(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإسلام دين الوسطية والفضائل والقيم الخالدة   (عبد السلام الهراس)

القسم: كتب عامة


الكتاب: الإسلام دين الوسطية والفضائل والقيم الخالدة

المؤلف: عبد السلام الهراس

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 34

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 52

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং শাশ্বত মূল্যবোধের ধর্ম   (আবদুস সালাম আল-হাররাস)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং শাশ্বত মূল্যবোধের ধর্ম

লেখক: আবদুস সালাম আল-হাররাস

প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত গ্রন্থ) : ৩৪

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরকৃত এবং তা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২

শামেলার প্রকাশনা তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ১)
الإسلام دين الوسطية والفضائل والقيم الخالدة إعداد

أد. عبد السلام الهراس

فاس - المغرب

بسم الله الرحمن الرحيم الإسلام دين الوسطية والفضائل والقيم الخالدة

هذا الموضوع مطروق من لدن عدد من الباحثين والدعاة حتى كأن الكتابة فيه أصبحت من قبيل التكرار والاجترار، ومع ذلك فقد ملت إلى تناوله دون اضطرار لمراجعة الكتابات السابقة التي تتفاوت بين المستويات الثلاثة: الأجود والجيد والأقل جودة.

ومن المعلوم أن القرآن الكريم وصف الأمة الإسلامية بالوسطية في قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} . (1)

--------------------------------------------

(1) البقرة: 143.
ইসলাম: মধ্যপন্থা (الوسطية), শ্রেষ্ঠত্ব ও শাশ্বত মূল্যবোধের ধর্ম। উপস্থাপনায়

অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম আল-হাররাস

ফাস - মরক্কো

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ইসলাম: মধ্যপন্থা (الوسطية), শ্রেষ্ঠত্ব ও শাশ্বত মূল্যবোধের ধর্ম।

এই বিষয়টি অসংখ্য গবেষক ও দাঈদের মাধ্যমে আলোচিত হয়েছে, এমনকি এ বিষয়ে লেখালেখি এখন পুনরাবৃত্তি ও চর্বিতচর্বণের পর্যায়ে চলে গেছে। তা সত্ত্বেও, আমি পূর্ববর্তী রচনাগুলো পর্যালোচনার আবশ্যকতা ছাড়াই এই বিষয়ে আলোচনার প্রতি ঝুঁকেছি, যে রচনাগুলো তিনটি স্তরে বিভক্ত: সর্বোত্তম, উত্তম এবং নিম্নমানের।

এটি সুবিদিত যে, পবিত্র কুরআন মুসলিম উম্মাহকে মধ্যপন্থা (الوسطية) গুণে ভূষিত করেছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী উম্মত (أمة وسطًا) হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী (شهداء) হও এবং রাসুল তোমাদের জন্য সাক্ষী (شهيدًا) হন।} (১)

--------------------------------------------

(১) আল-বাকারাহ: ১৪৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ২)
ومعنى الوسط كما فسره القرآن الكريم في آية أخرى "الخيرية": قال تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} . (1) وفي اللغة: المرعى الوسط هو خياره، ووسط الشيء أفضله وأعدله، وواسطة القلادة: الدرة التي في وسطها (2) وهي أنفس خرزها. وفي الصحاح:" واسطة القلادة الجوهر الذي هو في وسطها وهو أجودها". وقد فسره الإمام على أنه أحسن الأديان، وفلان من أوسط قومه أي خيارهم وأشرفهم وأطيبهم، ومنها سميت الصلاة الوسطى لأنها أفضل الصلوات وأعظمها أجرا ولذلك خصت بالمحافظة عليها، وقد وُصِفَ النبي صلى الله عليه وسلم بأنه كان من أوسط قومه.

وقال ابن الرومي يبكي أحسن أبنائه بقوله:

توخّى حمام الموت أوسط صبيتي … فلله كيف اختارَ واسطةَ العقد

والإسلام مبناه على الخير والعدل والإحسان والمعروف والأمانة والصدق والعفة وسلامة الصدر وسيادة العقل والحرية المسؤولة واحترام الآخر والتواضع والرحمة والاستقامة والحياء إلى غير دلك من القيم التي هي جديرة بالقدوة.

--------------------------------------------

(1) آل عمران: 110.

(2) الصحاح (3 / 1167) ، مادة (وسط) .
এবং 'ওয়াসাত' (الوسط) এর অর্থ যেভাবে পবিত্র কুরআন অন্য একটি আয়াতে 'উত্তম হওয়া' (الخيرية) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে: মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে।" (১) আর আভিধানিক অর্থে: মধ্যম (وسط) চারণভূমি হলো তার উৎকৃষ্ট অংশ, আর কোনো বস্তুর মধ্যবর্তী (وسط) অংশ হলো তার শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ (أعدل) অংশ। হারের মধ্যমণি হলো সেই মুক্তা যা তার মাঝখানে থাকে (২) এবং এটিই তার সবচেয়ে মূল্যবান পুঁতি। আস-সিহাহ গ্রন্থে রয়েছে: "হারের মধ্যমণি হলো সেই রত্ন যা তার মাঝখানে থাকে এবং এটিই তার সর্বোত্তম অংশ।" ইমাম একে সর্বোত্তম দ্বীন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অমুক ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের মধ্যে 'মধ্যম' (أوسط) স্থানীয় অর্থাৎ তাদের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ (خيار), মর্যাদাবান ও পবিত্র। এ কারণেই 'সালাতুল উস্তা' নাম রাখা হয়েছে, কারণ এটি শ্রেষ্ঠ সালাত এবং এর প্রতিদান সবচেয়ে বেশি, তাই বিশেষভাবে এর হিফাযত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি তার সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে 'মধ্যম' (أوسط) বা শ্রেষ্ঠ ছিলেন।

ইবনে আল-রুমি তার সন্তানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেছেন:

মৃত্যুর দূত আমার সন্তানদের মধ্যমটিকে (أوسط) লক্ষ্য বানালো … আল্লাহর মহিমা! তিনি কীভাবে হারের মধ্যমণিটিকে বেছে নিলেন?

আর ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কল্যাণ, ন্যায়বিচার (العدل), ইহসান (الإحسان), সৎকর্ম (المعروف), আমানতদারিতা, সত্যবাদিতা, চারিত্রিক পবিত্রতা (العفة), হৃদয়ের নির্মলতা, বিবেকের প্রাধান্য, দায়িত্বশীল স্বাধীনতা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, বিনয়, দয়া, অবিচলতা (الاستقامة) এবং লজ্জা (الحياء) সহ এমন সব মূল্যবোধের ওপর যা অনুসরণের দাবি রাখে।

--------------------------------------------

(১) আল ইমরান: ১১০।

(২) আস-সিহাহ (৩ / ১১৬৭), মূলশব্দ (وسط)।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
إن الأمة الإسلامية خوطبت بآيات قرآنية عظيمة تحدد لها رسالتها في ظل الإسلام بقوله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} (1) .

كأنه قال: " أنتم خير أمة في الوجود الآن لأن جميع الأمم غلب عليها الفساد فلا يعرف فيها المعروف ولا ينكر فيها المنكر، وليست على الإيمان الذي يزع أهله عن الشر ويصرفهم إلى الخير، وأنتم تأمرون بالمعروف وتنهون عن المنكر، وتؤمنون بالله إيمانا صحيحا يعكس أثره في العمل، وحينئذ تكون كان تامة".

وقيل ناقصة:" أي كنتم في علم الله وفي اللوح المحفوظ أو كنتم في الأمم السابقة كما في كتبها المبشرة بكم خير أمة أخرجت للناس ".

ومهما يكن التقدير فإن أمة محمد هي خير أمة أخرجت للناس، وقد استحقت هذه الخيرية بالمزايا الثلاث المذكورة، وهي الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والاستمرار على الإيمان بالله والاعتصام جميعا بحبل الله. (2)

--------------------------------------------

(1) آل عمران الآية 110.

(2) المنار - 57 / 4 58.
নিশ্চয়ই ইসলামি উম্মাহকে এমন এক মহান কুরআনী আয়াতের মাধ্যমে সম্বোধন করা হয়েছে যা ইসলামের ছায়াতলে তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেয়; মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদেরকে মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের (معروف) আদেশ দাও এবং মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করো} (১)।

যেন তিনি বলেছেন: "বর্তমানে অস্তিত্বশীল জাতিসমূহের মধ্যে তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত। কারণ সকল উম্মতের ওপর বিপর্যয় প্রবল হয়ে গেছে, ফলে তাদের মাঝে সৎ কাজ (معروف) আর পরিচিত থাকে না এবং মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করা হয় না। তারা এমন ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত নেই যা তার অনুসারীদের অনিষ্ট থেকে বিরত রাখে এবং কল্যাণের দিকে ধাবিত করে। অথচ তোমরা সৎ কাজের (معروف) আদেশ দাও এবং মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি এমন বিশুদ্ধ (صحيح) ঈমান পোষণ করো যা কর্মে তার প্রভাব প্রতিফলিত করে; এমতাবস্থায় এখানে ক্রিয়াটি পূর্ণাঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে"।।

আবার বলা হয়েছে এটি একটি অসম্পূর্ণ ক্রিয়া: "অর্থাৎ তোমরা আল্লাহর জ্ঞানে এবং লাওহে মাহফুজে শ্রেষ্ঠ উম্মত ছিলে, অথবা পূর্ববর্তী উম্মতগণের কিতাবসমূহে তোমাদের সম্পর্কে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল তাতে তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে উল্লিখিত ছিলে"।।

ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ যাই হোক না কেন, মুহাম্মাদ (সা.)-এর উম্মতই হলো মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত। তারা উল্লিখিত তিনটি বৈশিষ্ট্যের কারণে এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে; আর তা হলো: সৎ কাজের (معروف) আদেশ প্রদান, মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করা এবং আল্লাহর প্রতি ঈমানের ওপর অবিচল থাকা ও সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। (২)

--------------------------------------------

(১) আল ইমরান, আয়াত ১১০।

(২) আল-মানার - ৪/৫৭, ৫৮।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
فإن كانت هذه الأمة بهذه المكانة والمنزلة التي اختارها الله سبحانه وتعالى لها فعليها أن تحقق ذلك من ذاتها ونفسها كما جاء في قوله تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} . (1) وهذا التعبير أجمل وأوفى بالمراد كما تقول: ليكن لي منك صديق. وفيه ما فيه من الحث على العمل وبذل الجهد وإحسان الاتباع حتى تستحق جماعة المؤمنين بهذا الدين أن تحظى بشرف تلك المكانة والمنزلة قبل التمكين لها، وذلك بالدعوة إلى الخير وبالأمر بالمعروف وبالنهي عن المنكر في دائرة جماعتها، تتبادل فيما بينها التواصي بالحق والتواصي بالصبر، وبعد التمكين لها في القيام برسالتها داخل مجتمعها محافظة على الميزات الثلاث التي أهَّلَتها لتكونَ أمّةَ الخير تدعو إلى الخير، وهل هناك خير وأعظم من الإسلام {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} (2) ، {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (3) فهو الدين الذي رضيه الله لنا وأمرنا أن نتمسك به ولا نموت إلا

--------------------------------------------

(1) آل عمران: 104.

