(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: -)
حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وآثاره العلمية (مطبوع ضمن بحوث ندوة دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الأول) القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وآثاره العلمية (مطبوع ضمن بحوث ندوة دعوة الشيخ محمد بن عبدالوهاب، الجزء الأول)
المؤلف: إسماعيل بن محمد بن ماحي السعدي الأنصاري (ت 1417هـ)
الناشر: عمادة البحث العلمي بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثانية، 1420هـ/1990م
عدد الصفحات: 158
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবন ও তাঁর ইলমি কর্মসমূহ (শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত বিষয়ক সেমিনারের গবেষণাপত্র সমূহের অন্তর্ভুক্ত, প্রথম খণ্ড) বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবন ও তাঁর ইলমি কর্মসমূহ (শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত বিষয়ক সেমিনারের গবেষণাপত্র সমূহের অন্তর্ভুক্ত, প্রথম খণ্ড)
লেখক: ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ বিন মাহী আস-সা’দী আল-আনসারী (মৃত্যু ১৪১৭ হিজরি)
প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২০ হিজরি/১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وآثاره العلمية
لفضيلة الشيخ: إسماعيل محمد الأنصاري
بالرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والافتاء والدعوة والأرشاد بالمملكة العربية السعودية
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد سيد المرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين.. وبعد:
فقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إن الله يبعث لهذه الأمة على رأس كل مائة سنة من يجدد لها دينها"1 رواه أبو داود في الملاحم من سننه، والحاكم في الفتن من مستدركه وصححه، ورواه البيهقي في معرفة السنن له، كلهم عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم.
والمراد بتجديد الدين إحياء ما اندرس من العمل بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وإماتة ما ظهر من البدع.
وقد اخترنا أن يكون موضوع بحثنا هذا أحد أولئك المجددين الذين أشار إليهم هذا الحديث الشريف، وهو شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب2 الذي بزغ به في القرن الثاني عشر قمر التجديد، وانتصرت به راية التوحيد، فنقول وبالله التوفيق، وهو حسبي ونعم الوكيل.
مجدد القرن الثاني عشرهو محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي بن محمد بن أحمد بن راشد بن بريد بن
--------------------------------------------
শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবন ও তাঁর ইলমি রচনাবলি
ফযীলাতুশ শায়খ: ইসমাইল মুহাম্মদ আল-আনসারী কর্তৃক
ইলমি গবেষণা, ইফতা, দাওয়াত ও ইরশাদ বিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সি, সৌদি আরব।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ—যিনি সকল রাসুলদের সর্দার—তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীদের উপর। অতঃপর:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীর শুরুতে এমন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সংস্কার করবেন।" ১ এটি আবু দাউদ তাঁর সুনানের 'আল-মালাহিম' অধ্যায়ে, হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকের 'আল-ফিতান' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটিকে সহীহ বলেছেন। আর বায়হাকী তাঁর 'মারিফাতুস সুনান'-এ এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
আর দ্বীনের সংস্কার (তাজদীদ) বলতে উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী আমলের যা কিছু বিলুপ্ত হয়ে গেছে তা পুনর্জীবিত করা এবং যেসব বিদআত প্রকাশ পেয়েছে তা নির্মূল করা।
আমরা আমাদের এই গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে সেই সংস্কারকদের একজনকে বেছে নিয়েছি যাদের প্রতি এই হাদিস শরিফে ইশারা করা হয়েছে; আর তিনি হলেন শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ২ যার মাধ্যমে দ্বাদশ শতাব্দীতে সংস্কারের চাঁদ উদিত হয়েছে এবং তাওহীদের পতাকা বিজয়ী হয়েছে। আমরা বলছি—আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।
দ্বাদশ শতাব্দীর সংস্কারকতিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রাশিদ বিন বারীদ বিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১২০)
محمد بن بريد بن مشرف1 التميمي، نسبة إلى تميم الذي قال الصحابي الجليل أبو هريرةرضي الله عنه في بنيه "ما زلت أحب بني تميم منذ ثلاث سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول فيهم: "هم أشد أمتي على الدجال"2، قال: وجاءت صدقاتهم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هذه صدقات قومنا" 3. وكانت سبية منهم عند عائشة فقال: "اعتقيها فإنها من ولد إسماعيل". رواه البخارى في باب من ملك من العرب رقيقا فوهب وباع
… إلخ من صحيحه جـ 5 من شرح فتح الباري.
