(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: -)
عمدة الأحكام الكبرى   (عبد الغني المقدسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: عمدة الأحكام الكبرى

المؤلف: عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي الجماعيلي الدمشقي الحنبلي، أبو محمد، تقي الدين (ت 600 هـ)

المحقق: الدكتور سمير بن أمين الزهيري

الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م

عدد الصفحات: 515

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو القعدة 1436

উমদাতুল আহকাম আল-কুবরা   (আব্দুল গনি আল-মাকদিসি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: উমদাতুল আহকাম আল-কুবরা

লেখক: আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরূর আল-মাকদিসি আল-জামাঈলি আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি, আবু মুহাম্মদ, তাকিউদ্দিন (মৃত্যু ৬০০ হিজরি)

সম্পাদক: ডক্টর সমীর বিন আমিন আল-জুহাইরি

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১৫

[কিতাবটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ১৯ জিলকদ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ١)
عمدة الأحكام

الكبرى

تأليف

الإمام الحافظ عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي

ت (600) هـ

دراسة وتحقيق

الدكتور سمير بن أمين الزهيري

مكتبة المعارف للنشر والتوزيع

لصاحبها سعد بن عبد الرحمن الراشد

الرياض
উমদাতুল আহকাম

আল-কুবরা

রচনায়

ইমাম আল-হাফিজ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি

মৃত্যু (৬০০) হিজরি

গবেষণা ও সম্পাদনা

ডক্টর সামির বিন আমিন আল-জুহাইরি

মাকতাবাতুল মা'আরিফ প্রকাশনা ও বিতরণ

স্বত্বাধিকারী সাদ বিন আব্দুর রহমান আল-রাশিদ

রিয়াদ
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٢)
جميع الحقوق محفوظة للناشر، فلا يجوز نشر أي جزء من

هذا الكتاب، أو تخزينه أو تسجيله بأيّة وسيلة، أو تصويره

أو ترجمته دون موافقة خطية مُسبقة من الناشر.

 

الطبعة الأولى

1430 هـ/ 2009 م

ح مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، 1430 هـ - ط 1

فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر

المقدسي، عبد الغني عبد الواحد

عمدة الأحكام الكبرى./ عبد الغني عبد الواحد المقدسي؛ سمير

أمين الزهيرى.- الرياض، 1430 هـ

.. ص؛ .. سم

ردمك: 4 - 25 - 8028 - 603 - 978

 

1 - الحديث - أحكام 2 - الحديث - جوامع الفنون أ. الزهيري،

سمير أمين (محقق) ب. العنوان

ديوي 3، 237

4620/ 1430

 

رقم الابداع: 4620/ 1430

ردمك: 4 - 25 - 8028 - 603 - 978

 

مكتبة المعارف للنشر والتوزيع

هاتف: 4114535 - 4113350

فاكس 4112932 - ص. ب: 3281

الرياض الرمز البريدي 11471
সকল স্বত্ব প্রকাশকের সংরক্ষিত, তাই প্রকাশকের পূর্বলিখিত অনুমতি ব্যতীত এই

বইয়ের কোনো অংশ প্রকাশ করা, কোনো উপায়ে সংরক্ষণ বা রেকর্ড করা, অথবা ছবি তোলা

বা অনুবাদ করা যাবে না।

 

প্রথম সংস্করণ

১৪৩০ হিজরি/ ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

© মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, ১৪৩০ হিজরি - ১ম সংস্করণ

প্রকাশনাকালীন কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি ক্যাটালগিং

আল-মাকদিসি, আবদুল গনি আবদুল ওয়াহিদ

উমদাতুল আহকাম আল-কুবরা।/ আবদুল গনি আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি; সামির

আমিন আল-জুহাইরি।- রিয়াদ, ১৪৩০ হিজরি

.. পৃষ্ঠা; .. সেমি

আইএসবিএন: ৪ - ২৫ - ৮০২৮ - ৬০৩ - ৯৭৮

 

১ - হাদিস - আহকাম ২ - হাদিস - জাওয়ামিউল ফুনুন ক. আল-জুহাইরি,

সামির আমিন (গবেষক) খ. শিরোনাম

ডিউই ৩, ২৩৭

৪৬২০/ ১৪৩০

 

লিগ্যাল ডিপোজিট নম্বর: ৪৬২০/ ১৪৩০

আইএসবিএন: ৪ - ২৫ - ৮০২৮ - ৬০৩ - ৯৭৮

 

মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

টেলিফোন: ৪১১৪৫৩৫ - ৪১১৩৩৫০

ফ্যাক্স ৪১১২৯৩২ - পি.ও. বক্স: ৩২৮১

রিয়াদ পোস্টাল কোড ১১৪৭১
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٣)
عمدة الأحكام

الكبرى
বিধানসমূহের নির্ভরযোগ্য মূলভিত্তি

সুবৃহৎ
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٤)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة الطبعة الثانية

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام الأتمان الأكملان على سيد ولد آدم أجمعين.

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

أما بعد: فهذه الطبعة الثانية من كتاب "عمدة الأحكام الكبرى" للحافظ عبد الغني المقدسيّ رحمه الله، والتي تتميز عن الطبعة الأولى بعدة مزايا أهمها:

أولًا: أنها مقابلة على نسخة خطية جديدة

فلقد حصلت على نسخة خطية للكتاب غير التي طبع عنها المرة الأولى، ولا شك أن هذا مما يزيد الكتاب جودة ودقة، خاصة إذا كانت النسخ الخطية جيدة كما هو الحال هنا.

والنسخة الأولى التي طبع عنها الكتاب قد سَبق وصفُها في مقدمة الطبعة الأولى، وأما عن هذه النسخة فوصفها كما يلي:

توجد هذه النسخة في كوبرلي بتركيا تحت رقم (398) حديث، وعدد أوراقها (120) ورقة.

وهي نسخة صحيحة متقنة، قوبلت بعد نسخها، واستدرك في حاشيتها ما سقط أثناء النسخ، وقد أتبع كل سقط بعلامة الإلحاق "صح". وتوجد هناك حواشي كثيرة في أثناء كتاب البيوع؛ بعضها تفسير غريب، وبعضها منقول من كتاب "جامع الأصول".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর পূর্ণতম ও সবচেয়ে নিখুঁত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আদম-সন্তানদের সরদারের ওপর।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

অতঃপর: হাফেজ আব্দুল গনী আল-মাকদিসী (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত "উমদাতুল আহকাম আল-কুবরা" কিতাবটির এটি দ্বিতীয় সংস্করণ, যা প্রথম সংস্করণের তুলনায় বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

প্রথমত: এটি একটি নতুন পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।

আমি কিতাবটির এমন একটি পাণ্ডুলিপি পেয়েছি যা প্রথমবার ছাপানোর সময় ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপি থেকে ভিন্ন। নিঃসন্দেহে এটি কিতাবটির গুণগত মান ও নির্ভুলতাকে বৃদ্ধি করে, বিশেষ করে যদি পাণ্ডুলিপিগুলো ভালো মানের হয়, যেমনটি এখানে হয়েছে।

প্রথম পাণ্ডুলিপিটি যেখান থেকে কিতাবটি ছাপা হয়েছিল, তার বিবরণ প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় আগে বর্ণিত হয়েছে। আর এই পাণ্ডুলিপিটির বিবরণ নিম্নরূপ:

এই পাণ্ডুলিপিটি তুরস্কের কোপরুলু লাইব্রেরিতে ৩৯৮ নম্বর হাদিস হিসেবে সংরক্ষিত আছে এবং এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ১২০টি।

এটি একটি সহিহ ও সুশৃঙ্খল অনুলিপি, যা অনুলিপি করার পর মূল কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। অনুলিপি করার সময় যা কিছু বাদ পড়েছিল, তা টীকায় সংশোধন করা হয়েছে এবং প্রতিটি বাদ পড়া অংশের শেষে "সহিহ" চিহ্ন দিয়ে তা যুক্ত করা হয়েছে। ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় চলাকালীন অনেক টীকা রয়েছে; যার কিছু দুর্লভ শব্দের ব্যাখ্যা এবং কিছু "জামিঊল উসুল" কিতাব থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٤)
وقد اختلف خط النسخ؛ لأنه تناوب على نسخ هذه النسخة أكثر من ناسخ، ولم يُذكر سوى اسم واحد منهم فقط في حاشية الورقة رقم (22).

وجاء في آخرها:

"وهذا آخر الكتاب والحمد لله رب العالمين. استنسخه لنفسه أقل عباد الله وأضعفهم: مظفر بن الأمير حاج بن المؤيد في العشر الآخر من صفر لسنة عشرين وسبعمائة بمدينة السلام".

ومما يلاحظ على هذه النسخة غير اختلاف خطوط النساخ:

أنها خلت من تفسير الغريب سوى موضعين اثنين عند الحديث رقم (722)، وهذا الموطن لم يذكر في النسخة الأخرى! والموطن الآخر عند الحديث رقم (853).

وأمر آخر يتعلق برموز أو علامات الكتب الستة، إذ لم تظهر هذه الرموز في بعض المواطن، وإنما يظهر مكانها بياض، ولعل ذلك يرجع إلى نوع الحبر والتصوير. إلا أن هناك مواطن أخرى لم تذكر فيها هذه الرموز أصلًا!

ثانيًا: تصحيح بعض الأخطاء العلمية والمطبعية.

ومن أبرز ذلك ما كنت ذكرته عند الحديث رقم (848) من أن الصعبي الذي ألف في رجال العمدة هو (عبد الغني بن محمد بن أبي الحسن) بينما الصواب هو أخوه (عبد القادر).

وإن كان خطئي في الطبعة السابقة لم أعدم منه فائدة! ومن يرجع إلى حاشية الحديث في هذه الطبعة سيعرف تلك الفائدة.

ثالثًا: في هذه الطبعة أيضًا زيادات حديثية وفقهية وغير ذلك.

* * *
অনুলিপির হস্তাক্ষর ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে; কারণ এই পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করার কাজে একাধিক ব্যক্তি পর্যায়ক্রমে অংশ নিয়েছিলেন, এবং ২২ নম্বর পাতার পার্শ্বটীকায় তাঁদের মধ্যে মাত্র একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এবং এর শেষে এসেছে:

"এটিই কিতাবের শেষ এবং সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর তুচ্ছতম ও দুর্বলতম বান্দা: মুজাফফর বিন আল-আমীর হাজ্জ বিন আল-মুয়াইয়্যাদ ৭২০ হিজরির সফর মাসের শেষ দশকে মদিনাতুস সালামে (বাগদাদ) নিজের জন্য এটি অনুলিপি করেছেন।"

অনুলিপিকারীদের হস্তাক্ষরের ভিন্নতা ছাড়াও এই পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে যা লক্ষ্য করা যায়:

৭২২ নম্বর হাদিসের কাছে দুটি স্থান ব্যতীত এটি 'গরীব' (কঠিন শব্দ) শব্দের ব্যাখ্যা থেকে মুক্ত ছিল, অথচ এই স্থানটি অন্য পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখ করা হয়নি! এবং অন্য স্থানটি ৮৫৩ নম্বর হাদিসের কাছে।

অন্য আরেকটি বিষয় হলো কুতুবে সিত্তাহর সংকেত বা চিহ্নসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট, কারণ কিছু স্থানে এই সংকেতগুলো প্রকাশ পায়নি, বরং সেই জায়গাগুলো খালি বা সাদা রয়ে গেছে। সম্ভবত এটি কালির ধরন এবং মুদ্রণ প্রক্রিয়ার কারণে হয়েছে। তবে এমন কিছু স্থানও রয়েছে যেখানে এই সংকেতগুলো আদপেই উল্লেখ করা হয়নি!

দ্বিতীয়ত: কিছু ইলমি ও মুদ্রণজনিত ভুল সংশোধন করা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো যা আমি ৮৪৮ নম্বর হাদিসে উল্লেখ করেছিলাম যে, 'রিজালুল উমদাহ' বিষয়ে গ্রন্থ প্রণয়নকারী আস-সাবী হলেন (আবদুল গনি বিন মুহাম্মদ বিন আবুল হাসান), অথচ সঠিক হলো তাঁর ভাই (আবদুল কাদির)।

যদিও পূর্ববর্তী সংস্করণে আমার এই ভুলের মাঝেও আমি উপকার থেকে বঞ্চিত হইনি! আর যে ব্যক্তি এই সংস্করণের হাদিসের টীকাটি দেখবে, সে সেই উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারবে।

তৃতীয়ত: এই সংস্করণে হাদিস ও ফিকহ সংক্রান্ত এবং অন্যান্য বিষয়েরও সংযোজন রয়েছে।

* * *
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٥)
ولا بد من الإشارة هنا في هذه المقدمة - ولو على عجالة- إلى طبعة أخرى لهذا الكتاب طبعت بعد طبعتي، والذي يتبين لي -ولغيري من طلاب العلم- أن محققها ليست لديه الدراية الكافية بعلم الحديث! ولا بقراءة المخطوط!

• فأما قلة درايته بقراءة المخطوط فهذه أمثلة تدل على ما أقول:

1 - قوله (ص 40): "أخرجهما ابن ماجه" صوابه: أخرجها … "، فهي ثلاثة أحاديث

2 - قوله (ص 116): "أشعث بن الربيع" صوابه: "أشعث بن سعيد أبو الربيع".

3 - قوله (ص 117): "وهو على راحلته فصلى بهم" صوابه: "وهو على راحلته، وأقام فتقدم على راحلته فصلى بهم".

4 - قوله ص (129): "يا رسول الله كدت أصلي العصر" صوابه: "يا رسول الله ما كدت أصلي العصر".

