(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
دحض دعوى المستشرقين أن القرآن من عند النبي صلى الله عليه وسلم   (سعود بن عبد العزيز الخلف)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: دحض دعوى المستشرقين أن القرآن من عند النبي صلى الله عليه وسلم

المؤلف: سعود بن عبد العزيز الخلف

الناشر: غراس للنشر والتوزيع

عدد الصفحات: 197

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

প্রাচ্যবিদদের এই দাবির খণ্ডন যে কুরআন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে   (সৌদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খালাফ)

বিভাগ: কুরআনুল কারীমের জ্ঞান এবং তাফসিরের মূলনীতি


বই: প্রাচ্যবিদদের এই দাবির খণ্ডন যে কুরআন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে

লেখক: সৌদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খালাফ

প্রকাশক: গেরাস পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৭

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

ال‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأصلي وأسلم على الرحمة المهداة والنسمة المجتباة، سيدنا محمد وعلى وآله وصحبه وسلم، وبعد:

فإن الله أرسل رسله بالبينات والهدى، وأظهر الله حججهم، وأبان عن محجتهم، واتضحت لكل ذي بصيرة مسالكهم وطرائقهم، وذلك ليحيا من يحيا عن بينة، ويهلك من يهلك عن بينة، فيكون له الهلاك والخسران.

وقد جعل الله تعالى للحق أعلاماً وأنصاراً وجزاءً، ويمثل الطائفة الحقة الرسل وأتباعهم في كل زمان ومكان.

والرسل وأتباعهم يظهرون الحجة والحق، ويدعون إليهما، وأعداء الرسل يدفعون الحجج، ويحاولون إبطالها وخلال ذلك يهتدي من يهتدي، ويهلك من يهلك، ولا يهلك على الله إلا هالك.

وقد ذكر الله تعالى في كتابه الكريم هذه السنة، فقال: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوّاً مِنَ الْمُجْرِمِينَ وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِياً وَنَصِيراً} [الفرقان:31.

وقال تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوّاً شَيَاطِينَ الْأِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُوراً وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ ولو شاء ربك ما فعلوه فذرهم وما يفترون ، وَلِتَصْغَى إِلَيْهِ أَفْئِدَةُ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَلِيَرْضَوْهُ وَلِيَقْتَرِفُوا مَا هُمْ مُقْتَرِفُون} الأنعام: [112-113] .
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি প্রেরিত রহমত এবং মনোনীত সত্তা আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর রসূলগণকে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও হেদায়েতসহ প্রেরণ করেছেন, তিনি তাঁদের দলিলসমূহকে জয়যুক্ত করেছেন এবং তাঁদের সত্য পথকে সুস্পষ্ট করেছেন। ফলে প্রতিটি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট তাঁদের আদর্শ ও কর্মপন্থা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, যেন যে জীবিত থাকবে সে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত থাকে এবং যে ধ্বংস হবে সে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হয়; ফলে ধ্বংস ও ক্ষতিই তার জন্য অবধারিত হয়।

আল্লাহ তাআলা সত্যের জন্য কিছু নিদর্শন, সাহায্যকারী এবং প্রতিদান নির্ধারণ করেছেন। প্রত্যেক যুগে ও স্থানে রসূলগণ এবং তাঁদের অনুসারীরাই এই সত্যপন্থী দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

রসূলগণ এবং তাঁদের অনুসারীরা দলিল ও সত্যকে প্রকাশ করেন এবং সেদিকে মানুষকে আহ্বান জানান। পক্ষান্তরে রসূলগণের শত্রুরা দলিলসমূহকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে এবং তা অসার সাব্যস্ত করতে চায়। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই কেউ হেদায়েত প্রাপ্ত হয়, আবার কেউ ধ্বংস হয়; আর আল্লাহর নিকট সে-ই ধ্বংস হয় যে প্রকৃতপক্ষে ধ্বংসশীল।

আল্লাহ তাআলা তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে এই চিরাচরিত বিধানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু বানিয়েছি; আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে আপনার প্রতিপালকই যথেষ্ট} [আল-ফুরকান: ৩১]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি; তারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে একে অপরকে চাকচিক্যময় কথার কুমন্ত্রণা দেয়। আপনার প্রতিপালক চাইলে তারা তা করত না; সুতরাং আপনি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যা অপবাদগুলোকে বর্জন করুন। আর যেন পরকালে অবিশ্বাসীদের অন্তর সেদিকে ধাবিত হয় এবং তারা যেন তাতে সন্তুষ্ট থাকে এবং তারা যে পাপে লিপ্ত তা যেন করতে থাকে।} [আল-আনআম: ১১২-১১৩]।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪০)
وقد روي عن السدي أنه قال: "لم يبعث نبي قط، إلا كان المجرمون له أعداء، ولم يبعث نبي قط إلا كان بعض المجرمين أشد عليه من بعض"."1"

وأخرج ابن مردويه عن ابن عباس رضي الله عنه قال: "كان عدو النبي صلي الله عليه وسلم أبو جهل، وعدو موسى قارون، وكان قارون ابن عم موسى"."2"

وأبان الله تبارك وتعالى لنا في الآية الأخرى عن حقيقة هؤلاء الأعداء، وعن كيفية تداول الأقوال بينهم، وعن المصغين إليهم، فوصفهم بأنهم شياطين، والشيطان كما يقول ابن كثير هو:" كل من خرج عن نظيره بالشر، ولا يعادي الرسل إلا الشياطين من هؤلاء وهؤلاء – يقصد من الإنس والجن – فهؤلاء الأعداء للأنبياء يوحي بعضهم إلى بعض القول المزخرف المزين المزوق، الذي يغتر سامعه من الجهلة بأمره"."3"

وقد سلك في هذا الباطل، وهو رد النبوة وتكذيب الأنبياء، والطعن فيهم بكل وسيلة ممكنة أهل الضلالة والفجور مع أنبيائهم السابقين. فنوح عليه الصلاة والسلام رد قومه عليه قوله وكذبوه، وقالوا عنه {فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ مَا هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُرِيدُ أَنْ يَتَفَضَّلَ عَلَيْكُمْ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَنْزَلَ مَلائِكَةً مَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ ، إِنْ هُوَ إِلَّا رَجُلٌ بِهِ جِنَّةٌ فَتَرَبَّصُوا بِهِ حَتَّى حِينٍ} [المؤمنون:24-25] .

وقال تعالى: {مَا يُجَادِلُ فِي آيَاتِ اللَّهِ إِلَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَلا يَغْرُرْكَ تَقَلُّبُهُمْ فِي الْبِلادِ كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ وَالْأَحْزَابُ مِنْ بَعْدِهِمْ وَهَمَّتْ كُلُّ أُمَّةٍ بِرَسُولِهِمْ لِيَأْخُذُوهُ وَجَادَلُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ فَأَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ ، وَكَذَلِكَ حَقَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّهُمْ أَصْحَابُ النَّارِ} [غافر:4-5] .

--------------------------------------------

"1" عزاه في الدر المنثور "6/254" إلى ابن أبي حاتم.

"2" المرجع السابق.

"3" تفسير ابن كثير "2/168"،وانظر: تفسير القرطبي "7/67".
আস-সুদ্দী থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "এমন কোনো নবী কখনও প্রেরিত হননি যাঁর বিরুদ্ধে অপরাধীরা শত্রুতা পোষণ করেনি এবং এমন কোনো নবী কখনও প্রেরিত হননি যাঁর ওপর কোনো কোনো অপরাধী অন্যদের তুলনায় অধিক কঠোর ছিল না।" "১"

ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শত্রু ছিল আবু জাহল এবং মুসার শত্রু ছিল কারুন; আর কারুন ছিল মুসার চাচাতো ভাই।" "২"

আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা অন্য আয়াতে আমাদের সামনে এই শত্রুদের প্রকৃত স্বরূপ, তাদের মধ্যে কথোপকথন আদান-প্রদানের পদ্ধতি এবং যারা তাদের প্রতি কর্ণপাত করে তাদের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি তাদের শয়তান হিসেবে অভিহিত করেছেন। শয়তান সম্পর্কে ইবনে কাসীর বলেন: "এমন প্রত্যেক সত্তা যে মন্দ কাজের দিক থেকে তার সমজাতীয়দের ছাড়িয়ে গেছে। আর এই উভয় শ্রেণি থেকে—অর্থাৎ মানুষ ও জিনদের মধ্য হতে শয়তানরাই কেবল রাসুলদের শত্রুতা করে থাকে। নবীদের এই শত্রুরা একে অপরকে চাকচিক্যময়, সুশোভিত ও অলঙ্কৃত কথার কুমন্ত্রণা দেয়, যা শুনে মূর্খরা বিভ্রান্ত হয়।" "৩"

পথভ্রষ্ট ও পাপাচারী লোকেরা তাদের পূর্ববর্তী নবীদের সাথে নবুয়ত প্রত্যাখ্যান, নবীদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং সম্ভাব্য সকল উপায়ে তাদের প্রতি অপবাদ আরোপ করার মতো বাতিল পথ অবলম্বন করেছিল। নূহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর কওম তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। তারা তাঁর সম্পর্কে বলেছিল: {অতঃপর তাঁর কওমের কাফের প্রধানরা বলল, 'এ তো তোমাদের মত একজন মানুষ বৈ নয়। সে তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায়। আল্লাহ ইচ্ছা করলে ফেরেশতাই পাঠাতেন। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের আমলে এরূপ কথা শুনিনি। সে তো কেবল এক উন্মাদ ব্যক্তি। সুতরাং তোমরা তাকে এক সময় পর্যন্ত উপেক্ষা করো'।} [সূরা আল-মুমিনুন: ২৪-২৫] ।

আল্লাহ তায়ালা বলেন: {কাফেররা ব্যতীত কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্ক করে না। সুতরাং দেশ-বিদেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন আপনাকে বিভ্রান্ত না করে। তাদের পূর্বে নূহের কওম এবং তাদের পরবর্তী দলসমূহও নবীদের অস্বীকার করেছিল। প্রত্যেক জাতি তাদের রাসুলকে পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল এবং তারা মিথ্যা দিয়ে বিতর্ক করেছিল যেন এর মাধ্যমে সত্যকে পরাভূত করা যায়। অতঃপর আমি তাদের পাকড়াও করলাম; সুতরাং কেমন ছিল আমার শাস্তি! এভাবেই কাফেরদের বিরুদ্ধে আপনার রবের কথা সত্য প্রমাণিত হলো যে, তারা অগ্নিবাসী।} [সূরা গাফির: ৪-৫] ।

--------------------------------------------

"১" আদ-দুররুল মানসুর "৬/২৫৪" গ্রন্থে এটিকে ইবনে আবি হাতিমের প্রতি সম্পর্কযুক্ত (عزاه) করা হয়েছে।

"২" পূর্বোক্ত উৎস।

"৩" তাফসিরে ইবনে কাসীর "২/১৬৮", এবং দেখুন: তাফসিরে কুরতুবি "৭/৬৭"।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪১)
فالتكذيب للرسل سمة من سمات أهل الكفر والباطل، وموقفهم واحد، وهو الكفر والتكذيب، ووسيلتهم لذلك هو وصف النبي بالسحر أو الجنون أو الكذب، ونحو ذلك. وفي هذا يقول الله تعالى: {كَذَلِكَ مَا أَتَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا قَالُوا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ} [الذاريات:52] .

وهم يظهرون هذا الموقف من الأنبياء بدافع من الهوى، كما قال تعالى: {لَقَدْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرائيلَ وَأَرْسَلْنَا إِلَيْهِمْ رُسُلاً كُلَّمَا جَاءَهُمْ رَسُولٌ بِمَا لا تَهْوَى أَنْفُسُهُمْ فَرِيقاً كَذَّبُوا وَفَرِيقاً يَقْتُلُونَ} [المائدة:70] .

ولا يؤثر في موقفهم ذلك وضوح الدليل الذي يجريه الله على يد النبي، أو عدد الأنبياء، بل هو موقف واحد متكرر في جميع الحالات. قال تعالى: {وَلَوْ أَنَّنَا نَزَّلْنَا إِلَيْهِمُ الْمَلائِكَةَ وَكَلَّمَهُمُ الْمَوْتَى وَحَشَرْنَا عَلَيْهِمْ كُلَّ شَيْءٍ قُبُلاً مَا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ يَجْهَلُونَ} [الأنعام:111] .

بل إن الله تعالى أرسل إلى قرية واحدة ثلاثة من الرسل، ومع ذلك كذبوا وردوا آيات الله. قال تعالى: {وَاضْرِبْ لَهُمْ مَثَلاً أَصْحَابَ الْقَرْيَةِ إِذْ جَاءَهَا الْمُرْسَلُونَ إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوا إِنَّا إِلَيْكُمْ مُرْسَلُونَ قَالُوا مَا أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا وَمَا أَنْزَلَ الرَّحْمَنُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا تَكْذِبُونَ} [يس:13-15] .

ونبينا محمد صلوات الله وسلامه عليه لم يكن بدعاً من الرسل، فقد أصابه ماأصاب من قبله من أعداء الله من التكذيب، والطعن فيه وفي رسالته وفي شخصه. قال تعالى: {فَإِنْ كَذَّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ جَاءُوا بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَالْكِتَابِ الْمُنِيرِ} آل عمران:184] .

وقد تمالأ أعداء الإسلام قديماً وحديثاً، بدءاً بأبي جهل وأبي بن خلف
রাসূলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন (تكذيب) করা কুফর ও বাতিলপন্থীদের একটি মজ্জাগত বৈশিষ্ট্য। তাদের অবস্থান সর্বদাই অভিন্ন, আর তা হলো কুফর এবং সত্যকে অস্বীকার করা। এ উদ্দেশ্যে তাদের অনুসৃত মাধ্যম হলো নবীকে জাদু, উন্মাদনা কিংবা মিথ্যা (كذب)-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন: "এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোনো রাসূল এসেছেন, তখনই তারা বলেছে, 'সে তো একজন জাদুকর কিংবা উন্মাদ'।" [আয-যারিয়াত: ৫২]।

তারা নবীদের প্রতি এই বিরূপ মনোভাব পোষণ করে মূলত প্রবৃত্তির তাড়নায়। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আমি বনী ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তাদের কাছে অনেক রাসূল পাঠিয়েছিলাম। যখনই কোনো রাসূল তাদের কাছে এমন কিছু নিয়ে আসতেন যা তাদের প্রবৃত্তির কাম্য নয়, তখনই তারা (রাসূলদের) একদলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন (كذبوا) করত এবং একদলকে হত্যা করত।" [আল-মায়িদাহ: ৭০]।

আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীদের মাধ্যমে প্রদর্শিত সুস্পষ্ট প্রমাণাদি কিংবা নবীদের সংখ্যাধিক্য—কোনো কিছুই তাদের এই জেদি অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলে না; বরং এটি সকল ক্ষেত্রেই একটি পুনরাবৃত্তিমূলক অভিন্ন আচরণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ করতাম এবং মৃতরা তাদের সাথে কথা বলত, আর আমি সকল বস্তুকে তাদের সামনে সমবেত করতাম, তবুও তারা ঈমান আনত না; যদি না আল্লাহ চাইতেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই অজ্ঞ।" [আল-আন'আম: ১১১]।

এমনকি আল্লাহ তাআলা একটি জনপদেই তিনজন রাসূল প্রেরণ করেছিলেন, তবুও তারা তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন (كذبوا) করেছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আপনি তাদের কাছে সেই জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করুন, যখন সেখানে রাসূলগণ এসেছিলেন। যখন আমি তাদের কাছে দুইজন রাসূল পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তারা উভয়কে মিথ্যা প্রতিপন্ন (كذبوهما) করেছিল। অতঃপর আমি তৃতীয় একজন দ্বারা তাদের শক্তিশালী করেছিলাম। তাঁরা বললেন, 'নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি।' তারা বলল, 'তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ ছাড়া আর কিছু নও, আর পরম করুণাময় আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি; তোমরা কেবল মিথ্যাই (تكذبون) বলছ'।" [ইয়াসীন: ১৩-১৫]।

আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাসূলদের মধ্যে নতুন বা ব্যতিক্রম কেউ ছিলেন না। তাঁর পূর্ববর্তী রাসূলগণ আল্লাহর শত্রুদের পক্ষ থেকে যেভাবে অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন (تكذيب) হওয়ার শিকার হয়েছিলেন এবং তাঁদের ব্যক্তিত্ব ও রিসালাতের ওপর যেভাবে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল, তিনিও তেমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতএব তারা যদি আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন (كذبوك) করে, তবে আপনার পূর্বেও তো অনেক রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন (كذب) করা হয়েছে, যারা সুস্পষ্ট নিদর্শন, সহীফা ও দীপ্তিময় কিতাব নিয়ে এসেছিলেন।" [আল ইমরান: ১৮৪]।

ইসলামের শত্রুরা প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত নবুওয়াতের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, যার সূচনা হয়েছিল আবু জাহল এবং উবাই ইবনে খালফ থেকে...
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪২)
وأبي لهب والوليد بن المغيرة، وأمثالهم من مشركي مكة، وسيستمر ذلك إلى الدجال الأكبر وما بعده من أهل الضلالة.

فما دام هناك أعداءً فلا بد أن يطعنوا في القرآن وفيمن جاء به، ويزخرفوا ذلك بالقول الحسن المزوق، حتى يروج على الجهلة.

وقد ذكر الله تعالى كما سنبين دعاوى أعداء الرسل وطعنهم، وما افتروه على كلامه ورسله، وتولى تبارك وتعالى الرد عليهم، وإن كان الردوالبيان، وإقامة الحجة لا يغني عمن هو صال النار، ولا ينفع فيمن تحكم فيه هواه، وانقاد لوساوس نفسه، ودواعي شهواته وشيطانه، وإنما في ذلك جهادهم بالكلمة وإظهار لدين الله، حتى لا يلبسوا على غر وجاهل لا يتبين مواقع الضلالة والباطل في كلامهم.
আবু লাহাব, ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরা এবং মক্কার মুশরিকদের মধ্যে তাদের মতো যারা রয়েছে; আর এই ধারাটি বড় দাজ্জাল এবং তার পরবর্তী পথভ্রষ্টদের (أهل الضلالة) দল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

অতএব, যতক্ষণ পর্যন্ত শত্রু থাকবে, ততক্ষণ তারা অবশ্যই কুরআনের প্রতি এবং যিনি তা নিয়ে এসেছেন তাঁর প্রতি অপবাদ আরোপ করবে এবং তাদের সেই বক্তব্যগুলোকে চাকচিক্যময় ও সুশোভিত কথা দিয়ে অলংকৃত করবে, যাতে তা মূর্খদের নিকট গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

আল্লাহ তাআলা রাসূলগণের শত্রুদের দাবি-দাওয়া ও তাদের অপবাদসমূহ এবং তাঁর কালাম ও রাসূলগণের প্রতি তাদের মিথ্যা রটনাগুলো উল্লেখ করেছেন, যেমনটি আমরা বর্ণনা করব। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা স্বয়ং তাদের জবাব প্রদানের দায়িত্ব নিয়েছেন। যদিও এই খণ্ডন, স্পষ্টীকরণ এবং প্রমাণ (حجة) পেশ করা তাদের কোনো উপকারে আসবে না যারা জাহান্নামে দগ্ধ হওয়ার উপযুক্ত এবং যারা তাদের কুপ্রবৃত্তির বশীভূত ও নিজেদের নফসের কুমন্ত্রণা এবং কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানের তাড়নার অনুসারী হয়েছে তাদেরও কোনো কাজে আসবে না। বরং এতে উদ্দেশ্য হলো কথার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং আল্লাহর দ্বীনকে জাহির করা, যাতে তারা কোনো অনভিজ্ঞ ও মূর্খ ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত করতে না পারে, যে ব্যক্তি তাদের কথার মধ্যে থাকা পথভ্রষ্টতা (ضلالة) এবং বাতিল (باطل) এর স্বরূপ অনুধাবন করতে সক্ষম নয়।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
‌‌المبحث الاول

‌‌مدخل

…

المبحث الأول

دعوى المستشرقين أن القرآن من عند النبي صلي الله عليه وسلم وأنه استفاده من اليهود والنصارى.
প্রথম পরিচ্ছেদ

ভূমিকা

...

