(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: -)
دعايات مكثفة ضد الشيخ محمد بن عبد الوهاب   (محمد منظور النعماني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: دعايات مكثفة ضد الشيخ محمد بن عبد الوهاب

المؤلف: محمد منظور النعماني

الناشر: مكتبة الفرقان

الطبعة: لكهنئو - الهند - 1400 هـ- 1980م

عدد الصفحات: 149

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার   (মুহাম্মাদ মানযুর নোমানী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


কিতাব: শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার

লেখক: মুহাম্মাদ মানযুর নোমানী

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ফুরকান

সংস্করণ: লখনউ - ভারত - ১৪০০ হিজরী - ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৯

[কিতাবের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، سيدنا ومولانا محمد، الذي جاء بالدين الوسط المبين، وعلى آله وصحبه الطيبين الطاهرين، وعلى من تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد، فان قصة هذا الكتاب ترجع إلى مآسي مؤلمة ومهازل مخزية ومبكية سيجد القراء الكرام تفاصيلها في طي الكتاب، إنها كشف لمؤامرة دقيقة نسجت في غاية من اللباقة والمهارة على يد أعداء الدين، أعداء الله ورسوله، ودعايات خبيثة كاذبة نالت كل نصيبها من الذيوع والانتشار، على يد أعداء العقول والأفهام، من سذج من يدعون أنفسهم مسلمين، وأثرت تأثيرها المطلوب في قلوب المخلصين أيضاً فضلا عن غير المخلصين، ضد حركة عملاقة برزت في جزء من أجزاء أرض الدعوة الإسلامية الأولى: نجد، على يد مؤسسها وقائدها
ভূমিকা

…

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার, আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ওপর, যিনি সুস্পষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ দীন নিয়ে এসেছেন; আরও বর্ষিত হোক তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর।

অত:পর, এই কিতাবটির প্রেক্ষাপট মূলত কিছু যন্ত্রণাদায়ক ট্র্যাজেডি এবং লজ্জাজনক ও বেদনাদায়ক প্রহসনের দিকে ফিরে যায়, যার বিস্তারিত বিবরণ সম্মানিত পাঠকগণ এই বইটির ভেতরে পাবেন। এটি মূলত এমন এক সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্রের উন্মোচন, যা অত্যন্ত চতুরতা ও দক্ষতার সাথে দ্বীনের শত্রু তথা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শত্রুদের হাতে বোনা হয়েছে। এটি ছিল এমন কিছু নিকৃষ্ট ও মিথ্যা অপপ্রচারের ফলাফল যা বিবেক ও বুদ্ধিবৃত্তির শত্রুদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার ও প্রসার লাভ করেছিল। যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে এমন কিছু নির্বোধের মাধ্যমেও তা ছড়িয়েছিল এবং তা অ-মুখলিসদের পাশাপাশি মুখলিস বা একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের হৃদয়েও তার কাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলেছিল। এই সবকিছুই ছিল একটি বিশাল আন্দোলনের বিরুদ্ধে, যা ইসলামের প্রাথমিক দাওয়াতের ভূখণ্ডের অন্যতম অংশ 'নজদ' থেকে তার প্রতিষ্ঠাতা ও নেতার হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৪)
العظيم الشيخ محمد بن عبد الوهاب النجدي، تهدف إلى الدعوة إلى التوحيد الخالص التقي، والتمسك بما ثبت بالكتاب والسنة، وإفراد الله بالعبودية والعبادة، والعقيدة الابراهيمية الصافية البيضاء، ورفض السلطان الكاذب الذي خلعه الجهال والسفهاء ممن ينتمون إلى الإسلام على الأولياء والصالحين، والحرب على الخرافات والأوهام، والبدع والأباطيل التي ما أنزل الله بها من سلطان، ولا دعا إليها رسوله العظيم، وليس لها قيمة حبة خردل في الميزان، من عبادة القبور، والعكوف على الأضرحة، والتبرك والاستعانة بها، واللجوء إليها، والنذر والذبح لها، وتقديم القرابين إليها، والطواف حولها، والتأدب معها، وما إلى ذلك.. وأول من تولوا كبر هذه الدعايات السوداء هم المستعمرون، وعلى رأسهم الإنجليز، وجعلوا الخرافيين في كل مكان أبواقاً لهم وطبولا، وقد اعتاد الإنجليز أن يطلقوا على كل حركة إصلاحية تسند إلى الكتاب والسنة، وتنبع من أصل التوحيد الخالص، كلمة " الوهابية " وأن يصفوا القائمين عليها بالوهابيين، والمؤسف جداً أن الكلمة قد اكتنفتها بفعل الدعايات الهائلة أوضاع خاصة ومفاهيم مدلسة _ بفتح اللام_ مما جعله " سباباً " أو كلمة عار يعير بها أولو العقيدة الصحيحة..

মহান শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আন-নাজদী; যার উদ্দেশ্য হলো বিশুদ্ধ ও তাকওয়াভিত্তিক তাওহীদের দিকে দাওয়াত দেওয়া, কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা যা প্রমাণিত তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা, বন্দেগি ও ইবাদতে আল্লাহকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা এবং স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল ইবরাহিমী আকিদা অনুসরণ করা। সেই সাথে সেই মিথ্যা কর্তৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করা, যা ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত কতিপয় মূর্খ ও নির্বোধ লোক ওলী ও নেককার বান্দাদের ওপর আরোপ করেছে। আর সেই সমস্ত কুসংস্কার, অলীক কল্পনা, বিদআত ও বাতিলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা, যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং তাঁর মহান রাসূলও সেদিকে আহ্বান করেননি, আর মিজানের পাল্লায় যেগুলোর ওজন একটি সরিষার দানা পরিমাণও নয়। যেমন: কবর পূজা করা, মাজারগুলোতে অবস্থান করা, সেগুলোর মাধ্যমে বরকত গ্রহণ ও সাহায্য প্রার্থনা করা, সেগুলোর শরণাপন্ন হওয়া, সেগুলোর নামে মানত করা ও জবেহ করা, নজরানা পেশ করা, সেগুলোর চারপাশে তাওয়াফ করা, সেগুলোর প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শন করা ইত্যাদি। এই কালো অপপ্রচারের মূল হোতা ছিল সাম্রাজ্যবাদীরা, যাদের শীর্ষে ছিল ইংরেজরা। তারা সব জায়গার কুসংস্কারাচ্ছন্ন ব্যক্তিদের নিজেদের মুখপাত্র ও ঢোল হিসেবে ব্যবহার করেছে। ইংরেজদের অভ্যাস ছিল যে, কিতাব ও সুন্নাহর ওপর নির্ভরশীল এবং বিশুদ্ধ তাওহীদের উৎস থেকে উদ্ভূত প্রতিটি সংস্কারমূলক আন্দোলনকে তারা "ওয়াহাবীবাদ" শব্দ দ্বারা অভিহিত করত এবং এর সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের "ওয়াহাবী" বলে আখ্যায়িত করত। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, ব্যাপক অপপ্রচারের কারণে এই শব্দটি বিশেষ কিছু পরিস্থিতি ও বিভ্রান্তিকর ধারণার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে, যা একে একটি "গালি" বা কলঙ্কজনক শব্দে পরিণত করেছে, যার মাধ্যমে সঠিক আকিদাহর অধিকারীদের দোষারোপ করা হয়।

(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৫)
وقد تأثر بهذه الدعاية الكاذبة، قطاع عريض من المخلصين المؤمنين، والعلماء الصاحين، الذين لا ترتقي إلهيم شبهة، فقالوا في كتبهم ومولفاتهم – في ضوء معلوماتهم التي ظنوها حقيقة بفعل كثرة التناقل والترداد، ولا يكلف الله نفساً إلا وسعها – في شأن الشيخ النجدي، ودعوته حركته واتباعه مالا يتفق والواقع، ولكن معظمهم تراجعوا عن رأيهم لما علموا أن الصدق والحق في خلاف ما بلغهم، ولكن بعضهم لم تتوفر لهم فرصة الاطلاع على الحقيقة، كما أن الذين تغيروا عن آرائهم الأولى لا تزال تحمل بعض كتاباتهم بعض ما يحتاج إلى البيان والكشف، مما استغله في يومنا هذا بعض الناس في تقليل شأنهم والحط من مكانهم – وبالتالي من الذين ينتمون إليهم في العلم والفكر والمنهج العلمي ولا سيما في شبه القارة الهندية – وفي أعين أتباع الشيخ النجدي في العالم العربي، لإرضاء مطامع وأغراض تافهة، أو تضخيم شخصيتهم، أو رفع قيمة العمل الذي يقومون به في مجال من مجالات الدعوة الاسلامية، فرأوا أن قيمته سوف لا تتأكد في أذهان الناس مالم تترسخ في قلوبهم تفاهة أولئك المخلصين وضآلتهم وخرافيتهم … وما إلى ذلك من الأغراض الخسيسة التي لا يقبل عليها المؤمن المخلص الذي يخاف مقام ربه وينهى نفسه عن الهوى.
এই মিথ্যা প্রচারণার দ্বারা এক বিশাল সংখ্যক নিষ্ঠাবান মুমিন এবং সচেতন আলেম প্রভাবিত হয়েছেন, যাদের সম্পর্কে কোনো সংশয় পোষণ করা যায় না। তারা তাদের কিতাব ও রচনাবলীতে—সেই তথ্যের আলোকে যা তারা ক্রমাগত বর্ণনা ও পুনরাবৃত্তির কারণে ধ্রুব সত্য বলে মনে করেছিলেন, আর আল্লাহ কোনো আত্মার ওপর তার সাধ্যের অতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না—নজদী শাইখ, তাঁর দাওয়াত, তাঁর আন্দোলন এবং তাঁর অনুসারীদের সম্পর্কে এমন কিছু কথা বলেছেন যা বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। তবে তাদের অধিকাংশই তাদের পূর্বের মতামত থেকে ফিরে এসেছেন যখন তারা জানতে পেরেছেন যে সত্য ও সঠিক বিষয়টি তাদের নিকট যা পৌঁছেছিল তার বিপরীত। কিন্তু তাদের মধ্য হতে কিছু ব্যক্তি সত্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ পাননি। আবার যারা তাদের প্রাথমিক মতামত পরিবর্তন করেছেন, তাদের কোনো কোনো লেখায় এখনও এমন কিছু বিষয় রয়ে গেছে যা স্পষ্টিকরণ ও উন্মোচনের দাবি রাখে। বর্তমান যুগে কিছু মানুষ এই সুযোগটি গ্রহণ করে তাদের মর্যাদা হ্রাস করতে এবং তাদের অবস্থানকে খাটো করতে লিপ্ত হয়েছে—এবং ফলস্বরূপ যারা জ্ঞান, চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক মানহাজের ক্ষেত্রে তাদের সাথে সম্পৃক্ত (বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে)—যাতে আরব বিশ্বের নজদী শাইখের অনুসারীদের চোখে তাদের হেয় করা যায়। এসব করা হচ্ছে তুচ্ছ লালসা ও হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য, অথবা নিজেদের ব্যক্তিত্বকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোর জন্য, কিংবা ইসলামী দাওয়াতের কোনো একটি ক্ষেত্রে তারা যে কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন তার গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য। তারা মনে করে যে, মানুষের মনে তাদের কাজের গুরুত্ব ততক্ষণ প্রতিষ্ঠিত হবে না যতক্ষণ না মানুষের হৃদয়ে সেই নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদের তুচ্ছতা, হীনতা ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন হওয়ার ধারণা বদ্ধমূল করে দেওয়া যায় ... এবং এ জাতীয় অন্যান্য হীন উদ্দেশ্য, যা এমন কোনো নিষ্ঠাবান মুমিন গ্রহণ করতে পারে না যে তার রবের সামনে দাঁড়ানোর ভয় রাখে এবং নিজের নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত রাখে।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৬)
فمست الحاجة إلى إجلاء الغبار عن الحقيقة، ووضع الأمور في نصابها، ليحق الحق وبيطل الباطل، إن الباطل كان زهوقاً … وسيرى القراء الكرام من خلال دراستهم لهذا البحث القيم، كيف أن الدعاية الكاذبة اللبقة، والمؤامراة الماكرة المبيتة تفعلان فعليهما، وتقلبان الميزان، وتبدلان المقياس، في قلوب الناس، على اختلاف طبقاتهم ومسالكهم ومناهجهم في العمل والعقيدة والحياء … وقد جربنا ذلك في زمن جمال عبد الناصر، كما رأيناه بالأمس في أيام " بوتو" الرئيس الباكستاني، فأتاه الله من حيث لم يحتسب، إنه لا يفلح الظالمون …

وقد قام بهذا الواجب العظيم – الذي كان أمانة في أعناق رجال العلم والقلم، ولا سيما في شبه القارة الهندية – فضيلة الشيخ محمد منظور النعماني منشئ مجلة "الفرقان " الشهرية الصادرة من لكنؤ، وأحد علماء الهند الأفذاذ الذين يعتبرون – بحق – من أعلام الفكر الإسلامي الصحيح، فجزاه الله خير ما يجزي عباده الصالحين، وأمتع الإسلام والمسلمين بطول حياته، ودوام صحته.. فجاء بما يقنع العقول، ويشرح الصدور، ويكشف الغمم، ويقضي على الشبهات … والحمد لله الذي بعونه تتم الصالحات.

