(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: -)
خصائص مسند الإمام أحمد   (أبو موسى المديني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: خصائص مسند الإمام أحمد

المؤلف: محمد بن عمر بن أحمد بن عمر بن محمد الأصبهاني المديني، أبو موسى (ت 581هـ)

الناشر: مكتبة التوبة

الطبعة: 1410هـ-1990م

عدد الصفحات: 21

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমাম আহমাদ রহ.-এর মুসনাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ   (আবু মুসা আল-মাদিনি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: ইমাম আহমাদ রহ.-এর মুসনাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ

লেখক: মুহাম্মদ বিন উমর বিন আহমাদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ আল-আসবেহানি আল-মাদিনি, আবু মুসা (মৃ. ৫৮১ হি.)

প্রকাশক: মাকতাবাতুত তাওবা

সংস্করণ: ১৪১০ হি.-১৯৯০ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌خصائص مسند الإمام أحمد

 

بسم الله الرحمن الرحيم

رب يسر وأعن يا كريم برحمتك.

قال الشيخ عبد المنعم بن علي بن مفلح الحنبلي أخبرتني الشيخة الجليلة الأصيلة المسندة المعمرة أم عبد الله عائشة ابنة محمد بن عبد الهادي بن عبد الحميد بن عبد الهادي بن يوسف بن محمد بن قدامة المقدسي الصالحي إجازة منها قالت أنبأنا أبو عبد الله محمد بن أحمد بن تمام بن حسان الصالحي وغيره عن أبى العباس أحمد بن عبد الدائم بن نعمة المقدسي قال: أخبرنا الحافظ أبو محمد عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي سماعا "ح"1 قالت عائشة وأنبأتنا به عاليا بدرجة أم عبد الله زينب ابنة عبد الرحيم بن أحمد بن عبد الرحمن البجدي عن الحافظ ضياء الدين أبي عبد الله محمد بن عبد الواحد بن أحمد بن عبد الرحمن المقدسي قالا: أنبأنا الحافظ أبو موسى محمد بن عمر بن أحمد بن عمر الأصبهاني المديني رحمه الله تعالى قال:

الحمد لله الواسع المنعم المفضل المكرم العالم المعلم.

--------------------------------------------

1 درج المحدثون على كتابة هذا الرمز في الأسانيد للإشارة إلى تحويل إلى سند آخر يلتقي مع الأول معجم المصطلحات الحديثية 35.
ইমাম আহমাদের মুসনাদ-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে রব! সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন, হে দয়াবান, আপনার রহমতের উসিলায়।

শাইখ আবদুল মুনিম ইবন আলী ইবন মুফলিহ আল-হাম্বলী বলেন: আমাকে মহীয়সী, সম্ভ্রান্ত, হাদিস বর্ণনাকারী (مسندة), দীর্ঘজীবী উম্মু আবদুল্লাহ আয়েশা বিনতে মুহাম্মদ ইবন আবদুল হাদি ইবন আবদুল হামিদ ইবন আবদুল হাদি ইবন ইউসুফ ইবন মুহাম্মদ ইবন কুদামা আল-মাকদিসি আস-সালেহি তাঁর পক্ষ থেকে অনুমতি (إجازة) প্রদানের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন তাম্মাম ইবন হাসসান আস-সালেহি এবং অন্যান্যেরা আবুল আব্বাস আহমদ ইবন আবদুল দায়েম ইবন নি'মাহ আল-মাকদিসি থেকে। তিনি বলেন: হাফিজ (الحافظ) আবু মুহাম্মদ আবদুল গনি ইবন আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি সরাসরি শ্রবণের (سماعا) মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। “হা (ح)”১ আয়েশা বলেন: আমাদের নিকট এটি আরও উচ্চ পর্যায়ের (عاليا) সনদে বর্ণনা করেছেন উম্মু আবদুল্লাহ জয়নব বিনতে আবদুর রহিম ইবন আহমদ ইবন আবদুর রহমান আল-বাজদি, তিনি হাফিজ (الحافظ) জিয়াউদ্দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আবদুল ওয়াহিদ ইবন আহমদ ইবন আবদুর রহমান আল-মাকদিসি থেকে বর্ণনা করেন। তাঁরা উভয়ে বলেন: হাফিজ (الحافظ) আবু মুসা মুহাম্মদ ইবন উমর ইবন আহমদ ইবন উমর আল-আসবিহানি আল-মাদিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অঢেল দানকারী, অনুগ্রহকারী, মর্যাদা দানকারী, মহাজ্ঞানী ও শিক্ষক।

--------------------------------------------

১ হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) একটি সনদ (سند) থেকে অন্য একটি সনদে (سند) রূপান্তরের (تحويل) ইঙ্গিত দেওয়ার জন্য সনদের (أسانيد) মাঝখানে এই প্রতীকটি ব্যবহার করে থাকেন যা প্রথমটির সাথে মিলিত হয়; দ্রষ্টব্য: মুজামুল মুসতালাহাতিল হাদিসিয়াহ, ৩৫।
(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ١٠)
الذي أحسن بدءا وغفر آخرا وصلواته على محمد المختار من خلقه وعلى آله.

أما بعد فإن مما انعم الله علينا أن رزقنا سماع كتاب المسند للإمام الكبير إمام الدين أبى عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني رحمه الله تعالى فحصل لي والدي رحمه الله وجزاه عني خيرا إحضاري قراءته سنة خمس وخمسمائة على الشيخ المقرىء بقية المشايخ أبي علي الحسن بن الحداد وكان سماعه لأكثره عن أبي نعيم أحمد بن عبد الله الحافظ وما فاته منه قرىء عليه بإجازته له وأبو نعيم كان يرويه عن شيخه أبي علي محمد بن أحمد بن الحسن الصواف أبي بكر أحمد بن جعفر بن حمدان بن مالك القطيعي على ما تنطق فهرست مسموعاتي بخط والدي رحمه الله ثم قرأناه أجمع ببغداد على الشيخ الرئيس الثقة أبي القاسم هبة الله محمد بن عبد الواحد بن الحصين الشيباني من أصل سماعه إلا ما لم يكن عند شيخه عن أبي علي الحسن بن علي بن المذهب التميمي الواعظ1 عن أبي بكر.

--------------------------------------------

1 قال الذهبي في الميزان الظاهر من ابن المذهب أنه شيخ ليسي بمتقن وكذلك شيخه ابن مالك "يعني القطيعي" ومن ثمة وقع في المسند أشياء غير محكمة المتن ولا الإسناد اهـ وذكر الحافظ أبو بكر بن نقطة أن ابن المذهب فاته على القطيعي من المسند: مسندا عوف بن مالك وفضالة بن عبيد وكلاهما من مسند الشاميين وقال ابن حجر ذكر بعض الحفاظ أنه فاته عليه أيضا خمسة وثلاثون حديثا من مسند جابر وهي من حديث أبي الزبير سألت جابرا: متى كان يرمي وهو من رواية ابن لهيعة عن أبي الزبير وآخرها حديث "أبي الزبير عن جابر" في النهي عن الأكل بالشمال.........=
যিনি সৃষ্টির শুরুতে অনুগ্রহ করেছেন এবং শেষে ক্ষমা করবেন, এবং তাঁর সালাত বর্ষিত হোক সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর।

অতঃপর, আল্লাহ আমাদের ওপর যে নিয়ামতসমূহ বর্ষণ করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো তিনি আমাদের মহান ইমাম, দ্বীনের ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর মুসনাদ গ্রন্থটি শোনার তাওফিক দান করেছেন। আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) — আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন — ৫০৫ হিজরি সালে প্রবীণ শায়খ ও মুকরি আবু আলী আল-হাসান বিন আল-হাদ্দাদের নিকট এর পাঠে আমার উপস্থিতির ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁর শ্রবণকৃত অংশের অধিকাংশ ছিল আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ (الحافظ) এর নিকট থেকে, আর তাঁর যা যা ছুটে গিয়েছিল তা তাঁর নিকট তাঁর অনুমতি (إجازة) সাপেক্ষে পাঠ করা হয়েছিল। আবু নুআইম এটি তাঁর শায়খ আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাসান আস-সাওয়াফ ও আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক আল-কাতিয়ি-এর নিকট থেকে বর্ণনা করতেন, যেমনটি আমার পিতার হস্তলিখিত আমার শ্রবণ তালিকার সূচিপত্রে প্রতীয়মান হয়। অতঃপর আমরা এটি বাগদাদে প্রধান ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) শায়খ আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-হুসাইন আশ-শাইবানির নিকট তাঁর মূল শ্রবণকৃত পাণ্ডুলিপি থেকে পূর্ণাঙ্গরূপে পাঠ করি; তবে তাঁর শায়খের নিকট যা ছিল না তা ব্যতীত, যা আবু আলী আল-হাসান বিন আলী বিন আল-মাযহাব আত-তামিমি আল-ওয়াইয১ এর সূত্রে আবু বকরের নিকট থেকে বর্ণিত।

