(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: -)
دعوة إلى السنة في تطبيق السنة منهجا وأسلوبا   (عبد الله الرحيلي)

القسم: العقيدة


الكتاب: دعوة إلى السنة في تطبيق السنة منهجا وأسلوبا

المؤلف: عبد الله بن ضيف الله الرحيلي

الناشر: بدون ناشر (فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية - الرياض)

عدد الصفحات: 178

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহর প্রয়োগে পদ্ধতি ও শৈলী হিসেবে সুন্নাহর দিকে আহ্বান   (আবদুল্লাহ আর-রুহাইলি)

বিভাগ: আকীদা


বই: সুন্নাহর প্রয়োগে পদ্ধতি ও শৈলী হিসেবে সুন্নাহর দিকে আহ্বান

লেখক: আবদুল্লাহ বিন দাইফুল্লাহ আর-রুহাইলি

প্রকাশক: প্রকাশক বিহীন (কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি ক্যাটালগিং - রিয়াদ)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مقدمة

…

من كلمات السلف

" … أحدهم إذا خالفه صاحبه قال: كَفَرْتَ. والعِلْم إنما يقال فيه: أخطأتَ".

"الإمام الشافعي رحمه الله تعالى".

"وما أولاك رحمك الله بتدبُّر ما نقول؛ فإن كان حقّاً، وكنتَ لله مريداً، أن تتلقاه بقلبٍ سليم، وإن كان باطلاً، أو كان فيه شيء ذهب عنّا، أن تردّنا عنه بالاحتجاج والبرهان؛ فإنّ ذلك أبلغ في النصرة، وأوجب للعذْر، وأشفى للقلوب … ".

"ابن قتيبة رحمه الله تعالى".

ندِينُ الله بكل ما صحّ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا نجعل بعضه لنا وبعضه علينا، فنقرّ ما لنا على ظاهره، ونتأوّل ما علينا على خلاف ظاهره، بل الكلُّ لنا لا نُفَرِّق بين شيءٍ من سُننه، بل نتلقاها كلها بالقبول، ونقابلها بالسمع والطاعة، ونتَّبعها أين توجهت ركائبها، ونَنْزلُ معها أين نزلت مضاربها، فليس الشأن في الأخذ ببعض سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم وتَرْك بعضها، بل الشأن في الأخذ بجملتها، وتنزيل كل شيء منها منزلتَه، ووضعه بموضعه،

والله المستعان وعليه التكلان. الإمام ابن القيّم رحمه الله تعالى.
ভূমিকা

…

সালাফদের কিছু বাণী থেকে

" … তাদের কেউ যখন তার সাথীর সাথে দ্বিমত পোষণ করে তখন সে বলে: 'তুমি কুফরি করেছ'। অথচ ইলমের (জ্ঞানের) ক্ষেত্রে বলা উচিত: 'তুমি ভুল করেছ'।"

"ইমাম শাফেয়ী রহিমাহুল্লাহ তায়ালা"।

"আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, আমরা যা বলছি তা গভীরভাবে অনুধাবন করা আপনার জন্য কতই না সমীচীন; যদি তা সত্য হয় এবং আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রত্যাশী হন, তবে তা সুস্থ হৃদয়ে গ্রহণ করুন। আর যদি তা বাতিল হয় অথবা এতে এমন কিছু থাকে যা আমাদের দৃষ্টির অগোচরে রয়ে গেছে, তবে দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে আমাদের তা থেকে ফিরিয়ে আনুন; কেননা এটিই সত্যের সাহায্যে অধিক কার্যকর, ওজর নিরসনে অধিক আবশ্যিক এবং অন্তরের জন্য অধিক প্রশান্তিদায়ক … "।

"ইবনে কুতাইবা রহিমাহুল্লাহ তায়ালা"।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে, আমরা তার সবটুকুর মাধ্যমেই আল্লাহর আনুগত্য করি। আমরা এর কিছু অংশকে আমাদের স্বপক্ষে এবং কিছু অংশকে আমাদের বিপক্ষে সাব্যস্ত করি না; ফলে যা আমাদের অনুকূলে যায় তাকে তার প্রকাশ্য অর্থের ওপর বহাল রাখি, আর যা আমাদের প্রতিকূলে যায় তাকে প্রকাশ্য অর্থের বিপরীতে অপব্যাখ্যা করি—এমনটি আমরা করি না। বরং সবটুকুই আমাদের জন্য, আমরা তাঁর সুন্নাহর কোনো বিষয়ের মাঝে পার্থক্য করি না। বরং আমরা এর সবটুকুই কবুল করে নেই এবং শ্রবণ ও আনুগত্যের সাথে তা গ্রহণ করি। তাঁর সুন্নাহর সওয়ারি যেদিকেই অগ্রসর হয় আমরা সেদিকেই তাকে অনুসরণ করি এবং তার তাবু যেখানেই স্থাপিত হয় আমরা সেখানেই অবস্থান গ্রহণ করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর কিছু অংশ গ্রহণ করা এবং কিছু অংশ বর্জন করা কোনো (সঠিক) আদর্শ নয়, বরং আদর্শ হলো তার পূর্ণাঙ্গ রূপকে গ্রহণ করা এবং তার প্রত্যেকটি বিষয়কে তার যথাযথ মর্যাদায় ও নিজ নিজ স্থানে স্থাপন করা।

আল্লাহই সাহায্যকারী এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ ভরসা। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ তায়ালা।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ১২)
شكرٌ وتقدير

الحمد لله ربّ العالمين، والصلاة والسلام على نبيّنا وسيّدنا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.

أما بعد: فيطيب لي، بل يتعيّن عليّ، أن أعترف بالفضل لأهله، فقد تفضّل عدد من الإخوة الفضلاء بقراءة هذا الموضوع قبل الطبع، فأفادوني بملحوظاتهم وآرائهم؛ فلهم منّي ولمن كان سبباً في نشر هذا الموضوع الشكر والدعاء، وأسأله عز وجل أن يجزيهم عنّي وعن المسلمين وعن الإسلام خير الجزاء، وأن يوفّقنا جميعاً لما يحبّه ويرضاه.

المؤلف
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী ও নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর: এটি আমার জন্য আনন্দের, বরং আমার কর্তব্য যে, আমি গুণীজনের গুণের স্বীকৃতি প্রদান করি। কেননা বেশ কিছু গুণী ভাই মুদ্রণের পূর্বে এই বিষয়টি পাঠ করার অনুগ্রহ করেছেন এবং তাঁরা তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও মতামত দিয়ে আমাকে উপকৃত করেছেন। তাঁদের প্রতি এবং এই বিষয়টি প্রকাশের ক্ষেত্রে যারা মাধ্যম হয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি রইল আমার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও দোয়া। আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে এবং মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামের পক্ষ থেকে তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তিনি যেন আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয় ও পছন্দনীয় কাজের তাওফিক দান করেন।

লেখক
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ১৩)
مقدّمة الطبعة الثانية

الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد: فقد كانت الطبعة الأُولى لهذا الكتاب في عام 1410هـ 1990م. وقد نفدت النُّسخ خلال مدة وجيزة، وتوالت الأسئلة عن الطبعة الثانية، وكنت أَعِدُ بها، وأَعزم على الوفاء بذلك، ولكن {وَمَا تَشَاءُونَ إِلا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} 1، وقد أراد الله أن تتأخر هذه الطبعة إلى هذا الوقت؛ فأجريت عليها بعض التعديلات والإضافات.

ملحوظات حول الكتاب وهذه الطبعة:

لعل من المناسب أن أشير إلى الملحوظات التالية:

- قد أجريت تعديلاتٍ وإضافاتٍ وتقديماً وتأخيراً على الكتاب في هذه الطبعة، ونال الفصل المنقول عن الإمام ابن تيمية نصيباً وافراً مِن هذا في طريقة عرْضه. وكان لبعض المستجدات للمسلمين فيما يتعلّق بقضية الكتاب أثرٌ واضح في هذه التعديلات. وأرجو أن يكون هذا التعديل إلى الأفضل.

- قد اتّبعتُ في إحالة الآيات إلى المصحف الشريف طريقة محمد فؤاد عبد الباقي، بالعزو إلى رقم الآية أو الآيات، ثم اسم السورة، ثم رقمها.

--------------------------------------------

1 29: التكوير: 81
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর: এই বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল ১৪১০ হিজরী তথা ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে। অল্প সময়ের মধ্যেই বইয়ের কপিগুলো শেষ হয়ে যায় এবং দ্বিতীয় সংস্করণ সম্পর্কে একের পর এক প্রশ্ন আসতে থাকে। আমি এর প্রতিশ্রুতি দিতাম এবং তা পূরণ করার সংকল্প করতাম, কিন্তু "আর তোমরা ইচ্ছা করতে পারো না, যদি না জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা করেন" ১। আল্লাহ চেয়েছিলেন যে এই সংস্করণটি বর্তমান সময় পর্যন্ত বিলম্বিত হোক; তাই আমি এতে কিছু পরিমার্জন ও সংযোজন করেছি।

বই এবং এই সংস্করণ সম্পর্কে কিছু টীকা:

সম্ভবত নিম্নোক্ত টীকাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা যথাযথ হবে:

- এই সংস্করণে আমি বইটিতে কিছু পরিমার্জন, সংযোজন এবং উপস্থাপনার ক্রমে পরিবর্তন এনেছি। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে উদ্ধৃত পরিচ্ছেদটির উপস্থাপনা পদ্ধতিতে এর একটি বড় অংশ প্রভাব ফেলেছে। বইটির বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট মুসলিমদের কিছু সমসাময়িক উদ্ভূত পরিস্থিতির স্পষ্ট প্রভাব এই পরিমার্জনের ক্ষেত্রে ছিল। আমি আশা করি এই পরিবর্তন আরও উত্তম হয়েছে।

- পবিত্র কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমি মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকীর পদ্ধতি অনুসরণ করেছি; অর্থাৎ প্রথমে আয়াতের নম্বর বা আয়াতসমূহ, তারপর সূরার নাম এবং শেষে সূরার নম্বর উল্লেখের মাধ্যমে।

--------------------------------------------

১ ২৯: আত-তাকভীর: ৮১
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ১৪)
- حرصت أن أعتمد في كتابة الآيات على رسم المصحف الشريف، لكن لم يتيسر برنامجٌ على الحاسب الآلي يحقق هذا الغرض؛ فكتبتها بالرسم الإملائي الحديث.

- لم أستقصِ في تخريج الحديث، بل اكتفيت بما يؤدي الغرض مِن التخريج، فإذا كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما أغناني عن تتبع الحديث في المصادر الأخرى.

- ربما كان مِن المناسب الإشارة هنا إلى أنّ مجالات الأفكار والتطبيقات المنتقدة تشمل، في الأصل، المحاور التالية:

1- الخلل في مجال فهْم السنن.

2- الخلل في مجال التصوِّر لمفهوم التمسك بالكتاب والسنّة.

3- الخلل في مجال فهْم الخلافات الفقهية الفرعية.

4- الخلل في مجال فهْم العقيدة.

وقد خُصِّص الكلام في هذا الكتاب بالموضوعات الثلاثة الأُوَل.

- الهدف مِن هذا الموضوع هو ما حَدَّده عنوانه: دعوةٌ إلى السنّة في تطبيق السنّة، منهجاً وأسلوباً؛ ذلك لأنّ اتّباع السنّة لا يكفي أن يكون ظاهراً، حتى يكون ظاهراً وباطناً. ولقد رجوتُ أن يكون مثْل هذا العنوان شعاراً للمسلم في مجال تطبيق السنّة في هذا العصر.

- ربما كان هذا الكتاب في طبعته الأُولى أوّلَ كتابٍ يَعْرض هذه المشكلة في الفهم ويعالجها؛ إذْ لا أَعْلم كتاباً قبْله تعرَّض لها. ثم ظهرتْ بعض
- আয়াতসমূহ লেখার ক্ষেত্রে আমি পবিত্র মুসহাফের লিপিরীতির ওপর নির্ভর করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম, কিন্তু কম্পিউটারে এমন কোনো প্রোগ্রাম সহজলভ্য ছিল না যা এই উদ্দেশ্য পূরণ করে; তাই আমি সেগুলো আধুনিক বানানরীতিতে লিখেছি।

- হাদিসের তাখরিজের (উৎস নির্দেশ) ক্ষেত্রে আমি গভীর অনুসন্ধানের পথ অবলম্বন করিনি, বরং তাখরিজের উদ্দেশ্য সাধিত হয় এমনটুকুর ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি। সুতরাং হাদিসটি যদি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা এর যেকোনো একটিতে বর্ণিত থাকে, তবে তা আমাকে অন্যান্য উৎস থেকে হাদিসটি তালাশ করার শ্রম থেকে অমুখাপেক্ষী করেছে।

- এখানে এটি নির্দেশ করা সম্ভবত সমীচীন হবে যে, সমালোচিত চিন্তাধারা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রগুলো মূলত নিম্নোক্ত বিষয়াবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে:

১- সুন্নাত বা মহাজাগতিক রীতিসমূহ উপলব্ধির ক্ষেত্রে ত্রুটি।

২- কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার মূল স্বরূপ উপলব্ধির ক্ষেত্রে ত্রুটি।

৩- শাখা-প্রশাখাগত ফিকহি মতভেদগুলো বোঝার ক্ষেত্রে ত্রুটি।

৪- আকীদা বা বিশ্বাস বোঝার ক্ষেত্রে ত্রুটি।

এই বইয়ে আলোচনা মূলত প্রথম তিনটি বিষয়ের ওপর নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

- এই বিষয়ের লক্ষ্য তা-ই যা এর শিরোনাম দ্বারা নির্ধারিত হয়েছে: সুন্নাহর প্রয়োগের ক্ষেত্রে পদ্ধতি ও পন্থায় সুন্নাহর দিকেই আহ্বান; কারণ সুন্নাহর অনুসরণ কেবল বাহ্যিকভাবে হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং একে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয়ভাবে হতে হবে। আমি আশা করেছি যে, বর্তমান যুগে সুন্নাহর প্রয়োগের ক্ষেত্রে এই শিরোনামটি একজন মুসলিমের মূলমন্ত্র হবে।

- সম্ভবত এই বইটি এর প্রথম সংস্করণে উপলব্ধির এই সমস্যাটি উপস্থাপন ও তার প্রতিকার করার ক্ষেত্রে প্রথম গ্রন্থ; কেননা আমার জানামতে এর আগে অন্য কোনো গ্রন্থ এ বিষয়ে আলোকপাত করেনি। এরপর কিছু
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ১৫)
الكتابات في الموضوع، وعالجتْه معالجةً جادّةً، مثل: رسالة الشيخ بكر أبو زيد، بعنوان: حَدُّ الثّوب والأُزرة وتحريم الإسبال ولباس الشُّهرة، وكتاب د. يوسف القرضاوي، بعنوان: الصحوة الإسلامية بين الاختلاف المشروع والتفرق المذموم، دراسةٌ في فقه الاختلاف في ضوء النصوص والمقاصد الشرعية، وسِواهما مما اطلعت على بعضه؛ فأفدتُ في هذه الطبعة مما اطّلعتُ عليه مِن هذه الكتابات، وأشرتُ إليه في الكتاب.

- في هذه الفترة تُرجم الكتاب إلى اللغة الانجليزية عن طبعته الأُولى، وقد اشترك في ترجمته عددٌ مِن الإخوة الأساتذة الفضلاء؛ حيث ترجمه أوّلاً د. عبد اللطيف الصعيدي، وراجعه د. عطا طه زيدان، ثم جدّتْ أمورٌ اقتضت إعادة النظر؛ فقام شقيقي د. عطاالله بن ضيف الله الرحيلي، والأستاذ غالب بن أحمد المصري بهذا المجهود، وأعادا صياغة بعض موضوعات الكتاب، وبذلا وقتاً وجهداً ليس مِن السهل تصوُّرُهُ، واجتهدا أن تَخْرج الترجمة في صورةٍ مثالية، جزاهم الله جميعاً خيراً، وتقبَّل منهم.

