(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: -)
دليل الطالب لنيل المطالب   (مرعي الكرمي)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: دليل الطالب لنيل المطالب

المؤلف: مرعي بن يوسف بن أبى بكر بن أحمد الكرمى المقدسي الحنبلى (ت 1033هـ)

المحقق: أبو قتيبة نظر محمد الفاريابي

الناشر: دار طيبة للنشر والتوزيع، الرياض

الطبعة: الأولى، 1425هـ / 2004م

عدد الصفحات: 371

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দলীলুত তালিব লি-নাইলিল মাতালিব   (মারঈ আল-কারমী)

বিভাগ: হাম্বলী ফিকহ


বই: দলীলুত তালিব লি-নাইলিল মাতালিব

লেখক: মারঈ বিন ইউসুফ বিন আবু বকর বিন আহমাদ আল-কারমী আল-মাকদিসী আল-হানবালী (মৃত্যু ১০৩৩ হি.)

সম্পাদক: আবু কুতাইবা নজর মুহাম্মদ আল-ফারইয়াবী

প্রকাশক: দার তাইয়্যেবাহ প্রকাশনা ও বিতরণ, রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হি. / ২০০৪ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الر حمن الرحيم

وبه ثقتي 1

الحمد لله رب العالمين وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له مالك يوم الدين.

وأشهد أن محمدا عبده ورسوله المبين لأحكام شرائع الدين الفائز بمنتهى الإرادات2 من ربه فمن تمسك بشريعته فهو من الفائزين صلى الله وسلم عليه وعلى جميع الأنبياء والمرسلين وعلى آل كل وصحبه أجمعين.

وبعد: فهذا مختصر في الفقه على المذهب الأحمد مذهب الإمام أحمد بالغت في إيضاحه رجاء الغفران وبينت فيه الأحكام أحسن بيان لم أذكر فيه إلا ما جزم بصحته أهل التصحيح والعرفان وعليه الفتوى فيما بين أهل الترجيح والإتقان وسميته بـ دليل الطالب لنيل المطالب

والله أسأل أن ينفع به من اشتغل به من المسلمين وأن يرحمني والمسلمين إنه أرحم الراحمين.

--------------------------------------------

1 قوله: وبه ثقتي لا يوجد في أ، ب.

2 في حاشية الدليل لابن عوض: المراد – هنا – أن هذا الكتاب ظفر باختصاره من منتهى الإرادات من قبيل التوراة وهي: إطلاق لفظ له معنيان فأطلق منتهى الإرادات وأراد معناه البعيد. حاشية ابن مانع "ص: 3".
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং তাঁরই ওপর আমার ভরসা ১

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তিনি বিচার দিবসের মালিক।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি দ্বীনের শরীয়তের বিধানাবলি সুস্পষ্টকারী, যিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে পরম অভীষ্ট (মুনতাহাল ইরাদাত) লাভে ধন্য হয়েছেন; সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর শরীয়তকে আঁকড়ে ধরবে, সে-ই সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে। তাঁর ওপর এবং সমস্ত নবী ও রাসূলগণের ওপর এবং তাঁদের প্রত্যেকের পরিবার ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর: এটি ইমাম আহমদের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ। ক্ষমা লাভের আশায় আমি এটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং এতে বিধানসমূহ সর্বোত্তমভাবে বর্ণনা করেছি। পারদর্শী ও বিশেষজ্ঞ আলেমগণ যে বিষয়গুলোর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করেছেন, আমি কেবল সেগুলোই এখানে উল্লেখ করেছি এবং নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ পণ্ডিতদের নিকট এটিই ফতোয়া প্রদানের ভিত্তি। আমি এর নামকরণ করেছি ‘দালিলুত তালিব লি নাইলিল মাতালিব’ (আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষার্থীর পথনির্দেশক)।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাবের মাধ্যমে সেই সব মুসলিমকে উপকৃত করেন যারা এটি অধ্যয়নে নিয়োজিত থাকবে এবং তিনি যেন আমার ও সকল মুসলিমের ওপর দয়া করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।

--------------------------------------------

১. তাঁর কথা: ‘এবং তাঁরই ওপর আমার ভরসা’ বাক্যটি ‘আলিফ’ ও ‘বা’ পাণ্ডুলিপিতে নেই।

২. ইবনে আওয়াযের ‘দালিল’-এর টীকায় বলা হয়েছে: এখানে উদ্দেশ্য হলো—এই কিতাবটি ‘মুনতাহাল ইরাদাত’ গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। এটি এক প্রকার ‘তাওরিয়াহ’ (শব্দশ্লেষ), যেখানে এমন একটি শব্দ ব্যবহার করা হয় যার দুটি অর্থ থাকে; এখানে ‘মুনতাহাল ইরাদাত’ শব্দ ব্যবহার করে এর দূরবর্তী অর্থটি (অর্থাৎ গ্রন্থের নাম) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। ইবনে মানি‘-এর টীকা “পৃষ্ঠা: ৩”।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌كتاب الطهارة

‌‌مدخل

…

كتاب الطهارة

وهي: رفع الحدث 1وزوال الخبث.

وأقسام الماء ثلاثة:

أحدها: طهور وهو الباقي على خلقته يرفع الحدث ويزيل الخبث.

وهو أربعة أنواع:

1 - ماء يحرم استعماله ولا يرفع الحدث ويزيل الخبث وهو ما ليس مباحا.2

2 - وماء يرفع حدث الأنثى لا الرجل البالغ والخنثى وهو ما خلت به المرأة المكلفة لطهارة كاملة عن حدث.

3 - وماء يكره استعماله مع عدم الاحتياج إليه وهو ماء بئر بمقبرة وماء اشتد حره أو برده أو سخن بنجاسة أو بمغصوب أو استعمل في طهارة لم تجب أو في غسل كافر أو تغير بملح مائي أو بما لا يمازجه كتغيره بالعود القماري وقطع الكافور والدهن ولا يكره ماء

--------------------------------------------

1 الأولى أن يقول: وهي ارتفاع الحدث إلخ لأنه تفسير للطهارة وأما الرفع، فهو تفسير للتطهير لأنه الفاعل، فيحصل التطابق بين المفسر. حاشية اللبدي "ص: 10".

2 في "أ" "بمباح".
পবিত্রতা অধ্যায়

‌ভূমিকা

...

পবিত্রতা অধ্যায়

আর তা হলো: হদস (অপ্রচ্ছন্ন অপবিত্রতা) দূর করা এবং খাবাছ (দৃশ্যমান অপবিত্রতা) দূরীভূত করা।

পানির প্রকারভেদ তিনটি:

প্রথমটি: তহুর (অতি পবিত্র), যা তার সৃষ্টিগত প্রকৃতির ওপর অবশিষ্ট থাকে; এটি হদস দূর করে এবং খাবাছ দূরীভূত করে।

এটি চার প্রকার:

১ - এমন পানি যা ব্যবহার করা হারাম, যা হদস দূর করে না তবে খাবাছ দূরীভূত করে; আর তা হলো যা মুবাহ (বৈধ) নয়।

২ - এমন পানি যা নারীর হদস দূর করে, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও হিজড়ার (খুনছা) নয়; আর তা হলো এমন পানি যা দিয়ে কোনো মুকাল্লাফ (শরয়ী বিধান পালনে বাধ্য) নারী হদস থেকে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের জন্য নির্জনে নিভৃত হয়েছে।

৩ - এমন পানি যার ব্যবহার প্রয়োজন ব্যতীত মাকরুহ (অপছন্দনীয়); তা হলো কবরস্থানের কূপের পানি, অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি, অপবিত্র বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত করা পানি অথবা জবরদখল করা বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত করা পানি অথবা এমন পবিত্রতায় ব্যবহৃত পানি যা ওয়াজিব ছিল না অথবা কাফেরের গোসলে ব্যবহৃত পানি অথবা লোনা পানির লবণ দ্বারা পরিবর্তিত পানি অথবা এমন বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত পানি যা পানির সাথে মিশে যায় না, যেমন কুমারী আগরকাঠ, কর্পূরের টুকরো ও তেলের কারণে পরিবর্তিত হওয়া। আর মাকরুহ নয় এমন পানি...

--------------------------------------------

১ অধিকতর উত্তম ছিল যদি বলা হতো: "আর তা হলো হদস দূরীভূত হওয়া..." ইত্যাদি। কারণ এটি 'ত্বহারাহ' (পবিত্রতা)-এর ব্যাখ্যা। আর 'রাফ' (দূর করা) হলো 'তাতহীর' (পবিত্রকরণ)-এর ব্যাখ্যা, যেহেতু এটি কর্তা সম্পর্কিত; ফলে ব্যাখ্যা ও ব্যাখ্যেয় বিষয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে। হাশিয়াতুল লাবাদী "পৃষ্ঠা: ১০"।

২ "আলিফ" পাণ্ডুলিপিতে "বৈধের মাধ্যমে" রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ৪)
زمزم إلا في إزالة الخبث.

4 - وماء لا يكره استعماله كماء البحر والآبار والعيون والأنهار والحمام و1 المسخن بالشمس والمتغير بطول المكث أو بالريح من نحو ميتة أو بما يشق صون الماء عنه كطحلب وورق شجر ما لم يوضعا.

الثاني: طاهر يجوز استعماله في غير رفع الحدث وزوال الخبث2 وهو ما تغير كثير من لونه أو طعمه أو ريحه بشيء طاهر فإن زال تغيره بنفسه3 عاد إلى طهوريته.

ومن الطاهر: ما كان قليلا واستعمل في رفع حدث أو انغمست فيه كل يد المسلم المكلف النائم ليلا نوما ينقض الوضوء قبل غسلها ثلاثا بنية وتسمية وذلك واجب.

الثالث: نجس يحرم استعماله إلا للضرورة ولا يرفع الحدث ولا يزيل الخبث وهو ما وقعت فيه نجاسة وهو قليل أو كان كثيرا وتغير بها أحد أوصافه.

فإن زال تغيره بنفسه أو بإضافة طهور إليه أو بنزح منه ويبقى بعده

--------------------------------------------

1 في "ن" زيادة: "لا يكره". وكذا في "ج".

2 أي ونحوهما، فلا يصح أن يغسل به ميت، ولا غسل يدي قائم من نوم ليل ولا أنثيي من نزل منه مذي، ولا غسل مستحب، كغسل الجمعة، ولا وضوء مسنون، ونحو ذلك، مع أن هذا ليس رفع حدث، ولا إزالة خبث، ففي عبارته قصور. حاشية اللبدي "ص: 12".

3 ليس بقيد، بل إن زال تغيره بإضافة ونحوها عاد إلى طهوريته. حاشية اللبدي "ص:12".
নাপাকি দূর করার ক্ষেত্র ব্যতীত যমযমের পানি (ব্যবহার করা মাকরূহ নয়)।

৪ - এমন পানি যার ব্যবহার মাকরূহ নয়; যেমন সমুদ্রের পানি, কূপ, ঝরনা, নদী এবং গোসলখানার পানি। ১ রোদে গরম হওয়া পানি এবং দীর্ঘ সময় এক স্থানে পড়ে থাকার কারণে অথবা কোনো মৃত পশুর দুর্গন্ধের বাতাসের কারণে পরিবর্তিত পানি। কিংবা এমন কিছুর কারণে যা থেকে পানিকে রক্ষা করা দুঃসাধ্য, যেমন- শৈবাল এবং গাছের পাতা, যতক্ষণ না তা ইচ্ছাকৃতভাবে পানিতে ফেলা হয়।

দ্বিতীয় প্রকার: পবিত্র পানি যা অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করা এবং নাপাকি (খাবাস) দূর করা ব্যতীত ২ অন্য কাজে ব্যবহার করা বৈধ। তা হলো এমন পানি যার বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধের অধিকাংশ কোনো পবিত্র বস্তুর মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। যদি এর পরিবর্তনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৩ দূর হয়ে যায়, তবে তা পুনরায় পবিত্রতা অর্জনের যোগ্যতায় ফিরে আসবে।

পবিত্র পানির অন্তর্ভুক্ত হলো: যা পরিমাণে অল্প এবং অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, অথবা যাতে এমন কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির পূর্ণ হাত নিমজ্জিত হয়েছে যে রাতে এমনভাবে ঘুমিয়েছিল যা ওযু ভঙ্গ করে, এবং সেই হাতটি নিয়ত ও বিসমিল্লাহ সহ তিনবার ধৌত করার পূর্বে তাতে ডুবানো হয়েছে—আর এই ধৌত করা ওয়াজিব।

তৃতীয় প্রকার: নাপাক পানি যা ব্যবহার করা হারাম, তবে একান্ত প্রয়োজন (জরুরত) ব্যতীত। এটি অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করে না এবং নাপাকি (খাবাস) অপসারিত করে না। তা হলো এমন পানি যাতে কোনো অপবিত্র বস্তু পতিত হয়েছে এবং পানি পরিমাণে অল্প, অথবা পানি অধিক কিন্তু তার কোনো একটি গুণ নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

যদি এর পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দূর হয়ে যায়, অথবা তাতে পবিত্র পানি যোগ করার মাধ্যমে, কিংবা তা থেকে কিছু পানি তুলে ফেলার পর অবশিষ্টাংশ...

