(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: -)
دعاوي المناوئين لدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب القسم: كتب عامة
الكتاب: دعاوي المناوئين لدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب
المؤلف: عبد العزيز بن محمد بن علي آل عبد اللطيف
الناشر: دار الوطن، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1412هـ
عدد الصفحات: 393
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের বিরোধীদের অভিযোগসমূহ বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের বিরোধীদের অভিযোগসমূহ
লেখক: আব্দুল আজীজ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আল আব্দুল লতিফ
প্রকাশক: দারুল ওয়াতান, রিয়াদ, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة…دعاوى المناوئين لدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب عَرض ونقض
إعداد: عبد العزيز محمد بن علي العبد اللطيف
يقول الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله:
(لست ولله الحمد أدعو إلى مذهب صوفي أو فقيه أو متكلم أو إمام من الأئمة الذين أعظمهم مثل ابن القيم والذهبي وابن كثير وغيرهم، بل أدعو إلى الله وحده لا شريك له، وأدعو إلى سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم التي أوصى بها أول أمته وآخرهم، وأرجو أني لا أرد الحق إذا أتاني، بل أشهد الله وملائكته وجميع خلقه إن أتانا منكم كلمة من الحق لأقبلنها على الرأس والعين، ولأضربن الجدار بكل ما خالفها من أقوال أئمتي حاشا رسول الله صلى الله عليه وسلم فإنه لا يقول إلا الحق..) 1.
--------------------------------------------
ভূমিকা…শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের বিরোধীদের অভিযোগসমূহ: উপস্থাপন ও খণ্ডন
প্রস্তুতকারক: আব্দুল আজিজ মুহাম্মদ বিন আলী আল-আব্দুল লতিফ
শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
(আমি—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—কোনো সুফি তরীকা, বা কোনো ফকীহ, বা কোনো কালাম শাস্ত্রবিদ, অথবা এমন কোনো ইমামের মাযহাবের দিকে আহ্বান করছি না যাদের আমি অত্যন্ত সম্মান করি—যেমন ইবনুল কাইয়্যিম, আয-যাহাবী, ইবনে কাসীর ও অন্যান্য—বরং আমি একমাত্র আল্লাহর দিকে আহ্বান করছি যাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর দিকে আহ্বান করছি, যা তিনি তাঁর উম্মতের প্রথম ও শেষ সকলকে অসিয়ত করে গেছেন। আমি আশা করি যে, আমার কাছে সত্য আসলে আমি তা প্রত্যাখ্যান করব না; বরং আমি আল্লাহকে, তাঁর ফেরেশতাদের এবং তাঁর সকল সৃষ্টিকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আপনাদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে সত্যের কোনো কথা আসলে আমি তা অত্যন্ত আনন্দের সাথে গ্রহণ করে নেব এবং আমার ইমামদের যে কোনো কথা যা এর পরিপন্থী হবে তা আমি দেয়ালে ছুড়ে মারব—আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত, কারণ তিনি সত্য ছাড়া কিছুই বলেন না।) ১.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً. يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 34.
أما بعد:
فسيكون الحديث في هذه المقدمة شاملا للأمور التالية:
1- أهمية البحث والدواعي لاختياره.
2- خطة البحث ومنهجي في أبواب البحث.
3- جمع المادة العلمية.
أما عن أهمية هذا البحث، فأثناء مدة الاطلاع والبحث عن اختيار موضوع مناسب لتقديمه إلى قسم العقيدة والمذاهب المعاصرة، للحصول على درجة الماجستير، لاحظت - من خلال تتبع بعض فهارس المكتبات العربية والإصدارات الثقافية عموما - كثرة المؤلفات والرسائل ضد دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب5 رحمه
--------------------------------------------
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১।
{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চেয়ে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} ৩, ৪।
অতঃপর:
এই ভূমিকার আলোচনা নিম্নোক্ত বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করবে:
১- গবেষণার গুরুত্ব এবং তা নির্বাচনের কারণসমূহ।
২- গবেষণার পরিকল্পনা এবং গবেষণার অধ্যায়সমূহে আমার কর্মপদ্ধতি।
৩- গবেষণার উপাদান ও তথ্য সংগ্রহ।
এই গবেষণার গুরুত্বের বিষয়ে বলতে গেলে, আকিদাহ ও সমসাময়িক মতবাদ বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভের জন্য একটি উপযুক্ত বিষয় নির্বাচনের লক্ষ্যে অধ্যয়ন ও গবেষণার সময় আমি লক্ষ্য করেছি—সাধারণভাবে বিভিন্ন আরবি লাইব্রেরির সূচিপত্র ও সাংস্কৃতিক প্রকাশনাগুলো অনুসরণের মাধ্যমে—যে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ৫ রহিমাহুল্লাহ-এর দাওয়াতের বিরুদ্ধে প্রচুর গ্রন্থ ও গবেষণাপত্র রচিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
وسنلاحظ - كما سيأتي مفصلا في أبواب البحث - أن دعاوى الخصوم واعتراضاتهم ضد دعوة الشيخ الإمام في زمنه، يتلقفها من بعدهم، ثم الذين يلونهم، وهكذا إلى زمننا هذا، فهذه الدعاوى المثارة ضد الدعوة السلفية - الآن - لا تتجاوز غالبا ما أثاره أسلافهم زمن الشيخ محمد ابن عبد الوهاب رحمه الله، كما أن أولئك الأسلاف تلقفوا كثيرا من شبهاتهم عن أسلافهم السابقين ممن ناهض دعوة السلف الصالح، وعادى مجدديها مثل شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم رحمهما الله تعالى، ومن قبلهم من أئمة السلف، فإن جذور هذا الصراع قديمة ممتدة عبر قرون عديدة.
ولعل هذا البحث - المتواضع - يظهر لأجيال الموحدين بعضا من الجوانب المشرقة من خلال ما كتبه أسلافهم - القريبون -، ويكشف الجهود المكثفة التي بذلها أجدادهم في نصرة الدعوة السلفية، ويستشعر أن هذه الجهود مرتبطة ارتباطا وثيقا بالجهود السابقة لعلماء السلف، وامتداد لها، مثل جهود الإمام أحمد بن حنبل، والإمام البخاري، وابن قتيبة، وعثمان بن سعيد الدارمي، وابن تيمية، وابن القيم،رحمهم الله جميعا - وهكذا، فيكون ذلك عونا لتلك الأجيال للسير على منهاج السلف والاقتداء بهم.
(3) الحرص على بيان عقيدة السلف الصالح، ورد الاعتراضات والشبهات المثارة ضدها، فإن مما يجلي عقيدة السلف الصالح ويوضحها هو الرد والدحض لما يلصقه الخصوم بهذه العقيدة والجواب عن شبهاتهم ودعاويهم.
وليس الرد والجواب على الاعتراضات الموجهة إلى دعوة الشيخ الإمام - في الغالب - إلا رداً وجواباً عن الاعتراضات على عقيدة أهل السنة والجماعة، فإن دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله بلا أدنى شك هي عين الدعوة لعقيدة السلف الصالح.
فأحببت في هذا البحث أن أشارك في خدمة عقيدة الفرقة الناجية، وأن أسعى على قدر جهدي -وهو جهد مقل- في نصرة عقيدة السلف الصالح والذب عنها1.
--------------------------------------------
আমরা লক্ষ্য করব—যেমনটি গবেষণার অধ্যায়গুলোতে বিস্তারিত আসবে—শাইখ ইমামের যুগে তাঁর দাওয়াতের বিরুদ্ধে বিরোধীদের দাবি ও আপত্তিগুলো পরবর্তী প্রজন্ম গ্রহণ করেছে, তারপর তাদের পরবর্তী প্রজন্ম, এবং এভাবে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত। সালাফি দাওয়াতের বিরুদ্ধে বর্তমানে উত্থাপিত এই দাবিগুলো সাধারণত শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সময়ে তাদের পূর্বসূরিদের উত্থাপিত অভিযোগের বাইরে কিছু নয়। ঠিক যেমন সেই পূর্বসূরিরা তাদের আগের পূর্বসূরিদের থেকে অনেক সংশয় গ্রহণ করেছিল যারা সলফে সালেহীনের দাওয়াতের বিরোধিতা করেছিল এবং এর সংস্কারকগণ যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ও তাঁর ছাত্র ইবনে আল-কাইয়্যিম (রাহিমাহুমাল্লাহ) ও তাঁদের পূর্ববর্তী সলফ ইমামগণের সাথে শত্রুতা করেছিল। কেননা এই সংঘাতের শিকড় অনেক পুরনো এবং বহু শতাব্দী ধরে বিস্তৃত।
সম্ভবত এই বিনম্র গবেষণাটি তাওহীদপন্থী প্রজন্মগুলোর কাছে তাদের নিকট অতীতের পূর্বসূরিদের লেখনীর মাধ্যমে কিছু উজ্জ্বল দিক ফুটিয়ে তুলবে এবং সালাফি দাওয়াতের সমর্থনে তাদের পূর্বপুরুষদের ব্যাপক প্রচেষ্টাকে উন্মোচিত করবে। এটি উপলব্ধি করাবে যে, এই প্রচেষ্টাগুলো সলফ উলামাদের পূর্ববর্তী প্রচেষ্টার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত এবং তারই ধারাবাহিকতা; যেমন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইমাম বুখারী, ইবনে কুতাইবা, উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি, ইবনে তাইমিয়া এবং ইবনে আল-কাইয়্যিম (রাহিমাহুমুল্লাহ) প্রমুখের প্রচেষ্টা। এভাবে এটি বর্তমান প্রজন্মকে সলফদের মানহাজ ও তাঁদের অনুসরণে চলতে সহায়ক হবে।
(৩) সলফে সালেহীনের আকীদা বর্ণনা করার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তি ও সংশয়গুলোর খণ্ডন করা। কারণ, বিরোধীরা এই আকীদার সাথে যা কিছু লেপন করে তা প্রত্যাখ্যান ও চূর্ণ করা এবং তাদের সংশয় ও দাবিগুলোর উত্তর দেওয়ার মাধ্যমেই সলফে সালেহীনের আকীদা স্পষ্ট ও উজ্জ্বল হয়।
শাইখ ইমামের দাওয়াতের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তিগুলোর জবাব প্রদান—সাধারণত—আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদার ওপর আসা আপত্তিগুলোরই জবাব। কেননা শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াত কোনো সন্দেহ ছাড়াই সলফে সালেহীনের আকীদার দাওয়াত।
তাই আমি এই গবেষণার মাধ্যমে নাজাতপ্রাপ্ত দলের আকীদার খিদমতে শরিক হতে চেয়েছি এবং আমার সামর্থ্য অনুযায়ী—যা অত্যন্ত সামান্য—সলফে সালেহীনের আকীদা সমর্থন ও রক্ষায় সচেষ্ট হয়েছি ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
(2) خطة البحث ومنهجي في أبواب البحث:
تتكون خطة البحث من مقدمة وتمهيد وثلاثة أبواب وخاتمة.
وتتضمن المقدمة ما يلي:
1- أهمية البحث والدواعي لاختياره.
2- خطة البحث ومنهجى في أبواب البحث.
3- جمع المادة العلمية.
وأما التمهيد فقد شمل هذين الأمرين:
الأول: دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وبعض آثارها.
الثاني: دراسة استقرائية مجملة لمؤلفات المناوئين مع موقف علماء الدعوة من هذه المؤلفات المناوئة.
وأما الباب الأول فعنوانه:
مفتريات ألصقت بدعوة الشيخ مع الرد عليها
ويتكون من ثلاثة فصول:
الفصل الأول: الافتراء على الشيخ بادعاء النبوة وانتقاص الرسول صلى الله عليه وسلم.
الفصل الثاني: الزعم بأن الشيخ مشبه مجسم.
الفصل الثالث: فرية إنكار كرامات الأولياء.
وأما عنوان الباب الثاني فهو:
الشبهات المثارة حول دعوة الشيخ مع بيان الحق في ذلك
ويتكون من ثلاثة فصول:
الفصل الأول: التكفير والقتال وفيه سبعة مباحث.
(২) গবেষণা পরিকল্পনা এবং গবেষণার অধ্যায়সমূহে আমার পদ্ধতি:
গবেষণা পরিকল্পনাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।
ভূমিকাটিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
১- গবেষণার গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের কারণসমূহ।
২- গবেষণা পরিকল্পনা এবং গবেষণার অধ্যায়সমূহে আমার পদ্ধতি।
৩- জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদান সংগ্রহ।
আর উপক্রমণিকাটি এই দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে:
প্রথম: শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত এবং এর কিছু প্রভাব।
canদ্বিতীয়: বিরোধীদের রচনাবলির একটি সংক্ষিপ্ত অনুসন্ধানমূলক অধ্যয়ন এবং এই বিরোধী রচনাবলির প্রতি দাওয়াতের আলেমদের অবস্থান।
আর প্রথম অধ্যায়ের শিরোনাম হলো:
শায়খের দাওয়াতের প্রতি আরোপিত মিথ্যা অপবাদসমূহ এবং সেগুলোর খণ্ডন
এটি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: শায়খের প্রতি নবুওয়াতের দাবি এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবমাননার অপবাদ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শায়খকে সাদৃশ্যদানকারী ও দেহবাদী (মুশাব্বিহ ও মুজাসসিম) হিসেবে দাবি করা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আউলিয়াদের কারামত অস্বীকার করার মিথ্যা অপবাদ।
আর দ্বিতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম হলো:
শায়খের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত সংশয়সমূহ এবং এ বিষয়ে সত্যের বর্ণনা
এটি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাকফির এবং যুদ্ধ, এতে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الأول: مفتريات الخصوم وأكاذيبهم على الشيخ محمد بن عبد الوهاب في مسألة التكفير مع الرد والدحض لها.
المبحث الثاني: فرية أن الوهابيين خوارج وأن نجد اليمامة قرن الشيطان مع الرد والدحض لها.
المبحث الثالث: شبهة أن الوهابيين أدخلوا في المكفرات ما ليس منها عرض ثم رد.
المبحث الرابع: شبهة مخالفة الشيخ محمد بن عبد الوهاب لابن تيمية وابن القيم في هذه المسألة. عرض ثم رد.
المبحث الخامس: شبهة عدم طروء الشرك على هذه الأمة، عرض ثم رد.
المبحث السادس: شبهة تنزيل آيات في المشركين على المسلمين، عرض ثم رد.
المبحث السابع: شبهة خروج الشيخ على دولة الخلافة، عرض ثم رد.
الفصل الثاني: تحريم التوسل.
الفصل الثالث: منع الاستشفاع بالنبي صلى الله عليه وسلم.
وأما الباب الثالث فعنوانه:
ما اعترض عليه من قضايا الدعوة مع المناقشة لها
ويتكون من ثلاثة فصول:
الفصل الأول: هدم الأبنية على القبور والنهي عن شد الرحال لزيارتها.
الفصل الثاني: تقسيم التوحيد إلى توحيد الربوبية وتوحيد الألوهية.
الفصل الثالث: إنكار دعاء الموتى.
وآخر البحث خاتمة تتضمن نتائج البحث.
وأما عن المنهج الذي اخترته في كتابه أبواب البحث، فكان على النحو الآتي:
(1) إيراد الدعوى أو الاعتراض من خلال ما كتبه الخصوم - أنفسهم - في مؤلفاتهم، وهذا في الغالب، وأحيانا قليلة أذكر دعاوى المناوئين من خلال ما نقله أئمة الدعوة عنهم أثناء الرد عليهم، حين لا أعثر على تلك المؤلفات المناوئة.
(2) يكون هذا الإيراد لتلك الدعاوى مرتبا - غالبا - على حسب الترتيب الزمني لوفيات أولئك المناوئين، ولم ألتزم بذلك مطلقا، نظرا لأن بعض المناوئين لم
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাকফির তথা কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়ে শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অপবাদ ও মিথ্যাচার এবং এর খণ্ডন ও নিরসন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ওহাবিরা খারেজি এবং নজদ ইয়ামামা হলো শয়তানের শিং—এই অপবাদ এবং এর খণ্ডন ও নিরসন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ওহাবিরা এমন বিষয়কে তাকফিরের অন্তর্ভুক্ত করেছে যা আসলে এর অন্তর্ভুক্ত নয়—এই সংশয় উপস্থাপন ও তার নিরসন।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এই বিষয়ে ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়্যিমের সাথে শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের বিরোধ রয়েছে—এই সংশয় উপস্থাপন ও তার নিরসন।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এই উম্মতের মধ্যে শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটবে না—এই সংশয় উপস্থাপন ও তার নিরসন।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মুশরিকদের বিষয়ে অবতীর্ণ আয়াতসমূহ মুসলিমদের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে—এই সংশয় উপস্থাপন ও তার নিরসন।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: খিলাফত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শায়খের বিদ্রোহ করার সংশয় উপস্থাপন ও তার নিরসন।
দ্বিতীয় অধ্যায়: উসিলা তালাশ করার অবৈধতা।
তৃতীয় অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে সুপারিশ প্রার্থনা নিষিদ্ধ হওয়া।
আর তৃতীয় পরিচ্ছেদের শিরোনাম হলো:
দাওয়াতের যেসব বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে এবং তার পর্যালোচনা
এটি তিনটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:
প্রথম অধ্যায়: কবরের ওপর নির্মিত স্থাপনা ভেঙে ফেলা এবং তা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করতে নিষেধ করা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাওহিদকে তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহিদুল উলুহিয়্যাহ-তে বিভক্ত করা।
তৃতীয় অধ্যায়: মৃত ব্যক্তিদের নিকট দোয়া করাকে অস্বীকার করা।
এবং গবেষণার শেষে একটি উপসংহার রয়েছে যাতে গবেষণার ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আর গবেষণার পরিচ্ছেদগুলো রচনার ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছি তা হলো নিম্নরূপ:
(১) অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিরোধীদের নিজস্ব রচিত গ্রন্থসমূহ থেকেই তাদের দাবি বা আপত্তিগুলো তুলে ধরা। আর খুব অল্প ক্ষেত্রে যখন সেই বিরোধী গ্রন্থগুলো খুঁজে পাওয়া যায়নি, তখন দাওয়াতের ইমামগণ তাদের জবাব দেওয়ার সময় যা উদ্ধৃত করেছেন তার মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো উল্লেখ করা।
(২) অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই দাবিগুলোর উপস্থাপনা সেই বিরোধীদের মৃত্যুর সময়ানুক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। তবে আমি এটি সর্বদা কঠোরভাবে মেনে চলিনি, কারণ কিছু বিরোধী...
