(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: -)
أضواء على القرآن الكريم (بلاغته وإعجازه) القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: أضواء على القرآن الكريم (بلاغته وإعجازه)
المؤلف: عبد الفتاح محمد محمد سلامة
الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة
الطبعة: السنة الثانية عشر - العدد السادس والأربعون - ربيع الآخر- جمادى الأولى - جمادى الثانية، 1400هـ
عدد الصفحات: 103
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
পবিত্র কুরআনের ওপর আলোকপাত (এর অলঙ্কারশাস্ত্র ও অলৌকিকত্ব) বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ ও তাফসীরের মূলনীতি
বই: পবিত্র কুরআনের ওপর আলোকপাত (এর অলঙ্কারশাস্ত্র ও অলৌকিকত্ব)
লেখক: আব্দুল ফাত্তাহ মুহাম্মদ মুহাম্মদ সালামাহ
প্রকাশক: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: দ্বাদশ বর্ষ - ৪৬তম সংখ্যা - রবিউস সানি- জুমাদাল উলা - জুমাদাস সানি, ১৪০০ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
أَضواء على القرآن الكريم (بلاغته وإعجازه)
دكتور عبد الفتاح محمد سلامة الأستاذ المساعد في كلية الشريعة
القرآن ومعناهالقرآن علم على ذلك الكتاب الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيل من حكيم حميد، وهو: "كلام الله المنزل على سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم للتعبد بتلاوته"
… فمعانيه وصياغته من عند الله
… وهو المدوّن في المصحف والمبدوء بسورة الفاتحة والمختوم بسورة الناس
… {إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} 1.
وللقرآن أسماء متعددة منها: الكتاب، والفرقان، والذكر
…وكلمة قرآن معناها: الجمع والتأليف فقوله تعالى: {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ} 2 أي تأليفه، وسمى ما بين دفتي المصحف: قرأنا؛ لأنه جمع السور وضم بعضها إلى بعض، أومعناها: القراءة، فتقول: قرأت قراءة حسنة، وقرآنا حسنا، فقوله تعالى: {أَقِمِ الصَّلاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُوداً} 3
… أي قراءة الفجر، يعني صلاة الفجر وسمي قرآنا: لأن القراءة عنه، والتلاوة منه4 وقد تكرر لفظ القرآن ومشتقاته في المصحف الشريف سبعين مرة، كقوله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ تَنْزِيلاً} 5.
وأسماء القرآن عديدة تدل على شرفه وفضيلته، كما أن أسماء الله تدل على جلاله وعظمته.
وقد ذكر الفخر الرازي للقرآن اثنين وثلاثين اسما6.
وجعل الفيروز آبادي للقرآن مائة اسم7.
--------------------------------------------
আল-কুরআনের ওপর আলোকপাত (এর আলঙ্কারিক সৌন্দর্য ও অলৌকিকত্ব)
ড. আবদ আল-ফাত্তাহ মুহাম্মদ সালামা, শরীয়াহ অনুষদের সহকারী অধ্যাপক
কুরআন ও এর অর্থকুরআন হলো সেই কিতাবের নাম, যার নিকট কোনো অসত্য আসতে পারে না—সামন থেকে কিংবা পেছন থেকে, যা মহা প্রজ্ঞাময় ও চির প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (تنزيل)। আর তা হলো: "আল্লাহর কালাম, যা আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর তেলাওয়াতের (تلاوة) মাধ্যমে ইবাদত করার উদ্দেশ্যে"
… এর অর্থসমূহ এবং শব্দ বিন্যাস আল্লাহর পক্ষ থেকেই
… এটি মুসহাফে (المصحف) লিপিবদ্ধ, যা সূরা আল-ফাতিহা দিয়ে শুরু এবং সূরা আন-নাস দিয়ে শেষ হয়েছে
… {নিশ্চয়ই এটি ওহি (وحي), যা প্রত্যাদেশ করা হয়} ১।
কুরআনের একাধিক নাম রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আল-কিতাব, আল-ফুরকান এবং আজ-জিকির
…'কুরআন' শব্দের অর্থ হলো: একত্রীকরণ ও বিন্যস্তকরণ। মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ (قرآن) আমাদেরই দায়িত্ব} ২ অর্থাৎ এর বিন্যস্তকরণ। আর মুসহাফের (المصحف) দুই মলাটের মধ্যবর্তী বিষয়বস্তুকে 'কুরআন' নামকরণ করা হয়েছে; কারণ এটি বিভিন্ন সূরাকে একত্রিত করেছে এবং একটিকে অন্যটির সাথে সংযুক্ত করেছে। অথবা এর অর্থ হলো: পাঠ (قراءة)। যেমন আপনি বলতে পারেন: আমি সুন্দর পাঠ করেছি (قراءة حسنة), এবং সুন্দর পাঠ (قرآنا حسنا)। মহান আল্লাহর বাণী: {সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করুন এবং ফজরের পাঠ (قراءة) নিশ্চিত করুন; নিশ্চয়ই ফজরের পাঠ (قراءة) উপস্থিতির সময়} ৩
… অর্থাৎ ফজরের কিরাত বা পাঠ (قراءة), যার উদ্দেশ্য হলো ফজরের নামাজ। একে 'কুরআন' বলা হয়েছে কারণ এর মাধ্যমেই কিরাত বা পাঠ (قراءة) এবং তেলাওয়াত (تلاوة) সম্পন্ন হয় ৪। পবিত্র মুসহাফে (المصحف) 'কুরআন' শব্দটি এবং এর বুৎপত্তিগত রূপগুলো সত্তরবার এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট পর্যায়ক্রমে কুরআন অবতীর্ণ (تنزيل) করেছি} ৫।
কুরআনের অসংখ্য নাম রয়েছে যা এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার প্রমাণ দেয়, ঠিক যেমন আল্লাহর নামসমূহ তাঁর প্রতাপ ও মহিমা প্রকাশ করে।
ফখরুদ্দীন আল-রাজি কুরআনের জন্য বত্রিশটি নামের কথা উল্লেখ করেছেন ৬।
আল-ফিরোজাবাদি কুরআনের জন্য একশটি নাম নির্ধারণ করেছেন ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৯০)
وأشهر أسماء القرآن أربعة:
الذكر: لأن الله ذكر به عباده، وعرفهم فيه فرائضه وحدوده
… قال تعالى: {وَهَذَا ذِكْرٌ مُبَارَكٌ أَنْزَلْنَاهُ} 1.
الفرقان: لأنه فرق بين الحق والباطل
… {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيراً} 2.
الكتاب: لأن الله كتب أحكامه وتكاليفه على عباده، أي أوجبها عليهم، قال تعالى: {وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَك} 3.
والقرآن: أي البيان ومنه
… {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} 4 أي بيناه، لأن فيه بيانا للناس، فيما يحتاجون إليه في أمور دينهم.
والسورة معناها: الإبانة بأن الكلام مفصول عما قبله، وسميت في القرآن سورة، لشرفها وارتفاع قدرها، تماما كما يقال لما ارتفع من الأرض سور، أو لأنه يبنى قطعة قطعة، ويقال أيضا للدرجة الرفيعة من المجد والملك سورة، كقول النابغة الذبياني للنعمان بن المنذر:
ألم تر أن الله أْعطاك سورة
… ترى كل ملك دونها يتذبذب
والآية: جماعة الحروف وهو من قولهم: خرج القوم بآيتهم أي بجماعتهم
… أو بمعنى العلامة؛ لأن الآية علامة للفصل بين ما قبلها وما بعدها، ومنه قوله تعالى: {إِنَّ آيَةَ مُلْكِهِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ التَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌ مِنْ رَبِّكُم} 5.
والحكمة في تقطيع القرآن سورا، والسور آيات معدودات، أن تكون كل سورة وكل آية وحدة مستقلة، وكيانا أصيلا، وقرآنا معتبرا، وفي تحديد السورة تأكيد لكونه معجزة وآية من آيات الله جل ثناؤه.
ومن السور ما يطول حتى يبلغ 286 آية كسورة البقرة.
ومنها ما يقصر حتى لا يزيد على ثلاث آيات كسورة الكوثر، ليدل على أن الطول ليس شرط الإعجاز، كما أن القصر لا يخرج السورة عن الإعجاز، بل إن سورة الكوثر رغم قصرها معجزة إعجاز سورة البقرة على طولها
…يقول الزمخشري: "إن الفائدة في تقطيع القرآن سورا وآيات أن القارئ إذا ختم السورة وانتهى من آياتها كان ذلك أنشط له وأبعث على الجد والتحصيل منه لو استمر على الكتاب بطوله، كما أن الحافظ إذا حذف السورة اعتقد أنه أخذ من كتاب الله طائفة مستقلة فيعظم عنده ما حذفه"6.
--------------------------------------------
কুরআনের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ নাম চারটি:
যিকর (الذكر): কারণ এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপদেশ দিয়েছেন এবং এতে তিনি তাদের জন্য তাঁর নির্ধারিত আবশ্যিক বিধান (فرائض) ও সীমারেখা (حدود) স্পষ্ট করেছেন
… মহান আল্লাহ বলেন: {আর এটি এক বরকতময় উপদেশ (যিকর), যা আমি অবতীর্ণ করেছি} ১।
আল-ফুরকান (الفرقان): কারণ এটি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য বিধান করেছে
… {পরম বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান (পার্থক্যকারী কিতাব) অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তা বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হয়} ২।
আল-কিতাব (الكتاب): কারণ আল্লাহ এর বিধান ও অর্পিত দায়িত্বসমূহ তাঁর বান্দাদের জন্য লিখে দিয়েছেন, অর্থাৎ তিনি সেগুলো তাদের ওপর অপরিহার্য করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং এটি একটি কিতাব (আল-কিতাব), যা আমি অবতীর্ণ করেছি, অত্যন্ত বরকতময়} ৩।
এবং আল-কুরআন (القرآن): অর্থাৎ বর্ণনা (البيان), আর এখান থেকেই
… {অতএব আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের (কুরআন) অনুসরণ করুন} ৪ অর্থাৎ আমি যখন তা বর্ণনা করি। কারণ এতে মানুষের দ্বীনি বিষয়ে যা কিছু প্রয়োজন তার বর্ণনা রয়েছে।
সূরা (السورة) শব্দের অর্থ হলো: এটি স্পষ্ট করা যে, এই কালাম বা বক্তব্য তার পূর্ববর্তী বক্তব্য থেকে পৃথক। কুরআনে একে সূরা বলা হয়েছে এর মর্যাদা ও উচ্চ সম্মানের কারণে, ঠিক যেমনটি মাটির উঁচুকে প্রাচীর (সূর) বলা হয়; অথবা এজন্য যে এটি খণ্ডে খণ্ডে নির্মিত। এছাড়া আভিজাত্য ও রাজত্বের সুউচ্চ মর্যাদা বুঝাতেও সূরা শব্দটি ব্যবহৃত হয়, যেমন নাবিগাহ আল-জুবইয়ানি নুমান ইবনে মুনযির সম্পর্কে বলেছেন:
আপনি কি দেখেননি যে আল্লাহ আপনাকে এমন সুউচ্চ মর্যাদা দান করেছেন
… যার কাছে প্রতিটি রাজা নিজেকে হীন ও অস্থির মনে করে
আয়াত (الآية): এটি বর্ণের সমষ্টি, যা তাদের এই উক্তি থেকে এসেছে: "কওম বা দলটি তাদের দলবল (আয়াত) সহ বের হয়েছে"
… অথবা এটি চিহ্নের (العلامة) অর্থে ব্যবহৃত; কারণ আয়াত হলো তার আগের ও পরের অংশের মধ্যে পার্থক্যের চিহ্ন। মহান আল্লাহর বাণীও এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত: {নিশ্চয়ই তাঁর রাজত্বের নিদর্শন (আয়াত) এই যে, তোমাদের কাছে সেই সিন্দুকটি আসবে, যার মধ্যে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে প্রশান্তি রয়েছে} ৫।
কুরআনকে বিভিন্ন সূরায় বিভক্ত করা এবং সূরাগুলোকে নির্দিষ্ট সংখ্যক আয়াতে বিন্যস্ত করার হিকমত বা রহস্য হলো—যাতে প্রতিটি সূরা ও প্রতিটি আয়াত একটি স্বতন্ত্র একক, মৌলিক সত্তা ও নির্ভরযোগ্য (معتبر) কুরআনের অংশে পরিণত হয়। আর সূরার এই সীমাবদ্ধকরণ এটি যে আল্লাহর মহান নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) ও আয়াত, তার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
সূরাগুলোর মধ্যে কোনটি দীর্ঘ হয়, এমনকি সূরা বাকারার মতো ২৮৬ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছে।
আবার কোনোটি সংক্ষেপিত হয়, যা সূরা কাউসারের মতো তিন আয়ারের বেশি হয় না; যাতে এটি প্রমাণিত হয় যে দৈর্ঘ্য অলৌকিকত্বের (إعجاز) শর্ত নয়। একইভাবে সংক্ষিপ্ত হওয়া কোনো সূরাকে অলৌকিকত্বের গণ্ডি থেকে বের করে দেয় না। বরং সূরা কাউসার সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তার অলৌকিকত্ব সূরা বাকারার দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও তার অলৌকিকত্বের মতোই
…যামাখশারী বলেন: "কুরআনকে সূরা ও আয়াতে বিভক্ত করার ফায়দা হলো, পাঠক যখন একটি সূরা শেষ করে এবং তার আয়াতগুলো সম্পন্ন করে, তখন এটি তার জন্য অধিক উৎসাহব্যঞ্জক হয় এবং পুরো কিতাবটি একটানা পড়ার চেয়ে অধিক প্রচেষ্টা ও জ্ঞান অর্জনে প্রেরণা জোগায়। তদ্রূপ হাফেয যখন একটি সূরা সম্পন্ন করে, তখন সে মনে করে যে সে আল্লাহর কিতাব থেকে একটি স্বতন্ত্র অংশ অর্জন করেছে, ফলে তার নিকট তার অর্জিত অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে" ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৯১)
والذي انعقد عليه إجماع الأمة، واتفق عليه المسلمون كافة أن عدد سور القرآن مائة وأربع عشرة سورة، وهي التي جمعها عثمان بن عفان رضي الله عنه، وكتب بها المصاحف، وبعث بكل مصحف إلى مدينة من مدن الإسلام.
ولا التفات إلى الرأي القائل بأن الأنفال وبراءة سورة واحدة، أو من جعل المعوذتين سورة واحدة.
وعدد السور التي نزلت بمكة خمس وثمانون سورة، وأول السور المكية: (العلق والقلم والمزمل والمدثر) .
أما السور التي نزلت بالمدينة فعددها ثمان وعشرون سورة، وأول ما نزل بالمدينة: البقرة والأنفال وآل عمران والأحزاب والممتحنة) .
أما الفاتحة فاختلفوا فيها: فقيل مكية وقيل مدنية.
وبذلك يكون مجموع عدد سور القرآن 114 سورة.
وعدد آيات القرآن 6236 آية.
وعدد كلمات القرآن 77439 كلمة.
وعدد حروف القرآن 323015 حرفا1.
