(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: -)
رسالة في زكاة الحلي القسم: مسائل فقهية
الكتاب: رسالة في زكاة الحلي
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
الناشر: دار الوطن للنشر
الطبعة: 1423هـ
عدد الصفحات: 32
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
অলঙ্কারের জাকাত বিষয়ক পুস্তিকা বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: অলঙ্কারের জাকাত বিষয়ক পুস্তিকা
লেখক: মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমীন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল ওয়াতান প্রকাশনী
সংস্করণ: ১৪২৩ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২
[বইটির নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ৩)
رسالة في زكاة الحلي
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِالحمد لله رب العالمين، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونتوب اليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. واشهد أن لا اله الا الله وحده لا شريك له، واشهد أن محمدا عبده ورسوله صلي الله عليه وعلى اله وصحبه وسلم تسليما كثيرا.
أما بعد: فهذه رسالة في بيان حكم زكاة الحلي المباح ذكرت فيها ما بلغه علمي من الخلاف والراجح من الأقوال وأدلة الترجيح، فأقول وبالله التوفيق والثقة وعليه التكلان وهو المستعان:
لقد اختلف أهل العلم رحمهم الله في وجوب الزكاة في الحلي المباح على خمسة أقوال:
অলঙ্কারের জাকাত বিষয়ক একটি পুস্তিকা
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা তাঁর কাছে তওবা করছি এবং আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর: এটি বৈধ অলঙ্কারের জাকাতের বিধান স্পষ্টীকরণের লক্ষ্যে একটি পুস্তিকা। এতে আমি আলেমদের মধ্যকার মতভেদ, মতগুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য (الراجح) মত এবং অগ্রাধিকার প্রদানের দলিলাদি সম্পর্কে আমার জ্ঞান অনুযায়ী যা পৌঁছেছে তা উল্লেখ করেছি। আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক ও নির্ভরতা (الثقة) কামনা করে বলছি; তাঁর ওপরই সকল ভরসা এবং তিনিই একমাত্র সাহায্যকারী:
আলেমগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) বৈধ অলঙ্কারের ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে পাঁচটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ৪)
أحدها: لا زكاة فيه وهو المشهور من مذاهب الأئمة الثلاثة مالك والشافعي واحمد الا إذا اعد للنفقة وان اعد للأجرة ففيه الزكاة عند أصحاب احمد ولا زكاة فيه عند أصحاب مالك والشافعي وقد ذكرنا أدلة هذا القول إيرادا على القائلين بالوجوب واجبنا عنها.
الثاني: فيه الزكاة سنة واحدة وهو مروي عن انس ابن مالك رضي الله عنه.
الثالث: زكاته عاريته، وهو مروي عن أسماء وانس ابن مالك أيضا.
الرابع: انه يجب فيه أما الزكاة وأما العارية ورجحه ابن القيم رحمه الله في الطريق الحكمة.
القول الخامس: وجوب الزكاة فيه إذا بلغ نصابا كل عام، وهو مذهب أبي حنيفة وراويه عن احمد واحد القولين في مذهب الشافعي وهذا هو القول الراجح
প্রথমটি: এতে কোনো জাকাত নেই এবং এটিই তিন ইমাম—মালিক, শাফেঈ ও আহমাদ-এর মাযহাবের প্রসিদ্ধ (مشهور) মত; তবে যদি তা জীবনধারণের ব্যয়ের জন্য রাখা হয়। আর যদি তা ভাড়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়, তবে ইমাম আহমাদ-এর অনুসারীদের মতে এতে জাকাত রয়েছে, কিন্তু ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেঈ-এর অনুসারীদের মতে এতে কোনো জাকাত নেই। যারা এটি আবশ্যক (وجوب) হওয়ার প্রবক্তা, আমরা তাদের বিপরীতে এই মতের দলীলসমূহ উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোর উত্তর প্রদান করেছি।
দ্বিতীয়টি: এতে কেবল এক বছরের জাকাত আসবে এবং এটি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (مروي)।
তৃতীয়টি: এর জাকাত হলো এটি অন্যকে ব্যবহারের জন্য ধার দেওয়া, এবং এটি আসমা ও আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকেও বর্ণিত (مروي)।
চতুর্থটি: এতে হয় জাকাত অথবা ধার দেওয়া আবশ্যক (واجب); ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) ‘আত-তরিকুল হিকমাহ’ গ্রন্থে এটিকে প্রাধান্য (رجحه) দিয়েছেন।
পঞ্চম মত: প্রতি বছর এটি নিসাব পরিমাণ হলে এতে জাকাত প্রদান করা আবশ্যক (وجوب); এটি ইমাম আবু হানিফার মাযহাব, ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত (راويه) একটি মত এবং ইমাম শাফেঈ-এর মাযহাবের দুটি মতের একটি। আর এটিই অগ্রগণ্য (الراجح) মত।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ৫)
لدلالة الكتاب والسنة والآثار عليه.
فمن أدلة الكتاب قوله تعالي: {وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ (34) يَوْمَ يُحْمَى عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ هَذَا مَا كَنَزْتُمْ لانْفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُونَ} . [التوبة: 34، 35] .
والمراد بكنز الذهب والفضة عدم إخراج ما يجب فيهما من زكاة وغيرها من الحقوق، قال عبد الله بن عمر رضي الله عنهما: كل ما أديت وان كان تحت سبع ارضين فليس بكنز وكل ما لا تؤدي زكاته فهو كنز وان كان ظاهرا على وجه الأرض. قال ابن كثير رحمه الله: وقد روي هذا عن ابن عباس وجابر وأبي هريرة مرفوعا وموقوفا. أ. هـ والآية عامة في جميع الذهب والفضة لم تخصص
যেহেতু কিতাব, সুন্নাহ এবং আসার (آثار) এর সপক্ষে দলীল বিদ্যমান।
কিতাবের দলীলসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহ তাআলার এই বাণী অন্তর্ভুক্ত: {আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। (৩৪) যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের কপাল, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে। (বলা হবে,) 'এগুলোই তা, যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার স্বাদ আস্বাদন করো'।} [আত-তাওবা: ৩৪, ৩৫]।
আর স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করার অর্থ হলো, এগুলোর ওপর ওয়াজিব হওয়া জাকাত এবং অন্যান্য হকসমূহ আদায় না করা। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "তুমি যা আদায় করেছ, তা যদি সাত তবক জমিনের নিচেও থাকে, তবে তা পুঞ্জীভূত সম্পদ নয়। আর যার জাকাত তুমি আদায় করোনি, তা-ই পুঞ্জীভূত সম্পদ, যদিও তা ভূপৃষ্ঠে দৃশ্যমান থাকে।" ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এটি ইবনে আব্বাস, জাবির এবং আবু হুরায়রা থেকে মরফু (مرفوعًا) এবং মাওকুফ (موقوفًا) উভয়ভাবে বর্ণিত হয়েছে।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত। আর আয়াতটি সকল স্বর্ণ ও রৌপ্যের ক্ষেত্রে সাধারণ ও ব্যাপক, যা বিশেষায়িত করা হয়নি।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ৬)
شيئا دون شئ، فمن ادعي خروج الحلي المباح من هذا العموم فعليه الدليل.
وأما السنة فمن أدلتها:
1- ما رواه مسلم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلي الله عليه وسلم انه قال: "ما من صاحب ذهب ولا فضة لا يؤدي منها حقها الا إذا كان يوم القيامة صفحت له صفائح من نار فاحمي عليها في نار جهنم فيكوى بها جنبه وجبينه وظهره". الحديث (1.) .
والمتحلي بالذهب والفضة صاحب ذهب وفضة ولا دليل على إخراجه من العموم وحق الذهب الفضة من أعظمه وأوجبه الزكاة. قال أبو بكر الصديق رضي الله عنه: الزكاة حق المال.
--------------------------------------------
কিছুর পরিবর্তে কিছু নয়, সুতরাং যে ব্যক্তি এই সাধারণ নির্দেশের (عموم) বাইরে বৈধ অলংকারকে রাখার দাবি করবে, তাকে অবশ্যই প্রমাণ পেশ করতে হবে।
আর সুন্নাহর দলিলসমূহের মধ্য থেকে রয়েছে:
1- ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "স্বর্ণ বা রূপার এমন কোনো মালিক নেই যে তার হক আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার জন্য আগুনের পাত তৈরি করা হবে এবং তা জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে। এরপর তা দিয়ে তার পাঁজর, কপাল এবং পিঠকে ছেঁকা দেওয়া হবে।" হাদিস (১.)।
আর যে ব্যক্তি স্বর্ণ ও রূপার অলংকার পরিধান করে, সেও স্বর্ণ ও রূপার মালিক এবং একে সাধারণ নির্দেশের (عموم) বাইরে রাখার কোনো দলিল নেই। আর স্বর্ণ ও রূপার হকের মধ্যে সবথেকে মহান ও আবশ্যিক হলো জাকাত। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেছেন: জাকাত হলো সম্পদের হক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ৭)
2- ما رواه الترمذي والنسائي وأبو داود واللفظ له قال: حدثنا أبو كامل وحميد بن مسعدة المعنى أن خالد ابن الحارث حدثهم، حدثنا حسين عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن حده أن امرأة أتت رسول الله صلي الله عليه وسلم ومعها ابنة لها وفي يد ابنتها مسكتان "1" غليظتان من ذهب، فقال لها: "أتعطين زكاة هذا؟ " قالت: لا. قال: "أيسرك أن يسورك الله بهما سوارين من نار".