--------------------------------------------

১ 'নুন' পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত রয়েছে: "মাকরূহ নয়"। 'জিম' পাণ্ডুলিপিতেও অনুরূপ রয়েছে।

২ অর্থাৎ এবং এজাতীয় বিষয়সমূহ। সুতরাং এর দ্বারা মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো সঠিক হবে না, রাতে ঘুম থেকে ওঠা ব্যক্তির দুই হাত ধৌত করা, যার মজি নির্গত হয়েছে তার অণ্ডকোষদ্বয় ধৌত করা, মুস্তাহাব গোসল যেমন জুমার গোসল, সুন্নাত ওযু ইত্যাদিও এর দ্বারা সহীহ হবে না। যদিও এগুলো অপবিত্রতা দূর করা বা নাপাকি অপসারণের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই লেখকের ইবারতে কিছুটা অসম্পূর্ণতা রয়েছে। হাশিয়াতুল লাবাদী, পৃষ্ঠা: ১২।

৩ এটি কোনো শর্ত নয়, বরং যদি পানি যোগ করা বা অনুরূপ অন্য কোনো উপায়েও পরিবর্তন দূর হয়ে যায়, তবে তা পুনরায় পবিত্রতা অর্জনের যোগ্যতায় ফিরে আসবে। হাশিয়াতুল লাবাদী, পৃষ্ঠা: ১২।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ৫)
كثير طهر

والكثير قلتان تقريبا1 واليسير ما دونهما وهما خمسمائة رطل بالعراقي وثمانون رطلا وسبعان ونصف سبع بالقدسي ومساحتهما أي القلتان ذراع وربع طولا وعرضا وعمقا.

فإذا كان الماء الطهور2 كثيرا ولم يتغير بالنجاسة فهو طهور ولو مع بقائها فيه وإن شك في كثرته فهو نجس.

وإن اشتبه ما تجوز به الطهارة بما لا تجوز به الطهارة لم يتحر ويتيمم بلا إراقة.

ويلزم من علم بنجاسة شيء إعلام من أراد أن يستعمله.

--------------------------------------------

1 الأولى أن يأتي بهذه اللفظة بعد قوله: "وهما خمسمائة رطل بالعراقي" لأن الكثير قلتان تحديدا، فلو نقص عن القلتين يسيرا صار دونهما ومناط الحكم بلوغ الماء قلتين أو عدمه وأما كون القلتين خمسمائة رطل بالعراقي فتقريب لا تحديد فلو نقص هذا القدر رطلا أو رطلين فلا يضر ويسمى قلتين لأن هذا التقدير بالنص وذلك لأن المراد بالقلتين من قلال هجر وكانت القلة تسع قربتين وشيئا والقربة تسع مائة رطل فاحتاطوا وجعلوا الشيء نصفا وهو يمكن أن يكون أقل من النصف بل ومن الربع فاغتفروا النقص اليسير من هذا العدد وهذا ظاهر لا غبار عليه لا يحتاج لتأمل. حاشية اللبدي "ص: 13".

2 "والطهور" لا توجد في "ن".
অধিক পানি পবিত্র

এবং অধিক পানি বলতে প্রায় দুই কুল্লাকে বোঝায় এবং স্বল্প পানি হলো যা দুই কুল্লার কম। আর তা (দুই কুল্লা) ইরাকি মাপে পাঁচশ রতল এবং কুদসি মাপে আশি রতল ও এক সপ্তমাংশের দুই ভাগ এবং এক সপ্তমাংশের অর্ধেক। আর দুই কুল্লার পরিমাপ হলো দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতায় সোয়া এক হাত।

যখন পবিত্রকারী পানি পরিমাণে অধিক হয় এবং অপবিত্রতার কারণে তার কোনো পরিবর্তন ঘটে না, তবে তা পবিত্রকারী হিসেবেই থাকে, যদিও তাতে নাপাকি বিদ্যমান থাকে। আর যদি পানির আধিক্যের ব্যাপারে সন্দেহ হয়, তবে তা অপবিত্র।

যদি এমন পানি যার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বৈধ, তার সাথে এমন পানির সংশয় তৈরি হয় যার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বৈধ নয়, তবে সে অনুসন্ধান করবে না এবং পানি না ঢেলে সরাসরি তায়াম্মুম করবে।

যার কোনো জিনিসের অপবিত্রতা সম্পর্কে জানা আছে, যে ব্যক্তি সেটি ব্যবহার করতে চায় তাকে জানানো তার জন্য আবশ্যক।

--------------------------------------------

১. উত্তম হলো এই শব্দটি (প্রায়) তাঁর এই উক্তির পরে উল্লেখ করা: "এবং তা ইরাকি মাপে পাঁচশ রতল"। কারণ 'অধিক' বলতে সুনির্দিষ্টভাবে দুই কুল্লাই বোঝায়। যদি দুই কুল্লা থেকে সামান্যও কমে যায়, তবে তা দুই কুল্লার কম হয়ে যাবে। আর বিধানের ভিত্তি হলো পানি দুই কুল্লায় পৌঁছানো বা না পৌঁছানো। আর দুই কুল্লা ইরাকি মাপে পাঁচশ রতল হওয়া—এটি একটি আনুমানিক হিসাব, সুনির্দিষ্ট নয়। সুতরাং এই পরিমাণ থেকে এক বা দুই রতল কম হলে কোনো ক্ষতি নেই এবং তাকে দুই কুল্লাই বলা হবে। কারণ এই নির্ধারণটি পাঠ্য দ্বারা প্রমাণিত। কেননা দুই কুল্লা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাজর অঞ্চলের মটকা, এবং একেকটি মটকায় দুই মশক এবং আরও কিছু পানি ধরত। আর এক মশক হলো একশ রতল। ফলে ফকীহগণ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং 'কিছু' অংশকে অর্ধেক গণ্য করেছেন, যদিও তা অর্ধেকের কম এমনকি এক চতুর্থাংশেরও কম হতে পারে। তাই তারা এই সংখ্যা থেকে সামান্য ঘাটতিকে মার্জনা করেছেন। এটি একটি স্পষ্ট বিষয় যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই এবং গভীর চিন্তার প্রয়োজন নেই। 'হাশিয়া আল-লাবাদী', পৃষ্ঠা: ১৩।

২. "পবিত্রকারী" শব্দটি 'নূন' পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌باب الآنية1

يباح اتخاذ كل إناء طاهر واستعماله ولو ثمينا إلا آنية الذهب والفضة والمموه بهما.

وتصبح الطهارة بهما2 وبالإناء المغصوب.

ويباح إناء ضبب بضبة يسيرة من الفضة3 لغير زينة.

وآنية الكفار وثيابهم طاهرة.

ولا ينجس شيء بالشك ما لم تعلم نجاسته.

وعظم الميتة وقرنها وظفرها وحافرها وعصبها وجلدها نجس ولا يطهر بالدباغ4.

والشعر والصوف5 والريش طاهر إذا كان من ميتة طاهرة في الحياة ولو كانت6 غير مأكولة كالهر والفأر.

--------------------------------------------

1 ترجم لشيء وزاد عليه وهذا ليس بعيب. حاشية اللبدي "ص: 14" ومراده بالزيادة: أن ذكر في آخر الباب حكم ثياب الكفار والتجنيس بالشك وحكم الشعر والصوف ونحوها وليست من آنية وليس ذلك معيبا لأنه استطراد للمناسبة.

2 في "أ"، و"ب"، "بها"، وكذا في "ن".

3 في "ب"، زيادة "لحاجة" وفي "ن" فضة بالتنكير.

4 تبعا للإقناع "1/21"، وقال المنتهى "1/12": "يباح دبغ جلد نجس بموت واستعماله بعده".

5 في "ن"، زيادة: "والوبر".

6 "كانت"لا توجد في "أ"، و"ب".
পাত্র সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ১

যেকোনো পবিত্র পাত্র গ্রহণ করা এবং তা ব্যবহার করা বৈধ, এমনকি তা মূল্যবান হলেও। তবে সোনা ও রুপার পাত্র এবং এ দুটির প্রলেপযুক্ত পাত্র ব্যবহার করা যাবে না।

এ ধরনের পাত্রের মাধ্যমে২ এবং জবরদখলকৃত পাত্রের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা শুদ্ধ হবে।

এমন পাত্র ব্যবহার করা বৈধ যাতে রুপার সামান্য জোড়া বা কীলক লাগানো হয়েছে৩, যদি তা অলঙ্করণের উদ্দেশ্যে না হয়।

অবিশ্বাসীদের পাত্র এবং তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র।

সন্দেহের কারণে কোনো কিছু অপবিত্র হয় না, যতক্ষণ না তার অপবিত্রতা নিশ্চিতভাবে জানা যায়।

মৃত পশুর হাড়, শিং, নখ, খুর, স্নায়ু এবং চামড়া অপবিত্র এবং চামড়া পাকা করার মাধ্যমেও তা পবিত্র হয় না৪।

চুল, পশম৫ এবং পালক পবিত্র, যদি তা এমন মৃত প্রাণী থেকে হয় যা জীবিত অবস্থায় পবিত্র ছিল, যদিও৬ তা অখাদ্য প্রাণী হয়; যেমন: বিড়াল ও ইঁদুর।

--------------------------------------------

১ লেখক কোনো একটি বিষয়ের শিরোনাম দিয়েছেন এবং তাতে অতিরিক্ত কিছু যোগ করেছেন, আর এটি কোনো ত্রুটি নয়। দ্রষ্টব্য: হাশিয়াহ আল-লাবাদি, পৃষ্ঠা: ১৪। 'অতিরিক্ত' বলতে তাঁর উদ্দেশ্য হলো: তিনি এই পরিচ্ছেদের শেষে অবিশ্বাসী বা কাফিরদের পোশাকের হুকুম, সন্দেহের ভিত্তিতে অপবিত্র হওয়া এবং চুল ও পশম ইত্যাদির হুকুম বর্ণনা করেছেন, যা মূলত পাত্রের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি কোনো দোষের বিষয় নয়, কারণ প্রাসঙ্গিকতার কারণে এটি একটি অবান্তর আলোচনা হিসেবে এসেছে।

২ পাণ্ডুলিপি 'আলিফ' এবং 'বা'-তে 'তার মাধ্যমে' (স্ত্রীবাচক শব্দরূপে), এবং পাণ্ডুলিপি 'নূন'-এও অনুরূপ রয়েছে।

৩ পাণ্ডুলিপি 'বা'-তে 'প্রয়োজনের খাতিরে' শব্দটি অতিরিক্ত রয়েছে এবং পাণ্ডুলিপি 'নূন'-এ 'রুপা' শব্দটি অনির্দিষ্টভাবে এসেছে।

৪ এটি 'আল-ইকনা' (১/২১) গ্রন্থের অনুসরণ। তবে 'আল-মুন্তাহা' (১/১২)-তে বলা হয়েছে: "মৃত্যুর কারণে অপবিত্র হওয়া চামড়া পাকা করা এবং এরপর তা ব্যবহার করা বৈধ।"

৫ পাণ্ডুলিপি 'নূন'-এ 'উটের পশম' শব্দটি অতিরিক্ত রয়েছে।

৬ 'كانت' (ছিল) শব্দটি পাণ্ডুলিপি 'আলিফ' ও 'বা'-তে নেই।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ৭)
ويسن1 تغطية الآنية وإيكاء الأسقية2

--------------------------------------------

1 في "ب" سن، وكذا في "ن".

2 في المنتهى "1/12": أن التغطية والإيكاء سنة، سواء كان الوقت ليلا أو نهارا وقال في الإقناع "1/21": إذا أمسى.
এবং সুন্নাত১ পাত্রসমূহ ঢেকে রাখা এবং পানপাত্র বা মশকসমূহের মুখ বেঁধে রাখা২

--------------------------------------------

১ 'ব' পাণ্ডুলিপিতে 'সুন্নাত' পাঠ রয়েছে এবং 'ন' পাণ্ডুলিপিতেও তদ্রূপ।

২ 'আল-মুনতাহা' গ্রন্থে (১/১২): পাত্র ঢেকে রাখা এবং মুখ বেঁধে রাখা সুন্নাত, চাই তা রাতে হোক বা দিনে। এবং 'আল-ইকনা' গ্রন্থে (১/২১) বলা হয়েছে: যখন সন্ধ্যা হয়।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌باب الاستنجاء وآداب التخلي

الاستنجاء هو إزالة ما خرج من السبيلين بماء طهور أو حجر طاهر مباح منق.

فالإنقاء بالحجر ونحوه أن يبقى أثر لا يزيله إلا الماء ولا يجزئ أقل من ثلاث مسحات تعم كل مسحة المحل3.

والإنقاء بالماء عود خشونة المحل كما كان وظنه كاف.

ويسن4 الاستنجاء بالحجر ونحوه ثم بالماء فإن عكس كره ويجزئ أحدهما والماء أفضل.

ويكره استقبال القبلة واستدبارها في الاستنجاء.

ويحرم بروث وعظم وطعام ولو لبهيمة فإن فعل لم يجزئه بعد

--------------------------------------------

3 وهذا الشرط الثامن في المتن.

ذكر الماتن ثمانية شروط ويستفاد من الإقناع بقية اثني عشر. قال: "ولا يجزئ في قبلي خنثى مشكل ولا مخرج غير فرج كتنجس مخرج ولا إن خرجت أجزاء الحقنة فهذه أربعة شروط وتقدم ستة وتأتي البقية. نيل المآرب "1/50".

