(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: -)
رسالة إلى أهل الثغر بباب الأبواب   (أبو الحسن الأشعري)

القسم: العقيدة


الكتاب: رسالة إلى أهل الثغر بباب الأبواب

المؤلف: أبو الحسن علي بن إسماعيل بن إسحاق بن سالم بن إسماعيل بن عبد الله بن موسى بن أبي بردة بن أبي موسى الأشعري (ت 324هـ)

المحقق: عبد الله شاكر محمد الجنيدي

الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية

الطبعة: 1413هـ

عدد الصفحات: 198

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বাব আল-আবোয়াবের সীমান্তবাসীদের প্রতি পত্র   (আবুল হাসান আল-আশআরী)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: বাব আল-আবোয়াবের সীমান্তবাসীদের প্রতি পত্র

লেখক: আবুল হাসান আলী বিন ইসমাঈল বিন ইসহাক বিন সালিম বিন ইসমাঈল বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসা বিন আবি বুরদাহ বিন আবি মুসা আল-আশআরী (মৃত্যু ৩২৪ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুল্লাহ শাকির মুহাম্মাদ আল-জুনাইদী

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: ১৪১৩ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিলপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

رسالة إلى أهل الثغر بباب الأبواب: لأبي الحسن الأشعري (ت/ 324 هـ)

تحقيق ودراسة: عبد الله شاكر محمد الجنيدي

شكر وتقدير

الحمد الله الذي بنعمته تتم الصالحات، والصلاة والسلام على نبينا محمد الداعي إلى مكافأة صانع الجميل .. وبعد:

فقد وفقني الله عز وجل ومنَّ عليَّ بالانتهاء من إعداد هذه الرسالة وأرى من الواجب عليَّ أن أعترف بالفضل لأهله، لذا أتقدم بخالص شكري وتقديري لفضيلة أستاذي الدكتور/ علي ابن محمد ناصر فقيهي .. المشرف على هذه الرسالة، والذي لم يدخر وسعاً في توجيهي، وإبداء ملاحظته حول ما أكتب فجزاه الله أحسن الجزاء.

كما أقدم خالص شكري وتقديري لفضيلة الأستاذ الشيخ حماد بن محمد الأنصاري الذي تفضل مشكوراً فقرأ كثيراً من هذه الرسالة، وفتح لي بيته ومكتبته في أي وقت أريد.

كما أقدم خالص شكري وتقديري لكل من قدم لي عوناً أياً كان من الأساتذة والزملاء، ولكل من ساهم في إخراج هذا البحث.

وفي الختام أتوجه إلى الله جل ذكره وأسأله أن يوفقنا جميعاً لما يحبه ويرضاه، وأن يجعل عملنا خالصاً لوجهه والدار الآخرة.
ভূমিকা

…

রিসালা ইলা আহলিল সাগুর বি-বাবিল আবওয়াব: আবুল হাসান আল-আশআরি (মৃত্যু: ৩২৪ হিজরি) কর্তৃক লিখিত

সম্পাদনা ও গবেষণা: আব্দুল্লাহ শাকির মুহাম্মদ আল-জুনাইদি

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও স্বীকৃতি

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে সৎকাজসমূহ পূর্ণতা পায়। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর, যিনি কল্যাণকর্মীকে প্রতিদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন... অতঃপর:

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আমাকে এই রিসালাটি (পত্রটি) প্রস্তুত করার সমাপ্তি টানার তাওফিক দিয়েছেন এবং আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আমি মনে করি যে, গুণীজনের গুণের স্বীকৃতি দেওয়া আমার কর্তব্য। তাই আমি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ডক্টর আলী ইবনে মুহাম্মদ নাসের ফাকিহি-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যিনি এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তিনি আমাকে দিকনির্দেশনা প্রদানে এবং আমার লেখার ওপর তাঁর পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করতে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেননি। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

একইভাবে আমি শ্রদ্ধেয় উস্তাদ শাইখ হাম্মাদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা নিবেদন করছি, যিনি অনুগ্রহপূর্বক এই রিসালাটির অনেক অংশ পাঠ করেছেন এবং আমার জন্য যখনই প্রয়োজন হয়েছে তাঁর ঘর ও লাইব্রেরির দ্বার উন্মুক্ত রেখেছেন।

আমি আরও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সেই সমস্ত শিক্ষক ও সহকর্মীদের প্রতি যারা আমাকে যেকোনো ধরণের সাহায্য করেছেন, এবং যারা এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।

পরিশেষে আমি আল্লাহ জাল্লা জিকরুহু-এর অভিমুখী হচ্ছি এবং তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাদের সকলকে তাঁর প্রিয় ও পছন্দনীয় কাজের তাওফিক দান করেন এবং আমাদের এই আমলকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য এবং পরকালের কল্যাণে কবুল করেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمة

إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} . {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} . {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} .

وبعد: فمن نعمة الله على هذه الأمة أن أرسل فيها النبي العربي صلى الله عليه وسلم، وأنزل عليه الكتاب الكريم الهادي إلى صراط الله المستقيم، وأكمل الله عز وجل لهذه الأمة دينها ولم يقبض نبيه إليه إلا بعد ما بلّغ البلاغ المبين التام، وترك رجالاً فقهوا الكتاب والسنة وتمسكوا بهما، وكانوا جميعاً على عقيدة صحيحة واضحة ربطت بينهم وجمعتهم على كلمة واحدة، وقد خلف هذا الجيل جيل التابعين الذين كانوا خير خلف لأعظم سلف ورثوا الكتاب والسنة وساروا على هدى النبوة.

وقد كان الصحابة، والتابعون يجاهدون في سبيل الله لإعلاء كلمته ونشر دينه، وتم لهم فتح كثير من البلدان والأقاليم، ودخل معظم أبناء هذه البلاد في دين الإسلام، وقد كانت هذه الأقاليم المفتوحة عامرة بالديانات والمذاهب الباطلة، وكان دخول الإسلام فيها على حساب هذه المذاهب والديانات، مما أثار بغض أصحاب النفوس الضعيفة من أهل هذه البلاد للإسلام وأهله، فدخلوا فيه ومعهم معتقداتهم الباطلة، وقاموا بنشرها بين صفوف المسلمين بالخداع والتمويه، فظهرت الفرق الكلامية المختلفة، كما برز دعاة الباطنية وأرادوا القضاء على الإسلام وأهله، ونشأ بسبب ذلك الاختلاف والتفرق بين صفوف الأمة، وكثر الجدل في المسائل الاعتقادية كالكلام في القدر والصحابة ومرتكب
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।" "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট চাও এবং আত্মীয়তা বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।" "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।"

অতঃপর: এই উম্মতের ওপর আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত হলো যে, তিনি তাদের মাঝে আরবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর ওপর আল্লাহর সরল পথের দিশারী মহাগ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। মহান আল্লাহ এই উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর নবীকে নিজের নিকট তুলে নেওয়ার পূর্বেই তিনি সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি এমন কিছু মানুষ রেখে গিয়েছেন যারা কুরআন ও সুন্নাহকে গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন এবং সে দুটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন। তাঁরা সকলেই একটি সঠিক ও স্বচ্ছ আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন যা তাঁদের মাঝে বন্ধন তৈরি করেছিল এবং তাঁদেরকে একই কথার ওপর ঐক্যবদ্ধ করেছিল। এরপর তাঁদের উত্তরসূরী হিসেবে তাবেঈদের প্রজন্ম এসেছিল, যারা শ্রেষ্ঠ পূর্বসূরীদের (সালাফ) জন্য শ্রেষ্ঠ উত্তরসূরী ছিলেন। তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহর উত্তরাধিকার লাভ করেছিলেন এবং নবুওয়াতের হেদায়েতের ওপর চলেছিলেন।

সাহাবীগণ এবং তাবেঈগণ আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত করতে এবং তাঁর দ্বীন প্রচারের লক্ষ্যে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছিলেন। তাঁদের মাধ্যমে অনেক দেশ ও জনপদ বিজিত হয়েছিল এবং এসব অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। এই বিজিত অঞ্চলগুলো বিভিন্ন বাতিল ধর্ম ও মতবাদে পরিপূর্ণ ছিল। এসব মতবাদ ও ধর্মের বিলোপ ঘটিয়েই সেখানে ইসলামের প্রবেশ ঘটেছিল, যা ওইসব অঞ্চলের দুর্বল হৃদয়ের অধিকারী এক শ্রেণির লোকের মনে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করেছিল। ফলে তারা তাদের বাতিল বিশ্বাসগুলো লালন করেই ইসলামে প্রবেশ করে এবং ধোঁকা ও প্রতারণার আশ্রয়ে মুসলিমদের মাঝে তা প্রচার করতে শুরু করে। এর ফলে বিভিন্ন কালামি (তত্ত্ববাদী) দল আত্মপ্রকাশ করে এবং বাতেনি মতবাদের প্রচারকারীরাও প্রকাশ্যে আসে যারা ইসলাম ও মুসলিমদের নির্মূল করতে চেয়েছিল। এর ফলে উম্মতের মাঝে অনৈক্য ও বিভক্তি সৃষ্টি হয় এবং আকিদাগত বিষয়গুলোতে বিতর্কের আধিক্য দেখা দেয়, যেমন তাকদির, সাহাবীগণ এবং কবিরা গুনাহগার ব্যক্তির পরিণাম সংক্রান্ত আলোচনা।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ৬)
الكبيرة، والذات الإلهية وما ينبغي لها من الصفات وسائر الأمور الغيبية، وكان أصحاب العقيدة الصحيحة في صراع مستمر مع هذه الفرق كلها، وقاموا بالرد عليهم، وألفوا الكتب الكثيرة لتوضيح وشرح عقيدة سلف هذه الأمة على ضوء القرآن والسنة، وبذلوا في سبيل ذلك جهوداً مضنية، ولم يسلموا من أذى الناس وتعذيب الحكام.

ومن الفرق التي برزت في هذا الوقت الجهمية المعطلة لأسماء الله وصفاته، ثم خرجت المعتزلة وأساتذة علم الفلسفة، وعلم الكلام واستبدوا بالرأي والهوى دون نصوص الوحي والهدى، وكانت لهم شوكة ومنعة، ووقف بجانبهم بعض خلفاء العباسيين، وتطاولت ألسنتهم وأيديهم على أئمة أهل السنة والحديث من السلف كالإمام أحمد - رحمه الله تعالى - ثم جاء أبو الحسن الأشعري ونشأ على مذهب المعتزلة في الربع الأخير من القرن الثالث الهجري، وتتلمذ على يد إمام المعتزلة في عصره وهو: أبو علي الجبائي زوج أمه، وبرع الأشعري في علم الكلام على مذهب الاعتزال إلى أن هداه الله عز وجل فخرج عليهم وأعلن براءته منهم، وسلك أولاً الطريقة الكلابية وهي طريقة عبد الله بن سعيد بن كلاب القطان الذي كان يثبت الصفات العقلية كالإرادة والقدرة والسمع والبصر، ويؤوِّل الصفات الخبرية كالوجه واليد والاستواء ثم ختم الله لأبي الحسن الأشعري بالخير فرجع إلى مذهب السلف وقال بقولهم، وانتسب إلى الإمام أحمد بن حنبل، وسيأتي بيان ذلك بتفصيل - إن شاء الله تعالى - في الفصل الثاني من الباب الأول من هذه الرسالة.

ويظهر أن رجوع الأشعري عن الاعتزال في هذا الوقت، ووقوفه ضدهم ناصراً ومؤيداً مذهب السلف الصالح في الوقت الذي شاع فيه مذهب الاعتزال أدى إلى رفع شأنه وعلو منزلته بين الناس، فسرعان ما انتشر أمره وكثر أتباعه في الآفاق، وأرسل إليه الناس من معظم الأقطار يسألونه عن دين الله الحق وعن معتقد السلف الصالح.

وظل الأشعري - بعد رجوعه إلى عقيدة السلف - يدافع عن دين الله الحق ويكتب ويؤلف في الرد على أهل الأهواء، والبدع المخالفين لمذهب السلف إلى أن توفاه الله تعالى، والأشعري كغيره من العلماء المشهورين له أتباع كثيرون، وهؤلاء الأتباع لم يرجعوا كما رجع إمامهم إلى عقيدة السلف في طوره الأخير، بل خالفوا إمامهم الأشعري في كثير من الأمور الاعتقادية، ولم يأخذوا بالمنهج الذي سلكه إمامهم في نهاية حياته بعد رجوعه إلى مذهب السلف، بل بقوا على طريقة عبد الله بن سعيد بن كلاب التي سلكها
কবিরা গুনাহ, এবং আল্লাহর সত্তা ও তাঁর জন্য সমীচীন গুণাবলি এবং অন্যান্য সকল গায়বি বিষয়সমূহ। সঠিক আকিদার অনুসারীরা এই সমস্ত ফেরকার সাথে নিরন্তর সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন এবং তারা তাদের প্রতিবাদ ও জবাব দিয়েছেন। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এই উম্মতের সালাফদের আকিদা স্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করার জন্য তারা অসংখ্য কিতাব রচনা করেছেন এবং এই পথে তারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তারা মানুষের পক্ষ থেকে আসা কষ্ট ও শাসকদের পক্ষ থেকে আসা নির্যাতন থেকেও রেহাই পাননি।

এই সময়ে যে সমস্ত ফেরকা আত্মপ্রকাশ করেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হলো জাহমিয়া, যারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকে অস্বীকার করত। এরপর মুতাজিলা এবং দর্শন ও ইলমুল কালামের পণ্ডিতরা আবির্ভূত হলো এবং তারা ওহির অকাট্য প্রমাণ ও হেদায়াত বাদ দিয়ে কেবল নিজেদের রায় ও প্রবৃত্তির অনুসরণ শুরু করল। তাদের যথেষ্ট প্রতিপত্তি ও প্রভাব ছিল এবং কিছু আব্বাসীয় খলিফাও তাদের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল হাদিসের ইমামগণ যেমন ইমাম আহমাদ—আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন—প্রমুখের ওপর তাদের জবান ও হাত দীর্ঘায়িত হয়েছিল (অর্থাৎ তারা তাঁদের ওপর জুলুম করেছিল)। অতঃপর আবুল হাসান আল-আশআরি হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর শেষ চতুর্থাংশে আগমন করেন এবং তিনি মুতাজিলা মাযহাবের ওপর বেড়ে ওঠেন। তিনি সে সময়ের মুতাজিলা ইমাম আবু আলী আল-জুব্বায়ী—যিনি তাঁর মায়ের স্বামী ছিলেন—এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। আশআরি মুতাজিলা মাযহাব অনুযায়ী ইলমুল কালামে পারদর্শী হয়ে ওঠেন, যতক্ষণ না মহান আল্লাহ তাঁকে হেদায়াত দান করলেন। এরপর তিনি তাদের থেকে বেরিয়ে আসলেন এবং তাদের সাথে নিজের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন। তিনি শুরুতে কুল্লাবিয়াহ পদ্ধতি অবলম্বন করেন, যা ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে কুল্লাব আল-কাত্তানের পদ্ধতি। ইবনে কুল্লাব আকলি বা যুক্তিনির্ভর গুণাবলি যেমন ইচ্ছা, ক্ষমতা, শ্রবণ ও দর্শন সাব্যস্ত করতেন এবং খবরি বা বর্ণনাগত গুণাবলি যেমন চেহারা, আল্লাহর হাত ও আল্লাহর উঠা-এর তাবিল (অপব্যাখ্যা) করতেন। অতঃপর আল্লাহ আবুল হাসান আল-আশআরিকে কল্যাণের মাধ্যমে সমাপ্তি দান করলেন, ফলে তিনি সালাফদের মাযহাবে ফিরে আসলেন এবং তাঁদের মতই গ্রহণ করলেন। তিনি নিজেকে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের সাথে সম্পৃক্ত করলেন। এ বিষয়টির বিস্তারিত বিবরণ—ইনশাআল্লাহ—এই রিসালার প্রথম অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আসবে।

দেখা যায় যে, এই সময়ে আশআরির মুতাজিলা মতবাদ ত্যাগ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সালাফে সালেহিনের মাযহাবের সাহায্যকারী ও সমর্থনকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা—যখন মুতাজিলা মতবাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল—লোকদের মধ্যে তাঁর মান-মর্যাদা ও সম্মান বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। দ্রুতই তাঁর খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং দিগন্তজুড়ে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। অধিকাংশ দেশ থেকে মানুষ আল্লাহর সত্য দ্বীন এবং সালাফে সালেহিনের আকিদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য তাঁর কাছে পত্র পাঠাতে লাগল।

সালাফদের আকিদার দিকে ফিরে আসার পর আশআরি মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর সত্য দ্বীনের প্রতিরক্ষা করতে থাকেন এবং সালাফদের মাযহাবের বিরোধী বিদআতি ও প্রবৃত্তি পূজারীদের খণ্ডনে কিতাব লিখতে ও রচনা করতে থাকেন। অন্য সব বিখ্যাত আলেমদের মতো আশআরিরও বহু অনুসারী ছিল। কিন্তু এই অনুসারীরা তাদের ইমামের মতো সালাফদের আকিদার দিকে তাঁর শেষ অবস্থায় ফিরে আসেনি; বরং তারা অনেক আকিদাগত বিষয়ে তাদের ইমাম আশআরির বিরোধিতা করেছে। তারা তাদের ইমামের জীবনের শেষ প্রান্তে সালাফদের মাযহাবে ফিরে আসার পর তিনি যে মানহাজ বা পথ অনুসরণ করেছিলেন তা গ্রহণ করেনি; বরং তারা আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে কুল্লাবের পদ্ধতিতেই অনড় থেকে গেল যা তিনি আগে অনুসরণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ৭)
الأشعري بعد خروجه على الاعتزال وقبل أن يمحص عقيدته بالرجوع الكامل إلى مذهب السلف - وسيأتي الكلام حول ذلك بتفصيل إن شاء الله تعالى.

وظل أتباعه إلى يومنا هذا يسلكون منهجاً مخالفاً لمنهج الأشعري الجديد مع انتسابهم إليه، وظنوا في أنفسهم كما ظن بهم غيرهم أنهم حقاً هم أهل السنة والجماعة، والواقع يرفض ذلك، وإن كتب الأشعري التي كتبها على طريقة السلف وكتب أتباعه المخالفة لعقيدة السلف والمشهورة لخير دليل على ما نقول.

وكان الأحرى والأولى بالمنتسبين إلى الأشعري أن يقفوا على منهجه بدقة، ويقولوا بقوله الذي لقي الله عليه، أو يتركوا الانتساب إليه إحقاقاً للحق ووضعاً للأمور في نصابها، وحتى لا تخدع العامة بهم فيأخذوا قولهم على أنه قول أهل السنة والجماعة والأمر ليس كذلك..

ولتوضيح هذه الحقيقة اخترت كتاباً من كتب الأشعري لتحقيقه والتعليق عليه، ولبيان مدى موافقة الأشعري فيه لمنهج السلف ومعتقدهم، ومن ثم يظهر لنا مدى مخالفة الأشعريين الذين انتسبوا إلى الأشعري لإمامهم وأستاذهم.

وليس لي هدف من وراء ذلك إلا إنصاف الأشعري، ودعوة أتباعه إلى سلوك طريقته ومنهجه الذي لقي الله عليه، مع الوقوف التام على مذهب السلف أهل السنة والحديث كالإمام البخاري وأحمد بن حنبل والدارمي وغيرهم، ولهم - ولله مزيد الحمد والفضل - في كل عصر ومصر أتباع يقولون بقولهم ويعتقدون بعقيدتهم، وهم حقاً أهل السنة والجماعة. أصحاب الحديث والأثر وأعلام السلف.

ويجب على جميع الجماعات الإسلامية الجامعات كذلك أن تقف عند عقيدتها وتفحصها لترى مدى مطابقتها لمذهب السلف في أصول الدين أم لا، وخاصة في العصر الذي نعيش فيه اليوم، حيث جهل معظم الناس العقيدة السلفية الصحيحة، واتبعوا أهل الأهواء والبدع وسلكوا طريقة الفلاسفة والمتكلمين، وتركوا طريقة سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم.

