(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: -)
داعية التوحيد محمد بن عبد الوهاب   (عبد العزيز سيد الأهل)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: داعية التوحيد محمد بن عبد الوهاب

المؤلف: عبد العزيز شلبي سيد الأهل (ت 1402هـ)

الناشر: دار العلم للملايين، بيروت، لبنان

الطبعة: الثالثة، تشرين الثاني (نوفمبر) 1986م

عدد الصفحات: 150

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাওহীদের আহবায়ক মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব   (আব্দুল আজিজ সাইয়িদ আল-আহল)

বিভাগ: জীবনী ও ইতিহাস


গ্রন্থ: তাওহীদের আহবায়ক মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব

লেখক: আব্দুল আজিজ শালবি সাইয়িদ আল-আহল (মৃ. ১৪০২ হি.)

প্রকাশক: দারুল ইলম লিল-মালাঈন، বৈরুত، লেবানন

সংস্করণ: তৃতীয়، নভেম্বর (নভেম্বর) ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

 

داعية التوحيد محمد بن عبد الوهاب

تأليف: عبد العزيز سيد الأهل

بسم الله الرحمن الرحيم

{قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي شَكٍّ مِنْ دِينِي فَلا أَعْبُدُ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ أَعْبُدُ اللَّهَ الَّذِي يَتَوَفَّاكُمْ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَأَنْ أَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفاً وَلا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَلا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَنْفَعُكَ وَلا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذاً مِنَ الظَّالِمِينَ وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلا كَاشِفَ لَهُ إِلَاّ هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} [يونس الآيات: 104-107] .
প্রারম্ভিকা

 

তাওহীদের আহ্বায়ক মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব

রচনায়: আব্দুল আজীজ সাইয়্যেদ আল-আহল

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

{বলুন: হে মানুষেরা! তোমরা যদি আমার দ্বীনের ব্যাপারে কোনো সন্দেহে থাকো, তবে (জেনে রেখো) তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করো আমি তাদের ইবাদত করি না; বরং আমি সেই আল্লাহর ইবাদত করি যিনি তোমাদের মৃত্যু দান করেন। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হই। এবং আরও (আদিষ্ট হয়েছি) যে, তুমি দ্বীনের জন্য নিজেকে একনিষ্ঠ করো এবং কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডেকো না যে তোমার কোনো উপকার করতে পারে না এবং কোনো ক্ষতিও করতে পারে না। যদি তুমি তা করো, তবে অবশ্যই তুমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো কষ্টের স্পর্শ দেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূরকারী কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কোনো কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন। আর তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} [ইউনুস আয়াত: ১০৪-১০৭] .
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৭)
تقديم

كانت ثورة الإمام أحمد على ردة المعتزلة والجهمية نابعة من صفوف الأمة ضد ما انحرفت نحوه الدولة ورجالها من الأفكار التي تحطم الدين وتفرق الصفوف. ولم تكن ضد نظام الدولة ولا أمنها ولا مبايعة خلفائها.

وقد كان جديراً برجال الحكم أن يؤيدوها ويعتنقوا مبادءها لأنها كانت في عونهم على النجاة من التفكك والانحدار، غير أنهم عادوها وأخذوا بالتنكيل بها وأسرفوا غاية الإسراف.

ومهما يكن الخليفة المتوكل قد بدأ بإخماد الفتنة وعمل على إحياء السنة فإن الآراء التي تسربت إلى فكر الأمة لم يصبح من اليسير طردها ولا التخفيف من وطأتها، بل إنها لم تلبث أن أصبحت من أفلاذ علوم المسلمين التي اشتغلت بها مدارس علم الكلام.

وسارت الأفكار خليطاً من الصحيح والفاسد والنقي والكدر على مدى أزمنة طويلة فانطبع الناس عليها وصارت في جملتها كأنها دينهم الذي يدينون به. ولم يكن في قدرة الجهل والتأخر أن تعين العقول على التنقية لتسلم المعرفة، فمضى الأمر على سجيته حتى كان القرن السابع الهجري الذي نضجت فيه مدرسة حران.
উপক্রমনিকা

মুতাজিলা ও জাহমিয়্যাহদের বিচ্যুতির বিরুদ্ধে ইমাম আহমাদ রহ.-এর বিপ্লব ছিল উম্মাহর কাতার থেকে উৎসারিত একটি জাগরণ, যা রাষ্ট্র ও তার কর্ণধাররা যে সকল ধর্ম-বিধ্বংসী ও অনৈক্য সৃষ্টিকারী চিন্তাধারার দিকে ঝুঁকে পড়েছিল, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল। এটি রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা, তার নিরাপত্তা কিংবা খলিফাদের বায়আতের বিরুদ্ধে ছিল না।

শাসনকর্তাদের পক্ষে একে সমর্থন করা এবং এর আদর্শ গ্রহণ করা যথাযথ ছিল; কারণ এটি তাদের ভাঙন ও অধঃপতন থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করত। কিন্তু তারা এর বিরোধিতা করেছিল এবং এর অনুসারীদের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়েছিল ও সীমালঙ্ঘন করেছিল।

খলিফা মুতাওয়াক্কিল ফিতনা দমন এবং সুন্নাহর পুনরুজ্জীবনের কাজ শুরু করলেও উম্মাহর চিন্তজগতে যে সকল মতবাদ অনুপ্রবেশ করেছিল, তা দূর করা বা তার প্রভাব কমানো সহজসাধ্য ছিল না। বরং তা অতি শীঘ্রই মুসলিম জ্ঞানবিজ্ঞানের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছিল, যা নিয়ে ইলমুল কালামের পাঠশালাগুলো ব্যস্ত থাকত।

দীর্ঘকাল ধরে সঠিক ও ভুল এবং স্বচ্ছ ও আবিল চিন্তাধারার এক মিশ্রিত স্রোত প্রবাহিত হতে থাকে, যার ফলে মানুষ এতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং সামগ্রিকভাবে এটিই তাদের অনুসৃত দ্বীন হিসেবে গণ্য হতে থাকে। অজ্ঞতা ও অনগ্রসরতার কারণে জ্ঞানকে পরিশুদ্ধ করার জন্য মন-মগজকে সহায়তা করা সম্ভব ছিল না। ফলে সপ্তম হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকে, যখন হাররান কেন্দ্রিক চিন্তাধারা পূর্ণতা লাভ করে।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৮)
بسبب التفرق والانقسام العدائي كان خير معوان لحب التجمع مهما حدث من التردد الذي كان الدافع إليه حب الحياة وعزة السلطان، وحيث يكون المجال مفتوحاً لإمكان إقامة منظمة جديدة تلم شمل القبائل تحت عقائد كانت تعرفها وتؤمن بها وليست غريبة عنها فيكون الأمر أقل مشقة وأكثر قبولاً.

أما أن ينسب إلى الحضارة وأدواتها أنها ربما قامت عوائق في طريق الدعوات الدينية والاجتماعية السليمة -ومن أجل ذلك تفاداها ابن عبد الوهاب- فإنه غير صحيح، إذ ربما كانت هذه الحضارة أيسر تسخيراً في التوصيل السريع والنشر العاجل أكثر مما تفعله شواسع الأمكنة وجفوة الطباع في البوادي التي لم تدخلها الحضارات، ولكن لم يوجد من يجسر على التجريب.

وهذا كله لو افترضت نجد بادية كلها، ولكنَّ نجداً كانت ما بين حاضرة كثيرة القرى وبادية ذات عيش رتيب، وكان عيش الحضر رغداً وأدوات الحضارة وألوانها يأتي بها تجارهم من بلاد الترك ومصر والشام وفارس واليمن والهند، وعند أهلها صناعات الأسلحة والحياكة وصياغة المعادن، وكانوا على رفاهية في الطعام والشراب وفي عناية باقتناء الجواهر واختيار الثياب وأثاث البيوت. وأما البدو فكانوا في غنى بأنعامهم وخيامهم وكان لنسائهم شركة مع الرجال في أمور المعيشة وتنظيم الخيام.

وتجارات نجد كان يجلبها أهل نجد لا الغرباء عنهم وهم قوم ذوو طاقة عجيبة على مزاولة الأسفار والأعمال، وقلما يوجد فيهم من هو راكن إلى الكسل والراحة، ولا يستبعد الرحالة السفار منهم أي بلد ولو كان الصين، كما لا يستطيل أي زمن ولو كان دهراً طويلاً. ثم لا يؤوب إلى موطنه في نجد إلا بعد أن يقضي حاجاته من الارتحال.
শত্রুভাবাপন্ন অনৈক্য ও বিভক্তির কারণে তা ঐক্যের আকাঙ্ক্ষার জন্য সর্বোত্তম সহায়ক হয়েছিল, যদিও জীবনপ্রীতি ও ক্ষমতার মোহের তাড়নায় কিছুটা দ্বিধাবোধ বিদ্যমান ছিল। যেখানে গোত্রগুলোকে এমন কিছু আকিদার অধীনে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে নতুন একটি সংগঠন গড়ে তোলার সুযোগ উন্মুক্ত হয় যা তারা জানত এবং যাতে তারা বিশ্বাস করত এবং যা তাদের কাছে অপরিচিত ছিল না, সেখানে বিষয়টি অপেক্ষাকৃত কম শ্রমসাধ্য ও অধিক গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

সভ্যতা ও তার উপকরণগুলো সঠিক ধর্মীয় ও সামাজিক দাওয়াতের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে—এবং এই কারণে ইবন আব্দুল ওয়াহহাব তা এড়িয়ে চলেছেন—এমন দাবি করা সঠিক নয়। কারণ সম্ভবত এই সভ্যতা দ্রুত যোগাযোগ ও প্রচারের ক্ষেত্রে মরুভূমির বিশাল দূরত্ব এবং সভ্যতাহীন মরুচারীদের রূঢ় স্বভাবের চেয়েও অধিক সহায়ক হতে পারত, কিন্তু এই পরীক্ষা চালানোর সাহস করার মতো কাউকেও পাওয়া যায়নি।

এই সবকিছুই তখন প্রযোজ্য হতো যদি নজদকে সম্পূর্ণ মরুভূমি ধরে নেওয়া হতো; কিন্তু নজদ ছিল বহু গ্রামবিশিষ্ট জনপদ এবং প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার মরুপ্রান্তরের সমন্বিত রূপ। জনপদবাসীদের জীবন ছিল স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং সভ্যতার বিভিন্ন উপকরণ ও বিচিত্র সব সামগ্রী তাদের বণিকরা তুরস্ক, মিসর, শাম, পারস্য, ইয়ামেন ও ভারত থেকে নিয়ে আসত। সেখানকার অধিবাসীদের মাঝে অস্ত্রশিল্প, বয়নশিল্প ও ধাতুশিল্প বিদ্যমান ছিল। তারা খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে বিলাসিতায় অভ্যস্ত ছিল এবং মণি-মুক্তা সংগ্রহ, পোশাক নির্বাচন ও ঘরের আসবাবপত্রের বিষয়ে যত্নশীল ছিল। আর মরুবাসীদের কথা বলতে গেলে, তারা তাদের গবাদি পশু ও তাবু নিয়েই স্বাবলম্বী ছিল এবং জীবনযাত্রার নানা বিষয়ে ও তাবু গোছানোর কাজে পুরুষদের সাথে নারীদেরও অংশীদারিত্ব ছিল।

নজদের ব্যবসায়িক পণ্য নজদবাসীরাই আনত, বহিরাগতরা নয়। তারা ছিল ভ্রমণ ও কর্মতৎপরতায় এক অদ্ভুত শক্তিসম্পন্ন জাতি। তাদের মধ্যে অলসতা ও আয়েশে মগ্ন লোক খুব কমই দেখা যেত। তাদের পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুরা যেকোনো দেশে পৌঁছাতে কুণ্ঠাবোধ করত না, এমনকি তা চীন দেশ হলেও; তেমনি তারা দীর্ঘ সময়কেও দীর্ঘ মনে করত না, এমনকি তা সুদীর্ঘকাল হলেও। অতঃপর তারা তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য পূরণ না করে নজদে নিজ বাসভূমে ফিরে আসত না।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৯)
ولما كانت نجد في قلب الجزيرة العربية وكانت محوطة من كل جهاتها بالقبائل والحواضر المستقلة فقد كلف نجدا في انتصارها على هذه النطاقات المحيطة بها تضحيات كثيرة غالية في الأموال والأرواح. فلم تكن الدعوة أسهل وأيسر بها مما لو كانت في غيرها كما ظن بعض المؤرخين، ولكن هذا التوسط في الجزيرة مكّن نجداً من التحرك القوي للانتصار، إذ لم يكن لهذه الجهات المبعثرة حولها أن تتألف منها وحدة تهاجم نجدا لتحاجزها بعضها عن بعض بهضاب نجد، ولولا الحرب الوهابية التي جاءت من خارج الجزيرة بعدد وعديد لما خمد للوهابية حينا سراج.

وفي المراحل الأولى لغزو القبائل والبلاد كان وجه الدعوة كله وهابياً سوى أن اليد كانت سعودية، فظهر الجد في الدعوة الذي سماه بعضهم عنفاً وسماه الجهلاء بحقائق الدين بدعة. وكان مبعث هذا الجد أو العنف أن الدعوة دينية في أساسها والسياسة تسايرها وتسندها فلم يكن هناك مجال لمراعاة المشاعر المنحرفة مهما كانت هذه المشاعر قد أصبحت من الأمور المقدسة عند أصحابها.

وكانت الوهابية ذات نظرة عامة فلم تفترض المسلمين منقسمين بين الفرق الكبرى والمذاهب التي تتوزع كل فرقة من هذه الفرق، بل افترضت المسلمين وحدة واحدة، ولم يكن يصح أن تتهم الوهابية بأنها كانت ضد الإسلام ولا ضد رسوله العظيم أو آل بيته الأكرمين.

فلما كانت المراحل الأخيرة إبان الحرب العظمى كانت الوهابية قد لبست أثواباً سعودية من قمة رأسها إلى أخمص قدميها وكانت السياسة والدين قد اصطحبا في دولة وسارا معا يراعيان بعض الرفق الذي تعودته مشاعر الناس، وما دامت الأنظمة والقوانين تسير طبقاً لأنظمة الملة الإسلامية وقوانينها فليس من بأس بذلك الرفق بعد أن عرف العالم الإسلامي كله أن الوهابية فيما فعلت لم تكن تريد غير إرجاع الأمة عن الردة التي
নজদ আরব উপদ্বীপের হৃদপিণ্ডে অবস্থিত হওয়ায় এবং এর চারপাশ স্বাধীন গোত্র ও জনপদ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকায়, এই পরিবেষ্টনকারী অঞ্চলগুলোর ওপর বিজয় লাভে নজদকে জান ও মালের অনেক মূল্যবান কোরবানি দিতে হয়েছিল। কিছু ঐতিহাসিকের ধারণা অনুযায়ী এই দাওয়াত অন্য স্থানের তুলনায় সেখানে সহজতর ও সুগম ছিল না। বরং উপদ্বীপের এই কেন্দ্রীয় অবস্থান নজদকে বিজয়ের জন্য শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম করেছিল; কারণ নজদের মালভূমির কারণে চারপাশের এই বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নজদকে আক্রমণ করা সম্ভব ছিল না। যদি উপদ্বীপের বাইরে থেকে আসা সেই ওয়াহাবি যুদ্ধ বিপুল সৈন্য ও সরঞ্জামসহ না আসত, তবে ওয়াহাবিদের প্রদীপ কখনোই স্তিমিত হতো না।

গোত্র ও দেশ জয়ের প্রাথমিক পর্যায়গুলোতে দাওয়াতের রূপটি সম্পূর্ণরূপে ওয়াহাবি ছিল, কেবল এর হাত ছিল সৌদি। ফলে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এমন এক দৃঢ়তা প্রকাশ পেয়েছিল যাকে কেউ কেউ উগ্রতা বলে অভিহিত করেছেন এবং দ্বীনের হাকিকত সম্পর্কে অজ্ঞরা একে বিদআত বলেছেন। এই দৃঢ়তা বা উগ্রতার উৎস ছিল এই যে, দাওয়াতটি মূলে ছিল ধর্মীয় এবং রাজনীতি এর অনুগামী ও সহায়ক ছিল। তাই পথভ্রষ্ট অনুভূতিগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার কোনো সুযোগ সেখানে ছিল না, যদিও সেই অনুভূতিগুলো তাদের অনুসারীদের কাছে পবিত্র বিষয় হিসেবে গণ্য হতো।

ওয়াহাবিদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ব্যাপক; তারা মুসলমানদেরকে বড় বড় ফেরকা বা বিভিন্ন মাযহাবে বিভক্ত হিসেবে কল্পনা করেনি, বরং মুসলমানদের একটি ঐক্যবদ্ধ সত্তা হিসেবে বিবেচনা করেছিল। ওয়াহাবিদের বিরুদ্ধে ইসলাম, মহান রাসূল কিংবা তাঁর সম্মানিত আহলে বাইতের বিরোধিতার যে অভিযোগ আনা হয়, তা সঠিক ছিল না।

মহাযুদ্ধের সময় শেষ পর্যায়গুলোতে ওয়াহাবি মতাদর্শ তার মাথার ওপর থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ সৌদি পোশাক পরিধান করেছিল এবং একটি রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনীতি ও ধর্ম একত্রে মিলেমিশে পথ চলতে শুরু করেছিল। তারা মানুষের অভ্যস্ত অনুভূতিগুলোর প্রতি কিছুটা নম্রতা প্রদর্শন করছিল। যতক্ষণ পর্যন্ত বিধিবিধান ও আইনকানুন ইসলামি মিল্লাতের পদ্ধতি ও আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল, ততক্ষণ সেই নম্রতায় কোনো ক্ষতি ছিল না; বিশেষ করে যখন সমগ্র মুসলিম বিশ্ব জেনে গিয়েছিল যে, ওয়াহাবিরা যা কিছু করেছে তার উদ্দেশ্য উম্মাহকে সেই ধর্মত্যাগ থেকে ফিরিয়ে আনা ছাড়া আর কিছু ছিল না যা
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১০)
خرجت إليها عن التوحيد الصافي.

ومن قبل الوهابية وقف عمر بن عبد العزيز رحمه الله في عزم وشدة ضد كل عمران يراد به الزينة والأبهة دون الحصب والإنتاج، وكان العدل عنده وإسعاد الناس أولى من هندسة المدن وتنظيمها وترميم المساجد وتذهيبها، فلم يجدد كسوة الكعبة حين بليت وباع سلاسل الذهب من مسجد دمشق وعوضها صفراً وحديداً، وكان يريد طمس كل زينة في المسجد، حتى عرف أنه صار شوكة في عين الروم فتركه باقياً بزينته وغناه.

وكذلك أرادت الوهابية والسعودية، ولكن الأمر حين صار إلى السياسة فعلت كما فعل عمر، وكان حين دخل سعود الأكبر ابن عبد العزيز حاجا إلى مكة لأول مرة في عام 1227 هـ دخل إليها حاملا كسوة الكعبة من العباء الثمين الذي يغزل من الصوف ويجلب من الحساء.

