(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
رد الطعون الواردة في الموسوعة العبرية عن الإسلام ورسوله صلى الله عليه وسلم   (موسى البسيط)

القسم: كتب عامة


الكتاب: رد الطعون الواردة في الموسوعة العبرية عن الإسلام ورسوله صلى الله عليه وسلم

المؤلف: موسى البسيط

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 110

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলাম এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে হিব্রু বিশ্বকোষে বর্ণিত আক্রমণসমূহের খণ্ডন   (মুসা আল-বাসিত)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি


বই: ইসলাম এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে হিব্রু বিশ্বকোষে বর্ণিত আক্রমণসমূহের খণ্ডন

লেখক: মুসা আল-বাসিত

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১)
ردُّ الطعون الواردة في الموسوعة العبرية عن السنة النبوية

د/موسى البسيط

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة:

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم، وبعد:

فالإسلام هو الطرح البديل الذي جاء ليحقق الأمن والسعادة والسلام للبشرية جمعاء، لقد جاء وارثاً لشرائع السماء ومهيمناً عليها.

إنه يحرر العقل من الاستعباد، وينفض عنه غبار التعصب والتقليد، ويهدي البصائر المطموسة بحقائقه الدامغة وبراهينه الواضحة الساطعة، فما من عقيدة من عقائده إلا ويسندها الدليل وتضيء بالحجة.

إن أصدق ما يوصف به الإسلام أنّه {نُّورٌ عَلَى نُورٍ} [النور:35] كما جلّى ذلك الله في كتابه {اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ مَثَلُ نُورِهِ كَمِشْكَاةٍ فِيهَا مِصْبَاحٌ الْمِصْبَاحُ فِي زُجَاجَةٍ الزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ يُوقَدُ مِن شَجَرَةٍ مُّبَارَكَةٍ زَيْتُونِةٍ لَّا شَرْقِيَّةٍ وَلَا غَرْبِيَّةٍ يَكَادُ زَيْتُهَا يُضِيءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ نُّورٌ عَلَى نُورٍ يَهْدِي اللَّهُ لِنُورِهِ مَن يَشَاء وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ} [النور:35]

والكفر في كل زمان يتشابه في أهدافه وغاياته، وفي تصوراته وأساليبه، فتجد أساطينه يُعمي التعصبُ بصائرَهم، ولا يزالون يثيرون حول الإسلام ورسولِه ومصادرِه الشبهاتِ والشكوكَ، زاعمين في صنيعهم سلوك المنهج العلمي وَهُم منه برآء.

ولقد نظرت في المجلد الرابع من "الموسوعة العبرية" في مادة "الإسلام" فألفيت فيها كثيراً من المغالطات والمزاعم، فرأيت من الواجب أن أتناولها بالردّ العلمي والتفنيد، بعيداً عن الانفعال العاطفي.
সুন্নাহ সম্পর্কে হিব্রু এনসাইক্লোপিডিয়ায় উত্থাপিত অভিযোগসমূহের খণ্ডন

ড. মুসা আল-বাসিত

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌ভূমিকা:

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর:

ইসলাম হলো সেই বিকল্প উপস্থাপনা যা সমগ্র মানবজাতির নিরাপত্তা, সুখ ও শান্তি অর্জনের জন্য এসেছে; এটি আসমানি শরিয়তসমূহের উত্তরাধিকারী এবং সেগুলোর ওপর প্রাবল্য বিস্তারকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এটি বুদ্ধিকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে, এর ওপর থেকে গোঁড়ামি ও অন্ধ অনুকরণের ধূলিকণা ঝেড়ে ফেলে এবং এর অকাট্য সত্য ও সুস্পষ্ট উজ্জ্বল প্রমাণের মাধ্যমে অন্ধ অন্তর্দৃষ্টিকে পথ দেখায়। এর প্রতিটি আকিদাই দলীল দ্বারা সমর্থিত এবং অকাট্য প্রমাণের আলোয় উদ্ভাসিত।

ইসলামকে বর্ণনা করার জন্য সবচেয়ে সত্য কথা হলো এটি {আলোর ওপর আলো} [আন-নূর: ৩৫], যেমনটি আল্লাহ তাঁর কিতাবে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন: {আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর আলো; তাঁর আলোর উপমা যেন একটি তাক, যাতে রয়েছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাঁচের আবরণে রাখা, কাঁচের আবরণটি যেন একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র; তা বরকতময় জয়তুন বৃক্ষ হতে প্রজ্বলিত হয়, যা পূর্বমুখী নয় এবং পশ্চিমমুখীও নয়; তার তেল যেন এখনই জ্বলে উঠবে, যদিও আগুন তাকে স্পর্শ না করে। আলোর ওপর আলো! আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর আলোর দিকে পথপ্রদর্শন করেন এবং আল্লাহ মানুষের জন্য উপমা দিয়ে থাকেন।} [আন-নূর: ৩৫]

কুফর সব যুগেই এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, ধারণা ও পদ্ধতির ক্ষেত্রে একই রকম। আপনি দেখতে পাবেন যে, এর ধ্বজাধারীদের অন্তর্দৃষ্টিকে গোঁড়ামি অন্ধ করে দিয়েছে। তারা ইসলাম, এর রাসূল এবং এর উৎসসমূহ সম্পর্কে অনবরত সংশয় ও সন্দেহ উত্থাপন করে যাচ্ছে, দাবি করছে যে তারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করছে, অথচ তারা তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

আমি "হিব্রু এনসাইক্লোপিডিয়া"-র চতুর্থ খণ্ডের "ইসলাম" অধ্যায়টি দেখেছি এবং সেখানে অনেক ভুল ধারণা ও ভিত্তিহীন দাবি পেয়েছি। তাই আমি আবেগীয় উত্তেজনার ঊর্ধ্বে উঠে বৈজ্ঞানিক উত্তর ও খণ্ডনের মাধ্যমে সেগুলোর মোকাবিলা করাকে কর্তব্য বলে মনে করেছি।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২)
إنّ المؤلفين في مادة "الإسلام" في الموسوعة هم: لاستر، وشموئيل م. ستيرين، وهم يستندون إلى كتابات المستشرقين أمثال: إيسدبي، و"إش. د.غويطن" و"ي. ي.ر يفيلين" "وحافا لزروس. يافا". و"غولد تسهير" وغيرهم.

ولاشك أنّ لهذه الأسماء بريقها وشهرتها في أوساط الاستشراق والمستشرقين. ولابد لنا قبل تناول الشبهات المثارة في الموسوعة العبرية حول الإسلام ورسوله أن نقدم لمحة عن الاستشراق وجذورِه وأهم سمات مناهج المستشرقين في البحث في دراساتهم الإسلامية.
বিশ্বকোষের "ইসলাম" বিষয়ের লেখকগণ হলেন: লাস্টার এবং শমুয়েল এম. স্টার্ন; তাঁরা ই. এস. ডি. বি., এস. ডি. গোয়েটিন, ওয়াই. জে. রিভলিন, হাভা লাজারাস-ইয়াফে এবং গোল্ডজিহার প্রমুখ প্রাচ্যবিদদের রচনার ওপর নির্ভর করেছেন।

নিঃসন্দেহে প্রাচ্যতত্ত্ব এবং প্রাচ্যবিদদের পরিমণ্ডলে এই নামগুলোর বিশেষ খ্যাতি ও প্রসিদ্ধি রয়েছে। হিব্রু বিশ্বকোষে ইসলাম এবং তাঁর রাসূল সম্পর্কে উত্থাপিত সংশয়গুলো আলোচনার পূর্বে আমাদের জন্য প্রাচ্যতত্ত্ব, এর উৎস এবং প্রাচ্যবিদদের ইসলামি গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁদের গবেষণা পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الاستشراق

‌‌جذور الاستشراق

…

الاستشراق:

لعل أدق التعاريف للاستشراق أنه مصطلح يطلق على دراسات أكاديمية يقوم بها غربيون من أهل الكتاب للإسلام والمسلمين في شتى الجوانب: عقيدة، وثقافة، وشريعة، وتاريخاً، ونُظماً، وثروات وإمكانات … بهدف تشويه الإسلام، ومحاولة تشكيك المسلمين فيه وتضليلهم عنه، وفرض التبعية للغرب عليهم، ومحاولة تسويغ هذه التبعية بدراسات ونظريات تدّعي العلمية والموضوعية، وتزْعم التفوّق العنصري والثقافي للغرب المسيحي على الشرق الإسلامي (1) .

ويرى الدكتور إدوارد سعيد أن الاستشراق أسلوب غربي للهيمنة على الشرق وإعادة صياغته وتكوينه فكرياً وسياسياً، وممارسة السلطة عليه (2) .

والشرق الذي يسعى الغرب إلى إحكام السيطرة عليه وإعادة صياغته وبنائه هو الشرق الإسلامي.

إنّ توجّه الأكاديميين لدراسة الشرق الإسلامي نابع من منطق إحساسهم بالتفوق العنصري والثقافي على الشرق، ويتّصف هؤلاء الأكاديميون بصفات لها تأثيرها في دراساتهم، فليسوا هم من المسلمين، بل عُرفوا بالعداوة للإسلام وتخصصوا بالكيد للمسلمين.

--------------------------------------------

(1) غراب، أحمد، رؤية إسلامية للاستشراق ص9.

(2) Edward Said: Orientalism- p-i.
প্রাচ্যতত্ত্ব

প্রাচ্যতত্ত্বের শিকড়

…

প্রাচ্যতত্ত্ব:

সম্ভবত প্রাচ্যতত্ত্বের সবচেয়ে সঠিক সংজ্ঞা হলো এটি এমন একটি পরিভাষা যা আহলে কিতাবভুক্ত পশ্চিমা পণ্ডিতদের দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিভিন্ন দিক—আকিদা, সংস্কৃতি, শরিয়ত, ইতিহাস, শাসনব্যবস্থা এবং সম্পদ ও সম্ভাবনা নিয়ে পরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়... যার উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে বিকৃত করা, মুসলিমদের মনে ইসলাম সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি ও তাদের বিভ্রান্ত করা, তাদের ওপর পশ্চিমাদের পরাধীনতা চাপিয়ে দেওয়া এবং এই পরাধীনতাকে এমন সব গবেষণা ও মতবাদের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা করা যা বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার দাবি করে এবং ইসলামি প্রাচ্যের ওপর খ্রিষ্টান পশ্চিমের জাতিগত ও সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করে (১)।

ডক্টর এডওয়ার্ড সাইদ মনে করেন যে, প্রাচ্যতত্ত্ব হলো প্রাচ্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার, তাকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিকভাবে পুনর্গঠন এবং তার ওপর কর্তৃত্ব চর্চার একটি পশ্চিমা পদ্ধতি (২)।

আর সেই প্রাচ্য, যাকে পশ্চিম পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পুনর্গঠন করতে চায়, তা হলো ইসলামি প্রাচ্য।

শিক্ষাবিদদের ইসলামি প্রাচ্য অধ্যয়নের এই প্রবণতা মূলত প্রাচ্যের ওপর তাদের জাতিগত ও সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্ববোধের মানসিকতা থেকে উদ্ভূত। এই সকল শিক্ষাবিদ এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যা তাদের গবেষণায় প্রভাব ফেলে; তারা মুসলিম নন, বরং তারা ইসলামের প্রতি শত্রুতার জন্য পরিচিত এবং তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে পারদর্শী।

--------------------------------------------

(১) গুরাব, আহমদ, রু'ইয়াহ ইসলামিয়্যাহ লিল-ইসতিশরাক, পৃষ্ঠা ৯।

(২) Edward Said: Orientalism- p-i.
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪)
جذور الاستشراق:

يعد الاستشراق موقفاً عقدياً وفكرياً يقفه من الإسلام مَن لا يؤمن به منذ ظهوره وحتى اليوم، وهو موقفُ الإنكار للرسالة والتكذيب للرسول صلى الله عليه وسلم، وإثارة الشبهات حول الإسلام وكتابِه ورسوله بوجه خاص، لتشكيك المسلمين في دينهم تمهيداً لردّتهم.

وليس الاستشراق في نشأته جديداً، بل له أصوله الضاربة في التاريخ، فقد وجه الكفار سهام التشكيك إلى مصداق مصدر الرسالة التي جاء بها محمد صلى الله عليه وسلم، وتركزت افتراءاتهم وشبهاتهم حول الزعم بأنّ القرآن ليس وحياً، وأنّه من تأليف محمد صلى الله عليه وسلم أو عاونه على تأليفه وتَعَلُّمِه بَشَر: {بَلْ قَالُواْ أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ بَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ} [الأنبياء:5] .

وقال تعالى: {إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ، وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلًا مَا تُؤْمِنُونَ، وَلَا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ، تَنزِيلٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ} [الحاقة:40-43] .

وقال تعالى: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَذَا إِلَّا إِفْكٌ افْتَرَاهُ وَأَعَانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ آخَرُونَ فَقَدْ جَاؤُوا ظُلْمًا وَزُورًا، وَقَالُوا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْلَى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا} [الفرقان:4-5] .

وقال تعالى: {وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِّسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهَذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُّبِينٌ} [النحل:103] .

