(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: -)
فضل أهل البيت وعلو مكانتهم عند أهل السنة والجماعة (عبد المحسن العباد)
القسم: العقيدة
الكتاب: فضل أهل البيت وعلو مكانتهم عند أهل السنة والجماعة
المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر
الناشر: دار ابن الأثير، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1422هـ/2001م
عدد الصفحات: 85
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট আহলে বাইতের মর্যাদা ও তাদের সুউচ্চ স্থান (আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ)
বিভাগ: আকীদা
কিতাব: আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট আহলে বাইতের মর্যাদা ও তাদের সুউচ্চ স্থান
লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদর
প্রকাশক: দার ইবনুল আসীর، রিয়াদ، সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হিজরি/২০০১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৫
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
فضل أهل البيت وعلو مكانتهم عند أهل السنة والجماعةتأليف: عبد المحسن بن حمد العباد البدربسم الله الرحمن الرحيممقدمةالحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوِِذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، صلَّى اللهُ وسلَّم وبارك عليه وعلى آله وأصحابه، ومَن سلك سبيلَه، واهتدى بهديه إلى يوم الدِّين، أمَّا بعد:فلأهميَّةِ بيان مكانة آل بيت النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عند الصحابة والتابعين لهم بإحسان، ألقيتُ في الموضوع محاضرةً في قاعة المحاضرات بالجامعة الإسلامية بالمدينة قبل ستة عشر عاماً، وقد رأيتُ لعمومِ الفائدةِ كتابةَ رسالةٍ مختصرةٍ في هذا
আহলে বায়তের মর্যাদা এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নিকট তাঁদের উচ্চ অবস্থানগ্রন্থকার: আব্দুল মুহসিন বিন হামদ আল-আব্বাদ আল-বদরপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথ অনুসরণ করবে ও তাঁর হিদায়াত অনুযায়ী চলবে তাদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন। অতঃপর:সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবার-পরিজনের মর্যাদা স্পষ্ট করার গুরুত্বের কারণে, আমি ষোলো বছর পূর্বে মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার হলে এই বিষয়ে একটি ভাষণ প্রদান করেছিলাম। এখন সাধারণ মানুষের উপকারের উদ্দেশ্যে আমি এই বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা লিখছি।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الموضوعِ، سَمَّيتُها:فضلُ أهل البيت وعلوُّ مكانتِهم عند أهل السُّنَّة والجماعةوهي تشتمل على عشرة فصول:الفصل الأول: مَن هم أهل البيت؟الفصل الثاني: مُجمل عقيدة أهل السُّنَّة والجماعة في أهل البيت.الفصل الثالث: فضائل أهل البيت في القرآن الكريم.الفصل الرابع: فضائل أهل البيت في السنَّة المطهَّرة.الفصل الخامس: علوُّ مكانة أهل البيت عند الصحابة وتابعيهم بإحسان.الفصل السادس: ثناء بعض أهل العلم على جماعة من الصحابة من أهل البيت.الفصل السابع: ثناء بعض أهل العلم على جماعة من الصحابيات من أهل البيت.
বিষয়টি, আমি এর নামকরণ করেছি:আহলে বায়তের ফজিলত এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট তাঁদের উচ্চ মর্যাদাএটি দশটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:প্রথম অধ্যায়: আহলে বায়ত কারা?দ্বিতীয় অধ্যায়: আহলে বায়ত সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সংক্ষিপ্ত আকিদা।তৃতীয় অধ্যায়: পবিত্র কুরআনে আহলে বায়তের ফজিলত।চতুর্থ অধ্যায়: পবিত্র সুন্নাহে আহলে বায়তের ফজিলত।পঞ্চম অধ্যায়: সাহাবায়ে কেরাম এবং ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেঈগণের নিকট আহলে বায়তের উচ্চ মর্যাদা।ষষ্ঠ অধ্যায়: আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত একদল সাহাবীর প্রতি কিছু আলিমের প্রশংসা।সপ্তম অধ্যায়: আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত একদল নারী সাহাবীর প্রতি কিছু আলিমের প্রশংসা।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الفصل الثامن: ثناء بعض أهل العلم على جماعة من التابعين وغيرهم من أهل البيت.الفصل التاسع: مقارنة بين عقيدة أهل السُّنَّة وعقيدة غيرهم في أهل البيت.الفصل العاشر: تحريم الانتساب بغير حق إلى أهل البيت.المؤلف1 ربيع الثاني 1422
অষ্টম অধ্যায়: আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত তাবিঈগণের একটি জামাত এবং অন্যদের প্রতি কতিপয় আলেমের প্রশংসা।নবম অধ্যায়: আহলে বাইত সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের আকিদা এবং অন্যদের আকিদার মধ্যে তুলনা।দশম অধ্যায়: অনধিকারভাবে আহলে বাইতের সাথে বংশীয় সম্পর্ক সম্বন্ধ করার নিষিদ্ধতা।লেখক১ রবিউস সানি ১৪২২
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الفصل الأول: مَن هم أهل البيت؟القولُ الصحيحُ في المرادِ بآل بيت النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هم مَن تَحرُم عليهم الصَّدقةُ، وهم أزواجُه وذريَّتُه، وكلُّ مسلمٍ ومسلمةٍ من نَسْل عبد المطلب، وهم بنُو هاشِم بن عبد مَناف؛ قال ابن حزم في جمهرة أنساب العرب (ص:14) : " وُلِد لهاشم بن عبد مناف: شيبةُ، وهو عبد المطلب، وفيه العمود والشَّرف، ولَم يبْقَ لهاشم عَقِبٌ إلَاّ مِن عبد المطلب فقط ".وانظر عَقِبَ عبد المطلب في: جمهرة أنساب العرب لابن حزم (ص:14 15) ، والتبيين في أنساب القرشيِّين لابن قدامة (ص:76) ، ومنهاج السنة لابن تيمية (7/304 305) ، وفتح الباري لابن حجر (7/78 79) .ويدلُّ لدخول بنِي أعمامه في أهل بيته ما أخرجه مسلم في صحيحه (1072) عن عبد المطلب بن ربيعة بن
প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলে বাইত কারা?নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইত বা পরিবারবর্গের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য হলো, তারা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যাদের জন্য সদকা গ্রহণ করা হারাম। তারা হলেন তাঁর স্ত্রীগণ, তাঁর বংশধরগণ এবং আব্দুল মুত্তালিবের বংশোদ্ভূত প্রত্যেক মুসলিম নর ও নারী; আর তারা হলেন হাশিম বিন আব্দ মানাফের সন্তানাদি। ইবনে হাজম ‘জামহারাতু আনসাবিল আরব’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ১৪) বলেছেন: “হাশিম বিন আব্দ মানাফের ঘরে শাইবাহ জন্মগ্রহণ করেন, আর তিনি হলেন আব্দুল মুত্তালিব; তাঁর মধ্যেই আভিজাত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত ছিল। আর আব্দুল মুত্তালিব ছাড়া হাশিমের আর কোনো বংশধর অবশিষ্ট নেই।”আব্দুল মুত্তালিবের বংশধরদের সম্পর্কে দেখুন: ইবনে হাজমের ‘জামহারাতু আনসাবিল আরব’ (পৃষ্ঠা: ১৪-১৫), ইবনে কুদামার ‘আত-তাবয়ীন ফী আনসাবিল কুরাশিয়্যীন’ (পৃষ্ঠা: ৭৬), ইবনে তাইমিয়য়াহর ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ (৭/৩০৪-৩০৫) এবং ইবনে হাজারের ‘ফাতহুল বারী’ (৭/৭৮-৭৯)।তাঁর চাচাতো ভাইদের সন্তানদের আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রমাণ হলো ইমাম মুসলিম কর্তৃক তাঁর সহীহ গ্রন্থে (১০৭২) আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রাবিয়াহ ইবনে... থেকে বর্ণিত হাদীসটি।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الحارث بن عبد المطلب أنَّه ذهب هو والفضل بن عباس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يطلبان منه أن يُولِّيهما على الصَّدقةِ ليُصيبَا مِن المال ما يتزوَّجان به، فقال لهما صلى الله عليه وسلم: " إنَّ الصَّدقة لا تنبغي لآل محمد؛ إنَّما هي أوساخُ الناس "، ثمَّ أمر بتزويجهما وإصداقهما من الخمس.وقد ألْحَق بعضُ أهل العلم منهم الشافعي وأحمد بنِي المطلب بن عبد مَناف ببَنِي هاشم في تحريم الصَّدقة عليهم؛ لمشاركتِهم إيَّاهم في إعطائهم من خمس الخُمس؛ وذلك للحديث الذي رواه البخاري في صحيحه (3140) عن جُبير بن مُطعم، الذي فيه أنَّ إعطاءَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لبَنِي هاشم وبنِي المطلب دون إخوانِهم من بنِي عبد شمس ونوفل؛ لكون بنِي هاشم وبَنِي المطلب شيئاً واحداً.فأمَّا دخول أزواجه رضي الله عنهن في آلِه صلى الله عليه وسلم، فيدلُّ لذلك قول الله عز وجل: {وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الجَاهِلِيَّةِ الأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ
হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণিত যে, তিনি এবং ফজল বিন আব্বাস আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গেলেন এবং তাঁর কাছে আবেদন করলেন যেন তিনি তাঁদেরকে সদকা আদায়ের কাজে নিযুক্ত করেন, যাতে তাঁরা এর মাধ্যমে এমন কিছু সম্পদ অর্জন করতে পারেন যা দিয়ে তাঁরা বিবাহ করবেন। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে বললেন: "নিশ্চয়ই মুহাম্মাদের পরিবারের জন্য সদকা শোভনীয় নয়; এটি মানুষের (সম্পদের) ময়লা মাত্র।" এরপর তিনি তাঁদের বিবাহের আদেশ দিলেন এবং খুমুস (গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ) থেকে তাঁদের মোহরানা আদায়ের নির্দেশ দিলেন।ইমাম শাফিঈ ও আহমাদসহ কিছু আলেম বনু মুত্তালিব বিন আব্দুল মানাফকে বনু হাশিমের অন্তর্ভুক্ত করেছেন তাঁদের উপর সদকা হারাম হওয়ার বিধানে; কারণ তাঁরা খুমুসের এক-পঞ্চমাংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের সাথে অংশীদার। এর সপক্ষে দলিল হলো ইমাম বুখারী কর্তৃক তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৩১৪০) জুবায়ের বিন মুতঈম থেকে বর্ণিত হাদিস, যাতে রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু হাশিম এবং বনু মুত্তালিবকে প্রদান করেছিলেন কিন্তু তাঁদের ভাই বনু আব্দ শামস এবং নাওফালকে দেননি; কারণ বনু হাশিম এবং বনু মুত্তালিব একই সত্তা।আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিবার বা পরিজনের মধ্যে তাঁর স্ত্রীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা প্রমাণিত: "আর তোমরা তোমাদের ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়াতের মতো নিজেদের প্রদর্শন করো না। তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো। আল্লাহ তো কেবল তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে চান..."