--------------------------------------------

১. আয-যাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলেছেন: ইবনুল মাযহাবের ব্যাপারে এটি স্পষ্ট যে তিনি এমন একজন শায়খ যিনি সুনিপুণ (متقن) নন, এবং একইভাবে তাঁর শায়খ ইবনে মালিক (অর্থাৎ আল-কাতিয়ি)। আর এ কারণেই মুসনাদ গ্রন্থে এমন কিছু বিষয় এসেছে যার মতন (متن) এবং সনদ (إسناد) সুসংহত (محكمة) নয়। সমাপ্ত। হাফিজ (الحافظ) আবু বকর বিন নুকতাহ উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল মাযহাবের নিকট আল-কাতিয়ি থেকে মুসনাদের আউফ বিন মালিক ও ফাদালাহ বিন উবাইদ-এর মুসনাদ দুটি ছুটে গিয়েছিল এবং এ দুটিই শামিগণের মুসনাদ-এর অন্তর্ভুক্ত। ইবনে হাজার বলেন, কোনো কোনো হাফিজ (حفاظ) উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর নিকট জাবিরের মুসনাদ থেকেও পঁয়ত্রিশটি হাদিস বাদ পড়েছিল; যা আবু আয-যুবাইরের হাদিস থেকে উদ্ধৃত: "আমি জাবিরকে জিজ্ঞাসা করলাম: তিনি কখন পাথর নিক্ষেপ করতেন?" এবং এটি আবু আয-যুবাইর থেকে ইবনে লাহিয়াহ-এর বর্ণনা। এর শেষটি হলো বাম হাতে আহার করতে নিষেধ সংক্রান্ত "আবু আয-যুবাইর থেকে জাবিরের সূত্রে" বর্ণিত হাদিস...।
(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ١١)
أحمد بن جعفر بن حمدان القطيعي1 عن عبد الله2 بن أحمد عن أبيه رحمهما الله تعالى.

ولعمري أن من كان قبلنا من الحفاظ يتبجحون بجزء واحد يقع لهم من حديث هذا الإمام الكبير على ما أخبرني الإمام الحافظ أستاذي أبو القاسم إسماعيل ابن محمد رحمه الله في إجازته لي قال: أخبرنا أبو بكر بن مردويه قال: كتب ألي أبو حازم العبدوي يذكر أنه سمع الحاكم أبا عبد الله عند منصرفه من بخارى يقول كنت عند أبي محمد المزني فقدم عليه إنسان علوي من بغداد وكان أقام ببغداد على كتابة الحديث فسأله أبو محمد المزني وذلك في سنة ست وخمسين وثلثمائة عن فائدته ببغداد وعن باقي إسناد العراق فذكر في جملة ما ذكر سمعت مسند أحمد بن حنبل رحمه الله تعالى من أبي بكر بن مالك في مائة جزء وخمسين جزءا3 فعجب أبو محمد المزني من ذلك.

--------------------------------------------

= وهو من رواية مالك عن أبي الزبير وهي في وسط الجزء الرابع من مسند جابر والله أعلم.

1 وذكر أبو بكر بن نقطة: أن القطيعي فاته عليه خمسة أوراق من مسند عبد الله بن مسعود فرواها عنه بالإجازة وهي من أوله قال ابن طولون: رأيت بخط الرحال النجم بن فهد أنه فاته على عبد الله عشر ورقات من أول مسند ابن مسعود.

2 قال ابن حجر وكان الإمام أحمد لما جمع المسند لم يرتب مسانيد المقلين فرتبها ولده عبد الله فوقع فيه إغفال كثير من جعل المدني في الشامي ونحوه ذلك اهـ.

3 هكذا هنا قال ابن طولون: وعدة ما فيه من المسانيد ثمانية عشر مسندا تشتمل على مائة واثنين وسبعين جزءا من نسخة أبي علي بن المذهب...............=
আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান আল-কাতিয়ি১ আব্দুল্লাহ২ ইবনে আহমদ হতে, তিনি তাঁর পিতা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) হতে বর্ণনা করেছেন।

আমার জীবনের কসম, আমাদের পূর্ববর্তী হাফেজগণ (الحفاظ) এই মহান ইমামের হাদিস থেকে একটি অংশ (جزء) লাভ করাতেই অত্যন্ত গৌরব বোধ করতেন; যেমনটি ইমাম হাফেজ (الحافظ) আমার উস্তাদ আবু আল-কাসিম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) আমাকে তাঁর ইজাজতে (إجازة) জানিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে মারদুওয়াহ, তিনি বলেন: আবু হাশিম আল-আবদুয়ি আমাকে লিখে জানিয়েছেন যে, তিনি বুখারা থেকে ফেরার পথে হাকিম আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: আমি আবু মুহাম্মদ আল-মুজানির নিকট ছিলাম, তখন বাগদাদ থেকে একজন আলবি ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলেন। তিনি বাগদাদে হাদিস অনুলিপির কাজে নিয়োজিত ছিলেন। আবু মুহাম্মদ আল-মুজানি তাকে বাগদাদে অর্জিত শিক্ষা এবং ইরাকের অবশিষ্টাংশ সনদ (إسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, আর তা ছিল ৩৫৬ হিজরি সনে। তিনি যা উল্লেখ করেছিলেন তার মধ্যে ছিল: আমি আবু বকর ইবনে মালিকের নিকট থেকে একশত পঞ্চাশটি অংশে (جزء) মুসনাদ আহমদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) শ্রবণ করেছি। এতে আবু মুহাম্মদ আল-মুজানি বিস্ময় প্রকাশ করলেন।

--------------------------------------------

= এটি মালিক কর্তৃক আবু যুবায়ের হতে বর্ণিত বর্ণনা (رواية) এবং এটি মুসনাদ জাবের-এর চতুর্থ অংশের (جزء) মাঝামাঝি স্থানে রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

১. আবু বকর ইবনে নুকতাহ উল্লেখ করেছেন: আল-কাতিয়ি মুসনাদ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের পাঁচটি পৃষ্ঠা শুনতে পাননি, ফলে তিনি সেগুলো তাঁর নিকট থেকে ইজাজতের (إجازة) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলো মুসনাদের শুরুর দিকের অংশ। ইবনে তুলুন বলেন: আমি পর্যটক নজম ইবনে ফাহদের হস্তাক্ষরে দেখেছি যে, আব্দুল্লাহর নিকট মুসনাদ ইবনে মাসউদের শুরু থেকে দশটি পৃষ্ঠা বাদ পড়েছিল।

২. ইবনে হাজার বলেন, ইমাম আহমদ যখন মুসনাদ সংকলন করেন, তখন তিনি স্বল্প হাদিস বর্ণনাকারীদের (المقلين) মুসনাদসমূহ বিন্যস্ত করেননি। অতঃপর তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ সেগুলো বিন্যস্ত করেন, যার ফলে অনেক অসাবধানতা পরিলক্ষিত হয়, যেমন মদিনাবাসীদের বর্ণনা সিরিয়াবাসীদের বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত করা এবং অনুরূপ বিষয়। ইতি।

৩. এখানে এভাবেই রয়েছে। ইবনে তুলুন বলেন: এতে মুসনাদসমূহের সংখ্যা আঠারোটি, যা আবু আলী ইবনুল মুযাহহাবের পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী একশত বাহাত্তরটি অংশ (جزء) সংবলিত।...............=
(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ١٢)
وقال: مائة وخمسون جرءا من حديث أحمد بن حنبل كنا ونحن بالعراق إذا رأينا عند شيخ من شيوخنا جزءا من حديث أحمد بن حنبل قضينا العجب من ذلك فكيف في هذا الوقت هذا المسند الجليل فعزم الحاكم على إخراج الصحيحين ولم يكن عنده مسند إسحاق الحنظلي ولا مسند عبد الله بن شيرويه ولا مسند أبي العباس السراج وكان في قلبه ما سمعه من أبي محمد المزني فعزم على أن يخرج إلى الحج في موسم سنة سبع وستين فلما ورد في سنة ثمان وستين أقام بعد الحج ببغداد أشهرا وسمع جملة المسند من أبي بكر بن مالك وعاد إلى وطنه ومد يده إلى إخراج الصحيحين على تراجم المسند.