قال: فخلعتهما فالقتهما إلي النبي صلي الله عليه وسلم وقالت: هما لله ورسوله2.
قال في بلوغ المرام"3": وإسناده قوي. وقد رواه
--------------------------------------------
২- ইমাম তিরমিজি, নাসায়ি ও আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁর (আবু দাউদ), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কামিল ও হুমায়দ বিন মাসআদাহ (উভয়ের বর্ণনার অর্থ একই) যে, খালেদ ইবনুল হারিস তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন, আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক মহিলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট আসলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর এক কন্যা ছিল। তাঁর কন্যার হাতে সোনার দুটি মোটা কঙ্কন ছিল। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি এগুলোর জাকাত প্রদান করো?" সে বলল: না। তিনি বললেন: "তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে যে, আল্লাহ এর বিনিময়ে তোমাকে আগুনের দুটি কঙ্কন পরিয়ে দেবেন?"
বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি কঙ্কন দুটি খুলে নবী (সা.)-এর সামনে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: এ দুটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য।
'বুলুগুল মারাম' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর সূত্র শক্তিশালী (إسناده قوي)। এবং এটি আরও বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ৮)
الترمذي عن طريق ابن لهيعة والمثنى بن الصباح ثم قال: أنهما يضعفان في الحديث، ولا يصح في هذا الباب شئ لكن قد رد قول الترمذي هذا برواية أبي داود لهذا الحديث من طريق حسين المعلم وهو ثقة احتج به صاحبا الصحيحين البخاري ومسلم وقد وافقهم الحجاج بن بن ارطاة، وقد وثقه بعضهم وروى نحوه احمد عن أسماء بنت يزيد بإسناد حسن.
3- ما رواه أبو داود قال: حدثنا محمد بن إدريس الرازي، حدثنا عمرو بن الربيع بن طارق، حدثنا يحي ابن أيوب عن عبيد الله بن أبي جعفر أن محمد ابن عمرو بن عطاء اخبره عن عبد الله بن شداد بن الهاد انه قال: دخلنا على عائشة رضي الله عنها فقالت: "دخل علي رسول الله فرأى في يدي فتخات من
তিরমিজি ইবনে লাহিয়া ও আল-মুসান্না বিন আস-সাব্বাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি বলেছেন: হাদিসের বর্ণনায় তারা উভয়ই দুর্বল (يضعفان), আর এই বিষয়ে কোনো কিছুই সহিহ (يصح) নয়। তবে তিরমিজির এই বক্তব্য আবু দাউদ বর্ণিত এই হাদিসের মাধ্যমে খণ্ডন করা হয়েছে, যা হুসাইন আল-মুআল্লিমের সূত্রে বর্ণিত। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী, যাঁর বর্ণনা থেকে সহিহাইন—বুখারি ও মুসলিম-এর সংকলকদ্বয় দলিল গ্রহণ করেছেন। হাজ্জাজ বিন আরতাহও তাঁদের সাথে একমত হয়েছেন, যাঁকে কেউ কেউ নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। ইমাম আহমাদ আসমা বিনতে ইয়াজিদ থেকে একটি হাসান (حسن) সনদে (إسناد) এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৩- আবু দাউদ যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর বিন আর-রাবি বিন তারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব উবাইদুল্লাহ বিন আবি জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে আমর বিন আতা তাঁকে আব্দুল্লাহ বিন শাদ্দাদ বিন আল-হাদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমরা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং আমার হাতে বড় আংটিসমূহ দেখতে পেলেন..."
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ৯)
ورق"1" فقال: "ما هذا يا عائشة؟ " فقلت: صنعتهن أتزين لك يا رسول الله. فقال: "أتؤدين زكاتهن؟ " قالت: لا أو ما شاء الله. قال: "هو حسبك من النار" 2 قيل لسفيان: كيف تزكيه؟ قال: تضمه إلي غيره.
وهذا الحديث أخرجه أيضا الحاكم والبيهقي والدارقطني"3" وقال في التخليص"4"إسناده على شرط الصحيح وصححه الحاكم وقال: انه على شرط الشيخين- يعني البخاري ومسلما - وقال ابن دقيق: انه على شرط مسلم.
--------------------------------------------
রুপার মুদ্রা "১" অতঃপর তিনি বললেন: "হে আয়েশা, এগুলো কী?" আমি বললাম: আমি এগুলো তৈরি করেছি যাতে আপনার সামনে নিজেকে সজ্জিত করতে পারি, হে আল্লাহর রাসুল। তিনি বললেন: "তুমি কি এগুলোর জাকাত প্রদান করো?" তিনি বললেন: না, অথবা আল্লাহ যা চেয়েছেন। তিনি বললেন: "জাহান্নামের আগুনের জন্য এটিই তোমার জন্য যথেষ্ট।" ২ সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করা হলো: তিনি এগুলোর জাকাত কীভাবে দেবেন? তিনি বললেন: তিনি এগুলোকে অন্য সম্পদের সাথে যুক্ত করবেন।
এবং এই হাদিসটি হাকেম, বায়হাকি এবং দারা কুতনিও "৩" বর্ণনা করেছেন। 'আত-তালখিস' "৪" গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)-এর শর্ত (شرط) অনুযায়ী এবং হাকেম একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন: এটি শাইখাইন (الشيخين)—অর্থাৎ বুখারি ও মুসলিম—এর শর্ত (شرط) অনুযায়ী। ইবনে দাকিক বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ১০)
4- ما رواه أبو داود قال: حدثنا محمد بن عيسى، حدثنا عتاب - يعني أبي بشير عن ثابت بت عجلان، عن عطاء عن أم سلمة قالت: كنت البس أوضاحا من ذهب فقلت: يا رسول الله اكنز هذا؟ فقال: "ما بلغ تؤدي زكاته فزكي فليس بكنز" 1 وأخرجه أيضا البيهقي والدارقطني والحاكم وقال: صحيح على شرط البخاري ولم يخرجاه وصححه أيضا الذهبي"2"وقال البيهقي: تفرد به ابن عجلان قال في التنقيح: وهذا لا يضر فان ثابت بن عجلان روى له البخاري ووثقه ابن معين والنسائي، وقول عبد الحق فيه: "لا يحتج بحديثه" قول
--------------------------------------------
4- আবু দাউদ যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন ঈসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আত্তাব—অর্থাৎ ইবনে বিশর—বর্ণনা করেছেন সাবিত ইবন আজলান থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি উম্মে সালামা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি স্বর্ণের অলঙ্কার পরিধান করতাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! এটি কি সম্পদ পুঞ্জীভূত করা (كنز)? তিনি বললেন: "যা যাকাত প্রদানের স্তরে পৌঁছায় এবং তার যাকাত প্রদান করা হয়, তা সম্পদ পুঞ্জীভূত করা (كنز) নয়।" 1 এবং এটি বায়হাকী, দারাকুতনী ও হাকেমও বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেছেন: এটি বুখারীর শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহীহ (صحيح), যদিও তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। আয-যাহাবীও একে সহীহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন। "2" এবং বায়হাকী বলেছেন: ইবন আজলান এটি এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন। 'আত-তানকীহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি কোনো ক্ষতিকর নয়, কারণ সাবিত ইবন আজলানের বর্ণনা বুখারী গ্রহণ করেছেন এবং ইবন মাঈন ও নাসাঈ তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলে অভিহিত করেছেন। আর এই রাবী সম্পর্কে আব্দুল হকের উক্তি— "তার হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না (لا يحتج)"—এটি একটি [বিবেচ্য] উক্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ১১)
لم قله غيره. قال ابن دقيق: وقول العقيلي في ثابت بن عجلان " لا يتابع على حديثه" تحامل منه. ا. هـ
فان قيل: خلع هذا حين كان التحلي ممنوعا كما قاله مسقطو الزكاة في الحلي.