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أَهْلَ البَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنءَايَاتِ اللهِ وَالحِكْمَةِ إِنَّ اللهَ كَانَ لَطِيفًا خَبِيرًا} .فإنَّ هذه الآيةَ تدلُّ على دخولِهنَّ حتماً؛ لأنَّ سياقَ الآيات قبلها وبعدها خطابٌ لهنَّ، ولا يُنافي ذلك ما جاء في صحيح مسلم (2424) عن عائشة رضي الله عنها أنَّها قالت: " خرج النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم غداةً وعليه مِرْطٌ مُرَحَّل من شَعر أسود، فجاء الحسن بن علي فأدخله، ثمَّ جاء الحُسين فدخل معه، ثم جاءت فاطمةُ فأدخلها، ثمَّ جاء عليٌّ فأدخله، ثمَّ قال: {إِنَّمَا يُرِيدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ البَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا} "؛ لأنَّ الآيةَ دالَّةٌ على دخولِهنَّ؛ لكون الخطابِ في الآيات لهنَّ، ودخولُ عليٍّ وفاطمة والحسن والحسين رضي الله عنهم في الآيةِ دلَّت عليه السُّنَّةُ في هذا الحديث، وتخصيصُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لهؤلاء الأربعة رضي الله عنهم في هذا الحديث لا يدلُّ على قَصْرِ أهل بيته عليهم دون القرابات الأخرى، وإنَّما يدلُّ على أنَّهم مِن أخصِّ أقاربه.
হে নবী-পরিবার! আর তিনি তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে চান। আর তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ ও হিকমত পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রেখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।নিশ্চয়ই এই আয়াতটি তাঁদের (নবী-পত্নীদের) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে; কারণ এর পূর্বাপর আয়াতসমূহের প্রেক্ষাপট তাঁদের উদ্দেশ্য করেই সম্বোধন। আর এটি সহীহ মুসলিমের (২৪২৪) সেই বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক নয়, যা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "একদা সকালে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হলেন, এমতাবস্থায় তাঁর গায়ে কালো পশমের নকশা করা একটি চাদর ছিল। এরপর হাসান ইবনে আলী আসলেন, তিনি তাঁকে (চাদরের ভেতরে) প্রবেশ করালেন। তারপর হুসাইন আসলেন এবং তাঁর সাথে প্রবেশ করলেন। এরপর ফাতিমা আসলেন এবং তাঁকে প্রবেশ করালেন। এরপর আলী আসলেন এবং তাঁকে প্রবেশ করালেন। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ কেবল এটাই চান যে, হে নবী-পরিবার! তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করবেন এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করবেন}"; কারণ আয়াতটি তাঁদের (নবী-পত্নীদের) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ বহন করে; যেহেতু আয়াতসমূহের সম্বোধন তাঁদের প্রতিই। আর আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি এই হাদীসের সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। আর এই হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক এই চারজন ব্যক্তিকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নির্দিষ্ট করা অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের বাদ দিয়ে কেবল তাঁদের মধ্যেই নবী-পরিবারকে সীমাবদ্ধ করার প্রমাণ দেয় না; বরং এটি একথাই প্রমাণ করে যে, তাঁরা তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ونظيرُ دلالة هذه الآية على دخول أزواج النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم في آله ودلالة حديث عائشة رضي الله عنها المتقدِّم على دخول عليٍّ وفاطمة والحسن والحُسين رضي الله عنهم في آله، نظيرُ ذلك دلالةُ قول الله عز وجل: {لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ} على أنَّ المرادَ به مسجد قباء، ودلالة السُّنَّة في الحديث الذي رواه مسلم في صحيحه (1398) على أنَّ المرادَ بالمسجد الذي أُسِّس على التقوى مسجدُه صلى الله عليه وسلم، وقد ذكر هذا التنظيرَ شيخُ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في رسالة " فضلُ أهل البيت وحقوقُهم " (ص:20 21) .وزوجاتُه صلى الله عليه وسلم داخلاتٌ تحت لفظ " الآل "؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: " إنَّ الصَّدقةَ لا تَحلُّ لمحمَّدٍ ولا لآل محمَّد "، ويدلُّ لذلك أنَّهنَّ يُعطَيْن من الخُمس، وأيضاً ما رواه ابن أبي شيبة في مصنّفه (3/214) بإسنادٍ صحيح عن ابن أبي مُلَيكة: " أنَّ خالد بنَ سعيد بعث إلى عائشةَ ببقرةٍ من الصَّدقةِ فردَّتْها، وقالت: إنَّا آلَ محمَّدٍ صلى الله عليه وسلم لا تَحلُّ لنا الصَّدقة ".
এই আয়াতটি যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারে তাঁর স্ত্রীগণের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রমাণ বহন করে এবং আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমের তাঁর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার পূর্বোল্লিখিত হাদিসটি যে প্রমাণ দেয়, তার দৃষ্টান্ত হলো মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: {নিশ্চয়ই যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে}, যার দ্বারা কুববার মসজিদ উদ্দেশ্য; আবার সহিহ মুসলিমে (১৩৯৮) বর্ণিত সুন্নাহর দলিল অনুযায়ী তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত সেই মসজিদ দ্বারা তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের মসজিদকে বোঝানো হয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ তাঁর "ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া হুকুুকুহুম" (পৃষ্ঠা: ২০-২১) নামক পুস্তিকায় এই তুলনামূলক আলোচনাটি উল্লেখ করেছেন।আর তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্ত্রীগণ 'আলে মুহাম্মদ' (পরিবার) শব্দের অন্তর্ভুক্ত; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই সাদাকাহ মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের জন্য বৈধ নয়।" এর সপক্ষে আরও দলিল হলো যে, তাঁদেরকে খুমুস (গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ) থেকে অংশ দেওয়া হয়। এছাড়া ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে (৩/২১৪) সহিহ সনদে ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "খালিদ ইবনে সাঈদ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট সাদাকাহর একটি গাভী পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা ফেরত দেন এবং বলেন: আমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার, আমাদের জন্য সাদাকাহ হালাল নয়।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومِمَّا ذكره ابن القيِّم في كتابه " جلاء الأفهام " (ص:331 333) للاحتجاج للقائلِين بدخول أزواجه صلى الله عليه وسلم في آل بيته قوله: " قال هؤلاء: وإنَّما دخل الأزواجُ في الآل وخصوصاً أزواجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تشبيهاً لذلك بالنَّسَب؛ لأنَّ اتِّصالَهُنَّ بالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غيرُ مرتفع، وهنَّ محرَّماتٌ على غيرِه في حياتِه وبعد مَمَاتِه، وهنَّ زوجاتُه في الدنيا والآخرة، فالسَّببُ الذي لهنَّ بالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قائمٌ مقامَ النَّسَب، وقد نصَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم على الصلاةِ عليهنَّ، ولهذا كان القولُ الصحيح وهو منصوص الإمام أحمد رحمه الله أنَّ الصَّدقةَ تحرُمُ عليهنَّ؛ لأنَّها أوساخُ الناسِ، وقد صان اللهُ سبحانه ذلك الجَنَابَ الرَّفيع، وآلَه مِن كلِّ أوساخِ بَنِي آدَم.ويا لله العجب كيف يدخلُ أزواجُه في قوله صلى الله عليه وسلم: "اللَّهمَّ اجعل رزقَ آل محمَّد قوتاً"، وقوله في الأضحية: "اللَّهمَّ هذا عن محمد وآل محمد"، وفي قول عائشة رضي الله عنه: "ما شبع آلُ رسول الله صلى الله عليه وسلم من خُبز بُرٍّ"، وفي قول
ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘জালাউল আফহাম’ (পৃষ্ঠা: ৩৩১-৩৩৩) গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের তাঁর ‘আলে বাইত’-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পক্ষে প্রবক্তাদের যুক্তি হিসেবে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: "তারা বলেন: বংশীয় সম্পর্কের সাথে সাদৃশ্যের কারণেই স্ত্রীগণ ‘আল’-এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, বিশেষ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁদের সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হওয়ার নয় এবং তাঁর জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর তাঁরা অন্য কারো জন্য হারাম, আর তাঁরা দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁরই স্ত্রী। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁদের এই বৈবাহিক সম্পর্ক বংশীয় সম্পর্কের স্থলাভিষিক্ত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের ওপর দরুদ পাঠের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এ কারণেই সঠিক মত হলো—যা ইমাম আহমাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহিও স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন—যে তাঁদের জন্য সদকা গ্রহণ করা হারাম; কারণ তা হলো মানুষের মালের ময়লা। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেই সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর পরিবারকে বনী আদমের যাবতীয় ময়লা থেকে পবিত্র রেখেছেন।আল্লাহর কসম, এটা কতই না আশ্চর্যের বিষয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীতে তাঁর স্ত্রীগণ কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবেন না: "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ-এর পরিবারের জীবিকা প্রয়োজন মাফিক নির্ধারণ করুন"; এবং কুরবানীর ক্ষেত্রে তাঁর বাণী: "হে আল্লাহ! এটি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদ-এর পরিবারের পক্ষ থেকে"; এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার উক্তি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার কখনও গমের রুটি খেয়ে তৃপ্ত হননি", এবং তাঁর উক্তিতে...