(2) آل عمران: 19.

(3) آل عمران: 85.
যেহেতু এই উম্মত সেই মর্যাদা ও উচ্চাসনের অধিকারী যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের জন্য পছন্দ করেছেন, তাই তাদের কর্তব্য হলো নিজেদের সত্তা থেকে তা বাস্তবায়ন করা, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে এসেছে: {তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান জানাবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ বা বর্জনীয় (المنكر) থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।}। (১) আর এই অভিব্যক্তিটি অত্যন্ত চমৎকার এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থ প্রকাশে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, যেমনটি বলা হয়: ‘তোমার পক্ষ থেকে আমার জন্য একজন বন্ধু থাকুক’। এর মধ্যে আমল করার উৎসাহ প্রদান, প্রচেষ্টা ব্যয় এবং সুন্দরভাবে অনুসরণের বিষয়টি নিহিত রয়েছে, যাতে এই দ্বীনের মুমিন জামাত ক্ষমতা লাভের পূর্বেই সেই উচ্চমর্যাদা ও অবস্থানের সম্মান লাভের যোগ্য হতে পারে; আর তা অর্জিত হবে তাদের জামাতের পরিমণ্ডলে কল্যাণের দিকে আহ্বান, সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ বা বর্জনীয় (المنكر) থেকে নিষেধ করার মাধ্যমে, যেখানে তারা পরস্পরের মধ্যে সত্যের উপদেশ এবং ধৈর্যের উপদেশ বিনিময় করবে। এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নিজেদের অর্পিত দায়িত্ব পালনে সেই তিনটি বিশেষ গুণ সংরক্ষণের মাধ্যমে যা তাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে কল্যাণের দিকে আহ্বানের যোগ্য করেছে। আর ইসলামের চেয়ে বড় কল্যাণ ও মহান আর কী হতে পারে? {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট দ্বীন হলো ইসলাম} (২) , {এবং যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তা কখনোই তার নিকট থেকে কবুল করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} (৩)। সুতরাং এটিই সেই দ্বীন যা আল্লাহ আমাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে এবং আমরা যেন মৃত্যুবরণ না করি কেবল...

--------------------------------------------

(১) আল ইমরান: ১০৪।

(২) আল ইমরান: ১৯।

(৩) আল ইমরান: ৮৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
ونحن مسلمون. لكن رسالة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بعد التمكين وبالأحرى قبله تكون بالحكمة والموعظة الحسنة والمجادلة بالتي هي أحسن، إذ شعار الإسلام في دعوته: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ} وقد أعجبني كلاما ورد في المنار لبيان أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر لا يعني تجريد السيف ورفع السوط لإكراه الناس على الدخول في الإسلام لكونه أعرفَ المعروفات، وإقلاعهم عن الكفر بكونه أنكرَ المنكرات. يقول صاحب المنار: " إن هذا القول باطل مبني على قواعد غير ثابتة. . . ومنها:

أن الإكراه على الدين منفي في الإسلام بنص القرآن، ولم يحارب الرسول صلى الله عليه وسلم أحدا من العرب ولا من غيرهم لأجل الإكراه على الإسلام، وإنما حارب دفاعا. وكيف يحاول الإكراه والله تعالى يقول: {أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ} (1) .

وقد فرق بين الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وفريضة تغيير المنكر، وبيّن أن رسالة ذلك ليست الدعوة إلى الإسلام والإلزام به.

--------------------------------------------

(1) يونس: 99.
আমরা মুসলিম। তবে ক্ষমতা লাভের পর এবং বিশেষত তার পূর্বে সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر)-এর বার্তাটি প্রজ্ঞা (الحكمة), উত্তম উপদেশ (الموعظة الحسنة) এবং সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক (المجادلة بالتي هي أحسن)-এর মাধ্যমে হওয়া উচিত। কেননা দাওয়াতের ক্ষেত্রে ইসলামের মূলমন্ত্র হলো: "দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।" আল-মানার গ্রন্থে উল্লিখিত একটি বক্তব্য আমার কাছে চমৎকার লেগেছে, যেখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر)-এর অর্থ মানুষকে ইসলামে প্রবেশের জন্য বাধ্য করতে তরবারি উন্মুক্ত করা বা চাবুক তোলা নয়—যদিও ইসলাম হলো সর্বোত্তম সৎকাজ (المعروفات); কিংবা তাদের কুফর থেকে বিরত করা—যদিও কুফর হলো নিকৃষ্টতম অসৎকাজ (المنكرات)। আল-মানারের লেখক বলেন: "নিশ্চয়ই এই কথাটি বাতিল (باطل), যা কিছু অনির্ভরযোগ্য মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত... যার মধ্যে রয়েছে:

কুরআনের অকাট্য ভাষ্য (نص) অনুযায়ী দ্বীনের ব্যাপারে জবরদস্তি (الإكراه) ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরব বা অনারব কারও বিরুদ্ধেই ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার জন্য যুদ্ধ করেননি, বরং তিনি কেবল আত্মরক্ষার্থেই যুদ্ধ করেছেন। তিনি কীভাবে জবরদস্তির চেষ্টা করতে পারেন, যেখানে মহান আল্লাহ বলেন: "তবে কি আপনি মানুষের ওপর জবরদস্তি করবেন যাতে তারা মুমিন হয়ে যায়?" (১)।

তিনি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) এবং অসৎকাজ পরিবর্তনের আবশ্যকতা (فريضة تغيير المنكر)-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এর লক্ষ্য ইসলামে দীক্ষিত করা বা বাধ্য করা নয়।

--------------------------------------------

(১) ইউনুস: ৯৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وإن قول القفال الذي نقله الرازي مخالف لقوله -تعالى- في سورة الحج في وصف المؤمنين بعد الإذن لهم بقتال المعتدين عليهم: {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ} (1) فجعل سبحانه وتعالى الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من أوصافهم بعد التمكين في الأرض وذلك لا يكون بالجهاد، بل بعده (2) .

ومن أجمل وأعظم ما ورد في هذه الآية كما سبقت الإشارة التبشيرُ بخيرية هذه الأمة بشرط أن تجاهد نفسها على الإيمان بالحق والعمل به والسير على هداه والدعوة إليه بالحكمة والموعظة الحسنة وبكل ما هو حسن وأحسن، والصبر على ذلك. وهذا يعني البحث عن أنجح الوسائل وأجمل الطرق وأجدى الأساليب وأقوم الخطاب الذي يقدم من خلال القدوة الحسنة والأسوة الخيرة تبشيرا بالخير وترغيبا فيه، وهو أي الخير:" ما يرغب فيه الكل كالعقل مثلا والعدل والفضل والشيء النافع، وهو خير مطلق مرغوب فيه من كل أحد وعند كل أحد " (3) .

--------------------------------------------

(1) الحج: 41.

(2) المنار 4 / 61 - 62.

(3) مفردات الراغب.
রাযী কর্তৃক উদ্ধৃত কাফফালের বক্তব্যটি সূরা আল-হাজ্জ-এ মুমিনদের ওপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অনুমতি প্রদানের পর তাদের বর্ণনায় আল্লাহ তাআলার বাণীর পরিপন্থী: {তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করবে} (১)। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জমিনে ক্ষমতা লাভের পর 'সৎ কাজের আদেশ' ও 'অসৎ কাজের নিষেধ'কে তাদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, আর তা জিহাদের মাধ্যমে নয়, বরং জিহাদের পরবর্তী বিষয় (২)।

ইতিপূর্বে যেমন ইঙ্গিত করা হয়েছে, এই আয়াতে বর্ণিত সবচেয়ে সুন্দর ও মহান বিষয়গুলোর একটি হলো এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের সুসংবাদ প্রদান; তবে শর্ত হলো তারা সত্যের প্রতি ঈমান আনয়ন, তদনুযায়ী আমল, হিদায়াতের পথে চলা এবং হিকমত (প্রজ্ঞা) ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং যা কিছু সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ তার দ্বারা দাওয়াত প্রদান এবং এই পথে ধৈর্যের সাথে সংগ্রাম করবে। এর অর্থ হলো সফলতম মাধ্যম, সুন্দরতম পদ্ধতি, কার্যকর কৌশল এবং সবচেয়ে সুদৃঢ় বক্তব্যের অনুসন্ধান করা; যা উত্তম আদর্শ ও কল্যাণকর অনুকরণের মাধ্যমে কল্যাণের সুসংবাদ প্রদান ও সেদিকে আগ্রহী করার জন্য পেশ করা হয়। আর সেই 'কল্যাণ' হলো: "এমন বিষয় যার প্রতি সকলে আগ্রহী হয়, যেমন—বুদ্ধিমত্তা, ন্যায়বিচার, শ্রেষ্ঠত্ব এবং উপকারী বস্তু; আর এটি এমন এক পরম কল্যাণ যা প্রত্যেকের কাছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত" (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-হাজ্জ: ৪১।

(২) আল-মানার ৪ / ৬১ - ৬২।

(৩) মুফরাদাতুর রাغب।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وقد وصف الله جماعات المسلمين وأفرادها بأنهم هم المفلحون اختصاصا وتأكيدا، ولهم درجات عليا وذلك بورود اسم الإشارة "أولئك" لأنهم يدعون إلى الخير ويأمرون بكل معروف وينهون عن كل منكر، فإذا تم لهم ذلك فهم "أمة الوسط " و"أمة الشهادة " على الناس جميعا، وسيكون الرسول صلى الله عليه وسلم عليهم شهيدا. وهكذا نرى هذه الآيات الثلاث متناسقة يترتب بعضها على بعض: فالأولى تبين أن هذه الأمة كانت خير أمة أخرجت للناس في علم الله أو في اللوح المحفوظ، والثانية: أن على هذه الأمة أن تعمل وتصنع من نفسها ما هو المطلوب منها: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ} (1) . وثمرة ذلك استحقاقها أن تكون أمة الشهادة على الناس. ولا تستحق ذلك إلا إذا تحققت فيها شروط الشهادة وأهمها: العلم والعدالة والاستقامة على الصراط المستقيم وكل الخصال والقيم الخالدة والأخلاق السامية والخلال الحميدة التي عبر عنها القرآن الكريم بإيجاز معجز: " بالوسط " وهي العدل والخيار وسمو المنزلة بما تحقق فيها من اشتمالها على جميع حقوق الإنسانية وحسن توازنها بين المادة والروح وتخلصها أو براءتها من إفراط هناك وتفريط هنا وغلو