প্রথম পরিচ্ছেদ

প্রাচ্যবিদদের এই দাবি যে, কুরআন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে এবং তিনি এটি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের নিকট থেকে আহরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
وأهله، وتشويه الدين الإسلامي حتى يحجبوا قومهم عنه، ويشككون المسلمين في دينهم وعقيدتهم وثوابتهم، حتى يسهل تنصلهم منه، وانفلاتهم منه، حتى يتمكنوا فيما يظنون من تنصيرهم.

وهذا ليس غريباً على الأعداء، فهذا دأبهم ومسلكهم وموقفهم من الحق، فقد حاول اليهود قتله عليه الصلاة والسلام، والبوا عليه القبائل، وسعوا إلى إشاعة التشكيك في صحة القرآن، فقالوا {مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام:91] ، وقالوا {آمِنُوا بِالَّذِي أُنْزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آخِرَهُ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [آل عمران:72] .

هذه بعض محاولات متقدميهم وسابقيهم، فدرج الأبناء على ما درج عليه الآباء، صداً عن دين الله، وتشكيكاً لعباد الله.

وقد ركز أولئك المستشرقون على قضية واحدة دارت حولها كل افتراءاتهم وكلامهم، وهي إنكار نبوة النبي صلي الله عليه وسلم. فوجهوا في خدمة هذا الإنكار كل طاقاتهم وسهومهم، فمرة يصفون النبي عليه الصلاة والسلام بالهوس، ومرة يصفونه بالعبقرية، ومرة يصفونه بالسرقات العلمية من اليهود والنصارى، ومرة يزعمون أنه مصلح عظيم."1"

وهنا واجههم موضوع القرآن الكريم من أين مصدره، فأخذوا يتخبطون في بيان ذلك، فلم يتركوا مقالة يمكن أن تقال في ذلك إلا قالوها، فزعموا أنه أساطير الأولين من الوثنيين وغيرهم، وزعموا أنه خيال نفسي قوي يصيب النبي صلي الله عليه وسلم، وزعموا أنه مقتبس من التوراة والإنجيل، وقالوا إنه مأخوذ عن شعر أمية بن أبي الصلت، إلى غير ذلك من الدعاوى، التي لا أزمّة لها ولا أعنّة، بل يشعر قارئها بأن كلامهم إهانة لصفة العلم، التي إينتحلوها، وأنهم إنما هم مجموعة

--------------------------------------------

"1" انظر بعض كلامهم في: مناهج المستشرقين ص26-32.
এবং তার অনুসারীদের, এবং ইসলামি দ্বীনকে বিকৃত করার অপচেষ্টা যাতে তারা তাদের স্বজাতিকে তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে এবং মুসলমানদের তাদের দ্বীন, আকিদা ও সুদৃঢ় বিশ্বাসসমূহ নিয়ে সংশয়ে নিপতিত করতে পারে, যাতে তাদের পক্ষে দ্বীন ত্যাগ করা এবং এর বন্ধন থেকে বিচ্যুত হওয়া সহজ হয়, এমনকি তারা মনে করে যে এর মাধ্যমে তারা তাদের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করতে সক্ষম হবে।

আর এটি শত্রুদের পক্ষ থেকে কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়; কারণ সত্যের বিরুদ্ধে এটিই তাদের চিরন্তন অভ্যাস, কর্মপন্থা ও অবস্থান। ইতিপূর্বে ইয়াহুদিরা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হত্যা করার চেষ্টা করেছিল, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোত্রকে উস্কানি দিয়েছিল এবং কুরআনের বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে সংশয় ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তারা বলেছিল, {আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর কিছুই অবতীর্ণ করেননি} [আল-আনআম: ৯১]। তারা আরও বলেছিল, {যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, দিনের শুরুতে তার ওপর ঈমান আনো এবং দিনের শেষে তা অস্বীকার করো, যেন তারা (দ্বীন থেকে) ফিরে যায়} [আলে ইমরান: ৭২]।

এগুলো ছিল তাদের পূর্বসূরিদের কিছু অপচেষ্টা মাত্র; ফলে পরবর্তী প্রজন্মও তাদের পিতৃপুরুষদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে আল্লাহর দ্বীন থেকে মানুষকে বাধা দিতে এবং আল্লাহর বান্দাদের মনে সংশয় সৃষ্টি করতে।

সেই প্রাচ্যবিদরা একটি মাত্র বিষয়ের ওপর নিবদ্ধ হয়েছে যাকে কেন্দ্র করেই তাদের সমস্ত মিথ্যাচার ও বক্তব্য আবর্তিত হয়েছে, আর তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতকে অস্বীকার করা। তারা এই অস্বীকৃতির সেবায় তাদের সমস্ত শক্তি ও লক্ষ্যকে নিয়োজিত করেছে; কখনো তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মস্তিস্কবিকৃতিতে আক্রান্ত বলে অভিহিত করে, কখনো তাঁকে অনন্য মেধাবী বলে বর্ণনা করে, কখনো তাঁকে ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক তস্কর হিসেবে অভিযুক্ত করে, আবার কখনো দাবি করে যে তিনি কেবল একজন মহান সংস্কারক মাত্র।"১"

এখানে তারা পবিত্র কুরআনের উৎসের প্রশ্নের সম্মুখীন হয় এবং এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তারা বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। ফলে এ বিষয়ে বলা সম্ভব এমন কোনো কুরুচিপূর্ণ উক্তি তারা অবশিষ্ট রাখেনি। তারা দাবি করেছে যে, এটি পৌত্তলিক ও অন্যদের প্রাচীন উপকথা মাত্র; তারা দাবি করেছে যে, এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এক প্রবল মনস্তাত্ত্বিক কল্পনার প্রভাব; তারা দাবি করেছে যে, এটি তাওরাত ও ইঞ্জিল থেকে সংগৃহীত; আবার তারা বলেছে যে, এটি উমাইয়া ইবনে আবিস সালত-এর কবিতা থেকে গৃহীত—এ ছাড়াও তারা এমন সব দাবি করেছে যার কোনো ভিত্তি বা লাগাম নেই। বরং এর পাঠক অনুভব করবেন যে, তাদের কথাগুলো জ্ঞানের সেই বৈশিষ্ট্যের প্রতি অবমাননাকর যা তারা নিজেদের ক্ষেত্রে দাবি করে থাকে; প্রকৃতপক্ষে তারা কেবল একটি দল...

--------------------------------------------

"১" দেখুন তাদের কিছু বক্তব্য: মানাহিজুল মুস্তাশরিকিন, পৃষ্ঠা ২৬-৩২।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
من الكذبة الأفاقين، والكفرة الحاقدين الحاسدين، الذين جهرهم وبهرهم نور الإسلام، وهم أعداء حاقدون، فحاروا فيه، وحاصوا حيصة الحمر، وصاروا يخبطون خبط عشواء.

وسنبين في دراسة مختصرة دعواهم أن القرآن من عند النبي صلي الله عليه وسلم، وأنه اعتمد فيه على التوراة والإنجيل.

ونبين بإذن الله تهافت هذه الدعاوى وبطلانها، رجاء أن يجعل الله في ذلك نصرة للحق، ودفعاً للباطل، وأن يجنب المسلمين الفتن ما ظهر منها وما بطن، وأن يرد عنا وعن المسلمين كيد أعدائنا، وأن يجعل ما يدبرونه ويكيدون به هذا الدين سبباً في تدميرهم وهلاكهم، وأن ينصر دينه، ويعلي كلمته، ويثبتنا على الحق إلى يوم نلقاه.
তারা জঘন্য মিথ্যাবাদী (كذبة) ও প্রবঞ্চক এবং সেই সব বিদ্বেষী ও হিংসুক কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে ইসলামের নূর হতভম্ব ও অভিভূত করে দিয়েছে। তারা মূলত চরম শত্রু, তাই তারা ইসলামের বিষয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে এবং বন্য গাধার ন্যায় পলায়নপর ও লক্ষ্যহীনভাবে অন্ধকারে হাতড়াচ্ছে।

আমরা একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণায় তাদের এই দাবির স্বরূপ উন্মোচন করব যে, কুরআন নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে রচিত এবং তিনি এতে তাওরাত ও ইঞ্জিলের ওপর নির্ভর করেছেন।

আমরা আল্লাহর অনুমতিক্রমে এই দাবিগুলোর অসারতা ও বাতিল (باطل) হওয়া প্রমাণ করব, এই আশায় যে—আল্লাহ যেন এর মাধ্যমে সত্যের বিজয় এবং বাতিলের বিনাশ সাধন করেন; আর মুসলমানদেরকে প্রকাশ্য ও গোপন সকল ফিতনা (فتنة) থেকে রক্ষা করেন। তিনি যেন আমাদের থেকে এবং সকল মুসলমানের থেকে শত্রুদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেন এবং এই দ্বীনের বিরুদ্ধে তারা যা কিছু পরিকল্পনা ও চক্রান্ত করছে, সেটিকে তাদেরই ধ্বংস ও বিনাশের কারণ বানিয়ে দেন। আল্লাহ যেন তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করেন, তাঁর কালিমাকে সমুন্নত করেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার দিন পর্যন্ত আমাদের সত্যের ওপর অবিচল রাখেন।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
‌‌المطلب الأول: تعريف الإستشراق

الاستشراق لغة: مأخوذ من جهة الشرق.

اصطلاحاً: هو علم يدرس فيه لغات الشرق وتراث وأديان شعوبها وحضارتهم وتاريخهم، وكل ما يتعلق بهم."1"

وهذا الاسم غلب على تعلم الأوروبيين علوم أهل الشرق. فعليه فالمستشرق في مقصدنا هنا: هو ذاك الأوروبي أو الغربي، الذي اجتهد في تعلم علوم الشرق، وديانة أهلها وحضارتهم.

والاستشراق حركة نبتت في الكنيسة "2"، لهذا تبنى جلّ المستشرقين موقف الكنيسة من الإسلام، وهو العداء له، والكيد له بكل وسيلة ممكنة.

وقد وجه المستشرقون سهامهم إلى كل ما يمت إلى الإسلام بصلة، فطعنوا في نبينا محمد صلي الله عليه وسلم، وكتاب الله القرآن الكريم، والتشريع الإسلامي، وتاريخ المسلمين، ولغة المسلمين. وهدفهم من وراء ذلك هو الصد عن دين الله، والتشكيك في دينه، فيصدون بني جنسهم عن الإسلام بالافتراء على الإسلام

--------------------------------------------

"1" انظر: الاستشراق والتاريخ الإسلامي ص30.

"2" يعزى إلى الراهب الفرنسي جوبرت، الذي انتخب بابا للكنيسة سنة 999م أنه أول من درس علوم الشرق، وذلك في الأندلس، ثم تتابع المرتحلون إلى الشرق حتى كان مجمع فينا سنة 1312م، الذي قرر إنشاء خمسة كراسي في جامعات غربية لتعليم اللغة العربية، وابتدأ فيه تنظيم وترتيب ما يسمى بالاستشراق. انظر: آراء المستشرقين حول القرآن الكريم "1/25"، الاستشراق والتاريخ الإسلامي ص33.
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাচ্যতত্ত্বের (الاستشراق) সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থে (لغة): 'ইস্তিশরাক' শব্দটি প্রাচ্য বা পূর্ব দিক থেকে গৃহীত।

পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحاً): এটি এমন এক বিদ্যা যেখানে প্রাচ্যের ভাষাসমূহ, তাদের ঐতিহ্য ও ধর্ম, সেখানকার জাতিগোষ্ঠীর সভ্যতা ও ইতিহাস এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।"১"

এই নামটির ব্যবহার মূলত ইউরোপীয়দের প্রাচ্যের জ্ঞানসমূহ অর্জনের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে। সেই হিসেবে আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী মুস্তাশরিক বা প্রাচ্যতাত্ত্বিক হলেন: সেই ইউরোপীয় বা পশ্চিমা ব্যক্তি, যিনি প্রাচ্যের জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং প্রাচ্যবাসীদের ধর্ম ও সভ্যতা শিক্ষা লাভে সচেষ্ট হয়েছেন।

প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) এমন একটি আন্দোলন যার উদ্ভব হয়েছে গির্জায় "২"; একারণে অধিকাংশ প্রাচ্যতাত্ত্বিক ইসলামের ব্যাপারে গির্জার অনুসৃত অবস্থানকেই গ্রহণ করেছে, আর তা হলো ইসলামের প্রতি শত্রুতা পোষণ করা এবং সম্ভাব্য সকল উপায়ে এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া।

প্রাচ্যতাত্ত্বিকরা ইসলামের সাথে সম্পর্কযুক্ত সকল বিষয়ের দিকেই তাদের অপপ্রচারের তির নিক্ষেপ করেছে। তারা আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আল্লাহর কিতাব পবিত্র কুরআন, ইসলামি শরিয়ত (التشريع الإسلامي), মুসলিমদের ইতিহাস এবং তাদের ভাষার ওপর অপবাদ ও কটাক্ষ করেছে। এর পেছনে তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দ্বীন থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখা এবং এই দ্বীন সম্পর্কে মনে সংশয় সৃষ্টি করা; এভাবে তারা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপের মাধ্যমে নিজ জাতির লোকদের ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

--------------------------------------------

"১" দেখুন: আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তারিখুল ইসলামি, পৃষ্ঠা-৩০।

"২" ফরাসি সন্ন্যাসী জবার্ট-এর প্রতি এটি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, যিনি ৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে গির্জার পোপ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাকেই প্রাচ্যের জ্ঞানসমূহ সর্বপ্রথম অধ্যয়নকারী হিসেবে গণ্য করা হয়, যা তিনি আন্দালুসে সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর প্রাচ্যের দিকে ভ্রমণকারীদের সিলসিলা অব্যাহত থাকে, এমনকি ১৩১২ খ্রিস্টাব্দে ভিয়েনা সম্মেলনে পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরবি ভাষা শিক্ষার জন্য পাঁচটি উচ্চতর আসন (চেয়ার) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তখন থেকেই তথাকথিত প্রাচ্যতত্ত্বের (الاستشراق) সুসংগঠিত বিন্যাস ও রূপরেখা প্রণয়ন শুরু হয়। দেখুন: আরাউল মুস্তাশরিকিনা হাওলাল কুরআনিল কারিম (১/২৫), আল-ইস্তিশরাক ওয়াত তারিখুল ইসলামি, পৃষ্ঠা-৩৩।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
‌‌المطلب الثاني: أقوال المستشرقين

المستشرقون هم أفراخ اليهود والنصارى نسبة وديانة، وأفراخ أبي جهل وأبي لهب وأبي بن خلف والوليد بن المغيرة في الكفر والعداوة للإسلام، ونبي الإسلام والمسلمين، إلا أن هؤلاء لبسوا مسوح العلم والتحقيق العلمي، والدعاوى العريضة في هذا، وجاءوا إلى أهل الإسلام، وظاهرهم إفادة الشرق وتحضيره وتمدينه، وباطنهم امتصاصه وتدميره وتحطيمه، بغياً منهم، وحسداً وعدواناً.

وكان من مسالكهم في التدمير والتحطيم ضرب ثوابت أهل الإسلام وقواعد دينهم، فوجهوا سهامهم المسمومة إلى جميع نواحي الدين الإسلامي، وخصوا كتاب الله تعالى، ونبيه محمداًصلي الله عليه وسلم بمزيد من الطعن والافتراء والتجريح، إلا أنهم آبوا بما قال الشاعر

كناطح صخرة يوماً ليفلقها … فلم يضرها وأوهى قرنه الوعل "1"

فالإسلام قد حاوله من قبل أمثالهم، فباءوا بالخسران والخيبة، وسيؤوب هؤلاء بالخسران والخيبة، والله تعالى ناصر دينه، وحافظ كتابه، كما قال تعالى: {يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} [الصف:7] .

فمن دعاويهم:

قول ل. أ.سيديو"2":"ويتلقون – يعني الصحابة - آي القرآن التي أراد محمد نشرها ليوفق في عمله، على أنها من مصدر إلهي"، وقال: "ويختار- يعني

--------------------------------------------

"1" من معلقة الأعشى ومطلعها:ودع هريرة إن الركب مرتحل وهل تطيق وداعاً أيها الرجل. انظر: شرح القصائد العشر للتبريزي ص343.

"2" لوي بيير سيديو: مستشرق فرنسي، اشتغل بعلم الفلك، كتب كتابه " تاريخ العرب" بالفرنسية، ثم ترجم إلى العربية. توفي سنة 1292هـ/1875م. انظر: الأعلام "5/246".
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রাচ্যবিদদের বক্তব্যসমূহ

প্রাচ্যবিদরা হচ্ছে বংশ ও ধর্মের দিক থেকে ইহুদি ও নাসারাদের উত্তরসূরি এবং কুফরি ও ইসলামের প্রতি শত্রুতার ক্ষেত্রে আবু জাহল, আবু লাহাব, উবাই ইবনে খালাফ এবং ওয়ালিদ ইবনে মুগিরার বংশধর। তারা ইসলাম, ইসলামের নবী এবং মুসলিমদের চরম শত্রু। তবে তারা জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার লেবাস পরিধান করেছে এবং এ ক্ষেত্রে বিশাল সব দাবি উত্থাপন করেছে। তারা মুসলিমদের কাছে এমনভাবে এসেছে যে বাহ্যত মনে হয় তারা প্রাচ্যের উপকার করতে এবং একে সভ্য ও সুসংস্কৃত করতে এসেছে; কিন্তু তাদের অভ্যন্তরীণ উদ্দেশ্য ছিল অন্যায়ভাবে এবং হিংসা ও শত্রুতা বশত একে গ্রাস করা, ধ্বংস করা ও চূর্ণ-বিচূর্ণ করা।

তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের একটি পথ ছিল মুসলিমদের সুপ্রতিষ্ঠিত বিশ্বাস এবং তাদের দ্বীনের মূলনীতিগুলোতে আঘাত হানা। তারা ইসলাম ধর্মের সকল দিকের প্রতি তাদের বিষাক্ত তীর নিক্ষেপ করেছে এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি বিশেষভাবে অনেক অপবাদ, মিথ্যাচার এবং সমালোচনা (تجريح) করেছে। তবে তাদের অবস্থা সেই কবির কথার মতোই হয়েছে—

সেই পাহাড়ি ছাগলের ন্যায়, যে একদিন একটি পাথরকে চূর্ণ করার জন্য তাতে আঘাত করেছিল... কিন্তু সে পাথরের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, বরং বুনো ছাগলটি নিজের শিংটিই ভেঙে ফেলেছিল। "১"

ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও তাদের মতো অনেকে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা কেবল ব্যর্থতা ও নিরাশা নিয়েই ফিরেছে। এরাও অচিরেই ব্যর্থতা ও নিরাশার সম্মুখীন হবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারী এবং তাঁর কিতাবের রক্ষক, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {তারা তাদের মুখের ফুঁ দিয়ে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করবেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।} [আস-সাফ: ৭]।

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে একটি হলো:

এল. এ. সিডিও "২" এর উক্তি: "তারা—অর্থাৎ সাহাবীগণ (الصحابة)—কুরআনের সেই সব আয়াত গ্রহণ করত যা মুহাম্মদ তার কাজে সফল হওয়ার জন্য প্রচার করতে চেয়েছিলেন; তারা মনে করত সেগুলো কোনো ঐশ্বরিক উৎস থেকে আগত।" তিনি আরও বলেন: "এবং তিনি নির্বাচন করেন—অর্থাৎ...

