(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: -)
سؤالات أبي عبيد الآجري أبا داود السجستاني في الجرح والتعديل القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: سؤالات أبي عبيد الآجري أبا داود السجستاني في الجرح والتعديل
المؤلف: أبو داود سليمان بن الأشعث بن إسحاق بن بشير بن شداد بن عمرو الأزدي السِّجِسْتاني (ت 275هـ)
المحقق: محمد علي قاسم العمري
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1403هـ/1983م
عدد الصفحات: 410
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জারহ ও তাদিল বিষয়ে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানির প্রতি আবু উবাইদ আল-আজুররির প্রশ্নাবলি বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: জারহ ও তাদিল বিষয়ে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানির প্রতি আবু উবাইদ আল-আজুররির প্রশ্নাবলি
লেখক: আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশআস ইবনে ইসহাক ইবনে বাশির ইবনে শাদ্দাদ ইবনে আমর আল-আজদি আস-সিজিস্তানি (মৃ. ২৭৫ হি.)
সম্পাদক: মুহাম্মাদ আলী কাসিম আল-উমারি
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ হি./১৯৮৩ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১০
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٦)
مقدمة…شكر وتقدير
الحمد لله فاطر القلوب على حب الخير وإقرار الجميل والصلاة والسلام على سيّدنا محمّد الداعي إلى مكافأة صانع الجميل وبعد،
فقد منّ الله عليّ بالانتهاء من إعداد هذه الرسالة فأرى من الواجب عليّ أن أتقدم بخالص شكري وبالغ تقديري لفضيلة أستاذي الدكتور محمود أحمد ميرة المشرف على الرسالة، والذي لم يدّخر جهداً في إبداء توجيهاته وملاحظاته السديدة، وتوفيره لي بعض المصادر ذات القيمة وقراءته لجزئيات الرسالة.
كما أقدّم خالص شكري وامتناني لفضيلة الشيخ الدكتور محمّد أمين المصري رحمه الله والذي كان له كل الفضل في إعدادي للخوض في هذا العلم في السَّنة التحضيرية، وتشجيعي لاختيار هذا الموضوع، سائلاً المولى أن يتغمّده بواسع رحمته.
كما أقدّم شكري أيضاً لفضيلة الدكتور أكرم ضياء العمري وفضيلة الشيخ حماد الأنصاري لما بذلاه أيضاً من توجيهات قيّمة أيام الدراسة والتحضير.
وفي الختام أقدّم شكري لكل من قدّم لي عوناً أيّاً كان من الأساتذة الكرام والأصدقاء والزملاء وأخصّ بالذكر الأخ الكريم مصطفى عبد لجليل أمين مكتبة الدراسات العليا وجزا الله الجميع كل خير.
ভূমিকা…কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কল্যাণকে ভালোবাসা এবং অনুগ্রহ স্বীকার করে নেওয়ার প্রবণতা দিয়ে অন্তরসমূহকে সৃষ্টি করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি অনুগ্রহকারীকে প্রতিদান দেওয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অতঃপর—
আল্লাহ তাআলা আমাকে এই অভিসন্দর্ভটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেছেন, তাই আমি আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ড. মাহমুদ আহমদ মিরা-র প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা কর্তব্য মনে করছি। তিনি এই অভিসন্দর্ভটির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এবং তাঁর সঠিক দিকনির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ প্রদানে কোনো ত্রুটি করেননি। এছাড়াও তিনি আমাকে কিছু মূল্যবান উৎস প্রদান করেছেন এবং অভিসন্দর্ভের বিভিন্ন অংশ পাঠ করেছেন।
আমি আরও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ঋণ স্বীকার করছি শ্রদ্ধেয় শায়খ ড. মুহাম্মদ আমিন আল-মিসরি (রাহিমাহুল্লাহ)-র প্রতি, যিনি প্রস্তুতিমূলক বর্ষে এই ইলমে পদার্পণ করার জন্য আমাকে তৈরি করতে এবং এই বিষয়টি নির্বাচনে উৎসাহ দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আমি মহান প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাকে তাঁর প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করেন।
অধ্যয়ন ও প্রস্তুতির দিনগুলোতে মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য আমি শ্রদ্ধেয় ড. আকরাম দিয়া আল-উমারি এবং শ্রদ্ধেয় শায়খ হাম্মাদ আল-আনসারির প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
পরিশেষে, আমি সেই সকল সম্মানিত শিক্ষক, বন্ধু ও সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে যেকোনো ভাবে সাহায্য করেছেন। বিশেষভাবে আমি শ্রদ্ধাভাজন ভাই মুস্তফা আব্দুল জলিল-এর নাম উল্লেখ করছি, যিনি উচ্চতর শিক্ষা গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক। আল্লাহ সবাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٧)
تقديم:
بقلم: الدكتور عبد الله بْن عبد الله الزائد نائب رئيس الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
وبعد
… فهذا كتاب (سؤالات أبي عبيد الآجري أبا داود السجستاني في الجرح والتعديل) نقدمه لرواد علوم الحديث الشريف، وللباحثين المعتنين بالرجوع إلى المصادر الأولى في اقتباساتهم، والواردين الموارد الأصلية في استفاداتهم.
والكتاب أحد تلك الركائز القديمة في علم الجرح والتعديل لإمامٍ من أئمته الأوائل، هو الإمام أبو داود سليمان بْن الأشعث السجستاني (202- 275) أحد خاصة الإمام يحيى بن معين (158- 233) والإمام أحمد بن حنبل (164-241) إمامي علم الجرح والتعديل في عصرهما، وأبرز من ورث علمهم رحمهم الله تعالى جميعاً.
وكثيراً ما يتردد في ثنايا الكتب المطولة النقل عن أبي داود بواسطة تلميذه هذا: أبي عبيد مُحَمَّدَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ عُثْمَانَ الآجري، أحد علماء القرن الرابع الهجري، فتتوق النفس إلى التعرّف على الآجري وكتابه الذي خزن في طواياه جانب النقد والجرح والتعديل عند الإمام أبي داود لأن هذا الإمام لم يشتهر إلاّ بكتابه (السنن) وهو كتاب ظاهره سرد المتون بأسانيدها دون أن تتجلى فيه شخصيته المتميّزة الناقدة.
فإلى هؤلاء نقدم جزءاً من هذا الكنز الدفين: كتاب (سؤالات الآجري) وهو القسم الخاص برجال أهل الكوفة ورواتها، لنضع لبنة في زاوية من صرح
ভূমিকা:
লিখেছেন: ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ আল-যায়েদ, মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য
অতপর
… এটি হলো (জারহ ও তাদীল বিষয়ে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানিকে করা আবু উবাইদ আল-আজুররির প্রশ্নমালা) শীর্ষক গ্রন্থ। আমরা এটি হাদিস শাস্ত্রের পথিকৃৎদের এবং সেই সব গবেষকদের জন্য উপস্থাপন করছি যারা তাদের উদ্ধৃতি গ্রহণে প্রাথমিক উৎসগুলোর দিকে ফিরে যেতে যত্নশীল এবং যারা তাদের জ্ঞান অর্জনে মূল উৎসসমূহে মগ্ন থাকেন।
আর এই কিতাবটি জারহ ও তাদীল শাস্ত্রের অন্যতম প্রাচীন ভিত্তিস্তম্ভ যা এই শাস্ত্রের প্রথম সারির অন্যতম ইমাম, ইমাম আবু দাউদ সুলাইমান বিন আশআস আস-সিজিস্তানির (২০২- ২৭৫ হি.) মাধ্যমে রচিত। তিনি ছিলেন তাঁর যুগের জারহ ও তাদীল শাস্ত্রের দুই ইমাম—ইমাম ইয়াহইয়া বিন মাইন (১৫৮- ২৩৩ হি.) ও ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের (১৬৪-২৪১ হি.) অন্যতম বিশেষ ছাত্র এবং তাঁদের ইলমের উত্তরাধিকার বহনকারী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
প্রায়শই বৃহৎ গ্রন্থসমূহে তাঁর এই ছাত্রের মাধ্যমে ইমাম আবু দাউদ থেকে উদ্ধৃতি আসার বিষয়টি পুনরাবৃত্ত হয়: তিনি হলেন চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর অন্যতম আলেম আবু উবাইদ মুহাম্মদ বিন আলী বিন উসমান আল-আজুররি। ফলে আল-আজুররি এবং তাঁর কিতাব সম্পর্কে জানার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়, যা তার অভ্যন্তরে ইমাম আবু দাউদের সমালোচনা এবং জারহ ও তাদীল সংক্রান্ত দিকটি সংরক্ষিত করে রেখেছে। কারণ এই ইমাম মূলত তাঁর ‘আস-সুনান’ গ্রন্থের জন্যই প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, যা বাহ্যিকভাবে সনদসহ হাদিসের পাঠ বর্ণনার কিতাব, যাতে তাঁর স্বতন্ত্র সমালোচক ব্যক্তিত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেনি।
সুতরাং তাঁদের প্রতি আমরা এই লুকায়িত ভাণ্ডারের একটি অংশ পেশ করছি: (সুয়ালাত আল-আজুররি) কিতাবটি, যা কুফাবাসী বর্ণনাকারী ও তাদের রাবিদের জন্য নির্ধারিত অংশ; যাতে আমরা এই জ্ঞান-সৌধের এক কোণে একটি ইট স্থাপন করতে পারি।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٨)
السؤالات، وبرهن في تحقيقه على قوة وجلد ونفاذ في حلّ مشكلاته، جزاه الله خيراً، ووفقه لمتابعة إخراج بقية الموجود من أجزاء الكتاب، وإخراج غيره من أمهات كتب السنة.
وإنا نتوجه إلى الله عز وجل بالحمد له والشكر على ما وفقنا إليه، ونسأله المزيد - ثم نتقدم بخالص الشكر إلى جلالة الملك خالد وسمو ولي عهده الأمير فهد، على رعايتهما هذه الجامعة الإسلامية، وتقديمهما يد العون لها، وعين الاهتمام بها، من حيث المادة والتطوير في مختلف مجالاتها النافعة للأمة الإسلامية. جزاهما الله كلّ خير.
والله تعالى هو المسؤول أن يكلل أعمالنا بالتوفيق والفلاح، وييسرنا لخدمة دينه بإخلاص ودوام عمل، إنه أكرم مسؤول - وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
প্রশ্নাবলী; তিনি এর গবেষণায় এর জটিলতাসমূহ সমাধানে শক্তি, ধৈর্য এবং প্রজ্ঞার প্রমাণ দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং কিতাবটির অবশিষ্ট অংশসমূহ প্রকাশ করার পাশাপাশি সুন্নাহর অন্যান্য মূল গ্রন্থসমূহ প্রকাশের ধারা অব্যাহত রাখার তাওফিক দান করুন।
আমরা মহান আল্লাহর নিকট তাঁর দেওয়া তাওফিকের জন্য প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তাঁর কাছে আরও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। এরপর আমরা মহামান্য বাদশাহ খালিদ এবং মাননীয় যুবরাজ ফাহদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এই ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকারী বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক ও উন্নয়নমূলক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের জন্য। আল্লাহ তাঁদের উভয়কে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
মহান আল্লাহর নিকটই প্রার্থনা যে, তিনি যেন আমাদের কর্মসমূহকে সফলতা ও সার্থকতা দিয়ে মুকুটিত করেন এবং তাঁর দ্বীনের খেদমতে আমাদের ইখলাস ও নিরবচ্ছিন্ন আমলের তাওফিক সহজ করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা। আর আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
تمهيد:
لا أظن أن الباحث الكريم بحاجة إلى التنويه بفائدة كتب الرجال على اختلاف أنواعها. فهذه الكتب تعتبر مصدرا رئيسياً يمكن الاعتماد عليه للوصول إلى حقيقة حال من ترجم لهم فيها، إضافة إلى ما تنفرد به تلك الكتب من مواد علمية جديدة.
وقد بدأ المسلمون بالتصنيف في كتب الرجال في وقت مبكر، وأفردوا لكل نمط معين من الناس كتباً خاصة بهم، فنجد منها تلك التي اهتم مصنفوها بذكر رواة الحديث النبوي الشريف، ونجد أخرى اقتصرت على ذكر المفسرين، وتلك في البلغاء واللغويين، ولم يقف الأمر عند ذلك الحد، بل تعداه إلى التصنيف في البخلاء والمغنين وما إلى ذلك.
والواقع أن البدء المبكر في هذا النمط من التصنيف ليدل على ما تمتع به المسلمون الأوائل من وعي ثقافي، ومستوى علمي رفيع، على أن المحدثين كانوا أول من طرق هذا الباب، فأخذوا بتقييد أسماء الصحابة والتابعين، وتبيين أحوالهم على اعتبار أنهم نقلة السنّة المطهرة، الأمر الذي دعا من جاء بعدهم ليحذو حذوهم، فوصفوا رواة الحديث من بعد، وهكذا.
وقد اتبع المصنفون في تواليفهم أساليب متعددة، فمنهم من صنف كتابه
উপক্রমণিকা:
আমি মনে করি না যে সম্মানিত গবেষককে বিভিন্ন প্রকারের রিজাল শাস্ত্রের (জীবনীকোষ) কিতাবসমূহের উপকারিতা সম্পর্কে নতুন করে অবহিত করার প্রয়োজন রয়েছে। কেননা, এই কিতাবসমূহকে এমন এক প্রধান উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়, যাদের জীবনী এতে বর্ণিত হয়েছে তাদের প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য যার ওপর নির্ভর করা যায়। এর পাশাপাশি এই কিতাবসমূহে এমন অনেক মৌলিক জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদান রয়েছে যা একান্তই এগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।
মুসলমানগণ অতি প্রাচীনকাল থেকেই রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থ রচনায় প্রবৃত্ত হয়েছিলেন এবং তারা প্রতিটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষের জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ উৎসর্গ করেছিলেন। ফলে আমরা এমন কিছু কিতাব পাই যেখানে রচয়িতাগণ মহান নবীজীর পবিত্র হাদিস বর্ণনাকারীদের কথা উল্লেখ করতে গুরুত্বারোপ করেছেন। আবার কিছু কিতাব দেখি যা কেবল মুফাসসিরদের (কুরআনের ব্যাখ্যাকার) বর্ণনায় সীমাবদ্ধ, আবার কিছু রয়েছে বাগ্মী ও ভাষাবিদদের বিষয়ে। বিষয়টি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা কৃপণ ব্যক্তি, গায়ক এবং এই জাতীয় ব্যক্তিদের সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, এই ধারার গ্রন্থ রচনায় এই দ্রুত পদচারণা আদি যুগের মুসলমানদের মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং উচ্চতর জ্ঞানতাত্ত্বিক মানের পরিচয় দেয়। তবে মুহাদ্দিসগণই সর্বপ্রথম এই দ্বারে করাঘাত করেছিলেন। তারা সাহাবী এবং তাবিঈদের নামসমূহ লিপিবদ্ধ করতে এবং তাদের অবস্থা সুস্পষ্ট করতে শুরু করেন এই বিবেচনায় যে, তারা পবিত্র সুন্নাহর বাহক। এই বিষয়টিই তাদের পরবর্তীদের তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে, ফলে তারা পরবর্তী সময়ের হাদিস বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনা করেন এবং এভাবেই ধারাটি এগিয়ে চলে।
গ্রন্থকারগণ তাদের রচনাবলীতে বিবিধ পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের কিতাবটি বিন্যস্ত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ١١)
علم الجرح والتعديل، الذي ما يزال الباحثون فيه يجدون أنفسهم واجمين أمام ثغرات كثيرة فيه، وما تزال هذه الثغرات تستنهض همم الباحثين وأهل التخصص والمراس، لإخراج الكتب الأولية الأصلية، والدواوين الزاخرة، وتقديمها للباحثين، لإرواء غلتهم وسد حاجاتهم. وذلك أن علم الجرح والتعديل من أهم علوم الإسلام، وأهميته بأهمية تخليص المصدر الثاني للإسلام - وهو السنَّة - من كل شائبة ودخيل.
وإن كتابنا هذا واحد من تلك الكتب الأصلية فيه - فهذه مزية أولى له.
وثانية مزاياه: أنه جاء على طريقة السؤال والجواب، وهي طريقة طريفة في تدوين العلم، سلكها كثير من علمائنا الأقدمين - وقد جمع المحقق في مقدمته للكتاب عدداً وفيراً من أسمائها - ولم يطبع إلاّ اليسير النادر منها.
والمزية الثالثة: تتجلّى في المكانة العلمية للسائل، فتكون مسائله عن نقاط دقيقة، وقضايا علمية جديرة بالاهتمام والسؤال، وإذا ما عرضت له مشكلة في بحثه - وهو العالم المتمكن - وعجز عن حلها، أو أراد أن يتثبت من الحل الذي ارتآه - فزع إلى شيوخه، فسألهم، ودوّن ذلك عنهم1.
على أن كتب المسائل - أو السؤالات - تجمع فوائد يسمعها جامع الكتاب من شيخه الذي يدوّن له أجوبته، ولو لم يكن سأله عنها.
فهي - إذاً - معلمة فوائد، وديوان نوادر، يلتقطها العالم البصير من شيخه بسؤال يوجهه هو أو غيره إلى شيخه، أو أن يقول الشيخ فائدة عابرة دون سؤال سائل.