--------------------------------------------

(1) آل عمران: 104.
আল্লাহ মুসলিম সম্প্রদায় ও এর অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিবর্গকে সুনির্দিষ্টভাবে এবং গুরুত্বের সাথে সফল হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তাদের জন্য উচ্চমর্যাদা নির্ধারিত রয়েছে। আর তা নির্দেশক বিশেষ্য "উলাইকা" (أولئك) বা 'তারাই' ব্যবহারের মাধ্যমে করা হয়েছে; কারণ তারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করে, প্রত্যেক সৎকাজের আদেশ দেয় এবং প্রত্যেক মন্দ বা অস্বীকৃত (منكر) কাজ থেকে নিষেধ করে। যখন তাদের মাঝে এই গুণাবলি পূর্ণতা পায়, তখন তারা সমগ্র মানবজাতির ওপর "মধ্যপন্থী জাতি" (وسط) ও "সাক্ষী জাতি" হিসেবে গণ্য হয়, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ওপর সাক্ষী হবেন। এভাবে আমরা এই তিনটি আয়াতকে সুসমন্বিত দেখি, যার একটি অন্যটির ওপর নির্ভরশীল: প্রথমটি স্পষ্ট করে যে, আল্লাহর জ্ঞানে বা লাওহে মাহফুজে এই উম্মত মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো: এই উম্মতের ওপর আবশ্যিক কর্তব্য হলো কাজ করা এবং নিজেদের এমনভাবে গড়ে তোলা যা তাদের কাছে কাঙ্ক্ষিত: {তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে} (১)। আর এর ফলশ্রুতিতে তারা মানুষের ওপর সাক্ষী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। আর এই যোগ্যতা তখনই অর্জিত হয় যখন তাদের মাঝে সাক্ষ্য প্রদানের শর্তাবলি পূর্ণ হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: জ্ঞান, ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), সিরাতে মুস্তাকিমের ওপর অবিচলতা এবং সেই সমস্ত চিরন্তন গুণাবলি, মূল্যবোধ, উচ্চতর নৈতিকতা ও প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ যা পবিত্র কুরআন এক অলৌকিক সংক্ষিপ্ততায় প্রকাশ করেছে: "মধ্যপন্থা" (وسط) শব্দের মাধ্যমে। আর তা হলো ন্যায়বিচার (عدل), শ্রেষ্ঠত্ব এবং সুউচ্চ মর্যাদা; যা অর্জিত হয় মানবিক সকল অধিকারের অন্তর্ভুক্তি, বস্তু ও রুহের মাঝে চমৎকার ভারসাম্য রক্ষা এবং আতিশয্য, অবহেলা ও বাড়াবাড়ি থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে।

--------------------------------------------

(1) আল ইমরান: ১০৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
هناك وتقصير هنا (1) . والرسول صلى الله عليه وسلم هو الشاهد على أمته التي أكرمها الله سبحانه وتعالى بالوسطية لكونه المثال الأكمل لمرتبة الوسط، وإنما تكون هذه الأمة وسطا باتباعها له صلى الله عليه وسلم في سيرته وشريعته. . . فكأن الله يقول: إنما يتحقق لكم وصف " الوسط " إذا حافظتم على العمل بهدي الرسول صلى الله عليه وسلم، واستقمتم على سنته (2) .

وهذه الوسطية هي الواردة في الفاتحة باسم " الصراط المستقيم " التي تعبدنا الله بها أي بالفاتحة في كل صلاة لكونها أمّ الكتاب، ومن خصائص هذا الصراط المستقيم أنه موصل للغاية السامية، وهو وحده كذلك دون الطرق الأخرى الملتوية والمعوجة والمنحرفة والكؤود أو المليئة بالحفر والأمت، وأنه طريق مأنوس بالسائرين إلى الله من المنعم عليهم غير المغضوب عليهم، وهم أولئك الذين عرفوا الحق وخالفوه، وغير الضالين الذين جهلوا الحق واجتهدوا في جهلهم وتمادوا في غيهم، فأمة الوسط بين هذين الطرفين المنحرفين عن الحق.

--------------------------------------------

(1) انظر تفسير أبي السعود 204 / 1 دار الفكر.

(2) انظر تفسير المنار 1 / 4 - 5.
সেখানে এবং এখানে শিথিলতা (১)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের ওপর সাক্ষী, যাদেরকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মধ্যপন্থা (وسطية) দ্বারা সম্মানিত করেছেন, যেহেতু তিনি মধ্যম (وسط) স্তরের জন্য পূর্ণতম উদাহরণ। আর এই উম্মত তখনই মধ্যম (وسط) হতে পারে যখন তারা তাঁর সীরাত এবং শরীয়তের অনুসরণে তাঁর অনুসরণ করবে। . . যেন আল্লাহ বলছেন: তোমাদের জন্য 'মধ্যম' (وسط) বৈশিষ্ট্যটি তখনই অর্জিত হবে যদি তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হেদায়েতের ওপর আমল করা বজায় রাখো এবং তাঁর সুন্নাহর ওপর অটল থাকো (২)।

আর এই মধ্যপন্থা (وسطية)-ই সূরা ফাতিহায় 'সরল পথ' (صراط مستقيم) নামে বর্ণিত হয়েছে, যা পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন—অর্থাৎ প্রতিটি সালাতে সূরা ফাতিহার মাধ্যমে—যেহেতু এটি উম্মুল কিতাব। এই সরল পথের (صراط مستقيم) অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি উচ্চ লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়, এবং এটি একাই এমন, অন্যান্য আঁকাবাঁকা, বক্র, বিচ্যুত এবং বন্ধুর পথ অথবা গর্ত ও উঁচু-নিচুতে ভরা রাস্তাগুলো এমন নয়। এটি আল্লাহর দিকে ধাবমান ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিচিত পথ, যা সেই সব ব্যক্তিদের পথ যাদের ওপর অনুগ্রহ করা হয়েছে (منعم عليهم), যারা ক্রোধভাজন (مغضوب عليهم) নয়—অর্থাৎ তারা যারা সত্যকে জেনেও তার বিরোধিতা করেছে—এবং পথভ্রষ্টদের (ضالين) পথও নয় যারা সত্য সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল এবং তাদের অজ্ঞতার মধ্যেই ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছে এবং তাদের ভ্রান্তিতে অবিচল থেকেছে। সুতরাং মধ্যপন্থী উম্মত (أمة الوسط) হলো সত্য থেকে বিচ্যুত এই দুই প্রান্তিকতার মধ্যবর্তী স্থানে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন তাফসীরে আবুস সাউদ ১/২০৪, দারুল ফিকর।

(২) দেখুন তাফসীরুল মানার ১/৪-৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد عبر القرآن الكريم عن هذه الوسطية بشجرة مباركة زيتونة لا شرقية ولا غربية يكاد زيتها يضيء ولو لم تمسسه نار نور على نور يهدي الله لنوره من يشاء. وهي المحجة البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك كما ورد في الحديث الشريف. وكما جعل الله الأمة الإسلامية وسطا بين الأمم فقد جعل قبلتها وسطا بين الجهات، وقد هداها سبحانه وتعالى إليها وسماها الصراط المستقيم فقال تعالى: {لِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} (1) . فهي إذن أمة وسط في قبلة الصلاة أي في الجهات كذلك جعلها وسطا بين الأمم (2) .

--------------------------------------------

(1) البقرة: 142.

(2) بدائع الفوائد لابن القيم الجوزية 1 / 158 - 159 وانظر كتاب الكعبة مركز العالم ص 148، 204 للدكتور سعد المرصفي مكتبة المنار الإسلامية ومؤسسة الريان للطباعة والنشر والتوزيع بيروت لبنان سنة 1421هـ / 2000م.
পবিত্র কুরআন এই মধ্যপন্থাকে (وسطية) একটি বরকতময় জয়তুন বৃক্ষের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছে, যা পূর্বদিকেরও নয় এবং পশ্চিমদিকেরও নয়; এর তেল যেন আলো ছড়াচ্ছে, যদিও আগুন তাকে স্পর্শ করেনি। জ্যোতির ওপর জ্যোতি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর জ্যোতির দিকে পথপ্রদর্শন করেন। আর এটি সেই উজ্জ্বল পথ (المحجة البيضاء), যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না, যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলা যেভাবে ইসলামি উম্মাহকে জাতিসমূহের মধ্যে মধ্যপন্থী (وسطا) করেছেন, তেমনি তাদের কিবলাকেও দিকসমূহের মধ্যে মধ্যবর্তী করেছেন। মহান আল্লাহ তাদেরকে এর দিকে পথ দেখিয়েছেন এবং এর নামকরণ করেছেন সরল পথ (الصراط المستقيم)। মহান আল্লাহ বলেন: "পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথ (صراط مستقيم)-এর দিকে পরিচালিত করেন" (১)। অতএব, এটি নামাজের কিবলার ক্ষেত্রে অর্থাৎ দিকসমূহের ক্ষেত্রে একটি মধ্যপন্থী (وسط) উম্মত; একইভাবে তিনি তাদেরকে জাতিসমূহের মধ্যেও মধ্যপন্থী (وسطا) করেছেন (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-বাকারাহ: ১৪২।

(২) ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ রচিত বাদায়েউল ফাওয়ায়িদ ১ / ১৫৮ - ১৫৯ এবং ড. সাদ আল-মারসাফি রচিত 'আল-কাবা মারকাযুল আলাম' পৃষ্ঠা ১৪৮, ২০৪ দেখুন, মাকতাবাতুল মানার আল-ইসলামিয়্যাহ এবং মুয়াসসাসাতুর রাইয়ান লি-ত তিবায়া ওয়ান নাশর ওয়াত তাওযি, বৈরুত, লেবানন, ১৪২১ হিজরি / ২০০০ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ومن تجليات هذه الوسطية:

‌‌تكريم الإنسان
এই মধ্যপন্থা (وسطية)-এর অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো:

মানুষের মর্যাদা
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
{وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا} (1) . إذ خلقه الله بيده ونفخ فيه من روحه وأسجد له ملائكته سجود تكريم، وعلّمه الأسماء كلها، وخلق له زوجا من نفسه وجعل بينهما مودة ورحمة، وأسكنهما جنته، وترك لهما الحرية كاملة في التمتع بالأكل منها حيثما شاءا رغدا، إلا أن لهذه الحرية حدودا، فنهاهما الله عن الاقتراب من شجرة واحدة معنية بالإشارة إليها تأكيدا للتحذير لما في معصية الأكل منها من سوء العاقبة بالنسبة إليهما، لكنهما ضعفا أمام إغراء الشيطان فأزلهما عما كانا فيه فأهبطهما إلى الأرض التي قدر الله أن يكون فيها آدم وبنوه خليفة كما أخبر الله ملائكته قبل خلقه بقوله: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً} (2) ولم يتركه لنفسه، ولم يغلق دونه باب رحمته ولا نعمة توبته من نسيانه الذي أضعف عزمه، بل ألهمه "الاستغفار" وعبادة التوبة: {فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ} (3) وبين له طريق الهدى وسبيل الفلاح، وحذره

--------------------------------------------

(1) الإسراء: 70.

(2) البقرة: 30.

