(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: -)
دعاوى النصارى في مجيء المسيح عليه السلام (سعود بن عبد العزيز الخلف)
القسم: كتب عامة
الكتاب: دعاوى النصارى في مجيء المسيح عليه السلام
المؤلف: سعود بن عبد العزيز الخلف
الناشر: مطابع جامعة أم القرى
الطبعة: *
عدد الصفحات: 406
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন সম্পর্কে খ্রিস্টানদের দাবিসমূহ (সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খালাফ)
বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন সম্পর্কে খ্রিস্টানদের দাবিসমূহ
লেখক: সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খালাফ
প্রকাশক: উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস
সংস্করণ: *
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪৩)
دعاوى النصارى في مجيء المسيح عليه السلامد. سعود بن عبد العزيز الخلف.أستاذ مشارك – قسم العقيدة – كلية الدعوة وأصول الدين – الجامعة الإسلاميةملخص البحثالحمد لله والصلاة والسلام على رسوله محمد وعلى آله وصحبه وسلم وبعد:فإن بحث "دعاوى النصارى في مجيء المسيح عليه السلام يكشف عن اضطراب النصارى في هذه الدعوى كسائر تقريراتهم الدينية فقد كانوا بعد رفع المسيح عليه السلام على أمل في مجيئه ودعوته قريبا.وكثر كلامهم في هذا الموضوع حتى ظن بولس أن المسيح سيعود وهو حي وأنه سيرتفع معه إلى السماء ولا زال هذا هاجسا لهم إلى أن ارتقع الاضطهاد عنهم فزالت عنهم حالة الترقب التي يقويها في الغالب الخوف والضعف فأعرض الجمهور الأعظم منهم عن هذه الدعوى وزعموا أن مجيئه إنما يكون للقيامة وخالفهم في ذلك طوائف أخرى جعلوا جل نشاطهم في إظهار ذلك الأمر وادعوا أن المسيح سيعود قريبا ويقيم حكما لمدة ألف سنة على الأرض بعدها تكون القيامة بعد أن يقضى على الدجال ويأجوج ومأجوج والشيطان.وبدراسة أقوالهم يتبين أن النصارى ينطلقون في دعاويهم من أمرين:أولا: نصوص ليست ثابتة في أصلها وليست واضحة في مدلولها بل ربما تكونألغازا مستغلقة لا يمكن فك رموزها إلابضرب من التخمين.ثانيا: فهوم خاصة تنبع من الأهواء المستحكمة.وقد قمت في هذه الدراسة بتفصيل هذا كله ليكون المسلم أكثر حمدا وشكرا لله تعالى بما أنعم على المسلمين من الهداية إلى دينه القويم وصراطه المستقيم. وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন সম্পর্কে নাসারাদের দাবিড. সাউদ বিন আবদুল আজিজ আল-খালাফ।সহযোগী অধ্যাপক – আকিদাহ বিভাগ – দাওয়াহ ও উসুল আদ-দীন অনুষদ – ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গবেষণার সারসংক্ষেপসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:নিশ্চয়ই "ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন সম্পর্কে নাসারাদের দাবি" শীর্ষক গবেষণাটি তাদের অন্যান্য ধর্মীয় বিবৃতির মতো এই দাবির ক্ষেত্রেও নাসারাদের অসংলগ্নতা (اضطراب) উন্মোচন করে। কারণ ঈসা আলাইহিস সালামকে উঠিয়ে নেওয়ার পর তারা তাঁর শীঘ্রই আগমন ও আহ্বানের আশায় ছিল।এই বিষয়ে তাদের আলোচনা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, পল ধারণা করেছিলেন ঈসা আলাইহিস সালাম তার জীবদ্দশাতেই ফিরে আসবেন এবং তিনি তাঁর সাথে আকাশে আরোহণ করবেন। এটি তাদের জন্য একটি নিরন্তর চিন্তা হিসেবে অব্যাহত ছিল যতক্ষণ না তাদের ওপর থেকে নিপীড়ন দূর হয়; ফলে তাদের প্রতীক্ষার সেই অবস্থাটি বিলীন হয়ে যায় যা মূলত ভয় ও দুর্বলতার কারণে প্রবল ছিল। অতঃপর তাদের বিশাল এক জনগোষ্ঠী এই দাবি থেকে বিমুখ হয়ে যায় এবং দাবি করে যে তাঁর আগমন কেবল কিয়ামতের সময়ই হবে। অন্যান্য দল তাদের বিরোধিতা করেছে, যারা এই বিষয়টি প্রকাশ করার পেছনেই তাদের অধিকাংশ তৎপরতা নিয়োজিত করেছে; তারা দাবি করেছে যে ঈসা আলাইহিস সালাম শীঘ্রই ফিরে আসবেন এবং পৃথিবীতে এক হাজার বছর শাসন পরিচালনা করবেন, যার পর কিয়ামত সংঘটিত হবে—দাজ্জাল, ইয়াজুজ-মাজুজ এবং শয়তানকে নির্মূল করার পর।তাদের বক্তব্যগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, নাসারারা তাদের এই দাবিগুলোর ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে চলে:প্রথমত: এমন কিছু পাঠ যা মূলগতভাবে সাব্যস্ত (ثابتة) নয় এবং যার অর্থও স্পষ্ট নয়; বরং সম্ভবত সেগুলো এমন জটিল ধাঁধা যার সমাধান কেবল অনুমানের মাধ্যমেই সম্ভব।দ্বিতীয়ত: বিশেষ কিছু উপলব্ধি যা বদ্ধমূল খেয়াল-খুশি থেকে উৎসারিত।আমি এই গবেষণায় এই সমস্ত কিছুর বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেছি যাতে একজন মুসলিম আল্লাহ তায়ালার প্রতি আরও বেশি প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন, যেহেতু তিনি মুসলমানদেরকে তাঁর সঠিক দ্বীন ও সরল পথের দিকে হেদায়েত দান করে অনুগ্রহ করেছেন। আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪৪)
مقدم
--------------------------------------------
ةإنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل الله، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم وبعد.فإن نزول المسيح عليه السلام في آخر الزمان كما هو الاعتقاد الحق لدينا نحن المسلمين، من العقائد التي يشاركنا فيها من وجه كلٌ من النصارى واليهود، وهو من الموضوعات - بالنسبة للنصارى واليهود - القديمة المعاصرة، بمعنى أن الاعتقاد بنزوله عليه السلام لمَّا صار مستقراً في أذهانهم ولم يتحدد له وقت معين بصورةٍ مؤكدة، صار أصحاب كل من الديانتين في ترقبٍ شبه دائم، مع بروز الدعوات عن قرب مجيئه وأنه وشيك، حيث تسمع المناداة بقرب مجيئه في كثيرٍ من شوارع الغرب التي يجوبها بعض متحمسيهم، بل إنني أذكر أن أحد الإخوة في فرنسا كان يسكن في بيت عجوزٍ فرنسية، فسألته مرةً عن حالها، فأخبرني أنها امرأة متمسكة بدينها وأنها لم تتزوج قط، وأخبرني أنه من الغريب في شأن هذه المرأة أنها تعتقد أنها لن تموت؟! وإنما سيأتي المسيح قريباً فيأخذها إليه، وهي في انتظارٍ دائمٍ لهذا الحدث السعيد. فقلت: سبحان الله كيف تَزيَّن الباطل لأهله
ভূমিকা (مقدمة)
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করছি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত কামনা করছি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর—শেষ জামানায় ঈসা (আ.)-এর অবতরণ—যা আমাদের মুসলমানদের নিকট সঠিক আকিদা (عقيدة)—এমন একটি বিশ্বাস যাতে ইহুদি ও খ্রিস্টানরাও একদিক থেকে আমাদের সাথে অংশীদার। খ্রিস্টান ও ইহুদিদের নিকট এটি একটি প্রাচীন অথচ সমকালীন বিষয়। এর অর্থ হলো, তাঁর অবতরণ সংক্রান্ত বিশ্বাস যখন তাদের অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে গেল এবং এর কোনো নির্দিষ্ট সময় অকাট্যভাবে নির্ধারিত হলো না, তখন উভয় ধর্মের অনুসারীরা এক প্রকার নিরন্তর প্রতীক্ষায় নিমগ্ন হলো। বিশেষ করে তাঁর আগমনের সময় নিকটবর্তী এবং তা আসন্ন—এমন সব আহ্বানের প্রসারের ফলে; এমনকি পশ্চিমা বিশ্বের অনেক রাজপথে, যেখানে তাদের কিছু উৎসাহী লোক বিচরণ করে, সেখানে তাঁর আসন্ন আগমনের ঘোষণা শোনা যায়। এমনকি আমার মনে পড়ে, ফ্রান্সে আমার এক ভাই জনৈক ফরাসি বৃদ্ধার বাড়িতে থাকতেন। আমি একবার তাঁর কাছে সেই মহিলার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান যে, তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মহিলা এবং তিনি কখনো বিয়ে করেননি। তিনি আমাকে আরও জানান যে, এই মহিলার ক্ষেত্রে আশ্চর্যের বিষয় হলো তিনি বিশ্বাস করেন যে তিনি মরবেন না! বরং শীঘ্রই মসীহ আসবেন এবং তাঁকে নিজের কাছে নিয়ে যাবেন; আর তিনি সর্বদা এই আনন্দময় মুহূর্তের প্রতীক্ষায় দিনাতিপাত করছেন। তখন আমি বললাম: সুবহানাল্লাহ! বাতিল (باطل) কীভাবে এর অনুসারীদের নিকট সুশোভিত হয়ে ওঠে!
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪৫)
فصاروا يرونه حسناً وصدق الله القائل: {كَذَلِكَ زَيَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ عَمَلَهُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ مَرْجِعُهُمْ فَيُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأنعام 108] .وقوله تعالى: {أَفَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَآهُ حَسَناً فَإِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ} [فاطر 8] .واليهود كذلك ينتظرون المسيح بلهفٍ شديدٍ وترقبٍ دائم، حتى إن من حاخاماتهم من كان يقول لأهله إذا أراد النوم: إذا جاء المسيح المخلص وأنا نائمٌ فأيقظوني دون تردد، ومنهم من جعل غرفةً خاصةً في بيته ووضع فيها كل غالٍ وثمين، ولا يسمح لأحدٍ بدخولها يسميها "غرفة المسيح" 1،بل إن بعض الكَّتاب يرى أن من أكبر دوافع الغرب وخاصةً أمريكا في دعم اليهود للتجمع في فلسطين وحماسهم للدفاع عنهم، هو اعتقادهم أنهم بهذا يمهدون الطريق لسرعة مجيء المسيح.2هذه التصورات والأعمال مبنية على اعتقاداتٍ لدى القوم، فأحببت أن أكتب في هذا الموضوع بالنسبة للنصارى أولاً، فأجلّيَ موقفهم الديني من مجيء المسيح عليه السلام وأبين بالتالي أن كثيراً مما ادعوه باطلٌ بناءً على بطلان مصادرهم وبطلان مفهومهم لها.وقد قسمت هذا البحث إلى فصلين وخاتمة:الفصل الأول: في دعاوى النصارى في مجيء المسيح عليه السلام.وفيه مقدمة وثلاثة مباحث:المقدمة وفيها: أدلة النصارى على المجيىء.المبحث الأول: الذين قالوا بمجيئه بعد وقت قصير من ارتفاعه.
