(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: -)
زيادة الإيمان ونقصانه وحكم الاستثناء فيه القسم: العقيدة
الكتاب: زيادة الإيمان ونقصانه وحكم الاستثناء فيه
المؤلف: عبد الرزاق بن عبد المحسن البدر
المحقق: -
الناشر: مكتبة دار القلم والكتاب، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى 1416هـ/ 1996م
عدد الصفحات: 568
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমান বৃদ্ধি ও হ্রাস এবং এতে ইস্তিসনা (ব্যতিক্রম) করার বিধান শাখা: আকিদাহ
কিতাব: ইমান বৃদ্ধি ও হ্রাস এবং এতে ইস্তিসনা (ব্যতিক্রম) করার বিধান
লেখক: আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বাদর
মুহাক্কিক: -
প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল কলম ওয়াল কিতাব, রিয়াদ, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম ১৪১৬ হিজরি/ ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬৮
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ৫)
زيادة الإيمان ونقصانه وحكم الاستثناء فيه
بقلم: عبد الرزاق بن عبد المحسن العباد البدر
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعين
ال
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدى هدى
--------------------------------------------
ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস এবং এতে ইস্তিসনা (ব্যতিক্রম)-এর বিধান
লেখনীতে: আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ আল-বাদর
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
এবং আমরা তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি
আল
মুক্বাদ্দিমাহ (ভূমিকা)নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ব্যতিরেকে মৃত্যুবরণ করো না।} ১।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করল।} ৩।
অতপর: নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা সত্য কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হচ্ছে পথনির্দেশ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ৬)
محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
وبعد، فإن مباحث الإيمان ومسائله هي أهم المسائل على الإطلاق، لأنها أهم مباحث الدين وأعظم أصول الحق واليقين، بل إن كل خير في الدنيا والآخرة متوقف على الإيمان الصحيح. وكم للإيمان الصحيح من الفوائد المغدقة، والثمار اليانعة، والجنى اللذيذ، والأكل الدائم، والخير المستمر، أمور لا تحصى، وفوائد لا تستقصى عاجلة وآجلة.-
وبالإيمان يحيى العبد حياة طيبة في الدارين، وينجو من المكاره والشرور والشدائد، ويدرك جميع الغايات والمطالب، وينال ثواب الآخرة فيدخل جنة عرضها كعرض السماء والأرض، فيها من النعيم ما لا عين رأت ولا أذن سمعت ولا خطر على قلب بشر. وينجو من نار عذابها شديد وقعرها بعيد، وأعظم من ذلك كله أن يفوز برضى الرب سبحانه فلا يسخط عليه أبداً، ويتلذذ بالنظر إلى وجهه الكريم، وما ثمة مطلقاً نعيم أعظم ولا أكمل من هذا النعيم.
وبالجملة فالخير كله فرع عن الإيمان ومترتب عليه، والهلاك والدمار والشر كله إنما يكون بفقد الإيمان ونقصه.
فلا غرو إذن أن تكون مباحثه أهم المباحث وأعظمها وأولاها بالعناية والاهتمام، وأجدرها بصرف الهمم والأوقات، وشرف العلم من شرف معلومه، وليس هناك أشرف من الإيمان وعلومه، التي يتحقق بتحققها كل خير ويصرف كل شر، بل لا صلاح للعباد ولا فلاح ولا حياة طيبة ولا سعادة في الدارين، ولا نجاة من خزي الدنيا وعذاب الآخرة إلا بالإيمان الصحيح علماً وتطبيقاً، فالعلم والإيمان هما أفضل
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতা আগুনের মধ্যে।
অতঃপর, ঈমানের আলোচনা ও মাসায়েলসমূহ হলো নিঃসন্দেহে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ এগুলো দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় এবং সত্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের মহান মূলনীতি। বরং দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণ সঠিক ঈমানের ওপর নির্ভরশীল। সঠিক ঈমানের কতই না অঢেল উপকারিতা, পরিপক্ক ফলমূল, সুস্বাদু আহরণযোগ্য ফল, চিরস্থায়ী আহার এবং অব্যাহত কল্যাণ রয়েছে—এমন সব বিষয় যা গণনা করা যায় না এবং দুনিয়া ও আখিরাতের এমন সব উপকারিতা যা শেষ করা যায় না।-
ঈমানের মাধ্যমেই বান্দা উভয় জগতে পবিত্র জীবন লাভ করে, এবং অপছন্দনীয় বিষয়, অনিষ্ট ও কঠোরতা থেকে মুক্তি পায়, আর সকল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন করে। সে আখিরাতের সওয়াব লাভ করবে এবং এমন জান্নাতে প্রবেশ করবে যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের প্রশস্ততার সমান, সেখানে এমন সব নেয়ামত রয়েছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরে যা কখনও কল্পনাও আসেনি। সে এমন আগুন (জাহান্নাম) থেকে মুক্তি পাবে যার আযাব অত্যন্ত কঠিন এবং যার গভীরতা অনেক বেশি। আর এই সবকিছুর চেয়েও মহান বিষয় হলো সে মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জন করবে, ফলে তিনি তার ওপর কখনও অসন্তুষ্ট হবেন না, এবং সে তাঁর সম্মানিত চেহারার দিকে তাকিয়ে আনন্দ লাভ করবে। এই নেয়ামতের চেয়ে মহান এবং পূর্ণাঙ্গ কোনো নেয়ামত একেবারেই নেই।
মোটকথা, সমস্ত কল্যাণই ঈমানের শাখা এবং এর ওপর নির্ভরশীল; আর সমস্ত ধ্বংস, বিনাশ ও অনিষ্ট কেবল ঈমানের অনুপস্থিতি ও ঘাটতির কারণেই ঘটে থাকে।
অতএব, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে ঈমানের আলোচনাগুলো হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মহান এবং যত্ন ও মনোযোগের সবচেয়ে বেশি দাবিদার। সংকল্প ও সময় ব্যয় করার জন্য এটিই সবচেয়ে যোগ্য বিষয়। আর জ্ঞানের মর্যাদা নির্ভর করে যার জ্ঞান অর্জন করা হচ্ছে তার মর্যাদার ওপর। ঈমান ও এর জ্ঞান অপেক্ষা অধিক মর্যাদাপূর্ণ আর কিছুই নেই, যার অর্জনের মাধ্যমে সকল কল্যাণ অর্জিত হয় এবং সকল অনিষ্ট দূর হয়। বরং জ্ঞান ও আমল উভয় দিক থেকে সঠিক ঈমান ব্যতীত বান্দাদের জন্য কোনো সংশোধন নেই, কোনো সফলতা নেই, নেই কোনো পবিত্র জীবন ও উভয় জগতের সুখ-শান্তি। দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও আখিরাতের আযাব থেকে মুক্তিও কেবল সঠিক ঈমান দ্বারাই সম্ভব। সুতরাং ইলম ও ঈমানই হলো সর্বোত্তম
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ৭)
هبات الرحمن وأجل عطياته.
قال ابن القيم رحمه الله: "أفضل ما اكتسبته النفوس، وحصلته القلوب، ونال به العبد الرفعة في الدنيا والآخرة، هو العلم والإيمان، ولهذا قرن بينهما سبحانه في قوله: {وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَالْأِيمَانَ لَقَدْ لَبِثْتُمْ فِي كِتَابِ اللَّهِ إِلَى يَوْمِ الْبَعْثِ} 1، وقوله: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} 2.
وهؤلاء هم خلاصة الوجود ولبه، والمؤهلون للمراتب العالية، ولكن أكثر الناس غالطون في حقيقتهما، حتى إن كل طائفة تظن أن ما معها من العلم والإيمان هو الذي به تنال السعادة، وليس كذلك، بل أكثرهم ليس معهم إيمان ينجى ولا علم يرفع، بل قد سدوا على نفوسهم طرق العلم والإيمان اللذين جاء بهما الرسول صلى الله عليه وسلم ودعا إليهما الأمة، وكان عليهما هو وأصحابه من بعده وتابعوهم على منهاجهم وآثارهم
… "3.
ولو ذهبنا نتتبع المفاهيم الخاطئة، والاعتقادات المنحرفة في كلمتي علم وإيمان لطال المقام ولوقفنا على العجب العجاب، إذ إن كل صاحب هوى وبدعة، وكل صاحب طريقة ونحلة يدعي أن ما عنده هو العلم النافع والإيمان الصحيح، والحق أن الإيمان وراء هذه الدعاوى والتخرصات، وفوق هذه الأباطيل والادعاءات فلا علم ولا إيمان إلا ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، وما سوى ذلك فهذيان مزوق وبهتان مبهرج4
--------------------------------------------
রহমানের দানসমূহ এবং তাঁর মহান উপহারসমূহ।
ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আত্মাসমূহ যা অর্জন করেছে, অন্তরসমূহ যা লাভ করেছে এবং যার মাধ্যমে বান্দা দুনিয়া ও আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে, তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো জ্ঞান ও ঈমান। এই কারণেই মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করেছেন: {আর যাদের জ্ঞান ও ঈমান দান করা হয়েছে তারা বলবে, তোমরা তো আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ} ১, এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদায় বহু স্তরে উন্নীত করবেন} ২।
এরাই হলো অস্তিত্বের নির্যাস ও মজ্জা এবং উচ্চ মর্তবার যোগ্য ব্যক্তি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এই দুটির প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে বিভ্রান্তিতে রয়েছে, এমনকি প্রতিটি দলই মনে করে যে তাদের কাছে যে জ্ঞান ও ঈমান রয়েছে তা দিয়েই তারা সৌভাগ্য লাভ করবে। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং তাদের অধিকাংশের কাছে এমন কোনো ঈমান নেই যা মুক্তি দেবে, আর না এমন কোনো জ্ঞান আছে যা মর্যাদায় উন্নীত করবে। বরং তারা নিজেদের জন্য জ্ঞান ও ঈমানের সেই পথগুলো রুদ্ধ করে দিয়েছে যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়ে এসেছিলেন এবং যার দিকে তিনি উম্মতকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, আর যার ওপর তিনি এবং তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণ ও তাঁদের অনুসারীরা তাঁদের আদর্শ ও পদাঙ্ক অনুসরণে অটল ছিলেন
… "৩।
আমরা যদি 'জ্ঞান' ও 'ঈমান' শব্দ দুটির ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুল ধারণা এবং বিচ্যুত বিশ্বাসগুলো অনুসন্ধান করতে যাই, তবে আলোচনা দীর্ঘ হবে এবং আমরা অত্যন্ত বিস্ময়কর সব বিষয়ের সম্মুখীন হব। কারণ প্রত্যেক প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতী এবং প্রত্যেক মতবাদ ও উপদলের অনুসারী দাবি করে যে, তার নিকট যা আছে তাই হলো উপকারী জ্ঞান এবং সঠিক ঈমান। অথচ প্রকৃত সত্য হলো, ঈমান এই সমস্ত দাবি ও অনুমানের ঊর্ধ্বে এবং এসব অসারতা ও মিথ্যা দাবির অনেক উপরে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা ছাড়া প্রকৃত কোনো জ্ঞান বা ঈমান নেই, আর তা ব্যতিরেকে যা কিছু আছে তা কেবল চাকচিক্যময় প্রলাপ এবং অলঙ্কৃত মিথ্যা ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ৮)
{كَسَرَابٍ بِقِيعَةٍ يَحْسَبُهُ الظَّمْآنُ مَاءً حَتَّى إِذَا جَاءَهُ لَمْ يَجِدْهُ شَيْئاً وَوَجَدَ اللَّهَ عِنْدَهُ فَوَفَّاهُ حِسَابَهُ وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ * أَوْ كَظُلُمَاتٍ فِي بَحْرٍ لُجِّيٍّ يَغْشَاهُ مَوْجٌ مِنْ فَوْقِهِ مَوْجٌ مِنْ فَوْقِهِ سَحَابٌ ظُلُمَاتٌ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ إِذَا أَخْرَجَ يَدَهُ لَمْ يَكَدْ يَرَاهَا وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُوراً فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ} 1.
فلما كان أمر الإيمان بهذه المنزلة، وحاله بين أهله على هذا الوصف، صار واجباً على أهل العلم وطلابه أن يبينوا الإيمان الصحيح لذويه وأهله، ويوضحوا الحق المبين لراغبيه وطلابه، حتى يظهر الحق ويرتفع سنامه، وينقمع الباطل وتتهدم أركانه، {وَيَمْحُ اللَّهُ الْبَاطِلَ وَيُحِقُّ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ} 2، {لِيُحِقَّ الْحَقَّ وَيُبْطِلَ الْبَاطِلَ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ} 3، فتقام الحجة وتتضح المحجة ويستبين السبيل، {لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَى مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ وَإِنَّ اللَّهَ لَسَمِيعٌ عَلِيمٌ} 4.