إشارة إلى شيءٍ مِن تاريخ فكرة الكتاب:

تأَخّرُ الطبعة الثانية هذا قد وافق بعضَ الظواهر المستجدة في المجتمعات الإسلامية؛ فلقد كان طرْقُ هذا الموضوع عند بداية ظهور تلك الأخطاء المنتقَدة في المحاضرة -التي هي أصْل هذا الكتاب-وفي هذا الكتاب مِن بَعْدها، إذْ كانت تلك البداية للأخطاء المعنية هي السبب في طرْق الموضوع، دون تسميةٍ أو تخصيصٍ لأحدٍ مِن الواقِعِين فيها. وكانت هذه البدايات في أول
এই বিষয়ের ওপর লিখিত রচনাবলি, যা বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে, যেমন: শায়খ বকর আবু যাইদের পুস্তিকা, যার শিরোনাম: ‘কাপড় ও লুঙ্গির সীমা এবং টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরা হারাম হওয়া ও প্রসিদ্ধি অর্জনের পোশাক’, এবং ড. ইউসুফ আল-কারজাভীর বই, যার শিরোনাম: ‘বৈধ মতভেদ ও নিন্দনীয় বিভক্তির মাঝে ইসলামী জাগরণ: শরয়ি দলীল ও উদ্দেশ্যের আলোকে মতভেদের ফিকহ বিষয়ক একটি গবেষণা’, এ ছাড়াও অন্যান্য যা কিছু আমি দেখেছি; আমি এই সংস্করণে সেই সব লেখা থেকে যা কিছু অবগত হয়েছি তা থেকে উপকৃত হয়েছি এবং বইটিতে সেদিকে ইঙ্গিত করেছি।

- এই সময়ের মধ্যে বইটি এর প্রথম সংস্করণ থেকে ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এর অনুবাদে বেশ কয়েকজন সম্মানিত শিক্ষক ভাই অংশগ্রহণ করেছেন; যেখানে প্রথমে ড. আব্দুল লতিফ আল-সাঈদী এটি অনুবাদ করেন এবং ড. আতা তাহা যাইদান তা পর্যালোচনা করেন। এরপর এমন কিছু বিষয় দেখা দেয় যা পুনঃনিরীক্ষার দাবি রাখে; তখন আমার ভ্রাতা ড. আতাউল্লাহ বিন দাইফউল্লাহ আল-রুহাইলী এবং উস্তাদ গালিব বিন আহমাদ আল-মিসরী এই শ্রমসাধ্য কাজটি আঞ্জাম দেন। তাঁরা বইটির কিছু বিষয়ের বর্ণনাভঙ্গি নতুন করে সাজিয়েছেন এবং এমন সময় ও শ্রম ব্যয় করেছেন যা কল্পনা করা সহজ নয়। তাঁরা অনুবাদটিকে একটি আদর্শ রূপ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। আল্লাহ তাঁদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।

বইটির ধারণার ইতিহাসের প্রতি কিছুটা ইঙ্গিত:

দ্বিতীয় সংস্করণের এই বিলম্ব মুসলিম সমাজে কিছু নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির সাথে মিলে গেছে। এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল লেকচারে সেই সব সমালোচিত ভুলত্রুটির প্রকাশলগ্নে—যা এই বইটির মূল ভিত্তি—এবং পরবর্তীকালে এই বইতেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। কেননা উল্লিখিত ভুলত্রুটিগুলোর সেই শুরুটাই ছিল এই বিষয়ে আলোচনার কারণ, তবে এতে লিপ্ত ব্যক্তিদের কাউকে নাম ধরে বা নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করা হয়নি। আর এই শুরুটা হয়েছিল প্রথম...
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ১৬)
عام 1407هـ تقريباً، أي قبل إلقاء المحاضرة بنحوِ عام. وما كنتُ أتصوّر أن يكون لهذه الظواهر مستقْبَلٌ أو مستقْبِلٌ، وما كنت أتصوّر أن تَبْلغ هذه الظواهر المخطئة الخاطئة ما بلغتْه اليوم في مجتمعات المسلمين؛ لأن الانحراف فيها عن نصوص الدين وهدْيه وفطرة الله التي فطر الناس عليها واضحٌ كل الوضوح؛ ونصوصُ الدين وهدْيه وفطرةُ الله، كلها، لا تَقبلُ مثل هذا الْمَيل؛ ولكن سرعان ما رأى الناس كيف يفاجَئون-منذ ذلك الوقت-كل يومٍ بمفاجأةٍ أو بغريبةٍ مِن الغرائب التي تُعْرَض عليهم على أنها سنّةٌ لا خيار لهم في قبولها والأخذ بها!.

ولم يكن مِن ثمار هذا عند بعض الناس الرجوع إلى السنّة، ولكن العكس، ولم يكن مِن الثمار اجتماع المسلمين، ولكن تَفرُّقهم، ولم يكن مِن الثمار الألفةَ والمحبةَ بينهم، بل العكس!.

ورأينا في الناس:

- مَن يُسْرع إلى الغلوِّ في نقْد الآخرين، مع تجاهلٍ لنقْد الذات.

- ومَن يتجشّمُ الكلام على ما في طويات الآخرين، ويُسارِع إلى الحكم عليهم بإصدار التهم؛ نصْرةً للدين واتّباعاً للكتاب والسنّة بزعمه.

- ومَن يُوالي ويعادي إخوانه المسلمين على فروع الأحكام الشرعيّة.

- ومَن يميل إلى الظاهريّة في فهم الدين ونصوصه.

- ومَن يأخذ بمذهب الخوارج عمليّاً في بعض المسائل، ويُحكِّمه في فهمه للإسلام، وفي إخوانه المسلمين، ولو تبرَّأَ منه بلسانه.
আনুমানিক ১৪০৭ হিজরি সাল, অর্থাৎ বক্তৃতাটি দেওয়ার প্রায় এক বছর আগে। আমি কল্পনাও করিনি যে এই ধরণের প্রবণতাগুলোর কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে বা কেউ এগুলো গ্রহণ করবে। আমি কল্পনাও করতে পারিনি যে এই ভ্রান্ত ও ভুল প্রবণতাগুলো বর্তমান মুসলিম সমাজে আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেখানে পৌঁছাতে পারবে; কেননা এগুলোর মধ্যে দ্বীনের অকাট্য দলিল (নুসুস), এর হেদায়েত এবং আল্লাহর সেই স্বভাবজাত প্রকৃতি (ফিতরাত) থেকে বিচ্যুতি সম্পূর্ণ স্পষ্ট, যে ফিতরাতের ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আর দ্বীনের অকাট্য দলিল, এর হেদায়েত এবং আল্লাহর ফিতরাত—এর কোনোটিই এই ধরণের বিচ্যুতি গ্রহণ করে না। কিন্তু শীঘ্রই মানুষ দেখল যে, সেই সময় থেকেই তারা প্রতিদিন কীভাবে নতুন নতুন বিস্ময়কর বা অদ্ভুত সব বিষয়ের মুখোমুখি হচ্ছে, যা তাদের সামনে এমন সুন্নাহ হিসেবে পেশ করা হচ্ছে যা গ্রহণ করা ও মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই!

কিছু মানুষের কাছে এর ফলাফল সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন ছিল না, বরং ছিল তার উল্টো। এর ফলাফল মুসলমানদের ঐক্য ছিল না, বরং ছিল তাদের বিভক্তি। এর ফলাফল তাদের মাঝে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা ছিল না, বরং ছিল এর বিপরীত!

আমরা মানুষের মাঝে দেখেছি:

- এমন ব্যক্তিদের, যারা আত্ম-সমালোচাকে উপেক্ষা করে অন্যদের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বনে তড়িঘড়ি করে।

- এমন ব্যক্তিদের, যারা অন্যদের মনের গোপন উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলার দুঃসাহস দেখায় এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ফয়সালা দিতে তাড়াহুড়ো করে; তার ধারণা মতে দ্বীনের সাহায্য এবং কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণের দোহাই দিয়ে।

- এমন ব্যক্তিদের, যারা শরয়ি বিধানের গৌণ বিষয়াদি (ফুরু) নিয়ে তাদের মুসলিম ভাইদের সাথে বন্ধুত্ব বা শত্রুতা পোষণ করে।

- এমন ব্যক্তিদের, যারা দ্বীন এবং এর অকাট্য দলিলসমূহ বোঝার ক্ষেত্রে বাহ্যিকবাদের (জাহিরিয়্যাত) দিকে ঝুঁকে পড়ে।

- এমন ব্যক্তিদের, যারা কিছু মাসআলায় কার্যত খাওয়ারিজদের মতবাদ গ্রহণ করে এবং ইসলাম বোঝার ক্ষেত্রে ও মুসলিম ভাইদের ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করে, যদিও মুখে সে তা থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করে।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ১৭)
- ومَن أحلّ محل المودّة والأُخوّة الإيمانية الحقدَ والبغضاء والكراهية الدينية!.

- ولقد رأينا في التاريخ، وسنرى في الحاضر كيف تكون نهاية أصحاب المناهج المخالفة لمنهج أهل السنّة والجماعة، تلك المناهج التي تميل إلى التشديد والتضييق في غير موضعهما، حيث يَتنكّب أولئك -ولو بعد حين- ما تُنادي به مناهجهم مِن أفكارٍ تُخالف هدْي هذا الدين ومنهج أهل السنّة والجماعة، والغالب أن ينقسموا على أنفسهم، ويتحزبوا فيما بينهم-فضلاً عن مَن سواهم-ويَحْكموا على أنفسهم بالفشل والبعد عن هدي الدين في هذا الباب؛ فلا يَسْلمون في أيّ شعارٍ جاءوا به مخالفاً لمنهج أهل السنّة والجماعة؛ فيقعون في ما يَتَّهمون غيرهم بالبعد عنه، والغالب أن تراهم يُفَرِّقون مِن حيث يُنادُون بعدم التفرّق، ويتحزبون مِن حيث يَدْعون إلى عدم التحزب؛ وهذه سنّة الله في هذه المناهج، والتاريخ شاهدٌ، وسيكون الحاضر والمستقبَل شاهدَيْن أيضاً؛ فأين المعتبِرِون!.

وكان تعمُّقُ تلك الظواهر في مجتمعات المسلمين يؤكِّد الحاجة إلى هذا الموضوع بهذه الوجهة وهذه الدعوة إلى السنّة وفق هدْي السنّة منهجاً وأسلوباً.

وكم جاء المؤلِّفَ مِن رسالةٍ وشكرٍ على هذا المؤلَّف، وتفاعلَ معه فريقان من الناس: الأول: المؤيد للفكرة الْمُشِيد بها، الذي يقول: لو فَهِم الناس الإسلام على هذا النحو مِن الفهم لما كانت هناك حاجةٌ إلى تلك الأفهام المخطئة وتلك المسالك الملتوية في فهم السنّة، وفي تطبيقها، وفي الدعوة إليها. الثاني: المعارِض الذي رأى أنّ مثل هذه الدعوة شرٌّ على الإسلام والمسلمين؛
এবং যে ব্যক্তি ঈমানী মহব্বত ও ভ্রাতৃত্বের স্থানে বিদ্বেষ, ঘৃণা ও ধর্মীয় শত্রুতায় লিপ্ত হলো!

এবং আমরা ইতিহাসে দেখেছি এবং বর্তমানেও দেখব যে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানহাজের বিপরীত পথ অবলম্বনকারীদের পরিণতি কেমন হয়; সেই সব মানহাজ যা অনুপযুক্ত ক্ষেত্রে কঠোরতা ও সংকীর্ণতার দিকে ঝুঁকে পড়ে, যার ফলে তারা—কিছুকাল পরেই হোক না কেন—তাদের সেই সব মানহাজের মাধ্যমে যে সকল চিন্তার প্রচার করে যা এই দ্বীনের হেদায়াত এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানহাজের পরিপন্থী, তা থেকে তারা বিচ্যুত হয়ে পড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা নিজেদের মধ্যেই বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং নিজেদের মধ্যে দলাদলিতে লিপ্ত হয়—অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য—এবং এই বিষয়ে তারা দ্বীনের হেদায়াত থেকে দূরে সরে যাওয়া ও ব্যর্থতার রায় নিজেদের ওপরই কার্যকর করে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানহাজ বিরোধী তারা যে শ্লোগানই নিয়ে আসুক না কেন, তারা তা থেকে রেহাই পায় না; বরং তারা অন্যদেরকে যে বিচ্যুতিতে অভিযুক্ত করে, নিজেরাই তাতে নিপতিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা যেখানে অনৈক্য পরিহারের ডাক দেয় সেখান থেকেই তারা বিভেদ সৃষ্টি করে, এবং যেখানে দলাদলি না করার আহ্বান জানায় সেখানেই তারা দলাদলিতে লিপ্ত হয়। এই সব মানহাজের ক্ষেত্রে এটিই আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম; ইতিহাস এর সাক্ষী এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎও এর সাক্ষী হয়ে থাকবে। অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কোথায়!

মুসলিম সমাজে এই সব পরিস্থিতির গভীরতা বৃদ্ধি এই বিষয়ের প্রয়োজনীয়তাকে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং সুন্নাহর হেদায়াত অনুযায়ী মানহাজ ও পদ্ধতিগতভাবে সুন্নাহর প্রতি এই দাওয়াতের গুরুত্বকে সুনিশ্চিত করেছে।

এই রচনার জন্য লেখকের কাছে কতশত পত্র ও কৃতজ্ঞতা এসেছে! আর মানুষের দুটি দল এর প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে: প্রথম দল: এই চিন্তাধারার সমর্থক ও প্রশংসাকারী, যারা বলে: মানুষ যদি ইসলামকে এভাবে বুঝত, তবে সুন্নাহ অনুধাবন, এর প্রয়োগ এবং এর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সেই সব ভ্রান্ত বুঝ ও বক্র পথের কোনো প্রয়োজন থাকত না। দ্বিতীয় দল: বিরোধী পক্ষ, যারা মনে করে যে, এই ধরণের দাওয়াত ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য অকল্যাণকর;
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ১৮)
فأَخذَ يناجِزُ مثل هذه الأفكار، ويُنَبِّهُ على ما فيها-في نظره- مِن الأخطار! 1،

وهمْ قلةٌ مِن الناس.

--------------------------------------------

1 وأَذكُرُ أن هذا الصنف مِن الإخوة قد أشاع الشائعات، وأَطلق الدعاوى، منذ أن سمع المحاضرة، أو سمِعَ عنها!. وحجبتُ شريط المحاضرة عن الناس أوّلَ الأمر، لنحوِ أُسبوعٍ اختباراً لمصداقيّة هذه الأقاويل، وبعد أن سَمِعتُ ما سمعتُ مِن ذلك وعجبتُ له أشدّ العَجب، وتأكد لي كيف يكون الخطأ مِن بعض الناس في هذا الباب نَشرْتُ شريط المحاضرة، وعندها انكشفت الحقيقة لكثيرٍ مِن الناس، وكنتُ قد علّقتُ-بعد ذلك-في نهاية شريط المحاضرة التعليق التالي-وأنقله لما فيه مِن تصويرٍ لتاريخ الكتاب وفكرته ومعاناتها وأُسلوب الدعوة إليها-: وبعد أن انتهت هذه المحاضرة فيطيب لي أن أدعو الإخوة الفضلاء الذين انبروا لنقد المحاضرة والمحاضر، ليس من خلال كلمات المحاضرة، ولكن من خلال تحريف كلماتها ومن خلال ظن السوء بالمحاضر في نيّته وقصده، وأَنا ألتمس لهم العذر -من باب إحساني الظن بهم- فلعلّ عذرَهم أنهم لم يقصدوا الإساءة، ولم يقصدوا الاختلاق على أخٍ مسلم، ولكن ربما تكون غيرتهم الطيبة قد حملتهم على هذا التصرف دون أن ينتبهوا لخطئهم الفادح في حق السنة، وليس في حق الأشخاص. بعد كل هذه المحاضرة لقد قالوا: هزأ المحاضر بالسنة وبأصحاب السنة، هكذا قالوا. ولعل هذا مما يؤكد وجودَ بعض المسالك المخطئة التي أشارت إليها المحاضرة، ومما يؤكد كذلك الأخذ بما دعت إليه المحاضرة من الهدي النبوي في تطبيق السنة والدعوة إليها وفقهها.

