(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: -)
رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه القسم: العقيدة
الكتاب: رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه
المؤلف: محمد بن خليفة بن علي التميمي
الناشر: أضواء السلف، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1422هـ/2002م
عدد الصفحات: 110
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাঁর রবকে দেখা বিভাগ: আক্বিদাহ
বই: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাঁর রবকে দেখা
লেখক: মুহাম্মাদ বিন খলিফা বিন আলি আত-তামিমি
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি/২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১০
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ৩)
رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه
إعداد: د. محمد بن خليفة بن علي التميمي
الأستاذ المشارك في كلية الدعوة وأصول الدين بالجامعة
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةإن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران 102] .
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء 1] .
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} [الأحزاب 70-71] .
أما بعد:
فإن أصدق الحديث كلام الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة.
وبعد: فهذا بحث لطيف، وسِفر منيف، يحوي في ثناياه الحديث عن مسألة وقع فيها النزاع بين أهل العلم، وتشعبت بسبب ذلك أقوالهم، منذ عصر الصحابة رضوان الله عليهم، ولهذه المسألة تعلقها بمسائل العقيدة
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর রবকে দর্শন
প্রস্তুতিতে: ড. মুহাম্মাদ বিন খলিফা বিন আলি আত-তামিমি
সহযোগী অধ্যাপক, দাওয়া ও উসুল আদ-দীন অনুষদ, বিশ্ববিদ্যালয়
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২] ।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [নিসা: ১] ।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আহজাব: ৭০-৭১] ।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।
এরপর: এটি একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা ও উচ্চমার্গীয় পুস্তিকা, যা এমন একটি মাসআলা বা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে যাতে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুগ থেকেই এ বিষয়ে তাঁদের অভিমত বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়েছে। আর এই মাসআলাটি আকিদার বিষয়াবলির সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ৪)
لصلتها بمسألة رؤية الله عز وجل من جهة، ولتعلقها كذلك بخصائص النبي صلى الله عليه وسلم من جهة أخرى، تلك هي مسألة رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه عز وجل.
ومعلوم أن التأصيل لمسائل الدين جميعها في منهج أهل السنة ينطلق من نصوص الكتاب والسنة، وفهم السلف الصالح، ومن هذا المنطلق أحببت بحث المسألة، وتأصيلها وفق هذا المنهج مع جمع شتات أقوال العلماء وبيان الراجح منها.
ويمكن حصر الكلام في مسألة رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه في ثلاثة جوانب:
1- رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه ليلة المعراج.
2- إثبات رؤية النبي صلى الله عليه وسلم. لربه في المنام.
3- مسألة رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه في الدنيا. عيانا.
فمسألة رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه عز وجل ليلة المعراج من المسائل التي وقع الكلام فيها مبكرا في عهد الصحابة1.
وقبل البدء في إيضاح هذه المسائل لابد من الإشارة إلى أن الأمة أجمعت على أن الله عز وجل لا يراه أحد في الدنيا بعينه2.
وقد صح عنه صلى الله عليه وسلم في الحديث المشهور في التحذير من فتنة المسيح الدجال أنه قال: "تعلَّموا أنه لن يرى أحد منكم ربه عز وجل حتى يموت" وفي لفظ الترمذي "تعلمون" 3.
--------------------------------------------
একদিকে মহান আল্লাহর দর্শনের বিষয়ের সাথে এর সংশ্লিষ্টতা এবং অন্যদিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বৈশিষ্ট্যের সাথে এর সম্পৃক্ততার কারণে, সেটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাঁর মহান রবকে দেখার বিষয়টি।
এটি সর্বজনবিদিত যে, আহলে সুন্নাতের মানহাজ অনুযায়ী দ্বীনের সকল বিষয়ের মূল ভিত্তি নির্ধারিত হয় কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য এবং সালাফে সালেহীনের বুঝের আলোকে। আর এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে এবং এই মানহাজ অনুযায়ী এর মূল ভিত্তি স্থাপন করতে আগ্রহী হয়েছি, সেইসাথে আলেমদের বিভিন্ন মতামত একত্রিত করে তার মধ্যে অগ্রগণ্য মতটি বর্ণনা করেছি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর রবকে দেখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনাকে তিনটি দিক থেকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব:
১- মেরাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর রবকে দেখা।
২- স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর রবকে দেখার বিষয়টি সাব্যস্ত হওয়া।
৩- দুনিয়াতে চাক্ষুষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর রবকে দেখার বিষয়টি।
মেরাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর মহান রবকে দেখার বিষয়টি এমন একটি বিষয় যার ব্যাপারে সাহাবীগণের যুগ থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে।১
এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করার পূর্বে এ কথাটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, উম্মত এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, দুনিয়াতে চাক্ষুষভাবে মহান আল্লাহকে কেউ দেখতে পায় না।২
মসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে সতর্ক করার ব্যাপারে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রসিদ্ধ হাদীসে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তোমরা জেনে রেখো যে, তোমাদের কেউ তার মহান রবকে মৃত্যু পর্যন্ত দেখতে পাবে না।" আর তিরমিযীর শব্দে এসেছে: "তোমরা জানো যে..."।৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ৫)
والخلاف إنما وقع في حصول الرؤية للنبي صلى الله عليه وسلم خاصة ليلة المعراج، وأكثر علماء أهل السنة يثبتون ذلك، وفي هذا يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: "وأكثر علماء أهل السنة يقولون: إن محمدًا صلى الله عليه وسلم رأى ربه ليلة المعراج"1.
على الرغم من أن الخلاف في هذه المسألة لا يعد من الأمور التي توجب الخروج عن عقيدة السلف، والأمر كما قال عنه الإمام الذهبي: "ولا نعنف من أثبت الرؤية لنبينا في الدنيا، ولا من نفاها، بل نقول الله ورسوله أعلم، بل نعنف ونبدع من أنكر الرؤية في الآخرة، إذ رؤية الله في الآخرة ثبتت بنصوص متوافرة
… "2.
ولعل من أسباب عدم تعنيف المخالف في ذلك ما يلي:
1 - ليس في المسألة نص قاطع يجب الأخذ به.
2 - وقوع التنازع في المسألة بين الصحابة.
3 - أن النبوة لا يتوقف ثبوتها عليها قال ابن أبي العز: "وإن كانت رؤية الرب تعالى أعظم وأعلى، فإن النبوة لا يتوقف ثبوتها عليها البتة"3.
وبناءً على ما حوته المسألة من تفريعات فقد قسمت البحث وفق الخطة التالية إلى ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه ليلة المعراج.
وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: أقوال الصحابة في هذه المسألة.
--------------------------------------------
মতপার্থক্য কেবল মিরাজের রাতে বিশেষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান আল্লাহর দিদার লাভের ব্যাপারে ঘটেছে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অধিকাংশ আলেম এটি সাব্যস্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অধিকাংশ আলেম বলেন: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজের রাতে তাঁর পালনকর্তাকে দেখেছেন।"১।
যদিও এ বিষয়ে মতপার্থক্য এমন কোনো বিষয় নয় যা সালাফদের আকিদা থেকে বিচ্যুত হওয়াকে আবশ্যক করে। বিষয়টি যেমন ইমাম যাহাবী বলেছেন: "দুনিয়ায় আমাদের নবীর জন্য আল্লাহর দিদার যে সাব্যস্ত করেছে আমরা তাকেও কঠোর সমালোচনা করি না, আর যে অস্বীকার করেছে তাকেও নয়; বরং আমরা বলি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তবে আমরা তাকে কঠোর সমালোচনা করব এবং বিদআতি বলব যে আখেরাতে আল্লাহর দিদার হওয়াকে অস্বীকার করবে, কেননা আখেরাতে আল্লাহর দিদার হওয়া বহুসংখ্যক অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত …"২।
এ বিষয়ে বিরোধিতাকারীকে কঠোর সমালোচনা না করার কারণসমূহ সম্ভবত নিম্নরূপ:
১ - এ বিষয়ে এমন কোনো অকাট্য দলীল নেই যা গ্রহণ করা আবশ্যক।
২ - এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ থাকা।
৩ - নবুওয়াত সাব্যস্ত হওয়া এর ওপর নির্ভরশীল নয়। ইবন আবিল ইজ্জ বলেন: "যদিও মহান রবের দিদার সর্বোত্তম ও সর্বোচ্চ বিষয়, কিন্তু নবুওয়াত সাব্যস্ত হওয়া কোনোভাবেই এর ওপর নির্ভরশীল নয়"৩।
বিষয়টি যেসব শাখা-প্রশাখা ধারণ করে আছে তার ওপর ভিত্তি করে আমি গবেষণাপত্রটিকে নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মিরাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর রবের দিদার লাভ।
এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ৬)
المطلب الثاني: أقوال التابعين وتابعي التابعين.
المطلب الثالث: أقوال العلماء في المسألة.
المطلب الرابع: وقفات في مسألة رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه ليلة المعراج.
المبحث الثاني: رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه في المنام.
وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: الأحاديث الواردة في المسألة.
المطلب الثاني: القول في رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه في المنام.
المطلب الثالث: أقوال أهل العلم في الرؤية المنامية عمومًا.
المبحث الثالث: رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه في الدنيا عيانًا.
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: قول أهل السنة في مسألة رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه عيانًا في الدنيا.
المطلب الثاني: الأحاديث الموضوعة في المسألة.
المبحث الرابع: رؤية البشر لربهم في الحياة الدنيا.
الخاتمة.