إنّ هذه الآية تشير إلى زعم الكفار أنّ غلاماً نصرانياً أعجمياً لا يعرف
প্রাচ্যতত্ত্বের শিকড়:

প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) হলো একটি আদর্শিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান যা ইসলামের আবির্ভাব থেকে আজ পর্যন্ত যারা এতে বিশ্বাস করে না তাদের পক্ষ থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রহণ করা হয়েছে। এটি হলো রিসালাত (الرسالة) অস্বীকার এবং রাসূল (رسول) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মিথ্যারোপ করার একটি অবস্থান। বিশেষ করে ইসলাম, এর কিতাব এবং রাসূলকে কেন্দ্র করে সংশয় (شبهات) উত্থাপন করা, যাতে মুসলমানদের তাদের দ্বীন সম্পর্কে সন্দিহান করে তোলার মাধ্যমে তাদের ধর্মত্যাগের (ردة) পথ প্রশস্ত করা যায়।

প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) এর উৎপত্তির দিক থেকে নতুন কিছু নয়, বরং এর শিকড় ইতিহাসের গভীরে প্রোথিত। কাফেররা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে রিসালাত (الرسالة) নিয়ে এসেছিলেন তার উৎসের সত্যতার দিকে সন্দেহের তীর নিক্ষেপ করেছিল। তাদের অপবাদ (افتراءات) ও সংশয়গুলো (شبهات) এই দাবির ওপর কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো যে, কুরআন কোনো প্রত্যাদেশ (وحي) নয়, বরং এটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্বরচিত অথবা কোনো মানুষ তাকে এটি রচনা ও শিখতে সাহায্য করেছে: {বরং তারা বলে, ‘এগুলো অর্থহীন অলীক স্বপ্ন; বরং সে এটি মিথ্যা উদ্ভাবন (افتراه) করেছে; বরং সে একজন কবি।’} [আল-আম্বিয়া: ৫]।

মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের (رسول) আনীত বাণী। আর এটি কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই বিশ্বাস করো। আর এটি কোনো গণকের কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করো। এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (تنزيل)।} [আল-হাক্কাহ: ৪০-৪৩]।

মহান আল্লাহ বলেন: {আর কাফেররা বলে, ‘এটি মিথ্যাচার (إفك) বৈ নয়, যা সে রটনা করেছে (افتراه) এবং অন্য একটি কওম তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে।’ অবশ্যই তারা জুলুম ও চরম মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। তারা আরও বলে, ‘এগুলো আদিমকালের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে, অতঃপর এগুলো সকাল-সন্ধ্যা তার কাছে পাঠ করা হয়।’} [আল-ফুরকান: ৪-৫]।

মহান আল্লাহ বলেন: {আমরা অবশ্যই জানি যে তারা বলে, ‘তাকে তো কেবল একজন মানুষ শিক্ষা দেয়।’ যার প্রতি তারা ইঙ্গিত করে তার ভাষা তো অনারব (أعجمي), অথচ এটি স্পষ্ট আরবি ভাষা।} [আল-নাহল: ১০৩]।

নিশ্চয়ই এই আয়াতটি কাফেরদের সেই দাবির দিকে ইঙ্গিত করছে যে, এক অনারব (أعجمي) খ্রিস্টান যুবক, যে জানে না...
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৫)
العربية هو الذي كان يُعلم رسول الله صلى الله عليه وسلم (1) .

ويتكرر هذا الزعم على ألْسنة المستشرقين في العصر الحديث فيقولون: إنّ القرآن يستمد كثيراً من موضوعاته من المصادر اليهودية والنصرانية (انظر ص15 من هذه الدراسة) - إن الافتراءات التي تصدر عن المستشرقين ضد الإسلام ورسوله ومصادِره هي افتراءاتٌ قديمة، لكنهم يُلبسونها ثوباً جديداً، ويُضْفون عليها ما يسمى بمسْحَة المنهج العلمي - وهو من العلمية براء - وإنّما كان هذا التشابه في الافتراءات؛ لأن نفوس مَنْ تصدر عنهم هذه الدعاوى نفوسٌ متشابهةٌ تتصف جميعها بالجحود والطغيان والاستكبار عن قبول الحق وإتباعه.

وتكاد تجد إجماعاً من المستشرقين قديماً وحديثاً على فكرة إنكار أن القرآن وحيٌ من عند الله، وأنّ محمداً صلى الله عليه وسلم اعتمد كثيراً في القرآن على الأخذ من اليهودية والنصرانية، وبخاصة على الأخذ من العهدين القديم والجديد أي من التوراة والإنجيل (انظر ص13 من هذه الدراسة) . ويردد هذا الزعم "ريتشارد بل" في كتابه "مقدمة القرآن" حيث يرى أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كانت فرصته في المدينة للتعرف على ما في العهد القديم أفضل من وضعه السابق في مكة؛ إذ كان على اتصال بالجاليات اليهودية في المدينة، وعن طريقها حصل على قسط غير قليل من المعرفة بكتب موسى على الأقل (2) .

وعن التأثير النصراني في القرآن يقول "بارت": (3)

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير ابن كثير (4/523) .

(2) اللبان، إبراهيم، المستشرقون والإسلام ص15 (ملحق مجلة الأزهر، نيسان 1970م) .

(3) زقزوق، محمود حمدي، الإسلام في الفكر الغربي 67-68.
আরবি [ভাষা], তিনিই ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা শিক্ষা দিতেন (১)।

আধুনিক যুগের প্রাচ্যবিদদের মুখে এই দাবিটি বারবার প্রতিধ্বনিত হয়; তারা বলে: কোরআন তার অনেক বিষয়বস্তু ইহুদি ও খ্রিস্টান উৎসসমূহ থেকে আহরণ করেছে (এই গবেষণার ১৫ নং পৃষ্ঠা দেখুন)। ইসলাম, তার রাসূল এবং এর উৎসসমূহের বিরুদ্ধে প্রাচ্যবিদদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই অপবাদগুলো পুরনো, কিন্তু তারা এগুলোকে নতুন পোশাকে উপস্থাপন করে এবং তথাকথিত ‘বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি’র তকমা দেয়—অথচ তা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। অপবাদগুলোর মধ্যে এই সাদৃশ্যের কারণ হলো, যাদের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলো আসে তাদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা একই ধরনের; তারা সবাই সত্য গ্রহণ ও অনুসরণের ক্ষেত্রে অস্বীকৃতি, সীমালঙ্ঘন ও অহংকারে লিপ্ত।

প্রাচীন ও আধুনিক প্রাচ্যবিদদের মধ্যে এই ধারণার ওপর প্রায় ঐকমত্য লক্ষ্য করা যায় যে, কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি হওয়ার বিষয়টি তারা অস্বীকার করে। তাদের দাবি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরআনের ক্ষেত্রে ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করেছেন, বিশেষ করে ওল্ড টেস্টামেন্ট ও নিউ টেস্টামেন্ট অর্থাৎ তাওরাত ও ইঞ্জিল থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন (এই গবেষণার ১৩ নং পৃষ্ঠা দেখুন)। ‘রিচার্ড বেল’ তার ‘ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য কুরআন’ গ্রন্থে এই দাবিরই পুনরাবৃত্তি করেছেন; সেখানে তিনি মনে করেন যে, মক্কায় থাকাকালীন অবস্থার তুলনায় মদিনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ওল্ড টেস্টামেন্টে কী আছে তা জানার সুযোগ অনেক বেশি ছিল। কারণ মদিনায় তিনি ইহুদি সম্প্রদায়ের সংস্পর্শে ছিলেন এবং তাদের মাধ্যমে অন্তত মুসা (আ.)-এর কিতাবসমূহ সম্পর্কে বেশ ভালো জ্ঞান লাভ করেছিলেন (২)।

কোরআনের ওপর খ্রিস্টীয় প্রভাব সম্পর্কে ‘পার্ট’ বলেন: (৩)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির (৪/৫২৩)।

(২) আল-লাব্বান, ইব্রাহিম, আল-মুস্তাশরিকুনা ওয়াল ইসলাম, পৃষ্ঠা ১৫ (মাজাল্লাতুল আজহারের ক্রোড়পত্র, এপ্রিল ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ)।

(৩) যাকযুক, মাহমুদ হামদি, আল-ইসলাম ফিল ফিকরিল গারবি, পৃষ্ঠা ৬৭-৬৮।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৬)
"لقد كانت معلومات الناس بمكة - في عصر النبي - عن النصرانية محدودة وناقصة، ولم يكن النصارى العرب سائرين في معتقداتهم في الاتجاه الصحيح، ولهذا كان هناك مجال لظهور الآراء البدعية المنحرفة، ولولا ذلك لما كان محمد على علم بأمثال تلك الآراء التي تنكر صلب المسيح، وتذهب إلى أنّ نظرية التثليث النصرانية لا تعني الأب والابن والروح القدس، وإنّما تعني الله وعيسى بن مريم، وعلى أية حال فإن المعارف التي استطاع محمد أن يجمعها عن حياة المسيح وأثره كانت قليلة ومحدودة، وعلى العكس من ذلك كان محمد يعرف الشيء الكثير عن ميلاد عيسى وعن أمه مريم".

وملخص قول "بارت" أن محمداً هو مؤلف القرآن، وأنه جمع معلوماته عن المسيح وأمه من شائعات النصارى.

لقد ذهب كثير من المستشرقين إلى زعم أنّ مصدر محمد عن النصرانية هو "بحيرى الراهب" في رحلته التجارية إلى الشام، بل إنّ مقابلته لبحيرى دفعته ليتمثل في نفسه ما سمعه من بحيرى وعرفه من يهود، فخرج بهذا الدين (1) .

إنّ كل هذه المزاعم لا أساس لها من الصحة، ولا سند لها من التاريخ، وقد ناقشها الدكتور "محمد عبد الله دراز" مناقشة علمية قيمة، وتوصل إلى القول: "إن جميع سبل البحث التي وقعت تحت أيدينا وناقشناها ثبت ضعفها وعدم قدرتها على تقديم أي احتمال لطريق طبيعي أتاح للنبي صلى الله عليه وسلم فرصة

--------------------------------------------

(1) وقصة بحيرى ضعَّفها أهل العلم ولم يثبتوها ورأوها منكرة.

انظر: زاد المعاد (1/18) ، وميزان الاعتدال (3/581) ، وتلخيص الذهبي لمستدرك الحاكم (2/615) .
নবিজির সমকালীন মক্কায় খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে জনমানুষের ধারণা ছিল সীমিত ও ত্রুটিপূর্ণ। আরব খ্রিস্টানরা তাদের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সঠিক পথে পরিচালিত ছিল না। এই কারণেই সেখানে বিভ্রান্তিকর বিদআতি মতবাদ প্রকাশের সুযোগ ছিল। তা না হলে মুহাম্মদ কীভাবে ঈসা (আ.)-এর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা অস্বীকারকারী এবং খ্রিস্টীয় ত্রিত্ববাদ বলতে যে পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা নয়, বরং আল্লাহ ও ঈসা ইবনে মারইয়ামকে বোঝায়—এমন মতবাদ সম্পর্কে অবগত হতেন? যা-ই হোক, ঈসা (আ.)-এর জীবন ও প্রভাব সম্পর্কে মুহাম্মদ যে জ্ঞান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন তা ছিল নগণ্য ও সীমিত। এর বিপরীতে ঈসা (আ.)-এর জন্ম এবং তাঁর মাতা মারইয়াম সম্পর্কে তিনি অনেক বেশি জানতেন।

‘বার্থ’-এর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো—মুহাম্মদ নিজেই কুরআনের রচয়িতা এবং তিনি ঈসা (আ.) ও তাঁর মাতা সম্পর্কে তথ্যগুলো খ্রিস্টানদের মাঝে প্রচলিত জনশ্রুতি থেকে সংগ্রহ করেছেন।

অনেক প্রাচ্যবিদ এই দাবি করেছেন যে, সিরিয়ায় বাণিজ্যিক সফরের সময় ‘রাহিব বুহাইরা’ (সন্ন্যাসী বুহাইরা) ছিলেন খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে মুহাম্মদের তথ্যের উৎস। এমনকি বুহাইরার সাথে সেই সাক্ষাৎ তাঁকে বুহাইরার কাছ থেকে শোনা এবং ইহুদিদের কাছ থেকে জানা বিষয়গুলো নিজের মাঝে ধারণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যার ফলশ্রুতিতে এই ধর্মের (১) উদ্ভব ঘটে।

এই সকল দাবির কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই এবং ইতিহাসের পাতায় এর কোনো প্রমাণ নেই। ডক্টর ‘মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দরাজ’ অত্যন্ত মূল্যবান ও বৈজ্ঞানিক আলোচনার মাধ্যমে এগুলো খণ্ডন করেছেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে: "আমাদের হাতে আসা এবং আমাদের আলোচিত গবেষণার সকল পথই দুর্বল (ضعيف) প্রমাণিত হয়েছে এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য কোনো স্বাভাবিক পন্থায় (জ্ঞান অর্জনের) সুযোগ তৈরির ন্যূনতম সম্ভাবনা পেশ করতেও এগুলো অক্ষম...

--------------------------------------------

(১) বুহাইরার ঘটনাটিকে বিজ্ঞ আলিমগণ দুর্বল (ضعيف) আখ্যা দিয়েছেন, তাঁরা এটি সাব্যস্ত করেননি এবং একে অগ্রহণযোগ্য (منكر) হিসেবে গণ্য করেছেন।

দেখুন: জাদুল মাআদ (১/১৮), মিজানুল ইতিদাল (৩/৫৮১), মুসতাদরাকে হাকিমের ওপর যাহাবীর তালখিস (২/৬১৫)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৭)
الاتصال بالحقائق المقدسة، ورغم الجهد الذهني الذي نبذله لتضخيم معلوماته السمعية ومعارف بيئته فإنّه يتعذر علينا تفسيراً كافياً لهذا البناء الشامخ من العلوم الواسعة والمفصلة التي يقدمها لنا القرآن في مجال الدين والتاريخ والقانون والكون والأخلاق" (1) .

ولتفنيد زعمهم نقول: إن القرآن أتى بالعقائد والأصول العامة التي أتت بها كل رسالات التوحيد الموحَى بها قبلَه، وقد جاء القرآن وهو أعلى وأوسع وأكمل من كل المعلومات التي كانت لدى بحيرى الراهب ولدى كل النصارى واليهود، جاء القرآن مصدقاً لما نزل على موسى وعيسى وداود وسليمان، كما جاء القرآن مهيمناً على هذه الكتب وحاكماً عليها، كما في قوله تعالى: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ} [المائدة:48] .

ولكن هذا القرآن يختلف عن الكتب السابقة بما يلي:

أولاً: الكتب السابقة أنزلت على رسل بُعثوا إلى أقوامهم خاصة، وهذا القرآن أنزل إلى الناس عامة.

ثانياً: أنّ الكتب السابقة "التوراة والإنجيل" حُرّفت، بينما بقي القرآن محفوظاً من كل تحريف وتبديل، وقد أكد الله تعالى ذلك بقوله عن اليهود: {فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِندِ اللهِ لِيَشْتَرُواْ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً} [البقرة:79] .