ফলে তারা একে উত্তম হিসেবে দেখতে শুরু করল এবং মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {এভাবে আমি প্রত্যেক উম্মতের কাছে তাদের কর্মকে সুশোভিত করে দিয়েছি, অতঃপর তাদের রবের নিকট তাদের প্রত্যাবর্তন হবে। তখন তিনি তাদের জানিয়ে দেবেন যা তারা করত।} [আল-আনআম: ১০৮]।এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যাকে তার মন্দ আমল সুশোভিত করে দেখানো হয়েছে, ফলে সে একে উত্তম মনে করে, (সে কি হিদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির সমান?) নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন।} [ফাতির: ০৮]।ইহুদিরাও একইভাবে অত্যন্ত ব্যাকুলতা ও নিরন্তর প্রতীক্ষার সাথে মসীহের অপেক্ষা করছে; এমনকি তাদের র্যাবাইদের মধ্যে কেউ কেউ ঘুমানোর সময় তার পরিবারকে বলতেন: "যদি আমি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় মুক্তিদাতা মসীহ আসেন, তবে আমাকে দ্বিধাহীনভাবে জাগিয়ে দিও।" তাদের কেউ কেউ নিজের বাড়িতে একটি বিশেষ কক্ষ নির্দিষ্ট করে সেখানে মূল্যবান ও দামী সব বস্তু রাখতেন এবং কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দিতেন না; তিনি এটিকে "মসীহের কক্ষ" বলে অভিহিত করতেন। এমনকি কোনো কোনো লেখক মনে করেন যে, ফিলিস্তিনে ইহুদিদের একত্র করার ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের, বিশেষ করে আমেরিকার সমর্থন ও তাদের প্রতিরক্ষায় তাদের প্রবল আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ হলো তাদের এই বিশ্বাস যে, এর মাধ্যমে তারা মসীহের দ্রুত আগমনের পথ প্রশস্ত করছে।এই সকল ধারণা ও কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই আমি এ বিষয়ে প্রথমত খ্রিষ্টানদের সম্পর্কে লিখতে চেয়েছি, যাতে মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর আগমন সম্পর্কে তাদের ধর্মীয় অবস্থান স্পষ্ট করতে পারি এবং এটি প্রমাণ করতে পারি যে, তাদের অধিকাংশ দাবিই অসার; কারণ তাদের উৎসসমূহ এবং সেই উৎসগুলোর ব্যাপারে তাদের ধারণা—উভয়ই ভ্রান্ত।আমি এই গবেষণাটিকে দুটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি:প্রথম অধ্যায়: মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর আগমন সম্পর্কে খ্রিষ্টানদের দাবিসমূহ।এতে একটি ভূমিকা ও তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:ভূমিকা: এতে রয়েছে আগমনের স্বপক্ষে খ্রিষ্টানদের প্রমাণাদি (أدلة)।প্রথম পরিচ্ছেদ: যারা তার (মসীহের) ঊর্ধ্বারোহণের অল্পকাল পরেই তার পুনরাগমনের কথা বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪৬)
المبحث الثاني: الذين قالوا بمجيئه قبل القيامة، وأنه يؤسس ملكاً على الأرض مدته ألف سنة. وفيه ثلاثة مطالب:المطلب الأول: كيفية مجيئه.المطلب الثاني: علامات مجيئه.المطلب الثالث: الحوادث التي تقع بعد الألف سنة.المبحث الثالث: من يرى أن مجيء المسيح إنما هو للقيامة والحساب وأنه لايؤسس ملكاً على الأرض. وفيه مطلبان:المطلب الأول: العلامات التي يتفقون عليها.المطلب الثاني: العلامات التي يختلفون فيها.الفصل الثاني: الرد على النصارى في دعاوى المجيء. وفيه مبحثان:المبحث الأول: بطلان المصادر المعتمدة إجمالاً. وفيه مطلبان:المطلب الأول: العهد القديم، وإنكار طائفة من اليهود والنصارى لقدسيته.المطلب الثاني: العهد الجديد، وإقرار كثير من النصارى بجهالة كتاب تلك الكتب.المبحث الثاني: في بطلان مااستدلوا به على دعاويهم في المجيء سنداً ومتناً. وفيه ثلاثة مطالب:المطلب الأول: سفر دانيال.المطلب الثاني: رسائل بولس.المطلب الثالث: سفر رؤيا يوحنا.ثم الخاتمة: وفيها أهم نتائج البحث.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যারা কিয়ামতের পূর্বে তাঁর আগমনের কথা বলেন এবং তিনি পৃথিবীতে এক হাজার বছর ব্যাপী একটি রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর আগমনের ধরন।দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর আগমনের নিদর্শনসমূহ।তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এক হাজার বছর পর সংঘটিত ঘটনাবলি।তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যারা মনে করেন যে মসীহের আগমন কেবল কিয়ামত ও হিসাব-নিকাশের জন্য এবং তিনি পৃথিবীতে কোনো রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন না। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:প্রথম অনুচ্ছেদ: সেসব নিদর্শন যেগুলোর ব্যাপারে তারা একমত।দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: যেসব নিদর্শনে তাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে।দ্বিতীয় অধ্যায়: খ্রিস্টানদের আগমনের দাবির খণ্ডন। এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:প্রথম পরিচ্ছেদ: সামগ্রিকভাবে নির্ভরযোগ্য (معتمد) উৎসসমূহের অসারতা। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:প্রথম অনুচ্ছেদ: ওল্ড টেস্টামেন্ট (পুরাতন নিয়ম), এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের একটি দলের পক্ষ থেকে এর পবিত্রতা অস্বীকার।দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নিউ টেস্টামেন্ট (নতুন নিয়ম), এবং অনেক খ্রিস্টান কর্তৃক ওই কিতাবসমূহের লেখকদের পরিচয় অজ্ঞাত (جهالة) হওয়ার স্বীকৃতি।দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আগমনের ব্যাপারে তারা যা দ্বারা দলিল পেশ করেছে, তার সূত্র (سند) ও মূলপাঠের (متن) অসারতা প্রসঙ্গে। এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:প্রথম অনুচ্ছেদ: দানিয়েলের পুস্তক।দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পলের পত্রাবলি।তৃতীয় অনুচ্ছেদ: যোহনের প্রত্যাদেশ।পরিশেষে উপসংহার: এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪৭)
هذا وأسأل الله عز وجل أن يهدينا سواء السبيل، وأن يقينا الفتن ما ظهر منها وما بطن، وأن يجعل عملي هذا خالصاً لوجهه، إنه جوادٌ كريم وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
পরিশেষে, আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং প্রকাশ্য ও গোপন সকল ফিতনা (الفتن) থেকে আমাদের রক্ষা করেন। তিনি যেন আমার এই আমলকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও মহানুভব। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সাহাবীদের (صحبه) ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪৭)
الفصل الأول: دعاوى النصارى في مجيء المسيح عليه السلاممقدمة:يعتقد النصارى أن المسيح عليه السلام قد صلبه اليهود، ومات على الصليب، ثم أُنزل من الصليب، وبعد دفنه فيما يقولون بثلاثة أيام 3 قام من قبره، ثم ظهر للتلاميذ، وزعموا أنه بقي معهم أربعين يوماً، ثم ارتفع إلى السماء، وهم ينظرون، وهم يستندون في ذلك على نصوص تدل على عودته ونزوله مرة أخرى. من هذه النصوص:ما ورد في "إنجيل يوحنا" 14/2-3 أن المسيح قال لهم: "في بيت أبي منازل كثيرة وإلا فإني كنت قد قلت لكم أنا أمضي لأعد لكم مكاناً، وإن مضيت وأعددت لكم مكاناً آتي أيضاً وآخذكم إليّ حتى حيث أكون أنا تكونون أنتم أيضاً".وفي "سفرأعمال الرسل" 1/11 بعد ارتفاع المسيح عليه السلام ذكروا أن ملكين قالا لتلاميذه: "أيها الرجال الجليليون ما بالكم واقفين تنظرون إلى السماء، إن يسوع هذا الذي ارتفع عنكم إلى السماء سيأتي هكذا كما رأيتموه منطلقاً إلى السماء".
প্রথম অধ্যায়: ঈসা আলাইহিস সালামের পুনরাগমন সম্পর্কে খ্রিস্টানদের দাবিভূমিকা:খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে যে, মসীহ আলাইহিস সালামকে ইহুদিরা ক্রুশবিদ্ধ করেছে এবং তিনি ক্রুশের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন। এরপর তাঁকে ক্রুশ থেকে নামানো হয় এবং তাদের বর্ণনামতে দাফন করার তিন দিন ৩ পর তিনি তাঁর কবর থেকে পুনরুত্থিত হন। অতঃপর তিনি তাঁর শিষ্যদের নিকট আত্মপ্রকাশ করেন এবং তারা দাবি করে যে, তিনি তাদের সাথে চল্লিশ দিন অবস্থান করেছিলেন। এরপর তাদের চোখের সামনেই তিনি আকাশে আরোহণ করেন। তারা এই বিশ্বাসের স্বপক্ষে এমন কিছু মূল পাঠ (نصوص)-এর ওপর নির্ভর করে যা তাঁর প্রত্যাবর্তন ও পুনরায় অবতরণের প্রমাণ দেয়। এই পাঠগুলোর (نصوص) মধ্যে রয়েছে:"যোহন লিখিত সুসমাচার" ১৪/২-৩ এ বর্ণিত হয়েছে যে, মসীহ তাদের বলেছিলেন: "আমার পিতার গৃহে অনেক বাসস্থান রয়েছে, অন্যথায় আমি কি তোমাদের বলতাম যে আমি তোমাদের জন্য স্থান প্রস্তুত করতে যাচ্ছি? আর আমি যদি যাই এবং তোমাদের জন্য স্থান প্রস্তুত করি, তবে আমি পুনরায় আসব এবং তোমাদের আমার নিজের কাছে নিয়ে নেব, যাতে আমি যেখানে থাকি তোমরাও সেখানে থাকতে পারো।"এবং "শিষ্যদের প্রেরিত কার্যবিবরণী" ১/১১-তে মসীহ আলাইহিস সালামের আরোহণের পর উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুজন ফেরেশতা তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন: "হে গালীলীয় ব্যক্তিগণ, তোমরা কেন আকাশের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছ? এই ঈসা, যাকে তোমাদের মধ্য থেকে আকাশে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, তিনি ঠিক সেভাবেই পুনরায় আসবেন যেভাবে তোমরা তাঁকে স্বর্গে যেতে দেখেছ।"
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪৮)
وفي "إنجيل متى" 16/28 ذكروا عن المسيح أنه قال لهم: "الحق أقول لكم إن من القيام هاهنا قوماً لا يذوقون الموت حتى يروا ابن الإنسان آتياً في ملكوته".وقد ركز "بولس" كثيراً على دعوى مجيء المسيح وقربها جداً، حتى زعم أن المسيح سيأتي وهو حي فقال في رسالته إلى "كورنثوس الأولى" 15/51 - 52 "هو ذا سر أقوله لكم لا نرقد كلنا ولكننا نتغير في لحظة في طرفة عينٍ عند البوق الأخير، فإنه سيبوق فيُقام الأموات عديمي فساد ونحن نتغير".وهكذا زعم أيضاً في رسالته إلى "تسالونيكى" 4/ 15 - 17 حيث قال: "فإننا نقول لكم بكلمة الرب إننا نحن الأحياء الباقين إلى مجيء الرب لا نسبق الراقدين، لأن الرب نفسه بهتاف بصوت رئيس ملائكة، وبوق الله سوف ينزل من السماء والأموات في المسيح سيقومون أولاً، ثم نحن الأحياء الباقين سنخطف جميعاً معهم في السحب لملاقاة الرب في الهواء، وهكذا نكون كل حين مع الرب".كما تكرر في "سفر الرؤيا" تأكيد المجيء الثاني وأنه مجيءٌ سريع حيث يقول: "ها أنا آتي سريعاً" 3/11، 127/12، 20.فهذه النصوص يقرر من خلالها النصارى أن المسيح عليه السلام سيأتي مرةً ثانية، إلا أنهم اختلفوا في وقت مجيئه إلى أقوالٍ عديدةٍ نذكرها في المباحث التالية ونبين ما في تلك الأقوال من الأخطاء والانحرافات: -