--------------------------------------------

= هكذا مسند العشرة وما في آخره من حديث عبد الرحمن بن أبي بكر الصديق وزيد بن حارثة والحارث بن خزيمة وسعد مولى الصديق تسعة أجزاء ومسند أهل البيت جزء واحد ومسند بني هاشم العباس وبنيه الفضل وتمام وعبيد الله وعبد الله جزء واحد ومسند عبد الله بن العباس خمسة عشر جزءا ومسند عبد الله بن عمر بن الخطاب ثلاثة عشر جزءا ومسند أبي سعيد الخدري سبعة أجزاء ومسند أبي هريرة خمسة عشر جزءا مسند عبد الله بن عمرو بن العاص وما في آخره من حديث أبي رمثة أربعة عشر جزءا ومسند عبد الله بن مسعود سبعة أجزاء ومسند جابر بن عبد الله ثمانية أجزاء ومسند أنس بن مالك أحد عشر جزءا ومسند المكيين والمدنيين أربعة أجزاء ومسند الكوفيين سبعة أجزاء ومسند البصريين اثنا عشر جزءا ومسند الأنصار وغيرهم من القبائل خمسة عشر جزءا ومسند النساء ثمانية أجزاء وفي أثنائه من الرجال ستة عشر رجلا وفي آخره ستة آخرهم شداد بن الهاد نقلت ذلك من خط التقي الجراعي وقال نقلت ذلك من خط من نقله من خط الحافظ عبد الغنى المقدسي وقابلته ثم عددته فوجدته يزيد جزءا في العدد فلا أدري. الخلل حصل في الأفراد أو في الجمع والله أعلم. اهـ
وقال: আহমাদ ইবনে হাম্বলের হাদিস থেকে একশত পঞ্চাশটি খণ্ড (جزء)। আমরা যখন ইরাকে ছিলাম, তখন আমাদের শায়খদের মধ্যে কারো নিকট আহমাদ ইবনে হাম্বলের হাদিসের একটি খণ্ড (جزء) দেখলে আমরা বিস্ময়ে অভিভূত হতাম। তাহলে এই সময়ে এই মহান মুসনাদ গ্রন্থের অবস্থা কেমন হবে! অতঃপর আল-হাকিম দুই সহিহ (সহিহাইন) সংকলনের সংকল্প করলেন, অথচ তখন তাঁর নিকট ইসহাক আল-হানজালি-এর মুসনাদ, আবদুল্লাহ ইবনে শিরওয়াইহ-এর মুসনাদ কিংবা আবু আল-আব্বাস আস-সাররাজ-এর মুসনাদ ছিল না। তাঁর অন্তরে আবু মুহাম্মদ আল-মুজানি থেকে যা শুনেছিলেন তা গেঁথে ছিল। ফলে তিনি সাতষট্টি হিজরি সনের মৌসুমে হজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সংকল্প করলেন। অতঃপর যখন তিনি আটষট্টি হিজরি সনে বাগদাদে পৌঁছালেন, হজের পর সেখানে কয়েক মাস অবস্থান করলেন এবং আবু বকর বিন মালিকের নিকট থেকে সম্পূর্ণ মুসনাদ শ্রবণ করলেন। এরপর তিনি নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসেন এবং মুসনাদের অধ্যায় বিন্যাসের (تراجم) ভিত্তিতে দুই সহিহ (সহিহাইন) সংকলনের কাজে মনোনিবেশ করলেন।

--------------------------------------------

= এভাবেই দশজন জান্নাতি সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীর (আশারা মুবাশশারা) মুসনাদ এবং এর শেষে থাকা আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর আস-সিদ্দিক, যায়েদ ইবনে হারিসাহ, হারিস ইবনে খুযাইমাহ এবং সিদ্দিকের মুক্ত দাস সা'দ-এর হাদিসসমূহ নয়টি খণ্ড (أجزاء); আহলে বাইতের মুসনাদ এক খণ্ড (جزء); বনু হাশেম অর্থাৎ আব্বাস এবং তাঁর পুত্র ফজল, তাম্মাম, উবাইদুল্লাহ ও আবদুল্লাহর মুসনাদ এক খণ্ড (جزء); আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের মুসনাদ পনেরো খণ্ড (جزء); আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাবের মুসনাদ তেরো খণ্ড (جزء); আবু সাঈদ আল-খুদরির মুসনাদ সাত খণ্ড (جزء); আবু হুরায়রার মুসনাদ পনেরো খণ্ড (جزء); আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস এবং এর শেষে থাকা আবু রিমসার হাদিসসমূহ চৌদ্দ খণ্ড (جزء); আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের মুসনাদ সাত খণ্ড (جزء); জাবির ইবনে আবদুল্লাহর মুসনাদ আট খণ্ড (جزء); আনাস ইবনে মালিকের মুসনাদ এগারো খণ্ড (جزء); মক্কাবাসী ও মদিনাবাসীদের মুসনাদ চার খণ্ড (جزء); কুফাবাসীদের মুসনাদ সাত খণ্ড (جزء); বসরার অধিবাসীদের মুসনাদ বারো খণ্ড (جزء); আনসার ও অন্যান্য গোত্রগুলোর মুসনাদ পনেরো খণ্ড (جزء); এবং নারীদের মুসনাদ আট খণ্ড (جزء)। এর মাঝে পুরুষদের মধ্যে ষোলোজন এবং শেষে আরও ছয়জন রয়েছেন যাঁদের সর্বশেষ হলেন শাদ্দাদ ইবনুল হাদ। আমি এটি তাকি আল-জারাঈ-এর হস্তলিপি থেকে নকল করেছি এবং তিনি বলেছেন, আমি এটি তাঁর হস্তলিপি থেকে নকল করেছি যিনি হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসির হস্তলিপি থেকে নকল করেছেন। আমি এটি মিলিয়ে দেখেছি এবং গণনা করে দেখেছি যে এটি সংখ্যায় এক খণ্ড (جزء) বেশি হয়, তাই আমি জানি না এই ত্রুটি একক গণনায় হয়েছে নাকি সমষ্টিতে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ١٣)
قال شيخنا الحافظ رحمه الله تعالى وفي هذه السنة مات ابن مالك في آخر السنة سنة ثمان وستين وأبو محمد المزني هذا من الحفاظ الكبار المكثرين.

‌‌وهذا الكتاب أصل كبير ومرجع وثيق لأصحاب الحديث انتقي من حديث كثير ومسموعات وافره فجعله إماما ومعتمدا وعند التنازع ملجأ ومستندا على ما أخبرنا والدي وغيره رحمهما الله تعالى أن المبارك بن عبد الجبار أبا الحسين الكتب إليهما من بغداد أخبرنا أبو إسحاق إبراهيم بن عمر بن أحمد ابن إبراهيم البرمكي قراءة عليه حدثنا أبو حفص عمر بن محمد بن رجاء حدثنا موسى بن حمدون البزار قال: قال لنا حنبل بن إسحاق جمعنا عمي لي ولصالح ولعبد الله وقرأ علينا المسند وما سمعه منه يعني تماما غيرنا وقال لنا إن هذا الكتاب قد جمعته وأتقنته من أكثر من سبعمائة وخمسين ألفا فما اختلف المسلمون فيه من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم: "فارجعوا إليه فإن كان فيه وإلا فليس بحجة" 1.

--------------------------------------------

1 قال الإمام الذهبي في السير "11/329" بعد أن أورد هذا الخبر قلت: في الصحيحين أحاديث قليلة ليست في المسند لكن قد يقال: لا ترد على قوله فإن المسلمين ما اختلفوا فيها ثم ما يلزم من هذا القول أن ما وجد فيه أن يكون حجة ففيه جملة من الأحاديث الضعيفة مما يسوغ نقلها ولا يجب الاحتجاج بها وفيه أحاديث معدودة شبه موضوعة ولكنها قطرة في بحر وفي غضون المسند زيادات جمة لعبد الله بن أحمد" وقال قال الإمام أحمد لابنه عبد الله قصدت في المسند المشهور فلو أردت أن أقصد ما صح عندي لم أرو من هذا المسند إلا الشيء بعد الشيء اليسير ولكنك يا.................=
আমাদের শাইখ হাফেজ (الحافظ) (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন, এবং এই বছরের শেষদিকে অর্থাৎ আটষট্টি হিজরিতে ইবনে মালিক মারা যান। এই আবু মুহাম্মাদ আল-মুযানী ছিলেন বড় হাফেজদের (الحفاظ) অন্তর্ভুক্ত যারা প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন।

‌‌এই বইটি হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের (أصحاب الحديث) জন্য একটি বিশাল মূল ভিত্তি এবং নির্ভরযোগ্য (وثيق) উৎস। এটি অসংখ্য হাদিস এবং প্রচুর শ্রুত বর্ণনা থেকে চয়ন করা হয়েছে, অতঃপর একে ইমাম (إمام) ও নির্ভরযোগ্য (معتمد) হিসেবে এবং বিবাদের সময় আশ্রয় ও দলিল (مستند) হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমনটি আমাদের পিতা এবং অন্যরা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) আমাদের জানিয়েছেন যে, আবুল হুসাইন মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার বাগদাদ থেকে তাঁদের কাছে লিখেছেন যে, আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন উমর বিন আহমাদ ইবনে ইব্রাহিম আল-বারমাকি তাঁর নিকট পাঠকালে আমাদের জানিয়েছেন, আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মাদ বিন রাজা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুসা বিন হামদুন আল-বাযযার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে: হাম্বল বিন ইসহাক আমাদের বলেছেন, আমার চাচা (ইমাম আহমাদ) আমাকে, সালিহ এবং আব্দুল্লাহকে একত্রিত করলেন এবং আমাদের কাছে মুসনাদ পাঠ করে শোনালেন; আমাদের ব্যতীত অন্য কেউ তা পূর্ণাঙ্গভাবে তাঁর কাছ থেকে শোনেনি। তিনি আমাদের বললেন, "আমি এই কিতাবটি সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি হাদিস থেকে সংগ্রহ করেছি এবং সুসংবদ্ধ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহের মধ্যে যে বিষয়ে মুসলমানরা মতভেদ করে, তোমরা তার সমাধানের জন্য এই কিতাবের দিকে ফিরে এসো; যদি তা এতে পাওয়া যায় (তবে তা গ্রহণ করো), অন্যথায় তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না।" ১।