--------------------------------------------

"১" এটি আল-আশার মুআল্লাকা থেকে গৃহীত, যার প্রথম পঙ্ক্তিটি হলো: "হুরায়রাকে বিদায় জানাও, কাফেলা যাত্রা শুরু করেছে; হে বীর, তুমি কি বিদায় দেওয়ার ধৈর্য রাখো?" দেখুন: শারহুল কাসাইদ আল-আশর, আত-তিবরিজি, পৃষ্ঠা: ৩৪৩।

"২" লুই পিয়েরে সিডিও: একজন ফরাসি প্রাচ্যবিদ, তিনি জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি ফরাসি ভাষায় "আরবদের ইতিহাস" নামক গ্রন্থটি রচনা করেন, যা পরবর্তীতে আরবিতে অনূদিত হয়। তিনি ১২৯২ হিজরি/১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আ'লাম (৫/২৪৬)।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
النبي صلي الله عليه وسلم-من تلك المتقدات الكثيرة بلباقة ما يلائم عقول العرب من غير أن يصدم ميولهم وما فيهم من ضعف، فالكتاب الذي يعرضه عليهم هو مرآة أدبية ينعكس عليها ما في طبيعتهم من الفضائل والمساويء والعواطف والعثرات والأوهام والحقائق".

وقال أيضاً:" وكان محمد يتكلم باسم الله على الدوام، لتكون تعاليمه أعظم تأثيراً، وكان يقول: إن رسولاً من السماء يأتي إليه بأوامر الله تعالى، ومن الواضح ختال في وجده"."1" هكذا زعم.

وقول جولد تسيهر"2"،في كتاب "العقيدة والشريعة":" فتبشير النبي العربي ليس إلا مزيجاً من معارف وآراء دينية عرفها واستقاها بسبب اتصاله بالعناصر اليهودية والمسيحية، وغيرها التي تأثر بها تاثراً عميقاً، والتي رآها جديرة بأن توقظ عاطفة دينية حقيقية عند بني وطنه"."3"

ومثله قول "كارل بروكلمان" "4"، المستشرق الألماني، صاحب الكتاب الشهير "تاريخ الأدب العربي"، حيث يقول في كتابه "تاريخ الشعوب الإسلامية":

"وتذهب الروايات إلى أنه اتصل في رحلاته ببعض اليهود والنصارى، أما

--------------------------------------------

"1" تاريخ العرب العام ص68،85،86.

"2" اجناس جولد تسيهر: مستشرق مجري يهودي، رحل إلى سورية 1873م، ثم رحل إلى مصر، ولازم بعض علماء الأزهر، وكتب كتباً عديدة بالعربية. توفي سنة 1340هـ/1921م. الأعلام "1/84".

"3" نقلاً عن "مناهج المستشرقين"،ص31.

"4" "كارل بروكلمان" مستشرق ألماني، عالم بتاريخ الأدب العربي. نال شهادة الدكتوراه في الفلسفة، وتعلم العربية، ودرس في جامعات ألمانية، وكان من أعضاء المجمع العلمي العربي. توفي سنة 1375هـ/1956م. الأعلام "5/211".
নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে সেসব অসংখ্য বিশ্বাসের মধ্য হতে দক্ষতার সাথে এমন বিষয়গুলো গ্রহণ করা হয়েছে যা আরবদের বুদ্ধিবৃত্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, যাতে তাদের প্রবণতা এবং তাদের মধ্যে বিদ্যমান দুর্বলতা (ضعف)-এর সাথে কোনো সংঘাত সৃষ্টি না হয়। সুতরাং তিনি তাদের কাছে যে কিতাবটি উপস্থাপন করেছেন, তা হলো একটি সাহিত্যিক দর্পণ যেখানে তাদের প্রকৃতির গুণাবলি, মন্দ দিকসমূহ, আবেগ, বিচ্যুতি, কল্পনা এবং সত্যসমূহ প্রতিফলিত হয়।

তিনি আরও বলেন: "মুহাম্মাদ সর্বদা আল্লাহর নামে কথা বলতেন, যাতে তাঁর শিক্ষাগুলো অধিকতর প্রভাবশালী হয়। তিনি বলতেন: আসমান থেকে একজন দূত আল্লাহর নির্দেশাবলি নিয়ে তাঁর কাছে আসেন। এটা স্পষ্ট যে, তাঁর এই আধ্যাত্মিক অনুভূতির মধ্যে চাতুর্য বিদ্যমান ছিল।" (১) তিনি এমনই দাবি করেছেন।

এবং গোল্ডজিহার (২) তাঁর "আকিদা ওয়া শারিয়া" গ্রন্থে বলেন: "আরব নবীর ধর্মপ্রচার মূলত ধর্মীয় জ্ঞান ও মতামতের একটি মিশ্রণ মাত্র, যা তিনি ইহুদি ও খ্রিস্টান উপাদান এবং অন্যান্যদের সংস্পর্শে আসার কারণে জেনেছেন ও সংগ্রহ করেছেন। এর দ্বারা তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং একে তিনি তাঁর স্বদেশীদের মধ্যে প্রকৃত ধর্মীয় অনুভূতি জাগিয়ে তোলার যোগ্য বলে মনে করেছিলেন।" (৩)

অনুরূপ কথা বলেছেন জার্মান প্রাচ্যবিদ এবং বিখ্যাত গ্রন্থ "তারিখুল আদাবিল আরাবি"-এর লেখক "কার্ল ব্রোকেলম্যান" (৪), তিনি তাঁর "তারিখুশ শুউবিল ইসলামিয়া" গ্রন্থে বলেন:

"বর্ণনা (روايات) অনুযায়ী তিনি তাঁর সফরগুলোতে কিছু ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, আর...

--------------------------------------------

"১" তারিখুল আরব আল-আম, পৃষ্ঠা ৬৮, ৮৫, ৮৬।

"২" ইগনাস গোল্ডজিহার: হাঙ্গেরীয় ইহুদি প্রাচ্যবিদ, ১৮৭৩ সালে সিরিয়া ভ্রমণ করেন, তারপর মিশরে যান এবং আল-আজহারের কিছু আলেমের সান্নিধ্যে থাকেন। তিনি আরবি ভাষায় বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ১৩৪০ হিজরি/১৯২১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। আল-আ'লাম (১/৮৪)।

"৩" "মানাহিদুল মুস্তাশরিকিন" থেকে সংগৃহীত, পৃষ্ঠা ৩১।

"৪" "কার্ল ব্রোকেলম্যান" জার্মান প্রাচ্যবিদ, আরবি সাহিত্যের ইতিহাসের পণ্ডিত। তিনি দর্শনে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন, আরবি ভাষা শেখেন এবং জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তিনি আরবি সায়েন্টিফিক একাডেমির সদস্য ছিলেন। তিনি ১৩৭৫ হিজরি/১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। আল-আ'লাম (৫/২১১)।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
في مكة نفسها فلعله اتصل بجماعات من النصارى كانت نعرفتهم بالتوراة والإنجيل هزيلة إلى حد بعيد "."1"

ومنها قول بلاشير"2":

"إن مما لفت انتباه المستشرقين، هو التشابه الحاصل بين هذه القصص والقصص اليهودي المسيحي، وقد كان التأثير المسيحي واضحاً في السور المكية الأولى، إذ كثيراً ما تكشف مقارنة بالنصوص غير الرسمية كإنجيل الطفولة، الذي كان سائداً في ذلك العهد عن شبه قوي"."3"

وقال الخوري الحداد "4":

" إن الدعوة المحمدية كانت في العهد المكي كتابية إنجيلية توراتية مسيحية يهودية، وأن القرآن نسخة عربية من الكتب السماوية السابقة، المنزلة على الأنبياء السابقين، ومقتبس منها، وأنه كتابي توراتي إنجيلي يهودي نصراني في موضوعه ومصادره وقصصه وجدله"."5" إلى آخر كلامه وهذيانه.

--------------------------------------------

"1" تاريخ الشعوب الإسلامية، ص34.

"2" بلاشير ريجيس: مستشرق فرنسي. تلقى دروسه الثانوية في الدار البيضاء بالمغرب،وتخرج بكلية الآداب بالجزائر، وصار مديراً لمدرسة الدراسات العليا العلمية بفرنسا،وكان أحد أعضاء المجمع العربي بدمشق. له كتب عديدة، منها: ترجمة القرآن الكريم. توفي سنة 1393هـ/1973م. الأعلام"2/72".

"3" مناهج المستشرقين ص31.

"4" هو اسم مستعار، أخفى صاحبه شخصيته خلفه.

"5" نقلاً عن القرآن والمبشرون ص94.
মক্কায় থাকাকালীন সময়ে সম্ভবত তিনি খ্রিষ্টানদের এমন কিছু দলের সংস্পর্শে এসেছিলেন যাদের তাওরাত এবং ইঞ্জিল সম্পর্কে জ্ঞান অত্যন্ত নগণ্য ছিল। "১"

এ প্রসঙ্গে ব্লাশিয়ারের "২" উক্তি:

"প্রাচ্যবিদদের যা বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তা হলো এই কাহিনীগুলো এবং ইহুদি-খ্রিষ্টীয় কাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্য। মক্কি জীবনের প্রাথমিক সূরাগুলোতে খ্রিষ্টীয় প্রভাব স্পষ্ট ছিল। কারণ তৎকালীন সময়ে প্রচলিত 'ইঞ্জিলে তুফুলাহ' (শৈশবকালীন ইঞ্জিল)-এর মতো অনানুষ্ঠানিক পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে তুলনা করলে একটি শক্তিশালী সাদৃশ্য ফুটে ওঠে।" "৩"

আল-খুরি আল-হাদ্দাদ "৪" বলেছেন:

"মুহাম্মাদি দাওয়াত মক্কি যুগে কিতাবি, ইঞ্জিলি, তাওরাতি, খ্রিষ্টীয় ও ইহুদি ভাবাপন্ন ছিল। আর কুরআন হলো পূর্ববর্তী নবিদের ওপর অবতীর্ণ আসমানি কিতাবগুলোর একটি আরবি সংস্করণ এবং তা থেকে সংকলিত। এটি তার বিষয়বস্তু, উৎস, কাহিনী ও বিতর্কের ক্ষেত্রে কিতাবি, তাওরাতি, ইঞ্জিলি, ইহুদি ও খ্রিষ্টীয় চরিত্রের অধিকারী।" "৫" —তার বক্তব্য ও প্রলাপের শেষ পর্যন্ত।

--------------------------------------------

"১" তারিখুশ শুউবিল ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩৪।

"২" ব্লাশিয়ার রেজিস: একজন ফরাসি প্রাচ্যবিদ। তিনি মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় তার মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং আলজেরিয়ার ফ্যাকাল্টি অব আর্টস থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ফ্রান্সের স্কুল ফর হায়ার স্টাডিজের পরিচালক এবং দামেস্কের আরব একাডেমির সদস্য ছিলেন। তার রচিত অনেক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে পবিত্র কুরআনের অনুবাদ। তিনি ১৩৯৩ হিজরি/১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। আল-আ'লাম (২/৭২)।

"৩" মানাহিজুল মুস্তাশরিকিন, পৃষ্ঠা ৩১।

"৪" এটি একটি ছদ্মনাম, যার আড়ালে লেখক তার প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখেছেন।

"৫" আল-কুরআন ওয়াল মুবাশশিরুন, পৃষ্ঠা ৯৪ থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
‌‌المبحث الثاني

‌‌مدخل

…

المبحث الثاني دحض دعاوى المستشرقين

قبل أن نبين بطلان دعاوى المستشرقين، نشير إلى أمر مهم، وهو:

أن المستشرقين ادعوا لأنفسهم وادعي لهم أنهم أهل تحقيق وأهل تدقيق وتمحيص، وأنهم يبغون الحقيقة العلمية لا غير، وقد بحثوا ودققوا في حال النبي صلي الله عليه وسلم وسيرته ودعوته وكتابه وشريعته، ولا شك أن كل مطلع على ذلك سيصل إذا سلم من الهوى والحسد والحقد إلى حقيقة أن الرسول صلي الله عليه وسلم مرسل من عند الله، وأن ما جاء به من عند الله هو الحق، ويدرك أن الدلائل الدالة على ذلك في الإسلام لا يوجد عند أصحاب الأديان الأخرى ولا عشرها. واي دارس للأديان يدرك ذلك ويعلمه يقيناً.

وأولئك المستشرقون إما يهود أو نصارى يؤمنون بديانتهم، ويعتقدون صحتها، فإذا ما قورنت الدلائل الدالة على صدق وصحة الإسلام، بالدلائل الدالة على اليهودية أو النصرانية فسترجح كفة الإسلام، بكيفية لا تقارن بها اليهودية والنصرانية.

فمن هنا أقول: إن المستشرقين قد اطلعوا على دلائل الصدق والصحة في الإسلام وعرفوها وتيقنوها، فصاروا بين أمرين:

إما أن يقبلوا ويصدقوا النبي صلي الله عليه وسلم بأنه رسول الله، وأن ما جاء به الحق، وهذا يلزمهم بالإيمان به وإتباعه، لأنه صرح بأنه رسول إلى الناس كافة، وأنه لا نجاة لأحد بعد بعثته إلا بالإيمان به، وأن اليهودية والنصرانية كفر وضلال.

وإما أن يكذبوه ويردوا دعوته، ولكن كيف ذلك؟ وهم يدعون أنهم يبغون الحقيقة، وأنهم أهل العلم، فلم يجدوا بداً من التكذيب، والرد لدعوته،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ভূমিকা

…

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রাচ্যবিদদের দাবিসমূহের খণ্ডন

প্রাচ্যবিদদের দাবিসমূহের অসারতা প্রমাণের পূর্বে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করছি, আর তা হলো:

প্রাচ্যবিদরা নিজেদের সম্পর্কে দাবি করেছেন এবং তাদের পক্ষ হয়েও দাবি করা হয়েছে যে, তারা সত্যানুসন্ধান (تحقيق), সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تدقيق) ও যাচাই-বাছাইয়ের (تمحيص) অধিকারী এবং তারা কেবল বৈজ্ঞানিক সত্যের অন্বেষণ করেন। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থা, তাঁর সীরাত, দাওয়াত, কিতাব এবং তাঁর শরীয়ত সম্পর্কে গবেষণা ও সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত প্রত্যেক ব্যক্তিই—যদি সে কুপ্রবৃত্তি (الهوى), হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত থাকে—অবশ্যই এই সত্যে উপনীত হবে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত। আর তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য। সে উপলব্ধি করতে পারবে যে, ইসলামে বিদ্যমান এই সত্যতার প্রমাণাদি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে তার দশভাগের একভাগও নেই। ধর্মতত্ত্বের যেকোনো গবেষকই তা উপলব্ধি করতে পারেন এবং নিশ্চিতভাবে তা জানেন।

আর ওই প্রাচ্যবিদরা হয় ইহুদি নতুবা খ্রিস্টান, যারা নিজেদের ধর্মে বিশ্বাসী এবং সেগুলোকে সঠিক মনে করে। সুতরাং ইসলামের সত্যতা ও সঠিকতার সপক্ষে বিদ্যমান প্রমাণাদিকে যখন ইহুদি বা খ্রিস্টধর্মের সপক্ষে বিদ্যমান প্রমাণের সাথে তুলনা করা হবে, তখন ইসলামের পাল্লাই ভারী হবে; যার সাথে ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের কোনো তুলনাই চলে না।

এখান থেকেই আমি বলছি: প্রাচ্যবিদরা ইসলামের সত্যতা ও সঠিকতার প্রমাণাদি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং তারা তা জেনেছেন ও নিশ্চিত হয়েছেন; ফলে তারা দুটি অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন:

হয় তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আল্লাহর রাসূল হিসেবে গ্রহণ করবেন এবং তাঁকে সত্যায়ন করবেন এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা যে সত্য তা মেনে নেবেন। আর এটি তাঁদের জন্য তাঁর ওপর ঈমান আনা এবং তাঁর অনুসরণ করা আবশ্যক করে দেয়; কারণ তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি সমস্ত মানুষের প্রতি প্রেরিত রাসূল এবং তাঁর আগমনের পর তাঁর ওপর ঈমান আনা ছাড়া কারও কোনো নাজাত বা মুক্তি নেই; আর ইহুদি ও খ্রিস্টধর্ম কুফর ও ভ্রষ্টতা।

নতুবা তারা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবেন এবং তাঁর দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করবেন। কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব? অথচ তারা দাবি করেন যে তারা সত্যের সন্ধানী এবং তারা ইলমের অধিকারী। ফলে তারা তাঁকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা এবং তাঁর দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পায়নি।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫০)
والتشويه لسمعته، شأنهم في ذلك شأن أسلافهم من المشركين واليهود والنصارى، ويعللوا تكذيبهم ذلك بالتعليلات التي علل بها أسلافهم، حتى يظهروا أمام الناس أنهم إنما ردوا دعوته للعلة التي يدعون، إلا أنهم لم يستطيعوا أن يتفقوا على رأي فيه، سوى أنهم غير قابلين لدعوته، فادعوا لذلك دعاوى عديدة، منهادعواهم أنه تعلم القرآن من اليهود والنصارى، ومنهم من قال من عند نفسه، وقوة نفسية، ومنهم من قال: كهانة، وسجع كسجع الكهان.

وهذه هي الدعاوى التي قالها من قبلهم مشركو مكة، الذين انطلقوا من نفس المنطلق. فقدكانوا من أشد الناس عداوة للنبي صلي الله عليه وسلم ودعوته وأصحابه، ولم يتركوا وسيلة يمكنهم بها القضاء على النبي صلي الله عليه وسلم، أو القضاء على دعوته إلا سلكوها.

فقد حاولوا قتله، وقتلوا من أصحابه، واضطهدوهم وعذبوهم وحاصروهم، وهم في أثناء ذلك لم يتركوا وسيلة لتشويه سمعته، وإلصاق التهم به، والتشويش عليه في دعوته، وتحذير الناس منه، والصد عن دينه إلا سلكوها، ولا مدخلاً إلى ذلك إلا دخلوه وحاولوه، ولولا أن الله ناصر دينه، وحافظ نبيه، لما قام لهذا الدين قائمة، ولا بلّغ عنه مبلغ.

وكان من مسالكهم في الطعن في نبي الله ودين الله، تكذيبه وادعاء أنه افترى هذا القرآن، فمرة نسبوه إليه، وأنه افتراه من عند نفسه، ونسبه إلى الله تعالى زوراً وبهتاناً. قال تعالى: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ إِنِ افْتَرَيْتُهُ فَعَلَيَّ إِجْرَامِي وَأَنَا بَرِيءٌ مِمَّا تُجْرِمُونَ} [هود:35] .

