(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: -)
رسالة في أصول الدين   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: رسالة في أصول الدين

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

المحقق: -

الناشر: -

الطبعة: الثالثة، 1400هـ/1980م

عدد الصفحات: 38

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উসূলুদ্দীন বিষয়ক রিসালাহ   (ইবনে তায়মিয়্যাহ)

বিভাগ: আক্বীদাহ


গ্রন্থ: উসূলুদ্দীন বিষয়ক রিসালাহ

লেখক: তাক্বীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসেম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তায়মিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হি.)

সম্পাদক: -

প্রকাশক: -

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০০ হি./১৯৮০ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌رسالة في أصول الدين

تأليف: أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن تيمية الحراني

‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

سئل شيخ الإسلام قدس الله روحه

هل يجوز الخوض فيما تكلم الناس فيه من مسائل في أصول الدين لم ينقل عن سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم فيها كلام أم لا؟ فإن قيل بالجواز: فما وجهه؟ وقد فهمنا منه عليه السلام النهي عن الكلام في بعض المسائل.

وإذا قيل بالجواز: فهل يجب ذلك؟ وهل نقل عنه عليه السلام ما يقتضي وجوبه؟ وهل يكفي في ذلك ما يصل إليه المجتهد من غلبة الظن أو لا بد من الوصول إلى القطع؟ وإذا تعذر عليه الوصول إلى القطع فهل يعذر في ذلك أو يكون مكلفًا به؟ وهل ذلك من باب تكليف ما لا يطاق والحالة هذه أم لا؟

وإذا قيل بالوجوب: فما الحكمة في أنه لم يوجد فيه من الشارع نص يعصم من الوقوع في المهالك وقد كان عليه السلام حريصًا على هدى أمته؟ والله أعلم.
দ্বীনের মূলনীতি বিষয়ক একটি পুস্তিকা

রচনা: আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী

‌‌পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

শায়খুল ইসলামকে—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল

দ্বীনের মূলনীতি সংশ্লিষ্ট যেসব বিষয়ে আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো বক্তব্য বর্ণিত হয়নি, সেগুলোতে মানুষ যেভাবে আলোচনা ও বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাতে প্রবেশ করা কি জায়েজ নাকি না? যদি বলা হয় এটি জায়েজ, তবে তার ভিত্তি কী? অথচ আমরা তাঁর (আলাইহিস সালাম) থেকে কিছু কিছু বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে বলে বুঝতে পেরেছি।

আর যদি জায়েজ বলা হয়: তবে তা কি ওয়াজিব বা আবশ্যক? এবং তাঁর (আলাইহিস সালাম) থেকে কি এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা একে আবশ্যক করে? আর এ ক্ষেত্রে মুজতাহিদ ব্যক্তি প্রবল ধারণার ভিত্তিতে যা লাভ করেন তা কি যথেষ্ট, নাকি নিশ্চিত জ্ঞানে পৌঁছানো অপরিহার্য? যদি তাঁর পক্ষে নিশ্চিত জ্ঞানে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে কি তিনি এ ক্ষেত্রে ওজরপ্রাপ্ত বা ক্ষমাযোগ্য হবেন নাকি তিনি এর জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন? আর এ অবস্থায় বিষয়টি কি সাধ্যাতীত কোনো কাজের দায়িত্ব অর্পণ বলে গণ্য হবে কি না?

আর যদি ওয়াজিব বলা হয়: তবে শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে এতে এমন কোনো অকাট্য বর্ণনা কেন পাওয়া গেল না, যা ধ্বংসাত্মক পথে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করবে? অথচ তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর উম্মতের হেদায়েতের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌[مسألة الخوض في أصول الدين]

فأجاب: الحمد لله رب العالمين

[أما المسألة الأولى] فقول السائل هل يجوز الخوض فيما تكلم الناس فيه من مسائل في أصول الدين لم ينقل عن سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم فيها كلام أم لا؟ سؤال ورد بحسب ما عهد من الأوضاع المبتدعة الباطلة.

فإن المسائل التي هي من أصول الدين _ التي تستحق أن تسمى أصول الدين _ أعني الدين الذي أرسل الله به رسوله، وأنزل به كتابه: لا يجوز أن يقال: لم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم فيها كلام؛ بل هذا كلام متناقض في نفسه إذ كونها من أصول الدين يوجب أن تكون من أهم أمور الدين؛ وأنها مما يحتاج إليه الدين، ثم نفى نقل الكلام فيها عن الرسول يوجب أحد أمرين:

إما أن الرسول أهمل الأمور المهمة التي يحتاج الدين إليها فلم يبينها، أو أنه بينها فلم تنقلها الأمة، وكلا هذين باطل قطعا. وهو من أعظم مطاعن المنافقين في الدين؛ وإنما يظن هذا وأمثاله من هو جاهل بحقائق ما جاء به الرسول، أو جاهل بمايعقله الناس بقلوبهم، أو جاهل بهما جميعا.

فإن جهله بالأول: يوجب عدم علمه بما اشتمل عليه ذلك من
[দীনের মূলনীতিসমূহে বিস্তারিত আলোচনার মাসআলা]

তিনি উত্তর দিলেন: সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

[প্রথম মাসআলাটি হলো] প্রশ্নকারীর বক্তব্য: "মানুষ দীনের মূলনীতিসমূহের যেসব বিষয়ে আলোচনা করেছে অথচ যে বিষয়ে আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো বক্তব্য বর্ণিত হয়নি, তাতে কি বিস্তারিত আলোচনা করা বৈধ কি না?" — এটি এমন একটি প্রশ্ন যা প্রচলিত বিদআতি ও বাতিল পন্থার আলোকে উত্থাপিত হয়েছে।

কারণ দীনের মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো — যা 'দীনের মূলনীতি' নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্য, অর্থাৎ এমন দীন যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন: সেগুলোর ব্যাপারে এটি বলা জায়েয নয় যে, এ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো কথা বর্ণিত হয়নি; বরং এটি একটি স্ববিরোধী কথা। যেহেতু সে বিষয়গুলো দীনের মূলনীতি হওয়ার দাবি রাখে, সেহেতু সেগুলো দীনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া আবশ্যক এবং সেগুলো এমন বিষয় যার মুখাপেক্ষী দীন নিজেই। অতঃপর রাসূল থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য বর্ণিত হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করা দুটি বিষয়ের যে কোনো একটিকে অবধারিত করে:

হয় রাসূল সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করেছেন যার মুখাপেক্ষী দীন ছিল এবং তিনি তা বর্ণনা করেননি, অথবা তিনি তা বর্ণনা করেছেন কিন্তু উম্মত তা বর্ণনা করেনি। আর এই উভয় বিষয়ই নিশ্চিতভাবে বাতিল। এটি দীনের ব্যাপারে মুনাফিকদের বড় ধরণের অপবাদগুলোর একটি। কেবল সেই ব্যক্তিই এই ধরণের ধারণা পোষণ করে, যে রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অজ্ঞ, অথবা মানুষ তাদের অন্তর দিয়ে যা অনুধাবন করে সে সম্পর্কে অজ্ঞ, অথবা এই উভয় বিষয়েই অজ্ঞ।

কারণ প্রথম বিষয়টি সম্পর্কে তার অজ্ঞতা তাকে এটি জানতে বাধা দেয় যে, এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৭)
أصول الدين وفروعه.

وجهله بالثاني: يوجب أن يدخل في الحقائق المعقولة ما يسميه هو وأشكاله عقليات؛ وإنما هي جهليات.

وجهله بالأمرين: يوجب أن يظن من أصول الدين ما ليس منها من المسائل والوسائل الباطلة، وأن يظن عدم بيان الرسول لما ينبغي أن يعتقد في ذلك كما هو الواقع لطوائف من أصناف الناس: حذاقهم؛ فضلا عن عامتهم.

وذلك أن أصول الدين إما أن تكون مسائل يجب اعتقادها قولاً أو قولاً وعملاً كمسائل التوحيد، والصفات، والقدر، والنبوة، والمعاد. أو دلائل هذه المسائل.

[أما القسم الأول] : فكل ما يحتاج الناس إلى معرفته، واعتقاده، والتصديق به من هذه المسائل فقد بينه الله ورسوله بيانا شافيا قاطعا للعذر. إذ هذا من أعظم ما بلغه الرسول البلاغ المبين، وبينه للناس، وهو من أعظم ما أقام الله به الحجة على عباده فيه بالرسل الذين بينوه وبلغوه. وكتاب الله الذي نقل الصحابة ثم التابعون عن الرسول لفظه ومعانيه، والحكمة التي هي سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم التي نقلوها أيضًا عن الرسول مشتملة من ذلك على غاية المراد، وتمام الواجب، والمستحب.

والحمد لله الذي بعث إلينا رسولا من أنفسنا يتلو علينا آياته، ويزكينا، ويعلمنا الكتاب والحكمة. الذي أكمل لنا الدين، وأتم
দ্বীনের মূলনীতি এবং এর শাখাসমূহ।

দ্বিতীয় বিষয়টি সম্পর্কে তার অজ্ঞতা এই বিষয়টিকে আবশ্যক করে যে, সে বুদ্ধিগ্রাহ্য প্রকৃত তথ্যের অন্তর্ভুক্ত করে দেয় এমন কিছু বিষয়কে যা সে এবং তার সমমনা ব্যক্তিরা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয় বলে নামকরণ করে; অথচ সেগুলো নিছক মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

উভয় বিষয় সম্পর্কে তার অজ্ঞতা এই ধারণাকে আবশ্যক করে যে, সে বাতিল মাসয়ালা ও মাধ্যমসমূহের মধ্য থেকে এমন কিছুকে দ্বীনের মূলনীতি বলে মনে করে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। আর সে ধারণা করে যে, এ বিষয়ে যা বিশ্বাস করা উচিত, রাসুল তা বর্ণনা করেননি—যেমনটা মানুষের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে ঘটে থাকে: এমনকি তাদের বুদ্ধিমানদের ক্ষেত্রেও, সাধারণ মানুষের কথা তো বলাই বাহুল্য।

আর তা এই কারণে যে, দ্বীনের মূলনীতি হয় এমন মাসয়ালা হতে হবে যার প্রতি মৌখিকভাবে অথবা কথা ও কাজের মাধ্যমে বিশ্বাস স্থাপন করা ওয়াজিব, যেমন তাওহিদ, সিফাত (গুণাবলি), তাকদির (ভাগ্য), নবুওয়াত এবং পরকালের মাসয়ালাসমূহ; অথবা এই মাসয়ালাগুলোর প্রমাণাদি।

[প্রথম অংশ প্রসঙ্গে]: এই মাসয়ালাগুলোর মধ্য থেকে মানুষের যা কিছু জানা, বিশ্বাস করা এবং সত্য বলে মেনে নেওয়া প্রয়োজন, তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এমন পর্যাপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন যা সকল অজুহাতকে খণ্ডন করে দেয়। কেননা এটি সেই মহান বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যা রাসুল অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রচার করেছেন এবং মানুষের কাছে বর্ণনা করেছেন। আর এটি সেই মহান বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর প্রমাণ (হুজ্জত) কায়েম করেছেন সেই রাসুলদের মাধ্যমে যারা তা বর্ণনা ও প্রচার করেছেন। আল্লাহর কিতাব—যার শব্দ ও অর্থ সাহাবীগণ এবং এরপর তাবেয়িগণ রাসুলের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন—এবং হিকমাহ যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ, যা তাঁরা একইভাবে রাসুলের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন; এই সবকিছুই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য, পূর্ণ ওয়াজিব এবং মুস্তাহাব বিষয়গুলোকে শামিল করে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মধ্য থেকেই আমাদের কাছে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন যিনি আমাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, আমাদের পবিত্র করেন এবং আমাদের কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেন। যিনি আমাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং সম্পন্ন করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৮)
علينا النعمة، ورضى لنا بالإسلام دينا الذي أنزل الكتاب تفصيلًا لكل شيء، وهدى ورحمة وبشرى للمسلمين {مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَى وَلَكِن تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [يوسف: 111]

وإنما يظن عدم اشتمال الكتاب والحكمة على بيان ذلك من كان ناقصًا في عقله، وسمعه، ومن له نصيب من قول أهل النار الذين قالوا: {لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ} [الملك: 10] وإن كان ذلك كثيرًا في كثير من المتفلسفة، والمتكلمة، وجهال أهل الحديث، والمتفقهة، والمتصوفة.

[وأما القسم الثاني] : وهو دلائل هذه المسائل الأصولية، فإنه وإن كان يظن طوائف من المتكلمين، والمتفلسفة أن الشرع إنما يدل بطريق الخبر الصادق. فدلالته موقوفة على العلم بصدق المخبر، ويجعلون ما يبنى عليه صدق المخبر معقولات محضة. فقد غلطوا في ذلك غلطا عظيما؛ بل ضلوا ضلالا مبينا في ظنهم: أن دلالة الكتاب والسنة إنما هي بطريق الخبر المجرد؛ بل الأمر ما عليه سلف الأمة وأئمتها أهل العلم والإيمان من أن الله سبحانه وتعالى بين من الأدلة العقلية التي يحتاج إليها في العلم بذلك ما لا يقدر أحد من هؤلاء قدره.

ونهاية ما يذكرونه جاء القرآن بخلاصته على أحسن وجه وذلك كالأمثال المضروبة التي يذكرها الله تعالى في كتابه التي
আমাদের প্রতি নেয়ামত বর্ষিত হয়েছে, এবং তিনি আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন, যিনি প্রতিটি বিষয়ের বিশদ বিবরণ হিসেবে এবং মুসলিমদের জন্য হেদায়েত, রহমত ও সুসংবাদস্বরূপ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। "এটি কোনো মিথ্যা বানানো কথা নয়, বরং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যয়নকারী এবং প্রতিটি বিষয়ের বিশদ বিবরণ এবং ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়েত ও রহমত।" [ইউসুফ: ১১১]

কিতাব ও হিকমত (সুন্নাহ) যে এই সবকিছুর বিবরণের ধারক নয়—এমনটি কেবল সেই ব্যক্তিই মনে করে যার বুদ্ধি ও শ্রবণে ত্রুটি রয়েছে এবং যার মধ্যে জাহান্নামীদের সেই কথার অংশ রয়েছে যারা বলেছিল: "যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম তবে আমরা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না।" [মুলক: ১০]। যদিও অনেক দার্শনিক, কালামশাস্ত্রবিদ, হাদিসপন্থীদের মধ্য থেকে মূর্খরা, ফকিহগণ এবং সুফিদের অনেকের মাঝেই এটি প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়।

[আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো]: তা হলো এই মৌলিক মাসআলাগুলোর দলিলসমূহ। কালামশাস্ত্রবিদ ও দার্শনিকদের বিভিন্ন দল যদিও মনে করে যে, শরিয়ত কেবল সত্য সংবাদের মাধ্যমেই প্রমাণ উপস্থাপন করে। ফলে শরিয়তের প্রমাণ নির্ভর করে সংবাদদাতার সত্যতা জানার ওপর, আর তারা সংবাদদাতার সত্যতা প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে কেবল নিছক যুক্তিকে সাব্যস্ত করে। তারা এতে এক বিরাট ভুল করেছে; বরং তারা তাদের এই ধারণার কারণে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছে যে, কিতাব ও সুন্নাহর দলিল কেবল নিছক সংবাদের পথেই সীমাবদ্ধ। বরং বিষয়টি হলো তাই যার ওপর এই উম্মতের সালাফ এবং ইলম ও ঈমানসম্পন্ন ইমামগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এমন সব যৌক্তিক দলিল বর্ণনা করেছেন যা এই জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজন এবং যার গুরুত্ব ও পরিমাণ তাদের কেউ যথাযথভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম নয়।

তারা যা কিছু উল্লেখ করে তার সারকথা কুরআন সর্বোত্তম উপায়ে উপস্থাপন করেছে। আর তা হলো আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে যে সকল উপমা বর্ণনা করেছেন তার মতো যা...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৯)
قال فيها: {وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِن كُلِّ مَثَلٍ} [الزمر: 27] فإن الأمثال المضروبة هي [الأقيسة العقلية] سواء كانت قياس شمول، أو قياس تمثيل. ويدخل في ذلك ما يسمونه براهين وهو القياس الشمولي المؤلف من المقدمات اليقينية. وإن كان لفظ البرهان في اللغة أعم من ذلك كما سمى الله آيتي موسى برهانين.

ومما يوضح هذا أن العلم الإلهي لا يجوز أن يستدل فيه بقياس تمثيل يستوي فيه الأصل والفرع، ولا بقياس شمولي تستوي أفراده؛ فإن الله سبحانه وتعالى ليس كمثله شيء، فلا يجوز أن يمثل بغيره، ولا يجوز أن يدخل هو وغيره تحت قضية كلية تستوي أفرادها ولهذا لما سلك طوائف من المتفلسفة والمتكلمة مثل هذه الأقيسة في المطالب الإلهية لم يصلوا بها إلى يقين بل تناقضت أدلتهم، وغلب عليهم بعد التناهي الحيرة، والاضطراب؛ لما يرونه من فساد أدلتهم أو تكافئها.