(3) البقرة: 37.
{নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং স্থলে ও জলে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদের উত্তম রিযিক প্রদান করেছি এবং আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি} (১) । যেহেতু আল্লাহ তাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে স্বীয় রূহ ফুঁকে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের দিয়ে তাকে সম্মানসূচক সিজদাহ করিয়েছেন, তাকে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন, তার মধ্য থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয়ের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাদের জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছেন এবং সেখান থেকে যেখানে ইচ্ছা মনের আনন্দে আহার করার পূর্ণ স্বাধীনতা দান করেছেন। তবে এই স্বাধীনতার সীমা ছিল; তাই আল্লাহ তাদের একটি নির্দিষ্ট বৃক্ষের প্রতি ইঙ্গিত করে সেটির নিকটবর্তী হতে নিষেধ করেছিলেন—যাতে সতর্কবার্তাকে জোরালো করা হয়—কেননা অবাধ্য হয়ে এর ফল ভক্ষণ করার পরিণাম তাদের জন্য মন্দ হবে। কিন্তু তারা শয়তানের প্ররোচনার সামনে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন; ফলে শয়তান তাদের সে অবস্থান থেকে বিচ্যুত করল। অতঃপর তিনি তাদের পৃথিবীতে নামিয়ে দিলেন, যেখানে আল্লাহ আদম ও তার সন্তানদের প্রতিনিধি (خليفة) হিসেবে থাকার ফয়সালা করেছিলেন, যেমনটি আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির আগে ফেরেশতাদের জানিয়েছিলেন এই বলে: {স্মরণ করো, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি (خليفة) নিযুক্ত করতে যাচ্ছি} (২) । তিনি তাকে তার নিজের ওপর ছেড়ে দেননি এবং তার জন্য স্বীয় রহমতের দরজা কিংবা বিস্মৃতির কারণে দুর্বল হয়ে যাওয়া সংকল্পের বিপরীতে তওবা (توبة) এর নিয়ামত বন্ধ করে দেননি; বরং তিনি তাকে ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار) এবং তওবা (توبة) এর ইবাদতের প্রেরণা দান করলেন: {অতঃপর আদম তার রবের পক্ষ থেকে কিছু কালিমা প্রাপ্ত হলেন, ফলে আল্লাহ তার তওবা (توبة) কবুল করলেন} (৩) । তিনি তার জন্য হিদায়াতের পথ ও সফলতার রাস্তা স্পষ্ট করে দিলেন এবং তাকে সতর্ক করলেন।

--------------------------------------------

(১) আল-ইসরা: ৭০।

(২) আল-বাকারাহ: ৩০।

(৩) আল-বাকারাহ: ৩৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
من فتنة ذاك الذي أبى أن يطيع ربه بالسجود له مع الملائكة حسدًا من عند نفسه وتكبرًا وغرورا، فقد رأى نفسه أنه أولى منه بهذا التكريم لأن الله خلقه من نار أما آدم فمخلوق من طين، وهكذا نجا آدم من الخطيئة التي ارتكب فلم تعد ينوء بها كاهله، كما لم يورثها لعقبه من بعده وأصبح بنو آدم في حل مما جناه أبوهم بتوبة الله عليه.
সেই সত্তার ফিতনা থেকে যে নিজের অন্তরের হিংসা, অহংকার ও দম্ভের বশবর্তী হয়ে ফেরেশতাদের সাথে তার প্রতিপালকের প্রতি সিজদাহর মাধ্যমে আনুগত্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছিল। সে নিজেকে এই সম্মানের জন্য তাঁর (আদমের) চেয়ে অধিক যোগ্য মনে করেছিল; কারণ আল্লাহ তাকে অগ্নি থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে মৃত্তিকা থেকে। এভাবেই আদম তাঁর কৃত বিচ্যুতি থেকে মুক্তি পেলেন এবং সেই ভার আর তাঁর স্কন্ধকে ভারাক্রান্ত করল না; তদ্রূপ তিনি তাঁর পরবর্তী বংশধরদের জন্যও তা উত্তরাধিকার সূত্রে রেখে যাননি। পরিশেষে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর তাওবা কবুল হওয়ার মাধ্যমে বনী আদম তাদের পিতার কৃত অপরাধের দায় থেকে মুক্ত হলো।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وبذلك أصبح آدم وبنوه على اتصال بربهم دون واسطة بشرية أو غير بشرية حتى لا يسقط في الاستغلال، ولا يعرض نفسه لهتك أسراره وتشويه عرضه، فما عليه إذ يجترح سيئة إلا أن يبادر بالتوبة والإنابة فيجد الله توابا رحيما: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ} (1) بل إن بعض السيئات تُبدل لدى الكريم الغفار التواب الحليم حسنات: {يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا} (2) . وقد رغّب الإسلام في التوبة في الكتاب والسنة بشتى الترغيبات مما لا يدع مجالا للقنوط واليأس من رحمة الله ولو جاء بأكثر ما يمكن تصوره من الذنوب والآثام شرط ألا يشرك بالله: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} (3) وبذلك فتح أبواب الخير أمام الإنسان ليعود إلى الوسط بين الخوف والرجاء مع حسن الظن بربه، وإلى الصراط المستقيم حتى يستظل بظلال رحمة الله وعفوه ويستمد معرفته الصادقة والصحيحة بربه وعندئذ يتمتع بالكلمة الطيبة في حياته التي هي

--------------------------------------------

(1) البقرة: 186.

(2) الفرقان: 70.

(3) النساء: 48.
এর ফলে আদম এবং তাঁর বংশধরগণ কোনো মানবীয় বা অমানবিক মধ্যস্থতা ছাড়াই তাঁদের রবের সাথে সরাসরি যোগাযোগের অধিকারী হয়েছেন, যাতে তাঁরা শোষণের শিকার না হন এবং নিজেকে স্বীয় গোপনীয়তা প্রকাশ ও সম্মানহানির সম্মুখীন না করেন। সুতরাং যখনই তিনি কোনো মন্দ কাজ করে ফেলেন, তখন তাঁর কর্তব্য হলো তওবা ও আল্লাহ-অভিমুখী হওয়ার দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়া; ফলে তিনি আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পাবেন: {আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলে দাও যে) নিশ্চয়ই আমি অতি নিকটে। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমাতে ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথের দিশা পায়} (১)। এমনকি মহানুভব, অতি ক্ষমাশীল, তওবা কবুলকারী ও সহনশীল রবের কাছে কিছু পাপ পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত হয়ে যায়: {আল্লাহ তাদের পাপসমূহকে পুণ্যে পরিবর্তিত করে দেবেন এবং আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (২)। ইসলাম কুরআন ও সুন্নাহর (السنة) মধ্যে তওবার প্রতি বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করেছে, যা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ বা আশাহত হওয়ার কোনো অবকাশই রাখে না; এমনকি কেউ যদি অকল্পনীয় সর্বাধিক পাপ ও অপরাধ নিয়েও উপস্থিত হয়, তবে শর্ত হলো আল্লাহর সাথে শরিক করা যাবে না: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না এবং এছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন} (৩)। এর মাধ্যমে মানুষের সামনে কল্যাণের দ্বার উন্মোচন করা হয়েছে যাতে সে ভয় ও আশার মাঝে তাঁর রবের প্রতি সুধারণা পোষণ করে পুনরায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে পারে এবং সরল পথের দিকে ফিরে আসতে পারে, যাতে সে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার ছায়াতলে আশ্রয় পায় এবং স্বীয় রব সম্পর্কে সত্য ও বিশুদ্ধ (صحيح) জ্ঞান আহরণ করতে পারে। আর তখনই সে তার জীবনে সেই পবিত্র বাক্যের স্বাদ উপভোগ করবে যা হলো

--------------------------------------------

(১) আল-বাকারা: ১৮৬.

(২) আল-ফুরকান: ৭০.

(৩) আন-নিসা: ৪৮.
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
خير كلها مثل شجرة طيبة أصلها ثابت وفرعها في السماء تؤتي أكلها كل حين بإذن ربها (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير الرازي والكشاف وابن كثير وأضواء البيان وغيرها.
এর পুরোটাই কল্যাণময়, একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায়, যার মূল সুদৃঢ় এবং শাখা আকাশে বিস্তৃত; যা তার প্রতিপালকের নির্দেশে সর্বদা ফল দান করে (১) ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরে রাজি, আল-কাশশাফ, ইবনে কাসির, আদওয়াউল বায়ান এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
إن التوبة إحدى خصائص الوسطية في الإسلام، وهي تترك الباب مفتوحا لتجديد العبد صلته بربه دون واسطة أو سمسرة، ودون تيئيس أو قطع الرجاء فيتمادى المذنب والمجترح للسيئات في عناده وغيه، ذلك أن الله سبحانه وتعالى كرم بني آدم إذ خلقهم على الفطرة، ومهما اعترتها من شوائب وأكدار وحُجُب فإن العمق يظل سليما، لذلك قال - تعالى - مخاطبا المؤمن: {ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ} {وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ} (1) . فإن الإنسان طيب في أعماقه فيه استعداد للمودة وللتسامح وصلة ما انقطع لكن يحتاج إلى مخاطبته ومعالجته ومدافعة عناده وإصراره على العداوة بالتي هي أحسن التي تستطيع أن تخترق تلك الحجب ليمس الفطرة التي فطره الله عليها لتتحول عداوته إلى ولاية حميمة وصداقة وثيقة، بخلاف الشيطان فإنه شر محض مفطور عليه لا يقبل رشوة لذلك فلا ينفع معه إلا الاستعاذة بالله. ومن تجليات الوسطية إكرام الله الإنسان بعقيدة التوحيد التي تتميز بسمة التوازن العقلي والروحي، فلا إنكار للألوهية،

--------------------------------------------

(1) فصلت: 34-35.
নিশ্চয়ই তাওবা (توبة) হলো ইসলামে ভারসাম্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের (وسطية) অন্যতম একটি দিক। এটি বান্দার জন্য কোনো মাধ্যম বা দালালি ব্যতিরেকেই তার রবের সাথে সম্পর্ক নবায়নের দ্বার উন্মুক্ত রাখে। এটি তাকে নিরাশ করে না কিংবা তার আশা ছিন্ন করে দেয় না, যাতে গুনাহগার ও পাপাচারী ব্যক্তি তার হঠকারিতা ও ভ্রষ্টতায় সীমালঙ্ঘন না করে। এর কারণ হলো মহান আল্লাহ বনী আদমকে সম্মানিত করেছেন এবং তাদেরকে স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) ওপর সৃষ্টি করেছেন। এই প্রকৃতির ওপর যতই কলুষতা, আবিলতা ও আবরণ পতিত হোক না কেন, এর গভীর মূলটি সবসময় অক্ষুণ্ণ থাকে। এজন্যই আল্লাহ তাআলা মুমিনকে সম্বোধন করে বলেছেন: {মন্দকে প্রতিহত করুন উৎকৃষ্ট দ্বারা, ফলে আপনার ও যার মধ্যে শত্রুতা ছিল, সে যেন আপনার অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যাবে। আর এটি কেবল তারাই প্রাপ্ত হয় যারা ধৈর্য ধারণ করে এবং কেবল তারাই প্রাপ্ত হয় যারা মহাভাগ্যের অধিকারী।} (১)। মানুষ তার অন্তরের অন্তস্তলে মূলত কল্যাণকামী; তার মাঝে হৃদ্যতা, সহনশীলতা ও ছিন্ন হওয়া সম্পর্ক জোড়া দেওয়ার প্রবণতা বিদ্যমান। তবে তার সাথে সুরাহা ও প্রতিকারমূলক আচরণ করা এবং তার হঠকারিতা ও শত্রুতাকে সর্বোত্তম পন্থায় প্রতিহত করা প্রয়োজন। এই পন্থাই সেই সকল অন্তরায় ভেদ করতে সক্ষম এবং আল্লাহ প্রদত্ত স্বভাবজাত প্রকৃতিকে (فطرة) স্পর্শ করতে পারে, যাতে তার শত্রুতা গভীর মৈত্রীতে ও নিবিড় সখ্যতায় রূপান্তরিত হয়। পক্ষান্তরে শয়তানের বিষয়টি ভিন্ন; সে নিরবচ্ছিন্ন মন্দের ওপরই সৃজিত, সে কোনো আপস গ্রহণ করে না; তাই তার বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা (استعاذة) ব্যতীত অন্য কিছু ফলপ্রসূ হয় না। ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের (وسطية) অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো আল্লাহ কর্তৃক মানুষকে তাওহিদের (توحيد) আকিদার (عقيدة) মাধ্যমে সম্মানিত করা, যা বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক ভারসাম্যের গুণে অনন্য। এখানে উলুহিয়াতের (ألوهية) কোনো অস্বীকার নেই,

--------------------------------------------

(১) ফুসসিলাত: ৩৪-৩৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ولا غلو فيها ولا وثنية، فالوحدانية عقيدة بريئة من التفريط والإفراط والتطرف عن الصراط المستقيم يمينا أو يسارا: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} .