এবং "মথি লিখিত সুসমাচার" ১৬/২৮-এ তারা মসীহ সম্পর্কে উল্লেখ করেছে যে, তিনি তাদের বলেছিলেন: "আমি তোমাদের সত্য বলছি, এখানে যারা দণ্ডায়মান তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে না যতক্ষণ না তারা মানবপুত্রকে তাঁর রাজত্বে আসতে দেখবে।"এবং "পল" মসীহের আগমনের দাবি এবং এর নিকটবর্তিতার ওপর অনেক গুরুত্বারোপ করেছেন, এমনকি তিনি দাবি করেছেন যে মসীহ তাঁর জীবদ্দশাতেই আগমন করবেন। তিনি "১ম করিন্থীয়" ১৫/৫১-৫২-তে তাঁর পত্রে বলেছেন: "দেখো, আমি তোমাদের একটি রহস্য বলছি, আমরা সবাই নিদ্রা যাব না, কিন্তু শেষ তূরী বাজার সময় আমরা এক মুহূর্তে, চোখের পলকে পরিবর্তিত হয়ে যাব। কেননা তূরী বাজানো হবে এবং মৃতরা অবিনশ্বর অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে এবং আমরা পরিবর্তিত হব।"অনুরূপভাবে তিনি "থিষলনীকীয়" ৪/১৫-১৭-তে তাঁর পত্রেও দাবি করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "প্রভুর বাক্যানুসারে আমরা তোমাদের বলছি যে, যারা আমরা জীবিত আছি এবং প্রভুর আগমন পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকব, আমরা কোনোভাবেই সেই নিদ্রিতদের অগ্রগামী হব না। কারণ প্রভু নিজেই উচ্চরবে, প্রধান দূতের কণ্ঠে এবং আল্লাহর তূরীর ধ্বনিসহ আকাশ থেকে অবতীর্ণ হবেন এবং যারা মসীহে মৃত্যুবরণ করেছে তারা প্রথমে পুনরুত্থিত হবে। তারপর আমরা যারা জীবিত ও অবশিষ্ট থাকব, তাদের সাথে মেঘযোগে প্রভুর সাথে সাক্ষাতের জন্য শূন্যে নীত হব, আর এভাবেই আমরা সর্বদা প্রভুর সাথে থাকব।"তেমনিভাবে "প্রকাশিত বাক্য" পুস্তকেও দ্বিতীয় আগমনের নিশ্চয়তা এবং তা দ্রুত ঘটার বিষয়টি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে: "দেখো, আমি শীঘ্রই আসছি" ৩/১১, ১২/১২৭, ২০।এই পাঠ্যসমূহের (النصوص) মাধ্যমে খ্রিষ্টানরা এটি সাব্যস্ত করে যে মসীহ আলাইহিস সালাম দ্বিতীয়বার আগমন করবেন; তবে তাঁর আগমনের সময় সম্পর্কে তারা নানাবিধ মতে (أقوال) বিভক্ত হয়েছে যা আমরা পরবর্তী পরিচ্ছেদগুলোতে (المباحث) উল্লেখ করব এবং সেই মতগুলোর ভুল ও বিচ্যুতিসমূহ স্পষ্ট করব: -
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪৯)
المبحث الأول: الذين قالوا بمجيئه بعد ارتفاعه بوقتٍ قصيربعض النصوص السابقة فيها الإيحاء بأن المسيح عليه السلام سيعود بعد وقت قصير من وقت ارتفاعه، لهذا برز عند النصارى في وقتٍ مبكرٍ من تاريخهم دعوى عودته ومجيئه مرة أخرى.وممن كان على هذا الاعتقاد "بولس" فقد صرح بأن مجيء المسيح مرةً أخرى سيكون في الفترة الزمنية التي هو يعيش فيها، كما في قوله السابق لأهل "تسالونيكى" "إنَّا نحن الأحياء الباقين إلى مجيء الرب لا نسبق الراقدين..والأموات في المسيح سيقومون أولاً ثم نحن الأحياء الباقين سنخطف معهم في السحب لملاقاة الرب في الهواء وهكذا نكون كل حين مع الرب".وقوله في "كورنثوس الأولى" 15/51 - 53 "لا نرقد كلنا ولكننا كلنا نتغير في لحظة في طرفة عينٍ عند البوق الأخير فإنه سيبوق فيقام الأموات عديمي فساد ونحن نتغير". هكذا زعم. ولا شك أن هذا لم يتحقق فلم يأت المسيح عليه السلام، ولم يخطف "بولس"، وبان بهذا أن قوله السابق غير صحيح وهو كاذب فيه، ولعله بسبب هذا القول لم يحرر تاريخ مؤكد لوفاته، فإن النصارى لا يعلمون على اليقين أين تُوفي، ومتى كان ذلك، وإنما يعلمون أنه وصل حسب المعلومات المتوفرة إلى روما، ثم منهم من يقول إنه قُتل في اضطهادات "نيرون"4عام 64م، ومنهم من يقول إنه لم يُقتل وإنما أطلق سراحه، وسافر إلى المشرق، وربما إلى إسبانيا ويقال أنه قتل سنة 67م. 5المهم هنا أن هذا القول منه خطأ بيِّن، فيكون كلامه كله مطعوناً فيه، خاصةً وأنه نسب الكلام السابق إلى الله عز وجل حيث قال قبله: "فإننا نقول لكم هذا بكلمة
প্রথম পরিচ্ছেদ: যারা তাঁর ঊর্ধ্বারোহণের অল্পকাল পরেই তাঁর পুনরাগমনের কথা বলেছেনপূর্বোক্ত কিছু পাঠ্যলব্ধ বর্ণনায় এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, মাসীহ (আলাইহিস সালাম) তাঁর ঊর্ধ্বারোহণের অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে আসবেন। এ কারণেই নাসারাদের ইতিহাসের প্রাথমিক যুগেই তাঁর পুনরাগমন ও পুনরায় পৃথিবীতে আসার দাবিটি প্রকট হয়ে ওঠে।এই বিশ্বাসের অনুসারীদের মধ্যে ছিলেন "পল"। তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, মাসীহ-এর দ্বিতীয়বার আগমন তাঁর জীবদ্দশাতেই ঘটবে। যেমনটি "থেসালোনিকীয়"দের প্রতি তাঁর পূর্ববর্তী উক্তিতে বর্ণিত হয়েছে: "প্রভুর আগমন পর্যন্ত আমরা যারা জীবিত অবশিষ্ট আছি, তারা নিদ্রিতদের অগ্রগামী হব না... এবং মাসীহ-এ মৃতরাই প্রথমে পুনরুত্থিত হবে; এরপর আমরা যারা জীবিত অবশিষ্ট থাকব, মেঘমালার মাঝে তাদের সাথে আমাদেরও তুলে নেওয়া হবে শূন্যে প্রভুর সাথে সাক্ষাতের জন্য। আর এভাবেই আমরা সর্বদা প্রভুর সাথে থাকব।"এবং "প্রথম করিন্থীয়" (১৫/৫১-৫৩) তে তাঁর উক্তি: "আমরা সবাই নিদ্রিত হব না, কিন্তু শেষ তূর্যধ্বনির সময় আমরা সবাই এক মুহূর্তের মধ্যে, চোখের পলকে পরিবর্তিত হয়ে যাব। কেননা তূর্য বাজানো হবে এবং মৃতরা অবিনশ্বর অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে এবং আমরা রূপান্তরিত হব।" তিনি এমনই দাবি (زعم) করেছিলেন। কোনো সন্দেহ নেই যে এটি বাস্তবায়িত হয়নি; কারণ মাসীহ (আলাইহিস সালাম) আসেননি এবং পলকেও তুলে নেওয়া হয়নি। এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তাঁর পূর্ববর্তী উক্তিটি সঠিক নয় (غير صحيح) এবং তিনি এতে মিথ্যাবাদী (كاذب)। সম্ভবত এই বক্তব্যের কারণেই তাঁর মৃত্যুর কোনো নিশ্চিত তারিখ সংরক্ষিত হয়নি। কারণ নাসারারা নিশ্চিতভাবে জানে না যে তিনি কোথায় মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তা কখন ছিল। লভ্য তথ্য অনুযায়ী তারা কেবল এটুকুই জানে যে তিনি রোমে পৌঁছেছিলেন। এরপর তাদের কেউ কেউ বলে যে তিনি ৬৪ খ্রিস্টাব্দে "নিরো"র নিপীড়নের সময় নিহত হন। আবার কেউ বলে তিনি নিহত হননি বরং মুক্তি পেয়েছিলেন এবং প্রাচ্যে ভ্রমণ করেছিলেন, সম্ভবত স্পেনেও গিয়েছিলেন; এবং বলা হয় যে তিনি ৬৭ খ্রিস্টাব্দে নিহত হন।এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁর এই বক্তব্যটি একটি স্পষ্ট ভুল (خطأ بين), ফলে তাঁর সমগ্র কথাটিই প্রশ্নবিদ্ধ (مطعون فيه) হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যেহেতু তিনি পূর্বোক্ত কথাটিকে মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, যেখানে তিনি এর আগে বলেছিলেন: "আমরা প্রভুর বাক্যের মাধ্যমেই তোমাদের এটি বলছি..."
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫০)
الرب".كما أن اعتقاد المجيء السريع للمسيح كان منتشراً بين أناسٍ كثيرين من النصارى في تاريخهم المبكر بعد رفع المسيح عليه السلام. 6وفي نهاية القرن الثاني الميلادي ادعت امرأتان اسم احداهما "بريسكلا" والأخرى "ماكسيميلا" النبوة، وأعلنتا عن قرب نهاية العالم، ورجوع المسيح عليه السلام وأن بيت المقدس الجديد سوف ينزل على القرية الصغيرة "بيبوزا" وأمرتا أتباعهما بالاستعداد لهذا المجيء بالكف عن الزواج، وزيادة أوقات الصيام، والامتناع عن شرب الخمر والأطعمة الشهية، واجتمع جمعٌ غفيرٌ منهم في "فريجيا" انتظاراً لرجوع المسيح، حتى إن أسقفاً من سوريا قاد كل أعضاء كنيسته ليقابلوا المسيح في الصحراء، ولكنهم ضلوا الطريق، وكانوا على شفا الموت جوعاً لولا أن أنقذتهم السلطات. 7
প্রভুর।" ঠিক যেমন মসীহ আলাইহিস সালামের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের বিশ্বাসটি তাঁর ঊর্ধ্বারোহণের পরবর্তী প্রাথমিক ইতিহাসে বহু খ্রিস্টানদের মাঝে বিস্তৃত ছিল। ৬এবং দ্বিতীয় খ্রিস্টীয় শতাব্দীর শেষের দিকে দুইজন নারী, যাঁদের একজনের নাম "প্রিসিলা" এবং অপরজনের নাম "ম্যাক্সিমিলিয়া", নবুওয়াতের দাবি করেন। তাঁরা কিয়ামত বা জগতের সমাপ্তি নিকটবর্তী হওয়া এবং মসীহ আলাইহিস সালামের প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দেন। তাঁরা আরও দাবি করেন যে, নতুন বাইতুল মাকদিস "পেপুজা" নামক একটি ছোট গ্রামে অবতীর্ণ হবে। তাঁরা তাঁদের অনুসারীদের বিবাহ বর্জন, সিয়ামের সময়কাল বৃদ্ধি এবং মদ ও সুস্বাদু খাবার পরিহার করার মাধ্যমে এই আগমনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। মসীহের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায় "ফ্রিজিয়া" নামক স্থানে তাঁদের এক বিশাল সমাবেশ ঘটেছিল। এমনকি সিরিয়ার একজন বিশপ তাঁর গির্জার সকল সদস্যকে নিয়ে মরুভূমিতে মসীহের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন; কিন্তু তাঁরা পথ হারিয়ে ফেলেন এবং ক্ষুধার তীব্রতায় মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন, যদি না সরকারি কর্তৃপক্ষ তাঁদের উদ্ধার করত। ৭
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫০)
المبحث الثاني: الذين قالوا بمجيئه قبل القيامة وأنه يؤسس مُلكاً على الأرض مدته ألف سنةمدخل…المبحث الثاني: الذين قالوا بمجيئه قبل القيامة وأنه يؤسس مُلكاً على الأرض مدته ألف سنةطائفةٌ من النصارى يرون أن المسيح عليه السلام سيأتي إلى الأرض، ويؤسس بذلك مُلكاً مدته ألف سنة، يسمون "الألفيين"، وعلى هذا الرأي من المتقدمين: "جاستن مارتر" 8و"إيريانوس"، 9 و"ترتليان" 10.يقول "دين الفورد": "إن الكنيسة كلها في الثلاثمائة سنة الأولى من العصر المسيحي تفهم ملك الألف سنة في معناه الواضح، بأنه ملك حرفي على الأرض" 11، وعليه أيضاً "ناشد حنا"، صاحب كتاب " شرح سفر الرؤيا "، وكذلك أخذ به من النصارى من يُسمّون بـ"لأصوليين" 12، وهي
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিয়ামতের পূর্বে তাঁর আগমন এবং পৃথিবীতে এক হাজার বছর ব্যাপী রাজত্ব প্রতিষ্ঠার প্রবক্তাগণভূমিকা…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিয়ামতের পূর্বে তাঁর আগমন এবং পৃথিবীতে এক হাজার বছর ব্যাপী রাজত্ব প্রতিষ্ঠার প্রবক্তাগণখ্রিস্টানদের একটি দল মনে করে যে, মসীহ (আলাইহিস সালাম) পৃথিবীতে আগমন করবেন এবং এর মাধ্যমে এক হাজার বছর স্থায়ী একটি রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন; তাদেরকে "সহস্রাব্দবাদী" বলা হয়। পূর্ববর্তীদের মধ্যে জাস্টিন মার্টার, ইরেনিয়াস এবং টারটুলিয়ান এই মত পোষণ করতেন।ডিন অ্যালফোর্ড বলেন: "খ্রিস্টীয় যুগের প্রথম তিনশ বছরে সমগ্র গির্জা এক হাজার বছরের রাজত্বকে তার স্পষ্ট অর্থে আক্ষরিকভাবেই পৃথিবীতে একটি রাজত্ব হিসেবে বুঝতে পেরেছিল।" 'শারহু সিফরিল রুয়া' গ্রন্থের লেখক নাশেদ হান্নাও এই মত পোষণ করেন। একইভাবে খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা "মৌলবাদী" হিসেবে পরিচিত, তারাও এই মত গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫১)
فرق انبثقت من " البروتستانت" 13، مثل: " السبتيين" 14، و" شهود يهوه" 15، و"المورمون" 16.ومن أقوالهم في هذا: قول صاحب كتاب "يسوع على الأبواب": "سيأتي المسيح ثانيةً، ويقيد الشيطان ألف سنة، ويؤسس مملكته على الأرض، وسيملك معه القديسون" 17.ويقول"إبراهيم صبري" صاحب كتاب "خطوة خطوة نحو نهاية العالم": "لابد للمسيح أن يعود مرةً ثانيةً ليسترد كرامته التي أُهينت في نفس المكان الذي أهين فيه، فإذا كان قد جاء في المرة الأولى إلى الأرض في صورة الضعف والاتضاع كالحمل الوديع من أجل تحقيق هدفٍ سامٍ هو رفع خطيئة العالم … فلابد أن يأتي مرةً أخرى إلى الأرض نفسها … كالأسد لكي يسود ويملك وتوضع أعداؤه موطئاً لقدميه" 18.ويستدلون لهذا المجيء بنصوصٍ وردت في "العهد القديم" و"الجديد" فمما ورد في "سفر دانيال" 7/13 - 14 "كنت أرى في رؤى الليل، وإذا مع سحب السماء مثل ابن الإنسان، أتى وجاء إلى القديم الأيام فقربوه قدامه، فأُعطي سلطاناً، ومجداً، وملكوتاً، لتتعبد له كل الشعوب، والأمم، والألسنة، سلطانه سلطانٌ أبدي ما لن يزول، وملكوته مالا ينقرض".ومما جاء في "العهد الجديد" ما ورد في "إنجيل متى" 24/30 "قال الرب: وحينئذٍ تنوح جميع قبائل الأرض ويبصرون ابن الإنسان آتياً على سحابٍ السماء بقوةٍ ومجدٍ كثير".
