হয়।

আর সিজদা শব্দটির মাধ্যমে নিঃশর্ত বিনয় ও নতি স্বীকারকে উদ্দেশ্য করা হয়। যেমনটি বিভিন্ন স্থানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে, কিন্তু তাদের বলা হয়: বিনয় প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর মানুষের বিনয় ও একাগ্রতা সেই সুপরিচিত সিজদা ব্যতীত পূর্ণ হয় না, যা মূলত প্রত্যেকের ওপর সামগ্রিকভাবে ফরজ। আর আদম সন্তানের সাথে সংশ্লিষ্ট সিজদা দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য: যা কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে; কেননা এটি রবের প্রতি মানুষের বিনয় প্রকাশ, আর রব এই বিনয় ব্যতীত মানুষের প্রতি সন্তুষ্ট হন না; কারণ এটিই বান্দার বিনয়ের সর্বোচ্চ সীমা, এবং প্রতিটি সৃষ্টির জন্য নিজস্ব ধরণ অনুযায়ী বিনয় রয়েছে, যা তাদের জন্য সিজদা।

কিন্তু মানুষের সিজদা বলতে যদি এমন বিনয়কে বোঝানো হয় যাতে চেহারা মাটিতে লুটিয়ে সিজদা নেই, তবে তা পরিচিত নয়। বরং বলা হয়: যখন তাদের ওপর কুরআন তিলাওয়াত করা হয় তখন তাদের সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর যদি কুরআন শ্রবণের পরপরই পূর্ণাঙ্গ সিজদা সম্পন্ন না হয়, তবে অবশ্যই তা দুই নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে হতে হবে। সুতরাং তারা যখন নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন তারা তাদের ওপর ওয়াজিব সিজদাটি আদায় করল। আর যখন তাদের ওপর তিলাওয়াত করা হয়েছিল, তখন এর আবশ্যকতা বিশ্বাস করার মাধ্যমে এবং তা পালনের সংকল্প করার মাধ্যমে তাদের মাঝে এক ধরণের বিনয় ও একাগ্রতা তৈরি হয়েছিল। অতএব, যখন তারা নামাজের আবশ্যকতা বিশ্বাস করল এবং তা পালনের সংকল্প করল, তখন এটিই হলো আদিষ্ট সিজদার সূচনা, অতঃপর যখন তারা নামাজ পড়ল, তখন তা পূর্ণ হলো। যেমনটি মুশরিকদের বিষয়ে বলা হয়েছে: {যদি তারা তাওবা করে এবং প্রতিষ্ঠা করে