4 في "ب" سن، وكذا في "ن".
ইস্তিঞ্জা ও শৌচকার্যের শিষ্টাচার পরিচ্ছেদ

ইস্তিঞ্জা হলো দুই রাস্তা দিয়ে নির্গত অপবিত্রতাকে পবিত্র পানি অথবা পবিত্র, বৈধ ও পরিচ্ছন্নকারী পাথর দ্বারা দূর করা।

পাথর ও তদ্রূপ বস্তু দ্বারা পবিত্র করার মানদণ্ড হলো, (পায়ুপথে) এমন সামান্য চিহ্ন অবশিষ্ট থাকা যা পানি ছাড়া দূর হয় না। আর আক্রান্ত স্থানকে পূর্ণরূপে বেষ্টনকারী ন্যূনতম তিনবার মুছার কম যথেষ্ট হবে না।

পানি দ্বারা পবিত্র করার মানদণ্ড হলো আক্রান্ত স্থানটি (মল ত্যাগের) পূর্বের ন্যায় অমসৃণ অবস্থায় ফিরে আসা এবং এক্ষেত্রে প্রবল ধারণাই যথেষ্ট।

প্রথমে পাথর বা তদ্রূপ বস্তু দ্বারা এবং এরপর পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা সুন্নাত। যদি এর বিপরীত করা হয় তবে তা মাকরূহ হবে। তবে যেকোনো একটি ব্যবহার করাও যথেষ্ট, আর পানি ব্যবহার করা উত্তম।

ইস্তিঞ্জা করার সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা কিবলার দিকে পিঠ দেওয়া মাকরূহ।

গোবর, হাড় এবং খাদ্যদ্রব্য দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা হারাম—চাই তা পশুর খাদ্যও হোক না কেন। কেউ যদি এমনটি করে, তবে পরবর্তীতে পাথর ব্যবহার তার জন্য যথেষ্ট হবে না।

--------------------------------------------

৩. এটি মূল পাঠের অষ্টম শর্ত।

মূল লেখক আটটি শর্ত উল্লেখ করেছেন এবং ‘আল-ইকনা’ গ্রন্থ থেকে অবশিষ্ট বারোটি শর্ত সম্পর্কে জানা যায়। তিনি বলেন: "জটিল উভয়লিঙ্গ (খুনসা মুশকিল) ব্যক্তির সম্মুখ ও পশ্চাৎ দ্বারের ক্ষেত্রে, স্বাভাবিক নির্গমন পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথ দিয়ে নির্গত হওয়ার ক্ষেত্রে যেমন নির্গমন পথের আশেপাশের স্থান অপবিত্র হওয়া, এবং ডুশ বা পিচকারির অবশিষ্টাংশ নির্গত হওয়ার ক্ষেত্রে তা (পাথর ব্যবহার) যথেষ্ট হবে না। এগুলো হলো চারটি শর্ত, ইতিপূর্বে ছয়টি অতিক্রান্ত হয়েছে এবং অবশিষ্টগুলো সামনে আসবে।" নায়লুল মাআরিব ১/৫০।

৪. পাণ্ডুলিপি 'বা'-তে 'সুন্নাত' ক্রিয়াপদ হিসেবে এসেছে এবং পাণ্ডুলিপি 'নুন'-এও অনুরূপ।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ৮)
ذلك إلا الماء كما لو تعدى الخارج موضع العادة1.

ويجب الاستنجاء لكل خارج إلا الطاهر والنجس الذي لم يلوث المحل.

فصل

يسن لداخل الخلاء تقديم اليسرى وقول: "بسم الله" 2 أعوذ بالله من الخبث والخبائث3.

وإذا خرج قدم اليمنى وقال: "غفرانك" 4 "الحمد لله الذي أذهب عني الأذى وعافاني" 5.

--------------------------------------------

1 فلو تعدى بول المرأة إلى مخرج الحيض لزمها الغسل ولا يكفي الاستجمار لأن مخرجها مختلف وذكر في المغني احتمالا أنه لا يجب الغسل بل يكفي الاستجمار وأقره في الشرح والرعاية لأن هذا عادة في حقها كالمعتادة في غيرها قلت: وهذا وهو الصواب إن شاء الله ويرشد لذلك قولهم: موضع العادة ولو كان مرادهم ما تقدم لقالوا: موضع الخروج أو المخرج مثلا ويلزم عليه أن لا يصح استجمار أنثى أصلا لأنه لا بد من التعدي المذكور وهذا لا قاتل به والله أعلم. حاشية اللبدي"ص: 16".

2 أخرجه ابن ماجه "297" من حديث علي وقد صح بمتابعاته وشواهده

3 أخرجه البخاري "142"، ومسلم "122/375" من حديث أنس.

4 أخرجه الترمذي "7" من حديث عائشة وقال الحافظ ابن حجر في نتائج الأفكار "1/214": هذا الحديث حسن صحيح.

5 أخرجه ابن ماجه "301" من حديث أنس قال ابن حجر في نتائج الأفكار "1/217": هكذا أحرجه ابن ماجه ورواته ثقات ثقات إلا إسماعيل.
সেক্ষেত্রে পানি ব্যতীত অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না, যেমনটি হয় যদি নির্গত বস্তু স্বাভাবিক স্থান অতিক্রম করে ১।

পবিত্র বস্তু এবং এমন অপবিত্র বস্তু যা স্থানটিকে নোংরা করেনি তা ব্যতীত প্রতিটি নির্গত বস্তুর জন্য ইস্তিনজা করা আবশ্যক।

পরিচ্ছেদ

শৌচাগারে প্রবেশকারীর জন্য বাম পা আগে রাখা এবং এই দোয়া বলা সুন্নত: "আল্লাহর নামে" ২ আমি আল্লাহর কাছে অপবিত্র পুরুষ ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই ৩।

এবং যখন বের হবে, তখন ডান পা আগে রাখবে এবং বলবে: "আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি" ৪ "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন" ৫।

--------------------------------------------

১ যদি নারীর প্রস্রাব ঋতুস্রাব নির্গমনের পথ পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়, তবে তার জন্য ধৌত করা আবশ্যক এবং পাথর ব্যবহার (ইস্তিজমার) যথেষ্ট হবে না। কারণ নির্গমন পথ দুটি ভিন্ন। আল-মুগনি গ্রন্থে একটি মত উল্লেখ করা হয়েছে যে, ধৌত করা ওয়াজিব নয় বরং পাথর ব্যবহারই যথেষ্ট। আশ-শারহ ও আর-রিয়ায়াহ গ্রন্থে একে সমর্থন করা হয়েছে। কারণ এটি তার ক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক বিষয়, যেমনটি অন্যদের ক্ষেত্রে নির্গমন স্থানের আশেপাশে হওয়া স্বাভাবিক। আমি বলছি: ইনশাআল্লাহ এটিই সঠিক মত। তাদের ব্যবহৃত 'স্বাভাবিক স্থান' শব্দদ্বয় একথাই নির্দেশ করে। যদি তাদের উদ্দেশ্য পূর্বোক্তটি হতো, তবে তারা 'নির্গমন স্থান' বা 'নির্গমন পথ' ব্যবহার করতেন। তাছাড়া অন্যথায় কোনো নারীর পক্ষেই ইস্তিজমার করা বৈধ হতো না, কারণ এই ছড়িয়ে পড়া তো অনিবার্য। অথচ এমন কথা কেউ বলেন না। আল্লাহই ভালো জানেন। হাশিয়াতুল লাবাদী, পৃষ্ঠা: ১৬।

২ এটি ইবনে মাজাহ (২৯৭) আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস থেকে সংকলন করেছেন এবং এর সমর্থনকারী ও সাক্ষ্যমূলক বর্ণনার মাধ্যমে এটি সহিহ প্রমাণিত হয়েছে।

৩ এটি বুখারি (১৪২) এবং মুসলিম (১২২/৩৭৫) আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস থেকে সংকলন করেছেন।

৪ এটি তিরমিযি (৭) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর বর্ণিত হাদিস থেকে সংকলন করেছেন এবং হাফিজ ইবনে হাজার 'নাতাইজুল আফকার' (১/২১৪) গ্রন্থে বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান সহিহ।

৫ এটি ইবনে মাজাহ (৩০১) আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস থেকে সংকলন করেছেন। ইবনে হাজার 'নাতাইজুল আফকার' (১/২১৭) গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে মাজাহ এভাবেই এটি সংকলন করেছেন এবং ইসমাইল ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ৯)
ويكره في حال التخلي استقبال الشمس والقمر1 ومهب الريح والكلام2 والبول في إناء وشق ونار ولا يكره البول.

قائما ويحرم استقبال القبلة واستدبارها في الصحراء بلا حائل ويكفي إرخاء ذيله.

وأن يبول أو يتغوط بطريق مسلوك وظل نافع وتحت شجرة عليها ثمر يقصد وبين قبور المسلمين.

وأن يلبث فوق قدر حاجته.

--------------------------------------------

1 قال ابن القيم: لم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم في ذلك كلمة واحدة لا بإسناد صحيح ولا ضعيف ولا مرسل ولا متصل وليس لهذه المسألة أصل في الشرع. مفتاح دار السعادة "2/205-206".

2 قال في الغاية "1/18" والإقناع "1/15": "ويجب الكلام لتحذير معصوم كأعمى وغافل". وفي المنتهى "1/13": كره الكلام مطلقا".
মলমূত্র ত্যাগের সময় সূর্য ও চন্দ্রের দিকে মুখ করা১, বায়ু প্রবাহের অভিমুখে থাকা, কথা বলা২ এবং কোনো পাত্রে, ছিদ্র বা গর্তে ও আগুনে প্রস্রাব করা মাকরূহ। তবে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা মাকরূহ নয়।

খোলা প্রান্তরে কোনো আড়াল ব্যতীত কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ ফিরিয়ে বসা হারাম, তবে কাপড়ের আঁচল ঝুলিয়ে দেওয়া (আড়াল হিসেবে) যথেষ্ট।

চলাচলের রাস্তায়, উপকারী ছায়ায়, ফলবান গাছের নিচে যার ফল সংগ্রহ করা হয় এবং মুসলিমদের কবরের মাঝে প্রস্রাব বা পায়খানা করা হারাম।

এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় সেখানে অবস্থান করা হারাম।

--------------------------------------------

১ ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি শব্দও বর্ণিত হয়নি, চাই তা সহিহ, যয়িফ, মুরসাল বা মুত্তাসিল যে কোনো সূত্রেই হোক না কেন। শরয়ি বিধানে এই মাসআলার কোনো ভিত্তি নেই। মিফতাহু দারিস সাআদাহ ২/২০৫-২০৬।

২ আল-গায়াহ (১/১৮) এবং আল-ইকনা (১/১৫) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "অন্ধ বা বেখবর ব্যক্তির মতো কোনো নিরাপদ মানুষকে বিপদমুক্ত করতে কথা বলা ওয়াজিব।" আল-মুনতাহা (১/১৩) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "কথা বলা নিরঙ্কুশভাবে মাকরূহ।"
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌باب السواك

يسن بعود رطب لا يتفتت.

وهو مسنون مطلقا إلا بعد الزوال للصائم فيكره ويسن له قبله بعود يابس ويباح برطب.

ولم يصب السنة من استاك بغير عود.

ويتأكد عند وضوء وصلاة وانتباه من نوم وعند تغير رائحة فم وكذا عند دخول مسجد ومنزل وإطالة سكوت وصفرة أسنان.
মিসওয়াক অধ্যায়

এমন কাঁচা কাষ্ঠখণ্ড দ্বারা মিসওয়াক করা সুন্নাত যা ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায় না।

এটি সর্বাবস্থায় সুন্নাত, তবে রোজা পালনকারীর জন্য সূর্য ঢলে যাওয়ার পর তা অপছন্দনীয় (মাকরুহ)। আর তার জন্য সূর্য ঢলে যাওয়ার পূর্বে শুকনো কাষ্ঠখণ্ড দ্বারা মিসওয়াক করা সুন্নাত এবং কাঁচা কাষ্ঠখণ্ড দ্বারা তা বৈধ।

যে ব্যক্তি কাষ্ঠখণ্ড ব্যতিরেকে অন্য কিছু দিয়ে মিসওয়াক করল, সে সুন্নাত লাভ করতে পারল না।

অজু ও নামাজের সময়, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় এবং মুখের দুর্গন্ধ পরিবর্তনের সময় এটি বিশেষভাবে তাকিদপূর্ণ সুন্নাত। তদ্রূপ মসজিদে ও বাড়িতে প্রবেশের সময়, দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকার কারণে এবং দাঁত হলদেটে হয়ে গেলেও এটি সুন্নাত।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ১০)
ولا بأس أن يتسوك بالعود الواحد اثنان فصاعدا.

فصل

يسن حلق العانة ونتف الإبط وتقليم الأظافر والنظر في المرآة والتطيب بالطيب والاكتحال كل ليلة في كل عين ثلاثا وحف الشارب وإعفاء اللحية وحرم حلقها ولا بأس بأخذ ما زاد على القبضة منها والختان واجب على الذكر والأنثى عند البلوغ وقبله أفضل.
একটি মেসওয়াক দিয়ে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মেসওয়াক করাতে কোনো অসুবিধা নেই।

পরিচ্ছেদ

নাভি সংলগ্ন পশম কামানো, বগলের পশম উপড়ানো, নখ কাটা, আয়নায় তাকানো, সুগন্ধি ব্যবহার করা, প্রতি রাতে প্রত্যেক চোখে তিন বার করে সুরমা লাগানো, মোচ ছেঁটে ছোট রাখা এবং দাড়ি লম্বা করা সুন্নাত। আর দাড়ি কামানো হারাম। এক মুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি কাটায় কোনো অসুবিধা নেই। আর সাবালক হওয়ার সময় পুরুষ ও নারীর খতনা করা ওয়াজিব, তবে তার আগে করা উত্তম।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌باب الوضوء

تجب فيه التسمية وتسقط سهوا وإن ذكرها في أثنائه ابتداء.

وفروضه ستة: غسل الوجه ومنه المضمضة والاستنشاق وغسل1 اليدين مع المرفقين ومسح الرأس كله ومنه الأذنان وغسل الرجلين مع الكعبين والترتيب والموالاة.