قال القرطبي في معناه:" يعنون- أي أهل الكفر- النبي صلي الله عليه وسلم - أي اختلق القرآن من عند نفسه"."1"

--------------------------------------------

"1" تفسير القرطبي "9/28".
এবং তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা, এই ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা ছিল তাদের পূর্বসূরি মুশরিক (مشركين), ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মতো। তারা তাদের এই মিথ্যা প্রতিপন্ন করার পেছনে সেই সমস্ত অজুহাত দাঁড় করাত যা তাদের পূর্বসূরিরা করত, যাতে মানুষের সামনে এটা প্রকাশ পায় যে তারা কেবল সেই ত্রুটির (علة) কারণেই তাঁর দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে যা তারা দাবি করছে। তবে তারা তাঁর ব্যাপারে কোনো একটি নির্দিষ্ট মতামতে একমত হতে পারেনি, শুধু এটুকু ছাড়া যে তারা তাঁর দাওয়াত গ্রহণে প্রস্তুত নয়। ফলে তারা এ বিষয়ে বহুবিধ দাবি উত্থাপন করেছে। যেমন তাদের দাবি ছিল যে, তিনি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছ থেকে কুরআন শিখেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছে তিনি এটি নিজের পক্ষ থেকে এবং মানসিক শক্তির মাধ্যমে লাভ করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছে এটি হচ্ছে গণনা এবং গণকদের মতো ছন্দোবদ্ধ বাক্য।

এই সেই দাবিগুলো যা তাদের আগে মক্কার মুশরিকরা (مشركين) করেছিল, যারা একই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করত। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর দাওয়াত এবং তাঁর সাহাবীদের প্রতি চরম শত্রুতা পোষণ করত। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বা তাঁর দাওয়াতকে মিটিয়ে দেওয়ার এমন কোনো মাধ্যম বাকি রাখেনি যা তারা গ্রহণ করেনি।

তারা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে, তাঁর সাহাবীদের হত্যা করেছে, তাঁদের ওপর নিপীড়ন ও নির্যাতন চালিয়েছে এবং তাঁদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। এই সবের মাঝে তারা তাঁর সুনাম নষ্ট করতে, তাঁর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করতে, তাঁর দাওয়াতের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে, মানুষকে তাঁর থেকে সতর্ক করতে এবং তাঁর দ্বীন থেকে বিরত রাখার কোনো পথই বাকি রাখেনি যা তারা অনুসরণ করেনি। এছাড়া এর কোনো প্রবেশদ্বারও তারা বাকি রাখেনি যা দিয়ে তারা প্রবেশের চেষ্টা করেনি। আল্লাহ যদি তাঁর দ্বীনকে সাহায্য না করতেন এবং তাঁর নবীকে রক্ষা না করতেন, তবে এই দ্বীন সুপ্রতিষ্ঠিত হতো না এবং কারও কাছে পৌঁছাত না।

আল্লাহর নবী এবং আল্লাহর দ্বীনের সমালোচনা করার একটি পথ ছিল তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং এই দাবি করা যে তিনি এই কুরআন নিজেই উদ্ভাবন করেছেন। কখনো তারা একে তাঁর দিকে নিসবত করত এবং বলত যে তিনি এটি নিজের পক্ষ থেকে উদ্ভাবন (افتراه) করেছেন এবং আল্লাহর নামে তা মিথ্যা ও অপবাদ হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নাকি তারা বলে যে, সে এটি নিজে উদ্ভাবন (افتراه) করেছে? আপনি বলুন, আমি যদি এটি নিজে উদ্ভাবন করে থাকি (افتريته), তবে আমার অপরাধের দায় আমার ওপরই বর্তাবে, আর তোমরা যে অপরাধ করছ তা থেকে আমি মুক্ত।" [হূদ: ৩৫]

কুরতুবী এর অর্থ সম্পর্কে বলেছেন: "তারা অর্থাৎ কুফরি অবলম্বনকারীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বুঝিয়েছেন যে, তিনি নিজেই কুরআন উদ্ভাবন বা রচনা (اختلق) করেছেন।" [১]

--------------------------------------------

"১" তফসীরে কুরতুবী ৯/২৮।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫১)
وقال تعالى: {وَإِذَا بَدَّلْنَا آيَةً مَكَانَ آيَةٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ قَالُوا إِنَّمَا أَنْتَ مُفْتَرٍ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْلَمُونَ ، قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ لِيُثَبِّتَ الَّذِينَ آمَنُوا وَهُدىً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ ، وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهَذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُبِينٌ} النحل [101-103] .

فبين الله تعالى في هذه الآيات دعاوى المشركين في أن النبي صلي الله عليه وسلم اختلق هذا القرآن من عند نفسه، ومنهم من زعم أنه أخذه عن أحد النصارى، وذلك قوله تعالى: {وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ} ، فقيل: يقصدون غلاماً نصرانياً اسمه جبر عبد لبني الحضرمي، وقيل: غلام لبني المغيرة اسمه يعيش، وقيل: إنهما غلامان نصرانيان من أهل عين التمر، اسم أحدهما يسار، واسم الآخر حبر، وقيل: اسمه بلعام، وكان نصرانياً يقرأ التوراة، وقيل: يقال له أبو ميسرة، وقيل غير ذلك."1"

وقال تعالى: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَذَا إِلَّا إِفْكٌ افْتَرَاهُ وَأَعَانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ آخَرُونَ فَقَدْ جَاءُوا ظُلْماً وَزُوراً} [الفرقان:4] .

فهنا يذكر الله تعالى عنهم تكذيبهم للنبي صلي الله عليه وسلم، وادعاءهم عليه أنه افترى القرآن من عند نفسه، وأعانه على هذا اليهود، فيعلمونه هذا القرآن."2"

وقال تعالى: {بَلْ قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلامٍ بَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَأْتِنَا بِآيَةٍ كَمَا أُرْسِلَ الْأَوَّلُونَ} [الأنبياء:5] .

قال ابن جرير: يقول تعالى ذكره: ما صدقوا بحكمة هذا القرآن ولا أنه من عند الله، ولا أقروا بأنه وحي أوحى الله إلى محمد صلي الله عليه وسلم، بل قال بعضهم: هو

--------------------------------------------

"1" انظر تفسير الطبري "14/178"، والقرطبي "10/178".

"2" انظر: تفسير ابن جرير"18/181"، عن مجاهد رحمه الله، وانظر تفسير القرطبي "13/3".
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত পরিবর্তন করি এবং আল্লাহ যা নাজিল করেন সে সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন, তখন তারা বলে: ‘তুমি তো কেবল এক মিথ্যা রটনাকারী (مفتر)’, বরং তাদের অধিকাংশেরই কোনো জ্ঞান নেই। বল, একে তোমার রবের পক্ষ থেকে রুহুল কুদুস সত্যসহ নাজিল করেছেন, যাতে তা মুমিনদেরকে সুদৃঢ় করে এবং এটি মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ। আর আমি অবশ্যই জানি যে তারা বলে, ‘তাকে তো কেবল একজন মানুষ শিক্ষা দেয়।’ তারা যার প্রতি ইঙ্গিত করে তার ভাষা তো বিদেশি (أعجمي), অথচ এটি হলো সুস্পষ্ট আরবি ভাষা।} আন-নাহল [১০১-১০৩]।

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতগুলোতে মুশরিকদের সেই দাবিসমূহ বর্ণনা করেছেন যেখানে তারা বলেছিল যে, নবী (সা.) এই কুরআন নিজের পক্ষ থেকে উদ্ভাবন (افتراه) করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছিল যে, তিনি এটি জনৈক খ্রিস্টানের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন। আর সেটিই হলো আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {আর আমি অবশ্যই জানি যে তারা বলে, ‘তাকে তো কেবল একজন মানুষ শিক্ষা দেয়’}। বলা হয়েছে: তারা ‘জাবর’ নামক এক খ্রিস্টান গোলামকে উদ্দেশ্য করত, যে বনু আল-হাদরামির দাস ছিল। আবার বলা হয়েছে: সে ছিল বনু মুগিরার এক গোলাম, যার নাম ছিল ‘ইয়াঈশ’। কেউ কেউ বলেছেন: তারা ছিল ‘আইনুত তামার’ অধিবাসী দুজন খ্রিস্টান গোলাম, যাদের একজনের নাম ‘ইয়াসার’ এবং অন্যজনের নাম ‘হাবর’। আবার বলা হয়েছে: তার নাম ছিল ‘বালআম’, সে ছিল একজন খ্রিস্টান যে তাওরাত পাঠ করত। আরও বলা হয়েছে: তাকে ‘আবু মাইসারাহ’ বলা হতো। এছাড়াও আরও অনেক মত বর্ণিত হয়েছে।"১"

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর কাফিররা বলল, ‘এটি মিথ্যা (إفك) ছাড়া আর কিছুই নয় যা সে উদ্ভাবন (افتراه) করেছে এবং অন্য কিছু লোক তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে।’ বস্তুত তারা জুলুম ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।} [আল-ফুরকান: ৪]।

এখানে আল্লাহ তাআলা তাদের পক্ষ থেকে নবী (সা.)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এবং তাদের এই দাবি যে তিনি নিজের পক্ষ থেকে কুরআন উদ্ভাবন (افتراه) করেছেন এবং ইহুদিরা তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে, যারা তাকে এই কুরআন শিক্ষা দেয়।"২"

আল্লাহ তাআলা বলেন: {বরং তারা বলে, ‘এগুলো তো অলীক স্বপ্নের সমষ্টি (أضغاث أحلام), বরং সে এটি উদ্ভাবন (افتراه) করেছে, বরং সে একজন কবি। সুতরাং সে আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসুক যেমন পূর্ববর্তীদের পাঠানো হয়েছিল’} [আল-আনবিয়া: ৫]।

ইবনে জারির বলেন: আল্লাহ তাআলা বলছেন: তারা এই কুরআনের হিকমতকে সত্য বলে গ্রহণ করেনি এবং এটি যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তা স্বীকার করেনি। তারা এটিও স্বীকার করেনি যে, এটি একটি ওহি (وحي) যা আল্লাহ মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি নাজিল করেছেন। বরং তাদের কেউ কেউ বলেছে: এটি

--------------------------------------------

"১" দেখুন: তাফসিরে তাবারি (১৪/১৭৮) এবং কুরতুবি (১০/১৭৮)।

"২" দেখুন: তাফসিরে ইবনে জারির (১৮/১৮১), মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত; আরও দেখুন: তাফসিরে কুরতুবি (১৩/৩)।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫২)
أهاويل رؤيا رآها في النوم، وقال بعضهم: هو فرية واختلاق افتراه واختلقه من قبل نفسه، وقال بعضهم: بل محمد شاعر، وهذا الذي جاءكم شعر"."1"

فأولئك المشركون كان لهم هم واحد، وهو تكذيب الرسول صلي الله عليه وسلم، وإبطال قوله أنه رسول الله، وأن الله يوحي إليه، فمرة يزعمون أنه اختلق القرآن والوحي من عند نفسه، مع أنهم يعلمون بطلان دعواهم في أنه عليه الصلاة والسلام لم يؤثر عنه كذب، ولا جربوا عليه ذلك من قبل، فكيف يترك الكذب على الناس ويكذب على الله؟ "2" وهذا لا يقوله عاقل، وكيف يترك الكذب في شبابه وصغره أيام اللهو والانطلاق، ويكذب لما صار كهلاً "3" بلغ التمام وأقبل على الختام، وبدأت الدنيا تعصره ويعصرها، وتستدبره ويستدبرها.

وكيف يكون قوله شعراً، وهو لم يقرض الشعر ولا يحسنه، ولم يؤثر عنه من قبل أنه قال شعراً أو قرضه، وقد قال تعالى: {وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنْبَغِي لَهُ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْآنٌ مُبِينٌ ، لِيُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَيّاً وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ} [يس: 69-70] .

روى مسلم بسنده عن أنيس الغفاري أنه قال لأبي ذر عن النبي صلي الله عليه وسلم: "لقيت رجلاً بمكة على دينك "4"يزعم أن الله أرسله، قلت - أي أبو ذر-، فما يقول الناس؟ قال: يقولون: شاعر، كاهن، ساحر، وكان أنيس أحد الشعراء.

--------------------------------------------

"1" تفسير ابن جرير "17/3"، وانظر: تفسير القرطبي _11/270".

"2" انظر كلام هرقل مع أبي سفيان في ذلك: خ. بدء الوحي رقم"3"، انظره مع الفتح "1/42"،وم. الجهاد والسير، رقم"1773"، "3/1393".

"3" الكهل: من جاوز الثلاثين إلى الخمسين. انظر: المعجم الوسيط ص803.

"4" يقصد التوحيد وعبادة الله تعالى، لأن أبا ذر رضي الله عنه كان يصلي لله قبل مبعث النبي عليه الصلاة والسلام بثلاث سنين، وفي رواية بسنتين.
(এগুলো) নিদ্রায় দেখা স্বপ্নের আতঙ্ক (বিভ্রম), আবার তাদের কেউ কেউ বলেছে: এটি একটি মিথ্যা এবং অলীক উদ্ভাবন যা সে নিজের পক্ষ থেকে উদ্ভাবন করেছে। আবার তাদের কেউ কেউ বলেছে: বরং মুহাম্মদ একজন কবি, আর সে তোমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছে তা কবিতা।"১"

সেই মুশরিকদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল একটাই, আর তা হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং তাঁর এই দাবিকে বাতিল ঘোষণা করা যে, তিনি আল্লাহর রাসূল এবং আল্লাহ তাঁর নিকট ওহি প্রেরণ করেন। কখনও তারা দাবি করত যে তিনি কুরআন ও ওহি নিজের পক্ষ থেকে উদ্ভাবন করেছেন, অথচ তারা নিজেদের দাবির অসারতা সম্পর্কে জানত। কারণ তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সম্পর্কে কোনো মিথ্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ইতিপূর্বে তারা তাঁর মধ্যে এমন কিছুর অভিজ্ঞতা পায়নি। সুতরাং তিনি কীভাবে মানুষের ওপর মিথ্যা বলা বর্জন করে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করবেন? "২" কোনো বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি এমন কথা বলতে পারে না। তিনি কীভাবে তাঁর যৌবন ও শৈশবে—যখন চপলতা ও অবসরের দিন ছিল—মিথ্যা বলা ত্যাগ করবেন, আর যখন তিনি প্রৌঢ় (كهل) "৩" বয়সে উপনীত হলেন, পূর্ণতায় পৌঁছালেন এবং জীবনের শেষ পরিণতির দিকে অগ্রসর হলেন, যখন দুনিয়া তাঁকে নিংড়ে নিচ্ছে এবং তিনি দুনিয়াকে নিংড়ে নিচ্ছেন, দুনিয়া তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এবং তিনিও দুনিয়ার থেকে বিমুখ হচ্ছেন, তখন মিথ্যা বলবেন?

আর তাঁর কথা কীভাবে কবিতা হতে পারে, অথচ তিনি কখনো কবিতা রচনা করেননি এবং এতে পারদর্শীও ছিলেন না। ইতিপূর্বে তাঁর থেকে কবিতা বলা বা রচনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি তাঁকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটা তাঁর জন্য শোভনীয়ও নয়। এটা তো কেবল এক উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন, যাতে তিনি জীবিতদের সতর্ক করতে পারেন এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়।" [ইয়াসিন: ৬৯-৭০]

ইমাম মুসলিম তাঁর সনদ (سند) সহ উনাইস আল-গিফারি থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, তিনি আবু যার-কে নবী (সা.) সম্পর্কে বলেছিলেন: "আমি মক্কায় তোমার দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত এক ব্যক্তির দেখা পেয়েছি, যিনি দাবি করেন যে আল্লাহ তাঁকে পাঠিয়েছেন।" আমি—অর্থাৎ আবু যার—বললাম: "লোকেরা কী বলে?" তিনি বললেন: "তারা বলে: কবি, গণক, জাদুকর।" আর উনাইস নিজেও একজন কবি ছিলেন।

--------------------------------------------

"১" তাফসির ইবনে জারির ১৭/৩; এবং দেখুন: তাফসির কুরতুবি ১১/২৭০।

"২" এই বিষয়ে আবু সুফিয়ানের সাথে হিরাক্লিয়াসের কথোপকথন দেখুন: বুখারি, বাদউল ওহি, হাদিস নং ৩; ফাতহুল বারির সাথে ১/৪২; এবং মুসলিম, আল-জিহাদ ওয়াস সিয়ার, হাদিস নং ১৭৭৩, ৩/১৩৯৩।

"৩" প্রৌঢ় (كهل): যার বয়স ত্রিশ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে। দেখুন: আল-মুজামুল ওয়াসিত, পৃ. ৮০৩।

"৪" এর দ্বারা তাওহিদ এবং আল্লাহর ইবাদত বোঝানো হয়েছে, কারণ আবু যার (রা.) নবী (সা.)-এর নবুয়ত লাভের তিন বছর আগে থেকেই আল্লাহর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করতেন; অন্য বর্ণনায় (رواية) এসেছে দুই বছর।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
قال أنيس: لقد سمعت قول الكهنة، فما هو بقولهم، ولقد وضعت قوله على أقراء "1"الشعر فما يلتئم على لسان أحد بعدي أنه شعر، والله إنه لصادق، وإنهم لكاذبون "."2"

وفي رواية أنه قال: رأيته يأمر بمكارم الأخلاق، وكلاماً ما هو بالشعر"."3"

وقال المشركون فيه: إن ما يدعيه ويقوله ما هي إلا أضغاث أحلام، أي أمور وأهاويل تأتيه في منامه في الليل فيأتي يرويها لنا في النهار. وهم يعلمون أن النائم لا يمكن أن يأتي بمثل ذلك القيل، بل إن الله تحداهم، وهم مستيقظون، وهم أهل الفصاحة والبيان، أن يأتوا بسورة من مثله، وليستعينوا بمن شاءوا في ذلك في قوله تعالى: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} [يونس:38] .

وقال تعالى: {أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُ بَلْ لا يُؤْمِنُونَ ، فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ إِنْ كَانُوا صَادِقِينَ} [الطور: 33-34] . لكن أنى لهم أن يأتوا بمثله، وهو كلام الله الذي ألجم الفصحاء، وبهر البلغاء، وأعجز الأعداء أن يأتوا بمثله، أو يحاكوه أو يحاولوه عجزاً وعياً، وإنما قال قائلهم مبهوراً مبهوتاً مكموداً، لما سئل عن القرآن: فما أقول فيه، فوالله ما منكم رجل أعلم بالأشعار مني، ولا أعلم برجزه مني، ولا بقصيده ولا بأشعار الجن، والله ما يشبه الذي يقول شيئاً من هذا، والله إن لقوله الذي يقوله لحلاوة، وإنه ليحطم ما تحته، وإنه ليعلو وما يعلى "."4"

وفي رواية عنه أنه قال:" والله ما هو بشعر ولا بسحر ولا بهذي من الجنون، وإن قوله لمن كلام الله "."5"

--------------------------------------------

"1" أقراء الشعر، قال النووي: أي طرقه وأنواعه. انظر شرحه على مسلم "5/246".

"2" أخرجه. م في فضائل الصحابة، رقم "6309".

"3" أخرج هذه الرواية:خ في المناقب، باب قصة زمزم، رقم "3522".

"4" أخرجه ابن جرير في تفسيره "29/156" عن عكرمة من قول الوليد بن المغيرة.