ولكن يستعمل في ذلك قياس الأولى سواء كان تمثيلاً أو شمولاً كما قال تعالى: {وَلِلّهِ الْمَثَلُ الأَعْلَىَ} [النحل: 60] مثل أن نعلم أن كل كمال ثبت للممكن، أو المحدث لا نقص فيه بوجه من الوجوه: وهو ما كان كمالا للموجود غير مستلزم للعدم فالواجب القديم أولى به. وكل كمال لا نقص فيه بوجه من الوجوه ثبت نوعه للمخلوق _ المربوب المعلول المدبر فإنما استفاده من خالقه وربه ومدبره فهو أحق به منه. وأن كل نقص وعيب في نفسه وهو ما تضمن سلب هذا الكمال إذا وجب نفيه عن شيء ما من أنواع المخلوقات والمحدثات
তিনি এতে বলেছেন: {আর আমি অবশ্যই মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের উদাহরণ পেশ করেছি} [আয-জুমার: ২৭]। উপস্থাপিত উদাহরণগুলো হলো [বুদ্ধিবৃত্তিক অনুমান], চাই তা ব্যাপ্তিমূলক অনুমান হোক অথবা দৃষ্টান্তমূলক অনুমান। এর অন্তর্ভুক্ত সেই বিষয়গুলোও যাকে তারা 'বুরহান' (প্রমাণ) বলে অভিহিত করে, আর তা হলো নিশ্চিত প্রাঙ্গণসমূহের সমন্বয়ে গঠিত ব্যাপ্তিমূলক অনুমান। যদিও ভাষাগত দিক থেকে 'বুরহান' শব্দটি এর চেয়েও ব্যাপক, যেমন আল্লাহ মূসার নিদর্শন দুটিকে 'বুরহান' নামে অভিহিত করেছেন।

যা এই বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তা হলো, ইলাহী জ্ঞান বা উলুহিয়াত সম্পর্কিত বিষয়ে এমন দৃষ্টান্তমূলক অনুমানের মাধ্যমে দলিল পেশ করা জায়েজ নেই যাতে মূল এবং শাখা সমান হয়, আর এমন ব্যাপ্তিমূলক অনুমানের মাধ্যমেও নয় যার অন্তর্ভুক্ত সকল সদস্য সমান হয়। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এমন যে, তাঁর সদৃশ কেউ নেই। অতএব, তাঁকে অন্য কিছুর সাথে তুলনা করা জায়েজ নেই, এবং তাঁকে ও অন্য কিছুকে এমন কোনো সার্বিক বিষয়ের অধীনে আনা জায়েজ নেই যার অন্তর্ভুক্ত সকল সদস্য সমান হয়। এই কারণেই যখন দার্শনিক ও কালাম শাস্ত্রবিদদের বিভিন্ন দল ইলাহী উদ্দেশ্যসমূহ অন্বেষণে এই ধরণের অনুমানগুলো অনুসরণ করেছে, তখন তারা এর মাধ্যমে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি, বরং তাদের দলিলগুলো পরস্পরবিরোধী হয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত তাদের ওপর বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা জয়ী হয়েছে; কারণ তারা তাদের দলিলগুলোর অসারতা বা অসামঞ্জস্যতা প্রত্যক্ষ করেছে।

কিন্তু এক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের অনুমান ব্যবহার করা হয়, চাই তা দৃষ্টান্তমূলক হোক বা ব্যাপ্তিমূলক, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ} [আন-নাহল: ৬০]। উদাহরণস্বরূপ, আমরা জানি যে সম্ভাব্য বা সৃষ্ট বস্তুর জন্য যে সকল পূর্ণতা সাব্যস্ত এবং যাতে কোনো দিক থেকেই কোনো খুঁত নেই—আর তা হলো বিদ্যমান সত্তার এমন পূর্ণতা যা অভাব বা অস্তিত্বহীনতাকে আবশ্যক করে না—তবে অনাদি অবধারিত সত্তা তার জন্য অধিকতর উপযুক্ত। আর এমন প্রত্যেক পূর্ণতা যাতে কোনোভাবেই কোনো অপূর্ণতা নেই, যার কোনো ধরন সৃষ্টি—পালিত, কার্যকারণজাত ও পরিচালিত সত্তার জন্য সাব্যস্ত হয়েছে, তা সে মূলত তার স্রষ্টা, পালনকর্তা ও পরিচালকের নিকট থেকেই লাভ করেছে; সুতরাং তিনি এর জন্য সৃষ্টির চেয়ে অধিক হকদার। আর যা কিছু সত্তাগতভাবে ত্রুটি ও দোষ, যা মূলত এই পূর্ণতাকে নাকচ করে, যদি তা কোনো প্রকার মাখলুক বা সৃষ্ট বস্তু থেকে নাকচ করা আবশ্যক হয়...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১০)
والممكنات فإنه يجب نفيه عن الرب تبارك وتعالى بطريق الأولى. وأنه أحق بالأمور الوجودية من كل موجود، أما الأمور العدمية فالممكن بها أحق ونحو ذلك.

ومثل هذه الطرق هي التي كان يستعملها السلف والأئمة في مثل هذه المطالب، كما استعمل نحوها الإمام أحمد. ومن قبله، وبعده من أئمة أهل الإسلام، وبمثل ذلك جاء القرآن في تقرير [أصول الدين] من مسائل التوحيد والصفات، والمعاد ونحو ذلك.

ومثال ذلك أنه سبحانه لما أخبر بالمعاد؛ والعلم به تابع للعلم بإمكانه، فإن الممتنع لا يجوز أن يكون بين سبحانه إمكانه أتم بيان؛ ولم يسلك في ذلك ما يسلكه [طوائف من أهل الكلام] حيث يثبتون الإمكان الخارجي بمجرد الإمكان الذهني، فيقولون: هذا ممكن لأنه لو قدر وجوده لم يلزم من تقدير وجوده محال، فإن الشأن في هذه المقدمة، فمن أين يعلم أنه لا يلزم من تقدير وجوده محال. والمحال هنا أعم من المحال لذاته أو لغيره، والإمكان الذهني حقيقته عدم العلم بالامتناع. وعدم العلم بالامتناع لا يستلزم العلم بالإمكان الخارجي؛ بل يبقى الشيء في الذهن غير معلوم الامتناع. ولا معلوم الإمكان الخارجي وهذا هو الإمكان الذهني.

فالله سبحانه وتعالى لم يكتف في بيان إمكان المعاد بهذا. إذ يمكن أن يكون الشي ممتنعا ولو لغيره وإن لم يعلم الذهن امتناعه؛ بخلاف الإمكان الخارجي. فإنه إذا علم بطل أن يكون ممتنعًا. والإنسان
এবং সম্ভাব্য বিষয়সমূহ; তবে বরকতময় ও সুউচ্চ রবের ক্ষেত্রে তা আরও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অস্বীকার করা আবশ্যক। আর তিনি প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুর চেয়ে অস্তিত্বশীল বিষয়াবলির ক্ষেত্রে অধিক হকদার। পক্ষান্তরে অস্তিত্বহীন বিষয়াবলির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিষয়গুলোই অধিক উপযুক্ত এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ।

আর এই ধরনের পদ্ধতিগুলোই সালাফ এবং ইমামগণ এ ধরণের লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহার করতেন, যেমন ইমাম আহমাদ এর অনুরূপ ব্যবহার করেছেন। তাঁর পূর্বে এবং তাঁর পরে ইসলামের ইমামগণের মধ্য থেকে যারা এসেছেন তারাও তা ব্যবহার করেছেন। আর কুরআন এই ধরণের পন্থায় [দীনের মূলনীতিসমূহ] যেমন তাওহীদ, সিফাত (গুণাবলি), পরকাল এবং এ জাতীয় মাসআলাগুলো সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে।

এর উদাহরণ হলো, তিনি সুবহানাহু যখন পরকাল সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন; আর এ সংক্রান্ত জ্ঞান হলো এর সম্ভাব্যতা জানার অনুসারী। কারণ যা অসম্ভব তা হওয়া বৈধ নয়। তিনি সুবহানাহু এর সম্ভাব্যতাকে অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করেছেন। তিনি এক্ষেত্রে সেই পথ অনুসরণ করেননি যা [ইলমুল কালামের দলসমূহ] অনুসরণ করে থাকে, যেখানে তারা কেবল মানসিক সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে বাহ্যিক সম্ভাব্যতা সাব্যস্ত করে। তারা বলে: এটি সম্ভব, কারণ যদি এর অস্তিত্ব ধরে নেওয়া হয় তবে এর অস্তিত্বের কল্পনা থেকে কোনো অসম্ভব বিষয় লাযিম বা অপরিহার্য হয় না। অথচ মূল কথা হলো এই ভূমিকাটি নিয়েই, কোথা থেকে জানা যাবে যে এর অস্তিত্বের কল্পনা থেকে কোনো অসম্ভব বিষয় অপরিহার্য হবে না? আর এখানে 'অসম্ভব' শব্দটি সত্তাগত অসম্ভব অথবা অন্য কারণে অসম্ভব—উভয়টিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর মানসিক সম্ভাব্যতা হলো মূলত অসম্ভব হওয়া সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব। আর অসম্ভব হওয়া সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব বাহ্যিক সম্ভাব্যতার জ্ঞানকে অপরিহার্য করে না; বরং বিষয়টি মনের মধ্যে এমন অবস্থায় থেকে যায় যে তার অসম্ভব হওয়াও জানা নেই, আবার বাহ্যিক সম্ভাব্যতাও জানা নেই—আর এটিই হলো মানসিক সম্ভাব্যতা।

সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পরকালের সম্ভাব্যতা বর্ণনায় কেবল এর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেননি। কারণ কোনো বিষয় অন্য কোনো কারণে অসম্ভব হতে পারে, যদিও মন তার অসম্ভব হওয়া সম্পর্কে না জানে; কিন্তু বাহ্যিক সম্ভাব্যতার বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা যদি এটি জানা থাকে, তবে তার অসম্ভব হওয়া বাতিল হয়ে যায়। আর মানুষ...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১১)
يعلم الإمكان الخارجي: تارة بعلمه بوجود الشيء، وتارة بعلمه بوجود نظيره، وتارة بعلمه بوجود ما هو أبلغ منه، فإن وجود الشئ دليل على أن ما هو دونه أولى بالإمكان منه.

ثم إنه إذا بين كون الشيء ممكنا فلا بد من بيان قدرة الرب عليه، وإلا فمجرد العلم بإمكانه لا يكفي في إمكان وقوعه إن لم تعلم قدرة الرب على ذلك.

فبين سبحانه هذا كله بمثل قوله: {أَوَلَمْ يَرَوْاْ أَنَّ اللهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ قَادِرٌ عَلَى أَن يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ وَجَعَلَ لَهُمْ أَجَلاً لَاّ رَيْبَ فِيهِ فَأَبَى الظَّالِمُونَ إَلَاّ كُفُورًا} [الإسراء: 99] وقوله: {أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُم بَلَى وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ} وقوله: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى بَلَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [الأحقاف: 33] وقوله: {لَخَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ} [غافر: 57] فإنه من المعلوم ببداهة العقول أن خلق السموات والأرض أعظم من خلق أمثال بني آدم، والقدرة عليه أبلغ، وأن هذا الأيسر أولى بالإمكان، والقدرة من ذلك.

وكذلك استدلالة على ذلك بالنشأة الأولى في مثل قوله: {وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ} [الروم: 27] ولهذا قال بعد ذلك: {وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [الروم: 27] وقال: {إِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن تُرَابٍ} الآية [الحج: 5] .
বাহ্যিক সম্ভাবনা জানা যায়: কখনও কোনো বিষয়ের অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞানের মাধ্যমে, কখনও তার অনুরূপ বিষয়ের অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞানের মাধ্যমে, আবার কখনও তার চেয়ে অধিকতর বড় কোনো বিষয়ের অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞানের মাধ্যমে। কেননা কোনো বিষয়ের অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে, যা তার চেয়ে ক্ষুদ্রতর তা সম্ভব হওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি অগ্রগণ্য।

অতঃপর যখন কোনো কিছু সম্ভব হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়, তখন তার ওপর রবের সক্ষমতা বর্ণনা করাও আবশ্যক। অন্যথায় কেবল কোনো কিছুর সম্ভাবনা সম্পর্কে জানা তার ঘটার বাস্তবতার জন্য যথেষ্ট নয়, যদি না সে বিষয়ে রবের সক্ষমতা জানা থাকে।

সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই সবকিছুই তাঁর এই বাণীর মতো বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন: "তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম? আর তিনি তাদের জন্য এক নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেছেন যাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু জালিমরা কুফরি ছাড়া আর সবকিছুই অস্বীকার করেছে।" [আল-ইসরা: ৯৯] এবং তাঁর বাণী: "যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? অবশ্যই (সক্ষম), আর তিনি মহাস্রষ্টা, মহাজ্ঞানী।" এবং তাঁর বাণী: "তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলো সৃষ্টি করতে কোনো ক্লান্তি বোধ করেননি, তিনি মৃতদের জীবিত করতে সক্ষম? অবশ্যই (সক্ষম)। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।" [আল-আহকাফ: ৩৩] এবং তাঁর বাণী: "মানুষের সৃষ্টির চেয়ে আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি অধিকতর বড়।" [গাফির: ৫৭]। কেননা সুস্থ বিবেকের স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞানে এটি সুপরিচিত যে, আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করা বনী আদমের অনুরূপ সৃষ্টি করার চেয়ে অনেক বড় বিষয় এবং এর ওপর সক্ষমতাও অধিকতর জোরালো। আর এই সহজতর বিষয়টি সম্ভব হওয়া এবং এর ওপর সক্ষমতা থাকা সেই বড় বিষয়ের চেয়েও বেশি যুক্তিযুক্ত।

একইভাবে এ বিষয়ের সপক্ষে প্রথম সৃষ্টির মাধ্যমে দলিল পেশ করা হয়েছে তাঁর এই বাণীর মতো আয়াতে: "আর তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তিনি পুনরায় তা সৃষ্টি করবেন এবং এটি তাঁর জন্য সহজতর।" [আর-রূম: ২৭]। এ কারণেই তিনি এরপর বলেছেন: "আসমানসমূহ ও জমিনে তাঁর জন্যই সর্বোচ্চ উদাহরণ।" [আর-রূম: ২৭]। এবং তিনি বলেছেন: "যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে কোনো সন্দেহে থাকো, তবে জেনে রেখো যে, আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি..." আয়াত [আল-হাজ্জ: ৫]।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১২)
وكذلك ما ذكره في قوله: {وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ قَالَ مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ} [يس: 78، 79] الآيات. فإن قوله تعالى: {مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ} [يس: 78] قياس حذفت إحدى مقدمتيه لظهورها والأخرى سالبة كلية قرن معها دليلها وهو المثل المضروب الذي ذكره بقوله: {وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ قَالَ مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ} [يس: 78] وهذا استفهام إنكار متضمن للنفي: أي لا أحد يحي العظام وهي رميم. فإن كونها رميما يمنع عنده إحياءها لمصيرها إلى حال اليبس والبرودة المنافية للحياة التي مبناها على الحرارة والرطوبة، ولتفرق أجزائها، واختلاطها بغيرها ولنحو ذلك من الشبهات. والتقدير هذه العظام رميم ولا أحد يحي العظام وهي رميم، فلا أحد يحييها؛ ولكن هذه السالبة كاذبة ومضمونها امتناع الأحياء.

وبين سبحانه إمكانه من وجوه ببيان إنكان ما هو أبعد من ذلك وقدرته عليه، فقال: {يُحْيِيهَا الَّذِي أَنشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ} [يس: 79] وقد أنشأها من التراب ثم قال: {وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ} [يس: 79] ليبين علمه بما تفرق من الأجزاء واستحال.

ثم قال: {الَّذِي جَعَلَ لَكُم مِّنَ الشَّجَرِ الْأَخْضَرِ نَارًا} [يس: 80] فبين أنه أخرج النار الحارة اليابسة من البارد الرطب، وذلك أبلغ في المنافاة لأن اجتماع الحرارة والرطوبة أيسر من اجتماع الحرارة واليبوسة؛ فالرطوبة تقبل من الانفعال مالا تقبله اليبوسة.
অনুরূপভাবে তিনি তাঁর বাণীতে যা উল্লেখ করেছেন: "সে আমার উদ্দেশ্যে একটি উদাহরণ পেশ করল, অথচ সে নিজের সৃষ্টি ভুলে গেল। সে বলল: 'কে এই পচে গলে যাওয়া হাড়গুলোকে জীবিত করবে?' বলুন: 'তিনিই এদের জীবিত করবেন যিনি প্রথমবার এগুলো সৃষ্টি করেছেন।'" (সূরা ইয়াসিন: ৭৮, ৭৯) আয়াতসমূহ। মহান আল্লাহর বাণী: "কে এই পচে গলে যাওয়া হাড়গুলোকে জীবিত করবে?" এটি একটি যুক্তি, যার একটি প্রস্তাবনা তার সুস্পষ্টতার কারণে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং অন্যটি হলো একটি সার্বজনীন নেতিবাচক প্রস্তাবনা যার সাথে তার প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে। আর তা হলো সেই উপস্থাপিত উদাহরণ যা তিনি তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: "সে আমার উদ্দেশ্যে একটি উদাহরণ পেশ করল, অথচ সে নিজের সৃষ্টি ভুলে গেল। সে বলল: 'কে এই পচে গলে যাওয়া হাড়গুলোকে জীবিত করবে?'" আর এটি একটি অস্বীকৃতিসূচক প্রশ্ন যা নেতিবাচক অর্থ বহন করে: অর্থাৎ, হাড় যখন পচে গলে যায় তখন কেউ তা জীবিত করতে পারে না। কেননা, হাড় পচে যাওয়া তার মতে একে পুনরায় জীবিত করার পথে বাধা, কারণ এটি শুষ্কতা ও শীতলতার অবস্থায় পৌঁছে যায় যা জীবনের পরিপন্থী। আর জীবনের ভিত্তি হলো উষ্ণতা ও আর্দ্রতা। এছাড়া এর অংশগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, অন্য বস্তুর সাথে মিশে যাওয়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য সংশয়ের কারণেও সে এমনটি মনে করে। আর এর প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো—এই হাড়গুলো পচে গেছে এবং হাড় পচে গলে গেলে কেউ তা জীবিত করতে পারে না, সুতরাং কেউ এদের জীবিত করবে না; কিন্তু এই নেতিবাচক প্রস্তাবনাটি মিথ্যা এবং এর অন্তর্নিহিত বক্তব্য হলো পুনর্জীবিত করা অসম্ভব হওয়া।

অতঃপর মহান আল্লাহ বিভিন্ন দিক থেকে এর সম্ভাবনা স্পষ্ট করেছেন এমন কিছুর সম্ভাবনা ও সেটির ওপর তাঁর সক্ষমতা বর্ণনার মাধ্যমে যা এর চেয়েও অধিক দূরবর্তী। তিনি বলেছেন: "তিনিই এদের জীবিত করবেন যিনি প্রথমবার এগুলো সৃষ্টি করেছেন।" অথচ তিনি এগুলোকে মাটি থেকেই সৃষ্টি করেছিলেন। এরপর তিনি বলেছেন: "তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।" যাতে তিনি তাঁর সেই জ্ঞানকে স্পষ্ট করেন যা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং রূপান্তরিত হওয়া অংশগুলো সম্পর্কেও পরিব্যপ্ত।

এরপর তিনি বলেছেন: "যিনি তোমাদের জন্য সবুজ গাছ থেকে আগুন উৎপন্ন করেছেন।" এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি শীতল ও আর্দ্র বস্তু থেকে উত্তপ্ত ও শুষ্ক আগুন বের করেছেন। আর এটি বৈপরীত্যের ক্ষেত্রে অনেক বেশি জোরালো। কারণ উষ্ণতা ও আর্দ্রতার একত্র হওয়া উষ্ণতা ও শুষ্কতার একত্র হওয়ার চেয়ে সহজতর। কেননা আর্দ্রতা এমন প্রভাব গ্রহণ করে যা শুষ্কতা গ্রহণ করে না।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
ثم قال: {أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُم} [يس: 81] وهذه مقدمة معلومة بالبديهة، ولهذا جاء فيها باستفهام التقرير الدال على أن ذلك مستقر معلوم عند المخاطب كما قال سبحانه: {وَلَا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا} [الفرقان: 33] ثم بين قدرته العامة بقوله: {إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} [يس: 82] .