"প্রোটেস্ট্যান্ট" থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন দল ১৩, যেমন: "অ্যাডভেন্টিস্ট" ১৪, "জেহোভা’স উইটনেস" ১৫ এবং "মরমন" ১৬।এই বিষয়ে তাদের বক্তব্যসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো "যিশু দরজায়" গ্রন্থের লেখকের উক্তি: "মসীহ দ্বিতীয়বার আগমন করবেন এবং শয়তানকে এক হাজার বছরের জন্য শৃঙ্খলিত করবেন, তিনি পৃথিবীতে তাঁর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন এবং পুণ্যবানরা তাঁর সাথে রাজত্ব করবেন" ১৭।"মহাপ্রলয়ের পথে ধাপে ধাপে" গ্রন্থের লেখক "ইব্রাহিম সাবরি" বলেন: "মসীহকে অবশ্যই দ্বিতীয়বার ফিরে আসতে হবে যাতে তিনি তাঁর সেই মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে পারেন যা ঠিক সেই স্থানেই লাঞ্ছিত হয়েছিল যেখানে তাঁকে অপমান করা হয়েছিল। প্রথমবার যখন তিনি পৃথিবীতে জগতবাসীর পাপ মোচনের মহান লক্ষ্য পূরণে এক শান্ত মেষশাবকের মতো দুর্বল ও বিনম্র রূপে এসেছিলেন … তখন তাঁকে অবশ্যই পুনরায় এই পৃথিবীতে ফিরে আসতে হবে … সিংহের ন্যায় আধিপত্য বিস্তার ও রাজত্ব করতে এবং তাঁর শত্রুদেরকে তাঁর পদতলে দমিত করতে" ১৮।তাঁরা এই আগমনের সপক্ষে "পুরাতন নিয়ম" ও "নতুন নিয়ম"-এ বর্ণিত পাঠ্যসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করেন। "দানিয়েলের পুস্তক" ৭/১৩-১৪-তে যা বর্ণিত হয়েছে: "আমি রাত্রিকালীন দর্শনে দেখলাম যে, আকাশের মেঘমালার সাথে মানবপুত্রের মতো একজন আসছেন; তিনি অনাদি পুরুষের নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে তাঁর সম্মুখে আনা হলো। অতঃপর তাঁকে কর্তৃত্ব, মহিমা ও রাজত্ব দান করা হলো, যেন সকল জাতি, গোষ্ঠী ও ভাষার মানুষ তাঁর সেবা করে। তাঁর কর্তৃত্ব এক চিরস্থায়ী কর্তৃত্ব যা কখনো শেষ হবে না এবং তাঁর রাজত্ব অবিনশ্বর।""নতুন নিয়ম"-এর অন্তর্গত "মথি লিখিত সুসমাচার" ২৪/৩০-এ যা বর্ণিত হয়েছে: "প্রভু বলেছেন: আর তখনই পৃথিবীর সকল গোষ্ঠী বিলাপ করবে এবং তারা মানবপুত্রকে আকাশের মেঘমালার ওপর মহাপ্রতাপ ও মহিমায় আসতে দেখবে।"
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫২)
وفي "سفرالأعمال" 1/11 "إن يسوع هذا الذي ارتفع عنكم إلى السماء سيأتي هكذا كما رأيتموه منطلقاً إلى السماء".
এবং "সফরুল আমাল" ১/১১-এ বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই এই ঈসা, যাঁকে তোমাদের নিকট থেকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, তিনি ঠিক সেভাবেই পুনরায় আগমন করবেন যেভাবে তোমরা তাঁকে আসমানে যেতে দেখলে।"
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫২)
المطلب الأول: وقت وكيفية مجيئه:اهتم النصارى فيما قبل بتحديد وقت مجيء المسيح بزمنٍ معين، فالأمريكي "وليام ميلر"، مؤسس فرقة السبتيين، أوصلته دراسته للنصوص الواردة في المجيء أن المسيح سيأتي عام 1843م، فأعلن عن ذلك، إلا أن نظره خاب لعدم مجيء المسيح عليه السلام، ثم أعلن أتباعه من بعده أن مجيئه سيكون عام 1890م، إلا أنهم خاب رجاؤهم أيضاً.ثم أعلن من بعده التاجر الأمريكي الراهب "شارل رسل" المتوفى سنة 1916م، مؤسس مذهب شهود يهوه: أن المسيح سيأتي عام 1874م، وذلك بعد دراسةٍ شاملةٍ للنصوص المتعلقة بالمجيء مع مجموعةٍ من أصدقائه، إلا أنه مني بخيبة أملٍ لعدم مجيء المسيح في تلك السنة.ولإخفاء فشله أعلن سنة 1876م أن المسيح جاء فعلاً إلا أنه أخفى نفسه. ثم ادعى أن نهاية العالم ستكون 1914م، وبعدها سيكون الحكم الألفي السعيد، إلا أن ذلك لم يتحقق، بل وقعت الحرب العالمية الأولى، ومن بعدها الحرب العالمية الثانية 19.إلا أن الأكثر منهم لم يحددوا لمجيئه وقتاً معيناً.وجميع "الألفيين" يصرحون بأن للمسيح عليه السلام مجيئين: -المجيء الأول: ويسمى "الاختطاف".
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর আগমনের সময় ও পদ্ধতি:খ্রিস্টানরা ইতিপূর্বে মসীহ-এর আগমনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিল। যেমন আমেরিকান "উইলিয়াম মিলার", যিনি সাবতিয়ীন (Sabbatarians) সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন; আগমন সংক্রান্ত পাঠ্যসমূহ (النصوص) নিয়ে তাঁর গবেষণার মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মসীহ ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে আগমন করবেন এবং তিনি তা ঘোষণা করেন। তবে মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর আগমন না ঘটায় তাঁর প্রত্যাশা ব্যর্থ হয়। অতঃপর তাঁর অনুসারীরা ঘোষণা করে যে, তাঁর আগমন ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে ঘটবে, কিন্তু তাদের সেই আশাও নিরাশায় পর্যবসিত হয়।অতঃপর তাঁর পরে আমেরিকান ব্যবসায়ী ও ধর্মযাজক "চার্লস রাসেল" (মৃত্যু ১৯১৬ খ্রি.), যিনি যিহোবার সাক্ষী (Jehovah's Witnesses) মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, তিনি ঘোষণা করেন যে, মসীহ ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে আগমন করবেন। এটি তিনি তাঁর একদল বন্ধুর সাথে আগমন সংক্রান্ত পাঠ্যসমূহ (النصوص) নিয়ে একটি সামগ্রিক পর্যালোচনার পর দাবি করেছিলেন। কিন্তু সেই বছর মসীহ-এর আগমন না ঘটায় তিনি নিদারুণভাবে আশাহত হন।নিজের ব্যর্থতা আড়াল করার লক্ষ্যে তিনি ১৮৭৬ সালে ঘোষণা করেন যে, মসীহ প্রকৃতপক্ষে চলে এসেছেন, তবে তিনি নিজেকে আত্মগোপন করে রেখেছেন। এরপর তিনি দাবি করেন যে, ১৯১৪ সালে পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটবে এবং এর পরপরই মসীহ-এর এক হাজার বছরের সুখী শাসনকাল শুরু হবে। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি, বরং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় এবং পরবর্তীতে ১৯... সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়।তবে তাদের অধিকাংশজনই তাঁর আগমনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেননি।আর সকল "সহস্রাব্দবাদী" (Millennialists) এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন যে, মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর দুইবার আগমন ঘটবে: -প্রথম আগমন: যাকে "উত্তোলন" (الاختطاف) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫৩)
الصنف الأول: الصالحون من الأموات من اليهود السابقين لمجيء المسيح، وكذلك الصالحون من أموات النصارى.أما الصنف الثاني فهم: الصالحون من النصارى الأحياء، فيلاقيه الجميع في الهواء، وتتغير أجساد الأحياء إلى أجساد قابلة للبقاء، ومستندهم في ذلك قول "بولس" في رسالته لأهل "تسالونيكى الأولى" 4/15 - 17 "فإننا نقول لكم هذا بكلمة الرب: إننا نحن الأحياء الباقين إلى مجيء الرب لا نسبق الراقدين.....".20وهذا المجيء عندهم سرى، وليس له أية علامات تسبقه، ولا يُعرف من ناحيةٍ تاريخيةٍ متى وقوعه، وإنما يأتي فجأةً بدون مقدمات، حتى يكون ذلك أدعى للاستعداد الدائم من الراغبين في الاشتراك مع المسيح21 فيما يدعون0وهنا ملاحظة، وهي أن للنصارى تعبيرات غير لائقة في لقاء المسيح المزعوم، فيصفون المسيح بـ"الخروف" والكنيسة بأنها "عروسه" والالتقاء "حفل عرس الخروف" 22.ومن عباراتهم في ذلك "العريس آت" "العريس والعروس معاً" وقالوا: إن الرب - العريس - سوف ينزل بنفسه من السماء يخطف عروسه" "أما عن المجيء فسوف ينزل الرب بنفسه من السماء لاختطاف واستقبال عروسه في السحب في الهواء" "إن المؤمنين هم عروس المسيح، ولا شيء يعزيهم في هذا العالم الشرير مثل الوعد بمجيئه الثاني" "إن الكنيسة هي عروس المسيح ويشبهها بولس بعذراء عفيفة مخطوبة للمسيح" 23.
প্রথম শ্রেণি: মসিহের আগমনের পূর্ববর্তী ইহুদিদের পুণ্যবান মৃত ব্যক্তিগণ এবং একইভাবে খ্রিস্টানদের পুণ্যবান মৃত ব্যক্তিগণ।আর দ্বিতীয় শ্রেণি হলো: জীবিত খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা পুণ্যবান; তারা সকলে শূন্যে তাঁর সাথে মিলিত হবে এবং জীবিতদের দেহগুলো অবিনশ্বর হওয়ার উপযোগী দেহে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। এ বিষয়ে তাদের দলিল হলো "প্রথম থিষলনীকীয়" ৪/১৫-১৭ পত্রে "পৌল"-এর উক্তি: "কেননা আমরা প্রভুর বাক্যে তোমাদের এই কথা বলছি যে, আমরা যারা জীবিত আছি, যারা প্রভুর আগমন পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকব, আমরা কোনোভাবেই নিদ্রিতদের অগ্রগামী হব না..."।২০তাদের নিকট এই আগমনটি হবে গোপনীয় এবং এর পূর্বে কোনো আলামত থাকবে না। ঐতিহাসিকভাবে এটি কখন ঘটবে তাও জানা যায় না, বরং এটি কোনো পূর্বসূচনা ছাড়াই হঠাৎ ঘটবে; যাতে মসিহের সাথে শরীক হতে ইচ্ছুকদের জন্য তাদের দাবি অনুযায়ী সর্বদা প্রস্তুত থাকা অধিক যুক্তিযুক্ত হয়।২১এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, তথাকথিত মসিহের সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে খ্রিস্টানদের কিছু অশোভন অভিব্যক্তি রয়েছে। তারা মসিহকে "মেষশাবক" হিসেবে এবং গির্জাকে তাঁর "কনে" হিসেবে বর্ণনা করে এবং এই মিলনকে "মেষশাবকের বিবাহ উৎসব" বলে অভিহিত করে।২২এই প্রসঙ্গে তাদের ব্যবহৃত কিছু বাক্য হলো— "বর আসছে", "বর ও কনে একত্রে"। তারা বলে: "প্রভু—যিনি বর—তিনি নিজেই আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়ে তাঁর কনেকে তুলে নেবেন।" "আর আগমনের বিষয়ে প্রভু নিজেই আকাশ থেকে মেঘমালার মাঝে শূন্যে তাঁর কনেকে তুলে নিতে ও অভ্যর্থনা জানাতে অবতীর্ণ হবেন।" "নিশ্চয়ই বিশ্বাসীরা হলো মসিহের কনে, আর এই পাপিষ্ঠ পৃথিবীতে তাঁর দ্বিতীয় আগমনের প্রতিশ্রুতি ছাড়া অন্য কোনো কিছুই তাদের সান্ত্বনা দেয় না।" "নিশ্চয়ই গির্জা হলো মসিহের কনে এবং পৌল গির্জাকে মসিহের বাগদত্তা এক সতী কুমারীর সাথে তুলনা করেছেন।" ২৩।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫৪)
ولاشك أن هذا التعبير مما لا يليق استخدامه بالنسبة للمسيح عليه السلام، فتسميته خروفاً حطٌ من قدره، وداعٍ للاستهزاء به عليه السلام، ومع اعتقادهم أن المسيح هو الإله، وابن إله، فيكون التعبير السابق أدهى وأشنع، فكيف يصفون إلههم بصفة حيوانٍ بهيم؟!كما أن وصفهم له بالعريس، ووصفهم لأنفسهم بالعروس يتنافى مع ذوق الرجال، ويشعر الرجل بالدونية وإن كانوا ليسوا حقيقة عرائس، ولا هو حقيقة عريساً لهم - وحاشاه عليه السلام.المجيء الثاني: ويسمى الظهور.ويقصدون به أن المسيح سيعود مرةً أخرى فيظهر للناس، ويرونه بأمِّ أعينهم.يقول "إبراهيم صبري": "يقصد بالظهور هنا مجيء المسيح مرةً ثانيةً إلى أرضنا، ليس بصورةٍ سريةٍ هذه المرة، كما سيجيء لاختطاف الكنيسة، ولكن بصورةٍ علنيةٍ ظاهرةٍ للعالم أجمع، وليس مع جندٍ سماوي فقط ولكن بصحبة كنيسته - عروسه - التي ستكون قد زُفت إليه من فترةٍ وجيزة". 24
