(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: -)
رحلة ابن جبير ط دار بيروت   (ابن جبير)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: رحلة ابن جبير

المؤلف: ابن جبير، محمد بن أحمد بن جبير الكناني الأندلسي، أبو الحسين (ت 614هـ)

الناشر: دار بيروت للطباعة والنشر - بيروت

الطبعة: الأولى

عدد الصفحات: 320

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে জুবায়েরের ভ্রমণকাহিনী দার বৈরুত সংস্করণ   (ইবনে জুবায়ের)

বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী


বই: ইবনে জুবায়েরের ভ্রমণকাহিনী

লেখক: ইবনে জুবায়ের، মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন জুবায়ের আল-কিনানী আল-আন্দালুসী، আবু আল-হুসাইন (মৃত্যু ৬১৪ হিজরী)

প্রকাশক: দার বৈরুত মুদ্রণ ও প্রকাশনা - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المجلد الأول

‌‌تذكره بالأخبار عن اتفاقات الأسفار

…

بسم الله الرحمن الرحيم

اللهم صل على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم

تذكره بالأخبار عن اتفاقات الأسفار

ابتدئ بتقييدها يوم الجمعة الموفى ثلاثين لشهر شوال سنة ثمان وسبعين وخسمائة على متن البحر بمقابلة جبل شلير عرفنا الله السلامة بمنه1.

وكان انفصال أحمد بن حسان ومحمد بن جبير من غرناطة2 حرسها الله للنية الحجازية المباركة قرنها الله بالتسير والتسهيل وتعريف الصنع الجميل أول ساعة من يوم الخميس الثامن لشوال المذكور وبموافقة اليوم الثالث لشهر فبراير الاعجمي. وكان الاجتياز على جيان3 لقضاء بعض الأسباب ثم كان الخروج منها أول ساعة من يوم الإثنين التاسع عشر لشهر شوال المذكور وبموافقة اليوم الرابع عشر لشهر فبراير المذكور أيضا.

وكانت مرحلتنا الأولى منها إلى حصن لغيداق ثم منه إلى حصن قبرة4

--------------------------------------------

1 سنة 1182م. شلير: جبل بالأندلس من أعمال إلبيرة.

2 غرناطة: أعظم مدن إلبيرة.

3 جيان: مدينة بالأندلس.

4 قبذاق: مدينة من نواحي قرطبة بالأندلس. قبرة: كورة من أعمال الأندلس.
প্রথম খণ্ড

ভ্রমণবৃত্তান্তের ঘটনাবলির স্মারক

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

ভ্রমণবৃত্তান্তের ঘটনাবলির স্মারক

এটি লিপিবদ্ধ করার সূচনা হয়েছে পাঁচশ আটাত্তর হিজরি সনের শাওয়াল মাসের পূর্ণ ত্রিশ তারিখ জুমার দিনে, সমুদ্রবক্ষে শিলইয়ার পাহাড়ের সম্মুখে; আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে আমাদের নিরাপত্তা দান করুন।১

বরকতময় হিজাজ গমনের পবিত্র উদ্দেশ্যে আহমদ ইবনে হাসসান এবং মুহাম্মদ ইবনে জুবায়েরের গ্রানাডা (আল্লাহ একে হেফাজত করুন) থেকে প্রস্থান ছিল উল্লিখিত শাওয়াল মাসের আট তারিখ বৃহস্পতিবার দিনের প্রথম প্রহরে, যা আজমি (সৌর) ক্যালেন্ডারের ফেব্রুয়ারি মাসের তিন তারিখের সাথে মিলে যায়। আল্লাহ এই যাত্রাকে স্বাচ্ছন্দ্য ও সহজসাধ্য করুন এবং সুন্দর পরিণতির সাথে যুক্ত করুন।

কিছু প্রয়োজন মেটানোর জন্য জায়ান হয়ে যাত্রা করা হয়েছিল, অতঃপর সেখান থেকে প্রস্থান ছিল উল্লিখিত শাওয়াল মাসের উনিশ তারিখ সোমবারের প্রথম প্রহরে, যা একইভাবে উল্লিখিত ফেব্রুয়ারি মাসের চৌদ্দ তারিখের সাথে মিলে যায়।

সেখান থেকে আমাদের প্রথম মনজিল বা গন্তব্য ছিল লাজিদাক দুর্গ পর্যন্ত, অতঃপর সেখান থেকে কাবরা দুর্গ পর্যন্ত।৪

--------------------------------------------

১. ১১৮২ খ্রিস্টাব্দ। শিলইয়ার: আন্দালুসের এলবিরা অঞ্চলের একটি পাহাড়।

২. গ্রানাডা: এলবিরা অঞ্চলের বৃহত্তম শহর।

৩. জায়ান: আন্দালুসের একটি শহর।

৪. কাবজাক: আন্দালুসের কর্ডোবা অঞ্চলের একটি শহর। কাবরা: আন্দালুসের একটি প্রশাসনিক এলাকা।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ৮)
ثم منه إلى مدينة إستجة ثم منها إلى حصن أشونة1 ثم منه إلى شلبر ثم منه إلى حصن أركش ثم منه إلى قرية تعرف بقرية النشمة من قرى مدينة ابن السليم ثم منها إلى جزيرة طريف وذلك يوم الإثنين السادس والعشرين من الشهر المؤرخ.

فلما كان ظهر يوم الثلاثاء من اليوم الثاني من نزولنا يسر الله علينا في عبور البحر إلى قصر مصمودة2 تيسيرا عجيبا والحمد لله. ونهضنا منه إلى سبتة غدوة يوم الأربعاء الثامن والعشرين منه وألفينا بها مركبا للروم الجنوبيين مقلعا إلى الإسكندرية بحول الله عز وجل فسهل الله علينا في الركوب فيه.

وأقلعنا ظهر يوم الخميس التاسع والعشرين منه وبموافقة الرابع والعشرين من فبراير المذكور بحول الله تعالى وعونه لا رب غيره. وكان طريقنا في البحر محاذيا لبر الأندلس. وفارقناه يوم الخميس السادس لذي القعدة بعده عند ما حاذينا دانية. وفي صبيحة يوم الجمعة السابع من الشهر المذكور آنفا قابلنا بر جزيرة يابسة3 ثم يوم السبت بعده قابلنا بجزيرة ميورقة ثم يوم الأحد بعده قابلنا جزيرة منورقة ومن سيتة إليها نحو ثمانية مجار والمجرى مائة ميل. وفارقنا بر هذه الجزيرة المذكورة وقام معنا بر جزيرة سردانية أول ليلة الثلاثاء الحادي عشر من الشهر المذكور وهو الثامن من مارس دفعة واحدة على نحو ميل أو أقل. وبين الجزيرتين سردانية ومنورقة نحو الأربعمائة ميل فكان قطعا مستغربا في السرعة.

--------------------------------------------

1 إستجة: كورة بالأندلس. أشونة: حصن بالأندلس من نواحي إستجة.

2 قصر مصمودة: رأس شمال إفريقية المقابل للأندلس.

3 يابسة: جزيرة نحو الأندلس.
সেখান থেকে এস্তিযা শহরে, তারপর সেখান থেকে আশুনা দুর্গে, তারপর সেখান থেকে শালবার অভিমুখে, তারপর সেখান থেকে আরকাশ দুর্গে, এরপর ইবনে আল-সালিম শহরের গ্রামগুলোর অন্তর্ভুক্ত নাশমাহ নামক একটি গ্রামে, এরপর সেখান থেকে তারিখকৃত মাসের ছাব্বিশ তারিখ সোমবার তারিফ দ্বীপে পৌঁছালাম।

অতঃপর আমাদের অবতরণের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দুপুরে আল্লাহ তাআলা কাসর মাসমুদাহর দিকে সমুদ্র পাড়ি দেওয়া আমাদের জন্য বিস্ময়করভাবে সহজ করে দিলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা সেখান থেকে সেই মাসের আটাশ তারিখ বুধবার সকালে সেউতার দিকে রওনা হলাম এবং সেখানে দক্ষিণ রোমানদের একটি জাহাজ পেলাম যা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর শক্তিতে আলেকজান্দ্রিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করছিল। আল্লাহ আমাদের জন্য তাতে আরোহণ সহজ করে দিলেন।

আমরা সেই মাসের উনত্রিশ তারিখ বৃহস্পতিবার দুপুরে এবং উল্লিখিত ফেব্রুয়ারি মাসের চব্বিশ তারিখের সাথে মিল রেখে যাত্রা শুরু করলাম, মহান আল্লাহর শক্তি ও সাহায্যে, তিনি ব্যতীত কোনো প্রতিপালক নেই। সমুদ্রে আমাদের পথ ছিল আন্দালুস উপকূলের সমান্তরালে। পরবর্তী জিলকদ মাসের ছয় তারিখ বৃহস্পতিবার যখন আমরা দানিয়ার সমান্তরালে পৌঁছালাম, তখন তা অতিক্রম করলাম। পূর্বোক্ত মাসের সাত তারিখ শুক্রবার সকালে আমরা ইয়াবিসাহ দ্বীপের উপকূলের মুখোমুখি হলাম, এরপর পরবর্তী শনিবার মায়ুরকাহ দ্বীপের এবং রবিবার মানুরকাহ দ্বীপের মুখোমুখি হলাম। সেউতা থেকে এর দূরত্ব প্রায় আট মাজরা, আর প্রতি মাজরা হলো একশ মাইল। আমরা এই উল্লিখিত দ্বীপের উপকূল ত্যাগ করলাম এবং উল্লিখিত মাসের এগারো তারিখ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে—যা ছিল আট মার্চ—হঠাৎ করেই সারদানিয়া দ্বীপের উপকূল আমাদের সামনে ভেসে উঠল, যার দূরত্ব ছিল এক মাইল বা তারও কম। সারদানিয়া ও মানুরকাহ দ্বীপদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় চারশ মাইল, ফলে এটি অতিক্রম করার গতি ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর।

--------------------------------------------

১. এস্তিযা: আন্দালুসের একটি প্রদেশ। আশুনা: এস্তিযা অঞ্চলের নিকটবর্তী আন্দালুসের একটি দুর্গ।

২. কাসর মাসমুদাহ: উত্তর আফ্রিকার একটি অন্তরীপ যা আন্দালুসের বিপরীতে অবস্থিত।

৩. ইয়াবিসাহ: আন্দালুসের নিকটবর্তী একটি দ্বীপ।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌أهوال البحر

وطرأ علينا من مقابلة البر في الليل هول عظيم عصم الله منه بريح أرسلها الله تعالى في الحين من تلقاء البر فأخرجنا عنه والحمد لله على ذلك. وقام علينا نوء هال1 له البحر صبيحة يوم الثلاثاء المذكور فبقينا مترددين بسببه حول بر سردانية إلى يوم الأربعاء بعده فأطلع الله علينا في حال الوحشة وإنغلاق الجهات بالنوء فلا نميز شرقا من غرب مركبا للروم قصدنا إلى أن حاذانا فسئل عن مقصده فأخبر إنه يريد جزيرة صقلية وأنه من قرطاجنة عمل مرسية. وقد كنا استقبلنا طريقه التي جاء منها منه غير علم فأخذ نا عند ذلك في اتباع اثره والله الميسر لا رب سواه فخرج علينا طرف من بر سردانية المذكور فأخذ نا في الرجوع عودا على بدء إلى أن وصلنا طرفا من البر المذكور يعرف بقوسمركة وهو مرسى معروف عندهم فأرسينا به ظهر يوم الأربعاء المذكور والمركب المذكور معنا وبهذا الموضع المذكور اثر لبنيات قديم ذكر لنا إنه كان منزلا لليهود فيما سلف.

ثم أنا أقلعنا منه ظهر يوم الأحد السادس عشر من الشهر المذكور، وفي مدة مقامنا بالمرسى المذكور جددنا فيه الماء والحطب والزاد. وهبط واحد من المسلمين ممن يحفظ اللسان الرومي مع جملة من الروم إلى اقرب المواضع المعمورة منا فأعلمنا إنه رأى جملة من أسرى المسلمين نحو الثمانين بين رجال ونساء يباعون في السوق وكان ذلك عند وصول العدو دمره الله بهم من سواحل البحر ببلاد المسلمين والله يتداركهم برحمته

ووصل إلى المرسى المذكور يوم الجمعة الثالث من يوم ارسينا فيه سلطان الجزيرة المذكورة مع جملة من الخيل فنزل إليه اشياخ المركب من الروم واجتمعوا به وطال

--------------------------------------------

1 النوء: أراد به العاصفة. هال: هاج.
সমুদ্রের ভয়াবহতা

রাতের বেলা স্থলের মুখোমুখি অবস্থানে থাকাকালে আমাদের ওপর এক মহাবিপদ আপতিত হলো, যা থেকে মহান আল্লাহ আমাদের রক্ষা করলেন এমন এক বায়ু প্রেরণের মাধ্যমে যা তিনি তৎক্ষণাৎ স্থলের দিক থেকে পাঠিয়েছিলেন। ফলে আমরা তা থেকে রক্ষা পেয়ে সরে আসতে সক্ষম হলাম, আর এজন্য আল্লাহর প্রশংসা করছি। উল্লেখিত মঙ্গলবার ভোরে এক ভয়াবহ ঝড় শুরু হলো যার ফলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। এর দরুন আমরা সারদিনিয়া উপকূলের আশেপাশে পরবর্তী বুধবার পর্যন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে দুলতে থাকলাম। নিঃসঙ্গতা এবং ঝড়ের কারণে দিকভ্রান্ত অবস্থায়—যখন আমরা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছিলাম না—আল্লাহ আমাদের সামনে একটি রোমান জাহাজ দৃশ্যমান করলেন যা আমাদের লক্ষ্য করেই আসছিল। জাহাজটি যখন আমাদের সমান্তরালে পৌঁছাল, তখন এর গন্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জানানো হলো যে, তারা সিসিলি দ্বীপের দিকে যাচ্ছে এবং তারা মুর্সিয়া অঞ্চলের কার্টাজেনা থেকে এসেছে। আমরা না জেনেই তাদের আসার পথের দিকে মুখ করে ছিলাম, তাই তখন আমরা তাদের পথ অনুসরণ করতে শুরু করলাম। আল্লাহই সব কাজ সহজকারী, তিনি ছাড়া কোনো প্রভু নেই। অতঃপর আমাদের সামনে সারদিনিয়া ভূখণ্ডের এক প্রান্ত দৃশ্যমান হলো এবং আমরা যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেদিকেই ফিরে যেতে লাগলাম, যতক্ষণ না আমরা উক্ত ভূখণ্ডের ‘কাওসামারকা’ নামক এক প্রান্তে পৌঁছালাম। এটি তাদের নিকট একটি সুপরিচিত বন্দর। উল্লেখিত বুধবার দুপুরে আমরা সেখানে নোঙর করলাম এবং উক্ত জাহাজটিও আমাদের সাথে ছিল। এই স্থানে প্রাচীন কিছু দালানকোঠার ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যার সম্পর্কে আমাদের বলা হয়েছে যে অতীতে এটি ইহুদিদের আবাসস্থল ছিল।

অতঃপর উক্ত মাসের ষোলো তারিখ রবিবার দুপুরে আমরা সেখান থেকে পাল তুললাম। উক্ত বন্দরে অবস্থানকালীন সময়ে আমরা পানি, জ্বালানি কাঠ এবং রসদ নতুন করে সংগ্রহ করে নিয়েছিলাম। আমাদের মধ্য থেকে রোমান ভাষা জানা জনৈক মুসলিম একদল রোমান লোকের সাথে আমাদের নিকটবর্তী জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গিয়েছিলেন। তিনি আমাদের জানালেন যে, তিনি সেখানে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে প্রায় আশি জন মুসলিম যুদ্ধবন্দিকে বাজারে বিক্রি হতে দেখেছেন। শত্রু পক্ষ—আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন—মুসলিম ভূখণ্ডের সমুদ্র উপকূল থেকে তাদের ধরে নিয়ে আসার পর এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আল্লাহ যেন তাঁর রহমত দিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

আমাদের নোঙর করার তৃতীয় দিন শুক্রবারে উক্ত দ্বীপের সুলতান একদল অশ্বারোহী সৈন্যসহ সেই বন্দরে আগমন করলেন। তখন জাহাজের রোমান নেতৃবৃন্দ তার সাথে সাক্ষাতের জন্য নেমে গেল এবং তারা দীর্ঘক্ষণ আলাপ-আলোচনা করল...