ولما من الله عليّ وأكرمني بالتوجه لطلب العلم الشرعي وسلوك طريقه، ومواصلة التلقي والدراسة في رياض هذه الجامعة المباركة- إن شاء الله- وكان لازماً على كل طالب في مرحلتها العالمية العالية أن يقدم- بحثاً علمياً في مجال تخصصه، رأيت أن يكون بحثي حول بعض مسائل الإيمان المهمة، فوقع اختياري على مسألتين هما من كبار مسائل الإيمان ومن أهم مباحثه ألا وهما مسألتا "زيادة الإيمان ونقصانه "و"حكم الاستثناء فيه"، ويرجع اختياري لهاتين المسألتين دون غيرهما من مسائل الإيمان إلى أسباب عديدة أهمها ما يلي:
--------------------------------------------
{মরুভূমির মরীচিকার মতো, যাকে পিপাসার্ত ব্যক্তি পানি মনে করে, এমনকি যখন সে তার কাছে আসে, তখন সে সেখানে কিছুই পায় না এবং সেখানে সে আল্লাহকে পায়, অতঃপর তিনি তার হিসাব পূর্ণ করে দেন; আর আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। অথবা গভীর সমুদ্রের অন্ধকারের মতো, যাকে আচ্ছন্ন করে আছে ঢেউয়ের ওপর ঢেউ, যার ওপরে রয়েছে মেঘমালা; অন্ধকারের ওপর অন্ধকার। যখন সে তার হাত বের করে, তখন সে তা একেবারেই দেখতে পায় না। আর আল্লাহ যাকে নূর দান করেন না, তার জন্য কোনো নূর নেই।} 1.
যেহেতু ঈমানের বিষয়টি এমন মর্যাদাপূর্ণ এবং এর অনুসারীদের মাঝে এর অবস্থা এমন বৈশিষ্ট্যের, তাই ইলম অন্বেষী ও আলিমদের ওপর এটি আবশ্যক হয়ে পড়েছে যে তারা এর অধিকারীদের কাছে সঠিক ঈমান বর্ণনা করবেন এবং সত্য অন্বেষীদের কাছে সুস্পষ্ট সত্যকে ব্যাখ্যা করবেন; যাতে সত্য প্রকাশিত হয় ও এর শিখর সমুন্নত হয় এবং বাতিল দমিত হয় ও এর স্তম্ভসমূহ ধ্বংস হয়ে যায়। {আর আল্লাহ বাতিলকে মুছে দেন এবং তাঁর বাণীসমূহ দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন; নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।} 2, {যাতে তিনি সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বাতিলকে অসার প্রতিপন্ন করেন, যদিও অপরাধীরা তা অপছন্দ করে।} 3, ফলে দলিল প্রতিষ্ঠিত হবে, পথ স্পষ্ট হবে এবং পন্থা সুনিশ্চিত হবে, {যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} 4.
যখন আল্লাহ আমার ওপর অনুগ্রহ করলেন এবং আমাকে শরয়ী ইলম অন্বেষণের ও সেই পথে চলার এবং এই বরকতময় বিশ্ববিদ্যালয়ের—ইনশাআল্লাহ—বাগানে শিক্ষা গ্রহণ ও অধ্যয়ন চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সম্মানিত করলেন; আর যেহেতু এর উচ্চতর পর্যায়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য তার বিশেষায়িত ক্ষেত্রে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পেশ করা আবশ্যক ছিল, তাই আমি সমীচীন মনে করলাম যে আমার গবেষণাটি ঈমানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সম্পর্কে হোক। ফলে আমি দুটি মাসআলা নির্বাচন করেছি যা ঈমানের বড় মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এর গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়সমূহের অন্যতম; আর তা হলো: "ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি" এবং "এতে ইস্তিসনা (ইনশাআল্লাহ বলা)-এর বিধান"। ঈমানের অন্যান্য মাসআলা বাদ দিয়ে এই দুটি মাসআলা নির্বাচন করার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান কারণগুলো নিম্নরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ৯)
أولاً: أنهما من أهم وأكبر مسائل الإيمان، وبخاصة مسألة زيادة الإيمان ونقصانه، وقد رأيت شيخ الإسلام ابن تيمية يصفها بأنها مسألة كبيرة تحتاج إلى البسط والإطناب1، وهذا مما يدل على أهميتها وأهمية البحث فيها.
ثانياً: أن هاتين المسألتين لم تفردا ببحوث علمية مستقلة، تستوفي أطرافهما وتجمع شتاتهما، وإن كانتا قد كتب فيهما ضمناً في ثنايا الكتب، وألف فيهما رسائل صغيرة مفردة لكنها لا تفي بالمقصود2، وهي بالرغم من ذلك في حكم المفقود، وفي هذا أعظم دافع لإفرادهما ببحث مستقل.
ثالثاً: أن للسلف في هذين الموضوعين أقوالاً كثيرة نافعة، وهي متناثرة في بطون الكتب، فمن الجدير حقاً أن تجمع ويعتنى بها وتنسق وتصنف في مكان واحد ليتم الانتفاع بها، وتتسنى الاستفادة التامة منها.
رابعاً: أن هذين الموضوعين متعلقان بأهم مطلب وأعظم غاية وهو الإيمان، الذي فيه عزة الأمة ورفعتها وكمالها وسؤددها،
--------------------------------------------
প্রথমত: এই দুটি বিষয় ঈমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ মাসআলা, বিশেষ করে ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাসের মাসআলাটি। আমি দেখেছি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এটিকে এমন এক বিশাল মাসআলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও দীর্ঘ আলোচনার দাবি রাখে১, আর এটিই এর গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ বহন করে।
দ্বিতীয়ত: এই দুটি মাসআলা নিয়ে স্বতন্ত্র কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা করা হয়নি যা এর সকল দিককে পরিব্যাপ্ত করে এবং বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করে। যদিও বিভিন্ন কিতাবের অভ্যন্তরে প্রাসঙ্গিকভাবে এ সম্পর্কে লেখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কিছু পৃথক ছোট পুস্তিকা রচিত হয়েছে, তবে সেগুলো উদ্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট নয়২। তদুপরি সেগুলো বর্তমানে নিখোঁজ বা দুষ্প্রাপ্য হিসেবে গণ্য। আর এটিই এই বিষয় দুটিকে স্বতন্ত্র গবেষণার জন্য নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
তৃতীয়ত: এই দুটি বিষয়ে সালাফদের অনেক উপকারী বক্তব্য রয়েছে, যা বিভিন্ন কিতাবের গহীনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তাই এগুলোকে এক জায়গায় একত্রিত করা, এগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং সুশৃঙ্খল ও শ্রেণীবদ্ধ করা সত্যিই বাঞ্ছনীয়, যাতে এগুলোর মাধ্যমে উপকৃত হওয়া যায় এবং এ থেকে পূর্ণ ফায়দা হাসিল করা সম্ভব হয়।
চতুর্থত: এই দুটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা ও মহত্তম লক্ষ্য অর্থাৎ ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত, যার মধ্যে নিহিত রয়েছে উম্মতের মর্যাদা, উচ্চতা, পূর্ণতা এবং শ্রেষ্ঠত্ব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومتى ما تخلت عنه وضعف فيها هانت وذلت، وتكالبت عليها الشرور، وأشرفت على المهالك، وتداعى عليها الأعداء من كل جانب، ومن تدبر حال الأمة في هذه الأزمان ورأى ضعفها وهوانها علم ذلك، فلا بد من بيان الإيمان الذي هو سبب العزة وإيضاحه، ولا بد من بيان أسباب زيادته وقوته ونمائه، وأسباب ضعفه ونقصه وزواله، تبصيراً للأمة وتحذيراً.
خامساً: أن المبتدعة أهل الأهواء المخالفين لأهل السنة في مسألتينا كثر، ولهم دلائل مختلفة وشبه متنوعة، يخالفون بها الحق ويثيرون الشكوك حوله، فيجب تعريتها وبيان زيفها، وكشف باطلها، لئلا يلتبس الحق بالباطل، وإن من الصدقات المبرورة والأعمال المقبولة إماطة أنواع الأذى الحسية والمعنوية عن جادة المسلمين وسابلتهم.
لهذه الأسباب ولغيرها فضلت الكتابة حول هاتين المسألتين المهمتين، وإني لأرجو الله الكريم أن يكون ما كتبته وافياً نافعاً محققاً للمنشود.
هذا وقد قسمت بحثي هذا إلى مقدمة وتمهيد وثلاثة أبواب وخاتمة:
أما المقدمة: فهي هذه وقد بينت فيها أهمية الموضوع وأسباب اختياره وخطة السير فيه.
وأما التمهيد: فجعلت فيه مبحثين:
المبحث الأول: في تعريف الإيمان لغة وشرعاً وأقوال الطوائف فيه.
المبحث الثاني: في تعريف الزيادة والنقصان من حيث اللغة.
যখনই উম্মাহ এটি ছেড়ে দিয়েছে এবং তাদের মাঝে এটি দুর্বল হয়ে পড়েছে, তারা লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়েছে, তাদের ওপর অনিষ্ট ছেয়ে গিয়েছে, তারা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে এবং চারপাশ থেকে শত্রুরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বর্তমান যুগে যে ব্যক্তি উম্মাহর অবস্থা নিয়ে চিন্তা করবে এবং তাদের দুর্বলতা ও হীনতা দেখবে, সে তা উপলব্ধি করতে পারবে। অতএব, ঈমান—যা সম্মানের মূল কারণ—তা বর্ণনা করা ও সুস্পষ্ট করা আবশ্যক। তেমনিভাবে ঈমান বৃদ্ধি, শক্তি ও প্রবৃদ্ধির কারণসমূহ এবং এর দুর্বলতা, হ্রাস ও বিলুপ্তির কারণসমূহ বর্ণনা করাও অপরিহার্য, যাতে উম্মাহর জন্য তা অন্তর্দৃষ্টি ও সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য হয়।
পঞ্চম: আমাদের আলোচিত মাসআলা দুটিতে আহলে সুন্নাতের বিরোধী বিদআতী ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের সংখ্যা অনেক। সত্যের বিরোধিতা করার জন্য তাদের নানাবিধ প্রমাণ ও বিচিত্র সংশয় রয়েছে এবং তারা সত্য সম্পর্কে সন্দেহ উসকে দেয়। ফলে সত্য যেন মিথ্যার সাথে মিশে না যায়, সেজন্য তাদের মুখোশ উন্মোচন করা, তাদের দাবিগুলোর কৃত্রিমতা স্পষ্ট করা এবং তাদের বাতিল মতাদর্শকে প্রকাশ করে দেওয়া ওয়াজিব। নিশ্চয়ই মুসলমানদের পথ থেকে সকল প্রকার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও চারিত্রিক কষ্টদায়ক বিষয় দূর করা উত্তম সদকা ও কবুলযোগ্য আমলের অন্তর্ভুক্ত।
এসকল এবং অন্যান্য কারণে আমি এই গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা দুটির ওপর লিখতে অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমি মহান করুণাময় আল্লাহর কাছে আশা করি যে, আমার এই লেখা যেন পর্যাপ্ত ও উপকারী হয় এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়।
আমি আমার এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি:
ভূমিকা: এটি বর্তমান অংশ, যা আমি এখন লিখছি; এতে আমি বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণ এবং কর্মপরিকল্পনা বর্ণনা করেছি।
উপক্রমণিকা: এতে আমি দুটি পরিচ্ছেদ রেখেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে ঈমানের সংজ্ঞা এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন ফিরকার অভিমত।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক দিক থেকে বৃদ্ধি ও হ্রাসের সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأمّا الباب الأول: فتحدثت فيه عن قول أهل السنة والجماعة إن الإيمان يزيد وينقص.
وهو يتكون من أربعة فصول:
الفصل الأول: في أدلتهم من الكتاب والسنة ونقل بعض أقوالهم.
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: أدلتهم من القرآن الكريم.
المبحث الثاني: أدلتهم من السنة النبوية.
المبحث الثالث: ذكر بعض النقول عنهم في ذلك.
الفصل الثاني: أوجه زيادة الإيمان ونقصانه.
الفصل الثالث: أسباب زيادة الإيمان ونقصانه.
وفيه مبحثان:
المبحث الأول: أسباب زيادة الإيمان.
المبحث الثاني: أسباب نقصان الإيمان.
الفصل الرابع: في الكلام على الإسلام عندهم هل يزيد وينقص.