5 - قوله ص (150) "ثم حين يسجد" صوابه: "ثم يكبر حين يسجد".

6 - قوله ص (153): "ووضع إصبعه الوسطى" صوابه: "ووضع إِبهامه على إصبعه الوسطى".

7 - قوله ص (155): "وإذا نهض رفع ركبتيه قبل يديه" صوابه: " … رفع يديه قبل ركبتيه".

8 - قوله ص (159): "ولأبي العاص بن الربيع" صوابه: "ولأبي العاص

بن ربيعة".
এই ভূমিকায় সংক্ষেপে হলেও এই গ্রন্থের অন্য একটি সংস্করণ সম্পর্কে ইঙ্গিত করা আবশ্যক, যা আমার সংস্করণের পরে প্রকাশিত হয়েছে। আমার কাছে এবং ইলম অন্বেষণকারী অন্যান্যদের কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো, এর সম্পাদকের (মুহাক্কিক) হাদীস শাস্ত্র এবং পাণ্ডুলিপি পঠন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই! পাণ্ডুলিপি পঠনে তার জ্ঞানের স্বল্পতার বিষয়ে আমি যা বলছি, এগুলো তার প্রমাণস্বরূপ কিছু উদাহরণ:

• পাণ্ডুলিপি পঠনে তার অদক্ষতা সম্পর্কে আমি যা বলছি, এগুলো তার প্রমাণস্বরূপ কিছু উদাহরণ:

১ - তার বক্তব্য (পৃ. ৪০): "ইবনে মাজাহ উভয়টি বর্ণনা করেছেন", সঠিক রূপ হলো: "তিনি এগুলো বর্ণনা করেছেন...", কারণ এগুলো তিনটি হাদীস।

২ - তার বক্তব্য (পৃ. ১১৬): "আশ'আস বিন আর-রাবী", সঠিক রূপ হলো: "আশ'আস বিন সাঈদ আবু আর-রাবী"।

৩ - তার বক্তব্য (পৃ. ১১৭): "তিনি তাঁর সওয়ারীতে থাকা অবস্থায় তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন", সঠিক রূপ হলো: "তিনি তাঁর সওয়ারীতে ছিলেন, অতঃপর ইকামাত দিলেন এবং তাঁর সওয়ারীর ওপর থেকেই সামনে অগ্রসর হয়ে তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন"।

৪ - তার বক্তব্য পৃ. (১২৯): "হে আল্লাহর রাসূল, আমি আসরের সালাত আদায় করতে যাচ্ছিলাম", সঠিক রূপ হলো: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি প্রায় আসরের সালাত আদায় করতে পারছিলাম না"।

৫ - তার বক্তব্য পৃ. (১৫০): "অতঃপর যখন সিজদাহ করেন", সঠিক রূপ হলো: "অতঃপর যখন সিজদাহ করেন তখন তাকবীর বলেন"।

৬ - তার বক্তব্য পৃ. (১৫৩): "এবং তিনি তাঁর মধ্যমা আঙুল রাখলেন", সঠিক রূপ হলো: "এবং তিনি তাঁর মধ্যমা আঙুলের ওপর বৃদ্ধাঙ্গুলি রাখলেন"।

৭ - তার বক্তব্য পৃ. (১৫৫): "আর যখন তিনি দাঁড়াতেন তখন হাতের আগে হাঁটু উঠাতেন", সঠিক রূপ হলো: "... হাঁটুর আগে হাত উঠাতেন"।

৮ - তার বক্তব্য পৃ. (১৫৯): "এবং আবু আল-আস বিন আর-রাবীর জন্য", সঠিক রূপ হলো: "এবং আবু আল-আস বিন রাবিয়াহর জন্য"।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٦)
9 - قوله ص (163) في نهاية السطر الثاني وأول الثالث: "ويقصر في الثانية وكان يطول" صوابه: "ويقصر في الثانية يسمع الآية أحيانًا، وكان يقرأ في العصر بفاتحة الكتاب وسورتين، يطول في الأولى ويقصر في الثانية، وكان يطول".

10 - قوله ص (172): "ويقال: عَمّار" صوابه: "ويقال: عُمَارة".

11 - قوله ص (217): "قبل زيغ الشمس صلى الظهر" وصوابه: "قبل زيغ الشمس أخر الظهر حتى يجمعها إلى العصر فيصليهما جميعا. وإذا ارتحل بعد زيع الشمس صلى الظهر".

12 - قوله ص (318): "لابتيها يريد الحرمين" صوابه: "لابتيها يريد الحرتين".

فهذه نماذج تدل على ما ذكرتُ من قلة الدراية بالمخطوطات وقراءتها، ثم هي تدل من وجه آخر أن فن التخريج فن عزيز، قَلّ مَن كان يحسنه قديمًا، وهم اليوم أقل!

• وأما قلة الدراية بهذا العلم الشريف؛ علم الحديث

فهي واضحة جدًا في هذه الطبعة سواء كان ذلك في تخريج الحديث، أو في الحكم عليه، أو في استخلاص النتائج من أقوال أئمة الجرح والتعديل في الرواة، ومنشأ ذلك عنده عدم درايته الدراية الكافية بمعاني ألفاظهم، ولا بمنازلهم في هذا العلم.

ثم في باب التصحيح والتضعيف اتكأ على كتاب "التعريف"! فنتج من ذلك في تلك الأحكام تخاريف!
৯ - পৃষ্ঠা ১৬৩-এর দ্বিতীয় লাইনের শেষ এবং তৃতীয় লাইনের শুরুতে তাঁর উক্তি: "এবং দ্বিতীয়টিতে সংক্ষেপ করতেন আর দীর্ঘ করতেন"; এর সঠিক পাঠ হলো: "এবং দ্বিতীয়টিতে সংক্ষেপ করতেন, মাঝে মাঝে আয়াত শুনিয়ে দিতেন। তিনি আসরের সালাতে সূরা ফাতিহা এবং আরও দুটি সূরা পাঠ করতেন, প্রথমটিতে দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয়টিতে সংক্ষেপ করতেন আর তিনি দীর্ঘ করতেন।"

১০ - পৃষ্ঠা ১৭২-এ তাঁর উক্তি: "এবং বলা হয়: আম্মার"; এর সঠিক পাঠ হলো: "এবং বলা হয়: উমারা।"

১১ - পৃষ্ঠা ২১৭-তে তাঁর উক্তি: "সূর্য ঢলে পড়ার আগে তিনি যোহরের সালাত আদায় করেছেন"; এর সঠিক পাঠ হলো: "সূর্য ঢলে পড়ার আগে তিনি যোহরের সালাত বিলম্বিত করতেন যাতে তা আসরের সাথে মিলিয়ে উভয়টি একত্রে আদায় করতে পারেন। আর যখন তিনি সূর্য ঢলে পড়ার পর যাত্রা করতেন, তখন যোহরের সালাত আদায় করে নিতেন।"

১২ - পৃষ্ঠা ৩১৮-তে তাঁর উক্তি: "তার দুই লাবাহ (পাথুরে ভূমি) দ্বারা দুই হারাম উদ্দেশ্য"; এর সঠিক পাঠ হলো: "তার দুই লাবাহ দ্বারা দুই হাররাহ (কালো পাথুরে এলাকা) উদ্দেশ্য।"

এগুলো এমন কিছু নমুনা যা পাণ্ডুলিপি এবং তা পাঠ করার বিষয়ে আমার উল্লিখিত জ্ঞানের স্বল্পতাকে প্রমাণ করে। পাশাপাশি এটি অন্য দিক থেকে নির্দেশ করে যে, তাখরিজ শিল্প একটি অত্যন্ত দুর্লভ শিল্প; অতীতে খুব অল্প সংখ্যক মানুষই এতে পারদর্শী ছিলেন, আর বর্তমানে তো তাদের সংখ্যা আরও নগণ্য!

• আর এই মহান ইলম তথা হাদীস শাস্ত্রের বিষয়ে জ্ঞানের স্বল্পতার বিষয়টি এই মুদ্রণে অত্যন্ত স্পষ্ট; চাই তা হাদীসের তাখরিজ করার ক্ষেত্রে হোক, কিংবা হাদীসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে হোক, অথবা বর্ণনাকারীদের বিষয়ে জারহ ও তা'দীলের ইমামগণের উক্তি থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেই হোক। এর মূল কারণ হলো, তাঁদের ব্যবহৃত পরিভাষার অর্থ সম্পর্কে তাঁর পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা এবং এই শাস্ত্রে তাঁদের স্তর ও মর্যাদা সম্পর্কে অবগত না থাকা।

অতঃপর হাদীস সহীহ ও যয়ীফ সাব্যস্ত করার অধ্যায়ে তিনি "আত-তা'রীফ" নামক গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন! যার ফলে সেই সিদ্ধান্তগুলোতে নানাবিধ অসংলগ্ন প্রলাপের সৃষ্টি হয়েছে!
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٧)
ولست بصدد مناقشته في كل هذه الأحكام، وإنما هذا يتبين بأدنى نظرة في كتابه، فهو يكاد يصرح بأن أحاديث الكتاب صحيحة، إذ قال في المقدمة (ص 7):

"وأحاديثه في مجملها صحيحة، وكأن مؤلفه أرادها كذلك، وإن لم يصرح بذلك في مقدمته".

ومن طالع كتابه يجد ما ضعفه لا يبلغ خمسة أحايث! من مجموع أحاديث الكتاب البالغة (959) حديثًا حسب عَدِّه هو!

وسأذكر هنا مثالين اثنين فقط

أما الأول فهو:

1 - الحديث رقم (688)، ومقابله في نسختي برقم (620)، وهو قوله صلى الله عليه وسلم: "بارك الله لك، وبارك عليك، وجمع بينكما في خير وعافية".

عزاه لأبي داود والترمذي وابن ماجة والحاكم وابن حبان في كلام طويل له، كذكر اسم الكتاب والباب ورقم الحديث وغير ذلك!

لكن دون أن ينتبه إلى لفظ: "وعافية". هل هو في الحديث أم لا؟ هل رواه أحد من هؤلاء الذين عزا لهم الحديث أم لا؟ بل هل يوجد هذا اللفظ في أي مصدر حديثي أم لا؟

وأما الثاني فهو:

2 - الحديث رقم (713)، ومقابله في نسختي برقم (643)، وهو: حديث عامر بن ربيعة؛ أن امرأة من بني فزارة تزوجت على نعلين، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أرضيت من نفسك ومالك بنعلين؟ ". قالت: نعم. قال: فأجازه. ق ت وقال: حديث حسن صحيح .. أهـ.
আমি তাঁর এই সব হুকুম বা সিদ্ধান্তের প্রত্যেকটি নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে এখানে বসিনি, বরং তাঁর কিতাবটির ওপর সামান্য দৃষ্টি দিলেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি প্রায় স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, কিতাবটির হাদিসগুলো সহিহ। কারণ তিনি ভূমিকার (৭ নং পৃষ্ঠায়) বলেছেন:

"এর হাদিসগুলো সামগ্রিকভাবে সহিহ, আর যেন এর লেখক এমনটাই চেয়েছিলেন, যদিও তিনি তাঁর ভূমিকায় তা স্পষ্টভাবে বলেননি।"

আর যে ব্যক্তি তাঁর কিতাবটি পাঠ করবে সে দেখতে পাবে যে, তিনি যে হাদিসগুলোকে যঈফ (দুর্বল) বলেছেন সেগুলোর সংখ্যা পাঁচটি হাদিসও নয়! অথচ তাঁর নিজের গণনা অনুযায়ী কিতাবটির মোট হাদিস সংখ্যা হলো (৯৫৯) টি!

আমি এখানে কেবল দুটি উদাহরণ উল্লেখ করব।

প্রথমটি হলো:

১ - ৬৮৮ নং হাদিস, এবং আমার কপিতে এর বিপরীতে রয়েছে ৬২০ নং হাদিস। আর তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আল্লাহ তোমার জন্য বরকত দিন, তোমার ওপর বরকত নাযিল করুন এবং তোমাদের উভয়কে কল্যাণ ও সুস্থতার (আফিয়াত) সাথে একত্রিত করুন।"

তিনি এটি আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, হাকেম এবং ইবনে হিব্বানের দিকে নিসবত করেছেন (উদ্ধৃতি দিয়েছেন), যেখানে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে, যেমন কিতাবের নাম, অধ্যায়, হাদিস নম্বর এবং আরও অনেক কিছু উল্লেখ করেছেন!

কিন্তু তিনি "এবং সুস্থতা" (ওয়া আফিয়াহ) শব্দটির প্রতি লক্ষ্য করেননি। এটি কি হাদিসে আছে কি নেই? যাঁদের দিকে তিনি হাদিসটি নিসবত করেছেন তাঁদের কেউ কি এটি বর্ণনা করেছেন কি করেননি? বরং এই শব্দটি কি কোনো হাদিসের উৎসে আদৌ বিদ্যমান আছে কি নেই?

আর দ্বিতীয়টি হলো:

২ - ৭১৩ নং হাদিস, এবং আমার কপিতে এর বিপরীতে রয়েছে ৬৪৩ নং হাদিস। আর তা হলো: আমির বিন রাবিয়াহ বর্ণিত হাদিস; বনু ফাজারা গোত্রের এক নারী এক জোড়া জুতার বিনিময়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি কি তোমার জান ও মালের বিনিময়ে এক জোড়া জুতাতেই সন্তুষ্ট হলে?" তিনি বললেন: হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তা অনুমোদন করলেন। বুখারি ও তিরমিজি; আর তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: হাদিসটি হাসান সহিহ... সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٨)
وكنت كتبت أنا تعليقًا على هذا الحديث:

(منكر، رواه ابن ماجة (1888)، والترمذي (1113) من طريق عاصم بن عبيد الله، عن عبد الله بن عامر بن ربيعة، عن أبيه، به

قلت: وعاصم ضعيف؛ سيئ الحفظ، بل تركه بعضهم، ولذلك فقول الترمذي: "حسن صحيح" ليس بحسن ولا بصحيح!