ولقد ذكر ذلك الدكتور ((سامي النشار)) و ((جمعة طالبي)) في مقدمة كتاب ((عقائد السلف)) فقال: "إن المؤسسات الثقافية الكبرى عندنا كالأزهر وبقية الجامعات لم تولها أيَّ اهتمام ولا اعتبار في مناهجها ودراستها ذلك أن الدارسين اعتمدوا على كتب المتأخرين
আল-আশআরী মুতাজিলা মতবাদ ত্যাগ করার পর এবং সালাফগণের মানহাজে পূর্ণরূপে ফিরে আসার মাধ্যমে নিজের আকিদা পরিশুদ্ধ করার আগে - ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।

আর আজ পর্যন্ত তার অনুসারীরা তার প্রতি নিজেদের সম্বন্ধ করা সত্ত্বেও আল-আশআরীর নতুন মানহাজের বিপরীত পথ অবলম্বন করে আসছে। তারা নিজেদের সম্পর্কে যেমন ধারণা করেছে এবং অন্যরা তাদের সম্পর্কে যেমন ধারণা করেছে যে তারাই মূলত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত; অথচ বাস্তবতা তা অস্বীকার করে। আল-আশআরী সালাফগণের পদ্ধতিতে যেসকল কিতাব লিখেছেন এবং তার অনুসারীদের সালাফগণের আকিদাবিরোধী যেসকল প্রসিদ্ধ কিতাব রয়েছে, তা আমাদের বক্তব্যের সপক্ষে সর্বোত্তম প্রমাণ।

আল-আশআরীর সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের জন্য এটিই অধিক সমীচীন ও কাম্য ছিল যে, তারা তার মানহাজকে সূক্ষ্মভাবে জানবে এবং তিনি যে মতাদর্শের ওপর আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন সেই কথাই বলবে; অথবা সত্য প্রতিষ্ঠাকল্পে এবং বিষয়গুলোকে সঠিক স্থানে বিন্যস্ত করার জন্য তার দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করা বর্জন করবে। যাতে সাধারণ মানুষ তাদের দ্বারা প্রতারিত না হয় এবং তাদের কথাকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের কথা হিসেবে গ্রহণ না করে, অথচ বিষয়টি সেরকম নয়।

এই বাস্তবতা স্পষ্ট করার জন্য আমি আল-আশআরীর কিতাবসমূহের মধ্য থেকে একটি কিতাব তাহকিক ও তার ওপর টীকা প্রদানের জন্য নির্বাচন করেছি, যাতে আল-আশআরী এই কিতাবে সালাফগণের মানহাজ ও আকিদার সাথে কতটুকু একমত ছিলেন তা বর্ণনা করা যায়। এর মাধ্যমে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হবে যে, আল-আশআরীর দিকে নিজেদের সম্বন্ধকারী আশআরীগণ তাদের ইমাম ও উস্তাদের কতটুকু বিরোধিতা করেছেন।

এর পেছনে আমার উদ্দেশ্য আল-আশআরীর প্রতি ইনসাফ করা এবং তার অনুসারীদেরকে সেই পথ ও মানহাজ অনুসরণের দাওয়াত দেওয়া যার ওপর তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এর সাথে সাথে সালাফে সালেহীন তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল হাদিস - যেমন ইমাম বুখারী, আহমাদ বিন হাম্বল, আদ-দারিমি এবং অন্যান্যদের মাযহাবের ওপর পূর্ণরূপে অটল থাকা। আর প্রত্যেক যুগে ও জনপদে তাদের এমন অনুসারী রয়েছে - সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহর - যারা তাদের ন্যায় কথা বলেন এবং তাদের আকিদা পোষণ করেন; আর তারাই প্রকৃত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত, আসহাবুল হাদিস ওয়াল আসার এবং সালাফগণের দিকপাল।

সকল ইসলামী দল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপরও আবশ্যক হলো তারা যেন তাদের আকিদার বিষয়ে সতর্ক হয় এবং তা যাচাই করে দেখে যে, দ্বীনের মূলনীতির ক্ষেত্রে তা সালাফগণের মাযহাবের সাথে সংগতিপূর্ণ কি না। বিশেষ করে বর্তমান যুগে, যেখানে অধিকাংশ মানুষ সঠিক সালাফী আকিদা সম্পর্কে অজ্ঞ এবং তারা প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতিদের অনুসরণ করছে এবং দার্শনিক ও কালাম শাস্ত্রবিদদের পথ অবলম্বন করেছে; আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথ বর্জন করেছে।

ডক্টর সামি আন-নাশশার এবং জুমআ তালবি 'আকায়িদুস সালাফ' কিতাবের ভূমিকায় এ কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "আমাদের বড় বড় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন আল-আজহার এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের পাঠ্যসূচি ও গবেষণায় এর প্রতি কোনো গুরুত্ব বা বিবেচনা প্রদান করেনি। কারণ শিক্ষার্থীরা পরবর্তী যুগের লেখকদের কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করেছে..."
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ১১)
المشوبة بكثير من الأنظار الغربية، وآراء عهد انحطاط الحضارة الإسلامية، مع أن المنهج العلمي التاريخي الصحيح يقتضي أن ترجع إلى الأصول الأولى في كل شيء"1.

وختاماً أتوجه بدعوة كل أشعري ينتسب إلى أبي الحسن الأشعري أن يجرد نفسه من كل عصبية، ويقف على مذهب شيخه كما جاء في كتبه كالمقالات والإبانة ورسالة أهل الثغر، ويلزم منهج شيخه الأخير الذي رجع فيه إلى مذهب السلف، وقال بقول الإمام ((أحمد بن حنبل)) كما ذكر ذلك في مقدمة كتابه الإبانة، والله من وراء القصد وهو ولينا ونعم النصير.

--------------------------------------------

1 انظر: كتاب عقائد السلف للنشار وطالبي ص5.
যা অনেক পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইসলামি সভ্যতার পতনের যুগের মতামতে কলুষিত, যদিও সঠিক ঐতিহাসিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি দাবি করে যে সবকিছুর মূল উৎসে ফিরে যেতে হবে"১।

পরিশেষে, আমি আবু হাসান আল-আশআরীর দিকে নিজেকে সম্বন্ধকারী প্রতিটি আশআরীর প্রতি আহ্বান জানাই যেন তারা নিজেকে যাবতীয় গোঁড়ামি থেকে মুক্ত করে এবং তাদের শাইখের মাযহাব সম্পর্কে অবগত হয়, যেভাবে তা তাঁর কিতাবসমূহ যেমন ‘আল-মাকালাত’, ‘আল-ইবানা’ এবং ‘রিসালাতু আহলিত সাগ্‌র’-এ বর্ণিত হয়েছে। আর তারা যেন তাদের শাইখের সেই শেষ জীবনের মানহাজকে আঁকড়ে ধরে যার দিকে তিনি ফিরে এসেছিলেন অর্থাৎ সালাফদের মাযহাব, এবং তিনি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের বক্তব্যের ন্যায় কথা বলেছেন—যেমনটি তিনি তাঁর কিতাব ‘আল-ইবানা’-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই মূল লক্ষ্য এবং তিনিই আমাদের অভিভাবক ও কতই না উত্তম সাহায্যকারী।

--------------------------------------------

১ দেখুন: আন-নাশার এবং তালিবী রচিত ‘আকাইদ আস-সালাফ’ কিতাব, পৃষ্ঠা ৫।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الباب الأول: التعريف بالمؤلف

‌‌الفصل الأول: عصر المؤلف

‌‌المبحث الأول: الناحية السياسية

…

المبحث الأول الناحية السياسية

عاش الأشعري رحمه الله في الفترة الواقعة ما بين عام ستين ومائتين حيث كانت ولادته، وعام أربعة وعشرين وثلاثمائة حيث كانت وفاته، وفي هذه الفترة بدأ الضعف يشق طريقه في الدولة العباسية، وبدأ معظم أطرافها يقوم بحركات انفصالية عنها بجانب الثورات الكثيرة التي كانت تقع، وظهرت القرامطة بسواد الكوفة1، وهم قوم خوارج زنادقة، مارقة من الدين، وكان ذلك في عام ثمانية وسبعين مائتين، كما ظهر بالبحرين أبو سعيد الجنابي القرمطي2، وقويت شوكته، وعاث في الأرض فساداً وتبعه خلق كثير، كما حاصر أحد أتباعه وهو يحيى بن ذكرويه دمشق، ودخل أخوه حلب وقتل فيها تسعة آلاف3، واستمروا يغزون هذه البلاد حتى دخلوا البصرة وفعلوا فيها أكثر ما فعلوا في دمشق.

كما ظهر العبيديون في مصر وملكوا جيزة الفسطاط في عام ثمانية وثلاثمائة4، كما ظهر الديلم في بلاد الريّ، وأخذت الروم سميساط واستباحوها وضربوا الناقوس في الجامع5.

وخلاصة ما يمكن أن يقال عن وضع الدولة في هذا الوقت ما ذكره أحمد أمين في قوله: "أهم مظهر يأخذ بالأبصار في ذلك العصر ما حصل للدولة الإسلامية من الانقسام، فقد كانت المملكة الإسلامية كلها في العصر العباسي الأول - إذا استثنينا

الأندلس وبعض بلاد المغرب - تكون كتلة واحدة تخضع خضوعاً تاماً للخليفة في بغداد، هو الذي يعين ولاتها، وإليه يجبى خراجها وإليه يرجع في إدارتها وقضائها وجندها وحل مشاكلها، ويدعى له على المنابر وتضرب السكة باسمه، ونحو ذلك من مظاهر السلطان، ثم أخذ هذا السلطان يقل شيئاً فشيئاً، وأخذ يخشى ولاتها وأمراؤها بعضهم بأس بعض، ويضرب بعضهم بعضاً، فصارت المملكة الإسلامية عبارة عن دول متعددة مستقلة، علاقة بعضها بالبعض الآخر علاقة محالفة أحياناً، وعداء غالباً، وأصبح لكل دولة مالها وجندها وإدارتها وقضاؤها وسكتها وأميرها، إن اعترف بعضها بالخليفة في بغداد حيناً من الزمن فاعتراف ظاهري ليس له أثر فعلي، وسودت صحف التاريخ بالقتال المستمر بين هذه الدول، وشغلوا بقتال أنفسهم عن قتال عدوهم، ومن أجل هذا طمع فيهم الروم يغزونهم كل حين، ويستولون على بلادهم شيئاً فشيئاً، حتى الزنج والحبشة كانوا يعتدون على الدولة الفينة بعد الفينة، فينهبون ويسلبون، ولم تعد المملكة الإسلامية مخشية الجانب كما كانت أيام وحدتها، ففي سنة 324هـ (وهي السنة التي مات فيها الأشعري) كانت البصرة في يد ابن رائق، وفارس في يد علي بن بوية، وأصبهان والريّ والجبل في يد أبي علي الحسين بن بوية، والموصل وديار بكر وربيعة في أيدي بني حمدان، ومصر والشام في يد الأخشيديين، وأفريقية والمغرب في يد الفاطميين، وخراسان وما وراء النهر في يد السامانيين، وطبرستان وجرجان في يد ديلم، وخوزستان بيد البريدى، والبحرين واليمامة وهجر بيد القرامطة، ولم يبق للخليفة إلا بغداد وما حولها، وحتى هذه لم يكن فيها إلا الاسم"1.

--------------------------------------------

1 انظر: كتابه ظهر الإسلام 1/90.

1 انظر: البداية والنهاية 11/261، وشذرات الذهب 2/172.

2 انظر: شذرات الذهب 2/190.

3 انظر: شذرات الذهب 2/202.

4 انظر: شذرات الذهب 2/252.

5 انظر: شذرات الذهب 2/269.
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচয়

প্রথম অধ্যায়: লেখকের যুগ

প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

…

প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

আশআরি (রাহিমাহুল্লাহ) ২৬০ হিজরি থেকে ৩২৪ হিজরি পর্যন্ত সময়কালে জীবিত ছিলেন। ২৬০ হিজরিতে তাঁর জন্ম এবং ৩২৪ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু হয়। এই সময়ে আব্বাসীয় খিলাফতে দুর্বলতা প্রবেশ করতে শুরু করে এবং এর অধিকাংশ প্রান্তীয় অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে, সেই সাথে অসংখ্য বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। কুফার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কারামাতিয়াদের উদ্ভব ঘটে (১), যারা ছিল ধর্মত্যাগী যিনদিক ও খারেজি একটি সম্প্রদায়। এটি ছিল ২৭৮ হিজরির ঘটনা। একইভাবে বাহরাইনে আবু সাঈদ আল-জান্নাবি আল-কারামাতির (২) আবির্ভাব ঘটে, যার শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং সে পৃথিবীতে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। বহু লোক তার অনুসারী হয়। তার জনৈক অনুসারী ইয়াহইয়া ইবনে যাকরাওয়াই দামেস্ক অবরোধ করে এবং তার ভাই হালাবে (আলেপ্পো) প্রবেশ করে সেখানে নয় হাজার মানুষকে হত্যা করে (৩)। তারা এই দেশগুলোতে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে, এমনকি তারা বসরায় প্রবেশ করে সেখানে দামেস্কের চেয়েও ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়।

একইভাবে মিশরে উবায়দিদের উদ্ভব ঘটে এবং তারা ৩০৮ হিজরিতে ফুস্তাতের গিজা দখল করে নেয় (৪)। রাই অঞ্চলে দাইলামীদের উত্থান ঘটে। রোমানরা সুমাইসাত দখল করে সেখানে লুটতরাজ চালায় এবং জামে মসজিদে গির্জার ঘণ্টা বাজায় (৫)।

সেই সময়ে রাষ্ট্রের অবস্থা সম্পর্কে সারসংক্ষেপে যা বলা যায়, তা আহমদ আমিনের এই বক্তব্যে ফুটে ওঠে: "ঐ যুগের সবচেয়ে দৃষ্টিগোচর বৈশিষ্ট্য ছিল ইসলামি সাম্রাজ্যের যে বিভাজন ঘটেছিল তা। প্রথম আব্বাসীয় যুগে সমগ্র ইসলামি সাম্রাজ্য—আন্দালুস ও মাগরিবের কিছু অংশ বাদ দিলে—একটি অখণ্ড ভূখণ্ড ছিল, যা বাগদাদের খলিফার অধীনে পূর্ণ আনুগত্যে পরিচালিত হতো। তিনিই প্রদেশগুলোর গভর্নর নিযুক্ত করতেন, কর তাঁর নিকট সংগৃহীত হতো এবং প্রশাসনিক, বিচার বিভাগীয়, সামরিক ও সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হতো। মিম্বরগুলোতে তাঁর নামে দোয়া করা হতো এবং তাঁর নামে মুদ্রা মুদ্রিত হতো, যা ছিল তাঁর সার্বভৌমত্বের নিদর্শন। অতঃপর এই ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে। বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নর ও আমিররা একে অপরের শক্তিকে ভয় পেতে শুরু করেন এবং একে অপরের ওপর আক্রমণ চালাতে থাকেন। ফলে ইসলামি সাম্রাজ্য অসংখ্য স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিল কখনও মৈত্রী কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে শত্রুতামূলক। প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থব্যবস্থা, সেনাবাহিনী, প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা, মুদ্রা এবং আমির তৈরি হয়। যদিও কেউ কেউ কিছু সময়ের জন্য বাগদাদের খলিফার প্রতি আনুগত্য স্বীকার করত, তবে তা ছিল কেবল নামমাত্র, যার কোনো বাস্তব প্রভাব ছিল না। ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলো এই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার নিরবচ্ছিন্ন লড়াইয়ের কাহিনীতে কৃষ্ণবর্ণ হয়ে গেছে। তারা শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে লিপ্ত থাকত। এই কারণে রোমানরা তাদের ওপর লোলুপ দৃষ্টি দেয় এবং প্রায়ই আক্রমণ চালিয়ে অল্প অল্প করে তাদের ভূখণ্ড দখল করতে থাকে। এমনকি জাঞ্জ (কৃষ্ণাঙ্গ বিদ্রোহী) ও হাবশিরাও মাঝে মাঝে রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ চালিয়ে লুটতরাজ ও ছিনতাই করত। ইসলামি সাম্রাজ্য তার ঐক্যের দিনগুলোর মতো আর প্রতাপশালী ছিল না। ৩২৪ হিজরিতে (যে বছর আশআরি মৃত্যুবরণ করেন) বসরা ছিল ইবনে রাইকের অধীনে, পারস্য ছিল আলী ইবনে বুওয়াইহির অধীনে, ইস্পাহান, রাই ও জাবাল ছিল আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে বুওয়াইহির অধীনে, মসুল, দিয়ার বকর ও রাবিয়াহ ছিল বনু হামদানের অধীনে, মিসর ও সিরিয়া ছিল ইখশিদিদের অধীনে, আফ্রিকা ও মাগরিব ছিল ফাতেমিদের অধীনে, খোরাসান ও মা ওরায়াননহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) ছিল সামানিদের অধীনে, তাবারিস্তান ও জুরজান ছিল দাইলামিদের অধীনে, খুজেস্তান ছিল আল-বারিদির অধীনে, আর বাহরাইন, ইয়ামামা ও হাজার ছিল কারামাতিয়াদের অধীনে। খলিফার হাতে বাগদাদ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না, এমনকি সেখানেও তাঁর ক্ষমতা ছিল কেবল নামমাত্র।" (১)

--------------------------------------------

১. দেখুন: তাঁর গ্রন্থ যুহুরুল ইসলাম ১/৯০।

১. দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/২৬১ এবং শাযারাতুয যাহাব ২/১৭২।

২. দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ২/১৯০।

৩. দেখুন: শাযারাতuয যাহাব ২/২০২।

৪. দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ২/২৫২।

৫. দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ২/২৬৯।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ১২)
الأندلس وبعض بلاد المغرب - تكون كتلة واحدة تخضع خضوعاً تاماً للخليفة في بغداد، هو الذي يعين ولاتها، وإليه يجبى خراجها وإليه يرجع في إدارتها وقضائها وجندها وحل مشاكلها، ويدعى له على المنابر وتضرب السكة باسمه، ونحو ذلك من مظاهر السلطان، ثم أخذ هذا السلطان يقل شيئاً فشيئاً، وأخذ يخشى ولاتها وأمراؤها بعضهم بأس بعض، ويضرب بعضهم بعضاً، فصارت المملكة الإسلامية عبارة عن دول متعددة مستقلة، علاقة بعضها بالبعض الآخر علاقة محالفة أحياناً، وعداء غالباً، وأصبح لكل دولة مالها وجندها وإدارتها وقضاؤها وسكتها وأميرها، إن اعترف بعضها بالخليفة في بغداد حيناً من الزمن فاعتراف ظاهري ليس له أثر فعلي، وسودت صحف التاريخ بالقتال المستمر بين هذه الدول، وشغلوا بقتال أنفسهم عن قتال عدوهم، ومن أجل هذا طمع فيهم الروم يغزونهم كل حين، ويستولون على بلادهم شيئاً فشيئاً، حتى الزنج والحبشة كانوا يعتدون على الدولة الفينة بعد الفينة، فينهبون ويسلبون، ولم تعد المملكة الإسلامية مخشية الجانب كما كانت أيام وحدتها، ففي سنة 324هـ (وهي السنة التي مات فيها الأشعري) كانت البصرة في يد ابن رائق، وفارس في يد علي بن بوية، وأصبهان والريّ والجبل في يد أبي علي الحسين بن بوية، والموصل وديار بكر وربيعة في أيدي بني حمدان، ومصر والشام في يد الأخشيديين، وأفريقية والمغرب في يد الفاطميين، وخراسان وما وراء النهر في يد السامانيين، وطبرستان وجرجان في يد ديلم، وخوزستان بيد البريدى، والبحرين واليمامة وهجر بيد القرامطة، ولم يبق للخليفة إلا بغداد وما حولها، وحتى هذه لم يكن فيها إلا الاسم"1.

--------------------------------------------

1 انظر: كتابه ظهر الإسلام 1/90.
আন্দালুস এবং মাগরিবের কিছু ভূখণ্ড—বাগদাদে অবস্থানরত খলিফার সম্পূর্ণ অনুগত একটি অখণ্ড ব্লকের মতো ছিল। তিনিই তাদের প্রাদেশিক গভর্নরদের নিযুক্ত করতেন, তাঁর কাছেই ভূমিস্বত্ব কর (খরাজ) সংগৃহীত হতো এবং এর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, বিচারব্যবস্থা, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হতো। মিম্বরসমূহে তাঁর নামে খুতবা পাঠ করা হতো এবং তাঁর নামাঙ্কিত মুদ্রা প্রচলিত ছিল; এ জাতীয় বিষয়গুলো ছিল তাঁর সার্বভৌম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। অতঃপর এই কর্তৃত্ব ক্রমশ হ্রাস পেতে শুরু করে এবং এর গভর্নর ও আমিরগণ একে অপরের শক্তিমত্তাকে ভয় করতে শুরু করেন এবং একে অপরকে আক্রমণ করতে থাকেন। ফলে ইসলামী সাম্রাজ্য একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল কখনো মৈত্রীমূলক, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা ছিল শত্রুভাবাপন্ন। প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থব্যবস্থা, সেনাবাহিনী, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, মুদ্রা এবং আমির তৈরি হলো। তারা যদি কখনো বাগদাদের খলিফাকে স্বীকৃতি দিতও, তবে তা ছিল স্রেফ বাহ্যিক স্বীকৃতি, যার কোনো বাস্তব প্রভাব ছিল না। ইতিহাসের পাতাগুলো এই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার নিরন্তর যুদ্ধ-বিগ্রহের কাহিনীতে কলঙ্কিত হয়ে গেল; তারা তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিবর্তে নিজেদের মধ্যকার যুদ্ধেই লিপ্ত রইল। এ কারণেই রোমানরা তাদের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দিল এবং সময় পেলেই তাদের আক্রমণ করতে লাগল এবং ধীরে ধীরে তাদের দেশসমূহ দখল করে নিতে থাকল; এমনকি জাঞ্জ ও হাবশীরাও (আবিসিনিয়া) মাঝে মাঝে ইসলামী রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ চালাতে শুরু করল। তারা লুণ্ঠন ও দখল করত এবং ইসলামী সাম্রাজ্য ঐক্যবদ্ধ থাকাকালীন যে ভীতিপ্রদ অবস্থায় ছিল, তা আর অবশিষ্ট রইল না। হিজরি ৩২৪ সালে (যে বছর ইমাম আল-আশআরি মৃত্যুবরণ করেন) বসরা ছিল ইবনে রায়িকের অধীনে, পারস্য (ফারস) ছিল আলী ইবনে বুয়াইহ-এর দখলে, ইসফাহান, রায় এবং আল-জাবাল ছিল আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে বুয়াইহ-এর অধীনে, মসুল, দিয়ার বকর ও রাবিয়া ছিল হামদানি বংশের নিয়ন্ত্রণে, মিসর ও শাম ছিল ইখশিদিদের হাতে, আফ্রিকা ও মাগরিব ছিল ফাতেমিদের দখলে, খোরাসান ও মা ওয়ারাউন্নাহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) ছিল সামানিদের অধীনে, তাবারিন্তান ও জুরজান ছিল দাইলামের দখলে, খুজিস্তান ছিল আল-বারিদির হাতে, বাহরাইন, ইয়ামামা ও হাজার ছিল কারামাতিদের নিয়ন্ত্রণে; খলিফার জন্য বাগদাদ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকল না, এমনকি এই টুকুতেও খলিফার কর্তৃত্ব ছিল কেবল নামমাত্র।"১

--------------------------------------------

১ দেখুন: তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘যুহুরুল ইসলাম’ ১/৯০।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المبحث الثاني الناحية الاجتماعية

لا شك أن ضعف الناحية السياسية، وضعف سيطرة السلطة الحاكمة - كما رأينا - سيؤثر تأثيراً مباشراً على الناحية الاجتماعية لما بينهما من ارتباط وثيق، فالتمزق الذي ظهر في الدولة والحروب التي وقعت فيها أنهكت البلاد والعباد، وظهر نتيجة لذلك الفقر والضيق وانتشر المرض والفزع والرعب وعدم الاستقرار، كما جاء ذلك في كتب التاريخ.

