(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: -)
رسالة في الرد على الرافضة (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثاني عشر) القسم: الفرق والردود
الكتاب: رسالة في الرد على الرافضة (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثاني عشر)
المؤلف: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206هـ)
المحقق: ناصر بن سعد الرشيد
الناشر: جامعة الإمام محمد بن سعود، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: -
عدد الصفحات: 52
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাফিযীদের খণ্ডনে লিখিত পুস্তিকা (শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাসমগ্রের দ্বাদশ খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত) বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডনতত্ত্ব
গ্রন্থ: রাফিযীদের খণ্ডনে লিখিত পুস্তিকা (শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাসমগ্রের দ্বাদশ খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত)
লেখক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান আত-তামিমী আন-নাজদী (মৃত্যু ১২০৬ হিজরি)
মুহাক্কিক (গবেষক): নাসির বিন সা'দ আল-রশীদ
প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: -
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণকপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ৩)
رسالة في الرد على الرافضة
تأليف الشيخ: محمد بن عبد الوهاب
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةالحمد لله والصلاة على رسول الله وبعد:
فإنه في أثناء تصوير مركز البحث العلمي وإحياء التراث الإسلامي بكلية الشريعة بجامعة الملك عبد العزيز لبعض المخطوطات في مكتبة الأوقاف في بغداد عثرنا على مجموع فيه رسائل كثيرة لبعض أئمة الحنابلة كابن تيمية وابن رجب رحمهما الله، وضمن هذا المجموع رسائل للشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله؛ وهذه الرسالة "الرد على الرافضة" كانت إحدى الرسائل التي لفتت نظري لأهميتها، فعقدت العزم على القيام بتحقيقها.
ولما كانت فريدة ولم أستطع العثور على نسخة أخرى لها، فقد عمدت إلى تصحيحها وتخريج أحاديثها وتتبع نصوصها، سواء أخذت هذه النصوص من مصادر سنية أو شيعية. ولما كانت المصادر الشيعية غير متوفرة فقد عمدت إلى المخطوط منها في مكة المكرمة ثم إلى ما وصلت إليه يدي من كتبهم المطبوعة خاصة الفقهية منها. ثم إني – على ضيق من الوقت – كلفت أحد زملائي الباحث في مركز البحث العلمي وإحياء التراث الإسلامي الذي قضى إجازة عيد الفطر في العراق أن يتتبع بعض مصادر الشيعة الهامة التي أشار إليها الشيخ في رسالته، فكان نعم المساعد وجزاه الله خيرًا.
রাফেযীদের খণ্ডনে রচিত পুস্তিকা
রচনায় শায়খ: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। অতঃপর:
বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইসলামী ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ কেন্দ্র কর্তৃক বাগদাদের আওকাফ লাইব্রেরির কিছু পাণ্ডুলিপি চিত্রায়নের কাজ চলাকালীন আমরা এমন একটি সংকলন খুঁজে পাই, যাতে ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনে রজব (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর মতো কয়েকজন হাম্বলী ইমামের অনেক পুস্তিকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই সংকলনের মধ্যেই শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর কিছু পুস্তিকাও পাওয়া যায়। এই "রাফেযীদের খণ্ডন" পুস্তিকাটি এর গুরুত্বের কারণে আমার বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে, ফলে আমি এটি সম্পাদনা ও গবেষণার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
যেহেতু এটি ছিল একটি অনন্য পাণ্ডুলিপি এবং আমি এর দ্বিতীয় কোনো অনুলিপি খুঁজে পেতে সক্ষম হইনি, তাই আমি এর পাঠ্য সংশোধন, হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (তাখরিজ) এবং এর উদ্ধৃতিসমূহ অনুসরণের দায়িত্ব গ্রহণ করি; চাই সেই উদ্ধৃতিগুলো সুন্নি বা শিয়া উৎস—যেখান থেকেই গৃহীত হোক না কেন। শিয়া উৎসগুলো পর্যাপ্ত সহজলভ্য না হওয়ায় আমি মক্কাতুল মোকাররমায় বিদ্যমান তাদের পাণ্ডুলিপিগুলোর শরণাপন্ন হই এবং এরপর তাদের মুদ্রিত যেসব কিতাব আমার হস্তগত হয়েছে, বিশেষ করে তাদের ফিকহ শাস্ত্রীয় কিতাবসমূহ থেকে সাহায্য নিই। অতঃপর—সময়ের স্বল্পতা সত্ত্বেও—আমি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইসলামী ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ কেন্দ্রের আমার একজন গবেষক সহকর্মীকে দায়িত্ব প্রদান করি, যিনি ঈদুল ফিতরের ছুটি ইরাকে অতিবাহিত করেছিলেন, যেন তিনি শিয়াদের সেই গুরুত্বপূর্ণ মূল উৎসগুলো অনুসন্ধান করেন যা শায়খ তাঁর পুস্তিকায় উল্লেখ করেছেন। তিনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সহযোগিতা করেছেন, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ৪)
هذا وقد كنت حريصًا أن اثبت ما في هذه الرسالة من عناوين على شكل مطالب سواء كانت من أصل التأليف أو من تبويبات الناسخ وهو الأرجح، وكذلك المقدمة القصيرة التي حمد الله فيها وصلى على رسوله صلى الله عليه وسلم.
هذا وأسأل الله العلي القدير أن يوفقنا لما فيه الخير والسداد.
আমি এই পুস্তিকায় বিদ্যমান শিরোনামগুলোকে অনুচ্ছেদ আকারে সাব্যস্ত করতে সচেষ্ট ছিলাম, চাই সেগুলো মূল রচনার অন্তর্ভুক্ত হোক কিংবা অনুলিপিকারীর বিন্যাসকৃত হোক—আর এটিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত; অনুরূপভাবে সেই সংক্ষিপ্ত ভূমিকাটিও অন্তর্ভুক্ত করেছি, যাতে আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা হয়েছে।
পরিশেষে, আমি সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের কল্যাণ ও সঠিক পথের তাওফীক দান করেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ৫)
رسالة في الرد على الرافضة…بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي جعلنا من أهل السنة، والصلاة والسلام على عبده الذي أكمل علينا به المنة، وعلى آله وأصحابه الذين حبهم واتباع آثارهم أقوى جنة، أما بعد:
فهذا مختصر مفيد 1 للشيخ محمد بن عبد الوهاب تغمده الله بالرحمة والرضوان، في بعض قبائح الرافضة الذين رفضوا سنة حبيب الرحمن، واتبعوا في غالب أمورهم خطوات الشيطان، فضلوا وأضلوا عن كثير من موجبات الإيمان بالله وسعوا في البلاد بالفساد والطغيان، يتولون أهل النيران، ويعادون أصحاب الجنان، نسأل الله العفو عن الافتتان من قبائحهم.
مطلب الوصية بالخلافة:
إن مفيدهم ابن المعلم 2 قال في كتابه روضة الواعظين3: "إن الله أنزل جبريل على النبي صلى الله عليه وسلم بعد توجهه إلى المدينة في الطريق في حجة الوداع فقال: يا محمد إن الله تعالى يقرئك السلام.
--------------------------------------------
রাফেজীদের খণ্ডনে একটি পুস্তিকা...পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সেই বান্দার প্রতি যার মাধ্যমে তিনি আমাদের ওপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেছেন, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর, যাদের ভালোবাসা এবং যাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করাই হলো শক্তিশালী ঢাল। অতঃপর:
এটি শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁকে রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন) কর্তৃক প্রণীত একটি উপকারী সারসংক্ষেপ 1, যা সেই রাফেজীদের কিছু জঘন্য বিষয় সম্পর্কে রচিত যারা পরম দয়াময় আল্লাহর প্রিয় রাসূলের সুন্নাহকে বর্জন করেছে এবং তাদের অধিকাংশ বিষয়ে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। ফলে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমানের অনেক অপরিহার্য বিষয় থেকে অন্যদেরও বিচ্যুত করেছে। তারা জমিনে ফাসাদ ও অবাধ্যতা বিস্তারে সচেষ্ট হয়েছে; তারা জাহান্নামীদের সাথে বন্ধুত্ব করে এবং জান্নাতীদের (সাহাবীগণকে) শত্রু মনে করে। আমরা আল্লাহর কাছে তাদের এই সকল জঘন্য ফিতনা থেকে পরিত্রাণ ও ক্ষমা প্রার্থনা করি।
খিলাফতের ওসীয়ত সংক্রান্ত আলোচনার দাবি:
তাদের প্রধান আলেম ইবনে মুআল্লিম 2 তার 'রাওদাতুল ওয়ায়িজীন' 3 গ্রন্থে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বিদায় হজ শেষে মদিনার পথে থাকাকালীন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট জিবরাঈলকে অবতীর্ণ করেন এবং তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ, মহান আল্লাহ আপনাকে সালাম জানিয়েছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ৬)
ويقول لك: انصب عليا للإمامة ونبه أمتك على خلافته، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: يا أخي جبريل، إن الله بغض أصحابي لعلي، إني أخاف منهم أن يجتمعوا على إضراري، فاستعف 1 لي ربي. فصعد جبريل وعرض جوابه على الله تعالى، فأنزله الله تعالى مرة أخرى، وقال النبي صلى الله عليه وسلم مثلما قال أولا، فاستعفى النبي صلى الله عليه وسلم كما في المرة الأولى. ثم صعد جبريل فكرر جواب النبي صلى الله عليه وسلم فأمره الله بتكرير نزوله معاتبا له مشددا عليه بقوله: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ} . فجمع أصحابه وقال: يا أيها الناس إن عليا أمير المؤمنين، وخليفة رب العالمين، ليس لأحد أن يكون خليفة بعدي سواه2، من كنت مولاه فعلي مولاه، اللهم وال من والاه وعاد من عاداه" انتهى.
فانظر يا أيها المؤمن إلى حديث هؤلاء الكذبة، الذي يدل على اختلاقه ركاكة ألفاظه وبطلان أغراضه، ولا يصح منه إلا "من كنت مولاه 3") ومن اعتقد منهم صحة هذا فقد هلك؛ إذ فيه اتهام المعصوم قطعا من المخالفة بعدم امتثال أمر ربه ابتداء وهو نقص، ونقص الأنبياء عليهم الصلاة والسلام كفر، وأن الله تعالى اختار لصحبته من يبغض أجل أهل بيته، وفي ذلك ازدراء بالنبي صلى الله عليه وسلم ومخالفة لما مدح الله به رسوله 4.
--------------------------------------------
এবং তিনি আপনাকে বলছেন: আলীকে ইমামতের জন্য নির্ধারণ করুন এবং আপনার উম্মতকে তাঁর খিলাফতের ব্যাপারে অবগত করুন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে আমার ভাই জিবরাঈল, নিশ্চয়ই আমার সাহাবীদের অন্তরে আলীর প্রতি বিদ্বেষ রয়েছে; আমি তাদের পক্ষ থেকে আমার ক্ষতির জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছি, তাই আমার রবের নিকট আমার জন্য অব্যাহতি প্রার্থনা করো। অতঃপর জিবরাঈল ওপরে আরোহণ করলেন এবং মহান আল্লাহর নিকট তাঁর উত্তর পেশ করলেন। আল্লাহ তাঁকে পুনরায় পাঠালেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমবার যা বলেছিলেন তাই বললেন এবং প্রথমবারের ন্যায় অব্যাহতি চাইলেন। পুনরায় জিবরাঈল ওপরে আরোহণ করে নবীর উত্তর পুনর্ব্যক্ত করলেন। তখন আল্লাহ তাঁকে ভর্ৎসনা ও কঠোরতা জ্ঞাপন করে পুনরায় অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বললেন: {হে রাসূল, আপনার প্রতি আপনার রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না}। এরপর তিনি তাঁর সাহাবীদের সমবেত করলেন এবং বললেন: হে লোকসকল, নিশ্চয়ই আলী মুমিনদের আমির এবং বিশ্বজগতের রবের খলিফা। আমার পরে তিনি ব্যতীত অন্য কারো খলিফা হওয়ার অধিকার নেই। আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা। হে আল্লাহ, যে তাকে বন্ধু মনে করে আপনি তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন, আর যে তার সাথে শত্রুতা করে আপনি তার সাথে শত্রুতা করুন—সমাপ্ত।
হে মুমিন, আপনি এই মিথ্যাবাদীদের বর্ণনার প্রতি লক্ষ্য করুন, যার শব্দের দুর্বলতা ও উদ্দেশ্যের অসারতাই এর বানোয়াট হওয়ার প্রমাণ দেয়। এর কোনো অংশই বিশুদ্ধ নয়, কেবল "আমি যার মাওলা" অংশটুকু ব্যতীত। তাদের মধ্যে যারা এর বিশুদ্ধতায় বিশ্বাস রাখবে তারা নিশ্চিত ধ্বংস হবে; কারণ এতে মাসুম বা নিষ্পাপ সত্তাকে অকাট্যভাবে তাঁর রবের নির্দেশ পালনে শুরুতে অবাধ্য হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা একটি ত্রুটি। আর নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) ক্ষেত্রে ত্রুটি সাব্যস্ত করা কুফরি। এর দ্বারা এটিও বুঝায় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর সাহচর্য লাভের জন্য এমন ব্যক্তিদের মনোনীত করেছেন যারা তাঁর আহলে বাইতের সর্বশ্রেষ্ঠ সদস্যকে ঘৃণা করত। এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং আল্লাহ তাঁর রাসূলের যে প্রশংসা করেছেন তার বিরুদ্ধাচরণ পরিলক্ষিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ৭)
وأصحابه من 1 أجل المدح قال الله تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَاناً سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْأِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً} 2. واعتقاد ما يخالف كتاب الله والحديث المتواتر كفر، وأنه صلى الله عليه وسلم خاف إضرار الناس، وقد قال الله تعالى: {وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ} 3 قبل ذلك كما هو معلوم بديهة. واعتقاد عدم توكله على ربه فيما وعده نقص، ونقصه كفر. وإن فيه كذبا على الله تعالى {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِباً} 4 وكذبا على رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن استحل ذلك فقد كفر، ومن يستحل ذلك فقد تفسق، وليس في قوله: "من كنت مولاه" أن النص على خلافته متصلة، ولو كان نصا لادعاها علي رضي الله عنه لأنه أعلم بالمراد، ودعوى ادعائها 5 باطل ضرورة، ودعوى علمه يكون نصا على خلافته، وترك ادعائها تقيه أبطل من أن يبطل. ما أقبح ملة قوم يرمون إمامهم بالجبن والخور والضعف في الدين، مع أنه من أشجع الناس وأقواهم.