وشروطه ثمانية: انقطاع ما يوجبه والنية والإسلام والعقل والتمييز والماء الطهور المباح وإزالة ما يمنع وصوله والاستجمار تجب فيه التسمية وتسقط سهوا وإن ذكرها في أثنائه ابتداء وفروضه ستة: غسل الوجه ومنه المضمضة والاستنشاق وغسل اليدين مع المرفقين ومسح الرأس كله ومنه الأذنان وغسل الرجلين مع الكعبين والترتيب والموالاة وشروطه ثمانية: انقطاع ما يوجبه والنية والإسلام والعقل والتمييز والماء الطهور المباح وإزالة ما يمنع وصوله والاستجمار2.

--------------------------------------------

1 سقط من "ب".

2 "أو الاستجمار" لا توجد في "أ"و"ب".
অজুর অধ্যায়

এতে তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ বলা) ওয়াজিব, তবে ভুলবশত ছেড়ে দিলে তা মাফ; আর যদি অজুরত অবস্থায় তা স্মরণ হয় তবে তখনই তা বলবে।

অজুর ফরজ ছয়টি: মুখমণ্ডল ধোয়া—যার অন্তর্ভুক্ত হলো কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া; কনুইসহ উভয় হাত ধোয়া১; পুরো মাথা মাসেহ করা—যার অন্তর্ভুক্ত হলো উভয় কান; টাখনুসহ উভয় পা ধোয়া; ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিরতিহীনভাবে (একটি অঙ্গ শুকানোর আগেই অন্যটি) ধোয়া।

এর শর্তাবলি আটটি: যা অজু আবশ্যক করে তা বন্ধ হওয়া; নিয়ত; ইসলাম; বুদ্ধি; ভালো-মন্দের পার্থক্য করার জ্ঞান; পবিত্র ও বৈধ পানি; ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন বস্তু দূর করা এবং ইসতিজমার। এতে তাসমিয়াহ ওয়াজিব, তবে ভুলবশত ছেড়ে দিলে তা মাফ; আর যদি অজুরত অবস্থায় স্মরণ হয় তবে তখনই তা বলবে। অজুর ফরজ ছয়টি: মুখমণ্ডল ধোয়া—যার অন্তর্ভুক্ত কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া; কনুইসহ উভয় হাত ধোয়া; পুরো মাথা মাসেহ করা—যার অন্তর্ভুক্ত উভয় কান; টাখনুসহ উভয় পা ধোয়া; ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিরতিহীনভাবে সম্পাদন করা। এর শর্তাবলি আটটি: যা অজু আবশ্যক করে তা বন্ধ হওয়া; নিয়ত; ইসলাম; বুদ্ধি; ভালো-মন্দের পার্থক্য করার জ্ঞান; পবিত্র ও বৈধ পানি; পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন বস্তু দূর করা এবং ইসতিজমার২।

--------------------------------------------

১ 'বা' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

২ "অথবা ইসতিজমার" অংশটি 'আ' ও 'বা' পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ১১)
فصل

فالنية هنا قصد رفع الحدث أو قصد ما تجب له الطهارة كصلاة وطواف ومس مصحف.

أو قصد ما تسن له كقراءة1 وذكر وأذان ونوم ورفع شك وغضب وكلام محرم وجلوس بمسجد وتدريس علم وأكل.

فمتى نوى شيئا من ذلك ارتفع حدثه.

ولا يضر سبق لسانه بغير مانوى ولا شكه في النية أو في فرض بعد فراغ كل عبادة.

وإن شك فيها في الأثناء استأنف.

فصل في صفة الوضوء

وهى أن ينوي ثم يسمي يغسل كفيه ثم يتمضمض ويستنشق ثم يغسل وجهه من منابت شعر الرأس المعتاد ولا يجزئ غسل ظاهر شعر اللحية إلا أن لا يصف البشرة ثم يغسل يديه مع مرفقيه ولا يضر وسخ يسير تحت ظفر2 ونحوه ثم يمسح جميع ظاهر رأسه من حد3 الوجه إلى ما يسمى قفا والبياض فوق الأذنين منه ويدخل سبابتيه في

--------------------------------------------

1 في "ن" لقراء".

2 في "ب" "ظفر" بدون هاء الضمير.

3 حد لا توجد في "أ"
পরিচ্ছেদ

এখানে নিয়ত হলো অপবিত্রতা দূর করার সংকল্প করা অথবা এমন কাজের সংকল্প করা যার জন্য পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব, যেমন: সালাত, তাওয়াফ এবং মুসহাফ স্পর্শ করা।

অথবা এমন কাজের সংকল্প করা যার জন্য পবিত্রতা অর্জন করা সুন্নাত, যেমন: তিলাওয়াত১, যিকির, আযান, নিদ্রা, সন্দেহ ও ক্রোধ দূর করা, হারাম কথাবার্তা বলা, মসজিদে অবস্থান করা, ইলম শিক্ষা দেওয়া এবং আহার করা।

যখনই সে এগুলোর কোনো একটির নিয়ত করবে, তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে।

যা নিয়ত করেছে অসাবধানতাবশত মুখে তার পরিবর্তে অন্য কিছু উচ্চারিত হলে কোনো ক্ষতি হবে না। তদ্রূপ প্রত্যেক ইবাদত সমাপ্ত করার পর নিয়ত অথবা কোনো ফরয বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলেও কোনো ক্ষতি হবে না।

আর যদি ইবাদতের মাঝখানে নিয়ত নিয়ে সন্দেহ হয়, তবে পুনরায় শুরু করবে।

ওযুর পদ্ধতির বিবরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

পদ্ধতিটি হলো এই যে, সে নিয়ত করবে, তারপর বিসমিল্লাহ বলবে। কবজি পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করবে, তারপর কুলি করবে ও নাকে পানি দেবে। অতঃপর মাথার চুল গজানোর স্বাভাবিক স্থান থেকে মুখমণ্ডল ধৌত করবে। দাড়ির বহিরাংশ ধৌত করা যথেষ্ট হবে না যদি না তা নিচের চামড়াকে আড়াল করে রাখে। তারপর উভয় হাত কনুইসহ ধৌত করবে। নখের২ নিচে সামান্য ময়লা বা অনুরূপ কিছু থাকলে কোনো ক্ষতি হবে না। এরপর চেহারার সীমানা৩ থেকে ঘাড়ের উপরিভাগ পর্যন্ত মাথার সম্পূর্ণ বহিরাংশ মাসেহ করবে এবং কানের উপরের সাদা অংশ মাথারই অন্তর্ভুক্ত। এরপর সে তার তর্জনী আঙ্গুলদ্বয় প্রবেশ করাবে...

--------------------------------------------

১ 'নুন' পাণ্ডুলিপিতে 'তিলাওয়াতের জন্য' রয়েছে।

২ 'বা' পাণ্ডুলিপিতে 'নখ' শব্দটি সর্বনাম ব্যতীত রয়েছে।

৩ 'সীমানা' শব্দটি 'আলিফ' পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ১২)
صماخي1 أذنيه ويمسح بإبهاميه ظاهرهما ثم يغسل رجليه مع كعبيه وهما العظمان الناتئان.

فصل

وسننه ثمانية عشر2: استقبال القبلة والسواك وغسل الكفين ثلاثا والبداءة قبل غسل الوجه بالمضمضة والاستنشاق والمبالغة فيهما لغير الصائم والمبالغة في سائر الأعضاء مطلقا والزيادة في ماء الوجه وتخليل اللحية الكثيفة وتخليل الأصابع وأخذ ماء جديد للأذنين وتقديم اليمنى على اليسرى ومجاوزة محل الفرض والغسلة الثانية والثالثة واستصحاب ذكر النية إلى آخر الوضوء والإتيان بها عند غسل الكفين والنطق بها سرا.

وقول أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله3 مع رفع بصره إلى السماء: بعد فراغه.

وأن يتولى وضوءه بنفسه من غير معاونه4.

--------------------------------------------

1 في "أ"، و"ب" صباح بالأفراد وكذا في "ن".

2 في "ن" "ثمان عشرة"، وقال اللبدي في حاشية "ص: 21" كذا في أكثر النسخ والصواب: ثمان عشرة كما هو معلوم من أن العدد من ثلاثة إلى عشرة يذكر مع المؤنث ويؤنث مع المذكر واثنان وواحد وعشرة يذكر مع المذكر ويؤنث مع المؤنث لكن قد يقال: إن هذا ما لم يكن المعدود محذوفا والإجاز الأمران.

3 أخرجه مسلم "1/210" من حديث عقبة بن عامر.

4 في "أ" معاون.
কানের ছিদ্রদ্বয়ে [আঙুল প্রবেশ করাবে] এবং তার বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয় দিয়ে কানের বহির্ভাগ মাসাহ করবে। অতঃপর তার দুই পা টাখনুসহ ধৌত করবে, আর তা হলো দুই পাশে উঁচু হয়ে থাকা হাড় দুটি।

পরিচ্ছেদ

আর ওযুর সুন্নাতসমূহ আঠারোটি: কিবলামুখী হওয়া, মিসওয়াক করা, উভয় কব্জি তিনবার ধৌত করা, মুখমণ্ডল ধৌত করার পূর্বে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া দিয়ে শুরু করা, রোযাদার না হলে এই দুই কাজে আধিক্য করা, সাধারণভাবে অন্যান্য অঙ্গেও পানি পৌঁছাতে আধিক্য করা, মুখমণ্ডলের জন্য অতিরিক্ত পানি নেওয়া, ঘন দাড়ি খিলাল করা, আঙুলসমূহ খিলাল করা, কানের জন্য নতুন পানি নেওয়া, বামের আগে ডানকে প্রাধান্য দেওয়া, ফরযের সীমা অতিক্রম করা, দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করা, ওযুর শেষ পর্যন্ত নিয়তের কথা স্মরণে রাখা, কব্জি ধৌত করার সময় নিয়ত করা এবং তা মনে মনে উচ্চারণ করা।

এবং ওযু শেষ করার পর আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলে এই সাক্ষ্য দেওয়া: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

এবং অন্য কারও সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজের ওযুর কাজ সম্পন্ন করা।

--------------------------------------------

১. "আলিফ" এবং "বা" পাণ্ডুলিপিতে এটি একবচন শব্দে এসেছে, অনুরূপ "নূন" পাণ্ডুলিপিতেও।

২. "নূন" পাণ্ডুলিপিতে "আঠারো" (স্ত্রীলিঙ্গবাচক সংখ্যা) রয়েছে। আল-লাবাদী তাঁর টীকায় (পৃষ্ঠা: ২১) বলেছেন: অধিকাংশ অনুলিপিতে এভাবেই রয়েছে। তবে সঠিক হলো "আঠারো" (স্ত্রীলিঙ্গবাচক সংখ্যা), কারণ এটি জানা কথা যে তিন থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যাগুলো স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে পুংলিঙ্গ এবং পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; আর এক, দুই ও দশ পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে স্ত্রীলিঙ্গ হয়। তবে বলা যেতে পারে যে, এটি ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর যতক্ষণ না গণনার বিষয়টি উহ্য থাকে, আর এখানে উভয়টিই জায়েয।

৩. ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (১/২১০), উকবা ইবনে আমের এর হাদীস থেকে।

৪. "আলিফ" পাণ্ডুলিপিতে "সাহায্যকারী" হিসেবে এসেছে।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ১৩)
باب مسح 1 الخفين

يجوز بشروط سبعة لبسهما بعد كمال الطهارة بالماء وسترهما لمحل الفرض ولو بربطهما وإمكان المشي بهما عرفا وثبوتهما بنفسهما وإباحتهما وطهارة عينهما وعدم وصفهما البشر.

فيمسح للمقيم والعاصي بسفره من الحدث بعد اللبس يوما وليلة والمسافر ثلاثة أيام بلياليهن.

فلو مسح في السفر ثم أقام أو في الحضر ثم سافر أو شك في ابتداء المسح لم يزد على مسح المقيم2.

ويجب مسح أكثر أعلى الخف3 ولا يجزئ مسح أسفله وعقبه ولا يسن.

ومتى حصل ما4 يوجب الغسل أو ظهر بعض محل الفرض أو انقضت المدة بطل الوضوء.

فصل

وصاحب الجبيرة إن وضعها على طهارة لم تتجاوز محل الحاجة غسل الصحيح ومسح عليهما بالماء وأجزأ وإلا وجب - مع الغسل -

--------------------------------------------

1 في "أ" "باب المسح على خفين".

2 في "ن" "مقيم" بالتنكير.

3 في "أ" "خفين".

