(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: -)
رسالة السجزي إلى أهل زبيد في الرد على من أنكر الحرف والصوت القسم: العقيدة
الكتاب: رسالة السجزي إلى أهل زبيد في الرد على من أنكر الحرف والصوت
المؤلف: عبيد الله بن سعيد بن حاتم السجزيّ الوائلي البكري، أبو نصر (ت 444هـ)
المحقق: محمد با كريم با عبد الله
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثانية، 1423هـ/2002م
عدد الصفحات: 390
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হরফ (বর্ণ) ও সউত (শব্দ) অস্বীকারকারীদের খণ্ডনে জাবিদবাসীদের প্রতি আস-সিজজীর পত্র বিভাগ: আকিদাহ
বই: হরফ ও সউত অস্বীকারকারীদের খণ্ডনে জাবিদবাসীদের প্রতি আস-সিজজীর পত্র
লেখক: উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন হাতিম আস-সিজজী আল-ওয়াইলি আল-বাকরি, আবু নাসর (মৃত্যু ৪৪৪ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মাদ বা কারীম বা আব্দুল্লাহ
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হিজরি/২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯০
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৭)
رسالة السجزي إلى أهل زبيد في الرد على من أنكر الحرف والصوت.
تأليف: أبي النصر عبيد الله بن سعيد ابن حاتم الوائلي السجزي.
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا.
من يهده الله فلا مضل له، ومِن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} .
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} .
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} .
أما بعد: فإن من تمام حفظ الله تبارك وتعالى لهذا الدين أن هيأ له علماء عاملين، ينفون عنه تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين.
ولقد كان في كل عصر منهم أفاضل لهم في الذّبِّ عن كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، والرّدِّ على أهل البدع والانحراف جهود مشكورة، وآثار مشهورة. كان من أعلامهم في القرن الخامس الهجري إمام من أئمة
হরফ এবং সওত (বর্ণ ও শব্দ) অস্বীকারকারীদের খণ্ডনে জাবিদবাসীদের প্রতি আস-সিজজীর পত্র।
রচনায়: আবু আন-নাসর উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে হাতিম আল-ওয়াইলি আস-সিজজী।
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল-
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয়ের থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়তা বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।}
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।}
অতঃপর: বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ কর্তৃক এই দ্বীন সংরক্ষণের পূর্ণতা হলো যে, তিনি এর জন্য এমন একদল আমলকারী আলেম প্রস্তুত করেছেন, যারা সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে একে রক্ষা করেন।
প্রত্যেক যুগেই তাঁদের মধ্যে এমন কিছু শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং বিদআতী ও বিচ্যুতদের খণ্ডনে যাঁদের প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ও সুপ্রসিদ্ধ অবদান রয়েছে। হিজরি পঞ্চম শতাব্দীতে তাঁদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন ইমামগণের মধ্য থেকে একজন ইমাম...
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৮)
أوراقها، وعدد أسطرها وكلماتها. ونوع الخط ووصفه وذكرت نماذج منه، وأخيرا السماعات والتملكات التي على النسخة.
الفصل الثالث: منهجي في التحقيق والصعوبات التي واجهتها والاصطلاحات والرموز التي استعملتها.
القسم الثاني: الكتاب المحقق.
وقد ذكرت في منهجي في التحقيق كيفية العمل فيه.
ولقد حرصت على أن أخرج الكتاب على الصورة التي تركه عليها المؤلف وبذلت في ذلك قصارى جهدي فإن وفقت لذلك وأصبت فمن عند الله وله المنة. وإن زل قلمي، أو نبا فهمي أو قصر عن إدراك المراد علمي فكل ذلك مني، وعذري أني قد استنفدت في البحث طاقتي، ولم أبخل في ذلك بجهد ولا وقت. واستغفر الله لذنبي. وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
এর পত্রসংখ্যা, পঙক্তি সংখ্যা ও শব্দ সংখ্যা। লিপির ধরন ও তার বর্ণনা এবং আমি এর নমুনা উল্লেখ করেছি; সবশেষে পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান শ্রবণ-নোট ও মালিকানা স্বত্বের বিবরণ।
তৃতীয় অধ্যায়: আমার সম্পাদনা পদ্ধতি, আমার সম্মুখীন হওয়া প্রতিবন্ধকাসমূহ এবং আমার ব্যবহৃত পরিভাষা ও সংকেতসমূহ।
দ্বিতীয় অংশ: সম্পাদিত গ্রন্থ।
আমি আমার সম্পাদনা পদ্ধতিতে এতে কাজ করার কর্মপদ্ধতি উল্লেখ করেছি।
আমি গ্রন্থটিকে এমন রূপেই প্রকাশ করতে সচেষ্ট হয়েছি যে অবস্থায় লেখক তা রেখে গিয়েছিলেন এবং এ কাজে আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। সুতরাং যদি আমি এতে সফল ও সঠিক হয়ে থাকি তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সমস্ত অনুগ্রহ তাঁরই। আর যদি আমার লেখনী স্খলিত হয়, কিংবা আমার বোধশক্তি লক্ষ্যচ্যুত হয় অথবা আমার জ্ঞান উদ্দেশ্য অনুধাবনে ব্যর্থ হয়, তবে তার সবটুকুই আমার পক্ষ থেকে; আর আমার ওজর এই যে, আমি গবেষণায় আমার সাধ্যের শেষটুকু ব্যয় করেছি এবং এতে শ্রম বা সময়ের কোনো কার্পণ্য করিনি। আমি আমার পাপের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ১১)
السنة أبلى في الذود عن حياض السنة وعقيدة السلف، والرد على المخالفين بلاءً حسناً، هو شيخ السنة في عصره الإمام أبو نصر عبيد الله ابن سعيد الوايلي السجزي (444هـ) .
ولقد وقفت على مصنف جليل من مصنفات هذا الإِمام في الرد على من أنكر الحرف والصوت في كلام الله عز وجل، فألفيته سار فيه على منهج السلف وقرر ما دل عليه الدليل من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، في هذه المسألة تقريراً أجاد فيه وأفاد رحمه الله تعالى.
فرأيت أن في تحقيقه وإخراجه خدمة للسنة وأهلها.
فعقدت العزم على ذلك واخترته ليكون أطروحتي لنيل درجة الماجستير، وقد شجعني على اختياره أفاضل من أساتذتي ومشايخي الكرام، ممن عرفوا بالحرص على عقيدة السلف والذب عن السنة، أجزل الله مثوبتهم. وإن من أهم الأسباب التي حفزتني لاختيار هذا الكتاب دون غيره، ما يأتي:
أولا: أن مسألة الحرف والصوت من المسائل الدقيقة التي زلت فيها أقدام طوائف من المسلمين فالحاجة ماسة لبيان القول الحق فيها.
ثانيا: أن هذا الكتاب يعد من أهم الكتب وأقدم المصنفات التي أفردت هذه المسألة بالتأليف، وقد فصل فيه المؤلف القول فيها، واستدل لمذهب السلف وانتصر له، ورد على المخالفين وبين بطلان ما تعلقوا به من شبهات ظنوها أدلة تؤيد ما ذهبوا إليه.
সুন্নাহর সংরক্ষণে এবং সালাফদের আকিদা ও বিরোধীদের খণ্ডনে তিনি উত্তম অবদান রেখেছেন, তিনি নিজ যুগের সুন্নাহর শাইখ ইমাম আবু নাসর উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-ওয়াইলি আস-সিজজি (৪৪৪ হি.)।
আমি এই ইমামের একটি মহান গ্রন্থ পেয়েছি যা আল্লাহর কালামের ক্ষেত্রে হরফ (অক্ষর) ও সাওত (আওয়াজ) অস্বীকারকারীদের খণ্ডনে রচিত। আমি এতে দেখতে পেয়েছি যে, তিনি সালাফদের মানহাজ অনুসরণ করেছেন এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর দলিল যা নির্দেশ করে তা-ই এই মাসআলায় সাব্যস্ত করেছেন। তিনি এতে অত্যন্ত নিপুণ ও উপকারী আলোচনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
তাই আমি মনে করেছি যে, এর সম্পাদনা ও প্রকাশনার মাধ্যমে সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের খিদমত করা হবে।
ফলে আমি এই বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ হই এবং একে আমার মাস্টার্স ডিগ্রির অভিসন্দর্ভ হিসেবে গ্রহণ করি। আমার সম্মানিত উস্তাদ ও শাইখদের মধ্যে যারা সালাফদের আকিদার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল এবং সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় সুপরিচিত, তারা আমাকে এটি নির্বাচনে উৎসাহিত করেছেন। আল্লাহ তাদের প্রতিদান বৃদ্ধি করে দিন। অন্য সব গ্রন্থ বাদ দিয়ে বিশেষভাবে এই বইটি বাছাই করার পেছনে প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
প্রথমত: হরফ ও সাওতের মাসআলাটি এমন এক সূক্ষ্ম বিষয় যেখানে মুসলিমদের অনেক দলেরই পদস্খলন ঘটেছে, তাই এই বিষয়ে সত্য মতটি সুস্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
দ্বিতীয়ত: এই গ্রন্থটি সেই সব গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীন রচনার অন্তর্ভুক্ত যা এককভাবে এই মাসআলার ওপর লিখিত হয়েছে। লেখক এতে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং সালাফদের মাযহাবের সপক্ষে দলিল প্রদান ও তার বিজয় নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি বিরোধীদের খণ্ডন করেছেন এবং তারা যেসব সংশয়কে নিজেদের মতের স্বপক্ষে দলিল মনে করেছিল, সেগুলোর অসারতা উন্মোচন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثالثا: أن في تحقيقه وإخراجه إحياءً لتراثنا الإِسلامي، وإبرازاً لجهود سلفنا الصالح، الذين أثروا المكتبة الإِسلامية بما صنفوا من كتب قيمة في شتى الفنون.
هذا وقد قسمت العمل في تحقيق الكتاب ودراسته إلى قسمين، الأول: في دراسة المؤلف والكتاب، والثاني: في تحقيق الكتاب. قدمت بين يدي ذلك: مدخلا. في نشأة الكلام في مسألة كلام الله عز وجل وفق الخطة التالية:
المدخل: ويشتمل على ثلاثة مباحث:
الأوّل: عرض تاريخي لظهور الكلام في هذه المسألة.
الثاني: افتراق الناس في المسألة وأهم وأشهر الأقوال التي انتهوا إليها فيها.
الثالث: في ذكر نماذج من المؤلفات التي ألفت فيها وعنيت ببيان منهج السلف.
القسم الأول: ويشتمل على بابين:
الباب الأوّل: في التعريف بالمؤلف. وفيه فصول ثلاثة:
الفصل الأوّل: في عصر المؤلف، ودرست فيه الحالة السياسية في عصره وأوضحت أنه عصر انحسار نفوذ الخلفاء ونشوء الدويلات داخل دولة الخلافة.
كما بينت الحالة الاجتماعية: وأنها سيئة جداً غلب عليها تفشي الغلاء واضطراب نظام الأمن في البلاد.