--------------------------------------------
এবং তাঁর সাহাবীগণ প্রশংসার যোগ্যতম পাত্র। মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আপনি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত অবস্থায় দেখবেন; তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে। সেজদার চিহ্নের কারণে তাদের মুখমণ্ডলে তাদের পরিচয় রয়েছে। তওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপই এবং ইঞ্জিলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো সেই শস্যের মতো, যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তাকে শক্তিশালী করে, এরপর তা পুষ্ট হয় এবং নিজ কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে যায়, যা কৃষকদের আনন্দিত করে; যাতে তিনি তাদের মাধ্যমে কাফেরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন।" ২। এবং আল্লাহর কিতাব ও মুতাওয়াতির হাদীসের পরিপন্থী কোনো বিশ্বাস পোষণ করা কুফরী। আর এই ধারণা করা যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের ক্ষতির ভয় করতেন, অথচ মহান আল্লাহ এর পূর্বেই এরশাদ করেছেন: "আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের (অনিষ্ট) থেকে রক্ষা করবেন" ৩—এটি স্বতঃসিদ্ধভাবেই ভ্রান্ত। তিনি তাঁর প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তাঁর ওপর ভরসা করেননি বলে বিশ্বাস করা একটি ত্রুটি, আর তাঁর শানে ত্রুটি আরোপ করা কুফরী। এর মধ্যে মহান আল্লাহর ওপর মিথ্যাচারের শামিল রয়েছে: "তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে?" ৪ এবং তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপরও মিথ্যারোপ। যে ব্যক্তি একে বৈধ মনে করবে সে কাফের হয়ে যাবে, আর যে এটি করবে সে ফাসেক গণ্য হবে। আর তাঁর বাণী: "আমি যার মাওলা..." এর মধ্যে এমন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই যে (তাঁর ইন্তেকালের পর পরই) খিলাফত সুনির্দিষ্ট ছিল। যদি এটি সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশ হতো, তবে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নিজেই তা দাবি করতেন, কারণ তিনি এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সমধিক পরিজ্ঞাত ছিলেন। আর তাঁর পক্ষ থেকে তা দাবি করার বিষয়টি ৫ অসার ও বাতিল। এবং এটি তাঁর খিলাফতের ওপর সুস্পষ্ট নির্দেশ হওয়া সত্ত্বেও তিনি 'তাকিয়া' বা আত্মরক্ষার্থে তা দাবি করা থেকে বিরত ছিলেন—এই দাবি বাতিলের চেয়েও বড় বাতিল। সেই সম্প্রদায়ের ধর্ম কতই না নিকৃষ্ট যারা তাদের ইমামের ওপর ভীরুতা, দুর্বলতা এবং দ্বীনের ব্যাপারে শিথিলতার অপবাদ দেয়, অথচ তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সাহসী ও শক্তিশালী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ৮)
مطلب إنكار خلافة الخلفاء
ومنها إنكارهم صحة خلافة الصديق رضي الله عنه 1 وإنكارها يستلزم تفسيق من بايعه واعتقد خلافته حقا؛ وقد بايعه الصحابة رضي الله عنهم حتى أهل البيت كعلي رضي الله عنه؛ وقد اعتقدها حقا جمهور الأمة، واعتقاد تفسيقهم يخالف قوله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} 2 إذ أي خير في أمة يخالف أصحاب نبيها إياه، ويظلمون أهل بيته بغصب أجل المناصب، ويؤذونه بإيذائهم، ويعتقد جمهورها الباطل حقا. (سبحانك هذا افتراء عظيم) . ومن اعتقد ما يخالف كتاب الله فقد كفر. والأحاديث الواردة في صحة خلافة الصديق وبإجماع الصحابة وجمهور الأمة على الحق أكثر من أن تحصر. ومن نسب جمهور أصحابه صلى الله عليه وسلم إلى الفسق والظلم، وجعل اجتماعهم على الباطل فقد ازدرى بالنبي صلى الله عليه وسلم، وازدراؤه كفر. ما أضيع صنيع قوم يعتقدون في جمهور 3 النبي صلى الله عليه وسلم الفسق والعصيان والطغيان، مع أن بديهة العقل تدل على أن الله تعالى لا يختار لصحبة صفيه ونصرة دينه إلا الأصفياء من خلقه؛ والنقل المتواتر يؤيد ذلك. فلو كان في هؤلاء القوم خير لما تكلموا في صحب النبي صلى الله عليه وسلم وأنصار دينه إلا بخير، لكن الله أشقاهم فخذلهم بالتكلم في أنصار الدين، كل ميسر
--------------------------------------------
খলিফাগণের খেলাফত অস্বীকার করার প্রসঙ্গ
এর মধ্যে একটি হলো সিদ্দিক (রা.)-এর খেলাফতের বৈধতা অস্বীকার করা। আর তা অস্বীকার করার অর্থ হলো—যারা তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর খেলাফতকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছেন, তাঁদেরকে ফাসেক সাব্যস্ত করা। অথচ সাহাবায়ে কেরাম (রা.), এমনকি আলীর (রা.) মতো আহলে বাইতগণও তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন। উম্মাহর সংখ্যাগুরু অংশ এটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে। তাঁদেরকে ফাসেক মনে করা মহান আল্লাহর এই বাণীর পরিপন্থী: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে।} কেননা এমন উম্মতের মধ্যে কল্যাণের কী অবশিষ্ট থাকে, যাদের নবীর সাহাবীগণ তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করেন, সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পদটি ছিনিয়ে নিয়ে তাঁর আহলে বাইতের ওপর জুলুম করেন, তাঁদের কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে নবীকে কষ্ট দেন এবং উম্মতের সংখ্যাগুরু অংশ বাতিলকে সত্য বলে বিশ্বাস করে? (হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র, এটি এক গুরুতর অপবাদ)। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের পরিপন্থী বিশ্বাস পোষণ করে, সে কুফরি করল। সিদ্দিকের খেলাফতের বৈধতা এবং সাহাবী ও উম্মতের অধিকাংশের সত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ সংখ্যায় অগণিত। যে ব্যক্তি নবী (সা.)-এর অধিকাংশ সাহাবীর প্রতি ফাসেক ও জালেম হওয়ার অপবাদ দেয় এবং তাঁদের ঐক্যকে বাতিলের ওপর সাব্যস্ত করে, সে মূলত নবী (সা.)-কে অবজ্ঞা করল; আর তাঁকে অবজ্ঞা করা কুফরি। সেই সম্প্রদায়ের কর্ম কতই না ধ্বংসাত্মক, যারা নবী (সা.)-এর সাহাবীদের বড় অংশের ব্যাপারে ফাসেকী, অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনের ধারণা পোষণ করে; অথচ সুস্থ বিবেক সাক্ষ্য দেয় যে, মহান আল্লাহ তাঁর মনোনীত প্রিয় বান্দার সাহচর্য এবং দ্বীনের সাহায্যের জন্য তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে কেবল শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদেরই নির্বাচন করেন; আর মুতাওয়াতির বর্ণনাগুলোও একেই সমর্থন করে। যদি এই সম্প্রদায়ের মাঝে কোনো কল্যাণ থাকত, তবে তারা নবী (সা.)-এর সাহাবী এবং তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারীদের সম্পর্কে কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু বলত না। কিন্তু আল্লাহ তাঁদেরকে হতভাগ্য করেছেন, ফলে দ্বীনের সাহায্যকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলার মাধ্যমে তিনি তাঁদের লাঞ্ছিত করেছেন। প্রত্যেকেই সেদিকেই পরিচালিত হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ৯)
لما خلق (له) 1.
عن علي رضي الله عنه قال: "دخلنا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلنا: يا رسول الله استخلف علينا، قال: إن يعلم الله فيكم خيرا يول عليكم خيركم، فقال علي رضي الله عنه: فعلم الله فينا خيرا، فولى علينا خيرنا أبا بكر رضي الله عنه" رواه الدارقطني2، وهذا أقوى حجة على من يدعي موالاة3 علي رضي الله عنه.
وعن جبير بن مطعم قال: "أتت امرأة إلى النبي صلى الله عليه وسلم فأمرها أن ترجع إليه فقالت: إن جئت ولم أجدك، كأنها تقول الموت، قال: إن لم تجديني، فأت 4 أبا بكر" رواه البخاري ومسلم 5، وعن ابن عباس رضي الله عنه قال: "جاءت امرأة إلى رسول ألله صلى الله عليه وسلم تسأله شيئا، فقال: تعودين، فقالت: يا رسول الله، إن عدت فلم أجدك، تعرض بالموت، فقال: إن جئت فلم تجديني فأتي أبا بكر، فإنه الخليفة بعدي" رواه ابن عساكر 6، وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: "سمعت رسول الله يقول: يكون خلفي اثنا عشر خليفة، أبو بكر لا يلبث إلا قليلا" 7 رواه البغوي بسند حسن 8.
وعن حذيفة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اقتدوا بالذين بعدي أبي بكر وعمر رضي الله
--------------------------------------------
যখন সৃষ্টি করা হলো (তাঁর জন্য) ১।
আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য একজন উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করুন। তিনি বললেন: যদি আল্লাহ তোমাদের মধ্যে কল্যাণ জানেন, তবে তোমাদের মধ্যে যিনি সর্বোত্তম তাকেই তোমাদের ওপর শাসক নিযুক্ত করবেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: অতঃপর আল্লাহ আমাদের মধ্যে কল্যাণ দেখেছেন এবং আমাদের মধ্যে যিনি সর্বোত্তম অর্থাৎ আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে আমাদের ওপর শাসক নিযুক্ত করেছেন।" এটি দারাকুতনী বর্ণনা করেছেন (২), আর যারা আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) প্রতি (একান্ত) আনুগত্যের (৩) দাবি করে, তাদের বিরুদ্ধে এটিই সবচেয়ে জোরালো দলিল।
জুবায়ের ইবনে মুতইম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একজন নারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এলেন। তিনি তাকে পুনরায় ফিরে আসার নির্দেশ দিলেন। নারীটি বললেন: আমি যদি এসে আপনাকে না পাই? —যেন তিনি তাঁর মৃত্যুর প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন। নবীজি বললেন: যদি তুমি আমাকে না পাও, তবে আবু বকরের কাছে যেও।" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৫)। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক নারী আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে কিছু প্রার্থনা করতে এলেন। তিনি তাকে পরে আসতে বললেন। নারীটি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি পুনরায় এসে আপনাকে না পাই? —তিনি মৃত্যুর বিষয়টি বুঝাতে চাইলেন। তখন নবীজি বললেন: যদি তুমি এসে আমাকে না পাও, তবে আবু বকরের কাছে যেও; কারণ তিনি আমার পরবর্তী খলিফা।" এটি ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন (৬)। ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি: আমার পরে বারোজন খলিফা হবেন, আবু বকর কেবল অল্প সময়ই অবস্থান করবেন।" (৭) এটি বাগাউয়ী হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন (৮)।
হুযায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার পরবর্তী দুই ব্যক্তির অনুসরণ করো—আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ১০)
عنهما" 1رواه أحمد والترمذي وحسنه ابن ماجه والحاكم وصححه.