وفي هذا الموضع وغيره من القرآن من الأسرار، وبيان الأدلة القطعية على المطالب الدينية ما ليس هذاموضعه، وإنما الغرض التنبيه.

وكذلك ما استعمله سبحانه في تنزيهه وتقديسه عما أضافوه إليه من الولادة سواء سموها حسية أو عقلية كما تزعمه النصارى من تولد الكلمة التي جعلوها جوهر الابن منه، وكما تزعمه الفلاسفة الصابئون من تولد العقول العشرة، والنفوس الفلكية التسعة: التي هم مضطربون فيها هل هي جواهر أو أعراض؟ وقد يجعلون العقول بمنزلة الذكور، والنفوس بمنزلة الإناث، ويجعلون ذلك آباءهم، وأمهاتهم، وآلهتهم وأربابهم القريبة، وعلمهم بالنفوس أظهر لوجود الحركة الدورية الدالة على الحركة الإرادية الدالة على النفس المحركة؛ لكن أكثرهم يجعلون النفس الفلكية عرضا لا جوهرا قائما بنفسه، وذلك شبيه بقول مشركي العرب وغيرهم: الذين جعلوا له بنين وبنات. قال تعالى: {وَجَعَلُواْ لِلّهِ شُرَكَاء الْجِنَّ وَخَلَقَهُمْ وَخَرَقُواْ لَهُ بَنِينَ وَبَنَاتٍ بِغَيْرِ عِلْمٍ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَصِفُونَ} [الأنعام: 100] وقال تعالى: {أَلَا إِنَّهُم مِّنْ إِفْكِهِمْ لَيَقُولُونَ
অতঃপর তিনি বলেছেন: {যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের মতো সৃষ্টি করতে সক্ষম নন?} [ইয়াসিন: ৮১]। আর এটি একটি স্বতঃসিদ্ধভাবে জ্ঞাত প্রস্তাবনা। একারণেই এখানে স্বীকৃতিমূলক প্রশ্ন ব্যবহার করা হয়েছে যা নির্দেশ করে যে, বিষয়টি সম্বোধিত ব্যক্তির নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত ও জ্ঞাত; যেমন সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তারা আপনার কাছে কোনো উপমা নিয়ে আসে না, যার বিপরীতে আমি আপনার কাছে সত্য ও উত্তম ব্যাখ্যা নিয়ে আসি না} [আল-ফুরকান: ৩৩]। অতঃপর তিনি তাঁর সাধারণ ক্ষমতা বর্ণনা করে বলেছেন: {তাঁর আদেশ তো কেবল এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাকে বলেন ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়} [ইয়াসিন: ৮২]।

কুরআনের এই স্থানে এবং অন্য স্থানে ধর্মীয় উদ্দেশ্যসমূহের ব্যাপারে এমন সব রহস্য এবং অকাট্য দলিলের বর্ণনা রয়েছে যার আলোচনার স্থান এটি নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো কেবল সজাগ করা।

একইভাবে, সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর পবিত্রতা ও মাহাত্ম্য বর্ণনায় তা ব্যবহার করেছেন যা তারা সন্তান জন্মদানের মতো বিষয়ের সাথে তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছে; তারা একে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা বুদ্ধিবৃত্তিক যে নামই দিক না কেন। যেমন খ্রিষ্টানরা দাবি করে যে, ‘কালিমা’ (বাণী) তাঁর থেকে জন্ম নিয়েছে, যাকে তারা পুত্রের সারসত্তা সাব্যস্ত করেছে। এবং যেমন সাবিঈ দার্শনিকরা দাবি করে যে, দশটি বুদ্ধি এবং নয়টি নভোমণ্ডলীয় আত্মা তাঁর থেকে জন্ম নিয়েছে—যেগুলো নিয়ে তারা দ্বিধাগ্রস্ত যে, সেগুলো কি সারসত্তা নাকি আপতিত গুণ? তারা বুদ্ধিগুলোকে পুরুষের মর্যাদায় এবং আত্মাগুলোকে নারীর মর্যাদায় স্থান দেয়। আর তারা সেগুলোকে তাদের পিতা, মাতা এবং নিকটবর্তী উপাস্য ও প্রতিপালক হিসেবে গণ্য করে। আত্মা সম্পর্কে তাদের জ্ঞান অধিক স্পষ্ট, কারণ সেখানে চক্রাকার গতি বিদ্যমান যা ইচ্ছামূলক গতির প্রমাণ দেয়, আর ইচ্ছামূলক গতি চালিকা আত্মার প্রমাণ দেয়। কিন্তু তাদের অধিকাংশ এই নভোমণ্ডলীয় আত্মাকে গুণ হিসেবে গণ্য করে, স্বয়ংসম্পূর্ণ সারসত্তা হিসেবে নয়। আর এটি আরব মুশরিক ও অন্যদের কথার অনুরূপ, যারা তাঁর জন্য পুত্র ও কন্যা সাব্যস্ত করেছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তারা জিনদের আল্লাহর অংশীদার সাব্যস্ত করেছে, অথচ তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন। আর তারা না জেনে তাঁর জন্য পুত্র ও কন্যা উদ্ভাবন করেছে। তিনি অত্যন্ত পবিত্র এবং তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে} [আল-আনআম: ১০০]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {জেনে রেখো, তারা তাদের মিথ্যাচারের কারণেই বলে যে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَلَدَ اللَّهُ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ} [الصافات: 151، 152] وكانوا يقولون الملائكة بنات الله كما يزعم هؤلاء أن العقول، أو العقول والنفوس [هي الملائكة] وهي متولدة عن الله فقال الله تعالى: {وَيَجْعَلُونَ لِلّهِ الْبَنَاتِ سُبْحَانَهُ وَلَهُم مَّا يَشْتَهُونَ وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالأُنثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِن سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاء مَا يَحْكُمُونَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ مَثَلُ السَّوْءِ وَلِلّهِ الْمَثَلُ الأَعْلَىَ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [النحل: 57: 60] إلى قوله: {وَيَجْعَلُونَ لِلّهِ مَا يَكْرَهُونَ وَتَصِفُ أَلْسِنَتُهُمُ الْكَذِبَ أَنَّ لَهُمُ الْحُسْنَى لَا جَرَمَ أَنَّ لَهُمُ الْنَّارَ وَأَنَّهُم مُّفْرَطُونَ} [النحل: 62] وقال تعالى: {أَمِ اتَّخَذَ مِمَّا يَخْلُقُ بَنَاتٍ وَأَصْفَاكُم بِالْبَنِينَ وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحْمَنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ أَوَمَن يُنَشَّأُ فِي الْحِلْيَةِ وَهُوَ فِي الْخِصَامِ غَيْرُ مُبِينٍ وَجَعَلُوا الْمَلَائِكَةَ الَّذِينَ هُمْ عِبَادُ الرَّحْمَنِ إِناثًا أَشَهِدُوا خَلْقَهُمْ سَتُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَيُسْأَلُونَ} [الزخرف: 16: 19] وقال تعالى: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنثَى تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيزَى} [النجم: 19: 22] أي جائرة وغير ذلك في القرآن.

فبين سبحانه أن الرب الخالق أولى بأن ينزه عن الأمور الناقصة منكم فيكف تجعلون له ما تكرهون أن يكون لكم؟ ! وتستخفون من إضافته إليكم مع أنه واقع لا محالة، ولا تنزهونه عن ذلك، وتنفونه عنه، وهو أحق بنفي المكروهات المنقصات منكم.

وكذلك قوله في التوحيد: {ضَرَبَ لَكُم مَّثَلًا مِنْ أَنفُسِكُمْ هَل لَّكُم مِّن مَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُم مِّن شُرَكَاء فِي مَا رَزَقْنَاكُمْ فَأَنتُمْ فِيهِ سَوَاء تَخَافُونَهُمْ
"আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন" এবং "নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী" [আস-সাফফাত: ১৫১, ১৫২]। তারা বলত যে ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা, ঠিক যেমন এরা দাবি করে যে আকলসমূহ (বুদ্ধিবৃত্তি) অথবা আকল ও নফসসমূহ [হলো ফেরেশতা] এবং সেগুলো আল্লাহ থেকে উদ্ভূত। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তারা আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান সাব্যস্ত করে, তিনি পবিত্র। আর তাদের জন্য তা-ই (সাব্যস্ত করে) যা তারা নিজেরা পছন্দ করে। যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তার গ্লানি হেতু সে নিজ কওম থেকে আত্মগোপন করে; সে কি লাঞ্ছনা সহ্য করে তাকে রেখে দেবে, নাকি তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে? সাবধান! তারা যা ফয়সালা করে তা কতই না মন্দ! যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের জন্যই রয়েছে মন্দ উদাহরণ; আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" [আন-নাহল: ৫৭-৬০] তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "আর তারা আল্লাহর জন্য তা-ই সাব্যস্ত করে যা তারা নিজেরা অপছন্দ করে এবং তাদের জিহ্বা এই মিথ্যা বর্ণনা করে যে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদের জন্য রয়েছে আগুন এবং তাদেরকেই সবার আগে সেখানে পাঠানো হবে।" [আন-নাহল: ৬২] আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "তবে কি তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে নিজের জন্য কন্যা সন্তান গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদেরকে পুত্র সন্তান দিয়ে বিশিষ্ট করেছেন? আর যখন তাদের কাউকে সেই বিষয়ের (কন্যার) সুসংবাদ দেওয়া হয় যা সে পরম করুণাময়ের প্রতি আরোপ করে, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। (তারা কি আল্লাহর প্রতি এমন কাউকে সাব্যস্ত করে) যে অলংকারে লালিত-পালিত হয় এবং সে বিতর্কের সময় স্পষ্ট কথা বলতে পারে না? আর তারা ফেরেশতাদেরকে নারী সাব্যস্ত করেছে, যারা পরম করুণাময়ের বান্দা। তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছিল? তাদের সাক্ষ্য লিখে রাখা হবে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।" [আয-যুখরুফ: ১৬-১৯] আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "তোমরা কি লাত ও উযযা সম্পর্কে ভেবে দেখেছ? এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কেও? তবে কি তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান এবং আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান? তবে তো এটি একটি অন্যায্য বণ্টন।" [আন-নাজম: ১৯-২২] অর্থাৎ এটি একটি অবিচারমূলক ফয়সালা এবং কুরআনে এ সম্পর্কিত আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে।

অতঃপর তিনি সুবহানাহু স্পষ্ট করেছেন যে, তোমাদের মাঝে বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে মহান স্রষ্টা ও রব পবিত্র হওয়ার অধিক যোগ্য। সুতরাং তোমরা কীভাবে তাঁর জন্য এমন বিষয় সাব্যস্ত করো যা তোমরা নিজেদের জন্য হওয়া অপছন্দ করো?! অথচ তা তোমাদের ক্ষেত্রে ঘটা অনিবার্য হওয়া সত্ত্বেও তোমরা নিজেদের সাথে তার সম্পৃক্ততাকে লজ্জাকর মনে করো, কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে তা থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করো না এবং তা অস্বীকার করো না। অথচ অপছন্দনীয় ও ত্রুটিপূর্ণ বিষয়সমূহ নাকচ করার ক্ষেত্রে তোমাদের চেয়ে তিনিই অধিক হকের অধিকারী।

অনুরূপভাবে তাওহীদের ক্ষেত্রে তাঁর বাণী: "তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে একটি উদাহরণ পেশ করছেন; আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসদের মধ্যে কি কেউ তাতে অংশীদার আছে যে, তোমরা এ ক্ষেত্রে সমান হয়ে যাবে? তোমরা তাদেরকে সেভাবেই ভয় পাও..."
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
كَخِيفَتِكُمْ أَنفُسَكُمْ} [الروم: 28] أي كخيفة بعضكم بعضا كما في قوله: {ثُمَّ أَنتُمْ هَؤُلاء تَقْتُلُونَ أَنفُسَكُمْ} [البقرة: 85] وفي قوله: {لَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بِأَنفُسِهِمْ خَيْرًا} [النور: 12] وفي قوله: {وَلَا تَلْمِزُوا أَنفُسَكُمْ} [الحجرات: 11] وفي قوله: {فَتُوبُواْ إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ} [البقرة: 54] وفي قوله: {وَلَا تُخْرِجُونَ أَنفُسَكُم مِّن دِيَارِكُمْ} [البقرة: 84] إلى قوله: {ثُمَّ أَنتُمْ هَؤُلاء تَقْتُلُونَ أَنفُسَكُمْ} [البقرة: 85] فإن المراد في هذا كله من نوع واحد. فبين سبحانه أن المخلوق لا يكون مملوكه شريكه فيما له حتى يخاف مملوكه كما يخاف نظيره، بل تمتنعون أن يكون المملوك لكم نظيرًا، فكيف ترضون لي أن تجعلوا ما هو مخلوقي ومملوكي شريكًا لي: يدعى ويعبد كما أدعى وأعبد كما كانوا يقولون في تلبيتهم لبيك لا شريك لك إلا شريك هو لك تملكه وما ملك وهذا باب واسع عظيم جدًا ليس هذا موضعه.

وإنما الغرض التنبيه على أن في القرآن، والحكمة النبوية عامة أصول الدين من المسائل والدلائل التي تستحق أن تكون أصول الدين. وأماما يدخله بعض الناس في هذا المسمى من الباطل فليس ذلك من أصول الدين؛ وإن أدخله فيه مثل [المسائل] [والدلائل] الفاسدة: مثل نفي الصفات، والقدر، ونحو ذلك من المسائل.

ومثل [الاستدلال] على حدوث العالم بحدوث [الإعراض] التي هي صفات الأجسام القائمة بها: إما الأكوان، وإما غيرها، وتقرير المقدمات التي يحتاج إليها هذا الدليل: من إثبات [الأعراض] التي هي الصفات
{যেমন তোমরা একে অপরকে ভয় পাও} [আর-রুম: ২৮] অর্থাৎ যেমন তোমরা একে অপরকে ভয় পাও, ঠিক যেমন তাঁর বাণী: {অতঃপর তোমরাই তারা যারা নিজেদেরকে হত্যা করছ} [আল-বাকারাহ: ৮৫] এবং তাঁর বাণী: {যখন তোমরা এটি শুনলে, তখন মুমিন পুরুষ ও নারীগণ কেন নিজেদের সম্পর্কে উত্তম ধারণা পোষণ করলে না?} [আন-নূর: ১২] এবং তাঁর বাণী: {তোমরা একে অপরকে দোষারোপ করো না} [আল-হুজুরাত: ১১] এবং তাঁর বাণী: {সুতরাং তোমরা তোমাদের স্রষ্টার দিকে ফিরে যাও এবং নিজেদের হত্যা করো} [আল-বাকারাহ: ৫৪] এবং তাঁর বাণী: {এবং তোমরা নিজেদেরকে নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেবে না} [আল-বাকারাহ: ৮৪] তাঁর এই কথা পর্যন্ত: {অতঃপর তোমরাই তারা যারা নিজেদেরকে হত্যা করছ} [আল-বাকারাহ: ৮৫]। কারণ এই সবগুলোর উদ্দেশ্য একই ধরনের। সুতরাং মহান আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো সৃষ্টি তার মালিকানাধীন বস্তুর ক্ষেত্রে এমন অংশীদার হতে পারে না যে তাকে তার সমপর্যায়ের কারও মতো ভয় করতে হবে; বরং তোমরা নিজেদের মালিকানাধীন দাসকে তোমাদের সমপর্যায়ের মনে করতে অস্বীকৃতি জানাও। তাহলে তোমরা আমার জন্য কীভাবে এটা পছন্দ করো যে, যা আমার সৃষ্টি এবং আমার মালিকানাধীন, তাকে তোমরা আমার অংশীদার বানাবে: তাকে ডাকা হবে এবং তার ইবাদত করা হবে যেভাবে আমাকে ডাকা হয় এবং আমার ইবাদত করা হয়? যেমন তারা তাদের তালবিয়ায় বলত: 'আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই; তবে এমন একজন শরিক ছাড়া যে আপনারই অধীন, আপনি তারও মালিক এবং সে যার মালিক তারও মালিক।' আর এটি একটি অত্যন্ত বিস্তৃত ও মহান অধ্যায়, যা আলোচনার সঠিক স্থান এটি নয়।

আর মূল উদ্দেশ্য হলো এই বিষয়ে সতর্ক করা যে, কুরআন এবং নববী প্রজ্ঞায় সাধারণভাবে দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলির এমন সব মাসআলা ও দলীল বিদ্যমান, যা দ্বীনের মূলনীতি হওয়ার যোগ্য। আর কিছু লোক এই সংজ্ঞার অধীনে যে সব বাতিল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে, তা দ্বীনের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়; যদিও তারা এতে কিছু ভ্রান্ত [মাসআলা] ও [দলীল] অন্তর্ভুক্ত করেছে: যেমন আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) অস্বীকার করা, তাকদীর অস্বীকার করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য মাসআলাসমূহ।

এবং যেমন জগতের সৃষ্টি বা নতুন হওয়া প্রমাণ করতে গিয়ে এমন সব [আকস্মিক গুণাবলি বা আরাজ]-এর উদ্ভবকে [দলীল হিসেবে পেশ করা], যা দেহের সাথে সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্য: চাই তা অস্তিত্বগত হোক বা অন্য কিছু; এবং এই দলীলের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকাগুলো সাব্যস্ত করা: যেমন গুণাবলি বা সিফাত হিসেবে গণ্য [আকস্মিক গুণাবলি বা আরাজ] সমূহকে প্রমাণ করা।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
أولا. أو إثبات [بعضها] كالأكوان التي هي الحركة، والسكون، والإجتماع، والافتراق، [وإثبات حدوثها] ثانيا بإبطال ظهورها بعد الكمون وإبطال انتقالها من محل إلى محل ثم إثبات [امتناع خلو الجسم] ثالثا؛ إما عن كل جنس من أجناس الأعراض: بإثبات أن الجسم قابل لها، وإن القابل للشيء لا يخلو عنه، وعن ضده؛ وإما عن الأكوان وإثبات [امتناع حوادث لا أول لها] رابعا، وهو مبني على مقدمتين:

[إحداهما] : إن الجسم لا يخلو عن [الأعراض] التي هي الصفات. [والثانية] : أن ما لا يخلو عن [الصفات] التي هي الأعراض فهو محدث لأن الصفات التي هي الأعراض لا تكون إلا محدثة، وقد يفرضون ذلك في بعض الصفات التي هي الأعراض كالأكوان، وما لا يخلو عن جنس الحوادث فهو حادث لامتناع حوادث لا تتناهى.

