(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: -)
حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وحقيقة دعوته   (سليمان الحقيل)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وحقيقة دعوته

المؤلف: سليمان بن عبد الرحمن الحقيل

الناشر: -

الطبعة: الأولى، 1419/1999م

عدد الصفحات: 222

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবন এবং তাঁর দাওয়াতের হাকীকত   (সুলাইমান আল-হুকাইল)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবন এবং তাঁর দাওয়াতের হাকীকত

লেখক: সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান আল-হুকাইল

প্রকাশক: -

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯/১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌الفصل الأول: حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب

…

حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وحقيقة دعوته

بسم الله الرحمن الرحيم

تقديم بقلم معالي الشيخ / صالح بن عبد العزيز بن محمد آل الشيخ نائب وزير الشئون الإِسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد

الحمد لله الذي نصر عبده وأعز جنده وهزم الأحزاب وحده وصلى الله على محمد وآله وصحبه، أما بعد:

فإن الحديث عن المصلحين وأئمة الدين لا يبلى مهما تعدد، ولا يمل مهما تردد، لأن الحديث عنهم معين ثر، يستطيبه الكاتب والمتَحدث، كما يولع به المتلقي والسامع.

وإمامنا محمد بن عبد الوهاب أجزل الله له الثواب تعددت الكتابات عنه لكنها سير على أثر، والتجديد فيها فكرًا ولفظًا لم يتح، ولهذا بقيت الأجيال محتاجة، وإلى تجديد وتقريب تواقة.

ودعوة الإمام "التي هي دعوة الإسلام، ودعوة السلف الصالح" يمكن أن يتحدث عنها المؤرخ فيسهب، والأديب فيطنب، والعالم فيؤسس، والمربي فيقرب، وغيرهم.

وإحساس المربي بحاجة الأجيال إلى تذكيرهم بالدعوة وأسسها وأصولها وفروعها جعل هذا البحث الذي أقدم له ينهض من رقدته ويفزع من طول نومته.
প্রথম পরিচ্ছেদ: শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনী

…

শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনী এবং তাঁর দাওয়াতের প্রকৃত স্বরূপ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ইসলামিক বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহামান্য শায়খ সালেহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ আল আশ-শায়খের লিখিত ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন, তাঁর বাহিনীকে শক্তিশালী করেছেন এবং একাই সম্মিলিত শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর। অতঃপর:

সংস্কারক ও দ্বীনের ইমামদের সম্পর্কে আলোচনা যতই করা হোক না কেন তা কখনো পুরাতন হয় না, আর বারবার পুনরাবৃত্তি করলেও তাতে কোনো বিরক্তি আসে না। কারণ তাঁদের সম্পর্কে আলোচনা হলো এক সমৃদ্ধ প্রস্রবণ, যা লেখক ও বক্তার কাছে যেমন আনন্দদায়ক, তেমনি তা গ্রহণকারী ও শ্রোতার কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

আমাদের ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব—আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন—তাঁকে নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, তবে সেগুলো মূলত পূর্বের পদাঙ্ক অনুসরণ মাত্র। সেগুলোতে চিন্তা ও শব্দের ক্ষেত্রে নতুনত্ব ও আধুনিকায়নের সুযোগ খুব একটা হয়ে ওঠেনি। এই কারণেই পরবর্তী প্রজন্মগুলোর কাছে এর প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে এবং তারা একে নতুন আঙ্গিকে ও সহজবোধ্যরূপে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষী ছিল।

ইমামের দাওয়াত—যা মূলত ইসলামের দাওয়াত এবং সালাফে সালেহীনের দাওয়াত—এটি এমন এক বিষয় যে সম্পর্কে ঐতিহাসিক বিস্তারিত বর্ণনা দিতে পারেন, সাহিত্যিক অলংকৃত ভাষায় ফুটিয়ে তুলতে পারেন, আলিম এর তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন এবং শিক্ষাবিদ একে সাধারণের নিকট সহজবোধ্য করে তুলতে পারেন, আর এভাবেই অন্যরা।

দাওয়াতের মৌলিক ভিত্তি, মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে অনুভব করার কারণেই এই গবেষণাটি—যার ভূমিকা আমি লিখছি—তার দীর্ঘ নিদ্রা থেকে জেগে উঠেছে এবং দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা কাটিয়ে সচল হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ١٠)
وحقا إن المربي وعالم التربية لينظر إلى تليده كما ينظر إلى وليده، فبذاك وصلنا هنا، وبهذا سنصل إلى آماد بعيدة بإذن الملك الأعلى العزيز المقتدر.

وهذا النظر هو الذي دعا العالم التربوي والمعلم لأجيال الأستاذ الدكتور سليمان بن عبد الرحمن الحقيل أن يبعث مؤلفه هذا بعد طول عتاب من المؤلف يشكو فيه هجر كاتبه له مع حاجة الجيل الملحة لمثله.

ولما أتحفني أخي الكريم د / سليمان بنسخة منه وقلبت صفحاتها الذهبية، وأجلت النظر فيما كتب ضممت عتبي إلى عتب البحث فصرنا معاتبين، وحق لنا ذلك فإن هذا البحث متميز عن نظائره، فإذا بدء به قارئه مر فيه كما يمر بالروض الأنيق، لا ملال ولا كلال، لما اشتمل عليه من حسن عرض وتوسط في الأسلوب فلا يرتفع عنه الأديب، ولا يستوعره الشاب الأريب مع توثيق للنقول والنصوص المستشهد بها، وأدى للدعوة حقها فرد على شبه المناوئين بكلام علمائها وجواب أئمتها قضاء بالحق لا يرد، تمر في الروض وكأنك ترى الدعوة في صور متلاحقة، تروقك وتشوقك تأريخا مجيدا، وعقيدة راسخة هي عقيدة الإسلام ودعوة محمد صلى الله عليه وسلم.

ولم يتركك المربي حتى أوقفك على تأثر كثير من الدعوات الإصلاحية بدعوة إمامنا الأواب، إما في الكل أو في بعض و"هم درجات عند الله".

فأهنئ أخي على هذا البحث، كما أني أعتذر له عن قصر هذه
সত্যই, একজন শিক্ষক ও শিক্ষা-বিশেষজ্ঞ তাঁর পুরনো কর্মের প্রতি সেভাবেই দৃষ্টিপাত করেন যেভাবে তিনি তাঁর সন্তানের প্রতি করেন। সেই দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই আমরা আজ এখানে পৌঁছেছি, আর এর মাধ্যমেই মহান অধিপতি, পরাক্রমশালী ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর অনুমতিক্রমে আমরা সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে পৌঁছাব।

আর এই দৃষ্টিভঙ্গিই শিক্ষা-বিশেষজ্ঞ এবং প্রজন্মের শিক্ষক প্রফেসর ডক্টর সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান আল-হুকাইলকে অনুপ্রাণিত করেছে তাঁর এই রচনাটিকে পুনরায় প্রকাশ করতে, দীর্ঘকাল ধরে রচনার পক্ষ থেকে আসা সেই অনুযোগের পর যেখানে এটি লেখকের বিচ্ছেদের অভিযোগ করছিল, অথচ বর্তমান প্রজন্মের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম।

যখন আমার সম্মানিত ভাই ডক্টর সুলাইমান আমাকে এর একটি কপি উপহার দিলেন এবং আমি এর স্বর্ণালি পাতাগুলো উল্টালাম ও এতে যা লেখা আছে তার ওপর নিবিষ্টচিত্তে দৃষ্টিপাত করলাম, তখন আমি গবেষণাপত্রটির অনুযোগের সাথে নিজের অনুযোগকেও যুক্ত করলাম এবং আমরা উভয়েই অনুযোগকারী হয়ে গেলাম। আর আমাদের সেই অধিকার আছে, কারণ এই গবেষণাটি তার সমজাতীয় কাজগুলোর তুলনায় অনন্য। কোনো পাঠক যখন এটি পড়া শুরু করেন, তখন তিনি এর মধ্য দিয়ে এমনভাবে বিচরণ করেন যেন তিনি এক সুশোভিত বাগানে ভ্রমণ করছেন; এতে কোনো ক্লান্তি বা বিরক্তি আসে না। এর কারণ হলো এর চমৎকার উপস্থাপন শৈলী এবং পরিমিত ভাষাভঙ্গি, যা যেমন সাহিত্যিকের মানোত্তীর্ণ, তেমনি বুদ্ধিমান তরুণের কাছেও তা দুর্ভেদ্য নয়। সেইসাথে এতে উদ্ধৃত বর্ণনা ও পাঠ্যসমূহের যথাযথ তথ্যসূত্র প্রদান করা হয়েছে। এটি দাওয়াহর হক আদায় করেছে; বিরোধীদের সংশয়সমূহের জবাব দিয়েছে এর আলেমদের বক্তব্য এবং ইমামদের উত্তরের মাধ্যমে—এমন এক সত্য ফয়সালা যা খণ্ডন করা যায় না। আপনি এই উদ্যানে বিচরণ করার সময় মনে হবে যেন দাওয়াহকে একের পর এক চিত্রে দেখছেন, যা আপনাকে মুগ্ধ করবে এবং এক গৌরবময় ইতিহাস ও সুদৃঢ় আকিদার প্রতি আগ্রহী করবে; যা মূলত ইসলামের আকিদা এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াত।

শিক্ষক (লেখক) আপনাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়েননি যতক্ষণ না তিনি আপনাকে অবগত করেছেন আমাদের মহানুভব ইমামের দাওয়াতের মাধ্যমে বহু সংস্কারবাদী আন্দোলনের প্রভাবিত হওয়ার বিষয়টি, তা পূর্ণাঙ্গভাবে হোক কিংবা আংশিকভাবে; আর "আল্লাহর নিকট তাদের রয়েছে বিভিন্ন স্তর"।

তাই আমি আমার ভাইকে এই গবেষণার জন্য অভিনন্দন জানাই, এবং একই সাথে এই সংক্ষিপ্ত লেখার জন্য তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ١١)
المقدمة وقد وعدته بأن تكون كثيرة المباحث، جديدة السمات لكنها مرجأة إِلى طبعة أخرى فيها -إِن شاء الله- نظر عبرة، ودروس لهذه الدعوة أعلى الله لها منارا وأخمد لعدوها نارا.

وأحث الناشئة والشباب، كما أحث الباحثين أن يستفيدوا من هذا الكتاب، قارئين مطالعين وباحثين مدققين، كما أرغب أن لو جعلته المدارس هدية لكل طالب، فقد كتب بقلم من يحسن مخاطبة هؤلاء وأولئك.

أسأل الله لإمام الدعوة ومن نصره وأيده الرحمة ورفعة الدرجة، كما أسأل الله أن يبارك في أحفادهما وينصر بهما الملة إنه سميع مجيب، كما أسأله سبحانه أن يبارك في مؤلفه د / سليمان الحقيل وأن يجزيه عما كتب وتعب جزاء الدعاة والصالحين، وأن يوفقه وذريته وأحبابه إلى ما فيه عز الإسلام ونفع العباد.

وصلى الله وسلم على محمد وآله وصحبه.

وكتبه

صالح بن عبد العزيز بن محمد آل الشيخ

في الرياض: 26 / 10 / 1419هـ
ভূমিকা: আমি তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে এটি অনেক গবেষণামূলক আলোচনা সমৃদ্ধ এবং নতুন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হবে, কিন্তু তা পরবর্তী সংস্করণের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে, যাতে—আল্লাহ যদি চান—এই দাওয়াতের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় এবং পাঠ থাকবে; আল্লাহ এই দাওয়াতের মিনারকে সমুন্নত করুন এবং এর শত্রুর আগুন নির্বাপিত করুন।

আমি উদীয়মান প্রজন্ম ও যুবসমাজকে এবং সেই সাথে গবেষকদের এই কিতাব থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করছি, তারা যেন তা পাঠক হিসেবে অধ্যয়ন করেন এবং সূক্ষ্মদর্শী গবেষক হিসেবে যাচাই করেন। আমি আরও আকাঙ্ক্ষা করি যে, যদি বিদ্যালয়গুলো এটিকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য উপহার হিসেবে নির্ধারণ করত; কারণ এটি এমন এক কলম দ্বারা লেখা হয়েছে যা উভয় শ্রেণীর সাথে যথাযথভাবে সম্বোধন করতে পারদর্শী।

আমি দাওয়াতের ইমামের জন্য এবং যারা তাকে সাহায্য ও সমর্থন করেছেন তাদের জন্য আল্লাহর কাছে রহমত ও উচ্চ মাকাম প্রার্থনা করছি। আমি আল্লাহর কাছে আরও প্রার্থনা করছি যেন তিনি তাদের বংশধরদের মাঝে বরকত দান করেন এবং তাদের মাধ্যমে এই মিল্লাতকে সাহায্য করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। তেমনিভাবে আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন এর লেখক ড. সুলাইমান আল-হুকাইলকে বরকত দান করেন এবং তিনি যা লিখেছেন ও যে শ্রম দিয়েছেন তার জন্য তাকে দাঈ ও নেককারদের প্রতিদান দান করেন। আর তাকে, তার সন্তানসন্ততি ও তার প্রিয়জনদের সেই সব কাজের তাওফিক দান করেন যাতে ইসলামের মর্যাদা এবং বান্দাদের কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

আল্লাহ মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

এটি লিখেছেন

সালেহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল আশ-শাইখ

রিয়াদে: ২৬ / ১০ / ১৪১৯ হিজরি
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ١٣)
المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبد الله ورسوله.

أما بعد:

فالكتاب الذي أقدمه "حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وحقيقة دعوته " هو في أصله بحث قدمته في عام 1393 هـ إلى جامعة الأزهر للحصول على شهادة الماجستير في الحضارة والتاريخ.

ولقد قررت نشر هذا البحث بعد تنقيحه وتطويره بإضافة مواضيع جديدة إليه، من أجل إلقاء المزيد من الضوء على حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب ودعوته وجهوده وجهاده وبيان الجهود التي بذلها أنصاره من آل سعود من أجل التمكين لهذه الدعوة المباركة وحمايتها ونشرها..
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

অতঃপর:

আমি যে বইটি উপস্থাপন করছি, "শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবন ও তাঁর দাওয়াতের হাকিকত", এটি মূলত একটি গবেষণাপত্র যা আমি ১৩৯৩ হিজরিতে আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সভ্যতা ও ইতিহাসের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে জমা দিয়েছিলাম।

আমি এই গবেষণাপত্রটি পরিমার্জন ও নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করে উন্নত করার পর প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবন, তাঁর দাওয়াত, প্রচেষ্টা ও জিহাদের ওপর আরও আলোকপাত করা যায় এবং এই বরকতময় দাওয়াতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে, একে রক্ষা করতে ও ছড়িয়ে দিতে আল-সৌদ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত তাঁর সাহায্যকারীদের প্রচেষ্টাসমূহ স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ١٤)
كما يهدف الكتاب إلى بيان حقيقة الدعوة السلفية وذلك بتوضيح الأسس السليمة التي قامت عليها، وبيان الغاية النبيلة التي قامت من أجلها، وإبراز الأهداف السامية التي سعت إلى تحقيقها.

وبالإضافة إلى ذلك فإن الكتاب يهدف إلى كشف الشبهات التي أثيرت حول دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب والرد عليها بأسلوب علمي دقيق، كما يهدف الكتاب إلى تعزيز ثقافة المسلم، بالمعلومات الصحيحة عن حقيقة الدعوة السلفية ومسارها السليم، ليتمكن من تقديم المعلومات الصحيحة عن الدعوة لمن يجهلون حقيقتها ويرد بالأسلوب المناسب على خصومها. ذلك أن الدعوة تواجه اليوم نوعين من الخصوم:

النوع الأول من الخصوم يجهلون حقيقة هذه الدعوة وكل ما يعرفونه عنها من معلومات خاطئة حصلوا عليها من أعداء الدعوة الذين يعملون على تشويه سمعة الدعوة وصاحبها وأنصارها ودولتها، والواقع فإن هؤلاء الخصوم ضحايا للدعايات المغرضة للدعوة قبل أن يكونوا خصوما للدعوة نفسها، هؤلاء الخصوم المضللون بحاجة إلى من يعرفهم بحقيقة الدعوة السلفية لكي يستقيم موقفهم السلبي منها.