وإن الآجري أحد علماء هذا الفن المتمكنين فيه، كما يظهر لقارئ كتابه، وإن كانت المصادر المتداولة في التراجم لا تعطينا أخباراً - بل ولا خبراً - عنه، وهذا لا يضيره، وكم من أئمة علماء غمرهم التاريخ أو غمروا أنفسهم فلم
--------------------------------------------
ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দিল, যার মধ্যে গবেষকরা আজও অনেক অস্পষ্টতা বা শূন্যতার সামনে নিজেদের কিংকর্তব্যবিমূঢ় হিসেবে দেখতে পান। এই শূন্যতাগুলো এখনও গবেষক ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের কর্মস্পৃহাকে জাগ্রত করে যাতে তারা মৌলিক উৎসগ্রন্থসমূহ এবং সমৃদ্ধ সংকলনগুলো প্রকাশ করেন এবং গবেষকদের সামনে পেশ করেন, যাতে তাদের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ হয় এবং তাদের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়। আর এটি এই কারণে যে, ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দিল ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র, এবং এর গুরুত্ব ইসলামের দ্বিতীয় উৎস—সুন্নাহকে—প্রতিটি কলঙ্ক ও অনুপ্রবেশ থেকে মুক্ত করার গুরুত্বের সমান।
আর আমাদের এই বইটি সেই মৌলিক গ্রন্থগুলোর একটি—এটিই এর প্রথম বৈশিষ্ট্য।
এর দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: এটি প্রশ্নোত্তর পদ্ধতিতে বিন্যস্ত, যা ইলম লিপিবদ্ধ করার একটি চমৎকার পদ্ধতি। আমাদের প্রাচীন আলেমদের অনেকেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন—মুহাক্কিক বইটির ভূমিকায় এ ধরনের অনেক কিতাবের নাম একত্রিত করেছেন—এবং এর মধ্যে খুব সামান্যই মুদ্রিত হয়েছে।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: এটি প্রশ্নকর্তার ইলমি মর্যাদার মধ্যে প্রকাশ পায়। ফলে তার প্রশ্নগুলো সূক্ষ্ম বিষয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক মাসআলাসমূহ সম্পর্কে হয়ে থাকে। যখন তার গবেষণায় কোনো জটিলতা উপস্থিত হয়েছে—অথচ তিনি একজন দক্ষ আলেম—এবং তিনি তা সমাধানে অক্ষম হয়েছেন, অথবা তিনি যে সমাধানটি বের করেছেন সেটি নিশ্চিত করতে চেয়েছেন, তখন তিনি তার শিক্ষকদের শরণাপন্ন হয়েছেন, তাদের জিজ্ঞাসা করেছেন এবং তাদের থেকে তা লিপিবদ্ধ করেছেন১।
তাছাড়া মাসাইল বা সওয়ালাত গ্রন্থসমূহ এমন কিছু ফায়দা বা উপকারিতা একত্রিত করে যা গ্রন্থ সংকলক তার উস্তাদের থেকে শ্রবণ করেন, যদিও তিনি সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করেননি।
সুতরাং এটি হচ্ছে বহু ফায়দার আধার এবং বিরল তথ্যের দেওয়ান, যা একজন বিচক্ষণ আলেম তার উস্তাদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্নের মাধ্যমে সংগ্রহ করেন যা তিনি নিজে বা অন্য কেউ করেছেন, অথবা উস্তাদ কোনো প্রশ্নকারীর প্রশ্ন ছাড়াই কোনো একটি ফায়দা বর্ণনা করেছেন।
আর আল-আজ্জুরি এই শাস্ত্রের একজন দক্ষ আলেম ছিলেন, যা তার কিতাব পাঠকারীর কাছে স্পষ্ট হয়, যদিও জীবনী বিষয়ক প্রচলিত উৎসগুলো তার সম্পর্কে তেমন কোনো সংবাদ—এমনকি একটি খবরও—আমাদের দেয় না। আর এটি তার কোনো সম্মান ক্ষুণ্ণ করে না। ইতিহাসের পাতায় কত ইমাম ও আলেমই না অখ্যাত হয়ে গিয়েছেন অথবা তারা নিজেরাই নিজেদের অখ্যাত রেখেছেন, ফলে তারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ١٢)
يعرفوا! مع أنهم تركوا آثاراً أشبه بالموسوعات، مثل التبريزي صاحب (مشكاة المصابيح) والخزرجي صاحب (خلاصة تذهيب تهذيب الكمال) . ومنهم من كانت آثارهم الحجر الأساس في العلم، فما من طالب علم إلاّ وقرأ كتابه أو حفظه، ومؤلفه مغمور أو غير معروف الاسم!! مثل (متن الآجرومية) في علم النحو، و (متن البناء والأساس) في علم الصرف.
والآجري من هؤلاء المغمورين إذ لم يتداول ذكره إلاّ بنسبته (الآجري) مقروناً باسم شيخه الإمام أبي داود.
وإن اعتماد الأئمة الحفاظ على نقوله اعتماداً كبيراً يدل على رفيع رتبته عندهم، وقد قال شيخ حفاظ عصره أبو الحجاج المزي في مقدمة كتابه (تهذيب الكمال) : (وما لم يذكر إسناده فيما بيننا وبين قائله: فما كان من ذلك بصيغة الجزم فهو ما لا نعلم بإسناده عن قائله المحكي ذلك عنه بأساً) وتابعه على هذا المنهج والشرط الحافظ ابن حجر في (تهذيب التهذيب) .
وقد أورد المزي وابن حجر كلاهما أقوال أبي داود في الجرح والتعديل بصيغة الجزم من طريق الآجري في أكثر من سبعمائة موضع - كما أحصاه محقق الكتاب - وهذا هو شرطهما، فلا أدل من ذلك على علو رتبته وكمال ثقته وهما الحافظان الناقدان.
ومن المعلوم إن أوسع كتب الجرح والتعديل تداولاً (تهذيب التهذيب) للحافظ ابن حجر، وأصله (تهذيب الكمال) للمزي الذي بدئ بطبعه من قريب، وهذان الكتابان الضخمان يجد فيهما القارئ كثرة النقول عن كتابنا هذا، كثرة تزيد على سبعمائة نقل، كما تقدم.
ومن هنا تتجلّى أهمية نشر الكتاب وإخراجه إلى الناس، باعتباره أصلاً ومرجعاً لكثير من الكتب المتداولة، ولا سيما إذا كان الكتاب المتداول غير محقق ولا مخرج إخراجاً دقيقاً، كما هو حال (تهذيب التهذيب) فيكون من الضروري الرجوع إلى مصادره التي يستقى منها للتثبت من صحّة النصّ.
তারা পরিচিত! অথচ তারা বিশ্বকোষের মতো অনেক কীর্তি রেখে গেছেন, যেমন (মিশকাতুল মাসাবীহ)-এর রচয়িতা তাবরিযী এবং (খুলাসাতু তাযহীবিত তাহযীবিল কামাল)-এর রচয়িতা খাযরাজী। তাদের মধ্যে এমনও রয়েছেন যাদের কীর্তি ছিল ইলমের ভিত্তিপ্রস্তর; এমন কোনো ইলম অন্বেষী নেই যে তাঁর কিতাব পাঠ করেনি বা মুখস্থ করেনি, অথচ এর লেখক অখ্যাত বা তাঁর নাম সুপরিচিত নয়!! যেমন নাহু শাস্ত্রের (মাতনুল আজরুমিয়্যাহ) এবং সরফ শাস্ত্রের (মাতনুল বিনা ওয়াল আসাস)।
আর আজুররী এই অখ্যাত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, কেননা তাঁর শাইখ ইমাম আবু দাউদের নামের সাথে তাঁর নিসবাহ (আজুররী) ব্যতীত তাঁর নাম সেভাবে প্রচলিত হয়নি।
হাফেয ইমামগণের তাঁর বর্ণনার ওপর ব্যাপক নির্ভরতা তাঁদের নিকট তাঁর উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ দেয়। তাঁর যুগের হাফেযদের শাইখ আবুল হাজ্জাজ মিযযী তাঁর (তাহযীবুল কামাল) কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন: "আমাদের এবং বক্তার মধ্যবর্তী যে অংশের সনদ উল্লেখ করা হয়নি: তার মধ্যে যা দৃঢ়তার শব্দে বর্ণিত হয়েছে, তার বক্তা হতে বর্ণিত সনদে আমাদের জানা মতে কোনো সমস্যা নেই।" হাফেয ইবনে হাজার (তাহযীবুত তাহযীব) কিতাবে এই পদ্ধতি ও শর্তের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন।
মিযযী এবং ইবনে হাজার উভয়ই সাতশরও বেশি স্থানে আজুররীর সূত্রে 'জারহ ও তা'দীল' বিষয়ে আবু দাউদের বক্তব্যসমূহ দৃঢ়তার শব্দে উল্লেখ করেছেন—যেমনটি কিতাবটির গবেষক গণনা করেছেন—আর এটিই ছিল তাঁদের শর্ত। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর হতে পারে না তাঁর উচ্চ মর্যাদা ও পূর্ণ নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে, যেহেতু তাঁরা দুজনেই ছিলেন পারদর্শী হাফেয ও সমালোচক।
এটি সুপরিচিত যে, জারহ ও তা'দীলের সর্বাধিক প্রচলিত কিতাব হলো হাফেয ইবনে হাজারের (তাহযীবুত তাহযীব), যার মূল ভিত্তি হলো মিযযীর (তাহযীবুল কামাল), যা সম্প্রতি মুদ্রিত হতে শুরু করেছে। এই বিশাল কিতাব দুটিতে পাঠক আমাদের এই কিতাব হতে প্রচুর উদ্ধৃতি পাবেন, যার সংখ্যা সাতশরও বেশি, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখান থেকেই এই কিতাবটির প্রকাশনা এবং মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়, যেহেতু এটি অনেক প্রচলিত কিতাবের মূল উৎস ও রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে যখন প্রচলিত কিতাবটি সম্পাদিত নয় কিংবা সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করা হয়নি, যেমনটি (তাহযীবুত তাহযীব)-এর ক্ষেত্রে হয়েছে; ফলে মূল পাঠের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে যে উৎস থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে তার দিকে ফিরে যাওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ومن الأمثلة التي توضح هذه الأهمية - وسيجد القارئ غير هذا المثال - ما جاء في فقرة 22: "سئل أبو داود عَن أَبِي الجَحَّافِ؟ فَقَالَ: قَالَ سُفْيَان: ثنا، وكان مرضياً"، أي إن سفيان الثوري كان يحدث عن أبي الجحاف ويرضاه، فهذا توثيق له من الإمام الثوري.
وكذلك جاء النص عند الحافظ المزي، لكنه جاء محرفاً في (تهذيب التهذيب) 3: 196- 197 إلى "وكان مرجئاً"، وهو تحريف يسير، يترتب عليه اختلاف كبير وقد تكون الفائدة في هذا الكتاب بوجود معلومات فيه عن راوٍ ما، لا توجد في غيره من الكتب الكبيرة المعنية بذكر تلك المعلومات، ففي فقرة 142 يقول الآجري: "سألتُ أبا دَاوُد عَن أَبِي سَلَمة الصَّائغ، حدّث عَنْهُ وكيع، فَقَالَ: مَا سمعت إلا خيرًا" فأفادنا أن وكيعاً يروي عن أبي سلمة الصائغ، في حين أن ابن أبي حاتم - كما علق المحقق - لم يذكر عمن روى، ومن روى عنه، وهو من المهتمين بذكر شيوخ الرجل وتلامذته.
وغير ذلك من الفوائد المنثورة في الكتاب، التي يقدر أهميتها المحتاج إليها، المتلقط لها بنافذ بصيرته.
وقد صنف الآجري الرواة الذين يذكر أخبارهم وأحوالهم على حسب بلدانهم، فيذكر المدنيين - مثلاً - ثم المكيين، وهكذا، جاء كتابه في عدة أجزاء.
وقد يسّر الله تعالى الوقوف على الجزء الثالث منها - وهو في رواة الكوفة والبصرة - وقام بأعباء تصحيح نصوصه وتحقيقها تحقيقاً علمياً دقيقاً، أحد طلاب شعبة السنّة من قسم الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية، وهو الأستاذ السيّد محمد عليّ قاسم العمري - الأردني - وقدّم ذلك لنيل شهادة العالمية (الماجستير) .
فبذل في ذلك الجهد المشكور، وقدّم للكتاب مقدمة علمية رصينة فيها تعريف موجز بالإمام أبي داود، وجلى من أمره ما يتصل بموضوع الكتاب وهو النقد والجرح والتعديل، وعرف بجامع الكتاب أبي عبيد الآجري، وبكتب
এই গুরুত্ব স্পষ্টকারী উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি—আর পাঠক এটি ছাড়াও আরও উদাহরণ পাবেন—যা ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে এসেছে: "আবু দাউদকে আবুল জাহহাফ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল? তিনি বললেন: সুফিয়ান বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি সন্তোষজনক (মারদি) ছিলেন।" অর্থাৎ সুফিয়ান আস-সাওরি আবুল জাহহাফ থেকে বর্ণনা করতেন এবং তাকে পছন্দ করতেন; সুতরাং এটি ইমাম সাওরি কর্তৃক তার নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ (তাওসিক)।
একইভাবে পাঠটি হাফিজ মিজ্জির কাছেও এসেছে, কিন্তু (তাহজিবুত তাহজিব) ৩: ১৯৬-১৯৭-এ এটি বিকৃত হয়ে "তিনি মুরজিয়া ছিলেন" হিসেবে এসেছে। এটি একটি সামান্য বিকৃতি হলেও এর ফলে বিশাল পার্থক্য তৈরি হয়। এই গ্রন্থের উপযোগিতা এমন হতে পারে যে, এতে কোনো রাবি (বর্ণনাকারী) সম্পর্কে এমন তথ্য পাওয়া যায় যা এই ধরনের তথ্য বর্ণনার জন্য নিবেদিত অন্যান্য বড় গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায় না। উদাহরণস্বরূপ, ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদে আজুরি বলেন: "আমি আবু দাউদকে আবু সালামাহ আস-সাইগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তার থেকে ওকি বর্ণনা করেছেন, তখন তিনি বললেন: আমি কেবল কল্যাণই শুনেছি।" এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে ওকি আবু সালামাহ আস-সাইগ থেকে বর্ণনা করেন, অথচ ইবনে আবি হাতিম—যেমনটি মুহাক্কিক (গবেষক) মন্তব্য করেছেন—তিনি কার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে কে বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেননি, যদিও তিনি কোনো ব্যক্তির শিক্ষক এবং ছাত্রদের বর্ণনার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন।
এছাড়াও কিতাবটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অন্যান্য অনেক উপকারিতা রয়েছে, যার গুরুত্ব কেবল সে-ই অনুধাবন করতে পারে যার এগুলোর প্রয়োজন রয়েছে এবং যে তার তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে তা সংগ্রহ করে।
আজুরি সেইসব রাবিদের শ্রেণীবিন্যাস করেছেন যাদের সংবাদ এবং অবস্থা তিনি তাদের দেশ অনুযায়ী উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি মদিনাবাসীদের উল্লেখ করেছেন, তারপর মক্কাবাসীদের, এবং এভাবেই। তার গ্রন্থটি কয়েকটি খণ্ডে এসেছে।
আল্লাহ তাআলা এর তৃতীয় খণ্ডটি পাওয়ার তাওফিক দিয়েছেন—যা কুফা এবং বসরার রাবিদের সম্পর্কে—এবং এর পাঠ সংশোধন ও সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক তাহকিকের (গবেষণার) দায়িত্ব পালন করেছেন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের সুন্নাহ শাখার একজন ছাত্র, তিনি হলেন উস্তাদ আস-সাইয়িদ মুহাম্মদ আলি কাসিম আল-উমারি (জর্ডানি), এবং তিনি এটি আল-আলামিয়্যাহ (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশ করেছেন।
তিনি এতে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং বইটির জন্য একটি নিরেট পাণ্ডিত্যপূর্ণ ভূমিকা পেশ করেছেন, যাতে ইমাম আবু দাউদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় রয়েছে। তিনি ইমামের জীবনের সেই দিকগুলো স্পষ্ট করেছেন যা এই কিতাবের বিষয়বস্তু অর্থাৎ সমালোচনা এবং 'জারহ ও তাদিল' (বর্ণনাকারীদের দোষ-গুণ বিচার) এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এছাড়াও তিনি কিতাবটির সংকলক আবু উবাইদ আল-আজুরি এবং বইগুলো সম্পর্কে পরিচয় প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
على الطبقات، وكان ابن سعد من الأوائل الذين استخدموا هذا الأسلوب بعد أستاذه الواقدي فأبدع وأجاد، ونجد آخرين صنفوا كتبهم على النسب سواء كان ذلك إلى القبيلة، أو المدينة، أو الصنعة. على أن بعضهم قد عمد إلى استخدام أكثر من أسلوب كما هو الحال عند خليفة ين خياط، حيث صنف كتابه على الأنساب، ولكن ضمن الطبقة الواحدة.
وهناك مسلك آخر قد سلكه بعضهم، وهو التصنيف على المدن، فيذكرون في مصنفاتهم تراجم أهل بلد معين، سواء كانوا من أهلها أصلاً أو ممن دخلها من غير أهلها، ومن أشهر ما ألف في هذا تاريخ بغداد للخطيب البغدادي رحمه الله.