وقد قال ابن أبي حاتم في "العلل" (1/ 424/ رقم 1276):

"سألت أبي عن عاصم بن عبيد الله؟ فقال: منكر الحديث. يقال: إنه

ليس له حديث يعتمد عليه. قلت: مما أنكروا عليه؟ قال: روى عن عبد الله بن

عامر بن ربيعة، عن أبيه؛ أن رجلًا تزوج امرأة على نعلين، فأجازه النبي صلى الله عليه وسلم،

وهو منكر".

وأيضًا أورد الذهبي هذا الحديث في "الميزان" (2/ 354) مما أنكر لعاصم هذا). انتهى كلامي بحروفه.

فكتب هو:

(صحيح بشواهده، ضعيف إسناده.

ت: (2/ 405) أبواب النكاح (22) باب ما جاء في مهور النساء.

عن محمد بن بشار، عن يحيى بن سعيد، وعبد الرحمن بن مهدي، ومحمد بن جعفر جميعًا عن شعبة، عن عاصم بن عبيد الله قال: سمعت عبد الله بن عامر بن ربيعة عن أبيه به.

قال: "وفي الباب عن عمر، وأبي هريرة، وسهل بن سعد، وأبي سعيد، وأنس، وعائشة، وجابر، وأبي حدرد الأسلمي".

وقال: "حديث عامر بن ربيعة حديث حسن صحيح".
আমি এই হাদিসটির উপর একটি টীকা লিখেছিলাম:

(মুনকার, এটি ইবনে মাজাহ (১৮৮৮) এবং তিরমিজি (১১১৩) আসিম ইবনে উবাইদুল্লাহর সূত্রে, আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিআহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমি বলেছি: আসিম দুর্বল; মুখস্থ শক্তিতে ত্রুটিপূর্ণ, এমনকি কেউ কেউ তাঁকে বর্জন করেছেন। তাই তিরমিজির উক্তি: "হাসান সহিহ" কথাটি হাসানও নয়, সহিহও নয়!

ইবনে আবি হাতিম "আল-ইলাল" (১/ ৪২৪/ নম্বর ১২৭৬) গ্রন্থে বলেছেন:

"আমি আমার পিতাকে আসিম ইবনে উবাইদুল্লাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তাঁর হাদিস মুনকার। বলা হয় যে,

তাঁর এমন কোনো হাদিস নেই যার উপর নির্ভর করা যায়। আমি বললাম: তাঁর কোন হাদিসগুলো তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন? তিনি বললেন: তিনি আবদুল্লাহ ইবনে

আমির ইবনে রাবিআহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি এক জোড়া জুতার বিনিময়ে এক মহিলাকে বিবাহ করেছিলেন, অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা অনুমোদন করেছিলেন,

অথচ এটি মুনকার"।

ইমাম যাহাবি "আল-মিজান" (২/ ৩৫৪) গ্রন্থে আসিমের বর্ণিত এই হাদিসটিকে তাঁর প্রত্যাখ্যাত হাদিসগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন)। আমার কথাগুলো হুবহু সমাপ্ত হলো।

অতঃপর তিনি লিখেছেন:

(তার শাওয়াহিদ বা সমার্থবোধক বর্ণনার মাধ্যমে সহিহ, তবে এর সনদটি দুর্বল।

তিরমিজি: (২/ ৪০৫) বিবাহ অধ্যায় (২২) অনুচ্ছেদ: নারীদের মোহর প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, আবদুর রহমান ইবনে মাহদি এবং মুহাম্মদ ইবনে জাফর—সবাই শু'বাহ থেকে, তিনি আসিম ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিআহকে তাঁর পিতা থেকে এটি বর্ণনা করতে শুনেছি।

তিনি বলেছেন: "এই বিষয়ে উমর, আবু হুরাইরাহ, সাহল ইবনে সাদ, আবু সাঈদ, আনাস, আয়েশা, জাবির এবং আবু হাদরাদ আল-আসলামি থেকেও হাদিস রয়েছে।"

এবং তিনি বলেছেন: "আমির ইবনে রাবিআর হাদিসটি হাসান সহিহ হাদিস।"
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٩)
"واختلف أهل العلم في المهر، فقال بعض أهل العلم: المهر على ما تراضوا عليه، وهو قول سفيان الثوري، والشافعي، وأحمد، وإسحاق".

"وقال مالك بن أنس: لا يكون المهر أقل من ربع دينار".

"وقال بعض أهل الكوفة: لا يكون المهر أقل من عشرة دراهم".

جه: (3/ 333) كتاب النكاح (17) باب صداق النساء.

من طريق وكيع، عن سفيان، عن عاصم به. رقم: (1888).

حم: (24/ 445) حديث عامر بن ربيعة رضي الله عنه.

عن وكيع به. رقم: (15676).

وقد ضعف هذا الحديث من قبل عاصم بن عبيد الله وهو العمري، وباقي رجال الإسناد ثقات رجال الشيخين.

ولا بأس أن يقال: إن الحديث ضعيف لضعف عاصم، أما أن يتعجب من الترمذي في تصحيحه للحديث فهذا مما فيه بأس.

وذلك لأن الترمذي حكم بصحته لشواهده الكثيرة كما بَيَّن ومن البدهي أن حديث الضعيف يرقى بمتابعاته وشواهده.

والترمذي نفسه روى في الباب الذي بعده عن عمر قوله: "ألا لا تغالوا في صدقات النساء؛ فإنها لو كانت مكرمة في الدنيا أو تقوى عند الله لكان أولاكم بها نبي الله صلى الله عليه وسلم".

وقال: هذا حديث صحيح.

ورواه الحاكم (2/ 175) وابن حبان: (4620).

وعن أبي هريرة عند مسلم أن رجلًا تزوج على أربع أواق، فقال له- صلى الله عليه وسلم كأنما تنحتون من عرض هذا الجبل. (رقم 75/ 1424).
আলেমগণ মোহর সম্পর্কে মতভেদ করেছেন। কিছু আলেম বলেছেন: মোহর হলো যা তারা একে অপরের সাথে সম্মত হবে। এটি সুফিয়ান সাওরি, শাফি'ঈ, আহমদ এবং ইসহাক-এর অভিমত।

মালিক ইবনে আনাস বলেন: মোহর এক চতুর্থাংশ দিনারের কম হবে না।

কুফার কিছু আলেম বলেন: মোহর দশ দিরহামের কম হবে না।

ইবনে মাজাহ: (৩/ ৩৩৩) বিবাহ অধ্যায় (১৭), নারীদের মোহর সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

ওয়াকি'র সূত্রে, সুফিয়ান থেকে, আসিম-এর মাধ্যমে। নম্বর: (১৮৮৮)।

মুসনাদে আহমদ: (২৪/ ৪৪৫) আমির বিন রাবি'আ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস।

ওয়াকি'র সূত্রে। নম্বর: (১৫৬৭৬)।

আসিম বিন উবায়দুল্লাহ আল-উমরির কারণে এই হাদিসটিকে দুর্বল বলা হয়েছে, তবে সনদের বাকি বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং শায়খায়নের (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনাকারী।

এটি বলায় কোনো সমস্যা নেই যে, আসিমের দুর্বলতার কারণে হাদিসটি দুর্বল, কিন্তু ইমাম তিরমিজি কর্তৃক এই হাদিসটিকে সহিহ বলার কারণে বিস্মিত হওয়া সমীচীন নয়।

কারণ তিরমিজি এর অসংখ্য সমর্থক বর্ণনার (শাহেদ) ভিত্তিতে এটিকে সহিহ বলে حکم দিয়েছেন যেমনটি তিনি স্পষ্ট করেছেন। আর এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, দুর্বল হাদিস তার অনুগামী বর্ণনা (মুতাবায়াত) ও সমর্থক বর্ণনার মাধ্যমে উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়।

ইমাম তিরমিজি নিজেই পরবর্তী পরিচ্ছেদে উমর থেকে তাঁর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন: "সাবধান! তোমরা নারীদের মোহরের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করো না; কারণ যদি এটি দুনিয়াতে সম্মানের বিষয় হতো অথবা আল্লাহর নিকট তাকওয়ার বিষয় হতো, তবে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মধ্যে এর জন্য সবচেয়ে বেশি হকদার হতেন।"

তিনি বলেন: এই হাদিসটি সহিহ।

এটি হাকাম (২/ ১৭৫) এবং ইবনে হিব্বান (৪৬২০) বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরায়রা থেকে মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে যে, এক ব্যক্তি চার উকিয়া (মোহরের) বিনিময়ে বিয়ে করেছিলেন, তখন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন— "তোমরা যেন এই পাহাড়ের পাশ খুঁড়ে (রুপা) বের করছ।" (নম্বর ৭৫/ ১৪২৪)।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ١٠)
وعن جابر عند أبي داود: (رقم: 2110) بلفظ: "من أعطى في صداق امرأة ملء كفيه سويقًا أو تمرًا فقد استحل".

وسبق حديث سهل قبل هذا الحديث، وهو متفق عليه: "التمس ولو خاتماً من حديد".

قال الشافعي في "الأم" بعد روايته: "وخاتم الحديد لا يسوي قريبًا من الدرهم".

ويكفي هذا الشاهد الأخير ليصح الحديث، ولا تخيب نظرة الترمذي فيه .. والله تعالى أعلم.

وقول أبي حاتم في هذا الحديث إنه ممَّا أنكروا عليه لا يعني ضعفًا. بقدر ما يعني تفردًا من الراوي، كما نبه ابن حجر على ذلك، قال: المنكر أطلقه أحمد بن حنبل وجماعة على الحديث الفرد الذي لا متابع له، فيحمل هذا على ذلك (هدي الساري. ص: 437).

وقال البيهقي في عاصم: تكلموا فيه، ومع ضعَّفه روى عنه الأئمة).

انتهى كلامه بحروفه.

وأقول:

• فأما حديث عمر فقد رواه أبو داود (2106)، وتمامه:

"ما أصدق رسول الله صلى الله عليه وسلم امرأة من نسائه، ولا أصدقت امرأة من بناته، أكثر من ثنتي عشرة أوقية".

وزاد أحمد (1/ 40 - 41)، والنَّسائيّ (6/ 117 - 118): "وإن الرجل ليغلي بصَدُقة امرأته حتى يكون لها عداوة في نفسه! وحتى يقول: كُلِّفتُ لكم علق القربة … ".
আর জাবির থেকে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে (নম্বর: ২১১০): "যে ব্যক্তি কোনো নারীর মোহর হিসেবে তার দুই হাত ভর্তি ছাতু বা খেজুর প্রদান করে, সে তাকে হালাল করে নিল।"

সহলের হাদিসটি এর আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত): "তুমি তালাশ করো, চাই তা লোহার একটি আংটিই হোক না কেন।"

ইমাম শাফিঈ তার 'আল-উম্ম' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করার পর বলেন: "আর লোহার আংটি এক দিরহামের কাছাকাছি মূল্যমানেরও হয় না।"

আর হাদিসটি সহিহ হওয়ার জন্য এই শেষোক্ত সাক্ষ্যটিই যথেষ্ট এবং এই বিষয়ে তিরমিজীর দৃষ্টিভঙ্গি বিফল নয়। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

আর এই হাদিসের ব্যাপারে আবু হাতিমের উক্তি যে, 'এটি তার বর্ণিত মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত'—তা দুর্বলতা বুঝায় না। বরং এটি বর্ণনাকারীর একক বর্ণনা (তাফাররুদ) হওয়াকে বুঝায়, যেমনটি ইবনে হাজার এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন: আহমদ ইবনে হাম্বল এবং একদল আলেম 'মুনকার' শব্দটি এমন একক হাদিসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন যার কোনো সমর্থক (মুতাবি') নেই; সুতরাং একে সেই অর্থেই গ্রহণ করতে হবে (হাদইউস সারি, পৃষ্ঠা: ৪৩৭)।

আর বায়হাকী আসেম সম্পর্কে বলেছেন: "তারা তার ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন, কিন্তু তার দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও ইমামগণ তার থেকে বর্ণনা করেছেন।"

তার কথা হুবহু এখানে শেষ হলো।

আর আমি বলছি:

• পক্ষান্তরে ওমরের হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (২১০৬) এবং এর পূর্ণাঙ্গ পাঠ হলো:

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো স্ত্রীকে এবং তাঁর কোনো কন্যাকে বারো উকিয়ার বেশি মোহর প্রদান করেননি।"

আর আহমদ (১/৪০-৪১) এবং নাসায়ী (৬/১১৭-১১৮) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "আর কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর মোহর বাড়িয়ে দেয়, এমনকি তার মনে স্ত্রীর প্রতি শত্রুতা সৃষ্টি হয়! এমনকি সে বলতে থাকে: তোমাদের জন্য আমাকে মশক বহনের কষ্টের মতো বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে … "
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ١١)
فما هو وجه الاستشهاد بهذا الحديث ليصحح به حديث زواج امرأة بنعلين؟!

