(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: -)
خصائص التفكير الفقهي عند الشيخ محمد بن عبد الوهاب (مطبوع ضمن بحوث ندوة دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الأول) القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: خصائص التفكير الفقهي عند الشيخ محمد بن عبد الوهاب (مطبوع ضمن بحوث ندوة دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الأول)
المؤلف: عبد الوهاب بن إبراهيم أبو سليمان
الناشر: عمادة البحث العلمي بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثانية، 1411هـ/1991م
عدد الصفحات: 416
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ফিকহি চিন্তাচেতনার বৈশিষ্ট্যসমূহ (শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত শীর্ষক সেমিনারের গবেষণাপত্রের অন্তর্ভুক্ত, প্রথম খণ্ড) বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ফিকহি চিন্তাচেতনার বৈশিষ্ট্যসমূহ (শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত শীর্ষক সেমিনারের গবেষণাপত্রের অন্তর্ভুক্ত, প্রথম খণ্ড)
লেখক: আব্দুল ওয়াহহাব বিন ইবরাহীম আবু সুলাইমান
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজত্ব
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১১ হিজরি/১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৭৯)
خصائص التفكير الفقهي عند الشيخ محمد بن عبد الوهابتأليف: عبد الوهاب إبراهيم أبو سليمان
بسم الله الرحمن الرحيم
إن أهمية الدعوة السلفية التي نهض بها شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب، والتي تركت آثارا فكرية واضحة في كثير من المجتمعات الإسلامية في الوقت الحاضر، استقطبت الباحثين ووجهت أنظار المفكرين، فاستقلت بدراسات موسعة وبحوث علمية مختلفة، والجانب العقدي منها والمتمثل في حياة الشيخ نفسه وإنتاجه العلمي فيها كان له منها النصيب الأوفى، وهذا عائد إلى طبيعة دعوته والأولوية التي تصدى لها وركز عليها في دعوته، وهو تصحيح العقيدة الإسلامية لدى المسلمين. فبسلامتها يسلم للمرء كل شيء، وبفسادها يضيع كل شيء.
وإذا كان هذا هو الجانب الأهم في دعوته، فالجانب الثاني المهم هو تصحيح المسار الفقهي التشريعي بين المسلمين، والجوانب الإصلاحية التي نادى بها في هذا المجال! وخصائص تفكيره تجاه مسائله، وهذا لم يتجه إليه أكثر الباحثين، وهذه الدراسة تهتم بصورة خاصة بالخصائص الفكرية في اتجاهه الفقهي للتعرف على طبيعة دعوته واتجاهاته.
وهذه بمثابة مقدمة من شأنها أن تجلي حقيقة هذه الدعوة في المجال الفقهي والتشريعي.
ويركز البحث هنا على:-
أولا: الحالة الفقهية في العالم الإسلامي بعامة ونجد بخاصة.
ثانيا: الروافد الفكرية في تكوين الشخصية العلمية في الشيخ محمد بن عبد الوهاب.
ثالثا: الخصائص والمميزات الفقهية عند الشيخ محمد بن عبد الوهاب.
ويعتمد البحث في هذا الجانب منه على فحص وبحث التراث العلمي الذي ورثنا عنه بطريقة استقرائية واستنتاجية في نفس الوقت، مهتما بالخصائص والموضوعات الرئيسية دون الوقوف لدى المسائل الجزئية إلا بالقدر الذي توضح فيه الفكرة الأساسية.
শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ফিকহী চিন্তাধারার বৈশিষ্ট্যসমূহরচনায়: আব্দুল ওয়াহহাব ইব্রাহিম আবু সুলাইমান
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব যে সালাফী দাওয়াহর সূচনা করেছিলেন তার গুরুত্ব, যা বর্তমান সময়ের অনেক মুসলিম সমাজে সুস্পষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাব ফেলেছে, গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং চিন্তাবিদদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। ফলে এটি বিস্তৃত অধ্যয়ন ও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বতন্ত্র বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এর আকিদাহগত দিকটি—যা শাইখের নিজের জীবন এবং তাঁর ইলমী অবদানের মাঝে প্রতিফলিত হয়েছে—সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এর কারণ হলো তাঁর দাওয়াহর প্রকৃতি এবং তিনি তাঁর দাওয়াতে যে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন ও গুরুত্বারোপ করেছিলেন, আর তা হলো মুসলমানদের ইসলামি আকিদাহ সংশোধন করা। কারণ আকিদাহ সঠিক থাকলে মানুষের সবকিছু সঠিক থাকে, আর এটি নষ্ট হলে সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যায়।
এটি যদি তাঁর দাওয়াহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়, তবে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো মুসলমানদের মধ্যে ফিকহী ও আইনি ধারার সংশোধন এবং এই ক্ষেত্রে তিনি যে সংস্কারমূলক দিকগুলোর ডাক দিয়েছিলেন ও এর মাসআলাগুলোর প্রতি তাঁর চিন্তাধারার বৈশিষ্ট্যসমূহ। অধিকাংশ গবেষক এই দিকটির প্রতি লক্ষ্য করেননি। এই অধ্যয়নটি বিশেষভাবে তাঁর ফিকহী ঝোঁকের বুদ্ধিবৃত্তিক বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে আলোচনা করে, যাতে তাঁর দাওয়াহর প্রকৃতি ও গতিধারা সম্পর্কে জানা যায়।
এটি একটি ভূমিকা স্বরূপ যা ফিকহ ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এই দাওয়াহর প্রকৃত স্বরূপকে ফুটিয়ে তুলবে।
এই গবেষণাটি এখানে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করে:-
প্রথমত: সাধারণভাবে মুসলিম বিশ্বে এবং বিশেষভাবে নজদে ফিকহী অবস্থা।
দ্বিতীয়ত: শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ইলমী ব্যক্তিত্ব গঠনে বুদ্ধিবৃত্তিক উৎসসমূহ।
তীয়ত: শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ফিকহী বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্বসমূহ।
গবেষণার এই অংশটি একইসাথে আরোহী ও অবরোহী পদ্ধতিতে তাঁর কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্য পরীক্ষা ও পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করে। এটি মূলত প্রধান বৈশিষ্ট্য ও বিষয়বস্তুর দিকে লক্ষ্য রাখে এবং মূল ধারণাটি স্পষ্ট করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার বাইরে কোনো আংশিক মাসআলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় লিপ্ত হয় না।
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৮০)
الحالة الفقهية في العالم الإسلامي بعامة ونجد بخاصة:
إن الباحثين في الفقه الإسلامي يختلفون في تسمية المراحل التي مر بها الفقه الإسلامي تطورا وركودا، إلا أنهم يجمعون على أن الفقه الإسلامي دخل طور الشيخوخة والهرم منذ القرن الخامس الهجري، حيث بدأ في التدهور والضعف والاعتماد الكلي على ما خلفه الفقهاء قبلهم من تراث فقهي وثروة علمية دون أن تكون لهم فيه مساهمة بزيادة أو تجديد.
يعنون العلامة محمد بن الحسن الحجري الثعالبي الفاسي هذه الفترة في تاريخ الفقه الإسلامي بقوله:
"القسم الرابع: في الطور الرابع للفقه وهو طور الشيخوخة والهرم القريب من العدم".
ثم يذكر الظواهر العلمية الفقهية والأسباب التي أدت إليها بقوله: "هذا الطور مبدأه من أول القرن الخامس الهجري إلى وقتنا هذا الذي هو القرن الرابع عشر، وذلك أنه وصل إلى منتهى قوته في القرون الأربعة السابقة وتم نضجه فزاد بعد حتى احترق وذهبت عينه، ولم يبق إلا مرقه في القرن الخامس وما بعده إلى أن صار الآن أثرا بعد عين، ذلك لأسباب منها:
قصور الهمم عن الاجتهاد إلى الاقتصار على الترجيح في الأقوال المذهبية والاختيار منها
… ثم قصروا عن ذلك في هذه الأزمان واقتصروا على النقل عمن تقدم فقط، وانصرفت همتهم بشرح كتب المتقدمين وتفهمها ثم اختصارها، وفكرة الاختصار ثم التباري فيه مع جميع الفروع الكثيرة في اللفظ القليل هو الذي أوجب الهرم وأفسد الفقه بل العلوم كلها
… إذ صاروا قراء كتب لا محصلي علوم، ثم في الأخير قصروا عن الشرح، واقتصروا على التحشية والقشور ومن اشتغل بالحواشي ما حوى شيئا"1.
والفقه، أصبح يعنى في العصور المتأخرة تعلما وتعلما، حفظ متون معينة وترديد
--------------------------------------------
সাধারণভাবে ইসলামি বিশ্বে এবং বিশেষভাবে নজদে ফিকহি অবস্থা:
ইসলামি ফিকহের গবেষকগণ ইসলামি ফিকহ বিবর্তন ও স্থবিরতার যে পর্যায়গুলো অতিক্রম করেছে সেগুলোর নামকরণে ভিন্নমত পোষণ করেন। তবে তারা এ বিষয়ে একমত যে, হিজরি পঞ্চম শতাব্দী থেকে ইসলামি ফিকহ বার্ধক্য ও জরাগ্রস্ততার পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তখন থেকে এটি অবনতি ও দুর্বলতার শিকার হতে শুরু করে এবং পূর্ববর্তী ফকিহগণের রেখে যাওয়া ফিকহি ঐতিহ্য ও ইলমি সম্পদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যাতে তাদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সংযোজন বা সংস্কারের কোনো অবদান ছিল না।
আল্লামা মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আল-হাজউয়ি আস-সা'আলবি আল-ফাসি ইসলামি ফিকহের ইতিহাসের এই কালখণ্ডকে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে শিরোনাম দিয়েছেন:
"চতুর্থ বিভাগ: ফিকহের চতুর্থ পর্যায় সম্পর্কে; আর তা হলো বার্ধক্য ও জরাগ্রস্ততার পর্যায়, যা বিলুপ্তির নিকটবর্তী।"
অতঃপর তিনি ইলমি ফিকহি নিদর্শনসমূহ এবং এর কারণগুলো উল্লেখ করে বলেন: "এই পর্যায়ের সূচনা হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর শুরু থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত, যা হলো চতুর্দশ শতাব্দী। বিষয়টি হলো, পূর্ববর্তী চার শতাব্দীতে এটি তার শক্তির চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছিল এবং পূর্ণতা লাভ করেছিল। এরপর এটি আরও বাড়তে গিয়ে পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং এর নির্যাস হারিয়ে যায়। পঞ্চম শতাব্দী ও তার পরবর্তী সময়ে কেবল এর ঝোলটুকু অবশিষ্ট থাকে, এমনকি বর্তমানে এটি নামমাত্র অস্তিত্বে পরিণত হয়েছে। এর কতগুলো কারণ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো:
ইজতিহাদ করার হিম্মতের অভাব ঘটে কেবল মাযহাবি মতগুলোর মধ্য থেকে কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়া বা নির্বাচন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া
… অতঃপর বর্তমান সময়ে তারা এ থেকেও অক্ষম হয়ে পড়েছে এবং কেবল পূর্ববর্তীদের থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার ওপর সীমাবদ্ধ হয়েছে। তাদের হিম্মত কেবল পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহের ব্যাখ্যা ও তা বোঝার এবং পরবর্তীতে তা সংক্ষিপ্ত করার দিকে ধাবিত হয়েছে। এই সংক্ষেপণের চিন্তা এবং অল্প শব্দের মধ্যে অসংখ্য শাখা-প্রশাখা নিয়ে আসার প্রতিযোগিতা ফিকহকে জরাগ্রস্ত ও ধ্বংস করে দিয়েছে, বরং সমস্ত ইলমকেই বিনষ্ট করেছে
… কেননা তারা কিতাব পাঠক হয়েছে, ইলম অর্জনকারী নয়। অতঃপর সবশেষে তারা ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা থেকেও অক্ষম হয়ে পড়ে এবং কেবল হাশিয়া (টীকা) ও বাহ্যিক আবরণের ওপর তুষ্ট থাকে। আর যে ব্যক্তি হাশিয়া বা টীকা নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে কিছুই অর্জন করতে পারে না।"১।
আর ফিকহ পরবর্তী যুগগুলোতে শিক্ষা ও পাঠদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু মূল পাঠ (মতন) মুখস্থ করা এবং তা আওড়ানোর বিষয়ে পরিণত হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৮১)
عباراتها دون مجاوزة لها إلى غيرها من كتب الفقه فضلا عن الكتاب والسنة.
عكف الحنفية على كنز الدقائق، لحافظ الدين عبد الله بن أحمد بن محمود النسفي المتوفى سنة 710 هـ.
وعكف المالكية على مختصر خليل، تأليف العلامة الشيخ خليل بن إسحاق المالكي المتوفى سنة 767 هـ.
وعكف الشافعية على متن منهاج الطالبين، تأليف شيخ الإسلام زكريا الأنصاري، المتوفى سنة 926 هـ.
وعكف الحنابلة على كتاب المقنع في فقه الإمام أحمد، من تأليف موفق الدين أبي عبد الله محمد بن أحمد بن قدامة، المتوفى سنة 620 هـ.
هذه الكتب وما يدور في فلكها هي محور الدراسة والتعليم والتأليف، وكثيرا ما يعني استنباط الأحكام مباشرة من الكتاب والسنة الزيغ والانحراف، فيتصدى لأي محاولة من هذا القبيل بالنقد الشديد، نظرا لسد الفقهاء باب الاجتهاد وإصرارهم على قفله، ومن لم يتبين منهم هذا المبدأ كفقهاء الحنابلة وقولهم باستمرار الاجتهاد وفتح بابه لمن أوتي القدرة العلمية المؤهلة. فقد كان هذا منهم نظريا أكثر منه عمليا، يبرز هذا المعنى ما ذكره أحمد بن حمدان الحراني الحنبلي في أقسام المجتهدين في عبارته التالية:
"والمجتهد أربعة أقسام: مجتهد مطلق، ومجتهد في مذهب إمامه أو في مذهب إمام غيره، ومجتهد في نوع من العلم، ومجتهد في مسألة منه أو مسائل" وفي معرض حديثه عن المجتهد المطلق وتعريفه له يقول:
"وهو الذي إذا استقل بإدراكه للأحكام الشرعية من الأدلة الشرعية العامة والخاصة، وأحكام الحوادث منها مع حفظه لأكثر الفقه ولا يقلد أحدا ولا يتقيد بمذهب أحد.. ومن زمن طويل عدم المجتهد المطلق، مع أنه الآن أيسر منه في الزمن الأول لأن الحديث والفقه قد دونا، وكذا ما يتعلق بالاجتهاد من الآيات والآثار، وأصول الفقه، والعربية وغير ذلك، لكن الهمم قاصرة والرغبات فاترة، ونار الجد والحذر خامدة اكتفاء بالتقليد، واستعفاء من التعب الوكيد، وهربا من الأثقال، وأربا في تمشية الحال وبلوغ
এর ইবারত বা ভাষ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে, একে অতিক্রম করে ফিকহের অন্য কোনো কিতাব এমনকি কিতাব ও সুন্নাহর দিকেও অগ্রসর না হয়ে।
হানাফীগণ হাফিযউদ্দীন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মাহমুদ আন-নাসাফী (মৃত ৭১০ হিজরী) রচিত 'কানযুদ দাকায়িক' গ্রন্থের ওপর নিবিষ্ট হয়েছেন।
এবং মালিকীগণ আল্লামা শাইখ খলীল ইবনে ইসহাক আল-মালিকী (মৃত ৭৬৭ হিজরী) রচিত 'মুখতাসার খলীল' গ্রন্থের ওপর নিবিষ্ট হয়েছেন।
আর শাফেয়ীগণ শাইখুল ইসলাম যাকারিয়া আল-আনসারী (মৃত ৯২৬ হিজরী) রচিত 'মিনহাজুত তালিবীন' গ্রন্থের মূল পাঠের ওপর নিবিষ্ট হয়েছেন।
এবং হাম্বলীগণ ইমাম আহমদের ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থ মুওয়াফফাকুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে কুদামা (মৃত ৬২০ হিজরী) রচিত 'আল-মুকনি' গ্রন্থের ওপর নিবিষ্ট হয়েছেন।
এই বইগুলো এবং এগুলোর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোই ছিল জ্ঞানচর্চা, শিক্ষাদান ও রচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। অনেক ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে সরাসরি বিধান আহরণ করাকে পথভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতি মনে করা হতো। ফলে ফকীহগণ ইজতিহাদের দরজা বন্ধ করে দেওয়া এবং তা বন্ধ রাখার ব্যাপারে অনড় অবস্থানের কারণে এই ধরনের যে কোনো প্রচেষ্টাকে কঠোর সমালোচনার মাধ্যমে প্রতিহত করা হতো। আর যাদের কাছে এই মূলনীতিটি স্পষ্ট ছিল না—যেমন হাম্বলী ফকীহগণ এবং ইজতিহাদ অব্যাহত রাখা ও যোগ্য ইলমী সক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এর দরজা উন্মুক্ত রাখার ব্যাপারে তাদের বক্তব্য—তাদের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহারিকের চেয়ে তাত্ত্বিক দিক থেকেই বেশি ছিল। আহমাদ ইবনে হামদান আল-হাররানী আল-হাম্বলী মুজতাহিদের প্রকারভেদ সম্পর্কে তার নিম্নোক্ত উক্তিতে এই বিষয়টিই ফুটিয়ে তুলেছেন:
"মুজতাহিদ চার প্রকার: মুজতাহিদে মুতলাক (স্বতন্ত্র), নিজ ইমামের মাযহাবে বা অন্য ইমামের মাযহাবে মুজতাহিদ, কোনো বিশেষ প্রকারের ইলমে মুজতাহিদ এবং ইলমের কোনো একটি মাসআলা বা একাধিক মাসআলায় মুজতাহিদ।" মুজতাহিদে মুতলাক সম্পর্কে আলোচনা ও তার সংজ্ঞায় তিনি বলেন:
"তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি শরীয়তের সাধারণ ও বিশেষ দলিলসমূহ থেকে শরয়ী বিধানসমূহ এবং নতুন উদ্ভূত সমস্যার বিধানসমূহ অনুধাবনে স্বাবলম্বী হন, সেইসাথে ফিকহের অধিকাংশ মাসআলা তার মুখস্থ থাকে এবং তিনি কাউকেই তকলীদ করেন না এবং কারও মাযহাবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেন না। দীর্ঘকাল যাবৎ মুজতাহিদে মুতলাক বিলুপ্ত, অথচ বর্তমান যুগে এটি প্রথম যুগের চেয়ে সহজতর, কেননা হাদীস ও ফিকহ সংকলিত হয়েছে; অনুরূপভাবে ইজতিহাদ সংশ্লিষ্ট আয়াত, আছার (সাহাবীদের বাণী), উসূলে ফিকহ, আরবী ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়গুলোও সংকলিত হয়েছে। কিন্তু সংকল্প আজ সংকুচিত, আকাঙ্ক্ষা আজ শিথিল এবং তকলীদের ওপর তুষ্ট থাকা, কঠোর পরিশ্রম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া, বোঝা এড়িয়ে চলা এবং কোনোভাবে দিন পার করা ও লক্ষ্য অর্জনের আগ্রহের কারণে প্রচেষ্টা ও সতর্কতার আগুন আজ নির্বাপিত।"
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৮২)
الآمال، ولو بأقل الأعمال، وهو فرض كفاية قد أهملوه وملوه ولم يعقلوه ليفعلوه"1.
هذه هي الحالة العلمية الفقهية التي كانت تعيشها البلاد الإسلامية عموما. وهنا نريد من خلال هذه الصورة أن نتلمس ما كانت عليه الحالة العلمية والفقهية في مسقط رأس شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب خصوصا؛ لندرك مدى تأثره بها.
من الطبيعي أن تكون تلك الصورة للحالة العلمية والفقهية في العالم الإسلامي صادقة تماما على نجد، فتعيش التخلف الفكري الفقهي الذي يعيشه العالم الإسلامي صورة مطابقة، وهذا الجانب العلمي وإن لم يتعرض له الكثير من الدارسين لهذا الجزء في جزيرة العرب، فقد تعرض له البحاثة الفقيه الشيخ عبد الله البسام، وأعطى صورة وافية لما كانت عليه الحالة العلمية والفقهية فيها بقوله: "منذ عرفنا علماء نجد حتى قيام الشيخ محمد بن عبد الوهاب- رحمه الله تعالى- فإن علمهم يكاد ينحصر في الفقه، أي: في المسائل الفروعية الفقهية، والمذهب السائد لديهم هو مذهب الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله فعلمهم لا يكاد يخرج عن تحقيق هذا النوع من العلم؛ فعلوم التفسير والحديث والتوحيد مشاركتهم فيها قليلة جدا، وعلوم اللسان لا يهتمون منها إلا بعلم النحو في مختصرات كتبه التي يتعلمون فيها ما يقوم ألسنتهم عن اللحن، وماعدا هذا فيعتبرون تعلمه مضيعة للوقت ومشغلة عما هو أولى منه، ويندر منهم من يتعدى الفقه إلى غيره من العلوم فيشارك في تحصيله مشاركة قليلة.
أما فقه الإمام أحمد فهم يجيدونه إجادة تامة، ويعنون به عناية فائقة، حيث يدرسون كتبه دراسة إمعان، ويبحثونها بحث تحقيق وتدقيق2.