والذي يعنينا من هذا كله هو ما ألّف في تراجم رواة الحديث النبوي الشريف، وقد اتبع مصنفوها أيضاً مناهج متعددة تبعاً للأغراض المقصودة منها، فمنها ما يهتم بحياة صاحب الترجمة وأخباره، فيذكر سنة مولده ووفاته ويطيل في أخباره والمشاهد التي شهدها، ومعتقده والمناصب التي شغلها إن كان من ذوي الشأن، وما قيل فيه من جرح أو تعديل، إلى غير ذلك من معلومات، وقد مال بعضهم إلى الاختصار على ذكر ما قاله الأئمة من جرح وتعديل بعبارات مقتضبة.
وهكذا تكاثرت الكتب المؤلفة في رجال الحديث، وتبعاً لذلك تشابهت الأسماء وأصبح من الصعب التمييز بين كثير منها، مما دفع بعضهم إلى تأليف كتب خاصة تهتم بضبط أسماء الرواة، وأخرى للتمييز بين الرواة بالقرائن إن كانوا من أهل بلدة واحدة، أو طبقة واحدة.
إن المتتبع لما أُلف في الحديث النبوي الشريف على اختلاف علومه ليجد أن هذا العلم قد حظي بعناية بالغة حققت الأهداف المنشودة منه. ولم يكن
তাবাকাত বা স্তরের ভিত্তিতে; ইবনে সাদ তাঁর শিক্ষক ওয়াকিদির পর এই পদ্ধতি ব্যবহারকারীদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন এবং তিনি এতে চরম মুন্সিয়ানা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করেছেন। আমরা অন্যদের পাই যারা তাদের গ্রন্থসমূহকে বংশপরম্পরা বা নিসবতের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছেন, তা কোনো গোত্র, শহর কিংবা পেশার ভিত্তিতেই হোক না কেন। তবে তাদের কেউ কেউ একাধিক পদ্ধতি ব্যবহারের দিকেও ঝুঁকেছেন, যেমনটি খলিফা ইবনে খাইয়াতের ক্ষেত্রে দেখা যায়; তিনি তাঁর গ্রন্থটি বংশপরম্পরার ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছেন, তবে তা একই স্তরের কাঠামোর ভেতরে রেখে।
আবার কেউ কেউ ভিন্ন একটি পথ অবলম্বন করেছেন, তা হলো শহরভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস। তাঁরা তাঁদের সংকলনগুলোতে নির্দিষ্ট কোনো জনপদের অধিবাসীদের জীবনী আলোচনা করেন, তারা সেই শহরের আদি বাসিন্দা হোন কিংবা অন্য শহর থেকে সেখানে আগমনকারী হোন। এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে খতিব বাগদাদি (রহিমাহুল্লাহ) রচিত 'তারিখ বাগদাদ' সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।
এ সবকিছুর মধ্যে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পবিত্র হাদিসের বর্ণনাকারীদের জীবনী সংক্রান্ত রচিত সাহিত্য। এগুলোর রচয়িতাগণও তাঁদের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। কোনো কোনো গ্রন্থ বর্ণনাকারীর জীবন ও ঘটনাবলির প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে; ফলে সেখানে তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর সাল উল্লেখ করা হয় এবং তাঁর জীবনের তথ্যাদি, তাঁর উপস্থিত হওয়া বিভিন্ন ঘটনাবলি, তাঁর আকিদাহ ও মর্যাদাশীল ব্যক্তি হলে তাঁর অধিষ্ঠিত পদসমূহ এবং তাঁর সম্পর্কে ইমামদের বর্ণিত 'জারহ' ও 'তাদিল' (সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই) সহ বিবিধ তথ্য বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়। আবার কেউ কেউ কেবল ইমামদের বর্ণিত 'জারহ' ও 'তাদিল' সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত উক্তিগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে সংক্ষেপণ পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।
এভাবে হাদিস শাস্ত্রের বর্ণনাকারীদের ওপর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বর্ণনাকারীদের নামের মধ্যে সাদৃশ্য দেখা দেয় এবং অনেকের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা দুরূহ হয়ে পড়ে। এই বিষয়টিই অনেককে বর্ণনাকারীদের নামের সঠিক উচ্চারণ ও নির্ভুলতা রক্ষার জন্য বিশেষ গ্রন্থ রচনায় এবং একই শহর বা একই স্তরের বর্ণনাকারীদের মধ্যে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে পার্থক্য নির্ণয়ের নিমিত্তে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনায় উদ্বুদ্ধ করে।
পবিত্র হাদিস ও এর বিবিধ শাখার ওপর রচিত রচনাবলি নিয়ে যিনি অনুসন্ধান করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে এই শাস্ত্রটি অত্যন্ত গভীর যত্ন ও মনোযোগ লাভ করেছে, যা এর অভীষ্ট লক্ষ্যসমূহ সফলভাবে অর্জন করেছে। এবং এটি ছিল না
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ١٥)
التأليف في هذا الفن مجرد تحقيق رغبة علمية فحسب، بل لما لهذا العلم من مساس بأحكام هذا الدين الحنيف، وخدمة السنة أمر واجب على أتباعها ولا يكون ذلك إلاّ بالإحاطة بأحوال نقلتها، ولهذا فقد اتبع علماء الإسلام من المحدثين أساليب علمية دقيقة سبقوا غيرهم باستخدامها في مجال البحث والتدقيق.
سائلاً المولى جلّ وعلا أن يحفظ للإسلام مجده ولأهله العزة والسؤدد، وأن يجزي كل من أراد خدمة هذا الدين خير الجزاء، وهو نعم المولى ونعم النصير.
এই বিদ্যায় গ্রন্থ রচনা করা কেবল নিছক কোনো জ্ঞানতাত্ত্বিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ নয়, বরং এই বিদ্যার সাথে এই সুসংগত দ্বীনের বিধি-বিধানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সুন্নাহর খিদমত করা এর অনুসারীদের ওপর একটি অপরিহার্য কর্তব্য, আর বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করা ব্যতিরেকে তা সম্ভব নয়। এই কারণেই ইসলামের মুহাদ্দিস উলামাগণ অত্যন্ত সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যা গবেষণা ও যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তারা অন্যদের অগ্রেই ব্যবহার করেছেন।
মহান প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি ইসলামের গৌরব এবং এর অনুসারীদের সম্মান ও মর্যাদা অটুট রাখেন; আর যারা এই দ্বীনের সেবা করতে চেয়েছেন তাদের প্রত্যেককে তিনি সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। তিনিই শ্রেষ্ঠ অভিভাবক এবং শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ١٩)
المقدّمة
أبو داود السجستاني رحمه الله:
نسبه:
هو الإمام الجليل إمام عصره سليمان بن الأشعث بن إسحاق بن بشير بن شداد بن عمرو بن عمران أبو داود السجستاني1 صاحب السنن.
مولده ووفاته:
ذكر الآجري2 صاحب السؤالات أن أبا داود ولد سنة 202هـ، وكانت وفاته في السادس عشر من شوال سنة 275هـ بالبصرة3. ويكون بذلك قد عاش في هذه الدنيا 73 عاماً قضاها في خدمة العلم وأهله..
--------------------------------------------
ভূমিকা
আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি):
তাঁর বংশপরিচয়:
তিনি হলেন মহান ইমাম, তাঁর যুগের ইমাম সুলাইমান ইবনুল আশআস ইবনু ইসহাক ইবনু বাশির ইবনু শাদ্দাদ ইবনু আমর ইবনু ইমরান আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি১, ‘আস-সুনান’-এর রচয়িতা।
তাঁর জন্ম ও মৃত্যু:
‘আস-সুয়ালাত’-এর লেখক আল-আজুরি২ উল্লেখ করেছেন যে, আবু দাউদ ২০২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর মৃত্যু হয় ২৭৫ হিজরি সনের ১৬ই শাওয়াল বসরা নগরীতে৩। এভাবে তিনি এই দুনিয়ায় ৭৩ বছর অতিবাহিত করেছেন, যা তিনি ইলম এবং এর ধারক-বাহকদের খিদমতে ব্যয় করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
أهم شيوخه:
رحل أبو داود وطوف بالبلاد شرقاً وغرباً، وسمع خلقاً كثيراً من كبار المحدثين في مختلف البلاد، ومن أشهرهم: الإمام أحمد بن حنبل وابن معين وهما اللذان أخذ عنهما علم الحديث1. كما روى عن ابن المديني، ومسلم بن إبراهيم الفراهيدي، وأبي الوليد الطيالسي، وقتيبة بن سعيد وغيرهم من الأئمة.
أهم تلاميذه:
روى عنه الأئمة، أمثال أبي عيسى الترمذي صاحب الجامع، وهو من أقرانه، وأبي عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي صاحب السنن، وابنه عبد الله بن أبي داود الحافظ، وأبي عوانة يعقوب بن إسحاق الاسفراييني. وأبي بشر محمد بن أحمد بن سعيد الدولابي، وأبي عمرو أحمد بن علي بن الحسن البصري، وأبي بكر محمد بن داسة، وزكريا الساجي، وأبي عبيد الآجري، وغيرهم.
توثيقه:
اتفق أهل العلم على توثيق أبي داود رحمه الله وسأقتصر في هذا المقام على ذكر أقوال بعض أهل العلم فيه:
قال ابن حبان رحمه الله: "كان أحد أئمة الدنيا فقهاً وعلماً ونسكاً وورعاً وإتقاناً، جمع وصنّف وذبّ عن السنن"2..
وقال الهروي: "كان أحد حفاظ الإسلام، في أعلى درجة النسك والعفاف والصلاح والورع"3..
--------------------------------------------
প্রধান শায়খগণ:
আবু দাউদ দেশ-দেশান্তরে পূর্ব থেকে পশ্চিমে ভ্রমণ করেছেন এবং বিভিন্ন জনপদের অসংখ্য বড় বড় মুহাদ্দিসের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইবনে মাঈন; মূলত এই দুজনের নিকট থেকেই তিনি ইলমে হাদীস অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি ইবনুল মাদিনী, মুসলিম বিন ইবরাহীম আল-ফরাহিদী, আবু আল-ওয়ালীদ আত-তায়ালিসি, কুতায়বাহ বিন সাঈদ এবং অন্যান্য ইমামদের থেকেও বর্ণনা করেছেন।
প্রধান ছাত্রগণ:
তাঁর নিকট থেকে অনেক বড় বড় ইমাম বর্ণনা করেছেন, যেমন: আল-জামি‘ গ্রন্থের সংকলক আবু ঈসা আত-তিরমিযী—যিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন, আস-সুনান গ্রন্থের রচয়িতা আবু আব্দুর রহমান আহমাদ বিন শুআইব আন-নাসায়ী, তাঁর পুত্র হাফেয আব্দুল্লাহ বিন আবু দাউদ, আবু আওয়ানাহ ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-ইসফরাঈনী, আবু বিশর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন সাঈদ আদ-দুলাবী, আবু আমর আহমাদ বিন আলী বিন আল-হাসান আল-বসরী, আবু বকর মুহাম্মাদ বিন দাসা, যাকারিয়া আস-সাজী, আবু উবাইদ আল-আজুররী এবং আরও অনেকে।
তাঁর নির্ভরযোগ্যতা:
উলামায়ে কিরাম আবু দাউদ (রহ.)-এর বিশ্বস্ততা ও নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। আমি এখানে তাঁর সম্পর্কে কয়েকজন মনীষীর উক্তি উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব:
ইবনে হিব্বান (রহ.) বলেছেন: "তিনি ফিকহ, জ্ঞান, উপাসনা, খোদাভীতি ও দক্ষতার দিক থেকে সমকালীন বিশ্বের অন্যতম ইমাম ছিলেন; তিনি হাদীস সংগ্রহ করেছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সুন্নাহর হিফাযত করেছেন।"
আল-হারাবী বলেছেন: "তিনি ইসলামের অন্যতম হাফেয (সংরক্ষণকারী) ছিলেন এবং ইবাদত-বন্দেগী, পবিত্রতা, নেককারিতা ও তাকওয়ার সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করছিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وقال النووي: "اتفق العلماء على الثناء على أبي داود، ووصفه بالعلم الوافر والإتقان والورع والدين والفهم الثاقب في الحديث وغيره"1.
مكانته العلمية، وثناء أهل العلم عليه:
عاش أبو داود رحمه الله في بيئة علمية مكنته من ارتقاء أرفع مراتب المعرفة، وخاصة في علم الحديث النبوي الشريف، إلى جانب ما بذله من جهد شاق خلال رحلاته المتتالية وتتلمذه على من طارت شهرتهم في الآفاق، فكان من نتيجة هذه العوامل مجتمعة أن أصبح رحمه الله عَلماً من أعلام الإسلام. وهذه طائفة من أقوال الأئمة والحفاظ فيه:
قال أبو بكر الصاغاني: "ألين لأبي داود الحديث كما ألين لداود عليه السلام الحديد"2. وقال أبو عبد الله بن مندة: "الذين أخرجوا وميزوا الثابت من المعلول والخطأ من الصواب أربعة: البخاري ومسلم، وبعدهما أبو داود والنسائي"3.
وقال أبو عبد الله الحاكم: "إمام أهل الدنيا في عصره بلا مدافعة"4.
وقال أبو بكر الخلال: "الإمام المقدم في زمانه لم يسبق إلى معرفته بتخريج العلوم وبصره بمواضعه، رجل ورع مقدم"5.
وقال موسى بن هارون: "خلق أبو داود في الدنيا للحديث وفي الآخرة للجنة"6.
--------------------------------------------
এবং ইমাম নববী বলেন: "আলেমগণ আবু দাউদের প্রশংসা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং তাঁকে অগাধ জ্ঞান, নিখুঁত দক্ষতা, পরহেযগারী, দ্বীনদারী এবং হাদীস ও অন্যান্য বিষয়ে প্রখর সমঝশক্তির অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন"১।
তাঁর ইলমী মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:
আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) এমন এক ইলমী পরিবেশে জীবন অতিবাহিত করেছেন যা তাঁকে জ্ঞানের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণে সক্ষম করে তুলেছিল, বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পবিত্র হাদীসের জ্ঞানে। এর পাশাপাশি তাঁর ধারাবাহিক সফরসমূহে ব্যয়িত কঠোর পরিশ্রম এবং বিশ্বখ্যাত মনীষীদের কাছে তাঁর শিক্ষা গ্রহণও এতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। এই সকল উপাদানের সমন্বিত ফলাফল ছিল এই যে, তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ইসলামের অন্যতম প্রধান এক ইমামে পরিণত হন। নিম্নে তাঁর সম্পর্কে ইমাম ও হাফেযদের কিছু উক্তি তুলে ধরা হলো:
আবু বকর আস-সাগানী বলেন: "আবু দাউদের জন্য হাদীসকে তেমনি সহজ ও কোমল করে দেওয়া হয়েছিল, যেমন দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য লোহাকে কোমল করে দেওয়া হয়েছিল"২। আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ বলেন: "যাঁরা হাদীসসমূহ চয়ন করেছেন এবং সহীহ হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত থেকে ও ভুলকে সঠিক থেকে পৃথক করেছেন, তাঁরা হলেন চারজন: বুখারী ও মুসলিম এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরে আবু দাউদ ও নাসাঈ"৩।
আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেন: "তিনি ছিলেন কোনো বিতর্ক ছাড়াই তাঁর সমসাময়িক বিশ্বের ইমাম"৪।
আবু বকর আল-খাল্লাল বলেন: "তিনি তাঁর সময়ের অগ্রগণ্য ইমাম ছিলেন; ইলমের উৎস অনুসন্ধান এবং এর প্রয়োগস্থলের গভীর পর্যবেক্ষণে তাঁর চেয়ে অগ্রগামী কেউ ছিল না। তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত পরহেযগার ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি"৫।
মূসা ইবনে হারুন বলেন: "আবু দাউদ দুনিয়াতে হাদীসের জন্য এবং আখিরাতে জান্নাতের জন্য সৃজিত হয়েছেন"৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وكان إبراهيم الأصبهاني، وأبو بكر بن صدقة يذكرونه بما لا يذكرون أحدا في زمانه بمثله1.
عقيدته:
عاش رحمه الله في فترة زمنية ظهر فيها العديد من الاتجاهات الفكرية، فكان في الكوفة المذهب الشيعي، وكانت بالبصرة موطن القدرية، والشام موطن الناصبة، إلى جانب بعض الطوائف الأخرى كالخوارج والجبرية والمرجئة والجهمية، والقائلين بالاعتزال.
وقد كان التخاصم فيما بين تلك المذاهب من أهم العوامل في تنشيطها وسرعة انتشارها. وهكذا ابتلي بها الكثيرون من الساسة فضلاً عن عوام الناس، بل أن مذهب الاعتزال تربع على مقعد السلطة أيام المأمون، حتى صار يحكم بمبادئه، ويحارب ويذل من خالفه، ومسألة القول بخلق القرآن من أبرز الدلائل على ذلك.
وبحكم ترحال أبي داود المستمر في البلاد فقد باشر رحمه الله بنفسه أهل تلك الطوائف على اختلاف اتجاهاتهم، فعرف ما تنطوي عليه عقائدهم الفاسدة، الأمر الذي باعد بينه وبينهم، فسلك سبيلاً غير سبيلهم، سبيل الاستقامة والسلامة، ولا ريب أن تأثره بشيخه الإمام أحمد بن حنبل إمام أهل السنّة والجماعة كان عاملاً هاماً في ثباته على مسلكه القويم، الذي ارتضاه السف الصالح لأنفسهم، فضلاً عن ذلك النوع من العلم الذي تخصص فيه رحمه الله وفيه ما يعصم الإنسان من الوقوع في المهالك.