النوع الثاني من الخصوم يعرف حقيقة الدعوة السلفية لكنه ناصب الدعوة وصاحبها وأنصارها العداء، بسبب التعصب وخبث الطوية، والحقد والغيرة، وكراهية الخير للآخرين وحب الظهور، وعدم التفكير بعواقب الأمور … هذا النوع من الخصوم يحتاج من يتصدى للرد عليه
তেমনিভাবে এই বইটির লক্ষ্য হলো সালাফি দাওয়াতের প্রকৃত রূপ তুলে ধরা, আর তা হচ্ছে যেসব সঠিক ভিত্তির ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা স্পষ্ট করার মাধ্যমে, যে মহান উদ্দেশ্যে এটি সূচিত হয়েছে তা বর্ণনা করার মাধ্যমে এবং যে উচ্চ লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য এটি সচেষ্ট তা প্রকাশ করার মাধ্যমে।

এর পাশাপাশি, বইটির উদ্দেশ্য হলো শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত সম্পর্কে উত্থাপিত সংশয়গুলো উন্মোচন করা এবং একটি সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেগুলোর খণ্ডন করা। তেমনিভাবে বইটির লক্ষ্য হলো সালাফি দাওয়াতের হাকিকত ও এর সঠিক পথ সম্পর্কে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে মুসলিমদের জ্ঞানকে শক্তিশালী করা, যাতে তারা যারা এই দাওয়াতের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারে এবং এর বিরোধীদের উপযুক্ত পদ্ধতিতে জবাব দিতে পারে। কারণ বর্তমান সময়ে এই দাওয়াত দুই ধরণের বিরোধীর মুখোমুখি হচ্ছে:

প্রথম প্রকারের বিরোধীরা এই দাওয়াতের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অজ্ঞ এবং তারা এ সম্পর্কে যা কিছু জানে তা মূলত ভুল তথ্য, যা তারা সেইসব দাওয়াত বিরোধীদের কাছ থেকে পেয়েছে যারা দাওয়াত, এর প্রবর্তক, এর সমর্থক এবং এর রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার কাজে লিপ্ত। বাস্তবতা হলো, এই বিরোধীরা খোদ দাওয়াতের শত্রু হওয়ার আগে দাওয়াত সম্পর্কে বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচারের শিকার। এই বিভ্রান্ত বিরোধীদের এমন কাউকে প্রয়োজন যে তাদের সালাফি দাওয়াতের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অবগত করবে, যাতে এ সম্পর্কে তাদের নেতিবাচক অবস্থান সংশোধন হয়।

দ্বিতীয় প্রকারের বিরোধীরা সালাফি দাওয়াতের প্রকৃত রূপ জানে, কিন্তু তারা অন্ধ গোঁড়ামি, অন্তরের কলুষতা, ঘৃণা, ঈর্ষা, অন্যের কল্যাণ অপছন্দ করা, প্রসিদ্ধি লাভের আকাঙ্ক্ষা এবং পরিণাম চিন্তা না করার কারণে এই দাওয়াত, এর প্রবর্তক ও এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করে … এই ধরণের বিরোধীদের মোকাবিলার জন্য এমন কাউকে প্রয়োজন যে তাদের জবাব প্রদান করবে।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ١٥)
أن يكون لديه ثقافة واسعة لكي يقارع الحجة بالحجة والدليل بالدليل، والذي لا شك فيه أن من عرف حقيقة الدعوة السلفية وتسلح بالعلم النافع سوف يكون دليله أقوى وحجته أظهر وأبلغ من دليل وحجة خصوم الدعوة السلفية مهما غالطوا واختلقوا من الأكاذيب.. ومن هنا تأتي أهمية تعزيز ثقافة المسلم حول الدعوة السلفية لكي يعرف بحقيقتها ويدافع عنها عن علم وبصيرة.

يتألف الكتاب الذي أعد لتحقيق الأهداف النبيلة المذكورة أعلاه من أربعة فصول:

خصصت الفصل الأول فيه للحديث عن حال العالم الإسلامي الدينية بشكل عام، ونجد بشكل خاص عند ظهور دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، كما تحدث عن نسب الشيخ ونشأته ورحلاته في طلب العلم وعن اللقاء التاريخي بين الإمام محمد بن سعود حاكم الدرعية والشيخ محمد بن عبد الوهاب، وما ترتب على هذا اللقاء المبارك.. كما شمل هذا الفصل على بيان برامج الشيخ الإصلاحية في العيينة والدرعية. كما تضمن التعريف بأهم مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب.

وقد اختتمت هذا الفصل بالحديث عن سيرة حاكمين من حكام آل سعود الذين عاصرهم الشيخ وهما: محمد بن سعود المؤسس الأول للدولة السعودية الأولى وعبد العزيز بن محمد بن سعود المؤسس الثاني للدولة السعودية الأولى.

أما الفصل الثاني فقد خصصته للحديث عن حقيقة دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، والتي تتلخص في أن الشيخ لم يأت بمذهب جديد وأن
তার বিস্তৃত জ্ঞান থাকা উচিত যাতে সে যুক্তির বিপরীতে যুক্তি এবং প্রমাণের বিপরীতে প্রমাণ পেশ করতে পারে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি সালাফি দাওয়াতের হাকিকত জানে এবং নিজেকে উপকারী ইলমে সজ্জিত করে, তার দলিল হবে অধিক শক্তিশালী এবং তার যুক্তি হবে সালাফি দাওয়াতের বিরোধীদের দলিল ও যুক্তির চেয়ে অধিক স্পষ্ট ও প্রভাবশালী; তারা যতই বিভ্রান্তি ছড়াক বা মিথ্যা উদ্ভাবন করুক না কেন। এখান থেকেই সালাফি দাওয়াত সম্পর্কে একজন মুসলিমের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার গুরুত্ব প্রতীয়মান হয়, যাতে সে এর হাকিকত জানতে পারে এবং ইলম ও প্রজ্ঞার সাথে এর প্রতিরক্ষা করতে পারে।

উপরে উল্লিখিত মহৎ লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য প্রস্তুতকৃত এই বইটি চারটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:

আমি এর প্রথম অধ্যায়টি সাধারণভাবে মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় অবস্থা এবং বিশেষভাবে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব-এর দাওয়াতের আবির্ভাবকালীন অবস্থার আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি। এতে শায়খের বংশপরিচয়, শৈশব, ইলম অন্বেষণে তাঁর সফরসমূহ এবং দিরইয়ার শাসক ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ও শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের মধ্যকার ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ এবং এই বরকতময় সাক্ষাতের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায়ে উয়াইনাহ ও দিরইয়ায় শায়খের সংস্কারমূলক কর্মসূচির বর্ণনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই সাথে এতে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের পরিচিতিও প্রদান করা হয়েছে।

আমি এই অধ্যায়টি শায়খের সমসাময়িক আল-সউদ পরিবারের দুইজন শাসকের জীবনী আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি, তাঁরা হলেন: প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ বিন সউদ এবং প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন সউদ।

আর দ্বিতীয় অধ্যায়টি আমি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াতের হাকিকত আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি, যার সারসংক্ষেপ হলো যে, শায়খ কোনো নতুন মাযহাব নিয়ে আসেননি এবং
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ١٦)
جوهر دعوته هو تنقية التوحيد من شوائب الشرك. ولإيضاح حقيقة الدعوة تناولت في هذا الفصل بالتفصيل أربعة موضوعات هي: توضيح الأهداف الحقيقية لتسمية دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب السلفية بالوهابية. من قبل خصوم الدعوة السلفية كما بينت عقيدة الشيخ محمد بن عبد الوهاب من خلال مؤلفاته ومؤلفات أتباعه، وأوضحت الأسس العامة التي قامت عليها دعوته والغاية النبيلة التي قامت من أجلها الدعوة والأهداف السامية التي سعى الشيخ محمد بن عبد الوهاب إلى تحقيقها.

وفي الفصل الثالث تحدثت عن الشبهات التي أثيرت حول دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب من قبل خصوم الدعوة السلفية موضحًا حجم المعارضة التي واجهتها دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأسباب هذه المعارضة وأشهر المعارضين، واختتمت هذا الفصل باستعراض أهم الشبهات المثارة حول دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، ولأن رسالة سليمان بن سحيم التي بعث بها إلى الأمصار من أجل تشويه سمعة الدعوة السلفية وصاحبها اشتملت على أهم الشبهات المثارة حول دعوة الشيخ فقد أوردت هذه الرسالة بنصها ثم ذكرت جواب الشيخ محمد بن عبد الوهاب عليها، كما أوردت بعض ردود علماء الدعوة على هذه الشبهات.

في هذا الفصل ركزت في الرد على شبهتين من الشبه التي أثيرت حول دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، لأن هاتين الشبهتين ما زالتا تتداولان بين خصوم الدعوة في كثير من البلاد الإسلامية والشبهتان هما:
তাঁর দাওয়াতের মূল নির্যাস হলো তাওহীদকে শিরকের আবিলতা থেকে মুক্ত করা। আর দাওয়াতের প্রকৃত রূপ স্পষ্ট করার জন্য আমি এই অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে চারটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, সেগুলো হলো: সালাফী দাওয়াতের বিরোধীদের পক্ষ থেকে শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সালাফী দাওয়াতকে 'ওয়াহহাবী' নাম দেওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্যসমূহ স্পষ্ট করা; সেই সাথে শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের কিতাবসমূহ এবং তাঁর অনুসারীদের রচনার আলোকে তাঁর আকিদা বর্ণনা করেছি, এবং আমি সেই সাধারণ ভিত্তিগুলোও স্পষ্ট করেছি যার ওপর তাঁর দাওয়াত প্রতিষ্ঠিত এবং সেই মহান লক্ষ্য ও মহৎ উদ্দেশ্যসমূহও বর্ণনা করেছি যা অর্জনে শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব সচেষ্ট ছিলেন।

আর তৃতীয় অধ্যায়ে আমি সালাফী দাওয়াতের বিরোধীদের পক্ষ থেকে শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সংশয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি; যেখানে শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত যে পরিমাণ বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল, সেই বিরোধিতার কারণসমূহ এবং প্রসিদ্ধ বিরোধীদের পরিচয় স্পষ্ট করা হয়েছে। আর শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত সম্পর্কে উত্থাপিত প্রধান সংশয়গুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে আমি এই অধ্যায়টি সমাপ্ত করেছি। যেহেতু সুলাইমান বিন সুহাইম সালাফী দাওয়াত ও এর প্রবক্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য বিভিন্ন জনপদে যে পত্রটি পাঠিয়েছিলেন, তাতে শাইখের দাওয়াত সম্পর্কে উত্থাপিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাই আমি সেই পত্রটি হুবহু উদ্ধৃত করেছি এবং এরপর সে বিষয়ে শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জবাব উল্লেখ করেছি; সেই সাথে এই সংশয়গুলোর বিপরীতে দাওয়াতের আলেমদের কিছু খণ্ডনমূলক উত্তরও প্রদান করেছি।

এই অধ্যায়ে আমি শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত নিয়ে উত্থাপিত সংশয়গুলোর মধ্যে বিশেষ দুটি সংশয়ের উত্তর প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছি, কারণ অনেক মুসলিম দেশে দাওয়াতের বিরোধীদের মাঝে এই দুটি সংশয় এখনও প্রচলিত রয়েছে। সেই দুটি সংশয় হলো:
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ١٧)
الشبهة الأولى: اتهام الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأتباعه بأنهم خوارج وأن دعوة الشيخ امتداد لدعوة عبد الوهاب بن رستم الخارجي مؤسس الدولة الرستمية في المغرب.

الشبهة الثانية: اتهام الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأتْباعه بأنهم يكفرون المسلمين.

أما الفصل الرابع فقد تحدثت فيه عن النتائج والآثار المباركة لدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب موضحًا أسباب نجاح الدعوة السلفية ومدى انتشارها في نجد والجزيرة العربية والعالم الإسلامي. واختتمت هذا الفصل بذكر أمثلة لثناء العلماء على الشيخ محمد بن عبد الوهاب ووصفهم دعوته على حقيقتها ودفاعهم عنها.

وفي ختام هذه المقدمة أسأل الله العلي القدير أن يجعل عملنا خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفعنا بما علمنا وأن ينفع بما كتبنا وأن يجعله في ميزان حسناتنا يوم تنصب الموازين إنه سميع مجيب الدعاء. وصلى الله وسلم على نبينا وعلى آله وصحبه أجمعين.

أ. د. سليمان بن عبد الرحمن الحقيل

الرياض في 8 / 11 / 1418 هـ
প্রথম সংশয়: শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এবং তাঁর অনুসারীদের খারেজি হিসেবে অভিযুক্ত করা এবং এই দাবি করা যে শায়খের দাওয়াত হলো মরক্কোর রুস্তমিয়া রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা খারেজি আব্দুল ওয়াহহাব বিন রুস্তমের দাওয়াতেরই সম্প্রসারিত রূপ।

দ্বিতীয় সংশয়: শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এবং তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের কাফির আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ।

আর চতুর্থ অধ্যায়ে আমি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের বরকতময় ফলাফল ও প্রভাবসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি, যেখানে সালাফি দাওয়াতের সাফল্যের কারণসমূহ এবং নজদ, আরব উপদ্বীপ ও মুসলিম বিশ্বে এর প্রসারের পরিধি স্পষ্ট করেছি। শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের প্রতি আলেমদের প্রশংসার কিছু উদাহরণ উল্লেখ করে এবং তাঁর দাওয়াতের প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনা ও সেটির স্বপক্ষে তাঁদের প্রতিরক্ষামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে আমি এই অধ্যায়টি সমাপ্ত করেছি।

এই ভূমিকার শেষে আমি সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এই আমলকে একান্তভাবে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, যা আমরা শিখেছি তা দিয়ে আমাদের উপকৃত করেন এবং যা আমরা লিখেছি তা দিয়ে অন্যদের উপকৃত করেন এবং বিচার দিবসে যেদিন আমল মাপার পাল্লা স্থাপন করা হবে সেদিন এটিকে আমাদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও দোয়া কবুলকারী। আমাদের নবী এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

প্রফেসর ড. সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান আল-হুকাইল

রিয়াদ, ৮ / ১১ / ১৪১৮ হিজরি।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ١٩)
التّمهيد:

حالة العالم الإسلامي الدينية بشكل عام

ونجد بشكل خاص عند ظهور دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب

بدأت الدعوة الإصلاحية المباركة التي قام بها الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله بمساعدة ومؤازرة وحماية الإمام محمد بن سعود في مطلع القرن الثاني عشر الهجري الثامن عشر الميلادي. وتوضح المصادر التاريخية وكتاب السير على اختلاف مناهجهم وتباين أفكارهم الصورة القاتمة المؤلمة التي كانت عليها الحياة الدينية والسياسية والاجتماعية في هذا العصر.