7/ 2/ 1400هـ نور عالم الأمبنى الندوي

27/ 12/ 1979م دار العلوم ندوة العلماء لكنؤ الهند
সত্য থেকে ধুলোবালি পরিষ্কার করার এবং বিষয়গুলোকে তাদের সঠিক স্থানে স্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে, যাতে সত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়; নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয় … সম্মানিত পাঠকবৃন্দ এই মূল্যবান গবেষণাটি অধ্যয়নের মাধ্যমে দেখতে পাবেন যে, কীভাবে বাকপটু মিথ্যা প্রচারণা এবং সুপরিকল্পিত ধূর্ত ষড়যন্ত্র তাদের ক্রিয়া সম্পন্ন করে, পাল্লা উল্টে দেয় এবং মানুষের অন্তরে পরিমাপের মানদণ্ড পরিবর্তন করে দেয়—তাদের বিভিন্ন স্তর, পথ এবং কর্ম, আকিদা ও লজ্জাশীলতার পদ্ধতি নির্বিশেষে … আমরা জামাল আবদুন নাসেরের যুগে এর অভিজ্ঞতা লাভ করেছি, যেমনটি আমরা নিকট অতীতে পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট "ভুট্টো"র দিনগুলোতে দেখেছি। অতঃপর আল্লাহ তাকে এমন দিক থেকে পাকড়াও করলেন যা সে কল্পনাও করেনি; নিশ্চয়ই জালিমরা সফল হয় না …

এই মহান দায়িত্বটি—যা জ্ঞান ও কলম যোদ্ধাদের, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের আলিমদের স্কন্ধে একটি আমানত ছিল—তা পালন করেছেন লখনউ থেকে প্রকাশিত মাসিক "আল-ফুরকান" পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতের সেই অনন্য প্রতিভাবান আলিমদের একজন যাঁকে যথার্থই বিশুদ্ধ ইসলামী চিন্তাধারার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, ফজিলতুত শায়খ মুহাম্মদ মনজুর নোমানী। আল্লাহ তাঁকে তাঁর নেক বান্দাদের জন্য নির্ধারিত সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর দীর্ঘ জীবন ও নিরবচ্ছিন্ন সুস্বাস্থ্যের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করুন। তিনি এমন কিছু উপস্থাপন করেছেন যা বুদ্ধিবৃত্তিকে আশ্বস্ত করে, অন্তরকে প্রশস্ত করে, অন্ধকারের মেঘ উন্মোচন করে এবং সংশয়সমূহকে সমূলে বিনাশ করে … সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর সাহায্যে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।

৭/ ২/ ১৪০০ হিজরি নূর আলম আমিনী নদভী

২৭/ ১২/ ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা লখনউ ভারত
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৭)
ترجمة المؤلف في سطور

فضيلة الشيخ محمد منظور النعماني في طليعة العلماء البارزين، والدعاة المخلصين، والكتاب النابغين الاسلاميين، يحتل مكانة مرموقة بين الشخصيات الاسلامية الممتازة في شبه القارة الهندية، ويسجل اسمه في قائمة العاملين لوجه الله في حقل الدعوة الاسلامية على الصعيد العالمي.

ولد فضيلته عام 1323هـ بسنبهل (قرية جامعة في مديرية مرادآباد، في ولاية أتربراديش بالهند) في أسرة دينية عريقة، ونشأ على حب الاطلاع والعكوف على العلم، وكانت بوادر الذكاء تلوح على جبينه منذ نعومة أظفاره، تلقى العلوم الابتدائية في مدرسة عبد الرب بدلهي، ودار العلوم بمؤ، في مديرية أعظم جراه، في ولاية أترا براديش، ثم ارتحل إلى " ديوبند " والتحق بجامعتها العظيمة، وارتوى من منهلها العلمي العذب، واستفاد من الأساتذة النابغين، ومن بينهم الشيخ العلامة محمد أنور شاء الكشميري إمام عصره في الحديث (1) وتخرج فيها عام

--------------------------------------------

(1) هو العلامة المحدث أنور شاه بن معظم شاه الحنفي الكشميري، أحد كبار =
লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী

শায়খ মুহাম্মদ মনজুর নুমানী বরেণ্য আলেম, একনিষ্ঠ দাঈ এবং প্রতিভাধর ইসলামী লেখকদের অগ্রভাগে অবস্থান করছেন। ভারতীয় উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্বদের মাঝে তিনি এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানের অধিকারী এবং বিশ্বব্যাপী দাওয়াতে ইসলামের ময়দানে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে একনিষ্ঠ কর্মীদের তালিকায় তাঁর নাম লিপিবদ্ধ।

তিনি ১৩২৩ হিজরিতে ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মোরাদাবাদ জেলার সম্ভলে (একটি প্রসিদ্ধ গ্রাম) এক ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জ্ঞান অন্বেষণের প্রতি গভীর অনুরাগ এবং শিক্ষার প্রতি একাগ্রতার মধ্য দিয়ে তিনি বেড়ে ওঠেন। শৈশব থেকেই তাঁর ললাটে প্রখর মেধার আভা ফুটে উঠেছিল। তিনি দিল্লির মাদরাসা আবদুর রব এবং উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলার মাউ-এর দারুল উলুম থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর তিনি ‘দেওবন্দ’ যাত্রা করেন এবং সেখানকার মহান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি সেখানকার সুমিষ্ট জ্ঞান-উৎস থেকে জ্ঞানপিপাসা নিবারণ করেন এবং প্রতিভাধর শিক্ষকদের নিকট থেকে উপকৃত হন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি, যিনি তাঁর সময়ের হাদিস শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন (১)। তিনি সেখান থেকে শিক্ষা সমাপন করেন... সনে।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আল্লামা মুহাদ্দিস আনোয়ার শাহ ইবনে মুয়াজ্জাম শাহ হানাফী কাশ্মীরি, অন্যতম প্রধান...
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৮)
. . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= فقهاء الحنفية وعظام المحدثين، ولد في " كشمير " في 1292هـ، وقرأ المبادئ على والده وعلى آخرين، في كشمير وفي غيرها، ثم التحق مجامعة ديوبند، وتخرج منها بامتياز.

كان من علماء ديوبند الذين يعتبرون – بحق – مفخرة، والذين لو لم تنجب دار العلوم ديوبند غيرهم لكفاها فخراً، ولكفانا تسجيلا، وأحد نادرة العصر في قوة الحفظ، وسعة الاطلاع على كتب المتقدمين، والتضلع من الفقه والأصول، والتعمق في العلوم العربية الدينية، وعلوم الحكمة، لم تخنه ذاكرته فيما قرأه في ريعان شبابه، كان يسوق العبارات والنصوص كما هي، شغوفاً بالعلم، نهماً بالدراسة والمطالعة، تواقاً إلى الاطلاع على كل جديد مفيد، دقيق النظر في طبقات الفقهاء والمحدثين، ومراتب كتبهم، عادلا في الحكم لهم أو عليهم، كان يصف شيخ الإسلام ابن تيمية بالبحر الزاخر الذي لا ساحل له، مع انتقاده له في تفرداته، وكذلك كان صنيعه مع الآخرين …

وكان سمح النفس، شديد الغيرة على الإسلام، وعقيدة أهل السنة، شديد العداء للقاديانية، كثير الرد عليهم، (
. . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= হানাফী ফকীহগণ এবং মহান মুহাদ্দিসগণের অন্তর্ভুক্ত, তিনি ১২৯২ হিজরীতে "কাশ্মীরে" জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কাশ্মীর ও অন্যান্য স্থানে তাঁর পিতা ও অন্যদের নিকট প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর তিনি জামিয়া দেওবন্দে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে শ্রেষ্ঠত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন।

তিনি দেওবন্দের ঐ সকল আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদেরকে যথাযথভাবেই গৌরবের বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়; যদি দারুল উলুম দেওবন্দ তিনি ছাড়া অন্য কাউকে জন্ম না দিত, তবে সেটিই তার গৌরবের জন্য যথেষ্ট হতো এবং আমাদের নথিবদ্ধ করার জন্যও তা যথেষ্ট হতো। তিনি তাঁর প্রখর মুখস্থ শক্তি, পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহের ওপর বিস্তৃত পাণ্ডিত্য, ফিকহ ও উসূলে গভীর ব্যুৎপত্তি এবং আরবী দ্বীনি ইলম ও হিকমতের বিদ্যায় গভীর পারদর্শিতার ক্ষেত্রে সমকালীন যুগের এক বিরল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। যৌবনকালে তিনি যা কিছু পাঠ করেছিলেন, তাঁর স্মৃতিশক্তি তাতে কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। তিনি ইবারত ও নসসমূহকে হুবহু সেভাবেই উপস্থাপন করতেন। তিনি ইলমের প্রতি অতি অনুরাগী, অধ্যয়ন ও জ্ঞানচর্চায় অতৃপ্ত এবং প্রতিটি নতুন ও উপকারী বিষয়ে অবহিত হতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। ফকীহ ও মুহাদ্দিসগণের স্তর এবং তাঁদের কিতাবসমূহের মর্যাদার বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম দৃষ্টির অধিকারী ছিলেন। তাঁদের পক্ষে বা বিপক্ষে বিচার করার ক্ষেত্রে তিনি ন্যায়পরায়ণ ছিলেন। তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহকে এমন এক উত্তাল সমুদ্র হিসেবে বর্ণনা করতেন যার কোনো কূল নেই, যদিও তাঁর একক অভিমতগুলোর বিষয়ে তিনি তাঁর সমালোচনাও করতেন। অন্যদের সাথেও তাঁর আচরণ এমনই ছিল …

তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদারমনা, ইসলামের মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন এবং আহলে সুন্নাতের আকিদার বিষয়ে কঠোর সচেতন। তিনি কাদিয়ানী মতবাদের ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং তাদের কঠোরভাবে খণ্ডন করতেন, (
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৯)
1345هـ بتفوق وامتياز، وفاق الأقران.

بدأ حياته العلمية بممارسة مهنة التدريس في مدرسة دينية بأمروهه في " مرآداباد " بالهند، غير أن قريحته الوقادة، وعاطفته الدينية الجياشة، وحماسته الدعوية والدينية البالغة، وطبيعته

--------------------------------------------

(رقيق القلب، سريع الدمعة، كثير البكاء … من مؤلفاته: تعليقات على فتح القدير لابن الهمام، إلى كتاب الحج، وتعليقات على الأشباه والنظائر، وتعليقات على صحيح مسلم، و " عقيدة الإسلام في حياة عيسى عليه السلام " و " إكفار الملحدين في ضروريات الدين " و "نيل الفرقدين في مسألة رفع اليدين " و " مشكلات القرآن ".

وقد جمع بعض تلاميذه إفاداته في درس سنن الترمذي، وسماه " العرف الشذي " في مجلد، كما جمع الشيخ بدر عالم الميرتهي - أحد كبار تلاميذه – تحقيقاه وإفاداته في درس الجامع الصحيح للبخاري باسم " فيض الباري ".

شغل منصب رئاسة مشيخة الحديث في دار العلوم ديوبند، ودرس صحيح البخاري وسنن الترمذي فيها، كما درس في جامعة " دابهيل " بكجرات، ومن قبلهما في المدرسة الأمينية بدهلي.

توفي رحمه الله 1352هـ
১৩৪৫ হিজরিতে কৃতিত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে এবং সহপাঠীদের ছাড়িয়ে উত্তীর্ণ হলেন।

তিনি ভারতের মোরাদাবাদের আমরোহায় একটি ধর্মীয় মাদ্রাসায় শিক্ষকতা পেশার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। তবে তাঁর প্রখর মেধা, প্রবল ধর্মীয় আবেগ, সুগভীর দাওয়াতী ও ধর্মীয় উদ্দীপনা এবং তাঁর প্রকৃতি

--------------------------------------------

(কোমল হৃদয়ের অধিকারী, অশ্রুসজল চোখ, প্রচুর ক্রন্দনকারী … তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ইবনুল হুমামের ফাতহুল কাদিরের ওপর হজ্জ অধ্যায় পর্যন্ত টীকা, আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর-এর ওপর টীকা, সহীহ মুসলিমের ওপর টীকা এবং "ঈসা আলাইহিস সালামের জীবনে ইসলামের আকিদা", "দীনের আবশ্যকীয় বিষয়গুলোতে নাস্তিকদের কাফের ঘোষণা", "রফউল ইয়াদাইনের মাসয়ালায় নীলুল ফারকাদাইন" এবং "মুশকিলাতুল কুরআন"।

তাঁর কিছু ছাত্র সুনানে তিরমিযীর দরসে তাঁর ইলমী আলোচনাগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং এক খণ্ডে এর নামকরণ করেছেন "আল-উরফুশ শাযী"। তেমনিভাবে তাঁর অন্যতম বিশিষ্ট ছাত্র শেখ বদর আলম মিরঠী সহীহ বুখারীর দরসে তাঁর তাহকীক ও ইলমী আলোচনাগুলো "ফয়জুল বারী" নামে সংকলন করেছেন।

তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে শায়খুল হাদীসের পদে আসীন ছিলেন এবং সেখানে সহীহ বুখারী ও সুনানে তিরমিযী অধ্যাপনা করেন। তদুপরি তিনি গুজরাটের "দাভেল" জামিয়াতে এবং এর আগে দিল্লির মাদ্রাসা আমিনিয়াতেও পাঠদান করেছেন।

তিনি ১৩৫২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১০)
المضطربة المتألمة لأوضاع المسلمين جذبته إلى مجال الدعوة والإصلاح، وكانت التقاليد الخرافية، والأعمال الشركية، والرواسب الفاسدة تنخر المجتمع الإسلامي الهندي، وتقوض الكيان الديني من غير أن يشعر به المسلمون، فكانت القبور والأضرحة عامرة، تقام عليها الأعياد والمهرجانات، فقام فضيلته بالدافع الإيماني القوى بدحض البدع والخرافات شأن الدعاة والمصلحين، وبدأ يؤلف كتباً ومقالات بلغة سهلة، ويحضر المناظرات الشعبية، وبدأ حرباً شعواء ضد المبتدعين والقبوريين. فحقق في هذا المجال نجاحاً باهراُ، وحظى بانتصارات رائعة، وأعد نحو خمسين مؤلفاً بين صغير وكبير، من أهمها "بوارق الغيب لمن يدعى لغير الله علم الغيب " و " معركة القلم " و "السيف اليماني " وانتقل إلى المدينة " بريلي " وأنشأ هناك مجلة دينية باسم " الفرقان " لنشر العقيدة الصحيحة الصافية ودحض البدع والخرافات.