وبعد فهذا جهد المقل فلعلي أسهمت في خدمة هذه المسألة، ويسرت على إخواني الباحثين من طلاب العلم جمع ما تفرق من أقوال أهل العلم فيها، ومستند كل قول والقائل به، فأرجو أن أكون قد وفقت في توضيح جوانب هذه المسائل، وحسن عرضها، وبيان الصواب فيها، والله أسأل أن ينفعني وإخواني المسلمين بما كتبت، وأن يجعله عملاً صالحًا، ولوجهه خالصًا، وأن لا يجعل لأحد فيه شركًا.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাবিঈ এবং তাবি-তাবিঈগণের বক্তব্যসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এ বিষয়ে আলেমগণের বক্তব্যসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মিরাজ রজনীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর রবকে দেখার বিষয়ের ওপর পর্যালোচনাসমূহ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর রবকে দেখা।
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর রবকে দেখার বিষয়ে বক্তব্য।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে স্বপ্নে দেখা সম্পর্কে আহলে ইলমগণের বক্তব্যসমূহ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: দুনিয়াতে চাক্ষুষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর রবকে দেখা।
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: দুনিয়াতে চাক্ষুষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তাঁর রবকে দেখার বিষয়ে আহলে সুন্নাতের বক্তব্য।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এ বিষয়ে বর্ণিত জাল হাদিসসমূহ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: পার্থিব জীবনে মানুষের তাদের রবকে দেখা।
উপসংহার।
অতঃপর, এটি এক নগণ্য প্রচেষ্টা; সম্ভবত আমি এই বিষয়ের খিদমতে কিছু অবদান রাখতে পেরেছি এবং আমার ইলম অন্বেষণকারী গবেষক ভাইদের জন্য এই বিষয়ে আহলে ইলমদের বিক্ষিপ্ত বক্তব্যসমূহ, প্রতিটি বক্তব্যের দলিল এবং প্রবক্তার নাম একত্রিত করা সহজ করে দিয়েছি। আমি আশা করি যে, আমি এই মাসআলাগুলোর বিভিন্ন দিক স্পষ্ট করতে, সেগুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে এবং এতে সঠিক বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এবং আমার মুসলিম ভাইদেরকে আমার এই লেখার মাধ্যমে উপকৃত করেন, একে একটি নেক আমল হিসেবে কবুল করেন এবং একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন, আর এতে যেন অন্য কারো অংশ না রাখেন।
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأول: رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه ليلة المعراج
المطلب الأول: أقوال الصحابة في هذه المسألة…هذه المسألة هي التي وقع الكلام فيها مبكرًا بين الصحابة، ومن أهل العلم من يرى أنه لا خلاف بين أقوالهم في المسألة وأنها متوافقة1، وإنما مرجع الخلاف إلى فهم بعض المتأخرين لأقوالهم وطريقة توجيهها، وبعضهم الآخر يرى أن هناك خلافاً بين الصحابة في المسألة، وأن أقوالهم متباينة فيها، وبنى على هذا الفهم أمورًا وأحكامًا، ومن أجل ذلك أحببت أن أعرض أقوال الصحابة بشكل مستقل، ومن ثم أعرض لأقوال التابعين وتابعيهم، وبعد ذلك أعرض أقوال العلماء وما وجّه به كل فريق قوله في المسألة، فهذا المنهج هو الأسلم لكي يفهم القارئ أقوال السلف مستقلة عن طريقة توجيه كل طائفة لها، ومن ثم سيسهل بعد تصورها مستقلة معرفة توجيه كل صاحب قول لتلك الآثار، ومستنده في فهمه لها، وأي الأقوال أولى بالصواب.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: মিরাজ রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর রবকে দর্শনপ্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় সাহাবায়ে কিরামের বক্তব্যসমূহ…এটি এমন এক মাসআলা যা নিয়ে সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে প্রথম দিকেই আলোচনা শুরু হয়েছিল। আলেমদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা মনে করেন যে, এই মাসআলায় তাঁদের বক্তব্যের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই এবং সেগুলি পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ১; বরং এই মতভেদের মূল উৎস হলো পরবর্তীকালের কিছু মানুষের তাঁদের বক্তব্যসমূহ বোঝা এবং সেগুলোর ব্যাখ্যার পদ্ধতির মধ্যে। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, এই মাসআলায় সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে মতভেদ বিদ্যমান এবং তাঁদের বক্তব্যসমূহ এক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন। এই বুঝের ওপর ভিত্তি করেই তারা কিছু বিষয় ও বিধান প্রণয়ন করেছেন। এই কারণেই আমি সাহাবায়ে কিরামের বক্তব্যসমূহ পৃথকভাবে উপস্থাপন করা পছন্দ করেছি, এরপর তাবেঈন ও তাঁদের অনুসারীদের বক্তব্যগুলো পেশ করব। এরপর আলেমদের মতামত এবং প্রতিটি পক্ষ এই মাসআলায় তাদের বক্তব্যের সপক্ষে যে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তা তুলে ধরব। পাঠক যাতে সালাফদের (পূর্বসূরিদের) বক্তব্যসমূহ প্রতিটি পক্ষের ব্যাখ্যার বাইরে স্বাধীনভাবে বুঝতে পারেন, সেজন্য এই পদ্ধতিই সবচেয়ে নিরাপদ। এর মাধ্যমে তাঁদের বক্তব্যগুলো আলাদাভাবে হৃদয়াঙ্গম করার পর, প্রতিটি পক্ষের সেই সকল আসার (বর্ণনা) ব্যাখ্যার ধরন, তাদের বুঝের ভিত্তি এবং কোন বক্তব্যটি সঠিক হওয়ার অধিক নিকটবর্তী তা জানা সহজ হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ১০)
المطلب الأول: أقوال الصحابة في هذه المسألة
القول الأول: من أثبت الرؤية مطلقا:
1 - قول ابن عباس رضي الله عنهما:
أ - عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: "أتعجبون أن تكون الخلة لإبراهيم والكلام لموسى، والرؤية لمحمد صلى الله عليه وسلم"1.
ب - عن ابن عباس في قوله {وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى} 2.قال: "رأى ربه فتدلى فكان قاب قوسين أو أدنى"3.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ
প্রথম মত: যারা নিঃশর্তভাবে দেখার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন:
১ - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বক্তব্য:
ক - ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: "তোমরা কি এতে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ যে, ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য ‘খুল্লাহ’ (বিশেষ বন্ধুত্ব), মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য ‘কালাম’ (সরাসরি কথা বলা) এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ‘রু’ইয়াত’ (আল্লাহকে দেখা) নির্ধারিত হয়েছে?" ১।
খ - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণিত: {নিশ্চয়ই তিনি তাঁকে আরেকবার দেখেছিলেন, সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে} ২। তিনি বলেন: "তিনি তাঁর রব্বকে দেখেছেন, অতঃপর তিনি নিকটবর্তী হলেন, ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান বা তার চেয়েও কম দূরত্ব রইল" ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ১১)
ج - عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: "رأى محمدٌ ربَّه". قلت: أليس الله يقول {لا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الأَبْصَارَ} [الأنعام 103] ، قال: ويحك ذاك إذا تجلى بنوره الذي هو نوره، وقال: أُرِيَه مرتين"1.
د - عن عبد الله بن عمر أنه بَعَثَ إلى عبد الله بن عباس رضي الله عنهم يسأله: هل رأى محمدٌ صلى الله عليه وسلم ربَّه؟ فبعث إليه: "أن نعم قد رآه"، فرد رسوله إليه وقال: كيف رآه؟ فقال: "رآه على كرسي من ذهب، تحمله أربعة من الملائكة، ملك في صورة رجل، وملك في صورة أسد، وملك في صورة ثور، وملك في صورة نسر، في روضة خضراء، دونه فراش من ذهب"2.
--------------------------------------------
গ - ইকরিমা থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মুহাম্মাদ তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন।" আমি বললাম: আল্লাহ কি বলেননি {দৃষ্টিসমূহ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না, অথচ তিনি সকল দৃষ্টিকে আয়ত্ত করেন} [আল-আনআম: ১০৩]? তিনি বললেন: তোমার জন্য আক্ষেপ! তা তো তখন যখন তিনি তাঁর সেই নূরের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন যা তাঁরই নূর। আর তিনি বললেন: তাঁকে দুবার দেখানো হয়েছে।১
ঘ - আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন: মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন? তিনি তাঁর কাছে উত্তর পাঠালেন: "হ্যাঁ, তিনি তাঁকে দেখেছেন।" তখন তিনি (ইবনে উমর) পুনরায় দূত পাঠালেন এবং বললেন: তিনি তাঁকে কীভাবে দেখেছেন? তিনি বললেন: "তিনি তাঁর প্রতিপালককে একটি স্বর্ণের কুরসির ওপর দেখেছেন, যা চারজন ফেরেশতা বহন করছেন; একজন ফেরেশতা মানুষের আকৃতিতে, একজন ফেরেশতা সিংহের আকৃতিতে, একজন ফেরেশতা ষাঁড়ের আকৃতিতে এবং একজন ফেরেশতা ঈগলের আকৃতিতে। তিনি ছিলেন একটি সবুজ উদ্যানে, যাঁর নিচে ছিল স্বর্ণের বিছানা।"২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ১২)
2 - قول أنس بن مالك رضي الله عنه
عن قتادة أن أنسًا رضي الله عنه قال: "رأى محمدٌ ربَّه"1.
3 - قول أبي هريرة رضي الله عنه
قال داود بن حصين: سأل مروان أبا هريرة رضي الله عنه: هل رأى
محمدٌ صلى الله عليه وسلم ربَّه عز وجل؟ فقال: "نعم، قد رآه"2.
القول الثاني: من قيدها بالرؤية القلبية:
وقد روي في ذلك حديث مرفوع لكنه ضعيف؛ لإرساله وهو ما رواه محمد بن كعب القرظي قال: سئل النبي صلى الله عليه وسلم: هل رأيت ربك؟ قال: "رأيته بفؤادي، ولم أره بعيني" 3.
1 - قول ابن عباس رضي الله عنهما:
أ - عن عطاء عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله تعالى {وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً
--------------------------------------------
২ - আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য
কাতাদাহ থেকে বর্ণিত যে, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "মুহাম্মদ তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন"১।
৩ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য
দাউদ বিন হুসাইন বলেন: মারওয়ান আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর মহান প্রতিপালককে দেখেছেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি তাঁকে দেখেছেন"২।
দ্বিতীয় মত: যারা এটিকে অন্তরের দেখার সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন:
এ বিষয়ে একটি মারফূ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তবে সেটি দুর্বল; কারণ তা মুরসাল। সেটি হলো যা মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাজি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? তিনি বললেন: "আমি তাঁকে আমার অন্তর দিয়ে দেখেছি, আর আমি তাঁকে আমার চোখ দিয়ে দেখিনি" ৩।
১ - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বক্তব্য:
ক - আতা থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আল্লাহর বাণী {এবং নিশ্চয়ই তিনি তাকে আরেকবার অবতরণকালে দেখেছিলেন...} সম্পর্কে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أُخْرَى} [النجم 13] قال: "إن النبي صلى الله عليه وسلم رأى ربه بقلبه"1.
ب - وعن أبي العالية عن ابن عباس: "أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى ربه بفؤاده مرتين"2.
2 - قول أبي ذر رضي الله عنه
أ - عن إبراهيم التيمي أن أبا ذر رضي الله عنه قال: "رآه بقلبه ولم تره عيناه". وفي رواية: "رآه بقلبه"3.
ب - وأخرج النسائي عن أبي ذر قال: "رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم ربَّه بقلبه ولم يره ببصره"4.
القول الثالث: من نفى الرؤية مطلقا.
1 - قول عائشة رضي الله عنها
عن مسروق قال: كنت متكئا عند عائشة رضي الله عنها فقالت: "يا
--------------------------------------------
অন্যবার} [আন-নাজম ১৩] তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে তাঁর অন্তর দিয়ে দেখেছেন"১।
খ - আবুল আলিয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: "নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে তাঁর অন্তর দিয়ে দুইবার দেখেছেন"২।
২ - আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহুর অভিমত
ক - ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে বর্ণিত যে, আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "তিনি তাঁকে তাঁর অন্তর দিয়ে দেখেছেন, তাঁর চোখ দু'টি তাঁকে দেখেনি"। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "তিনি তাঁকে তাঁর অন্তর দিয়ে দেখেছেন"৩।
খ - আন-নাসাঈ আবু যার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে তাঁর অন্তর দিয়ে দেখেছেন এবং তাঁর দৃষ্টি দিয়ে তাঁকে দেখেননি"৪।
তৃতীয় মত: যারা দর্শনকে নিঃশর্তভাবে অস্বীকার করেছেন।
১ - আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার অভিমত
মাসরুক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট হেলান দিয়ে বসা ছিলাম, তখন তিনি বললেন: "হে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أبا عائشة: ثلاث من تكلم بواحدة منهن، فقد أعظم على الله الفرية، من زعم أن محمدًا رأى ربه فقد أعظم الفرية على الله، قال: وكنت متكئا فجلست فقلت: يا أم المؤمنين: أنظريني ولا تعجليني: ألم يقل الله عز وجل {وَلَقَدْ رَآهُ بِالأُفُقِ الْمُبِينِ} {وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى} فقالت: أنا أول هذه الأمة، سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: إنما هو جبريل، لم أره على صورته التي خلق عليها غير هاتين المرتين رأيته منهبطًا من السماء سادًا عظم خلقه ما بين السماء إلى الأرض. فقالت: ألم تسمع أن الله يقول {لا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الأَبْصَار} [الأنعام 103] . أو لم تسمع أن الله يقول {وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَاّ وَحْياً أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولاً فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ} [الشورى 51] ....."1.