وطبقا لهذه المصادر فإن العالم الإسلامي عند قيام هذه الدعوة الإصلاحية المباركة كان على حافة الانهيار يكابد انحطاط جميع المجالات الفكرية والعقدية، كما يموج بالفوضى والضياع والظلم والاضطهاد في مجال السياسة والاجتماع.. فلقد انحرف الناس في كثير من البلاد الإسلامية عن مفهوم الإسلام سواء في تصورهم لحقيقة الألوهية وخصائصها وصفاتها أم مظاهر حياتهم السياسية والاجتماعية والأخلاقيةففي مجال العقيدة نشأ الشرك وغلب على
ভূমিকা:

মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক ধর্মীয় অবস্থা

এবং বিশেষভাবে আমরা দেখতে পাই শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের আবির্ভাবের সময়কালে

শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক সূচিত মোবারক সংস্কারবাদী দাওয়াত ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদের সাহায্য, সমর্থন ও সুরক্ষায় দ্বাদশ হিজরি শতাব্দীর শুরুতে তথা আঠারোশ খ্রিস্টাব্দের প্রারম্ভে শুরু হয়েছিল। ঐতিহাসিক উৎসসমূহ এবং জীবনীকারগণ—তাদের ভিন্ন ভিন্ন কর্মপদ্ধতি ও মতাদর্শের ভিন্নতা সত্ত্বেও—এই যুগের ধর্মীয়, রাজনৈতিক এবং সামাজিক জীবনের যে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও বেদনাদায়ক চিত্র ছিল, তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন।

এই উৎসসমূহ অনুযায়ী, এই মোবারক সংস্কারবাদী দাওয়াত যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন মুসলিম বিশ্ব পতনের দ্বারপ্রান্তে ছিল এবং তা বুদ্ধিবৃত্তিক ও আকিদাগত সকল ক্ষেত্রে চরম অবনতির সম্মুখীন ছিল। পাশাপাশি রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় তা বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য, জুলুম ও নিপীড়নে জর্জরিত ছিল। অনেক মুসলিম দেশেই মানুষ ইসলামের প্রকৃত ধারণা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল; চাই তা উলুহিয়্যাতের (উপাস্যত্ব) হাকিকত এবং এর বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি সম্পর্কে তাদের উপলব্ধির ক্ষেত্রে হোক, অথবা তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক জীবনের বহিঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে হোক। আকিদার ক্ষেত্রে শিরক জন্ম নিয়েছিল এবং তা অধিকাংশের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল...
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٢٠)
تصورات كثير من الناس وأصبحت عبادة الأضرحة والقباب والتوسل بالمشائخ والصالحين أحياء وأمواتا جزءا من جوهر الدين. وانتشرت البدع والعادات والتقاليد التي حرمها الإسلام وغلبت الطرق الصوفية التي أصبحت المرجع الأساس عند هؤلاء الناس في أمور الدين.

يصور الشيخ سليمان بن سحمان هذه الحالة في نجد بقوله: "قد خلع"الناس" ربقة التوحيد والدين، وجدوا واجتهدوا في الاستغاثة والتعلق بغير الله تعالى من الأولياء والصالحين والأصنام والأوثان والشياطين " و "كثير منهم يعتقد النفع في الأحجار والجمادات، ويتبركون بالأشجار، ويرجون منها القبول في جميع الأوقات1. وما ذكره الشيخ بن سحمان لم يكن قاصرا على مصر دون مصر وإنما كان شاملا وعاما في كثير من بلاد المسلمين إلا من عصم ربي. "ففي مصر بلد"الأزهر" رفع الناس لواء العبادات الوثنية والدعاوى الفرعونية وقامت دولة الأدعياء الدراويش2.

والقارئ لكتاب الطبقات الكبرى للشعراني وغيره من الكتب التي كانت متداولة في ذلك العصر، يرى عجبا من العجب وكفرا بواحا. ومن ذلك ما يقول الشعراني: "إن الله وكل بقبر كل وليّ ملكا يقضي حاجة من سأل ذلك الوليّ".

--------------------------------------------

1 الشيِخ سليمان بن سحمان، الضياء الشارق، القاهرة، مطبعة المنار، 1344 هـ 5 ص 7.

2 جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، بحوث أسبوع الشيخ محمد بن عبد الوهاب، "الشبهات التي أثيرت حول دعوة الإمام محمد بن عبد الوهاب والرد عليها" إعداد عبد الكريم الخطيب، ج2، ص 204.
অনেক মানুষের ধারণা এবং মাজার ও গম্বুজ পূজা এবং জীবিত ও মৃত পীর ও নেককার ব্যক্তিদের মাধ্যমে উসিলা ধরা দ্বীনের মূল অংশে পরিণত হয়েছিল। ইসলাম কর্তৃক নিষিদ্ধ বিদআত, প্রথা ও ঐতিহ্যসমূহ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সুফি তরিকাগুলো প্রাধান্য লাভ করেছিল, যা দ্বীনী বিষয়ে এই সব মানুষের কাছে প্রধান নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

শায়খ সুলাইমান বিন সাহমান নজদের এই অবস্থা চিত্রিত করে বলেন: "মানুষ তাওহীদ ও দ্বীনের রশি ছিঁড়ে ফেলেছে এবং তারা মহান আল্লাহ ব্যতীত ওলী, নেককার ব্যক্তি, মূর্তি, প্রতিমা ও শয়তানদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা ও তাদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত সচেষ্ট ও কঠোর পরিশ্রমী হয়েছে।" এবং "তাদের অনেকেই পাথর ও জড়বস্তুর মধ্যে উপকারের বিশ্বাস রাখে, গাছপালা থেকে বরকত গ্রহণ করে এবং সর্বাবস্থায় সেগুলোর কাছ থেকে কবুলিয়াতের আশা করে।"১। শায়খ বিন সাহমান যা উল্লেখ করেছেন তা কেবল কোনো একটি বিশেষ অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আমার রব যাকে রক্ষা করেছেন তিনি ব্যতীত মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এটি ছিল ব্যাপক ও সাধারণ। "আল-আযহারের দেশ মিশরে মানুষ মূর্তিপূজার ন্যায় ইবাদত এবং ফেরাউনী দাবির পতাকা উত্তোলন করেছিল এবং সেখানে ভণ্ড দরবেশদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।"২।

আশ-শায়রানী রচিত 'আত্ব-ত্ববাকাতুল কুবরা' এবং সেই যুগে প্রচলিত অন্যান্য গ্রন্থ পাঠকারী ব্যক্তি সেখানে চরম বিস্ময়কর বিষয় এবং প্রকাশ্য কুফর দেখতে পাবেন। এর মধ্যে একটি হলো শায়রানী যা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক ওলীর কবরের সাথে একজন করে ফেরেশতা নিযুক্ত করেছেন, যে ওই ওলীর কাছে প্রার্থনা করে তার প্রয়োজন পূরণ করে।"

--------------------------------------------

১ শায়খ সুলাইমান বিন সাহমান, আদ-দিয়াউশ শারিক, কায়রো, মাতবাআতুল মানার, ১৩৪৪ হিজরি, পৃষ্ঠা ৭।

২ জামিআতুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ আল-ইসলামিয়া, বুহুস উসবু’ইশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, "আশ-শুবুহাতুল্লাতি উসিরাত হাওলা দাওয়াতিল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়ার রাদ্দু আলাইহা", প্রস্তুতিতে: আব্দুল কারীম আল-খাতীব, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২০৪।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٢١)
وفي الحجاز: أصبح الدعاء عند القبور من الأمور المألوفة عند كثير من الناس. فيما يفعل عند قبر خديجة في المعلاة وعند قبة أبي طالب من استغاثة وطلب شفاعة شيء تهول له النفوس، وفي اليمن يوجد قبور يتبرك بها العوام وفي الحديدة وحضرموت ويافع.. وفي الشام توجد قبور في دمشق وحلب وأقصى الشام يتبرك بها. وفي العراق قبر أبي حنيفة، ومعروف الكرخي، وكذلك ما يفعله الشيعة عند مشهد علي بن أبي طالب رضي الله عنه في النجف ومشهد الحسين والكاضم في كربلاء. وهذه القبور وغيرها يأتيها الناس فيستغيثون بها ويسألونها قضاء حاجاتهم وتفريج كرباتهم1.

لقد انتشرت الأضرحة والقبور في كل مكان وفي كل مدينة من العالم الإسلامي وأخذ علماء السوء يضعون الكتب للعامة لبيان كيفية الحج لهذه القبور وإقامة البدع عندها.

يصور الحالة التي وصل إليها المسلمون إبان ظهور دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب أبلغ تصوير الكاتب الأمريكي"لوتروب ستودارد" بقوله: "في القرن الثامن عشر كان العالم الإسلامي قد بلغ من التضعضع أعظم مبلغ، ومن التدني والانحطاط أعمق درك، فأربد جَوه وطبعت الظلمة كل صقع من أصقاعه ورجا من أرجائه وانتشر فيه

--------------------------------------------

1 حسين بن غنام، روضة الأفكار والأفهام المرتاد حال الإمام وتعداد غزوات ذوي الإسلام، ج1، القاهرة، 1368 هـ، ص 5 - ص 6.
এবং হিজাজে: কবরের নিকট দোয়া করা বহু মানুষের নিকট একটি পরিচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মোয়াল্লায় খাদিজার কবরের নিকট এবং আবু তালিবের গম্বুজের নিকট সাহায্য প্রার্থনা ও সুপারিশ কামনার ক্ষেত্রে যা করা হয়, তা এমন কিছু যা দেখে প্রাণ শিউরে ওঠে। এবং ইয়ামেনে এমন সব কবর রয়েছে যা থেকে সাধারণ মানুষ বরকত গ্রহণ করে, আর হুদায়দাহ, হাদরামাউত ও ইয়াফিয়াতেও... এবং শামে দামেস্ক, হালাব ও শামের দূরবর্তী প্রান্তগুলোতে এমন সব কবর রয়েছে যা থেকে বরকত হাসিল করা হয়। এবং ইরাকে আবু হানিফা ও মারুফ আল-কারখীর কবর রয়েছে, তদ্রূপ শিয়ারা নাজাফে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাশহাদ এবং কারবালায় হুসাইন ও কাজিমের মাশহাদে যা করে থাকে। এই সব কবর এবং অন্যান্য কবরের নিকট মানুষ আসে এবং সেগুলোর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে এবং সেগুলোর কাছে তাদের প্রয়োজন পূরণ ও বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করে ১।

মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি স্থানে এবং প্রতিটি শহরে মাজার ও কবরসমূহ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং ভ্রান্ত আলেমরা সাধারণ মানুষের জন্য এই সব কবরে হজ্জ করার নিয়মাবলী এবং সেখানে বিদআত পালনের বর্ণনা সম্বলিত কিতাব রচনা শুরু করেছিল।

শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াতের আবির্ভাবকালে মুসলিমরা যে অবস্থায় উপনীত হয়েছিল, মার্কিন লেখক "লোথ্রপ স্টোডার্ড" তার এক উক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত চমৎকারভাবে সেই চিত্র তুলে ধরেছেন: "অষ্টাদশ শতাব্দীতে মুসলিম বিশ্ব দুর্বলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে এবং অবনতি ও পতনের গভীরতম গহ্বরে পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে তার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল এবং অন্ধকার তার প্রতিটি প্রান্ত ও অঞ্চলকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল, আর সেখানে ছড়িয়ে পড়েছিল

--------------------------------------------

১ হুসাইন বিন গান্নাম, রওদাতুল আফকার ওয়াল আফহাম আল-মুরতাদ লিহালিল ইমাম ওয়া তেদাদ গাযাওয়াত যাউইল ইসলাম, খণ্ড ১, কায়রো, ১৩৬৮ হিজরী, পৃষ্ঠা ৫ - পৃষ্ঠা ৬।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٢٢)
فساد الأخلاق والآداب، وتلاشى ما كان باقيا من آثار التهذيب العربي واستغرقت الأمم الإسلامية في اتباع الأهواء والشهوات وماتت الفضيلة في الناس، وساد الجهل، وانقلبت الحكومات الإسلامية إلى مطايا استبداد وفوضى واغتيال"1.

"وأما الدين فقد غشيته غاشية سوداء، فألبست الوحدانية التي علمها صاحب الرسالة الناس سجفا من الخرافات وقشور الصوفية، دخلت المساجد من أرباب الصلوات وكثر عدد الأدعياء الجهلاء وطوائف الفقراء والمساكين يخرجون من مكان إلى مكان يحملون في أعناقهم التمائم والتعاويذ والسبحات، ويوهمون الناس بالباطل والشبهات ويرغبونهم في الحج إلى قبور الأولياء، ويزينون للناس التماس الشفاعة من دفناء القبور، وغابت عن الناس فضائل القرآن - فصار شرب الخمر والأفيون في كل مكان وانتشرت الرذائل وهتكت ستر الحرمات على غير خشية ولا استحياء، ونال مكة المكرمة والمدينة المنورة ما نال غيرهما من سائر مدن الإسلام، وعلى الجملة بدل المسلمون غير المسلمين وهبطوا مهبطا بعيد القرار فلو عاد صاحب الرسالة إلى الأرض في ذلك العصر ورأى ما كان يدعى الإسلام لغضب"2.

ويصور لنا ابن غنام الحالة التي وصلت إليها نجد قبل دعوة الشيخ

--------------------------------------------

1 لوتروب ستودارد، حاضر العالم الإسلامي، ترجمة عجاج نويهض، وتعليق شكيب أرسلان، ج 1، ص 295.

2 لوتروب ستودارد، حاضر العالم الإسلامي، ترجمة عجاج نويهض، وتعليق شكيب أرسلان، ج 1، ص 259.
চরিত্র ও শিষ্টাচারের বিপর্যয় ঘটল এবং আরবীয় শিষ্টাচারের অবশিষ্ট প্রভাবটুকুও বিলীন হয়ে গেল। মুসলিম জাতিসমূহ খেয়ালখুশি ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণে নিমজ্জিত হলো এবং মানুষের মাঝ থেকে সদ্গুণাবলী বিদায় নিল। অজ্ঞতা আধিপত্য বিস্তার করল এবং ইসলামি সরকারগুলো স্বৈরতন্ত্র, বিশৃঙ্খলা ও গুপ্তহত্যার বাহনে পরিণত হলো।১.

"আর দ্বীনের ওপর এক কালো ছায়া নেমে এল। রাসূল (সা.) মানুষকে যে একত্ববাদ শিক্ষা দিয়েছিলেন, তার ওপর কুসংস্কার ও সুফিবাদের অন্তঃসারশূন্য আবরণের পর্দা ফেলে দেওয়া হলো। নামাযিদের মাধ্যমে মসজিদে এসবের অনুপ্রবেশ ঘটল এবং মূর্খ দাবিদার ও ফকির-মিসকিনদের বিভিন্ন দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। তারা গলায় তাবিজ, কবজ ও তসবিহ ঝুলিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াত এবং মানুষকে মিথ্যা ও সংশয়ের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করত। তারা মানুষকে অলি-আউলিয়াদের কবরে হজ্জ করতে প্রলুব্ধ করত এবং মৃত ব্যক্তিদের কাছে সুপারিশ কামনার বিষয়টিকে মানুষের সামনে সুশোভিত করে তুলে ধরত। মানুষের মাঝ থেকে কুরআনের মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্ব হারিয়ে গেল—ফলে সব জায়গায় মদ্যপান ও আফিম সেবন বৃদ্ধি পেল, অনাচার ছড়িয়ে পড়ল এবং কোনো প্রকার ভয় বা লজ্জা ছাড়াই পবিত্রতার পর্দা লুণ্ঠিত হতে লাগল। মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারাও অন্যান্য ইসলামি শহরের মতো একই দশায় পতিত হলো। মোটের ওপর, মুসলিমরা অমুসলিমদের ন্যায় বদলে গেল এবং তারা এক গভীর অতল গহ্বরে পতিত হলো। সেই যুগে যদি রাসূল (সা.) পৃথিবীতে ফিরে আসতেন এবং দেখতেন যে একেই ইসলাম বলা হচ্ছে, তবে তিনি অবশ্যই ক্রুদ্ধ হতেন।"২.