--------------------------------------------

১. আন-নাও: এর দ্বারা তিনি ঝড় বা তুফান বুঝিয়েছেন। হালা: সমুদ্র উত্তাল হওয়া।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১০)
مقامهم عنده ثم انصرفوا وانصرف إلى موضع سكناه وتركنا المركب المذكور في موضع ارسائه بسبب مغيب بعض أصحابه في البلد عند هبوب الريح الموافقة لنا.

في ليلة الثلاثاء الثامن عشر لذي القعدة المذكور والخامس عشر من شهر مارس المذكور أيضا وفي الربع الباقي منها فارقنا بر سردانية المذكورة وهو بر طويل جرينا بحذائه نحو المائتي ميل ومنتهى دور الجزيرة على ما ذكر لنا إلى أزيد من خمسمائة ميل ويسر الله علينا في التخلص من بحرها لأنه أصعب ما في الطريق والخروج منه يتعذر في أكثر الأحيان والحمد لله على ذلك.

وفي ليلة الأربعاء بعدها من أولها عصفت علينا ريح هال1 لها البحر وجاء معها مطر ترسله الرياح بقوة كأنه شآبيب2 سهام فعظم الخطب واشتد الكرب وجاءنا الموج من كل مكان امثال الجبال السائرة فبقينا على تلك الحال الليل كله ولايأس قد بلغ منا مبلغه وارتجينا مع الصباح فرجة تخفف عنا بعض ما نزل بنا، فجاء النهار وهو يوم الأربعاء التاسع عشر من ذي القعدة بما هو اشد هولا وأعظم كربا وزاد البحر اهتياجا واربدت3 الآفاق سوادا واستشرت4 الريح والمطر عصوفا حتى لم يثبت معها شراع فلجيء إلى استعمال الشرع الصغار فأخذ ت الريح أحد ها ومزقته وكسرت الخشبة التي ترتبط الشرع فيها وهي المعروفة عندهم بالقرية فحينئذ تمكن اليأس من النفوس وارتفعت أيدي المسلمين بالدعاء إلى الله عز وجل وأقمنا على تلك الحال النهار كله فلما جن الليل فترت الحال بعض فتور وسرنا في هذه الحالة كلها بريح الصواري سيرا سريعا.

--------------------------------------------

1 هال: ثار

2 الشآبيب، الواحد شؤبوب: وهو الدفعة من المطر.

3 اربدت: تغير لونها.

4 استشرت: عظمت وتفاقم شرها.
তাদের অবস্থান ছিল তার কাছে, অতঃপর তারা ফিরে গেল এবং সেও তার বাসস্থানে ফিরে গেল। আমরা উল্লিখিত জাহাজটিকে তার নোঙর করা স্থানে রেখে গেলাম, কারণ অনুকূল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সময় তার কিছু সঙ্গী শহরে অনুপস্থিত ছিল।

উল্লেখিত জিলকদ মাসের আঠারো তারিখ এবং একইভাবে মার্চ মাসের পনেরো তারিখ মঙ্গলবার রাতে, তার অবশিষ্ট শেষ চতুর্থাংশে আমরা উল্লিখিত সারদিনিয়া উপকূল ত্যাগ করলাম। এটি একটি দীর্ঘ উপকূল, যার সমান্তরালে আমরা প্রায় দুইশ মাইল পথ চলেছি। আমাদের নিকট যেমনটি বর্ণনা করা হয়েছে, দ্বীপটির পরিধি পাঁচশ মাইলেরও বেশি। আল্লাহ আমাদের জন্য এর সাগর থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সহজ করে দিয়েছেন, কারণ এটি পথের সবচেয়ে কঠিন অংশ এবং অধিকাংশ সময় এখান থেকে বের হওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এর জন্য আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা।

পরবর্তী বুধবার রাতের শুরুতেই আমাদের ওপর এমন এক প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেল যাতে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠল। তার সাথে এমন বৃষ্টি এল যা বাতাস সজোরে নিক্ষেপ করছিল, যেন তীরের অবিরাম বর্ষণ। ফলে বিপদ ঘনীভূত হলো এবং কষ্ট তীব্রতর হলো। চারপাশ থেকে আমাদের নিকট চলন্ত পাহাড়ের সদৃশ ঢেউ আসতে লাগল। আমরা সারা রাত সেই অবস্থায় কাটালাম এবং নিরাশা আমাদের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল। আমরা ভোরের সাথে এমন এক প্রশান্তির আশা করছিলাম যা আমাদের ওপর আপতিত বিপদ কিছুটা লাঘব করবে। জিলকদ মাসের উনিশ তারিখ বুধবার দিনটি যখন এল, তখন তা ছিল আরও বেশি ভয়াবহ ও চরম উদ্বেগজনক। সমুদ্রের উন্মত্ততা আরও বৃদ্ধি পেল এবং দিগন্ত কালো বর্ণ ধারণ করল। বাতাস ও বৃষ্টির প্রচণ্ডতা এত তীব্র হলো যে কোনো পাল আর স্থির থাকতে পারছিল না। ফলে ছোট পাল ব্যবহারের আশ্রয় নেওয়া হলো, কিন্তু বাতাস তার একটিকে ছিনিয়ে নিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দিল এবং সেই কাঠটি ভেঙে ফেলল যার সাথে পালগুলো বাঁধা থাকে, যা তাদের নিকট 'কারিয়া' নামে পরিচিত। সেই মুহূর্তে অন্তরে নিরাশা জেঁকে বসল এবং মুসলমানদের হাতগুলো মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনার জন্য উত্তোলিত হলো। আমরা সারা দিন সেই অবস্থায় অতিবাহিত করলাম। যখন রাত নামল, তখন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলো এবং আমরা এই পুরো অবস্থায় মাস্তুলে লাগা বাতাসের সাহায্যে দ্রুত গতিতে চলতে লাগলাম।

--------------------------------------------

১ হাল: উত্তাল হওয়া।

২ শাশাবিব, একবচন শু'বুব: যা বৃষ্টির প্রবল ধারা।

৩ ইরবাদ্দাত: এর রঙ পরিবর্তন হয়ে গেল।

৪ ইস্তাশরাত: তা প্রকট হলো এবং এর ভয়াবহতা চরম আকার ধারণ করল।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১১)
وفي ذلك اليوم حاذينا بر جزيرة صقلية وبتنا تلك الليلة التي هي ليلة الخميس التالية لليوم المذكور مترددين بين الرجاء واليأس فلما اسفر الصبح نشر الله رحمته واقشعت السحاب وطاب الهواء وأصاءت الشمس وأخذ في السكون البحر فاستبشر الناس وعاد الأنس وذهب اليأس والحمد لله الذي أرانا عظيم قدرته ثم تلافى بجميل رحمته ولطيف رأفته حمدا يكون كفاء1 لمنته ونعمته.

وفي هذا الصباح المذكور ظهر لنا بر صقلية وقد أجزنا أكثره ولم يبق منه إلا الاقل وأجمع من حضر من رؤساء البحر من الروم وممن شاهد الأسفار والاهوال في البحر من المسلمين انهم لم يعاينوا قط مثل هذا الهول فيما سلف من أعمارهم والخبر عن هذه الحالة يصغر في خبرها.

وبين البرين المذكورين بر سرانية وبر صقلية نحو الأربعمائة ميل واستصحبنا من بر صقلية أزيد من مائتي ميل ثم ترددنا بحذائه بسبب سكون الريح. فلما كان عصر يوم الجمعة الحادي والعشرين من الشهر المذكور أقلعنا من الموضع الذي كنا أرسينا فيه وفارقنا البر المذكور أول تلك الليلة وأصبحنا يوم السبت وبيننا وبينه مسافة بعيدة وظهر لنا إذ ذاك الجبل الذي كان فيه البركان2 وهو جبل عظيم مصعد في جو السماء قد كساه الثلج وأعلمنا إنه يظهر في البحر مع الصحو على أزيد من مسيرة مائة ميل. فأخذ نا ملججين3 وأقرب ما نؤمله من البر إلينا جزيرة أقريطش4 وهي من جزائر الروم ونظرها5 إلى صاحب القسطنطينية وبينهما وبين جزيرة صقلية مسيرة سبعمائة ميل والله كفيل بالتيسير والتسهيل بمنه. وفي طول هذه الجزيرة جزيرة

--------------------------------------------

1 كفاء: مساو.

2 بركان أتنا في صقلية.

3 ملججين: أي جادين.

4 أقريطش: كريت.

5 أي حكمها.
সেদিন আমরা সিসিলি দ্বীপের উপকূলের সমান্তরালে ছিলাম এবং সেই রাতটি, যা উল্লিখিত দিনের পরবর্তী বৃহস্পতিবার রাত ছিল, আমরা আশা ও নিরাশার মাঝে দোদুল্যমান অবস্থায় অতিবাহিত করলাম। যখন ভোর হলো, আল্লাহ তাঁর রহমত বিস্তার করলেন, মেঘ কেটে গেল, আবহাওয়া মনোরম হলো, সূর্য উজ্জ্বল হয়ে উঠল এবং সমুদ্র শান্ত হতে শুরু করল। ফলে মানুষ আনন্দিত হলো, স্বস্তি ফিরে এল এবং নিরাশা দূর হয়ে গেল। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তাঁর মহান কুদরত দেখিয়েছেন, অতঃপর তাঁর সুন্দর রহমত ও সূক্ষ্ম মমত্ব দিয়ে তা পুষিয়ে দিয়েছেন; এমন প্রশংসা যা তাঁর দান ও নেয়ামতের সমতুল্য হয়।

উল্লিখিত এই সকালে সিসিলির উপকূল আমাদের সামনে দৃশ্যমান হলো। আমরা এর অধিকাংশ পার হয়ে গিয়েছিলাম এবং সামান্যই বাকি ছিল। সেখানে উপস্থিত রোমান নৌ-প্রধানগণ এবং মুসলমানদের মধ্যে যারা সমুদ্রে ভ্রমণ ও ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছেন, তারা সকলেই একমত হলেন যে, তাদের বিগত জীবনে তারা কখনও এমন ভয়াবহতা দেখেননি। এই অবস্থার সংবাদ এর বাস্তব ভয়াবহতার তুলনায় অতি সামান্য।

উল্লিখিত দুই ভূখণ্ড—সারদিনিয়া এবং সিসিলি—এর মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় চারশ মাইল। আমরা সিসিলির উপকূল বরাবর দুইশ মাইলের বেশি পথ অতিক্রম করলাম, অতঃপর বায়ুপ্রবাহ না থাকার কারণে এর সন্নিকটে দোদুল্যমান অবস্থায় থাকলাম। যখন উল্লিখিত মাসের একুশ তারিখ জুমুআর দিন আসর হলো, তখন আমরা যে স্থানে নোঙর করেছিলাম সেখান থেকে যাত্রা শুরু করলাম এবং সেই রাতের শুরুতেই উল্লিখিত উপকূল ত্যাগ করলাম। শনিবার সকালে আমাদের ও এর মধ্যে এক বিশাল দূরত্ব তৈরি হলো। তখন আমাদের সামনে সেই পাহাড়টি দৃশ্যমান হলো যাতে আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এটি একটি বিশাল পাহাড় যা আকাশের ঊর্ধ্বপানে উঠে গেছে এবং তুষারে আবৃত। আমাদের জানানো হলো যে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে সমুদ্র থেকে এটি একশ মাইলেরও বেশি দূর থেকে দেখা যায়। অতঃপর আমরা গভীর সমুদ্রের দিকে যাত্রা করলাম। আমাদের নিকটতম কাঙ্ক্ষিত ভূখণ্ড ছিল ক্রিট দ্বীপ। এটি রোমানদের দ্বীপগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি কনস্টান্টিনোপলের অধিপতির শাসনাধীন। এর এবং সিসিলি দ্বীপের মধ্যবর্তী দূরত্ব সাতশ মাইলের পথ। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে একে সহজ ও সুগম করার জিম্মাদার। এই দ্বীপের দৈর্ঘ্য বরাবর একটি দ্বীপ...

--------------------------------------------

১ সমতুল্য।

২ সিসিলির এটনা আগ্নেয়গিরি।

৩ অর্থাৎ প্রচেষ্টারত বা দ্রুতগামী।

৪ ক্রিট।

৫ অর্থাৎ এর শাসন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১২)
أقريطش المذكور نحو من ثلثمائة ميل.