--------------------------------------------

১। ইমাম আল-যাহাবি সিয়ার (১১/৩২৯) গ্রন্থে এই সংবাদটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: "আমি বলি: সহিহাইন গ্রন্থে এমন কিছু সামান্য হাদিস রয়েছে যা মুসনাদ-এ নেই, কিন্তু বলা যেতে পারে যে: এটি তাঁর বক্তব্যের পরিপন্থী নয়, কারণ মুসলমানরা সেগুলো নিয়ে মতভেদ করেনি। অতঃপর এই বক্তব্য থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে, এতে যা পাওয়া যাবে সবই দলিল (حجة) হবে। কারণ এতে একদল দুর্বল (الضعيفة) হাদিস রয়েছে যা বর্ণনা করা জায়েয হলেও তা দিয়ে দলিল (الاحتجاج) পেশ করা ওয়াজিব নয়। এবং এতে অতি সামান্য কিছু হাদিস রয়েছে যা বানোয়াট (موضوعة) সদৃশ, কিন্তু বিশাল সমুদ্রের মাঝে তা বিন্দুমাত্র। আর মুসনাদ-এর ভেতরে আব্দুল্লাহ বিন আহমাদের প্রচুর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادات) রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, ইমাম আহমাদ তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহকে বলেছেন: "আমি মুসনাদ-এর ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ হাদিসগুলো সংকলনের ইচ্ছা করেছি; যদি আমি কেবল আমার নিকট যা সহিহ (صح) তা সংকলনের ইচ্ছা করতাম, তবে এই মুসনাদ থেকে সামান্য কিছু ছাড়া আর কিছুই বর্ণনা করতাম না। কিন্তু হে..."
(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ١٤)
"وجدت" بخط أبي بكر بن أبي نصر قال أبو الحسن اللنباني سمعت عبد الله بن أحمد بن حنبل رحمه الله تعالى يقول كتب أبي عشرة آلاف ألف حديث ولم يكتب سوادا في بياض إلا قد حفظه وبه قال أخبرنا البرمكي قراءة عليه فأقر به حدثني أبي حدثني أبو محمد القاسم بن الحسن الباقلاني بسر من رأى قال: سمعت أبا بكر بن أبي حامد الفقيه صاحب بيت المال سمعت عبد الله بن أحمد بن حنبل يقول قلت لأبي رحمه الله تعالى: لم كرهت وضع الكتب وقد عملت المسند فقال: عملت هذا الكتاب إماما إذا أختلف الناس في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم رجع إليه قال: وحدثني أيضا القاسم قال: سمعت أبا الحسن بن عبيد الحافظ سمعت أبا عبد الرحمن عبد الله ابن أحمد يقول خرج أبي المسند من سبعمائة ألف حديث.

قال الشيخ الحافظ أبو موسى رحمه الله ولم يخرج إلا عمن ثبت عنده صدقه وديانته دون من طعن في أمانته1 كما قرأته ببغداد على أبي منصور عبد الرحمن بن محمد بن عبد الواحد القزاز أخبرنا أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت الحافظ أخبرنا أبو الحسن أحمد بن محمد العتيقي أخبرنا يوسف بن أحمد الصيدلاني بمكه حدثنا محمد بن عمرو العقيلي حدثنا.

--------------------------------------------

= بني تعرف طريقتي في الحديث ليست أخالف ما ضعف من الحديث إذا لم يكن في الباب شيء يدفعه.

1 بل وقع فيه الرواية عمن جرحه هو نفسه والحق أن الإمام كان مات قبل تهذيب المسند.
আবু বকর ইবনে আবি নাসর-এর হস্তাক্ষরে ‘আমি পেয়েছি’ (وجدت) মর্মে লিখিত আছে, আবুল হাসান আল-লানবানি বলেন— আমি আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহমাতুল্লাহি তাআলা আলাইহি)-কে বলতে শুনেছি যে, আমার পিতা এক কোটি (দশ হাজার হাজার) হাদিস লিখেছিলেন। সাদা কাগজে কালো কালিতে তিনি যা কিছু লিখেছিলেন তা সবই তিনি মুখস্থ করেছিলেন। এই একই সূত্রে তিনি বলেন, আল-বারমাকি তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন: আমার পিতা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনুল হাসান আল-বাকিল্লানি 'সুররা মান রাআ' নামক স্থানে আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি বাইতুল মালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফকিহ আবু বকর ইবনে আবি হামিদকে বলতে শুনেছি, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি যে, আমি আমার পিতাকে (রহমাতুল্লাহি তাআলা আলাইহি) বললাম: আপনি কিতাব রচনা করা কেন অপছন্দ করেন অথচ আপনি মুসনাদ সংকলন করেছেন? তিনি বললেন: আমি এই কিতাবটি একটি পথপ্রদর্শক বা ইমাম হিসেবে সংকলন করেছি, যাতে মানুষ যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর ব্যাপারে মতভেদ করবে, তখন তারা এর দিকে ফিরে আসতে পারে। তিনি আরও বলেন: আল-কাসিম আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি হাফিজ (حافظ) আবুল হাসান ইবনে উবাইদকে বলতে শুনেছি, আমি আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদকে বলতে শুনেছি যে, আমার পিতা সাত লক্ষ হাদিস থেকে মুসনাদ চয়ন করেছেন।

শায়খ হাফিজ (حافظ) আবু মুসা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি কেবল তাদের থেকেই হাদিস গ্রহণ করেছেন যাদের সত্যবাদিতা ও দ্বীনদারি তাঁর নিকট প্রমাণিত ছিল, যাদের আমানতদারিতা (أمانة)-এর ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়েছে তাদের থেকে তিনি হাদিস গ্রহণ করেননি। যেমনটি আমি বাগদাদে আবু মনসুর আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল-কাযযাযের নিকট পাঠ করেছি: হাফিজ (حافظ) আবু বকর আহমাদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাসান আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আতিকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মক্কায় ইউসুফ ইবনে আহমাদ আস-সাইদালানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আমর আল-উকালি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

= হে বৎস! তুমি হাদিসের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি জানো; আমি দুর্বল (ضعيف) হিসেবে গণ্য হাদিসের বিরোধিতা করি না যদি সেই বিষয়ে এমন কিছু না থাকে যা তাকে নাকচ করে দেয়।

১ বরং এতে এমন বর্ণনাকারীদের থেকেও বর্ণনা এসেছে যাদের তিনি নিজেই সমালোচিত (جرح) করেছেন। প্রকৃত সত্য এই যে, মুসনাদ পরিমার্জিত হওয়ার পূর্বেই ইমাম মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ١٥)
عبد الله بن أحمد قال: سألت أبي عن عبد العزيز بن أبان فقال: لم أخرج عنه في المسند شيئا قد أخرجت عنه على غير وجه الحديث لما حدث بحديث المواقيت تركته1.

فأما عدد أحاديث المسند فلم أزل أسمع من أفواه الناس أنها أربعون ألفا إلى أن قرأت على أبي منصور بن زريق ببغداد أخبرنا أبو بكر الخطيب2 قال: وقال: أبن النادي لم يكن في الدنيا أحد أروى عن أبيه منه يعني عبد الله بن أحمد بن حنبل لأنه سمع المسند وهو ثلاثون ألفا والتفسير وهو مائة ألف وعشرون ألفا سمع منه ثمانين ألفا والباقي وجادة وذكره فلا أدري هل الذي ذكره ابن المنادي أراد به ما لا مكرر فيه وأراد غيره من المكرر فيصح القولان جميعا أو الاعتماد على قول ابن المنادي دون غيره ولو وجدنا فراغا لعددناه إن شاء الله تعالى.

فأما عدد الصحابة فنحو من سبعمائة رجل وجدت بخط الشيخ حامد بن أبي الفتح ذكره أبو عبد الله الحسين بن أحمد الأسدي في كتابه المسمى مناقب أحمد بن جنبل أنه سمع أبا بكر بن مالك يذكر أن جملة ما وعاه المسند أربعون ألف حديث غير ثلاثين أو أربعين قال: وسمعته يعني أبا بكر ابن مالك سمعت عبد الله بن أحمد بن جنبل يقول أخرج أبي هذا المسند من جملة سبعمائة ألف حديث وقال أبو عبد الله الأسدي وقد.

--------------------------------------------

1 انظر المجروحين لابن حبان 2/140.