وأمّا الباب الثاني: فتحدثت فيه عن الأقوال المخالفة لقول أهل السنة والجماعة في مسألة زيادة الإيمان ونقصانه.
وفيه أربعة فصول:
الفصل الأول: قول من قال الإيمان يزيد وتوقف في النقصان.
الفصل الثاني: قول من قال الإيمان يزيد ولا ينقص.
আর প্রথম ভাগ: এতে আমি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের এই বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করেছি যে, ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।
আর এটি চারটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:
প্রথম অধ্যায়: কিতাব ও সুন্নাহ থেকে তাঁদের দলীলসমূহ এবং তাঁদের কিছু উক্তি উদ্ধৃত করা প্রসঙ্গে।
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনুল কারীম থেকে তাঁদের দলীলসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহে নববী থেকে তাঁদের দলীলসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এ বিষয়ে তাঁদের থেকে বর্ণিত কিছু উদ্ধৃতি উল্লেখ করা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাসের দিকসমূহ।
তৃতীয় অধ্যায়: ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাসের কারণসমূহ।
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ঈমান বৃদ্ধির কারণসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঈমান হ্রাসের কারণসমূহ।
চতুর্থ অধ্যায়: তাঁদের নিকট ইসলাম কি বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়—সে বিষয়ে আলোচনা।
আর দ্বিতীয় ভাগ: এতে আমি ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাসের মাসআলায় আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতের পরিপন্থী বক্তব্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি।
এতে চারটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: যারা বলেন ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাসের বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেন, তাঁদের বক্তব্য।
দ্বিতীয় অধ্যায়: যারা বলেন ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায় না, তাঁদের বক্তব্য।
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الثالث: قول من قال الإيمان لا يزيد ولا ينقص.
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: في ذكر القائلين بهذا القول.
المبحث الثاني: في ذكر أدلتهم وشبههم والرد عليهم.
المبحث الثالث: في بيان موقفهم من النصوص الدالة على زيادة الإيمان ونقصانه.
الفصل الرابع: في سبب الخلاف في هذه المسألة ونشأته وهل هو حقيقي أو لفظي.
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: في ذكر سبب نشوء الخلاف في هذه المسألة.
المبحث الثاني: في الكلام على الخلاف في هذه المسألة هل هو عائد إلى الخلاف في تعريف الإيمان أو لا.
المبحث الثالث: في بيان هل الخلاف في هذه المسألة لفظي أو حقيقي.
أما الباب الثالث: فتحدثت فيه عن حكم الاستثناء في الإيمان.
وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: في بيان مذهب أهل السنة والجماعة في هذه المسألة.
وفيه أربعة مباحث.
المبحث الأول: بيان قول أهل السنة والجماعة في الاستثناء
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যারা বলেন যে ঈমান বৃদ্ধি বা হ্রাস পায় না তাদের বক্তব্য।
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: যারা এই মত পোষণ করেন তাদের বিবরণ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাদের প্রমাণাদি ও সংশয়সমূহ উল্লেখ এবং সেগুলোর খণ্ডন।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাসের নির্দেশক দলীলসমূহের (নصوص) ব্যাপারে তাদের অবস্থানের বর্ণনা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় মতভেদের কারণ, এর উৎপত্তি এবং এটি প্রকৃত নাকি শাব্দিক মতভেদ।
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: এই মাসআলায় মতভেদ সৃষ্টির কারণ উল্লেখ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এই মাসআলার মতভেদটি কি ঈমানের সংজ্ঞার মতভেদের সাথে সংশ্লিষ্ট কি না, সে আলোচনা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এই মাসআলার মতভেদটি শাব্দিক নাকি প্রকৃত, তার বর্ণনা।
তৃতীয় অধ্যায়: এতে আমি ঈমানের ক্ষেত্রে ‘ইস্তিসনা’ (ব্যতিক্রম বা ইনশাআল্লাহ বলা)-এর বিধান সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাবের বর্ণনা।
এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইস্তিসনা-এর ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বক্তব্যের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ومأخذهم فيه وأدلتهم عليه.
المبحث الثاني: نقل أقوالهم في الاستثناء مع التوفيق بينها.
المبحث الثالث: ما ورد عنهم من تبديع السؤال بـ "أمؤمن أنت".
المبحث الرابع: في حكم الاستثناء في الإسلام.
الفصل الثاني: في بيان قول من قال بوجوب الاستثناء وذكر أدلتهم والرد عليها.
الفصل الثالث: في بيان قول من قال بعدم جواز الاستثناء وذكر أدلتهم والرد عليها.
أما الخاتمة: فقد تحدثت فيها عن خلاصة هذا البحث وأبرز النقاط التي توصلت إليها فيه.
ثم إني في الختام لأشكر الله العلي القدير على توفيقه وامتنانه وجوده وإحسانه حيث يسر لي إتمام هذا البحث، وأسأله سبحانه أن يجعله لوجهه خالصاً ولسنة نبيه صلى الله عليه وسلم موافقاً ولعباده نافعاً إنه جواد كريم.
ثم أشكر جميع من أسهم معي في هذا البحث بالرأي والمشورة والنصح والتوجيه. وأخص بالذكر والدي الكريم حفظه الله ورعاه الشيخ عبد المحسن العباد فقد قرأت عليه هذا البحث واستفدت من توجيهاته القيمة وإرشاداته السديدة المفيدة، فجزاه الله عني خير الجزاء ورفع مكانته وأجزل مثوبته وأعلى في الجنة درجته إن ربي لسميع الدعاء.
ثم أشكر شيخي الفاضل الأستاذ على بن ناصر فقيهي على ما بذله لي من نصح وحسن توجيه ورحابة صدر طيلة مدة الإشراف على هذه الرسالة.
এতে তাদের উৎস এবং এর স্বপক্ষে তাদের প্রমাণাদি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইস্তিসনা (ঈমানের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ বলা) সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করা এবং সেগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: "আপনি কি মুমিন?" - এই প্রশ্ন করাকে বিদআত ঘোষণা করা সম্পর্কে তাঁদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইসলামে ইস্তিসনার বিধান প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: যারা ইস্তিসনাকে ওয়াজিব বা আবশ্যক বলেছেন তাঁদের মতের বর্ণনা, তাঁদের প্রমাণাদি উল্লেখ এবং তার খণ্ডন।
তৃতীয় অধ্যায়: যারা ইস্তিসনা জায়েজ নয় বলেছেন তাঁদের মতের বর্ণনা, তাঁদের প্রমাণাদি উল্লেখ এবং তার খণ্ডন।
উপসংহার: এতে আমি এই গবেষণার সারসংক্ষেপ এবং এতে প্রাপ্ত প্রধান দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।
পরিশেষে, আমি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁর তৌফিক, করুণা, বদান্যতা ও অনুগ্রহের জন্য, যেহেতু তিনি আমার জন্য এই গবেষণাটি সম্পন্ন করা সহজ করে দিয়েছেন। আমি তাঁর পবিত্র সত্তার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন, তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর অনুসারী করেন এবং তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও অতিশয় দানশীল।
অতঃপর আমি এই গবেষণায় মতামত, পরামর্শ, উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশেষভাবে আমি আমার সম্মানিত পিতা—আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন ও রক্ষা করুন—শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদের কথা উল্লেখ করছি। আমি তাঁর নিকট এই গবেষণাটি পড়ে শুনিয়েছি এবং তাঁর মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও সঠিক ও ফলপ্রসূ উপদেশ থেকে উপকৃত হয়েছি। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, তাঁর সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দিন এবং জান্নাতে তাঁর মাকামকে উচ্চ করুন। নিশ্চয়ই আমার রব প্রার্থনা শ্রবণকারী।
এরপর আমি আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ অধ্যাপক আলী বিন নাসির ফাকীহীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এই গবেষণাপত্রটি তত্ত্বাবধানের পুরো সময়কালে আমাকে নসিহত, উত্তম দিকনির্দেশনা এবং ধৈর্য ও উদারতার সাথে সময় দেওয়ার জন্য।
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلاة الله وسلامه على نبيه الكريم، وعلى آله وصحبه أجمعين.
وكتبه عبد الرزاق البدر
في 23/5/1411هـ
আর আমাদের সর্বশেষ প্রার্থনা হলো, সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত নবীর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর।
এটি লিখেছেন আব্দুর রাজ্জাক আল-বাদর
২৩/৫/১৪১১ হিজরীতে।
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تمهيدوفيه مبحثان:
المبحث الأول: تعريف الإيمان لغة وشرعاً وأقوال الطوائف فيه.
المبحث الثاني: تعريف الزيادة والنقصان.
ভূমিকাএতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে ঈমানের সংজ্ঞা এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন দলের মতামত।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বৃদ্ধি ও হ্রাসের সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الأول: تعريف الإيمان لغة وشرعاً وأقوال الطوائف فيه
الإيمان لغة: مصدر آمن يؤمن إيماناً فهو مؤمن1، وأصل آمن أأمن بهمزتين لينت الثانية2، وهو من الأمن ضد الخوف3.
قال الراغب: "أصل الأمن طمأنينة النفس وزوال الخوف "4.
وقال شيخ الإسلام: ".. فإن اشتقاقه من الأمن الذي هو القرار والطمأنينة، وذلك إنما يحصل إذا استقر في القلب التصديق والإنقياد5.
وقد عرف الإيمان في اللغة بعدة تعريفات: فقيل هو التصديق، وقيل هو الثقة، وقيل هو الطمأنينة، وقيل هو الإقرار.
وقد اختار شيخ الإسلام في تعريف الإيمان اللغوي أنه بمعنى الإقرار، لأنه رأى لفظة أقر أصدق في الدلالة على معنى الإيمان من غيرها من الألفاظ التي فسر بها الإيمان، لأمور وأسباب ذكرها رحمه الله
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও শরীয়তি পরিভাষায় ঈমানের সংজ্ঞা এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন উপদলের বক্তব্য
আভিধানিক অর্থে ঈমান: এটি ‘আমানা’, ‘ইউ'মিনু’, ‘ঈমানান’ এর মাসদার (ক্রিয়ামূল), অতঃপর সে হলো মুমিন১। ‘আমানা’ শব্দটির মূল রূপ ছিল ‘আ’মানা’—দুটি হামযা বিশিষ্ট, যার দ্বিতীয় হামযাটিকে সহজ করা হয়েছে২। এটি ‘আমন’ (নিরাপত্তা) শব্দ থেকে উদ্ভূত, যা ‘খাওফ’ (ভীতি) এর বিপরীত৩।
আর-রাগিব বলেন: "আমন (নিরাপত্তা) এর মূল অর্থ হলো অন্তরের প্রশান্তি এবং ভীতির দূরীভূত হওয়া"৪।
শাইখুল ইসলাম বলেন: ".. নিশ্চয়ই এর ব্যুৎপত্তি ‘আমন’ (নিরাপত্তা) থেকে, যার অর্থ হলো স্থিতি ও প্রশান্তি। আর তা তখনই অর্জিত হয় যখন অন্তরে সত্যায়ন ও আনুগত্য বদ্ধমূল হয়৫।
আভিধানিক অর্থে ঈমানের বেশ কয়েকটি সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে: বলা হয়েছে এটি হলো সত্যায়ন করা, আবার বলা হয়েছে এটি হলো আস্থা রাখা, আবার বলা হয়েছে এটি হলো প্রশান্তি লাভ করা, এবং বলা হয়েছে এটি হলো স্বীকৃতি প্রদান করা।
শাইখুল ইসলাম ঈমানের আভিধানিক সংজ্ঞায় ‘স্বীকৃতি প্রদান করা’ অর্থটিকে গ্রহণ করেছেন। কারণ তিনি মনে করেন যে, ঈমানের অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘স্বীকৃতি দেওয়া’ শব্দটি অন্য যে সব শব্দ দ্বারা ঈমানের ব্যাখ্যা করা হয়েছে সেগুলোর তুলনায় অধিকতর সঠিক ও যথাযথ। এর স্বপক্ষে তিনি বেশ কিছু বিষয় ও কারণ উল্লেখ করেছেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يأتي الإشارة لبعضها. ثم إنه ناقش باستفاضة وافية وبتحقيق متين قول من ادعى أن الإيمان مرادف للتصديق، وذكر فروقاً بين التصديق والإيمان تمنع دعوى الترادف بينهما، ثم خلص من ذلك إلى أن أولى تفسير لغوي للإيمان هو الإقرار.
ويمكن أن نجمل الأمور التي ذكرها شيخ الإسلام في- دفع دعوى الترادف بين الإيمان والتصديق في النقاط التالية:
ا- أن لفظة آمن تختلف عن لفظة صدق من جهة التعدي، حيث إن آمن لا تتعدى إلا بحرف إما الباء أو اللام كما في قوله تعالى: {فَآمَنَ لَهُ لُوطٌ} 1، وقوله: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ} 2.