তৃতীয়ত: এর তাহকিক ও সম্পাদনার মাধ্যমে আমাদের ইসলামি ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ এবং আমাদের সালাফে সালেহীনের প্রচেষ্টাকে সমুজ্জ্বল করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন শাস্ত্রে মূল্যবান গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে ইসলামি পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করেছেন।
আমি এই গ্রন্থটির তাহকিক ও গবেষণার কাজকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি। প্রথম ভাগ: গ্রন্থকার ও গ্রন্থ বিষয়ক গবেষণা, এবং দ্বিতীয় ভাগ: গ্রন্থটির মূল পাঠের তাহকিক। এর প্রারম্ভে আমি একটি ভূমিকা পেশ করেছি, যাতে মহান আল্লাহর কালাম (কথা) সংক্রান্ত মাসআলার উদ্ভব সম্পর্কে নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী আলোচনা করা হয়েছে:
ভূমিকা: এটি তিনটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় আলোচনার সূত্রপাত সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক উপস্থাপনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় মানুষের বিভক্তি এবং এ বিষয়ে তাদের গৃহীত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ মতবাদসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থাবলির কিছু নমুনা উল্লেখ, যা সালাফদের মানহাজ বা পদ্ধতি বর্ণনায় গুরুত্বারোপ করেছে।
প্রথম অংশ: এটি দুটি অধ্যায়ের ওপর বিন্যস্ত:
প্রথম অধ্যায়: লেখক পরিচিতি। এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: লেখকের সমকালীন যুগ; এতে আমি তাঁর যুগের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, তা ছিল খলিফাদের প্রভাব হ্রাস পাওয়ার এবং খিলাফত রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ছোট ছোট রাষ্ট্রসমূহের উদ্ভবের যুগ।
পাশাপাশি আমি সে সময়ের সামাজিক অবস্থাও বর্ণনা করেছি যে, তা ছিল অত্যন্ত নাজুক; দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম বিশৃঙ্খলা তাতে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثم تعرضت للحالة العلمية: وبينت: أنها كانت مزدهرة في عصره، جنى فيها علماء العصر ما غرسه الأسلاف في ذلك.
وأخيرا: ختمت بالحالة الدينية، وكيف أنها كانت متأثرة بالحالة السياسية إلى حد كبير.
الفصل الثاني: في ترجمته: ذكرت فيها: اسمه، ونسبته، وكنيته ومولده، وموطنه ونشأته، ثم وفاته.
الفصل الثالث: في حياته العلمية وثقافته وتحدثت فيه عن بيئته العلمية، رحلته في طلب العلم، أشهر شيوخه، وأشهر تلاميذه، وثقافته، مؤلفاته وآثاره، مكانته العلمية وثناء الناس عليه، ومذهبه الفقهي، وعقيدته.
الباب الثاني: في التعريف بالكتاب، ووصف المخطوطة ومنهج التحقيق، وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: في التعريف بالكتاب وبينت فيه:
اسمه، وتوثيق نسبته للمؤلف، وموضوعه، وسبب التأليف، وتاريخه، ومكانه، ومنهج المؤلف وأسلوبه فيه، وموارده، ومصادره فيه، وأخيراً قيمته العلمية، ثم نقده والمآخذ عليه.
الفصل الثاني: التعريف بالمخطوطة ووصفها. وبينت الأمور التالية: الاسم المثبت على غلافها، ناسخها، وتاريخ نسخها، وسندها، وعدد
এরপর আমি ইলমি (শিক্ষা ও জ্ঞানতাত্ত্বিক) অবস্থার আলোচনা করেছি এবং বর্ণনা করেছি যে, তা তাঁর যুগে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল; সেখানে সেই যুগের উলামায়ে কেরাম পূর্বসূরিদের রোপণ করা বৃক্ষের ফল আহরণ করেছিলেন।
সবশেষে, আমি ধর্মীয় অবস্থা বর্ণনার মাধ্যমে ইতি টেনেছি এবং বর্ণনা করেছি যে, কীভাবে এটি রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্বারা অনেকাংশে প্রভাবিত হয়েছিল।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবনী প্রসঙ্গে: এতে আমি তাঁর নাম, বংশীয় উপাধি, কুনিয়াত (উপনাম), জন্ম, স্বদেশ ও বেড়ে ওঠা এবং তাঁর ইন্তেকাল সম্পর্কে উল্লেখ করেছি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি জীবন ও পাণ্ডিত্য প্রসঙ্গে: এতে আমি তাঁর ইলমি পরিবেশ, ইলম অর্জনের জন্য সফর, তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষকগণ, তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রগণ, তাঁর পাণ্ডিত্য, তাঁর রচনাবলি ও কীর্তিসমূহ, তাঁর ইলমি মর্যাদা ও তাঁর সম্পর্কে মানুষের প্রশংসা, তাঁর ফিকহি মাযহাব এবং তাঁর আকিদা সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ পরিচিতি, পাণ্ডুলিপির বিবরণ এবং তাহকিকের (সম্পাদনার) পদ্ধতি প্রসঙ্গে; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি প্রসঙ্গে; এতে আমি বর্ণনা করেছি:
গ্রন্থের নাম, লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের নির্ভরযোগ্যতা, এর বিষয়বস্তু, রচনার কারণ, রচনার সময়কাল ও স্থান, এতে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি ও শৈলী, তাঁর তথ্যউৎস ও মূল উৎসসমূহ, পরিশেষে এর ইলমি গুরুত্ব এবং এরপর এর সমালোচনা ও ত্রুটিসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপির পরিচিতি ও বর্ণনা। এতে আমি নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ স্পষ্ট করেছি: এর মলাটে লিপিবদ্ধ নাম, এর অনুলিপি প্রস্তুতকারী, অনুলিপি করার তারিখ, এর সনদ এবং সংখ্যা...
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تمهيدتدور أبحاث هذا الكتاب حول مسألة من أهم المسائل في باب العقيدة، وهي مسألة كلام الله عز وجل.
تلك المسألة التي شدَّت إليها أنظار العالم الإسلامي ردحا من الزمن لكثرة ما دار حولها من الجدل والخلاف الذي وصل إلى حد استعمال القوة والسلطان فحصل بذلك من الفتنة والمحنة ما هو معلوم ومدون في مظانه.
واستكمالا للفائدة أحببت أن أقدم بين يدي الكتاب ودراسته، مدخلا أبين فيه الأمور الآتية:
أولاً: عرضا تاريخيا لظهور الكلام في هذه المسألة.
ثانياً: افتراق الناس فيها وأهم وأشهر الأقوال التي انتهوا إليها.
ثالثاً: ذكر نماذج من المؤلفات التي ألفت فيها وعنيت ببيان منهج السلف.
ভূমিকাএই গ্রন্থের গবেষণা আবর্তিত হয়েছে আকীদার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মাসআলা বা বিষয় নিয়ে, আর তা হলো মহান আল্লাহর কালাম বা কথা বিষয়ক মাসআলা।
এটি এমন একটি বিষয় যা দীর্ঘকাল ধরে মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রেখেছে। এর কারণ হলো এটি নিয়ে অতিমাত্রায় বিতর্ক ও মতভেদ সৃষ্টি হওয়া, যা এক পর্যায়ে শক্তি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের স্তরে গিয়ে পৌঁছেছিল। এর ফলে যে ফিতনা ও পরীক্ষার উদ্ভব হয়েছিল তা ইতিহাসখ্যাত এবং সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য উৎসগুলোতে সুনিবদ্ধ রয়েছে।
বিষয়টিকে আরও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে মূল গ্রন্থ ও এর পর্যালোচনার পূর্বে আমি একটি ভূমিকা পেশ করতে আগ্রহী হয়েছি, যেখানে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করব:
প্রথমত: এই মাসআলায় আলোচনার সূত্রপাতের একটি ঐতিহাসিক উপস্থাপনা।
দ্বিতীয়ত: এই বিষয়ে মানুষের মতভেদ এবং তারা যেসব প্রধান ও প্রসিদ্ধ মতবাদে উপনীত হয়েছে সেগুলোর বিবরণ।
তৃতীয়ত: এই বিষয়ে রচিত এমন কিছু গ্রন্থের নমুনা উল্লেখ করা, যা সালাফদের মানহাজ বা পদ্ধতি বর্ণনায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الأوّل: عرض تاريخي لظهور الكلام في هذه المسألة:
لم يؤثر عن الصحابة رضوان الله تعالى عليهم الكلام في هذه المسألة ولم تعرف في زمنهم، بل كان الناس يؤمنون بجميع ما جاء في كتاب الله عز وجل، بما في ذلك إخباره سبحانه عن نفسه بأنه ينادي ويتكلم ويبصر ويسمع إلى غير ذلك في دائرة قوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} .
ثم سار التابعون بعدهم على ذلك المنهج الراشد من الإيمان بكل ما جاء في كتاب الله عز وجل أوفي سنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
فمتى حدث القول في هذه المسألة؟ ومن أول من أحدث ذلك؟.
أول من أظهر القول بإنكار كلام الله:
تشير المصادر التي بين أيدينا إلى أن: أول من عرف1 عنه إظهار القول بإنكار تكلم الله عز وجل هو (الجعد بن درهم ت 124هـ) وذلك في أواخر أيام دولة بني أمية، إذ كان الجعد مؤدباً لمروان الجعدي أو مروان الحمار آخر خلفاء بني أمية.
ولما أظهر مقالته طلبه بنو أمية فهرب إلى الكوفة ثم قتله بها خالد بن عبد الله القسري- عامل بني أمية فيها- في يوم عيد الأضحى حيث
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় কালাম (তাত্ত্বিক বিতর্ক) উদ্ভবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) থেকে এই মাসআলায় কোনো কালাম (তাত্ত্বিক আলোচনা) বর্ণিত হয়নি এবং তাঁদের যুগে এটি পরিচিতও ছিল না। বরং মানুষ মহান আল্লাহর কিতাবে যা কিছু এসেছে তার সবকিছুর ওপর ঈমান রাখতেন। যার মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহ নিজের সম্পর্কে যে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ডাক দেন, কথা বলেন, দেখেন এবং শোনেন ইত্যাদি; যা আল্লাহর এই বাণীর গণ্ডির অন্তর্ভুক্ত: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"
অতঃপর তাবেয়ীগণ তাঁদের পরে মহান আল্লাহর কিতাব অথবা তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহয় যা কিছু এসেছে সে সবের ওপর ঈমান আনার সেই সঠিক পদ্ধতির (মানহাজ) ওপর পরিচালিত ছিলেন।
তাহলে এই মাসআলায় তাত্ত্বিক বক্তব্য কখন শুরু হলো? আর কে সর্বপ্রথম এটি উদ্ভাবন করল?
আল্লাহর কালাম অস্বীকার করার বক্তব্য সর্বপ্রথম যে প্রকাশ করেছে:
আমাদের কাছে বিদ্যমান উৎসসমূহ ইঙ্গিত করে যে: মহান আল্লাহ কথা বলেন—এই বিষয়টিকে অস্বীকার করার বক্তব্য প্রকাশের জন্য সর্বপ্রথম যিনি পরিচিত১ হয়েছেন তিনি হলেন জাদ বিন দিরহাম (মৃত্যু ১২৪ হি.)। আর এটি ছিল উমাইয়া শাসনের শেষ দিনগুলোতে, কেননা জাদ ছিলেন উমাইয়াদের শেষ খলিফা মারওয়ান আল-জাদি বা মারওয়ান আল-হিমারের শিক্ষক।
যখন তিনি তাঁর এই মতবাদ প্রকাশ করলেন, তখন উমাইয়ারা তাকে সন্ধান করল। ফলে তিনি কুফায় পালিয়ে গেলেন। অতঃপর উমাইয়াদের কুফার গভর্নর খালিদ বিন আবদুল্লাহ আল-কাসরি কোরবানির ঈদের দিন তাকে সেখানে হত্যা করেন, যেখানে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
خطب الناس وقال في خطبته: "أيها الناس ضحوا تقبل الله ضحاياكم فإني مضح بالجعد بن درهم إنه زعم أن الله لم يتخذ إبراهيم خليلا، ولم يكلم موسى تكليماً، تعالى الله عما يقول الجعد علوا كبيرا ثم نزل فذبحه في أصل المنبر" 1.
لكن قبل أن يقتل هذا الضال كان قد أوحى ببدعته إلى (الجهم بن صفوان الترمذي ت 128 هـ) 2 حيث لقيه بالكوفة وأخذ عنه، ثم نُفِيَ إلى ترمذ وبقي إلى أن قتله بأصبهان وقيل بمرو سلم بن أحوز.