فمثلاً في العام الذي ولد فيه الأشعري (260هـ) يحدثنا ابن كثير فيقول: "وقع غلاء شديد ببلاد الإسلام كلها حتى أجلي أكثر أهل البلدان منها إلى غيرها، ولم يبق بمكة أحد من المجاورين حتى ارتحلوا إلى المدينة وغيرها من البلاد، وخرج نائب مكة منها، وبلغ كر1 الشعير ببغداد مائة وعشرين ديناراً"2.

وفي العام الذي توفي فيه الأشعري (324هـ) اشتد الجوع وكثر الموت لدرجة أنه مات بأصبهان وحدها نحو مائتي ألف3، وكما كان الفقر شائعاً وظاهراً، كانت الأمراض كذلك.

وهكذا كان الأمر لحال الناس الأمنية، فقد أصاب الناس الفزع والرعب لكثرة الحوادث والحروب ولضيق الحال المادية، ولم يعد أحد يأمن على نفسه وماله وأهله من عبث المجرمين الفاسدين الذين كانوا ينهبون المال والنساء والبيوت4.

--------------------------------------------

1 الكر عند أهل العراق: ستون قفيزاً وهو يساوي اثني عشر وسقاً كل وسق ستون صاعاً. وعند أهل مصر أربعون أردباً. (انظر: لسان العرب 5/137) .

2 انظر: البداية والنهاية 11/31، وشذرات الذهب 2/140.

3 انظر: شذرات الذهب 2/300.

4 انظر: البداية والنهاية 11/83، وشذرات الذهب 2/190.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক প্রেক্ষাপট

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাজনৈতিক দিকের দুর্বলতা এবং শাসক শক্তির নিয়ন্ত্রণের শিথিলতা—যা আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি—সামাজিক পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে; কারণ এ দুয়ের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রে যে বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছিল এবং সেখানে যে যুদ্ধ-বিগ্রহ সংঘটিত হয়েছিল, তা দেশ ও দশকে ক্লান্ত-বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। এর ফলে দারিদ্র্য ও অভাব-অনটন দেখা দেয় এবং রোগব্যাধি, আতঙ্ক, ভীতি ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে, যেমনটি ইতিহাসের বইসমূহে বর্ণিত হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, যে বছর আশআরি জন্মগ্রহণ করেছিলেন (২৬০ হি.), ইবনে কাসির আমাদের জানান যে: "পুরো মুসলিম বিশ্বে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, এমনকি অধিকাংশ শহরের অধিবাসীরা এক শহর থেকে অন্য শহরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল। মক্কায় অবস্থানকারী বহিরাগতদের মধ্যে কেউ অবশিষ্ট ছিল না, তারা মদিনা ও অন্যান্য শহরে চলে গিয়েছিল। মক্কার নায়েব সেখান থেকে বেরিয়ে যান। বাগদাদে এক কুর ১ যবের মূল্য একশ বিশ দিনারে পৌঁছেছিল" ২।

আর যে বছর আশআরি মৃত্যুবরণ করেন (৩২৪ হি.), সে বছর ক্ষুধা তীব্র আকার ধারণ করেছিল এবং মৃত্যুর হার এত বেড়ে গিয়েছিল যে, কেবল ইস্পাহানেই প্রায় দুই লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল ৩। দারিদ্র্য যেমন ব্যাপক ও দৃশ্যমান ছিল, রোগব্যাধিও ছিল তদ্রূপ।

মানুষের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবস্থাও এমনই ছিল। অসংখ্য ঘটনা ও যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং আর্থিক সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছিল। অপরাধী ও ফাসেকদের দৌরাত্ম্য থেকে কেউ নিজের জীবন, সম্পদ ও পরিবার নিয়ে নিরাপদ বোধ করত না, যারা ধন-সম্পদ, নারী ও ঘরবাড়ি লুণ্ঠন করত ৪।

--------------------------------------------

১ ইরাকবাসীদের নিকট 'কুর' হলো: ষাট কাফিজ, যা বারো ওয়াসাক-এর সমান; প্রতি ওয়াসাক হলো ষাট সা'। আর মিশরবাসীদের নিকট তা চল্লিশ আরদাব্ব। (দেখুন: লিসানুল আরব ৫/১৩৭)।

২ দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/৩১, এবং শাজারাতুজ জাহাব ২/১৪০।

৩ দেখুন: শাজারাতুজ জাহাব ২/৩০০।

৪ দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/৮৩, এবং শাজারাতুজ জাহাব ২/১৯০।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المبحث الثالث: الناحية العلمية

إن الناظر في الحالتين السياسية والاجتماعية - كما ذكرت سابقاً - سيقول: إن الناحية العلمية ضعيفة هزيلة شأنها شأن غيرها مما سبق ذكره لما بينهما من علاقة وترابط، ولكن ما حصل للناحية العلمية كان العكس فالفترة التي عاش فيها الأشعري كانت نتيجة لثمرة طيبة أرسى جذورها جهابذة1 هذه الأمة، وكانت هذه الفترة من أزهى عصور الإسلام الثقافية والعلمية، حيث كتب الناس في معظم العلوم.

فالسنة المطهرة كانت قد جمعت بأدق طرق الجمع والتحصيل على يد أئمة السنة والمحدثين، واقتضى ذلك ظهور علم الجرح والتعديل، وهكذا كان الأمر بالنسبة لتفسير القرآن الكريم، فالصحابة ومن بعدهم من التابعين كانوا يعطون هذا الأمر حقه، ويفسرون كتاب الله تعالى بأقوم وأسلم طريق، ولن تجد آية من كتاب الله إلا ولهم فيها قول.

كما أخذ الفقه وأصوله حقه في هذا العصر، حيث كان الفقهاء الأربعة وكانت آثارهم في المسائل العلمية الدقيقة تمت ونضجت قبل الأشعري، وورث الناس عنهم هذا العلم وتداولوه كما برز الأدباء منهم، وكثر التأليف عموماً في مجالات الثقافة المختلفة.

أما من ناحية العقيدة، فكانت في هذه الفترة - رغم تمسك أهل السنة والحديث بعقيدة السلف كالإمام أحمد والبخاري - تمر بمحنة خطيرة نظراً لظهور الفلسفة وعلم الكلام وموافقة بعض خلفاء العباسيين لأهل الكلام على آرائهم ومعتقداتهم، وكان نتيجة ذلك أن تفرقت الأمة، وظهر كثير من المبتدعة والفرق الضالة التي لعبت دوراً كبيراً في إفساد عقائد المسلمين وإحلال الفكر الفلسفي في قلوب الكثير، وإن نظرة خاطفة لكتاب "مقالات الإسلاميين" الذي ألفه الأشعري لخير دليل على ما نقول.

--------------------------------------------

1 جهابذة جمع جهبذ وجهباذ، وهو النقاد الخبير بغوامض الأمور، وهي كلمة معربة عن الفارسية. (انظر: المعجم الوسيط 2/141 من الطبعة الثانية لمجمع اللغة العربية بالقاهرة) .
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক

যে ব্যক্তি রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টিপাত করবে—যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি—সে বলবে: জ্ঞানতাত্ত্বিক দিকটিও পূর্বোল্লিখিত অন্যান্য বিষয়ের মতোই দুর্বল ও কৃশ ছিল, কারণ এগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও যোগসূত্র বিদ্যমান। কিন্তু জ্ঞানতাত্ত্বিক দিকের ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল তা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত; আশআরি যে যুগে বসবাস করতেন তা ছিল এই উম্মাহর বিজ্ঞ মণীষীদের১ দ্বারা রোপিত এক উত্তম ফলের নির্যাস। আর এই সময়কালটি ছিল ইসলামের সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ইতিহাসের অন্যতম স্বর্ণযুগ, যেখানে মানুষ প্রায় সকল বিজ্ঞানে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

পবিত্র সুন্নাহ তখন সুন্নাহর ইমাম ও মুহাদ্দিসগণের মাধ্যমে সংকলন ও সংগ্রহের অত্যন্ত সূক্ষ্ম পদ্ধতিতে সংগৃহীত হয়েছিল। আর এটি 'ইলমুল জারহ ওয়াত তা'দীল' (বর্ণনাকারী যাচাই-বাছাই বিদ্যা) এর উদ্ভবকে আবশ্যক করে তুলেছিল। পবিত্র কুরআনের তাফসীরের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই ছিল; সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের পরবর্তী তাবিঈগণ এই বিষয়টিকে এর যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করতেন এবং আল্লাহর কিতাবকে সবচেয়ে সুদৃঢ় ও নিরাপদ পন্থায় ব্যাখ্যা করতেন। আল্লাহর কিতাবের এমন কোনো আয়াত খুঁজে পাওয়া যাবে না যাতে তাঁদের কোনো বক্তব্য নেই।

একইভাবে এই যুগে ফিকহ ও উসূলে ফিকহ তার প্রাপ্য গুরুত্ব লাভ করেছিল; কেননা চার ইমাম বিদ্যমান ছিলেন এবং সূক্ষ্ম জ্ঞানতাত্ত্বিক মাসআলাগুলোতে তাঁদের অবদান আশআরির পূর্বেই পূর্ণতা ও পরিপক্কতা লাভ করেছিল। মানুষ তাঁদের নিকট থেকে এই জ্ঞান উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিল এবং তা চর্চা করত; পাশাপাশি তাঁদের মধ্য থেকে প্রথিতযশা সাহিত্যিকদেরও উত্থান ঘটেছিল এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রন্থ রচনার ব্যাপক প্রাচুর্য দেখা দিয়েছিল।

আর আকিদার দিক থেকে বিবেচনা করলে, এই সময়কালে—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল হাদিস কর্তৃক ইমাম আহমাদ ও বুখারীর মতো সালাফদের আকিদা আঁকড়ে ধরা সত্ত্বেও—দর্শন ও ইলমুল কালামের প্রাদুর্ভাব এবং কিছু আব্বাসীয় খলিফার পক্ষ থেকে মুতাকাল্লিমদের মতামত ও বিশ্বাসের সাথে একমত পোষণ করার কারণে এটি একটি ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছিল। এর ফলে উম্মাহর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয় এবং অনেক বিদআতি ও পথভ্রষ্ট দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে, যারা মুসলমানদের আকিদা নষ্ট করতে এবং অনেকের অন্তরে দার্শনিক চিন্তাধারা ঢুকিয়ে দিতে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করেছিল। আশআরি রচিত 'মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন' গ্রন্থের ওপর এক পলক দৃষ্টিপাতই আমাদের বক্তব্যের সর্বোত্তম প্রমাণ।

--------------------------------------------

১ জাহাবিযাহ হলো 'জাহবায' ও 'জাহবায'-এর বহুবচন; এর অর্থ হলো এমন বিশেষজ্ঞ সমালোচক যিনি জটিল ও সূক্ষ্ম বিষয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী। এটি ফারসি থেকে আরবীকরণকৃত একটি শব্দ। (দেখুন: আল-মু'জাম আল-ওয়াসীত ২/১৪১, কায়রোর আরবি ভাষা একাডেমি প্রকাশিত দ্বিতীয় সংস্করণ)।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ১৫)
وخلاصة ما يمكن أن يقال عن الناحية العلمية في هذا العصر ما ذكره أحمد أمين في قوله: "… والخلاصة أن الحالة العلمية في أواخر القرن الثالث وفي القرن الرابع كانت أنضج منها في العصر الذي قبله، أخذ علماء هذا العصر ما نقله المترجمون قبلهم فشرحوه وهضموه، وأخذوا النظريات المبعثرة فرتبوها وورثوا ثروة من قبلهم في كل فرع من فروع العلم فاستغلوها"1.

--------------------------------------------

1 انظر: كتاب ظهر الإسلام 1/197.
এই যুগের জ্ঞানতাত্ত্বিক দিক সম্পর্কে যা কিছু বলা যেতে পারে তার সারসংক্ষেপ হলো যা আহমদ আমিন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন: "… সারকথা হলো, তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগে এবং চতুর্থ শতাব্দীতে জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা তার পূর্ববর্তী যুগের তুলনায় অধিকতর পরিপক্ক ছিল। এই যুগের আলেমগণ তাদের পূর্ববর্তী অনুবাদকদের হস্তান্তরিত বিষয়বস্তু গ্রহণ করেন এবং সেগুলোকে ব্যাখ্যা ও আত্মস্থ করেন। তারা বিক্ষিপ্ত তত্ত্বগুলোকে গ্রহণ করে সুবিন্যস্ত করেন এবং বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় তাদের পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করে তার সদ্ব্যবহার করেন।"1.

--------------------------------------------

১ দেখুন: জুহুরুল ইসলাম গ্রন্থ ১/১৯৭।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الفصل الثاني: في سيرة الأشعري

‌‌المبحث الأول: اسمه ونسبه

…

المبحث الأول اسمه ونسبه

هو: علي بن إسماعيل بن أبي بشر إسحاق بن سالم بن إسماعيل بن عبد الله بن موسى بن بلال بن أبي بردة بن أبي موسى الأشعري، وكنيته أبو الحسن1.

--------------------------------------------

1 مصادر ترجمته: الفهرست لابن النديم ص257، تاريخ بغداد للخطيب البغدادي 11/346، الأنساب للسمعاني 1/266، المنتظم في تاريخ الملوك والأمم لابن الجوزي 6/332، وفيات الأعيان وأنباء أبناء الزمان لابن خلكان 3/85، الجواهر المضيئة في طبقات الحنفية لابن أبي الوفاء القرشي الحنفي المصري 1/353، 2/247، العبر في خبر من غبر للذهبي 2/202، طبقات الشافعية الكبرى لتاج الدين السبكي 3/347، البداية والنهاية للحافظ ابن كثير 11/187، الخطط للمقريزي 3/307، النجوم الزاهرة في ملوك مصر والقاهرة لابن تغرابردى الأتابكي 3/303، إتحاف السادة المتقين بشرح إحياء علوم الدين لمرتضى الزبيدي 2/3، الأعلام للزركلي 5/69 دائرة المعارف الإسلامية 3/431.

وقد أفرد الحافظ ابن عساكر كتاباً خاصاً عن الأشعري تكلم فيه عن اسمه ونسبه وحياته وعلمه، وثناء الناس عليه وشيوخه وتلاميذه، كما رد على من طعن فيه وفي نسبه وسمى كتابه: "تبيين كذب المفتري فيما نسب إلى الإمام أبي الحسن الأشعري".

كما كتب فضيلة الشيخ حماد بن محمد الأنصاري رسالة عن الأشعري أبرز فيها الجانب الهام في حياته، ألا وهو: أطواره وعقيدته وذلك تحت عنوان "أبو الحسن الأشعري وعقيدته".
দ্বিতীয় অধ্যায়: আল-আশআরীর জীবনী প্রসঙ্গে

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

...

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

তিনি হলেন: আলী বিন ইসমাঈল বিন আবি বিশর ইসহাক বিন সালিম বিন ইসমাঈল বিন আবদুল্লাহ বিন মুসা বিন বিলাল বিন আবি বুরদাহ বিন আবি মুসা আল-আশআরী; এবং তাঁর উপনাম (কুনিয়া) হলো আবুল হাসান ১।

--------------------------------------------

১. তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ: ইবনে আন-নাদীমের আল-ফিহরিস্ত পৃ. ২৫৭, খতীব আল-বাগদাদীর তারিখ বাগদাদ ১১/৩৪৬, আস-সামআনীর আল-আনসাব ১/২৬৬, ইবনুল জাওযীর আল-মুনতাজাম ফী তারিখিল মুলূক ওয়াল উমাম ৬/৩৩২, ইবনে খাল্লিকানের ওফায়াতুল আইয়ান ওয়া আনবাউ আবনায়িয যামান ৩/৮৫, ইবনে আবিল ওয়াফা আল-কুরাশী আল-হানাফী আল-মিসরীর আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ ফী তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ ১/৩৫৩, ২/২৪৭, আয-যাহাবীর আল-ইবার ফী খবর মান গাবার ২/২০২, তাজুদ্দীন আস-সুবকীর তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৩/৩৪৭, হাফিজ ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/১৮৭, আল-মাকরিযীর আল-খিতাত ৩/৩০৭, ইবনে তাগরীবরদী আল-আতাবেকীর আন-নুজুমুজ জাহিরাহ ফী মুলূকি মিসর ওয়াল কাহিরাহ ৩/৩০৩, মুরতাজা আয-যাবিদীর ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন বি-শরহি ইহয়াই উলূমিদ্দীন ২/৩, আয-যিরিকলীর আল-আলাম ৫/৬৯, ইসলামী বিশ্বকোষ ৩/৪৩১।

হাফিজ ইবনে আসাকির আল-আশআরীর বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেখানে তিনি তাঁর নাম, বংশপরিচয়, জীবন ও ইলম সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে মানুষের প্রশংসা ও তাঁর উস্তাদ ও ছাত্রদের বর্ণনা দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর এবং তাঁর বংশের সমালোচনা ও নিন্দা পোষণকারীদের জবাব দিয়েছেন। তিনি গ্রন্থটির নামকরণ করেছেন: "তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল ইমাম আবিল হাসান আল-আশআরী" (ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরীর প্রতি যা আরোপ করা হয়েছে সে বিষয়ে মিথ্যাবাদীর মিথ্যা প্রকাশ)।

অনুরূপভাবে ফযীলাতুশ শায়খ হাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারী আল-আশআরীর বিষয়ে একটি রিসালাহ (প্রবন্ধ) লিখেছেন, যেখানে তিনি তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ফুটিয়ে তুলেছেন, আর তা হলো: তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায় ও তাঁর আকিদা। প্রবন্ধটির শিরোনাম হলো: "আবুল হাসান আল-আশআরী ওয়া আকিদাতুহু" (আবুল হাসান আল-আশআরী ও তাঁর আকিদা)।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ১৭)
وعلى هذا فالأشعري من سلالة الصحابي الجليل أبي موسى الأشعري رضي الله عنه، وقد ذكر السمعاني أنه قيل له الأشعري؛ لأنه من ولد أبي موسى الأشعري1.

وقد طعن الأهوازي2 في نسبة أبي الحسن إلى جده أبي موسى الأشعري، وقد تولى ابن عساكر الدفاع عن أبي الحسن الأشعري في ذلك ورد على الأهوازي قوله فقال: "وأما حكايته النكرة عن بعض شيوخ البصرة من أن أبا بشر كان يهودياً فأسلم على يدي بعض الأشعريين، فحكاية مفتر عن مجاهيل مفترين، ما حكى أن أحداً نفاه عن أبي موسى الأشعري غير هذا الجاهل المتحامل المفترى، وكيف تجاسر - لا رعاه الله - على هذه الكذبة وهو لا يعرف في الشرق ولا الغرب إلا بهذه النسبة"3.

وقال أيضاً: "وفي إطباق الناس على تسميته بالأشعري تكذيب لما قاله هذا المفتري"4.

كما ذكر الأهوازي أن أبا بشر الوارد في ترجمة الأشعري كنية لأبيه، وأنه كنّي بذلك؛ لأنه غير صحيح النسب، وقد رد ابن عساكر5 ذلك أيضاً، وبين أن أبا بشر جد الأشعري، واسمه إسحاق بن سالم، وهو الصحيح.

وقد نص الخطيب البغدادي على ذلك فقال في ترجمته: "علي بن إسماعيل بن أبي بشر - واسمه إسحاق بن سالم …"6.

والأشعري نسبته إلى "أشعر"، وهي قبيلة مشهورة باليمن من أولاد سبأ، والأشعر هو: نبت بن أدد.

قال ابن الكلبي: "إنما سمي نبت بن أدد بن زيد بن يشجب بن عريب ابن زيد بن كهلان بن سبأ (الأشعري) ، لأن أمه ولدته وهو أشعر، والشعر على كل شيء منه"7.

--------------------------------------------

1 الأنساب للسمعاني 1/267.