ومحمد علي وتركيا معا قد جنيا الشوك من جراء الحرب الوهابية، فَقَدْ فَقَدَ محمد علي من جنده وماله كثيراً، وأوقع مصر في فقر وضنك وخراب -وسنأتي على وصفه في الباب الأخير بالكتاب من كلام المؤرخ عبد الرحمن الجبرتي معاصر هذه الحروب- ولم يجد محمد علي ما كان يأمله من ثروة في بلاد العرب في الجنوب الذي كان انصرف إليه حينا، ثم لم تشفع له انتصاراته لدى الباب العالي، بل تعقدت المشاكل بينهما، وبان أن الأتراك أوقعوا والي مصر في مشكلة لا تحل، ولم تكن في صالحهم أو صالحه سواء حلت أو تعقدت، لأنها أعضل من أن تسهل أو تهون. ومن ناحية الفكر فقد صار الجدل في حركة الإصلاح على كفتي
বিশুদ্ধ তাওহীদের আদর্শ থেকেই আমি এর দিকে ধাবিত হয়েছি।

ওয়াহাবীপন্থার আগে উমর ইবন আব্দুল আজীজ (রাহিমাহুল্লাহ) সেই সব নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও কঠোরভাবে দাঁড়িয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল কেবল সৌন্দর্য ও জাঁকজমক প্রদর্শন, কোনো উৎপাদনশীলতা বা উপকারিতা নয়। তাঁর কাছে ইনসাফ কায়েম করা এবং মানুষকে সুখী করা শহরগুলোর প্রকৌশলবিদ্যা ও সুবিন্যস্তকরণ এবং মসজিদগুলোর সংস্কার ও স্বর্ণখচিত করার চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য ছিল। তাই কাবার গিলাফ যখন পুরনো হয়ে গিয়েছিল, তিনি তা নতুন করে তৈরি করেননি এবং দামেস্কের মসজিদের স্বর্ণের শিকলগুলো বিক্রি করে দিয়ে তার বদলে পিত্তল ও লোহার শিকল লাগিয়েছিলেন। তিনি মসজিদের প্রতিটি জাঁকজমক মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন, যতক্ষণ না তিনি জানতে পারলেন যে এটি রোমানদের চোখে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন তিনি সেটিকে তার সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্যসহ রেখে দিলেন।

তদ্রূপ ওয়াহাবীপন্থা ও সৌদি রাষ্ট্রও তা-ই চেয়েছিল, কিন্তু বিষয়টি যখন রাজনীতির পর্যায়ে পৌঁছাল, তারা উমরের মতোই কাজ করল। সৌদ আল-আকবার ইবন আব্দুল আজীজ যখন ১২২৭ হিজরিতে প্রথমবার হাজি হিসেবে মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তিনি কাবার গিলাফ হিসেবে আল-হাসা থেকে আনা পশম দিয়ে বোনা এক মূল্যবান চাদর বহন করে নিয়ে এসেছিলেন।

মুহাম্মদ আলী এবং তুরস্ক উভয়েই ওয়াহাবী যুদ্ধের ফলে কণ্টকাকীর্ণ ফল ভোগ করেছিল। মুহাম্মদ আলী তাঁর বহু সৈন্য ও অর্থ হারিয়েছিলেন এবং মিসরকে দারিদ্র্য, কষ্ট ও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন—আমরা এই যুদ্ধের সমসাময়িক ঐতিহাসিক আব্দুর রহমান আল-জাবারতির বর্ণনা থেকে বইটির শেষ অধ্যায়ে এর বিবরণ দেব—আর মুহাম্মদ আলী আরবের দক্ষিণ অঞ্চলে যে সম্পদের আশা করেছিলেন, তা পাননি, যেদিকে তিনি এক সময় মনোনিবেশ করেছিলেন। এরপর উচ্চ পরিষদের (বাবুল আলী) কাছে তাঁর বিজয়গুলো কোনো কাজে আসেনি, বরং তাদের মধ্যকার সমস্যাগুলো আরও জটিল হয়ে ওঠে। এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তুর্কিরা মিসরের ওয়ালিকে এমন এক অমীমাংসিত সমস্যায় ফেলে দিয়েছিল, যা সমাধান হোক বা জটিল হোক—কোনোটাই তাদের বা তাঁর পক্ষে ছিল না; কারণ এটি ছিল সহজ বা নগণ্য হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। আর চিন্তাগত দিক থেকে, সংস্কার আন্দোলনের বিতর্কটি দুই পাল্লায়...
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১১)
وعلى ضوء ساطع بنظر سليم وحجة راجحة سار بنو تيمية وخفقت في آخر مسيرتهم راية تقي الدين أحمد بن عبد الحليم الذي أفرغ جهده في التنقية والتصفية والتخريج، واعتزم في جد وصرامة أن يبعثر الركام المختلط ليكشف عن حقيقة الشريعة الصافية، فصرخ الناس في وجهه وأصلَوْهُ بنار عداوتهم. وكان حراس هذا الخليط المضطرب من رجال الحكم ورجال الدين، فأصلَوْهُ عداوتهم على سواء.

غير أن مبادئ الثورة التي أشعلها الإمام أحمد وصولة الحق في أصوات المدرسة الحرانية كانت ذات أثر بالغ فحثت قلوب البصراء على البحث والنظر حتى تتكشف حقيقة المبادئ الصافية التي جاء بها الإسلام أول ما جاء وآخر ما ترك. فلما كان محمد بن عبد الوهاب كانت النفوس على استعداد لقبول دعوته تحت ضوء السراج الذي أشعله الإمام أحمد وبنو تيمية، وعلى استعداد أيضاً لردها ومحاربتها رضوخاً للجبال المركومة فوق الرؤوس من الآراء والجهالات.

أما البصراء فقد قبلوا وأما المتلفعون بأردية الباطل فقد رفضوا، ولكن الدعوة وجدت سبيلها- برغم أعدائها ورافضيها -إلى المضي والنفوذ. وكذلك تم بها للحنابلة خط سليم من المنطق والعقل، كانت مقدمته أحمد بن حنبل وكان وسطه بني تيمية وكانت النتيجة محمد بن عبد الوهاب، في قضية مستقيمة لم تتعدد طرقها ولم تنعرج، بل سارت في طريق محكم قويم.

ومما صار علماً لدى الناس تسمية حركة الإصلاح التي قام بها ابن عبد الوهاب بالمذهب الوهابي وإطلاق الوهابية على المذهب وعلى الحروب التي شنت على أهله -ولا سيما حملات محمد علي خاصة- ومن الحق أن تطلق الوهابية على كل الحروب التي جرت في الجزيرة العربية وفي خارجها
এক উজ্জ্বল আলোয়, সুস্থ দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রবল যুক্তির সাথে বনু তাইমিয়্যাহ পথ চলেছিলেন এবং তাঁদের যাত্রার শেষ পর্যায়ে তাকিউদ্দীন আহমাদ ইবন আব্দুল হালিমের পতাকা সগৌরবে উড্ডীন হয়েছিল। তিনি বিশুদ্ধকরণ, পরিমার্জন ও মূল উৎস উদ্ঘাটনে স্বীয় প্রচেষ্টা নিংড়ে দিয়েছিলেন এবং অত্যন্ত গুরুত্ব ও কঠোরতার সাথে সংমিশ্রিত আবর্জনা সরিয়ে শরীয়তের বিশুদ্ধ স্বরূপ উন্মোচন করার সংকল্প করেছিলেন। ফলে মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে উচ্চবাচ্য শুরু করল এবং তাঁদের শত্রুতার আগুনে তাঁকে দগ্ধ করল। এই বিশৃঙ্খল সংমিশ্রণের রক্ষক ছিল শাসক শ্রেণি ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ, যারা সমভাবে তাঁর প্রতি শত্রুতা পোষণ করেছিল।

তবে ইমাম আহমাদ কর্তৃক প্রজ্জ্বলিত বিপ্লবের মূলনীতিসমূহ এবং হাররানী মাদ্রাসার কণ্ঠে সত্যের বিজয় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল। যা প্রজ্ঞাবানদের অন্তরকে অনুসন্ধান ও পর্যালোচনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল, যাতে ইসলামের সেই বিশুদ্ধ মূলনীতিসমূহের প্রকৃত রূপ উন্মোচিত হয় যা ইসলাম তার শুরুতে নিয়ে এসেছিল এবং যা তার শেষে রেখে গিয়েছে। যখন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাবের আবির্ভাব ঘটল, তখন মানুষের মন ইমাম আহমাদ ও বনু তাইমিয়্যাহ কর্তৃক প্রজ্জ্বলিত প্রদীপের আলোয় তাঁর দাওয়াত কবুল করার জন্য প্রস্তুত ছিল; আবার মাথার ওপর চেপে বসা বিভিন্ন মতবাদ ও অজ্ঞতার পাহাড়ের কাছে নতি স্বীকার করে তা প্রত্যাখ্যান ও বিরোধিতার জন্যও প্রস্তুত ছিল।

কিন্তু যারা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন তারা এটি গ্রহণ করল, আর যারা বাতিলের চাদর মুড়ি দিয়ে ছিল তারা এটি প্রত্যাখ্যান করল। তবে এই দাওয়াত তার শত্রু ও প্রত্যাখ্যানকারীদের সত্ত্বেও অগ্রসর হওয়ার ও প্রভাব বিস্তারের পথ খুঁজে নিল। এভাবেই হাম্বলিদের জন্য যুক্তি ও বিবেকের এক সুশৃঙ্খল ধারা পূর্ণতা পেল, যার সূচনা করেছিলেন আহমাদ ইবন হাম্বল, মধ্যভাগে ছিলেন বনু তাইমিয়্যাহ এবং এর চূড়ান্ত ফলাফল ছিলেন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব; এটি ছিল এক ঋজু বিষয় যার পথ বহুমাত্রিক ছিল না এবং যা কখনও আঁকাবাঁকা হয়নি, বরং এক মজবুত ও সঠিক পথে পরিচালিত হয়েছিল।

মানুষের মধ্যে যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে তা হলো, ইবন আব্দুল ওয়াহহাব পরিচালিত সংস্কার আন্দোলনকে ‘ওয়াহ্হাবী মাযহাব’ হিসেবে নামকরণ করা এবং এই মাযহাব ও এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধগুলোর ক্ষেত্রে—বিশেষ করে মুহাম্মাদ আলীর অভিযানসমূহের ক্ষেত্রে—‘ওয়াহাবিবাদ’ শব্দটির প্রয়োগ করা। প্রকৃতপক্ষে জাযীরাতুল আরব এবং এর বাইরে সংঘটিত এই সকল যুদ্ধের ক্ষেত্রেই ওয়াহাবিবাদ শব্দটি প্রয়োগ করা যথার্থ।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১২)
منذ بدأت دعوة الإصلاح إلى أن قامت الدولة السعودية الثالثة والقائمة الآن.

وإطلاق الوهابية كما أطلقت على حركة الإصلاح والحروب التي خاضتها كانت من الخصوم لا من الأصحاب، ولكنها مهما كانت تسمية بغيضة إلى نفوس أولئك المصلحين فإنه لقب يبدو في ذاته غير بغيض، إذ هو نسبة إلى الوهاب الذي هو اسم من أسماء الله الحسنى، ولعل إطلاقه -من غير إرادة الخصوم- كان بشرى انتصار المصلحين بما رزقهم الوهاب من نصر وتأييد.

والوهابية -كما سنظل ندعوها كذلك في كتابنا -لم تكن مذهبا جديدا في الإسلام ولا زائدا على مذهب أهل السنة، وإنما كانت حركة إصلاح ديني دعت إليها سيرة الحنابلة في ثورتهم على ردة المعتزلة والجهمية وفي تنقيتهم ركام الجهالة ومحاربة ما ابتدع في الإسلام من أفكار وطقوس.

وانصب غرض الإصلاح على تنقية العقيدة الإسلامية مما لحق بها من الشبهات فكرا وعملا والرجوع بها إلى أصلها كما كان يعرف السلف الصالح.

أما الفروع فقد أحيت المذهب الحنبلي لمواءمته للأصول، ولكنها وهي دعوة لم تبتدع فقد كانت غريبة على النفوس فكأنها كانت جديدة لم تعرف من قبل، لما غمر الناس من فساد الاعتقاد وانحراف الطباع ومناسك التعبد والتقرب. فلم يكن بد -وهي دعوة قديمة يتجدد إهابها- من أن يعتبرها صاحبها دعوة جديدة فيسلك بها الطريق التي تبدأ من أوله الدعوات حتى يضمن لها الفوز والثبات.

ولم تمس الدعوة جوهر الإسلام، إذ هو لا يقبل إصلاحا يمس جذوره، لأنه واسع حر، وفيه لكل من أراد أن يجد غنى ووفرة وحياة. والقوانين الخلقية والعادات التي أورثها الإسلام بنيه كانت دائما عوامل زاجرة قادرة على ردع الإنسان عن الإذعان لاندفاعات خاطئة.

وعناصر الثبات في هذه الزواجر في قدرتها أن تهيمن على الطباع والعادات
সংস্কার আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে বর্তমানের তৃতীয় সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত।

সংস্কার আন্দোলন এবং এর দ্বারা পরিচালিত যুদ্ধসমূহের ক্ষেত্রে 'ওয়াহাবিবাদ' শব্দটির প্রয়োগ প্রতিপক্ষদের পক্ষ থেকে ছিল, অনুসারীদের পক্ষ থেকে নয়। কিন্তু এই নামকরণ সেই সংস্কারকদের নিকট যতটাই অপ্রীতিকর হোক না কেন, এটি এমন একটি উপাধি যা আপন সত্তায় মন্দ নয়। কারণ এটি 'আল-ওয়াহহাব' এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের একটি। সম্ভবত প্রতিপক্ষের অভিপ্রায় ছাড়াই এই নামটির ব্যবহার ছিল সংস্কারকদের বিজয়ের এক সুসংবাদ, যা আল-ওয়াহহাব তাঁদেরকে সাহায্য ও সমর্থনের মাধ্যমে দান করেছেন।

ওয়াহাবিবাদ—যাকে আমরা আমাদের বইয়ে এভাবেই সম্বোধন করে যাব—ইসলামের কোনো নতুন মাযহাব ছিল না এবং আহলুস সুন্নাহর মাযহাবের অতিরিক্ত কিছুও ছিল না। বরং এটি ছিল একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন, যার ডাক দিয়েছিলেন হাম্বলিগণ তাঁদের ইতিহাসে মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে বিপ্লবের মাধ্যমে এবং অজ্ঞতার আবর্জনা পরিষ্কার করার মাধ্যমে ও ইসলামে উদ্ভাবিত নতুন চিন্তা ও প্রথার বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাধ্যমে।

এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামি আকিদাকে চিন্তা ও কর্মে লিপ্ত হওয়া সন্দেহ-সংশয় থেকে বিশুদ্ধ করা এবং একে সেই মূলে ফিরিয়ে নেওয়া যা সালাফে সালেহীন জানতেন।

শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে এটি হাম্বলি মাযহাবকে পুনরুজ্জীবিত করেছে এর মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যের কারণে। কিন্তু এটি এমন এক দাওয়াহ যা কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেনি, তবুও তা মানুষের কাছে অপরিচিত মনে হয়েছিল, যেন তা এমন নতুন কিছু যা আগে জানা ছিল না। এর কারণ ছিল মানুষের মাঝে আকিদার বিপর্যয়, স্বভাবের বিচ্যুতি এবং ইবাদত ও নৈকট্য লাভের পদ্ধতির বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হওয়া। তাই এটি একটি প্রাচীন দাওয়াহ হওয়া সত্ত্বেও—যার বহিঃপ্রকাশ ছিল নবায়নকৃত—এর প্রবর্তকের পক্ষে একে নতুন দাওয়াহ হিসেবে গণ্য করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না, যাতে তিনি একে দাওয়াতের সেই পথে পরিচালনা করতে পারেন যা শুরু থেকে শুরু হয়, যাতে এর সাফল্য ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়।

এই দাওয়াহ ইসলামের সারমর্মকে স্পর্শ করেনি, কারণ ইসলাম এমন কোনো সংস্কার গ্রহণ করে না যা এর মূলে আঘাত করে; কেননা ইসলাম প্রশস্ত ও উদার এবং এতে সেই ব্যক্তির জন্য প্রাচুর্য ও জীবন রয়েছে যে তা সন্ধান করে। ইসলাম তার সন্তানদের যে নৈতিক আইন ও রীতিনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে দিয়েছে, তা সর্বদা মানুষকে ভুল প্ররোচনায় আত্মসমর্পণ করা থেকে বিরত রাখতে সক্ষম শক্তিশালী উপাদান হিসেবে কাজ করেছে।

এই প্রতিবন্ধকগুলোর স্থায়িত্বের উপাদান হলো স্বভাব ও অভ্যাসের ওপর আধিপত্য বিস্তারের সক্ষমতা।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
والزي والرأي، وفي مكنونها أن تستيقظ لدفع الانحرافات التي تدخل عناصر السلوك.

ولقد حاول كثير من كتاب التاريخ والاجتماع أن يربطوا بين الدعوة الوهابية والبداوة، ولاح لهم أن قسوة الدعوة لم يلائمها إلا البادية الجافة والبداوة القبلية دون المدن وحضاراتها، وهو ربط يبدو أنه خاطئ أو باطل، إذ الدعوة الوهابية هي الدعوة الإسلامية ذاتها والتي نشأت أول ما نشأت في مكة، وكانت مكة والمدينة من بعدها وسطا تجاريا متحضرا ضخم التعقد في حضارته، وكانت الكتل البشرية التي تشترك فيه مؤلفة من أجناس وأديان شتى، ومع ذلك فلم يقل أحد أنه كان أولى بهذه الدعوة أن تنشأ في البادية أولا.

وقد ثبتت صلاحية الإسلام لكل الأمكنة والأزمنة، لا بادعاء الإسلام لنفسه، ولكن بالنظر من أهله وغير أهله في سمو مبادئه وصلاحية نظامه لكل المجتمعات، ومن وراء التجارب السعيدة التي مرت بالشعوب التي اعتقدته صافيا ونفذت مبادءه.

ومن ثم وجب أن لا يقال شيء غير أن محمد بن عبد الوهاب لارتباطه بأهله وتاريخ بيته بالبادية بشكل شعوري أو لا شعوري فجعل موطن ولادته مسرحاً للقيام بدعوته والسهر على تطبيقها لم يجد بداً من أن يبدأ دعوته فيها، ولو كان الوضع مختلفاً وكان هو ابناً من أبناء الحضر لبدأ دعوته به ولكان كأحد الأفذاذ الذين دعوا في الحواضر فنجحوا أو أخفقوا.