ثم تلقف هذه المقالة عن أتباع جهم، بشر المريسي (ت 218) 3 الذي كان عين الجهمية وعالمهم في عصره4.
--------------------------------------------
তিনি লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং তাঁর ভাষণে বললেন: "হে লোকসকল! তোমরা কুরবানি করো, আল্লাহ তোমাদের কুরবানি কবুল করুন। আমি জা’দ ইবন দিরহামকে কুরবানি করছি। কারণ সে দাবি করে যে, আল্লাহ ইব্রাহিমকে খলীল (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেননি এবং মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেননি। জা’দ যা বলে আল্লাহ তা থেকে অনেক উর্ধ্বে এবং অতি মহান।" এরপর তিনি মিম্বরের নিচে নেমে তাকে জবাই করলেন। 1.
কিন্তু এই পথভ্রষ্ট ব্যক্তিটি নিহত হওয়ার আগে তার বিদআতকে (জাহম ইবন সাফওয়ান আত-তিরমিজি, মৃত্যু ১২৮ হিজরি) 2 এর নিকট পৌঁছে দিয়েছিলেন। কুফায় তার সাথে জাহমের দেখা হয়েছিল এবং সে তার থেকে (এই মতবাদ) গ্রহণ করেছিল। এরপর তাকে তিরমিজে নির্বাসিত করা হয় এবং সে সেখানে অবস্থান করে, শেষ পর্যন্ত সালম ইবন আহওয়ায তাকে আস্পাহানে (কারো মতে মার্ভে) হত্যা করেন।
এরপর জাহমের অনুসারীদের কাছ থেকে এই মতবাদটি গ্রহণ করেন বিশর আল-মারিসি (মৃত্যু ২১৮ হিজরি) 3, যিনি তার যুগে জাহমিদের প্রধান ব্যক্তি এবং তাদের আলেম ছিলেন 4।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ثم أخذ عن بشر أحمدُ بن أبي دؤاد1 الرجل الذي أغرى المأمون العباسي بالمحنة وإجبار الناس على القول بخلق القرآن فافتتن خلق كثير وثبت إمام السنة – أحمد بن حنبل رحمه الله على الحق وصبر على الضرب والأذى.
الجذور التاريخية لهذه المسألة:
لقد عرفنا فيما سبق أن أول من تفوه بنفي كلام الله عز وجل من أهل القبلة- هو الجعد بن درهم، كما عرفنا خلفاءه الذين ورثوا عنه هذا القول وأضلوا به خلقاً وأناسي كثيراً.
لكن هل بوسعنا أن نعرف من أين للجعد هذه المقالة الخبيثة؟.
بين أيدينا نص ذكره ابن عساكر وغيره مفاده: (أن الجعد بن درهم أخذ هذا القول عن بيان بن سمعان 2، وبيان أخذه عن طالوت بن أخت لبيد بن الأعصم، وطالوت أخذه عن خاله لبيد- ذلك اليهودي الذي سحر رسول الله والذي كان يقول بخلق التوراة 3.
--------------------------------------------
এরপর বিশরের কাছ থেকে আহমাদ ইবনে আবি দুয়াদ (১) শিক্ষা গ্রহণ করেন, যিনি আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুনকে মহা-বিপর্যয় (মিহনা) এবং মানুষকে কুরআন সৃষ্টির মতবাদ গ্রহণে বাধ্য করার জন্য প্ররোচিত করেছিলেন। ফলে বহু মানুষ বিভ্রান্ত হয় এবং সুন্নাহর ইমাম—আহমাদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সত্যের ওপর অটল থাকেন এবং প্রহার ও কষ্ট সহ্য করে ধৈর্য ধারণ করেন।
এই মাসআলার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি যে, আহলে কিবলার মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কালামকে (কথা বলা) অস্বীকার করার কথা উচ্চারণ করেছিলেন, তিনি হলেন জা'দ ইবনে দিরহাম। যেমন আমরা তাঁর উত্তরসূরিদের সম্পর্কেও জেনেছি যারা তাঁর কাছ থেকে এই বক্তব্য উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিল এবং এর মাধ্যমে বহু মাখলুক ও মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছিল।
কিন্তু আমরা কি জানতে পারি যে, জা'দ এই নিকৃষ্ট বক্তব্যটি কোথা থেকে পেয়েছিলেন?
আমাদের সামনে ইবনে আসাকির ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন এমন একটি বর্ণনা রয়েছে যার সারমর্ম হলো: (জা'দ ইবনে দিরহাম এই বক্তব্যটি বায়ান ইবনে সামআন (২) থেকে গ্রহণ করেছিলেন, আর বায়ান এটি গ্রহণ করেছিলেন লাবিদ ইবনুল আসমের ভাগ্নে তালুত থেকে, আর তালুত এটি গ্রহণ করেছিলেন তার মামা লাবিদের কাছ থেকে—সেই ইয়াহুদি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যাদু করেছিল এবং যে তাওরাত সৃষ্টির কথা বলত) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فاليهود إذاً وراء هذه الفتنة، وليس ذلك بغريب عليهم فما زالوا منذ أن بعث الله رسوله محمداً صلى الله عليه وسلم يكيدون للإسلام ولرسول الإسلام ليلاً ونهاراً سرّاً وجهاراً، فسحروا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسَمُّوه، وحاولوا قتله بإلقاء الحجارة عليه، وبعد وفاته حاولوا تفريق المسلمين وفتنتهم، كما فعل ابن سبأ الخبيث. وذلك معروف مذكور في كتب التاريخ والعقائد.
সুতরাং ইহুদিরাই এই ফিতনার পেছনে রয়েছে, আর এটি তাদের জন্য কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। কারণ আল্লাহ যখন থেকে তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করেছেন, তখন থেকেই তারা ইসলাম ও ইসলামের রাসূলের বিরুদ্ধে দিনরাত, গোপনে ও প্রকাশ্যে ষড়যন্ত্র করে আসছে। তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর জাদু করেছিল, তাঁকে বিষ প্রয়োগ করেছিল এবং তাঁর ওপর পাথর নিক্ষেপ করে তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। তাঁর ইন্তেকালের পর তারা মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও ফিতনা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যেমনটি করেছিল খবীস ইবনে সাবা। আর এটি ইতিহাস ও আকিদার কিতাবসমূহে সুপরিচিত ও বর্ণিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الثاني: افتراق الناس في مسألة كلام الله عز وجل، وأهم الأقوال التي انتهوا إليها.
بعد أن بذر أولئك النفر الأخباث بذور الفتنة والخلاف في هذه المسألة. اشتغل الناس بها اشتغالاً عظيماً، وكثر فيها الكلام والجدال؛ ولذا قيل في سبب تسمية علم الكلام: إنه سمي بعلم الكلام؛ لأن مسألة الكلام أشهر أجزائه 1، حيث كثر فيها التناحر ودار حولها من الجدل ما لم يدر حول مسألة غيرها.
فقد تنازع الناس في كلام الله عز وجل نزاعاً كثيراً، وتعددت أقوالهم في ذلك فبلغت تسعة أقوال كما ذكر ابن أبي العز 2، وقال ابن تيمية مرة ستة أقوال، ومرة قال سبعة أو تزيد3 بينما عدها ابن القيم ثمانية أقوال 4.
ولن أطيل على القارئ الكريم بتعداد هذه الأقوال فهي مذكورة في مظانها التي أشرت إليها وإنما اكتفي هنا بذكر ثلاثة من أهمها وأشهرها والتي يمكن اعتبارها الأقوال الرئيسة في الباب لكثرة القائلين بكل منها.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার কালামের মাসআলায় মানুষের বিভক্তি এবং তাদের দেওয়া প্রধান অভিমতসমূহ।
সেই অপবিত্র দলটি যখন এই মাসআলায় ফিতনা ও মতভেদের বীজ বপন করল, তখন মানুষ একে নিয়ে ব্যাপকভাবে লিপ্ত হয়ে পড়ল এবং এ বিষয়ে আলোচনা ও বিতর্ক বৃদ্ধি পেল। এ কারণেই ‘ইলমুল কালাম’ নামকরণের কারণ হিসেবে বলা হয় যে: একে ‘ইলমুল কালাম’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ ‘কালাম’ (আল্লাহর কথা) সংক্রান্ত মাসআলাই ছিল এর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ অংশ ১, কেননা এ বিষয়ে পারস্পরিক সংঘাত যেমন বেশি ছিল, তেমনি একে কেন্দ্র করে এমন সব বিতর্ক আবর্তিত হয়েছে যা অন্য কোনো মাসআলার ক্ষেত্রে হয়নি।
মহান আল্লাহর কালামের বিষয়ে মানুষের মধ্যে প্রচুর মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য বহুধা বিভক্ত। ইবনে আবিল ইজ্জ ২ এর উল্লেখ অনুযায়ী এটি নয়টি অভিমত পর্যন্ত পৌঁছেছে; ইবনে তাইমিয়্যাহ একবার ছয়টি এবং অন্যবার সাতটি বা ততোধিক ৩ অভিমতের কথা বলেছেন; যেখানে ইবনুল কাইয়্যিম এগুলোকে আটটি অভিমত হিসেবে গণ্য করেছেন ৪।
আমি সম্মানিত পাঠকের জন্য এই অভিমতগুলোর বিস্তারিত তালিকা দিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করব না, কারণ এগুলো যে সকল মূল উৎসে পাওয়া যায় আমি তার প্রতি ইঙ্গিত করেছি। বরং আমি এখানে সেগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ তিনটি অভিমত উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব, যেগুলোকে এই অধ্যায়ের প্রধান অভিমত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে; কারণ এগুলোর প্রত্যেকটিরই বহু প্রবক্তা রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ২১)
القول الأوّل: قول السلف من أهل الحديث والسنة. وهو أنَّ كلام الله غير مخلوق منه بدأ وإليه يعود وأنه سبحانه يتكلم إذا شاء بما شاء، وأن كلامه يسمع ويتلى وأنه بحرف وصوت.
القول الثاني: قول الجهمية والمعتزلة وهو: أن كلام الله مخلوق خلقه في غيره، وليس هو بمتكلم عند الجهمية، بينما يطلق المعتزلة أنه متكلم1 تقية- لئلا يشنع عليهم. إذ معنى أنه متكلم عندهم: أنه فعل الكلام وخلقه في غيره وهذا بعينه قول الجهمية 2.
وهؤلاء يقولون: إن كلامه حرف وصوت، سور وآيات له أجزاء وأبعاض.
القول الثالث: قول الكلابية والأشاعرة: وهو: أن كلام الله تعالى معنى قائم بالنفس لازم لذاته تعالى لزوم الحياة والعلم، وأن الله لا يتكلم بمشيئته وإرادته، ولا يتكلم بحرف وصوت. وأن الحروف والأصوات حكاية عن كلامه عند (الكلابية) ، وعبارة عنه (عند الأشاعرة) وأن كلامه معنى واحد لا يتجزأ ولا يتبعض هو الأمر والنهي والخبر والاستخبار إن عبر عنه بالعربية كان قرآناً، وإن عبر عنه بالعبرانية، كان توراة، وإن عبر عنه بالسريانية كان إنجيلاً.