وقد نالت المجلة قبولا عظيماً في الأوساط العلمية والدينية، وإلى جانب ذلك كان له نشاط سياسي، فقد ساهم في الحرب ضد الإنجليز وحركة تحرير الهند مسلمة ملموسة من خلال " حركة الخلافة " المعرفة، وغيرها من الحركات، وذلك لاستعادة مجد المسلمين.
মুসলমানদের শোচনীয় ও পীড়াদায়ক অবস্থা তাঁকে দাওয়াত ও সংস্কারের ময়দানের দিকে আকৃষ্ট করেছিল। কুসংস্কারাচ্ছন্ন ঐতিহ্য, শিরকপূর্ণ কর্মকাণ্ড ও পাপাচারের অবশিষ্টাংশ ভারতীয় মুসলিম সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছিল এবং মুসলিমরা উপলব্ধি করার আগেই তা ধর্মীয় সত্তাকে ধ্বংস করে দিচ্ছিল। তখন কবর ও দরগাহগুলো জমজমাট ছিল এবং সেখানে মেলা ও উৎসব উদযাপিত হতো। এমতাবস্থায় সম্মানিত শায়খ শক্তিশালী ঈমানী প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দাঈ ও সংস্কারকদের ন্যায় বিদআত ও কুসংস্কার খণ্ডনে সোচ্চার হন। তিনি সহজ ভাষায় গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা শুরু করেন, গণ-বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন এবং বিদআতী ও কবরপূজারীদের বিরুদ্ধে এক আপোষহীন লড়াই শুরু করেন। এই ক্ষেত্রে তিনি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেন এবং চমৎকার বিজয় লাভ করেন। তিনি ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশটি গ্রন্থ রচনা করেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো "আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য গায়বের ইলম দাবিদারদের প্রতি বওয়ারিকুল গায়ব", "মা'রাকাতুল ক্বালাম" এবং "আস-সাইফুল ইয়ামানী"। এরপর তিনি "বেরেলী" শহরে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে বিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ আকিদা প্রচার এবং বিদআত ও কুসংস্কার খণ্ডনের উদ্দেশ্যে "আল-ফুরকান" নামে একটি দ্বীনি সাময়িকী প্রতিষ্ঠা করেন।

সাময়িকীটি ইলমী ও দ্বীনি মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। এর পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতাও ছিল। তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এবং সুপরিচিত "খিলাফত আন্দোলন" ও অন্যান্য আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, যার উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১১)
ولم تقتصر جهود فضيلة الشيخ محمد منظور النعماني على مقاومة المبتدعين الخرافيين، بل إنه قام بدور ملموس في مواجهة القاديانية إيضاً، وألف عديداً من الكتب والرسائل تفنيد مزاعم غلام أحمد وأنصاره، وكان لتلك المكتب تأثير بالغ، وخاصة في الطبقة المثقفة لأنها تخاطب الضمير وتقنع العقل بالدلائل الناصعة.

ومن بن الحركات التي كانت تستهدف العقيدة الإسلامية الصافية حركة "خاكسار" المعروفة، تمتاز هذه الحركة بكثرة أنصارها ومؤيديها وشدة نفوذها ونجاحها في إغواء المسلمين، وقد صمد الشيخ محمد منظور النعماني في وجه هذه الحركة الخطرة، وألف كتاباً يعتبر أحسن كتاب حول هذا الموضوع، ويمتاز بغزارة مادته وقوة إقناعة.

بعد هذه التجارب العظيمة والجهود المخلصة في حقل الدعوة الاسلامية غير فضيلة اتجاهه حينما أحس يحاجة ماسة إلى العمل الإيجابي الجاد ونظر إلى الزحف الفكري الأوربي فعكف على التأليف والتصنيف لشرح المبادئ الإسلامية بلغة سهلة بسيطة وأسلوب جميل تمده روعة أدبية وتأثير عجيب في النفوس، وهو لا يزال يركز العمل، ويخلص السعي لترسيخ الإيمان، وتوطيد صلة المسلمين بدينهم وتدعيم ثقتهم بعقيدتهم.
শাইখ মুহাম্মদ মনজুর নোমানীর প্রচেষ্টা কেবল কাল্পনিক বিদআতিদের প্রতিরোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি কাদিয়ানিবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও এক দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি গোলাম আহমদ এবং তার অনুসারীদের দাবি খণ্ডন করে বেশ কিছু বই ও পুস্তিকা রচনা করেছেন। সেই বইগুলোর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল, বিশেষ করে শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে; কারণ তা বিবেককে নাড়া দিত এবং উজ্জ্বল দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে মস্তিষ্ককে আশ্বস্ত করত।

বিশুদ্ধ ইসলামী আকিদাকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্দোলনগুলোর মধ্যে সুপরিচিত ছিল 'খাকসার' আন্দোলন। এই আন্দোলনের বিশেষত্ব ছিল এর অসংখ্য সমর্থক ও অনুসারী এবং মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার ক্ষেত্রে এর প্রবল প্রভাব ও সাফল্য। শাইখ মুহাম্মদ মনজুর নোমানী এই বিপজ্জনক আন্দোলনের সামনে অটল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং এই বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যা এ বিষয়ের সেরা বই হিসেবে গণ্য হয়; এটি এর বিষয়বস্তুর প্রাচুর্য এবং অকাট্য যুক্তির জন্য স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

ইসলামী দাওয়াতের ক্ষেত্রে এই মহান অভিজ্ঞতা এবং একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার পর, যখন তিনি ইতিবাচক ও গঠনমূলক কাজের তীব্র প্রয়োজন অনুভব করলেন এবং ইউরোপীয় বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের দিকে তাকালেন, তখন তিনি তার কর্মপন্থা পরিবর্তন করলেন। এরপর তিনি সহজ-সরল ভাষায় এবং মনোমুগ্ধকর শৈলীতে ইসলামী মূলনীতিগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য লেখালেখি ও গ্রন্থ সংকলনে মনোনিবেশ করলেন, যা সাহিত্যিক সৌন্দর্য এবং হৃদয়ে এক অদ্ভুত প্রভাবে সমৃদ্ধ। তিনি এখনও ঈমানকে সুদৃঢ় করতে, দ্বীনের সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক মজবুত করতে এবং তাদের আকিদার ওপর আত্মবিশ্বাস জোরদার করতে নিরলসভাবে কাজ ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১২)
وقد نالت مؤلفاته قبولا وإعجاباً في سائر الأوساط العلمية والدينية، ونقلت إلى لغات عديدة، عالمية ومحلية ونفع الله بها كثيراً، ولعديد من كتبه ظهرت طبعات عديدة.

ولأسلوبه روعة وجمال، في سهولة عجيبة لا تعرف لغيره من الكتاب الإسلاميين المعاصرين ولاسيما في شبه القارة الهندية.

ويحلولي بالمناسبة الإشارة إلى بعض أهم مؤلفاته:

1- ما هو الإسلام؟

2- الإسلام عقيدة وحياة.

3- القرآن يتحدث إليكم (1) .

4- معارف الحديث في 7 أجزاء.

5- الصلاة وروحها.

6- كلمة التوحيد وحقيقتها.

7- بركات شهر رمضان المبارك.

8- التعريف بطريقة الحج.

--------------------------------------------

(1) وقد نقله إلى اللغة العربية الأستاذ سعيد الأعظمي الندوي، أستاذ الأدب العربي في دار العلوم ندوة العلماء، ورئيس تحرير مجلة "البعث الإسلامي" العربية.
তাঁর রচনাসমগ্র সকল বিদগ্ধ ও ধর্মীয় মহলে গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশংসা অর্জন করেছে এবং বহু আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আল্লাহ এগুলোর মাধ্যমে বহু মানুষকে উপকৃত করেছেন এবং তাঁর অনেক কিতাবের অসংখ্য সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর রচনাশৈলীতে রয়েছে এক অপূর্ব বৈভব ও সৌন্দর্য এবং এক বিস্ময়কর সাবলীলতা, যা সমসাময়িক অন্য কোনো ইসলামি লেখকের মাঝে দেখা যায় না, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে।

এই প্রেক্ষাপটে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কিছু রচনার কথা উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি:

১- ইসলাম কী?

২- ইসলাম: আকীদা ও জীবন।

৩- কুরআন আপনাদের সাথে কথা বলছে (১)।

৪- ৭ খণ্ডে মাআরিফুল হাদীস।

৫- সালাত ও তার প্রকৃত প্রাণ।

৬- কালিমায়ে তাওহীদ ও তার হাকীকত।

৭- বরকতময় রমজান মাসের বরকতসমূহ।

৮- হজ পদ্ধতির পরিচয়।

--------------------------------------------

(১) এটি আরবি ভাষায় অনুবাদ করেছেন দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার আরবি সাহিত্যের অধ্যাপক এবং আরবি সাময়িকী "আল-বাসুল ইসলামী"-র প্রধান সম্পাদক উস্তাদ সাঈদ আল-আজমি আন-নাদভী।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
1- الشيخ أحمد السرهندي، حياته ومآثرة الصلاحية.

2- السيد إسماعيل الشهيد والدعاية المكثفة ضده.

3- من أقوال الشيخ محمد إلياس رحمه الله.

4- لماذا نكفر القاديانيين؟

5- القول الصحيح في نزول النبي المسيح.

6- الطريقة السليمة لدراسة القاديانية والحكم عليها.

7- حدود الكفر والاسلام.. والقادنية.

8- ألفية الحديث (مجموعة ألف حديث في الفضائل والمسائل) اختارها من مجاميع الحديث الشريف.

9- بوارق الغيب لمن يدعى لغير الله علم الغيب.

10- مناقشة حاسمة مع المبتدعين.

11- السيف اليماني على فرقة "رضاخاني".

12- حركة "خاكسار" في ضوء الكتاب والسنة.

وللشيخ مساهمة فعالة في النشاطات الاجتماعية والاصلاحية والعلمية في داخل البلاد وخارجها، فهو عضو للمجلس التأسيسي لرابطة العالم الإسلامي، والمجلس الاستشاري لدار العلوم ديوبند، والمجلس الأعلى لدار العلوم التابعة لندوة العلماء، والمجمع الإسلامي العلمي بندة العلماء، ومجلس الأحوال الشخصية لعموم الهند،
১- শায়খ আহমাদ সারহিন্দি, তাঁর জীবন ও সংস্কারমূলক অবদান।

২- সায়্যিদ ইসমাইল শহীদ এবং তাঁর বিরুদ্ধে চালানো ব্যাপক অপপ্রচার।

৩- শায়খ মুহাম্মাদ ইলিয়াস রাহিমাহুল্লাহর কিছু বাণী।

৪- কেন আমরা কাদিয়ানীদের কাফির বলি?

৫- নবী মাসীহের অবতরণ সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য।

৬- কাদিয়ানীবাদ অধ্যয়ন এবং তার ওপর হুকুম প্রদানের সঠিক পদ্ধতি।

৭- কুফর ও ইসলামের সীমানা... এবং কাদিয়ানীবাদ।

৮- আলফিয়াতুল হাদিস (ফজিলত ও মাসআলা বিষয়ক এক হাজার হাদিসের সংকলন) যা তিনি হাদিসে নববীর বিভিন্ন কিতাব থেকে নির্বাচন করেছেন।

৯- আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবিদারদের বিরুদ্ধে অদৃশ্যের উজ্জ্বল আলোকচ্ছটা।

১০- বিদআতিদের সাথে এক চূড়ান্ত আলোচনা।

১১- "রেজাখানি" ফিরকার বিরুদ্ধে আস-সাইফুল ইয়ামানি।

১২- কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে "খাকসার" আন্দোলন।

দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরে সামাজিক, সংস্কারমূলক এবং ইলমি কর্মকাণ্ডে শায়খের কার্যকর অবদান রয়েছে। তিনি রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা পরিষদের সদস্য, দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শুরার সদস্য, নদওয়াতুল উলামার অধীনে পরিচালিত দারুল উলুমের উচ্চতর পরিষদের সদস্য, নদওয়াতুল উলামার ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির সদস্য এবং সর্বভারতীয় মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
وهيئة التعليم الديني، إضافة على نشاطاته مع "حركة الدعوة والتبليغ" التي هو من كبار أنصارها والعاملين فيها منذ زمن مؤسسها الشيخ محمد إلياس رحمه الله.