ومن تكريم الله للإنسان حق الحياة، فمن قتل نفسا بغير حق أو فساد في الأرض فكأنما قتل الناس جميعا، ومن أحياها فكأنما أحيا الناس جميعا، لكنه إذا ما أزهق روحا متعمدا فالنفس بالنفس، وهو في الآخرة خالد في النار، ومن تكريم الإسلام للإنسان إعلان مبدإ تحرير العبيد عن طريق العتق الذي يعد بابا من أبواب القربات إلى الله، وعن طريق العقاب المالي مثل بعض الكفارات، فالسيد في الإسلام لا يملك إنسانية عبده ولكن يملك رقبته أي عمله وخدمته، أما إنسانيته فلا، فإن جاز له أن يؤدبه فلا يتعدى عشر ضربات مثلما يؤدب أهله (1) . فإن مثل بعبده عتق عليه وهذا مذهب فقهاء الحديث. ولو استكره الرجل عبده أو أمة غيره على الفاحشة عتقا عليه ويضمن لأمة غيره بمثلها (2) .

--------------------------------------------

(1) إعلام الموقعين 49 / 2.

(2) نفسه 46 / 2.
এতে কোনো অতিরঞ্জন (غلو) নেই এবং কোনো মূর্তিপূজাও নেই। কেননা একত্ববাদ বা তাওহিদ হলো এমন এক আকিদা যা সরল পথ (الصراط المستقيم) থেকে ডানে বা বামে বিচ্যুত হওয়া, অবহেলা (تفريط) এবং সীমালঙ্ঘন (إفراط) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত: "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।"

মানুষের প্রতি আল্লাহর সম্মান প্রদর্শনের অন্যতম দিক হলো জীবনের অধিকার। সুতরাং যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে অথবা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করল, সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করল; আর যে কারো জীবন রক্ষা করল, সে যেন সকল মানুষের জীবন রক্ষা করল। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রাণ সংহার করে, তবে প্রাণের বদলে প্রাণ কার্যকর হবে এবং পরকালে সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। মানুষের প্রতি ইসলামের সম্মানের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো দাসমুক্তির নীতি ঘোষণা করা। এটি মুক্তির (عتق) মাধ্যমে সম্পন্ন হয় যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত, অথবা আর্থিক দণ্ড যেমন বিভিন্ন কাফফারার মাধ্যমে। ইসলামে মনিব তার দাসের মানবিক সত্তার মালিক নয়, বরং সে কেবল তার শ্রম ও সেবার মালিক; কিন্তু তার মানবিকতার ওপর মনিবের কোনো মালিকানা নেই। যদি তাকে শাসন করার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তা যেন দশটি আঘাত অতিক্রম না করে, ঠিক যেভাবে সে তার পরিবারের সদস্যদের শাসন করে থাকে (১)। যদি সে তার দাসের অঙ্গহানি ঘটায়, তবে সে মুক্ত হয়ে যাবে; এটিই হাদিসের ফকিহদের (فقهاء الحديث) মাযহাব। আর যদি কোনো ব্যক্তি তার নিজস্ব দাসকে অথবা অন্যের দাসীকে অশ্লীল কাজে বাধ্য করে, তবে তারা মুক্ত হয়ে যাবে এবং অন্যের দাসীর ক্ষেত্রে তাকে সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে (২)।

--------------------------------------------

(১) ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন ২ / ৪৯।

(২) প্রাগুক্ত ২ / ৪৬।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ولا يُعرف في تاريخ الفتوحات الإسلامية أنها أبادت شعوبا كما فعلت أمم أخرى من أجل إحلال المسلمين مكانهم، أو استعبدت شعوبا كما فعل الآخرون عن طريق الغزو والعدوان وجلبها المستعمرات الجديدة وبيعها في الأسواق كما تباع الأنعام لاستغلالها أبشع استغلال، وإنما كانت الشعوب تسلم عن طواعية، فمن أبى فإنه يعيش على دينه كما نرى ذلك في كثير من بلاد العرب وغيرها مثل الشام: " سوريا ولبنان والأردن وفلسطين والعراق ومصر واليهود في المغرب العربي والسودان ". أما الهند وبلاد فارس والأندلس وغيرها فإن الفتح الإسلامي اعترف أيضا بالآخر ولم يرغم أي واحد على الدخول في الإسلام، في حين عندما انتصر ملوك شبه الجزيرة النصارى أطبقوا على إبادة المسلمين وإحراق كتبهم وتراثهم وتحويل مساجدهم إلى كنائس، إذ لم يبق في إسبانيا ولو كتاب واحد من ملايين الكتب التي ألفها واقتناها ونسخها علماء الأندلس ووراقوها ونساخوها. . أما الكتب التي هي بمكتبة الإسكوريال فهي مغربية الأصل قرصنها قرصان فرنسي وتسلط عليه الإسبان فجعلوها في دير الإسكوريال وقد أتلف جلها بالحرق وغيره!!

ইসলামী বিজয়ের ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই যে, তারা অন্য কোনো জাতিকে সমূলে নির্মূল করেছে যেমনটি অন্যান্য জাতিরা করেছিল মুসলমানদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করার উদ্দেশ্যে; কিংবা তারা অন্য জাতিদেরকে ক্রীতদাসে পরিণত করেছে যেমনটি অন্যরা করেছিল আক্রমণ ও আগ্রাসনের মাধ্যমে এবং তাদেরকে নতুন উপনিবেশগুলোতে নিয়ে গিয়ে বাজারে গবাদি পশুর ন্যায় বিক্রয় করেছিল নির্মমতম শোষণের নিমিত্তে। বরং জাতিসমূহ স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করত; আর যারা অস্বীকার করত, তারা নিজ ধর্মেই জীবন অতিবাহিত করত। যেমনটি আমরা আরব ও অনারব বিশ্বের অনেক ভূখণ্ডে দেখতে পাই, যথা— শাম: "সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও ফিলিস্তিন, ইরাক, মিসর এবং মাগরেব ও সুদানের ইহুদি সম্প্রদায়।" ভারত, পারস্য এবং আন্দালুসসহ অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষেত্রেও ইসলামী বিজয় 'অপরের' (অন্য ধর্মাবলম্বীদের) অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং কাউকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করেনি। পক্ষান্তরে, উপদ্বীপের (আইবেরিয়ান) খ্রিস্টান রাজারা যখন বিজয়ী হলো, তারা মুসলিমদের গণহত্যা, তাদের গ্রন্থ ও ঐতিহ্য ভস্মীভূত করা এবং তাদের মসজিদসমূহকে গির্জায় রূপান্তর করার অভিযানে লিপ্ত হলো। এমনকি স্পেনে আন্দালুসের আলেম (علماء), পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতকারক ও অনুলিপিকারকদের সংকলিত, সংগৃহীত ও অনুলিপি করা লক্ষ লক্ষ গ্রন্থের একটিও অবশিষ্ট থাকেনি। আর এসকোরিয়াল লাইব্রেরিতে বর্তমানে যে গ্রন্থগুলো সংরক্ষিত রয়েছে, সেগুলো মূলত মরক্কোর; যা একজন ফরাসি জলদস্যু লুণ্ঠন করেছিল এবং পরবর্তীতে স্প্যানিশরা তা দখল করে এসকোরিয়াল মঠে রেখে দেয়। তবে এরও অধিকাংশ অংশ অগ্নিসংযোগ বা অন্য কোনো উপায়ে বিনষ্ট করা হয়েছে!!

(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولولا الفتح الإسلامي بالأندلس لاستؤصل اليهود الذين كانوا يتعرضون من حين لآخر إلى مصائب وويلات من لدن ملوك شبه الجزيرة قبل الفتح الإسلامي، وقد نالوا في ظل الإسلام من الحقوق والحظوة والمكانة العلمية والاجتماعية والسياسية ما لا ينكره أحد منهم، أما المسلمون فلا يزالون يبادون إلى اليوم، والبوسنة والشيشان مثال على ذلك.
আন্দালুসে যদি ইসলামি বিজয় সংঘটিত না হতো, তবে ইহুদি জাতি সমূলে নির্মূল হয়ে যেত, যারা ইসলামি বিজয়ের পূর্বে এই উপদ্বীপের রাজন্যবর্গের পক্ষ থেকে সময়ে সময়ে নানা বিপদ-আপদ ও চরম লাঞ্ছনার শিকার হতো। অথচ ইসলামের ছায়াতলে তারা এমন অধিকার, প্রতিপত্তি এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা লাভ করেছিল যা তাদের কেউই অস্বীকার করতে পারবে না। পক্ষান্তরে, মুসলিমরা আজ অবধি গণহত্যার শিকার হচ্ছে এবং বসনিয়া ও চেচনিয়া এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن وسطية الإسلام:‌‌ جعل تحيته " السلام "، وعلاقاته مع الآخرين: السلام: {وَإِنْ جَنَحُوا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَهَا} . والبر بكل من لا يحاربنا ولا يخرجنا من ديارنا ولا يظاهر عدوا علينا فالإقساط إليهم واجب: {إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ} ، والوفاء بالعهود: {وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدْتُمْ} {وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا} {وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا} {فَمَا اسْتَقَامُوا لَكُمْ فَاسْتَقِيمُوا لَهُمْ} (1) .

وبما أن الإسلام دين الوسط ومن معاني ذلك العدل: فإن العدل والقسط من أسس الحضارة الإسلامية حتى مع من يشنؤنا: {وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} .