--------------------------------------------

(1) دراز، محمد عبد الله، مدخل إلى القرآن، 165.
"পবিত্র সত্যের সাথে সংযোগ; আমরা তাঁর শ্রুত তথ্য এবং তাঁর পারিপার্শ্বিক জ্ঞানকে মহিমান্বিত করার জন্য যে বৌদ্ধিক প্রচেষ্টা চালাই না কেন, ধর্ম, ইতিহাস, আইন, মহাবিশ্ব এবং নৈতিকতার ক্ষেত্রে কুরআন আমাদের সামনে বিজ্ঞানের যে সুউচ্চ ও বিস্তারিত ইমারত পেশ করে, তার পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব।" (১) .

তাদের দাবি খণ্ডন করার জন্য আমরা বলি: কুরআন এমন আকীদা এবং সাধারণ মূলনীতি (الأصول العامة) নিয়ে এসেছে যা তার পূর্ববর্তী অবতীর্ণ হওয়া সকল তাওহীদী বার্তায় বিদ্যমান ছিল। এই কুরআন পাদ্রী বুহাইরা এবং সকল খ্রিস্টান ও ইহুদিদের নিকট থাকা তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চতর, ব্যাপকতর এবং পূর্ণাঙ্গ রূপে এসেছে। কুরআন মূসা, ঈসা, দাউদ ও সুলাইমান—তাঁদের সবার ওপর যা নাজিল হয়েছিল তার সত্যায়নকারী (مصدقاً) হিসেবে এসেছে; পাশাপাশি এটি এই কিতাবগুলোর ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী (مهيمناً) এবং বিচারক (حاكماً) হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী (مصدقاً) এবং সেগুলোর ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী (مهيمناً)।" [আল-মায়িদাহ: ৪৮] .

তবে এই কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে ভিন্ন:

প্রথমত: পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ এমন রাসূলদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল যারা বিশেষভাবে কেবল তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন, আর এই কুরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য অবতীর্ণ হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ "তাওরাত ও ইঞ্জিল" বিকৃত (حُرّفت) করা হয়েছে, অন্যদিকে কুরআন যাবতীয় বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে সংরক্ষিত (محفوظاً) রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের সম্পর্কে বলার মাধ্যমে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন: "সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং সামান্য মূল্যের বিনিময়ে তা বিক্রি করার জন্য বলে যে, 'এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে'।" [আল-বাকারাহ: ৭৯] .

--------------------------------------------

(১) দরাজ, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মাদখাল ইলাল কুরআন, ১৬৫।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮)
وقوله: {مِّنَ الَّذِينَ هَادُواْ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ} [النساء:46] .

وقال عن النصارى: {وَمِنَ الَّذِينَ قَالُواْ إِنَّا نَصَارَى أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُواْ حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُواْ بِهِ} [المائدة:14] .

ثالثاً: ثم إن القرآن يخبرنا عن تحريف أهل الكتاب لعقيدة التوحيد {اتَّخَذُواْ أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ} [التوبة:31] .

فكيف يُعقل أن يأخذ القرآن عن الكتب التي أعلن تحريفها؟ وتحريف التوراة والإنجيل في مقابل خلو القرآن من التحريف حققه العلماء الباحثون في مقارنة الأديان.

إنّ دعوى استفادة الإسلام من اليهودية والنصرانية تكذبها الوثائق التاريخية التي تتعلق بالعصرين الجاهلي والإسلامي، وكلها تؤكد أنّه ليس ثمة تأثير أجنبي في تلك البيئة على مصادر الإسلام.

إن الإسلام ليس ديناً تابعاً لأي دين آخر، ولكنه الدينُ الذي أراده الله خاتماً للأديان، إن منهج المستشرقين في دراسة الإسلام منهج مرفوضٌ؛ إذ إنّ منهج التأثر والتأثير بين التراث الإنساني منهجٌ قاصرٌ عن فهم طبيعةِ الوحي الإلهي.
এবং তাঁর বাণী: {ইহুদিদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা শব্দসমূহকে সেগুলোর সঠিক স্থান থেকে বিকৃত (تحريف) করে} [আন-নিসা: ৪৬]।

এবং খ্রিস্টানদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {আর যারা বলে ‘আমরা নাসারা (খ্রিস্টান)’, আমি তাদের থেকেও অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম; অতঃপর তাদের যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা তার একটি অংশ ভুলে গিয়েছে} [আল-মায়িদাহ: ১৪]।

তৃতীয়ত: এরপর কুরআন আমাদের আহলে কিতাবদের তাওহীদের আকিদাহ বিকৃত (تحريف) করার সংবাদ দেয়: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগী দরবেশদের রব হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং মরিয়ম-পুত্র মাসীহকেও} [আত-তাওবাহ: ৩১]।

অতএব, কুরআন কীভাবে এমন সব কিতাব থেকে তথ্য গ্রহণ করবে বলে মনে করা যায় যেগুলোর বিকৃতির (تحريف) কথা সে নিজেই ঘোষণা করেছে? তাওরাত ও ইঞ্জিলের বিকৃতি (تحريف) এবং এর বিপরীতে কুরআনের বিকৃতিমুক্ত থাকার বিষয়টি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের গবেষক আলেমগণ সপ্রমাণ করেছেন।

ইহুদি ও খ্রিস্টধর্ম থেকে ইসলামের উপকৃত হওয়ার যে দাবি, তাকে জাহেলি ও ইসলামি যুগের ঐতিহাসিক দলিলসমূহ মিথ্যা প্রমাণ করে; যার প্রতিটিই নিশ্চিত করে যে, সেই পরিবেশে ইসলামের উৎসসমূহের ওপর কোনো বৈদেশিক প্রভাব ছিল না।

ইসলাম অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী কোনো ধর্ম নয়, বরং এটি সেই ধর্ম যাকে আল্লাহ সকল ধর্মের সমাপ্তিকারী হিসেবে মনোনীত করেছেন। ইসলাম অধ্যয়নের ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদদের (المستشرقين) পদ্ধতিটি একটি অগ্রহণযোগ্য পদ্ধতি; কেননা মানবীয় ঐতিহ্যের মধ্যে পারস্পরিক প্রভাবের যে তত্ত্ব, তা ঐশী ওহীর (الوحي) প্রকৃতি অনুধাবনে অত্যন্ত সীমিত ও অক্ষম।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌سمات منهاج المستشرقين في البحث:

إن موقف المستشرقين في دراساتهم عن الإسلام لا يتسم بالموضوعية ولا النزاهة، بل إننا من خلال اطلاعنا على بحوثهم ودراساتهم، وجدنا أن بحثهم "العلمي" اتسم بإساءة الظن والتشويه والتحريف والجهل والتحكّم في المصادر، بل والتحكّم بالنتائج قبل إجراء الدراسة.
গবেষণায় প্রাচ্যবিদদের পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যসমূহ:

ইসলাম সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের গবেষণামূলক অবস্থান বস্তুনিষ্ঠতা কিংবা নিরপেক্ষতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত নয়। বরং তাদের গবেষণা ও অধ্যয়নসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা দেখেছি যে, তাদের "বৈজ্ঞানিক" গবেষণাগুলো কুধারণা পোষণ, রূপবিকৃতি, বিকৃতি, অজ্ঞতা এবং উৎসসমূহের ওপর স্বেচ্ছাচারী নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রবণতায় দুষ্ট; এমনকি তারা গবেষণা পরিচালনার পূর্বেই ফলাফল নির্ধারণ করে ফেলে।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯)
ويرحم الله الدكتور السباعي فلقد فصّل جميع الظواهر التي يوصف بها منهاج الاستشراق، وأنا بدوري أوردها كاملة كما ذكرها.

1- سوء الظن والفهم لكل ما يتصل بالإسلام في أهدافه ومقاصده.

2- سوء الظن برجال المسلمين وعلمائهم وعظمائهم.

3- تصوير المجتمع الإسلامي في مختلف العصور - وخاصة في العصر الأول - بأنه مجتمع متفكك تقتل الأنانية رجاله وعظماءه.

4- تصوير الحضارة الإسلامية تصويراً دون الواقع بكثير؛ تهويناً لشأنها واحتقاراً لآثارها.

5- الجهل بطبيعة المجتمع الإسلامي على حقيقته، والحكم عليه من خلال ما يعرفه هؤلاء المستشرقون من أخلاق شعوبهم وعادات بلادهم.

6- إخضاع النصوص للفكرة التي يفرضونها حسب أهوائهم، والتحكم بما يرفضونه ويقبلونه من النصوص.

7- تحريفهم للنصوص في كثير من الأحيان، تحريفاً مقصوداً، وإساءتهم فهم العبارات حين لا يجدون مجالاً للتحريف.

8- تحكمهم في المصادر التي ينقلون منها، فهم ينقلون مثلاً من كتب الأدب ما يحكمون به في تاريخ الحديث، ومن كتب التاريخ ما يحكمون به في تاريخ الفقه، ويصححون ما ينقله (الدميري) في كتاب (الحيوان) ، ويكذبون ما يرويه "مالك" في "الموطأ"، كل ذلك انسياقاً مع الهوى، وانحرافاً عن الحق (1) .

--------------------------------------------

(1) السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي 188-189.
আল্লাহ ডক্টর সিবাই-এর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, কারণ তিনি প্রাচ্যবিদ্যার পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যযুক্ত সকল দিক বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আর আমি তাঁর বর্ণনানুসারে তা পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করছি।

1- ইসলামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের প্রতি কুধারণা ও ভুল বুঝাবুঝি পোষণ করা।

2- মুসলিম ব্যক্তিত্ব, উলামায়ে কেরাম এবং মনীষীদের প্রতি কুধারণা পোষণ করা।

3- বিভিন্ন যুগের—বিশেষ করে প্রথম যুগের—মুসলিম সমাজকে এমনভাবে চিত্রায়িত করা যেন তা একটি বিশৃঙ্খল সমাজ, যেখানে ব্যক্তিসার্থপরতা তার ব্যক্তিবর্গ ও মনীষীদের গ্রাস করে ফেলছে।

4- ইসলামি সভ্যতাকে বাস্তবতার তুলনায় অনেক নিচু করে চিত্রায়িত করা; এর মর্যাদা খাটো করার এবং এর ঐতিহ্যকে তুচ্ছজ্ঞান করার উদ্দেশ্যে।

5- মুসলিম সমাজের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং এই প্রাচ্যবিদরা তাদের নিজেদের জাতির নৈতিকতা ও নিজ দেশের রীতিনীতি সম্পর্কে যা জানে তার আলোকে মুসলিম সমাজ সম্পর্কে বিচার করা।

6- তাদের নিজেদের খেয়ালখুশি মতো চাপিয়ে দেওয়া মতাদর্শের অনুগামী করার জন্য মূল পাঠ্য (نصوص) সমূহকে বাধ্য করা এবং পাঠ্যের মধ্য থেকে যা তারা গ্রহণ বা বর্জন করে তার ওপর নিয়ন্ত্রণ চালানো।

7- বহু ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মূল পাঠ্যের বিকৃতি (تحريف) ঘটানো এবং যখন বিকৃতি ঘটানোর সুযোগ পায় না, তখন বাক্যসমূহের অপব্যাখ্যা করা।

8- তারা যে উৎসগুলো থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করে সেগুলোর ওপর যথেচ্ছ নিয়ন্ত্রণ চালানো। উদাহরণস্বরূপ, তারা সাহিত্যের বই থেকে সংগৃহীত তথ্যের মাধ্যমে হাদিসের ইতিহাস সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেয় এবং ইতিহাসের বই থেকে প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে ফিকহ শাস্ত্রের ইতিহাস সম্পর্কে বিচার করে। তারা ‘কিতাবুল হাইওয়ান’-এ আদ-দামিরি যা উল্লেখ করেছেন তাকে সঠিক (صحيح) বলে গ্রহণ করে, অথচ ইমাম ‘মালিক’ তাঁর ‘মুওয়াত্তা’ গ্রন্থে যা বর্ণনা (رواية) করেছেন তাকে মিথ্যা (كذب) সাব্যস্ত করে। এসবই প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং সত্য থেকে বিচ্যুতির বহিঃপ্রকাশ।

--------------------------------------------

(১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরিয়িল ইসলামি ১৮৮-১৮৯।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০)
إن مناهج المستشرقين تعتمد التشكيك في كل ما ينبثق من الإسلام ابتداء من إنكار رسالة محمد صلى الله عليه وسلم ونزول القرآن الكريم عليه.

ثم تشكيكهم في صحة الحديث النبوي، رغم الجهود الجبارة التي بذلها علماؤنا لتنقية الحديث الصحيح من غيره، مستندين إلى منهج النقد العلمي الذي تفتقر إليه كتب اليهود والنصارى.

كما شكك المستشرقون في قيمة الفقه الإسلامي، وزعموا أنّه مستمد من القانون الروماني، الأمر الذي أثبت العلماء بطلانه، وتوصلوا إلى استقلالية الفقه الإسلامي.

وشكك المستشرقون في اللغة العربية وقدرتها على استيعاب كل جديد.

إن المتأمل في دراسات المستشرقين يلحظ الهجمة الشرسة على الإسلام ونبيه، ونظمه بكل الوسائل والأساليب، ومن خلال ذلك تظهر الخدمة الجليلة التي يقدمها الاستشراق للاستعمار أيّاً كان هذا الاستعمار.