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المصلِّي: "اللَّهمَّ صلِّ على محمد وعلى آل محمد"، ولا يَدخُلْنَ في قوله: "إنَّ الصَّدقة لا تَحلُّ لمحمَّد ولا لآل محمَّد"، مع كونِها من أوساخِ الناس، فأزواجُ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم أولى بالصِّيانةِ عنها والبُعدِ منها؟فإن قيل: لو كانت الصَّدقةُ حراماً عليهنَّ لَحَرُمت على مواليهنَّ، كما أنَّها لَمَّا حرُمت على بَنِي هاشِم حرُمَت على موالِيهم، وقد ثبت في الصحيح أنَّ بريرةَ تُصُدِّق عليها بلَحمٍ فأكلته، ولَم يُحرِّمه النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وهي مولاةٌ لعائشة رضي الله عنها.قيل: هذا هو شبهةُ مَن أباحَها لأزواج النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.وجوابُ هذه الشُّبهةِ أنَّ تحريمَ الصَّدقةِ على أزواجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ليس بطريق الأصالةِ، وإنَّما هو تَبَعٌ لتَحريمها عليه صلى الله عليه وسلم، وإلَاّ فالصَّدقةُ حلالٌ لهنَّ قبل اتِّصالِهنَّ به، فهنَّ فرعٌ في هذا التحريمِ، والتحريمُ على المولَى فرعُ التَّحريمِ على سيِّدِه، فلمَّا كان التَّحريمُ على بَنِي هاشِم أصلاً استتبَع ذلك مواليهم، ولَمَّا كان التَّحريمُ على أزواجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
সালাত আদায়কারী বলে: "হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করুন"; আর তাঁরা (রাসূলের স্ত্রীগণ) কি তাঁর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবেন না যে: "নিশ্চয়ই সাদাকাহ মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের জন্য বৈধ নয়", যেখানে এটি মানুষের মালের ময়লা স্বরূপ? সুতরাং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ তা থেকে সুরক্ষা লাভ এবং দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে অধিকতর যোগ্য।যদি বলা হয়: যদি সাদাকাহ তাঁদের জন্য হারাম হতো, তবে তাঁদের আযাদকৃত দাস-দাসীদের জন্যও তা হারাম হতো; যেমন বনী হাশিমের জন্য তা হারাম হওয়ার কারণে তাঁদের আযাদকৃত দাস-দাসীদের জন্যও হারাম হয়েছিল। অথচ সহীহ হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে যে, বারীরাহ-কে গোশত সাদাকাহ করা হয়েছিল এবং তিনি তা খেয়েছিলেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হারাম করেননি, অথচ তিনি ছিলেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার আযাদকৃত দাসী।বলা হয়: যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের জন্য একে বৈধ বলেছেন, এটি তাদেরই সংশয়।এই সংশয়ের উত্তর হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের জন্য সাদাকাহ হারাম হওয়াটা মৌলিক কোনো বিষয় নয়, বরং তা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর সাদাকাহ হারাম হওয়ার অনুগামী বিষয়। অন্যথায়, তাঁর সাথে সম্পর্কিত হওয়ার পূর্বে তাঁদের জন্য সাদাকাহ হালাল ছিল। সুতরাং তাঁরা এই হারাম হওয়ার বিধানে একটি শাখা (বা অনুসারী)। আর আযাদকৃত দাসের ওপর কোনো কিছু হারাম হওয়া হলো তার মুনিবের ওপর তা হারাম হওয়ার একটি শাখা। অতএব বনী হাশিমের ওপর সাদাকাহ হারাম হওয়াটা যখন মৌলিক ছিল, তখন তা তাঁদের আযাদকৃত দাসদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়েছিল। আর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের ওপর হারাম হওয়াটা...
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
تَبَعاً لَم يَقْوَ ذلك على استِتْبَاعِ مواليهنَّ؛ لأنَّه فرعٌ عن فرعٍ.قالوا: وقد قال الله تعالى: {يَا نِسَآءَ النَّبِيِّ مَن يَأْتِ مِنكُنَّ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ يُضَاعَفْ لَهَا الْعَذَابُ ضِعْفَيْنِ} وساق الآيات إلى قوله تعالى: {وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنءَايَاتِ اللهِ وَالحِكْمَةِ} ، ثم قال: فدخَلْنَ في أهل البيت؛ لأنَّ هذا الخطابَ كلَّه في سياق ذِكرهنَّ، فلا يجوز إخراجُهنَّ مِن شيءٍ منه، والله أعلم ".ويدلُّ على تحريم الصَّدقة على موالِي بَنِي هاشِم ما رواه أبو داود في سننه (1650) ، والترمذي (657) ، والنسائي (2611) بإسنادٍ صحيح واللفظ لأبي داود عن أبي رافع: " أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بعث رجلاً على الصَّدقة مِن بَنِي مخزوم، فقال لأبي رافع: اصْحَبنِي فإنَّك تُصيبُ منها، قال: حتى آتِي رسولَ الله صلى الله عليه وسلم فأسأله، فأتاه فسأله، فقال: مولَى القوم مِن أنفسِهم، وإنَّا لا تَحِلُّ لنا الصَّدقة ".
অনুগামী হওয়ার কারণে তা তাদের মুক্তদাসদের অনুগামী করার সামর্থ্য রাখেনি; কেননা তা হলো একটি শাখার শাখা মাত্র।তাঁরা বলেন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে নবীর পত্নীগণ! তোমাদের মধ্যে যে কেউ প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হবে, তাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেওয়া হবে" এবং তিনি আয়াতগুলো আল্লাহ তাআলার এই বাণী পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছেন: "এবং তোমাদের গৃহে আল্লাহর যেসব আয়াত ও হিকমত পঠিত হয়, তা স্মরণ রেখো।" অতঃপর তিনি বলেছেন: "সুতরাং তাঁরা আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত; কেননা এই পুরো সম্বোধনটিই তাঁদের প্রসঙ্গের ধারায় এসেছে, তাই এর কোনো অংশ থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া বৈধ নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।"বনী হাশিমের মুক্তদাসদের ওপর সদকা হারাম হওয়ার বিষয়টি আবু দাউদ তাঁর সুনানে (১৬৫০), তিরমিযী (৬৫৭) এবং নাসায়ী (২৬১১) একটি সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন এবং শব্দগুলো আবু দাউদের। আবু রাফে থেকে বর্ণিত: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনী মাখজুম গোত্রের একজনকে সদকা আদায়ের জন্য নিয়োগ দিলেন। তখন সে আবু রাফেকে বলল: তুমি আমার সাথে চলো যাতে তুমিও এর কিছু অংশ পেতে পার। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত এমনটি করব না। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: কোনো কওমের মুক্তদাস তাদের নিজেদেরই অন্তর্ভুক্ত, আর আমাদের জন্য সদকা হালাল নয়।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الثاني: مُجملُ عقيدة أهل السُّنَّة والجماعة في أهل البيتعقيدةُ أهل السُّنَّة والجماعة وسَطٌ بين الإفراطِ والتَّفريط، والغلُوِّ والجَفاء في جميعِ مسائل الاعتقاد، ومِن ذلك عقيدتهم في آل بيت الرَّسول صلى الله عليه وسلم، فإنَّهم يَتوَلَّونَ كلَّ مسلمٍ ومسلمةٍ من نَسْل عبد المطلِّب، وكذلك زوجات النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم جميعاً، فيُحبُّون الجميعَ، ويُثنون عليهم، ويُنْزلونَهم منازلَهم التي يَستحقُّونَها بالعدلِ والإنصافِ، لا بالهوى والتعسُّف، ويَعرِفون الفضلَ لِمَن جَمع اللهُ له بين شرِف الإيمانِ وشرَف النَّسَب، فمَن كان من أهل البيت من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإنَّهم يُحبُّونَه لإيمانِه وتقواه، ولصُحبَتِه إيَّاه، ولقرابَتِه منه صلى الله عليه وسلم.ومَن لَم يكن منهم صحابيًّا، فإنَّهم يُحبُّونَه لإيمانِه وتقواه، ولقربه من رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويَرَون أنَّ شرَفَ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের দৃষ্টিতে আহলে বাইত সংক্রান্ত আকিদার সারসংক্ষেপসকল আকিদাগত বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা হলো বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি এবং চরমপন্থা ও শিথিলতার মাঝে মধ্যপন্থা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহলে বাইত সম্পর্কে তাঁদের আকিদা। নিশ্চয়ই তাঁরা আব্দুল মুত্তালিবের বংশধরদের মধ্যে থেকে প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীকে ভালোবাসেন এবং তাঁদের প্রতি আনুগত্য পোষণ করেন। তদ্রূপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল সহধর্মিনীগণও এর অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা তাঁদের সকলকেই ভালোবাসেন, তাঁদের প্রশংসা করেন এবং তাঁদেরকে সেই উপযুক্ত মর্যাদায় আসীন করেন যা তাঁরা ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে প্রাপ্য; খেয়াল-খুশি কিংবা অন্যায্যতার ভিত্তিতে নয়। আল্লাহ তাআলা যাঁর মধ্যে ঈমানের মর্যাদা ও বংশীয় আভিজাত্যের মর্যাদা একত্রিত করেছেন, তাঁরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেন। সুতরাং আহলে বাইতের মধ্যে যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ছিলেন, তাঁদেরকে তাঁরা তাঁদের ঈমান ও তাকওয়ার কারণে, তাঁর সাহচর্য লাভের কারণে এবং তাঁর সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে ভালোবাসেন।আর তাঁদের মধ্যে যাঁরা সাহাবী ছিলেন না, তাঁদেরকে তাঁরা তাঁদের ঈমান ও তাকওয়ার কারণে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে নিকটাত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে ভালোবাসেন। তাঁরা মনে করেন যে শ্রেষ্ঠত্ব...