--------------------------------------------

(1) التوبة: 7.
ইসলামের মধ্যপন্থা বা ভারসাম্যের অন্তর্ভুক্ত হলো:‌‌ এর অভিবাদন হিসেবে "সালাম" কে নির্ধারণ করা এবং অন্যদের সাথে সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবেও শান্তিকে রাখা: "আর যদি তারা শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে আপনিও তার দিকে ঝুঁকুন।" এবং যারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না, আমাদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত করে না এবং আমাদের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুকে সাহায্য করে না, তাদের সবার প্রতি সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করা আবশ্যক: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।" এছাড়া অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করা: "তোমরা যখন অঙ্গীকার করো তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো", "এবং যারা তাদের অঙ্গীকার পূর্ণকারী যখন তারা অঙ্গীকার করে", "আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো, নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে", "সুতরাং তারা যতক্ষণ তোমাদের প্রতি (চুক্তিতে) অটল থাকবে, তোমরাও তাদের প্রতি অটল থাকো" (১)।

যেহেতু ইসলাম হলো মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যের দ্বীন এবং এর অন্যতম অর্থ হলো ন্যায়বিচার: তাই ন্যায়বিচার ও ইনসাফ হলো ইসলামি সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি, এমনকি তাদের ক্ষেত্রেও যারা আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে: "কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ন্যায়বিচার না করার ব্যাপারে প্ররোচিত না করে; তোমরা ন্যায়বিচার করো, এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।"

--------------------------------------------

(১) আত-তাওবাহ: ৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
والآيات القرآنية والأحاديث النبوية والتطبيقات العملية كثيرة، وكلها تبين عظمة عدالة هذا الدين الذي ظل قويا بها إلى الآن على رغم ما اعترى هذا الركن من ضعف واضطراب، ذلك أن قاعدة "العدل أساس الملك" هي قاعدة إسلامية يقول تعالى: {وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ} (1) . ولم يقل وإذا حكمتم بين المسلمين فالعدالة شاملة للجميع وقال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} (2) . ويقول ابن القيم:" فإن الشريعة مبناها وأساسها على الحِكَم ومصالح العِباد في المعاش والمعاد، وهي عدل كلها ورحمة كلها وصالح كلها وحكمة كلها، فكل مسألة خرجت عن العدل إلى الجور وعن الرحمة إلى ضدها وعن المصلحة إلى المفسدة وعن الحكمة إلى العبث فليست من الشريعة وإن أدخلت فيها بالتأويل (3) ، ولذلك كان الظلم ظلمات يوم القيامة، وقد حرم الله الظلم على نفسه كما حرمه على الخلق، وأوجب عليهم ألا يتظالموا فيما بينهم، ودعوة المظلوم مستجابة ولو كان هذا المظلوم كافرا إذ ليس

--------------------------------------------

(1) النساء: 58.

(2) النحل: 90.

(3) أعلام الموقعين عن رب العالمين 3 / 3.
কুরআনের আয়াতসমূহ, নববী হাদিস এবং এর ব্যবহারিক প্রয়োগ বহুবিধ; আর এই সবকটিই এই দ্বীনের ন্যায়বিচারের মহিমা প্রকাশ করে, যা আজ অবধি এর মাধ্যমেই শক্তিশালী হয়ে টিকে আছে—যদিও এই স্তম্ভটি কিছুটা দুর্বলতা (ضعف) ও অস্থিরতার সম্মুখীন হয়েছে। কেননা "ন্যায়বিচারই রাজত্বের মূল ভিত্তি"—এটি একটি ইসলামি মূলনীতি। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করবে} (১)। তিনি এ কথা বলেননি যে, 'যখন তোমরা মুসলিমদের মধ্যে বিচার করবে', সুতরাং ন্যায়বিচার সকলের জন্য পরিব্যাপ্ত। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অপছন্দনীয় কাজ (المنكر) ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন; তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো} (২)। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "শরিয়তের ভিত্তি ও মূল হলো ইহকাল ও পরকালে বান্দাদের প্রজ্ঞা ও কল্যাণের ওপর। এটি পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার, পূর্ণাঙ্গ রহমত, পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ এবং পূর্ণাঙ্গ হিকমত। সুতরাং যে কোনো মাসআলা যা ন্যায়বিচার থেকে অবিচারে, রহমত থেকে এর বিপরীতে, কল্যাণ থেকে অকল্যাণে এবং প্রজ্ঞা থেকে নিরর্থকতায় পর্যবসিত হয়, তা শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও তা ব্যাখ্যার মাধ্যমে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক না কেন" (৩)। এ কারণেই কিয়ামতের দিন জুলুম অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে। আল্লাহ তাআলা নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছেন যেমনটি তিনি সৃষ্টির জন্যও হারাম করেছেন এবং তাদের ওপর আবশ্যক করেছেন যেন তারা একে অপরের ওপর জুলুম না করে। মজলুমের দোয়া কবুল করা হয়, এমনকি সেই মজলুম যদি কাফিরও হয়, কারণ যেহেতু নেই

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা: ৫৮।

(২) আন-নাহল: ৯০।

(৩) ই'লামুল মুওয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামিন ৩ / ৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
بينها وبين الله حجاب، وقد عنون ابن خلدون فصلا من فصول مقدمته بقوله: الفصل الثالث والأربعون في أن الظلم مؤذن بخراب العمران (1) . ويقول بعد إيراده حكاية دالة عن خراب الأمم بسبب شيوع الظلم:" فلما كان الظلم كما رأيت مؤذنا بقطع النوع لما أدى إليه من تخريب العمران كان حكمة الخطر فيه موجودة فكان تحريمه مهما، وأدلته من القرآن والسنة كثيرة أكثر مما يأخذها قانون الضبط والحصر (2) .

--------------------------------------------

(1) المقدمة ص353 طبعة دار الفكر بيروت.

(2) انظر كتابه: نظرة في مستقبل البشرية قضايا لا تحتمل الانتظار ص87 ترجمة د. محمود علي مكي الجمعية المصرية لنشر المعرفة والثقافة العالمية 1987م، القاهرة، مصر.
তার মাঝে ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই। ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমার একটি পরিচ্ছেদের শিরোনাম দিয়েছেন এই বলে: "তিয়াল্লিশতম পরিচ্ছেদ: জুলুম বা অবিচার সভ্যতা বিনাশের বার্তাবাহক" (১)। জুলুমের প্রসারের কারণে জাতিসমূহের বিনাশের ওপর নির্দেশক একটি ঘটনা বর্ণনার পর তিনি বলেন: "সুতরাং আপনি যেমন দেখলেন, জুলুম যেহেতু সভ্যতা ধ্বংসের দিকে ধাবিত করার মাধ্যমে মানবজাতিকে বিলুপ্ত করার ইঙ্গিত দেয়, তাই এর মাঝে বিপদের কারণ নিহিত ছিল। ফলে এটি নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর দলিলসমূহ এত অধিক যে, তা কোনো সুশৃঙ্খল সংরক্ষণ (ضبط) ও সীমাবদ্ধকরণের (حصر) নিয়মে নিয়ে আসা সম্ভব নয়" (২)।

--------------------------------------------

(1) আল-মুকাদ্দিমা, পৃষ্ঠা ৩৫৩, দারুল ফিকর সংস্করণ, বৈরুত।

(2) দেখুন তাঁর গ্রন্থ: নাজরাতু ফি মুসতাকবালিল বাশারিয়্যাহ: কাদায়া লা তাহতামিলুল ইনতিজার (মানবজাতির ভবিষ্যতের ওপর এক নজর: যেসব বিষয় অপেক্ষার অবকাশ রাখে না), পৃষ্ঠা ৮৭, অনুবাদ: ড. মাহমুদ আলী মাক্কি, মিশরীয় সমিতি ফর নলেজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড কালচার পাবলিকেশন, ১৯৮৭ খ্রি., কায়রো, মিশর।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وبهذه العدالة استطاعت الحضارة الإسلامية أن تحتفظ للعالم بمجتمع متنوع الثقافات والأديان حتى الثقافات القديمة التي ظلت شاهدة على حضارات بائدة كالحضارة الآشورية والفينيقية والفرعونية وغيرها من الحضارات السابقة على الحضارة الإسلامية، ولا يقاس التقدم الحضاري بالشاقول كما يقول جورج سارطون فيما أظن صاحب كتاب تاريخ العلم، أو كما يقول الأستاذ الدكتور فيديريكو مايور سرقسطة Federico mayor zaragoza الإسباني مدير اليونسكو السابق بمقاييس مادية تتجلى في مجتمع الاستهلاك وإشباع رغباته حتى التخمة والإخلاد إلى الخمول. إن المعيار الجديد للرقي الحقيقي هو الذي يتخذ محوره من القيم الخلقية التي ينبغي أن تتوافر في الإنسان بصفته إنسانا (1) . ولا يقاس الرقي بتقدم المعارف وتطبيقاتها التقنية فقد بلغ هذا التقدم حدا هائلا من التضخم جعله يثقل كواهلنا وينسينا الوعي الجاد بخطورة المشكلات المتولدة عنه، ويتساءل الدكتور فيديريكو سرقسطة: السنا نرى كيف يؤدي التقدم العلمي إلى تدمير الإنسان (2) . ويقتبس من بعض كبار المفكرين الذين درسوا الحضارة الغربية قوله: " ولكن الحقيقة هي أن كل شيء يسير في طريق خاطئ" (3) .

--------------------------------------------

(1) نفسه 356.

(2) نفسه 71.

(3) نفسه 70.
এই ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) মাধ্যমেই ইসলামি সভ্যতা বিশ্বের বুকে এমন এক বহুবিচিত্র সংস্কৃতি ও ধর্মের সমাজকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে, এমনকি সেই প্রাচীন সংস্কৃতিগুলোকেও, যা অ্যাসিরীয়, ফিনিশীয়, ফেরাউনি এবং ইসলামি সভ্যতার পূর্ববর্তী অন্যান্য বিলুপ্ত সভ্যতাগুলোর সাক্ষী হিসেবে টিকে ছিল। সভ্যতার অগ্রগতিকে ওলনদড়ি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না—যেমনটি সম্ভবত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাস গ্রন্থের লেখক জর্জ সার্টন মনে করেন, কিংবা ইউনেস্কোর প্রাক্তন মহাপরিচালক স্প্যানিশ অধ্যাপক ডক্টর ফেদেরিকো মেয়র জারাগোজা Federico mayor zaragoza যেমনটি বলেছেন—ভোক্তাবাদী সমাজ এবং অতিভোজনের মাধ্যমে কামনা-বাসনার পরিতৃপ্তি ও অলসতায় মগ্ন হওয়ার মতো কোনো বস্তুগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে একে পরিমাপ করা চলে না। প্রকৃত উন্নতির নতুন মানদণ্ড হলো নৈতিক মূল্যবোধকে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গ্রহণ করা, যা একজন মানুষের মধ্যে মানুষ হিসেবে বিদ্যমান থাকা বাঞ্ছনীয় (১)। কেবল জ্ঞান এবং এর প্রযুক্তিগত প্রয়োগের অগ্রগতির দ্বারা উন্নতি পরিমাপ করা যায় না। কারণ এই অগ্রগতি এতটাই বিশাল স্ফীতি লাভ করেছে যে, তা আমাদের স্কন্ধে ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর ভয়াবহতা সম্পর্কে আমাদের ঐকান্তিক সচেতনতাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। ডক্টর ফেদেরিকো জারাগোজা প্রশ্ন করেন: "আমরা কি দেখতে পাচ্ছি না যে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি কীভাবে মানুষের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে?" (২)। তিনি পাশ্চাত্য সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করেছেন এমন কতিপয় প্রথিতযশা চিন্তাবিদের উক্তি উদ্ধৃত করেন: "কিন্তু বাস্তবতা হলো সবকিছুই ভুল পথে ধাবিত হচ্ছে" (৩)।

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত, ৩৫৬।

(২) প্রাগুক্ত, ৭১।

(৩) প্রাগুক্ত, ৭০।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
والخلاصة أن الحضارة الغربية في رأي هذا المفكر الكبير الذي يعزز أفكاره بخلاصات كثيرة لأفكار عظماء الغرب قد صنعت مستقبلا بدل أن يسيطر فيه الإنسان على التقدم أصبح عبدا له (1) .