وإنما يجوز أن يقال فيما بعد -استنباطاً من النجاح الذي ظفرت به الدعوة -أن التفكك الذي كان بالجزيرة والإحساس بالضعف والهوان
পোশাক-পরিচ্ছদ ও মতামত; আর এর অন্তরালে রয়েছে এমন এক চেতনা যা আচরণের উপাদানসমূহের মধ্যে প্রবেশকারী বিচ্যুতিসমূহকে প্রতিহত করার জন্য জাগ্রত হয়।

ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের অনেক লেখকই ওয়াহাবি দাওয়াত এবং যাযাবর জীবনের (বেদুইন জীবন) মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছেন। তাদের কাছে এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, এই দাওয়াতের কঠোরতা কেবল শুষ্ক মরুভূমি এবং গোত্রীয় যাযাবর জীবনের সাথেই মানানসই ছিল, শহর ও তার সভ্যতার সাথে নয়। এটি এমন একটি সংযোগ যা ভুল বা ভিত্তিহীন বলেই মনে হয়। কারণ ওয়াহাবি দাওয়াত মূলত সেই ইসলামি দাওয়াতই, যা সর্বপ্রথম মক্কায় উদ্ভূত হয়েছিল। মক্কা এবং পরবর্তীতে মদিনা ছিল একটি সভ্য বাণিজ্যিক কেন্দ্র, যার সভ্যতা ছিল অত্যন্ত জটিল ও বিশাল। সেখানে অংশগ্রহণকারী মানবগোষ্ঠী বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। তা সত্ত্বেও কেউ বলেনি যে, এই দাওয়াতটি প্রথমে মরুভূমিতে শুরু হওয়া অধিকতর সমীচীন ছিল।

সমস্ত স্থান ও কালের জন্য ইসলামের উপযোগিতা প্রমাণিত হয়েছে; এটি কেবল ইসলামের নিজের দাবির কারণে নয়, বরং এর অনুসারী ও অ-অনুসারীদের দৃষ্টিতে এর আদর্শের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সমস্ত সমাজের জন্য এর ব্যবস্থার উপযোগিতার কারণে। এ ছাড়া সেই সব জাতির আনন্দময় অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও এটি প্রমাণিত হয়েছে, যারা একে বিশুদ্ধভাবে বিশ্বাস করেছিল এবং এর নীতিসমূহ বাস্তবায়ন করেছিল।

অতএব, এ কথা ছাড়া অন্য কিছু বলা উচিত নয় যে, মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব তাঁর পরিবার এবং তাঁর বংশের ইতিহাসের সাথে যাযাবর জীবনের সচেতন বা অবচেতন সম্পর্কের কারণে তাঁর জন্মভূমিকেই তাঁর দাওয়াত প্রচার এবং এর প্রয়োগ তদারকির ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সেখানে দাওয়াত শুরু করা ছাড়া তাঁর কোনো বিকল্প ছিল না। পরিস্থিতি যদি ভিন্ন হতো এবং তিনি যদি শহুরে পরিবেশের সন্তান হতেন, তবে তিনি সেখান থেকেই তাঁর দাওয়াত শুরু করতেন এবং তিনি সেই সব অনন্য ব্যক্তিদের মতো হতেন যারা শহরে দাওয়াত দিয়েছেন এবং সফল বা ব্যর্থ হয়েছেন।

তবে দাওয়াতের অর্জিত সাফল্য থেকে অনুমান করে পরবর্তীতে এটি বলা যেতে পারে যে, আরব উপদ্বীপে বিদ্যমান অনৈক্য এবং দুর্বলতা ও লাঞ্ছনার বোধ-
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
ميزان، وعرف -حين أفصح الصبح- أن اتهام الوهابية ورميها بأنها مبتدعة كان كذباً وتضليلاً، فخسر محمد علي وخسرت تركيا مرة ثانية جانب الحق في التاريخ، ولم يكن رجحان كفة الحق من انتصار السعوديين، ووقوع نجد والحجاز في حوزتهم وقيام وحدة البلاد تحت رايتهم بقدر ما كان هذا الرجحان من الرجوع إلى حقائق الدين ونصوصه المسطورة في القرآن والسيرة والحديث، وفي هدأة للتقدير الحق والوزن السليم.

ويخطئ من يظن أن في قدرة قوة حربية إزالة شكل من التعبير الديني القوي. نعم إنها ستسكته حينا حين تنتصر، ولكنه سيظهر لا محالة عندما يحين له أن تغفل عنه تلك القوة. وقد ظهر أن الوهابية قد عادت إلى الظهور ثانية وثالثة بعد عدوان القوى الحربية عليها، وكان ظهورها الغالب عندما بدأ عبد العزيز الأخير (الملك) حركة من التوسع أضاف خلالها المجاهدون الوهابيون معظم بلاد العرب إلى موطنهم نجد، وظلوا طوال عشرين عاما يضمون البلاد جزءا جزءا حتى قامت المملكة العربية السعودية في سنة 1932 م وأعلنت أن عقيدتها هي عقيدة السلف الصالح أهل السنة والجماعة ولا خروج عنها قيد شعرة بفضل الله.

وبقيام هذه الدولة ضرب مثل جديد لوجوب الابتعاد عن المغالاة في تقدير أثر العوامل الحربية على نتائج الصراع الديني، فليس في إمكان أي إجراء تتخذه سلطة أن يستبقي أهل العقيدة في حظيرته وحبسه، إذ العقيدة ليست سلعة تجارية تتيسر حيازتها وفقا للطلب عليها وامتلاكها، وإنما هي لو وقعت في اليد فإن بقاءها فيها حتى ينام القابض عليها أو تغفل عينه فيسترخي، وحينئذ تتفلت من يده وهي في كاملها لم تفقد من قوتها شيئا.
তুলাদণ্ড; আর যখন প্রভাত স্পষ্ট হলো তখন জানা গেল যে, ওহাবীবাদকে বিদআতী হিসেবে অভিযুক্ত করা এবং তাদের দিকে দোষারোপ করা ছিল মিথ্যা ও বিভ্রান্তি। এর মাধ্যমে মুহাম্মাদ আলী এবং তুরস্ক ইতিহাসের সত্যের পক্ষটি দ্বিতীয়বারের মতো হারাল। সত্যের পাল্লা ভারী হওয়া কেবল সৌদিদের বিজয়, নজদ ও হিজায তাদের অধিকারে আসা এবং তাদের পতাকার নিচে দেশের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে ছিল না; বরং তা ছিল ধর্মের প্রকৃত সত্য এবং কুরআন, সীরাত ও হাদীসে লিখিত দলীলসমূহের দিকে ফিরে যাওয়ার কারণে, যা ঘটেছিল সত্যের সঠিক মূল্যায়ন ও সুষম বিচারের এক শান্ত মুহূর্তে।

যারা মনে করেন যে কোনো সামরিক শক্তির পক্ষে শক্তিশালী কোনো ধর্মীয় বহিঃপ্রকাশের রূপকে বিলুপ্ত করা সম্ভব, তারা ভুল করছেন। হ্যাঁ, বিজয়ী হলে সামরিক শক্তি সাময়িকভাবে তাকে নিস্তব্ধ করে দিতে পারে, কিন্তু যখনই সেই শক্তি তার ব্যাপারে বিমুখ হবে, তখনই তা অবধারিতভাবে পুনরায় আত্মপ্রকাশ করবে। ওহাবীবাদ তার ওপর সামরিক শক্তির আগ্রাসনের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার পুনরায় আত্মপ্রকাশ করেছে। এর সর্বপ্রধান উত্থান ছিল তখন, যখন শেষোক্ত আব্দুল আজীজ (বাদশাহ) এক সম্প্রসারণমূলক আন্দোলন শুরু করেন, যার মাধ্যমে ওহাবী মুজাহিদগণ তাদের আদি নিবাস নজদের সাথে অধিকাংশ আরব ভূখণ্ডকে যুক্ত করেন। তারা সুদীর্ঘ বিশ বছর ধরে ভূখণ্ডসমূহকে একে একে যুক্ত করতে থাকেন, পরিশেষে ১৯৩২ সালে সৌদি আরব রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ঘোষণা করা হয় যে, তাদের আকীদা হলো সালাফে সালেহীন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা এবং আল্লাহর অনুগ্রহে তা থেকে চুল পরিমাণ বিচ্যুতিও হবে না।

এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ফলে ধর্মীয় সংঘাতের ফলাফলের ওপর সামরিক উপাদানের প্রভাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অতিশয়োক্তি থেকে বিরত থাকার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। কোনো কর্তৃপক্ষের গৃহীত কোনো পদক্ষেপের পক্ষে সম্ভব নয় যে সে কোনো আকীদার অনুসারীদের তার বেষ্টনীতে বা কারান্তরালে আটকে রাখবে। কেননা আকীদা কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয় যা চাহিদা অনুযায়ী হস্তগত করা বা মালিকানা লাভ করা যায়। প্রকৃতপক্ষে এটি যদি হাতের মুঠোয় আসেও, তবে তা ততক্ষণই সেখানে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত ধারণকারী ঘুমিয়ে না পড়ে কিংবা তার চোখ উদাসীন হয়ে শিথিল হয়ে না যায়; তখনই তা তার হাত থেকে ফসকে বেরিয়ে যায়, অথচ তা তার পূর্ণ শক্তির বিন্দুমাত্র হারায় না।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
والحروب التي شنت على الوهابية بالسلاح والنار لم تكن بأقسى من التهم التي اصطلت بنارها من الألسنة والكلمات، فقد اتهمت بأنها تحط من قدر النبوة وتنَزل من أقدار الأولياء، واتهم الوهابيون -ظلماً- بأنهم حرفوا اسم النبي بحذف ميمه الوسطى، وأشيع في بعض البلدان أنهم هدموا الكعبة بدعوى أنها حجر، كما نسبوا إليهم أنهم يحكمون بكفر كل من عداهم من المسلمين.

وكل ذلك بهتان وزور، وقد شهدت بأنه إفك -قبل كل شاهد- كتب محمد ابن عبد الوهاب ورسائله، وأهم هذه الكتب (كتاب التوحيد) الذي شرحه حفيده عبد الرحمن بن حسن ابن الإمام وسماه (فتح المجيد) ثم رسالة كشف الشبهات وثلاثة الأصول وأدلتها، وشروط الصلاة، وأربع القواعد، ورسالة المغربي. وقد طبعت هذه كلها ونشرت في القاهرة التي سخرت برغم مشيئتها في محاربة الوهابيين فكانت شهادة صدق من أهلها لدعوة التوحيد.

وتصدت الدعوة لكل المظاهر التي تسيء إلى الإسلام وجوهره النقي الطاهر، ولكل ما دخل على أفكاره من غريب دخيل.

واتهام الداعي بأنه اعتبر كل من لم يأخذ بتعاليمه كافراً مشركاً بالله ضرب من التخليط. بل إن ابن عبد الوهاب بين طريق الشرك الأكبر وطرائق الشرك الأصغر، واستمد كل أدلته من نصوص القرآن والحديث الصحيح، وفي هذه النصوص قول الله سبحانه: {وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَاّ وَهُمْ مُشْرِكُون} [يوسف من الآية106] ، فلم يفصل الحق سبحانه الشرك بعد الإيمان عن الشرك الذي كان قبله إذا دخل علي التوحيد ما يجعله كدراً مدخولاً.

بل إن من المشركين قبل الإيمان من كانوا يشركون في الرخاء ويخلصون التوحيد في الشدة ويلجؤون إلى الله وحده فيها، ويشهد القرآن لهم بذلك
ওহাবিবাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও অগ্নি দিয়ে যে যুদ্ধগুলো পরিচালিত হয়েছিল, তা জবান ও লেখনীর আগুনের মাধ্যমে বর্ষিত অপবাদগুলোর চেয়ে কঠোর ছিল না। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, তারা নবুওয়াতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এবং আওলিয়াদের সম্মান ও মর্যাদা কমিয়ে দেয়। ওহাবিদের বিরুদ্ধে—অন্যায্যভাবে—এই অপবাদ দেওয়া হয়েছিল যে, তারা নবীর নামের মাঝখানের 'মীম' অক্ষরটি বাদ দিয়ে তা বিকৃত করেছে। কিছু দেশে এই গুজব ছড়ানো হয়েছিল যে, তারা কাবা গৃহ এই দাবিতে ধ্বংস করেছে যে তা কেবলই পাথর। আরও দাবি করা হয়েছিল যে, তারা নিজেদের মতাদর্শের বাইরের সকল মুসলিমকে কাফির বলে ফতোয়া দেয়।

এসবই নির্জলা মিথ্যা ও অপবাদ। কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য দেওয়ার আগেই মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের কিতাব ও পত্রাবলী সাক্ষ্য দেয় যে এটি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। এই কিতাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো 'কিতাবুত তাওহীদ', যার ব্যাখ্যা করেছেন ইমামের নাতি আব্দুর রহমান বিন হাসান এবং এর নামকরণ করেছেন 'ফাতহুল মাজীদ'। এরপর রয়েছে 'কাশফুশ শুবুহাত', 'সালাসাতুল উসুল ওয়া আদিল্লাতুহা', 'শুরুতুস সালাত', 'আল-কাওয়ায়িদুল আরবা' এবং 'রিসালাতুল মাগরিবী'। এই সব কিতাব কায়রোতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছে। কায়রোকে তার অনিচ্ছাসত্ত্বেও ওহাবিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, অথচ সেখান থেকেই তাওহিদের দাওয়াতের স্বপক্ষে সত্য সাক্ষ্য প্রকাশিত হয়েছে।

এই দাওয়াত ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী সকল কর্মকাণ্ড এবং এর স্বচ্ছ ও পবিত্র মূল সত্তার বিরোধী সব বিষয়ের মোকাবিলা করেছে, আর ইসলামের চিন্তাধারায় অনুপ্রবেশকারী প্রতিটি বিজাতীয় ও আগন্তুক উপাদানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।

এই দায়ীর (আহ্বায়ক) বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ যে, তিনি তার শিক্ষা গ্রহণ না করা সকলকে কাফির ও আল্লাহর সাথে শিরককারী মনে করতেন, তা এক প্রকার চরম বিভ্রান্তি। বরং ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব বড় শিরক ও ছোট শিরকের পথসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাঁর যাবতীয় দলীল কুরআন ও সহীহ হাদীসের সুস্পষ্ট পাঠ থেকে গ্রহণ করেছেন। এই দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে ঠিকই, কিন্তু তারা মুশরিক।" [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০৬]। এখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ঈমান আনয়নের পর তাওহিদে কলুষতা প্রবেশের কারণে যে শিরক সৃষ্টি হয়, তাকে পূর্বের শিরক থেকে পৃথক করেননি।

এমনকি ঈমান আনয়নের পূর্বের মুশরিকদের মধ্যেও এমন লোক ছিল যারা সুসময়ে শিরক করত কিন্তু অসময়ে বা বিপদে তাওহিদের ওপর একনিষ্ঠ হতো এবং কেবল আল্লাহর কাছেই আশ্রয় চাইত; পবিত্র কুরআন তাদের সম্পর্কে এ সাক্ষ্যই দেয়।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
فيقول سبحانه: {فَإِذَا رَكِبُوا فِي الْفُلْكِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ إِذَا هُمْ يُشْرِكُونَ} [العنكبوت: 65] . أما من أشركوا بعد أن آمنوا فقد صارت دعوتهم لشركائهم في الشدة والرخاء والسراء والضراء.

وحتى لا يستطرد الكتاب فيخرج عن مدار فلكه الذي رسم له من إظهار سيرة الإمام محمد بن عبد الوهاب ومذهبه وأثره في قيام دول دينية أقواها وأبقاها السعودية الثالثة الأخيرة، فقد رأينا أن نحيد عن التوسع والإطالة في الأسماء والأمكنة ومواقع الحروب وتفاصيلها وكثير من أمور السياسة والمواثيق والمعاهدات التي تكفلت بنشرها كتب كثيرة، ورأينا أن نقصر البحث فيما نحن بسبيله على سيرة الإمام المصلح وسيرة مذهبه -قدر المستطاع- حتى لا يضل المراد في ثنايا أمور أخرى تغلبت في أحيان خيلت للمطلع أن الوهابية صارت أمراً ثانوياً، وربما كان لها أن تتغلب حتى ولو لم تكن الوهابية قد أعانها قوم وحاربها آخرون من العرب المتخاصمين.

وقد تسنى أن يكون هذا الكتاب من ستة أبواب: الباب الأول كالمقدمة الثانية أو المدخل إلى عصر ابن عبد الوهاب. والباب الثاني في داعية الإصلاح. والثالث في بيان الدعوة. والرابع في مسيرتها. والخامس في أنظمتها. والسادس في نتائجها التي انتهت بالفوز وقيام دولة التوحيد.

وكل باب من هذه الأبواب يحوي خمسة فصول تتناسب وتتقارب فيه، وتتبين عنواناتها وما تحويه في أثناء الكتاب.

ولما كان من الحق أن ينسب الفضل إلى أهله فإن الشيخ الجليل وزير التعليم العالي بالمملكة السعودية الشيخ
তিনি (সুবহানাহু) বলেন: {তারা যখন নৌযানে আরোহণ করে, তখন তারা একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর যখন তিনি তাদের স্থলে ভিড়িয়ে উদ্ধার করেন, তখনই তারা শিরক করতে লিপ্ত হয়} [আনকাবুত: ৬৫]। আর যারা ঈমান আনার পর শিরক করেছে, বিপদ-আপদ, সচ্ছলতা ও প্রতিকূলতার সর্বাবস্থায় তাদের অংশীদারদের ডাকা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

এই গ্রন্থটি যাতে অপ্রাসঙ্গিক আলোচনার দীর্ঘসূত্রতায় নিজের নির্দিষ্ট কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত না হয়—যা ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনী, তাঁর মাযহাব এবং শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী বর্তমান তৃতীয় সৌদি রাষ্ট্রের মতো ধর্মীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর প্রভাব তুলে ধরার জন্য নির্ধারিত—সেজন্য আমরা নাম, স্থান, যুদ্ধক্ষেত্র ও তার খুঁটিনাটি বিবরণ এবং বহু রাজনৈতিক বিষয়, চুক্তি ও অঙ্গীকারনামার বিস্তারিত বর্ণনা পরিহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা অন্য অনেক কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমাদের বর্তমান আলোচনাকে সাধ্যানুযায়ী এই সংস্কারক ইমামের জীবনী ও তাঁর মাযহাবের ইতিহাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব, যাতে মূল উদ্দেশ্য অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের ভিড়ে হারিয়ে না যায়। কারণ মাঝেমধ্যে সেই বিষয়গুলো এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করে যা পাঠকের মনে এমন ধারণা দিতে পারে যে, ওহাবী আন্দোলন একটি গৌণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ হয়তো এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিজয়ী হতো এমনকি যদি কোনো গোষ্ঠী ওহাবী আন্দোলনকে সাহায্য না করত কিংবা বিবাদমান আরবদের মধ্য থেকে অন্য কেউ এর বিরোধিতা না করত।

এই গ্রন্থটি ছয়টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে: প্রথম অধ্যায়টি দ্বিতীয় ভূমিকা বা ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের যুগের প্রবেশিকা স্বরূপ। দ্বিতীয় অধ্যায়টি সংস্কারক দাঈ সম্পর্কে। তৃতীয় অধ্যায়টি দাওয়াতের বর্ণনায়। চতুর্থ অধ্যায়টি এর পথচলা সম্পর্কে। পঞ্চম অধ্যায়টি এর বিধিব্যবস্থা বা নীতিমালা সম্পর্কে। এবং ষষ্ঠ অধ্যায়টি এর ফলাফল সম্পর্কে যা বিজয় ও তাওহীদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে।

এই প্রতিটি অধ্যায়ের অধীনে পাঁচটি করে পরিচ্ছেদ রয়েছে যা বিষয়বস্তুর দিক থেকে পরস্পরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং এগুলোর শিরোনাম ও অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ গ্রন্থের ভেতরে স্পষ্ট হবে।

আর যেহেতু প্রকৃত হকদারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ইনসাফের দাবি, তাই সৌদি আরব রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় শায়খ...
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
حسن عبد الله آل الشيخ قد أبدى ملاحظات على ما جاء في الطبعة الأولى من هذا الكتاب، وكان مصدر ذلك الذي أبديت عليه الملاحظات من الكتب المتأخرة المؤرخة لداعية التوحيد ولا سيما كتاب لمع الشهاب الذي جهل مؤلفه، وكان من الفضل الذي يذكر أن ينبه إليه رجل من أسرة الشيخ ومن الحريصين على الحق وقول الصدق فنشكر له هذا الجميل.