ইবনে গান্নাম শাইখের দাওয়াতের পূর্বে নজদের যে অবস্থা হয়েছিল তার চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেন।

--------------------------------------------

১. লোথ্রোপ স্টোডার্ড, হাযিরুল আলামিল ইসলামি, অনুবাদ: আজজাজ নুওয়াইহিদ এবং টীকা: শাকিব আরসলান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯৫।

২. লোথ্রোপ স্টোডার্ড, হাযিরুল আলামিল ইসলামি, অনুবাদ: আজজাজ নুওয়াইহিদ এবং টীকা: শাকিব আরসলান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৫৯।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٢٣)
محمد بن عبد الوهاب بقوله: "فقد كان في بلدان نجد من ذلك أمر عظيم وهول مقيم، كان الناس يقصدون قبر زيد بن الخطاب في الجبيلة يدعونه لتفريج الكرب، وكشف النوب، وقضاء الحاجات، وكانوا يزعمون أن في قرية في الدرعية قبور بعض الصحابة فعكفوا على عبادتها وصار أهلها أعظم في صدورهم من الله خوفا، ورهبة فتقربوا إليهم، وهم يعنون أنهم أسرع إلى تلبية حوائجهم من الله.... ". وكانوا يأتون إلى شعيب غبيرا من المنكر ما لا يعهد مثله يزعمون أن فيه قبر ضرار بن الأزور. وفي بلدة"العفرا" ذكر النخل المعروف"بالفحال" يذهب إليه الرجال والنساء ويفعلون عنده من المنكرات ما ينكره الدين، فالرجل الفقير يذهب إلى الفحال ليوسع له رزقه، والمريض يذهب إليه ليشفيه من المرض. والمرأة التي لم يتقدم لها خاطب تتوسل إليه في خضوع وتقول له: يا فحل الفحول ارزقني زوجا قبل الحول.

وكان هناك شجرة تدعى شجرة الذئب يؤمها النساء اللاتي يرزقن بمواليد ذكور ويعلقن عليها الخرق البالية لعل أولادهن يسلمون من الموت والحسد.

وكان في الخرج رجل يدعى"تاج" نهج الناس فيه سبل الطواغيت فانهالت عليه النذر واعتقدوا فيه النفع والضرر وكانوا يذهبون للحج إليه أفواجا وينسجون حوله كثيرا من الأساطير والخرافات … 1.

ويلخص لنا الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن حال العصر

--------------------------------------------

1 حسين بن غنام، تاريخ نجد، ص 11 - ص 12 بتصرف.
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বলেন: "নজদ অঞ্চলের শহরগুলোতে এই জাতীয় এক মহা বিপর্যয় ও স্থায়ী আতঙ্ক বিরাজমান ছিল। মানুষ বিপদ মুক্তি, মুসিবত দূরীকরণ এবং প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে জুবায়লার জায়েদ বিন খাত্তাবের কবরে যেত এবং তাকে আহ্বান করত। তারা দাবি করত যে, দিরইয়াহর একটি গ্রামে কিছু সাহাবীর কবর রয়েছে, ফলে তারা সেগুলোর ইবাদতে নিমগ্ন হতো। তাদের অন্তরে আল্লাহর চেয়েও তাদের প্রতি ভয় ও ভীতি অধিক ছিল। ফলে তারা তাদের নৈকট্য কামনা করত; তাদের বিশ্বাস ছিল যে, তারা আল্লাহর চেয়েও দ্রুত তাদের প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম..."। তারা 'শুআইব গুবাইরা' নামক স্থানে এমন সব অপকর্মে লিপ্ত হতো যার কোনো নজির পাওয়া যায় না; তারা দাবি করত যে সেখানে দ্বিরার বিন আযওয়ারের কবর রয়েছে। এবং 'আফরা' শহরে 'ফাহহাল' নামে পরিচিত একটি পুরুষ খেজুর গাছের কথা উল্লেখ রয়েছে, যেখানে নারী ও পুরুষরা যাতায়াত করত এবং সেখানে এমন সব গর্হিত কাজ করত যা ধর্ম অস্বীকার করে। দরিদ্র ব্যক্তি ফাহহালের কাছে যেত তার রিযিক প্রশস্ত করার আশায়, আর অসুস্থ ব্যক্তি যেত যেন সে তাকে রোগ থেকে আরোগ্য দান করে। আর যে নারীর বিবাহের প্রস্তাব আসত না, সে বিনীতভাবে তার নিকট মিনতি করত এবং বলত: হে পুরুষদের শ্রেষ্ঠ পুরুষ, আমাকে বছরের আগেই একজন স্বামী দান কর।

সেখানে 'শাজারাতুয যিব' (নেকড়ে বৃক্ষ) নামে একটি গাছ ছিল, যেখানে সেই মহিলারা আসত যাদের পুত্রসন্তান জন্মলাভ করত এবং তারা সেখানে পুরনো জীর্ণ কাপড় ঝুলিয়ে রাখত যাতে তাদের সন্তানরা মৃত্যু ও হিংসা থেকে রক্ষা পায়।

'খারজ' অঞ্চলে 'তাজ' নামে এক ব্যক্তি ছিল, যার ব্যাপারে মানুষ তাগুতদের পথ অনুসরণ করেছিল। ফলে তার কাছে মানতের ছড়াছড়ি হতে লাগল এবং তারা তাকে উপকার ও অপকারের মালিক বলে বিশ্বাস করত। তারা দলে দলে তার কাছে হজের ন্যায় গমন করত এবং তাকে কেন্দ্র করে অনেক উপকথা ও কুসংস্কারের জাল বুনত … ১।

শায়খ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান আমাদের জন্য সেই যুগের অবস্থার সারসংক্ষেপ তুলে ধরছেন:

--------------------------------------------

১ হুসাইন বিন ঘান্নাম, তারিখু নজদ, পৃষ্ঠা ১১ - পৃষ্ঠা ১২ পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٢٤)
الذي ظهر فيه الشيخ محمد بن عبد الوهاب بقوله: "كان أهل عصره ومصره في تلك الأزمان قد اشتدت غربة الإسلام بينهم وعفت آثار الدين لديهم، وانهدمت قواعد الملة الحنيفية، وغلب على الأكثرين ما كان عليه أهل الجاهلية وانطمست أعلام الشريعة في ذلك الزمان، وغلب الجهل والتقليد والإعراض عن السنة والقرآن وشب الصغير لا يعرف من الدين إِلا ما كان عليه أهل تلك البلدان، وهرم الكبير على ما تلقاه عن الآباء والأجداد، وأعلام الشريعة مطموسة، ونصوص التنْزيل وأصول السنة فيما بينهم مدروسة، وطريق الآباء والأسلاف مرفوعة الأعلام وأحاديث الكهان والطواغيت مقبولة غير مردودة ولا مدفوعة قد خلعوا ربقة التوحيد والدين وجدّوا واجتهدوا في الاستغاثة والتعلق بغير الله من الأولياء والصالحين والأوثان والأصنام والشياطين، وعلماؤهم ورؤساؤهم على ذلك مقبلون وببحر الأجاج ساربون به قد أغشتهم العوائد والمألوفات وحبستهم الشهوات والإرادات عن الارتفاع إلى قلب الهدى من النصوص المحكمات والآيات البينات … " 1.

هذه نبذة موجزة عن الحالة الدينية في العالم الإسلامي بشكل عام ونجد بشكل خاص عند ظهور دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب أوردتها كمدخل للحديث عن حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وحقيقة دعوته التي سوف نتناولها إن شاء الله بالتفصيل.

--------------------------------------------

1 عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ، مجموعة الرسائل والمسائل النجدية. ج 3، ص 381 - ص
যে সময়ে শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আবির্ভূত হয়েছিলেন সেই অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে যে: "সেই সময়গুলোতে তাঁর সমসাময়িক এবং তাঁর দেশের অধিবাসীদের মাঝে ইসলামের অপরিচিতি চরম আকার ধারণ করেছিল এবং তাদের নিকট দীনের চিহ্নসমূহ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। একনিষ্ঠ মিল্লাতের ভিত্তিগুলো ধসে পড়েছিল এবং অধিকাংশ মানুষের ওপর জাহেলিয়াতের যুগের রীতিনীতি প্রাধান্য বিস্তার করেছিল। সেই সময়ে শরীয়তের নিশানসমূহ মুছে গিয়েছিল এবং অজ্ঞতা, অন্ধ অনুসরণ ও সুন্নাহ ও কুরআন থেকে বিমুখতা প্রবল হয়ে উঠেছিল। ছোটরা বড় হচ্ছিল এই অবস্থায় যে, তারা তাদের দেশের লোকদের মাঝে প্রচলিত প্রথা ছাড়া দীনের আর কিছুই জানত না। আর বৃদ্ধরা তাদের বাপ-দাদার কাছ থেকে যা প্রাপ্ত হয়েছে তার ওপরই বার্ধক্যে উপনীত হতো। শরীয়তের নিশানগুলো ছিল বিলুপ্ত এবং তাদের মাঝে অবতীর্ণ ওহি ও সুন্নাহর মূলনীতিগুলো ছিল অবহেলিত। পূর্বপুরুষদের পথই ছিল সমুন্নত নিশান, আর গণক ও তাগুতদের কথাগুলো ছিল গ্রহণযোগ্য, যা বর্জন বা খণ্ডন করা হতো না। তারা তাওহিদ ও দীনের রশি ছিঁড়ে ফেলেছিল এবং আল্লাহ ব্যতীত আউলিয়া, নেককার ব্যক্তি, প্রতিমা, মূর্তি ও শয়তানদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার বিষয়ে কঠোর প্রচেষ্টা ও সাধনা করত। আর তাদের আলেম ও নেতারা সেদিকেই ধাবিত ছিল এবং তিক্ত লোনা সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিল। রীতিনীতি ও পরিচিত অভ্যাসসমূহ তাদের আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল এবং প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনাগুলো তাদের সুস্পষ্ট দলীল ও উজ্জ্বল আয়াতসমূহ থেকে হিদায়াতের মূল মর্মমূলে আরোহণ করতে বাধা দিচ্ছিল … " ১।

এটি শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের আবির্ভাবকালে সাধারণভাবে মুসলিম বিশ্ব এবং বিশেষভাবে নজদ অঞ্চলের ধর্মীয় অবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র, যা আমি শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনী ও তাঁর দাওয়াতের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে আলোচনার ভূমিকা হিসেবে পেশ করেছি, যা আমরা ইনশাআল্লাহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

--------------------------------------------

১. আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান আল-শাইখ, মাজমুআতুর রাসায়িল ওয়াল মাসায়িল আন-নাজদিয়া। খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৮১।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٢٥)
2- نشأة الشيخ محمد بن عبد الوهاب

نسبه:

ولد الشيخ محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي بن محمد بن أحمد بن راشد ابن بريد بن مشرف التميمي سنة 1115هـ"1703 م" فأصله ينحدر إلى قبيلة تميم تلك القبيلة التي حافظت على موطنها في إقليم نجد واستقرت واستوطنت وتركت حياة البدو واشتغلت بأوجه النشاط الأخرى من زراعة وتجارة1.

والمعروف عن أسرة الشيخ أنه ما كان في نجد في القرون الخمسة الأخيرة أسرة أنجبت من العلماء مثلما أنجبت هذه الأسرة، لقد كان جده سليمان بن علي مرجع المستفتين في زمانه وملاذ العلماء والمتعلمين، وكان فقيها عارفا بالمذاهب يقول ابن بشر: "أن جده الأعلى سليمان بن علي كان عالم نجد في زمانه، له اليد الطولى في العلم، وإليه انتهت الرياسة في نجد، ضربت إليه آباط الإبل، صنف وأفتى. وكان علماء نجد في زمانه يرجعون إليه في كل مشكلة من الفقه وغيره. أخذ العلم

--------------------------------------------

1 محمود طه جغرافية شبه الجزيرة العربية ج 2، القاهرة، 1965 م، ص 145.

382
২- শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের বেড়ে ওঠা

তাঁর বংশপরিচয়:

শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে সুলাইমান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে রাশিদ ইবনে বারীদ ইবনে মুশাররাফ আত-তামিমী ১১১৫ হিজরি (১৭০৩ খ্রিস্টাব্দ) সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মূল উৎস তামীম গোত্র, যে গোত্রটি নজদ অঞ্চলে তাদের জন্মস্থান অক্ষুণ্ণ রেখেছিল এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস ও বসতি স্থাপন করেছিল। তারা যাযাবর জীবন ত্যাগ করে কৃষি ও ব্যবসার মতো অন্যান্য কর্মতৎপরতায় আত্মনিয়োগ করেছিল১।

শাইখের পরিবার সম্পর্কে এটি সুপরিচিত যে, গত পাঁচ শতাব্দীতে নজদে এমন কোনো পরিবার ছিল না যারা এই পরিবারের মতো এত অধিক সংখ্যক আলিম বা পণ্ডিত জন্ম দিয়েছে। তাঁর দাদা সুলাইমান ইবনে আলী ছিলেন তাঁর সমসাময়িক কালের ফতোয়াপ্রার্থীদের মূল আশ্রয়স্থল এবং আলিম ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়। তিনি ছিলেন মাযহাবসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত একজন ফকীহ। ইবনে বিশর বলেন: "তাঁর ঊর্ধ্বতন পিতামহ সুলাইমান ইবনে আলী ছিলেন তাঁর সময়ের নজদের শ্রেষ্ঠ আলিম, ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর ছিল সুদীর্ঘ হাত, এবং নজদের নেতৃত্বের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল তাঁর নিকট। তাঁর নিকট পৌঁছাতে উটের বগল বা পার্শ্বদেশ আঘাত করা হতো (অর্থাৎ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সফর করে আসত), তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং ফতোয়া প্রদান করেছেন। তাঁর সময়ের নজদের আলিমগণ ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ের প্রতিটি জটিল সমস্যায় তাঁরই শরণাপন্ন হতেন। তিনি জ্ঞান অর্জন করেন...

--------------------------------------------

১ মাহমুদ তাহা, জুগরাফিয়াতু শিবহিল জাযিরাতিল আরাবিয়্যাহ (আরব উপদ্বীপের ভূগোল), ২য় খণ্ড, কায়রো, ১৯৬৫ খ্রি., পৃ. ১৪৫।

৩৮২
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٢٦)
عن علماء أجلاء منهم الشيخ أحمد بن محمد بن مشرف وغيره "1.

كان لسليمان ولدان هما عبد الوهاب وإبراهيم اشتغلا بالعلم وبرزا فيه أما إبراهيم فقد اقتصر على القراءة والتعليم، وكان كأبيه يفتي ويدرس.

وأما عبد الوهاب فقد تولى قضاء العيينة في إمارة عبد الله بن حمد بن معمر، ولكنه عزل فيما بعد عندما تولى إمارة العيينة محمد بن حمد، وكان لعبد الوهاب ولدان هما محمد وسليمان. فسليمان كان عالما فقيها وقد خلف أباه في قضاء حريملاء وكان من أشد أعداء الدعوة في أول الأمر ولكن الله هداه فيما بعد.