وإلى مناقشة شبه أصحاب الموسوعة، والرد عليها:
প্রাচ্যবিদদের কর্মপদ্ধতি ইসলাম থেকে উদ্ভূত প্রতিটি বিষয়ের ওপর সন্দেহ পোষণ করার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; যার শুরু হয়েছে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত এবং তাঁর ওপর পবিত্র কুরআন নাজিল হওয়াকে অস্বীকার করার মাধ্যমে।

এরপর তারা নববী হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة)-র ওপর সন্দেহ পোষণ করেছে, যদিও আমাদের উলামায়ে কেরাম অন্যান্য হাদিস থেকে সহিহ (صحيح) হাদিসকে পৃথক করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এক্ষেত্রে তারা এমন বৈজ্ঞানিক সমালোচনা পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছেন, যার অভাব ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মীয় কিতাবসমূহে পরিলক্ষিত হয়।

একইভাবে প্রাচ্যবিদরা ইসলামি ফিকহ-এর গুরুত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি রোমান আইন থেকে উদ্ভূত; তবে উলামায়ে কেরাম এই দাবির অসারতা প্রমাণ করেছেন এবং ইসলামি ফিকহের স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতার বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

প্রাচ্যবিদরা আরবি ভাষা এবং প্রতিটি নতুন বিষয়কে ধারণ করার ক্ষেত্রে এর সক্ষমতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

প্রাচ্যবিদদের গবেষণাসমূহ গভীর পর্যবেক্ষণ করলে ইসলাম, এর নবী এবং এর ব্যবস্থার ওপর সকল উপায় ও কৌশলের মাধ্যমে পরিচালিত এক হিংস্র আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়। এর মাধ্যমে সেই মহান সেবাটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা প্রাচ্যতত্ত্ব যে কোনো ধরনের উপনিবেশবাদের প্রতি নিবেদন করে থাকে।

এখন বিশ্বকোষ রচয়িতাদের উত্থাপিত সংশয়সমূহের আলোচনা এবং সেগুলোর খণ্ডন উপস্থাপন করা হচ্ছে:
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الإسلام هو الدين الحق

‌‌ديانات التوحيد

…

الإسلام هو الدين الحق:

زعم كاتب الموسوعة العبرية (1) في المجلد (4) الصفحة (954) الفقرة الأولى: "أن الإسلام منبثق من اليهودية".

وقال في (ج4) الصفحة (955) الفقرة الثانية: "أدرك محمد صلى الله عليه وسلم حقيقةَ وسببَ دعوتِه فقط، بعدَ وبفضل الاتصالات التي أجراها مع ممثلي الديانات الأخرى (اليهود والنصارى) وحتى الديانة الوثنية". وانظر أيضاً (ج4) الصفحة (956) الفقرة الأولى وج (22) الصفحة (1012) الفقرة الأخيرة، وقال في الصفحة (956) السطر الأول حتى آخر الصفحة:

"إن محمداً صلى الله عليه وسلم اعترف طوال حياته بتأثير ديانات التوحيد القديمة (اليهودية والنصرانية) ".

"في البداية ما كان يخطر بباله أنّه يدعو إلى دين جديد، وإنما كان التجديد فقط بكون الكتاب الذي جاء به عربياً.

وكان محمد يعتقد أن شعبه سيحظى منذ تلك اللحظة بنفس القوانين الجيدة والمناسبة التي أعطاها الله لشعوبٍ سابقةٍ بلغاتها، فيحظى بانتقاء الجيد مما في التوراة".

"وعندما رأى محمد صلى الله عليه وسلم أن اليهود في المدينة لا يرون في الإسلام الصورة

--------------------------------------------

(1) رجعت في نقد ما جاء في الموسوعة العبرية إلى المجلدات التالية منها، وهي: (4، 22، 26) وإلى "مذكرة" تتضمن أبرز الأفكار المحرّفة عن الإسلام أُخِذت من الموسوعة العبرية، والمذكرةُ تدرّس على سبيل النَقْد لها في كلٍ من كلية الشريعة بباقة الغربية، وكلية الدعوة والعلوم الإسلامية – بأم الفحم، فحيث كان الرقم من 1-40 فهو في المذكرة.
ইসলাম হলো সত্য ধর্ম

একত্ববাদী (توحيد) ধর্মসমূহ

...

ইসলাম হলো সত্য ধর্ম:<

হিব্রু বিশ্বকোষের (১) লেখক ৪র্থ খণ্ড, ৯৫৪ পৃষ্ঠা, প্রথম অনুচ্ছেদে দাবি করেছেন: "ইসলাম ইহুদি ধর্ম থেকে উদ্ভূত।"

তিনি ৪র্থ খণ্ড (জ. ৪), ৯৫৫ পৃষ্ঠা, দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলেছেন: "মুহাম্মদ (সা.) তাঁর দাওয়াতের হাকিকত ও কারণ কেবল তখনই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, যখন তিনি অন্যান্য ধর্মের (ইহুদি ও খ্রিস্টান) এমনকি পৌত্তলিক ধর্মের প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন এবং এরই বদৌলতে।" এছাড়াও দেখুন ৪র্থ খণ্ড, ৯৫৬ পৃষ্ঠা, প্রথম অনুচ্ছেদ এবং ২২তম খণ্ড, ১০১২ পৃষ্ঠা, শেষ অনুচ্ছেদ। তিনি ৯৫৬ পৃষ্ঠার প্রথম লাইন থেকে পৃষ্ঠার শেষ পর্যন্ত বলেছেন:

"মুহাম্মদ (সা.) সারাজীবন প্রাচীন একত্ববাদী (توحيد) ধর্মসমূহের (ইহুদি ও খ্রিস্টান) প্রভাব স্বীকার করেছেন।"

"শুরুতে তাঁর মনে এই চিন্তা আসেনি যে তিনি একটি নতুন ধর্মের দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন, বরং নতুনত্ব ছিল কেবল এই যে, তিনি যে কিতাব নিয়ে এসেছেন তা ছিল আরবি ভাষায়।

এবং মুহাম্মদ বিশ্বাস করতেন যে, তাঁর জাতি সেই মুহূর্ত থেকে একই ধরণের উত্তম ও উপযুক্ত বিধান লাভ করবে যা আল্লাহ ইতিপূর্বে অন্যান্য জাতিদের তাদের নিজ নিজ ভাষায় দিয়েছিলেন, ফলে তাওরাত থেকে যা কিছু উত্তম তা নির্বাচনের সুযোগ লাভ করবে।"

"যখন মুহাম্মদ (সা.) দেখলেন যে মদিনার ইহুদিরা ইসলামের মাঝে সেই চিত্র খুঁজে পাচ্ছে না

--------------------------------------------

(১) হিব্রু বিশ্বকোষে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার পর্যালোচনায় আমি এর নিম্নোক্ত খণ্ডগুলোর (৪, ২২, ২৬) এবং হিব্রু বিশ্বকোষ থেকে সংগৃহীত ইসলাম সম্পর্কে প্রধান কিছু বিকৃত চিন্তাধারা সম্বলিত একটি 'নোট'-এর শরণাপন্ন হয়েছি। এই নোটটি বাকা আল-গারবিয়্যাহ-এর শরিয়াহ কলেজ এবং উম্মুল ফাহম-এর দাওয়াহ ও ইসলামি বিজ্ঞান কলেজে পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে পড়ানো হয়। যেখানে ১ থেকে ৪০ পর্যন্ত নম্বর রয়েছে, তা উক্ত নোট থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১২)
العربية لديانتهم اليهودية، وعندها فقط أدرك أن ما يحمله يختلف عن اليهودية، لذا أخذ محمد صلى الله عليه وسلم يسوّغ الفروق بين الإسلام واليهودية مثل: تغيير القبلة، وإلغاء صوم عاشوراء وإبداله بصوم رمضان، وإبدال اليوم المقدس بالجمعة مع السماح بالعمل فيه، والتسهيل بالأطعمة المسموحة، ولكن كل هذه الاختلافات كانت بالفرائض العملية، ولم تُلغ الطابع العام للإسلام والمتميز بقربه من اليهودية والمسيحية.

ويرى الباحث أندريه أنّ الإسلام تأثر باليهودية في النواحي المادية، وتأثر بالمسيحية في النواحي الروحانية"، وفي الصفحة (954) الفقرة الأخيرة يقول في الموسوعة: "إن معنى كلمة الإسلام حسب تفسير محمد لها بالقرآن هو؛ إخلاص المؤمن لله، وفي صفحة (40) فقرة (1) يقول: "تحريم الخمر تدريجياً في القرآن مأخوذ من التلمود الذي نصّه "السكران يُمنَع من الصلاة" "السكرانُ يصلي كمن يعبد الأوثان". (من المذكرة) .

الرد:

إنّ الإسلام هو الدين الذي ارتضاه الله للبشرية وأرسل به الرسل جميعاً – إنه دين الأنبياء كلهم ودين محمد صلى الله عليه وسلم على وجه الخصوص، وليس الإسلام منبثقاً عن ديانة سابقة له، وإنما هو امتدادٌ لرسالات السماء التي جاءت بمعنى واحد وأصل واحد هو عبادة الله وحده لا شريك له.

ولا بد لنا في ردنا على مزاعم الموسوعة العبرية من إيراد الحقائق والثوابت التالية:

إن الإسلام في اللغة: يعني الخضوع والاستسلام والانقياد لله رب العالمين، وهو في الاصطلاح: الانقياد التام لشرع الله تعالى بتمام الرضا والقبول.
আরবি ভাষা তাদের ইহুদি ধর্মের জন্য ছিল, এবং কেবল তখনই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর কাছে যা রয়েছে তা ইহুদি ধর্ম থেকে ভিন্ন। ফলে মুহাম্মদ (সা.) ইসলাম ও ইহুদি ধর্মের মধ্যকার পার্থক্যগুলোকে যুক্তিযুক্ত করতে শুরু করেন, যেমন: কিবলা পরিবর্তন করা, আশুরার রোজা বাতিল করে তার স্থলে রমজানের রোজা প্রবর্তন করা, পবিত্র দিনকে জুমুআর দিনে পরিবর্তন করা এবং সেই দিনে কাজ করার অনুমতি প্রদান করা এবং অনুমোদিত খাদ্যের ব্যাপারে শিথিলতা আনা। তবে এই সমস্ত পার্থক্য ছিল কেবল ব্যবহারিক বিধানের ক্ষেত্রে, যা ইসলামের সেই সাধারণ বৈশিষ্ট্যকে বাতিল করেনি যা ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের সাথে তার ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে স্বতন্ত্র।

গবেষক আন্দ্রে মনে করেন যে, ইসলাম পার্থিব দিকগুলোতে ইহুদি ধর্মের দ্বারা প্রভাবিত এবং আধ্যাত্মিক দিকগুলোতে খ্রিস্টধর্মের দ্বারা প্রভাবিত। বিশ্বকোষের ৯৫৪ পৃষ্ঠার শেষ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: "কুরআনে মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী ইসলাম শব্দের অর্থ হলো—আল্লাহর প্রতি মুমিনের একনিষ্ঠতা।" ৪০ পৃষ্ঠার ১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: "কুরআনে পর্যায়ক্রমে মদের নিষেধাজ্ঞা তালমুদ থেকে গৃহীত হয়েছে যার পাঠ্য হলো: 'মাতাল ব্যক্তির সালাত আদায় নিষিদ্ধ' এবং 'মাতাল ব্যক্তির সালাত আদায় করা মূর্তিপূজারীর ইবাদত করার ন্যায়'।" (নোট থেকে)।

খণ্ডন:

নিশ্চয়ই ইসলাম হলো সেই ধর্ম যা আল্লাহ মানবজাতির জন্য মনোনীত করেছেন এবং যা দিয়ে তিনি সকল রাসূল পাঠিয়েছেন—এটি সকল নবীর ধর্ম এবং বিশেষভাবে মুহাম্মদ (সা.)-এর ধর্ম। ইসলাম পূর্ববর্তী কোনো ধর্ম থেকে উদ্ভূত নয়, বরং এটি আসমানি রিসালাতসমূহেরই একটি সম্প্রসারিত রূপ যা একই অর্থ এবং একই মূলনীতি নিয়ে এসেছে, আর তা হলো—একমাত্র অংশীদারহীন আল্লাহর ইবাদত করা।

হিব্রু বিশ্বকোষের দাবির প্রেক্ষিতে আমাদের খণ্ডনে নিম্নোক্ত সত্য ও ধ্রুব বিষয়গুলো উল্লেখ করা আবশ্যক:

আভিধানিক অর্থে ইসলাম হলো: রাব্বুল আলামীন আল্লাহর প্রতি বশ্যতা, আত্মসমর্পণ এবং আনুগত্য। আর পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে ইসলাম হলো: পূর্ণ সন্তুষ্টি ও গ্রহণের মাধ্যমে মহান আল্লাহর শরিয়তের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
وهو دين الله المرضي عنده، أوحى به إلى رسُله الكرام، وبلّغوه إلى الناس: {إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللهِ الإِسْلَامُ} [آل عمران:19] ، {وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [آل عمران:85] ، {وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إَلَاّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ} [البقرة: 132] .

ثم خُصّ لفظ الإسلام بالدين الذي جاء به محمد صلى الله عليه وسلم من ربه، وبالانقياد التام له بلا قيد ولا شرط، وبهذا الانقياد يظهر خضوع الإنسان لخالقه {الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة:3] .

هذا هو مفهوم الإسلام في القرآن الكريم: مفهومٌ عامٌ وآخر خاص.

ثم لما سُئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الإسلام قال: "أن تشهد أن لا إله إلا الله وأنّ محمداً رسول الله، وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلاً" (1) .

إنّ هذا التعريف للإسلام وإنْ كان من رسول الله صلى الله عليه وسلم، إلا أنّه من وحي الله إليه {وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم: 3-4] .