وفي ليلة الثلاثاء الخامس والعشرين من الشهر المذكور وهو الثاني والعشرين من شهر مارس حاذينا البر المذكور تقديرا لا عيانا وفي صبيحة اليوم المذكور فارقناه متوجيهن لقصدنا وبين هذه الجزيرة المذكورة وبين الإسكندرية ستمائة ميل أو نحوها.

وفي صبيحة يوم الأربعاء السادس والعشرين منه ظهر لنا البر الكبير المتصل بالاكندرية المعروف ببر الغرب وحاذينا منه موضعا يعرف بجزائر الحمام1 على ما ذكر لنا وبينه وبين الإسكندرية نحو الأربعمائة ميل على ما ذكر لنا فأخذ نا في السير والبر المذكور منا يمينا.

--------------------------------------------

1 جزائر الحمام: بين السلوم وطبرق.
উল্লিখিত আকরিতিশ প্রায় তিনশ মাইল।

এবং উল্লিখিত মাসের পঁচিশ তারিখ মঙ্গলবার রাতে, যা মার্চ মাসের বাইশ তারিখ ছিল, আমরা অনুমানের ভিত্তিতে—সরাসরি দর্শন ব্যতীত—উল্লিখিত ভূখণ্ডের সমান্তরালে অবস্থান করছিলাম। অতঃপর উক্ত দিনের প্রভাতে আমরা আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে সেটি ত্যাগ করলাম; এই উল্লিখিত দ্বীপ এবং আলেকজান্দ্রিয়ার মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো ছয়শ মাইল বা এর কাছাকাছি।

এবং উক্ত মাসের ছাব্বিশ তারিখ বুধবার সকালে আমাদের সামনে আলেকজান্দ্রিয়ার সাথে সংযুক্ত সেই বিশাল ভূখণ্ড প্রকাশ পেল যা 'পশ্চিম ভূখণ্ড' নামে পরিচিত। আমাদের নিকট বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী আমরা এর এমন এক স্থানের সমান্তরালে উপনীত হলাম যা 'জাযাইরুল হামাম' নামে পরিচিত; এবং আমাদের নিকট যা বর্ণিত হয়েছে সে মতে এর এবং আলেকজান্দ্রিয়ার মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় চারশ মাইল। অতঃপর আমরা আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখলাম এমতাবস্থায় যে উল্লিখিত ভূখণ্ডটি আমাদের ডানদিকে ছিল।

--------------------------------------------

১ জাযাইরুল হামাম: সাল্লুম এবং তোব্রুকের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌البشرى بالسلامة

وفي صبيحة يوم السبت التاسع والعشرين من الشهر المذكور اطلع الله علينا البشرى بالسلامة بظهور منار الإسكندرية على نحو العشرين ميلا والحمد على ذلك حمدا يقتضى المزيد من فضله وكريم صنعه.

وفي آخر الساعة الخامسة منه كان ارساؤنا بمرسى البلد ونزولنا اثر ذلك والله المستعان فيما بقي بمنه. فكانت اقامتنا على متن البحر ثلاثين يوما ونزلنا في الحادي والثلاثين لأن ركوبنا إياه كان يوم الخميس التاسع والعشرين من شهر شوال ونزولنا عنه في يوم السبت التاسع والعشرين من شهر ذي القعدة وبموافقة السادس والعشرين من مارس والحمد لله على ما من به من التيسير والتهسيل وهو سبحانه المسئول بتتميم النعمة علينا ببلوغ الغرض من المقصود وتعجيل الاياب إلى الوطن على خير وعافية إنه المنعم بذلك لا رب سواه وكان نزولنا بها بفندق يعرف بفندق الصفار بمقربة من الصبانة.
নিরাপত্তার সুসংবাদ

উল্লিখিত মাসের ঊনত্রিশ তারিখ শনিবার সকালে আল্লাহ তাআলা আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর প্রায় বিশ মাইল দূর থেকে দৃশ্যমান হওয়ার মাধ্যমে আমাদের নিকট নিরাপত্তার সুসংবাদ প্রকাশ করেন। এর জন্য আল্লাহর এমন প্রশংসা করছি যা তাঁর অনুগ্রহ ও মহিমান্বিত কর্মের উত্তরোত্তর বৃদ্ধির দাবি রাখে।

ঐ দিনের পঞ্চম ঘণ্টার শেষে শহরের বন্দরে আমরা নোঙর করি এবং এর পরেই অবতরণ করি। অবশিষ্ট বিষয়সমূহে তাঁর অনুগ্রহে আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী। সমুদ্রবক্ষে আমাদের অবস্থান ছিল মোট ত্রিশ দিন এবং আমরা একত্রিশতম দিনে অবতরণ করি। কেননা আমাদের জাহাজে আরোহণ ছিল শাওয়াল মাসের ঊনত্রিশ তারিখ বৃহস্পতিবার এবং তা থেকে আমাদের অবতরণ ছিল যিলকদ মাসের ঊনত্রিশ তারিখ শনিবার। এটি ২৬শে মার্চের সাথে সংগতিপূর্ণ। আল্লাহ যে সহজতা ও সুগমতা দান করেছেন তার জন্য সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। তিনি পবিত্র ও মহান, তাঁরই নিকট এই নিয়ামতের পূর্ণতা প্রার্থনা করছি যেন উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় এবং কল্যাণ ও সুস্থতার সাথে দ্রুত স্বদেশে প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়। নিশ্চয়ই তিনি এর দাতা, তিনি ব্যতীত কোনো প্রতিপালক নেই। সেখানে আমাদের অবস্থান ছিল 'ফান্দাকুস সাফফার' (সাফফার সরাইখানা) নামক একটি স্থানে, যা 'সাব্বানাহ' এলাকার নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌شهر ذي الحجة من السنة المذكورة

أوله يوم الأحد ثاني يو منزولنا بالاسكندرية.

فمن أول ما شاهدنا فيها يوم نزولنا أن طلع امناء إلى المركب من قبل السلطان بها لتقييد جميع ما جلب فيه.

فاستحضر جميع من كان فيه من المسلمين واحدا واحدا وكتبت اسماؤهم وصفاتهم وأسماء بلادهم وسئل كل واحد عما لديه من سلع أو ناض1 ليؤدى زكاة ذلك كله دون أن يبحث عما حال عليه الحول من ذلك أو ما لم يحل وكان أكثرهم متشخصين لاداء الفريضة لم يستصحبوا سوى زاد الطريقهم فلزموا أداء زكاة ذلك دون أن يسأل هل حال عليه حول أم لا. واستنزل أحمد بن حسان منا لسيأل عن أنباء المغرب وسلع المركب فطيف به مرقبا2 على السلطان أولا ثم على القاضي ثم على أهل الديوان ثم على جماعة من حاشية السلطان. وفي كل يستفهم ثم يقيد قوله. فخلى سبيله، وأمر المسلمون بتنزيل أسباب هم وما فضل من ازودتهم وعلى ساحل البحر أعوان يتوكلون بهم وبحمل جميع ما أنزلوه إلى الديوان فاستدعوا واحدا واحد واحضر ما لكل واحد من الأسباب والديوان قد غص بالزحام. فوقع التفتيش لجميع الأسباب ما دق منها وما جل واختلط بعضها ببعض وأدخلت الايدي إلى اوساطهم بحثا عما عسى أن يكون فيها ثم استلحفوا بعد ذلك هل عندهم غير ما وجدوا لهم أم لا.

وفي أثناء ذلك ذهب كثير من أسباب الناس لاختلاط الأيدي وتكاثر الزحام ثم اطلقوا بعد موقف من الذل والخزي عظيم نسأل الله أن يعظم الاجر بذلك. وهذه لا محالة من الأمور الملبس3 فيها على السلطان الكبير

--------------------------------------------

1 الناض: الدراهم والدنانير.

2 مرقبا: محروسا.

3 الملبس: يريد المخفية عنه.
উক্ত বছরের জিলহজ মাস

এর প্রথম দিনটি ছিল রোববার, যা আমাদের আলেকজান্দ্রিয়ায় আগমনের দ্বিতীয় দিন।

আমাদের আগমনের দিন সেখানে আমরা প্রথম যা প্রত্যক্ষ করলাম তা হলো, সুলতানের পক্ষ থেকে আমানতদার কর্মকর্তাগণ জাহাজে আরোহণ করলেন যাতে সেখানে যা কিছু আনা হয়েছে তার সবকিছুর তালিকা তৈরি করা যায়।

জাহাজে অবস্থানরত সকল মুসলিমকে একে একে তলব করা হলো; তাদের নাম, বিবরণ এবং স্বদেশের নাম লিখে রাখা হলো। প্রত্যেকের কাছে থাকা পণ্যসামগ্রী বা নগদ অর্থ১ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো যাতে সে সবকিছুর ওপর জাকাত আদায় করা যায়। এক্ষেত্রে সেই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হয়েছে কি হয়নি, তা যাচাই করা হয়নি। তাদের অধিকাংশই হজের ফরজ বিধান পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন এবং পথের পাথেয় ছাড়া তাদের কাছে আর কিছুই ছিল না। তবুও তাদের থেকে সেই পাথেয় সম্পদের ওপর জাকাত আদায় করা বাধ্যতামূলক করা হলো, এমনকি এক বছর পূর্ণ হয়েছে কি না সে বিষয়েও কোনো প্রশ্ন করা হয়নি। আমাদের মধ্য থেকে আহমাদ ইবনে হাসানকে মরক্কোর খবর এবং জাহাজের পণ্যসামগ্রী সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিচে নামিয়ে নেওয়া হলো। তাকে পাহারায় রেখে২ প্রথমে সুলতানের কাছে, তারপর কাজীর কাছে, এরপর দেওয়ানের কর্মকর্তাদের কাছে এবং সবশেষে সুলতানের পারিষদবর্গের একটি দলের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। প্রতিটি স্থানেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো এবং তার বক্তব্য লিখে রাখা হলো। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো এবং মুসলিমদের তাদের আসবাবপত্র ও অবশিষ্ট পাথেয় নামানোর নির্দেশ দেওয়া হলো। সমুদ্রতীরে কিছু সাহায্যকারী লোক তাদের তদারকি করছিল এবং তারা নামানো সকল মালপত্র দেওয়ানে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। এরপর তাদের একে একে ডাকা হলো এবং প্রত্যেকের আসবাবপত্র হাজির করা হলো। তখন দেওয়ান প্রচণ্ড ভিড়ে ঠাসা ছিল। ছোট-বড় সকল আসবাবপত্রের ওপর তল্লাশি চলল এবং সব মালপত্র একে অপরের সাথে মিশে গেল। এমনকি মানুষের কোমরের কাপড়ের ভাঁজেও হাত ঢুকিয়ে তল্লাশি করা হলো যে সেখানে কিছু লুকিয়ে রাখা হয়েছে কি না। এরপর তাদের দিয়ে কসম করানো হলো যে, যা পাওয়া গেছে তা ছাড়া তাদের কাছে আর কিছু আছে কি না।

এই প্রক্রিয়ার মাঝেই বিশৃঙ্খলা এবং প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে মানুষের অনেক মালামাল হারিয়ে গেল। এরপর অত্যন্ত অপমানজনক ও লাঞ্ছনাকর একটি পরিস্থিতির পর তাদের মুক্তি দেওয়া হলো। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর বিনিময়ে সওয়াব বাড়িয়ে দেন। এগুলো নিঃসন্দেহে এমন সব বিষয় যা মহান সুলতানের অগোচরে রাখা হয়েছে৩।

--------------------------------------------

১ নগদ অর্থ: দিরহাম ও দিনার।

২ পাহারায় রেখে: সুরক্ষিত অবস্থায়।

৩ অগোচরে রাখা: অর্থাৎ যা তার কাছে গোপন রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১৪)
المعروف بصلاح الدين ولو علم بذلك على ما يؤثر عنه من العدل وايثار الرفق لازال ذلك وكفى الله المؤمنين تلك الخطة الشاقة واستؤدوا1 الزكاة على أجمل الوجوه وما لقينا ببلاد هذا الرجل ما يلم به قبيح لبعض الذكر سوى هذه الاحدوثة التي هي من نتائج عمال الدواوين.

--------------------------------------------

1 استؤدوا: أي أعيدت لهم الزكاة.

2 الاحتفال: الازدحام.

3 المتوسمين: لعله من توسم فيه الخير: طلب فيه اثره.
যিনি সালাহুদ্দীন নামে সুপরিচিত; তাঁর ন্যায়বিচার এবং কোমলতাকে প্রাধান্য দেওয়ার যে সুখ্যাতি বর্ণিত রয়েছে, তিনি যদি এ বিষয়ে অবগত হতেন তবে অবশ্যই তা বিলুপ্ত করতেন এবং আল্লাহ মুমিনদেরকে সেই কষ্টকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতেন। তখন যাকাত আদায় করা হতো১ সবচাইতে সুন্দর পন্থায়। আমরা এই ব্যক্তির জনপদে এই ঘটনাটি ছাড়া সামান্যতম নিন্দনীয় বা মন্দ কিছু খুঁজে পাইনি, যা মূলত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের ফল।

--------------------------------------------

১ আদায় করা হয়েছে: অর্থাৎ তাদের নিকট যাকাত পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২ জনসমাগম: ভিড় বা ভিড় করা।

৩ মুতাওয়াসসিমীন: সম্ভবত এটি কারো মাঝে কল্যাণের লক্ষণ দেখা বা তার চিহ্ন অনুসন্ধান করা থেকে উদ্ভূত।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌ذكر بعض أخبار الإسكندرية وآثارها

فأول ذلك حسن وضع البلد وإتساع مبانية حتى أنا ما شاهدنا بلدا اوسع مسالك منه ولا أعلى مبنى ولا أعتق ولا أحفل منه وأسواقه في نهاية من الاحتفال أيضا2. ومن العجب في وضعه أن بناءه تحت الأرض كبنائها فوقها وأعتق وامتن لأن الماء من النيل يخترق جميع ديارها وأزقتها تحت الأرض فتتصل الآبار بعضها ببعض ويمد بعضها بعضا.