2 في تاريخه 9/375.
আবদুল্লাহ ইবন আহমদ বলেন: আমি আমার পিতাকে আবদুল আজিজ ইবন আবান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "আমি মুসনাদ-এ তাঁর থেকে কোনো কিছুই সংকলন (أخرج) করিনি। আমি তাঁর থেকে হাদিস হিসেবে নয়, বরং অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বর্ণনা করেছিলাম। যখন তিনি নামাজের ওয়াক্তসমূহ সংক্রান্ত হাদিস বর্ণনা করলেন, তখন আমি তাঁকে বর্জন করেছি (تركته)১।"

মুসনাদ-এর হাদিস সংখ্যার ব্যাপারে আমি মানুষের মুখে সর্বদা শুনে আসছি যে এর সংখ্যা চল্লিশ হাজার। এই ধারণা ততক্ষণ বজায় ছিল যতক্ষণ না আমি বাগদাদে আবু মনসুর ইবন জুরাইক-এর নিকট পাঠ করি। তিনি বলেন: আবু বকর আল-খাতিব২ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: ইবনুল মুনাদি বলেছেন যে, পৃথিবীতে নিজের পিতা থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বলের চেয়ে বড় কোনো বর্ণনাকারী (أروى) নেই। কারণ তিনি মুসনাদ শ্রবণ করেছেন যা ত্রিশ হাজার (হাদিস সম্বলিত) এবং তাফসির শ্রবণ করেছেন যা এক লক্ষ বিশ হাজার (বর্ণনা সম্বলিত); এর মধ্যে আশি হাজার তিনি সরাসরি শ্রবণ করেছেন এবং অবশিষ্ট অংশ পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি (وجادة) হিসেবে পেয়েছেন। তিনি এটি উল্লেখ করেছেন, তবে আমি জানি না ইবনুল মুনাদি যা উল্লেখ করেছেন তা দ্বারা তিনি পুনরাবৃত্তিহীন (ما لا مكرر فيه) বর্ণনা বুঝিয়েছেন কি না, এবং অন্য কেউ পুনরাবৃত্ত (المكرر) বর্ণনাসহ সংখ্যাটি বুঝিয়েছেন কি না; যদি তাই হয় তবে উভয় বক্তব্যই সঠিক হতে পারে। অথবা কেবল ইবনুল মুনাদির কথার ওপরই নির্ভর করা হবে। যদি আমরা অবসর পেতাম, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা তা গণনা করতাম।

আর সাহাবী (الصحابة) সংখ্যা প্রায় সাতশ জন। আমি শায়খ হামিদ ইবন আবুল ফাতহ-এর হস্তলিপিতে পেয়েছি যে, আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবন আহমদ আল-আসাদি তাঁর 'মানাকিবে আহমদ ইবন হাম্বল' নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু বকর ইবন মালিককে বলতে শুনেছেন যে, মুসনাদ-এ সংরক্ষিত মোট হাদিস সংখ্যা হলো চল্লিশ হাজার থেকে ত্রিশ বা চল্লিশটি কম। তিনি বলেন: আমি তাঁকে (অর্থাৎ আবু বকর ইবন মালিককে) বলতে শুনেছি, আমি আবদুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বলকে বলতে শুনেছি যে, "আমার পিতা সাত লক্ষ হাদিসের মধ্য থেকে এই মুসনাদ সংকলন (أخرج) করেছেন।" আবু আবদুল্লাহ আল-আসাদি বলেন...

--------------------------------------------

১ দেখুন: ইবন হিব্বান বিরচিত আল-মাজরুহিন, ২/১৪০।

২ তাঁর তারিখ-এ (তারিখ বাগদাদ), ৯/৩৭৫।
(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ١٦)
أفردت لذلك كتابا في جزء واحد وسميته كتاب المدخل إلى المسند أثبت فيه ذلك أجمع.

وذكر الأسدي سمعت أبا بكر بن مالك يقول رأيت أبا بكر أحمد بن سلمان النجاد في النوم وهو على حالة جميلة فقلت: أي شيء كان خبرك قال: كل ما تحب إلزم ما أنت عليه وما نحن عليه فإن الأمر هو ما نحن عليه وما أنتم عليه ثم قال: بالله إلا حفظت هذا المسند فهو إمام المسلمين وإليه يرجعون وقد كنت قديما أسألك بالله إن أعرت منه أكثر من جزء لمن تعرفه ليبقى قال: وسمعت أبا بكر بن مالك يقول حضرت مجلس يوسف القاضي سنة خمس وثمانين ومائتين أسمع منه كتاب الوقوف فقال لي من عنده مسند أحمد بن حنبل والفضائل إيش يعمل ههنا أو كلاما نحو هذا.

ومن الدليل على أن ما أودعه الإمام أحمد رحمه الله تعالى مسنده قد احتاط فيه إسنادا ومتنا ولم يورد فيه إلا ما صح عنده1 على ما أخبرنا أبو علي سنة خمس2 قال: حدثنا أبو.

--------------------------------------------

1 قال الحافظ ابن طولون عند الكلام في حديث المسابقة وقد حاول بعض المنتسبين إلى الحديث في تصحيح حديث المسابقة إن هذا الحديث قد رواه الإمام أحمد وقد قال الحافظ أبو موسى المدني: إن جميع ما في مسند الإمام أحمد صحيح فيقال لا شك أن الحافظ أبا موسى قال ذلك في جزء جمعه في خصائص المسند وهذا من غريب قوله وعجيبه مودوده مع حفظ الرجل وإتقانه واطلاعه على أحاديث المسند وما فيها من الضعيف =
আমি এ বিষয়ে এক খণ্ডের একটি পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছি এবং তার নামকরণ করেছি 'কিতাবুল মাদখাল ইলাল মুসনাদ', যেখানে আমি এর সকল বিষয় প্রমাণ করেছি।

আসাদী উল্লেখ করেছেন যে, আমি আবু বকর ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর আহমদ ইবনে সালমান আল-নাজ্জাদকে স্বপ্নে অত্যন্ত সুন্দর অবস্থায় দেখেছি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনার অবস্থা কেমন? তিনি বললেন: সবকিছু আপনার পছন্দমতোই। আপনি যে বিষয়ের ওপর আছেন এবং আমরা যার ওপর আছি তাতে অবিচল থাকুন, কেননা সত্য হলো তাই যার ওপর আমরা ও আপনারা প্রতিষ্ঠিত আছেন। অতঃপর তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আপনি এই মুসনাদ গ্রন্থটি সংরক্ষণ করুন; কারণ এটি মুসলিমদের ইমাম এবং তারা এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। আমি আগে আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলেছিলাম যে, পরিচিত কাউকে এর একটির বেশি খণ্ড ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করবেন যাতে এটি টিকে থাকে। তিনি আরও বলেন: আমি আবু বকর ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি, আমি দুইশ পঁচাশি হিজরি সনে ইউসুফ আল-কাদীর মজলিসে 'কিতাবুল উকুফ' শোনার জন্য উপস্থিত হয়েছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: যার কাছে মুসনাদ আহমদ ইবনে হাম্বল এবং 'আল-ফাদায়িল' গ্রন্থ রয়েছে, তার এখানে কী প্রয়োজন? অথবা এই জাতীয় কিছু বলেছিলেন।

ইমাম আহমদ (রহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি) তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে যা কিছু সংকলন করেছেন, তাতে তিনি সনদ (إسناد) ও মূলপাঠ (متن) উভয় ক্ষেত্রেই সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং তাঁর কাছে যা বিশুদ্ধ (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়েছে কেবল তাই তিনি এতে উল্লেখ করেছেন—এটিই হলো এর অন্যতম প্রমাণ, যেমনটি আমাদের কাছে আবু আলী পাঁচ সনে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু... বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. হাফেজ ইবনে তুলুন মুসাবাকার (প্রতিযোগিতার) হাদিস নিয়ে আলোচনার সময় বলেন, হাদিস শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি মুসাবাকার হাদিসটিকে বিশুদ্ধ আখ্যা দেওয়ার (تصحيح) চেষ্টা করেছেন যেহেতু ইমাম আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন। হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনী বলেছেন: মুসনাদ আহমদ গ্রন্থে যা কিছু আছে তার সবই বিশুদ্ধ (صحيح)। এর প্রেক্ষিতে বলা হয় যে, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে হাফেজ আবু মুসা এ কথাটি মুসনাদের বৈশিষ্ট্যের ওপর রচিত তাঁর একটি পুস্তিকায় উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর প্রখর মুখস্থশক্তি (حفظ), পাণ্ডিত্য (إتقان) এবং মুসনাদের হাদিসসমূহ ও তাতে বিদ্যমান দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তাঁর এই মন্তব্যটি অত্যন্ত বিস্ময়কর ও অদ্ভুত।
(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ١٧)
نعيم "ح" وأخبرنا ابن الحصين قال: أخبرنا ابن المذهب قال: أخبرنا القطيعي قال: حدثنا عبد الله قال: حدثنى أبي قال: حدثنا محمد بن جعفر قال: حدثنا شعبة عن أبي التياح قال: سمعت أبا زرعة يحدث عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "يهلك