--------------------------------------------
মুহাম্মদ বিন বুরাইদ বিন মুশাররাফ১ আত-তামিমী; তামীমের সাথে সম্বন্ধযুক্ত, যার বংশধরদের সম্পর্কে মহান সাহাবী আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, "আমি তিনটি কথা শোনার পর থেকে বনী তামীমকে সর্বদা ভালোবাসি যা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাদের সম্পর্কে বলতে শুনেছি: 'তারা আমার উম্মতের মধ্যে দাজ্জালের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর হবে'২।" তিনি বলেন: এবং তাদের সদকা (দান) যখন আসলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "এগুলো আমাদের কওমের সদকা" ৩। তাদের মধ্য থেকে একজন যুদ্ধবন্দী নারী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট ছিল, তখন তিনি বললেন: "তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর।" ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের ফাতহুল বারী শরহ-এর ৫ম খণ্ডে 'আরবদের মধ্য থেকে যারা দাস মালিক হয়েছে অতঃপর দান করেছে ও বিক্রি করেছে' অনুচ্ছেদে এটি বর্ণনা করেছেন
… ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১২০)
ولادته ونشأتهولد شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب سنة خمس عشرة بعد المائة والألف من الهجرة النبوية، في بيت أضاف إلى شرف النسب شرف العلم؛ فإن والده عبد الوهاب كان عالما ذا معرفة تامة بالحديث والفقه وغيرهما، قاضيا، وله أسئلة وأجوبة. ذكر ابن بشر في "عنوان المجد في تاريخ نجد" أنه اطلع عليها واستفاد منها. وسليمان والد عبد الوهاب كان فقيه زمانه متبحرا في علوم المذهب، قد انتهت إليه الرياسة في العلم، وكان علماء نجد في زمانه يرجعون إليه في كل مشكلة من الفقه وغيره، ذكر ذلك في صـ72 وقال بعد ذكره "رأيت له سؤالات عديدة وجوابات كثيرة وصنف كتابا في المناسك" وذكر أنه - أي سليمان - كان معاصرا للبهوتي الحنبلي، وأنه اجتمع به بمكة المكرمة.
وذكر العلامة الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن في ترجمته للإمام محمد بن عبد الوهاب نفس ما ذكره ابن بشر، قال "ووالده - أي: الإمام محمد بن عبد الوهاب - هو مفتي تلك البلاد، وجده مفتي البلاد، وآثاره وتصانيفه وفتاواه تدل على علمه وفقهه، وكان جده إليه المرجع في الفقه والفتوى، وكان معاصرا للشيخ منصور البهوتي الحنبلي خادم المذهب، اجتمع به بمكة"4.
وهكذا كان أعمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأبناء أعمامه علماء أجلاء، كما اتصل
--------------------------------------------
তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠাশাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব হিজরি এক হাজার একশত পনেরো সালে এমন এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যা বংশীয় মর্যাদার সাথে ইলমের মর্যাদাকে যুক্ত করেছিল; কারণ তাঁর পিতা আব্দুল ওয়াহহাব ছিলেন হাদিস, ফিকহ এবং অন্যান্য বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞানসম্পন্ন একজন আলেম ও বিচারক, এবং তাঁর বহু প্রশ্নোত্তর সংকলিত রয়েছে। ইবনে বিশর 'উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নাজদ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সেগুলো প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা থেকে উপকৃত হয়েছেন। আর আব্দুল ওয়াহহাবের পিতা সুলাইমান ছিলেন তাঁর সময়ের ফকিহ এবং মাযহাবি জ্ঞানে অত্যন্ত পারদর্শী, ইলমি নেতৃত্ব তাঁর কাছেই সমাপ্ত হয়েছিল। তাঁর সময়ের