وعاينا فيها أيضا من سوارى الرخام وألواح هـ كثرة وعلوا واتساعا وحسنا ما لا يتخيل بالوهم حتى أنك تلقى في بعض الممرات بها سواري يغص الجو بها صعودا لا يدري ما معناها ولا لما كان أصل وضعها وذكر لنا إنه كان عليها في القديم مبان للفلاسفة خاصة ولأهل الرئاسة في ذلك الزمان والله أعلم ويشبه أن يكون ذلك للرصد.
আলেকজান্দ্রিয়ার কিছু সংবাদ এবং এর প্রাচীন নিদর্শনাদির বর্ণনা

এর প্রথম বিষয়টি হলো শহরের চমৎকার বিন্যাস এবং এর দালানকোঠার প্রশস্ততা। এমনকি আমরা এমন কোনো শহর দেখিনি যার পথগুলো এর চেয়ে প্রশস্ত, যার ভবনগুলো এর চেয়ে উঁচু কিংবা যা এর চেয়ে প্রাচীন ও জাঁকজমকপূর্ণ। এর বাজারগুলোও ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। এর নির্মাণশৈলীর এক বিস্ময়কর দিক হলো, মাটির নিচে এর নির্মাণকাজ উপরের নির্মাণের মতোই, এমনকি তা অধিকতর প্রাচীন ও মজবুত। কারণ নীল নদের পানি মাটির নিচ দিয়ে এর প্রতিটি ঘর ও গলিপথ অতিক্রম করে। ফলে কূয়োগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত এবং একটি অপরটিকে পানি সরবরাহ করে।

আমরা সেখানে মার্বেল পাথরের স্তম্ভ এবং ফলকও প্রত্যক্ষ করেছি যা সংখ্যায় প্রচুর, সুউচ্চ, প্রশস্ত এবং এমন সুন্দর যে তা কল্পনা করাও দুষ্কর। এমনকি আপনি এর কিছু পথচারী চলাচলের স্থানে এমন সব স্তম্ভ দেখতে পাবেন যা উচ্চতায় আকাশ ছুঁয়েছে। এগুলোর তাৎপর্য কী কিংবা কেন এগুলো মূলত স্থাপন করা হয়েছিল তা জানা যায় না। আমাদের কাছে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাচীনকালে এগুলোর উপরে বিশেষভাবে দার্শনিক এবং তৎকালীন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্য অট্টালিকা বিদ্যমান ছিল। আল্লাহই ভালো জানেন, তবে সম্ভবত এগুলো মানমন্দির হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌منار الإسكندرية

ومن أعظم ما شاهدناه من عجائبها المنار الذي قد وضعه الله عز وجل على يدي من سخر لذلك آية للمتوسمين3 وهداية للمسافرين لولاه ما اهتدوا
আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর

আমরা এর বিস্ময়কর বস্তুসমূহের মধ্যে যা দেখেছি তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো সেই বাতিঘরটি, যা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাদের হাতের মাধ্যমে স্থাপন করেছেন যাদেরকে তিনি এর জন্য নিয়োজিত করেছিলেন; যা পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য এক নিদর্শন এবং মুসাফিরদের জন্য এক পথপ্রদর্শক, এটি না থাকলে তারা সঠিক পথের দিশা পেত না।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১৫)
في البحر إلى بر الإسكندرية يظهر على أزيد من سبعين ميلا وبمناه في غاية العتاقة والوثاقة طولا وعرضا يزاحم الجو سموا وارتفاعا يقصر عنه الوصف وينحسر دونه الطرف الخبر عنه يضيق والمشاهدة له تتسع.

ذرعنا أحد جوانبه الأربعة فألفينا فيه نيفا وخمسين باعا ويذكر أن في طوله أزيد من مائة وخمسين قامة.

وأما داخله فمرآي هائل اتساع معارج1 ومداخل وكثرة مساكن حتى إن المتصرف فيها والوالج في مسالكها ربما ضل. وبالجملة لا يحصلها القول والله لا يخليه من دعوة الإسلام ويبقيه.

وفي أعلاه مسجد موصوف بالبركة يتبرك الناس بالصلاة فيه طلعنا إليه يوم الخميس الخامس لذي الحجة المؤرخ وصلينا في المسجد المبارك المذكور. وشاهدنا من شأن مبناه عجبا لا يستوفيه وصف واصف.

--------------------------------------------

1 المعارج: السلالم.
সমুদ্রের দিক থেকে আলেকজান্দ্রিয়ার উপকূলের অভিমুখে সত্তর মাইলেরও বেশি দূর থেকে এটি দৃশ্যমান হয়। এর নির্মাণশৈলী দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে অত্যন্ত প্রাচীন ও সুদৃঢ়। উচ্চতা ও শিখরে এটি আকাশচুম্বী। এর বর্ণনা দিতে গিয়ে ভাষা সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং এর বিশালত্বের সামনে দৃষ্টি থমকে যায়। এর সম্পর্কে প্রাপ্ত সংবাদ অপ্রতুল, কিন্তু চাক্ষুষ প্রত্যক্ষণে এর ব্যাপকতা অনুভূত হয়।

আমরা এর চার পার্শ্বের একটি পরিমাপ করলাম এবং তাতে পঞ্চাশের কিছু অধিক ‘বা’ (এক হাত প্রসারিত মাপ) পেলাম। আর উল্লেখ করা হয় যে, এর উচ্চতা দেড়শ ‘কামা’র (মানুষের উচ্চতা সমপরিমাণ মাপ) চেয়েও বেশি।

আর এর অভ্যন্তরভাগ হলো সুপ্রশস্ত সিঁড়ি১, প্রবেশপথ এবং অসংখ্য প্রকোষ্ঠের এক বিস্ময়কর দৃশ্য; এমনকি সেখানে বিচরণকারী এবং এর পথগুলোতে প্রবেশকারী ব্যক্তি সম্ভবত পথ হারিয়ে ফেলবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, বর্ণনার মাধ্যমে এটি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। আল্লাহ একে ইসলামের দাওয়াত থেকে শূন্য না রাখুন এবং একে অবশিষ্ট রাখুন।

এর উপরিভাগে বরকতপূর্ণ হিসেবে প্রসিদ্ধ একটি মসজিদ রয়েছে, যেখানে সালাত আদায়ের মাধ্যমে মানুষ বরকত অন্বেষণ করে। আমরা উল্লিখিত তারিখের জিলহজ মাসের পাঁচ তারিখ বৃহস্পতিবার সেখানে আরোহণ করলাম এবং উক্ত বরকতপূর্ণ মসজিদে সালাত আদায় করলাম। আমরা এর নির্মাণশৈলীতে এমন বিস্ময়কর বিষয় প্রত্যক্ষ করলাম যা কোনো বর্ণনাকারীর বর্ণনা দিয়ে পূর্ণ করা সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

১. আল-মাআরিজ: সিঁড়িসমূহ।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌منافب الإسكندرية

ومن مناقب هذا البلد ومفاخره العائدة في الحقيقة إلى سلطانة المدارس والمحارس2 الموضوعة فيه لأهل الطلب والتعبد يفدون من الأقطار النائية فيلقى كل واحد منهم مسكنا يأوى إليه ومدرسا يعلمه الفن الذي يريد تعليمه وإجراء3 يقوم به في جميع احواله. واتسع اعتناء السلطان بهؤلاء الغرباء الطارئين حتى أمر بتعيين حمامات يستحمون فيها متى احتاجوا إلى ذلك ونصب لهم مارستانا لعلاج من مرض منهم ووكل بهم اطباء يتفقدون أحوالهم وتحت أيديهم خدام يامرونهم بالنظر في مصالحهم التي يشيرون بها من علاج وغذاء. وقد رتب أيضا فيه أقوام برسم الزيارة للمرضى الذين

--------------------------------------------

2 المحارس، الواحد محرس: مأوى مخصص للدارسين والزهاد والمسافرين ةالفقراء.

3 الإجراء: المرتب.
আলেকজান্দ্রিয়ার শ্রেষ্ঠত্বসমূহ

এই শহরের শ্রেষ্ঠত্ব ও গর্বের বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সুলতান কর্তৃক এখানে জ্ঞানান্বেষী ও ইবাদতগুজারদের জন্য প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা ও আশ্রয়কেন্দ্রসমূহ২, যা মূলত সুলতানেরই অবদান। তারা দূর-দূরান্তের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে আগমন করে এবং তাদের প্রত্যেকেই থাকার জন্য একটি বাসস্থান, কাঙ্ক্ষিত শাস্ত্র শেখানোর জন্য একজন শিক্ষক এবং সকল অবস্থায় তার প্রয়োজন পূরণের জন্য নিয়মিত ভাতা৩ লাভ করে। আগন্তুক এই পরদেশীদের প্রতি সুলতানের যত্ন ও মনোযোগ এতটাই বিস্তৃত ছিল যে, তিনি তাদের প্রয়োজনে গোসল করার জন্য হাম্মামখানা নির্দিষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে যারা অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাদের চিকিৎসার জন্য তিনি একটি হাসপাতাল (মারিস্তান) স্থাপন করেছিলেন এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য চিকিৎসক নিয়োগ করেছিলেন। চিকিৎসকদের অধীনে খাদেম নিয়োজিত ছিল, যাদেরকে তারা চিকিৎসা ও পথ্যের ন্যায় রোগীদের কল্যাণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতেন। এছাড়া তিনি সেখানে এমন কিছু লোককেও নিযুক্ত করেছিলেন যারা সেই সব রোগীদের পরিদর্শনের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল যারা...

--------------------------------------------

২ আল-মাহারিস (একবচনে মাহরাস): শিক্ষার্থী, সংসারত্যাগী, মুসাফির ও অভাবীদের জন্য নির্ধারিত আশ্রয়স্থল।

৩ আল-ইজরা: নিয়মিত বেতন বা ভাতা।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১৬)
يتنزهون1 عن الوصول للمارستان المذكور من الغرباء خاصة وينهون إلى الأطباء أحوالهم ليتكلفوا بمعالجتهم.

ومن أشرف هذه المقاصد أيضا أن السلطان عين لأبناء السبيل من المغاربة خبزتين لكل إنسان في كل يوم بالغا ما بلغوا ونصب لتفريق ذلك كل يوم انسانا أمينا من قبله فقد ينتهى في اليوم إلى الفي خبزة أو أزيد بحسب القلة والكثرة هكذا دائما، ولهذا كله أوقاف من قبله حاشى ما عينه من زكاة العين لذلك وأكد على المتولين لذلك متى نقصهم من الوظائف المرسومة شيء أن يرجعوا إلى صلب ماله وأما أهل بلده ففي نهاية من الترفيه وإتساع الأحوال لا يلزمهم وظيف البتة. ولا فائد2 للسلطان بهذا البلد سوى الأوقاف المحبسة المعينة من قبله بهذه الوجوه وجزية اليهود والنصارى وما يطرأ من زكاة العين خاصة3 ليس له منها سوى ثلاثة أثمانها والخمسة الاثمان مضافة للوجوه المذكورة.

وهذا السلطان الذي سن هذه السنن المحمودة ورسم هذه الرسوم الكريمة على عدمها في المدة البعيدة وهو صلاح الدين أبو المظفر يوسف بن أيوب وصل الله صلاحه وتوفيقه.

ومن أعجب ما اتفق للغرباء أن بعض من يريد التقرب بالنصائح إلى السلطان ذكر أن أكثر هؤلاء يأخذ ون جزاية الخبز ولا حاجة لهم بها رغبة في المعيشة لأنهم لا يصلون إلا بزاد يقلهم4 فكاد يؤثر سعى هذا المتنصح

فلما كان في أحد الأيام خرج السلطان المذكور على سبيل التطلع خارج بلده فلتقى منهم جماعة قد لفظتهم الصحراء المتصلة بطرابلس وهم قد ذهبت

--------------------------------------------

1 يتنزهون: يترفعون.

2 لعله أراد بالوظيف الوظيفة، أي ما يقدر لهم من رزق ونحوه. الفائد: الفائدة، الربح.

3 زكاة العين: التي تدفع من الشيء عينه لا نقودا.

4 يقلهم: يحملهم ويبلغهم ما يريدون.
বিশেষ করে আগন্তুকদের মধ্যে যারা উক্ত হাসপাতালে যেতে নিজেদের মর্যাদার কারণে কুণ্ঠাবোধ করেন, তারা চিকিৎসকদের কাছে নিজেদের অবস্থা পৌঁছে দেন যাতে তারা তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।

এই মহৎ উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে আরও একটি হলো যে, সুলতান মাগরেব (মরক্কো) থেকে আসা মুসাফিরদের জন্য প্রত্যেকের জন্য প্রতিদিন দুইটি করে রুটি নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তাদের সংখ্যা যাই হোক না কেন। আর প্রতিদিন তা বিতরণের জন্য তিনি নিজের পক্ষ থেকে একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে নিযুক্ত করেছেন। প্রতিদিন রুটির পরিমাণ কম-বেশির ভিত্তিতে দুই হাজার বা তার বেশিও হয়ে থাকে, যা সবসময় অব্যাহত থাকে। এর সবকিছুর জন্য সুলতানের পক্ষ থেকে ওয়াকফ নির্ধারিত রয়েছে, যা তিনি এই কাজের জন্য সরাসরি পণ্য বা বস্তুগত সম্পদের জাকাত থেকে নির্দিষ্ট করেছেন তা ব্যতিরেকে। তিনি এর তত্ত্বাবধায়কদের ওপর জোর দিয়ে বলে দিয়েছেন যে, নির্ধারিত বরাদ্দ থেকে কোনো কিছুর কমতি হলে যেন তারা সুলতানের মূল সম্পদ থেকে তা গ্রহণ করেন। আর তাঁর দেশের অধিবাসীদের অবস্থা অত্যন্ত সচ্ছল ও প্রাচুর্যে পূর্ণ হওয়ায় তাদের ওপর কোনো প্রকারের কর বা শুল্ক একেবারেই ধার্য করা হয়নি। এই দেশ থেকে সুলতানের কোনো মুনাফা নেই, কেবল এই খাতগুলোতে তাঁর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ওয়াকফ সম্পত্তি, ইহুদি ও নাসারাদের থেকে প্রাপ্ত জিজিয়া এবং আগত বস্তুগত জাকাত ব্যতিরেকে; যার মাত্র আট ভাগের তিন ভাগ সুলতানের জন্য, আর বাকি আট ভাগের পাঁচ ভাগ উল্লিখিত খাতসমূহের সাথে যুক্ত করা হয়।

আর এই সুলতান—যিনি এই প্রশংসনীয় রীতিগুলো প্রবর্তন করেছেন এবং এই মহৎ নিয়মগুলো জারি করেছেন, যা সুদীর্ঘকাল ধরে অনুপস্থিত ছিল—তিনি হলেন সালাহউদ্দীন আবু মোজাফফর ইউসুফ বিন আইয়ুব; আল্লাহ তাঁর কল্যাণ ও তাওফিক অব্যাহত রাখুন।

আগন্তুকদের ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো যে, সুলতানের ঘনিষ্ঠতা অর্জনের জন্য হিতোপদেশ দিতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তি উল্লেখ করেছিল যে, এদের অধিকাংশ লোক কেবল ভোগের ইচ্ছায় রুটির এই বরাদ্দ গ্রহণ করে অথচ তাদের এর প্রয়োজন নেই, কারণ তারা নিজেদের বহন করার মতো পাথেয় নিয়েই আগমন করে; ফলে এই স্বঘোষিত উপদেশদাতার প্রচেষ্টা প্রায় প্রভাব ফেলেছিল।

একদিন যখন উক্ত সুলতান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে শহরের বাইরে বের হলেন, তখন তাদের একটি দলের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো যাদের ত্রিপোলি সংলগ্ন মরুভূমি বের করে দিয়েছিল এবং তাদের অবস্থা এমন ছিল যে...