--------------------------------------------
প্রথম অভিমত: আহলে হাদিস এবং সুন্নাহর পূর্বসূরিদের (সালাফ) অভিমত। আর তা হলো, আল্লাহর কালাম সৃষ্টি নয়; তা তাঁর থেকেই শুরু হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে। তিনি পবিত্র সত্তা, যখন ইচ্ছা যা ইচ্ছা বলেন। তাঁর কালাম শোনা যায় ও তিলাওয়াত করা হয় এবং তা অক্ষর ও আওয়াজ সম্বলিত।
দ্বিতীয় অভিমত: জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের অভিমত, আর তা হলো: আল্লাহর কালাম সৃষ্টি, যা তিনি অন্যের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন। জাহমিয়াদের মতে তিনি মূলত বক্তা নন, তবে মুতাজিলারা লোকনিন্দা থেকে বাঁচতে আত্মরক্ষার্থে তাঁকে বক্তা বলে অভিহিত করে। কারণ তাদের নিকট বক্তা হওয়ার অর্থ হলো: তিনি কালামের কাজ সম্পাদন করেছেন এবং তা অন্যের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন; যা মূলত জাহমিয়াদেরই বক্তব্য ২।
এরা বলে থাকে: তাঁর কালাম হলো অক্ষর ও আওয়াজ, সূরা ও আয়াত, যার অংশ ও খণ্ড রয়েছে।
তৃতীয় অভিমত: কুল্লাবিয়া ও আশআরিদের অভিমত। আর তা হলো: মহান আল্লাহর কালাম হলো তাঁর সত্তায় বিদ্যমান এমন এক অর্থ যা জীবন ও জ্ঞানের ন্যায় তাঁর সত্তার জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা ও মর্জিতে কথা বলেন না এবং অক্ষর ও আওয়াজেও কথা বলেন না। কুল্লাবিয়াদের নিকট অক্ষর ও আওয়াজগুলো হলো তাঁর কালামের অনুকৃতি, আর আশআরিদের নিকট তা হলো তাঁর কালামের অভিব্যক্তি। তাদের মতে আল্লাহর কালাম হলো এক অভিন্ন অর্থ যা বিভাজন বা খণ্ডনযোগ্য নয়। সেটিই হলো আদেশ, নিষেধ, সংবাদ ও জিজ্ঞাসা। যদি তা আরবি ভাষায় ব্যক্ত হয় তবে তা কুরআন, যদি হিব্রু ভাষায় ব্যক্ত হয় তবে তা তাওরাত এবং যদি সুরয়ানি ভাষায় ব্যক্ত হয় তবে তা ইঞ্জিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ২২)
وأول من عرف عنه هذا القول (عبد الله بن سعيد بن كلاب ثم وافقه عليه الأشعري والقلانسي وغيرهما) 1.
والرد على هذا القول هو موضوع كتاب (الرد على من أنكر الحرف والصوت) الذي أقدم هذه الدراسة بين يديه.
هذه أهم الأقوال التي قيلت في الموضوع لخصتها للقارئ بإيجاز والقصد إعطاؤه فكرة موجزة وإلمامة مقتضبة عما قيل في هذه المسألة، إذ ليس المراد إحاطته علما بدقائق ما قيل وتفاصيل ما أوجزت، فإن ذلك مما يضيق عنه هذا المبحث وهو مدون في مظانه ومصادره التي أشرت إلى طائفة منها.
ثم بعد ذلك نشأ الخلاف في عدة مسائل، كمسائل اللفظ والملفوظ والتلاوة والمتلو، وهل يقال لفظي بالقرآن مخلوق 2، أو غير مخلوق فمنع التلفظ بالعبارتين إمام أهل السنة رحمه الله أحمد بن حنبل- وجهّم من قال: لفظي بالقران مخلوق، فقال: ((من زعم أن ألفاظنا بالقرآن وتلاوتنا له مخلوقة والقرآن كلام الله فهو جهمي)) 3.
--------------------------------------------
আর যাঁর কাছ থেকে প্রথম এই মতটি জানা যায় তিনি হলেন (আব্দুল্লাহ ইবন সাঈদ ইবন কুল্লাব, অতঃপর আল-আশআরি, আল-কালানিসি এবং আরও অনেকে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন) ১।
আর এই মতের খণ্ডনই হলো (হরফ ও ধ্বনি অস্বীকারকারীদের প্রতিবাদ) নামক কিতাবটির বিষয়বস্তু, যার পর্যালোচনা আমি এখানে পেশ করছি।
এ বিষয়ে যেসব গুরুত্বপূর্ণ মত ব্যক্ত করা হয়েছে, আমি তা পাঠকদের জন্য সংক্ষেপে সারসংক্ষেপ করেছি। এর উদ্দেশ্য হলো এই মাসআলা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে সে বিষয়ে পাঠককে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা ও সারমর্ম প্রদান করা। কারণ, যা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে তার সূক্ষ্ম বিষয়াদি এবং বিস্তারিত বিবরণের পূর্ণ জ্ঞানদান করা এখানে উদ্দেশ্য নয়, কেননা এই গবেষণা ক্ষেত্রটি তার জন্য যথেষ্ট নয় এবং তা স্ব-স্ব স্থানে ও উৎসে লিপিবদ্ধ আছে, যার মধ্য থেকে আমি একটি অংশের প্রতি ইঙ্গিত করেছি।
এরপর বেশ কিছু বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়, যেমন লফজ (উচ্চারণ) ও মালফুজ (উচ্চারিত), তিলাওয়াত ও মাতলু (পঠিত) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ; এবং ‘আমার কুরআন পাঠ বা উচ্চারণ কি সৃষ্টি’ ২, নাকি ‘অসৃষ্ট’—একথা বলা যাবে কি না? আহলুস সুন্নাহর ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) উভয় বাক্য উচ্চারণ করতেই নিষেধ করেছেন এবং যিনি ‘আমার কুরআন পাঠ সৃষ্টি’ বলতেন তাকে জাহমি আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলতেন: “যে ব্যক্তি দাবি করে যে কুরআনের ক্ষেত্রে আমাদের উচ্চারণ ও তিলাওয়াত সৃষ্টি, অথচ কুরআন আল্লাহর কালাম, তবে সে একজন জাহমি।” ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الثالث: في ذكر نماذج من المؤلفات التي عنيت ببيان مذهب السلف في المسألة.
لما اشتد افتتان الناس بهذه المسألة، وعمت البلوى بها وعميت الحقيقة على عامة الأمة بادر علماء السلف لإيضاح الحقيقة ورد الحكم في هذه المسألة وغيرها إلى كتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم فألفوا في ذلك المؤلفات التي تبين منهج الكتاب والسنة وسلف الأمة الصالح في هذا الباب، وردوا على أهل الباطل باطلهم، وبينوا للناس ضلالهم وكشفوا عوارهم وبينوا أنهم دعاة فتنة وإلحاد في أسماء الله وصفاته.
فمن تلك المؤلفات ما هو عام في بيان السنة في كثير من مسائل العقيدة، ومنها ما هو خاص بمسألة القرآن.
فمن النوع الأوّل:
1- كتاب الرد على الجهمية والزنادقة للإِمام أحمد بن حنبل (ت241 هـ) .
2- كتاب السنة للإِمام أحمد أيضاً.
3- كتاب السنة لعبد الله بن الإِمام أحمد (ت 290 هـ) .
4- كتاب الرد على الجهمية لعثمان بن سعيد الدارمي (ت280هـ) .
5- كتاب الرد على بشر المريسي للدارمي أيضاً.
6- كتاب الرد على الجهمية لابن منده (ت 395 هـ) .
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় সালাফদের মাযহাব বর্ণনার গুরুত্বদানকারী গ্রন্থসমূহের কিছু নমুনা উল্লেখ প্রসঙ্গে।
যখন এই মাসআলা নিয়ে মানুষের ফিতনা প্রবল হলো, এর বিপদ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল এবং উম্মতের সাধারণ মানুষের কাছে সত্য আচ্ছন্ন হয়ে গেল, তখন সালাফী আলেমগণ সত্য স্পষ্ট করতে এবং এই মাসআলা ও অন্যান্য বিষয়ের বিধান মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে নিতে দ্রুত এগিয়ে এলেন। ফলে তাঁরা এ বিষয়ে এমন সব গ্রন্থ রচনা করলেন যা কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের নেককার পূর্বসূরিদের (সালাফ) মানহাজ স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তাঁরা বাতিলপন্থীদের বাতিলকে খণ্ডন করলেন, মানুষের সামনে তাদের পথভ্রষ্টতা বর্ণনা করলেন, তাদের দোষ-ত্রুটি উন্মোচন করলেন এবং স্পষ্ট করে দিলেন যে, তারা হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে ফিতনা এবং বিকৃতির (ইলহাদ) আহ্বায়ক।
সেসব রচনার মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা আকীদার অনেক বিষয়ে সুন্নাহর বর্ণনায় ব্যাপক, আবার কিছু রয়েছে যা বিশেষভাবে কুরআন সংক্রান্ত মাসআলার জন্য নিবেদিত।
প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো:
১- ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (মৃত্যু ২৪১ হি.) রচিত কিতাবুর রাদ্দ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ।
২- ইমাম আহমাদেরই কিতাবুস সুন্নাহ।
৩- ইমাম আহমাদের পুত্র আব্দুল্লাহ (মৃত্যু ২৯০ হি.) রচিত কিতাবুস সুন্নাহ।
৪- উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি (মৃত্যু ২৮০ হি.) রচিত কিতাবুর রাদ্দ আলাল জাহমিয়্যাহ।
৫- দারেমিরই কিতাবুর রাদ্দ আলা বিশর আল-মারিসি।
৬- ইবনে মানদাহ (মৃত্যু ৩৯৫ হি.) রচিত কিতাবুর রাদ্দ আলাল জাহমিয়্যাহ।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
7- شرح أصول اعتقاد أهل السنة للإِمام اللالكائي (ت418هـ) .
8- الإبانة لأبي الحسن الأشعري (ت 324 هـ) .
9- الإِبانة لابن بطه (ت 387 هـ) .
ومن النوع الثاني:
1- كتاب الحيدة في الرد على المريسي للمكي عبد العزيز بن يحيى الكناني (ت 240 هـ) .
2- كتاب خلق أفعال العباد للإِمام البخاري (ت 256 هـ) .
3- كتاب الاختلاف في اللفظ للإِمام عبد الله بن مسلم بن قتيبة (ت 276 هـ) .
4- الإِبانة في مسألة القرآن لأبي نصر السجزي (المؤلف) (ت 444هـ) .
فهذه نماذج من الكتب المؤلفة في الباب وهناك الكثير غيرها.
৭- ইমাম লালকাই (মৃত্যু ৪১৮ হি.) রচিত ‘শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ’ (আহলে সুন্নাহর আকিদার মূলনীতির ব্যাখ্যা)।
৮- আবুল হাসান আল-আশআরী (মৃত্যু ৩২৪ হি.) রচিত ‘আল-ইবানাহ’।
৯- ইবনে বাত্তাহ (মৃত্যু ৩৮৭ হি.) রচিত ‘আল-ইবানাহ’।
আর দ্বিতীয় প্রকারের মধ্যে রয়েছে:
১- মক্কী আব্দুল আযীয বিন ইয়াহইয়া আল-কিনানী (মৃত্যু ২৪০ হি.) রচিত আল-মারিসির খণ্ডনে ‘কিতাবুল হাইদাহ’।
২- ইমাম বুখারী (মৃত্যু ২৫৬ হি.) রচিত ‘কিতাবু খালকি আফআলিল ইবাদ’ (বান্দাদের কর্মকাণ্ডের সৃষ্টি)।
৩- ইমাম আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতায়বাহ (মৃত্যু ২৭৬ হি.) রচিত ‘কিতাবুল ইখতিলাফ ফিল লাফয’ (শব্দগত মতপার্থক্য)।
৪- আবু নাসর আস-সিজযী (গ্রন্থকার) (মৃত্যু ৪৪৪ হি.) রচিত ‘আল-ইবানাহ ফি মাসআলাতিল কুরআন’।
এগুলো এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থাবলির কিছু নমুনা মাত্র এবং এছাড়াও আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الباب الأول: التعريف بالمؤلف
الفصل الأول: عصر المؤلف…الفصل الأول: عصر المؤلف (000 - 444هـ)
تمهيد:
قبل الشروع في دراسة حياة المؤلّف والتعريف به، رأيت أن أقدم بين يدي ذلك عرضاً موجزاً للبيئة التي عاش فيها، والظروف التي سادت في عصره، وأحاطت بحياته، إذ أن المرء ابن بيئته، يتأثر بالظروف والمؤثرات المحيطة به.