وفيما يتصل بالوسط العائلي للشيخ محمد بن عبد الوهاب، فإنه عاش وسطا علميا متشبعا بالفقه في عائلة توارثت القضاء، فوالده الشيخ عبد الوهاب تولى قضاء العيينة
--------------------------------------------
আকাঙ্ক্ষা, যদিও তা স্বল্প আমলের বিনিময়ে হয়, আর এটি এমন একটি ফরজে কিফায়া যা তারা অবহেলা করেছে, তাতে বিরক্ত হয়েছে এবং তা পালনের জন্য তারা তা অনুধাবন করেনি"১।
এটি ছিল ইসলামি দেশগুলোতে বিদ্যমান সাধারণ জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ফিকহি অবস্থা। এখানে আমরা এই চিত্রের মাধ্যমে শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের জন্মস্থানে বিদ্যমান জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ফিকহি অবস্থা বিশেষভাবে উপলব্ধি করতে চাই; যাতে আমরা বুঝতে পারি তিনি এর দ্বারা কতটা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
এটি স্বাভাবিক যে মুসলিম বিশ্বের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ফিকহি অবস্থার সেই চিত্রটি নজদ অঞ্চলের ক্ষেত্রেও পুরোপুরি সত্য ছিল। ফলে সেখানেও মুসলিম বিশ্বের মতো একই রকম বুদ্ধিবৃত্তিক ও ফিকহি অনগ্রসরতা বিরাজ করছিল। আরব উপদ্বীপের এই অংশের গবেষকদের মধ্যে অনেকেই এই জ্ঞানতাত্ত্বিক দিকটি নিয়ে আলোচনা না করলেও, বিশিষ্ট গবেষক ও ফকিহ শায়খ আব্দুল্লাহ আল-বাসসাম এটি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সেখানে বিরাজমান জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ফিকহি অবস্থা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: "আমরা নজদের আলেমদের সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি, শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উত্থান পর্যন্ত তাদের জ্ঞান প্রায় ফিকহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; অর্থাৎ ফিকহের শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েলের মধ্যে। তাদের মধ্যে প্রচলিত মাযহাব ছিল ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব। তাদের জ্ঞান এই বিশেষ প্রকারের ইলমের তাহকিকের বাইরে যেত না বললেই চলে। তাফসির, হাদিস এবং তাওহিদের জ্ঞানে তাদের অংশগ্রহণ ছিল খুবই নগণ্য। আর ভাষাতাত্ত্বিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে তারা কেবল নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোর প্রতি মনোযোগ দিতেন, যা দিয়ে তারা তাদের ভাষাগত ভুল সংশোধন করতে পারেন। এছাড়া অন্য কিছু শেখাকে তারা সময়ের অপচয় এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে বিমুখ হওয়া বলে গণ্য করতেন। তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক লোকই ফিকহ অতিক্রম করে অন্যান্য শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করতেন এবং সেক্ষেত্রেও তাদের দখল ছিল সামান্য।
তবে ইমাম আহমাদের ফিকহ তারা অত্যন্ত নিপুণভাবে আয়ত্ত করতেন এবং এর প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। তারা এই মাযহাবের গ্রন্থগুলো গভীর মনোযোগের সাথে অধ্যয়ন করতেন এবং সূক্ষ্ম ও চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা গবেষণা করতেন।২
শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের পারিবারিক পরিবেশের কথা বলতে গেলে, তিনি ফিকহচর্চায় সমৃদ্ধ এক জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন এবং তার পরিবার ছিল বিচারকার্যের (কাজা) ঐতিহ্যে উত্তরাধিকারী। তার পিতা শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব 'উয়াইনা'র কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৮৩)
ثم حريملاء، وكذلك جده من قبل الشيخ سلمان بن علي، انتهت إليهم الرئاسة في العلم والفقه في نجد1.
في هذا الوسط العلمي العام والخاص المتميز بمظهر فقهي معين يدور في آفاق تقليدية محدودة وإطارات فكرية ملتزمة، عاش الشيخ محمد بن عبد الوهاب حياته العلمية الأولى وتدرج في مراحلها.
وفي مثل هذه الأجواء التي تحكم فيها الانغلاق التام، ليس بالوسع أن يتكون بين أحضانها فقيه يتمتع بحرية فكرية واجتهاد محلق، بل سيكون بالضرورة وقانون الحياة صورة عصره ومرآة جيله، فقيها تقليديا متمسكا بحرفية النصوص لا يتجاوزها ولا إلى الكتاب والسنة.
والشيخ محمد بن عبد الوهاب عضو في ذلك المجتمع وجزء من تلك البيئة، يتأثر بها ويتجاوب فكرا وشعورا بإيجابياتها وسلبياتها. ولكن إلى أي مدى كان منه هذا التجاوب استقبالا أو رفضا؟
إن التاريخ يثبت أنه لم يكن هناك أي صدى وتأثير لتلك البيئة العلمية والاجتماعية على تفكير الشيخ محمد بن عبد الوهاب، بل كان أقوى من أن يتأثر بسلبياتها أو يخضع لمؤثراتها، فأفلت منها ومن أغلالها وأثقالها، فتميز بتفكير منطلق وعقلية مستقلة بدأت تتبين ملامحها في مرحلة شبابه.
الروافد الفكرية في تكوين الشخصية العلمية للشيخ محمد بن عبد الوهاب:
إن أول ما يثير فضول الباحث قبل أي شيء آخر، هو التعرف على المصادر العلمية والروافد الفكرية التي أسهمت في تكوين شخصيته العلمية والفقهية بصورة متباينة عن أبناء جيله وفقهاء عصره.
إننا لا نجده بين مشائخه الذين تتلمذ عليهم في صباه ومدارج شبابه، غير أن العلاقة والتأثر بشيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية، وتلميذه شمس الدين أبي عبد الله ابن أبي بكر المعروف بابن قيم الجوزية واضح قوي.
--------------------------------------------
এরপর হারাইমিলা, আর একইভাবে তাঁর মাতামহ শায়খ সালমান বিন আলী, যাঁদের কাছে নজদের ইলম ও ফিকহের নেতৃত্ব সমাপ্ত হয়েছিল১।
একটি নির্দিষ্ট ফিকহি আবহে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এই সাধারণ ও বিশেষ ইলমি পরিবেশে, যা সীমাবদ্ধ ঐতিহ্যগত দিগন্ত এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামোর মধ্যে আবর্তিত ছিল, শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর প্রাথমিক ইলমি জীবন অতিবাহিত করেন এবং এর বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করেন।
আর এমন পরিবেশে যেখানে পূর্ণ রুদ্ধদ্বার অবস্থা বিরাজ করছিল, সেখানে তাঁর কোলে এমন কোনো ফকিহ গড়ে ওঠা সম্ভব ছিল না যিনি চিন্তার স্বাধীনতা এবং উচ্চমার্গীয় ইজতিহাদের অধিকারী হবেন। বরং তিনি অনিবার্যভাবে এবং জীবনের নিয়মে তাঁর যুগের প্রতিচ্ছবি এবং তাঁর প্রজন্মের দর্পণ হয়ে থাকতেন—একজন ঐতিহ্যবাদী ফকিহ, যিনি মূল পাঠের আক্ষরিকতার প্রতি অনুগত, যা তিনি অতিক্রম করতেন না, এমনকি কিতাব ও সুন্নাহর দিকেও অগ্রসর হতেন না।
শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ছিলেন সেই সমাজের একজন সদস্য এবং সেই পরিবেশের একটি অংশ, যার দ্বারা তিনি প্রভাবিত হতেন এবং চিন্তা ও অনুভূতির মাধ্যমে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলোতে সাড়া দিতেন। কিন্তু গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে তাঁর এই সাড়া কতটুকু ছিল?
ইতিহাস প্রমাণ করে যে, শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের চিন্তাধারার ওপর সেই ইলমি ও সামাজিক পরিবেশের কোনো প্রতিধ্বনি বা প্রভাব ছিল না। বরং তিনি এর নেতিবাচকতা দ্বারা প্রভাবিত হওয়া বা এর প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করার চেয়েও শক্তিশালী ছিলেন। তাই তিনি তা থেকে এবং এর শেকল ও বোঝা থেকে মুক্ত হয়েছিলেন এবং একটি উন্মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীন মানসিকতায় স্বতন্ত্র হয়ে উঠেছিলেন, যার বৈশিষ্ট্যসমূহ তাঁর যৌবনকালেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছিল।
শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ইলমি ব্যক্তিত্ব গঠনে বুদ্ধিবৃত্তিক উৎসসমূহ:
অন্য যেকোনো কিছুর আগে একজন গবেষকের কৌতূহলকে যা সবচেয়ে বেশি উদ্দীপ্ত করে, তা হলো সেই ইলমি উৎস এবং বুদ্ধিবৃত্তিক যোগানগুলো চেনা, যা তাঁর সমসাময়িক প্রজন্মের মানুষ এবং যুগের ফকিহদের থেকে ভিন্নভাবে তাঁর ইলমি ও ফিকহি ব্যক্তিত্ব গঠনে অবদান রেখেছিল।
আমরা তাঁকে তাঁর সেই শায়খদের মধ্যে পাই না যাঁদের কাছে তিনি তাঁর শৈশব ও যৌবনের স্তরগুলোতে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন; তবে শায়খুল ইসলাম আহমদ বিন আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর, যিনি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ নামে পরিচিত, তাঁদের সাথে সম্পর্ক এবং তাঁদের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট ও শক্তিশালী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৮৪)
وإذا كانت كافة الدلائل تشير إلى هذا فإنه مما يستحق البحث تحديد الفترة التي تعرف بها على فكر هذين العالمين الجليلين، هل حدث له هذا أيام طلبه العلم ببلدته العيينة وقبل رحيله إلى الحجاز والبصرة، أم أن اهتمامه بفكرهما جاء صدى ونتيجة تنقله واحتكاكه بالعلماء في تلك البلاد؟
إن هذه التساؤلات تبدو للوهلة الأولى غير ذات جدوى، ولكن الباحث كما يهمه أن يعرف مصدر هذا الاستقلال الفكري الجديد، يهمه أن يعرف متى وكيف ظهر، وهل هو ذاتي صادر من داخل رغبة الشيخ محمد بن عبد الوهاب؟ أم هو بعامل خارجي شجعه على تبنيه والتحمس له؟
إن المؤرخين للشيخ محمد بن عبد الوهاب لم يحققوا هذه النقطة كما ينبغي ولهذا جاءت رواياتهم متضاربة.
1- ففريق لم ينوه عن هذه الصلة قصدا ولا استطرادا: ويتبين هذا من عرض نصوصهم لحياته العلمية.
يذكر المؤرخ عثمان بن بشر في معرض حديثه عن نشأته وحياته العلمية قوله: "وكان رحمه الله في صغره كثير المطالعة في كتب التفسير والحديث وكلام العلماء في أصل الإسلام، فشرح الله صدره في معرفة التوحيد وتحقيقه ومعرفة نواقضه المضلة عن طريقه، وكان الشرك إذ ذاك قد مشى في نجد وغيرها.. فلما تحقق الشيخ- رحمه الله معرفة التوحيد ومعرفة نواقضه وما وقع فيه كثير من الناس من هذه البدع المضلة صار ينكر هذه الأشياء ولما رأى أنه لا يغني القول، ولم يتلق الرؤساء الحق بالقبول، تجهز من بلد العيينة إلى حج بيت الله الحرام، فلما قضى حجه سار إلى المدينة على ساكنها أفضل الصلاة والسلام، فلما وصلها وجد فيها الشيخ العالم عبد الله بن إبراهيم بن سيف من رؤساء بلد المجمعة، القرية المعروفة في ناحية سدير من نجد
… فأخذ الشيخ عنه، قال الشيخ: كنت عنده يوما فقال لي: أتريد أن أريك سلاحا أعددته للمجمعة، قلت: نعم، فأدخلني منزلا فيه كتب كثيرة فقال: هذا الذي أعددت لها، ثم إنه مضى به إلى الشيخ العلامة محمد حياة السندي المدني فأخبره بالشيخ محمد وعرفه به وبأهله، فأخذ عنه،
যেহেতু সকল প্রমাণাদি এই দিকেই ইঙ্গিত করে, তাই এই দুই মহান আলিমের চিন্তাধারার সাথে তিনি কোন সময়ে পরিচিত হয়েছিলেন তা নিরূপণ করা গবেষণার দাবি রাখে। এটি কি তাঁর নিজ শহর উয়াইনাহ-তে ইলম অন্বেষণের দিনগুলোতে এবং হিজায ও বসরায় গমনের পূর্বেই ঘটেছিল, নাকি তাঁদের চিন্তাধারার প্রতি তাঁর এই আগ্রহ সেই সব দেশে ভ্রমণ এবং সেখানকার ওলামায়ে কেরামের সাথে তাঁর মেলামেশার ফলশ্রুতি ও প্রতিফলন হিসেবে এসেছিল?
এই প্রশ্নগুলো প্রথম দৃষ্টিতে নিরর্থক বলে মনে হতে পারে, কিন্তু একজন গবেষকের কাছে যেমন এই নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার উৎস জানা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এটি কখন এবং কীভাবে প্রকাশ পেয়েছিল তা জানাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এটি কি শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের নিজস্ব ইচ্ছা থেকে উৎসারিত হয়েছিল? নাকি কোনো বাহ্যিক প্রভাব তাঁকে এটি গ্রহণ করতে এবং এর প্রতি উৎসাহী হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল?
শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনীকার ঐতিহাসিকগণ এই বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসন্ধান করেননি, যার ফলে তাঁদের বর্ণনাগুলো পরস্পরবিরোধী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১- একদল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা প্রাসঙ্গিকভাবেও এই সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেননি: তাঁদের বর্ণনাকৃত তাঁর ইলমি জীবনের বিবরণ থেকে এটি স্পষ্ট হয়।
ঐতিহাসিক উসমান বিন বিশর তাঁর শৈশব ও ইলমি জীবন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ছোটবেলায় তাফসির, হাদিস এবং ইসলামের মূল বিষয়াবলী সম্পর্কে ওলামাদের বক্তব্যের কিতাবসমূহ প্রচুর পাঠ করতেন। অতঃপর আল্লাহ তাওহিদ অনুধাবন ও তা বাস্তবায়ন এবং এর পথ থেকে বিচ্যুতকারী তাওহিদ পরিপন্থী বিষয়সমূহ চেনার জন্য তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করে দেন। সেই সময়ে নজদ ও অন্যান্য স্থানে শিরক ছড়িয়ে পড়েছিল... যখন শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাওহিদ সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জন করলেন এবং এর পরিপন্থী বিষয়গুলো ও মানুষের মাঝে প্রচলিত বিভ্রান্তিকর বিদআতসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত হলেন, তখন তিনি এই বিষয়গুলোর প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। যখন তিনি দেখলেন যে কেবল মুখে বলা যথেষ্ট নয় এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা সত্যকে গ্রহণ করছে না, তখন তিনি উয়াইনাহ শহর থেকে আল্লাহর পবিত্র ঘর হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। হজ সম্পন্ন করার পর তিনি মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা হন (যিনি সেখানে বসবাস করছেন তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি নজদের সুদাইর অঞ্চলের সুপরিচিত গ্রাম আল-মাজমা’আ-র অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব আলিম শাইখ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফকে পান
… শাইখ তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। শাইখ বলেন: আমি একদিন তাঁর কাছে ছিলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: আমি আল-মাজমা’আ-র জন্য যে অস্ত্র প্রস্তুত করেছি তা কি তুমি দেখতে চাও? আমি বললাম: হ্যাঁ। তখন তিনি আমাকে এমন একটি ঘরে নিয়ে গেলেন যেখানে অনেক কিতাব ছিল এবং বললেন: এটিই আমি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছি। অতঃপর তিনি তাঁকে আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ হায়াত আস-সিন্দি আল-মাদানির কাছে নিয়ে যান এবং তাঁকে শাইখ মুহাম্মদ সম্পর্কে ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে অবহিত করেন, ফলে তিনি তাঁর থেকেও ইলম অর্জন করেন।"
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৮৫)
وحكى أن الشيخ وقف يوما عند الحجرة النبوية عند أناس يدعون ويستغيثون عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم فرآه محمد حياة السندي فأتى إلى الشيخ وقال ما تقول، قال: إن هؤلاء متبر ما هم فيه وباطل ما كانوا يعملون، فأقام في المدينة ما شاء، ثم خرج منها إلى نجد1. وهنا لم يحدد هذا المؤرخ الجليل تأثر الشيخ بكتاب أو عالم معين، وإنما شمل وعمم دون الإشارة إلى شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم.
ومن الكتاب والمؤرخين الذين تتجه كتاباتهم هذا الاتجاه الأستاذ أحمد عبد الغفور العطار فيقول:
"ولما تجاوز محمد سن الطفولة زاد شغفه بالعلم، واستظهر أحاديث من الصحيحين والأمهات، وكلما تقدمت به السن تقدم في علمه وربا عقله، وما كاد يتم العشرين من عمره حتى صار عالما مرموقا في بلده.. "2.
2- وفريق آخر أثبت تعرفه وتعلقه بكتب شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم منذ صباه وقبل مغادرته مسقط رأسه تحديدا وتعيينا، ومن هؤلاء عبد الله بن سعد الرويشد، ففي معرض حديثه عن نشأة الإمام العلمية يقول:
"تعلم على والده فدرس القرآن وحفظه على يديه، وعليه تعلم علوم العربية والفقه الحنبلي، وهكذا نشأ نشأة صالحة وظهرت عليه مخايل الذكاء والنجابة منذ صباه، وأكثر من قراءة القرآن والاطلاع على الكتب المتداولة، وظهرت بوادر ألمعيته واتقاد ذهنه، وأعجب بكتب ابن تيمية وابن القيم ومال إليها. ورأى كثيرا مما نعاه ابن تيمية على أهل عصره من البدع والضلالات ماثلا أمام عينيه في معتقدات وأعمال أهل عصره وبخاصة العامة منهم، ولما بلغ السادسة عشرة من عمره رآه والده أهلا للإمامة في الصلاة، فقدمه إماما للناس في المسجد"3.
في هذا الاتجاه يسير أحمد بن حجر بن محمد آل أبو طامي فيقول:
"درس على والده الفقه الحنبلي والتفسير والحديث، وكان في صغره مكبا على كتب
--------------------------------------------
বর্ণিত আছে যে, শেখ একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হুজরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, যেখানে কিছু লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের কাছে দোয়া করছিল এবং ফরিয়াদ জানাচ্ছিল। মুহাম্মাদ হায়াত আস-সিন্ধি তাকে দেখলেন এবং শেখের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কী বলেন?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তারা যা করছে তা ধ্বংস হবে এবং তারা যা করছে তা বাতিল।" অতঃপর তিনি মদিনায় যতদিন ইচ্ছা অবস্থান করলেন, তারপর সেখান থেকে নজদের উদ্দেশ্যে বের হলেন১। এখানে এই সম্মানিত ঐতিহাসিক শেখ কোনো নির্দিষ্ট বই বা আলেমের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করেননি, বরং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের কথা উল্লেখ না করে সাধারণভাবে আলোচনা করেছেন।
যেসব লেখক ও ঐতিহাসিকের লেখায় এই প্রবণতা দেখা যায় তাদের মধ্যে রয়েছেন উস্তাদ আহমদ আব্দুল গফুর আল-আত্তার। তিনি বলেন:
"যখন মুহাম্মদ শৈশব অতিক্রম করলেন, ইলমের প্রতি তার অনুরাগ বৃদ্ধি পেল এবং তিনি সহীহাইন ও উম্মাহাত (মৌলিক হাদিস গ্রন্থসমূহ) থেকে হাদিস মুখস্থ করলেন। তার বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার ইলম বৃদ্ধি পেল এবং জ্ঞান বিকশিত হলো। বিশ বছর পূর্ণ হতে না হতেই তিনি নিজ জনপদে একজন প্রখ্যাত আলেম হিসেবে পরিগণিত হলেন..।"২।
২- আরেকটি পক্ষ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি তার শৈশব থেকেই এবং নিজের জন্মভূমি ত্যাগ করার আগেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের বইগুলোর সাথে পরিচিত ছিলেন এবং সেগুলোর প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন সাদ আল-রুওয়াইশদ অন্যতম। ইমামের ইলমী বেড়ে ওঠা সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
"তিনি তার পিতার কাছে শিক্ষা লাভ করেন; তার কাছে কুরআন পাঠ করেন এবং তা মুখস্থ করেন। তার কাছেই তিনি আরবি ভাষা ও হাম্বলী ফিকহ শেখেন। এভাবে তিনি এক নেককার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন এবং শৈশব থেকেই তার মধ্যে মেধা ও শ্রেষ্ঠত্বের লক্ষণ ফুটে ওঠে। তিনি প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং প্রচলিত বইপত্র অধ্যয়ন করতেন। তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও মেধার প্রকাশ ঘটতে থাকে এবং তিনি ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়্যিমের বইগুলোর প্রতি মুগ্ধ হন ও সেগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়েন। ইবনে তাইমিয়া তার সমকালীনদের মধ্যে যেসব বিদআত ও গোমরাহীর সমালোচনা করেছিলেন, তিনি তার নিজ যুগের মানুষের বিশ্বাস ও কর্মে—বিশেষ করে সাধারণ মানুষের মাঝে—সেগুলো নিজের চোখের সামনে উপস্থিত দেখতে পান। যখন তার বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হলো, তখন তার পিতা তাকে নামাজের ইমামতির যোগ্য মনে করলেন এবং মসজিদে মানুষের ইমাম হিসেবে তাকে সামনে এগিয়ে দিলেন"৩।
এই একই পথে আহমদ বিন হাজার বিন মুহাম্মদ আল আবু তামী অগ্রসর হয়ে বলেন:
"তিনি তার পিতার কাছে হাম্বলী ফিকহ, তাফসীর ও হাদিস পড়েছেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই কিতাবপত্রের ওপর ঝুঁকে থাকতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৮৬)
التفسير والحديث والعقائد، فكان يعتني بكتب شيخ الإسلام ابن تيمية وابن القيم رحمهما الله، ويكثر من مطالعة كتبهما.. ولما آب الشيخ من رحلته الطويلة وراء العلم والتحصيل لازم أباه واشتغل عليه في علم التفسير والحديث وغيرهما، وعكف على كتب الشيخين؛ شيخ الإسلام ابن تيمية والعلامة ابن القيم رحمهما الله، فزادته تلك الكتب القيمة علما ونوراً وبصيرة، ونفخت فيه روح العزيمة، ورأى الشيخ بثاقب نظره ما بنجد وبالأقطار التي رحل إليها من العقائد الضالة والعادات الفاسدة، فصمم على القيام بالدعوة"1.
3. وممن يذهبون إلى أن لرحلة الشيخ محمد بن عبد الوهاب إلى البلاد الحجازية والبصرة دورا كبيرا في دعوته الاصلإحية، وأن احتكاكه بالعلماء السلفيين في مكة المكرمة والمدينة المنورة والبصرة أثر في اتجاهه العلمي؛ إذ أثار فيه نوازع الصلاح الديني والاجتماعي، فعاد إلى بلاده وهو ممتلئ حماسا لإعادة أهل بلاده إلى الدين الإسلامي الصحيح، وكان هذا أحد الآثار المباركة لارتحاله خارج نجد. وممن تبنى هذا الموقف الدكتور عبد الله صالح العثيمين إذ يقول في هذا الصدد:
"وبالرغم من أن محمد بن عبد الوهاب كان قد حضر - بدون شك - دروس عدة من العلماء في المسجد النبوي، فإن صلته بالشيخين عبد الله بن سيف ومحمد حياة كانت أوثق من صلته بسواهما من العلماء، وكان لهذين العالمين الجليلين أثر كبير على الشيخ محمد لا بالنسبة لتحصيله العلمي فقط، إنما بالنسبة لاتجاهه الإصلاحي أيضا، وقد أتت صلته بهما في مرحلة من مراحل عمره القابلة للتأثر والتوجيه، وكانت معرفته بابن سيف أسبق من معرفته بالسندي، وإن كان تأثير هذا الأخير عليه أعمق- فيما يبدو- من الأول.
وكان ابن سيف عالما بالفقه الحنبلي والحديث الشريف، وقد أجاز محمد بن عبد الوهاب في كل ما حواه ثبت الشيخ عبد الباقي أبي المواهب الحنبلي قراءة وتعلما وتعليما، وكان من المعجبين بالإمام المشهور ابن تيمية، ولا شك أنه شجع تلميذه على قراءة كتب هذا العالم الجليل، وكان أيضا مدركا للحالة التي وصلت إليها الأوضاع في نجد من الناحيتين الدينية والاجتماعية، وكان يرى أن إصلاحها لا يتم إلا بالتعليم.