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
الله، وما تضمنته تلك المؤلفات والرسائل من الأكاذيب والشبهات على هذه الدعوة السلفية، التي جددها هذا الشيخ الإمام، ثم علمت من بعض الثقات بانتشار هذه المؤلفات في كثير من بلاد المسلمين، وما يحصل لها من القبول والرواج عند فئات كثيرة من المسلمين، خاصة في زماننا هذا الذي نشطت في الصد عن سبيل الله طوائف المبتدعة، وأهل الأهواء من صوفية ورافضة وأشعرية ونحوهم، وناهضت كل من يدعو إلى عقيدة السلف الصالح، وناصبته العداء.
ولما عرضت هذا الموضوع على بعض أهل العلم وجدت منهم تشجيعا كبيرا دفعني إلى اختياره والإعداد له، مع قناعتي التامة - ابتداء - بسعة الموضوع وأهميته، وقصر باع كاتب هذه السطور وضعفه.. ويمكن إيجاز أهمية هذا الموضوع بما يلي:
(1) كثرة المؤلفات والرسائل التي صنفت ضد دعوة الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب السلفية، وما حوته من المفتريات التي ألصقت بهذه الدعوة، وما تضمنته من الشبهات المثارة حولها، فلقد سود خصوم هذه الدعوة السلفية كمية هائلة من الكتب والمؤلفات ضد دعوة الشيخ وأنصارها - سواء المطبوع منها أو المخطوط -، وأفردوها بالتصنيف والتأليف، وإن كانت هذه المؤلفات - في الحقيقة - مثل الزبد الذي يذهب جفاء
…إلا أننا في عصر قد فشى فيه الجهل، واستحكم عليه التقليد الأعمى فظهرت لأجل ذلك البدعيات، وعمت الشركيات بمختلف أنواعها، مما جعل لمثل تلك المؤلفات قبولا وانتشارا عند طوائف من المسلمين.
كما أن هناك مراجعَ وكتباً في مختلف العلوم، ولا تخلو منها مكتبة - غالبا -،قد تضمنت شيئا من الطعن وإثارة الشبهات على هذه الدعوة السلفية ومجددها وأنصارها، كما هو ظاهر مثلا فيما كتبه ابن عابدين في حاشيته1 والصاوي
--------------------------------------------
আল্লাহ (সম্পর্কে), এবং এই সালাফী দাওয়াতের বিরুদ্ধে ঐ সকল গ্রন্থ ও পুস্তিকাসমূহ যে সকল মিথ্যাচার ও সংশয় অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা এই ইমাম শাইখ পুনরুজ্জীবিত করেছেন। তারপর আমি কিছু নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির নিকট থেকে জানতে পেরেছি যে, মুসলিম দেশগুলোর অনেকের মধ্যে এই গ্রন্থগুলোর প্রসার ঘটেছে এবং মুসলিমদের অনেক শ্রেণির কাছে এগুলো গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা লাভ করছে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে, যখন বিদআতী দলগুলো, এবং সুফি, রাফেযী, আশআরী ও তাদের মতো প্রবৃত্তিপূজারীরা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, এবং যারা সলফে সালেহীনের আকিদার দিকে আহ্বান জানায় তাদের প্রত্যেকের বিরোধিতা করছে ও তাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করছে।
যখন আমি এই বিষয়টি কিছু আলিমের নিকট উপস্থাপন করলাম, তখন তাঁদের পক্ষ থেকে ব্যাপক উৎসাহ পেলাম যা আমাকে বিষয়টি নির্বাচন করতে এবং এর জন্য প্রস্তুতি নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। যদিও শুরুতে আমি এই বিষয়ের ব্যাপকতা ও গুরুত্ব এবং এই লেখকের সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে পূর্ণ নিশ্চিত ছিলাম। এই বিষয়ের গুরুত্ব সংক্ষেপে নিম্নরূপভাবে বর্ণনা করা যেতে পারে:
(১) ইমাম শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সালাফী দাওয়াতের বিরুদ্ধে রচিত গ্রন্থ ও পুস্তিকার আধিক্য এবং এই দাওয়াতের সাথে জুড়ে দেওয়া মিথ্যাচার ও একে কেন্দ্র করে উত্থাপিত সংশয়সমূহ। এই সালাফী দাওয়াতের বিরোধীরা শাইখের দাওয়াত এবং এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ বই ও গ্রন্থ লিখেছে - চাই তা মুদ্রিত হোক বা পাণ্ডুলিপি - এবং তারা সেগুলোকে স্বতন্ত্র রচনা ও সংকলন হিসেবে তৈরি করেছে। যদিও বাস্তবে এই গ্রন্থগুলো সেই ফেনার মতো যা অসারভাবে চলে যায়
...তবে আমরা এমন এক যুগে রয়েছি যেখানে মূর্খতা ছড়িয়ে পড়েছে এবং অন্ধ অনুসরণ জেঁকে বসেছে। ফলে সেই কারণে বিদআতসমূহ আত্মপ্রকাশ করেছে এবং বিভিন্ন ধরণের শিরক ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। যা মুসলিমদের বিভিন্ন শ্রেণির কাছে এধরণের গ্রন্থগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও প্রসারের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন শাস্ত্রের এমন কিছু তথ্যসূত্র ও কিতাবাদি রয়েছে - যা সাধারণত কোনো লাইব্রেরিই এ থেকে খালি নয় -, যেগুলোতে এই সালাফী দাওয়াত, এর পুনরুজ্জীবক এবং এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে কিছুটা আক্রমণ এবং সংশয় উত্থাপন করা হয়েছে। যেমনটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় ইবনে আবিদীন তার হাশিয়াতে এবং আস-সাবী যা লিখেছেন তাতে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
في حاشيته على تفسير الجلالين1 والرحلة الحجازية لمحمد لبيب البتنوني2 ومرآة الجزيرة العربية لأيوب صبرى باشا3 وتاريخ الدولة العثمانية لمحمد فريد بك4 وتاريخ المذاهب الإسلامية لمحمد أبو زهرة5 والفكر الإسلامي في تطوره لمحمد البهي6 وغيرها. بل إن بعض الموسوعات العربية، قد تضمنت بعض المعلومات الخاطئة عن هذه الدعوة السلفية7.
(2) مع كثرة المؤلفات المناوئة وانتشارها في هذا الزمان، لا نجد في المقابل كثرة وانتشارا للكتب والرسائل التي سطرها أئمة هذه الدعوة السلفية، في الرد على اعتراضات المناوئين في هذا الزمان - أيضا - بل إن الكثير من كتب أئمة الدعوة مما سبق طبعه، أصبح الآن عزيز المنال، نادر الوجود، وأذكر منها على سبيل المثال: كتاب "تأسيس التقديس في الرد على داود ابن جرجيس"8 للشيخ عبد الله بن عبد الرحمن أبو بطين رحمه
--------------------------------------------
তাফসীরে জালালাইনের ওপর তার হাশিয়া (টীকা)-তে ১, মুহাম্মদ লাবীব আল-বাতানুনির 'আর-রিহলাতুল হিজাযিয়্যাহ' (হিজাজ সফরনামা)-তে ২, আইয়ুব সাবরি পাশার 'মিরআতুল জাজিরাতুল আরাবিয়্যাহ'-তে ৩, মুহাম্মদ ফরিদ বেগের 'তারীখুদ দাওলাতিল উসমানিয়্যাহ'-তে ৪, মুহাম্মদ আবু জহরার 'তারীখুল মাজাহিবিল ইসলামিয়্যাহ'-তে ৫, মুহাম্মদ আল-বাহীর 'আল-ফিকরুল ইসলামী ফি তাতাওউরিহি'-তে ৬ এবং অন্যান্য কিতাবে (এই দাওয়াত সম্পর্কে ভ্রান্ত তথ্য রয়েছে)। এমনকি কিছু আরবি বিশ্বকোষেও এই সালাফি দাওয়াত সম্পর্কে কিছু ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৭।
(২) বর্তমানে বিরোধী রচনাদির আধিক্য এবং সেগুলোর ব্যাপক প্রচারের বিপরীতে, আমরা এই যুগের বিরোধীদের আপত্তির খণ্ডনে এই সালাফি দাওয়াতের ইমামদের লেখা বই ও রিসালাহসমূহের (পুস্তিকা) ব্যাপকতা ও প্রচার দেখতে পাই না। এমনকি দাওয়াতের ইমামদের ইতিপূর্বে মুদ্রিত অনেক বই বর্তমানে অত্যন্ত দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ আমি উল্লেখ করছি: শাইখ আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবু বুতাইন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর লেখা কিতাব "তাসিসুত তাকদিস ফির রাদ্দি আলা দাউদ ইবনে জারজিস" ৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الله1 وكتاب "منهاج التأسيس والتقديس في الرد على داود بن جرجيس"2 للشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن رحمهم الله3 وكذلك كتب الشيخ سليمان بن سحمان4 -في غالبها- قد طبعت منذ زمن ليس بالقليل، ولم يعد طبعها مع أن الحاجة قائمة إليها5.
في حين أن كتب الخصوم الذين قصد أئمة الدعوة الرد على مفترياتهم وشبهاتهم، قد تكرر إعادة طبعها ونشرها حتى عم ضررها واستفحل داؤونشرها حتى عم ضررها واستفحل دائها. وقد يقول قائل: إن هذه الكتب التي ألفها بعض أئمة الدعوة في الرد على المخالفين إنما هي مجرد كتب مؤقتة بأحداث انقضت وأزمان مضت، فليست سوى ردود على أشخاص معينين قد أفضوا إلى ما قدموا، فلا حاجة إليها الآن في هذا العصر.
فنقول جوابا على ذلك: إن هؤلاء حين ألفوا تلك الكتب وأجابوا عن اعتراضات الخصوم، لم يكن قصدهم من ذلك إلا الرد على ما تعلق به الخصوم من مفتريات وشبهات أثاروها ضد الدعوة السلفية، فهذه الردود التي ألفها أئمة الدعوة السلفية وأنصارها، هي مؤلفات مناسبة وملائمة للرد والجواب على تلك الشبهات والاعتراضات، وإن اختلف الزمان أو المكان، ما دام أن فكرة الشبهة والاعتراض ومضمونهما لا يختلف.
--------------------------------------------
আল্লাহ১ এবং শাইখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন)৩ রচিত "মিনহাজুত তাসিস ওয়াত তাকদিস ফির্ রাদ্দি আলা দাউদ বিন জারজিস"২ কিতাবটি, সেই সাথে শাইখ সুলাইমান বিন সাহমান৪-এর কিতাবসমূহ—যার অধিকাংশ—অনেক আগে ছাপা হয়েছে এবং এগুলোর প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে নতুন করে আর ছাপা হয়নি।৫
অন্যদিকে, সেই সব বিরোধীদের কিতাবসমূহ—যাদের অপবাদ ও সংশয়ের খণ্ডনে দাওয়াতের ইমামগণ কলম ধরেছিলেন—সেগুলো বারবার পুনর্মুদ্রিত ও প্রকাশিত হচ্ছে, এমনকি সেগুলোর ক্ষতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাধি চরম আকার ধারণ করেছে। কেউ হয়তো বলতে পারেন: বিরোধীদের খণ্ডনে দাওয়াতের কিছু ইমাম যে সকল কিতাব রচনা করেছেন, সেগুলো ছিল কেবল গত হয়ে যাওয়া কিছু ঘটনা ও অতিবাহিত সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সাময়িক কিতাব; সেগুলো নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর কেবল কিছু জবাব মাত্র যারা তাদের কৃতকর্মের ফল পেতে চলে গেছেন, তাই বর্তমান যুগে এগুলোর আর কোনো প্রয়োজন নেই।
এর উত্তরে আমরা বলি: তাঁরা যখন সেই কিতাবগুলো রচনা করেছিলেন এবং বিরোধীদের আপত্তির জবাব দিয়েছিলেন, তখন তাঁদের উদ্দেশ্য কেবল সালাফি দাওয়াতের বিরুদ্ধে বিরোধীদের উত্থাপিত অপবাদ ও সংশয়গুলোর খণ্ডন করা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সুতরাং সালাফি দাওয়াতের ইমামগণ এবং তাঁদের সহযোগীরা যে সকল খণ্ডনমূলক কিতাব রচনা করেছেন, সেগুলো সেই সব সংশয় ও আপত্তির দাঁতভাঙা জবাবের জন্য উপযুক্ত ও প্রাসঙ্গিক রচনা; যদিও সময় বা স্থান ভিন্ন হতে পারে, যতক্ষণ পর্যন্ত সংশয় ও আপত্তির মূল ধারণা এবং এর বিষয়বস্তু অভিন্ন থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أعثر له على ترجمة، وربما كان العثور على ترجمته ومعرفة تاريخ وفاته، بعد كتابة أبواب الرسالة.
(1) اقتصرت - في الغالب - عند إيراد دعاوى المناوئين على ما كتبه علماء الطوائف والفرق الإسلامية، وكان باللغة العربية، فلم أذكر مطاعن ودعاوى المستشرقين على هذه الدعوة السلفية، شعورا مني بأن الرد على أولئك العلماء آكد وأهم من الرد على المستشرقين في مثل هذا البحث، خاصة وأن أكثر اعتراضات أهل الاستشراق مبنية على معلومات تاريخية خاطئة عن حياة مجدد هذه الدعوة، وعن تاريخ الدعوة1 وأعرضت عن الكتب المؤلفة - ضد هذه الدعوة - باللغات الأخرى غير العربية، مثل الإنجليزية، والأوردية، ونحوهما، نظرا للحاجة إلى ترجمتها، والوقت لا يسمح بذلك.
(4) بعد إيراد الدعوى، يأتي الجواب عليها من قبل أئمة الدعوة وأنصارها، فأذكر أقوالهم من خلال مؤلفاتهم مراعيا الترتيب الزمني لوفياتهم، مع الاهتمام بشمولية الجواب والرد على تلك الدعاوى، وكذلك الحرص على ذكر أقوال أنصار هذه الدعوة خارج موطنها، فنذكر -مثلا- ردود الشيخ محمد بن ناصر الحازمي اليمني2 وردود السهسواني الهندي3 وكذلك ردود محمود الألوسي العراقي4 حتى يتضح جليا عالمية هذه الدعوة واتساع آثارها.
--------------------------------------------
আমি তার কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি, এবং হতে পারে তার জীবনী খুঁজে পাওয়া এবং মৃত্যুর তারিখ জানা এই রিসালার (পত্রের) অধ্যায়গুলো লেখার পর সম্ভব হয়েছে।
(১) বিরোধীদের দাবিগুলো উল্লেখ করার ক্ষেত্রে আমি প্রধানত মুসলিম সম্প্রদায় ও দলসমূহের আলেমদের দ্বারা আরবী ভাষায় লিখিত রচনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। তাই আমি এই সালাফী দাওয়াতের বিরুদ্ধে প্রাচ্যবিদদের অপবাদ ও দাবিগুলো উল্লেখ করিনি। কারণ আমার মনে হয়েছে, এই ধরনের গবেষণায় প্রাচ্যবিদদের জবাব দেওয়ার চেয়ে ওই আলেমদের জবাব দেওয়া অধিক জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রাচ্যবিদদের অধিকাংশ আপত্তিই এই দাওয়াতের সংস্কারকের জীবন এবং দাওয়াতের ইতিহাস সম্পর্কে ভুল ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আর আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় (যেমন ইংরেজি, উর্দু ইত্যাদি) এই দাওয়াতের বিরুদ্ধে লিখিত গ্রন্থগুলো অনুবাদ করার প্রয়োজনীয়তা এবং সময়ের স্বল্পতার কারণে আমি সেগুলো বর্জন করেছি।
(৪) দাবিটি উল্লেখ করার পর, দাওয়াতের ইমাম ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে তার উত্তর প্রদান করা হয়েছে। আমি তাদের মৃত্যুসন অনুযায়ী কালানুক্রমিকভাবে তাদের কিতাবসমূহ থেকে বক্তব্যগুলো উল্লেখ করি। এক্ষেত্রে উত্তরের ব্যাপকতা এবং ওই সকল দাবির খণ্ডনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। পাশাপাশি দাওয়াতের উৎপত্তিস্থলের বাইরের সমর্থকদের বক্তব্য উল্লেখ করার ব্যাপারেও যত্নশীল হয়েছি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা ইয়ামেনের শেখ মুহাম্মদ বিন নাসের আল-হাজিমি, ভারতের সাহসাওয়াানি এবং ইরাকের মাহমুদ আল-আলুসি এর জবাবগুলো উল্লেখ করি, যাতে এই দাওয়াতের বিশ্বজনীনতা এবং এর প্রভাবের বিস্তৃতি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(5) اقتصرت في الجواب عن دعاوى المناوئين على ما كتبه أئمة الدعوة وأنصارها، دون أن أسوق أقوال علماء السلف السابقين لتلك الدعوة التي تؤيد ما كتبوه، وإن كان سياق أقوالهم يعطي القارئ - بلا شك - تصورا صادقا بأن هذه الدعوة امتداد لدعوة أولئك السلف السابقين لها، ولكن اقتصرت على كتابات أئمة الدعوة حتى لا يتسع الموضوع اتساعا لا يمكن حده، وحتى لا يخرج عما قصدته من إبراز وإظهار جهود أئمة هذه الدعوة دون من سبقهم. ومع ذلك فلا يخلو بعض مباحث هذا البحث من إيراد أقوال السلف السابقين، مما يؤكد أصالة هذه الدعوة وأنها امتداد للطائفة المنصورة.
(6) جعلت لكل باب من الأبواب الثلاثة لهذا البحث، أسلوبا يلائم موضوع الباب، ويوضح مضمونه، وقد أشرت إلى ذلك في مقدمة كل باب.
وعلى كلٍّ فإنني بهذا المنهج الذي ارتضيته في كتابة أبواب البحث، حاولت قدر الاستطاعة الالتزام به، والسير على ضوئه، مع اعترافي بالتقصير فيما التزمته وقصدته، وحسبي أني بذلت جهدي والله يغفر لي.
(3) جمع المادة العلمية:
لما تمت الموافقة على تسجيل هذا الموضوع، شرعت في جمع المصادر والمراجع، وتتبعها، وحرصت على الحصول على ما كتبه الخصوم ضد هذه الدعوة وكذلك ما صنفه أئمة الدعوة وأنصارها في الرد والجواب عن دعاوى الخصوم.