لذا كان لزاما علينا ونحن ندرس حياة عَلم من أعلام الإسلام، كالإِمام أبي نصر السجزي، أن نلم بالأحوال التالية في عصره:
الحالة السياسية.
الحالة الاجتماعية.
الحالة العلمية.
الحالة الدينية
الحالة السياسية:
لم تذكر لنا مصادر ترجمة الإِمام أبي نصر السجزي متى كانت ولادته، وإنما اكتفت بذكر تاريخ وفاته وأنه بعد الأربعين وأربعمائة، ثم أشير فيها إلى أنه كان يعيش قبل الأربعمائة، حيث بدأ رحلته في طلب العلم كما سيأتي معنا.
إذاً علينا أن نعرض للحالة السياسية في الربع الأخير من القرن الرابع والنصف الأول ومن القرن الخامس الهجريين وهي الحقبة التي عاشها الإِمام أبو نصر على وجه التقريب.
প্রথম অধ্যায়: লেখকের পরিচয়প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের যুগ...প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের যুগ (০০০ - ৪৪৪ হিজরি)
ভূমিকা:
লেখকের জীবনী অধ্যয়ন এবং তাঁর পরিচিতি তুলে ধরার আগে, আমি তাঁর বসবাসের পরিবেশ এবং তাঁর যুগে বিরাজমান ও তাঁর জীবনকে ঘিরে থাকা পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা পেশ করা সমীচীন মনে করছি; কেননা মানুষ তার পরিবেশেরই সন্তান, সে তার চারপাশের পরিস্থিতি ও প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত হয়।
তাই ইসলামের অন্যতম বরেণ্য ইমাম, যেমন ইমাম আবু নাসর আস-সিজজি-র জীবনী অধ্যয়ন করার সময় আমাদের জন্য তাঁর যুগের নিম্নোক্ত অবস্থাগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া অপরিহার্য:
রাজনৈতিক অবস্থা।
সামাজিক অবস্থা।
জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা।
ধর্মীয় অবস্থা
রাজনৈতিক অবস্থা:
ইমাম আবু নাসর আস-সিজজি-র জীবনীগ্রন্থসমূহ আমাদের কাছে তাঁর জন্মের সময় উল্লেখ করেনি, বরং সেগুলো কেবল তাঁর মৃত্যু তারিখ উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছে এবং তা ৪৪০ হিজরির পরে ছিল বলে উল্লেখ করেছে। এরপর সেগুলোতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে তিনি ৪০০ হিজরির পূর্বেই জীবিত ছিলেন, যে সময়ে তিনি ইলম অন্বেষণে তাঁর সফর শুরু করেছিলেন, যা সামনে আমাদের আলোচনায় আসবে।
সুতরাং আমাদের চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শেষ এক-চতুর্থাংশ এবং পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর প্রথমার্ধের রাজনৈতিক অবস্থা তুলে ধরতে হবে, যা মোটামুটিভাবে ইমাম আবু নাসর যে সময়কালে বেঁচে ছিলেন সেই সময়কে নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وعلى هذا فقد عاصر أبو نصر دولة بني العباس في عصر انحسار نفوذ الخلفاء وتقلص سلطان الدولة الفعلي، حيث استقل كل أمير بإمارته وكل أهل ناحية، بما يليهم، فقامت دويلات متناحرة، ولم يبق للخليفة العباسي سوى بغداد، ولم تكن سلطته عليها سائدة على كل حال.
فأدرك أبو نصر الخليفة العباسي القادر بالله أبا العباس أحمد بن الأمير إسحاق بن المقتدر بالله (381-422 هـ) ، ثم الخليفة القائم بأمر الله أبا جعفر عبد الله بن القادر بالله (422-467 هـ) 1.
وكان الضعف قد دب في كيان هذه الدولة في نهاية الربع الأول من القرن الرابع الهجري، حيث أصيب العالم الإسلامي في نحو سنة 324 هـ بانقسام كبير حتى كأنه عقد قد انفرط أو صخرة قد تفتت - كما يقول أحمد أمين 2 - وإن كانت قد انفصلت بعض أجزاء الدولة قبل ذلك التاريخ، إلا أنه لم يحصل مثل هذا التمزق إلا في نحو هذا العام.
يقول ابن كثير: في هذه السنة: "وهَيَ أمر الخلافة جداً، واستقل نواب الأطراف بالتصرف فيها ولم يبق للخليقة حكم في غير بغداد ومعاملاتها، ومع هذا فليس له فيها نفوذ ولا كلمة تطاع" 3.
ثم لازم هذا الوضع المتردي الدولة العباسية إلى أن أفل نجمها، وانثل عرشها على أيدي التتار سنة ست وخمسين وستمائة حين قضى هولاكو
--------------------------------------------
এই প্রেক্ষাপটে, আবু নাসর আব্বাসীয় খিলাফতের সেই যুগে বসবাস করেছেন যখন খলিফাদের প্রভাব স্তিমিত হয়ে আসছিল এবং রাষ্ট্রের প্রকৃত কর্তৃত্ব সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। এ সময় প্রতিটি আমির নিজ নিজ আমিরাতে এবং প্রতিটি অঞ্চলের অধিবাসীরা তাদের নিকটবর্তী এলাকায় স্বাধীন হয়ে পড়েছিল। ফলে পরস্পর বিবাদমান ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। আব্বাসীয় খলিফার হাতে বাগদাদ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না এবং সেখানেও সব ক্ষেত্রে তাঁর কর্তৃত্ব বজায় ছিল না।
আবু নাসর আব্বাসীয় খলিফা আল-কাদির বিল্লাহ আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আল-আমির ইসহাক বিন আল-মুক্তাদির বিল্লাহ (৩৮১-৪২২ হি.) এবং এরপর খলিফা আল-কায়িম বি-আমরিল্লাহ আবু জাফর আবদুল্লাহ বিন আল-কাদির বিল্লাহর (৪২২-৪৬৭ হি.) সময়কাল পেয়েছিলেন। ১।
চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশের শেষে এই রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল। ৩২৪ হিজরি সনের দিকে মুসলিম বিশ্বে এমন এক বড় ধরণের বিভাজন সৃষ্টি হয় যে, দেখে মনে হচ্ছিল যেন একটি মালার সুতো ছিঁড়ে দানাগুলো ছড়িয়ে পড়েছে অথবা একটি পাথর চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে—যেমনটি আহমাদ আমিন বলেছেন। ২। যদিও ওই তারিখের আগেই রাষ্ট্রের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, তবুও এই বছরের মতো ভয়াবহ ভাঙন এর আগে কখনও ঘটেনি।
ইবনে কাসীর বলেন: এই বছরে, "খিলাফতের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ে এবং প্রান্তিক অঞ্চলের প্রতিনিধিরা সেখানে স্বাধীনভাবে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে শুরু করে। বাগদাদ ও এর সংলগ্ন এলাকা ছাড়া খলিফার আর কোনো শাসন অবশিষ্ট ছিল না। তা সত্ত্বেও সেখানে তাঁর কোনো প্রভাব ছিল না এবং তাঁর আনুগত্যও করা হতো না।" ৩।
এরপর আব্বাসীয় রাষ্ট্রের এই শোচনীয় অবস্থা চলতে থাকে যতক্ষণ না তার পতন ঘটে এবং ৬৫৬ হিজরি সনে তাতারদের হাতে তার সিংহাসন ধূলিসাৎ হয়, যখন হালাকু খাঁ একে নির্মূল করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
على آخر خلفائها، المستعصم بالله 1.
فنرى القادر بالله والقائم بأمر الله الخليفتين اللذين عاصرهما الإمام السجزي، وليس لهما من الخلافة إلا الاسم والرسم، حيث استبد البويهون 2 بأمور الدولة في العراق وفي بغداد نفسها، فضلاً عن سائر الأقاليم التي أصبحت دولاً لها ملوكها الذين لا يخضعون للدولة العباسية إلا اسماً.
إذ لم تزل بقية من هيبة الخلافة وجلالها تكمن في أذهان أولئك السلاطين والأمراء.
فكان ملوك وسلاطين الأقاليم المنفصلة عن دولة الخلافة يعترفون بالسيادة الاسمية لدولة الخلافة، ويدعون للخليفة العباسي في المساجد وعلى المنابر، ويبعثون إليه من الهدايا ما يشترون به الألقاب، ويحرصون على الظفر بموافقته لاكتساب الصبغة الشرعية أمام العامة 3.
--------------------------------------------
তাদের শেষ খলিফা আল-মুসতাসিম বিল্লাহর উপর ১।
আমরা আল-কাদির বিল্লাহ এবং আল-কায়িম বি-আমরিল্লাহ নামক দুইজন খলিফাকে দেখতে পাই যারা ইমাম সিজযীর সমসাময়িক ছিলেন। খেলাফতের নাম এবং বাহ্যিক রূপ ব্যতীত তাদের আর কোনো কর্তৃত্ব অবশিষ্ট ছিল না; কেননা বুয়াইহীগণ ২ ইরাকের এবং স্বয়ং বাগদাদের রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল। এছাড়া অন্যান্য প্রদেশগুলোর কথা তো বলাই বাহুল্য, যেগুলো স্বতন্ত্র রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল এবং তাদের নিজস্ব রাজা ছিল, যারা আব্বাসী রাষ্ট্রের প্রতি কেবল নামমাত্র অনুগত ছিল।
কেননা খেলাফতের প্রতিপত্তি ও গাম্ভীর্যের অবশিষ্টাংশ তখনো সেই সুলতান ও আমিরদের মনে গেঁথে ছিল।
ফলে খেলাফত রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন প্রদেশগুলোর রাজা ও সুলতানগণ খেলাফত রাষ্ট্রের নামমাত্র সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে নিতেন। তারা মসজিদে এবং মিম্বরগুলোতে আব্বাসী খলিফার জন্য দোয়া করতেন এবং তার কাছে এমন সব উপঢৌকন পাঠাতেন যার বিনিময়ে তারা বিভিন্ন উপাধি ক্রয় করতেন। তারা সাধারণ জনগণের সামনে নিজেদের শাসনকার্যে বৈধতার রঙ লাগাতে খলিফার অনুমোদন লাভে অত্যন্ত সচেষ্ট থাকতেন ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وكانت حينئذ الأندلس بيد الأمويين، ومصر وإفريقية والشام بيد الباطنيين، وغزنه ونواحيها بيد السبكتكينيين وخرسان وناحيتها يسيطر عليها السلاجقة 1.
هكذا كانت الحالة السياسية في عصر الإِمام أبي نصر السجزي، عصر الدويلات المتناحرة على السلطة، عصر السطو على سلطان الخليفة العباسي وتجريده من مسئولياته، مع الحفاظ على بقائه على عرش الخلافة اسما والدعاء له بذلك على المنابر، ما دام قانعاً راضياً، بذلك فإن طمع في أكثر منه، قضي عليه بصورة أو بأخرى وجيء بمن هو أكثر منه قناعة، وأسلس قياداً.
الحالة الاجتماعية:
لقد لاحظنا فيما سبق الفوضى السياسية التي عمت البلاد، وكيف سُلب الخليفة سلطانه الفعلي، وفقد سيطرته على أجزاء مملكته فاستقل الأمراء والسلاطين بالسلطة، واشتغلوا بالاقتتال عليها والتناحر من أجلها.