فيقال آمن به وآمن له، ولا يقال آمنه، بخلاف لفظة صدق فانه يصح تعديتها بنفسها فيقال صدقه.
2- أنه ليس بينهما ترادف في المعنى، فإن الإيمان لا يستخدم إلا في الأمور التي يؤتمن فيها المخبر مثل الأمور الغيبية، لأنه مشتق من الأمن، أما الأمور المشاهدة المحسوسة فهذه لا يصلح أن يقال فيها آمن وإنما يقال صدق، لأن كل مخبر عن مشاهدة أو غيب يقال له في اللغة صدقت كما يقال كذبت، أما لفظ الإيمان فلا يستعمل إلا في الخبر عن غائب.
3- أن لفظة إيمان في اللغة لا تقابل بالتكذيب، فإذا لم يصدق المخبر في خبره يقال كذبت، وإذا صدق يقال صدقت فيقال:
--------------------------------------------
সেগুলোর কোনো কোনোটির দিকে ইঙ্গিত সামনে আসবে। এরপর তিনি অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে এবং সুদৃঢ় তাহকিকের সাথে তাদের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করেছেন যারা দাবি করে যে, ঈমান এবং তাসদিক (সত্যায়ন) সমার্থক। তিনি তাসদিক ও ঈমানের মধ্যে এমন কিছু পার্থক্য উল্লেখ করেছেন যা এই দুইয়ের মধ্যে সমার্থকতাকে নাকচ করে দেয়। এরপর তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ঈমানের সর্বাপেক্ষা উত্তম আভিধানিক ব্যাখ্যা হলো 'ইকরার' (স্বীকৃতি)।
ঈমান ও তাসদিকের মধ্যে সমার্থকতা বা প্রতিশব্দ হওয়ার দাবি খণ্ডন করতে গিয়ে শাইখুল ইসলাম যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন, তা আমরা নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরতে পারি:
১- কর্মপদ গ্রহণের (তাদিইয়াহ) দিক থেকে 'আমানা' (ঈমান আনা) শব্দটি 'সাদ্দাকা' (সত্যায়ন করা) শব্দ থেকে ভিন্ন। কারণ 'আমানা' শব্দটি অব্যয় (হরফে যার) ব্যতীত ব্যবহৃত হয় না; এটি হয় 'বা' (ب) অথবা 'লাম' (ل) বর্ণের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর লুত তার প্রতি ঈমান আনলেন" (১), এবং তাঁর বাণী: "রাসূল তার প্রতি তার রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও" (২)।
তাই বলা হয় 'আমানা বিহি' (তাতে ঈমান আনল) এবং 'আমানা লাহু' (তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করল), কিন্তু সরাসরি 'আমানাহু' বলা হয় না। পক্ষান্তরে 'সাদ্দাকা' শব্দটির ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মপদ গ্রহণ করতে পারে, যেমন বলা হয় 'সাদ্দাকাহু' (তাকে সত্যায়ন করল)।
২- অর্থের দিক থেকেও এ দুইয়ের মাঝে কোনো সমার্থকতা নেই। কারণ 'ঈমান' শব্দটি কেবল এমন বিষয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় যেখানে সংবাদদাতার ওপর ভরসা বা বিশ্বাস রাখা হয়, যেমন গায়বি বা অদৃশ্যের বিষয়াবলি। কারণ এটি 'আমন' (নিরাপত্তা বা বিশ্বাস) থেকে উদ্ভূত। পক্ষান্তরে প্রত্যক্ষ বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়াবলির ক্ষেত্রে 'আমানা' বলা সংগত নয়, বরং সেখানে 'সাদ্দাকা' বলা হয়। কারণ কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা অদৃশ্যের যে কোনো সংবাদ দিক না কেন, ভাষাগতভাবে তাকে যেমন 'তুমি মিথ্যা বলেছ' বলা হয়, তেমনি 'তুমি সত্য বলেছ' বলা যায়। কিন্তু ঈমান শব্দটি কেবল অদৃশ্যের সংবাদের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।
৩- আভিধানিক দিক থেকে ঈমান শব্দের বিপরীতে 'তাকযিব' (মিথ্যা প্রতিপন্ন করা) ব্যবহৃত হয় না। কারণ সংবাদদাতা যদি তার সংবাদে সত্যবাদী না হয়, তবে বলা হয় 'তুমি মিথ্যা বলেছ', আর সত্যবাদী হলে বলা হয় 'তুমি সত্য বলেছ'। সুতরাং বলা হয়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
صدقناه: أو كذبناه، ولا يقال لكل مخبر آمنا له أو كذبناه، ولا يقال أنت مؤمن له أو مكذب له، بل المعروف في مقابلة الإيمان لفظ الكفر، يقال: هو مؤمن أو كافر، والكفر لا يختص بالتكذيب، بل لو قال: أنا أعلم أنك صادق لكن لا أتبعك بل أعاديك وأبغضك وأخالفك ولا أوافقك، لكان كفره أعظم، فلما كان الكفر المقابل للإيمان ليس هو التكذيب فقط، علم أن الإيمان ليس هو التصديق فقط.
4- أن الإيمان في اللغة مشتق من الأمن الذي هو ضد الخوف، فآمن أي صار داخلاً في الأمن، فهو متضمن مع التصديق معنى الائتمان والأمانة كما يدل عليه الاستعمال والاشتقاق، ولهذا قال إخوة يوسف لأبيهم {وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ} أي لا تقر بخبرنا ولا تثق به ولا تطمئن إليه ولو كنا صادقين، لأنهم لم يكونوا عنده ممن يؤتمن على ذلك، فلو صدقوا لم يأمن لهم. أما التصديق فلا يتضمن شيئاً من ذلك.
فهذه الأمور تدفع دعوى الترادف بين الإيمان والتصديق، كما يظنه طائفة من الناس، وبناء عليها فالإيمان ليس هو التصديق فحسب، وإنما هو تصديق وأمن أو تصديق وطمأنينة، وهو متضمن للالتزام بالمؤمن به سواء كان خبراً أو إنشاء، بخلاف لفظ التصديق المجرد، فمن أخبر غيره بخبر لا يتضمن طمأنينة إلى المخبر لا يقال فيه آمن له بخلاف الخبر الذي يتضمن طمأنينة إلى المخبر، والمخبر قد يتضمن خبره طاعة المستمع له وقد لا يتضمن إلا مجرد الطمأنينة إلى صدقه، فإذا تضمن طاعة المستمع لم يكن مؤمناً للمخبر إلا بالتزام طاعته مع تصديقه، فإن صدقه دون التزام بطاعته، فهذا يسمى تصديقاَ ولا يسمى
আমরা তাকে সত্য বলে মেনে নিলাম: অথবা আমরা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলাম। প্রত্যেক সংবাদদাতার ক্ষেত্রেই 'আমরা তাকে বিশ্বাস করলাম' অথবা 'তাকে আমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করলাম' বলা হয় না। আবার 'তুমি তার প্রতি বিশ্বাসী' কিংবা 'অস্বীকারকারী'—এমনও বলা হয় না। বরং ঈমানের বিপরীতে পরিচিত শব্দটি হলো কুফর, বলা হয়: সে মুমিন অথবা কাফির। আর কুফর কেবল মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং যদি কেউ বলে: 'আমি জানি যে আপনি সত্যবাদী, কিন্তু আমি আপনার অনুসরণ করব না, বরং আমি আপনার সাথে শত্রুতা করব, আপনাকে ঘৃণা করব এবং আপনার বিরোধিতা করব ও আপনার সাথে একমত হব না'—তবে তার কুফর হবে আরও গুরুতর। সুতরাং ঈমানের বিপরীতে অবস্থানকারী কুফর যেহেতু কেবল মিথ্যা প্রতিপন্ন করা নয়, সেহেতু এটি সুনিশ্চিত যে, ঈমান কেবল তসদিক বা সত্যায়নও নয়।
৪- ভাষাগতভাবে ঈমান শব্দটি 'আমন' (নিরাপত্তা) থেকে উদ্ভূত, যা ভয়ের বিপরীত। সুতরাং 'আমান' অর্থ হলো সে নিরাপত্তার অন্তর্ভুক্ত হলো। তাই সত্যায়নের পাশাপাশি এটি আমানতদারিতা এবং নির্ভরযোগ্যতার অর্থকেও শামিল করে, যেমনটি এর প্রয়োগ এবং শব্দমূল দ্বারা প্রমাণিত হয়। এই কারণেই ইউসুফ-এর ভাইয়েরা তাদের পিতাকে বলেছিল: {আর আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই}। অর্থাৎ আপনি আমাদের সংবাদ স্বীকার করবেন না, তাতে আস্থা রাখবেন না এবং তাতে আশ্বস্ত হবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই। কারণ তারা তার নিকট এমন ছিল না যাদেরকে এ বিষয়ে বিশ্বাস করা যায়। সুতরাং তারা সত্য বললেও তিনি তাদের প্রতি আশ্বস্ত হতে পারতেন না। পক্ষান্তরে তসদিক বা সত্যায়নের মধ্যে এর কোনো কিছুই অন্তর্ভুক্ত নেই।
এই বিষয়গুলো ঈমান এবং তসদিকের সমার্থক হওয়ার দাবিকে নাকচ করে দেয়, যেমনটি একদল লোক মনে করে থাকে। এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, ঈমান কেবল তসদিকই নয়, বরং তা হলো তসদিক ও নিরাপত্তা অথবা তসদিক ও প্রশান্তি। এটি যার ওপর ঈমান আনা হয়েছে তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়াকেও শামিল করে, চাই সেটি সংবাদ হোক কিংবা বিধান হোক; যা কেবল বিমূর্ত তসদিক শব্দের বিপরীত। সুতরাং কেউ যখন অন্যকে এমন কোনো সংবাদ দেয় যা সংবাদদাতার প্রতি কোনো আস্থার উদ্রেক করে না, তখন তার ক্ষেত্রে 'সে তাকে বিশ্বাস করেছে' (আমানা লাহু) বলা হয় না। পক্ষান্তরে যে সংবাদ সংবাদদাতার প্রতি আস্থার উদ্রেক করে, তার ক্ষেত্রে তা বলা হয়। আর সংবাদদাতার সংবাদের ক্ষেত্রে কখনও শ্রোতার আনুগত্যের দাবি থাকতে পারে, আবার কখনও কেবল তার সত্যতার ওপর আস্থার বিষয় থাকতে পারে। সুতরাং যখন এতে শ্রোতার আনুগত্যের বিষয় থাকে, তখন সে সংবাদদাতার প্রতি মুমিন হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না সে তার তসদিকের সাথে সাথে তার আনুগত্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। আর যদি সে আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি ছাড়াই কেবল সত্য বলে মেনে নেয়, তবে একে তসদিক বলা হয়, কিন্তু একে...
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ২০)
إيماناً1.
ولهذا فإن اللفظ المطابق لآمن من جهة اللغة هو لفظ أقر، لتوافقه مع لفظ آمن في الأمور المتقدمة، فإن الإيمان مأخوذ من الأمن الذي هو الطمأنينة كما أن لفظ الإقرار مأخوذ من يقر، وهو قريب من آمن يؤمن، لكن الصادق يطمئن إلى خبره والكاذب بخلاف ذلك كما يقال الصدق طمأنينة، والكذب ريبة، فالمؤمن دخل في الأمن كما أن المقر دخل في الإقرار، ولفظ الإقرار يتضمن الالتزام ثم إنه يكون على وجهين:
أحدهما: الإخبار، وهو من هذا الوجه كلفظ التصديق والشهادة ونحوهما، وهذا الإقرار الذي يذكره الفقهاء في كتاب الإقرار.
والثاني: إنشاء الالتزام كما في قوله تعالى: {أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ} 2 وليس هو هنا بمعنى الخبر المجرد فإنه سبحانه قال: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي} فهذا الالتزام للإيمان والنصر للرسول وكذلك لفظ الإيمان فيه إخبارٌ وإنشاءٌ والتزامٌ بخلاف لفظ التصديق المجرد3.
ولذا فالإيمان لغة هو الإقرار، لأن التصديق إنما يطابق الخبر فقط، وأما الإقرار فيطابق الخبر والأمر ولأن قر وآمن متقاربان، فالإيمان دخول
--------------------------------------------
ঈমান ১.