2 - قول ابن مسعود رضي الله عنه
عن زر بن عبد الله بن حبيش، عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه في قوله تعالى: {وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى} [النجم 13] ، قال: "رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم جبريل في صورته، له ستمائة جناح"2.
--------------------------------------------
হে আবু আইশা! তিনটি বিষয় এমন যে, যে ব্যক্তি এর কোনো একটি বলবে, সে আল্লাহর নামে বড় অপবাদ আরোপ করল। যে দাবি করবে যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রবকে দেখেছেন, সে আল্লাহর নামে মহা অপবাদ দিল। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি হেলান দিয়ে বসা ছিলাম, তখন সোজা হয়ে বসলাম এবং বললাম: হে মুমিন জননী, আমাকে একটু সুযোগ দিন এবং তাড়াহুড়ো করবেন না। মহান আল্লাহ কি বলেননি: {অবশ্যই তিনি তাকে সুস্পষ্ট দিগন্তে দেখেছেন} এবং {অবশ্যই তিনি তাকে দ্বিতীয়বার নামতে দেখেছেন}? তখন তিনি বললেন: আমিই এই উম্মতের প্রথম ব্যক্তি যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বলেছেন: "তিনি তো জিবরাঈল। আমি তাঁকে তাঁর সেই প্রকৃত রূপে মাত্র এই দুইবার ছাড়া আর কখনও দেখিনি যে রূপে তাঁকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আমি তাঁকে আকাশ থেকে নামতে দেখেছি, তাঁর বিশাল দেহ অবয়ব আকাশ থেকে জমিন পর্যন্ত দিগন্তের মাঝখানের সবটুকু অংশকে পূর্ণ করে ফেলেছিল।" এরপর তিনি বললেন: আপনি কি শোনেননি যে আল্লাহ বলেন: {দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না, কিন্তু তিনি সকল দৃষ্টিকে আয়ত্ত করেন} [আল-আনআম ১০৩]? অথবা আপনি কি শোনেননি যে আল্লাহ বলেন: {কোনো মানুষের জন্য এমন হওয়ার অবকাশ নেই যে আল্লাহ তাঁর সাথে কথা বলবেন ওহী ব্যতীত, অথবা পর্দার আড়াল থেকে অথবা কোনো দূত পাঠানোর মাধ্যমে, অতঃপর তিনি যা চান তাঁর অনুমতিক্রমে ওহী দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সুউচ্চ, প্রজ্ঞাবান} [আশ-শূরা ৫১] ....."১.
২ - ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য
যির বিন আব্দুল্লাহ বিন হুবাইশ থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {অবশ্যই তিনি তাকে দ্বিতীয়বার নামতে দেখেছেন} [আন-নাজম ১৩] সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরাঈলকে তাঁর প্রকৃত রূপে দেখেছেন, তাঁর ছয়শত ডানা ছিল"২.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
3 - قول أبي هريرة رضي الله عنه
عن عطاء عن أبي هريرة رضي الله عنه في قوله تعالى {وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى} قال: "رأى جبريل"1.
4 - قول أبي ذر رضي الله عنه
عن عبد الله بن شقيق قال: قلت لأبي ذر: لو رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم لسألته، قال: عما كنت تسأله؟ قال: إذن لسألته هل رأى ربه؟ فقال: قد سألته أنا، قلت: فما قال؟ قال: "نور أنى أراه"، وفي رواية "رأيت نوراً" 2
--------------------------------------------
৩ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বক্তব্য
আতা থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই তিনি তাঁকে আরেকবার অবতরণ করতে দেখেছেন} সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি জিবরাঈলকে দেখেছেন"১।
৪ - আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বক্তব্য
আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু যারকে বললাম: আমি যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখতাম, তবে তাঁকে প্রশ্ন করতাম। তিনি বললেন: তুমি তাঁকে কী প্রশ্ন করতে? তিনি বললেন: তবে আমি তাঁকে প্রশ্ন করতাম, তিনি কি তাঁর রবকে দেখেছেন? তিনি বললেন: আমি তাঁকে তা জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আমি বললাম: তিনি কী বলেছিলেন? তিনি বললেন: "নূর, আমি কীভাবে তাঁকে দেখব?", এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে "আমি নূর দেখেছি" ২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
التعليق على الأقوال السابقة:
الذي يلاحظ من الآثار السالفة الذكر أنها خلت من النص على رؤية العين فهي: إما أثبتت الرؤية مطلقًا، أو قيدتها بالرؤية القلبية أو نفتها مطلقًا.
ولذلك علق شيخ الإسلام ابن تيمية على هذا بقوله: "ليس ذلك بخلاف في الحقيقة، فإن ابن عباس لم يقل رآه بعيني
পূর্ববর্তী বক্তব্যসমূহের ওপর পর্যালোচনা:
উপরিউক্ত আসার (বর্ণনা) সমূহ থেকে এটি পরিলক্ষিত হয় যে, এগুলোতে চাক্ষুষ দর্শনের ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট পাঠ নেই। এগুলো হয় সাধারণভাবে দর্শনকে সাব্যস্ত করেছে, নতুবা একে অন্তরের দর্শনের সাথে শর্তযুক্ত করেছে, অথবা একে সম্পূর্ণরূপে নাকচ করেছে।
এজন্যই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন: "প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো মতবিরোধ নয়, কেননা ইবনে আব্বাস এ কথা বলেননি যে তিনি তাঁকে স্বচক্ষে দেখেছেন"
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
رأسه1"2.
وقال أيضًا: "وليس في الأدلة ما يقتضي أنه رآه بعينه، ولا ثبت ذلك عن أحد من الصحابة، ولا في الكتاب والسنة ما يدل على ذلك، بل النصوص الصحيحة على نفيه أدل، كما في صحيح مسلم عن أبي ذر قال: "سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم هل رأيت ربك: فقال: "نور أنى أراه"" 3.
وكذا جزم ابن كثير بأنه لم يصح أن أحدًا من الصحابة قال بالرؤية البصرية حيث قال: "وما روي في ذلك من إثبات الرؤية بالبصر فلا يصح من ذلك لا مرفوعًا، بل ولا موقوفًا، والله أعلم"4.
وقال أيضًا: "وفي رواية عنه - يعني ابن عباس - أطلق الرؤية، وهي محمولة على المقيدة بالفؤاد، ومن روى عنه بالبصر فقد أغرب، فإنه لا يصح في ذلك شيء عن الصحابة رضي الله عنهم"5.
ويجب الإشارة هنا إلى أنه يجب التفريق بين قضيتين، قضية الرؤية والكلام عليها، وقضية الآيات التي استدل بها ابن عباس على إثبات رؤية النبي صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
তাঁর মাথা১"২।
এবং তিনি আরও বলেন: "দলিলসমূহের মধ্যে এমন কিছু নেই যা দাবি করে যে তিনি তাঁকে নিজ চোখে দেখেছেন, আর সাহাবীদের কারো থেকেও এটি প্রমাণিত নয়। এমনকি কুরআন ও সুন্নাহতেও এমন কিছু নেই যা এর ওপর প্রমাণ বহন করে। বরং সহীহ নসসমূহ (দলিল) এটি অস্বীকার করার পক্ষেই অধিক নির্দেশক। যেমন সহীহ মুসলিমে আবু যার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি আপনার রবকে দেখেছেন? তিনি বললেন: (তিনি তো) নূর, আমি তাঁকে কীভাবে দেখব?'" ৩।
অনুরূপভাবে ইবনে কাসীরও দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, সাহাবীদের মধ্য থেকে কেউ চাক্ষুষ দর্শনের কথা বলেছেন বলে প্রমাণিত নয়, যেখানে তিনি বলেন: "চাক্ষুষ দর্শন সাব্যস্ত করার ব্যাপারে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা মারফু (রাসূল পর্যন্ত পৌঁছানো) হিসেবেও সহীহ নয়, এমনকি মাওকুফ (সাহাবী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ) হিসেবেও নয়। আল্লাহই ভালো জানেন"৪।
তিনি আরও বলেন: "তাঁর থেকে—অর্থাৎ ইবনে আব্বাস থেকে—একটি বর্ণনায় নিঃশর্তভাবে দেখার কথা এসেছে, যা হৃদয়ের দেখার সাথে শর্তযুক্ত হিসেবে গণ্য হবে। আর যারা তাঁর থেকে চক্ষু দ্বারা দেখার কথা বর্ণনা করেছেন, তারা এক অদ্ভুত কথা বলেছেন; কেননা সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের থেকে এ ব্যাপারে কোনো কিছুই সহীহভাবে প্রমাণিত নয়"৫।
এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি: দেখার বিষয়টি এবং এর ওপর আলোচনা, আর যে আয়াতগুলো দ্বারা ইবনে আব্বাস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখার বিষয়টি সাব্যস্ত করার জন্য দলিল পেশ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
لربه، بينما استدلت بها عائشة وغيرها على أنها تتعلق برؤية جبريل.
قال ابن القيم: "وأما قول ابن عباس أنه رآه بفؤاده مرتين فإن كان استناده إلى قوله تعالى: {مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى} ثم قال {وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى} والظاهر أنه مستنده فقد صح عنه صلى الله عليه وسلم أن هذا المرئي جبريل رآه مرتين في صورته التي خلق عليها1"2.
وعلى العموم فإن الكلام على تفسير الآيات ليس هذا مجاله3 وسيأتي الحديث عنه.
--------------------------------------------
তাঁর রবের ক্ষেত্রে, পক্ষান্তরে আয়েশা এবং অন্যরা এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, এটি জিবরাঈলকে দেখার সাথে সংশ্লিষ্ট।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "আর ইবনে আব্বাসের কথা যে, তিনি তাঁকে তাঁর অন্তরে দুইবার দেখেছেন, তবে যদি তাঁর দলিল হয় মহান আল্লাহর বাণী: {অন্তর যা দেখেছে তা মিথ্যা বলেনি} অতঃপর আল্লাহর বাণী {আর অবশ্যই তিনি তাঁকে আরও একবার অবতীর্ণ হতে দেখেছেন} এবং প্রকাশ্যত এটিই তাঁর দলিল, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই দৃশ্যমান সত্তাটি ছিলেন জিবরাঈল, যাঁকে তিনি তাঁর সৃষ্টিগত আকৃতিতে দুইবার দেখেছেন ১" ২।
সাধারণভাবে বলতে গেলে, আয়াতসমূহের তাফসীর নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র এটি নয় ৩ এবং এ সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المطلب الثاني: أقوال التابعين وتابعي التابعينلو نظرنا في أقوال التابعين وتابعي التابعين لوجدناها لم تخرج عن أقوال الصحابة السابق ذكرها إلا أنه لم يرد عن أحد منهم نفي الرؤية مطلقًا اللهم إلا من توقف في المسألة وإليك أقوالهم:
القول الأول: من أثبت الرؤية مطلقا
1 - قول كعب الأحبار:
عن عبد الله بن الحارث بن نوفل قال: قال لي كعب: "إن الله عز وجل قسَّم رؤيته وكلامه بين موسى ومحمد صلى الله عليه وسلم فكلَّمه موسى مرتين ورآه محمد مرتين"1.