নিঃসন্দেহে এই অভিব্যক্তিটি মসীহ আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা মোটেও সমীচীন নয়। তাঁকে ‘মেষশাবক’ বলে নামকরণ করা তাঁর মর্যাদাকে খাটো করার নামান্তর এবং তাঁকে বিদ্রূপ করার একটি কারণ। মসীহ স্বয়ং উপাস্য এবং উপাস্যের পুত্র—তাদের এই বিশ্বাসের সাথে উক্ত অভিব্যক্তিটি আরও ভয়াবহ ও জঘন্য হয়ে দাঁড়ায়। তারা কীভাবে তাদের উপাস্যকে একটি অবলা পশুর গুণে গুণান্বিত করে?!অনুরূপভাবে, তাঁকে ‘বর’ এবং নিজেদের ‘কনে’ হিসেবে অভিহিত করা পুরুষের রুচিবোধের পরিপন্থী এবং এটি পুরুষকে হীনম্মন্যতায় ভোগায়; যদিও বাস্তবে তারা কনে নয় এবং তিনিও তাদের বর নন—আল্লাহ তাঁকে এসব থেকে পবিত্র রাখুন (আলাইহিস সালাম)।দ্বিতীয় আগমন: একে ‘প্রকাশ পাওয়া’ (الظهور) বলা হয়।এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো, মসীহ পুনরায় ফিরে আসবেন এবং মানুষের সামনে প্রকাশিত হবেন, আর তারা তাঁকে নিজ চোখে দেখবে।ইবরাহিম সাবরি বলেন: “এখানে ‘প্রকাশ পাওয়া’ বলতে আমাদের পৃথিবীতে মসীহ-এর দ্বিতীয়বার আগমনকে বোঝানো হয়েছে। এবার তিনি কোনো গোপন পন্থায় আসবেন না—যেভাবে তিনি গির্জাকে উঠিয়ে নেওয়ার জন্য আসবেন—বরং সমগ্র বিশ্বের সামনে প্রকাশ্যভাবে আবির্ভূত হবেন। কেবল আসমানি বাহিনী নিয়ে নয়, বরং তাঁর গির্জা তথা তাঁর কনেকে সাথে নিয়ে আসবেন, যাকে অল্প কিছুকাল আগে তাঁর সাথে বিবাহ দেওয়া হয়েছে।” ২৪
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫৪)
المطلب الثاني: علامات المجيئ:هذا المجيء المسمى "الظهور" له عند النصارى علامات عديدة تكون بين ما يسمونه "الاختطاف" و "الظهور" وتكون المدة بين الاختطاف والظهور سبع سنين، ويعتبرونه الأسبوع الأخير من الأسابيع الواردة في "رؤيا دانيال" 25 ومدته سبع سنوات، وتحدث فيه أمورٌ عظيمة يقولون إنها من أشد ما ابتلى به الناس من الضيق والتعب منها: -1 - ظهور مسحاء كَذَبَة، وأدعياء للنبوة كاذبين.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আগমনের আলামতসমূহ:"প্রকাশ" নামে অভিহিত এই আগমনের ক্ষেত্রে খ্রিস্টানদের নিকট বেশ কিছু আলামত রয়েছে, যা তাদের ভাষায় "অন্তর্ধান" এবং "প্রকাশ"-এর মধ্যবর্তী সময়ে প্রকাশ পায়। এই অন্তর্ধান ও প্রকাশের মধ্যবর্তী সময়কাল হলো সাত বছর। তারা এটিকে "দানিয়েলের দর্শন" ২৫-এ বর্ণিত সপ্তাহগুলোর মধ্যে সর্বশেষ সপ্তাহ হিসেবে গণ্য করে এবং এর সময়সীমা সাত বছর। এই সময়ে বেশ কিছু বড় ধরনের ঘটনা ঘটবে; তারা বলে থাকে যে, এটি হবে মানুষের ওপর নেমে আসা চরম সংকীর্ণতা ও দুঃখ-কষ্টের কঠিনতম পরীক্ষাগুলোর একটি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:-1 - চরম মিথ্যাবাদী (كذبة) মসীহগণ এবং নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদারদের আবির্ভাব।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫৫)
2 - حروب كثيرة تنتشر هنا وهناك ومجاعات وزلازل.3 - تقييد الشيطان وطرحه إلى الأرض.وذلك أن النصارى، أصحاب هذا القول يزعمون أن الشيطان له سلطانٌ على الهواء، وفي منتصف هذا الأسبوع الأخير ستقوم حربٌ بين "ميخائيل" وملائكته، والشيطان وأتباعه من الجن – ويسمون الشيطان هنا بالتنين - وأتباعه بملائكته، ويُهزم في تلك الحرب الشيطان، ويُطرح إلى الأرض، وتتخلص السماء من شره، ويستدلون لهذا بما ورد في "رؤيا يوحنا" 12/7 - 17 "وحدثت حرب في السماء، ميخائيل وملائكته حاربوا التنين، وحارب التنين وملائكته، ولم يقووا فلم يوجد مكانهم بعد ذلك في السماء، فطرح التنين العظيم، الحية القديمة، المدعو إبليس والشيطان الذي يضل العالم كله طُرح إلى الأرض وطُرحت معه ملائكته..من أجل هذا افرحي أيتها السموات والساكنون فيها، ويل لساكن الأرض والبحر، لأن إبليس نزل إليكم، وبه غضبٌ عظيمٌ عالماً أن له زماناً قليلاً".وبعد تلك الحرب وذلك الطرح، يكشِّر الشيطان عن أنيابه، ويكثر شره، ويتسلط على الناس، ويثير شراً عظيماً من أهم صوره:4 - المسيح الكذاب، أوالمتنبيء الكذاب، أو المسيح الدجال، أو ضد المسيح.هذه مسمياتٌ كلها لرجلٍ واحدٍ من اليهود، يخرج في الثلاث سنوات والنصف الأخيرة قبل ظهور المسيح عليه السلام فيما يزعمون، ويأتي معه آيات وعجائب ليضل الناس، ويسكن في بيت المقدس، ويدَّعي لنفسه الألوهية، ويأمر الناس أن يسجدوا للشيطان26، ويصنع صورة "للوحش" وهو أحد
২ - এখানে-সেখানে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ এবং ভূমিকম্প।৩ - শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা এবং তাকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা।এর কারণ হলো, খ্রিস্টানরা—যারা এই মতের প্রবক্তা—দাবি করে যে, বাতাসের ওপর শয়তানের আধিপত্য রয়েছে। এই শেষ সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে 'মিকাইল' ও তার ফেরেশতাদের সাথে শয়তান ও জিনের মধ্য থেকে তার অনুসারীদের একটি যুদ্ধ সংঘটিত হবে—এখানে তারা শয়তানকে 'ড্রাগন' এবং তার অনুসারীদের 'তার ফেরেশতা' বলে অভিহিত করে। সেই যুদ্ধে শয়তান পরাজিত হবে এবং তাকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হবে। এর ফলে আকাশমণ্ডল তার অনিষ্ট থেকে মুক্তি পাবে। তারা এর স্বপক্ষে "ইউহান্নার প্রত্যাদেশ" ১২/৭-১৭ এর উদ্ধৃতি প্রদান করে: "স্বর্গে যুদ্ধ বেধে গেল; মিকাইল ও তাঁর ফেরেশতারা ড্রাগনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে লাগলেন। ড্রাগন ও তার সঙ্গীরাও যুদ্ধ করল, কিন্তু তারা জিততে পারল না এবং স্বর্গে তাদের আর কোনো স্থান রইল না। তখন সেই বিশাল ড্রাগনকে নিচে ফেলে দেওয়া হলো। সেই প্রাচীন সাপ, যাকে ইবলিস ও শয়তান বলা হয় এবং যে সারা জগৎকে বিভ্রান্ত করে, তাকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হলো এবং তার সাথে তার অনুসারীদেরও ফেলে দেওয়া হলো... এজন্য হে আকাশমণ্ডল এবং আকাশবাসীরা, তোমরা আনন্দ করো। কিন্তু পৃথিবী ও সমুদ্রের অধিবাসীদের জন্য দুর্ভোগ! কারণ ইবলিস তোমাদের কাছে নেমে এসেছে; সে প্রচণ্ড রাগান্বিত, কারণ সে জানে যে তার সময় খুব অল্প।"সেই যুদ্ধ এবং নিক্ষেপের পর, শয়তান তার হিংস্র রূপ ধারণ করবে, তার অনিষ্ট বৃদ্ধি পাবে, সে মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে এবং এক মহা বিশৃঙ্খলা ও অনিষ্টের সূত্রপাত করবে, যার অন্যতম রূপ হলো:৪ - মিথ্যাবাদী মাসীহ, অথবা নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদার (متنبئ كذاب), অথবা দাজ্জাল মাসীহ (مسيح دجال), অথবা খ্রিস্টশত্রু।এগুলো সবই একজন ইহুদি ব্যক্তির বিভিন্ন নাম, যে তাদের দাবি অনুযায়ী ঈসা আলাইহিস সালামের আগমনের পূর্বে শেষ সাড়ে তিন বছরের মধ্যে আত্মপ্রকাশ করবে। সে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন নিদর্শনাবলী (آيات) এবং অলৌকিক বিষয়াবলী (عجائب) নিয়ে আসবে। সে বায়তুল মুকাদ্দাসে অবস্থান করবে এবং নিজের জন্য উপাস্য হওয়ার দাবি করবে। সে মানুষকে শয়তানকে সিজদা করার নির্দেশ দেবে এবং একটি "পশুর" প্রতিমূর্তি নির্মাণ করবে যা...
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫৬)
الملوك الجبابرة، ويأمر بالسجود لها، كما يضع علامةً على اليد اليمنى لاتباعه على صورة الوحش، ويكثُر أتباعه، ويسلطهم على من عداهم من الناس ممن لم يقبل دعوته، فيأخذون أملاكهم، ويضيقون عليهم في معيشتهم27.ويستدلون لذلك بنصين، أحدهما: في " سفر دانيال" 11/36 - 39، وفيه:"ويفعل الملك كإرادته، ويرتفع ويتعظَّم على كل إله، ويتكلم بأمورٍ عجيبةٍ على إله الآلهة، ويتبجح إلى إتمام الغضب، لأن المقضي به يجري ولا يبالي بآلهة آبائه، ولا بشهوة النساء، وبكل إله لا يبالي لأنه يتعظَّم على الكل، ويكرّم إله الحصون في مكانه، وإلهاًلم تعرفه اّباؤه، يكرمه بالذهب والفضة وبالحجارة الكريمة والنفائس ويفعل في الحصون الحصينة بإلهٍ غريبٍ منْ يعرفه يزيده مجدا، ً ويسلطهم على كثيرين، ويقسِّم الأرض أجرة" 28.والنص الآخر في "رؤيا يوحنا" 13/11 - 18 وفيه:"ثم رأيت وحشاً آخر طالعاً من الأرض، وكان له قرنان شبه خروف، وكان يتكلم كتِنِّين، ويعمل بكل سلطان الوحش الأول أمامه، ويجعل الأرض والساكنين فيها يسجدون للوحش الأول الذي شُفي من جرحه المميت، ويصنع آياتٍ عظيمة، حتى أنه يجعل ناراً تنزل من السماء على الأرض قدام الناس، ويضل الساكنين على الأرض بالآيات التي أعطى أن يصنعها أمام الوحش، قائلاً للساكنين على الأرض أن يصنعوا صورةً للوحش الذي كان به جرح السيف، وعاش وأعطى أن يعطي روحاً لصورة الوحش حتى تتكلم صورة الوحش، ويجعل الذين لا يسجدون لصورة الوحش يُقتلون، ويجعل الجميع الصغار.
স্বৈরাচারী রাজন্যবর্গ, এবং তিনি এগুলোর প্রতি সিজদা করার নির্দেশ দেবেন, যেমন তিনি তাঁর অনুসারীদের ডান হাতে পশুর আকৃতির একটি চিহ্ন এঁকে দেবেন। তাঁর অনুসারী সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং যারা তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করবে না, তাদের ওপর তিনি তাদের কর্তৃত্বশীল করবেন। ফলে তারা তাদের সম্পদ কেড়ে নেবে এবং তাদের জীবনযাত্রায় সংকীর্ণতা সৃষ্টি করবে।২৭তারা এর স্বপক্ষে দুটি উদ্ধৃতি পেশ করেন, যার একটি হলো: "দানিয়েলের পুস্তক" ১১/৩৬-৩৯-এ, যেখানে রয়েছে:"রাজা তাঁর ইচ্ছানুযায়ী কাজ করবেন। তিনি নিজেকে উন্নীত করবেন এবং প্রত্যেক উপাস্যের ঊর্ধ্বে নিজেকে মহিমান্বিত করবেন। তিনি উপাস্যদের উপাস্যের বিরুদ্ধে বিস্ময়কর কথাবার্তা বলবেন। ক্রোধ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আস্ফালন করবেন, কারণ যা নির্ধারিত তা ঘটবেই। তিনি তাঁর পিতৃপুরুষদের উপাস্যদের পরোয়া করবেন না, নারীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিও ভ্রুক্ষেপ করবেন না এবং কোনো উপাস্যকেই গ্রাহ্য করবেন না, কারণ তিনি সবার ঊর্ধ্বে নিজেকে বড় মনে করবেন। তাঁর পরিবর্তে তিনি দুর্গের দেবতার সম্মান করবেন; এমন এক দেবতাকে তিনি সোনা, রুপা, মূল্যবান পাথর ও বহুমূল্য বস্তু দিয়ে সম্মান করবেন যাকে তাঁর পিতৃপুরুষরা চিনত না। তিনি এক বিজাতীয় দেবতার সাহায্যে সুদৃঢ় দুর্গগুলোতে কাজ করবেন। যারা তাঁকে স্বীকার করবে, তিনি তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন, তাদের অনেকের ওপর কর্তৃত্ব দান করবেন এবং পুরস্কার হিসেবে ভূমি বণ্টন করবেন।" ২৮অন্য উদ্ধৃতিটি "যোহনের প্রকাশিত বাক্য" ১৩/১১-১৮-এ রয়েছে, যেখানে আছে:"এরপর আমি অন্য এক পশুকে পৃথিবী থেকে উঠে আসতে দেখলাম। তার মেষশাবকের মতো দুটি শিং ছিল, কিন্তু সে ড্রাগনের মতো কথা বলত। সে প্রথম পশুর সমস্ত ক্ষমতা তাঁর সামনে ব্যবহার করত। সে পৃথিবী ও তার অধিবাসীদের সেই প্রথম পশুকে সিজদা করতে বাধ্য করত যার প্রাণঘাতী ক্ষত নিরাময় হয়েছিল। সে মহৎ নিদর্শন প্রদর্শন করত, এমনকি মানুষের সামনে আকাশ থেকে পৃথিবীতে আগুন নামিয়ে আনত। পশুর সামনে তাকে যেসব নিদর্শন প্রদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, তা দিয়ে সে পৃথিবীবাসীদের বিভ্রান্ত করত। সে পৃথিবীবাসীদের সেই পশুর একটি প্রতিমূর্তি তৈরি করতে বলত যে তলোয়ারের আঘাতে আহত হয়েও বেঁচে ছিল। তাকে পশুর প্রতিমূর্তিতে প্রাণ সঞ্চার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল যাতে প্রতিমূর্তিটি কথা বলতে পারে। যারা পশুর প্রতিমূর্তিকে সিজদা করত না, তাদের সে হত্যার নির্দেশ দিত এবং ছোট-বড় সবাইকে..."