أما محمد فهو صاحب الدعوة الإصلاحية في نجد والذي سوف نتكلم عنه بالتفصيل في الفصول الآتية:

ولد الشيخ محمد في بلدة العيينة، عندما كان والده عبد الوهاب قاضيا فيها سنة 1115 هـ"1703 م"، وكان الشيخ عبد الوهاب آنذاك، بجانب وظيفته القضائية يقوم بتدريس الحديث والتفسير على مذهب أحمد بن حنبل وكان بيته مكانا يتجه إليه طلاب العلم وبعض العلماء حيث يمضون الوقت في جدال فقهي أو نقاش ديني وكان الطفل وقد شب وأصبح صبيا، يحلو له أن يراقب مجلس أبيه عن كثب فينصت

--------------------------------------------

1 أمين، سعيد، سيرة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، بيروت، شركة التوزيع العربية، 1384 هـ، ص 8.
সম্মানিত আলেমদের থেকে বর্ণিত, যাদের মধ্যে শায়খ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুশরিফ এবং অন্যান্যরা রয়েছেন "১।

সুলায়মানের দুই পুত্র ছিল: আব্দুল ওয়াহহাব এবং ইব্রাহিম। তারা ইলম চর্চায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। ইব্রাহিম কেবল পাঠ ও শিক্ষাদানেই নিবিষ্ট ছিলেন, এবং তিনি তার পিতার ন্যায় ফতোয়া দিতেন ও পাঠদান করতেন।

আর আব্দুল ওয়াহহাব আব্দুল্লাহ বিন হামাদ বিন মুয়াম্মারের শাসনামলে উয়ায়নাহর বিচারকের (কাজী) দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তবে পরবর্তীতে যখন মুহাম্মদ বিন হামাদ উয়ায়নাহর শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন তাকে পদচ্যুত করা হয়। আব্দুল ওয়াহহাবের দুই পুত্র ছিল: মুহাম্মদ এবং সুলায়মান। সুলায়মান একজন আলেম ও ফকিহ ছিলেন এবং তিনি হরিমলায় তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রথমদিকে এই দাওয়াতের চরম শত্রুদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ তাকে হেদায়েত দান করেন।

আর মুহাম্মদ হলেন নজদ অঞ্চলের সেই সংস্কারবাদী দাওয়াতের প্রবক্তা, যার সম্পর্কে আমরা পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে বিস্তারিত আলোচনা করব:

শায়খ মুহাম্মদ উয়ায়নাহ জনপদে জন্মগ্রহণ করেন, যখন তার পিতা আব্দুল ওয়াহহাব সেখানে ১১১৫ হিজরি (১৭০৩ খ্রিষ্টাব্দ) সালে বিচারক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব তখন তার বিচারিক দায়িত্বের পাশাপাশি আহমদ বিন হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী হাদিস ও তাফসিরের পাঠদান করতেন। তার ঘরটি এমন একটি স্থান ছিল যেখানে ইলম অন্বেষী শিক্ষার্থী এবং কিছু আলেম যাতায়াত করতেন এবং সেখানে তারা ফقهি বিতর্ক বা ধর্মীয় আলোচনায় সময় অতিবাহিত করতেন। শিশুটি যখন শৈশব পেরিয়ে কিশোর হলো, তখন সে তার পিতার মজলিসগুলো কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে এবং মনোযোগ দিয়ে শুনতে পছন্দ করত।

--------------------------------------------

১ আমিন, সাইদ, সিরাত আল-শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, বৈরুত, শারিকাত আত-তাওজি আল-আরাবিয়্যাহ, ১৩৮৪ হিজরি, পৃষ্ঠা ৮।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٢٧)
أحاديث القوم ومجادلاتهم1.

ولذا نشأ محمد بن عبد الوهاب واسع الثقافة بالنسبة للجيل الذي عاصره، واستطاع أن يحفظ القرآن قبل أن يبلغ العاشرة من العمر، وكان حاد الذكاء سريع الحفظ، فصيحا "روى أخوه سليمان أن أباه كان يتوسم فيه خيرا كثيرا فيتعجب من قوة إدراكه مع صغر سنه، وكان يتحدث بذلك ويقول: إنه استفاد من ولده محمد فوائد من الأحكام2.

وهكذا ما كاد يبلغ الثانية عشرة من عمره حتى بدت عليه علامات النجابة بأبهى وأوضح صورها، وتوسعت مداركه وتفتح تفكيره. فأدرك ما كان شائعا في مجتمعه من البدع والخرافات والضلال فلم تعجبه الطريقة التي كان يسير عليها علماء الدين في نجد وهي طريقة السكون والهدوء، لذا فقد عقد العزم على انتهاج طريقة السلف الصالح بالدعوة لنبذ البدع وتطهير الإسلام مما علق به من الأوهام والخرافات.

وقد بدأ ينكر هذه الخرافات ويدعو الناس إلى اجتنابها ولما أدرك الشيخ تقاعس مواطنيه في العيينة عن سماع الحق قرر الابتعاد عن نجد واتجه إلى الديار المقدسة في الحجاز للحج أولا وطلب العلم ثانيا.

--------------------------------------------

1 دكتور عبد الحميد البطريق، الوهابية دين ودولة، بحث منشور بحولية كلية البنات، جامعة عين شمس، 1964 م، ص 42.

2 حسين بن غنام تاريخ نجد، ص 75.
লোকদের আলোচনা এবং তাদের বিতর্কসমূহ১।

তাই মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর সমসাময়িক প্রজন্মের তুলনায় ব্যাপক পাণ্ডিত্যের অধিকারী হিসেবে বেড়ে ওঠেন। তিনি দশ বছর পূর্ণ করার আগেই কুরআন হিফজ করতে সক্ষম হন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধা ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী এবং অত্যন্ত বাগ্মী। তাঁর ভাই সুলায়মান বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা তাঁর মধ্যে প্রভূত মঙ্গলের লক্ষণ দেখতে পেতেন এবং অল্প বয়সেই তাঁর প্রখর প্রজ্ঞা দেখে বিস্মিত হতেন। তিনি এ সম্পর্কে আলোচনা করতেন এবং বলতেন যে, তিনি তাঁর পুত্র মুহাম্মদের কাছ থেকে শরয়ী বিধিবিধান সংক্রান্ত নানাবিধ তাত্ত্বিক উপকার লাভ করেছেন।২।

এভাবে তিনি বারো বছর বয়সে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই তাঁর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লক্ষণসমূহ অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠতে থাকে। তাঁর প্রজ্ঞা প্রসারিত হয় এবং চিন্তাশক্তি উন্মোচিত হয়। ফলে তিনি তাঁর সমাজে প্রচলিত বিদআত, কুসংস্কার এবং ভ্রষ্টতাগুলো উপলব্ধি করেন। নাজদের আলেমগণ যে স্থবিরতা ও নিস্তব্ধতার পথ অবলম্বন করেছিলেন, তা তাঁর পছন্দ হয়নি। তাই তিনি বিদআত বর্জন করার দাওয়াত এবং ইসলামের সাথে সেঁটে থাকা নানাবিধ ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার থেকে একে মুক্ত করার লক্ষ্যে সালাফে সালেহীনের পথ অনুসরণের দৃঢ় সংকল্প করেন।

তিনি এই কুসংস্কারগুলোকে প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করেন এবং মানুষকে সেগুলো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। যখন শাইখ লক্ষ্য করলেন যে উয়াইনায় তাঁর দেশবাসী সত্য শ্রবণের ক্ষেত্রে অনীহা প্রদর্শন করছে, তখন তিনি নাজদ থেকে প্রস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রথমত হজ পালন ও দ্বিতীয়ত জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে হিজাজের পবিত্র ভূমির পানে যাত্রা করেন।

--------------------------------------------

১ ডক্টর আব্দুল হামিদ আল-বাতরিক, আল-ওয়াহহাবিয়্যাহ দ্বীন ওয়া দাওলাহ, আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্লস কলেজের বার্ষিকী জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা, ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ৪২।

২ হুসাইন বিন ঘান্নাম, তারিখু নাজদ, পৃষ্ঠা ৭৫।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٢٨)
3- الرحلة إلى الحجاز

استأذن الشيخ محمد والده بالسفر إلى الحجاز، فأذن الوالد للولد وزوده بما يحتاج إليه في رحلته، فأم الشيخ مكة المكرمة وأدى فريضة الحج واطلع على حالة المسلمين هناك، ثم توجه إلى المدينة المنورة، وقد قابل في المدينة عالمين جليلين وكان لهما أكبر الأثر في حياته واتجاهه.

أول العالمين هو شيخ نجدي، من عائلة لها الوجاهة والرئاسة في مدينة المجمعةعالم عاقل، من العاكفين على كتب ابن تيمية والمتتبعين له المعجبين بآرائه، هذا العالم هو الشيخ عبد الله بن إبراهيم بن سيف وكان هذا الرجل متألما مما وصلت إليه الحالة في نجد، من فشو الجهل، وظهور المنكرات، والبعد عن التوحيد، فأنكر ذلك وأراد إزالة الجهل وتوابعه عن طريق الحجة والإقناع، فكان يرى أن خير وسيلة لتحقيق التوحيد هي سبيل الدعوة والإرشاد، ونشر العلم، يقول الشيخ محمد بن عبد الوهاب: كنت ذات يوم عند الشيخ عبد الله فقال لي: ألا تحب أن ترى ما أعددنا للمجمعة من سلاح؟ فقلت: بلى، فأخذ بيدي إلى حجرة ملئت كتبا ومجلدات وقال: هذا ما أعددنا للمجمعة.

وفي المدينة أيضا اجتمع الشيخ محمد بعالم آخر ذي مكانة عالية وهذا الشيخ هو محمد بن حياة السنديهندي الأصل سلفي العقيدة وكان هذا الشيخ شديد الصلة بابن سيف فعرّفه على الشيخ محمد، وكان
৩- হিজাজ সফর

শেখ মুহাম্মদ হিজাজ সফরের জন্য তাঁর পিতার নিকট অনুমতি চাইলেন। অতঃপর পিতা পুত্রকে অনুমতি দিলেন এবং সফরের প্রয়োজনীয় পাথেয় দিয়ে তাঁকে সুসজ্জিত করলেন। শেখ মক্কা মুকাররমার দিকে রওনা হলেন এবং হজ্জের ফরয আদায় করলেন ও সেখানকার মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হলেন। এরপর তিনি মদীনা মুনাওয়ারার দিকে যাত্রা করলেন। মদীনায় তিনি এমন দুইজন মহান আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করলেন যাদের তাঁর জীবন ও চিন্তাধারার ওপর ব্যাপক প্রভাব ছিল।

এই দুই আলেমের প্রথমজন হলেন একজন নজদী শেখ, যিনি মাজমা'আ শহরের এক সম্ভ্রান্ত ও নেতৃত্বস্থানীয় পরিবারের সন্তান। তিনি ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ আলেম, ইবনে তাইমিয়্যার কিতাবসমূহের একনিষ্ঠ পাঠক, তাঁর অনুসারী এবং তাঁর মতামতের গুণগ্রাহী। এই আলেম হলেন শেখ আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাইফ। নজদ অঞ্চলের মূর্খতার প্রসার, অনাচারের প্রাদুর্ভাব এবং তাওহীদ থেকে বিমুখতার কারণে এই ব্যক্তি অত্যন্ত ব্যথিত ছিলেন। তিনি এসবের প্রতিবাদ করেন এবং যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে মূর্খতা ও এর কুপ্রভাব দূর করতে চেয়েছিলেন। তিনি মনে করতেন যে, তাওহীদ প্রতিষ্ঠার সর্বোত্তম উপায় হলো দাওয়াত ও দিকনির্দেশনা এবং ইলম বা জ্ঞান প্রচারের পথ। শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব বলেন: একদিন আমি শেখ আবদুল্লাহর নিকট ছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: “মাজমা'আ শহরের জন্য আমরা যে অস্ত্র প্রস্তুত করেছি, তা কি তুমি দেখতে চাও?” আমি বললাম: “হ্যাঁ।” তখন তিনি আমার হাত ধরে বই ও পাণ্ডুলিপিতে ঠাসা একটি কামরায় নিয়ে গেলেন এবং বললেন: “মাজমা'আর জন্য আমরা এটিই প্রস্তুত করেছি।”

মদীনায় শেখ মুহাম্মদ উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আরও একজন আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করেন, তিনি হলেন শেখ মুহাম্মদ বিন হায়াত আস-সিন্ধী। তিনি ছিলেন মূলে ভারতীয় এবং আকিদায় সালাফী। ইবনে সাইফের সাথে এই শেখের গভীর সম্পর্ক ছিল, ফলে তিনি শেখ মুহাম্মদের সাথে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেন। এবং
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٢٩)
السندي ينكر البدع والمحدثات إنكارا صريحا وقد قويت صلة الشيخ محمد بالسندي وتتلمذ عليه وقد أثر السندي تأثيرا قويا في الشيخ محمد بن عبد الوهاب والواقع أن الشيخ محمد لم يقتصر على الأخذ من هذين العالمين وإنما أخذ من علماء آخرين في المدينة المنورة مثل الشيخ الداغستاني، وإسماعيل العجلوني.

لقد كانت البدع شائعة في المدينة، وكان محمد بن عبد الوهاب ذات يوم قريبا من قبر الرسول صلى الله عليه وسلم فشاهد جماعة عند الحجرة الشريفة، يستغيثون ويدعون ويعملون ما يخالف ما جاء به محمد صلى الله عليه وسلم فأنكر ما رآه في رفق ولين، ولما رأى عالم المدينة الشيخ السندي مقبلا إِليه، سأله قائلا ما تقول في هؤلاء؟ فأجابه الشيخ السندي: {إِنَّ هَؤُلاءِ مُتَبَّرٌ مَا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف:139] 1.

ومما لا شك فيه أن رحلة الشيخ إلى الحجاز أفادته كثيرا، فقد وقف على حياة شعوب العالم الإسلامي ممثلة في حجاج بيت الله الحرام، وعرف علماء مكة المكرمة والمدينة المنورة، وأخذ عنهم ما هو في حاجة إليه من العلم، وبعد أن أدى الغرض من رحلته إلى الحجاز، قرر العودة إلى نجد حيث الشرك والجهل يغشيانها، وقرر محاربة البدع والخرافات والأوثان مهما كلفه الأمر، ثم ودع أصحابه ومشايخه فدعوا له بالتوفيق والسداد، فترك المدينة راجعا إلى نجد.

--------------------------------------------

1 وانظر: علي الطنطاوي، محمد بن عبد الوهاب، سلسلة أعلام التاريخ، دمشق، دار الفكر، 1381 هـ، ص 17.
আস-সিন্দি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলিকে প্রত্যাখ্যান করতেন। শেখ মুহাম্মদের সাথে আস-সিন্দির সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছিল এবং তিনি তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। আস-সিন্দি শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ওপর শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে শেখ মুহাম্মদ কেবল এই দুই আলিমের নিকট থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করেননি, বরং মদিনা মুনাওয়ারার অন্যান্য আলেম যেমন শেখ দাগেস্তানি এবং ইসমাইল আল-আজলুনির নিকট থেকেও জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।

মদিনায় বিদআত ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। একদিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের নিকটবর্তী ছিলেন, তখন তিনি হুজরা শরীফের কাছে একদল লোককে দেখলেন যারা সাহায্য প্রার্থনা করছিল, দোয়া করছিল এবং এমন সব কাজ করছিল যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার পরিপন্থী। তিনি যা দেখলেন তা নম্রতা ও কোমলতার সাথে প্রত্যাখ্যান করলেন। যখন তিনি মদিনার আলেম শেখ সিন্দিকে তাঁর দিকে এগিয়ে আসতে দেখলেন, তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "এই লোকদের সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?" তখন শেখ সিন্দি তাকে উত্তর দিলেন: "নিশ্চয় এরা যাতে লিপ্ত রয়েছে তা ধ্বংস হবে এবং তারা যা করছে তা অসার।" [সূরা আল-আরাফ: ১৩৯]। ১।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শেখের হিজাজ সফর তাঁকে অনেক উপকৃত করেছিল। তিনি আল্লাহর ঘরের হাজীদের মাধ্যমে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জনগণের জীবনধারা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করেছিলেন। তিনি মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারার আলেমদের সাথে পরিচিত হয়েছিলেন এবং তাঁদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। হিজাজ সফরের উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার পর তিনি নজদে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে শিরক ও মূর্খতা আচ্ছন্ন ছিল। তিনি যেকোনো মূল্যে বিদআত, কুসংস্কার ও মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তিনি তাঁর সাথী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে বিদায় নেন এবং তাঁরা তাঁর সফলতা ও সঠিক পথের জন্য দোয়া করেন। অতঃপর তিনি মদিনা ত্যাগ করে নজদে ফিরে যান।

--------------------------------------------

১ আরও দেখুন: আলী তানতাবি, মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, সিলসিলাতু আলামিত তারিখ, দামেস্ক, দারুল ফিকর, ১৩৮১ হিজরি, পৃষ্ঠা ১৭।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٣٠)
4- العودة إلى نجد

رجع الشيخ إلى نجد سعيدا، وأفاد من رحلته إلى الحجاز كثيرا، فقد أدى فريضة الحج، وزار مدينة الرسول على ساكنها أفضل الصلاة والسلام، وتزود من علماء الديار المقدسة، وعندما استقر به المقام في مسقط رأسه العيينة عكف على مواصلة دراسته على والده، ومباحثته في الفقه على مذهب الإمام أحمد بن حنبل، وكان يدون مباحثه ودروسه بيده، وكان سريع الكتابة حسن الخط، بحيث كان يخط بالخط البديع الجميل في المجلس الواحد كراسا واحدا من غير سآمة ولا تعب1.