فالجواب: إن هذا لا يستقيم فان النبي صلي الله عليه وسلم لم يمنع من التحلي به بل اقره مع الوعيد على ترك الزكاة ولو كان التحلي ممنوعا لأمر بخلعه وتوعد على لبسه ثم إن النسخ يحتاج إلى معرفة التاريخ ولا يثبت ذلك بالاحتمال ثم لو فرضنا انه كان حين التحريم فان الأحاديث المذكورة تدل على الجواز بشرط إخراج الزكاة ولا دليل على ارتفاع هذا الشرط وإباحته إباحة مطلقة أي بدون زكاة.
فان قيل: ما الجواب عما احتج به لا يرى الزكاة في الحلي وهو ما رواه ابن الجوزي بسنده في
এটি অন্য কেউ বলেননি। ইবনে দাকীক বলেছেন: সাবিত ইবনে আজলান সম্পর্কে আল-উকাইলীর উক্তি যে, "তার হাদিস সমর্থিত নয় (لا يتابع على حديثه)", এটি তাঁর পক্ষ থেকে এক প্রকার কঠোরতা মাত্র। সমাপ্ত।
যদি বলা হয়: এটি খুলে ফেলার বিষয়টি তখনকার সময়ের যখন অলঙ্কার পরিধান নিষিদ্ধ ছিল, যেমনটি অলঙ্কারের জাকাত আবশ্যক নয় বলে যারা মনে করেন তারা বলে থাকেন।
উত্তর হলো: এই দাবি সঠিক নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অলঙ্কার পরিধানে বাধা দেননি, বরং জাকাত ত্যাগের হুঁশিয়ারি প্রদানের পাশাপাশি এটি পরিধান করাকে অনুমোদন দিয়েছেন। যদি অলঙ্কার পরিধান নিষিদ্ধ হতো, তবে তিনি তা খুলে ফেলার নির্দেশ দিতেন এবং তা পরিধানের ওপর হুঁশিয়ারি দিতেন। তদুপরি, রহিতকরণ (نسخ) এর বিষয়টি প্রমাণের জন্য ইতিহাস জানা আবশ্যক, কেবল অনুমানের ভিত্তিতে তা সাব্যস্ত হয় না। এরপর যদি আমরা ধরেও নেই যে এটি নিষিদ্ধ হওয়ার সময়ের ঘটনা, তবুও উল্লেখিত হাদিসসমূহ জাকাত প্রদানের শর্তে অলঙ্কার পরিধান বৈধ (جواز) হওয়ার প্রমাণ দেয়। আর এই শর্তটি বিলুপ্ত হওয়ার এবং জাকাত ব্যতীত একে নিঃশর্ত বৈধতা (إباحة مطلقة) প্রদান করার কোনো দলিল নেই।
যদি বলা হয়: যারা অলঙ্কারের জাকাত আবশ্যক মনে করেন না, তাদের পেশকৃত দলিলের উত্তর কী? আর তা হলো যা ইবনে আল-জাওজি তাঁর সনদসহ (بسنده) বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ১২)
"التحقيق" عن عافيه بن أيوب، عن الليث بن سعد، عن أبي الزبير، عن جابر رضي الله عنه أن النبي صلي الله عليه وسلم قال: "ليس في الحلي زكاة". ورواه البيهقي في "معرفة السنن والآثار".
قيل: الجواب علي هذا من ثلاثة أوجه:
الاول: أن البيهقي قال فيه: انه باطل لا اصل له وإنما يروى عن جابر من قوله وعافيه بن أيوب مجهول فمن احتج به كان مغررا بدينه. ا. هـ.
الثاني: إننا إذا فرضنا توثيق عافية كما نقله ابن حاتم عن أبي زرعة فانه لا يعارض احاديث الوجوب ولا يقابل بها لصحتها ونهاية ضعفه.
الثالث: إننا إذا فرضنا انه مساو لها ويمكن معارضتها به فان الأخذ بها أحوط وما كان أحوط فهو اولى بالإتباع لقول النبي صلي الله عليه وسلم: "دع ما يريبك إلي ما لا
'আল-তাহকিক' গ্রন্থে আফিয়া বিন আইয়ুব থেকে, তিনি লাইস বিন সাদ থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "অলঙ্কারের ওপর কোনো জাকাত নেই।" ইমাম বায়হাকি এটি 'মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
বলা হয়েছে: এর উত্তর তিনটি দিক থেকে দেওয়া যেতে পারে:
প্রথমত: বায়হাকি এটি সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি ভিত্তিহীন (باطل), এর কোনো মূল নেই (لا أصل له)। এটি মূলত জাবির (রা.)-এর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত। আর আফিয়া বিন আইয়ুব হলেন অজ্ঞাত (مجهول); সুতরাং যে ব্যক্তি এটি দিয়ে দলিল পেশ করবে সে তার দ্বীন নিয়ে প্রতারিত হবে। (সমাপ্ত)
দ্বিতীয়ত: ইবনে হাতেম আবু জুরআ থেকে আফিয়ার যে নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) বর্ণনা করেছেন, তা যদি আমরা ধরেও নিই, তবুও এটি জাকাত ওয়াজিব হওয়ার হাদিসগুলোর মোকাবিলা করতে পারবে না এবং সেগুলোর সমকক্ষও হবে না। কারণ ওই হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) এবং এই বর্ণনার চরম দুর্বলতা (ضعف) অনস্বীকার্য।
তৃতীয়ত: যদি আমরা ধরেও নিই যে এটি ওই হাদিসগুলোর সমান এবং এর মাধ্যমে সেগুলোর বিরোধিতা করা সম্ভব, তবুও পূর্বোক্ত হাদিসগুলো গ্রহণ করাই অধিকতর সতর্কতামূলক (أحوط)। আর যা অধিকতর সতর্কতামূলক তাই অনুসরণের অধিক যোগ্য; নবী (সা.)-এর এই বাণীর কারণে: "যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে তা বর্জন করে যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে না তার দিকে ধাবিত হও..."
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يريبك" 1 وقوله: "فمن اتقى الشبهات فقد استبرا لدينه وعرضه" 2.
وأما الآثار فمنها:
1- عن أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه انه كتب إلي أبي موسى أن مر من قبلك من نساء المسلمين أن يصدقن من حليهن.
قال ابن حجر في التلخيص (3) انه أخرجه ابن أبي شيبة والبيهقي من طريق شعيب بن يسار وهو مرسل قاله البخاري. قال: وقد أنكر ذلك الحسن فيما رواه ابن
--------------------------------------------
যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে" ১ এবং তাঁর বাণী: "সুতরাং যে ব্যক্তি সংশয়পূর্ণ বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকল, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে নিষ্কলঙ্ক করল" ২।
আর বর্ণনাগুলোর (أثر) মধ্যে রয়েছে:
১- আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু মুসার নিকট লিখে পাঠালেন যে, তোমার নিকটস্থ মুসলিম নারীদের নির্দেশ দাও যেন তারা তাদের অলংকারের জাকাত প্রদান করে।
ইবনে হাজার আল-তালখিস (৩) গ্রন্থে বলেছেন যে, এটি ইবনে আবি শায়বা এবং বায়হাকি শুআইব ইবনে ইয়াসারের সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل), যা বুখারি বলেছেন। তিনি বলেন: আল-হাসান তা অস্বীকার করেছেন যা ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أبي شيبة عنه قال: لا نعلم أحدا من الخلفاء قال في الحلي زكاة لكن ذكره مرويا عن عمر صاحب المغني والمحلي والخطابي.
2- عن بن مسعود رضي الله عنه إن امرأة سألته عن حلي لها فقال: إذا بلغ مائتي درهم ففيه زكاة رواه الطبراني والبيهقي"1"ورواه الدارقطني من حديثه مرفوعا وقال: هذا وهم والصواب موقوف"2".
3- عن ابن عباس رضي الله عنهما، حكاه عنه المنذري والبيهقي قال الشافعي: لا ادري يثبت عنه أم لا.
4- عن عبد الله بن عمر بن العاص انه كان يأمر
--------------------------------------------
আবু শায়বা তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা খলিফাদের মধ্যে এমন কাউকে জানি না যিনি অলঙ্কারের ওপর জাকাত আবশ্যক হওয়ার কথা বলেছেন; তবে আল-মুগনি, আল-মুহাল্লা এবং খাত্তাবির লেখকগণ একে ওমরের সূত্রে বর্ণিত (مرويا) বলে উল্লেখ করেছেন।
২- ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এক মহিলা তাঁকে তাঁর অলঙ্কার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "যখন তা দুইশত দিরহামে পৌঁছাবে, তখন তাতে জাকাত দিতে হবে।" এটি তাবারানি এবং বায়হাকি বর্ণনা করেছেন "১"। দারা কুতনি এটি তাঁর সূত্রে মারফু (مرفوعا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এটি একটি ভ্রম (وهم) এবং সঠিক হলো এটি মাওকুফ (موقوف)।" "২"
৩- ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, যা তাঁর পক্ষ থেকে মুনজিরি এবং বায়হাকি বর্ণনা করেছেন। ইমাম শাফেয়ী বলেন: "আমি জানি না এটি তাঁর থেকে প্রমাণিত (يثبت) কি না।"
৪- আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নির্দেশ দিতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بالزكاة في حلي بناته ونسائه، ذكره في المحلي من طريق جرير بن حازم عن عمرو بن شعيب عن أبيه.