4 في "ن" "مما بدل "ما".
মোজার ১ মাসেহ করার অধ্যায়

পানির মাধ্যমে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের পর মোজা পরিধান করা হলে সাতটি শর্তে তা (মাসেহ করা) জায়েজ: ফরয স্থান আবৃত রাখা—এমনকি তা বাঁধার মাধ্যমে হলেও, প্রথাগতভাবে তা পরিধান করে হাঁটা সম্ভব হওয়া, তা নিজে নিজেই (পায়ে) স্থির থাকা, তা বৈধ হওয়া, তার মূল উপাদান পবিত্র হওয়া এবং তা চামড়ার রঙ বর্ণনা (প্রকাশ) না করা।

মুক্বিম এবং তার সফরে অবাধ্য হওয়া ব্যক্তি মোজা পরিধানের পর অপবিত্র হওয়ার সময় থেকে এক দিন ও এক রাত মাসেহ করবে, আর মুসাফির তিন দিন ও তিন রাত মাসেহ করবে।

যদি সফরে মাসেহ করার পর মুক্বিম হয়ে যায়, অথবা মুক্বিম অবস্থায় মাসেহ শুরু করে পরে সফরে বের হয়, অথবা মাসেহ শুরুর সময় সম্পর্কে সন্দেহে পতিত হয়, তবে সে মুক্বিমের মাসেহ-এর মেয়াদের অতিরিক্ত করবে না২।

মোজার উপরিভাগের অধিকাংশ মাসেহ করা ওয়াজিব৩ এবং এর নিচের অংশ ও গোড়ালি মাসেহ করা যথেষ্ট হবে না এবং তা সুন্নতও নয়।

যখনই এমন কিছু৪ ঘটবে যা গোসল ওয়াজিব করে, অথবা ফরয স্থানের কোনো অংশ প্রকাশ হয়ে যায়, অথবা সময়সীমা শেষ হয়ে যায়, তবে ওযু বাতিল হয়ে যাবে।

পরিচ্ছেদ

জাবীরা (ক্ষতস্থানের পটি) ব্যবহারকারী ব্যক্তি যদি পবিত্র অবস্থায় তা পরিধান করে এবং তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গা ব্যাপ্ত না করে, তবে সে সুস্থ অংশ ধৌত করবে এবং পটির ওপর পানি দিয়ে মাসেহ করবে, আর এটিই যথেষ্ট হবে। অন্যথায়—ধৌত করার পাশাপাশি—(তায়াম্মুম করা) ওয়াজিব হবে।

--------------------------------------------

১ 'আলিফ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "দুই মোজার ওপর মাসেহ করার অধ্যায়"।

২ 'নূন' পাণ্ডুলিপিতে "মুক্বিম" শব্দটি অনির্দিষ্ট (নাকেরা) রূপে এসেছে।

৩ 'আলিফ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "দুই মোজার"।

৪ 'নূন' পাণ্ডুলিপিতে "মা" এর স্থলে "মিম্মা" রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ১৪)
أن يتيمم لها.

ولا مسح ما لم توضع على طهارة وتجاوز المحل فيغسل ويمسح ويتيمم1.

--------------------------------------------

1 في "ن" زيادة: "لها".
যাতে সে এর জন্য তায়াম্মুম করে।

পবিত্র অবস্থায় পরিহিত না হলে এবং তা নির্ধারিত স্থান অতিক্রম করে গেলে মাসেহ করা যাবে না; বরং সে ধৌত করবে, মাসেহ করবে এবং তায়াম্মুম করবে১।

--------------------------------------------

১. "নুন" পাণ্ডুলিপিতে "তার জন্য" শব্দটি অতিরিক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌باب نواقض الوضوء

وهي ثمانية:

أحدها: الخارج من السبيلين قليلا كان أو كثيرا طاهرا كان أو نجسا.

الثاني: خروج النجاسة من بقية البدن فإن كان بولا أو غائطا نقض مطلقا وإن كان غيرهما كالدم والقيء نقض إن فحش في نفس كل أحد بحسبه.

الثالث: زوال العقل أو تغطيته بإغماء أو نوم ما لم يكن النوم يسيرا عرفا من جالس وقائم.

الرابع: مسه بيده - لا ظفره - فرج الآدمي المتصل بلا حائل أو حلقة دبره لا مس الخصيتين ولا مس محل الفرج البائن.

لخامس: لمس بشرة الذكر لأنثى أو الأنثى الذكر لشهوة من غير حائل ولو كان الملموس ميتا أو عجوزا أو محرما أو لمستم لا لمس2 من دون سبع ولا لمس سن وظفر وشعر ولا اللمس3 بذلك.

--------------------------------------------

2 في "ج" "لا تمس" بدل "لا لمس" وهو خطأ.

3 في "ن" "ولا المس".
অজু ভঙ্গের কারণসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

সেগুলো আটটি:

প্রথমটি: দুই পথ দিয়ে যা কিছু নির্গত হয়, তা অল্প হোক বা অধিক, পবিত্র হোক বা অপবিত্র।

দ্বিতীয়টি: শরীরের অবশিষ্টাংশ থেকে নাপাকি বের হওয়া; যদি তা প্রস্রাব বা পায়খানা হয় তবে তা নিঃশর্তভাবে অজু ভঙ্গ করবে, আর যদি তা এ দুটি ছাড়া অন্য কিছু হয় যেমন রক্ত ও বমি, তবে তা প্রত্যেকের নিজের বিবেচনায় অধিক অনুভূত হলে অজু ভঙ্গ হবে।

তৃতীয়টি: জ্ঞান বিলুপ্ত হওয়া অথবা মূর্ছা কিংবা ঘুমের মাধ্যমে তা আচ্ছন্ন হওয়া, যতক্ষণ না ঘুমটি উপবিষ্ট বা দণ্ডায়মান ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সামান্য হয়।

চতুর্থটি: হাতের সাহায্যে—নখ দ্বারা নয়—মানুষের শরীরের সাথে সংযুক্ত লজ্জাস্থান কোনো অন্তরায় ব্যতীত স্পর্শ করা কিংবা মলদ্বারের বৃত্ত স্পর্শ করা; তবে অণ্ডকোষ স্পর্শ করলে কিংবা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন লজ্জাস্থানের স্থান স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গ হবে না।

পঞ্চমটি: কোনো পুরুষ কর্তৃক নারীর ত্বক অথবা নারী কর্তৃক পুরুষের ত্বক কামভাবের সাথে কোনো অন্তরায় ছাড়াই স্পর্শ করা; এমনকি যাকে স্পর্শ করা হয়েছে সে মৃত, বৃদ্ধা কিংবা মাহরাম হলেও, অথবা (আয়াতের ভাষ্যমতে) "তোমরা নারীদের স্পর্শ করেছ"; তবে সাত বছরের কম বয়সী কাউকে স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গ হবে না, আর দাঁত, নখ ও চুল স্পর্শ করলে কিংবা এগুলোর মাধ্যমে স্পর্শ করলে অজু ভঙ্গ হবে না।

--------------------------------------------

২ "জিম" পাণ্ডুলিপিতে "লা লামসা" এর স্থলে "লা তামাসসা" রয়েছে এবং তা ভুল।

৩ "নুন" পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "ওয়া লাল মাসসা"।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ১৫)
ولا ينتقض وضوء الممسوس فرجه و1 الملموس بدنه ولو وجد شهوة.

السادس: غسل الميت أو بعضه والغاسل هو من يقلب الميت ويباشره لا من يصب الماء.

السابع: أكل لحم الإبل ولو نيئا2 فلا نقض ببقية أجزائها ككبد وقلب وطحال وكرش وشحم وكلية ولسان3 ورأس وسنام وكوارع ومصران ومرق لحم ولا يحنث بذلك من حلف لا يأكل لحما.

الثامن: الردة وكل ما أوجب الغسل أوجب الوضوء غير الموت.

فصل

ومن تيقن الطهارة وشك في الحدث أو تيقن الحدث وشك في الطهارة عمل بما تيقن.

ويحرم على المحدث الصلاة والطواف ومس المصحف ببشرته بلا حائل.

ويزيد من عليه غسل: بقراءة القرآن واللبث في المسجد بلا وضوء.

--------------------------------------------

1 في "ب"، وكذا "ن"، و"ج" "أو" بدل الواو. وفي "م" "ولا الملموس".

فائدة: قال اللبدي في حاشية "ص: 25": "المس" باليد خاصة، "واللمس" بجمع البدن، فهو أعلم".

2 وهو المذهب، وهو من المفردات، كما في منح الشافيات "ص: 40"، والغاية "1/38"، وقال: تعبدا.

3 في "أ" و "ب" "ولسان ورأس" بتقديم وتأخير، وكذا في "ن".
যার লজ্জাস্থান স্পর্শ করা হয়েছে এবং যার শরীর স্পর্শ করা হয়েছে, তাদের অজু ভঙ্গ হবে না, যদিও সে উত্তেজনা অনুভব করে।

ষষ্ঠ: মৃতদেহ বা তার কোনো অংশ ধৌত করা। আর ধৌতকারী হলেন তিনি, যিনি মৃতদেহটি উল্টে-পাল্টে দেন এবং সরাসরি শরীরের সাথে স্পর্শ রেখে ধোন, কেবল পানি ঢালেন এমন ব্যক্তি নন।

সপ্তম: উটের গোশত খাওয়া, এমনকি তা কাঁচা হলেও। তবে উটের শরীরের অবশিষ্ট অংশ যেমন— কলিজা, হৃৎপিণ্ড, প্লীহা, ভুঁড়ি, চর্বি, কিডনি, জিহ্বা, মাথা, কুঁজ, পায়া, নাড়িভুঁড়ি এবং গোশতের ঝোল খাওয়ার কারণে অজু ভঙ্গ হবে না। আর যে ব্যক্তি গোশত না খাওয়ার শপথ করেছে, এগুলো খেলে তার শপথ ভঙ্গ হবে না।

অষ্টম: ইসলাম ত্যাগ করা (মুরতাদ হওয়া)। আর মৃত্যু ব্যতিরেকে যা কিছু গোসল ওয়াজিব করে, তা অজুও ওয়াজিব করে।

পরিচ্ছেদ

যে ব্যক্তি পবিত্রতার বিষয়ে নিশ্চিত কিন্তু অপবিত্র হওয়ার (অজু ভাঙার) ব্যাপারে সন্দিহান, অথবা অপবিত্র হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত কিন্তু পবিত্রতার ব্যাপারে সন্দিহান, সে তার নিশ্চিত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমল করবে।

অপবিত্র (বে-অজু) ব্যক্তির জন্য নামাজ পড়া, কাবাঘর তাওয়াফ করা এবং কোনো আবরণ ছাড়া চামড়া দিয়ে পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা হারাম।

আর যার ওপর গোসল ওয়াজিব, তার জন্য অতিরিক্ত হারাম হলো: কুরআন তিলাওয়াত করা এবং অজু ছাড়া মসজিদে অবস্থান করা।

--------------------------------------------

১. 'বা' পাণ্ডুলিপিতে, এবং একইভাবে 'নুন' ও 'জিম' পাণ্ডুলিপিতে 'ওয়াও'-এর স্থলে 'আও' (অথবা) রয়েছে। আর 'মিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "এবং স্পর্শকৃত ব্যক্তিও নয়"।

ফায়দা: আল-লাবাদি তার টীকাগ্রন্থের ২৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আল-মাস" বিশেষভাবে হাত দিয়ে স্পর্শ করাকে বোঝায়, আর "আল-লামস" পুরো শরীর দিয়ে স্পর্শ করাকে বোঝায়; আর আল্লাহই অধিক পরিজ্ঞাত।

২. এটিই মাযহাবের সিদ্ধান্ত এবং এটি এই মাযহাবের একক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ (মুফরাদাত) মাসআলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি 'মানহুল শাফিয়াত' (পৃষ্ঠা ৪০) ও 'আল-গায়াহ' (১/৩৮) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন: এটি একটি ইবাদতগত বিষয়।

৩. 'আলিফ' ও 'বা' পাণ্ডুলিপিতে "জিহ্বা ও মাথা" শব্দ দুটি আগে-পিছে বর্ণিত হয়েছে, একইভাবে 'নুন' পাণ্ডুলিপিতেও।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌باب ما يوجب الغسل

وهو سبعة:

أحدها: انتقال المني فلو أحس بانتقاله فحبسه فلم يخرج وجب الغسل فلو اغتسل له ثم خرج بلا لذة لم يعد الغسل.

الثاني: خروجه من مخرجه1 ولو دما ويشترط أن يكون بلذة ما لم يكن نائما ونحوه.

الثالث: تغييب الحشفة كلها أو قدرها بلا حائل في فرج ولو دبرا لميت أو بهيمة أو طير و2لكن لا يجب الغسل إلا على ابن عشر وبنت تسع.

الرابع: إسلام الكافر ولو مرتدا.

الخامس: خروج3 دم الحيض.

--------------------------------------------

1 قال اللبدي في الحاشية "ص: 27": هكذا في المنتهى وغير، ولم يظهر لفهم كاتبه السقيم اشتراطهم خروج المني من مخرجه مع قولهم: إن الانتقال موجب للغسل، أنه إن أحس بالانتقال ولم يخرج، وجب الغسل، فمقتضاه: إن انتقل المني، وخرج من غير مخرجه المعتاد، لا يمنع وجوب الغسل بعد حصوله، نعم يظهر هذا الشرط إن قلنا: لا يجب الغسل، إلا بخروج المني، فنقول: لا بد من خروجه من مخرجه المعتاد".

2 في "ب" بدون الواو، وكذا في "ج".