• وأما حديث أبي هريرة الذي رواه مسلم (1424/ 75)، والذي جعله ذاك المحقق شاهدًا يُصحح به حديث زواج امرأة بنعلين!! فهو بتمامه:

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: جاء رجل إلى النَّبيّ صلى الله عليه وسلم فقال:- إنِّي تزوجت امرأة من الأنصار. فقال له النَّبيّ صلى الله عليه وسلم:"هل نظرت إليها؟ فإن في عيون الأنصار شيئًا". قال: قد نظرت إليها. قال: "على كم تزوجتها؟ ". قال: على أربع أواق. فقال له النَّبيّ صلى الله عليه وسلم:"على أربع أواق؟ كأنما تنحتون الفضة من عرض هذا الجبل. ما عندنا ما نعطيك. ولكن عسى أن نبعثك في بعث تصيب منه". قال: فبعث بعثًا إلى بني عبس، بعث ذلك الرجل فيهم.

قلت: فهذا رجل أمهر امرأة مهرًا لا يستطيعه، ثم ذهب يسأل النَّبيّ صلى الله عليه وسلم! فكره له النَّبيّ صلى الله عليه وسلم ذلك، وليس في هذا- لا من قريب ولا من بعيد- ما يشهد لحديث زواج المرأة بالنعلين!

• وأما حديث جابر والذي رواه أبو داود: "من أعطى في صداق امرأة ملء كفيه سويقًا- أو تمرًا- فقد استحل".

قلت: مع أن هذا الشاهد كغيره من الشواهد السابقة لا حجة فيه،، فهو ضعيف لا يصح، وله علل:

أولها: الاضطراب في الوقف والرفع، وفي المتن. وثانيها: جهالة أحد رواته. وثالثها: عنعنة أبي الزُّبير وهو مدلس.

وقدا أشار إلى شيء من هذه العلل أبو داود في "السنن" لكن أغمض ذلك المحتج عينه عن ذلك! وقد قال الذهبي في "الميزان": "الخبر منكر"!
তাহলে এক জোড়া জুতার বিনিময়ে এক মহিলার বিবাহের হাদীসটিকে সহীহ করার জন্য এই হাদীসটিকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করার ভিত্তি কী?

• আর আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত সেই হাদীসটি যা ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১৪২৪/ ৭৫), এবং যাকে সেই মুহাক্কিক (গবেষক) এক জোড়া জুতার বিনিময়ে এক মহিলার বিবাহের হাদীসটি সহীহ করার জন্য সমর্থনকারী দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন!! তা পূর্ণাঙ্গভাবে নিম্নরূপ:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, "আমি আনসারদের এক মহিলাকে বিবাহ করেছি।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "তুমি কি তাকে দেখেছ? কেননা আনসারদের চোখে কিছু (ত্রুটি) থাকে।" সে বলল, "আমি তাকে দেখেছি।" তিনি বললেন, "কত মোহরানা দিয়ে তাকে বিবাহ করেছ?" সে বলল, "চার উকিয়া (রৌপ্য) দিয়ে।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "চার উকিয়া? মনে হচ্ছে যেন তোমরা এই পাহাড়ের গা থেকে রূপা খোদাই করে বের করো। তোমাকে দেওয়ার মতো আমাদের কাছে কিছু নেই। তবে সম্ভবত আমরা তোমাকে কোনো অভিযানে পাঠাব যার মাধ্যমে তুমি কিছু লাভ করতে পারবে।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি বনু আবসের দিকে একটি বাহিনী পাঠালেন এবং সেই লোকটিকেও তাদের সাথে পাঠালেন।

আমি (লেখক) বলছি: এখানে একজন লোক এক মহিলাকে এমন মোহরানা প্রদান করেছে যা দেওয়ার সামর্থ্য তার নেই, তারপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সাহায্য চাইতে এসেছে! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এই কাজটিকে অপছন্দ করলেন। আর এর মধ্যে—নিকট বা দূর কোনোভাবেই—এক জোড়া জুতার বিনিময়ে মহিলার বিবাহের হাদীসটির কোনো সমর্থনকারী দলিল নেই!

• আর জাবির (রা.) বর্ণিত হাদীসটি যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মহিলার মোহরানা হিসেবে তার দুই অঞ্জলি পূর্ণ ছাতু বা খেজুর দিল, সে তার জন্য (স্ত্রী হিসেবে) হালাল হয়ে গেল।"

আমি (লেখক) বলছি: যদিও পূর্ববর্তী অন্যান্য সমর্থনকারী দলিলের মতো এই দলিলেও কোনো প্রমাণ নেই, উপরন্তু এটি যঈফ (দুর্বল), এটি সহীহ নয়। এর বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে:

প্রথমত: এটি মাওকুফ নাকি মারফূ হওয়া নিয়ে এবং এর মূল পাঠে (মতন) ইযতিরাব (বিভ্রান্তি) রয়েছে। দ্বিতীয়ত: এর একজন বর্ণনাকারী অজ্ঞাত (মাজহুল)। তৃতীয়ত: আবু যুবায়েরের 'আন' শব্দে (আনাআনা) বর্ণনা করা, অথচ তিনি একজন মুদাল্লিস।

ইমাম আবু দাউদ 'আস-সুনান'-এ এসব ত্রুটির কিছু কিছু নির্দেশ করেছেন, কিন্তু সেই দলিল প্রদানকারী ব্যক্তি এ থেকে নিজের চোখ বন্ধ করে নিয়েছেন! ইমাম আয-যাহাবী 'আল-মিজান'-এ বলেছেন: "এই বর্ণনাটি মুনকার (পরিত্যক্ত)!"
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ١٢)
• ولم يبق بيد ذلك المحتج على تصحيح حديث زواج المرأة بالنعلين! سوى حديث سهل بن سعد: "التمس ولو خاتمًا من حديد"، ولذلك نقل عن الشافعي قوله: "خاتم الحديد لا يسوي قريبًا من الدرهم".

ثم عقب بقوله: "ويكفي هذا الشاهد ليصح الحديث".

قلت: هذه مغالطة، وإنما هذا الحديث - أو الشاهد في زعمك- يكفي للاحتجاج على أن المهر لا حدَّ لأقله، وليس على تصحيح حديث زواج امرأة على نعلين!!

وبهذا يتضح المراد من قول التِّرمذيّ: "وفي الكتاب عن عمر، وأبي هريرة، وسهل بن سعد، وأبي سعيد، وأنس، وعائشة، وجابر، وأبي حدرد الأسلمي".

وأنه أراد بهذه الأحاديث كما بَوّبَ هو بقوله: "باب ما جاء في مهور النساء"، فهذه الأحاديث التي أشار إليها بقوله: "وفي الباب … " هي صالحةٌ لأنَّ تكتب في هذا الباب، ومن أجل ذلك نقل أقوال أهل العلم في أقل المهر.

ولم يرد بهذه الأحاديث أنها تشهد لذلك الحديث المنكر! فالقول بأن التِّرمذيّ "حكم بصحته لشواهده الكثيرة، كما بَيَّنَ". قول ينم عن عدم فهم لكلام التِّرمذيّ ومراده.

ثم وقفت بعد ذلك على كلام الحافظ العراقي في "التقييد والايضاح" ص (102).

"هكذا يفعل التِّرمذيّ في الجامع حيث يقول: وفي الباب عن فلان وفلان؛ فإنه لا يريد ذلك الحديث المعين وإنما يريد أحاديث أخر يصح أن تكتبَ في ذلك الباب، وإن كان حديثًا آخر غير الذي يرويه في أول الباب، وهو
সেই প্রতিবাদকারীর হাতে দুই জুতার বিনিময়ে নারীর বিয়ের হাদিসটি বিশুদ্ধ প্রমাণের জন্য সাহল ইবনে সা’দ-এর হাদিস ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই: "তুমি একটি লোহার আংটি হলেও তালাশ করো"। এই কারণেই শাফেয়ীর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করা হয়েছে: "লোহার আংটির মূল্য একটি দিরহামের কাছাকাছিও হয় না।"

এরপর তিনি তাঁর এই কথা দিয়ে মন্তব্য করেছেন: "হাদিসটিকে বিশুদ্ধ করার জন্য এই সাক্ষ্যটিই যথেষ্ট।"

আমি বলছি: এটি একটি ভ্রান্তি। বরং এই হাদিসটি—বা আপনার দাবি অনুযায়ী এই সাক্ষ্যটি—মোহরের সর্বনিম্ন কোনো সীমা নেই বলে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার জন্য যথেষ্ট, দুই জুতার বিনিময়ে নারীর বিয়ের হাদিসটিকে বিশুদ্ধ করার জন্য নয়!!

আর এর মাধ্যমেই তিরমিযীর এই উক্তির উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে যায়: "আর এই কিতাবে উমর, আবু হুরাইরা, সাহল ইবনে সা’দ, আবু সাঈদ, আনাস, আয়েশা, জাবির এবং আবু হাদরাদ আল-আসলামী থেকে বর্ণিত হয়েছে।"

এবং তিনি এই হাদিসগুলো দ্বারা সেটাই উদ্দেশ্য নিয়েছেন যা তিনি অধ্যায়ের শিরোনামে বলেছেন: "নারীদের মোহর সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়"। ফলে তিনি তাঁর এই উক্তি: "এবং এই অধ্যায়ে … " দ্বারা যে হাদিসগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন, সেগুলো এই অধ্যায়ে উদ্ধৃত করার উপযুক্ত। আর এই কারণেই তিনি মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণের ব্যাপারে বিদ্বানদের মতামতগুলো উল্লেখ করেছেন।

তিনি এই হাদিসগুলো দ্বারা এটি বোঝাতে চাননি যে এগুলো সেই মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিসটির সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়! সুতরাং তিরমিযী "তার বহু সাক্ষ্যের কারণে এটিকে সহিহ বলে হুকুম দিয়েছেন, যেমনটি তিনি স্পষ্ট করেছেন"—এই কথাটি তিরমিযীর বক্তব্য ও তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক বুঝ না থাকারই বহিঃপ্রকাশ।

এরপর আমি পরবর্তীতে আল-তাকয়িদ ওয়াল ইদাহ-এর ১০২ পৃষ্ঠায় হাফেজ ইরাকির বক্তব্যের দেখা পেলাম।

"তিরমিযী তাঁর জামে' গ্রন্থে এমনই করেন যখন তিনি বলেন: 'আর এই অধ্যায়ে অমুক অমুক থেকে বর্ণিত হয়েছে'; এর মাধ্যমে তিনি নির্দিষ্ট কোনো হাদিসকে বোঝাতে চান না, বরং তিনি এমন সব হাদিসকে বোঝাতে চান যা ওই অধ্যায়ে উদ্ধৃত করা সঠিক হবে, যদিও সেটি অধ্যায়ের শুরুতে তাঁর বর্ণিত হাদিসটি ছাড়া ভিন্ন হাদিস হয়, আর তা হলো"
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ١٣)
عمل صحيح. إلَّا أن كثيرًا من النَّاس يفهمون من ذلك أن من سمى من الصحابة يروون ذلك الحديث بعينه الذي رواه في أول الباب بعينه وليس الأمر على ما فهموه بل قد يكون كذلك، وقد يكون حديثًا آخر يصح إيراده في ذلك الباب".

ولكن تصحيح التِّرمذيّ للحديث إنما هو لمنهج للترمذي- يعرفه طلاب هذا العلم؛ العارفون به- وليس لشيء آخر ممَّا قاله هذا القائل.

ولقد صدق الذهبي عندما عبر عن موقف العلماء من تصحيح التِّرمذيّ رحمه الله فقال في "الميزان":

"لا يعتمد العلماء على تصحيح التِّرمذيّ". انظر "بلوغ المرام" (ص 258 بتحقيقي).

ومن التلبيس- أو عدم الفهم- القول بأن "قول أبي حاتم في هذا الحديث إنه ممَّا أنكروا عليه لا يعني ضعفًا بقدر ما يعني تفردًا من الراوي، كما نبه على ذلك ابن حجر، فقال: المنكر أطلقه أحمد بن حنبل وجماعة على الحديث الفرد؛ الذي لا متابع له، فيحمل هذا على ذلك"! فإن أبا حاتم يتكلم عن هذا الحديث بعينه! وقد سئل عنه! فكيف يقال: إنما عنى التفرد!

ثم راوي هذا الحديث- وهو عاصم بن عبيد الله- ضعَّفه يحيى بن سعيد وابن معين، ومالك، والدارمي، والدارقطني، وابن خزيمة، وغيرهم. فكيف يقال في راوٍ هذا وصفه إذا قيل فيه: "منكر الحديث" بأن هذا يعني التفرد؟!