"5" المصدر السابق عن ابن عباس رضي الله عنه.
আনিস বললেন: "আমি গণকদের কথা শুনেছি, কিন্তু তাঁর (রাসূল ﷺ এর) কথা তাদের কথার মতো নয়। আমি তাঁর কথাকে কাব্যের বিভিন্ন ছন্দ ও প্রকরণের "১" সাথে মিলিয়ে দেখেছি, আমার পরে এমন কেউ নেই যে তাঁর কথাকে কাব্য বলতে পারে। আল্লাহর শপথ! তিনি অবশ্যই সত্যবাদী (صادق) এবং তারা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী (كاذبون)।" "২"

অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-তে এসেছে যে তিনি বলেছেন: "আমি তাঁকে উত্তম চরিত্রের আদেশ দিতে দেখেছি এবং এমন কথা বলতে শুনেছি যা কাব্য নয়।" "৩"

মুশরিকরা তাঁর সম্পর্কে বলেছিল: "তিনি যা দাবি করেন এবং বলেন তা অলীক স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়।" অর্থাৎ এমন কিছু ভীতিপ্রদ বিষয় যা রাতে তাঁর ঘুমে আসে এবং দিনে তিনি তা আমাদের কাছে বর্ণনা করেন। অথচ তারা জানত যে, কোনো নিদ্রিত ব্যক্তির পক্ষে এই ধরণের কথা বলা সম্ভব নয়। বরং আল্লাহ তাদের চ্যালেঞ্জ করেছেন—যখন তারা জাগ্রত ছিল এবং তারা ছিল বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রে পারদর্শী—যে তারা যেন এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসে। আল্লাহ তাআলার বাণীতে তারা যাদের ইচ্ছা সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করুক: {নাকি তারা বলে যে, সে এটি রচনা করেছে? বল, ‘তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য যাকে পারো ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’} [ইউনুস: ৩৮]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নাকি তারা বলে যে, সে এটি নিজে বানিয়ে বলেছে? বরং তারা ঈমান আনবে না। তারা যদি সত্যবাদী হয়, তবে তারা এর মতো কোনো বাণী (হাদিস) নিয়ে আসুক} [আত্ব-তুর: ৩৩-৩৪]। কিন্তু তাদের পক্ষে এর মতো কিছু আনা কীভাবে সম্ভব? এটি তো আল্লাহর কালাম যা বাগ্মীদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে, অলঙ্কারবিদদের বিমোহিত করেছে এবং শত্রুদের এর মতো কিছু আনতে বা এর অনুকরণ করতে অক্ষম ও পরিশ্রান্ত করে দিয়েছে। তাদেরই একজন বিমোহিত, হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছিল, যখন তাকে কুরআন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আমি এ সম্পর্কে কী বলব? আল্লাহর শপথ, তোমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে কবিতা সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি জানে, আর না আমার চেয়ে কেউ এর রাজায (ছন্দ) বা কাসীদাহ বা জিনদের কাব্য সম্পর্কে বেশি জানে। আল্লাহর শপথ, তিনি যা বলেন তা এর কোনোটির সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। আল্লাহর শপথ, তিনি যা বলেন তাতে এক বিশেষ মাধুর্য রয়েছে। এটি তার নিচের সবকিছুকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং এটি উচ্চতর থাকে, এর ওপর অন্য কিছু বিজয়ী হতে পারে না।" "৪"

তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনা (رواية)-তে আছে যে তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহর শপথ, এটি কবিতা নয়, যাদু নয় এবং কোনো পাগলামিও নয়। নিশ্চয়ই তাঁর এই বাণী আল্লাহর কালাম।" "৫"

--------------------------------------------

"১" কাব্যের ছন্দ ও প্রকরণ। ইমাম নববী বলেছেন: অর্থাৎ কাব্যের পথ ও প্রকারভেদ। দেখুন: শারহু মুসলিম (৫/২৪৬)।

"২" মুসলিম এটি 'ফাদাইলুস সাহাবা' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, নম্বর "৬৩০৯"।

"৩" এই বর্ণনা (رواية) টি বুখারি 'আল-মানাকিব' অধ্যায়ের 'যমযমের ঘটনা' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, নম্বর "৩৫২২"।

"৪" ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরে (২৯/১৫৬) ইকরিমা থেকে ওলিদ বিন মুগিরার উক্তি হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন।

"৫" পূর্বোক্ত উৎস, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
وقال المشركون عن القرآن إن النبي صلي الله عليه وسلم تعلمه من اليهود أو من النصارى1.فهم لا يثبتون على دعوى، إنما مرادهم أن يكذبوا النبي صلي الله عليه وسلم، ويردوا قوله بدعوى من الدعاوى، بغض النظر عن صحتها أو معقوليتها، وحالهم كمن يقول نحن نكذبك ونعاديك ونرد كلامك وإن كنت صادقاً. وهذا صريح كلام الله تعالى، الذي يعلم السر واخفى عن موقفهم من النبي صلي الله عليه وسلم {فَإِنَّهُمْ لا يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ} [الأنعام:22] .

وحال هؤلاء المستشرقين مع أولئك المشركين كما قال الله تعالى: {وَقَالَ الَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ لَوْلا يُكَلِّمُنَا اللَّهُ أَوْ تَأْتِينَا آيَةٌ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِثْلَ قَوْلِهِمْ تَشَابَهَتْ قُلُوبُهُمْ قَدْ بَيَّنَّا الْآياتِ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ} [البقرة:108] .

فتشابهت قلوب هؤلاء وأولئك في الكيد للإسلام وعداوته وعداوة أهله، فنطقوا بما نطق به الذين من قبلهم.

ونضيف أن المستشرقين إما يهود وإما نصارى، فمن هنا نتساءل: على أي أرض من الحق صلبة يقفون؟ وعلى أي شيء هم يعتمدون في نقدهم لنبي الإسلام ودين الإسلام!

إنهم كما قيل: رمتني بدائها وانسلت، فدينهم الذي هم عليه، مهلهل لا يثبت أمام النقد في ناحية من النواحي.

فاليهود مثلاً: قد أثبتت الدراسات المتكاثرة، حتى من اليهود أنفسهم عدم صحة كتبهم، وأنها محرفة، وأن الدراسة التاريخية تؤكد ذلك."2" وأن الدراسة العلمية تؤكد وجود الأخطاء العلمية فيها."3"

--------------------------------------------

"1" سيأتي بطلان ذلك تفصيلاً وأن اليهود والنصارى أعجز من ذلك وأعجز.

"2" انظر: دراسات في الأديان، ص60-74، الكتب المقدسة بين الصحة والتحريف، 67-114.

"3" القرآن الكريم والتوراة والإنجيل والعلم، ص39-62.
মুশরিকরা কুরআন সম্পর্কে বলত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি ইহুদি বা খ্রিস্টানদের নিকট থেকে শিখেছেন। তারা কোনো একটি দাবির ওপর স্থির থাকে না; বরং তাদের উদ্দেশ্য হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং তাঁর বক্তব্যকে কোনো না কোনো অজুহাতে প্রত্যাখ্যান করা, সেই দাবির সঠিকতা (صحة) বা যুক্তিকতা বিচার না করেই। তাদের অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো যে বলে—আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করি, তোমার সাথে শত্রুতা পোষণ করি এবং তোমার কথা প্রত্যাখ্যান করি, যদিও তুমি সত্যবাদী হও। এটি মহান আল্লাহর সুস্পষ্ট বাণী, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি তাদের মনোভাব সম্পর্কে গোপন ও অতি গোপন বিষয়গুলো জানেন: “নিশ্চয়ই তারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না, বরং জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে।” [আল-আনআম: ২২]।

এই প্রাচ্যবিদদের অবস্থা সেই মুশরিকদের মতোই, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আর যারা জানে না তারা বলে, ‘আল্লাহ আমাদের সাথে কেন কথা বলেন না অথবা আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন কেন আসে না?’ এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরা তাদের মতো কথা বলেছিল। তাদের অন্তরগুলো একই রকম হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই আমি নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি।” [আল-বাকারা: ১০৮]।

ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, এর প্রতি বিদ্বেষ এবং এর অনুসারীদের প্রতি শত্রুতায় এদের এবং তাদের অন্তরগুলো সদৃশ হয়ে গেছে; ফলে তারা তাই বলেছে যা তাদের পূর্ববর্তীরা বলেছিল।

আমরা আরও যোগ করতে চাই যে, প্রাচ্যবিদরা হয় ইহুদি নতুবা খ্রিস্টান। এখান থেকেই আমরা প্রশ্ন তুলছি: সত্যের কোন সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর তারা দাঁড়িয়ে আছে? এবং ইসলামের নবী ও ইসলামের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে তারা কিসের ওপর নির্ভর করছে!

তাদের অবস্থা সেই প্রবাদের মতো: ‘সে নিজের রোগ আমার ওপর চাপিয়ে দিয়ে সটকে পড়ল।’ তারা যে ধর্মের ওপর রয়েছে তা জরাজীর্ণ, যা কোনো দিক থেকেই সমালোচনার মুখে টিকতে পারে না।

উদাহরণস্বরূপ ইহুদিদের কথা বলা যায়: অসংখ্য গবেষণা—এমনকি ইহুদিদের নিজেদের পক্ষ থেকেও—তাদের কিতাবসমূহের সঠিকতা (صحة)-র অভাব প্রমাণ করেছে এবং তা যে বিকৃত, ঐতিহাসিক গবেষণাও তা নিশ্চিত করেছে। এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা সেগুলোতে বৈজ্ঞানিক ভুল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

--------------------------------------------

"১" এর অসারতা বিস্তারিতভাবে সামনে আসবে এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তার চেয়েও অনেক বেশি অক্ষম।

"২" দেখুন: দিরাসাত ফিল আদইয়ান, পৃ. ৬০-৭৪; আল-কুতুবুল মুকাদ্দাসাহ বাইনাস সিহহাহ ওয়াত তাহরিফ, ৬৭-১১৪।

"৩" আল-কুরআনুল কারীম ওয়াত তাওরাত ওয়াল ইনজীল ওয়াল ইলম, পৃ. ৩৯-৬২।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
كما أن التشريع السليم والصحيح غير متيسر فيها، بل فيها من الضلالات والانحرافات، خاصة ما يسمونه بالتلمود ما يثير الإشمئزاز، ويبعث على السخرية، ويدل دلالة واضحة على التحريف والإنحراف الكبير الذي وقع لهم في ديانتهم، سواء في كتبهم أو في تشريعات كهنتهم وأحبارهم."1"

أما النصارى فحالهم أعجب وأغرب، فليس عندهم كتاب واحد من كتبهم يصح نسبته إلى أحد ممن يضعون اسمه على تلك الكتب، فضلاً عن أن يصح نسبته إلى المسيح (، بل إنهم لا يعرفون على التحقيق من هم كتبة تلك الكتب، ولا تواريخ كتابتها."2"

وأثبتت الدراسات النقدية وجود اختلافات "3"، وأخطاء "4" كثيرة جداً فيها.

أما من ناحية الاعتقاد فكلامهم في الله تعالى من أفسد القول وأقبحه، كما أن اعتقادهم لا يمت بصلة إلى كتبهم حتى بعد تحريفها، فالتثليث لم يرد ولا مرة واحدة في كتبهم كلها، أما الأبوة والبنوة التي يزعمون، فهي معان مستغلقة غير مفهومة ولا واضحة، وهي مجرد دعاوى مرفوضة من ناحية العقل فضلاً عن الشرع والدين.

أما دعواهم في الروح القدس وأنه ثالث ثلاثة، فلا يسند ذلك نص في كتبهم، بل هو اختراع من أحبارهم.

أما الصلب تكفيراً لخطيئة آدم، وما فيها من الفلسفات الكثيرة الجوفاء، فلا يوجد في أناجيلهم نص واحد يدل عليه، بل هي أوهام في رؤوسهم، ودعاوى مظنونة متخرصة."5"

--------------------------------------------

"1" انظر: الكنز المرصود في قواعد التلمود،55-96، فضح التلمود،131-146.

"2" المدخل إلى العهد الجديد، للقس فهيم عزيز، ص146-152، اختلافات في تراجم الكتاب المقدس، ص76-81.

"3" انظر: إظهار الحق "1/187-246"، دراسات في الأديان،ص188-196.

"4" انظر: إظهار الحق "2/294-352"، ودراسات في الأديان، ص197-201.

"5" انظر ذلك تفصيلاً في: دراسات في الأديان، ص225-282.

তেমনিভাবে তাদের মাঝে সঠিক ও বিশুদ্ধ (صحيح) বিধান পাওয়া সম্ভব নয়; বরং তাতে রয়েছে এমন সব ভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতি, বিশেষ করে যেটিকে তারা তালমুদ বলে অভিহিত করে, যা ঘৃণা উদ্রেক করে এবং উপহাসের খোরাক যোগায়। এটি তাদের ধর্মে সংঘটিত বিকৃতি ও বড় ধরনের বিচ্যুতির এক স্পষ্ট প্রমাণ, চাই তা তাদের কিতাবসমূহে হোক কিংবা তাদের পুরোহিত ও ধর্মযাজকদের প্রণীত বিধানে। "১"

আর খ্রিস্টানদের অবস্থা তো আরও বিস্ময়কর ও অদ্ভুত। তাদের কিতাবগুলোর মধ্যে এমন একটি কিতাবও নেই যা ঐ ব্যক্তিদের দিকে সম্পর্কিত হওয়া বিশুদ্ধ (صحيح) হবে যাদের নাম কিতাবগুলোর ওপর আরোপ করা হয়েছে, মসীহ (আ.)-এর দিকে সম্পর্কিত হওয়া তো দূরের কথা। বরং তারা নিশ্চিতভাবে জানেই না যে এসব কিতাবের লেখক কারা এবং এগুলো রচনার সময়কালই বা কখন। "২"

আর সমালোচনামূলক গবেষণা এগুলোতে বহু মতপার্থক্য "৩" ও প্রচুর ভুল "৪" থাকার বিষয়টি প্রমাণ করেছে।

পক্ষান্তরে আকিদার দিক থেকে আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে তাদের বক্তব্য অত্যন্ত ভ্রান্ত ও জঘন্য। এছাড়া তাদের বিশ্বাস বিকৃত হওয়ার পরেও তাদের কিতাবগুলোর সাথে কোনো সম্পর্ক রাখে না। কেননা তাদের সমগ্র কিতাবের কোথাও একবারের জন্যও 'ত্রিত্ববাদ' কথাটি আসেনি। আর তারা যে পিতৃত্ব ও পুত্রত্বের দাবি করে, তা এমন সব দুর্বোধ্য অর্থ যা বোধগম্য নয় এবং স্পষ্টও নয়। এটি শরিয়ত ও দ্বীনের কথা তো বাদই দিলাম, বিবেকের বিচারেও স্রেফ অগ্রহণযোগ্য দাবি মাত্র।

পবিত্র আত্মা এবং তিনি তিনের তৃতীয়—এ মর্মে তাদের দাবির স্বপক্ষে তাদের কিতাবসমূহে কোনো অকাট্য পাঠ (نص) নেই; বরং এটি তাদের ধর্মযাজকদের একটি উদ্ভাবন মাত্র।

আর আদমের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি এবং এ নিয়ে তাদের অসার দার্শনিক তত্ত্বগুলোর সপক্ষে তাদের ইঞ্জিলগুলোতে একটি বর্ণনাও নেই যা এটি প্রমাণ করে; বরং এগুলো তাদের অলীক কল্পনা এবং অনুমানভিত্তিক (مظنونة) ও বানোয়াট দাবি। "৫"

--------------------------------------------

"১" দেখুন: আল-কানযুল মারসুদ ফি কাওয়াইদিত তালমুদ, ৫৫-৯৬; ফাযহুত তালমুদ, ১৩১-১৪৬।

"২" আল-মাদখাল ইলাল আহদিল জাদিদ, কাসিস ফাহিম আজিজ, পৃ. ১৪৬-১৫২; ইখতিলাফাত ফি তারাজুমিল কিতাবিল মুকাদ্দাস, পৃ. ৭৬-৮১।

"৩" দেখুন: ইযহারুল হক (১/১৮৭-২৪৬); দিরাসাত ফিল আদিয়ান, পৃ. ১৮৮-১৯৬।

"৪" দেখুন: ইযহারুল হক (২/২৯৪-৩৫২); দিরাসাত ফিল আদিয়ান, পৃ. ১৯৭-২০১।

"৫" এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন: দিরাসাত ফিল আদিয়ান, পৃ. ২২৫-২৮২।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
كما أنهم فقراء غاية الفقر في التشريع، فلا يوجد في كتبهم شيء من التشريع الإلهي، سوى ما يزعمون من أن المسيح حض على عدم الطلاق، وعدم زواج المطلقة."1"

وأما بقية تشريعاتهم فقد وضعها قسسهم وأحبارهم في مجامعهم الدينية، فليت شعري كيف يجرؤ هؤلاء المفترون على نبي الإسلام وكتاب الإسلام ودين الإسلام. ولكن صدق رسول الله صلوات الله وسلامه عليه: "إن لم تستح فاصنع ما شئت"."2"

وبعد هذه المقدمة في بيان حقيقتهم وحالهم سنفصل الرد عليهم في مطلبين:

المطلب الأول: في نفي إمكانية أن يكون النبي صلي الله عليه وسلم أتى بالقرآن من عنده.

المطلب الثاني: في نفي أن يكون النبي صلي الله عليه وسلم قد استفاد القرآن من اليهود والنصارى.

--------------------------------------------

"1" انظر: إنجيل متى "5/31"، لوقا "16/18".

"2" أخرجه. خ. الأنبياء، رقم "3484"،انظره مع الفتح "6/595"، من حديث أبي مسعود رضي الله عنه.
كما যে, তারা শরিয়ত বা বিধিবিধানের ক্ষেত্রেও চূড়ান্তভাবে রিক্ত; ফলে তাদের কিতাবসমূহে ঐশী বিধানের তেমন কিছুই নেই, কেবল তাদের এই দাবিটুকু ছাড়া যে, মসীহ (আ.) তালাক না দিতে এবং তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিবাহ না করতে উৎসাহিত করেছেন। "১"

আর তাদের অবশিষ্ট বিধানাবলি তাদের যাজক ও ধর্মীয় পণ্ডিতগণ তাদের ধর্মীয় মহাসভায় প্রণয়ন করেছেন। হায় আফসোস! এই অপবাদ প্রদানকারীরা ইসলামের নবী, ইসলামের কিতাব এবং ইসলামের দ্বীনের বিরুদ্ধে কী করে এমন দুঃসাহস দেখায়! তবে আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) সত্যই বলেছেন: "যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে যা ইচ্ছা তা-ই করো।" "২"

তাদের প্রকৃত রূপ ও অবস্থা বর্ণনার এই ভূমিকার পর, আমরা দুটি পরিচ্ছেদে তাদের খণ্ডন বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব:

প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের পক্ষ থেকে কুরআন নিয়ে এসেছেন—এমন সম্ভাবনা নাকচ করার প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহুদি ও নাসারাদের কাছ থেকে কুরআন সংগ্রহ করেছেন—এমন দাবি নাকচ করার প্রসঙ্গে।

--------------------------------------------

"১" দেখুন: ইঞ্জিল মাত্তা "৫/৩১", লূক "১৬/১৮" ।

"২" এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন বুখারি, আম্বিয়া অধ্যায়, নম্বর "৩৪৮৪", ফাতহুল বারী সহ দেখুন "৬/৫৯৫", আবু মাসউদ (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
‌‌المطلب الأول

في نفي إمكانية أن يكون النبي صلي الله عليه وسلم أتى بالقرآن من عنده لقد أنزل الله تعالى القرآن على نبيه ورسوله محمد صلي الله عليه وسلم قال تعالى: {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ ، نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ ، عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ ، بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء:192-195] .