وهكذا فقد عصمه الله تعالى، فكان إماماً من أكابر أهل السنّة والداعين إليها، وكثيراً ما نراه يحطّ من قدر أولئك المنحرفين باتباعهم مذاهب لا تقوم بها حجة شرعية وفي هذا الكتاب المحقق الكثير من الأدلة على ما نقول.
--------------------------------------------
ইব্রাহিম আল-আসফাহানি এবং আবু বকর ইবন সাদাকাহ তাঁর সম্পর্কে এমন প্রশংসা করতেন যা তাঁর সমসাময়িক অন্য কারো ক্ষেত্রে করতেন না১।
তাঁর আকিদাহ (বিশ্বাস):
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এমন এক সময়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন যখন বহু চিন্তাধারার উদ্ভব ঘটেছিল। কুফায় ছিল শিয়া মতবাদ, বসরায় ছিল কাদারিয়াদের আবাসস্থল, শামে ছিল নাসিবিদের আস্তানা; পাশাপাশি আরও কিছু গোষ্ঠী ছিল যেমন—খারেজি, জাবরিয়া, মুরজিয়া, জাহমিয়া এবং মুতাজিলা মতবাদের অনুসারীরা।
এসব মতবাদের মধ্যকার পারস্পরিক বিবাদ ছিল সেগুলোর সক্রিয় হওয়া এবং দ্রুত বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ। এভাবে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বহু রাজনীতিবিদও এগুলোর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। এমনকি মামুনুর রশিদের শাসনামলে মুতাজিলা মতবাদ ক্ষমতার আসনে আসীন হয়েছিল, যার ফলে তিনি এই মতবাদের মূলনীতির আলোকেই শাসনকার্য পরিচালনা করতে শুরু করেন এবং যারা এর বিরোধিতা করত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও অপমানজনক আচরণ করা হতো। 'কুরআন মাখলুক' বা সৃষ্টির বিষয়টি এর অন্যতম প্রকৃষ্ট প্রমাণ।
আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বিভিন্ন দেশে নিরন্তর সফরের সুবাদে তিনি নিজে সরাসরি এই সকল গোষ্ঠীর বিচিত্রমুখী অনুসারীদের মুখোমুখি হয়েছেন। ফলে তিনি তাদের ভ্রান্ত আকিদাহর অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, যা তাঁকে তাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ফলে তিনি তাদের পথ পরিহার করে এক ভিন্ন পথ অবলম্বন করেন—যা ছিল সরল ও নিরাপদ পথ। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের ইমাম, তাঁর উস্তাদ ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের প্রভাব তাঁর সঠিক পথে অবিচল থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যে পথ সালাফে সালেহীন নিজেদের জন্য পছন্দ করেছিলেন। এছাড়া তিনি যে বিশেষ ইলমে (হাদিস শাস্ত্রে) পারদর্শী ছিলেন, তাও মানুষকে ধ্বংসাত্মক পথে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করে।
এভাবেই আল্লাহ তাআলা তাঁকে রক্ষা করেছেন, ফলে তিনি আহলুস সুন্নাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম এবং এর আহ্বায়কে পরিণত হয়েছিলেন। আমরা প্রায়ই তাঁকে সেই সব বিচ্যুতদের সমালোচনা করতে দেখি যারা এমন সব মতবাদ অনুসরণ করে যার কোনো শরয়ি দলিল নেই। এই তাহকিককৃত কিতাবটিতে আমাদের এই বক্তব্যের স্বপক্ষে অনেক প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
رحلاته:
لما كانت السنّة النبوية ذات مكانة هامة في التشريع الإسلامي فقد بذل العلماء ما في وسعهم لخدمتها، فرحلوا المسافات البعيدة من أجل تقييد الحديث وجمعه والوقوف على أحوال رواته، وشعارهم في ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "مَنْ سلك طريقاً يلتمس فيه علماً سهل الله له به طريقاً إلى الجنة"1.
وقد اعتبر كثير من العلماء الرحلة أمراً ضرورياً للمشتغل بالحديث. قال ابن معين رحمه الله: "أربعة لا يؤنس منهم رشداً
… وذكر رجلاً يكتب في بلده ولا يرحل في طلب الحديث"2. وكذلك كان أحمد رحمه الله ممن يرى ضرورة الارتحال في طلب العلم3. وهو مذهب جملة من العلماء كابن الصلاح4.
ولإدراك أبي داود لهذه الحقيقة فقد شرع منذ الصغر في رحلاته، فرحل إلى بغداد، وصادف ذلك وفاة عفان بن مسلم فقال: شهدت جنازته وصليت عليه5. وكان ذلك سنة 220هـ، وعليه فإن عمره كان حينئذ ثمانية عشر عاماً. وقد دخل بغداد غير مرة وكان آخرها سنة 272هـ، وقدم الكوفة سنة 221هـ، ورحل إلى البصرة وسكنها، وفيها كانت وفاته. ولم يقتصر رحمه الله في رحلاته على مراكز العلم في العراق، بل رحل إلى مصر والشام، وفيها كتب عن إسحاق بن إبراهيم الفراديسي، وإلى خراسان والحجاز والري6، وغير ذلك من بلدان العالم الإسلامي. وقد أطلق عليه الحافظ ابن كثير رحمه الله لقب الرحّال حيث قال: "أحد أئمة الحديث الرحّالين إلى الآفاق في طلبه"7.
--------------------------------------------
তাঁর সফরসমূহ:
যেহেতু ইসলামি শরিয়তে সুন্নাহর এক গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা রয়েছে, তাই আলেমগণ এর সেবায় তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। তাঁরা হাদীস লিপিবদ্ধ করা, সংগ্রহ করা এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা জানার জন্য দূর-দূরান্তে পাড়ি জমিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁদের স্লোগান ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য কোনো পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।" ১।
অনেক আলেম হাদীস চর্চাকারীদের জন্য সফরকে একটি অপরিহার্য বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন। ইবনে মাঈন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "চারজন ব্যক্তির মধ্যে সঠিক পথের প্রত্যাশা করা যায় না... এবং তিনি এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন যে নিজের শহরেই হাদীস লেখে এবং হাদীস অন্বেষণে সফর করে না।" ২। অনুরূপভাবে আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) ইলম অন্বেষণে সফরের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবনকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ৩। এটি ইবনে সালাহসহ একদল আলেমের অভিমত। ৪।
ইমাম আবু দাউদ এই সত্যটি উপলব্ধি করার ফলে ছোটবেলা থেকেই তাঁর সফরসমূহ শুরু করেন। তিনি বাগদাদে সফর করেন এবং তা আফফান ইবনে মুসলিমের ইন্তেকালের সময়ের সাথে মিলে যায়। তিনি বলেন: "আমি তাঁর জানাজায় উপস্থিত ছিলাম এবং তাঁর জানাজার সালাত আদায় করেছি।" ৫। এটি ছিল ২২০ হিজরি সাল, ফলে তখন তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর। তিনি একাধিকবার বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং তাঁর শেষ সফর ছিল ২৭২ হিজরিতে। তিনি ২২১ হিজরিতে কুফায় আগমন করেন এবং বসরায় সফর করে সেখানে বসবাস শুরু করেন, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি তাঁর সফরগুলোতে শুধু ইরাকের ইলমি কেন্দ্রগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং মিশর ও শামেও সফর করেছেন। সেখানে তিনি ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-ফারাদিসি থেকে হাদীস লিখেছেন। এছাড়াও তিনি খোরাসান, হিজাজ ও রাই ৬ এবং ইসলামি বিশ্বের অন্যান্য দেশসমূহ সফর করেছেন। হাফেজ ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ) তাঁকে 'আর-রাহহাল' (পর্যটক) উপাধিতে ভূষিত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "তিনি হাদীসের অন্যতম ইমাম, যিনি হাদীস অন্বেষণে দিগন্তের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সফর করেছেন।" ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وقد ترتب على هذا الجهد المبذول أن صار أحد أئمة الدنيا فقهاً وعلماً وفارساً من فرسان الحديث النبوي الشريف.
أشهر مصنفاته:
تقدم أن أبا داود رحمه الله حظي بمكانة علمية عالية شهد له بها الجهابذة، حيث قضى حياته في طلب العلم وتحصيله، وما أن ترك الدنيا حتى خلف للمسلمين ثروة من مصنفاته التي تعد من أنفس كتب التراث الإسلامي ومن أهمها:
كتاب السنن: وقد جمع فيه الأحاديث المتعلقة بالأحكام والأمور الفقهية، ورتبه على أبواب الفقه، وعدتها ثمانمائة وأربعة آلاف حديث، وذكر شرطه فيه فقال: "ذكرت فيه الصحيح، وما يشبهه، وما يقاربه، وما كان في كتابي هذا من حديث فيه وهن شديد بيّنته، وما لم أذكر فيه شيئا فهو صالح"1.
وقد لاقى كتاب السنن إعجاباً بالغاً عند أهل العلم، بل كان ينافس الصحيحين منافسة قوية أول أمره، قال فيه الخطابي: "إنه لم يصنف في علم الدين مثله، وهو أحسن وصفاً وأكثر فقهاً من الصحيحين"2.
وقال ابن قيم الجوزية رحمه الله: "كتاب السنن لأبي داود من الإسلام بالموقع الذي خصه الله به بحيث صار حكماً بين أهل الإسلام، وفصلاً في موارد النزاع والخصام، فإليه يتحاكم المنصفون، وبحكمه يرضى المحققون، فإنه جمع شمل أحاديث الأحكام، ورتبها أحسن ترتيب ونظمها أحسن نظام مع انتقائها أحسن انتقاء، وإطراحه منها أحاديث المجروحين والضعفاء"3.
وقد اعتنى العلماء به عناية بالغة فشرحوه شروحاً متعددة4..
--------------------------------------------
এই প্রচেষ্টার ফলে তিনি ফিকহ ও ইলমের ক্ষেত্রে দুনিয়ার অন্যতম ইমাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস শাস্ত্রের একজন বিচক্ষণ অশ্বারোহীতে পরিণত হন।
তাঁর প্রসিদ্ধ রচনাবলি:
ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবু দাউদ রহিমাহুল্লাহ উচ্চতর ইলমি মাকাম লাভ করেছিলেন যার সাক্ষ্য বড় বড় মণীষীরা দিয়েছেন। তিনি ইলম অন্বেষণ ও অর্জনে নিজের জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি যখন দুনিয়া ত্যাগ করেন, তখন মুসলিমদের জন্য তাঁর রচনাবলির এমন এক ভাণ্ডার রেখে যান যা ইসলামি ঐতিহ্যের অমূল্য কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
কিতাবুস সুনান: এতে তিনি আহকাম ও ফিকহী বিষয়াদি সংক্রান্ত হাদিসসমূহ সংকলন করেছেন এবং ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। এর হাদিস সংখ্যা চার হাজার আটশটি। তিনি এতে তাঁর শর্ত উল্লেখ করে বলেছেন: "আমি এতে সহিহ হাদিস এবং তার সদৃশ ও নিকটবর্তী হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছি। আমার এই কিতাবে এমন কোনো হাদিস নেই যাতে চরম দুর্বলতা রয়েছে অথচ আমি তা বর্ণনা করিনি। আর যে হাদিস সম্পর্কে আমি কিছুই উল্লেখ করিনি, তা গ্রহণযোগ্য।" ১
সুনান কিতাবটি আহলে ইলমদের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। বরং সূচনালগ্নে এটি সহিহাইনের (বুখারি ও মুসলিম) সাথে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। খাত্তাবি এটি সম্পর্কে বলেছেন: "দীনের ইলমে এর মতো কোনো কিতাব রচিত হয়নি। এটি বর্ণনাশৈলীতে সুন্দরতর এবং সহিহাইনের তুলনায় এতে ফিকহী মাসআলার আধিক্য রয়েছে।" ২
ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "আবু দাউদের সুনান কিতাবটি ইসলামের মধ্যে এমন এক উচ্চমর্যাদার অধিকারী যা আল্লাহ তাকে দান করেছেন। এটি মুসলিমদের মধ্যে মীমাংসাকারী এবং বিরোধ ও বিতর্কের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হিসেবে গণ্য হয়েছে। ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা এর কাছেই ফয়সালা চান এবং গবেষকরা এর বিচারে সন্তুষ্ট হন। কেননা এতে আহকাম সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে একত্রিত করা হয়েছে এবং অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিন্যস্ত ও সুশৃঙ্খল করা হয়েছে। পাশাপাশি এতে হাদিসগুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে চয়ন করা হয়েছে এবং মাজরুহ ও দুর্বল বর্ণনাকারীদের হাদিসগুলো বর্জন করা হয়েছে।" ৩
ওলামায়ে কেরাম এই কিতাবটির প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। ৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
كتاب المراسيل: وهو أحد أجزاء السنن الثمانية عشرة، وقد أفرده العلماء بجزء مستقل، ذكر فيه أبو داود ما يروى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم من المراسيل، منها ما لا يصح ومنها، ما يسند عند غيره وهو متصل صحيح1.
كتاب مسائل أبي داود للإمام أحمد في الرواة2: وقد رتبه على البلدان3.
كتاب مسائل أبي داود للإمام أحمد في الفقه4.
كتاب السؤالات، الذي بين أيدينا من جمع تلميذه الآجري.
كتاب البعث والنشور5.
كتاب تسمية الإخوة الذين روي عنهم الحديث6.
الناسخ والمنسوخ7.
مسند مالك8.
دلائل النبوة9.
كتاب أصحاب الشعبي10.
كتاب الرد على أهل القدر11.
وله مصنفات أخرى تدل على غزارة علمه في مختلف العلوم.
--------------------------------------------
কিতাবুল মারাসিল: এটি সুনানের আঠারোটি অংশের একটি। ওলামায়ে কেরাম এটিকে একটি স্বতন্ত্র খণ্ড হিসেবে পৃথক করেছেন। এতে আবু দাউদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত মুরসাল হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন; যার মধ্যে কোনটি সহিহ নয়, আবার কোনটি অন্যদের নিকট মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণিত যা সহিহ১।
রাবীদের বিষয়ে ইমাম আহমদের নিকট আবু দাউদের মাসায়েল বিষয়ক গ্রন্থ২: তিনি এটি শহর ভিত্তিক বিন্যস্ত করেছেন৩।
ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম আহমদের নিকট আবু দাউদের মাসায়েল বিষয়ক গ্রন্থ৪।
কিতাবুস সুআলাত (প্রশ্নোত্তর গ্রন্থ), যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে এবং এটি তাঁর ছাত্র আল-আজুররি সংকলন করেছেন।
কিতাবুল বা’স ওয়ান নুশুর (পুনরুত্থান ও হাশর বিষয়ক গ্রন্থ)৫।
কিতাবু তাসমিয়াতিল ইখওয়াহ আল্লাজিনা রুউইয়া আনহুমুল হাদিস (যেসকল ভ্রাতৃদ্বয় থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে তাদের নাম বিষয়ক গ্রন্থ)৬।
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ৭।
মুসনাদে মালিক৮।
দালায়েলুন নুবুওয়াহ (নবুওয়াতের প্রমাণাদি)৯।
কিতাবু আসহাবুশ শা’বি (শা’বির সাথীদের বিষয়ক গ্রন্থ)১০।
কিতাবুর রাদ্দ আলা আহলিল কাদার (কাদারিয়াদের খণ্ডন বিষয়ক গ্রন্থ)১১।
এছাড়া তাঁর আরও অনেক রচনা রয়েছে যা বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
أبو داود إمام في الجرح والتعديل:
إن علم الجرح والتعديل من أصعب علوم الحديث، فلا يقدم على الخوض فيه إلاّ من اتصف بسعة الاطلاع في الأخبار المروية ورواتها، عارفاً بأحوال أولئك الرواة ومقاصدهم، وطرق مروياتهم، وبالأسباب الداعية إلى التساهل أو الانحراف عند بعضهم، إضافة إلى معلومات حديثية أخرى، كمعرفة سنة ولادة الراوي، ووفاته وممن سمع ومن أخذ عنه، وكيف كانت كتبه هل هي صحيحة أولا، إلى غير ذلك مما لا بد منه في هذا الميدان.
والناقد لا بد وأن يكون أيضاً ذا فهم حاد ويقظة، واعياً لكل ما ينطق به في هذا المجال، لا يستفزه غضب ولا يستميله هوى، ولا يتجاوز في حكمه على أحد فيصدر حكمه بأمانة علمية.
