(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: -)
خبر الواحد وحجيته القسم: أصول الفقه
الكتاب: خبر الواحد وحجيته
المؤلف: أحمد بن محمود بن عبد الوهاب الشنقيطي
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1422هـ/2002م
عدد الصفحات: 374
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
খবর আল-ওয়াহিদ ও এর প্রামাণিকতা বিভাগ: উসূলে ফিকহ
বই: খবর আল-ওয়াহিদ ও এর প্রামাণিকতা
লেখক: আহমদ বিন মাহমুদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-শানকিতী
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরী/২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭)
خبر الواحد وحجيته
تأليف: أحمد بن محمد عبد الوهاب الشنقيطي
ال
مقدمةالحمد لله الكريم المنان. المتفضل على عباده بعظيم الالآء والإحسان. جلت نعمه عن العدّ والإحصاء فكان من أعظمها أن هدى المؤمنين إلى الإيمان به، وخصّ الأمّة الإسلامية بعلم الإسناد، فكان من علمائها الجهابذة الحفاظ والنقاد الذين ذبوّا عن السنة المطهرة منذ فجر الإسلام، بالتآليف التي حفظتها من الزيادة والنقصان. فحفظها الله بهم مصداقاً لقوله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 1.
أحمده سبحانه أجل الحمد وأعظمه على نعمه المتوالية والتي من أجلّها نعمة الإيمان. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له شهادة ننجو بها من سخطه وننال بها رضاه. وأشهد أن محمّداً عبده ورسوله إلى النّاس كافة أنزل عليه القرآن، وأمره بتبيينه للناس في قوله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} 2 فبينه أتم بيان، فكمل بذلك دستور الأمة الإسلامية، الذي اختاره الله لأن يكون الدستور الخالد إلى يوم القيامة. وأمره بتبليغ ما أرسل به إلى الناس كافة في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ
--------------------------------------------
খবরুল ওয়াহিদ এবং এর প্রামাণিকতা
রচনায়: আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহহাব আল-শানকিতী
উপস্থাপনাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পরম দাতা ও মহানুভব। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি মহান অনুগ্রহ ও ইহসানের মাধ্যমে দয়া করেন। তাঁর নিয়ামতসমূহ গণনা ও পরিসংখ্যানের ঊর্ধ্বে। সেসব নিয়ামতের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো এই যে, তিনি মুমিনদেরকে তাঁর প্রতি ঈমান আনার হিদায়াত দান করেছেন এবং মুসলিম উম্মাহকে সনদশাস্ত্রের অনন্য বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। ফলে এই উম্মাহর মধ্যে এমন প্রাজ্ঞ হাফেজ ও সূক্ষ্মদর্শী সমালোচক আলেমগণ ছিলেন, যাঁরা ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই পবিত্র সুন্নাহর সুরক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন এমন সব রচনার মাধ্যমে, যা সুন্নাহকে হ্রাস-বৃদ্ধি থেকে রক্ষা করেছে। আল্লাহ তাআলা তাঁদের মাধ্যমে সুন্নাহকে রক্ষা করেছেন তাঁর এই বাণীর সত্যতাস্বরূপ: "নিশ্চয়ই আমি উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" ১।
আমি মহান আল্লাহর যথাযথ ও সর্বোত্তম প্রশংসা করছি তাঁর নিরন্তর নিয়ামতরাজির জন্য, যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো ঈমানের নিয়ামত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যার মাধ্যমে আমরা তাঁর ক্রোধ থেকে মুক্তি পাব এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভ করব। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা এবং সকল মানুষের প্রতি প্রেরিত তাঁর রাসূল। তাঁর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তাকে তা মানুষের নিকট বর্ণনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আল্লাহর এই বাণীতে: "আমি আপনার প্রতি উপদেশ অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে" ২। অতঃপর তিনি তা পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন, যার মাধ্যমে এই মুসলিম উম্মাহর সংবিধান পূর্ণতা লাভ করেছে, যাকে আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত শাশ্বত সংবিধান হিসেবে মনোনীত করেছেন। আর তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর বার্তা পৌঁছে দিলেন না..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮)
رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ} 1 فبلّغ كما أمره الله بنفسه وبرسله أتمّ بلاغ، وأقام على الناس بذلك الحجة في الجمع العظيم واليوم العظيم والمكان العظيم، وأمرهم أن يبلغوا عنه بقوله: "ليبلغ الشاهد الغائب" 2 صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه الذين عزروه ونصروه، واتبعوا النور الذي أنزل معه، فكانوا سادة الدنيا، وأئمة الهدى، ونقلة وحيه إلى من بعدهم.
وبعد: فلعل من توفيق الله لي أن هيأ لي أسباب إتمام الدراسة بعد أن انقطعت للتدريس سنين. فكان أن طلب مني تقديم موضوع رسالة الماجستير، فوقع اختياري على خبر الواحد وحجيته، فرأيته مناسباً. ذلك أني طالما سمعت بعض العلماء أثناء دراستي، وخارجها يمنع الاحتجاج به في العقائد، ويعيب على من يحتج به في إثباتها بدعوى أنه لا يفيد إلا الظن، وأن العقائد لا تثبت إلا بما يفيد القطع. مما جعلني أفكر طويلاً في هذا القول، وأسأل عن خبر الواحد ما هو؟
فأجاب بأن المراد بخبر الواحد هنا هو سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم التي ليست متواترة.
--------------------------------------------
...তাঁর রিসালাত। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা করবেন।১ অতঃপর তিনি স্বয়ং এবং তাঁর রাসূলগণের মাধ্যমে আল্লাহ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেভাবেই পূর্ণাঙ্গভাবে প্রচার করেছেন। আর এর মাধ্যমে তিনি মহান সমাবেশে, মহান দিনে এবং মহান স্থানে মানুষের ওপর হুজ্জাত (প্রমাণ) কায়েম করেছেন। আর তিনি তাঁর পক্ষ থেকে প্রচার করার জন্য এই বলে নির্দেশ দিয়েছেন: "উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়।"২ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, যারা তাঁকে সম্মান করেছেন, তাঁকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ নূর বা জ্যোতির অনুসরণ করেছেন। ফলে তাঁরা ছিলেন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, হেদায়েতের ইমাম এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাঁর ওহী পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম।
অতঃপর: সম্ভবত আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ছিল যে, দীর্ঘ বছর শিক্ষকতায় নিয়োজিত থাকার ফলে পড়ালেখা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর তিনি আমার জন্য পুনরায় পড়াশোনা সম্পন্ন করার পথ সুগম করে দিয়েছেন। এরপর যখন আমার কাছে মাস্টার্স থিসিসের বিষয়বস্তু পেশ করার অনুরোধ করা হয়, তখন আমি 'খবরে ওয়াহিদ এবং এর প্রামাণিকতা' বিষয়টি নির্বাচন করি এবং একে উপযুক্ত মনে করি। এর কারণ হলো, আমি আমার ছাত্রজীবনে এবং তার বাইরেও অনেক সময় কিছু আলেমকে বলতে শুনেছি যে, আকিদার ক্ষেত্রে খবরে ওয়াহিদ দ্বারা দলিল পেশ করা নিষিদ্ধ। আর যারা আকিদা প্রমাণের ক্ষেত্রে একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন, তারা তাদের এই বলে সমালোচনা করেন যে, এটি কেবল ধারণার (যন) উদ্রেক করে, আর আকিদা কেবল অকাট্য (কাতয়ি) দলিলের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। এই বিষয়টি আমাকে এই উক্তিটি সম্পর্কে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করতে বাধ্য করে এবং আমি প্রশ্ন করি যে, খবরে ওয়াহিদ আসলে কী?
উত্তরে বলা হয়েছে যে, এখানে খবরে ওয়াহিদ বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই সুন্নাহকে বোঝানো হয়েছে যা মুতাওয়াতির নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৯)
ويعود السؤال مرة أخرى: كم نسبة خبر الواحد في السنة؟
فأجاب مرة أخرى بأن السنة المتواترة في نظر الأصوليين، يعز وجودها، إذ منهم من يرى عدها على الأصابع.
ثم أعود فأسأل مرة أخرى هل هناك أحاديث خاصة بالعقائد دون الأحكام، أم أن الحديث الواحد قد يتضمن عقيدة وحكماً معاً؟ وإذا كان يتضمنهما معاً، فما حكم العمل به؟
فأجاب بأنه كثيراً ما يتضمن الحديث الواحد حكماً وعقيدة، وأنه حينئذ يعمل بالحديث فيما تضمنه من أحكام دون عقائد. فأعود للسؤال، وأقول لماذا فرق بين مدلولات الحديث الواحد في العمل بها، حيث يعمل ببعضها دون بعض؟
فيقال: إن العمل بخبر الواحد في الأحكام ثابت بدليل قطعي. أما العقائد فلا تثبت إلا بما يفيد القطع، وخبر الواحد إنما يفيد الظن. فرأيت صلاحية الموضوع للبحث، ودعتني الرغبة في الوقوف على أقوال العلماء، والإطلاع على أدلتهم، وأسباب خلافهم، ومعرفة أيهم أسعد بالدليل على خوض غمار البحث رجاء أن أكون ممن يخدم السنة المطهرة، والأمة المحمدية.
والبحث وإن كان في السنة، إلا أنني بحثته من الناحية الأصولية فقط، لأن السنة هي: المصدر الثاني بعد كتاب الله لإثبات الأحكام الشرعية.
পুনরায় এই প্রশ্নটি উত্থাপিত হয় যে: সুন্নাহর মধ্যে 'খবরুল ওয়াহিদ' (একক বর্ণনা)-এর অনুপাত কত?
তিনি আবারও উত্তর দিলেন যে, উসুলবিদদের দৃষ্টিতে 'মুতাওয়াতির' সুন্নাহর অস্তিত্ব বিরল; এমনকি তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এগুলোকে আঙ্গুলে গণনা করার মতো সীমিত বলে মনে করেন।
অতঃপর আমি পুনরায় প্রশ্ন করি, এমন কি কোনো হাদিস আছে যা কেবল আকিদা বা বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট কিন্তু আহকাম বা বিধানের সাথে নয়? নাকি একই হাদিসে আকিদা এবং আহকাম উভয়টিই থাকতে পারে? আর যদি উভয়টি একত্রে বিদ্যমান থাকে, তবে সেক্ষেত্রে তার ওপর আমল করার বিধান কী?
তিনি উত্তর দিলেন যে, প্রায়শই একই হাদিসে আহকাম এবং আকিদা—উভয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকে; সেক্ষেত্রে হাদিসটির অন্তর্ভুক্ত আহকামের ওপর আমল করা হয়, কিন্তু আকিদার ক্ষেত্রে নয়। তখন আমি পুনরায় প্রশ্ন করলাম, একই হাদিসের বক্তব্যগুলোর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে কেন এই পার্থক্য করা হলো যে, এর কোনোটির ওপর আমল করা হবে আর কোনোটির ওপর হবে না?