وهو تعريف جامع بيّن فيه أنّ الإسلام يقوم على دعائم ثلاثة أساسية هي:

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم رقم (1) .
এটি আল্লাহর নিকট মনোনীত ধর্ম, যা তিনি তাঁর সম্মানিত রাসূলগণের নিকট ওহী হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁরা তা মানুষের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র ধর্ম ইসলাম} [আল ইমরান: ১৯], {আর কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম চাইলে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [আল ইমরান: ৮৫], {ইব্রাহিম ও ইয়াকুব তাদের সন্তানদের এ ধর্ম সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছিলেন; হে আমার সন্তানেরা, আল্লাহ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে পছন্দ করেছেন, সুতরাং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আল-বাকারা: ১৩২]।

অতঃপর 'ইসলাম' শব্দটি বিশেষভাবে ঐ ধর্মকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে যা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রবের পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন এবং এর প্রতি কোনো শর্ত বা সীমা ছাড়াই পূর্ণ আনুগত্য করাকে বোঝাতে। আর এই আনুগত্যের মাধ্যমেই সৃষ্টিকর্তার নিকট মানুষের বশ্যতা প্রকাশ পায়: {আজ কাফিররা তোমাদের ধর্ম থেকে নিরাশ হয়ে গেছে, সুতরাং তাদের ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে ধর্ম হিসেবে মনোনীত করলাম} [আল-মায়িদা: ৩]।

পবিত্র কুরআনে ইসলামের ধারণা হলো এটি: একটি সাধারণ (عام) ধারণা এবং অন্যটি বিশেষ (خاص) ধারণা।

অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ পালন করবে" (১)।

ইসলামের এই সংজ্ঞাটি যদিও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে এসেছে, তবুও এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি প্রেরিত ওহী: {আর তিনি নিজ খেয়ালখুশি মতো কোনো কথা বলেন না, এটি তো ওহী যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়} [আন-নাজম: ৩-৪]।

এটি একটি সামগ্রিক সংজ্ঞা যাতে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইসলাম তিনটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর সেগুলো হলো:

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন, হাদিস নং (১)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
1- شهادة أن لا إله إلا الله.

2- وشهادة أنّ محمداً رسول الله.

3- والعمل الصالح وفي مقدمته: الصلاة والزكاة والصيام والحج على المستطيع. وإنّما اكتفى بهذه الأعمال ليؤكد أهميتها، وإن كانت حياة المسلم كلها عمل صالح منبثق من طاعة الله، بالإقرار والاعتراف بوحدانيته في الإلوهية والربوبية والحاكمية، والإقرار بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم والنزول على ما جاء به من ربه.

ديانات التوحيد:

إنّ الإسلام والمسيحية واليهودية ديانات سماوية توصف في دوائر المعارف بأنها ديانات التوحيد، وهذا حق وصدق إذا ما نظرنا إلى أصول الديانتين اليهودية والمسيحية قبل أن تمتد إليهما يد التحريف والتبديل، إنّ اتحاد هذه الديانات في العقيدة أدخل في أذهان البعض فكرة انبثاق الإسلام من اليهودية وتأثره بها، أو أنه امتداد لها.

وفي معرض الرّدّ على هذا الزعم يجدر أن نشير إلى أنّ مصدر الكتب السماوية واحد وغايتها واحدة، واستمع إلى قوله تعالى في سورة آل عمران: {الم، اللهُ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ، نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقاً لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنزَلَ التَّوْرَاةَ وَالإِنجِيلَ، مِن قَبْلُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَأَنزَلَ الْفُرْقَانَ} [آل عمران:1-4] .

أجل، جاءت الكتب السماوية لتكون منهج حياة للبشر، تهديهم وتصلح حالهم، ولقد بيّن الله في القرآن الكريم الهدف الذي من أجله تنزلت التوراة: {إِنَّا أَنزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُواْ
১- এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।

২- এবং এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।

৩- এবং নেক আমল, যার অগ্রভাগে রয়েছে: সালাত, জাকাত, সিয়াম এবং সামর্থ্যবানের জন্য হজ। তিনি কেবল এই আমলগুলোর কথা উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন এগুলোর গুরুত্ব নিশ্চিত করার জন্য, যদিও একজন মুসলিমের পুরো জীবনই আল্লাহর আনুগত্য থেকে উৎসারিত নেক আমল; যা তাঁর উলুহিয়াত (الإلوهية), রুবুবিয়াত (الربوبية) ও হাকিমিয়াতে (الحاكمية) একত্ববাদের স্বীকৃতি ও স্বীকারোক্তি এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের স্বীকৃতি ও তাঁর রবের পক্ষ থেকে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

একত্ববাদী ধর্মসমূহ:

নিশ্চয়ই ইসলাম, খ্রিষ্টধর্ম ও ইহুদি ধর্ম আসমানি ধর্ম যা বিশ্বকোষসমূহে একত্ববাদী ধর্ম হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এটি সত্য ও যথার্থ যদি আমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্মের মূল উৎসের দিকে লক্ষ্য করি, যার আগে এতে বিকৃতি (التحريف) ও পরিবর্তনের (التبديل) হাত স্পর্শ করেনি। আকিদার ক্ষেত্রে এই ধর্মগুলোর ঐক্য কারো কারো মনে এই ধারণার জন্ম দিয়েছে যে, ইসলাম ইহুদি ধর্ম থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং এর দ্বারা প্রভাবিত অথবা এটি এরই একটি সম্প্রসারিত রূপ।

এই দাবির প্রতিবাদে এটা উল্লেখ করা সমীচীন যে, আসমানি কিতাবসমূহের উৎস এক এবং এগুলোর লক্ষ্যও এক। সূরা আলে ইমরানে মহান আল্লাহর বাণী শ্রবণ করুন: {আলিফ-লাম-মীম। আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তিনি সত্যসহ আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং তিনি তাওরাত ও ইনজিল নাজিল করেছেন। ইতিপূর্বে মানুষের হিদায়াতের জন্য এবং তিনি ফুরকান নাজিল করেছেন} [আলে ইমরান: ১-৪]।

হ্যাঁ, আসমানি কিতাবসমূহ এসেছে মানবজাতির জীবনবিধান হিসেবে, যেন তাদের পথপ্রদর্শন করে এবং তাদের অবস্থার সংশোধন করে। মহান আল্লাহ আল-কুরআনে সেই লক্ষ্যের বর্ণনা দিয়েছেন যার জন্য তাওরাত অবতীর্ণ হয়েছিল: {নিশ্চয়ই আমি তাওরাত নাজিল করেছি, এতে ছিল হিদায়াত ও আলো; এর মাধ্যমে সেই নবিগণ ফয়সালা দিতেন যারা আত্মসমর্পণ (أسلموا) করেছিলেন...
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
لِلَّذِينَ هَادُواْ وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُواْ مِن كِتَابِ اللهِ وَكَانُواْ عَلَيْهِ شُهَدَاء} [المائدة:44] .

ولا شك أنّ الديانات السماوية والرسل جميعاً متفقون في دعواتهم، فلقد جاء الدين واحداً، فالإسلام شعارٌ عام كان يدور على ألْسنةِ الأنبياء وأتباعهم منذ أقدم عصور التاريخ، من لدن نوح عليه السلام، إذ قال: {وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [يونس:72] ، وإبراهيم عليه السلام: {إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ} [البقرة:131] ، وحتى موسى عليه السلام إذا قال لقومه: {يَا قَوْمِ إِن كُنتُمْ آمَنتُم بِاللهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُواْ إِن كُنتُم مُّسْلِمِينَ} [يونس:84] .
...যারা ইহুদি হয়েছে তাদের জন্য এবং রব্বানীগণ ও আলিমগণের জন্য; যেহেতু তাদেরকে আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল এবং তাঁরা এর ওপর সাক্ষী ছিলেন} [আল-মায়িদাহ: ৪৪] .

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আসমানি ধর্মসমূহ এবং সকল রাসূল তাঁদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে একমত ছিলেন। মূলত দ্বীন অভিন্ন রূপেই এসেছে। ইসলাম হলো একটি সর্বজনীন আদর্শ যা ইতিহাসের প্রাচীনতম কাল থেকে নবীগণ ও তাঁদের অনুসারীদের মুখে উচ্চারিত হয়ে আসছে—নূহ (আলাইহিস সালাম) থেকে শুরু করে, যখন তিনি বলেছিলেন: {এবং আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হই} [ইউনুস: ৭২]; এবং ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম): {যখন তাঁর প্রতিপালক তাঁকে বললেন: তুমি আত্মসমর্পণ করো, তিনি বললেন: আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম} [আল-বাকারাহ: ১৩১]; এমনকি মুসা (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত, যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেছিলেন: {হে আমার সম্প্রদায়, যদি তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনে থাকো, তবে তাঁরই ওপর ভরসা করো যদি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হয়ে থাকো} [ইউনুস: ৮৪] .
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌جوهر الرسالات السماوية:

إنّ لب دعوة الرسل، وجوهر رسالاتهم إنما هو الدعوة إلى عبادة الله وحده لا شريك له، ونبْذ ما يُعبد من دونه، وقد جاءت هذه القضية في القرآن في مواطن شتى من سيرة الرسل الكرام: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء:25] ، {شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} [الشورى:13] .
আসমানী রিসালাতসমূহের মূল নির্যাস:

রাসূলগণের দাওয়াতের মূলকথা এবং তাঁদের রিসালাতের সারমর্ম হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করা, যাঁর কোনো শরিক নেই এবং তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছুর উপাসনা করা হয় তা বর্জন করা। এই বিষয়টি পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে সম্মানিত রাসূলগণের সীরাতের আলোচনায় এসেছে: “আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি, যার প্রতি এই ওহী অবতীর্ণ করিনি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং আপনারা কেবল আমারই ইবাদত করুন।” [আল-আম্বিয়া: ২৫], “তিনি তোমাদের জন্য সেই দ্বীন নির্ধারিত করেছেন, যার আদেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি আপনার প্রতি ওহী করেছি এবং যার আদেশ আমি ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে মতভেদ করো না।” [আশ-শূরা: ১৩]।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌بعض ما اتفقت عليه الرسالات:

وباستعراض آيات الكتاب نجد أموراً اتفقت عليها الرسالات، مما يوهم بأنّ المتأخر من الرسل اقتبس من المتقدم، وليس الأمر كذلك، غاية ما في الأمر أنّ مصدر هذه الرسالات واحد وبينها قواسم مشتركة، ولكن كلاً منها يحمل استقلالية وتميّزاً.
‌ঐশী বাণীসমূহের ঐকমত্যের কিছু বিষয়:

কিতাবের আয়াতসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা এমন কিছু বিষয় খুঁজে পাই যাতে সকল ঐশী বাণী ঐকমত্য পোষণ করেছে। এটি এমন এক বিভ্রম সৃষ্টি করতে পারে যে, পরবর্তী রসূলগণ পূর্ববর্তী রসূলগণের থেকে (বিষয়বস্তু) গ্রহণ করেছেন; অথচ বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। মূল কথা হলো, এই সকল বাণীর উৎস এক এবং এদের মাঝে অভিন্ন ভিত্তি রয়েছে, তবে এদের প্রতিটি নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومن القواسم المشتركة التي جاءت بها الديانات ودعت إليها واعتمدتها: الصوم والصلاة والزكاة ومواضع النسك: {وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِمْ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَإِقَامَ الصَّلَاةِ وَإِيتَاء الزَّكَاةِ} [الأنبياء:73] ، وقال تعالى لموسى عليه السلام: {فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي} [طه:14] ، وقال عيسى عليه السلام: {وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا} [مريم:31] ، وقال تعالى مخاطباً المؤمنين: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ} [البقرة:183] وقال تعالى: {وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ} [الحج:34] .

إنّ هذه القواسم المشتركة بين ديانات السماء تختلف في أدائها من شريعة إلى شريعة، وقد يُحِلُّ الله أمراً في شريعة لحكمة، ويحرمه في شريعة أخرى لحكمة.

وعلى الرغم من اشتراك الإسلام مع غيره في هذه العبادات إلا أنّه جاء بتشريع متفرّد مستقل، إنّ هذا التشابه في بعض العبادات والشرائع، لا يعني بالضرورة أنّ المتأخر أخذ من المتقدم فزاد عليه أو أنقص منه، وإنّما مردّ ذلك إلى {إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللهِ الإِسْلَامُ} [آل عمران:19] ، وديانات السماء هي كالتوائم المتشابهة، والأنبياء أبناء علات أو إخوة من عَلات، أمهاتهم شتى، ودينهم واحد كما قال النبي صلى الله عليه وسلم (1) . إنّ دعوى تأثّر الإسلام باليهودية في

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم 4/1837 رقم (143) قال العلماء: أولاد العلات: الأخوة لأب من أمهات شتى، أصل إيمانهم واحد، وشرائعهم مختلفة، فإنهم متفقون في أصول التوحيد، وأما فروع الشرائع فوقع فيها الاختلاف (ابن الأثير، النهاية في غريب الحديث 3/291) .
ধর্মসমূহ যে সকল সাধারণ ও অভিন্ন বিষয় নিয়ে এসেছে, সেগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং সেগুলোকে গ্রহণ করেছে তার মধ্যে রয়েছে: রোজা, নামাজ, জাকাত এবং ইবাদতের নিয়মাবলি: {আর আমি তাদেরকে সৎকাজ সম্পাদন, নামাজ কায়েম ও জাকাত প্রদানের ওহি পাঠিয়েছিলাম} [আল-আম্বিয়া: ৭৩], এবং আল্লাহ তাআলা মুসা আলাইহিস সালামকে উদ্দেশ্য করে বলেন: {সুতরাং তুমি আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে নামাজ কায়েম করো} [ত্বহা: ১৪], আর ঈসা আলাইহিস সালাম বলেন: {আর তিনি আমাকে নামাজ ও জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন আমি জীবিত থাকি} [মারইয়াম: ৩১], এবং আল্লাহ তাআলা মুমিনদের সম্বোধন করে বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমনটি তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর করা হয়েছিল} [আল-বাকারাহ: ১৮৩] এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য ইবাদতের নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছি, যাতে তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে} [আল-হজ: ৩৪]।

আসমানি ধর্মসমূহের মধ্যকার এই সাধারণ বিষয়গুলো পালনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে এক শরিয়ত থেকে অন্য শরিয়তে ভিন্নতর হয়। আল্লাহ তাআলা কোনো এক হিকমতের কারণে এক শরিয়তে কোনো বিষয়কে হালাল করতে পারেন, আবার অন্য শরিয়তে হিকমতের প্রেক্ষিতেই তা হারাম করতে পারেন।

এই সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে ইসলামের সাথে অন্যান্যদের সামঞ্জস্য থাকা সত্ত্বেও ইসলাম একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন বিধান নিয়ে এসেছে। কিছু ইবাদত ও শরিয়তের এই সাদৃশ্য মানে এই নয় যে, পরবর্তীটি পূর্ববর্তীটি থেকে গ্রহণ করেছে এবং তাতে বৃদ্ধি বা হ্রাস করেছে। বরং এর মূল কারণ হলো: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম} [আলে ইমরান: ১৯]। আসমানি ধর্মসমূহ সদৃশ যমজদের মতো; আর নবীগণ হলেন বৈমাত্রেয় ভাই, যাদের মা ভিন্ন কিন্তু ধর্ম এক, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন (১)। ইসলামের ওপর ইহুদি ধর্মের প্রভাব থাকার যে দাবি...