--------------------------------------------

১ তারা নিজেদের বিরত রাখে: অর্থাৎ তারা নিজেদের মর্যাদাবান মনে করে।

২ সম্ভবত তিনি 'ওয়াজিফ' দ্বারা নির্ধারিত বরাদ্দ বা জীবিকা বুঝিয়েছেন। ফায়েদ: অর্থাৎ লাভ বা মুনাফা।

৩ বস্তুগত সম্পদের জাকাত: যা নগদ অর্থের পরিবর্তে সরাসরি পণ্য বা বস্তু থেকে আদায় করা হয়।

৪ তাদের বহন করে: যা তাদের বহন করে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১৭)
رسومهم1 عطشا وجوعا. فسألهم عن وجهتهم واستطلع ما لديهم مفاعلموه انهم قاصدون بيت الله الحرام وأنهم ركبوا البر وكابدوا مشقة صحرائية. فقال: لو وصل هؤلاء وهم قد اعستفوا2 هذه المجاهل التي اعتسفوها وكابدوا من الشقاء ما كابدوه وبيد كل واحد منهم زنته ذهبا وفضة لوجب أن يشاركوا ولا يقطعوا عن العادة التي اجريناها لهم فالعجب ممن يسعى على مثل هؤلاء ويروم التقرب إلينا بالسعي في قطع ما اوجبناه لله عز وجل خالصا لوجهه.

ومآثر هذا السلطان ومقاصده في العدل ومقاماته في الذب عن حوزة الدين لا تحصى كثرة.

ومن الغريب أيضا في أحوال هذا البلد تصرف الناس فيه بالليل كتصرفهم بالنهار في جميع أحوالهم وهو أكثر بلاد الله مساجد حتى إن تقدير الناس لها يطفف3 فمنهم المكثر والمقلل فالمكثر ينتهى في تقديره إلى اثني عشر ألف مسجد والمقلل ما دون ذلك لا ينضبط فمنهم من يقول ثمانية الاف ومنهم من يقول غير ذلك. وبالجملة فهي كثيرة جدا تكون منها الأربعة والخمسة في موضع وربما كانت مركبة4 وكلها بأئمة مرتبين من قبل السلطان فمنهم من له فوق ذلك ومنهم من له دونه وهذه منقبة كبيرة من مناقب السلطان. إلى غير ذلك مما يطول ذكره من المآثر التي يضيق عنها الحصر.

ثم كان الانفصال عنها على بركة الله تعالى وحسن عونه صبيحة يوم الأحد الثامن لذي الحجة المذكور وهو الثالث لابريل فكانت مرحلتنا منه إلى موضع

--------------------------------------------

1 رسومهم: أراد أجسامهم.

2 اعتسفوا: ساروا على غير هداية ولا دراية.

3 يطفف: لا يعدل.

4 مركبة: أي مسجد ومدرسة وغيرهما.
তাদের দেহ তৃষ্ণা ও ক্ষুধায় কাতর ছিল। অতঃপর তিনি তাদের গন্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হলেন। তারা তাঁকে জানাল যে, তারা আল্লাহর পবিত্র ঘরের (বাইতুল্লাহর) সংকল্প করেছে এবং তারা স্থলপথে ভ্রমণ করেছে ও মরুভূমির কষ্ট সহ্য করেছে। তিনি বললেন: "যদি এই লোকেরা এই অজ্ঞাত প্রান্তরগুলো—যেগুলো তারা কোনো নির্দেশনা ছাড়াই পাড়ি দিয়ে এখানে পৌঁছেছে—অতিক্রম করে থাকে এবং তারা যে দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছে তা করার পর যদি তাদের প্রত্যেকের কাছে তাদের ওজনের সমপরিমাণ স্বর্ণ ও রৌপ্যও থাকে, তবুও তাদের সহায়তা করা আবশ্যক এবং আমরা তাদের জন্য যে নিয়ম বা অনুদান জারি করেছি তা থেকে তাদের বঞ্চিত করা উচিত নয়। সুতরাং আশ্চর্যের বিষয় হলো সেই ব্যক্তির প্রতি, যে এই ধরনের লোকদের বিরুদ্ধে সচেষ্ট হয় এবং যা আমরা কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য আবশ্যক করেছি, তা বন্ধ করার প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের নৈকট্য লাভের আশা করে।"

এই সুলতানের কীর্তিগাথা, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর উদ্দেশ্যসমূহ এবং দ্বীনের সীমানা রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থানসমূহ অগণিত।

এই শহরের অবস্থার মধ্যে একটি বিস্ময়কর বিষয় হলো, এখানকার মানুষের রাতের কর্মকাণ্ড সব দিক থেকে দিনের কর্মকাণ্ডের মতোই। এটি আল্লাহর দেশগুলোর মধ্যে সর্বাধিক মসজিদের শহর; এমনকি মানুষের করা এগুলোর সংখ্যার অনুমানে তারতম্য ঘটে। কেউ সংখ্যা বাড়িয়ে বলে, আবার কেউ কমিয়ে বলে। অধিক বর্ণনাকারীর অনুমান অনুযায়ী এর সংখ্যা বারো হাজার মসজিদ পর্যন্ত পৌঁছায়, আর যারা কম বলে তাদের গণনা এর চেয়ে কম এবং তা সুনির্দিষ্ট নয়; তাদের মধ্যে কেউ বলে আট হাজার, আবার কেউ অন্য কিছু বলে। মোটের ওপর, এগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি। এক স্থানেই চার-পাঁচটি মসজিদ দেখা যায় এবং কখনো সেগুলো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকে। আর এগুলোর সবকটিতেই সুলতান কর্তৃক নিযুক্ত ইমামগণ রয়েছেন। তাদের মধ্যে কারও বেতন এর চেয়ে বেশি, আবার কারও এর চেয়ে কম। এটি সুলতানের প্রশংসনীয় গুণাবলির মধ্যে একটি মহান গুণ। এছাড়া আরও বহু কীর্তি রয়েছে যা বর্ণনা করতে গেলে দীর্ঘ হবে এবং যা গণনা করা অসম্ভব।

অতঃপর মহান আল্লাহর বরকত ও তাঁর উত্তম সাহায্যে সেই শহর থেকে প্রস্থান হলো উল্লিখিত যিলহজ মাসের আট তারিখ, রবিবার সকালে, যা ছিল এপ্রিল মাসের তিন তারিখ। আমাদের যাত্রা সেখান থেকে এক স্থানের দিকে ছিল...

--------------------------------------------

১. রুসুমুহুম: এর দ্বারা তিনি তাদের দেহ বুঝিয়েছেন।

২. ই’তাসাফু: কোনো পথপ্রদর্শক বা পূর্বজ্ঞান ছাড়াই তারা পথ চলেছে।

৩. ইয়ুতাফফিফ: যথাযথ বা নির্ভুল গণনা করে না।

৪. মুরাক্কাবাহ: অর্থাৎ মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য বিষয়ের সমন্বিত রূপ।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১৮)
يعرف بدمنهور وهو بلد مسور في بسيط من الأرض أفيح1 متصل من الإسكندرية إليه إلى مصر والبسيط كله محرث2 يعمه النيل بفيضه والقرى فيه يمينا وشمالا لا تحصى كثرة.

ثم في اليوم الثاني وهو يوم الإثنين أجزنا النيل بموضع يعرف بصا في مركب تعدية3 واتصل سيرنا إلى موضع يعرف ببرمة فكان مبيتنا بها وهي قرية كبيرة فيها السوق وجميع المرافق. ثم بكرنا منها يوم الثلاثاء وهو يوم عيدالنحر من سنة ثمان وسبعين وخمسمائة المؤرخة فشاهدنا الصلاة بموضع يعرف بطندتة4 وهي من القرى الفسيحة الأهلة فأبصرنا بها مجمعا حفيلا وخطب الخطيب بخطبة بليغة جامعة واتصل سيرنا إلى موضع يعرف بسبك وكان مبيتنا بها.

واجتزنا في ذلك اليوم على موضع حسن يعرف بمليج والعمارة متصلة والقرى منتظمة في طريقنا كلها

ثم بكرنا منها يوم الأربعاء بعده. فمن أحسن بلد مررنا عليه موضع يعرف بقليوب على ستة أميال من القاهرة فيه الأسواق الجميلة ومسجد جامع كبير حفيل البنيان ثم بعده المنبة وهو موضع أيضا حفيل ثم

منها إلى القاهرة وهي مدينة السلطان الحفيلة المتسعة ثم منها إلى مصر المحروسة. وكان دخولنا فيها إثر صلاة العصر من يوم الأربعاء وهو الحادي عشر من ذي الحجة المذكور والسادس من ابريل عرفنا الله فيها الخير والخيرة وتمم علينا صنعه الجميل بالوصول إلى الغرض المأمول ولا اخلانا من التسير والتهسيل بعزته وقرته إنه على ما يشاء قدير.

--------------------------------------------

1 مسور: محاط بسور. أفيح: واسع.

2 المحرث: الأرض المحروثة.

3 تعدية: أي نقل من مكان إلى آخر.

4 طندته: هي طنطا اليوم.
এটি দামানহুর নামে পরিচিত, যা একটি প্রশস্ত ও সমতল ভূমিতে অবস্থিত এক প্রাচীরবেষ্টিত শহর। আলেকজান্দ্রিয়া থেকে এই ভূমিটি মিসর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সমতলের পুরোটাই চাষযোগ্য এবং নীল নদ তার প্লাবন দিয়ে একে সিক্ত করে। এর ডানে ও বামে অসংখ্য গ্রাম রয়েছে যা গণনা করা অসম্ভব।

অতঃপর দ্বিতীয় দিন তথা সোমবার আমরা 'সা' নামক স্থানে একটি পারাপারের নৌকায় নীল নদ অতিক্রম করলাম। আমাদের যাত্রা 'বারমা' নামক স্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত অব্যাহত ছিল এবং আমরা সেখানেই রাত্রিযাপন করি। এটি একটি বড় গ্রাম যেখানে বাজার এবং সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। এরপর মঙ্গলবার ভোরে আমরা সেখান থেকে রওনা হলাম, যা ছিল হিজরি পাঁচশত আটাত্তর সালের ঈদুল আজহার দিন। আমরা 'তানদাতা' নামক স্থানে ঈদের সালাত প্রত্যক্ষ করলাম। এটি একটি প্রশস্ত ও জনবহুল গ্রাম। সেখানে আমরা এক বিশাল সমাবেশ দেখলাম এবং খতিব অত্যন্ত সাবলীল ও সারগর্ভ খুতবা প্রদান করলেন। এরপর আমাদের যাত্রা 'সাবক' নামক স্থান পর্যন্ত চলল এবং সেখানেই আমাদের রাত্রিযাপন হলো।

সেই দিন আমরা 'মালিজ' নামক একটি সুন্দর স্থানের ওপর দিয়ে অতিক্রম করলাম। আমাদের পুরো পথে জনবসতি ছিল নিরবচ্ছিন্ন এবং গ্রামগুলো ছিল সুশৃঙ্খল।

অতঃপর বুধবার ভোরে আমরা সেখান থেকে রওনা হলাম। আমাদের অতিক্রান্ত চমৎকার শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল 'কালিউব' নামক স্থানটি, যা কায়রো থেকে ছয় মাইল দূরে অবস্থিত। সেখানে সুন্দর বাজার এবং সুদৃঢ় ও বিশাল স্থাপত্যের একটি জামে মসজিদ রয়েছে। এরপর 'আল-মুনবা' নামক স্থানে পৌঁছালাম, যা একটি সমৃদ্ধ স্থান। সেখান থেকে সুলতানের শহর কায়রোতে পৌঁছালাম, যা অত্যন্ত সুসমৃদ্ধ ও প্রশস্ত। এরপর সেখান থেকে সুরক্ষিত মিসরে প্রবেশ করলাম। আমাদের প্রবেশ ছিল বুধবার আসরের সালাতের পর, যা ছিল উল্লিখিত জিলহজ মাসের এগারো তারিখ এবং এপ্রিল মাসের ছয় তারিখ। আল্লাহ আমাদের সেখানে কল্যাণ ও মঙ্গলের সন্ধান দিন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর মাধ্যমে আমাদের ওপর তাঁর সুন্দর অনুগ্রহ পূর্ণ করুন। তিনি তাঁর মর্যাদা ও ক্ষমতার উছিলায় আমাদের জন্য পথচলা ও সহজীকরণ অব্যাহত রাখুন; নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম।

--------------------------------------------

১. প্রাচীরবেষ্টিত: যা দেয়াল দিয়ে ঘেরা। আফইয়াহ: প্রশস্ত।

২. চাষযোগ্য ভূমি: লাঙল দ্বারা কর্ষিত জমি।

৩. পারাপার: অর্থাৎ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা।

৪. তানদাতা: এটি বর্তমানের তান্তা শহর।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي يوم الأربعاء المذكور أجزنا القسم الثاني من النيل في مركب تعدية أيضا بموضوع يعرف بدجوة وذلك وقت الغداة الصغرى وكان نزولنا في مصر بفندق أبي الثناء في زقاق القناديل بمقربة من جامع عمرو بن العاص رضى الله عنه في حجرة كبيرة على باب الفندق المذكور.
এবং উল্লিখিত বুধবার দিনে আমরা দাজওয়া নামক স্থানে একটি পারাপারের নৌকায় করে নীল নদের দ্বিতীয় অংশও অতিক্রম করলাম, আর তা ছিল প্রাতঃকালের প্রথম ভাগে। মিসরে আমাদের অবস্থান ছিল আমর ইবনুল আস (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) জামে মসজিদের নিকটবর্তী জুক্বাকুল কানাদিল-এ অবস্থিত আবুল সানা সরাইখানার প্রবেশদ্বারের একটি বৃহৎ কক্ষে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌ذكر مصر والقاهرة وبعض آثارها العجيبة

فأول ما بندأ بذكره منها الآثار والمشاهد المباركة التي ببركتها يمسكها الله عز وجل:

فمن ذلك المشهدالعظيم الشأن الذي بمدينة القاهرة حيث رأس الحسين بن علي بن أبي طالب رضي الله عنهما وهو في تابوت فضة مدفون تحت الأرض قد بنى عليه بنيان حفيل يقصر الوصف عنه ولا يحيط الادراك به مجلل بأنواع الديباج محفوف بأمثال العمد الكبار شمعا أبيض ومنه ما هو دون ذلك قد وضع أثكرها في أتوار1 فضة خالصة ومنها مذهبة وعلقت عليه قناديل فضة وحف أعلاه كله بأمثال التفافيح ذهبا في مصنع2 شبيه الروضة يقيد الأبصار حسنا وجمالا فيه من أنواع الرخام المجزع الغريب الصنعة البديع الترصيع ما لايتخليله المتخيلون ولا يلحق ادنى وصفه الواصفون.