উত্তরে বলা হয়: আহকামের ক্ষেত্রে 'খবরুল ওয়াহিদ'-এর ওপর আমল করা অকাট্য দলীল দ্বারা সাব্যস্ত। পক্ষান্তরে, আকিদা কেবল অকাট্য বা সুনিশ্চিত জ্ঞান প্রদানকারী বিষয় দ্বারাই সাব্যস্ত হয়, অথচ 'খবরুল ওয়াহিদ' কেবল প্রবল ধারণা প্রদান করে। তাই আমি বিষয়টি গবেষণার যোগ্য বলে মনে করলাম। এছাড়া উলামায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ অনুধাবন করা, তাঁদের প্রমাণাদি ও মতবিরোধের কারণসমূহ পর্যবেক্ষণ করা এবং দলীলের বিচারে কাদের অবস্থান অধিকতর সঠিক তা জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমাকে এই গবেষণার গভীরে প্রবেশ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। এর মাধ্যমে আমার প্রত্যাশা হলো আমি যেন পবিত্র সুন্নাহ এবং উম্মতে মুহাম্মদীর সেবকদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।
এই গবেষণা যদিও সুন্নাহ কেন্দ্রিক, তথাপি আমি একে কেবল উসুলগত (নীতিগত) দৃষ্টিকোণ থেকেই আলোচনা করেছি। কারণ শরয়ি আহকাম সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাবের পর সুন্নাহ হলো দ্বিতীয় উৎস।
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقد أخذت طريقة في البحث رأيت أنها توصل إلى الغاية التي أردت. وهي: أنني أستعرض آراء العلماء وأدلتهم، وما ورد عليها من اعتراضات وإجابات عن تلك الاعتراضات مع مناقشتها وترجيح ما ظهر لي رجحانه بالدليل كل ما رأيت ذلك مناسباً، وربما تركت الترجيح في موضع لاتحاده مع الذي بعده تقليلاً للتكرار الممل.
ورأيت أن الدليل الذي يحسم النزاع إنما هو الكتاب، أو السنة، أو الإجماع القطعي. على أنني أحياناً أذكر رأي كل طرف، ثم أتبعه برأي الطرف الآخر، ثم أذكر دليل كل من الطرفين وما ورد عليه من اعتراضات وإجابات مرتبة بعد ذلك. وأحياناً أتبع الدليل بالاعتراضات الواردة عليه والإجابة عنها، دفعاً للسآمة عن القارئ مما قد يصيبه من إتباع طريقة واحدة.
وهنا ألفت نظر القارئ الكريم إلى أن الموضوع مشتبك العناصر والأدلة، لأن كل دليل يستدل به لأي عنصر من عناصره يكاد يكون هو عين دليل العنصر الآخر مما اضطرني إلى التكرار، ولم أكن بدعاً في ذلك، بل إنما أنا متبع، وواقع الموضوع يفرض ذلك.
ثم إن الموضوع وإن كان قد قيل لي: إنه قد كتب فيه غير أنني ما عثرت على غير المراجع المعتمدة التي أحلت عليها في محالها.
وقد قسمت هذا البحث إلى تمهيد وبابين وخاتمة.
আমি গবেষণার ক্ষেত্রে এমন একটি পদ্ধতি অবলম্বন করেছি যা আমার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি। আর তা হলো: আমি আলেমদের মতামত ও তাঁদের দলিলাদি উপস্থাপন করব এবং সেই মতগুলোর ওপর যে সকল আপত্তি ও সেগুলোর উত্তর এসেছে তাও পর্যালোচনা করব। সাথে সাথে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব এবং যখনই উপযুক্ত মনে করব তখনই দলিলের ভিত্তিতে আমার কাছে যা অগ্রগণ্য মনে হবে তা প্রাধান্য দেব। বিরক্তিকর পুনরাবৃত্তি কমানোর জন্য কোনো কোনো স্থানে আমি প্রাধান্য দেওয়া বা তরজিহ দেওয়া ছেড়ে দিয়েছি, কারণ তা পরবর্তী বিষয়ের সাথে অভিন্ন।
আমি মনে করি যে, বিবাদের মীমাংসাকারী দলিল হলো কেবল কুরআন, সুন্নাহ অথবা অকাট্য ইজমা। তবে কখনও আমি প্রতিটি পক্ষের মতামত উল্লেখ করি, এরপর অপর পক্ষের মতটি নিয়ে আসি এবং তারপর পর্যায়ক্রমে উভয় পক্ষের দলিল এবং সেগুলোর ওপর উত্থাপিত আপত্তি ও উত্তরগুলো উল্লেখ করি। আবার কখনও দলিলের পর পরই তার ওপর উত্থাপিত আপত্তি ও সেগুলোর উত্তর উল্লেখ করেছি, যাতে একই পদ্ধতি অনুসরণের ফলে পাঠকের মনে বিরক্তি না আসে।
এখানে আমি সম্মানিত পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, এই বিষয়ের উপাদান ও দলিলসমূহ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কেননা এর প্রতিটি উপাদানের পক্ষে উপস্থাপিত দলিল প্রায় অন্য উপাদানের দলিলের মতোই, যা আমাকে পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য করেছে। এ ক্ষেত্রে আমি নতুন কিছু করিনি, বরং আমি পূর্বসূরিদের অনুসরণ করেছি এবং বিষয়ের প্রকৃতিই এমনটা দাবি করে।
তাছাড়া, যদিও আমাকে বলা হয়েছে যে এই বিষয়ে ইতিপূর্বে লেখা হয়েছে, কিন্তু আমি সেই নির্ভরযোগ্য উৎসগুলো ছাড়া আর কিছুই পাইনি যেগুলোর উদ্ধৃতি আমি যথাস্থানে প্রদান করেছি।
আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১১)
أما التمهيد فهو يشتمل على ما يأتي:
1- حقيقة الخبر عند العلماء، وأقسامه.
وقد بينت فيه تعريف الخبر لغة واصطلاحاً عند العلماء، والأنواع التي ينحصر فيها من حيث الصدق والكذب، ورأي الجاحظ في ثبوت الواسطة وأقسامه التي علم صدقها، أو علم كذبها، والتي لم يعلم صدقها ولا كذبها.
2- السنة لغة وشرعاً.
وقد عرفتها لغة وشرعاً، وأشرت إلى الفرق بين اصطلاحات العلماء في تعريفها.
3- أقسامها باعتبار ذاتها، بينت فيه أن من العلماء من قسمها إلى: قول وفعل، ولم ير التقرير قسماً لدخوله في الفعل، وأن البعض الآخر رأى أنه قسم ثالث.
4- منزلتها من القرآن، ذكرت فيه أنواعها معه من حيث الاتفاق والبيان، والاستقلال بتشريع ما لم يتعرض له نفياً أو إثباتاً، وخلاف العلماء في ذلك.
5- تقسيم الخبر إلى: متواتر وآحاد.
ذكرت فيه أن من العلماء من رأى القسمة ثنائية: متواتر، وآحاد، ومنهم من زاد قسماً ثالثاً هو المشهور، وأنه جعله واسطة بين المتواتر والآحاد.
ভূমিকা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
১- আলেমদের নিকট সংবাদের (খবর) হাকিকত ও এর প্রকারভেদ।
এতে আমি আলেমদের নিকট সংবাদের আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা, সত্য ও মিথ্যার দিক থেকে সংবাদের সীমাবদ্ধ প্রকারসমূহ, মাধ্যম সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে জাহিজের অভিমত এবং যার সত্যতা জানা গেছে বা যার মিথ্যা হওয়া জানা গেছে কিংবা যার সত্যতা ও মিথ্যা কোনোটাই জানা যায়নি—এমন প্রকারগুলো বর্ণনা করেছি।
২- আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্নাহ।
আমি আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এর সংজ্ঞা দিয়েছি এবং এর সংজ্ঞায় আলেমদের পরিভাষাগত পার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করেছি।
৩- সত্তাগত বিচারে সুন্নাহর প্রকারভেদ; এতে আমি বর্ণনা করেছি যে, আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ সুন্নাহকে কথা ও কাজ—এই দুই ভাগে ভাগ করেছেন এবং তারা মৌন সম্মতিকে (তাকরীর) আলাদা প্রকার মনে করেননি কারণ এটি কাজের অন্তর্ভুক্ত। আবার কেউ কেউ এটিকে তৃতীয় প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন।
৪- কুরআনের সাথে সুন্নাহর অবস্থান; এতে আমি কুরআনের সাথে সুন্নাহর সামঞ্জস্য ও বর্ণনার প্রকারগুলো উল্লেখ করেছি এবং কুরআন যে বিষয়ের নেতিবাচক বা ইতিবাচক কোনো উল্লেখ করেনি, তা বিধিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে সুন্নাহর স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং এ বিষয়ে আলেমদের মতপার্থক্য আলোচনা করেছি।
৫- সংবাদকে মুতাওয়াতির ও আহাদ হিসেবে বিভক্ত করা।
এতে আমি উল্লেখ করেছি যে, আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ এই বিভাজনকে দ্বিমুখী (মুতাওয়াতির ও আহাদ) হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ কেউ তৃতীয় একটি প্রকার বৃদ্ধি করেছেন যা 'মাশহুর' নামে পরিচিত এবং তারা একে মুতাওয়াতির ও আহাদের মাঝামাঝি একটি স্তর হিসেবে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১২)
الباب الأول: فيما يفيده خبر الواحد، وفيه ثلاثة فصول:
الأول: في أن خبر الواحد العدل، إنما يفيد الظن فقط.
وقد ذكرت فيه أدلة القائلين بذلك وما ورد عليها من اعتراضات وإجابات.
الثاني: في إفادته العلم.
وقد استعرضت فيه آراء وأدلة القائلين بذلك وما ورد عليها من اعتراضات أيضاً.
الثالث: في إفادته العلم إذا احتف بالقرائن.
وسلكت فيه نفسه الطريقة السابقة.
ثم ختمت الباب بذكر ثمرة الخلاف.
الباب الثاني: في حكم العمل به، وفيه سبعة فصول:
الأول: في وجوب العمل به.
الثاني: في ذكر أدلة منكري العمل بخبر الآحاد، والرد عليها.
الثالث: في العمل بخبر الواحد في الفتوى والشهادة والأمور الدنيوية.
الرابع: حكم قبول خبر الواحد العدل في الحدود.
وقد استعرضت فيها أدلة كل طرف وما ورد عليها من اعتراضات وإجابات.