فابتدأت بقسم المخطوطات والمجموعات الخاصة بجامعة الملك سعود، فصورت مجموعة مهمة من المؤلفات - منها المخطوط ومنها المطبوع بعضها ضد هذه الدعوة السلفية وبعضها في الدفاع عنها.
كما حصلت من المكتبة المركزية بجامعة الملك سعود على مجموعة مصورات لبعض المجلات والصحف التي تحوي مقالات ترتبط بهذا البحث.
وحصلت من قسم المخطوطات بجامعة الإمام محمد بن سعود على صورة مخطوط "فصل الخطاب" للقباني، والذي يعتبر من أقدم المؤلفات ضد دعوة الشيخ الإمام، كما صورت بعض الدوريات المهمة.
كما تم لي - ولله الحمد والمنة - الحصول على صور لبعض المصادر الخطية الهامة من المكتبة السعودية، وكذلك يسر الله لي تصوير بعض كتب المناوئين من إدارة مراقبة المطبوعات بدار الإفتاء.
(5) বিরোধীদের দাবিসমূহের জবাবে আমি দাওয়াতের ইমামগণ এবং তাঁদের সমর্থকদের লেখনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। আমি এই দাওয়াতের পূর্ববর্তী সালাফী উলামায়ে কেরামের উক্তিগুলো উদ্ধৃত করিনি, যা তাঁদের লেখনীকে সমর্থন করে। যদিও তাঁদের উক্তি উদ্ধৃত করা পাঠককে নিঃসন্দেহে একটি সঠিক ধারণা প্রদান করত যে, এই দাওয়াত মূলত পূর্ববর্তী সেই সালাফদের দাওয়াতেরই একটি সম্প্রসারণ। তবে আমি দাওয়াতের ইমামদের লেখনীর ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি যেন বিষয়টি অনির্দিষ্টভাবে বিস্তৃত না হয়ে পড়ে এবং যা আমার উদ্দেশ্য—অর্থাৎ পূর্বসূরিদের আলোচনা বাদ দিয়ে কেবল এই দাওয়াতের ইমামদের প্রচেষ্টাকেই ফুটিয়ে তোলা ও প্রকাশ করা—তা থেকে বিচ্যুত না হয়। তা সত্ত্বেও, এই গবেষণার কিছু কিছু পরিচ্ছেদ পূর্ববর্তী সালাফদের উক্তি উপস্থাপন থেকে মুক্ত নয়, যা এই দাওয়াতের মৌলিকত্ব এবং এটি যে সাহায্যপ্রাপ্ত দলেরই (তায়েফা মানসুরাহ) সম্প্রসারণ, তা নিশ্চিত করে।
(6) আমি এই গবেষণার তিনটি অধ্যায়ের প্রত্যেকটির জন্য এমন একটি শৈলী গ্রহণ করেছি যা অধ্যায়ের বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর বিষয়বস্তুকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। আমি প্রতিটি অধ্যায়ের ভূমিকায় সেদিকে ইঙ্গিত করেছি।
যাই হোক না কেন, গবেষণার অধ্যায়গুলো রচনার ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি পছন্দ করেছি, সাধ্যমতো তা মেনে চলতে এবং তার আলোকে পথ চলতে চেষ্টা করেছি। যদিও আমি যা অঙ্গীকার করেছি এবং যে উদ্দেশ্য স্থির করেছি, তাতে আমার সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করছি। আমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছি এবং আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন।
(3) জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদান সংগ্রহ:
যখন এই বিষয়টি নিবন্ধনের জন্য অনুমোদিত হলো, তখন আমি উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহ সংগ্রহ এবং সেগুলো অনুসন্ধানে আত্মনিয়োগ করলাম। আমি এই দাওয়াতের বিরুদ্ধে বিরোধীরা যা লিখেছে তা সংগ্রহ করতে সচেষ্ট হলাম, পাশাপাশি এই দাওয়াতের ইমাম ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে বিরোধীদের দাবির খণ্ডন ও জবাবে রচিত গ্রন্থাবলিও সংগ্রহের চেষ্টা করলাম।
আমি কিং সাউদ ইউনিভার্সিটির পাণ্ডুলিপি ও বিশেষ সংগ্রহ বিভাগ থেকে কাজ শুরু করলাম। সেখান থেকে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ রচনার অনুলিপি তৈরি করলাম—যার মধ্যে পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত উভয়ই রয়েছে; এগুলোর কিছু ছিল এই সালাফী দাওয়াতের বিরুদ্ধে এবং কিছু এর সমর্থনে।
অনুরূপভাবে, আমি কিং সাউদ ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে কিছু সাময়িকী ও সংবাদপত্রের অনুলিপি সংগ্রহ করেছি, যাতে এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রবন্ধসমূহ রয়েছে।
আমি ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইউনিভার্সিটির পাণ্ডুলিপি বিভাগ থেকে কাব্বানীর "ফাসলুল খিতাব" পাণ্ডুলিপির অনুলিপি সংগ্রহ করেছি, যা শায়খ ইমামের দাওয়াতের বিরুদ্ধে রচিত অন্যতম প্রাচীন গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাময়িকীর অনুলিপিও তৈরি করেছি।
আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে আমি 'আল-মাকতাবাতুস সাউদিয়া' থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি উৎসের অনুলিপি পেতে সক্ষম হয়েছি। পাশাপাশি আল্লাহ আমার জন্য 'দারুল ইফতা'-র প্রকাশনা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ থেকে বিরোধীদের কিছু কিতাব অনুলিপি করা সহজ করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وصورت من قسم الوثائق بدارة الملك عبد العزيز مخطوطا قديما ضد الدعوة السلفية1 وكذلك رسالة خطية أخرى ضد هذه الدعوة أيضا.
وحصلت على بعض الأعداد المصورة من جريدة أم القرى عن طريق مكتبة معهد الإدارة.
ولقد أهداني الشيخ عبد الرحمن بن عبد العزيز بن سحمان القاضي في محكمة التمييز بالرياض، بعض مؤلفات عمه الشيخ سليمان بن سحمان رحمه الله، ومن ضمنها صورة مخطوط لم يسبق طبعه وهو "الحجج الواضحة الإسلامية"2 فجزاه الله كل خير.
ولقد تكرم بعض المشايخ والأساتذة بمساعدتي وإعارتي أو إهدائي بعض الكتب المهمة التي تتصل بهذا الموضوع، فجزاهم الله خيرا، وبارك الله فيهم.
وعثرت على صورة خطية لأبيات في الرد على الوهابية مع شرحها لمجهول، وذلك من مكتبة أرامكو بالظهران، كما صورت كتاب "النفخة على النفحة" من المكتبة الصالحية بعنيزة3.
وأرسلت إلى الأستاذ الشهم صبحي البدري السامرائي في العراق، أطلب منه تصوير مجموعة من الكتب التي ألفها بعض علماء الشيعة ضد الدعوة السلفية، فأرسل إلي مجموعة مما طلبت فجزاه الله خيرا.
كما طلبت من معهد المخطوطات بالكويت تصوير بعض المراجع الخطية مما كتب ضد الدعوة السلفية، فأجابوا وأرسلوا ما طلبت4.
وطلبت عن طريق الجامعة السلفية في مدينة بنارس بالهند بعضا من الكتب ضد دعوة الشيخ الإمام، فأرسلوا ثلاثة كتب ولكنها باللغة الأردية.
--------------------------------------------
আমি দারাতে মালিক আব্দুল আজিজ-এর নথিপত্র বিভাগ থেকে সালাফী দাওয়াতের বিরুদ্ধে একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপির অনুলিপি করেছি এবং এই দাওয়াতের বিরুদ্ধে অন্য একটি লিখিত পত্রের অনুলিপিও সংগ্রহ করেছি।
এছাড়া আমি ইন্সটিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন লাইব্রেরির মাধ্যমে উম্মুল কুরা পত্রিকার কিছু সংখ্যার অনুলিপিও লাভ করেছি।
রিয়াদের আপিল আদালতের বিচারক শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে সাহমান আমাকে তাঁর চাচা শায়খ সুলাইমান ইবনে সাহমান (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিছু রচনা উপহার দিয়েছেন, যার মধ্যে একটি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপির অনুলিপিও ছিল, যা হলো ‘আল-হুজাজুল ওয়াদিহাতুল ইসলামিয়্যাহ’। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
কতিপয় শায়খ ও অধ্যাপক এই বিষয় সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই দিয়ে আমাকে সাহায্য করার মাধ্যমে এবং সেগুলো ধার বা উপহার দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন; আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁদের মধ্যে বরকত দান করুন।
আর আমি দাহরানের আরামকো লাইব্রেরি থেকে ওহাবিয়্যাত-এর খণ্ডনে রচিত কতিপয় পংক্তির এক অজ্ঞাত পরিচয় লেখকের ব্যাখ্যাসহ একটি লিখিত অনুলিপি পেয়েছি। তেমনিভাবে আমি উনাইজাহর আস-সালিহিয়্যাহ লাইব্রেরি থেকে ‘আন-নাফখাহ আলা আন-নাফহাহ’ নামক বইটির অনুলিপিও সংগ্রহ করেছি।
আমি ইরাকের উদারমনা অধ্যাপক সুব্হি আল-বাদরি আস-সামাররায়ীর কাছে সালাফী দাওয়াতের বিরুদ্ধে কতিপয় শিয়া আলেম কর্তৃক রচিত একগুচ্ছ বইয়ের অনুলিপি চেয়ে পাঠিয়েছিলাম, তিনি আমার চাওয়া অনুযায়ী একটি সংগ্রহ পাঠিয়ে দিয়েছেন; আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন।
এছাড়াও আমি কুয়েতের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটের নিকট সালাফী দাওয়াতের বিরুদ্ধে লিখিত কিছু পাণ্ডুলিপি সূত্রের অনুলিপি চেয়েছিলাম, তাঁরা এতে সাড়া দিয়েছেন এবং আমার চাহিদা মোতাবেক সেগুলো পাঠিয়েছেন।
আর আমি ভারতের বেনারস শহরের জামিয়া সালাফিয়্যার মাধ্যমে শায়খ ইমামের দাওয়াতের বিরুদ্ধে লিখিত কিছু বই চেয়েছিলাম, তাঁরা তিনটি বই পাঠিয়েছেন তবে সেগুলো উর্দু ভাষায় রচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وأرسلت إلى حسين بن حلمي ايشيق صاحب مكتبة الحقيقة في استانبول بتركيا - وهو عدو لدود للدعوة السلفية - أطلب بعض مطبوعات مكتبته والتي يوزعها مجانا وهي تحوي الطعن في الشيخ الإمام ودعوته، فأرسل إليّ مجموعة من الكتب - مجانا - استفدت من أحدها في هذا البحث1.
وطلبت من مكتبة الدولة في برلين بألمانيا بعض صور المخطوطات الهامة التي ألفت ضد الدعوة السلفية فأرسلوا إليّ ثلاث صور خطية منها2.
وكذا أرسلت إليّ مكتبة الجامعة الملكية في توبنجن بألمانيا صورة من مخطوط نادر لأحد الأعداء المعاصرين للشيخ الإمام3 وذلك لما بعثت إليهم بالرغبة في الحصول عليها.
وقد بعثت برسائل أخرى إلى مكتبات متنوعة، ولكن بعضها اعتذر بعدم وجود ما طلبت مثل المتحف البريطاني، وطلبت عن طريق أحد الأساتذة4 في القاهرة الحصول على صور من مخطوطات متعددة توجد في دار الكتب المصرية (خزانة تيمور) - بناء على المعلومات المدونة في فهارسها، فأخبرني بعدم وجودها، وبعض الجهات العلمية أردت منها ما يخدمني في هذا البحث ولكن دون جواب.
إن من العوائق التي واجهتني أثناء جمع المادة العلمية وتحصيلها هو التأخر الكثير لوصول بعض المراجع الأساسية لهذا البحث، وكنت أطلبها عن طريق المراسلة لبعض المكتبات العلمية، حتى إني مكثت أكثر من سبعة أشهر في انتظار وصول صورتي مخطوطتين من بلاد المغرب، مع أن ابتداء هذه المدة المذكورة من حين الموافقة على تصوير وإرسال تلك المخطوطتين.
كما أن تعدد الاعتراضات وكثرة الدعاوى وتنوع الشبهات ضد دعوة الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب، كان ذلك عقبة أخرى حاولت اجتيازها بالتركيز على الاعتراضات الأساسية والدعاوى الهامة في مجال العقيدة دون الاعتراضات الأخرى.
--------------------------------------------
আমি তুরস্কের ইস্তাম্বুলের 'মাকতাবাতুল হাকিকাহ' (হাকিকাত কিতাবেবি)-এর স্বত্বাধিকারী হুসাইন বিন হিলমি ইশিক—যিনি সালাফি দাওয়াতের এক ঘোর শত্রু—তার নিকট পত্র পাঠিয়েছিলাম। আমি তার মাকতাবাহর কিছু প্রকাশনা চেয়েছিলাম যা তিনি বিনামূল্যে বিতরণ করেন এবং যাতে ইমাম শাইখ ও তার দাওয়াতের বিরুদ্ধে কুৎসা ও আক্রমণ রয়েছে। তিনি আমাকে একগুচ্ছ বই পাঠিয়েছিলেন—বিনামূল্যে—যার একটি থেকে আমি এই গবেষণায় উপকৃত হয়েছি১।
আমি জার্মানির বার্লিনে অবস্থিত স্টেট লাইব্রেরি থেকে সালাফি দাওয়াতের বিরুদ্ধে রচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপির অনুলিপি চেয়েছিলাম। তারা সেখান থেকে তিনটি পাণ্ডুলিপির ছবি আমার নিকট পাঠায়২।
একইভাবে জার্মানির তুবিনজেনের রয়্যাল ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি ইমাম শাইখের সমসাময়িক এক শত্রুর একটি দুর্লভ পাণ্ডুলিপির অনুলিপি আমার কাছে পাঠিয়েছে৩, যখন আমি সেটি পাওয়ার ব্যাপারে আমার আগ্রহের কথা তাদের জানিয়েছিলাম।
আমি বিভিন্ন লাইব্রেরিতে আরও পত্র পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তাদের কেউ কেউ আমার চাওয়া বিষয়গুলো সেখানে না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেছে, যেমন ব্রিটিশ মিউজিয়াম। আমি কায়রোর একজন অধ্যাপকের৪ মাধ্যমে মিসরীয় দারুল কুতুবের (তৈমুরিয়া ভাণ্ডার) ক্যাটালগগুলোতে সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে বিদ্যমান একাধিক পাণ্ডুলিপির অনুলিপি পাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। তিনি আমাকে সেগুলো না থাকার কথা জানান। কিছু বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও আমি এমন কিছু চেয়েছিলাম যা এই গবেষণায় সহায়ক হবে, কিন্তু কোনো উত্তর আসেনি।
এই গবেষণার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও অর্জনের ক্ষেত্রে আমি যেসব বাধার সম্মুখীন হয়েছি, তার মধ্যে একটি হলো এই গবেষণার কিছু মৌলিক সূত্র বা রেফারেন্স হাতে পেতে অনেক দেরি হওয়া। আমি বিভিন্ন লাইব্রেরিতে পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে সেগুলো চেয়েছিলাম, এমনকি মরক্কো থেকে দুটি পাণ্ডুলিপির অনুলিপি আসার অপেক্ষায় আমাকে সাত মাসেরও বেশি সময় কাটাতে হয়েছে, যদিও এই সময়কাল শুরু হয়েছিল সেই পাণ্ডুলিপি দুটির ছবি তোলা ও পাঠানোর ব্যাপারে সম্মতি পাওয়ার পর থেকে।
ইমাম শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অসংখ্য আপত্তি, প্রচুর দাবি এবং নানা ধরনের সংশয় ছিল আরেকটি বড় বাধা, যা আমি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছি মূলত আকীদাহর ক্ষেত্রে মৌলিক আপত্তি ও গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর ওপর আলোকপাত করার মাধ্যমে, অন্যান্য সাধারণ আপত্তিগুলো বাদ দিয়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وعقبة ثالثة وهو التداخل الكبير، والترابط الكثير بين فصول أبواب الرسالة، وسيتضح ذلك أثناء الدخول في فصول البحث، فلقد واجهتني أثناء جمع المادة العلمية، وأثناء الكتابة، فبذلت جهدي في ترتيب المعلومات وتنظيمها، ولكن كان هناك تلازم واتصال بين بعض معلومات الفصل مما لا يمكن تقسيمه وانفصاله، فألجأ عندئذ إلى الإحالة أحيانا، أو أذكر هذه المعلومات بإيجاز في موضع، ثم أوردها بإسهاب في موضع آخر، أو العكس.
وفي ختام هذه المقدمة، أحمد الله حمدا كثيرا كما يليق بجلال وجهه وعظيم سلطانه، على ما منّ به عليّ من الإعانة والتيسير في كتابة هذا البحث، وأرجو منه سبحانه وتعالى أن يجعل هذا البحث بابا إلى تحصيل العلم النافع الذي يرضيه عزوجل وأن يوفقني فيه إلى تحقيق الصواب والسداد.