وقد بلغ من عمره 75 عاماً مع ذلك يتمتع بحيوية فائقة ونشاط دائب، نسأل الله سبحانه أن يبارك في جهوده وينفع المسلمين بعلمه وإخلاصه ويمتعهم بطول بقائه.
এবং ধর্মীয় শিক্ষা বোর্ড, সেই সাথে ‘দাওয়াত ও তাবলিগ আন্দোলন’-এর সাথে তাঁর কার্যাবলি, যার তিনি অন্যতম প্রধান সমর্থক ও একনিষ্ঠ কর্মী এর প্রতিষ্ঠাতা শায়খ মুহাম্মাদ ইলিয়াস (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সময়কাল থেকেই।

তাঁর বয়স ৭৫ বছর হওয়া সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও নিরলস কর্মতৎপরতার অধিকারী। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর প্রচেষ্টাসমূহে বরকত দান করেন, তাঁর জ্ঞান ও ইখলাসের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং দীর্ঘকাল পর্যন্ত তাঁদেরকে তাঁর সান্নিধ্য লাভের সুযোগ করে দেন।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌تمهيد

…

بين يدي الكتاب

الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى!

أسطورة عجيبة عن الوهابيين: أما بعد فإن كاتب هذه السطور قد ولد أواخر 1323هـ- 1905م، ومنذ أن جعلت أعي وأعقل، لاحظت في البيئة التي كنت أعيش فيها – ولا سيما في خؤولتي – أن الناس يذكرون "الوهابيين" بأسوء ما يكون من الكلمات، ويتناولونهم بأبشع الصفات، فكنت أفهم من كلامهم أن "الوهابيين" أقبح خلق الله سيرة وسلوكاً، ولا يحبون النبي (ولا عباد الله الصالحين وأولياءه المتقين، بل يسيئون معهم الأدب، ولا يتحرجون من ممارسة الوقاحة وسوء الاحترام وانتقاص شأنهم.

وقد سمعت وقتئذ أكذوبة عجيبة: أن رجلا يحمل اسم "عبد الوهاب" النجدي – كان يتزعم الطائفة الوهابية – كان قد بلغ من عداوته للنبي (إلى أن ورد المدينة المنورة يتظاهر بالصلاح والتقوى، ويتنكر بالنساك والزاهدين في الدنيا، والراغبين عنها إلى العبادة، وسكن بيتاً على الكراء من أجل أن
ভূমিকা

…

গ্রন্থ পরিচিতি

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক!

ওহাবী সম্পর্কে এক অদ্ভুত রূপকথা: অতঃপর, এই পঙক্তিগুলোর লেখক ১৩২৩ হিজরি—১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেছেন। যখন থেকে আমার বোধোদয় ও বিচারবুদ্ধি জন্মেছে, তখন থেকেই আমি যে পরিবেশে বাস করতাম—বিশেষ করে আমার মাতুলালয়ে—সেখানে লক্ষ্য করেছি যে, মানুষ 'ওহাবী'দের অত্যন্ত মন্দ ভাষায় স্মরণ করত এবং তাদের অতি জঘন্য বিশেষণে বিশেষিত করত। তাদের কথা থেকে আমি বুঝতাম যে, 'ওহাবী'রা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে চালচলন ও আচরণের দিক থেকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। তারা নবীকে এবং আল্লাহর নেককার বান্দা ও মুত্তাকী ওলীগণকে ভালোবাসে না; বরং তাঁদের সাথে বেআদবি করে এবং তাঁদের শান ও মান খাটো করতে ধৃষ্টতা ও অসম্মান প্রদর্শন করতে কোনো কুণ্ঠাবোধ করে না।

আমি সেই সময় এক অদ্ভুত মিথ্যাচার শুনেছিলাম: 'আব্দুল ওয়াহহাব' নজদী নামক এক ব্যক্তি—যিনি ওহাবী সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন—নবীর প্রতি তাঁর শত্রুতা এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তিনি মদীনা মুনাওয়ারায় ধার্মিকতা ও পরহেজগারির ভান করে উপস্থিত হন এবং দুনিয়াত্যাগী ইবাদতগুজার ও সন্ন্যাসীর বেশ ধারণ করেন। তিনি সেখানে একটি ভাড়া বাড়িতে অবস্থান গ্রহণ করেন যাতে...
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
يتخذ في داخل الأرض سرباً من بيته إلى روضة النبي الكريم (حتى يتمكن من العبث بالجثة المطهرة - نعوذ بالله من ذلك - إلا أنه لم يستطع تحقيق أمنيته حيث تراءى النبي (في المنام للملك الذي كان يحكم الحجاز حينذاك وقال له – في المنام -: إن رجلا من نجد خبيثاً رقيعاً يتخذ النفق في الأرض من أجل الغرض الخبيث، فبحث الملك عن الرجل- عبد الوهاب النجدي – (1) وقبض عليه فعلا، فضرب عنقه.

ولا أزال أذكر أن الناس كانوا يتناقلون هذه الأكذوبة كحقيقة تاريخية معلومة مقررة، ولذلك فلم أشك فيها قط … لأني لم أجد أحداً يرفضها أو يشك فيها.

البيئة التي عشت فيها: على كل فهذا ما كنت أعرفه حينذاك عن "الوهابيين" وعن "وعبد الوهاب النجدي" بالذات، وكان مصدر هذه المعرفة هو بيئتي التي كنت أتنفس فيها، والمجتمع الذي كنت أعيش فيه، واذكر أني كنت – من أجل ذلك كله – مسئ الظن بـ"الوهابيين" وكنت عندئذ في السابعة أو الثامنة من عمري.

--------------------------------------------

(1) ويلاحظ هنا أن عامة الناس ما كانوا يفرقون بين الشيخ عبد الوهاب وبين ابنه محمد المعروف بالشيخ محمد عبد الوهاب
তিনি মাটির নিচে নিজ ঘর থেকে সম্মানিত নবী করীমের রওজা পর্যন্ত একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করেন (যাতে তিনি পবিত্র লাশের অবমাননা করতে পারেন - আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি - তবে তিনি তার এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেননি, কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বপ্নে হিজাজের তৎকালীন শাসককে দেখা দিলেন এবং তাকে স্বপ্নে বললেন: নজদ থেকে আসা এক নিকৃষ্ট ও বেহায়া লোক হীন উদ্দেশ্যে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ খুঁড়ছে। অতঃপর বাদশাহ সেই ব্যক্তিকে—আব্দুল ওয়াহাব নজদীকে—(১) অনুসন্ধান করলেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করলেন, এরপর তার শিরচ্ছেদ করা হলো।

আমি আজও স্মরণ করতে পারি যে, মানুষ এই মিথ্যাটিকে একটি স্বীকৃত ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে একে অপরের কাছে বর্ণনা করত, তাই আমি এটি নিয়ে কখনো সন্দেহ করিনি... কারণ আমি এমন কাউকে পাইনি যে এটি প্রত্যাখ্যান করবে বা এতে সন্দেহ পোষণ করবে।

যে পরিবেশে আমি বড় হয়েছি: যাই হোক, সেই সময়ে "ওয়াহাবী" এবং বিশেষ করে "আব্দুল ওয়াহাব নজদী" সম্পর্কে আমি যা জানতাম তা ছিল মূলত এইটুকুই। আর এই জ্ঞানের উৎস ছিল সেই পরিবেশ যেখানে আমি নিশ্বাস নিতাম এবং সেই সমাজ যেখানে আমি বসবাস করতাম। আমার মনে আছে যে—এই সবকিছুর কারণে—আমি "ওয়াহাবীদের" সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করতাম এবং তখন আমার বয়স ছিল সাত বা আট বছর।

--------------------------------------------

(১) এখানে লক্ষণীয় যে, সাধারণ মানুষ শায়খ আব্দুল ওয়াহাব এবং তার পুত্র মুহাম্মদ, যিনি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব নামে পরিচিত, এই দুইজনের মধ্যে কোনো পার্থক্য করত না।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
وتخرجت في الكتاب، ودخلت في مدرسة إسلامية في مدينتي، كان مدرسوها من خريجي دار العلوم ديوبند، وكان الناس يدعونهم "وهابيين"..غير أني ما رأيت في هؤلاء المدرسين شيئاً من الأوصاف الخسيسة أو التهم الشنيعة التي كان القوم يوجهها إليهم، بل رأيتهم يؤكدون على طاعة الله ورسوله، وعلى امتثال الشريعة الاسلامية وتطبيقها على الحياة والمجتمع، وبجانب ذلك كانوا يرفضون- بكل شدة – عبادة القبور والأولياء، واتخاذ الأضرحة، والأعياد والمهرجانات التي يقيمها المبتدعة على القبور والأضرحة، وما إلى ذلك من البدع والخرافات، وإني أحمد الله على أن عشرتي فيهم وجلوسي إليهم، ودراستي لحياتهم، واطلاعي على أحوالهم، كل ذلك أكد لي أن ما اشتهر في الناس عنهم من صفات السوء والنذالة، شئ لاي قوم على أساس، لكني لا أذكر أني سمع من أساتذتي هؤلاء شيئاً ما عن عبد الوهاب النجدي أو محمد بن عبد الوهاب النجدي.

ثم أرسلت – خارج مدينتي – إلى "دار العلوم" بمئو، بمديرية أعظم جراه، حيث سعدت بالتلمذة على سيدي الأستاذ الشيخ المربي، مولانا كريم بخش (1) السنبلي رحمه الله،

--------------------------------------------

(1) أستاذنا العلامة الشيخ كريم بخش السنبهلي من تلامذة (
আমি মক্তবের শিক্ষা সমাপ্ত করলাম এবং আমার শহরের একটি ইসলামি মাদরাসায় ভর্তি হলাম, সেখানকার শিক্ষকগণ ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দের গ্র্যাজুয়েট এবং মানুষ তাঁদেরকে "ওয়াহাবি" বলে ডাকত। তবে আমি এই শিক্ষকদের মধ্যে এমন কোনো হীন বৈশিষ্ট্য বা জঘন্য অপবাদ দেখতে পাইনি যা সাধারণ মানুষ তাঁদের বিরুদ্ধে আরোপ করত। বরং আমি তাঁদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের ওপর এবং ইসলামি শরিয়ত অনুসরণ ও তা জীবন ও সমাজে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করতে দেখেছি। এর পাশাপাশি তাঁরা অত্যন্ত কঠোরভাবে কবরপূজা, ওলি-আউলিয়াদের ইবাদত, মাজার নির্মাণ এবং কবর ও মাজারে বিদআতিদের দ্বারা আয়োজিত বিভিন্ন উৎসব ও মেলাসহ যাবতীয় বিদআত ও কুসংস্কার প্রত্যাখ্যান করতেন। আমি আল্লাহর নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি যে, তাঁদের সাথে আমার মেলামেশা, তাঁদের সান্নিধ্য, তাঁদের জীবনধারা অধ্যয়ন এবং তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে আমার অবগতি—এই সবকিছুই আমাকে নিশ্চিত করেছে যে, সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁদের মন্দ গুণাবলি ও হীনতা সম্পর্কে যা কিছু প্রচলিত আছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তবে আমার মনে পড়ে না যে, আমি আমার এই শিক্ষকদের কাছ থেকে আব্দুল ওয়াহাব নজদি বা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব নজদি সম্পর্কে কিছু শুনেছি।

অতঃপর আমাকে—আমার শহরের বাইরে—আজমগড় জেলার মউ-এর "দারুল উলুম"-এ পাঠানো হয়, যেখানে আমি আমার সম্মানিত উস্তাদ, শায়খ মুরব্বি, মাওলানা করিম বখশ (১) সম্বলি (রহিমাহুল্লাহ)-এর ছাত্রত্ব গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করি।

--------------------------------------------

(১) আমাদের উস্তাদ আল্লামা শায়খ করিম বখশ সম্বলি ছিলেন (এর ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولازمته فترة طويلة من الزمان، وكان الرجل من كبار العلماء الراسخين في العلم والحاذقين في التدريس وقوة التفهيم والاقناع، من تلامذة العلامة الشيخ محمود حسن الديوبندي المعروف بـ"شيخ الهند" (1) وكان شديد الغيرة فيما يتصل بالشرك والتوحيد، والسنة

--------------------------------------------

(الشيخ الامام محمود حسن الملقب بـ"شيخ الهند" كان يعد من المدرسين البارعين في عصره، تلمذ عليه الشيخ المحدث المرحوم فخر الدين أحمد رئيس هيئة التدريس بدار العلوم ديوبند سابقاً والشيخ العلامة حبيب الرحمن الأعظمي حفظه الله الذي تلذت عليه حينما كنت أتعلم في دار العلوم بمئو، توفي رحمه الله عام 1362هـ.