ورواه الطبراني عن أبي الدرداء والحاكم عن ابن مسعود 2 وعن حذيفة رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إني لا أدري ما قدر بقائي فيكم، فاقتدوا باللذين من بعدي: أبي بكر وعمر رضي الله عنهما، وتمسكوا بهدي عمار، وما حدثكم ابن مسعود فصدقوه" 3 رواه أحمد وغيره. 4 وعن أنس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اقتدوا بالذين بعدي: أبي بكر وعمر رضي الله عنهما، واهتدوا بهدي عمار، وتمسكوا بعهد ابن مسعود" 5 رواه ابن عدي 6. وعنه:"بعثني بنو المصطلق إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أسأله إلى من ندفع صدقاتنا بعدك. فقال: إلى أبي بكر" رواه الحاكم وصححه 7. وعن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في مرضه الذي مات فيه: "ادعي لي أباك وأخاك حتى أكتب كتابا، فإني أخاف أن يتمنى متمن8 ويقول قائل: أنا أولى، ويأبى الله والمؤمنون إلا أبا بكر" رواه مسلم وأحمد 9. وهذا الحديث يخرج من يأبى خلافة الصديق عن المؤمنين. عن علي رضي
--------------------------------------------
তাদের উভয় থেকে ১ এটি আহমাদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান বলেছেন, ইবনে মাজাহ ও হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন।
তাবারানী এটি আবু দারদা থেকে এবং হাকিম ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন ২ এবং হুযাইফাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মাঝে আমি আর কতদিন থাকব তা আমার জানা নেই। সুতরাং আমার পরে তোমরা এই দুইজনের অনুসরণ করবে: আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা); আম্মারের আদর্শকে আঁকড়ে ধরবে এবং ইবনে মাসউদ তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করেন তা সত্য বলে গ্রহণ করবে।" ৩ এটি আহমাদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। ৪ এবং আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার পরের ব্যক্তিদের অনুসরণ করো: আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা); আম্মারের আদর্শ দ্বারা হিদায়াত লাভ করো এবং ইবনে মাসউদের অঙ্গীকারকে আঁকড়ে ধরো।" ৫ এটি ইবনে আদী বর্ণনা করেছেন ৬। এবং তাঁর (আনাস) থেকেই বর্ণিত: "বনু মুস্তালিক আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এই কথা জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠাল যে, আপনার পরে আমরা আমাদের সদকা কার কাছে প্রদান করব? তিনি বললেন: আবু বকরের কাছে।" এটি হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন ৭। এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর অন্তিম রোগে আক্রান্ত অবস্থায় বলেছিলেন: "আমার কাছে তোমার পিতা ও তোমার ভাইকে ডাকো যেন আমি একটি লিপি লিখে দিতে পারি; কেননা আমি আশঙ্কা করি যে কোনো আকাঙ্ক্ষাকারী আকাঙ্ক্ষা করবে ৮ এবং কোনো বক্তা বলবে: 'আমিই অধিক যোগ্য', অথচ আল্লাহ ও মুমিনগণ আবু বকর ব্যতীত অন্য কাউকে গ্রহণ করবেন না।" এটি মুসলিম ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন ৯। আর এই হাদীসটি তাকে মুমিনদের কাতার থেকে বের করে দেয়, যে সিদ্দীকের খিলাফতকে অস্বীকার করে। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ১১)
الله عنه قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: "سألت الله أن يقدمك ثلاثا فأبى الله إلا تقديم أبي بكر"، وفي رواية زيادة: "ولكني خاتم الأنبياء، وأنت خاتم الخلفاء" رواه الدارقطني والخطيب وابن عساكر 1. وعن سفينة قال: "لما بنى رسول الله صلى الله عليه وسلم المسجد وضع في البناء حجرا، وقال لأبي بكر: ضع حجرك إلى جنب حجري، ثم قال لعمر: ضع حجرك إلى جنب حجر أبي بكر، ثم قال: هؤلاء الخلفاء بعدي" رواه ابن حبان، قال أبو زرعة: إسناده قوي لا بأس به، والحاكم وصححه والبيهقي 2. روي في تفسير قوله تعالى: {وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ} 3 الإخبار بخلافة أبي بكر وعمر رضي الله عنهما 4، قيل يشير إلى خلافة الصديق رضي الله عنه قوله تعالى: {وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} 5 لأنه هو الذي جاهد أهل الردة. قوله تعالى: {قُلْ لِلْمُخَلَّفِينَ مِنَ الْأَعْرَابِ سَتُدْعَوْنَ إِلَى قَوْمٍ أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ تُقَاتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ} 6 الآية لأنه هو الذي باشر قتال بني حنيفة الذين كانوا من أشد الناس حين ارتدوا، وقوله تعالى: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন: "আমি আল্লাহর কাছে তিনবার আবেদন করেছিলাম তোমাকে অগ্রগণ্য করতে, কিন্তু আল্লাহ আবু বকরকে অগ্রগণ্য করা ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেননি।" অন্য এক বর্ণনায় অতিরিক্ত অংশ রয়েছে: "তবে আমি হলাম নবীগণের সমাপ্তিকারী এবং তুমি হলে খলীফাগণের সমাপ্তিকারী।" এটি বর্ণনা করেছেন দারা কুতনী, খতীব এবং ইবনে আসাকির ১। সাফীনা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদ নির্মাণ করছিলেন, তখন তিনি নির্মাণের একটি পাথর রাখলেন এবং আবু বকরকে বললেন: তোমার পাথরটি আমার পাথরের পাশে রাখো। এরপর তিনি উমরকে বললেন: তোমার পাথরটি আবু বকরের পাথরের পাশে রাখো। এরপর তিনি বললেন: এঁরাই আমার পরবর্তী খলীফাগণ।" এটি ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন। আবু জুরআ বলেন: এর সনদ শক্তিশালী, এতে কোনো সমস্যা নেই। এছাড়াও হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে বিশুদ্ধ (সহীহ) বলেছেন এবং বায়হাকীও এটি বর্ণনা করেছেন ২। মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে বর্ণিত হয়েছে: {আর যখন নবী তাঁর জনৈক স্ত্রীর কাছে একটি গোপন কথা বলেছিলেন} ৩ যে, এখানে আবু বকর ও উমর (রা.)-এর খিলাফতের সংবাদ দেওয়া হয়েছে ৪। আরও বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহর এই বাণী সিদ্দীক (রা.)-এর খিলাফতের প্রতি ইঙ্গিত দেয়: {আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ নিজের ধর্ম থেকে ফিরে যাবে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের আমলসমূহ নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে} ৫। কারণ তিনিই ধর্মত্যাগীদের (মুরতাদ) বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন। মহান আল্লাহর বাণী: {মরুচারী আরবদের মধ্যে যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল, তাদের বলে দাও: শীঘ্রই তোমাদেরকে এক শক্তিশালী জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আহ্বান করা হবে, তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে অথবা তারা ইসলাম গ্রহণ করবে} ৬। এই আয়াতটিও তাঁর খিলাফতের প্রমাণ, কারণ তিনিই বনু হানীফার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সূচনা করেছিলেন যারা মুরতাদ হওয়ার সময় অত্যন্ত শক্তিশালী ও কঠোর ছিল। আর মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ ওয়াদা করেছেন তাদের প্রতি যারা...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ১২)
آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ} 1 الآية، وقد مكن الإسلام بأبي بكر وعمر فكانا خليفتين 2 حقين لوجود صدق وعد الله تعالى، وما صح من قوله صلى الله عليه وسلم:"الخلافة بعدي ثلاثون"3وفي بعض الروايات خلافة رحمة، وفي بعضها خلافة النبوة4، وما صح من أمره صلى الله عليه وسلم أبا بكر في مرض موته بإمامة الناس 5؛ وهذا التقديم من أقوى إمارات حقيقة خلافة الصديق، وبه استدل أجلاء الصحابة كعمر وأبي عبيدة وعلي رضي الله عنهم أجمعين، فهذه وما شاكلها 6 تسود وجوه الرافضة والفسقة المنكرين خلافة الصديق رضي الله عنه.
مطلب دعواهم ارتداد الصحابة رضي الله عنهم
ومنها أنه روى الكشي 7 منهم وهو عندهم أعرفهم بحال الرجال، وأوثقهم في رجاله، وغيره عن الإمام جعفر الصادق رضي الله عنه وحاشاه من ذلك أنه قال: "لما مات النبي صلى الله عليه وسلم ارتد الصحابة كلهم إلا أربعة: المقداد وحذيفة وسلمان وأبو ذر رضي الله عنهم فقيل له:
--------------------------------------------
{তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে; এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন} ১ আয়াত। আল্লাহ তাআলা আবু বকর ও উমরের মাধ্যমে ইসলামকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, ফলে মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতির সত্যতার কারণে তাঁরা উভয়েই ছিলেন ২ সত্যকার খলিফা। আর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে: "আমার পরে খিলাফত থাকবে ত্রিশ বছর।" ৩ কোনো কোনো বর্ণনায় "রহমতের খিলাফত", এবং কোনো কোনো বর্ণনায় "নবুওয়াতের খিলাফত" ৪ শব্দ এসেছে। এছাড়া নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অন্তিম রোগের সময় আবু বকরকে মানুষের ইমামতি করার যে আদেশ ৫ প্রদান করেছিলেন তাও বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত; আর এই অগ্রগণ্যতা সিদ্দিকের খিলাফতের সত্যতার অন্যতম শক্তিশালী নিদর্শন। উমর, আবু উবাইদাহ ও আলী (রাদিআল্লাহু আনহুম আজমাঈন)-এর মতো প্রথিতযশা সাহাবিগণ এর মাধ্যমেই দলিল পেশ করেছেন। সুতরাং এই এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো ৬ সিদ্দিকের (রা.) খিলাফত অস্বীকারকারী রাফেজি ও পাপাচারীদের মুখমণ্ডলকে কালিমাযুক্ত করে দেয়।
সাহাবায়ে কেরামের (রা.) ধর্মত্যাগের ব্যাপারে তাদের দাবির বিবরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
এর মধ্যে একটি হলো এই যে, তাদের মধ্যকার আল-কাশশী ৭ —যিনি তাদের নিকট বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত এবং তাদের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম— এবং অন্যান্যরা ইমাম জাফর সাদিক (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন (অথচ তিনি এ থেকে পবিত্র), তিনি নাকি বলেছেন: "যখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন, তখন চারজন ব্যতীত সকল সাহাবি ধর্মত্যাগী হয়ে গিয়েছিলেন: মিকদাদ, হুজাইফা, সালমান এবং আবু জর (রা.)।" অতঃপর তাঁকে বলা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ১৩)
كيف حال عمار بن ياسر؟ قال: حاص حيصة، ثم رجع" هذا العموم المؤكد يقتضي ارتداد علي وأهل البيت وهم لا يقولون بذلك، وهذا هدم لأساس الدين لأن أساسه القرآن والحديث، فإذا فرض ارتداد من أخذ من النبي صلى الله عليه وسلم إلا النفر الذين لا يبلغ خبرهم التواتر، وقع الشك في القرآن والأحاديث، نعوذ بالله من اعتقاد يوجب هدم الدين. وقد اتخذ الملاحدة كلام هؤلاء الرافضة حجة لهم فقالوا: كيف يقول الله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} 1 وقد ارتدوا بعد وفاة نبيهم إلا نحو خمسة أو ستة أنفس منهم، لامتناعهم من تقديم أبي بكر على علي وهو الموصى به. فانظر إلى كلام هذا الملحد تجده من كلام الرافضة، فهؤلاء أشد ضررا على الدين من اليهود والنصارى. وفي هذه الهفوة الفساد من وجوه: فإنها توجب إبطال الدين والشك فيه، وتجوز كتمان ما عورض به القرآن، وتجوز تغيير القرآن، وتخالف قوله تعالى: {رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ} 2، وقوله تعالى: {رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} 3، وقوله فيمن آمن قبل الفتح وبعده: {وَكُلّاً وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى} 4، وقوله في حق المهاجرين والأنصار {أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ} 5، {وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} 6، وقوله: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطاً لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ
--------------------------------------------
"আম্মার ইবনে ইয়াসিরের অবস্থা কেমন? তিনি বললেন: তিনি কিছুটা বিচলিত হয়েছিলেন, তারপর ফিরে এসেছেন।" এই সুনিশ্চিত সাধারণ উক্তিটি আলী ও আহলে বাইতের ধর্মত্যাগের (নাউযুবিল্লাহ) দাবি রাখে, অথচ তারা (রাফেযীরা) তা বলে না। এটি দ্বীনের ভিত্তিমূল ধ্বংস করার শামিল, কারণ দ্বীনের ভিত্তি হলো কুরআন ও হাদীস। সুতরাং যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যারা দ্বীন গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে এমন এক ক্ষুদ্র দল ব্যতীত—যাদের বর্ণনা মুতাওয়াতির বা অকাট্য পর্যায়ের নয়—বাকি সবার ধর্মত্যাগ ধরে নেওয়া হয়, তবে কুরআন ও হাদীসের ব্যাপারে সন্দেহ তৈরি হবে। আমরা আল্লাহর কাছে এমন বিশ্বাস থেকে আশ্রয় চাই যা দ্বীন ধ্বংসের কারণ হয়। নাস্তিকরা এই রাফেযীদের কথাকে নিজেদের দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং বলেছে: মহান আল্লাহ কীভাবে বলেন: {তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত যাদের মানবজাতির জন্য বের করা হয়েছে} ১, অথচ তারা তাদের নবীর ইন্তেকালের পর মুরতাদ হয়ে গিয়েছে—মাত্র পাঁচ বা ছয়জন ব্যক্তি ছাড়া—কেননা তারা আলীর ওপর আবু বকরকে প্রধান্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, অথচ আলীই ছিলেন অসিয়তকৃত (মনোনীত)। এই নাস্তিকের কথার দিকে তাকান, দেখবেন এটি রাফেযীদের কথারই অনুরূপ। তাই এরা দ্বীনের জন্য ইহুদি ও নাসারাদের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। এই বিচ্যুতির মাঝে বিভিন্ন দিক থেকে ফাসাদ বা বিপর্যয় নিহিত: এটি দ্বীন বাতিল করা ও তাতে সন্দেহের উদ্রেক করে, কুরআনের সংঘাতপূর্ণ বিষয় গোপন করাকে বৈধতা দেয়, কুরআনের বিকৃতি সাধনকে সম্ভবপর করে এবং মহান আল্লাহর বাণীর বিরোধিতা করে: {আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন} ২, এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট} ৩, এবং মক্কা বিজয়ের পূর্বে ও পরে যারা ঈমান এনেছে তাদের সম্পর্কে তাঁর বাণী: {আল্লাহ প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন} ৪, এবং মুহাজির ও আনসারদের ব্যাপারে তাঁর বাণী: {তারাই হলো সত্যবাদী} ৫, {এবং তারাই হলো সফলকাম} ৬, এবং তাঁর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি যাতে তোমরা সাক্ষী হতে পারো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عَلَى النَّاسِ} 1، وقوله: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} 2، وغير ذلك من الآيات والأحاديث الناصة على أفضلية الصحابة واستقامتهم على الدين؛ ومن اعتقد ما يخالف كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد كفر. ما أشنع مذهب قوم يعتقدون ارتداد من اختاره الله لصحبة رسوله ونصرة دينه!
مطلب دعواهم نقص القرآن
ومنها ما ذكروه في كتبهم الحديثية والكلامية أن عثمان رضي الله عنه نقص من القرآن، فإنه كان في سورة {ألم نشرح} بعد قوله تعالى: {وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ} 3 "وعليا صهرك" فأسقطها بحسد اشتراك الصهرية. قالوا: وكانت سورة الأحزاب مقدار سورة الأنعام، فأسقط عثمان منها ما كان في فضل ذوي القربى، 4 قيل: أظهروا في هذه الأزمنة سورتين يزعمون أنهما من القرآن الذي أخفاه عثمان، كل سورة مقدار جزء، وألحقوهما بآخر المصحف، سموا إحداهما سورة النورين وأخرى سورة الولاء 5 يلزم من هذا تكفير الصحابة حتى علي حيث رضوا بذلك، فهي كالتي قبلها في المفاسد وتكذيب قوله تعالى: {لا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ
--------------------------------------------
মানুষের ওপর} ১, এবং তাঁর বাণী: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের (কল্যাণের) জন্য বের করা হয়েছে} ২। এছাড়া আরও অনেক আয়াত ও হাদীস সাহাবায়ে কিরামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং দ্বীনের ওপর তাঁদের অবিচল থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর পরিপন্থী বিশ্বাস পোষণ করে, সে কুফরি করল। সেই সম্প্রদায়ের মতবাদ কতই না জঘন্য, যারা বিশ্বাস করে যে—যাঁদেরকে আল্লাহ তাঁর রাসূলের সাহচর্যের জন্য এবং তাঁর দ্বীনের সাহায্যের জন্য মনোনীত করেছেন, তাঁরা ধর্মত্যাগী হয়ে গিয়েছিলেন!
কুরআন অসম্পূর্ণ হওয়ার বিষয়ে তাদের দাবির বিবরণ
তার মধ্যে একটি হলো যা তারা তাদের হাদীস ও কালাম শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করেছে যে, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কুরআন থেকে কিছু অংশ হ্রাস করেছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী সূরা 'আলাম নাশরাহ'-তে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমি আপনার মর্যাদা সমুন্নত করেছি} ৩-এর পর "এবং আলীকে আপনার জামাতা হিসেবে" বাক্যটি ছিল, যা তিনি বৈবাহিক সম্পর্কের অংশীদারিত্বের প্রতি হিংসাবশত বাদ দিয়ে দিয়েছেন। তারা বলে: সূরা আল-আহযাব সূরা আল-আনআমের সমপরিমাণ ছিল, অতঃপর উসমান সেখান থেকে নিকটাত্মীয়দের মর্যাদা সম্পর্কিত অংশগুলো ফেলে দিয়েছেন। ৪ বলা হয়ে থাকে: তারা বর্তমান যুগে এমন দুটি সূরা প্রকাশ করেছে যেগুলোর ব্যাপারে তারা দাবি করে যে সেগুলো সেই কুরআনের অংশ যা উসমান গোপন করেছিলেন। প্রতিটি সূরা এক এক পারা পরিমাণ দীর্ঘ এবং তারা সেগুলো মুসহাফের (কুরআনের) শেষে সংযুক্ত করেছে। তারা একটির নাম দিয়েছে সূরা আন-নূরাঈন এবং অন্যটির নাম সূরা আল-বিলায়াহ। ৫ এই বিষয়ের অনিবার্য পরিণতি হলো আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ সকল সাহাবীকে কাফির প্রতিপন্ন করা, যেহেতু তাঁরা এতে সন্তুষ্ট ছিলেন। সুতরাং এটিও অনিষ্টের দিক থেকে পূর্ববর্তী বিষয়টির মতোই এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মিথ্যা প্রতিপন্নকারী: {বাতিল এতে প্রবেশ করতে পারে না এর সামনে থেকেও নয় এবং এর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ১৫)
خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} 1، وقوله: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 2. ومن اعتقد عدم صحة حفظه من الإسقاط، واعتقد ما ليس منه أنه منه، فقد كفر. ويلزم من هذا رفع الوثوق بالقرآن كله، وهو يؤدي إلى هدم الدين، ويلزمهم عدم الاستدلال به والتعبد بتلاوته لاحتمال التبدل. ما أخبث قول قوم يهدم دينهم! روى البخاري أنه قال ابن عباس ومحمد بن الحنفية: "ما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا ما بين الدفتين 3") .