وكتبه
عبد العزيز بن محمد بن علي عبد اللطيف
الرياض - ص. ب: 17999 - الرمز البريدي: (11494)
شهر ربيع الأول 1409هـ
এবং তৃতীয় একটি প্রতিবন্ধকতা হলো এই গবেষণাপত্রের অধ্যায়গুলোর মধ্যে ব্যাপক সংমিশ্রণ ও নিবিড় আন্তঃসম্পর্ক। গবেষণার বিভিন্ন অধ্যায়ে প্রবেশ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ ও রচনার সময় আমি এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম। তাই তথ্যগুলো বিন্যস্ত ও সুসংগঠিত করতে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। তবে অধ্যায়ের কিছু তথ্যের মধ্যে এমন অবিচ্ছেদ্য সংহতি ও সংযোগ ছিল যা ভাগ করা বা বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব ছিল না। এমতাবস্থায় আমি কখনো কখনো রেফারেন্স বা পূর্বাপর উদ্ধৃতির আশ্রয় নিয়েছি, অথবা কোনো স্থানে এই তথ্যগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি এবং অন্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, কিংবা এর উল্টোটি করেছি।
এই ভূমিকার শেষে, আমি আল্লাহর অগণিত প্রশংসা করছি যেমনটি তাঁর চেহারার গরিমা এবং তাঁর বিশাল রাজত্বের জন্য উপযুক্ত; তিনি এই গবেষণাটি লেখার ক্ষেত্রে আমাকে যে সাহায্য ও সহজীকরণ দান করেছেন তার জন্য। আমি তাঁর (যিনি পবিত্র ও সুউচ্চ) কাছে আশা করি যে, তিনি এই গবেষণাকে এমন উপকারী জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম হিসেবে কবুল করবেন যা তাঁকে (যিনি মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) সন্তুষ্ট করে এবং এতে আমাকে সঠিক ও নির্ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার তাওফিক দান করবেন।
লিখেছেন
আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আবদুল লতিফ
রিয়াদ - পো. ব.: ১৭৯৯৯ - পোস্টাল কোড: (১১৪৯৪)
রবিউল আউয়াল মাস ১৪০৯ হিজরি
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تمهيددعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وبعض آثارها
إن ما كتبه الشيخ من المصنفات والرسائل يؤكد يقينا بأن الشيخ لا يدعو إلا لعقيدة السلف الصالح في جميع أبواب الاعتقاد، وليست مصنفاته ورسائله فحسب هي الجواب على هذا فقط، بل إن سيرة الشيخ الإمام وأفعاله وسلوكه جواب آخر، يؤكد بلا أدنى ريب اهتمام الشيخ وحرصه الشديد على تمام التأسي والاقتداء بالسلف الصالح.
كما أن ما كتبه أتباعه - من بعده - وأنصار دعوته السلفية يؤكد أيضا ما اتصف به الإمام المجدد محمد بن عبد الوهاب من تمسك والتزام بمنهج أهل السنة والجماعة، ويظهر حال وشأن أولئك الأتباع وما كانوا عليه من عض بالنواجذ على عقيدة الفرقة الناجية سواء في أقوالهم أو أفعالهم.
وقد شهد الكثير من العلماء من مختلف البلاد والبقاع، وفي أزمان متفاوتة، بل ومن ديانات متنوعة أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب يدعو إلى الإسلام كما كان عليه أو ظهوره من صفاء ونقاء ووضوح، بعيدا عن لوثات الفلسفة وأدران الشرك، وخرافات التصوف، ومحدثات البدع.
وحيث إن مثل هذا الموضوع قد أخذ نصيبا وافرا من الكتابة والتصنيف1 فلا حاجة للإطالة فيه، بل نقتصر على إيراد بعض النقول الموجزة التي توضح حقيقة دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله. ففي إحدى رسائل الشيخ يجيب عن سؤال أهل القصيم لما سألوه عن معتقده فكان مما قاله رحمه الله:
--------------------------------------------
ভূমিকাশেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াত এবং এর কিছু প্রভাব
শেখ যেসব গ্রন্থ ও পত্রাবলী লিখেছেন, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে, তিনি বিশ্বাসের সকল অধ্যায়ে কেবল সালাফে সালেহীনের আকিদাহর দিকেই আহ্বান করেন। কেবল তাঁর রচনা ও পত্রাবলীই এর উত্তর নয়, বরং ইমামের জীবনী, তাঁর কার্যাবলী এবং তাঁর আচরণ আরেকটি উত্তর, যা সালাফে সালেহীনের পূর্ণ অনুসরণ ও অনুকরণের প্রতি শেখের গভীর আগ্রহ ও তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে কোনো প্রকার সন্দেহাতীতভাবে নিশ্চিত করে।
তেমনিভাবে, তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর অনুসারীবৃন্দ এবং তাঁর সালাফী দাওয়াতের সাহায্যকারীগণ যা লিখেছেন, তাও ইমাম মুজাদ্দিদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজের প্রতি যে দৃঢ় সংলগ্নতা ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা প্রদর্শন করেছিলেন, তা নিশ্চিত করে। এটি সেই অনুসারীদের অবস্থা ও মর্যাদা এবং তাঁদের কথা ও কাজে নাজাতপ্রাপ্ত দলের আকিদাহকে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলে।
বিভিন্ন দেশ ও ভূখণ্ডের এবং বিভিন্ন সময়ের অনেক আলেম, এমনকি বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরাও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব ইসলামের বিশুদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও প্রাঞ্জলতার দিকেই আহ্বান জানান, যেমনটি ইসলামের শুরুর দিকে ছিল। তিনি একে দর্শনের দূষণ, শিরকের আবর্জনা, তাসাউফের কুসংস্কার এবং নবউদ্ভাবিত বিদআত থেকে মুক্ত রাখার ডাক দেন।
যেহেতু এই বিষয়টি নিয়ে প্রচুর লেখালেখি ও গ্রন্থ রচিত হয়েছে১, তাই এতে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন নেই। বরং আমরা কিছু সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব, যা শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াতের প্রকৃত স্বরূপকে স্পষ্ট করে। শেখের একটি পত্রে তিনি কাসিমবাসীর একটি প্রশ্নের উত্তর দেন, যখন তারা তাঁকে তাঁর আকিদাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। সেখানে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছিলেন, তার মধ্যে ছিল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
(أشهد الله ومن حضرني من الملائكة وأشهدكم أني أعتقد ما اعتقدته الفرقة الناجية أهل السنة والجماعة من الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله والبعث بعد الموت، والإيمان بالقدر خيره وشره، ومن الإيمان بالله الإيمان بما وصف به نفسه في كتابه أو على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم من غير تحريف ولا تعطيل، بل أعتقد أن الله سبحانه وتعالى ليس كمثله شيء وهو السميع البصير، فلا أنفي عنه ما وصف به نفسه ولا أحرف الكلم عن مواضعه، ولا ألحد في أسمائه وآياته، ولا أكيف، ولا أمثل صفاته تعالى بصفات خلقه لأنه تعالى لا سمي له ولا كفؤ له، ولا ند له، ولا يقاس بخلقه فإنه سبحانه أعلم بنفسه وبغيره، وأصدق قيلا وأحسن حديثا، فنزه نفسه عما وصفه به المخالفون من أهل التكييف والتمثيل، وعما نفاه عنه النافون من أهل التحريف والتعطيل فقال {سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ. وَسَلامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ. وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} 1 والفرقة الناجية وسط في باب أفعاله تعالى بين القدرية والجبرية، وهم في باب وعيد الله وسط بين المرجئة والوعيدية2. وهم وسط في باب الإيمان والدين بين الحرورية والمعتزلة، وبين المرجئة والجهمية، وهم وسط في باب أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم بين الروافض والخوارج.
وأعتقد أن القرآن كلام الله منزل غير مخلوق منه بدأ وإليه يعود، وأنه تكلم به حقيقة وأنزله على عبده ورسوله وأمينه على وحيه وسفيره بينه وبين عباده نبينا محمد صلى الله عليه وسلم وأومن بأن الله فعّال لما يريد، ولا يكون شيء إلا بإرادته، ولا يخرج شيء عن مشيئته، وليس شيء في العالم يخرج عن تقديره، ولا يصدر إلا عن تدبيره، ولا محيد لأحد عن القدر المحدود ولا يتجاوز ما خط له في اللوح المسطور.
وأعتقد الإيمان بكل ما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم مما يكون بعد الموت، فأومن بفتنة القبر ونعيمه، وبإعادة الأرواح إلى الأجساد، فيقوم الناس لرب العالمين حفاة عراة غرلا، تدنو منهم الشمس، وتنصب الموازين وتوزن بها أعمال العباد، فمن ثقلت موازينه فأولئك هم المفلحون، ومن خفت موازينه فأولئك الذين خسروا أنفسهم في جهنم خالدون، وتنشر الدواوين فآخذ كتابه بيمينه، وآخذ كتابه بشماله.
وأومن بحوض نبينا محمد صلى الله عليه وسلم بعرصة القيامة، ماؤه أشد بياضا من اللبن وأحلى من العسل آنيته عدد نجوم السماء من شرب منه شربة لم يظمأ بعدها أبدا، وأومن بأن الصراط منصوب على شفير جهنم يمر به الناس على قدر أعمالهم.
--------------------------------------------
আমি আল্লাহকে এবং আমার উপস্থিত ফেরেশতাদেরকে সাক্ষী রাখছি এবং তোমাদেরকেও সাক্ষী রাখছি যে, আমি সেই আকিদা বা বিশ্বাস পোষণ করি যা মুক্তিপ্রাপ্ত দল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত পোষণ করে। আর তা হলো—আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের ওপর ঈমান আনা এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের ওপর ঈমান আনা। আল্লাহর ওপর ঈমান আনার অন্তর্ভুক্ত হলো—আল্লাহ তাঁর কিতাবে নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, কোনো ধরনের বিকৃতি (তাহরিফ) ও অকার্যকর (তা’তিল) করা ছাড়াই তার ওপর ঈমান আনা। বরং আমি বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহ এমন সত্তা যার সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। সুতরাং তিনি নিজের জন্য যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন আমি তা অস্বীকার করি না, তাঁর কালামসমূহকে (বাণীসমূহকে) তাদের নির্ধারিত স্থান থেকে বিচ্যুত করি না, তাঁর নামসমূহ ও আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে সত্যবিচ্যুত হই না এবং তাঁর গুণাবলির ধরন বর্ণনা করি না কিংবা তাঁর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করি না। কারণ মহান আল্লাহর কোনো নামধারী সমকক্ষ নেই, তাঁর কোনো সমমর্যাদার কেউ নেই এবং তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তাঁর সৃষ্টির সাথে তাঁর তুলনা করা চলে না, কেননা মহান আল্লাহ নিজের সম্পর্কে এবং অন্যদের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত, তাঁর কথা অধিকতর সত্য এবং তাঁর বাণী সর্বোত্তম। অতএব তিনি নিজেকে সেইসব বিষয় থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন যা ধরন বর্ণনাকারী (আহলুত তাকিফ) ও তুলনা প্রদানকারীরা (আহলুত তামসিল) তাঁর ওপর আরোপ করে এবং যা বিকৃতকারী (আহলুত তাহরিফ) ও অস্বীকারকারীরা (আহলুত তা’তিল) অস্বীকার করে। মহান আল্লাহ বলেছেন, {আপনার মহিমান্বিত প্রতিপালক তারা যা আরোপ করে তা থেকে পবিত্র। এবং রাসূলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।} ১ আর মহান আল্লাহর কর্মের ক্ষেত্রে মুক্তিপ্রাপ্ত দল কাদারিয়্যাহ ও জাবরিয়্যাহদের মাঝামাঝি স্তরে অবস্থান করে। আল্লাহর শাস্তির প্রতিশ্রুতির (ওয়াইদ) ক্ষেত্রে তারা মুরজিয়া ও ওয়াইদিয়্যাহদের মাঝামাঝি। ঈমান ও দ্বীনের ক্ষেত্রে তারা হারুরিয়্যাহ ও মুতাজিলা এবং মুরজিয়া ও জাহমিয়্যাহদের মাঝে মধ্যপন্থী। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের ব্যাপারে তারা রাফেজি ও খারেজিদের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।
আমি বিশ্বাস করি যে, কুরআন আল্লাহর কালাম, তা অবতীর্ণ, কোনো সৃষ্টি নয়। তা তাঁর থেকেই শুরু হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে। তিনি বাস্তবে এটি উচ্চারণ করেছেন এবং তা তাঁর বান্দা, রাসূল, ওহীর আমানতদার এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মাঝে দূত আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন। আমি ঈমান রাখি যে আল্লাহ যা চান তা-ই করেন। তাঁর ইচ্ছা ব্যতিরেকে কিছুই ঘটে না এবং তাঁর অভিপ্রায়ের বাইরে কিছুই যায় না। এই মহাবিশ্বের কোনো কিছুই তাঁর নির্ধারণের (তাকদির) বাইরে নয় এবং তাঁর পরিচালনা ছাড়া কিছুই সম্পন্ন হয় না। নির্ধারিত ভাগ্য থেকে কারো পলায়নের পথ নেই এবং সংরক্ষিত ফলকে (লাওহে মাহফুজ) যা লেখা হয়েছে তা কেউ অতিক্রম করতে পারে না।
আমি মৃত্যুর পর যা কিছু ঘটবে সে সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছু খবর দিয়েছেন তার সবকিছুর ওপর ঈমান রাখি। সুতরাং আমি কবরের ফিতনা (পরীক্ষা) ও তার নেয়ামতের ওপর ঈমান রাখি এবং শরীরের মধ্যে রূহের প্রত্যাবর্তনের ওপর ঈমান রাখি। তখন মানুষ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে খালি পায়ে, উলঙ্গ দেহে এবং খতনাবিহীন অবস্থায় দণ্ডায়মান হবে। সূর্য তাদের নিকটবর্তী হবে এবং আমল মাপার পাল্লাসমূহ স্থাপন করা হবে, যার মাধ্যমে বান্দাদের আমল ওজন করা হবে। যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে সফলকাম, আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে। আমলনামাসমূহ বিতরণ করা হবে, অতঃপর কেউ তার আমলনামা ডান হাতে গ্রহণ করবে এবং কেউ তা বাম হাতে গ্রহণ করবে।
আমি কিয়ামতের ময়দানে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাউজের ওপর ঈমান রাখি। এর পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। এর পানপাত্রের সংখ্যা আকাশের নক্ষত্ররাজির মতো। যে ব্যক্তি তা থেকে একবার পান করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। আমি বিশ্বাস করি যে, সিরাত (পুল) জাহান্নামের কিনারে স্থাপিত হবে এবং মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী তা পার হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
وأومن بشفاعة النبي صلى الله عليه وسلم وأنه أول شافع وأول مشفع، ولا ينكر شفاعة النبي صلى الله عليه وسلم إلا أهل البدع والضلال، ولكنها لا تكون إلا من بعد الإذن والرضا كما قال تعالى: {وَلا يَشْفَعُونَ إِلا لِمَنِ ارْتَضَى} 1، وقال تعالى: {مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَاّ بِإِذْنِهِ} 2، وقال تعالى: {وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئاً إِلَاّ مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى} 3 وهو لا يرضى إلا التوحيد، ولا يأذن إلا لأهله، وأما المشركون فليس لهم من الشفاعة نصيب، كما قال تعالى: {فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ} 4.
وأومن بأن الجنة والنار مخلوقتان، وأنهما اليوم موجودتان، وأنهما لا يفنيان، وأن المؤمنين يرون ربهم بأبصارهم يوم القيامة، كما يرون القمر ليلة البدر لا يضامون في رؤيته.
وأومن بأن نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين والمرسلين، ولا يصح إيمان عبد حتى يؤمن برسالته ويشهد بنبوته، وأن أفضل أمته أبو بكر الصديق، ثم عمر الفاروق، ثم عثمان ذو النورين، ثم علي المرتضى، ثم بقية العشرة، ثم أهل بدر، ثم أهل الشجرة أهل بيعة الرضوان، ثم سائر الصحابة رضي الله عنهم، وأتولى أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وأذكر محاسنهم وأترضى عنهم وأستغفر لهم، وأكف عن مساويهم، وأسكت عما شجر بينهم، وأعتقد فضلهم عملا بقوله تعالى: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيْمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاً لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} 5 وأترضى عن أمهات المؤمنين المطهرات من كل سوء، وأقر بكرامات الأولياء وما لهم من المكاشفات إلا أنهم لا يستحقون من حق الله تعالى شيئا ولا يطلب منهم ما لا يقدر عليه إلا الله، ولا أشهد لأحد من المسلمين بجنة ولا نار إلا من شهد له رسول الله صلى الله عليه وسلم ولكني أرجو للمحسن وأخاف على المسيء، ولا أكفر أحدا من المسلمين بذنب، ولا أخرجه من دائرة الإسلام، وأرى الجهاد ماضيا مع كل إمام برا كان أو فاجرا، وصلاة الجماعة خلفهم جائزة، والجهاد ماض منذ بعث الله محمدا صلى الله عليه وسلم إلى أن يقاتل آخر هذه الأمة الدجال، لا يبطله جور جائر ولا عدل عادل، وأرى وجوب السمع والطاعة لأئمة المسلمين برهم وفاجرهم ما لم
--------------------------------------------
এবং আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশের (শাফায়াত) ওপর বিশ্বাস করি এবং বিশ্বাস করি যে তিনি হলেন প্রথম সুপারিশকারী এবং প্রথম সেই ব্যক্তি যার সুপারিশ কবুল করা হবে। বিদআত ও গোমরাহীর অনুসারীরা ছাড়া আর কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ অস্বীকার করে না। তবে আল্লাহর অনুমতি ও সন্তুষ্টি ছাড়া এই সুপারিশ কার্যকর হবে না, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {যাদের ওপর তিনি সন্তুষ্ট কেবল তাদের জন্যই তারা সুপারিশ করবে} ১, এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {কে আছে এমন যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?} ২, এবং তিনি আরও বলেছেন: {আকাশমণ্ডলে কত ফেরেশতা রয়েছে, তাদের সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন এবং যার ওপর সন্তুষ্ট হন তাকে অনুমতি প্রদানের পর} ৩। আর তিনি কেবল তাওহীদের ওপরই সন্তুষ্ট হন এবং কেবল তাওহীদপন্থীদের জন্যই অনুমতি দেন। পক্ষান্তরে মুশরিকদের জন্য সুপারিশের কোনো অংশ নেই, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {কাজেই সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না} ৪।
আর আমি বিশ্বাস করি যে জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে বিদ্যমান আছে, আর তারা কখনোই ধ্বংস হবে না। আর মুমিনরা কিয়ামতের দিন তাদের প্রতিপালককে চাক্ষুষ দেখতে পাবে, যেমন তারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদ দেখতে পায় এবং তাঁর দর্শনে তারা কোনো ভিড় বা কষ্টের সম্মুখীন হবে না।
আর আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সর্বশেষ নবী ও রাসূল। কোনো বান্দার ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না যতক্ষণ না সে তাঁর রিসালাতের ওপর ঈমান আনবে এবং তাঁর নবুওয়াতের সাক্ষ্য দেবে। আর তাঁর উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আবু বকর সিদ্দিক, তারপর ওমর ফারুক, তারপর উসমান যুন-নূরাইন, তারপর আলী আল-মুরতজা, এরপর জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত বাকি দশজন, তারপর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, তারপর বৃক্ষের নিচে বাইয়াতে রিদওয়ান গ্রহণকারীগণ এবং এরপর অন্যান্য সকল সাহাবী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মিত্র মনে করি, তাঁদের গুণাবলী আলোচনা করি, তাঁদের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি এবং তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি। তাঁদের ভুল-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকি এবং তাঁদের মধ্যে সংঘটিত মতবিরোধের ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করি। মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর আমল করে আমি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস করি: {যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের আগে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং আমাদের অন্তরে মুমিনদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়} ৫। আর আমি মুমিনদের পবিত্র মাতাদের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি যারা সকল প্রকার পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত। আমি ওলীদের কারামত এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক উন্মোচনসমূহ (মুকাশাফাত) স্বীকার করি, তবে আল্লাহর হকের কোনো কিছুতে তাঁরা কোনো অধিকার রাখেন না এবং তাঁদের কাছে এমন কিছু চাওয়া যাবে না যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ করতে সক্ষম নয়। আমি কোনো মুসলমানের ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে জান্নাত বা জাহান্নামের সাক্ষ্য দিই না, কেবল তাদের ছাড়া যাদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে আমি সৎকর্মশীলদের জন্য কল্যাণের আশা করি এবং পাপাচারীদের ব্যাপারে আল্লাহর আজাবের ভয় রাখি। আমি কোনো মুসলমানকে তার গুনাহের কারণে কাফের বলি না এবং তাকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দিই না। আমি প্রত্যেক নেতার নেতৃত্বে জিহাদ চালিয়ে যাওয়াকে বৈধ মনে করি, তারা নেককার হোক বা পাপাচারী। তাদের পেছনে জামাতে নামাজ আদায় করা জায়েজ। আর জিহাদ অব্যাহত থাকবে সেই সময় থেকে যখন আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছেন, যতক্ষণ না এই উম্মতের শেষ ব্যক্তি দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে। কোনো জালেমের জুলুম বা কোনো ন্যায়বিচারকের ইনসাফ একে বাতিল করতে পারবে না। আমি মুসলিম ইমামদের (নেতাদের) প্রতি আনুগত্য ও কথা শোনা আবশ্যক মনে করি, তারা সৎ হোক বা অসৎ, যতক্ষণ না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
يأمروا بمعصية الله، ومن ولي الخلافة واجتمع عليه الناس ورضوا به وغلبهم بسيفه حتى صار خليفة وجبت طاعته، وحرم الخروج عليه، وأرى هجر أهل البدع ومباينتهم حتى يتوبوا، وأحكم عليهم بالظاهر، وأكل سرائرهم إلى الله، وأعتقد أن كل محدثة في الدين بدعة.