নজদের আলেমগণ ফিকহসহ অন্যান্য সকল সমস্যায় তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতেন। তিনি (ইবনে বিশর) ৭২ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বর্ণনার পর বলেছেন, "আমি তাঁর অনেক প্রশ্ন ও উত্তর দেখেছি এবং তিনি মানাসিক (হজ্জের নিয়মাবলি) বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে—অর্থাৎ সুলাইমান—বাহুতি হাম্বলির সমসাময়িক ছিলেন এবং মক্কাতুল মুকাররমায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
আল্লামা শাইখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনীতে ইবনে বিশরের অনুরূপ বর্ণনা দিয়ে বলেন, "তাঁর পিতা—অর্থাৎ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের পিতা—ছিলেন সেই অঞ্চলের মুফতি এবং তাঁর দাদা ছিলেন দেশের মুফতি। তাঁর কর্ম, রচনাবলি এবং ফতোয়াসমূহ তাঁর ইলম ও ফিকহের প্রমাণ দেয়। ফিকহ ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দাদাই ছিলেন প্রধান আশ্রয়স্থল। তিনি মাযহাবের সেবক শাইখ মানসুর আল-বাহুতি হাম্বলির সমসাময়িক ছিলেন এবং মক্কায় তাঁর সাথে মিলিত হয়েছিলেন।" ৪।
একইভাবে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের চাচাগণ এবং চাচাতো ভাইগণও ছিলেন মহান আলেম। যেমনটি আরও যুক্ত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১২১)
العلم في ذرية الإمام المجدد محمد بن عبد الوهاب.. نسأل الله أن يستمر ذلك فيهم إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها وما ذلك على الله بعزيز.
ইমাম আল-মুজাদ্দিদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের বংশধরদের মধ্যে ইলম বিদ্যমান। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন এটি তাদের মধ্যে অব্যাহত থাকে যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী এবং এর ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হন; আর এটি আল্লাহর জন্য মোটেও কঠিন নয়।
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১২১)
مشايخ الإمام محمد بن عبد الوهابتلقى الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله العلم عن مشايخ كثيرين كما نص عليه غير واحد من أئمة العلم.
قال العلامة الشيخ حسين بن غنام في الفصل الثاني من "روضة الأفكار والأفهام"1. "وأخذ-أي: الشيخ محمد بن عبد الوهاب - في القراءة على والده في الفقه على مذهب الإمام أحمد، فسلك فيه الطريق الأحمدي، ورزق مع الحفظ سرعة الكتابة، فكان يحير أصحابه بحيث أنه يخط بالخط الفصيح في المجلس الواحد كراسا من غير سآمة ولا تعب ولا التباس. ثم بعد ذلك رحل في العلم وسار وجد في الطلب إلى ما يليه من الأمصار وما يحاذيه من الأقطار، فزاحم فيه العلماء الكبار، وأشرق طالعه واستنار، وثار لهلاله أقمار، فوطئ الحجاز والبصرة لذلك مرارا، وأتى الأحساء لتلك الأوطار، وأخذ العلم عن جماعة، منهم: الشيخ عبد الله بن إبراهيم النجدي ثم المدني
… إلى أن قال: "وقد سمع - أي: الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله الحديث والفقه عن جماعة بالبصرة كثيرة، وقرأ بها النحو وأتقن تحريره، وكتب الكثير من اللغة والحديث في تلك الإقامة، وحث على طريق الهدى والاستقامة، وكان أكثر لبثه لأخذ العلم بالبصرة ومقامه" ا. هـ.
وإلى ما ذكره ابن غنام هنا يشير العلامة الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب بقوله في "مصباح الظلام" صـ8: "وقد عرف طلب الشيخ للعلم ورحلته في تحصيله، كما ذكره صاحب التاريخ الشيخ حسين بن غنام الأحسائي"2.