প্রথম অধ্যায়: একক বর্ণনা যা সাব্যস্ত করে, এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম: নির্ভরযোগ্য রাবীর একক বর্ণনা কেবল প্রবল ধারণাই প্রদান করে।
এতে আমি এই মতাবলম্বীদের দলীলসমূহ এবং তার ওপর উত্থাপিত আপত্তি ও উত্তরসমূহ উল্লেখ করেছি।
দ্বিতীয়: এটি নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করার বিষয়ে।
এতে আমি এই মতাবলম্বীদের মতামত ও দলীলসমূহ এবং তার ওপর উত্থাপিত আপত্তিগুলোও পর্যালোচনা করেছি।
তৃতীয়: আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি দ্বারা বেষ্টিত থাকলে এটি নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করার বিষয়ে।
এতে আমি পূর্ববর্তী পদ্ধতিই অনুসরণ করেছি।
অতঃপর মতপার্থক্যের ফলাফল উল্লেখ করার মাধ্যমে অধ্যায়টি সমাপ্ত করেছি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এর ওপর আমল করার বিধান প্রসঙ্গে, এবং এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম: এর ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়: একক বর্ণনার ওপর আমল করা যারা অস্বীকার করেন তাদের দলীলসমূহ এবং তার খণ্ডন প্রসঙ্গে।
তৃতীয়: ফতোয়া, সাক্ষ্য এবং পার্থিব বিষয়াবলীতে একক বর্ণনার ওপর আমল করা প্রসঙ্গে।
চতুর্থ: হদ বা নির্ধারিত দণ্ডবিধির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য রাবীর একক বর্ণনা গ্রহণের বিধান।
আমি এতে প্রত্যেক পক্ষের দলীলসমূহ এবং তাদের ওপর উত্থাপিত আপত্তি ও উত্তরসমূহ পর্যালোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الخامس: خبر الواحد وعمل أهل المدينة.
تعرضت فيه لبيان عمل أهل المدينة وأقسام ذلك العمل، وبينت محل الاتفاق والاختلاف.
السادس: خبر الواحد فيما تعم به البلوى.
السابع: إذا خالف الراوي مرويه.
بينت أدلة وآراء العلماء في كل من الفصلين الأخيرين، وفي الثاني أنه الدليل المخالف من حيث الإجمال والظهور والنص.
خاتمة في نتائج البحث:
ضمنتها بعض ما توصلت إليه من نتائج.
هذه هي عناصر البحث التي بحثتها، فأرجو من الله أن أكون قد وفقت فيما أردت، وأن يجعله وسيلة إلى مرضاته إنه على كل شيء قدير. وصلى الله وسلم على سيّدنا محمد وعلى اله وصحبه وسلم.
পঞ্চম: খবরুল ওয়াহিদ এবং মদীনার অধিবাসীদের আমল।
এতে আমি মদীনার অধিবাসীদের আমলের বর্ণনা এবং সেই আমলের প্রকারসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং ঐক্যমত ও মতপার্থক্যের ক্ষেত্রসমূহ স্পষ্ট করেছি।
ষষ্ঠ: সর্বসাধারণের আবশ্যকতা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে (উম্মে বিল-বালওয়া) খবরুল ওয়াহিদ।
সপ্তম: যখন বর্ণনাকারী তার বর্ণিত বিষয়ের বিপরীত আমল করেন।
আমি শেষোক্ত দুই পরিচ্ছেদের প্রত্যেকটিতে আলেমদের দলিল ও মতামত বর্ণনা করেছি; আর দ্বিতীয়টিতে এটি বর্ণনা করেছি যে, এটি ইজমাল (সংক্ষিপ্ততা), জুহুর (প্রকাশ্যতা) এবং নস (সুস্পষ্টতা)-এর বিচারে একটি বিরোধী দলিল।
গবেষণা ফলাফলের উপসংহার:
আমি এতে আমার গবেষণালব্ধ কতিপয় ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করেছি।
এগুলিই গবেষণার সেই উপাদানসমূহ যা আমি আলোচনা করেছি। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন আমি যা চেয়েছি তাতে তিনি আমাকে তাওফিক দান করেন এবং তিনি একে তাঁর সন্তুষ্টির মাধ্যম বানান। নিশ্চয়ই তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تمهيد…تعريف الخبر لغة:
الخبر لغة: النبأ، وجمع الخبر أخبار، وجمع الجمع أخابير.
وأما قوله تعالى: {يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا} 1 فمعناه: يوم تزلزل تخبر بما عمل عليها.
والخَبَار أرض رخوة تتعتع فيها الدواب، قال الشاعر:
تتعتع في الخبار إذا علاه
… ويعثر في الطريق المستقيم
وفي المثل: من تجنب الخبار أمن العثار"2.
قال الشوكاني: "الخبر مشتق من الخبار كسحاب، وهي الأرض الرخوة، لأن الخبر يثير الفائدة، كما أن الأرض الخبار تثير الغبار إذا قرعها الحافر ونحوه، وهو نوع مخصوص من القول، وقِسم من الكلام اللساني، وقد يستعمل في غير القول، كقول الشاعر:
تخبرك العينان ما القلب كاتم
وقول المعرى:
نبي من الغربان ليس على شرع
… يخبرنا أن الشعوب إلى صدع
ولكنه استعمال مجازي لا حقيقي، لأن من وصف غيره بأنه أخبر بكذا لم يسبق إلى فهم السامع إلا القول"3.
--------------------------------------------
ভূমিকা…শাব্দিক অর্থে খবরের সংজ্ঞা:
শাব্দিক অর্থে খবর হলো: সংবাদ, খবরের বহুবচন হলো ‘আখবার’ এবং বহুবচনের বহুবচন হলো ‘আখাবির’।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {সেদিন সে (পৃথিবী) তার সংবাদসমূহ বর্ণনা করবে} ১; এর অর্থ হলো: যেদিন পৃথিবী প্রকম্পিত হবে, সেদিন তার ওপর যা কিছু আমল করা হয়েছে সে সম্পর্কে সে সংবাদ দেবে।
আর ‘খাবার’ হলো নরম বা শিথিল মাটি যাতে চতুষ্পদ জন্তুরা হোঁচট খায়। কবি বলেছেন:
সে নরম মাটিতে হোঁচট খায় যখন তার উপরে আরোহণ করে
… এবং সে সরল পথেও স্খলিত হয়।
আর প্রবাদে আছে: "যে নরম মাটি এড়িয়ে চলে, সে হোঁচট খাওয়া থেকে নিরাপদ থাকে" ২।
শাওকানী বলেছেন: "খবর শব্দটি ‘খাবার’-এর সদৃশ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যা হলো নরম মাটি। কারণ খবর (সংবাদ) উপকারিতা বা নতুন বিষয় উদঘাটন করে, যেমন নরম মাটি ধূলি উড়ায় যখন ঘোড়ার খুর বা অনুরূপ কিছু তাতে আঘাত করে। এটি এক বিশেষ ধরনের উক্তি এবং বাচনিক বক্তব্যের একটি প্রকার। কখনো কখনো এটি উক্তি বা কথা ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন কবির উক্তি:
দুটি চোখ তোমাকে সংবাদ দেয় যা হৃদয় গোপন রাখে।
আর আল-মাআররীর উক্তি:
কাকদের মধ্য থেকে এক নবী যে কোনো শরীয়তের অনুসারী নয়
… সে আমাদের সংবাদ দিচ্ছে যে জাতিসমূহ বিভক্তির দিকে ধাবিত।
তবে এটি রূপক ব্যবহার, প্রকৃত নয়। কারণ, যখন কেউ অন্যকে বর্ণনা করে যে সে অমুক বিষয়ে সংবাদ দিয়েছে, তখন শ্রোতার বোধগম্যতায় কথা বা উক্তি ব্যতীত অন্য কিছু আসে না" ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الخبر في الاصطلاح عند العلماء
اختلف العلماء في حد الخبر، فذهب بعضهم إلى أنه لا يحد، والبعض الآخر إلى أنه يحد، والقائلون بحده اختلفوا في تعريفه، حيث عرفته كل طائفة بما لم تعرّفه به الطائفة الأخرى. وها أنا أذكر أهمّ ذلك فيما يلي:
الخبر عند القائلين بأنه لا يحد:
قالوا: لا يحد لعسره، ويحتمل أن يكون لوضوحه، لأن توضيح الواضحات من المشكلات1.
أو لأنه ضروري. واستدل لذلك من وجهن:
الأول: أن كل أحد يعلم أنه موجود، وهذا خبر خاص، وإذا كان الخبر المقيد ضرورياً، فالخبر المطلق الذي هو جزؤه أولى بأن يكون ضرورياَ.
واعترض على هذا بأمرين:
أحدهما: أن الاستدلال على كونه ضرورياً ينافي كونه ضرورياً، لأن الضروري لا يقبل الاستدلال2.
--------------------------------------------
আলেমদের নিকট পারিভাষিক অর্থে খবরের পরিচয়
খবরের সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে একদল মনে করেন যে এর সংজ্ঞা প্রদান করা সম্ভব নয়, আবার অন্য দল মনে করেন যে এর সংজ্ঞা প্রদান করা সম্ভব। যারা সংজ্ঞা প্রদানের পক্ষপাতী, তারা এর সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রেও মতভেদ করেছেন; প্রতিটি দল একে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে যা অন্য দল করেনি। নিম্নে আমি এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উল্লেখ করছি:
যারা খবরের সংজ্ঞা প্রদান করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তাদের নিকট এর বর্ণনা:
তারা বলেছেন: এর সংজ্ঞা দেওয়া যায় না এর জটিলতার কারণে; আবার এটিও সম্ভব যে এর সুস্পষ্টতার কারণেও সংজ্ঞা দেওয়া হয় না, কারণ সুস্পষ্ট বিষয়কে আরও স্পষ্ট করতে যাওয়া এক প্রকার জটিলতা সৃষ্টি করে ১।
অথবা এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ (জরুরি) বিষয় হওয়ার কারণে। এর সপক্ষে দুটি দিক থেকে দলিল পেশ করা হয়েছে:
প্রথমত: প্রত্যেকেই জানে যে সে বিদ্যমান, আর এটি একটি নির্দিষ্ট খবর। যদি এই নির্দিষ্ট খবরটি স্বতঃসিদ্ধ হয়, তবে নিঃশর্ত বা সাধারণ খবর—যা এর একটি অংশ—তা স্বতঃসিদ্ধ হওয়ার দাবি আরও বেশি রাখে।
এর ওপর দুটি আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে:
একটি হলো: কোনো বিষয় স্বতঃসিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে দলিল পেশ করা উক্ত বিষয়ের স্বতঃসিদ্ধ হওয়ারই পরিপন্থী, কারণ যা স্বতঃসিদ্ধ তা দলিল গ্রহণের মুখাপেক্ষী নয় ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الآخر: أنه وإن سلم أن مثل هذه الأخبار الخاصة معلومة بالضرورة، فلا يلزم أن يكون الخبر المطلق من حيث هوخبركذلك، لأن الخبر المطلق أعم من الخبر الخاص، فلو كان جزءاً من معنى الخبر الخاص، لكان الأعم منحصراً في الأخص، وهو محال1.
الثاني: أن كل أحد يعلم بالضرورة الموضع الذي يحسن فيه الخبر عن الموضع الذي يحسن فيه الأمر، ولولا العلم بذلك ضرورة لما كان كذلك.
وأجيب عنه بأن العلم الضروري إنما هو واقع بالتفرقة بين ما يحسن فيه بيان الأمر، وبيان ما يحسن فيه الخبر بعد معرفة الأمر والخبر، أما قبل ذلك فهو غير مسلم2.