2 هو: أبو علي الحسن بن علي بن إبراهيم الأهوازي (ت/ 446هـ) ألف كتاباً باسم: "مثالب ابن أبي بشر" طعن وحمل فيه على الأشعري، ولكتابه نسخة بمكتبة الظاهرية تحت رقم (4521 عام) انظر: تاريخ الآداب العربية لبروكلمان 2/374، وتبيين كذب المفتري لابن عساكر ص369.

3 تبيين كذب المفتري ص375.

4 المرجع السابق ص53، وانظر: رسالة البيهقي للشيخ العميد في التبيين ص102.

5 انظر: تبيين كذب المفتري ص35.

6 انظر: تاريخ بغداد 11/346.

7 انظر: الأنساب للسمعاني 1/266، وتبيين كذب المفتري ص37.
আর এই ভিত্তিতে, আশআরি হলেন মহান সাহাবী আবু মুসা আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর। সামআনি উল্লেখ করেছেন যে, তাকে আশআরি বলা হতো কারণ তিনি আবু মুসা আল-আশআরি-এর বংশধর।১

আর আল-আহওয়াজি২ আবু হাসান (আশআরি)-এর তার দাদা আবু মুসা আল-আশআরি-এর সাথে বংশীয় সম্পর্কের বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন। ইবনে আসাকির এ বিষয়ে আবু হাসান আল-আশআরি-এর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং আল-আহওয়াজির বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেছেন: "বসরার কিছু শাইখ থেকে বর্ণিত তার সেই আপত্তিকর কাহিনী যে, আবু বিশর জনৈক ইহুদি ছিলেন এবং জনৈক আশআরির হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন—এটি মূলত অজ্ঞাত মিথ্যাবাদীদের থেকে বর্ণিত এক মিথ্যা কাহিনী। এই জাহেল, বিদ্বেষী ও মিথ্যাবাদী ছাড়া আর কেউ তাকে আবু মুসা আল-আশআরি-এর বংশ থেকে খারিজ করার কথা উল্লেখ করেনি। সে—আল্লাহ তাকে রক্ষা না করুন—এই মিথ্যার দুঃসাহস কীভাবে দেখালো, অথচ পূর্ব ও পশ্চিমে তাকে কেবল এই সম্পর্কের মাধ্যমেই চেনা যায়?"৩

তিনি আরও বলেছেন: "মানুষের তাকে আশআরি নামে ডাকার ব্যাপারে একমত হওয়া এই মিথ্যাবাদীর বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করে।"৪

আল-আহওয়াজি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আশআরির জীবনীতে বর্ণিত আবু বিশর মূলত তার পিতার উপনাম, এবং তাকে এই উপনাম দেওয়া হয়েছিল কারণ তার বংশ পরিচয় সঠিক ছিল না। ইবনে আসাকির৫ এটিও খণ্ডন করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, আবু বিশর হলেন আশআরির দাদা, যার নাম ইসহাক বিন সালিম, আর এটাই সঠিক।

খতিব আল-বাগদাদি এ বিষয়টি নিশ্চিত করে তার জীবনীতে বলেছেন: "আলী বিন ইসমাইল বিন আবি বিশর—তার নাম হলো ইসহাক বিন সালিম …"৬

আশআরি বংশীয় নিসবতটি "আশআর" এর দিকে সম্পর্কিত, যা ইয়ামেনের একটি বিখ্যাত গোত্র এবং তারা সাবা-এর বংশধর। আশআর হলেন: নাবত বিন আদাদ।

ইবনে আল-কালবি বলেছেন: "নাবত বিন আদাদ বিন যায়দ বিন ইয়াশজুব বিন আরিব বিন যায়দ বিন কাহলান বিন সাবা-কে (আশআরি) নামকরণ করা হয়েছে কেবল এজন্য যে, তার মা যখন তাকে জন্ম দেন তখন তিনি ছিলেন পশমযুক্ত, এবং তার শরীরের প্রতিটি অংশে পশম বিদ্যমান ছিল।"৭

--------------------------------------------

১ সামআনি রচিত আল-আনসাব ১/২৬৭।

২ তিনি হলেন: আবু আলী হাসান বিন আলী বিন ইবরাহিম আল-আহওয়াজি (মৃত্যু: ৪৪৬ হিজরী)। তিনি "মাসালিব ইবনে আবি বিশর" নামে একটি বই রচনা করেন যাতে তিনি আশআরির নিন্দা ও সমালোচনা করেন। তার বইটির একটি পান্ডুলিপি জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে (৪৫২১ সাধারণ) নম্বর অধীনে রয়েছে। দেখুন: ব্রোকলম্যান রচিত তারিখুল আদাবিল আরবি ২/৩৭৪, এবং ইবনে আসাকির রচিত তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ৩৬৯।

৩ তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ৩৭৫।

৪ পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৫৩; আরও দেখুন: শাইখ আল-আমিদ-এর নিকট বায়হাকির পত্র, আত-তাবয়িন, পৃষ্ঠা ১০২।

৫ দেখুন: তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ৩৫।

৬ দেখুন: তারিখু বাগদাদ ১১/৩৪৬।

৭ দেখুন: সামআনি রচিত আল-আনসাব ১/২৬৬, এবং তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ৩৭।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولم أقف على لقب للأشعري في التراجم التي بين أيدينا عنه، إلا أن ابن عساكر ذكر أنه نودي على جنازته "بناصر الدين"1.

وعلى هذا يمكن أن نقول: إن لقب الأشعري هو "ناصر الدين" وإن المسلمين في جنازته هم الذين لقبوه به، ولم يعرف بذلك في حياته، إذ لو عرف لنقل لنا شيء من ذلك، كما أنه غير متداول بين المؤرخين، والله أعلم.

--------------------------------------------

1 انظر: تبيين كذب المفتري ص147.
আশআরীর আমাদের হাতে থাকা জীবনীগ্রন্থগুলোতে আমি তাঁর কোনো উপাধির সন্ধান পাইনি, তবে ইবনে আসাকির উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর জানাজায় তাঁকে "নাসিরুদ্দিন" বলে সম্বোধন করা হয়েছিল ১।

এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি: আশআরীর উপাধি হলো "নাসিরুদ্দিন" এবং তাঁর জানাজায় উপস্থিত মুসলিমরাই তাঁকে এই উপাধি দিয়েছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় তিনি এই নামে পরিচিত ছিলেন না; কারণ তিনি যদি পরিচিত হতেন, তবে সে সম্পর্কে আমাদের কাছে কিছু বর্ণিত হতো। তদুপরি এটি ঐতিহাসিকদের মাঝেও প্রচলিত নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

১ দেখুন: তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ১৪৭।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المبحث الثاني موطنه ومولده

تجمع المصادر التي بين أيدينا أن الأشعري ولد بالبصرة، وانتقل منها إلى بغداد بعد رجوعه عن الاعتزال، ولم أر في ذلك خلافاً بين المؤرخين، ويقولون في ترجمته: وهو بصري سكن بغداد.

أما عن تاريخ ولادته فتكاد تجمع المصادر على تحديده أيضاً، فمعظمهم يثبت أنه ولد سنة ستين ومائتين، وابن عساكر - وهو مؤرخ له قيمته - يذكر ذلك عن أبي بكر الوزان ويعقب عليه بقوله: "لا أعلم لقائل هذا القول في تاريخ مولده مخالفاً"1.

ومع هذا نجد بعض من جاء بعد ابن عساكر كابن خلكان (ت/681هـ) والمقريزي (ت/845هـ) يذكران خلافاً في مولده، فالأول يقول: "ولد سنة سبعين، وقيل ستين ومائتين بالبصرة"2، والثاني يقول: "ولد سنة ست وستين ومائتين، وقيل سنة سبعين"3.

وفي الحقيقة أن هذا الخلاف لا يعتبر حيث إن أقوى المصادر السابقة واللاحقة تذكر أنه ولد سنة ستين ومائتين، وهو ما يتفق مع حياته وأطواره التي عاشها - حيث تذكر لنا المصادر أنه بقي في الاعتزال أربعين عاماً4، وأن تحوله عنه كان عام ثلاثمائة5، وعليه فيكون مولده عام ستين ومائتين وهو ما أراه صحيحاً.

وقد رجح ذلك أيضاً مرتضى الزبيدي6 في ترجمته عن الأشعري فقال: "ولد سنة ستين ومائتين، وقيل سنة سبعين، والأول أشهر، كما رجحت ذلك أيضاً الدكتورة فوقية حسين في ترجمتها للأشعري"7.

--------------------------------------------

1 تبيين كذب المفتري ص146، وانظر: مصادر ترجمته التي أشرت إليها سابقاً.

2 وفيات الأعيان لابن خلكان 3/284.

3 الخطط للمقريزي 3/307.

4 انظر: تبيين كذب المفتري ص39، وطبقات الشافعية الكبرى 3/347.

والمراد بهذا التعبير أنه بقي على مذهب الاعتزال من صغره حتى بلوغه سن الأربعين من عمره.

5 انظر: تبيين كذب المفتري ص56.

6 إتحاف السادة المتقين بشرح إحياء علوم الدين 2/3.

7 انظر: مقدمة تحقيقها لكتاب الإبانة ص13.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বাসস্থান ও জন্ম

আমাদের হাতে থাকা উৎসসমূহ একমত যে, আশআরি বসরায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং মুতাজিলা মতবাদ ত্যাগের পর তিনি সেখান থেকে বাগদাদে স্থানান্তরিত হন। এ ব্যাপারে ঐতিহাসিকদের মধ্যে আমি কোনো দ্বিমত দেখিনি। তাঁরা তাঁর জীবনীতে বলেন: তিনি একজন বসরী যিনি বাগদাদে বসবাস করতেন।

তাঁর জন্মতারিখের বিষয়েও উৎসসমূহ এর নির্ধারণে প্রায় একমত। তাঁদের অধিকাংশ সাব্যস্ত করেছেন যে, তিনি দুইশত ষাট হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেছেন। ইবনে আসাকির—যিনি একজন মর্যাদাশীল ঐতিহাসিক—আবু বকর আল-ওয়াজ্জানের বরাতে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন: "তাঁর জন্মতারিখের ব্যাপারে এই মত ব্যক্তকারীর কোনো বিরোধিতাকারী সম্পর্কে আমি জানি না"১।

তা সত্ত্বেও আমরা ইবনে আসাকিরের পরে আসা ইবনে খাল্লিকান (মৃত: ৬৮১ হি.) এবং মাকরিজীর (মৃত: ৮৪৫ হি.) মতো কাউকে কাউকে তাঁর জন্মের ব্যাপারে মতভেদ উল্লেখ করতে দেখি। প্রথমজন বলেন: "তিনি দুইশত সত্তর হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন, আর বলা হয় যে দুইশত ষাট হিজরীতে বসরায় জন্মান"২। দ্বিতীয়জন বলেন: "তিনি দুইশত ছেষট্টি হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন, আর বলা হয় দুইশত সত্তর হিজরীতে"৩।

প্রকৃতপক্ষে, এই মতভেদটি ধর্তব্য নয়, কারণ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী শক্তিশালী উৎসসমূহ উল্লেখ করে যে তিনি দুইশত ষাট হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেছেন। এটি তাঁর জীবন ও জীবনকালের পর্যায়সমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ—যেহেতু উৎসসমূহ আমাদের জানায় যে তিনি চল্লিশ বছর যাবৎ মুতাজিলা মতবাদে ছিলেন৪ এবং তাঁর এই মতবাদ থেকে ফিরে আসা ছিল তিনশত হিজরীতে৫। সেই অনুযায়ী তাঁর জন্ম দুইশত ষাট হিজরীতে সাব্যস্ত হয় এবং এটিই আমার কাছে সঠিক মনে হয়।

মুরতাজা আল-জাবিদী৬ তাঁর আশআরির জীবনীতে এটিকেই প্রাধান্য দিয়ে বলেছেন: "তিনি দুইশত ষাট হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন, আর বলা হয় দুইশত সত্তর হিজরীতে, তবে প্রথমটিই অধিক প্রসিদ্ধ। যেমনটি ড. ফাওকিয়া হুসাইনও তাঁর আশআরির জীবনীতে এটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন"৭।

--------------------------------------------

১ তায়িবিন কাজিবুল মুফতারি পৃষ্ঠা ১৪৬, এবং দেখুন: তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ যা আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি।

২ ইবনে খাল্লিকানের ওফায়াতুল আইয়ান ৩/২৮৪।

৩ মাকরিজীর আল-খুতাত ৩/৩০৭।

৪ দেখুন: তায়িবিন কাজিবুল মুফতারি পৃষ্ঠা ৩৯, এবং তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা ৩/৩৪৭।

এই অভিব্যক্তি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তিনি তাঁর শৈশব থেকে চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত মুতাজিলা মাজহাবে ছিলেন।

৫ দেখুন: তায়িবিন কাজিবুল মুফতারি পৃষ্ঠা ৫৬।

৬ ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন ২/৩।

৭ দেখুন: আল-ইবানা কিতাবের তাঁর সম্পাদিত সংস্করণের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১৩।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الثالث زهده وعبادته

أما عن زهده فقد ساق الخطيب البغدادي بسنده إلى بندار بن الحسن، وكان خادماً لأبي الحسن قوله: "كان أبو الحسن يأكل من غلة ضيعة وقفها جده بلال بن أبي بردة بن أبي موسى الأشعري على عقبه، وكانت نفقته في كل سنة سبعة عشر درهماً"1. وقد ذكر الدكتور عبد الرحمن بدوي قيمة الدرهم في ذلك الوقت، والناظر فيه يتبين له مدى تقلل الأشعري من الحياة الدنيا2. وقال فيه الذهبي: "كان قانعاً متعففاً"3.

وأما عن عبادته، فقد ساق ابن عساكر بسنده إلى أبي عمران موسى بن أحمد الفقيه قوله: "سمعت أبي يقول: خدمت الأمام أبا الحسن بالبصرة سنتين، وعاشرته ببغداد إلى أن توفي رحمه الله فلم أجد أورع منه ولا أغض طرفاً، ولم أر شيخاً أكثر حياء منه في أمور الدنيا، ولا أنشط منه في أمور الآخرة"4.

ومن طريف ما يذكر عنه أنه كان - مع زهده وعبادته فيه دعابة ومزح كبير5.

--------------------------------------------

1 انظر: تاريخ بغداد 11/347، والتبيين لابن عساكر ص142.

2 انظر: مذاهب الإسلاميين 1/503، 504.

3 العبر في خبر من غبر 2/203.

4 التبيين لابن عساكر ص141.

5 الفهرست لابن النديم ص257.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর দুনিয়াবিমুখতা (যুহদ) ও ইবাদত

তাঁর দুনিয়াবিমুখতা সম্পর্কে আল-খাতীব আল-বাগদাদী তাঁর সনদে বুন্দার ইবনুল হাসান—যিনি আবুল হাসানের খাদেম ছিলেন—থেকে বর্ণনা করেন: "আবুল হাসান একটি সম্পত্তির ফসল থেকে আহার করতেন, যা তাঁর দাদা বিলাল ইবনে আবি বুরদাহ ইবনে আবি মুসা আল-আশআরি তাঁর বংশধরদের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন। প্রতি বছরে তাঁর ব্যয়ের পরিমাণ ছিল সতেরো দিরহাম।"১। ডক্টর আবদুর রহমান বাদাবী তৎকালীন দিরহামের মূল্যমান উল্লেখ করেছেন, যা পর্যালোচনা করলে আশআরির পার্থিব জীবন থেকে বিমুখতার পরিমাণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।২। তাঁর সম্পর্কে আয-যাহাবী বলেন: "তিনি ছিলেন অল্পেতুষ্ট ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী।"৩।

আর তাঁর ইবাদত সম্পর্কে ইবনে আসাকির তাঁর সনদে আবু ইমরান মুসা ইবনে আহমাদ আল-ফাকিহ থেকে বর্ণনা করেন: "আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আমি বসরায় ইমাম আবুল হাসানের দুই বছর খেদমত করেছি এবং বাগদাদে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—তাঁর সাহচর্যে ছিলাম। আমি তাঁর চেয়ে অধিক পরহেযগার এবং দৃষ্টির হিফাযতকারী আর কাউকে দেখিনি। দুনিয়াবি বিষয়ে তাঁর চেয়ে অধিক লজ্জাশীল এবং আখেরাতের কাজে তাঁর চেয়ে অধিক উদ্যমী কোনো শায়খ আমি দেখিনি।"৪।

তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত একটি কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, দুনিয়াবিমুখতা ও ইবাদতগুজারি সত্ত্বেও তাঁর মধ্যে বেশ রসবোধ ও কৌতুকপ্রিয়তা ছিল।৫।

--------------------------------------------

১. দেখুন: তারীখে বাগদাদ ১১/৩৪৭, এবং ইবনে আসাকিরের আত-তাবয়ীন, পৃষ্ঠা ১৪২।

২. দেখুন: মাযাহিবুল ইসলামিয়্যীন ১/৫০৩, ৫০৪।

৩. আল-ইবার ফী খাবারি মান গাবার ২/২০৩।

৪. ইবনে আসাকিরের আত-তাবয়ীন, পৃষ্ঠা ১৪১।

৫. ইবনে নাদীমের আল-ফিহরিস্ত, পৃষ্ঠা ২৫৭।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الرابع أسرته وأثرها في تكوين شخصيته

ذكرت سابقاً أن أبا الحسن من سلالة الصحابي الجليل أبي موسى الأشعري رضي الله عنه، وكان من فقهاء الصحابة وقرّائهم1، وقد أثنى الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم عليه وعلى قومه، وذلك فيما أخرجه الحاكم بسنده إلى سماك ابن حرب قال: "سمعت عياض الأشعري يقول: لما نزلت {فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ} قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هم قومك يا أبا موسى، وأومأ رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده إلى أبي موسى الأشعري" 2.

وقد كان لأبي موسى وأحفاده من بعده مجهود ضخم في رعاية أمور المسلمين وخدمتهم3، وقد كان أبو موسى نفسه أحد الحكمين بين علي ومعاوية رضي الله عن الجميع، ولا شك أن هذا الأصل الطيب له أثر في ثمرته الطيبة، ولا شك أن هذا ليس قاعدة مطردة، ولكني أردت هنا أن أبين مدى تأثر الأشعري بالبيئة التي عاش فيها، وما هو الدافع وراء تأثره بالاعتزال منذ حداثة سنه، وهذا ما سيتضح لنا فيما يأتي.

أما أبوه، فقد ذكر أبو بكر بن فورك أنه كان سنياً جماعياً حديثياً4 وأنه أوصى بالأشعري عند وفاته إلى زكريا بن يحيى الساجي5، وهو إمام في الفقه والحديث.

فوالد الأشعري إذاً من أهل السنة والجماعة، بل من أهل الحديث، ويظهر لنا حرصه وتمسكه بمذهب أهل الحديث ما قام به عند وفاته، حيث دفع ابنه إلى إمام من أئمة الحديث، وهو الحافظ زكريا الساجي محدث البصرة، وقد ذكر الذهبي في التذكرة أن الأشعري أخذ عنه مقالة أهل الحديث، كما ذكر ابن عساكر أن الأشعري روى عنه كثيراً في تفسيره6.

--------------------------------------------

1 انظر ترجمته في الطبقات الكبرى لابن سعد6/16، والتهذيب لابن حجر 5/362.

2 أخرجه الحاكم وقال عقبه: هذا حديث صحيح على شرط مسلم ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي 2/313. وقال الهيثمي: رواه الطبراني ورجاله رجال الصحيح. انظر: مجمع الزوائد 7/16.

3 انظر: ما ذكره ابن عساكر في التبيين عن أبي موسى وفضله ومكانته، وكذلك أولاده من بعده ص57–91.

4 انظر: تبيين كذب المفتري ص35.

5 هو الإمام الحافظ محدث البصرة أبو يحيى زكريا بن يحيى بن عبد الرحمن الساجي (ت/ 307هـ) . انظر: ترجمته في تذكرة الحفاظ 2/709، والتبيين ص35، وطبقات الشافعية الكبرى 3/299، وشذرات الذهب 2/250.