ولا يليق بنا أن نمرّر أخطاءنا فندعوَ إليها ضمن الدعوة إلى السنة.

ولا ينبغي لنا أن لا نغار على السنة من أنفسنا.

ولا ينبغي لنا كذلك- في تصورنا للإسلام- أن نكَبِّر الأمور الصغيرة، وننسى الأمور الكبيرة.

ولا ينبغي أن يخدعنا الشيطان بالدفاع عن أنفسنا باسم الدفاع عن السنة -ونحن لا نشعر-.

والمرء حسيب نفسه، وغداً حسيبه ربه عز وجل، ولا ينفعه قريب ولا بعيد، ولا موافق ولا مخالف.

وما كان السلف الصالح يَشْعرُ أحدُهم في دعوته للسنة أنه هو الوصيّ الوحيد عليها ومَن عداه من المسلمين متَّهَم عليها؛ فيردُّ كل ما يأتيه عنه مما لم يدركه هو في فقه السنة. =

=أخي هذه هي المحاضرة فانقدْها من خلال نصّها، إن أردت النقد بمعنى النصيحة، وانقد نفسك إن كنت ممن تسرّع فوقع فيما أشرتُ إليه من قبل، {بَلِ الإنسَانُ عَلَى نفْسِهِ بصيرةٌ وَلَو أَلْقَى معَاذيرَهُ} ، وليتنا نَكِلُ نيّات الناس إلى عالمها عز وجل ونَدَع الظن لأنه أكذب الحديث، على ما أخبر به صلى الله عليه وسلم.

وعسى أن يكون في هذا درس لنا جميعاً، والله الموفق، وهو أعلم بمن اتقى.
সুতরাং তিনি এই ধরণের চিন্তাগুলোর মোকাবেলা করতে শুরু করলেন এবং তার দৃষ্টিতে এগুলোর মধ্যে যে বিপদ রয়েছে সে সম্পর্কে সতর্ক করলেন! ১,

আর তারা মানুষের মাঝে সংখ্যালঘু।

--------------------------------------------

১ আমি স্মরণ করছি যে, এক শ্রেণির ভাইয়েরা সেই আলোচনাটি শোনার পর থেকে, বা এটি সম্পর্কে শোনার পর থেকে নানা গুজব ছড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেছেন! আমি এই কথাগুলোর সত্যতা যাচাই করার জন্য আলোচনার রেকর্ডটি শুরুর দিকে প্রায় এক সপ্তাহ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলাম। এরপর আমি যা শোনার শুনলাম এবং তাতে চরমভাবে বিস্মিত হলাম। যখন আমার নিকট নিশ্চিত হলো যে, এই বিষয়ে কিছু মানুষ কীভাবে ভুল করে, তখন আমি আলোচনার রেকর্ডটি প্রচার করলাম। আর তখন বহু মানুষের কাছে সত্য উন্মোচিত হলো। এরপর আমি আলোচনার রেকর্ডের শেষে নিম্নোক্ত মন্তব্যটি যুক্ত করেছিলাম—যা আমি এখানে উদ্ধৃত করছি এই কারণে যে, এতে এই বইটির ইতিহাস, এর মূল চিন্তা, এর কষ্টসাধ্য যাত্রা এবং এর দাওয়াতের পদ্ধতির একটি চিত্র ফুটে উঠেছে—: আর এই আলোচনা শেষ হওয়ার পর, আমি সেইসব গুণী ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যারা আলোচনা ও আলোচকের সমালোচনা করতে মেতে উঠেছিলেন—আলোচনার শব্দের ভিত্তিতে নয়, বরং এর শব্দ বিকৃত করে এবং আলোচকের নিয়ত ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করার মাধ্যমে। আমি তাদের প্রতি সুধারণা পোষণের জায়গা থেকে তাদের ওজর তালাশ করছি; হতে পারে তাদের ওজর এই যে, তারা কোনো অপকার করতে চাননি এবং একজন মুসলিম ভাইয়ের ওপর মিথ্যারোপ করতেও চাননি। বরং সম্ভবত তাদের উত্তম আত্মমর্যাদাবোধই তাদের এই আচরণের দিকে ধাবিত করেছে, অথচ তারা সুন্নাহর হকের ক্ষেত্রে তাদের চরম ভুলের ব্যাপারে সজাগ ছিলেন না, যা নিছক কোনো ব্যক্তির হকের বিষয় ছিল না। এত দীর্ঘ আলোচনার পর তারা বলেছিলেন: 'আলোচক সুন্নাহ এবং সুন্নাহর অনুসারীদের উপহাস করেছেন', তারা এমনই বলেছিলেন। সম্ভবত এটিই সেই ভুল পথগুলোর অস্তিত্বকে নিশ্চিত করে যার দিকে আলোচনায় ইঙ্গিত করা হয়েছে, এবং এটি সুন্নাহ প্রয়োগ, এর দাওয়াত এবং এর বুঝের ক্ষেত্রে আলোচনাটি যে নববী নির্দেশনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তা গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তাকেও নিশ্চিত করে।

আমাদের জন্য এটি শোভনীয় নয় যে, আমরা নিজেদের ভুলগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে সুন্নাহর দিকে দাওয়াতের আড়ালে সেগুলোর দিকেও দাওয়াত দেব।

আমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে সুন্নাহর ব্যাপারে আত্মমর্যাদাবোধ না থাকা আমাদের জন্য সমীচীন নয়।

ইসলাম সম্পর্কে আমাদের ধারণায় ছোট বিষয়গুলোকে বড় করে দেখা এবং বড় বিষয়গুলোকে ভুলে যাওয়াও আমাদের জন্য সমীচীন নয়।

আমরা বুঝতেও পারছি না এমন অবস্থায় সুন্নাহ রক্ষার নামে নিজেদের রক্ষা করার মাধ্যমে শয়তান যেন আমাদের ধোঁকা না দেয়, তাও হওয়া উচিত নয়।

প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের হিসাব নিজেই দানকারী, আর আগামীকাল তার মহান রব তার হিসাব গ্রহণ করবেন। সেদিন কোনো নিকটজন বা দূরবর্তী ব্যক্তি, কিংবা কোনো একমত হওয়া ব্যক্তি বা বিরোধিতাকারী তার উপকারে আসবে না।

সালাফে সালেহীনদের কেউ সুন্নাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার সময় এমন মনে করতেন না যে, তিনিই এর একমাত্র অভিভাবক এবং তিনি ছাড়া অন্য সব মুসলিম এর ব্যাপারে অভিযুক্ত; ফলে তিনি সুন্নাহর বুঝের মধ্যে যা নিজে উপলব্ধি করতে পারেননি, তার কাছে আসা এমন সব কিছুকেই তিনি প্রত্যাখ্যান করবেন। =

=ভাই আমার, এই হলো সেই আলোচনা; সুতরাং আপনি যদি নসিহতের উদ্দেশ্যে সমালোচনা করতে চান, তবে এর মূল পাঠের আলোকেই সমালোচনা করুন। আর আপনি যদি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন যারা তাড়াহুড়ো করে আমি যা আগে উল্লেখ করেছি তার মধ্যে পতিত হয়েছেন, তবে নিজের সমালোচনা করুন। "বরং মানুষ নিজেই নিজের সম্পর্কে সম্যক অবগত, যদিও সে নানা ওজর পেশ করে", আর আমরা যদি মানুষের নিয়তসমূহকে তার মহাজ্ঞানী আল্লাহর নিকট সোপর্দ করতাম এবং কুধারণা বর্জন করতাম! কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমনটি জানিয়েছেন, তা হলো নিকৃষ্টতম মিথ্যা কথা।

আশা করা যায় এতে আমাদের সবার জন্য শিক্ষা রয়েছে। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং তিনি মুত্তাকীদের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ১৯)
منهج أهل السنّة والجماعة هو المنهج الحق:

والحقُّ أحقُّ أن يُتَّبع، والله غالبٌ على أمره، ولكن أكثر الناس لا يعلمون؛ وقد قضى الله سبحانه أنه ناصِرٌ دينَهُ وكتابَهُ وعباده المخلصين الدّاعين إلى ذلك. والميزان الحق الذي لا يَضِلّ ولا يميل، الذي يجب أن يُحَكَّم في الأفكار والتصورات والأعمال، بل وفي سرائر النفوس، هو كتاب الله تعالى، وقَصْدُ وجْهِ الله وحْده الذي لا إله إلا هو، ولا ربّ سواه.

ويَظَلُّ منهج تحكيم الكتاب والسنّة، وفْق منهج أهل السنّة والجماعة، هو المنهج الحقّ المعصوم، ويَظَلُّ هو طريق النجاة لمن أرادها، وبهذا المنهج نَدين الله تعالى، وإليه ندعو، سواء في هذا الكتاب أو غيره.

وفي أعلام الهدى من أئمة هذا المنهج مِن السلف الصالح -مِن الصحابة فمن بعدهم، ممن توفاه الله على الحق غير مفتون ولا منحرفٍ- بصائر ومُهتدى وقدوةٌ لمن أراد الحق خالصاً صافياً لم تكدّرْه مكدِّرات الحق ومكدِّرات الرجال في هذا العصر!.

ومسئولية الحفاظ على منهج أهل السنّة والجماعة مسئوليةٌ مشترِكةٌ بين
আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজই হলো সত্য মানহাজ:

আর সত্যই অনুসরণের অধিক যোগ্য, এবং আল্লাহ তাঁর কাজে প্রবল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না; আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ফয়সালা করে দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর দ্বীন, তাঁর কিতাব এবং তাঁর দিকে আহ্বানকারী একনিষ্ঠ বান্দাদের সাহায্যকারী। এবং সেই সত্য মানদণ্ড যা বিচ্যুত হয় না এবং হেলে পড়ে না, যা চিন্তা-চেতনা, কল্পনা ও আমল, এমনকি অন্তরের গোপন বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক, তা হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য, যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো রব নেই।

আর আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ অনুযায়ী কিতাব ও সুন্নাহকে ফয়সালাকারী হিসেবে মানার মানহাজটিই সত্য ও নির্ভুল মানহাজ হিসেবে অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং যে নাজাত চায় তার জন্য এটিই মুক্তির পথ হিসেবে বলবৎ থাকবে। আর আমরা এই মানহাজ অনুযায়ীই আল্লাহর ইবাদত করি এবং এই কিতাবে বা অন্য কোথাও—এই মানহাজের দিকেই আহ্বান করি।

আর এই মানহাজের ইমামদের মধ্য থেকে হিদায়াতের আলোকবর্তিকা স্বরূপ সালাফে সালেহীন—সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তীগণ, যাঁদের আল্লাহ সত্যের ওপর মৃত্যু দান করেছেন কোনো ফিতনায় পতিত হওয়া বা বিচ্যুত হওয়া ছাড়াই—তাঁদের মাঝে এমন অন্তর্দৃষ্টি, হিদায়াত এবং আদর্শ নিহিত রয়েছে ওই ব্যক্তির জন্য, যে এমন একনিষ্ঠ ও স্বচ্ছ সত্য চায় যা এই যুগের সত্যকে ঘোলাটেকারী বিষয়সমূহ এবং মানুষের মতবাদের পঙ্কিলতা দ্বারা কলুষিত হয়নি!

আর আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ হিফাযত করার দায়িত্ব হলো এমন একটি যৌথ দায়িত্ব যা...
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ২০)
المسلمين جميعاً، بمختلف مجالاتهم، وبمختلف درجات تمسّكهم؛ لأنّ هذا راجعٌ إلى واجبِ حفْظِ الدين؛ وهو ليس مقصوراً على أحدٍ دون أحدٍ مِن المسلمين، ولا على بلادٍ دون بلاد.

وأصول منهج أهل السنّة والجماعة أصولٌ مستقرّةٌ؛ فليس هو بحاجة إلى اجتهادات في أصوله وقواعده العامة؛ وإنما هو في حاجةٍ إلى تجديد تطبيق الأصول تلك على المستجدات في هذا العصر؛ لأنّ هذا هو مقتضى تفعيل هذا المنهج المعصوم في حياة الناس.

وهذا الكتاب يكْشف جانباً مِن هذا المنهج الحق في موضوع البحث.

علاج مشكلات المسلمين:

لقد أيقنتُ أن العلاج لمشكلاتنا نحن المسلمين يَكْمن في أمرين، هما:

الأول: الإخلاص لله تعالى. ومِن لازِم الإخلاص صِدْق الرغبة في معرفة الحق وفي اتّباعه. وقد كان السلف على هذه الصِّفَة؛ قال الشعبيُّ في مسألةٍ حَجَّهُ فيها المخالف له بالدليل: إني لأستحيي من الله إذا رأيت الحق أن لا أرجع إليه! 1.

الثاني: الفقه في الدين، والفقه في الدعوة. ومِن لازِمه معْرفة النصوص الشرعية، ومعرفة مقاصد الشريعة وقواعدها، والعناية بمجالات تطبيق منهج الإسلام على الحياة المعاصرة، وفهْم المشكلات على حقيقتها؛ ومِن ثَمَّ

--------------------------------------------

1 "فتح الباري بشرح صحيح البخاري": 9/463.
সকল মুসলিম, তাদের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র এবং আনুগত্যের বিভিন্ন স্তর নির্বিশেষে; কারণ এটি দীন সংরক্ষণের আবশ্যকীয় কর্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট; আর এটি কোনো বিশেষ মুসলিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, না কোনো বিশেষ ভূখণ্ডের মধ্যে।

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজের মূলনীতিসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত; সুতরাং এর মূলনীতি ও সাধারণ নিয়মাবলীতে নতুন কোনো ইজতিহাদের প্রয়োজন নেই; বরং প্রয়োজন হলো এই যুগে উদ্ভূত নতুন বিষয়াবলির ক্ষেত্রে সেই মূলনীতিসমূহের প্রয়োগকে নবায়ন করা; কারণ মানুষের জীবনে এই নির্ভুল মানহাজকে কার্যকর করার দাবি এটাই।

আর এই বইটি গবেষণার বিষয়ের আলোকে এই সত্য মানহাজের একটি দিক উন্মোচন করে।

মুসলিমদের সমস্যাবলির সমাধান:

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমরা মুসলিমদের সমস্যাবলির সমাধান দুটি বিষয়ের মধ্যে নিহিত, তা হলো:

প্রথমত: আল্লাহ তাআলার প্রতি ইখলাস বা নিষ্ঠা। আর ইখলাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো সত্যকে জানার এবং তা অনুসরণ করার ঐকান্তিক আকাঙ্ক্ষা। সালাফে সালেহীন এই গুণাবলির ওপরই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন; ইমাম শাবি এমন একটি মাসআলার ক্ষেত্রে বলেছিলেন যেখানে তার বিরোধী পক্ষ দলিলের মাধ্যমে তাকে নিরুত্তর করেছিলেন: "আমি আল্লাহর নিকট লজ্জাবোধ করি যদি আমি সত্যকে দেখার পর তার দিকে ফিরে না আসি!" ১।

দ্বিতীয়ত: দীনের সম্যক জ্ঞান (ফিকহ) এবং দাওয়াতের সম্যক জ্ঞান। আর এর অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হলো শরয়ি দলিলের জ্ঞান, শরিয়তের উদ্দেশ্য ও মূলনীতিসমূহের জ্ঞান, সমকালীন জীবনে ইসলামের মানহাজ প্রয়োগের ক্ষেত্রগুলোর প্রতি গুরুত্ব প্রদান এবং সমস্যাবলিকে তাদের প্রকৃত রূপে অনুধাবন করা; এবং অতঃপর...