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫৭)
والكبار، والأغنياء والفقراء، والأحرار والعبيد، تصنع لهم سمة على يدهم اليمنى أو على جبهتهم، وأن لا يقدر أحد أن يشتري، أو يبيع إلا من له السمة، أو اسم الوحش، أو عدد اسمه".5 - مجيء ملك الشمال مع "يأجوج ومأجوج".هكذا يصف بعض النصارى أحد الملوك ممن سيغزوا فلسطين، وزعموا أنه سيأتي بجنود لا عدد لها كثرة، وبعضهم يصفه بـ"الوحش"، ويُخضِع مع المسيح الدجال الناسَ، ويقتل أناساً كثيرين ممن لا يخضعون له، وسيحتفي به اليهود ويفرحون به، باعتبار أنه حاميهم ويقبلونه بفرحٍ عظيم29، ويستدلون لذلك بما ورد في "رؤيا يوحنا" 13/1 – 8."ثم وقفت على رمل البحر، فرأيت وحشاً طالعاً من البحر له سبعة رؤوس وعشرة قرون.. وأُعطي سلطاناً أن يفعل اثنين وأربعين شهراً. ففتح فمه بالتجديف على الله ليجدف على اسمه وعلى مسكنه وعلى الساكنين في السماء، وأُعطي سلطاناً على كل قبيلة ولسان أمة فيسجد له جميع الساكنين على الأرض".6 - مجيء المسيح علناً وإقامة الملك الألفي.بعد اكتمال ثلاث سنوات ونصف من ظهور المسيح الدجال والوحش ينزل المسيح عيسى عليه السلام ويتوافق مع مجيئه علامتان:إحداهما: سقوط بعض النجوم، وإظلام الشمس والقمر فلا ينبعث منهما نور.ثانيهما: ظهور علامة الصليب في السماء بحيث يراها الناس.ويستدل النصارى لهاتين العلامتين بما ورد في "إنجيل متى" 24/29:
"এবং বড় ও ছোট, ধনী ও দরিদ্র, স্বাধীন ও ক্রীতদাস—সবার ডান হাতে অথবা কপালে একটি চিহ্ন দেওয়া হবে। ফলে সেই চিহ্ন অথবা পশুর নাম কিংবা তার নামের সংখ্যা যার কাছে থাকবে না, সে কেনা-বেচা করতে পারবে না।"৫ - "ইয়াজুজ ও মাজুজ"-এর সাথে উত্তরের রাজার আগমন।এভাবেই কিছু খ্রিস্টান এমন এক রাজার বর্ণনা দেয় যে ফিলিস্তিন আক্রমণ করবে। তারা দাবি করে যে, সে অগণিত সৈন্য নিয়ে আসবে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে "পশু" হিসেবে অভিহিত করে। সে মসীহ দাজ্জালের সাথে মিলে মানুষকে বশীভূত করবে এবং যারা তার আনুগত্য করবে না এমন অনেক মানুষকে হত্যা করবে। ইহুদিরা তাকে তাদের রক্ষক মনে করে তাকে স্বাগত জানাবে এবং অত্যন্ত আনন্দের সাথে গ্রহণ করবে২৯, এবং তারা এর প্রমাণ হিসেবে "ইউহান্নার দর্শন" ১৩/১–৮ এর উদ্ধৃতি দেয়।"অতঃপর আমি সমুদ্রের বালুকা তটে দাঁড়ালাম এবং সমুদ্র থেকে একটি পশুকে উঠে আসতে দেখলাম, যার সাতটি মাথা ও দশটি শিং ছিল... তাকে বিয়াল্লিশ মাস কাজ করার ক্ষমতা দেওয়া হলো। সে আল্লাহর বিরুদ্ধে কুফরি বাক্য বলার জন্য মুখ খুলল, যাতে তাঁর নাম, তাঁর বাসস্থান এবং যারা স্বর্গে বাস করে তাদের নিন্দা করতে পারে। তাকে প্রত্যেক গোত্র, ভাষা ও জাতির ওপর আধিপত্য দেওয়া হলো এবং পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসী তাকে সিজদা করবে।"৬ - প্রকাশ্যভাবে মসীহ-এর আগমন এবং হাজার বছরের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা।মসীহ দাজ্জাল ও পশুর আবির্ভাবের সাড়ে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পর ঈসা আলাইহিস সালাম অবতীর্ণ হবেন এবং তাঁর আগমনের সাথে দুটি নিদর্শন প্রকাশ পাবে:প্রথমটি: কিছু নক্ষত্রের পতন এবং সূর্য ও চন্দ্র অন্ধকার হয়ে যাওয়া, ফলে তা থেকে কোনো আলো নির্গত হবে না।দ্বিতীয়টি: আকাশে ক্রুশ চিহ্নের প্রকাশ পাওয়া, যা মানুষ দেখতে পাবে।খ্রিস্টানরা এই দুটি নিদর্শনের স্বপক্ষে "ইঞ্জিল মথি" ২৪/২৯-এর উদ্ধৃতি দিয়ে দলিল পেশ করে থাকে:
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫৮)
"وللوقت بعد ضيق تلك الأيام تظلم الشمس، والقمر لايعطي ضوءاً، والنجوم تسقط من السماء، وقوات السموات تتزعزع، وحينئذٍ تظهر علامة ابن الإنسان في السماء".وينزل المسيح عليه السلام، ويرافقه في نزوله الملائكة، ويكون نزوله على جبل الزيتون الذي قبالة بيت المقدس من الشرق، وحسب ادعائهم أن أول ما يقوم به هو القبض على مدعي النبوة، أو المسيح الدجال، وكذلك الملك الأممي أو الوحش، فيقضي عليهما بنفخةٍ من فمه، ثم يلقيهما في النار، ليكونا بذلك أول الداخلين إليها، ويُعذبان فيها عذاباً أبدياً، ثم يقتل أتباعهما بالسيف، ويقبض على الشيطان ويطرحه في الهاوية، التي هي مقر الأرواح، ويقيد فيها مدة ألف سنة.ثم يبدأ حكم المسيح للأرض، والذي يمتد ألف سنة، ويكون حُكماً سعيداً ترتفع فيه اللعنة من الأرض30، ويبني الهيكل في بيت المقدس31، ويُعيد بني إسرائيل من تشردهم، وتُكتب الشريعة على قلوب الناس فلا يحتاجون لمعلِّم32، وترتفع الوحشية من الحيوانات فلا يعتدي بعضها على بعض33، ويطول عمر الناس34، وتختفي الحروب35، ويؤخذ الحق من الأشرار فيبادون في كل صباح36.
"সেই দিনগুলোর সংকীর্ণতার পরবর্তী সময়ে সূর্য অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাবে, চন্দ্র তার আলো দেবে না, আকাশ থেকে নক্ষত্ররাজি খসে পড়বে এবং আসমানি শক্তিসমূহ বিচলিত হবে; আর তখনই আকাশে ‘ইবনুল ইনসান’ (মানুষের সন্তান)-এর চিহ্ন প্রকাশ পাবে।"এবং মসীহ (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হবেন, তাঁর অবতরণের সময় ফেরেশতাগণ তাঁর সঙ্গী হবেন। তাঁর অবতরণ হবে বায়তুল মাকদিসের পূর্ব দিকে অবস্থিত যয়তুন পাহাড়ের ওপর। তাদের দাবি অনুযায়ী, তিনি সর্বপ্রথম যে কাজটি করবেন তা হলো নবুয়তের মিথ্যা দাবিদার বা মসীহ দাজ্জাল এবং সেই সাথে অ-ইহুদি বাদশাহ বা পশুটিকে পাকড়াও করা। অতঃপর তিনি নিজের মুখের ফুৎকারে তাদের ধ্বংস করবেন এবং পরে তাদের আগুনে নিক্ষেপ করবেন, যাতে তারা সেখানে প্রথম প্রবেশকারী হিসেবে অনন্তকাল আযাব ভোগ করতে থাকে। এরপর তিনি তাদের অনুসারীদের তরবারির সাহায্যে হত্যা করবেন এবং শয়তানকে পাকড়াও করে অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করবেন, যা হলো রূহসমূহের আবাসস্থল; সেখানে তাকে এক হাজার বছরের জন্য বন্দি করে রাখা হবে।অতঃপর পৃথিবীতে মসীহের শাসন শুরু হবে, যা এক হাজার বছর পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এটি হবে একটি সুখময় শাসন, যেখানে পৃথিবী থেকে অভিশাপ দূর হয়ে যাবে৩০, এবং তিনি বায়তুল মাকদিসে ‘হায়কাল’ (উপাসনালয়) নির্মাণ করবেন ৩১, এবং বনী ইসরাঈলকে তাদের নির্বাসন থেকে ফিরিয়ে আনবেন। মানুষের হৃদয়ে শরীয়াহ লিপিবদ্ধ করে দেওয়া হবে, ফলে তাদের কোনো শিক্ষকের প্রয়োজন হবে না ৩২। পশুদের মধ্য থেকে হিংস্রতা দূর হয়ে যাবে, ফলে একে অপরকে আক্রমণ করবে না ৩৩। মানুষের আয়ু দীর্ঘ হবে ৩৪, যুদ্ধ-বিগ্রহ বিলুপ্ত হবে ৩৫ এবং পাপিষ্ঠদের কাছ থেকে হক আদায় করা হবে, ফলে তারা প্রতিদিন ভোরে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে ৩৬।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫৮)
المطلب الثالث: الحوادث التي تقع بعد الألف سنةبعد انتهاء الألف سنة يكون هناك حادثتان:الأولى: حرب هَرمجدون
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এক হাজার বছর পরবর্তী ঘটনাবলিএক হাজার বছর সমাপ্ত হওয়ার পর দুটি ঘটনা ঘটবে:প্রথমটি: হারমাগেদোন যুদ্ধ
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫৯)
"هرمجدون" اسم عبري معناه "جبل مجدو" ويقع في "مرج بن عامر" على خط المواصلات بين القسمين الشمالي والجنوبي من فلسطين، وفيه تقع في زعم هذه الطائفة من النصارى37 الحرب الأخيرة بين المسيح وأعدائه من "يأجوج" و"مأجوج"، فإنهم يقولون: بعد انتهاء الألف سنة يُحل الشيطان من قيوده ويبدأ بإضلال الناس وإغوائهم، ويجمع يأجوج ومأجوج وعددهم مثل رمل البحر، فيأتون فيحيطون ببيت المقدس، وفيه المسيح عليه السلام وأتباعه فيحاصرونهم، فينزل الله عز وجل ناراً من السماء فتحرقهم، ثم يقبض على إبليس ويطرح في النار حيث يعذب العذاب الأبدي، وبذلك يتم القضاء على الشر نهائياً38.ويستدلون لذلك بما جاء في "رؤيا يوحنا" 16/16 "مجمعهم إلى الموضع الذي يدعى بالعبرانية هرمجدون"، ثم ذكرتفصيل تلك الحرب في السفر نفسه 20/7: "ثم متى تمت الألف سنة يُحل الشيطان من سجنه، ويخرج ليُضل الأمم الذين في أربع زوايا الأرض يأجوج ومأجوج ليجمعهم للحرب، الذين عددهم مثل رمل البحر، فصعدوا على عرض الأرض، وأحاطوا بمعسكر القديسين وبالمدينة المحبوبة، فنزلت نار من عند الله من السماء وأكلتهم، وإبليس الذي كان يضلهم طرح في بحيرة النار والكبريت حيث الوحش والنبي الكذاب وسيعذبون نهاراً وليلاً إلى أبد الآبدين".ثانياً: القيامةبعد هذه المعركة تبدأ القيامة ومحاسبة الناس، وفي زعمهم أن المتولي لذلك هو المسيح عليه السلام. هذا هو قول هذه الطائفة من النصارى، والذين يسمون "الألفيين".