6 التبيين ص35.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর পরিবার এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে এর প্রভাব

আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, আবুল হাসান মহান সাহাবী আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর ছিলেন, এবং তিনি সাহাবীদের মধ্যে ফকীহ ও ক্বারীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন১। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর এবং তাঁর কওমের প্রশংসা করেছেন; যেমনটি হাকেম তাঁর সনদে সিমাক ইবনে হারব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি ইয়াদ আল-আশআরিকে বলতে শুনেছি: যখন এই আয়াত নাজিল হলো {অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসে}, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'হে আবু মুসা! তারা হলো তোমার কওম', এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাত দিয়ে আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে ইশারা করলেন" ২।

আবু মুসা এবং তাঁর পরবর্তী বংশধরদের মুসলমানদের বিষয়াবলি দেখাশোনা এবং খিদমতের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচেষ্টা ছিল৩। স্বয়ং আবু মুসা আলী ও মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্যকার দুই সালিসের একজন ছিলেন। নিঃসন্দেহে এই পবিত্র বংশের প্রভাব তার পবিত্র ফলের ওপর পড়েছে; তবে এটি কোনো ধ্রুব নিয়ম নয়। কিন্তু আমি এখানে আশআরি যে পরিবেশে বাস করেছিলেন তার প্রভাব এবং অল্প বয়স থেকেই তাঁর মুতাযিলা মতবাদের প্রতি প্রভাবিত হওয়ার পেছনের কারণগুলো স্পষ্ট করতে চেয়েছি, যা পরবর্তী আলোচনায় পরিষ্কার হয়ে যাবে।

তাঁর পিতার ব্যাপারে আবু বকর ইবনে ফুরাক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সুন্নি, জামায়াতের অনুসারী এবং হাদিসপন্থী ছিলেন৪ এবং তিনি মৃত্যুর সময় আশআরিকে যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাজি-এর নিকট সোপর্দ করার অসিয়ত করে যান৫, যিনি ফিকহ ও হাদিসের একজন ইমাম ছিলেন।

সুতরাং আশআরির পিতা ছিলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত, বরং তিনি ছিলেন আহলুল হাদিসের অনুসারী। তাঁর মৃত্যুর সময় তিনি যা করেছিলেন তা থেকে আহলুল হাদিসের মাযহাবের প্রতি তাঁর একাগ্রতা ও অবিচলতা ফুটে ওঠে; যখন তিনি তাঁর ছেলেকে হাদিসের অন্যতম ইমাম হাফেজ যাকারিয়া আস-সাজি—যিনি বসরার মুহাদ্দিস ছিলেন—তাঁর নিকট সোপর্দ করেন। ইমাম যাহাবি ‘আত-তাযকিরাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আশআরি তাঁর নিকট থেকেই আহলুল হাদিসের আকিদা গ্রহণ করেছিলেন। যেমনটি ইবনে আসাকিরও উল্লেখ করেছেন যে, আশআরি তাঁর তাফসীর গ্রন্থে তাঁর (সাজি) থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন৬।

--------------------------------------------

১ ইবনে সাআদের ‘আত-তাবাকাত আল-কুবরা’ ৬/১৬ এবং ইবনে হাজারের ‘আত-তাহযীব’ ৫/৩৬২-এ তাঁর জীবনী দেখুন।

২ হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং এরপর বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ হাদিস কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি এবং যাহাবি (২/৩১৩) তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আল-হাইসামি বলেছেন: তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীরা সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। দেখুন: মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৭/১৬।

৩ আবু মুসা এবং তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর পরবর্তী সন্তানদের সম্পর্কে ইবনে আসাকিরের ‘আত-তাবয়ীন’ (পৃ. ৫৭–৯১) দেখুন।

৪ দেখুন: তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারি, পৃ. ৩৫।

৫ তিনি হলেন বসরার ইমাম, হাফেজ ও মুহাদ্দিস আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া বিন আব্দুর রহমান আস-সাজি (মৃত্যু: ৩০৭ হি.)। দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফায ২/৭০৯, আত-তাবয়ীন পৃ. ৩৫, তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা ৩/২৯৯, শাযারাতুয যাহাব ২/২৫০।

৬ আত-তাবয়ীন পৃ. ৩৫।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ২২)
والناظر في ذلك يقول: بأن الأشعري سينهج نهج أبيه وأستاذه المحدث على الدوام، ولكن شاء الله أن يموت أبوه، وهو صغير السن وقت أن كان يتلقى دروسه الأولى1، ولم تحدد لنا المصادر تاريخ وفاته.

ولما مات أبوه تزوجت أمه2 برجل من كبار رجال الاعتزال وهو أبو علي الجبائي3، ومن ثم تأثر به الأشعري، ونحا نحو المعتزلة في الأمور الاعتقادية بل إنه برع فيها لدرجة أن شيخه وزوج أمه الجبائي كان ينيبه عنه في المجالس والدروس4.

وبذلك اتجه الأشعري منذ حداثة سنه إلى الاعتزال للعلاقة التي نشأت بينه وبين الجبائي المعتزلي، ولم يستطع وقتئذٍ - وهو صغير السن - أن يسير على نهج أبيه، وظل كذلك حتى هداه الله إلى الحق، ورجع عن الاعتزال وفارق الجبائي، وسأذكر ذلك بتفصيل عند الكلام على أطواره وعقيدته - إن شاء الله -.

ولقد كان لهذا الاتجاه أثره البالغ في هضم الأشعري لآراء المعتزلة الكلامية وإحاطته بها، ومن ثم تمكن - بعد رجوعه عنها - من الرد عليها ونقدها نقد الخبير المتمكن العارف بأخبارها وأوزارها، كما كان لهذه النشأة أثر سيئ للغاية، وهو صرف الأشعري عن الحديث وعلومه، لو كان له فيه ما لغيره من الأئمة لكان له شأن آخر.

--------------------------------------------

1 انظر: مقدمة تحقيق الإبانة للأشعري، للدكتورة فوقية حسين ص16.

2 انظر: الجواهر المضية في طبقات الحنفية 2/247، والخطط للمقريزي 3/308.

3 هو أبو علي: محمد بن عبد الوهاب بن سلام المعروف بالجبائي (ت/ 303هـ) كان إماماً في علم الكلام، وأخذ هذا العلم عن أبي يوسف يعقوب بن عبد الله الشحام البصري رئيس المعتزلة بالبصرة، وله في مذهب الاعتزال مقالات مشهورة، وعنه أخذ الأشعري علم الكلام. انظر: ترجمته في تاريخ بغداد 6/97، ومعجم البلدان 2/12–31، ووفيات الأعيان 4/267، وشذرات الذهب 2/241، والخطط للمقريزي 3/308.

4 انظر: التبيين ص91.
বিষয়টি পর্যবেক্ষণকারী বলবেন যে, আশআরি সর্বদা তাঁর পিতা ও শিক্ষক মুহাদ্দিসের পথ অনুসরণ করবেন, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল যে তাঁর পিতা মারা যাবেন যখন তিনি অল্পবয়সী ছিলেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করছিলেন ১, আর উৎসসমূহ আমাদের জন্য তাঁর মৃত্যুর তারিখ নির্ধারণ করেনি।

যখন তাঁর পিতা মারা গেলেন, তখন তাঁর মা ২ ইতিজালের (মুতাযিলা মতবাদের) অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব আবু আলী আল-জুব্বাইকে ৩ বিবাহ করেন। ফলে আশআরি তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হন এবং আকিদাগত বিষয়ে মুতাযিলাদের পথ অনুসরণ করেন, এমনকি তিনি এতে এতটা পারদর্শিতা অর্জন করেন যে তাঁর শায়খ ও সৎপিতা আল-জুব্বাই বিভিন্ন মজলিস ও পাঠদানে তাঁকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করতেন ৪।

এভাবে আশআরি তাঁর শৈশব থেকেই মুতাযিলি আল-জুব্বাইয়ের সাথে গড়ে ওঠা সম্পর্কের কারণে ইতিজালের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং সেই সময়ে—অল্পবয়সী হওয়ার কারণে—পিতার পথ অনুসরণ করতে সক্ষম হননি। তিনি এভাবেই ছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে সত্যের দিকে হেদায়াত দান করেন এবং তিনি ইতিজাল বর্জন করে জুব্বাইয়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হন। আমি তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায় ও আকিদা নিয়ে আলোচনার সময় ইনশাআল্লাহ বিস্তারিতভাবে তা উল্লেখ করব।

এই প্রবণতার গভীর প্রভাব ছিল মুতাযিলাদের কালাম শাস্ত্রীয় মতবাদগুলো আত্মস্থ করা এবং সেগুলো আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে। ফলে তিনি—সেগুলো থেকে ফিরে আসার পর—সেগুলোর জবাব দিতে এবং এক সুদক্ষ বিশেষজ্ঞের ন্যায় সেগুলোর তথ্য ও ত্রুটিসমূহ নিয়ে সমালোচনা করতে সক্ষম হন। তবে এই বেড়ে ওঠার একটি অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাবও ছিল, আর তা হলো এটি আশআরিকে হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল; যদি এই শাস্ত্রে তাঁর তেমন দখল থাকত যেমনটি অন্যান্য ইমামদের ছিল, তবে তাঁর অবস্থান অন্যরকম হতো।

--------------------------------------------

১ দেখুন: আশআরি রচিত আল-ইবানা গ্রন্থের তাহকিকের ভূমিকা, ড. ফাওকিয়া হুসাইন, পৃষ্ঠা ১৬।

২ দেখুন: আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ ২/২৪৭, এবং আল-খিতাত লিল-মাকরিজি ৩/৩০৮।

৩ তিনি হলেন আবু আলী: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সালাম, যিনি আল-জুব্বাই (মৃত্যু ৩০৩ হিজরি) নামে পরিচিত। তিনি ইলমুল কালামের একজন ইমাম ছিলেন এবং বসরায় মুতাযিলাদের প্রধান আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাহহাম আল-বাসরির নিকট থেকে এই জ্ঞান অর্জন করেন। মুতাযিলা মাযহাবে তাঁর প্রসিদ্ধ কিছু বক্তব্য রয়েছে এবং তাঁর কাছ থেকেই আশআরি ইলমুল কালাম শিক্ষা করেন। দেখুন: তারিখু বাগদাদ ৬/৯৭, মুজামুল বুলদান ২/১২-৩১, ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৪/২৬৭, শাযারাতুয যাহাব ২/২৪১ এবং আল-খিতাত লিল-মাকরিজি ৩/৩০৮-এ তাঁর জীবনী।

৪ দেখুন: আত-তাবয়িন, পৃষ্ঠা ৯১।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الخامس: مكانته العلمية وثناء الناس عليه

لقد برع الأشعري في معظم العلوم والفنون، وكتب فيها كتابات قيمة تدل على عمق بحث وسعة أفق.

وإذا استعرض الباحث مؤلفاته - التي سأذكرها فيما بعد - يجد أنه كتب في الجدل ورد على أرسطو في كتابه: "السماء والعالم والآثار العلوية" كما رد على الدهرية والمجوس والمشبهة والخوارج والرافضة والقدرية، وبرع في الرد على المعتزلة، بل إنه ألف كتاباً رد فيه على نفسه وقت أن كان معتزلياً كما أنه كان مؤرخاً للعقائد من الصف الأول، وحسبنا في ذلك كتابه "مقالات الإسلاميين" كما أن له إلماماً بالسير والأخبار، وقد ألف كتاباً خاصاً بأفعال النبي صلى الله عليه وسلم.

ومما يفضي إلى العجب أن الرجل كانت له قدم راسخة في علوم الشريعة فقد كتب في القياس والاجتهاد، وألف في خبر الواحد والإجماع، ورد على ابن الراوندي في إنكاره التواتر، وله كتاب ضخم في التفسير.

وهذا يدل على علو منزلته وعظيم قدره، ودفع أهل العلم والفضل إلى الثناء عليه، وإليك بعض ما قيل في ذلك:

قال الخطيب البغدادي: "أبو الحسن الأشعري المتكلم صاحب الكتب والتصانيف في الرد على الملحدة، وغيرهم من المعتزلة والرافضة والجهمية والخوارج وسائر أصناف المبتدعة"1.

وذكر بسنده عن أبي بكر الصيرفي أنه كان يقول: "كانت المعتزلة قد رفعوا رؤوسهم حتى أظهر الله تعالى الأشعري فحجزهم في أقماع السمسم"2.

وقال ابن خلكان: "هو صاحب الأصول والقائم بنصرة مذهب السنة وإليه تنسب الطائفة الأشعرية، وشهرته تغني عن الإطالة في تعريفه"3.

--------------------------------------------

1 تاريخ بغداد 11/346.

2 تاريخ بغداد 11/347.

3 وفيان الأعيان 3/284.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানগত মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি মানুষের প্রশংসা

ইমাম আশআরি অধিকাংশ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শাখায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং সে বিষয়ে এমন সব মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন যা তাঁর গবেষণার গভীরতা ও চিন্তার প্রশস্ততার প্রমাণ দেয়।

কোনো গবেষক যদি তাঁর রচনাবলি পর্যালোচনা করেন—যা আমি পরবর্তীতে উল্লেখ করব—তবে তিনি দেখতে পাবেন যে, তিনি বিতর্কশাস্ত্রে (জাদাল) গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং অ্যারিস্টটলের "আস-সামাউ ওয়াল আলাম ওয়াল আসারুল উলউইয়্যাহ" (আসমান, জগত ও ঊর্ধ্বজগত) গ্রন্থের জবাব দিয়েছেন। অনুরূপভাবে তিনি দাহরিয়্যা (নাস্তিক), মাজুস (অগ্নিউপাসক), মুশাব্বিহা, খাওয়ারিজ, রাফেজি ও কাদারিয়াদের মতবাদ খণ্ডন করেছেন। মুতাজিলাদের জবাব দানে তিনি বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন; এমনকি তিনি যখন মুতাজিলা ছিলেন তখনকার নিজের মতামতের খণ্ডন করে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করেছেন। এছাড়া তিনি ছিলেন প্রথম সারির একজন আকিদা-ইতিহাসবিদ, যার প্রমাণ হিসেবে তাঁর "মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন" গ্রন্থটিই যথেষ্ট। সীরাত ও ইতিহাসের সংবাদেও তাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কার্যাবলি নিয়ে একটি বিশেষ গ্রন্থ রচনা করেছেন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, শরীয়াহর জ্ঞানসমূহেও তাঁর সুদৃঢ় পা (অবস্থান) ছিল। তিনি কিয়াস ও ইজতিহাদ বিষয়ে লিখেছেন, খবর-ই ওয়াহিদ ও ইজমা (ঐক্যমত) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, এবং ইবনুল রাওয়ান্দির 'মুতাওয়াতির' সংবাদ অস্বীকারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাফসীর শাস্ত্রেও তাঁর একটি বিশাল গ্রন্থ রয়েছে।

এটি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও মহান সম্মানের পরিচয় দেয়, যা ইলম ও ফজিলতের অধিকারীদের তাঁর প্রশংসা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এ প্রসঙ্গে যা বলা হয়েছে তার কিয়দাংশ নিচে দেওয়া হলো:

খতিব আল-বাগদাদি বলেছেন: "আবুল হাসান আশআরি হলেন সেই কালামবিদ যিনি নাস্তিক এবং মুতাজিলা, রাফেজি, জাহমিয়্যা, খাওয়ারিজ ও অন্যান্য বিদআতি দলগুলোর খণ্ডনে বহু কিতাব ও প্রবন্ধের রচয়িতা।"১

তিনি স্বীয় সনদে আবু বকর আল-সাইরাফি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলতেন: "মুতাজিলারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা ইমাম আশআরিকে প্রকাশ করলেন এবং তিনি তাদের তিলদানি বা সরু ছিদ্রে বন্দি করে ফেললেন (অর্থাৎ তাদের কোণঠাসা করে দিলেন)।"২

ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: "তিনি হলেন উসুল বা মূলনীতির প্রবক্তা এবং সুন্নাহর মাযহাবের বিজয়ে অতন্দ্র প্রহরী। তাঁর দিকেই আশআরিয়া সম্প্রদায়কে সম্বন্ধিত করা হয়। তাঁর খ্যাতি এতটাই যে তাঁর পরিচয় দীর্ঘ করার প্রয়োজন নেই।"৩

--------------------------------------------

১ তারিখ বাগদাদ ১১/৩৪৬।

২ তারিখ বাগদাদ ১১/৩৪৭।

৩ ওফায়াতুল আইয়ান ৩/২৮৪।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال ابن العماد: "ومما بيض به وجوه أهل السنة النبوية، وسود به رايات أهل الاعتزال والجهمية، فأبان به وجه الحق الأبلج، ولصدور أهل الإيمان والعرفان أثلج مناظرته مع شيخه الجبائي التي بها قصم ظهر كل مبتدع مرائي"1، ثم ساقها نقلاً عن ابن خلكان، وملخص هذه المناظرة أن الأشعري سأل الجبائي عن ثلاثة إخوة، مات أحدهم بعد تكليفه مستحقاً للجنة والثاني مات بعده مستحقاً للنار، والثالث مات صغيراً، فحين رأى الصغير منزلة الكبير في الجنة قال لربه: هلا بلغتني منزلة هذا، فقال الجبائي يقول الله له: إني علمت أنك لو كبرت كفرت ودخلت النار، فقال الأشعري للجبائي فإذا قال الذي في النار: فهلا أمتني صغيراً فماذا يكون الجواب، وعند ذلك انقطع الجبائي ولم يجد جواباً.

كما نقل ابن عساكر2 نقولاً كثيرة عن من تقدمه من العلماء في مدح الأشعري والثناء عليه بما يثبت رجوعه إلى مذهب السلف أهل السنة والجماعة، وهكذا فعل السبكي في الطبقات3.

--------------------------------------------

1 شذرات الذهب 2/303.

2 انظر: تبيين كذب المفتري ص90 – 128.

3 انظر: طبقات الشافعية الكبرى 3/347.
ইবনুল ইমাদ বলেছেন: "সুন্নতে নববীর অনুসারীদের মুখমণ্ডল যা দ্বারা উজ্জ্বল হয়েছে এবং মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের পতাকা যা দ্বারা কালিমালিপ্ত হয়েছে, যার মাধ্যমে সত্যের উজ্জ্বল পথ স্পষ্ট হয়েছে এবং ঈমান ও মারেফাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বক্ষ শীতল হয়েছে—তা হলো তার উস্তাদ জুব্বাঈর সাথে তার সেই মুনাজারা (বিতর্ক), যার মাধ্যমে তিনি প্রত্যেক রিয়াকার বিদআতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন।"১ এরপর তিনি ইবনে খাল্লিকানের উদ্ধৃতিতে তা বর্ণনা করেছেন। এই মুনাজারার সারসংক্ষেপ হলো— আশআরী জুব্বাঈকে তিন ভাই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: তাদের একজন বালেগ হওয়ার পর জান্নাতের উপযোগী হয়ে মৃত্যুবরণ করল, দ্বিতীয়জন তার পরে জাহান্নামের উপযোগী হয়ে মৃত্যুবরণ করল এবং তৃতীয়জন ছোট অবস্থায় মারা গেল। যখন ছোটটি জান্নাতে বড় ভাইয়ের মর্যাদা দেখল, সে তার রবকে বলল: 'আপনি কেন আমাকে এই মর্যাদায় পৌঁছালেন না?' জুব্বাঈ বললেন, আল্লাহ তাকে বলবেন: 'আমি জানতাম যে তুমি বড় হলে কাফের হতে এবং জাহান্নামে প্রবেশ করতে।' তখন আশআরী জুব্বাঈকে বললেন: 'তাহলে যে ব্যক্তি জাহান্নামে আছে সে যদি বলে— কেন আপনি আমাকে ছোট অবস্থায় মৃত্যু দিলেন না? তবে এর উত্তর কী হবে?' তখন জুব্বাঈ নিরুত্তর হয়ে গেলেন এবং কোনো উত্তর খুঁজে পেলেন না।

একইভাবে ইবনে আসাকির২ তার পূর্ববর্তী আলেমদের থেকে আশআরীর প্রশংসায় অনেক উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, যা সালাফ তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাযহাবের দিকে তার ফিরে আসাকে প্রমাণ করে। সুবকীও 'তাবাকাত'৩ গ্রন্থে অনুরূপ করেছেন।

--------------------------------------------

১ শাজরাতুজ জাহাব ২/৩০৩।

২ দেখুন: তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী, পৃষ্ঠা ৯০-১২৮।

৩ দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৩/৩৪৭।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث السادس: مؤلفاته

سبق أن ذكرت مكانة الأشعري العلمية، وما منَّ الله به عليه من سعة الأفق التي جعلته يكتب بعمق وأصالة في معظم العلوم والفنون.

ومؤلفات الأشعري كثيرة للغاية، ولم يتمكن الدارسون والباحثون من العثور إلا على جزء قليل، بل إننا إذا اعتبرنا ما ذكره ابن عساكر في التبيين1، والزركلي في الأعلام2 من أن مؤلفات الأشعري بلغت ثلاثمائة مصنفاً سنقول: إننا لم نعرف الكثير عن أسماء مؤلفاته فضلاً عن محتواها.

وقد ذكر ابن حزم أن مؤلفات الأشعري بلغت خمسة وخمسين مصنفاً، ورد ابن عساكر هذا القول وقال: "قد ترك من عدد مصنفاته أكثر من النصف، وذكر أبو بكر بن فورك مسميات تزيد على الضعف"3، وقال السبكي: "ذكر ابن حزم ما وقف عليه في بلاد المغرب"4.

ولقد قام بعض المسلمين والمستشرقين بدراسات واسعة عن تراث الأشعري الضخم الذي خلفه للمسلمين5، وذلك بتحقيقه وإخراج ما عثر عليه منه، أو بالكلام حول ما لم يتيسر العثور عليه كما فعل الدكتور "عبد الرحمن بدوي" في كتابه مذاهب الإسلاميين.

وآخر ما وصلنا من دراسة لكتب الأشعري، ما قامت به الدكتورة "فوقية حسين" في مقدمتها لكتاب الإبانة.

وفي الحقيقة أنها قامت بجهد تشكر عليه في هذا الباب حيث أثبتت تعليقات الباحثين من مسلمين ومستشرقين حول مصنفات الأشعري مع الإدلاء برأيها في ذلك بعد الدراسة والبحث.

--------------------------------------------

1 تبيين كذب المفتري ص136.

2 الأعلام 5/69.

3 تبيين كذب المفتري ص92.

4 طبقات الشافعية الكبرى 3/359.