فهذه الطريقة مما يعلم بالاضطرار أن محمد صلى الله عليه وسلم لم يدع الناس بها إلى الإقرار بالخالق ونبوة أنبيائه ولهذا قد اعترف حذاق [أهل الكلام] كالأشعري وغيره بأنها ليست طريقة الرسل وأتباعهم، ولا سلف الأمة وأئمتها، وذكروا أنها محرمة عندهم.

بل المحققون على أنها طريقة باطلة، وأن مقدماتها فيها تفصيل وتقسيم يمنع ثبوت المدعي بها مطلقا. ولهذا تجد من اعتمد عليها في أصول دينه فأحد الأمرين له لازم؛ إما أن يطلع على ضعفها ويقابل بينها وبين أدلة القائلين يقدم العالم فتتكافأ عنده الأدلة، أو يرجح هذا تارة وهذا تارة. كما هو حال طوائف منهم.
প্রথমত, [সেগুলোর কতককে] সাব্যস্ত করা যেমন মহাজাগতিক অবস্থা (আকওয়ান) তথা গতি, স্থিতি, মিলন ও বিচ্ছেদ। দ্বিতীয়ত, [সেগুলোর নতুন হওয়াকে সাব্যস্ত করা], সুপ্তাবস্থা থেকে সেগুলোর প্রকাশ এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের অসারতা প্রমাণের মাধ্যমে। এরপর তৃতীয়ত, [দেহ বা বস্তু এ থেকে মুক্ত হওয়া অসম্ভব] তা সাব্যস্ত করা; হয় প্রতিটি প্রকারের আপতিক গুণ (আরায) থেকে: এ কথা সাব্যস্ত করার মাধ্যমে যে, দেহ বা বস্তু সেগুলো গ্রহণে সক্ষম এবং যা কোনো কিছু গ্রহণে সক্ষম তা ওই বস্তু এবং তার বিপরীত অবস্থা থেকে মুক্ত থাকতে পারে না; অথবা মহাজাগতিক অবস্থার (আকওয়ান) ক্ষেত্রে। চতুর্থত, [অনাদি কোনো নব্য ঘটনার অসম্ভবতা] সাব্যস্ত করা, যা দুটি ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত:

[প্রথমটি]: দেহ বা বস্তু [আপতিক গুণের] (আরায) বাইরে হতে পারে না, যা মূলত বৈশিষ্ট্য বা সিফাত। [দ্বিতীয়টি]: যা [বৈশিষ্ট্যের] বা আপতিক গুণের (আরায) বাইরে হতে পারে না তা নব্য (মুহদাস), কারণ আপতিক গুণগুলো কেবল নব্যই হয়। তারা কখনও কখনও মহাজাগতিক অবস্থার মতো কতিপয় বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে তা কল্পনা করে। আর যা নব্য বিষয়ের প্রকার থেকে মুক্ত নয় তা নব্য বা সৃষ্ট, কারণ অসীম কোনো নব্য ঘটনার পরম্পরা অসম্ভব।

এই পদ্ধতিটি এমন যে, অকাট্যভাবে জানা যায় যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে স্রষ্টাকে স্বীকার করার বা তাঁর নবীদের নবুওয়াতের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এই পদ্ধতির দিকে আহ্বান করেননি। এ কারণেই ইলমুল কালামের (আহলুল কালাম) দক্ষ পন্ডিতগণ যেমন আশআরী এবং অন্যরা স্বীকার করেছেন যে, এটি রাসুলগণ ও তাঁদের অনুসারীদের পদ্ধতি নয়, আর না উম্মতের সালাফ (পূর্বসূরি) ও ইমামগণের পদ্ধতি। এমনকি তারা উল্লেখ করেছেন যে, এটি তাঁদের নিকট নিষিদ্ধ।

বরং গবেষকগণ এই মত পোষণ করেন যে, এটি একটি বাতিল পদ্ধতি। এর ভূমিকাগুলোর মধ্যে এমন বিশ্লেষণ ও বিভাজন রয়েছে যা এর মাধ্যমে দাবিকৃত বিষয়টি নিরঙ্কুশভাবে সাব্যস্ত হওয়ার পরিপন্থী। এ কারণেই আপনি দেখবেন, যারা তাদের দ্বীনের মূলনীতিতে এর ওপর নির্ভর করেছে, তাদের জন্য দুটি বিষয়ের একটি অবধারিত হয়ে পড়ে; হয় সে এর দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত হয় এবং এর সাথে জগতের অনাদিত্বের প্রবক্তাদের দলিলের তুলনা করে, ফলে তার কাছে উভয় পক্ষের দলিলই সমান মনে হয়; অথবা সে কখনও এটিকে আবার কখনও ওটিকে প্রাধান্য দেয়। যেমনটি তাদের বিভিন্ন দলের অবস্থা।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وإما أن يلتزم لأجلها لوازم معلومة الفساد في الشرع والعقل؛ كما التزم جهم لأجلها فناء الجنة والنار، والتزم أبو الهذيل لأجلها انقطاع حركات أهل الجنة. والتزم قوم لاجلها كالأشعري وغيره أن الماء والهواء والنار له طعم ولون وريح ونحو ذلك. والتزم قوم لأجلها، وأجل غيرها: أن جميع [الأعراض] كالطعم واللون وغيرهما لا يجوز بقاؤها بحال لأنهم احتاجوا إلى جواب النقض الوارد عليهم لما أثبتوا الصفات لله مع الاستدلال على حدوث الأجسام بصفاتها. فقالوا: صفات [الأجسام] أعراض أي أنها تعرض وتزول فلا تبقى بحال بخلاف صفات الله فإنها باقية. وأما جمهور عقلاء بني آدم فقالوا: هذه مخالفة للمعلوم بالحس.

والتزم طوائف من أهل الكلام من المعتزلة وغيرهم لأجلها نفى صفات الرب مطلقًا، أو نفي بعضها لأن الدال عندهم على حدوث هذه الأشياء هو قيام الصفات بها والدليل يجب طرده. والتزموا حدوث كل موصوف بصفة قائمة به وهو أيضا في غاية الفساد والضلال. ولهذا التزموا القول بخلق القرآن، وإنكار رؤية الله في الآخرة، وعلوه على عرشه. إلى أمثال ذلك من اللوازم التي التزمها من طرد مقدمات هذه الحجة التي جعلها المعتزلة، ومن اتبعهم أصل دينهم.

فهذه داخلة فيما سماه هؤلاء أصول الدين؛ ولكن ليست في الحقيقة من أصول الدين الذي شرعه الله لعباده.
অথবা এর কারণে তাকে এমন সব অনিবার্য সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয় যা শরীয়ত ও যুক্তিতে স্পষ্টত ভ্রান্ত; যেমন জাহম এর কারণে জান্নাত ও জাহান্নামের বিনাশ মেনে নিয়েছে, এবং আবু আল-হুযাইল এর কারণে জান্নাতবাসীদের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া মেনে নিয়েছে। এবং আশআরি ও অন্যান্য একদল লোক এর কারণে মেনে নিয়েছে যে পানি, বাতাস ও আগুনের স্বাদ, রং, ঘ্রাণ এবং এই জাতীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এবং একদল লোক এর কারণে এবং অন্যান্য কারণে মেনে নিয়েছে যে: সমস্ত [আপতিক গুণাবলী] যেমন স্বাদ, রং ও অন্যান্যগুলোর কোনোভাবেই স্থায়ী থাকা সম্ভব নয়। কারণ তারা যখন বস্তুর গুণাবলীর মাধ্যমে বস্তুর নতুন হওয়া বা সৃষ্টির দলিলের পাশাপাশি আল্লাহর জন্য সিফাত বা গুণাবলী সাব্যস্ত করতে চাইল, তখন তাদের ওপর আসা আপত্তি খণ্ডন করার প্রয়োজন পড়ল। ফলে তারা বলল: [বস্তুর] গুণাবলী হলো ‘আরায’ বা আপতিক গুণ, অর্থাৎ এগুলো প্রকাশ পায় ও বিলীন হয়ে যায়, তাই এগুলো কোনোভাবেই অবশিষ্ট থাকে না; পক্ষান্তরে আল্লাহর গুণাবলী এর বিপরীত, কারণ সেগুলো স্থায়ী। আর বনী আদমের বুদ্ধিমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বলেছেন: এটি ইন্দ্রিয়জাত প্রত্যক্ষ জ্ঞানের পরিপন্থী।

এবং মুতাজিলা ও অন্যান্য ইলমুল কালামের অনুসারীদের বিভিন্ন দল এর কারণে রবের গুণাবলীকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করা অথবা সেগুলোর কয়েকটিকে অস্বীকার করা আবশ্যক করে নিয়েছে। কারণ তাদের নিকট এসব জিনিসের সৃষ্টি বা নতুন হওয়ার প্রমাণ হলো সেগুলোর মধ্যে গুণাবলী বিদ্যমান থাকা, আর প্রমাণের প্রয়োগ সর্বত্র হওয়া বাঞ্ছনীয়। এবং তারা প্রতিটি গুণবিশিষ্ট সত্তাকেই নতুন বা সৃষ্ট হওয়া আবশ্যক করে নিয়েছে, যা অত্যন্ত ভ্রান্ত এবং পথভ্রষ্টতা। একারণেই তারা কুরআন সৃষ্টির মতবাদ, আখিরাতে আল্লাহকে দেখার বিষয়টির অস্বীকৃতি এবং তাঁর আরশের উপর উঠার বিষয়টি অস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। মুতাজিলা এবং তাদের অনুসারীরা যারা এই যুক্তির প্রস্তাবনাগুলোকে তাদের দ্বীনের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং সেগুলোর দাবি সর্বত্র প্রয়োগ করেছে, তাদের মেনে নেওয়া এ জাতীয় আরও অনেক অনিবার্য ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের ন্যায় এটিও একটি।

সুতরাং এগুলো তাদের নামকরণের অন্তর্ভুক্ত যা তারা উসূলুদ্দীন বা দ্বীনের মূলনীতি বলে অভিহিত করেছে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এগুলো সেই উসূলুদ্দীনের অন্তর্ভুক্ত নয় যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأما الدين الذي قال الله فيه: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاء شَرَعُوا لَهُم مِّنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَن بِهِ اللَّهُ} [الشورى: 21] فذاك له أصول وفروع بحسبه.

وإذا عرف أن مسمى أصول الدين في عرف الناطقين بهذا الإسم فيه إجمال وإبهام لما فيه من الاشتراك بحسب الأوضاع والاصطلاحات تبين أن الذي هو عند الله، ورسوله، وعباده المؤمنين أصول الدين؛ فهو موروث عن الرسول. وأما من شرع دينا لم يأذن به الله فمعلوم أن أصوله المستلزمة له لا يجوز أن تكون منقولة عن النبي صلى الله عليه وسلم إذ هو باطل، وملزوم الباطل باطل كما أن لازم الحق حق.

وهذا التقسيم ينبه أيضا على مراد السلف، والأئمة بذم الكلام وأهله؛ إذ ذلك يتناول لمن استدل بالأدلة الفاسدة، أو استدل على المقالات الباطلة. فأما من قال الحق الذي أذن الله فيه حكما ودليلا فهو من أهل العلم والإيمان والله يقول الحق وهو يهدي السبيل.

وأما مخاطبة أهل اصطلاح باصطلاحهم ولغتهم فليس بمكروه إذا احتيج إلى ذلك وكانت المعاني صحيحة كمخاطبة العجم: من الروم، والفرس، والترك بلغتهم وعرفهم. فإن هذا جائز حسن للحاجة.

وإنما كرهه الأئمة إذا لم يحتج إليه، ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم لأم خالد بنت خالد بن سعيد بن العاص وكانت صغيرة ولدت بأرض الحبشة، لأن أباها كان من المهاجرين إليها فقال لها " يا أم خالد هذا سنا " والسنا بلسان الحبشة الحسن. لأنها
আর আল্লাহ যে দ্বীন সম্পর্কে বলেছেন: {তাদের কি এমন শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?} [আশ-শূরা: ২১], সেই দ্বীনেরও অবস্থাভেদে নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি (উসুল) এবং শাখা-প্রশাখা (ফুরু) রয়েছে।

আর যখন এটি জানা গেল যে, যারা এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেন তাদের কাছে 'দ্বীনের মূলনীতি' (উসুলুদ দ্বীন) নামটির মধ্যে অস্পষ্টতা ও দ্ব্যর্থকতা রয়েছে, কারণ বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ও পরিভাষা অনুযায়ী এতে ভিন্ন ভিন্ন অর্থের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে; তখন এটি স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিন বান্দাদের নিকট যা দ্বীনের মূলনীতি, তা রাসূল থেকেই উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। কিন্তু যে ব্যক্তি এমন দ্বীন প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি, এটি নিশ্চিত যে তার সেই দ্বীনের জন্য আবশ্যকীয় মূলনীতিগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হওয়া সম্ভব নয়, যেহেতু তা বাতিল। আর বাতিলের জন্য যা আবশ্যক তাও বাতিল, যেমন সত্যের জন্য যা আবশ্যক তা সত্য।

আর এই বিভাজনটি সালাফ এবং ইমামগণের কালাম শাস্ত্র ও এর অনুসারীদের নিন্দা করার উদ্দেশ্যকেও স্পষ্ট করে দেয়; কেননা এই নিন্দা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা ভ্রান্ত দলীল দিয়ে যুক্তি দেয় অথবা বাতিল মতবাদ প্রমাণের জন্য দলীল পেশ করে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহ অনুমোদিত সত্য কথা বলে এবং এর পক্ষে সঠিক বিধান ও দলীল পেশ করে, সে জ্ঞান ও ঈমানওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ সত্যই বলেন এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।

আর কোনো নির্দিষ্ট পরিভাষার অনুসারীদের সাথে তাদের পরিভাষা ও ভাষায় কথা বলা অপছন্দনীয় নয় যদি তার প্রয়োজন থাকে এবং অর্থসমূহ সঠিক হয়; যেমন অনারব তথা রোমান, পারস্য ও তুর্কিদের সাথে তাদের ভাষা ও প্রথা অনুযায়ী কথা বলা। কেননা প্রয়োজনের খাতিরে এটি বৈধ ও উত্তম।

ইমামগণ এটিকে কেবল তখনই অপছন্দ করেছেন যখন এর প্রয়োজন থাকে না। একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ বিন সাঈদ বিন আস-এর কন্যা উম্মে খালিদকে—যিনি ছোট ছিলেন এবং হাবাশা (আবিসিনিয়া) ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কারণ তাঁর পিতা সেখানে হিজরতকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—বলেছিলেন, "হে উম্মে খালিদ, এটি সানা।" আর হাবাশা ভাষায় 'সানা' অর্থ হলো সুন্দর। কারণ তিনি...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
كانت من أهل هذه اللغة. وكذلك يترجم القرآن، والحديث لمن يحتاج إلى تفهيمه إياه بالترجمة، وكذلك يقرأ المسلم ما يحتاج إليه من كتب الأمم، وكلامهم بلغتهم، ويترجمها بالعربية. كما أمر النبي صلى الله عليه وسلم زيد بن ثابت أن يتعلم كتاب اليهود ليقرأ له، ويكتب له ذلك حيث لم يأمن من اليهود عليه.

فالسلف والأئمة لم يكرهوا الكلام لمجرد ما فيه من الاصطلاحات المولدة كلفظ [الجوهر] و [العرض] و [الجسم] وغير ذلك؛ بل لأن المعاني التي يعبرون عنها بهذه العبارات فيها من الباطل المذموم في الأدلة والأحكام ما يجب النهي عنه لاشتمال هذه الألفاظ على معاني مجملة في النفي والإثبات. كما قال الإمام أحمد في وصفه لأهل البدع فقال: هم مختلفون في الكتاب، مخالفون للكتاب، متفقون على مخالفة الكتاب، يتكلمون بالمتشابه من الكلام، ويلبسون على جهال الناس بما يتكلمون به من المتشابه.

فإذا عرفت المعاني التي يقصدونها بأمثال هذه العبارات، ووزنت بالكتاب والسنة، بحيث يثبت الحق الذي أثبته الكتاب والسنة، وينفي الباطل الذي نفاه الكتاب والسنة كان ذلك هو الحق؛ بخلاف ما سلكه أهل الأهواء من التكلم بهذه الألفاظ: نفيا وإثباتا في الوسائل والمسائل؛ من غير بيان التفصيل والتقسيم الذي هو الصراط المستقيم. وهذا من مثارات الشبهة.