2 - قول عكرمة (106 هـ)
أ - عن عيسى بن عبيد وسالم مولى معاوية قالا: "سمعنا عكرمة، وسئل: هل رأى محمد ربه؟. قال: "نعم، قد رأى ربَّه"2.
ب - عن عباد بن منصور قال: سألت عكرمة عن قوله {مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى} [النجم 11] ، قال: "أتريد أن أقول لك: قد رآه. نعم قد رآه، ثم قد رآه، ثم
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাবিঈ এবং তাবি-তাবিঈগণের বক্তব্যআমরা যদি তাবিঈ ও তাবি-তাবিঈগণের বক্তব্যের দিকে লক্ষ্য করি, তবে দেখতে পাব যে সেগুলো পূর্বে উল্লিখিত সাহাবীগণের বক্তব্যের বাইরে নয়। তবে তাঁদের মধ্য থেকে কারো পক্ষেই মহান আল্লাহর দর্শন লাভের বিষয়টি ঢালাওভাবে অস্বীকার করার প্রমাণ পাওয়া যায় না; অবশ্য যারা এই বিষয়ে নিশ্চুপ থেকেছেন তারা ব্যতীত। নিচে তাঁদের বক্তব্যসমূহ তুলে ধরা হলো:
প্রথম অভিমত: যারা নিঃশর্তভাবে মহান আল্লাহর দর্শন লাভকে সাব্যস্ত করেছেন
১ - কাব আল-আহবারের বক্তব্য:
আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে নাওফাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কাব আমাকে বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর দর্শন এবং কথা বলাকে মুসা ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন। ফলে মুসা আল্লাহর সাথে দুইবার কথা বলেছেন এবং মুহাম্মাদ দুইবার তাঁকে দেখেছেন।"১।
২ - ইকরিমা (১০৬ হি.)-এর বক্তব্য
ক - ঈসা ইবনে উবাইদ এবং মুয়াবিয়ার মুক্তদাস সালিম থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন: "আমরা ইকরিমাকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: মুহাম্মাদ কি তাঁর রবকে দেখেছিলেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তিনি অবশ্যই তাঁর রবকে দেখেছিলেন"২।
খ - আব্বাদ ইবনে মানসুর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইকরিমাকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম: {অন্তর যা দেখেছে তা অস্বীকার করেনি} [আন-নাজম: ১১]। তিনি বললেন: "তুমি কি চাও আমি তোমাকে বলি যে তিনি তাঁকে দেখেছিলেন? হ্যাঁ, তিনি অবশ্যই তাঁকে দেখেছিলেন, তারপর অবশ্যই তাঁকে দেখেছিলেন, তারপর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ২০)
قد رآه، حتى ينقطع النفس"1.
3 - قول الحسن البصري (110هـ)
وعن المبارك بن فضالة قال: "كان الحسن يحلف ثلاثة لقد رأى محمد ربه"2.
4 - قول الزهري (125 هـ)
الإمام الزهري ممن نسب إليه القول بأن النبي صلى الله عليه وسلم رأى ربه ليلة المعراج كما ذكر ذلك ابن حجر3.
5 - قول معمر (154 هـ)
روى ابن خزيمة في التوحيد أن عبد الرزاق قال بعد أن روى حديث مسروق مع عائشة: "فذكرت هذا الحديث لمعمر، فقال: ما عائشة عندنا بأعلم من ابن عباس"4.
6 - قول إبراهيم بن طهمان (168 هـ)
قال حفص بن عبد الله سمعت إبراهيم بن طهمان يقول: "والله الذي لا
--------------------------------------------
"তিনি তাঁকে দেখেছেন, এমনকি তাঁর নিঃশ্বাস শেষ হওয়া পর্যন্ত।"১
৩ - হাসান বসরী (১১০ হি.)-এর বক্তব্য
মুবারক বিন ফাযালা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "হাসান তিনবার কসম করে বলতেন যে, মুহাম্মদ তাঁর রবকে দেখেছেন।"২
৪ - যুহরী (১২৫ হি.)-এর বক্তব্য
ইমাম যুহরী তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের দিকে এই বক্তব্যটি সম্বন্ধযুক্ত করা হয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিরাজের রাতে তাঁর রবকে দেখেছেন, যেমনটি ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন।৩
৫ - মা'মার (১৫৪ হি.)-এর বক্তব্য
ইবনে খুযায়মাহ 'আত-তাওহীদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুর রাজ্জাক আয়িশা (রা.)-এর সাথে মাসরূকের হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন: "আমি এই হাদীসটি মা'মারের কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন: আমাদের নিকট আয়িশা ইবনে আব্বাস অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী নন।"৪
৬ - ইবরাহীম বিন তাহমান (১৬৮ হি.)-এর বক্তব্য
হাফছ বিন আব্দুল্লাহ বলেন, আমি ইবরাহীম বিন তাহমানকে বলতে শুনেছি: "সেই আল্লাহর কসম যিনি ছাড়া কোনো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ২১)
إله إلا هو لقد رأى محمد ربه"1.
القول الثاني: من قيدها بالرؤية القلبية
1 - قول كعب الأحبار
عن عبد الله بن الحارث بن نوفل قال: "اجتمع ابن عباس وكعب، فقال ابن عباس: إنا بنو هاشم نزعم أو نقول إن محمدًا رأى ربه مرتين. قال: فكبر كعب حتى جاوبته الجبال ثم قال (أي كعب) : إن الله قسَّم رؤيته وكلامه بين محمد وموسى صلى الله عليهم وسلم فرآه محمد بقلبه وكلمه موسى"2.
2 - قول مجاهد بن جبر (104 هـ)
عن ابن أبي نجيح عن مجاهد في قوله تعالى: {إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى} [النجم 16] قال: "كان أغصان السدرة من لؤلؤ وياقوت وزبرجد، فرآه محمد صلى الله عليه وسلم بقلبه ورأى ربه"3.
3 - قول أبي العالية رفيع بن مهران (93 هـ)
عن أبي العالية في قوله: {مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى} ، قال: "محمدٌ رآه بفؤاده ولم يره بعينه"4.
--------------------------------------------
তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই মুহাম্মদ তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন।"১.
দ্বিতীয় মত: যারা একে অন্তরের দর্শনের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন
১ - কাব আল-আহবারের বক্তব্য
আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে নাওফাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ইবনে আব্বাস ও কাব একত্রিত হলেন। ইবনে আব্বাস বললেন: আমরা বনু হাশিম দাবি করি বা বলি যে, মুহাম্মদ তাঁর প্রতিপালককে দুইবার দেখেছেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: তখন কাব তাকবীর ধ্বনি দিলেন, এমনকি পাহাড়গুলো তার প্রতিধ্বনি করল। অতঃপর তিনি (কাব) বললেন: আল্লাহ তাঁর দর্শন ও তাঁর কথা বলাকে মুহাম্মদ এবং মূসা (তাঁদের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন। মুহাম্মদ তাঁকে তাঁর অন্তর দিয়ে দেখেছেন এবং মূসা তাঁর সাথে কথা বলেছেন।"২.
২ - মুজাহিদ ইবনে জাবর (১০৪ হি.)-এর বক্তব্য
ইবনে আবি নাজিহ থেকে বর্ণিত, মুজাহিদ মহান আল্লাহর বাণী: {যখন কুলবৃক্ষটিকে আচ্ছন্ন করেছিল যা আচ্ছন্ন করার} [আন-নাজম ১৬] সম্পর্কে বলেছেন: "কুলবৃক্ষের শাখাগুলো ছিল মুক্তা, ইয়াকুত এবং যবরজদ পাথরের। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে তাঁর অন্তর দিয়ে দেখেছেন এবং তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন।"৩.
৩ - আবুল আলিয়া রফী ইবনে মিহরান (৯৩ হি.)-এর বক্তব্য
আবুল আলিয়া মহান আল্লাহর বাণী: {অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে} সম্পর্কে বলেন: "মুহাম্মদ তাঁকে তাঁর অন্তর দিয়ে দেখেছেন এবং তাঁকে তাঁর চোখ দিয়ে দেখেননি।"৪.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ২২)
4 - قول أبي صالح مولى أم هانئ (بعد المائة)
عن أبي صالح في قوله {مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى} ، قال: "رآه مرتين بفؤاده"1.
5 - قول الربيع بن أنس (140 هـ)
عن أبي جعفر عن الربيع بن أنس في قوله {مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ} : "فلم يكذبه" {مَا رَأَى} قال: "رأى ربَّه" وفي رواية قال: "رأى محمدٌ ربَّه بفؤاده"2.
القول الثالث: من رجح التوقف في المسألة
6 - قول سعيد بن جبير (95 هـ)
عن سعيد بن جبير قال: "لا أقول رآه ولا لم يره"3.
--------------------------------------------
4 - উম্মে হানির মুক্তদাস আবু সালিহ-এর উক্তি (একশত হিজরীর পর)
আবু সালিহ থেকে আল্লাহর বাণী {অন্তর যা দেখেছে তা অস্বীকার করেনি} প্রসঙ্গে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তিনি তাঁর অন্তর দিয়ে তাঁকে দুইবার দেখেছেন।"১
5 - রবী বিন আনাস-এর উক্তি (১৪০ হি.)
আবু জাফর থেকে রবী বিন আনাস সম্পর্কে আল্লাহর বাণী {অন্তর মিথ্যা বলেনি} প্রসঙ্গে বর্ণিত: "সে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেনি"; আর {যা দেখেছে} সম্পর্কে তিনি বলেন: "তিনি তাঁর রবকে দেখেছেন।" অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন: "মুহাম্মাদ তাঁর অন্তর দিয়ে তাঁর রবকে দেখেছেন।"২
তৃতীয় মত: যারা এই বিষয়ে নীরব থাকাকে (তাওয়াক্কুফ) প্রাধান্য দিয়েছেন
6 - সাঈদ বিন জুবাইর-এর উক্তি (৯৫ হি.)
সাঈদ বিন জুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি বলি না যে তিনি তাঁকে দেখেছেন, আর এটিও বলি না যে তিনি তাঁকে দেখেননি।"৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المطلب الثالث: أقوال العلماء في المسألة.
بعد استعراض أقوال الصحابة والتابعين وتابعيهم نعرض لأقوال من بعدهم في المسألة وهي خمسة أقوال:
القول الأول: من أثبت الرؤية مطلقا.
وهو رواية عن الإمام أحمد، وقول ابن خزيمة، والآجري، والألوسي.
1 - قول الإمام أحمد (241هـ)
حكى أبو يعلى في كتابه الروايتين والوجهين اختلاف الروايات عن الإمام أحمد في مسألة رؤية النبي صلى الله عليه وسلم لربه على ثلاث روايات أحدها أنه رآه مطلقا1.
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: "وكذلك الإمام أحمد تارة يطلق الرؤية، وتارة يقول: "رآه بفؤاده""2.
وقال ابن كثير: "وممن أطلق الرؤية أبو هريرة وأحمد بن حنبل رضي الله عنهما"3.
2 - قول ابن خزيمة (311هـ)
الإمام ابن خزيمة نصر في كتابه التوحيد القول بأن النبي صلى الله عليه وسلم رأى ربه ليلة
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য.