(راجع تاريخ دارالعلوم ديوبند ج 2، 85، 86)

(1) الشيخ محمود حسن الديوبندي الملقب بـ"شيخ الهند" كان إلى جانب زهده وورعه، ومكانته العلمية، بطلا مكافحاً يضطرم غيظاً على الانجليز وهو صاحب الخطة المعروفة بخطة الرسائل الحريرية، ظل مدة طويلة على منصب رئاسة التدريس في دار العلوم ديوبند، أسر لنشاطه السياسي، وظل نحو أربعة أعوام في جزيرة مالطة، يذوق مرائر الحبس والاعتقال، له مؤلفات عديدة، من أهمها "إيضاح الأدلة" وترجمة معاني القرآن (
এবং আমি দীর্ঘ সময় তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম। তিনি ছিলেন ইলমে সুগভীর পণ্ডিত এবং পাঠদান, বিষয়বস্তু বোঝানো ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে সন্তুষ্ট করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ ও প্রভাবশালী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আল্লামা শাইখ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী (যিনি "শাইখুল হিন্দ" নামে পরিচিত) এর অন্যতম ছাত্র ছিলেন (১)। শিরক, তাওহীদ এবং সুন্নাহর বিষয়ে তাঁর মধ্যে প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ ও অনমনীয়তা বিদ্যমান ছিল।

--------------------------------------------

(শাইখ ইমাম মাহমুদ হাসান, যিনি "শাইখুল হিন্দ" উপাধিতে ভূষিত, তিনি তাঁর সময়ের দক্ষ শিক্ষকদের মধ্যে গণ্য হতেন। দারুল উলুম দেওবন্দের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাইখ মুহাদ্দিস মরহুম ফখর উদ্দিন আহমদ এবং শাইখ আল্লামা হাবিবুর রহমান আজমি (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আমি যখন মৌ-এর দারুল উলুমে পড়াশোনা করছিলাম তখন আমি তাঁর নিকট ইলম অর্জন করেছি। তিনি ১৩৬২ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(দেখুন: তারিখ-এ-দারুল উলুম দেওবন্দ, ২য় খণ্ড, ৮৫, ৮৬ পৃষ্ঠা)

(১) শাইখ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী, যিনি "শাইখুল হিন্দ" উপাধিতে ভূষিত, তিনি তাঁর দুনিয়াবিমুখতা, পরহেজগারি এবং উচ্চতর ইলমি মাকামের পাশাপাশি একজন লড়াকু বীর ছিলেন, যিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ পোষণ করতেন। তিনি "রেশমি রুমাল আন্দোলন" হিসেবে পরিচিত বিখ্যাত পরিকল্পনার প্রণেতা ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান শিক্ষকের পদে আসীন ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে বন্দি করা হয় এবং তিনি মাল্টা দ্বীপে প্রায় চার বছর কারাবাসের তিক্ততা ও যন্ত্রণা ভোগ করেন। তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো "ঈজাহুল আদিল্লাহ" এবং কুরআনের অর্থানুবাদ (
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
والبدعة كالعلامة الشيخ محمد إسماعيل بن عبد الغني (1) الدهلوي

--------------------------------------------

(الكريم، و "جهد المقل" توفي عام 1339هـ.

(نزهة الخواطر ج 8 ص 465 – 469)

(1) هو الشيخ العالم الكبير المجاهد والشهيد في سبيل الله، إسماعيل بن عبد الغني بن شيخ الإسلام وحكيمه ولي الله ابن عبد الرحيم العمري الدهلوي، كان (كما يصفه العلامة عبد الحي الحسني رحمه الله في كتابه "نزهة الخواطر" في الجزء السابع) أحد أفراد الدنيا في الذكاء والفطنة، والشهامة، وقوة النفس، والصلابة في الدين، ولد في 12/ من ربيع الثاني 1193هـ بدهلي، أخذ العلوم عن أعمامه: الشيخ عبد القادر، والشيخ رفيع الدين، والشيخ عبد العزيز، أبناء حكيم الاسلام أحمد بن عبد الرحيم المعروف بولي الله الدهلوي، فصار بحراً زاخراً في المعقول والمقول، ثم لازم الامام أحمد بن عرفان الشهيد البريلوي وتخرج عليه في الاحسان والتربية، وسافر معه للحج والزيارة، وذلك عام 1237هـ، ثم سافر معه إلى الحدود عام 1241هـ فجاهد معه في سبيل الله، وكان الوزير للامام، حتى استشهد في سبيل الله، وكان كالوزير للإمام، حتى استشهد في وادي "بالاكوت" في 1246هـ، من مصنفاته "منصب الامامة" بالفارسية في تحقيق منصب النبوة والامامة وهو
এবং বিদআত আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ ইসমাইল ইবনে আব্দুল গনি (১) দেহলভী-এর ন্যায়

--------------------------------------------

(কারিম, এবং "জুহদুল মুকিল" ১৩৩৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

(নুযহাতুল খাওয়াতির, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৬৫–৪৬৯)

(১) তিনি হলেন মহান আলেম শায়খ, আল্লাহর পথের মুজাহিদ ও শহীদ, ইসমাইল ইবনে আব্দুল গনি ইবনে শায়খুল ইসলাম ও হাকীমুল ইসলাম ওয়ালিউল্লাহ ইবনে আব্দুর রহিম আল-উমরি আদ-দেহলভী। তিনি (যেমনটি আল্লামা আব্দুল হাই আল-হাসানি রাহিমাহুল্লাহ তাঁর "নুযহাতুল খাওয়াতির" গ্রন্থের সপ্তম খণ্ডে বর্ণনা করেছেন) বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা, বীরত্ব, আত্মিক শক্তি এবং দ্বীনের প্রতি অবিচলতার ক্ষেত্রে পৃথিবীর এক অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ১১৯৩ হিজরির ১২ই রবিউস সানি দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর চাচাদের নিকট ইলম অর্জন করেন: শায়খ আব্দুল কাদির, শায়খ রাফিউদ্দিন এবং শায়খ আব্দুল আজিজ; যাঁরা ছিলেন হাকীমুল ইসলাম আহমদ ইবনে আব্দুর রহিম (যিনি শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী নামে পরিচিত) এর পুত্রগণ। অতঃপর তিনি যুক্তিভিত্তিক ও বর্ণনাভিত্তিক জ্ঞানে এক উত্তাল সমুদ্রে পরিণত হন। এরপর তিনি ইমাম আহমদ ইবনে ইরফান শহীদ বেরলভীর সান্নিধ্য গ্রহণ করেন এবং তাঁর কাছে ইহসান ও আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি তাঁর সাথে হজ ও যিয়ারতের উদ্দেশ্যে ১২৩৭ হিজরিতে সফর করেন। পরবর্তীতে ১২৪১ হিজরিতে তিনি তাঁর সাথে সীমান্ত অঞ্চলে গমন করেন এবং সেখানে আল্লাহর পথে জিহাদ করেন। তিনি ইমামের উজির (প্রধান সহকারী) স্বরূপ ছিলেন, শেষ পর্যন্ত ১২৪৬ হিজরিতে "বালাকোট" উপত্যকায় আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো ফারসি ভাষায় রচিত "মানসাবে ইমামাত", যা নবুওয়াত ও ইমামতের পদের স্বরূপ উদ্ঘাটনে লিখিত এবং এটি
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২০)
الشهيد في سبيل الله (1246هـ) والشيخ الكبير العلامة المحدث رشيد أحمد الكنكوهي (1) .

--------------------------------------------

= كتاب لا يزال فريداً في موضوعه في المكتبة الإسلامية وكتاب "تقوية الإيمان" بالأردية، والذي نقله إلى العربية سماحة الشيخ أبي الحسن على الحسني الندوي باسم "رسالة التوحيد" في 1394هـ. وقد نفدت منه طبعتان، والكتاب في رد الشرك، وتنقيح العقيدة الإسلامية.

(1) العلامة الفقيه رشيد أحمد الكنكوهي أحد أعلام الأمة وأئمتها في الفقه والتصوف، واسع الإطلاع في كافة العلوم الاسلامية، كان فقيها بارعاً ومحدثاً نابغاً وعالماً ربانياً، شديد الرفض للبدع والتقاليد الخرافية، كان زميل الإمام محمد قاسم النانوتوي في الدرس، شهد معه معركة "شاملي" ضد الانجليز ولم يزل مشتغلا بالدرس والإفادة، توفي إلى رحمة الله عام 1323هـ، كان يشرف على جامعة، "ديوبند" منذ أن توفي الإمام محمد قاسم النانوتوي، جمع الشيخ محمد يحيى الكانهلوي أماليه في الدرس وطبع منها "لامع الدراري" و "الكواكب الدري" بتعليق وتحقيق الشيخ المحدث محمد زكريا الكاندهلوي (
আল্লাহর পথে শহীদ (১২৪৬ হি.) এবং মহান শায়খ আল্লামা মুহাদ্দিস রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (১)।

--------------------------------------------

= এমন একটি বই যা ইসলামি লাইব্রেরিতে নিজ বিষয়ের ওপর আজও অনন্য এবং উর্দুতে রচিত "তাকভিয়াতুল ঈমান" গ্রন্থটি, যা ১৩৯৪ হিজরিতে শায়খ আবুল হাসান আলী হাসানী নদভী "রিসালাতুত তাওহীদ" নামে আরবিতে অনুবাদ করেছেন। এর দুটি সংস্করণ নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। বইটি শিরক খণ্ডন এবং ইসলামি আকিদা সংশোধনের বিষয়ে রচিত।

(১) আল্লামা ফকিহ রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী উম্মতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের একজন এবং ফিকহ ও তাসাউউফ শাস্ত্রে অন্যতম ইমাম। তিনি সকল ইসলামি জ্ঞানে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ফকিহ, প্রতিভাবান মুহাদ্দিস এবং একনিষ্ঠ রব্বানী আলেম। তিনি বিদআত এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন রীতিনীতির চরম বিরোধী ছিলেন। তিনি পাঠগ্রহণে ইমাম মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবীর সহপাঠী ছিলেন এবং তাঁর সাথে ইংরেজদের বিরুদ্ধে "শামলি" যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি সারাজীবন পাঠদান ও জ্ঞান বিতরণে নিয়োজিত ছিলেন এবং ১৩২৩ হিজরিতে আল্লাহর রহমতে ইন্তেকাল করেন। ইমাম মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি "দেওবন্দ" বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধান করতেন। শায়খ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া কান্ধলভী তাঁর পাঠদানের আলোচনাগুলো সংকলন করেন এবং শায়খ মুহাদ্দিস মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভীর টীকা ও সম্পাদনায় সেগুলো থেকে "লামেউদ্দুরারি" এবং "আল-কাওয়াকিবুদ দুরি" প্রকাশিত হয়েছে (
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২১)
أول شخص ينوه بجهود الشيخ النجدي وكتابه: وهو أول رجل – فيما أذكر – وجدته يبدى آراء تنم عن الإعجاب بالشيخ محمد بن عبد الوهاب النجدي وبكتابه "كتاب التوحيد" ولعله هو الذي دلني على أن الشخص الذي قام بالدور الفعال المثالي في الدعوة إلى التوحيد وإنقاذ الشعب المسلم من البدع والخرافات، والذي جاهد جهاداً كبيراً ضد عبادة القبور وغيرها مما يمت بصلة ما إلى الشرك، هو "محمد بن عبد الوهاب" (1) .

--------------------------------------------

(نزيل المدينة المنورة وله مؤلفات أخرى عديدة، من أهمها مجموعة فناواه في مجلدات.

راجع نزهة الخواطر ج8 ص 148 – 152

وتذكرة الرشيد

(1) محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي زعيم النهضة الدينية الإصلاحية الحديثة في جزيرة العرب، ولد ونشأ في عيينة، كان أبوه قاضياً في حريملا، قام بالدعوة إلى التوحيد الخالص. وانتهج منهج السلف الصالح ودعا إلى نبذ البدع والتقاليد الخرافية، قبل دعوته محمد بن سعود، وآزره من بعده ابنه عبد العزيز ثم سعود بن عبد العبد العزيز، كان دعوته الشعاعة الأولى لليقظة الحديثة، كانت وفاته في الدرعية عام 1206هـ، من مؤلفاته "كتاب التوحيد" و "كشف الشبهات" و"فضل الإسلام" =
প্রথম ব্যক্তি যিনি শায়খ নাজদি এবং তাঁর কিতাবের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন: তিনি হলেন প্রথম ব্যক্তি—আমার যতটুকু স্মরণে পড়ে—যাঁকে আমি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব নাজদি এবং তাঁর কিতাব "কিতাবুত তাওহীদ"-এর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশকারী মতামত ব্যক্ত করতে দেখেছি। এবং সম্ভবত তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেছিলেন যে, তাওহীদের দাওয়াত এবং মুসলিম জাতিকে বিদআত ও কুসংস্কার থেকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে যিনি আদর্শ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন এবং কবর পূজা ও শিরকের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সবকিছুর বিরুদ্ধে মহান সংগ্রাম করেছেন, তিনি হলেন "মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব" (১)।

--------------------------------------------

(তিনি মদিনা মুনাওয়ারার অধিবাসী এবং তাঁর আরও অনেক রচনা রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত তাঁর ফতোয়া সংকলন।

দেখুন: নুযহাতুল খাওয়াতির, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৮ – ১৫২

এবং তাযকিরাতুর রাশিদ

(১) মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব ইবনে সুলাইমান আত-তামিমি আন-নাজদি আরব উপদ্বীপে আধুনিক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নেতা। তিনি উইয়াইনায় জন্মগ্রহণ করেন ও বেড়ে ওঠেন, তাঁর পিতা হুরয়মিলায় বিচারক ছিলেন। তিনি বিশুদ্ধ তাওহীদের দাওয়াত প্রদান করেন। তিনি সালাফে সালেহীনের পথ অনুসরণ করেন এবং বিদআত ও কুসংস্কারপূর্ণ রীতিনীতি বর্জনের আহ্বান জানান। মুহাম্মদ ইবনে সাউদ তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করেন এবং এরপর তাঁর পুত্র আব্দুল আজিজ ও পরে সউদ ইবনে আব্দুল আজিজ তাঁকে সহযোগিতা করেন। তাঁর দাওয়াত ছিল আধুনিক জাগরণের প্রথম আলোকচ্ছটা। ১২০৬ হিজরি সনে দিরইয়াহতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে "কিতাবুত তাওহীদ", "কাশফুশ শুবুহাত" এবং "ফাদলুল ইসলাম"।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২২)
وليس "عبد الوهاب" كما يظنه الناس عندنا من سوء الفهم ومن الجهل.