مطلب السب
ومنها إيجابهم سب الصحابة لا سيما الخلفاء الثلاثة، نعوذ بالله، رووا في كتبهم المعتبرة عندهم عن رجل من أتباع هشام الأحول أنه قال: كنت يوما عند أبي عبد الله جعفر بن محمد، فجاءه رجل خياط من شيعته، وبيده قميصان فقال: يا ابن رسول الله خطت أحدهما وبكل غرزة إبرة وحدت الله الأكبر، وخطت الآخر وبكل غرزة إبرة لعن4 أبا بكر وعمر رضي الله عنهما، ثم نذرت لك ما أحببته لك منهما، فما تحبه خذه وما لا تحبه رده. فقال الصادق: أحب ما تم بلعن أبي بكر وعمر، واردد إليك الذي خيط بذكر الله الأكبر.
فانظر إلى هؤلاء الكذبة الفسقة ماذا ينسبون إلى أهل البيت من القبائح، حاشاهم، قال الله تعالى: {وَكَذَلِكَ
--------------------------------------------
...তার পিছনে থেকেও নয়; এটি প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। ১, এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" ২। আর যে ব্যক্তি কুরআনকে কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি থেকে সংরক্ষিত থাকার বিষয়টিকে সঠিক বলে মনে করে না এবং কুরআনের অংশ নয় এমন কিছুকে কুরআনের অংশ বলে বিশ্বাস করে, সে কুফরি করল। এর ফলে সমগ্র কুরআনের ওপর থেকে আস্থা উঠে যাওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা মূলত দ্বীন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। আর পরিবর্তনের আশঙ্কার কারণে কুরআন দ্বারা দলিল পেশ করা এবং এর তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত করা বর্জন করাও তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। সেই সম্প্রদায়ের বক্তব্য কতই না নিকৃষ্ট যা তাদের দ্বীনকেই ধ্বংস করে দেয়! ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আব্বাস ও মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ওহী হিসেবে) দুই মলাটের মধ্যবর্তী কুরআন ছাড়া অন্য কিছুই রেখে যাননি।" ৩) ।
গালিগালাজ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
এর মধ্যে একটি হলো সাহাবায়ে কিরামকে, বিশেষ করে প্রথম তিন খলিফাকে গালি দেওয়াকে তাদের পক্ষ থেকে আবশ্যক সাব্যস্ত করা—আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তারা তাদের নিকট নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহে হিশাম আল-আহওয়ালের জনৈক অনুসারী থেকে বর্ণনা করেছে যে সে বলেছিল: একদিন আমি আবু আব্দুল্লাহ জাফর ইবনে মুহাম্মাদের নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় তার অনুসারীদের মধ্য থেকে একজন দর্জি এল। তার হাতে দুটি জামা ছিল। সে বলল: "হে আল্লাহর রাসূলের বংশধর! আমি এর একটি সেলাই করেছি এবং সূঁচের প্রতিটি ফোঁড়ে 'আল্লাহু আকবার' বলেছি, আর অন্যটি সেলাই করেছি এবং প্রতিটি ফোঁড়ে আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে অভিশাপ দিয়েছি। অতঃপর আমি আপনার নিকট এই মানত করেছি যে, এর মধ্যে যেটি আপনার পছন্দ হয় সেটি আপনি গ্রহণ করবেন আর যেটি অপছন্দ হয় সেটি ফিরিয়ে দেবেন।" তখন আস-সাদিক বললেন: "আমি সেটিই পছন্দ করি যা আবু বকর ও উমরকে অভিশাপ দেওয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, আর যেটি মহান আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে সেলাই করা হয়েছে তা তোমাকে ফিরিয়ে দিলাম।"
সুতরাং লক্ষ করুন, এই মিথ্যুক পাপাচারীরা আহলে বাইতের প্রতি কতই না জঘন্য বিষয় আরোপ করছে! অথচ তাঁরা এসব থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। মহান আল্লাহ বলেন: "আর এভাবেই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ১৬)
جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطاً لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ} 1 فإذا لم يكن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وسطا فمن يكون غيرهم؟ وقال تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} 2 فإذا لم يكن أصحابه من خيرهم فمن يكون سواهم؟ وقال: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَداً ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} 3.
ومن سب من رضي الله عنه فقد حارب الله ورسوله. وقال: {لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ} 4 وكيف يسب من رضي عنه مولاه واصطفاه؟ وقال تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَاناً سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ} 5 كيف يجوز سب من يمدحه ربه؟ وقال تعالى: {لا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلّاً وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى} 6 ومن وعده سيده الجنة كيف يسب؟
وقال تعالى: {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَاناً وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ
--------------------------------------------
"আমি তোমাদের এক ভারসাম্যপূর্ণ উম্মত হিসেবে সৃষ্টি করেছি, যেন তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পারো" ১ সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ যদি ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়নিষ্ঠ না হন, তবে তারা ব্যতীত আর কে এমন হতে পারে? আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে" ২ সুতরাং যদি তাঁর সাহাবীগণ এই সর্বোত্তম উম্মতের অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে তারা ছাড়া আর কারা হবে? এবং তিনি বলেন: "আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি তাঁদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহা সাফল্য" ৩।
আর যে ব্যক্তি এমন কাউকে গালি দেয় যার প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন, সে যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল। আল্লাহ বলেন: "অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করছিল" ৪ সুতরাং যাঁর প্রতি স্বয়ং তাঁর মাওলা (প্রভু) সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং যাঁকে তিনি মনোনীত করেছেন, তাঁকে কীভাবে গালি দেওয়া সম্ভব? আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়াশীল। আপনি তাঁদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে দেখবেন। তাঁদের চেহারায় সিজদার চিহ্ন বিদ্যমান রয়েছে" ৫ যাঁর প্রশংসা স্বয়ং তাঁর রব করেছেন, তাঁকে গালি দেওয়া কীভাবে বৈধ হতে পারে? আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে তারা (পরবর্তীদের) সমান নয়; তারা মর্যাদায় তাঁদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন" ৬ যাঁর প্রতি তাঁর মালিক জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁকে কীভাবে গালি দেওয়া যায়?
আল্লাহ তাআলা বলেন: "(এই সম্পদ) সেই নিঃস্ব মুহাজিরদের জন্য যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ} 1، وقال في الأنصار: {فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} 2. والقرآن مشحون من مدح الصحابة رضي الله عنهم فمن سبهم فقد خالف ما أمر الله من إكرامهم، ومن اعتقد السوء فيهم كلهم أو جمهورهم فقد كذب الله تعالى فيما أخبر من كمالهم وفضائلهم، ومكذبه كافر. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "النجوم أمنة السماء فإذا ذهبت النجوم أتى السماء ما توعد. وأنا أمنة لأصحابي فإذا ذهبت أتى أصحابي ما يوعدون. وأصحابي أمنة لأمتي فإذا ذهب أصحابي أتى أمتي ما يوعدون" 3 رواه مسلم 4.
وقد صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: "خير أمتي قرني ثم الثاني ثم الثالث، وخير أمتي أولها وآخرها، وفي وسطها الكدر" 5 رواه الحاكم والترمذي 6. وقد صح عنه صلى الله عليه وسلم: "أن الله يفتح على الناس ببركة الصحابة". وعن أبي سعيد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تسبوا أصحابي، فوالذي نفسي بيده لو أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهبا ما أدرك مد أحدهم أو نصيفه" 7 رواه مسلم 8 وغيره، وعن عمر رضي الله عنه يقول: "لا تسبوا أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم فلمقام أحدهم ساعة خير من عمل أحدكم عمره " 9 رواه ابن ماجة 10.
--------------------------------------------
"তারাই সত্যবাদী" ১, আর তিনি আনসারদের সম্পর্কে বলেছেন: "তারাই সফলকাম" ২। কুরআন সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর প্রশংসায় পরিপূর্ণ। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের গালি দিল, সে তাদের সম্মান করার বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশকে অমান্য করল। আর যে ব্যক্তি তাদের সকলের সম্পর্কে অথবা তাদের অধিকাংশের সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করল, সে মূলত আল্লাহ তাআলা তাদের পূর্ণতা ও ফযীলত সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন তা অস্বীকার করল; আর তাঁকে অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফির। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নক্ষত্ররাজি আকাশের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ; যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে, তখন আকাশের প্রতি যা প্রতিশ্রুত (বিপর্যয়) তা চলে আসবে। আর আমি আমার সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ; যখন আমি চলে যাব, তখন আমার সাহাবীদের কাছে তা-ই আসবে যা তাদের প্রতি প্রতিশ্রুত। আর আমার সাহাবীগণ আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ; যখন আমার সাহাবীগণ চলে যাবেন, তখন আমার উম্মতের কাছে তা-ই আসবে যা তাদের প্রতি প্রতিশ্রুত।" ৩ মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ৪।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ সময় হলো আমার যুগ, অতঃপর তার পরবর্তী যুগ, অতঃপর তার পরবর্তী যুগ। আর আমার উম্মতের কল্যাণ রয়েছে তার শুরুতে এবং শেষে, আর এর মধ্যবর্তী সময়ে রয়েছে আবিলতা।" ৫ হাকিম ও তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন ৬। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আরও সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সাহাবায়ে কেরামের বরকতে মানুষের জন্য বিজয় দান করেন।" আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবুও তাদের কারো এক 'মুদ' (এক অঞ্জলি পরিমাণ) বা তার অর্ধেক পরিমাণ (ব্যয়)-এর সমকক্ষ হতে পারবে না।" ৭ মুসলিম ৮ ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের গালি দিও না। কেননা তাদের মুহূর্তকালের অবস্থান তোমাদের কারো সারা জীবনের আমল অপেক্ষা উত্তম।" ৯ ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন ১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد صح عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لعل الله اطلع على أهل بدر فقال: اعملوا ما شئتم، قد وجبت لكم الجنة، أو قد غفرت لكم 1" وقد صح عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لا يدخل النار من حضر الحديبية إن شاء الله تعالى 2"، وقد روي عنه بطرق إسناد بعضها رجال الصحيح غير واحد وهو ثقة قال: "لا تسبوا أصحابي، لعن الله من سب أصحابي 3" وقد روي بأسانيد بعضها حسن: عن ابن عباس قال: "كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم وعنده علي رضي الله عنه فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ياعلي سيكون في أمتي قوم ينتحلون حب أهل البيت لهم نبز يسمون الرافضة، قاتلوهم فإنهم مشركون4". وقد تواتر عن النبي صلى الله عليه وسلم ما يدل على كمال الصحابة رضي الله عنهم خصوصا الخلفاء الراشدين، فإن ما ذكر في مدح كل واحد مشهور، بل متواتر، لأن نقلة ذلك أقوام يستحيل تواطؤهم على الكذب، ويفيد مجموع أخبارهم العلم اليقيني بكمال الصحابة وفضل الخلفاء.
فإذا عرفت أن آيات القرآن تكاثرت في فضلهم، والأحاديث المتواترة بمجموعها ناصة على كمالهم، فمن اعتقد فسقهم أو فسق مجموعهم، وارتدادهم وارتداد معظمهم عن الدين، أو اعتقد حقية سبهم وإباحته، أو سبهم مع
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "সম্ভবত আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং বলেছেন: তোমরা যা ইচ্ছা করো, তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত হয়েছে অথবা তোমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে ১।" এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা চাইলে হুদায়বিয়ায় উপস্থিত কেউই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না ২।" এবং তাঁর থেকে এমন একাধিক সনদে বর্ণিত হয়েছে যার কয়েকটির বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না; যারা আমার সাহাবীদের গালি দেয় তাদের ওপর আল্লাহর লানত ৩।" এবং কয়েকটি হাসান সনদে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: হে আলী, অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার দাবি করবে, তাদের একটি উপাধি থাকবে যার মাধ্যমে তাদের ‘রাফেযী’ বলা হবে; তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো, কারণ তারা মুশরিক ৪।" এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন) পর্যায়ে এমন বর্ণনা এসেছে যা সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), বিশেষ করে খুলাফায়ে রাশেদীনের পূর্ণতার প্রমাণ দেয়। কেননা তাদের প্রত্যেকের প্রশংসায় যা বর্ণিত হয়েছে তা প্রসিদ্ধ, বরং মুতাওয়াতির; কারণ এই সংবাদ বর্ণনাকারীরা এমন এক দল যাদের পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব। আর তাদের সামগ্রিক বর্ণনা সাহাবায়ে কেরামের পূর্ণতা এবং খলিফাদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে।
সুতরাং যখন আপনি জানলেন যে কুরআনের আয়াতসমূহ তাদের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায় ভরপুর এবং মুতাওয়াতির হাদিসসমূহ সামগ্রিকভাবে তাদের পূর্ণতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলিল, তখন যে ব্যক্তি তাদের ফাসেক হওয়ার বা তাদের সমষ্টিগতভাবে ফাসেক হওয়ার বিশ্বাস রাখবে এবং তাদের মুরতাদ হওয়া বা তাদের অধিকাংশের দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করবে, অথবা তাদের গালি দেওয়াকে সঠিক বা বৈধ মনে করবে, কিংবা তাদের গালি দিবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ১৯)
اعتقاد حقية سبهم أو حليته، فقد كفر بالله تعالى ورسوله فيما أخبر من فضائلهم وكمالاتهم المستلزمة لبراءتهم عما يوجب الفسق. والارتداد، وحقية السب أو إباحته، ومن كذبهما فيما ثبت قطعا صدوره عنهما فقد كفر. والجهل بالمتواتر القاطع ليس بعذر، وتأويله وصرفه من غير دليل معتبر غير مفيد، كمن أنكر فرضية الصلوات الخمس جهلا لفرضيتها، فإنه بهذا الجهل يصير كافرا، وكذا لو أولها على غير المعنى الذي نعرفه فقد كفر، لأن العلم الحاصل من نصوص القرآن والأحاديث الدالة على فضلهم قطعي، ومن خص بعضهم بالسب فإن كان ممن تواتر النقل في فضله وكماله كالخلفاء، فإن اعتقد حقية سبه أو إباحته فقد كفر، لتكذيبه ما ثبت قطعا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومكذبه كافر. وإن سبه من غير اعتقاد حقية سبه أو إباحته فقد تفسق، لأن سباب المسلم فسوق؛ وقد حكم بعض فيمن سب الشيخين بالكفر مطلقا والله أعلم، وإن كان ممن لم يتواتر1 النقل في فضله وكماله فالظاهر أن سابه فاسق، إلا أن يسبه من حيث صحبته لرسول الله صلى الله عليه وسلم فإن ذلك كفر. وغالب هؤلاء الرفضة الذين يسبون2 الصحابة لا سيما الخلفاء يعتقدون حقية سبهم أو إباحته، بل وجوبه لأنهم يتقربون بذلك إلى الله تعالى، ويرون ذلك من أجل أمور دينهم كما نقل عنهم3. ما أضل عقول قوم يتقربون إلى الله تعالى بما يوجب لهم خسران الدين! والله الحافظ.