وهذه المرتبة من العلم صعبة المرتقى وشائك سبيلها، لا ينالها إلاّ من سهل الله سبيل الوصول إليها، فلم يبلغها إلاّ الأفذاذ ممن بزوا أقرانهم، فكم من عالم لا يعوّل على ما يقوله في هذا الفن. قال ابن المديني رحمه الله: "أبو نعيم وعفان - يعني الفضل بن دكين، وعفان بن مسلم - لا أَقْبَلُ كَلامَهُمَا فِي الرِّجَالِ هَؤُلاءِ لا يَدْعُونَ أَحَدًا إِلا وقعوا فيه"1. وأبو نعيم وعفان من كبار المحدثين، وممن نالوا شهرة بالغة، ولكنهم مع ذلك لا يلتفت إلى تجريحهم أو تعديلهم في
--------------------------------------------
জারহ ও তা'দীলের ক্ষেত্রে আবু দাউদ একজন ইমাম:
নিশ্চয়ই জারহ ও তা'দীল (বর্ণনাকারী যাচাই-বাছাই) শাস্ত্র হাদীস বিজ্ঞানের অন্যতম কঠিন একটি শাখা। বর্ণিত হাদীসসমূহ এবং সেগুলোর বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান ও গভীর পর্যবেক্ষণ না থাকলে কেউ এতে প্রবেশের সাহস করে না। এ ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিই পারদর্শী হন যিনি বর্ণনাকারীদের অবস্থা, উদ্দেশ্য এবং তাদের বর্ণিত হাদীসের সূত্রগুলো সম্পর্কে সম্যক অবগত। সেইসাথে বর্ণনাকারীদের কারো কারো ক্ষেত্রে শিথিলতা বা বিচ্যুতির কারণসমূহ এবং অন্যান্য হাদীস বিষয়ক তথ্য, যেমন বর্ণনাকারীর জন্ম ও মৃত্যুর বছর, তিনি কার কাছ থেকে হাদীস শুনেছেন এবং কার থেকে গ্রহণ করেছেন, তাঁর পাণ্ডুলিপিগুলো সঠিক ছিল কি না—এমন আরও অনেক বিষয় যা এই ময়দানে অপরিহার্য, সেগুলো সম্পর্কে তাকে জানতে হয়।
একজন সমালোচকের তীক্ষ্ণ মেধা ও সতর্কতা থাকা আবশ্যক, এবং এই বিষয়ে তিনি যা কিছু উচ্চারণ করেন তা সম্পর্কে তাকে সচেতন হতে হয়। ক্রোধ যেন তাকে উত্তেজিত না করে এবং কুপ্রবৃত্তি যেন তাকে প্রলুব্ধ না করে। তিনি যেন কারো ব্যাপারে বিচার করতে গিয়ে সীমালঙ্ঘন না করেন, বরং ইলমী আমানতদারিতার সাথে নিজের রায় প্রদান করেন।
ইলমের এই স্তরটি অত্যন্ত উচ্চ ও এর পথ কণ্টকাকীর্ণ। আল্লাহ যার জন্য এই পথে পৌঁছানো সহজ করে দেন, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এটি অর্জন করতে পারেন না। নিজ সমসাময়িকদের মধ্যে অদ্বিতীয় ও অনন্য ব্যক্তিরা ছাড়া এই স্তরে কেউ পৌঁছাতে পারেনি। কত এমন আলেম আছেন যাদের কথা এই শাস্ত্রে নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনে মাদীনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আবু নুআয়ম ও আফফান—অর্থাৎ ফজল ইবন দুকাইন ও আফফান ইবন মুসলিম—বর্ণনাকারীদের বিষয়ে আমি তাঁদের উভয়ের কথা গ্রহণ করি না। তাঁরা কাউকে বাদ দেন না বরং সবার সমালোচনাতেই লিপ্ত হন।"১ আবু নুআয়ম ও আফফান বড় মাপের মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত এবং অত্যন্ত খ্যাতিমান ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও এই ক্ষেত্রে তাদের জারহ (সমালোচনা) বা তা'দীলের (সংশোধন) প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হয় না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الرواة على أن عبارة ابن المديني تفيد أنهما ممن أكثر في النقد، لكنا لا نجد مما قالوه في كتب هذا الفن إلاّ القليل النادر مع كثرتها، إذ أغفلت ما صدر عنهم.
وقد نبغ في هذا الفن أناس يدين لهم به كل منصف أمين لما قدموه من خدمة بالغة الأهمية لا يستطيع غيرهم أن يسديها، فاستسهلوا من أجل ذلك الصعب بدافع ديني نبيل وفطري سليم، وكان من بين هؤلاء إمامنا الجليل أبو داود السجستاني رحمه الله وقد نوّه الأئمة بفضل هؤلاء النقاد وأشادوا بجهدهم الكريم في مقدمات كتبهم التي ألفوها في هذا الميدان كابن أبي حاتم وابن عدي، والذهبي وغيرهم، وكم كان بودي أن أعثر على ذكر لأبي داود فيمن ذكر ليكون ذلك عوناً لي في بحثي هذا، ولكني لم أر من ذكره كناقد فيمن ذكر من ذوي الشأن، ولا أقول هذا اعتراضاً عليهم، فالقوم لم يلزموا أنفسهم بذكر سائر النقاد، ولكن قد يظن بعضهم أن عدم ذكر من هم مثل أبي داود في تعداد أولئك إنما هو للتقليل من شأنهم، أو لأنهم لم يبلغوا مرتبة في هذا الفن يستحق من أجلها أن يذكروا في مصاف النقّاد الكبار. الواقع غير ذلك، فإنني أستطيع الجزم بأن أبا داود من كبار النقاد ومن الذين شاركوا في إنشاء أسس هذا الفن، وليس من حقي أن أغمط كلاً من السخاوي والسبكي - رحمهما الله - حقه. ففي ذكرهما لطبقات النقّاد ذكرا أبا داود في الطبقة التي تلي طبقة الإمام أحمد1. وتجدر الإشارة إلى أنني لم أعثر على أي بحث مستقل حول أبي داود في النقد فيما اطلعت عليه.
وأكبر الشواهد على إمامته وأكثرها وضوحاً هذا الكتاب الذي بين أيدينا الآن إذ يحتوي على الآلاف ممن تكلم فيهم أبو داود بجرح أو تعديل، أو غير ذلك سواء كان من اجتهاده، أو آثراً عن شيوخه، بالإضافة إلى معلومات حديثية أخرى. ولم يختصر رحمه الله على نقد رواة أهل مصر معين، كلا، بل تكلم في رواة الحديث من سائر البلاد الإسلامية، وفي هذا الكتاب رواة الحديث من بغداد والكوفة، والبصرة ودمشق، والثغور وأيلة والجزيرة، وبلاد أخرى كثيرة، ولكم
--------------------------------------------
বর্ণনাকারীদের অভিমত হলো ইবনে আল-মাদীনির উক্তি এটিই প্রমাণ করে যে, তারা উভয়ই সমালোচনার (নাকদ) ক্ষেত্রে অধিক অবদান রেখেছিলেন। কিন্তু তাদের অবদানের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও আমরা এই বিষয়ের গ্রন্থগুলোতে তাদের বক্তব্যের খুব সামান্য ও বিরল অংশই খুঁজে পাই, কারণ তাদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছিল সেগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
এই বিদ্যায় এমন কিছু লোক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন যাদের কাছে প্রতিটি ন্যায়পরায়ণ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি ঋণী, কারণ তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এমন খিদমত পেশ করেছেন যা অন্য কেউ সম্পাদন করতে সক্ষম নয়। তারা মহৎ ধর্মীয় প্রেরণা এবং সুস্থ স্বভাবজাত প্রবৃত্তির কারণে এই কঠিন কাজকে সহজ করে নিয়েছিলেন। আমাদের মহান ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ছিলেন তাদেরই একজন। ইমামগণ এই সমালোচকদের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেছেন এবং এই ময়দানে তাদের রচিত গ্রন্থসমূহের ভূমিকায় তাদের মহান প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন, যেমন ইবনে আবি হাতিম, ইবনে আদি, আয-যাহাবি এবং অন্যান্যরা। আমার অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে আবু দাউদের নাম খুঁজে পাব যাতে তা আমার এই গবেষণায় সহায়ক হয়, কিন্তু যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে মর্যাদাবান সমালোচক হিসেবে তাকে কাউকে উল্লেখ করতে দেখিনি। আমি এটি তাদের ওপর আপত্তি হিসেবে বলছি না, কারণ তারা সকল সমালোচকের নাম উল্লেখ করা নিজেদের জন্য আবশ্যক করেননি। তবে কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, আবু দাউদের মতো ব্যক্তিদের নাম ওই তালিকায় উল্লেখ না করা সম্ভবত তাদের মর্যাদা হ্রাসের জন্য, অথবা এই বিদ্যায় তারা এমন স্তরে পৌঁছাননি যার কারণে বড় সমালোচকদের কাতারে তাদের নাম উল্লেখ করা যায়। বাস্তবতা এর বিপরীত; আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে আবু দাউদ বড় মাপের সমালোচকদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি এই বিদ্যার ভিত্তি স্থাপনে অংশগ্রহণকারীদের একজন। আর আস-সাখাবি এবং আস-সুবকি (রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা)-এর যথাযথ পাওনা থেকে তাদের বঞ্চিত করা আমার জন্য উচিত নয়। সমালোচকদের স্তর বিন্যাসের বর্ণনায় তারা আবু দাউদকে ইমাম আহমদের পরবর্তী স্তরে উল্লেখ করেছেন ১। উল্লেখ্য যে, আমার জানামতে হাদিস সমালোচনায় আবু দাউদের ওপর স্বতন্ত্র কোনো গবেষণা আমি খুঁজে পাইনি।
তার ইমামতির সবচেয়ে বড় এবং স্পষ্ট প্রমাণ হলো আমাদের সামনে থাকা এই বইটি; কারণ এতে এমন হাজারো ব্যক্তির নাম রয়েছে যাদের সম্পর্কে আবু দাউদ 'জারহ' বা 'তাদিল' (দোষ-গুণ বিচার) অথবা অন্য কোনো মন্তব্য করেছেন, চাই সেটি তার নিজস্ব ইজতিহাদ থেকে হোক অথবা তার উস্তাদদের থেকে বর্ণিত হোক। এর পাশাপাশি এতে হাদিস শাস্ত্রের অন্যান্য তথ্যও রয়েছে। তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) কেবল নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের বর্ণনাকারীদের সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; না, বরং তিনি সমগ্র মুসলিম ভূখণ্ডের হাদিস বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এই বইটিতে বাগদাদ, কুফা, বসরা, দামেস্ক, সীমান্ত অঞ্চলসমূহ (আস-সুগুর), আয়লাহ, আল-জাজিরা এবং আরও অনেক দেশের হাদিস বর্ণনাকারীদের তথ্য রয়েছে। আর আপনাদের জন্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
أود أن يخرج هذا الكتاب بكامل أجزائه والتي أتصور أن تبلغ ثمانية كبار بما في ذلك المفقود.
وقد تكلم أبو داود رحمه الله في الرواة بلسان الناقد البصير، ولم أر في كلامه ما يدعو إلى الاستغراب، فلم يكن لينفرد بما لا يتابع عليه في أحكامه إضافة إلى ما يدعم به رأيه من أدلة إذا اقتضت الضرورة.
وأبو داود رحمه الله خاض غمار هذا الفن بعلمه واجتهاده، فلم يكن متبعاً، بل كان له رأيه المستقل، وقد قرأت كتاب السؤالات بأجزائه الثلاثة الموجودة، وتتبعت ما قاله باجتهاده وما نقله عن شيوخه، وأذكر هنا أن نسبة أقواله في هذا الجزء المحقق تزيد على 90% من مجموع الآراء التي قيلت فيما احتواه من رجال. وقد يخالف رأي شيخه فها هو يوثق العوام بن حمزة، ورد على شيخه ابن معين، إذ ضعّفه بقوله: "مَا نعرف لَهُ حَدِيثًا منكرًا"1. وقال في نوح بن قيس: "ثقة"، بلغني أن يحيى ضعّفه. وقد أنكر على عفان بن مسلم إذ يروي عَن عَبْد الرَّحْمَنِ بْن إِبْرَاهِيم صاحب العلاء، وقال: هو عندي منكر الحديث2. ومثل هذا كثير. وهذه النماذج لا تدع مجالاً للشك في أن أبا داود من أهل الخبرة والاستقراء، والتثبت في النقد شديد الاحتياط في قبول الروايات.
نقل العقيلي في ترجمة يعقوب بن كاسب عن زكريا بن يحيى الحلواني3 قال: "رأيت أبا داود السجستاني قد جعل حديث يعقوب بن كاسب في وقايات4 على ظهور كتبه، فسألته عنه فقال: رأينا في سنده أحاديث أنكرناها فطالبناه بالأصول فدافعنا، ثم أخرجها بعد فوجدنا الأحاديث في الأصول مغيرة بخط طري، كانت مراسيل فأسندها وزاد فيها"5.
--------------------------------------------
আমি আশা করি এই বইটি এর সকল খণ্ড সহ প্রকাশিত হবে, যা আমার ধারণায় হারিয়ে যাওয়া অংশগুলো সহ মোট আটটি বড় খণ্ডে পৌঁছাবে।
আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) ব্যাপারে একজন সুদক্ষ ও বিজ্ঞ সমালোচকের ভাষায় কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে আমি বিস্ময়কর কিছু দেখিনি। তিনি তাঁর রায় বা সিদ্ধান্তে এমন কোনো বিষয়ে একক হয়ে যেতেন না যা অন্য কেউ সমর্থন করেনি। তদুপরি, প্রয়োজনবোধে তিনি তাঁর মতের সমর্থনে দালিলিক প্রমাণাদিও পেশ করতেন।
আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ইলম ও ইজতিহাদের মাধ্যমে এই শাস্ত্রের গভীর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তিনি কেবল কোনো অনুসারী ছিলেন না, বরং তাঁর স্বতন্ত্র রায় ছিল। আমি 'কিতাবুস সুয়ালাত'-এর বিদ্যমান তিনটি খণ্ড পড়েছি এবং তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ ও তাঁর শিক্ষকদের থেকে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করেছি। আমি এখানে উল্লেখ করছি যে, এই সম্পাদিত অংশে বর্ণিত রাবীদের সম্পর্কে মোট মতামতের মধ্যে তাঁর নিজস্ব উক্তির হার ৯০%-এরও বেশি। কখনও কখনও তিনি তাঁর শিক্ষকের মতের বিরোধিতা করতেন। যেমন তিনি আওয়াম ইবনে হামজাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং তাঁর শিক্ষক ইবনে মাঈনের মতের প্রত্যুত্তর দিয়েছেন, যেহেতু তিনি তাকে দুর্বল বলেছিলেন; আবু দাউদ বলেছেন: "আমরা তাঁর কোনো মুনকার হাদীস জানি না।"১। এবং নুহ ইবনে কায়িস সম্পর্কে বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য", যদিও আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে ইয়াহইয়া তাঁকে দুর্বল বলেছেন। এছাড়া তিনি আফফান ইবনে মুসলিমের সমালোচনা করেছেন যেহেতু তিনি আলা-এর সাথী আবদুর রহমান ইবনে ইবরাহিম থেকে বর্ণনা করতেন এবং তিনি বলেছেন: "সে আমার নিকট মুনকারুল হাদীস।"২। আর এ জাতীয় দৃষ্টান্ত প্রচুর। এই নমুনাগুলো এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না যে, আবু দাউদ একজন অভিজ্ঞ, গভীর পর্যবেক্ষণকারী এবং সমালোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত যাচাই-বাছাইকারী ও হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনকারী ছিলেন।
উকায়লি তাঁর ইয়াকুব বিন কাসিবের জীবনীতে যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানি৩ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমি আবু দাউদ আস-সিজিস্তানিকে ইয়াকুব বিন কাসিবের হাদীসগুলো তাঁর বইয়ের মলাটের৪ আবরণে রাখতে দেখেছি। আমি তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: আমরা তাঁর সনদে এমন কিছু হাদীস দেখেছি যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। তাই আমরা তাঁর কাছে মূল পাণ্ডুলিপি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাদের এড়িয়ে যান। পরে যখন তিনি সেগুলো বের করলেন, তখন আমরা দেখলাম মূল পাণ্ডুলিপিতে হাদীসগুলো নতুন হাতের লেখায় পরিবর্তিত করা হয়েছে; সেগুলো মুরসাল ছিল কিন্তু তিনি সেগুলোকে মুত্তাসিল করেছেন এবং তাতে তথ্য বৃদ্ধি করেছেন।"৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
إن البراعة النقدية التي تمتع بها أبو داود كما ترى يعجز الكثير من النقّاد عن بلوغها، وإنه لنقد علمي سليم، يقوم على نقد الكتابة والمخطوطات، وتقدير عمرها بالنظر في جديد الخط وقديمه، وقد علّق فضيلة الشيخ محمد الصباغ على هذا بقوله: إنه مجال سبق إليه أبو داود، ويحسب بعض الباحثين أنه جديد وأن الأقدمين لم يعرفوه1.
وقد شهد الأئمة لأبي داود بإمامة عصره في الحفظ والإتقان، ومعرفة علل الحديث، والتبصر بأحوال الرواة، وها هو يسئل عن الأئمة الكبار، سأله الآجري قائلاً: "أيهما أعلم بالرجال يحيى أو علي؟ فقال: يحيى أعلم الرجال وليس عند علي من خبر أهل الشام شيء"2.
وحسب أبي داود اعتماد من جاء بعده على أقواله في هذا الفن إلى يومنا هذا، وأما ما قيل من أن أبا داود أكثر عناية بالمتون من الأسانيد فهذا لا يتعارض مع ما قلناه، وهذا في السنن إذ ضمنه من الأحاديث ذات الأحكام الفقهية ما لا يوجد في غيره من الكتب الستة، حتى قيل في سننه: "إنها أكثر فقهاً من الصحيحين"3. على أن من يتتبع سننه يرى أنه يعقب على كثير من الأحاديث ببيان حال رواتها، وعما إذا كان هذا الحديث فرداً غريباً أو غير ذلك من أمور نقدية، فكان رحمه الله عالماً بالمتون والأسانيد، ومن يطلع على ما ألفه في أحوال الرواة يظهر له الأمر جلياً، وقول ابن المديني يشهد لواقع أبي داود حيث قال: معرفة الرجال نصف العلم ومعرفة فقه الحديث نصف العلم4.