--------------------------------------------

১ "ফাতহুল বারী বিশরহ সহীহ আল-বুখারী": ৯/৪৬৩।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ২১)
عرْضها على نصوص الشرع وقواعده.

فمتى ما توافر هذان الأمران فينا كان الحل لمشكلاتنا، ومتى ما تخلَّف فينا هذان الأمران، أو أحدهما، كانت المشكلات التي لا تنتهي إلا بالعودة إلى هذا العلاج1. وهذا الكتاب يأخذ بيد القاريء الكريم إلى تحقيق شيءٍ من هذا الهدف العزيز. نسأل الله سبحانه أن يُصْلح القلوب والأعمال ويُحقّق الآمال.

ولأخلاق الإسلام في هذا الباب، مكانها الذي لا يُغْني عنه سواه؛ فلا يُمْكن نشْر الإسلام بغير أخلاق الإسلام بحالٍ؛ فما أحوج المسلمين إلى أن يترسموا هدْي الإسلام في الدعوة إلى الإسلام.

وهذا الكتاب يُنَبِّهُ إلى جوانب مِن هذا العلاج.

وما أحوجنا إلى الصدق: صدْق الباطن، وصدْق الظاهر، صدْق القول وصدْق العمل؛ ثم بعْد ذلك سوف يكون حالنا دعوةً للآخرين قبل مقالنا، ويَصْدق في حقنا قول القائل:

سِرُّ الفصاحة كامنٌ في المعدنِ

لِخَصَائصِ الأرواح لا للأَلْسُنِ!

فيستجيب المدعوّ بجهدٍ أقل، ويُقْبِل بقناعةٍ أكثر.

ولقد صَدَق من قال:

--------------------------------------------

1 يُنْظر إيضاح هذه الفكرة في: "منهج الدعوة في الكتاب والسنّة"، في موضوعَيْ: "الإخلاص … "، و"الفقه في الدين والفقه في الدعوة … "، للمؤلف.
শরীয়তের দলিলসমূহ এবং এর মূলনীতিসমূহের সামনে তা পেশ করা।

সুতরাং যখনই আমাদের মাঝে এই দুটি বিষয় বিদ্যমান থাকবে, তখনই আমাদের সমস্যাবলির সমাধান হবে। আর যখনই আমাদের মধ্য থেকে এই দুটি বিষয় অথবা এ দুটির কোনো একটি অনুপস্থিত থাকবে, তখনই এমন সব সমস্যা সৃষ্টি হবে যা এই প্রতিকারের কাছে ফিরে আসা ব্যতীত শেষ হবে না১। আর এই গ্রন্থটি সম্মানিত পাঠককে এই মহান লক্ষ্যের কিছুটা অর্জনে সহায়তা করবে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি অন্তর ও আমলসমূহ সংশোধন করে দেন এবং আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো পূরণ করেন।

আর এ ক্ষেত্রে ইসলামের আখলাকের (চরিত্রের) এমন এক স্থান রয়েছে যা অন্য কোনো কিছু দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়; কোনো অবস্থাতেই ইসলামের আখলাক ব্যতিরেকে ইসলাম প্রচার করা সম্ভব নয়। সুতরাং মুসলমানদের জন্য ইসলামের দাওয়াতের ক্ষেত্রে ইসলামের হিদায়াত বা দিকনির্দেশনা অনুসরণ করা কতই না জরুরি!

আর এই গ্রন্থটি এই প্রতিকারের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সচেতন করে।

আর আমাদের জন্য সত্যবাদিতার কতই না প্রয়োজন: অন্তরের সত্যবাদিতা, বাহ্যিক সত্যবাদিতা, কথার সত্যবাদিতা এবং কাজের সত্যবাদিতা। এরপর আমাদের অবস্থাই আমাদের কথার আগেই অন্যের জন্য দাওয়াত স্বরূপ হবে, এবং আমাদের ক্ষেত্রে এই প্রবচনটি সত্য হবে:

সাবলীলতার রহস্য নিহিত রয়েছে মূলে (উৎসে),

যা আত্মার বৈশিষ্ট্যের কারণে, রসনার কারণে নয়!

ফলে যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে সে অল্প পরিশ্রমেই সাড়া দেবে এবং অধিক সন্তুষ্টির সাথে এগিয়ে আসবে।

আর যিনি বলেছেন তিনি সত্যই বলেছেন:

--------------------------------------------

১ এই ধারণার ব্যাখ্যা দেখুন লেখকের: "মানহাজুদ দাওয়াহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ" (কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দাওয়াতের পদ্ধতি) গ্রন্থের "নিষ্ঠা (ইখলাস) … " এবং "দ্বীনের ফিকহ ও দাওয়াতের ফিকহ … " নামক বিষয় দুটিতে।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ২২)
وما يَنْفَعُ الإِعرابُ إنْ لم يكن تُقَى

وما ضَرَّ ذا تقوى لسانٌ مُعْجَمُ؟!

وإنْ كانت العُجْمةُ عيباً يضره في جوانب أُخرى، لكنه لا يضرّه في تقواه.

هذا، وعلى الرغم مِن ازدحام الأفكار هنا إلا أنني أوثرُ أن أَدَعَ القاريء الكريم مع الكتاب علّه يَجِد فيه ما أردتُه مِن الخير وتوضيحِ منْهجٍ سديدٍ في موضوع الكتاب.

ولايفوتني في الختام أن أشكر كلَّ مَن قدّمَ النصيحة في قليل أو كثير تجاه هذا الكتاب، وأسأل الله تعالى أن يجزي أولئك الإخوة الفضلاء خير الجزاء، ومنهم الذين قرءوا تجربة طبع الكتاب، وسِواهم كثير، ولئن لم أذكرْهم في هذا الموضع-لأسبابٍ، منها: عدم رضا بعضهم بذلك، ابتعاداً عن الشهرة أو الرياء، وفّقهم الله-فإني أرجو أن تكون ملائكة الرحمن قد أثبتتهم في سجلاتها فيمن ذبّ عن الإسلام ودعا إلى هداه على الوجه المقبول عند الله تعالى.

وسبحانك اللهم وبحمدك، أشهد أن لا إله إلا أنت، أستغفرك وأتوب إليك. وصلى الله على نبيه وعبده محمد بن عبد الله وعلى آله وأصحابه ومَن والاه.

وكَتَبَ:

عبد الله بن ضيف الله الرحيلي
ব্যাকরণিক বিশুদ্ধতা কী উপকারে আসবে যদি তাকওয়া না থাকে?

আর যে তাকওয়ার অধিকারী, অনারব ভাষা তার কী ক্ষতি করতে পারে?!

যদিও অনারবতা বা ভাষাগত জড়তা এমন একটি ত্রুটি যা অন্য দিক থেকে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, কিন্তু তার তাকওয়ার ক্ষেত্রে তা কোনো ক্ষতি করে না।

আর এ অবস্থায়, এখানে প্রচুর চিন্তার ভিড় থাকা সত্ত্বেও আমি সম্মানিত পাঠককে কিতাবটির সাথেই ছেড়ে দেওয়া শ্রেয় মনে করছি; যেন তিনি এতে আমি যে কল্যাণের ইচ্ছা পোষণ করেছি এবং কিতাবের বিষয়ের ওপর একটি সঠিক মানহাজ বা পদ্ধতির স্পষ্টীকরণ চেয়েছি, তা খুঁজে পান।

পরিশেষে এই কিতাব সম্পর্কে যারা সামান্য বা অধিক পরামর্শ প্রদান করেছেন, তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে আমি ভুলছি না। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি সেই সকল গুণী ভাইদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। তাদের মধ্যে যারা কিতাবটির মুদ্রণ সংস্করণ পাঠ করেছেন এবং এ ছাড়া আরও অনেকে রয়েছেন। কোনো কোনো কারণে এই স্থানে আমি তাদের নাম উল্লেখ না করলেও—যেমন তাদের কেউ কেউ খ্যাতি বা রিয়া থেকে দূরে থাকার জন্য তা পছন্দ করেননি, আল্লাহ তাদের তাওফিক দান করুন—তবে আমি আশা করি যে, দয়াময় আল্লাহর ফেরেশতারা তাঁদের সেই নথিপত্রগুলোতে লিপিবদ্ধ করেছেন যারা ইসলামের প্রতিরক্ষা করেছে এবং আল্লাহ তাআলার নিকট গ্রহণযোগ্য পন্থায় তাঁর হেদায়াতের দিকে আহ্বান জানিয়েছে।

হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র এবং সকল প্রশংসা আপনারই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনারই নিকট তওবা করছি। আর আল্লাহর নবী ও তাঁর বান্দা মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও যারা তাঁদের অনুসরণ করেছে, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

লিখেছেন:

আবদুল্লাহ ইবন দাইফুল্লাহ আর-রুহায়লী
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المبحث الأول: تمهيد

‌‌بين يدي الموضوع

…

بين يدي الموضوع

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلاّ الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.

أما بعد:

فإن موضوع: "الدعوة إلى السنّة في تطبيق السنّة، منهجاً وأسلوباً" موضوع خطير جليل، والأصل أن يتصدَّى للحديث فيه من توافرت لديه الأهلية عِلْماً وعملاً، ولكن قد ينطلق المرء في حديثه من منطلق الشعور بالواجب وليس من منطلق الشعور بالأهلية، وذلك لما يراه من الحاجة الداعية للتصدِّى لمثل هذا الموضوع، وَمَنْ عدِم الماء تيمم بالتراب، فلستُ أتوهّم أنني طبيب معافى تعيّن عليه أن يتطبب في الناس، بل لم أظن ذلك، فلست أعلمَ منك أيها الأخ القارئ، ولا بالأكثر غَيْرة على سنّة المصطفى صلى الله عليه وسلم، وما هذه الكلمات إلا ذكرى، والذكرى تنفع المؤمنين.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ভূমিকা

বিষয়ের প্রারম্ভে

…

বিষয়ের প্রারম্ভে

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই, আর আমরা তাঁরই কাছে তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, আল্লাহ তাঁর উপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই "সুন্নাহর প্রয়োগে সুন্নাহর দিকে দাওয়াত: মানহাজ ও পদ্ধতি" বিষয়টি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহান বিষয়। মূলনীতি হলো, যার মধ্যে ইলম ও আমলগত যোগ্যতা পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান, তার পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে আলোচনা করা সমীচীন। তবে একজন ব্যক্তি কখনো কখনো যোগ্যতাবোধ থেকে নয়, বরং কেবল দায়িত্ববোধ থেকে কথা বলতে শুরু করেন; আর তা হলো এই ধরনের বিষয়ের গুরুত্ব তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করার কারণে। যার কাছে পানি নেই, সে তো মাটি দিয়েই তায়াম্মুম করে। সুতরাং আমি এমনটি কল্পনা করছি না যে, আমি একজন সুস্থ চিকিৎসক যার কাজ হলো মানুষের চিকিৎসা করা; বরং আমি কখনও এমনটি ভাবিও না। হে পাঠক ভাই! আমি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী নই, আর না আমি মোস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর প্রতি আপনার চেয়ে অধিক সংবেদনশীল। এই কথাগুলো কেবল একটি উপদেশ মাত্র, আর নিশ্চয়ই উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ২৫)
فكرةٌ عن الموضوع، والفئة التي يخاطبها:

إنني أُخاطب مِنَ الناس مَنْ قلوبهم مفعمة بالإيمان ومحبة الله تعالى ومحبة رسوله صلى الله عليه وسلم، يؤلمهم ما عليه واقع الأمة الإسلامية اليوم من إفراط أو تفريط، فقاموا بمهمة دعوة الناس إلى هذا الدين، مؤْثِرِين التعب والجدّ على ما يعدُّه الآخرون راحة وسكوناً.

أُخاطب هداةً يحدوهم الأمل في هداية الناس وإسعاد البشرية الضائعة، وإخراجهم من الظلمات إلى النور بإذن ربهم. إنني أُخاطبك أنت أيها الأخ الداعي إلى السنّة، يا مَنْ يحترق قلبك على ما أصاب كثيراً من المسلمين من ضياع وبُعْد عن السنّة، فأنت بذلك لا تملك إلا أن تنشط في مهمتك هذه جاعلاً إيّاها همّك بالليل والنهار، وشغلَك الشاغل في حركتك وسكونك في يقظتك ونومك في سرِّك وعلنك، ترجو بذلك أن تكون من أَتْباعِ النبي صلى الله عليه وسلم المهتدين بهديه، المؤتسين به في سائر سنته.

إنني أخاطب فيك إيمانك وغَيْرتك على السنّة النبويّة، فإنْ جرحتُ شعورك بذكْر خطأٍ فيك فأملي فيك أن لا تغضب ولا تحزن، إنما تُسَرُّ بقصْدك بالنصيحة وتنتفع بها، وقد قيل: اثنان ظالمان: رجل أُهديتْ إليه النصيحة فاتخذها ذَنْباً، ورجل وُسِّع له في مكان ضيق فجلس متربعاً!!.

إن المقصود من هذا الموضوع هو تأكيد الدّعوة إلى السنّة بصورة مؤكَّدة تتناول اتّباع السنّة شكلاً ومضموناً، ومنهجاً وأسلوباً وعملاً وغاية، ويُراد منه تأكيد ضرورة الاهتداء بهدي السنّة في تطبيق السنّة، وفي الدعوة إليها،
বিষয়বস্তু সম্পর্কে একটি ধারণা এবং যাঁদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে:

আমি মানুষের মধ্য থেকে তাঁদেরকে সম্বোধন করছি যাঁদের অন্তর ঈমান, আল্লাহ তাআলার মহব্বত এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বতে পরিপূর্ণ। বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর চরমপন্থা বা শিথিলতার যে বাস্তবতা, তা তাঁদেরকে ব্যথিত করে। ফলে তাঁরা মানুষকে এই দীনের দিকে দাওয়াত দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং অন্য লোকেরা যাকে আরাম ও প্রশান্তি মনে করে, তার পরিবর্তে তাঁরা ক্লান্তি ও কঠোর পরিশ্রমকে বেছে নিয়েছেন।

আমি সেই সকল পথপ্রদর্শককে সম্বোধন করছি, যাঁদেরকে মানুষের হিদায়াত এবং পথহারা মানবতাকে সুখী করার ও তাদের রবের অনুমতিতে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনার আশা পরিচালিত করে। হে সুন্নাহর দিকে আহ্বানকারী ভাই, আমি আপনাকে সম্বোধন করছি। হে সেই ব্যক্তি, যার অন্তর মুসলিমদের একটি বিরাট অংশের পথভ্রষ্টতা এবং সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে দগ্ধ হয়; ফলে আপনি আপনার এই মহান দায়িত্বে সক্রিয় হওয়া ছাড়া অন্য কিছুর অবকাশ পান না। আপনি এটিকে দিনরাতের চিন্তায় পরিণত করেছেন এবং চলাফেরা ও স্থির থাকা, জাগরণ ও নিদ্রা এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে আপনার সার্বক্ষণিক ব্যস্ততা বানিয়ে নিয়েছেন। এর মাধ্যমে আপনি আশা করেন যে, আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন যারা তাঁর হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং তাঁর প্রতিটি সুন্নাহর ক্ষেত্রে তাঁরই অনুসরণকারী।

আমি আপনার ঈমান এবং সুন্নাহর প্রতি আপনার আত্মমর্যাদাবোধকে সম্বোধন করছি। যদি আমি আপনার কোনো ভুল উল্লেখ করে আপনার অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে ফেলি, তবে আপনার প্রতি আমার প্রত্যাশা এই যে, আপনি রাগান্বিত হবেন না এবং দুঃখিতও হবেন না; বরং আপনার প্রতি উপদেশের উদ্দেশ্য দেখে আপনি আনন্দিত হবেন এবং এর দ্বারা উপকৃত হবেন। বলা হয়ে থাকে: দুইজন ব্যক্তি অবিচারকারী: এক ব্যক্তি যাকে নসিহত উপহার দেওয়া হয়েছে অথচ সে এটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে, আর অন্যজন যার জন্য কোনো সংকীর্ণ স্থানে বসার জায়গা প্রশস্ত করে দেওয়া হয়েছে অথচ সে সেখানে বাবু হয়ে বসেছে!!