"আরমাগেডন" একটি হিব্রু নাম যার অর্থ "মগিদো পর্বত" এবং এটি ফিলিস্তিনের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের সংযোগস্থলে "মারজ বিন আমের" নামক স্থানে অবস্থিত। খ্রিস্টানদের এই উপদলের দাবি অনুযায়ী, মসীহ এবং তাঁর শত্রু "ইয়াজুজ" ও "মাজুজ"-এর মধ্যে শেষ যুদ্ধ এখানেই সংঘটিত হবে। তারা বলে: এক হাজার বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর শয়তান তার শিকল থেকে মুক্তি পাবে এবং মানুষকে পথভ্রষ্ট ও প্ররোচিত করতে শুরু করবে। সে ইয়াজুজ ও মাজুজকে একত্রিত করবে যাদের সংখ্যা হবে সমুদ্রের বালুকণার মতো। তারা এসে বায়তুল মুকাদ্দাস ঘেরাও করবে, যেখানে মসীহ (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর অনুসারীরা অবস্থান করবেন। তারা তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলবে, তখন মহান আল্লাহ আকাশ থেকে অগ্নি বর্ষণ করবেন যা তাদের ভস্মীভূত করে দেবে। এরপর ইবলিসকে পাকড়াও করে অগ্নিতে নিক্ষেপ করা হবে যেখানে সে চিরস্থায়ী শাস্তি ভোগ করবে এবং এভাবেই মন্দের চূড়ান্ত বিনাশ ঘটবে।তারা এর সমর্থনে "যোহনের প্রকাশিত বাক্য" ১৬:১৬-এর উদ্ধৃতি দেয় যেখানে বলা হয়েছে: "তিনি তাদেরকে হিব্রু ভাষায় আরমাগেডন নামক স্থানে একত্রিত করলেন।" এরপর একই পুস্তকের ২০:৭-এ সেই যুদ্ধের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে: "অতঃপর যখন এক হাজার বছর পূর্ণ হবে, শয়তান তার কারাগার থেকে মুক্তি পাবে। সে পৃথিবীর চার প্রান্তের জাতিসমূহকে অর্থাৎ ইয়াজুজ ও মাজুজকে যুদ্ধের জন্য প্ররোচিত করতে বের হবে, যাদের সংখ্যা সমুদ্রের বালুকণার মতো। তারা পৃথিবীর বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়বে এবং পুণ্যবানদের শিবির ও প্রিয় নগরীকে ঘিরে ফেলবে। তখন আকাশ থেকে আল্লাহর পক্ষ হতে আগুন নেমে এসে তাদের গ্রাস করবে। আর তাদের বিভ্রান্তকারী ইবলিসকে আগুন ও গন্ধকের হ্রদে নিক্ষেপ করা হবে, যেখানে সেই পশু এবং মিথ্যা নবী (النبي الكذاب) অবস্থান করছে। তারা দিবা-রাত্রি অনন্তকাল যন্ত্রণার সম্মুখীন হবে।"দ্বিতীয়ত: কিয়ামতএই যুদ্ধের পর কিয়ামত এবং মানুষের হিসাব-নিকাশ শুরু হবে। তাদের ধারণা অনুযায়ী, এর বিচারক হবেন মসীহ (আলাইহিস সালাম)। এটি খ্রিস্টানদের এই উপদলের অভিমত, যাদেরকে "মিলেনিয়ালিস্ট" (সহস্রাব্দবাদী) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৬০)
المبحث الثالث: من يرى أن مجيء المسيح عليه السلام إنما هو للقيامة والحساب وأنه لا يؤسس ملكاً على الأرضمدخل…المبحث الثالث: من يرى أن مجيء المسيح عليه السلام إنما هو للقيامة والحساب وأنه لا يؤسس ملكاً على الأرض.الطائفة الأخرى من النصارى وهم الذين يشكلون غالبية النصارى حيث هو قول الأرثوذكس الأقباط39 والأرثوذكس اليونان40 والكاثوليك41 وطائفة من البروتستانت:-يرون أن المسيح عليه السلام إنما يكون مجيئه ليوم القيامة والحساب، وأنه لا يؤسس مُلكاً على الأرض، وإن ملكه كان قد ابتدأ من يوم صلبه وقيامته من قبره في زعمهم، وهو ملك روحي، وأن الألف سنة المذكورة في "رؤيا يوحنا" 20/7 المقصود بها المدة التي تكون من مجيئه الأول إلى مجيئه الثاني، وأن الشيطان قُيِّد جزئياً منذ صلب المسيح، وقام من قبره وارتفع إلى السماء، ويرون أن المسيح عليه السلام إذا جاء فإنه يرتفع إليه الأبرار الأحياء، ويقوم الأموات من قبورهم للكرامة، ثم تتغير الأرض والسماء، ويقف الناس أمام عرش المسيح، الذي سيحاسب الناس على أعمالهم42. هكذا زعموا.ويعتبر أصحاب هذا القول أن دعوى الملك الألفي خرافة وفكر يهودي دخل على النصارى في القرون الثلاثة الأولى، ثم تجدد في العصور المتأخرة43.ويتفق أصحاب هذا القول في أشياء، ويختلفون في أشياء متعلقة بمجيء المسيح عليه السلام، نجملها في المطلبين التاليين:
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যারা মনে করেন যে, ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন কেবল কিয়ামত ও হিসাব-নিকাশের জন্য এবং তিনি পৃথিবীতে কোনো রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন নাপ্রবেশিকা...তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যারা মনে করেন যে, ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন কেবল কিয়ামত ও হিসাব-নিকাশের জন্য এবং তিনি পৃথিবীতে কোনো রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন না।খ্রিস্টানদের অন্য দলটি—যারা খ্রিস্টানদের সংখ্যাগুরু অংশ গঠন করে; যেহেতু এটি কিবতি অর্থোডক্স ৩৯, গ্রিক অর্থোডক্স ৪০, ক্যাথলিক ৪১ এবং প্রোটেস্ট্যান্টদের একটি দলের অভিমত:-তারা মনে করে যে, ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন কেবল কিয়ামত ও হিসাব-নিকাশের দিনের জন্য হবে এবং তিনি পৃথিবীতে কোনো রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন না। তাদের দাবি অনুযায়ী, তাঁর রাজত্ব শুরু হয়েছে তাঁর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার দিন এবং সমাধি থেকে পুনরুত্থানের দিন থেকে; আর এটি একটি আধ্যাত্মিক রাজত্ব। "ইউহান্নার প্রত্যাদেশ" ২০/৭-এ উল্লিখিত এক হাজার বছর বলতে তাঁর প্রথম আগমন থেকে দ্বিতীয় আগমনের মধ্যবর্তী সময়কালকে বোঝানো হয়েছে। তারা আরও মনে করে যে, ঈসা আলাইহিস সালামকে ক্রুশবিদ্ধ করার পর থেকেই শয়তান আংশিকভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়েছে এবং তিনি তাঁর সমাধি থেকে পুনরুত্থিত হয়ে আসমানে আরোহণ করেছেন। তাদের বিশ্বাস মতে, ঈসা আলাইহিস সালাম যখন আসবেন, তখন জীবিত পুণ্যবানরা তাঁর দিকে উন্নীত হবে এবং মৃতরা সম্মানজনকভাবে তাদের কবর থেকে পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর পৃথিবী ও আকাশ পরিবর্তিত হয়ে যাবে এবং মানুষ মসীহের সিংহাসনের সামনে দাঁড়াবে, যিনি মানুষের আমলসমূহের হিসাব নেবেন ৪২। তারা এমনই দাবি করে থাকে।এই মতের অনুসারীরা মনে করেন যে, সহস্রাব্দব্যাপী রাজত্বের দাবি একটি রূপকথা এবং এটি ইহুদিদের চিন্তাচেতনা যা প্রথম তিন শতাব্দীতে খ্রিস্টানদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছে, পরবর্তীতে শেষ যুগে তা পুনরায় নবায়ন করা হয়েছে ৪৩।এই মতের প্রবক্তারা ঈসা আলাইহিস সালামের আগমনের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন এবং কিছু বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। আমরা পরবর্তী দুটি অনুচ্ছেদে তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি:
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৬০)
المطلب الأول: العلامات التي يتفقون عليها:يتفق أصحاب هذا القول على بعض العلامات التي تسبق مجيء المسيح وهي: -
প্রথম অন্বেষণ: যেসব নিদর্শনে তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন:এই মতের প্রবক্তাগণ মসীহের আগমনের পূর্ববর্তী কিছু নিদর্শনের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, আর সেগুলো হলো: -
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৬১)
1 - انتشار الإنجيل.يزعم أصحاب هذا القول أنه لابد أن ينتشر الإنجيل في كل مكان قبل أن يأتي المسيح عليه السلام44 ويعتمدون في ذلك على نص "إنجيل متى" 24/14 وفيه "ويكرز ببشارة الملكوت هذه في كل المسكونة شهادة لجميع الأمم ثم يأتي المنُتهى".1 - أن الشمس والقمر يظلمان وتسقط النجوم وتتزعزع السموات45.2 - ظهور علامة ابن الإنسان في السماء وهي الصليب في زعمهم والتي يعقبها نزول المسيح والقيامة.
১ - ইঞ্জিলের প্রচার ও প্রসার।এই মতের প্রবক্তারা দাবি করেন যে, মসীহ আলাইহিস সালামের আগমনের পূর্বে অবশ্যই ইঞ্জিলকে প্রতিটি স্থানে ছড়িয়ে পড়তে হবে। তারা এক্ষেত্রে "মথি লিখিত ইঞ্জিল" ২৪/১৪-এর পাঠের ওপর নির্ভর করেন, যাতে রয়েছে: "আর রাজ্যের এই সুসমাচার সমগ্র বিশ্বে প্রচার করা হবে যেন সকল জাতি সাক্ষ্য পায়, তারপর সমাপ্তি আসবে।"১ - সূর্য ও চন্দ্র অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়া, নক্ষত্ররাজি ঝরে পড়া এবং আকাশমণ্ডলী প্রকম্পিত হওয়া।২ - আকাশে 'মনুষ্যপুত্রের চিহ্নে'র প্রকাশ পাওয়া—যা তাদের দাবি অনুযায়ী ক্রুশ—এবং এর পরপরই মসীহের অবতরণ ও কিয়ামত সংঘটিত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৬১)
المطلب الثاني: الأشياء التي يختلفون فيها:يختلف أصحاب هذا القول في أمرين:أحدهما - العلامات الأخرى التي تسبق مجيء المسيح:-مثل: المسيح الدجال، والوحش أو ملك الشمال، ويأجوج ومأجوج، وهرمجدون، ونحوها، فهم يختلفون فيها إلى قولين:القول الأول: من يرى أن هؤلاء ليسوا أشخاصاً حقيقيين ولا أحداثاً تاريخية ستقع بالصورة التي وردت في النصوص، وإنما هي صور مجازية، تعني انتشار أفكار فاسدة، وكذلك كثرة الشرور الموجهة للكنيسة، وأنه سيتساعد كل من السلطة المدنية والعسكرية للدولة التي تكون فيها الكنيسة مع إبليس، ويتعاونون ضد الكنيسة قبل مجيء المسيح، وهذا هو الذي يرمز إليه بـ"الوحش" و"يأجوج ومأجوج" و"هرمجدون".
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: যেসব বিষয়ে তারা মতভেদ করেন:এই মতের প্রবক্তারা দুটি বিষয়ে মতভেদ করেন:প্রথমটি— মসীহের আগমনের পূর্ববর্তী অন্যান্য নিদর্শনসমূহ:-যেমন: মসীহ দাজ্জাল, ‘পশু’ (The Beast) বা উত্তরের রাজা, ইয়াজুজ ও মাজুজ, আরমাগেডন এবং এই জাতীয় বিষয়াদি। তারা এগুলোর ব্যাপারে দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:প্রথম মত: যারা মনে করেন যে, এরা কোনো বাস্তব ব্যক্তি নন এবং এগুলো এমন কোনো ঐতিহাসিক ঘটনাও নয় যা বর্ণনাগুলোতে (نصوص) উল্লেখিত রূপরেখা অনুযায়ী সংঘটিত হবে। বরং এগুলো কেবল রূপক চিত্র (صور مجازية), যার মাধ্যমে ভ্রান্ত মতাদর্শের বিস্তার এবং গির্জার প্রতি পরিচালিত নানাবিধ অনিষ্টের আধিক্যকে বোঝানো হয়েছে। এছাড়া মসীহের আগমনের পূর্বে গির্জা যে রাষ্ট্রে অবস্থিত হবে, সেখানকার বেসামরিক ও সামরিক কর্তৃপক্ষ ইবলিসের সাথে হাত মেলাবে এবং তারা গির্জার বিরুদ্ধে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে; আর এটিকেই ‘পশু’, ‘ইয়াজুজ ও মাজুজ’ এবং ‘আরমাগেডন’ প্রতীকের মাধ্যমে নির্দেশ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৬২)
كما ستساعدهم السلطة الدينية التي يرمز إليها بـ"النبي الكذاب" أو"المسيح الدجال"، ويشددون جميعاً وطأتهم على الكنيسة بالترغيب والترهيب حتى يأتي المسيح وتقوم القيامة46.القول الثاني: من يرى أن تلك العلامات هي لأشخاصٍ حقيقيين ولأحداثٍ تاريخية ستقع قبيل مجيء المسيح عليه السلام على الكيفيات التي ذُكرت بالنصوص، ويتفقون في هذا مع الألفيين من النصارى، إلا أن الألفيين يرون أن هذه العلامات تكون في الفترة الواقعة بين ما يسمى بالاختطاف والظهور.أما هؤلاء فيرون أن ذلك قبيل مجيء المسيح عليه السلام للقيامة47ثانيهما - تحديد وقت المجىء والقيامة:-يختلف المنكرون للملك الألفي في تحديد وقت لمجيء المسيح عليه السلام وبالتالي القيامة إلى قولين أيضاً:القول الأول: إنكار تحديد وقتٍ أو تاريخ معين لمجيء المسيح أو القيامة، بل يعتبرون ذلك خطأ48 مخالفاً لما ورد في "إنجيل متى" 24/36 "وأما ذلك اليوم وتلك الساعة فلا يعلم بها أحد ولا ملائكة السموات إلا أبي وحده".القول الثاني: وهم من يحددون تاريخاً معيناً لمجيء المسيح والقيامة: -أصحاب هذا القول وإن كانوا لا يرون أن المسيح سيملك دنيوياً على الأرض قبل القيامة، إلا أنهم يحددون تاريخ مجيئه والقيامة بستة آلاف سنة منذ خلق أدم عليه السلام.