আর এই কারণেই ভাষাগত দিক থেকে 'আ-মানা' (ঈমান আনা) শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দ হলো 'আকাররা' (স্বীকৃতি দেওয়া), কারণ পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে এটি 'আ-মানা' শব্দের সাথে মিল রাখে। কেননা ঈমান শব্দটি 'আমন' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো প্রশান্তি; যেমনটি 'ইকরার' শব্দটি 'ইয়াকিররু' থেকে গৃহীত, যা 'আ-মানা ইউ'মিনু' এর কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে। তবে সত্যবাদী ব্যক্তি তার সংবাদের ওপর প্রশান্ত থাকে, কিন্তু মিথ্যাবাদী এর ব্যতিক্রম। যেমন বলা হয়: সত্য হলো প্রশান্তি এবং মিথ্যা হলো সংশয়। অতএব, মুমিন ব্যক্তি আমন বা প্রশান্তিতে প্রবেশ করেছে, যেমনটি ইকরারকারী ব্যক্তি স্বীকৃতির মধ্যে প্রবেশ করেছে। আর ইকরার শব্দটি অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতির অর্থকেও অন্তর্ভুক্ত করে। অতঃপর এটি দুই প্রকারের হয়:
এক: সংবাদ প্রদান; এই দিক থেকে এটি সত্যায়ন ও সাক্ষ্যপ্রদান এবং এই জাতীয় শব্দের ন্যায়। এটি হলো সেই ইকরার বা স্বীকৃতি যা ফকীহগণ তাদের 'স্বীকৃতি অধ্যায়' (কিতাবুল ইকরার)-এ উল্লেখ করে থাকেন।
দুই: অঙ্গীকার বা দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করা; যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: {তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এর ওপর আমার দেওয়া গুরুভার গ্রহণ করলে? তারা বলল: আমরা স্বীকার করলাম। তিনি বললেন: তবে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত রইলাম} ২। এখানে এটি কেবল নিছক সংবাদের অর্থে নয়; কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যখন আল্লাহ নবীদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের কাছে থাকা বিষয়ের সত্যায়নকারী হিসেবে যখন একজন রাসূল আসবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর ওপর ঈমান আনবে এবং অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন: তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এর ওপর আমার দেওয়া গুরুভার গ্রহণ করলে?} সুতরাং এটি ছিল ঈমান আনা এবং রাসূলকে সাহায্য করার অঙ্গীকার। অনুরূপভাবে ঈমান শব্দটির মধ্যেও সংবাদ প্রদান, অঙ্গীকার সৃষ্টি এবং প্রতিশ্রুতির অর্থ রয়েছে, যা কেবল নিছক সত্যায়ন শব্দের মধ্যে নেই ৩।
আর এই কারণে অভিধানের দৃষ্টিতে ঈমান হলো ইকরার বা স্বীকৃতি প্রদান। কারণ সত্যায়ন কেবল সংবাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, কিন্তু ইকরার বা স্বীকৃতি সংবাদ এবং আদেশ উভয়ের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর যেহেতু 'কাররা' এবং 'আ-মানা' শব্দ দুটি অর্থগতভাবে কাছাকাছি, তাই ঈমান হলো প্রবেশ করা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ২১)
في الأمن، والإقرار دخول في القرار1.
لهذه الأسباب ولغيرها رأى شيخ الإسلام رحمه الله أن أصلح تعريف للإيمان من جهة اللغة هو الإقرار.
قال رحمه الله: "ومعلوم أن الإيمان هو الإقرار لا مجرد التصديق، والإقرار ضمن قول القلب الذي هو التصديق وعمل القلب الذي هو الانقياد) 2.
وقال رحمه الله: "
… فكان تفسيره بلفظ الإقرار أقرب من تفسيره بلفظ التصديق، مع أن بينهما فرقاً"3.
فالمختار إذا أن لفظة آمن لغة بمعنى أقر، والإيمان لغة هو الإقرار
القلبي، وهذا الإقرار مشتمل على أمرين:
1- اعتقاد القلب وهو تصديقه بالأخبار.
2- عمل القلب وهو إذعانه وانقياده للأوامر.
هذا من جهة اللغة.
أما شرعاً: فهو عند أهل السنة والجماعة قول وعمل، قال شيخ الإسلام ابن تيمية في معرض بيانه لعقيدة أهل السنة والجماعة وأصولهم التي اتفقوا عليها:
"ومن أصول أهل السنة والجماعة أن الدين والإيمان قول وعمل، قول القلب واللسان،- وعمل القلب واللسان والجوارح4.
--------------------------------------------
নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে, এবং ইকরার (স্বীকৃতি) হলো স্থিরতার (কারার) মধ্যে প্রবেশ করা১।
এসব এবং অন্যান্য কারণে শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) মনে করেছেন যে, আভিধানিক দিক থেকে ঈমানের সবচেয়ে উপযুক্ত সংজ্ঞা হলো ইকরার (স্বীকৃতি)।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এটি জানা কথা যে, ঈমান হলো ইকরার (স্বীকৃতি), কেবল তাসদিক (বিশ্বাস) নয়। আর ইকরার হলো অন্তরের কথা—যা তাসদিক (বিশ্বাস) এবং অন্তরের কাজ—যা ইনকিয়াদ (আনুগত্য)-এর অন্তর্ভুক্ত" ২।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: "
… তাই এর ব্যাখ্যা 'ইকরার' শব্দ দিয়ে করা 'তাসদিক' শব্দ দিয়ে করার চেয়ে অধিকতর নিকটতর বা সঠিক, যদিও এ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে" ৩।
সুতরাং পছন্দনীয় মত হলো এই যে, আভিধানিক দিক থেকে 'আমানা' শব্দটি 'আক্বাররা' (স্বীকৃতি দেওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং আভিধানিক অর্থে ঈমান হলো অন্তরের স্বীকৃতি,
আর এই স্বীকৃতি দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:
১- অন্তরের বিশ্বাস, যা হলো সংবাদসমূহকে সত্য বলে মেনে নেওয়া (তাসদিক)।
২- অন্তরের আমল (কাজ), যা হলো নির্দেশাবলির প্রতি বশ্যতা ও আনুগত্য প্রকাশ করা।
এটি হলো আভিধানিক দিক থেকে।
আর শরীয়তের পরিভাষায়: এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের নিকট কথা ও কাজ; শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকিদা এবং তাঁদের সর্বসম্মত মূলনীতিসমূহ বর্ণনার প্রসঙ্গে বলেন:
"আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের অন্যতম মূলনীতি হলো— দীন ও ঈমান হলো কথা ও কাজ; অন্তরের কথা ও জিহ্বার কথা, এবং অন্তরের কাজ, জিহ্বার কাজ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ" ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ২২)
فهذه خمسة أمور اشتمل عليها مسمى الإيمان عند أهل السنة والجماعة: قول القلب، وعمله، وقول اللسان، وعمله، وعمل الجوارح. والأدلة على دخول هذه الأمور في مسمى الإيمان كثيرة وفيرة وفيما يلي ذكر بعضها:
أولاً: قول القلب، وهو تصديقه وإيقانه، قال الله تعالى: {وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ أُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ عِنْدَ رَبِّهِمْ ذَلِكَ جَزَاءُ الْمُحْسِنِينَ} 1 وقال تعالى: {وَكَذَلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَلِيَكُونَ مِنَ الْمُوقِنِينَ} 2 وقال تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا} 3 وقال تعالى في المرتابين الشاكين {يَقُولُونَ بِأَفْوَاهِهِمْ مَا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ} 4.
وفي حديث الشفاعة "يخرج من النار من قال لا إله إلا الله وفي قلبه من الخير ما يزن شعيرة"5، وغير ذلك من الأدلة.
ثانياً: قول اللسان وهو النطق بالشهادتين شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، والإقرار بلوازمهما، قال الله تعالى: {قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى
--------------------------------------------
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট ঈমানের সংজ্ঞায় এই পাঁচটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত: অন্তরের কথা, অন্তরের কাজ, জিহ্বার কথা, জিহ্বার কাজ এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজ। ঈমানের সংজ্ঞায় এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ার স্বপক্ষে প্রচুর প্রমাণ রয়েছে এবং নিম্নে তার কিছু উল্লেখ করা হলো:
প্রথমত: অন্তরের কথা, আর তা হলো তার সত্যায়ন ও দৃঢ় বিশ্বাস। মহান আল্লাহ বলেন: "আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্য বলে গ্রহণ করেছে, তারাই তো মুত্তাকী। তাদের রবের কাছে তারা যা চাইবে তা-ই তাদের জন্য রয়েছে। এটাই ইহসানকারীদের পুরস্কার।" ১ এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর এভাবেই আমি ইবরাহীমকে আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব দেখাই, যাতে সে দৃঢ় বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।" ২ এবং মহান আল্লাহ বলেন: "তারাই তো মুমিন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারপর সন্দেহ পোষণ করেনি।" ৩ আর সংশয়ী ও সন্দেহ পোষণকারীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: "তারা তাদের মুখে তা বলে যা তাদের অন্তরে নেই।" ৪।
শাফায়াতের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি বলবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং যার অন্তরে একটি যব পরিমাণও কল্যাণ বিদ্যমান থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।" ৫, এবং আরও অন্যান্য প্রমাণাদি রয়েছে।
দ্বিতীয়ত: জিহ্বার কথা, আর তা হলো দুই শাহাদাত পাঠ করা—অর্থাৎ এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল—এবং এগুলোর দাবি বা আবশ্যকীয় বিষয়সমূহকে স্বীকার করে নেওয়া। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি এবং যা ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা মূসাকে দেওয়া হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} 1، وقال تعالى: {وَإِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ قَالُوا آمَنَّا بِهِ إِنَّهُ الْحَقُّ} 2، وقال تعالى: {وَقُلْ آمَنْتُ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ كِتَابٍ} 3، وقال تعالى: {إِلَاّ مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} 4، وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا فَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ} 5، وقال صلى الله عليه وسلم: " أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا ألا إله إلا الله وأنى رسول الله.. "6 وما في معنى هذا من النصوص.
ثالثاً: عمل القلب، وهو النية والإخلاص والمحبة والإنقياد والإقبال على الله عز وجل والتوكل عليه ولوازم ذلك وتوابعه، قال الله تعالى: {وَلا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ} 7 وقال: {مَا لأَحَدٍ عِنْدَهُ مِنْ نِعْمَةٍ تُجْزَى إِلَاّ ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِ الأَعْلَى} 8، وقال: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَاناً وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} 9،
--------------------------------------------
এবং ঈসা ও তাঁদের রবের পক্ষ থেকে নবীগণকে যা কিছু প্রদান করা হয়েছে, আমরা তাঁদের কারো মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই প্রতি অনুগত (মুসলিম)} ১, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তাদের নিকট তা পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে: আমরা এর ওপর ঈমান এনেছি, নিশ্চয়ই এটি সত্য} ২, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং বল: আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন আমি তার ওপর ঈমান এনেছি} ৩, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তবে তারা ব্যতীত যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং তারা জানে} ৪, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর তারা অবিচল থাকে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} ৫, এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে মানুষের সাথে লড়াই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল..." ৬ এবং এই অর্থের অনুরূপ অন্যান্য দলীলসমূহ।
তৃতীয়ত: অন্তরের আমল, আর তা হলো নিয়ত, ইখলাস (একনিষ্ঠতা), ভালোবাসা, আনুগত্য, মহান আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ করা ও তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করা এবং এর আনুষঙ্গিক ও অনুগামী বিষয়সমূহ। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি তাদেরকে তাড়িয়ে দেবেন না যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে, তারা তাঁর চেহারা কামনা করে} ৭ এবং তিনি বলেন: {তার ওপর কারো এমন কোনো অনুগ্রহ নেই যার প্রতিদান দিতে হবে, কেবল তার সুউচ্চ রবের চেহারা অন্বেষণ ব্যতীত} ৮, এবং তিনি বলেন: {মুমিন তো তারাই যাদের নিকট যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয় তখন তাদের অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হয় এবং যখন তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দেয় এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে} ৯,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال: {وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ} 1، وغير ذلك من النصوص الدالة على وجوب التوكل والخوف والرجاء والخشية والخضوع والإنابة وغير ذلك من أعمال القلوب، وهي كثيرة جداً في الكتاب والسنة.
رابعاً: عمل اللسان، وهو العمل الذي لا يؤدى إلا به كتلاوة القرآن وسائر الأذكار من التسبيح والتحميد والتكبير والدعاء والاستغفار وغير ذلك من الأعمال التي تؤدى باللسان، قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرّاً وَعَلانِيَةً يَرْجُونَ تِجَارَةً لَنْ تَبُورَ} 2، وقال: {وَاتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ كِتَابِ رَبِّكَ لا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ} 3، وقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْراً كَثِيراً * وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلاً} 4. وقال: {وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} 5. وغير ذلك من نصوص الشرع الدالة على أعمال اللسان والطاعات التي تؤدى به.