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
النَّسَب تابعٌ لشرَف الإيمان، ومَن جمع اللهُ له بينهما فقد جمع له بين الحُسْنَيَيْن، ومَن لَم يُوَفَّق للإيمان، فإنَّ شرَفَ النَّسَب لا يُفيدُه شيئاً، وقد قال الله عز وجل: {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللهِ أَتْقَاكُمْ} ، وقال صلى الله عليه وسلم في آخر حديث طويلٍ رواه مسلم في صحيحه (2699) عن أبي هريرة رضي الله عنه: " ومَن بطَّأ به عملُه لَم يُسرع به نسبُه ".وقد قال الحافظ ابن رجب رحمه الله في شرح هذا الحديث في كتابه جامع العلوم والحكم (ص:308) : " معناه أنَّ العملَ هو الذي يَبلُغُ بالعبدِ درجات الآخرة، كما قال تعالى: {وَلِكُلٍّ دَرَجَاتٌ مِمَّا عَمِلُوا} ، فمَن أبطأ به عملُه أن يبلُغَ به المنازلَ العاليةَ عند الله تعالى لَم يُسرِع به نسبُه، فيبلغه تلك الدَّرجات؛ فإنَّ اللهَ رتَّب الجزاءَ على الأعمال لا على الأنساب، كما قال تعالى: {فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ فَلَا أَنسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلَا يَتَسَاءَلُونَ} ، وقد أمر الله تعالى بالمسارعةِ إلى مغفرتِه ورحمتِه بالأعمال، كما قال: {وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِن رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا
বংশমর্যাদা ঈমানের শ্রেষ্ঠত্বের অনুগামী। আল্লাহ যার জন্য এই দুটির সমন্বয় ঘটিয়েছেন, তিনি তাকে দুই শ্রেষ্ঠত্বেরই সমন্বয় করে দিয়েছেন। আর যে ব্যক্তি ঈমানের তৌফিক লাভ করেনি, বংশের আভিজাত্য তার কোনো উপকারে আসবে না। মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী}। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত মুসলিম শরিফে (২৬৯৯) দীর্ঘ এক হাদিসের শেষে বলেছেন: "যার আমল তাকে পিছিয়ে দিবে, তার বংশমর্যাদা তাকে এগিয়ে নিতে পারবে না।"হাফেজ ইবনে রজব রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ‘জামি’উল উলূম ওয়াল হিকাম’ (পৃষ্ঠা: ৩০৮) গ্রন্থে এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এর অর্থ হলো আমলই বান্দাকে পরকালের উচ্চ মাকামে পৌঁছে দেয়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {প্রত্যেকের জন্যই তাদের আমল অনুযায়ী মর্যাদা রয়েছে}। অতএব, যার আমল তাকে মহান আল্লাহর নিকট উচ্চ মাকামে পৌঁছাতে ধীরগতির করে দিবে, তার বংশমর্যাদা তাকে দ্রুত গতিতে সেই উচ্চ মাকামে পৌঁছে দিবে না। কেননা আল্লাহ তাআলা প্রতিদানকে আমলের ওপর বিন্যস্ত করেছেন, বংশের ওপর নয়। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা একে অপরের খোঁজ নেবে না}। আর আল্লাহ তাআলা আমলের মাধ্যমে তাঁর ক্ষমা ও রহমতের দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: {তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং এমন জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও যার প্রশস্ততা...
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
السَّمَوَاتُ وَالأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلمُتَّقِينَ الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالكَاظِمِينَ الغَيْظَ} الآيتين، وقال: {إِنَّ الَّذِينَ هُم مِنْ خَشْيَةِ رَبِّهِم مُشْفِقُونَ وَالَّذِينَ هُم بِآيَاتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ وَالَّذِينَ هُم بِرَبِّهِمْ لَا يُشْرِكُونَ وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ أُولَئِكَ يُسَارِعُونَ فِي الخَيْرَاتِ وَهُمْ لَهَا سَابِقُونَ} ".ثمَّ ذَكَرَ نصوصاً في الحثِّ على الأعمالِ الصالِحَة، وأنَّ ولايةَ الرَّسول صلى الله عليه وسلم إنَّما تُنالُ بالتقوى والعمل الصَّالِح، ثمَّ ختَمها بحديث عمرو بن العاص رضي الله عنه في صحيح البخاري (5990) وصحيح مسلم (215) ، فقال: " ويشهد لهذا كلِّه ما في الصحيحين عن عمرو بن العاص أنَّه سمع النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يقول: " إنَّ آل أبي فلان ليسوا لي بأولياء، وإنَّما وليِّيَ اللهُ وصالِحُ المؤمنين "، يشير إلى أنَّ ولايتَه لا تُنال بالنَّسَب وإن قَرُب، وإنَّما تُنال بالإيمان والعمل الصالح، فمن كان أكملَ إيماناً وعملاً فهو أعظم ولايةً له، سواء كان له منه نسبٌ قريبٌ أو لم يكن، وفي
আকাশসমূহ ও পৃথিবী, যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যারা সুখে ও দুঃখে ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী—এই দুই আয়াত। এবং তিনি বলেছেন: "নিশ্চয় যারা তাদের রবের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত, এবং যারা তাদের রবের নিদর্শনে বিশ্বাস করে, এবং যারা তাদের রবের সাথে কাউকে শরীক করে না, এবং যারা যা দান করার তা দান করে এমতাবস্থায় যে তাদের অন্তর প্রকম্পিত থাকে এই কারণে যে তারা তাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী—তারাই দ্রুত সম্পাদন করে কল্যাণকর কাজ এবং তারা তাতে অগ্রগামী।" অতঃপর তিনি নেক আমলের প্রতি উৎসাহ প্রদানের জন্য কিছু বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, এবং এই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নৈকট্য কেবল তাকওয়া ও নেক আমলের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। অতঃপর তিনি সহীহ বুখারী (৫৯৯০) ও সহীহ মুসলিমের (২১৫) আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস দিয়ে তা সমাপ্ত করে বলেছেন: "এই সবকিছুর সাক্ষ্য বহন করে যা সহীহায়নে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: 'অমুক গোত্রের লোকেরা আমার বন্ধু নয়, বরং আমার বন্ধু তো আল্লাহ এবং নেককার মুমিনগণ।' এটি ইঙ্গিত করে যে, তাঁর নৈকট্য কেবল বংশমর্যাদার দ্বারা অর্জিত হয় না যদিও তা নিকটাত্মীয় হয়, বরং তা কেবল ঈমান ও নেক আমলের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। সুতরাং যার ঈমান ও আমল যত বেশি পরিপূর্ণ হবে, সে তাঁর তত বেশি নৈকট্য লাভ করবে, চাই তাঁর সাথে তার নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক থাকুক বা না থাকুক।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
هذا المعنى يقول بعضُهم:لعمرُك ما الإنسانُ إلَاّ بدينه … فلا تترك التقوى اتِّكالاً على النَّسبلقد رفع الإسلامُ سلمانَ فارسٍ وقد وضع الشركُ النَّسِيبَ أبا لهب ".