--------------------------------------------
ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের শাইখগণইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) বহু শাইখের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, যেমনটি ইলমের একাধিক ইমাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
আল্লামা শাইখ হুসাইন বিন ঘাননাম "রাওদাতুল আফকার ওয়াল আফহাম"-এর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বলেন: ১. "তিনি—অর্থাৎ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব—ইমাম আহমদের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর পিতার নিকট পাঠ গ্রহণ শুরু করেন এবং এতে আহমদী পথ অনুসরণ করেন। মুখস্থ করার শক্তির পাশাপাশি তিনি দ্রুত লেখার ক্ষমতাও লাভ করেছিলেন। তিনি তাঁর সাথীদের বিস্মিত করে দিতেন, কারণ তিনি এক মজলিসে কোনো ক্লান্তি, অবসাদ বা বিভ্রান্তি ছাড়াই প্রাঞ্জল হস্তাক্ষরে একটি পূর্ণ খাতা লিখে ফেলতেন। এরপর তিনি ইলমের সন্ধানে বের হন এবং তাঁর নিকটবর্তী জনপদ ও দূরবর্তী অঞ্চলসমূহে জ্ঞান অর্জনে সচেষ্ট হন। সেখানে তিনি বড় বড় আলিমদের সাহচর্য লাভ করেন। তাঁর মেধা প্রস্ফুটিত ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রভাবে বহু গুণের বিকাশ ঘটে। এই উদ্দেশ্যে তিনি বারবার হিজায ও বসরা গমন করেন এবং সেই সকল প্রয়োজন পূরণে আল-আহসায় আগমন করেন। তিনি একদল আলিমের নিকট ইলম গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: শাইখ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আন-নাজদি অতঃপর আল-মাদানি
… পরিশেষে তিনি বলেন: "শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) বসরার এক বিশাল জামাতের নিকট হাদিস ও ফিকহ শ্রবণ করেছেন। সেখানে তিনি নাহু (ব্যাকরণ) পাঠ করেন এবং এর বিশ্লেষণে পারদর্শিতা অর্জন করেন। সেই অবস্থানকালে তিনি ভাষা ও হাদিসের অনেক কিতাব লিপিবদ্ধ করেন এবং হিদায়াত ও ইস্তিকামাতের পথের প্রতি উৎসাহিত করেন। ইলম অর্জনের জন্য তাঁর অধিকাংশ সময় ও অবস্থান বসরার সাথেই সংশ্লিষ্ট ছিল।" সমাপ্ত।
ইবন ঘাননাম এখানে যা উল্লেখ করেছেন, আল্লামা শাইখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর "মিসবাহুজ জুলাম" গ্রন্থের ৮ পৃষ্ঠায় সেদিকেই ইঙ্গিত করে বলেন: "শাইখের ইলম অন্বেষণ এবং তা অর্জনে তাঁর সফরের বিষয়টি সুপরিচিত, যেমনটি ঐতিহাসিক শাইখ হুসাইন বিন ঘাননাম আল-আহসায়ি উল্লেখ করেছেন।" ২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১২২)
وقال الشيخ عبد اللطيف في "مصباح الظلام"1. "وقد اجتمع - أي: الإمام محمد بن عبد الوهاب - بأشياخ الحرمين في وقته ومحدثيهما، وأجازه بعضهم، ورحل إلى البصرة، وسمع وناظر، وإلى الأحساء وهي إذ ذاك آهلة بالعلماء، فسمع من أشياخها وباحث في أصول الدين ومقالات الناس في الإيمان وغيره، وسمع عن والده وعن فقهاء نجد في وقته، واشتهر عندهم بالعلم والذكاء، وعرف به على صغر سنه". وقال في موضع آخر من هذا المصدر "مصباح الظلام"2: اشتهرت رحلة شيخنا رحمه الله وسماعه للعلوم، واجتماعه بأعيان وقته، وقد أخذ الفقه عن أبيه عن جده سليمان بن علي - مفتي الديار النجدية في وقته - وسنده المتصل بأئمة المذهب إلى الإمام أحمد معروف مقرر عندهم، وسمع الحديث من أشياخ الحرمين في وقته، وأجازه الكثير منهم، ومن أعلامهم محدث الحرمين الشيخ محمد حياة السندي، وكان له أكبر الأثر في توجيهه إلى إخلاص توحيد عبادة الله والتخلص من رق التقليد الأعمى، والاشتغال بالكتاب والسنة. ورحل إلى البصرة وسمع من أشياخها، ورحل إلى الأحساء ; وهي إذ ذاك آهلة بالعلماء، فسمع منهم وأخذ عنهم وعرف قدرة أهل العلم والنهى" ا. هـ.