--------------------------------------------
উম্মাহর ঐকমত্য (إجماع) যে বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সকল মুসলিম যে বিষয়ে একমত হয়েছেন তা হলো, কুরআনের সূরার সংখ্যা একশত চৌদ্দটি। আর এগুলোই উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সংকলন করেছিলেন, যা দ্বারা তিনি মাসহাফসমূহ (المصاحف) লিপিবদ্ধ করেছিলেন এবং প্রতিটি মাসহাফ (مصحف) ইসলামের প্রধান শহরগুলোর প্রত্যেকটিতে পাঠিয়েছিলেন।
আর সূরা আনফাল ও সূরা বারাআত (তওবা) একটি সূরা—এই মতামতের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করার অবকাশ নেই, কিংবা যারা মুআওবিযাতাইন (المعوذتين) কে একটি সূরা হিসেবে গণ্য করেছেন তাদের মতটিও গ্রহণযোগ্য নয়।
মক্কায় অবতীর্ণ সূরাগুলোর সংখ্যা পঁচাশিটি এবং মক্কী (المكية) সূরাগুলোর মধ্যে প্রথম দিককার হলো: (আলাক, কলম, মুযযাম্মিল ও মুদ্দাসসির)।
অন্যদিকে মাদিনায় অবতীর্ণ সূরাগুলোর সংখ্যা আটাশটি এবং মদিনায় সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: বাকারা, আনফাল, আল ইমরান, আহযাব ও মুমতাহিনা।
তবে সূরা ফাতিহার ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন; কেউ বলেছেন এটি মক্কী (مكية), আবার কেউ বলেছেন এটি মাদানী (مدنية)।
এভাবে কুরআনের মোট সূরার সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৪টি।
কুরআনের আয়াতের (آيات) সংখ্যা ৬২৩৬টি।
কুরআনের শব্দের সংখ্যা ৭৭৪৩৯টি।
কুরআনের অক্ষরের সংখ্যা ৩২৩০১৫টি।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৯১)
القرآن المعجزةالقرآن الكريم هو المعجزة الباقية الخالدة، التي نصبها رب العزة تبارك وجل في علاه، شاهدا حيا ناطقا، بصدق الرسول العظيم عليه الصلاة والسلام، ولق تحدى الله العالم كله إنسا وجنا، فما ثبتوا لهذا التحدي، بل أظهروا عجزا صارخا، وعيا بليدا، وفهاهة فاضحة
… وقد سجل الله عليهم نكوصهم عن مجاراة القرآن ومسايرته في آفاقه العالية
… حيث قال تعالى:
{قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً} 2.
ومعاني القرآن على الرغم أنه نزل منجما إلا أنها تلاقت مقدماتها بنتائجها ومهدت أولاها لأخراها، ولن تجد في معاني القرآن ما تجده في غيره من كلام البشر من المعاني الساقطة أو التافهة، بل كل معانيه سامية قوية، آيات وسورا اشتملت على أمور الدين والدنيا، وانتظمت سعادة الأولى والآخرة، ونزلت هدى ونورا للبشرية كلها، فضت على الأوهام الباطلة، والأساطير الكاذبة، والعبادات الضالة والأديان المنحرفة، ونقلت الإنسانية الحائرة من عصر تسوده الفوضى وتذيع فيه مبادئ الطغيان والعبودية، إلى حياة فيها رضى وأمن وسلام.
إن هذا القرآن قبس من الهدى والنور نزل به جبريل من السماء إلى الأرض على سيد الخلق وأشرف الرسل محمد بن عبد الله صلوات الله عليه، فبلغه الناس، وأذاع
أخلاقياته ومثالياته في كل
--------------------------------------------
অলৌকিক কুরআনপবিত্র কুরআন হলো এক চিরস্থায়ী ও অবিনশ্বর অলৌকিকত্ব, যা মহান প্রতিপালক তাঁর সুউচ্চ মহিমায় স্থাপন করেছেন। এটি মহান রাসূল (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-এর সত্যতার এক জীবন্ত ও মুখর সাক্ষী। আল্লাহ সমগ্র বিশ্বকে—মানুষ ও জিন—চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, কিন্তু তারা এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় টিকে থাকতে পারেনি; বরং তারা চরম অক্ষমতা, স্থবির জড়তা এবং প্রকাশ্য বাকশক্তির অসারতা প্রদর্শন করেছে
… আল্লাহ তাদের এই পিছুটান এবং কুরআনের সুউচ্চ দিগন্তের সমকক্ষ হতে না পারার ব্যর্থতা লিপিবদ্ধ করেছেন
… যেখানে তিনি তায়ালা বলেছেন:
{বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়} ২।
কুরআনের অর্থসমূহ—যদিও তা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয়েছে—তথাপি এর সূচনা ও সমাপ্তির মধ্যে পূর্ণ সামঞ্জস্য রয়েছে এবং এর প্রথম অংশ পরবর্তী অংশের জন্য পথ প্রশস্ত করেছে। আপনি কুরআনের অর্থসমূহের মধ্যে মানুষের কথাবার্তায় প্রাপ্ত কোনো অসার বা তুচ্ছ বিষয় খুঁজে পাবেন না; বরং এর প্রতিটি অর্থই সুউচ্চ ও বলিষ্ঠ। এর আয়াত ও সূরাসমূহ দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় বিষয়াবলিকে বেষ্টন করে আছে এবং পরকালীন ও ইহকালীন সৌভাগ্যের সমন্বয় ঘটিয়েছে। এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য পথনির্দেশ ও আলো হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে, যা বাতিল ধারণা, মিথ্যা উপকথা, ভ্রান্ত ইবাদত এবং বিচ্যুত ধর্মসমূহকে বিলুপ্ত করেছে। এটি দিশেহারা মানবতাকে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ এবং জুলুম ও দাসত্বের নীতি বিস্তৃত ছিল এমন এক যুগ থেকে সন্তুষ্টি, নিরাপত্তা ও শান্তির জীবনের দিকে ধাবিত করেছে।
নিশ্চয়ই এই কুরআন হলো হিদায়াত ও নূরের একটি প্রদীপ, যা জিবরাঈল আসমান থেকে জমিনে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং রাসূলদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)-এর নিকট নিয়ে এসেছিলেন। এরপর তিনি তা মানুষের নিকট পৌঁছে দেন এবং এর নৈতিকতা ও আদর্শসমূহ সর্বত্র প্রচার করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৯২)
مكان وبذلك نشرت صفحات جديدة مشرقة ناضرة في تاريخ الإنسانية، وكان لها من وراء ذلك ميلاد حضارة جديدة.
إنه ألفاظ إذا اشتدت فأمواج البحار الزاخرة، وإذا هي لانت فأنفاس الحياة الآخرة، تذكر الدنيا فمنها عمادها ونظامها، وتصف الآخرة فمنها جنتها وضرامها، ومتى وعدت من كرم الله جعلت الثغور تضحك في وجه الغيوب، وإن أوعدت بعذاب الله جعلت الألسنة ترعد من حمى القلوب.
ومعانٍ بَيْنا هي عذوبة ترويك من ماء البيان، ورقة تستروح منها نسيم الجنان، ونور تبصر به في مرآة الإيمان وجه الأمان، بينا هي تمثل للمذنب حقيقة الإنسانية حتى يظن أنه صنف آخر من الإنسان، إذ هي بعد ذلك إطباق السحاب انهارت قواعده والتمعت ناره وقصفت في الجو رواعده، وإذ هي السماء وقد أخذت على الأرض ذنبها، واستأذنت في صدمة الفزع ربها، فكادت ترجف الراجفة، تتبعها الرادفة: وإنما هي زجرة واحدة، فإذا الخلق طعام الفناء وإذا الأرض مائدة
…1.
ولقد كانت للرسول العظيم عليه الصلاة والسلام معجزات كثيرة تدل على صدقه، وأنه مرسل من قبل الله تعالى، فالمعجزة مختصة بالنبي دائما، وتقترن بالتحدي، ومن ثم لا يمكن تحصيلها بالجهد أو الاكتساب.
وكذلك للأنبياء معجزات ظهرت على أيدي كثير منهم، بيد أن معجزة النبي محمد صلى الله عليه وسلم تفوق معجزات غيره سواء من حيث العدد أو من حيث الأهمية.
فإذا كان الله أظهر معجزة لموسى هي أن يضرب البحر فانفلق في الأرض.
فكذلك أظهر لمحمد عليه الصلاة والسلام فانشق له القمر في السماء.
وكما فجر لموسى عليه السلام الماء من الحجر، فقد فجر لمحمد صلى الله عليه وسلم من أصابعه عيونا.
وكما ظلل على موسى عليه السلام بالغمام، فقد ظلل محمدا صلى الله عليه وسلم كذلك بالغمام.
وكما جعل من معجزات موسى عليه السلام اليد بيضاء، فقد جعل من معجزات محمد صلى الله عليه وسلم القرآن.
وكما سبحت الجبال مع داود عليه السلام فقد سبحت االأحجار في يد الرسول صلى الله عليه وسلم.
وكما سخر الله لداود الطير المحشورة، سخر لمحمد البراق يطير في السماء.
وكما جعل من معجزات عيسى عليه السلام إبراء الأكمه والأبرص..فقد جعل شبيها بذلك لمحمد صلى الله عليه وسلم، فقد سقطت حدقة رجل في غزوة أحد فرفعها وردها إلى مكانها.
وانقادت الجن لسليمان، وانقادت كذلك للرسول صلى الله عليه وسلم.
ومعجزات النبي محمد صلى الله عليه وسلم أكثر من أن تحصى، ويمكن أن نضيف إلى ما ذكرناه، حنين الجذع وانقياد الأغصان، وجعل قليل الطعام كثيرا، كل ذلك على مشهد من الناس
--------------------------------------------
এইভাবেই মানব ইতিহাসের পাতায় নতুন, উজ্জ্বল ও সতেজ অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে এক নতুন সভ্যতার জন্ম হয়েছে।
নিশ্চয়ই এগুলো এমন শব্দ যা যখন প্রবল হয় তখন তা উত্তাল সমুদ্রের বিশাল ঢেউয়ের মতো, আর যখন তা কোমল হয় তখন তা পরকালীন জীবনের স্নিগ্ধ নিঃশ্বাসের মতো। এটি দুনিয়ার বর্ণনা দিলে তাতে তার মূল ভিত্তি ও ব্যবস্থার কথা থাকে, আর আখেরাতের বর্ণনা দিলে তার জান্নাত ও অগ্নিশিখার বিবরণ থাকে। যখন এটি আল্লাহর মহানুভবতার ওয়াদা করে, তখন তা অদৃশ্যের সামনে ওষ্ঠাধরে হাসির রেখা ফুটিয়ে তোলে; আর যখন আল্লাহর আজাবের ধমক দেয়, তখন অন্তরের কম্পনে জিহ্বাগুলো প্রকম্পিত হতে থাকে।
আর এর অর্থগুলো এমন যে, কখনো তা মাধুর্যময় যা বর্ণনার বারিধারা দিয়ে আপনাকে পরিতৃপ্ত করে, এবং এমন কোমলতা যা থেকে আপনি জান্নাতের সমীরণ আস্বাদন করেন। এটি এমন এক নূর বা আলো যা দিয়ে আপনি ঈমানের আয়নায় নিরাপত্তার প্রতিচ্ছবি দেখতে পান। কখনো এটি একজন পাপাচারীর সামনে মানবতার হাকিকত এমনভাবে তুলে ধরে যে, সে নিজেকে মানুষের এক ভিন্ন প্রজাতি বলে মনে করতে থাকে। আবার এটি এমন ঘন মেঘমালার মতো যার ভিত্তিগুলো ধসে পড়েছে, যার বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে এবং যার বজ্রধ্বনি আকাশে গর্জন করছে। এটি যেন সেই আকাশ যা জমিনের কৃতপাপের জন্য তাকে পাকড়াও করেছে এবং তার রবের কাছে মহাপ্রলয়ের আঘাত হানার অনুমতি প্রার্থনা করেছে, ফলে প্রকম্পিতকারী ঘটনাটি প্রকম্পিত হতে উদ্যত হয় এবং তার পরপরই আসে পরবর্তী ঘটনাটি। এটি কেবল একটি বিকট শব্দ, আর অমনি সমস্ত সৃষ্টি বিলীন হওয়ার খাদ্যে পরিণত হয় এবং পৃথিবী যেন এক দস্তরখান
…১।
মহান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসংখ্য মুজিজা ছিল যা তাঁর সত্যতার প্রমাণ বহন করে এবং তিনি যে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত (مرسل) তার সাক্ষ্য দেয়। কারণ মুজিজা সর্বদা নবীর সাথেই নির্দিষ্ট থাকে এবং তা চ্যালেঞ্জের সাথে যুক্ত থাকে; ফলে তা প্রচেষ্টা বা অর্জনের মাধ্যমে লাভ করা সম্ভব নয়।
তেমনিভাবে নবীদেরও অনেক মুজিজা ছিল যা তাদের অনেকের হাতে প্রকাশ পেয়েছে। তবে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজা সংখ্যা এবং গুরুত্ব—উভয় দিক থেকেই অন্যদের মুজিজাকে ছাড়িয়ে গেছে।
আল্লাহ যদি মূসা (আ.)-এর জন্য এই মুজিজা প্রকাশ করে থাকেন যে তিনি সমুদ্রের ওপর আঘাত করেছিলেন এবং তা ভূমিতে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল,
তবে তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যও আকাশে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার মুজিজা প্রকাশ করেছেন।
আর যেভাবে মূসা (আ.)-এর জন্য পাথর থেকে পানি প্রবাহিত করেছিলেন, তেমনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আঙুলসমূহ থেকে প্রস্রবণ প্রবাহিত করেছেন।
আর যেভাবে মূসা (আ.)-কে মেঘমালা দিয়ে ছায়া দান করেছিলেন, তেমনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও একইভাবে মেঘমালা দিয়ে ছায়া দান করেছেন।
আর যেভাবে মূসা (আ.)-এর মুজিজাসমূহের একটিকে উজ্জ্বল হাত করেছিলেন, তেমনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজাসমূহের একটি হিসেবে কুরআন দান করেছেন।
আর যেভাবে দাউদ (আ.)-এর সাথে পাহাড়গুলো তাসবিহ পাঠ করত, তেমনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে পাথরগুলো তাসবিহ পাঠ করেছিল।
আর আল্লাহ যেভাবে দাউদ (আ.)-এর জন্য সমবেত পাখিদের অনুগত করেছিলেন, তেমনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য বোরাক অনুগত করেছিলেন যা আকাশে উড়ে বেড়ায়।
আর যেভাবে ঈসা (আ.)-এর মুজিজাসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করা, তেমনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও অনুরূপ নিরাময় ক্ষমতা দিয়েছিলেন; যেমন উহুদ যুদ্ধে এক ব্যক্তির চোখের মণি উপড়ে পড়ে গিয়েছিল, তিনি তা উঠিয়ে যথাস্থানে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
আর জিন জাতি সুলায়মান (আ.)-এর অনুগত হয়েছিল এবং তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিও অনুগত হয়েছিল।
নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজাসমূহ গণনার অতীত। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সাথে শুকনো খেজুর গাছের কাণ্ডের ক্রন্দন, গাছের ডালপালার আনুগত্য প্রকাশ এবং অল্প খাবারকে অধিক খাবারে পরিণত করার বিষয়গুলো যোগ করা যেতে পারে, যার সবই মানুষের চোখের সামনেই সংঘটিত হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
وأسماعهم، فلم ينكر أحد شيئا مما رآه أو سمعه رغم أن ذلك ليس في طاقة البشر أو مقدرتهم1.