فإنه لا يوجد في كلام النبي صلى الله عليه وسلم، ولا أحد من
তিনি ছিলেন এই ভাষার অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে কুরআন ও হাদিস তাদের জন্য অনুবাদ করা হয় যাদের অনুবাদের মাধ্যমে তা অনুধাবনের প্রয়োজন রয়েছে। তদ্রূপ একজন মুসলিম অন্যান্য জাতির গ্রন্থসমূহ এবং তাদের বক্তব্য তাদের ভাষায় পাঠ করেন যা তার প্রয়োজন এবং তা আরবিতে অনুবাদ করেন। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যায়েদ ইবনে সাবিতকে ইয়াহুদিদের লিপি শিখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তিনি তাঁর জন্য তা পাঠ করতে পারেন এবং তাঁর হয়ে তা লিখে দিতে পারেন, যেহেতু তিনি ইয়াহুদিদের ব্যাপারে আশ্বস্ত হতে পারছিলেন না।

সালাফ ও ইমামগণ কেবল ‘জাওহার’ (সত্তা), ‘আরাদ’ (গুণ) ও ‘জিসম’ (দেহ) এবং এই জাতীয় নতুন উদ্ভাবিত পরিভাষা থাকার কারণেই কালাম বা তাত্ত্বিক আলোচনাকে অপছন্দ করেননি; বরং এজন্য অপছন্দ করেছেন যে, এই পরিভাষাগুলোর মাধ্যমে তারা যে অর্থ প্রকাশ করে তার মধ্যে দলিল ও বিধানের ক্ষেত্রে এমন নিন্দনীয় বাতিল বিষয় রয়েছে যা থেকে নিষেধ করা আবশ্যক। কারণ এই শব্দগুলো নেতিবাচক ও ইতিবাচক উভয় অর্থেই অস্পষ্টতা ধারণ করে। যেমন ইমাম আহমাদ বিদআতিদের বর্ণনায় বলেছেন: “তারা কিতাবের ব্যাপারে মতভেদকারী, কিতাবের বিরোধী এবং কিতাবের বিরোধিতার ব্যাপারে একমত। তারা দ্ব্যর্থবোধক কথা বলে এবং তাদের সেই সংশয়পূর্ণ কথার মাধ্যমে মূর্খ লোকদের বিভ্রান্তিতে ফেলে।”

সুতরাং যখন এই জাতীয় শব্দাবলি দ্বারা তারা যা উদ্দেশ্য করে সেই অর্থগুলো জানা যাবে এবং কিতাব ও সুন্নাহর মানদণ্ডে তা বিচার করা হবে—যাতে কিতাব ও সুন্নাহ যে সত্যকে সাব্যস্ত করেছে তা সাব্যস্ত হয় এবং কিতাব ও সুন্নাহ যে বাতিলকে নাকচ করেছে তা নাকচ হয়—তখন সেটিই হবে প্রকৃত সত্য। এটি প্রবৃত্তি পূজারীদের অনুসৃত পথের বিপরীত, যারা বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও শ্রেণিবিন্যাস—যা হলো সরল পথ—ছাড়াই এই শব্দগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন মাধ্যম ও মাসআলাসমূহে নেতিবাচক ও ইতিবাচকভাবে কথা বলে। আর এটিই সংশয় সৃষ্টির অন্যতম ক্ষেত্র।

কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীতে কিংবা অন্য কারো...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২০)
الصحابة والتابعين، ولا أحد من الأئمة المتبوعين، أنه علق بمسمى لفظ [الجوهر] و [الجسم] و [التحيز] و [العرض] ونحو ذلك شيء من أصول الدين لا الدلائل ولا المسائل؛ والمتكلمون بهذه العبارات يختلف مرادهم بها. تارة لاختلاف الوضع. وتارة لاختلافهم في المعنى الذي هو مدلول اللفظ كمن يقول [الجسم] هو المؤلف، ثم يتنازعون هل هو الجوهر الواحد بشرط تأليفه؟ أو الجوهران فصاعدا؟ أو الستة؟ أو الثمانية؟ أو غير ذلك؟ ومن يقول هو الذي يمكن فرض الأبعاد الثلاثة فيه، وأنه مركب من المادة والصورة، ومن يقول هو الموجود، أو الموجود القائم بنفسه؛ وأن الموجود لا يكون إلا كذلك.

والسلف والأئمة الذين ذموا وبدعوا الكلام في الجوهر والجسم والعرض تضمن كلامهم ذم من يدخل المعاني التي يقصدها هؤلاء بهذه الألفاظ في أصول الدين في دلائله، وفي مسائله نفيا وإثباتا. فأما إذا عرف المعاني الصحيحة الثابتة بالكتاب والسنة، وعبر عنها لمن يفهم بهذه الألفاظ ليتبين ما وافق الحق من معاني هؤلاء، وما خالفه. فهذا عظيم المنفعة، وهو من الحكم بالكتاب بين الناس فيما اختلفوا فيه كما قال تعالى: {كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُواْ فِيهِ} [البقرة: 213] وهو مثل الحكم بين سائر الأمم بالكتاب فيما اختلفوا فيه من المعاني التي يعبرون عنها بوضعهم وعرفهم. وذلك يحتاج إلى معرفة معاني الكتاب، والسنة، ومعرفة معاني هؤلاء
সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং অনুসরণীয় ইমামগণের মধ্যে কেউই 'জাওহার' (মৌলিক পদার্থ), 'জিসম' (দেহ), 'তাহাইয়্যুজ' (স্থান দখল করা) এবং 'আরাদ' (আকস্মিক গুণ বা অবস্থা) এবং এই জাতীয় শব্দের নামকরণের সাথে দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহের কোনো কিছুকে সংশ্লিষ্ট করেননি—না তার দলিলসমূহকে, আর না মাসআলাসমূহকে। আর যারা এই পরিভাষাগুলো ব্যবহার করে কথা বলেন, তাদের উদ্দেশ্য এগুলোর মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন হয়। কখনও পরিভাষা ব্যবহারের ভিন্নতার কারণে, আবার কখনও শব্দের অর্থের ক্ষেত্রে তাদের মতভেদের কারণে; যেমন কেউ বলে 'জিসম' (দেহ) হলো যা সংমিশ্রিত বা গঠিত; অতঃপর তারা বিবাদে লিপ্ত হয় যে এটি কি একটি একক জাওহার তার সংমিশ্রিত হওয়ার শর্তে? নাকি দুইটি জাওহার বা তার বেশি? নাকি ছয়টি? নাকি আটটি? নাকি অন্য কিছু? আর কেউ কেউ বলে এটি এমন কিছু যার মধ্যে তিনটি দিক (দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা) কল্পনা করা সম্ভব এবং এটি উপাদান ও রূপ দ্বারা গঠিত। আবার কেউ বলে এটি হলো অস্তিত্বশীল বা স্বীয় সত্তায় বিদ্যমান কোনো কিছু; এবং অস্তিত্বশীল কেবল এমনই হয়ে থাকে।

সালাফ ও ইমামগণ যারা জাওহার, জিসম এবং আরাদ নিয়ে কথা বলাকে নিন্দা করেছেন এবং বিদআত বলেছেন, তাদের সেই বক্তব্য ঐ সকল ব্যক্তিদের নিন্দাকে অন্তর্ভুক্ত করে যারা এই শব্দগুলোর মাধ্যমে উদ্দেশ্যকৃত অর্থগুলোকে দ্বীনের মূলনীতিসমূহের দলিল এবং মাসআলাসমূহের মধ্যে প্রবেশ করায়—তা অস্বীকারের মাধ্যমেই হোক বা সাব্যস্ত করার মাধ্যমেই হোক। তবে যখন কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত সঠিক অর্থগুলো জানা যায় এবং যারা এই পরিভাষাগুলো বুঝে তাদের কাছে এগুলো ব্যক্ত করা হয় যাতে তাদের অর্থগুলোর মধ্য থেকে কোনটি সত্যের অনুকূলে আর কোনটি সত্যের পরিপন্থী তা স্পষ্ট হয়, তবে এটি অত্যন্ত উপকারী। আর এটি মানুষের মধ্যে তাদের মতভেদপূর্ণ বিষয়ে কিতাব দ্বারা ফয়সালা করারই অন্তর্ভুক্ত যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "মানুষ ছিল এক উম্মত। অতঃপর আল্লাহ নবীগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠালেন এবং তাঁদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করলেন যেন মানুষের মধ্যে তাদের মতভেদপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা করা যায়।" [বাকারা: ২১৩] আর এটি অন্যান্য সকল জাতির মধ্যে কিতাব দ্বারা ঐ সকল বিষয়ে ফয়সালা করার মতো যে মতভেদপূর্ণ অর্থগুলোকে তারা তাদের নিজস্ব পরিভাষা ও প্রথা অনুযায়ী ব্যক্ত করে। আর এর জন্য প্রয়োজন কুরআন ও সুন্নাহর অর্থসমূহ অনুধাবন করা এবং ঐ লোকদের ব্যবহৃত পরিভাষার অর্থসমূহ জানা।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২১)
بألفاظهم. ثم اعتبار هذه المعاني بهذه المعاني ليظهر الموافق والمخالف. وأما قول السائل فإن قيل بالجواز: فما وجهه، وقد فهمنا منه عليه السلام النهي عن الكلام في بعض المسائل؟ فيقال: قد تقدم الاستفسار والتفصيل في جواب السؤال، وأن ما هو في الحقيقة أصول الدين الذي بعث الله به رسوله فلا يجوز أن ينهى عنها بحال، بخلاف ما سمى أصول الدين وليس هو أصولا في الحقيقة لا دلائل ولا مسائل. أو هو أصول لدين لم يشرعه الله بل شرعه من شرع من الدين ما لم يأذن به الله.

وأما ما ذكره السائل من نهيه فالذي جاء به الكتاب والسنة النهي عن أمور.

منها القول على الله بلا علم، كقوله: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُواْ بِاللهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَن تَقُولُواْ عَلَى اللهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [الأعراف: 33] وقوله: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} [الإسراء: 36]

ومنها أن يقال عليه غير الحق كقوله: {أَلَمْ يُؤْخَذْ عَلَيْهِم مِّيثَاقُ الْكِتَابِ أَن لَاّ يِقُولُواْ عَلَى اللهِ إِلَاّ الْحَقَّ} [الأعراف: 169] وقوله: {لَا تَغْلُواْ فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُواْ عَلَى اللهِ إِلَاّ الْحَقِّ} [النساء: 171] ومنها الجدل بغير علم كقوله: {هَاأَنتُمْ هَؤُلاء حَاجَجْتُمْ فِيمَا لَكُم بِهِ عِلمٌ فَلِمَ تُحَآجُّونَ فِيمَا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ} [آل عمران: 66] ومنها الجدل في الحق بعد ظهوره كقوله: {يُجَادِلُونَكَ فِي الْحَقِّ بَعْدَمَا تَبَيَّنَ} [الأنفال: 6] .
তাদের শব্দাবলীতে। এরপর এই অর্থগুলোকে সেই অর্থগুলোর সাথে বিবেচনা করা যাতে সংগতিপূর্ণ ও অসংগতিপূর্ণ বিষয়গুলো প্রকাশ পায়। আর প্রশ্নকারীর বক্তব্য—যদি বৈধতার কথা বলা হয়, তবে তার ভিত্তি কী? অথচ আমরা তাঁর (রাসূলুল্লাহর) পক্ষ থেকে কিছু বিষয়ে কথা বলা থেকে নিষেধ করা হয়েছে বলে বুঝতে পেরেছি। এর উত্তরে বলা হবে: প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে অনুসন্ধান ও বিস্তারিত বর্ণনা আগেই গত হয়েছে। আর প্রকৃতার্থে যা দ্বীনের মূলনীতি, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন, তা থেকে কোনো অবস্থাতেই নিষেধ করা বৈধ নয়। এর বিপরীতে যাকে 'দ্বীনের মূলনীতি' নামকরণ করা হয়েছে অথচ প্রকৃতপক্ষে তা মূলনীতি নয়—না দলিলের দিক থেকে, না মাসআলার দিক থেকে। অথবা তা এমন এক দ্বীনের মূলনীতি যা আল্লাহ প্রবর্তন করেননি, বরং তা এমন ব্যক্তিরা প্রবর্তন করেছে যারা দ্বীনের মধ্যে এমন বিধান জারি করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি।

আর প্রশ্নকারী যে নিষেধের কথা উল্লেখ করেছেন, সেক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহতে যা এসেছে তা হলো কতিপয় বিষয় থেকে নিষেধ করা।

তার মধ্যে একটি হলো ইলম বা জ্ঞান ছাড়া আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলা, যেমন আল্লাহর বাণী: "বলুন, আমার প্রতিপালক কেবল অশ্লীল কাজসমূহ হারাম করেছেন—তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন, আর গুনাহ ও অন্যায় বিদ্রোহ এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি, আর আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না।" [সূরা আল-আরাফ: ৩৩] এবং তাঁর বাণী: "যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।" [সূরা আল-ইসরা: ৩৬]

আরেকটি হলো আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলা, যেমন তাঁর বাণী: "তাদের থেকে কি কিতাবের এই অঙ্গীকার নেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলবে না?" [সূরা আল-আরাফ: ১৬৯] এবং তাঁর বাণী: "তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না।" [সূরা আন-নিসা: ১৭১] আরেকটি হলো জ্ঞান ছাড়া বিতর্ক করা, যেমন তাঁর বাণী: "শোনো! যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান ছিল তা নিয়ে তো তোমরা বিতর্ক করলে; এখন যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই তা নিয়ে কেন বিতর্ক করছ?" [সূরা আলে ইমরান: ৬৬] এবং সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর তা নিয়ে বিতর্ক করা, যেমন তাঁর বাণী: "সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তারা সে বিষয়ে তোমার সাথে বিতর্ক করছিল।" [সূরা আল-আনফাল: ৬] ।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২২)
ومنها الجدل بالباطل كقوله: {وَجَادَلُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ} [غافر: 5] . ومنها الجدل في آياته كقوله: {وَجَادَلُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ} [غافر: 4] وقوله: {الَّذِينَ يُجَادِلُونَ فِي آيَاتِ اللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَانٍ أَتَاهُمْ كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ وَعِندَ الَّذِينَ آمَنُوا} [غافر: 35] وقوله: {إِن فِي صُدُورِهِمْ إِلَّا كِبْرٌ مَّا هُم بِبَالِغِيهِ} [غافر: 56] وقوله: {وَيَعْلَمَ الَّذِينَ يُجَادِلُونَ فِي آيَاتِنَا مَا لَهُم مِّن مَّحِيصٍ} [الشورى: 35] ونحو ذلك قوله: {وَالَّذِينَ يُحَاجُّونَ فِي اللَّهِ مِن بَعْدِ مَا اسْتُجِيبَ لَهُ حُجَّتُهُمْ دَاحِضَةٌ عِندَ رَبِّهِمْ} [الشورى: 16] وقوله: {وَهُمْ يُجَادِلُونَ فِي اللهِ وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ} [الرعد: 13] وقوله: {وَمِنَ النَّاسِ مَن يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُّنِيرٍ} [الحج: 8] .

ومن الأمور التي نهى الله عنها في كتابه التفرق والاختلاف كقوله: {وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُواْ} إلى قوله: {وَلَا تَكُونُواْ كَالَّذِينَ تَفَرَّقُواْ وَاخْتَلَفُواْ مِن بَعْدِ مَا جَاءهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ} [آل عمران: 103، 106] . قال ابن عباس تبيض وجوه أهل السنة والجماعة، وتسود وجوه أهل البدعة والفرقة وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُواْ دِينَهُمْ وَكَانُواْ شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ} [الأنعام: 159] وقال تعالى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ} إلى قوله: {وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا} [الروم: 30: 32] .

وقد ذم أهل التفرق والاختلاف في مثل قوله: {وَمَا تَفَرَّقُوا إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ} [الشورى: 14] وفي مثل قوله: {وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ إِلَاّ مَن رَّحِمَ رَبُّكَ} [هود: 118، 119] وفي مثل
এর মধ্যে রয়েছে বাতিল বা মিথ্যা দ্বারা বিতর্ক করা, যেমন আল্লাহর বাণী: "আর তারা বাতিলের মাধ্যমে বিতর্ক করেছিল যাতে তা দিয়ে সত্যকে পরাভূত করতে পারে" [গাফির: ৫]। এবং এর মধ্যে রয়েছে তাঁর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বিতর্ক করা, যেমন তাঁর বাণী: "আর তারা বাতিলের মাধ্যমে বিতর্ক করেছিল যাতে তা দিয়ে সত্যকে পরাভূত করতে পারে" [গাফির: ৪] এবং তাঁর বাণী: "যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বিতর্ক করে তাদের কাছে আসা কোনো দলীল ছাড়াই, এটা আল্লাহর কাছে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের কাছে অত্যন্ত ক্রোধ উদ্রেককারী" [গাফির: ৩৫] এবং তাঁর বাণী: "তাদের অন্তরে কেবল অহংকারই রয়েছে যা তারা কখনো অর্জন করতে পারবে না" [গাফির: ৫৬] এবং তাঁর বাণী: "আর যারা আমাদের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বিতর্ক করে তারা যেন জানতে পারে যে, তাদের কোনো পলায়নের জায়গা নেই" [শুরা: ৩৫] এবং এরই অনুরূপ হলো তাঁর বাণী: "আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেওয়ার পর যারা তাঁর সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের যুক্তি তাদের রবের কাছে অসার" [শুরা: ১৬] এবং তাঁর বাণী: "আর তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে, অথচ তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী ও কৌশলী" [রাদ: ১৩] এবং তাঁর বাণী: "মানুষের মধ্যে কেউ কেউ জ্ঞান, পথনির্দেশ ও কোনো আলোকবর্তিকা কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে" [হজ: ৮]।

আল্লাহ তাঁর কিতাবে যেসব বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো অনৈক্য ও দলাদলি, যেমন তাঁর বাণী: "তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না" এই বাণী পর্যন্ত যে: "আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর মতভেদে লিপ্ত হয়েছে; আর তাদের জন্য রয়েছে মহা আজাব, যেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে আর কিছু মুখ কালো হয়ে যাবে" [আল-ইমরান: ১০৩, ১০৬]। ইবনে আব্বাস বলেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের লোকদের মুখ উজ্জ্বল হবে, আর বিদআত ও বিচ্ছিন্নতাপন্থীদের মুখ কালো হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই" [আনআম: ১৫৯]। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন: "কাজেই আপনি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত রাখুন। আল্লাহর সেই ফিতরাত (প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই" এই বাণী পর্যন্ত যে: "আর তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে" [রুম: ৩০: ৩২]।

এবং তিনি অনৈক্য ও দলাদলিতে লিপ্তদের নিন্দা করেছেন তাঁর এ বাণীর মতো আয়াতে: "তাদের কাছে জ্ঞান আসার পর কেবল নিজেদের মধ্যকার বিদ্বেষবশত তারা মতভেদ করেছে" [শুরা: ১৪] এবং তাঁর এ বাণীর মতো আয়াতে: "আর তারা সবসময় মতভেদ করতেই থাকবে, তবে তারা ছাড়া যাদের ওপর আপনার রব দয়া করেছেন" [হুদ: ১১৮, ১১৯] এবং এর অনুরূপ...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
قوله: {وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُواْ فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ} [البقرة: 176] . وكذلك سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم توافق كتاب الله كالحديث المشهور عنه الذي روى مسلم بعضه عن عبد الله بن عمرو، وسائره معروف في مسند أحمد، وغيره من حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج على أصحابه وهم يتناظرون في القدر ورجل يقول: ألم يقل الله كذا، ورجل يقول: ألم يقل الله كذا فكأنما فقىء وجهه حب الرمان فقال: " أبهذا أمرتم إنما هلك من كان قبلكم بهذا ضربوا كتاب الله بعضه ببعض، وإنما نزل كتاب الله ليصدق بعضه بعضا، لا ليكذب بعضه بعضا انظروا ما أمرتم به فافعلوه، وما نهيتم عنه فاجتنبوه " هذا الحديث أو نحوه.