--------------------------------------------
আপনি যেমনটি দেখছেন, আবু দাউদ যে সমালোচনামূলক নৈপুণ্যের অধিকারী ছিলেন, অনেক সমালোচকই তা অর্জন করতে সক্ষম হন না। এটি একটি সঠিক বৈজ্ঞানিক সমালোচনা, যা লিখনশৈলী ও পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং লিপির নতুনত্ব ও প্রাচীনত্ব পর্যালোচনার মাধ্যমে সেগুলোর বয়স নির্ধারণ করে। ফযীলাতুশ শাইখ মুহাম্মদ আস-সাব্বাগ এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন: এটি এমন একটি ক্ষেত্র যাতে আবু দাউদ অগ্রগামী ছিলেন, অথচ কিছু গবেষক মনে করেন যে এটি আধুনিক বিষয় এবং প্রাচীনরা এটি জানতেন না।১
ইমামগণ হিফয (স্মরণশক্তি), ইতকান (পরিপক্কতা), হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাত) সম্পর্কে জ্ঞান এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে আবু দাউদকে তাঁর সময়ের ইমাম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাঁকে বড় বড় ইমামদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো। আল-আজ্জুরি তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন: "রাবী বা বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে ইয়াহিয়া এবং আলীর মধ্যে কে বেশি জ্ঞানী?" তিনি উত্তর দিলেন: "ইয়াহইয়া বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী, আর আলীর কাছে সিরিয়াবাসীদের খবরাখবর সম্পর্কে তেমন কিছু নেই।"২
আবু দাউদের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আজও এই শাস্ত্রের উত্তরসূরিরা তাঁর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেন। আর আবু দাউদ সনদের চেয়ে মতন (মূল পাঠ) এর দিকে বেশি যত্নশীল ছিলেন বলে যা বলা হয়, তা আমাদের পূর্বোক্ত কথার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। এটি মূলত তাঁর 'সুনান' গ্রন্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কারণ তিনি এতে এমন সব ফিকহি বিধান সম্বলিত হাদিস সংকলন করেছেন যা কুতুবে সিত্তাহর অন্য গ্রন্থগুলোতে পাওয়া যায় না। এমনকি তাঁর সুনান সম্পর্কে বলা হয়েছে: "এটি সহীহাইনের (বুখারী ও মুসলিম) চেয়েও অধিক ফিকহ সমৃদ্ধ।"৩। উপরন্তু, কেউ যদি তাঁর সুনান গ্রন্থটি পর্যবেক্ষণ করেন তবে দেখবেন যে, তিনি অনেক হাদিসের পরেই বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন এবং হাদিসটি 'ফারদ' (একক), 'গারীব' (দুর্লভ) কি না বা অন্যান্য সমালোচনামূলক বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। সুতরাং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) মতন এবং সনদ উভয় বিষয়েই অভিজ্ঞ আলেম ছিলেন। বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে তিনি যা রচনা করেছেন তা পড়লে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। ইবনুল মাদিনীর উক্তি আবু দাউদের এই বাস্তবতারই সাক্ষ্য দেয়, যেখানে তিনি বলেছেন: "রাবী বা বর্ণনাকারীদের পরিচয় জানা অর্ধেক জ্ঞান, আর হাদিসের ফিকহ বা মর্মার্থ বোঝা অর্ধেক জ্ঞান।"৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
مرتبة أبي داود بين النقّاد:
سبق أن تكلمنا على إمامة أبي داود في النقد واعتماد الأئمة على أقواله وإخراجها في كتبهم، ولكن إلى أي طبقات النقد ينتمي إمامنا الجليل؟ وهنا أورد ما ذكره الذهبي في تقسيمه لطبقات النقاد ليتسنى للقارئ الكريم الوقوف على ماهية تلك الطبقات.
قال السخاوي رحمه الله: قسم الذهبي من تكلم في الرجال أقساماً:
1- قسم تكلموا في سائر الرواة كابن معين وأبي حاتم.
2- وقسم تكلموا في كثير من الرواة كمالك وشعبة.
3- وقسم تكلموا في الرجل بعد الرجل كابن عيينة والشافعي.
قلت: "واعتماداً على ما استخلصته من نتائج من خلال دراستي لكتاب السؤالات تبين لي أن أبا داود من القسم الأول - أعني الذين تكلموا في سائر الرواة. وقد أشرت مسبقاً إلى أنه تكلم في رواة الحديث على اختلاف بلدانهم وتبيانها".
ثم تابع الذهبي قائلاً: والكل على ثلاثة أقسام:
1- قسم منهم متعنت في الجرح متثبت في التعديل، يغمز الراوي بالغلطتين والثلاثة، فهذا إذا وثق شخصاً فعضّ على قوله بنواجذك وتمسك بتوثيقه، وإذا ضعّف رجلاً فانظر هل وافقه غيره على تضعيفه، فإن وافقه ولم يوثق ذلك الرجل أحد من الحذاق فهو ضعيف، وإن وثقه أحد فهذا هو الذي قالوا فيه: لا يقبل الجرح فيه إلا مفسراً. يعني لا يكفي فيه قول ابن معين مثلاً ضعيف، ومثل هذا يختلف في تصحيح حديثه وتضعيفه.
قال السخاوي: "ثم قال الذهبي وهو من أهل الاستقراء التام في نقد الرجال: لم يجتمع اثنان من علماء هذا الشأن على توثيق ضعيف
সমালোচকদের মাঝে আবু দাউদের অবস্থান:
আমরা ইতিপূর্বে সমালোচনার ক্ষেত্রে আবু দাউদের ইমামত (নেতৃত্ব) এবং তাঁর বক্তব্যের ওপর ইমামদের নির্ভরতা ও তাঁদের কিতাবসমূহে তা উদ্ধৃত করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু আমাদের এই মহান ইমাম সমালোচকদের কোন স্তরের অন্তর্ভুক্ত? এখানে আমি সমালোচকদের স্তর বিন্যাস সম্পর্কে আয-যাহাবীর বর্ণনা উল্লেখ করছি, যাতে সম্মানিত পাঠক এই স্তরগুলোর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।
সাখাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আয-যাহাবী রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) সমালোচনা নিয়ে যারা আলোচনা করেছেন তাঁদেরকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছেন:
১- এমন এক দল যারা ইবনে মাঈন ও আবু হাতিমের ন্যায় সকল রাবী সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
২- এমন এক দল যারা মালিক ও শু'বার ন্যায় অধিকাংশ রাবী সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
৩- এমন এক দল যারা ইবনে উইয়াইনাহ ও আশ-শাফিঈর ন্যায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
আমি বলছি: "'আস-সুআলাত' গ্রন্থের ওপর আমার গবেষণালব্ধ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এটি আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, আবু দাউদ প্রথম স্তরের অন্তর্ভুক্ত—অর্থাৎ যারা সকল রাবী সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। আমি ইতিপূর্বে ইশারা করেছি যে, তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের রাবীদের সম্পর্কে এবং তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।"
অতঃপর আয-যাহাবী বলেন: আর তাঁরা সবাই আবার তিন ভাগে বিভক্ত:
১- তাঁদের মধ্যে একদল রয়েছেন যারা জরাহ (ত্রুটি বর্ণনা) করার ক্ষেত্রে কঠোর এবং তা'দীল (নির্ভরযোগ্যতা প্রদান) করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক; তাঁরা দুই-তিনটি ভুলের কারণেও রাবীকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। এই শ্রেণির কেউ যখন কোনো ব্যক্তিকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেন, তখন তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন এবং তাঁর দেওয়া এই নির্ভরযোগ্যতাকে গ্রহণ করুন। আর তিনি যখন কাউকে দুর্বল বলেন, তখন দেখুন অন্য কেউ তাঁর এই দুর্বল বলার সাথে একমত কি না। যদি অন্য কেউ তাঁর সাথে একমত হয় এবং পারদর্শী ইমামদের কেউ ওই ব্যক্তিকে নির্ভরযোগ্য না বলেন, তবে সে দুর্বল। আর যদি কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেন, তবে এটিই সেই ক্ষেত্র যেখানে উলামাগণ বলেন: এর ক্ষেত্রে কারণ ব্যাখ্যা করা ছাড়া জরাহ (অযোগ্যতা) কবুল করা হবে না। অর্থাৎ এর ক্ষেত্রে যেমন ইবনে মাঈনের শুধু 'দুর্বল' বলাটিই যথেষ্ট নয়। এ ধরণের রাবীদের হাদিস বিশুদ্ধ (সহীহ) বা দুর্বল (যঈফ) হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ হয়ে থাকে।
সাখাবী বলেন: "অতঃপর আয-যাহাবী বলেন—যিনি রাবীদের সমালোচনার ক্ষেত্রে পূর্ণ অভিজ্ঞতার অধিকারী: এই শাস্ত্রের দুইজন আলেম কোনো দুর্বল রাবীকে নির্ভরযোগ্য বলার ব্যাপারে একমত হননি।"
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٣١)
ولا تضعيف ثقة، ولهذا كان مذهب النسائي، أن لا يترك حديث الرجل حتى يجتمع الجميع على تركه".
2- وقسم منهم متمسح كالترمذي والحاكم.
3- وقسم معتدل كأحمد والدارقطني وابن عدي1.
قلت: وبعد التمحيص والتدقيق في أقوال أبي داود في الرواة ومقارنتي لها بأقوال الأئمة أكاد أجزم بأن أبا داود كان من القسم الثالث، أعني من وصف بالاعتدال، فلم يكن رحمه الله متشدداً في توثيق الرواة متساهلاً في تجريحهم، ولا ممن تعنت فجرح من كان ثقة، أو ممن تساهل فوثق من كان مجروحاً، بل راعى في أحكامه مناهج أهل الاعتدال. ولقد تأثر بمنهج شيخه الإمام أحمد تأثراً كبيراً ظهرت نتائجه في سمته وعلمه ومنهاجه.
قد يسأل سائل فيقول: "فما مدى تأثره بمنهج شيخه ابن معين وهو من المتشددين في النقد؟ " أقول: إن ابن معين رحمه الله قد شارك بقدر كبير في نشأة أبي داود العلمية، فلما بلغ أبو داود رحمه الله مبلغاً علمياً رفيعاً مكنه من النظر في الأمور بدقة، نهج منهج أهل الاعتدال لأنه يستقيم مع معلوماته ودرايته، فكان قريباً كل القرب من منهج شيخه أحمد بن حنبل، وإن كان هذا لايمنعه من استعراض بعض آراء شيخه ابن معين والأخذ بها، وقد يتابعه فيما ينفرد فيه أحياناً وهذا قليل.
وبين يديّ قضية أود أن أطرحها، وهي ما مدى اتفاق أقوال أبي داود مع أقوال الحافظ ابن حجر في التقريب؟ سؤال قد يبدو غريباً لأول وهلة، فأبو داود ممن شاركوا في وضع أسس هذا الفن، وإمام له اجتهاده الخاص في حين أن ابن حجر لم يكن كذلك، أقول هذا حق، ولكن ابن حجر في التقريب خرج بخلاصة أقوال الأئمة بعبارة ذات مدلول معين مراعياً في ذلك قول من عرف بالتعنت أو التساهل، ومن جرح ببينة أو مجرد قول قيل، فخرج بقول وسط
--------------------------------------------
...এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকে দুর্বল না করা। এ কারণেই নাসাঈর নীতি ছিল যে, কোনো ব্যক্তির বর্ণিত হাদীস ততক্ষণ পর্যন্ত বর্জন করা হবে না যতক্ষণ না তার বর্জনীয় হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত হন।
২- তাদের মধ্যে একটি দল শিথিলতাপূর্ণ, যেমন তিরমিযী এবং হাকিম।
৩- এবং একটি দল মধ্যপন্থী, যেমন আহমাদ, দারাকুতনী এবং ইবনু আদি ১।
আমি বলছি: রাবীদের ব্যাপারে আবূ দাউদের বক্তব্যসমূহ নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই এবং অন্যান্য ইমামদের বক্তব্যের সাথে সেগুলোর তুলনার পর আমি প্রায় নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, আবূ দাউদ তৃতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, অর্থাৎ যাদেরকে মধ্যপন্থী হিসেবে অভিহিত করা হয়। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) রাবীদের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অতি-কঠোর কিংবা তাদের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে অতি-শিথিল ছিলেন না; আবার তিনি তাদের মতোও ছিলেন না যারা চরমপন্থা অবলম্বন করে কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকে সমালোচিত করেছেন, কিংবা তাদের মতোও ছিলেন না যারা শিথিলতা প্রদর্শন করে কোনো সমালোচিত ব্যক্তিকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। বরং তিনি তার ফয়সালাগুলোতে মধ্যপন্থীদের নীতি অনুসরণ করেছেন। তিনি তার উস্তাদ ইমাম আহমাদের পদ্ধতি দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন, যার ফলাফল তার স্বভাব-চরিত্র, ইলম এবং কর্মপদ্ধতিতে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
কেউ প্রশ্ন করতে পারেন: "তার উস্তাদ ইবনু মাঈনের পদ্ধতি দ্বারা তিনি কতটুকু প্রভাবিত ছিলেন, অথচ তিনি (ইবনু মাঈন) তো সমালোচনার ক্ষেত্রে কঠোরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন?" আমি বলব: ইবনু মাঈন (রাহিমাহুল্লাহ) আবূ দাউদের জ্ঞানতাত্ত্বিক বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু আবূ দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) যখন এমন এক উচ্চতর ইলমী মাকামে পৌঁছালেন যা তাকে বিষয়সমূহ সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনার সক্ষমতা দান করল, তখন তিনি মধ্যপন্থীদের পথ অবলম্বন করলেন। কারণ এটিই তার অর্জিত তথ্য ও প্রজ্ঞার সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। ফলে তিনি তার উস্তাদ আহমাদ বিন হাম্বলের পদ্ধতির অত্যন্ত নিকটবর্তী ছিলেন; যদিও এটি তাকে তার অপর উস্তাদ ইবনু মাঈনের কিছু মতামত পর্যালোচনা করা বা সেগুলো গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখেনি। কখনও কখনও তিনি ইবনু মাঈনের একক মতগুলোকেও অনুসরণ করতেন, তবে এমন ঘটনা বিরল।
আমার সামনে একটি বিষয় আছে যা আমি উত্থাপন করতে চাই; আর তা হলো, 'তাকরীব' গ্রন্থে হাফিয ইবনু হাজারের বক্তব্যের সাথে আবূ দাউদের বক্তব্যের মিল কতটুকু? প্রশ্নটি প্রথম দেখায় অদ্ভুত মনে হতে পারে, কারণ আবূ দাউদ এই শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপনে অংশগ্রহণকারী ইমামদের একজন এবং তার নিজস্ব গবেষণালব্ধ মতামত রয়েছে, যেখানে ইবনু হাজার তেমন (ভিত্তি স্থাপনকারী) ছিলেন না। আমি বলব—এটি সত্য, কিন্তু ইবনু হাজার 'তাকরীব' গ্রন্থে ইমামদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ এমন নির্দিষ্ট অর্থবহ শব্দে তুলে ধরেছেন যেখানে তিনি কঠোরতা বা শিথিলতার জন্য পরিচিতদের বক্তব্য এবং দলীলভিত্তিক সমালোচনা কিংবা নিছক লোকমুখে প্রচলিত কথা—সবই বিবেচনায় নিয়েছেন। ফলে তিনি একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
يحكم من خلاله على الرواة، فكأني أقول ما مدى موافقة أبي داود لخلاصة أقوال الأئمة؟ وهو ما فعله ابن حجر فكان قوله وسطاً على وجه التغليب.
وقبل الإجابة على هذا السؤال أحب أن أشير إلى أن الأقدمين قد استخدموا عبارات لها مدلولات تختلف عما اصطلح عليه المتأخرون في العبارات ذاتها. فالثقة مثلاً عند المتقدمين أعم مما اصطلح عليه المتأخرون الذهبي وابن حجر مثلاً، فهي تشمل الصدوق عند المتأخرين أيضاً، فيراعى هذا، وقد قمت بتتبع عبارات أبي داود في هذا الجزء المحقق وقارنتها بقول ابن حجر، وقلما يخالف أحدهما الآخر. كما أنهما يتفقان في الغالب فيما يقال فيه ثقة، وأحياناً يكون ما هو ثقة عند أبي داود صدوقاً عند ابن حجر، وقد يكون ثبتاً أو ثقة حافظاً، وكثيراً ما يتفقان على ما يقال فيه لا بأس به أو صدوق.
وهذا مما يوضح لنا مدى الاعتدال الذي نهجه أبو داود رحمه الله تعالى.