وكان ينوه بكتاب التوحيد ويثني عليه كثيراً، وبأسلوب كان يدل على أنه باشر قراءته.. وما سمعت أحداً غيره من أساتذتي شيئاً عن الكتاب مما يجعلني أعتقد أنهم لم يطالعوه، ولا غرو، فإنه ربما يمكن أن يكون هؤلاء العلماء قد تأثروا بتلك الدعاية الشنيعة التي قام بها أولئك الذين كانوا يعاندون الشيخ محمد بن عبد الوهاب النجدي رحمه الله فكرياً وسياسياً، عبر العالم الإسلامي.. لكن ما سمعته من أستاذي الشيخ كريم بخش من الثناء العاطر على الشيخ محمد بن عبد الوهاب وكتابه "كتاب التوحيد"

--------------------------------------------

= و "كتاب الكبائر" وألف في سيرته أحمد عبد الغفور العطار، (راجع لترجمته تاريخ نجد الحديث ص 21، وآداب اللغة ج3 ص 321، والاعلام ج7 ص 137- 138) .

وأما أبوه عبد الوهاب بن سليمان بن علي بن مشرف التميمي النجدي فهو فقيه حنبلي من أهل عينة بنجد، ولي قضائها، وانتقل منها إلى حريملاء، له كتابات في بعض المسائل الفقهية، توفي عام 1153هـ.

راجع عنوان المجد ص 6-8 والاعلام ج4/323.
এবং "আবদুল ওয়াহহাব" এমন নন যেমনটি আমাদের এখানকার মানুষ ভুল বোঝাবুঝি ও অজ্ঞতার কারণে মনে করে থাকে।

আর তিনি 'কিতাবুত তাওহীদ'-এর গুরুত্ব উল্লেখ করতেন এবং এর অনেক প্রশংসা করতেন, আর এমন এক ভঙ্গিতে যা নির্দেশ করত যে তিনি এটি সরাসরি পাঠ করেছেন। আমি আমার অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্য থেকে তাঁর ব্যতীত আর কারো কাছ থেকে এই কিতাব সম্পর্কে কিছুই শুনিনি, যা আমাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে তাঁরা এটি অধ্যয়ন করেননি; আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ সম্ভবত এই আলেমগণ সেই জঘন্য অপপ্রচারের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন যা পুরো মুসলিম বিশ্বে শায়খ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব নজদী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে তাত্ত্বিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে শত্রুতা পোষণকারী ব্যক্তিরা চালিয়েছিল। তবে আমার শিক্ষক শায়খ কারীম বখশ-এর কাছ থেকে শায়খ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব এবং তাঁর রচিত 'কিতাবুত তাওহীদ'-এর ব্যাপারে যে সুগন্ধি প্রশংসা আমি শুনেছি...

--------------------------------------------

= এবং 'কিতাবুল কাবায়ের'; আর আহমাদ আবদুল গফুর আল-আত্তার তাঁর জীবনী রচনা করেছেন (তাঁর জীবনীর জন্য দেখুন: তারীখে নজদ আল-হাদীস পৃষ্ঠা ২১, আদাবুল লুগাহ খণ্ড ৩ পৃষ্ঠা ৩২১, এবং আল-আলাম খণ্ড ৭ পৃষ্ঠা ১৩৭-১৩৮)।

আর তাঁর পিতা আবদুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান বিন আলী বিন মুশরিফ আত-তামীমী আন-নজদী ছিলেন নজদের উয়াইনা এলাকার একজন হাম্বলী ফকিহ। তিনি সেখানকার বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন এবং সেখান থেকে হুরয়মিলায় স্থানান্তরিত হন। বিভিন্ন ফিকহি মাসআলায় তাঁর লেখা রয়েছে; তিনি ১১৫৩ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।

দেখুন: উনওয়ানুল মাজদ পৃষ্ঠা ৬-৮ এবং আল-আলাম খণ্ড ৪/৩২৩।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
جعلني أحسن به الظن واعتبره داعية إلى التوحيد والسنة ومجاهداً في سبيل هذه الدعوة كمثل الشيخ إسماعيل الشهيد الذي مضى ذكره آنفاً..

صلتي بهذا الموضوع: ثم بقيت فترة طويلة على ما كنت أعرفه عن الشيخ محمد، ولم يحصل لي من المعلومات الجديدة عنه شئ مذكور، حتى ظهر كتاب في الموضوع في اللغة الأردية منذ نحو 32-33 عاماً في سنة 1946م باسم "محمدبن عبد الوهاب: المصلح المفترى عليه" لمؤلفه الأستاذ مسعود عالم الندوي المرحوم (1) … والكتاب يتحدث عن حياة الشيخ ومآثره،

--------------------------------------------

(1) مسعود عالم الندوي من الكتاب الإسلاميين البارعين، كان أدبياً نابغاً، يجيد الكتابة باللغة العربية والأردية، له مؤلفات عديدة منها "تاريخ الدعوة الإسلامية في الهند" وهو أول من قام بتأليف كتاب في ترجمة حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب النجدي، كان من أنصار الجماعة الإسلامية المتحمسين، ولعله أول من قام بتعريفها إلى العالم العربي، أصدر من دار العلوم ندوة العلماء مجلة عربية باسم "الضياء" تشهد بطول باعه وسعة ذراعه في اللغة العربية، توفي في10رجب 1373هـ - 16-مارس 1954م عن 44سنة.
এটি আমাকে তাঁর সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করতে এবং তাঁকে তাওহীদ ও সুন্নাহর দিকে আহ্বানকারী এবং এই দাওয়াতের পথে একজন মুজাহিদ হিসেবে গণ্য করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লিখিত শাইখ ইসমাইল শহীদের ক্ষেত্রে হয়েছিল।

এই বিষয়ের সাথে আমার সম্পৃক্ততা: এরপর আমি দীর্ঘ সময় শাইখ মুহাম্মাদ সম্পর্কে যা জানতাম তার ওপরই অটল ছিলাম এবং তাঁর সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য নতুন কোনো তথ্য আমার কাছে আসেনি, যতক্ষণ না এই বিষয়ে উর্দূ ভাষায় আজ থেকে প্রায় ৩২-৩৩ বছর পূর্বে ১৯৪৬ সালে একটি বই প্রকাশিত হয়, যার নাম ছিল "মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: এক মজলুম সংস্কারক", যার লেখক ছিলেন মরহুম উস্তাদ মাসউদ আলম নদভী (১) … এবং বইটি শাইখের জীবনী ও তাঁর কীর্তিগাঁথা নিয়ে আলোচনা করে,

--------------------------------------------

(১) মাসউদ আলম নদভী ছিলেন দক্ষ ইসলামী লেখকদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি একজন প্রতিভাবান সাহিত্যিক ছিলেন, আরবি ও উর্দূ উভয় ভাষায় লেখায় পারদর্শী ছিলেন। তাঁর বহু রচনা রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হলো "ভারতে ইসলামী দাওয়াতের ইতিহাস" এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নজদী শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনী নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন এবং সম্ভবত তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আরব বিশ্বের নিকট এই সংগঠনের পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা থেকে "আয-যিয়া" নামক একটি আরবি সাময়িকী প্রকাশ করেন যা আরবি ভাষায় তাঁর প্রজ্ঞা ও দক্ষতার সাক্ষ্য দেয়। তিনি ১০ই রজব ১৩৭৩ হিজরী মোতাবেক ১৬ই মার্চ ১৯৫৪ সালে ৪৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
وضعه المؤلف بمراجعة عدد ضخم من مؤلفات الشيخ، والكتب التي وضعت في ترجمته، أو في تأييد فكرته ودعوته أو في الرد عليها ومعارضتها في مختلف اللغات، وبذلك فكتاب الأستاذ مسعود عالم الندوى رحمه الله حصيلة دراسية لمئآت من الكتب، ومهما أمكن القراء أن يختلفوا مع المؤلف في بعض آرائه، فإنه لا يسعهم إلا أن يعترفوا بالجهود المكثفة التي بذلها في سبيل البحث والتحقيق والدراسة التاريخية الموضوعية.

ثم أتيح لي من حين لآخر أن أقرأ كتباً كثيرة صغيرة وكبيرة للشيخ ولبعض رجال أسرته ولتلاميذه وأتباعه وأنصاره، تتحدث عن شخصيته ودعوته في وضوح وتفصيل، كما قرأت في ترجمته مؤلفات لبعض المتحمسين والمناصرين له ولبعض شديدي المناوئين له وتوصلت من هذه الدراسة الموسعة إلى أنه ينحو – في فكرته ومسلكه – منحى شيخ الإسلام ابن تيمية وتلاميذه كالحافظ ابن القيم وغيره، إلى حد كبير، وأنه يقف من الرد على الشرك ومحاربته والدعوة إلى التوحيد الخالص – بفرق يسير – نفس الموقف الذي يقفه الشيخ إسماعيل بن عبد الغني الشهيد في كتابه "تقوية الإيمان".

وأكدت لي دراستي هذه أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب
লেখক এটি সংকলন করেছেন শায়খের বিপুল সংখ্যক রচনাবলী, তাঁর জীবনী সম্পর্কিত গ্রন্থসমূহ, এবং বিভিন্ন ভাষায় তাঁর চিন্তা ও দাওয়াতের সমর্থনে অথবা তার খণ্ডন ও বিরোধিতায় রচিত বইসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে। ফলে উস্তাদ মাসউদ আলম নদভী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বইটি শত শত গ্রন্থের গবেষণামূলক নির্যাস। পাঠকদের পক্ষে লেখকের কিছু মতামতের সাথে ভিন্নমত পোষণ করা সম্ভব হলেও, গবেষণা, যাচাই-বাছাই এবং বস্তুনিষ্ঠ ঐতিহাসিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তিনি যে নিবিড় প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তা স্বীকার না করে তাদের কোনো উপায় নেই।

অতঃপর মাঝে মাঝে আমার শায়খের এবং তাঁর পরিবারের কিছু সদস্য, তাঁর ছাত্র, অনুসারী ও সমর্থকদের রচিত অনেক ছোট-বড় বই পড়ার সুযোগ হয়েছে, যা অত্যন্ত স্পষ্ট ও বিস্তারিতভাবে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও দাওয়াত সম্পর্কে আলোচনা করে। অনুরূপভাবে তাঁর জীবনী প্রসঙ্গে আমি তাঁর কিছু কট্টর সমর্থক ও অনুরাগী এবং কিছু চরম বিরোধীদের রচিত গ্রন্থাবলীও পাঠ করেছি। আর এই ব্যাপক অধ্যয়নের মাধ্যমে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, তিনি তাঁর চিন্তা ও কর্মপদ্ধতিতে—এক বিরাট অংশ জুড়ে—শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং হাফিজ ইবনুল কায়্যিমসহ তাঁর ছাত্রদের পথ অনুসরণ করেন। এবং শিরক খণ্ডন, তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং বিশুদ্ধ তাওহীদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে তিনি—সামান্য পার্থক্যসহ—ঠিক সেই অবস্থানই গ্রহণ করেছেন যা শায়খ ইসমাইল বিন আব্দুল গণী শহীদ তাঁর 'তাকভিয়াতুল ঈমান' গ্রন্থে গ্রহণ করেছেন।

আমার এই অধ্যয়ন আমার নিকট এটি নিশ্চিত করেছে যে, শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
النجدي رحمه الله قد واجه نفس الموقف – من الافتراء واختلاق أنواع الأكاذيب والأراجيف – الذي واجه الشيخ إسماعيل الشهيد من المبتدعين والخرافيين والقبوريين ومقدسي الأضرحة (التي يتخذونها من القصب ومن الأوراق في ذكرى سيدنا الحسين بن علي بن أبي طالب رضي الله عنهما .