في ظل هذا الواقع السياسي غير المستقر، لا يمكن أن تكون الحياة الاجتماعية مستقرة وادعة.
فاشتغال السلاطين والأمراء بالوصول إلى السلطة، شغلهم عن تأمين حياة اجتماعية، كريمة آمنة للأمة.
والإِنفاق المفرط على الحروب التي نشبت بينهم، أرهق اقتصاد
--------------------------------------------
সেই সময় আন্দালুস ছিল উমাইয়াদের অধীনে, মিসর, আফ্রিকা ও শাম ছিল বাতেনীদের দখলে, গজনী ও তার আশপাশের এলাকা ছিল সবুক্তগিনীদের হাতে এবং খুরাসান ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ছিল সেলজুকদের নিয়ন্ত্রণে ১।
ইমাম আবু নাসর আস-সিজজীর যুগে রাজনৈতিক অবস্থা এমনই ছিল; যা ছিল ক্ষমতার জন্য লড়াকু উপ-রাষ্ট্রগুলোর যুগ, আব্বাসীয় খলিফার কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাকে তার দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করার যুগ। পাশাপাশি নামমাত্র খেলাফতের সিংহাসনে তাকে টিকিয়ে রাখা হতো এবং মিম্বরগুলোতে তার জন্য দোয়া করা হতো—যতক্ষণ তিনি এতেই তুষ্ট ও সন্তুষ্ট থাকতেন। কিন্তু যদি তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু পাওয়ার লোভ করতেন, তবে তাকে কোনো না কোনোভাবে সরিয়ে দেওয়া হতো এবং তার স্থলে এমন কাউকে আনা হতো যে তার চেয়েও বেশি অল্পে তুষ্ট এবং সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
সামাজিক অবস্থা:
আমরা ইতিপূর্বে দেশজুড়ে বিরাজমান রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করেছি এবং দেখেছি কীভাবে খলিফার প্রকৃত ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি তার রাজ্যের বিভিন্ন অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, ফলে আমির ও সুলতানগণ স্বাধীনভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন এবং সেই ক্ষমতা নিয়েই একে অপরের সাথে যুদ্ধ ও বিবাদে লিপ্ত ছিলেন।
এই অস্থিতিশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামাজিক জীবন স্থিতিশীল ও শান্ত হওয়া সম্ভব ছিল না।
ক্ষমতা লাভের পেছনে সুলতান ও আমিরদের অতিমাত্রায় ব্যস্ততা তাদের উম্মাহর জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ সামাজিক জীবন নিশ্চিত করার কাজ থেকে বিমুখ করে রেখেছিল।
এবং তাদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধবিগ্রহের পেছনে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় অর্থনৈতিক অবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
البلاد، فنضبت أكثر الموارد وتفشى بين الناس أمران خطيران: غلاء المعيشة، واضطراب نظام الأمن في البلاد.
فأما الغلاء فقد بلغ حداً لا يتحمله عامة الناس، ففي سنة 382 غلت الأسعار ببغداد وهي حاضرة الخلافة، حتى بيع رطل الخبز بأربعين درهماً والجزر بدرهم 1.
وزاد الحال سوءاً في سنة 393 هـ فغلت الأسعار ببغداد جداً وعدمت الحنطة وبيع الكر2 بمائة وعشرين ديناراً كما يقول ابن كثير3.
وفي سنة 411 هـ بلغ الغلاء ذروته، والجوع غايته، فحل بالعراق غلاء مفرط حتى أكل الناس الكلاب والحمر4.
وإذا كان هذا الحال في العراق وبغداد، عاصمة الدولة وحاضرتها فما بالك بما سواها من القرى والأمصار. لقد ضاق بأهلها الحال وجاع العيال. ومع هذأ فقد كان هناك إلى جانب هذه الفاقة والجوع وهذا الغلاء الذي حل بالبلاد، وعم أكثر العباد، كان هناك ترف وسرف في
--------------------------------------------
দেশের অধিকাংশ সম্পদ শুকিয়ে গেল এবং মানুষের মাঝে দুটি বিপজ্জনক বিষয় ছড়িয়ে পড়ল: জীবনযাত্রার উচ্চমূল্য এবং দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা বললে, তা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যা সাধারণ মানুষের সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছিল। ৩৮২ হিজরিতে খিলাফতের রাজধানী বাগদাদে দাম এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, এক রতল রুটি চল্লিশ দিরহামে এবং একটি গাজর এক দিরহামে বিক্রি হয়েছিল ১।
৩৯৩ হিজরিতে অবস্থার আরও অবনতি ঘটে; বাগদাদে দ্রব্যমূল্য অত্যধিক বৃদ্ধি পায়, গম নিঃশেষ হয়ে যায় এবং ইবনে কাসীর ৩ এর বর্ণনা অনুযায়ী এক কুর ২ একশত বিশ দিনারে বিক্রি হয়।
৪১১ হিজরিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি চরম শিখরে এবং ক্ষুধা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। ইরাকে এমন চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় যে, মানুষ কুকুর ও গাধা পর্যন্ত ভক্ষণ করে ৪।
রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র ও রাজধানী ইরাক এবং বাগদাদের যদি এই অবস্থা হয়, তবে অন্যান্য গ্রাম ও শহরগুলোর অবস্থা কেমন ছিল তা সহজেই অনুমেয়। সেখানকার অধিবাসীদের জীবন সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং পরিবার-পরিজন অনাহারে দিনাতিপাত করছিল। দেশে বিরাজমান এই অভাব, ক্ষুধা এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি যা অধিকাংশ জনগণের ওপর জেঁকে বসেছিল, তার পাশাপাশি সেখানে বিলাসিতা ও অপচয়ও বিদ্যমান ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بيوت الخلفاء والأمراء، كما كان هناك جدة للمال في أيدي بعض التجار وكثير من العيارين 1 والحرامية الذين سلبوا أموال الناس وسطوا على المتاجر والمنازل ونهبوا ما فيها، فتكونت في أيديهم ثروة وأموال أنفقوها على شهواتهم وملذاتهم.
وأما اضطراب نظام الأمن: فحدث عنه ولا حرج.
فنتيجة لضعف السلطان، وزوال هيبته، انتشر أمر العيارين والحرامية وقطاع الطرق، دون أن يجدوا سلطة رادعة من الدولة في أكثر الأحيان.
ففي سنة 384 هـ في خلافة القادر بالله عظم الخطب بأمر العيارين وعاثوا ببغداد فساداً وأخذوا أموال الناس وحرقوا مواضع كثيرة وأخذوا من الأسواق الجبايات، وتطلبهم الشُّرَطُ فلم يُفِدْ ذلك شيئا ولا فكروا في الدولة، بل استمروا على ما هم عليه من أخذ الأموال وقتل الرجال وإرعاب النساء والأطفال في سائر المحال، فلما تفاقم الحال بهم تطلبهم السلطان بهاء الدولة وألح في طلبهم فهربوا بين يديه واستراح الناس من شرهم 2.
لكن هروبهم لم يدم طويلاً فكثيراً ما كانوا يظهرون ويعودون للنهب والسلب. ففي سنة 390 هـ عظم أمرهم وأتوا بيوت الناس
--------------------------------------------
খলিফা ও আমিরদের ঘরবাড়ি, যেমনটা কিছু ব্যবসায়ী এবং অনেক আইয়ারুন (ভবঘুরে দস্যু) ও চোরদের হাতে বিপুল অর্থবিত্ত ছিল, যারা মানুষের ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিত এবং দোকানপাট ও ঘরবাড়িতে হানা দিয়ে যা কিছু ছিল সব লুটে নিত। ফলে তাদের হস্তগত হয়েছিল প্রচুর সম্পদ ও অর্থ, যা তারা তাদের কুপ্রবৃত্তি ও ভোগবিলাসে ব্যয় করত।
আর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার কথা যদি বলি, তবে তা ছিল অবর্ণনীয়।
সুলতানের দুর্বলতা এবং তার প্রভাব-প্রতিপত্তি বিলীন হওয়ার ফলে আইয়ারুন, চোর ও ডাকাতদের দৌরাত্ম্য ছড়িয়ে পড়েছিল, অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো শাস্তিমূলক বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার সম্মুখীন হতো না।
৩৮৪ হিজরি সালে খলিফা আল-কাদির বিল্লাহর শাসনামলে আইয়ারুনদের কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তারা বাগদাদে চরম বিপর্যয় সৃষ্টি করে, মানুষের ধন-সম্পদ কেড়ে নেয়, বহু স্থান অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয় এবং বাজারগুলো থেকে অবৈধভাবে কর আদায় করে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেও কোনো ফল পায়নি, এমনকি তারা রাষ্ট্রের পরোয়াও করত না। বরং তারা সম্পদ লুণ্ঠন, পুরুষ হত্যা এবং বিভিন্ন জনপদে নারী ও শিশুদের আতঙ্কিত করার কাজ অব্যাহত রাখে। যখন পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পৌঁছাল, তখন সুলতান বাহাউদ্দৌলা তাদের সন্ধানে তৎপর হলেন এবং তাদের পাকড়াও করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিলেন। ফলে তারা তার সামনে থেকে পালিয়ে গেল এবং সাধারণ মানুষ তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেল।
কিন্তু তাদের এই পলায়ন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; তারা প্রায়ই পুনরায় আবির্ভূত হতো এবং লুণ্ঠন ও ছিনতাই শুরু করত। ৩৯০ হিজরি সালে তাদের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করে এবং তারা মানুষের ঘরবাড়িতে হানা দিতে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
نهاراً جهاراً، وواصلوا العملات 1 وقتلوا
… وأشرف الناس بهم على أمر عظيم وقويت شوكتهم كما يقول الذهبي 2.
وهكذا حدث في سنة 3923 و416هـ، 417 4 ثم استمر الحال على ذلك حتى إنهم قتلوا صاحب الشرطة في سنة 424 وأخذوا أموال الناس عيانا بقيادة البرجمي الذي أرعب الناس فكانوا لا يجسرون أن يقولوا فعل البرجمي خوفاً منه بل يقولوا عنه: القائد أبو علي 5.
هذا ولم يقف الأمر عند هذا الحد بل تعداه إلى قطع طريق الحاج وصده عن البيت الحرام. ففي سنة 392 هـ رجع حجاج خراسان من بغداد خوفاً من الأعراب الذين عاثوا في الأرض فساداً ولا ناصر ولا ناظر ينصرهم أو ينظر في أمرهم فرجعوا إلى بلادهم ولم يحج من بلاد المشرق أحد في هذه السنة.
وهكذا حدث في سنة 399 هـ، حيث اعترض الأعراب طريق الحجاج فصدوهم عن السبيل وعاقوهم حتى فاتهم الحج. وكذا وقع سنة 416 هـ فلم يحج من أهل العراق وخراسان أحد.