فأعلن في الناس أن هذا كلام الله وليس كلامه، وليس له منه إلا التبليغ.

والأدلة على أن القرآن لا يمكن أن يكون كلام النبي صلي الله عليه وسلم كثيرة جداً، نشير إلى بعضها:

أولاً: أن الرسول صلي الله عليه وسلم صادق أمين، وصفه بذلك أعداؤه، كما روى البخاري في قصة أبي سفيان مع هرقل، فقال هرقل لأبي سفيان: فهل كنتم تتهمونه بالكذب قبل أن يقول ما قال؟ قلت: لا، ثم قال هرقل مبينا مراده من السؤال: وسألتك هل كنتم تتهمونه بالكذب قبل أن يقول ما قال، فذكرت أن لا، فقد اعرف أنه لم يكن ليذر الكذب على الناس ويكذب على الله "."1"

وقد أكد صلي الله عليه وسلم في مرات كثيرة ومواقف عديدة أن القرآن الكريم كلام الله، وأنه يوحى إليه ما يقول، وهذا موجب لتصديقه من وجهين:

الوجه الأول: أنه صادق، وقد عرف عنه ذلك واشتهر.

والثاني: أن في نسبة القرآن إليه إبراز لمواهب نفسه، وإحراز للمقام الأعلى في قوة الفصاحة والبيان والعلم، ونحو ذلك، وخاصة أن القوم كانوا يتباهون في قوة التعبير، والفصاحة والبيان، ويعدونه من أعظم مفاخرهم، ومع ذلك تنصل منه، وقال: إنه كلام الله تعالى، وليس كلامه، ولم تختلف عنه هذه الدعوى في وقت من الأوقات، لا في أول بعثته ولا في آخرها.

--------------------------------------------

"1" خ. بدء الوحي،رقم"3" انظره مع الفتح "1/32".
প্রথম পরিচ্ছেদ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ থেকে কুরআন নিয়ে এসেছেন—এমন সম্ভাবনা নাকচ করার বর্ণনায়। মহান আল্লাহ তাঁর নবী ও রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর নিশ্চয়ই এটি (কুরআন) বিশ্বজাহানের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। অত্যন্ত বিশ্বস্ত আত্মা তা নিয়ে অবতরণ করেছেন। আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।} [আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৫]।

তিনি মানুষের মাঝে ঘোষণা করেছেন যে, এটি আল্লাহর কালাম (কথা), তাঁর নিজের কথা নয়। আর এটি কেবল প্রচার (تبليغ) করা ব্যতীত তাঁর অন্য কোনো ভূমিকা নেই।

কুরআন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের কথা হতে পারে না, তার অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। আমরা এখানে সেগুলোর কয়েকটির দিকে ইঙ্গিত করছি:

প্রথমত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সত্যবাদী (صادق) ও বিশ্বস্ত (أمين); এমনকি তাঁর শত্রুরাও তাঁকে এই বিশেষণে বিশেষিত করত। যেমনটি বুখারি-তে আবু সুফিয়ানের সাথে হিরাক্লিয়াসের গল্পের বর্ণনায় এসেছে। হিরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "তিনি এখন যা বলছেন, তা বলার আগে কি তোমরা কখনো তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ এনেছিলে?" আমি বললাম: "না।" তখন হিরাক্লিয়াস তাঁর প্রশ্নের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে বললেন: "আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তিনি যা বলেছেন তা বলার আগে তোমরা কখনো তাঁর প্রতি মিথ্যার অপবাদ দিয়েছিলে কি না, আর তুমি উত্তরে বলেছ যে না। এর দ্বারা আমি বুঝতে পারলাম যে, এমনটি হতে পারে না যে ব্যক্তি মানুষের সাথে মিথ্যা বলা বর্জন করেছেন, তিনি আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা বলবেন।" "১"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেকবার ও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে জোর দিয়ে বলেছেন যে, পবিত্র কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তাঁর প্রতি যা ওহি (وحي) করা হয়, তিনি কেবল তা-ই বলেন। এটি দুটি কারণে তাঁকে সত্য বলে মেনে নেওয়ার দাবি রাখে:

প্রথম কারণ: তিনি সত্যবাদী (صادق), এটি তাঁর সম্পর্কে সুপরিচিত এবং প্রসিদ্ধ।

দ্বিতীয় কারণ: যদি কুরআনকে তাঁর নিজের দিকে নিসবত করা হতো, তবে তাতে তাঁর নিজস্ব প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ ঘটত এবং সাবলীলতা, অলঙ্কারশাস্ত্র ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদা অর্জন করতেন। বিশেষ করে যখন তৎকালীন জাতি বাকপটুতা, বাগ্মিতা ও ভাষাশৈলী নিয়ে গর্ব করত এবং একেই তাদের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম স্মারক মনে করত। এতদসত্ত্বেও তিনি তা নিজের বলে দাবি করা থেকে বিরত থাকেন এবং বলেন যে, এটি মহান আল্লাহর কালাম, তাঁর নিজের কথা নয়। নবুয়তের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো সময়েই তাঁর এই দাবির কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি।

--------------------------------------------

"১" বুখারি, ওহি শুরু অধ্যায়, নম্বর "৩", ফাতহুল বারী ১/৩২ সহ দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫৮)
ثانياً: أن القرآن الكريم لم يكن متيسراً للنبي صلي الله عليه وسلم في كل حال، بل هو تنزيل من حكيم حميد، ينزل به الروح الأمين حسب مشيئة الله تعالى بذلك، ولو كان من عنده لفاضت به نفسه، وجاشت به قريحته في الوقت الذي يشاء، خاصة في الأوقات العصيبة، التي مر بها عليه الصلاة والسلام. من ذلك:

أ- اشتراط المشركين للإيمان أن يبدل القرآن أو يغيره، وذلك في قوله تعالى: {وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ لا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا ائْتِ بِقُرْآنٍ غَيْرِ هَذَا أَوْ بَدِّلْهُ قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِي إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ، قُلْ لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلا أَدْرَاكُمْ بِهِ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُراً مِنْ قَبْلِهِ أَفَلا تَعْقِلُونَ} [يونس: 15-16] .

فمشركوا مكة طلبوا منه أن يبدل القرآن أويغيره، وكان عليه الصلاة والسلام شديد الحرص على هدايتهم حتى بلغ به الأمر ما ذكره الله تعالى بقوله: {لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ} [الشعراء: 3] .

أي لعلك مهلك نفسك مما تحرص وتحزن لعدم إيمان من لم يؤمن من الكفار."1"

فمع هذا الحرص، والرغبة في إيمان القوم، لو كان بإمكانه تبديل القرآن أو تغييره لفعل ذلك يقيناً لشدة حرصه على هدايتهم، إلا أنه أعلن بصراحة ووضوح أن ذلك ليس إليه، لأن القرآن ليس من عنده، بل صرح أنه يخاف من عذاب الله تعالى فيما لو عصاه ويدخل في ذلك أدنى محاولة للتغيير والتبديل، كما قال تعالى: {وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ ، لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ ، ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ ، فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ} الحاقة [44-47] .

ب- قصة حادثة الإفك. وهي من من أصعب الأحداث وأشدها على النبي صلي الله عليه وسلم، وهو أن المنافقين طعنوا في أحب نسائه إليه عائشة رضي الله عنها، وعرضوا بها

--------------------------------------------

"1" تفسير ابن كثير "3/311".
দ্বিতীয়ত: আল-কুরআনুল কারীম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট সর্বাবস্থায় সহজলভ্য ছিল না। বরং তা প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অবতীর্ণ কিতাব (تنزيل), যা রুহুল আমীন (জিবরাঈল আ.) মহান আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী নিয়ে আসতেন। যদি এটি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে হতো, তবে তাঁর মন যখন চাইত তখনই তিনি তা প্রকাশ করতেন এবং তাঁর মেধা ও চিন্তা থেকে তা নিঃসৃত হতো, বিশেষ করে সেই কঠিন মুহূর্তগুলোতে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পার করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে:

ক- ঈমান আনার শর্ত হিসেবে মুশরিকদের পক্ষ থেকে কুরআন পরিবর্তন বা রদবদল করার দাবি। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখে না, তারা বলে: ‘এটি ছাড়া অন্য কোনো কুরআন নিয়ে আসুন অথবা এটিকে পরিবর্তন করে দিন।’ আপনি বলুন: ‘আমার নিজের পক্ষ থেকে এটি পরিবর্তন করার কোনো অধিকার নেই। আমি তো কেবল আমার প্রতি যা ওহী (وحي) করা হয়, তারই অনুসরণ করি। আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে আমি মহাদিবসের আজাবের ভয় করি।’ আপনি বলুন: ‘আল্লাহ যদি চাইতেন তবে আমি তোমাদের কাছে এটি পাঠ করতাম না এবং তিনি তোমাদেরকে এটি জানাতেন না। ইতিপূর্বে তো আমি তোমাদের মাঝে জীবনের এক দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি, তবুও কি তোমরা অনুধাবন করবে না?’} [ইউনুস: ১৫-১৬]।

মক্কার মুশরিকরা তাঁর কাছে কুরআন পরিবর্তন বা রদবদলের দাবি করেছিল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের হিদায়াতের ব্যাপারে এতটাই আগ্রহী ছিলেন যে, বিষয়টি মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: {তারা মুমিন হচ্ছে না বলে সম্ভবত আপনি আত্মবিনাশী হয়ে পড়বেন।} [আশ-শুআরা: ৩]।

অর্থাৎ সম্ভবত কাফেরদের মধ্যে যারা ঈমান আনেনি, তাদের ঈমান না আনার কারণে আপনার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ও দুঃখের আতিশয্যে আপনি নিজেকে ধ্বংস করে ফেলবেন।"১"

সুতরাং কওমের ঈমান আনার প্রতি এই গভীর আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও যদি কুরআন পরিবর্তন বা রদবদল করা তাঁর সাধ্যায়ত্ত হতো, তবে তাদের হিদায়াতের প্রতি তাঁর তীব্র ব্যাকুলতার কারণে তিনি নিশ্চিতভাবেই তা করতেন। কিন্তু তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, এটি তাঁর ইখতিয়ারে নেই। কারণ কুরআন তাঁর পক্ষ থেকে নয়। বরং তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, যদি তিনি তাঁর রবের অবাধ্য হন—যার মধ্যে সামান্যতম পরিবর্তন বা রদবদলের চেষ্টাও অন্তর্ভুক্ত—তবে তিনি মহান আল্লাহর আজাবের ভয় করেন। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সে যদি আমার নামে কোনো কথা রচনা করে চালিয়ে দিত, তবে আমি অবশ্যই তার ডান হাত ধরে ফেলতাম, অতঃপর আমি তার জীবন-ধমনী কেটে দিতাম। তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তাকে রক্ষা করতে পারে।} [আল-হাক্কাহ: ৪৪-৪৭]।

খ- ইফকের ঘটনার বিবরণ। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কঠিনতম ও শ্রমসাধ্য ঘটনাগুলোর অন্যতম। আর তা হলো, মুনাফিকরা তাঁর অত্যন্ত প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার চরিত্রে অপবাদ দিয়েছিল এবং তাঁকে লাঞ্ছিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল।

--------------------------------------------

"১" তাফসীর ইবনে কাসীর "৩/৩১১"।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
في حادثة الإفك، وهي ابنة أعز أصحابه إليه، وهذا شرفه عليه الصلاة والسلام، وهو أشرف الشرفاء وأعظم العظماء وأنقى الأنقياء وأتقى الأتقياء عليه الصلاة والسلام، وهو أشد الناس غيرة كما قال عليه الصلاة والسلام: "أتعجبون من غيرة سعد، والله لأنا أغير منه، والله أغير مني"."1"

ومع ذلك فقد تجرأ عليه أناس من المنافقين، فطعنوا في زوجه، وشاع هذا في المدينة، وتأذى منه رسول الله صلي الله عليه وسلم غاية التأذي، ومع أن عائشة رضي الله عنها مرضت بعد قدومها من ذلك السفر، فقد كان عليه الصلاة والسلام لا يأبه لها كثيراً بسبب ما بلغه من القيل في ذلك، بل كان يأتي إليها حين اشتكت ويسلم، ثم يقول: "كيف تيكم"، ثم ينصرف، بل بلغ الأمر به عليه الصلاة والسلام أنه أخذ يستشير بعض أصحابه في شأنها، فاستشار أسامة بن زيد وعلي بن أبي طالب، وسأل الجارية عن عائشة، وسأل زينب بنت جحش زوجته رضي الله عنهم، بل إنه قال لعائشة آخر الأمر، وجلس عندها، ولم يكن جلس عندها من قبل من حين قيل ما قيل: يا عائشة فإنه قد بلغني عنك كذا وكذا، فإن كنت بريئة فسيبرؤك الله، وإن كنت ألممت بذنب فاستغفري الله وتوبي إليه، فإن العبد إذا اعترف بذنبه ثم تاب إلى الله تاب الله عليه.

وتأخر الوحي عن النبي صلي الله عليه وسلم في تلك الحادثة شهراً لا يوحى إليه في شأن عائشة رضي الله عنها، ثم نزلت براءتها بعد أن قال لها ما قال. قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالْأِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ …} [الآيات من سورة النور:11-20] .

فكان أول كلمة قالها عليه الصلاة والسلام لها بعد نزول الآيات عليه: "يا عائشة أما الله سبحانه وتعالي فقد برأك، فقالت أمي: قومي إليه -أي إلى رسول الله صلي الله عليه وسلم -، فقالت عائشة: والله لا أقوم إليه ولا أحمد إلا الله "."2"

--------------------------------------------

"1" انظر. خ في التوحيد، رقم "7416"، انظره مع الفتح "13/399".

"2" انظر القصة كاملة في. خ، التفسير، رقم"4750". انظره مع الفتح "8/452".
ইফক (মিথ্যা অপবাদ)-এর ঘটনায়, যিনি ছিলেন তাঁর (রাসূলুল্লাহর) নিকটতম প্রিয় বন্ধুর কন্যা; এটি ছিল তাঁর সম্মানের বিষয়—সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক। তিনি ছিলেন সকল বীর্যবানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, সকল মহানুভবের চেয়ে মহান, পবিত্রদের মধ্যে অধিক পবিত্র এবং মুত্তাকিদের মধ্যে অগ্রগণ্য—সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন, যেমনটি তিনি বলেছিলেন: "তোমরা কি সা'দের আত্মমর্যাদাবোধে বিস্ময়বোধ করছ? আল্লাহর কসম, আমি তার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন, আর আল্লাহ আমার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন।" "১"

তা সত্ত্বেও কিছু মুনাফিক তাঁর ওপর স্পর্ধা দেখাল এবং তাঁর স্ত্রীর চরিত্রে কলঙ্ক আরোপ করল। মদিনায় এই কথা ছড়িয়ে পড়ল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে চরমভাবে ব্যথিত হলেন। সেই সফর থেকে ফেরার পর আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু লোকমুখে প্রচলিত এই কুৎসার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি খুব একটা মনোযোগী ছিলেন না। বরং আয়িশা যখন অসুস্থ অবস্থায় অভিযোগ করতেন, তখন তিনি আসতেন এবং সালাম দিয়ে কেবল বলতেন: "তোমাদের ওই (রোগী) কেমন আছে?", অতঃপর চলে যেতেন। এমনকি বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছালো যে, তিনি তাঁর বিষয়ে কয়েকজন সাহাবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে শুরু করলেন। তিনি উসামা ইবনে যায়েদ এবং আলী ইবনে আবি তালিবের সঙ্গে পরামর্শ করলেন, পরিচারিকার কাছে আয়িশা সম্পর্কে জানতে চাইলেন এবং তাঁর স্ত্রী জয়নব বিনতে জাহশ রাদিয়াল্লাহু আনহুমকেও জিজ্ঞেস করলেন। পরিশেষে তিনি আয়িশার নিকট আসলেন এবং তাঁর পাশে বসলেন—কুৎসা রটনার পর থেকে তিনি ইতিপূর্বে কখনো তাঁর পাশে বসেননি। তিনি বললেন: "হে আয়িশা, তোমার সম্পর্কে আমার কাছে এই এই সংবাদ পৌঁছেছে; যদি তুমি নির্দোষ হও, তবে অচিরেই আল্লাহ তোমাকে নির্দোষ ঘোষণা করবেন। আর যদি তুমি কোনো পাপে লিপ্ত হয়ে থাকো, তবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর নিকট তওবা করো। কেননা বান্দা যখন তার পাপ স্বীকার করে এবং আল্লাহর নিকট তওবা করে, তখন আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।"

সেই ঘটনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এক মাস পর্যন্ত ওহি স্থগিত ছিল, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ব্যাপারে তাঁর নিকট কোনো প্রত্যাদেশ আসেনি। অতঃপর তিনি আয়িশাকে উপরোক্ত কথাগুলো বলার পর তাঁর নির্দোষিতা ঘোষণা করে আয়াত অবতীর্ণ হলো। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {নিশ্চয়ই যারা এই অপবাদ রটনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল...} [সুরা আন-নূর: ১১-২০] ।

আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার পর তাঁর প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম উক্তি ছিল: "হে আয়িশা, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তোমাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন।" তখন আমার মা বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে উঠে যাও (অর্থাৎ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো)।" আয়িশা বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি তাঁর কাছে যাব না এবং একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো প্রশংসা করব না।" "২"

--------------------------------------------

"১" দেখুন: সহিহ বুখারি, তাওহিদ অধ্যায়, হাদিস নম্বর "৭৪১৬", ফাতহুল বারিসহ দেখুন "১৩/৩৯৯"।

"২" সম্পূর্ণ ঘটনাটি দেখুন: সহিহ বুখারি, তাফসির অধ্যায়, হাদিস নম্বর "৪৭৫০", ফাতহুল বারিসহ দেখুন "৮/৪৫২"।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬০)
فهذه الحادثة بتداعياتها الخطيرة، وآثارها الشديدة على النفس، وقد وقعت لأحب الناس إليه، تأخر فيها الوحي كل هذه المدة، تاركاً رسول الله صلي الله عليه وسلم في حيرة من حقيقة ما يقال، وما كان رسول الله ليشك في زوجه لولا كثرة كلام الناس، وتداول المنافقين لذلك الكلام وإشاعته، مما يدل على خطورة الإشاعات وقوة تأثيرها، فلو كان القرآن من عند رسول اللهصلي الله عليه وسلم لبادر لتلاوة آيات منه تبريء عائشة رضي الله عنها، وتخرس الألسن قبل أن يشيع ذكر الكلام الفاحش. ولكنها المشيئة الإلهية، والتربية الربانية، أراد الله أن يؤخر الوحي، حتى يعطي المسلمين درساً أنه لا أحد فوق الامتحان، وأن الشائعات أمرها خطير، وقد تقلب الموازين، وأن الحديث في مثل هذه الدعاوى يجب أن لا يكون بحال إلا بالشهود المعاينين للحادثة، إلى غير ذلك من الدروس.