وإذا سلم أن العلم بمعناه غير ضروري، فقد أجمع الباقون على أن العلم بمفهوم الخبر إنما يعرف بالحد والنظر، وإن اختلفوا فيه3.
--------------------------------------------
অপরটি হলো: এমনকি যদি এটি মেনে নেওয়া হয় যে এ ধরণের বিশেষ সংবাদসমূহ আবশ্যিকভাবে পরিজ্ঞাত, তবুও এটি আবশ্যক করে না যে সাধারণ সংবাদও সংবাদ হিসেবে অনুরূপ হবে। কারণ সাধারণ সংবাদ বিশেষ সংবাদ অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। সুতরাং এটি যদি বিশেষ সংবাদের অর্থের অংশ হতো, তবে ব্যাপক বিষয়টি সংকীর্ণ বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ত, যা অসম্ভব ১।
দ্বিতীয়ত: প্রত্যেকেই আবশ্যিকভাবে সেই স্থান সম্পর্কে জানে যেখানে সংবাদ প্রদান করা সমীচীন এবং সেই স্থান সম্পর্কেও জানে যেখানে আদেশ প্রদান করা সমীচীন। যদি এ সংক্রান্ত জ্ঞান আবশ্যিক না হতো, তবে বিষয়টি এমন হতো না।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, আবশ্যিক জ্ঞান মূলত আদেশ ও সংবাদ সম্পর্কে জানার পর—যেখানে আদেশের বর্ণনা সমীচীন এবং যেখানে সংবাদের বর্ণনা সমীচীন—তার মধ্যে পার্থক্য করার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। তবে এর পূর্বের অবস্থার ক্ষেত্রে এটি স্বীকৃত নয় ২।
আর যখন এটি স্বীকৃত হলো যে এর অর্থ সংক্রান্ত জ্ঞান আবশ্যিক নয়, তখন অবশিষ্টগণ এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে সংবাদের ধারণা সংক্রান্ত জ্ঞান কেবল সংজ্ঞা ও তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমেই পরিজ্ঞাত হয়, যদিও তাঁরা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২০)
حد الخبر عند الأصوليين
قالت المعتزلة: إن الخبر هو: " الكلام الذي يدخله الصدق والكذب " واعترض على تعريفهم هذا من أربعة أوجه:
الأول: أنه يرد عليه خبر الله تعالى، لأنه لا يتصور فيه دخول الكذب. وأجاب عنه القاضي عبد الجبار1 بأن المراد دخوله لغة، بحيث لو قيل فيه صدق أو كذب لم يخطأ لغة، وكل خبر كذلك، وإن امتنع صدق البعض أو كذبه.
ورد هذا الجواب بأن الصدق لغة الخبر الموافق للمخبر به، والكذب الخبر المخالف للمخبر به، وبهذا عرفهما أهل اللغة، فهما لا يعرفان إلا بالخبر فتعريف الخبر بهما دور.
الثاني: أن ما قالوه منقوض بقول القائل محمد صلى الله عليه وسلم، ومسيلمة صادقان في دعوى النبوة، فهذا خبر مع أنه ليس بصدق ولا كذب، إذ لو
--------------------------------------------
উসুলশাস্ত্রবিদদের কাছে সংবাদের (খবর) সংজ্ঞা
মুতাজিলারা বলেছে: সংবাদ হলো: "এমন কথা যাতে সত্য এবং মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে।" তাদের এই সংজ্ঞার ওপর চারটি দিক থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে:
প্রথম: এতে মহান আল্লাহর সংবাদ বাদ পড়ে যায়, কারণ আল্লাহর সংবাদের ক্ষেত্রে মিথ্যার প্রবেশ কল্পনা করা যায় না। এর উত্তরে কাজী আব্দুল জব্বার১ বলেছেন যে, (সত্য বা মিথ্যার) প্রবেশ বলতে শাব্দিক বা ভাষাগত সম্ভাবনা উদ্দেশ্য, অর্থাৎ ভাষাগতভাবে যদি সেটিকে সত্য বা মিথ্যা বলা হয় তবে তা ভাষাগতভাবে ভুল হবে না। প্রতিটি সংবাদই এমন, যদিও কোনো কোনো সংবাদের ক্ষেত্রে সত্য হওয়া বা মিথ্যা হওয়া অসম্ভব হতে পারে।
এই উত্তরের প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, ভাষাগতভাবে 'সত্য' হলো এমন সংবাদ যা সংবাদের বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ, আর 'মিথ্যা' হলো এমন সংবাদ যা সংবাদের বিষয়ের পরিপন্থী। ভাষাবিদগণ এভাবেই এই দুটির পরিচয় দিয়েছেন। সুতরাং এই দুটি কেবল সংবাদের মাধ্যমেই পরিচিত হয়, তাই সংবাদকে এই দুটির মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা একটি চক্রক দোষ (দূর)।
দ্বিতীয়: তারা যা বলেছে তা এই উক্তির মাধ্যমে খন্ডিত হয় যে: "মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুসায়লিমা নবুওয়াতের দাবিতে সত্যবাদী।" এটি একটি সংবাদ, অথচ এটি সত্যও নয় আবার মিথ্যাও নয়, কারণ যদি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২১)
قيل: إنه صدق لكان مسيلمة صادقاً، ولو قيل: إنه كذب لكان محمد صلى الله عليه وسلم كاذباً1.
وأجاب أبو هشام2 "بأن هذا الخبر جار مجري خبرين: أحدهما خبر بصدق الرسول صلى الله عليه وسلم، والآخر بصدق مسيلمة، والخبران لا يوصفان بالصدق ولا الكذب، فكذلك ههنا، وإنما الذي يوصف بالصدق والكذب الخبر الواحد من حيث هو خبر. وليس بحق فإنه إنما ينزل منزلة الخبر من حيث إنه أفاد حكماً لشخصين، وهو غير مانع من وصفه بالصدق والكذب، بدليل الكذب في قول القائل: كل موجود حادث، وإن كان يفيد حكماً واحداً لأشخاص متعددة"3.
الثالث: أن تعريف الخبر بما يدخله الصدق والكذب، يؤدي إلى الدور لما تقدم أن الصدق لغة الخبر الموافق للمخبر به، والكذب الخبر
--------------------------------------------
বলা হয়েছে: যদি বলা হয় এটি সত্য, তবে মুসাইলিমা সত্যবাদী সাব্যস্ত হবে, আর যদি বলা হয় এটি মিথ্যা, তবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হবেন।১
আবু হাশিম২ উত্তর দিয়েছেন যে, "এই সংবাদটি দুটি সংবাদের স্থলাভিষিক্ত: এর একটি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যতার সংবাদ, আর অন্যটি মুসাইলিমার সত্যতার সংবাদ। আর দুটি সংবাদকে (একত্রে) সত্য বা মিথ্যা হিসেবে গুণান্বিত করা যায় না। এখানেও বিষয়টি সেরূপই। বরং সংবাদ হিসেবে কেবল একটি একক সংবাদকেই সত্য বা মিথ্যা হিসেবে গুণান্বিত করা যায়। কিন্তু এটি সঠিক নয়, কারণ এটি সংবাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণ হলো এটি দুই ব্যক্তির ব্যাপারে একটি বিধান প্রদান করেছে। আর এটি একে সত্য বা মিথ্যা হিসেবে গুণান্বিত করার পথে বাধা নয়। এর প্রমাণ হলো এই বক্তার কথার মিথ্যা হওয়া: 'প্রতিটি বিদ্যমান বস্তু নতুন বা সৃষ্ট', যদিও এটি একাধিক সত্তার জন্য একটি একক বিধান প্রদান করে।"৩
তৃতীয়ত: সংবাদের সংজ্ঞায় সত্য ও মিথ্যার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা বৃত্তায়নের (Circular Reasoning) দিকে নিয়ে যায়। কারণ ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আভিধানিক অর্থে সত্য হলো সংবাদটি বাস্তব বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া, আর মিথ্যা হলো সংবাদটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২২)
المخالف للمخبر به، وبهذا عرفهما أهل اللغة، فلا يعرفان إلا بالخبر، فتعريف الخبر بهما دور.
وأجاب القاضي عنه "بأن الخبر معلوم لنا، وما ذكرناه لم نقصد به تعرِيف الخبر، بل فصله وتمييزه عن غيره، فإذا عرفنا الصدق والكذب بالخبر فلا يكون دوراً".
ورد بأن تمييز الخبر عن غيره إنما يكون بالنظر إلى الصدق والكذب. فتمييز الصدق والكذب بالخبر يوجب توقف كل واحد من الأمرين في تمييزه عن غيره على الآخر، وهو عين الدور. ولذا قال ابن الحاجب ولا جواب عنه1.
الرابع: أن الصدق والكذب متقابلان، والواو للجمع، فيلزم الصدق والكذب معاً، وذلك محال، فيلزم أن لا يوجد خبر.
وأجيب عنه "بأن المحدود إنما هو جنس الخبر، وهو قابل لدخول الصدق والكذب فيه، كاجتماع السواد والبياض في جنس اللون.
ورد بأن الحد وإن كان لجنس المحدود، فلابد وأن يكون الحد موجوداً في كل واحد من آحاد الأخبار، وإلا لزم وصف الخبر دون حد الخبر، وهو ممتنع"2.
--------------------------------------------
সংবাদদাতার বিবৃতির পরিপন্থী হওয়া; আর ভাষাবিদগণ এভাবেই এ দুটিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। ফলে সংবাদ ব্যতীত এ দুটিকে চেনা সম্ভব নয়, তাই এ দুটির মাধ্যমে সংবাদের সংজ্ঞা প্রদান করা চক্রক দোষের সৃষ্টি করে।
কাজী এর উত্তরে বলেছেন যে, "সংবাদ আমাদের নিকট পরিজ্ঞাত। আমরা যা উল্লেখ করেছি তা দিয়ে সংবাদের সংজ্ঞা প্রদান আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং একে অন্য বিষয় থেকে পৃথক ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করাই উদ্দেশ্য। সুতরাং আমরা যদি সংবাদের মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যাকে চিনে নেই, তবে তা চক্রক দোষ হবে না।"
এর প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, সংবাদকে অন্য বিষয় থেকে পৃথক করা কেবল সত্য ও মিথ্যার নিরিখেই সম্ভব। সুতরাং সংবাদের মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ করা উভয় বিষয়ের প্রত্যেকটিকে অপরটির ওপর নির্ভরশীল করে দেয়, যা সরাসরি চক্রক দোষ। এজন্যই ইবনুল হাজিব বলেছেন যে, এর কোনো উত্তর নেই।
চতুর্থত: সত্য ও মিথ্যা হলো পরস্পরবিরোধী, আর ‘ওয়াও’ (এবং) অব্যয়টি সমষ্টির অর্থ দেয়। ফলে সত্য ও মিথ্যা একই সাথে থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা অসম্ভব। এর ফলে কোনো সংবাদের অস্তিত্ব না থাকা আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, "যাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে তা হলো সংবাদের সাধারণ শ্রেণি, যা সত্য ও মিথ্যা উভয়টিকেই গ্রহণ করার যোগ্যতা রাখে; যেমন রঙের শ্রেণির মধ্যে কালো ও সাদার সমাবেশ ঘটে।"
এর প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, সংজ্ঞাটি সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সাধারণ শ্রেণির জন্য হলেও প্রতিটি স্বতন্ত্র সংবাদের মধ্যে সেই সংজ্ঞার বিদ্যমান থাকা অপরিহার্য। অন্যথায় সংজ্ঞার শর্ত পূরণ ছাড়াই কোনো কিছুকে সংবাদ হিসেবে অভিহিত করা আবশ্যক হবে, যা অসম্ভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال أبو الحسين1 البصري:" الأولى أن نحده بأنه كلام يفيد بنفسه إضافة أمر من الأمور إلى أمر من الأمور نفياً أو إثباتاً"2.