وأعتقد أن الإيمان قول باللسان وعمل بالأركان واعتقاد بالجنان يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية، وهو بضع وسبعون شعبة أعلاها شهادة أن لا إله إلا الله وأدناها إماطة الأذى عن الطريق، وأرى وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر على ما توجبه الشريعة المحمدية المطهرة1.
فهذه عقيدة وجيزة حررتها وأنا مشتغل البال لتطلعوا على ما عندي والله على ما نقول وكيل) 2.
وفي رسالته لعبد الرحمن بن عبد الله السويدي3 أحد علماء العراق يذكر الشيخ الإمام رحمه الله حقيقة دعوته، ومن ذلك قوله:
(أخبرك أني ولله الحمد متبع، ولست بمبتدع، عقيدتي وديني الذي أدين الله به مذهب أهل السنة والجماعة الذي عليه أئمة المسلمين مثل الأئمة الأربعة وأتباعهم إلى يوم القيامة، لكني بينت للناس إخلاص الدين لله، ونهيتهم عن دعوة الأحياء والأموات من الصالحين وغيرهم، وعن إشراكهم فيما يعبد الله به، من الذبح والنذر والتوكل والسجود وغير ذلك مما هو حق لله الذي لا يشركه فيه ملك مقرب ولا نبي مرسل، وهو الذي دعت إليه الرسل من أولهم إلى آخرهم، وهو الذي عليه أهل السنة والجماعة) 4. ونورد بعضا من العبارات التى سطرها الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن رحمه الله في بيان دعوة جده الشيخ الإمام، منها قوله:
(أن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله إنما دعا الناس إلى أن يعبدوا الله لا شريك له، ولا يشركوا به شيئا، وهذا لا يرتاب فيه مسلم أنه دين الله الذي
--------------------------------------------
...যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নাফরমানির আদেশ দেয়। আর যে ব্যক্তি খিলাফতের দায়িত্ব লাভ করে এবং মানুষ তার ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় ও তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, অথবা সে তার তলোয়ার দিয়ে তাদের ওপর বিজয়ী হয় এমনকি সে খলিফা হয়ে যায়, তার আনুগত্য করা ওয়াজিব এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম। আর আমি বিদআতপন্থীদের বর্জন করা এবং তাদের থেকে পৃথক থাকা আবশ্যক মনে করি যতক্ষণ না তারা তওবা করে। আমি তাদের বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিচার করি এবং তাদের অন্তরের বিষয় আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেই। আর আমি বিশ্বাস করি যে, দ্বীনের মধ্যে প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত।
এবং আমি বিশ্বাস করি যে, ঈমান হলো মুখে বলা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা এবং অন্তরে বিশ্বাস করা; যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে হ্রাস পায়। ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর আমি পবিত্র মুহাম্মদী শরীয়ত অনুযায়ী সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা ওয়াজিব মনে করি।১
এটি একটি সংক্ষিপ্ত আকীদা যা আমি ব্যস্ততার মাঝে লিখেছি যেন আপনারা আমার বিশ্বাসের ব্যাপারে অবগত হতে পারেন; আর আমরা যা বলছি তার ওপর আল্লাহই কর্মবিধায়ক।২
ইরাকের অন্যতম আলেম আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আস-সুওয়াইদীর৩ কাছে লেখা তাঁর চিঠিতে শাইখ ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর দাওয়াতের হাকীকত উল্লেখ করেছেন। যার মধ্যে তাঁর এই উক্তিটিও রয়েছে:
(আমি আপনাকে অবহিত করছি যে, আল্লাহর প্রশংসা, আমি একজন অনুসারী এবং আমি কোনো বিদআতী নই। আমার আকীদা এবং আমার দ্বীন যার মাধ্যমে আমি আল্লাহর ইবাদত করি, তা হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাযহাব, যার ওপর মুসলিমদের ইমামগণ ছিলেন যেমন চার ইমাম এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীগণ। কিন্তু আমি মানুষের কাছে দ্বীনকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করার বিষয়টি স্পষ্ট করেছি এবং আমি তাদের সৎ ব্যক্তি বা অন্য কাউকে—তারা জীবিত হোক বা মৃত—আহ্বান করতে নিষেধ করেছি। এবং তাদের আল্লাহর ইবাদতে শরিক করতে নিষেধ করেছি, যেমন জবেহ করা, মানত করা, তাওয়াক্কুল করা, সেজদা করা এবং অন্যান্য বিষয় যা আল্লাহর প্রাপ্য অধিকার, যাতে কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা বা প্রেরিত নবীও অংশীদার নয়। আর এটিই সেই বিষয় যার দিকে সকল রাসূল প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দাওয়াত দিয়েছেন এবং এর ওপরই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত প্রতিষ্ঠিত।) ৪। শাইখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর দাদা শাইখ ইমামের দাওয়াতের বর্ণনায় যে বাক্যগুলো লিখেছেন তার কিছু আমরা এখানে উল্লেখ করছি, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর এই বক্তব্য:
(নিশ্চয়ই শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) মানুষকে কেবল এই দাওয়াত দিয়েছেন যেন তারা আল্লাহর ইবাদত করে যাঁর কোনো শরিক নেই এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে। আর কোনো মুসলিমের এতে সন্দেহ নেই যে এটিই আল্লাহর দ্বীন যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أرسل به رسله، وأنزل به كتبه) 1.
ويقول الشيخ عبد اللطيف في موضع آخر - حاكيا ما يدعو إليه الشيخ الإمام: (ثم إن شيخنا رحمه الله كان يدعو الناس إلى الصلوات الخمس، والمحافظة عليها حيث ينادى لها، وهذا من سنن الهدى، ومعالم الدين كما دل على ذلك الكتاب والسنة، ويأمر بالزكاة والصيام والحج، ويأمر بالمعروف وينهى عن المنكر ويتركه، ويأمر الناس بتركه والنهي عنه، وقد تتبع العلماء مصنفاته رحمه الله من أهل زمانه وغيرهم فأعجزهم أن يجدوا فيها ما يعاب.
وأقواله في أصول الدين مما أجمع عليه أهل السنة والجماعة، وأما في الفروع والأحكام فهو حنبلي المذهب لا يوجد له قول مخالف لما ذهب إليه الأئمة الأربعة..) 2.
ويبين الشيخ محمد بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن3 في رسالته التي بعثها إلى أهل الحجاز وعسير واليمن معتقدهم وما يدعون إليه فيقول:
(اعلموا أن الذي نعتقده، وندين الله به، وندعو الناس إليه ونجاهدهم عليه هو دين الإسلام الذي أوجبه الله على عباده وهو حقه عليهم الذي خلقهم لأجله، فإن الله خلقهم ليعبدوه ولا يشركوا به في عبادته أحدا من المخلوقين لا ملك مقرب ولا نبي مرسل فضلا عن غيرهما
… ونأمر بهدم القباب ونهدم ما بني على القبور، ولا يزاد القبر على شبر من التراب وغيره، ونأمر بإقام الصلاة جماعة في المساجد، ونؤدب من تخلف أو تكاسل عن حضورها وترك الحضور في المسجد ونلزم ببقية شرائع الإسلام كالزكاة والصوم والحج للقادر والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وننهى عن الربا والزنا وشرب الخمر، والتتن، وعن لبس الحرير للرجال، وننهى عن عقوق الوالدين، وعن قطيعة الأرحام.
وبالجملة فإنا نأمر بما أمر الله به في كتابه، وأمر به رسوله صلى الله عليه وسلم وننهى عما نهى الله عنه ونهى عنه رسوله، ولا نحرم إلا ما حرم الله، ولا نحلل إلا ما حلل الله، فهذا الذي ندعو إليه، ومن كان قصده الحق ومراده الخير والدخول فيه، التزم
--------------------------------------------
তিনি এর মাধ্যমে তাঁর রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন।) ১.
শেখ আব্দুল লতিফ অন্য এক স্থানে ইমাম শেখ যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করতেন তা উল্লেখ করে বলেন: (অতঃপর আমাদের শেখ -আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন- মানুষকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের দিকে এবং যেখানে এর জন্য আযান দেওয়া হয় সেখানে তা রক্ষা করার জন্য আহ্বান করতেন। কিতাব ও সুন্নাহর দলিল অনুযায়ী এটি হিদায়াতের সুন্নাত এবং দ্বীনের অন্যতম নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। তিনি যাকাত, সিয়াম ও হজের আদেশ দিতেন। তিনি সৎকাজের আদেশ দিতেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতেন ও নিজে তা বর্জন করতেন এবং মানুষকে তা বর্জন করতে ও তা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিতেন। তাঁর সমসাময়িক এবং অন্য আলিমগণ তাঁর রচনাবলি গভীরভাবে অনুসন্ধান করেছেন, কিন্তু সেখানে ত্রুটি ধরার মতো কিছু খুঁজে পেতে তারা অক্ষম হয়েছেন।
দ্বীনের মূলনীতি বিষয়ে তাঁর বক্তব্যসমূহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ঐক্যমত্যের অন্তর্ভুক্ত। আর শাখা-প্রশাখা ও বিধানাবলির ক্ষেত্রে তিনি হাম্বলি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। চার ইমাম যে মত গ্রহণ করেছেন তার পরিপন্থী কোনো বক্তব্য তাঁর মাঝে পাওয়া যায় না।) ২.
শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান ৩ তাঁর সেই পত্রে তাদের আকিদা এবং তারা কিসের দিকে আহ্বান করেন তা বর্ণনা করেছেন, যা তিনি হিজাজ, আসীর ও ইয়ামেনবাসীদের নিকট প্রেরণ করেছিলেন। তিনি বলেন:
(জেনে রাখুন, আমরা যে বিষয়ে আকিদা পোষণ করি, যার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করি এবং যার দিকে মানুষকে আহ্বান করি ও যার ওপর তাদের সাথে জিহাদ করি, তা হলো ইসলাম ধর্ম; যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর আবশ্যক করেছেন। এটি তাদের ওপর আল্লাহর হক, যার জন্য তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন। কারণ আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন যেন তারা তাঁরই ইবাদত করে এবং তাঁর ইবাদতে কোনো সৃষ্টিকেই শরিক না করে—না কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাকে, না কোনো প্রেরিত নবীকে, অন্য কারো তো প্রশ্নই আসে না
… এবং আমরা গম্বুজসমূহ ভেঙে ফেলার আদেশ দেই এবং কবরের ওপর নির্মিত স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলি। কবর মাটির সমতল থেকে এক বিঘতের বেশি উঁচু করা হবে না। আমরা মসজিদে জামায়াতের সাথে সালাত কায়েম করার আদেশ দেই এবং যারা তা থেকে বিরত থাকে বা উপস্থিত হতে অলসতা করে তাদের শাসন করি। আমরা ইসলামের অন্যান্য বিধান যেমন যাকাত, সিয়াম এবং সামর্থ্যবানদের জন্য হজ পালনে বাধ্য করি। এছাড়া আমরা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করি। আমরা সুদ, যিনা, মদ্যপান, তামাক সেবন এবং পুরুষদের জন্য রেশম পরিধান করা নিষেধ করি। আমরা পিতামাতার অবাধ্য হতে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতেও নিষেধ করি।
সারকথা হলো, আমরা সেই সব বিষয়ের আদেশ দেই যার আদেশ আল্লাহ তাঁর কিতাবে দিয়েছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিয়েছেন। আর আমরা সেই সব বিষয় থেকে নিষেধ করি যা থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিষেধ করেছেন। আল্লাহ যা হারাম করেছেন আমরা কেবল তা-ই হারাম করি এবং আল্লাহ যা হালাল করেছেন আমরা কেবল তা-ই হালাল করি। এটিই সেই বিষয় যার দিকে আমরা আহ্বান করি। যার উদ্দেশ্য সত্য লাভ এবং যার লক্ষ্য কল্যাণ ও সত্যে প্রবেশ করা, সে তা মেনে নেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ما ذكرنا وعمل بما قررنا، فيكون له ما لنا وعليه ما علينا) 1. وقد جاء هذا المعتقد موجزا بعبارة جامعة، كما قال أحدهم:
(أن كل ما ثبت في الشريعة الإسلامية مما جاء عن الله ورسوله فهو مذهبنا، ومعتقدنا وديانتنا، سواء ذكرناه وصرحنا به أو لم نذكره، ولم نعالن به، وكل ما نفته الشريعة الإسلامية، فهو الذي ننفيه ونرفضه، لذلك فعلى كل من تروى له رواية عنا فليعرضها على كتاب الله وسنة رسوله فإن وافقتها فليعلم وليوقن بأنها رأينا ومذهبنا، وإن خالفتها فليوقن أننا نخالفها..) 2.
وبهذا يعلم أن الشيخ الإمام وأتباعه - من بعده - يدعون إلى التمسك بمنهج السلف الصالح، سواء كان ذلك في العقائد، أو السلوك والشرائع، ويتحرون الرسائل والأسباب التي تحقق ذلك، ويفعلونها، ويحرصون كل الحرص على تنفيذ أوامر هذا الدين، والابتعاد عن نواهيه، وهم بذلك مقتدون ومتأسون برسول الله صلى الله عليه وسلم وصحبه الكرام.
وأما الإشارة إلى آثار هذه الدعوة، فإنه لما كانت دعوة الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب هي دعوة لتجديد ما اندرس من عقيدة السلف الصالح، لذا حظيت تلك الدعوة بالقبول لها والتأثر بها من قبل كثير من علماء المسلمين والحركات الإصلاحية، والكثير من عامة المسلمين، وذلك لما تتميز به عقيدة السلف الصالح التي دعا إليها الشيخ الإمام من ميزات وخصائص توجب الاعتقاد بها والميل إليها من الوضوح والصفاء واليقين والثبات والآثار الفعلية الإيجابية والنتائج المحمودة الملموسة في واقع الحياة الدنيا، والنعيم السرمدي الأبدي في الحياة الآخرة. لقد عمت الدعوة وآثارها المباركة بلاد نجد، ثم امتدت إلى الحجاز، ثم سائر بلاد الجزيرة العربية، بل تجاوزت تلك البلاد.. فكان لها أتباع وأنصار في مختلف الأمصار، كالشام ومصر والعراق وبلاد المغرب، والهند، والكثير من الأقطار.
ولا تزال - إلى وقتنا الحاضر - آثارها ونتائجها علمية كانت أو عملية ناطقة بذلك، وشاهدة بصدق هذه الدعوة ووضوحها وسلامة منهجها، وستبقى هذه الدعوة - إن شاء الله - منصورة حتى يرث الله الأرض ومن عليها.