وأفضل معجزات الرسول وأجلها شأنا هي معجزة القرآن الذي نزل بأفصح اللغات وأبلغها، فقد سحر القرآن العرب منذ استمعوا إليه في اللحظة الأولى، سواء من شرح الله صدره للإسلام وأنار بصيرته، أو من طبع الله على قلبه وجعل على بصره غشاوة، فالوليد بن المغيرة قال يصف القرآن:
"والله إن له لحلاوة وإن عليه لطلاوة، وإن أعلاه لمثمر، وإن أسفله لمغدق، وإنه يعلو ولا يعلى عليه".
والقساوسة والرهبان يحكي عنهم القرآن: {وَإِذَا سَمِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَى أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقّ} 2.
فالقرآن من شأنه إذا استمع إليه إنسان أن تتحرك مشاعره، ويهتز قلبه، ويقشعر بدنه خوفا.. ويعتصر فؤاده رجاء، لما فيه من جمال الأسلوب، وقوة في التعبير.
ولقد وصف الله كتابه عز من قائل:
{اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَاباً مُتَشَابِهاً مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ} 3.
فروعة القرآن يحسها القلب الخاشع، ولكن العرب كما وصفهم القرآن: {قَوْمٌ خَصِمُونَ} 4، وأعداء ألداء: {وَتُنْذِرَ بِهِ قَوْماً لُدّاً} 5، فأخذوا يتناولون القرآن بالتشكيك، ويشنون عليه حملات شعواء، بغية التهوين من شأنه، والغض من قدره.
ولكن الله رد كيد الكافرين إلى نحورهم، فتحدى الرسول بلغاء العرب وفصحاءهم أن يأتوا بسورة من مثله، ولكنهم عجزوا وأعرضوا عن معارضته، فكان ذلك داعيا إلى الاعتراف بإعجاز القرآن، وقصورهم أمام بلاغته.
والقرآن ليس معجزا للعرب وحدهم، وإنما هو معجز للعربي وغير العربي، لأن دعوة الإسلام دعوة عالمية ليست مرتبطة بلغة معينة، ولا بوطن خاص، وإنما هي دعوة تحتوي العالم بأسره، ومن أجل ذلك كان القرآن معجزا لكل الأمم.
وحجة القرآن على العرب الفصحاء كحجته على غير العرب من الأعاجم، كما أن حجة موسى عليه السلام في قلب العصا حيّة كانت حجة لأمهر السحرة، وحجة عيسى عليه السلام في إحياء الموتى لم تكن لأعظم الأطباء وحدهم، وإنما كانت للطبيب الماهر والخامل، وغير الطبيب على السواء.. وإذا عجز أمهر السحرة وأعظم الأطباء عن الإتيان بمثل ما أتى به موسى وعيسى عليهما السلام كان ذلك أدعى إلى عجز
--------------------------------------------
এবং তাদের শ্রবণেন্দ্রিয়ও; ফলে তারা যা দেখেছিল বা শুনেছিল তার কোনো কিছুই কেউ অস্বীকার করেনি, যদিও তা মানুষের শক্তি বা সামর্থ্যের বাইরে ছিল ১।
রাসুলের মুজিজাসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম ও মর্যাদার দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কুরআনের মুজিজা, যা সর্বাধিক প্রাঞ্জল ও অলংকারপূর্ণ ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। আরবরা যখনই প্রথম তা শুনেছিল, কুরআন তাদের বিমোহিত করেছিল—চাই আল্লাহ যার বক্ষ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করেছেন এবং যার অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেছেন সে হোক, অথবা যার অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং যার চোখের ওপর আবরণ তৈরি করেছেন সে হোক। ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা কুরআন সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিল:
“আল্লাহর কসম! এতে রয়েছে এক অপূর্ব মাধুর্য এবং এর ওপর রয়েছে এক বিশেষ লাবণ্য। এর উপরিভাগ ফলদানকারী এবং এর তলদেশ প্রবহমান। নিশ্চয়ই এটি বিজয়ী হয় এবং এর ওপর অন্য কিছু বিজয়ী হতে পারে না।”
আর যাজক ও পাদ্রীদের সম্পর্কে কুরআন বর্ণনা করে: {আর যখন তারা রাসুলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা শ্রবণ করে, তখন তুমি তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হতে দেখবে, যেহেতু তারা সত্যকে চিনতে পেরেছে} ২।
সুতরাং কুরআনের বৈশিষ্ট্য হলো, যখন কোনো মানুষ তা শ্রবণ করে, তখন তার অনুভূতিগুলো নাড়া দেয়, তার অন্তর স্পন্দিত হয় এবং আল্লাহর ভয়ে তার শরীর রোমাঞ্চিত হয়... এবং আশার সঞ্চারে তার হৃদয় বিগলিত হয়; কারণ এতে রয়েছে বাচনভঙ্গির সৌন্দর্য এবং প্রকাশের সুদৃঢ় শক্তি।
আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন:
{আল্লাহ সর্বোত্তম হাদিস অবতীর্ণ করেছেন, যা একটি কিতাব, যার আয়াতসমূহ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বারবার পঠিত। এতে তাদের চামড়া রোমাঞ্চিত হয় যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, অতঃপর তাদের দেহ ও মন আল্লাহর স্মরণে কোমল হয়} ৩।
কুরআনের এই মাহাত্ম্য বিনম্র হৃদয় অনুভব করতে পারে, কিন্তু আরবরা যেমনটি কুরআন বর্ণনা করেছে: {এক ঝগড়াটে জাতি} ৪, এবং ঘোর শত্রু: {যাতে তুমি এর দ্বারা এক ঘোর বিতর্ককারী জাতিকে সতর্ক করতে পারো} ৫। তাই তারা কুরআন সম্পর্কে সংশয় পোষণ করতে শুরু করল এবং এর গুরুত্ব ও মর্যাদা খাটো করার লক্ষ্যে এর ওপর তীব্র আক্রমণ চালাতে লাগল।
কিন্তু আল্লাহ কাফিরদের চক্রান্ত তাদের দিকেই ফিরিয়ে দিলেন। রাসুল আরবের বাগ্মী ও প্রাঞ্জল ভাষাবিদদের এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন, কিন্তু তারা তা করতে ব্যর্থ হলো এবং এর মোকাবিলা করা থেকে বিরত থাকল। এটি কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) এবং এর অলংকারশাস্ত্রের সামনে তাদের অক্ষমতা স্বীকার করে নেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াল।
আর কুরআন কেবল আরবদের জন্যই মুজিজা নয়, বরং এটি আরব ও অনারব সকলের জন্যই মুজিজা। কারণ ইসলামের দাওয়াত এক বিশ্বজনীন দাওয়াত, যা কোনো নির্দিষ্ট ভাষা বা স্বদেশের সাথে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমগ্র বিশ্বকে পরিবেষ্টনকারী দাওয়াত। এ কারণেই কুরআন ছিল সকল উম্মতের জন্য মুজিজা।
প্রাঞ্জলভাষী আরবদের ওপর কুরআনের প্রমাণ তেমনি যেমনটি অনারবদের ওপর এর প্রমাণ। যেমন লাঠি সাপে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে মুসা (আ.)-এর প্রমাণ ছিল দক্ষ জাদুকরদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী দলিল; আবার মৃতকে জীবিত করার ক্ষেত্রে ঈসা (আ.)-এর প্রমাণ কেবল বড় চিকিৎসকদের জন্যই ছিল না, বরং তা দক্ষ, অদক্ষ এবং সাধারণ মানুষ—সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য ছিল। যখন দক্ষ জাদুকর এবং শ্রেষ্ঠ চিকিৎসকরা মুসা ও ঈসা (আ.) যা এনেছিলেন তার অনুরূপ কিছু আনতে ব্যর্থ হলো, তখন তা অন্য সবার অক্ষমতার আরও বড় প্রমাণ হয়ে দাঁড়াল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
غيرهم
…كذلك الشأن في معجزة القرآن، أتى به محمد صلى الله عليه وسلم لأفصح الناس وأقدرهم على نظم الكلام العربي، ورغم حرصهم على تكذيب الرسول، وإفساد دعوته، لم يفلحوا في مجاراته، ولم يستطيعوا تكذيبه.
وإذا كان العرب الفصحاء عاجزين عن مجاراة أسلوب القرآن في فصاحته وبلاغته، فغيرهم من الأعاجم أعجز.
وقد يقول قائل: إن الأعجمي الذي لا يفهم العربية لا يدرك ما في أسلوب القرآن من نظم معجز، وبلاغة عجيبة، ولا يدري من أين يكون إعجازه، وكيف تكون بلاغته، وعندئذ تسقط الحجة في الإعجاز.
والإجابة على هذا التساؤل سهلة ميسورة، فإن الإعجاز لغير العربي قد بدا واضحا في أشياء أخرى، وجوانب مثيرة متعددة غير البلاغة والفصاحة التي لا يدرك مراميها
… فكل يوم تطلع فيه علينا أشياء جديدة، ومكتشفات حديثة، وتبرز إلى الوجود قضايا تحدث عنها القرآن قديما ولم تبد سافرة إلا الآن.
ومع ذلك كله لا نلقى أي تناقض أو تصادم بين هذه الجوانب وتلك النواحي وما في القرآن من نهج اتبعه في التعبير عنها تناسق تام لا نفرة فيه، بحيث يدرك الأعجمي من هذا التناسق في التعبير، والدقة في الأداء القرآني الذي يتفق وما يكتشفه العلم حديثا، سرا من أسرار الإعجاز في الأسلوب البياني للقرآن المجيد.
ترى مثلا القرآن في تعبيره يسلك هذا المسلك ويلتزم بهذا الترتيب البديع حين يقول:
{إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْؤُولاً} 1.
فيقدم السمع أولا، ويثني بالأبصار، وينتهي بالفؤاد، والحقائق العلمية تثبت أن حاسة السمع تؤدي مهمتها أولا منذ اللحظة الأولى من ولادة الإنسان.
وحاسة الإبصار تؤدي وظيفتها خلال عشرة أيام، فالبصر يؤدي مهمته ثانيا، ثم يأتي بعد ذلك ما يتعلق بالفؤاد من المعلومات العقلية والقلبية2.
فالترتيب الذي ورد في الآية القرآنية تلمح من خلاله أن اللفظ المقدم أهم من الألفاظ التي ترد بعد ذلك، وهذا هو التعبير القرآني الدقيق، فإذا جاء هذا التعبير على وفق ما قرره العلم، كان التزاوج بين أسلوب القرآن في بلاغته وفصاحته، وأسلوب العلم في اكتشافه وتقريره
… فالأعجمي حين يرى هذا التماثل والانسجام بين التعبير القرآني والاكتشاف العلمي، يتحقق من إعجاز القرآن في بلاغته.
على أن علماء النحو قد يكون لهم توجيه خاص في نظم الآية وأمثالها، فيقولون مثلا: إن واو العطف تأتي لمطلق الجمع، بمعنى أنه يجوز في الآية أن تقدم السمع على البصر وتؤخره دون أن يختل المعنى
… غير أنه أصبح من الواضح هنا أن الترتيب فيه نوع من الالتزام، نظرا لأهمية المتقدم عما جاء بعده
… ونلمح مثل هذا التوافق العجيب بين التعبير القرآني والتقرير العلمي حين يذكر القرآن السمع
--------------------------------------------
অন্যদের ক্ষেত্রেও
…আল-কুরআনের অলৌকিক নিদর্শনের বিষয়টিও ঠিক তেমনই। মুহাম্মদ (সা.) এটি আরবের সর্বাধিক প্রাঞ্জলভাষী এবং আরবী বাক্যবিন্যাসে সবচেয়ে পারদর্শী ব্যক্তিদের নিকট নিয়ে এসেছিলেন। রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে এবং তাঁর দাওয়াতকে নস্যাৎ করতে তাদের প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও, তারা এর সমকক্ষ কিছু আনতে সফল হয়নি এবং একে মিথ্যা প্রমাণ করতেও সক্ষম হয়নি।
যদি আরবের প্রাঞ্জলভাষী ব্যক্তিরাই আল-কুরআনের অলঙ্কারপূর্ণ বর্ণনাশৈলী ও শব্দমাধুর্যের মোকাবিলা করতে অক্ষম হয়, তবে অনারবদের পক্ষে তা আরও অসম্ভব।
কেউ হয়তো বলতে পারেন: যে অনারব আরবী বোঝে না, সে কুরআনের বাক্যবিন্যাসের অলৌকিকত্ব এবং এর বিস্ময়কর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়। সে জানে না এর অলৌকিকত্বের উৎস কোথায় এবং এর অলঙ্কারপূর্ণ বর্ণনা কেমন; এমতাবস্থায় অলৌকিকত্বের এই যুক্তি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
এই প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল। অনারবদের কাছে আল-কুরআনের অলৌকিকত্ব অলঙ্কারশাস্ত্র এবং ভাষাশৈলী—যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তারা বুঝতে পারে না—তা বাদেও অন্যান্য অনেক আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় দিক থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে। প্রতিদিন আমাদের সামনে নতুন নতুন তথ্য ও আধুনিক আবিষ্কার উন্মোচিত হচ্ছে এবং এমন সব বিষয় সামনে আসছে যা কুরআন অনেক আগেই বর্ণনা করেছে, কিন্তু সেগুলো এখনকার মতো আগে কখনো এতোটা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়নি।
এতদসত্ত্বেও আমরা এই নতুন আবিষ্কৃত দিকগুলো এবং আল-কুরআনে বর্ণিত বিষয়গুলোর মধ্যে কোনো ধরনের বৈপরীত্য বা সংঘাত খুঁজে পাই না। আল-কুরআন এগুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে এক পূর্ণাঙ্গ সামঞ্জস্য, যেখানে কোনো বিচ্যুতি নেই। এর ফলে একজন অনারব ব্যক্তিও বর্ণনার এই সামঞ্জস্য এবং আল-কুরআনের নিখুঁত উপস্থাপনা থেকে—যা আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কারের সাথে হুবহু মিলে যায়—পবিত্র কুরআনের বর্ণনাশৈলীর অলৌকিকত্বের একটি গূঢ় রহস্য অনুধাবন করতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি দেখতে পাবেন আল-কুরআন তার বর্ণনায় এই পথটি অনুসরণ করেছে এবং এই চমৎকার বিন্যাসটি বজায় রেখেছে যখন সে বলে:
{নিশ্চয়ই শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ—এদের প্রত্যেকের সম্পর্কেই কৈফিয়ত তলব করা হবে।} ১।
এখানে প্রথমে শ্রবণশক্তিকে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিতীয়ত দৃষ্টিশক্তিকে এবং পরিশেষে অন্তঃকরণকে। বৈজ্ঞানিক সত্যসমূহ প্রমাণ করে যে, শ্রবণেন্দ্রিয় মানুষের জন্মের প্রথম মুহূর্ত থেকেই তার সক্রিয়তা শুরু করে দেয়।
আর দৃষ্টিেন্দ্রিয় তার কাজ শুরু করতে প্রায় দশ দিন সময় নেয়, ফলে দৃষ্টিশক্তি তার দায়িত্ব পালন করে দ্বিতীয় পর্যায়ে। এরপর আসে অন্তঃকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট বুদ্ধিভিত্তিক ও আত্মিক বিষয়সমূহ। ২।
কুরআনের আয়াতে বর্ণিত এই ক্রমবিন্যাস থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, পূর্বে উল্লেখিত শব্দটি পরবর্তী শব্দগুলোর চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ; আর এটিই আল-কুরআনের সূক্ষ্ম বর্ণনাশৈলী। যখন এই বর্ণনা বিজ্ঞানের সুপ্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তখন আল-কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও প্রাঞ্জল বর্ণনাশৈলী এবং বিজ্ঞানের আবিষ্কার ও উপস্থাপনার মধ্যে এক অপূর্ব সমন্বয় সাধিত হয়। সুতরাং একজন অনারব ব্যক্তি যখন কুরআনিক বর্ণনা এবং বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মধ্যে এই অভিন্নতা ও সামঞ্জস্য দেখেন, তখন তিনি আল-কুরআনের অলঙ্কারশৈলীর অলৌকিকত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
যদিও ব্যাকরণবিদদের এই আয়াতের গঠনশৈলী নিয়ে একটি বিশেষ ব্যাখ্যা থাকতে পারে। তারা হয়তো বলবেন: সংযোজক অব্যয় 'ওয়াও' মূলত সমষ্টিগত অর্থ প্রকাশের জন্য আসে। অর্থাৎ, আয়াতের অর্থ অক্ষুণ্ণ না করেই শ্রবণকে দৃষ্টিের আগে বা পরে উল্লেখ করা সম্ভব। তবে এখানে এটি স্পষ্ট যে, এই বিন্যাসে এক ধরণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে, কারণ পরের শব্দের তুলনায় পূর্বের শব্দের গুরুত্ব এখানে অত্যধিক। আল-কুরআনের বর্ণনা এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের মধ্যে এই বিস্ময়কর মিল আমরা তখনই লক্ষ্য করি যখন কুরআন শ্রবণশক্তির কথা উল্লেখ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
مفردا، والبصر جمعا في آياته مثل قوله تعالى: {وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالأَبْصَارَ} 1، {وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلا أَبْصَارُكُمْ} 2.