وهكذا استمر الشيخ على هذه الطريقة حتى قرر الرحيل، إلى العراق للاتصال بمن فيها من أعلام الدين للحصول على المزيد من العلم فترك العيينة عام 1136 هـ - 1724 م متوجها إلى العراق.

5- الشيخ محمد في البصرة

لما وصل الشيخ محمد إلى البصرة، وجد فيها عالما سلفيا هو الشيخ محمد الجموعيفدرس عليه اللغة والحديث "فأقام مدة يقرأ عليه فيها وينكر أشياء من الشركيات والبدع وأعلن بالإنكار واستحسن شيخه قوله وأقر له بالتوحيد وانتفع به"2.

--------------------------------------------

1 حسين خلف الشيخ خزعل، حيِاة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، بيروت، مطابع دار الكتب، 1968 م، ص 60.

2 عثمان بن عبد الله بن بشر، عنوان المجد في تاريخ نجد، ج 2، 1402 هـ، ص 8.
৪- নজদে প্রত্যাবর্তন

শাইখ অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে নজদে ফিরে আসলেন এবং তাঁর হিজাজ সফর থেকে প্রচুর উপকৃত হলেন। তিনি হজ্জের ফরয বিধান আদায় করলেন এবং তাঁর অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক—এমন রাসূলের শহর যিয়ারত করলেন। তিনি পবিত্র ভূমির আলিমদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করলেন। যখন তিনি তাঁর জন্মভূমি উয়াইনাহ-তে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেন, তখন তিনি তাঁর পিতার কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে অধ্যয়ন চালিয়ে যেতে এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সাথে পর্যালোচনায় আত্মনিয়োগ করলেন। তিনি তাঁর গবেষণালব্ধ বিষয় ও পাঠসমূহ নিজ হাতে লিপিবদ্ধ করতেন। তিনি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে লিখতে পারতেন এবং তাঁর হস্তাক্ষর অত্যন্ত সুন্দর ছিল, যার ফলে তিনি কোনো প্রকার ক্লান্তি বা অবসাদ ছাড়াই এক মজলিসে চমৎকার ও সুন্দর লিপি শৈলীতে একটি পূর্ণ পুস্তিকা লিখে ফেলতেন১।

এভাবে শাইখ এই পদ্ধতিতে জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখলেন যতক্ষণ না তিনি আরও অধিক জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে সেখানকার বরেণ্য দ্বীনি ব্যক্তিত্বদের সাথে সাক্ষাতের জন্য ইরাক গমনের সিদ্ধান্ত নিলেন। ফলে তিনি ১১৩৬ হিজরি - ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দ সনে ইরাকের উদ্দেশ্যে উয়াইনাহ ত্যাগ করেন।

৫- বসরায় শাইখ মুহাম্মাদ

শাইখ মুহাম্মাদ যখন বসরায় পৌঁছালেন, তখন সেখানে শাইখ মুহাম্মাদ আল-মজমুঈ নামক একজন সালাফি আলিমের সাক্ষাৎ পেলেন। তিনি তাঁর কাছে ভাষা ও হাদীস শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। "অতঃপর তিনি সেখানে বেশ কিছুকাল অবস্থান করে তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন শিরক ও বিদআতপূর্ণ বিষয়ের প্রতিবাদ করতে থাকেন। তিনি প্রকাশ্যে এসবের প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন এবং তাঁর উস্তাদ তাঁর বক্তব্যকে পছন্দ করেন এবং তাওহীদের ব্যাপারে তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন ও তাঁর দ্বারা উপকৃত হন"২।

--------------------------------------------

১ হুসাইন খালাফ আল-শাইখ খুযআল, হায়াত আল-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, বৈরুত, মাতাবি দার আল-কুতুব, ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দ, পৃ. ৬০।

২ উসমান বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশর, উনওয়ান আল-মাজদ ফি তারিখি নজদ, খণ্ড ২, ১৪০২ হিজরি, পৃ. ৮।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٣١)
والحق أن الشيخ محمدا لم يقصر جهده خلال إقامته في البصرة على الدراسة فقط، بل إنه حارب البدع التي يقوم بها غلاة الشيعة مثل تقديس القبور وتعظيم الأولياء، لقد هاله ما وجد هناك من الخرافات والبدع، التي ألصقت بالدين، وتوارثها الناس جيلا بعد جيل حتى أصبحت عندهم حقائق راسخة.

فأظهر الشيخ محمد إنكاره لهذه البدع وبدأ يبشر بما ظهر له من حقائق التوحيد في مجالسه، وقد وصف لنا هذه المجالس فقال: "كان أناس من مشركي البصرة يأتون إلي بشبهات يلقونها علي فأقول وهم قعود لدي لا تصلح العبادة كلها إلا لله فيبهت كل منهم فلا ينطق فاه" 1.

وهكذا بدأ الشيخ محمد بن عبد الوهاب ينكر البدع في البصرة، كما أنكرها من قبل في الحجاز والعيينة، ولقد عز على بعض أهالي البصرة أن ينكر محمد معتقداتهم المبتدعة، فأخذوا يسألونه أسئلة محرجة، وكان هدفهم إيقاعه في الشبهات، ولكن الشيخ كان يجيبهم بأجوبة دقيقة تزيل الشك، وتوضح الحق، وتدفع الشبهات. وكان من ضمن أجوبته عندما يسأل عن ذلك قوله: "لا تصلح العبادة كلها إلا لله وحده دون سواه، ويخطئ من يدعو غيره2.

وبالرغم مما واجهه الشيخ في البصرة من غلاة الشيعة، فقد كان له

--------------------------------------------

1 حسين بن غنام، تاريخ نجد، تحقيق ناصر الدين الأسد، ص 26.

2 حسين خلف، حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، مرجع سابق، ص 62.
প্রকৃতপক্ষে শেখ মুহাম্মদ বসরায় অবস্থানকালে তাঁর প্রচেষ্টাকে কেবল জ্ঞানার্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং তিনি চরমপন্থী শিয়াদের দ্বারা প্রচলিত বিদআতগুলোর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, যেমন কবর পূজা এবং ওলী-আউলিয়াদের অতিরঞ্জিত সম্মান প্রদর্শন। সেখানে তিনি ধর্মীয় আবরণে প্রচলিত যেসব কুসংস্কার ও বিদআত দেখতে পান, তাতে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। এগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মধ্যে উত্তরাধিকারসূত্রে চলে আসছিল, এমনকি শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে এগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত সত্যে পরিণত হয়েছিল।

অতঃপর শেখ মুহাম্মদ এই বিদআতগুলোর প্রতি তাঁর অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন এবং তাঁর মজলিসগুলোতে তাওহীদের যে সত্য তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়েছিল, তা প্রচার করতে শুরু করেন। তিনি এই মজলিসগুলোর বর্ণনা দিয়ে বলেন: “বসরার মুশরিকদের মধ্য থেকে কিছু লোক আমার কাছে আসত এবং বিভিন্ন সংশয় উত্থাপন করত। তারা আমার কাছে বসে থাকা অবস্থায় আমি বলতাম: ‘সমস্ত ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য ছাড়া অন্য কারও জন্য সমীচীন নয়।’ তখন তাদের প্রত্যেকেই হতভম্ব হয়ে যেত এবং তাদের মুখ থেকে আর কোনো কথা বের হতো না।” ১।

এভাবেই শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বসরায় বিদআতের প্রতিবাদ করতে শুরু করেন, যেমনটি তিনি এর আগে হিজাজ ও উয়াইনাহতে করেছিলেন। বসরার কিছু অধিবাসীর কাছে মুহাম্মদ তাদের উদ্ভাবিত আকিদা-বিশ্বাসের প্রতিবাদ করছেন—বিষয়টি অসহনীয় হয়ে ওঠে। তাই তারা তাকে বিব্রতকর সব প্রশ্ন করতে শুরু করে, যার উদ্দেশ্য ছিল তাকে সংশয়ের জালে ফেলা। কিন্তু শেখ তাদের এমন সুক্ষ্ম উত্তর দিতেন যা সন্দেহ দূর করত, সত্যকে স্পষ্ট করত এবং সংশয় নিরসন করত। এ বিষয়ে যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তাঁর দেওয়া উত্তরগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল: “সমস্ত ইবাদত একমাত্র অংশীদারহীন আল্লাহর জন্যই শোভা পায়, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকে সে ভুল পথে রয়েছে।” ২।

বসরায় চরমপন্থী শিয়াদের পক্ষ থেকে শেখ যে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তা সত্ত্বেও তাঁর ছিল

--------------------------------------------

১. হুসাইন বিন গান্নাম, তারিখ নজদ, তাহকীক: নাসিরুদ্দিন আল-আসাদ, পৃ. ২৬।

২. হুসাইন খালাফ, হায়াতুশ শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ৬২।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٣٢)
أتباع يؤمنون بدعوته ويدافعون عنها، ولكن الأعداء أكثر من الأصدقاء، فتآمروا عليه وعقدوا العزم على الإيقاع به "فجاءه قسم منهم ظهرا وعلامة الشر بادية في وجوههم وهددوه بالقتل أو الرحيل من البصرة، فأثر الشيخ السلامة والنجاة بنفسه فغادر البصرة "1.

ترك الشيخ البصرة بعد هذه المؤامرة متوجها إلى الزبيربغير زاد ولا راحلة، منفردا يمشي على رجليه، فاشتد به العطش وأوشك على الهلاك -لولا لطف الله به، فلقد لقيه رجل من أهل الزبير يقال له أبو حميدان، فرق لحاله وحمله على حماره حتى أوصله إلى الزبير.

بقي الشيخ في الزبير أياما، وأراد السفر إلى الشام، بيد أن ما لديه من مال قد نهبه سفهاء البصرة الذين أخرجوه، وبجانب ذلك وصلته أنباء انتقال والده من العيينة إلى حريملاء بسبب النّزاع الذي حصل بين والده وبين أمير العيينة محمد بن حمد بن معمر.

فرأى الشيخ محمد أن يرجع إلى نجد، وفي طريقه إلى نجد مر بالأحساء فنزل على الشيخ عبد الله بن محمد بن عبد الطيف الأحسائي. فأكرمه، وأقام لديه أياما حافلة بالمطالعة والبحث. ثم ترك الأحساء وانضم إلى والده في بلدة حريملاء.

6- الأدلة على عدم ذهاب الشيح لبلاد فارس

وقبل أن ننهي الحديث عن رحلات الشيخ خارج نجد أحب أن أشير

--------------------------------------------

1 حسين خلف، حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، مرجع سابق، ص 62.
অনুসারীরা তাঁর দাওয়াতের প্রতি ঈমান এনেছিলেন এবং তা রক্ষা করেছিলেন, কিন্তু বন্ধুর চেয়ে শত্রুর সংখ্যাই ছিল বেশি। ফলে তারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করল এবং তাঁকে বিপদে ফেলার সংকল্প করল। "তাদের একটি দল দুপুরের সময় তাঁর কাছে এল, তাদের চেহারায় অকল্যাণের চিহ্ন সুস্পষ্ট ছিল। তারা তাঁকে হত্যার অথবা বসরা ত্যাগের হুমকি দিল। ফলে শেখ নিজের নিরাপত্তা ও মুক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে বসরা ত্যাগ করলেন।" ১

এই ষড়যন্ত্রের পর শেখ কোনো পাথেয় বা বাহন ছাড়াই জুবায়েরের উদ্দেশ্যে বসরা ত্যাগ করলেন। তিনি একাকী পায়ে হেঁটে চলছিলেন, ফলে তিনি তীব্র তৃষ্ণার্থ হয়ে পড়লেন এবং ধ্বংসের উপক্রম হলেন—যদি না আল্লাহর দয়া তাঁর সাথী হতো। জুবায়েরের অধিবাসী আবু হুমাইদান নামক এক ব্যক্তি তাঁর দেখা পেলেন; তিনি তাঁর অবস্থা দেখে ব্যথিত হলেন এবং তাঁকে নিজের গাধার পিঠে চড়িয়ে জুবায়ের পৌঁছে দিলেন।

শেখ কয়েক দিন জুবায়ের অবস্থান করলেন এবং শামে সফরের ইচ্ছা করলেন। তবে তাঁর কাছে যে সামান্য অর্থ ছিল, তা বসরার সেই নির্বোধরা লুণ্ঠন করে নিয়েছিল যারা তাঁকে বের করে দিয়েছিল। এর পাশাপাশি তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, তাঁর পিতা উয়াইনা থেকে হুরয়মিলায় চলে গেছেন। এর কারণ ছিল তাঁর পিতা এবং উয়াইনার আমির মুহাম্মদ বিন হামাদ বিন মুয়াম্মারের মধ্যে ঘটিত বিবাদ।

শেখ মুহাম্মদ নজদে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। নজদে যাওয়ার পথে তিনি আহসা অতিক্রম করলেন এবং শেখ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ আল-আহসাইয়্যির নিকট অবস্থান করলেন। তিনি তাঁকে যথাযথ সম্মান জানালেন। সেখানে তিনি পড়াশোনা ও গবেষণায় লিপ্ত থেকে বেশ কিছুকাল অতিবাহিত করলেন। এরপর তিনি আহসা ত্যাগ করে হুরয়মিলা জনপদে তাঁর পিতার সাথে মিলিত হলেন।

৬- পারস্য দেশে শেখের না যাওয়ার প্রমাণাদি

নজদের বাইরে শেখের সফরসমূহ সম্পর্কে আলোচনা শেষ করার আগে আমি ইঙ্গিত করতে চাই

--------------------------------------------

১. হুসাইন খালাফ, হায়াতুশ শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, পূর্বোক্ত সূত্র, পৃ. ৬২।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٣٣)
إلى خطأ وقع فيه كثير من المؤرخين، وهو القول: إن الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحل إلى بلاد فارس وأقام في كردستان، لقد وقع في هذا الخطأ كثير من المؤرخين. لقد ذكر على سبيل المثال المستشرق مارجيليوت الذي ذكر في دائرة المعارف الإسلامية، أن الشيخ تزوج في بغداد امرأة، وماتت بعد زمن فورث عنها الشيخ ألفي دينار وأنه رحل إلى بلاد الكردستان وهمدان.