والحقيقة أن كبار المفكرين متشائمون من عاقبة هذه الحضارة. وينقل الدكتور سرقسطة هذا التشاؤم في كتابه النفيس مثل قول السيدة إستيفانا ألدابا بيم التي تتساءل عن مصير القيم الأخلاقية في عالم الاستهلاك السفيه: " عالم اختراعات تدميرية، عالم معقد، عالم نرى فيه جهود العلماء والمخترعين موجهة إلى تدمير حياة الإنسان بدلاً من تمكينه من البقاء (2) . إن ما يقوله سرقسطة قاله من قبل شبجلر "، وقاله كثير من المعاصرين (3) .

--------------------------------------------

(1) نفسه 70.

(2) نفسه75.

(3) نفسه87.
সারকথা হলো, এই মহান চিন্তাবিদের মতে—যিনি পাশ্চাত্যের মনীষীদের চিন্তাধারার বহু নির্যাসের মাধ্যমে নিজের ভাবনাকে সুসংহত করেন—পাশ্চাত্য সভ্যতা এমন এক ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেছে যেখানে মানুষ অগ্রগতির ওপর আধিপত্য বিস্তার করার পরিবর্তে বরং তার দাসে পরিণত হয়েছে (১)।

প্রকৃতপক্ষে বড় বড় চিন্তাবিদগণ এই সভ্যতার পরিণাম সম্পর্কে হতাশাবাদী। ডক্টর জারাগোজা তাঁর মূল্যবান গ্রন্থে এই হতাশার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন; যেমন লেডি এস্তেফানিয়া আলদাবা পিমের উক্তি, যিনি এই নির্বোধ ভোগবাদী বিশ্বে নৈতিক মূল্যবোধের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন: "এটি ধ্বংসাত্মক উদ্ভাবনের এক জগত, এক জটিল জগত; এমন এক জগত যেখানে আমরা দেখি বিজ্ঞানীদের এবং উদ্ভাবকদের সকল প্রচেষ্টা মানুষের জীবনকে সুরক্ষা প্রদানের পরিবর্তে বরং তা বিনাশ করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে (২)। জারাগোজা যা বলেছেন, তা ইতিপূর্বে স্পেংলার বলেছেন এবং অনেক সমসাময়িক (معاصرون) ব্যক্তিও তা বলেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত ৭০।

(২) প্রাগুক্ত ৭৫।

(৩) প্রাগুক্ত ৮৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
إن المجتمع المتقدم يتسم بصفات نبيلة كثيرة يخلو منها مجتمع الاستهلاك (1) ويرى أن اختلاف الثقافات هو التعبير الصادق عن الإنسان المبدع. . . الإنسان الحكيم (2) والعلم الذي يُشقي والتقدم الاستهلاكي الذي يؤخر هو ما عناه الرسول صلى الله عليه وسلم بعلم لا ينفع وبطن لا يشبع، وما قاله القرآن الكريم: {وَعْدَ اللَّهِ لَا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} {يَعْلَمُونَ ظَاهِرًا مِنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ} {أَوَلَمْ يَتَفَكَّرُوا فِي أَنْفُسِهِمْ مَا خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَجَلٍ مُسَمًّى وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ بِلِقَاءِ رَبِّهِمْ لَكَافِرُونَ} {أَوَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَأَثَارُوا الْأَرْضَ وَعَمَرُوهَا أَكْثَرَ مِمَّا عَمَرُوهَا وَجَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ} (3) .

--------------------------------------------

(1) انظر مثلا «الصراع على القمة» ، ص 195، وغيرها تأليف كستير ثارو ترجمة أحمد فؤاد بليغ - عالم المعرفة 204.

(2) نفسه89.

(3) الروم: 6- 9.
একটি উন্নত সমাজ এমন অনেক মহৎ বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত যা ভোগবাদী সমাজে (১) অনুপস্থিত। এটি মনে করে যে, সংস্কৃতির বৈচিত্র্যই হলো সৃজনশীল মানুষ... তথা প্রজ্ঞাবান মানুষের (২) সার্থক বহিঃপ্রকাশ। যে জ্ঞান মানুষের দুর্দশা বৃদ্ধি করে এবং যে ভোগবাদী অগ্রগতি সমাজকে পিছিয়ে দেয়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটিকে সেই জ্ঞান দ্বারা বুঝিয়েছেন যা কোনো উপকারে আসে না এবং সেই উদর যা কখনো তৃপ্ত হয় না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা যা ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহর প্রতিশ্রুতি; আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় ঘটান না, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।} {তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিকটিই কেবল জানে এবং তারা পরকাল সম্পর্কে একেবারেই গাফেল।} {তারা কি নিজেদের মনে চিন্তা করে দেখে না যে, আল্লাহ আসমানসমূহ, জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা যথাযথভাবে এবং এক নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্যই সৃষ্টি করেছেন? অথচ মানুষের মধ্যে অনেকেই তাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করে।} {তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? তবে তারা দেখতে পেত যে, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল। তারা তাদের চেয়ে শক্তিতে প্রবল ছিল, তারা জমিন চষেছিল এবং তারা যা আবাদ করেছিল তার চেয়েও বেশি আবাদ করেছিল। তাদের কাছে তাদের রাসুলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছিলেন। সুতরাং আল্লাহ তাদের ওপর জুলুম করার ছিলেন না, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল।} (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন উদাহরণস্বরূপ: ‘আস-সিরা আলাল ক্বিম্মাহ’, পৃষ্ঠা ১৯৫ এবং অন্যান্য, লেস্টার থারু বিরচিত, অনুবাদ: আহমদ ফুয়াদ বালিগ - আলাম আল-মা'রিফা ২০৪।

(২) ঐ, পৃষ্ঠা ৮৯।

(৩) আর-রুম: ৬-৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
و‌‌ربط العلم والتقنية بالقيم الخلقية هو الجوهر الأساس لوسطية الإسلام بعد توحيد الله والإيمان بالغيب، ويطلق على هذه القيم: الأخلاق والأدب وتزكية النفس، لذلك نرى اهتمام الحضارة الإسلامية بالجانب السلوكي والتربوي للرفع من مستوى الإنسان المسلم في جميع مناحي حياته وتصرفاته، فالأدب كما يقول ابن القيم:" هو الدين كله " (1) ويقول عكرمة مولى عبد الله ابن عباس: " لكل شيء أساس، وأساس الإسلام الخلق الحسن" (2) . وحقيقة الأدب اجتماع خصال الخير، ولذلك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أدبني ربي فأحسن تأديبي» . وقال له ربه: {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} . وما بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا ليتمم مكارم الأخلاق كما جاء في الحديث الشريف. والأدب يكون أولا مع الله ومع رسول الله صلى الله عليه وسلم ومع الخلق: بشرا وحيوانا ونباتا وجمادا، لذلك فإن وسطية الإسلام تبرز بشكل قوي في هذه الشبكة العظيمة للأخلاق والآداب التي تحيط بالإنسان في جميع أحواله وعلى جميع مقاماته ومستوياته ومختلف مسؤولياته، كما أحاطت الإنسان المسلم بأدعية وأذكار وكلها مرتبط بإصلاح الباطن. ومضمون تلك القيم يجعل المسلم

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين 384 / 2.

(2) مشكلة الثقافة ص 81 للأستاذ مالك بن نبي - دار الفكر المعاصر - بيروت- دار الفكر - دمشق- ط4- سنة 1420هـ / 2000م.
এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে নৈতিক মূল্যবোধের সাথে সম্পৃক্ত করা হলো আল্লাহর তাওহীদ এবং অদৃশ্যের প্রতি ঈমানের পর ইসলামের মধ্যপন্থার (وسطية) মূল নির্যাস। এই মূল্যবোধগুলোকে চরিত্র, শিষ্টাচার (أدب) এবং আত্মশুদ্ধি (تزكية النفس) হিসেবে অভিহিত করা হয়। এজন্যই আমরা দেখতে পাই যে, একজন মুসলিমের জীবন ও আচরণের সকল ক্ষেত্রে তার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ইসলামী সভ্যতা আচরণগত ও শিক্ষাগত দিকের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে। শিষ্টাচার (أدب) সম্পর্কে ইবনুল কায়্যিম যেমনটি বলেন: "তা হলো পূর্ণ দ্বীন" (১)। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ বলেন: "প্রত্যেকটি জিনিসের একটি ভিত্তি রয়েছে, আর ইসলামের ভিত্তি হলো উত্তম চরিত্র" (২)। শিষ্টাচারের (أدب) হাকিকত বা বাস্তবতা হলো সকল কল্যাণকর গুণের সমষ্টি, একারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার রব আমাকে শিষ্টাচার (أدب) শিখিয়েছেন এবং তিনি আমাকে সর্বোত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন।" তাঁর রব তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেবল সচ্চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই প্রেরণ করা হয়েছে, যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে। শিষ্টাচার (أدب) প্রথমত আল্লাহর সাথে, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এবং সৃষ্টিজীব তথা মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও জড় পদার্থের সাথে হওয়া বাঞ্ছনীয়। একারণেই ইসলামের মধ্যপন্থা (وسطية) চরিত্র ও শিষ্টাচারের (أدب) এই সুবিশাল জালবিন্যাসে অত্যন্ত জোরালোভাবে ফুটে ওঠে, যা মানুষকে তার জীবনের সকল অবস্থায়, স্তরে, মর্যাদায় এবং বিভিন্ন দায়িত্বের ক্ষেত্রে বেষ্টন করে রাখে। একইভাবে এটি একজন মুসলিমকে বিভিন্ন দুয়া ও জিকিরের মাধ্যমেও পরিবেষ্টিত করে রাখে, যার সবটুকুই অভ্যন্তরীণ সংশোধনের সাথে সম্পৃক্ত। আর এই মূল্যবোধগুলোর মর্মার্থ একজন মুসলিমকে গড়ে তোলে...

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকিন ২ / ৩৮৪।

(২) মুশকিলাতুল সাকাফাহ, পৃষ্ঠা ৮১, প্রফেসর মালিক বিন নবী - দারুল ফিকর আল-মুয়াসির - বৈরুত - দারুল ফিকর - দামেস্ক - ৪র্থ প্রকাশ - ১৪২০ হিজরি / ২০০০ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
متوازنا في حياته نافعا لمجتمعه بل للإنسانية جمعاء، وما يحيط بها من البيئة. وتجعله عنصر إسعاد لنفسه ولغيره. ولنأخذ مثلا لذلك التعامل مع الجار ومواجهة الجهل والجاهل، وحق الطريق، وحق المنابع المائية، وحق المرافق الاجتماعية، وحق الحيوان، وحقوق الوالدين وأصدقائهما، وحق المسلم على المسلم في شتى الأحوال والعلاقات، وحق الرحم ولو كانت كافرة، وحق المواطنين غير المسلمين، بل حق نفسه على نفسه، وحق أهله وأولاده. . . وهناك النوافل المختلفة وفروض الكفاية تجعل من المسلم العضو الصالح والنافع والمسهم بحيوية في تغذية المجتمع بثقافة الخير والمحبة والسلام، وهذه الثقافة تمتاز ما دامت تستمد تعاليمها من منابعها الصافية بالتماسك الداخلي وبالشمول والحيوية والبناء المطرد كالشجرة المباركة.