5- عن عائشة رضي الله عنها إنها قالت: لا باس بلبس الحلي إذا أعطى زكاته. رواه الدارقطني"1"من حديث عمرو بن شعيب عن عروة عن عائشة، لكن روى مالك في الموطأ"2" عن عبد الرحمن بن القاسم عن أبيه عن عائشة إنها كانت تلي بنات أخيها يتامى في حجرها لهن الحلي، فلا تخرج من حليهن الزكاة. قال ابن حجر في التخليص"3" ويمكن الجمع بينهما بأنها كانت ترى الزكاة فيها"4" ولا ترى إخراج الزكاة مطلقا عن مال
--------------------------------------------
মেয়েদের এবং স্ত্রীদের অলংকারের যাকাত প্রদানের ব্যাপারে; তিনি এটি ‘আল-মুহাল্লা’ গ্রন্থে জারির বিন হাজিম থেকে আমর বিন শুয়াইব ও তাঁর পিতার সূত্রে (طريق) উল্লেখ করেছেন।
৫- আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: অলঙ্কার পরিধানে কোনো দোষ নেই যদি তার যাকাত প্রদান করা হয়। এটি দারা কুতনী "১" আমর বিন শুয়াইব থেকে, তিনি উরওয়া থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মালিক ‘মুয়াত্তা’ "২" গ্রন্থে আব্দুর রহমান বিন আল-কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকা তাঁর ভাইয়ের এতিম বালিকাদের দেখাশোনা করতেন যাদের অলঙ্কার ছিল, কিন্তু তিনি তাদের অলঙ্কার থেকে যাকাত প্রদান করতেন না। ইবনে হাজার ‘তাকলীসুল হাবীর’ "৩" গ্রন্থে বলেছেন: এই দুই বর্ণনার মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে, তিনি তাতে (অলংকারে) যাকাত আবশ্যক মনে করতেন "৪", কিন্তু তিনি ঢালাওভাবে কোনো সম্পদ থেকে যাকাত বের করার বিষয়টি দেখতেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الأيتام ا. هـ.
لكن يرد على جمعه هذا ما رواه مالك في الموطأ"1"عن عبد الرحمن بن القاسم عن أبيه انه قال: كانت عائشة تليني وأخا لي يتيمين في حجرها فكانت تخرج من أموالنا الزكاة. قال بعضهم: ويمكن أن يجاب عن ذلك بأنها لا ترى إخراج الزكاة عن أموال اليتامى واجبا فتخرجه تارة ولا تخرج أخرى كذا اقل. وأحسن منه أن يجاب بوجه آخر وهو إن عدم إخراجها فعل والفعل لا عموم له فقد يكون لأسباب ترى إنها مانعة من وجوب الزكاة فلا يعارض القول والله اعلم.
* فان قيل: ما الجواب عما استدل به مسقطو الزكاة فيما نقله الأثرم قال: سمعت احمد بن حنبل يقول:
--------------------------------------------
এতিমগণ। (সমাপ্ত)
তবে তাঁর এই সমন্বয়ের বিপরীতে ইমাম মালেক মুয়াত্তা গ্রন্থে (১) আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে যা বর্ণনা করেছেন (رواه) তা উপস্থাপন করা হয়; তিনি বলেন: আয়িশা (রা.) আমার এবং আমার এক এতিম ভাইয়ের লালন-পালনের দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনি আমাদের সম্পদ থেকে যাকাত প্রদান করতেন। কেউ কেউ বলেছেন: এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে, তিনি সম্ভবত এতিমদের সম্পদ থেকে যাকাত প্রদান করাকে ওয়াজিব (واجب) মনে করতেন না, তাই কখনও তিনি তা প্রদান করতেন আবার কখনও করতেন না; এভাবেই বলা হয়েছে। এর চেয়ে উত্তম উত্তর হলো অন্য একটি দিক থেকে বলা, আর তা হলো: যাকাত প্রদান না করা একটি কর্ম (فعل), আর কর্মের মধ্যে কোনো ব্যাপকতা (عموم) থাকে না; ফলে এমন কোনো কারণ থাকতে পারে যা যাকাত ওয়াজিব (واجب) হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক বলে তিনি মনে করেছিলেন, তাই এটি তাঁর বক্তব্যের সাথে কোনো বিরোধ সৃষ্টি করে না। আল্লাহই ভালো জানেন।
* যদি প্রশ্ন করা হয়: যারা যাকাত মওকুফের পক্ষে মত দেন, আল-আছরাম যা বর্ণনা করেছেন তাতে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে তারা যে দলিল পেশ করেন তার উত্তর কী? তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
خمسة من الصحابة كانوا لا يرون في الحلي زكاة: انس ابن مالك وجابر وابن عمر وعائشة وأسماء.
فالجواب: إن بعض هؤلاء روي عنهم الوجوب وإذا فرضنا أن لجميعهم قولا واحدا أو أن المتأخر عنهم هو القول بعدم الوجوب فقد خالفهم من خالفهم من الصحابة، وعند التنازع يجب الرجوع إلي الكتاب والسنة وقد جاء فيهما ما يدل على الوجوب كما سبق.
*فان قيل: قد ثبت في الصحيحين"1"أن النبي صلي الله عليه وسلم قال: "تصدقن يا معشر النساء ولو من حليكن" وهذا دليل على عدم وجوب الزكاة في الحلي إذ لو كانت واجبة في الحلي لما جعله النبي صلي الله عليه وسلم مضربا لصدقة
--------------------------------------------
পাঁচজন সাহাবী (صحابة) অলঙ্কারের ক্ষেত্রে জাকাত প্রদান আবশ্যক (وجوب) মনে করতেন না: আনাস ইবনে মালিক, জাবির, ইবনে উমর, আয়েশা এবং আসমা।
এর উত্তর হলো: তাঁদের কারো কারো থেকে জাকাত ওয়াজিব বা আবশ্যক (وجوب) হওয়ার বর্ণনাও রয়েছে। আর যদি আমরা ধরে নিই যে তাঁদের সকলের অভিমত অভিন্ন ছিল অথবা তাঁদের পরবর্তী অবস্থান ছিল জাকাত আবশ্যক না হওয়ার পক্ষে, তবুও অন্যান্য সাহাবী (صحابة) তাঁদের বিরোধিতা করেছেন। আর যখন মতভেদ দেখা দেয়, তখন কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক। আর কুরআন ও সুন্নাহ উভয়টিতেই জাকাত ওয়াজিব বা আবশ্যক (وجوب) হওয়ার দলীল রয়েছে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
*যদি বলা হয়: সহীহাইন-এ প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে নারী সমাজ! তোমরা সদকা (صدقة) করো, এমনকি তোমাদের অলঙ্কার থেকে হলেও।" এটি অলঙ্কারে জাকাত ওয়াজিব বা আবশ্যক (وجوب) না হওয়ার একটি দলীল; কারণ যদি অলঙ্কারে জাকাত ওয়াজিব (واجبة) হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে সাধারণ দান বা সদকা (صدقة) পেশ করার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
التطوع.
فالجواب على هذا: إن الأمر بالصدقة من الحلي ليس فيه إثبات وجوب الزكاة فيه ولا نفيه عنه وإنما فيه الأمر بالصدقة حتى من حاجيات الإنسان ونظير هذا أن يقال: تصدق ولو من دراهم نفقتك ونفقة عيالك فان هذا لا يدل على انتفاء وجوب الزكاة في هذه الدراهم.