ثم إذا حُملت كلمة أبي حاتم على ما أراد ذاك المغالط، فكيف يصنع بكلمته في "الجرح والتعديل" (3/ 1/ 348):

"منكر الحديث، مضطرب الحديث، ليس له حديث يعتمد عليه"!
সঠিক কাজ। তবে অনেক মানুষ এখান থেকে এটি বুঝে থাকেন যে, সাহাবীদের মধ্য থেকে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা ঠিক সেই হাদীসটিই বর্ণনা করছেন যা তিনি অধ্যায়ের শুরুতে বর্ণনা করেছেন। অথচ বিষয়টি তাদের বোঝার মতো নয়; বরং কখনও এমন হতে পারে, আবার কখনও এটি অন্য কোনো হাদীসও হতে পারে যা সেই অধ্যায়ে উল্লেখ করা সঠিক।

কিন্তু তিরমিযীর হাদীস সহীহ বলা কেবল তিরমিযীর নিজস্ব এক পদ্ধতির কারণে—যা এই ইলমের শিক্ষার্থীরা এবং এতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা জানেন—এটি ওই বক্তার বলা অন্য কোনো কারণে নয়।

হাফেয যাহাবী সত্যই বলেছেন যখন তিনি ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর হাদীস সহীহ করার ব্যাপারে উলামাদের অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেছেন; তিনি 'আল-মীযান' গ্রন্থে বলেছেন:

"উলামাগণ তিরমিযীর সহীহ বলার ওপর নির্ভর করেন না।" দেখুন: 'বুলুগুল মারাম' (আমার তাহকীককৃত, পৃষ্ঠা ২৫৮)।

এটি এক প্রকার ধোঁকাবাজি—অথবা বুঝের অভাব—যে কেউ বলে: "এই হাদীস সম্পর্কে আবু হাতিমের বক্তব্য—যে এটি তাঁর ওপর আপত্তিকৃত হাদীসগুলোর অন্তর্ভুক্ত—তা দ্বারা রাবীর দুর্বলতা বোঝায় না, বরং রাবীর একক বর্ণনা বোঝায়; যেমনটি ইবনে হাজার সতর্ক করে বলেছেন: 'আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং একদল আলেম 'মুনকার' শব্দটিকে এমন একক হাদীসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন যার কোনো সমর্থক বর্ণনা নেই, সুতরাং একে সেই অর্থেই গ্রহণ করতে হবে'!" অথচ আবু হাতিম তো ঠিক এই হাদীসটি নিয়েই কথা বলছেন! এবং তাঁকে এই হাদীসটি সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল! তাহলে কীভাবে বলা সম্ভব যে, তিনি কেবল একক বর্ণনা বা তাফাররুদ বুঝিয়েছেন!

তদুপরি, এই হাদীসের রাবী—যিনি হলেন আসিম ইবনে উবাইদুল্লাহ—তাঁকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, ইবনে মাঈন, মালিক, দারেমী, দারা কুতনী, ইবনে খুযাইমাহ এবং আরও অনেকে দুর্বল বলেছেন। সুতরাং এমন গুণসম্পন্ন একজন রাবীর ব্যাপারে যখন "মুনকারুল হাদীস" বলা হয়, তখন কীভাবে বলা যেতে পারে যে এর দ্বারা কেবল একক বর্ণনা বোঝানো হয়েছে?

অতঃপর যদি আবু হাতিমের কথাটিকে সেই বিভ্রান্তিকারীর ইচ্ছা অনুযায়ী ধরেও নেওয়া হয়, তবে 'আল-জারহ ওয়াত তা’দীল' (৩/১/৩৪৮) গ্রন্থে তাঁর এই বক্তব্যের কী ব্যাখ্যা হবে:

"তিনি মুনকারুল হাদীস, মুদতারিবুল হাদীস, তাঁর এমন কোনো হাদীস নেই যার ওপর নির্ভর করা যায়!"
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ١٤)
وأما الكلمة المنقولة عن ابن حجر من "المقدمة" فهي توجيه منه- حسن- لكلمة أحمد: "يروي أحاديث مناكير"؛ لأنَّ أحمد قال هذه الكلمة في محمد ابن إبراهيم بن الحارث التَّيمي الثقة، والذي احتج به الجماعة، وقد عرف أنه تفرد بأحاديث لا متابع له عليها، ومن أشهر تلك الأحاديث حديث: "إنما الأعمال بالنيات"، وبذلك يعرف صواب قول ابن حجر: "فيحمل هذا على ذلك" أي: فيحمل كلام أحمد "يروي أحاديث مناكير" على الحديث الفرد.

ثم كيف يسوي هذا المغالط بين الاصطلاحين: "منكر الحديث" و "يروي أحاديث مناكير" وهما لا يستويان؟!

قال الزركشي في "النكت" (3/ 436): "فليتنبه للفرق بين قولهم: منكر الحديث وروى مناكير" ونقل قول ابن دقيق العيد: "من يقال فيه منكر الحديث ليس كمن يقال فيه روى أحاديث منكرة".

وقال السخاوي في "فتح المغيث" (1/ 373): "قال ابن دقيق العيد في "شرح الإمام": قولهم: "روى مناكير" لا تقتضي بمجرده ترك روايته حتى تكثر المناكير في روايته وينتهي إلى أن يقال فيه: "منكر الحديث" لأنَّ "منكر الحديث" وصف في الرجل يستحق الترك لحديثه، والعبارة الأخرى لا تقتضي الديمومة.

كيف وقد قال أحمد بن حنبل في محمد ابن إبراهيم التَّيمي: "يروي أحاديث منكرة" وهو ممن اتفق عليه الشيخان وإليه المرجع في حديث الأعمال بالنيات".

هذا ما سمح به المجال في هذه العجالة.

وصلَّى الله وسلم على محمد وآله وصحبه وسلم.

وكتب: سمير بن أمين الزهيري

الرياض في 11/ 11/ 1427 هـ.
আর ইবনে হাজর কর্তৃক "মুকাদ্দিমা" থেকে উদ্ধৃত কথাটি মূলত ইমাম আহমাদের একটি উক্তি—"তিনি মুনকার হাদীসসমূহ বর্ণনা করেন"—এর ব্যাপারে তাঁর পক্ষ থেকে একটি সুন্দর ব্যাখ্যা। কারণ ইমাম আহমাদ এই কথাটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহীম ইবনে হারিস আত-তাইমী সম্পর্কে বলেছিলেন, যাঁকে ইমামগণের একটি বৃহৎ জামাত দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এটি সুবিদিত যে, তিনি এমন কিছু হাদীস বর্ণনায় একক হয়ে পড়েছেন যাতে তাঁর কোনো মুতাবি' (অনুসরণকারী বর্ণনাকারী) নেই। আর সেই হাদীসগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" এর মাধ্যমেই ইবনে হাজরের বক্তব্যের সঠিকতা উপলব্ধি করা যায়: "সুতরাং একে তার ওপর প্রয়োগ করা হবে," অর্থাৎ: ইমাম আহমাদের উক্তি "তিনি মুনকার হাদীসসমূহ বর্ণনা করেন"-কে 'ফারদ' বা একক হাদীসের ওপর প্রয়োগ করা হবে।

অতঃপর, এই বিভ্রান্তিকারী ব্যক্তি কীভাবে "মুনকারুল হাদীস" এবং "তিনি মুনকার হাদীসসমূহ বর্ণনা করেন"—এই পরিভাষা দুটির মধ্যে সমতা বিধান করে, অথচ এ দুটি কি কখনও সমান হতে পারে?!

যারকাশী "আন-নুকাত" (৩/৪৩৬) গ্রন্থে বলেছেন: "মুহাদ্দিসগণের উক্তি 'মুনকারুল হাদীস' এবং 'তিনি মুনকার হাদীসসমূহ বর্ণনা করেছেন'-এর মধ্যকার পার্থক্যের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।" তিনি ইবনে দাকীক আল-ঈদের উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: "যাঁর সম্পর্কে 'মুনকারুল হাদীস' বলা হয় তিনি ঐ ব্যক্তির মতো নন যাঁর ব্যাপারে বলা হয় যে, 'তিনি মুনকার হাদীসসমূহ বর্ণনা করেছেন'।"

সাখাভী "ফাতহুল মুগীস" (১/৩৭৩) গ্রন্থে বলেছেন: "ইবনে দাকীক আল-ঈদ 'শারহুল ইমাম' গ্রন্থে বলেছেন: মুহাদ্দিসদের উক্তি 'তিনি মুনকার হাদীসসমূহ বর্ণনা করেছেন' কেবল এর কারণেই তাঁর বর্ণনা বর্জন করা আবশ্যক হয় না, যতক্ষণ না তাঁর বর্ণনায় মুনকার বিষয়ের আধিক্য ঘটে এবং বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তাঁকে 'মুনকারুল হাদীস' বলা হয়। কারণ 'মুনকারুল হাদীস' হলো ব্যক্তির এমন একটি বিশেষণ যার কারণে তাঁর হাদীস বর্জন করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে, পক্ষান্তরে অন্য পরিভাষাটি এমন স্থায়িত্ব দাবি করে না।

এটি কীভাবে সম্ভব, অথচ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহীম আত-তাইমী সম্পর্কে বলেছেন: 'তিনি মুনকার হাদীসসমূহ বর্ণনা করেন', অথচ তিনি এমন একজন বর্ণনাকারী যাঁর ব্যাপারে শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) একমত হয়েছেন এবং 'আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' হাদীসটির ক্ষেত্রে তিনিই হলেন প্রধান নির্ভরস্থল।"

এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে এইটুকুই সম্ভব হলো।

আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

লিখেছেন: সামীর বিন আমীন আয-যুহাইরী

রিয়াদ, ১১/১১/১৪২৭ হিজরী।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ١٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

تمهيد

إن الحمدَ لله، نحمدُه، ونستعينُه، ونستغفِرُه، ونعوذُ بالله من شُرورِ أنفُسِنا، ومن سيئات أعمالِنا، من يهدِه الله فلا مُضلّ له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهدُ أن لا إله إلَّا الله وحدَه لا شريك له، وأشهدُ أن محمدًا عبدُه ورسولُه.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [ال عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71].

أما بعد:

فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]

{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} [আন নিসা: ১]

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল আহজাব: ৭০ - ৭১]

অতঃপর:

নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ١٦)
وبعد:

فإن أحاديث الأحكام والحلال والحرام مما اهتم بها علماء الإسلام، ودونوا فيها المصنفات، الجامعة لها، الحاوية لشتاتها، وشرحوها، وأبانوا عن فقهها، كل ذلك ليسهل على النَّاس الأخذ بها، والعمل بما فيها.

وفي أول الأمر كان العلماء يروون هذه الأحاديث مع غيرها مسندة ضمن كتب شاملة، كالمسانيد، والموطآت، والمصنفات، والصحاح، والسنن وغير ذلك من دواوين السنة.

ثم كانت الرحلة التالية، وهي استخراج هذه الأحاديث الخاصة بالأحكام والحلال والحرام- من تلك الدواوين- وترتيبها، وتبويبها، وتهذيبها مع حذف أسانيدها.

ولئن كان الحافظ عبد الغني لم يسبقه- فيما أعلم- سوى عبد الحق الإِشبيلي بأحكامه الثلاثة "الكبرى"، و"الوسطى"، و"الصغرى"، إلا أنه- أعني: الحافظ عبد الغني- يعتبر أول من أرسى معالم التصنيف في هذا الباب؛ إذ عبد الحق لم يقتصر على أحاديث الأحكام، وإنما "جمع مفترفًا من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم في لوازم الشرع، وأحكامه، وحلاله وحرامه، وفي ضروب من الترغيب والترهيب، وذكر الثواب والعقاب … إلى غير ذلك" (1).

أما الحافظ فقد قصر كتابيه على أحاديث الأحكاء والحلال والحرام، فله السبق في ذلك، فضلًا عن دقة الانتقاء والاختيار، وحسن السياقة والترتيب.

--------------------------------------------

(1) الأحكام الصغرى (1/ 71).
অতঃপর:

নিশ্চয়ই বিধিবিধান এবং হালাল-হারাম সংক্রান্ত হাদিসসমূহ এমন বিষয় যার প্রতি ইসলামের উলামাগণ অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা এই বিষয়ে এমন সংকলনসমূহ রচনা করেছেন যা এই হাদিসগুলোকে একত্রিত করেছে এবং তাদের বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে ধারণ করেছে। তারা এগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং এগুলোর ফিকহ বা বিধানগত রহস্য স্পষ্ট করেছেন; এই সবকিছুই যেন মানুষের জন্য এই হাদিসগুলো গ্রহণ করা এবং এতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করা সহজ হয়।

সূচনালগ্নে উলামাগণ এই হাদিসগুলোকে অন্যান্য হাদিসের সাথে সনদসহ পূর্ণাঙ্গ কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বর্ণনা করতেন, যেমন: মাসানিদ, মুওয়াত্তায়াত, মুসান্নাফাত, সিহাহ, সুনান এবং সুন্নাহর অন্যান্য সংকলনসমূহ।

এরপর পরবর্তী ধাপটি ছিল—ঐ সকল সংকলন থেকে বিধিবিধান এবং হালাল-হারাম সংশ্লিষ্ট এই বিশেষ হাদিসগুলোকে নির্যাস হিসেবে বের করে আনা এবং সনদসমূহ বাদ দিয়ে সেগুলোকে সুবিন্যস্ত করা, অধ্যায়ভিত্তিক সাজানো এবং পরিমার্জিত করা।

যদিও হাফেজ আব্দুল গনি (রহ.)-এর পূর্বে—আমার জানা মতে—একমাত্র আব্দুল হক আল-ইশবিলী (রহ.) তার তিন ‘আহকাম’ (আল-কুবরা, আল-উস্তা ও আস-সুগরা) রচনার মাধ্যমে অগ্রগামী ছিলেন, তবুও তিনি—অর্থাৎ হাফেজ আব্দুল গনি—এই বিশেষ শাখায় গ্রন্থ রচনার ভিত্তি স্থাপনকারী হিসেবে গণ্য হন। কেননা আব্দুল হক (রহ.) কেবল আহকামের হাদিসসমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ থেকে শরয়ি আবশ্যকীয়তা, এর বিধানাবলি, হালাল ও হারাম, এবং বিভিন্ন প্রকারের উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন, সওয়াব ও আজাবের বর্ণনা … ইত্যাদি বিষয়ে বিক্ষিপ্ত হাদিসসমূহ একত্রিত করেছিলেন” (১)।

পক্ষান্তরে হাফেজ (আব্দুল গনি) তার কিতাব দুটিকে কেবল বিধিবিধান এবং হালাল-হারামের হাদিসসমূহের ওপরই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তাই এ ক্ষেত্রে তিনি অগ্রগামী হওয়ার কৃতিত্বের অধিকারী, এর পাশাপাশি হাদিস নির্বাচনে সূক্ষ্মতা, উন্নত বর্ণনাভঙ্গি এবং চমৎকার বিন্যাস তো রয়েছেই।

--------------------------------------------

(১) আল-আহকাম আস-সুগরা (১/ ৭১)।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ١٧)
وقد سبق لي وقمت بتحقيق كتاب "العمدة في الأحكام"، وهو المعروف بـ: "الأحكام الصغرى" للحافظ عبد الغني، وقد طبع والحمد لله بمكتبة المعارف بالرياض بالمملكة العربية السعودية.