--------------------------------------------
তাফসীর, হাদীস এবং আকীদা; তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনুল কায়্যিম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর কিতাবসমূহের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং তাঁদের কিতাবসমূহ প্রচুর অধ্যয়ন করতেন। আর যখন শাইখ ইলম অর্জন ও জ্ঞান আহরণের সুদীর্ঘ সফর শেষে ফিরে এলেন, তখন তিনি তাঁর পিতার সান্নিধ্যে থাকেন এবং তাঁর কাছে তাফসীর, হাদীস ও অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি এই দুই শাইখ অর্থাৎ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর কিতাবসমূহে মগ্ন থাকতেন। এই মূল্যবান কিতাবসমূহ তাঁর জ্ঞান, নূর ও অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধি করে এবং তাঁর মধ্যে সংকল্পের উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। শাইখ তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নজদ ও তাঁর সফরকৃত দেশগুলোতে প্রচলিত ভ্রান্ত আকীদা ও কলুষিত প্রথাগুলো দেখতে পান, ফলে তিনি দাওয়াতের কাজ শুরু করার দৃঢ় সংকল্প করেন।১
৩. যারা মনে করেন যে শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের হেজাজ ও বসরা সফর তাঁর সংস্কারমূলক দাওয়াতের ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা পালন করেছে এবং মক্কা মুকাররমা, মদীনা মুনাওয়ারা ও বসরার সালাফী উলামায়ে কেরামের সাথে তাঁর মেলামেশা তাঁর ইলমী দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করেছে, তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এটি তাঁর মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিল। ফলে তিনি তাঁর নিজ দেশে এমন এক প্রবল উদ্দীপনা নিয়ে ফিরে আসেন যার লক্ষ্য ছিল তাঁর দেশের মানুষকে সঠিক ইসলামী দ্বীনের দিকে ফিরীয় আনা। এটি ছিল নজদের বাইরে তাঁর সফরের বরকতময় প্রভাবগুলোর অন্যতম। এই মত পোষণকারীদের মধ্যে ডক্টর আব্দুল্লাহ সালেহ আল-উসাইমীন অন্যতম, তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন:
"যদিও মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব—নিঃসন্দেহে—মসজিদে নববীতে বেশ কয়েকজন আলেমের দরসে উপস্থিত হয়েছিলেন, তবে শাইখ আব্দুল্লাহ বিন সাইফ এবং মুহাম্মদ হায়াত (সিন্ধী)-এর সাথে তাঁর সম্পর্ক অন্যান্য আলেমদের তুলনায় অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল। এই দুই মহান আলেমের প্রভাব শাইখ মুহাম্মদের ওপর অনেক বেশি ছিল, কেবল তাঁর ইলম অর্জনের ক্ষেত্রেই নয়, বরং তাঁর সংস্কারমূলক দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রেও। তাঁদের সাথে তাঁর এই সম্পর্ক তাঁর জীবনের এমন এক পর্যায়ে হয়েছিল যখন তিনি প্রভাব গ্রহণ ও দিকনির্দেশনা লাভের যোগ্য ছিলেন। সিন্ধীর সাথে পরিচয়ের আগেই ইবনে সাইফের সাথে তাঁর পরিচয় হয়েছিল, যদিও দেখা যায় যে তাঁর ওপর পরের জনের (সিন্ধী) প্রভাব প্রথম জনের তুলনায় অনেক বেশি গভীর ছিল।
ইবনে সাইফ হাম্বলী ফিকহ এবং হাদীস শাস্ত্রে অভিজ্ঞ আলেম ছিলেন। তিনি মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবকে শাইখ আব্দুল বাকী আবি আল-মাওয়াহিব আল-হাম্বলীর 'সাবত' (সনদ সংকলন)-এর অন্তর্ভুক্ত সবকিছুর পঠন, শিক্ষা এবং পাঠদানের ইজাযত বা অনুমতি প্রদান করেন। তিনি প্রখ্যাত ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর গুণমুগ্ধ ছিলেন এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি তাঁর ছাত্রকে এই মহান আলেমের কিতাবসমূহ পাঠে উৎসাহিত করেছিলেন। তিনি নজদের ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থার অবনতি সম্পর্কেও সচেতন ছিলেন এবং মনে করতেন যে শিক্ষা ব্যতীত এর সংস্কার সম্ভব নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৮৭)
أما محمد حياة السندي فكان حجة في الحديث وعلومه، وصاحب مؤلفات مشهورة في هذا الحقل، وكان أستاذا لعدد من الطلاب الذين أصبح بعضهم دعاة إصلاح أو شخصيات علمية مشهورة في مناطق إسلامية مختلفة، وكان من المعارضين للتعصب للمذاهب الفقهية، ومن الداعين للاجتهاد في ميدان الشريعة، وبالإضافة إلى ذلك كان من أشد المحاربين للبدع في الدين والأعمال التي قد تؤدي إلى الشرك
… " ويستمر الدكتور العثيمين في تأكيده هذه النقطة فيقول:
"وحين اقتنع الشيخ محمد بكفاية المدة التي قضاها متعلما في المدينة، عاد إلى العيينة، ومن الممكن ملاحظة أمور كان لها تأثير في نفسه في أثناء إقامته في المدينة، منها: المناخ التعليمي الذي كان حافزا على الدراسة ومهيئا لمعرفة أنواع من العلوم، ومنها: بدؤه قراءة كتب ابن تيمية المهمة وتتلمذه على محمد حياة السندي المحارب للبدع والتعصب المذهبي والداعي إلى الاجتهاد، وكان ذلك في مرحلة هامة من مراحل تكوينه الفكري"1.
والذي يبدو أن هذا التضارب بين الروايات السابقة هو نتيجة الاجتهاد الفردي حول هذه النقطة، دون أن يؤيد أحد من أولئك الكتاب والمؤرخين ما دونه بشيء من التوثيق العلمي التاريخي.
إلا أنه من الممكن اعتبار ما كتبه المؤرخ عثمان بن بشر الرواية المعتمدة الموثقة لاعتبارات متعددة أهمها:
أنه أقدم المصادر التاريخية وأقربها تاريخا لحياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب حتى قيل عن تاريخه بـ "أنه المصدر الوحيد لما وقع في نجد من الحوادث منذ فجر النهضة الإصلاحية وظهور الدعوة السلفية إلى ما قبل وفاة الإمام فيصل بن تركي بن عبد الله ابن محمد بن سعود بخمس عشرة سنة"2 أي من سنة ألف ومائة وثمان وخمسين من الهجرة إلى سنة ألف ومائتين وسبع وستين، كما أنه اعتنى في سوابقه بذكر حوادث ما قبل ظهور دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب من منتصف القرن التاسع الهجري إلى نهاية سنة ألف ومائة وست وخمسين من الهجرة3. فهو كتاب متخصص ووثيقة تاريخية صحيحة
--------------------------------------------
মুহাম্মদ হায়াত আস-সিন্ধি হাদিস এবং হাদিস বিজ্ঞানে একজন হুজ্জাত (প্রমাণস্বরূপ ব্যক্তিত্ব) ছিলেন এবং এই ক্ষেত্রে তিনি প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলির রচয়িতা। তিনি এমন বহু সংখ্যক ছাত্রের শিক্ষক ছিলেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তীকালে সংস্কারবাদী দাঈ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন অথবা বিভিন্ন ইসলামি অঞ্চলে প্রসিদ্ধ ইলমি ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি ফিকহি মাযহাবসমূহের অন্ধ অনুসরণের বিরোধী ছিলেন এবং শরিয়তের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের প্রতি আহ্বান জানাতেন। এর পাশাপাশি তিনি দ্বীনের মধ্যে প্রবর্তিত বিদআত এবং শিরকের দিকে ধাবিত করতে পারে এমন কার্যাবলীর বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রামীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন
… এবং ডক্টর আল-উসাইমীন এই বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ অব্যাহত রেখে বলেন:
"যখন শাইখ মুহাম্মদ মদিনায় শিক্ষারত অবস্থায় অতিবাহিত সময়ের পর্যাপ্ততা সম্পর্কে আশ্বস্ত হলেন, তখন তিনি উয়াইনায় ফিরে আসেন। মদিনায় অবস্থানকালে তার মনের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়গুলো লক্ষ্য করা সম্ভব, যার মধ্যে রয়েছে: শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ, যা অধ্যয়নে উদ্বুদ্ধ করত এবং বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান অর্জনের পথ সুগম করত। আরও ছিল: ইবনে তাইমিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহ পাঠের সূচনা এবং বিদআত ও মাযহাবি গোঁড়ামির ঘোর বিরোধী ও ইজতিহাদের আহ্বানকারী মুহাম্মদ হায়াত আস-সিন্ধির শিষ্যত্ব গ্রহণ। এটি ছিল তার বুদ্ধিবৃত্তিক গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।"১
প্রতীয়মান হয় যে, পূর্ববর্তী বর্ণনাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান এই বৈপরীত্য মূলত এই প্রসঙ্গের ওপর ব্যক্তিগত ইজতিহাদের ফলাফল; সেই সকল লেখক ও ঐতিহাসিকদের কেউই তাদের লেখনীকে কোনো বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক প্রামাণ্যতা দিয়ে জোরালো করতে পারেননি।
তবে বিভিন্ন কারণে ঐতিহাসিক উসমান বিন বিশরের লেখনীকে একটি নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য বর্ণনা হিসেবে গণ্য করা সম্ভব, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
এটি সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহাসিক উৎস এবং শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনের সমসাময়িক। এমনকি তার ইতিহাস গ্রন্থ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, "সংস্কারবাদী জাগরণের ঊষালগ্ন এবং সালাফি দাওয়াতের প্রকাশ থেকে শুরু করে ইমাম ফয়সাল বিন তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ বিন সাউদের মৃত্যুর পনেরো বছর পূর্ব পর্যন্ত নজদে সংঘটিত ঘটনাবলির জন্য এটিই একমাত্র উৎস।"২ অর্থাৎ হিজরি ১১৫৮ সাল থেকে ১২৬৭ সাল পর্যন্ত। একইভাবে তিনি তার পূর্ববর্তী আলোচনায় শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত প্রকাশের পূর্ববর্তী ঘটনাবলি, তথা হিজরি নবম শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ১১৫৬ হিজরির শেষ পর্যন্ত আলোচনা করার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছেন৩। ফলে এটি একটি বিশেষায়িত গ্রন্থ এবং সঠিক ঐতিহাসিক দলিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৮৮)
في تاريخ الدعوة السلفية، ومن ثم ستكون رواية ابن بشر موضع الفحص والدراسة في تعرف الشيخ محمد بن عبد الوهاب على فكر ابن تيمية.
لم يرد في رواية ابن بشر في تاريخ نشأة الشيخ محمد بن عبد الوهاب ما يشير إلى توجيه خاص من أحد ممن تلقى العلم على أيديهم إلى دراسة كتب شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم، وإنما تشير إلى أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب بدافع شخصي ورغبة ذاتية تولدت عنده إلى إعادة الإسلام إلى صفائه ونقائه كما عاشه الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه، وكان هذا نتيجة انكبابه على كتب التفسير والحديث وكثرة ملازمته لهما وتأمله لمعانيهما، والمقارنة بين ما جاء فيهما من عقيدة وتشريع، وبين ما عليه العمل بين المسلمين من انحراف عن جادة الإسلام عقيدة وتشريعا. وهذا هو الذي تشير إليه عبارة المؤرخ عثمان بن بشر في قوله السابق: ".. وكان رحمه الله في صغره كثير المطالعة في كتب التفسير والحديث وكلام العلماء في أصل الإسلام، فشرح الله صدره في معرفة التوحيد وتحقيقه ومعرفة نواقضه المضلة عن طريقه.."1 الخ عبارته، وهو في هذا المنحنى والاتجاه يختلف عن الكثيرين من بني جيله وعصره؛ إذ كانت الأهمية القصوى والتركيز الشديد على دراسة الفقه المذهبي وحفظ نصوصه، وبذلك يكون قد فتح الشيخ محمد بن عبد الوهاب لنفسه آفاقا أوسع هيأته بالفعل لدعوته الإصلاحية التي انتدب نفسه لها.
وأما تعرفه على فكر ابن تيمية وتلميذه ابن القيم خاصة، فمن المهم عرض الحقائق التالية بين يدي هذا الموضوع:
أولا: إن الصلة بين نجد والشام كانت قوية، حيث كانت الأخيرة بالنسبة لبلاد نجد مركزا تجاريا وعلميا في آن واحد، وكان لهذا أثره العلمي الكبير، فالعدد الكبير من علماء نجد تلقوا علومهم وإجازاتهم من علماء الحنابلة بالشام، "وصار من هؤلاء التلاميذ النجديين علماء كبار كالشيخ أحمد بن يحيى بن عطوة تلميذ مؤلف الإنصاف الشيخ على ابن سليمان المرداوي، وصاحب جمع الجوامع الشيخ يوسف بن عبد الهادي، ومن العلماء النجديين الذين تلقوا العلم على حنابلة الشام الشيخ أبو نمي ابن راجح تلميذ الشيخ مرعي
--------------------------------------------
সালাফী দাওয়াতের ইতিহাসে, শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব কর্তৃক ইবনে তাইমিয়্যার চিন্তাধারার সাথে পরিচিত হওয়ার বিষয়টি নিরূপণে ইবনে বিশরের বর্ণনাটি পরীক্ষা ও পর্যালোচনার বিষয় হবে।
শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের বেড়ে ওঠার ইতিহাসে ইবনে বিশরের বর্ণনায় এমন কিছু উল্লেখ নেই যা নির্দেশ করে যে, তিনি যাদের কাছে ইলম অর্জন করেছেন তাদের মধ্য থেকে কেউ তাকে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহ অধ্যয়নের বিশেষ কোনো নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বরং এটি নির্দেশ করে যে, শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ব্যক্তিগত প্রেরণা ও স্বীয় আকাঙ্ক্ষা থেকে ইসলামকে তার সেই স্বচ্ছতা ও বিশুদ্ধতায় ফিরিয়ে আনার তাড়না অনুভব করেছিলেন, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ অতিবাহিত করেছিলেন। আর এটি ছিল তাফসীর ও হাদীসের কিতাবসমূহে তাঁর নিমগ্নতা, সেগুলোর সাথে অধিক সময় ব্যয় ও এগুলোর মর্ম নিয়ে চিন্তা-গবেষণা এবং এ কিতাবদ্বয়ে বর্ণিত আকিদাহ ও শরীয়াহর সাথে মুসলমানদের মাঝে আকিদাহ ও শরীয়াহর ক্ষেত্রে ইসলামের সঠিক পথ থেকে যে বিচ্যুতি বিদ্যমান ছিল, তার তুলনামূলক পর্যালোচনার ফল। আর ঐতিহাসিক উসমান বিন বিশরের পূর্বোক্ত উক্তিটি একথাই নির্দেশ করছে: "..তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর শৈশবে তাফসীর ও হাদীসের কিতাব এবং ইসলামের মূল বিষয়ে উলামাদের বক্তব্যের ব্যাপক অধ্যয়নকারী ছিলেন। ফলে আল্লাহ তাওহীদ চেনা ও তা অনুধাবন এবং তাওহীদ বিনষ্টকারী ভ্রষ্টতাগুলো চেনার ব্যাপারে তাঁর বক্ষ উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন.."১ - এ উক্তিটির শেষ পর্যন্ত। তিনি এই ধারা ও গতিপথের ক্ষেত্রে তাঁর সমসাময়িক অনেকের চেয়েই ভিন্ন ছিলেন; কারণ সে সময় মাযহাবী ফিকহ অধ্যয়ন এবং তার মূলপাঠ মুখস্থ করার ওপরই চরম গুরুত্ব ও গভীর মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল। এর মাধ্যমে শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব নিজের জন্য এক প্রশস্ত দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন, যা প্রকৃতপক্ষে তাঁকে সেই সংস্কারমূলক দাওয়াতের জন্য প্রস্তুত করেছিল যার জন্য তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।
আর বিশেষভাবে ইবনে তাইমিয়্যা এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের চিন্তাধারার সাথে তাঁর পরিচিত হওয়ার বিষয়ে, এই প্রসঙ্গের প্রারম্ভে নিম্নোক্ত তথ্যাদি উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ:
প্রথমত: নজদ ও শামের মধ্যকার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সুদৃঢ়। শামী ভূখণ্ড নজদবাসীর জন্য একই সাথে বাণিজ্যিক ও ইলমী কেন্দ্র হিসেবে গণ্য ছিল এবং এর ব্যাপক ইলমী প্রভাব ছিল। ফলে নজদের এক বিশাল সংখ্যক আলেম শামের হাম্বলী উলামাদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং ইজাজত লাভ করেছেন। "এই নজদী ছাত্রদের মধ্য থেকে এমন বড় বড় আলেম তৈরি হয়েছেন যেমন— শাইখ আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন আতওয়াহ, যিনি ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থের লেখক শাইখ আলী ইবনে সুলাইমান আল-মারদাওয়ীর ছাত্র ছিলেন; এবং ‘জামউল জাওয়ামি’ এর লেখক শাইখ ইউসুফ বিন আব্দুল হাদী। নজদী উলামাদের মধ্যে যারা শামের হাম্বলীদের কাছে ইলম অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে শাইখ আবু নুমি ইবনে রাজিহও রয়েছেন, যিনি শাইখ মারঈ-এর ছাত্র ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৮৯)
ابن يوسف مؤلف الغاية (غاية المنتهى في الجمع بين الإقناع والمنتهى) ، وكذلك الشيخ زامل بن سلطان تلميذ الشيخ موسى الحجاوي مؤلف الإقناع. فأمثال هؤلاء العلماء النجديين الكبار بلغوا في العلم مبلغا كبيرا، وانتهت إليهم الرئاسة العلمية في بلدان نجد، وهم قد اعتنقوا المذهب الحنبلي، فأثروا في أهل بلادهم، فصار جمهور النجديين حنابلة"1.
ثانيا: إن ابن تيمية وابن القيم أعلام مشهورون وفقهاء نابهون في المذهب الحنبلي اجتهاداتهم وترجيحاتهم المشهورة، فالتعرف على فكرهم من قبل طالب العلم والتمذهب بالمذهب الحنبلي أمر بديهي وحقيقة ميسورة.
ثالثا: إن الاتصال الفكري بين الحنابلة في الشام والحنابلة في نجد قوي ووثيق، إذ كانت مؤلفات الشاميين تصل إلى نجد بصورة مستمرة، وكان لهؤلاء تآليف عن شيخ الإسلام ابن تيمية في اجتهاداته وجهاده للبدع والخرافات، مما جعله رمزا لبطولة العلماء وكفاح المخلصين في وسط الحنابلة أين كانوا، ولعل في (سابقة) التي ذكرها ابن بشر ما يشير إلى هذا المعنى إذ يقول: "وفي سنة ثلاث وثلاثين وألف توفي الشيخ العالم العلامة مرعي بن يوسف الحنبلي المقدسي الأزهري. كانت له اليد الطولى في معرفة الفقه وغيره، صنف مصنفات عديدة في فنون من العلوم.. فمنها دليل الطالب.. وصنف غاية المنتهى في جمع الإقناع والمنتهى.. وذكر لي شيخنا عثمان بن منصور أنه بيضها مرتين، واحدة أرسلها إلى نجد وواحدة أرسلها إلى الشام، فلهذا نجد في بعض النسخ منها زيادة ونقصانا عن الأخرى.. وصنف مرعي غير ذلك مصنفات كثيرة منها: كتاب بهجة الناظرين في العالم العلوي والسفلي، وصفة الجنة والنار وكتاب المرجان في الناسخ والمنسوخ من القرآن، وكتاب الدرة المضيئة في مناقب ابن تيمية.."2.
ونخلص من هذا إلى أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب قد تعرف على فكر ابن تيمية وابن القيم من قبل رحلته إلى الحجاز والشام؛ إذ أن هذين العلمين كانا من أشهر أعلام
--------------------------------------------
ইবনে ইউসুফ, যিনি ‘আল-গায়াহ’ (গায়াতুল মুনতাহা ফী জাময়িল ইকনা ওয়াল মুনতাহা)-এর লেখক, এবং অনুরূপভাবে শেখ যামিল বিন সুলতান, যিনি ‘আল-ইকনা’র লেখক শেখ মুসা আল-হাজ্জাউয়ীর ছাত্র ছিলেন। এই সকল বড় নজদী আলেমগণ ইলমের ক্ষেত্রে এক সুউচ্চ মাকামে পৌঁছেছিলেন এবং নজদের শহরগুলোতে ইলমি নেতৃত্ব তাদের কাছেই এসে পৌঁছেছিল। তারা হাম্বলী মাযহাব গ্রহণ করেছিলেন, যার ফলে তারা তাদের দেশের মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন এবং অধিকাংশ নজদী হাম্বলী হয়ে গিয়েছিলেন।১
দ্বিতীয়ত: ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনে আল-কাইয়্যিম হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব এবং বিচক্ষণ ফকীহ, যাদের ইজতিহাদ ও অগ্রাধিকারসমূহ সুপরিচিত। তাই একজন ইলম অন্বেষণকারীর নিকট তাদের চিন্তাধারার সাথে পরিচিত হওয়া এবং হাম্বলী মাযহাব অনুসরণ করা একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয় এবং সহজলভ্য বাস্তবতা।
তৃতীয়ত: শামের হাম্বলী এবং নজদের হাম্বলীদের মধ্যে তাত্ত্বিক যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও নিবিড়। কারণ শামী লেখকদের রচনাবলী নিয়মিতভাবে নজদে পৌঁছাত। শেখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ইজতিহাদ এবং বিদআত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম নিয়ে তাদের অনেক রচনা ছিল, যা তাকে হাম্বলীদের মাঝে যেখানেই তারা থাকুক না কেন, আলেমদের বীরত্ব এবং মুখলিসদের সংগ্রামের প্রতীকে পরিণত করেছিল। সম্ভবত ইবনে বিশর যে ‘সাবিকা’ (পূর্ববর্তী ঘটনা) উল্লেখ করেছেন তাতেও এই অর্থের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে, যেখানে তিনি বলেন: “এক হাজার তেত্রিশ হিজরীতে প্রখ্যাত আলেম আল্লামা মারয়ী বিন ইউসুফ আল-হাম্বলী আল-মাকদিসী আল-আযহারী মৃত্যুবরণ করেন। ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্রের জ্ঞানে তার বিরাট দখল ছিল। তিনি বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন... যার মধ্যে ‘দালীলুত তালিব’ অন্যতম... এবং তিনি ‘গয়াতুল মুনতাহা ফী জাময়িল ইকনা ওয়াল মুনতাহা’ রচনা করেছেন... আমাদের শেখ উসমান বিন মানসুর আমার কাছে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি দুইবার পাণ্ডুলিপি করেছিলেন, একটি নজদে পাঠিয়েছিলেন এবং অন্যটি শামে পাঠিয়েছিলেন। এ কারণেই আমরা এর কিছু অনুলিপিতে অন্যটির তুলনায় কম-বেশি দেখতে পাই... মারয়ী এ ছাড়া আরও অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: উর্ধ্বজগত ও নিম্নজগত বিষয়ক গ্রন্থ ‘বাহজাতুন নাযিরীন’, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা সম্বলিত গ্রন্থ এবং কুরআনের নাসিখ ও মানসুখ বিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-মুরজান’, এবং ইবনে তাইমিয়্যাহর গুণাবলী নিয়ে লিখিত গ্রন্থ ‘আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ’...।”২
এর থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে, শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব হিজায ও শামে ভ্রমণের পূর্বেই ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনে আল-কাইয়্যিমের চিন্তাধারার সাথে পরিচিত হয়েছিলেন; কারণ এই দুইজন ছিলেন সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মনীষী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৯০)
الحنابلة في الوسط العلمي للحنابلة، ولم تكن شهرتهم لدى علماء الحنابلة بنجد بأقل من أي وسط حنبلي آخر.