5 انظر: مقدمة الدكتورة فوقية حسين لكتاب الإبانة ص38.
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী

আমি ইতিপূর্বে আশ'আরীর ইলমী মর্যাদা এবং আল্লাহ তাঁকে যে প্রশস্ত দৃষ্টিভঙ্গি দান করেছেন সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি, যা তাঁকে অধিকাংশ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় গভীরতা ও মৌলিকত্বের সাথে লিখতে সক্ষম করে তুলেছে।

আশ'আরীর রচনাবলী সংখ্যায় অত্যন্ত বেশি, তবে শিক্ষার্থী ও গবেষকগণ তার সামান্য অংশই খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছেন। বস্তুত, ইবনে আসাকির 'তাবয়ীন'-এ এবং যারকালী 'আল-আলাম'-এ যা উল্লেখ করেছেন—যেখানে বলা হয়েছে আশ'আরীর রচনা তিনশটি গ্রন্থে পৌঁছেছে—তা যদি আমরা বিবেচনা করি, তবে আমরা বলব: তাঁর গ্রন্থাবলির বিষয়বস্তু তো দূরের কথা, আমরা তো অনেক গ্রন্থের নাম পর্যন্ত জানি না।

ইবনে হাযম উল্লেখ করেছেন যে, আশ'আরীর রচনা পঞ্চান্নটি গ্রন্থে পৌঁছেছে। ইবনে আসাকির এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন: "তিনি তাঁর রচনার অর্ধেকেরও বেশি সংখ্যা বাদ দিয়েছেন, আর আবু বকর ইবনে ফুরাক এর দ্বিগুণেরও বেশি নাম উল্লেখ করেছেন।" সুবকী বলেছেন: "ইবনে হাযম কেবল তাই উল্লেখ করেছেন যা তিনি মাগরিব অঞ্চলে পেয়েছিলেন।"

কতিপয় মুসলিম ও প্রাচ্যবিদ আশ'আরীর সেই বিশাল ঐতিহ্য নিয়ে ব্যাপক গবেষণা পরিচালনা করেছেন যা তিনি মুসলিমদের জন্য রেখে গেছেন। এটি করা হয়েছে যা পাওয়া গেছে তা সম্পাদনা ও প্রকাশের মাধ্যমে, অথবা যা পাওয়া সম্ভব হয়নি সে সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে, যেমনটি ডক্টর "আবদুর রহমান বাদাবী" তাঁর 'মাযাহিবুল ইসলামিয়্যিন' গ্রন্থে করেছেন।

আশ'আরীর গ্রন্থসমূহ নিয়ে গবেষণার মধ্যে সর্বশেষ আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে, তা হলো ডক্টর "ফাওকিয়া হুসাইন" তাঁর 'আল-ইবানা' গ্রন্থের ভূমিকায় যা উপস্থাপন করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে, তিনি এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রশংসনীয় পরিশ্রম করেছেন; যেখানে তিনি আশ'আরীর রচনাবলী সম্পর্কে মুসলিম ও প্রাচ্যবিদ গবেষকদের মন্তব্যসমূহ তুলে ধরেছেন এবং দীর্ঘ অধ্যয়ন ও গবেষণার পর এ বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

১ তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী, পৃষ্ঠা ১৩৬।

২ আল-আলাম ৫/৬৯।

৩ তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী, পৃষ্ঠা ৯২।

৪ তাবাকাতুশ শাফিইয়্যিল কুবরা ৩/৩৫৯।

৫ দেখুন: আল-ইবানা গ্রন্থের ডক্টর ফাওকিয়া হুসাইনের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৩৮।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولقد دفعني ذلك إلى الاكتفاء هنا بسرد مؤلفات الأشعري ذاكراً ما تمس الحاجة إلى ذكره، وذلك مثل التعريف ببعض محتويات كتبه، أو بيان صحة نسبتها إليه.

وأولى ما يمكن أن يعتمد عليه في ذلك ما ذكره الأشعري نفسه عن مؤلفاته في كتابه "العمد في الرؤية" الذي ساق فيه أسماء كتبه حتى سنة عشرين وثلاثمائة، كما ذكر ذلك ابن فورك، وعقب عليها - أي ابن فورك - بذكر ما جاء بعد هذه السنة من مؤلفات للأشعري حتى تاريخ وفاته، ثم استدرك ابن عساكر على ابن فورك ثلاثة مؤلفات أخر لم يذكرها.

ولنبدأ بذكر ما أثبته الأشعري من مؤلفاته، كما جاء في كتابه العمد1.

1- (الفصول) في الرد على الملحدين والخارجين عن الملة.

2- (الموجز) اشتمل على اثني عشر كتاباً على حسب تنوع مقالات المخالفين من الخارجين عن الملة والداخلين فيها، وآخره كتاب الإمامة.

3- (كتاب في خلق الأعمال) نقض فيه اعتلالات المعتزلة والقدرية في خلق الأعمال.

4- (كتاب في الاستطاعة) رد على المعتزلة.

5- (كتاب كبير في الصفات) تكلم فيه عن أصناف المعتزلة والجهمية ورد عليهم، وذكر أنه اثبت فيه الوجه واليدين والاستواء.

6- (كتاب في جواز رؤية الله بالأبصار) نقض فيه جميع اعتلالات المعتزلة.

7- (كتاب كبير في اختلاف الناس في الأسماء والأحكام والخاص والعام) .

8- (كتاب في الرد على المجسمة) .

9- (كتاب في الجسم) ذكر فيه أن المعتزلة لا يمكنهم أن يجيبوا عن مسائل الجسمية، كما يمكنه ذلك، وبين فيه لزوم مسائل الجسمية على أصولهم.

10- (إيضاح البرهان في الرد على أهل الزيغ والطغيان) .

11- (اللمع في الرد على أهل الزيغ والبدع) مطبوع قام بنشره أولا "مكارثي" (مستشرق) ، ثم الدكتور "حمودة غرابة" الذي قدم له وعلق عليه.

12- (اللمع الكبير) وهو مدخل لكتاب إيضاح البرهان الذي سبق ذكره.

13- (اللمع الصغير) وهو مدخل للّمع الكبير.

--------------------------------------------

1 انظر: تبيين كذب المفتري ص128– 136.
এটি আমাকে এখানে আল-আশআরীর রচনাবলির তালিকা প্রদানে সীমাবদ্ধ থাকতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যেখানে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন তাঁর কিছু বইয়ের বিষয়বস্তুর পরিচয় দেওয়া অথবা তাঁর প্রতি সেগুলোর নিসবত বা সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা বর্ণনা করা।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হলো যা আশআরী নিজেই তাঁর ‘আল-উমাদ ফির রুয়ইয়াহ’ গ্রন্থে তাঁর গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি ৩২০ হিজরি সাল পর্যন্ত তাঁর বইগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন, যেমনটি ইবনে ফুরাক বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি—অর্থাৎ ইবনে ফুরাক—এই বছরের পর থেকে আশআরীর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর অন্যান্য রচনার কথা উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে ইবনে আসাকির ইবনে ফুরাকের তালিকার ওপর আরও তিনটি রচনার সংযোজন করেছেন যা তিনি উল্লেখ করেননি।

আশআরী তাঁর ‘আল-উমাদ’ গ্রন্থে তাঁর যেসব রচনার কথা নিশ্চিত করেছেন, তা দিয়ে আমরা শুরু করছি।

১- (আল-ফুসুল) নাস্তিক এবং মিল্লাত বা দ্বীন থেকে বিচ্যুতদের খণ্ডনে।

২- (আল-মুজাজ) এটি দ্বীনের বহির্ভূত এবং অন্তর্ভুক্ত বিরোধীদের বিভিন্ন মতামতের বৈচিত্র্য অনুযায়ী বারোটি বইয়ের সমন্বয়ে গঠিত, যার সর্বশেষটি হলো ইমামত বিষয়ক বই।

৩- (কর্ম সৃষ্টি বিষয়ক গ্রন্থ) এতে তিনি কর্ম সৃষ্টি বিষয়ে মুতাজিলা ও কাদারিয়াদের যুক্তিগুলো খণ্ডন করেছেন।

৪- (সক্ষমতা বা ইস্তিতআত বিষয়ক গ্রন্থ) মুতাজিলাদের খণ্ডনে।

৫- (গুণাবলী বিষয়ক একটি বড় গ্রন্থ) এতে তিনি মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের বিভিন্ন উপদলের বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং তাদের খণ্ডন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এতে তিনি আল্লাহর মুখমণ্ডল, আল্লাহর দুই হাত এবং আল্লাহর আরশের উপর উঠাকে সাব্যস্ত করেছেন।

৬- (চক্ষু দ্বারা আল্লাহকে দেখার বৈধতা বিষয়ক গ্রন্থ) এতে তিনি মুতাজিলাদের সকল যুক্তি খণ্ডন করেছেন।

৭- (নাম, বিধান এবং বিশেষ ও সাধারণের বিষয়ে মানুষের মতপার্থক্য নিয়ে একটি বড় গ্রন্থ)।

৮- (মুজাসসিমা বা দেহবাদীদের খণ্ডনে রচিত গ্রন্থ)।

৯- (দেহ বা জিসম বিষয়ক গ্রন্থ) এতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মুতাজিলাদের পক্ষে দেহ সংক্রান্ত মাসআলাগুলোর উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়, যেমনটি তাঁর পক্ষে সম্ভব। তিনি এতে তাদের মূলনীতির ভিত্তিতে দেহ সংক্রান্ত মাসআলাগুলোর অনিবার্যতা বর্ণনা করেছেন।

১০- (পথভ্রষ্ট ও সীমালঙ্ঘনকারীদের খণ্ডনে প্রমাণের স্পষ্টীকরণ)।

১১- (পথভ্রষ্ট ও বিদআতিদের খণ্ডনে উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা) এটি মুদ্রিত হয়েছে। এটি প্রথমে ‘ম্যাকার্থি’ (প্রাচ্যবিদ) প্রকাশ করেন, তারপর ডক্টর ‘হামুদা গুরাবাহ’ এটি প্রকাশ করেন, যিনি এর ভূমিকা লিখেছেন এবং টীকা প্রদান করেছেন।

১২- (আল-লুমাহ আল-কাবির) এটি পূর্বে উল্লিখিত ইদাহুল বুরহান গ্রন্থের ভূমিকা স্বরূপ।

১৩- (আল-লুমাহ আস-সাগির) এটি আল-লুমাহ আল-কাবির-এর ভূমিকা স্বরূপ।

--------------------------------------------

১ দেখুন: তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ১২৮– ১৩৬।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ২৭)
14- (الشرح والتفصيل في الرد على أهل الأفق والتضليل) جعله مقدمة ينظر فيها قبل كتاب اللمع، وهو للمبتدئين ويصلح للمتعلمين.

15- (كتاب مختصر مدخل إلى الشرح والتفصيل) .

16- (كتاب في نقض كتاب الأصول للجبائي) كشف فيه عن تمويهه في سائر الأبواب، بل إنه ذكر فيه حججاً للمعتزلة لم يذكرها أحد منهم، ثم نقضها بحجج الله وبراهينه.

17- (كتاب كبير نقض فيه الكتاب المعروف بنقض تأويل الأدلة للبلخي) رد فيه على شبهه التي أوردها ومنها الصفات.

18- (مقالات المسلمين) استوعب فيه اختلافهم ومقالاتهم وهو الكتاب المطبوع حالياً باسم "مقالات الإسلاميين".

19- (جمل المقالات) أثبت فيه جمل مقالات الملحدة، وجمل أقاويل الموحدين.

20- (الجوابات في الصفات عن مسائل أهل الزيغ والشبهات) وهو كتاب كبير في الصفات. يقول عنه ابن عساكر: إنه أكبر كتبه1، ويقول عنه الأشعري: "نقضنا فيه كتاباً كنا ألفناه قديماً فيها على تصحيح مذهب المعتزلة، لم يؤلف لهم مثله، ثم أبان الله سبحانه لنا الحق فرجعنا عنه، فنقضناه وأوضحنا بطلانه"2.

21- (كتاب في الرد على ابن الراوندي في الصفات والقرآن) .

22- (كتاب نقض فيه كتاباً للخالدي ألفه في القرآن والصفات قبل أن يؤلف كتابه الملقب بالملخص) .

23- (القامع لكتاب الخالدي في الإرادة) نقض به كتابه في إثبات حدث إرادة الله تعالى، وأنه شاء ما لم يكن، وكان ما لم يشأ.

24- (نقض كتاب المهذب للخالدي) ذكر الأشعري أن الخالدي ألف كتاباً في المقالات فنقضه الأشعري بهذا الكتاب وسماه "الدافع للمهذب"3.

25- (نقض كتاب الخالدي الذي نفى فيه رؤية الله تعالى بالأبصار) .

26- (نقض كتاب الخالدي الذي نفى فيه خلق الله للأعمال وتقديرها) .

27- (كتاب نقض به على البلخي كتاباً ذكر أنه أصلح به غلط ابن الراوندي في الجدل) .

--------------------------------------------

1 تبيين كذب المفتري ص131.

2 نفس المصدر ص131.

3 تبيين كذب المفتري ص131.
১৪- (আশ-শারহু ওয়াত-তাফসিল ফির-রাদ্দি আলা আহলিল আফকি ওয়াত-তাদলিল) তিনি এটিকে কিতাবুল লুমা-র পূর্বে পাঠ করার জন্য একটি ভূমিকা হিসেবে তৈরি করেছেন, এটি নতুনদের জন্য এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য উপযুক্ত।

১৫- (কিতাবুম মুখতাসারুন মাদখালুন ইলাশ-শারহি ওয়াত-তাফসিল)।

১৬- (কিতাবুন ফি নাকদি কিতাবিল উসুল লিল-জুব্বায়ী) এতে তিনি তার (জুব্বায়ীর) সমস্ত অধ্যায়ের প্রতারণা উন্মোচন করেছেন, বরং এতে তিনি মুতাজিলাদের এমন সব যুক্তি উল্লেখ করেছেন যা তাদের কেউ ইতিপূর্বে উল্লেখ করেনি, তারপর আল্লাহর অকাট্য দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে সেগুলোকে খণ্ডন করেছেন।

১৭- (কিতাবুন কাবিরুন নাকাদা ফিহিল কিতাবাল মারুফা বি নাকদি তাওবিলিল আদিল্লাতিল লিল-বালখি) এতে তিনি তার উত্থাপিত সংশয়গুলোর জবাব দিয়েছেন, যার মধ্যে আল্লাহর গুণাবলিও রয়েছে।

১৮- (মাকালাতুল মুসলিমিন) এতে তিনি তাদের সকল মতভেদ ও বক্তব্যসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এটি বর্তমানে "মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন" নামে মুদ্রিত।

১৯- (জুমালুল মাকালাত) এতে তিনি নাস্তিকদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ এবং একত্ববাদীদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ প্রমাণ করেছেন।

২০- (আল-জাওয়াবাতু ফিস-সিফাতি আন মাসায়িলি আহলিয-যাইগি ওয়াশ-শুবুহাত) এটি আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত একটি বিশাল গ্রন্থ। ইবনে আসাকির এই কিতাব সম্পর্কে বলেন: এটি তাঁর সবচেয়ে বড় কিতাব।১ আর আশআরি নিজে এই কিতাব সম্পর্কে বলেন: "আমরা এতে এমন একটি কিতাব খণ্ডন করেছি যা আমরা অতীতে মুতাজিলা মাযহাবের বিশুদ্ধতা প্রমাণের জন্য রচনা করেছিলাম, যার সমতুল্য তাদের জন্য আর কোনো কিতাব রচিত হয়নি। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের কাছে সত্য স্পষ্ট করে দিলেন, ফলে আমরা তা থেকে ফিরে আসলাম এবং সেই কিতাবটি খণ্ডন করে এর অসারতা স্পষ্ট করে দিলাম।"২

২১- (কিতাবুন ফির-রাদ্দি আলা ইবনির রাওয়ান্দি ফিস-সিফাতি ওয়াল কুরআন)।

২২- (কিতাবুন নাকাদা ফিহি কিতাবাল লিল-খালিদি আল্লাফাহু ফিল কুরআনি ওয়াস-সিফাতি কাবলা আন ইউআল্লিফা কিতাবাহুল মুলাক্কাবা বিল মুলখখাস)।

২৩- (আল-কামি'উ লি কিতাবিল খালিদি ফিল ইরাদাহ) এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর ইচ্ছা (ইরাদাহ) নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়া প্রমাণের বিষয়ে তার কিতাবটি খণ্ডন করেছেন এবং (প্রমাণ করেছেন) যে, আল্লাহ যা চেয়েছেন তাই হয়েছে, আর যা চাননি তা হয়নি।

২৪- (নাকদু কিতাবিল মুহাযযাব লিল-খালিদি) আশআরি উল্লেখ করেছেন যে, খালিদি মতবাদ (মাকালাত) বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছিলেন, অতঃপর আশআরি এই কিতাবটি দ্বারা তা খণ্ডন করেন এবং এর নাম দেন "আদ-দাফি'উ লিল মুহাযযাব"।৩

২৫- (নাকদু কিতাবিল খালিদি আল্লাযি নাফা ফিহি রুয়াতাল্লাহি তায়ালা বিল আবসার) খালিদির সেই কিতাবের খণ্ডন যাতে তিনি চাক্ষুষভাবে আল্লাহ তায়ালাকে দেখার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন।

২৬- (নাকদু কিতাবিল খালিদি আল্লাযি নাফা ফিহি খালকাল্লাহি লিল আমালি ওয়া তাকডিরাহা) খালিদির সেই কিতাবের খণ্ডন যাতে তিনি মানুষের কর্ম সৃষ্টি এবং তার নির্ধারণে আল্লাহর ভূমিকা অস্বীকার করেছিলেন।

২৭- (কিতাবুন নাকাদা বিহি আলাল বালখি কিতাবান যাকারা আন্নাহু আসলাহা বিহি গালাতা ইবনির রাওয়ান্দি ফিল জাদাল)।

--------------------------------------------

১. তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ১৩১।

২. একই উৎস, পৃষ্ঠা ১৩১।

৩. তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ১৩১।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ২৮)
28- (كتاب في الاستشهاد) بين فيه كيف يلزم المعتزلة على محجتهم في الاستشهاد بالشاهد على الغائب، أن يثبتوا علم الله وقدرته وسائر صفاته.

29- (المختصر في التوحيد والعدل) تكلم فيه عن الرؤية وسائر الصفات وأبواب القدر، وقال عنه الأشعري: "سألناهم فيه عن مسائل كثيرة ضاقوا بالجواب عنها ذرعاً ولم يجدوا إلى الانفكاك عنها بحجة سبيلاً"1.

32- (شرح أدب الجدل) .

31- (كتاب الطبرانيين) في فنون كثيرة من المسائل.

32- (جواب الخراسانية) .

33- (كتاب الأرجانيين) .

34- (جواب السيرافيين) .

35- (جواب العمانيين) .

36- (جواب الجرجانيين) .

37- (جواب الدمشقيين) .

38- (جواب الواسطيين) .

39- (جواب الرامهرمزيين) .

ما تقدم ذكره من رقم (31 - 39) كتباً تحمل أجوبة من الأشعري لأهل هذه البلاد، ويذكر الأشعري أنها في مسائل من الكلام، وأشياء كانت تدور بينه وبين المعتزلة2.

40- (المسائل المنثورة البغدادية) في مسائل دارت بينه وبين أعلام المعتزلة.

41- (المنتخل) في المسائل المنثورات البصريات.

42- (الفنون في الرد على الملحدين) .

43- (النوادر في دقائق الكلام) .

44- (الإدراك في فنون من لطائف الكلام) .

45- نقض الكتاب المعروف باللطيف على الإسكافي) .

46- (كتاب نقض فيه كلام عباد بن سليمان في دقائق الكلام) .

47- (كتاب نقض فيه كتاباً لعلي بن عيسى) .

48- (المختزن) في مسائل من الكلام.

--------------------------------------------

1 تبيين كذب المفتري ص131، 132.