*فان قيل: إن في لفظ الحديث: "وفي الرقة في مائتي درهم ربع العشر" 1 وفي حديث علي:"وليس عليك شئ حتى يكون ذلك عشرون دينار" 2 والرقة هي الفضة المضروبة سكة وكذلك الدينار هو السكة وهذا دليل علة اختصاص وجوب الزكاة بما كان كذلك،
--------------------------------------------
নফল (تطوع)।
এর উত্তর হলো: অলঙ্কার থেকে সদকা করার নির্দেশের মধ্যে তাতে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে যেমন কোনো প্রমাণ নেই, তেমনি তা নাকচ করারও অবকাশ নেই। বরং এতে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র থেকেও সদকা করার নির্দেশ রয়েছে। এর দৃষ্টান্ত হলো এটি বলা: "সদকা করো, যদিও তা তোমার এবং তোমার পরিবারের ভরণপোষণের দিরহাম থেকে হয়।" কেননা এটি ওই দিরহামগুলোতে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি নাকচ হওয়ার ওপর কোনো দলিল নয়।
*যদি বলা হয়: হাদিসের শব্দে এসেছে: "আর রৌপ্য মুদ্রার (الرقة) ক্ষেত্রে প্রতি দুইশত দিরহামে এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ" এবং আলীর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "তোমার ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো বিধান নেই যতক্ষণ না তা বিশ দিনার হয়।" আর 'রিক্কাহ' (الرقة) হলো নকশাকৃত রৌপ্য মুদ্রা এবং একইভাবে দিনারও হলো নকশাকৃত মুদ্রা; এটি জাকাত ওয়াজিব হওয়া কেবল এই ধরনের মুদ্রার সাথে নির্দিষ্ট হওয়ার কারণের ওপর দলিল,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والحلي ليس منه.
فالجواب من وجهين:
احدهما: إن الذين لا يوجبون زكاة الحلي ويستدلون بمثل هذا اللفظ لا يخصون وجوب الزكاة بالمضروب من الذهب والفضة بل يوجبونها في التبر1 ونحوه وان لم يكن مضروبا وهذا تناقض منهم وتحكم حيث ادخلوا فيه ما لا يشمله اللفظ على زعمهم واخرجوا منه نظير ما ادخلوه من حيث دلالة اللفظ عليه أو عدمها.
الثاني: إننا إذا سلمنا اختصاص الرقة والدينار بالمضروب من الفضة والذهب فان الحديث يدل على ذكر بعض أفراد وأنواع العام بحكم لا يخالف حكم العام وهذا لا يدل على التخصص كما إذا قلت: أكرم
--------------------------------------------
আর অলঙ্কার এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
এর উত্তর দুইভাবে প্রদান করা যায়:
প্রথমত: যারা অলঙ্কারের ওপর জাকাত ওয়াজিব করেন না এবং এই ধরনের শব্দের দ্বারা দলিল পেশ করেন, তারা জাকাত ওয়াজিব হওয়াকে কেবল স্বর্ণ ও রৌপ্যের মুদ্রিত মুদ্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ করেন না; বরং তারা স্বর্ণ ও রৌপ্যের পিণ্ড (تبر) এবং এই জাতীয় বস্তুর ওপরও জাকাত ওয়াজিব করেন, যদিও তা মুদ্রিত আকারে না থাকে। এটি তাদের পক্ষ থেকে একটি স্ববিরোধিতা এবং খেয়ালখুশিমতো ব্যাখ্যা, কারণ তারা এতে এমন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা তাদের দাবি অনুযায়ী শব্দটির ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত নয়, আবার তারা এর থেকে এমন বিষয়কে বাদ দিয়েছেন যা শব্দের নির্দেশনার দিক থেকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা বিষয়েরই অনুরূপ ছিল।
দ্বিতীয়ত: আমরা যদি এটি মেনে নেই যে, 'রিক্কাহ' এবং 'দিনার' কেবল স্বর্ণ ও রৌপ্যের মুদ্রিত মুদ্রার সাথে সুনির্দিষ্ট, তবুও হাদিসটি মূলত একটি সাধারণ (عام) বিষয়ের কিছু একক বা প্রকারকে এমন একটি বিধানের সাথে উল্লেখ করাকে নির্দেশ করে যা সেই সাধারণ (عام) বিধানের পরিপন্থী নয়। আর এটি কোনো বিশেষীকরণ (تخصص) নির্দেশ করে না, যেমন আপনি যদি বলেন: সম্মান করো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ২০)
العلماء ثم قلت: أكرم زيدا وكان من جملة العلماء فانه لا يدل على اختصاصه بالإكرام، فالنصوص جاء بعضها عاما في وجوب زكاة الذهب والفضة وبعضها جاء بلفظ الرقة الدينار وهو بعض أفراد العام فلا يدل ذلك على التخصيص.
*فان قيل: ما الفرق بين الحلي المباح وبين الثياب المباحة إذا قلنا بوجوب الزكاة في الاول دون الثاني؟.
فالجواب: إن الشارع فرق بينهما حيث أوجبها في الذهب والفضة من غير استثناء بل وردت نصوص خاصة في وجوبها في الحلي المباح المستعمل كما سبق وأما الثياب فهي بمنزلة الفرس وعبد الخدمة الذين قال فيهما رسول الله صلي الله عليه وسلم: "ليس على المسلم في عبده ولا فرسه
বিদ্বানগণ; অতঃপর আমি যদি বলি: ‘যায়েদকে সম্মান করো’, অথচ সে আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিল; তবে এটি তাকে সম্মানের জন্য বিশেষায়িত করার প্রমাণ বহন করে না। সুতরাং নসসমূহ (نصوص)-এর কিছু স্বর্ণ ও রৌপ্যের জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ (عام) হিসেবে এসেছে এবং কিছু রৌপ্য মুদ্রা ও দিনার শব্দে এসেছে, যা সাধারণের অন্তর্ভুক্ত একক (أفراد العام); অতএব তা বিশেষায়ন (تخصيص)-এর প্রমাণ দেয় না।
*যদি প্রশ্ন করা হয়: বৈধ অলঙ্কার এবং বৈধ পোশাকের মধ্যে পার্থক্য কী, যদি আমরা প্রথমটিতে জাকাত ওয়াজিব বলি এবং দ্বিতীয়টিতে না বলি?
উত্তর হলো: বিধানদাতা (شارع) এই উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন, যেহেতু তিনি কোনো ব্যত্যয় ছাড়াই স্বর্ণ ও রৌপ্যের ক্ষেত্রে একে ওয়াজিব করেছেন; বরং ইতিপূর্বে যেমন অতিবাহিত হয়েছে, ব্যবহৃত বৈধ অলঙ্কারের ক্ষেত্রেও জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে বিশেষ (خاص) নসসমূহ (نصوص) বর্ণিত হয়েছে। আর পোশাক-পরিচ্ছদ হলো ঘোড়া এবং খেদমতগার দাসের মর্যাদায়, যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুসলমানের ওপর তার দাস এবং তার ঘোড়ার ক্ষেত্রে (জাকাত) নেই"
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ২১)
صدقة" 1 فإذا كانت الثياب لللبس فلا زكاة فيها وإن كانت للتجارة ففيها زكاة التجارة.
*فان قيل: هل يصح قياس الحلي المباح المعد للاستعمال علي الثياب المباحة المعدة للاستعمال كما قاله من لا يوجبون الزكاة في الحلي؟.
*فالجواب: لا يصح القياس لوجوه:
الاول: انه قياس في مقابلة النص وكل قياس في مقابلة النص فهو قياس فاسد وذلك لأنه يقتضي إبطال العمل بالنص، ولان النص إذا فرق بين شيئين في الحكم فهو دليل على أن بينهما من الفوارق ما يمنع إلحاق احدهما بالآخر، ويجب افتراقها سواء علمنا تلك
--------------------------------------------
"সদকা" ১ সুতরাং পোশাক যদি পরিধানের জন্য হয়, তবে তাতে কোনো জাকাত নেই। আর যদি তা ব্যবসার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তাতে ব্যবসার জাকাত প্রযোজ্য হবে।
*যদি প্রশ্ন করা হয়: ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতকৃত বৈধ অলংকারকে কি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতকৃত বৈধ পোশাকের সাথে তুলনা (قياس) করা সঠিক হবে? যেমনটি তারা বলেন যারা অলংকারে জাকাত আবশ্যক হওয়াকে অস্বীকার করেন।
*উত্তর হলো: কয়েকটি কারণে এই তুলনা (قياس) সঠিক নয়:
প্রথমত: এটি দলিলের (النص) বিপরীতে করা তুলনা (قياس)। আর দলিলের (النص) বিপরীতে করা যেকোনো তুলনাই (قياس) অসার (فاسد); কেননা এটি দলিলের (النص) ওপর আমল করাকে রহিত করার দাবি রাখে। এছাড়া দলিল (النص) যখন দুটি বিষয়ের বিধানের মধ্যে পার্থক্য করে দেয়, তখন তা প্রমাণ করে যে, তাদের উভয়ের মাঝে এমন কিছু পার্থক্য বিদ্যমান যা একটিকে অন্যটির সাথে সংযুক্ত করতে বাধা প্রদান করে। এমতাবস্থায় তাদের মাঝে বিধানগত পার্থক্য বজায় রাখা আবশ্যক, চাই আমরা সেই কারণগুলো জানতে পারি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ২২)
الفوارق أم جهلناها ومن ظن افتراق ما جمع الشارع بينهما أو اجتماع ما فرق الشارع بينهما فظنه خطأ بلا شك فان الشرع نزل من لدن حكيم خبير.