وهكذا نرى الحياة الاجتماعية في هذه الفترة تعاني من اضطراب في الأمن ونقص في الأرزاق إلى درجة الجوع وأكل المحرمات والمستقذرات
--------------------------------------------
দিবালোকে প্রকাশ্যে, তারা তাদের অশুভ তৎপরতা ১ চালিয়ে যায় এবং হত্যা করে
... তাদের কারণে সাধারণ মানুষ চরম সংকটের মুখে পড়ে এবং তাদের প্রতাপ বৃদ্ধি পায়, যেমনটি আয-যাহাবি ২ উল্লেখ করেছেন।
৩৯২ ৩ এবং ৪১৬ ও ৪১৭ ৪ হিজরিতেও অনুরূপ ঘটেছিল। এরপর পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ৪২৪ হিজরিতে তারা পুলিশ প্রধানকেও হত্যা করে এবং আল-বারজামির নেতৃত্বে প্রকাশ্যে মানুষের ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নেয়। সে মানুষকে এতটাই আতঙ্কিত করে তুলেছিল যে, ভয়ে কেউ 'বারজামি এটি করেছে' বলার সাহস পেত না, বরং তাকে 'সেনাপতি আবু আলী' ৫ বলে সম্বোধন করত।
বিষয়টি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা হাজিদের পথ রুদ্ধ করা এবং তাদের পবিত্র কাবা অভিমুখে যাত্রা থেকে বাধা দেওয়ার পর্যায়ে চলে যায়। ৩৯২ হিজরিতে খোরাসানের হাজিরা সেই বেদুঈনদের ভয়ে বাগদাদ থেকে ফিরে যান, যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। তাদের সাহায্য করার বা তাদের বিষয়টি দেখাশোনা করার মতো কোনো সাহায্যকারী বা তত্ত্বাবধায়ক ছিল না। ফলে তারা নিজ দেশে ফিরে যান এবং সে বছর প্রাচ্যের দেশগুলো থেকে কেউ হজ করতে পারেননি।
৩৯৯ হিজরিতেও একই ঘটনা ঘটে, যখন বেদুঈনরা হাজিদের পথ আটকে দেয় এবং তাদের যাত্রাপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যার ফলে তাদের হজ পালন করার সময় পার হয়ে যায়। একইভাবে ৪১৬ হিজরিতেও ইরাক ও খোরাসানের অধিবাসীদের কেউ হজ করতে পারেননি।
এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, এই সময়ে সামাজিক জীবন নিরাপত্তাহীনতা এবং জীবনোপকরণের সংকটে জর্জরিত ছিল, যা ক্ষুধা এবং হারাম ও অপবিত্র বস্তু ভক্ষণ করার পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
كالكلاب والحمر، وذلك بسبب الفوضى السياسية التي عمت البلاد كما أشرنا من قبل.
الحالة العلمية:
قد يظن القارئ وقد ارتسمت في ذهنه تلك الصورة السيئة للوضع السياسي ةالإجتماعي الذي ساد البلاد الإسلامية في هذه الحقبة من الزمن التي نحن بصدد دراستها، قد يظن أن الحالة ليست بأسعد حظا من سابقتيها.
ولكن الواقع - والحمد لله - كان خلاف ذلك فقد كانت الحالة العلمية في القرن الرابع والخامس الهجريين في اوج أزدهارها، ولم تتأثر بالضعف السياسي أو الفوضى الاجتماعية التي سادت، فلئن كانت الثمار السياسية قد تساقطت في هذه الفترة، فالثمار العلمية قد نضجت فيها1 وجنى علماء هذه الحقبة ثمار ما غرسته الأسلاف فكثرت التصانيف في كل فن في الحديث والتفسير، والفقه والأصول، والكلام، وغير ذلك من أنواع المعارف والعلوم. فبلغ الهتمام بالتصنيفو التأليف أوجه وذروته.
وما بين أيدينا وفي مكتبابتنا اليوم من نتاج هذه الحقبة خير شاهد على أزدهار الحركة العلمية في ذلك العصر ازدهارا لا مثيل له.
فلقد عاش في هذه الحقبة الكثير من العلماء والرواد في كل فنمن محدثين وفقهاء ومفسرين وأدباء وفلاسفة، وأطباء، وغيرهم.
نهاراً جهاراً، وواصلوا العملات 1 وقتلوا
… وأشرف الناس بهم على أمر عظيم وقويت شوكتهم كما يقول الذهبي 2.
--------------------------------------------
কুকুর এবং গাধার মতো, আর এর কারণ ছিল রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা যা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।
জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা:
পাঠক হয়তো ধারণা করতে পারেন, যখন তার মনে সেই সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির একটি মন্দ চিত্র অঙ্কিত হবে যা আমরা বর্তমান গবেষণার সময়কালে ইসলামি দেশগুলোতে বিরাজমান ছিল; তিনি হয়তো ভাববেন যে জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা পূর্বোক্ত দুই অবস্থার চেয়ে খুব একটা ভালো ছিল না।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল এর বিপরীত—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—কেননা হিজরি চতুর্থ ও পঞ্চম শতাব্দীতে জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা তার উন্নতির চরম শিখরে ছিল। তা বিরাজমান রাজনৈতিক দুর্বলতা বা সামাজিক বিশৃঙ্খলা দ্বারা প্রভাবিত হয়নি। সুতরাং যদি এই সময়ে রাজনৈতিক ফসলগুলো ঝরে পড়ে থাকে, তবে জ্ঞানতাত্ত্বিক ফসলগুলো এতে পরিপক্ক হয়েছে ১ এবং এই যুগের উলামায়ে কেরাম পূর্বসূরিদের রোপণ করা বৃক্ষের ফল আহরণ করেছেন। ফলে হাদিস, তাফসির, ফিকহ, উসুল, কালামশাস্ত্র এবং অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় রচনার প্রাচুর্য দেখা দেয়। গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের প্রতি মনোযোগ এর শিখর ও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
আজ আমাদের হাতে এবং আমাদের গ্রন্থাগারগুলোতে এই সময়ের যে জ্ঞানতাত্ত্বিক ফসল রয়েছে, তা সেই যুগে জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের অতুলনীয় অগ্রগতির এক সর্বোত্তম সাক্ষী।
কেননা এই যুগে প্রতিটি শাস্ত্রে অনেক আলেম এবং পথিকৃৎ বাস করতেন, যাদের মধ্যে ছিলেন মুহাদ্দিস, ফকিহ, মুফাসসির, সাহিত্যিক, দার্শনিক, চিকিৎসক এবং অন্যান্যরা।
দিনদুপুরে প্রকাশ্যে, তারা তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায় এবং হত্যা করে
... মানুষ তাদের দ্বারা এক ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হয় এবং তাদের শক্তি বৃদ্ধি পায়, যেমনটি যাহাবি বলেছেন ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وأنشئت دور العلم وزودت بالكتب القيمة وأوقفت على العلماء 1 وشجع الخلفاء والأمراء العلم وطلابه وتباروا في إكرامهم والتحبب إليهم 2 فكان الخليفة العباسي القادر بالله محباً للعلم وأهله 3.
وعلى الرغم من انقسام الدولة إلى دويلات، فقد كان العلماء يستطيعون الرحلة في طلب العلم من مكان إلى آخر دون قيود، وحيثما حلوا وجدوا الترحيب فالبلاد كلها باختلاف دويلاتها بلد للمسلم. مما سهل على علماء الحديث وغيرهم شد الرحال إلى أهل العلم للرواية عنهم والسماع منهم، كما فعل الإمام السجزي رحمه الله الذي طوف البلاد فخرج من بلده سجستان طلباً اللحديث وحل خراسان والشام ومصر إلى أن انتهى به المقام في مكة حرسها الله.
الحالة الدينية:
أما الحالة الدينية فقد كانت وليدة الحالة السياسية. وربما كان العكس صحيحاً أيضاً، فبينهما تلازم شديد بحيث تتأثر إحداهما بالأخرى.
فالإمامة والخلافة أمر ديني. ومن هنا نشأ الخلاف بين أهل السنة والشيعة فيمن يكون أحق بالإمامة.
لذا فقد ساءت الحالة الدينية كثيراً نظراً لتردي الوضع السياسي، واهتزاز مكانة الخليفة وسلطانه في أعين وقلوب الناس.
--------------------------------------------
জ্ঞানচর্চাকেন্দ্রসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেগুলোকে মূল্যবান গ্রন্থরাজি দ্বারা সমৃদ্ধ করা হয়েছিল ও আলেমদের জন্য ওয়াকফ করা হয়েছিল ১। খলিফা ও আমিরগণ জ্ঞান এবং জ্ঞানান্বেষীদের উৎসাহিত করতেন এবং তাঁদের সম্মান ও তাঁদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতেন ২। আব্বাসীয় খলিফা আল-কাদির বিল্লাহ জ্ঞান ও জ্ঞানান্বেষীদের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন ৩।
রাষ্ট্র বিভিন্ন ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হওয়া সত্ত্বেও আলেমগণ কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই জ্ঞান অর্জনের জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সফর করতে পারতেন। তাঁরা যেখানেই যেতেন, সেখানেই সাদর আমন্ত্রণ পেতেন; কেননা ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের ভিন্নতা থাকলেও সমগ্র ভূখণ্ডই ছিল মুসলিমদের দেশ। এটি হাদিস বিশারদ ও অন্যান্য আলেমদের জন্য তাঁদের নিকট থেকে বর্ণনা গ্রহণ এবং শোনার উদ্দেশ্যে জ্ঞানীদের কাছে সফর করা সহজ করে দিয়েছিল। যেমনটি করেছিলেন ইমাম আস-সিজজি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন); তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি হাদিস সংগ্রহের জন্য তাঁর জন্মভূমি সিজিস্তান থেকে বের হন এবং খোরাসান, শাম (সিরিয়া) ও মিসরে অবস্থান করেন, পরিশেষে মক্কায় (আল্লাহ একে রক্ষা করুন) এসে তাঁর অবস্থান স্থিতি লাভ করে।
ধর্মীয় অবস্থা:
ধর্মীয় অবস্থার কথা বলতে গেলে, তা ছিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই ফসল। সম্ভবত এর বিপরীতটিও সঠিক ছিল; কেননা উভয়ের মধ্যে গভীর আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান ছিল, যার ফলে একটি অন্যটির দ্বারা প্রভাবিত হতো।
কেননা ইমামত ও খেলাফত একটি ধর্মীয় বিষয়। আর এখান থেকেই আহলে সুন্নাত ও শিয়াদের মধ্যে ইমামতের জন্য কে অধিক যোগ্য তা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল।
তাই রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি এবং মানুষের চোখে ও অন্তরে খলিফার মর্যাদা ও কর্তৃত্ব নড়বড়ে হওয়ার কারণে ধর্মীয় অবস্থারও ব্যাপক অবনতি ঘটেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فكثيراً ما تحصل الفتنة بين الرافضة وأهل السنة كما وقع في سنة 398 هـ، وسنة 406 1، 444هـ 2 بسبب غلو الشيعة وجرأتهم على إظهار بدعتهم، هذا من ناحية، ومن ناحية أخرى نلحظ في هذا العصر تسرب الخرافة والغلو إلى قلوب العامة. ففي سنة 386 هـ كشف أهل البصرة عن قبر عتيق فإذا هم بميت طري عليه ثيابه وسيفه فظنوه الزبير بن العوام، وانتهى بهم الأمر أن بنوا على قبره مسجداً وأجروا عليه الأوقاف3.
وفي سنة 389هـ عمد جاهلة السنة إلى إحداث يوم في مقابلة يوم الغدير عند الشيعة وهو يوم السادس والعشرين من شهر ذي الحجة زاعمين أن النبي صلى الله عليه وسلم وأبا بكر رضي الله عنه اختفيا في الغار في هذا اليوم.
يقول الحافظ الذهبي بعد أن نقل هذه القصة: وهذا جهل وغلط فإن أيام الغار إنما كانت بيقين في شهر صفر وأول ربيع الأول 4.