2 تبيين كذب المفتري ص132.
২৮- (সাক্ষ্য প্রদান বিষয়ক গ্রন্থ) এতে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, মুতাজিলাদের জন্য তাদের অনুসৃত পথ অনুযায়ী কীভাবে অদৃশ্যের উপর দৃশ্যের সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে আল্লাহর জ্ঞান, ক্ষমতা এবং অন্যান্য সকল গুণাবলি সাব্যস্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।

২৯- (তাওহীদ ও ইনসাফ বিষয়ক সংক্ষিপ্তসার) এতে তিনি আল্লাহর দর্শন, অন্যান্য গুণাবলি এবং তাকদীরের অধ্যায়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সম্পর্কে আশআরী বলেছেন: "আমরা এতে তাদের এমন অনেক বিষয়ে প্রশ্ন করেছি যেগুলোর উত্তর দিতে তারা চরমভাবে অপারগ হয়ে পড়েছিল এবং কোনো দলীলের মাধ্যমে তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার পথ খুঁজে পায়নি"১।

৩২- (বিতর্ক শিল্পের শিষ্টাচারের ব্যাখ্যা)।

৩১- (তাবারানিয়্যিনদের গ্রন্থ) বিভিন্ন প্রকারের মাসআলা বিষয়ক।

৩২- (খুরাসানবাসীদের উত্তর)।

৩৩- (আরজানিয়্যিনদের গ্রন্থ)।

৩৪- (সিরাফবাসীদের উত্তর)।

৩৫- (ওমানবাসীদের উত্তর)।

৩৬- (জুরজানবাসীদের উত্তর)।

৩৭- (দামেস্কবাসীদের উত্তর)।

৩৮- (ওয়াসিতবাসীদের উত্তর)।

৩৯- (রামাহুরমুযবাসীদের উত্তর)।

৩১ থেকে ৩৯ নম্বর পর্যন্ত যা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো মূলত এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আশআরীর দেওয়া উত্তর সম্বলিত গ্রন্থ। আশআরী উল্লেখ করেছেন যে, এগুলো ইলমুল কালামের বিভিন্ন মাসআলা এবং তাঁর ও মুতাজিলাদের মাঝে চলমান বিভিন্ন বিষয়াদি সম্পর্কে।২

৪০- (বাগদাদের বিক্ষিপ্ত মাসআলাসমূহ) এতে তাঁর এবং মুতাজিলাদের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের মাঝে সংঘটিত মাসআলাসমূহ রয়েছে।

৪১- (আল-মুনতাখাল) বসরার বিক্ষিপ্ত মাসআলাসমূহ সংক্রান্ত।

৪২- (নাস্তিকদের খণ্ডনে বিভিন্ন কলাকৌশল)।

৪৩- (ইলমুল কালামের সূক্ষ্ম বিষয়াবলির দুর্লভ সংগ্রহ)।

৪৪- (ইলমুল কালামের চমৎকার সূক্ষ্ম বিষয়সমূহের উপলব্ধি)।

৪৫- (ইসকাফীর বিরুদ্ধে 'আল-লাতীফ' নামক প্রসিদ্ধ গ্রন্থের খণ্ডন)।

৪৬- (এমন একটি গ্রন্থ যাতে তিনি ইলমুল কালামের সূক্ষ্ম বিষয়াবলিতে আব্বাদ বিন সুলাইমানের বক্তব্যের খণ্ডন করেছেন)।

৪৭- (এমন একটি গ্রন্থ যাতে তিনি আলী বিন ঈসার একটি কিতাব খণ্ডন করেছেন)।

৪৮- (আল-মুখতাযান) ইলমুল কালামের বিভিন্ন মাসআলা সংক্রান্ত।

--------------------------------------------

১ তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী, পৃষ্ঠা ১৩১, ১৩২।

২ তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী, পৃষ্ঠা ১৩২।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ২৯)
49- (كتاب في باب "شيء" وأن الأشياء هي أشياء وإن عدمت) قال عنه الأشعري: "رجعنا عنه ونقضناه فمن وقع إليه فلا يعول عليه"1.

50- (كتاب الاجتهاد في الأحكام) .

51- (كتاب في أن القياس يخص ظاهر القرآن) .

52- (كتاب في المعارف) .

53- (كتاب في الأخبار وتخصيصها) .

54- (الفنون) في أبواب من الكلام، وهو غير الفنون في الرد على الملحدين السابق ذكره.

55- (جواب المصريين) في مسائل من الكلام.

56- (كتاب في أن العجز عن شيء ليس العجز عن ضده، وأن العجز لا يكون إلا من الموجود) .

57- (المسائل على أهل التثنية) .

58- (كتاب ذكر فيه جميع اعتراض الدهريين في قول الموحدين) قال عنه الأشعري: "وهو مرسوم بالاستقصاء لجميع اعتراض الدهريين، وسائر أصناف الملحدين"2.

59- (كتاب على الدهريين) .

60- (كتاب نقض به اعتراضاً على داود بن علي الأصبهاني في مسألة الاعتقاد) .

61- (كتاب تفسير القرآن) . رد فيه على الجبائي والبلخي ما حرفا من تأويله.

62- (كتاب زيادات النوادر) .

63- (كتاب جوابات أهل فارس) .

64- (كتاب أخبر فيه عن اعتلال من زعم أن الموت يفعل بطبعه) .

65- (كتاب في الرؤية) رد فيه على الجبائي.

66- (الجوهر في الرد على أهل الزيغ والمنكر) .

67- (كتاب أجاب فيه عن مسائل الجبائي في النظر والاستدلال وشرائطه) .

68- (أدب الجدل) .

69- (كتاب في مقالات الفلاسفة) .

--------------------------------------------

1 تبيين كذب المفتري ص133.

2 المصدر السابق.
49- (একটি বই "বস্তু" বা শাই-এর অধ্যায়ে এবং এই বিষয়ে যে, বস্তুসমূহ অস্তিত্বহীন হলেও সেগুলো বস্তু হিসেবেই গণ্য) আশআরী এটি সম্পর্কে বলেছেন: "আমরা এটি থেকে ফিরে এসেছি এবং এটি বাতিল ঘোষণা করেছি; সুতরাং যার হাতে এটি পৌঁছাবে সে যেন এর ওপর নির্ভর না করে"১।

50- (বিধিবিধানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ বিষয়ক গ্রন্থ) ।

51- (কিয়াস কুরআনের বাহ্যিক অর্থকে সুনির্দিষ্ট করে - এই বিষয়ক গ্রন্থ) ।

52- (মা'আরিফ বা জ্ঞানতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থ) ।

53- (সংবাদ এবং সেগুলোকে সুনির্দিষ্টকরণ বিষয়ক গ্রন্থ) ।

54- (আল-ফুনুন) ইলমে কালামের বিভিন্ন অধ্যায় বিষয়ক; এটি নাস্তিকদের খণ্ডনে পূর্বে উল্লিখিত 'আল-ফুনুন' থেকে ভিন্ন।

55- (জাওয়াবুল মিসরিয়্যিন) ইলমে কালামের বিভিন্ন মাসআলা প্রসঙ্গে।

56- (কোনো বিষয়ে অক্ষমতা মানেই তার বিপরীতটি পালনে অক্ষম হওয়া নয় এবং অক্ষমতা কেবল বিদ্যমান সত্তার পক্ষ থেকেই হতে পারে - এই বিষয়ক গ্রন্থ) ।

57- (দ্বিত্ববাদে বিশ্বাসীদের খণ্ডনে মাসআলাসমূহ) ।

58- (একটি গ্রন্থ যেখানে একেশ্বরবাদীদের বক্তব্যের বিরুদ্ধে দাহরিয়্যাহ বা বস্তুবাদীদের সকল আপত্তি উল্লেখ করা হয়েছে) আশআরী এটি সম্পর্কে বলেছেন: "এটি দাহরিয়্যাহদের সকল আপত্তি এবং অন্যান্য সকল প্রকার নাস্তিকদের আপত্তির বিস্তারিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংকলিত"২।

59- (দাহরিয়্যাহ বা বস্তুবাদীদের বিরুদ্ধে গ্রন্থ) ।

60- (আকিদাহর মাসআলায় দাউদ বিন আলী আল-আসফাহানীর ওপর উত্থাপিত একটি আপত্তি খণ্ডনমূলক গ্রন্থ) ।

61- (তাফসীরুল কুরআন) । এতে তিনি জুব্বায়ী এবং বলখী কুরআনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে যে বিকৃতি ঘটিয়েছেন তার প্রতিবাদ করেছেন।

62- (যিয়াদাতুন নাওয়াদির গ্রন্থ) ।

63- (পারস্যবাসীদের জিজ্ঞাসার উত্তর সম্বলিত গ্রন্থ) ।

64- (মৃত্যু নিজস্ব প্রকৃতিগত কারণে সংঘটিত হয় - এমন দাবিদারদের ভ্রান্ত যুক্তি খণ্ডনমূলক গ্রন্থ) ।

65- (রুইয়াত বা আল্লাহর দর্শন বিষয়ক গ্রন্থ) এতে তিনি জুব্বায়ীর খণ্ডন করেছেন।

66- (আল-জাওহার: পথভ্রষ্ট ও প্রত্যাখ্যানকারীদের খণ্ডন) ।

67- (চিন্তা-গবেষণা ও দলিল উপস্থাপন এবং এর শর্তাবলি সম্পর্কে জুব্বায়ীর মাসআলাসমূহের উত্তর সম্বলিত গ্রন্থ) ।

68- (বিতর্কের শিষ্টাচার) ।

69- (দার্শনিকদের মতবাদ বিষয়ক গ্রন্থ) ।

--------------------------------------------

১ তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী, পৃষ্ঠা ১৩৩।

২ পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ৩০)
70- (كتاب في الرد على الفلاسفة) قال عنه الأشعري: "يشتمل على ثلاث مقالات، ذكرنا فيه نقض علل ابن قيس الدهري، وتكلمنا فيه على القائلين بالهيولى، والطبائع ونقضنا فيه علل أرسطو طاليس في السماء والعالم، وبيّنا ما عليهم في قولهم بإضافة الأحداث إلى النجوم وتعليق أحكام السعادة والشقاوة بها"1.

هذه هي أسماء الكتب التي ذكرها الأشعري في كتابه "العمد في الرؤية"، وبين لنا شيئاً مما احتوت عليه، وذلك بذكر تعريف مختصر عن الكتاب دون ذكر اسمه في الغالب.

وقال ابن فورك بعد سرده لها: "هذه هي أسماء كتبه التي ألفها إلى سنة عشرين وثلاثمائة سوى أماليه على الناس والجوابات المتفرقة عن المسائل الواردة من الجهات المختلفات، وسوى ما أملاه على الناس مما لم يذكر أساميه هنا، وقد عاش بعد ذلك إلى سنة أربع وعشرين وثلاثمائة وصنف فيها كتباً منها"2.

71- (نقض المضاهات على الإسكافي في التسمية بالقدر) .

72- (العمد في الرؤية) وهو الكتاب الذي ساق فيه أسماء كتبه السابق ذكرها.

73- (كتاب في معلومات الله ومقدوراته) رد فيه على أبي الهذيل.

74- (كتاب على حارث الوراق في الصفات فيما نقض على ابن الراوندي) .

75- (كتاب على أهل التناسخ) .

76- (كتاب في الرد في الحركات على أبي الهذيل) .

77- (كتاب على أهل المنطق) ذكر ابن فورك أنه مسائل سئل عنها الجبائي في الأسماء والأحكام ومجالسات في خبر الواحد وإثبات القياس3.

78- (كتاب في أفعال النبي صلى الله عليه وسلم .

79- (كتاب في الوقوف والعموم) .

هكذا ورد اسم الكتاب في التبيين، ولم يعلق عليه أحد بشيء حتى نفهم المراد من كلمة "الوقوف" غير أن المستشرق مكارثي ذكر أنه قد يكون في "خلق القرآن" بعد أن أثبت صعوبة فهم المقصود من كلمة "وقوف"4، وقد يكون عنوان الكتاب "الخصوص والعموم" ونقل إلينا بالعنوان الأول من باب الخطأ.

--------------------------------------------

1 تبيين كذب المفتري ص134.

2 تبيين كذب المفتري ص135.

3 تبيين كذب المفتري ص135.

4 انظر: مقدمة تحقيق كتاب الإبانة للدكتورة فوقية حسين ص65 – 66.
৭০- (দার্শনিকদের খণ্ডনে একটি গ্রন্থ) আশআরী এটি সম্পর্কে বলেন: "এটি তিনটি প্রবন্ধের সমন্বয়ে গঠিত, এতে আমরা দাহরি ইবনে কায়সের যুক্তিগুলোর খণ্ডন উল্লেখ করেছি, এবং এতে আমরা হাইলুলি (মূলবস্তু) ও প্রকৃতির প্রবক্তাদের বিষয়ে আলোচনা করেছি। আর আমরা এতে আসমান ও পৃথিবী বিষয়ে আরিস্টটলের যুক্তিগুলো খণ্ডন করেছি এবং নক্ষত্রের সাথে নতুন ঘটনাবলিকে সম্পর্কিত করা এবং সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের বিধানগুলোকে নক্ষত্রের সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের মতবাদের অসারতা বর্ণনা করেছি।"১

এইগুলো হলো সেই সব গ্রন্থের নাম যা আশআরী তাঁর "আল-উমাদ ফির রুয়ইয়াহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং গ্রন্থগুলোতে কী রয়েছে সে সম্পর্কে আমাদের কিছু ধারণা দিয়েছেন। আর তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রন্থের নাম উল্লেখ না করে গ্রন্থটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদানের মাধ্যমে করেছেন।

ইবনে ফুরাক এই তালিকা প্রদানের পর বলেন: "এগুলো হলো তাঁর সেই সব গ্রন্থের নাম যা তিনি ৩২০ হিজরি সাল পর্যন্ত রচনা করেছেন। এ ছাড়াও জনগণের নিকট তাঁর প্রদত্ত শ্রুতলিখন (আমালি), বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রশ্নের পৃথক পৃথক উত্তর এবং মানুষের নিকট তিনি যা শ্রুতলিখন করিয়েছেন কিন্তু এখানে নাম উল্লেখ করেননি—সেগুলো এই তালিকার বাইরে। এরপর তিনি ৩২৪ হিজরি সাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং এই সময়ে আরও কিছু গ্রন্থ রচনা করেন, যার মধ্যে রয়েছে:"২

৭১- (নামকরণের ক্ষেত্রে কদরের বিষয়ে ইসকাফীর সাদৃশ্যমূলক ব্যাখ্যার খণ্ডন)।

৭২- (আল-উমাদ ফির রুয়ইয়াহ) এটি সেই গ্রন্থ যাতে তিনি তাঁর পূর্বে উল্লিখিত গ্রন্থগুলোর নাম বর্ণনা করেছেন।

৭৩- (আল্লাহর জ্ঞাত বিষয়সমূহ এবং তাঁর সক্ষমতা বিষয়ক একটি গ্রন্থ) এতে তিনি আবু আল-হুদায়ল এর খণ্ডন করেছেন।

৭৪- (ইবনে আল-রাওয়ান্দির খণ্ডন প্রসঙ্গে সিফাত বা বৈশিষ্ট্য বিষয়ে হারিস আল-ওয়াররাকের বিরুদ্ধে একটি গ্রন্থ)।

৭৫- (জন্মান্তরবাদীদের বিরুদ্ধে একটি গ্রন্থ)।

৭৬- (গতি বা নড়াচড়ার বিষয়ে আবু আল-হুদায়ল এর খণ্ডনমূলক গ্রন্থ)।

৭৭- (তর্কশাস্ত্রবিদদের বিরুদ্ধে একটি গ্রন্থ) ইবনে ফুরাক উল্লেখ করেছেন যে, এগুলো হলো আসমা (নাম) ও আহকাম (বিধান) বিষয়ে জুব্বায়ীকে করা প্রশ্নসমূহ এবং একক সংবাদ (খবরে ওয়াহিদ) ও কিয়াসের (অনুমান) প্রমাণ বিষয়ক মজলিসসমূহ।৩

৭৮- (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কার্যাবলি বিষয়ক একটি গ্রন্থ)।

৭৯- (আল-উকুফ ওয়াল উমুম বিষয়ক একটি গ্রন্থ)।

তবীয়ীন গ্রন্থে এভাবেই কিতাবটির নাম এসেছে। "উকুফ" শব্দের অর্থ বোঝার জন্য কেউ এর ওপর কোনো মন্তব্য করেননি। তবে প্রাচ্যবিদ ম্যাকার্থি উল্লেখ করেছেন যে, এটি "কুরআন সৃষ্টি" (খালকে কুরআন) বিষয়ে হতে পারে, যদিও তিনি "উকুফ" শব্দের অর্থ বোঝার জটিলতা বর্ণনা করেছেন।৪ আবার হতে পারে কিতাবটির শিরোনাম ছিল "আল-খুসুইস ওয়াল উমুম" যা ভুলবশত প্রথম শিরোনামে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ১৩৪।

২ তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ১৩৫।

৩ তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ১৩৫।

৪ দেখুন: ডক্টর ফাওকিয়া হুসাইন কর্তৃক সম্পাদিত কিতাবুল ইবানাহ এর ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৬৫ – ৬৬।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ৩১)
80- (كتاب في متشابه القرآن) .

81- (نقض كتاب التاج على ابن الراوندي) .

82- (كتاب فيه بيان مذهب النصارى) .

83- (كتاب في الإمامة) .

84- (كتاب فيه الكلام على النصارى) ، وقد ذكر ابن فورك: أنه مما يحتج به عليهم من سائر الكتب التي يعترفون بها1.

85- (كتاب في النقض على ابن الراوندي في إبطال التواتر) .

86- (كتاب في حكايات مذاهب المجسمة وما يحتجون به) .

87- (كتاب نقض شرح الكتاب) والعنوان كما ترى لا يفهم المقصود منه وقد أثبتت الدكتورة فوقية دهشة مستشرق مكارثي من هذا العنوان وتذكر أنه أثبت رأي مهرن في قراءة هذا العنوان وهو: (كتاب نقض شرح الكبار) 2.

88- (كتاب في مسائل جرت بينه وبين أبي الفرج المالكي في علة الخمر) .

89- (نقض كتاب الآثار العلوية على أرسطو طاليس) .

90- (كتاب في جوابات مسائل لأبي هاشم استملاها ابن أبي صالح الطبري) .

91- (كتاب الاحتجاج) .

92- (كتاب الأخبار) الذي أملاه على البرهان.

93- (كتاب في دلائل النبوة) .

94- (كتاب في الإمامة) .

هذه هي آخر الكتب التي ذكرها ابن فورك عقب ذكر الأشعري لكتبه في كتاب العمد، ولقد نقل ابن عساكر ذلك كله في التبيين، ثم استدرك على ابن فورك كتباً لم يذكرها وهي:

95- (الحث على البحث) .

96- (رسالة في الإيمان) وقد ذكرت الدكتورة فوقية أن شبيتا حققها ونشرها مع ترجمة ألمانية في كتاب له عن الأشعري ومذهبه3.

--------------------------------------------

1 تبيين كذب المفتري ص135.

2 مقدمة الدكتورة فوقية لكتاب الإبانة ص68.

3 انظر: مقدمتها لكتاب الإبانة ص86، 87.
80- (কুরআনের মুতাশাবিহাত বিষয়ক কিতাব) ।

81- (ইবনুর রাওয়ান্দীর বিপরীতে 'কিতাবুত তাজ'-এর খণ্ডন) ।

82- (খ্রিস্টানদের মতবাদের বর্ণনা সম্বলিত একটি কিতাব) ।

83- (ইমামত বিষয়ক একটি কিতাব) ।

84- (খ্রিস্টানদের বিষয়ে আলোচনার কিতাব), আর ইবনে ফুরাক উল্লেখ করেছেন: এটি এমন একটি গ্রন্থ যা দিয়ে তাদের স্বীকৃত অন্যান্য কিতাবের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে দলিল উপস্থাপন করা হয়।১

85- (তাওয়াতুর বাতিল করার ব্যাপারে ইবনুর রাওয়ান্দীর খণ্ডনমূলক কিতাব) ।

86- (মুজাসসিমাদের মতবাদের বিবরণ এবং তারা যা দিয়ে দলিল পেশ করে তা বিষয়ক কিতাব) ।

87- (কিতাব নকদ শারহিল কিতাব), শিরোনামটি যেমন দেখছেন এর থেকে উদ্দেশ্য স্পষ্ট অনুধাবন করা যায় না। ডক্টর ফাওকিয়া এই শিরোনামের ব্যাপারে প্রাচ্যবিদ ম্যাকার্থির বিস্ময় প্রকাশ করার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (ম্যাকার্থি) এই শিরোনামটি পড়ার ক্ষেত্রে মেহরানের মতকে সমর্থন করেছেন, আর তা হলো: (কিতাব নকদ শারহিল কিবার)।২

88- (মদের কারণ নিয়ে তাঁর এবং আবুল ফারাজ আল-মালিকির মধ্যে সংঘটিত মাসআলাসমূহ বিষয়ক কিতাব) ।

89- (এরিস্টটলের 'আল-আসারুল আলউইয়্যাহ' গ্রন্থের খণ্ডন) ।

90- (আবু হাশিমের মাসআলাসমূহের উত্তর সম্বলিত কিতাব যা ইবনে আবি সালেহ আত-তাবারী শ্রুতিলিপি করেছেন) ।

91- (দলিল উপস্থাপন বিষয়ক কিতাব) ।

92- (সংবাদ বিষয়ক কিতাব) যা তিনি আল-বুরহানের নিকট শ্রুতিলিপি করিয়েছিলেন।

93- (নবুওয়াতের প্রমাণাদি বিষয়ক কিতাব) ।

94- (ইমামত বিষয়ক কিতাব) ।

আশআরী তাঁর 'কিতাবুল উমাদ'-এ নিজের কিতাবসমূহের যে তালিকা দিয়েছেন, ইবনে ফুরাক তার পরপরই এগুলোকে শেষ কিতাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইবনে আসাকির এই সবকিছুই 'আত-তাবয়ীন' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। অতঃপর তিনি ইবনে ফুরাক যে কিতাবগুলো উল্লেখ করেননি তা সংযোজন করেছেন, আর সেগুলো হলো:

95- (গবেষণায় উৎসাহদান) ।

96- (ঈমান বিষয়ক রিসালা); ডক্টর ফাওকিয়া উল্লেখ করেছেন যে, স্পিট এটি সম্পাদনা করেছেন এবং আশআরী ও তাঁর মাযহাব বিষয়ক তাঁর একটি গ্রন্থে জার্মান অনুবাদসহ তা প্রকাশ করেছেন।৩

--------------------------------------------

১ তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী, পৃষ্ঠা ১৩৫।

২ কিতাবুল ইবানাহ-এর ডক্টর ফাওকিয়ার ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৬৮।

৩ দেখুন: কিতাবুল ইবানাহ-এর তাঁর ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৮৬, ৮৭।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ৩২)
97- (جواب مسائل كتب بها إلى أهل الثغر في تبيين ما سألوه عنه من المذهب الحق) ، وهي موضوع الرسالة التي نحن بصدد تحقيقها وسيأتي الكلام عليها بالتفصيل - إن شاء الله -.