والله من وراء القصد وهو الهادي إلى أقوم سبيل.

عبد العزيز سيد الأهل

بيروت في 1398 هـ - 1978 م
হাসান আব্দুল্লাহ আল-শেখ এই গ্রন্থের প্রথম সংস্করণে যা এসেছে তার ওপর কিছু পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করেছেন; আর যেসব বিষয়ের ওপর পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করা হয়েছে তার উৎস ছিল তাওহীদের আহ্বানকারীর ইতিহাস বিষয়ক পরবর্তীকালের কিছু গ্রন্থ, বিশেষ করে 'লুমউল শিহাব' নামক গ্রন্থটি যার লেখক অজ্ঞাত। এটি একটি উল্লেখযোগ্য অনুগ্রহ যে, শেখের পরিবারের একজন ব্যক্তি এবং সত্য ও সত্যনিষ্ঠ কথা বলার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী এক ব্যক্তি এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, তাই আমরা এই সুকৃতির জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আল্লাহই সকল উদ্দেশ্যের অন্তরালে রয়েছেন এবং তিনিই সরলতম পথের দিশারী।

আব্দুল আজিজ সাইয়্যিদ আল-আহল

বৈরুত, ১৩৯৮ হিজরি - ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌غاشية الليل

اضطراب الأفكار

منذ خمدت المعركة التي انتصر فيها أحمد بن حنبل وأنصار السنة على المعتزلة والجهمية وأضرابهم من الفرق المنحرفة وتباعدت بالمعركة الأيام رجعت الآراء إلى الاختلاط والامتزاج: آراء أصحاب الرأي وأقوال أهل السنة، وحين كثر أصحاب الرأي واشتطوا وقف لهم أهل السنة يردونهم بمثل أسلحتهم فنتج عن المشاحنات انسياب المياه من هاهنا ومن هاهنا إلى بحيرة واحدة ليس فيها ما يحجز تيارا عن تيار، ووجدت الأمة هذه المياه لجة صاخبة فاغترفت منها دون أن تفصل المزيج فتشرب الرنق الصافي وتلفظ الملح الأجاج.

ومع أن الخليفة المتوكل رفع المحنة وأبطل القول بخلق القرآن وناصر أهل الحديث والسنة1 فإن أثر مناصرته لم يدم طويلا، إذ ارتكب المتوكل نفسه -فيما عمل- كثيرا من الأخطاء، وابتدع أفانين الجور والانتقام من كل من ظن فيه السوء، وضد كل ما لم يرقه من الآراء، فكان أن أكسب كثيرا من القلوب حقدا وخلق فيها النية على كسر ما نصره من الأفكار2.وبسبب غلبة الترك والفرس والمغول على الدولة وعلى الجنس العربي

--------------------------------------------

1 - انظر بابي: فتنة المعتزلة والطود الراسخ، في كتاب شيخ الأمة أحمد بن حنبل.

2 - تاريخ العرب العام: 228.
রাত্রির আবরণ

চিন্তাধারার অস্থিরতা

আহমদ বিন হাম্বল এবং সুন্নাহর অনুসারীরা মুতাজিলা, জাহমিয়া ও তাদের সমমনা ভ্রান্ত দলগুলোর বিরুদ্ধে যে যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন, তা স্তিমিত হওয়ার পর এবং সেই যুদ্ধ থেকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে মতাদর্শগুলো পুনরায় সংমিশ্রিত ও একীভূত হতে শুরু করে: রায়-পন্থীদের অভিমত এবং আহলুস সুন্নাহর বাণীসমূহ। যখন রায়-পন্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং তারা সীমালঙ্ঘন করল, তখন আহলুস সুন্নাহ তাদের মোকাবেলায় দাঁড়িয়ে তাদের নিজেদের অস্ত্রের মাধ্যমেই তাদের খণ্ডন করতে শুরু করল। এই বাদানুবাদের ফলে এখান থেকে ও সেখান থেকে পানি প্রবাহিত হয়ে একটি একক জলাশয়ে মিলিত হলো, যেখানে এক স্রোতকে অন্য স্রোত থেকে আলাদা করার কোনো অন্তরায় ছিল না। উম্মাহ এই পানিকে এক উত্তাল গভীর সমুদ্র হিসেবে দেখতে পেল, ফলে তারা এই মিশ্রণকে পৃথক না করেই তা থেকে অঞ্জলি ভরে গ্রহণ করল; ফলে তারা স্বচ্ছ নির্মল পানি পান করা এবং তিক্ত লোনা পানি বর্জন করার পরিবর্তে তার মিশ্রণটিই পান করল।

যদিও খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিল 'মিহনা' (ধর্মীয় পরীক্ষা) রহিত করেছিলেন, কুরআন সৃষ্টির মতবাদ বাতিল করেছিলেন এবং আহলুল হাদীস ও সুন্নাহর অনুসারীদের সাহায্য করেছিলেন, তথাপি তার এই পৃষ্ঠপোষকতার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ মুতাওয়াক্কিল নিজেই তার কর্মকাণ্ডে অনেক ভুল করেছিলেন এবং যাদের প্রতি তিনি কুধারণা পোষণ করতেন তাদের ওপর নানাবিধ জুলুম ও প্রতিশোধ গ্রহণের বিচিত্র সব পন্থা উদ্ভাবন করেছিলেন, এবং যে সকল মতাদর্শ তার মনঃপূত হতো না তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেন। ফলে এটি অনেক হৃদয়ে বিদ্বেষের জন্ম দেয় এবং তিনি যেসকল চিন্তাধারাকে বিজয়ী করেছিলেন তা নস্যাৎ করার সংকল্প তাদের মনে তৈরি করে। রাষ্ট্র ও আরব জাতির ওপর তুর্কি, পারস্য ও মঙ্গোলদের আধিপত্যের কারণে...

--------------------------------------------

১ - দেখুন অধ্যায়দ্বয়: মুতাজিলাদের ফিতনা এবং অটল পাহাড়, উম্মাহর শায়খ আহমদ বিন হাম্বল নামক গ্রন্থে।

২ - তারিখুল আরাব আল-আম: ২২৮।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২২)
منذ تولي المعتصم الخلافة، وبكثرة الفتن والقلاقل والانقسامات، ودخول الأجناس المختلفة في الإسلام -طغت موجات غريبة على الفكر الإسلامي الصافي اضطرت أهل الدين الحنيف إلى الوقوف عن الاجتهاد مخافة الخطأ والذوبان.

واختلف في البلدان الإسلامية وفي أراضيها الواسعة الرحيبة تصوير الإسلام بسبب اختلاف الأجناس والأخلاق والعقول والديانات التي كان يدين بها سكان هذه الأرضين قبل أن يسلموا، فتسربت إلى تصورهم أشكال منها وألوان، ولم تستطع رؤوسهم أن تطرح عنها ما علق بها من الديانات ولا ما لزم نفوسهم من العادات، فنظرت كل أمة إلى الإسلام من خلال تاريخها ونظمها ودياناتها ومن خلال لغاتها وتقاليدها وثقافتها وتربيتها، فاختلطت من كل ذلك الأفكار الدينية وصارت إلى تداخل وتعقد كبير1.

وكان كلما استتب أمر الاختلاط والامتزاج في الأفكار وتقادم عليه الزمن انتشر مبدأ التقديس لهذه الأفكار وما يجري بإيعازها من مظاهر وطقوس، دون تمحيص أو تنقية أو نقد تمشيا مع فكرة التقديس لكل ما هو قديم وتمسكا بما جرت عليه التقاليد2.

ومثل هذا الشعور الذي ينطلق على غير هدى محنة تعتري النفوس فتضعفها فتقبل في أثناء ضعفها التحلل وتفقد الشهوة إلى النهوض والارتقاء، ويستحيل المجتمع بهذه المحنة من رجاله ونسائه إلى عبد راضخ للواقع سليب الإحساس.

وكانت محنة المسلمين في غاشية ليلهم كذلك، أفقدتهم الشعور بأنهم

--------------------------------------------

1 - ضحى الإسلام 1: 365/ 3: 351.

2 - تاريخ العرب المطول: 873.
মুতাসিম খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে এবং ফিতনা, বিশৃঙ্খলা ও বিভাজনের আধিক্য এবং ইসলামে বিভিন্ন জাতির প্রবেশের ফলে—বিশুদ্ধ ইসলামি চিন্তাধারার ওপর বাহ্যিক ও অপরিচিত চিন্তার এমন প্রাবল্য দেখা দেয় যা হানিফ দ্বীনের অনুসারীদের ভুল ও বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় ইজতিহাদ করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করে।

মুসলিম দেশগুলোতে এবং তাদের বিশাল ও প্রশস্ত ভূখণ্ডে ইসলামের স্বরূপ বর্ণনায় ভিন্নতা দেখা দেয়। এর কারণ ছিল জাতিগত বৈচিত্র্য এবং সেই সব চরিত্র, প্রজ্ঞা ও ধর্ম যা এই অঞ্চলের অধিবাসীরা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে লালন করত। ফলে তাদের ভাবনায় সেসব ধর্মের নানা রূপ ও রং অনুপ্রবেশ করে। তাদের মস্তিষ্ক সেসব ধর্মের অবশিষ্টাংশ এবং তাদের অন্তরে গেঁথে থাকা অভ্যাসগুলো ঝেড়ে ফেলতে সক্ষম হয়নি। ফলে প্রতিটি জাতি তাদের নিজস্ব ইতিহাস, শাসনব্যবস্থা, ধর্ম, ভাষা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লালন-পালনের নিরিখে ইসলামের দিকে দৃষ্টিপাত করে। ফলস্বরূপ ধর্মীয় চিন্তাধারাগুলো সংমিশ্রিত হয়ে পড়ে এবং এক বিশাল জটিলতা ও পারস্পরিক অনুপ্রবেশের সৃষ্টি হয় ১।

চিন্তাধারার এই সংমিশ্রণ ও একীভূত হওয়ার বিষয়টি যখনই সুসংহত হয়েছে এবং সময়ের আবর্তনে তা পুরোনো হয়েছে, তখনই এই সব চিন্তাধারা এবং সেগুলোর প্রভাবে পালিত আচার-অনুষ্ঠান ও রীতিনীতিকে পবিত্র জ্ঞান করার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই, পরিশোধন বা সমালোচনা ছাড়াই কেবল প্রাচীন সবকিছুর প্রতি পবিত্রতা আরোপের ধারণা এবং প্রচলিত ঐতিহ্যের প্রতি অন্ধভাবে লেগে থাকার মানসিকতা থেকে এটি হয়েছে ২।

সঠিক দিকনির্দেশনাহীন এই ধরণের অনুভূতি হলো একটি মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় যা মানুষের আত্মাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে এই দুর্বলতার সুযোগে আত্মা অবক্ষয়কে গ্রহণ করে নেয় এবং উন্নতি ও পুনরুত্থানের আকাঙ্ক্ষা হারিয়ে ফেলে। এই বিপর্যয়ের ফলে সমাজের নারী ও পুরুষরা বাস্তবতার কাছে নতি স্বীকারকারী এবং অনুভূতিহীন দাসে পরিণত হয়।

মুসলমানদের ঘোর অন্ধকারের সময়কার বিপর্যয়টিও ছিল ঠিক তেমনি, যা তাদের এই চেতনা হারিয়ে দিয়েছিল যে তারা...

--------------------------------------------

১ - দুহাল ইসলাম ১: ৩৬৫/ ৩: ৩৫১।

২ - তারিখুল আরাব আল-মুতাউওয়াল: ৮৭৩।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
يسيرون في ضلالة، ونام الفكر الإسلامي الصافي نومة طويلة تحت غطاء كثيف من الظلام.

ولكن كانت تتخلله أضواء نجوم ولمعات بروق ما تلبث أن تنطفئ وتختفي بعد ومضات قصيرة، وذلك لضآلتها وصغرها بجوار عظيم المحنة، ولضعف أضوائها وسرعة خطفها في ظلمات غامرة؛ ولأن عيون الناس لا تسهر لتكشف مطالعها، وهي إذا استبانت وطلعت لا تعبأ بها لأنها واقفة لا تريد أن تتحرك وعمياء لا تود أن تسري إلى غاية من الغايات.

وكان للدين شيوخ في كل بلد ولكن لم يصر لأحد منهم من القدر والمكانة ما ينبه النقوس إليه إلا بقدر الحاجة إليه في الدروس أو الأحاديث في المدارس والندوات، وبقدر الرغبة فيه للتسلية أو الفتوى في المسائل والخلافات.

ووجدت الطوائف الباغية سبلا لأفكارها حتى تنتشر وتثبت، ومن ذلك ما وجده الخوارج والقدرية والقرامطة والراوندية وغيرهم من نفوذ بين الجماهير وأحيانا كثيرة بين ذوي العقول والمفكرين.

واصطنعت الطوائف الخارجة عقائدها كما تشاء، ولم تكن تخشى أن تصنعها مضطربة أو متضاربة ما دامت تجتاز السدود إلى مناطق الأوهام، ومن هذه الطوائف طائفة القرامطة فإنهم مع اعترافهم بالوحدانية فقد أنكروا الوحي، ومع نزولهم على كثير من أحكام القرآن فقد أذاعوا الزندقة وقوضوا جميع الحواجز التي تصد العباد عن الشر والفساد1.

نزعات التحلل:

ولقد رفض أحمد بن حنبل كل نزعة للتحلل مما جاءت به نصوص

--------------------------------------------

1 - تاريخ العرب العام: 241.
তারা ভ্রষ্টতার মধ্যে বিচরণ করছিল এবং স্বচ্ছ ইসলামী চিন্তা অন্ধকারের এক ঘন আস্তরণের নিচে দীর্ঘকাল সুপ্ত ছিল।

কিন্তু মাঝে মাঝে নক্ষত্রের আলো এবং বিদ্যুতের চমক দেখা যেত, যা সামান্য ক্ষণস্থায়ী ঝলকানির পরই নিভে যেত ও অদৃশ্য হয়ে যেত। এর কারণ ছিল চরম দুর্দশার তুলনায় সেই আলোকরশ্মির অতি সামান্যতা ও ক্ষুদ্রতা, এবং সেই অন্ধকারের গভীরতায় আলোর দুর্বলতা ও দ্রুত বিলীন হয়ে যাওয়া। উপরন্তু মানুষের চোখ সেই আলোর উদয়স্থল খুঁজে বের করার জন্য সজাগ ছিল না। আর যদি তা স্পষ্ট হয়ে উঠত বা উদিত হতো, তবুও তারা সেটির তোয়াক্কা করত না; কারণ তারা ছিল স্থবির যা নড়াচড়া করতে চায় না, এবং তারা ছিল অন্ধ যা কোনো লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হতে আগ্রহী ছিল না।

প্রতিটি দেশেই দ্বীনের শায়খগণ বিদ্যমান ছিলেন, কিন্তু তাঁদের কারোরই এমন মর্যাদা বা অবস্থান তৈরি হয়নি যা মানুষের অন্তরাত্মাকে জাগ্রত করতে পারে; কেবল মাদ্রাসা বা সভা-সেমিনারের পাঠদান ও আলোচনার প্রয়োজনে যতটুকু প্রয়োজন ছিল ততটুকুই সীমাবদ্ধ ছিল। কিংবা বিনোদনের খোরাক হিসেবে অথবা মাসআলা-মাসায়েল ও মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে ফতোয়া প্রদানের চাহিদার মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ ছিল।

আর বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো তাদের চিন্তাধারা প্রচার ও প্রতিষ্ঠিত করার পথ খুঁজে পেয়েছিল। যার ফলে খারেজী, কাদরিয়া, কারামিতা, রাওয়ান্দিয়া এবং অন্যান্য গোষ্ঠী জনসাধারণের মাঝে এবং অনেক ক্ষেত্রে বুদ্ধিমান ও চিন্তাবিদদের মধ্যেও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল।

পথভ্রষ্ট গোষ্ঠীগুলো তাদের ইচ্ছামতো আকিদা তৈরি করে নিয়েছিল। তাদের আকিদা বিভ্রান্তিকর বা স্ববিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তারা তা প্রচার করতে দ্বিধাবোধ করত না, যতক্ষণ না তা কল্পনার জগতে পৌঁছানোর বাধাগুলো অতিক্রম করত। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে একটি ছিল কারামিতা গোষ্ঠী; তারা তাওহীদে বিশ্বাস করার দাবি করা সত্ত্বেও ওহীকে অস্বীকার করত এবং কোরআনের অনেক বিধান মেনে চলার ভান করলেও তারা নাস্তিকতা ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং সেই সব প্রতিবন্ধকতা চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল যা বান্দাদের মন্দ ও ফাসাদ থেকে বিরত রাখে।১

শিথিলতার প্রবণতা:

আহমদ ইবনে হাম্বল এমন প্রতিটি শিথিলতার প্রবণতাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যা শরীয়তের নস বা অকাট্য পাঠের পরিপন্থী ছিল

--------------------------------------------

১ - তারীখুল আরব আল-আম: ২৪১।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
الدين، فلم يقبل من ذوي الشبه والتخييل العقلي حججهم ليخمدوا بها حجج أهل السنة، ولم يرض طريقة المتصوفة في التأمل والخلوة ولبس الخرقة وحلقات الذكر، ولم ير موجبا لأن يتعرض أئمة الدين بالرد على المبتدعة حتى لا تفشو آراؤهم فتفتن الناس ويصير الأمر -كما يسمى في عصرنا الحديث- بجريان الآراء. فسد كل الأبواب التي تخرج منها الفتن والبدع إلى مشارع النور.

وبرغم ما وقف له الإمام العظيم حياته فإن اختلاط الأمم وامتزاجها اخترق في السدود التي أقامها أهل السنة فجوات تدفقت منها آراء الجهمية ذوي التخييل العقلي، وآراء الصوفية ذوي التزيد على ما أوصى به الدين من الزهد، وآراء الفلاسفة الذين غالوا في تقدير العقل البشري وإخراجه إلى فناء لا حدود له من التخمين، وآراء علماء الكلام الذين قلبوا كل فكر ليصلوا إلى حقائق ترضاها عقولهم في خدمة الدين. وفي الليل الطويل الذي خيم على الأمة الإسلامية استقرت أفكار أولئك وغيرهم مجملة ومفصلة، وصارت عند معظم الناس هي الدين الإسلامي الذي يعرفونه ويدينون به، وصارت من المناسك القديمة المقدسة التي ولدوا أمام هياكلها وعلى أعتابها.

أما هي عند النابهين من ذوي النوايا الطيبة فإنها تحرر فكري، وعند النابهين من ذوي النوايا الخبيثة تحلل من ربقة الأخلاق وربقة الدين.