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম ৪/১৮৩৭, নম্বর (১৪৩)। আলেমগণ বলেছেন: 'আওলাদুল আল্লাত' (বৈমাত্রেয় সন্তান) হলো সেই সকল ভাই যাদের পিতা এক কিন্তু মাতা ভিন্ন। তাদের ঈমানের মূল ভিত্তি এক, তবে শরিয়ত ভিন্ন ভিন্ন। কারণ তারা তাওহিদের মূলনীতিসমূহে একমত, তবে শরিয়তের শাখা-প্রশাখায় ভিন্নতা সংঘটিত হয়েছে (ইবনুল আসির, আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ৩/২৯১)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
النواحي المادية، وتأثره بالمسيحية الشرقية في النواحي الروحانية، هذه الدعوى التي ادعاها الباحث "أندريه" إنما ينطلق فيها من كون اليهودية يغلب عليها الطابع المادي، ومن كون المسيحية يغلب عليها الطابع الروحاني، في الوقت الذي يمتاز الإسلام عن الديانتين بإحاطة مبادئه بالجانبين معاً؛ إذ فيه رصيد الروح من عبادات، ورصيد المادة من معاملات، بل إنّ كل شأن من شؤون الإسلام تجده مزيجاً من الأمرين معاً.

وما دمنا وضحنا استقلالية رسالة الإسلام، وكونها تصدر مع رسالات السماء من مشكاة واحدة، إذن فإنّ هذه الدعوى من الباحث أندريه تضمحل وتتلاشى.

لقد جاءت رسالة الإسلام خاتمة للرسالات السماوية، لذا أوجب الله على جميع من بلغته هذه الدعوة من جميع الأمم الانقياد إليها، ولم يقبل من أحد منهم ديناً سواها.

نعم، ختم الله الشرائع والملل بالشريعة العامة، الكاملة، المحتوية على جميع محاسن الشرائع المتضمنة لجميع مصالح العباد في المعاش والمعاد، فأكمل الله بها دينه الذي ارتضاه لنفسه، وختم بها العلم الذي أنزله من السماء على رسله، وزادت عليه أموراً عظيمة وأشياء كثيرة من العلوم النافعة والأعمال الصالحة التي خصّ بها هذه الأمة.

وفضلهم بها على منْ قبلهم من الأمم (1) .

--------------------------------------------

(1) ابن رجب، جميع الرسل كان دينهم الإسلام ص20.
পার্থিব দিকসমূহ এবং আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে এটি পূর্বদেশীয় খ্রিস্টধর্ম দ্বারা প্রভাবিত—গবেষক "আন্দ্রে" কর্তৃক উত্থাপিত এই দাবিটি মূলত এই ধারণা থেকে উদ্ভূত যে, ইহুদি ধর্মে পার্থিব বৈশিষ্ট্য এবং খ্রিস্টধর্মে আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্য প্রবল। অথচ ইসলাম এই উভয় ধর্মের বিপরীতে এর মূলনীতিতে উভয় দিকের সমন্বয় ঘটিয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। কেননা এতে ইবাদতসমূহের মাধ্যমে আত্মার সঞ্চয় এবং লেনদেনসমূহের মাধ্যমে পার্থিব পাথেয় বিদ্যমান; বরং ইসলামের প্রতিটি বিষয়েই আপনি এই উভয় দিকের সংমিশ্রণ খুঁজে পাবেন।

যেহেতু আমরা ইসলামের বার্তার স্বতন্ত্রতা এবং সকল আসমানি বার্তার ন্যায় এটিও একই উৎস থেকে নিঃসৃত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছি, তাই গবেষক আন্দ্রের এই দাবি অন্তঃসারশূন্য হয়ে বিলীন হয়ে যায়।

ইসলামের বার্তা আসমানি বার্তাগুলোর পরিসমাপ্তি হিসেবে এসেছে, তাই মহান আল্লাহ এই দাওয়াত প্রাপ্ত সকল উম্মতের জন্য এর আনুগত্য করা আবশ্যক করেছেন এবং তিনি কারো নিকট থেকেই এই ধর্ম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করবেন না।

হ্যাঁ, মহান আল্লাহ একটি সার্বজনীন ও পূর্ণাঙ্গ শরিয়তের মাধ্যমে সকল শরিয়ত ও মতাদর্শের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন, যা পূর্ববর্তী সকল শরিয়তের সৌন্দর্যকে ধারণ করে এবং যা ইহকাল ও পরকালে বান্দাদের সকল কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাঁর মনোনীত দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং আসমান থেকে তাঁর রাসুলদের ওপর অবতীর্ণ জ্ঞানের সমাপ্তি টেনেছেন। এটি পূর্ববর্তীগুলোর ওপর অনেক মহান বিষয় এবং বহুবিধ উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল বৃদ্ধি করেছে, যা দ্বারা তিনি এই উম্মতকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন।

আর এর মাধ্যমে তিনি তাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে রজব, জামি-উর রুসুল কানা দিনুহুম আল-ইসলাম, পৃষ্ঠা ২০।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌وحي الله إلى رسله

‌‌تشريع للحاضرة والبادية

…

وحي الله إلى رسله:

لقد خص الله رسله جميعاً بظاهرة الوحي؛ إذ بواسطته يتلقوْن عن ربهم كل ما يأمرهم بتبليغه للناس، وللوحي مقامات وصور تضمنتها الآية الكريمة في قوله تعالى: {وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِن وَرَاء حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاء إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ} [الشورى:51]

فيُلقى الوحيُ في قلب الرسول صلى الله عليه وسلم ما يُؤْمر بتبليغه، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنّ روح القدس نفث في روعي أنّ نفساً لن تموت حتى تستكمل رزقها وأجلها، فاتقوا الله وأجملوا في الطلب" (1) .

ويكون الوحي للرسول بالمنام كما وقع لإبراهيم حين رأى في المنام أنّه يذبح ولده إسماعيل، فبادر إلى تنفيذ الأمر بعد أن عدّ الرؤيا أمراً إلهياً (2) .

وفيما أخرجه البخاري من حديث عائشة قالت: "أول ما بُدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم، وكان لا يرَى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح" (3) .

ويكون الوحي إلى النبي صلى الله عليه وسلم بواسطة الملك كما كان ذلك في مجيئ جبريل

--------------------------------------------

(1) البغوي شرح السنة 14/304، وجاء في المشكاة (3/1458) عزوه للبغوي بهذا السياق وللبيهقي في الشعب، لكنّه لم يذكر "إنّ روح القدس … " وكذا ابن ماجه في سننه برقم 2173 ك: التجارات بدونه، وصححه الألباني في صحيح سنن ابن ماجه (2/4) ، وابن حبان في صحيحه كما في الموارد برقم 1084، 1085، وانظر الصحيحة للشيخ الألباني (1/6/209) .

(2) تراجع سورة الصافات: 102-103.

(3) البخاري في صحيحه، ك: بدء الوحي، وانظر (الأرقام) 4955، 4956، 6982.
‌রাসূলদের প্রতি আল্লাহর ওহী

‌শহর ও গ্রামবাসীর জন্য বিধান প্রদান

…

রাসূলদের প্রতি আল্লাহর ওহী:

আল্লাহ তাঁর সকল রাসূলকে ওহীর বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন; কারণ এর মাধ্যমেই তাঁরা তাঁদের রবের পক্ষ থেকে সেই সব বার্তা লাভ করেন যা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওহীর বিভিন্ন স্তর ও রূপ রয়েছে যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে: {আর কোনো মানুষের জন্য এমন হওয়ার অবকাশ নেই যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম ছাড়া অথবা পর্দার অন্তরাল হতে কিংবা এমনভাবে যে, তিনি কোনো দূত প্রেরণ করবেন এবং তিনি তাঁর অনুমতিক্রমে যা ইচ্ছা ওহী করবেন; নিশ্চয়ই তিনি সমুচ্চ, প্রজ্ঞাময়।} [সূরা আশ-শূরা: ৫১]

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তরে সেই ওহী ঢেলে দেওয়া হয় যা প্রচার করার জন্য তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই রুহুল কুদুস (জিবরাঈল) আমার হৃদয়ে ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণই তার নির্ধারিত রিজিক ও আয়ু পূর্ণ না করে মৃত্যুবরণ করবে না; অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং উপার্জনের ক্ষেত্রে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো।" (১) ।

রাসূলের প্রতি ওহী স্বপ্নের মাধ্যমেও হয়ে থাকে, যেমনটি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল যখন তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন যে তিনি তাঁর পুত্র ইসমাঈলকে জবেহ করছেন। স্বপ্নটিকে ঐশী আদেশ গণ্য করে তিনি তা বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেন (২) ।

বুখারি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে হাদিস সংকলন করেছেন সেখানে তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওহীর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা ভোরের আলোর মতো প্রকাশিত হতো।" (৩) ।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফেরেশতার মাধ্যমেও ওহী আসত, যেমনটি জিবরাঈলের আগমনের ক্ষেত্রে হতো...

--------------------------------------------

(১) বাগভী, শারহুস সুন্নাহ ১৪/৩০৪; মিশকাতে (৩/১৪৫৮) এই পাঠের সাথে এটি বাগভীর দিকে এবং বায়হাকীর শুআবুল ঈমানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু সেখানে "নিশ্চয়ই রুহুল কুদুস ..." অংশটি উল্লেখ নেই। অনুরূপভাবে ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে ২১৭৩ নং হাদিসে (কিতাবুত তিজারাত) এটি ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ (২/৪)-এ; এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ-তে যা মাওয়ারিদে ১০৮৪ ও ১০৮৫ নং হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আরও দেখুন শেখ আলবানীর আস-সহিহাহ (১/৬/২০৯)।

(২) সূরা আস-সাফফাত: ১০২-১০৩ দ্রষ্টব্য।

(৩) বুখারি তাঁর সহিহ-তে, কিতাব: বাদউল ওহী; এবং দেখুন (নম্বরসমূহ) ৪৯৫৫, ৪৯৫৬, ৬৯৮২।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
عليه السلام، ولم يقع كلام مباشر بين الرسل عليهم الصلاة والسلام وبين الله: {وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِن وَرَاء حِجَابٍ} [الشورى:51] .

وقد وقع كلام الله لبعض رسله، ولكن من وراء حجاب، فكلم موسى عليه السلام فقال: {وَلَمَّا جَاء مُوسَى لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ} [الأعراف:143] وقال: {فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِي يَا مُوسَى، إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ إِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى، وَأَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا يُوحَى، إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي} [طه:11-14] .

ورسولنا محمد صلى الله عليه وسلم هو بشر يُوحَى إليه كما أَوْحى الله إلى رسله الكرام: {قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ} [الكهف:110] .

{وَإِنَّهُ لَتَنزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ، نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ، عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ، بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُّبِينٍ} [الشعراء:192-195] .

والنبي الموحى إليه يجد اليقين بأنه من عند الله، سواء كان هذا الوحي بواسطة أم بغير واسطة بصوت يسمعه أو بغير صوت.

وباب النبوة ليس مفتوحاً لكل أحد عظم إشراقُه، أو سمت نفسُه، كما أنّ الوحي في مفهومه الديني الصحيح ظاهرة روحية خصّ الله بها من اصطفاه للنبوة.

ومن المستشرقين من يتحدث عن الوحي والنبوة كما يتحدث علماء النفس عن أبطال التاريخ وعظماء الرجال وقادة الثورات.. (1) .

--------------------------------------------

(1) مناهج المستشرقين 1/27.
তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক। রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) এবং আল্লাহর মাঝে সরাসরি কোনো কথোপকথন সংঘটিত হয়নি: "কোনো মানুষের জন্য এমন হওয়ার নয় যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহী (وحيا) ব্যতীত অথবা পর্দার অন্তরাল হতে।" [আশ-শুরা: ৫১] .

আল্লাহর কালাম বা বাণী তাঁর কোনো কোনো রাসূলের ক্ষেত্রে সঙ্ঘটিত হয়েছে, তবে তা পর্দার অন্তরাল হতে। তিনি মূসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেছেন এবং ইরশাদ করেছেন: "আর মূসা যখন আমাদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলো এবং তার রব তার সাথে কথা বললেন।" [আল-আরাফ: ১৪৩] এবং তিনি বলেছেন: "অতঃপর যখন তিনি সেখানে পৌঁছালেন, তখন তাকে সম্বোধন করে বলা হলো, হে মূসা! নিশ্চয়ই আমিই তোমার রব, অতএব তোমার পাদুকা জোড়া খুলে ফেল, নিশ্চয়ই তুমি পবিত্র ‘তুয়া’ উপত্যকায় রয়েছ। আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা ওহী (يوحى) পাঠানো হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শোনো। নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, অতএব আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো।" [ত্বহা: ১১-১৪] .

আর আমাদের রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মানুষ, যাঁর নিকট ওহী (يوحى) পাঠানো হতো যেমনটি আল্লাহ তাঁর সম্মানিত রাসূলদের নিকট ওহী (أَوْحى) পাঠিয়েছেন: "বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার নিকট ওহী (يوحى) পাঠানো হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ।" [আল-কাহফ: ১১০] .

"আর নিশ্চয়ই এটি (কুরআন) জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল) তা নিয়ে অবতরণ করেছেন, আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।" [আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৫] .