وقيده بنفسه احترازاً عن الأمر المقتضى لوجوب الفعل لا بنفسه، بل بواسطة ما اقتضاه من طلب الفعل.
ورد بأنه منتقض بالنسب التقييدية فيما لو قيل: حيوان ناطق، فإنه أفاد بنفسه إثبات النطق للحيوان، مع أنه ليس بخبر.
فإن قال: إن هذا ليس بكلام، وأنه قيد الحد بالكلام.
أجيب بأن ما ادعاه لا يصح، لأن حد الكلام هو: "ما انتظم من الحروف المسموعة المميزة من غير اعتبار قيد آخر، وحد الكلام بهذا الاعتبار متحقق في هذا، فكان من أصله كلاماً"3.
وعرفه القرافي4بأنه هو: "المحتمل للتصديق والتكذيب لذاته"، وقيده بقوله: لذاته احترازاً من تعذر الصدق والكذب لأجل المخبر عنه،
--------------------------------------------
আবু আল-হুসাইন আল-বাসরি বলেছেন: "একে (খবরকে) এভাবে সংজ্ঞায়িত করা উত্তম যে, এটি এমন এক কালাম (বাক্য) যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে কোনো একটি বিষয়কে অন্য একটি বিষয়ের সাথে নেতিবাচক বা ইতিবাচকভাবে সম্পৃক্ত করার অর্থ প্রদান করে।"
তিনি এখানে 'স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে' শর্তটি যুক্ত করেছেন এমন নির্দেশ (আমর) থেকে বিরত থাকার জন্য, যা কোনো কাজ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে নয়, বরং কাজের তলব বা দাবির মাধ্যমে।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি বর্ণনামূলক সম্বন্ধের (নিসবাহ তাকিদিয়্যাহ) ক্ষেত্রে ত্রুটিযুক্ত; যেমন যদি বলা হয়: 'বাকশক্তিসম্পন্ন প্রাণী', কারণ এটি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবেই প্রাণীর জন্য বাকশক্তি সাব্যস্ত করার অর্থ প্রকাশ করছে, অথচ এটি কোনো খবর (বিবৃতিমূলক বাক্য) নয়।
যদি তিনি বলেন যে, এটি কোনো কালাম নয়, এবং তিনি সংজ্ঞাকে কালাম হওয়ার সাথে শর্তযুক্ত করেছেন।
উত্তরে বলা হয়েছে যে, তিনি যা দাবি করেছেন তা সঠিক নয়, কারণ কালামের সংজ্ঞা হলো: "অন্য কোনো শর্তের বিবেচনা ছাড়াই শ্রবণযোগ্য ও স্বতন্ত্র বর্ণমালার সুশৃঙ্খল বিন্যাস। আর এই বিবেচনায় কালামের সংজ্ঞা এখানে বিদ্যমান, তাই এটি মূলত কালাম হিসেবেই গণ্য।"
আল-কারাফি এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে: "যা স্বীয় সত্তার বিচারে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।" তিনি এখানে 'স্বীয় সত্তার বিচারে' কথাটি যুক্ত করেছেন সংবাদকৃত বিষয়ের কারণে সত্য বা মিথ্যা হওয়া অসম্ভব হওয়া থেকে বাঁচার জন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كخبر الله تعالى، وخبر رسوله صلى الله عليه وسلم، وخبر مجموع الأمة، أو ما علم صدقه بالضرورة.
قال: "لكن جميع هذه الأخبارات بالنظر إلى ذاتها مع قطع النظر عن المخبر به، والمخبر عنه، تقبلهما من حيث هي أخبار"1.
واعترض عليه من وجهين:
الأول: أن تعريف الخبر بالتصديق والتكذيب، يستلزم الدور، لتوقف التصديق والتكذيب على معرفة الصدق والكذب، المتوقف على معرفة الخبر، وقد تقدم ما فيه من الدور2.
الثاني: أنما ذكره من قبول تلك الأخبار للتصديق والتكذيب من حيث هي أخبار مقتضاه أن خبر الله تعالى من حيث هو خبر يقبل الكذب لذاته، وهذا ليس بصحيح، لأن خبر الله تعالى لا يقبل الكذب بحال3.
--------------------------------------------
যেমন আল্লাহ তায়ালার সংবাদ, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদ, সমগ্র উম্মতের ঐকমত্যপূর্ণ সংবাদ, অথবা যা নিশ্চিতভাবে সত্য বলে জানা যায়।
তিনি বলেন: "কিন্তু এই সমস্ত সংবাদকে যখন সংবাদদাতা এবং সংবাদের বিষয়বস্তু বিবেচনা না করে কেবল সংবাদের নিজস্ব সত্তার দিক থেকে দেখা হয়, তখন সংবাদ হওয়ার কারণে তা এই উভয়কে (সত্য ও মিথ্যা হওয়া) গ্রহণ করার সম্ভাবনা রাখে"১।
এর ওপর দুটি দিক থেকে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে:
প্রথমত: সংবাদকে সত্য বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার যোগ্যতার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা 'আদ-দাওর' বা চক্রক দোষের সৃষ্টি করে। কারণ, সত্য বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করা নির্ভর করে সত্য এবং মিথ্যার পরিচয়ের ওপর, যা আবার সংবাদের পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল। আর এই চক্রক দোষের বিষয়টি পূর্বেই আলোচিত হয়েছে২।
দ্বিতীয়ত: তিনি সংবাদ হওয়ার দিক থেকে এই সংবাদগুলোতে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার যে যোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন, তার দাবি হলো—আল্লাহ তায়ালার সংবাদও সংবাদ হওয়ার কারণে সত্তাগতভাবে মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। অথচ এটি সঠিক নয়, কারণ আল্লাহ তায়ালার সংবাদ কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা হওয়ার অবকাশ রাখে না৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال الآمدي1 "والمختار فيه أن يقال: الخبر عبارة عن اللفظ الدال بالوضع على نسبة معلوم أو سلبها على وجه يحسن السكوت عليه من غير حاجة إلى تمام مع قصد المتكلم به الدلالة على النسبة أو سلبها"2.
فقيده باللفظ، لأنه كالجنس للخبر وعده من أقسام الكلام، ويمكن أن يحترز به عن الخبر المجازي، وبالدال، احترازاً عن اللفظ المهمل، وبالوضع احترازاً عن اللفظ الدال على جهة الملازمة، وبقوله: على نسبة عن أسماء الأعلام، وعن كل ما ليس له دلالة على نسبة، وبمعلوم إلى معلوم، حتى يدخل فيه الموجود والمعدوم، وبقوله: سلباً وإيجاباً، حتى يعم مثل نحو "زيد في الدار، ليس في الدار"، وبقوله: يحسن السكوت عليه من غير حاجة إلى تمام احترازاً عن اللفظ الدال على النسب التقييدية، وبقوله: مع قصد المتكلم به الدلالة على النسبة أو سلبها، احترازاً عن صيغة الخبر المراد بها غير الخبر، كقوله تعالى: {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ
--------------------------------------------
আল-আমিদী১ বলেন, "এক্ষেত্রে পছন্দনীয় অভিমত হলো এই যে: সংবাদ (খবর) হলো এমন শব্দ যা পারিভাষিক সংস্থাপনের ভিত্তিতে কোনো জ্ঞাত বিষয়ের সাথে অন্য বিষয়ের সম্বন্ধ স্থাপন কিংবা সম্বন্ধ নাকচ করার ওপর এমনভাবে নির্দেশ করে, যার ওপর কথা শেষ করা সংগত হয় এবং পূর্ণতা লাভের জন্য অন্য কিছুর প্রয়োজন পড়ে না; আর সেই সাথে বক্তার উদ্দেশ্য থাকে সেই সম্বন্ধ বা তার অভাবকে নির্দেশ করা।"২।
তিনি একে 'শব্দ' দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছেন, কারণ এটি সংবাদের জন্য সাধারণ শ্রেণির মতো এবং তিনি একে বাক্যের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন। এর মাধ্যমে রূপক সংবাদ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। 'নির্দেশক' বলার মাধ্যমে অর্থহীন শব্দকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আর 'পারিভাষিক সংস্থাপন' বলার মাধ্যমে এমন শব্দকে বাদ দেওয়া হয়েছে যা কেবল অবিচ্ছেদ্যতার দিক থেকে নির্দেশ করে। আর 'সম্বন্ধের ওপর' কথাটি দ্বারা নামবাচক বিশেষ্য এবং এমন সব বিষয়কে বাদ দেওয়া হয়েছে যার সম্বন্ধের ওপর কোনো নির্দেশ নেই। আর 'জ্ঞাত বিষয় থেকে জ্ঞাত বিষয়' বলার মাধ্যমে এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিদ্যমান এবং অবিদ্যমান—উভয় বিষয়ই। আর 'নাকচ বা সাব্যস্ত করা' বলার মাধ্যমে এটি "যায়েদ ঘরে আছে", "যায়েদ ঘরে নেই"—এর মতো উদাহরণগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর 'যার ওপর কথা শেষ করা সংগত হয় এবং পূর্ণতা লাভের জন্য অন্য কিছুর প্রয়োজন পড়ে না' বলার মাধ্যমে এমন শব্দকে বাদ দেওয়া হয়েছে যা সীমাবদ্ধ সম্বন্ধের ওপর নির্দেশ করে। আর 'বক্তার উদ্দেশ্য থাকে সেই সম্বন্ধ বা তার অভাব নির্দেশ করা' কথাটির মাধ্যমে সংবাদের সেই রূপকে বাদ দেওয়া হয়েছে যা দ্বারা সংবাদ ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য নেওয়া হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর মায়েরা (তাদের সন্তানদের) দুধ পান করাবে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أَوْلادَهُنَّ} 1 وقوله جل شأنه: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ} 2 ونحو ذلك، حيث إنه لم يقصد به الدلالة على النسبة ولا سلبها3.