তেমনিভাবে তাদের সাহায্য করবে সেই ধর্মীয় কর্তৃত্ব, যাকে "মিথ্যা নবী (النبي الكذاب)" বা "মসীহ দাজ্জাল" দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। তারা সকলেই প্রলোভন ও ভীতির মাধ্যমে গির্জার ওপর তাদের কঠোরতা বৃদ্ধি করবে, যতক্ষণ না মসীহ আগমন করেন এবং কিয়ামত সংঘটিত হয়।৪৬দ্বিতীয় মত: যারা মনে করেন যে, সেই নিদর্শনগুলো মূলত এমন কিছু বাস্তব ব্যক্তি এবং ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিফলন যা মসীহ আলাইহিস সালামের আগমনের ঠিক পূর্বে টেক্সটসমূহে বর্ণিত পদ্ধতিতে সংঘটিত হবে। এ বিষয়ে তারা খ্রিষ্টানদের সহস্রাব্দবাদীদের সাথে একমত, তবে সহস্রাব্দবাদীরা মনে করেন যে এই নিদর্শনগুলো তথাকথিত 'অপহরণ' এবং 'প্রকাশ' এর মধ্যবর্তী সময়ে প্রকাশ পাবে।আর এরা মনে করেন যে, তা কিয়ামতের উদ্দেশ্যে মসীহ আলাইহিস সালামের আগমনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে ঘটবে।৪৭দ্বিতীয়টি - আগমন ও কিয়ামতের সময় নির্ধারণ:-সহস্রাব্দীয় রাজত্ব অস্বীকারকারীরা মসীহ আলাইহিস সালামের আগমনের সময় এবং ফলস্বরূপ কিয়ামতের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:প্রথম মত: মসীহের আগমন বা কিয়ামতের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় বা তারিখ নির্ধারণ করাকে অস্বীকার করা। বরং তারা এটিকে একটি ভুল হিসেবে গণ্য করেন৪৮ যা "মথি লিখিত সুসমাচার" ২৪/৩৬ এ বর্ণিত বাণীর বিরোধী: "তবে সেই দিন এবং সেই সময়ের কথা কেউ জানে না, এমনকি আসমানের ফেরেশতারাও নয়, কেবল আমার পিতা একাই জানেন।"দ্বিতীয় মত: যারা মসীহের আগমন এবং কিয়ামতের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করেন: -এই মতের অনুসারীরা যদিও মনে করেন না যে মসীহ কিয়ামতের পূর্বে পৃথিবীতে পার্থিব রাজত্ব করবেন, তবুও তারা তার আগমন ও কিয়ামতের তারিখ আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টির পর থেকে ছয় হাজার বছর হিসেবে নির্ধারণ করেন।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৬৩)
ويستدلون لذلك بنصٍ في "رسالة برنابا" 49 يقول فيها: "إن الله أتم عمل يديه في ستة أيام، هذا يعني أن الله سيقود خلال ستة آلاف سنة كل شيء إلى تمامه كل يوم عنده ألف سنة50، ثم يزعمون أنه مضى من خلق آدم إلى ولادة المسيح أربعة آلاف سنة فيبقى ألفا سنة، هي المدة الباقية حتى يجيء مرةً أخرى، ويكون مجيئه في نفس الليلة التي ولد فيها، وهي على حسابهم ليلة 24/25 ديسمبر سنة 4000 من خلق آدم عليه السلام.وحسب حساب الأقباط: فإن تاريخ ولادة المسيح يتأخر عن التاريخ المعمول به حالياً وهو التاريخ الغربي ثمان سنوات، حيث الميلاد عند الغرب في سنة 754 لتأسيس مدينة "رومية"، أما حسب التقويم القبطي فهو سنة 746 لتأسيس مدينة رومية، أما الميلاد الفعلي فيقولون: إنه وقع متقدماً على ذلك بخمس سنوات، حيث هو في 741 لتأسيس مدينة "رومية"، فيكون الفارق بين التاريخ الفعلي والتاريخ الحالي المعمول به ثلاثة عشر عاماً، فعليه يكون مجيء المسيح عليه السلام في حدود منتصف ليلة 24/25 ديسمبر سنة 2013 أو 2014م.وأصحاب هذا القول هم ممن يقول بخروج المسيح الدجال والوحش ونحو ذلك من العلامات، وأنهم أشخاص حقيقيون سيخرجون قبيل مجيء المسيح عليه السلام51.
তারা এর স্বপক্ষে 'বার্ণাবাসের পত্র'-এর ৪৯ নং অনুচ্ছেদের একটি পাঠ (نص) দ্বারা দলিল পেশ করেন যেখানে বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ছয় দিনে তাঁর হাতের কাজ সমাপ্ত করেছেন; এর অর্থ হলো আল্লাহ ছয় হাজার বছরের মধ্যে সবকিছুকে তার পূর্ণতায় নিয়ে যাবেন, কেননা তাঁর কাছে প্রতিটি দিন এক হাজার বছরের সমান৫০।" অতঃপর তারা দাবি করেন যে, আদম (আ.)-এর সৃষ্টি থেকে মসীহ (আ.)-এর জন্ম পর্যন্ত চার হাজার বছর অতিবাহিত হয়েছে, ফলে অবশিষ্ট থাকে দুই হাজার বছর। এটিই হলো তাঁর পুনরায় আগমন পর্যন্ত অবশিষ্ট সময়। আর তাঁর এই আগমন ঘটবে সেই একই রাতে যে রাতে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন; যা তাদের গণনা অনুযায়ী আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টির ৪০০০তম বছরের ২৪/২৫ ডিসেম্বরের রাত।কিবতিদের গণনা অনুযায়ী: মসীহ (আ.)-এর জন্মের তারিখ বর্তমানে প্রচলিত পশ্চিমা ইতিহাস অপেক্ষা আট বছর পিছিয়ে। পশ্চিমাদের কাছে জন্ম তারিখ 'রোম' শহর প্রতিষ্ঠার ৭৫৪তম বছর, কিন্তু কিবতি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী তা রোম শহর প্রতিষ্ঠার ৭৪৬তম বছর। তবে প্রকৃত জন্ম সম্পর্কে তারা বলেন: তা এরও পাঁচ বছর আগে সংঘটিত হয়েছিল, অর্থাৎ রোম শহর প্রতিষ্ঠার ৭৪১তম বছর। সুতরাং প্রকৃত তারিখ এবং বর্তমানে প্রচলিত তারিখের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়ায় তের বছর। সেই অনুযায়ী মসীহ আলাইহিস সালামের আগমন ২০১৩ বা ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৪/২৫ ডিসেম্বর মধ্যরাতের কাছাকাছি সময়ে হওয়ার কথা।যারা এই মত পোষণ করেন তারা দাজ্জাল, জন্তু এবং এ জাতীয় অন্যান্য নিদর্শনের (علامات) বহিঃপ্রকাশে বিশ্বাসী। তারা বিশ্বাস করেন যে, এরা বাস্তব সত্তা যারা মসীহ আলাইহিস সালামের আগমনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে আত্মপ্রকাশ করবে৫১।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়ান নাসারা ফী মাজীয়িল মাসীহ আলাইহিস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩৬৪)
الفصل الثاني: الرد على النصارى في دعاوى المجيءالمبحث الأول: بطلان المصادر المعتمدة إجمالاًالمطلب الأول: العهد القديم، وطعن طائفة من اليهود والنصارى فيه…الفصل الثاني: الرد على النصارى في دعاوى المجيءمما لاشك فيه أن المسيح عيسى عليه السلام سينزل قبل يوم القيامة، وهو من علامات الساعة الكبرى52، إلا أن الفرق واسعٌ، والبون شاسعٌ بين عقيدتنا في المسيح عليه السلام وكذلك مصادرنا، وبين عقيدة النصارى فيه ومصادرهم.فمن هنا نرد في هذا المبحث على الانحرافات في دعاوى المجيء، والمبنية إما على نصوصٍ خاطئةٍ، أو غير صحيحةٍ، أو فهومٍ باطلة فاسدة.المبحث الأول: بطلان المصادر المعتمدة إجمالاًالمصادر التي اعتمد عليها النصارى في هذه المسألة وفي غيرها من المسائل لايصح اعتمادها مصادر، لعدم ثبوتها من ناحية تاريخية، وإقرار كثيرٍ من النصارى بجهالة كُتَّابها، وسنذكر بشيء من الإيجاز ما يتعلق بكلٍ من العهد القديم والعهد الجديد.المطلب الأول: العهد القديم، وطعن طائفة من اليهود والنصارى فيه:العهد القديم53؛هو الكتاب المشترك بين كل من اليهود والنصارى، ويعتقد كلٌ منهما أنه موحى به من الله تعالى.فاليهود الأرثوذكس54 يعتقدون أن أسفار موسى بصفةٍ خاصةٍ هي كلام الإله الذي أوحي إلى موسى حرفاً بحرفٍ وأملاه عليه حينما صعد إلى جبل سيناء، وهو كلام أزلي لا يتغير، والكتب الأخرى في العهد القديم هي نتاج الروح القدس، تلك الروح في قولهم التي تغمر روح الإنسان فيتحدث باسم الإله 5.
দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রত্যাবর্তনের দাবির বিষয়ে খ্রিষ্টানদের খণ্ডনপ্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহের অসারতাপ্রথম অনুচ্ছেদ: ওল্ড টেস্টামেন্ট, এবং এ বিষয়ে একদল ইহুদি ও খ্রিষ্টানের আপত্তি…দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রত্যাবর্তনের দাবির বিষয়ে খ্রিষ্টানদের খণ্ডনএতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মসীহ ঈসা আলাইহিস সালাম কিয়ামতের পূর্বে অবতরণ করবেন এবং এটি কিয়ামতের বড় আলামতসমূহের অন্যতম। তবে মসীহ আলাইহিস সালাম সংক্রান্ত আমাদের আকিদা ও আমাদের উৎসসমূহ এবং খ্রিষ্টানদের আকিদা ও তাদের উৎসসমূহের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান ও বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান।এ কারণেই আমরা এই পরিচ্ছেদে (ঈসা আ.-এর) প্রত্যাবর্তনের দাবির ক্ষেত্রে সেই বিচ্যুতিগুলো খণ্ডন করব, যা হয় ভুল পাঠ্যের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে, অথবা যা সঠিক (صحيح) নয়, কিংবা যা বাতিল ও ভ্রষ্ট উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করে রচিত।প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহের অসারতাখ্রিষ্টানরা এই মাসআলায় এবং অন্যান্য বিষয়ে যেসব উৎসের ওপর নির্ভর করেছে, সেগুলোকে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গ্রহণ করা সঠিক নয়। কারণ, ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলোর প্রামাণিকতা সুপ্রতিষ্ঠিত নয় এবং অনেক খ্রিষ্টানও এগুলোর লেখকদের পরিচয় অজ্ঞাত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আমরা ওল্ড টেস্টামেন্ট (পুরাতন নিয়ম) এবং নিউ টেস্টামেন্ট (নতুন নিয়ম) সংক্রান্ত বিষয়াদি সংক্ষেপে আলোচনা করব।প্রথম অনুচ্ছেদ: ওল্ড টেস্টামেন্ট, এবং এ বিষয়ে একদল ইহুদি ও খ্রিষ্টানের আপত্তি:ওল্ড টেস্টামেন্ট হলো ইহুদি ও খ্রিষ্টান উভয় সম্প্রদায়ের অভিন্ন কিতাব, এবং তারা উভয়ই বিশ্বাস করে যে এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি।অর্থোডক্স ইহুদিরা বিশ্বাস করে যে, মূসা (আ.)-এর কিতাবসমূহ (তোরাত) বিশেষভাবে মাবুদের সেই বাণী যা মূসা (আ.)-এর প্রতি অক্ষরে অক্ষরে ওহি হিসেবে পাঠানো হয়েছে এবং যখন তিনি সিনাই পাহাড়ে আরোহণ করেছিলেন তখন তাঁকে তা পাঠ করে শোনানো হয়েছিল। এটি শাশ্বত বাণী যা অপরিবর্তনীয়। আর ওল্ড টেস্টামেন্টের অন্যান্য কিতাবগুলো হলো ‘রুহুল কুদুস’-এর অনুপ্রেরণার ফসল; তাদের দাবি অনুযায়ী, সেই রুহ মানুষের আত্মাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং তখন সেই মানুষটি মাবুদের পক্ষ থেকে কথা বলে।