--------------------------------------------

= والنكر بل والموضوع وما أدري ما أراد بهذا القول؟ ولعل من عنده أدنى معرفة بالحديث يستحي أن ينقل هذا عن غيره فضلا أن يعزوه إلى نفسه ويسطره في كتاب يؤثر عنه هذه زلة من الحافظ رحمه الله وددت لو غسلتها بدمي كما قال بعض من سلف في مسألة الاسترسال للإمام ثم ذكر عدة أحاديث واهية من المسند فقال: إلى غير ذلك من الأحاديث التي يطول ذكرها ويشق استقصاؤها إلا أنها بالنسبة إلى كثرة أحاديثه قليلة جدا والذي غر الحافظ أبا موسى حتى قال ما قال كون الإمام أحمد أمر بالضرب على أحاديث رواها منكرة لمخالفتها أحاديث أخر صحيحة عنده وليس يلزم من ذلك أن يكون كل ما لم يضرب عليه صحيحا عنده كيف وقد ضعف الإمام أحمد جماعة ممن روى لهم في المسند وعلل كثيرا من الأحاديث التي خرجها فيه وقد قال الإمام أحمد لولده عبد الله: قصدت في المسند الحديث وتركت الناس تحت ستر الله ولو أردت أن أقصد ما صح عندي لم أرو من هذا المسند إلا الشيء بعد الشيء ولكنك يا بني تعرف طريقتي في الحديث ليست أخالف ما ضعف إذا لم يكن في الباب شيء يدفعه وقد أورده الحافظ أبو موسى في جزئه ثم شرع يتأوله بما لا معنى له ولهذا اعترف بوجود الأحاديث الموضوعة في المسند الإمام أبو الفرج بن الجوزي وهو من كبار أئمة الحنابلة في الفقه والحديث وغيرهما من العلوم المتعددة. وكذا غيره من مشايخنا الحفاظ وهذا أمر لا يحتاج فيه إلى تقليد من عرف أدنى شيء من أحوال الرواة ووجوه التعليل والله أعلم اهـ وجملة ما نظمه ابن الجوزي من أحاديث المسند في سلك الموضوعات ثمانية وثلاثون حديثا وإن تعقب جلها وأما الأحاديث الضعيفة في المسند فكثيرة ولا كلام وجزء العراقي وتعقب ابن حجر عليه شذرة من الأخذ والرد في ذلك.

1 يعني وخمسمائة حضورا في مجلس سماعه وهو صغير.
নুআইম "হা" (ح) এবং ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুজাহহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: শু’বা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আত-তাইয়্যাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু যুর’আকে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ধ্বংস হবে...

--------------------------------------------

= এবং অস্বীকৃত (منكر) এমনকি জাল (موضوع), আমি জানি না তিনি এই উক্তি দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন? সম্ভবত হাদীস সম্পর্কে যার সামান্যতম জ্ঞান আছে সেও অন্য কারো থেকে এটি বর্ণনা করতে লজ্জা বোধ করবে, নিজের সাথে সম্বন্ধ করা বা কিতাবে লিপিবদ্ধ করা তো দূরের কথা যা তার থেকে বর্ণিত হবে। এটি হাফেজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি পদস্খলন, আমি কামনা করি যদি আমি এটি আমার রক্ত দিয়ে ধুয়ে দিতে পারতাম, যেমনটি ইমামের ক্ষেত্রে 'ইস্তিরসাল' (ছাড় দেওয়া) মাসআলায় পূর্বসূরীদের কেউ কেউ বলেছিলেন। এরপর তিনি মুসনাদ থেকে বেশ কিছু অত্যন্ত দুর্বল (واهية) হাদীস উল্লেখ করে বলেন: এগুলো ছাড়াও অন্যান্য আরও হাদীস রয়েছে যা বর্ণনা করতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং অনুসন্ধান করাও কঠিন, তবে তার হাদীসসমূহের আধিক্যের তুলনায় এগুলো খুবই নগণ্য। হাফেজ আবু মুসাকে যা বিভ্রান্ত করেছে এবং তিনি যা বলেছেন তার কারণ হলো, ইমাম আহমদ এমন কিছু হাদীস মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন যা তার নিকট অন্যান্য সহিহ (صحيحة) হাদীসের বিরোধী হওয়ার কারণে অস্বীকৃত (منكرة) হিসেবে গণ্য হয়েছিল। এর অর্থ এই নয় যে, যা তিনি মুছে ফেলেননি তার সবকটিই তার নিকট সহিহ (صحيحة) ছিল। এটি কীভাবে সম্ভব যখন ইমাম আহমদ নিজেই সেই রাবীদের একদলকে দুর্বল (ضعف) বলেছেন যাদের হাদীস তিনি মুসনাদে এনেছেন এবং তিনি এতে বর্ণিত অনেক হাদীসের ত্রুটি (علل) বর্ণনা করেছেন? ইমাম আহমদ তার পুত্র আব্দুল্লাহকে বলেছিলেন: 'আমি মুসনাদে হাদীস সংকলনের উদ্দেশ্য করেছি এবং মানুষকে আল্লাহর পর্দার নিচে ছেড়ে দিয়েছি। আমি যদি কেবল যা আমার নিকট সহিহ (صح) তা সংকলনের ইচ্ছা করতাম তবে এই মুসনাদ থেকে কেবল অল্প কিছু হাদীস বর্ণনা করতাম। কিন্তু হে বৎস! তুমি তো হাদীসের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি জানো, আমি দুর্বল (ضعف) হাদীসের বিরোধিতা করি না যদি সেই অধ্যায়ে একে খণ্ডন করার মতো কিছু না থাকে।' হাফেজ আবু মুসা এটি তার পুস্তিকায় উল্লেখ করেছেন এবং এর এমন সব ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যার কোনো অর্থ নেই। এই কারণেই ইমাম আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি মুসনাদে জাল (موضوع) হাদীসের অস্তিত্ব থাকার কথা স্বীকার করেছেন, যিনি ফিকহ, হাদীস ও অন্যান্য বহুবিদ বিদ্যায় হাম্বলী ইমামদের মধ্যে অন্যতম। একইভাবে আমাদের অন্যান্য হাফেজ উস্তাদগণও তা স্বীকার করেছেন। এটি এমন এক বিষয় যাতে সেই ব্যক্তির অনুকরণের প্রয়োজন নেই যে বর্ণনাকারীদের অবস্থা এবং ত্রুটি (علل) বের করার পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান রাখে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। ইতি। ইবনুল জাওজি মুসনাদের যে হাদীসগুলোকে জাল (موضوع) এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন তার মোট সংখ্যা আটত্রিশটি, যদিও এর অধিকাংশেরই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আর মুসনাদে দুর্বল (ضعيفة) হাদীসের সংখ্যা অনেক, এতে কোনো দ্বিমত নেই। আল-ইরাকির পুস্তিকা এবং তার ওপর ইবনে হাজারের পর্যালোচনা এ বিষয়ে আদান-প্রদানের একটি অংশ মাত্র।

১ অর্থাৎ পাঁচশত ব্যক্তি তার শৈশবে শ্রবণের মজলিসে উপস্থিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ١٨)
أمتي هذا الحي من قريش" قالوا فما تأمرنا يا رسول الله قال: "لو أن الناس اعتزلوهم" قال عبد الله قال لي أبي في مرضه الذي مات فيه إضرب على هذا الحديث فإنه خلاف الأحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم يعني قوله اسمعوا وأطيعوا وهذا مع ثقة رجال إسناده حين شذ لفظه عن الأحاديث المشاهير أمر بالضرب عليه فقال: عليه ما قلناه وفيه نظائر له.

"وجدت" بخط أحمد بن البرداني عن أبي علي بن الصواف قال: سمعت عبد الله بن أحمد يقول صنف أبي المسند بعد ما جاء من عند عبد الرزاق1.

ذكر علي بن الحسين بن جدي قال: قرأت بخط أبي حفص عمر بن عبد الله العكبري قال: سمعت أبا عبد الله عبيد الله بن محمد قال: سمعت أبا بكر أحمد ابن سلمان يقول سمعت أبا بكر يعقوب بن يوسف المطوعي يقول جلست إلى أبي عبد الله أحمد بن حنبل ثلاث عشرة سنة وهو يقرأ المسند على أولاده ما كتبت منه حرفا واحدا وإنما كنت أكتب آدابه وأخلاقه وأتحفظها.

وقال عبيد الله قال لي أبو بكر بن أيوب سمعت يعقوب يقول كنت أختلف إلى أحمد ثلاث عشرة سنة لا أكتب عنه وهو يقرأ المسند إنما كنت أنظر إلى هديه أتأدب به.

أخبرنا ابن الحصين بإسناده حدثنا عبد الله حدثني عثمان بن أبي شيبة حدثنا جرير عن محمد بن سالم عن أبي إسحاق عن.

--------------------------------------------

1 يعني الإمام عبد الرزاق بن همام الصنعاني صاحب "المصنف".