لأن الصوت لا مفر لك من سماعه ما دمت لا تسعين بشيء خارجي يمنعك من السماع كوضع شيء في الأذن، بخلاف الصورة فيمكنك أن تراها فتدع عينك مفتوحة، ويمكنك ألا تراها فتغلق عينيك دون أن تستعين على عدم الرؤية بشيء من الخارج كما في حالة الامتناع عن السمع، فالإبصار متعدد حيث يراه بعض الناس، ويغمض الآخرون عيونهم عنه فلا يرونه، وحيث إنك ترى حين تريد، أو حين لا تريد، أما السمع فواحد لا يمكنك إلا أن تسمع أنت ويسمع الآخرون جميعا إذا انفجر صوت، فالسمع واحد والأبصار متعددة3.
وإذا كان هذا هو الشيء المسلم به والمقبول
…كان تعبير القرآن بالإفراد عن السمع، وبالجمع عن البصر موافقا لما نعرفه ونسلم به
… وبهذا يتحقق الإعجاز القرآني للعربي وغير العربي على السواء.
ولكن المفسرين لا يرون في مجيء السمع مفردا والأبصار جمعا إعجازا علميا، ولكن يجيء لأسباب لغوية ترتبط بقواعد اللغة، ففي قوله تعالى: {خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَعَلَى سَمْعِهِمْ وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ} 4.
جاء السمع مفردا بين القلوب والأبصار وكلاهما جمع، والزمخشري يعلل هذه الظاهرة الأسلوبية فيقول: "ووحد السمع كما وحد البطن في قوله: كلوا في بعض بطونكم تعفوا، يفعلون ذلك إذا أمن اللبس
… فإذا لم يؤمن كقولك: فرسهم وثوبهم رفضوه، إذا أردت الجمع؛ ولك أن تقول: السمع في أصله مصدر، والمصادر لا تجمع فتقدر محذوفا، أي وعلى حواس أسماعهم
… وقرأ ابن عبله: {وعلى أسماعهم} 5
…فذكر الزمخشري لمجيء السمع مفردا عللا ثلاثا: أمن اللبس حيث لا نرتاب في أن المقصود بالسمع هنا الجمع وليس المفرد، ثانيا: أن السمع مصدر والمصادر لا تجمع، ثالثا: ورد في إحدى القراءات {وعلى أسماعهم} بالجمع
…ومن خصائص الأسلوب القرآني الفذ: أنه يجمع بين الجزالة والسلاسة، والقوة والعذوبة، وحرارة الإيمان، وتدفق البلاغة، فهو السحر والنور الباهر والحق الساطع والصدق المبين
… ولما سمعه فصحاؤهم وبلغاؤهم وأرباب البيان فيهم سجدوا لله خاشعين
… وما إيمان "عمر" حين سمع "طه" وما فزع "عتبة" حين سمع "فصلت"
… وما تردد بلغاء العرب على الأماكن التي يتعبد فيها النبي الأمين صلى الله عليه وسلم ليلا، إلا ليسمعوا هذه البلاغة خفية، وما عجزهم بعد التحدي إلا دليل الإعجاز، وعظمة البيان وجلال الأسلوب
…--------------------------------------------
আয়াতসমূহে 'শ্রবণ' একবচন হিসেবে এবং 'দৃষ্টি' বহুবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তিনি তোমাদের জন্য শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিসমূহ সৃষ্টি করেছেন} ১, {এবং তোমরা যখন (পাপকাজ) গোপন করতে, তখন তোমাদের কান ও তোমাদের চোখসমূহ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে—এ ভয়ে করতে না} ২।
কারণ, শব্দ শোনা থেকে বিরত থাকার কোনো উপায় নেই যতক্ষণ না আপনি কান বন্ধ করার মতো কোনো বাহ্যিক সাহায্য গ্রহণ করছেন, যা দৃশ্যের বিপরীত। দৃশ্যের ক্ষেত্রে আপনি চাইলে চোখ খোলা রেখে দেখতে পারেন, আবার চাইলে বাইরের কোনো সাহায্য ছাড়াই চোখ বন্ধ করে দেখা থেকে বিরত থাকতে পারেন, যা শ্রবণের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তাই দৃষ্টি বহুবিধ হয়, কারণ কেউ দেখে আবার কেউ চোখ বন্ধ করে রাখে বলে দেখতে পায় না। আপনি যখন চান তখন দেখেন বা যখন চান না তখন দেখেন না। অন্যদিকে শ্রবণ একীভূত বিষয়, কোনো শব্দ উৎপন্ন হলে আপনি এবং অন্য সবাই তা শুনতে বাধ্য হন। অতএব, শ্রবণ এক এবং দৃষ্টিসমূহ বহু ৩।
এবং এটি যদি একটি স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য বিষয় হয়... তবে কুরআনে শ্রবণকে একবচন এবং দৃষ্টিকে বহুবচন হিসেবে ব্যবহারের এই ভঙ্গিটি আমাদের পরিচিত ও স্বীকৃত বিষয়ের সাথেই সংগতিপূর্ণ... এর মাধ্যমেই আরবীভাষী এবং অনারব উভয়ের জন্য কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) সমভাবে প্রমাণিত হয়।
তবে মুফাসসিরগণ শ্রবণ শব্দটিকে একবচন এবং দৃষ্টিসমূহ শব্দটিকে বহুবচন হিসেবে ব্যবহারের মধ্যে কোনো বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز) দেখেন না, বরং তারা একে ব্যাকরণিক নিয়মের সাথে সংশ্লিষ্ট ভাষাতাত্ত্বিক কারণ হিসেবে গণ্য করেন। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহ তাদের অন্তরের ওপর ও তাদের শ্রবণের ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তাদের দৃষ্টিসমূহের ওপর রয়েছে আবরণ} ৪।
এখানে শ্রবণ শব্দটি একবচনে এসেছে 'অন্তর' ও 'দৃষ্টিসমূহ'-এর মাঝখানে, যে উভয়টিই বহুবচন। আল-জামাখশারী এই শৈলীগত বৈশিষ্ট্যটির কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "এখানে শ্রবণকে একবচন করা হয়েছে যেভাবে 'বাতন' (পেট) শব্দটিকে একবচন করা হয়েছিল এই উক্তিতে: 'তোমাদের কিছু উদরে খাও যাতে তোমরা বিরত থাকতে পার'। বিভ্রান্তি থেকে সুরক্ষার (أمن اللبس) নিশ্চয়তা থাকলে তারা এমনটি করে থাকেন... তবে যদি সেই নিরাপত্তা না থাকে, যেমন আপনার কথা: 'তাদের ঘোড়া' বা 'তাদের পোশাক', তখন তারা বহুবচন বোঝাতে একবচনের ব্যবহার বর্জন করেন। আপনি এও বলতে পারেন যে, শ্রবণ মূলত একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), আর ক্রিয়ামূলের (مصدر) বহুবচন হয় না, তাই এখানে একটি উহ্য শব্দ ধরে নিতে হবে, অর্থাৎ 'তাদের শ্রবণেন্দ্রিয়সমূহের ওপর'... আর ইবনে আবলাহ পাঠ (قراءة) করেছেন: {এবং তাদের শ্রবণসমূহের ওপর} ৫..." জামাখশারী শ্রবণ শব্দটি একবচনে আসার পেছনে তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন: প্রথমত, বিভ্রান্তি থেকে সুরক্ষা (أمن اللبس), যেহেতু এখানে শ্রবণ বলতে যে বহুবচন বোঝানো হয়েছে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই; দ্বিতীয়ত, শ্রবণ একটি ক্রিয়ামূল (مصدر) এবং ক্রিয়ামূলের বহুবচন হয় না; তৃতীয়ত, একটি কিরাত বা পাঠরীতিতে (قراءة) এটি বহুবচন তথা {তাদের শ্রবণসমূহ} হিসেবে এসেছে...
কুরআনের অনন্য শৈলীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: এটি গাম্ভীর্য ও সাবলীলতা, শক্তি ও মাধুর্য, ঈমানের উষ্ণতা এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রবাহকে একত্রিত করে। এটি যেন এক মহাজাদু, প্রদীপ্ত নূর, অত্যুজ্জ্বল সত্য এবং সুস্পষ্ট সত্যবাদিতা... যখন আরবের শ্রেষ্ঠ বাগ্মী ও অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ এটি শ্রবণ করলেন, তখন তারা আল্লাহর দরবারে বিনত হয়ে সিজদাবনত হলেন... "ত্ব-হা" শুনে উমরের ঈমান আনয়ন এবং "ফুসসিলাত" শুনে উতবার আতঙ্কিত হওয়া... এবং আরবের বাগ্মীদের রাতের আঁধারে নবী কারীম (সা.)-এর ইবাদতগাহের আশেপাশে গোপনে এই অলঙ্কারপূর্ণ বাণী শ্রবণ করার জন্য ঘোরাফেরা করা, আর চ্যালেঞ্জ (تحدي) প্রদানের পরও তাদের অক্ষমতা কেবল কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز), অলঙ্কারশাস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব এবং মহান শৈলীরই প্রমাণ দেয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
ومن هذا المنطلق العجيب، كان القرآن الكريم وحده، هو كتاب الهداية، ولغة الحياة وقصة الكون الصادقة من بدايته إلى نهايته، بل هو تجديد لميلاد الإنسان على اختلاف الحقب وتوالي الأجيال، ومرور الدهور والعصور، نزل لمخاطبة النفس البشرية والأخذ بيدها، فهو معها آمرا وناهيا، مرشدا وواعظا، مبشرا ومنذرا، حارسا ومدافعا، مصبرا ومسليا، معلما وموجها، سميرا وجليسا، صديقا وأنيسا، فهو الحياة في سموها، والسعادة في أوجها، والكمال في أسمى معانيه، فلقد بلغ الغاية التي لا تدانيها غاية، في الرفعة والعلو، والخلود والسمو، فما أبدع تراكيبه وأروع أساليبه، وأسمى من معانيه.
الله أكبر إن دين محمد
… وكتابه أهدى وأقوم قيلا
لا تذكر الكتب السوالف عنده
… طلع الصباح فأطفئ القنديلا
ولو ذهبنا نستقصي وجوه الإعجاز للقرآن الخالد، ونستعرض صفحات جلاله، لأعيانا الأمر، وانقطعت نفوسنا من شدة البهر، لأنه الكتاب الذي لا تنفد عجائبه، ولا تنتهي غرائبه، ولا يخلق على كثرة الرد.
وإن ما نذكره الآن من وجوه خلوده وإعجازه، لهو قل من كثر، ووشل من فيض، وقبس من روح، وقطرة من بحر، فمن هذه الوجوه:
1- قوة أسلوبه في كل ما تناول، فهو قوي في التعبير عن الأحكام، والأخبار والربوبيات، كقوته في القصص وغيره، فليس هناك تفاوت في الأسلوب لاختلاف الموضوعات.
2- اشتماله على قصص وأخبار الأمم الماضية، وموقف كل أمة من نبيها، كل هذا يسوقه القرآن في دقة بالغة، حتى كأننا نعيش في نفس الحوادث التي يعرضها، والذي بلغنا كل هذا إنما هو رجل أمي لا يعرف القراءة أو الكتابة.
3- اشتماله على نظام في الأخذ به سعادة الأمم وفي البعد عنه تعاستها وشقاؤها {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} .
4- بلاغة القرآن النادرة، التي لا يحيط بها وصف، ولا يستطيع أن يكشف عن خصائصها باحث، ولقد وضعت علوم البلاغة والنقد والإعجاز للكشف عن مظاهر هذه البلاغة وأسرارها، ثم هي للآن وبعد مضي ما يربو على ثلاثة عشر قرنا من الزمان، لا تزال على أول الدرب، وفي بداية الشوط، وسوف تظل هكذا كليلة قاصرة، لأنها أمام بحر خضم لا ساحل له.
5- سمو الروح، ونبل الهدف في القرآن: فهو ليس كتاب قصص أو تسلية، أو أدب أو حكمة أو فلسفة أو تاريخ أو اجتماع وإنما هو منهج متكامل للحياة الصحيحة في كل جوانبها.
6- جلال أثره الأدبي في لغة العرب، وحياتهم وأدبهم، وفي حياة المسلمين والعالم كله.
7- خلوده على مر الأيام، والعصور والأمكنة، مع عجز الناس عن معارضته، رغم أنه تحدى ولا يزال
… وتاريخ العالم مشتمل على الأفذاذ من الأدباء والبلغاء.