--------------------------------------------
আমরা যা উল্লেখ করেছি এবং যা নির্ধারণ করেছি সে অনুযায়ী আমল করেছে, তবে আমাদের যে অধিকার আছে তারও সেই অধিকার থাকবে এবং আমাদের উপর যা আবশ্যক তার উপরও তা আবশ্যক হবে) ১। এই আকিদাটি একটি সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ বাক্যে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি তাদের একজন বলেছেন:
(নিশ্চয়ই ইসলামি শরিয়তে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল থেকে যা কিছু প্রমাণিত হয়েছে তা-ই আমাদের মাযহাব, আমাদের আকিদা এবং আমাদের দ্বীন; চাই আমরা তা উল্লেখ ও ব্যক্ত করি কিংবা উল্লেখ ও প্রকাশ না করি। আর ইসলামি শরিয়ত যা কিছু নাকচ করেছে, আমরাও তা-ই নাকচ ও প্রত্যাখ্যান করি। অতএব, আমাদের পক্ষ থেকে যার কাছে কোনো বর্ণনা পৌঁছাবে, সে যেন তা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর সামনে পেশ করে। যদি তা এর অনুকূলে হয়, তবে সে যেন জানে ও নিশ্চিত বিশ্বাস করে যে, তা-ই আমাদের অভিমত ও মাযহাব। আর যদি তা এর পরিপন্থী হয়, তবে সে যেন নিশ্চিতভাবে জানে যে, আমরাও এর বিরোধী...) ২।
এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, শাইখ ইমাম এবং তাঁর পরবর্তী অনুসারীরা সালাফে সালেহীনের মানহাজ আঁকড়ে ধরার দাওয়াত দেন, চাই তা আকিদাহর ক্ষেত্রে হোক অথবা আচরণ ও বিধানের ক্ষেত্রে। তাঁরা সেই সকল উপায় ও মাধ্যম অনুসন্ধান করেন যা এটি অর্জন করতে সহায়ক এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করেন। তাঁরা এই দ্বীনের আদেশসমূহ পালন এবং এর নিষেধসমূহ থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট। এর মাধ্যমে তাঁরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের পদাঙ্ক অনুসরণ ও অনুকরণ করেন।
আর এই দাওয়াতের প্রভাবের কথা বলতে গেলে, যেহেতু শাইখ ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত ছিল সালাফে সালেহীনের আকিদার বিলুপ্তপ্রায় বিষয়সমূহের সংস্কারের দাওয়াত, তাই এই দাওয়াত অনেক মুসলিম আলেম, সংস্কারবাদী আন্দোলন এবং সাধারণ মুসলমানদের একটি বিশাল অংশের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং তাদের প্রভাবিত করেছে। এর কারণ হলো সালাফে সালেহীনের আকিদার সেই সকল বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা যার দিকে শাইখ ইমাম আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও অনুরাগী হওয়াকে অপরিহার্য করে তোলে; যেমন—স্পষ্টতা, বিশুদ্ধতা, দৃঢ়তা, স্থায়িত্ব এবং পার্থিব জীবনে এর বাস্তব ইতিবাচক প্রভাব ও দৃশ্যমান প্রশংসনীয় ফলাফল, আর পরকালে চিরন্তন সুখ ও নেয়ামত। এই দাওয়াত ও এর বরকতময় প্রভাব নজদ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, এরপর তা হিজাজ এবং সমগ্র আরব উপদ্বীপে বিস্তৃত হয়, এমনকি এই অঞ্চলের সীমানাও ছাড়িয়ে যায়। বিভিন্ন জনপদে এর অনুসারী ও সাহায্যকারী তৈরি হয়, যেমন—সিরিয়া, মিশর, ইরাক, মাগরেব দেশসমূহ, ভারত এবং আরও অনেক ভূখণ্ডে।
বর্তমান সময় পর্যন্ত এর ইলমি বা আমলি প্রভাব ও ফলাফলসমূহ এর সপক্ষে কথা বলছে এবং এই দাওয়াতের সত্যতা, স্পষ্টতা ও মানহাজের বিশুদ্ধতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, এই দাওয়াত বিজয়ী থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও তার উপর যা আছে তার উত্তরাধিকারী হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ولقد أفاض الباحثون في الحديث عن أثر دعوة الشيخ الإمام على بلاد المسلمين وعلمائهم، وأثرها على الدعوات والحركات الإصلاحية، وألفت من أجل ذلك الرسائل والمصنفات في بيان آثارها وأصدائها، فأغنى ذلك عن إعادته وتكراره1.
ولكن من المناسب أن نورد بعض الأعلام الذين تأثروا بدعوة الشيخ الإمام، ممن لم يذكرهم هولاء الكتاب ضمن من تأثروا بهذه الدعوة، وذلك على حسب اطلاعنا. فيذكر المحامي عباس العزاوي من تأثر بدعوة الشيخ في العراق فيقول:
(وكان الأستاذ عبد العزيز بك بن عبد الله بك الشاوي2 ذهب إلى نجد للحج والمفاوضة مع آل سعود، فاقتنع بمذهبهم وحمله إلى العراق فصار داعيتهم، اقتنع بعد تجربة سنوات، فلم يكتف بالمظاهر والظواهر، وإنما خالط القوم حتى بلغ من المعرفة الصحيحة مبلغها، فاختار أن يكون عقيدته) 3.
كما يذكر العزاوي من العلماء الذين تأثروا بدعوة الإمام محمد بن عبد الوهاب، الشيخ علي السويدي4 ووصفه العزاوي بأنه (عالم دعا إلى اتباع الحديث، وهذا عين مذهب السلف) 5.
بل ذكر بعضهم أن الشيخ علي السويدي دعا والي بغداد سليمان باشا الصغير إلى الالتزام بهذه الدعوة6.
وممن تأثر بهذه الدعوة السلفية الشيخ أحمد بن محمد الكتلاني7 فألف رسالة بعنوان "الصيب الهطال في كشف شبه ابن كمال"8 حيث دافع عن دعوة الشيخ،
--------------------------------------------
গবেষকগণ মুসলিম দেশসমূহ ও তাদের আলেমদের ওপর শাইখ ইমামের দাওয়াতের প্রভাব এবং সংস্কারবাদী দাওয়াত ও আন্দোলনগুলোর ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এ উদ্দেশ্যে এর প্রভাব ও প্রতিধ্বনি বর্ণনায় বহু অভিসন্দর্ভ ও গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যা এই বিষয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তাকে দূর করে দিয়েছে১।
তবে আমাদের জানামতে, শাইখ ইমামের দাওয়াত দ্বারা প্রভাবিত এমন কিছু ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করা সমীচীন হবে, যাদের নাম উক্ত লেখকগণ এই দাওয়াত দ্বারা প্রভাবিতদের তালিকায় উল্লেখ করেননি। আইনজীবী আব্বাস আল-আযযাউয়ী ইরাকে শাইখের দাওয়াত দ্বারা যারা প্রভাবিত হয়েছেন তাদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন:
(উস্তাদ আব্দুল আযীয বেক বিন আব্দুল্লাহ বেক আশ-শাভী২ হজ্জ এবং আলে সৌদের সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে নজদে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি তাদের মাযহাব বা মতাদর্শের প্রতি আশ্বস্ত হন এবং তা ইরাকে বয়ে নিয়ে আসেন এবং তাদের একজন দাঈতে পরিণত হন। বছরের পর বছর অভিজ্ঞতার পর তিনি আশ্বস্ত হয়েছিলেন; তিনি কেবল বাহ্যিক রূপ দেখেই সন্তুষ্ট হননি, বরং তিনি লোকজনের সাথে মিশেছেন যতক্ষণ না সঠিক জ্ঞান বা পরিচিতির চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছেছেন। এরপর তিনি এটিকে নিজের আকিদাহ হিসেবে গ্রহণ করেন।) ৩।
আল-আযযাউয়ী ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত দ্বারা প্রভাবিত আলেমদের মধ্যে শাইখ আলী আস-সুওয়াইদী৪-এর নামও উল্লেখ করেছেন। আযযাউয়ী তাকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, (তিনি এমন একজন আলেম যিনি হাদীস অনুসরণের দিকে আহ্বান জানাতেন এবং এটাই হলো সালাফদের প্রকৃত মাযহাব) ৫।
এমনকি কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, শাইখ আলী আস-সুওয়াইদী বাগদাদের ওয়ালী সুলাইমান পাশা আস-সাগীরকে এই দাওয়াত মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন৬।
এই সালাফী দাওয়াত দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও ছিলেন শাইখ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-কাতলানী৭। তিনি ‘আস-সইবুল হাত্তাল ফী কাশফি শুবাহি ইবনে কামাল’৮ শিরোনামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন যেখানে তিনি শাইখের দাওয়াতের পক্ষে প্রতিরক্ষা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ورد الافتراءات والشبهات المثارة ضد هذه الدعوة، وساق الأدلة والبراهين الواضحة التي تؤكد وتقرر أن دعوة الشيخ الإمام هي دعوة لمذهب أهل السنة والجماعة.
كما تأثر بهذه الدعوة، الشيخ محمد بن ناصر الشريف التهامي اليمني، أحد تلاميذ الإمام محمد بن علي الشوكاني، حتى إنه ألف كتابا في الرد على دعاوى داود بن جرجيس1 التي رمى بها دعوة الشيخ، وجعل داود تلك الدعاوى الكاذبة في كتاب سماه "صلح الإخوان"2 فأجابه التهامي بكتاب سماه "إيقاظ الوسنان على بيان الخلل الذي في صلح الإخوان"3 فند فيه دعاوى ابن جرجيس، وأظهر صدق الشيخ الإمام، ودافع عن عقيدة السلف، وسنورد بعض ردوده في ثنايا أبواب هذه الرسالة.
وتأثر بهذه الدعوة الشيخ عبد الكريم بن فخر الدين الهندي4 ودافع عنها، ورد على خصومها، فرد على دحلان وأبطل دعاويه بكتاب سماه "الحق المبين في الرد على اللهابية المبتدعين".
وتأثر الأستاذ صالح بن دخيل الجار الله5 بهذه الدعوة فسعى إلى نشرها، والرد على خصومها، وقد كتب مقالا مفصلا في مجلة المقتطف، بيّن حقيقة دعوة الشيخ، ورد على مقالة القس زويمر6 التي كتبها عن الوهابية، ووضح الأستاذ صالح ما في مقالة زويمر من الاضطراب والتضليل، فكان مما كتبه رحمه الله:
(واضطرب الناس في الوهابية اضطرابا شديدا لعدم تحقيق أحوالهم، فالناس فيهم ما بين قادح ومادح، فمنهم من جعلهم كالروافض والخوارج والبابية. والحق أنهم
--------------------------------------------
এই দাওয়াতের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অপবাদ ও সংশয়সমূহ খণ্ডন করেছেন এবং এমন স্পষ্ট দলীল ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন যা নিশ্চিত ও সাব্যস্ত করে যে, শাইখ ইমামের দাওয়াত মূলত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাবেরই দাওয়াত।
একইভাবে এই দাওয়াতের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছিলেন ইমাম মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শাওকানীর অন্যতম ছাত্র শাইখ মুহাম্মদ বিন নাসির আশ-শরীফ আত-তুহামী আল-ইয়ামানি। এমনকি তিনি দাউদ বিন জারজিস ১ এর দাবিসমূহ—যার মাধ্যমে সে শাইখের দাওয়াতের ওপর অপবাদ দিয়েছিল—সেগুলোর জবাবে একটি কিতাব রচনা করেন। দাউদ তার সেই মিথ্যা দাবিসমূহকে "সুলহুল ইখওয়ান" ২ নামক একটি কিতাবে সংকলিত করেছিল। এর জবাবে তুহামী "ঈকাযুল ওয়াসনান আলা বায়ানিল খালালিল্লাযী ফী সুলহিল ইখওয়ান" ৩ নামক একটি কিতাব রচনা করেন। এতে তিনি ইবনে জারজিসের দাবিসমূহ খণ্ডন করেন, শাইখ ইমামের সত্যতা প্রকাশ করেন এবং সালাফদের আকীদা রক্ষা করেন। আমরা এই গবেষণাপত্রের বিভিন্ন অধ্যায়ে তাঁর কিছু জবাব উল্লেখ করব।
এই দাওয়াতের মাধ্যমে শাইখ আব্দুল করীম বিন ফখরউদ্দীন আল-হিন্দি ৪ প্রভাবিত হন এবং এর প্রতিরক্ষা করেন ও এর বিরোধীদের জবাব দেন। তিনি দাহলানের জবাব দেন এবং তার দাবিসমূহকে "আল-হাক্কুল মুবীন ফীর রাদ্দি আলাল লাহহাবিইয়াতিল মুবতাদিঈন" নামক কিতাবের মাধ্যমে বাতিল করে দেন।
উস্তাদ সালিহ বিন দাখীল আল-জারুল্লাহ ৫ এই দাওয়াতের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে এটি প্রচারের চেষ্টা করেন এবং এর বিরোধীদের জবাব দেন। তিনি আল-মুকতাতাফ নামক সাময়িকীতে একটি বিস্তারিত প্রবন্ধ লেখেন, যেখানে তিনি শাইখের দাওয়াতের প্রকৃত রূপ বর্ণনা করেন এবং ওহাবী মতবাদ নিয়ে যুইমার ৬ নামক পাদ্রীর লেখা প্রবন্ধের জবাব দেন। উস্তাদ সালিহ যুইমারের প্রবন্ধের মধ্যে বিদ্যমান বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা স্পষ্ট করেন। তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) লেখাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল:
(ওহাবী মতবাদ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল তাদের প্রকৃত অবস্থা তদন্ত না করার কারণে। ফলে মানুষ তাদের ব্যাপারে নিন্দা ও প্রশংসা—এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের রাফেযী, খারেজী ও বাবী সম্প্রদায়ের মতো গণ্য করত। সত্য হলো তারা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
متبعون للسنة لا غالون ولا جافون، حتى إني اجتمعت بكثير من مثل هؤلاء بالشام ومصر والعراق سنة 1318 هـ، وبينت مأخذهم ومعتقدهم ومذاهبهم، فأذعنوا لذلك، ووافقوا عليه، وقالوا إنه الحق، وطلبوا كتابا يطبع من تآليفهم يزيل ما لبس على كثير منهم، فإن بعض السياح يجهل حقيقة حالهم. ولا عبرة ببعض العوام الجهال، فطبعت في أواخر رجب سنة 1319 هـ كتاب "توضيح توحيد الخلاق في جواب أهل العراق وتذكرة أولي الألباب في طريقة الشيخ محمد بن عبد الوهاب". فانتشر في الآفاق وتلقاه أهل الإنصاف بالقبول والوفاق لأنه كتاب وحيد في فنه يحتاج إليه المبتدي ولا يستغنى عنه المنتهي، وحقيق أن تشد إليه الرواحل وتقطع دون الوصول إليه المنازل
… ) 1.
وألف الشيخ سليمان بن صالح الدخيل2 رسالة بعنوان "حقيقة المذهب الوهابي"3 يقول د. محسن غياض عجيل عن هذه الرسالة:
(وهي رسالة صغيرة في بيان حقيقة دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، والدفاع عنها، ورد ما لفقه خصومها عنها، وقد أوقف الأستاذ الدخيل كثيرا من وقته وجهده ليشرح للعراقيين خاصة وللناس عامة حقيقة تلك الدعوة وما تهدف إليه) 4.
ودافع الشيخ محمود شويل5 عن دعوة الشيخ الإمام، فرد على أحد خصوم هذه الدعوة، وهو المدعو محمد البكري أبو حراز السوداني حيث ألف هذا الجاهل رسالة سماها "الوهابية المهزومة"، وكان رد الشيخ محمود شويل بعنوان "القول السديد في قمع الحرازي العنيد"، وقد كشف شويل عن ضلالات الحرازي، وأبان الحق بأدلته، وقرر بمختلف البراهين صحة هذه الدعوة، كما رد على شبهات الخصم وفندها.
هذه أمثلة معدودة لبعض الأشخاص الذين تأثروا بهذه الدعوة السلفية وكان لهم جهود فعالة في نصرة هذه الدعوة.
--------------------------------------------
সুন্নাহর অনুসারী, যারা চরমপন্থীও নন আবার শৈথিল্যবাদীও নন, এমনকি আমি ১৩১৮ হিজরিতে সিরিয়া, মিশর ও ইরাকে এই ধরনের বহু লোকের সাথে মিলিত হয়েছি এবং তাদের উৎস, আকিদা ও মাযহাব ব্যাখ্যা করেছি। তারা তা মেনে নিয়েছেন এবং এর সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন যে এটিই সত্য। তারা এমন একটি বই ছাপানোর অনুরোধ করেছেন যা তাদের রচনার অন্তর্ভুক্ত এবং যা অনেকের মধ্যে থাকা সংশয় দূর করবে, কারণ কিছু পর্যটক তাদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ। আর কতিপয় মূর্খ সাধারণ মানুষের কোনো গুরুত্ব নেই। ফলে আমি ১৩১৯ হিজরির রজব মাসের শেষের দিকে "তাওদিহু তাওহিদিল খাল্লাক ফি জাওয়াবি আহলিল ইরাক ওয়া তাযকিরাতু উলিল আলবাব ফি তরিকাতিল শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব" নামক বইটি ছাপিয়েছি। এটি দিগন্তময় ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইনসাফপন্থীরা একে কবুল ও সম্মতির সাথে গ্রহণ করেছেন। কারণ এটি স্বীয় শিল্পে এক অনন্য কিতাব, যার প্রয়োজন একজন শুরুর স্তরের শিক্ষার্থীর রয়েছে এবং শেষ স্তরের পণ্ডিত ব্যক্তির জন্যও এটি অপরিহার্য। এটি এমন এক গ্রন্থ যার জন্য সফরের পাথেয় গুছানো এবং এর কাছে পৌঁছানোর জন্য বড় বড় মনজিল বা গন্তব্য অতিক্রম করা সার্থক
… ) ১।
শেখ সুলাইমান বিন সালিহ আদ-দাখিল২ "হাকিকাতুল মাযহাব আল-ওয়াহাবি"৩ শিরোনামে একটি রিসালা (পুস্তিকা) রচনা করেন। ড. মহসিন গিয়াস আজিল এই রিসালা সম্পর্কে বলেন:
(এটি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের বাস্তবতা বর্ণনা এবং এর প্রতিরক্ষায় একটি ছোট পুস্তিকা, যা এর বিরোধীদের করা মিথ্যাচারের জবাব প্রদান করে। উস্তাদ আদ-দাখিল তার সময়ের এবং প্রচেষ্টার একটি বড় অংশ ব্যয় করেছেন বিশেষভাবে ইরাকিদের এবং সাধারণভাবে মানুষের নিকট এই দাওয়াতের বাস্তবতা এবং এর লক্ষ্য ব্যাখ্যা করার জন্য) ৪।
শেখ মাহমুদ শুওয়াইল৫ শায়খ ইমামের দাওয়াতের প্রতিরক্ষা করেছেন। তিনি এই দাওয়াতের জনৈক বিরোধী মুহাম্মাদ আল-বাকরি আবু হাররাজ আস-সুদানি-এর প্রতিবাদ করেন, কারণ এই অজ্ঞ ব্যক্তিটি "আল-ওয়াহাবিয়াতুল মাহজুমাহ" নামক একটি পুস্তিকা লিখেছিল। শেখ মাহমুদ শুওয়াইলের জবাবের শিরোনাম ছিল "আল-কাওলুস সাদিদ ফি কাময়িল হাররাজিল আনিদ", যাতে শুওয়াইল হাররাজির ভ্রষ্টতা উন্মোচন করেছেন, দলিলের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ করেছেন এবং বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে এই দাওয়াতের সঠিকতা সাব্যস্ত করেছেন। পাশাপাশি তিনি বিরোধীদের সন্দেহ নিরসন করেছেন এবং তা খণ্ডন করেছেন।
এই সালাফি দাওয়াতের মাধ্যমে প্রভাবিত হওয়া কিছু ব্যক্তির এটি কতিপয় উদাহরণ, যারা এই দাওয়াতের সমর্থনে কার্যকরী ভূমিকা রেখেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ومما يجدر التنبيه عليه هاهنا أن نشير إلى ما ذكره الدكتور صالح العبود حول ما يقال من تأثر بعض الحركات والدعوات الإصلاحية والشخصيات الإسلامية بدعوة الشيخ الإمام مثل الحركة السنوسية في ليبيا، والحركة المهدوية في السودان ونحوهما، ومثل الأفغاني ومحمد عبده ومحمد إقبال وغيرهم.