وكذلك قوله: " المرآء في القرآن كفر " وكذلك ما أخرجاه في الصحيحين عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم قرأ قوله: " {هُوَ الَّذِيَ أَنزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُّحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ في قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاء الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاء تَأْوِيلِهِ} [آل عمران: 7] فقال النبي صلى الله عليه وسلم: إذا رأيتم الذين يتبعون ما تشابه منه فأولئك الذين سمى الله فاحذروهم ".

وأما أن يكون الكتاب أو السنة نهي عن معرفة المسائل التي يدخل فيما يستحق أن يكون من أصول دين الله فهذا لا يكون اللهم إلا أن ننهى عن بعض ذلك في بعض الأحوال مثل مخاطبة شخص
তাঁর বাণী: {আর নিশ্চয় যারা কিতাব সম্পর্কে মতভেদ করেছে, তারা অবশ্যই সুদূর বিবাদে লিপ্ত} [আল-বাকারা: ১৭৬]। একইভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ আল্লাহর কিতাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন তাঁর থেকে বর্ণিত সেই প্রসিদ্ধ হাদিস যার কিছু অংশ মুসলিম আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বাকি অংশ মুসনাদে আহমাদ ও অন্যান্য গ্রন্থে আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সামনে বের হলেন যখন তারা তাকদির নিয়ে বিতর্ক করছিল; তখন একজন বলছিল: আল্লাহ কি এমন বলেননি? আর অন্যজন বলছিল: আল্লাহ কি তেমন বলেননি? তখন রাগে তাঁর চেহারা এমন রক্তিম হলো যেন তাতে ডালিমের দানা নিংড়ে দেওয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি বললেন: "তোমাদের কি একাজেই আদেশ করা হয়েছে? তোমাদের পূর্ববর্তীরা কেবল এই কারণেই ধ্বংস হয়েছে যে, তারা আল্লাহর কিতাবের এক অংশকে অন্য অংশের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিয়েছিল। অথচ আল্লাহর কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে যেন এর এক অংশ অন্য অংশকে সত্যায়ন করে, একে অপরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য নয়। সুতরাং তোমাদের যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করো এবং যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা পরিহার করো।" এটিই সেই হাদিস বা এর অনুরূপ কোনো বর্ণনা।

একইভাবে তাঁর বাণী: "কুরআন নিয়ে বিতর্ক করা কুফরি।" তেমনিভাবে সহীহাইনে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি পাঠ করলেন: "{তিনিই সেই সত্তা যিনি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার কিছু আয়াত মুহকাম (সুস্পষ্ট), সেগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট)। সুতরাং যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যা মুতাশাবিহ তার অনুসরণ করে} [আলে ইমরান: ৭]।" অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যখন তোমরা দেখবে যারা মুতাশাবিহ বিষয়গুলোর অনুসরণ করছে, তখন জেনে রেখো তারাই সেই লোক যাদের নাম আল্লাহ উল্লেখ করেছেন; সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থেকো।"

আর কিতাব বা সুন্নাহ এমন সব বিষয়ের জ্ঞান অর্জন থেকে নিষেধ করবে যা আল্লাহর দ্বীনের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য—এমনটি হতে পারে না। তবে বিশেষ কিছু অবস্থায় এর কিছু বিষয় থেকে নিষেধ করা হতে পারে, যেমন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সম্বোধন করার ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
بما يعجز عنه فهمه فيضل. كقول عبد الله بن مسعود: [ما من رجل يحدث قومًا حديثًا لا تبلغه عقولهم إلا كان فتنة لبعضهم] وكقول علي: رضي الله عنه [حدثوا الناس بما يعرفون ودعوا ما ينكرون أتحبون أن يكذب الله ورسوله] . أو مثل قول حق يستلزم فسادا أعظم من تركه فيدخل في قوله صلى الله عليه وسلم: " من رأى منكم منكرا فليغيره بيده فإن لم يستطع فبلسانه فإن لم يستطع فبقلبه وذلك أضعف الإيمان " رواه مسلم.

وأما قول السائل إذا قيل بالجواز فهل يجب؟ وهل نقل عنه عليه السلام ما يقتضي وجوبه.

فيقال: لا ريب أنه يجب على كل أحد أن يؤمن بما جاء به الرسول إيمانًا عامًا مجملاً، ولا ريب أن معرفة ما جاء به الرسول على التفصيل فرض على الكفاية فإن ذلك داخل في تبليغ ما بعث الله به رسوله، وداخل في تدبر القرآن وعقله وفهمه، وعلم الكتاب، والحكمة، وحفظ الذكر، والدعاء إلى سبيل الرب بالحكمة والموعظة الحسنة، والمجادلة بالتي هي أحسن، ونحو ذلك مما أوجبه الله على المؤمنين فهو واجب على الكفاية منهم.

وأما ما يجب على أعيانهم فهذا يتنوع بتنوع قدرهم، ومعرفتهم، وحاجتهم وما أمر به أعيانهم فلا يجب على العاجز عن سماع بعض العلم، أو عن فهم دقيقه ما يجب على القادر على ذلك، ويجب على من سمع النصوص وفهمها من علم التفصيل ما لا يجب على من لم يسمعها، ويجب على المفتي، والمحدث، والمجادل ما لا يجب على من ليس كذلك.
এমন কিছু যা বুঝতে তারা অক্ষম হবে, ফলে তারা বিভ্রান্ত হবে। যেমন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের উক্তি: [এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে কোনো সম্প্রদায়ের কাছে এমন কোনো কথা বলে যা তাদের বুদ্ধি ধারণ করতে পারে না, তবে তা তাদের কারো কারো জন্য ফিতনা হয়ে দাঁড়ায়]। এবং যেমন আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি: [লোকদের কাছে তা-ই বলো যা তারা চিনে এবং যা তারা অস্বীকার করে তা বর্জন করো। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা হোক?]। অথবা এমন সত্য কথা যা প্রকাশ করলে তা বর্জনের চেয়ে বড় বিপর্যয় সৃষ্টি করে; ফলে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়: "তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো অন্যায় দেখবে, সে যেন তার হাত দিয়ে তা পরিবর্তন করে দেয়; যদি তাতে সক্ষম না হয়, তবে তার জিহ্বা দিয়ে; আর যদি তাতেও সক্ষম না হয়, তবে তার অন্তর দিয়ে; আর এটিই ঈমানের দুর্বলতম স্তর।" (মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন)।

আর প্রশ্নকারীর এই বক্তব্য—যদি বৈধতা স্বীকার করা হয়, তবে কি তা ওয়াজিব হবে? আর নবী আলাইহিস সালাম থেকে কি এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা এর আবশ্যকতার দাবি রাখে?

উত্তরে বলা হবে: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসুল যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার প্রতি সাধারণভাবে ও সংক্ষেপে ঈমান আনা প্রত্যেকের ওপর ওয়াজিব। আর এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসুল যা নিয়ে এসেছেন তা বিস্তারিতভাবে জানা ফরজে কিফায়া; কেননা তা আল্লাহ তাঁর রাসুলকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা প্রচারের অন্তর্ভুক্ত, এবং কুরআনের তাদাব্বুর (গভীর চিন্তা), অনুধাবন ও উপলব্ধি, কিতাব ও হিকমতের জ্ঞান অর্জন, যিকির সংরক্ষণ, প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে রবের পথের দিকে আহ্বান এবং সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্কের অন্তর্ভুক্ত। এই জাতীয় বিষয়সমূহ যা আল্লাহ মুমিনদের ওপর আবশ্যক করেছেন, তা সামষ্টিকভাবে তাদের ওপর ফরজে কিফায়া।

আর যা ব্যক্তিগতভাবে তাদের ওপর ওয়াজিব, তা তাদের সামর্থ্য, জ্ঞান ও প্রয়োজন এবং যে বিষয়ে তাদের ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলমের কোনো অংশ শুনতে বা তার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো বুঝতে অক্ষম, তার ওপর তা ওয়াজিব নয় যা একজন সক্ষম ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব। আবার যে ব্যক্তি দলিলসমূহ শুনেছে এবং তা বিস্তারিতভাবে বুঝতে পেরেছে, তার ওপর যা ওয়াজিব, যে ব্যক্তি তা শুনেনি তার ওপর তা ওয়াজিব নয়। অনুরূপভাবে, একজন মুফতি, মুহাদ্দিস এবং বিতর্ককারীর ওপর যা ওয়াজিব, যারা তেমন নয় তাদের ওপর তা ওয়াজিব নয়।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
وأما قوله هل يكفي في ذلك ما يصل إليه المجتهد من غلبة الظن أو لا بد من الوصول إلى القطع؟ فيقال: الصواب في ذلك التفصيل. فإنه وإن كان طوائف من أهل الكلام يزعمون أن المسائل الخبرية التي قد يسمونها مسائل الأصول يجب القطع فيها جميعا، ولا يجوز الاستدلال فيها بغير دليل يفيد اليقين، وقد يوجبون القطع فيها كلها على كل أحد. فهذا الذي قالوه على إطلاقه وعمومه خطأ مخالف للكتاب، والسنة، وإجماع سلف الأمة، وأئمتها.

ثم هم مع ذلك من أبعد الناس عما أوجبوه فإنهم كثيرًا ما يحتجون فيها بالأدلة التي يزعمونها قطعيات، وتكون في الحقيقة من الأغلوطات فضلًا عن أن تكون من الظنيات؛ حتى إن الشخص الواحد منهم كثيرًا ما يقطع بصحة حجة في موضع، ويقطع ببطلانها في موضع آخر، بل منهم من غاية كلامه كذلك؛ وحتى قد يدعى كل من المتناظرين العلم الضروري بنقيض ما ادعاه الآخر. وأما التفصيل فما أوجب الله فيه العلم واليقين وجب فيه ما أوجبه الله من ذلك، كقوله: {اعْلَمُواْ أَنَّ اللهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ وَأَنَّ اللهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} [المائدة: 98] وقوله: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ} [محمد: 19] وكذلك يجب الإيمان بما أوجب الله الإيمان به.

وقد تقرر في الشريعة أن الوجوب معلق باستطاعة العبد كقوله: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16] وقوله صلى الله عليه وسلم: " إذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم " أخرجاه في الصحيحين.
আর তাঁর কথা যে, এক্ষেত্রে একজন মুজতাহিদ প্রবল ধারণার (গলাবাতুজ জান্ন) স্তরে যা পৌঁছান তা-ই কি যথেষ্ট, নাকি অকাট্য নিশ্চিত অবস্থায় (কাত'য়ী) পৌঁছানো আবশ্যক? উত্তরে বলা হবে: এ বিষয়ে সঠিক পদ্ধতি হলো বিস্তারিত বিশ্লেষণ। কেননা ইলমুল কালামের একদল আলিম মনে করেন যে, সংবাদমূলক মাসআলাগুলো—যাকে তারা মূলনীতি বা উসূলী মাসআলা বলে অভিহিত করেন—সেগুলোর সবকটিতেই অকাট্য জ্ঞান অর্জন করা ওয়াজিব। তারা মনে করেন, এ ক্ষেত্রে নিশ্চিত বিশ্বাস (ইয়াকিন) প্রদান করে না এমন কোনো দলিল দিয়ে প্রমাণ পেশ করা বৈধ নয়। তারা এ সব বিষয়ে প্রত্যেকের ওপর অকাট্য নিশ্চয়তা অর্জন করাকে আবশ্যক মনে করেন। তাদের এই ঢালাও ও সাধারণ বক্তব্যটি ভুল, যা কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফ ও ইমামগণের ঐকমত্যের পরিপন্থী।

এরপরও তারা নিজেরা যা আবশ্যক করেছেন, তা থেকে নিজেরাই সবচেয়ে দূরে অবস্থান করেন। কারণ তারা প্রায়শই এমন সব দলিল দিয়ে বিতর্ক করেন যেগুলোকে তারা অকাট্য মনে করেন, অথচ বাস্তবে সেগুলো নিছক ভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়, এমনকি সেগুলো প্রবল ধারণার (জন্নি) স্তরেও পড়ে না। এমনকি তাদের একজন ব্যক্তি একই দলিলকে এক জায়গায় অকাট্যভাবে সঠিক বলে সাব্যস্ত করেন, আবার অন্য জায়গায় সেটিকে অকাট্যভাবে বাতিল বলে ঘোষণা করেন। বরং তাদের কারোর কারোর আলোচনার চূড়ান্ত অবস্থাই এমন। এমনকি বিতর্ককারী দুই পক্ষের প্রত্যেকেই এমন বিষয়ের ওপর আবশ্যকীয় জ্ঞান (ইলমে দরূরী) থাকার দাবি করে যা অন্যের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। আর বিস্তারিত বিশ্লেষণ হলো—আল্লাহ যেসব বিষয়ে জ্ঞান ও নিশ্চিত বিশ্বাস অর্জন করা ওয়াজিব করেছেন, সেখানে তা অর্জন করা আবশ্যক, যেমন আল্লাহর বাণী: "তোমরা জেনে রাখ যে, আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা এবং আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু" [আল-মায়িদাহ: ৯৮]। এবং তাঁর বাণী: "সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনার গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন" [মুহাম্মদ: ১৯]। একইভাবে আল্লাহ যা কিছু ঈমান আনা ওয়াজিব করেছেন সেগুলোর ওপর ঈমান আনা আবশ্যক।

শরিয়তে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, কোনো নির্দেশ পালনের আবশ্যকতা বান্দার সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। যেমন আল্লাহর বাণী: "অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী" [আত-তাগাবুন: ১৬]। এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "আমি যখন তোমাদের কোনো নির্দেশ দেই, তখন তোমরা তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী তা পালন করো।" এটি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
فإذا كان كثير مما تنازعت فيه الأمة من هذه المسائل الدقيقة قد يكون عند كثير من الناس مشتبها لا يقدر فيه على دليل يفيده اليقين؛ لا شرعي، ولا غيره لم يجب علي مثل هذا في ذلك ما لا يقدر عليه، وليس عليه أن يترك ما يقدر عليه من اعتقاد قوي غالب على ظنه لعجزه عن تمام اليقين؛ بل ذلك هو الذي يقدر عليه، لا سيما إذا كان مطابقا للحق. فالاعتقاد المطابق للحق ينفع صاحبه ويثاب عليه ويسقط به الفرض إذا لم يقدر على أكثر منه.

لكن ينبغي أن يعرف أن عامة من ضل في هذا الباب، أو عجز فيه عن معرفة الحق، فإنما هو لتفريطه في اتباع ما جاء به الرسول، وترك النظر، والاستدلال الموصل إلى معرفته، فلما أعرضوا عن كتاب الله ضلوا. كما قال تعالى: {فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى} [طه: 123، 124] قال ابن عباس: تكفل الله لمن قرأ القرآن وعمل بما فيه أن لا يضل في الدنيا ولا يشقى في الآخرة ثم قرأ هذه الآية.