والمدخل إلى هذه الروضة على مسجد على مثالها في التأنق والغرابة حيطانه كلها رخام على الصفة المذكورة وعن يمين الروضة المذكورة وشمالها بيتان من كليهما المدخل إليها وهما أيضا على تلك الصفة بعينها. والأستار البديعة الصنعة من الديباج معلقة على الجميع.

--------------------------------------------

1 أتوار: الواحد تور: الشمعدان.

2 المصنع: المبنى قصرا كان أو حصنا.
মিসর, কায়রো এবং এর কিছু বিস্ময়কর নিদর্শনের বর্ণনা

এগুলোর মধ্যে আমরা সর্বপ্রথম যেগুলোর বর্ণনা শুরু করব তা হলো সেই সকল নিদর্শন ও বরকতময় মাশহাদ (পুণ্যস্থান), যাদের বরকতে মহান আল্লাহ এগুলোকে রক্ষা করছেন:

সেগুলোর মধ্যে কায়রো শহরের সেই সুমহান মর্যাদাপূর্ণ মাশহাদটি অন্যতম, যেখানে আলী ইবনে আবি তালিবের পুত্র হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মস্তক মোবারক রয়েছে। এটি মাটির নিচে একটি রূপার সিন্দুকে দাফন করা হয়েছে, যার ওপর এক বিশাল ইমারত নির্মাণ করা হয়েছে যা বর্ণনা করা অসম্ভব এবং যার স্বরূপ অনুধাবন করা দুঃসাধ্য। এটি বিভিন্ন প্রকার রেশমি বস্ত্র (দিবাজ) দ্বারা আবৃত এবং বড় বড় স্তম্ভের মতো সাদা মোমবাতি দ্বারা বেষ্টিত। সেগুলোর মধ্যে কিছু এর চেয়ে ছোট আকারেরও রয়েছে। এগুলোর অধিকাংশ খাঁটি রূপার শামা-দানিতে রাখা হয়েছে এবং কিছু স্বর্ণখচিত। সেখানে রূপার প্রদীপ ঝুলানো হয়েছে এবং এর উপরিভাগ স্বর্ণের তৈরি আপেল সদৃশ অলঙ্কার দ্বারা বেষ্টিত। এটি একটি বাগানের (রওজা) মতো স্থাপনা যা তার সৌন্দর্য ও লাবণ্য দিয়ে দৃষ্টিকে আবিষ্ট করে। এতে এমন সব বিচিত্র কারুকার্যমণ্ডিত ও চমৎকার কারুকাজ করা মার্বেল পাথর রয়েছে যা কল্পনাকারীরা কল্পনাও করতে পারে না এবং বর্ণনাকারীরা যার সামান্যতম বর্ণনা দিতেও সক্ষম নয়।

এই রওজার প্রবেশপথটি একটি মসজিদের দিকে, যা পারিপাট্য ও চমৎকার হওয়ার ক্ষেত্রে এরই অনুরূপ। এর দেয়ালগুলো উল্লিখিত গুণাগুণ সম্পন্ন মার্বেল পাথর দ্বারা আবৃত। উল্লিখিত রওজার ডানে ও বামে দুটি কক্ষ রয়েছে, উভয় দিক দিয়েই এতে প্রবেশের পথ আছে এবং কক্ষ দুটিও ঠিক একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। সবগুলোর ওপর রেশমি বস্ত্রের চমৎকার কারুকার্যমণ্ডিত পর্দা ঝুলানো রয়েছে।

--------------------------------------------

১. আতওয়ার: একবচনে তাওর, যার অর্থ শামা-দানি বা প্রদীপ রাখার আধার।

২. আল-মাসনা‘: অট্টালিকা, তা প্রাসাদ হোক বা দুর্গ।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ২০)
ومن أعجب ما شاهدناه في دخولنا إلى هذا المسجد المبارك حجر موضوع في الجدار الذي يستقبله الداخل شديد السواد والبصيص يصف الأشخاص1 كلها كأنه المرآة الهندية الحديثة الصقل وشاهدنا من استلام الناس للقبر المبارك واحداقهم به وانكبابهم عليه وتمسحهم بالكسوة التي عليه وطوافهم حوله مزدحمين داعين باكين متوسلين إلى الله سبحانه ببركة التربة المقدسة ومتضرعين ما يذيب الاكباد ويصدع الجماد والأمر فيه أعظم ومرأى الحال اهول نفعنا الله ببركة ذلك المشهد الكريم. وانما وقع الالماع بنبذة من صفته مستدلا على ما وراء ذلك إذ لاينغي لعاقل أن يتصدى لوصفه لأنه يقف موقف التقصير والعجز وبالجملة فما أظن في الوجود كله مصنعا أحفل منه ولا مرأى من البناء أعجب ولا أبدع قدس الله العضو الكريم الذي فيه بمنه وكرمه.

وفي ليلة اليوم المذكور بتنا بالجبانة المعروفة بالقرافة وهي أيضا إحدى عجائب الدنيا لم تحتوى عليه من مشاهدا الأنبياء صلوات الله عليهم وأهل البيت رضوان الله عليهم والصحابة والتابعين والعلماء والزهاد والأولياء ذوى الكرامات الشهيرة والأنباء الغريبة. وإنما ذكرنا منها ما أمكنتنا مشاهدته فمنها قبر ابن النبي صالح وقبر روبيل بن يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم خليل الرحمن صلوات الله عليهم أجمعين وقبر آسية أمرأة فرعون رضى الله عنها ومشاهد أهل البيت رضى الله عنهم أجمعين مشاهد أربعة عشر من الرجال وخمس من النساء وعلى كل واحد منها بناء حفيل فهي بأسرها روضات بديعة الاتقان عجيبة البنيان قد وكل بها قومه يسكنون فيها ويحفظونها. ومنظرها منظر عجيب والجرايات متصلة لقوامها في كل شهر.

--------------------------------------------

1 البصيص: اللمعان. أراد يعكس.
এই বরকতময় মসজিদে প্রবেশের সময় আমরা যা প্রত্যক্ষ করেছি তার মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো প্রবেশকারীর সম্মুখস্থ দেয়ালে স্থাপিত একটি পাথর; যা অত্যন্ত কৃষ্ণবর্ণ ও উজ্জ্বল এবং তা প্রত্যেক ব্যক্তিকে এমনভাবে প্রতিফলিত করে যেন তা আধুনিক পালিশ করা কোনো ভারতীয় দর্পণ। আমরা দেখলাম মানুষ বরকতময় কবরটি স্পর্শ করছে, একে ঘিরে দাঁড়িয়েছে, এর ওপর লুটিয়ে পড়ছে, কবরের গিলাফে নিজেদের শরীর ঘষছে এবং প্রচণ্ড ভিড়ের মাঝে ক্রন্দনরত ও দোয়ারত অবস্থায় এবং এই পবিত্র মৃত্তিকার বরকতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা ও বিনতি জানিয়ে এর চারদিকে তাওয়াফ করছে—যা অন্তরকে বিগলিত করে এবং জড় পদার্থকেও বিদীর্ণ করে। এখানকার বিষয়টি বর্ণনাতীতভাবে মহান এবং এর দৃশ্য অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ; আল্লাহ আমাদের সেই সম্মানিত দৃশ্যস্থানের বরকত দ্বারা উপকৃত করুন। এর গুণাবলির অতি সামান্য অংশই এখানে বর্ণিত হয়েছে যা এর পেছনের মাহাত্ম্যের প্রমাণ স্বরূপ; কারণ কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষেই এর পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনায় প্রবৃত্ত হওয়া সাজে না, কেননা সে শেষ পর্যন্ত নিজের অক্ষমতা ও ত্রুটিই স্বীকার করবে। মোদ্দাকথা, আমি মনে করি না যে সমগ্র সৃষ্টিজগতে এর চেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ কোনো শিল্পকর্ম বা এর চেয়ে বিস্ময়কর ও অভিনব কোনো স্থাপত্যশৈলী বিদ্যমান। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় এর ভেতরে থাকা সম্মানিত অঙ্গটিকে পবিত্র ও মহিমান্বিত করুন।

উল্লিখিত দিবসের রজনীতে আমরা আল-কারাফা নামে পরিচিত গোরস্থানে রাত কাটালাম। এটিও পৃথিবীর অন্যতম এক বিস্ময়, কারণ এখানে নবীগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক), আহলে বাইত (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), সাহাবী, তাবেয়ী, উলামা, যাহিদ এবং প্রসিদ্ধ কারামত ও অদ্ভুত খবরের অধিকারী আউলিয়ায়ে কেরামের নিদর্শনসমূহ বিদ্যমান। আমরা কেবল সেসবের কথাই উল্লেখ করেছি যা প্রত্যক্ষ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে। তন্মধ্যে রয়েছে নবী সালিহ (আ.)-এর পুত্রের কবর, রহমানের বন্ধু ইব্রাহিম (আ.)-এর প্রপৌত্র, ইসহাক (আ.)-এর পৌত্র এবং ইয়াকুব (আ.)-এর পুত্র রুবিলের কবর (তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক), ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর কবর এবং আহলে বাইতের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিদর্শনসমূহ—যেখানে চৌদ্দজন পুরুষ এবং পাঁচজন মহিলার নিদর্শন রয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটির ওপর সুউচ্চ ও জাঁকজমকপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এগুলোর প্রতিটিই সূক্ষ্ম নির্মাণশৈলী ও বিস্ময়কর স্থাপত্যের এক একটি উদ্যান। সেখানে একদল লোক নিয়োজিত আছেন যারা সেখানে বসবাস করেন এবং এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করেন। এর দৃশ্য অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং সেখানকার খাদেমদের জন্য প্রতি মাসে ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে।

--------------------------------------------

১. আল-বাসিস: উজ্জ্বলতা। তিনি এর দ্বারা প্রতিফলনকে বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌ذكر مشاهد أهل البيت رضى الله عنهم

مشهد علي بن الحسين بن علي رضي الله عنه ومشهدان لابني جعفر بن محمد الصادق رضى الله عنهم ومشهد القاسم بن محمد بن جعفر الصادق بن محمد بن علي زين العابدين المذكور رضي الله عنهم، ومشهدان لابنيه الحسن والحسين رضى الله عنهما ومشهد ابنه عبد الله بن القاسم رضى الله عنه ومشهد ابنه يحيى بن القاسم ومشهد علي ابن عبد الله بن القاسم رضي الله عنهم ومشهد اخيه عيسى بن عبد الله رضى الله عنهما ومشهد يحيى بن الحسن بن زيد بن الحسن رضى الله عنهم ومشهد محمد بن عبد الله بن محمد الباقر بن علي زين العابدين بن الحسين ابن علي رضي الله عنهم ومشهد جعفر بن محمد من ذرية علي بن الحسين رضي الله عنهم وذكر لنا إنه كان ربيب مالك رضي الله عنه.
আহলে বাইত (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর স্মৃতিস্থানসমূহের বর্ণনা

আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্মৃতিস্থান এবং জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর দুই পুত্রের দুইটি স্মৃতিস্থান এবং উল্লিখিত কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আস-সাদিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী জাইনুল আবিদীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর স্মৃতিস্থান, এবং তাঁর দুই পুত্র হাসান ও হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর দুইটি স্মৃতিস্থান এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনুল কাসিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্মৃতিস্থান এবং তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া ইবনুল কাসিম-এর স্মৃতিস্থান এবং আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল কাসিম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর স্মৃতিস্থান এবং তাঁর ভাই ঈসা ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর স্মৃতিস্থান এবং ইয়াহইয়া ইবনুল হাসান ইবনে যাইদ ইবনুল হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর স্মৃতিস্থান এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকির ইবনে আলী জাইনুল আবিদীন ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর স্মৃতিস্থান এবং আলী ইবনুল হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বংশধর জাফর ইবনে মুহাম্মদ-এর স্মৃতিস্থান; আর আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতিপালিত সন্তান ছিলেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌مشاهد الشريفات العلويات رضي الله عنهم

مشهد السيدة أم كلثوم ابنة القاسم بن محمد بن جعفر رضي الله عنهم ومشهد السيدة زينب ابنة يحيى بن زيد ابن علي بن الحسين رضي الله عنهم ومشهد أم كلثوم ابنة محمد بن جعفر الصادق رضي الله عنهم ومشهد السيدة أم عبد الله بن القاسم بن محمد رضى الله عنهم.