خامساً: عمل الجوارح، وهو العمل الذي لا يؤدى إلا بها مثل القيام والركوع والسجود والمشي في مرضاة الله كنقل الخطا إلى المساجد وإلى الحج والجهاد في سبيل الله، وغير ذلك من الأعمال التي تؤدى بالجوارح، قال الله
--------------------------------------------
এবং তিনি বলেছেন: {আর যারা যা দান করার তা দান করে এই অবস্থায় যে, তাদের অন্তরসমূহ ভীত-সন্ত্রস্ত, কারণ তারা তাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী} ১। এ ছাড়াও অন্যান্য আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে যা তাওয়াক্কুল, ভয়, আশা, ভীতি, বিনয়, রবের অভিমুখী হওয়া এবং অন্তরের অন্যান্য আমল আবশ্যক হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে। কিতাব ও সুন্নাহতে এ সংক্রান্ত অনেক দলিল বিদ্যমান।
চতুর্থত: জিহ্বার আমল। আর এটি এমন আমল যা জিহ্বা ব্যতীত আদায় করা যায় না, যেমন—কুরআন তিলাওয়াত এবং তাসবীহ, তাহমীদ, তাকবীর, দুআ, ইস্তিগফারসহ অন্যান্য সকল জিকির এবং জিহ্বার মাধ্যমে সম্পাদিত অন্যান্য আমলসমূহ। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনও ধ্বংস হবে না} ২। তিনি আরও বলেন: {তোমার প্রতি তোমার রবের কিতাব হতে যা ওহী করা হয়েছে তা পাঠ করো, তাঁর বাণীসমূহ পরিবর্তন করার কেউ নেই} ৩। তিনি আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো} ৪। তিনি আরও বলেন: {আর তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} ৫। এ ছাড়াও শরীয়তের আরও অনেক দলিল রয়েছে যা জিহ্বার আমল এবং এর মাধ্যমে সম্পাদিত আনুগত্যের কার্যাবলির ওপর প্রমাণ বহন করে।
পঞ্চমত: অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল। আর এটি এমন আমল যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যতীত সম্পন্ন হয় না, যেমন—দাঁড়ানো, রুকু করা, সেজদা করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে হাঁটা; যেমন মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া এবং হজ ও আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে গমন করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সম্পাদিত অন্যান্য আমলসমূহ। আল্লাহ বলেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تعالى: {وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} 1، وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ} 2، وقال تعالى: {وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْناً وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلاماً* وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّداً وَقِيَاماً} 3، والنصوص في هذا كثيرة جداً4.
قال محمد بن حسين الآجري في باب "القول بأن الإيمان تصديق بالقلب، وإقرار باللسان، وعمل بالجوارح، لا يكون مؤمناً إلا أن يجتمع فيه هذه الخصال الثلاث "قال: "اعلموا رحمنا الله وإياكم أن الذي عليه علماء المسلمين أن الإيمان واجب على جميع الخلق، وهو تصديق بالقلب وإقرار باللسان وعمل بالجوارح.
ثم اعلموا أنه لا تجزىء المعرفة بالقلب والتصديق إلا أن يكون معه الإيمان باللسان نطقاً، ولا تجزىء معرفة القلب ونطق اللسان حتى يكون عمل بالجوارح، فإذا كملت فيه هذه الثلاث الخصال كان مؤمناً، دل على ذلك الكتاب والسنة وقول علماء المسلمين.."5.
ثم ساق من النصوص القرآنية، والأحاديث النبوية، والآثار السلفية ما يدل على ذلك ويؤيده.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াও} ১, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা রুকু করো, সিজদাহ করো, তোমাদের রবের ইবাদত করো এবং সৎকাজ করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। আর তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা উচিত; তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন} ২, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর দয়াময় আল্লাহর বান্দা তারাই, যারা জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন মূর্খরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, সালাম। আর যারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত অতিবাহিত করে} ৩, এই বিষয়ে দলীলসমূহ অত্যন্ত অধিক। ৪
মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আল-আজুররী এই পরিচ্ছেদে বলেন, "এই উক্তি যে—ঈমান হলো অন্তরের বিশ্বাস, জিহ্বার স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল; কেউ মুমিন হতে পারে না যতক্ষণ না তার মধ্যে এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটে।" তিনি বলেন: "জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের প্রতি রহম করুন—নিশ্চয়ই মুসলিম উলামাগণ যে বিষয়ের ওপর একমত তা হলো, ঈমান সমস্ত সৃষ্টির ওপর ওয়াজিব এবং তা হলো অন্তরের বিশ্বাস, জিহ্বার স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল।
অতঃপর জেনে রাখুন যে, কেবল অন্তরের পরিচিতি ও বিশ্বাস যথেষ্ট হবে না যতক্ষণ না তার সাথে মৌখিক উচ্চারণসহ ঈমান থাকে। আবার অন্তরের পরিচিতি ও মৌখিক উচ্চারণও যথেষ্ট হবে না যতক্ষণ না অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল থাকে। সুতরাং যখন কারও মধ্যে এই তিনটি বৈশিষ্ট্য পূর্ণ হবে, তখনই সে মুমিন হবে। কিতাব, সুন্নাহ এবং মুসলিম উলামাদের বক্তব্য এর ওপর প্রমাণ নির্দেশ করে..." ৫।
এরপর তিনি কুরআনের আয়াত, নববী হাদীস এবং সালাফদের আসার থেকে এমন সব দলীল পেশ করেছেন যা একে প্রমাণ ও সমর্থন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
هذا هو تعريف الإيمان عند أهل السنة والجماعة، أما الطوائف الأخرى فيمكن تقسيم قولهم في الإيمان إلى قسمين: قسم يدخلون العمل في الإيمان ويجعلونه شرطاً في صحة الإيمان، وقسم يخرجون العمل من الإيمان وهم أقسام ويجمعهم وصف الإرجاء.
أما أهل القسم الأول فهم الخوارج والمعتزلة، يقولون: إن الإيمان قول واعتقاد وعمل، لكن الإيمان عندهم كل واحد لا يتجزأ إذا ذهب بعضه ذهب كله فمن أخل بالأعمال ذهب إيمانه باتفاق الطائفتين، وهو كافر عند الخوارج وفي منزلة بين المنزلتين عند المعتزلة1.
وفساد هذا القول ظاهر، فإن نصوص الكتاب والسنة الدالة على تبعض الإيمان وتفاضله وزيادته ونقصانه كثيرة جداً، وسيأتي بسطها إن شاء الله في هذا البحث.
وأما أهل القسم الثاني وهم المرجئة، فهؤلاء ثلاثة أصناف:
1- صنف يقولون: الإيمان مجرد ما في القلب، ثم من هؤلاء من يدخل فيه أعمال القلوب وهم أكثر المرجئة، ومنهم من لا يدخلها في الإيمان كجهم ومن اتبعه.
2- وصنف يقولون: هو مجرد قول اللسان وهذا لا يعرف لأحد قبل الكرامية.
3- وصنف يقولون: هو تصديق القلب وقول اللسان، وهذا هو المشهور عن أهل الفقه والعبادة منهم 2.
--------------------------------------------
এটি হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের নিকট ঈমানের সংজ্ঞা। আর অন্যান্য দলসমূহের ক্ষেত্রে ঈমান সম্পর্কে তাদের বক্তব্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: একদল আমলকে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং একে ঈমান সঠিক হওয়ার শর্ত হিসেবে গণ্য করেন; আর অন্যদল আমলকে ঈমান থেকে বের করে দেন, তারা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত এবং তাদের সবাইকে 'ইরজা' বিশেষণের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত হলো খাওয়ারিজ ও মু'তাযিলাগণ। তারা বলে: ঈমান হলো মৌখিক স্বীকৃতি, অন্তরের বিশ্বাস এবং আমল করা। কিন্তু তাদের নিকট ঈমান এমন একটি অবিভাজ্য একক, যার কোনো অংশ চলে গেলে সবটুকুই চলে যায়। সুতরাং যে ব্যক্তি আমলের ক্ষেত্রে ত্রুটি করল, উভয় দলের ঐকমত্য অনুযায়ী তার ঈমান চলে গেল। সে খাওয়ারিজদের মতে কাফের এবং মু'তাযিলাদের মতে 'দুই অবস্থানের মাঝামাঝি একটি অবস্থানে' অবস্থানকারী।১
এই মতবাদের অসারতা স্পষ্ট, কারণ কুরআন ও সুন্নাহর অসংখ্য দলিল ঈমানের বিভাজনযোগ্যতা, তারতম্য এবং হ্রাস-বৃদ্ধির প্রমাণ দেয়। ইনশাআল্লাহ এই গবেষণায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
আর দ্বিতীয় দলের অন্তর্ভুক্ত হলো মুরজিআগণ, তারা তিন প্রকার:
১- এক শ্রেণি বলে: ঈমান হলো নিছক যা অন্তরে থাকে। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্তরের আমলসমূহকে এর অন্তর্ভুক্ত করেন এবং তারাই অধিকাংশ মুরজিআ। আবার কেউ কেউ সেগুলোকে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেন না, যেমন জাহম ও তার অনুসারীরা।
২- অন্য এক শ্রেণি বলে: এটি কেবল মৌখিক স্বীকৃতি; আর এটি কাররামিয়াহদের আগে অন্য কারো পক্ষ থেকে জানা যায়নি।
৩- আর এক শ্রেণি বলে: এটি হলো অন্তরের বিশ্বাস ও মৌখিক স্বীকৃতি। তাদের মধ্যে যারা ফিকহ ও ইবাদতের অনুসারী ছিলেন, তাদের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وأخبث هذه الأقوال وأكثرها فساداً قول جهم ومن اتبعه أن الإيمان مجرد المعرفة القلبية فإن لازم هذا القول أن يكون إبليس وفرعون وغيرهما من رءوس الضلال مؤمنين كاملي الإيمان، ثم يليه في الفساد قول الكرامية أن الإيمان هو قول اللسان فقط، ويلي هذا القول قول مرجئة الفقهاء أن الإيمان اعتقاد في القلب وقول باللسان.
وجميع هذه الأقوال مباينة للحق مخالفة للصواب الوارد في الكتاب والسنة، والمنقول عن سلف الأمة في تعريف الإيمان وأنه شامل للأقوال والاعتقادات والأعمال، وقد ذكرت من أدلتهم على ذلك آنفاً ما يكفي في بيان المقصود ويفي ببيان المنشود، فإذا علم أن قولهم هو الحق الذي لا ريب فيه يعلم أن قول غيرهم هو الباطل الذي لا ريب فيه، وبطلانه وفساده يكون بحسب بعده عن الحق الوارد في الكتاب والسنة.
ثم ليعلم في ختام هذا القول المقتضب في أقوال الناس في تعريف الإيمان أن الخطأ في اسم الإيمان ليس كالخطأ في اسم محدث ولا كالخطأ في غيره من الأسماء، لأن أحكام الدنيا والآخرة متعلقة باسم الإيمان والإسلام والكفر والنفاق1، وهذا يؤكد وجوب فهم الإيمان فهماً صحيحاً مستمداًً من الكتاب والسنة دون إفراط أو تفريط، وقد أثبت فيما سبق أنه لا صواب في ذلك غير قول أهل السنة والجماعة، وبالله التوفيق.