وقد ذكر هذه الروايات كثير من الرحالة الأوروبيين مثل برجس زويمر وبلجريف1. ولم يقتصر هذا الخطأ على المستشرقين فهذا مؤلف كتاب "لمع الشهاب في سيرة محمد بن عبد الوهاب "فقد ذكر أن الشيخ رحل إلى بلاد فارس وتعلم الحكمة، وعن صاحب هذا الكتاب نقل حافظ وهبه أخبار الرحلة إلى بلاد فارس في هامش كتابه جزيرة العرب في القرن العشرين ص 336. ولقد وجدت بعد تتبع كل ما كتب في هذا أن جميع الذين ذكروا هذا الرأي اعتمدوا على مصدر واحد وهو كتاب: "لمع الشهاب في سيرة محمد بن عبد الوهاب". فهذا الرأي لم يذكر في أي مصدر من المصادر الأصلية في هذا الموضوع مثل: كتاب ابن غنام"تاريخ نجد"، وكتاب ابن بشر"عنوان المجد" لذا فإننا لا نستطيع الأخذ بالروايات التي تذكر أن الشيخ ذهب إلى بلاد فارس لعدة أسباب أهمها:

أولا: أننا بعد دراسة كتب الشيخ ورسائله نستطيع القول: إنه لم يذكر بلاد فارس كبلاد زارها، ولم نجد رسالة واحدة موجهة إلى أي عالم من علماء فارس في زمنه. وهل يعقل أن يعيش الشيخ في

--------------------------------------------

1 أحمد علي آل سعود، ص 10.
অনেক ইতিহাসবিদ এমন একটি ভুলের শিকার হয়েছেন যা হলো এই কথা বলা যে: শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব পারস্যে সফর করেছিলেন এবং কুর্দিস্তানে অবস্থান করেছিলেন; অনেক ইতিহাসবিদই এই ভুলের মধ্যে নিপতিত হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, প্রাচ্যবিদ মারজোলিউথ ‘ইসলামী বিশ্বকোষ’-এ উল্লেখ করেছেন যে, শেখ বাগদাদে এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন এবং কিছুকাল পরে তিনি মারা গেলে শেখ তার থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে দুই হাজার দিনার লাভ করেন; আর তিনি কুর্দিস্তান ও হামাদান সফর করেছিলেন।

এবং বার্জেস, জুইমার ও পালগ্রেভের মতো অনেক ইউরোপীয় পরিব্রাজক এই বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন।১ এই ভুলটি কেবল প্রাচ্যবিদদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ‘লামউশ শিহাব ফি সিরাতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব’ গ্রন্থের লেখকও এটি উল্লেখ করেছেন যে, শেখ পারস্যে সফর করেছিলেন এবং হিকমত (দর্শন) শিক্ষা করেছিলেন। আর এই গ্রন্থের লেখকের উদ্ধৃতি দিয়ে হাফিজ ওয়াহবা তার ‘জাজিরাতুল আরব ফিল কার্নিল ইশরিন’ গ্রন্থের ৩৩৬ পৃষ্ঠার টীকায় পারস্য সফরের সংবাদটি নকল করেছেন। এ বিষয়ে লিখিত সবকিছু অনুসন্ধানের পর আমি দেখতে পেয়েছি যে, যারা এই মতটি উল্লেখ করেছেন তারা সবাই একটিমাত্র উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন, আর তা হলো: ‘লামউশ শিহাব ফি সিরাতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব’ গ্রন্থটি। এই মতটি এ বিষয়ের কোনো মূল উৎস বা দলিলে উল্লেখ করা হয়নি, যেমন: ইবনে গান্নামের ‘তারিখে নজদ’ এবং ইবনে বিশরের ‘উনওয়ানুল মাজদ’। অতএব, শেখ পারস্যে গিয়েছিলেন বলে যে বর্ণনাগুলো পাওয়া যায়, বেশ কিছু কারণে আমরা সেগুলো গ্রহণ করতে পারছি না, যার মধ্যে প্রধান হলো:

প্রথমত: শেখের গ্রন্থাবলি ও পত্রাবলি অধ্যয়নের পর আমরা বলতে পারি যে, তিনি সফর করেছেন এমন দেশ হিসেবে পারস্যের নাম উল্লেখ করেননি এবং তার সমসাময়িক পারস্যের কোনো আলেমের প্রতি প্রেরিত একটি চিঠিও আমরা পাইনি। এটা কি যুক্তিসঙ্গত যে শেখ বসবাস করবেন...

--------------------------------------------

১ আহমদ আলী আল সৌদ, পৃ. ১০।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٣٤)
فارس ويدرس فيها دون أن يكون له علاقة مع أحد فيها؟

ثانيا: لم يتطرق إلى الحديث عن الرحلة إلى بلاد فارس أي من المؤرخين ابن غنام وابن بشر، ولو حدث شيء من هذا لكتباه خاصة وأنهما كانا حريصين كل الحرص على تسجيل أخبار الشيخ، وكل الذين نقلوا رواية الرحلة أخذوها عن مصدر واحد كما قلنا وهو مؤلف كتاب "لمع الشهاب في سيرة محمد بن عبد الوهاب "، وهذا المؤرخ لا يعتمد عليه، حيث إن مؤلفه يتحامل على الدعوة وصاحبها ومؤيديها.

ثالثا: بالرغم من أن جميع الذين كتبوا عن الشيخ محمد حرصوا على ذكر ما يدل على براعته وذكائه، فإنهم لم يذكروا أن الشيخ كان يعرف اللغة الفارسية. وبجانب ذلك فإننا لا نجد بين آثار الشيخ ما يدل على معرفته باللغة الفارسية. لكل هذه الأسباب فإننا لا نستطيع الأخذ بالرأي القائل إن الشيخ زار بلاد فارس، أثناء رحلته لطلب العلم.

7- العوامل التي أثرت في الشيخ محمد فجعلته مصلحا دينيا

يوجد عدة عوامل أثرت في الشيخ محمد بن عبد الوهاب ومن أهم هذه العوامل ما يأتي:

أولا: البيت، فلقد رأينا كيف نشأ الشيخ في بيت علم وفقه وقضاء، بين والده عبد الوهاب الذي كان فقيها حنبليا، وجده سليمان الذي كان شيخ نجد في زمانه، ولا شك أن من يتوفر له مثل هذا الجو، يتأثر
পারস্য এবং সেখানে কারো সাথে কোনো সম্পর্ক ছাড়াই সেখানে পড়াশোনা করেছেন?

দ্বিতীয়ত: ঐতিহাসিক ইবন গান্নাম এবং ইবন বিশর—তাদের কেউই পারস্য সফরের বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি। যদি এ ধরনের কিছু ঘটত, তবে তারা অবশ্যই তা লিখতেন; বিশেষ করে যেহেতু তারা শাইখের খবরাখবর লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। আর যারা এই সফরের বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন, আমরা যেমনটি বলেছি, তারা একটি মাত্র উৎস থেকেই তা গ্রহণ করেছেন, আর তা হলো "লামউশ শিহাব ফি সিরাতি মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব" গ্রন্থের লেখক। এই ঐতিহাসিকের ওপর নির্ভর করা যায় না, কারণ এই লেখক দাওয়াত, এর প্রবর্তক এবং এর সমর্থকদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন।

তৃতীয়ত: যারা শাইখ মুহাম্মাদ সম্পর্কে লিখেছেন, তারা সবাই তাঁর পাণ্ডিত্য ও মেধার প্রমাণবাহী বিষয়গুলো উল্লেখ করতে সচেষ্ট ছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা উল্লেখ করেননি যে শাইখ ফারসি ভাষা জানতেন। এর পাশাপাশি আমরা শাইখের রচনাবলির মধ্যেও এমন কিছু পাই না যা তাঁর ফারসি ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান থাকার প্রমাণ দেয়। এই সব কারণে আমরা সেই অভিমতটি গ্রহণ করতে পারি না যা বলে যে, শাইখ জ্ঞান অর্জনের সফরের সময় পারস্য ভ্রমণ করেছিলেন।

৭- যেসব উপাদান শাইখ মুহাম্মাদকে প্রভাবিত করেছিল এবং তাঁকে একজন ধর্মীয় সংস্কারক হিসেবে গড়ে তুলেছিল

শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবকে বেশ কিছু উপাদান প্রভাবিত করেছিল এবং এই উপাদানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: পরিবার। আমরা দেখেছি কীভাবে শাইখ একটি ইলম, ফিকহ এবং বিচার বিভাগীয় পরিবারে বেড়ে উঠেছেন—তাঁর পিতা আব্দুল ওয়াহহাবের সান্নিধ্যে, যিনি একজন হাম্বলি ফকিহ ছিলেন এবং তাঁর দাদা সুলাইমানের সান্নিধ্যে, যিনি তাঁর সময়ে নজদের শাইখ ছিলেন। নিঃসন্দেহে যার জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত হয়, সে প্রভাবিত হয়...
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٣٥)
به، ويكون اتجاهه في الغالب اتجاها دينيا.

ثانيا: ومن بين العوامل التي أثرت في تكوين شخصية الشيخ محمد واتجاهه السلفي بجانب البيت شخصية أحمد تقي الدين بن تيمية، الذي عاش في القرن الثامن الهجريوبالرغم من طول الفترة الزمنية التي تفصل بينهما إلا أن الشيخ محمد درس آثار ابن تيمية دراسة عميقة، لقد درس كتبه ورسائله وفتاويه، وأخذ عنها ونسخ بعضها بنفسه "وفي المتحف البريطاني بعض رسائل لابن تيمية مكتوبة بخط ابن عبد الوهاب"بل إن المبادئ التي نادى بها الشيخ محمد، كانت نفس المبادئ التي نادى بها ابن تيمية. فكل منهما نادى بالرجوع إلى كتاب الله وسنة رسوله. وما كان عليه السلف الصالح، ومقاومة البدع التي ألصقت بالإسلام، وعلى هذا فإن دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، تعد امتدادا لدعوة ابن تيمية.

"وكان ابن تيمية حرا في تفكيره في دائرة الكتاب والسنة وما صح عن الصحابة من آثار بشرط وقوفه بصدورها عنهم"1. وكان ابن تيمية شديدا لمحاربة المنكرات والبدع، خاصة ما كان منها وسيلة للشرك مثل الاستعانة بغير الله والتبرك بالأشجار

--------------------------------------------

1 محمد أبو زهرة، ابن تيمية، حياته وعصره، وآراءه وفقهه، دار الفكر العربي، ص 6.
এর মাধ্যমে, এবং তাঁর ঝোঁক অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রকৃতির ছিল।

দ্বিতীয়ত: পারিবারিক পরিবেশের পাশাপাশি যে সকল উপাদান শেখ মুহাম্মদের ব্যক্তিত্ব ও তাঁর সালাফী চিন্তাধারা গঠনে প্রভাব ফেলেছিল, তার মধ্যে আহমদ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়াহর ব্যক্তিত্ব অন্যতম, যিনি অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন। যদিও উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান দীর্ঘ ছিল, তবুও শেখ মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়াহর রচনাবলি গভীর অভিনিবেশ সহকারে অধ্যয়ন করেছিলেন। তিনি তাঁর গ্রন্থাবলি, রিসালাহ ও ফতোয়াসমূহ পাঠ করেছিলেন, সেগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন এবং স্বহস্তে সেগুলোর কিছু অংশ অনুলিপি করেছিলেন। “এমনকি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ইবনে তাইমিয়াহর কিছু রিসালাহ সংরক্ষিত রয়েছে যা ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের হস্তাক্ষরে লিখিত।” প্রকৃতপক্ষে শেখ মুহাম্মদ যে সমস্ত মূলনীতির দাওয়াত দিয়েছিলেন, সেগুলো সেই একই মূলনীতি ছিল যা ইবনে তাইমিয়াহ প্রচার করেছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকেই আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীন যে আদর্শের ওপর ছিলেন তার দিকে প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন, এবং ইসলামের সাথে জুড়ে দেওয়া বিদআতসমূহ প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায়, শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতকে ইবনে তাইমিয়াহর দাওয়াতেরই একটি সম্প্রসারিত রূপ হিসেবে গণ্য করা হয়।

“ইবনে তাইমিয়াহ কিতাব ও সুন্নাহ এবং সাহাবীদের থেকে বর্ণিত সহীহ আছারসমূহের গণ্ডির মধ্যে চিন্তা-ভাবনার ক্ষেত্রে স্বাধীন ছিলেন, এই শর্তে যে সেগুলোর উৎস তাঁদের থেকেই সাব্যস্ত হতে হবে।”১। ইবনে তাইমিয়াহ অন্যায় কাজ ও বিদআতের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন, বিশেষ করে সেই সব কাজ যা শিরকের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়; যেমন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা এবং বৃক্ষের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা।

--------------------------------------------

১ মুহাম্মদ আবু জাহরা, ইবনে তাইমিয়াহ: তাঁর জীবন ও কাল, এবং তাঁর মতামত ও ফিকহ, দারুল ফিকর আল-আراবি, পৃষ্ঠা ৬।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٣٦)
والأحجار التي يقدسها المسلمون ويعتقدون أنها تدفع الضرر وتجلب النفع مما يدل على تأثر الشيخ بابن تيمية. أن معظم رسائل الشيخ التي وجهها إلى الناس مملوءة بشواهد من كلام الشيخ ابن تيمية أو من شروحه لبعض الآيات القرآنية والأحاديث النبوية.

ثالثا: الرحلات: لقد كان للرحلات التي قام بها الشيخ أكبر الأثر في نفسه، لقد ذهب إلى مكة المكرمة واجتمع بكثير من الحجاج وعن طريقهم عرف - الكثير عن أحوال المسلمين في البلاد الإسلامية خارج الجزيرة، وعندما ذهب إلى مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم اجتمع بعلماء أجلاء، كان لهم أكبر الأثر في دعوة الشيخ، كما شاهد البدع منتشرة في المدينة، وعندما ذهب إلى البصرة شاهد ما شاهده من الخرافات والبدع التي ليست من الدين في شيء. والحق أن جميع رحلات الشيخ قد وسعت من أفقه، ونبهته إلى الأخطاء المنتشرة في العالم الإسلامي، وجعلته يصمم على القيام بدعوته الإسلامية المباركة.