وفي تقاتل الآراء والمذاهب التي لا تعد لم يكن يقع صريعا إلا العقيدة السليمة والإسلام الصحيح.

وترابطت مهابط النّزول عند هذه الآراء الخبيثة ترابطا يدعو إلى اتهامها بالاتفاق على الخديعة، فبينما يقول محترفو الصوفية قول الغرباء بالاتحاد ووحدة الوجود1 فينْزلون بمقام الألوهية الأعظم عن مكانه العلي فإنهم

--------------------------------------------

1 - تاريخ العرب المطول: 521 - تاريخ العرب العام: 245.
দ্বীন, তিনি সংশয়বাদী ও বৌদ্ধিক কল্পনাপ্রবণদের যুক্তিগুলো গ্রহণ করেননি যাতে তারা এর মাধ্যমে আহলুস সুন্নাহর দলিলগুলোকে স্তিমিত করতে পারে; এবং তিনি সুফীদের ধ্যান, নির্জনবাস, তালি দেওয়া খিরকা পরিধান এবং জিকিরের মজলিসের পদ্ধতিকেও পছন্দ করেননি। তিনি দ্বীনের ইমামদের বিদআতিদের খণ্ডন বা প্রতিবাদে লিপ্ত হওয়াকেও প্রয়োজনীয় মনে করেননি যাতে তাদের মতামত ছড়িয়ে না পড়ে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত না করে, আর বিষয়টি—আমাদের আধুনিক যুগে যেমনটি বলা হয়—মতামতের অবাধ প্রবাহে পরিণত না হয়। তিনি ফিতনা ও বিদআতের বহিঃপ্রকাশের সেই সমস্ত পথ রুদ্ধ করেছিলেন যা আলোর উৎসের দিকে প্রবাহিত হতে চেয়েছিল।

এই মহান ইমাম তাঁর সমগ্র জীবন যে উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন তা সত্ত্বেও, জাতিসমূহের সংমিশ্রণ ও মেলামেশা আহলুস সুন্নাহর নির্মিত বাঁধগুলোতে এমন ফাটল সৃষ্টি করেছিল যেখান দিয়ে বৌদ্ধিক কল্পনাপ্রবণ জাহমিয়াদের মতবাদ, দ্বীন নির্দেশিত দুনিয়াবিমুখতার (জুহদ) বাইরে অতিরঞ্জনকারী সুফীদের মতবাদ, মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তিকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করে তাকে অনুমানের সীমাহীন প্রান্তরে নিয়ে যাওয়া দার্শনিকদের মতবাদ এবং ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের মতবাদসমূহ প্রবাহিত হতে শুরু করে, যারা দ্বীনের সেবার নামে তাদের বিবেকের তুষ্টির জন্য প্রতিটি চিন্তা-ভাবনা পাল্টে দিয়েছিল। উম্মতে মুসলিমার ওপর চেপে বসা দীর্ঘ অমানিশায় তাদের এবং অন্যদের সেই সব ধ্যান-ধারণা সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিতভাবে স্থায়ী রূপ লাভ করে। অধিকাংশ মানুষের কাছে সেটিই ইসলাম ধর্ম হিসেবে পরিচিতি পায় যা তারা জানে ও পালন করে, এবং তা এমন এক প্রাচীন পবিত্র আচারে পরিণত হয় যার কাঠামো ও চৌকাঠের সামনে তারা জন্ম নিয়েছে।

আর সদিচ্ছাসম্পন্ন সচেতন ব্যক্তিদের কাছে তা ছিল চিন্তার মুক্তি, এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সচেতন ব্যক্তিদের কাছে তা ছিল নৈতিকতা ও দ্বীনের শৃঙ্খল থেকে বিচ্যুতি।

আর অসংখ্য মতবাদ ও মাযহাবের এই লড়াইয়ে একমাত্র সহীহ আকীদা এবং সঠিক ইসলামই ভূলুণ্ঠিত ও পরাস্ত হয়েছিল।

এই অশুভ মতবাদগুলোর উৎপত্তিস্থলের যোগসূত্রগুলো এমন ছিল যা তাদের প্রতারণার বিষয়ে একমত হওয়ার সন্দেহে ফেলে দেয়। যখন পেশাদার সুফীরা ইত্তিহাদ (সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টির মিলন) এবং ওয়াহদাতুল উজুদ (অস্তিত্বের একত্ববাদ) এর মতো অদ্ভুত কথা বলে মহান উলুহিয়্যাতের মর্যাদাকে তার সুউচ্চ স্থান থেকে নিচে নামিয়ে দিচ্ছিল, তখন তারা

--------------------------------------------

১ - তারিখুল আরাব আল-মুতাউওয়াল: ৫২১ - তারিখুল আরাব আল-আম: ২৪৫।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
يرتفعون بمقامات الأولياء وصانعي الكرامات وخوارق العادات إلى أماكن من التقديس لا تقبل جدالا.

ووجدت فرقة الراوندية من فكرة تقديس الأولياء طريقها إلى القول بوجوب عبادة الخلفاء كما يعبد الآلهة، وأوجبوا أن يعد بلاط الخليفة كعبة جديدة.

وإذا وزعهم الخلفاء وطردوهم وجب أن يعودوا إلى الظهور والتجمع ليعبدوهم على الرغم منهم. وما هذه إلا نزعة إلى سنة العبودية التي سادت جميع الأجيال.

وقالت طائفة بالإمام أو الولي المعصوم; وجعلت النبي المرسل الذي هو أعلى وسيط بشري بين الله وعباده أدنى درجة من الإمام أو الولي، لأنهم بينما قالوا إن قدرة النبي في تلقي الوحي فحسب قالوا إن الإمام الولي يتلقى الوحي ويبرز في الحكمة النظرية.

وكان هذا هو مذهب السهروردي المقتول، فأصلاه تقي الدين أحمد بن عبد الحليم بن تيمية نارا محرقة أتت عليه فجعلته كالرميم1.

وخرجت بعض الطوائف إلى نوع من التأويل سموه باطنيا، فأولوا الصلوات الخمس بأسماء أشخاص إذا ذكرها المصلي أغنت عن الصلاة والطهارة، وأولوا أيام الصيام الثلاثين بأسماء عددها من الأشخاص، ثم قالوا بقدم العالم وتناسخ الأرواح ليخلصوا من ذلك إلى إنكار البعث والنشور وتكذيب الثواب والعقاب2.

ومن هذا وما هو أكثر منه وأشنع يبدو تاريخ هؤلاء الناس وكأنهم أصبحوا بلا عقل ولا دين، وربما كان جائزا للقبائل والأمم أن تفعله في جاهليتها قبل الإسلام لأنه لم يكن لها شرع يحرمه، أما وقد حرمه

--------------------------------------------

1 - انظر الحوار في الإمام المعصوم بالقسطاس المستقيم - هياكل النور: المقدمة: 12.

2 - كتاب السلوك الجزء الثاني، القسم الثالث: 942.
তারা ওলিদের মর্যাদা এবং কারামত ও অলৌকিক ঘটনাকারীদের এমন এক পবিত্রতার স্থানে উন্নীত করে যা কোনো বিতর্ক গ্রহণ করে না।

রাওয়ান্দিয়া ফেরকা ওলিদের পবিত্রকরণের ধারণা থেকে খলিফাদের উপাসনা করা ওয়াজিব হওয়ার মতবাদে উপনীত হয়, যেমন উপাস্যদের উপাসনা করা হয়; এবং তারা খলিফার দরবারকে নতুন কাবা হিসেবে গণ্য করাকে আবশ্যক করে তোলে।

যদি খলিফারা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিতেন এবং তাড়িয়ে দিতেন, তবে তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তারা পুনরায় আবির্ভূত হওয়া এবং একত্রিত হয়ে তাদের পূজা করাকে ওয়াজিব মনে করত। এটি দাসত্বের সেই রীতির প্রতি একটি প্রবণতা ছাড়া আর কিছুই নয় যা সকল প্রজন্মের মধ্যে বিরাজমান ছিল।

একটি দল মাসুম (নিষ্পাপ) ইমাম বা ওলির প্রবক্তা ছিল; তারা প্রেরিত নবীকে—যিনি আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে সর্বোচ্চ মানবীয় মাধ্যম—ইমাম বা ওলির তুলনায় নিম্ন স্তরের বলে গণ্য করেছে। কারণ তারা মনে করত নবীর ক্ষমতা কেবল ওহি গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ, আর ইমাম বা ওলি ওহিও গ্রহণ করেন এবং তাত্ত্বিক প্রজ্ঞায় পারদর্শিতা প্রদর্শন করেন।

এটিই ছিল নিহত সোহরাওয়ার্দীর মাযহাব বা মতবাদ। ফলে তকিউদ্দীন আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন তাইমিয়া তাকে এক দহনকারী আগুনের মুখোমুখি করেছিলেন যা তাকে ধ্বংস করে জীর্ণ কঙ্কালের ন্যায় করে দিয়েছিল।১

কিছু ফেরকা এমন এক প্রকার ব্যাখ্যার (তাউইল) পথ অবলম্বন করে যাকে তারা বাতেনি (গুহ্য) নামকরণ করেছিল। তারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতকে কতিপয় ব্যক্তির নামের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে যে, যদি মুসাল্লি তাদের নাম স্মরণ করে তবে তা সালাত ও পবিত্রতার স্থলাভিষিক্ত হবে। তারা সিয়ামের ত্রিশ দিনকে সমসংখ্যক ব্যক্তির নামে ব্যাখ্যা করে। অতঃপর তারা জগতের অনাদিত্ব এবং জন্মান্তরবাদের প্রবক্তা হয় যাতে এর মাধ্যমে পুনরুত্থান ও হাশর অস্বীকার করা এবং সওয়াব ও আজাবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যায়।২

এসব থেকে এবং এর চেয়েও জঘন্যতর বিষয় থেকে এই সব মানুষের ইতিহাস এমনভাবে প্রতীয়মান হয় যেন তারা বুদ্ধি ও ধর্মহীন হয়ে পড়েছে। সম্ভবত ইসলাম-পূর্ব জাহেলিয়াতের যুগে বিভিন্ন গোত্র ও জাতির জন্য এটি করা বৈধ ছিল কারণ তাদের এমন কোনো শরিয়ত ছিল না যা একে হারাম করে, কিন্তু যখন এটি হারাম করা হয়েছে...

--------------------------------------------

১ - মাসুম ইমাম সম্পর্কে আলোচনা দেখুন আল-কিসতাস আল-মুস্তাকিম-এ - হায়াকিলুন নূর: ভূমিকা: ১২।

২ - কিতাবুস সুলুক, দ্বিতীয় খণ্ড, তৃতীয় অংশ: ৯৪২।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
الإسلام فالرجوع إليه ردة تستوجب حربا أشد من وجوبها ضد قبائل الجاهلية أو ضد مانعي الزكاة في الإسلام، إذ لا يوصف المرتد عن الزكاة بأنه مشرك من حيث يوصف المرتد إلى تقديس الأجداث بالإشراك.

وقد أثر هذا التفرق والتخليط في الآراء على وحدة الأمة الإسلامية المشدودة إلى وحدة الاتجاه إلى القبلة عند كل صلاة. ولو كانت وحدة استقبال الكعبة تعد أهم رمز عملي إسلامي لوجوب التوحد في كل شيء فإن الانقسام إلى فرق وآراء وأوطان وقبائل عاد تفريقا للوحدة وتهوينا من شأن الرمز الموجب أن يكون الاتجاه إلى ناحية واحدة مهما اختلفت البقاع وتوزعت القلوب.

وتمزق القبائل في الجزيرة العربية التي خرجت منها أول إشارة برمز التوحيد ما بين إبراهيم ومحمد -عليهما الصلاة والسلام- كان أكبر دلالة على بلوغ التمزق غاية مداه في أرض التوحيد.

ابتداع الطقوس:

وبحسب الأفكار التي تأصلت وثبتت قامت عادات ورسخت تقاليد، فمن آثر العقل وحده كالفلاسفة جعل العبادة للعقل وحده، ومن خاف النفس البشرية كالمتصوفة أدخلها إلى حبس بالغ الضيق وأثقلها بالقيود والتكاليف، ولم يبق رحيما بالعقل والنفس إلا الشريعة التي أخرجتهما كليهما من الضيق ومن الشرود.

وكانت الشريعة الإسلامية قد محت كل الطقوس الدينية الفاسدة من الجزيرة ومن البلاد التي فتحها المسلمون وأنقذت حياة العقل المطمورة في دياجير من مشاعر الأوهام، وخلصت البشر من همجية النفسية الأولى حين ضربت بالخرافات والأساطير وشعوذة السحر عرض الحائط،
ইসলাম থেকে বিমুখ হওয়া হলো এমন এক ধর্মত্যাগ যা জাহেলিয়াতের গোত্রসমূহ বা ইসলামে জাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের চেয়েও কঠোরতর যুদ্ধের দাবি রাখে। কেননা, জাকাত অস্বীকারকারী মুরতাদকে মুশরিক হিসেবে অভিহিত করা হয় না, যেখানে কবর পূজার দিকে ফিরে যাওয়া মুরতাদকে শিরকের পাপে লিপ্ত হিসেবে অভিহিত করা হয়।

মতামতের এই অনৈক্য ও সংমিশ্রণ ইসলামী উম্মাহর ঐক্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে, যা প্রতিটি নামাজের সময় কিবলার দিকে মুখ করার ঐক্যের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। যদিও কাবার দিকে মুখ করার এই ঐক্যবদ্ধতা প্রতিটি বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবশ্যকতার ক্ষেত্রে ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়, তবুও বিভিন্ন দল, মত, দেশ ও গোত্রে বিভক্ত হওয়া সেই ঐক্যকে খণ্ডিত করেছে এবং সেই প্রতীকের মর্যাদাকে তুচ্ছ করেছে—যার দাবি ছিল ভূখণ্ড ও হৃদয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও অভিমুখ এক হওয়া।

আরব উপদ্বীপের গোত্রগুলোর এই ছিন্নভিন্ন অবস্থা—যেখান থেকে ইবরাহিম ও মুহাম্মদ (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর মাধ্যমে তাওহিদের প্রতীকের প্রথম সংকেত প্রকাশিত হয়েছিল—তা ছিল তাওহিদের ভূমিতে অনৈক্যের চরম সীমায় পৌঁছানোর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

রীতিনীতির উদ্ভাবন:

আর যেসব ধারণা বদ্ধমূল ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন অভ্যাস গড়ে উঠেছিল এবং রীতিনীতি সুসংহত হয়েছিল। ফলে যারা দার্শনিকদের মতো কেবল বুদ্ধিবৃত্তিকে প্রাধান্য দিয়েছে, তারা ইবাদতকে কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে পরিণত করেছে। আর যারা সুফিদের মতো মানবাত্মাকে ভয় পেয়েছে, তারা তাকে অত্যন্ত সংকীর্ণ এক কারাবাসে আবদ্ধ করেছে এবং নানাবিধ বিধি-নিষেধ ও কষ্টসাধ্য সাধনার ভারে নুইয়ে দিয়েছে। বুদ্ধি ও আত্মার প্রতি শরিয়ত ছাড়া আর কেউই দয়ালু ছিল না, যা এ উভয়কেই সংকীর্ণতা ও বিভ্রান্তি থেকে বের করে এনেছে।

ইসলামি শরিয়ত আরব উপদ্বীপ এবং মুসলমানদের বিজিত অন্যান্য ভূখণ্ড থেকে সমস্ত কলুষিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মুছে দিয়েছিল এবং অলীক কল্পনার অন্ধকারে নিমজ্জিত বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনকে রক্ষা করেছিল। এটি কুসংস্কার, পৌরাণিক কাহিনী এবং জাদুটোনার ভেলকিবাজিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে মানুষকে আদিম মানসিকতার বর্বরতা থেকে মুক্ত করেছিল,
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
وأخرجت من العدم عالما مؤلفا من الحقائق المائلة لا من الأشباح الهائمة في الظلام.

ولم تكن الدولة التي تشكلت على هذه الصورة النقية كممالك الأباطرة التي سريعا ما تنحل وتزول، بل كانت طليعة مدنية جديدة تسطع منها الأنوار وتتلألأ وتبقى حية مضيئة حتى لو زال سلطانها الحربي ونفوذها السياسي، وذلك لأن العرب قهروا ممالك العالم باسم الدعوة لتوحيد الله ففتحوها فتحا روحيا استمر في التوسع والانتشار بعد توقف الانتصارات المادية في الوقائع والحروب، ووجهت القلوب والوجوه والألسنة لله وحده في النيات وأعمال الجوارح في كل عبادة ولا سيما في الصلاة والحج والدعاء من غير لجوء إلى وساطة نجوم أو كهان أو أصنام، ومن غير استعانة بأبدان أو أرواح، ومن غير مذلة بركوع أو سجود أو تقديم قرابين.

وأمكن للقبائل العربية بفضل التوحيد والوحدة أن تقيم في أقل من خمسين سنة دولة حلي جيدها بقلائد من أعجب المفاخر وآيات الإعجاز.

ولكن سرعان ما انحرف السلوك وأعوج الطريق ورجعت الجاهلية العربية والجاهلية العالمية فزحفت على اللجة الإسلامية تيارات من الجاهليتين ولم تدع قطرا من أقطار المسلمين إلا أغرقته إغراقا، ورجع إيمان القلب من حب وذل وخوف ورجاء وتعظيم وإنابة لغير الله، وصار عمل اللسان من ثناء وحمد ودعاء واستغاثة واستعاذة وحلف معقودا بغيره، واتجهت الأبدان في الصيام والصلاة وأموال الصدقات والنذور والذبائح وحبوس الأوقاف والهبات إلى غير وجهه، وأصبحت القدرة الخارقة مأمولة في التمائم والصيغ السحرية وأجواف الظلمات والكهوف وشياطين الزار1 مما أوجب هلاكا للناس أكثر مما فعلته الأوبئة وقذائف الحروب.