--------------------------------------------
আর এই বক্তব্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য এবং সবচেয়ে বেশি ভ্রান্ত হলো জহম ও তার অনুসারীদের বক্তব্য যে, ঈমান হলো নিছক অন্তরের পরিচয় বা জ্ঞান। কারণ এই বক্তব্যের অনিবার্য অর্থ দাঁড়ায় যে, ইবলিস, ফেরাউন এবং পথভ্রষ্টতার অন্যান্য শিরোমণিরাও পূর্ণাঙ্গ মুমিন। এরপর ভ্রান্তির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কাররামিয়াদের বক্তব্য যে, ঈমান হলো কেবল মুখের কথা। এই বক্তব্যের পরে রয়েছে মুরজিআতুল ফুকাহাদের বক্তব্য যে, ঈমান হলো অন্তরের বিশ্বাস এবং মুখের কথা।
আর এই সবকটি বক্তব্যই সত্যের পরিপন্থী এবং কিতাব ও সুন্নাহর সঠিক নির্দেশনার বিরোধী। উম্মতের সালাফদের থেকে ঈমানের যে সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে এটি তারও বিপরীত। সালাফদের মতে, ঈমান কথা, বিশ্বাস এবং আমল—সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এর সপক্ষে তাদের দলিলসমূহ আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যা উদ্দিষ্ট বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণে সক্ষম। সুতরাং যখন এটি জানা গেল যে তাদের বক্তব্যই সন্দেহাতীত সত্য, তখন এটিও স্পষ্ট হয়ে গেল যে তাদের বাইরের অন্যদের বক্তব্য নিঃসন্দেহে বাতিল। আর কিতাব ও সুন্নাহর সত্য থেকে কোনো বক্তব্য যত দূরে হবে, তার বাতুলতা ও ভ্রান্তি তত বেশি হবে।
ঈমানের সংজ্ঞা নিয়ে মানুষের বিভিন্ন বক্তব্য সংক্রান্ত এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার শেষে এটি জেনে রাখা আবশ্যক যে, ‘ঈমান’ শব্দের সংজ্ঞায় ভুল করা অন্য কোনো নব্য পরিভাষা বা সাধারণ নামের ভুলের মতো নয়। কারণ দুনিয়া ও আখিরাতের বিধানসমূহ ঈমান, ইসলাম, কুফর এবং নিফাক নামের সাথেই সম্পৃক্ত। এটি কিতাব ও সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত ঈমানের সঠিক উপলব্ধির আবশ্যকতাকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে, যেখানে কোনো প্রকার অতিরঞ্জন বা শিথিলতা থাকবে না। ইতিপূর্বে আমি প্রমাণ করেছি যে, এই বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনোটি সঠিক নয়। আর আল্লাহর তাওফীকই কাম্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المبحث الثاني: تعريف الزيادة والنقصان
قبل الشروع في ذكر ما يتعلق بزيادة الإيمان ونقصانه من أقوال وأدلة يحسن أن أعرف بمعناهما من حيث اللغة، فأقول:
الزيادة: هي مصدر زاد يزيد زيداً وزيادة، فازداد.
يقولون: زدته أزيده زيداً وزيادة، فازداد.
وهو أصل يدل على: الفضل، وقيل: النمو وهو الزيادة على الشيء من جنسه، أي أن ينضم إلى ما عليه الشيء في نفسه شيء آخر، وهي نوعان:
زيادة محمودة: كزيادة العلم والإيمان والصحة ومنه قوله تعالى: {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ} 1، وقوله: {وَزَادَهُ بَسْطَةً فِي الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ} 2 أي أعطاه من العلم والجسم قدراً زائداً على ما أعطى أهل زمانه.
وزيادة مذمومة: كالزيادة على الكفاية، كالزائد على الكفاية كزائد الأصابع، والزوائد في قوائم الدابة، وزيادة الكبد، ومن هذا النوع قول الله تعالى: {فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضاً} 3، وقوله: {وَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বৃদ্ধি এবং হ্রাসের সংজ্ঞা
ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস সংক্রান্ত বক্তব্য এবং দলীলসমূহ আলোচনা করার পূর্বে আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ দুটির অর্থ সংজ্ঞায়িত করা সমীচীন মনে করছি। আমি বলছি:
বৃদ্ধি (যিয়াদাহ্): এটি ‘যাদা-ইয়াযীদু-যাইদান-ওয়া-যিয়াদাতান’ থেকে উদ্গত মাসদার (মূলশব্দ), যা থেকে ‘ইযদাদা’ গঠিত হয়।
বলা হয়ে থাকে: আমি তাকে বাড়িয়েছি, ফলে তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এটি এমন একটি মূল যা আধিক্য বা শ্রেষ্ঠত্ব নির্দেশ করে। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো প্রবৃদ্ধি, আর তা হলো কোনো বস্তুর সাথে তার সমজাতীয় কোনো কিছুর অতিরিক্ত সংযোগ হওয়া; অর্থাৎ বস্তুটির নিজের সত্তায় যা আছে তার সাথে অন্য কিছু যুক্ত হওয়া। এটি দুই প্রকার:
প্রশংসনীয় বৃদ্ধি: যেমন জ্ঞান, ঈমান এবং সুস্থতার বৃদ্ধি। মহান আল্লাহর বাণী এর অন্তর্ভুক্ত: {যারা কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত এবং আরও অধিক} ১, এবং তাঁর বাণী: {তিনি তাকে জ্ঞানে ও দেহে প্রাচুর্য দান করেছেন} ২ অর্থাৎ তিনি তাকে জ্ঞান ও দেহের এমন পরিমাণ দান করেছেন যা তাঁর সমসাময়িকদের দেওয়া পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত।
নিন্দনীয় বৃদ্ধি: যেমন প্রয়োজনের অতিরিক্ত বৃদ্ধি; যেমন অতিরিক্ত আঙুল হওয়া, চতুষ্পদ প্রাণীর পায়ে অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড, এবং কলিজার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন} ৩, এবং তাঁর বাণী: {আর যাদের অন্তরে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مَرَضٌ فَزَادَتْهُمْ رِجْساً إِلَى رِجْسِهِمْ وَمَاتُوا وَهُمْ كَافِرُونَ} 1، فهذه زيادة فيما لا خير فيه فهي مذمومة2.
النقصان: هو مصدر نقص ينقص نقصاً ونقصاناً، والنون والقاف والصاد كلمة واحدة يراد بها خلاف الزيادة، أو الخسران في الحظ.
والنقصان يكون مصدراً، ويكون قدر الشيء الذاهب من المنقوص، وهو اسم له.
فتقول: نقصان الشيء، كذا، أي: قدر الذاهب منه.
مما جاء في التنزيل من هذه المادة، قوله تعالى: {وَنَقْصٍ مِنَ الأَمْوَالِ وَاْلأَنْفُسِ} 3، وقوله: {وَإِنَّا لَمُوَفُّوهُمْ نَصِيبَهُمْ غَيْرَ مَنْقُوصٍ} 4، أي: وافياً كاملاً5.
التفاضل: سترد هذه الكلمة كثيراً في هذا البحث فمن المناسب تعريفها هنا فالتفاضل: هو مصدر: فضل يفضل فضلاً، والفاء والضاد
--------------------------------------------
"...অসুস্থতা, অতঃপর তা তাদের অপবিত্রতার সাথে আরও অপবিত্রতা বৃদ্ধি করেছে এবং তারা কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।} ১, সুতরাং এটি এমন বিষয়ে বৃদ্ধি যাতে কোনো কল্যাণ নেই, তাই এটি নিন্দনীয়। ২
নুকসান (ঘাটতি): এটি নাকা-সা ইয়ানকু-সু নাকা-সান ও নুকসা-নান এর ক্রিয়ামূল বা মাসদার। নুন, ক্বাফ এবং সোয়াদ—এই তিনটি বর্ণ মিলে একটি শব্দমূল গঠিত যা বৃদ্ধির বিপরীত বা ভাগ্যে ক্ষতির অর্থ প্রকাশ করে।
নুকসান শব্দটি মাসদার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, আবার কোনো বস্তু থেকে যা কমে গিয়েছে তার পরিমাণকেও বোঝানো হয় এবং এটি সেই পরিমাণের নাম।
তাই আপনি বলেন: কোনো জিনিসের নুকসান বা ঘাটতি এতটুকু, অর্থাৎ: তা থেকে যতটুকু অংশ চলে গিয়েছে তার পরিমাণ।
পবিত্র কুরআনে এই শব্দমূল থেকে যা এসেছে তার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী হলো: "এবং ধন-সম্পদ ও জীবনের ঘাটতি দিয়ে" ৩, এবং তাঁর বাণী: "এবং নিশ্চয়ই আমরা তাদের প্রাপ্য অংশ কোনো কমতি ছাড়াই পূর্ণভাবে প্রদান করব" ৪, অর্থাৎ: পরিপূর্ণ ও নিঁখুতভাবে। ৫
তাফাদুল (পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব): এই শব্দটি এই গবেষণায় প্রচুর পরিমাণে আসবে বিধায় এখানে তার সংজ্ঞা প্রদান করা সমীচীন। তাফাদুল হলো ফাদা-লা ইয়াফদুলু ফাদলান এর মাসদার, আর ফা এবং দ্বদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والنون أصل صحيح يدل على زيادة في شيء وهو ضد النقص.
وهو ضربان: محمود كفضل العلم والحلم، ومذموم كفضل الغضب على ما يجب أن يكون عليه، والفضل في المحمود أكثر استعمالاً، والفضول في المذموم.
وتفاضل: اسم مفاعلة من فضل، ومعناه حصول الشيء وتزايده تدريجاً1.
--------------------------------------------
ফা, যাদ্ এবং নূন হলো একটি সহীহ মূল (Root), যা কোনো কিছুর আধিক্য বা বৃদ্ধি নির্দেশ করে এবং এটি ন্যূনতা বা ঘাটতির বিপরীত।
এটি দুই প্রকার: প্রশংসনীয়—যেমন জ্ঞান ও সহনশীলতার শ্রেষ্ঠত্ব; এবং নিন্দনীয়—যেমন ক্রোধের সেই আধিক্য যা প্রয়োজনীয় মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়। প্রশংসনীয় ক্ষেত্রে 'ফদল' (শ্রেষ্ঠত্ব) শব্দটি অধিক ব্যবহৃত হয়, আর নিন্দনীয় ক্ষেত্রে 'ফুজুল' (অপ্রয়োজনীয় আধিক্য)।
এবং 'তাফাদুল' হলো 'ফদল' থেকে উৎপন্ন 'মুফাআলাহ' ওজনের একটি বিশেষ্য, যার অর্থ হলো কোনো কিছুর অর্জিত হওয়া এবং পর্যায়ক্রমে তার বৃদ্ধি পাওয়া।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الباب الأول: في قول أهل السنة والجماعة إن الإيمان يزيد وينقص
الفصل الأول: أدلتهم من الكتاب والسنة على زيادة الإيمان ونقصانه ونقل بعض أقوالهم في ذلك
المبحث الأول: أدلة زيادة الإيمان ونقصانه من الكتاب…المبحث الأول أدلة زيادة الإيمان ونقصانه من الكتاب
لقد جاء في كتاب الله عز وجل نصوص كثيرة تدل على زيادة الإيمان ونقصانه وأن أهله متفاضلون فيه بعضهم أكمل إيماناً من بعفر، منهم السابق بالخيرات، ومنهم المقتصد، ومنهم الظالم لنفسه، منهم المحسن، ومنهم المؤمن، ومنهم المسلم، ليسوا في الدين سواء في مرتبة واحدة، بل فضل الله بعضهم على بعض ورفع بعضهم فوق بعض درجات.
وقبل الشروع في ذكر هذه الأدلة القرآنية الدالة على زيادة الإيمان ونقصانه أودّ التنبيه على نقطة هامة، وهي:
أن كل دليل دلّ على زيادة الإيمان فهو يدل على نقصانه، وكذا العكس، فما دل على نقصان الإيمان فهو يدل على زيادته، فالآيات التي أوردها هنا وظاهرها الدلالة على زيادة الإيمان فقط، فهي تدل على نقص الإيمان باللزوم، وذلك لأن الزيادة تستلزم النقص، ولأن ما جاز عليه الزيادة جاز عليه النقص، ولأن الزيادة لا تكون إلا عن نقص.
ولهذا فإنا نجد أهل العلم كثيراً ما يستشهدون بأدلة زيادة الإيمان على نقصانه وكذا العكس للأسباب المتقدمة، وتأمل- مثالاً على ذلك- صنيع البخاري في صحيحه فقد أورد بعض الآيات المصرحة بزيادة الإيمان في باب زيادة الإيمان ونقصانه مستدلاً بها على الزيادة والنقصان معاً.