এই বিষয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো সুন্নাহর দিকে দাওয়াতের বিষয়টিকে জোরালোভাবে নিশ্চিত করা, যা সুন্নাহর অনুসরণকে তার বাহ্যিক রূপ ও অভ্যন্তরীণ মর্মার্থ, কর্মপদ্ধতি ও শৈলী এবং আমল ও লক্ষ্য—উভয় দিক থেকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাধ্যমে সুন্নাহ বাস্তবায়ন এবং সুন্নাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সুন্নাহর সঠিক দিকনির্দেশনা অনুসরণের আবশ্যকতা নিশ্চিত করা উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ২৬)
إنه ليس دعوة إلى حِفْظِ السنّة ونَشْرها فقط، ولكنه دعوة إلى فقه السنّة فقهاً صحيحاً، وذلك شرْط أساسٌ للاستمساك بالسنّة وتقديرها حقّ قدرها.

وليست هذه الفكرة جديدة، وإنْ لم أر أحداً أشار إليها نصّاً، فلقد تحدّث السلف الصالح رحمهم الله عن معان مهمّة ينبغي مراعاتها في الدعوة: كالحكمة، والموعظة الحسنة، واللين، والرفق، وغيرها من المعاني، منطلقين في ذلك من نصوص القرآن الكريم والحديث الشريف في هذه الموضوعات.

إنّ هذا الموضوع نَقْدٌ لمنهجنا وأسلوبنا في الدعوة إلى السنّة يُراد منه النصيحة الواجبة لهذا الدين، وليس حديثي موجَّهاً لنقد شخص أو أشخاص أو جماعة، إنما هو لنقد أخطاء شائعة أو واقعة فينا قد يَلْزمنا التنبّه لها والرجوع عنها. واعتناء عدد منّا بالسنّة والدعوة إليها أمر حميد يُدخل السرور على النفس، بَيْد أنه لا يَمْنَع النقدَ ابتغاء النصيحة والتصحيح بل يوجبه.

ولا يخفى أيها الأخ القارئ أن هذا الموضوع يحتاج إلى صَدْرٍ عامرٍ بالإيمان والإخلاص والقناعةِ التامّة بضرورة متابعة النبي المصطفى صلى الله عليه وسلم والاقتداء به، والقناعة أنه القدوة المعصوم الذي لا يصح إيمان عبد حتى يقبل ما جاء به صلى الله عليه وسلم. ومن لم يتوافر لديه مِثْلُ هذا المعنى من العبث أن يُتحدث إليه عن أهميّة فِقْه السنّة فقهاً صحيحاً!!.

وقد عالج هذا الموضوع أخطاءً في المنهج وفي الأسلوب يقع فيها بعض الدعاة إلى الله تعالى عن حسن نيّة منهم وحرص على الخير، ولمّا كانت أخطاء طَلَبة العلم والداعين إلى السنّة ليست كأخطاء غيرهم، إذْ قد يحسبها
এটি কেবল সুন্নাহ মুখস্থ করা এবং তা প্রচার করার কোনো আহ্বান নয়, বরং এটি সুন্নাহকে সঠিকভাবে বোঝার (ফিগহ) একটি আহ্বান। সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং এর যথাযথ মূল্যায়ন করার জন্য এটি একটি মৌলিক শর্ত।

এই ধারণাটি নতুন নয়, যদিও আমি কাউকে স্পষ্টভাবে এটি উল্লেখ করতে দেখিনি। সালাফে সালেহীন (রহিমাহুমুল্লাহ) দাওয়াহর ক্ষেত্রে বিবেচনাযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন: যেমন হিকমত (প্রজ্ঞা), উত্তম উপদেশ, নম্রতা, কোমলতা এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ। এ ক্ষেত্রে তারা কুরআনুল কারীম এবং হাদীস শরীফের সংশ্লিষ্ট উদ্ধৃতিসমূহকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

এই বিষয়টি সুন্নাহর দিকে ডাকার ক্ষেত্রে আমাদের মানহাজ (পদ্ধতি) ও শৈলীর একটি সমালোচনা, যার উদ্দেশ্য হলো এই দ্বীনের প্রতি ওয়াজিব নসিহত (আবশ্যক উপদেশ) প্রদান করা। আমার এই আলোচনা কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ বা কোনো দলকে লক্ষ্য করে নয়, বরং এটি আমাদের মধ্যে প্রচলিত বা ঘটে যাওয়া সাধারণ ভুলগুলোর সমালোচনা, যেগুলোর ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হওয়া এবং সেগুলো থেকে ফিরে আসা প্রয়োজন। আমাদের অনেকের পক্ষ থেকে সুন্নাহর প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং সেদিকে দাওয়াত দেওয়া একটি প্রশংসনীয় কাজ যা মনে আনন্দ সঞ্চার করে; তবে এটি নসিহত এবং সংশোধনের উদ্দেশ্যে সমালোচনা করাকে বাধাগ্রস্ত করে না, বরং এটিকে আবশ্যক করে তোলে।

হে পাঠক ভাই, এটি গোপন নয় যে, এই বিষয়টি ঈমান, ইখলাস এবং নবী মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ ও অনুকরণের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে পূর্ণ তৃপ্ত হৃদয়ের মুখাপেক্ষী। এই দৃঢ় বিশ্বাস থাকা জরুরি যে, তিনি হলেন সেই মাসুম (নিষ্পাপ) আদর্শ, যাঁর আনীত বিষয়কে গ্রহণ না করা পর্যন্ত কোনো বান্দার ঈমান সহীহ হয় না। যার মধ্যে এই বোধ নেই, তার সাথে সুন্নাহকে সঠিকভাবে বোঝার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা নিরর্থক!!

এই বিষয়টি মানহাজ ও শৈলীর এমন কিছু ভুল সংশোধন করেছে যা আল্লাহর পথে আহ্বানকারী কিছু দাঈ ভালো নিয়ত এবং কল্যাণের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা থেকে করে থাকেন। যেহেতু ইলমে দ্বীনের তলেবে ইলম এবং সুন্নাহর দিকে আহ্বানকারীদের ভুলগুলো অন্যদের ভুলের মতো নয়, কারণ মানুষ হয়তো সেগুলোকে মনে করতে পারে-
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ২৭)
من الديِّن نفسه عامّةُ الناس ومن لا بصيرة له، وقد يستغلّها من في نفسه هوى لِيُشَوِّه دينَ الله المنزَّه، فيستغل بعض تصرفات طلبة العلم والحريصين على السنّة لينتقص بها الدين. وإنما هي أخطاء شخصية والإسلام منها براء.

ولما كان الحرص على الخير والاجتهاد فيه لا يستلزم بالضرورة إصابة الحق - إذْ قد يُخالِف الصواب مَنْ يريده ويطلبه- لمّا كان كل ذلك مما يعانيه المسلمون بصورة واضحة، كانت هذه السطور جزءاً من علاج هذه الظواهر غير الموفَّقة.

وقد رُوي عن عائشة رضي الله تعالى عنها أنها قالت: ما أَمر الله عباده بما أمر، إلا وللشيطان فيه نزعتان: إما إلى غلوّ وإما إلى تقصير، فبأيهما ظفر قنع1.

وجاء هذا الموضوع على حدّ ما نَقَلتُهُ من قول الإمام ابن القيم-رحمه الله تعالى- عن السنّة والموقف منها، وأنها كلها لنا، وليس منها شيء لنا وشيء علينا، ولا نتخيّر منها.

وقد اشتمل الموضوع على نظرات نقديّة لعددٍ من المناهج والأساليب غير السديدة في الدعوة إلى السنّة والتمسك بها، وَتَلَمُّس وجْه الصواب في أسلوب الدعوة في المسائل الخلافية، ومفهوم التمسك بالكتاب والسنّة بين الأخذ بالنص والأخذ بالاجتهاد، وكذلك وَجْه الصواب في مسألة تفاضل الأعمال، والخلاف في المسائل الفرعية.

--------------------------------------------

1 المقاصد الحسنة … ، للسخاوي: 392.
সাধারণ মানুষ এবং যাদের অন্তর্দৃষ্টি নেই তারা ধর্ম থেকেই (ভুল বোঝে), আর যাদের অন্তরে কুপ্রবৃত্তি রয়েছে তারা সম্ভবত একে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর পবিত্র দ্বীনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করে। ফলে তারা ইলম অন্বেষণকারী এবং সুন্নাহর প্রতি আগ্রহী ব্যক্তিদের কিছু আচরণকে পুঁজি করে দ্বীনকে খাটো করার চেষ্টা করে। প্রকৃতপক্ষে এগুলো ব্যক্তিগত ভুল মাত্র এবং ইসলাম এসব থেকে মুক্ত।

যেহেতু কল্যাণের প্রতি আগ্রহ এবং সে বিষয়ে প্রচেষ্টা চালানো মানেই সর্বদা সত্যে উপনীত হওয়া অপরিহার্য নয়—কারণ যে সত্য অন্বেষণ করে তারও ভুল হতে পারে—আর যেহেতু মুসলমানরা স্পষ্টভাবে এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তাই এই লেখাগুলো এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিগুলোর প্রতিকারের একটি অংশ।

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যা কিছুই আদেশ করেছেন, তাতে শয়তানের দুটি প্ররোচনা থাকে: হয় চরমপন্থা, না হয় শিথিলতা। এর মধ্যে যে কোনো একটিতে জয়ী হতে পারলেই সে সন্তুষ্ট হয়।১

এই বিষয়টি আমি ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর উক্তি থেকে যা উদ্ধৃত করেছি তার অনুরূপ; যা সুন্নাহ এবং এর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি সংক্রান্ত। আর তা হলো, সুন্নাহর পুরোটাই আমাদের জন্য, এমন নয় যে এর কিছু অংশ আমাদের পক্ষে এবং কিছু অংশ বিপক্ষে, আর আমরা এখান থেকে নিজেদের পছন্দমতো বাছাই করতে পারি না।

এই বিষয়টি সুন্নাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং তা আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে বেশ কিছু ভুল মানহাজ ও কর্মপন্থার ওপর সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করেছে। পাশাপাশি মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলোতে দাওয়াতের সঠিক পদ্ধতি অন্বেষণ করা, সরাসরি দলীল (নস) গ্রহণ এবং ইজতিহাদ করার মাঝে কিতাব ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার সঠিক ধারণা, এবং আমলের মর্যাদাগত পার্থক্যের মাসআলা ও গৌণ বিষয়গুলোর মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে সঠিক দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।

--------------------------------------------

১. আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ ..., সাখাভী: ৩৯২।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد اخترتُ الحديث عن هذه الجوانب من الموضوع لمحاولة بيان المنهجيّة السليمة في فهم السنّة وإدراك هَدْيها … وليس الهدف من الكتابة فيه بيانَ الأحكام الفقهية وأدلتها بقدْر تحديد المنطلقات والمنهج السديد لفقه السنن والدعوة إليها من خلال النصوص الشرعية نفسها.

ومما دعا إلى الحديث عن هذا الأمر -كما قلت- ما رأيته من أخطاء ومنطلقات مخطئة في منهج بعض الناس، وأسلوبهم في الأخذ بالسنّة والدعوة إليها، قد تسيىء إلى السنّة. نسأله عز وجل التوفيق والسداد.

??

المراد بالسنّة في هذا الموضوع

وردت لفظة السنّة على عدة معان1، منها:

1- أن يراد بها المصدر الثاني من مصادر التشريع الإسلامي، الذي هو الحديث النبوي، وهي بهذا تتعلق بالإسلام كله، دون أن تختص بفرض، أو واجب، أو سنّة، وهي بهذا شطر الدين، وليس هذا المعنى هوالمقصود هنا، وإن كانت أدلة إيجاب الأخذ بها في عمومها بهذا الاعتبار هي أدلة

--------------------------------------------

1 يُنْظر: إرشاد الفحول، للشوكاني: 833، و"المغني في أصول الفقه"، للخبازي 85-86 مع الحاشية، و"دراسات في الحديث النبوي وتاريخ تدوينه"، للدكتور محمد مصطفى الأعظمي:1-5، و40، الحاشية. وليس المراد هنا التفصيل في هذا البحث، وإنما هي إشارةٌ إلى المعاني المستخدمة فيها لفظة: "سنّة"؛ لكي يكون القاريء على إلمامةٍ سريعة بمصطلح البحث.
আমি সুন্নাহ অনুধাবন এবং এর দিকনির্দেশনা উপলব্ধির সঠিক পদ্ধতি বর্ণনার প্রচেষ্টায় বিষয়ের এই দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা পছন্দ করেছি ... এখানে লেখার লক্ষ্য ফিকহি বিধান এবং সেগুলোর দলিল বর্ণনা করা ততোটা নয়, যতটা শরিয়তের মূল পাঠসমূহের (নুসুস) মাধ্যমেই সুন্নাহর গভীর বোধ (ফিকহ) ও তার দিকে দাওয়াতের ভিত্তি এবং সঠিক পদ্ধতি নির্ধারণ করা।

যেমনটি আমি বলেছি, এই বিষয়ে আলোচনার পেছনে যা আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো কিছু মানুষের কর্মপদ্ধতিতে আমি যে ভুল এবং ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি দেখেছি, এবং সুন্নাহ গ্রহণ ও তার দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতি, যা সুন্নাহর প্রতি বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা করি।

??

এই বিষয়ে সুন্নাহ দ্বারা যা উদ্দেশ্য

সুন্নাহ শব্দটি কয়েকটি অর্থে এসেছে১, যার মধ্যে রয়েছে:

১- এর দ্বারা ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস উদ্দেশ্য হওয়া, যা হলো হাদিসে নববী। এই অর্থে এটি কোনো ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নাহর সাথে খাস হওয়া ছাড়াই সামগ্রিক ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট। এই হিসেবে এটি দ্বীনের অর্ধেক। তবে এখানে এই অর্থটি উদ্দেশ্য নয়, যদিও এই বিবেচনায় সাধারণভাবে এটি গ্রহণ করার অপরিহার্যতা (ওয়াজিব হওয়া) সংক্রান্ত দলিলসমূহ হলো সেই সব দলিল

--------------------------------------------

১ দেখুন: শাওকানি রচিত ইরশাদুল ফুহুল: ৮৩৩; খাব্বাজি রচিত আল-মুগনি ফি উসুলিল ফিকহ: ৮৫-৮৬ টিকা (হাশিয়া) সহ; এবং ড. মুহাম্মদ মুস্তফা আল-আজামি রচিত দিরাসাত ফিল হাদিসিন নববী ওয়া তারিখু তাদউইনিহি: ১-৫ এবং ৪০, টিকা। এখানে এই গবেষণায় বিস্তারিত আলোচনা উদ্দেশ্য নয়, বরং এটি কেবল 'সুন্নাহ' শব্দটিতে ব্যবহৃত অর্থসমূহের প্রতি একটি ইঙ্গিত; যাতে পাঠক গবেষণার পরিভাষাটি সম্পর্কে দ্রুত একটি ধারণা পেতে পারেন।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ২৯)
الجانب الذي نتناوله.

2- ووردت السنّة في مكان العقيدة. وليس هذا مقصوداً هنا أيضاً.

3- ووردت في مكان الفَرْض. وليس هذا أيضاً مقصوداً هنا إلا أن يكون في مواضع قليلة.

4- ووردت بمعنى ما يقابِلُ البدعة. وليس هذا مقصوداً هنا أيضاً.

5- وإنما المراد بالسنّة هنا ما يقابل الفَرْض من فروع الأحكام الشرعية الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم وتتردد بين السنّة المؤكّدة والاستحباب.

قال مكحول: "السنّةُ سنّتان: سنّةٌ الأخذ بها فريضة وترْكها كفر، وسنّةٌ الأخذ بها فضيلة وترْكها إلى غيرها1 حرج2".