--------------------------------------------
তাদের সন্তানদের} ১ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তালাকপ্রাপ্ত নারীরা নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে} ২ এবং অনুরূপ অন্যান্য বাক্য, যেহেতু এর দ্বারা কোনো সম্বন্ধ (নিসবত) প্রমাণ করা কিংবা তা নাকচ করা উদ্দেশ্য নয়।৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تعريف الخبر عند علماء البلاغة:
الخبر هو: الكلام الذي له نسبة1 تامة2 خارجية، تطابق ذلك الكلام في الخارج، بأن يكونا ثبوتيين، أو سلبيين، أولا يطابقه، بأن تكون النسبة المفهومة من الكلام ثبوتية، والتي بينهما في الخارج والواقع سلبية أو بالعكس. ويكون تاما بحيث يحسن السكوت عليه.
فإن لم يكن له نسبة في الخارج تطابقه، فهو الإنشاء3. والذي أراه والله تعالى أعلم- أن هذا التعريف سالم من الاعتراضات، اللهم إلا أن يقال: إن الكلام غير مقيد باللفظ، وهو وإن كان حقيقياً في اللفظ إلا أنه يطلق على غيره مجاراً، وهذا الاعتراض وارد لو لم يصرح التفتازاني في التفريق بين الخبر والإنشاء بما يدفعه، وهو قوله: "إن الكلام إما أن يكون له نسبة بحيث تحصل من اللفظ
… " إلخ4. فأنت تراه صرح هنا
--------------------------------------------
অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণের নিকট খবরের সংজ্ঞা:
খবর হলো: এমন কথা যার একটি পূর্ণাঙ্গ২ বহির্গত সম্পর্ক১ রয়েছে, যা বহির্জগতে সেই কথার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়—উভয়টি ইতিবাচক বা নেতিবাচক হওয়ার মাধ্যমে—অথবা সংগতিপূর্ণ হয় না—এইভাবে যে, কথা থেকে উপলব্ধ সম্পর্কটি ইতিবাচক এবং বাস্তবতা ও বহির্জগতে তাদের মধ্যকার সম্পর্কটি নেতিবাচক, অথবা এর বিপরীত। আর এটি পূর্ণাঙ্গ হয় যাতে এর ওপর থামা বা নীরব থাকা সঠিক হয়।
আর যদি বহির্জগতে এর সাথে সংগতিপূর্ণ কোনো সম্পর্ক না থাকে, তবে তা হলো ইনশা৩। আর আমি যা মনে করি—এবং মহান আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন—এই সংজ্ঞাটি সকল আপত্তি থেকে মুক্ত; তবে যদি বলা হয়: কথা কেবল শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আর এটি যদিও প্রকৃত অর্থে শব্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তবুও রূপকভাবে অন্য ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগ ঘটে। এই আপত্তিটি আসত যদি তাফতাজানি খবর ও ইনশার মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে এমন কিছু স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করতেন যা একে প্রতিহত করে, আর তা হলো তাঁর উক্তি: "কথা হয়তো এমন হবে যার একটি সম্পর্ক রয়েছে যা শব্দের মাধ্যমে অর্জিত হয়
… " ইত্যাদি৪। সুতরাং আপনি দেখছেন যে তিনি এখানে স্পষ্ট করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بأن الكلام مقيد باللفظ، مع أنه لو لم يذكر هذا، لكان الاعتراض مدفوعاً بأن الأصل الحقيقة، إذ لا يعدل عنها إلا بدليل.
এই যুক্তিতে যে বক্তব্য শব্দের দ্বারা সীমাবদ্ধ; যদিও তিনি এটি উল্লেখ না করতেন, তবুও আপত্তিটি খণ্ডিত হতো এই কারণে যে, মূলনীতি হলো প্রকৃত অর্থ, যেহেতু কোনো প্রমাণ ব্যতীত তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تعريف الخبر عند النحويين
عرف النحويون الخبر بأنه هو الجزء الذي تحصل الفائدة به مع المبتدأ غير الوصف، فخرج فاعل الفعل، لأنه ليس مع المبتدأ، وخرج فاعل الوصف الذي يسد مسد الخبر. وقد عرفه ابن مالك في ألفيته وبين أنواعه بقوله:
والخبر الجزء المتم الفائدة
… كالله بَرٌّ والأيادي شاهدة
ومفرداً يأتي ويأتي جملة
… حاوية معنى الذي سيقت له
وأورد ابن عقيل على ابن مالك في تعريفه هذا الفاعل من نحو قام زيد، فإنه يصدق على زيد أنه الجزء المتمم للفائدة، وليس بخبر1.
وأجيب عنه بأن دلالة المقام والتمثيل بقوله: "كالله بَرٌّ والأيادي شاهدة" يدلان على اعتبار كون الجزء المتمم للفائدة مع المبتدأ وغير الوصف2.
وهذا التعريف كما ترى لا ينطبق على تعريف الخبر عند الأصوليين والبلاغيين، وذلك لأنه خاص بالنحويين، ولذا فهو شامل عندهم لنوعي الكلام: الخبر، والإنشاء. وأقرب من هذا التعريف إلى التعريفات السابقة تعريف موفق الدين بن يعيش حيث قال: "واعلم أن
--------------------------------------------
নাহুবিদদের নিকট খবরের সংজ্ঞা
নাহুবিদগণ খবরের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, এটি হলো এমন একটি অংশ যা মুবতাদার সাথে মিলে পূর্ণ উপকার বা ফায়দা প্রদান করে, তবে তা 'ওয়াসফ' (গুণবাচক শব্দ) নয়। এর ফলে ক্রিয়ার 'ফায়েল' (কর্তা) সংজ্ঞার বাইরে চলে গেল, কারণ তা মুবতাদার সাথে থাকে না। তদ্রূপ 'ওয়াসফ'-এর সেই ফায়েলও বাদ পড়ল যা খবরের স্থলাভিষিক্ত হয়। ইবনে মালিক তার 'আলফিয়্যা'য় খবরের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন:
খবর হলো সেই অংশ যা ফায়দাকে পূর্ণতা দান করে
… যেমন আল্লাহ দয়াবান এবং হাতসমূহ তার সাক্ষী
তা একক শব্দ হিসেবেও আসে আবার বাক্য হিসেবেও আসে
… যা ধারণ করে সেই অর্থকে যার উদ্দেশ্যে তা আনীত হয়েছে
ইবনে আকিল ইবনে মালিকের এই সংজ্ঞার ওপর 'কামা যাইদুন' (যাইদ দাঁড়িয়েছে)-এর মতো উদাহরণের 'ফায়েল'-এর মাধ্যমে আপত্তি তুলেছেন। কেননা যাইদ-এর ক্ষেত্রেও এটি সত্য যে সে ফায়দা বা বক্তব্যকে পূর্ণকারী অংশ, অথচ সে খবর নয়১।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, প্রসঙ্গের দাবি এবং তাঁর দেওয়া উদাহরণ— "যেমন আল্লাহ দয়াবান এবং হাতসমূহ তার সাক্ষী"—একথা প্রমাণ করে যে, ফায়দা পূর্ণকারী অংশটিকে অবশ্যই মুবতাদার সাথে হতে হবে এবং তা 'ওয়াসফ' হওয়া চলবে না২।
আর এই সংজ্ঞাটি যেমন আপনি দেখছেন, তা উসুলবিদ ও বালাগাতবিদদের নিকট খবরের সংজ্ঞার সাথে খাপ খায় না। কারণ এটি কেবল নাহুবিদদের জন্য নির্দিষ্ট, আর তাই এটি তাদের নিকট কালামের উভয় প্রকার: খবর (সংবাদ) এবং ইনশা (আকাঙ্ক্ষা/আদেশসূচক)—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। পূর্বোক্ত সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে মুয়াফফাকুদ্দিন ইবনে ইয়াইশ-এর সংজ্ঞাটি এই সংজ্ঞার সবচেয়ে কাছাকাছি, যেখানে তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩০)
خبر المبتدأ هو الجزء المستفاد الذي يستفيده السامع، ويصير مع المبتدأ كلاماً تاماً والذي يدل على ذلك أنه به يقع التصديق والتكذيب، ألا ترى أنك لو قلت: عبد الله منطلق، فالصدق والكذب إنما وقعا في انطلاق عبد الله، لا في عبد الله، لأن الفائدة في انطلاقه، وإنما ذكر عبد الله وهو معروف عند السامع، ليسند إليه الخبر الذي هو الانطلاق"1.
غير أنه يرد عليه ما أسلفت من أن الخبر عندهم شامل لنوعي الكلام: الخبر، والإنشاء.
--------------------------------------------
মুবতাদার খবর হলো সেই অংশ যা দ্বারা শ্রোতা উপকৃত হয় এবং যা মুবতাদার সাথে মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্যে রূপান্তরিত হয়। এর স্বপক্ষে দলিল হলো যে, এর মাধ্যমেই সত্যয়ন ও প্রত্যাখ্যান সংঘটিত হয়। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি যদি বলেন: 'আবদুল্লাহ প্রস্থানকারী', তবে সত্য ও মিথ্যা কেবল আবদুল্লাহর প্রস্থানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়, স্বয়ং আবদুল্লাহর সত্তার ক্ষেত্রে নয়; কারণ উপকারিতা বা সংবাদটি তার প্রস্থানের মধ্যেই রয়েছে। আর আবদুল্লাহর উল্লেখ তো কেবল এই কারণে যে, সে শ্রোতার নিকট পরিচিত, যেন তার দিকে খবর তথা প্রস্থানের বিষয়টি সম্বন্ধযুক্ত করা যায়।"১।
তবে এর পরিপ্রক্ষিতে আমি পূর্বে যা উল্লেখ করেছি তা-ই আপতিত হয় যে, তাদের নিকট খবর (বিধেয়) কালামের উভয় প্রকারকেই শামিল করে: সংবাদমূলক (খবর) এবং অ-সংবাদমূলক (ইনশা)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الخبر عند المحدثين
يرى بعض المحدثين أن الخبر مرادف للحديث مراعاة لمدلول اللفظ اللغوي في اللفظين، فيطلقان على المرفوع1 والموقوف والمقطوع2 فيشمل ماجاء عن النبي صلى الله عليه وسلم، والصحابي، والتابعي.
ويدل لذلك قول الحافظ ابن حجر في شرح نخبة الفكر: "الخبر عند علماء هذا الفن مرادف للحديث"3.
ويفرق البعض الآخر بينهما بأن "الحديث ماجاء عن النبي صلى الله عليه وسلم، والخبر ما جاء عن غيره"، ومن ثم قيل لمن يشتغل بالتواريخ وماشاكلها الإخباري، ولمن يشتغل بالسنة النبوية المحدث.
وقيل بينهما عموم وخصوص مطلق، فكل حديث خبر من غير عكس"4.