সাহাবী, তাবিঈ এবং তাবি-তাবিঈগণের বক্তব্য পর্যালোচনার পর, আমরা এই বিষয়ে তাঁদের পরবর্তী আলেমদের বক্তব্য উপস্থাপন করছি, যা পাঁচটি মত:
প্রথম মত: যারা নিঃশর্তভাবে দর্শন সাব্যস্ত করেছেন।
এটি ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা এবং ইবনে খুযাইমাহ, আজুররী ও আলূসীর বক্তব্য।
১ - ইমাম আহমাদের (২৪১ হিজরী) বক্তব্য
আবু ইয়ালা তাঁর 'আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন' গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর রবকে দেখার বিষয়ে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত মতভেদগুলো তিনটি বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, যার একটি হলো তিনি তাঁকে নিঃশর্তভাবে দেখেছেন।১
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: "অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদ কখনো দেখার কথা নিঃশর্তভাবে উল্লেখ করেছেন, আবার কখনো বলেছেন: 'তিনি তাঁকে তাঁর অন্তঃকরণ দিয়ে দেখেছেন'।"২
ইবনে কাসীর বলেন: "যারা দেখার বিষয়টি নিঃশর্তভাবে ব্যক্ত করেছেন তাঁদের মধ্যে আবু হুরায়রা এবং আহমাদ বিন হাম্বল রাদিয়াল্লাহু আনহুমা রয়েছেন।"৩
২ - ইবনে খুযাইমাহর (৩১১ হিজরী) বক্তব্য
ইমাম ইবনে খুযাইমাহ তাঁর তাওহীদ গ্রন্থে এই মতটিকে সমর্থন করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মেরাজের) রাতে তাঁর রবকে দেখেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المعراج، وأطال في سرد الحجج على ذلك1.
ولكن ابن كثير رحمه الله نسب إليه بأنه يقول بالرؤية البصرية كما سيأتي ذكر قوله.
3 - قول الإمام الآجري (360 هـ)
بوب الإمام الآجري في كتابه الشريعة باباً بعنوان "باب ذكر ما خصَّ الله عز وجل النبي صلى الله عليه وسلم من الرؤية لربه عز وجل".
ثم ساق مجموعة من الأحاديث والأثار التي تدل على أنه ينصر القول بأنه صلى الله عليه وسلم رأى ربه عز وجل ليلة المعراج2.
4 - قول الألوسي
قال الألوسي في تفسيره: "وأنا أقول برؤيته صلى الله عليه وسلم ربَّه سبحانه وبدنوه على الوجه اللائق".
ونسبه إلى معظم الصوفية فقال: "ومعظم الصوفية على هذا، فيقولون بدنو الله عز وجل من النبي صلى الله عليه وسلم، ودنوه - سبحانه - على الوجه اللائق، وكذا يقولون بالرؤية كذلك"3.
القول الثاني: من قيد الرؤية بالعين
نسب القول بتقييد الرؤية بالعين إلى بعض العلماء، ومن بينهم بعض الصحابة والتابعين، وفي نسبة ذلك إلى بعضهم نظر، وممن نسب لهم القول
--------------------------------------------
মিরাজ, এবং তিনি এ বিষয়ে দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন ১।
কিন্তু ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রতি চাক্ষুষ দর্শনের মতটি সম্বন্ধ করেছেন, যেমনটি সামনে তাঁর বক্তব্যের বর্ণনায় আসবে।
৩ - ইমাম আজুররির (৩৬০ হি.) বক্তব্য
ইমাম আজুররি তাঁর 'আশ-শরীয়াহ' গ্রন্থে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যার শিরোনাম হলো: "মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর মহান রবকে দেখার যে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, তার বর্ণনা"।
এরপর তিনি একগুচ্ছ হাদিস ও আসার (সাহাবী ও তাবেয়ীদের বর্ণনা) উল্লেখ করেছেন যা প্রমাণ করে যে, তিনি এই মতটি সমর্থন করেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিরাজের রাতে তাঁর মহান রবকে দেখেছিলেন ২।
৪ - আলুসীর বক্তব্য
আলূসী তাঁর তাফসীরে বলেছেন: "আর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তাঁর মহান রবকে দর্শন এবং যথোপযুক্ত পন্থায় তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার প্রবক্তা।"
এবং তিনি একে অধিকাংশ সূফীদের দিকে সম্বন্ধ করে বলেছেন: "অধিকাংশ সূফী এই মতের ওপর রয়েছেন; তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি মহান আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া এবং যথোপযুক্ত পন্থায় তাঁর—সুবহানাহু—নিকটবর্তী হওয়ার কথা বলেন। একইভাবে তাঁরা দেখার বিষয়টিতেও অনুরূপ বলেন" ৩।
দ্বিতীয় মত: যারা দেখাকে চোখের দেখার সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন
দেখাকে চোখের দেখার সাথে সীমাবদ্ধ করার অভিমতটি কিছু আলেমের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে কয়েকজন সাহাবী এবং তাবেয়ী রয়েছেন। তবে তাঁদের কারো কারো দিকে এটি সম্বন্ধ করার বিষয়টি পর্যালোচনার অবকাশ রাখে। আর যাঁদের দিকে এই অভিমতটি সম্বন্ধ করা হয়েছে তাঁরা হলেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بذلك: ابن عباس، وأنس بن مالك، والحسن البصري، وعكرمة، ورواية عن الإمام أحمد، وابن خزيمة، وابن جرير، وأبو الحسن الأشعري وعامة أتباعه، وأبو عبد الله بن حامد وأبو بكر النجاد والقاضي أبو يعلى، وعبد القادر الجيلاني، وجماعة من المتأخرين.
فقد نسب البغوي هذا القول إلى ابن عباس فقال في تفسيره: "وعن ابن عباس أنه قال رأى ربه بعينه"1.
وقد سبق الرد على ذلك عند عرض أقوال الصحابة، وأن هذا التقييد بالعين لم يثبت عن ابن عباس.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "سمع بعض الناس مطلق كلام ابن عباس ففهم منه رؤية العين"2.
وقال البغوي أيضًا:"وذهب جماعة إلى أنه رآه بعينه وهو قول أنس والحسن وعكرمة"3.
وبالنسبة لما نسبه البغوي إلى أنس وعكرمة من تقييد الرؤية بالعين فإن الروايات السابق ذكرها عنهما جاءت مطلقة، وكذا ما أوردناه عن الحسن البصري فإن الرواية جاءت مطلقة، وقد سبق كذلك الإشارة إلى ما ورد في تفسير البغوي عن الحسن البصري أنه قال: "رآه بعينه" ولكن البغوي لم يسندها فلا يعدل عن الرواية التي سبق إيرادها عن الحسن من إطلاق الرؤية وعدم تقييدها بالعين، والله أعلم.
--------------------------------------------
এটি পোষণ করেছেন: ইবনে আব্বাস, আনাস বিন মালিক, হাসান আল-বাসরী, ইকরিমাহ, এবং ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা, ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে জারীর, আবুল হাসান আল-আশআরি ও তাঁর অনুসারীবৃন্দ, আবু আব্দুল্লাহ বিন হামিদ, আবু বকর আল-নাজ্জাদ, কাযী আবু ইয়ালা, আব্দুল কাদির জিলানী এবং পরবর্তী আলিমদের একটি দল।
ইমাম বাগাভী এই বক্তব্যটি ইবনে আব্বাসের দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং তাঁর তাফসীরে বলেছেন: "ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন তিনি (নবী) তাঁর রবকে চর্মচক্ষে দেখেছেন"১।
সাহাবীদের মতসমূহ বর্ণনার সময় ইতিপূর্বে এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, চর্মচক্ষুর এই সীমাবদ্ধ করার বিষয়টি ইবনে আব্বাস থেকে প্রমাণিত নয়।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: "কিছু মানুষ ইবনে আব্বাসের সাধারণ বক্তব্য শুনেছেন এবং তা থেকে চর্মচক্ষে দেখার অর্থ বুঝেছেন"২।
বাগাভী আরও বলেছেন: "একটি দল এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে তিনি তাঁকে চর্মচক্ষে দেখেছেন এবং এটি আনাস, হাসান ও ইকরিমাহর বক্তব্য"৩।
আর বাগাভী আনাস ও ইকরিমাহর দিকে চর্মচক্ষে দেখার যে বিষয়টি সম্বন্ধ করেছেন, তাদের থেকে ইতিপূর্বে বর্ণিত বর্ণনাগুলো সাধারণভাবে এসেছে। একইভাবে হাসান আল-বাসরী থেকে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার বর্ণনাও সাধারণভাবে এসেছে। হাসান আল-বাশরীর পক্ষ থেকে বাগাভীর তাফসীরে যা এসেছে যে তিনি বলেছেন: "তিনি তাঁকে চর্মচক্ষে দেখেছেন", ইতিপূর্বে সেদিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে বাগাভী এর কোনো সনদ উল্লেখ করেননি, তাই হাসান থেকে ইতিপূর্বে বর্ণিত সেই বর্ণনার বিপরীত কিছু গ্রহণ করা সমীচীন হবে না যেখানে দেখার বিষয়টি সাধারণভাবে এসেছে এবং চর্মচক্ষুর কোনো সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা হয়নি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال ابن كثير: "وقول البغوي في تفسيره: وذهب جماعة إلى أنه رآه بعينه وهو قول أنس والحسن وعكرمة، فيه نظر والله أعلم"1.
وقال ابن كثير: "ورأى، أي: النبي صلى الله عليه وسلم ربه عز وجل ببصره على قول بعضهم، وهو اختيار الإمام أبي بكر بن خزيمة من أهل الحديث، وتبعه في ذلك جماعة من المتأخرين"2.
وقال أيضًا: "وصرح بعضهم بالرؤية بالعينين، واختاره ابن جرير، وبالغ فيه، وتبعه على ذلك آخرون من المتأخرين، وممن نص على الرؤية بعيني رأسه الشيخ أبو الحسن الأشعري فيما نقله السهيلي عنه، واختاره الشيخ أبو زكريا النووي في فتاويه"3.
وحمل القاضي أبو يعلى في كتابه الروايتين والوجهين4 وفي إبطال
التأويلات5 الرواية التي عن الإمام أحمد بأنها نص على الرؤية بالعين، فقال في كتاب الروايتين: "فظاهر هذا أنه أثبت رؤيا عين" وقال في إبطال التأويلات: "والرواية الأولى أصح، وأنه رآه في تلك الليلة بعينيه".