ومجال السنّة هو مجال الأحكام الشرعيّة؛ قال ابن قتيبة رحمه الله تعالى: والسنّة إنما تكون في الدين لا في المأكول والمشروب. ولو أن رجلاً لم يأكل البطيخ بالرطب دهْرَه -وقد أكله رسول الله صلى الله عليه وسلم أو لمْ يأكل القَرعَ، وقد كان يعجب النبي صلى الله عليه وسلم، لم يُقَلْ أَنه تَرَك السنّة3!!.

قلت: وهذا كلام نفيس يدل على فقه الرَّجل، ويؤخذ منه قاعدة عامّة،

--------------------------------------------

1 جاءت هذه اللفظة في بعض النسخ: "غيره"، وفي بعضها: "غيرها". والصواب ما أَثبتُّهُ.

2 الدارمي: المقدمة، باب 49.

3 تأويل مختلف الحديث: 47.
আমরা যে দিকটি নিয়ে আলোচনা করছি।

২- আকিদার ক্ষেত্রেও সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে এটিও উদ্দেশ্য নয়।

৩- এটি ফরজের স্থলাভিষিক্ত হিসেবেও এসেছে। খুব অল্প কিছু জায়গা ছাড়া এখানে এটিও উদ্দেশ্য নয়।

৪- এটি বিদআতের বিপরীত অর্থ বুঝাতেও ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে এটিও উদ্দেশ্য নয়।

৫- বরং এখানে সুন্নাহ বলতে ফরজের বিপরীতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত শরয়ি বিধানের শাখাসমূহকে বুঝানো হয়েছে, যা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ এবং মুস্তাহাবের মধ্যে আবর্তিত হয়।

মাকহুল বলেন: "সুন্নাহ দুই প্রকার: এমন সুন্নাহ যা গ্রহণ করা ফরজ এবং বর্জন করা কুফরি; আর এমন সুন্নাহ যা গ্রহণ করা ফজিলত এবং তা ছেড়ে অন্য দিকে১ যাওয়া দোষের২।"

সুন্নাহর ক্ষেত্র হলো শরয়ি বিধানের ক্ষেত্র; ইবনে কুতাইবা (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) বলেন: সুন্নাহ কেবল দ্বীনের ক্ষেত্রেই হয়, আহার ও পানীয়র ক্ষেত্রে নয়। যদি কোনো ব্যক্তি তার সারা জীবনে কখনও তাজা খেজুরের সাথে তরমুজ না খায়—অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা খেয়েছেন—অথবা সে কদু না খায়, অথচ তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পছন্দনীয় ছিল, তবে বলা যাবে না যে সে সুন্নাহ বর্জন করেছে৩!!

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি অত্যন্ত মূল্যবান কথা যা এই ব্যক্তির গভীর ফিকহী জ্ঞানের পরিচায়ক এবং এখান থেকে একটি সাধারণ মূলনীতি গ্রহণ করা যায়।

--------------------------------------------

১ কিছু পাণ্ডুলিপিতে এই শব্দটি "গাইরুহু" এসেছে, আবার কিছুতে "গাইরুহা" এসেছে। আমি যা সাব্যস্ত করেছি সেটিই সঠিক।

২ দারেমি: মুকাদ্দিমা, অধ্যায় ৪৯।

৩ তাউয়ীলু মুখতালিফিল হাদীস: ৪৭।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ৩০)
ويستثنى من ذلك الإفطار على الرطب أو التمر أو الماء بالنسبة للصائم، لأنه قد تضافر على ذلك القولُ -بصيغة الأمر- والفعلُ منه صلى الله عليه وسلم؛ فيكون سنّةً. والله أعلم.

إشارة إلى أهمية السنّة

وأَودُّ الآن أن أُقدِّم الإشارةَ إلى أهمية السنّة بمعناها العامّ وأهمية التمسُّك بها.

ويكفي في ذلك ما ورد من الآيات البيّنات والأحاديث الصحيحة من مثل قوله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهاكُم عَنْهُ فَانتَهُوا … } 1.

وقوله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللهَ وَالْيَومَ الآخِرَ وَذَكَرَ اللهَ كَثِيراً … } 2.

وقوله: {مَن يُطِع الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ} 3.

وقوله تعالى: {يا أيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِنْ تَنازَعْتُم فِي شَيءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ والرَّسُولِ إِن كُنْتُمْ

--------------------------------------------

1 7: الحشر: 95.

2 21: الأحزاب: 33.

3 80: النساء: 4.
এ থেকে ব্যতিক্রম হলো রোজা পালনকারীর জন্য তাজা খেজুর, শুকনো খেজুর অথবা পানি দিয়ে ইফতার করা; কারণ এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আদেশসূচক বাণী ও আমল উভয়ই বর্ণিত হয়েছে; ফলে এটি সুন্নাহ হিসেবে গণ্য হবে। আর আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

সুন্নাহর গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত

আমি এখন সুন্নাহর সাধারণ অর্থ ও এর গুরুত্ব এবং তা আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করতে চাই।

এ বিষয়ে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ ও সহিহ হাদিসসমূহ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা-ই যথেষ্ট, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো … } ১।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকাল দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ … } ২।

এবং তাঁর বাণী: {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} ৩।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদেরও। যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও যদি তোমরা...

--------------------------------------------

১ ৭: আল-হাশর: ৯৫।

২ ২১: আল-আহযাব: ৩৩।

৩ ৮০: আন-নিসা: ৪।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ৩১)
تُؤمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَومِ الآخِر ذَلِكَ خَيْرٌ وَأحْسَنُ تَأْوِيلاً} 1.

ومِنْ مثل قول النبي صلى الله عليه وسلم: "فعليكم بسنّتي وسنّة الخلفاء الراشدين المهديِّين من بعدي، تمسَّكوا بها، وعضُّوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومُحْدَثات الأمور، فإن كل مُحْدَثة بِدعة، وكل بِدعة ضلالة" 2.

وقوله صلى الله عليه وسلم: "من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رَدٌّ" 3، وقوله صلى الله عليه وسلم: "مَنْ أَحْدَثَ في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رَدّ" 4.

إلى غير ذلك من النصوص الكثيرة الوافرة في الحث على السنّة والاستمساك بها، فكتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم كل ما فيهما حق وصواب، وليس فيهما شيء من الباطل أو الخطأ.

والكتاب والسنة هما الأصل لشرع الله تعالى الذي لا نقص فيه ولا عيب، واعتقادُ هذا اعتقاداً جازماً من مقتضيات الإيمان بالله سبحانه والتسليم

--------------------------------------------

1 59: النساء: 4.

2 المسند: 4/126-127، وَرَدَ عنده الحديث مكرراً بألفاظ مختلفة متقاربة، عن العرباض بن سارية رضي الله عنه، وأبو داود، كتاب السنة، 5- باب في لزوم السنة، ح4607، والترمذي، 42- كتاب العلم، 16- باب ما جاء في الأخذ بالسنّة واجتناب البدع، ح2676: 5/43.

3 أخرجه البخاري في: 34- كتاب البيوع، 60- باب النَّجَش الفتح 4/355، ومسلم: 30- كتاب الأقضية، 8- باب نقْض الأحكام الباطلة، ح18، وأخرجه أبو داود وغيرهم.

4 أخرجه البخاري في: 53- كتاب الصلح، 5- باب إذا اصطلحوا على صلح جور … الفتح: 5/301، وقال: "ما ليس فيه"، ومسلم: 30: كتاب الأقضية، 8- باب نقْض الأحكام الباطلة، ح17، وقال: "ما ليس منه"، وأخرجه أبو داود وغيرهم.
(যদি তোমরা) আল্লাহ এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট।} ১।

এবং যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরে হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো। তা মজবুতভাবে ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো। আর দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে সাবধান থেকো, কারণ প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।" ২।

এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" ৩, এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনি বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" ৪।

সুন্নাহর প্রতি উৎসাহিত করা এবং তা আঁকড়ে ধরার বিষয়ে এই জাতীয় আরও অনেক প্রচুর প্রমাণাদি রয়েছে। সুতরাং মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ—এ দুটির মধ্যে যা কিছু আছে তার সবই সত্য ও সঠিক এবং এর মধ্যে বাতিল বা ভুলের কোনো অবকাশ নেই।

আল্লাহর শরীয়তের মূল ভিত্তি হলো কিতাব ও সুন্নাহ, যাতে কোনো অপূর্ণতা বা ত্রুটি নেই। এই বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা হলো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং আত্মসমর্পণের অনিবার্য দাবি।

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নিসা: ৫৯।

২. আল-মুসনাদ: ৪/১২৬-১২৭, তাঁর নিকট হাদিসটি কাছাকাছি বিভিন্ন শব্দে বারবার বর্ণিত হয়েছে, ইরবায ইবনে সারিয়াহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত; এবং আবু দাউদ, কিতাবুস সুন্নাহ, ৫- সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা অধ্যায়, হাদিস ৪৬০৭; এবং তিরমিযী, ৪২- কিতাবুল ইলম, ১৬- সুন্নাহ গ্রহণ ও বিদআত বর্জন অধ্যায়, হাদিস ২৬৭৬: ৫/৪৩।

৩. এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী: ৩৪- কিতাবুল বুয়ু, ৬০- বাবুন নাজাশ, ফাতহুল বারী ৪/৩৫৫; এবং মুসলিম: ৩০- কিতাবুল আকযিয়া, ৮- বাতিল হুকুম বাতিল করা অনুচ্ছেদ, হাদিস ১৮; এবং আবু দাউদ ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

৪. এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী: ৫৩- কিতাবুস সুলহ, ৫- অন্যায় সন্ধি করার অনুচ্ছেদ … ফাতহুল বারী: ৫/৩০১, এবং তিনি বলেছেন: "যা এতে নেই"; এবং মুসলিম: ৩০: কিতাবুল আকযিয়া, ৮- বাতিল হুকুম বাতিল করা অনুচ্ছেদ, হাদিস ১৭, এবং তিনি বলেছেন: "যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়"; এবং আবু দাউদ ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ৩২)
بأن الكتاب والسنّة وحيٌ لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، وهذا يعني ضرورة التسليم لهما، واتخاذهما ميزاناً لأقوال الناس ومذاهبهم وأفكارهم لمعرفة صواب ذلك من خطئه، وعدم معارضتهما بشيء من الأقوال والمذاهب والآراء، بما في ذلك أقوالنا وآراؤنا.

إن الكتاب والسنّة هما الميزان الحق الذي به نعرف صواب الأقوال والمناهج والمذاهب من خطئها وليس العكس، وعليهما ينبغي أن تُعْرض وليس العكس!!. {وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَاّ الْبَلاغُ الْمُبِين} 1.

{أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً. وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الأَمْنِ أَوْ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُوْلِي الأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ وَلَوْلا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لاتَّبَعْتُمْ الشَّيْطَانَ إِلا قَلِيلاً} 2، {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذا قَضَى اللهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِم} 3، {فَلَا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُم ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} 4.

ومهمّة المسلم تُجاه الكتاب والسنّة هي فهْمهما فهْماً صحيحاً،

--------------------------------------------

1 54: النور: 24.

2 82-83: النساء: 4.

3 36: الأحزاب: 33.

4 65: النساء: 4.
নিশ্চয়ই কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহ হলো ওহি, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো বাতিল বা মিথ্যা আসতে পারে না। এর অর্থ হলো এই দুইয়ের প্রতি আত্মসমর্পণ করা অপরিহার্য এবং মানুষের কথা, মতবাদ ও চিন্তাধারাকে সত্য বা মিথ্যা হিসেবে যাচাই করার মাপকাঠি হিসেবে এ দুটিকে গ্রহণ করা আবশ্যক। কোনো কথা, মতবাদ বা মতামতের মাধ্যমে এই দুইয়ের বিরোধিতা করা যাবে না, এমনকি আমাদের নিজস্ব কথা ও মতের মাধ্যমেও নয়।

নিশ্চয়ই কিতাব এবং সুন্নাহ হলো সত্যের সেই মানদণ্ড যার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বক্তব্য, কর্মপন্থা ও মতবাদের সঠিকতা ও ভুল নির্ণয় করি, এর বিপরীতটি নয়। বরং যাবতীয় বিষয় এই দুইয়ের কাছেই পেশ করা উচিত, উল্টোটা নয়!! "আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, তবে তোমরা সঠিক পথ পাবে। আর রাসুলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।" ১।

"তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরিত্য পেত। আর যখন তাদের কাছে নিরাপত্তা বা ভয়ের কোনো সংবাদ আসে, তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা তা রাসুলের কাছে এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিবর্গের) কাছে পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা তথ্য উদঘাটনকারী তারা তা অবশ্যই জানতে পারত। আর তোমাদের ওপর যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকত, তবে অল্প কয়েকজন ছাড়া তোমরা সবাই শয়তানের অনুসরণ করতে।" ২। "আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না।" ৩। "অতএব আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে বিচারক মান্য করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।" ৪।

আর কিতাব ও সুন্নাহর প্রতি মুসলিমের দায়িত্ব হলো সেগুলোকে সঠিকভাবে অনুধাবন করা,

--------------------------------------------

১. ৫৪: আন-নূর: ২৪।

২. ৮২-৮৩: আন-নিসা: ৪।

৩. ৩৬: আল-আহযাব: ৩৩।

৪. ৬৫: আন-নিসা: ৪।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وتدبُّرهما، والعمل بهما، والدعوة إليهما.

ليس لمسلم أن يُخالِف الكتاب والسنّة:

وبناء على هذا فقد اتّضح أنه لا يصح لمسلم أن يُخالِف الكتاب ولا السنّة ولا يسعه ذلك، كيف والقرآن كلام الله تعالى، والسنّة حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم؟! مَنْ ذا الذي يريد أن يستدرك على الله أو على رسول الله صلى الله عليه وسلم أو يمكنه ذلك؟!.

وقد كان السلف الصالح رضوان الله عليهم من الصحابة فمن بعدهم لا يختلفون على هذا المعنى، بل هم مُجْمِعون على ضرورة المتابعة للكتاب والسنّة وعلى استعظام الإعراض عنهما، وعلى أن كل أحد يؤخذ منه ويُرَدُّ عليه سوى رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وقد كان عبد الله بن عمر رضي الله عنهما إذا سئل عن حُكمٍ ما فإنه كثيراً ما يحكي فعْل النبي صلى الله عليه وسلم ثم يقول: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللهَ وَالْيَومَ الآخِرَ … } 1 2.

--------------------------------------------

1 21: الأحزاب: 33.

2 روى الإمام البخاري مثل هذا في مواضع متعددة في صحيحه ومن ذلك: في 14- الوتر، 5- باب الوتر على الدابة الفتح: 2/488، و18- تقصير الصلاة، 11- باب مَنْ لم يتطوع في السفر دُبُرَ الصلاة وقبلها الفتح: 2/577، وكذلك يُنظر الثلاثة أبواب قبله، وكذلك البخاري، 25- الحج، 80- باب ما جاء في السعي بين الصفا والمروة، الفتح: 3/502 في موضعين، وكذا في البخاري، برقم 1640، و 1647، الحج، و 6705، الأيمان والنذور.
এবং সে দুটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা, সে অনুযায়ী আমল করা এবং সেগুলোর দিকে দাওয়াত দেওয়া।

কোনো মুসলিমের জন্য কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধিতা করার অবকাশ নেই:

এর ওপর ভিত্তি করে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, কোনো মুসলিমের জন্য কুরআন কিংবা সুন্নাহর বিরোধিতা করা সঠিক নয় এবং তার জন্য এর কোনো অবকাশও নেই। কীভাবে সম্ভব যখন কুরআন মহান আল্লাহর কালাম এবং সুন্নাহ হচ্ছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস?! এমন কে আছে যে আল্লাহ কিংবা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সংশোধনী আনতে চায় অথবা কার সে ক্ষমতা আছে?!