"আমার উম্মতের কুরাইশ বংশীয় এই গোত্রটি..." তারা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন?" তিনি বললেন: "লোকেরা যদি তাদের থেকে পৃথক থাকত।" আবদুল্লাহ বলেন, আমার পিতা তাঁর মৃত্যুশয্যায় আমাকে বলেছিলেন, "এই হাদিসটি কেটে দাও (বর্জন করো), কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের পরিপন্থী; অর্থাৎ তাঁর 'তোমরা শোনো ও আনুগত্য করো' বাণীর বিরোধী।" এর বর্ণনাসূত্রের (إسناد) বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়া সত্ত্বেও, যেহেতু এর শব্দসমূহ প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহের তুলনায় বিচ্যুতিপূর্ণ (شذ), তাই তিনি এটি কেটে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন: "এর ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য এটিই এবং এতে এজাতীয় আরও উদাহরণ রয়েছে।"

আহমদ ইবনুল বারদানির হস্তাক্ষরে আবু আলী ইবন আস-সাওয়াফ থেকে "আমি পেয়েছি", তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আহমদকে বলতে শুনেছি, "আমার পিতা আব্দুর রাজ্জাকের১ কাছ থেকে ফিরে আসার পর মুসনাদ সংকলন করেছেন।"

আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে জাদি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আবু হাফস উমর ইবনে আবদুল্লাহ আল-উকবারির হস্তাক্ষরে পড়েছি, তিনি বলেছেন: আমি আবু আবদুল্লাহ উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আবু বকর আহমদ ইবনে সালমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আবু বকর ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ আল-মুতাওয়ায়িকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "আমি তেরো বছর আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বলের সান্নিধ্যে বসেছি, যখন তিনি তাঁর সন্তানদের নিকট মুসনাদ পাঠ করে শোনাতেন। আমি সেখান থেকে একটি অক্ষরও লিখিনি; বরং আমি তাঁর আদব ও আখলাক (শিষ্টাচার ও চরিত্র) লিখে নিতাম এবং তা আত্মস্থ করতাম।"

উবায়দুল্লাহ বলেন, আবু বকর ইবনে আইয়ুব আমাকে বলেছেন, আমি ইয়াকুবকে বলতে শুনেছি: "আমি তেরো বছর আহমদের নিকট যাতায়াত করেছি অথচ তাঁর থেকে কিছু লিখিনি, এমতাবস্থায় যে তিনি মুসনাদ পাঠ করতেন। আমি কেবল তাঁর চালচলন ও আদর্শ প্রত্যক্ষ করতাম এবং তা থেকে শিষ্টাচার শিক্ষা লাভ করতাম।"

ইবনুল হুসাইন তাঁর বর্ণনাসূত্র (إسناد) সহ আমাদের অবহিত করেছেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে আবু শায়বাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালিম থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে...

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ ইমাম আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম আস-সানআনি, যিনি "মুসান্নাফ"-এর রচয়িতা।
(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ١٩)
عاصم بن ضمرة عن علي رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "فيما سقت السماء العشر وما يسقى بالغرب والدالية ففيه نصف العشر" قال أبو عبد الرحمن فحدثت أبي بحديث عثمان عن جرير فأنكره جدا وكان أبي لا يحدثنا عن محمد بن سالم لضعفه عنده وإنكاره لحديثه.

وقال عبد الله حدثنا شيبان أبو محمد حدثنا عبد الوارث بن سعيد حدثنا الحسن بن ذكوان عن عمرو بن خالد عن حبيب بن أبي ثابت عن عاصم بن ضمرة عن علي رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: "ما منعك أن تدخل قال: إنا لا ندخل بيتا فيه صورة ولا بول" قال: وحدثناه شيبان مرة أخرى عن عمرو حدثنا عبد الوارث عن حسن بن ذكوان عن عمرو بن خالد عن حبة بن أبي حبة عن عاصم نحوه.

قال: وكان أبي لا يحدث عن عمرو بن خالد يعني كان حديثه لا يسوى عنده شيئا قال: وكان في كتاب أبي عن عبد الصمد عن أبيه عن الحسن يعني ابن ذكوان عن حبيب عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضى الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يمشي في خف واحد أو نعل واحد وفي الحديث كلام كثير غير هذا فلم يحدثنا به ضرب عليه في كتابه فظننت أنه ترك حديثه من أجل أنه روى عن عمرو بن خالد الذي يحدث عن زيد بن علي وعمرو ابن خالد لا يسوي شيئا وهذا أقوى لأنه لم يرو عمن رواه عن ضعيف وإن كان حاله خالصا.
আসিম ইবনে দামরাহ আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যা আকাশ থেকে বর্ষিত পানি দ্বারা সিক্ত হয় তাতে ওশর (দশভাগের এক ভাগ) এবং যা বালতি বা সেঁচযন্ত্রের মাধ্যমে সেঁচ দেওয়া হয় তাতে অর্ধ-ওশর (বিশভাগের এক ভাগ) প্রদেয়।" আবু আবদুর রহমান বলেন, আমি আমার পিতার নিকট উসমান কর্তৃক জারীরের সূত্রে বর্ণিত হাদিসটি আলোচনা করলাম, কিন্তু তিনি তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান (أنكره) করলেন। আমার পিতা মুহাম্মাদ ইবনে সালিম থেকে আমাদের কাছে কোনো হাদিস বর্ণনা করতেন না, কারণ তার নিকট তিনি দুর্বল (ضعيف) ছিলেন এবং তিনি তার হাদিসকে প্রত্যাখ্যানযোগ্য (إنكار) মনে করতেন।

আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের কাছে শাইবান আবু মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবদুল ওয়ারিস ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে হাসান ইবনে জাকওয়ান বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে খালিদ থেকে, তিনি হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি আসিম ইবনে দামরাহ থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে: "[জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে উদ্দেশ্য করে বলা হলো] আপনাকে প্রবেশ করতে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন: আমরা এমন কোনো ঘরে প্রবেশ করি না যাতে কোনো প্রতিকৃতি বা প্রস্রাব থাকে।" তিনি বলেন: শাইবান অন্য এক সময়ে এটি আমরের সূত্রে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবদুল ওয়ারিস বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে জাকওয়ান থেকে, তিনি আমর ইবনে খালিদ থেকে, তিনি হাব্বাহ ইবনে আবি হাব্বাহ থেকে, তিনি আসিম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন: আমার পিতা আমর ইবনে খালিদ থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন না, অর্থাৎ তার নিকট তার হাদিস একেবারেই মূল্যহীন (لا يسوى شيئا) ছিল। তিনি বলেন: আমার পিতার কিতাবে আবদুস সামাদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি হাসান অর্থাৎ ইবনে জাকওয়ান থেকে, তিনি হাবিব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত ছিল যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক পায়ে মোজা বা এক পায়ে জুতো পরে হাঁটতে নিষেধ করেছেন। এই হাদিসটিতে এছাড়া আরও অনেক কথা ছিল যা তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেননি; তিনি তার কিতাবে এটি কেটে দিয়েছিলেন। আমি ধারণা করলাম যে, তিনি তার হাদিস বর্জন (ترك) করেছেন এ কারণে যে, তিনি আমর ইবনে খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি আবার জায়েদ ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেন; অথচ আমর ইবনে খালিদ একেবারেই মূল্যহীন (لا يسوي شيئا)। আর এটিই অধিক গ্রহণযোগ্য যুক্তি, কারণ তিনি এমন কারো থেকে বর্ণনা করেননি যিনি কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন, যদিও তার নিজের অবস্থা স্বচ্ছ বা ত্রুটিমুক্ত ছিল।
(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وبه حدثنا أبو عامر حدثنا خارجة بن عبد الله عن أبي الرجال عن أمه عمرة وبه حدثنا عصام بن خالد حدثني صفوان بن عمرو عن سليم بن عامر الخبايري وأبو اليمان الهوزي عن أبي امامة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن الله تعالى وعدني أن يدخل من أمتي الجنة سبعين ألفا بغير حساب" فقال يزيد بن الأخنس السلمي والله ما أولئك في أمتك إلا كالذباب الأصهب في الذباب فقال رسول الله "فإن ربي عز وجل قد وعدني سبعين ألفا مع كل ألف سبعين ألفا وزادني ثلاث حثيات" قال: فما سعة حوضك يا نبي الله قال: "كما بين عدن إلى عمان وأوسع وأوسع" يشير بيده قال فيه مثعبان من ذهب وفضة قال: فماء حوضك قال: "ماء أشد بياضا من اللبن وأحلى مذاقة من العسل وأطيب رائحة من المسك من شرب منه لم يظمأ بعدها" وبهذا الإسناد قال عبد الله وجدت هذا الحديث في كتاب أبي بخطه وقد ضرب عليه فظننت أنه قد ضرب عليه لأنه خطأ إنما هو عم زيد عن أبي سلام عن أبي أمامة.