এই অর্থটি ব্যক্ত করতে গিয়ে কেউ কেউ বলেন:তোমার জীবনের শপথ, মানুষ তো কেবল তার দ্বীনের মাধ্যমেই মানুষ … সুতরাং বংশমর্যাদার ওপর নির্ভর করে তাকওয়া পরিত্যাগ করো না।নিশ্চয়ই ইসলাম পারস্যের সালমানকে সুউচ্চ করেছে এবং শিরক উচ্চবংশীয় আবু লাহাবকে লাঞ্ছিত করেছে।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الثالث: فضائلُ أهل البيت في القرآن الكريمقال الله عز وجل: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ إِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحاً جَمِيلاً وَإِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ الله وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ فَإِنَّ الله أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَاتِ مِنكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا يَا نِسَآءَ النَّبِيِّ مَن يَأْتِ مِنكُنَّ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ يُضَاعَفْ لَهَا الْعَذَابُ ضِعْفَيْنِ وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللهِ يَسِيرًا وَمَن يَقْنُتْ مِنكُنَّ للهِ وَرَسُولِهِ وَتَعْمَلْ صَالِحًا نُؤْتِهَا أَجْرَهَا مَرَّتَيْنِ وَأَعْتَدْنَا لَهَا رِزْقًا كَرِيمًا يَا نِسَآءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَآءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلاً مَعْرُوفاً وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللهَ وَرَسُولَهُ إنَّمَا يُرِيدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ البَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا وَاذْكُرْنَ مَا
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে আহলে বাইতের ফযীলতসমূহমহান আল্লাহ বলেছেন: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, ‘তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার অলঙ্কার কামনা করো, তবে এসো, আমি তোমাদের ভোগের সামগ্রী প্রদান করি এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় দিই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকাল কামনা করো, তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল আল্লাহ তাদের জন্য মহাপুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন। হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্য অশ্লীল কাজ করলে তাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেওয়া হবে; আর এটা আল্লাহর জন্য সহজ। আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত হবে এবং সৎকাজ করবে, আমি তাকে তার প্রতিদান দুবার দেব এবং আমি তার জন্য সম্মানজনক রিযিক প্রস্তুত করে রেখেছি। হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও; যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে কথা বলার সময় কোমলতা অবলম্বন করো না, পাছে যার অন্তরে ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হয়; বরং তোমরা সঙ্গত কথা বলো। আর তোমরা নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলী যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়িও না। তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। হে নবী-পরিবার (আহলে বাইত)! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে। আর তোমরা স্মরণ করো যা...}
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنءَايَاتِ اللهِ وَالحِكْمَةِ إِنَّ اللهَ كَانَ لَطِيفًا خَبِيرًا} .فقولُه: {إنَّمَا يُرِيدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ البَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا} دالٌّ على فضل قرابةِ رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم الذين تحرم عليهم الصَّدقة، ومِن أخَصِّهم أزواجه وذريّته، كما مرَّ بيانُه.والآياتُ دالَّةٌ على فضائل أخرى لزوجات الرسول صلى الله عليه وسلم، أوّلها: كونهنَّ خُيِّرْن بين إرادة الدنيا وزينتها، وبين إرادة الله ورسوله والدار الآخرة، فاخترنَ اللهَ ورسولَه والدارَ الآخرة، رضي الله عنهن وأرضاهنَّ.ويدل على فضلهنَّ أيضاً قوله تعالى: {وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ} ؛ فقد وصفهنَّ بأنَّهنَّ أمّهات المؤمنين.وأمَّا قولُه عز وجل: {قُل لَاّ أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَاّ المَوَدَّةَ فِي القُرْبَى} ، فالصحيحُ في معناها أنَّ المرادَ بذلك بطونُ قريشٍ، كما جاء بيانُ ذلك في صحيح البخاري (4818) عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما؛ فقد قال
{তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ ও হিকমত পাঠ করা হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।}।সুতরাং তাঁর বাণী: {আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে, হে আহলে বাইত! এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে}—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটাত্মীয়দের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর প্রমাণ পেশ করে। তাঁরা হলেন সেই সব ব্যক্তি যাদের ওপর সদকা গ্রহণ করা হারাম, আর তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত হলেন তাঁর স্ত্রীগণ এবং তাঁর বংশধরগণ, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।আর এই আয়াতসমূহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণের অন্যান্য মর্যাদার ওপরও প্রমাণ বহন করে। এর প্রথমটি হলো: তাঁদেরকে পার্থিব জীবন ও এর চাকচিক্য এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকাল—এই দুটির মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তখন তাঁরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকালকেই বেছে নিয়েছিলেন। আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদেরকে সন্তুষ্ট রাখুন।আর মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা}—এটিও তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়; কারণ তিনি তাঁদেরকে মুমিনদের মাতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।আর মহান আল্লাহর বাণী: {বলো, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, কেবল আত্মীয়তার ভালোবাসা ছাড়া}, এর অর্থের ক্ষেত্রে সঠিক মতটি হলো যে, এর দ্বারা কুরাইশদের বংশীয় শাখাগুলোকে বোঝানো হয়েছে, যেমনটি সহীহ বুখারীতে (৪৮১৮) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেছেন—
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
البخاري: حدَّثني محمد بن بشار، حدَّثنا محمد بن جعفر، حدَّثنا شعبة، عن عبد الملك بن مَيسرة قال: سمعتُ طاوساً، عن ابن عباس: " أنَّه سُئل عن قوله {إِلَاّ المَوَدَّةَ فِي القُرْبَى} ، فقال سعيد بن جبير: قربى آل محمد صلى الله عليه وسلم، فقال ابن عباس: عجلتَ؛ إنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لم يكن بطنٌ من قريش إلَاّ كان له فيهم قرابة، فقال: إلَاّ أن تَصِلُوا ما بيني وبينكم من قرابة ".قال ابن كثير في تفسير هذه الآية: " أي قل يا محمد لهؤلاء المشركين من كفار قريش: لا أسألكم على هذا البلاغ والنصح لكم مالاً تُعْطُونِيه، وإنَّما أَطلبُ منكم أن تكفُّوا شرَّكم عنِّي وتَذَرُونِي أبلِّغ رسالات ربِّي، إن لَم تَنصرونِي فلا تؤذوني بِما بينِي وبينكم من القرابةِ "، ثم أورد أثرَ ابن عباس المذكور.وأمَّا تخصيصُ بعض أهل الأهواءِ {القُرْبَى} في الآية بفاطمة وعلي رضي الله عنهما وذريَّتهما فهو غيرُ صحيح؛ لأنَّ الآيةَ مكيَّةٌ، وزواجُ عليٍّ بفاطمةَ رضي الله
বুখারি: মুহাম্মাদ ইবনে বাশার আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: শু’বা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল মালিক ইবনে মায়সারা থেকে, তিনি বলেন: আমি তাউসকে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি: "তাঁকে মহান আল্লাহর বাণী {আত্মীয়তার সৌহার্দ্য ব্যতীত} সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সাঈদ ইবনে জুবায়ের বললেন: (এর অর্থ) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার-পরিজনের প্রতি ভালোবাসা। তখন ইবনে আব্বাস বললেন: তুমি তাড়াহুড়ো করে ফেলেছ; কুরাইশদের এমন কোনো শাখা ছিল না যাদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না। তাই তিনি বললেন: (এর অর্থ) তোমরা অন্তত আমার ও তোমাদের মধ্যকার আত্মীয়তার সম্পর্কের খাতিরে আমার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো।"ইবনে কাসীর এই আয়াতের তাফসীরে বলেন: "অর্থাৎ হে মুহাম্মদ! আপনি কুরাইশ কাফিরদের এই মুশরিকদের বলুন: আমি তোমাদের কাছে এই দ্বীন প্রচার ও উপদেশের বিনিময়ে কোনো ধন-সম্পদ প্রার্থনা করছি না যা তোমরা আমাকে প্রদান করবে। বরং আমি কেবল তোমাদের নিকট এই প্রার্থনা করছি যে, তোমরা আমার প্রতি তোমাদের অনিষ্টতা বন্ধ করবে এবং আমাকে ছেড়ে দেবে যেন আমি আমার রবের বাণীসমূহ পৌঁছে দিতে পারি। যদি তোমরা আমাকে সাহায্য না-ও করো, তবে অন্তত আমার ও তোমাদের মধ্যকার আত্মীয়তার সম্পর্কের খাতিরে আমাকে কষ্ট দিও না।" এরপর তিনি ইবনে আব্বাসের উল্লিখিত বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন।আর কতিপয় প্রবৃত্তি পূজারীদের আয়াতের {আত্মীয়তা} শব্দটিকে ফাতেমা ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং তাঁদের বংশধরদের জন্য সুনির্দিষ্ট করা সঠিক নয়; কারণ আয়াতটি মক্কী, আর আলীর সাথে ফাতেমার (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বিবাহ...
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
عنهما إنَّما كان بالمدينة، قال ابن كثير رحمه الله: " وذِكرُ نزول الآية بالمدينة بعيدٌ؛ فإنَّها مكيَّةٌ، ولم يكن إذ ذاك لفاطمة رضي الله عنها أولادٌ بالكليَّة؛ فإنَّها لَم تتزوَّج بعليٍّ رضي الله عنه إلَاّ بعد بدر من السنة الثانية مِن الهجرة، والحقُّ تفسيرُ هذه الآية بما فسَّرها به حَبْرُ الأمَّة وتُرجمان القرآن عبدُ الله بنُ عباس رضي الله عنهما، كما رواه البخاري ".ثم ذكر ما يدلُّ على فضل أهل بيت الرسول صلى الله عليه وسلم من السُّنَّة ومن الآثار عن أبي بكر وعمر رضي الله عنهما.