এই বিস্ময়কর প্রেক্ষাপট থেকে, পবিত্র কুরআনই একমাত্র হিদায়াতের কিতাব, জীবনের ভাষা এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মহাবিশ্বের সত্য কাহিনী। বরং এটি বিভিন্ন যুগ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এবং কাল ও সময়ের আবর্তনে মানুষের জন্মের এক নতুন নবায়ন। এটি মানবাত্মার সাথে কথা বলতে এবং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে অবতীর্ণ হয়েছে; এটি মানুষের জন্য আদেশদাতা ও নিষেধকারী, পথপ্রদর্শক ও উপদেশদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী, রক্ষক ও প্রতিরক্ষাকারী, ধৈর্য দানকারী ও সান্ত্বনা প্রদানকারী, শিক্ষক ও দিকনির্দেশক, নিশীথ-সাথী ও সহচর এবং বন্ধু ও সখা। এটি তার শ্রেষ্ঠত্বের জীবন, তার উচ্চ শিখরের সুখ এবং তার উচ্চতর অর্থের পূর্ণতা। এটি উচ্চতা, শ্রেষ্ঠত্ব, অমরত্ব ও মহত্ত্বে এমন এক চরম সীমায় পৌঁছেছে যার সমকক্ষ আর কেউ নেই। এর গঠনশৈলী কতই না চমৎকার, এর পদ্ধতি কতই না বিস্ময়কর এবং এর অর্থসমূহ কতই না মহান।
আল্লাহ মহান! মুহাম্মাদের দ্বীন
… এবং তাঁর কিতাব সর্বাধিক সঠিক ও সুদৃঢ় পথের দিশারী
তাঁর কাছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের কথা উল্লেখ করো না
… সকালের সূর্য উদিত হয়েছে, এখন প্রদীপ নিভিয়ে দাও
আমরা যদি শাশ্বত কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলো বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে যাই এবং এর মহিমার পাতাগুলো পর্যালোচনা করি, তবে বিষয়টি আমাদের ক্লান্ত করে দেবে এবং বিস্ময়ের আতিশয্যে আমাদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসবে। কারণ এটি এমন একটি কিতাব যার বিস্ময় কখনো শেষ হয় না, যার অলৌকিকতা কখনো ফুরায় না এবং বারবার পাঠেও তা পুরাতন হয় না।
আমরা এখন এর অমরত্ব ও অলৌকিকত্বের (إعجاز) যে দিকগুলো উল্লেখ করছি, তা প্রাচুর্যের তুলনায় সামান্য, প্লাবনের তুলনায় একটি ক্ষুদ্র প্রবাহ, রূহের একটি স্ফুলিঙ্গ এবং সমুদ্রের একটি বিন্দু মাত্র। সেই দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে:
1- কুরআনের আলোচিত প্রতিটি বিষয়ে এর প্রকাশভঙ্গির শক্তি: বিধানাবলী (أحكام), সংবাদ (أخبار) এবং রুবুবিয়্যাত বর্ণনায় এটি যেমন শক্তিশালী, তেমনি কাহিনী এবং অন্যান্য বিষয় বর্ণনায়ও এটি সমভাবে শক্তিশালী। বিষয়বস্তুর ভিন্নতার কারণে এর প্রকাশভঙ্গিতে কোনো তারতম্য নেই।
2- এতে অতীত জাতিসমূহের কাহিনী ও সংবাদ (أخبار) এবং তাদের নবীদের সাথে প্রতিটি জাতির আচরণের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কুরআন এ সবই অত্যন্ত সূক্ষ্মতার সাথে বর্ণনা করেছে, এমনকি আমাদের মনে হয় যেন আমরা সেই ঘটনাগুলোর মধ্যেই বাস করছি। আর যিনি আমাদের কাছে এই সবকিছু পৌঁছে দিয়েছেন, তিনি ছিলেন একজন নিরক্ষর (أمي) ব্যক্তি, যিনি লিখতে বা পড়তে জানতেন না।
3- এতে এমন এক জীবনব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা গ্রহণ করার মধ্যে জাতিসমূহের সুখ এবং তা থেকে দূরে থাকার মধ্যে তাদের দুঃখ ও দুর্ভাগ্য নিহিত। "নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সর্বাধিক সুদৃঢ়।"
4- কুরআনের দুর্লভ অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সৌন্দর্য (بلاغة), যা কোনো বর্ণনার আওতায় আনা সম্ভব নয় এবং কোনো গবেষক এর বৈশিষ্ট্যসমূহ পুরোপুরি উন্মোচন করতে সক্ষম নন। এই অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ ও রহস্যসমূহ উন্মোচনের জন্যই অলঙ্কারশাস্ত্র (علوم البلاغة), সমালোচনা (نقد) এবং অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ক বিজ্ঞানসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তেরো শতাব্দীরও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও এই বিজ্ঞানগুলো এখনও পথের শুরুতেই থমকে আছে; আর এভাবেই এগুলো আজীবন অক্ষম ও অপূর্ণ থেকে যাবে, কারণ এগুলো এক কূলহীন বিশাল সমুদ্রের মুখোমুখি।
5- কুরআনের আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্ব ও মহৎ লক্ষ্য: এটি কোনো নিছক গল্পের বই, বিনোদন, সাহিত্য (أدب), হিকমত (حكمة), দর্শন (فلسفة), ইতিহাস (تاريخ) বা সমাজবিজ্ঞানের (اجتماع) বই নয়; বরং এটি জীবনের সকল দিকের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান (منهج)।
6- আরবদের ভাষা, জীবন ও সাহিত্যে এবং মুসলমানদের ও সারা বিশ্বের জীবনে এর সাহিত্যিক প্রভাবের মহিমা।
7- কাল, যুগ ও স্থানের আবর্তনে এর অমরত্ব; মানুষ এর সমতুল্য কিছু সৃষ্টি করতে অক্ষম হওয়া সত্ত্বেও এটি চ্যালেঞ্জ (تحدى) ছুড়ে দিয়েছে এবং দিচ্ছে... অথচ বিশ্বের ইতিহাস প্রথিতযশা সাহিত্যিক ও বাগ্মীদের দ্বারা পরিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
8- بساطة القرآن في أسلوبه، ووضوحه وجماله وجزالته.
9-وأخيرا وليس آخرا: ما جاء به القرآن من إعجاز علمي مبدع، جعل العلماء يخشعون لجلال هذا الكتاب وسبقه في هذه الميادين
… ومن هذا اللون العلمي قول الله:
{وَأَرْسَلْنَا الرِّيَاحَ لَوَاقِحَ} 1
… {وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقاً حَرَجاً كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاءِ} 2
… {وَالأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا} 3
… {يَخْلُقُكُمْ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ خَلْقاً مِنْ بَعْدِ خَلْقٍ فِي ظُلُمَاتٍ ثَلاثٍ} 4.
هذا هو القرآن في سموه وجلاله، وسحره وجماله وخلوده وكماله، ولقد وقفت الإنسانية صاغرة أمامه، على الرغم مما يزخر به تاريخها من عباقرة وأساطين في الفكر والأدب والاجتماع، وما يحفل به من نوابغ لسن وخطباء مصاقع
… وصدق الله: {وَيَسْأَلونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَاّ قَلِيلاً} 5.
--------------------------------------------
৮- কুরআনের প্রকাশভঙ্গির সারল্য, এর স্পষ্টতা, সৌন্দর্য এবং এর শব্দশৈলীর গাম্ভীর্য।
৯-পরিশেষে এবং শেষ কথা নয়: কুরআন যে অনন্য বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা নিয়ে এসেছে, যা বিজ্ঞানীদের এই কিতাবের মহিমা এবং এই সকল ক্ষেত্রে এর অগ্রগামিতার সামনে অবনত করেছে... এই বৈজ্ঞানিক ধারার অন্যতম হলো আল্লাহর বাণী:
“আর আমি বায়ু প্রেরণ করি গর্ভসঞ্চারক হিসেবে।” ১... “আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করতে চান, তার বক্ষকে সংকীর্ণ ও অতি সংকুচিত করে দেন, যেন সে আকাশে আরোহণ করছে।” ২... “আর পৃথিবীকে তিনি এরপর বিস্তৃত করেছেন।” ৩... “তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেন তোমাদের মাতৃগর্ভে—এক সৃষ্টির পর অন্য সৃষ্টিতে—তিনটি অন্ধকারের মধ্যে।” ৪।
এই হলো কুরআন তার সুউচ্চ মর্যাদা ও মহিমায়, তার মোহনীয়তা ও সৌন্দর্যে, তার চিরন্তনতা ও পূর্ণতায়। মানবজাতি এর সামনে অবনত মস্তকে দাঁড়িয়েছে, যদিও তাদের ইতিহাসে চিন্তা, সাহিত্য ও সমাজবিজ্ঞানে অনেক প্রতিভাধর ও দিকপাল অতিবাহিত হয়েছেন এবং তাদের ইতিহাস বহু বাগ্মী ও তুখোড় বক্তাদের উপস্থিতিতে সমৃদ্ধ... আর আল্লাহ সত্যই বলেছেন: “তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, রূহ আমার রবের নির্দেশঘটিত; আর তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে।” ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
موطن الإعجاز في القرآنإن أهم معجزة للرسول العظيم: هو القرآن الكريم، وقد حمل دعوة التحدي به إلى الناس عامة، وإلى العرب خاصة، في أكثر من موضوع منه، ومع ثبوت هذا، فإن الوقوف على الجهة التي كان منها الإعجاز القرآني، أمر لم تلتق عنده الآراء، ولم يكن محل اتفاق بين الباحثين والناظرين في وجوه الإعجاز، في كل زمان ومكان.
فهناك أكثر من رأي، وأكثر من مذهب في الجهة أو الجهات التي كان بها القرآن مفحما، على ما سنرى في موضعه، وليس كذلك الشأن في معجزات الأنبياء
… إذ كل معجزة كانت تنادي معلنة في وضوح عن صفتها التي أعجزت بها، وتشير في صراحة إلى الجهة التي جاء منها الإعجاز، فيعلم الناي لوقتهم ماذا في المعجزة من دلائل الإعجاز، وماذا فيها من القوة القاهرة المعجزة التي لا يستطيعون القيام لها، والجري معها.
وماذا يبحث الناس في عصا موسى عليه السلام مثلا؟ إنها مجرد عصا
… لا تختلف في مرأى العين عن أي عصا أخرى
… ليس فيها أجهزة، ولا عدد، ولا أي خروج عن صفات العصي التي في أدي الناس
… ولكنها في يد موسى تنقلب إلى ثعبان مبين يلقف ما يأفكون.
وليس في يد موسى غير ما في أيدي الناس
… لحم ودم وعظم وعصب وعروق، لا تختلف في شيء أبدا عن الأيدي التي تحيا في أجساد الناس وتعمل لهم.
إذن فهناك قدرة لا ترى
… هي قوة الله
… التي تمد موسى بهذه المعجزات، وليست يده أو عصاه إلا أداة تحمل هذه المعجزة أو تلك.
كذلك معجزة عيسى عليه السلام
… يدعو الميت فيحيا، ويمس الأكمه والأبرص فيبرأ
… وليس في صوته الذي يدعو به شيء يخالف مألوف الأصوات المعروفة للناس
… إنه مجرد كلمة تنطلق من فم، فإذا هي حياة، وإذا روح تسري في موات فتبعثه من مرقده.
কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) উৎসমহান রাসূলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) হলো পবিত্র কুরআন। তিনি এর মাধ্যমে সাধারণভাবে সকল মানুষের প্রতি এবং বিশেষভাবে আরবদের প্রতি একাধিক স্থানে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও, কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) ঠিক কোন দিক থেকে সাধিত হয়েছে—তা এমন একটি বিষয় যেখানে গবেষক এবং পর্যবেক্ষকদের মতামত একবিন্দুতে মেলেনি এবং সর্বকালের সকল স্থানে এটি গবেষকদের নিকট ঐকমত্যের বিষয় ছিল না।
কুরআনের যে দিক বা দিকসমূহ প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করে দিয়েছিল, সে বিষয়ে একাধিক মত ও পথ রয়েছে, যা আমরা যথাস্থানে আলোচনা করব। তবে নবীদের অন্যান্য অলৌকিক নিদর্শনের (معجزات) বিষয়টি এমন ছিল না
… কারণ প্রতিটি অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) তার অলৌকিকত্বের প্রকৃতি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করত এবং যে দিক থেকে অলৌকিকত্ব (إعجاز) প্রকাশ পেয়েছে তা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করত। ফলে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারত সেই নিদর্শনের মধ্যে অলৌকিকত্বের (إعجاز) কী প্রমাণ রয়েছে এবং তাতে এমন কী অপরাজেয় ও অলৌকিক শক্তি রয়েছে যা মোকাবিলা করা বা যার সমকক্ষ হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
উদাহরণস্বরূপ, মানুষ মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর লাঠির মধ্যে কী-ই বা খুঁজবে? এটি ছিল কেবল একটি লাঠি
… যা দেখতে অন্য যে কোনো সাধারণ লাঠির মতোই ছিল
… এতে কোনো যান্ত্রিক সরঞ্জাম ছিল না, ছিল না কোনো বিশেষ উপকরণ, আর মানুষের হাতে থাকা সাধারণ লাঠির গুণাগুণ থেকেও তা আলাদা কিছু ছিল না
… কিন্তু মূসার হাতে সেটি এক জ্যান্ত অজগরে পরিণত হতো, যা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গিলে ফেলত।
মূসার হাতে মানুষের হাতের বাইরের কিছু ছিল না
… মাংস, রক্ত, হাড়, স্নায়ু ও শিরা-উপশিরা—যা মানুষের শরীরে বিদ্যমান এবং তাদের জন্য কাজ করে, তার থেকে এটি মোটেও ভিন্ন কিছু ছিল না।
সুতরাং, সেখানে একটি অদৃশ্য ক্ষমতা কাজ করত
… যা আল্লাহর শক্তি
… যা মূসাকে এই অলৌকিক নিদর্শনগুলো (معجزات) দ্বারা সাহায্য করত। আর তাঁর হাত বা লাঠি ছিল কেবল এই অলৌকিক নিদর্শনসমূহ (معجزة) প্রদর্শনের মাধ্যম মাত্র।
একইভাবে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর অলৌকিক নিদর্শন (معجزة)
… তিনি মৃতকে ডাকতেন আর সে জীবিত হয়ে উঠত, জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীর গায়ে হাত বুলাতেন আর তারা সুস্থ হয়ে যেত
… তাঁর সেই ডাকের আওয়াজ মানুষের পরিচিত স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরের বাইরে কিছু ছিল না
… এটি ছিল কেবল মুখ থেকে নির্গত শব্দ, কিন্তু পরক্ষণেই তা জীবনে রূপান্তরিত হতো এবং মৃতদেহে রুহ সঞ্চারিত হয়ে তাকে শয্যা থেকে পুনরুত্থিত করত।
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
إذن فليس الشأن في هذا الصوت، أو في تلك الدعوة، وإنما هي قوة قادرة
… لا ترى
… قد جعلت لهذه الكلمة ولتلك الدعوة هذا الأمر المعجز! هي قوة الله تعالى.
أما القرآن فشأنه غير هذا الشأن وأمره على خلاف هذا الأمر!
فهو كلمات، وألفاظ، وعبارات، لا تختلف عما ألف الناس، مما يجري على ألسنتهم من كلام
… إنه كلمات مألوفة معروفة
… تعامل بها الناس، فأخذوا بها وأعطوا
… وقلبوها على جميع وجوهها
… في مختلف الأساليب، وشتى التراكيب.
إن كل ما في القرآن من كلام هو مما كان يدور على ألسنة العرب، ومما يصاغ منه نثرهم، ونظمهم.. من خطب، وحكم ومساجلات، ومن قصيد ورجز
… وفي هذا يقول الله: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} 1.
ثم إن هذه الكلمات التي عرفت -بعد- باسم القرآن، والتي تحدى بها الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم العرب جميعا، ثم الإنس والجن قاطبة، هذه الكلمات لها ما كان لكلمة عيسى حين كان ينطق بها فتتجسد معجزة قاهرة يشهدها الناس، ويرونها رأي العين.
إن هذا الكلام المألوف المعروف حين ضمه القرآن إليه، ونظم منه آياته، وصور منه أحكامه وقصصه، وجدله، ومواعظه، وزواجره، هذا الكلام قد أصبح منذ ذلك اليوم معجزة قاهرة، تتحدى الناس جيلا بعد جيل
… وأمة بعد أمة
… فليأتوا بحديث مثله إن كانوا صادقين.
ولكن
… أين هي المعجزة في هذا الكلام؟ وماذا يبدوا للناس منها؟ وماذا يشهدون من إعجازها؟ وكيف يضع الناس أيديهم على المعجزة، ويرفعون أبصارهم إليها؟.