وقد اعترض شيخ الإسلام على هذا التوجيه من القاضي فقال: "وكذلك الإمام أحمد تارة يطلق الرؤية، وتارة يقول: "رآه بفؤاده"، ولم يقل أحد: أنه سمع أحمد يقول رآه بعينه، لكن طائفة من أصحابه سمعوا
--------------------------------------------
ইবনে কাসীর বলেন: "তার তাফসীরে বগভীর এই উক্তি: 'একটি দল এই মত পোষণ করেছেন যে, তিনি তাঁকে স্বচক্ষে দেখেছেন এবং এটি আনাস, হাসান ও ইকরিমার মত', এটি পর্যালোচনার দাবি রাখে এবং আল্লাহই ভালো জানেন"১।
ইবনে কাসীর আরও বলেন: "এবং তিনি দেখেছেন, অর্থাৎ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিতকে তাঁর দৃষ্টিশক্তি দিয়ে দেখেছেন—কারো কারো মতে, আর এটি আহলে হাদীসের ইমাম আবু বকর বিন খুযায়মার মনোনীত মত এবং পরবর্তীদের একটি দল এ বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেছেন"২।
তিনি আরও বলেন: "কেউ কেউ দুই চোখে দেখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে জারীর এটি পছন্দ করেছেন ও এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন, আর পরবর্তীদের মধ্য থেকে অন্যরা তাঁর অনুসরণ করেছেন। আর যারা নিজ মাথার দুই চোখে দেখার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে শায়খ আবুল হাসান আল-আশআরী অন্যতম, যা সুহাইলী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং শায়খ আবু যাকারিয়া আন-নববী তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে এটি পছন্দ করেছেন"৩।
আর কাজী আবু ইয়ালা তাঁর 'আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাঈন' গ্রন্থে এবং 'ইবতালুত তাবীলাত' গ্রন্থে ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত বর্ণনাটিকে চোখ দিয়ে দেখার ওপর স্পষ্ট ভাষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি 'আর-রিওয়ায়াতাইন' গ্রন্থে বলেছেন: "এর প্রকাশ্য অর্থ হলো তিনি চাক্ষুষ দর্শন সাব্যস্ত করেছেন।" আর 'ইবতালুত তাবীলাত' গ্রন্থে তিনি বলেছেন: "প্রথম বর্ণনাটিই অধিক বিশুদ্ধ, আর তা হলো তিনি সেই রাতে তাঁকে নিজের দুই চোখ দিয়ে দেখেছেন।"
শায়খুল ইসলাম কাজীর এই ব্যাখ্যার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে বলেছেন: "অনুরূপভাবে ইমাম আহমদ কখনো দেখার কথা সাধারণভাবে বলতেন, আবার কখনো বলতেন: 'তিনি তাঁকে তাঁর অন্তর দিয়ে দেখেছেন', আর কেউ এমন কথা বলেনি যে সে আহমদকে বলতে শুনেছে যে তিনি তাঁকে তাঁর চোখ দিয়ে দেখেছেন, তবে তাঁর সাথীদের একটি দল শুনেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بعض كلامه المطلق، ففهموا منه رؤية العين، كما سمع بعض الناس مطلق كلام ابن عباس ففهم منه رؤية العين.
وليس في الأدلة ما يقتضي أنه رآه بعينه، ولا ثبت ذلك عن أحد من الصحابة، ولا في الكتاب والسنة ما يدل على ذلك، بل النصوص الصحيحة على نفيه أدل، كما في صحيح مسلم عن أبي ذر قال: "سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم هل رأيت ربك: فقال: "نور أنى آراه"" 1.
وقال فيما نقله عنه تلميذه ابن القيم: "قال شيخ الإسلام ابن تيمية -قدس الله روحه-: وليس قول ابن عباس إنه رآه مناقضا لهذا ولا قوله رآه بفؤاده وقد صح عنه أنه قال: "رأيت ربي تبارك وتعالى"2 ولكن لم يكن هذا في الإسراء ولكن كان في المدينة لما احتبس عنهم في صلاة الصبح ثم أخبرهم عن رؤية ربه تبارك وتعالى تلك الليلة في منامه، وعلى هذا بنى الإمام أحمد -رحمه الله تعالى- وقال: نعم رآه حقا فإن رؤيا الأنبياء حق ولابد، ولكن لم يقل أحمد -رحمه الله تعالى- إنه رآه بعيني رأسه يقظة، ومن حكى عنه ذلك فقد وهم عليه، ولكن قال: مرة رآه، ومرة قال: رآه بفؤاده، فحكيت عنه روايتان، وحكيت عنه الثالثة من تصرف بعض أصحابه أنه رآه بعيني رأسه، وهذه نصوص أحمد موجودة ليس فيها ذلك"3.
وكذلك اعترض ابن القيم على توجيه القاضي أبي يعلى -أيضا- فقال: "وقد جعلها القاضي مختلفة، وجعل المسألة على ثلاث روايات، ثم احتج للرواية
--------------------------------------------
তাঁর কিছু নিঃশর্ত বক্তব্য, যা থেকে তাঁরা চাক্ষুষ দর্শন বুঝেছেন, যেমনটি কিছু লোক ইবনে আব্বাসের নিঃশর্ত কথা শুনে চাক্ষুষ দর্শন বুঝেছিলেন।
দলীলসমূহের মধ্যে এমন কিছু নেই যা দাবি করে যে তিনি তাঁকে চাক্ষুষ দেখেছিলেন, আর কোনো সাহাবী থেকেও এটি সাব্যস্ত হয়নি। এমনকি কুরআন ও সুন্নাহতেও এমন কিছু নেই যা এর ওপর দলীলাদি প্রদান করে। বরং সহীহ নসসমূহ এটি অস্বীকার করার পক্ষেই অধিক শক্তিশালী প্রমাণ পেশ করে, যেমনটি সহীহ মুসলিমে আবু যার থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি আপনার রবকে দেখেছেন? তিনি বললেন: 'তিনি নূর, আমি তাঁকে কীভাবে দেখব?'" ১।
তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি বলেছেন: "শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—বলেছেন: ইবনে আব্বাসের কথা যে 'তিনি তাঁকে দেখেছেন' এটি এর সাথে সাংঘর্ষিক নয়, এবং তাঁর এই কথা যে 'তিনি তাঁকে তাঁর অন্তঃকরণ দিয়ে দেখেছেন' এটিও সাংঘর্ষিক নয়। তাঁর থেকে এটি সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: 'আমি আমার বরকতময় ও সুউচ্চ রবকে দেখেছি' ২। তবে এটি ইসরার রাতে ছিল না, বরং এটি মদিনায় ছিল যখন তিনি ফজরের সালাতে আসতে বিলম্ব করেছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁদেরকে সেই রাতে স্বপ্নে তাঁর রবকে দেখার কথা জানিয়েছিলেন। এর ওপর ভিত্তি করেই ইমাম আহমাদ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—বলেছেন: হ্যাঁ, তিনি তাঁকে প্রকৃতপক্ষে দেখেছেন, কারণ নবীদের স্বপ্ন সত্য এবং তা অবশ্যই বাস্তব। কিন্তু ইমাম আহমাদ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—বলেননি যে তিনি জাগ্রত অবস্থায় চাক্ষুষভাবে মাথার দুই চোখ দিয়ে তাঁকে দেখেছেন। আর যারা তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছে তারা তাঁর প্রতি ভুলারোপ করেছে। বরং তিনি কখনো বলেছেন: তিনি তাঁকে দেখেছেন, আবার কখনো বলেছেন: তিনি তাঁকে তাঁর অন্তঃকরণ দিয়ে দেখেছেন। ফলে তাঁর থেকে দুটি বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে। আর তাঁর কিছু অনুসারীর ব্যাখ্যার কারণে তৃতীয় একটি বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে যে তিনি চাক্ষুষভাবে মাথার দুই চোখ দিয়ে দেখেছেন; অথচ আহমাদের এই বক্তব্যগুলো বিদ্যমান রয়েছে যাতে এমন কিছুই নেই" ৩।
একইভাবে ইবনুল কাইয়্যিম কাজী আবু ইয়া’লার ব্যাখ্যারও বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: "কাজী সেগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন সাব্যস্ত করেছেন এবং বিষয়টিকে তিনটি বর্ণনায় বিভক্ত করেছেন, অতঃপর তিনি সেই বর্ণনার পক্ষে দলীল পেশ করেছেন"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الأولى بحديث أم الطفيل، وحديث عبد الرحمن بن عائش الحضرمي ولا دلالة فيهما، لأنها رؤية منام فقط، واحتج لها بما لا يرضى أحمد أن يحتج به، وهو حديث لا يصح عن أبي عبيدة بن الجراح مرفوعا: "لما كانت ليلة أسري بي رأيت ربي في أحسن صورة، فقال: فيما يختصم الملأ الأعلى؟ " 1 وذكر الحديث وهذا غلط قطعًا فإنما القصة كانت بالمدينة، كما قال معاذ بن جبل: "احتبس عنا رسول الله صلى الله عليه وسلم في صلاة الصبح حتى كدنا نترآى عين الشمس، ثم خرج وصلى بنا ثم قال: "رأيت ربي البارحة في أحسن صورة فقال: يا محمد: فيما يختصم الملأ الأعلى؟ " 2 وذكر الحديث فهذا كان بالمدينة والإسراء بمكة وليس عن الإمام أحمد، ولا عن النبي صلى الله عليه وسلم نص أنه رآه بعينه يقظة، وإنما حمل القاضي كلام أحمد ما لا يحتمله، واحتج لما فهم منه بما لا يدل عليه، وكلام أحمد يصدق بعضه بعضا، والمسألة رواية واحدة عنه فإنه لم يقل بعينه، وإنما قال: رآه. واتبع في ذلك قول ابن عباس: رأى محمد ربه. ولفظ الحديث "رأيت ربي" وهو مطلق وقد جاء بيانه في الحديث الآخر.
ولكن في رد الإمام أحمد قول عائشة ومعارضته بقول النبي صلى الله عليه وسلم إشعار بأنه أثبت الرؤية التي أنكرتها عائشة، وهي لم تنكر رؤية المنام، ولم تقل من زعم أن محمدًا رأى ربه في المنام فقد أعظم على الله الفرية، وهذا يدل على أحد أمرين: إما أن يكون الإمام أحمد أنكر قول من أطلق نفي الرؤية؛ إذ هو مخالفة للحديث وإما أن يكون رواية عنه بإثبات الرؤية، وقد صرح بأنه رآه رؤيا حلم بقلبه، وهذا
--------------------------------------------
প্রথমত, উম্মে তুফাইল-এর হাদিস এবং আবদুর রহমান ইবনে আইশ আল-হাদরামি-এর হাদিস; তবে এই দুটিতে (জাগ্রত অবস্থায় দেখার) কোনো প্রমাণ নেই, কারণ এটি কেবল স্বপ্নে দেখার বিষয়। আর এর সপক্ষে এমন কিছু দিয়ে দলিল দেওয়া হয়েছে যা দিয়ে দলিল পেশ করা ইমাম আহমাদ পছন্দ করতেন না। সেটি হলো এমন একটি হাদিস যা আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ থেকে মারফু হিসেবে সহিহ নয়: "যখন আমাকে ইসরা করানো হলো, তখন আমি আমার রবকে অতি সুন্দর আকৃতিতে দেখলাম। এরপর তিনি বললেন: উচ্চতম সভার ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে?" ১ এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। আর এটি নিশ্চিতভাবে ভুল; কেননা এই ঘটনাটি ছিল মদিনায়, যেমন মুয়াজ ইবনে জাবাল বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে আমাদের কাছে আসতে দেরি করলেন, এমনকি আমরা সূর্যের উদয় দেখার উপক্রম হলাম। এরপর তিনি বের হলেন এবং আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, তারপর বললেন: 'গত রাতে আমি আমার রবকে অতি সুন্দর আকৃতিতে দেখেছি। এরপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ, উচ্চতম সভার ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে?'" ২ এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। সুতরাং এটি ছিল মদিনায়, আর ইসরা হয়েছিল মক্কায়। আর ইমাম আহমাদ থেকে বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই যে তিনি তাঁকে জাগ্রত অবস্থায় চাক্ষুষভাবে দেখেছিলেন। বরং কাজী (আবু ইয়ালা) ইমাম আহমাদের কথাকে এমন অর্থের দিকে নিয়ে গেছেন যা তা বহন করে না এবং তিনি যা বুঝেছেন তার সপক্ষে এমন দলিল দিয়েছেন যা সেটির দিকে নির্দেশ করে না। অথচ ইমাম আহমাদের কথা একটি অপরটিকে সমর্থন করে। আর তাঁর থেকে বর্ণিত মাসআলাটি মূলত একটিই রেওয়ায়াত, কারণ তিনি 'চাক্ষুষভাবে' বলেননি, বরং বলেছেন: 'তিনি তাঁকে দেখেছেন'। আর এক্ষেত্রে তিনি ইবনে আব্বাস-এর কথা অনুসরণ করেছেন: 'মুহাম্মাদ তাঁর রবকে দেখেছেন'। আর হাদিসের শব্দ হলো 'আমি আমার রবকে দেখেছি', যা নিঃশর্ত; আর অন্য হাদিসে এর ব্যাখ্যা এসেছে।
কিন্তু ইমাম আহমাদের আয়েশা-র বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মাধ্যমে তার বিরোধিতা করা এই ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি সেই দেখাকে সাব্যস্ত করেছেন যা আয়েশা অস্বীকার করেছিলেন। অথচ আয়েশা স্বপ্নে দেখাকে অস্বীকার করেননি এবং তিনি এ কথা বলেননি যে, 'যে ব্যক্তি দাবি করে যে মুহাম্মাদ তাঁর রবকে স্বপ্নে দেখেছেন, সে আল্লাহর ওপর বড় অপবাদ আরোপ করল'। আর এটি দুটি বিষয়ের কোনো একটিকে নির্দেশ করে: হয় ইমাম আহমাদ এমন ব্যক্তির কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন যে ঢালাওভাবে দেখাকে অস্বীকার করে; কারণ এটি হাদিসের পরিপন্থী। অথবা এটি তাঁর পক্ষ থেকে দেখা সাব্যস্ত করার একটি বর্ণনা হতে পারে; আর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি তাঁকে অন্তরের মাধ্যমে স্বপ্নে দেখেছেন, এবং এটি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تقييد منه للرؤية، وأطلق عنه بأنه رآه، وأنكر قول من نفى مطلق الرؤية، واستحسن قول من قال رآه ولا يقول بعينه ولا بقلبه. وهذه النصوص عنه متفقة لا مختلفة وكيف يقول أحمد: "بعيني رأسه يقظة" ولم يجد ذلك في حديث قط، فأحمد إنما اتبع ألفاظ الحديث كما جاءت، وإنكاره قول من قال: لم يره أصلا لا يدل على إثبات رؤية اليقظة بعينه والله أعلم)) 1.