--------------------------------------------
তাদের গালি দেওয়াকে সত্য মনে করা বা একে বৈধ মনে করা হলে, সে মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ঐ সংবাদকে অস্বীকার করল যাতে তাঁদের গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলা হয়েছে যা তাঁদের পাপাচার ও ধর্মত্যাগ থেকে মুক্ত রাখার দাবি রাখে। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে তা অস্বীকার করা কুফরি। মুতাওয়াতির ও অকাট্য বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞতা কোনো ওজর হতে পারে না এবং গ্রহণযোগ্য দলিল ছাড়া এর অপব্যাখ্যা বা অর্থ পরিবর্তন করা নিষ্ফল। যেমন কেউ যদি অজ্ঞতাবশত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আবশ্যকতা অস্বীকার করে, তবে সে কাফির হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে এর সুপরিচিত অর্থের বাইরে অন্য কোনো ব্যাখ্যা করলেও সে কুফরি করল। কারণ কুরআন ও হাদীসের নস থেকে অর্জিত তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের জ্ঞান অকাট্য। আর কেউ যদি তাঁদের নির্দিষ্ট কাউকে গালি দেয়—এবং তিনি যদি এমন হন যাঁর মর্যাদা মুতাওয়াতিরভাবে প্রমাণিত যেমন খলীফাগণ—তবে একে বৈধ মনে করা কুফরি। কারণ এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অকাট্যভাবে যা সাব্যস্ত হয়েছে তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। আর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী কাফির। তবে যদি একে বৈধ মনে না করে গালি দেয় তবে সে ফাসিক বা পাপিষ্ঠ হবে, কারণ মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকি কাজ। কেউ কেউ শায়খাইন (আবূ বকর ও উমর রা.)-কে গালি দানকারীর ওপর নিঃশর্তভাবে কুফরির হুকুম দিয়েছেন, আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। আর যাঁর মর্যাদা মুতাওয়াতির বর্ণনায় আসেনি, তাঁকে গালিদানকারী বাহ্যত ফাসিক; তবে যদি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহচর্য লাভের কারণে তাঁকে গালি দেওয়া হয় তবে তা কুফরি। আর এই রাফেযীদের অধিকাংশ যারা সাহাবায়ে কিরামকে বিশেষত খলীফাগণকে গালি দেয়, তারা একে বৈধ বরং ইবাদত মনে করে; কারণ তারা এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশা করে এবং একে তাদের দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করে যেমনটি তাদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। সেই সম্প্রদায়ের বিবেক কতই না বিভ্রান্ত যারা এমন বিষয়ের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য চায় যা তাদের দ্বীনের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করে! আল্লাহই একমাত্র রক্ষাকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ২০)
هذا وإني لا أعتقد كفر من كان عند الله مسلما 1، ولا إسلام من كان عنده كافرا، بل أعتقد من كان عنده 2 كافرا كافرا، وما صح عن العلماء من أنه لا يكفر أهل القبلة فمحمول على من لم يكن بدعته مكفرة، لأنهم اتفقت كلمتهم على تكفير من كانت بدعته مكفرة، ولا شك أن تكذيب رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما ثبت عنه قطعا كفر، والجهل في مثل ذلك ليس بعذر، والله أعلم.
مطلب التقية
ومنها إيجابهم التقية، ورووا عن الصادق رضي الله عنه: "التقية ديني ودين آبائي3") ، حاشاه عن ذلك. وفسر بعضهم قوله تعالى: {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} 4: أكثركم تقية وأشدكم خوفا من الناس5 وقد قال صلى الله عليه وسلم: "من فسر القرآن برأيه فقد كفر6". ونقل علماؤهم عن أحد ثقاتهم أنه قال: " إن جعفر الصادق رضي الله عنه نام ليلة عندنا في خلوته الخاصة، ولم يكن عنده إلا من لم نشك في تشيعه، فقام للتهجد، فتوضأ ماسحا أذنيه، غاسلا رجليه، وصلى ساجدا على اللبد، عاقدا يديه، فكنا نقول: لعل الحق ذلك، حتى سمعنا صيحة، فرأينا رجلا ألقى بنفسه على قدميه يقبلهما ويبكي ويعتذر. فسئل عن حاله فقال: كان
--------------------------------------------
এই যে, আমি তাকে কাফির মনে করি না যাকে আল্লাহ মুসলিম হিসেবে গণ্য করেছেন ১, আর তাকে মুসলিম মনে করি না যাকে আল্লাহ কাফির হিসেবে গণ্য করেছেন। বরং আল্লাহর নিকট যে কাফির ২, আমি তাকে কাফির হিসেবেই বিশ্বাস করি। আর উলামায়ে কেরাম থেকে 'আহলুল কিবলা'কে কাফির না বলা সম্পর্কে যা সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে, তা কেবল ওইসব ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের বিদআত কুফরি পর্যায়ের নয়। কেননা উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যার বিদআত কুফরি পর্যায়ের তাকে কাফির বলতে হবে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত, তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা কুফরি; এবং এই জাতীয় বিষয়ে অজ্ঞতা কোনো ওজর হিসেবে গণ্য নয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তাকিয়্যার প্রসঙ্গ
তাদের অন্যতম বিভ্রান্তি হলো তাকিয়্যাকে আবশ্যকীয় সাব্যস্ত করা। তারা (ইমাম জাফর) আস-সাদিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছে: "তাকিয়্যা হলো আমার ধর্ম এবং আমার পিতৃপুরুষদের ধর্ম ৩"), অথচ তিনি এই অপবাদ থেকে পবিত্র। তাদের কেউ কেউ আল্লাহর বাণী— {নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী ৪}—এর ব্যাখ্যায় বলেছে: যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকিয়্যা পালনকারী এবং মানুষের ভয়ে সর্বাধিক ভীত ৫। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজ অভিমত অনুযায়ী কুরআনের ব্যাখ্যা করল, সে কুফরি করল ৬।" তাদের আলেমগণ তাদের এক বিশ্বস্ত ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, সে বলেছে: "জাফর আস-সাদিক রাদিয়াল্লাহু আনহু এক রাতে আমাদের এক নির্জন স্থানে অবস্থান করছিলেন, যেখানে আমাদের শিয়া হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই এমন ব্যক্তিরাই কেবল উপস্থিত ছিল। এরপর তিনি তাহাজ্জুদের জন্য উঠলেন এবং কান মাসাহ করে ও পা ধুয়ে অজু করলেন এবং কম্বলের ওপর সিজদা দিয়ে হাত বেঁধে নামাজ পড়লেন। আমরা বলতে লাগলাম: হয়তো এটাই সত্য; যতক্ষণ না আমরা একটি চিৎকার শুনতে পেলাম এবং একজন লোককে দেখলাম যে নিজেকে তাঁর পদতলে লুটিয়ে দিল, তাঁর পা চুম্বন করতে লাগল, কাঁদতে লাগল এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগল। তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল: সে ছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ২১)
الخليفة وأركان دولته يشكون فيك، وأنا كنت من جملتهم، فتعهدت بالفحص عن مذهبك، وقد انتهزت الفرصة مدة مديدة، حتى ظفرت هذه الليلة بأن دخلت الدار واختفيت، ولم يطلع علي أحد، فالحمد لله الذي أذهب ذلك عني وحسن اعتقادي يا ابن بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولم يبقني على سوء ظني، قال الشيخ: فعلمنا أن الله لا يخفي عن المعصوم شيئا، وعلمنا أن هذه كانت تقية منه. انتهى
… 1
والمفهوم من كلامهم أن معنى التقية عندهم كتمان الحق، أو ترك اللازم، أو ارتكاب المنهي، خوفا من الناس، والله أعلم. فانظر إلى جهل هؤلاء الكذبة! وبنوا على هذه التقية المشؤومة كتم علي نص خلافته ومبايعة الخلفاء الثلاثة، وعدم تخليصه حق فاطمة رضي الله عنها من إرثها على زعمهم، وعدم التعرض لعمر حين اغتصب بنته من فاطمة رضي الله عنها، وغير ذلك. قالوا فعل ذلك تقية قبحهم الله. وقد وردت نصوص كثيرة عن علي وأهل بيته دالة على براءتهم عنها، وإنما افتراها عليهم الرافضة لترويج مذهبهم الباطل، وهذا يقتضي عدم الوثوق بأقوال أئمة أهل البيت وأفعالهم لاحتمال أنهم قالوها أو فعلوها تقية. وإن أرادوا بقوله "ودين آبائي" النبي صلى الله عليه وسلم ومن بعده، فقد جوزوا عليه عدم تبليغ ما أمره الله تبليغه، خوفا من الناس، ومخالفة أمر الله في أقواله وأفعاله خوفا منهم، ويلزم من هذا عدم الوثوق بنبوته، حاشاه عن ذلك. ومن جوز عليه ذلك فقد نقصه، ونقص الأنبياء عليهم السلام كفر، ما أشنع قول قوم يلزم منه نقص أئمتهم المبرئين عن ذلك
--------------------------------------------
খলিফা এবং তাঁর রাষ্ট্রের স্তম্ভগণ আপনার ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন এবং আমিও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমি আপনার মাযহাব অনুসন্ধানের দায়িত্ব নিয়েছিলাম এবং দীর্ঘকাল সুযোগের সন্ধান করেছি। অবশেষে আজ রাতে আমি সেই সুযোগ লাভ করলাম যে আমি গৃহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে আত্মগোপন করলাম এবং কেউ আমাকে দেখতে পেল না। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার অন্তর থেকে সেই সন্দেহ দূর করেছেন এবং আমার বিশ্বাসকে সুন্দর করেছেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৌহিত্র! তিনি আমাকে আমার কুধারণার ওপর অবশিষ্ট রাখেননি। শায়খ বললেন: এর দ্বারা আমরা জানতে পারলাম যে আল্লাহ মা'সুম (নিষ্পাপ) ব্যক্তির নিকট কোনো কিছু গোপন রাখেন না এবং আমরা অবগত হলাম যে এটি তাঁর পক্ষ থেকে 'তাকিয়া' ছিল। সমাপ্ত...
… ১
তাদের কথা থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তাদের নিকট তাকিয়ার অর্থ হলো মানুষের ভয়ে সত্য গোপন করা, অথবা আবশ্যিক কর্তব্য বর্জন করা কিংবা নিষিদ্ধ কর্মে লিপ্ত হওয়া। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। এই মিথ্যাবাদীদের অজ্ঞতা দেখুন! তারা এই অশুভ তাকিয়ার ওপর ভিত্তি করে এমন সব বিষয়ের অবতারণা করেছে যে, আলী (রা.) তাঁর খিলাফতের সুস্পষ্ট বিধান গোপন করেছিলেন এবং তিন খলিফার হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন। তাদের দাবি অনুযায়ী তিনি ফাতিমা (রা.)-এর উত্তরাধিকার থেকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার উদ্ধার করেননি এবং ওমর (রা.) যখন ফাতিমা (রা.)-এর কন্যাকে গ্রহণ করেছিলেন (বিবাহ করেছিলেন) তখন কোনো প্রতিবাদ করেননি—ইত্যাদি। তারা বলে যে, তিনি তাকিয়াবশত এসব করেছিলেন—আল্লাহ তাদের কলঙ্কিত করুন। অথচ আলী এবং তাঁর আহলে বাইত থেকে এমন বহু অকাট্য বর্ণনা রয়েছে যা তাকিয়া থেকে তাঁদের দায়মুক্তি প্রমাণ করে। মূলত রাফেযিরা তাদের বাতিল মাযহাব প্রচারের জন্য তাঁদের ওপর এই মিথ্যাচার আরোপ করেছে। এটি আহলে বাইতের ইমামগণের কথা ও কাজের ওপর আস্থা নষ্ট করে দেয়, কারণ তখন এই সম্ভাবনা তৈরি হয় যে তাঁরা হয়তো তাকিয়াবশত এমনটি বলেছেন বা করেছেন। আর তারা যদি "আমার পূর্বপুরুষদের দ্বীন" বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরবর্তীদের উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে তারা মূলত মানুষের ভয়ে তাঁর ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট বিষয়াবলি প্রচার না করার সম্ভাবনাকে বৈধ সাব্যস্ত করল এবং মানুষের ভয়ে তাঁর কথা ও কাজে আল্লাহর নির্দেশের বিরোধিতা করার অবকাশ দিল। এর অনিবার্য পরিণতি হলো তাঁর নবুওয়াতের ওপর আস্থাহীনতা—আল্লাহ তাঁকে তা থেকে পবিত্র রাখুন। আর যে ব্যক্তি তাঁর জন্য এটি বৈধ মনে করে সে তাঁর মর্যাদা হানি করল, আর নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) অবমাননা করা কুফরি। সেই সম্প্রদায়ের বক্তব্য কতই না জঘন্য যা তাঁদের পবিত্র ইমামগণের মর্যাদাহানি ঘটায় যারা এসকল বিষয় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ২২)
مطلب سبهم عائشة رضي الله عنهاالمبرأة
ومنها نسبتهم الصديقة الطيبة المبرأة عما يقولون فيها إلى الفاحشة 1، وقد شاع في هذه الأزمنة بينهم ذلك كما نقل عنهم، قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالْأِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ لا تَحْسَبُوهُ شَرّاً لَكُمْ بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ مَا اكْتَسَبَ مِنَ الْأِثْمِ وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ لَوْلا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بِأَنْفُسِهِمْ خَيْراً وَقَالُوا هَذَا إِفْكٌ مُبِينٌ لَوْلا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاءِ فَأُولَئِكَ عِنْدَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ وَلَوْلا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِي مَا أَفَضْتُمْ فِيهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُمْ مَا لَيْسَ لَكُمْ بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّناً وَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمٌ وَلَوْلا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ قُلْتُمْ مَا يَكُونُ لَنَا أَنْ نَتَكَلَّمَ بِهَذَا سُبْحَانَكَ هَذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ يَعِظُكُمُ اللَّهُ أَنْ تَعُودُوا لِمِثْلِهِ أَبَداً إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (وَيُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآياتِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ وَلَوْلا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ وَأَنَّ اللَّهَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ وَمَنْ يَتَّبِعْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَلَوْلا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ مَا زَكَى مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ أَبَداً وَلَكِنَّ اللَّهَ يُزَكِّي مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} 2.
وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلاتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ
--------------------------------------------
নিষ্কলঙ্ক আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে তাদের গালি দেওয়ার প্রসঙ্গ
তাদের অপকর্মসমূহের অন্যতম হলো সেই সিদ্দীকা, পবিত্রা এবং তারা যা বলে তা থেকে অপবাদমুক্তার প্রতি অশ্লীলতার অপবাদ দেওয়া। তাদের সম্পর্কে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে, বর্তমান সময়েও তাদের মাঝে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই যারা এই মিথ্যা অপবাদ রচনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি ক্ষুদ্র দল। তোমরা একে তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করো না, বরং এটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তাদের প্রত্যেকের জন্য ততটুকু পাপ রয়েছে যতটুকু সে কামাই করেছে; আর তাদের মধ্যে যে এই ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছে, তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। তোমরা যখন তা শুনলে, তখন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীগণ কেন নিজেদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করলে না এবং কেন বললে না যে, ‘এটি একটি সুস্পষ্ট অপবাদ’? তারা কেন এ বিষয়ে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করল না? যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, সেহেতু আল্লাহর নিকট তারাই মিথ্যাবাদী। যদি দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তোমরা যে আলোচনায় লিপ্ত ছিলে তার কারণে তোমাদের ওপর মহাশাস্তি আপতিত হতো। যখন তোমরা তা মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে এবং নিজেদের মুখে এমন কথা বলছিলে যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান ছিল না; তোমরা একে তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ আল্লাহর নিকট এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তোমরা যখন তা শুনলে, তখন কেন বললে না যে, ‘আমাদের জন্য এ বিষয়ে কথা বলা উচিত নয়। হে আল্লাহ! আপনি পরম পবিত্র, এটি তো এক ভয়াবহ অপবাদ!’ আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা আর কখনো এর পুনরাবৃত্তি না করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক তা পছন্দ করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জানো না। যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত এবং আল্লাহ অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম দয়ালু না হতেন (তবে তোমাদের ওপর শাস্তি নেমে আসত)। হে মুমিনগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; আর যে ব্যক্তি শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, শয়তান তো তাকে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ দেবে। যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তোমাদের কেউই কখনো পবিত্র হতে পারতে না; কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} ২।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয়ই যারা সতী-সাধ্বী, সরলমনা মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ দেয়, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তাদের জিহ্বা ও তাদের হাতসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ يَوْمَئِذٍ يُوَفِّيهِمُ اللَّهُ دِينَهُمُ الْحَقَّ وَيَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ الْمُبِينُ الْخَبِيثَاتُ لِلْخَبِيثِينَ وَالْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَاتِ وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ وَالطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ أُولَئِكَ مُبَرَّأُونَ مِمَّا يَقُولُونَ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ} 1. وقد روى عبد الرزاق وأحمد وعبد بن حميد2 والبخاري وابن جرير وابن المنذر وابن أبي حاتم وابن مردويه والبيهقي في شعب الإيمان عن عائشة رضي الله عنها أنها المبرأة المرادة من هذه الآيات3. وروى سعيد بن منصور وأحمد والبخاري وابن المنذر وابن مردويه عن أم رومان رضي الله عنها ما يدل أن عائشة رضي الله عنها هي المبرأة المقصودة بهذه الآيات4. وروى البزار وابن مردويه بسند حسن عن أبي هريرة ما يوافق ما تقدم. وروى ابن مردويه والطبراني عن ابن عباس رضي الله عنه مثلما سبق. وروى الطبراني وابن مردويه عن ابن عمر رضي الله عنهما ما يطابق السابق. وروى ابن مردويه والطبراني عن أبي إياس الأنصاري ما يوافق ما تقدم. وروى ابن أبي حاتم والطبراني عن سعيد بن جبير ما يوافق ما تقدم. وروى الطبراني عن الحكم بن عتيبة مثل ذلك. وروي عن عبد الله بن الزبير ما يوافقه. وروي عن عروة بن الزبير وسعيد بن المسيب وعلقمة ابن وقاص وعبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود وعمرة بنت عبد الرحمن
--------------------------------------------
...এবং তাদের পা-সমূহ, যা তারা করত সে সম্পর্কে। সেই দিন আল্লাহ তাদের প্রাপ্য যথার্থ প্রতিফল পূর্ণমাত্রায় দান করবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, আল্লাহই সুস্পষ্ট সত্য। দুশ্চরিত্রা নারীগণ দুশ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষগণ দুশ্চরিত্রা নারীদের জন্য; আর চরিত্রবতী নারীগণ চরিত্রবান পুরুষদের জন্য এবং চরিত্রবান পুরুষগণ চরিত্রবতী নারীদের জন্য। তারা যা বলে, এরা তা থেকে মুক্ত; এদের জন্য রয়েছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা। ১। আব্দুর রাজ্জাক, আহমাদ, আবদ ইবনে হুমাইদ, বুখারী, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং বায়হাকী 'শুয়াবুল ঈমান'-এ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনিই এই আয়াতসমূহের মাধ্যমে পবিত্র ঘোষিত উদ্দিষ্ট ব্যক্তি। ৩। সাঈদ ইবনে মানসূর, আহমাদ, বুখারী, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে মারদুওয়াইহ উম্মে রুমান (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এমন বিষয় বর্ণনা করেছেন যা নির্দেশ করে যে, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-ই এই আয়াতসমূহে উদ্দিষ্ট সেই পবিত্রা নারী। ৪। বাযযার এবং ইবনে মারদুওয়াইহ হাসান সনদে আবু হুরায়রা থেকে পূর্ববর্তী বর্ণনার অনুকূলে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মারদুওয়াইহ এবং তাবারানি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে পূর্বোক্ত বিষয়ের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাবারানি এবং ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে পূর্ববর্তী বর্ণনার সাথে সংগতিপূর্ণ বর্ণনা করেছেন। ইবনে মারদুওয়াইহ এবং তাবারানি আবু ইয়াস আনসারী থেকে পূর্ববর্তী বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি হাতিম এবং তাবারানি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে পূর্ববর্তী বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাবারানি হাকাম ইবনে উতাইবা থেকে একইরূপ বর্ণনা করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আরও বর্ণিত হয়েছে উরওয়াহ ইবনে জুবায়ের, সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব, আলকামাহ ইবনে ওয়াক্কাস, উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদ এবং আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وعبد الله بن أبي بكر بن حزم وسلمة بن عبد الرحمن بن عوف والقاسم بن محمد بن أبي بكر والأسود بن يزيد وعباد بن عبد الله بن الزبير ومقسم مولى ابن عباس وغيرهم عن عائشة رضي الله عنها مثله. وكونها هي المبرأة المرادة من الآيات مشهور بل متواتر. فإذا عرفت هذا فاعلم أنه من قذفها بالفاحشة مع اعتقاده أنها زوجة رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنها بقيت1 في عصمته بعد هذه الفاحشة، فقد جاء بكذب ظاهر، واكتسب الإثم، واستحق العذاب، وظن بالمؤمنين سوءا، وهو كاذب وأتى بأمر ظنه هينا وهو عند الله عظيم، واتهم أهل بيت 2 النبوة بالسوء، ومن هذا الاتهام يلزم نقص النبي صلى الله عليه وسلم، ومن نقصه فكأنما نقص الله، ومن نقص الله ورسوله فقد كفر، وهو بفعله هذا خارج عن أهل الإيمان ومتبع لخطوات الشيطان، وملعون في الدنيا والآخرة ومكذب الله في قوله تعالى: {وَالطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ} 3 الآية ومن كذب الله فقد كفر. ومن قذفها مع زعمه أنها لم تكن زوجته أو لم تبق في عصمته بعد هذه الفاحشة، فإن قلنا: إنه ثبت قطعا أنها هي المرادة بهذه الآيات وهو الظاهر، يلزم من قذفها ما تقدم من القبائح. والحاصل أن قذفها كيفما كان يوجب تكذيب الله تعالى في إخباره عن تبرئتها عما يقول القاذف فيها، وقد قال بعض المحققين من السادة: " وأما قذفها الآن فهو كفر وارتداد، ولا يكتفى فيه بالجلد لأنه تكذيب لسبع عشرة آية من كتاب الله كما مر، فيقتل ردة، وإنما اكتفى صلى الله عليه وسلم بجلدهم، أي من قذفها في زمنه مرة
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ বিন আবি বকর বিন হাজম, সালামাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ, আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর, আল-আসওয়াদ বিন ইয়াজিদ, আব্বাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-জুবায়ের, ইবনে আব্বাসের মুক্ত দাস মিকসাম এবং অন্যান্যের মাধ্যমে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আয়াতগুলোতে যাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে তিনি যে আয়েশাই—এ বিষয়টি প্রসিদ্ধ, এমনকি এটি মুতাওয়াতির (অকাট্যভাবে প্রমাণিত)। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন জেনে রাখুন যে, যে ব্যক্তি তাঁকে অশ্লীলতার অপবাদ দেয়—এই বিশ্বাস পোষণ করে যে তিনি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্ত্রী এবং এই অশ্লীলতার পরেও তিনি তাঁর বৈবাহিক বন্ধনে বহাল১ ছিলেন—সে স্পষ্ট মিথ্যা নিয়ে এসেছে, পাপ অর্জন করেছে এবং শাস্তির যোগ্য হয়েছে। সে মুমিনদের সম্পর্কে মন্দ ধারণা করেছে, সে একজন মিথ্যাবাদী এবং এমন এক কাজ করেছে যা সে তুচ্ছ মনে করলেও আল্লাহর নিকট তা অত্যন্ত গুরুতর। সে নবুওয়াতের পবিত্র আহলে বাইত২ কে মন্দ অপবাদ দিয়েছে। আর এই অপবাদ দেওয়া মানেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মানহানি করা। আর যে তাঁর মানহানি করল, সে যেন আল্লাহরই মানহানি করল। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মানহানি করে, সে কুফরি করল। সে তার এই কাজের মাধ্যমে ঈমানদারদের দল থেকে বহিষ্কৃত এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসারী। সে দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর অস্বীকারকারী: "পবিত্রা নারীগণ পবিত্র পুরুষদের জন্য" ৩। আর যে আল্লাহকে অস্বীকার করল, সে কুফরি করল। আর যে ব্যক্তি তাঁকে এই দাবি করে অপবাদ দেয় যে, তিনি তাঁর স্ত্রী ছিলেন না অথবা এই অশ্লীলতার পরে তাঁর বৈবাহিক বন্ধনে থাকেননি—যদি আমরা বলি যে এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে এই আয়াতগুলোতে তাঁকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে (যা অত্যন্ত স্পষ্ট)—তবে তাঁকে অপবাদ দেওয়ার কারণে পূর্বোক্ত সকল জঘন্য পরিণতি অবধারিত হবে। সারকথা হলো, তাঁকে অপবাদ দেওয়া যেভাবেই হোক না কেন, তা অপবাদদানকারীর দাবির বিপরীতে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর পবিত্রতা ঘোষণার সংবাদকে অস্বীকার করাকে অবধারিত করে। সম্মানীয় গবেষকদের কেউ কেউ বলেছেন: "আর বর্তমানে তাঁকে অপবাদ দেওয়া কুফরি ও ধর্মত্যাগ (ইরতিদাদ)। এক্ষেত্রে কেবল বেত্রাঘাতই যথেষ্ট নয়, কারণ এটি আল্লাহর কিতাবের সতেরোটি আয়াতকে অস্বীকার করার শামিল, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং ধর্মত্যাগের কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল তাঁদেরকেই বেত্রাঘাত করে ক্ষান্ত হয়েছিলেন, যারা তাঁর সময়ে একবার তাঁকে অপবাদ দিয়েছিল..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أو مرتين لأن القرآن ما كان أنزل في أمرها، فلم يكذبوا القرآن، وأما الآن فهو تكذيب للقرآن، أما نتأمل في قوله تعالى: {يَعِظُكُمُ اللَّهُ أَنْ تَعُودُوا لِمِثْلِهِ} الآية، ومكذب القرآن كافر فليس له إلا السيف وضرب العنق. انتهى. ولا يخالف هذا قوله: {ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً لِلَّذِينَ كَفَرُوا امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَتَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئاً} 1 الآية، لأنه روى عبد الرزاق والفريابي وسعيد بن منصور وعبد بن حميد وابن أبي الدنيا في الصمت وابن جرير وابن المنذر وابن أبي حاتم والحاكم وصححه من طرق ابن عباس رضي الله عنه في قوله تعالى: {فَخَانَتَاهُمَا} أما خيانة امرأة نوح فكانت تقول للناس إنه مجنون وأما خيانة امرأة لوط فكانت تدل على الضيف فتلك خيانتهما2. وروى ابن عساكر عن أشرس يرفعه إلى النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ما بغت امرأة نبي قط". وروى ابن جرير عن مجاهد: "لا ينبغي لامرأة كانت تحت نبي أن تفجر3") . ومن يقذف الطاهرة الطبية أم المؤمنين زوجة رسول رب العالمين صلى الله عليه وسلم في الدنيا والآخرة كما صح ذلك عنه فهو من ضرب عبد الله بن أبي بن سلول رأس المنافقين، ولسان حال رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
--------------------------------------------
অথবা দুবার, কারণ তখন তাঁর ব্যাপারে কুরআন অবতীর্ণ হয়নি, ফলে তারা কুরআনকে অস্বীকার করেনি। কিন্তু বর্তমানে তা কুরআনকে অস্বীকার করার নামান্তর। আমরা কি মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করি না: "আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যদি মুমিন হও তবে ভবিষ্যতে কখনোই আর অনুরূপ আচরণের পুনরাবৃত্তি করো না" (আয়াত)। আর কুরআনকে অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফির, সুতরাং তার জন্য তলোয়ার ও শিরশ্ছেদ ব্যতিরেকে অন্য কিছু নেই। (সমাপ্ত)। আর এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর পরিপন্থী নয়: "আল্লাহ কাফিরদের জন্য নূহ-এর স্ত্রী ও লূত-এর স্ত্রীর দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন; তারা আমাদের বান্দাদের মধ্য থেকে দুইজন নেককার বান্দার অধীনে ছিল, অতঃপর তারা উভয়ে তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল, ফলে তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের কোনো উপকারে আসলেন না" ১ (আয়াত); কারণ আবদুর রাজ্জাক, আল-ফিরইয়াবি, সাঈদ বিন মানসুর, আবদ বিন হুমাইদ, ইবনুল আবিদ দুনইয়া তাঁর 'আস-সামত' গ্রন্থে, ইবনে জারির, ইবনুল মুনজির, ইবনে আবি হাতিম এবং আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং আল-হাকিম ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে একে সহীহ বলেছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী "অতঃপর তারা উভয়ে তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল" প্রসঙ্গে তিনি বলেন: নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতা ছিল এই যে, সে মানুষের কাছে বলত যে তিনি একজন উন্মাদ। আর লূত (আলাইহিস সালাম)-এর স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতা ছিল এই যে, সে (অনিষ্টকামী কাফিরদের নিকট) মেহমানদের আগমনের সংবাদ দিয়ে দিত; এটাই ছিল তাদের উভয়ের বিশ্বাসঘাতকতা ২। ইবনে আসাকির আশরাস থেকে এমন একটি বর্ণনা করেছেন যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছেছে, তিনি বলেছেন: "কোনো নবীর স্ত্রী কখনো ব্যভিচার করেননি।" ইবনে জারির মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন: "কোনো নবীর স্ত্রী ব্যভিচার করবেন—এমনটি হতে পারে না ৩)।" আর যে ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহধর্মিণী এবং পবিত্রা ও পুত-পবিত্রা উম্মুল মুমিনীনের প্রতি অপবাদ আরোপ করে—যেভাবে তাঁর সম্পর্কে তা সহীহ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে—তবে সে মুনাফিকদের প্রধান আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলের শ্রেণিভুক্ত; আর রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবস্থার ভাষা যেন বলছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ২৬)
" يا معشر المسلمين من يعذرني فيمن آذاني في أهلي" 1 {إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَاباً مُهِيناًوَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَاناً وَإِثْماً مُبِيناً} 2. فأين أنصار دينه ليقولوا: نحن نعذرك يا رسول الله؟ فيقومون بسيوفهم إلى هؤلاء الأشقياء الذين يكذبون الله ورسوله، ويؤذونهما والمؤمنين فيبيدونهم ويتقربون3 بذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ويستوجبون4 بذلك شفاعته، اللهم إنا نبرأ إليك من قول هؤلاء المطرودين.