إنها معجزة لا ترى بالعين، ولا تلمس باليد!
وعلى الناس أن يسمعوا لهذا الكلام، وأن يتدبروا آياته
… وعندئذ يرون ببصائرهم -لا بأبصارهم- في كل آية معجزة قاهرة
… تعنو لها الجباه، وتخضع لها الرقاب.
إن على الناس أنفسهم
… أن يفتحوا قلوبهم وعقولهم لهذه الكلمات، فإنهم إن فعلوا تكشف لهم منها ما كان يتكشف من عصا موسى عليه السلام ويده، ومن كلمة عيسى عليه السلام
… وهذا مفهوم قول النبي صلى الله عليه وسلم: "وإنما كان هذا الذي أوتيته وحيا أوحي إلي" 2.
إنها آيات
… معجزات
… وما يعقلها، ويعرف وجه الإعجاز فيها إلا العالمون الذين يلقون أسماعهم لها، ويفتحون قلوبهم وعقولهم للحق الذي فيها، وللنور الذي معها.
ومن ثم كانت أنظار المسلمين دائما معلقة بهذا الكتاب، يدرسونه، ويتدارسونه، ويلقونه بكل ما تسعفهم به الحياة من علوم ومعارف، فيجدون كل شيء دون ما في كتاب الله من علوم ومعارف، فيزداد لذلك تعلقهم بكتاب الله، وتتوثق صلتهم به، ويشتد إقبالهم عليه، ومدارستهم له.
--------------------------------------------
অতএব, বিষয়টি কেবল এই শব্দের বা সেই আহ্বানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি হলো একটি সক্ষম শক্তি
… যা দেখা যায় না
… যা এই বাণী এবং এই আহ্বানের জন্য এই অলৌকিক বিষয়টি নির্ধারণ করে দিয়েছে! এটি মহান আল্লাহর শক্তি।
কিন্তু কুরআনের বিষয়টি এর চেয়ে ভিন্ন এবং এর প্রকৃতি এর বিপরীত!
এটি এমন সব শব্দ, লব্জ এবং বাক্যাংশ দ্বারা গঠিত, যা মানুষের পরিচিত ভাষার চেয়ে আলাদা নয়, যা মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়
… এগুলো সুপরিচিত ও চেনা শব্দ
… মানুষ যা দিয়ে লেনদেন করে, আদান-প্রদান করে
… এবং বিভিন্ন শৈলী ও নানা গঠনশৈলীতে সেগুলোকে সব দিক থেকে ব্যবহার করে।
কুরআনের প্রতিটি কথা সেই ভাষাশৈলীর অন্তর্ভুক্ত যা আরবদের মুখে মুখে প্রচলিত ছিল এবং যা থেকে তাদের গদ্য ও পদ্য রচিত হতো—যেমন ভাষণ, প্রজ্ঞা, বিতর্ক এবং কবিতা ও ছন্দগাথা
… এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আমি তা অবতীর্ণ করেছি আরবি কুরআনরূপে, যাতে তোমরা বুঝতে পারো} ১।
অতঃপর এই শব্দগুলো—যা পরবর্তীকালে কুরআন নামে পরিচিতি পায় এবং যা দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) সমস্ত আরবকে, অতঃপর সকল মানুষ ও জিন জাতিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন—এই শব্দগুলোর মধ্যে ঠিক সেই প্রভাব ছিল যা ঈসা (আ.)-এর বাণীর মধ্যে থাকত; যখন তিনি তা উচ্চারণ করতেন, তখন তা এক অজেয় মুজিজা (معجزة) হিসেবে মূর্ত হয়ে উঠত যা মানুষ প্রত্যক্ষ করত এবং নিজের চোখে দেখত।
এই পরিচিত ও সুপরিচিত কথাগুলো যখন কুরআন নিজের মাঝে গ্রহণ করল এবং তা দিয়ে এর আয়াত (آية) সমূহ বিন্যস্ত করল এবং এর মাধ্যমে এর বিধানসমূহ, কিসসা-কাহিনী, বিতর্ক, উপদেশ ও সতর্কবাণীসমূহ চিত্রিত করল, তখন থেকে এই কথাগুলো এক অজেয় মুজিজা (معجزة) -এ পরিণত হয়েছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এবং উম্মত থেকে উম্মতান্তরে মানুষকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে
… অতএব তারা যদি সত্যবাদী হয় তবে যেন এর মতো কোনো হাদিস নিয়ে আসে।
কিন্তু
… এই কথার মধ্যে মুজিজা (معجزة) কোথায়? মানুষের কাছে এর কী প্রকাশ পায়? তারা এর অলৌকিকত্বের কী প্রত্যক্ষ করে? আর মানুষ কীভাবে সেই মুজিজা (معجزة) -কে স্পর্শ করবে এবং তার দিকে দৃষ্টি উঁচিয়ে ধরবে?
এটি এমন এক মুজিজা (معجزة) যা চোখে দেখা যায় না এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায় না!
মানুষের উচিত এই কথা শ্রবণ করা এবং এর আয়াত (آية) সমূহ নিয়ে গবেষণা করা
… আর তখনই তারা তাদের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে—চর্মচক্ষু দিয়ে নয়—প্রতিটি আয়াতে এক অজেয় মুজিজা (معجزة) দেখতে পাবে
… যার সামনে কপালসমূহ অবনত হয় এবং গর্দানসমূহ নুইয়ে পড়ে।
মানুষের উচিত তাদের নিজেদের অন্তর ও বিবেককে এই শব্দগুলোর জন্য উন্মুক্ত করা; তারা যদি তা করে, তবে তাদের সামনে এর রহস্য সেভাবেই উন্মোচিত হবে যেভাবে মুসা (আ.)-এর লাঠি ও তাঁর হাত এবং ঈসা (আ.)-এর বাণীর রহস্য উন্মোচিত হয়েছিল
… আর এটাই নবী (সা.)-এর এই বাণীর মর্মার্থ: "আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা কেবল ওহি (وحي), যা আমার কাছে পাঠানো হয়েছে" ২।
এগুলো হলো আয়াত (آية)
… মুজিজা (معجزة)
… আর এগুলো কেবল তারাই বুঝতে পারে এবং এর অলৌকিকত্বের দিকগুলো চিনতে পারে যারা আলেম (عالم), যারা এর প্রতি কর্ণপাত করে এবং এর মধ্যকার সত্য ও নূরের জন্য নিজেদের অন্তর ও বিবেককে খুলে দেয়।
এ কারণেই মুসলমানদের দৃষ্টি সর্বদা এই কিতাবের প্রতি নিবদ্ধ ছিল; তারা এটি অধ্যয়ন করে, পরস্পর আলোচনা করে এবং জীবনের যাবতীয় জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে এর মুখোমুখি হয়। ফলে তারা আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার তুলনায় অন্য সবকিছুকে তুচ্ছ দেখতে পায়। এর মাধ্যমেই আল্লাহর কিতাবের প্রতি তাদের অনুরাগ বৃদ্ধি পায়, এর সাথে তাদের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয় এবং এর প্রতি তাদের আগ্রহ ও নিবিড় চর্চা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
وفي كل يوم من أيام المسلمين تظهر دراسات وبحوث في القرآن وعلوم القرآن، حتى لقد اجتمع من ذلك ما لا يحصى عدا.
ولقد كان نصيب "الإعجاز" في مباحث القرآن نصيبا موفورا، وقد أفرده بعضهم بدراسة خاصة، كما فعل عبد القاهر الجرجاني والرماني والخطابي والباقلاني
… إلا أن أكثر مباحث الإعجاز هي التي كانت تجيء ضمن مباحث التفسير أو القراءات
… فمعظم الذين فسروا القرآن حاولوا أن يجعلوا في صدور تفاسيرهم إشارات تتضمن آراءهم في فضل القرآن وفي إعجازه.
ولعل! "الزمخشري" أشهر هؤلاء المفسرين وأولاهم بالذكر في هذا المقام، إذ كان تفسيره "الكشاف" يبحث عن مناط الإعجاز في كتاب الله
… في آياته، آية آية، وفي كلماته، كلمة، كلمة.
وقد آن لنا أن نلتقي بعد هذا مع بعض هؤلاء العلماء والمفسرين، الذين يتسع المجال للقائهم والتحدث إليهم.
মুসলমানদের প্রতিটি দিনেই কুরআন এবং কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের (علوم القرآن) ওপর নিত্যনতুন গবেষণা ও অনুসন্ধান প্রকাশিত হচ্ছে, এমনকি এ থেকে এমন বিপুল সংকলন তৈরি হয়েছে যা গণনা করা দুষ্কর।
কুরআনের গবেষণাসমূহে 'অলৌকিকতা' (إعجاز) একটি বিশাল অংশ জুড়ে বিদ্যমান। কেউ কেউ এটিকে স্বতন্ত্রভাবে বিশেষ গবেষণার বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যেমনটি করেছেন আব্দুল কাহির আল-জুরজানি, আল-রুম্মানি, আল-খাত্তাবি এবং আল-বাকিল্লানি
… তবে অলৌকিকতার (إعجاز) অধিকাংশ আলোচনাই তাফসির কিংবা কিরাআত (قراءات) শাস্ত্রের আলোচনার অংশ হিসেবে এসেছে
… অধিকাংশ মুফাসসিরই তাদের তাফসিরগ্রন্থের শুরুতে কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব ও অলৌকিকতা (إعجاز) সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্বলিত ইঙ্গিত প্রদানের প্রয়াস পেয়েছেন।
সম্ভবত 'যামাখশারী' এই মুফাসসিরদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং এই পর্যায়ে সবিশেষ উল্লেখযোগ্য; কারণ তার তাফসির 'আল-কাশশাফ'-এ আল্লাহর কিতাবের অলৌকিকতার (إعجاز) ভিত্তিমূল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে
… এর প্রতিটি আয়াতে এবং প্রতিটি শব্দে।
এখন আমাদের জন্য সেই সব আলেম ও মুফাসসিরদের কয়েকজনের সাথে পরিচিত হওয়ার সময় এসেছে, যাদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ও কথা বলার সুযোগ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
الجاحظ ورأيه في الإعجاز…1- الجاحظ
رأيه في الإعجاز
في رسالة للجاحظ بعنوان "حجج النبوة"1 يتحدث الجاحظ عن معجزة الرسول صلى الله عليه وسلم، وأنها قائمة في القرآن الكريم، الذي هو معجزته الكبرى
… الخالدة، ويقيم الدليل على هذا بما عرف من تحدي القرآن للعرب، وعدولهم عن لقاء هذا التحدي، والنزول في ميدان القول
… فهربوا من هذا الميدان
… وأوقدوا نار الحرب بينهم وبين النبي صلى الله عليه وسلم
… فقتلوا وقتلوا
…ولو كان في مستطاعهم أن يصمدوا لهذا التحدي لما فروا هذا الفرار المشين، ولما رضوا أن يعرضوا أنفسهم للموت، وخاصة بعد أن ظهر عليهم النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الميدان أيضا، وقتل كثير من فرسانهم ومشيختهم.
يقول الجاحظ:
"إن محمدا عليه الصلاة والسلام مخصوص بعلامة، لها في العقل موقع كموقع فلق البحر من العين
… وذلك قوله لقريش خاصة، وللعرب عامة -مع ما فيها من الشعراء والخطباء والبلغاء- والدهاة، والحلماء، وأصحاب الرأي والمكيدة، والتجارب، والنظر في العاقبة: "إن عارضتموني بسورة واحدة فقد كذبت في دعواي، وصدقتم في تكذيبي"2.
ثم يتحدث عن معجزة النبي "محمد صلى الله عليه وسلم" فيقول:
"وكذلك دهر "محمد" صلى الله عليه وسلم، كان أغلب الأمور عليهم وأحسنها عندهم وأجلها في صدورهم حسن البيان ونظم ضروب الكلام، مع علمهم له، وانفرادهم به، فحين استحكمت لغتهم، وشاعت البلاغة فيهم، وكثر شعراؤهم، وفاق الناس خطباؤهم، بعثه الله عز وجل فتحداهم بما كانوا لا
--------------------------------------------
আল-জাহিজ এবং অলৌকিকত্ব (إعجاز) সম্পর্কে তাঁর অভিমত…১- আল-জাহিজ
অলৌকিকত্ব (إعجاز) সম্পর্কে তাঁর অভিমত
আল-জাহিজের 'হুজাজুন নুবুওয়াহ' নামক একটি রিসালাহ (رسالة)১-এ তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুজিজা (معجزة) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যা পবিত্র কুরআনের মধ্যে নিহিত এবং যা তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ... ও শাশ্বত মুজিজা (معجزة)। তিনি এর সপক্ষে এই প্রমাণ উপস্থাপন করেন যে, কুরআন আরবদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল এবং তারা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ভাষাগত প্রতিযোগিতার ময়দানে অবতীর্ণ হতে বিমুখতা প্রদর্শন করেছিল... ফলে তারা এই ময়দান থেকে পলায়ন করেছিল... এবং তারা তাদের ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করেছিল... তারা হত্যা করেছিল এবং নিজেরাও নিহত হয়েছিল... যদি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা তাদের সাধ্যের মধ্যে থাকত, তবে তারা এমন অপমানজনকভাবে পলায়ন করত না এবং নিজেদের মৃত্যুমুখে ঠেলে দিতে রাজি হতো না; বিশেষ করে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই লড়াইয়ের ময়দানেও তাদের ওপর বিজয়ী হয়েছিলেন এবং তাদের অনেক বীর ও প্রবীণ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি নিহত হয়েছিল।
আল-জাহিজ বলেন:
"নিশ্চয়ই মুহাম্মদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এমন এক বিশেষ নিদর্শনের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে যার গুরুত্ব চোখের সামনে সমুদ্র বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনার মতোই সুস্পষ্ট... আর তা হলো বিশেষভাবে কুরাইশদের এবং সাধারণভাবে সকল আরবদের প্রতি তাঁর এই ঘোষণা—যেখানে তাদের মধ্যে কবি, বাগ্মী, অলঙ্কারবিদ, ধুরন্ধর, ধৈর্যশীল, বিজ্ঞ কৌশলী, অভিজ্ঞ এবং দূরদর্শী ব্যক্তিরা বিদ্যমান ছিলেন: 'যদি তোমরা আমার মোকাবিলায় একটি মাত্র সূরা (سورة) নিয়ে আসতে পারো, তবে আমার দাবিতে আমি মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হবো এবং আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ক্ষেত্রে তোমরা সত্যবাদী বলে গণ্য হবে'।"২
এরপর তিনি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুজিজা (معجزة) সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন:
"অনুরূপভাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রভাবশালী, চমৎকার এবং মর্যাদাপূর্ণ বিষয় ছিল উত্তম বর্ণনাভঙ্গি ও সুশৃঙ্খল শব্দবিন্যাস। এ বিষয়ে তাদের গভীর জ্ঞান ও একক পারদর্শিতা থাকা সত্ত্বেও, যখন তাদের ভাষা পূর্ণতা লাভ করল, তাদের মধ্যে বাগ্মিতা ছড়িয়ে পড়ল, কবিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং বাগ্মিতায় তারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করল, তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁকে প্রেরণ করলেন। অতঃপর তিনি তাদের এমন বিষয় দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানালেন যা তারা কখনো দেখেনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ১০০)
يشكون أنهم يقدرون على أكثر منه، فلم يقرعهم بعجزهم، وينقصهم على نقصهم حتى تبين ذلك لضعفائهم وعوامهم، كما تبين لأقويائهم وخواصهم، وكان ذلك من أعجب ما آتاه الله نبيا قط، مع سائر ما جاء به من الآيات ومن ضروب البرهانات1.