وأنا اليوم إذ أقوم بدراسة هذا الكتاب- عمدة الأحكام الكبرى- وتحقيقه لأسأله سبحانه وتعالى أن يتقبل مني عملي، وأن يجزي مؤلفه خير الجزاء، كما أسأله سبحانه وتعالى أن يحل هذا الكتاب محله اللائق به في المكتبة الإسلامية، إنه سميع قريب مجيب الدعاء.

وبحثي هذا قد قسمته إلى ثلاثة أقسام، وهي:

• • القسم الأول: قسم الدراسة، ويشتمل هذا القسم على أربعة أبواب، وهي:

• الباب الأول: دراسة عن المؤلف الحافظ عبد الغني، وفيه فصلان:

الفصل الأول: السيرة الذاتية للحافظ عبد الغني، وفيه ثمانية مباحث، وهي:

1 - اسمه ونسبه.

2 - كنيته.

3 - مولده.

4 - صفاته الخلقية.

5 - أسرته.

6 - كرمه وجوده.

7 - وفاته ودفنه.

8 - رثاؤه.

الفصل الثاني: السيرة العلمية للحافظ عبد الغني، وفيه ثلاثة عشر مبحثًا:

1 - نشأته وطلبه للعلم.

2 - حفظه.

2 - رحلاته.

4 - أوقاته.

5 - إفادته.

6 - من فتاويه.

7 - أمره بالمعروف ونهيه عن المنكر.

8 - عقيدته.

9 - ما ابتلى به.

10 - شيوخه.

11 - تلاميذه.

12 - ثناء النَّاس عليه، وحبهم له.

13 - مصنفاته.
ইতোপূর্বে আমি হাফেজ আব্দুল গনির 'আল-উমদাহ ফিল আহকাম' গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছি, যা 'আল-আহকামুস সুগরা' নামে পরিচিত। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে এটি সৌদি আরবের রিয়াদের মাকতাবাতুল মাআরিফ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

আজ আমি যখন এই গ্রন্থটি—উমদাতুল আহকাম আল-কুবরা—অধ্যয়ন ও সম্পাদনা করছি, তখন মহামহিমান্বিত আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার এই কাজ কবুল করেন এবং এর লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আমি মহান আল্লাহর নিকট আরও প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাবটিকে ইসলামী লাইব্রেরিতে তার উপযুক্ত স্থান দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী এবং দোয়া কবুলকারী।

আমি আমার এই গবেষণাটিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছি, সেগুলো হলো:

• • প্রথম ভাগ: পর্যালোচনা মূলক ভাগ; এই ভাগটি চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত, সেগুলো হলো:

• প্রথম অধ্যায়: লেখক হাফেজ আব্দুল গনি সম্পর্কে আলোচনা; এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: হাফেজ আব্দুল গনির জীবনবৃত্তান্ত; এতে আটটি আলোচনা রয়েছে, সেগুলো হলো:

1 - তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।

2 - তাঁর উপনাম।

3 - তাঁর জন্ম।

4 - তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্য।

5 - তাঁর পরিবার।

6 - তাঁর দানশীলতা ও উদারতা।

7 - তাঁর মৃত্যু ও দাফন।

8 - তাঁর শোকগাঁথা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাফেজ আব্দুল গনির ইলমি জীবন; এতে তেরোটি আলোচনা রয়েছে:

1 - তাঁর বেড়ে ওঠা ও ইলম অন্বেষণ।

2 - তাঁর মুখস্থশক্তি।

2 - তাঁর সফরসমূহ।

4 - তাঁর সময়ের ব্যবহার।

5 - তাঁর শিক্ষাদান ও উপকারিতা।

6 - তাঁর ফতোয়াসমূহ হতে কিছু অংশ।

7 - তাঁর সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ।

8 - তাঁর আকীদাহ।

9 - তাঁর ওপর আগত পরীক্ষাসমূহ।

10 - তাঁর শিক্ষকগণ।

11 - তাঁর ছাত্রগণ।

12 - তাঁর প্রতি মানুষের প্রশংসা ও ভালোবাসা।

13 - তাঁর রচনাবলী।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ١٨)
• الباب الثاني: دراسة عن المؤلَّف، وفيه سبعة مباحث، وهي:

1 - اسم الكتاب.

2 - نسبة الكتاب للمؤلف.

3 - مصادر المؤلف في الكتاب.

4 - موضوع الكتاب.

5 - منهج الحافظ عبد الغني في الكتاب.

6 - ملاحظات لا مؤاخذات.

7 - بين العمدتين.

• الباب الثالث: دراسة النسخة الخطية، وفيه سبعة مباحث، وهي:

1 - عنوان الكتاب.

2 - العنوان المختار وسبب ذلك.

3 - الناسخ وترجمته.

4 - وصف النسخة.

5 - تعليقات الحافظ الضياء على النسخة.

6 - تاريخ النسخ.

7 - خاتمة النسخة.

• الباب الرابع: خطة العمل في الكتاب.

• • القسم الثاني: تحقيق النص، والتَّعليق عليه.

• • القسم الثالث: صنع الفهارس، وتشمل:

1 - فهرس الآيات القرآنية.

2 - فهرس أطراف الأحاديث النبوية.

3 - فهرس الرواة وأرقام مروياتهم.

4 - فهرس البلدان.

5 - فهرس الأعلام.

6 - فهرس الغريب.

7 - فهرس المواضيع.
• দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ সম্পর্কিত আলোচনা, এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে, সেগুলো হলো:

১ - গ্রন্থের নাম।

২ - লেখকের প্রতি গ্রন্থের সম্বন্ধায়ন।

৩ - গ্রন্থে লেখকের উৎসসমূহ।

৪ - গ্রন্থের বিষয়বস্তু।

৫ - গ্রন্থে হাফেজ আব্দুল গনি-এর পদ্ধতি।

৬ - পর্যবেক্ষণসমূহ, কোনো আপত্তি নয়।

৭ - দুই 'উমদাহ'-এর মাঝে।

• তৃতীয় অধ্যায়: পাণ্ডুলিপি সম্পর্কিত আলোচনা, এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে, সেগুলো হলো:

১ - গ্রন্থের শিরোনাম।

২ - নির্বাচিত শিরোনাম ও তার কারণ।

৩ - অনুলিপিকারক এবং তার জীবনী।

৪ - পাণ্ডুলিপির বিবরণ।

৫ - পাণ্ডুলিপিতে হাফেজ দিয়া-এর টীকা।

৬ - অনুলিপিকরণের তারিখ।

৭ - পাণ্ডুলিপির সমাপ্তি।

• চতুর্থ অধ্যায়: গ্রন্থের কর্মপরিকল্পনা।

• • দ্বিতীয় অংশ: মূল পাঠের সম্পাদনা ও তার ওপর টীকা।

• • তৃতীয় অংশ: নির্ঘণ্ট প্রস্তুতকরণ, যার অন্তর্ভুক্ত:

১ - কুরআনের আয়াতের নির্ঘণ্ট।

২ - হাদিসের প্রথমাংশের নির্ঘণ্ট।

৩ - বর্ণনাকারীদের নির্ঘণ্ট ও তাদের বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা।

৪ - দেশ ও শহরের নির্ঘণ্ট।

৫ - ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।

৬ - দুর্লভ শব্দাবলির নির্ঘণ্ট।

৭ - বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ١٩)
وفي الختام:

"جعلنا الله ممن تكلف الجهد في حفظ السنن، ونشرها، وتمييز صحيحها من سقيمها، والتفقه فيها، والذب عنها؛ إنه المانّ علي أوليائه بمنازل المقربين، والمتفضل علي أحبابه درجة الفائزين" (1).

وسبحانك اللهم وبحمدك، أشهد أن لا إله إلا أنت، أستغفرك وأتوب إليك.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين

وكتب

سمير بن أمين الزهيري

--------------------------------------------

(1) الثقات (9/ 297).
পরিশেষে:

"আল্লাহ যেন আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা সুন্নাহর সংরক্ষণ, তার প্রচার-প্রসার, তার সহীহ ও যঈফ বর্ণনাগুলোকে পৃথকীকরণ, এর সম্যক জ্ঞান অর্জন এবং একে প্রতিরক্ষা করার প্রচেষ্টায় নিজেদের নিয়োজিত করেছে। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর ওলীদের নৈকট্যপ্রাপ্তদের সুউচ্চ মাকাম দানকারী এবং তাঁর প্রিয়জনদের সফলকামদের মর্যাদায় ভূষিতকারী।" (১)।

হে আল্লাহ, আপনার প্রশংসা সহকারে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি।

আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।

লিখেছেন

সামীর ইবন আমীন আয-যুহাইরী

--------------------------------------------

(১) আস-সিকাত (৯/ ২৯৭)।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٢١)
القسم الأول

قسم الدارسة
প্রথম অংশ

গবেষণা অংশ
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٢٣)
•‌‌ الباب الأول: التعريف بالمؤلِّف

الفصل الأول: السيرة الذاتية للحافظ عبد الغني.

اسمه ونسبه.

كنيته.

مولده.

صفاته الخَلْقية.

أسرته.

كرمه وجوده.

وفاته ودفنه.

رثاؤه.

الفصل الثاني: السيرة العلمية للحافظ عبد الغني.

نشأته وطلبه للعلم.

حفظه.

رحلاته.

أوقاته.

إفادته.

من فتاويه.

أمره بالمعروف ونهيه عن المنكر.

عقيدته.

ما ابتلي به.

شيوخه.

تلاميذه.

ثناء الناس عليه، وحبهم له.

مصنفاته.
প্রথম অধ্যায়: লেখকের পরিচিতি

প্রথম পরিচ্ছেদ: হাফেজ আব্দুল গনির জীবনী।

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।

তাঁর উপনাম।

তাঁর জন্ম।

তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্যসমূহ।

তাঁর পরিবার।

তাঁর উদারতা ও মহানুভবতা।

তাঁর মৃত্যু ও দাফন।

তাঁর শোকগাথা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাফেজ আব্দুল গনির ইলমি জীবন।

তাঁর বেড়ে ওঠা ও জ্ঞান অন্বেষণ।

তাঁর হিফজ বা মুখস্থ শক্তি।

তাঁর ইলমি সফরসমূহ।

তাঁর সময়ের ব্যবহার।

তাঁর শিক্ষা ও উপকারিতা দান।

তাঁর কিছু ফতোয়া।

সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ।

তাঁর আকিদা।

তাঁর উপর আপতিত পরীক্ষাসমূহ।

তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।

তাঁর ছাত্রবৃন্দ।

তাঁর প্রতি মানুষের প্রশংসা ও ভালোবাসা।

তাঁর রচনাবলি।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٢٥)
•‌‌ الفصل الأول: السيرة الذاتية للحافظ.

‌‌1 - اسمه ونسبه:

هو: الإمام، العالم، الحافظ الكبير، الثقة، العابد، الأثري، التبع، عالم الحفاظ:

عبد الغني بن عبد الواحد بن عليّ بن سرور بن رافع بن حسن بن جعفر، المقدسيّ الأصل الجَمَّاعيليّ (1) ثم الدمشقيّ المنشأ الصالحيّ (2) المصريّ الوفاة (3).

 

‌‌2 - كنيته: أبو محمد.

‌‌3 - مولده: اختلف في مولد الحافظ عبد الغني رحمه الله علي أقوال، نعرض لهذه الأقوال، ثم نختار الراجح منها إن شاء الله تعالى.

--------------------------------------------

(1) بفتح الجيم بعدها ميم مشددة، قرية في جبل نابلس من أرض فلسطين، وانتسب إلى بيت المقدس لقرب جماعيل منها؛ ولأن نابلس وأعمالها جميعًا من مضافات البيت المقدس، وبينهما مسيرة يوم واحد. انظر "معجم البلدان" (2/ 159 - 160).

(2) نسبة إلى الصالحية، وهي: "قرية كبيرة ذات أسواق وجامع في لحف جبل قاسيون من غوطة دمشق، وفيها قبور جماعة من الصالحين، ويسكنها أيضًا جماعة من الصالحين، لا تكاد تخلو منهم، وأكثر أهلها ناقلة بيت المقدس علي مذهب أحمد بن حنبل". قاله ياقوت (3/ 390)

قلت: وأصل نسبتهم هذه "الصالحي" أن هؤلاء المقادسة لما هاجروا إلى دمشق؛ لاستيلاء الصليبيين علي الأرض المقدسة، نزلوا بمسجد أبي صالح ظاهر باب شرقي، فأقاموا به نحو سنتين، ثم انتقلوا إلى الجبل، فكان الناس إذا رأوهم قالوا: الصالحية. الصالحيه؛ نسبة إلى مسجد أبي صالح.

(3) انظر وفاته صـ (29).
প্রথম অধ্যায়: হাফিযের জীবনবৃত্তান্ত.

১ - তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন: ইমাম, আলিম, মহান হাফিয, নির্ভরযোগ্য, ইবাদতকারী, আসারি (সুন্নাহর অনুসারী), তাবে' (অনুসারী), হাফিযগণের আলিম:

আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরূর বিন রাফে বিন হাসান বিন জাফর, মাকদিসি বংশোদ্ভূত ও জাম্মাইলি (১), অতপর দামেস্কে বেড়ে ওঠা সালেহি (২) এবং মিশরে মৃত্যু বরণকারী (৩)।

 

২ - তাঁর উপনাম: আবু মুহাম্মদ.

৩ - তাঁর জন্ম: হাফিয আব্দুল গনি রহিমাউল্লাহর জন্ম সাল নিয়ে বিভিন্ন অভিমত রয়েছে; আমরা এই অভিমতগুলো উপস্থাপন করব, তারপর আল্লাহ তাআলা চাইলে এর মধ্য থেকে অধিক সঠিক মতটি নির্বাচন করব।

--------------------------------------------

(১) 'জিম' বর্ণে জবর এবং পরবর্তী 'মিম' বর্ণে তাশদিদ যোগে, এটি ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের নাবলুস পাহাড়ের একটি গ্রাম। জাম্মাইল বায়তুল মাকদিসের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে তিনি বায়তুল মাকদিসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছেন; এছাড়া নাবলুস এবং এর এলাকাগুলো সবই বায়তুল মাকদিসের সাথে সংযুক্ত ছিল এবং এই দুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব ছিল একদিনের পথ। দেখুন "মুজামুল বুলদান" (২/ ১৫৯ - ১৬০)।

(২) সালেহিয়ার দিকে সম্বন্ধযুক্ত; যা হলো: "দামেস্কের গুতাহ অঞ্চলের কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বাজার ও জামে মসজিদ সম্বলিত একটি বৃহৎ গ্রাম, যেখানে একদল নেককার মানুষের কবর রয়েছে এবং সেখানে একদল নেককার মানুষ বসবাসও করেন, যাদের থেকে এই স্থান কখনও শূন্য হয় না। সেখানকার অধিকাংশ অধিবাসী হলেন বায়তুল মাকদিস থেকে হিজরত করে আসা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাবের অনুসারী।" ইয়াকুত এটি বলেছেন (৩/ ৩৯০)।

আমি বলছি: তাদের এই "সালেহি" নামকরণের মূল কারণ হলো— যখন এই মাকদিসিগণ ক্রুসেডারদের পবিত্র ভূমি দখলের কারণে দামেস্কে হিজরত করেন, তখন তারা বাব শারকির বাইরের দিকে আবু সালেহ মসজিদে অবস্থান নেন। তারা সেখানে প্রায় দুই বছর অবস্থান করেছিলেন। এরপর তারা পাহাড়ে স্থানান্তরিত হন। তখন লোকেরা যখন তাদের দেখত, তখন বলত: সালেহিয়া, সালেহিয়া; অর্থাৎ আবু সালেহ মসজিদের দিকে সম্বন্ধ করে।

(৩) তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে দেখুন ২৯ পৃষ্ঠায়।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٢٦)
1 - ذكر ابن النجار في "تاريخه"، أنه سأل الحافظ عبد الغني عن مولده؟ فقال: إما في سنة ثلاث أو في سنة اربع وأربعين وخمسمائة، والأظهر أنه في سنة أربع (1).

2 - قال المنذري: ذكر عنه بعض أصحابه ما يدل علي أن مولده سنة أربع وأربعين وخمسمائة (2).

3 - قال الحافظ الضياء: ولد سنة إحدى وأربعين وخمس مئة بجمّاعيل أظنه في ربيع الآخر، قالت والدتي: هو أكبر من أخيها الشيخ الموفق ابن قدامة بأربعة أشهر، والموفق ولد في شعبان.

قلت: هذا ما قيل في مولده رحمه الله والأول والثاني وإن كان مردهما إلى الحافظ نفسه إلا أنه لا يمكن الذهاب إلى أبعد من ترجيح سنة أربع علي سنة ثلاث لا غير.

ثم يبقى الترجيح بين هذا المختار - وهو سنة أربع - وبين رواية الضياء، وهو القول الثالث، والأقرب في ذلك رواية الضياء، وذلك لأسباب، منها:

1 - عناية الضياء بأخبار الحافظ، وصلته به.

2 - نقل الحافظ الضياء عن والدته مع ضبطها التام للفارق بين مولد الحافظ ومولد أخيها بأربعة أشهر، وهذا الأمر - تواريخ مواليد الأقران في الأسرة الواحدة - مما تعتني به النساء في البيوت.

3 - اعتماد كثير ممن ترجم للحافظ علي هذا التأريخ الذي نقله الضياء.

--------------------------------------------

(1) انظر "الذيل" لابن رجب (2/ 5).

(2) انظر "التكملة" (2/ 18).
১ - ইবনুন নাজ্জার তাঁর "তারিখ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাফেজ আব্দুল গনিকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন: সম্ভবত পাঁচশ তেতাল্লিশ অথবা পাঁচশ চুয়াল্লিশ হিজরিতে, তবে এটিই স্পষ্টতর যে তা চুয়াল্লিশ হিজরিতে (১)।

২ - আল-মুনযিরি বলেছেন: তাঁর কোনো কোনো সাথী তাঁর থেকে এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা ইঙ্গিত দেয় যে তাঁর জন্ম পাঁচশ চুয়াল্লিশ হিজরিতে (২)।

৩ - হাফেজ আদ-দিয়া বলেছেন: তিনি পাঁচশ একচল্লিশ হিজরিতে জুম্মাঈল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, আমার ধারণা রবিউস সানি মাসে। আমার মা বলতেন: তিনি তাঁর ভাই শেখ আল-মুওয়াফফাক ইবনে কুদামার চেয়ে চার মাসের বড়, আর মুওয়াফফাক শাবান মাসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

আমি বলছি: এটিই তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) জন্ম সম্পর্কে যা বলা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় মত দুটির উৎস হাফেজ নিজে হলেও পাঁচশ চুয়াল্লিশ হিজরিকে তেতাল্লিশ হিজরির ওপর প্রাধান্য দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

অতঃপর এই নির্বাচিত মত—যা হলো চুয়াল্লিশ হিজরি—এবং আদ-দিয়ার বর্ণনা তথা তৃতীয় মতের মধ্যে কোনটি গ্রহণীয় তা বিবেচ্য থাকে; আর এক্ষেত্রে আদ-দিয়ার বর্ণনাটিই অধিক যুক্তিযুক্ত। এর কারণসমূহ হলো:

১ - হাফেজের খবরাখবরের প্রতি আদ-দিয়ার বিশেষ গুরুত্ব এবং তাঁর সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

২ - হাফেজ আদ-দিয়া তাঁর মায়ের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর মা হাফেজের জন্ম ও তাঁর ভাইয়ের জন্মের মধ্যবর্তী চার মাসের ব্যবধানের বিষয়টি নিখুঁতভাবে মনে রেখেছিলেন। আর একই পরিবারের সমবয়সীদের জন্মের তারিখ সংরক্ষণের বিষয়টি পরিবারের নারীরাই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

৩ - হাফেজের জীবনী যারা রচনা করেছেন, তাদের অনেকেই আদ-দিয়া কর্তৃক বর্ণিত এই তারিখের ওপর নির্ভর করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে রজব প্রণীত "আয-যাইল" (২/৫)।

(২) দেখুন: "আত-তাকমিলা" (২/১৮)।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٢٧)
4 - وأخيرًا فإن التأريخين الأوليين نُقِلا علي سبيل التردد والشك.

 

‌‌4 - صفاته الخلقية:

قال الضياء المقدسي: "كان الحافظ رحمه الله ليس بالأبيض الأمهق، بل يميل إلى السمرة، حسن الشعر، كث اللحية، واسع الجبين عظيم الخلق، تام القامة، كأن النور يخرج من وجهه، وكان قد ضعف بصره؛ من كثرة البكاء، والنسخ، والمطالعة".

وقال أيضًا: "وكان رحمه الله قويًا في بدنه".

وقال أيضًا: "كان يستعمل السواك كثيرًا، حتى كأن أسنانه البرد".

 

‌‌5 - أسرته:

قال الضياء: "تزوج الحافظ بخالتي رابعة ابنة خاله الشيخ أحمد بن محمد بن قدامة، فهي أم أولاده: محمد، وعبد الله، وعبد الرحمن، وفاطمة وعاشوا حتى كبروا، ثم تسرّى بجارية في مصر فلم توافقه، ثم بأخرى، فولدت له بنتين ماتتا ولم تكبرا".

قال الذهبي في "السير" (21/ 468):

"قلت: أولاده علماء: فمحمد هو: المحدث الحافظ الإمام الرحال عز الدين أبو الفتح، مات سنة ثلاث عشرة وست مئة كهلًا، وكان كبير القدر.

وعبد الله هو: المحدث الحافظ المصنف جمال الدين أبو موسى، رحل، وسمع من ابن كليب، وخليل الراراني، مات كهلًا في شهر رمضان سنة تسع وعشرين وست مئة.

وعبد الرحمن هو: المفتي أبو سليمان ابن الحافظ سمع من البوصيري وابن
4 - পরিশেষে, প্রথম দুটি তারিখ দ্বিধা ও সন্দেহের সাথে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌4 - তাঁর শারীরিক গুণাবলি:

যিয়া আল-মাকদিসি বলেন: "হাফিয (রাহিমাহুল্লাহ) ধবধবে সাদা ছিলেন না, বরং তামাটে বর্ণের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তাঁর চুল ছিল সুন্দর, দাড়ি ছিল ঘন, কপাল ছিল প্রশস্ত, শারীরিক গঠন ছিল সুঠাম এবং দেহসৌষ্ঠব ছিল পূর্ণাঙ্গ; যেন তাঁর চেহারা থেকে নূর বিচ্ছুরিত হতো। অধিক কান্না, পাণ্ডুলিপি লিখন এবং অধ্যয়নের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।"

তিনি আরও বলেন: "তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) শারীরিকভাবে শক্তিশালী ছিলেন।"

তিনি আরও বলেন: "তিনি প্রচুর মেসওয়াক ব্যবহার করতেন, এমনকি তাঁর দাঁতগুলো শিলাখণ্ডের মতো উজ্জ্বল মনে হতো।"

 

‌‌5 - তাঁর পরিবার:

যিয়া বলেন: "হাফিয আমার খালা রাবিয়াকে বিবাহ করেছিলেন, যিনি তাঁর মামা শায়খ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কুদামার কন্যা ছিলেন। তিনি তাঁর সন্তানদের মা: মুহাম্মাদ, আবদুল্লাহ, আবদুর রহমান ও ফাতেমা; তাঁরা বড় হওয়া পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। এরপর তিনি মিশরে এক বাঁদী গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু তা তাঁর মনঃপূত ছিল না, এরপর অন্য একজনকে গ্রহণ করেন, যার গর্ভে তাঁর দুটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয় যারা শৈশবেই মৃত্যুবরণ করে।"

আয-যাহাবি 'আস-সিয়ার' (২১/৪৬৮) গ্রন্থে বলেন:

"আমি বলি: তাঁর সন্তানরা আলিম ছিলেন: মুহাম্মাদ হলেন মুহাদ্দিস, হাফিয, ইমাম এবং বিশ্বভ্রমণকারী ইযযুদ্দীন আবুল ফাতহ। তিনি ৬১৩ হিজরিতে প্রৌঢ়াবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।

আর আবদুল্লাহ হলেন মুহাদ্দিস, হাফিয এবং গ্রন্থকার জামালুদ্দীন আবু মুসা। তিনি ইলম অর্জনে সফর করেন এবং ইবনে কুলাইব ও খলিল আর-রারানি থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি ৬২৯ হিজরির রমজান মাসে প্রৌঢ়াবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

আর আবদুর রহমান হলেন মুফতি আবু সুলাইমান ইবনুল হাফিয। তিনি আল-বুসাইরি এবং ইবনে... থেকে শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٢٨)
الجوزي، عاش بضعًا وخمسين سنة توفي في صفر سنة ثلاث وأربعين وستمئة"

 

‌‌6 - كرمه وجوده:

قال الضياء: كان الحافظ عبد الغني سخيًا، جوادًا، كريمًا، لا يدخر دينارًا ولا درهمًا، ومهما حصل له أخرجه.

ولقد سمعت عنه أنه كان يخرج في بعض الليالي بقفاف الدقيق إلى بيوت المحتاجين، فيدق عليهم، فإذا علم أنهم يفتحون الباب ترك ما معه ومضى؛ لئلا يعرفه أحد.

وقد كان يفتح له بشيء من الثياب والبرد، فيعطي الناس، وربما كان عليه ثوب مرقع، وقد أوفى غير مرة سرًا ما يكون علي بعض أصحابه من الدَّين، ولا يعلمهم بالوفاء.

وقال الشيخ الموفق عنه: كان جوادًا؛ يؤثر بما تصل إليه يده سرًا وعلانية. وقال بدر بن محمد الجزري: ما رأيت أحدًا أكرم من الحافظ؛ كنت أستدين - يعني: لأطعم به الفقراء - فبقي لرجل عندي ثمانية وتسعون درهمًا، فلما تهيأ الوفاء أتيت الرجل، فقلت: كم لك؟ قال: مالي عندك شيء. قلت: من أوفاه؟ قال: قد أوفى عنك، فكان وفاه الحافظ وأمره أن يكتم عليه.