قال: حدثنا يزيد قال: حدثنا رجل والرجل كان يسمى في كتاب أبي عبد الرحمن عمرو بن عبيد حدثنا أبو رجاء العطاردي عن عمران بن حصين قال: ما شبع آل محمد صلى الله عليه وسلم من خبز مأدوم حتى مضى لوجهه قال عبد الله وكان أبي قد ضرب على هذا الحديث في كتابه فسألته وحدثني به وكتب عليه صح صح قال: إنما ضرب أبي علي هذا الحديث لأنه لم يرض الرجل الذي حدث عنه يزيد.

এবং উক্ত সনদ (إسناد) অনুযায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমির, তিনি বর্ণনা করেছেন খারিজা বিন আব্দুল্লাহ হতে, তিনি আবুল রিজাল হতে, তিনি তাঁর মাতা আমরাহ হতে। এবং উক্ত সনদ (إسناد) অনুযায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসাম বিন খালিদ, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান বিন আমর, তিনি সুলাইম বিন আমির আল-খাবাইরি এবং আবুল ইয়ামান আল-হাওজি হতে, তারা আবু উমামা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমার উম্মত হতে সত্তর হাজার ব্যক্তি বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" তখন ইয়াজিদ বিন আল-আখনাস আস-সুলামি বললেন, "আল্লাহর কসম, তারা আপনার উম্মতের মাঝে কেবল সাধারণ মাছির পালের মধ্যে লালচে মাছির (বিরল) ন্যায়।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা আমাকে প্রতি হাজারের সাথে আরও সত্তর হাজার এবং অতিরিক্ত আরও তিন আজলা (আল্লাহর হাতের অঞ্জলি) দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর নবী! আপনার হাউজের প্রশস্ততা কতটুকু?" তিনি বললেন: "আদন হতে আম্মানের দূরত্বের ন্যায় অথবা তার চেয়েও প্রশস্ত, আরও প্রশস্ত"—এই বলে তিনি নিজ হাত দিয়ে ইশারা করলেন। তিনি বললেন, "সেখানে সোনা ও রূপার দুটি পানির নল রয়েছে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "আপনার হাউজের পানি কেমন?" তিনি বললেন: "দুধের চেয়েও সাদা, মধুর চেয়েও মিষ্টি এবং মিশকের চেয়েও সুগন্ধিযুক্ত। যে ব্যক্তি তা থেকে একবার পান করবে, এরপর সে আর কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না।" আব্দুল্লাহ বলেন: আমি এই হাদিসটি আমার পিতার কিতাবে তাঁর নিজ হাতের লেখায় পেয়েছি, তবে তিনি এর ওপর দাগ টেনে কেটে দিয়েছিলেন। আমি ধারণা করলাম যে, তিনি এটি কেটেছেন কারণ এটি ভুল (خطأ); প্রকৃতপক্ষে এটি যায়েদের চাচা হতে, তিনি আবু সাল্লাম হতে এবং তিনি আবু উমামা হতে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এক ব্যক্তি—আর সেই ব্যক্তিটি আমার পিতার কিতাবে আব্দুর রহমান আমর বিন উবায়েদ নামে অভিহিত—তিনি আবু রাজা আল-আতারিদি হতে, তিনি ইমরান বিন হুসাইন হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পরিবার কখনও সালনযুক্ত রুটি দ্বারা তৃপ্তিভরে আহার করেননি যে পর্যন্ত না তিনি তাঁর রবের সান্নিধ্যে প্রস্থান করেছেন। আব্দুল্লাহ বলেন: আমার পিতা তাঁর কিতাবে এই হাদিসটির ওপর দাগ টেনে কেটে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আমি তাঁকে এটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমার নিকট এটি বর্ণনা করেন এবং এর ওপর সঠিক সঠিক (صح صح) লিখে দেন। আব্দুল্লাহ বলেন: আমার পিতা এই হাদিসটি কেবল একারণেই কেটেছিলেন যে, ইয়াজিদ যার নিকট থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, সেই ব্যক্তির ওপর তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না।

(খণ্ড: ১) খাসাইসু মুসনাদিল ইমামি আহমাদ (পৃষ্ঠা: ٢١)
قال الشيخ الإمام الحافظ أبو موسى قد روى لابنه الحديث لكنه ضرب عليه في المسند لأنه أراد أن لا يكون في المسند إلا لثقات ويروي في غير المسند عمن ليس بذاك.

ذكر أبو العز بن كادس أن عبد الله بن أحمد قال لأبيه ما تقول في حديث ربعي عن حذيفة قال الذي يرويه عبد العزيز بن أبي رواد قلت: يصح قال: لا الأحاديث بخلافه وقد رواه الخياط عن ربعي عن رجل لم يسموه قال: قلت له: فقد ذكرته في المسند فقال: قصدت في المسند الحديث المشهور وتركت الناس تحت ستر الله تعالى ولو أردت أن أقصد ما صح عندي لم أرو من هذا المسند إلا الشيء بعد الشيء ولكنك يا بني تعرف طريقتي في الحديث لست أخالف ما ضعف إذا لم يكن في الباب ما يدفعه.

قال الشيخ الحافظ وهذا ما أظنه يصح لأنه كلام متناقض لأنه يقول لست أخالف ما فيه ضعف إذا لم يكن في الباب شيء يدفعه وهو يقول في هذا الحديث بخلافه وإن صح فلعله كان أولا ثم أخرج منه ما ضعف لأني طلبته في المسند فلم أجده.

آخر خصائص المسند إملاء الحافظ أبي موسى المديني رحمه الله تعالى.

علقه لنفسه فقير عفو ربه عبد المنعم بن علي بن مفلح الحنبلي عفا الله عنه في ذي القعدة سنة خمس وتسعين وثمانمائة أحسن الله تقضيها في خير.

والحمد لله رب العالمين.
শেখ ইমাম হাফেজ আবু মুসা বলেন, তিনি (ইমাম আহমাদ) তাঁর পুত্রের কাছে হাদিসটি বর্ণনা করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে মুসনাদ থেকে তা কেটে দিয়েছিলেন; কারণ তিনি চেয়েছিলেন মুসনাদ-এ কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের হাদিসই স্থান পাবে, আর তিনি মুসনাদ ব্যতীত অন্যান্য কিতাবে এমন ব্যক্তিদের থেকেও বর্ণনা করেন যারা এই পর্যায়ের নন।

আবু আল-ইজ্জ ইবনে কাদিস উল্লেখ করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ তাঁর পিতাকে জিজ্ঞেস করলেন, হুজাইফা (রা.) থেকে রিবয়ীর বর্ণিত হাদিসটি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন, আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ যেটি বর্ণনা করেছেন? আমি বললাম: এটি কি সহিহ (صحيح)? তিনি বললেন: না, অন্যান্য হাদিসসমূহ এর বিপরীত। আল-খাইয়্যাত এটি রিবয়ী থেকে জনৈক নামহীন ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁকে বললাম: অথচ আপনি এটি মুসনাদ-এ উল্লেখ করেছেন। তিনি বললেন: আমি মুসনাদ-এ প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিসগুলো সংকলনের সংকল্প করেছিলাম এবং মানুষকে আল্লাহর পর্দার ওপর ছেড়ে দিয়েছি (তাদের গোপন ত্রুটি অন্বেষণ করিনি)। আমি যদি কেবল আমার নিকট যা সহিহ (صحيح) বলে গণ্য তা-ই সংকলনের ইচ্ছা করতাম, তবে এই মুসনাদ-এ অতি সামান্য পরিমাণ হাদিসই বর্ণনা করতাম। কিন্তু হে বৎস, হাদিসের ক্ষেত্রে তুমি আমার পদ্ধতি সম্পর্কে জানো; আমি কোনো দুর্বল (ضعيف) হাদিসের বিরোধিতা করি না যদি সেই অধ্যায়ে এমন কিছু না থাকে যা তাকে খণ্ডন করে।

হাফেজ (ইমাম আবু মুসা) বলেন: আমি মনে করি না যে এই বর্ণনাটি সহিহ (صحيح), কারণ এটি একটি স্ববিরোধী বক্তব্য। কেননা তিনি একদিকে বলছেন যে, আমি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের বিরোধিতা করি না যদি অধ্যায়ে তার পরিপন্থী কিছু না থাকে, আবার এই হাদিসটির ক্ষেত্রে বলছেন যে এর বিপরীতে অন্য হাদিস আছে। আর এটি যদি সহিহ (صحيح) হয়েও থাকে, তবে সম্ভবত এটি শুরুতে (মুসনাদ-এ) ছিল, পরবর্তীতে যা দুর্বল (ضعيف) তা তিনি বের করে দিয়েছেন; কারণ আমি মুসনাদ-এ এটি তালাশ করে পাইনি।

হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনী (রহ.)-এর শ্রুতিলিখন 'খাসাইসুল মুসনাদ'-এর সমাপ্তি।

এটি নিজের ব্যবহারের জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁর রবের ক্ষমার ভিখারি আব্দুল মুনয়িম ইবনে আলী ইবনে মুফলিহ আল-হাম্বলী, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। সময়: যুল-কাদাহ মাস, ৮৯৫ হিজরি। আল্লাহ এই সময়কালকে কল্যাণের সাথে অতিবাহিত করার তাওফিক দিন।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।