প্রথম অধ্যায়: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে যে ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়
প্রথম পরিচ্ছেদ: ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তাদের দলিলসমূহ এবং এ বিষয়ে তাদের কিছু বক্তব্যের বর্ণনা
প্রথম অনুচ্ছেদ: কুরআন থেকে ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ার দলিলসমূহ...প্রথম অনুচ্ছেদ: কুরআন থেকে ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ার দলিলসমূহ
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কিতাবে এমন অনেক বর্ণনা এসেছে যা ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ার প্রমাণ দেয় এবং এটিও নির্দেশ করে যে, ঈমানের ক্ষেত্রে ঈমানদারগণ একে অপরের থেকে উচ্চ-নীচ স্তরে বিভক্ত; তাদের কেউ কেউ ঈমানের দিক থেকে অন্যের তুলনায় অধিক পূর্ণ। তাদের মধ্যে কেউ কল্যাণের কাজে অগ্রগামী, কেউ মধ্যমপন্থী, আবার কেউ নিজের প্রতি অন্যায়কারী। তাদের মধ্যে কেউ মুহসিন, কেউ মুমিন, আবার কেউ মুসলিম। দ্বীনের ক্ষেত্রে তারা একই স্তরে সমান নয়, বরং আল্লাহ তাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং কাউকে কারো ওপর উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন।
ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে এই কোরআনী দলিলগুলো উল্লেখ করার পূর্বে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি সতর্ক করতে চাই, আর তা হলো:
যে দলিলই ঈমান বৃদ্ধির প্রমাণ দেয়, তা মূলত ঈমান হ্রাস পাওয়ারও প্রমাণ বহন করে, এবং এর উল্টোটাও সত্য। সুতরাং যা ঈমান হ্রাসের প্রমাণ দেয়, তা এর বৃদ্ধিরও প্রমাণ। অতএব, আমি এখানে যে সকল আয়াত উল্লেখ করব এবং যেগুলোর বাহ্যিক অর্থ কেবল ঈমান বৃদ্ধি পাওয়াকে বোঝায়, তা অবধারিতভাবে ঈমান হ্রাস পাওয়ারও প্রমাণ দেয়। কারণ বৃদ্ধি হ্রাসের দাবি রাখে, আর যার ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব তার ক্ষেত্রে হ্রাস পাওয়াও সম্ভব, এবং বৃদ্ধি মূলত পূর্ববর্তী ঘাটতি বা হ্রাস থেকেই হয়।
এই কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, আলেমগণ প্রায়ই উপরোক্ত কারণগুলোর প্রেক্ষিতে ঈমান বৃদ্ধির দলিল দ্বারা এর হ্রাসের প্রমাণ পেশ করেন এবং একইভাবে হ্রাসের দলিল দ্বারা বৃদ্ধির প্রমাণ দেন। উদাহরণস্বরূপ তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে ইমাম বুখারীর কর্মপদ্ধতি লক্ষ্য করুন; তিনি ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাসের অধ্যায়ে ঈমান বৃদ্ধির সুস্পষ্ট কিছু আয়াত উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলো দ্বারা বৃদ্ধি ও হ্রাস উভয়টির ওপরই দলিল পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
قال ابن حجر في شرحه لهذا الباب:".. ثم شرع المصنف يستدل لذلك بآيات من القرآن مصرحة بالزيادة، وبثبوتها يثبت المقابل، فإن كل قابل للزيادة قابل للنقصان ضرورة"1.
وقال في موضع آخر مبيناً أن الزيادة مستلزمة للنقص"والاستدلال بهما- أي: الآيتين في الباب- نص في الزيادة وهو يستلزم النقص2.
وقال الكرماني مجيباً على ما قد يستشكل من: استدلال البخاري بالآيات على الزيادة والنقصان معاً مع أنها نص في الزيادة فقط:".. فإن قلت: هذه الآيات دلّت على الزيادة فقط، والمقصود بيان الزيادة والنقصان كليهما، قلت: كل ما قبل الزيادة لا بد وأن يكون قابلاً للنقصان ضرورة"3.
أما النقول عن أهل العلم في هذا فكثيرة.
قال الإمام أحمد رحمه الله:"إن كان قبل زيادته- أي الإيمان- تاماً فكما يزيد كذا ينقص"4.
وقال أبو محمد بن حزم في فِصَله: (فإذ قد وضح وجود الزيادة في الإيمان
… فبالضرورة ندري أن الزيادة تقتضي النقص ضرورة ولا بد، لأن معنى الزيادة إنما هي عدد مضاف إلى عدد، وإذا كان ذلك فذلك العدد المضاف إليه هو بيقين ناقص عند عدم الزيادة
--------------------------------------------
ইবনে হাজার এই অধ্যায়ের ব্যাখ্যায় বলেছেন: ".. অতঃপর গ্রন্থকার কোরআনের এমন কিছু আয়াতের মাধ্যমে এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করতে শুরু করেছেন যা সরাসরি বৃদ্ধির বিষয়ে সুস্পষ্ট, আর তা প্রমাণিত হওয়ার মাধ্যমে এর বিপরীতটিও প্রমাণিত হয়, কেননা যা কিছু বৃদ্ধি গ্রহণ করে তা আবশ্যিকভাবেই হ্রাসও গ্রহণ করে।"১.
তিনি অন্য এক স্থানে বৃদ্ধি যে হ্রাসকে অপরিহার্য করে তা বর্ণনা করে বলেন: "এই দুটি আয়াত—অর্থাৎ এই অধ্যায়ের আয়াত দুটি—দ্বারা দলিল পেশ করা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট পাঠ (নস), আর এটি হ্রাসকেও অপরিহার্য করে।"২.
আল-কারমানি ইমাম বুখারীর সেই আয়াতগুলো দ্বারা বৃদ্ধি ও হ্রাস উভয়টির উপর দলিল পেশ করার বিষয়ে যে আপত্তি উঠতে পারে (যেহেতু আয়াতগুলো কেবল বৃদ্ধির ব্যাপারে স্পষ্ট) তার উত্তরে বলেন: ".. যদি আপনি বলেন: এই আয়াতগুলো কেবল বৃদ্ধির প্রমাণ দিচ্ছে, অথচ উদ্দেশ্য হলো বৃদ্ধি ও হ্রাস উভয়টি বর্ণনা করা; তবে আমি বলব: যা কিছু বৃদ্ধি গ্রহণ করে তা আবশ্যিকভাবেই হ্রাস গ্রহণ করতে বাধ্য।"৩.
এ বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতি অনেক।
ইমাম আহমাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "যদি তা—অর্থাৎ ঈমান—তার বৃদ্ধির পূর্বে পূর্ণাঙ্গ হয়ে থাকে, তবে যেভাবে তা বৃদ্ধি পায় ঠিক সেভাবেই তা হ্রাস পায়।"৪.
আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজম তার 'আল-ফিসাল' গ্রন্থে বলেন: (যেহেতু ঈমানে বৃদ্ধির অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে গেছে
… তাই আমরা আবশ্যিকভাবেই জানি যে বৃদ্ধি অনিবার্যভাবে হ্রাসকেও দাবি করে, কারণ বৃদ্ধির অর্থ হলো একটি সংখ্যার সাথে আরেকটি সংখ্যা যুক্ত হওয়া; আর যখন বিষয়টি এমনই, তখন সেই সংখ্যা যার সাথে অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে তা বৃদ্ধির অনুপস্থিতিতে নিশ্চিতভাবেই অপূর্ণ বা কম।)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فيه.."1.
وقال ابن بطال في شرحه لبعض الآيات الدالة على زيادة الإيمان نصاً:
"فإيمان من لم تحصل له الزيادة ناقص"2.
وقال البيهقي بعد أن ذكر جملة من الآيات المصرحة بزيادة الإيمان:"فثبت بهذه الآيات أن الإيمان قابل للزيادة، وإذا كان قابلاً للزيادة فعدمت الزيادة كان عدمها نقصاناً"3.
وقال:"وإذا قبل الزيادة قبل النقص"4.
وقال أبو الفضل التميمي5 في رسالته التي أملاها في ذكر معتقد الإمام أحمد6. وإن كان قد غلط في مواضع منها فيما نسبه للإمام. قال:"
… وما جاز عليه الزيادة جاز عليه النقص"7.
وقال البغدادي بعد أن ذكر الآيات المصرحة بزيادة الإيمان:".. ففي هذه الآيات الست تصريح بأن الإيمان يزيد، وإذا صحت الزيادة
--------------------------------------------
এতে রয়েছে.."১.
এবং ইবনে বাত্তাল ঈমান বৃদ্ধির ওপর সরাসরি প্রমাণকারী কিছু আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন:
"যার ঈমান বৃদ্ধি লাভ করেনি, তার ঈমান অপূর্ণ।"২.
এবং বায়হাকী ঈমান বৃদ্ধির সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এই আয়াতগুলোর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ঈমান বৃদ্ধিযোগ্য। আর যখন এটি বৃদ্ধিযোগ্য হয়, তখন বৃদ্ধির অভাবই হলো এর ঘাটতি।"৩.
এবং তিনি বলেছেন: "আর যা বৃদ্ধি গ্রহণ করে, তা হ্রাসও গ্রহণ করে।"৪.
এবং আবুল ফজল আত-তামিমী৫ তার সেই রিসালায় (পুস্তিকা) বলেছেন যা তিনি ইমাম আহমাদের আকিদা বর্ণনায় শ্রুতিলিখন হিসেবে প্রদান করেছিলেন—যদিও তিনি ইমামের দিকে যা নিসবত করেছেন তার কিছু স্থানে ভুল করেছেন—তিনি বলেন: "
... আর যার ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব, তার ক্ষেত্রে হ্রাস পাওয়াও সম্ভব।"৭.
এবং বাগদাদী ঈমান বৃদ্ধির সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ উল্লেখ করার পর বলেছেন: ".. এই ছয়টি আয়াতে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে ঈমান বৃদ্ধি পায়, আর যদি বৃদ্ধি পাওয়া সঠিক হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল ঈমান ওয়া নুকসানুহু ওয়া হুকমুল ইসতিসনা-ই ফীহি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
فيه كان الذي زاد إيمانه قبل الازدياد أنقص إيماناً منه في حال الازدياد"1.
ومن علماء عصرنا يقول العلامة الشيخ محمد العثيمين حفظه الله:
"وكل نص يدل على زيادة الإيمان فإنه يتضمن الدلالة على نقصه وبالعكس، لأن الزيادة والنقص متلازمان لا يعقل أحدهما بدون الآخر"2.
وبهذا يعلم أن كل دليل أورده هنا وهو نص في زيادة الإيمان، يعد دليلاً على الزيادة والنقصان معاً لزوماً وكذا العكس وبالله التوفيق.
وفيما يلي أسوق بعض ما جاء في كتاب الله من أدلة على زيادة الإيمان ونقصانه مع بيانها، وبيان وجه دلالتها على المقصود، وهي على أنواع:
أولاً- آيات فيها التصريح بزيادة الإيمان:
جاء في كتاب الله في ستة مواضع منه، التصريح بزيادة الإيمان، وذلك في قوله: {الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَاناً وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ} 3، وقوله: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَاناً وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} 4، وقوله: {وَإِذَا مَا أُنْزِلَتْ سُورَةٌ فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَاناً فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَاناً وَهُمْ
--------------------------------------------
এতে (প্রমাণিত হয় যে) বৃদ্ধির পূর্বে যার ঈমান বৃদ্ধি পেয়েছে তার ঈমান বৃদ্ধির অবস্থার চেয়ে কম ছিল"১।
এবং আমাদের যুগের আলেমদের মধ্য হতে আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ আল-উসাইমীন (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) বলেন:
"ঈমান বৃদ্ধির ওপর প্রমাণ বহনকারী প্রতিটি নস (দলিল) তার ঘাটতির ওপরও প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর বিপরীতটিও তদ্রূপ; কারণ বৃদ্ধি ও ঘাটতি একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত, একটিকে ছাড়া অপরটি কল্পনা করা যায় না"২।
এর মাধ্যমে জানা গেল যে, এখানে তিনি ঈমান বৃদ্ধির যে সব দলিল উল্লেখ করেছেন তা আবশ্যিকভাবে বৃদ্ধি ও ঘাটতি উভয়েরই দলিল হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিপরীতটিও তদ্রূপ। আর আল্লাহর নিকট থেকেই তাওফিক আসে।
নিম্নে আমি আল্লাহর কিতাবে ঈমান বৃদ্ধি ও ঘাটতি বিষয়ে বর্ণিত কিছু দলিল সেগুলোর ব্যাখ্যা এবং উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর তার প্রমাণের দিকসমূহ বর্ণনাসহ উল্লেখ করছি, যা কয়েক প্রকারের:
প্রথমত- এমন আয়াতসমূহ যাতে স্পষ্টভাবে ঈমান বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে:
আল্লাহর কিতাবের ছয়টি স্থানে ঈমান বৃদ্ধির স্পষ্ট ঘোষণা এসেছে। তা হলো আল্লাহর এই বাণীতে: {যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, ‘নিশ্চয়ই মানুষ তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো’। কিন্তু এ কথা তাদের ঈমানকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক’} ৩, এবং তাঁর বাণী: {মুমিন তো কেবল তারাই, যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণে প্রকম্পিত হয় এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন তা তাদের ঈমানকে বাড়িয়ে দেয় আর তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে} ৪, এবং তাঁর বাণী: {আর যখনই কোনো সূরা নাযিল করা হয়, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, ‘এটি তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বৃদ্ধি করল?’ বস্তুত যারা ঈমান এনেছে, এটি তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা
--------------------------------------------