--------------------------------------------

1 - انظر شرح القصيدة النونية: 508.
আপনি শূন্যতা থেকে এমন এক বিশ্ব বের করে এনেছেন যা বাস্তব সত্যের সমন্বয়ে গঠিত, অন্ধকারে ঘুরে বেড়ানো কোনো কাল্পনিক অবয়ব নয়।

এই বিশুদ্ধ আদলে গঠিত রাষ্ট্রটি সম্রাটদের সেইসব সাম্রাজ্যের মতো ছিল না যা দ্রুত ভেঙে যায় এবং বিলুপ্ত হয়ে যায়; বরং এটি ছিল এক নতুন সভ্যতার অগ্রপথিক যেখান থেকে আলোকছটা বিচ্ছুরিত ও উদ্ভাসিত হতো এবং যা জীবন্ত ও উজ্জ্বল থাকতো, এমনকি যদি তার সামরিক আধিপত্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিলুপ্ত হয়ে যেত। আর এটি এ কারণে যে, আরবরা আল্লাহর তাওহিদের দাওয়াতের নামে বিশ্বের সাম্রাজ্যগুলোকে জয় করেছিল, ফলে তারা সেগুলোকে এক আধ্যাত্মিক বিজয়ে জয় করেছিল যা যুদ্ধ ও লড়াইয়ে বস্তুগত বিজয় থেমে যাওয়ার পরেও সম্প্রসারিত ও ছড়িয়ে পড়া অব্যাহত রেখেছিল। আর নিয়ত এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ তথা প্রতিটি ইবাদতে, বিশেষ করে নামাজ, হজ এবং দোয়ার ক্ষেত্রে হৃদয়, মুখমণ্ডল এবং জিহ্বাকে একমাত্র আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট করা হয়েছিল; নক্ষত্র, গণক বা মূর্তিদের কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই, এবং কোনো দেহ বা আত্মার সাহায্য প্রার্থনা ছাড়াই, আর রুকু, সিজদা বা কোরবানি পেশ করার মাধ্যমে অন্য কারো সামনে অপমানিত হওয়া ছাড়াই।

আর তাওহিদ ও ঐক্যের বদৌলতে আরব গোত্রগুলোর পক্ষে এটি সম্ভব হয়েছিল যে, তারা পঞ্চাশ বছরেরও কম সময়ে এমন এক রাষ্ট্র কায়েম করেছিল যার গ্রীবা অত্যন্ত বিস্ময়কর গৌরবগাঁথা এবং অলৌকিক নিদর্শনের হারে সুশোভিত ছিল।

কিন্তু শীঘ্রই আচরণ বিচ্যুত হয়ে গেল, পথ বক্র হয়ে গেল এবং আরব জাহিলিয়াত ও বিশ্ব জাহিলিয়াত ফিরে এল। ফলে জাহিলিয়াতদ্বয়ের স্রোতধারা ইসলামি জনসমুদ্রের ওপর আছড়ে পড়ল এবং মুসলিম দেশগুলোর এমন কোনো প্রান্ত বাকি রাখল না যাকে সে পুরোপুরি নিমজ্জিত করেনি। আর অন্তরের ঈমান তথা ভালোবাসা, বিনয়, ভয়, আশা, সম্মান এবং রুজু হওয়া আল্লাহ ব্যতীত অন্যের দিকে ফিরে গেল। জিহ্বার কাজ তথা প্রশংসা, স্তুতি, দোয়া, সাহায্য প্রার্থনা, আশ্রয় প্রার্থনা এবং শপথ অন্যের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেল। রোজা, নামাজ, সদকার মাল, মানত, জবেহকৃত পশু, ওয়াকফকৃত সম্পত্তি এবং দান-খয়রাতের ক্ষেত্রে শরীরগুলো তাঁর সত্তা ব্যতিরেকে অন্যের অভিমুখী হয়ে গেল। আর অলৌকিক ক্ষমতার আশা করা হতে লাগল তাবিয, জাদুকরী মন্ত্র, অন্ধকারের গহ্বর, গুহা এবং যারের শয়তানদের১ কাছে; যা মানুষের জন্য মহামারি এবং যুদ্ধের গোলার চেয়েও বেশি ধ্বংস নিয়ে এল।

--------------------------------------------

১ - দেখুন শারহু কাসিদা আন-নূনিয়্যাহ: ৫০৮।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
وصار من الكرامات ابتلاع الحجر والزجاج والأفاعي وتخريق الأجساد بالمسامير والسكاكين، وقامت من ذوي الكرامات حلقات للرقص والزمر والسماع يسمونها التغبير، يعنون به التهليل وترديد الصوت بالألحان في حلقة الذكر مع الضرب والتوقيع بالقضيب وغيره.

وقد فزع الإمام الشافعي من ذلك التغبير فقال رضي الله عنه: وخلفت في العراق شيئا يسمى التغبير وضعته الزنادقة يشغلون الناس عن القرآن.

ومع هذه الفزعة من الشافعي فإن التغبير امتد تقليده في المواضع حتى بلغ الحاج في عرفات، ولم يبطل أمره إلا في عهد صلاح الدين1.

وإثم هذا الانحراف كله عن الجادة المستقيمة واقع على اثنين: أهل الرأي الذين اغتروا بهوس العقل وتخييله فهونوا من شأن النصوص، وأضعفوا الشعور بصحة كثير من الأحاديث.

وأهل النقل الذين قصّر بعضهم في تحصيل النصوص، ولم يقصّر بعضهم ولكنهم جبنوا أن يردوا الأمة إلى حظيرة إيمانها بتكرار النصائح وتثبيت عقائد الناس السليمة باستمرار، وضرورة العناية بها في التعليم، حرصا منهم على الرزق الموصول والمنصب المرموق.

وفي غيبة العقل الراجح المستنير بأضواء الشريعة وغيبة شجاعة المستنيرين بها هامت الجماهير تتخطف من رواسب الديانات والخرافات وتقيم ما اندرس من الطقوس، وذلك إن حسنت النيات والطوايا. أو تقضي على العقائد والأخلاق والأمن والنظام إن ساءت نياتها وفسدت طواياها.

وتبدو الصلات وثيقة بين الدين والأخلاق وإن كان بعض علماء الاجتماع تصوروهما من أصلين مستقلين ولكنهما متصلان، فالديانة تؤثر في الخلق بطريق الإرشاد إلى الاعتدال والإخافة من العقاب والإطماع في الثواب،

--------------------------------------------

1 - تاريخ العرب المطول: 526 - أيام صلاح الدين: 123.
পাথর, কাঁচ ও সাপ গিলে ফেলা এবং পেরেক ও ছুরি দিয়ে শরীর ক্ষতবিক্ষত করা কারামাতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ল। কারামাতওয়ালাদের পক্ষ থেকে নাচ, বাঁশি ও সামা’র (বাদ্যযন্ত্রসহ গান) আসর কায়েম হলো, যাকে তারা 'তাগবীর' বলে ডাকত। এর দ্বারা তারা যিকিরের হালকায় তালি বা লাঠি ইত্যাদির আঘাত ও তালের সাথে সুরেলা কণ্ঠে উচ্চস্বরে কালিমা পাঠ ও সুরের প্রতিধ্বনি করা বোঝাত।

ইমাম শাফিঈ এই তাগবীর থেকে আতঙ্কিত হয়ে বলেছিলেন (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন): "আমি ইরাকে তাগবীর নামক এমন একটি জিনিস রেখে এসেছি যা যিন্দীকরা (ধর্মদ্রোহীরা) উদ্ভাবন করেছে, যাতে তারা মানুষকে কুরআন থেকে বিমুখ রাখতে পারে।"

ইমাম শাফিঈর এই ভীতি সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে তাগবীরের অনুকরণ ছড়িয়ে পড়েছিল, এমনকি তা আরাফাতের ময়দানে হাজীদের মধ্যেও পৌঁছে গিয়েছিল। সালাহুদ্দীনের শাসনামলের আগ পর্যন্ত এর প্রচলন বন্ধ হয়নি ১।

সরল পথ থেকে এই বিচ্যুতির সম্পূর্ণ পাপভার দুই শ্রেণির ওপর বর্তায়: প্রথমত, আহলুর রায় (যুক্তিনির্ভর পণ্ডিত), যারা বুদ্ধিবৃত্তিক মোহ ও কল্পনার মায়াজালে বিভ্রান্ত হয়ে শরয়ী নুসূসের (কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য) গুরুত্বকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছে এবং বহু হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে মানুষের উপলব্ধিকে দুর্বল করে দিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, আহলুন নকল (বর্ণনানির্ভর পণ্ডিত), যাদের কেউ কেউ নুসূস আহরণে অবহেলা করেছে; আবার কেউ অবহেলা না করলেও উম্মাহকে তাদের ঈমানের পরিমণ্ডলে ফিরিয়ে আনতে ভীরুতা প্রদর্শন করেছে। তারা নিয়মিত নসীহত এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে মানুষের সঠিক আকিদাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে সাহসের পরিচয় দেয়নি, মূলত নিজেদের নিরবচ্ছিন্ন রিযিক ও সম্মানজনক পদের লোভের কারণে।

শরীয়তের আলোয় উদ্ভাসিত প্রখর বিচারবুদ্ধি এবং এই আলোয় আলোকিত ব্যক্তিদের সাহসিকতার অনুপস্থিতিতে সাধারণ মানুষ পথভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন ধর্মের অবশিষ্টাংশ ও কুসংস্কারগুলো গ্রহণ করতে শুরু করেছে এবং বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রথাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করছে—যদি তাদের নিয়ত ও উদ্দেশ্য ভালোও হয়ে থাকে। আর যদি তাদের নিয়ত ও উদ্দেশ্য মন্দ হয়, তবে তা আকিদা, নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাকে ধ্বংস করে দেয়।

ধর্ম ও নৈতিকতার মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান, যদিও কোনো কোনো সমাজবিজ্ঞানী এ দুটিকে দুটি স্বতন্ত্র উৎস থেকে আগত বলে কল্পনা করেছেন। তবে বাস্তবতা হলো তারা পরস্পর সংযুক্ত। ধর্ম মধ্যপন্থা অবলম্বনের দিকনির্দেশনা প্রদান, শাস্তির ভয় প্রদর্শন এবং পুরস্কারের আশা দেখানোর মাধ্যমে চরিত্রের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

--------------------------------------------

১ - তারীখুল আরাব আল-মুতাওয়্যাল: ৫২৬ - আইয়্যামু সালাহুদ্দীন: ১২৩।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأعقل الحكماء لا يستطيع أن يخلص آراءه ومعتقداته من تأثير الأخلاق، ولا بد للمتدين أن يكون ذا خلق، لأنه إن كان غفلا منه فإنه يحاول أن يوفق بين غرائزه السيئة وطلب العون من السماء لإتمام منكراته فيكون بلية أسوأ من بلية العاطل من الدين والأخلاق معا.

وفقدان الأمة الإسلامية لأرضها ومعاركها كان للتعري من الخلق والدين، وليس ذلك وحسب، بل إن الفجرة الكفرة قطعوا أوصال البلدان والقرى والقبائل وسدوا منافذ الطرقات وعطلوا سبيل الحج وخربوا مراكز البريد وهونوا السطو وسفك الدماء ونهب المال. وصيروا البلاد التي كانت قلب الإسلام أكثر من غيرها تحت وطأة المفسدين والأشرار.

وليس في استطاعة أحد من أصحاب الأقلام أن يؤرخ لهذه الحقبة على التفصيل لا في البلاد الإسلامية كلها ولا في بلد إسلامي واحد، إلا ما كان من كتاب اليوميات والرحلات وتدوين الحوادث كالمقريزي والمقدسي وياقوت إذ المشاهدات متراكمة والأحداث منقضة على رؤوس الناس بغير انتظار.

ومن كتب هؤلاء وأمثالهم يظهر صدق هذا القول من وصفهم لتخريب البلاد وقتل النفوس وهياج الفتن وتكفير الناس1.

وقد صنف أبو عبد الله محمد بن العبدري الفاسي المالكي الشهير بابن الحاج كتابه "المدخل" في القرن الثامن الهجري في أربعة أجزاء كبيرة جمع فيه أنواع البدع والمفاسد والطقوس المحرمة التي عم الاعتقاد بها في البلاد الإسلامية، وهي أكثر من أن تحصى وأصعب على الشفاء من أن يصنع لها دواء2.

--------------------------------------------

1 - ظهر الإسلام 4: 103.

2 - انظر المدخل لابن الحاج.
বিজ্ঞতম প্রাজ্ঞ ব্যক্তিও নিজের মতামত ও বিশ্বাসকে নৈতিকতার প্রভাব থেকে মুক্ত করতে পারেন না। একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির জন্য সচ্চরিত্র হওয়া আবশ্যক; কেননা তিনি যদি চরিত্রহীন হন, তবে তিনি তার কুপ্রবৃত্তি এবং স্বীয় মন্দ কর্মসমূহ সম্পাদনকল্পে আসমানি সাহায্যের প্রার্থনার মধ্যে এক প্রকার সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেন। ফলে তিনি এমন এক মুসিবতে পরিণত হন যা ধর্ম ও নৈতিকতা উভয় বর্জিত ব্যক্তির মুসিবতের চেয়েও ভয়াবহ।

মুসলিম উম্মাহর ভূখণ্ড হারানো এবং যুদ্ধে পরাজয়ের মূল কারণ ছিল নৈতিকতা ও ধর্ম থেকে বিচ্যুতি। কেবল এটাই নয়, বরং পাপাচারী কাফেররা বিভিন্ন দেশ, গ্রাম ও গোত্রের মধ্যকার যোগসূত্র ছিন্ন করেছিল, রাস্তাঘাট রুদ্ধ করেছিল, হজের পথকে অচল করে দিয়েছিল এবং ডাক যোগাযোগ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দিয়েছিল। তারা লুণ্ঠন, রক্তপাত এবং সম্পদ হরণকে তুচ্ছ বিষয়ে পরিণত করেছিল। ফলে তারা সেই দেশগুলোকে—যা একসময় ইসলামের প্রাণকেন্দ্র ছিল—অন্যান্য অঞ্চলের চেয়েও বেশি বিপর্যয় সৃষ্টিকারী ও মন্দ লোকদের পদতলে পিষ্ট হওয়ার শিকারে পরিণত করেছিল।

কোনো লেখকের পক্ষেই এই সময়কালের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করা সম্ভব নয়—পুরো মুসলিম বিশ্ব তো বটেই, এমনকি কোনো একটি একক মুসলিম দেশের ক্ষেত্রেও তা অসম্ভব। তবে যারা দিনলিপি, ভ্রমণকাহিনী এবং ঘটনাবলি সংকলন করেছেন—যেমন মাকরিজি, মাকদিসি এবং ইয়াকুত—তাদের রচনার বিষয়টি ভিন্ন। কারণ তাদের সময় চাক্ষুষ অভিজ্ঞতাগুলো ছিল পুঞ্জীভূত এবং ঘটনাবলি অতর্কিতে মানুষের মাথার উপর ভেঙে পড়ছিল।

এদের এবং এদের মতো লেখকদের গ্রন্থসমূহ থেকে এই বক্তব্যের সত্যতা প্রতিভাত হয়, যেখানে তারা দেশসমূহের ধ্বংসসাধন, প্রাণহানি, ফিতনার বিস্তার এবং মানুষকে কাফের সাব্যস্ত করার বিবরণ দিয়েছেন১।

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-আবদারি আল-ফাসি আল-মালিকি, যিনি ইবনুল হাজ্জ নামে সুপরিচিত, হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে তার 'আল-মাদখাল' গ্রন্থটি চার বিশাল খণ্ডে রচনা করেছেন। এতে তিনি সেই সকল বিদআত, অনাচার এবং হারাম আচার-প্রথা একত্র করেছেন যা মুসলিম দেশগুলোতে ব্যাপক বিশ্বাসে পরিণত হয়েছিল। এগুলো সংখ্যায় যেমন অগণিত, তেমনি এর প্রতিকার কোনো ওষুধ তৈরির প্রচেষ্টার চেয়েও বেশি দুরূহ২।

--------------------------------------------

১ - জুহুরুল ইসলাম ৪: ১০৩।

২ - দেখুন ইবনুল হাজ্জের আল-মাদখাল।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
وما دونه ابن الحاج في كتابه من بدعة القبور وحدها ومخالفة الشرع فيها شيء كثير من فوادح الأخطاء في اختيار أمكنتها وطريقة بنائها وبناء البيوت حولها وانحرافها عن القبلة وأطوال الحفر فيها والدفن بها والقراءة والكتابة عليها ونصب الخيام وإشعال الأضواء والنيران والإقامة أياما وليالي يطهى عندها الطعام ويسقى الشراب1.

ويقول ابن الحاج: وقد صار هذا الحال في هذا الزمان أمرا معمولا به حتى لو تركه أحد منهم لكثر فيه القيل والقال فكيف لو أنكر ذلك! ولم يعلل ابن الحاج لما رآه من أنه أصبح عادة وهي إذا لزمت صار لها سلطان لا يقاوم ويعود البرهان غير مؤثر فيها.

وإذا تنبه فرد وأراد الانفلات من تأثيرها فإنه لا يلبث أن يرى جميع الزمرة التي ينتسب إليها تعاديه.

فإذا ثبت للعداوة ومضى في خلع العادة عد ذا خلق قوي ومزية تفوق المجتمع الذي ينتسب إليه.

وهذا الذي دونه ابن الحاج في بدعة القبور صغير لو قيس بما قاله في السحر والزار والاستشفاع بأجداث الأولياء وغير ذلك من الاعوجاج والفساد.

خفقات النجوم:

ولم يكن ليل المسلمين طامسا بل كانت تتخله خفقات نجوم تضيء وومضات بروق تلمع، ولكنها لم تؤذن بطلوع الصبح من قريب.

وكانت هذه الأضواء والومضات من رجال أتقياء أذكياء أفرغوا جهودهم الفردية في إنارة الطريق للسائرين، وربما لم يسلم واحد منهم من الخطأ والوهم أحيانا لكثرة المنعرجات في الأفكار، ومن هؤلاء أبو الحسن

--------------------------------------------

1 - المدخل لابن الحاج 3: 258 إلى 281.
ইবনে আল-হাজ তাঁর গ্রন্থে কবরের বিদআত এবং এ সংক্রান্ত শরয়ি বিধানের লঙ্ঘনের যে বিবরণ দিয়েছেন, তাতে কবরের স্থান নির্বাচন, নির্মাণ পদ্ধতি, কবরের চারদিকে ঘর নির্মাণ, কিবলা থেকে বিচ্যুতি, কবরের গর্তের দৈর্ঘ্য, দাফন পদ্ধতি, কবরের ওপর পাঠ ও লিখন, তাবু স্থাপন, আলোকসজ্জা ও অগ্নি প্রজ্বলন এবং সেখানে দিন-রাত অবস্থান করে আহার ও পানীয় প্রস্তুত করার মতো বহু গুরুতর ভুলের উল্লেখ রয়েছে।১

ইবনে আল-হাজ বলেন: বর্তমান সময়ে এই পরিস্থিতি একটি প্রচলিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে, এমনকি যদি তাদের কেউ এটি বর্জন করে তবে তাকে নিয়ে প্রচুর কানাঘুষা শুরু হয়; তাহলে কেউ এর প্রতিবাদ করলে কী অবস্থা হবে! ইবনে আল-হাজ এর কারণ ব্যাখ্যা করেননি যে কেন এটি একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আর অভ্যাস যখন জেঁকে বসে তখন তার এমন এক অপ্রতিরোধ্য প্রভাব তৈরি হয় যে কোনো প্রমাণই আর তাতে কার্যকর হয় না।

যদি কোনো ব্যক্তি সচেতন হয়ে এর প্রভাব থেকে মুক্ত হতে চায়, তবে অনতিবিলম্বেই সে দেখতে পায় যে, তার স্বগোত্রীয় সকলেই তার শত্রুতে পরিণত হয়েছে।

সে যদি এই শত্রুতার মুখে অটল থাকে এবং প্রচলিত প্রথা বর্জনে অবিচল থাকে, তবে তাকে দৃঢ় চরিত্রের অধিকারী এবং নিজ সমাজের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী বলে গণ্য করা হয়।

ইবনে আল-হাজ কবরের বিদআত সম্পর্কে যা লিপিবদ্ধ করেছেন, তা জাদু-টোনা, 'যার' প্রথা (অশুভ আত্মা তাড়ানোর কুসংস্কার), ওলীদের কবরের মাধ্যমে সুপারিশ প্রার্থনা এবং অন্যান্য বিচ্যুতি ও ফাসাদ সম্পর্কে তাঁর বর্ণনার তুলনায় অতি নগণ্য।

নক্ষত্রের স্পন্দন:

মুসলিমদের সেই রাতটি পুরোপুরি অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল না, বরং তাতে নক্ষত্রের দীপ্তি ও বিজলির চমক মাঝেমধ্যে পরিলক্ষিত হতো, তবে তা নিকট ভবিষ্যতে ভোরের আগমনের ঘোষণা দিচ্ছিল না।

এই আলোকবর্তিকা ও দীপ্তি ছিল মূলত এমন কিছু মুত্তাকি ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার ফল, যারা পথিকদের পথ প্রদর্শনে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। চিন্তাধারার নানাবিধ জটিলতার কারণে তাদের কেউই হয়তো মাঝেমধ্যে ভুল ও ভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাননি; আর তাদেরই একজন হলেন আবুল হাসান...