هل لاختلاف العلماء في تعريف الخبر أثر؟
--------------------------------------------
মুহাদ্দিসগণের নিকট খবরের সংজ্ঞা
কিছু মুহাদ্দিস মনে করেন যে, 'খবর' শব্দটি 'হাদিস'-এর সমার্থক, যা এই শব্দ দুটির আভিধানিক অর্থের প্রতি লক্ষ রেখে করা হয়েছে। ফলে এই উভয় শব্দই মারফু১, মাওকুফ এবং মাকতু২-এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), সাহাবী ও তাবিঈ থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার সবটুকুই অন্তর্ভুক্ত করে।
হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর 'শারহু নুখবাতিল ফিকার'-এ এ সপক্ষে বলেন: "এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট খবর হলো হাদিসের সমার্থক"৩।
অন্যরা আবার এ দুটির মাঝে পার্থক্য করে বলেন যে, "হাদিস হলো যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর খবর হলো যা অন্য কারো থেকে বর্ণিত হয়েছে।" এই কারণে যারা ইতিহাস ও এ জাতীয় বিষয় নিয়ে কাজ করেন, তাদের 'ইখবারি' বলা হয়, আর যারা সুন্নাহ নিয়ে কাজ করেন, তাদের বলা হয় 'মুহাদ্দিস'।
আবার বলা হয়েছে যে, এ দুটির মধ্যে সাধারণ ও বিশেষের নিরঙ্কুশ সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং প্রতিটি হাদিসই খবর, কিন্তু প্রতিটি খবর হাদিস নয়"৪।
খবরের সংজ্ঞায় আলেমদের এই মতপার্থক্যের কি কোনো প্রভাব আছে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩২)
لم يترتب على اختلاف العلماء في تعريف الخبر أثر، وغاية ما هناك أن الأصوليين أرادوا الدقة في الحد فصعبوه بما أورده بعضهم على بعض من استشكالات، وبما أجاب به البعض الآخر عن تلك الاستشكالات كما هو واضح مما نقلته عنهم.
أما غيرهم فكان طابع تعريفه البساطة والوضوح، ولذا لم يورد عليه مثل ما أورد على الأصوليين من الاستشكالات.
'খবর'-এর সংজ্ঞা নিরুপণে ওলামায়ে কেরামের মতপার্থক্যের ফলে কোনো বাস্তব প্রভাব সৃষ্টি হয়নি। মূল বিষয়টি হলো, উসুলবিদগণ সংজ্ঞার ক্ষেত্রে চরম সূক্ষ্মতা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন, ফলে একে অপরের প্রতি উত্থাপিত বিভিন্ন আপত্তি এবং সেসব আপত্তির বিপরীতে অন্যদের দেওয়া জবাবের কারণে তারা বিষয়টিকে জটিল করে তুলেছেন; যা তাদের থেকে আমার উদ্ধৃত বর্ণনা হতে স্পষ্ট।
তবে অন্যদের সংজ্ঞার বৈশিষ্ট্য ছিল সারল্য ও স্পষ্টতা, তাই উসুলবিদদের সংজ্ঞার ওপর যেরূপ আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সেরূপ হয়নি।
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
هل الخبر منحصر في الصدق والكذب؟
اختلف الناس في الخبر هل هو منحصر في الصدق والكذب؟ أم أنه غير منحصر فيهما؟ بل منه ما ليس بصدق ولا كذب، وهو واسطة. تم إن القائلين بأنه منحصر في الصدق والكذب، اختلفوا في تفسير الصدق والكذب.
فقالت طائفة: صدق الخبر مطابقة حكمه لاعتقاد المخبر سواء كان ذلك الاعتقاد صواباً أم خطأ، وكذبه عدم مطابقة حكمه لاعتقاد المخبر، فقول القائل السماء تحتنا معتقداً ذلك، صدق، وكذلك قوله: السماء فوقنا غير معتقد لذلك، كذب.
واستدلوا لذلك بأمرين:
الأول: أن من أخبر عن أمر يعتقده، ثم ظهر خلافه، لا يقاله في حقه إنه كاذب، ولكن يقال: أخطأ، بدليل ما روي عن عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها، أنها قالت فيمن هذا شأنه: "ما كذب، ولكنه أخطأ ووهم." ورد بأن المنفى هنا تعمد الكذب، بدليل تكذيب الكافر الكتابي إذا قال: الإسلام باطل، وتصديقه إذا قال: الإسلام حق.
الثاني: قوله تعالى: {إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ}
খবর (সংবাদ) কি কেবল সত্য এবং মিথ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ?
খবরের বিষয়ে মানুষ মতভেদ করেছে যে, তা কি কেবল সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ? নাকি তা এই দুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়? বরং এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা সত্যও নয় আবার মিথ্যাও নয়, বরং তা একটি মধ্যবর্তী অবস্থা। অতঃপর যারা সংবাদকে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ বলেছেন, তারা সত্য ও মিথ্যার সংজ্ঞায় মতভেদ করেছেন।
একটি দল বলেছে: সংবাদের সত্যতা হলো তার বক্তব্য সংবাদদাতার বিশ্বাসের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া, চাই সেই বিশ্বাস সঠিক হোক বা ভুল। আর তার মিথ্যা হওয়া হলো তার বক্তব্য সংবাদদাতার বিশ্বাসের সাথে অসংগতিপূর্ণ হওয়া। সুতরাং কোনো ব্যক্তির কথা—'আকাশ আমাদের নিচে'—যদি সে তা বিশ্বাস করে বলে, তবে তা সত্য। একইভাবে তার কথা—'আকাশ আমাদের উপরে'—যদি সে তা বিশ্বাস না করে বলে, তবে তা মিথ্যা।
তারা এর স্বপক্ষে দুটি দলিল পেশ করেছেন:
প্রথমটি: যে ব্যক্তি এমন কোনো বিষয়ে সংবাদ দেয় যা সে বিশ্বাস করে, অতঃপর যদি তার বিপরীত কিছু প্রকাশ পায়, তবে তার ক্ষেত্রে তাকে 'মিথ্যাবাদী' বলা হয় না, বরং বলা হয়: 'সে ভুল করেছে'। এর প্রমাণ উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলেছিলেন: "সে মিথ্যা বলেনি, বরং সে ভুল করেছে এবং বিভ্রান্ত হয়েছে।" এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এখানে যা অস্বীকার করা হয়েছে তা হলো ইচ্ছাকৃত মিথ্যা। এর প্রমাণ হলো আহলে কিতাব কাফিরের কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যখন সে বলে: 'ইসলাম বাতিল', এবং তাকে সত্যবাদী বলা যখন সে বলে: 'ইসলাম সত্য'।
দ্বিতীয়টি: মহান আল্লাহর বাণী: {যখন মুনাফিকরা আপনার নিকট আসে, তারা বলে: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল। আর আল্লাহ জানেন যে আপনি অবশ্যই তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।}
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
1 فإن الله تعالى كذبهم في قولهم: {إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّه} وإن كان مطابقاً للواقع، لعدم مطابقته لاعتقادهم.
وأجيب عما استدلوا به بما يأتي:
1 بأن المعنى: نشهد شهادة واطأت قلوبنا فيها ألسنتنا، فالتكذيب راجع إلى الشهادة باعتبار تضمنها خبراً كاذباً، لكونها لم تكن عن اعتقاد، بدليل تأكيد الجملة في قولهم: {إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّه} بإن، واللام، وكونها اسمية.
2 أو أن المعنى لكاذبون في تسمية هذا الإخبار شهادة، لأن الشهادة هي الإخبار بما يطابق الاعتقاد، فإن خلا عن الاعتقاد لم يكن شهادة.
3 أو أن المراد: لكاذبون في قولهم: {إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ} عند أنفسهم، لاعتقادهم أنه خبر على خلاف ما عليه حال المخبر عنه2.
وقال الجمهور: صدق الخبر مطابقة حكمه للواقع، وهو الخارج الذي يكون مطابقاً لنسبة الخبر، وكذبه عدم مطابقته للنسبة التي تكون في الخارج، وهذا هو المشهور، وعليه التعويل.
--------------------------------------------
১ কেননা আল্লাহ তাআলা তাদের এই বক্তব্যে: "নিশ্চয় আপনি আল্লাহর রাসূল" তাদের মিথ্যা সাব্যস্ত করেছেন; যদিও তা বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল, কিন্তু এটি তাদের বিশ্বাসের সাথে সংগতিপূর্ণ না হওয়ার কারণে।
তারা যা দিয়ে দলিল পেশ করেছে, তার জবাব নিম্নোক্তভাবে দেওয়া হয়েছে:
১. এর অর্থ হলো: আমরা এমন সাক্ষ্য দিচ্ছি যাতে আমাদের জিহবার সাথে আমাদের অন্তরের মিল রয়েছে। সুতরাং মিথ্যা সাব্যস্ত করার বিষয়টি সাক্ষ্যের প্রতি প্রত্যাবর্তন করে এই বিবেচনায় যে, এতে একটি মিথ্যা সংবাদ নিহিত আছে; যেহেতু তা বিশ্বাসপ্রসূত ছিল না। এর প্রমাণ হলো তাদের বক্তব্যে "নিশ্চয় আপনি আল্লাহর রাসূল" বাক্যটিকে 'ইন্না', 'লাম' এবং জুমলা ইসমিয়া হওয়ার মাধ্যমে তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদান করা।
২. অথবা এর অর্থ হলো, তারা এই সংবাদ প্রদানকে 'সাক্ষ্য' নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে মিথ্যাবাদী। কারণ সাক্ষ্য হলো এমন সংবাদ প্রদান যা বিশ্বাসের অনুকূল হয়; সুতরাং যদি তা বিশ্বাস থেকে মুক্ত হয় তবে তা সাক্ষ্য বলে গণ্য হয় না।
৩. অথবা উদ্দেশ্য হলো: তারা তাদের নিজেদের দৃষ্টিতে "নিশ্চয় আপনি আল্লাহর রাসূল" বলার ক্ষেত্রে মিথ্যাবাদী; কারণ তাদের বিশ্বাস ছিল যে, এই সংবাদটি যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে তার বাস্তব অবস্থার পরিপন্থী।২
জমহুর (অধিকাংশ আলেম) বলেছেন: সংবাদের সত্যতা হলো এর বক্তব্যের বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া; আর তা হলো সেই বাহ্যিক অবস্থা যা সংবাদের সম্পর্কের সাথে মিলে যায়। আর সংবাদের মিথ্যা হওয়া হলো বাহ্যিক বিষয়ের সাথে সেই সম্পর্কের অমিল হওয়া। এটিই প্রসিদ্ধ মত এবং এর উপরেই নির্ভর করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وأنكر الجاحظ1 انحصار الخبر في الصدق والكذب، وأثبت الواسطة، وزعم أن صدق الخبر مطابقته للواقع مع اعتقاد المطابقة، وكذبه عدم مطابقته للواقع مع اعتقاد أنه غير مطابق، وغيرهما ليس بصدق ولا كذب، وهي أربعة:
المطابقة مع اعتقاد عدم المطابقة، أو بدون الاعتقاد أصلاً، وعدم المطابقة مع اعتقاد المطابقة، أو بدون الاعتقاد أصلاً، ليس بصدق ولا كذب. بدليل قوله تعالى: {أَفْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِباً أَمْ بِهِ جِنَّةٌ} 2
وجه الاستدلال بالآية: أن الكفار عقلاء من أهل اللسان عارفون باللغة، حصروا أخبار النبي صلى الله عليه وسلم، بالبعث على ما يدل عليه تعالى: {إِذَا مُزِّقْتُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ إِنَّكُمْ لَفِي خَلْقٍ جَدِيدٍ} 3 في الافتراء والإخبار حال الجنة على سبيل منع الخلو، وليس إخباره حالة الجنة كذباً، لأنهم جعلوه قسيم الافتراء، ولا صدقاً لأنهم اعتقدوا عدم صدقه، فمرادهم
--------------------------------------------
এবং আল-জাহিয১ সংবাদ কেবল সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাকে অস্বীকার করেছেন এবং একটি মধ্যবর্তী অবস্থা প্রমাণ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, সংবাদের সত্যতা হলো বাস্তবতার সাথে তার সঙ্গতি থাকা এবং সেই সাথে সঙ্গতি থাকার বিশ্বাস পোষণ করা; আর সংবাদের মিথ্যা হওয়া হলো বাস্তবতার সাথে তার অসংগতি থাকা এবং সেই সাথে তা অসংগতিপূর্ণ হওয়ার বিশ্বাস রাখা। এছাড়া অন্যগুলো সত্যও নয়, মিথ্যাও নয়; আর সেগুলো হলো চারটি:
অসংগতির বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া, অথবা কোনো বিশ্বাস ছাড়াই সংগতিপূর্ণ হওয়া, এবং সংগতির বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও বাস্তবতার সাথে অসংগতিপূর্ণ হওয়া, অথবা কোনো বিশ্বাস ছাড়াই অসংগতিপূর্ণ হওয়া; এগুলো সত্যও নয়, মিথ্যাও নয়। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "সে কি আল্লাহর নামে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে, নাকি তার মাঝে উম্মাদনা রয়েছে?"২
আয়াতটি দ্বারা দলিল পেশের পদ্ধতি হলো: কাফেররা ছিল বুদ্ধিমান এবং ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন লোক। তারা পুনরুত্থান সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদকে—যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে: "যখন তোমরা সম্পূর্ণ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে, তখন তোমরা অবশ্যই এক নতুন সৃষ্টিতে পরিণত হবে"৩—মিথ্যা উদ্ভাবন এবং উম্মাদগ্রস্ত অবস্থায় সংবাদ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে যেন এই দুই অবস্থার বাইরে কিছু না থাকে। আর উম্মাদগ্রস্ত অবস্থায় তাঁর সংবাদ প্রদান করাকে তারা মিথ্যা হিসেবে গণ্য করেনি, কারণ তারা একে মিথ্যা উদ্ভাবনের সমান্তরাল একটি ভাগ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে; আর একে তারা সত্যও গণ্য করেনি কারণ তারা তাঁর সত্যতায় বিশ্বাস করত না। সুতরাং তাদের উদ্দেশ্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
بكونه أخبر حالة الجنة غير الصدق، وغير الكذب، ليكون ذلك بزعمهم بعض الخبر، فثبتت الواسطة1.