مطلب تكفير من حارب عليًّا
ومنها تكفير من حارب عليا رضي الله عنه مرادهم بذلك عائشة وطلحة والزبير وأصحابهم، ومعاوية وأصحابه. وقد تواتر منه صلى الله عليه وسلم ما يدل على إيمان هؤلاء، وكون بعضهم مبشرا بالجنة، وفي تكفيرهم تكذيب لذلك، فإن لم يصيروا كفرة بهذا التكذيب فلا شك أنهم يصيرون فسقة، وذلك يكفي في خسارتهم في تجارتهم.
مطلب استهانتهم بأسماء الصحابة
ومنها استهانتهم5 بأسماء الصحابة6، ولا سيما العشرة، وقد تواتر
--------------------------------------------
"হে মুসলিম সম্প্রদায়! কে আমাকে সেই ব্যক্তির হাত থেকে রক্ষা করবে (অর্থাৎ আমার পক্ষে ইনসাফ করবে) যে আমার পরিবারের বিষয়ে আমাকে কষ্ট দিয়েছে?" ১ {নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি দুনিয়া ও আখিরাতে লানত করেছেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন লাঞ্ঞ্ছনাকর শাস্তি। আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কৃত কোনো অপরাধ ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করল।} ২। সুতরাং তাঁর দীনের সাহায্যকারীরা কোথায়, যারা বলবে: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার পক্ষ থেকে তাকে প্রতিহত করব? অতঃপর তারা তাদের তরবারি নিয়ে ঐসব হতভাগ্যদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং তাঁদেরকে ও মুমিনদের কষ্ট দেয়; ফলে তারা তাদের নির্মূল করবে এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নৈকট্য অন্বেষণ করবে ৩ এবং এর মাধ্যমে তাঁর শাফায়াতের যোগ্য হবে ৪। হে আল্লাহ! আমরা এই বিতাড়িতদের বক্তব্য হতে তোমার নিকট দায়মুক্তি ঘোষণা করছি।
আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধকারীদের কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়
এর মধ্যে আরও রয়েছে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধকারীদের কাফির বলা; এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো আয়েশা, তালহা, যুবাইর ও তাঁদের সঙ্গীগণ এবং মুয়াবিয়া ও তাঁর সঙ্গীগণ। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির বা অকাট্য সূত্রে এমন বর্ণনা এসেছে যা তাঁদের ঈমানের প্রমাণ দেয় এবং তাঁদের কেউ কেউ জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। আর তাঁদের কাফির বলা মানে হলো সেই অকাট্য সত্যকে অস্বীকার করা। সুতরাং এই মিথ্যারোপের কারণে তারা যদি কাফির না-ও হয়, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তারা ফাসেক (পাপাচারী) হিসেবে গণ্য হবে; আর তাদের এই কর্মফল বিফল হওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট।
সাহাবায়ে কেরামের নামের প্রতি তাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের বিষয়
এর অন্তর্ভুক্ত হলো সাহাবায়ে কেরামের নামের প্রতি তাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য প্রদর্শন করা ৫, বিশেষ করে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের ক্ষেত্রে। এটি ধারাবাহিকভাবে অকাট্য সূত্রে প্রমাণিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عنه صلى الله عليه وسلم ما يدل على وجوب تعظيمهم وإكرامهم وقد أرشد الله تعالى إلى ذلك في مواضع من كتابه، ويلزم من إهانة هؤلاء إياهم استحقاقهم لذلك عندهم. ومن اعتقد منهم ما يوجب إهانتهم فقد كذب رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما أخبر من وجوب إكرامهم وتعظيمهم؛ ومن كذبه فيما ثبت عنه قطعا فقد كفر.
ومن عجب أنهم يتجنبون التسمية بأسماء الأصحاب، ويسمون بأسماء الكلاب، فما أبعدهم عن الصواب! وأشبههم بأهل الضلال والعقاب.
مطلب انحصار الخلافة في اثني عشر
ومنها دعواهم انحصار الخلافة في اثني عشر؛ فإنهم كلهم بالنص والإبصار عمن قبله 1 وهذه دعوى بلا دليل، مشتملة على كذب؛ فبطلانها أظهر من أن يبين. ويتوسلون بها إلى بطلان خلافة من سواهم2 في ذلك تكذيب لنصوص واردة في خلافة الخلفاء الراشدين، وخلافة قريش.
مطلب العصمة [للأئمة الاثني عشر]
ومنها إيجابهم العصمة للاثني عشر بناء على أن العصمة عندهم شرط في الإمامة 3؛ وبطلان هذا أظهر، ويلزم من اعتقادهم هذا مشاركة الأئمة الاثني عشر الأنبياء في وصف العصمة4. فإن قلنا: إنها مخصوصة
--------------------------------------------
তাঁর (সা.) পক্ষ হতে এমন অনেক বর্ণনা রয়েছে যা তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের আবশ্যকতা প্রমাণ করে এবং মহান আল্লাহ স্বীয় কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাঁদেরকে অবমাননা করা মূলত তাঁদের নিকট অপমানের যোগ্য সাব্যস্ত করার নামান্তর। তাঁদের মধ্য হতে যারা এমন বিশ্বাস পোষণ করে যা তাঁদেরকে অবমাননা করা আবশ্যক করে তোলে, তবে সে মূলত রাসূলুল্লাহ (সা.) যা খবর দিয়েছেন যে তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা আবশ্যক—সেই সংবাদকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। আর রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত কোনো বিষয়ে যে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, সে কুফরি করল।
অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে, তারা সাহাবায়ে কেরামের নামে নামকরণ করা বর্জন করে, অথচ কুকুরের নামে নামকরণ করে; তারা সত্য থেকে কতই না দূরে! আর তারা পথভ্রষ্ট ও শাস্তির যোগ্য ব্যক্তিদের সাথে কতই না সাদৃশ্যপূর্ণ!
অনুচ্ছেদ: খেলাফত বারোজন ইমামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার দাবি
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে একটি হলো খেলাফত বারোজন ইমামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা; তাদের দাবি অনুযায়ী তারা সকলে পূর্ববর্তী ইমামের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট বর্ণনা ও নির্দেশের মাধ্যমে মনোনীত ১। এটি একটি প্রমাণহীন দাবি যা মিথ্যাচারপূর্ণ; এর অসারতা ব্যাখ্যা করার চেয়েও অধিক স্পষ্ট। এর মাধ্যমে তারা অন্যদের খেলাফত বাতিল করার অছিলা গ্রহণ করে ২, যা খুলাফায়ে রাশেদীন এবং কুরাইশ বংশের খেলাফত সম্পর্কিত বর্ণিত সুনির্দিষ্ট পাঠসমূহের (নস) সরাসরি অস্বীকার।
অনুচ্ছেদ: নিষ্পাপত্ব [বারোজন ইমামের জন্য]
তাদের অপর একটি দাবি হলো বারোজন ইমামের জন্য নিষ্পাপ (মা’সুম) হওয়া আবশ্যক; কারণ তাদের নিকট ইমামতের জন্য নিষ্পাপ হওয়া একটি শর্ত ৩। এর অসারতা অত্যন্ত স্পষ্ট। তাদের এই বিশ্বাস থেকে এ কথাই লাজিম বা অনিবার্য হয় যে, এই বারোজন ইমাম নিষ্পাপ হওয়ার বৈশিষ্ট্যে নবীদের সমকক্ষ ৪। এখন আমরা যদি বলি যে, এটি নির্দিষ্ট...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بهم لا توجد في غيرهم، أو لا تلزم لغيرهم، فإثباتها للأئمة جرم جسيم، قال في التجريد 1 " الإمام لطف، فيجب نصبه على الله تحصيلا للغرض "، قال شارحه 2 " اختلفوا في أن الإمام هل يجب أن يكون معصوما أم لا، فذهبت الإمامية والإسماعيلية إلى وجوبه، والباقون بخلافه". ثم قال في المتن وامتناع التسلسل: " يوجب عصمة الإمام إلى آخر ما ذكر. والظاهر أن إيجاب العصمة لأئمتهم من أكذابهم وافترائهم، لم يرد به دليل من الكتاب ولا من السنة ولا من الإجماع ولا من القياس الصحيح ولا من العقل السليم، قاتلهم الله أنى يؤفكون ".
مطلب فضل الإمام علي رضي الله عنه
ومنها: أنه قال ابن المطهر الحلي 3 ": اجتمعت الإمامية على أن عليا بعد نبينا أفضل من الأنبياء غير أولي العزم، وفي تفضيله عليهم خلاف، قال وأنا من المتوقفين في ذلك وكذلك الأئمة من آله " وقال الطومسي في تجريده: 4"وعلي أفضل الصحابة لكثرة جهاده، إلى أن قال: وظهور المعجزات عنه واختصاصه بالقرابة والأخوة ووجوب المحبة والنصرة ومساواة الأنبياء. انتهى ". وقال الشارح: 5 " ويؤيده قوله صلى الله عليه وسلم: "من أراد أن ينظر إلى آدم في علمه، وإلى نوح في تقواه، وإلى
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে এমন কিছু যা অন্যদের মধ্যে পাওয়া যায় না, বা অন্যদের জন্য আবশ্যক নয়। সুতরাং ইমামদের জন্য এগুলো সাব্যস্ত করা এক গুরুতর অপরাধ। 'তাজরিদ' গ্রন্থে বলা হয়েছে ১ "ইমামত একটি বিশেষ অনুগ্রহ (লুতফ), তাই উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে ইমাম নিযুক্ত করা আল্লাহর ওপর ওয়াজিব।" এর ব্যাখ্যাকার বলেছেন ২ "ইমাম কি নিষ্পাপ (মাসুম) হওয়া ওয়াজিব কি না—এ বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইমামিয়া এবং ইসমাইলিরা এটি ওয়াজিব বলে মনে করেন, অন্যরা এর বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন।" অতঃপর মূল গ্রন্থে 'তাসালসুল' (অবিরাম পরম্পরা) অসম্ভব হওয়ার আলোচনায় বলা হয়েছে: "এটি ইমামের নিষ্পাপতা ওয়াজিব করে..." উল্লিখিত বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত। প্রকাশ্য বিষয় এই যে, তাদের ইমামদের জন্য 'ইসমা' বা নিষ্পাপতা ওয়াজিব হওয়ার দাবিটি তাদের মিথ্যাচার ও অপবাদের অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা, সঠিক কিয়াস কিংবা সুস্থ বিবেক—কোনোটি থেকেই কোনো দলিল নেই। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা সত্য থেকে কোথায় বিচ্যুত হচ্ছে!