3 في "ن" زيادة: "دم".
গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহ সম্পর্কিত অধ্যায়

আর তা সাতটি:

প্রথমটি: বীর্য স্থানান্তরিত হওয়া। সুতরাং যদি কেউ বীর্য স্থানান্তরিত হওয়ার অনুভূতি পায় কিন্তু তা আটকে রাখে এবং তা নির্গত না হয়, তবে গোসল ওয়াজিব হবে। এরপর যদি সে এজন্য গোসল করে নেয় এবং পরে তৃপ্তি ছাড়াই তা নির্গত হয়, তবে তাকে পুনরায় গোসল করতে হবে না।

দ্বিতীয়টি: বীর্য তার নির্গমন পথ দিয়ে বের হওয়া, যদিও তা রক্ত আকারে হয়। আর শর্ত হলো এটি তৃপ্তিসহ হতে হবে, যতক্ষণ না সে ঘুমন্ত বা অনুরূপ অবস্থায় থাকে।

তৃতীয়টি: লিঙ্গাগ্রের পুরোটা বা তার সমপরিমাণ অংশ কোনো অন্তরায় ছাড়াই কোনো লজ্জাস্থানে প্রবিষ্ট করা, যদিও তা মৃতদেহ, পশু বা পাখির মলদ্বার হয়। তবে দশ বছর বয়সী বালক এবং নয় বছর বয়সী বালিকার ক্ষেত্র ব্যতীত গোসল ওয়াজিব হবে না।

চতুর্থটি: কোনো কাফিরের ইসলাম গ্রহণ করা, যদিও সে মুরতাদ হয়ে থাকে।

পঞ্চমটি: মাসিকের রক্ত নির্গত হওয়া।

--------------------------------------------

১ আল-লাবাদী হাশিয়ায় (পৃষ্ঠা: ২৭) বলেছেন: "আল-মুনতাহা এবং অন্যান্য গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। লেখকের দুর্বল বুদ্ধিতে এটি স্পষ্ট হয়নি যে, তারা বীর্য স্বাভাবিক পথ দিয়ে বের হওয়ার শর্ত কেন করেছেন, যেখানে তারা বলেছেন: বীর্য স্থানান্তরিত হওয়া গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ। অর্থাৎ যদি বীর্য স্থানান্তরিত হওয়া অনুভব করে এবং তা বের না হয়, তবুও গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়। এর দাবি হলো: যদি বীর্য স্থানান্তরিত হয় এবং তা স্বাভাবিক পথ ছাড়া অন্য পথ দিয়ে বের হয়, তবে তা ঘটার পর গোসল ওয়াজিব হতে বাধা দেয় না। হ্যাঁ, এই শর্তটি তখনই স্পষ্ট হয় যদি আমরা বলি: বীর্য নির্গত হওয়া ছাড়া গোসল ওয়াজিব হয় না; তখন আমরা বলব: অবশ্যই তা স্বাভাবিক পথ দিয়েই নির্গত হতে হবে।"

২ 'বা' পাণ্ডুলিপিতে 'ওয়াও' ব্যতীত, এবং 'জীম' পাণ্ডুলিপিতেও অনুরূপ।

৩ 'নুন' পাণ্ডুলিপিতে 'রক্ত' শব্দটি অতিরিক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ১৭)
السادس: خروج دم النفاس1.

السابع: الموت تعبدا.

فصل

وشروط الغسل سبعة:

انقطاع ما يوجبه، والنية، والإسلام، والعقل، والتمييز، والماء الطهور المباح، وإزالة ما يمنع وصوله.

وواجبه: التسمية وتسقط سهوا.

وفرضه: أن يعم بالماء جميع بدنه وداخل فمه وأنفه حتى ما يظهر من فرج المرأة عند القعود لحاجتها وحتى باطن شعرها.

ويجب نقضه في الحيض والنفاس لا الجنابة.

ويكفي الظن في الإسباغ.

وسننه: الوضوء قبله وإزالة ما لوثه من أذى وإفراغه الماء على رأسه ثلاثا وعلى بقية جسده ثلاثا والتيامن والموالاة وإمرار اليد على الجسد وإعادة غسل رجليه بمكان أخر.

ومن نوى غسلا مسنونا أو واجبا أجزأ عن الآخر.

وإن نوى رفع الحدثين أو الحدث وأطلق أو أمرا لا يباح إلا بوضوء وغسل أجزأ عنهما.

ويتيمم للكل لحاجة ولما يسن له الوضوء إن تعذر.

--------------------------------------------

1 في "أ" "الحيض" بدل "النفاس".
ষষ্ঠ: নিফাসের (সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্ত) বহির্গমন১।

সপ্তম: মৃত্যু, ইবাদত হিসেবে।

পরিচ্ছেদ

গোসলের শর্তাবলি সাতটি:

গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ বন্ধ হওয়া, নিয়ত, ইসলাম, আকল (বিবেক-বুদ্ধি), তামীয (বিবেচনাবোধ), পবিত্র ও বৈধ পানি এবং পানি পৌঁছাতে বাধা প্রদানকারী বস্তু দূর করা।

এর ওয়াজিব: তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ বলা), তবে ভুলবশত এটি বাদ পড়লে তা রহিত হয়ে যায়।

এর ফরয: সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছানো এবং মুখ ও নাকের অভ্যন্তরেও, এমনকি প্রয়োজন পূরণের জন্য বসার সময় নারীর লজ্জাস্থানের যে অংশ প্রকাশ পায় এবং চুলের গোড়া পর্যন্ত।

হায়েয ও নিফাসের গোসলের ক্ষেত্রে (চুলের বেণী) খোলা ওয়াজিব, জানাবাতের ক্ষেত্রে নয়।

পানি পরিপূর্ণভাবে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রবল ধারণাই যথেষ্ট।

এর সুন্নাতসমূহ: গোসলের পূর্বে ওযু করা, শরীরে লেগে থাকা কষ্টদায়ক নাপাকি দূর করা, মাথায় তিনবার পানি ঢালা এবং শরীরের বাকি অংশে তিনবার পানি ঢালা, ডান দিক থেকে শুরু করা, ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, শরীরের ওপর হাত বুলানো এবং অন্য স্থানে গিয়ে পুনরায় দুই পা ধোয়া।

যে ব্যক্তি সুন্নাত বা ওয়াজিব গোসলের নিয়ত করবে, তা অপরটির জন্য যথেষ্ট হবে।

যদি কেউ উভয় প্রকার নাপাকি দূর করার নিয়ত করে অথবা সাধারণভাবে নাপাকি দূর করার নিয়ত করে কিংবা এমন কোনো কাজের নিয়ত করে যা ওযু ও গোসল ব্যতীত বৈধ নয়, তবে তা উভয়টির পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে।

প্রয়োজনবশত সবকিছুর জন্য এবং যার জন্য ওযু সুন্নাত তার জন্যও তায়াম্মুম করা যাবে যদি পানি ব্যবহারে অক্ষমতা থাকে।

--------------------------------------------

১। "আলিফ" পাণ্ডুলিপিতে "নিফাস"-এর স্থলে "হায়েয" শব্দ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ১৮)
ويسن الوضوء بمد1 وهو رطل وثلث بالعراقي وأوقيتان وأربعة أسباع2 بالقدسي والاغتسال بصاع وهو خمسة أرطال وثلث3 بالعراقي وعشر أواق وسبعان بالقدسي.

ويكره: الإسراف لا الإسباغ بدون ما ذكر.

ويباح الغسل في المسجد ما لم يؤذ به وفي الحمام إن أمن الوقوع في المحرم فإن خيف كره وإن علم حرم.

فصل في الأغسال المستحبة

وهي ستة عشر: آكدها لصلاة جمعة في يومها لذكر حضرها ثم لغسل ميت ثم لعيد في يومه4 ولكسوف واستسقاء وجنون وإغماء ولاستحاضة5 لكل صلاة ولإحرام ولدخول مكة وحرمها ولوقوف6 بعرفة وطواف زيارة وطواف وداع ومبيت بمزدلفة ورمي جمار7.

--------------------------------------------

1 المد: مكيال يوزن به، ومقدار ملء كفي الإنسان إذا ملأهما، ومد يده بهما، ومنه سمي مدا. وهو يساوي: "509" جرام، وقيل: "543" جرما.

انظر: القاموس المحيط "ص: 407"، المقادير الشرعية "ص: 227"، معجم لغة الفقهاء "ص: 45".

2 في "ن" زيادة: "أوقية".

3 في "ن" زيادة: "رطل".

4 في "ن" "يومية" وهو خطأ.

5 في "أ" "استحاضة" بدل "لاستحاضة".

6 في "أ"، و"ب" "ووقوف" بدل "لوقوف" وكذا في "ن".

7 وقت الغسل للاستسقاء عند إرادة الخروج للصلاة، وللكسوف عند وقوعه، وفي الحج عند إرادة النسك الذي يريد أن يفعله قريبا، قاله في الإنصاف "1/248".
এক মুদ১ পানি দিয়ে ওযু করা সুন্নাত, যা ইরাকি মাপে এক রতল ও এক-তৃতীয়াংশ এবং কুদসি মাপে দুই আউকিয়া ও সাত ভাগের চার ভাগ২। আর এক সা’ পানি দিয়ে গোসল করা সুন্নাত, যা ইরাকি মাপে পাঁচ রতল ও এক-তৃতীয়াংশ৩ এবং কুদসি মাপে দশ আউকিয়া ও সাত ভাগের দুই ভাগ।

অপচয় করা মাকরুহ; তবে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে কম পানি দিয়ে অঙ্গগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে ধৌত করা (ইসবাহ) মাকরুহ নয়।

মসজিদে গোসল করা বৈধ যতক্ষণ না তা অন্যের কষ্টের কারণ হয়। আর হাম্মামে (পাবলিক গোসলখানা) গোসল করা বৈধ যদি হারামে লিপ্ত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকা যায়; কিন্তু যদি হারামে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে তা মাকরুহ, আর হারামে লিপ্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তা হারাম।

মুস্তাহাব গোসলসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

মুস্তাহাব গোসল মোট ষোলটি: এর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো জুমার দিনে সেই পুরুষের জন্য যে জুমায় উপস্থিত হবে; এরপর মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর কারণে গোসল করা; এরপর ঈদের দিনে ঈদের সালাতের জন্য গোসল করা৪; সূর্যগ্রহণের (কুসুফ) জন্য, বৃষ্টির প্রার্থনার (ইসতিসকা) জন্য, পাগল অবস্থা থেকে সুস্থ হলে, অজ্ঞান অবস্থা থেকে চেতনা ফিরলে এবং ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীর প্রতি সালাতের জন্য৫। এছাড়া ইহরাম বাঁধার জন্য, মক্কা ও হারামে প্রবেশের জন্য, আরাফায় অবস্থানের জন্য৬, তাওয়াফে যিয়ারত ও তাওয়াফে বিদার জন্য, মুযদালিফায় রাত যাপন এবং শয়তানকে পাথর মারার (রামিউল জিমার) জন্য গোসল করা মুস্তাহাব৭।

--------------------------------------------

১ মুদ: এটি ওজনের একটি পরিমাপক পাত্র, যা একজন মানুষের দুই হাতের অঞ্জলি পূর্ণ করলে যতটুকু হয় তার সমপরিমাণ, আর হাত প্রসারিত করে অঞ্জলি পূর্ণ করার কারণেই একে 'মুদ' বলা হয়। এর ওজন ৫০৯ গ্রাম, কেউ বলেছেন ৫৪৩ গ্রাম।

দেখুন: আল-কামুসুল মুহিত (পৃ: ৪০৭), আল-মাকাদিরুশ শারইয়্যাহ (পৃ: ২২৭), মু’জামু লুগাতিল ফুকাহা (পৃ: ৪৫)।

২ ‘নুন’ সংস্করণে ‘আউকিয়া’ শব্দটি অতিরিক্ত রয়েছে।

৩ ‘নুন’ সংস্করণে ‘রতল’ শব্দটি অতিরিক্ত রয়েছে।

৪ ‘নুন’ সংস্করণে ‘ইয়াওমিয়্যাহ’ শব্দ রয়েছে, যা ভুল।

৫ ‘আলিফ’ সংস্করণে ‘লি-ইসতিহাযা’ এর পরিবর্তে ‘ইসতিহাযা’ রয়েছে।

৬ ‘আলিফ’ ও ‘বা’ সংস্করণে ‘লি-উকুফ’ এর পরিবর্তে ‘ওয়া-উকুফ’ রয়েছে, ‘নুন’ সংস্করণেও অনুরূপ।

৭ বৃষ্টির প্রার্থনার গোসলের সময় হলো যখন সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার ইচ্ছা করবে। সূর্যগ্রহণের গোসল তা শুরু হওয়ার সময়। আর হজ্জের ক্ষেত্রে গোসল হবে সেই আমলটি করার প্রাক্কালে যা সে নিকটবর্তী সময়ে করতে চায়— আল-ইনসাফ গ্রন্থে (১/২৪৮) এরূপ বলা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌باب التيمم1

ويصح بشروط ثمانية: النية، والإسلام، والعقل، والتمييز، والاستنجاء أو الاستجمار.

السادس: دخول وقت الصلاة فلا يصح التيمم لصلاة قبل وقتها ولا لنافلة وقت نهي.

السابع: تعذر استعمال الماء إما لعدمه أو لخوفه باستعماله الضرر.

ويجب بذله لعطشان2 من آدمي أو بهيمة محترمين3.

ومن وجد ماء لا يكفي لطهارته استعمله فيما يكفي وجوبا ثم تيمم4.

وإن وصل المسافر إلى الماء وقد ضاق الوقت أو علم أن النوبة لا تصل إليه إلا بعد خروجه عدل إلى التيمم وغيره لا ولو فاته الوقت.

ومن في الوقت أراق الماء أو مر به وأمكنه الوضوء5 ويعلم أنه لا يجد غيره حرم ثم إن تيمم وصلى لم يعد.

وإن وجد محدث ببدنه وثوبه نجاسة ومعه ماء لا يكفي وجب غسل

--------------------------------------------

1 قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "كل من امتنع عن الصلاة بالتيمم، فإنه من جنس اليهود والنصارى، فإن التيمم لأمه محمد صلى الله عليه وسلم خاصة". حاشية الروض "1/300".

2 في "ب" "للعطشان"، وكذا في "ن"

3 "محترمين" لا توجد في "أ" يتمم".

4 في "أ""يتيمم".