يقول الدكتور العبود عن دعوى تأثر تلك الحركات والشخصيات بدعوة الشيخ الإمام:
(كل ذلك يحتاج إلى دقة وتحقيق ودليل يثبت أن هذه الدعوات والحركات تأثرت بعقيدة الشيخ وحركته ودعوته وقيام أنصاره.
والحقيقة أن هذه الدعوات والحركات النابعة من أهلها، وهم بأنفسهم لا يذكرون أنهم من أتباع الشيخ ولا أنهم تتلمذوا عليه أو قرأوا كتبه ومؤلفاته وأرادوا تطبيقها) 1.
ويسوق العبود أمثلة في إثبات ما ذكره، فيورد الأدلة على اختلاف الحركة السنوسية2 والثورة المهدوية عما دعا إليه الشيخ الإمام، وغيرهما من الحركات والثورات.
ومن هذه الأمثلة التي ذكرها العبود موضحا عدم تأثر بعض الشخصيات الإسلامية بدعوة الشيخ رحمه الله، ما أورده الإمام محمد عبده في رسالة التوحيد التي ألفها، فهو لم يورد توحيد العبادة الذي هو أول واجب على كل مكلف، يقول العبود - عقب ذلك -:
(وقد استدرك عليه تلميذه محمد رشيد رضا فقال: فات الأستاذ أن يصرح بتوحيد العبادة، وهو أن يعبد الله وحده ولا يعبد غيره بدعاء ولا بغير ذلك مما يتقرب به المشركون إلى ما عبدوه معه من الصالحين والأصنام. وهذا التوحيد هو الذي كان أول ما يدعو إليه كل رسول قومه بقوله: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُه} 3.
وقال شيخنا محمد خليل هراس: (وقد غلط الشيخ عبده في اعتباره توحيد الربوبية والانفراد بالخلق هو الغاية العظمى من بعثة الرسل
…--------------------------------------------
এখানে যে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তা হলো ডক্টর সালেহ আল-আববুদ যা উল্লেখ করেছেন সেদিকে ইঙ্গিত করা। তিনি কিছু সংস্কারবাদী আন্দোলন ও দাওয়াত এবং ইসলামী ব্যক্তিত্বদের উপর শাইখ ইমামের দাওয়াতের প্রভাব সম্পর্কে যা বলা হয়ে থাকে সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন; যেমন লিবিয়ার সেনুসি আন্দোলন, সুদানের মাহদিয়া আন্দোলন এবং এই জাতীয় অন্যান্য, এবং আফগানি, মুহাম্মদ আবদুহ, মুহাম্মদ ইকবাল ও অন্যদের কথা।
ডক্টর আল-আববুদ শাইখ ইমামের দাওয়াত দ্বারা সেইসব আন্দোলন এবং ব্যক্তিত্বদের প্রভাবিত হওয়ার দাবির বিষয়ে বলেন:
(এইসবকিছুর জন্য সঠিকতা, অনুসন্ধান এবং এমন প্রমাণের প্রয়োজন যা প্রমাণ করে যে, এই দাওয়াত এবং আন্দোলনগুলো শাইখের আকিদা, তাঁর আন্দোলন, তাঁর দাওয়াত এবং তাঁর সাহায্যকারীদের উত্থান দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।
আর সত্য হলো, এই দাওয়াত এবং আন্দোলনগুলো তাদের নিজ নিজ প্রবর্তকদের পক্ষ থেকেই উদ্ভূত হয়েছে, এবং তারা নিজেরাও কখনো উল্লেখ করেননি যে তারা শাইখের অনুসারী ছিলেন, কিংবা তারা তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছিলেন অথবা তাঁর কিতাব ও রচনাবলী পাঠ করেছিলেন এবং সেগুলো প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন) ১।
আল-আববুদ তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে উদাহরণ পেশ করেন। তিনি শাইখ ইমাম যা আহ্বান করেছিলেন তার সাথে সেনুসি আন্দোলন এবং মাহদিয়া বিপ্লব ও অন্যান্য আন্দোলন ও বিপ্লবের পার্থক্যের প্রমাণাদি উপস্থাপন করেন।
আল-আববুদ শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) দাওয়াতের দ্বারা কিছু ইসলামী ব্যক্তিত্বের প্রভাবিত না হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করতে গিয়ে যেসব উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে একটি হলো ইমাম মুহাম্মদ আবদুহর রচিত 'রিসালাতুত তাওহিদ' কিতাবটি। তিনি সেখানে তাওহিদুল ইবাদত উল্লেখ করেননি, যা প্রত্যেক মুকাল্লাফের (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) ওপর প্রথম ওয়াজিব। এর পরপরই আল-আববুদ বলেন:
(তাঁর ছাত্র মুহাম্মদ রশিদ রিদা তাঁর ভুল সংশোধন করে বলেছেন: উস্তাদ তাওহিদুল ইবাদত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে ভুল করেছেন। আর তা হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং দুআ বা অন্য কিছুর মাধ্যমে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করা, যার মাধ্যমে মুশরিকরা আল্লাহর পাশাপাশি তাদের উপাস্য পুণ্যবান ব্যক্তি ও মূর্তিদের নৈকট্য লাভ করতে চাইত। আর এই তাওহিদই ছিল সেই বিষয়, যার দিকে প্রত্যেক রাসূল সর্বপ্রথম তাঁর কওমকে এই বলে আহ্বান করতেন যে: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই} ৩।
আমাদের শাইখ মুহাম্মদ খলিল হাররাস বলেন: (শাইখ আবদুহ তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহ এবং সৃষ্টিতে আল্লাহর এককত্বকে রাসূলদের প্রেরণের মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে ভুল করেছেন …
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ولعل فضيلة الشيخ عبده في هذا كان متأثر بالأشعرية الذين جعلوا الانفراد بالخلق هو أخص خصائص الإلهية، واهتموا في كتبهم بإقامة البراهين على هذا النوع من التوحيد دون أن يشيروا إلى توحيد الإلهية
… ) 1.
ويبدو أن أحد الدوافع التي جعلت أولئك الكتاب يدّعون تأثر مثل تلك الحركات والشخصيات بدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب هو وجود أحد أوجه التشابه بين دعوة الشيخ وبين تلك الدعوات، ثم يحاولون عندئذ التوصل إلى إثبات هذا التأثر، فبمجرد أنهم عثروا على صفة جزئية تكون موجودة ومشتركة في كل من دعوة الشيخ وتلك الحركات حتى يحكموا بهذا التأثر، دون النظرة الشاملة لمنهج تلك الدعوات ومدى تأثره حينئذ بمنهج دعوة الشيخ الإمام رحمه الله.
فمثلا دعوة الأستاذ محمد عبده هاجمت التصوف، مثلما هاجمته - من قبل دعوة الشيخ رحمه الله، ولكن شتان بين منهج كل منهما في ذلك الهجوم. يقول د. محمد محمد حسين مشيرا إلى الخلط بين المنهجين:
(حتى خلطوا بهم كل من دعا بهذه الدعوة (أي مهاجمة التصوف) واعتبروه منهم، غافلين عن أن التصوف يمكن أن يهاجم من منطلقين مختلفين من منطلق سلفي يهاجم الابتداع، ومن منطلق علماني ينكر الغيبيات ويخضعها للتفكير الحر، ومن هذا المنطلق خلطوا بين الأفغاني ومحمد عبده وبين محمد بن عبد الوهاب) 2.
--------------------------------------------
সম্ভবত শায়খ আবদুহু এ বিষয়ে আশআরিদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যারা সৃষ্টির ক্ষেত্রে একক হওয়াকেই উলুহিয়্যাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করেছেন এবং তারা তাদের কিতাবসমূহে উলুহিয়্যাতের তাওহিদের প্রতি কোনো ইঙ্গিত না করেই এ ধরনের তাওহিদের ওপর প্রমাণাদি উপস্থাপনে মনোনিবেশ করেছেন
… ) ১।
এটি প্রতীয়মান হয় যে, সেই সব লেখকদের এমন আন্দোলন ও ব্যক্তিবর্গকে শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার দাবি করার অন্যতম কারণ হলো—শায়খের দাওয়াত এবং সেই সব দাওয়াতের মাঝে কোনো এক দিকের সাদৃশ্য বিদ্যমান থাকা। এরপর তারা এই প্রভাব প্রমাণের চেষ্টা করেন। ফলে শায়খের দাওয়াত ও সেই সব আন্দোলনের মাঝে যখনই কোনো আংশিক সাধারণ বৈশিষ্ট্য খুঁজে পান, তখনই তারা এই প্রভাবের ফয়সালা দিয়ে দেন; অথচ সেই সব দাওয়াতের মানহাজ এবং ইমাম শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াতের মানহাজ দ্বারা তা কতটুকু প্রভাবিত, সে সম্পর্কে কোনো সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তারা রাখেন না।
উদাহরণস্বরূপ, উস্তাদ মুহাম্মাদ আবদুহুর দাওয়াত সুফিবাদকে আক্রমণ করেছিল, যেমনটি ইতিপূর্বে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াতও একে আক্রমণ করেছিল। কিন্তু এই আক্রমণের ক্ষেত্রে উভয়ের মানহাজের মাঝে আসমান-জমিন পার্থক্য রয়েছে। ড. মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ হুসাইন এই দুই মানহাজের মধ্যকার বিভ্রান্তির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন:
(এমনকি তারা যারা এই দাওয়াত (অর্থাৎ সুফিবাদের বিরোধিতা) দিয়েছিল, তাদের সবাইকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছেন এবং মনে করেছেন যে তারা তাদেরই লোক। অথচ তারা এই বিষয়ে উদাসীন যে, সুফিবাদকে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আক্রমণ করা সম্ভব: একটি হলো সালাফি দৃষ্টিকোণ যা বিদআতের বিরোধিতা করে, আর অন্যটি হলো ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ যা অদৃশ্য বিষয়াদি অস্বীকার করে এবং সেগুলোকে স্বাধীন চিন্তার অনুগত করতে চায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই তারা আল-আফগানি ও মুহাম্মাদ আবদুহুর সাথে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবকে মিলিয়ে ফেলেছেন) ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
دراسة استقرائية مجملة لمؤلفات المناوئين مع موقف علماء الدعوة من هذه المؤلفات المناوئة
يلاحظ الباحث من خلال اطلاع سريع على تاريخ الدعوة أن هذه الدعوة واجهتها معارضة قوية ضارية، وكانت إما معارضة سياسية من جهة الأمراء والحكام، وإما معارضة علمية من جهة العلماء و (المطاوعة) ، بل كان هناك ما يشبه التعاضد والتكاتف بين المعارضتين السياسية والعلمية، كما يبدو في المعارضة الشديدة الطويلة الأمد من دهام بن دواس1 أمير الرياض ضد هذه الدعوة السلفية، ومعه الخصم العنيد والعدو اللدود لهذه الدعوة، هو سليمان بن سحيم2 مطوع الرياض.
ويبدو هذا التعاضد أيضا، في معارضة سليمان بن عريعر3 أمير الإحساء لعثمان بن معمر4 أمير العيينة حين آزر الشيخ الإمام في بداية دعوته، وتهديده بقطع معونته الاقتصادية، فقد عزز هذه المعارضة، ما فعله محمد بن عفالق5 أحد علماء الإحساء، حيث كتب رسالة لابن معمر، ثم تلاها برسالة أخرى6 يحرضه ضد هذه الدعوة، ويشككه فيها، ويورد الشبهات والدعاوى التي يحاول ابن عفالق بواسطتها إقناع ابن معمر بالتخلي عن هذه الدعوة، والتخلص من صاحبها، وقد
--------------------------------------------
দাওয়াতের বিরোধীদের রচনাবলির একটি সংক্ষিপ্ত অনুসন্ধানমূলক অধ্যয়ন এবং এই বিরোধী রচনাবলি সম্পর্কে দাওয়াতের আলিমদের অবস্থান
দাওয়াতের ইতিহাসের ওপর দ্রুত দৃষ্টিপাত করলে গবেষক লক্ষ্য করবেন যে, এই দাওয়াত অত্যন্ত তীব্র ও শক্তিশালী বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল। এটি ছিল হয় আমির ও শাসকদের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক বিরোধিতা, অথবা আলিম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের (মুতাওয়িআহ) পক্ষ থেকে ইলমি বা তাত্ত্বিক বিরোধিতা। বরং রাজনৈতিক ও ইলমি বিরোধিতার মধ্যে এক প্রকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি ছিল। যেমনটি প্রতীয়মান হয় রিয়াদের আমির দাহহাম বিন দাওয়াস১ কর্তৃক এই সালাফি দাওয়াতের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র বিরোধিতার মধ্যে। তার সাথে এই দাওয়াতের একগুঁয়ে ও কট্টর শত্রু ছিল রিয়াদের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব সুলাইমান বিন সুহাইম২।
এই সংহতি আরও স্পষ্ট হয় যখন আল-আহসার আমির সুলাইমান বিন উরাইয়ার৩ উয়াইনাহর আমির উসমান বিন মুয়াম্মার৪-এর বিরোধিতা করেছিলেন, যিনি দাওয়াতের শুরুতে ইমাম শায়খকে সহযোগিতা করেছিলেন। সুলাইমান বিন উরাইয়ার তাকে অর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এই বিরোধিতাকে আরও শক্তিশালী করেছিল আল-আহসার অন্যতম আলিম মুহাম্মদ বিন আফালিক৫-এর পদক্ষেপ। তিনি ইবনে মুয়াম্মারের কাছে একটি পত্র লিখেছিলেন এবং পরবর্তীতে আরও একটি পত্রের মাধ্যমে৬ তাকে এই দাওয়াতের বিরুদ্ধে উস্কানি দেন ও তার মনে সন্দেহ সৃষ্টি করেন। ইবনে আফালিক তার পত্রে এমন সব সংশয় ও অভিযোগ উত্থাপন করেন যার মাধ্যমে তিনি ইবনে মুয়াম্মারকে এই দাওয়াত পরিত্যাগ করতে এবং এর প্রবক্তার হাত থেকে রেহাই পেতে প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিলেন। এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
نجحت مساعيهم في ذلك، وتخلى ابن معمر عن الشيخ الإمام، فغادر العيينة متوجها إلى الدرعية كما هو معلوم.
لقد تعددت أوجه هذه المعارضة، وتنوعت سبل المناهضة والعداء، واستنفد الخصوم الكثير من الوسائل والطرق من أجل محاربة هذه الدعوة والقضاء عليها.
وما كتابة المؤلفات والرسائل ضد هذه الدعوة السلفية ومجددها إلا أسلوب من أساليب إعاقة هذه الدعوة والطعن فيها.
وحين نحاول الكشف عن أبعاد هذه المعارضة ومدى حجمها، فإننا نبين - بإيجاز - حال المعارضة في بلاد نجد أثناء ظهور دعوة الشيخ الإمام1 وما نتج عن تلك المعارضة المحلية من انتشار واتساع في مكائدها ومطاعنها إلى مختلف البلاد والأمصار.
يصور ابن غنام2 - المؤرخ الأول لهذه الدعوة - شدة المعارضة وصلابتها، فلما أورد ما فعله الشيخ ومعه ابن معمر في العيينة من هدم القباب وقطع الأشجار التي يتبرك بها، ذكر موقف المعارضين فقال رحمه الله:
(فأخذوا في رده والإنكار عليه وأتوا بأعظم الأسباب، وزجوا الخلق في لجة الضلال والارتياب، وضجوا على كلمة الحق بالتكذيب والإكذاب.
وأشر الناس والعلماء إنكارا عليه، وأعظم تشنيعا وسعيا بالشر إليه سليمان بن سحيم وأبوه محمد، فقد اهتم في ذلك وأنجد وجد في التحريش عليه والتحريض، وأرسل بذلك إلى الإحساء والحرمين والبصرة، فلم ينل من مراده سوى الخزي والعارة والحسرة، ولقد كاد وشنع وعادى وحشر علماء السوء ونادى وكذب عليه وبهت وزور، فقاموا معه فورا بالإنكار، وأفتوا للحكام والسلاطين بأن القائم بدعوة التوحيد خارجي.