ইমাম আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর শ্রেষ্ঠত্ব সংক্রান্ত আলোচনা
তন্মধ্যে একটি হলো: ইবনুল মুতাহহার আল-হিল্লি বলেছেন ৩: "ইমামিয়া সম্প্রদায় এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, আমাদের নবীর পর আলী 'উলুল আযম' নবীগণ ব্যতীত অন্য সকল নবীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তবে উলুল আযম নবীগণের ওপর তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তিনি বলেছেন—আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছি এবং তাঁর বংশের ইমামগণও তাই করেছেন।" তুসি তাঁর 'তাজরিদ' গ্রন্থে বলেছেন: ৪ "অধিক জিহাদের কারণে আলী সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।" তিনি আরও বলেছেন: "তাঁর মাধ্যমে মুজিজা প্রকাশ পাওয়া, (নবীর সাথে) আত্মীয়তা ও ভ্রাতৃত্বের বিশেষ সম্পর্ক, তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও সাহায্য করা ওয়াজিব হওয়া এবং নবীগণের সাথে তাঁর সমতুল্যতা (এর কারণ)। সমাপ্ত।" ব্যাখ্যাকার বলেছেন: ৫ "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী একে সমর্থন করে: 'যে ব্যক্তি আদমের জ্ঞান, নূহের তাকওয়া এবং...' দেখতে চায়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إبراهيم في حلمه، وإلى موسى في هيبته، وإلى عيسى في عبادته، فلينظر إلى علي بن أبي طالب"، فإنه أوجب مساواته الأنبياء في صفاتهم انتهى " وفي صحة هذا نظر، وبعد فرض صحته لا يوجب المساواة، لأن المشاركة في بعض الأوصاف لا تقتضي المساواة كما هو بديهي. ومن اعتقد في غير الأنبياء كونه أفضل منهم ومساويا 1 لهم فقد كفر؛ وقد نقل على ذلك الإجماع غير واحد من العلماء، فأي خير في قوم اعتقادهم يوجب كفرهم؟
مطلب نفي ذرية الحسن رضي الله عنه
ومنها قولهم: إن الحسن بن علي لم يعقب، وأن عقبه انقرض، وأنه لم يبق من نسله الذكور أحد، وهذا القول شائع فيهم، وهم مجمعون عليه، ولا يحتاج إلى إثباته، كذا قيل. ومنهم من يدعي أن الجاج مثلهم كلهم، وتوصلوا بذلك إلى أن يحصروا الإمامة في أولاد الحسين، ومنهم في اثني عشر، وأن يبطلوا إمامة من قام بالدعوة من آل الحسن مع فضلهم وجلالتهم واتفاقهم بشروط الإمامة ومبايعة الناس لهم وصحة نسبتهم ووفور علمهم، بحيث إنهم كلهم بلغوا درجة الاجتهاد المطلق، فقاتلهم الله أنى يؤفكون! انظر إلى هؤلاء الأعداء لآل البيت المؤذين رسول الله صلى الله عليه وسلم وفاطمة بإنكار نسب من يثبت نسبه قطعا أنه من ذرية الحسن رضي الله عنه: وثبوت نسب ذريته متواتر لا يخفى على ذي بصيرة، وقد عد صلى الله عليه وسلم الطعن في الأنساب من أفعال الجاهلية، وقد ورد ما يدل على أن المهدي من ذرية الحسن رضي الله عنه كما رواه أبو داود وغيره 2.
--------------------------------------------
"ইব্রাহিমের ধৈর্য ও সহনশীলতা, মূসার গাম্ভীর্য ও প্রভাব এবং ঈসার ইবাদত-বন্দেগির প্রতিফলন যদি কেউ দেখতে চায়, তবে সে যেন আলী বিন আবি তালিবের দিকে তাকায়।" কেননা এটি তাদের গুণাবলির ক্ষেত্রে নবীদের সাথে তাঁর সমতা অনিবার্য করে তোলে। এখানেই উদ্ধৃতি শেষ। আর এই বর্ণনার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সংশয় রয়েছে। আর যদি তর্কের খাতিরে এর বিশুদ্ধতা মেনেও নেওয়া হয়, তবুও তা নবীদের সাথে পূর্ণ সমতা প্রমাণ করে না; কারণ কিছু গুণের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব থাকা মানেই যে পূর্ণ সমতা বজায় থাকবে—তা নয়, যেমনটি স্বতসিদ্ধ। আর যে ব্যক্তি নবী ছাড়া অন্য কারো ব্যাপারে নবীদের চেয়ে উত্তম হওয়ার বা তাঁদের সমান হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করবে, সে কুফরি করল। একাধিক আলেম এ বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এমন সম্প্রদায়ের মাঝে কী কল্যাণ থাকতে পারে, যাদের বিশ্বাসই তাদের কুফরি পর্যন্ত নিয়ে যায়?
হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধারা অস্বীকার করার বিষয়
তাদের ভ্রান্ত আকিদাহসমূহের মধ্যে একটি হলো—তাদের এই দাবি যে, হাসান বিন আলীর কোনো বংশধর ছিল না, তাঁর বংশধারা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে এবং তাঁর বংশে কোনো পুরুষ সন্তান অবশিষ্ট নেই। এই কথাটি তাদের মধ্যে বহুল প্রচলিত এবং তারা এ বিষয়ে একমত, এমনকি এর প্রমাণেরও প্রয়োজন পড়ে না—যেমনটি বলা হয়ে থাকে। তাদের কেউ কেউ দাবি করে যে, তাদের সকলেই একই মতাদর্শের। এর মাধ্যমে তারা ইমামতকে কেবল হুসাইনের সন্তানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে চায়, আর কেউ কেউ তা বারো জন ইমামের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে চায়। এর ফলে তারা হাসানের বংশধরদের মধ্য থেকে যারা দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে দাঁড়িয়েছেন—তাদের ইমামতকে বাতিল সাব্যস্ত করতে চায়; অথচ তারা অত্যন্ত মর্যাদাবান ও মহান ছিলেন এবং ইমামতের সকল শর্ত তাদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। মানুষ তাদের হাতে বায়াত গ্রহণ করেছিল, তাদের বংশসূত্র ছিল বিশুদ্ধ এবং তাদের ইলম ছিল অগাধ, এমনকি তারা সকলেই ইজতিহাদ-ই-মুতলাক বা স্বাধীন গবেষণার স্তরে পৌঁছেছিলেন। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন! তারা কোথায় বিচ্যুত হচ্ছে? আহলে বাইতের এই শত্রুদের দিকে তাকিয়ে দেখুন, যারা হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর হওয়ার বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও তাদের বংশসূত্র অস্বীকার করার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে কষ্ট দিচ্ছে। অথচ তাঁর বংশধরদের বংশসূত্রের বিশুদ্ধতা মুতাওয়াতিরভাবে প্রমাণিত, যা কোনো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির কাছে অস্পষ্ট নয়। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বংশমর্যাদায় আঘাত হানাকে জাহেলিয়াতের কাজ হিসেবে গণ্য করেছেন। তাছাড়া এমন বর্ণনাও রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, মাহদী হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধরদের মধ্য থেকে হবেন, যেমনটি আবু দাউদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مطلب خلافهم في خروج غيرهم من النار
ومنها أنه قال الحلي في شرح التجريد 1: " اختلف الأئمة في غير الاثنى عشرية من الفرق الإسلامية، هل يخرجون من النار ويدخلون الجنة أم يخلدون فيها بأجمعهم؟ قال: والأكثرون على الثاني، وقال شرذمة بالأول، وقال ابن نوبخت 2: " يخرجون من النار ولا يدخلون الجنة، بل هم بالأعراف. انتهى ". وهذا مبني على أن مذهبهم اعتقادهم أهل السنة كفارا أو فساقا، مع اعتقادهم أن الفاسق لا يخرج من النار أبدا؛ وهذا يستلزم تكذيب ما صح عنه صلى الله عليه وسلم من إخراج عصاة الموحدين من النار، وما ورد في فضل السواد الأعظم الذين هم أهل السنة. وقد صح أن الصحابة وأخيار التابعين مذهب أهل السنة مذهبهم، وقولهم هذا يشبه قول أهل الكتاب، حيث قالوا: {لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كَانَ هُوداً} 3، وكذلك هؤلاء يقولون بأفواههم: لن يدخل الجنة إلا من كان رافضيا. انظر كيف يفترون على الله الكذب، بل أفعالهم تقتضي حرمانهم عنها.
مطلب مخالفتهم أهل السنة
ومنها أنهم جعلوا مخالفة أهل السنة والجماعة الذين هم على ما (عليه) رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه أصلا للنجاة، فصاروا كلّ ما فعل أهل السنة تركوه، وإن تركوا شيئا فعلوه، فخرجوا بذلك عن الدين
--------------------------------------------
জাহান্নাম হতে অন্যদের মুক্তির বিষয়ে তাদের মতপার্থক্য সংক্রান্ত প্রসঙ্গ
এর মধ্যে একটি হলো এই যে, আল-হিল্লি 'শারহুত তাজরীদ'-এ (১) বলেছেন: "বারো ইমামি (ইত্না আশারিয়া) ব্যতীত অন্যান্য ইসলামি ফিরকা বা দলসমূহ সম্পর্কে ইমামগণ মতভেদ করেছেন যে, তারা কি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, নাকি তারা সকলেই সেখানে চিরস্থায়ী হবে? তিনি বলেন: অধিকাংশ আলিম দ্বিতীয় মতের পক্ষে, আর একটি ক্ষুদ্র দল প্রথম মতের পক্ষে। ইবনে নাওবাখত (২) বলেন: 'তারা জাহান্নাম থেকে নির্গত হবে কিন্তু জান্নাতে প্রবেশ করবে না, বরং তারা আরাফ-এ অবস্থান করবে। সমাপ্ত'।" এটি এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে যে, তাদের মাযহাব আহলুস সুন্নাহকে কাফির অথবা ফাসিক মনে করে; এর পাশাপাশি তাদের বিশ্বাস হলো ফাসিক ব্যক্তি কখনো জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায় না। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত সেই সকল হাদীসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার শামিল যা গুনাহগার মুমিনদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে এসেছে, এবং যা আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত 'সাওয়াদে আজম' বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। অথচ এটি প্রমাণিত যে, সাহাবীগণ এবং পুণ্যবান তাবেয়ীগণের পথই ছিল আহলুস সুন্নাহর পথ। তাদের এই দাবি আহলে কিতাবদের দাবির অনুরূপ, যেখানে তারা বলেছিল: {ইহুদি হওয়া ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না} (৩)। অনুরূপভাবে এরাও মুখে বলে: রাফেযী হওয়া ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। লক্ষ্য করুন, তারা আল্লাহর ওপর কীভাবে মিথ্যাচার করছে! বরং তাদের কর্মই তাদের জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হবে।
আহলুস সুন্নাহর বিরোধিতা সংক্রান্ত প্রসঙ্গ
এর মধ্যে আরও একটি হলো তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের—যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত—বিরোধিতা করাকে মুক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। ফলে আহলুস সুন্নাহ যা কিছু পালন করে তারা তা বর্জন করে, আর তারা যা বর্জন করে এরা তা পালন করে; এর মাধ্যমে তারা দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফির রাদ্দি আলার রাফিদ্বাহ (মাতবুউ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সানী আশারা)
(পৃষ্ঠা: ৩১)
رأسا، فإن الشيطان سول لهم وأملى لهم، وادعوا بأن هذه المخالفة علامة أنهم الفرقة الناجية 1 وقد قال صلى الله عليه وسلم: "الفرقة الناجية هي السواد الأعظم وما أنا عليه 2 وأصحابي3") . فلينظر إلى الفرق ومعتقداتهم وأعمالهم فما وافقت النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه هي الفرقة الناجية، وأهل السنة هم المتبعون لآثاره صلى الله عليه وسلم وآثار أصحابه كما لا يخفى على منصف ينظر بعين الحق، فهم أحق أن يكونوا الفرقة الناجية، وآثار النجاة الظاهرة 4 فيهم، لاستقامتهم على الدين من غير تحريف، وظهور مذهبهم وشوكتهم في غالب البلاد، ووجود العلماء المحققين والمحدثين والأولياء والصالحين فيهم، وقد نزع الولاية عن الرافضة، فما سمع فيهم ولي قط.
مطلب الرجعة
ومنها: أنه ما قال أضلهم محمد بن بابويه القمي 5 في عقائده في مبحث الإيمان بالرجعة: "فإنهم عليهم الصلاة قالوا: من لم يؤمن برجعتنا فليس منا". وإليه ذهب جميع علمائهم، قالوا: إن النبي صلى الله عليه وسلم وعليا رضي الله عنه والأئمة الاثني عشر يحيون في آخر الزمان، ويحشرون بعد خروج المهدي وبعد قتله الدجال، ويحيا كل من الخلفاء الثلاثة وقتلة
--------------------------------------------
প্রথমত, শয়তান তাদের প্ররোচিত করেছে এবং দীর্ঘ আশা প্রদান করেছে, আর তারা দাবি করেছে যে এই বিরোধিতা হলো তাদের 'ফেরকা নাজিয়াহ' (মুক্তিকামী দল) হওয়ার লক্ষণ ১। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ফেরকা নাজিয়াহ হলো বিশাল জনসমষ্টি (সাওয়াদে আজম) এবং যার ওপর আমি ২ ও আমার সাহাবীগণ ৩ রয়েছি।" সুতরাং বিভিন্ন দল এবং তাদের আকিদা ও আমলের দিকে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন; যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের আদর্শের অনুকূল হবে, সেটিই হলো ফেরকা নাজিয়াহ। আর আহলে সুন্নাতই হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের পদাঙ্ক অনুসারী, যা সত্যের দৃষ্টিতে বিচারকারী কোনো ইনসাফগার ব্যক্তির কাছে অস্পষ্ট নয়। সুতরাং তারাই ফেরকা নাজিয়াহ হওয়ার সর্বাধিক হকদার। তাদের মধ্যে নাজাত বা মুক্তির আলামতসমূহ সুস্পষ্ট ৪, কারণ তারা কোনো প্রকার বিকৃতি ছাড়াই দ্বীনের ওপর অবিচল এবং অধিকাংশ ভূখণ্ডে তাদের মাজহাবের প্রসার ও প্রভাব বিদ্যমান। তদুপরি তাদের মধ্যে বিজ্ঞ গবেষক আলেম, মুহাদ্দিস, আউলিয়া ও নেককার বান্দাদের উপস্থিতি রয়েছে। আর রাফেজিদের থেকে বেলায়েত ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, ফলে তাদের মধ্যে কখনো কোনো 'অলি'র কথা শোনা যায়নি।
রাজআত (পুনঃপ্রত্যাবর্তন) প্রসঙ্গ
তন্মধ্যে একটি হলো: তাদের মধ্যকার পথভ্রষ্ট মুহাম্মদ ইবনে বাবুওয়াহ আল-কুম্মী ৫ তার আকিদা বিষয়ক গ্রন্থের 'রাজআতের প্রতি ঈমান' পরিচ্ছেদে যা বলেছে: "নিশ্চয়ই তাঁরা (ইমামগণ) আলাইহিমুস সালাত বলেছেন: যে ব্যক্তি আমাদের রাজআতে (পুনঃপ্রত্যাবর্তনে) বিশ্বাস করবে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" তাদের সকল আলেম এই মত গ্রহণ করেছেন। তারা বলে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং বারো ইমাম শেষ যুগে পুনরায় জীবিত হবেন এবং ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ ও দাজ্জাল নিধনের পর তাঁদের হাশর হবে। এমনকি তিন খলিফা ও তাঁদের হত্যাকারী প্রত্যেকেই পুনরুজ্জীবিত হবে...
--------------------------------------------