وبما أن دعوته إلى التوحيد وجهوده الإصلاحية كانت تشتمل على الجهاد بالسيف وكان أنصاره وحماته يلقون النجاح تلو النجاح ويفتحون المناطق إثر المناطق – حتى تغلبوا على الحجاز المقدس والحرمين الشريفين بالإضافة إلى جميع مناطق نجد – فجعل رجال الحكم والسلطان وأصحاب الدول والحكومات المجاورة يستشعرون منهم الخطر، ويخافون على أنفسهم الدائرة، مما دفعهم إلى أن يشاركوا الذين يختلفون مع الشيخ عقيدة وتفكيراً من المبتدعين والخرافيين والساجدين للقبور، في دعايتهم الكاذبة، وفيما يثيرون حول شخصيته ودعوته من غبار كثيف من المكر والدهاء، ومن أنه يستهين بشخص الرسول (وينتقصه، ويحم الضغينة والحقد والعداء ضد الصالحين والأولياء، ويستحل دماء جميع أفراد الأمة الإسلامية ممن سواه.
নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) সেই একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন—নানা প্রকার অপবাদ, মিথ্যা রটনা ও প্রোপাগান্ডার—যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন শাইখ ইসমাইল শহীদ; সেই বিদআতি, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, কবরপূজারী এবং মাজার পূজারিদের পক্ষ থেকে (যারা আমাদের নেতা হুসাইন ইবন আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর স্মরণে নলখাগড়া ও কাগজ দিয়ে মাজার সদৃশ কাঠামো তৈরি করে)।

যেহেতু তাওহীদের প্রতি তাঁর দাওয়াত এবং তাঁর সংস্কারমূলক প্রচেষ্টা তরবারির মাধ্যমে জিহাদকেও শামিল করেছিল, আর তাঁর সাহায্যকারী ও রক্ষাকারীরা একের পর এক সাফল্য অর্জন করছিলেন এবং একটির পর একটি অঞ্চল জয় করছিলেন—পরিশেষে তাঁরা সমগ্র নজদ অঞ্চলের পাশাপাশি পবিত্র হিজাজ ও হারামাইন শরীফাইনের ওপরও বিজয় লাভ করেছিলেন—ফলে শাসকবর্গ, সুলতান এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও সরকারগুলোর অধিপতিরা তাঁদের পক্ষ থেকে বিপদের আশঙ্কা করতে শুরু করেন এবং নিজেদের পতনের ভয়ে ভীত হয়ে পড়েন। এই বিষয়টি তাঁদেরকে সেই সব লোকেদের সঙ্গে যোগ দিতে প্ররোচিত করে, যারা আকিদা ও চিন্তাধারার দিক থেকে শাইখের বিরোধী ছিল—যেমন বিদআতি, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও কবরে সেজদাকারীরা। ফলে তাঁরা শাইখের ব্যক্তিত্ব ও তাঁর দাওয়াতের বিরুদ্ধে মকর-প্রবঞ্চনার যে ধোঁয়াশা তৈরি করেছিল এবং যে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছিল, তাতে এই শাসকরাও অংশীদার হয়। আর সেই অপপ্রচারগুলো ছিল এমন যে—তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্তাকে অবজ্ঞা ও অবমাননা করেন, এবং নেককার ও ওলীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, হিংসা ও শত্রুতা পোষণ করেন, এবং তিনি তাঁর অনুসারী ব্যতীত উম্মতে মুসলিমার অন্য সকলের রক্ত হালাল মনে করেন।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
مراكز الدعاية ضد الحركة الوهابية: وصارت أرض الحجاز مركز دعاية ضد الشيخ محمد بن عبد الوهاب النجدي وجماعته – بعد ما أقصت "الوهابيين" قوات محمد علي باشا (1) حاكم مصر آنذاك على إيعاز من الحكومة العثمانية في تركيا في سنة 1227هـ وبعد ما قضت على حكومة آل سعود في "الدرعية"- وأضحت تشتهر من الحجاز فيما يتصل بالشيخ أمور مستهجنة إن سمعها مسلم فإنه لا يكره شخصه فحسب، بل يعتبره أكفر الكافرين في العالم كله.

وبما أن الحرمين الشريفين هما مركز المسلمين الروحي والديني، ومهد الدعوة الإسلامية، ومهبط الوحي والرسالة، ومنتجع الحجج من المسلمين في العالم كله، يختلف إليها المسلمون، ولا سيما في مناسبة الموسم، فساعد كل ذلك على

--------------------------------------------

(1) محمد علي باشا المعروف بمحمد علي الكبير مؤسس أخر دولة ملكية بمصر، كان ألباني الأصل، وكان أميا تعلم القراءة في الخامسة والأربعين من عمره، ولي مصر 1220هـ.

له وقائع معروفة مع السعوديين بإيعاز من الدورة العثمانية، كثرة في أيامه المعامل والمدارس في مصر.

(راجع محمد علي الكبير لشفيق غربان، والاعلام لخير الدين الزركلي ج7 ص191- 192) .
ওহাবী আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রচারণার কেন্দ্রসমূহ: হিজাজ ভূমি শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব নাজদী এবং তার জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রচারণার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল—১২২৭ হিজরিতে তুরস্কে অবস্থিত উসমানীয় সরকারের নির্দেশে তৎকালীন মিশরের শাসক মুহাম্মদ আলী পাশার (১) বাহিনী "ওহাবীদের" বিতাড়িত করার পর এবং "দিরিয়া"তে অবস্থিত আল-সাউদ সরকারের পতন ঘটানোর পর—আর শেখের সাথে সম্পৃক্ত এমন সব নিন্দনীয় বিষয় হিজাজ থেকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল যা শুনলে কোনো মুসলিম কেবল তার ব্যক্তিকে ঘৃণাই করবে না, বরং তাকে সারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাফের হিসেবে গণ্য করবে।

যেহেতু হারামাইন শরীফাইন হলো মুসলিমদের আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র, ইসলামী দাওয়াতের সূতিকাগার, ওহী ও রিসালাতের অবতরণস্থল এবং সারা বিশ্বের মুসলিম হাজীদের মিলনস্থল, যেখানে মুসলিমরা প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে—বিশেষ করে হজের মৌসুমে—তাই এই সবকিছুই সহায়তা করেছিল...

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ আলী পাশা, যিনি মুহাম্মদ আলী আল-কাবীর নামে পরিচিত, মিশরের শেষ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছিলেন আলবেনীয় বংশোদ্ভূত এবং নিরক্ষর ছিলেন, পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে তিনি পড়ালেখা শেখেন। ১২২০ হিজরিতে তিনি মিশরের শাসনভার গ্রহণ করেন।

উসমানীয় সাম্রাজ্যের নির্দেশে সৌদিদের সাথে তার বেশ কিছু সুপরিচিত সংঘাতের ঘটনা রয়েছে। তার শাসনামলে মিশরে কলকারখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল।

(দেখুন: শফিক গুরবানের 'মুহাম্মদ আলী আল-কাবীর' এবং খায়রুদ্দীন আয-যিরিকলীর 'আল-আ'লাম', খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৯১-১৯২)।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
انتشار كل ما يحاك فيها ضد الوهابيين والنجديين أو يدور حولهم في المحاقل والنوادي أو يقال ويكتب في المؤلفات، ساعد على انتشاره في طول العالم وعرضه … ثم الخرافيون في كل مكان كانوا يزورون كل ما يتلقون من غيرهم، ويجعلون من الحبة قبة، وأعتقد أن ما أسلفته من أسطورة اتخاذ عبد الوهاب للنفق في داخل الأرض إلى روضة النبي (، هو الآخر من افتراء الخرافيين والقبوريين في بلادنا نحن، لأني لم أدر بعد أن الأسطورة سمعت في بلد آخر.

نماذج من الإفتراءات والتهم الشنيعة: ومن شاء فليقرأ كتاب "خلاصة الكلام في بيان أمراء البلد الحرام" و "الدرر السنية في الرد على الوهابية" لمؤلفهما الشيخ أحمد زيني دحلان (1) مفتي الشافعية وأحد كبار رجال العلم في مكة المكرمة المتوفى 1304هـ، ليتبين مدى الشائعات المكذوبة التي كانت قد أخذت نصيبها من الامتداد والشيوع في الحرمين الشريفين – وبالتالي في العالم كله –

--------------------------------------------

(1) أحمد زبنى دحلان (1232هـ - 1304) فقيه مكي مؤرخ ولد بمكة وتولى فيها الإفتاء والتدريس ومات في المدينة، من تصانيفه "الفتوحات الإسلامية" و"الجداول المرضية" و"خلاصة الكلام" (الأعلام ج1 ص125)
ওয়াহাবি ও নজদিদের বিরুদ্ধে যা কিছু চক্রান্ত করা হতো অথবা বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও মজলিসে তাদের ঘিরে যা কিছু আবর্তিত হতো কিংবা গ্রন্থাবলিতে যা বলা ও লেখা হতো, তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছিল … এরপর সবখানের কুসংস্কারবাদীরা অন্যদের কাছ থেকে যা কিছু গ্রহণ করত তাতে পরিবর্তন সাধন করত এবং তিলকে তাল বানাত। আমি মনে করি, ইতিপূর্বে আমি আব্দুল ওয়াহাব কর্তৃক মাটির অভ্যন্তর দিয়ে নবীর রওজা পর্যন্ত সুড়ঙ্গ তৈরির যে উপকথার কথা উল্লেখ করেছি, সেটিও আমাদের দেশের কুসংস্কারবাদী ও মাজারপূজারীদের একটি অপবাদ; কারণ আমি অন্য কোনো দেশে এই উপকথাটি শোনা গেছে বলে অবগত নই।

মিথ্যা অপবাদ ও জঘন্য অভিযোগের কিছু নমুনা: যে কেউ চাইলে শাফেয়ী মাযহাবের মুফতী এবং মক্কা মুকাররমার অন্যতম বিশিষ্ট আলেম শেখ আহমদ জাইনি দাহলান (১) (মৃত্যু ১৩০৪ হিজরী) রচিত "খুলাসাতুল কালাম ফি বয়ানি উমারাইল বালাদিল হারাম" এবং "আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফির রাদ্দি আলাল ওয়াহাবিয়্যাহ" বই দুটি পড়তে পারেন, যাতে হারামাইন শরীফাইনে—এবং ফলস্বরূপ সারা বিশ্বে—ছড়িয়ে পড়া এবং প্রচার পাওয়া মিথ্যা গুজবের ব্যাপ্তি স্পষ্ট হয়—

--------------------------------------------

(১) আহমদ জাইনি দাহলান (১২৩২ হিজরী - ১৩০৪ হিজরী) মক্কার একজন ফকিহ ও ইতিহাসবিদ। তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে ফতোয়া প্রদান ও শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন এবং মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে "আল-ফুতুহাতুল ইসলামিয়্যাহ", "আল-জাদাউলুল মারদিয়্যাহ" এবং "খুলাসাতুল কালাম" (আল-আ'লাম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১২৫)
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
عن الشيخ محمد عبد الوهاب ودعوته وجماعته وأنصاره، وإلى القارئ قطعة صغيرة من كتاب "خلاصة الكلام في بيان أمراء البلد الحرام" وليس ذلك إلا غيضاً من فيض:

"وإذا أراد أحد أن يدخل في دينه يقوله له بعد الإتيان بالشهادتين: اشهد على نفسك أنك كنت كافراً، وأشهد على والديك أنهما ماتا كافرين، واشهد على فلان وفلان – ويسمي له جماعة من أكابر العلماء الماضين – أنهم كانوا كفاراً، فإن شهدوا قبلهم، وإلا أمر بقتلهم، وكان يصرح بتكفير الأمة منذ ست مأة سنة، وكان يكفر كل من لا يتبعه وإن كان من أتقى المتقين، فيسميهم مشركين، ويستحل دماءهم وأموالهم، ويثبت الإيمان لمن اتبعه وإن كان من أفسق الفاسقين".

"وكان ينتقص النبي (كثيراً بعبارات مختلفة، حتى إن أتباعه كانوا يفعلون ذلك أيضاً.. حتى إن بعض أتباعه كان يقول: عصاي هذه خير من محمد (() لأنها ينتفع بها في قتل الحية ونحوها، ومحمد قد مات ولم يبق نفع أصلا وإنما هو طارش ومضى".

"ومن ذلك أنه كان يكره الصلاة على النبي (ويتأذى بسمعها.. " (1) .