والدرس الذي يهمنا، هو أن القرآن ليس من عند النبي صلي الله عليه وسلم، ولو كان من عنده لوفر على نفسه ذلك العناء، وأنهى ذلك الإشكال في مهده، كغيره من الإشكالات، التي ينزل في شأنها قرآناً مباشرة كحكم الله في المستهزئين "1"، والواهبة نفسها "2"، وقصة التحريم "3"، وغير ذلك.

ومن المعلوم أن إشاعات كهذه إذا خرجت وانتشرت، فليس من اليسير قطعها وإسكاتها، فالحل الأمثل لها أن تدفن في مهدها قبل انتشارها وشيوعها، إلا أن شيئاً من ذلك لم يحدث، وإنما استمر القيل والقال مدة شهر كامل، والله أعلم بما عانى رسول الله صلي الله عليه وسلم، وهو شديد الغيرة، عظيم الرحمة، والله أعلم بما عانى زوجه وأهلها، وجميع المسلمين.

--------------------------------------------

"1" الآيات من سورة التوبة "65-66".

"2" الأحزاب "50".

"3" التحريم "1-5".
এই ঘটনাটি এর গুরুতর ফলাফল এবং মনের ওপর এর তীব্র প্রভাবসহ সংঘটিত হয়েছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় মানুষের ক্ষেত্রে। এতে ওহি দীর্ঘ সময় বিলম্বিত হয়েছিল, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রচারিত কথার বাস্তবতা সম্পর্কে এক ধরণের বিভ্রান্তির মধ্যে রেখেছিল। মানুষের অতিরিক্ত কথা বলা এবং মুনাফিকদের সেই কথা প্রচার ও প্রসারের আধিক্য না থাকলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীর ব্যাপারে কোনো সংশয় পোষণ করতেন না। এটি গুজবের ভয়াবহতা এবং এর প্রভাবের শক্তিরই প্রমাণ দেয়। যদি কুরআন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজের পক্ষ থেকে হতো, তবে তিনি আয়েশা (রা.)-এর পবিত্রতা ঘোষণা করতে এবং অশ্লীল আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার আগেই মানুষের মুখ বন্ধ করতে দ্রুত কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করতেন। কিন্তু এটি ছিল আল্লাহর ইচ্ছা এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রদত্ত শিক্ষা; আল্লাহ চেয়েছিলেন ওহি বিলম্বিত করতে, যাতে মুসলিমদের এই শিক্ষা দেওয়া যায় যে, পরীক্ষার ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং গুজবের বিষয়টি অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা ভারসাম্য ওলটপালট করে দিতে পারে। এছাড়া এই ধরণের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ব্যতীত কোনো অবস্থাতেই আলোচনা করা সমীচীন নয়—এই বিষয়গুলো ছাড়াও আরও অনেক শিক্ষা এতে রয়েছে।

আমাদের জন্য যে শিক্ষাটি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, কুরআন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে নয়। যদি এটি তাঁর পক্ষ থেকে হতো, তবে তিনি নিজেকে এই কষ্ট থেকে রক্ষা করতেন এবং অন্যান্য সমস্যার মতো এটিকেও সূচনালগ্নেই মিটিয়ে দিতেন; যে সকল বিষয়ে সরাসরি কুরআন অবতীর্ণ হতো, যেমন উপহাসকারীদের ব্যাপারে আল্লাহর বিধান "১", আত্মনিবেদনকারী নারী সংক্রান্ত বিষয় "২", এবং তাহরিমের ঘটনা "৩" ইত্যাদি।

এটি সুবিদিত যে, এই ধরণের গুজব যখন একবার ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা বন্ধ করা এবং স্তব্ধ করা মোটেও সহজ নয়। তাই এর সর্বোত্তম সমাধান হলো ছড়িয়ে পড়ার আগেই একে অঙ্কুরেই দাফন করা। কিন্তু এখানে তেমনটি ঘটেনি, বরং পুরো এক মাস ধরে জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকে। অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন এবং দয়ালু হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মানসিক যাতনা ভোগ করেছেন তা আল্লাহই ভালো জানেন। মহান আল্লাহ আরও জানেন তাঁর স্ত্রী, তাঁর পরিবার এবং সকল মুসলিমের কষ্টের গভীরতা।

--------------------------------------------

"১" সূরা আত-তাওবার আয়াত (৬৫-৬৬)।

"২" আল-আহযাব (৫০)।

"৩" আত-তাহরিম (১-৫)।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬১)
والفرق شاسع والبون واسع بين عبارة الشك، التي خاطب الرسول صلي الله عليه وسلم بها عائشة رضي الله عنها قبيل وقت قصيرمن نزول آيات البراءة، حين قال لها: "ياعائشة إن كنت بريئة فسيبرؤك الله، وإن كنت ألممت بذنب فاستغفري الله…".

فهي عبارة على ما فيها من الثقة بالله، فيها شك في حقيقة الأمر، فرق بين هذه والعبارة التي جاءت بعدها منسوبة إلى الله تعالى العليم الحكيم: {إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالْأِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ …} الآيات.

فوصم الحادثة بالإفك، وأعلن في أول كلمة فيها كذب الدعوى، وبراءة أم المؤمنين رضي الله عنها وأرضاها، وأعطى دروساً مهمة في الموضزع.

فلا يقول أحد باتحاد المصدر في الموقفين والجملتين إلا جاهل أو كاذب معاند.

وفي كل هذا دليل ناصع واضح، على أن القرآن لا يمكن أن يكون من عند النبي صلي الله عليه وسلم بحال من الأحوال. وصدق الله تعالى: {إِنَّهُ هُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} .

ثالثاً: أن الله تعالى عاتب النبي صلي الله عليه وسلم في مواطن كثيرة من كتابه، منها:

أ- عتابه على أخذ الفداء في أسرى بدر، وذلك في قوله تعالى: {مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ * لَوْلا كِتَابٌ مِنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} الأنفال:67-68] .

فعاتب الله نبيه على فعله بأخذ الفداء من الأسرى، ويدخل في ذلك سائر من رأى هذا الرأي، ومنهم أبو بكر الصديق رضي الله عنه، فقد روى مسلم بسنده عن عمر ابن الخطاب رضي الله عنه أنه لما استشار الصحابة في الأسارى يوم بدر، فقال رسول الله لأبي بكر وعمر: ما ترون في هؤلاء الأسارى؟ فقال أبو بكر: يا نبي الله هم بنو العم والعشيرة، أرى أن تأخذ منهم فدية، فتكون لنا قوة على الكفار، فعسى
রাসূলুল্লাহ (সা.) আয়েশা (রা.)-এর পবিত্রতা ঘোষণা সম্বলিত আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তাকে যে সংশয়পূর্ণ বাক্যে সম্বোধন করেছিলেন, তার এবং ঐ আয়াতগুলোর মধ্যে এক বিশাল ও সুদূরপ্রসারী ব্যবধান রয়েছে। তিনি তাকে বলেছিলেন: "হে আয়েশা, যদি তুমি নির্দোষ হও তবে আল্লাহ অবশ্যই তোমার নির্দোষিতা প্রকাশ করবেন, আর যদি তুমি কোনো পাপে লিপ্ত হয়ে থাকো তবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো…"।

এই বাক্যে আল্লাহর ওপর ভরসা থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের সংশয় বিদ্যমান ছিল। এই বাক্য এবং এরপর মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বাণীর মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে: "যারা এই অপবাদ (الإفك) রটনা করেছে তারা তোমাদেরই একটি দল …" (আয়াতসমূহ)।

আল্লাহ এই ঘটনাটিকে চরম মিথ্যা অপবাদ (الإفك) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আয়াতের প্রথম শব্দেই এই দাবির অসারতা এবং উম্মুল মুমিনীন (রা.)-এর পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। সেইসাথে তিনি এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করেছেন।

কোনো মূর্খ অথবা জেদি মিথ্যাবাদী ব্যতীত আর কেউ এই দুটি ভিন্ন অবস্থান ও বাক্যের উৎস এক বলে দাবি করবে না।

এই সবকিছুর মধ্যে এক সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল প্রমাণ নিহিত রয়েছে যে, কুরআন কোনো অবস্থাতেই নবী (সা.)-এর নিজস্ব পক্ষ থেকে হওয়া সম্ভব নয়। আর আল্লাহ তাআলা সত্যই বলেছেন: "নিশ্চয়ই তিনি মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।"

তৃতীয়ত: আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের অনেক স্থানে নবী (সা.)-কে অনুযোগ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে:

ক- বদরের যুদ্ধবন্দিদের নিকট থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করার কারণে তাকে অনুযোগ করা। যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে এসেছে: "কোনো নবীর জন্য সংগত নয় যে তার নিকট যুদ্ধবন্দি থাকবে যতক্ষণ না সে জমিনে শত্রুর দাপট চূর্ণ করবে। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা করছ, অথচ আল্লাহ চাচ্ছেন আখিরাত। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ব নির্ধারিত বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তার জন্য তোমাদের ওপর মহাশাস্তি আপতিত হতো।" [আনফাল: ৬৭-৬৮]।

আল্লাহ তাআলা যুদ্ধবন্দিদের নিকট থেকে মুক্তিপণ গ্রহণের কারণে তাঁর নবীকে অনুযোগ করলেন এবং যারা এই মত পোষণ করেছিলেন তারাও এই অনুযোগের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের মধ্যে আবু বকর সিদ্দিক (রা.) অন্যতম। ইমাম মুসলিম তাঁর নিজস্ব সূত্রে (بسنده) উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, বদরের যুদ্ধের দিন যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বন্দিদের ব্যাপারে সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন, তখন তিনি আবু বকর ও উমরকে বললেন: "এই বন্দিদের ব্যাপারে তোমাদের মতামত কী?" আবু বকর বললেন: "হে আল্লাহর নবী, তারা তো আমাদেরই আত্মীয়-স্বজন এবং বংশের লোক। আমার অভিমত হলো, আপনি তাদের থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করুন, এতে কাফিরদের বিরুদ্ধে আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং সম্ভবত..."
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬২)
الله أن يهديهم للإسلام، فقال رسول الله صلي الله عليه وسلم: ما ترى يا ابن الخطاب؟ قلت: لا، والله يار سول الله ما أرى الذي رأى أبو بكر، ولكن أرى أن تمكنا فنضرب أعناقهم، فتمكن علياً من عقيل فيضرب عنقه، وتمكني من فلان "نسيباً لعمر" فأضرب عنقه، فإن هؤلاء أئمة الكفر وصناديدها، فهوى رسول الله صلي الله عليه وسلم ما قال أبو بكر ولم يهو ما قلت، فلما كان من الغد جئت فإذا رسول الله صلي الله عليه وسلم وأبو بكر قاعدين يبكيان، قلت: يارسول الله أخبرني عن أي شيء تبكي أنت وصاحبك، فإن وجدت بكاء بكيت، وإن لم أجد بكاء تباكيت لبكائكما، فقال لي رسول الله صلي الله عليه وسلم: "أبكي للذي عَرَضَ عَلَيّ أصحابك من أخذهم الفداء، لقد عُرِض علي عذابهم أدنى من هذه الشجرة" -شجرة قريبة من نبي الله صلي الله عليه وسلم- وأنزل الله تعالى: {مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى} "1"

وفي رواية عن ابن عمر أن النبي صلي الله عليه وسلم قال: "إن كاد ليمسنا في خلاف ابن الخطاب عذاب عظيم، ولو نزل العذاب ما أفلت إلا عمر"."2"

فكيف يمكن لعاقل أن يقول إن القرآن من عند النبي صلي الله عليه وسلم، وهو هنا يرد اجتهاد نفسه، ويحكم بأن الصواب هو ما قاله أحد أصحابه، ويتهدد بالعذاب، وأليم العقاب.

لا يمكن لعاقل أن يقول إن صاحب هذا النص الذي يتهدد بالعذاب، بسبب الحكم، هو نفسه المجتهد في الحكم، وهو النبي صلي الله عليه وسلم، والذي كان يبكي من الخوف من عقوبة الله بسبب ذلك الحكم.

--------------------------------------------

"1" م. الجهاد والسير، رقم"1763"،"3/1385"،حم"1/31".

"2" عزاه السيوطي في الدر المنثور "4/108" إلى ابن المنذر وأبي الشيخ وابن مردويه من طريق نافع عن ابن عمر رضي الله عنه.
আল্লাহ যেন তাদের ইসলামের দিকে হিদায়াত দান করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে ইবনুল খাত্তাব, তোমার অভিমত কী?" আমি বললাম: "না, আল্লাহর শপথ হে আল্লাহর রাসূল! আবু বকর যা সমীচীন মনে করেছেন আমি তা মনে করি না। বরং আমি মনে করি আপনি আমাদের সুযোগ দেবেন যাতে আমরা তাদের গর্দান উড়িয়ে দেই। আপনি আলীকে আকীলের ওপর সুযোগ দেবেন এবং তিনি তার গর্দান উড়িয়ে দেবেন, আর আমাকে অমুকের (উমরের একজন আত্মীয়) ওপর সুযোগ দেবেন এবং আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেব। কেননা তারা কুফরের মূল নেতা ও তাদের সর্দার।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকর যা বলেছিলেন তা পছন্দ করলেন এবং আমি যা বলেছিলাম তা পছন্দ করলেন না। পরদিন যখন আমি আসলাম, দেখলাম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবু বকর বসে কাঁদছেন। আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বলুন আপনারা দুজন কেন কাঁদছেন? যদি কান্না আসে তবে আমি কাঁদব, আর যদি কান্না না আসে তবে আপনাদের কান্নার কারণে আমি কান্নার ভান করব।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: "তোমার সঙ্গীরা মুক্তিপণ গ্রহণের যে প্রস্তাব পেশ করেছিল, তার কারণে আমার ওপর যা উপস্থাপিত হয়েছে সেজন্য আমি কাঁদছি। আমার কাছে তাদের আজাব এই নিকটবর্তী গাছটির চেয়েও কাছে উপস্থাপিত করা হয়েছিল" -গাছটি আল্লাহর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকটেই ছিল- আর আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {কোনো নবীর জন্য সঙ্গত নয় যে তার নিকট যুদ্ধবন্দী থাকবে...} "১"

এবং ইবনে উমর থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইবনুল খাত্তাবের মতের বিরোধিতা করার কারণে আমাদের ওপর এক মহান আজাব স্পর্শ করতে উদ্যত হয়েছিল; আর যদি আজাব নাযিল হতো তবে উমর ছাড়া কেউ রক্ষা পেত না।" "২"

সুতরাং কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি কীভাবে বলতে পারে যে কুরআন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে রচিত, অথচ এখানে তিনি নিজের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তকে (اجتهاد) প্রত্যাখ্যান করছেন এবং এই ফয়সালা দিচ্ছেন যে তাঁর এক সাহাবীর বক্তব্যই সঠিক ছিল, আর তিনি আজাব ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করছেন।

কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে, এই বাণীর রচয়িতা যিনি বিধানের কারণে আজাবের ভয় দেখাচ্ছেন, তিনিই সেই বিধানের ক্ষেত্রে গবেষণাকারী (مجتهد) ছিলেন—অর্থাৎ স্বয়ং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যিনি সেই বিধানের কারণে আল্লাহর শাস্তির ভয়ে কাঁদছিলেন।

--------------------------------------------

"১" সহিহ মুসলিম, আল-জিহাদ ওয়াস-সিয়ার, নম্বর "১৭৬৩", "৩/১৩৮৫", মুসনাদ আহমাদ "১/৩১"।

"২" সুয়ূতী আদ-দুররুল মানসুর গ্রন্থে "৪/১০৮" একে ইবনুল মুনযির, আবুশ শাইখ এবং ইবনে মারদুওয়াইহ-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন, যা নাফে’-এর সূত্র (طريق) হয়ে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
ب-عتابه في قصة الأعمى.

وذلك في قول الله تعالى: {عَبَسَ وَتَوَلَّى ، أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى ، وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى ، أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنْفَعَهُ الذِّكْرَى ، أَمَّا مَنِ اسْتَغْنَى ، فَأَنْتَ لَهُ تَصَدَّى ، وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا يَزَّكَّى ، وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى ، وَهُوَ يَخْشَى ، فَأَنْتَ عَنْهُ تَلَهَّى} [عبس:1-10] .

فقد ذكر في التفسير أن النبي صلي الله عليه وسلم كان منشغلاً ببعض كبار قريش يدعوهم إلى الإسلام، وهو حريص على هدايتهم، وجاءه ابن أم مكتوم، وكان كفيفاً، وكان مسلماً يسأله عن آية أو مسألة، ويلح عليه، فكره رسول الله صلي الله عليه وسلم ذلك، وعبس في وجهه رجاء إسلام ذلك الرجل، أو أولئك الرجال، وهذا حال يشعر كل إنسان أن الأولى بالاهتمام هو ذلك الذي لم يسلم، وهو من عظماء القوم رجاء أن يسلم بإسلامه الناس، أو في إسلامه إنقاذ له من النار، أما المسلم فمسألته لا تفوت، وليس عليه خوف من النار، فكان موقف النبي صلي الله عليه وسلم هو الموقف الذي سيقفه أي إنسان في مثل ذلك الموقف، إلا أن الله العليم الخبير والكريم الرحيم عاتب نبيه صلي الله عليه وسلم على ذلك الموقف عتاباً شديداً، ونبهه إلى خطئه عليه الصلاة والسلام في عبوسه في وجه المسلم، ونبهه إلى حكم عظيمة ودقائق جليلة غفل عنها عليه الصلاة والسلام، فانتبه النبي صلي الله عليه وسلم لذلك، وخضع لأمر ربه، فكان يكرم ذلك الأعمى."1"

فهل عاقل يقول إن الذي عبس قبل قليل في وجه الأعمى، وكره مسألته، وحرص على إكمال الحديث مع أولئك الأكابر من قريش هو الذي عاتب نفسه بعدها بقليل، وأنبها، وأظهر خطأه فيما فعل؟ لا شك أن من قال ذلك فإنه لا يشعر بما يقول، ولا يفقه شيئاً مما يقول، وهذا حقيقة حال المكذبين.