رابعا: المجتمع الذي عاش فيه: لقد كان المجتمع الذي نشأ فيه الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله مجتمعا يحتاج إلى إصلاح عقيدته، فالبيئة التي عاش فيها كانت بيئة خرافات وبدع، لقد جعلت هذه البيئة الفاسدة الشيخ محمدا يصمم على محاربة الخرافات والبدع، والعمل على نشر مبادئ الإسلام السليمة.
এবং পাথরসমূহ যা মুসলমানরা পবিত্র মনে করে এবং বিশ্বাস করে যে এগুলো ক্ষতি প্রতিহত করে ও উপকার বয়ে আনে, যা ইবনে তাইমিয়্যাহর দ্বারা শায়খের প্রভাবিত হওয়ার প্রমাণ দেয়। মানুষের কাছে পাঠানো শায়খের অধিকাংশ পত্রই শায়খ ইবনে তাইমিয়্যাহর কথা অথবা কিছু কুরআনের আয়াত ও নববী হাদীসের উপর তাঁর ব্যাখ্যাসমূহের সাক্ষ্যে পরিপূর্ণ।

তৃতীয়: সফরসমূহ: শায়খ যেসব সফর করেছিলেন তাঁর নিজের ওপর সেগুলোর বিশাল প্রভাব ছিল। তিনি মক্কাতুল মুকাররমায় গিয়েছেন এবং অনেক হাজীর সাথে মিলিত হয়েছেন এবং তাদের মাধ্যমে জাজিরার (আরব উপদ্বীপ) বাইরের মুসলিম দেশগুলোর মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছেন। আর যখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শহর মদিনায় গেলেন, সেখানে বড় বড় আলেমদের সাথে মিলিত হলেন, যাদের শায়খের দাওয়াতের ওপর বিশাল প্রভাব ছিল। এছাড়া তিনি মদিনায় বিদআত ছড়িয়ে থাকতে দেখেন। আর যখন তিনি বসরায় গেলেন, সেখানেও তিনি কুসংস্কার ও বিদআত প্রত্যক্ষ করলেন যার সাথে দ্বীনের কোনো সম্পর্ক নেই। সত্য হলো এই যে, শায়খের সমস্ত সফর তাঁর দিগন্তকে প্রসারিত করেছিল এবং মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ভুলত্রুটি সম্পর্কে তাঁকে সচেতন করেছিল, যা তাঁকে তাঁর বরকতময় ইসলামি দাওয়াত পরিচালনার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছিল।

চতুর্থ: যে সমাজে তিনি বসবাস করতেন: শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ) যে সমাজে বেড়ে উঠেছেন, সেটি ছিল এমন এক সমাজ যার আকিদা সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। কারণ তিনি যে পরিবেশে বাস করতেন সেটি ছিল কুসংস্কার ও বিদআতের পরিবেশ। এই কলুষিত পরিবেশ শায়খ মুহাম্মদকে কুসংস্কার ও বিদআতের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং ইসলামের সঠিক মূলনীতি প্রচারের কাজে ব্রতী হতে সংকল্পবদ্ধ করেছিল।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٣٧)
8- الشيخ محمد بن عبد الوهاب في حريملاء بداية المرحلة التأسيسية للدعوة

رجع الشيخ محمد من البصرة مارا بالأحساء إلى بلدة حريملاء حيث يعيش والده هناك، وبوصوله إلى حريملاء تبدأ المرحلة التأسيسية للدعوة، فقد دخلت الدعوة مرحلة جديدة، ويمكن القول إن هذه الفترة التي أمضاها الشيخ في حريملاء، والتي استمرت نحو خمس عشرة سنة، أي منذ وصوله سنة 1139 هـ إلى سنة مغادرته إلى العيينة سنة 1153 هـ كانت فترة استعداد للوثبة الكبرى التي أعدته لها العناية الإلهية وألهمته إياها. والواقع أن الشيخ محمدا لم يلزم جانب الهدوء، ويخلد إلى السكون والراحة، بل واصل التعلم والتعليم مع أبيه، وعندما رأى حال الجهل التي يعيشها الناس في حريملاء اشتد حماسه في سبيل إنقاذ مواطنيه مما هم فيه من الجهل بأصول الدين، فأخذ يجاهر بدعوته، ويدعو الناس للعودة إلى الكتاب والسنة وما كان عليه السلف الصالح، ولم يكن مجتمع نجد مستعدا لقبول ما يدعو إليه الشيخ ولهذا عارضوا ما نادى به وحاولوا التخلص من صاحب الدعوة، ولما ظهر لعبد الوهاب أن ولده متحمس لدعوته وأن الناس يعارضون هذه الدعوة ويتربصون بصاحبها الدوائر، خاف عبد الوهاب على ابنه محمد ونصحه بلزوم الاعتدال وعدم التسرع في دعوته.

فأخذ برأي والده وبعد وفاة والده عام 1153 هـ"1729 م" نشط في دعوته، وبذل فيها ما أعطي من قوة واندفاع. شاع خبر محمد في المنطقة
৮- হুরয়াইমিলায় শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: দাওয়াতের প্রতিষ্ঠাতা পর্যায়ের সূচনা

শায়খ মুহাম্মাদ বসরা থেকে আল-আহসা হয়ে হুরয়াইমিলা শহরে ফিরে আসেন, যেখানে তাঁর পিতা বসবাস করতেন। হুরয়াইমিলায় তাঁর আগমনের মাধ্যমেই দাওয়াতের প্রতিষ্ঠাতা পর্যায়ের সূচনা হয়। এর মাধ্যমে দাওয়াত এক নতুন যুগে প্রবেশ করে। বলা যায় যে, শায়খ হুরয়াইমিলায় যে সময়টি অতিবাহিত করেছিলেন—যা প্রায় পনের বছর স্থায়ী ছিল, অর্থাৎ ১১৩৯ হিজরিতে তাঁর আগমন থেকে শুরু করে ১১৫৩ হিজরিতে উয়াইনায় যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত—তা ছিল সেই বিশাল বিপ্লবের প্রস্তুতিকাল, যার জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ তাঁকে তৈরি করেছিল এবং তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল। প্রকৃতপক্ষে, শায়খ মুহাম্মাদ অলস বসে থাকেননি কিংবা আরাম-আয়েশে মগ্ন হননি, বরং তিনি তাঁর পিতার সাথে জ্ঞানার্জন ও শিক্ষাদানের কাজ চালিয়ে যান। হুরয়াইমিলার মানুষ যে অজ্ঞতার মধ্যে নিমজ্জিত ছিল, তা দেখে তিনি তাঁর দেশবাসীকে দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলি সম্পর্কে এই অজ্ঞতা থেকে উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত উদ্যমী হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি প্রকাশ্যে তাঁর দাওয়াতের কাজ শুরু করেন এবং মানুষকে কিতাব ও সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের আদর্শের দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানান। নজদ অঞ্চলের সমাজ শায়খের এই দাওয়াত কবুল করার জন্য প্রস্তুত ছিল না, ফলে তারা তাঁর আহ্বানের বিরোধিতা করে এবং এই দাওয়াতের প্রবক্তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। যখন আব্দুল ওয়াহহাবের নিকট স্পষ্ট হলো যে তাঁর পুত্র দাওয়াতের ব্যাপারে অত্যন্ত উৎসাহী এবং মানুষ এই দাওয়াতের বিরোধিতা করছে ও এর প্রবক্তার ক্ষতির সুযোগ খুঁজছে, তখন আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর পুত্র মুহাম্মাদকে নিয়ে শঙ্কিত হলেন এবং তাঁকে মধ্যপন্থা অবলম্বন করার ও দাওয়াতের কাজে তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিলেন।

অতঃপর তিনি তাঁর পিতার পরামর্শ গ্রহণ করেন এবং ১১৫৩ হিজরিতে (১৭২৯ খ্রিষ্টাব্দে) তাঁর পিতার ইন্তেকালের পর তিনি দাওয়াতের কাজে অধিক সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং এতে নিজের সমস্ত শক্তি ও উদ্যম ঢেলে দেন। সমগ্র অঞ্চলে মুহাম্মাদের দাওয়াতের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٣٨)
كلها وتناقل الناس أخبار الدعوة والداعي فأقبل عليه كثيرون واتبعوا دعوته، ولزموا مجلسه فأخذ يعظ الناس ويرشدهم، ثم بدأ يرسل دعاته ورسائله إلى البلدان المجاورة لنشر دعوته، وهذه أول رسالة أرسلها لأهل العارض وهي بمثابة البيان الأول وهذا نصها: 1

بسم الله الرحمن الرحيم

من محمد بن عبد الوهاب، إلى من يصل إليه هذا الكتاب من المسلمين:

سلام عليكم ورحمة الله وبركاته، وبعد فاعلموا، رحمكم الله، أن الله بعث محمدا صلى الله عليه وسلم إلى الناس بشيرا ونذيرا، مبشرا لمن اتبعه بالجنة، ومنذرا لمن لا يتبعه بالنار. وقد علمتم إقرار كل من له معرفة، أن التوحيد الذي بينه للناس هو الذي أرسل الله به رسله، وأن الذي عليه غالب الناس من الاعتقادات في الصالحين وفي غيرهم هو الشرك، الذي قال الله فيه: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ} 2.

فإذا تحققتم هذا، وعرفتم أنهم يقولون، لو يترك أهل العارض التكفير والقتال كانوا على دين الله ورسوله، ونحن ما جئناكم في التكفير والقتال، ولكن لننصحكم بهذا الذي قطعتم أنه دين الله ورسوله، أن تعلموا به إن كنتم أمة محمد باطنا وظاهرا.

--------------------------------------------

1 حسين بن غنام، تاريخ نجد، تحقيق الدكتور ناصر الدين الأسد، بيروت، دار الشروق، الطبعة الثالثة، 1414 هـ، ص 316 - ص 317.

2 سورة المائدة آية: 72.
...সমস্ত এবং মানুষ দাওয়াত ও দাওয়াত প্রদানকারীর সংবাদ আদান-প্রদান করতে লাগল। ফলে অনেকে তাঁর প্রতি ধাবিত হলো এবং তাঁর দাওয়াত অনুসরণ করল। তারা তাঁর মজলিসে নিয়মিত উপস্থিত হতে লাগল, ফলে তিনি মানুষকে উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দিতে শুরু করলেন। এরপর তিনি তাঁর দাওয়াত প্রচারের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে তাঁর দাঈ ও পত্রসমূহ পাঠাতে শুরু করলেন। আর এটিই প্রথম পত্র যা তিনি আল-আরদবাসীর উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছিলেন এবং এটি প্রথম বিবৃতির সমতুল্য। এর পাঠ নিম্নরূপ: ১

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের পক্ষ থেকে, মুসলিমদের মধ্যে যাদের নিকট এই পত্র পৌঁছাবে তাদের প্রতি:

আপনাদের উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর, আল্লাহ আপনাদের উপর রহম করুন, আপনারা জেনে রাখুন যে, আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে মানুষের নিকট পাঠিয়েছেন। যারা তাঁর অনুসরণ করবে তাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদদাতা এবং যারা তাঁর অনুসরণ করবে না তাদের জন্য জাহান্নামের সতর্ককারী হিসেবে। আপনারা প্রত্যেক জ্ঞানবান ব্যক্তির স্বীকৃতি অনুযায়ী অবগত আছেন যে, সেই তাওহীদ যা তিনি মানুষের নিকট বর্ণনা করেছেন, তা দিয়েই আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন। আর নেককার ও অন্যদের সম্পর্কে বর্তমান অধিকাংশ মানুষের যে বিশ্বাস রয়েছে তা হলো শিরক, যে বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম} ২।

সুতরাং যখন আপনারা এটি নিশ্চিতভাবে জানলেন এবং বুঝতে পারলেন যে তারা বলে, যদি আল-আরদবাসীরা তাকফীর (কাফির সাব্যস্ত করা) ও যুদ্ধ করা ত্যাগ করত, তবে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দ্বীনের উপর থাকত। অথচ আমরা আপনাদের নিকট তাকফীর ও যুদ্ধের জন্য আসিনি, বরং আপনাদেরকে সেই বিষয়ে উপদেশ দিতে এসেছি যা আপনারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেন যে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দ্বীন; যেন আপনারা তদানুযায়ী আমল করেন যদি আপনারা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিক থেকে মুহাম্মদের উম্মত হয়ে থাকেন।

--------------------------------------------

১ হুসাইন বিন গান্নাম, তারিখু নাজদ, তাহকীক: ডক্টর নাসিরুদ্দিন আল-আসাদ, বৈরুত, দারুশ শুরূক, তৃতীয় সংস্করণ, ১৪১৪ হিজরী, পৃ. ৩১৬ - পৃ. ৩১৭।

২ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৭২।
(খণ্ড: ১) হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া হাকীকাতু দা’ওয়াতিহি (পৃষ্ঠা: ٣٩)
وأنا أبين لكم هذه بمسألةالقبلة: أن النبي صلى الله عليه وسلم وأمته يصلون، والنصارى يصلون ولكل قبلته، فقبلته صلى الله عليه وسلم وأمته بيت الله الحرام وقبلة النصارى مطلع الشمس. فالكل منا يصلي، ولكن اختلفنا في القبلة، ولو أن رجلا من أمة محمد صلى الله عليه وسلم يقر بهذا ولكن يكره من يستقبل القبلة، ويحب من يستقبل الشمس، أتظنون أن هذا مسلم؟ وهذا ما نحن فيه، فالنبي صلى الله عليه وسلم بعثه الله بالتوحيد وأن لا يدعو مع الله أحدا، لا نبي ولا غيره، والنصارى يدعون عيسى رسول الله، ويدعون الصالحين، ويقولون ليشفعوا لنا عند الله. فإذا كان كل "مطوع"" مقرا بالتوحيد، فاجعلوا التوحيد مثل القبلة، واجعلوا الشرك من استقبال الشرق، مع أن هذا أعظم من القبلة.

وأنا أنصحكم وأنخاكم"أستثير نخواتكم" لا تضيعوا حظكم من الله، وتحبوا دين النصارى على دين نبيكم، فما ظنكم بمن واجه الله، وهو يعلم من قلبه أنه عرف أن التوحيد دينه ودين رسوله، وهو يبغضه ويبغض من اتبعه، أتظنون أن الله يغفر لهذا والنصيحة لمن خاف عذاب الآخرة، وأما القلب الخالي فلا حيلة لنا فيه ".

ولم يكتف محمد أثناء إقامته في حريملاء بهذا، بل ألف أثناء هذه الفترة كتابه القيم، الذي كتب فيه مبادئ دعوته، وهذا الكتاب، هو كتاب "التوحيد الذي هو حق الله على العبيد" وفي هذا الكتاب
আমি কিবলার মাসআলা দ্বারা আপনাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করছি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উম্মত সালাত আদায় করেন, খ্রিস্টানরাও সালাত আদায় করে এবং প্রত্যেকের জন্য নিজস্ব কিবলা রয়েছে। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উম্মতের কিবলা হলো বায়তুল্লাহিল হারাম, আর খ্রিস্টানদের কিবলা হলো সূর্যোদয়ের স্থান। আমরা সবাই সালাত আদায় করি, কিন্তু আমাদের কিবলা ভিন্ন। যদি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের কোনো ব্যক্তি এটি স্বীকার করে কিন্তু যে কিবলার দিকে মুখ করে তাকে ঘৃণা করে, আর যে সূর্যের দিকে মুখ করে তাকে ভালোবাসে, তবে আপনারা কি মনে করেন সে একজন মুসলিম? আমরা বর্তমান যে অবস্থায় আছি সেটিও ঠিক এমনই। আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাওহীদসহ প্রেরণ করেছেন এবং এই নির্দেশ দিয়েছেন যে, আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডাকা যাবে না—তা কোনো নবী হোক বা অন্য কেউ। আর খ্রিস্টানরা আল্লাহর রাসূল ঈসাকে ডাকে এবং নেককারদের ডাকে, আর তারা বলে যে তারা আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করবে। সুতরাং যদি প্রত্যেক 'ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি' তাওহীদ স্বীকার করে থাকে, তবে তাওহীদকে কিবলার মতো গণ্য করুন এবং পূর্ব দিকে মুখ করাকে শিরক হিসেবে গণ্য করুন, যদিও এটি কিবলার বিষয়ের চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর।

আমি আপনাদের নসিহত করছি এবং আপনাদের আত্মমর্যাদাকে জাগিয়ে তুলছি যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনাদের যে সৌভাগ্য রয়েছে তা নষ্ট করবেন না এবং আপনাদের নবীর দ্বীনের চেয়ে খ্রিস্টানদের ধর্মকে প্রাধান্য দেবেন না। সুতরাং সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনাদের ধারণা কী যে আল্লাহর সম্মুখীন হবে অথচ সে মনে মনে জানে যে তাওহীদই তার এবং তার রাসূলের দ্বীন, কিন্তু সে তাওহীদকে ঘৃণা করে এবং যারা তাওহীদের অনুসরণ করে তাদেরও ঘৃণা করে? আপনারা কি মনে করেন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন? নসিহত কেবল তার জন্য যে পরকালের আজাবকে ভয় পায়, আর শূন্য হৃদয়ের ব্যাপারে আমাদের কোনো উপায় নেই।

মুহাম্মাদ হুরয়াইমিলায় অবস্থানকালে কেবল এটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং এই সময়েই তিনি তাঁর মূল্যবান গ্রন্থটি রচনা করেন, যাতে তিনি তাঁর দাওয়াতের মূলনীতিগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। আর এই গ্রন্থটি হলো 'কিতাবুত তাওহীদ, যা বান্দার ওপর আল্লাহর হক'। আর এই কিতাবে...