وكما في الحديث الذي رواه الترمذي وغيره عن علي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: " ستكون فتن قلت فما المخرج منها يا رسول الله قال كتاب الله فيه نبأ ما قبلكم وخبر ما بعدكم وحكم ما بينكم هو الفصل ليس بالهزل من تركه من جبار قصمه الله ومن ابتغى الهدى في غيره أضله الله وهو حبل الله المتين وهو
যখন উম্মাহর মধ্যে বিবাদমান এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর অনেকগুলোই অধিকাংশ মানুষের কাছে অস্পষ্ট হয়ে যায়, যেখানে তারা এমন কোনো দলিল পায় না যা তাদের নিশ্চিত বিশ্বাস প্রদান করে—চাই তা শরয়ি দলিল হোক বা অন্য কিছু—তখন তার ওপর এমন কিছুর দায়িত্ব বর্তায় না যা সে করতে সক্ষম নয়। আর পূর্ণ নিশ্চিত বিশ্বাস অর্জনে অক্ষমতার কারণে তার জন্য এমন শক্তিশালী বিশ্বাস ত্যাগ করাও আবশ্যক নয় যা তার প্রবল ধারণার ওপর ভিত্তি করে অর্জিত এবং যা সে করতে সক্ষম। বরং এটাই তার সাধ্যের মধ্যে রয়েছে, বিশেষ করে যদি তা সত্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। সুতরাং সত্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ আকিদা তার অধিকারীকে উপকৃত করে, সে এর জন্য পুরস্কৃত হয় এবং এর মাধ্যমে তার অপরিহার্য দায়িত্ব পালন হয়ে যায় যদি সে এর চেয়ে বেশি কিছু করতে সক্ষম না হয়।

তবে এটি জানা উচিত যে, এই বিষয়ে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে বা যারা সত্য জানতে অক্ষম হয়েছে, তাদের অধিকাংশের এই অবস্থার কারণ হলো রাসুল যা নিয়ে এসেছেন তা অনুসরণে অবহেলা করা এবং সত্য অনুধাবনের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও দলিল-প্রমাণ বর্জন করা। ফলে যখন তারা আল্লাহর কিতাব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যখন কোনো হেদায়াত আসবে, তখন যে আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য অবশ্যই সংকীর্ণ জীবন হবে এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় হাশর করাব।} [ত্বহা: ১২৩, ১২৪] ইবনে আব্বাস বলেন: আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির জন্য জিম্মাদার হয়েছেন যে কুরআন পাঠ করে এবং এর বিধান অনুযায়ী আমল করে যে, সে দুনিয়াতে পথভ্রষ্ট হবে না এবং আখিরাতে দুর্ভাগা হবে না; অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন।

এবং যেমনটি তিরমিযি ও অন্যান্যরা আলী থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "শীঘ্রই অনেক ফিতনা দেখা দেবে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! তা থেকে উত্তরণের উপায় কী? তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাব। এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ রয়েছে, তোমাদের পরবর্তীদের খবর রয়েছে এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়সমূহের ফয়সালা রয়েছে। এটিই চূড়ান্ত ফয়সালা, এটি কোনো তামাশা নয়। কোনো স্বৈরাচারী যখন অহংকারবশত তা ত্যাগ করবে, আল্লাহ তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কোথাও হেদায়াত খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটিই আল্লাহর মজবুত রশি এবং এটিই..."
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
الذكر الحكيم وهو الصراط المستقيم وهو الذي لا تزيغ به الأهواء ولا تلتبس به الألسن ولا تنقضي عجائبه ولا يخلق عن كثرة الرد ولا تشبع منه العلماء وفي رواية ولا تختلف به الآراء وهو الذي لم تنته الجن إذ سمعته أن قالوا: {إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ} [الجن: 1، 2] من قال به صدق ومن عمل به أجر ومن حكم به عدل ومن دعا إليه هدى إلى صراط مستقيم ". قال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُواْ السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ} [الأنعام: 153] وقال تعالى: {المص كِتَابٌ أُنزِلَ إِلَيْكَ فَلَا يَكُن فِي صَدْرِكَ حَرَجٌ مِّنْهُ} إلى قوله: {اتَّبِعُواْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُواْ مِن دُونِهِ أَوْلِيَاء} [الأعراف: 1، 3] وقال تعالى: {وَهَذَا كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُواْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ أَن تَقُولُواْ إِنَّمَا أُنزِلَ الْكِتَابُ عَلَى طَآئِفَتَيْنِ مِن قَبْلِنَا وَإِن كُنَّا عَن دِرَاسَتِهِمْ لَغَافِلِينَ أَوْ تَقُولُواْ لَوْ أَنَّا أُنزِلَ عَلَيْنَا الْكِتَابُ لَكُنَّا أَهْدَى مِنْهُمْ فَقَدْ جَاءكُم بَيِّنَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَذَّبَ بِآيَاتِ اللهِ وَصَدَفَ عَنْهَا سَنَجْزِي الَّذِينَ يَصْدِفُونَ عَنْ آيَاتِنَا سُوءَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُواْ يَصْدِفُونَ} [الأنعام: 155: 157] .

فذكر سبحانه أنه سيجزي الصادف عن آياته مطلقًا سواء كان مكذبًا أو لم يكن سوء العذاب بما كانوا يصدفون يبين ذلك أن كل من لم يقر بما جاء به الرسول فهو كافر. سواء اعتقد كذبه، أو استكبر عن الإيمان به، أو أعرض عنه اتباعًا لما يهواه، أو ارتاب
এটি প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং এটিই সরল পথ। এটি এমন এক গ্রন্থ যার মাধ্যমে প্রবৃত্তিগুলো সত্যচ্যুত হয় না এবং যার দ্বারা জিহ্বাগুলো বিভ্রান্ত হয় না। এর বিস্ময়কর বিষয়াবলি শেষ হয় না এবং অধিক পাঠের ফলেও এটি পুরাতন হয় না। আলেমগণ এটি থেকে কখনো তৃপ্ত হন না। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, এর কারণে মতভেদ তৈরি হয় না। এটি সেই কিতাব যা শুনে জিনেরা এই কথা না বলে থাকতে পারেনি যে: {নিশ্চয়ই আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে} [আল-জিন: ১, ২]। যে ব্যক্তি এর দ্বারা কথা বলে সে সত্য বলে, যে এর ওপর আমল করে সে প্রতিদান পায়, যে এর মাধ্যমে ফয়সালা করে সে ন্যায়বিচার করে এবং যে ব্যক্তি এর দিকে আহ্বান করে সে সরল পথের দিশা পায়। মহান আল্লাহ বলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, কারণ তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে} [আল-আনআম: ১৫৩]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আলিফ-লাম-মীম-সাদ। এটি একটি কিতাব যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে, সুতরাং আপনার মনে যেন এটি নিয়ে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো অভিভাবকদের অনুসরণ করো না} [আল-আরাফ: ১, ৩]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর এই কিতাব আমি অবতীর্ণ করেছি, যা বরকতময়। সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও। পাছে তোমরা বলো যে, কিতাব তো কেবল আমাদের পূর্ববর্তী দুই দলের ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল এবং আমরা তাদের পঠন-পাঠন সম্পর্কে অনবহিত ছিলাম। অথবা তোমরা বলো যে, যদি আমাদের ওপর কিতাব অবতীর্ণ করা হতো, তবে আমরা তাদের চেয়ে অধিক হেদায়াতপ্রাপ্ত হতাম। অবশ্যই তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ, হেদায়াত ও রহমত এসেছে। সুতরাং তার চেয়ে বড় যালিম আর কে, যে আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়? যারা আমার আয়াতসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের এই বিমুখতার কারণে শীঘ্রই আমি তাদেরকে নিকৃষ্ট আজাব প্রদান করব} [আল-আনআম: ১৫৫-১৫৭]।

সুতরাং মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, যারা তাঁর আয়াতসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তিনি তাদেরকে সাধারণভাবে নিকৃষ্ট আজাবের মাধ্যমে প্রতিফল দেবেন, চাই সে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী হোক বা না হোক; তাদের বিমুখতার কারণে। এটি একথাই স্পষ্ট করে যে, রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা যে ব্যক্তি স্বীকার করবে না, সে-ই কাফের; চাই সে একে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করুক, অথবা এর ওপর ঈমান আনতে অহংকার প্রদর্শন করুক, অথবা নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিক কিংবা সন্দেহ পোষণ করুক।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
فيما جاء به فكل مكذب بما جاء به فهو كافر. وقد يكون كافرًا من لا يكذبه إذا لم يؤمن به.

ولهذا أخبر الله في غير موضع من كتابه بالضلال والعذاب لمن ترك اتباع ما أنزله وإن كان له نظر، وجدل، واجتهاد في عقليات وأمور غير ذلك، جعل ذلك من نعوت الكفار والمنافقين قال تعالى: {وَجَعَلْنَا لَهُمْ سَمْعًا وَأَبْصَارًا وَأَفْئِدَةً فَمَا أَغْنَى عَنْهُمْ سَمْعُهُمْ وَلَا أَبْصَارُهُمْ وَلَا أَفْئِدَتُهُم مِّن شَيْءٍ إِذْ كَانُوا يَجْحَدُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِؤُون} [الأحقاف: 26] وقال تعالى: {فَلَمَّا جَاءتْهُمْ رُسُلُهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَرِحُوا بِمَا عِندَهُم مِّنَ الْعِلْمِ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِؤُون فَلَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا قَالُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَحْدَهُ وَكَفَرْنَا بِمَا كُنَّا بِهِ مُشْرِكِينَ فَلَمْ يَكُ يَنفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا سُنَّتَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ فِي عِبَادِهِ وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْكَافِرُونَ} [غافر: 83: 85] . وقال تعالى: {الَّذِينَ يُجَادِلُونَ فِي آيَاتِ اللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَانٍ أَتَاهُمْ كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ وَعِندَ الَّذِينَ آمَنُوا} [غافر: 35] . وقال تعالى: {إِن فِي صُدُورِهِمْ إِلَّا كِبْرٌ مَّا هُم بِبَالِغِيهِ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ} [غافر: 56] والسلطان هو الحجة المنزلة من عند الله كما قال تعالى: {أَمْ أَنزَلْنَا عَلَيْهِمْ سُلْطَانًا فَهُوَ يَتَكَلَّمُ بِمَا كَانُوا بِهِ يُشْرِكُونَ} [الروم: 35] وقال تعالى: {أَمْ لَكُمْ سُلْطَانٌ مُّبِينٌ فَأْتُوا بِكِتَابِكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ} [الصافات: 156،157] وقال تعالى: {إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاء سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ} [النجم: 23] .

وقد طالب سبحانه من اتخذ دينا بقوله: {اِئْتُونِي بِكِتَابٍ مِّن قَبْلِ هَذَا أَوْ أَثَارَةٍ مِّنْ عِلْمٍ} [الأحقاف: 4] .

فالكتاب الكتاب، والأثارة كما قال من قال من السلف:
যা নিয়ে তিনি (রাসূল) এসেছেন, তার কোনো কিছুকে যে ব্যক্তিই মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে সে-ই কাফির। আর এমন ব্যক্তিও কাফির হতে পারে যে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না কিন্তু তাঁর ওপর ঈমান আনে না।

এই কারণেই আল্লাহ তাঁর কিতাবের একাধিক স্থানে সেই ব্যক্তির পথভ্রষ্টতা ও শাস্তির কথা জানিয়েছেন, যে তাঁর নাজিলকৃত বিষয়ের অনুসরণ বর্জন করেছে—যদিও তার কোনো বিচারবুদ্ধি, বিতর্ক করার ক্ষমতা এবং যুক্তিবিদ্যা ও অন্যান্য বিষয়ে গবেষণা বা পাণ্ডিত্য থেকে থাকে; আল্লাহ এগুলোকে কাফির ও মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আমি তাদের কান, চোখ ও হৃদয় দিয়েছিলাম; কিন্তু তাদের কান, চোখ ও হৃদয় তাদের কোনো উপকারে আসেনি, যখন তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করছিল। আর যা নিয়ে তারা বিদ্রূপ করত, তা-ই তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরল।" [আল-আহকাফ: ২৬]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "যখন তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আসলেন, তখন তাদের কাছে যে বিদ্যা ছিল তা নিয়েই তারা আনন্দিত রইল। আর যা নিয়ে তারা বিদ্রূপ করত, তা-ই তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরল। অতঃপর যখন তারা আমার শাস্তি দেখল, তখন বলল, 'আমরা এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম এবং যাদেরকে তাঁর সাথে শরিক করতাম তাদের আমরা অস্বীকার করলাম।' কিন্তু আমার শাস্তি দেখার পর তাদের ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসেনি। আল্লাহর এই নিয়মই তাঁর বান্দাদের মাঝে অতীত থেকে চলে আসছে; আর সেখানে কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হলো।" [গাফির: ৮৩-৮৫]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "যারা তাদের কাছে আসা কোনো প্রকার দলিল ছাড়াই আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্ক করে, আল্লাহর নিকট ও মুমিনদের নিকট এটি অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ।" [গাফির: ৩৫]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "তাদের অন্তরে কেবল অহংকারই রয়েছে, যার নাগাল তারা পাবে না। অতএব আপনি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন।" [গাফির: ৫৬]। আর 'সুলতান' হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত দলিল বা প্রমাণ, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নাকি আমি তাদের কাছে এমন কোনো দলিল নাজিল করেছি, যা তারা যে শিরক করছে সে সম্পর্কে কথা বলে?" [আর-রূম: ৩৫]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "নাকি তোমাদের নিকট কোনো সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে? তবে তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব নিয়ে এসো।" [আস-সাফফাত: ১৫৬, ১৫৭]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "এগুলো তো কেবল কতকগুলো নাম, যা তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ; যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো দলিল নাজিল করেননি।" [আন-নাজম: ২৩]।

মহান আল্লাহ এমন ব্যক্তির নিকট দলিল দাবি করেছেন যে কোনো ধর্ম গ্রহণ করেছে, এই বলে: "তোমরা এর আগের কোনো কিতাব অথবা জ্ঞানের কোনো অবশিষ্টাংশ আমার নিকট নিয়ে এসো।" [আল-আহকাফ: ৪]।

সুতরাং কিতাব তো কিতাবই, আর 'আছারা' (জ্ঞানের অবশিষ্টাংশ) সম্পর্কে সালাফদের মধ্যে যারা যা বলেছেন তা হলো:
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
هي الرواية والإسناد. وقالوا: هي الخط أيضًا. إذ الرواية والإسناد يكتب بالخط؛ وذلك لأن الأثارة من الأثرة؛ فالعلم الذي يقوله من يقبل قوله يؤثر بالإسناد ويقيد بالخط فيكون كل ذلك من آثاره.

وقال تعالى في نعت المنافقين: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُواْ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُواْ إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُواْ أَن يَكْفُرُواْ بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلَالاً بَعِيدًا وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْاْ إِلَى مَا أَنزَلَ اللهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنكَ صُدُودًا فَكَيْفَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَآؤُوكَ يَحْلِفُونَ بِاللهِ إِنْ أَرَدْنَا إِلَاّ إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا أُولَئِكَ الَّذِينَ يَعْلَمُ اللهُ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِي أَنفُسِهِمْ قَوْلاً بَلِيغًا} [النساء: 60: 63] .

وفي هذه الآيات أنواع من العبر من الدلالة على ضلال من يحاكم إلى غير الكتاب والسنة، وعلى نفاقه، وإن زعم أنه يريد التوفيق بيد الأدلة الشرعية وبين ما يسميه هو [عقليات] من الأمور المأخوذة عن بعض الطواغيت من المشركين وأهل الكتاب وغير ذلك من أنواع الاعتبار.

فمن كان خطؤه لتفريطه فيما يجب عليه من اتباع القرآن والإيمان مثلا، أو لتعديه حدود الله بسلوك السبل التي نهى عنها، أو لاتباع هواه بغير هدى من الله، فهوالظالم لنفسه، وهو من أهل الوعيد؛ بخلاف المجتهد في طاعة الله، ورسوله باطنا وظاهرًا الذي يطلب الحق باجتهاده كما أمره الله ورسوله؛ فهذا مغفور له خطؤه.

كما قال
এটি হলো বর্ণনা ও সনদ। তারা বলেছেন: এটি লিখনও বটে। কেননা বর্ণনা ও সনদ লিখনের মাধ্যমেই লিপিবদ্ধ করা হয়; আর তা এই কারণে যে, 'আছারা' শব্দটি 'আছারাহ্' (নিদর্শন) থেকে উদ্ভূত; সুতরাং যার কথা গ্রহণযোগ্য, তার বর্ণিত ইলম সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয় এবং লিখনের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়; ফলে এই সবই তার নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হয়।

আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের বর্ণনায় বলেন: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা দাবি করে যে, আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর তারা ঈমান এনেছে? অথচ তারা তাগুতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায়, যেখানে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাকে অস্বীকার করার জন্য। আর শয়তান চায় তাদেরকে ঘোর বিভ্রান্তিতে লিপ্ত করতে। আর যখন তাদের বলা হয়, 'আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের দিকে এসো', তখন আপনি মুনাফিকদের দেখবেন আপনার থেকে সম্পূর্ণ মুখ ফিরিয়ে নিতে। সুতরাং তাদের হাতসমূহ যা অগ্রে পাঠিয়েছে (তাদের কৃতকর্ম), তার কারণে যখন তাদের ওপর কোনো বিপদ আসে, তখন কী অবস্থা হয়? তারপর তারা আল্লাহর নামে কসম খেয়ে আপনার কাছে আসে যে, আমরা তো কেবল কল্যাণ এবং সম্প্রীতি চেয়েছিলাম। তারা এমন লোক যাদের অন্তরে কী আছে তা আল্লাহ জানেন। অতএব আপনি তাদের উপেক্ষা করুন, তাদের উপদেশ দিন এবং তাদের নিজেদের সম্পর্কে মর্মস্পর্শী কথা বলুন।" [আন-নিসা: ৬০-৬৩]

এই আয়াতগুলোতে কিতাব ও সুন্নাহর বাইরে বিচারপ্রার্থীর পথভ্রষ্টতা ও মুনাফিকির ওপর বিভিন্ন প্রকারের দলীল ও শিক্ষা রয়েছে, যদিও সে ব্যক্তি শারয়ি দলীলসমূহ এবং মুশরিক ও আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে কতিপয় তাগুতের নিকট থেকে সংগৃহীত তথাকথিত 'যৌক্তিক বিষয়াবলির' মধ্যে সমন্বয় করার দাবি করে। এছাড়া আরও অনেক শিক্ষণীয় বিষয় এতে রয়েছে।

সুতরাং যার ভুল হয় তার অবহেলার কারণে—উদাহরণস্বরূপ কুরআন অনুসরণ ও ঈমানের মতো আবশ্যকীয় বিষয়ে অবহেলা করা, অথবা আল্লাহ যে পথ নিষেধ করেছেন তা অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করা, অথবা আল্লাহর হিদায়াত ছাড়াই নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করা—তবে সে নিজের নফসের ওপর জুলুমকারী এবং সে শাস্তির হুমকির অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অন্তরে ও প্রকাশ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যে ইজতিহাদ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী ইজতিহাদের মাধ্যমে সত্য সন্ধান করে, তার ভুল ক্ষমাযোগ্য।

যেমনটি তিনি বলেছেন
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
تعالى: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللهِ وَمَلآئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ} [البقرة: 285] إلى قوله: {لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَاّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا} [البقرة: 286] . وقد ثبت في صحيح مسلم أن الله قال قد فعلت، وكذلك ثبت فيه من حديث ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يقرأ بحرف من هاتين الآيتين ومن سورة الفاتحة إلا أعطى ذلك.

فهذا يبين استجابة هذا الدعاء للنبي والمؤمنين، وأن الله لا يؤاخذهم إن نسوا أو أخطؤا.

وأما قول السائل هل ذلك من باب تكليف ما لا يطاق والحال هذه فيقال: هذه العبارة وإن كثر تنازع الناس فيها نفيا وإثباتا فينبغي أن يعرف أن الخلاف المحقق فيها نوعان:

[أحدهما] : ما اتفق الناس على جوازه، ووقوعه، وإنما تنازعوا في إطلاق القول عليه بأنه لا يطاق.

[والثاني] : ما اتفقوا على أنه لا يطاق؛ لكن تنازعوا في جواز الأمر به، ولم يتنازعوا في عدم وقوعه. فأما أن يكون أمر اتفق أهل العلم والإيمان على أنه لا يطاق، وتنازعوا في وقوع الأمر به فليس كذلك.