(এটি মানুষকে) তার জীবনে ভারসাম্যপূর্ণ, তার সমাজের জন্য বরং সমগ্র মানবতার জন্য এবং তার পরিপার্শ্বিক পরিবেশের জন্য কল্যাণকর করে তোলে। আর এটি তাকে নিজের ও অন্যের জন্য সুখের উপাদানে পরিণত করে। উদাহরণস্বরূপ আমরা প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার, মূর্খতা ও মূর্খের মোকাবিলা করা, রাস্তার হক, পানির উৎসের হক, সামাজিক সুযোগ-সুবিধার হক, পশুর হক, পিতা-মাতা ও তাঁদের বন্ধুদের হক, বিভিন্ন অবস্থা ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানের হক, আত্মীয়তার সম্পর্কের হক (صلة الرحم)—তা কাফির হলেও—অমুসলিম নাগরিকদের হক, বরং নিজের ওপর নিজের হক এবং পরিবার ও সন্তানদের হকের কথা উল্লেখ করতে পারি। এছাড়া বিভিন্ন নফল ইবাদত (نوافل) এবং ফরজে কিফায়া (فروض الكفاية) একজন মুসলমানকে একজন সৎ ও কল্যাণকর সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে, যে সমাজকে কল্যাণ, ভালোবাসা ও শান্তির সংস্কৃতি দিয়ে সঞ্জীবিত করতে প্রাণবন্ত অবদান রাখে। আর এই সংস্কৃতি—যতক্ষণ পর্যন্ত তা তার বিশুদ্ধ উৎসসমূহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে—অভ্যন্তরীণ সংহতি, ব্যাপকতা, প্রাণচাঞ্চল্য এবং এক বরকতময় বৃক্ষের ন্যায় ক্রমাগত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়।

(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أما الأدعية والأذكار المشروعة فهي دائما تزكي تلك القيم الروحية والخلقية، وترسخ الجوانب الجميلة والصالحة في تربية الإنسان المسلم من لدن استيقاظه إلى ذهابه إلى النوم لتجعله أثناء ذلك وبعد ذلك عضوا سليما وصحيحا وفعالا من خير أمة أخرجت للناس، ومن أمة الوسط يتمثل فيه الخير والحب والرفق والنفع للدوائر المسؤول عنها كلها. وهكذا يحاط المسلم بكل ما يجعله يمثل حقا إنسان الرسالة السماوية الخالدة.

إن أمة الوسط هي أمة الأخلاق ولكن أي أخلاق، إنها أخلاق حضارية شاملة يعم إشعاعها الداخل والخارج، فهي لا تعرف عنصرية ولا تحيزا، ولا الكيل بمكياليْن أو مكاييل كما وقع في الحضارات البائدة وفي مجتمعات عنصرية معاصرة مثل جنوب إفريقيا، وكما هو واقع الآن في جل المجتمعات الغربية التي فضحتها ممارسات غير أخلاقية غلبت التطبع الذي كان واجهة لا تعبر عن حقيقة ما وراءها. وقد شهدت أخلاق القوم هناك تراجعا وتدهورا تجاه الآخرين ولا سيما المسلمون.

শরীয়তসম্মত দুয়া ও জিকিরসমূহ সর্বদাই সেই আত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধগুলোকে পরিশুদ্ধ করে এবং একজন মুসলিমের লালন-পালনের ক্ষেত্রে তার জাগ্রত হওয়া থেকে শুরু করে ঘুমানো পর্যন্ত সুন্দর ও নেক দিকগুলোকে সুদৃঢ় করে; যেন তা তাকে মানুষের কল্যাণে উত্থিত শ্রেষ্ঠ উম্মত এবং মধ্যপন্থী (الوسط) উম্মতের এক সুস্থ, সঠিক (صحيح) ও সক্রিয় সদস্যে পরিণত করে, যার মধ্যে তার সকল দায়িত্বশীলতার ক্ষেত্রে কল্যাণ, ভালোবাসা, কোমলতা ও উপকারিতা প্রতিফলিত হয়। এভাবেই একজন মুসলিম এমন সব বিষয় দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকেন, যা তাকে প্রকৃতপক্ষেই শাশ্বত আসমানী রিসালাতের এক সার্থক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

নিশ্চয়ই মধ্যপন্থী (الوسط) উম্মত হলো নৈতিকতার উম্মত; কিন্তু তা কোন ধরনের নৈতিকতা? তা হলো এক ব্যাপক সভ্যতাগত নৈতিকতা, যার আলোকচ্ছটা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সর্বক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত। এটি কোনো বর্ণবাদ বা পক্ষপাতিত্ব চেনে না এবং দ্বিমুখী নীতি বা দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করে না; যেমনটি ঘটেছিল বিলুপ্ত সভ্যতাগুলোতে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো সমসাময়িক বর্ণবাদী সমাজগুলোতে। আর যেমনটি বর্তমানে অধিকাংশ পশ্চিমা সমাজে পরিলক্ষিত হচ্ছে, যাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড তাদের মেকি অভ্যস্ততাকে উন্মোচিত করে দিয়েছে, যা ছিল কেবলই একটি বহিরাবরণ এবং তার অন্তরালের প্রকৃত সত্যকে প্রকাশ করত না। সেখানে সেই জাতিগুলোর নৈতিকতা অন্যদের প্রতি, বিশেষ করে মুসলিমদের প্রতি চরম পশ্চাৎপদতা ও অবনতির সাক্ষী হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ثم إن للأخلاق الإسلامية حداً متى جاوزت صارت عدوانا، وما قصرت عنه كان نقصا ومهانة.

وضابط ذلك كله العدل كما يقول ابن القيم وغيره، فأعدل الناس من قام بحدود الأخلاق والأعمال والمشروعات معرفة وفعلا (1) .

إن الأخلاق الإسلامية تنشأ مع العقيدة وتسري في العبادات وتتفاعل مع المعاملات، فهي الثمار الجميلة والمفيدة والمطلوبة والمرغوب فيها من الإنسان على اختلاف مشاربه وملله ونحله، وهي أساسا تبدأ بشد الأفراد في المجتمع برباط متين.

--------------------------------------------

(1) صفة الصفوة 2 / 61.
অতঃপর ইসলামি আখলাকের একটি সীমা রয়েছে; যখনই তা অতিক্রম করা হয় তা সীমালঙ্ঘনে পরিণত হয়, আর যখন তা থেকে সংকুচিত করা হয় তা ত্রুটি ও অবমাননায় রূপ নেয়।

আর এই সবকিছুর মানদণ্ড হলো ন্যায়বিচার (العدل), যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম ও অন্যান্যরা বলেছেন। সুতরাং মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি তিনিই, যিনি জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে আখলাক, আমল এবং শরিয়ত নির্দেশিত বিষয়সমূহের সীমানা রক্ষা করেন (১)।

নিশ্চয়ই ইসলামি আখলাক আকিদার সাথে জন্মলাভ করে, ইবাদতের মধ্যে সঞ্চারিত হয় এবং মুয়ামালাতের সাথে সমন্বিত হয়। এটি মানুষের বিবিধ রুচি, ধর্ম ও মতাদর্শের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তাদের নিকট থেকে প্রাপ্ত অত্যন্ত সুন্দর, উপকারী, কাঙ্ক্ষিত ও পছন্দনীয় ফল। এটি মূলত সমাজের ব্যক্তিবর্গকে একটি সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে।

--------------------------------------------

(১) সিফাতুস সাফওয়াহ ২ / ৬১।
(খণ্ড: ১) আল-ইসলামু দীনুল ওয়াসাতিয়্যাতি ওয়াল ফাদায়িলি ওয়াল কিয়ামিল খালিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
يقول مصطفى صادق الرافعي: " وما الإسلام في حقيقته إلا مجموعة أخلاق قوية ترمي إلى شد المجموع من كل جهة" (1) . ويقول: إنها تضبط الضمير المسلم ضبطا ينعكس انضباطا في الحياة، ويتجاوب مع ما يسن من تشريعات وقوانين عادلة، ذلك الضبط الذي يعبر عنه القرآن بالتقوى. ويقول: إن من خصائص هذا الدين الأخلاقي أنه صُلب فيما لا بد منه للنفس الإنسانية إذا أرادت الكمال الإنساني، ولكنه مرن فيما لا بد منه لأحوال أزمنة مختلفة مما لا يأتي على أصول الأخلاق الكريمة (2) . ومن تلك التقوى والانضباط الروحي والنفسي والعقلي ينشأ الاعتصام بأمر الله جميعا كما نص القرآن الكريم محذرا في الوقت نفسه من التفرق والتنازع والتناحر يقول تعالى: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} (3) .

--------------------------------------------

(1) الفوائد لابن القيم ص 140، 141.

(2) وحي القلم3 / 201.

(3) آل عمران: 103.
মোস্তফা সাদিক আল-রাফেয়ী বলেন: "ইসলাম তার প্রকৃত সত্তায় শক্তিশালী নৈতিকতার এক সমষ্টি মাত্র, যা প্রতিটি দিক থেকে সমাজকে সুসংহত করতে চায়" (১)। তিনি আরও বলেন: এটি মুসলিমের বিবেককে এমন এক শৃঙ্খলায় আবদ্ধ করে যার প্রতিফলন জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা হিসেবে প্রকাশ পায় এবং তা প্রণীত ন্যায়সংগত বিধান ও আইনের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে; এই নিয়ন্ত্রণ বা শৃঙ্খলাকেই কুরআন 'তাকওয়া' হিসেবে অভিহিত করেছে। তিনি আরও বলেন: এই নৈতিক ধর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, মানবাত্মার মানবিক পূর্ণতা অর্জনের জন্য যা একান্ত অপরিহার্য, তার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত দৃঢ় বা আপসহীন, কিন্তু বিভিন্ন যুগের পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদির ক্ষেত্রে এটি নমনীয়, যা মহান নৈতিকতার মূলনীতিসমূহকে ক্ষুণ্ণ করে না (২)। আর সেই তাকওয়া এবং আধ্যাত্মিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শৃঙ্খলা থেকেই সমবেতভাবে আল্লাহর বিধানকে আঁকড়ে ধরার চেতনা জাগ্রত হয়, যেমনটি পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। একই সাথে এটি বিচ্ছিন্নতা, বিবাদ ও হানাহানি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করলেন এবং তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা আগুনের গর্তের কিনারায় ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করেছেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও} (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাওয়াইদ লিবনিল কায়্যিম, পৃষ্ঠা ১৪০, ১৪১।

(২) ওয়াহয়ুল ক্বালাম ৩ / ২০১।

(৩) আলে ইমরান: ১০৩।