5 في "ن" زيادة" منه
তায়াম্মুমের অধ্যায়১

এটি আটটি শর্তের সাথে সহীহ হয়: নিয়ত, ইসলাম, আকল (বিবেক), তামীয (বিবেচনা শক্তি), এবং ইসতিনজা অথবা ইসতিজমার।

ষষ্ঠ: সালাতের ওয়াক্ত প্রবেশ করা। সুতরাং সালাতের ওয়াক্ত হওয়ার আগে তার জন্য তায়াম্মুম করা সহীহ নয় এবং নিষিদ্ধ সময়ে নফল সালাতের জন্যও নয়।

সপ্তম: পানি ব্যবহারে অপারগ হওয়া; হয় পানি না থাকার কারণে অথবা পানি ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কার কারণে।

আর মানুষ অথবা পশুর মধ্য থেকে সম্মানিত তৃষ্ণার্তের জন্য তা (পানি) প্রদান করা ওয়াজিব।২ ৩

যে ব্যক্তি এমন পানি পাবে যা তার পবিত্রতার জন্য যথেষ্ট নয়, সে ওয়াজিব হিসেবে যতটুকু সম্ভব তা ব্যবহার করবে এবং এরপর তায়াম্মুম করবে।৪

যদি মুসাফির পানির নিকট এমন সময় পৌঁছায় যখন ওয়াক্ত সংকীর্ণ হয়ে গেছে অথবা সে জানে যে তার পাল আসার আগেই ওয়াক্ত পার হয়ে যাবে, তবে সে তায়াম্মুমের দিকে ফিরে যাবে; কিন্তু মুসাফির ব্যতীত অন্য কেউ নয়, যদিও তার ওয়াক্ত পার হয়ে যায়।

যে ব্যক্তি ওয়াক্তের মধ্যে পানি ঢেলে ফেলে দিল অথবা পানির পাশ দিয়ে অতিক্রম করল এবং তার পক্ষে ওযু করা সম্ভব ছিল৫, অথচ সে জানে যে সে আর পানি পাবে না, তবে তা করা হারাম। এরপর যদি সে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করে, তবে তাকে পুনরায় সালাত পড়তে হবে না।

যদি কোনো অপবিত্র ব্যক্তি তার শরীরে এবং কাপড়ে নাপাকি পায় এবং তার কাছে এমন পানি থাকে যা যথেষ্ট নয়, তবে ধৌত করা ওয়াজিব...

--------------------------------------------

১ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "যে ব্যক্তি তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকে, সে ইহুদি ও নাসারাদের সমজাতীয়; কেননা তায়াম্মুম বিশেষভাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের জন্য।" হাশিয়াতুর রওদ "১/৩০০"।

২ "বা" পাণ্ডুলিপিতে "তৃষ্ণার্তের জন্য", এবং "নুন" পাণ্ডুলিপিতেও অনুরূপ।

৩ "সম্মানিত" শব্দটি "আলিফ" পাণ্ডুলিপিতে নেই।

৪ "আলিফ" পাণ্ডুলিপিতে "সে তায়াম্মুম করবে"।

৫ "নুন" পাণ্ডুলিপিতে "তা থেকে" অতিরিক্ত আছে।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ২০)
ثوبه ثم إن فضل شيء غسل بدنه ثم إن فضل شيء تطهر به1، وإلا تيمم.

ويصح التيمم لكل حدث وللنجاسة على البدن بعد تخفيفها ما أمكن فإن تيمم لها قبل تخفيفها لم يصح.

الثامن: أن يكون بتراب طهور مباح غير محترق له غبار يعلق باليد فإن لم يجد ذلك صلى الفرض فقط على حسب حاله ولا يزيد في صلاته على ما يجزئ ولا إعادة.

فصل

واجب التيمم: التسمية، وتسقط سهوا وفروضه خمسة: مسح الوجه، ومسح اليدين إلى الكوعين.

الثالث: الترتيب في الطهارة الصغرى فيلزم من جرحه ببعض أعضاء وضوئه إذا توضأ أن يتيمم له عند غسله لو كان صحيحا.

الرابع: الموالاة فيلزمه أن يعيد2 غسل الصحيح عند كل تيمم.

الخامس: تعيين النية لما تيمم له من حدث أو نجاسة فلا تكفي نية أحدهما عن الآخر وإن نواهما أجزأ.

ومبطلاته خمسة: ما أبطل الوضوء ووجود الماء وخروج الوقت وزوال المبيح له وخلع ما مسح عليه.

--------------------------------------------

1 "به"لا توجد في: "ب" ولا في "ج".

2 قوله: أن يعيد" ممزوج بالشرح في "ن".
তার পোশাক, এরপর যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে তার শরীর ধৌত করবে, এরপর যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে১, অন্যথায় তায়াম্মুম করবে।

প্রতিটি হাদাস (অপবিত্রতা) এবং শরীরের নাপাকি দূর করার জন্য তায়াম্মুম করা সহিহ হবে, যতটুকু সম্ভব নাপাকি লাঘব করার পর। তবে নাপাকি লাঘব করার পূর্বেই যদি তায়াম্মুম করা হয়, তবে তা সহিহ হবে না।

অষ্টম: তায়াম্মুম হতে হবে পবিত্র, বৈধ এবং দহন না করা মাটি দিয়ে, যাতে এমন ধুলা থাকে যা হাতে লেগে থাকে। যদি সে তা না পায়, তবে সে তার অবস্থা অনুযায়ী কেবল ফরজ সালাত আদায় করবে এবং তার সালাতে যতটুকু আদায় করা আবশ্যক তার অতিরিক্ত কিছু করবে না এবং তা পুনরায় আদায় করতে হবে না।

অনুচ্ছেদ

তায়াম্মুমের ওয়াজিব হলো: বিসমিল্লাহ বলা, আর তা ভুলে গেলে রহিত হয়ে যায়। এর ফরজ পাঁচটি: মুখমণ্ডল মাসেহ করা এবং কবজি পর্যন্ত দুই হাত মাসেহ করা।

তৃতীয়: ছোট অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। সুতরাং যার ওযুর কোনো অঙ্গে ক্ষত রয়েছে, সে যখন ওযু করবে, তখন সেই অঙ্গটি সুস্থ অবস্থায় ধৌত করার যে পর্যায় ছিল, সেই সময়ে তার জন্য তায়াম্মুম করা আবশ্যক।

চতুর্থ: নিরবচ্ছিন্নতা। সুতরাং তাকে প্রতিটি তায়াম্মুমের সময় সুস্থ অংশ পুনরায় ধৌত করা আবশ্যক২।

পঞ্চম: যে অপবিত্রতা বা নাপাকির জন্য তায়াম্মুম করা হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করা। সুতরাং একটির নিয়ত অন্যটির জন্য যথেষ্ট হবে না, তবে যদি উভয়ের নিয়ত করে তবে তা যথেষ্ট হবে।

তায়াম্মুম ভঙ্গকারী বিষয় পাঁচটি: যা ওযু ভঙ্গ করে, পানির উপস্থিতি, ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়া, তায়াম্মুম বৈধকারী কারণ দূর হওয়া এবং যা মাসেহ করা হয়েছে তা খুলে ফেলা।

--------------------------------------------

১. "তা দিয়ে" কথাটি "বা" এবং "জিম" পাণ্ডুলিপিতে নেই।

২. তার উক্তি: "পুনরায় করবে" অংশটি "নুন" পাণ্ডুলিপিতে ব্যাখ্যার সাথে মিশ্রিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ২১)
وإن وجد الماء وهو في الصلاة بطلت وإذا انقضت لم تجب الإعادة.

وصفته أن ينوي ثم يسمي ويضرب التراب بيديه مفرجتي الأصابع ضربة واحدة والأحوط اثنت1ان لعد نزع خاتم ونحوه فيمسح وجهه بباطن أصابعه وكفيه براحتيه..

وسن2 لمن يرجو وجود الماء تأخير التيمم إلى آخر الوقت المختار وله أن يصلي بتيمم واحد ما شاء من الفرض والنفل لكن لو تيمم للنفل لم يستبح الفرض

--------------------------------------------

1 في "ب" "اثنتان" وكذا في "ن".

2 في "ن"، و"ج" "ويسن".
যদি সালাতরত অবস্থায় পানি পাওয়া যায় তবে সালাত বাতিল হয়ে যাবে, আর যদি সালাত শেষ হয়ে যায় তবে পুনরায় আদায় করা আবশ্যক নয়।

আর তায়াম্মুমের পদ্ধতি হলো এই যে, সে নিয়ত করবে, অতঃপর আল্লাহর নাম স্মরণ করবে (বিসমিল্লাহ বলবে) এবং আঙুলগুলো প্রসারিত অবস্থায় দুই হাত দিয়ে মাটিতে একবার আঘাত করবে। আংটি ও অনুরূপ বস্তু খোলার পর অধিক সতর্কতামূলক পদ্ধতি হলো দুই১বার আঘাত করা; এরপর সে তার আঙুলগুলোর ভেতরের অংশ দিয়ে মুখমণ্ডল এবং হাতের তালু দিয়ে উভয় কবজি মাসাহ করবে।

যার পানি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তার জন্য তায়াম্মুমকে পছন্দনীয় সময়ের শেষ পর্যন্ত বিলম্বিত করা সুন্নাত২। এক তায়াম্মুম দ্বারা সে ফরয ও নফল সালাতের মধ্যে যা ইচ্ছা আদায় করতে পারবে; তবে যদি নফল সালাতের জন্য তায়াম্মুম করে থাকে, তবে তা দ্বারা ফরয সালাত আদায় করা বৈধ হবে না।

--------------------------------------------

১ 'বা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে 'দুই', এবং একইভাবে 'নুন' পাণ্ডুলিপিতেও।

২ 'নুন' ও 'জীম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে 'এবং সুন্নাত হবে'।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌باب إزالة النجاسة

يشرط لكل متنجس سبع غسلات وأن يكون إحداها3 بتراب طاهر4 طهور5 أو صابون ونحوه في متنجس بكلب أو خنزير ويضر بقاء طعم النجاسة لا لونها أو ريحها أو هما عجزا.

--------------------------------------------

3 في "ب" "إحداهما" وكذا في "ن" وفي "ج" "إحداهما".

4 "طاهر" سقطت من "أ". وفي: "ب" "طهور" فقط، وكذا في "ج".

5 قال اللبدي في الحاشية ""ص: 36": "هكذا عبارة "المنتهى"و"الإقناع" ومفهومه أنه لا يكفي الطاهر، أي المتناثر عن وجه ويدي متيمم، وفي نسخة "طاه" فيرد منه ما قابل النجس، ومقصوده الطهور، موافقة لغيره، لكن قد يقال: لا وجه لاشتراط طهوريته؛ لأن المقصود منه قوة الإزالة، ولذلك يجزئ الصابون، والأشنان، والنخالة، وما كان في معنى ذلك، والقوة التي في الطهور توجد في الطاهر".
নাপাকি দূরীকরণ পরিচ্ছেদ

প্রতিটি নাপাকযুক্ত বস্তুর জন্য সাতবার ধৌত করা শর্ত এবং কুকুর বা শূকর দ্বারা নাপাক হওয়া বস্তুর ক্ষেত্রে সেগুলোর মধ্যে একবার পবিত্র বিশুদ্ধকারী মাটি অথবা সাবান বা অনুরূপ কিছু দ্বারা হতে হবে। নাপাকির স্বাদ অবশিষ্ট থাকা পবিত্রতা অর্জনে অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হবে, তবে রঙ বা গন্ধ—অথবা অক্ষমতাবশত উভয়টিই থেকে যাওয়া ক্ষতিকর নয়।

--------------------------------------------

৩. 'বা' পাণ্ডুলিপিতে 'ইহদাহুমা' (তাদের দুটির একটি) রয়েছে, 'নুন' পাণ্ডুলিপিতেও অনুরূপ এবং 'জিম' পাণ্ডুলিপিতেও 'ইহদাহুমা' রয়েছে।

৪. 'ত্বহির' (পবিত্র) শব্দটি 'আলিফ' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে। 'বা' পাণ্ডুলিপিতে শুধুমাত্র 'ত্বহুর' (বিশুদ্ধকারী) রয়েছে এবং 'জিম' পাণ্ডুলিপিতেও তাই।

৫. আল-লুবাদি হাশিয়াহর (পৃষ্ঠা: ৩৬) গ্রন্থে বলেছেন: "আল-মুনতাহা এবং আল-ইকনা' গ্রন্থের বর্ণনা এমনই। এর মর্মার্থ হলো যে, 'ত্বহির' (পবিত্র) মাটি যথেষ্ট নয়, অর্থাৎ যা তায়াম্মুমকারীর মুখমণ্ডল ও হাত থেকে ঝরে পড়ে। একটি কপিতে 'ত্বাহ' রয়েছে, যা নাপাকির বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে এবং তার লক্ষ্য হলো 'ত্বহুর' (বিশুদ্ধকারী), যা অন্যান্যদের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে বলা যেতে পারে যে, মাটি বিশুদ্ধকারী (ত্বহুর) হওয়ার শর্তারোপের কোনো জোরালো কারণ নেই; কারণ এর উদ্দেশ্য হলো ময়লা দূর করার শক্তি বৃদ্ধি করা। এ কারণেই সাবান, উশনান (ক্ষারজাতীয় উদ্ভিদ), ভুসি এবং এ জাতীয় বস্তু যথেষ্ট হয়। আর 'ত্বহুর'-এর মধ্যে যে শক্তি রয়েছে তা 'ত্বহির'-এর মধ্যেও পাওয়া যায়।"
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ২২)
ويجزئ في بول غلام لم يأكل طعاما لشهوة1 نضحه وهو غمره بالماء.

ويجزئ في تطهير صخر وأحواض وأرض تنجست بمائع ولو مر كلب أو خنزير مكاثرتها بالماء حتى2 بحيث يذهب لون النجاسة وريحها.

ولا تطهر الأرض بالشمس والريح والجفاف ولا النجاسة بالنار.

وإذا خفي موضع النجاسة غسل حتى يتيقن غسلها.

فصل

المسكر المائع وكذا الحشيشة وما لا يؤكل3 من الطير والبهائم مما فوق الهر خلقة نجس.

وما دونهما في الخلقة كالحية والفار والمسكر غير المائع فطاهر.