--------------------------------------------
তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছিল এবং ইবন মুয়াম্মার শাইখুল ইমামের সঙ্গ ত্যাগ করেছিলেন, ফলে তিনি উয়াইনা ছেড়ে দিরইয়াহর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, যেমনটি জানা আছে।
এই বিরোধিতার রূপ ছিল বহুমুখী, এবং বৈরিতা ও শত্রুতার পথ ছিল বিচিত্র; বিরোধীরা এই দাওয়াতকে প্রতিহত করতে এবং তা নির্মূল করতে অনেক মাধ্যম ও পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল।
এই সালাফি দাওয়াত এবং এর সংস্কারকের বিরুদ্ধে গ্রন্থ ও পত্র রচনা করা ছিল এই দাওয়াতকে বাধাগ্রস্ত করার এবং একে আক্রমণ করার একটি অন্যতম কৌশল।
আমরা যখন এই বিরোধিতার মাত্রা ও ব্যাপ্তি উন্মোচনের চেষ্টা করি, তখন আমরা সংক্ষেপে শাইখুল ইমামের দাওয়াত প্রকাশের সময় নজদ ভূখণ্ডে বিরোধিতার অবস্থা বর্ণনা করি এবং সেই স্থানীয় বিরোধিতার ফলে সৃষ্ট ষড়যন্ত্র ও অপবাদগুলো বিভিন্ন দেশ ও জনপদে কতটা ছড়িয়ে পড়েছিল তা উল্লেখ করি।
এই দাওয়াতের প্রথম ইতিহাসবিদ ইবন গান্নাম বিরোধিতার তীব্রতা ও কঠোরতা চিত্রিত করেছেন। শাইখ এবং ইবন মুয়াম্মার উয়াইনায় গম্বুজসমূহ ধ্বংস করা এবং যেসব বৃক্ষ থেকে বরকত নেওয়া হতো সেগুলো কেটে ফেলার যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা উল্লেখ করার পর তিনি বিরোধীদের অবস্থান সম্পর্কে বলেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন):
(তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করতে শুরু করল এবং সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাল, মানুষকে বিভ্রান্তি ও সন্দেহের আবর্তে নিক্ষেপ করল এবং সত্য বাণীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও মিথ্যারোপ করে শোরগোল শুরু করল।
মানুষ এবং আলেমদের মধ্যে যারা তাঁর সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করেছিল এবং তাঁর প্রতি সবচেয়ে বেশি অপবাদ রটিয়ে মন্দের চেষ্টা করেছিল, তারা হলো সুলাইমান ইবন সুহাইম এবং তার পিতা মুহাম্মদ। সে এ বিষয়ে অনেক গুরুত্ব দিল, সাহায্য চাইল এবং উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করল। সে এ উদ্দেশ্যে আহসা, হারামাইন এবং বসরায় পত্র পাঠাল। কিন্তু সে তার উদ্দেশ্য হাসিলে অপমান, লাঞ্ছনা ও আক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই পায়নি। সে ষড়যন্ত্র করেছে, অপবাদ দিয়েছে, শত্রুতা করেছে এবং অসৎ আলেমদের সমবেত করে উচ্চকণ্ঠ হয়েছে, আর তাঁর প্রতি মিথ্যাচার ও অপবাদ আরোপ করেছে। ফলে তারা অবিলম্বে তাঁর বিরোধিতায় লিপ্ত হলো এবং শাসক ও সুলতানদের কাছে এই ফতোয়া দিল যে, তাওহীদের দাওয়াত প্রদানকারী ব্যক্তি একজন খারেজি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وسطروا فيها الجزم بكفره وبطلان حجته ودليله1.
ويذكر الدكتور عبد الله العثيمين عددا - تقريبيا - لأولئك الخصوم في نجد آنذاك، وتنوع مواقفهم فيقول:
(واضح من رسائل الشيخ (الشخصية) أن دعوته لقيت معارضة شديدة من قبل بعض علماء نجد، فالمتتبع لها يلاحظ أن أكثر من عشرين عالما أو طالب علم وقفوا ضدها في وقت من الأوقات، ويأتي في مقدمة هؤلاء المعارضين عبد الله المويس2 من حرمة، وسليمان بن سحيم من الرياض، ويستفاد من هذه الرسائل أن معارضي الشيخ من النجديين كانوا مختلفي المواقف، فمنهم من عارضه واستمر في معارضته مثل المويس، ومنهم من كان يعترف في بداية الأمر بأن ما جاء به الشيخ أو بعضه حق، لكنه غيّر موقفه مع مرور الزمن مثل ابن سحيم، ومنهم - أيضا - من كان متأرجحا في تأييده ومعارضته مثل عبد الله بن عيسى3) 4.ويتحدث العثيمين عن أبرز أوجه كيد المعارضة النجدية، فيقول:
(تبين "الرسائل الشخصية للشيخ الإمام" أن نشاط المعارضة النجدية كان مختلف الجوانب، وفي مقدمة أوجه ذلك النشاط الكتابة ضدها والمتأمل في هذه الرسائل يرى كثرة تلك الكتابة، وإن كان من المتوقع أن أغلبها لم يكن طويل المحتوى.
الوجه الثاني من أوجه نشاط المعارضة النجدية: مجادلة ابن إسماعيل جماعة الشيخ في ثرمداء، ومجادلة سليمان بن سحيم لابن صالح في مجلس الشيوخ في الرياض.
الوجه الثالث: الاتصال بالعلماء وذوي النفوذ خارج نجد وتحريضهم ضد الشيخ ودعوته، مثل إرسال ابن سحيم كتابا إلى العلماء خارج نجد وشكواه له عند أهل
--------------------------------------------
এবং তারা এতে তাঁর কুফরি এবং তাঁর প্রমাণ ও যুক্তির অসারতার বিষয়ে দৃঢ় নিশ্চয়তা লিপিবদ্ধ করেছেন১।
এবং ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-উসাইমীন তৎকালীন নজদে সেই বিরোধীদের একটি আনুমানিক সংখ্যা এবং তাদের অবস্থানের বৈচিত্র্য উল্লেখ করে বলেন:
(শাইখের (ব্যক্তিগত) পত্রাবলী থেকে স্পষ্ট যে, তাঁর দাওয়াত নজদের কিছু আলেমদের পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল; এগুলোর অনুসরণকারী লক্ষ্য করবেন যে, বিশ জনেরও বেশি আলেম বা তালিবে ইলম কোনো না কোনো সময়ে এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। এই বিরোধীদের অগ্রভাগে রয়েছেন হুরমাহ-এর আব্দুল্লাহ আল-মুওয়াইস২ এবং রিয়াদের সুলাইমান বিন সুহাইম। এই পত্রগুলো থেকে এটিও জানা যায় যে, নজদীয় বিরোধীদের অবস্থান ছিল ভিন্ন ভিন্ন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং সেই বিরোধিতায় অবিচল থেকেছেন যেমন আল-মুওয়াইস, আবার কেউ কেউ শুরুতে স্বীকার করেছিলেন যে শাইখ যা নিয়ে এসেছেন বা তার কিছু অংশ সত্য, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন যেমন ইবনে সুহাইম, এবং তাদের মধ্যে এমনও ছিলেন যারা সমর্থন ও বিরোধিতার মাঝে দোদুল্যমান ছিলেন যেমন আব্দুল্লাহ বিন ঈসা৩) ৪। এবং আল-উসাইমীন নজদীয় বিরোধিতার ষড়যন্ত্রের প্রধান দিকগুলো সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন:
(“শাইখ ইমামের ব্যক্তিগত পত্রাবলী” স্পষ্ট করে যে, নজদীয় বিরোধিতার তৎপরতা ছিল বহুমুখী, এবং সেই তৎপরতার প্রধান দিকগুলোর মধ্যে ছিল এর বিরুদ্ধে লেখালেখি করা; এই পত্রগুলো পর্যবেক্ষণকারী সেই লেখালেখির প্রাচুর্য দেখতে পাবেন, যদিও ধারণা করা হয় যে সেগুলোর অধিকাংশই দীর্ঘ ছিল না।
নজদীয় বিরোধিতার তৎপরতার দ্বিতীয় দিক: থারমাদায় শাইখের জামাতের সাথে ইবনে ইসমাইলের বিতর্ক এবং রিয়াদে শাইখদের মজলিসে ইবনে সালেহ-এর সাথে সুলাইমান বিন সুহাইমের বিতর্ক।
তৃতীয় দিক: নজদের বাইরের আলেম ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করা এবং শাইখ ও তাঁর দাওয়াতের বিরুদ্ধে তাদের উস্কানি দেওয়া, যেমন ইবনে সুহাইমের নজদের বাইরের আলেমদের কাছে পত্র পাঠানো এবং তাদের কাছে অভিযোগ জানানো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الحرمين، وقد ركب المويس وخواص أصحابه إلى أهل الكواز وقبة رجب يخبرونهم بإنكار الشيخ لما هم عليه، ويستثيرونهم ضده، كما ركب المويس مع ابن ربيعة وابن إسماعيل1 إلى أهل قبة أبي طالب وأغروهم بعدم اتباع الشيخ.
وواضح أن الاتحاد إلى الاستنجاد بالخارج يعكس إدراك المعارضين النجديين لضعفهم أمام دعوة الشيخ وفشلهم في إيقافها.
الوجه الرابع من وجوه نشاط المعارضين المحليين: ترويج الكتب التي ألفها علماء غير نجديين ضد الدعوة بين الناس، كما روج المويس وابن عبيد كتاب القباني البصري2 وكما روج المويس وابن إسماعيل كتاب ابن عفالق34.
وحتى تكون الصورة أكثر وضوحا وبيانا لبعض مكائد الخصوم وتكالبهم ضد هذه الدعوة السلفية بمختلف السبل، فإننا نورد بعض النقول المختارة من الرسائل الشخصية للشيخ الإمام، والتي تكشف عن ضخامة الكيد والعداء من قبل بعض علماء نجد ومطاوعتهم ضد هذه الدعوة الصادقة، كما تكشف عن حجم المعاناة ومقدار المشقات التي تجشمها الشيخ في سبيل دعوته.
ففي رسالته لأهل القصيم يشير الشيخ إلى كيد سليمان بن سحيم فيقول:
(وبلغني أن رسالة ابن سحيم قد وصلت إليكم، وأنه قبلها وصدقها بعض المنتمين للعلم في جهتكم، والله يعلم أن الرجل افترى علي أمورا لم أقلها، ولم يأت أكثرها على بالي) 5.
ويورد الشيخ في رسالته لابن عباد6 مطوع ثرمداء بعضا من مناهضة الخصوم في نجد ضد الدعوة السلفية فيقول:
--------------------------------------------
হারামাইন, আর মুওয়াইস ও তার ঘনিষ্ঠ সাথীরা আল-কাওয়াজ এবং কুব্বাতু রাজাবের অধিবাসীদের কাছে যান এবং তাদেরকে শেখ যে বিষয়ের উপর তারা আছে তা অস্বীকার করছেন বলে জানান, এবং তাদেরকে তাঁর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করেন। যেমনটি মুওয়াইস ইবনে রাবীয়া ও ইবনে ইসমাইল১ এর সাথে মিলে কুব্বাতু আবি তালিবের অধিবাসীদের কাছে গিয়েছিলেন এবং তাদেরকে শেখের অনুসরণ না করতে প্রলুব্ধ করেছিলেন।
এটা স্পষ্ট যে, বাইরের শক্তির সাহায্য চাওয়ার এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা নজদি বিরোধীদের শেখের দাওয়াতের সামনে তাদের দুর্বলতা এবং এটি বন্ধ করতে তাদের ব্যর্থতার উপলব্ধিকে প্রতিফলিত করে।
স্থানীয় বিরোধীদের তৎপরতার চতুর্থ দিকটি হলো: অ-নজদি আলেমদের দ্বারা দাওয়াতের বিরুদ্ধে রচিত বইগুলো জনগণের মধ্যে প্রচার করা। যেমন মুওয়াইস এবং ইবনে উবাইদ বসরার আল-কাব্বানি২ এর বই প্রচার করেছিলেন এবং মুওয়াইস ও ইবনে ইসমাইল ইবনে আফালিক৩ ৪ এর বই প্রচার করেছিলেন।
এই সালাফি দাওয়াতের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র এবং বিভিন্ন উপায়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ আক্রমণের চিত্রটি আরও স্পষ্ট ও বিশদ করার জন্য, আমরা ইমাম শেখের ব্যক্তিগত চিঠিপত্র থেকে কিছু নির্বাচিত উদ্ধৃতি উল্লেখ করছি। যা এই সত্য দাওয়াতের বিরুদ্ধে নজদের কিছু আলেম এবং তাদের অনুসারীদের চরম বিদ্বেষ ও শত্রুতাকে উন্মোচিত করে। পাশাপাশি এটি শেখ তাঁর দাওয়াতের পথে যে পরিমাণ কষ্ট ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন তাও প্রকাশ করে।
কাসিমবাসীর কাছে লেখা তাঁর চিঠিতে শেখ সুলাইমান বিন সুহাইমের ষড়যন্ত্রের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন:
(আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইবনে সুহাইমের চিঠি আপনাদের কাছে পৌঁছেছে এবং আপনাদের এলাকার কিছু লোক যারা ইলমের সাথে সম্পৃক্ত তারা তা গ্রহণ করেছে ও সত্য বলে বিশ্বাস করেছে। আল্লাহ জানেন যে, ওই ব্যক্তি আমার সম্পর্কে এমন কিছু বিষয় মিথ্যা রটনা করেছে যা আমি বলিনি এবং যার অধিকাংশই আমার মনেও আসেনি) ৫।
আর শেখ ছারমাদার ধর্মীয় নেতা ইবনে আব্বাদ৬ এর কাছে প্রেরিত পত্রে সালাফি দাওয়াতের বিরুদ্ধে নজদের বিরোধীদের কিছু প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দাআওয়িল মুনাউয়িঈন লি দাওয়াতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
(وكذلك أحمد بن يحيى1 راعي رغبة عداوته لتوحيد الألوهية والاستهزاء بأهل العارض لما عرفوه، وإن كان يقر به أحيانا عداوة ظاهرة
… وكذلك ابن إسماعيل أنه نقض ما أبرمت في التوحيد، وتعرف أن عنده الكتاب الذي صنفه رجل من أهل البصرة2 كله من أوله إلى آخره في إنكار توحيد الألوهية، وأتاكم به ولد محمد بن سليمان3 راعي وثيثيه، وقرأه عندكم وجادل به جماعتنا، وهذا الكتاب مشهور عند المويس وأتباعه مثل ابن سحيم وابن عبيد يحتجون به علينا ويدعون الناس إليه..
وكذلك ما أتاهم كتاب ابن عفالق الذي أرسله المويس لابن إسماعيل، وقدم به عليكم العام4 وقرأه على جماعتكم يزعم فيه أن التوحيد دين ابن تيمية..) 5.
وفي رسالة لابن عيد أحد مطاوعة ثرمداء، يقول الشيخ بعبارة مؤثرة:
(فلما أظهرت تصديق الرسول فيما جاء به سبوني غاية المسبة وزعموا أني أكفر أهل الإسلام وأستحل أموالهم) 6.
ويصف الشيخ عداوة الخصوم وفتنتهم في رسالته للسويدي، فيقول رحمه الله:
(ولبسوا على العوام أن هذا خلاف ما عليه أكثر الناس وكبرت الفتنة وأجلبوا علينا بخيل الشيطان ورجله..) 7.
ويهاجم الشيخ الإمام بعض خصومه الألداء كابن سحيم، ويصفه بما يناسب حاله وواقعه فقال رحمه الله: (لكن البهيم "سليمان بن سحيم" لا يفهم معنى العبادة) 8.
ثم يقول: (فيا سبحان الله ما من عقولهم تفهم أن هذا الرجل من البقر، التي لا تميز بين التين والعنب) 9.
ويذكر الشيخ في رسالته لعبد الرحمن بن ربيعة10 مطوع ثادق بعضا من أفاعيل المعارضين، في صد الناس عن هذه الدعوة، فقال الشيخ رحمه الله:
--------------------------------------------
(তেমনিভাবে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়াও১ তার উলুহিয়্যাহর তাওহীদের প্রতি শত্রুতা এবং আল-আরীজবাসীদের উপহাস করার লালসা লালন করেছিল যখন তারা এটি চিনে নিয়েছিল, যদিও সে মাঝে মাঝে এটি স্বীকার করত, কিন্তু তার শত্রুতা ছিল স্পষ্ট
… একইভাবে ইবনে ইসমাঈল তাওহীদের ব্যাপারে আমি যা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি তা ভঙ্গ করেছে। আপনি জানেন যে, তার কাছে বসরার এক ব্যক্তির২ লেখা একটি বই রয়েছে, যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটিই উলুহিয়্যাহর তাওহীদকে অস্বীকার করার বিষয়ে। ওয়াসিছিয়ার মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমানের ছেলে৩ সেটি আপনার কাছে নিয়ে এসেছিল এবং আপনাদের সামনে তা পাঠ করেছিল ও আমাদের জামায়াতের সাথে বিতর্ক করেছিল। এই বইটি মুওয়ায়িস এবং তার অনুসারীদের নিকট বিখ্যাত, যেমন ইবনে সুহাইম এবং ইবনে উবায়েদ; তারা এটি দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে দলীল পেশ করে এবং মানুষকে এর দিকে আহ্বান করে।
তেমনিভাবে ইবনে আফালিকের সেই কিতাবটিও তাদের কাছে এসেছে যা মুওয়ায়িস ইবনে ইসমাঈলের কাছে পাঠিয়েছিল। সে এটি নিয়ে এ বছরই৪ আপনাদের কাছে এসেছিল এবং আপনাদের জামায়াতের সামনে পাঠ করেছিল; সেখানে সে দাবি করে যে তাওহীদ হলো ইবনে তাইমিয়্যাহর ধর্ম..) ৫।
ছারমাদার অন্যতম আলেম ইবনে ঈদের কাছে পাঠানো এক পত্রে শাইখ অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ভাষায় বলেন:
(রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি যখন আমি আমার বিশ্বাস প্রকাশ করলাম, তখন তারা আমাকে চরমভাবে গালিগালাজ করল এবং দাবি করল যে আমি ইসলাম অনুসারীদের কাফির বলি এবং তাদের ধন-সম্পদ বৈধ মনে করি।) ৬।
আস-সুওয়াইদীর কাছে লেখা এক পত্রে শাইখ বিরোধীদের শত্রুতা ও ফিতনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন (আল্লাহ তাকে রহম করুন):
(তারা সাধারণ মানুষের কাছে ধোঁকা সৃষ্টি করল যে এটি অধিকাংশ মানুষ যা মেনে চলে তার বিরোধী। এভাবে ফিতনা বড় আকার ধারণ করল এবং তারা শয়তানের ঘোড়সওয়ার ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হলো...) ৭।
ইমাম শাইখ তার কয়েকজন কট্টর বিরোধী যেমন ইবনে সুহাইমের ওপর আক্রমণ করেন এবং তার অবস্থা ও বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশেষণে তাকে অভিহিত করেন। তিনি বলেন (আল্লাহ তাকে রহম করুন): (কিন্তু এই নির্বোধ পশুতুল্য "সুলাইমান ইবনে সুহাইম" ইবাদতের অর্থ বোঝে না।) ৮।
অতঃপর তিনি বলেন: (সুবহানাল্লাহ! তাদের কি এমন বুদ্ধি নেই যা দিয়ে বুঝবে যে এই ব্যক্তিটি গরুর মতো, যে ডুমুর এবং আঙুরের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না।) ৯।
শাইখ ছাদিকের আলেম আবদুর রহমান ইবনে রাবীআহর১০ কাছে লেখা এক পত্রে বিরোধীদের কিছু কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেছেন যে তারা মানুষকে এই দাওয়াত থেকে বিরত রাখার জন্য কী কী করত। শাইখ (আল্লাহ তাকে রহম করুন) বলেন:
--------------------------------------------