قول الأشعري (324هـ) وعامة أتباعه:
ممن نسب هذا القول إلى أبي الحسن الأشعري وأكثر أتباعه القاضي عياض، والقرطبي في تفسيره، والنووي وابن كثير وابن حجر2.
قال القاضي عياض: "وقال أبو الحسن علي بن إسماعيل الأشعري رضي الله عنه وجماعة من أصحابه: أنه رأى الله -تعالى- ببصره وعيني رأسه، وقال: كلُّ آية أوتيها نبيٌّ من الأنبياء عليهم السلام فقد أوتي مثلها نبيُّنا، وخُصَّ من بينهم بتفضيل الرُّؤية".
وهذا ما ذكره شارح جوهرة التوحيد -وهو من الأشاعرة- في شرحه فقال: "والراجح عند أكثر العلماء أنه صلى الله عليه وسلم رأى ربه سبحانه وتعالى بعيني رأسه وهما في محلهما، خلافا لمن قال: حولا إلى قلبه لحديث ابن عباس وغيره"3.
قول أبي بكر النجاد أحمد بن سليمان (348 هـ)
حكى القاضي أبو علي بن أبي موسى عن أبي بكر النجاد قال: "رآى
--------------------------------------------
এটি তাঁর পক্ষ থেকে দেখার বিষয়টি সীমিতকরণ, আর তাঁর থেকে সাধারণভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি তাঁকে দেখেছেন। তিনি নিরঙ্কুশভাবে দর্শন অস্বীকারকারীদের মতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সেই ব্যক্তির মতকে পছন্দ করেছেন যে বলেছে, তিনি তাঁকে দেখেছেন, তবে 'চক্ষু দিয়ে' বা 'অন্তর দিয়ে' এমন কোনোটি নির্দিষ্ট করেননি। তাঁর থেকে বর্ণিত এই বর্ণনাগুলো সুসংগত, পরস্পরবিরোধী নয়। আর আহমদ কীভাবে বলবেন: "জাগ্রত অবস্থায় নিজের চর্মচক্ষু দিয়ে দেখেছেন", অথচ তিনি কোনো হাদিসেই তা পাননি? মূলত আহমদ হাদিসের শব্দগুলো যেভাবে এসেছে ঠিক সেভাবেই অনুসরণ করেছেন। আর যারা বলে 'তিনি তাঁকে মোটেও দেখেননি' তাদের কথার ওপর তাঁর অস্বীকৃতি জানানো এই কথা প্রমাণ করে না যে, তিনি জাগ্রত অবস্থায় চর্মচক্ষু দিয়ে দেখার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন। 1.
আশআরি (৩২৪ হি.) এবং তাঁর সাধারণ অনুসারীদের বক্তব্য:
যারা এই মতটি আবুল হাসান আল-আশআরি এবং তাঁর অধিকাংশ অনুসারীদের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন কাজী ইয়াজ, তাঁর তাফসিরে কুরতুবী, নববী, ইবনে কাসীর এবং ইবনে হাজার। 2.
কাজী ইয়াজ বলেন: "আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং তাঁর একদল সাথী বলেছেন: তিনি মহান আল্লাহকে তাঁর দৃষ্টিশক্তি ও চর্মচক্ষু দিয়ে দেখেছেন। তিনি আরও বলেছেন: নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) মধ্য থেকে কোনো নবীকে যে নিদর্শনই দেওয়া হয়েছে, আমাদের নবীকেও তার অনুরূপ দেওয়া হয়েছে, আর তাদের মধ্যে তাঁকে দর্শনের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে বিশেষভাবে ভূষিত করা হয়েছে।"
জাওহারাতুত তাওহীদের ব্যাখ্যাকার—যিনি একজন আশআরি—তাঁর ব্যাখ্যায় এটিই উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "অধিকাংশ আলেমের নিকট অধিকতর সঠিক মত হলো যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে তাঁর চর্মচক্ষু দিয়েই দেখেছেন এবং চোখ দুটি নিজ স্থানেই ছিল। এটি তাদের মতের বিপরীত যারা বলে যে, (চোখ দুটি) অন্তরে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল; ইবনে আব্বাস ও অন্যদের বর্ণিত হাদিসের কারণে।" 3.
আবু বকর আন-নাজ্জাদ আহমদ ইবনে সুলাইমানের (৩৪৮ হি.) বক্তব্য:
কাজী আবু আলী ইবনে আবি মুসা আবু বকর আন-নাজ্জাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "তিনি দেখেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
محمد ربه إحدى عشرة مرة، منها بالسنة تسع مرات في ليلة المعراج، حين كان يتردد بين موسى وبين الله عز وجل يسأل أن يخفف عن أمته الصلاة فنقص خمسة وأربعين صلاة في تسع مقامات ومرتين بالكتاب"1.
قول أبي عبد الله الحسن بن حامد (403 هـ)
نقل أبو يعلى في كتابه الروايتين والوجهين أن اختيار شيخه أبي عبد الله ابن حامد أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى ربه ليلة الإسراء بعينه2.
وقال القاضي أبو يعلى -بعد أن أورد الرواية الأولى عن الإمام أحمد- بأنه صلى الله عليه وسلم رأى ربه ليلة المعراج بعينه، وجعلها هي الصحيحة قال: "وهذه الرواية اختيار أبي بكر النجاد"3.
قول القاضي أبي يعلى محمد بن الحسين الفراء (458 هـ)
رجح القول بالرؤية البصرية فقال -في معرض ذكره للروايات الواردة عن الإمام أحمد-: "والرواية الأولى أصح، وأنه رآه في تلك الليلة بعينه"4.
وقال: "وما رويناه عن ابن عباس أولى مما روي عن عائشة؛ لأن قول ابن عباس يطابق قول النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أثبت رؤيته في تلك الليلة؛ ولأنه مثبت والمثبت مقدم على النافي، ولا يجوز أن يثبت ابن عباس ذلك إلا عن توقيف؛ إذ لا مجال للقياس في ذلك"5.
--------------------------------------------
মুহাম্মদ তাঁর রবকে এগারো বার দেখেছেন, তার মধ্যে সুন্নাহ অনুযায়ী মি’রাজের রাতে নয় বার, যখন তিনি মূসা এবং মহান আল্লাহর মাঝে আসা-যাওয়া করছিলেন এবং তাঁর উম্মতের জন্য সালাত হালকা করার প্রার্থনা করছিলেন, ফলে নয়টি অবস্থানে পয়তাল্লিশটি সালাত কমানো হয়েছিল, আর দুই বার কিতাবের বর্ণনায়।১
আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান ইবনে হামিদের (৪০৩ হিজরি) বক্তব্য
আবু ইয়ালা তাঁর ‘আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর উস্তাদ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে হামিদের মনোনীত মত হলো এই যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইসরার রাতে সচক্ষে তাঁর রবকে দেখেছিলেন।২
এবং কাযী আবু ইয়ালা—ইমাম আহমাদ থেকে প্রথম বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর—বলেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মি’রাজের রাতে সচক্ষে তাঁর রবকে দেখেছিলেন, এবং তিনি এটিকে সঠিক বলে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: "আর এই বর্ণনাটি আবু বকর আন-নাজ্জাদের মনোনীত মত।"৩
কাযী আবু ইয়ালা মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-ফাররার (৪৫৮ হিজরি) বক্তব্য
তিনি চাক্ষুষ দর্শনের মতটিকে প্রাধান্য দিয়ে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো উল্লেখ করার সময় বলেছেন: "প্রথম বর্ণনাটিই অধিক বিশুদ্ধ, আর তা হলো তিনি সেই রাতে সচক্ষে তাঁকে দেখেছিলেন।"৪
এবং তিনি বলেছেন: "ইবনে আব্বাস থেকে আমরা যা বর্ণনা করেছি তা আয়েশা থেকে বর্ণিত বর্ণনার চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য; কারণ ইবনে আব্বাসের কথা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই রাতে তাঁর দেখার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন; আর এটি যেহেতু ইতিবাচক সাব্যস্তকরণ, আর ইতিবাচক সাব্যস্তকারী নেতিবাচক অস্বীকারকারীর চেয়ে অগ্রগণ্য। আর ইবনে আব্বাসের পক্ষে এটি ওহী বা সরাসরি বর্ণনা ব্যতীত সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়; কারণ এই ক্ষেত্রে কিয়াস বা অনুমানের কোনো স্থান নেই।"৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قول عبد القادر الجيلاني (471 هـ)
وهذا القول قال به أيضًا - عبد القادر - الجيلاني في كتابه الغنية، حيث قال: "ونؤمن بأن النبي صلى الله عليه وسلم رأى ربه عز وجل ليلة الإسراء بعيني رأسه لا بفؤاده ولا في المنام"1.
قول النووي (676 هـ)
قال الإمام النووي رحمه الله في شرحه على صحيح مسلم: "فالحاصل أن الراجح عند أكثر العلماء أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى ربه بعيني رأسه ليلة الإسراء لحديث ابن عباس وغيره مما تقدم، وإثبات هذا لا يأخذونه إلا بالسماع من رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا مما لا ينبغي أن يتشكك فيه ثم عائشة رضي الله عنها لم تنف الرؤية بحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولو كان معها فيه حديث لذكرته، وإنما اعتمدت الاستنباط من الآيات"2.