আর যে নবীকে ওহী (الموحى إليه) প্রদান করা হয়েছে, তিনি এই বিষয়ে পূর্ণ দৃঢ়তা ও নিশ্চয়তা লাভ করেন যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে; চাই এই ওহী (الوحي) কোনো মাধ্যম মারফত হোক অথবা মাধ্যম ব্যতীত কোনো শব্দের মাধ্যমে যা তিনি শোনেন কিংবা শব্দ ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে।

আর নবুওয়াতের (النبوة) দ্বার এমন প্রত্যেকের জন্য উন্মুক্ত নয় যার আধ্যাত্মিক দীপ্তি বৃদ্ধি পেয়েছে বা যার আত্মা উচ্চমার্গে আসীন হয়েছে। অধিকন্তু, ওহী (الوحي) তার সঠিক ধর্মীয় ধারণায় হলো একটি আধ্যাত্মিক বিষয়, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাকেই বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেন যাকে তিনি নবুওয়াতের (النبوة) জন্য মনোনীত করেছেন।

প্রাচ্যবিদদের (المستشرقين) মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা ওহী (الوحي) এবং নবুওয়াত (النبوة) সম্পর্কে এমনভাবে আলোচনা করেন যেমন মনোবিজ্ঞানীরা ইতিহাসের বীর, মহান ব্যক্তি এবং বিপ্লবের নেতাদের নিয়ে আলোচনা করেন। (১) .

--------------------------------------------

(১) মানাহিজুল মুস্তাশরিকিন ১/২৭।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২০)
والحق أنّ هؤلاء المستشرقين لا يفهمون حقيقة الوحي والنبوة، لذلك ضلوا ضلالاً بعيداً.

تشريع للحاضرة والبادية:

وفي (ج4) صفحة (955) الفقرة الثانية قال: "لكسبِ التأييد الشعبي فإن محمداً صلى الله عليه وسلم لكونه تاجراً فقد انعكس ذلك على القوانين التي وضعها حيث وجّهها إلى سكان المدن لا البادية".

ونقول: إنّ التشريع الإسلامي ليس من محمد صلى الله عليه وسلم بل من الله تعالى على لسان نبيه محمد، وليس لمحمد في هذا التشريع إلا التبليغ: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ} [المائدة:67] . وهذا الدين لا يُشَرِّع لطائفة دون طائفة، ولا للأغنياء فقط بل للناس جميعا بمختلف طبقاتهم وأجناسهم: الفقير والغني، الكبير والصغير، القوي والضعيف، العربي والأعجمي، الأبيض والأسود، الشرقي والغربي، على حد سواء {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِّلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا} [سبأ:28] .

لقد جاء الإسلام بتشريع ينظّم حياة الإنسان بدءاً بالطهارة وكيفية الغسل، وانتهاء بتشريع العلاقات الدولية، وإنّنا لا ننكر أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان قد اشتغل بالتجارة في شبابه وجرّبت خديجة مهارته وأمانته فيها (1) ، لكن هذا لا يعني أنّه من أجل ذلك أرسى قوانين تنظّم التجارة وتُوجَّه لسكان المدن وتُغْفِل ساكني البادية.

--------------------------------------------

(1) البوطي، فقه السيرة، (69-70) .
আর সত্য এই যে, এই প্রাচ্যবিদগণ ওহী ও নবুওয়তের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারেননি, যার ফলে তারা চরম বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছেন।

নগর ও মরুচারী উভয়ের জন্য আইনবিধান:

এবং (৪র্থ খণ্ড) ৯৫৫ পৃষ্ঠার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে তিনি বলেছেন: "জনসমর্থন লাভের উদ্দেশ্যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে তা তাঁর প্রণীত আইনসমূহের ওপর প্রতিফলিত হয়েছে, ফলে তিনি এগুলোকে মরুবাসীদের পরিবর্তে প্রধানত নগরবাসীদের প্রতি নিবদ্ধ করেছেন।"

আমরা এর উত্তরে বলি: ইসলামী শরিয়ত বা আইনবিধান মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে নয়, বরং তা তাঁর পবিত্র মুখনিঃসৃত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বিধান। আর এই বিধান প্রচার করা ছাড়া মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আর কোনো কাজ নেই: {হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা প্রচার করুন} [মায়িদা: ৬৭]। আর এই দ্বীন কেবল কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য বিধান দান করে না, আর কেবল ধনীদের জন্যও নয়; বরং সকল স্তরের ও সকল বর্ণের মানুষের জন্য: ধনী-দরিদ্র, আবালবৃদ্ধবণিতা, শক্তিশালী-দুর্বল, আরব-অনারব, সাদা-কালো এবং প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সকল মানুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। {আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যই সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি} [সাবা: ২৮]।

ইসলাম এমন এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান নিয়ে এসেছে যা পবিত্রতা ও গোসলের নিয়মাবলী থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতিমালা পর্যন্ত মানুষের জীবনের প্রতিটি দিককে সুশৃঙ্খল করে। আমরা এটি অস্বীকার করি না যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর যৌবনে ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত ছিলেন এবং খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাতে তাঁর দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার প্রমাণ পেয়েছিলেন (১); তবে এর অর্থ এই নয় যে, তিনি কেবল সেই কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত এমন কোনো নিয়ম তৈরি করেছিলেন যা কেবল নগরবাসীদের জন্য নিবদ্ধ এবং মরুবাসীদের জন্য অবহেলিত।

--------------------------------------------

(১) আল-বূতী, ফিকহুস সিরাহ, (৬৯-৭০)।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২১)
كلا، إنّ الإسلام دين حضارة وتمدّن، جاء بتشريعات متكاملة يفيد منها الحضري في كل زمان، ولم يترك الأعرابيَ غُفلاً من التشريع والتقنين بل سنّ له ما يضمن نجاة أمواله وتجارته، فنهى أن يتلقاه الحضري قبل أن يصل بسلعته إلى سوق الحاضرة، فيغرَّر به بابتياع ما لديه بثمن بخس، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تَلقّوا الركبان، ولا يبع حاضر لباد" (1) .

ثم أيّ حياة معقّدة هي حياة البادية حتى يشرّع لها الإسلام ما يحل مشكلاتها وتعقيداتها.

إنّ الإسلام شرّع للبيئات والأزمان جميعاً، لكن التشريع يظهر أثره أكثر حيث يوجد الاحتكاك، والأخذ والعطاء، والبيع والشراء، والمعاملات والمبادلات بمختلف أنواعها، بينما يقلُّ ذلك في البادية.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري 3/92، 94، ومسلم، كتاب البيوع 11، 19.
না, ইসলাম হলো সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধর্ম; এটি এমন এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান নিয়ে এসেছে যা থেকে নগরবাসী সর্বদাই উপকৃত হয়। এটি মরুবাসীদেরকেও বিধিবিধান ও আইনকানুন থেকে বিমুক্ত রাখেনি, বরং তাদের জন্য এমন বিধান প্রণয়ন করেছে যা তাদের সম্পদ ও ব্যবসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তাই শহরবাসী যেন মরুবাসীর পণ্য নিয়ে শহরের বাজারে পৌঁছানোর পূর্বেই তার সাথে আগেভাগে সাক্ষাৎ না করে—সে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে, যাতে তাকে প্রতারিত করে তার পণ্য সল্প মূল্যে কিনে নেওয়া না হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা (পণ্যবাহী) কাফেলার সাথে আগেভাগে সাক্ষাৎ করো না এবং কোনো শহরবাসী যেন কোনো মরুবাসীর পণ্য বিক্রি না করে" (১)।

অধিকন্তু, মরুজীবন এমন কী জটিল জীবন যে, তার সমস্যা ও জটিলতা নিরসনের জন্য ইসলামকে বিশেষ বিধান প্রণয়ন করতে হবে?

প্রকৃতপক্ষে ইসলাম সকল পরিবেশ ও সকল সময়ের জন্যই বিধান প্রদান করেছে, তবে যেখানে পারস্পরিক মেলামেশা, লেনদেন, ক্রয়-বিক্রয় এবং বিভিন্ন প্রকারের কারবার ও বিনিময় বিদ্যমান, সেখানেই শরয়ি বিধানের প্রভাব অধিক পরিস্ফুট হয়; অন্যদিকে মরুভূমিতে এসবের পরিমাণ তুলনামূলক কম।

--------------------------------------------

(১) বুখারি ৩/৯২, ৯৪ এবং মুসলিম, কিতাবুল বুয়ু' ১১, ১৯।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌أركان الإسلام

‌‌الصلاة

…

أركان الإسلام

وفي أول صفحة (17) من المذكرة يقول الكاتب: "إنّ أركان الإسلام الخمسة لم تُذكر مجموعة في القرآن".

"ومفهوم أركان الإسلام المعروف اليوم تطور فقط بعد وفاة محمد "عليه السلام" (من المذكرة) .

ونقول: إنّ أركان الإسلام الخمسة هي الأسس التي عليها بناء الإسلام كله.

وقد أوضحنا سبب الاقتصار على هذه الأركان مع أنّ مفهومَ الإسلام أوسعُ ومنهجه في تنظيم الحياة البشرية أعم وأشمل.

وقد وردت أركان الإسلام كلها في القرآن الكريم مفرقة في مواضع كثيرة فلفظ "الصلاة" ذكر في القرآن سبعاً وستين مرة، ولفظ "الزكاة" ورد في اثنين وثلاثين موضعاً، و "الصيام" ذكر سبع مرات، ولفظ "الحج" تكرر عشر مرات.

وأما كلمة التوحيد والشهادتين فما أكثر ما وردت وتكررت في القرآن، قال الله تعالى مادحاً صحابة رسوله صلى الله عليه وسلم: {وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى وَكَانُوا أَحَقَّ بِهَا وَأَهْلَهَا} [الفتح: 26] ، وكلمة التقوى هي الشهادتان، وذُكرت هذه الأركان مجموعة في حديث ابن عمر رضي الله عنهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: "بُني الإسلام على خمس، شهادة أن لا إله إلا الله، وأنّ محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج البيت لمن استطاع إليه سبيلاً" (1) .

--------------------------------------------

(1) البخاري باب -2- حديث رقم -8-.
‌‌ইসলামের রোকনসমূহ

‌‌সালাত

…

ইসলামের রোকনসমূহ

পুস্তিকার প্রথম পৃষ্ঠায় (১৭) লেখক বলেন: "ইসলামের পাঁচটি রোকন কুরআনে একত্রে উল্লেখ করা হয়নি।"

"বর্তমানে প্রচলিত ইসলামের রোকনসমূহের ধারণাটি কেবল মুহাম্মদ 'আলাইহিস সালাম'-এর ইন্তেকালের পরে বিকশিত হয়েছে" (পুস্তিকা থেকে)।

আমরা বলি: ইসলামের পাঁচটি রোকন হলো সেই ভিত্তি যার ওপর সমগ্র ইসলামের সৌধ নির্মিত।

আমরা এই রোকনগুলোর মধ্যেই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেছি, যদিও ইসলামের ধারণা অনেক ব্যাপক এবং মানবজীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে এর কর্মপদ্ধতি অধিকতর বিস্তৃত ও সর্বজনীন।

পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে ইসলামের রোকনসমূহ পৃথক পৃথকভাবে বর্ণিত হয়েছে। "সালাত" শব্দটি কুরআনে সাতষট্টি বার উল্লিখিত হয়েছে, "যাকাত" শব্দটি বত্রিশটি স্থানে এসেছে, "সিয়াম" শব্দটি সাতবার উল্লিখিত হয়েছে এবং "হজ" শব্দটি দশবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে।

আর তাওহীদের বাণী ও শাহাদাতায়নের কথা কুরআনে অগণিতবার বর্ণিত ও পুনরাবৃত্তি হয়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের প্রশংসা করে ইরশাদ করেছেন: {আর তিনি তাদের জন্য তাকওয়ার বাণী অপরিহার্য করে দিলেন, এবং তারাই ছিল এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত} [আল-ফাতহ: ২৬]। আর তাকওয়ার বাণী হলো শাহাদাতায়ন (দুইটি সাক্ষ্য)। এই রোকনগুলো একত্রে ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে: "ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য বায়তুল্লাহর হজ পালন করা।" (১)।

--------------------------------------------

(১) বুখারী, অধ্যায় -২-, হাদিস নম্বর -৮-।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
كذلك ثبت عن عمر رضي الله عنه قال:

"بينما نحن جلوس عند رسول الله إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب شديد سواد الشعر، لا يُرى عليه أثر السفر ولا يعرفه منا أحد.. (1) فذكر القصة وفيها أنّ جبريل سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم موجِّها ومعلِّماً صحابته عن أركان الإسلام، وأركان الإيمان، والإحسان، وعن بعض أمور الدين.

ولقد سأله عن الإسلام فأجابه: "أن تشهد أن لا إله إلا الله وأنّ محمداً رسول الله، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتصوم رمضان، وتحج البيت".

ولا فرق بين أن تأتي أركانُ الإسلام في القرآن أو أن تأتي في السنة النبوية التي هي وحيٌ من الله.

إنّ اجتماع هذه الأركان في حديث عمر رضي الله عنه دفع كاتب الموسوعة إلى الزعم بأن مفهوم أركان الإسلام برز وترسّخ بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ اعتماداً منه على أن الأحاديث المنسوبة إلى المصطفى صلى الله عليه وسلم إنما هي من وضع الصحابة رضوان الله عليهم، والحق أنّ دعوى تطور مفهوم أركان الإسلام وترسيخه بعد النبي صلى الله عليه وسلم لا تستند إلى دليل ولا برهان أو سنة أو استحسان، وإنّما هي تقليد لآراء المستشرقين "جولد تسيهر" الذي قال في كتابه [العقيدة والشريعة في الإسلام] : "إنّ القسم الأكبر من الحديث ليس إلا نتيجة للتطور الديني والسياسي والاجتماعي للإسلام في القرنين الأول والثاني" (2) .

--------------------------------------------

(1) مسلم، الإيمان رقم 1.