الثاني: إن الثياب لم تجب الزكاة فيها أصلا، فلم تكن الزكاة فيها واجبة أو ساقطة بحسب القصد وإنما الحكم فيها واحد، وهو عدم وجوب الزكاة فكان مقتضي القياس أن يكون حكم الحلي واحدا وهو وجوب الزكاة سواء أعده لللبس أو لغيره، ولا يرد على ذلك وجوب الزكاة فيها إذا كانت عروضا لان الزكاة حينئذ في قيمتها.
الثالث: أن يقال: ما هو القياس الذي يراد الجمع به بين الحلي المعد للاستعمال والثياب المعدة له؟ اهو قياس التسوية أم قياس العكس؟ فان قيل هو قياس
পার্থক্যসমূহ, নাকি আমরা সে বিষয়ে অজ্ঞ? আর যে ব্যক্তি মনে করে যে, শরিয়ত প্রণেতা যে বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছেন তা পৃথক, অথবা শরিয়ত প্রণেতা যেগুলোকে পৃথক করেছেন তা একত্রিত, তবে তার সেই ধারণা নিঃসন্দেহে ভুল; কেননা শরিয়ত অবতীর্ণ হয়েছে প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে।
দ্বিতীয়ত: পোশাক-পরিচ্ছদের ওপর মূলত জাকাত ওয়াজিব (واجب) নয়। তাই নিয়তের কারণে সেগুলোতে জাকাত ওয়াজিব (واجب) হওয়া বা রহিত (ساقط) হওয়ার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয় না। বরং এ ক্ষেত্রে বিধান একটিই, আর তা হলো জাকাত ওয়াজিব (واجب) না হওয়া। অতএব কিয়াসের (قياس) দাবি হলো অলংকারের বিধানও অভিন্ন হওয়া, আর তা হলো জাকাত ওয়াজিব (وجوب) হওয়া—চাই তা পরিধানের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হোক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে। আর অলংকার যদি ব্যবসায়িক পণ্য (عروض) হিসেবে থাকে তবে সে ক্ষেত্রে জাকাত ওয়াজিব হওয়া এর পরিপন্থী নয়; কারণ তখন জাকাত প্রদান করতে হয় তার মূল্যের ওপর।
তৃতীয়ত: বলা যেতে পারে যে, ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতকৃত অলংকার এবং ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতকৃত পোশাকের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য কাঙ্ক্ষিত কিয়াস (قياس) কোনটি? এটি কি সমতাভিত্তিক কিয়াস (قياس التسوية) নাকি বিপরীতধর্মী কিয়াস (قياس العكس)? যদি বলা হয় এটি একটি কিয়াস (قياس)
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
التسوية، قيل: هذا إنما يصح لو كانت الثياب تجب فيها الزكاة قبل إعدادها للبس والاستعمال ثم سقطت الزكاة بعد إعدادها ليتساوى الفرع والأصل في الحكم وإن قيل: هو قياس العكس، قيل: هذا إنما يصح لو كانت الثياب لا تجب فيها الزكاة إذا لم تعد لللبس وتجب فيها إذا أعدت لللبس فان هذا هو عكس الحكم في الحلي عند المفرقين بين الحلي المعد لللبس وغيره.
الرابع: إن الثياب والحلي افترقت عند مسقطي الزكاة في الحلي في كثير من المسائل، فما الفرق بينهما:
1-إذا اعد الحلي لنفقة واعد الثياب للنفقة بمعنى انه إذا احتاج للنفقة باع منهما واشترى نفقة فقالوا: في هذا الحال تجب الزكاة في الحلي ولا تجب في الثياب.
ومن الغريب أن يقال: امرأة غنية يأتيها المال من كل مكان وكلما ذكر لها حلي معتاد اللبس اشترته برفيع
সমতা বিধান প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: এটি তখনই সঠিক হওয়া সম্ভব যদি পরিধান ও ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতির পূর্বে কাপড়ের ওপর জাকাত ওয়াজিব হতো এবং প্রস্তুতির পর সেই জাকাত রহিত হয়ে যেত; যাতে বিধানের ক্ষেত্রে শাখা (فرع) ও মূল (أصل) উভয়ই সমান হতে পারে। আর যদি বলা হয়: এটি বিপরীত অনুমান (قياس العكس), তবে এর উত্তরে বলা হয়েছে: এটি তখনই সঠিক হতো যদি পরিধানের জন্য প্রস্তুত না থাকলে কাপড়ে জাকাত ওয়াজিব না হতো এবং পরিধানের জন্য প্রস্তুত থাকলে ওয়াজিব হতো। কারণ যারা পরিধানের জন্য প্রস্তুতকৃত অলঙ্কার এবং অন্যান্য অলঙ্কারের মধ্যে পার্থক্য করেন, তাদের নিকট অলঙ্কারের বিধানের ক্ষেত্রে এটিই হলো বিপরীত বিষয়।
চতুর্থত: যারা অলঙ্কারের ওপর জাকাত রহিত হওয়ার প্রবক্তা, তাদের নিকট অনেক মাসআলার ক্ষেত্রে কাপড় ও অলঙ্কারের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়; তাহলে এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য কী:
১-যদি অলঙ্কারকে ভরণপোষণের উদ্দেশ্যে রাখা হয় এবং কাপড়কেও ভরণপোষণের উদ্দেশ্যে রাখা হয়—অর্থাৎ যখনই ভরণপোষণের প্রয়োজন হবে তখন সে এই দুটি থেকে কোনোটি বিক্রি করে ব্যয় নির্বাহ করবে—তবে তারা বলেন: এই অবস্থায় অলঙ্কারের ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে, কিন্তু কাপড়ের ওপর ওয়াজিব হবে না।
এটি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক যে বলা হয়: একজন ধনী মহিলা যার নিকট সব দিক থেকে সম্পদ আসে এবং যখনই তার কাছে সাধারণ ব্যবহারের কোনো অলঙ্কারের কথা উল্লেখ করা হয়, সে তা উচ্চমূল্যে ক্রয় করে...
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأثمان للتحلي به غير فرار من الزكاة ولما افترقت هذه المرأة نفسها أبقت حليها للنفقة وضرورة العيش، فقلنا لها في الحلي الأولى: لا زكاة عليك في هذا الحلي، وقلنا لها في الحال الأخيرة: عليه الزكاة فيه. هذا هو مقتضي قول مسقطي الزكاة في الحلي المباح.
2- إن الحنابلة قالوا: انه إذا اعد الحلي للكراء وجبت فيه الزكاة وإذا أعدت الثياب للكراء لم تجب.
3- انه إذا كان الحلي محرما وجبت الزكاة فيه وإذا كانت الثياب محرمة لم تجب الزكاة فيها.
4- لو كان عنده حلي للقنية"1" ثم نواه للتجارة صار للتجارة ولو كان عنده ثياب للقنية ثم نواها للتجارة لم تصر للتجارة وعللوا ذلك بان الأصل في الحلي الزكاة
--------------------------------------------
যাকাত ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়াই অলংকার হিসেবে ব্যবহারের জন্য মূল্যবান ধাতুসমূহ রাখা হয়েছে। যখন এই একই মহিলা অভাবগ্রস্ত হলেন এবং তাঁর অলংকারগুলো ব্যয় নির্বাহ ও জীবনধারণের প্রয়োজনে রেখে দিলেন, তখন আমরা তাঁকে প্রথম অবস্থার ক্ষেত্রে বলেছিলাম: এই অলংকারে আপনার ওপর কোনো যাকাত নেই; আর পরবর্তী অবস্থার ক্ষেত্রে তাঁকে বলেছিলাম: এতে যাকাত আবশ্যক হবে। এটিই বৈধ (مباح) অলংকারের ক্ষেত্রে যারা যাকাত রহিত করার সপক্ষে মত দিয়েছেন, তাদের অভিমতের দাবি।
2- নিশ্চয়ই হাম্বলিগণ বলেছেন: যদি অলংকার ভাড়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত রাখা হয়, তবে তাতে যাকাত আবশ্যক (واجب) হবে, কিন্তু যদি পোশাক ভাড়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত রাখা হয়, তবে যাকাত আবশ্যক হবে না।
3- যদি অলংকার হারাম (محرم) হয়, তবে তাতে যাকাত আবশ্যক (واجب) হবে; কিন্তু যদি পোশাক হারাম (محرم) হয়, তবে যাকাত আবশ্যক হবে না।
4- যদি কারো কাছে ব্যক্তিগত ব্যবহারের (قنية) "১" জন্য অলংকার থাকে এবং পরে তিনি তা ব্যবসার (تجارة) নিয়ত করেন, তবে তা ব্যবসার অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু যদি কারো কাছে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য পোশাক থাকে এবং পরে তিনি তা ব্যবসার নিয়ত করেন, তবে তা ব্যবসার অন্তর্ভুক্ত হবে না। তাঁরা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, অলংকারের মূল ভিত্তি (أصل) হলো যাকাত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فقويت النية بذلك بخلاف الثياب وهذا اعتراف منهم بان الأصل في الحلي وجوب الزكاة. فنقول لهم: وما الذي هدم هذا الأصل بدون دليل؟.