منهج أبي داود في النقد:
اتبع النقاد في نقدهم لرواة الحديث مناهج متعددة تمكنوا بواسطتها الكشف عن أحوال الرواة، والوقوف على صحيح مروياتهم من سقيمها، وقد شارك أبو داود رحمه الله بنصيب كبير في تحديد المنهج النقدي عند المحدثين، ويمكن تلخيص منهجه في النقاط التالية:
1- النزاهة العلمية:
تمتع أبو داود رحمه الله بنزاهة علمية رفيعة ولا غرابة، فقد نشأ منذ نعومة أظفاره نشأة علمية سليمة، مبتغياً وجه الله تعالى، متمسكاً بما يمليه عليه دينه الحنيف من استقامة لا عوج فيها ولا انحراف، فما يصدر حكماً على راوٍ إلا لتحديد موقف الناس منه ببيان حقيقة أمره، فلا مجال لهوى يتبع، فلا يذكر الراوي إلا بما فيه إن خيراً فخير، وإن شراً فشر، لا فرق في ذلك بين قريب وبعيد، وها هو رحمه الله يجرح ابنه ويرميه بالكذب لأنه يرى أنه ليس أهلاً
যার মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের ওপর হুকুম লাগানো হয়, ফলে আমি যেন বলছি যে আইম্মায়ে কেরামের বক্তব্যের সারসংক্ষেপের সাথে আবু দাউদের বক্তব্য কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ? আর এটিই ইবনে হাজার করেছেন, ফলে তাঁর বক্তব্যটি ছিল প্রধানত ভারসাম্যপূর্ণ।
এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমি এ কথা উল্লেখ করতে চাই যে, প্রাচীনগণ এমন কিছু পরিভাষা ব্যবহার করেছেন যার অর্থ পরবর্তী উলামাদের পারিভাষিক অর্থ থেকে ভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ, পূর্ববর্তীদের নিকট 'সিকাহ' শব্দটি পরবর্তী আল্লামা জাহাবি ও ইবনে হাজারের ব্যবহৃত পরিভাষার চেয়ে আরও ব্যাপক, যা পরবর্তীদের নিকট 'সাদুক' বর্ণনাকারীকেও অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত। আমি এই সম্পাদিত অংশে আবু দাউদের পরিভাষাগুলো অনুসরণ করেছি এবং সেগুলোকে ইবনে হাজারের বক্তব্যের সাথে তুলনা করেছি; তাদের একে অপরের ভিন্নতা খুব কমই হয়েছে। যেমন তারা সাধারণত যাকে 'সিকাহ' বলা হয় তার ব্যাপারে একমত হন। তবে কখনও কখনও যা আবু দাউদের নিকট 'সিকাহ', তা ইবনে হাজারের নিকট 'সাদুক' হয়ে থাকে, আবার কখনও তা 'সাবত' বা 'সিকাহ হাফিজ'ও হতে পারে। অনেক সময় তারা 'লা বা’সা বিহি' বা 'সাদুক' পরিভাষাগুলোর ক্ষেত্রেও একমত হন।
এটি আমাদের নিকট আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) যে পরিমিতিবোধ ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করেছেন তা স্পষ্ট করে দেয়।
সমালোচনায় আবু দাউদের মানহাজ:
হাদীস বর্ণনাকারীদের সমালোচনার ক্ষেত্রে সমালোচকগণ বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যার মাধ্যমে তারা বর্ণনাকারীদের অবস্থা উন্মোচন করতে এবং তাদের বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে সঠিক ও ত্রুটিপূর্ণ হাদীস চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন। মুহাদ্দিসগণের নিকট সমালোচনার মানহাজ নির্ধারণে আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) বড় ধরনের অবদান রেখেছেন। তাঁর মানহাজকে নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপ করা যেতে পারে:
১- ইলমী সততা:
আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) এক উচ্চতর ইলমী সততার অধিকারী ছিলেন, আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কারণ তিনি শৈশব থেকেই এক বিশুদ্ধ ইলমী পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্বেষায়। তিনি তাঁর দ্বীন-ই-হানিফের নির্দেশিত সহজ-সরল ও অবিচল পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, যেখানে কোনো বক্রতা বা বিচ্যুতি নেই। তিনি কোনো বর্ণনাকারীর ওপর হুকুম প্রদান করতেন না কেবল মানুষের নিকট তার প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করার মাধ্যমে তার ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করার লক্ষ্য ছাড়া। সেখানে প্রবৃত্তির অনুসরণের কোনো সুযোগ ছিল ছিল না। তিনি কোনো বর্ণনাকারীর ব্যাপারে কেবল ততটুকুই উল্লেখ করতেন যতটুকু তার মধ্যে বিদ্যমান—তা ভালো হলে ভালো, মন্দ হলে মন্দ। এক্ষেত্রে নিকটাত্মীয় বা দূরের মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না। এমনকি তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর নিজের ছেলেকে পর্যন্ত সমালোচনা করেছেন এবং তাকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন যে সে হাদীস বর্ণনার যোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
لأن يؤخذ عنه الحديث الشريف، ولم يكن يقتصر على ذكر جانب السوء في الراوي فحسب أو العكس، بل كان يذكر فيه ما يحمد أو يذم من أجله. سأله الآجري عَن عَمرو بْن ثابت1 فَقَالَ: هو رجل سوء وجعل يذمه، لكنه قال: ليس حديثه يشبه حديث الشيعة، يعني أن أحاديثه مستقيمة. فذمه لأنه كان من غلاة الشيعة، لكنه لم ينكر أن أحاديثه مما يؤخذ بها فوصفها بالاستقامة، ومثله أيضاً ما قاله في يونس بن خباب2 ووصفه بأنه شتّام للصحابة - رضوان الله عليهم -، لكنه أردف قائلاً: وليس في حديثه نكارة، وقال في أيوب بن عائذ3: "ثقة إلا أنه مرجئ"، فالرجل عنده ثقة لكنه لم ينس أن يذكره بما عيب به وهو مخالفته لأهل السنة باتباعه سبيلاً غير سبيلهم. والأمثلة الدالة على نزاهته المتناهية لا عد لها ولا حصر رحمه الله.
2- الدقة العلمية:
إن المتتبع لما قاله أبو داود في الرجال ليجد أنه ذو وصف علمي دقيق لحالهم، فنراه يجري المقارنات فيمن هم من مرتبة واحدة كأن يكونوا ثقات أو غير ذلك، مما يفيد ويلزم عند التعارض والترجيح، فينزل كل راوٍ منزلته، ويعطي كل ذي حق حقه. كما ويذكر مواطن الرواة وسني ولادتهم ووفياتهم وعمن رووا سماعاً أو بالإرسال، بل ويحدد وقت لقي بعضهم ببعض، وأيهم المكثر من المقل، ووقت اختلاط بعض من اختلط منهم، ومن روى عنه قبل وبعد الاختلاط، وكم روى بعضهم عن بعض، ومن أثبتهم في راوٍ معين، وعلة تضعيف بعض الروارة، وغير ذلك مما يعجز عن وصفه الكثير من الحذاق في هذا الفن.
3- الأمانة العلمية:
كان أبو داود رحمه الله أميناً صادقاً في حكمه على الرواة، فلا يُصدر
--------------------------------------------
যাতে তাঁর থেকে হাদিসে শরিফ গ্রহণ করা যায়, এবং তিনি কেবল বর্ণনাকারীর মন্দ দিকটি উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন না কিংবা এর বিপরীতও করতেন না, বরং তিনি এতে বর্ণনাকারীর এমন বিষয়ও উল্লেখ করতেন যার কারণে তার প্রশংসা বা নিন্দা করা যায়। আল-আজুরি তাঁকে আমর ইবনে সাবিত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: সে একজন মন্দ লোক এবং তিনি তার নিন্দা করতে শুরু করেন, কিন্তু তিনি এও বলেন: তার হাদিস শিয়াদের হাদিসের সদৃশ নয়, অর্থাৎ তার হাদিসসমূহ সঠিক। সুতরাং তিনি তার নিন্দা করেছেন কারণ সে চরমপন্থী শিয়াদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু তিনি তার হাদিসসমূহ যে গ্রহণীয় তা অস্বীকার করেননি, তাই তিনি সেগুলোকে সঠিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ বিষয় ইউনুস ইবনে খাব্বাব সম্পর্কেও তিনি যা বলেছেন তাতে পরিলক্ষিত হয়; তিনি তাকে সাহাবায়ে কেরাম -আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন- এর প্রতি গালিগালাজকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু পরক্ষণেই তিনি এ কথা যোগ করেন যে: তার হাদিসে কোনো অসংগতি নেই। আইয়ুব ইবনে আইয সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "সে নির্ভরযোগ্য, তবে সে মুরজিয়া মতাদলম্বী"। সুতরাং লোকটি তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তিনি তার সেই দোষটি উল্লেখ করতে ভুলেননি যার কারণে তাকে সমালোচনা করা হয়েছে, আর তা হলো আহলে সুন্নতের বিপরীত পথ অনুসরণের মাধ্যমে তাঁদের বিরোধিতা করা। তাঁর এই চরম নিরপেক্ষতা ও সততার প্রমাণস্বরূপ উদাহরণের কোনো শেষ নেই, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
২- জ্ঞানগত সূক্ষ্মতা:
বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে আবু দাউদ যা বলেছেন, কেউ যদি তা অনুসরণ করে তবে সে দেখতে পাবে যে তিনি তাদের অবস্থার অত্যন্ত সূক্ষ্ম জ্ঞানতাত্ত্বিক বর্ণনা দিয়েছেন। আমরা দেখি যে তিনি সমপর্যায়ের বর্ণনাকারীদের মধ্যে তুলনা পেশ করেন, যেমন তাঁরা নির্ভরযোগ্য কি না বা অন্য কিছু, যা হাদিসের বর্ণনায় বৈপরীত্য দেখা দিলে এবং কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও প্রয়োজনীয়। এভাবে তিনি প্রত্যেক বর্ণনাকারীকে তাঁর যথাযথ স্তরে স্থান দেন এবং প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার প্রদান করেন। এছাড়া তিনি বর্ণনাকারীদের আবাসস্থল, তাঁদের জন্ম ও মৃত্যুর বছর এবং তাঁরা কাদের থেকে সরাসরি শুনেছেন অথবা কাদের থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন তাও উল্লেখ করেন। এমনকি তিনি একে অপরের সাথে সাক্ষাতের সময়কালও সুনির্দিষ্ট করে দেন। তাঁদের মধ্যে কে অধিক বর্ণনা করেছেন আর কে অল্প, এবং তাঁদের মধ্যে যাঁদের শেষ বয়সে স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল তাঁদের সেই স্মৃতিভ্রমের সময়কাল, এবং সেই স্মৃতিভ্রমের আগে ও পরে কারা তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং কে কার থেকে কতটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, এবং কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনাকারীর বর্ণনার ক্ষেত্রে কে সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য, এবং কোনো কোনো বর্ণনাকারীকে দুর্বল সাব্যস্ত করার কারণসহ এমন আরও অনেক বিষয় তিনি উল্লেখ করেছেন যা এই শাস্ত্রের অনেক দক্ষ পণ্ডিতের পক্ষেও বর্ণনা করা দুঃসাধ্য।
৩- জ্ঞানগত সততা:
আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে বিচার বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী ছিলেন। তাই তিনি প্রদান করতেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
حكماً إلا بما يعلم، وإذا لم يجد من علمه ما يمكنه أن يُصدر حكمه أحال على غيره من شيوخه، وكم من مسألة سئل فيها فقال: "لا أدري". سأله الآجري عن عرفجة العمي1 فقال: "لا أعرفه". وعن سالم المرادي2 فَقَالَ: "لَيْسَ لي بِهِ علم". وعن العلاء بْن خَالِد فَقَالَ: "مَا عندي من علمه شيء"3. وسئل: هل سمع عَبْد الرَّحْمَنِ بْن أَبِي ليلى من عمر رضي الله عنه فقال: "قَدْ رَوَى ولا أدري يصح أم لا، وقد رأيت من يدفعه"4. وقال في أبي إسرائيل الملائي وهو رافضي: "لم يكذب وليس في حديثه نكارة، حدّث عنه الثوري".
إنها الأمانة العلمية التي حملته على قول الحق بكل صدق وإخلاص.
4- الجرأة في قول الحق:
لم يقدم النقاد على نقد الرجال إلا بدافع ديني يدعوهم إلى تنزيل كل راوٍ منزلته التي تليق به إقراراً للحق، وتلبية لنداء الفطرة، وفي هذا نصح للأمة، فأظهروا من هم أهلاً للرواية ممن ليسوا بأهل لها، ولم يخشوا في قول الحق أحداً.
ذكر ابن مبارك رجلاً فقال: "يكذب"، فقيل: يا أبا عبد الرحمن تغتاب؟ قال: "اسكت، إذا لم نبين كيف يعرف الحق من الباطل5؟ " وقال ابن عُلَّية في الجرح: "هذا أمانة ليس بغيبة"6. وهذا أبو داود يقضي بأن ابن معين أعلم في الرجال من ابن المديني قائلاً: "يحيى أعلم بالرجال وليس عند علي من علم أهل الشام شيء". وقال في عليّ بن الجعد الجوهري: "رجل سوء لأنه كان من غلاة الشيعة" ومثله ما قاله في رياح بن عمرو القيسي ونسبه إلى الزندقة، وسأله الآجري عن الحسن بن ذكوان قائلاً: "زعم قومُ أَنَّهُ كَانَ فاضلًا"، فقال: "ما بلغني عنه فضل".
--------------------------------------------
তিনি কোনো জ্ঞান ব্যতিরেকে সিদ্ধান্ত প্রদান করতেন না। আর যখন তিনি তাঁর জ্ঞানের মধ্যে এমন কিছু পেতেন না যার ভিত্তিতে তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত প্রদান করতে পারেন, তখন তিনি তাঁর অন্যান্য শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি ন্যস্ত করতেন। কত কত মাসআলা তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যাতে তিনি বলেছেন: "আমি জানি না"। আল-আজুরি তাকে আরফাহজাহ আল-আমী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "আমি তাকে চিনি না"। আর সালিম আল-মুরাদী সম্পর্কে তিনি বললেন: "তার ব্যাপারে আমার কোনো জ্ঞান নেই"। আর আল-আলা ইবনে খালিদ সম্পর্কে তিনি বললেন: "তার সম্পর্কে আমার কাছে কোনো জ্ঞান নেই"। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা কি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: "তিনি বর্ণনা করেছেন, তবে আমি জানি না তা সহীহ কি না, আর আমি এমন ব্যক্তিদের দেখেছি যারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন"। আবু ইসরাঈল আল-মালায়ী সম্পর্কে তিনি বলেছেন—যিনি একজন রাফেযী ছিলেন: "তিনি মিথ্যা বলেননি এবং তার হাদীসে কোনো অসংগতি নেই, আস-সাওরী তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন"।
এটি ছিল সেই ইলমী আমানতদারি যা তাকে পূর্ণ সততা ও নিষ্ঠার সাথে সত্য কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
৪- সত্য বলার ক্ষেত্রে সাহসিকতা:
সমালোচকগণ বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করতে অগ্রসর হননি কেবল দ্বীনি প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়েই, যা তাদের আহ্বান করে প্রতিটি রাবীকে (বর্ণনাকারীকে) তার যোগ্য স্থানে আসীন করতে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং বিবেকের ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য। এতে উম্মাহর জন্য কল্যাণকামিতা নিহিত রয়েছে। ফলে তারা প্রকাশ করে দিয়েছেন কারা হাদীস বর্ণনার যোগ্য আর কারা যোগ্য নন, এবং সত্য বলার ক্ষেত্রে তারা কাউকে পরোয়া করেননি।
ইবনুল মুবারক একজন ব্যক্তি সম্পর্কে বললেন: "সে মিথ্যা বলে", তখন বলা হলো: হে আবু আবদুর রহমান, আপনি কি গীবত করছেন? তিনি বললেন: "চুপ থাকো, আমরা যদি স্পষ্ট না করি তবে সত্য থেকে মিথ্যাকে কীভাবে আলাদা করা যাবে?" ইবনে উলাইয়্যাহ 'জারহ' (সমালোচনা) সম্পর্কে বলেছেন: "এটি একটি আমানত, গীবত নয়"। আর এই আবু দাউদ ফয়সালা দিচ্ছেন যে, ইবনে মাদীনীর চেয়ে ইবনে মাঈন বর্ণনাকারীদের বিষয়ে অধিক জ্ঞানী। তিনি বলেন: "ইয়াহইয়া বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে অধিক অবগত এবং আলীর কাছে শামবাসীদের ইলম সম্পর্কে তেমন কিছু নেই"। তিনি আলী ইবনে জা'দ আল-জাওহারী সম্পর্কে বলেছেন: "এক মন্দ লোক, কারণ সে ছিল কট্টর শিয়া"। অনুরূপ কথা তিনি রিয়াহ ইবনে আমর আল-কায়সী সম্পর্কে বলেছেন এবং তাকে যিন্দীক হওয়ার সাথে নিসবত করেছেন। আল-আজুরি তাকে হাসান ইবনে যাকওয়ান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বললেন: "একদল লোক দাবি করে যে তিনি ফযীলতপূর্ণ ছিলেন", তিনি বললেন: "তার কোনো ফযীলত সম্পর্কে সংবাদ আমার কাছে পৌঁছেনি"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
وقال محمد بن رجاء البصري: قلت لأبي داود: "لم أرك حدثت عن الرمادي1؟ قال: رأيته يصحب الواقفة2 فلم أحدث عنه"3.
لقد كان الحق يجري على لسانه رحمه الله في كل أمر يهم أمور المسلمين.