إلا أن انتماء الشيخ محمد بن عبد الوهاب ودراسته للمذهب الحنبلي سهل له التعرف على فكر شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم في وقت مبكر جدا أثناء طلبه للعلم في بلاده مسقط رأسه، ووقوفه على جهادهما ما قوى فيه العزيمة للدعوة إلى الإسلام الصحيح عقيدة وشريعة، فرحل إلى ما رحل من أقطار وهو متشبع بفكر الدعوة الإصلاحية التي أصبح يعيشها فكراً، ووطن نفسه للدعوة لها جهرا، وأن احتكاكه بعلماء السلف بمكة المكرمة والمدينة المنورة زاد من حماسه لها وتفانيه في سبيلها. فأعطته دفعة قوية للاستمرار في اتجاهاته الفكرية العقدية والفقهية، وضاعفت من ملازمته وعكوفه على كتب الشيخين ابن تيمية وابن القيم رحمهما الله، فتشبع بمنهجهما أسلوبا وفكرا، فورث عنهما خصائصهما العلمية واتجاهاتهما المنهجية والنزعة الاجتهادية.
يتفق السلف والخلف من فقهاء الحنابلة على وجوب الاجتهاد في من تحققت فيه شروطه يقول القاضي أبو يعلى الفراء من متقدمي الحنابلة في كتابه العدة "مسألة في صفة المفتي في الأحكام الذي يحرم عليه التقليد"، ثم يذكر هذه الصفة بقوله: "الذي يحرم عليه التقليد فيها أن يكون عارفا بالقرآن ناسخه ومنسوخه، ومجمله ومحكمه، وعامه وخاصه، ومطلقه ومقيده، وهو المعرفة بما قصد به بيان الأحكام الحلال والحرام، فأما ما قصد به أخبار الأولين وقصص النبيين والوعد والوعيد فلا حاجة به إليه،.. ويعرف أيضا المتقدم والمتأخر، والناسخ والمنسوخ، والمطلق والمقيد، والمجمل والمفسر، والعام والخاص للمعنى الذي ذكرناه، ويحتاج أن يعرف إجماع أهل الأعصار عصراً بعد عصر؛ لأنه يكون الأصل ما أجمعوا عليه فيرد الفرع إليه، ويحتاج أن يعرف من لغة العرب والإعراب ما يفهم عن الله تعالى وعن رسوله معنى خطابهما، وأن يكون عارفا باستنباط معاني الأصول والطرق الموصلة إليها، ليحكم في الفروع بحكم أصولها، ويكون عارفا بمراتب الأدلة، وما يجب تقديمه منها. فإذا كان بهذه الصفة وجب عليه أن يعمل في الأحكام باجتهاده وحرام عليه تقليد غيره"1.
--------------------------------------------
হাম্বলিগণ হাম্বলিদের ইলমি পরিমণ্ডলে সুপরিচিত ছিলেন, এবং নজদ অঞ্চলের হাম্বলি আলেমদের কাছে তাদের খ্যাতি অন্য যেকোনো হাম্বলি পরিমণ্ডলের চেয়ে কম ছিল না।
তবে শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের হাম্বলি মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ততা এবং এই মাযহাবের অধ্যয়ন তার জন্য শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তার ছাত্র ইবনুল কায়্যিমের চিন্তা-চেতনার সাথে পরিচিত হওয়াকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছিল। তার জন্মভূমিতে ইলম অর্জনের শুরুর দিকেই তিনি তাদের সংগ্রামের কথা জানতে পারেন, যা তার মধ্যে আকিদা ও শরিয়তের ক্ষেত্রে সঠিক ইসলামের দিকে দাওয়াতের সংকল্পকে সুদৃঢ় করে। ফলস্বরূপ, তিনি বিভিন্ন দেশে সফর করেন এমতাবস্থায় যে, তিনি সংস্কারবাদী দাওয়াতের চিন্তাধারায় গভীরভাবে সিক্ত ছিলেন যা তিনি চিন্তা ও মননে লালন করতে শুরু করেছিলেন এবং প্রকাশ্যে তার দাওয়াতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারার সালাফি আলেমদের সাথে তার মেলামেশা এই দাওয়াতের প্রতি তার উৎসাহ এবং আত্মনিয়োগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। এটি তাকে তার আকিদাগত ও ফিকহী চিন্তাধারার পথে অবিচল থাকার এক শক্তিশালী প্রেরণা জোগায় এবং শায়খদ্বয়—ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কায়্যিম (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন)—এর কিতাবসমূহের প্রতি তার আসক্তি ও গভীর অধ্যয়নকে বহুলাংশে বৃদ্ধি করে। এভাবে তিনি তাদের মানহাজ, শৈলী ও চিন্তাধারায় সিক্ত হন এবং তাদের ইলমি বৈশিষ্ট্য, পদ্ধতিগত দিকনির্দেশনা ও ইজতিহাদী প্রবণতা উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেন।
হাম্বলি ফকিহদের মধ্যে সালাফ ও খালাফ সকলেই একমত যে, যার মধ্যে ইজতিহাদের শর্তাবলি বিদ্যমান রয়েছে তার জন্য ইজতিহাদ করা ওয়াজিব। পূর্ববর্তী হাম্বলিদের অন্যতম ফকিহ কাজী আবু ইয়ালা আল-ফাররা তার 'আল-উদ্দাহ' কিতাবে "আহকামের ক্ষেত্রে সেই মুফতির গুণাবলি যার জন্য তাকলিদ করা হারাম" শীর্ষক পরিচ্ছেদে বলেন, এরপর তিনি এই গুণাবলির বর্ণনা দিয়ে বলেন: "যার জন্য তাকলিদ করা হারাম সে হলো এমন ব্যক্তি যে কুরআন সম্পর্কে জ্ঞান রাখে—তার নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত), মুজমাল (সংক্ষিপ্ত) ও মুহকাম (সুস্পষ্ট), আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ), এবং মুতলাক (নিঃশর্ত) ও মুকাইয়াদ (শর্তযুক্ত) সম্পর্কে অবগত। আর এটি হলো হালাল ও হারামের বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে যা উদ্দেশ্য তা জানা; তবে পূর্ববর্তীদের সংবাদ, নবীদের কিসসা এবং জান্নাতের ওয়াদা ও জাহান্নামের ধমকি সম্পর্কে যা এসেছে তা জানার প্রয়োজন নেই। ... সে আরও জানবে মুতাক্বাদ্দেম (পূর্ববর্তী) ও মুতাআখখির (পরবর্তী), নাসিখ ও মানসুখ, মুতলাক ও মুকাইয়াদ, মুজমাল ও মুফাসসার, এবং আমরা যে অর্থের কথা উল্লেখ করেছি তার জন্য আম ও খাস। তার আরও জানা প্রয়োজন যুগ যুগ ধরে আলেমদের ইজমা বা ঐক্যমত্য; কেননা আলেমগণ যে বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হন সেটিই মূল হিসেবে গণ্য হয় এবং শাখাগত বিষয়গুলো সেই মূলের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। তাকে আরবি ভাষা ও ব্যাকরণ সম্পর্কে এমন জ্ঞান রাখতে হবে যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীর অর্থ বুঝতে সক্ষম হয়। তাকে মূলনীতিসমূহের অর্থ এবং সেখানে পৌঁছানোর পথগুলো উদঘাটন করার বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে, যাতে সে শাখাগত বিষয়গুলোতে সেগুলোর মূলনীতির আলোকে বিধান দিতে পারে। এছাড়া তাকে দলিলের স্তরবিন্যাস এবং কোন দলিলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে সে সম্পর্কেও জ্ঞান রাখতে হবে। সুতরাং যখন সে এই গুণাবলি অর্জন করবে, তখন আহকামের ক্ষেত্রে নিজের ইজতিহাদ অনুযায়ী আমল করা তার জন্য ওয়াজিব এবং অন্য কারও তাকলিদ করা তার জন্য হারাম।"১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৯১)
ويأتي شيخ الإسلام ابن تيمية ليقرر هذا المبدأ ويؤكده في أكثر من مؤلف فينقل نص القاضي أبي يعلى فيقره لفظا ومضمونا1، ويعرض هذا الموضوع في فتاويه بأسلوبه وطريقته الخاصة فيقول:
"نقل عن غير واحد الإجماع أنه لا يجوز للعالم أن يقلد غيره إذا كان قد اجتهد واستدل وتبين له الحق الذي جاء به الرسول، فهذا لا يجوز له تقليد من قال خلاف ذلك بلا نزاع"2.
كما يقرر هذا المبدأ من الحنابلة المتأخرين، أبو العباس أحمد بن عبد العزيز الفتوحي فيقول:
"ويحرم تقليد على مجتهد أداه اجتهاده إلى حكم "3 وهكذا فإن نصوص الحنابلة متواترة على وجوب الاجتهاد ممن استوفى شروطه وتحققت فيه مؤهلاته.
وإذا كان شيخ الإسلام ابن تيمية يدعو المؤهلين من الفقهاء إلى الاجتهاد وتحريم التقليد، فقد مارسه تأسيسا وترجيحا، بل إن اجتهاداته الفقهية معروفة لدى فقهاء المذاهب الأخرى، وترجيحاته في إطار المذهب الحنبلي مشهورة بين فقهائه معلومة لديهم. ولا شك أن الاجتهاد الفقهي إحدى خصائص التفكير الفقهي عند شيخ الإسلام ابن تيمية، والتي كان لها تأثير كبير على فكر الشيخ محمد بن عبد الوهاب.
إن الشيخ محمد بن عبد الوهاب لم يدع الاجتهاد، ولكنه يدعو إليه عندما تختلف الآراء وتتعارض الأقوال، فحينئذ يتوجب الرجوع إلى الكتاب والسنة يستخلص منها الحكم الذي تطمئن إليه نفسه.
ففي جوابه عن سؤال وجه إليه بخصوص الروايات المختلفة عن الإمام أحمد أو تعدد الأقوال عن أصحابه واستدلال كل بدليل يقول:
"إذا اختلف كلام أحمد وكلام أصحابه فنقول: في محل النزاع التراد إلى الله والرسول
--------------------------------------------
এরপর শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এই নীতিটি প্রতিষ্ঠিত করতে এবং তাঁর একাধিক গ্রন্থে তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসেন। তিনি কাজী আবু ইয়া'লার বক্তব্য উদ্ধৃত করেন এবং শাব্দিক ও ভাবগত উভয় দিক থেকে তা সমর্থন করেন ১, এবং তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে নিজস্ব শৈলী ও পদ্ধতিতে এই বিষয়টি উপস্থাপন করে বলেন:
"একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে এই বিষয়ে ঐকমত্য (ইজমা) বর্ণিত হয়েছে যে, একজন আলেমের জন্য অন্য কারো তাকলীদ করা জায়েজ নয় যখন তিনি ইজতিহাদ করেছেন, দলিল পেশ করেছেন এবং রাসূলের নিয়ে আসা সত্য তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়েছে। এমতাবস্থায় কোনো প্রকার বিতর্ক ছাড়াই তাঁর জন্য এমন কারোর তাকলীদ করা নাজায়েজ যে এর বিপরীতে কথা বলে" ২।
অনুরূপভাবে পরবর্তী যুগের হাম্বলী আলেমদের মধ্যে আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-ফুতুহিও এই নীতিটি প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং বলেছেন:
"সেই মুজতাহিদের জন্য তাকলীদ করা হারাম যার ইজতিহাদ তাকে কোনো হুকুম বা সিদ্ধান্তে উপনীত করেছে" ৩। আর এভাবেই হাম্বলী ফকীহদের বক্তব্যসমূহ সেই ব্যক্তির উপর ইজতিহাদ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে মুতাওয়াতির বা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যিনি এর শর্তাবলি পূরণ করেছেন এবং যার মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বিদ্যমান রয়েছে।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া যেমন যোগ্য ফকীহদের ইজতিহাদ করার এবং তাকলীদ হারাম হওয়ার আহ্বান জানাতেন, তেমনি তিনি নিজেও ভিত্তি স্থাপন ও অগ্রাধিকার (তারজীহ) প্রদানের মাধ্যমে তা চর্চা করেছেন। বরং তাঁর ফিকহী ইজতিহাদসমূহ অন্যান্য মাযহাবের ফকীহদের কাছে সুপরিচিত এবং হাম্বলী মাযহাবের কাঠামোর মধ্যে তাঁর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতগুলো সেই মাযহাবের ফকীহদের কাছে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও সুবিদিত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ফিকহী ইজতিহাদ ছিল শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার ফিকহী চিন্তাধারার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের চিন্তাধারার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নিজে ইজতিহাদের দাবি করেননি, কিন্তু যখন মতামতের মধ্যে পার্থক্য দেখা দেয় এবং বক্তব্যসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য তৈরি হয়, তখন তিনি এর প্রতি আহ্বান জানান। সেই মুহূর্তে কিতাব ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে যাতে সেখান থেকে এমন হুকুম বের করা যায় যার ওপর মন প্রশান্ত হয়।
ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত বিভিন্ন বর্ণনা অথবা তাঁর অনুসারীদের একাধিক মত এবং প্রত্যেকের নিজ নিজ দলিলের আলোকে ইস্তিদলাল সম্পর্কে তাকে করা একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন:
"যখন আহমাদের বক্তব্য এবং তাঁর অনুসারীদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য দেখা দেয়, তখন আমরা বলি: বিরোধপূর্ণ বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরে যেতে হবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৯২)
لا إلى كلام أصحابه، ولا إلى الراجح المرجح من الروايتين والقولين، خطأ قطعا1، وقد يكون صوابا، وقولك: إذا استدل كل منهما بدليل فالأدلة الصحيحة لا تتناقض بل يصدق بعضها بعضا، لكن قد يكون أحدهما أخطأ الدليل لأنه إما استدل بحديث لم يصح، وإما لأنه فهم من كلمة صحيحة مفهوما مخطأ.
وبالجملة فمتى رأيت الاختلاف فرده إلى الله والرسول، فإذا تبين لك الحق فاتبعه، فإن لم يتبين واحتجت إلى العمل فقلد من تثق بعلمه ودينه.. "2.
والشيخ محمد بن عبد الوهاب وإن لم يؤثر عنه اجتهادات لم يسبق إليها إلا أن منحاه منحى اجتهادي، بمعنى أنه يسلم بالرأي إذا كان يعتمد على استدلال قوي مبني على فهم سليم. وهذا هو الموقف الذي أعلنه ونثره في مؤلفاته ومراسلاته إلى كل من يرغب الوقوف على حقيقة أمره.
فمن ذلك كتابه إلى عبد الله بن محمد بن عبد اللطيف الذي جاء فيه: "ولا خلاف بيني وبينكم أن أهل العلم إذا أجمعوا وجب اتباعهم، وإنما الشأن إذا اختلفوا، هل يجب علي أن أقبل الحق ممن جاء به وأرد المسألة إلى الله والرسول مقتديا بأهل العلم؟ أو أنتحل بعضهم من غير حجة وأزعم أن الصواب في قوله؟ فأنتم على هذا الثاني وهو الذي ذمه الله وسماه شركاً، وهو اتخاذ العلماء أرباباً، وأنا على الأول أدعو إليه وأناظر عليه، فإن كان عندكم حق رجعنا إليه وقبلناه منكم، وإن أردت النظر في أعلام الموقعين فعليك بالمناظرة التي في أثنائه عقدها بين مقلد وصاحب حجة، وإن ألقي في ذهنك أن ابن القيم مبتدع وأن الآيات التي استدل بها ليس هذا معناها فاضرع إلى الله واسأله أن يهديك لما اختلفوا فيه من الحق، وتجرد إلى الله ناظراً أو مناظراً وطلب كلام أهل العلم في زمانه"3 وعلى أساس هذا المبدأ كان اختيار الشيخ محمد بن عبد الوهاب وترجيحه لاختيارات شيخه شيخ الإسلام ابن تيمية في أكثر الأحيان، وترجيحه لغيرها أحيانا أخرى.
على أن ما خلفه من تراث علمي يشير إلى معرفته بعلم أصول الفقه الذي يعتبر
--------------------------------------------
না তাদের অনুসারীদের বক্তব্যের দিকে, আর না দুই বর্ণনা বা দুই মতের মধ্যে যেটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সেদিকে, এটি নিশ্চিতভাবেই ভুল১, তবে কখনও তা সঠিকও হতে পারে। আর আপনার বক্তব্য: যখন তাদের প্রত্যেকেই কোনো দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেন, তখন সহীহ দলিলসমূহ পরস্পরবিরোধী হয় না, বরং একটি অপরটিকে সত্য বলে প্রতিপন্ন করে। কিন্তু হতে পারে তাদের কেউ দলিলের ক্ষেত্রে ভুল করেছেন; কারণ হয় তিনি এমন কোনো হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা সহীহ নয়, অথবা তিনি একটি সঠিক শব্দ থেকে ভুল কোনো অর্থ বুঝেছেন।
মোদ্দা কথা হলো, যখনই আপনি কোনো মতভেদ দেখবেন, তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দিন। এরপর যদি আপনার কাছে সত্য স্পষ্ট হয়ে যায়, তবে তা অনুসরণ করুন। আর যদি তা স্পষ্ট না হয় এবং আমল করার প্রয়োজন পড়ে, তবে আপনি যার জ্ঞান ও দ্বীনদারির ওপর আস্থা রাখেন, তাঁর অনুসরণ করুন।২।
শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব থেকে যদিও এমন কোনো ইজতিহাদ (গবেষণালব্ধ রায়) বর্ণিত হয়নি যার নজির পূর্বে ছিল না, তবে তাঁর কর্মপদ্ধতি ছিল ইজতিহাদী। অর্থাৎ, তিনি কোনো মতকে তখনই গ্রহণ করেন যখন তা সঠিক বুঝের ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী দলিলের ওপর নির্ভর করে। এটিই সেই অবস্থান যা তিনি তাঁর রচনাবলী ও চিঠিপত্রে ব্যক্ত করেছেন এবং ছড়িয়ে দিয়েছেন সেই সব ব্যক্তিদের জন্য যারা তাঁর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে চান।
এর অন্যতম উদাহরণ হলো আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল লতিফের নিকট লেখা তাঁর চিঠি, যেখানে বলা হয়েছে: "আমার ও আপনাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, আলেম সমাজ যখন কোনো বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেন, তখন তাঁদের অনুসরণ করা ওয়াজিব। মূল বিষয়টি হলো যখন তাঁরা মতভেদ করেন; তখন কি আমার ওপর এটা ওয়াজিব যে, যে ব্যক্তি সত্য নিয়ে এসেছেন তাঁর থেকে আমি সত্য গ্রহণ করব এবং আলেমদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিষয়টি আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেব? নাকি কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমি তাদের কারো পক্ষ অবলম্বন করব এবং দাবি করব যে তাঁর কথাই সঠিক? আপনারা এই দ্বিতীয়টির ওপর রয়েছেন, যাকে আল্লাহ নিন্দা করেছেন এবং শিরক হিসেবে অভিহিত করেছেন; আর তা হলো আলেমদেরকে রব্ব বা পালনকর্তা হিসেবে গ্রহণ করা। আর আমি প্রথমটির ওপর রয়েছি, যার দিকে আমি আহ্বান জানাই এবং যার সপক্ষে বিতর্ক করি। যদি আপনাদের নিকট কোনো সত্য থাকে, তবে আমরা সেদিকে ফিরে আসব এবং আপনাদের থেকে তা গ্রহণ করব। আর আপনি যদি 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' কিতাবটি দেখতে চান, তবে তাতে বর্ণিত সেই মুনাযারা বা বিতর্কটি দেখুন যা একজন মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী) এবং একজন দলিলের অধিকারীর মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। আর যদি আপনার মনে উদয় হয় যে ইবনুল কাইয়্যিম একজন বিদআতী এবং তিনি যেসব আয়াত দিয়ে দলিল পেশ করেছেন সেগুলোর অর্থ এমন নয়, তবে আল্লাহর নিকট বিনয়াবনত হোন এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করুন যাতে তিনি আপনাকে সেই সত্যের দিশা দেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছে। আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হয়ে গবেষক বা তার্কিক হিসেবে নিয়োজিত হোন এবং তাঁর যুগের আলেমদের বক্তব্য তালাশ করুন।"৩ এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর উস্তাদ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর পছন্দ ও অগ্রাধিকার দেওয়া মতসমূহকে গ্রহণ করতেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে অন্য মতগুলোকেও প্রাধান্য দিতেন।
তাছাড়া তিনি যে ইলমী ঐতিহ্য রেখে গেছেন তা তাঁর উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞানের দিকেই ইঙ্গিত করে, যাকে বিবেচনা করা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৯৩)
شرطا أساسيا في بلوغ درجة الاجتهاد حتى قيل (لا ثقة بفقه لا يعتمد على أصول) ، ومظاهر هذا عنده تتجلى في أمرين اثنين:
الأول: مناقشته لأهم المسائل والقواعد الأصولية.
الثاني: تلخيصه وعرضه لبعض المسائل الأصولية من كتب شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم، ولا يستطيع الخوض فيها إلا عالم متمرس بمسائله عارف بقوانينه، وفي كلا الحالين لا يمكن أن يقتحم أسوار هذا العلم إلا عالم ذو دراية وممارسة له.
ففي مناقشته لنسخ القرآن بالسنة يتعرض لهذا الموضوع من خلال الأمثلة التي يوردها العلماء في هذا الصدد، فيقول:
"ثبت أنه يحرم من الرضاعة ما يحرم من النسب وأن يجمع بين المرأة وعمتها وخالتها فقال طائفة هذا نسخ للقرآن، فإن أرادوا النسخ العام الذي هو تقييد المطلق فصحيح، وإن أرادوا النسخ الذي هو رفع الحكم فضعيف، فإنه لم يثبت أن الله أراد بقوله: {وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ} 1.
تحليل ذلك، فإن قيل هو عام بين الدليل المخصص أن الله لم يرد تلك الصورة كقوله: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي} 2 الآية لم يرد به الأمة، وقوله: {يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاثَةَ قُرُوءٍ} 3 لم يرد الحامل ولا التي لم يدخل بها، ولم يثبت أن السنة نسخت القرآن، قال تعالى: {مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ} 4 الآية، فالقرآن لا ينسخه إلا مثله، وقال كثير: السنة خصصت القرآن وهم أكثر وأفضل من أولئك، وقد يقال: السنة فسرت القرآن، ولهذا في حديث معاذ وكلام عمر وابن مسعود وغيرهما أن يحكم بكتاب الله فإن لم يوجد فبسنة رسول الله، فلو كان في السنة ما يقدم على دلالة القرآن لم يكن كذلك بل السنة تفسر المراد منه.. "5.