--------------------------------------------

১ - ইবনে আল-হাজ প্রণীত আল-মাদখাল ৩: ২৫৮ থেকে ২৮১।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
الأشعري وأبو حامد الغزالي وكلاهما كان نقي النفس مخلصا، ومن أبرز من ظهروا في عهود التفكير الديني في الإسلام.

وترك الأول مذهبا من الجدل ينصر فيه أهل السنة على المعتزلة، وقد كان أبو الحسن درس الاعتزال من قبل فتعرف طريقته وخبر عيوبه.

وترك الثاني جحفلا من الكتب التي يرد فيها مسائل الزهد والتصوف إلى الفقه وشرائع الدين، وكان منها: إحياء علوم الدين، والمنقذ من الضلال ومقاصد الفلاسفة، وتهافتهم. ومع أن الرجلين لم يسلما من النقد والعتب على بعض ما أخطأ فيه، فإنهما قوما منعطفات الطريق وأضاءا منعرجات الظلام.

واتخذ الأشاعرة مقالات أحمد بن حنبل تضيء لهم المسالك وتحل المشكلات كما فعل إمامهم فاقتدوا به، وقد كان من المعتزلة ثم تاب من القول بخلق القرآن في المسجد الجامع بالبصرة يوم جمعة، وكان ذلك بأن رقي كرسيا ونادى بأعلى صوته قائلا:

من عرفني فقد عرفني، ومن لم يعرفني فأنا أعرف بنفسي أنا فلان ابن فلان. كنت أقول بخلق القرآن وأن الله لا تراه الأبصار.. وأنا تائب مقلع، معتقد للرد على المعتزلة مخرج لفضائحهم ومعايبهم1.

ثم كتب الأشعري في الرد على الملاحدة والمعتزلة والرافضة والجهمية والخوارج وسائر أصناف المبتدعة، وكان المعتزلة قد رفعوا رؤوسهم زمانا حتى أظهر الله الأشعري فلاذوا يستخفون في الجحور.

واستقر الأشعري وأصحابه على السنة وإثبات الصفات للذات العلية.

وحين تكلموا عن صفة الكلام قالوا ما قاله الإمام أحمد والأئمة معه ومن

--------------------------------------------

1 - وفيات الأعيان 2: 246.
আশআরি এবং আবু হামিদ আল-গাজালি, তাঁরা দুজনেই পবিত্র আত্মার অধিকারী ও একনিষ্ঠ ছিলেন এবং তাঁরা ইসলামি ধর্মীয় চিন্তাধারার যুগে আবির্ভূত হওয়া ব্যক্তিবর্গের মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিলেন।

প্রথমজন যুক্তিতর্কের এমন একটি ধারা রেখে গেছেন যার মাধ্যমে তিনি মুতাজিলাদের বিরুদ্ধে আহলুস সুন্নাহকে সাহায্য করেছেন। আবুল হাসান ইতিপূর্বে মুতাজিলা মতবাদ অধ্যয়ন করেছিলেন, ফলে তিনি তাদের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতেন এবং তাদের দোষ-ত্রুটিগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন।

দ্বিতীয়জন এক বিশাল গ্রন্থরাজি রেখে গেছেন, যাতে তিনি যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) ও তাসাউফের বিষয়গুলোকে ফিকহ এবং দ্বীনের শরীয়তের দিকে ফিরিয়ে এনেছেন। সেগুলোর মধ্যে ছিল: ইহয়াউ উলুমিদ্দীন, আল-মুনকিজ মিনাদ দলাল, মাকাসিদিল ফালাসিফাহ এবং তাহাফুতুল ফালাসিফাহ। যদিও এই দুইজন ব্যক্তি তাঁদের কিছু ভুলের কারণে সমালোচনা ও তিরস্কার থেকে রেহাই পাননি, তবুও তাঁরা পথের বাঁকগুলোকে সংশোধন করেছেন এবং অন্ধকারের গোলকধাঁধাগুলোকে আলোকিত করেছেন।

আশআরিগণ আহমদ ইবনে হাম্বলের বক্তব্যগুলোকে গ্রহণ করেছিলেন যা তাদের পথকে আলোকিত করে এবং সমস্যার সমাধান করে, যেমনটি তাদের ইমাম করেছিলেন। অতঃপর তারা তাঁর অনুসরণ করেন। তিনি মুতাজিলাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, অতঃপর জুমার দিন বসরার জামে মসজিদে কুরআন সৃষ্টির মতবাদ থেকে তওবা করেন। আর তা ছিল এই যে, তিনি একটি উচ্চাসনে আরোহণ করলেন এবং উচ্চস্বরে ঘোষণা দিয়ে বললেন:

যে আমাকে চেনে সে তো চেনে, আর যে আমাকে চেনে না তাকে আমি নিজের পরিচয় দিচ্ছি—আমি অমুকের পুত্র অমুক। আমি বলতাম যে কুরআন সৃষ্টি এবং আল্লাহকে চক্ষুসমূহ দেখতে পায় না... কিন্তু এখন আমি তওবা করছি ও তা থেকে ফিরে আসছি। আমি এখন মুতাজিলাদের খণ্ডন করতে এবং তাদের কেলেঙ্কারি ও দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।১

এরপর আশআরি নাস্তিক, মুতাজিলা, রাফেজি, জাহমিয়াহ, খারেজি এবং অপরাপর সকল বিদয়াতি দলের খণ্ডনে কিতাব রচনা করেন। এক সময় মুতাজিলারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, পরিশেষে আল্লাহ আশআরিকে বিজয় দান করলেন এবং তারা গর্তে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হলো।

আশআরি এবং তাঁর অনুসারীরা সুন্নাহর ওপর এবং সুউচ্চ সত্তার জন্য গুণাবলী সাব্যস্ত করার ওপর স্থির হলেন।

আর যখন তাঁরা কালাম (কথা বলা) গুণ সম্পর্কে আলোচনা করলেন, তখন তাঁরা তাই বললেন যা ইমাম আহমদ এবং তাঁর সমসাময়িক ইমামগণ বলেছিলেন এবং যাঁরা

--------------------------------------------

১ - ওফায়াতুল আ’ইয়ান ২: ২৪৬।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৩২)
قبله، قالوا: إن كنه هذه الصفة -كسائر صفات الله عز وجل محجوب عن العقل كالذات العلية، فليس لأحد أن يخوض في كنه ما يجب لذاته أو صفاته سبحانه جل وعلا1.

وكذلك فعل الغزالي، وقد رد على الدهريين الذين، آمنوا بخلود المادة وأنكروا وجود الخالق، ورد على الطبيعيين الذين آمنوا بوجود الخالق ولكنهم أنكروا رجوع الأرواح إلى الأجساد وبعثها من مراقدها للثواب والعقاب. وقد قال الغزالي بكفر الطائفتين جميعا2.

وتمثلت طريقة الأشعري في مكافحة خصومه من المعتزلة والفلاسفة والفرق الضالة بالاستدلال الجدلي والبرهان المنطقي والاعتماد كل الاعتماد على القرآن والحديث.

ولكن أضواء هذه النجوم لم تخترق كل الظلمات ولم تنفذ قوية إلى سطح الأرض كله فتنبه العامة إلى ما هم فيه من جهالة وضياع، فبينما كانت الآراء تتصارع وذوو الأفهام يطلعون فيعرفون أو ينكرون كان سواد الأمة ماضيا في غلوائه من التطبع بأسوأ الطباع والتزام أقبح العادات وتقديس أرذل المعتقدات.

وذلك أن العامة مشحونة على استمرار بالانفعالات المتمردة والمزاج البعيد من العقل والسورة الجامحة، وهي في أشد الحاجة على الدوام إلى من يبصرها ويبعث فيها نخوة الاحتفاظ بمعتقدات سلفها أو الرجوع إليها، فإذا لم نجد هذا الذي يبصرها ليل نهار وفي كل آن ويشدها إليه شدا استسلمت لانفعالاتها وسورتها وتمردها.

ومع أن الغزالي أوضح في كتابه "القسطاس المستقيم" أنه لا يمكن

--------------------------------------------

1 - المدخل لابن بدران: 7.

2 - روح الإسلام: 323.
তাঁর আগে, তারা বলেছিলেন: এই গুণাবলীর প্রকৃত স্বরূপ - মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর অন্যান্য গুণাবলীর ন্যায় - উচ্চতর সত্তার ন্যায় বিচারবুদ্ধি থেকে আড়ালে রাখা হয়েছে। সুতরাং সুবহানাহু ওয়া তাআলার সত্তা বা গুণাবলীর জন্য যা আবশ্যিক, তার প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে গভীর আলোচনায় লিপ্ত হওয়ার অধিকার কারো নেই।১

অনুরূপভাবে ইমাম গাযালীও করেছেন। তিনি সেই দাহরিয়্যাহ বা বস্তুবাদীদের খণ্ডন করেছেন, যারা পদার্থের অবিনশ্বরতায় বিশ্বাস করত এবং স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করত। তিনি প্রকৃতিবাদীদেরও খণ্ডন করেছেন যারা স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করত কিন্তু দেহের সাথে আত্মার পুনরায় মিলিত হওয়া এবং পুরস্কার ও শাস্তির জন্য তাদের শয্যা থেকে পুনরুত্থানকে অস্বীকার করত। গাযালী এই উভয় দলকেই কাফির বলেছেন।২

মুতাযিলা, দার্শনিক এবং বিভ্রান্ত দলগুলোর মতো প্রতিপক্ষদের মোকাবেলায় আশআরীর পদ্ধতি ছিল তাত্ত্বিক বিতর্ক ও যৌক্তিক প্রমাণের ব্যবহার এবং সম্পূর্ণরূপে কুরআন ও হাদীসের ওপর নির্ভর করা।

কিন্তু এই নক্ষত্রদের আলো সমস্ত অন্ধকার ভেদ করতে পারেনি এবং সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠে এমন শক্তিশালীভাবে পৌঁছাতে পারেনি যাতে সাধারণ মানুষ তাদের অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। যখন বিভিন্ন মতাদর্শের লড়াই চলছিল এবং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা বিষয়গুলো অবগত হয়ে তা গ্রহণ বা বর্জন করছিল, তখন উম্মাহর সাধারণ মানুষ তাদের নিকৃষ্ট স্বভাবের অনুকরণ, কদর্য অভ্যাসসমূহ আঁকড়ে ধরা এবং হীনতম বিশ্বাসগুলোকে পবিত্র জ্ঞান করার চরম সীমায় নিমজ্জিত ছিল।

এর কারণ হলো, সাধারণ মানুষ ক্রমাগত বিদ্রোহী আবেগ, বিচারবুদ্ধিহীন মেজাজ এবং লাগামহীন উত্তেজনায় পরিপূর্ণ থাকে। তারা সর্বদা এমন একজনের মুখাপেক্ষী যারা তাদের পথ দেখাবে এবং তাদের মধ্যে পূর্বসূরি বা সালাফদের বিশ্বাস ধরে রাখা অথবা তার দিকে ফিরে যাওয়ার প্রেরণা জাগ্রত করবে। যদি এমন কেউ না থাকে যে দিন-রাত এবং প্রতি মুহূর্তে তাদের সঠিক পথ দেখাবে এবং তাদের দৃঢ়ভাবে ধরে রাখবে, তবে তারা নিজেদের আবেগ, উত্তেজনা ও অবাধ্যতার কাছে আত্মসমর্পণ করবে।

যদিও গাযালী তাঁর "আল-কিসতাস আল-মুস্তাকীম" গ্রন্থে স্পষ্ট করেছেন যে এটি সম্ভব নয়...

--------------------------------------------

১ - ইবনে বাদরানের আল-মাদখাল: ৭।

২ - রুহুল ইসলাম: ৩২৩।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
لأحد أن يعرف جميع الحقائق والمعارف الإلهية لجميع الخلق فيرفع الاختلافات الواقعة بينهم، فإنه حاول أن يرسم طريق النجاة لكل الخلق، وأرشد إلى أن هذا الطريق قد بينه الله في كتاب بقوله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ} [الحديد من الآية: 25] .

وقد بينت الآية أن الناس ثلاثة أصناف، وكل واحد من الكتاب والميزان والحديد علاج قوم: فالخواص أهل القريحة النافذة والفطنة القوية الخالية بواطنهم من التقليد والتعصب، فهؤلاء علاجهم بالميزان، وهو ما رسمه القرآن في الجدل الإبراهيمي الذي فيه الحجة البالغة.

والعامة الذين ليس لهم فطنة لفهم الحقائق، وإن كانت لهم فطنة فطرية فليس فيهم داعية الطلب ولا داعية الجدل، وهؤلاء ليس الخوض في الخلافات من عشهم، فهؤلاء لهم الاعتقاد وما في الكتاب من أصول وفروع، من غير أن يشغلوا أنفسهم بمواقع الخلاف، ويكفيهم معرفة الفرائض وما اتفقت عليه الأمة من الحلال والحرام. ومن هؤلاء قوم هم أهل الجدل، فيرى الغزالي علاجهم بالتلطف إلى الحق من غير تعصب عليهم أو تعنيف لهم، وإنما يعالجون بما قال الله سبحانه: {وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [النّحل من الآية: 125] .

وبقي الحديد الذي فيه بأس شديد، وهو علاج الصنف الثالث، وهم الذين يتبعون ما تشابه من الكتاب ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله.

ورغم كل علاج فإن الخلاف لم يرتفع بين الخلائق، ولم تزل
কারো পক্ষে সৃষ্টির যাবতীয় ঐশ্বরিক সত্য ও জ্ঞান জানা সম্ভব নয় যাতে তাদের মধ্যকার বিদ্যমান মতভেদ দূর করা যায়। তাই তিনি সকল সৃষ্টির জন্য মুক্তির পথ অঙ্কন করার চেষ্টা করেছেন এবং পথনির্দেশ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এই পথ বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “এবং আমি তাদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও মীযান (ন্যায়দণ্ড), যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি অবতীর্ণ করেছি লৌহ, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড রণশক্তি এবং মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ।” [সূরা আল-হাদীদ: ২৫]।

এই আয়াতটি স্পষ্ট করেছে যে মানুষ তিন প্রকারের। কিতাব, মীযান এবং লৌহ—এগুলোর প্রতিটি একেকটি দলের জন্য চিকিৎসা। বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ হলেন তীক্ষ্ণ মেধা ও শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন মানুষ, যাদের অন্তর অন্ধ অনুসরণ ও গোঁড়ামি থেকে মুক্ত। তাদের চিকিৎসা হলো ‘মীযান’-এর মাধ্যমে; আর এটি হলো সেই বিষয় যা কুরআন ইবরাহীমি বিতর্কের মাধ্যমে চিত্রিত করেছে, যাতে রয়েছে চূড়ান্ত প্রমাণ।

আর সাধারণ মানুষ হলো তারা যাদের সত্য উপলব্ধি করার মতো সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তি নেই। যদিও তাদের সহজাত বুদ্ধিবৃত্তি থাকে, তবুও তাদের মধ্যে সত্য অন্বেষণের প্রবল ইচ্ছা বা বিতর্কের আকাঙ্ক্ষা নেই। মতভেদের গভীরে প্রবেশ করা তাদের কাজ নয়। তাদের জন্য রয়েছে কিতাবে বর্ণিত মূলনীতি ও শাখাগত বিষয়ের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা, মতভেদের ক্ষেত্রগুলোতে নিজেদের লিপ্ত না করা। তাদের জন্য ফরজ বিষয়সমূহ এবং হালাল-হারামের ব্যাপারে উম্মাহ যে বিষয়ে একমত হয়েছে, তা জানাই যথেষ্ট। এদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা বিতর্কে লিপ্ত হয়; ইমাম গাজালী তাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে মনে করেন যে, তাদের প্রতি গোঁড়ামি বা কঠোরতা প্রদর্শন না করে নম্রতার সাথে সত্যের দিকে নিয়ে আসা উচিত। বরং তাদের সাথে সেভাবেই আচরণ করতে হবে যেভাবে মহান আল্লাহ বলেছেন: “এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়।” [সূরা আন-নাহল: ১২৫]।

আর বাকি রইল লৌহ যাতে রয়েছে প্রচণ্ড রণশক্তি, এটি হলো তৃতীয় শ্রেণির চিকিৎসা। তারা হলো সেই সব লোক যারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে কিতাবের রূপক বিষয়গুলোর অনুসরণ করে।

সকল চিকিৎসা সত্ত্বেও সৃষ্টির মধ্য থেকে মতভেদ দূর হয়নি এবং তা অব্যাহত রয়েছে...
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الإشكالات عن القلوب1 لأن اختلاف الخلائق حكم ضروري أزلي بينه قوله تعالى: {وَلا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ} [هود من الآيتين: 118-119] ؛ فالناس دائما في حاجة لرحمة الله في مطلع فجر جديد.

مطلع الفجر:

وطلع الفجر عندما استيقظت حران المسلمة العريقة في المعرفة فولدت أضواء صبح مستعرض. هم بنو تيمية، وكان أقربهم إلى أضواء النهار تقي الدين أحمد بن عبد الحليم وتلميذه الفذ شمس الدين محمد بن قيم الجورية2.وعلى رغم ما لقيه هذان الرجلان في نفسيهما وفيما رزقهما الله من علم وتقوى فإنهما تركا من بعدهما تراثا وقادا ما يكاد ينهتك عنه ستر الليل ويسفر صبحه حتى تبزغ الشمس عن نور منتشر مستفيض.

وقد نشأت ببني تيمية مدرسة عقلية لا تقول بالرأي، وإنما تبحث عن الأدلة القاطعة التي يقدر عليها العقل الراشد والميزان السليم لإثبات أحكام الشرع.

وقد فرغت هذه المدرسة من أن الأحكام الواردة في نصوص الشريعة الإسلامية لا بد أن تكون عن إرادة من الشارع الحكيم لمنفعة الناس.

وتوسعت هذه المدرسة في الرد على كل مخالف لطريق السنة ولا سيما الجهمية القائلين بخلق القرآن، وتعطيل الباري جل وعلا عن صفاته،

--------------------------------------------

1 - القسطاس المستقيم: 69.