وهذا ذكر ما حصله العيان من هذه المشاهد العلوية المكرمة وهي أكثر من ذلك وأخبرنا أن في جملتها مشهدا مباركا لمريم ابنة لعلى بن أبي طالب رضي الله عنه وهو مشهور لكنا لم نعاينه. وأسماء أصحاب هذه المشاهد المباركة إنما تلقيناها من التواريخ الثابتة عليها مع تواتر الأخبار بصحة ذلك والله أعلم بها وعلى كل واحد منها بناء حفيل فهي باسرها روضات بديعة الاتقان عجيبة
সম্মানিত আলবীয় নারীগণের মাযারসমূহ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)

কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন জাফরের কন্যা সায়্যিদা উম্মে কুলসুমের মাযার (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), ইয়াহইয়া বিন যায়েদ ইবনে আলী বিন হুসাইনের কন্যা সায়্যিদা যয়নবের মাযার (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), মুহাম্মদ বিন জাফর আস-সাদিকের কন্যা উম্মে কুলসুমের মাযার (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), এবং কাসিম বিন মুহাম্মদের কন্যা সায়্যিদা উম্মে আব্দুল্লাহর মাযার (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

এটি হচ্ছে এই সম্মানিত আলবীয় মাযারসমূহের মধ্যে যা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা হয়েছে তার বর্ণনা, আর এগুলোর সংখ্যা এর চাইতেও অনেক বেশি। আমাদের জানানো হয়েছে যে, এর অন্তর্ভুক্ত আলী বিন আবু তালিবের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কন্যা মরিয়মের একটি বরকতময় মাযার রয়েছে যা সুপরিচিত, কিন্তু আমরা তা স্বচক্ষে দেখিনি। এই বরকতময় মাযারগুলোর অধিকারীদের নামসমূহ আমরা এগুলোর ওপর নির্ধারিত ইতিহাস থেকে গ্রহণ করেছি এবং এগুলোর সত্যতা সম্পর্কে সংবাদসমূহ লোকমুখে ব্যাপকভাবে প্রচলিত (তাওয়াতুর); আল্লাহই এ ব্যাপারে অধিক পরিজ্ঞাত। এগুলোর প্রত্যেকটির উপরেই বিশাল ইমারত বা ভবন বিদ্যমান এবং সেগুলো সামগ্রিকভাবে অত্যন্ত নিখুঁত ও বিস্ময়কর শিল্পকর্ম সমৃদ্ধ এক একটি উদ্যান।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ২২)
البنيان قد وكل بها قومة يسكنون فيها ويحفظونها ومنظرها منظر عجيب والجرايات متصلة لقوامها في كل شهر.

স্থাপনাটির দায়িত্বে একদল তত্ত্বাবধায়ক নিয়োজিত রহিয়াছেন, যাহারা তথায় বসবাস করেন এবং উহার রক্ষণাবেক্ষণ করেন। ইহার দৃশ্য অতীব বিস্ময়কর এবং প্রতি মাসে তত্ত্বাবধায়কগণের নিমিত্ত নিয়মিত ভাতা বরাদ্দ রহিয়াছে।

(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌ذكر مشاهد بعض أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم

بالقرافة المذكورة ومشاهد التابعين والأئمة والعلماء والزهاد والأولياء

المشتهرين بالكرامات رضى الله عنهم أجمعين

والمقيد1 يبرا من القطع بصحة ذلك وإنما رسم من اسمائهم ما وجده مرسوما في تواريخها وبالجملة فالصحة غالية لا يشك فيها إن شاء الله عز وجل: مشهد معاذ بن جبل رضي الله عنه مشهد عقبة بن عامر الجهني حامل راية رسول الله صلى الله عليه وسلم مشهد صاحب برده صلى الله عليه وسلم مشهد أبي الحسن صائغ رسول الله صلى الله عليه وسلم مشهد سارية الجبل رضي الله عنه مشهد محمد بن أبي بكر الصديق رضى الله عنهما مشهد اولاده رضي الله عنهم مشهد أحمد بن أبي بكر الصديق رضى الله عنه مشهد أسماء ابنة أبي بكر الصديق رضي الله عنهما مشهد ابن للزبير بن العوام رضي الله عنهما مشهد عبد الله بن حذافة السهمي صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم مشهد ابن حليمة رضيع رسول الله صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

1 المقيد: أي الكاتب، يريد نفسه.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়েকজন সাহাবীর সমাধিস্থলের উল্লেখ

উল্লিখিত কারাফা নামক কবরস্থানে, এবং তাবেয়ীগণ, ইমামগণ, আলেমগণ, দুনিয়াবিমুখ যাহিদগণ ও আউলিয়াগণের সমাধিস্থলসমূহ

যাঁরা তাঁদের অলৌকিক নির্দশন বা কারামতের জন্য সুপরিচিত, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আর এই লেখক এগুলোর অকাট্য বিশুদ্ধতার ব্যাপারে নিশ্চয়তা প্রদান থেকে দায়মুক্ত থাকছেন। তিনি কেবল তাঁদের সেই সব নাম লিপিবদ্ধ করেছেন যা তিনি ইতিহাসের পাতায় নথিভুক্ত পেয়েছেন। তবে মোটের উপর, এগুলোর সত্যতা অত্যন্ত মূল্যবান এবং মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই: মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমাধিস্থল, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পতাকা বহনকারী উকবাহ ইবনে আমির আল-জুহানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমাধিস্থল, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাদরের অধিকারীর সমাধিস্থল, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বর্ণকার আবুল হাসান-এর সমাধিস্থল, সারিয়া আল-জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমাধিস্থল, মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সমাধিস্থল, তাঁর সন্তানদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সমাধিস্থল, আহমদ ইবনে আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমাধিস্থল, আবু বকর সিদ্দিকের কন্যা আসমা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সমাধিস্থল, জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর এক পুত্রের সমাধিস্থল, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফা আস-সাহমি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমাধিস্থল, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুধ-ভাই হালিমা-র পুত্রের সমাধিস্থল।

--------------------------------------------

১ আল-মুকারয়িদ: অর্থাৎ লেখক, তিনি নিজেকে বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌مشاهدالأئمة العلماء الزهار رضي الله عنهم أجمعين

مشهد الإمام الشافعي رضي الله عنه وهو من المشاهد العظيمة احتفالا واتساعا وبنى بازائه مدرسة لم يعمر بهذه البلاد مثلها لا اوسع مساحة ولا أحفل بناء يخيل لمن يتطوف عليها أنها بلد مستقل بذاته بازائها الحمام إلى
উজ্জ্বল ও প্রাজ্ঞ ইমামগণের স্মৃতিধন্য মাকামসমূহ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)

ইমাম শাফিঈর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাকাম; এটি জাঁকজমক ও প্রশস্ততার দিক থেকে অন্যতম এক মহান মাকাম। এর পাশে এমন একটি মাদরাসা নির্মাণ করা হয়েছে যার সদৃশ কোনো স্থাপনা এই জনপদে নির্মিত হয়নি; না আয়তনের বিশালতায়, আর না নির্মাণশৈলীর আভিজাত্যে। যে ব্যক্তি এর চারপাশ প্রদক্ষিণ করবে, তার কাছে মনে হবে এটি যেন স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি স্বতন্ত্র শহর। এর পার্শ্ববর্তী স্থানে হাম্মাম বা স্নানাগার রয়েছে...
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ২৩)
غير ذلك من مرافقها والبناء فيها حتى الساعة والنفقة عليها لا تحصى تولى ذلك بنفسه الشيخ الإمام الزاهد العالم المعروف بنجم الدين الخبوشاني وسلطان هذه الجهات صلاح الدين يسمح له بذلك كله ويقول زد احتفالا وتأنقا وعلينا القيام بمؤنة ذلك كله فسبحان الذي جعله صلاح دينه كاسمه.

ولقينا هذا الرجل الخبوشاني المذكور تبركا بدعائه لأنه قد كان ذكر لنا أمره بالأندلس فألفيناه في مسجده بالقاهرة وفي البيت الذي يسكنه داخل المسجد المذكور وهو بيت ضيق الفناء فدعا لنا وانصرفنا ولم نلق من رجال مصر سواه. مشهد المزني صاحب الإمام الشافعي رضى الله عنه مشهد اشهب صاحب مالك رضي الله عنه مشهد عبد الرحمن بن القاسم صاحب مالك رضي الله عنهما مشهداصبغ صاحب مالك رضي الله عنهما مشهد القاضي عبد الوهاب رضي الله عنه مشهد عبد الله بن عبد الحكم ومحمد بن عبد لله بن عبد الحكم رضي الله عنهما مشهدالفقيه الواعظ الزاهد أبي الحسن الدينوري رضي الله عنه مشهد بنان العابد رضي إله عنه مشهد الرجل الصالح العابد الزاهد المعروف بصاحب الابريق وقصته عجيبة في لكرامة مشهد أبي مسلم الخولاني رضي الله عنه مشهدالمراة الصالحة المعروفة بالعيناء رضي الله عنها مشهد الرزذباري رضي الله عنه مشهد محمد ابن مسعود بن محمد بن هارون الرشيد المعروف بالسبتي رضي الله عنه مشهد الرجل الصالح مقبل الحشي رضي الله عنه مشهد ذي النون بن إبراهيم المصري رضي الله عنه مشهدالقاضي الانباري قبر الناطق الذي سمع عند وضعه في لحده يقول اللهم انزلني منزلا مباركا وانت خير المنزلين رضي الله عنه مشهدالعروس ولها اثر من الكرامة في حال جلوتها على زوجها لم يسمع أعجب منه ومشهد الصامت الذي يحكى عنه إنه لم يتكلم أربعين سنة مشهد العصافيري مشهد عبد العزيز بن أحمد بن علي بن الحسن الخوارزمي مشهدالفقيه الواعظ الأفضل الجوهري ومشاهد أصحابه بازائه رضي الله عنهم أجمعين مشهد شقران
এ ছাড়া এর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এবং এতে নির্মাণকাজ বর্তমানেও চলমান রয়েছে এবং এর ব্যয়ভার অগণিত। এই সামগ্রিক বিষয়ের তত্ত্বাবধান স্বয়ং সেই শায়খ, ইমাম, দুনিয়াবিমুখ ও প্রখ্যাত আলেম নাজম উদ্দিন আল-খাবুশানী গ্রহণ করেছিলেন। আর এই অঞ্চলের সুলতান সালাহউদ্দিন তাঁকে এসব কাজে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন এবং বলতেন, "আপনি এর আড়ম্বর ও নির্মাণশৈলী আরও বৃদ্ধি করুন, আর এর যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব আমাদের।" সুতরাং পবিত্র সেই মহান সত্তা, যিনি তাঁকে তাঁর নামের সার্থকতা অনুযায়ী তাঁর দ্বীনের সংস্কারক (সালাহউদ্দিন) হিসেবে কবুল করেছেন।

আমরা এই উল্লিখিত ব্যক্তি আল-খাবুশানী সাহেবের দোয়ার বরকত লাভের উদ্দেশ্যে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম, কেননা আন্দালুসে থাকাকালে আমাদের কাছে তাঁর প্রশংসা আলোচিত হয়েছিল। আমরা তাঁকে কায়রোতে তাঁর মসজিদে এবং উক্ত মসজিদের অভ্যন্তরে তাঁর বসবাসের কামরায় পেয়েছিলাম। সেটি ছিল একটি সংকীর্ণ আঙিনাবিশিষ্ট কক্ষ। তিনি আমাদের জন্য দোয়া করলেন এবং আমরা বিদায় নিলাম। মিসরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কেবল তাঁর সাথেই আমাদের সাক্ষাৎ ঘটেছিল। ইমাম শাফিঈর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সহচর আল-মুজানীর মাজার, ইমাম মালিকের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সহচর আশহাবের মাজার, ইমাম মালিকের সহচর আবদুর রহমান ইবনুল কাসিমের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাজার, ইমাম মালিকের সহচর আসবাগের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাজার, কাজী আব্দুল ওয়াহাবের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাজার, আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম ও মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকামের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাজার, ফকিহ, ওয়ায়েজ ও দুনিয়াবিমুখ আবু হাসান আদ-দিনাওয়ারীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাজার, ইবাদতগুজার বানানের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাজার, 'সাহেবুল ইবরিক' (পানির পাত্রের মালিক) হিসেবে পরিচিত সেই নেককার ও দুনিয়াবিমুখ ইবাদতগুজার ব্যক্তির মাজার; তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার (কারামত) ঘটনাটি অত্যন্ত বিস্ময়কর, আবু মুসলিম আল-খাওলানীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাজার, 'আল-আইনা' নামে পরিচিত নেককার নারীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাজার, আর-রুজবারীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাজার, হারুনুর রশীদের বংশধর মুহাম্মদ ইবনে মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ, যিনি 'আস-সাবতী' নামে পরিচিত ছিলেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁর মাজার, নেককার ব্যক্তি মুকবিল আল-হাশীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাজার, যুন-নুন বিন ইব্রাহিম আল-মিসরীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাজার, কাজী আল-আনবারীর মাজার—যিনি সেই বাকশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি যার কবরে শায়িত করার সময় তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল: "হে আল্লাহ! আমাকে বরকতময় স্থানে অবতরণ করান, আর আপনিই সর্বোত্তম অবতরণকারী" (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), আল-আরূসের মাজার—স্বামীর সাথে মিলনের প্রাক্কালে তাঁর একটি অলৌকিক নিদর্শন প্রকাশিত হয়েছিল যার চেয়ে বিস্ময়কর আর কিছু শোনা যায়নি, আস-সামিত বা মৌনী ব্যক্তির মাজার—যাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে তিনি চল্লিশ বছর কথা বলেননি, আল-আসআফিরীর মাজার, আব্দুল আজিজ ইবনে আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাসান আল-খাওয়ারিজমীর মাজার, ফকিহ ও শ্রেষ্ঠ ওয়ায়েজ আল-জাওহারীর মাজার এবং তাঁর সন্নিকটে তাঁর অনুসারীদের মাজার (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), শুকরানের মাজার।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ২৪)
شيخ ذي النون المصري مشهدالرجل الصالح المعروف بالاقطع المغربي مشهدالمقرئ ورش مشهدالطبري مشهد شيبان الراعي.

والمشاهد الكريمة بها أكثر من أن تضبط بالتقييد أو تتحصل بالإحصاء وإنما ذكرنا هنا ما أمكنتنا مشاهدته ويقبلة القرافة المذكورة بسيط متسع يعرف بموضع قبرو الشهداء وهم الذين استشهدوا مع سارية رضي الله جميعهم والبسيط المذكور مسنم كله للعيان على مثال أسنمة1 القبور دون بناء. ومن العجب أن القرافة المذكورة كلها مساجد مبنية ومشاهد معمورة يأوى إليها الغرباء والعلماء والصلحاء والفقراء والاجراء على كل موضع منها متصل من قبل السلطان في كل شهر والمدارس التي بمصر والقاهرة كذلك وحقق عند نا أن الاجراء على ذلك كله نيف على الفي دينار مصرية في الشهر وهي أربعة آلاف دينار مؤمنية.