তাদের উভয় থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয়ই তা মদিনায় ছিল। ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "মদিনায় আয়াতটি নাযিল হওয়ার বিষয়টি সুদূরপরাহত; কেননা এটি মক্কী [আয়াত], আর সে সময় ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মোটেও কোনো সন্তান ছিল না; কারণ তিনি হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে বদরের যুদ্ধের পরই কেবল আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। আর সত্য হলো এই আয়াতের সেই তাফসীর, যা উম্মাহর বিজ্ঞ পণ্ডিত ও কুরআনের ব্যাখ্যাকার আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) করেছেন, যেমনটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।"অতঃপর তিনি সুন্নাহ থেকে এবং আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত আসার থেকে এমন বিষয় উল্লেখ করেছেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আহলে বাইতের মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الفصل الرابع: فضائل أهل البيت في السُّنَّة المطَهَّرةروى مسلمٌ في صحيحه (2276) عن واثلةَ بنِ الأسْقَع رضي الله عنه قال: سمعتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقول: " إنَّ اللهَ اصطفى كِنانَةَ مِن ولدِ إسماعيل، واصطفى قريشاً من كِنَانَة، واصطفى مِن قريشٍ بَنِي هاشِم، واصطفانِي مِن بَنِي هاشِم ".وروى مسلمٌ في صحيحه (2424) عن عائشةَ رضي الله عنها قالت: " خرج النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم غداةً وعليه مِرْطٌ مُرَحَّل مِن شَعر أسود، فجاء الحسن بن علي فأدخله، ثمَّ جاء الحُسين فدخل معه، ثمَّ جاءت فاطمةُ فأدخلَها، ثمَّ جاء عليٌّ فأدخله، ثمَّ قال: {إِنَّمَا يُرِيدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ البَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا} ".وروى مسلم (2404) من حديث سَعد بن أبي وقَّاص رضي الله عنه قال: " لَمَّا نزلت هذه الآيةُ {فَقُلْ
চতুর্থ অধ্যায়: পবিত্র সুন্নাহর আলোকে আহলে বাইতের ফযিলতসমূহইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (২২৭৬) ওয়াসিলা বিন আসকা (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহ-কে বেছে নিয়েছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশদের বেছে নিয়েছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশেমকে বেছে নিয়েছেন এবং বনু হাশেম থেকে আমাকে বেছে নিয়েছেন।"ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (২৪২৪) আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদিন সকালে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাইরে বের হলেন, তখন তাঁর গায়ে কালো পশমের একটি নকশাদার চাদর ছিল। এমতাবস্থায় হাসান বিন আলী এলেন, তিনি তাকে চাদরের ভেতরে ঢুকিয়ে নিলেন। এরপর হুসাইন এলেন, তিনিও চাদরের ভেতর ঢুকে গেলেন। তারপর ফাতিমা এলেন, তিনি তাকেও ভেতরে নিলেন। এরপর আলী এলেন, তিনি তাকেও ভেতরে নিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: 'হে নবী-পরিবার! আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।'"ইমাম মুসলিম (২৪০৪) সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাদিআল্লাহু আনহু) এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {অতঃপর বলুন...} "
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ} دعا رسولُ الله صلى الله عليه وسلم عليًّا وفاطمةَ وحَسناً وحُسيناً، فقال: اللَّهمَّ هؤلاء أهل بيتِي ".وروى مسلم في صحيحه (2408) بإسناده عن يزيد بن حيَّان قال: " انطلقتُ أنا وحُصين بن سَبْرة وعمر بنُ مسلم إلى زيد بنِ أرقم، فلمَّا جلسنا إليه، قال له حُصين: لقد لقيتَ يا زيد خيراً كثيراً؛ رأيتَ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم، وسمعتَ حديثَه، وغزوتَ معه، وصلَّيتَ خلفه، لقد لقيتَ يا زيد خيراً كثيراً، حدِّثْنا يا زيد ما سَمعتَ من رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، قال: يا ابنَ أخي والله لقد كَبِرَتْ سِنِّي، وقَدُم عهدِي، ونسيتُ بعضَ الذي كنتُ أعِي من رسول الله صلى الله عليه وسلم، فما حدَّثتُكم فاقبلوا، وما لا فلا تُكَلِّفونيه، ثمَّ قال: قام رسولُ الله صلى الله عليه وسلم يوماً فينا خطيباً بماءٍ يُدعى خُمًّا، بين مكة والمدينة، فحمِد اللهَ وأثنى عليه، ووعظ وذكَّر، ثم قال: "مَّا بعد، ألا أيُّها الناس فإنَّما أنا بشرٌ يوشك أن يأتي رسولُ ربِّي فأُجيب، وأنا تاركٌ فيكم ثَقَلَيْن؛ أوَّلُهما كتاب الله، فيه الهُدى والنُّور، فخذوا
"...তোমরা এসো, আমরা আমাদের সন্তানদের এবং তোমাদের সন্তানদের ডাকি।" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী, ফাতিমা, হাসান এবং হুসাইনকে ডাকলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! এরা আমার পরিবার।"এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (২৪০৮) তাঁর সনদে ইয়াজিদ ইবন হাইয়্যান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি, হুসাইন ইবন সাবরা এবং উমর ইবন মুসলিম মিলে যায়িদ ইবন আরকামের নিকট গেলাম। যখন আমরা তাঁর নিকট বসলাম, তখন হুসাইন তাঁকে বললেন: 'হে যায়িদ! আপনি অনেক কল্যাণ লাভ করেছেন; আপনি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখেছেন, তাঁর হাদিস শুনেছেন, তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাঁর পেছনে সালাত আদায় করেছেন। হে যায়িদ! আপনি প্রভূত কল্যাণ লাভ করেছেন। আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা শুনেছেন তা আমাদের নিকট বর্ণনা করুন।' তিনি বললেন: 'হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আল্লাহর শপথ, আমার বয়স হয়েছে, অনেক কাল অতিবাহিত হয়েছে এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা আমি স্মরণে রেখেছিলাম তার কিছু অংশ আমি ভুলে গিয়েছি। সুতরাং আমি তোমাদের নিকট যা বর্ণনা করি তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা করি না সে বিষয়ে আমাকে বাধ্য করো না।' অতঃপর তিনি বললেন: 'একদিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী খুম নামক এক জলাশয়ের নিকট আমাদের সামনে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন এবং নসীহত ও উপদেশ প্রদান করলেন। তারপর তিনি বললেন: 'অতঃপর, হে লোকসকল! আমি তো কেবল একজন মানুষ, অচিরেই আমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে দূত আসবেন এবং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দেব। আমি তোমাদের নিকট দুটি অতি মূল্যবান বস্তু রেখে যাচ্ছি; যার প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব, এতে রয়েছে হিদায়াত ও নূর। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ করো এবং..."
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بكتاب الله، واستمسكوا به، فحثَّ على كتاب الله ورغَّب فيه، ثم قال: وأهلُ بَيتِي، أُذكِّرُكم اللهَ في أهل بيتِي، أُذكِّرُكم اللهَ في أهل بيتِي، أُذكِّرُكم اللهَ في أهل بيتِي، فقال له حُصين: ومَن أهلُ بيتِه يا زيد؟ أليس نساؤه من أهل بيتِه؟ قال: نساؤه مِن أهل بيتِه، ولكن أهلُ بيتِه مَن حُرِم الصَّدقةُ بعده، قال: ومَن هم؟ قال: هم آلُ عليٍّ، وآلُ عَقيل، وآلُ جعفر، وآلُ عبَّاس، قال: كلُّ هؤلاء حُرِم الصَّدقة؟ قال: نعم ".وفي لفظ: " فقلنا: مَن أهلُ بيتِه؟ نساؤه؟ قال: لا، وايمُ الله إنَّ المرأةَ تكون مع الرَّجل العصرَ من الدَّهر، ثم يُطلِّقها، فترجع إلى أبيها وقومها، أهل بيتِه أصلُه وعَصَبتُه الذين حُرِموا الصَّدقة بعده ".وهنا أنبِّه على أمور:الأول: أنَّ ذِكرَ عليٍّ وفاطمةَ وابنيهِما رضي الله عنهم في حديث الكِساء وحديث المباهلة المتقدِّمَين لا يدلُّ على قَصْر أهل البيت عليهم، وإنَّما يدلُّ على أنَّهم من
আল্লাহর কিতাবের প্রতি এবং তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার প্রতি। তিনি আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করলেন। অতঃপর বললেন: "আর আমার আহলে বায়ত; আমার আহলে বায়তের ব্যাপারে আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমার আহলে বায়তের ব্যাপারে আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমার আহলে বায়তের ব্যাপারে আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।" তখন হুসাইন তাঁকে বললেন: "হে যায়েদ! তাঁর আহলে বায়ত কারা? তাঁর স্ত্রীগণ কি তাঁর আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত নন?" তিনি বললেন: "তাঁর স্ত্রীগণ তাঁর আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত, তবে তাঁর আহলে বায়ত তারা যারা তাঁর পরে সদকা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত (অর্থাৎ যাদের জন্য সদকা হারাম করা হয়েছে)।" তিনি বললেন: "তারা কারা?" তিনি বললেন: "তারা হলেন আলীর বংশধর, আকীলের বংশধর, জাফরের বংশধর এবং আব্বাসের বংশধর।" তিনি বললেন: "এদের সবার জন্যই কি সদকা হারাম?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ" ।অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: "আমরা বললাম: তাঁর আহলে বায়ত কারা? তাঁর স্ত্রীগণ? তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই একজন নারী একজন পুরুষের সাথে দীর্ঘ সময় কাটায়, অতঃপর পুরুষটি তাকে তালাক দেয়, তখন সে তার পিতা ও স্বগোত্রের কাছে ফিরে যায়। তাঁর আহলে বায়ত হলো তাঁর মূল বংশ ও রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়বর্গ যারা তাঁর পরে সদকা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে" ।এখানে আমি কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক করছি:প্রথমত: ইতিপূর্বে উল্লিখিত চাদরের হাদিস (হাদিসে কিসা) এবং মুবাহালার হাদিসে আলী, ফাতিমা ও তাঁদের দুই পুত্রের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) উল্লেখ থাকা কেবল তাঁদের মধ্যেই আহলে বায়তকে সীমাবদ্ধ করা বোঝায় না; বরং এটি একথাই প্রমাণ করে যে তাঁরা আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত...
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أخصِّ أهل بيته، وأنَّهم مِن أَوْلَى مَن يدخل تحت لفظ (أهل البيت) ، وتقدَّمت الإشارةُ إلى ذلك.الثاني: أنَّ ذِكرَ زيد رضي الله عنه آلَ عَقيل وآلَ عليٍّ وآلَ جعفر وآلَ العبَّاس لا يدلُّ على أنَّهم هم الذين تحرُم عليهم الصَّدقةُ دون سواهم، بل هي تحرُم على كلِّ مسلمٍ ومسلمةٍ من نسل عبد المطلب، وقد مرَّ حديثُ عبد المطلب بن ربيعة بن الحارث بن عبد المطلب في صحيح مسلم، وفيه شمول ذلك لأولاد ربيعة بن الحارث بن عبد المطلب.الثالث: تقدَّم الاستدلالُ من الكتاب والسُّنَّة على كون زوجات النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم من آل بيته، وبيان أنَّهنَّ مِمَّن تحرُم عليه الصَّدقة، وأمَّا ما جاء في كلامِ زَيدٍ المتقدِّم من دخولِهنَّ في الآل في الرواية الأولى، وعدم دخولهنَّ في الرواية الثانية، فالمعتبَرُ الروايةُ الأولى، وما ذكره من عدم الدخول إنَّما ينطبِق على سائر الزوجات سوى زوجاتِه صلى الله عليه وسلم.