5- قالوا: لو نوى الفرار من الزكاة باتخاذ الحلي لم تسقط الزكاة، وظاهر كلام أكثر أصحاب الإمام احمد انه لو أكثر من شراء العقار فرار من الزكاة سقطت الزكاة وقياس ذلك لو أكثر من شراء الثياب فرارا من الزكاة سقطت الزكاة إذ لا فرق بين الثياب والعقار فإذا كان الحلي المباح مفارقا للثياب المعدة لللبس في هذه الأحكام فكيف نوجب أو نجيز إلحاقه بها في حكم دل النص على افتراقها فيه؟.
إذا نبين ذلك فان الزكاة لا تجب في الحلي حتى يبلغ نصابا لحديث أم سلمة السابق: "ما بلغ أن تودي زكاته
সুতরাং এর মাধ্যমে পোশাকের বিপরীতে নিয়ত প্রবল হয়েছে এবং এটি তাদের পক্ষ থেকে একটি স্বীকৃতি যে, অলঙ্কারের ক্ষেত্রে মূল নীতি (أصل) হলো জাকাত ওয়াজিব (واجب) হওয়া। আমরা তাদের বলি: দলিল ব্যতীত কোন বিষয়টি এই মূল নীতি (أصل)-কে খণ্ডন করেছে?
৫- তারা বলেন: যদি কেউ জাকাত ফাঁকি দেওয়ার নিয়তে অলঙ্কার গ্রহণ করে তবে জাকাত রহিত হবে না। ইমাম আহমদের অধিকাংশ অনুসারীদের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো, যদি কেউ জাকাত থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় বৃদ্ধি করে তবে জাকাত রহিত হবে। এর সাদৃশ্যবিধান (قياس) অনুযায়ী যদি কেউ জাকাত থেকে পলায়নের জন্য পোশাক ক্রয় বৃদ্ধি করে তবে জাকাত রহিত হবে, যেহেতু পোশাক ও স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সুতরাং যদি বৈধ (مباح) অলঙ্কার পরিধানের জন্য প্রস্তুতকৃত পোশাক থেকে এই সকল হুকুমের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়, তবে আমরা কীভাবে এমন একটি বিধানের ক্ষেত্রে অলঙ্কারকে পোশাকের অন্তর্ভুক্ত করা ওয়াজিব (واجب) করতে পারি বা বৈধ মনে করতে পারি, যেখানে অকাট্য প্রমাণ (نص) তাদের মধ্যকার পার্থক্যের নির্দেশ দেয়?
যখন এটি স্পষ্ট হলো, তখন অলঙ্কারের ওপর জাকাত ওয়াজিব (واجب) হবে না যতক্ষণ না তা নিসাব (نصاب) সীমায় পৌঁছে, যেমনটি উম্মে সালামাহ বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদিসে রয়েছে: "যা জাকাত প্রদানের স্তরে পৌঁছেছে..."
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فزكي فليس بكنز1" فنصاب الذهب عشرون دينارا "2 ونصاب الفضة مائتا درهم"3".
فإذا كان حلي الذهب ينقص وزن ذهبه عن عشرون دينارا وليس عند صاحبه من الذهب ما يكمل به النصاب فلا زكاة فيه.
وإذا كان حلي الفضة ينقص من وزن فضته عن مائتي درهم وليس عند صاحبه من الفضة ما يكمل به النصاب
--------------------------------------------
"সুতরাং যার জাকাত প্রদান করা হয়েছে তা 'কানয' বা গচ্ছিত সম্পদ (كنز) নয়। ১" স্বর্ণের নিসাব (نصاب) হলো বিশ দিনার। ২ এবং রূপার নিসাব (نصاب) হলো দুইশত দিরহাম। ৩
অতঃপর যদি স্বর্ণের অলংকারের স্বর্ণের ওজন বিশ দিনারের কম হয় এবং মালিকের নিকট এমন কোনো স্বর্ণ না থাকে যা দ্বারা নিসাব (نصاب) পূর্ণ হতে পারে, তবে তাতে কোনো জাকাত নেই।
যদি রূপার অলংকারের রূপার ওজন দুইশত দিরহামের কম হয় এবং মালিকের নিকট এমন কোনো রূপা না থাকে যা দ্বারা নিসাব (نصاب) পূর্ণ হতে পারে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فلا زكاة فيه.
المعتبرون وزن ما في الحلي من الذهب والفضة وأما ما يكون فيه من اللؤلؤ ونحوه فانه لا يحتسب به في تكميل النصاب ولا يزكي ما فيه من اللؤلؤ ونحوه لأنه ليس من الذهب والفضة والحلي من غير الذهب والفضة لا زكاة فيه الا أن يكون للتجارة.
لكن هل المعتبر في نصاب الذهب الدينار الإسلامي الذي زنته مثقال وفي نصاب الفضة الدرهم الإسلامي الذي زنته سبعة أعشار مثقال أو المعتبر الدينار والدرهم عرفا في كل زمان ومكان بحسبه سواء قل ما فيه من الذهب والفضة أم كثر؟ الجمهور على الاول وحكى إجماعا، وحقق شيخ الإسلام ابن تيمية الثاني أي أن المعتبر الدينار والدرهم المصطلح عليه في كل زمان ومكان بحسبه فما سمي دينارا أو درهما ثبتت له
সুতরাং তাতে কোনো জাকাত নেই।
বিদ্বানগণের নিকট বিবেচ্য হলো অলঙ্কারে বিদ্যমান স্বর্ণ ও রৌপ্যের ওজন। আর তাতে যদি মুক্তা বা অনুরূপ কিছু থাকে, তবে নিসাব (نصاب) পূর্ণ করার ক্ষেত্রে তা গণনা করা হবে না। মুক্তা বা অনুরূপ উপাদানের ওপর জাকাত প্রদান করতে হবে না, কারণ তা স্বর্ণ বা রৌপ্য নয়। স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যতীত অন্যান্য অলঙ্কারের ওপর জাকাত নেই, যদি না তা ব্যবসার জন্য হয়।
তবে স্বর্ণের নিসাব (نصاب)-এর ক্ষেত্রে কি সেই ইসলামি দিনার (دينار) বিবেচ্য যার ওজন এক মিসকাল (مثقال), আর রৌপ্যের নিসাব (নصاب)-এর ক্ষেত্রে কি সেই ইসলামি দিরহাম (درهم) বিবেচ্য যার ওজন এক মিসকাল (مثقال)-এর দশ ভাগের সাত ভাগ? নাকি প্রতিটি সময় ও স্থানের প্রচলিত রীতি (عرفا) অনুযায়ী দিনার (دينار) ও দিরহাম (درهم) বিবেচ্য হবে—তাতে স্বর্ণ বা রৌপ্যের পরিমাণ কম হোক বা বেশি? জমহুর (الجمهور) ওলামায়ে কেরাম প্রথম মতের ওপর রয়েছেন এবং এ বিষয়ে ইজমা (إجماعا) বর্ণিত হয়েছে। তবে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ দ্বিতীয় মতটিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। অর্থাৎ, প্রতিটি সময় ও স্থানের পারিভাষিক (المصطلح) দিনার (دينار) ও দিরহাম (درهم)-ই হবে বিবেচ্য বিষয়। সুতরাং যা কিছু দিনার (دينار) বা দিরহাম (درهم) হিসেবে অভিহিত হবে, তার জন্য সেটিই সাব্যস্ত হবে।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الأحكام المعلقة على اسم الدينار والدرهم سواء قل ما فيه من الذهب والفضة أم كثر وهذا هو الراجح عندي لموافقته ظاهر النصوص وعلى هذا فيكون نصاب الذهب عشرين جنيها ونصاب الفضة مائتي ريال وان احتاط المرء وعمل بقول الجمهور فقد فعل ما يثاب عليه إن شاء الله.