هذا كل ما أثبته ابن عساكر في كتابه التبيين عن كتب الأشعري كما ذكرها الأشعري نفسه وابن فورك.

ويلاحظ أنها جميعًا اشتركت في عدم التنصيص على أهم كتاب وردنا عن الأشعري، وهو ما يمثل عقيدته النقية الصافية التي رجع بها إلى أصول مذهب السلف، وهذا الكتاب هو:

98- (الإبانة عن أصول الديانة) .

وابن عساكر وإن لم ينص عليه فيما استدركه على ابن فورك إلا أنه نقل كثيراً منه في التبيين، واعتمد عليه في بيان عقيدة الأشعري1، وأشاد به كثيراً، وبين مكانته في نفوس أتباع الأشعري الملتزمين بمنهجه كالحافظ الصابوني الذي ذكر عنه ابن عساكر أنه كان لا يخرج إلى مجلس درسه إلا بكتاب الإبانة، ويقول: "ما الذي عليّ من هذا؟ الكتاب شرح مذهبه"2.

وقد ساق ابن درباس في رسالته الذب عن الأشعري عن كثير من العلماء ما يثبت أن هذا الكتاب من تأليفه.

وابن النديم (ت/381هـ) وهو قريب العهد بالأشعري يذكر أن للأشعري كتاباً اسمه "التبيين عن أصول الدين"3 ولعله هو الإبانة.

ولفضيلة الشيخ حماد الأنصاري رسالة عن الأشعري - أشرت إليها سابقاً - ذكر فيها نقولاً كثيرة عن أهل العلم في إثبات هذا الكتاب للأشعري، بل إن المستشرق جولد تسيهر عدّ الإبانة رسالة مهمة، ومن الوثائق الأساسية في تاريخ العقائد الإسلامية، وأفاد منه مراراً في كتابه "محاضرات في الإسلام" وقرر أنه يمثل العرض النهائي لمذهب الأشعري4.

--------------------------------------------

1 انظر: تبيين كذب المفتري ص 152.

2 انظر: تبيين كذب المفتري ص389.

3 الفهرست ص257.

4 انظر: مذاهب الإسلاميين للدكتور عبد الرحمن بدوي.
৯৭- (সীমান্তবাসীদের নিকট প্রেরিত পত্রাবলি যাতে সত্য মাযহাব সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞাসিত বিষয়সমূহের উত্তর প্রদান করা হয়েছে), আর এটিই হলো সেই পত্রের মূল বিষয়বস্তু যা আমরা বর্তমানে সম্পাদনা করছি এবং এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে—ইনশাআল্লাহ।

ইবনে আসাকির তার 'আত-তাবয়িন' গ্রন্থে আশআরীর কিতাবসমূহ সম্পর্কে যা কিছু সাব্যস্ত করেছেন, তা মূলত আশআরী স্বয়ং এবং ইবনে ফুরাক যেভাবে উল্লেখ করেছেন সেটিই।

লক্ষ্যণীয় যে, এই সবগুলোর মধ্যে আশআরী থেকে আমাদের নিকট আসা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিতাবটির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধভাবে বাদ পড়েছে, যা তার সেই বিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ আকিদার প্রতিনিধিত্ব করে যা নিয়ে তিনি সালফে সালেহীনের মাযহাবের মূলনীতির দিকে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন; আর সেই কিতাবটি হলো:

৯৮- (আল-ইবানাহ আন উসুলিদ দিয়ানাহ বা দ্বীনের মূলনীতিসমূহের সুস্পষ্ট বর্ণনা)।

ইবনে আসাকির যদিও ইবনে ফুরাকের তালিকার পরিশিষ্টে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, তবে তিনি 'আত-তাবয়িন' গ্রন্থে এর থেকে অনেক উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন এবং আশআরীর আকিদা বর্ণনায় এর ওপর নির্ভর করেছেন১। তিনি এর অনেক প্রশংসাও করেছেন এবং আশআরীর সেই সব অনুসারীদের অন্তরে এর সুউচ্চ মর্যাদা বর্ণনা করেছেন যারা তার মানহাজের ওপর অবিচল ছিলেন; যেমন হাফেজ সাবুনী, যার সম্পর্কে ইবনে আসাকির উল্লেখ করেছেন যে, তিনি 'আল-ইবানাহ' কিতাবটি সাথে না নিয়ে তার পাঠদানের মজলিসে বের হতেন না এবং বলতেন: "এতে আমার কী করার আছে? কিতাবটি তো তারই মাযহাবের ব্যাখ্যা"২।

ইবনে দিরবাস তার 'আয-যাব্বু আনিল আশআরী' নামক পুস্তিকায় অনেক আলিমের বরাতে এমন বিষয় বর্ণনা করেছেন যা প্রমাণ করে যে, এই কিতাবটি আশআরীরই রচনা।

ইবনে নাদিম (ওফাত ৩৮১ হি.), যিনি আশআরীর সমসাময়িক সময়ের কাছাকাছি ছিলেন, তিনি উল্লেখ করেছেন যে আশআরীর 'আত-তাবয়িন আন উসুলিদ দ্বীন'৩ নামক একটি কিতাব রয়েছে; সম্ভবত এটিই সেই 'আল-ইবানাহ'।

ফজিলতুশ শাইখ হাম্মাদ আল-আনসারীর আশআরী সম্পর্কে একটি পুস্তিকা রয়েছে—যা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—সেখানে তিনি আশআরীর প্রতি এই কিতাবটি সাব্যস্ত করার বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের থেকে অনেক উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন। এমনকি প্রাচ্যবিদ গোল্ডজিহার 'আল-ইবানাহ'কে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুস্তিকা এবং ইসলামী আকিদার ইতিহাসে মৌলিক দলিলাদির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি তার 'লেকচারস অন ইসলাম' গ্রন্থে বারবার এর থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে, এটিই আশআরীর মাযহাবের চূড়ান্ত উপস্থাপনা৪।

--------------------------------------------

১. দেখুন: তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ১৫২।

২. দেখুন: তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি, পৃষ্ঠা ৩৮৯।

৩. আল-ফিহরিসত, পৃষ্ঠা ২৫৭।

৪. দেখুন: ডক্টর আব্দুর রহমান বাদাওয়ীর 'মাযাহিবুল ইসলামিয়্যিন'।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ولقد طبع هذا الكتاب أكثر من مرة، وأخيراً قامت الدكتورة "فوقية حسين" بتحقيقه والتعليق عليه مع مقدمة واسعة عن الأشعري.

وكتاب الإبانة يمثل الطور الأخير لدى أبي الحسن الأشعري، فهو بهذا آخر كتبه، ومما ذكره الدكتور "حمودة غرابة" في مقدمته لكتاب اللمع من أن اللمع متأخر عن الإبانة1، وكذلك الدكتورة فوقية في مقدمتها للإبانة2 قول لا دليل عليه ولا يعتمد على البحث العلمي الدقيق حيث إن معظم المصادر تذكر أنها من آخر كتبه، وهو ما يتفق مع أطواره التي سيأتي الإشارة إليها3.

بقي بعد ذلك رسالة مطبوعة ومنسوبة للأشعري لم يرد لها ذكر في القائمة السابقة وهي بعنوان "استحسان الخوض في علم الكلام" ولقد ناقش الدكتور بدوي موضوع هذه الرسالة وتوصل أخيراً إلى أنها ليست من تأليف الأشعري، ورجح أنها من وضع أشعري متأخر عن زمن الأشعري، وقد يكون في القرن الخامس أو السادس4، وقد أيدت الدكتورة فوقية هذا الرأي، وذكرت أنها من الكتب المنسوبة للأشعري5.

ويظهر أن هذا رأي صحيح لعدم ورود هذه الرسالة - كما ذكر - في القائمة السابقة، وحتى لو كانت حقاً من تأليف الأشعري، فمما لا شك فيه أنها وقعت منه فترة وجوده على مذهب المعتزلة ودفاعه عن آرائهم ومعتقداتهم، كما ذكر أيضاً الأستاذ "فؤاد سزكين" أن الأشعري له رسالة بعنوان "عقيدة" مخطوطة بمكتبة الأزهر، وهي أربع ورقات ضمن مجموع 511 تحت رقم 3203، ولها نسخة أخرى في برلين تحت رقم 21096.

كما ذكر الأستاذ "فؤاد السيد" أن للأشعري كتاباً بعنوان "شجرة اليقين" وهو نسخة مصورة بالفوتوستات عن أصل مكتوب بخط مغربي سنة 11747.

--------------------------------------------

1 انظر: اللمع في الرد على أهل الزيغ والبدع ص7.

2 انظر: مقدمة تحقيق الإبانة ص91.

3 انظر: رسالة الشيخ حماد الأنصاري عن الأشعري وعقيدته ص8 – 15.

4 انظر: مذاهب الإسلاميين 1/518 – 521.

5 انظر: مقدمة تحقيقها لكتاب الإبانة ص72 – 74.

6 تاريخ التراث العربي 2/377.

7 فهرس مخطوطات دار الكتب المصرية القسم الثاني /3.
এই বইটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে এবং সর্বশেষ ডক্টর "ফাওকিয়া হুসাইন" আশআরী সম্পর্কে একটি বিস্তৃত ভূমিকাসহ এটি সম্পাদনা ও এর ওপর টীকা প্রদান করেছেন।

আর ইবানাহ গ্রন্থটি আবুল হাসান আল-আশআরীর জীবনের শেষ পর্যায়কে প্রতিনিধিত্ব করে, তাই এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত। ডক্টর "হামুদা গুরাবাহ" তাঁর আল-লুমা গ্রন্থের ভূমিকায় যা উল্লেখ করেছেন যে, আল-লুমা গ্রন্থটি ইবানাহ-এর পরবর্তী সময়ের১—এবং অনুরূপভাবে ডক্টর ফাওকিয়া তাঁর ইবানাহ-এর ভূমিকায় যা বলেছেন২—তা এমন একটি বক্তব্য যার কোনো প্রমাণ নেই এবং তা সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর নির্ভরশীল নয়। কারণ অধিকাংশ উৎস নির্দেশ করে যে এটি তাঁর শেষ জীবনের গ্রন্থগুলোর অন্যতম, যা তাঁর জীবনের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের সাথেও সংগতিপূর্ণ, যা সামনে উল্লেখ করা হবে৩।

এরপর একটি মুদ্রিত পুস্তিকা অবশিষ্ট থাকে যা আশআরীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কিন্তু পূর্ববর্তী তালিকায় তার কোনো উল্লেখ নেই; এর শিরোনাম হলো "ইস্তিহসানুল খাওদ ফি ইলমিল কালাম"। ডক্টর বাদাওয়ী এই পুস্তিকাটির বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে এটি আশআরীর রচনা নয়। তিনি প্রবল ধারণা পোষণ করেছেন যে এটি আশআরীর সময়ের পরবর্তী কোনো আশআরী মতাবলম্বীর দ্বারা রচিত, যা সম্ভবত পঞ্চম বা ষষ্ঠ শতাব্দীর হতে পারে৪। ডক্টর ফাওকিয়াও এই মতকে সমর্থন করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে এটি আশআরীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত বইগুলোর অন্তর্ভুক্ত৫।

প্রতীয়মান হয় যে এটি একটি সঠিক মত, কারণ পূর্বেই যেমন উল্লেখ করা হয়েছে যে পূর্ববর্তী তালিকায় এই পুস্তিকাটির উল্লেখ নেই। এমনকি যদি এটি প্রকৃতপক্ষে আশআরীর রচনা হয়েও থাকে, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি তাঁর মুতাজিলা মাযহাবে থাকাকালীন এবং তাদের মতামত ও বিশ্বাসের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সময়ের রচনা। উস্তাদ "ফুয়াদ সেজগিন" আরও উল্লেখ করেছেন যে, আল-আযহার লাইব্রেরিতে আশআরীর "আকিদাহ" শিরোনামের একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যা ৫১১ নম্বর সংকলনের অধীনে ৩২০৩ নম্বরে চার পৃষ্ঠার একটি পাণ্ডুলিপি। এর আরেকটি পাণ্ডুলিপি বার্লিনে ২১০৯৬ নম্বরে সংরক্ষিত আছে৬।

উস্তাদ "ফুয়াদ আস-সাইয়িদ" আরও উল্লেখ করেছেন যে আশআরীর "শাজারাতুল ইয়াকিন" শিরোনামের একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা ১১৭৪ হিজরি সালে মাগরিবি লিপিতে লিখিত মূল কপির একটি ফটোকপি সংস্করণ৭।

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-লুমা ফির রাদ্দি আলা আহলিয যাইগি ওয়াল বিদা, পৃষ্ঠা ৭।

২ দেখুন: ইবানাহ-এর সম্পাদনার ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৯১।

৩ দেখুন: আশআরী ও তাঁর আকিদা সম্পর্কে শায়খ হাম্মাদ আল-আনসারীর রিসালাহ, পৃষ্ঠা ৮-১৫।

৪ দেখুন: মাযাহিবুল ইসলামিয়্যিন, ১/৫১৮-৫২১।

৫ দেখুন: আল-ইবানাহ গ্রন্থের সম্পাদনার ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৭২-৭৪।

৬ তারিখুত তুরাসিল আরাবি, ২/৩৭৭।

৭ ফাহরাস মাকতুদাত দারিল কুতুবিল মিসরিয়্যাহ, দ্বিতীয় অংশ/৩।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ইলা আহলিছ ছাগরি বি-বাবিল আবওয়াব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌المبحث السابع المراحل والأطوار التي مر بها

مر الأشعري بأطوار مختلفة نظراً لاختلاف البيئة التي نشأ فيها وتربى بينها، وقد أشرت إلى ذلك سابقاً، وتكاد المراجع كلها تتفق على أن الأشعري نشأ معتزلياً ثم انتقل إلى المذهب الكلامي، ثم هداه الله إلى الحق ورجع إلى مذهب أهل السنة والحديث.

وابن النديم (ت/385هـ) وهو أول من ترجم للأشعري يقول: "كان أولاً معتزلياً ثم تاب من القول بالعدل وخلق القرآن في المسجد الجامع بالبصرة يوم الجمعة"1، وقول ابن النديم هذا سار عليه معظم المؤرخين القدامى والمحدثين، إلا أن الحذاق منهم، وأهل الفقه والعلم بعقيدة السلف ذكروا أنه تنقل في أطواره فكان أولاً معتزلياً، ثم سلك طريقاً وسطاً بين الاعتزال وأهل السنة، وأخيراً رجع إلى عقيدة السلف.

وعلى هذا فالأطوار التي مر بها الأشعري ثلاثة كما يلي:

1 - الطور الأول:

كان فيه معتزلياً يقول بقولهم ويأخذ بأصولهم حتى صار إماماً لهم.

2 - الطور الثاني:

خرج فيه على المعتزلة ومال إلى أهل السنة والحديث ولماَّ يلحق بهم. وفي هذا الطور سلك طريقة عبد الله بن سعيد بن كلاب2.

--------------------------------------------

1 الفهرست ص257.

2 عبد الله بن سعيد، ويقال: عبد الله بن محمد أبو محمد بن كلاب القطان، أحد أئمة المتكلمين، ووفاته فيما يظهر بعد الأربعين ومائتين بقليل.

انظر: طبقات الشافعية 2/299.

وهو من المتكلمين الذين يسمون أنفسهم أهل السنة والجماعة وليسوا منهم، ولكنهم أقرب من غيرهم نسبياً وزاد عليه قوله: إن كلام الله تعالى لا يتصف بالأمر والنهي والخبر في الأزل لحدوث هذه الأمور وقدم الكلام النفسي، وإنما يتصف بذلك فيما لا يزول. انظر: طبقات الشافعية 2/300.

ويقول ابن تيمية: "إن ابن كلاب أثبت الصفات اللازمة به سبحانه كالعلم والقدرة والحياة، ونفى عنه ما يتعلق منها بمشيئته وقدرته من الأفعال، وذلك كالإتيان والمجيء وغير ذلك، وقد كان الناس قبله صنفين فقط". انظر: موافقة صريح المعقول لصريح المنقول 2/4 – 8.

والمراد بالصنفين في كلام ابن تيمية السلف المثبتون، والمعطلة النفاة.
‌সপ্তম পরিচ্ছেদ: তিনি যে সকল পর্যায় ও স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছেন

আশআরি বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছেন, যেহেতু তিনি যে পরিবেশে বড় হয়েছেন ও লালিত-পালিত হয়েছেন তাতে ভিন্নতা ছিল; যা আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি। প্রায় সকল উৎসগ্রন্থ এ বিষয়ে একমত যে, আশআরি প্রথম দিকে মুতাজিলি মতাদর্শী ছিলেন, এরপর কালামশাস্ত্রীয় মাযহাবের দিকে স্থানান্তরিত হন, অতঃপর আল্লাহ তাঁকে হকের দিকে হেদায়েত দান করেন এবং তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল হাদিসের মাযহাবের দিকে ফিরে আসেন।

ইবনুন নাদিম (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি), যিনি সর্বপ্রথম আশআরি সম্পর্কে জীবনী লিখেছেন, তিনি বলেন: “তিনি প্রথমত মুতাজিলি ছিলেন, অতঃপর বসরার জামে মসজিদে জুমার দিনে ‘আদল’ (ন্যায়বিচার) এবং ‘কুরআন সৃষ্টি’ হওয়ার মতবাদ থেকে তাওবা করেন।”১ ইবনুন নাদিমের এই বক্তব্য অধিকাংশ প্রাচীন ও আধুনিক ঐতিহাসিকগণ অনুসরণ করেছেন; তবে তাদের মধ্যে যারা বিচক্ষণ এবং যারা সালাফদের আকিদাহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও ইলম রাখেন, তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে তিনি কয়েকটি স্তরে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তিনি প্রথমে মুতাজিলি ছিলেন, এরপর মুতাজিলা ও আহলুস সুন্নাহর মাঝামাঝি একটি পথ অবলম্বন করেন এবং পরিশেষে সালাফদের আকিদাহর দিকে ফিরে আসেন।

এ অনুযায়ী, আশআরি যে সকল স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছেন তা হলো তিনটি:

১ - প্রথম স্তর:

এতে তিনি মুতাজিলি ছিলেন, তাদের মতানুসারে কথা বলতেন এবং তাদের মূলনীতিসমূহ গ্রহণ করতেন, এমনকি তিনি তাদের ইমামে পরিণত হন।

২ - দ্বিতীয় স্তর:

এতে তিনি মুতাজিলাদের থেকে বের হয়ে আসেন এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল হাদিসের দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে তখনও তাঁদের সাথে পুরোপুরি যুক্ত হননি। এই স্তরে তিনি আবদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন কুল্লাবের পদ্ধতি অনুসরণ করেন।২

--------------------------------------------

১ আল-ফিহরিসত, পৃষ্ঠা ২৫৭।

২ আবদুল্লাহ বিন সাঈদ, যাকে আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আবু মুহাম্মদ বিন কুল্লাব আল-কাত্তানও বলা হয়; তিনি কালামশাস্ত্রবিদদের অন্যতম একজন ইমাম। সম্ভবত ২৪০ হিজরির কিছুকাল পরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ২/২৯৯।

তিনি ঐ সকল কালামশাস্ত্রবিদদের অন্তর্ভুক্ত যারা নিজেদের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বলে দাবি করে, অথচ তারা প্রকৃত অর্থে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত নয়; তবে তারা অন্যদের তুলনায় আপেক্ষিকভাবে সত্যের কাছাকাছি। তিনি এর সাথে আরও যোগ করেছেন যে: মহান আল্লাহর কালাম অনাদিকাল থেকে আদেশ, নিষেধ ও সংবাদ দ্বারা গুণান্বিত হয় না, যেহেতু এই বিষয়গুলো নব্য (সৃষ্ট) এবং নফসি কালাম (মানসিক কথা) অনাদি। বরং যা বিলীন হয় না তার ক্ষেত্রে তিনি এ দ্বারা গুণান্বিত হন। দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ২/৩০০।

ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেন: “ইবনু কুল্লাব মহান আল্লাহর সাথে অবিচ্ছেদ্য সিফাতসমূহ যেমন ইলম (জ্ঞান), কুদরত (ক্ষমতা) এবং হায়াত (জীবন) সাব্যস্ত করেছেন; কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতার সাথে সংশ্লিষ্ট সিফাতসমূহ (কর্মগত গুণাবলি) যেমন আল্লাহর আসা এবং আল্লাহর আগমন করা ইত্যাদি অস্বীকার করেছেন। তাঁর পূর্বে মানুষ কেবল দুই শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল।” দেখুন: মুওয়াফাকাতু সারীহিল মাকুল লি-সারীহিল মানকুল ২/৪–৮।

ইবনু তাইমিয়্যাহর বক্তব্যে এই দুই শ্রেণি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সালাফগণ যারা সিফাত সাব্যস্তকারী এবং মুআত্তিলেগণ যারা সিফাত অস্বীকারকারী।