وفي موضوع التعارض والتعادل والترجيح الذي هو ثمرة أصول الفقه ونقطة
--------------------------------------------
এটি ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানোর জন্য একটি মৌলিক শর্ত, এমনকি বলা হয়েছে (এমন ফিকহের ওপর আস্থা নেই যা উসূলের ওপর নির্ভরশীল নয়)। তাঁর নিকট এর বহিঃপ্রকাশ দুটি বিষয়ে পরিস্ফুট হয়:
প্রথমত: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উসূলী মাসআলা এবং মূলনীতিসমূহ নিয়ে তাঁর আলোচনা।
দ্বিতীয়ত: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহ থেকে কিছু উসূলী মাসআলার সারসংক্ষেপ ও উপস্থাপন। এই বিষয়গুলোতে কেবল এমন একজন আলেমই গভীরভাবে প্রবেশ করতে পারেন যিনি এর মাসআলাসমূহে অভিজ্ঞ এবং এর নিয়মাবলি সম্পর্কে অবগত। উভয় ক্ষেত্রেই, এই ইলমের সীমানায় প্রবেশ করা কেবল এমন একজন আলেমের পক্ষেই সম্ভব যার এতে গভীর জ্ঞান ও চর্চা রয়েছে।
সুন্নাহ দ্বারা কুরআনের হুকুম রহিত হওয়ার (নাসখ) বিষয়ে তাঁর আলোচনার ক্ষেত্রে তিনি এই প্রসঙ্গে আলেমদের উপস্থাপিত উদাহরণগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন:
"এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, বংশগত সম্পর্কের কারণে যা হারাম হয়, দুগ্ধপানের কারণেও তা হারাম হয়; এবং কোনো নারীকে তার ফুফু বা খালার সাথে একত্রে বিবাহে রাখা হারাম। একদল আলেম বলেছেন, এটি কুরআনের জন্য নাসখ (রহিতকরণ)। তারা যদি এর মাধ্যমে সাধারণ নাসখ উদ্দেশ্য করেন—যা মূলত মুতলাককে (শর্তহীন) মুকাইয়্যাদ (শর্তযুক্ত) করা—তবে তা সঠিক। আর তারা যদি এর মাধ্যমে এমন নাসখ উদ্দেশ্য করেন যার অর্থ হলো বিধান বাতিল করে দেওয়া, তবে তা দুর্বল মত। কেননা এটি সাব্যস্ত হয়নি যে, আল্লাহ তাঁর বাণী: {এবং এদের বাইরে অন্য সকলকে তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে} ১ এর মাধ্যমে...
সেই বিষয়টিকে হালাল করা উদ্দেশ্য করেছেন। যদি বলা হয় এটি একটি সাধারণ বিধান, তবে সুনির্দিষ্টকারী দলিল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আল্লাহ ঐ বিশেষ বিষয়টি উদ্দেশ্য করেননি। যেমন তাঁর বাণী: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী} ২ আয়াতে দাসীদের উদ্দেশ্য করা হয়নি। এবং তাঁর বাণী: {তারা নিজেদের তিন হায়েয পর্যন্ত প্রতীক্ষায় রাখবে} ৩ এর মাধ্যমে গর্ভবতী নারী বা যাদের সাথে বাসর হয়নি তাদের উদ্দেশ্য করা হয়নি। আর এটি সাব্যস্ত হয়নি যে সুন্নাহ কুরআনকে রহিত করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি কোনো আয়াত রহিত করলে...} ৪ আয়াত; সুতরাং কুরআনকে কেবল তাঁর সমতুল্য কোনো বিধানই রহিত করতে পারে। অনেকে বলেছেন: সুন্নাহ কুরআনকে সুনির্দিষ্ট করেছে; তারা সংখ্যায় অধিক এবং তাদের মতটিই শ্রেষ্ঠ। আবার বলা হয়: সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। এই কারণেই মুআয-এর হাদিসে এবং উমর ও ইবনে মাসউদসহ অন্যদের বক্তব্যে এসেছে যে, আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করতে হবে, যদি তা না পাওয়া যায় তবে আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী। সুন্নাহর মধ্যে যদি এমন কিছু থাকত যা কুরআনের নির্দেশের ওপর প্রাধান্য পেত, তবে বিষয়টি এমন হতো না; বরং সুন্নাহ কুরআনের উদ্দেশ্যকেই ব্যাখ্যা করে।" ৫।
উসূলুল ফিকহের ফলাফল এবং মূলবিন্দু হিসেবে বিরোধপূর্ণ দলিলসমূহের সমন্বয় ও অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়ের ক্ষেত্রে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৯৪)
الارتكاز فيه، يلخص موقف ابن القيم في معضلة من معضلاته بتقرير الفاهم وأسلوب العالم فيقول: "قال ابن القيم في أعلام الموقعين: إذا قال الصحابي قولا فإما أن يخالفه صحابي آخر أو لا، فإن خالفه مثله لم يكن قول أحدهما حجة على الآخر، وإن خالفه أعلم منه كالخلفاء الراشدين أو بعضهم، فهل يكون الشق الذي فيه الخلفاء أو بعضهم حجة على الآخرين؟ فيه قولان للعلماء. هما روايتان عن أحمد، والصحيح أنه أرجح، فإن كان الأربعة في شق فلا شك أنه الصواب، وإن كان أكثرهم في شق، فالصواب فيه أغلب، وإن كانوا اثنين واثنين، فشق أبي بكر وعمر أقرب إلى الصواب، فإن اختلفا، فالصواب مع أبي بكر.."1. وقد استغرق هذا البحث خمسا وثلاثين صفحة، وقدم لإثباته والاستدلال له ستة وأربعين وجها. كما نفذ من هذا البحث إلى بحث الاحتجاج بفتوى التابعي2.
النزعة المذهبية:
وهذا الجزء من البحث يقودنا إلى التعرف على موقفه من قضيتين هامتين هما: اختلاف المذاهب الفقهية أولا، والتقيد بها ثانيا.
والحقيقة المسلمة أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب ينتمي إلى أسرة عريقة في المذهب الحنبلي؛ إذ غالب أفرادها من الفقهاء والقضاة الحنابلة، ولكنه يتميز عنها بأنه أضاف إلى حنبليته عنصراً جديداً: هو ما اكتسبه من دراسته وعكوفه على التراث العلمي لشيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم، فأمدته بخصائص فكرية وفقهية خاصة برزت بنتائجها وآثارها على مواقفه من كثير من القضايا الفقهية.
وقبل التعرف على موقفه خاصة من تلك القضيتين اللتين كانتا ولا تزالان مثار جدل وخصومة يحسن أن نتعرف قبل ذلك على موقف سلفه أعني شيخ الإسلام ابن تيمية خاصة حتى يتضح مدى عمقها وتأثره بها في نفسه.
أما فيما يتصل بالقضية الأولى: اختلاف المذاهب الفقهية فقد ألف ابن تيمية كتاب
--------------------------------------------
এতে যে ভিত্তি রয়েছে, তা ইবনুল কায়্যিমের একটি জটিল সমস্যার ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থানকে একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তির বিবরণ এবং একজন আলেমের শৈলীতে সারসংক্ষেপ করে। তিনি বলেন: "ইবনুল কায়্যিম আ‘লামুল মুওয়াক্কিঈন গ্রন্থে বলেছেন: যখন কোনো সাহাবী কোনো কথা বলেন, তখন হয় অন্য কোনো সাহাবী তাঁর বিরোধিতা করেন অথবা করেন না। যদি তাঁর সমপর্যায়ের কেউ তাঁর বিরোধিতা করেন, তবে একজনের কথা অন্যজনের জন্য দলিল হবে না। আর যদি তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী কেউ তাঁর বিরোধিতা করেন, যেমন খুলাফায়ে রাশেদীন বা তাঁদের কেউ, তবে যে পক্ষে খুলাফায়ে রাশেদীন বা তাঁদের কেউ রয়েছেন, তা কি অন্যদের জন্য দলিল হবে? এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের দুটি মত রয়েছে। এ দুটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনা, আর সঠিক কথা হলো এটিই অধিকতর অগ্রগণ্য। আর যদি চারজনই এক পক্ষে থাকেন, তবে কোনো সন্দেহ নেই যে সেটিই সঠিক; আর যদি তাঁদের অধিকাংশ এক পক্ষে থাকেন, তবে সেখানে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আর যদি তাঁরা দুই-দুই হয়ে যান, তবে আবু বকর ও উমরের পক্ষটি সঠিকের অধিক নিকটবর্তী; আর যদি তাঁরা উভয়ে মতভেদ করেন, তবে সঠিক অবস্থান আবু বকরের সাথেই থাকে..." ১। এই গবেষণাটি পঁয়ত্রিশ পৃষ্ঠা ব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে এবং এর প্রমাণ ও সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য তিনি ছিচল্লিশটি দিক পেশ করেছেন। একইভাবে তিনি এই গবেষণা থেকে তাবেয়ীর ফতোয়াকে দলিল হিসেবে গ্রহণের গবেষণায় উপনীত হয়েছেন ২।
মাযহাবী ঝোঁক:
গবেষণার এই অংশটি আমাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর অবস্থান জানার দিকে নিয়ে যায়, সেগুলো হলো: প্রথমত ফিকহী মাযহাবসমূহের মতভেদ এবং দ্বিতীয়ত সেগুলোর অনুসরণ বা অনুবর্তিতা।
স্বীকৃত সত্য হলো এই যে, শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব হাম্বলী মাযহাবের একটি সুপ্রাচীন ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের অন্তর্ভুক্ত; কারণ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই ছিলেন হাম্বলী ফকীহ ও বিচারক। কিন্তু তিনি তাঁদের থেকে স্বতন্ত্র ছিলেন এই অর্থে যে, তিনি তাঁর হাম্বলীয়াতের সাথে একটি নতুন উপাদান যোগ করেছিলেন: যা তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের ইলমী ঐতিহ্যের অধ্যয়ন এবং তাতে নিমগ্ন হওয়ার মাধ্যমে অর্জন করেছিলেন। যা তাঁকে বিশেষ বুদ্ধিবৃত্তিক ও ফিকহী বৈশিষ্ট্য দান করেছিল, যার ফলাফল ও প্রভাব অনেক ফিকহী বিষয়ে তাঁর অবস্থানের মাধ্যমে ফুটে উঠেছিল।
বিশেষ করে সেই দুটি বিষয়ে তাঁর অবস্থান জানার আগে, যা ছিল এবং এখনও রয়েছে বিতর্ক ও বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু, এটি উত্তম হবে যে তার পূর্বে তাঁর পূর্বসূরি—অর্থাৎ বিশেষ করে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া—এর অবস্থান সম্পর্কে জানা, যাতে এর গভীরতা এবং শেখের নিজের ওপর এর প্রভাবের মাত্রা স্পষ্ট হয়।
প্রথম বিষয়টির ক্ষেত্রে: ফিকহী মাযহাবসমূহের মতভেদ—ইবনে তাইমিয়া একটি কিতাব রচনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৯৫)
(رفع الملام عن الأئمة الأعلام) ، وهذا الكتاب بهذا العنوان يعتبر فريدا في صياغته فريدا في موضوعه، فلئن شاركته كتب أخرى موضوعا إلا أنه مؤلف أساسا وبالذات للدفاع عن الأئمة، وعرض الأسباب التي أدت إلى اختلافهم، ليلتمس لدى القارئ والدارس الأعذار عما قد تحدثه نفسه من إدانتهم في التفرق والاختلاف، وفي نفس الوقت يعرفنا قدر هؤلاء الأئمة والجهد المخلص الذي بذلوه في فهم الكتاب والسنة، وأقتبس هنا جزءا من مقدمة هذا الكتاب لندرك مدى إنصاف ابن تيمية للأئمة الفقهاء وتقديره للتراث العلمي الذي تركوه، فيقول: "وليعلم أنه ليس أحد من الأئمة المقبولين عن الأمة قبولا عاما، يتعمد مخالفة رسول الله صلى الله عليه وسلم في شيء من سنته دقيق ولا جليل. فإنهم متفقون اتفاقا يقينيا على وجوب اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم، وعلى أن كل أحد من الناس يؤخذ من قوله ويترك إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولكن إذا وجد لواحد منهم قول قد جاء حديث صحيح بخلافه، فلا بد أن يكون له من عذر في تركه، وجميع الأعذار ثلاثة أصناف:
أحدها: عدم اعتقاده أن النبي صلى الله عليه وسلم قاله.
والثاني: عدم اعتقاده إرادة تلك المسألة بذلك القول.
والثالث: اعتقاده أن ذلك الحكم منسوخ.1.
وهذا اعتراف بفضل الأئمة وإنصاف لهم وتقدير لجهودهم العلمية، وهو أقصى المطلوب، ومن ثم فلم يؤثر عن الإمام ابن تيمية قول أو تأليف يمس جانب الأئمة أو يعرض بهم، بل إنه عند الاختلاف يناقش الدليل مناقشة علمية هادئة. ويؤكد ابن تيمية هذا المبدأ في مؤلفاته وكتاباته في أكثر من موضع من هذا قوله:
"وقد اتفق الصحابة على إقرار كل فريق للفريق الآخر على العمل باجتهادهم في مسائل تنازعوا فيها كمسائل في العبادات، والمناكح، والمواريث، والعطاء، والسياسة وغير ذلك.. وهم الأئمة الذين ثبت بالنصوص أنهم لا يجتمعون على باطل ولا ضلالة، ودل
--------------------------------------------
(মহান ইমামগণের উপর থেকে অপবাদ অপসারণ), এই শিরোনামের বইটি এর বিন্যাস ও বিষয়ের দিক থেকে অনন্য হিসেবে বিবেচিত। যদিও অন্যান্য গ্রন্থ এর বিষয়ের সাথে অংশীদার হতে পারে, তবুও এটি মূলত এবং বিশেষভাবে ইমামদের আত্মপক্ষ সমর্থনে এবং তাঁদের মতভেদের কারণসমূহ উপস্থাপনের জন্য রচিত হয়েছে। যাতে পাঠক ও গবেষকের অন্তরে তাঁদের অনৈক্য ও মতভেদের কারণে তাঁদের প্রতি কোনো দোষারোপের উদ্রেক হলে তার ওজর খুঁজে পাওয়া যায়। একই সাথে এটি আমাদের এই ইমামগণের মর্যাদা এবং কুরআন ও সুন্নাহ অনুধাবনে তাঁদের নিষ্ঠাপূর্ণ প্রচেষ্টার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। আমি এখানে এই বইটির ভূমিকার একটি অংশ উদ্ধৃত করছি যাতে আমরা ফকীহ ইমামগণের প্রতি ইবনে তাইমিয়্যাহর ইনসাফ এবং তাঁদের রেখে যাওয়া ইলমি ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর মূল্যায়নের মাত্রা অনুধাবন করতে পারি। তিনি বলেন: "জেনে রাখা উচিত যে, উম্মতের কাছে সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য ইমামগণের মধ্যে এমন কেউ নেই, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর কোনো ছোট বা বড় বিষয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধিতা করেছেন। কারণ তাঁরা দৃঢ়ভাবে একমত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করা ওয়াজিব, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য যে কারো কথা গ্রহণ করা যেতে পারে বা বর্জন করা যেতে পারে। কিন্তু যদি তাঁদের মধ্যে কারো এমন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় যার বিপরীতে সহীহ হাদীস বিদ্যমান, তবে তা বর্জনের পেছনে অবশ্যই তাঁর কোনো ওজর থাকবে। আর সকল ওজর মূলত তিন প্রকার:
প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বলেছেন বলে তাঁর বিশ্বাস না হওয়া।
দ্বিতীয়ত: ওই বক্তব্য দ্বারা উক্ত মাসআলাটি উদ্দেশ্য বলে তাঁর বিশ্বাস না হওয়া।
তৃতীয়ত: ওই বিধানটি রহিত হয়ে গেছে বলে তাঁর বিশ্বাস হওয়া। ১.
এটি ইমামগণের শ্রেষ্ঠত্বের এক স্বীকৃতি এবং তাঁদের প্রতি সুবিচার ও তাঁদের ইলমি প্রচেষ্টার যথাযথ মূল্যায়ন, আর এটাই হলো চূড়ান্ত লক্ষ্য। এর ফলে ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে এমন কোনো কথা বা রচনা বর্ণিত হয়নি যা ইমামগণের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে বা তাঁদের প্রতি কটাক্ষ করে; বরং মতভেদের সময় তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে ও ইলমি পদ্ধতিতে দলীল নিয়ে আলোচনা করেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর রচনা ও লেখনিতে একাধিক স্থানে এই নীতিটি সুনিশ্চিত করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো তাঁর এই বক্তব্য:
"সাহাবীগণ পরস্পর বিবাদপূর্ণ মাসআলাগুলোতে একে অপরের ইজতিহাদ অনুযায়ী আমল করার বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে একমত ছিলেন। যেমন ইবাদত, বিবাহ, উত্তরাধিকার, দান-সদকা, রাজনীতি এবং অন্যান্য মাসআলাসমূহ। তাঁরাই হলেন সেই ইমাম যাদের ব্যাপারে দলীল দ্বারা প্রমাণিত যে, তাঁরা বাতিল বা গোমরাহীর ওপর ঐক্যবদ্ধ হবেন না, এবং এটি নির্দেশ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৯৬)
الكتاب والسنة على وجوب متابعتهم، وتنازعوا في مسائل علمية اعتقادية كسماع الميت صوت الحي، وتعذيب الميت ببكاء أهله، ورؤية محمد صلى الله عليه وسلم ربه قبل الموت مع بقاء الجماعة والألفة.. ومذهب أهل السنة والجماعة أنه لا إثم على من اجتهد وإن أخطأ.
فالمذاهب والطرائق والسياسات للعلماء والمشايخ والأمراء إذا قصدوا بها وجه الله تعالى دون الأهواء ليكونوا مستمسكين بالملة والدين الجامع الذي هو عبادة الله وحده لا شريك له، واتبعوا ما أنزل إليهم من ربهم من الكتاب والسنة بحسب الإمكان بعد الاجتهاد التام هي لهم من بعض الوجوه بمنزلة الشرع والمناهج للأنبياء على عبادتهم الله وحده لا شريك له، ويثابون على طاعة الله ورسوله فيما تمسكوا به من شرعة رسوله ومنهاجه، كما يثاب كل نبي على طاعة الله في شرعه ومنهاجه.
ثم يتحدث في عبارة واضحة عن الموقف الذي يجب أن يتخذه المسلم بالنسبة للأئمة ومذاهبهم فيقول:
"فمن ذمهم ولامهم على ما لم يؤاخذهم الله عليه فقد اعتدى، ومن أراد أن يجعل أقوالهم وأفعالهم بمنزلة قوق المعصوم وفعله وينتصر لها بغير هدى فقد اعتدى واتبع هواه بغير هدى من الله، ومن فعل ما أمر به بحسب حاله من اجتهاد يقدر عليه أو تقليد إذا لم يقدر على الاجتهاد وسلك في تقليده مسلك العدل فهو مقتصد؛ إذ الأمر مشروط بالقدرة {لا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَاّ وُسْعَهَا} 1 2.
ولقد جاء موقف الشيخ محمد بن عبد الوهاب متطابقا مع موقف شيخه ابن تيمية في هذه القضية، مقدرا لجهود الأئمة الفقهاء، ومعتزا بانتسابه إليهم وانتمائه إلى جمهورهم. هذا ما أعلنه صراحة وأعرض هنا له بعض هذه المواقف التي تكشف عن هذا الجانب في تفكيره.
في ختام إجابته على عبد العزيز الحصين عن مسائل شرعية يقول:
"فينبغي للمؤمن أن يجعل همه ومقصده معرفة أمر الله ورسوله في مسائل الخلاف
--------------------------------------------
কুরআন ও সুন্নাহ তাঁদের অনুসরণের আবশ্যকতা নির্দেশ করে। তাঁরা কিছু তাত্ত্বিক ও আকিদাগত বিষয়ে মতবিরোধ করেছেন, যেমন মৃত ব্যক্তি জীবিত ব্যক্তির শব্দ শুনতে পাওয়া, পরিবারের কান্নাকাটির কারণে মৃত ব্যক্তির আজাব হওয়া এবং মৃত্যুর পূর্বে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক তাঁর রবকে দর্শন করা; তবে এক্ষেত্রে জামাত ও সম্প্রীতি অটুট ছিল। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মাযহাব হলো, যে ব্যক্তি ইজতিহাদ করেছে তার কোনো গুনাহ নেই, যদিও সে ভুল করে থাকে।
সুতরাং আলিম, মাশায়েখ ও আমিরদের মাযহাব, তরীকা ও নীতিসমূহ যদি প্রবৃত্তির বশবর্তী না হয়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হয়, যাতে তারা সেই মিল্লাত ও সমন্বিত দ্বীনের ওপর অবিচল থাকতে পারেন যা হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত যাঁর কোনো শরিক নেই, এবং তাঁরা যদি পূর্ণ ইজতিহাদের পর সাধ্যানুসারে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণ করেন, তবে তা কিছু দিক থেকে তাঁদের জন্য আম্বিয়া কিরামের শরিয়ত ও পদ্ধতির ন্যায় যারা শুধুমাত্র লা-শারিক আল্লাহর ইবাদত করতেন। তাঁরা আল্লাহর রাসুলের শরিয়ত ও পদ্ধতি থেকে যা কিছু আঁকড়ে ধরেছেন তার মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যের জন্য সাওয়াব পাবেন, যেভাবে প্রত্যেক নবী তাঁদের শরিয়ত ও পদ্ধতিতে আল্লাহর আনুগত্যের জন্য সাওয়াব প্রাপ্ত হন।
এরপর তিনি ইমামগণ এবং তাঁদের মাযহাবসমূহের ব্যাপারে একজন মুসলিমের যে অবস্থান গ্রহণ করা উচিত সে সম্পর্কে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
"সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদের এমন বিষয়ে নিন্দা বা ভর্ৎসনা করল যার জন্য আল্লাহ তাঁদের পাকড়াও করবেন না, সে সীমালঙ্ঘন করল। আর যে ব্যক্তি তাঁদের কথা ও কাজকে মাসুম বা নিষ্পাপ ব্যক্তির কথা ও কাজের সমতুল্য করতে চাইল এবং কোনো হিদায়াত ছাড়াই সেগুলোর সমর্থনে লিপ্ত হলো, সেও সীমালঙ্ঘন করল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হিদায়াত ছাড়াই নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। আর যে ব্যক্তি তার অবস্থা অনুযায়ী যা তাকে আদেশ করা হয়েছে তা পালন করল—চাই তা সক্ষমতা অনুযায়ী ইজতিহাদ হোক অথবা ইজতিহাদে অক্ষম হলে তাকলিদ হোক—এবং তার তাকলিদে ন্যায়ের পথ অনুসরণ করল, তবে সে পরিমিতিবোধ সম্পন্ন। কারণ বিধানটি সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। {আল্লাহ কোনো সত্তাকে তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপিয়ে দেন না} ১ ২।
এই ইস্যুতে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের অবস্থান তাঁর শায়খ ইবনে তাইমিয়্যার অবস্থানের সাথে হুবহু মিলে যায়। তিনি ফকিহ ইমামদের প্রচেষ্টার মূল্যায়ন করতেন এবং তাঁদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা ও তাঁদের জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে গৌরবময় মনে করতেন। এটিই তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন এবং আমি এখানে তাঁর চিন্তাধারার এই দিকটি উন্মোচনকারী কিছু অবস্থান তুলে ধরছি।
আব্দুল আজিজ আল-হুসাইনের কাছে শরয়ি মাসআলাসমূহের উত্তরের সমাপ্তিতে তিনি বলেন:
"অতএব মুমিনের উচিত হবে মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ জানাকেই তার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বানানো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৯৭)
والعمل بذلك، ويحترم أهل العلم ويوقرهم ولو أخطأوا، ولكن لا يتخذهم أربابا من دون الله، هذا طريق المنعم عليهم، أما اطراح كلامهم وعدم توقيرهم فهو طريق المغضوب عليهم..) 1.