তাঁর পরিবারের (আহলে বাইত) বিশেষ সদস্যগণ এবং তাঁরাই 'আহলে বাইত' শব্দের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক যোগ্য, আর এ সংক্রান্ত ইঙ্গিত ইতিপূর্বে প্রদান করা হয়েছে।দ্বিতীয়ত: যায়িদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক আকিল-পরিবার, আলী-পরিবার, জাফর-পরিবার এবং আব্বাস-পরিবারের নাম উল্লেখ করার অর্থ এই নয় যে, কেবল তাঁদের ওপরই সাদাকা হারাম, বরং তা আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর হারাম। সহীহ মুসলিমে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রাবিআ ইবনিল হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যাতে রাবিআ ইবনিল হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানদেরও এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।তৃতীয়ত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীগণ যে তাঁর আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁদের ওপরও যে সাদাকা হারাম, সে সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রমাণাদি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর যায়িদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পূর্বোক্ত বক্তব্যে প্রথম বর্ণনায় তাঁদের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করা এবং দ্বিতীয় বর্ণনায় অন্তর্ভুক্ত না করার যে বিষয়টি এসেছে, সেক্ষেত্রে প্রথম বর্ণনাটিই ধর্তব্য। আর অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার ব্যাপারে তিনি যা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীগণ ব্যতীত অন্যান্য সাধারণ স্ত্রীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أمَّا زوجاتُه رضي الله عنهن، فاتِّصالُهنَّ به شبيهٌ بالنَّسَب؛ لأنَّ اتِّصالَهُنَّ به غيرُ مرتفع، وهنَّ زوجاتُه في الدنيا والآخرة، كما مرَّ توضيحُ ذلك في كلام ابن القيم رحمه الله.الرابع: أنَّ أهلَ السُّنَّة والجماعة هم أسعَدُ الناس بتنفيذ وصيَّة النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم في أهل بيتِه التي جاءت في هذا الحديث؛ لأنَّهم يُحبُّونَهم جميعاً ويتوَلَّونَهم، ويُنزلونَهم منازلَهم التي يستحقُّونَها بالعدلِ والإنصافِ، وأمَّا غيرُهم فقد قال ابن تيمية في مجموع فتاواه (4/419) : " وأبعدُ الناسِ عن هذه الوصيَّة الرافضةُ؛ فإنَّهم يُعادُون العبَّاس وذُريَّتَه، بل يُعادون جمهور أهل البيت ويُعينون الكفَّارَ عليهم ".وحديث: " كلُّ سببٍ ونسبٍ منقطعٌ يوم القيامةِ إلَاّ سبَبِي ونسبِي "، أورده الشيخ الألباني رحمه الله في السلسلة الصحيحة (2036) وعزاه إلى ابن عباس وعمر وابن عمر والمِسور بن مخرمة رضي الله عنهم، وذكر مَن خرَّجه عنهم، وقال: " وجملةُ القول أنَّ الحديثَ بمجموع
আর তাঁর পত্নীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), তাঁদের তাঁর সাথে সম্পৃক্ততা বংশীয় সম্পর্কের সদৃশ; কেননা তাঁর সাথে তাঁদের এ সম্পৃক্ততা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়, এবং তাঁরা দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর স্ত্রী। যেমনটি ইবনুল কায়্যিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর বক্তব্যে এর ব্যাখ্যা অতিবাহিত হয়েছে।চতুর্থত: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হলো সেইসব মানুষ যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরিবারবর্গ সম্পর্কে এই হাদিসে বর্ণিত উপদেশ পালনে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান; কারণ তাঁরা তাঁদের সকলকেই ভালোবাসেন ও বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাঁদেরকে ন্যায় ও ইনসাফের সাথে তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদায় আসীন করেন। আর অন্যদের সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়াহ তাঁর মাজমু’ ফাতাওয়ায় (৪/৪১৯) বলেছেন: "এই উপদেশ পালন থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থানকারী হলো রাফেযিরা; কারণ তারা আব্বাস ও তাঁর বংশধরদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, বরং তারা অধিকাংশ আহলে বাইতের সাথেই শত্রুতা করে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কাফেরদের সাহায্য করে।"আর হাদিস: "কিয়ামতের দিন আমার বৈবাহিক সম্পর্ক ও বংশীয় সম্পর্ক ব্যতীত সকল বৈবাহিক সম্পর্ক ও বংশীয় সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে", এটি শায়খ আলবানী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সিলসিলাহ আস-সাহীহাহ্-তে (২০৩৬) উল্লেখ করেছেন এবং একে ইবনে আব্বাস, উমর, ইবনে উমর ও মিসওয়ার বিন মাখরামাহ্ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন এবং এটি যারা বর্ণনা করেছেন তাঁদের উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "সারকথা হলো, হাদিসটি এর সকল সূত্রের সমন্বয়ে...
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
هذه الطرق صحيحٌ، والله أعلم ".وفي بعض الطرق أنَّ هذا الحديث هو الذي جعل عمر رضي الله عنه يرغبُ في الزواج من أمِّ كلثوم بنت عليٍّ من فاطمة رضي الله عن الجميع.وروى الإمام أحمد في مسنده (5/374) عن عبد الرزاق، عن مَعمر، عن ابن طاوس، عن أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم، عن رجل من أصحاب النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أنَّه كان يقول: " اللَّهمَّ صلِّ على محمَّدٍ وعلى أهل بيته وعلى أزواجِه وذريَّتِه، كما صلَّيتَ على آل إبراهيم إنَّك حميدٌ مجيدٌ، وبارِك على محمَّدٍ وعلى أهل بيته وعلى أزواجِه وذريَّتِه، كما بارَكتَ على آل إبراهيم إنَّك حميدٌ مجيدٌ "، قال ابن طاوس: وكان أبي يقول مثلَ ذلك.ورجال الإسناد دون الصحابيِّ خرَّج لهم البخاري ومسلمٌ وأصحابُ السنن الأربعة، وقال الألبانيُّ في صفة صلاة النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: " رواه أحمد والطحاوي بسندٍ صحيح ".وأمَّا ذِكرُ الصلاة على الأزواج والذريَّة، فهو ثابتٌ في
এই সূত্রগুলো সঠিক, আর আল্লাহই ভালো জানেন।কোনো কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, এই হাদিসটিই উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে ফাতেমার গর্ভজাত আলীর কন্যা উম্মে কুলসুমকে বিবাহ করতে আগ্রহী করেছিল—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৫/৩৭৪) আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি ইবনে তাউস থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। আর মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তাঁর বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।" ইবনে তাউস বলেন: আমার পিতাও অনুরূপ বলতেন।সাহাবী ব্যতীত এই সনদের অন্যান্য বর্ণনাকারীদের হাদিস বুখারি, মুসলিম ও চার সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন। আলবানী 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি' গ্রন্থে বলেছেন: "আহমাদ ও তাহাবি এটি সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন।"আর স্ত্রী ও বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণের বিষয়টি সাব্যস্ত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الصحيحين أيضاً من حديث أبي حُميد الساعدي رضي الله عنه.لكن ذلك لا يدلُّ على اختصاص آل البيت بالأزواج والذريَّة، وإنَّما يدلُّ على تأكُّد دخولِهم وعدم خروجهم، وعطفُ الأزواجِ والذريَّة على أهل بيته في الحديث المتقدِّم من عطف الخاصِّ على العام.قال ابن القيم بعد حديث فيه ذكر أهل البيت والأزواج والذريَّة وإسناده فيه مقال: " فجمع بين الأزواج والذريَّة والأهل، وإنَّما نصَّ عليهم بتعيينهم؛ ليُبيِّن أنَّهم حقيقون بالدخول في الآل، وأنَّهم ليسوا بخارجين منه، بل هم أحقُّ مَن دخل فيه، وهذا كنظائره من عطف الخاصِّ على العام وعكسه؛ تنبيهاً على شرفه، وتخصيصاً له بالذِّكر من بين النوع؛ لأنَّه أحقُّ أفراد النوع بالدخول فيه ". جلاء الأفهام (ص:338) .وقال صلى الله عليه وسلم: " إنَّ الصَّدقةَ لا تنبغي لآل محمد، إنَّما هي أوساخ الناس "، أخرجه مسلمٌ في صحيحه من حديث عبد المطلب بن ربيعة (1072) ، وقد تقدَّم.