--------------------------------------------

(1) "خلاصة الكلام" ج 2 ص 230.
শেখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব, তাঁর দাওয়াত, তাঁর দল এবং তাঁর সমর্থকদের সম্পর্কে; পাঠকদের জন্য "খুলাসাতুল কালাম ফি বায়ানি উমারাইল বালাদিল হারাম" কিতাব থেকে একটি ছোট অংশ তুলে ধরা হলো, আর এটি তো সমুদ্রের এক বিন্দু মাত্র:

"যখন কেউ তাঁর মতে প্রবেশ করতে চাইত, তখন শাহাদাতাইন পাঠ করার পর তাকে বলা হতো: তুমি নিজের ব্যাপারে সাক্ষ্য দাও যে তুমি কাফির ছিলে, তোমার পিতা-মাতার ব্যাপারে সাক্ষ্য দাও যে তাঁরা কাফির অবস্থায় মারা গেছেন এবং অমুক অমুকের ব্যাপারে সাক্ষ্য দাও—আর সে তাঁর সামনে পূর্ববর্তী বড় আলেমদের একটি দলের নাম উল্লেখ করত—যে তাঁরা কাফির ছিলেন। যদি তারা এই সাক্ষ্য দিত তবে তাদের গ্রহণ করা হতো, অন্যথায় তাদের হত্যার নির্দেশ দেওয়া হতো। সে বিগত ছয়শ বছর যাবত উম্মতকে কাফির বলার ঘোষণা দিত। যে ব্যক্তি তাঁর অনুসরণ করত না, সে যত বড় পরহেযগারই হোক না কেন, তাকে সে কাফির মনে করত। সে তাদের মুশরিক বলে অভিহিত করত এবং তাদের রক্ত ও ধন-সম্পদকে হালাল মনে করত। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তাঁর অনুসরণ করত, সে যত বড় পাপাচারীই হোক না কেন, তার জন্য সে ঈমান সাব্যস্ত করত।"

"সে বিভিন্ন বাক্য দ্বারা নবী (সা.)-এর শান ও মর্যাদা অনেক খাটো করত, এমনকি তাঁর অনুসারীরাও তা করত। এমনকি তাঁর কোনো কোনো অনুসারী বলত: আমার এই লাঠিটি মুহাম্মাদ (সা.)-এর চেয়ে উত্তম, কারণ এটি সাপ ও অনুরূপ প্রাণী মারার কাজে উপকারে আসে, আর মুহাম্মাদ মারা গেছেন এবং তাঁর কোনো উপকারই অবশিষ্ট নেই, তিনি তো ছিলেন কেবল একজন বার্তাবাহক যিনি চলে গেছেন।"

"এর মধ্যে আরও ছিল যে, সে নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা অপছন্দ করত এবং তা শুনে কষ্ট পেত..." (১) ।

--------------------------------------------

(১) "খুলাসাতুল কালাম", ২য় খণ্ড, ২৩০ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
ومما قاله الشيخ دحلان في شأن الشيخ رحمه الله:

"وكان في أول أمره مولعا بمطالعة أخبار من أدعى النبوة كاذباً، كمسيلمة الكذاب (1) ، وسجاح (2) ، والأسود العنسي

--------------------------------------------

(1) مسيلمة بن ثمامة الوائلي، يقال في الأمثال: أكذب من مسيلمة، ادعى النبوة وكان يضع أسجاعاً يضاهي بها القرآن، وانتدب أبو بكر الصديق لمحاربته خالد بن الوليد على رأس جيش، وانتهت المعركة بظفر خالد ومقتل مسيلمة في سنة 12هـ.

(راجع سيرة ابن هشام ج3 ص74 والروض الأنف ج2 ص340 وفتوح البلدان ص 94-100 والأعلام ج8 ص125-126) .

(2) سجاح بنت الحارث بن سويد التميمية من بني يربوع متنبئة مشهورة كانت شاعرة أدبية عارفة بالأخبار، ادعت النبوة بعد وفاة النبي (وخرجت من الجزيرة تريد غزو أبي بكر فبلغ خبرها مسيلمة الكذاب فأقبل عليها في جماعة وتزوج بها ولما بلغها مقتل مسيلمة فأسلمت وهاجرت إلى البصرة وتوفيت فها في حوالي 55هـ.

(راجع الطبري ج3 ص236 وشرح المقامات للشريسي ج2ص222 وتاريخ الخميس ج2 ص 159 والأعلام للزركلي ج3 ص123) .
শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সম্পর্কে শায়খ দাহলান যা বলেছেন তার মধ্য থেকে:

"তিনি তাঁর প্রাথমিক অবস্থায় মিথ্যা নবুওয়াত দাবিদারদের সংবাদ পাঠে অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন, যেমন মুসাইলামা আল-কাযযাব (১), সাজাহ (২) এবং আল-আসওয়াদ আল-আনসি

--------------------------------------------

(১) মুসাইলামা বিন সুমামা আল-ওয়াইলি। প্রবাদে বলা হয়: মুসাইলামার চেয়েও বড় মিথ্যাবাদী। সে নবুওয়াতের দাবি করেছিল এবং কুরআনের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখার জন্য ছন্দোবদ্ধ বাক্য তৈরি করত। আবু বকর আস-সিদ্দিক তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য একটি সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করেন। ১২ হিজরি সনে খালিদের বিজয় এবং মুসাইলামার নিহতের মাধ্যমে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

(দেখুন: সিরাত ইবনে হিশাম, ৩য় খণ্ড, ৭৪ পৃষ্ঠা; আর-রাওদুল উনুফ, ২য় খণ্ড, ৩৪০ পৃষ্ঠা; ফুতুহুল বুলদান, ৯৪-১০০ পৃষ্ঠা এবং আল-আ’লাম, ৮ম খণ্ড, ১২৫-১২৬ পৃষ্ঠা)।

(২) সাজাহ বিনতে আল-হারিস বিন সুওয়াইদ আত-তামিমিয়্যাহ, বনু ইয়ারবু গোত্রের; একজন প্রসিদ্ধ নারী নবুওয়াত দাবিদার। সে সাহিত্যমনা কবি এবং ইতিহাস ও সংবাদের অভিজ্ঞ ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর সে নবুওয়াতের দাবি করে। সে আবু বকরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে জাজিরা থেকে বের হয়। তার সংবাদ মুসাইলামা আল-কাযযাবের কাছে পৌঁছালে সে একদল অনুসারী নিয়ে তার কাছে আসে এবং তাকে বিবাহ করে। যখন সে মুসাইলামার নিহতের খবর পায়, তখন সে ইসলাম গ্রহণ করে এবং বসরায় হিজরত করে। আনুমানিক ৫৫ হিজরি সনে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

(দেখুন: তাবারি, ৩য় খণ্ড, ২৩৬ পৃষ্ঠা; শারহুল মাকামাত লিশ-শারিসি, ২য় খণ্ড, ২২২ পৃষ্ঠা; তারিখুল খামিস, ২য় খণ্ড, ১৫৯ পৃষ্ঠা এবং আল-আ’লাম লিজ-যিরিকলি, ৩য় খণ্ড, ১২৩ পৃষ্ঠা)।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
وطليحة الأسدي (1) وأحزابهم، فكان يضمر في نفسه دعوى النبوة، ولو أمكنه إظهار هذه الدعوى لأظهرها". (2)

والذي وجه الشيخ أحمد زيني دحلان إلى الشيخ محمد بن عبد الوهاب في هذه العبارة وغيرها من التهم الشنيعة، لم يحله على كتاب للشيخ أو لأحد من أتباعه.

وإن كاتب هذه السطور يؤكد - في ضوء دراسته – أنه لا يصح شيء من هذه التهم "وقد جاء تفنيدها صريحاً في مؤلفات وكتابات الشيخ، والمؤلفين الآخرين من أتباعه وسوف يمر كل ذلك بالقراء الكرام في الصفات الآتية.

--------------------------------------------

(1) طليحة بن خويلد الأسدي من أسد خزيمة متنبي، سجاع، يقال له طليحة الكذاب كان م أشجاع العرب قدم على النبي (في وفد بني أسد عام 9هـ ثم ارتد وادعى النبوة، غزاه أبو بكر وسير إليه خالد بن وليد فانهزم وفر إلى الشام، ثم أسلم ووفد على عمر فبايعه واستشهد بنهاوند عام 21هـ.

(راجع ابن عساكر ج7 ص 90. وتاريخ الخميس ج2 ص160، وتهذيب الأسماء واللغات ج1 ص 254، والأعلام ج3 ص 332-333) .

(2) "خلاصة الكلام" ج2 ص229.
...এবং তুলাইহা আল-আসাদি (১) ও তাদের দলসমূহ; সে মনে মনে নবুওয়াতের দাবির কথা গোপন রেখেছিল, আর যদি তার পক্ষে এই দাবি প্রকাশ করা সম্ভব হতো তবে সে তা প্রকাশ করত।" (২)

শেখ আহমদ জাইনি দাহলান এই বক্তব্য এবং অন্যান্য জঘন্য অভিযোগের মাধ্যমে শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের প্রতি যা আরোপ করেছেন, সে বিষয়ে তিনি শেখের কোনো কিতাব বা তাঁর অনুসারীদের কারও কোনো কিতাবের উদ্ধৃতি দেননি।

এই পঙক্তিগুলোর লেখক তাঁর গবেষণার আলোকে নিশ্চিত করছেন যে—এই অভিযোগগুলোর কোনোটিই সঠিক নয়; বরং শেখের ও তাঁর অনুসারী অন্যান্য লেখকদের রচনাবলিতে এগুলোর সুস্পষ্ট খণ্ডন এসেছে। এই সব কিছুই সম্মানীত পাঠকদের সামনে আগামী পৃষ্ঠাগুলোতে উঠে আসবে।

--------------------------------------------

(১) তুলাইহা ইবনে খুওয়াইলিদ আল-আসাদি আসাদ খুজাইমা গোত্রের লোক। সে ছিল নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদার এবং ছন্দোবদ্ধ গদ্য রচনাকারী; তাকে তুলাইহা আল-কাযযাব (মিথ্যুক) বলা হতো। সে আরবদের অন্যতম বীর ছিল। সে ৯ম হিজরি সালে বনি আসাদ গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট আগমন করে, অতঃপর ধর্মত্যাগী (মুরতাদ) হয় এবং নবুওয়াত দাবি করে। আবু বকর (রা.) তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং তার দিকে খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করেন। ফলে সে পরাজিত হয়ে সিরিয়ার দিকে পালিয়ে যায়। পরে সে পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করে এবং উমর (রা.)-এর নিকট এসে তাঁর কাছে বায়াত গ্রহণ করে এবং ২১ হিজরি সালে নাহাওয়ান্দের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করে।

(দেখুন: ইবনে আসাকির, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৯০; তারিখুল খামিস, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৬০; তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৫৪; এবং আল-আ'লাম, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৩২-৩৩৩)।

(২) "খুলাসাতুল কালাম", খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২২৯।
(খণ্ড: ১) দুয়ায়াতুন মুকাছ্ছাফাতুন দিদ্দুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
ويبدو أن الشيخ دحلان لم يطلع على كتاب من الكتب التي ألفها أتباع الشيخ محمد بن عبد الوهاب النجدي في شرح دعوتهم وفكرتهم، كما أنه لم يشعر بضرورة البحث والتنقيب قبل أن يرميهم بهذه التهم الاذعة.

وكل ذلك لا يعني إلى أن أمثال هذه الأراجف والأباطيل ضد الشيخ محمد وجماعته قد نالت كل نصيبها من الشيوع في الحرمين الشريفين بفضل المحاولات الموسعة، التي بذلها المعارضون لهم سياسيا وعقيديا على نشرها وترويجها، حتى أصبحت تأخذ سمة التواتر على الصعيد الشعبي، مما أغنى الكتاب والمؤلفين والناس أجمعين، وعن أي بحث وفحص لمدى صدقها وواقعيتها لدى التسجيل في الكتابات أو الترداد في المحافل والنوادي …

وذلك لأن عاماً كبيراً كالشيخ دحلان لا يجوز الشك بسهولة في أنه أبو عذرة هذه المفتريات أو وجهها إليهم عن عمد، فإن مؤمناًبالآخرة لايتجرأ على مثل هذا الصنيع، والله أعلم بالصواب.

وقد نقل الشيخ زيني في كتابه "خلاصة الكلام" ما يأتي رواية عن عالم آخر من العلماء المعاصرين له، وهو الشيخ المفتي عبد الرحمن الأهدل (1) مفتي زبيد:

--------------------------------------------

(1) عبد الرحمن بن سليمان الأهدل الحسيني، مؤرخ من =
এটা প্রতীয়মান হয় যে, শায়খ দাহলান শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব নাজদীর অনুসারীদের রচিত তাদের দাওয়াত ও চিন্তাধারা ব্যাখ্যার কোনো কিতাব অধ্যয়ন করেননি। তেমনিভাবে, তিনি তাদের প্রতি এই কঠোর অভিযোগগুলো নিক্ষেপ করার পূর্বে অনুসন্ধান ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেননি।

আর এই সবের অর্থ এটাই যে, শায়খ মুহাম্মদ এবং তাঁর জামায়াতের বিরুদ্ধে এই ধরণের গুজব এবং মিথ্যাচারগুলো হারামাইন শরীফাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পূর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। আর এটি সম্ভব হয়েছিল রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিরোধীদের পক্ষ থেকে সেগুলোর প্রচার ও প্রসারে নিয়োজিত ব্যাপক প্রচেষ্টার ফলে। এমনকি তা জনপর্যায়ে ‘মুতাওয়াতির’ বা অকাট্য সংবাদের বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছিল, যা লেখক, গ্রন্থকার এবং সর্বসাধারণকে এই সকল বিষয় লেখায় লিপিবদ্ধ করার সময় কিংবা সভা-সমাবেশে তা পাঠ করার সময় এর সত্যতা ও বাস্তবতা সম্পর্কে যে কোনো ধরণের অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছিল …

এর কারণ হলো শায়খ দাহলানের মতো একজন বিশিষ্ট আলেম সম্পর্কে সহজে এ সন্দেহ করা যায় না যে, তিনি এই অপবাদগুলোর উদ্ভাবক ছিলেন কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের দিকে এগুলো নিহিত করেছেন; কেননা আখিরাতে বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তি এমন কাজের সাহস করতে পারে না। আর আল্লাহই সঠিকটা ভালো জানেন।

শায়খ জাইনি তাঁর ‘খুলাসাতুল কালাম’ গ্রন্থে তাঁর সমসাময়িক অপর একজন আলেম থেকে নিম্নোক্ত বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন, আর তিনি হলেন জাবিদ শহরের মুফতি শায়খ আব্দুর রহমান আল-আহদাল (১):

--------------------------------------------

(১) আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান আল-আহদাল আল-হুসাইনি, একজন ইতিহাসবিদ...