كما جاء في افتتاحية خطابه إلى علماء مكة: "إلى العلماء الأعلام في بلد الله الحرام، نصر الله بهم سيد الأنام وتابعي الأئمة الأعلام
… " إلى أن يقول:
" وأنا أخبركم بما نحن عليه خبرا لا أستطيع أن أكذب بسبب أن مثلكم لا يروج عليه الكذب على أناس متظاهرين بمذهبهم عند الخاص والعام، فنحن ولله الحمد متبعون غير مبتدعين على مذهب الإمام أحمد بن حنبل، وحتى من البهتان الذي أشاع الأعداء أنى ادعى الاجتهاد ولا أتبع الأئمة، فإن بان لكم أن هدم البناء على القبور، والأمر بترك دعوة الصالحين لما أظهرناه، وتعلمون أعزكم الله أن المطاع في كثير من البلدان لو تبين بالعمل بهاتين المسألتين أنها تكبر على العامة الذين درجوا هم وإياهم على ضد ذلك، فإن كان الأمر كذلك فهذه كتب الحنابلة عندكم بمكة مثل (الإقناع) و (غاية المنتهى) و (الإنصاف) التي عليها اعتماد المتأخرين وهو عند الحنابلة (كالتحفة) و (النهاية) عند الشافعية، وهم ذكروا في باب الجنايز هدم البنا على القبور
… وبعضهم يحكي الإجماع على ذلك، فإن كانت المسألة إجماعا فلا كلام، وإن كانت مسألة اجتهاد فمعلومكم أنه لا إنكار في مسائل الاجتهاد، فمن عمل بمذهبه في محل ولايته لا ينكر عليه
… "2.
وفي رسالة له إلى أحمد بن محمد العديلي البكبكي، صاحب اليمن جاء في افتتاحيته قوله:
" سلام عليكم ورحمة الله وبركاته، أما بعد: لفانا (وافانا) كتابكم وسر الخاطر بما ذكرتم فيه من سؤالكم، وما بلغنا على البعد من أخباركم وسؤالكم عما نحن عليه وما دعونا الناس إليه، فأردنا أن نكشف عنكم الشبهة بالتفصيل ونوضح لكم القول الراجح بالدليل، ونسأل الله أن يسلك بنا وبكم أحسن منهج وسبيل
… " إلى أن يقول:
--------------------------------------------
...এবং সে অনুযায়ী আমল করা, আর আলেমদের শ্রদ্ধা করা এবং তাঁদের সম্মান করা, যদিও তাঁরা ভুল করেন। কিন্তু তাঁদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে রব হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। এটিই হলো নেয়ামতপ্রাপ্তদের পথ। আর তাঁদের বক্তব্য ছুড়ে ফেলে দেওয়া এবং তাঁদের সম্মান না করা হলো অভিশপ্তদের পথ...) ১।
যেমনটি মক্কার আলেমদের কাছে তাঁর পত্রের সূচনায় এসেছে: "আল্লাহর পবিত্র নগরের বিশিষ্ট আলেমদের প্রতি, আল্লাহ যাঁদের মাধ্যমে সৃষ্টির সরদার এবং প্রখ্যাত ইমামদের অনুসারীদের সাহায্য করেছেন
… " এরপর তিনি বলেন:
"আর আমি আপনাদেরকে সেই বিষয়ে সংবাদ দিচ্ছি যার ওপর আমরা রয়েছি। আমি এ বিষয়ে মিথ্যা বলতে পারি না, কারণ আপনাদের মতো ব্যক্তিদের সামনে এমন লোকদের ব্যাপারে মিথ্যা বলা সম্ভব নয় যারা সর্বসাধারণের নিকট নিজেদের মাযহাব প্রকাশ করে থাকে। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর, আমরা অনুসারী (মুততাবি), নতুন কিছু উদ্ভাবনকারী (মুবতাদি) নই; আমরা ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাযহাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি। এমনকি শত্রুরা যে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়েছে যে আমি ইজতিহাদের দাবি করি এবং ইমামদের অনুসরণ করি না, সেটিও একটি অপবাদ মাত্র। যদি আপনাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, কবরের ওপর নির্মিত স্থাপনা ভেঙে ফেলা এবং নেককারদের ডাকা (দুয়া করা) বর্জন করার যে বিষয়টি আমরা প্রকাশ করেছি, আর আপনারা জানেন—আল্লাহ আপনাদের সম্মানিত করুন—যে অনেক দেশে কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিগণ যদি এই দুটি মাসআলা অনুযায়ী আমল করা প্রকাশ করেন তবে তা সাধারণ মানুষের কাছে বড় বিষয় মনে হবে, কারণ তারা এবং সাধারণ মানুষ এর বিপরীতেই বড় হয়েছে। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে মক্কায় আপনাদের নিকট হাম্বলি মাযহাবের কিতাবসমূহ রয়েছে, যেমন (আল-ইকনা), (গায়াতুল মুনতাহা) এবং (আল-ইনসাফ), পরবর্তী যুগের আলেমগণ যেগুলোর ওপর নির্ভর করেন। আর হাম্বলিদের কাছে এই কিতাবগুলোর মর্যাদা ঠিক তেমনই, যেমন শাফেয়িদের কাছে (আত-তুহফা) এবং (আন-নিহায়া)। তাঁরা জানাযা অধ্যায়ে কবরের ওপর নির্মিত স্থাপনা ভেঙে ফেলার কথা উল্লেখ করেছেন
… এবং তাঁদের কেউ কেউ এ বিষয়ে ইজমা বর্ণনা করেছেন। সুতরাং বিষয়টি যদি ইজমা হয় তবে আর কোনো কথা নেই। আর যদি বিষয়টি ইজতিহাদি হয়, তবে আপনারা জানেন যে ইজতিহাদি বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি তার এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় নিজ মাযহাব অনুযায়ী আমল করবে, তার ওপর কোনো আপত্তি নেই
… " ২।
এবং ইয়েমেনের অধিবাসী আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আদিলি আল-বাকবাকির প্রতি তাঁর একটি পত্রের সূচনায় এসেছে:
"আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর: আপনাদের পত্র আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং আপনারা যেসব প্রশ্ন করেছেন তাতে আমরা আনন্দিত হয়েছি। এছাড়া আমরা কিসের ওপর আছি এবং মানুষকে কিসের দিকে আহ্বান করছি সে বিষয়ে দূর দেশ থেকে আপনাদের সংবাদ ও প্রশ্ন আমাদের কাছে পৌঁছেছে। তাই আমরা বিস্তারিতভাবে আপনাদের সংশয় দূর করতে এবং দলীলসহ সঠিক মতটি স্পষ্ট করতে চেয়েছি। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এবং আপনাদের সর্বোত্তম পথ ও পন্থায় পরিচালিত করেন
… " এরপর তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৯৮)
"وأما ما ذكرتم من حقيقة الاجتهاد فنحن مقلدون الكتاب والسنة وصالح سلف الأمة وما عليه الاعتماد من أقوال الأئمة الأربعة أبي حنيفة النعمان بن ثابت، ومالك بن أنس، ومحمد بن إدريس، وأحمد بن حنبل رحمهم الله تعالى.."1.
كما بعث إلى إسماعيل الجراعي باليمن خطابا يوضح فيه موقفه من كتب المتأخرين فيقول:
"وأما المتأخرون رحمهم الله فكتبهم عندنا، فنعمل بما وافق النص منها وما لا يوافق النص لا نعمل به".
وفي كتابه إلى عبد الله بن عبد الله الصنعاني يقول:
"وأما مذهبنا فمذهب الإمام أحمد بن حنبل، إمام أهل السنة. ولا ننكر على أهل المذاهب الأربعة إذا لم يخالف نص الكتاب والسنة وإجماع الأمة وقول جمهورها..2. ولقد دلل الشيخ محمد بن عبد الوهاب على هذا عمليا بمؤلفاته الفقهية التي تنتمي معنى ومضمونا إلى المذهب الحنبلي.
وينفرد المؤرخ عثمان بن عبد الله بن بشر3 برواية تحمل الكثير من الدلالات للباحث في هذا الصدد، فقد جاء في معرض الحديث عن مؤلفاته العلمية قوله: "واختصر من الشرح الكبير والإنصاف مجلدا لبيان الخلاف، وأمر بالقراءة فيه، فلما سمع بذلك المنتسبون للعلم من أهل نجد كذبوا عليه أنه طعن في كتب المذهب كالإقناع والمنتهى التي على قول واحد، فأخذ من شرح الإقناع نبذة في أحكام الصلاة والزكاة والصيام من باب آداب المشي إلى الصلاة إلى باب ما يفسد الصوم، وأمر بالقراءة فيها
--------------------------------------------
"আর ইজতিহাদের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে আপনারা যা উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে আমরা কিতাব, সুন্নাহ, উম্মতের নেককার সালাফ (পূর্বসূরিগণ) এবং চার ইমাম—আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত, মালিক ইবনে আনাস, মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস এবং আহমদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন)—এর নির্ভরযোগ্য উক্তিগুলোর অনুসারী (মুকাল্লিদ)..." ১।
অনুরূপভাবে তিনি ইয়ামানের ইসমাইল আল-জারাঈর কাছে একটি পত্র পাঠিয়েছিলেন, যাতে তিনি পরবর্তী যুগের আলিমদের (মুতাআখখিরিন) কিতাবসমূহের ব্যাপারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন:
"আর পরবর্তী যুগের আলিমগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন), তাঁদের কিতাবসমূহ আমাদের নিকট রয়েছে। সেগুলোর মধ্য থেকে যা দলিলের (নস) অনুকূল হয়, আমরা সে অনুযায়ী আমল করি; আর যা দলিলের অনুকূল নয়, আমরা সে অনুযায়ী আমল করি না।"
এবং আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ আস-সানআনীকে লেখা তাঁর পত্রে তিনি বলেন:
"আর আমাদের মাযহাব হলো আহলুস সুন্নাহর ইমাম, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের মাযহাব। তবে আমরা চার মাযহাবের অনুসারীদের ওপর আপত্তি করি না, যতক্ষণ না তা কিতাব, সুন্নাহ, উম্মতের ইজমা এবং জুমহুরের (সংখ্যাগরিষ্ঠের) মতের পরিপন্থী হয়... ২। শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর ফিকহী গ্রন্থাবলির মাধ্যমে এর বাস্তব প্রমাণ দিয়েছেন, যা অর্থ ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে হাম্বলী মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত।
ঐতিহাসিক উসমান বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশর ৩ এমন একটি বর্ণনা দিয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন যা এ বিষয়ে গবেষকদের জন্য অনেক ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর ইলমি রচনাবলি সম্পর্কে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "তিনি মতভেদ বর্ণনার জন্য আশ-শারহুল কাবীর এবং আল-ইনসাফ থেকে একটি খণ্ড সংক্ষেপ করেছেন এবং তা পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নজদ অঞ্চলের ইলম অন্বেষণকারীদের কেউ যখন তা শুনল, তখন তারা তাঁর ওপর মিথ্যা অপবাদ দিল যে, তিনি মাযহাবের স্বীকৃত কিতাবসমূহ—যেমন আল-ইকনা এবং আল-মুনতাহা, যা একক মতের ওপর ভিত্তি করে রচিত—সেগুলোর সমালোচনা করেছেন। ফলে তিনি আশ-শারহুল ইকনা থেকে সালাত, জাকাত ও সিয়ামের বিধি-বিধান সম্পর্কিত একটি অংশ (সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের আদব অধ্যায় থেকে শুরু করে সিয়াম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের অধ্যায় পর্যন্ত) গ্রহণ করেন এবং তা পাঠ করার নির্দেশ দেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৩৯৯)
وتعليم العامة ما يلزمهم معرفته من أحكام صلاتهم وصيامهم وتكذيبا لأولئك فيما قالوه
… "1.
ومن جملة هذه الوثائق والمواقف تتحدد مبادئ الشيخ محمد بن عبد الوهاب نحو المذهبية واختلاف الفقهاء في العبارات التالية:-
أولا: اتباعه لمذهب الإمام أحمد بن حنبل الشيباني.
ثانيا: اعتبار اجتهادات الفقهاء المتقدمين منهم والمتأخرين ما لم تخرج عن آفاق الكتاب والسنة.
ثالثا: إذا تعارضت أقوالهم وتباينت أحكامهم فالمرجع في ذلك هو الكتاب والسنة. ونستطيع في عبارة موجزة أن نطلق على هذا الموقف المعتدل المنصف بأنه (الاجتهاد في التقليد) .
وهذه المبادئ والأسس أخذ الشيخ محمد بن عبد الوهاب بها نفسه في فتاواه ومؤلفاته.
ومن النماذج الكثيرة المتعددة التي تبين التزامه هذه الأسس والمبادئ سؤاله عن العروض وإجزائها في الزكاة إذا أخرجت بقيمتها.
والمسألة الثانية عن صحة المضاربة بها في الشركة.
وفي الجواب عن هاتين المسألتين يقول: "فأما المسألة الأولى ففيها روايتان عن أحمد، إحداهما: المنع؛ لقوله: "في كل أربعين شاة شاة"، و "في مائتي درهم خمسة دراهم" وأشباهه. والثانية: يجوز قال أبو داود: سئل أحمد عن رجل باع ثمر نخلة فقال: عشره على الذي باعه فهل يخرج تمراً أو ثمنه؟ قال: إن شاء أخرج تمرا وإن شاء أخرج من الثمن. وإذا أثبت هذا فقد قال بكل من الروايتين جماعة وصار نزاع فيها فوجب ردها إلى الله ورسوله، قال البخاري في صحيحه في أبواب الزكاة (باب العروض في الزكاة) وقيل طاوس قال معاذ لأهل اليمن ائتوني بعرض ثياب خبيص أو لبيس في الصدقة مكان الشعير والذرة أهون عليكم وخير لأصحاب النبي صلى الله عليه وسلم بالمدينة، وقال
--------------------------------------------
সাধারণ মানুষকে তাদের সালাত ও সিয়ামের বিধি-বিধান সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন তা শিক্ষা দেওয়া এবং তারা যা বলেছে সে বিষয়ে তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা
... "১.
এই সমস্ত দলিল ও অবস্থানের আলোকে মাযহাব এবং ফকীহগণের মতভেদের বিষয়ে শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের মূলনীতিগুলো নিম্নোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়:-
প্রথমত: ইমাম আহমদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানীর মাযহাব অনুসরণ করা।
দ্বিতীয়ত: পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণের ইজতিহাদসমূহকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিবেচনায় নেওয়া, যতক্ষণ তা কুরআন ও সুন্নাহর গণ্ডি থেকে বেরিয়ে না যায়।
তৃতীয়ত: যদি তাদের বক্তব্যের মাঝে পরস্পর বিরোধিতা দেখা দেয় এবং তাদের হুকুমসমূহে ভিন্নতা তৈরি হয়, তবে সে ক্ষেত্রে মানদণ্ড হলো কুরআন ও সুন্নাহ। আমরা সংক্ষিপ্তভাবে এই মধ্যপন্থা ও ইনসাফপূর্ণ অবস্থানকে (তাকলীদের মধ্যে ইজতিহাদ) হিসেবে অভিহিত করতে পারি।
শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব স্বয়ং তাঁর ফতোয়া ও রচনাবলীতে এই মূলনীতি ও ভিত্তিগুলো গ্রহণ করেছেন।
তিনি যে এই ভিত্তি ও মূলনীতিগুলোর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন, তার বহু উদাহরণের মধ্যে একটি হলো পণ্যসামগ্রী এবং যাকাতের ক্ষেত্রে যদি তার মূল্য পরিশোধ করা হয় তবে তা আদায় হওয়া সম্পর্কে তাঁর কাছে করা প্রশ্ন।
আর দ্বিতীয় মাসআলাটি ছিল অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসায় সেই পণ্যসামগ্রী দ্বারা মুদারাবা করার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে।
এই দুটি মাসআলার উত্তরে তিনি বলেন: "প্রথম মাসআলার ক্ষেত্রে আহমদের নিকট থেকে দুটি বর্ণনা রয়েছে। এর একটি হলো: নিষেধ হওয়া; কারণ তাঁর বাণী: 'প্রতি চল্লিশটি ছাগলে একটি ছাগল', এবং 'দুইশ দিরহামে পাঁচ দিরহাম' এবং এ জাতীয় অন্যান্য বক্তব্য। আর দ্বিতীয় বর্ণনাটি হলো: এটি জায়েয। আবু দাউদ বলেন: আহমদকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে একটি খেজুর গাছের ফল বিক্রি করেছে, তিনি তখন বললেন: এর উশর (দশমাংশ) বিক্রেতার ওপর বর্তাবে। এখন সে কি খেজুর প্রদান করবে নাকি এর মূল্য? তিনি বললেন: সে চাইলে খেজুর দিতে পারে আবার চাইলে মূল্যও দিতে পারে। যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন দেখা যাচ্ছে উভয় বর্ণনার পক্ষেই একদল ফকীহ মত দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া ওয়াজিব হয়ে পড়েছে। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে যাকাতের অধ্যায়সমূহের অধীনে (যাকাতে পণ্যসামগ্রীর অধ্যায়) বলেছেন এবং বর্ণিত আছে যে, তাউস বলেছেন, মুয়াজ ইয়ামেনবাসীদের বলেছিলেন: তোমরা বার্লি ও ভুট্টার পরিবর্তে যাকাত হিসেবে আমার কাছে খামিস বা পরিধেয় বস্ত্র নিয়ে আসো, যা তোমাদের জন্য সহজ হবে এবং মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের জন্য কল্যাণকর হবে। আর তিনি বললেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৪০০)
صلى الله عليه وسلم: "وأما خالد فقد احتبس أدراعه وأعتاده في سبيل الله" ثم ذكر في الباب أدلة غير هذا فصار الصحيح أنه يجوز. واستدلال من منعه بقوله: في كل أربعين شاة شاة وأمثاله لا يدل على ما أرادوا؛ لأن المراد هو المقصود وقد حصل كما أنه صلى الله عليه وسلم لما أمر المستجمر بثلاثة أحجار - بل نهى أن ينقص عن ثلاثة أحجار - لم يجمدوا على مجرد اللفظ بل قالوا: إذا استجمر بحجر واحد له ثلاث شعب أجزأه.
ولهذا نظائر أنه يؤمر بالشيء فإذا جاء مثله أو أبلغ منه جاز.
وأما المسألة الثانية: فعن أحمد أن المضاربة لا تصح بالعروض، واختاره جماعة ولم يذكروا على ذلك حجة شرعية نعلمها، وعن أحمد أنه يجوز، وتجعل قيمة العروض وقت العقد رأس المال، قال الأثرم سمعت أبا عبد الله يسأل عن المضاربة بالمتاع فقال جائز، واختاره جماعة، وهو الصحيح؛ لأن القاعدة في المعاملات أن لا يحرم منها إلا ما حرمه الله ورسوله لقوله: "وسكت عن أشياء رحمة بكم غير نسيان فلا تبحثوا عنها" 1.
الأمثلة على هذا الاتجاه الفكري واضحة في مؤلفاته وفتاواه، وهو يعطي معنى الاعتزاز بالتراث الفقهي مع المحافظة على الاستقلال الفكري والشخصية العلمية.
النزعة الانتخابية:
يأتي انسجاما مع المبادئ والمواقف السابقة ظاهرة فكرية أخرى في التفكير الفقهي لشيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب، ذلك هو انتخاب الآراء واختيار الأقوال حسب الأصول والأسس السابقة التي اتخذ منها ميزانا ومقياسا للترجيح، ليس هذا فحسب بل إنها واضحة أيضا في مؤلفاته عامة والفقهية خاصة، ولن يكون أقل إثباتا على هذا الاتجاه اختياره لشخصية شيخ الإسلام تقي الدين، أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية مثلا محتذى به، وعنوانا يعتز به من بين أمثلة كثيرة من علماء السلف الصالح. أما انتخابه لقول من الأقوال وترجيحه له ولو خالف المذهب الحنبلي فهو ما توفرت عليه مؤلفاته الفقهية وفتاواه.