সাহাবায়ে কিরাম এবং তাদের পরবর্তী সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এই অর্থের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করতেন না; বরং তারা কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণের আবশ্যকতা এবং এই দুটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়াকে অত্যন্ত গর্হিত কাজ মনে করার বিষয়ে একমত ছিলেন। তারা এই বিষয়েও একমত ছিলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য প্রত্যেকের কথা গ্রহণও করা যেতে পারে আবার বর্জনও করা যেতে পারে।

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-কে যখন কোনো বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি প্রায়শই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মের কথা বর্ণনা করতেন এবং এরপর বলতেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ ... } ১ ২।

--------------------------------------------

১. ৩৩: আল-আহযাব: ২১।

২. ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: ১৪- আল-বিতর, ৫- সওয়ারির ওপর বিতর পড়ার অধ্যায়, আল-ফাতহ: ২/৪৮৮; এবং ১৮- কসর সালাত, ১১- যে ব্যক্তি সফরে সালাতের আগে ও পরে নফল পড়ে না তার অধ্যায়, আল-ফাতহ: ২/৫৭৭; অনুরূপভাবে এর পূর্ববর্তী তিনটি অধ্যায়ও দ্রষ্টব্য। তদ্রূপ বুখারী, ২৫- আল-হজ্জ, ৮০- সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করার অধ্যায়, আল-ফাতহ: ৩/৫০২, দুটি স্থানে; এবং বুখারী, হাদীস নং ১৬৪০ ও ১৬৪৭, হজ্জ অধ্যায়; এবং ৬৭০৫, শপথ ও মানত অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وكذا كان يفعل ابن عباس رضي الله عنهما1.

قال الشافعي: ولا أعلم من الصحابة ولا من التابعين أحداً أُخْبِر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا قَبِل خبره، وانتهى إليه، وأثبت ذلك سنّة2.

وقال الأوزاعي: إذا بلغك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديث: فإياك أن تقول بغيره، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان مبلِّغاً عن الله تعالى 3.

وقال الربيع: روى الشافعي يوماً حديثاً فقال له رجل: أتأخذ بهذا يا أبا عبد الله؟ فقال: متى ما رويت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثاً صحيحاً فلم آخذ به، فأشهدكم أن عقلي قد ذهب4.

وقال الربيع: سمعت الشافعي وسأله رجل عن مسألة فقال له: يُروى عن النبي صلى الله عليه وسلم فيها كذا وكذا. فقال له السائل: تقول به؟ فرأيته أُرعد وانتفض وقال: يا هذا أيُّ أرضٍ تقلّني وأيُّ سماءٍ تظلّني إذا رويت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثاً فلم أقل به؟! نَعَمْ على السمع والبصر5.

وقال ابن أبي حاتم: أخبرني أبو محمد السجستاني فيما كتب إليّ عن

--------------------------------------------

1 وقد جاء هذا عنه في عدة مواقف، منها في: البخاري -نسخة الفتح-برقم 774، الأذان، وبرقم4911، تفسير القرآن، وبرقم 5266، الطلاق، والفتح: 3/474.

2 مفتاح الجنة في الاحتجاج بالسنّة، للسيوطي: 34.

3 المصدر السابق: 20-21.

4 تقي الدين السبكي في معنى قول الإمام المطلبي: "إذا صح الحديث فهو مذهبي" ضمن الرسائل المنيرية: 3/98.

5 المصدر السابق: 3/98-99.
এবং ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) এরূপই করতেন১।

শাফিঈ বলেন: আমি সাহাবী এবং তাবিঈগণের মধ্য থেকে এমন কাউকে জানি না যাঁর নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো সংবাদ পৌঁছেছে আর তিনি তা গ্রহণ করেননি, সেটির ওপর ক্ষান্ত হননি এবং সেটিকে সুন্নাহ হিসেবে সাব্যস্ত করেননি২।

আওযাঈ বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে তোমার নিকট কোনো হাদীস পৌঁছে, তখন সাবধান! তুমি যেন তার বিপরীত কিছু না বলো। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রচারকারী৩।

রাবী' বলেন: শাফিঈ একদিন একটি হাদীস বর্ণনা করলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ! আপনি কি এটি গ্রহণ করেন? তিনি বললেন: যখনই আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো সহীহ হাদীস বর্ণনা করব অথচ আমি তা গ্রহণ করব না, তখন তোমাদেরকে সাক্ষী রাখছি যে, আমার বিবেক বিলুপ্ত হয়েছে৪।

রাবী' বলেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি, এক ব্যক্তি তাঁকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি তাকে বললেন: এ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এই এই বর্ণিত আছে। প্রশ্নকারী তাঁকে বলল: আপনি কি এটি মানেন? তখন আমি তাঁকে কাঁপতে ও বিচলিত হতে দেখলাম এবং তিনি বললেন: হে লোক! কোন জমিন আমাকে ধারণ করবে আর কোন আসমান আমাকে ছায়া দেবে যদি আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো হাদীস বর্ণনা করি অথচ সে অনুযায়ী মত প্রকাশ না করি?! হ্যাঁ, এটি শ্রবণ ও মান্য করার ক্ষেত্রে শিরোধার্য৫।

ইবনে আবি হাতিম বলেন: আবু মুহাম্মদ আস-সিজিস্তানি তাঁর কাছে লেখা চিঠিতে আমাকে জানিয়েছেন যে...

--------------------------------------------

১ এবং তাঁর পক্ষ থেকে এটি বেশ কয়েকটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে: বুখারী -ফাতহুল বারী সংস্করণ- নম্বর ৭৭৪, আযান অধ্যায়; নম্বর ৪৯১১, কুরআনের তাফসীর অধ্যায়; নম্বর ৫২৬৬, তালাক অধ্যায়; এবং আল-ফাতহ: ৩/৪৭৪।

২ মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজ বিস সুন্নাহ, সুয়ূতী: ৩৪।

৩ পূর্বোক্ত উৎস: ২০-২১।

৪ তাক্বীউদ্দীন আস-সুবকী, ইমাম আল-মুত্তালিবীর উক্তি: "যখন হাদীস সহীহ হবে সেটিই আমার মাযহাব" এর অর্থের ব্যাখ্যায়, আর-রাসায়েল আল-মুনীরিয়া এর অন্তর্ভুক্ত: ৩/৯৮।

৫ পূর্বোক্ত উৎস: ৩/৯৮-৯৯।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أبي ثور: سمعت الشافعي يقول: كل حديث عن النبي صلى الله عليه وسلم قولي وإن لم تسمعوه منّي1.

وقال مالك: لاتُعارضُوا السنّة وسلّموا لها2.

قال مَعْنٌ: سمعت مالكاً يقول: إنما أنا بشر أخطئ وأصيب، فانظروا في رأيي، فكل ما وافق الكتاب والسنّة فخذوا به وما لم يوافقهما فاتركوه3.

وصح عن الإمام أبي حنيفة وعن الإمام أحمد نحو ذلك.

وقال مجاهد والشعبي والحاكم ومالك: ليس من أحد إلا يؤخذ من قوله ويترك إلا النبي صلى الله عليه وسلم4.

وقال الإمام السبكي في مسألةٍ خلافية وهي مسألة ما إذا جاء قولٌ للشافعي يخالف حديثاً، فهل يؤخذ بالحديث أو يؤخذ بقول الشافعي؟ لأنه قرر أنه لا يخالف الحديث وأن الحديث إذا صح فهو مذهبه5:

قال: والأَولى عندي اتّباع الحديث ولْيفرض الإنسان نفسه بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم وقد سمع ذلك منه، أَيَسَعُهُ التأخر عن العمل به؟! لا والله، وكلّ أحد

--------------------------------------------

1 المصدر السابق: 3/99.

2 مفتاح الجنّة في الاحتجاج بالسنّة: 41.

3 تقي الدين السبكي في رسالته: "معنى قول الإمام المطلبي": "إذا صح الحديث فهو

مذهبي": 3/105.

4 المصدر السابق: 3/105.

5 المصدر السابق 3/ 10.
আবু সাওর বলেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রতিটি হাদিসই আমার কথা, যদিও তোমরা তা আমার থেকে না শুনে থাকো১।

মালিক বলেন: তোমরা সুন্নাহর বিরোধিতা করো না এবং তার কাছে আত্মসমর্পণ করো২।

মা'ন বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: আমি কেবল একজন মানুষ, আমি ভুল করি এবং সঠিকও বলি। সুতরাং তোমরা আমার মতামতের দিকে তাকাও; যা কিছু কুরআন ও সুন্নাহর অনুকূলে হয় তা গ্রহণ করো, আর যা এ দুটির অনুকূলে না হয় তা বর্জন করো৩।

ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম আহমাদ থেকেও অনুরূপ কথা সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

মুজাহিদ, শাবি, হাকাম এবং মালিক বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত এমন কেউ নেই যার কথা গ্রহণ করা যায় আবার বর্জনও করা যায়৪।

ইমাম সুবকী একটি ইখতিলাফি (মতভেদপূর্ণ) মাসআলায় বলেন—আর সেটি হলো ওই মাসআলা যখন শাফিঈর কোনো বক্তব্য হাদিসের বিরোধী হয়, তখন কি হাদিস গ্রহণ করা হবে নাকি শাফিঈর বক্তব্য গ্রহণ করা হবে? কারণ তিনি সাব্যস্ত করেছেন যে তিনি হাদিসের বিরোধিতা করেন না এবং হাদিস যখন সহিহ হয়, তখন সেটিই তাঁর মাযহাব৫:

তিনি বলেন: আমার কাছে উত্তম হলো হাদিসের অনুসরণ করা। মানুষ যেন নিজেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে কল্পনা করে এবং মনে করে যে সে সরাসরি তাঁর কাছ থেকেই তা শুনেছে। এমতাবস্থায় সে কি তার ওপর আমল করা থেকে বিরত থাকতে পারে?! আল্লাহর কসম, না। আর প্রতিটি ব্যক্তিই...

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎস: ৩/৯৯।

২ মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিসসুন্নাহ: ৪১।

৩ তাক্বীউদ্দীন সুবকী তাঁর রিসালাহ: "মা'না ক্বওলিল ইমামিল মুত্তালিবী": "ইযা সাহহাল হাদিসু ফাহুওয়া মাযহাবী": ৩/১০৫।

৪ পূর্বোক্ত উৎস: ৩/১০৫।

৫ পূর্বোক্ত উৎস: ৩/১০।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ৩৬)
مكلّف بحسب فهمه1، أي بحسب فهمه للكتاب والسنّة وَفْق القواعد والضوابط في ذلك.

وقال في موضع آخر: والذي أقوله: إن المبادرة إلى امتثال الأمر مطلوبةٌ كمن سمعه من النبي صلى الله عليه وسلم لا رخْصة له في ترْكه2.

ومِنْ هذا كله نخرج بحقيقةٍ واضحة هي أنه ما كان لأحد من السلف الصالح رضوان الله عليهم: من الصحابة ومن بعدهم من الأئمة أن يكون له الحق في مخالفة سنّة النبي صلى الله عليه وسلم، بل هم مُجْمعون على احترامها واتّباعها.

على أن المراد باتّباع السنّة إنما هو اتّباعها وَفْق هَدْيها، سواء أفي مسألة الدعوة إليها أم الاهتداء بهَدْيها في سائر شئون الحياة، ولهذا أَنكر النبي صلى الله عليه وسلم على من أخطأ في ظنه أنه يجوز له أن يغلوَ في الدين طالما أنه خَيْر، فقد أخرج البخاري وغيره عن أنس: جاء ثلاثة رهط إلى بيوت أزواج النبي صلى الله عليه وسلم يسألون عن عبادة النبي صلى الله عليه وسلم، فلما أُخْبروا كأنهم تَقَالّوها فقالوا: وأين نحن من النبي صلى الله عليه وسلم؟! قد غفر الله له ما تقدم من ذَنْبه وما تأخر. قال أحدهم: أمّا أنا فأنا أصلِّي الليل أبداً، وقال آخر: أنا أصوم الدهر ولا أُفطِرُ، وقال آخر: أنا أعتزل النساء فلا أتزوج أبداً. فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: "أنتم الذين قلتم كذا وكذا؟ أَمَا والله إني لأخشاكم لله وأتقاكم له، لكنّي أصوم وأُفْطِرُ،

--------------------------------------------

1 المصدر السابق: 3/102.

2 المصدر السابق: 3/104.
সে তার বুঝ অনুযায়ী দায়বদ্ধ১, অর্থাৎ সেই বিষয়ে বিদ্যমান মূলনীতি ও নিয়মাবলি অনুসারে কিতাব ও সুন্নাহ সম্পর্কে তার বুঝ অনুযায়ী।

তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: আমি যা বলি তা হলো—আদেশ পালনে অগ্রণী হওয়া বাঞ্ছনীয়, ঠিক যেমনটি কেউ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে সরাসরি শুনেছেন, তা বর্জন করার কোনো অবকাশ তার নেই।২

এসব কিছু থেকে আমরা একটি সুস্পষ্ট সত্যে উপনীত হই যে, সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)—তথা সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী ইমামগণের কারো পক্ষেই আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর বিরোধিতা করার কোনো অধিকার ছিল না; বরং তাঁরা এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অনুসরণের বিষয়ে ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন।

তবে সুন্নাহ অনুসরণের উদ্দেশ্য হলো তার হিদায়াত বা দিকনির্দেশনা অনুযায়ী তা অনুসরণ করা, চাই তা সুন্নাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে হোক অথবা জীবনের সকল ক্ষেত্রে এর হিদায়াত দ্বারা পরিচালিত হওয়ার মাধ্যমে হোক। এই কারণেই আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন ব্যক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে ভুলবশত মনে করেছিল যে কল্যাণের দোহাই দিয়ে দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করা জায়েয। ইমাম বুখারী ও অন্যান্যরা আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: একদা তিন ব্যক্তির একটি দল আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীদের ঘরে তাঁর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এল। যখন তাঁদেরকে এ বিষয়ে জানানো হলো, তখন তারা যেন সেটিকে সামান্য মনে করল এবং বলল, ‘নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তুলনায় আমাদের অবস্থান কোথায়? অথচ আল্লাহ তাঁর পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ তাদের একজন বলল, ‘আমি সারা রাত সর্বদা সালাত আদায় করব।’ অন্যজন বলল, ‘আমি সারা বছর রোজা রাখব এবং কখনো রোজা ভাঙব না।’ আর অপরজন বলল, ‘আমি নারী থেকে দূরে থাকব এবং কখনো বিয়ে করব না।’ অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন এবং বললেন: “তোমরা কি সেই সব লোক যারা এমন এমন কথা বলেছ? আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচাইতে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের মধ্যে সবচাইতে বেশি তাকওয়াবান, তবুও আমি রোজা রাখি এবং রোজা ভাঙি,”

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎস: ৩/১০২।

২ পূর্বোক্ত উৎস: ৩/১০৪।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وأُصلِّي وأَرْقُدُ، وأتزوج النساء، فمن رغب عن سنَّتي فليس منّي" 1.

فإذا تقرر لديك يا أخي ما سبق؛ فاعلم أن الناس تجاه التمسك بالسنّة على أحوال، ولكنْ هناك داءان لهما أثرٌ كبير في حياتنا تُجاه التمسك بالسنّة على مختلف أحقاب التاريخ الإسلامي هما:

1- الإعراض عن السنّة أو التساهل في الاستمساك بها لأيّ سبب من الأسباب التي قد لا تَخْرجُ عن أمرين، هما:

أ - الجهل.

ب- ضعْف الإيمان.

2- التمسك بها على غير بصيرة ودون فِقْه لها، وذلك في صورةٍ أو

أكثر مما يلي:

أ - عدم الاهتداء بهديها الصحيح في التطبيق السلوكيّ لها.

ب- عدم الاهتداء بهديها الصحيح في الدعوة إليها.

جـ- الاهتمام بالأخْذ ببعضها على حساب بعضها الآخر.

وهذا الثاني هو موضوع هذه السطور.