ذلك هو رأي الجاحظ في إقامة الحجة على وقوع الإعجاز بالقرآن
… وهو رأي -كما ترى- تقوم بين يديه أدلة قاطعة
… وإن أكثر الذين أقاموا الحجة على إعجاز القرآن من هذه الوجه، إنما نظروا إلى رأي الجاحظ هذا، واعتمدوا عليه، وداروا حوله
… ومنهم "الباقلاني" في كتابه "إعجاز القرآن"
… والزركشي في كتابه "البرهان في علوم القرآن"
… وغيرهما ممن كان لهم رأي في إعجاز القرآن!!.
الجاحظ ووجوه الإعجاز:
أما عن رأيه في وجوه الإعجاز التي كان بها القرآن معجزا، فهو الرأي الذي ذهب إليه "الباقلاني" من بعده، و"الجرجاني" كذلك
… وهو "النظم"، الذي انفرد به القرآن، في صياغة أساليبه، صياغة تنتظم بها المعاني انتظام الروح في الجسد.
والجاحظ كما نعرف، إمام من أئمة البلاغة، وعلم مفرد في أساليب البيان، وذواقة لم تعرف العربية مثيلا له في التعرف على طعوم الكلام، واختلاف مذاقاته! وما تعرف اللغة العربية أديبا طاوعه قلمه فتحرك في كل اتجاه، وجال في كل حلبة، ونازل في كل ميدان، مثل هذا القلم الذي اشتملت عليه يد الجاحظ.
وإذا كان رأي الجاحظ، في وجه الإعجاز في القرآن، هو ذلك النظم الذي انفرد به القرآن في تصوير معانيه وإخراجها على تلك الصورة العجيبة من النظم، فإن ذلك لم يكن رأيا صريحا للجاحظ، وإنما كان عن طريق الاستدلال، والاستنتاج، لمقولاته التي حملناها هذه المحاميل، وفهمناها على هذا الوجه من الفهم، وإلا فإن الجاحظ لم يقل قولا صريحا مواجها، في الجهة أو الجهات التي جاء منها الإعجاز في القرآن!!
كان الجاحظ ممن يحفلون بالصياغة اللفظة، وممن يجعلون لصفاء العبارة ونضارتها شأنا في البلاغة، وتمكين المعنى من أن يعرض أروع عرض، وأبرعه، وأكمله.
وكانت الظاهرة الغالبة في تلك الفترة المعاصرة للجاحظ، هي الاحتفال بالمعنى، وكدّ الذهن له، والجري وراءه
… إذ كانت آثار العقل اليوناني في الفلسفة، والعقل الهندي والفارسي في الحكمة، وضرب الأمثال، قد أخذت تنتقل إلى اللغة العربية، وتؤثر في النفس هذا التأثير الذي أقام المذاهب الكلامية والفلسفية عند كثير من الجماعات والأفراد
… وكان من ذلك أن جرى الناس وراء المعاني يلتقطونها في
--------------------------------------------
তারা সন্দেহ করছিল যে তারা এর চেয়েও শ্রেষ্ঠ কিছু করতে সক্ষম, কিন্তু তিনি তাদের অক্ষমতার দরুন তাদের তিরস্কার করেননি এবং তাদের ত্রুটি সত্ত্বেও তাদের তুচ্ছজ্ঞান করেননি, যতক্ষণ না বিষয়টি তাদের দুর্বল (ضعفاء) ও সাধারণ মানুষের নিকট স্পষ্ট হয়েছে, যেমনটি তাদের শক্তিশালী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট স্পষ্ট হয়েছিল। আল্লাহ কোনো নবীকে যা কিছু দান করেছেন, এটি ছিল তার মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি, সেইসাথে তাঁর আনীত অন্যান্য নিদর্শন এবং বিভিন্ন প্রকার অকাট্য প্রমাণসমূহও বিদ্যমান ছিল।১
এটিই আল-কুরআনের অলৌকিকত্ব সংঘটিত হওয়ার স্বপক্ষে দলিল উপস্থাপনে আল-জাহিজের অভিমত
… আর এটি এমন এক মত—যেমনটি আপনি দেখছেন—যার সপক্ষে অকাট্য প্রমাণাদি বিদ্যমান
… যারা এই দৃষ্টিকোণ থেকে কুরআনের অলৌকিকত্বের স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন, তাদের অধিকাংশই মূলত আল-জাহিজের এই মতের দিকেই দৃষ্টিপাত করেছেন, এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছেন
… তাদের মধ্যে রয়েছেন "আল-বাকিলানি" তাঁর "ই’জাজুল কুরআন" গ্রন্থে
… এবং আজ-জারকাশি তাঁর "আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন" গ্রন্থে
… এবং আরও অনেকে যারা কুরআনের অলৌকিকত্ব সম্পর্কে নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেছেন!!
আল-জাহিজ ও অলৌকিকত্বের বিভিন্ন দিক:
আর কুরআনের অলৌকিকত্বের যে দিকগুলোর কারণে কুরআন মোজেজা হিসেবে গণ্য হয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁর অভিমত হলো সেই মত যা তাঁর পরবর্তী সময়ে "আল-বাকিলানি" এবং একইভাবে "আল-জুরজানি" গ্রহণ করেছেন
… আর তা হলো "শৈলী বা বিন্যাস", যা কুরআন তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে অনন্যভাবে ধারণ করেছে—এমন এক বিন্যাস যার মাধ্যমে অর্থসমূহ দেহে আত্মার বিন্যাসের ন্যায় সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত হয়েছে।
আর আল-জাহিজ—যেমনটি আমরা জানি—অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমামদের অন্যতম একজন ইমাম এবং বর্ণনাশৈলীর ক্ষেত্রে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব; তিনি ছিলেন এমন এক বোদ্ধা যার সমকক্ষ আর কাউকে আরবি ভাষা দেখেনি কথার স্বাদ এবং তাঁর বৈচিত্র্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে! আরবি সাহিত্য এমন কোনো সাহিত্যিককে দেখেনি যাঁর কলম তাঁর প্রতি এত অনুগত ছিল যে তা সব দিকে বিচরণ করেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিভ্রমণ করেছে এবং প্রতিটি ময়দানে লড়াই করেছে—ঠিক যেমনটি আল-জাহিজের হাতের এই কলমটি করেছিল।
যদি আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের বিষয়ে আল-জাহিজের অভিমত সেই বিন্যাসই হয়ে থাকে যার মাধ্যমে কুরআন তার অর্থসমূহ চিত্রায়নে এবং সেগুলোকে সেই বিস্ময়কর কাঠামোর শৈলীতে উপস্থাপনে অনন্যতা অর্জন করেছে, তবে সেটি আল-জাহিজের কোনো দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য ছিল না। বরং তা ছিল তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে আমাদের বিশ্লেষণ এবং অনুমানের ফসল, যা আমরা এই তাৎপর্যে গ্রহণ করেছি এবং এভাবে অনুধাবন করেছি। অন্যথায়, আল-জাহিজ আল-কুরআনের অলৌকিকত্ব ঠিক কোন দিক বা দিকসমূহ থেকে এসেছে সে বিষয়ে সরাসরি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেননি!!
আল-জাহিজ ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা শব্দশৈলীর প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন এবং যারা বাক্যের পরিচ্ছন্নতা ও মাধুর্যকে অলঙ্কারশাস্ত্রে উচ্চ মর্যাদা দিতেন, যাতে অর্থের সর্বোত্তম, সুনিপুণ এবং পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়।
আল-জাহিজের সমসাময়িক সেই সময়ের প্রবল প্রবণতাটি ছিল অর্থের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান, এর জন্য মেধা প্রয়োগ এবং এর পশ্চাদ্ধাবন করা
… যেহেতু দর্শনে গ্রিক চিন্তাধারা এবং প্রজ্ঞা ও নীতিবাক্য উপস্থাপনে ভারতীয় ও পারসিক চিন্তাধারার প্রভাব আরবি ভাষায় সংক্রমিত হতে শুরু করেছিল। এটি মানুষের মনে এমন গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল যা অনেক গোষ্ঠী ও ব্যক্তির মাঝে ইলমুল কালাম ও দর্শনের বিভিন্ন মতবাদের ভিত্তি স্থাপন করেছিল
… এর অন্যতম ফলাফল ছিল এই যে, মানুষ অর্থের পেছনে ছুটতে শুরু করল এবং তা আহরণ করতে লাগল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ১০১)
أي محمل من محامل اللفظ، وعلى أية صورة من صوره
… حتى لقد كاد ذلك يذهب بكثير منهم إلى الخروج على الأساليب العربية والذوق العربي1.
لهذا وقف الجاحظ في وجه هذا التيار، وتصدى له، ودفع به إلى الوراء بعيدا
… فانحسر شيئا فشيئا، وجعل أولئك الذين كانوا قد ركبوا هذا المركب لاصطياد المعاني، يعودون رويدا إلى الساحل، حيث يأخذون من المعاني ما تنال أيديهم، وما تبلغ أفكارهم.
رأي الجاحظ
والرأي الذي دعا إليه الجاحظ، هو أن البلاغة نظم وصياغة
… فمن أخطأه حسن النظم، وحبكة الصياغة، فقد أخطأت كلامه عناصر الحياة، وجمدت فيه عروق البلاغة والبيان
… وذلك أن المعنى الذي يخرج في صورة من النظم المضطرب ومن الصياغة المختلطة، هو معنى شأنه ذميم.
ويشهد عبد القاهر الجرجاني آثار هذه المعركة التي كانت دائرة بين اللفظ والمعنى، ويراها في مخلفات الجاحظ الذي كان ينتصر للفظ، من جهة، وفي مخلفات من كانوا يقفون ضده
… في الجهة الأخرى.
ويقف "عبد القاهر" إلى جانب رأي الجاحظ، ويقفو أثره، ويتخذ من هذا الرأي حجته على وجه الإعجاز في القرآن.
ولا تحسبن أن "الجاحظ" يهون من شأن المعنى، أو يغمض من قدره
… وكيف وهو رجل راجح العقل
… وفير العلم والحكمة والأدب؟
فالجاحظ لم ينتصر للفظ، ولم يقف إلى جانب الأسلوب، إلا لمواجهة هذا الخطر الداهم على اللغة، والذي أشرنا إليه آنفا، وإلا فإنه حفي بالمعنى مؤثر له، حريص عليه ما دام لم يجر على الأسلوب، ولم يفسد كيانه، ولم يشوه بنيانه.
--------------------------------------------
শব্দ প্রয়োগের যে কোনো দিক বা তার যে কোনো রূপই হোক না কেন
… এমনকি বিষয়টি তাদের অনেককেই আরবি ভাষাশৈলী ও আরবি রসবোধ থেকে বিচ্যুত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল১।
এই কারণেই আল-জাহিজ এই স্রোতের বিপরীতে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, এর মোকাবিলা করেছিলেন এবং একে বহুদূরে হটিয়ে দিয়েছিলেন
… ফলে তা ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে পড়ে। আর যারা অর্থের অন্বেষণে এই তরী আরোহণ করেছিলেন, তারা ধীরে ধীরে উপকূলে ফিরে আসতে শুরু করেন, যেখান থেকে তারা অর্থের ততটুকুই গ্রহণ করতে পারতেন যা তাদের আয়ত্তে ছিল এবং যা তাদের চিন্তা ও উপলব্ধিতে আসত।
আল-জাহিজের অভিমত
আল-জাহিজ যে মতবাদের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন তা হলো, অলঙ্কারশাস্ত্র হলো শব্দবিন্যাস ও গঠনশৈলী
… সুতরাং যার নিকট সুষ্ঠু বিন্যাস ও সুনিপুণ গঠনশৈলীর অভাব রয়েছে, তার বক্তব্যে জীবনের উপাদান অনুপস্থিত এবং তাতে অলঙ্কার ও প্রাঞ্জলতার প্রাণশক্তি নিথর হয়ে পড়েছে
… কারণ যে অর্থ বিশৃঙ্খল বিন্যাস ও অসংলগ্ন গঠনশৈলীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তা মূলত একটি নিকৃষ্ট অর্থ।
আব্দুল কাহির আল-জুরজানি শব্দ ও অর্থের মধ্যে চলমান এই দ্বন্দ্বের প্রভাব প্রত্যক্ষ করেন। তিনি এটি একদিকে আল-জাহিজের রচনায় লক্ষ্য করেন যিনি শব্দের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন, এবং অন্যদিকে যারা তার বিপরীতে অবস্থান করেছিলেন তাদের রচনায়ও তা দেখেন।
আব্দুল কাহির আল-জাহিজের মতের স্বপক্ষে অবস্থান নেন এবং তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। এই মতবাদকেই তিনি কুরআনের অলৌকিকত্বের রহস্য বর্ণনায় তার প্রধান দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন।
আপনি এমনটি মনে করবেন না যে, আল-জাহিজ অর্থের গুরুত্বকে খাটো করে দেখেছেন বা এর মর্যাদাকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন
… সেটি কীভাবে সম্ভব, যখন তিনি ছিলেন প্রখর মেধা, অগাধ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সাহিত্যের অধিকারী একজন ব্যক্তিত্ব?
মূলত আল-জাহিজ ভাষার ওপর ধেয়ে আসা সেই চরম বিপদের মোকাবিলা করার জন্যই শব্দ ও শৈলীর গুরুত্বারোপ করেছিলেন, যার প্রতি আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি। অন্যথায় তিনি অর্থের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ও অনুরাগী ছিলেন, যতক্ষণ না তা শৈলীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তার সত্তাকে বিনষ্ট করে এবং তার মূল কাঠামোকে বিকৃত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ১০২)
وللجاحظ في هذا المقام عبارة مشهورة يقول فيها:
"والمعاني مطروحة في الطريق، يعرفها العجمي والعربي، والقروي والبدوي، وإنما الشأن في إقامة الوزن، وتخير اللفظ، وسهولة المخرج، وصحة الطبع، وكثرة الماء، وجودة السبك"
"وإنما الشعر صياغة وضرب من التصوير"1.
وأنت ترى أن "الجاحظ" ليس له هنا حديث عن الإعجاز في القرآن، وإنما هو يتحدث عن صفة الكلام البليغ، وعن مأتى البلاغة فيه، ومجال التفاضل بين الكلام والكلام.
وإنه بهذا الميزان الذي يوزن به الكلام، وتعرف به منازله، يمكن أن يعرف فضل القرآن على غيره من الكلام، ويمكن أن يستدل على وجه الإعجاز فيه.
وهذا ما كان من "عبد القاهر" في كتابيه: "دلائل الإعجاز" و"أسرار البلاغة"
… حيث أقام مذهبه في الإعجاز على هذا الميزان، وهو "النظم"
… كما سنرى ذلك في موضعه من هذا البحث.
هذا "والجاحظ" إذ يرى الإعجاز في "النظم" لا يرى النظم نظما إلا إذا كان على شيء من السعة والامتداد، بحيث يحمل معنى مؤلفا من حقائق مترابطة، يسند بعضها بعضا، فتتشكل منها صورة سوية.
أما النظم الذي يقوم على جملة أو جملتين، أو كلمة أو كلمتين، فلا يدخل في هذا الباب، ولا يعد نظما ينكشف به معدن الكلام وتبين روعته.