قول الحافظ مغلطاي (762 هـ)
قال رحمه الله: "والصحيح أن الإسراء كان يقظة بجسده، وأنه مرات متعددة، وأنه رأى ربه عز وجل بعيني رأسه صلى الله عليه وعلى آله
وصحبه وسلم"3.
قول السيوطي (911 هـ)
قال السيوطي في الديباج على صحيح مسلم بن الحجاج4: "الراجح عند أكثر
--------------------------------------------
আব্দুল কাদির জিলানী (৪৭১ হি.) এর উক্তি
এবং এই মতটি আব্দুল কাদির জিলানীও তাঁর আল-গুনিয়া গ্রন্থে ব্যক্ত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "এবং আমরা ঈমান রাখি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসরার রাতে তাঁর প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লাকে তাঁর মাথার দুই চোখ দিয়ে দেখেছিলেন, অন্তর দিয়ে নয় এবং স্বপ্নেও নয়"১।
ইমাম নববীর (৬৭৬ হি.) উক্তি
ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ সহীহ মুসলিমের ওপর তাঁর শরহ-এ বলেছেন: "সারকথা হলো, অধিকাংশ আলিমের নিকট সঠিক মত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনে আব্বাস (রা.) ও পূর্বে বর্ণিত অন্যান্য হাদিসের ভিত্তিতে ইসরার রাতে তাঁর প্রতিপালককে তাঁর মাথার দুই চোখ দিয়ে দেখেছিলেন। আর এটি এমন একটি বিষয় যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রবণের মাধ্যমেই কেবল সাব্যস্ত করা হয়, এ ব্যাপারে কোনো সংশয় পোষণ করা উচিত নয়। এরপর আয়েশা (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো হাদিসের মাধ্যমে এই দেখাকে অস্বীকার করেননি; যদি তাঁর নিকট এ বিষয়ে কোনো হাদিস থাকত তবে তিনি অবশ্যই তা উল্লেখ করতেন। বরং তিনি কেবল আয়াতের ব্যাখ্যা থেকে নির্গত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেছিলেন"২।
হাফিজ মুঘলতাইয়ের (৭৬২ হি.) উক্তি
তিনি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "সঠিক মত হলো ইসরা সজাগ অবস্থায় সশরীরে হয়েছিল, এবং এটি একাধিকবার হয়েছিল, আর তিনি তাঁর প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লাকে তাঁর মাথার দুই চোখ দিয়ে দেখেছিলেন, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক"৩।
আল-সুয়ূতীর (৯১১ হি.) উক্তি
আল-সুয়ূতী সহীহ মুসলিম বিন হাজ্জাজের ওপর রচিত আদ-দীবাজ গ্রন্থে বলেছেন৪: "অধিকাংশের নিকট অগ্রগণ্য মত হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
العلماء أنه صلى الله عليه وسلم رأى ربَّه بعيني رأسه ليلة الإسراء لحديث ابن عباس وغيره، وإثبات هذا لا يكون إلا بالسماع من رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولم تعتمد عائشة في نفي الرؤية على حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما اعتمدت على الاستنباط من الآيات".
قول القسطلاني (923 هـ)
قال رحمه الله: "
… ثم عرج به من المسجد الأقصى إلى فوق سبع سموات ورأى ربه بعيني رأسه وأوحى إليه ما أوحى"1.
قول محمد بن أحمد الصاوي (1241 هـ)
قال في حاشيته على تفسير الجلالين: "...... واختلف في تلك الرؤية، فقيل: رآه بعينه حقيقة، وهو قول جمهور الصحابة والتابعين منهم ابن عباس، وأنس ابن مالك، والحسن، وغيرهم،
… وقيل: لم يره بعينه وهو قول عائشة رضي الله عنها، والصحيح الأول؛ لأن المثبت مقدم على النافي؛ أو لأن عائشة لم يبلغها حديث الرؤية لكونها كانت حديثة السن2"3.
القول الثالث: من قيدها بالرؤية القلبية
قول الإمام أحمد (241هـ)
ذكر أبو يعلى في الروايتين والوجهين أن للإمام أحمد رواية أخرى أثبت فيها أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى ربه بقلبه كما جاء ذلك في بعض الروايات عن ابن عباس4.
--------------------------------------------
আলিমগণ মনে করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনে আব্বাস ও অন্যদের বর্ণিত হাদিসের ভিত্তিতে ইসরা-র রাতে তাঁর রবকে চর্মচক্ষু দ্বারা দেখেছেন। আর এই বিষয়টি সাব্যস্ত করা কেবল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে শোনার মাধ্যমেই সম্ভব। আয়েশা (রা.) দেখার বিষয়টি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো হাদিসের ওপর নির্ভর করেননি, বরং তিনি কেবল আয়াতের গবেষণালব্ধ অর্থ বা ইস্তিনবাতের ওপর নির্ভর করেছেন।
কাসতালানি (৯২৩ হি.)-এর বক্তব্য
তিনি (রহ.) বলেন: "
… অতপর তাঁকে মসজিদুল আকসা থেকে সাত আসমানের উপরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তিনি তাঁর রবকে চর্মচক্ষু দ্বারা দেখেন এবং আল্লাহ তাঁর প্রতি যা ওহি করার তা ওহি করেন।"১
মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সাউয়ি (১২৪১ হি.)-এর বক্তব্য
তিনি তাফসিরে জালালাইনের ওপর তাঁর টীকায় বলেন: "...... আর সেই দেখার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: তিনি তাঁকে প্রকৃতপক্ষে চর্মচক্ষু দ্বারা দেখেছেন; এটি ইবনে আব্বাস, আনাস বিন মালিক, হাসান ও অন্যান্য সাহাবা ও তাবেয়িদের জমহুর বা সংখ্যাগুরু অংশের অভিমত।
… এবং বলা হয়েছে: তিনি তাঁকে চর্মচক্ষু দ্বারা দেখেননি, যা আয়েশা (রা.)-এর অভিমত। তবে প্রথমটিই সঠিক; কারণ ইতিবাচক বর্ণনাকারী নেতিবাচক বর্ণনাকারীর ওপর অগ্রগণ্য; অথবা আয়েশা (রা.)-এর কাছে দেখার বিষয়টি সম্পর্কিত হাদিস পৌঁছেনি, কারণ তিনি তখন অল্পবয়স্কা ছিলেন২"৩
তৃতীয় মত: যারা দেখার বিষয়টিকে অন্তরের দেখার সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন
ইমাম আহমদ (২৪১ হি.)-এর বক্তব্য
আবু ইয়ালা 'আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল-ওয়াজহাইন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমদের আরেকটি বর্ণনা রয়েছে যাতে তিনি সাব্যস্ত করেছেন যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রবকে অন্তর দিয়ে দেখেছেন, যেমনটি ইবনে আব্বাসের কিছু বর্ণনায় এসেছে৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রুইয়াতুন নবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা লি রাব্বিহি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية "وكذلك الإمام أحمد تارة يطلق الرؤية، وتارة يقول: "رآه بفؤاده""1.
قول القرطبي المفسر. (671 هـ)
قال في تفسير قوله تعالى {مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى} : "أي لم يكذب قلب محمد صلى الله عليه وسلم ليلة المعراج، وذلك أن الله – تعالى - جعل بصره في فؤاده حتى رأى ربه تعالى وجعل الله تلك رؤية"2.
قول أبي المظفر السمعاني (489هـ)
قال أبو المظفر السمعاني في تفسيره: "وقد ثبت عن ابن عباس أنه قال رأى محمد ربه بفؤاده فإن قال قائل: المؤمنون يرونه بفؤادهم، وليس ذلك إلا العلم به فما معنى تخصيص النبي صلى الله عليه وسلم؟.
والجواب أنهم قالوا: إن الله – تعالى - خلق رؤية لفؤاده فرأى بفؤاده مثل ما يرى الإنسان بعينه"3.
قول شيخ الإسلام ابن تيمية (728هـ)
قال رحمه الله في مجموع الفتاوى: "وأما الرؤية، فالذي ثبت في الصحيح عن ابن عباس أنه قال: "رأى محمد ربه بفؤاده مرتين" وعائشة أنكرت الرؤية. فمن الناس من جمع بينهما فقال: عائشة أنكرت رؤية العين وابن عباس أثبت رؤية الفؤاد. والألفاظ الثابثة عن ابن عباس هي مطلقة، أو مقيدة بالفؤاد، تارة يقول: "رأى محمد ربه"، وتارة يقول: "رآه محمد"،
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন, "তেমনিভাবে ইমাম আহমাদ কখনো (আল্লাহকে) দেখার কথা সাধারণভাবে ব্যক্ত করেছেন, আবার কখনো বলেছেন: 'তিনি তাঁকে তাঁর অন্তর দিয়ে দেখেছেন'।"১
মুফাসসির আল-কুরতুবীর (৬৭১ হি.) উক্তি।
মহান আল্লাহর বাণী {যা তিনি দেখেছেন অন্তর তা অস্বীকার করেনি} এর তাফসীরে তিনি বলেছেন: "অর্থাৎ মিরাজের রাতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তর মিথ্যা বলেনি। আর তা এজন্য যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর দৃষ্টিশক্তিকে তাঁর অন্তরে স্থাপন করেছিলেন, ফলে তিনি তাঁর রব তাআলাকে দেখতে পান এবং আল্লাহ সেটিকে দর্শনে পরিণত করেন।"২
আবু মুজাফ্ফার আস-সামআনী-র (৪৮৯ হি.) উক্তি।
আবু মুজাফ্ফার আস-সামআনী তাঁর তাফসীরে বলেছেন: "ইবনে আব্বাস থেকে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, মুহাম্মদ তাঁর রবকে তাঁর অন্তর দিয়ে দেখেছেন। যদি কেউ প্রশ্ন করে: মুমিনগণ তো তাঁদের অন্তর দিয়েই তাঁকে দেখেন, আর তা তো কেবল তাঁর প্রতি জ্ঞান রাখা ছাড়া আর কিছু নয়, তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট করার অর্থ কী?।
উত্তর হলো তারা বলেছেন: আল্লাহ তাআলা তাঁর অন্তরের জন্য একটি দর্শন সৃষ্টি করেছিলেন, ফলে তিনি তাঁর অন্তর দিয়ে সেভাবেই দেখেছিলেন যেভাবে মানুষ তার চোখ দিয়ে দেখে থাকে।"৩
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-র (৭২৮ হি.) উক্তি।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) মাজমুউল ফাতাওয়া-তে বলেছেন: "আর দেখার ব্যাপারে যা সহীহ সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে সাব্যস্ত হয়েছে তা হলো, তিনি বলেছেন: 'মুহাম্মদ তাঁর রবকে তাঁর অন্তর দিয়ে দুইবার দেখেছেন'। অন্যদিকে আয়েশা দেখার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাই মানুষের মধ্যে কেউ কেউ উভয়ের বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয় করেছেন এবং বলেছেন: আয়েশা চাক্ষুষ দর্শন অস্বীকার করেছেন এবং ইবনে আব্বাস অন্তরের দর্শন সাব্যস্ত করেছেন। আর ইবনে আব্বাস থেকে সাব্যস্ত শব্দগুলো কখনো নিঃশর্তভাবে এসেছে, আবার কখনো অন্তরের সাথে শর্তযুক্ত হয়ে এসেছে। কখনো তিনি বলেন: 'মুহাম্মদ তাঁর রবকে দেখেছেন', আবার কখনো বলেন: 'মুহাম্মদ তাঁকে দেখেছেন'।"
--------------------------------------------