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري: 67- كتاب النكاح، 1- باب الترغيب في النكاح الفتح 9/104، ومسلم بنحوه: 16- كتاب النكاح، ح5، 2/1020، وأخرجه أبو داود في كتاب التطوع، 37 باب، وغيرهم.
"আমি সালাত আদায় করি ও ঘুমাই এবং নারীদের বিবাহ করি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত থেকে বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।" ১.

হে আমার ভাই, পূর্বোক্ত বিষয়গুলো যখন আপনার নিকট সুষ্পষ্ট হলো, তখন জেনে রাখুন যে, সুন্নাত আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে মানুষ বিভিন্ন অবস্থায় রয়েছে। তবে ইসলামি ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে সুন্নাত আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে আমাদের জীবনে দুটি এমন ব্যাধি রয়েছে যেগুলোর বড় ধরণের প্রভাব রয়েছে, তা হলো:

১- সুন্নাত থেকে বিমুখ হওয়া অথবা তা আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করা; এমন যে কোনো কারণে যা মূলত দুটি বিষয়ের বাইরে নয়, আর তা হলো:

ক - অজ্ঞতা।

খ- ঈমানের দুর্বলতা।

২- দূরদর্শিতা এবং সঠিক বুঝ (ফিকহ) ব্যতীত সুন্নাত আঁকড়ে ধরা। আর তা নিম্নোক্ত এক বা একাধিক রূপে হতে পারে:

ক - সুন্নাতের আচরণগত প্রয়োগের ক্ষেত্রে এর সঠিক নির্দেশনার দিশা না পাওয়া।

খ- সুন্নাতের দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এর সঠিক পদ্ধতির দিশা না পাওয়া।

গ- সুন্নাতের একাংশ গ্রহণ করতে গিয়ে অন্য অংশের গুরুত্বকে উপেক্ষা করা।

আর এই দ্বিতীয় বিষয়টিই হলো এই আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য।

--------------------------------------------

১. ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন: ৬৭- বিবাহ অধ্যায়, ১- বিবাহে উৎসাহিতকরণ অনুচ্ছেদ, আল-ফাতহ ৯/১০৪; এবং ইমাম মুসলিম অনুরূপ বর্ণনা করেছেন: ১৬- বিবাহ অধ্যায়, হাদিস ৫, ২/১০২০; এবং আবু দাউদ এটি কিতাবুত তাতাউ-এর ৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন এবং আরও অনেকে।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌المبحث الثاني

‌‌بيان المنهج والأسلوب الصحيحين للأخذ بالسنة والدعوة إليها

‌‌المظاهر والأدلة

…

المنهج والأسلوب الصحيحان في الأخذ بالسنة والدعوة إليها

- المَظَاهِرُ والأدلة-

لكلٍ من المنهج والأسلوب ارتباطٌ وثيق بالفكرة -أيّ فكرة- وبطريقةِ عرْضها. ولأثر كلٍ منهما انعكاسٌ تلقائي على الفكرة، وكم من قضية كانت حقاً ولكن أساء إليها منهجُ أو أسلوبُ عرْضها.

ولا يكفي أن تكون الدعوى صحيحة لِيَقْبَلها الناس، حتى تُعْرَض عليهم بما يناسبها من المنهج والأسلوب الصحيحين.

وهذا هو الأمر الذي يَفْرِضه الإسلام على الداعية حين يدعو إلى شيء من هَدْي الدين؛ فأوجب أن يُدْعى إليه بمنهجٍ سديد وأسلوب صحيح، وإلا فلا يَسُوغ لغير القادر أن يسيء إلى هذا الدين بأخطائه الشخصية منهجاً أو أسلوباً، وأنّ عليه -إذا كان غير متأهّلٍ للدعوة إليه-أن يتأهّل أَوّلاً، قبل أن يدعو إليه.

والأدلة الموجبة لاتّباع المنهج والأسلوب الصحيحين كثيرة، وسأقتصر هنا على ذكر بعض الآيات والأحاديث في الموضوع، ومن ذلك:

1- اتخاذ الرسول صلى الله عليه وسلم أُسوةً حسنة:

قال الله تعالى آمراً بالاقتداء برسوله صلى الله عليه وسلم والأخذ بسنته والاهتداء بهدْيه:
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

সুন্নাহ গ্রহণ ও তার দিকে দাওয়াত দেওয়ার সঠিক মানহাজ ও শৈলীর বর্ণনা

বহিঃপ্রকাশ ও প্রমাণাদি

…

সুন্নাহ গ্রহণ ও তার দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক মানহাজ ও শৈলী

- বহিঃপ্রকাশ ও প্রমাণাদি -

যেকোনো চিন্তা বা আদর্শ এবং তা উপস্থাপনের পদ্ধতির সাথে মানহাজ (পদ্ধতি) ও শৈলী—উভয়েরই নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এই দুটির প্রতিটির প্রভাব উক্ত আদর্শের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিফলিত হয়। কত সত্য ও সঠিক বিষয় কেবল ভুল মানহাজ বা উপস্থাপনের ত্রুটিপূর্ণ শৈলীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কেবল দাবিটি সঠিক হওয়াই যথেষ্ট নয়, যতক্ষণ না তা সঠিক মানহাজ ও উপযুক্ত শৈলীর মাধ্যমে তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

একজন দায়ী যখন দ্বীনের কোনো হেদায়েতের দিকে আহ্বান করেন, তখন ইসলাম তার ওপর এই বিষয়টিই আবশ্যক করে দেয়। ফলে ওয়াজিব হলো, দ্বীনের দাওয়াত প্রদান করতে হবে সঠিক মানহাজ ও যথাযথ শৈলীর মাধ্যমে। অন্যথায় অযোগ্য ব্যক্তির জন্য মানহাজ বা শৈলীগত ব্যক্তিগত ভুলের মাধ্যমে এই দ্বীনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা বৈধ নয়। দাওয়াত দেওয়ার উপযুক্ত না হলে, দাওয়াত দেওয়ার আগে তাকে প্রথমে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

সঠিক মানহাজ ও শৈলী অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কে অসংখ্য দলিল রয়েছে। আমি এখানে এই বিষয়ে কয়েকটি আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব। তার মধ্যে রয়েছে:

১- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা:

আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ, তাঁর সুন্নাহ গ্রহণ এবং তাঁর হেদায়েত অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার আদেশ দিয়ে বলেন:
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ৪১)
{لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَذَكَرَ اللهَ كَثِيراً} 1.

وقال صلى الله عليه وسلم: "صلّوا كما رأيتموني أصلي" 2 وقال: "خذوا عنّي مناسككم فإني لا أدري، لعلّي لا أحج بعد حجتي هذه" 3.

2- الدعوة على بَصيرةٍ:

قال تعالى في أهمية البصيرة في الدعوة: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحانَ اللهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 4.

وقال صلى الله عليه وسلم: "من يُرِد الله به خيراً يفقّهه في الدّين" 5.

--------------------------------------------

1 21: الأحزاب: 33.

2 أخرجه البخاري: 10- الأذان، 18- باب الأذان للمسافر، فتح الباري:2/111 من حديث مالك بن الحويرث، رضي الله عنه، وأخرجه أيضاً في كتاب الأدب، باب27، وأخرجه أحمد في المسند: 5/53.

3 أخرجه أحمد بن حنبل: 3/337، 338، ومسلم: 15-الحج، ح3102/943، وأبو داود: 5-المناسك، باب رقم78،2/496، والنسائي: الحج، باب الركوب إلى الجمار … ح3064، 5/219.

4 108:يوسف:12.

5 أخرجه البخاري في مواضع من صحيحه، منها: 57-فرْض الخمس، 7-باب قول الله تعالى: {فأَنّ لله خُمُسَهُ وللرسول} ، الفتح6/217، و96-الاعتصام بالكتاب والسنّة، 10- باب قول النبيّ صلى الله عليه وسلم: "لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين … "، 13/293، وأخرجه مسلم: 33-كتاب الإمارة ح175، 3/1524، وأخرجه في الكتاب نفسه ح100، وأخرجه الترمذي وغيرهم.
{তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকাল দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে} ১।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ" ২ এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজের নিয়ম-পদ্ধতিসমূহ গ্রহণ করো; কেননা আমি জানি না, সম্ভবত আমার এই হজের পর আমি আর হজ করতে পারব না" ৩।

২- প্রজ্ঞার সাথে দাওয়াত প্রদান:

দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই জাগ্রত জ্ঞান বা প্রজ্ঞার সাথে, আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ অতি পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই} ৪।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন" ৫।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আহজাব: ২১।

২. এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী: ১০- আযান অধ্যায়, ১৮- মুসাফিরের আযান অনুচ্ছেদ, ফাতহুল বারী: ২/১১১, মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে; ইমাম বুখারী এটি আদব অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ২৭-এও বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম আহমাদ এটি মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: ৫/৫৩।

৩. এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল: ৩/৩৩৭, ৩৩৮; ইমাম মুসলিম: ১৫- আল-হজ, হা/৩১০২/৯৪৩; আবু দাউদ: ৫- আল-মানাসিক, অনুচ্ছেদ নং ৭৮, ২/৪৯৬; এবং আন-নাসাঈ: হজ অধ্যায়, জামারাতে যাওয়ার জন্য সওয়ার হওয়া অনুচ্ছেদ... হা/৩০৬৪, ৫/২১৯।

৪. সূরা ইউসুফ: ১০৮।

৫. ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এটি বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: ৫৭- খুউমস (এক-পঞ্চমাংশ) ফরজ হওয়া, ৭- মহান আল্লাহর বাণী: {আর জেনে রেখো যে, তোমরা যা কিছু গনীমত হিসেবে লাভ করো তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর এবং রাসূলের} অনুচ্ছেদ, ফাতহ ৬/২১৭; এবং ৯৬- কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, ১০- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা বিজয়ী থাকবে..." অনুচ্ছেদ, ১৩/২৯৩; আর এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম মুসলিম: ৩৩- কিতাবুল ইমারাহ হা/১৭৫, ৩/১৫২৪; এবং তিনি একই গ্রন্থে হা/১০০-তেও এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও ইমাম তিরমিযী ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) দাওয়াাতুন ইলাস সুন্নাহ ফী তাতবীকিস সুন্নাহ মানহাজান ওয়া উসলুবান (পৃষ্ঠা: ৪২)
3- الحكمة والرفق في الدعوة:

قال سبحانه في أهمية: الحكمة1، والموعظة الحسنة، والمجادلة بالتي هي أحسن: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِه وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِين} 2.

وقال صلى الله عليه وسلم: "من يُحْرم الرفق يُحْرم الخير" 3.

وقال: "إن الرفق لا يكون في شيء إلا زانه ولا يُنْزع من شيء إلا شانه" 4.

وقال: "إن الله رفيق يُحِبُّ الرفْق في الأمر كله" 5.

وقال: "يَسِّروا ولا تُعسّروا وَبشِّروا ولا تُنفّروا" 6.

--------------------------------------------

1 يُنظر الموضوع الآتي بعنوان: الحكمة في الدعوة إلى السنّة وصُوَرٌ مِن مظاهرها، ويُنظر تفنيد الشبهة المثارة حول هذا المبدأ في الموضوع الآتي بعنوان: أحاديث ظاهرها يُعارِض مبدأ الرفق والحكمة.

2 125: النحل: 16.

3 أخرجه مسلم: 45- كتاب البر والصلة والآداب، ح74-76 4/2001، وأخرجه ابن ماجه: 33- كتاب الأدب، 9- باب الرفق 2/1216، وأحمد في المسند: 4/362،366.

4 أخرجه مسلم، في الموضع السابق، ح78 4/200، وأخرجه أبو داود 9- الجهاد، 1- باب ما جاء في الهجرة وسكنى البدو 3/7، وأخرجه أحمد 6/58 و112، و125 و171، و206، و222.

5 أخرجه البخاري: 88- استتابة المرتدين، 4- إذا عرّض الذمي أو غيره بسبّ النبي صلى الله عليه وسلم....، الفتح 12/280، وفي مواضع أُخَرَ. وأخرجه مسلم في مواضع متعددة، منها الموضع السابق، ح77، وأخرجه ابن ماجه: 33- كتاب الأدب، 9- باب الرفق 2/1216 وغيرهم.

6 أخرجه البخاري عن أنس، 3-كتاب العلم، 11- باب ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يتخوّلهم بالموعظة والعلم كي لا يَنْفِرُوا، الفتح 1/163، وفي مواضع أخر. وأخرجه مسلم في: 32- الجهاد، ح 4، وفي مواضع أُخَرَ، وأحمد في مواضع متعددة منها: 1/229و283.
৩- দাওয়াহর ক্ষেত্রে হিকমত (প্রজ্ঞা) ও কোমলতা:

মহান আল্লাহ হিকমত১, উত্তম উপদেশ এবং সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্কের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন: {তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো এমন পন্থায় যা সর্বোত্তম। নিশ্চয় তোমার রবই ভালো জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং তিনিই হেদায়েতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে সম্যক অবগত} ২।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোমলতা থেকে বঞ্চিত হয়, সে (যাবতীয়) কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়" ৩।

তিনি আরও বলেছেন: "কোমলতা যে জিনিসের মধ্যেই থাকে তাকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে, আর যা কিছু থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হয় তাকে কলঙ্কিত করে" ৪।

তিনি বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ অত্যন্ত কোমল, তিনি প্রতিটি বিষয়ে কোমলতা পছন্দ করেন" ৫।

তিনি বলেছেন: "তোমরা সহজ করো এবং কঠিন করো না; তোমরা সুসংবাদ দাও এবং বিতৃষ্ণ করো না" ৬।

--------------------------------------------

১ পরবর্তী বিষয়টি দেখুন যার শিরোনাম: সুন্নাহর দিকে দাওয়াহর ক্ষেত্রে হিকমত এবং এর বিভিন্ন দিক; এবং এই মূলনীতির বিপরীতে উত্থাপিত সংশয়ের খণ্ডন দেখুন পরবর্তী বিষয়ে যার শিরোনাম: সেই সমস্ত হাদীস যা বাহ্যিকভাবে কোমলতা ও হিকমতের পরিপন্থী মনে হয়।

২ ১৬: আন-নাহল: ১২৫।

৩ মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন: ৪৫- কিতাবুল বির ওয়াস সিলাহ ওয়াল আদাব, হাদীস ৭৪-৭৬, ৪/২০০১; ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন: ৩৩- কিতাবুল আদব, ৯- বাবুর্ রিফক ২/১২১৬; এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে: ৪/৩৬২, ৩৬৬।

৪ মুসলিম এটি পূর্বোক্ত স্থানে বর্ণনা করেছেন, হাদীস ৭৮, ৪/২০০; আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন ৯- আল-জিহাদ, ১- হিজরত ও পল্লী অঞ্চলে বসবাস সংক্রান্ত অধ্যায় ৩/৭; এবং আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন ৬/৫৮, ১১২, ১২৫, ১৭১, ২০৬ এবং ২২২।

৫ বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন: ৮৮- মুরতাদদের তওবা করানো, ৪- যদি জিম্মি বা অন্য কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়..., আল-ফাতহ ১২/২৮০, এবং অন্যান্য স্থানে। মুসলিম এটি বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে পূর্বোক্ত স্থান হাদীস ৭৭ অন্যতম; এবং ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন: ৩৩- কিতাবুল আদব, ৯- বাবুর্ রিফক ২/১২১৬ এবং অন্যান্যরা।

৬ আনাস থেকে বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন: ৩- কিতাবুল ইলম, ১১- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে উপদেশ ও ইলমের মাধ্যমে তাদের খোঁজখবর নিতেন যাতে তারা বিতৃষ্ণ না হয়, আল-ফাতহ ১/১৬৩, এবং অন্যান্য স্থানে। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন: ৩২- আল-জিহাদ, হাদীস ৪, এবং অন্যান্য স্থানে; এবং আহমাদ বিভিন্ন স্থানে এটি বর্ণনা করেছেন যার মধ্যে ১/২২৯ এবং ২৮৩ অন্যতম।