(2) انظر: السباعي، السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي ص195.
অনুরূপভাবে উমর (রা.) হতে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন:

"একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় আমাদের সামনে ধবধবে সাদা পোশাক ও কুচকুচে কালো চুলবিশিষ্ট এক ব্যক্তির উদয় হলো। তাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁকে চিনত না... (১) এরপর তিনি পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন যাতে উল্লেখ রয়েছে যে, জিবরাঈল (আ.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁর সাহাবীদের দিকনির্দেশনা প্রদান ও শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইসলামের রুকনসমূহ, ঈমানের রুকনসমূহ, ইহসান এবং দ্বীনের আরও কিছু বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

তিনি তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: "তা হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং বায়তুল্লাহর হজ করা।"

ইসলামের রুকনসমূহ কুরআনে বর্ণিত হওয়া আর সুন্নাহয় বর্ণিত হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, যা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহি (وحي)।

উমর (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে এই রুকনগুলোর একত্রে সমাবেশ বিশ্বকোষের লেখককে এই দাবি করতে প্ররোচিত করেছে যে, ইসলামের রুকনসমূহের ধারণা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পরে আবির্ভূত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এই ধারণার ওপর নির্ভর করেছেন যে, মুস্তফা (সা.)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হাদিসগুলো মূলত সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর তৈরি করা (وضع); অথচ সত্য এই যে, নবী (সা.)-এর পরে ইসলামের রুকনসমূহের ধারণার বিবর্তন ও সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার দাবিটি কোনো দলিল, প্রমাণ, সুন্নাহ কিংবা ইস্তিহসান (استحسان)-এর ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং এটি প্রাচ্যবিদ 'গোল্ডজিহার'-এর মতামতের অনুকরণ মাত্র, যিনি তাঁর 'আল-আকিদাহ ওয়াশ শারিয়াহ ফিল ইসলাম' গ্রন্থে বলেছেন: "হাদিসের সিংহভাগ প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে ইসলামের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তনের ফল ছাড়া আর কিছু নয়" (২)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, ১ নং হাদিস।

(২) দেখুন: আস-সিবায়ি, আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরিইল ইসলামি, পৃ. ১৯৫।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
ورداً على ذلك نود أن نقرر ما يلي:

إنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو المبلغ عن ربه - قد وضع الأسس الكاملة لبنيان الإسلام الشامخ بما أنزل الله عليه في كتابه، وبما سنّه من سنن وشرائع وقوانين شاملة وافية حتى إنّه قال: "تركت فيكم أمرين لن تضلوا ما تمسكتم بهما، كتاب الله وسنتي" (1) .

وكان من أواخر ما تنزل عليه صلى الله عليه وسلم: {الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة:3] ، ويعني ذلك كمال الإسلام وتمامه وعدم قابليته للزيادة عليه أو تطويره بمفهوم المستشرقين، ولقد صادف الصحابةُ جزئيات وحوادث لم ينص على بعضها القرآنُ ولا السنةُ فعملوا باجتهادهم قياساً واستنباطاً حتى وضعوا لها الأحكام وهم بذلك لم يخرجوا عن دائرة الإسلام وتعاليمه، وثمة أدلة واقعية تطبيقية تشهد على اكتمال الإسلام ونضجه في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، من أهمها:

* مقدرة الإسلام الفائقة على السيطرة على مملكتي كسرى وقيصر، وكان لهما من الحضارة والمدنية ما يصعب على دين غير ناضج مواجهته.

* وحدة المسلمين في عهد الصحابة ومَنْ بعدهم واجتماعهم على عقيدة واحدة وعبادة واحدة وتعامل واحد، في شرق الأرض وغربها، ولا يمكن أن

--------------------------------------------

(1) الحاكم، المستدرك 1/93 وصححه من لفظ حديث ابن عباس رضي الله عنهما وقال: "له أصل في الصحيح" ووافقه الذهبي واللفظ المذكور لأبي هريرة رضي الله عنه ذكره الحاكم كشاهد لحديث ابن عباس رضي الله عنهما ولم يحكم عليه.
এর উত্তরে আমরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো সাব্যস্ত করতে চাই:

নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) — যিনি তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে বার্তা পৌঁছানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন — ইসলামের সুউচ্চ অট্টালিকার পূর্ণাঙ্গ ভিত্তি স্থাপন করেছেন তাঁর প্রতি অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর প্রবর্তিত সুন্নাহ, শরিয়াহ ও ব্যাপক ও পর্যাপ্ত বিধিবিধানের মাধ্যমে। এমনকি তিনি বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতকাল তোমরা এ দুটিকে আঁকড়ে ধরে রাখবে ততকাল তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ" (১)।

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর নাযিল হওয়া সর্বশেষ আয়াতসমূহের অন্যতম ছিল: {আজ কাফিররা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে হতাশ হয়ে গিয়েছে। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} [মায়েদাহ: ৩]। এর অর্থ হলো ইসলামের পূর্ণতা ও পরিপূর্ণতা এবং এতে নতুন কিছু যোগ করার বা প্রাচ্যবিদদের ধারণা অনুযায়ী একে বিবর্তিত করার কোনো সুযোগ না থাকা। সাহাবীগণ এমন কিছু শাখা-প্রশাখা ও ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন যা কুরআন বা সুন্নাহর কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরাসরি বর্ণিত ছিল না। ফলে তাঁরা কিয়াস (قياس) এবং ইস্তিম্বাত (استنباط) এর মাধ্যমে তাঁদের ইজতিহাদের ভিত্তিতে আমল করেছেন এবং এর জন্য বিধানসমূহ প্রণয়ন করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা ইসলামের পরিধি ও শিক্ষা থেকে বেরিয়ে যাননি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে ইসলামের পূর্ণতা ও পরিপক্কতার সাক্ষ্য দেয় এমন কিছু বাস্তব ও প্রায়োগিক প্রমাণ রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো:

* কিসরা ও কায়সারের সাম্রাজ্য দুটিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে ইসলামের অসাধারণ সামর্থ্য। সে সময় ওই দুই সাম্রাজ্যের সভ্যতা ও সংস্কৃতি এমন পর্যায়ে ছিল যা কোনো অপরিপক্ক দ্বীনের পক্ষে মোকাবেলা করা অসম্ভব ছিল।

* সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী যুগের মুসলমানদের ঐক্য এবং পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত অভিন্ন আকীদা, অভিন্ন ইবাদত ও অভিন্ন লেনদেনের ওপর তাঁদের ঐক্যবদ্ধ থাকা। এবং এটা অসম্ভব যে...

--------------------------------------------

(১) হাকিম, আল-মুস্তাদরাক ১/৯৩; তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসের শব্দ অনুযায়ী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং বলেছেন: "এর মূল ভিত্তি সহিহ গ্রন্থে রয়েছে।" যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। উল্লিখিত শব্দগুলো আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, যা হাকিম ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসের শাহেদ (شاهد) হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এর ওপর কোনো হুকুম প্রদান করেননি।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
يكون ذلك لو لم يكن للمسلمين قبل مغادرتهم جزيرة العرب نظام تام ناضج، وفهْمٌ صحيح للإسلام متفق عليه زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

إذن فليس بمستغرب ما أشارت إليه الموسوعة العبرية من تشابه في دعاء الشهادتين بين ما جاء به محمد صلى الله عليه وسلم في القرآن والسنة، وما تبقّى من موروثاتٍ لدى يهود مما جاء به موسى عليه السلام عن ربه، فقد ورد في المذكرة ص18 الفقرة الأولى: الشهادتان تماثلان دعاءً يهودياً يقال في الصلوات ويُعرفُ بـ:

ونصها:

ونص آخر:

ونقول: كون نص الشهادتين ليس كاملاً في القرآن فإن ذلك لا يدعو إلى الشك في ثبوت ركن من أركان الإسلام، ثم إن معنى "وأشهد أنّ محمداً رسول الله" مقرر في القرآن الكريم في أكثر من موضع؛ فحسبك قوله تعالى: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَاّ رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ الرُّسُلُ} [آل عمران: 144] . وقوله تعالى: {لَقَدْ جَاءكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ} [التوبة: 128] .

والله تعالى وصف محمداً بأنه رسول، وأمر بطاعته في آيات كثيرة جداً (1) .

--------------------------------------------

(1) ينظر مادة (رسول) في المعجم المفهرس لألفاظ القرآن الكريم.
এমনটি তখনই হতো যদি আরব উপদ্বীপ ত্যাগের পূর্বে মুসলমানদের কোনো পূর্ণাঙ্গ ও সুসংহত ব্যবস্থা এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে ইসলামের ব্যাপারে সর্বসম্মত সঠিক উপলব্ধি না থাকত।

অতএব, হিব্রু এনসাইক্লোপিডিয়া কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন এবং মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছিলেন তার অবশিষ্টাংশ হিসেবে ইহুদিদের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহ্যের মধ্যে শাহাদাতাইন (কালেমা শাহাদাত) এর দোয়ার ক্ষেত্রে যে সাদৃশ্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছে, তা আশ্চর্যজনক কিছু নয়। স্মারকলিপির ১৮ নং পৃষ্ঠার প্রথম অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে: শাহাদাতাইন একটি ইহুদি প্রার্থনার সদৃশ যা সালাতে পাঠ করা হয় এবং যা পরিচিত... হিসেবে:

তার পাঠ:

অন্য একটি পাঠ:

আমরা বলি: শাহাদাতাইনের পাঠ কুরআনে পূর্ণাঙ্গভাবে না থাকা ইসলামের অন্যতম একটি রুকন সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহের উদ্রেক করে না। অধিকন্তু, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল" এই অর্থটি কুরআনুল কারীমের একাধিক স্থানে সাব্যস্ত হয়েছে। আপনার জন্য আল্লাহ তাআলার এই বাণীই যথেষ্ট: {আর মুহাম্মদ কেবল একজন রাসুল; তাঁর আগে বহু রাসুল গত হয়েছেন} [আলে ইমরান: ১৪৪]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসুল এসেছেন, তোমাদের কষ্ট হওয়া যাঁর কাছে দুঃসহ} [আত-তাওবা: ১২৮]।

আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রাসুল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং অনেক আয়াতে তাঁর আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস লি-আলফাজ আল-কুরআন আল-কারীম-এ 'রাসুল' (رسول) শব্দমূল।
(খণ্ড: ১) রাদ্দুত তুনিল ওয়ারিদাতি ফিল মাওসুআতিল ইবরিয়্যাতি আনিল ইসলামী ওয়া রাসূলিহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
ثم إنّ السنة النبوية مؤكدة لما جاء في القرآن، ومفصلة ومفسرة ومكملة، ولها نفس المرتبة من حيث الاحتجاج بها والعمل بمقتضاها، ورسول الله صلى الله عليه وسلم نطق بهذه الشهادة، وعلَّمناها، وأمرنا بها، وقد ردّنا القرآن إلى طاعة محمد صلى الله عليه وسلم وإتباعه وعدم مخالفته أو ترك شيء من التعاليم التي نطق بها، فنُطقنا بعدُ لهاتين الشهادتين إنما هو إتباع للقرآن، واستمع إلى قوله تعالى: {مَّنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ} [النساء:80] ، وقوله صلى الله عليه وسلم: "من شهد أنّ لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأنّ محمداً عبده ورسوله، وأنّ عيسى عبد الله ورسوله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه، والجنَّة حق والنار حق، أدخله الله الجنة على ما كان عليه من العمل".

وفي رواية: "من شهد أن لا إله الله وأنّ محمداً رسول الله، حرم الله جسده على النار" (1) .

إنّ الفارق الأساسي بين لفظ الشهادتين عند المسلمين وبين ما ورد عند اليهود هو؛ أنّها عند اليهود تقتصر على كلمة التوحيد فحسب، أما المسلم فلا تكفي هذه الكلمة في تمام إيمانه وكماله، بل لا يُعدّ مؤمناً ما لم ينطق بالشق الثاني من الكلمة.

ومعنى الشطر الأول:

لا معبود بحق سوى الله، ولا مالك لي ولا لغيري، ولا مطاعٌ ولا معظّمٌ ومتوكلٌ عليه ومستمسكٌ به إلا الله.

--------------------------------------------

(1) مسلم، إيمان، رقم 46، 47.
তদুপরি সুন্নাহ নববী কুরআনে বর্ণিত বিধানাবলির সুনিশ্চিতকারী, বিস্তারিত ব্যাখ্যাকারী, বিশ্লেষক এবং পরিপূরক। দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) এবং সেই অনুযায়ী আমল করার বাধ্যবাধকতার দিক থেকে সুন্নাহর মর্যাদা কুরআনের সমপর্যায়ের। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শাহাদাত উচ্চারণ করেছেন, আমাদের তা শিক্ষা দিয়েছেন এবং এর নির্দেশ প্রদান করেছেন। কুরআন আমাদের মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ও তাঁর অনুসরণ (إتباع) করার এবং তাঁর বিরোধিতা না করার অথবা তাঁর মুখনিসৃত কোনো শিক্ষা বর্জন না করার নির্দেশ দিয়েছে। সুতরাং আমাদের এই দুই শাহাদাত পাঠ করা মূলত কুরআনেরই অনুসরণ। মহান আল্লাহর বাণী লক্ষ্য করুন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [আন-নিসা: ৮০]। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর সেই কালিমা যা তিনি মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ; আর জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য; আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যা-ই হোক না কেন।"

অন্য এক বর্ণনায় (رواية): "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তার দেহ জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন" (১)।

মুসলিমদের নিকট শাহাদাত বাক্যের শব্দাবলি এবং ইহুদিদের মধ্যে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো; ইহুদিদের নিকট এটি কেবল তাওহীদের (التوحيد) বাক্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু একজন মুসলিমের ঈমানের পূর্ণতা ও কামিয়াবীর জন্য কেবল এই বাক্যটিই যথেষ্ট নয়, বরং কালিমার দ্বিতীয় অংশটি উচ্চারণ না করা পর্যন্ত তাকে মুমিন হিসেবে গণ্য করা হবে না।

প্রথম অংশের অর্থ:

আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, আমার বা অন্য কারো কোনো প্রকৃত মালিক নেই। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ আনুগত্য, মহত্ত্ব, তাওয়াক্কুলের পাত্র (متوكل عليه) এবং আশ্রয় লাভের যোগ্য নয়।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম, ঈমান, নম্বর ৪৬, ৪৭।