--------------------------------------------
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আর খালিদের ব্যাপারে কথা হলো, সে তার বর্ম ও যুদ্ধ সরঞ্জাম আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে রেখেছে।" এরপর তিনি এই অধ্যায়ে এটি ছাড়া আরও দলিল উল্লেখ করেছেন, ফলে সঠিক মতটি হলো এটি বৈধ। আর যারা একে নিষিদ্ধ করেছেন তাদের দলিল—যেমন তাঁর বাণী: "প্রতি চল্লিশটি ছাগলে একটি ছাগল (যাকাত)" এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো—তারা যা বুঝাতে চেয়েছেন তা প্রমাণ করে না; কারণ এখানে উদ্দেশ্য হলো মূল লক্ষ্য অর্জন করা এবং তা অর্জিত হয়েছে। যেমন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শৌচকার্যে তিনটি পাথর ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন—বরং তিনটি পাথরের কম ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন—তখন ফকিহগণ কেবল আক্ষরিক শব্দের ওপর নির্ভর করেননি, বরং তাঁরা বলেছেন: যদি কেউ তিন কোণ বিশিষ্ট একটি পাথর দিয়ে শৌচকার্য করে তবে তা যথেষ্ট হবে।
এর অনেক উদাহরণ রয়েছে যে, কোনো বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হলে যদি তার সমপর্যায়ের বা তার চেয়েও উত্তম কিছু পাওয়া যায়, তবে তা জায়েজ।
আর দ্বিতীয় মাসআলা হলো: ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, পণ্য বা মালামালের মাধ্যমে মুদারাবা চুক্তি সঠিক নয়; একটি জামাত এই মতটি গ্রহণ করেছেন তবে আমাদের জানামতে তারা এর সপক্ষে কোনো শারয়ি দলিল উল্লেখ করেননি। ইমাম আহমাদ থেকে অন্য একটি বর্ণনা মতে এটি জায়েজ, এবং চুক্তির সময়ের পণ্যের মূল্যকে মূলধন হিসেবে গণ্য করা হবে। আসরাম বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহকে (ইমাম আহমাদ) পণ্য দ্বারা মুদারাবা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি, তিনি বলেছেন এটি জায়েজ। একটি দল এই মতটি গ্রহণ করেছেন এবং এটিই সঠিক; কারণ লেনদেনের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুই হারাম নয়। কেননা তিনি বলেছেন: "তিনি তোমাদের প্রতি দয়া পরবশ হয়ে অনেক বিষয় সম্পর্কে নীরব থেকেছেন, ভুলে গিয়ে নয়; সুতরাং তোমরা সেগুলো নিয়ে ঘাটাঘাটি করো না।" ১।
এই চিন্তাধারার উদাহরণগুলো তাঁর গ্রন্থাবলী ও ফতোয়াগুলোতে স্পষ্ট। এটি বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা ও ইলমি স্বকীয়তা বজায় রেখে ফقهী ঐতিহ্যের প্রতি গর্ববোধের প্রতিফলন ঘটায়।
চয়নমূলক প্রবণতা:
পূর্ববর্তী মূলনীতি ও অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ফقهী চিন্তাধারায় আরেকটি বুদ্ধিবৃত্তিক বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে; তা হলো পূর্বোল্লিখিত উসুল ও ভিত্তির আলোকে মতভেদপূর্ণ বক্তব্যগুলো থেকে পছন্দসই মত চয়ন করা, যেগুলোকে তিনি অগ্রাধিকার প্রদানের মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কেবল এটাই নয়, বরং এটি তাঁর সাধারণ ও বিশেষত ফقهী রচনাবলীতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এই ঝোঁকের অন্যতম বড় প্রমাণ হলো সালাফে সালেহীনের অসংখ্য আলেমদের মধ্য থেকে শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দিন আহমাদ বিন আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়ার ব্যক্তিত্বকে নিজের আদর্শ এবং গর্বের প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া। আর কোনো নির্দিষ্ট মত চয়ন করা এবং তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া—এমনকি তা হাম্বলি মাযহাবের পরিপন্থী হলেও—তা তাঁর ফقهী গ্রন্থ ও ফতোয়াগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৪০১)
على أنه من الجلي الواضح في هذا الصدد ميله الكبير إلى اختيارات شيخ الإسلام تقي الدين، أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية، ولم يمنعه إنصافه في كثير من الأحيان اختياره لآراء أخرى سواء في إطار المذهب الحنبلي أو المذاهب الأخرى، من ذلك اختياره تقديم بينة الداخل إذا تداعى خصمان والكل معه بينة في قوله: "إذا تداعيا عينا والكل معه بينة قدمت بينة الداخل لقول أهل المدينة"1. وفي السؤال عن جواز إخراج الجدد في الزكاة يجيب بقوله: "فهذه المسألة أنواع، أما إخراجها عن جدد مثلها فقد صرحوا بجوازه فقالوا: إذا زادت القيمة بالغش، أخرج ربع العشر مما قيمته كقيمته، وأما إخراج المغشوش عن الخالص مع تساوي القيمة كما ذكر في السؤال، فهذه هي التي ذكر بعض المتأخرين المنع منها، وبعضهم يجيز ذلك، وهو الصحيح، بدليل ما تقدم في إخراج القيمة أنه مجزئ فإن إخراج المغشوش يجيزه من لا يجيز القيمة، بل قال الشيخ تقي الدين، نصاب الأثمان هو المتعارف في كل زمن من خالص ومغشوش وصغير وكبير.."2.
وغير هذا كثير منثور في كتبه الفقهية وفتاواه.
أما في مجال التأليف فإن السمة البارزة لنشاطاته في هذا المجال أنه عمد إلى مؤلفات هامة في موضوعها ذات اهتمامات خاصة في فروع علمية متعددة، لخصها وبسطها للقارئ لتكون سهلة التناول قريبة الفهم، ويهمنا هنا من هذه المؤلفات ما يقع في إطار الدراسات الفقهية.
وقع اختياره على تلخيص كتابين من أهم كتب المذهب الحنبلي هما كتاب "الشرح الكبير " من تأليف شمس الدين، أبي الفرج، عبد الرحمن ابن أبي عمر بن قدامة المقدسي، المتوفى سنة 682، وكتاب "الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف" الأول منها مدونة واسعة في الفقه الحنبلي، يعني مؤلفه إلى ذكر اختلاف الآراء مع سرد الدليل لكل قول، والآخر يعرض لآراء الفقهاء الحنابلة عموما في المسائل التي بحثها.
ويلاحظ بشكل ملموس أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب أعطى اهتماما خاصا لآراء
--------------------------------------------
এ বিষয়ে এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আহমাদ ইবন আব্দুল হালিম ইবন তাইমিয়্যার পছন্দের মতগুলোর প্রতি তার ব্যাপক ঝোঁক ছিল। তবে অনেক ক্ষেত্রে তার নিরপেক্ষতা তাকে হাম্বলি মাযহাব বা অন্যান্য মাযহাবের কাঠামোর ভেতরে থেকে ভিন্ন মত গ্রহণ করতে বাধা দেয়নি। এর মধ্যে একটি হলো—যখন দুইজন বিবাদী কোনো সম্পদের দাবি করে এবং উভয়ের কাছেই প্রমাণ থাকে, তখন দখলদারের (দাখিল) প্রমাণকে প্রাধান্য দেওয়া। তার ভাষায়: "যখন তারা কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর মালিকানা দাবি করে এবং উভয়ের কাছেই প্রমাণ থাকে, তখন মদিনাবাসীদের মতানুসারে দখলদারের প্রমাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।"১ আর যাকাতের ক্ষেত্রে নতুন মুদ্রা প্রদান করার বৈধতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: "এই মাসআলাটি কয়েক প্রকারের। অনুরূপ নতুন মুদ্রার বিনিময়ে নতুন মুদ্রা প্রদানের ব্যাপারে ফকিহগণ বৈধতার কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন। তারা বলেছেন: যদি ভেজালের কারণে মূল্য বৃদ্ধি পায়, তবে যার মূল্যমান এর সমান তার থেকে আড়াই শতাংশ (রুবউুল উশর) বের করবে। আর প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী সমান মূল্যের ক্ষেত্রে খাঁটি মুদ্রার পরিবর্তে ভেজাল মিশ্রিত মুদ্রা প্রদান করা সম্পর্কে পরবর্তী যুগের কোনো কোনো ফকিহ নিষেধ করেছেন, আবার কেউ কেউ একে বৈধ বলেছেন; আর এটিই সঠিক। এর দলিল হলো মূল্য প্রদানের ক্ষেত্রে পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে যে এটি যথেষ্ট হবে, কেননা যারা সরাসরি মূল্য প্রদান করা জায়েয মনে করেন না তারাও ভেজাল মুদ্রা প্রদান করা জায়েয বলেন। বরং শাইখ তাকিউদ্দীন বলেছেন: মুদ্রার নিসাব হলো প্রতি যুগে প্রচলিত খাঁটি, ভেজাল, ছোট ও বড় মুদ্রার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া..."২।
এরূপ আরও অনেক উদাহরণ তার ফিকহী গ্রন্থ এবং ফাতাওয়াগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তার কর্মকাণ্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, তিনি বিভিন্ন জ্ঞানশাখার গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ আকর্ষণীয় গ্রন্থগুলো বেছে নিতেন এবং পাঠকদের জন্য সেগুলো সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করতেন যাতে তা সহজে আয়ত্ত করা যায়। আমাদের কাছে এখানে সেই গ্রন্থগুলোই গুরুত্বপূর্ণ যেগুলো ফিকহী গবেষণার অন্তর্ভুক্ত।
তিনি হাম্বলি মাযহাবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি গ্রন্থ সংক্ষিপ্ত করার জন্য নির্বাচন করেছিলেন; সেগুলো হলো শামসুদ্দীন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবন আবি উমর ইবন কুদামা আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬৮২ হি.) রচিত "আশ-শারহুল কাবীর" এবং "আল-ইনসাফ ফি মা’রিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ"। এর মধ্যে প্রথমটি হাম্বলি ফিকহের একটি বিশাল সংকলন, যেখানে লেখক প্রতিটি মতের দলিলসহ বিভিন্ন মতপার্থক্য উল্লেখ করেছেন। আর দ্বিতীয়টি সাধারণত আলোচিত মাসআলাগুলোতে হাম্বলি ফকিহদের মতামত তুলে ধরে।
সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায় যে, শাইখ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৪০২)
شيخ الإسلام ابن تيمية في هذا الكتاب، إذ عرضها بشكل بارز مميز دون غيرها، واختارها بالتدوين عن بقية الآراء تجسيدا لتقديره وقناعته بآرائه. كما تجلت نزعته الانتخابية بشكل بارز ودقيق في تلخيصه لموضوع أصولي هام وهو حجية قول الصحابي من كتاب أعلام الموقعين، وسنعرض بالدراسة والتحليل لهذين الكتابين في دراسة مؤلفاته الفقهية إن شاء الله. وكل هذه الاتجاهات والأعمال تدل بوضوح على عمق وأصالة هذه النزعة فيه.
المرونة الفقهية:
الفقه الإسلامي في حد ذاته نظام تشريعي كامل، يفترض سلوكا وتصرفات معينة وفق فلسفة تشريعية خاصة، وهو من قبل الأفراد التزام المسلم المكلف بسلوك وتصرف خاضع لأحكام الإباحة أو التحريم، أو الوجوب أو الندب أو الكراهة، وهذا هو مجال تباين الآراء، واختلاف الفقهاء. ومن ثم يقاس تفاوت أحكامهم وتباين آرائهم بما يتناسب والرؤية الاجتماعية لها يسرا وسهولة أو عنتا وصعوبة، فيحكم عليها بالمرونة أو التشدد. وقد لازم كلمة (فقه) و (فقيه) في العصور المتأخرة في أذهان العامة معنى التشدد والتزمت، كما أن كلمة (حنبلي) و (حنابلة) مفهوم التعصب والتزمت الديني في كامل معناه.
وشيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب كما هو فقيه فهو ينتمي إلى المذهب الحنبلي دما وفكرا ونضالا، وهي صفات تضفي على شخصيته كثيرا في تلك الظلال والانطباعات.
وإذا جاز أن ينطبق مثل هذا القول على العامة، فإنه لا يمكن أن يجد سبيله إلى أذهان المتعلمين والدارسين، فالدراسات العلمية كشفت عن مرونة فقهية تشريعية عند الحنابلة وبين علمائهم ما عز نظيرها عند غيرهم في المذاهب الأخرى.
جاء في كتاب (مصادر الحق في الفقه الإسلامي) العنوان التالي:
"المذهب الحنبلي أبعد المذاهب تطورا في تصحيح الشروط" ثم يستطرد بعد ذلك قائلا:
"ولعل أبعد تطور للفقه الإسلامي في مسألة اقتران الشرط بالعقد كان في مذهب
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই কিতাবে, কারণ তিনি এটিকে অন্যান্য মতের তুলনায় স্পষ্টভাবে ও স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং তাঁর মতামতের প্রতি তাঁর মূল্যায়ন ও দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে অন্য সকল মতের পরিবর্তে এটিকেই লিপিবদ্ধ করার জন্য নির্বাচন করেছেন। ঠিক তেমনিভাবে, 'আলামুল মুওয়াক্কিঈন' কিতাব থেকে 'সাহাবীর বাণীর প্রামাণিকতা' নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ উসূলী বিষয়ের সারসংক্ষেপে তাঁর এই নির্বাচনমূলক প্রবণতাটি স্পষ্টভাবে ও সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ পেয়েছে; ইনশাআল্লাহ তাঁর ফিকহী রচনাবলি সংক্রান্ত আলোচনায় আমরা এই কিতাব দুটির অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করব। আর এই সকল ঝোঁক ও কর্মকাণ্ড তাঁর মাঝে এই প্রবণতার গভীরতা ও মৌলিকত্বের কথা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।
ফিকহী নমনীয়তা:
ইসলামী ফিকহ মূলত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইনব্যবস্থা, যা একটি বিশেষ আইনগত দর্শনের আলোকে নির্দিষ্ট আচরণ ও কর্মকাণ্ডের দাবি রাখে। এটি ব্যক্তির দিক থেকে একজন মুকাল্লাফ মুসলিমের সেই আচরণ ও কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতি যা বৈধতা বা অবৈধতা, কিংবা ওয়াজিব, মুস্তাহাব বা মাকরূহ হওয়ার বিধানের অনুগত; আর এখানেই মতপার্থক্য এবং ফকীহদের ইখতিলাফের ক্ষেত্র তৈরি হয়। ফলে তাঁদের হুকুমের ভিন্নতা এবং মতের বৈচিত্র্যকে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সহজবোধ্যতা ও সাবলীলতা অথবা কঠোরতা ও কাঠিন্যের নিরিখে পরিমাপ করা হয়, যার ভিত্তিতে একে নমনীয়তা বা কঠোরতা হিসেবে গণ্য করা হয়। পরবর্তী যুগগুলোতে সাধারণ মানুষের অন্তরে 'ফিকহ' ও 'ফকীহ' শব্দ দুটির সাথে কঠোরতা ও গোঁড়ামির অর্থ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে, ঠিক যেমন 'হাম্বলী' ও 'হাম্বলীগণ' শব্দ দুটি ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অনমনীয়তার পূর্ণাঙ্গ ধারণাকে বহন করে।
আর শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব যেমন একজন ফকীহ, তেমনি তিনি রক্তে, চিন্তায় ও সংগ্রামে হাম্বলী মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত; আর এই গুণগুলোই তাঁর ব্যক্তিত্বের ওপর সেই নেতিবাচক ধারণা ও প্রভাবের ছায়া ব্যাপকভাবে বিস্তার করে।
সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এমন কথা প্রযোজ্য হওয়া সম্ভব হলেও শিক্ষিত ও গবেষক মহলে এর কোনো স্থান নেই; কারণ অ্যাকাডেমিক গবেষণাসমূহ হাম্বলী মাযহাব ও তাঁদের আলেমদের মাঝে এমন এক আইনি ফিকহী নমনীয়তা উন্মোচন করেছে, যার নজির অন্যান্য মাযহাবের ক্ষেত্রে বিরল।
'মাসাদিরুল হাক্ক ফিল ফিকহিল ইসলামী' নামক কিতাবে নিম্নোক্ত শিরোনামটি এসেছে:
"শর্তসমূহ বৈধকরণের ক্ষেত্রে হাম্বলী মাযহাব হচ্ছে সবচেয়ে অগ্রসর মাযহাব।" এরপর তিনি আলোচনা দীর্ঘায়িত করে বলেন: "চুক্তির সাথে শর্ত যুক্ত করার মাসআলায় ইসলামী ফিকহের সম্ভবত সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছিল... মাযহাবে।"
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৪০৩)
الإمام أحمد بن حنبل لاسيما إذا استكملنا هذا المذهب بما أضافه إليه ابن تيمية، وهو من أكبر فقهائه.
فالمذهب الحنبلي كالمذهب المالكي تخطى مبدأ وحدة الصفقة، ولم يتقيد بهذا المبدأ كما تقيد به المذهبان الحنفي والشافعي، ومن ثم استطاع أن يسير أشواطا بعيدة في هذا التطور.
والحنابلة كالمالكية، الأصل عندهم في الشرط أن يكون صحيحا ويصح معه العقد، بل هم يسيرون في هذا الأصل إلى مدى أبعد من المالكية في تصحيح الشروط.. أما الجمع بين شرطين في العقد فممنوع في مذهب أحمد
… والشرطان المنهي عنهما الشرطان اللذان فيهما منفعة لأحد المتعاقدين دون أن يقتضيهما العقد أو يلائماه، بقول ابن تيمية: إن الأصل في العقود والشروط الجواز والصحة، ولا يحرم ويبطل منها إلا ما دل على تحريمه نص أو قياس عند من يقول به.."1.
إلى أن يقول: "ونرى من ذلك أن ابن تيمية لا يجعل الشرط فاسدا إلا إذا كان منافيا للمقصود من العقد، وهذا طبيعي، وإلا إذا كان مناقضا لشرع فيحل حراما، وهذا أشبه في الفقه الغربي بالشرط الذي يخالف القانون، أو النظام العام، ولم يعرض ابن تيمية لتحريم اجتماع الشرطين ولا لتحريم اجتماع البيعتين في بيعة أو اجتماع البيع والسلف ومن ثم يكون تطور الفقه الإسلامي في تصحيح الشروط قد وصل على يد ابن تيمية إلى غاية تقرب مما وصل إليه الفقه الغربي الحديث"2.
والشيخ محمد بن عبد الوهاب ورث خصائص هذه المدرسة في قمه تطورها فكرا والمتمثلة في تفكير شيخ الإسلام ابن تيمية.
وتبدو مظاهر المرونة الفقهية واضحة عند الشيخ محمد بن عبد الوهاب في جانبين رئيسيين:
الأول: موقفه من آراء مخالفيه في الفروع.
الثاني: مسائل الأحكام والفتاوى.
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, বিশেষ করে যখন আমরা এই মাযহাবটিকে ইবনে তাইমিয়া এতে যা সংযোজন করেছেন তার মাধ্যমে পূর্ণতা দান করি, যিনি ছিলেন এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ।
সুতরাং হাম্বলি মাযহাব মালেকি মাযহাবের মতোই একক লেনদেনের নীতিটি অতিক্রম করেছে এবং হানাফি ও শাফেয়ী মাযহাবদ্বয় যেভাবে এই নীতি দ্বারা সীমাবদ্ধ ছিল, সেভাবে এটি সীমাবদ্ধ থাকেনি। ফলে এই বিবর্তনের পথে এটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে।
আর হাম্বলিরা মালেকিদের মতোই; তাদের নিকট শর্তের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো এটি শুদ্ধ হওয়া এবং এর সাথে চুক্তিটিও শুদ্ধ হওয়া। বরং তারা শর্ত শুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে মালেকিদের চেয়েও অধিক দূর অগ্রসর হয়েছেন। তবে আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাযহাবে এক চুক্তিতে দুই শর্তের একত্রীকরণ নিষিদ্ধ
… আর যে দুটি শর্ত নিষেধ করা হয়েছে তা হলো এমন দুটি শর্ত যাতে চুক্তিবদ্ধ পক্ষদ্বয়ের কোনো একজনের স্বার্থ নিহিত থাকে অথচ চুক্তির দাবি অনুযায়ী তা আবশ্যক নয় বা চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণও নয়। ইবনে তাইমিয়ার ভাষ্যমতে: "চুক্তি এবং শর্তের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো বৈধতা ও শুদ্ধতা; এর মধ্য থেকে কেবল সেটিই হারাম ও বাতিল হবে যার হারামের ব্যাপারে কোনো অকাট্য দলিল বিদ্যমান অথবা যারা কিয়াসে বিশ্বাসী তাদের নিকট কিয়াস দ্বারা তা সাব্যস্ত হয়।" ১।
তিনি আরও বলেন: "এর থেকে আমরা দেখতে পাই যে, ইবনে তাইমিয়া কোনো শর্তকে ফাসিদ বা ত্রুটিপূর্ণ গণ্য করেন না যতক্ষণ না তা চুক্তির উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হয়—আর এটিই স্বাভাবিক—অথবা যদি তা শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে কোনো হারামকে হালাল করে ফেলে। এটি পশ্চিমা ফিকহে (আইনশাস্ত্র) সেই শর্তের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যা আইন বা জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী। ইবনে তাইমিয়া দুই শর্তের একত্রীকরণ কিংবা এক বিক্রয়ের ভেতরে দুই বিক্রয় অথবা বিক্রয় ও ঋণের একত্রীকরণকে হারাম করার বিষয়টি উপস্থাপন করেননি। ফলে শর্তাবলি শুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের বিবর্তন ইবনে তাইমিয়ার হাতে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আধুনিক পশ্চিমা ফিকহের কাছাকাছি।" ২।
এবং শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এই জ্ঞানতাত্ত্বিক ধারার বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকারী হয়েছেন যখন এটি চিন্তার বিবর্তনের সর্বোচ্চ শিখরে ছিল, যা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার চিন্তাধারায় প্রতিফলিত।
শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের নিকট ফিকহী নমনীয়তার বহিঃপ্রকাশ দুটি প্রধান দিক থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
প্রথমত: শাখা-প্রশাখামূলক মাসআলায় তাঁর বিরোধীদের মতামতের প্রতি তাঁর অবস্থান।
দ্বিতীয়ত: বিধান ও ফতোয়ার মাসআলাসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৪০৪)
أما الجانب الأول فموقفه من مسائل الخلاف التي لم يتبين فيها وجه الصواب أنه لا يجوز الإنكار على المخالف أو الاعتراض عليه، وهذا النوع من الاختلاف هو الذي يمكن أن ينطبق عليه الحديث "اختلاف أمتي رحمة" وعلى العكس من ذلك- ما تبين فيه وجه الصواب.
ففي جوابه عن قولهم "لا إنكار في مسائل الاجتهاد ولا على من قلد مجتهدا حيا أو ميتا؟ يقول:
فإن أراد القائل مسائل الخلاف فهذا باطل يخالف إجماع الأمة، فما زال الصحابة ومن بعدهم ينكرون على من خالف وأخطأ كائنا من كان ولو كان أعلم الناس وأتقاهم، وإذا كان الله بعث محمدا صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق، وأمرنا باتباعه وترك ما خالفه، فمن تمام ذلك أن من خالفه من العلماء مخطئ ينبه على خطئه وينكر عليه، وإن أريد بمسائل الاجتهاد مسائل الخلاف التي لم يتبين فيها الصواب، فهذا كلام صحيح لا يجوز للإنسان أن ينكر الشيء لكونه مخالفا لمذهبه أو لعادة الناس، فكما لا يجوز للإنسان أن يأمر إلا بعلم لا يجوز أن ينكر إلا بعلم، وهذا كله داخل في قوله تعالى: {وَلا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} 1.
إلى أن يقول: (فإذا رأيتم من يعمل ببعض هذه الأقوال المذكورة بالمنع2 مع كونه قد اتقى الله ما استطاع لم يحل لأحد الإنكار عليه اللهم إلا أن يتبين الحق فلا يحل لأحد أن يتركه لقول أحد من الناس، وقد كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يختلفون في بعض المسائل من غير نكير ما لم يتبين النص.
فينبغي للمؤمن أن يجعل همه وقصده معرفة أمر الله ورسوله في مسائل الخلاف، والعمل بذلك، ويحترم أهل العلم ويوقرهم ولو أخطئوا، لكن لا يتخذهم أربابا من دون الله، هذا طريق المنعم عليهم، وأما اطراح كلامهم وعدم توقيرهم فهو طريق المغضوب عليهم واتخاذهم أربابا من دون الله، وإذا قيل: قال الله قال رسوله قال: هم أعلم منا بهذا هو طريق الضالين"3.