فإذا بلغ الحلي نصابا خاصا عشرين دينارا أن كان ذهبا ومائتي درهم إن كان فضة ففيه ربع العشر لحديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه أن النبي صلي الله عليه وسلم قال: "إذا كانت لك مائتا درهم وحال عليها الحول ففيها خمسة دراهم وليس عليك شئ يعني في الذهب – حتى يكون لك عشرون دينارا وحال عليها الحول ففيها نصف دينار". رواه
দ্বীনার ও দিরহামের নামের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ, চাই তাতে স্বর্ণ ও রৌপ্যের পরিমাণ কম হোক বা বেশি। আর এটিই আমার নিকট প্রাধান্যপ্রাপ্ত (الراجح) মত, কারণ এটি দলিলের প্রকাশ্য অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর ভিত্তিতে স্বর্ণের নিসাব হবে বিশ পাউন্ড এবং রৌপ্যের নিসাব হবে দুইশত রিয়াল। আর যদি কোনো ব্যক্তি সতর্কতা অবলম্বন করে এবং জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মত অনুযায়ী আমল করে, তবে সে সওয়াবযোগ্য কাজই করল ইনশাআল্লাহ।
অতঃপর অলঙ্কার যদি বিশেষ নিসাবে পৌঁছে—অর্থাৎ স্বর্ণের ক্ষেত্রে বিশ দ্বীনার এবং রৌপ্যের ক্ষেত্রে দুইশত দিরহাম—তবে তাতে এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ প্রদান করা ওয়াজিব। এর স্বপক্ষে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমার নিকট দুইশত দিরহাম থাকবে এবং তার উপর এক বছর অতিক্রান্ত হবে, তখন তাতে পাঁচ দিরহাম প্রদান করতে হবে। আর স্বর্ণের ক্ষেত্রে তোমার উপর কোনো কিছু (যাকাত) নেই—অর্থাৎ স্বর্ণের ক্ষেত্রে—যতক্ষণ না তোমার নিকট বিশ দ্বীনার হয় এবং তার উপর এক বছর অতিক্রান্ত হয়; তখন তাতে অর্ধেক দ্বীনার প্রদান করতে হবে।" এটি বর্ণনা করেছেন (رواه)
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أبو داود."1
وبعد: فان علي العبد أن يتقي الله ما استطاع ويعمل جهده في تحري معرفة الحق من الكتاب والسنة فإذا ظهر له الحق منهما وجب عليه العمل به، وان لا يقدم عليهما قول احد من الناس كائنا من كان ولا قياسا من الاقيسة أي قياس كان وعند التنازع يجب الرجوع إلي الكتاب والسنة فانهن الصراط المستقيم والميزان العدل القويم، قال تعالي: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} [النساء- 59] . والرد إلي الله هو الرد إلي كتابه والرد إلي الرسول هو الرد إلي سنته وهديه حيا وميتا.
وقال تعالي: {َلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ
--------------------------------------------
আবু দাউদ।"১
অতঃপর: বান্দার কর্তব্য হলো সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় করা এবং কিতাব (كتاب) ও সুন্নাহ (سنة) থেকে সত্য উদ্ঘাটনে তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা। সুতরাং যখনই তার কাছে এ দুই উৎস থেকে সত্য স্পষ্ট হয়ে উঠবে, তখন তার ওপর সে অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক (وجب) হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় সে এ দুটির ওপর অন্য কোনো মানুষের কথাকে প্রাধান্য দেবে না—তিনি যেই হোন না কেন, এবং কোনো প্রকার কিয়াস (قياس)-কেও অগ্রাধিকার দেবে না। আর কোনো বিরোধ দেখা দিলে অবশ্যই কিতাব (كتاب) ও সুন্নাহ (سنة)-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে; কেননা এ দুটিই হলো সরল পথ এবং সঠিক ও সুদৃঢ় তুলাদণ্ড। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই উত্তম এবং পরিণতির দিক থেকে উৎকৃষ্টতর} [নিসা: ৫৯]। আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর কিতাব (كتاب)-এর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া, আর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর জীবদ্দশায় এবং ওফাতের পর তাঁর সুন্নাহ (سنة) ও হিদায়াতের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {না, তোমার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তোমাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেবে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} . [النساء:65] .
فاقسم الله تعالي وربوبيته لرسوله صلي الله عليه وسلم التي هي اخص ربوبية قسما مؤكدا على أن لا إيمان الا بان نحكم النبي صلي الله عليه وسلم في كل نزاع بيننا والا يكون في نفوسنا حرج وضيق مما يقضي به رسول الله صلي الله عليه وسلم وأن نسلم لذلك تسليما تاما بالانقياد الكامل والتنفيذ.
وتأمل كيف أكد التسليم بالمصدر فانه يدل على انه لا بد من تسليم تام لا انحراف فيه ولا توان.
وتأمل أيضا المناسبة بين المقسم به والمقسم عليه فالمقسم به ربوبية الله لنبيه صلي الله عليه وسلم والمقسم عليه هو عدم الإيمان الا بتحكيم النبي صلي الله عليه وسلم تحكيما تاما يستلزم الانشراح والانقياد والقبول، فان ربوبية الله لرسوله
{যেসব বিষয়ে তাদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়, অতঃপর আপনার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} [আন-নিসা: ৬৫] .
অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর মহান সত্তা এবং তাঁর রাসূলের প্রতি তাঁর রুবুবিয়াতের (ربوبية) শপথ করে—যা রুবুবিয়াতের বিশেষতম পর্যায়—এক সুনিশ্চিত শপথ করেছেন যে, আমাদের মধ্যকার প্রতিটি বিরোধপূর্ণ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বিচারক হিসেবে মান্য না করা পর্যন্ত এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ফয়সালার ব্যাপারে আমাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা বা দ্বিধা না থাকা এবং পূর্ণ আনুগত্য ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে তা সর্বান্তকরণে মেনে নেওয়া (تسليماً) না করা পর্যন্ত কারও ঈমান থাকবে না।
আর লক্ষ্য করুন, কীভাবে আল্লাহ তাআলা মূল ধাতু (المصدر) ব্যবহারের মাধ্যমে মেনে নেওয়ার বিষয়টিকে তাকিদ বা নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন; যা প্রমাণ করে যে, এমন এক পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণ (تسليم) থাকা অপরিহার্য যাতে কোনো বিচ্যুতি বা শিথিলতা নেই।
শপথের মাধ্যম (المقسم به) এবং যে বিষয়ে শপথ করা হয়েছে (المقسم عليه)—এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সামঞ্জস্যটিও লক্ষ্য করুন। এখানে শপথের মাধ্যম হলো তাঁর নবীর প্রতি আল্লাহর রুবুবিয়াত (ربوبية); আর যে বিষয়ে শপথ করা হয়েছে তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পূর্ণাঙ্গভাবে বিচারক মানা ব্যতীত ঈমানের অনুপস্থিতি। এই বিচার মান্য করা এমন যা চিত্তের প্রশান্তি, পূর্ণ আনুগত্য (الانقياد) এবং গ্রহণ (القبول) করার দাবি রাখে। কেননা তাঁর রাসূলের প্রতি আল্লাহর রুবুবিয়াত (ربوبية)...
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী যাকাতিল হুলি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تقتضي أن يكون ما حكم به مطابقا لما إذن به ربه ورضيه فان مقتضي الربوبية أن لا يقره على خطأ لا يرضاه له وإذا لم يظهر له.
وإذا لم يظهر له الحق من الكتاب والسنة وجب عليه أن يأخذ بقول من يغلب على ظنه انه اقرب إلي الحق بما معه من العلم والدين فان النبي صلي الله عليه وسلم يقول: "عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ" 1 وأحق الناس بهذا الوصف الخلفاء الأربعة أبو بكر وعمر وعثمان وعلي
--------------------------------------------
এটি দাবি করে যে, তাঁর প্রদত্ত ফয়সালা যেন তাঁর প্রতিপালকের অনুমোদিত ও সন্তুষ্ট বিষয়ের অনুরূপ হয়। কেননা রুবুবিয়্যাতের (الربوبية) দাবি হলো, তিনি তাঁকে এমন কোনো ভুলের ওপর বহাল রাখবেন না যা তিনি তাঁর জন্য পছন্দ করেন না, যদিও তা তাঁর নিকট স্পষ্ট না হয়।
আর যখন কুরআন ও সুন্নাহ (السنة) থেকে তাঁর নিকট সত্য স্পষ্ট না হয়, তখন তাঁর জন্য আবশ্যক হলো এমন ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ করা যার সম্পর্কে তাঁর প্রবল ধারণা (غلبة الظن) জন্মে যে, তিনি তাঁর নিকট থাকা জ্ঞান ও দ্বীনদারির কারণে সত্যের অধিক নিকটবর্তী। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ (السنة) এবং আমার পরবর্তী সঠিক পথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ (السنة) আঁকড়ে ধরো। একে শক্তভাবে ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো।" ১ আর এই গুণাবলির সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি হলেন চার খলিফা: আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী।
--------------------------------------------