هذا حال العامة جهل بحقائق الدين والتاريخ، وغلو لم يأذن به الله عز وجل وفي مسائل الاعتقاد الأخرى كان يتجاذب الناس طوائف ثلاث في هذه الفترة:
--------------------------------------------
রাফেজি ও আহলুস সুন্নাহর মাঝে প্রায়ই ফিতনা দেখা দিত, যেমনটি ৩৯৮ হিজরি, ৪০৬ হিজরি এবং ৪৪৪ হিজরিতে শিয়াদের চরমপন্থা এবং তাদের বিদআত প্রকাশে সাহসিকতার কারণে ঘটেছিল। এটি ছিল এক দিক; অন্য দিকে, আমরা এই যুগে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে কুসংস্কার ও চরমপন্থার অনুপ্রবেশ লক্ষ্য করি। ৩৮৬ হিজরিতে বসরার অধিবাসীরা একটি প্রাচীন কবর উন্মোচন করে সেখানে এমন এক সতেজ মৃতদেহ দেখতে পান যার পরনে পোশাক এবং সাথে তলোয়ার ছিল। তারা তাকে যুবাইর ইবনুল আওয়াম মনে করে বসেন এবং শেষ পর্যন্ত তারা সেই কবরের ওপর একটি মসজিদ নির্মাণ করেন এবং এর জন্য ওয়াকফ চালু করেন।
৩৮৯ হিজরিতে আহলুস সুন্নাহর কিছু জাহেল লোক শিয়াদের গাদির দিবসের বিপরীতে একটি নতুন দিবস উদ্ভাবন করে। দিনটি ছিল জিলহজ মাসের ২৬ তারিখ; তারা দাবি করত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই দিনেই গুহায় আত্মগোপন করেছিলেন।
হাফেজ যাহাবি এই ঘটনাটি বর্ণনা করার পর বলেন: “এটি অজ্ঞতা ও ভুল, কারণ গুহায় অবস্থানের দিনগুলো নিশ্চিতভাবেই সফর মাস এবং রবিউল আউয়ালের শুরুতে ছিল।”
এটিই ছিল সাধারণ মানুষের অবস্থা—ধর্ম ও ইতিহাসের প্রকৃত সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং এমন চরমপন্থা যার অনুমতি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল দেননি। আকিদাহর অন্যান্য বিষয়েও এই সময়ে মানুষ তিনটি দলে বিভক্ত ছিল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
1- المعتزلة: ويمثلهم في هذا العصر القاضي عبد الجبار الهمذاني (415) هـ 1 وأبو الحسين البصري 2 (وغيرهما) .
2- الأشاعرة: ومن كبرائهم في هذا العصر: ابن الباقلاني 3، وابن فورك 4، وابن اللبان 5، وغيرهم ممن عاصر المؤلف وأدركه.
3- أهل الحديث: ويعدّ أبو نصر السجزي رحمه الله من أعلامهم في زمنه.
وكان الصراع محتدما بين هذه الفرق الثلاث وهو امتداد طبيعي للصراع الناشب في هذا الباب منذ ظهور فتنة الجعد، والجهم، وابن كلاب في القرنين الثاني والثالث الهجريين.
ولقد ألف المصنف في الرد على الطائفتين المعتزلة والأشاعرة كتابيه (الإِبانة) و (الرد على من أنكر الحرف والصوت) الذي نقدمه للقارئ الكريم اليوم.
--------------------------------------------
১- মুতাজিলা: এই যুগে তাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন কাজী আব্দুল জাব্বার আল-হামাদানি (৪১৫ হি.) এবং আবুল হুসাইন আল-বাসরি (ও অন্যান্যরা)।
২- আশায়েরা: এই যুগে তাদের প্রধানদের মধ্যে ছিলেন: ইবনে আল-বাকিলানি, ইবনে ফুরাক, ইবনে আল-লাব্বান এবং অন্যান্যরা যারা লেখকের সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছিলেন।
৩- আহলে হাদিস: আবু নাসর আস-সিজজি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সময়ের তাঁদের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য হন।
এই তিনটি ফিরকার মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল তীব্র, যা মূলত দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে জাদ, জাহম এবং ইবনে কুল্লাবের ফিতনা আবির্ভাবের পর থেকে এই বিষয়ে চলে আসা দ্বন্দ্বেরই এক স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা।
আর গ্রন্থকার মুতাজিলা ও আশায়েরা—এই উভয় দলের খণ্ডনে তাঁর দুটি কিতাব 'আল-ইবানাহ' এবং 'আর-রাদ্দু আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস-সাওত' রচনা করেছেন, যা আজ আমরা সম্মানিত পাঠকের নিকট পেশ করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وفيه يبدي أبو نصر تذمراً واضحاً من سير الأمور في عصره التي اضطرته إلى أن يتكلم ويرد على أمثال هؤلاء، وكأنه يرى أن على السلطان أن يأخذ على أيديهم. فيقول: "ومن علم منه خرق إجماع الكافة ومخالفة كل عقلي وسمعي قبله لم يناظر بل يجانب ويقمع، ولكن لما عدم من ينظر في أمر المسلمين محنا بالكلام مع من ينبغي أن يلحق بالمجانين" 1.
وفي الحقيقة لقد كان الخليفة القادر بالله ذا عناية بأمر العقيدة السلفية ونشرها فقد ألف كتاباً في الاعتقاد على مذهب السلف، وأمر بقراءته على الناس وإلزامهم به، ورد فيه على أهل البدع وفسق أو كفر من قال بخلق القرآن، وذكر ما وقع بين المريسي وعبد العزيز الكناني، وأخذ خطوط أهل العلم على ذلك وموافقتهم، وعزل خطباء الشيعة ورد خطباء السنة 2.
وفي سنة ثمان وأربعمائة استتاب فقهاءَ المعتزلة فأظهروا الرجوع وتبرؤوا من الاعتزال، ثم نهاهم عن الكلام والتدريس والمناظرة في الاعتزال والرفض والمقالات المخالفة للإِسلام وأخذ خطوطهم بذلك وأنهم مهما خالفوه حل بهم من النكال والعقوبة ما يتعظ به أمثالهم 3.
--------------------------------------------
এতে আবু নাসর তার যুগের পরিস্থিতির গতিধারা সম্পর্কে স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যা তাকে কথা বলতে এবং এই শ্রেণির লোকদের প্রতিবাদ করতে বাধ্য করেছে। যেন তিনি মনে করেন যে, সুলতানের উচিত তাদের হাত চেপে ধরা (প্রতিহত করা)। তিনি বলেন: "যার ব্যাপারে জানা যায় যে সে সর্বসাধারণের ঐকমত্য ভঙ্গ করেছে এবং তার পূর্ববর্তী সকল আকলি (যুক্তিগত) ও সাময়ি (শ্রুতিগত) প্রমাণের বিরোধিতা করেছে, তার সাথে মুনাযারা (বিতর্ক) করা যাবে না, বরং তাকে এড়িয়ে চলতে হবে এবং দমন করতে হবে। কিন্তু যেহেতু মুসলিমদের বিষয়াবলি দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই, তাই আমরা এমন লোকদের সাথে কথা বলার পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছি যাদের পাগলদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।" ১।
প্রকৃতপক্ষে খলিফা আল-কাদির বিল্লাহ সালাফি আকিদার বিষয়ে এবং এর প্রচার-প্রসারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। তিনি সালাফদের মাযহাব অনুযায়ী আকিদার বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছিলেন এবং তা মানুষের সামনে পাঠ করার ও তা মেনে চলা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বিদআতিদের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং যারা কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তা তাদের ফাসেক বা কাফের বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আল-মারিসি এবং আব্দুল আজিজ আল-কিনানির মধ্যে যা ঘটেছিল তা উল্লেখ করেছেন। তিনি এই বিষয়ে আলেমদের দস্তখত এবং তাদের সম্মতি গ্রহণ করেন। তিনি শিয়া খতিবদের অপসারণ করেন এবং সুন্নি খতিবদের ফিরিয়ে আনেন। ২।
চারশ আট হিজরি সনে তিনি মুতাজিলা ফকিহদের তওবা করার আহ্বান জানান, ফলে তারা তওবা প্রকাশ করে এবং ইতিযাল (মুতাজিলা মতবাদ) থেকে দায়মুক্তি ঘোষণা করে। এরপর তিনি তাদের মুতাজিলা মতবাদ, রাফেজি মতবাদ এবং ইসলামের পরিপন্থী অন্যান্য মতবাদ নিয়ে আলোচনা, শিক্ষাদান এবং বিতর্ক করা নিষিদ্ধ করেন। তিনি এ মর্মে তাদের দস্তখত গ্রহণ করেন যে, তারা যদি এর ব্যতিক্রম করে, তবে তাদের ওপর এমন কঠোর শাস্তি ও দণ্ড নেমে আসবে যা তাদের সমমনাদের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৪০)
لكن المؤلف رحمه الله ربما كان يريد منه أن يصنع نحو ذلك مع الأشاعرة أيضاً.
وربما يكون قال ما قال بعد انقضاء خلافته حيث آلت الأمور إلى القائم بأمر الله، وهو الذي أميل إليه لأن تأليف الكتاب كان بعد وفاة القادر بالله كما سيأتي في الباب الثاني في مبحث تاريخ تأليف الكتاب. والله تعالى أعلم.
কিন্তু লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) সম্ভবত চেয়েছিলেন যে তিনি আশআরিদের সাথেও অনুরূপ আচরণ করুন।
এবং হতে পারে তিনি যা বলেছিলেন তা তাঁর খিলাফত শেষ হওয়ার পরে বলেছিলেন, যখন ক্ষমতা আল-কায়িম বি-আমরিল্লাহর হাতে চলে গিয়েছিল। আর এটিই সেই মত যার দিকে আমি প্রবণতা রাখি, কেননা কিতাবটি সংকলন করা হয়েছিল আল-কাদির বিল্লাহর মৃত্যুর পর, যেমনটি দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে কিতাব রচনার ইতিহাসের আলোচনায় সামনে আসবে। আর মহান আল্লাহ অধিক অবগত।
(খণ্ড: ১)
রিসালাতুস সিজযী ইলা আহলি যুবাইদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারাল হারফা ওয়াস সাউত
(পৃষ্ঠা: ৪২)
الفصل الثاني: ترجمة المؤلف.
اسمه:
هو: عبيد الله بن سعيد بن حاتم بن أحمد، بن محمد بن حاتم بن علوية، بن سهل بن عيسى بن طلحة الوايلي البكري السجزي1.
أجمعت مصادر ترجمته على أن اسمه عبيد الله بالتصغير، لم تختلف في ذلك اللهم إلا ما كان من ابن الجوزي فإنه قال: "عبد الله" واقتفى أثره في ذلك كحالة الذي ترجم له في موضعين قال في أحدهما: عبد اللِّه وفي الآخر: عبيد الله، وقد أشرت إلى الموضعين في الحاشية، وهو في ذلك تبع للمصادر التي نقل عنها، فمصدره في الموضع الأول المنتظم. وفي الموضع الثاني: التذكرة للذهبي.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের জীবনী.
তাঁর নাম:
তিনি হলেন: উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন হাতিম বিন আহমাদ, বিন মুহাম্মাদ বিন হাতিম বিন আলাবিয়্যাহ, বিন সাহল বিন ঈসা বিন তালহা আল-ওয়াইলি আল-বাকরি আস-সিজজি১।
তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে তাঁর নাম হলো উবাইদুল্লাহ (তাসগির বা ক্ষুদ্রতাবাচক শব্দরূপে), এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই; তবে ইবনুল জাওযী ব্যতীত, কেননা তিনি বলেছেন: "আব্দুল্লাহ"। এ ক্ষেত্রে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন কাহহালা, যিনি তাঁকে দুটি স্থানে জীবনীকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন; এর একটিতে তিনি বলেছেন: 'আব্দুল্লাহ' এবং অন্যটিতে বলেছেন: 'উবাইদুল্লাহ'। আমি পাদটীকায় এই দুটি স্থানের দিকে ইঙ্গিত করেছি। তিনি এ ক্ষেত্রে সেই উৎসসমূহের অনুসারী যেখান থেকে তিনি উদ্ধৃত করেছেন; সুতরাং প্রথম স্থানের ক্ষেত্রে তাঁর উৎস হলো 'আল-মুনতাজাম'। আর দ্বিতীয় স্থানের ক্ষেত্রে: আয-যাহাবীর 'আত-তাযকিরা'।
--------------------------------------------