ورد بأن معنى: {أَمْ بِهِ جِنَّةٌ} أي أم لم يفتر، فعبر عن عدم الافتراء بالجنة، لأن المجنون لا افتراء له، لأن الكذب ما كان عن عمد، والمجنون لا عمد له، فالثاني ليس قسيماً للكذب، بل لما هو أخص منه، أعني الافتراء. وإن سلم فقد لا يكون خبراً، فيكون هذا حصراً للكذب بزعمهم في نوعيه: الكذب عن عمد، والكذب لا عن عمد2.
وأيضا ً"أنهم إنما حصروا أمره بين الكذب والجنة، لأن قصد الدلالة به على مدلوله شرط في كونه خبراً، والمجنون ليس له قصد صحيح، فصار كالنائم، والساهي إذا صدرت منه صيغة الخبر، فإنه لا يكون خبراً، وحيث لم يقصدوا صدقه، لم يبق إلا أن يكون كاذباً، أو لا
--------------------------------------------
তারা দাবি করে যে, উন্মাদনা বা পাগলামি অবস্থায় সংবাদ প্রদান করা সত্য কিংবা মিথ্যা কোনোটিই নয়, যাতে তাদের ধারণা অনুযায়ী এটি সংবাদের একটি অংশ হিসেবে গণ্য হয়। ফলে একটি মধ্যবর্তী অবস্থা সাব্যস্ত হয়১।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, {নাকি তার মধ্যে উন্মাদনা আছে} -এর অর্থ হলো: নাকি সে মিথ্যা উদ্ভাবন করেনি। এখানে মিথ্যা উদ্ভাবন না করাকে উন্মাদনা শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ উন্মাদের পক্ষে মিথ্যা উদ্ভাবন করা সম্ভব নয়। কেননা মিথ্যা হলো যা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়, আর উন্মাদের কোনো ইচ্ছা বা অভিপ্রায় থাকে না। সুতরাং দ্বিতীয় বিষয়টি মিথ্যার সমান্তরাল কোনো বিভাগ নয়, বরং এটি তার চেয়ে আরও বিশিষ্ট একটি বিষয়, অর্থাৎ মিথ্যা উদ্ভাবন। আর যদি মেনেও নেওয়া হয়, তবে এটি হয়তো সংবাদই নয়। ফলে এটি তাদের ধারণা অনুযায়ী মিথ্যাকে দুই প্রকারে সীমাবদ্ধ করা মাত্র: ইচ্ছাকৃত মিথ্যা এবং অনিচ্ছাকৃত মিথ্যা২।
আরও বলা হয়েছে যে, "তারা বিষয়টিকে মিথ্যা এবং উন্মাদনার মধ্যে এজন্যই সীমাবদ্ধ করেছে যে, সংবাদের মাধ্যমে তার অর্থের দিকে ইঙ্গিত করার ইচ্ছা পোষণ করা সংবাদ হওয়ার জন্য শর্ত। অথচ উন্মাদের কোনো সঠিক ইচ্ছা বা অভিপ্রায় থাকে না। ফলে সে নিদ্রিত বা বিভ্রান্ত ব্যক্তির মতো হয়ে যায়, যার মুখ থেকে সংবাদের রূপ নির্গত হলেও তা সংবাদ হিসেবে গণ্য হয় না। আর যেহেতু তারা তার সত্যবাদিতার ইচ্ছা করেনি, তাই এটি হয় মিথ্যাচার হবে অথবা হবে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
يكون ما أتى به خبراً، وإن كانت صورته صورة الخبر. أما أن يكون خبراً، وليس صادقاً فيه ولا كاذباً فلا"1.
ووافق الراغب الجاحظ في إثبات الواسطة، وإن زاد عليه اصطلاحاً لم يذهب إليه الجاحظ، وإليك ذلك فيما ذكره البناني قال: "حاصل مذهبه أن ما طابق الواقع مع اعتقاد المطابقة يسمى صدقاً، ومالم يطابق الواقع مع اعتقاد عدم المطابقة يسمى كذبا، ويخص هذين بالصدق، والكذب التامين وما طابق الواقع مع اعتقاد عدم المطابقة، أو طابق الاعتقاد دون الواقع، فيسمى كل منهما صدقاً وكذباً، من جهتين:
فالأول: صدق من جهة مطابقة الواقع، كذب من جهة عدم المطابقة للاعتقاد.
والثاني: صدق من جهة مطابقة الاعتقاد، كذب من جهة عدم مطابقة الواقع، ويسمى الصدق والكذب المشتمل عليهما هذان القسمان بالصدق والكذب غير التامين، لما علم أنه صدق من جهة دون جهة، كذب من جهة دون جهة، فهذه أربعة أقسام، وبقي قسمان وهما: مطابقة الواقع وعدمها مع عدم اعتقاد شيء، وهذان واسطة عنده لا يوصفان بصدق ولا كذب"2.
--------------------------------------------
তিনি যা উপস্থাপন করেছেন তা সংবাদ হতে পারে, যদিও তার রূপ সংবাদের মতো। কিন্তু এটি সংবাদ হবে অথচ সত্যও নয় আবার মিথ্যাও নয়, এমনটা হতে পারে না।"১।
রাগেব আল-জাহিযের সাথে মধ্যবর্তী স্তর সাব্যস্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন, যদিও তিনি পরিভাষার ক্ষেত্রে এমন কিছু বৃদ্ধি করেছেন যা জাহিয করেননি। আল-বাননানি যা উল্লেখ করেছেন তা এখানে দেওয়া হলো, তিনি বলেছেন: "তার মতের সারকথা হলো, যা বাস্তবতার সাথে মিল রাখে এবং মিল থাকার বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাকে সত্য বলা হয়। আর যা বাস্তবতার সাথে মিল রাখে না এবং মিল না থাকার বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাকে মিথ্যা বলা হয়। তিনি এই দুটির জন্য 'পূর্ণাঙ্গ সত্য' ও 'পূর্ণাঙ্গ মিথ্যা' পরিভাষাটি নির্দিষ্ট করেছেন। আর যা বাস্তবতার সাথে মিল রাখে কিন্তু মিল না থাকার বিশ্বাস থাকে, অথবা যা বিশ্বাসের সাথে মিল রাখে কিন্তু বাস্তবতার সাথে মিল রাখে না, তাদের প্রত্যেকটিকে দুটি দিক থেকে সত্য ও মিথ্যা উভয়ই বলা হয়:
প্রথমটি: বাস্তবতার সাথে মিল রাখার দিক থেকে সত্য, আর বিশ্বাসের সাথে মিল না থাকার দিক থেকে মিথ্যা।
দ্বিতীয়টি: বিশ্বাসের সাথে মিল রাখার দিক থেকে সত্য, আর বাস্তবতার সাথে মিল না থাকার দিক থেকে মিথ্যা। এই দুই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত সত্য ও মিথ্যাকে 'অপূর্ণাঙ্গ সত্য' ও 'অপূর্ণাঙ্গ মিথ্যা' বলা হয়। কারণ এটি জানা গেছে যে, এটি এক দিক থেকে সত্য কিন্তু অন্য দিক থেকে নয়, আবার এক দিক থেকে মিথ্যা কিন্তু অন্য দিক থেকে নয়। সুতরাং এগুলো হলো চারটি প্রকার। আর দুটি প্রকার বাকি থাকে, সেগুলো হলো: কোনো বিশ্বাস ছাড়াই বাস্তবতার সাথে মিল থাকা বা না থাকা। এগুলো তার কাছে মধ্যবর্তী স্তর, যাদেরকে সত্য বা মিথ্যা কোনোটি দ্বারাই গুণান্বিত করা যায় না।"২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
খাবারুল ওয়াহিদি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وحيث إن الراغب موافق للجاحظ في الدليل، ففي ما تقدم من الرد على ما استدل به الجاحظ كفاية.
এবং যেহেতু রাগিব দলীল বা প্রমাণের ক্ষেত্রে জাহিযের সাথে একমত, তাই জাহিয যা দ্বারা দলীল পেশ করেছেন তার ওপর ইতিপূর্বে বর্ণিত খণ্ডনই যথেষ্ট।