وذكر غير واحد أنه وقع بمصر غلاء وهو بها، فكان يؤثر بعشائه عدة ليالي، ويطوي.

وبعث له الأفضل ابن صلاح الدين بنفقة وقمح كثير، ففرقه كله.

وقال الضياء: رأيت يومًا قد أهدي إلى بيتِ الحافظ مشمش، فكانوا يفرقون، فقال من حينه: فَرَّقوا {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ}
জাওযি, তিনি পঞ্চাশ বছরের কিছু বেশি সময় বেঁচে ছিলেন এবং ৬৪৩ হিজরীর সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

 

‌‌৬ - তাঁর মহত্ত্ব ও দানশীলতা:

দিয়া বলেন: হাফেজ আব্দুল গনি ছিলেন অত্যন্ত দানশীল, উদার ও মহানুভব; তিনি কোনো দিনার বা দিরহাম সঞ্চয় করে রাখতেন না, বরং যা-ই পেতেন তা বিলিয়ে দিতেন।

আমি তাঁর সম্পর্কে শুনেছি যে, তিনি কোনো কোনো রাতে আটার ঝুড়ি নিয়ে অভাবীদের বাড়িতে যেতেন এবং তাদের দরজায় কড়া নাড়তেন; যখন বুঝতে পারতেন যে তারা দরজা খুলছে, তখন সাথে থাকা বস্তুগুলো রেখে চলে যেতেন, যাতে কেউ তাঁকে চিনে না ফেলে।

মাঝেমধ্যে তাঁকে কিছু পোশাক ও চাদর উপহার দেওয়া হতো, কিন্তু তিনি তা মানুষকে দান করে দিতেন; অথচ অনেক সময় তাঁর নিজের পরনেই তালি দেওয়া কাপড় থাকত। তিনি একাধিকবার তাঁর কোনো কোনো সঙ্গীর ঋণ গোপনে পরিশোধ করে দিয়েছেন এবং তাঁদেরকে তা জানতেও দেননি।

শাইখ আল-মুওয়াফফাক তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি অত্যন্ত দানশীল ছিলেন; তাঁর হাতে যা আসত, তিনি তা গোপনে ও প্রকাশ্যে অন্যদের জন্য বিলিয়ে দিতেন। বদর বিন মুহাম্মদ আল-জাযারি বলেন: আমি হাফেজের চেয়ে বেশি দানশীল আর কাউকে দেখিনি; আমি ঋণ করতাম—অর্থাৎ অভাবীদের খাওয়ানোর জন্য—একবার এক ব্যক্তির কাছে আমার আটানব্বই দিরহাম ঋণ বাকি ছিল। যখন আমি তা পরিশোধের জন্য প্রস্তুত হলাম, তখন লোকটির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনার পাওনা কত?" তিনি বললেন, "আপনার কাছে আমার কোনো পাওনা নেই।" আমি বললাম, "কে পরিশোধ করেছে?" তিনি বললেন, "আপনার পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হয়েছে।" হাফেজ সেই ঋণ পরিশোধ করেছিলেন এবং তাকে এটি গোপন রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

একাধিক ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যখন মিসরে ছিলেন তখন সেখানে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। তিনি অনেক রাত নিজের রাতের খাবার অন্যদের দিয়ে দিতেন এবং নিজে অভুক্ত অবস্থায় রাত কাটাতেন।

সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর পুত্র আল-আফদাল তাঁর কাছে প্রচুর অর্থ ও গম পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তার পুরোটাই বণ্টন করে দেন।

দিয়া বলেন: একদিন আমি দেখলাম হাফেজের বাড়িতে কিছু খুবানি উপহার হিসেবে এসেছে। সেগুলো যখন বিলানো হচ্ছিল, তখন তিনি তৎক্ষণাৎ বললেন: বণ্টন করে দাও, "তোমরা কখনোই প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তা হতে ব্যয় করো যা তোমরা ভালোবাসো।"
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وقد فتح له بمصر بأشياء كثيرة من الذهب وغيره فما كان يترك شيئًا، حتى قال لي ابنه أبو الفتح: والدي يعطي الناس الكثير، ونحن لا يبعث إلينا شيئًا!

وقال عبد الجليل الجيلاني: كنت في مسجد الوزير، فبقيت ثلاثة أيام مالنا شيء، فلما كان العصر يوم الجمعة سلمت على الحافظ، ومشيت معه إلى خارج باب الجامع، فناولني نفقة، فإذا هي نحو خمسين درهمًا.

وقال الضياء: سمعت عبد الرحمن بن محمد القدسي يحدث عن رجل - وأثنى عليه خيرًا- قال: كنت مرة قد تخرقت ثيابي، فجئت يومًا بدمشق للحافظ، فقلت: يا سيدي! لك حاجة أحملها إلى الجبل؟ قال: نعم. خذ معك هذا الثوب، فحملته إلى الجبل، فلما صعدت، جئت بالثوب إليه، فقال: اقعد فَصِّلْ لك ثوبين وسراويل، ففصَّلت ثوبين وسراويل، وفضلت فضلة فأخذها.

 

‌‌7 - وفاته ودفنه:

نقل الضياء عن الحافظ أبي موسى بن الحافظ عبد الغني قال: مرض والدي- رحمه الله في ربيع الأول سنة ستمائة مرضًا شديدًا منعه من الكلام والقيام، واشتد به مدة ستة عشر يومًا، وكنت كثيرًا ما أسأله ما تشتهي؟ فيقول: أشتهي الجنة، أشتهي رحمة الله تعالى، لا يزيد على ذلك.

فلما كان يوم الاثنين جئت إليه، وكان عادتي أبعث من يأتي كل يوم بُكرةً بماء حارٍّ من الحمام؛ يغسل أطرافه، فلما جئنا بالماء على العادة مَدّ يَدَه، فعرفت أنه يريد الوضوء، فوضأته وقت صلاة الفجر.
মিশরে তাঁর কাছে প্রচুর স্বর্ণ ও অন্যান্য সম্পদ আসত, কিন্তু তিনি তার কিছুই নিজের জন্য রাখতেন না। এমনকি তাঁর ছেলে আবুল ফাতহ আমাকে বলেছিলেন: "আমার বাবা মানুষকে অনেক কিছু দান করেন, কিন্তু আমাদের কাছে তিনি কিছুই পাঠান না!"

আব্দুল জলীল আল-জিলানি বলেন: আমি উজিরের মসজিদে ছিলাম। সেখানে তিন দিন আমাদের কাছে কিছুই ছিল না। এরপর জুমার দিন আসরের সময় আমি হাফিজকে সালাম দিলাম এবং তাঁর সাথে জামে মসজিদের দরজার বাইরে বের হলাম। তখন তিনি আমাকে কিছু খরচ দিলেন, যা ছিল প্রায় পঞ্চাশ দিরহামের মতো।

দিয়া বলেন: আমি আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-কুদসিকে জনৈক ব্যক্তির বরাতে বর্ণনা করতে শুনেছি—এবং তিনি তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন—সে বলল: একদা আমার পোশাক ছিঁড়ে গিয়েছিল। আমি একদিন দামেস্কে হাফিজের কাছে এলাম এবং বললাম: "হে আমার সায়্যিদ! পাহাড়ে বয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো আপনার কি কোনো কাজ আছে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, এই কাপড়টি তোমার সাথে নাও।" আমি সেটি পাহাড়ে নিয়ে গেলাম। যখন আমি উপরে উঠলাম এবং কাপড়টি তাঁর কাছে নিয়ে এলাম, তখন তিনি বললেন: "বসো এবং তোমার জন্য দুটি জামা ও পাজামা তৈরি করে নাও।" ফলে আমি দুটি জামা ও পাজামা তৈরি করলাম এবং কিছু কাপড় অবশিষ্ট থাকল যা তিনি রেখে দিলেন।

 

‌‌৭ - তাঁর মৃত্যু ও দাফন:

দিয়া হাফিজ আব্দুল গনির পুত্র হাফিজ আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার বাবা—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—ছয়শত হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে কঠিন অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা তাঁকে কথা বলা এবং উঠে দাঁড়ানো থেকে অক্ষম করে দেয়। ষোলো দিন পর্যন্ত এই অসুস্থতা তীব্র অবস্থায় ছিল। আমি প্রায়ই তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম, "আপনার কী আকাঙ্ক্ষা হয়?" তিনি বলতেন: "আমি জান্নাত আকাঙ্ক্ষা করি, আমি মহান আল্লাহর রহমত আকাঙ্ক্ষা করি।" এর বেশি তিনি কিছুই বলতেন না।

অতঃপর যখন সোমবার দিন এলো, আমি তাঁর কাছে গেলাম। আমার নিয়ম ছিল প্রতিদিন খুব সকালে হাম্মাম থেকে গরম পানি আনার জন্য কাউকে পাঠানো, যা দিয়ে তাঁর হাত-পা ধুয়ে দেওয়া হতো। যখন নিয়ম অনুযায়ী আমরা পানি নিয়ে এলাম, তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করলেন। আমি বুঝতে পারলাম তিনি অজু করতে চাইছেন। অতঃপর ফজর নামাজের সময় আমি তাঁকে অজু করিয়ে দিলাম।
(খণ্ড: ১) উমদাতুল আহকামিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ٣٠)
ثم قال: يا عبد الله! قم فصل بنا وخفف.

فقمت فصليت بالجماعة، وصلى معنا جالسًا، فلما انصرف الناس جئت فجلست عند رأسه وقد استقبل القبلة، فقال لي: اقرأ عند رأسي سورة يس، فقرأتها، فجعل يدعو الله، وأنا أؤمِّن.

فقلت: هاهنا دواء قد عملناه تشربه.

فقال: يا بني! ما بقي إلا الموت.

فقلت: ما تشتهي شيثًا؟

قال: أشتهي النظر إلى وجه الله تعالى.

فقلت: ما أنت عني راضٍ؟

قال: بلى. والله أنا عنك راضٍ وعن إخوتك، وقد أجزت لك ولإخوتك ولابن أختك إبراهيم.

وأوصاني أبي عند موته، قال: لا تضيعوا هذا العلم الذي تعبنا عليه.

يعني: علم الحديث.

فقلت: ما توصي بشيء؟

قال: ما لي على أحد شيء، ولا لأحد عليّ شيء.

قلت: توصيني بوصية؟

قال: يا بني! أوصيك بتقوى الله، والمحافظة على طاعته.

فجاء جماعة يعودونه، فسلموا عليه، فرد عليهم، وجعلوا يتحدثون ففتح عينيه، وقال: ما هذا الحديث؟! اذكروا الله تعالى. قولوا: لا إله إلا الله. فقالوها، ثم قاموا، فجعل يذكر الله، ويحرك شفتيه بذكره، ويشير بعينيه،
অতঃপর তিনি বললেন: হে আবদুল্লাহ! ওঠো, আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করো এবং সংক্ষেপ করো।

সুতরাং আমি দাঁড়ালাম এবং জামাতের সাথে সালাত আদায় করলাম, আর তিনি আমাদের সাথে বসে সালাত আদায় করলেন। যখন লোকজন চলে গেল, তখন আমি এসে তাঁর শিয়রে বসলাম, আর তিনি কিবলামুখী হয়ে ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন: আমার শিয়রে সূরা ইয়াসিন পাঠ করো। আমি তা পাঠ করলাম, আর তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে লাগলেন এবং আমি আমীন বলতে থাকলাম।

আমি বললাম: এখানে একটি ঔষধ আছে যা আমরা তৈরি করেছি, আপনি তা পান করুন।

তিনি বললেন: হে বৎস! মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

আমি বললাম: আপনি কি কিছু আকাঙ্ক্ষা করছেন না?

তিনি বললেন: আমি মহান আল্লাহর চেহারা দেখার আকাঙ্ক্ষা করছি।

আমি বললাম: আপনি কি আমার ওপর সন্তুষ্ট নন?

তিনি বললেন: হ্যাঁ, অবশ্যই। আল্লাহর শপথ, আমি তোমার ওপর এবং তোমার ভাইদের ওপর সন্তুষ্ট। আর আমি তোমাকে, তোমার ভাইদের এবং তোমার ভাগিনা ইবরাহিমকে ইজাজত প্রদান করলাম।

আমার পিতা তাঁর মৃত্যুর সময় আমাকে অসিয়ত করে বললেন: তোমরা এই ইলমকে নষ্ট করো না যার জন্য আমরা পরিশ্রম করেছি।

অর্থাৎ: ইলমে হাদিস।

আমি বললাম: আপনি কি কোনো অসিয়ত করবেন না?

তিনি বললেন: কারও কাছে আমার কোনো পাওনা নেই এবং আমার কাছেও কারও কোনো পাওনা নেই।

আমি বললাম: আপনি কি আমাকে কোনো উপদেশ দেবেন?

তিনি বললেন: হে বৎস! আমি তোমাকে আল্লাহভীতি এবং তাঁর আনুগত্য বজায় রাখার উপদেশ দিচ্ছি।

অতঃপর একদল লোক তাঁকে দেখতে এলেন। তাঁরা তাঁকে সালাম দিলেন এবং তিনি তাঁদের সালামের উত্তর দিলেন। তাঁরা কথাবার্তা বলতে শুরু করলে তিনি চোখ খুললেন এবং বললেন: এসব কী কথা?! তোমরা মহান আল্লাহকে স্মরণ করো। বলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তাঁরা তা বললেন, অতঃপর তাঁরা উঠে দাঁড়ালেন। তখন তিনি আল্লাহকে স্মরণ করতে লাগলেন, জিকিরের সাথে তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়াতে লাগলেন এবং চোখের মাধ্যমে ইশারা করতে লাগলেন।