[فالنوع الأول] : كتنازع المتكلمين من مثبتة القدر ونفاته في [استطاعة العبد] وهي قدرته، وطاقته. هل يجب أن تكون مع الفعل لا قبله، أو يجب أن تكون متقدمة على الفعل أو يجب
আল্লাহ তাআলা বলেন: {রাসূল তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছে এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান এনেছে। (তারা বলে:) আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না} [আল-বাকারাহ: ২৮৫] তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা অর্জন করেছে তা তারই জন্য এবং সে যা কামাই করেছে তা তারই ওপর বর্তাবে। হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না} [আল-বাকারাহ: ২৮৬]। সহীহ মুসলিম-এ প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহ বলেছেন, 'আমি তা করেছি'। অনুরূপভাবে সেখানে ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর হাদীস হতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুটি আয়াত এবং সূরা ফাতিহার প্রতিটি হরফ পাঠ করার বিনিময়ে যা প্রার্থনা করেছেন, তা তাকে প্রদান করা হয়েছে।

এটি নবী এবং মুমিনদের জন্য এই দুআ কবুল হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে, এবং এটিও যে আল্লাহ তাদের পাকড়াও করবেন না যদি তারা ভুলে যায় অথবা ভুল করে।

আর এই অবস্থায় প্রশ্নকারীর এই বক্তব্য যে, "এটি কি সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পণের (তাকলীফ মা লা ইউতাক) অন্তর্ভুক্ত?" এর উত্তরে বলা হবে: এই পরিভাষাটি নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ও ইতিবাচক উভয় দিক থেকে প্রচুর মতভেদ থাকলেও, এটি জানা উচিত যে এর প্রকৃত মতভেদ দুই প্রকার:

[প্রথমটি]: যা জায়েয হওয়া এবং সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত হয়েছে, তবে তারা এটিকে 'সাধ্যের অতীত' হিসেবে অভিহিত করার ক্ষেত্রে মতভেদ করেছে।

[দ্বিতীয়টি]: যে বিষয়টি সাধ্যের অতীত হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত হয়েছে; কিন্তু তারা এর নির্দেশ দেওয়া জায়েয হওয়ার বিষয়ে মতভেদ করেছে, তবে এটি সংঘটিত না হওয়ার ব্যাপারে তারা দ্বিমত করেনি। আর এমন কোনো বিষয় নেই যা সাধ্যের অতীত হওয়ার ব্যাপারে ইলম ও ঈমানদারগণ একমত হয়েছেন এবং এর নির্দেশ আসার বিষয়ে মতভেদ করেছেন—বিষয়টি তেমন নয়।

[প্রথম প্রকারটি হলো]: যেমন তাকদীর সাব্যস্তকারী এবং অস্বীকারকারী মুতাকাল্লিমদের মধ্যে [বান্দার সক্ষমতা] অর্থাৎ তার সামর্থ্য ও শক্তি নিয়ে মতভেদ। তা কি কর্মের সাথেই থাকা আবশ্যক নাকি কর্মের পূর্বে, অথবা তা কি কর্মের অগ্রবর্তী হওয়া আবশ্যক নাকি...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
أن تكون معه وإن كانت متقدمة عليه؟

فمن قال بالأول لزمه أن يكون كل عبد لم يفعل ما أمر به قد كلف ما لا يطيقه إذا لم يكن عنده قدرة إلا مع الفعل. ولهذا كان الصواب الذي عليه محققوا المتكلمين، وأهل الفقه، والحديث، والتصوف، وغيرهم ما دل عليه القرآن، وهو أن [الاستطاعة] التي هي مناط الأمر والنهي وهي المصححة للفعل لا يجب أن تقارن الفعل. وأما [الاستطاعة] التي يجب معها وجود الفعل فهي مقارنة له.

[فالأولى] : كقوله: {وَلِلّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً} [آل عمران: 97] وقول النبي صلى الله عليه وسلم لعمران بن حصين: " صل قائمًا، فإن لم تستطع فقاعدًا، فإن لم تستطع فعلى جنب " ومعلوم أن الحج والصلاة تجب على المستطيع سواء فعل، أو لم يفعل. فعلم أن هذه الاستطاعة لا تجب أن تكون مع الفعل.

[والثانية] : كقوله تعالى: {ما كانوا يستطيعون السمع وما كانوا يبصرون} وقوله تعالى: {وَعَرَضْنَا جَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لِّلْكَافِرِينَ عَرْضًا الَّذِينَ كَانَتْ أَعْيُنُهُمْ فِي غِطَاء عَن ذِكْرِي وَكَانُوا لَا يَسْتَطِيعُونَ سَمْعًا} [الكهف: 100، 101] . على قول من يفسر الاستطاعة بهذه، وأما على تفسير السلف والجمهور، فالمراد بعدم الاستطاعة مشقة ذلك عليهم وصعوبته على نفوسهم. فنفوسهم لا تستطيع إرادته؛ وإن كانوا قادرين على فعله لو أرادوه وهذه حال من صده هواه ورأيه الفاسد عن استماع كتب الله المنزلة، واتباعها، فقد أخبر أنه لا يستطيع ذلك وهذه [الاستطاعة] هي المقارنة للفعل الموجبة له.
সেটি কি কাজের সাথে থাকবে, যদিও তা কাজের পূর্বে বিদ্যমান থাকে?

সুতরাং যারা প্রথম মতটি গ্রহণ করেন, তাদের মতে এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, যে বান্দা তার প্রতি আদিষ্ট কাজ সম্পন্ন করেনি, তাকে তার সাধ্যাতীত কাজের ভার দেওয়া হয়েছে—যদি তার কেবল কাজের মুহূর্ত ছাড়া অন্য কোনো সময় সক্ষমতা না থাকে। এই কারণেই ইলমে কালামের গবেষকগণ, ফিকহবিদ, মুহাদ্দিস, সুফি ও অন্যান্যদের নিকট যে বিষয়টি সঠিক এবং যা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত, তা হলো: সেই [সক্ষমতা] যা আদেশ ও নিষেধের ভিত্তি এবং যা কাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত, তা কাজের সাথে যুগপৎ হওয়া আবশ্যক নয়। পক্ষান্তরে যে [সক্ষমতা] থাকলে কাজটি সম্পন্ন হওয়া অবধারিত হয়, তা কাজের সাথেই থাকে।

[প্রথম প্রকার]: যেমন আল্লাহর বাণী: "আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেই ঘরের হজ করা তার ওপর আবশ্যক।" [আলে ইমরান: ৯৭] এবং ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেওয়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ: "দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো, যদি সক্ষম না হও তবে বসে, আর যদি তাতেও সক্ষম না হও তবে কাত হয়ে শুয়ে।" এটি সুনিশ্চিত যে, সক্ষম ব্যক্তির ওপর হজ ও সালাত ওয়াজিব হয়, চাই সে তা আদায় করুক বা না করুক। সুতরাং প্রতীয়মান হলো যে, এই সক্ষমতা কাজের সাথে যুগপৎ হওয়া আবশ্যক নয়।

[দ্বিতীয় প্রকার]: যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "তারা শোনার সক্ষমতা রাখত না এবং তারা দেখতেও পেত না।" এবং আল্লাহর বাণী: "সেদিন আমি কাফিরদের সামনে জাহান্নামকে প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত করব, যাদের চক্ষুসমূহ আমার স্মরণ থেকে পর্দার অন্তরালে ছিল এবং তারা শুনতেও সক্ষম ছিল না।" [কাহফ: ১০০, ১০১]। এটি তাদের মতানুসারে যারা এই আয়াত দ্বারা সক্ষমতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর সালাফ ও জমহুর উলামাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সক্ষমতা না থাকার অর্থ হলো সেই কাজ তাদের নিকট অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও দুঃসহ হওয়া। ফলে তাদের অন্তর তা ইচ্ছা করতে সক্ষম হয় না; যদিও তারা ইচ্ছা করলে তা করার ক্ষমতা রাখত। এটি এমন ব্যক্তির অবস্থা যাকে তার প্রবৃত্তি ও ভ্রান্ত মতবাদ আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবসমূহ শ্রবণ ও তা অনুসরণ করা থেকে বিরত রেখেছে; ফলে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে সে তা করতে সক্ষম নয়। আর এই [সক্ষমতা] হলো কাজের সাথে যুগপৎ থাকা সক্ষমতা যা কাজটিকে অবধারিত করে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
وأما [الأولى] فلولا وجودها لم يثبت التكليف بقوله: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} [التغابن: 16] وقوله تعالى: {وَالَّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَاّ وُسْعَهَا} [الأعراف: 42] وأمثال ذلك، فهؤلاء المفرطون والمعتدون في أصول الدين إذا لم يستطيعوا سمع ما أنزل إلى الرسول فهم من هذا القسم.

وكذلك أيضا تنازعهم في [المأمور به] الذي علم الله أنه لا يكون أو أخبر مع ذلك أنه لا يكون، فمن الناس من يقول أن هذا غير مقدور عليه.

كما أن غالية القدرية يمنعون أن يتقدم علم الله، وخبره، وكتابه بأنه لا يكون. وذلك لاتفاق الفريقين على أن خلاف المعلوم لا يكون ممكنا، ولا مقدورا عليه. وقد خالفهم في ذلك جمهور الناس. وقالوا: هذا منقوض عليهم بقدرة الله تعالى وقالوا: أن الله يعلمه على ما هو عليه فيعلمه ممكنا مقدورا للعبد؛ غير واقع، ولا كائن لعدم إرادة العبد له، أو لبغضه إياه، ونحو ذلك، لا لعجزه عنه، وهذا النزاع يزول بتنويع القدرة عليه كما تقدم، فإنه غير مقدور القدرة المقارنة للفعل، وإن كان مقدورا [القدرة المصححة للفعل] التي هي مناط الأمر والنهي.

[وأما النوع الثاني] فكاتفاقهم على أن العاجز عن الفعل لا يطيقه كما لا يطيق الأعمى، والأقطع والزمن نقط المصحف وكتابته والطيران، فمثل هذا النوع قد اتفقوا على أنه غير واقع في الشريعة.
আর [প্রথমটি] প্রসঙ্গে বলা যায় যে, যদি এর অস্তিত্ব না থাকত, তবে তাঁর নিম্নোক্ত বাণীর মাধ্যমে ‘তাকলিফ’ (শারয়ি দায়বদ্ধতা) সাব্যস্ত হতো না: "অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী" [আত-তাগাবুন: ১৬] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে—আমরা কোনো ব্যক্তিকেই তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত ভার প্রদান করি না" [আল-আরাফ: ৪২] এবং এ জাতীয় অন্যান্য আয়াত। সুতরাং দীনের মৌলিক মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে যারা শিথিলতা প্রদর্শনকারী ও সীমালঙ্ঘনকারী, তারা যদি রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা শোনার সামর্থ্য না রাখে, তবে তারা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

তদ্রূপ [আদিষ্ট বিষয়] নিয়েও তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, যেটির ব্যাপারে আল্লাহ জানতেন যে তা ঘটবে না অথবা এ সত্ত্বেও তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে তা ঘটবে না। মানুষের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা বলে যে, এটি বান্দার ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত নয়।

যেমন ক্বাদারিয়াদের চরমপন্থীরা অস্বীকার করে যে, কোনো কিছু না ঘটার ব্যাপারে আল্লাহর জ্ঞান, সংবাদ ও লিখন পূর্ব থেকেই বিদ্যমান থাকে। আর তা এই কারণে যে, উভয় পক্ষই এই বিষয়ে একমত যে, আল্লাহর জানা বিষয়ের বিপরীত কিছু হওয়া সম্ভব নয় এবং তা ক্ষমতার আওতাধীনও নয়। তবে এ বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ তাদের বিরোধিতা করেছেন। তারা বলেছেন: মহান আল্লাহর ক্ষমতার মাধ্যমে তাদের এই দাবি খণ্ডন করা যায়। তারা বলেছেন: আল্লাহ কোনো বিষয়কে ঠিক সেভাবেই জানেন যেমনটি তার স্বরূপ, ফলে তিনি একে বান্দার জন্য সম্ভব এবং তার ক্ষমতার আওতাধীন হিসেবেই জানেন; কিন্তু বান্দার ইচ্ছা না থাকা বা সেটির প্রতি তার অনীহা থাকা অথবা এ জাতীয় অন্য কোনো কারণে তা বাস্তবে ঘটে না বা অস্তিত্ব লাভ করে না, তার অক্ষমতার কারণে নয়। ক্ষমতার প্রকারভেদের মাধ্যমে এই বিবাদের নিরসন হয় যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে; কেননা এটি কর্মের সমকালীন ক্ষমতার বিবেচনায় সাধ্যাতীত, যদিও তা সেই কর্ম-সম্পাদনযোগ্য ক্ষমতার আওতাধীন যা আদেশ ও নিষেধের মূল ভিত্তি।

[আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো] যেমন তাদের ঐক্যমত যে, কোনো কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তি সেই কাজ করার শক্তি রাখে না; যেমন অন্ধ ব্যক্তি, অঙ্গহীন ব্যক্তি এবং পঙ্গু ব্যক্তি মুসহাফে নুকতা দেওয়া, তা লেখা বা আকাশে ওড়ার সামর্থ্য রাখে না। এই প্রকারের বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন যে, শরীয়তে এমন কোনো বিষয় সাব্যস্ত নয়।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী উসূলিদ দীন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وإنما تنازعوا في جواز الأمر به عقلا، حتى نازع بعضهم في [الممتنع لذاته] كالجمع بين الضدين والنقيضين هل يجوز الأمر به من جهة العقل مع أن ذلك لم يرد في الشريعة؟ ومن غلا فزعم وقوع هذه الضرب في الشريعة كمن يزعم أن أبا لهب كلف بأن يؤمن بأنه لا يؤمن فهو مبطل في ذلك عند عامة أهل القبلة من جميع الطوائف. بل إذا قدر أنه أخبر بصليه النار المستلزم لموته على الكفر وأنه أسمع هذا الخطاب، ففي هذا الحال انقطع تكليفه، ولم ينفعه الإيمان حينئذ كإيمان من يؤمن بعد معاينة العذاب قال تعالى: {فَلَمْ يَكُ يَنفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا} [غافر: 85] وقال تعالى: {آلآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ} [يونس: 91] .

والمقصود هنا التنبيه على أن النزاع في هذا الأصل يتنوع تارة إلى الفعل المأمور به وتارة إلى جواز الأمر. ومن هنا شبه من شبه من المتكلمين على الناس حيث جعل القسمين قسما واحدا، وادعى تكليف ما لا يطاق مطلقا لوقوع بعض الأقسام التي لا يجعلها عامة المسلمين من باب ما لا يطاق. والنزاع فيها لا يتعلق بمسائل الأمر والنهي؛ وإنما يتعلق بمسائل القضاء والقدر.

ثم إنه جعل جواز هذا القسم مستلزما لجواز القسم الذي اتفق المسلمون على أنه غير مقدور عليه، وقاس أحد النوعين بالآخر. وذلك من [الأقيسة] التي اتفق المسلمون؛ بل وسائر أهل الملل؛ بل وسائر العقلاء على بطلانها فإن من قاس الصحيح المأمور
তারা কেবল এটি আদিষ্ট হওয়ার বুদ্ধিবৃত্তিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ক করেছেন, এমনকি তাঁদের কেউ কেউ [সত্তাগতভাবে অসম্ভব] বিষয়েও বিতর্ক করেছেন, যেমন দুটি বিপরীত বা দুটি স্ববিরোধী জিনিসের সমাবেশ ঘটানো; বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে কি এর আদেশ দেওয়া বৈধ, যদিও শরিয়তে এর কোনো উদাহরণ নেই? আর যারা চরমপন্থা অবলম্বন করে দাবি করেছেন যে শরিয়তে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে—যেমন কেউ দাবি করেন যে আবু লাহাবকে এই মর্মে ঈমান আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে সে ঈমান আনবে না—তবে সমস্ত ফেরকার আহলে কিবলার সাধারণ আলেমদের মতে তিনি এ বিষয়ে ভ্রান্ত। বরং যদি ধরে নেওয়া হয় যে তাকে জাহান্নামে দগ্ধ হওয়ার সংবাদ দেওয়া হয়েছিল যা তার কুফর অবস্থায় মৃত্যুর আবশ্যকীয় দাবি রাখে এবং তাকে এই সম্বোধন শোনানো হয়েছিল, তবে সেই মুহূর্তে তার শরয়ি দায়িত্ব শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তখন ঈমান আনা তার কোনো উপকারে আসত না, যেমন আজাব প্রত্যক্ষ করার পর ঈমান আনয়নকারীর ঈমান কোনো কাজে আসে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যখন তারা আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন তাদের ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসল না" [গাফির: ৮৫]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "এখন? অথচ তুমি ইতিপূর্বে নাফরমানি করেছিলে এবং তুমি ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে" [ইউনুস: ৯১]।

আর এখানে উদ্দেশ্য হলো এই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যে, এই মূলনীতির ক্ষেত্রে বিবাদ কখনো আদিষ্ট কাজের প্রকারভেদে হয়, আবার কখনো আদেশের বৈধতার ক্ষেত্রে হয়। এখান থেকেই ইলমে কালামের একদল পণ্ডিত মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন, যেখানে তারা এই দুটি বিভাগকে এক করে ফেলেছেন এবং অসাধ্য কাজের দায়িত্বারোপের দাবি করেছেন নিঃশর্তভাবে; কারণ এমন কিছু প্রকারের বিষয় ঘটেছে যেগুলোকে সাধারণ মুসলিমগণ অসাধ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন না। আর এ সংক্রান্ত বিবাদ আদেশ ও নিষেধের মাসআলাসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়; বরং তা কাজা ও কদরের মাসআলাসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট।

অতঃপর তিনি এই প্রকারের বৈধতাকে সেই প্রকারের বৈধতার জন্য আবশ্যকীয় সাব্যস্ত করেছেন যেটিকে মুসলিমগণ অসাধ্য হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং তিনি এক প্রকারকে অন্য প্রকারের সাথে তুলনা করেছেন। এটি এমন এক [কিয়াস বা তুলনা] যার অসারতার ওপর মুসলিমগণ, বরং সমস্ত ধর্মের অনুসারীগণ, এমনকি সমস্ত বিবেকবান মানুষ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। কেননা যে ব্যক্তি সুস্থ আদিষ্ট ব্যক্তিকে তুলনা করল...