--------------------------------------------

"1" انظر: تفسير ابن جرير "30/50"، تفسير ابن كثير "4/426".
খ- অন্ধ ব্যক্তির ঘটনায় তাঁকে (রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে) আল্লাহর ভর্ৎসনা।

আর তা মহান আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে: {সে ভ্রূকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। কারণ তার কাছে সেই অন্ধ লোকটি এল। আপনি কি জানেন, সম্ভবত সে পরিশুদ্ধ হতো? অথবা সে উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে সেই উপদেশ তার উপকারে আসত। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি বেপরোয়া ভাব দেখায়, আপনি তার প্রতিই মনোযোগ দেন। অথচ সে যদি পরিশুদ্ধ না হয়, তবে আপনার কোনো দায় নেই। আর যে ব্যক্তি আপনার কাছে ছুটে এল, আর সে সশঙ্কিত ছিল, আপনি তাকে অবজ্ঞা করলেন।} [আবাসা: ১-১০]।

তাফসির শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের কিছু প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দিচ্ছিলেন এবং তিনি তাদের হেদায়েতের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। এমন সময় ইবনে উম্মে মাকতুম তাঁর কাছে এলেন, যিনি ছিলেন দৃষ্টিহীন। তিনি একজন মুসলিম ছিলেন এবং একটি আয়াত বা মাসআলা সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করছিলেন এবং বারবার পীড়াপীড়ি করছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি অপছন্দ করলেন এবং সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ইসলাম গ্রহণের আশায় তাঁর (ইবনে উম্মে মাকতুমের) প্রতি ভ্রূকুঞ্চিত করলেন। এটি এমন এক পরিস্থিতি যা যেকোনো মানুষ অনুভব করতে পারে যে, যে ব্যক্তি এখনো ইসলাম গ্রহণ করেনি এবং সে যদি কওমের নেতা হয়, তবে তাকে গুরুত্ব দেওয়াই সমীচীন; যাতে তার ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে অন্য মানুষও ইসলামে ফিরে আসে অথবা তার ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা যায়। পক্ষান্তরে, একজন মুসলিমের বিষয়টি তো আর হারিয়ে যাচ্ছে না এবং তার ব্যাপারে জাহান্নামের আগুনের ভয়ও নেই। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থান ছিল এমন যা যেকোনো মানুষই অনুরূপ পরিস্থিতিতে গ্রহণ করত। কিন্তু মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ, পরম দয়ালু ও পরম করুণাময় আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সেই অবস্থানের জন্য কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করলেন এবং একজন মুসলিমের প্রতি ভ্রূকুঞ্চন করার কারণে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভুল সম্পর্কে তাঁকে সতর্ক করে দিলেন। আল্লাহ তাঁকে এমন কিছু সুমহান হিকমত ও সূক্ষ্ম বিধান (حكم) সম্পর্কে সজাগ করলেন যা তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মনোযোগ এড়িয়ে গিয়েছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে বিষয়ে সচেতন হলেন এবং তাঁর রবের আদেশের সামনে মস্তক অবনত করলেন। এরপর থেকে তিনি সেই অন্ধ ব্যক্তিকে অত্যন্ত সম্মান করতেন।"১"

কোনো বিবেকবান কি বলতে পারে যে, যিনি কিছুক্ষণ আগে অন্ধ ব্যক্তির প্রতি ভ্রূকুঞ্চিত করেছিলেন, তার প্রশ্ন করাকে অপছন্দ করেছিলেন এবং কুরাইশ নেতাদের সাথে আলাপ শেষ করতে আগ্রহী ছিলেন, তিনিই কিছুক্ষণ পর নিজেকে ভর্ৎসনা করবেন, তিরস্কার করবেন এবং নিজের কৃতকর্মের ভুল প্রকাশ করবেন? নিঃসন্দেহে যে ব্যক্তি এমন কথা বলে, সে কী বলছে তা নিজে অনুভব করে না এবং যা বলছে সে সম্পর্কে তার কোনো বোধশক্তি নেই। আর এটিই হলো মূলত সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের প্রকৃত অবস্থা।

--------------------------------------------

"১" দেখুন: তাফসির ইবনে জারির "৩০/৫০", তাফসির ইবনে কাসির "৪/৪২৬"।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
ج- قصة زينب بنت جحش رضي الله عنها.

من المعلوم أن زينب رضي الله عنها كانت زوجة لزيد بن حارثة، الذي كان تبناه النبي صلي الله عليه وسلم، إلى أن منع الله التبني في قوله {أُمَّهَاتِكُمْ وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ ذَلِكُمْ قَوْلُكُمْ بِأَفْوَاهِكُمْ وَاللَّهُ يَقُولُ الْحَقَّ وَهُوَ يَهْدِي السَّبِيلَ ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ} الأحزاب:45- 46] .

ثم إن زيداً رضي الله عنه لم تطب له عشرة زينب، فرغب في طلاقها، فشاور الرسول صلي الله عليه وسلم في ذلك، فأشار عليه الرسول صلي الله عليه وسلم بإمساكها، مع أن النبي صلي الله عليه وسلم كان يعلم أن زيداً سيطلقها، وأنها ستكون زوجة له، وكان هذا شديداً على نفس النبي صلي الله عليه وسلم، من حيث كان زيد يدعى ابناً له، فيقول الناس عنه إنه تزوج زوجة ابنه، فكان يخشى كلام الناس في ذلك "1"، إلا أن الله تعالى الذي أراد ما أراد لحكمة بالغة ورحمة عظيمة ألزمه أن يقول ذلك، وأنزل عليه في ذلك قرآناً يتلى إلى يوم القيامة في القضية ليعلمها القاصي والداني، فقال تعالى: {وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ فَلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِنْهَا وَطَراً زَوَّجْنَاكَهَا لِكَيْ لا يَكُونَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌ فِي أَزْوَاجِ أَدْعِيَائِهِمْ إِذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَراً وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولاً} [الأحزاب:37] .

فأعلن الله الأمر على الملأ، وتولى إنكاح زينب، وكافأ الله تعالى زينب على طاعتها لربها ورسوله بالموافقة على الزواج من زيد، وهو الذي كان مولى للرسول صلي الله عليه وسلم، وهي العربية القرشية، وأبطل الله ما كانوا يحرمونه من زواج مطلقة المتبني، وفي هذا إبطال للتبني وإلغاء له من جميع الوجوه.

--------------------------------------------

"1" انظر الرواية في ذلك عند ابن جرير "22/13" من رواية علي بن الحسين، وهي الرواية التي

رجحها وأخذ بمعناها ابن كثير في تفسيره "3/458"، ولا أرى أنه يصح غيرها، والله أعلم.
গ- জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.)-এর ঘটনা।

এটি সুবিদিত যে, জয়নব (রা.) জায়েদ ইবনে হারিসা (রা.)-এর স্ত্রী ছিলেন, যাঁকে নবী (সা.) দত্তক গ্রহণ করেছিলেন; অবশেষে আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে দত্তক প্রথা নিষিদ্ধ করেন: "...এবং তোমাদের দত্তক পুত্রদের তিনি তোমাদের প্রকৃত পুত্র করেননি; এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আর আল্লাহ সত্য কথা বলেন এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। তোমরা তাদের তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো, আল্লাহর কাছে এটাই অধিক ন্যায়সঙ্গত।" [আল-আহজাব: ৪-৫]।

অতঃপর জায়েদ (রা.)-এর নিকট জয়নবের সাথে দাম্পত্য জীবন সুখকর মনে হয়নি, ফলে তিনি তাঁকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন এবং এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে পরামর্শ করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে স্ত্রী ধরে রাখার পরামর্শ দেন, যদিও নবী (সা.) জানতেন যে জায়েদ তাঁকে তালাক দেবেন এবং তিনি (জয়নব) নবীজির স্ত্রী হবেন। বিষয়টি নবী (সা.)-এর অন্তরে অত্যন্ত ভারী অনুভূত হচ্ছিল, কারণ জায়েদ তাঁর পুত্র হিসেবে অভিহিত হতেন; ফলে মানুষ তাঁর সম্পর্কে বলবে যে তিনি তাঁর পুত্রের স্ত্রীকে বিবাহ করেছেন। তিনি এ বিষয়ে মানুষের সমালোচনার আশঙ্কা করছিলেন। তবে মহান আল্লাহ, যিনি সুগভীর প্রজ্ঞা ও মহান রহমতের কারণে যা ইচ্ছা করেন, তিনি নবীজিকে সেটি বলতে বাধ্য করেন এবং এ প্রসঙ্গে কিয়ামত পর্যন্ত তিলাওয়াতযোগ্য কুরআন অবতীর্ণ করেন যাতে নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলেই তা জানতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "স্মরণ করুন, আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যখন আপনি তাকে বলছিলেন, 'তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছে রেখে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো', আর আপনি আপনার অন্তরে যা গোপন করছিলেন তা আল্লাহ প্রকাশ করে দেবেন। আর আপনি মানুষকে ভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহকেই ভয় করা আপনার জন্য অধিকতর সমীচীন। অতঃপর জায়েদ যখন তার সাথে প্রয়োজন শেষ করল (তালাক দিল), তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম, যাতে মুমিনদের জন্য তাদের দত্তক পুত্রদের স্ত্রীদের বিবাহে কোনো সমস্যা না থাকে, যখন তারা তাদের থেকে প্রয়োজন শেষ করে। আর আল্লাহর আদেশ কার্যকর হয়েই থাকে।" [আল-আহজাব: ৩৭]।

অতঃপর আল্লাহ জনসমক্ষে বিষয়টি ঘোষণা করলেন এবং জয়নবের বিবাহের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। আল্লাহ তাআলা জয়নবকে তাঁর রব ও রাসূলের আনুগত্য করার এবং জায়েদ—যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুক্তদাস (مولى) ছিলেন—এর সাথে বিবাহে সম্মত হওয়ার পুরস্কার প্রদান করলেন; অথচ তিনি (জয়নব) ছিলেন কুরাইশ বংশীয় সম্ভ্রান্ত আরব নারী। আর আল্লাহ সেই নিয়ম বাতিল করে দিলেন যা তারা (জাহিলি যুগে) দত্তক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিবাহের ক্ষেত্রে হারাম মনে করত। এর মাধ্যমে দত্তক প্রথাকে সব দিক থেকে বাতিল ও সমূলে বিলুপ্ত করা হলো।

--------------------------------------------

"১" এ সংক্রান্ত বর্ণনা (رواية)-টি ইবনে জারির-এর গ্রন্থে (২২/১৩) আলী ইবনে হুসাইন-এর বর্ণনা (رواية) থেকে দেখুন। এটিই সেই বর্ণনা (رواية) যাকে

ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে (৩/৪৫৮) অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং এর অর্থ গ্রহণ করেছেন। আমি মনে করি না যে এটি ছাড়া অন্য কোনো বর্ণনা সঠিক বা সহিহ (صحيح) হওয়া সম্ভব, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
لهذا قال أنس رضي الله عنه، وكذلك عائشة رضي الله عنها: "لو كان رسول اللهصلي الله عليه وسلم كاتماً شيئاً لكتم هذه الآية {وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ} "1"

فهل يمكن أن يقول قائل إن الرسول صلي الله عليه وسلم هو الذي كشف هنا عما يعتمل في نفسه من المعاني والتخوفات، التي كان يتخوفها صلي الله عليه وسلم.

رابعاً: أن القرآن الكريم حوى علوماً وأخباراً لا يمكن للنبي صلي الله عليه وسلم أن يأتي بمثلها القرآن كلام الله تعالى المعجز، والذي تحدى الله به الإنس والجن. قال تعالى: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْأِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً} [الإسراء:88] .

فقد حوى القرآن دلائل صدقه، وصدق من جاء به، وتكفل الله بإظهار ذلك على مر الزمان وكر العصور والدهور. قال تعالى: {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ} [فصلت:54] .

وهذه الرؤية هي من الله تعالى، بمعنى أن الشيء يكون أمام الإنسان، ولا تنفتح عينيه عليه، فمن تفضل الله عليه كرماً منه ولطفاً رأى ببصر وبصيرة، ومن لم يتكرم عليه رأى ببصر بدون بصيرة.

وبين الله تعالى لنا أن ذلك لأجل أن يتضح لهم {أَنَّهُ الْحَقُّ} ، أي القرآن في كلام أكثر المفسرين. "2"

--------------------------------------------

"1" أخرجه. خ. في التوحيد رقم"7420"، انظره مع الفتح"13/403"،م. في الإيمان رقم"288"،"1/160".

"2" انظر: تفسير ابن كثير "4/106"، روح المعاني للألوسي "25/6".
এই কারণেই আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং তদ্রূপ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: "যদি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো কিছু গোপনকারী হতেন, তবে তিনি অবশ্যই এই আয়াতটি গোপন করতেন: {আর তুমি তোমার অন্তরে যা গোপন করছিলে আল্লাহ তা প্রকাশ করে দিচ্ছেন; তুমি লোকভয় করছিলে, অথচ আল্লাহকেই ভয় করা তোমার জন্য অধিকতর সংগত।}" "১"

তবে কি কোনো বক্তা এ কথা বলতে পারে যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই এখানে তাঁর অন্তরে উদিত হওয়া সেই সকল অর্থ ও আশঙ্কাগুলো প্রকাশ করেছেন, যা নিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শঙ্কিত ছিলেন?

চতুর্থত: আল-কুরআনুল কারীম এমন জ্ঞান ও সংবাদসমূহ ধারণ করে আছে, যার অনুরূপ কিছু নিয়ে আসা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষে সম্ভব নয়। কুরআন মহান আল্লাহর মুজিজাপূর্ণ বাণী, যার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষ ও জিন জাতিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।} [আল-ইসরা: ৮৮]।

বস্তুত কুরআন তার নিজের সত্যতা এবং যিনি এটি নিয়ে এসেছেন তাঁর সত্যতার প্রমাণাদি ধারণ করে আছে। আর সময়ের বিবর্তন ও যুগ-যুগান্তরের পরিক্রমায় আল্লাহ তা প্রকাশ করার জিম্মাদারি নিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি অচিরেই তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলি দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে দেখাবো, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে এটিই সত্য। আপনার প্রতিপালকের ব্যাপারে কি এটি যথেষ্ট নয় যে, তিনি সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী?} [ফুসসিলাত: ৫৪]।

আর এই দর্শন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে; অর্থাৎ বিষয়টি মানুষের সামনে থাকা সত্ত্বেও তার চোখ সেদিকে খোলে না। অতঃপর আল্লাহ যার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ও করুণাবশত দান করেন, সে চর্মচক্ষু ও অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে তা দেখতে পায়। আর যার প্রতি তিনি অনুগ্রহ করেন না, সে অন্তর্দৃষ্টিহীন হয়ে কেবল চর্মচক্ষু দিয়েই দেখে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নিকট স্পষ্ট করেছেন যে, এটি এজন্যই যাতে তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে {তা সত্য}, অর্থাৎ অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এখানে কুরআনকে বোঝানো হয়েছে। "২"

--------------------------------------------

"১" এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) বুখারি, তাওহিদ অধ্যায়, হাদিস নং ৭৪২০; ফাতহুল বারী দ্রষ্টব্য ১৩/৪০৩। মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, হাদিস নং ২৮৮, ১/১৬০।

"২" দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির ৪/১০৬, রুহুল মাআনি লিল আলূসি ২৫/৬।
(খণ্ড: ১) দাহদু দাওয়াল মুস্তাশরিকীন আননাল কুরআন মিন ইনদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬৬)
فمعنى هذه الآية أن الله سيطلع الناس في كل زمان على دلائل وبراهين صدق رسوله، في أن القرآن حق من عند الله، فيؤمن ويسلم من أراد الله هدايته، وتقوم الحجة على من عمي عنها، لأن هذه هي الغاية من بعث الرسل، وإنزال الكتب، وإظهار المعجزات، سواء الحسية أو العلمية أو البلاغية.

قال تعالى: {إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هَذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِي حَرَّمَهَا وَلَهُ كُلُّ شَيْءٍ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ، وَأَنْ أَتْلُوَ الْقُرْآنَ فَمَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَقُلْ إِنَّمَا أَنَا مِنَ الْمُنْذِرِينَ ، وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ سَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ فَتَعْرِفُونَهَا وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ} . [النمل [91 -92] .

روى الطبري عن مجاهد أنه قال في قوله تعالى: {وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ سَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ …} قال: "في أنفسكم والسماء والأرض والرزق"."1"

وقال ابن كثير:" أي الحمد لله الذي لا يعذب أحداً إلا بعد قيام الحجة عليه والإنذار إليه، لهذا قال تعالى {سَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ فَتَعْرِفُونَهَا} ، كما قال تعالى: {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ} "2"

وقال شيخ الإسلام بعد أن بين أن الله تعالى يدل عباده بما يسمعونه ويبصرونه، فالسمع يسمع به العباد آيات الله وبراهينه المتلوة المنزلة على أنبيائه، وفيها دلالات واضحة على صدق رسله، أنهم رسله تعالى.

أما البصر فهو: الطريق العياني، فهو أن يرى العباد من الآيات الأفقية والنفسية، ما يبين لهم أن الوحي الذي بلغته الرسل عن الله حق، كما قال تعالى {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ} [فصلت: [54] ."3"

--------------------------------------------

"1" تفسير الطبري "20/18".

"2" انظر: تفسير ابن كثير "3/380".

"3" مجموع الفتاوى "14/189".
এই আয়াতের অর্থ হলো, আল্লাহ প্রতিটি যুগে মানুষের সামনে তাঁর রাসূলের সত্যতার নিদর্শন ও প্রমাণাদি প্রকাশ করবেন, যেন প্রমাণিত হয় যে কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্য। ফলে যার হিদায়াত আল্লাহ চান সে ঈমান আনবে ও আত্মসমর্পণ করবে। আর যে ব্যক্তি এ থেকে অন্ধ থাকবে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হবে। কারণ রাসূল প্রেরণ, কিতাব অবতীর্ণ এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, বৈজ্ঞানিক কিংবা আলঙ্কারিক—উভয় প্রকার মুজিজা প্রদর্শনের মূল উদ্দেশ্য এটাই।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমাকে তো কেবল এই জনপদের রবের ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যিনি একে সম্মানিত করেছেন। আর সব কিছু তাঁরই। আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হই। আর যেন আমি কুরআন তিলাওয়াত করি। অতঃপর যে হিদায়াত লাভ করবে, সে নিজের কল্যাণের জন্যই হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে; আর যে পথভ্রষ্ট হবে তাকে বলে দিন, আমি তো কেবল সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর; শীঘ্রই তিনি তোমাদের তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখাবেন এবং তোমরা তা চিনতে পারবে। আর তোমরা যা করো সে সম্পর্কে তোমার রব গাফেল নন।} [আন-নামল: ৯১-৯২]।

আত-তাবারী মুজাহিদ থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, তিনি আল্লাহর বাণী: {আর বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর; শীঘ্রই তিনি তোমাদের তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখাবেন …} সম্পর্কে বলেন: "তোমাদের নিজেদের মাঝে, আসমানে, জমিনে এবং রিজিকের মাঝে।"

ইবনে কাসীর বলেন: "অর্থাৎ সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেন না যতক্ষণ না তার বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাকে সতর্ক করা হয়। এই জন্যই আল্লাহ তাআলা বলেছেন {শীঘ্রই তিনি তোমাদের তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখাবেন এবং তোমরা তা চিনতে পারবে}, যেমনটি আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেছেন: {আমি অচিরেই তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাবো বিশ্বজগতে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে, যাতে তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটিই সত্য}।"

শাইখুল ইসলাম ব্যাখ্যা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের যা তারা শোনে এবং যা দেখে তার মাধ্যমে পথপ্রদর্শন করেন। শ্রবণের মাধ্যমে বান্দারা আল্লাহর আয়াতসমূহ এবং তাঁর নবীদের ওপর অবতীর্ণ পঠিত প্রমাণাদি শুনতে পায়, যাতে তাঁর প্রেরিত রাসূলদের সত্যতার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে তারা মহান আল্লাহরই রাসূল।

আর দৃষ্টি হলো চাক্ষুষ পথ। এর মাধ্যমে বান্দারা বিশ্বজগতের এবং নিজেদের মধ্যকার নিদর্শনসমূহ দেখতে পায়, যা তাদের নিকট স্পষ্ট করে দেয় যে, রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যে ওহি পৌঁছে দিয়েছেন তা সত্য। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন {আমি অচিরেই তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাবো বিশ্বজগতে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে, যাতে তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটিই সত্য। আপনার রবের ব্যাপারে কি এটি যথেষ্ট নয় যে, তিনি সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী?} [ফুসসিলাত: ৫৩]।

--------------------------------------------

"১" তাফসীর আত-তাবারী "২০/১৮"।

"২" দেখুন: তাফসীর ইবনে কাসীর "৩/৩৮০"।

"৩" মাজমুউল ফাতাওয়া "১৪/১৮৯"।