5- موقف أبي داود من أهل الإبتداع:
اختلف المحدثون في قبول الرواية عن أهل الإبتداع كالخوارج والرافضة والقدرية، فمنعته طائفة منهم مالك وابن عيينة وعلي بن حرب وغيرهم، ورخصت فيه طائفة إذا لم يتهموا بالكذب، وقال به ابن المديني وابن سعيد القطان. قال ابن المديني رحمه الله: "لو تركت أهل البصرة للقدر وأهل الكوفة للتشيع لخربت الكتب"4، وذهب آخرون إلى منع الرواية عمن يدعو إلى بدعته دون غيره، ومن هؤلاء أحمد بن حنبل وابن معين.
والمانعون للرواية مطلقاً ذهبوا إلى أن المبتدعة كفار على رأي من ذهب إلى تكفير المتأولين، أو فساق على رأي من لم يحكم بكفرهم، على أن بعضهم إنما عمد إلى ترك الرواية عنهم من باب العقوبة والإهانة، أو لأنه لا يؤمن جانب هؤلاء من الكذب. وعلى الرأي الأخير يستثنى من هؤلاء ما قاله أبو داود رحمه الله: "لَيْسَ فِي أَهْلِ الأَهْوَاءِ أَصَحُّ حَدِيثًا مِنَ الْخَوَارِجِ"ثُمَّ ذَكَرَ عِمْرَانَ بْنَ حِطَّانَ وَأَبَا حَسَّانٍ الأعرج5.
قلت: وعمران بن حطان، وأبو حسان الأعرج أخرج لهما أبو داود في سننه، والمتتبع لمن أخرج لهم أبو داود رحمه الله في سننه يرى أنه يروي
--------------------------------------------
মুহাম্মদ ইবনে রাজা আল-বাসরি বলেন: আমি আবু দাউদকে বললাম: "আপনাকে তো রামাদির থেকে হাদিস বর্ণনা করতে দেখলাম না?" তিনি বললেন: "আমি তাকে ওয়াকিফিয়াদের সাথে ওঠাবসা করতে দেখেছি, তাই আমি তার থেকে হাদিস বর্ণনা করিনি।"
মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) জিহ্বায় সত্য প্রকাশিত হতো।
৫- বিদআতপন্থীদের ব্যাপারে আবু দাউদের অবস্থান:
খারিজি, রাফিজি এবং কাদারিয়াদের মতো বিদআতপন্থীদের থেকে বর্ণনা গ্রহণের ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালিক, ইবনে উয়াইনা, আলি ইবনে হারব এবং আরও অনেকে একদল তা নিষিদ্ধ করেছেন। অন্য একদল তা জায়েজ মনে করেছেন যদি তারা মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত না হন; ইবনুল মাদিনি এবং ইবনে সাইদ আল-কাত্তান এই মত পোষণ করেছেন। ইবনুল মাদিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "যদি আপনি কাদারি মতবাদের কারণে বসরাবাসীদের এবং শিয়া মতবাদের কারণে কুফাবাসীদের বর্জন করতেন, তবে কিতাবসমূহ বিলুপ্ত হয়ে যেত"। অন্য অনেকে আবার যারা নিজেদের বিদআতের দিকে আহ্বান করে তাদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছেন, অন্যদের থেকে নয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং ইবনে মাইন।
আর যারা সাধারণভাবে বর্ণনা গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছেন, তারা এই মত পোষণ করেন যে বিদআতপন্থীরা কাফির (তাদের মতে যারা অপব্যাখ্যাকারীদের কাফির মনে করেন) অথবা ফাসিক (তাদের মতে যারা তাদের কুফরির ফয়সালা দেননি)। তাছাড়া তাদের কেউ কেউ শাস্তি প্রদান এবং অবমাননা করার উদ্দেশ্যে তাদের থেকে বর্ণনা বর্জন করেছেন, অথবা এজন্য যে তাদের মিথ্যার দিকটি থেকে নিরাপদ বোধ করা যায় না। এই শেষোক্ত মতের ক্ষেত্রে আবু দাউদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যা বলেছেন তা ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে: "প্রবৃত্তি পূজারীদের মধ্যে খারিজিদের তুলনায় অধিক বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণনাকারী আর কেউ নেই।" এরপর তিনি ইমরান ইবনে হিত্তান এবং আবু হাসসান আল-আরাজের কথা উল্লেখ করেন।
আমি বলব: ইমরান ইবনে হিত্তান এবং আবু হাসসান আল-আরাজ—তাদের উভয়ের হাদিস আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে সংকলন করেছেন। আবু দাউদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর সুনান গ্রন্থে কাদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা যিনি অনুসন্ধান করবেন তিনি দেখতে পাবেন যে তিনি বর্ণনা করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
الحديث عمن رمي ببدعة إذا كان أهلاً لأن يؤخذ عنه، فها هو يروي عن إسماعيل بن بشير بن منصور، ونعمان بن المنذر الغساني، وهما متهمان بالقدر، وعن حصين بن نمير الواسطي، ونعيم بن أبي هند، وهما ناصبيان، وعن خلاد بن يحيى السلمي، وعبد الحميد بن يحيى الحماني وهما من المرجئة، وعن الفضل بن دلهم1 وهو معتزلي، وعن إسماعيل بن موسى الفزاري، ويونس بن خباب، وجابر بن يزيد الجعفي وهم من الروافض. بل وقد ينفرد بالرواية عن أناس ممن تكلم فيهم ببدعة فيخرج لهم في سننه دون غيره، كروايته عن إسحاق بن محمد بن عبد الرحمن، ويونس بن راشد الحراني، فالأول قدري، والثاني مرجئ. ومثل هذا كثير، ولم ينفرد أبو داود رحمه الله بهذا بل إن في البخاري ومسلم أعداداً ممن رمي ببدعة، فإذا كان المبتدع ثبت الأخذ والأداء، وغير داعية لبدعته، وليس في حديثه ما يعضد بدعته روى حديثه، وهذا ما جرى عليه أكثر الأئمة رضوان الله عليهم، وقد يكون في هؤلاء من هو داع لبدعته، لكن الأئمة كأبي داود وغيره أعلم بروايات هؤلاء من غيرهم فيروون ما يرون أنه مما يؤخذ به ويتركون ما عداه2، والله أعلم.
6- عدم قبول الجرح إلا مفسراً:
شارك أبو داود رحمه الله كثيراً من النقاد بهذا الرأي، وهذا بالطبع فيمن تعارض فيه الجرح والتعديل.
قال الخطيب: "وهو مذهب حفاظ الحديث ونقاده مثل محمد بن إسماعيل البخاري ومسلم، فالبخاري احتج بجماعة سبق من غيره الطعن فيهم، وهكذا فعل مسلم بن الحجاج، وسلك أبو داود هذه الطريق وغير واحد من بعده فدل ذلك على أنهم ذهبوا إلى أن الجرح لا يثبت إلا إذا فسر سببه، وذكر موجبه"3
--------------------------------------------
বিদআতের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি থেকে হাদীস বর্ণনা করার বিষয়টি—যদি তিনি এমন যোগ্য হন যে তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করা যায়—তবে দেখা যায় তিনি ইসমাঈল বিন বশীর বিন মানসুর এবং নুমান বিন মুনযির আল-গাসসানী থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের উভয়ের বিরুদ্ধে কাদারিয়া মতবাদের অভিযোগ রয়েছে। আর হুসাইন বিন নুমায়র আল-ওয়াসিতী এবং নুআইম বিন আবি হিন্দ থেকে বর্ণনা করেছেন, যারা নাসিবী ছিলেন। এছাড়া খাল্লাদ বিন ইয়াহইয়া আস-সুলামী এবং আব্দুল হামীদ বিন ইয়াহইয়া আল-হিমমানী থেকে বর্ণনা করেছেন, যারা মুরজিয়াদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর ফদল বিন দালহাম থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি একজন মুতাযিলী ছিলেন। এছাড়া ইসমাঈল বিন মূসা আল-ফাযারী, ইউনুস বিন খাব্বাব এবং জাবির বিন ইয়াযীদ আল-জু'ফী থেকে বর্ণনা করেছেন, যারা রাফেজীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এমনকি তিনি কখনও কখনও এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনায় একক হয়ে যান যাদের নামে বিদআতের অভিযোগ তোলা হয়েছে, ফলে তিনি অন্যদের বাদ দিয়ে তাঁর সুনানে তাদের থেকে বর্ণনা সংকলন করেন। যেমন ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান এবং ইউনুস বিন রাশিদ আল-হাররানী থেকে তাঁর বর্ণনা; প্রথমজন কাদারিয়া এবং দ্বিতীয়জন মুরজিয়া ছিলেন। এমন উদাহরণ অনেক আছে। কেবল ইমাম আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) একা এমনটি করেননি, বরং বুখারী ও মুসলিমেও এমন অনেক বর্ণনাকারী রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে বিদআতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অতএব, বিদআতী ব্যক্তি যদি গ্রহণে ও বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য হন, নিজের বিদআতের দিকে আহ্বানকারী না হন এবং তাঁর হাদীস যদি তাঁর বিদআতকে শক্তিশালী না করে, তবে তাঁর হাদীস বর্ণনা করা হবে। অধিকাংশ ইমামগণ (রিযওয়ানুল্লাহি আলাইহিম) এই নীতিই অনুসরণ করেছেন। তবে এদের মধ্যে এমন কেউ থাকতে পারেন যিনি তাঁর বিদআতের দিকে আহ্বানকারী ছিলেন, কিন্তু আবু দাউদ ও অন্যান্য ইমামগণ অন্যদের তুলনায় তাদের বর্ণনা সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন। তাই তারা তাদের বর্ণনার মধ্য থেকে যেগুলোকে গ্রহণযোগ্য মনে করেছেন তা গ্রহণ করেছেন এবং বাকিগুলো বর্জন করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
৬- কারণ ব্যাখ্যা করা ছাড়া জারহ (সমালোচনা) গ্রহণ না করা:
আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) অনেক সমালোচকের সাথে এই মত পোষণ করতেন। এটি অবশ্যই সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে জারহ (সমালোচনা) এবং তা'দীল (প্রশংসা) এর মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়।
খতীব বলেন: "এটিই হাদীসের হাফেয ও সমালোচকদের মাযহাব, যেমন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী এবং মুসলিম। বুখারী এমন একদল বর্ণনাকারীর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যাদের বিষয়ে ইতিপূর্বে অন্যরা সমালোচনা করেছিলেন। মুসলিম বিন হাজ্জাজও অনুরূপ করেছেন এবং আবু দাউদ ও তাঁর পরবর্তী একাধিক ইমাম এই পথই অনুসরণ করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, তারা মনে করতেন—জারহ বা সমালোচনা ততক্ষণ পর্যন্ত সাব্যস্ত হবে না যতক্ষণ না তাঁর কারণ ব্যাখ্যা করা হয় এবং তাঁর আবশ্যকতা উল্লেখ করা হয়।"৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
وقد سلك النقاد مذاهب عدّة، وربما جرح بعضهم من لا يستحق الجرح أو جرح بما لا يكون جرحاً عند غيره، ولهذا فقد كان أبو داود رحمه الله يخرج حديث من ضعف بالجملة. قال المنذري في مختصر السنن في حكايته عن ابن مندة أنه قال: إن شرط أبي داود إخراج حديث قوم لم يجمع على تركهم إذا صح الحديث باتصال الإسناد من غير قطع ولا إرسال1، ولهذا فقد ذهب إلى توثيق العوام بن حمزة والذي ضعفه شيخه ابن معين فقال: لم نر له حديثاً منكراً أي يستوجب ضعفه، وهكذا قال في نوح بن قيس: ثقة بلغني أن يحيى ضعفه، أي بدون حجة.
--------------------------------------------
সমালোচকগণ বিভিন্ন কর্মপন্থা অবলম্বন করেছেন, এবং সম্ভবত তাঁদের কেউ কেউ এমন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত (জারাহ) করেছেন যিনি অভিযোগের যোগ্য নন, অথবা এমন কিছুর মাধ্যমে অভিযুক্ত করেছেন যা অন্যের নিকট অভিযোগ বা দোষ হিসেবে গণ্য নয়। এ কারণেই আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) এমন বর্ণনাকারীর হাদিস উদ্ধৃত করেছেন যাকে সামগ্রিকভাবে দুর্বল বলা হয়েছে। আল-মুনযিরি 'মুখতাসারুস সুনান'-এ ইবনে মান্দাহ থেকে বর্ণনা করে বলেন যে তিনি বলেছেন: আবু দাউদের শর্ত ছিল এমন এক দল লোকের হাদিস গ্রহণ করা যাদের বর্জনের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা হয়নি, যদি হাদিসটি কোনো বিচ্ছিন্নতা বা ইর্সাল ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন সনদে বিশুদ্ধ হয়। এই কারণেই তিনি আওয়াম ইবনে হামযাহকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করেছেন, অথচ তাঁর উস্তাদ ইবনে মাঈন তাঁকে দুর্বল বলেছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "আমরা তাঁর কোনো মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) হাদিস দেখিনি যা তাঁর দুর্বলতাকে আবশ্যক করে।" অনুরূপভাবে তিনি নূহ ইবনে কায়স সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য, আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে ইয়াহইয়া তাঁকে দুর্বল বলেছেন," অর্থাৎ কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুআলাতু আবী উবাইদ আল-আজুরী আবা দাউদ আস-সিজিস্তানী ফিল জারহি ওয়াত তাদীল
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
أبو عبيد الآجرّي:
دأب المحققون على ذكر ترجمة لمؤلف الكتاب - سواء كان ذلك الكتاب من تأليفه أصلاً أو من جمعه وتصنيفه كالآجرّي هنا - المحقَّق لما لذلك من أهمية، ولا شك أن كل قارئ لأي كتاب ما فأول ما يبدي اهتمامه بالمؤلف ليطمئن إلى ما يقرأ، بل إن الكثيرين يفضلون مؤلفات لمؤلفين أُعجبوا بهم أيما إعجاب، لما اتصفوا به من قدرة علمية تتيح للقارئ الوصول إلى النتائج المرجوة بأساليب جذابة.
وإعجاب القارئ بالمؤلف يختلف باختلاف الأمر المقصود من القراءة فنرى مثلاً أن من أراد البحث في علل الحديث فأول ما يتبادر إلى ذهنه ما كتبه أهل هذا الفن كأحمد بن حنبل والدارقطني، ومن أراد الفقه فيتبادر ذهنه كتب الأئمة الأربعة.
ومن هنا كان التعريف بالمؤلف وتسليط الأضواء على مختلف نواحي حياته العلمية أمراً ضرورياً، ليطمئن القارئ إليه في فنه المحقق.
وقد يتصور القارئ الكريم بعد هذه النبذة البسيطة أني سوف أكشف له عن حياة الآجرّي وبإسهاب مستفيض، ولكني أتوقف قليلاً وأقدم لعزيزي القارئ أسفي الشديد إذ لم أتمكن من العثور على ترجمة هذا المؤلف - إن جاز
আবু উবাইদ আল-আজুররি:
গবেষকগণ সম্পাদিত গ্রন্থের লেখকের জীবনী উল্লেখ করার বিষয়ে অভ্যস্ত—চাই সেই গ্রন্থটি মূলত তাঁর মৌলিক রচনা হোক অথবা তাঁর সংকলন ও বিন্যাসকৃত হোক, যেমনটি এখানে আল-আজুররির ক্ষেত্রে ঘটেছে—কেননা এর গুরুত্ব অপরিসীম। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যেকোনো বইয়ের প্রত্যেক পাঠক সর্বপ্রথম লেখকের প্রতি তার আগ্রহ প্রকাশ করেন যাতে তিনি যা পড়ছেন সে সম্পর্কে আশ্বস্ত হতে পারেন। বরং অনেকে এমন লেখকদের রচনাকে প্রাধান্য দেন যাদের তারা অত্যন্ত পছন্দ করেন, কারণ তাঁদের সেই ইলমি যোগ্যতা থাকে যা আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে পাঠককে কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
লেখকের প্রতি পাঠকের এই মুগ্ধতা পাঠের উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ আমরা দেখি যে, যে ব্যক্তি ইল্লালুল হাদিস (হাদিসের ত্রুটি) বিষয়ে অনুসন্ধান করতে চায়, তার মনে সর্বপ্রথম এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কথা আসে যেমন আহমাদ বিন হাম্বল ও আদ-দারাকুতনি। আর যে ব্যক্তি ফিকহ শিখতে চায়, তার মনে চার ইমামের কিতাবসমূহের কথা আসে।
এ কারণেই লেখকের পরিচয় প্রদান এবং তাঁর ইলমি জীবনের বিভিন্ন দিকের ওপর আলোকপাত করা একটি প্রয়োজনীয় বিষয়, যাতে পাঠক তাঁর সম্পাদিত শাস্ত্রের বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারেন।
সম্মানিত পাঠক এই সামান্য ভূমিকার পর হয়তো কল্পনা করতে পারেন যে, আমি আল-আজুররির জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত ও দীর্ঘ আলোচনা তাঁর সামনে তুলে ধরব। কিন্তু আমি কিছুটা থামছি এবং আমার প্রিয় পাঠকের কাছে অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করছি যে, আমি এই লেখকের কোনো জীবনী খুঁজে পেতে সক্ষম হইনি—যদি বলা যেতে পারে...