وكل ميتة نجسة غير ميتة الآدمي والسمك والجراد وما لا نفس له سائلة كالعقرب والخنفساء والبق والقمل والبراغيث.

وما أكل لحمه ولم يكن أكثر علفه النجاسة فبوله وروثه وقيئه ومذيه ومنيه ولبنه طاهر.

وما لا يؤكل فنجس إلا مني الآدمي ولبنه فطاهر.

والقيح والدم والصديد نجس لكن يعفى في الصلاة عن يسير منه لم

--------------------------------------------

1 في "ن" "الطعام بشهوة".

2 في "ب" "بحث" بدل "حتى"، وكذا في "ن".

3 في "أ" "لا يأكل".
যে ছেলে শিশু খাবারের প্রবল আকাঙ্ক্ষায় খাদ্য গ্রহণ শুরু করেনি১ তার প্রস্রাব পবিত্র করার ক্ষেত্রে পানি ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট, আর তা হলো পানি দিয়ে স্থানটিকে প্লাবিত করা।

পাথর, হাউজ এবং ভূমিতে কোনো তরল নাপাকি লাগলে, এমনকি যদি সেখান দিয়ে কুকুর বা শুকরও অতিক্রম করে, তবে তার উপর প্রচুর পরিমাণে পানি ঢেলে দেওয়া যথেষ্ট হবে যাতে২ নাপাকির রঙ ও গন্ধ দূরীভূত হয়।

সূর্যতাপ, বাতাস বা শুকিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ভূমি পবিত্র হয় না এবং আগুনের দ্বারাও নাপাকি পবিত্র হয় না।

যদি নাপাকির স্থানটি অস্পষ্ট হয়ে যায়, তবে তা ততক্ষণ ধৌত করতে হবে যতক্ষণ না তা ধৌত করার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।

অনুচ্ছেদ

তরল মাদকদ্রব্য এবং অনুরূপভাবে হাশিশ (গাঁজা) এবং এমন সব অখাদ্য৩ পাখি ও চতুষ্পদ জন্তু যা শারীরিক গঠনে বিড়ালের চেয়ে বড়, তা নাপাক।

আর যা শারীরিক গঠনে সেগুলোর চেয়ে ছোট, যেমন সাপ ও ইঁদুর, এবং অ-তরল মাদকদ্রব্য, তা পবিত্র।

মানুষের মৃতদেহ, মাছ, পঙ্গপাল এবং যে সব প্রাণীর প্রবাহিত রক্ত নেই যেমন বিচ্ছু, গুবরে পোকা, ছারপোকা, উকুন ও পিঁশাচ—এগুলো ছাড়া সকল মৃত প্রাণীই নাপাক।

আর যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় এবং যার অধিকাংশ খাদ্য নাপাক নয়, তার প্রস্রাব, মল, বমি, মজি, মনি ও দুধ পবিত্র।

আর যা অখাদ্য তা নাপাক, তবে মানুষের মনি ও দুধ পবিত্র।

পুঁজ, রক্ত ও ক্ষত-নিঃসৃত রস নাপাক, তবে সালাতের ক্ষেত্রে এর সামান্য পরিমাণ মার্জনীয় যা...

--------------------------------------------

১ "ন" পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "আগ্রহের সাথে খাবার"।

২ "ব" পাণ্ডুলিপিতে "পর্যন্ত" শব্দের স্থলে "অনুসন্ধান" রয়েছে, অনুরূপভাবে "ন" পাণ্ডুলিপিতেও।

৩ "আ" পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "খায় না"।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ২৩)
ينقض الوضوء إذا كان من حيوان طاهر في الحياة ولو من دم حائض1.

ويضم يسير متفرق بثوب لا أكثر.

وطين شارع ظنت نجاسته وعرق وريق من طاهر، طاهر.

ولو أكل هر و2نحوه من الحيوانات الطاهرات3 كالنمس، والفأرة، والقنفذ4 أو طفل نجاسة ثم شرب من مائع لم يضر5.

ولا يكره سؤر حيوان طاهر وهو فضلة طعامه وشرابه.

--------------------------------------------

1 في "أ" "حيض" بدل "حائض"، وفي "ج" زيادة: "أو نفساء".

2 في "ج" "أو" بدل الواو.

3 في "ن" "الطاهرات".

4 قوله: "من الحيوانات الطاهرات كالنمس، والفأرة، والقنفذ" سقط من "أ". وكذا فلا يوجد في "ب"، ولا في "ج".

5 في "ن"، و"ج" "لم يضره".
অজু নষ্ট হয়ে যায় যদি তা (রক্ত) এমন কোনো প্রাণী থেকে নির্গত হয় যা জীবিত অবস্থায় পবিত্র, যদিও তা ঋতুবতী নারীর রক্ত হয় ১।

কাপড়ের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে লেগে থাকা অল্প পরিমাণ নাপাকি একত্রে যোগ করা হবে, তার অধিক নয়।

রাস্তার কাদা যা অপবিত্র হওয়ার প্রবল ধারণা থাকে এবং পবিত্র প্রাণীর ঘাম ও লালা—পবিত্র।

যদি বিড়াল বা ২ এর সদৃশ অন্যান্য পবিত্র প্রাণী ৩ যেমন—নেউল, ইঁদুর ও সজারু ৪ অথবা কোনো শিশু নাপাকি ভক্ষণ করার পর কোনো তরল পান করে, তবে তা (তরলটিকে) অপবিত্র করবে না ৫।

পবিত্র প্রাণীর উচ্ছিষ্ট অপছন্দনীয় নয়; আর তা হলো তার আহার ও পানীয়ের অবশিষ্টাংশ।

--------------------------------------------

১ 'আলিফ' পান্ডুলিপিতে 'ঋতুবতী' শব্দের স্থলে 'ঋতু' শব্দ রয়েছে এবং 'জিম' পান্ডুলিপিতে 'অথবা নিফাসওয়ালী নারী' কথাটি অতিরিক্ত রয়েছে।

২ 'জিম' পান্ডুলিপিতে 'এবং' এর স্থলে 'অথবা' রয়েছে।

৩ 'নুন' পান্ডুলিপিতে 'পবিত্রসমূহ' শব্দটি বহুবচনে রয়েছে।

৪ তাঁর উক্তি: "পবিত্র প্রাণীসমূহ যেমন নেউল, ইঁদুর ও সজারু"—এই অংশটুকু 'আলিফ' পান্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে। অনুরূপভাবে এটি 'বা' এবং 'জিম' পান্ডুলিপিতেও নেই।

৫ 'নুন' ও 'জিম' পান্ডুলিপিতে 'তাকে ক্ষতি করবে না' শব্দদ্বয় রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌باب الحيض

لا حيض قبل تمام تسع سنين6 ولا بعد خمسين سنة ولا مع حمل7 وأقل الحيض يوم وليلة8 وأكثره خمسة عشر يوما وغالبه ست أو سبع.

--------------------------------------------

6 "سنين" لا توجد في"أ".

7 الرواية الثانية: أن الحامل تحيض، اختارها شيخ الإسلام ابن تيمية، واستطهرها ابن مفلح، وقال المرداوي: وهو الصواب. انظر: الاختيارات "ص: 30"، الفروع "1/267"، الإنصاف "1/357".

8 قال في شرح الإقناع: "والمراد: مقدار يوم وليلة، أي أربع وعشرون ساعة، فلو انقطع الدم لأقل منه فهو دم فساد". نيل المآرب "1/104".
ঋতুস্রাব অধ্যায়

পূর্ণ নয় বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো ঋতুস্রাব নেই৬ এবং পঞ্চাশ বছর বয়সের পরেও নয়, আর গর্ভবতী অবস্থায় কোনো ঋতুস্রাব হয় না।৭ ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন মেয়াদ একদিন ও একরাত৮ এবং এর সর্বোচ্চ মেয়াদ পনেরো দিন, আর সাধারণত তা ছয় বা সাত দিন হয়ে থাকে।

--------------------------------------------

৬ "বছর" শব্দটি 'আ' পাণ্ডুলিপিতে নেই।

৭ দ্বিতীয় বর্ণনাটি হলো: গর্ভবতী মহিলার ঋতুস্রাব হয়; শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই মতটি গ্রহণ করেছেন, ইবনে মুফলিহ একে শক্তিশালী বলেছেন এবং আল-মারদাভী বলেছেন: এটিই সঠিক। দেখুন: আল-ইখতিয়ারাত "পৃষ্ঠা: ৩০", আল-ফুরু "১/২৬৭", আল-ইনসাফ "১/৩৫৭"।

৮ শারহুল ইকনা-তে বলা হয়েছে: "উদ্দেশ্য হলো একদিন ও একরাত পরিমাণ সময়, অর্থাৎ চব্বিশ ঘণ্টা। সুতরাং রক্ত যদি এর চেয়ে কম সময়ে বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা অসুস্থতাজনিত রক্ত হিসেবে গণ্য হবে।" নায়লুল মাআরাব "১/১০৪"।
(খণ্ড: ১) দালীলুত তালিব লিনাইলিল মাতালিব (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأقل الطهر بين الحيضتين ثلاثة عشر يوما وغالبه بقية الشهر ولا حد لأكثره1.

ويحرم بالحيض أشياء: منها الوطء في الفرج والطلاق والصلاة والصوم2 والطواف وقراءة القرآن ومس المصحف واللبث في المسجد وكذا المرور فيه إن خافت تلويثه.

ويوجب الغسل والبلوغ والكفارة بالوطء فيه3 ولو مكرها أو ناسيا أو جاهلا للحيض والتحريم وهي دينار أو نصفه على التخيير4 وكذا هي إن طاوعت.

ولا يباح بعد انقطاعه وقبل غسلها أو تيممها غير الصوم والطلاق واللبث بوضوء في المسجد.

وانقطاع الدم: بأن لا تتغير قطنة احتشت بها في زمن الحيض طهر.

وتقضي الحائض والنفساء الصوم لا الصلاة.

--------------------------------------------

1 هذا اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية. الاختبارات "ص: 28".

2 أي فعل الصوم، لكن تقضي الصوم إجماعا، كذا في شرح المنتهى. نيل المآرب "1/106".

3 وجوب الكفارة في وطء الحائض من مفردات الإمام أحمد عن بقية الأئمة الثلاثة.

انظر: المنح الشافيات "1/175".

4 قال في شرح المنتهى: "فإن قيل: كيف يخير بين شيء ونصفه؟ قلنا: كما يخير المسافر بين القصر والإتمام". نيل المآرب "1/107".
দুই ঋতুর মধ্যবর্তী পবিত্রতার সর্বনিম্ন সময় হলো তেরো দিন। এর অধিকাংশ সময় হলো মাসের বাকি অংশ এবং এর সর্বোচ্চ সীমার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই১।

ঋতুস্রাবের কারণে বেশ কিছু বিষয় হারাম হয়: তার মধ্যে রয়েছে লজ্জাস্থানে সহবাস করা, তালাক প্রদান, সালাত, রোজা২, তাওয়াফ, কুরআন তিলাওয়াত, মাসহাফ স্পর্শ করা এবং মসজিদে অবস্থান করা। অনুরূপভাবে মসজিদের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করাও (হারাম), যদি সে তা অপবিত্র করার আশঙ্কা করে।

এটি গোসল ওয়াজিব করে, বালেগ হওয়া সাব্যস্ত করে এবং এতে (ঋতুস্রাবকালীন) সহবাসের কারণে কাফফারা ওয়াজিব করে৩; যদিও তা বাধ্য হয়ে, ভুলে গিয়ে কিংবা ঋতুস্রাব হওয়া বা এটি হারাম হওয়া সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে হয়। সেই কাফফারা হলো ইচ্ছানুযায়ী এক দিনার অথবা আধা দিনার৪। নারী যদি স্বেচ্ছায় এতে সায় দেয়, তবে তার ক্ষেত্রেও একই বিধান।

রক্ত বন্ধ হওয়ার পর এবং গোসল বা তায়াম্মুম করার আগে রোজা, তালাক এবং ওজুসহ মসজিদে অবস্থান করা ব্যতীত অন্য কিছু বৈধ নয়।

রক্ত বন্ধ হওয়া: ঋতুস্রাবের সময়ে ভেতরে রাখা তুলা যদি পরিবর্তিত না হয় (রক্তের দাগ না লাগে), তবে তা পবিত্রতা হিসেবে গণ্য হবে।

ঋতুবতী এবং নিফাসগ্রস্ত নারী রোজার কাজা আদায় করবে, সালাতের নয়।

--------------------------------------------

১ এটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার অভিমত। আল-ইখতিয়ারাআত, পৃষ্ঠা: ২৮।

২ অর্থাৎ রোজা পালন করা; তবে সর্বসম্মতভাবে রোজার কাজা আদায় করতে হবে। শারহুল মুনতাহা-তে এভাবেই রয়েছে। নাইলুল মাআরিব ১/১০৬।

৩ ঋতুবতীর সাথে সহবাসের ক্ষেত্রে কাফফারা ওয়াজিব হওয়া বিষয়টি ইমাম আহমদের একক অভিমত, যা অন্য তিন ইমামের মতের পরিপন্থী। দেখুন: আল-মানহাশ শাফিয়াতি ১/১৭৫।

৪ শারহুল মুনতাহা-তে বলা হয়েছে: "যদি প্রশ্ন করা হয়: কোনো পূর্ণ বস্তু এবং তার অর্ধেকের মধ্যে কীভাবে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হয়? আমরা বলব: যেভাবে মুসাফিরকে কসর এবং পূর্ণ সালাত আদায়ের মধ্যে পছন্দের সুযোগ দেওয়া হয়।" নাইলুল মাআরিব ১/১০৭।