--------------------------------------------
প্রথম দিকটি হলো এমন মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়াবলি সম্পর্কে তাঁর অবস্থান যেক্ষেত্রে সঠিক বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়নি—তা হলো বিরোধী পক্ষের ওপর অস্বীকৃতি জানানো বা আপত্তি করা বৈধ নয়। এই ধরণের মতপার্থক্যই সেই হাদিসের ওপর প্রয়োগ হতে পারে যে "আমার উম্মতের মতভেদ রহমত"। কিন্তু এর বিপরীত হলো—যেক্ষেত্রে সঠিক বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।
তাদের সেই কথার জবাবে—"ইজতিহাদি বিষয়াবলি কিংবা জীবিত বা মৃত কোনো মুজতাহিদের তাকলিদকারীর ওপর কোনো অস্বীকৃতি নেই?"—তিনি বলেন:
যদি বক্তা এর দ্বারা সাধারণ মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়সমূহ উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে তা বাতিল এবং উম্মতের ঐকমত্যের (ইজমা) পরিপন্থী। কেননা সাহাবায়ে কিরাম এবং তাঁদের পরবর্তীগণ সর্বদা ভুলকারীর ওপর অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে এসেছেন, তিনি যেই হোন না কেন—এমনকি তিনি যদি মানুষের মাঝে সর্বাধিক জ্ঞানী এবং পরহেজগারও হয়ে থাকেন। যেহেতু আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং আমাদের তাঁর অনুসরণের ও তাঁর বিরোধপূর্ণ বিষয় বর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন, সেহেতু এর পূর্ণতা হলো—আলেমদের মধ্যে যারা তাঁর বিরোধিতা করবেন, তাঁদের ভুল চিহ্নিত করা হবে, তাঁদের ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করা হবে এবং তাঁদের ওপর অস্বীকৃতি জানানো হবে। আর যদি ইজতিহাদি বিষয় দ্বারা এমন মতভেদপূর্ণ মাসআলা উদ্দেশ্য হয় যেক্ষেত্রে সঠিক বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়নি, তবে এ কথাটি সঠিক। কোনো ব্যক্তির জন্য কেবল তার মাযহাব বা মানুষের প্রথার পরিপন্থী হওয়ার কারণে কোনো বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়। কারণ, যেভাবে ইলম ছাড়া কোনো কাজের আদেশ দেওয়া বৈধ নয়, তেমনি ইলম ছাড়া কোনো বিষয়ে অস্বীকৃতি জানানোও বৈধ নয়। আর এ সবই আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {এবং যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না} ১।
পরিশেষে তিনি বলেন: (যখন তোমরা দেখবে যে কেউ এই উল্লিখিত মতগুলোর কোনো একটি অনুযায়ী আমল করছে২ এবং সে তার সাধ্যমতো আল্লাহকে ভয় করছে, তবে কারো জন্য তার ওপর অস্বীকৃতি জানানো বৈধ নয়। তবে যদি সত্য সুস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন কারো কথার খাতিরে সেই সত্য বর্জন করা কারো জন্য বৈধ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ দালিলিক প্রমাণ সুস্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার অস্বীকৃতি ছাড়াই বিভিন্ন মাসআলায় মতভেদ করতেন।
সুতরাং মুমিনের উচিত হবে মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ জানার প্রতি গুরুত্বারোপ ও সংকল্প করা এবং তদনুযায়ী আমল করা। পাশাপাশি উলামায়ে কিরামকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা, যদিও তাঁরা ভুল করেন; তবে তাঁদেরকে আল্লাহ ছাড়া প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করবে না। এটিই হলো নেয়ামতপ্রাপ্তদের পথ। আর তাঁদের বক্তব্যকে ছুড়ে ফেলা এবং তাঁদের শ্রদ্ধা না করা হলো গযবপ্রাপ্তদের পথ। আবার যখন বলা হয়: 'আল্লাহ বলেছেন, রাসূল বলেছেন', তখন 'তাঁরা (আলেমগণ) আমাদের চেয়ে এ বিষয়ে অধিক অবগত' বলে তাঁদেরকে আল্লাহ ছাড়া প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করা হলো পথভ্রষ্টদের পথ) ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৪০৫)
أما الجانب الثاني: فلعل الأهم من سرد مسائل جزئية الاستدلال بالقواعد الأصولية الاستنباطية التي قررها وأكدها والتي تدخل تحتها فروع ومسائل لا حصر لها، ففي رسالته المعنونة بـ "أربع قواعد تدور عليها الأحكام" يقرر في القاعدة الثانية ما نصه: "القاعدة الثانية: أن كل شيء سكت عنه الشارع فهو عفو لا يحل لأحد أن يحرمه أو يوجبه، أو يستحبه أو يكرهه لقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَسْأَلوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ} 1 وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "وسكت عن أشياء رحمة بكم غير نسيان فلا تسألوا عنها" 2.
وهو في هذا الاتجاه في تأسيس الأحكام يقتفي آثار كبار فقهاء المسلمين أمثال ابن تيمية والشاطبي وغيرهم من الأئمة الذين أثبتوا أفقا واسعا في تفكيرهم الفقهي، فالحكم هو العفو فيما سكت عنه الشارع، فسكوته ليس نسيانا وإنما هو منفذ رحمة وعطف من الله جل وعلا، وبعد تقرير الشيخ للقواعد الأربع التي بدأها أولا بتحريم القول على الله بلا علم.
وثانيا: بأن ما سكت عنه الشارع فهو عفو، وثالثا: التمسك بالدليل الواضح والانصراف عن المتشابه، ورابعا: أن بين الحلال والحرام أمور متشابهة يقدم عليها أمثلة فقهية ويدلل على صحتها بمسائل يقول في نهايتها: "وهذه القواعد تدخل في جميع أنواع العلوم الدينية عامة وفي علم الفقه من كتاب الطهارة إلى باب الإقرار خاصة"3.
وفي المسألة السابقة صحة المضاربة بالعروض، يعلل لها بقوله:
"لأن القاعدة في المعاملات أن لا يحرم منها إلا ما حرمه الله ورسوله" لقوله: (وسكت عن أشياء رحمة بكم غير نسيان فلا تبحثوا عنها) . وهذا الاتجاه الفقهي المرن يغطي كل مسائل المعاملات من هذا النمط، كما تتجلى هذه المرونة بأوضح صورها في تبنيه واختياره لآراء ابن تيمية الذي أبدى مرونة فقهية منقطعة النظير في مجال العقود بالذات.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় দিকটি হলো: সম্ভবত আংশিক মাসআলাসমূহ বর্ণনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেই ইস্তিম্বাতী উসূলে ফিকহ সংক্রান্ত নীতিমালা বা কায়েদাসমূহের মাধ্যমে দলিল উপস্থাপন করা, যা তিনি নির্ধারণ ও সুদৃঢ় করেছেন এবং যার অধীনে অগণিত শাখা-প্রশাখা ও মাসআলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর "আরবাউ কাওয়াইদ তাদুরু আলাইহাল আহকাম" (চারটি মূলনীতি যার ওপর বিধানসমূহ আবর্তিত হয়) শীর্ষক রিসালায় তিনি দ্বিতীয় নীতিমালায় যা উল্লেখ করেছেন তার পাঠ হলো: "দ্বিতীয় নীতিমালা: শরীয়ত প্রণেতা যে বিষয়ে নীরব থেকেছেন, তা মার্জনীয়; কারো জন্য তা হারাম, ওয়াজিব, মুস্তাহাব বা মাকরূহ করা বৈধ নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের কষ্ট হবে} ১ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'আর তিনি অনেক বিষয়ে নীরব থেকেছেন তোমাদের প্রতি দয়াস্বরূপ, বিস্মৃতিবশত নয়; সুতরাং তোমরা সেগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করো না' ২।"
বিধান প্রতিষ্ঠার এই ধারায় তিনি মুসলিম উম্মাহর বড় বড় ফকিহদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, যেমন ইবনে তাইমিয়া, শাতিবী এবং অন্যান্য ইমামগণ, যারা তাঁদের ফিকহি চিন্তাধারায় ব্যাপক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। সুতরাং যে বিষয়ে শরীয়ত প্রণেতা নীরব থেকেছেন, তার বিধান হলো তা ক্ষমা বা মার্জনীয়। তাঁর নীরবতা কোনো বিস্মৃতি নয়, বরং তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও দয়ার একটি প্রকাশপথ। শেখ সেই চারটি নীতিমালা নির্ধারণ করেছেন যার সূচনা করেছিলেন প্রথমত আল্লাহর ব্যাপারে জ্ঞানহীন কথা বলাকে হারাম সাব্যস্ত করার মাধ্যমে।
দ্বিতীয়ত: শরীয়ত প্রণেতা যে বিষয়ে নীরব থেকেছেন তা মার্জনীয়। তৃতীয়ত: সুস্পষ্ট দলিলের অনুসরণ করা এবং অস্পষ্ট বা মুতাশাবিহ বিষয় পরিহার করা। চতুর্থত: হালাল ও হারামের মাঝে কিছু অস্পষ্ট বিষয় রয়েছে। এরপর তিনি এর ওপর ফিকহি উদাহরণ পেশ করেন এবং এগুলোর সঠিকতা প্রমাণ করেন এমন সব মাসআলার মাধ্যমে যার শেষে তিনি বলেন: "এই নীতিমালাসমূহ সাধারণভাবে সকল প্রকার দ্বীনি ইলমের ক্ষেত্রে এবং বিশেষভাবে ফিকহ শাস্ত্রের পবিত্রতা অধ্যায় থেকে শুরু করে ইকরার (স্বীকৃতি) অধ্যায় পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য" ৩।
পূর্বোক্ত মাসআলায় অর্থাৎ পণ্যসামগ্রীর মাধ্যমে মুদারাবা বা অংশীদারিত্বমূলক ব্যবসা সঠিক হওয়ার স্বপক্ষে তিনি কারণ দর্শিয়ে বলেন:
"কেননা মুয়ামালাত বা লেনদেনের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুই হারাম হবে না।" তাঁর এই বাণীর কারণে যে: (আর তিনি অনেক বিষয়ে নীরব থেকেছেন তোমাদের প্রতি দয়াস্বরূপ, বিস্মৃতিবশত নয়; সুতরাং তোমরা সেগুলো নিয়ে অনুসন্ধান করো না)। এই নমনীয় ফিকহি ধারা এই ধরণের লেনদেনের সমস্ত মাসআলাকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমনটি এই নমনীয়তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে ইবনে তাইমিয়ার মতামতের প্রতি তাঁর সমর্থন ও তা গ্রহণের মাধ্যমে, যিনি বিশেষ করে চুক্তির ক্ষেত্রে নজিরবিহীন ফিকহি নমনীয়তা প্রদর্শন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৪০৬)
وكل هذه الحقائق تثبت أن (الحنبلية الفقهية) عنوان المرونة ومظهر مشرف على اتساع الأفق الفقهي وتطوره. هذه جملة من أبرز خصائص التفكير لمدرسة شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية الفقهية، وهي تبدو منسجمة متوافقة، ففيها المذهبية المعتدلة وفيها الإنصاف والتقدير الكامل لتراث السلف في غير ما إفراط أو تفريط وهي المدرسة التي أعجب بها شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب وانصهر في بوتقتها، وكان لها أكبر الأثر على أعماله الفكرية، وهو ما نحاول تبيينه في الدراسة التالية.
مؤلفاته الفقهية:
"مختصر الإنصاف والشرح الكبير": يعتبر هذا الكتاب أكبر مؤلف بين مؤلفاته الفقهية، وهو يستدعي وقفة خاصة ودراسة موضوعية لاستخراج بعض الحقائق التي تهمنا في موضوع هذا البحث. إن النسخة المطبوعة التي قامت جامعة الإمام محمد بن سعود بضمها إلى مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، جاءت خلوا من مقدمة الكتاب أو خطبة الكتاب، وهي التي عادة ما يوضح فيها المؤلف الباعث على تأليفه، والمنهج الذي يسير عليه والتعريف بالمصطلحات المدونة في ثناياه.
اعتمد المحققون في طبع هذه النسخة على نسختين، نسخة مطبوعة بالمطبعة السلفية بمصر، وأخرى مخطوطة بالمكتبة السعودية بالرياض برقم 465/86.
وبخلو هذا الكتاب عن جزء هام فيه يترك المجال مفتوحا للباحثين لتلمس أهداف وتبين منهج المؤلف استنتاجا أو استقراء، وقد أثبت المحققون لهذا الكتاب العبارة التي وجدوها مدونة على غلاف النسخة المخطوطة بالمكتبة السعودية وهي كالتالي:
"بسم الله الرحمن الرحيم، هذا منقول من الشرح الكبير والإنصاف أول كل باب من الشرح وآخر كل باب من الإنصاف
… "1.
ويذكر المحققون في مقدمة الكتاب أن مؤلفات الشيخ رحمه الله على قسمين: منها ما ألفه ابتداء، ومنها ما اختصره من أصوله المطولة لتيسير الانتفاع به، وقد اتجهت الرغبة منه- رحمه الله إلى اختصار كتابين من أشهر وأوسع ما صنفت في الفقه الحنبلي لما رأى
--------------------------------------------
এবং এই সমস্ত তথ্য প্রমাণ করে যে, (ফকীহী হাম্বলী মতবাদ) হলো নমনীয়তার প্রতীক এবং ফকীহী দিগন্তের প্রসার ও তার বিবর্তনের এক গৌরবময় বহিঃপ্রকাশ। এটি শাইখুল ইসলাম আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ-র ফকীহী ধারার চিন্তাধারার সবচেয়ে উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্যের একটি সমষ্টি, যা সুসংগত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়। এতে রয়েছে ভারসাম্যপূর্ণ মাযহাব অনুসরণ এবং বাড়াবাড়ি বা কমতি ব্যতিরেকে সালাফদের ঐতিহ্যের প্রতি পূর্ণ ইনসাফ ও মর্যাদা প্রদর্শন। এটি সেই ধারা যার প্রতি শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং এর ছাঁচে তিনি নিজেকে গড়ে নিয়েছিলেন। তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মসমূহের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব ছিল, যা আমরা পরবর্তী গবেষণায় স্পষ্ট করার চেষ্টা করব।
তাঁর ফকীহী গ্রন্থসমূহ:
"মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর": এই গ্রন্থটি তাঁর ফকীহী রচনাবলির মধ্যে সর্ববৃহৎ হিসেবে গণ্য। এটি এই গবেষণার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য বের করার জন্য একটি বিশেষ মনোযোগ ও বস্তুনিষ্ঠ অধ্যয়নের দাবি রাখে। ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত করে যে মুদ্রিত সংস্করণটি প্রকাশ করেছে, তাতে বইটির ভূমিকা বা প্রারম্ভিকা নেই। অথচ সাধারণত গ্রন্থকাররা এতেই গ্রন্থ রচনার কারণ, অনুসৃত পদ্ধতি এবং গ্রন্থের ভেতরে ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর পরিচয় তুলে ধরেন।
মুহাক্কিকগণ এই সংস্করণের মুদ্রণে দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন: একটি মিসরের সালাফিয়্যাহ ছাপাখানায় মুদ্রিত সংস্করণ এবং অন্যটি রিয়াদের সউদী লাইব্রেরিতে ৪৬৫/৮৬ নম্বরে সংরক্ষিত একটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি।
এই বইটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের অভাব থাকায় গবেষকদের জন্য গ্রন্থকারের লক্ষ্য ও পদ্ধতি অনুমান বা পর্যালোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করার সুযোগ উন্মুক্ত থেকে গেছে। মুহাক্কিকগণ এই গ্রন্থের প্রচ্ছদে সউদী লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিতে যে বাক্যটি লিপিবদ্ধ পেয়েছেন তা এখানে উল্লেখ করেছেন, যা নিম্নরূপ:
"পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। এটি শারহুল কাবীর এবং আল-ইনসাফ থেকে সংগৃহীত; প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে শারহুল কাবীর থেকে এবং শেষে ইনসাফ থেকে
… " ১
মুহাক্কিকগণ গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-র রচনাবলি দুই প্রকার: কিছু তিনি মৌলিকভাবে রচনা করেছেন এবং কিছু তিনি মূল বৃহৎ গ্রন্থগুলো থেকে সংক্ষেপ করেছেন যাতে এর থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়। যখন তিনি হাম্বলী ফিকহের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও বিস্তৃত দুটি গ্রন্থের অবস্থা দেখলেন, তখন তিনি সেগুলো সংক্ষেপ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন—আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন—।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাসাইসুত তাফকীরিল ফিকহিয়্যি ইনদাশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৪০৭)
في زمنه من الحاجة لذلك هذا الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف، على مذهب الإمام أحمد بن حنبل ومؤلفه الفقيه علاء الدين علي بن سلمان المرداوي الحنبلي (817- 885 هـ) .
والثاني: الشرح الكبير، ومؤلفه شمس الدين، أبو الفرج، عبد الرحمن ابن أبي عمر بن قدامة، المقدسي (597- 682 هـ) . وتم ما أراده رحمه الله بمختصر لطيف بدأ كل باب منه بما اختاره من الشرح وختمه بما استدركه من الإنصاف1.
إن هذين الكتابين يمثل كل واحد منهما مرحلة معينة في تطور المذهب الحنبلي حتى وصل إلى ما وصل إليه عند المتأخرين. أما كتاب الشرح الكبير فهو شرح لكتاب المقنع، من تأليف موفق الدين أبي عبد الله محمد عبد الله بن أحمد بن قدامة (541- 620 هـ) . وقد ذكر المؤلف في مقدمته بأنه اعتمد في جمعه على كتاب المغني من تأليف موفق الدين ابن قدامة السابق، وزاد فيه من غيره ما لم يجده فيه من الفروع والروايات، ولم يترك من كتاب المغني إلا شيئا يسيرا.
والمعروف أن كتاب المغني كتاب حجة واستدلال، وهو موسوعة في أقوال أئمة السلف وعلماء الأمصار أصحاب المذاهب المختلفة ومسائل الإجماع، نحا فيه مؤلفه منحى المجتهدين في اتباع الدليل، فمن ثم جاء بكتاب الشرح صورة كاملة لكافة ملامح ومميزات كتاب المغني، وسلك في معالجة المسائل والبحوث الفقهية مسلك عمه الموفق في كتاب المغنى، فهو يذكر المسألة من المقنع فيجعلها كالترجمة، ثم يذكر مذهب الموافق فيها والمخالف لها ويذكر ما لكل من دليله ثم يستدل ويعلل للمختار، ويزيف دليل المخالف، فمسلكه مسلك الاجتهاد إلا أنه اجتهاد مقيد في مذهب أحمد"2.
وهو معدود في طبقة المتوسطين من الحنابلة. أما كتاب الإنصاف لأبي سليمان المرداوي فهو أيضا شرح لكتاب المقنع، ضم بين دفتيه كل ما قيل في المذهب الحنبلي من أقوال ووجوه وروايات، ثم بين فيه الصحيح من المذهب والراجح من الأقوال دون التعرض للدليل، وقد بين في مقدمة الكتاب المصادر الفقهية التي اعتمدها والمنهج الذي سلكه في الترجيح بشكل مفصل مفيد. ومما جاء في هذا قوله:
--------------------------------------------
তাঁর সময়ে এর প্রয়োজনীয়তার কারণে; এটি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী মতভেদের মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য মতগুলো জানার ক্ষেত্রে ‘আল-ইনসাফ’, এবং এর লেখক হলেন ফকিহ আলাউদ্দীন আলী বিন সালমান আল-মারদাওয়ি আল-হাম্বলি (৮১৭- ৮৮৫ হিজরি)।
এবং দ্বিতীয়টি হলো: ‘আশ-শারহুল কাবির’, এর লেখক হলেন শামসুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে আবি উমর ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি (৫৯৭- ৬৮২ হিজরি)। আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন, তিনি যা চেয়েছিলেন তা একটি চমৎকার সংক্ষিপ্ত রূপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, যার প্রতিটি অধ্যায় তিনি ‘আশ-শারহ’ থেকে তাঁর চয়নকৃত বিষয় দিয়ে শুরু করেছেন এবং ‘আল-ইনসাফ’ থেকে প্রাপ্ত সংযোজনী দিয়ে শেষ করেছেন।১
এই কিতাব দুটির প্রত্যেকটি হাম্বলি মাযহাবের বিবর্তনের এক একটি নির্দিষ্ট পর্যায়কে উপস্থাপন করে, যতক্ষণ না এটি পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট বর্তমান রূপ ধারণ করেছে। ‘আশ-শারহুল কাবির’ কিতাবটি হলো ‘আল-মুকনি’ কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা মুওয়াফফাকুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ ইবনে কুদামা (৫৪১- ৬২০ হিজরি) কর্তৃক রচিত। লেখক তাঁর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, এটি সংকলনের ক্ষেত্রে তিনি পূর্বে উল্লেখিত মুওয়াফফাকুদ্দীন ইবনে কুদামা রচিত ‘আল-মুগনি’ কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন এবং এতে অন্যান্য উৎস থেকে এমন সব শাখা-প্রশাখা ও বর্ণনা যোগ করেছেন যা তিনি তাতে পাননি, আর ‘আল-মুগনি’ কিতাব থেকে খুব সামান্য অংশই তিনি বাদ দিয়েছেন।
এটা সুপরিচিত যে, ‘আল-মুগনি’ কিতাবটি দলিল ও প্রমাণের একটি কিতাব, এটি সালাফ ইমামগণ এবং বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারী বিভিন্ন অঞ্চলের আলেমদের মতামত এবং ইজমার মাসআলাসমূহের একটি বিশ্বকোষ। এতে লেখক দলিল অনুসরণের ক্ষেত্রে মুজতাহিদদের পথ অবলম্বন করেছেন, ফলে ‘আশ-শারহ’ কিতাবটি ‘আল-মুগনি’ কিতাবের সকল বৈশিষ্ট্য ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফিকহি মাসআলা ও গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি ‘আল-মুগনি’ কিতাবে তাঁর চাচা আল-মুওয়াফফাকের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তিনি ‘আল-মুকনি’ থেকে মাসআলা উল্লেখ করে সেটিকে শিরোনাম হিসেবে নির্ধারণ করেন, এরপর সে বিষয়ে একমত ও ভিন্নমত পোষণকারী মাযহাবগুলো উল্লেখ করেন এবং প্রত্যেকের দলিল বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি পছন্দসই মতের পক্ষে দলিল ও কারণ দর্শান এবং বিপক্ষ মতের দলিল খণ্ডন করেন। সুতরাং তাঁর পদ্ধতি হলো ইজতিহাদের পদ্ধতি, তবে তা আহমদ-এর মাযহাবের ভেতরে সীমাবদ্ধ ইজতিহাদ।২
তিনি হাম্বলি মাযহাবের মধ্যবর্তী স্তরের ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত। আর আবু সুলাইমান আল-মারদাওয়ি রচিত ‘আল-ইনসাফ’ কিতাবটিও ‘আল-মুকনি’ কিতাবের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা হাম্বলি মাযহাবের যাবতীয় উক্তি, পরিপ্রেক্ষিত এবং বর্ণনাকে দুই মলাটের মাঝে একত্রিত করেছে। এরপর তিনি দলিলে না গিয়ে মাযহাবের বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য মতামতগুলো এতে স্পষ্ট করেছেন। তিনি কিতাবটির ভূমিকায় তাঁর নির্ভরযোগ্য ফিকহি উৎসসমূহ এবং কোনো মতকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি বিস্তারিত ও উপকারীভাবে বর্ণনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁর একটি উক্তি হলো:
--------------------------------------------