وذكر لنا أن لجامع عمرو بن العاص بمصر من الفائد نحو الثلاثين دينارا مصرية في كل يوم تتفرق في مصالحه ومرتبات قومته وسدنته2 وأئمته والقراء فيه. ومما شاهدناه بالقاهرة أربعة جوامع حفيلة البنيان أنيقة الصنعة لي مساجد عدة.

وفي أحد الجوامع الخطبة اليوم ويأخذ الخطيب فيها مأخذ سني يجمع فيها الدعاء للصحابة رضي الله عنهم وللتابعين ومن سواهم ولأمهات المؤمنين زوجات النبي صلى الله عليه وسلم ولعميه الكريمين حمزة والعباس رضي الله عنهما ويلطف الوعظ ويرقق التذكير حتى تخشع القلوب القاسية وتتفجر العيون الجامدة وياتي للخطبة لابسا السواد على رسم العباسية. وصفة لباسه يردة سوداء عليها طيلسان شرب3 أسود وهو الذي يسمى بالمغرب الإحرام،

--------------------------------------------

1 الأسنمة هنا: ما يرفع أو يبنى فوق القبر.

2 السدنة، الواحد سادن: خادم المسجد أو المعبد.

3 الشرب: نوع الحرير.
শাইখ যুন নুন আল-মিসরী, আল-আকতা আল-মাগরিবী নামে পরিচিত সৎ ব্যক্তির মাশহাদ (স্মৃতিস্তম্ভ), ক্বারী ওয়ারশ-এর মাশহাদ, তাবারীর মাশহাদ, শায়বান আর-রায়ীর মাশহাদ।

সেখানকার সম্মানিত মাশহাদসমূহ বা স্মৃতিস্তম্ভসমূহ এতোই অধিক যে তা সীমাবদ্ধ করা বা গণনার মাধ্যমে নিরূপণ করা সম্ভব নয়। আমরা এখানে কেবল সেগুলোই উল্লেখ করেছি যা আমাদের পক্ষে প্রত্যক্ষ করা সম্ভব হয়েছে। উল্লেখিত কারাফার কিবলার দিকে একটি প্রশস্ত প্রান্তর রয়েছে যা শহীদদের কবরের স্থান হিসেবে পরিচিত; তারা সেই সব ব্যক্তিবর্গ যারা সারিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সাথে শহীদ হয়েছিলেন। উল্লেখিত প্রান্তরটি দেখার ক্ষেত্রে পুরোপুরি উটের কুঁজের মতো উঁচু, যা কোনো ইমারত নির্মাণ ছাড়াই কবরের উঁচু ঢিবির সদৃশ। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, উল্লেখিত কারাফার পুরোটাই নির্মিত মসজিদ এবং আবাদকৃত মাশহাদসমূহে (স্মৃতিস্তম্ভ) পরিপূর্ণ, যেখানে আগন্তুক, আলেম, নেককার, অভাবী ও মজুররা আশ্রয় গ্রহণ করে। সুলতানের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে প্রতিটি স্থানের জন্য ভাতা বরাদ্দ থাকে। মিসর ও কায়রোর মাদ্রাসাগুলোর অবস্থাও তদ্রূপ। আমাদের নিকট এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, এ সবকিছুর জন্য মাসিক ভাতা দুই হাজার মিসরীয় দীনারের অধিক, যা চার হাজার মুমিনিয়া দীনারের সমান।

আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, মিসরের আমর ইবনুল আস জামে মসজিদের প্রতিদিনের আয় প্রায় ত্রিশ মিসরীয় দীনার, যা এর জনকল্যাণমূলক কাজে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণকারী, খাদেম, ইমাম ও তিলাওয়াতকারীদের বেতনের জন্য ব্যয় করা হয়। কায়রোতে আমরা যা প্রত্যক্ষ করেছি তার মধ্যে রয়েছে চমৎকার নির্মাণশৈলী ও নিপুণ কারুকার্যমণ্ডিত চারটি জামে মসজিদ, যা অনেকগুলো সাধারণ মসজিদের সমতুল্য।

কোনো এক জামে মসজিদে আজ খুতবা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে খতিব সুন্নাহভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন; যেখানে তিনি সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), তাবেয়ী ও অন্যান্যদের জন্য এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী উম্মাহাতুল মুমিনীন এবং তাঁর দুই সম্মানিত চাচা হামযাহ ও আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর জন্য দোয়া করেন। তিনি অত্যন্ত কোমলভাবে ওয়াজ করেন এবং নসিহতকে এমন হৃদয়স্পর্শী করেন যে, কঠোর হৃদয়সমূহও বিগলিত হয় এবং শুষ্ক চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হয়। তিনি আব্বাসীয় রীতিনীতি অনুযায়ী কালো পোশাক পরিধান করে খুতবা দিতে আসেন। তাঁর পোশাকের বিবরণ হলো—একটি কালো চাদর, যার ওপর রেশমি কালো তয়লাসান থাকে, যাকে মাগরিব অঞ্চলে ইহরাম বলা হয়।

--------------------------------------------

১. এখানে আসনিমাহ বলতে বুঝানো হয়েছে: যা কবরের ওপর উঁচু করা হয় বা নির্মাণ করা হয়।

২. সাদানা, একবচনে সাদান: মসজিদ বা উপাসনালয়ের খাদেম।

৩. শারব: এক প্রকার রেশম।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ২৫)
وعمامة سوداء متقلدا سيفا وعند صعوده المبر يضرب بنعل سيفه المبنر في أول ارتقائه ضربة يسمع بها الحاضرين كأنها إيذان بالانصات وفي توسطه أخرى وفي انتهاء صعوده ثالثة ثم يسلم على الحاضرين يمينا وشمالا ويقف بين رايتين سوداوين فيهما تجزيع بياض قد ركزتا في أعلى المنبر.

ودعاؤه في هذا التاريخ للإمام العباسي أبي العباس أحمد الناصر لدين الله ابن الإمام أبي محمد الحسن المستضيء بالله ابن الإمام أبي المظفر يوسف المستنجد بالله ثم لمحيي دولته أبي المفظر يوسف بن أيوب صلاح الدين ثم لاخيه ولي عهده أبي بكر سيف الدين1.

--------------------------------------------

1 الملك العادل.
...এবং একটি কালো পাগড়ি ও একটি তলোয়ার পরিহিত অবস্থায়; তিনি মিম্বরে আরোহণের সময় তাঁর আরোহণের প্রারম্ভে তলোয়ারের খাপ দিয়ে মিম্বরে একটি আঘাত করেন যা উপস্থিত সকলে শুনতে পায়, যেন এটি নীরব থাকার একটি সংকেত। আরোহণের মধ্যবর্তী পর্যায়ে তিনি দ্বিতীয়বার এবং আরোহণ সমাপ্তিতে তৃতীয়বার আঘাত করেন। অতঃপর তিনি উপস্থিতদের প্রতি ডানে ও বামে সালাম প্রদান করেন এবং মিম্বরের উপরিভাগে স্থাপিত শ্বেত রেখাখচিত দুটি কালো পতাকার মাঝে দণ্ডায়মান হন।

আর এই সমসাময়িক কালে তাঁর দোয়া ছিল আব্বাসীয় ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ আন-নাসির লি-দিনিল্লাহর জন্য, যিনি ইমাম আবু মুহাম্মদ হাসান আল-মুস্তাদি বি-আল্লাহর পুত্র, যিনি ইমাম আবুল মুজাফফর ইউসুফ আল-মুস্তানজিদ বিল্লাহর পুত্র। এরপর তাঁর সাম্রাজ্যের পুনর্জাগরণকারী আবুল মুজাফফর ইউসুফ ইবনে আইয়ুব সালাহউদ্দীনের জন্য এবং অতঃপর তাঁর ভাই ও পরবর্তী উত্তরাধিকারী আবু বকর সাইফুদ্দীনের জন্য১।

--------------------------------------------

১ আল-মালিকুল আদিল।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌قلعة القاهرة

وشاهدنا أيضا بنان القلعة وهو حصن يتصل بالقاهرة حصين المنعة يريدالسلطان أن يتخذه موضع سكناه ويمد سوره حتى ينتظم بالمدنتين مصر والقاهرة والمسخرون في هذا البنيان والمتولون لجميع امتهاناته ومؤنته العظيمة كنشر الرخام ونحت الصخور العظام وحفر الخندق المحدق بسور الحصن المذكور وهو خندق ينقر بالمعأول نقرا في الصخر عجبا من العجائب الباقية الآثار العلوجا الأسرى من الروم وعددهم لا يحصى كثرة ولا سبيل أن يمتهن في ذلك البنيان أحد سواهم.

وللسلطان أيضا بمواضع أخر بنيان والاعلاج يخدمون فيه ومن يمكن استخدامه من المسلمين في مثل هذه المنفعة العامة مرفه عن ذلك كله ولا وظيفة في شيء من ذلك على أحد.
কায়রো দুর্গ

আমরা কায়রো দুর্গের নির্মাণকাজও প্রত্যক্ষ করেছি; এটি কায়রোর সাথে সংযুক্ত একটি অত্যন্ত দুর্ভেদ্য দুর্গ। সুলতান এটিকে নিজের আবাসস্থল হিসেবে গ্রহণ করতে চান এবং এর প্রাচীরকে এমনভাবে সম্প্রসারিত করতে চান যাতে তা মিসর ও কায়রো—উভয় শহরকে বেষ্টন করে নেয়। এই নির্মাণকাজে নিয়োজিত এবং এর যাবতীয় কঠোর শ্রমসাধ্য ও বিশাল ব্যয়বহুল কাজ—যেমন মার্বেল চেরা, বিশাল পাথর খোদাই করা এবং উল্লিখিত দুর্গের প্রাচীর বেষ্টনকারী পরিখা খনন করার দায়িত্বে নিয়োজিতরা হলো অগণিত রোমক যুদ্ধবন্দী। এই নির্মাণকাজে তারা ব্যতীত অন্য কাউকে নিযুক্ত করার অবকাশ নেই। এই পরিখাটি পাথরের বুক চিরে কুদাল দিয়ে খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে, যা বিদ্যমান ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে এক বিস্ময়কর কীর্তি।

অন্যান্য স্থানেও সুলতানের নির্মাণকাজ রয়েছে যেখানে এই অমুসলিম যুদ্ধবন্দীরাই শ্রম দিচ্ছে। এ জাতীয় জনকল্যাণমূলক কাজে যে সকল মুসলিমদের ব্যবহারের সুযোগ ছিল, তাদের এই সমস্ত কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের কারোর ওপরই এ জাতীয় কোনো দায়ভার নেই।
(খণ্ড: ১) রিহলাতু ইবনি জুবায়ের ত্বা দারু বাইরুত (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌مستشفى المجانين

ومما شاهدناه أيضا من مفاخر هذا السلطان المارستان الذي بمدينة القاهرة وهو قصر من القصور الرائقة حسنا واتساعا ابرزه لهذه الفضيلة تاجرا واحتسابا1 وعين قيما من أهل المعرفة وضع لديه خزائن العقاقير ومكنه من استعمال الأشربة واقماتها على اخلاتف أنواعها ووضعت في مقاصر ذلك القصر أسرة يتخذها المرضى مضاجع كاملة الكسى وبين يدي ذلك القيم خدمة يتكلفون بتفقد أحوال المرضى بكرة وعشية فيقابلون من الأغذية والاشربة بما يليق بهم.

وبإزاء هذا الموضع موضع مقتطع للنساء المرضى ولهن أيضا من يكلفهن ويتصل بالموضعين المذكورين موضع آخر متسع الفناء فيه مقصاير عليها شبيابيك الحديد اختذت محابس للمجانين.

ولهم أيضا من يتفقد في كل يوم أحوالهم ويقابلها بما يصلح لها والسلطان يتطلع هذه الأحوال كلها بالبحث والسؤال ويؤكد في الاعتناء بها والمثابرة عليها غاية التأكيد. وبمصر مارستان آخر على مثل ذلك الرسم بعينه.

--------------------------------------------

1 تأجرا واحتسابا: أي طلبا للأجر.
মানসিক হাসপাতাল

এই সুলতানের গৌরবময় কার্যাবলির মধ্যে আমরা যা প্রত্যক্ষ করেছি, তার একটি হলো কায়রো শহরের হাসপাতাল (মারিস্তান)। এটি শ্রেষ্ঠ প্রাসাদগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি প্রাসাদ, যা সৌন্দর্য ও প্রশস্ততায় অনন্য। তিনি সওয়াব ও প্রতিদানের আশায় এই নেক কাজের জন্য এটি উৎসর্গ করেছেন এবং এর জন্য একজন অভিজ্ঞ ও বিজ্ঞ তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করেছেন। তাঁর নিকট ওষুধের ভাণ্ডার গচ্ছিত রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রকার পানীয় ও ঔষধ প্রস্তুত ও ব্যবহারের যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রাসাদের কক্ষগুলোতে রোগীদের শয্যার জন্য বিছানাপত্রসহ পূর্ণাঙ্গ খাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই তত্ত্বাবধায়কের অধীনে একদল সেবক নিয়োজিত রয়েছেন, যারা সকাল-সন্ধ্যা রোগীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাদের অবস্থা অনুযায়ী উপযুক্ত খাদ্য ও পানীয় প্রদান করেন।

এই স্থানের পাশেই অসুস্থ নারীদের জন্য একটি পৃথক অংশ রয়েছে এবং তাদের দেখাশোনার জন্যও নির্দিষ্ট সেবিকা নিয়োজিত আছে। এই উভয় স্থানের সাথে সংযুক্ত রয়েছে একটি বিশাল প্রাঙ্গণবিশিষ্ট জায়গা, যেখানে লোহার শিকলযুক্ত কক্ষ রয়েছে, যা মূলত মানসিক রোগীদের আবাস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাদের জন্যও এমন লোক রয়েছে যারা প্রতিদিন তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাদের জন্য যা কল্যাণকর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সুলতান স্বয়ং খোঁজখবর ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই সকল অবস্থার তদারকি করেন এবং এগুলোর যত্ন ও নিরবচ্ছিন্ন ধারা বজায় রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেন। মিশরে ঠিক একই নকশার অন্য একটি হাসপাতাল রয়েছে।

--------------------------------------------

১. সওয়াব ও প্রতিদানের প্রত্যাশায়: অর্থাৎ সওয়াব লাভের আশায়।