يقول الجاحظ في هذا:
"ولأن رجلا من العرب لو قرأ على رجل منهم أي من خطبائهم وبلغائهم سورة واحدة طويلة أو قصيرة، لتبين له في نظامها ومخرجها، وفي لفظها وطبعها، أنه عاجز عن مثلها، ولو تحدى بها أبلغ العرب لظهر عجزه عنها".
ثم يقول:
"وليس ذلك -أي الإعجاز- في الحرف والحرفين، والكلمة والكلمتين، ألا ترى أن الناس قد يتهيأ في طباعهم، ويجري على ألسنتهم أن يقول رجل منهم: "الحمد لله " و"على الله توكلنا"
… وهذا كله في القرآن، غير أنه متفرق غير مجتمع".
"ولو أراد أَنطَقُ الناس أن يؤلف من هذا الضرب سورة واحدة طويلة أو قصيرة على نظم القرآن وطبعه، وتأليفه، ومخرجه لما قدر عليه، ولو استعان بجميع "قحطان" و "معد بن عدنان"2.
فالنظم على صورة مخصوصة، وفي امتداد رحب هو المعرض الذي تتجلى فيه روعة القرآن وتخايل ملامح إعجازه.
وعلى هذا فالجاحظ هو إمام هذا المذهب في إعجاز القرآن، وعمدة الرأي فيه
… ما أن كشف عنه في حديثه عن الأدب، وبيان معادنه حتى كان مذهبا غالبا من مذاهب الرأي في الإعجاز، وحتى دفع
--------------------------------------------
এই প্রসঙ্গে জাহিজের একটি সুপ্রসিদ্ধ উক্তি রয়েছে, যেখানে তিনি বলেন:
“বিষয়বস্তু ও অর্থসমূহ (معاني) তো পথেই পড়ে থাকে, অনারব ও আরব, গ্রাম্য ও মরুবাসী—সবাই তা জানে। আসল বৈশিষ্ট্য তো হলো ছন্দের যথাযথ প্রয়োগ, শব্দ চয়ন, বাচনভঙ্গির সাবলীলতা, স্বভাবজাত শুদ্ধতা, প্রসাদগুণ এবং বুননের উৎকর্ষ।”
“কবিতা তো মূলত একটি শৈল্পিক বিন্যাস এবং এক ধরনের চিত্রায়ন মাত্র।”1.
আপনি লক্ষ্য করবেন যে, 'জাহিজ' এখানে কুরআনের অলৌকিকতা (إعجاز) নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি, বরং তিনি কেবল আলঙ্কারিক বক্তব্যের বৈশিষ্ট্য, তাতে অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) নিগূঢ় রহস্য এবং এক বক্তব্যের ওপর অন্য বক্তব্যের শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রসমূহ নিয়ে আলোচনা করছেন।
বক্তব্য পরিমাপের এই মানদণ্ড—যার মাধ্যমে বক্তব্যের মান ও স্তরসমূহ নির্ণয় করা হয়—তার দ্বারাই অন্যান্য বক্তব্যের ওপর কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমেই এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকটি প্রমাণ করা যেতে পারে।
আর এটিই ছিল 'আব্দুল কাহির'-এর অবস্থান তাঁর গ্রন্থদ্বয়: 'দালায়িলুল ই'জায' এবং 'আসরারুল বালাগাহ'-এ
… যেখানে তিনি অলৌকিকতা (إعجاز) সংক্রান্ত তাঁর মতবাদকে এই মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, আর তা হলো 'শব্দবিন্যাস' (نظم)
… যেমনটি আমরা এই গবেষণার যথাযোগ্য স্থানে দেখতে পাব।
জাহিজ যখন 'শব্দবিন্যাসের' (نظم) মধ্যে অলৌকিকতা (إعجاز) দেখেন, তখন তিনি শব্দবিন্যাসকে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত বিন্যাস হিসেবে গণ্য করেন না যতক্ষণ না তাতে কিছুটা প্রশস্ততা ও ব্যাপ্তি থাকে, যা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত সত্যের সমন্বয়ে গঠিত কোনো অর্থ বহন করে এবং এর একটি অংশ অন্যটিকে সমর্থন যোগায়, যার ফলে একটি সুসংগত রূপ পরিগ্রহ করে।
পক্ষান্তরে যে শব্দবিন্যাস (نظم) কেবল একটি বা দুটি বাক্য অথবা একটি বা দুটি শব্দের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়, তা এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়; এবং একে এমন শব্দবিন্যাস (نظم) হিসেবে গণ্য করা হয় না যার মাধ্যমে বক্তব্যের মূল সত্তা উন্মোচিত হয় এবং এর চমৎকারিত্ব ফুটে ওঠে।
জাহিজ এই বিষয়ে বলেন:
“যদি কোনো আরব ব্যক্তি তাদেরই কোনো বাগ্মী বা সাহিত্যিকের সামনে একটি দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত সূরা পাঠ করত, তবে তার গঠনশৈলী (نظم), বাচনভঙ্গি, শব্দপ্রয়োগ এবং স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যেত যে সে এর অনুরূপ কিছু রচনা করতে অক্ষম। এমনকি যদি আরবের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিককেও এর দ্বারা চ্যালেঞ্জ করা হতো, তবে তার অপারগতা প্রকাশ পেত।”
অতঃপর তিনি বলেন:
“আর এই অলৌকিকতা (إعجاز)—অর্থাৎ মোজেজা—একটি বা দুটি বর্ণ অথবা একটি বা দুটি শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আপনি কি দেখেন না যে মানুষের প্রকৃতিতে এটি সম্ভব এবং তাদের জিহ্বায় অবলীলায় চলে আসে যখন তাদের কেউ বলে: ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং ‘আলাল্লাহি তাওয়াক্কালনা’
… এ সবই কুরআনে বিদ্যমান, তবে তা বিচ্ছিন্নভাবে রয়েছে, একত্রে নয়।”
“যদি শ্রেষ্ঠ বাগ্মী ব্যক্তিও কুরআনের শব্দবিন্যাস (نظم), প্রকৃতি, রচনাশৈলী এবং বাচনভঙ্গির আদলে এই ধরনের একটি দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত সূরা রচনা করতে চাইত, তবে সে তা করতে সক্ষম হতো না; যদিও সে সমগ্র ‘কাহতান’ ও ‘মা’দ বিন আদনান’ বংশের সাহায্য গ্রহণ করত।”2.
সুতরাং একটি বিশেষ আঙ্গিকে এবং প্রশস্ত পরিসরে শব্দবিন্যাসই (نظم) হলো সেই ক্ষেত্র, যেখানে কুরআনের চমৎকারিত্ব পরিস্ফুট হয় এবং এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) বৈশিষ্ট্যসমূহ দৃশ্যমান হয়।
এই প্রেক্ষিতে, জাহিজ হলেন কুরআনের অলৌকিকতা (إعجاز) সংক্রান্ত এই মতবাদের ইমাম এবং এ বিষয়ের প্রধান প্রবক্তা
… সাহিত্য এবং এর উপাদানসমূহ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তিনি যখনই এটি উন্মোচন করেছেন, তখন থেকেই এটি অলৌকিকতা (إعجاز) সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে একটি প্রভাবশালী মতবাদে পরিণত হয়েছে, এমনকি এটি ধাবিত করেছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদওয়াউ আলাল কুরআনিল কারীম (বালাগাতুহু ওয়া ইজাযুহু)
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
إليه العلماء دفعا، إذ جعلوا قوله هذا في الفصاحة والبيان، هو مجال النظر في الإعجاز، لا يكادون يتجاوزونه، ولا ينظرون إلى شيء وراءه.
الجاحظ
…والقول بالصرفة:
لاتعجب إذا رأيت الجاحظ يقول بالصرفة في وجه الإعجاز في القرآن.. فالجاحظ كما نعلم "معتزلي"
… وجه من وجوه المعتزلة ورأس من رءوسهم، والنظام وهو من شيوخ المعتزلة كان أول من جاهر بهذا الرأي وفتح للناس باب الكلام فيه.
ولا يذهبن بك الرأي إلى أن تحسب الجاحظ متابعا أو مقلدا لإمام مذهبه "النظام" في هذا الرأي
… فالجاحظ وإن أخذ بقول "النظام"
… فليس ذلك عن تقليد ومتابعة، وإنما عن نظر وموازنة ومراجعة
… ثم اقتناع.
ومن ثم كان رأي الجاحظ في القول بالصرفة هو الذي جعل لرأي "النظام" بعد هذا مكانا بين الآراء التي دارت حول إعجاز القرآن، ولولا هذا لما التفت الناس إلى رأي النظام هذا الالتفات، ولما عاش هذا الرأي في الناس، ينقضونه حينا، ويقبلونه أحيانا
… وأمر آخر، وهو أن الجاحظ إنما قال بالصرفة بعد أن أعياه الوقوع على الضوابط الدقيقة التي يضبط بها وجه الإعجاز في القرآن، ويكشف عن أسرار هذا الإعجاز
… فذلك أمر إن أعجز الجاحظ فقد أعجز الإنس والجن جميعا! فلو أن الإعجاز قد انكشف –وهيهات- لعرفه الناس، ومن ثم لم يعد بعيدا عن متناول أيديهم
… وكان في مستطاعهم أن يأتوا بمثل هذا القرآن
… والله سبحانه يقول:
{قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً} 1.
إن سر الإعجاز مضمر في كلمات القرآن، كلمة كلمة، وآية آية، إنه أمر من أمر الله
…كالروح ترى آثارها، وتشاهد أفعالها، دون أن ينكشف للناس شيء منها.
{وَيَسْأَلونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَاّ قَلِيلاً} 2.
والقرآن "روح" تتجلى آثاره في هذه الكلمات المنظومة في آياته
…ولعل في قوله تعالى للنبي الكريم صلى الله عليه وسلم:
{وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنَا} 3.
لعل في هذا ما يعين على الفهم الذي فهمناه من أن القرآن "روح" من روح الحق جل وعلا
… ونقول: لا تعجب إذا عجز الجاحظ عن الكشف عن هذا السر المضمر، أو هذا الروح الساري في القرآن فلم يعرف وجه الإعجاز فألجأه هذا العجز إلى القول بالصرفة
… فالجاحظ أستاذ في نقد الكلام، فلا عجب أن عرف قدر القرآن، ولزم حده معه.
(يتبع)
--------------------------------------------
বিদগ্ধ আলেমগণ এর দিকেই প্রবলভাবে ধাবিত হয়েছেন, যেহেতু তাঁরা অলঙ্কারশাস্ত্র ও বাগ্মিতার ক্ষেত্রে তাঁর এই বক্তব্যকেই অলৌকিকত্ব পর্যালোচনার ক্ষেত্র হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; তাঁরা সচরাচর এটি অতিক্রম করেন না এবং এর বাইরে অন্য কিছুর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না।
আল-জাহিজ
…এবং সারফা সংক্রান্ত মতবাদ:
আপনি যদি দেখেন যে, আল-জাহিজ কুরআনের অলৌকিকত্বের ক্ষেত্রে সারফা মতবাদের কথা বলছেন, তবে তাতে আশ্চর্যান্বিত হবেন না। কারণ আল-জাহিজ, যেমনটি আমরা জানি, একজন "মুতাযিলি (معتزلي)"... তিনি মুতাযিলা মতাদর্শের একজন বিশিষ্ট মুখ এবং তাদের অন্যতম প্রধান নেতা। আর নাজ্জাম, যিনি মুতাযিলা শায়খদের (شيوخ) অন্যতম ছিলেন, তিনিই সর্বপ্রথম এই মতবাদটি প্রকাশ্যে প্রচার করেন এবং মানুষের জন্য এ বিষয়ে আলোচনার দ্বার উন্মোচন করেন।
আপনার মনে যেন এমন ধারণার উদয় না হয় যে, আল-জাহিজ এই মতের ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাবের ইমাম "নাজ্জাম"-এর অনুসারী বা অন্ধ অনুকরণকারী (مقلد) ছিলেন... কেননা আল-জাহিজ যদিও নাজ্জামের মতটি গ্রহণ করেছেন... তবে তা অন্ধ অনুসরণ বা অনুকরণের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং তা গভীর পর্যবেক্ষণ, তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার পর... অতঃপর সুদৃঢ় প্রত্যয়ের মাধ্যমেই হয়েছে।
আর এই কারণেই আল-জাহিজের সারফা সংক্রান্ত এই অভিমতটিই নাজ্জামের মতবাদকে কুরআনের অলৌকিকত্ব কেন্দ্রিক বিভিন্ন মতামতের মাঝে একটি বিশেষ স্থান করে দিয়েছে। এটি না হলে মানুষ নাজ্জামের এই মতের প্রতি এমনভাবে কর্ণপাত করত না এবং মানুষের মাঝে এই মতবাদটি টিকে থাকত না; যা তারা কখনও খণ্ডন করে আবার কখনও গ্রহণ করে... আরেকটি বিষয় হলো, আল-জাহিজ কেবল তখনই সারফা মতবাদের কথা বলেছেন যখন তিনি কুরআনের অলৌকিকত্বের সঠিক মানদণ্ডগুলো নিরূপণ করতে এবং এই অলৌকিকত্বের রহস্য উন্মোচন করতে অপারগ হয়েছেন... আর এটি এমন এক বিষয় যা আল-জাহিজকে অপারগ করলে সমগ্র মানবজাতি ও জিনজাতিকেও অপারগ করে দেয়! যদি অলৌকিকত্বের রহস্য উন্মোচিতই হয়ে যেত—যা অসম্ভব—তবে মানুষ তা চিনে ফেলত, আর তখন তা তাদের নাগালের বাইরে থাকত না... এবং তাদের পক্ষেও এই কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসা সম্ভব হতো... অথচ মহান আল্লাহ বলেন:
{বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।} ১।
নিশ্চয়ই অলৌকিকত্বের রহস্য কুরআনের শব্দে শব্দে এবং আয়াতে আয়াতে প্রচ্ছন্ন রয়েছে। এটি আল্লাহর নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয়... যেমন রুহ, যার প্রভাব ও কার্যাবলি প্রত্যক্ষ করা যায়, কিন্তু এর রহস্য মানুষের কাছে উন্মোচিত হয় না।
{তারা আপনাকে রুহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, রুহ আমার রবের নির্দেশঘটিত; আর তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে।} ২।
আর কুরআন হলো "রুহ", যার প্রভাব এর আয়াতের সুসংবদ্ধ শব্দমালার মাঝে প্রতিফলিত হয়...
সম্ভবত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মহান আল্লাহর এই বাণীতে:
{এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে রুহ পাঠিয়েছি।} ৩।
সম্ভবত এর মধ্যেই সেই বোধ নিহিত রয়েছে যা আমরা বুঝতে পেরেছি—তা হলো কুরআন সত্য সুমহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এক "রুহ"... আমরা বলি: আল-জাহিজ যদি এই প্রচ্ছন্ন রহস্য বা কুরআনের পরতে পরতে বহমান এই রুহ উন্মোচন করতে অক্ষম হন, তবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তিনি এর অলৌকিকত্বের প্রকৃত দিকটি অনুধাবন করতে পারেননি বলেই এই অক্ষমতা তাঁকে সারফা মতবাদের দিকে ধাবিত করেছে... আল-জাহিজ ছিলেন সাহিত্য সমালোচনার একজন উস্তাদ; তাই তিনি যদি কুরআনের মর্যাদা অনুধাবন করে এর সামনে নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে থাকেন, তবে তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই।
(চলবে)
--------------------------------------------