2 - كني شمس الدين بابن القيم لأن أباه كان قيما على مدرسة يقال لها الجوزية.
অন্তরের সংশয়সমূহ১ কারণ সৃষ্টির বৈচিত্র্য একটি অনাদি ও অনিবার্য বিধান যা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা স্পষ্ট হয়েছে: "আর তারা সর্বদা মতবিরোধ করতে থাকবে, তবে তারা ব্যতীত যাদের ওপর তোমার রব দয়া করেছেন। আর এজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন।" [হূদ: ১১৮-১১৯]; সুতরাং নতুন প্রভাতের সূচনায় মানুষ সর্বদা আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী।

প্রভাতের উদয়:

আর প্রভাত উদিত হলো যখন জ্ঞানের ঐতিহ্যে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ মুসলিম জনপদ হাররান জাগ্রত হলো এবং এক বিস্তৃত ভোরের আলোর জন্ম দিল। তাঁরা হলেন বনু তাইমিয়্যাহ। আর তাঁদের মধ্যে দিবালোকের সবচেয়ে নিকটবর্তী ছিলেন তাক্বিউদ্দীন আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম এবং তাঁর অনন্য ছাত্র শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ২। এই দুই ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে এবং আল্লাহ তাঁদেরকে যে ইলম ও তাকওয়া দান করেছিলেন সেই পথে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও, তাঁরা নিজেদের পরে এমন এক প্রোজ্জ্বল জ্ঞান-ঐতিহ্য রেখে গেছেন যে, রাত্রির পর্দা ছিন্ন হয়ে প্রভাত উদ্ভাসিত হওয়ার সাথে সাথেই সূর্যের আলো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্তৃতি লাভ করে।

বনু তাইমিয়্যাহর মাধ্যমে এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক ধারার উদ্ভব ঘটেছিল যা নিছক রায় বা মতামতের কথা বলে না, বরং এমন অকাট্য দলীল অনুসন্ধান করে যা সঠিক বিবেক এবং নির্ভুল মানদণ্ড শরীয়তের বিধানসমূহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সক্ষম।

এই ধারাটি এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে যে, ইসলামী শরীয়তের উৎসসমূহে বর্ণিত বিধানগুলো অবশ্যই প্রজ্ঞাময় বিধানদাতার পক্ষ থেকে মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যেই নির্ধারিত হয়েছে।

সুন্নাহর পথের সকল বিরোধীদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে এই ধারাটি ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছিল, বিশেষ করে সেই জাহমিয়্যাহদের বিরুদ্ধে যারা কুরআনকে সৃষ্ট বলে দাবি করে এবং মহান আল্লাহকে তাঁর গুণাবলী থেকে রিক্ত করে দেয়,

--------------------------------------------

১ - আল-ক্বিসতাস আল-মুস্তাক্বীম: ৬৯।

২ - শামসুদ্দীনকে ইবনুল কায়্যিম উপনামে ডাকা হয় কারণ তাঁর পিতা 'জাওযিয়্যাহ' নামক একটি মাদরাসার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وإنكار رؤية المؤمنين له في القيامة. والقائلين من الصوفية بوحدة الوجود والمفرطين في الإيمان بالذوق والشطح الصوفي.

وكان من وصايا الإمام أحمد رضي الله عنه في زمانه الأول أن لا يشغل أحد من أهل السنة نفسه بالرد عليهم، ثم عاد هو فرد عليهم، فلما استفحل الأمر من بعده وسال الناس فيه سيل الماء أو سيل البحر لم تجد مدرسة بني تيمية بدا من الرد والعنف فيه.

واتجه البحر الزاخر تقي الدين اتجاهين:

اتجاه نظري يرد فيه على المؤولين والمخرجين ابتغاء إحياء السنة والرجوع في الأحكام إلى النصوص والوقوف عن التأويل.

واتجاه عملي حرم فيه البدع كافة. وقصد قصد العامة التي هلعت نفوسها وراء كل ما هو مبتدع بلا علم منها ولا شعور وكأنه صار قدسا لا ينال بكيد ولا تجريح1.

واتخذ تقي الدين من لسانه وقلمه سلاحا للجدال والمناظرة والوعظ والتدوين، ومن سيفه للجهاد والمدافعة، وكان في سلاحه البياني بليغا عنيفا يحامي به عن أفكار الإسلام النقية كارها أشد الكره ما فعله القرامطة والباطنية من التأويلات الكاذبة بدعوى أنه علم الباطن، وهو أمر لم يقفوا فيه عند حد من الإلحاد في أسماء الله وآياته وتحريف كلم القرآن والحديث عن مواضعه، ولم تكن لهم غاية من باطنهم إلا إنكار الإيمان ومحو شرائع الإسلام2.

ثم كان تقي الدين في سلاحه القتالي جنديا مخلصا وزعيما متحمسا يدافع عن أرض المسلمين ويدعو أهلها لرد التتر الغزاة.

--------------------------------------------

1 - دائر المعارف 2: 368.

2 - كتاب السلالة 1: 945.
এবং কিয়ামতের দিন মুমিনদের তাকে (আল্লাহকে) দেখার বিষয়টি অস্বীকার করা। আর সূফীদের মধ্যে যারা ওয়াহদাতুল অজুদে (সর্বেশ্বরবাদ) বিশ্বাসী এবং যারা আধ্যাত্মিক স্বাদ ও সূফী ভাবোচ্ছ্বাসে অতিরঞ্জনকারী।

ইমাম আহমদ রাযিয়াল্লাহু আনহুর প্রারম্ভিক সময়ের অন্যতম উপদেশ ছিল যে, আহলে সুন্নাতের কেউ যেন তাদের খণ্ডনে নিজেকে ব্যস্ত না করে। পরবর্তীতে তিনি নিজেই তাদের খণ্ডন করেন। তাঁর পরবর্তী সময়ে যখন বিষয়টি চরম আকার ধারণ করল এবং মানুষের মাঝে তা বন্যার পানি বা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ল, তখন ইবনে তায়মিয়া স্কুল বা চিন্তাধারা এর খণ্ডন ও কঠোরতা প্রদর্শনে কোনো বিকল্প খুঁজে পায়নি।

বিশাল জ্ঞানসমুদ্র তাকীউদ্দিন দুটি পথে অগ্রসর হলেন:

একটি তাত্ত্বিক পথ, যেখানে তিনি সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এবং বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে মূল পাঠের (নস) দিকে ফিরে যাওয়া ও অপব্যাখ্যা (তাবিল) থেকে বিরত থাকার উদ্দেশ্যে অপব্যাখ্যাকারী ও ভ্রান্ত ব্যাখ্যা প্রদানকারীদের জবাব দেন।

অন্যটি হলো ব্যবহারিক পথ, যাতে তিনি সকল প্রকার বিদআতকে হারাম ঘোষণা করেন। তিনি সেই সাধারণ জনতাকে উদ্দেশ্য করেন, যারা অজ্ঞাতসারে ও অসচেতনভাবে প্রতিটি বিদআতের পেছনে এমনভাবে আবিষ্ট হয়ে পড়েছিল যেন তা এক পবিত্র বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা কোনো সমালোচনা বা যুক্তিতে টলে না।১

তাকীউদ্দিন তাঁর জিহ্বা ও কলমকে বিতর্ক, মোনাজারা, ওয়াজ ও গ্রন্থ রচনার হাতিয়ার এবং তাঁর তলোয়ারকে জিহাদ ও প্রতিরোধের অস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর লেখনীর শক্তিতে তিনি অত্যন্ত সাবলীল ও জোরালো ছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি ইসলামের বিশুদ্ধ আদর্শসমূহ রক্ষা করতেন। কারামাতি ও বাতেনী সম্প্রদায় 'বাতেনী ইলম' বা গোপন জ্ঞানের অজুহাতে যে মিথ্যা ব্যাখ্যা ও অপলাপ তৈরি করেছিল, তাকে তিনি চরম ঘৃণা করতেন। তারা আল্লাহর নাম ও তাঁর নিদর্শনাবলীতে কুফরি এবং কুরআন ও হাদীসের বাণীকে তার প্রেক্ষাপট থেকে বিকৃত করার ক্ষেত্রে কোনো সীমারেখা মানেনি। তাদের এই বাতেনী তত্ত্বের মূল লক্ষ্য ছিল ঈমানকে অস্বীকার করা এবং ইসলামের বিধানসমূহ বিলুপ্ত করা।২

অতঃপর রণক্ষেত্রেও তাকীউদ্দিন ছিলেন একজন একনিষ্ঠ সৈন্য এবং এক তেজস্বী নেতা, যিনি মুসলিম ভূখণ্ড রক্ষা করতেন এবং তাতার আক্রমণকারীদের বিতাড়িত করতে মুসলিমদের উদ্বুদ্ধ করতেন।

--------------------------------------------

১ - দায়িরাতুল মাআরিফ ২: ৩৬৮।

২ - কিতাবুস সুলালা ১: ৯৪৫।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وخلف ابن تيمية من الكتب والرسائل في الخلافات الجارية ما لم يبلغ مبلغه أحد من مصنفي المسلمين، تنقية وجدالا ومحاجة وتقريرا، وصارت كتبه ورسائله ينابيع ثرة يردها كل ذي غلة ويصدر عنها راويا، وأضواء ساطعة يسير فيها كل من أراد الهداية من الحيرة والسير في الطريق المستقيم.

وقد تبعه في علمه ومزاجه وطريقته ابن القيم فوسع وأكمل وحرر، ثم خلف مثل شيخه كتبا ذات قيمة نفيسة في اللغة والحديث والسنة والسيرة والفقه والتفسير، لا يستغني عنها وارد ماء ولا راشف دواء.

وليس من غارة شنت على آراء جهم بن صفوان المنحرفة عن جادة الحق بعد الظاهرية أشد من الغارة التي شنها تقي الدين وصاحبه شمس الدين، وقد رد هؤلاء جميعا استدلالات الجهمية وغيرهم، بالعقل والنقل، حتى كسروا جيوشهم وردوها فلولا وأشلاء1.

وشيخ الظاهرية كان داود الأصفهاني، حارب القياس الباطل وأظهر أن في الكتاب والسنة ما يفي بمعرفة الواجبات والمحرمات، وقدم ظواهر آيات القرآن والحديث على التعليل الفعلي للأحكام، وكانت وفاته في سنة 270 هـ2 قريبا من وفاة شيخ الأمة أحمد بن حنبل الذي توفي في سنة 241 هـ.

وآخر أعلام الظاهرية علي بن أحمد بن حزم القرطبي الذي قال ببطلان القياس ورد على أتباع المذاهب المقلدين وصنف في الصحاح وفتاوى الصحابة والتابعين وأقضيتهم، وذاد عن الإسلام ذودا شديدا وتوفي في سنة 456 هـ3.

--------------------------------------------

1 - المدخل لابن بدران: 14، 41.

2 - ظهر الإسلام 1:223.

3 - الإحكام في أصول الأحكام: 1171.
ইবনে তাইমিয়া চলমান মতপার্থক্যসমূহ সম্পর্কে এমন সব কিতাব ও রিসালা রেখে গিয়েছেন যার সমপর্যায়ে মুসলিম লেখকদের কেউ পৌঁছাতে পারেনি; বিষয়ের পরিশুদ্ধি, বিতর্ক, যুক্তি-তর্ক এবং সিদ্ধান্তের উপস্থাপনায় তিনি ছিলেন অনন্য। তাঁর কিতাব ও রিসালাগুলো এমন এক প্রাচুর্যময় প্রস্রবণে পরিণত হয়েছে, যেখানে তৃষ্ণার্তরা আগমন করে এবং তৃপ্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন করে। এগুলো উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা, যা সংশয় থেকে হেদায়েত ও সরল পথে চলার ইচ্ছা পোষণকারীকে পথ দেখায়।

ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ইলম, মেজাজ এবং পদ্ধতিতে তাঁকে অনুসরণ করেছেন। ফলে তিনি বিষয়ের বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন, পূর্ণতা দিয়েছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন। অতঃপর তিনিও তাঁর শাইখের মতো ভাষা, হাদিস, সুন্নাহ, সিরাত, ফিকহ এবং তাফসির বিষয়ে অত্যন্ত মূল্যবান কিতাবাদি রেখে গেছেন, যা কোনো জ্ঞানপিপাসু বা সত্যের অন্বেষণকারীর জন্য অপরিহার্য।

সত্য পথ থেকে বিচ্যুত জাহম বিন সাফওয়ানের মতাদর্শের ওপর জাহেরিয়াদের পর তাকিউদ্দীন এবং তাঁর সাথী শামসুদ্দীনের আক্রমণের চেয়ে কঠোর কোনো আক্রমণ আর পরিচালিত হয়নি। তাঁরা যুক্তি ও ঐতিহ্যের (নকল) মাধ্যমে জাহমিয়া ও অন্যদের সকল দলিল খণ্ডন করেছেন, এমনকি তাদের বাহিনীকে বিধ্বস্ত করে পরাজিত ও ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন।১

জাহেরিয়াদের শাইখ ছিলেন দাউদ আল-আসবাহানি। তিনি বাতিল কিয়াসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন এবং প্রকাশ করেছেন যে, কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যেই ওয়াজিব ও হারামগুলো জানার পর্যাপ্ত উপাদান রয়েছে। তিনি বিধানের কার্যকারণ ব্যাখ্যার ওপর কুরআন ও হাদিসের আয়াতের বাহ্যিক অর্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছে ২৭০ হিজরি সনে২, যা উম্মতের শাইখ আহমাদ বিন হাম্বলের মৃত্যুর কাছাকাছি সময়, যিনি ২৪১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

জাহেরিয়াদের শেষ দিককার অন্যতম ইমাম ছিলেন আলী বিন আহমাদ বিন হাজম আল-কুরতুবি, যিনি কিয়াসের অসারতা ঘোষণা করেছিলেন এবং মুকাল্লিদ মাজহাবপন্থীদের জবাব দিয়েছিলেন। তিনি বিশুদ্ধ হাদিসসমূহ এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের ফতোয়া ও বিচার-ফয়সালা নিয়ে কিতাব রচনা করেছেন। তিনি ইসলামের প্রতিরক্ষায় কঠোর সংগ্রাম করেছেন এবং ৪৫৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।৩

--------------------------------------------

১ - আল-মাদখাল লি ইবনি বাদরান: ১৪, ৪১।

২ - যুহুরুল ইসলাম ১:২২৩।

৩ - আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম: ১১৭১।
(খণ্ড: ১) দা’ইয়াতুত তাওহীদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৩৭)
أما الشاميان الحنبليان فمع تقديمهما لظواهر القرآن والحديث فقد خالفا الظاهرية بأن بحثا عن التعليل العقلي لأحكام الشرع، معتقدين أنه لا بد أن يكون الشّارع الحكيم فرضها لخير النّاس، وكان من فضلهما أن صيّرا المعتقدات إلى معارف تبرّرها العقول ليتمّ رسوخ الإيمان.

وحارب الفقيهان الحيلة على الدين وعدوها -كإمامهم أحمد- جبنا وغشا لتغطية الحق عن الناس، كما شجبا الإلهام الصوفي الذي سرى من جهة غلاة المتصوفة، واعتبره بعض المتأخرين منهم مسانيد لها قوة النصوص.

وقد أقفل الحنابلة هذا الباب لأنهم رأوه مدخلا للمفاسد والشرور وطريقا واسعا للكذبة والمدلسين على الدين، وخافوا أن يدعي المدعون إثبات ما يلذ لهم بحجة الالهام والذوق والكشف، فيكون وحيا زائدا على وحي النبوات.

وكذلك الرؤى والأحلام لا تكون حجة ولا تلزم العمل بها، ولا يثبت بها حكم شرعي -وإن كانت رؤية النبي صلى الله عليه وسلم رؤيا حق- ولكن النائم ليس من أهل التحمل للرواية لانعدام قدرته على الحفظ، ومن أجل ذلك يسقط عنه التكليف1.

والشريعة الإسلامية قد تمت واكتملت فلا تزيدها الإلهامات والرؤى والكشوف أحكاما، وقد منع هذه الزيادات وغيرها على الشريعة قوله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِيناً} [المائدة من الآية: 3] .

وولد في مطلع هذا الفجر إسماعيل بن عمر بن كثير الدمشقي نضو

--------------------------------------------

1 - المدخل لابن بدران: 138.
দুই সিরীয় হাম্বলী আলেম কুরআন ও হাদিসের বাহ্যিক অর্থকে প্রাধান্য দিলেও শরয়ী বিধানের যৌক্তিক কারণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে তারা জাহিরিয়াদের থেকে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তারা বিশ্বাস করতেন যে, প্রজ্ঞাবান শরীয়ত প্রণেতা মানুষের কল্যাণের জন্যই এগুলো নির্ধারণ করেছেন। তাদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো, তারা ধর্মীয় বিশ্বাসসমূহকে এমন এক জ্ঞানে রূপান্তরিত করেছেন যা যুক্তি দ্বারা সমর্থিত, যাতে ঈমান সুদৃঢ় হয়।

এই দুই ফকিহ ধর্মের নামে প্রতারণামূলক কৌশল বা হিলা-র বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং তাদের ইমাম আহমাদের মতো একে মানুষের কাছ থেকে সত্য গোপন করার কাপুরুষতা ও প্রবঞ্চনা হিসেবে গণ্য করেছেন। তারা চরমপন্থী সূফীদের পক্ষ থেকে আসা তথাকথিত আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণাকে (ইলহাম) প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা তাদের পরবর্তীকালের কেউ কেউ দালিলিক নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে মূল শাস্ত্রীয় পাঠের সমতুল্য মনে করত।

হাম্বলীগণ এই দ্বার রুদ্ধ করে দিয়েছেন কারণ তারা একে ফাসাদ ও অনিষ্টের প্রবেশপথ এবং ধর্মের ব্যাপারে মিথ্যাবাদী ও প্রতারকদের জন্য একটি প্রশস্ত রাস্তা হিসেবে মনে করতেন। তারা আশঙ্কা করেছিলেন যে, দাবিদাররা ইলহাম, আধ্যাত্মিক স্বাদ এবং মারেফাত উন্মোচনের (কাশফ) অজুহাতে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো বিষয়গুলো সাব্যস্ত করার দাবি তুলবে, যা নবুওয়াতের ওহীর অতিরিক্ত আরেকটি ওহী হিসেবে গণ্য হবে।

অনুরূপভাবে স্বপ্ন ও দর্শন কোনো দলিল হতে পারে না এবং সে অনুযায়ী আমল করাও আবশ্যক নয়। এর দ্বারা কোনো শরয়ী বিধানও সাব্যস্ত হয় না—যদিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখা সত্য—কিন্তু স্বপ্নদ্রষ্টা ব্যক্তি কোনো বর্ণনা গ্রহণ করার যোগ্য নন, কারণ তার সংরক্ষণ করার ক্ষমতা থাকে না। আর এই কারণেই ঘুমন্ত ব্যক্তির ওপর থেকে শরয়ী দায়বদ্ধতা রহিত করা হয়েছে।

ইসলামী শরীয়ত পূর্ণাঙ্গ ও সম্পন্ন হয়েছে; সুতরাং ইলহাম, স্বপ্ন বা কাশফ এর মধ্যে নতুন কোনো বিধান যোগ করতে পারে না। শরীয়তের ওপর এই জাতীয় বা অন্য কোনো সংযোজনকে মহান আল্লাহর এই বাণী নিষিদ্ধ করেছে: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" [আল-মায়েদাহ: ৩]

আর এই উষালগ্নেই ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর আদ-দিমাশকী জন্মগ্রহণ করেন...

--------------------------------------------

১ - আল-মাদখাল লি-ইবনে বদরান: ১৩৮।