আবু হুমাইদ আস-সাঈদী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস থেকে এটিও সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে।কিন্তু এটি দ্বারা এই প্রমাণ হয় না যে, আহলে বায়ত কেবল স্ত্রীগণ ও বংশধরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বরং এটি তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিশ্চিত হওয়া এবং বহির্ভূত না হওয়ার প্রমাণ দেয়। আর পূর্বোক্ত হাদীসে আহলে বায়তের সাথে স্ত্রীগণ ও বংশধরদের উল্লেখ করা হলো সাধারণের ওপর বিশেষের সংযোজন (আতফ)।ইবনুল কাইয়্যিম এমন একটি হাদীস উল্লেখ করার পর যাতে আহলে বায়ত, স্ত্রীগণ ও বংশধরদের কথা এসেছে এবং যার সনদ নিয়ে আলোচনা রয়েছে, তিনি বলেন: "এখানে স্ত্রীগণ, বংশধর ও পরিবারকে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের নাম সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে এটা স্পষ্ট করার জন্য যে, তারা 'আল' (পরিবার)-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অধিক যোগ্য এবং তারা এর বাইরে নয়। বরং তারা এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার। এটি সাধারণের ওপর বিশেষের সংযোজন বা এর বিপরীতের মতো; যা তাদের মর্যাদার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং নির্দিষ্ট এক শ্রেণীর মধ্য থেকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার জন্য করা হয়। কেননা তারা সেই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে যোগ্য সদস্য।" জালাউল আফহাম (পৃষ্ঠা: ৩৩৮)।আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবারের জন্য সদকা শোভনীয় নয়, এটি তো কেবল মানুষের মালের ময়লা।" এটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে রাবী'আহ থেকে বর্ণনা করেছেন (১০৭২), যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الفصل الخامس: علوُّ مكانة أهل البيت عند الصحابة وتابعيهم بإحسانأبو بكر الصديق رضي الله عنه:روى البخاري في صحيحه (3712) أنَّ أبا بكر رضي الله عنه قال لعليٍّ رضي الله عنه: " والذي نفسي بيدِه لَقرابةُ رسول الله صلى الله عليه وسلم أحبُّ إليَّ أنْ أَصِلَ من قرابَتِي ".وروى البخاريُّ في صحيحه أيضاً (3713) عن ابن عمر، عن أبي بكر رضي الله عنه قال: " ارقُبُوا محمداً صلى الله عليه وسلم في أهل بيته ".قال الحافظ ابن حجر في شرحه: " يخاطِبُ بذلك الناسَ ويوصيهم به، والمراقبةُ للشيء: المحافظةُ عليه، يقول: احفظوه فيهم، فلا تؤذوهم ولا تُسيئوا إليهم ".وفي صحيح البخاري (3542) عن عُقبة بن الحارث رضي الله عنه قال: " صلَّى أبو بكر رضي الله عنه العصرَ،
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সাহাবী এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীদের নিকট আহলে বাইতের সুউচ্চ মর্যাদাআবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু:ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৩৭১২) বর্ণনা করেছেন যে, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আমার নিজের আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা আমার নিকট অধিক প্রিয়।"ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আরও বর্ণনা করেছেন (৩৭১৩), ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "তোমরা তাঁর আহলে বাইতের ব্যাপারে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্মরণ রেখো (তাঁর সম্মান রক্ষা করো)।"হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "তিনি এর মাধ্যমে মানুষকে সম্বোধন করছেন এবং তাঁদের এ বিষয়ে অসিয়ত করছেন। কোনো কিছুর 'মراقবা' (লক্ষ্য রাখা) করার অর্থ হলো তা সংরক্ষণ করা। তিনি বলছেন: তাঁদের মাঝে তাঁকে (রাসূলুল্লাহকে) সংরক্ষণ করো, সুতরাং তাঁদের কষ্ট দিও না এবং তাঁদের সাথে কোনো মন্দ আচরণ করো না।"এবং সহীহ বুখারীতে (৩৫৪২) উকবা ইবনুল হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আসরের সালাত আদায় করলেন,
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ثم خرج يَمشي، فرأى الحسنَ يلعبُ مع الصِّبيان، فحمله على عاتقه، وقال:بأبي شبيهٌ بالنبي … لا شبيهٌ بعليوعليٌّ يضحك ".قال الحافظ في شرحه: " قوله: (بأبي) : فيه حذفٌ تقديره أفديه بأبي "، وقال أيضاً: " وفي الحديث فضلُ أبي بكر ومَحبَّتُه لقرابةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ".عمر بن الخطاب وعثمان بن عفان رضي الله عنهما:روى البخاري في صحيحه (1010) ، و (3710) عن أنس رضي الله عنه: " أنَّ عمر بن الخطاب كان إذا قُحِطوا استسقى بالعباس بن عبد المطلب، فقال: اللَّهمَّ إنَّا كنَّا نتوسَّل إليك بنبيِّنا صلى الله عليه وسلم فتسقينا، وإنَّا نتوسَّلُ إليك بعمِّ نبيِّنا فاسقِنا، قال: فيُسقَوْن ".والمرادُ بتوسُّل عمر رضي الله عنه بالعباس رضي الله عنه التوسُّلُ بدعائه كما جاء مبيَّناً في بعض الروايات، وقد
এরপর তিনি হেঁটে বের হলেন এবং হাসানকে শিশুদের সাথে খেলা করতে দেখলেন। অতঃপর তিনি তাকে নিজের কাঁধে তুলে নিলেন এবং বললেন:আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, তিনি নবীর সদৃশ … আলীর সদৃশ ননআর আলী হাসছিলেন।"হাফেজ (ইবনে হাজার) তাঁর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "তাঁর উক্তি: (আমার পিতা উৎসর্গ হোক): এতে উহ্য অংশ রয়েছে যার নির্ধারিত রূপ হলো 'আমি আমার পিতাকে তাঁর জন্য উৎসর্গ করছি'", তিনি আরও বলেছেন: "এই হাদিসে আবু বকরের শ্রেষ্ঠত্ব এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়-স্বজনের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রমাণ রয়েছে।"উমর ইবনুল খাত্তাব এবং উসমান ইবনে আফফান (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন):বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (১০১০) এবং (৩৭১০) আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই উমর ইবনুল খাত্তাব যখন দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হতেন, তখন আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করতেন। তিনি বলতেন: হে আল্লাহ, আমরা ইতিপূর্বে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে আপনার নিকট ওসিলা গ্রহণ করতাম এবং আপনি আমাদের বৃষ্টি দান করতেন। এখন আমরা আমাদের নবীর চাচার মাধ্যমে আপনার নিকট ওসিলা গ্রহণ করছি, অতএব আমাদের বৃষ্টি দান করুন। বর্ণনাকারী বলেন: ফলে তাঁদের বৃষ্টি দান করা হতো।"আব্বাসের (রা.) মাধ্যমে উমরের (রা.) ওসিলা গ্রহণের উদ্দেশ্য হলো তাঁর দোয়ার মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ করা, যেমনটি কিছু বর্ণনায় স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এবং...
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ذكرها الحافظ في شرح الحديث في كتاب الاستسقاء من فتح الباري.واختيار عمر رضي الله عنه للعباس رضي الله عنه للتوسُّل بدعائه إنَّما هو لقرابتِه مِن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولهذا قال رضي الله عنه في توسُّله: " وإنَّا نتوسَّل إليك بعمِّ نبيِّنا "، ولم يقل: بالعباس. ومن المعلوم أنَّ عليًّا رضي الله عنه أفضلُ من العباس، وهو من قرابة الرسول صلى الله عليه وسلم، لكن العباس أقربُ، ولو كان النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُورَث عنه المال لكان العباس هو المقدَّم في ذلك؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: " أَلحِقوا الفرائض بأهلها، فما أبقتِ الفرائضُ فلأولَى رجل ذَكر "، أخرجه البخاري ومسلم، وفي الصحيحين من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قولُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لعمر عن عمِّه العباس: " أمَا عَلِمتَ أنَّ عمَّ الرَّجلِ صِنْوُ أبيه ".وفي تفسير ابن كثير لآيات الشورى: قال عمر بن الخطاب للعباس رضي الله تعالى عنهما: " والله لإِسلَامُك يوم أسلمتَ كان أحبَّ إليَّ من إسلامِ الخطاب لو أسلَمَ؛
হাফিজ এটি ফাতহুল বারীর কিতাবুল ইসতিসকা-তে হাদীসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন।আর উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর দোয়ার মাধ্যমে অসীলা গ্রহণ করার জন্য আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে নির্বাচন করেছিলেন মূলত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাঁর আত্মীয়তার কারণে। এই কারণেই তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর অসীলা প্রার্থনার সময় বলেছিলেন: "এবং আমরা আপনার নিকট আমাদের নবীর চাচার মাধ্যমে অসীলা করছি", তিনি 'আব্বাসের মাধ্যমে' বলেননি। আর এটি সুবিদিত যে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আব্বাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, এবং তিনিও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটাত্মীয়, তবে আব্বাস (রক্তসম্পর্কে) অধিক নিকটবর্তী ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যদি ধন-সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হওয়া যেত, তবে আব্বাসই সেক্ষেত্রে অগ্রগণ্য হতেন; কারণ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "তোমরা নির্ধারিত অংশগুলো তাদের হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এবং সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর চাচা আব্বাস সম্পর্কে উমরকে বলেছিলেন: "তুমি কি জানো না যে, কোনো ব্যক্তির চাচা তার পিতার সমতুল্য?"এবং সূরা আশ-শূরার আয়াতসমূহের ইবনে কাসীর তাফসীরে বর্ণিত হয়েছে: উমর ইবনুল খাত্তাব আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, যেদিন আপনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, আপনার সেই ইসলাম গ্রহণ আমার কাছে খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ অপেক্ষা অধিক প্রিয় ছিল যদি সে ইসলাম গ্রহণ করত;
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আহলিল বাইত ওয়া উলুউউ মাকানাতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
لأنَّ إسلامَك كان أحبَّ إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من إسلام الخطاب "، وهو عند ابن سعد في الطبقات (4/22، 30) .وفي كتاب اقتضاء الصراط المستقيم مخالفة أصحاب الجحيم (1/446) لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: " أنَّ عمر بنَ الخطاب رضي الله عنه لَمَّا وضع ديوان العَطاءِ كتب الناسَ على قَدْرِ أنسابِهم، فبدأ بأقربِهم فأقربهم نسباً إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلمَّا انقضت العربُ ذكر العَجَم، هكذا كان الديوان على عهد الخلفاء الراشدين، وسائر الخلفاء من بَنِي أُميَّة ووَلَدِ العباس إلى أن تغيَّر الأمرُ بعد ذلك ".وقال أيضاً (1/453) : " وانظر إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه حين وضع الديوان، وقالوا له: يبدأ أميرُ المؤمنين بنفسِه، فقال: لا ولكن ضَعُوا عمر حيث وضعه الله، فبدأ بأهل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ مَن يليهِم، حتى جاءت نوْبَتُه في بَنِي عديٍّ، وهم متأخِّرون عن أكثر بطون قريش ".
"কেননা আপনার ইসলাম গ্রহণ করা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণের চেয়ে অধিক প্রিয় ছিল", এটি ইবনে সা'দ তার আত-তাবাকাত (৪/২২, ৩০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহর 'ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম মুখালাফাতু আসহাবিল জাহিম' (১/৪৪৬) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন ভাতার রেজিষ্টার তৈরি করলেন, তখন তিনি লোকদেরকে তাদের বংশমর্যাদা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশগতভাবে নিকটতম ব্যক্তিদের থেকে শুরু করলেন। যখন আরবদের তালিকা শেষ হলো, তখন তিনি অনারবদের কথা উল্লেখ করলেন। খুলাফায়ে রাশিদিন এবং বনু উমাইয়া ও বনু আব্বাসের অন্যান্য খলিফাদের যুগে রেজিষ্টার এভাবেই ছিল, পরবর্তীকালে বিষয়টি পরিবর্তিত হওয়ার আগ পর্যন্ত।"তিনি আরও বলেছেন (১/৪৫৩): "উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর দিকে লক্ষ্য করুন যখন তিনি রেজিষ্টার তৈরি করেছিলেন। তখন তারা তাকে বলেছিল: আমিরুল মুমিনীন যেন নিজের নাম দিয়ে শুরু করেন। তিনি বললেন: না, বরং উমরকে সেখানে রাখো যেখানে আল্লাহ তাকে রেখেছেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারবর্গ থেকে শুরু করলেন, তারপর তাদের নিকটবর্তীদের ক্রমানুসারে। অবশেষে বনু আদি গোত্রে তার নিজের পালা এল, যারা কুরাইশের অধিকাংশ শাখা-গোত্র অপেক্ষা পেছনে ছিল।"