وقال العلامة الشيخ عبد اللطيف - أيضا - في ذلك في ترجمته للإمام محمد بن عبد الوهاب بعد أن ذكر قراءته الفقه على مذهب الإمام أحمد بن حنبل على والده قال3 - "ثم بعد ذلك رحل - أي: الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب - يطلب العلم، وذاق حلاوة التحصيل والفهم، وزاحم العلماء الكبار، ورحل إلى البصرة والحجاز مرارا، واجتمع بمن فيها من العلماء والمشايخ الأخيار، وأتى الأحساء وهي إذ ذاك آهلة بالمشايخ والعلماء، فسمع وناظر، وبحث واستفاد، وساعدته الأقدار الربانية والتوفيق والإمداد.
وروي عن جماعة منهم: الشيخ عبد الله بن إبراهيم النجدي ثم المدني، وأجازه من طريقين، وأول ما سمع منه الحديث المسلسل بالأولوية " قال الشيخ عبد اللطيف:
--------------------------------------------
এবং শায়খ আব্দুল লতিফ "মিসবাহুজ জুলাম" ১-এ বলেছেন: "তিনি—অর্থাৎ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব—তাঁর সময়ের হারমাইন শরিফাইনের মাশায়েখ ও তাঁদের মুহাদ্দিসগণের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে ইজাজত দিয়েছেন। তিনি বসরায় সফর করেছেন, সেখানে ইলম শ্রবণ ও মুনাজারা করেছেন। এরপর তিনি আহসায় গিয়েছেন, যা তখন উলামায়ে কেরামে পরিপূর্ণ ছিল। তিনি সেখানকার মাশায়েখদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেন এবং উসুলুদ্দীন (দীনের মূলনীতি) ও ঈমান এবং অন্যান্য বিষয়ে মানুষের বক্তব্য সম্পর্কে গবেষণা করেন। তিনি তাঁর পিতা এবং তাঁর সময়ের নজদের ফকিহগণের নিকট থেকেও ইলম শ্রবণ করেন। তাঁদের নিকট তিনি ইলম ও প্রখর মেধার জন্য সুপরিচিত ছিলেন এবং অল্প বয়সেই তিনি এর জন্য পরিচিতি লাভ করেন।" তিনি এই উৎসের (মিসবাহুজ জুলাম ২) অন্য এক স্থানে বলেছেন: "আমাদের শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর জ্ঞানার্জনের সফর, ইলম শ্রবণ এবং তাঁর সময়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে তাঁর সাক্ষাতের বিষয়টি সুপ্রসিদ্ধ। তিনি তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা সুলাইমান ইবনে আলীর নিকট থেকে ফিকহ অর্জন করেছেন—যিনি তাঁর সময়ে নজদ অঞ্চলের মুফতি ছিলেন। ইমাম আহমাদ পর্যন্ত মাজহাবের ইমামগণের সাথে তাঁর অবিচ্ছিন্ন সনদ তাঁদের নিকট সুপরিচিত ও স্বীকৃত। তিনি তাঁর সময়ের হারমাইন শরিফাইনের মাশায়েখদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁদের অনেকেই তাঁকে ইজাজত দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বরেণ্য ছিলেন হারমাইনের মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ হায়াত সিন্ধি। আল্লাহর ইবাদতে তাওহিদকে একনিষ্ঠ করা, অন্ধ অনুকরণের দাসত্ব থেকে মুক্তি এবং কুরআন ও সুন্নাহর গবেষণায় নিমগ্ন হওয়ার দিকনির্দেশনা প্রদানে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রভাব ছিল। তিনি বসরায় সফর করেন এবং সেখানকার মাশায়েখদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেন। তিনি আহসায় সফর করেন; যা তখন উলামায়ে কেরামে ভরপুর ছিল। তিনি তাঁদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ ও গ্রহণ করেন এবং ইলম ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের মর্যাদা উপলব্ধি করেন।" ইতি।
আল্লামা শায়খ আব্দুল লতিফ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনীতে তাঁর পিতার নিকট ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল-এর মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ পাঠের কথা উল্লেখ করার পর আরও বলেছেন ৩: "এরপর তিনি—অর্থাৎ শায়খ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব—ইলম অন্বেষণে সফর করেন এবং ইলম অর্জন ও সমঝের স্বাদ গ্রহণ করেন। তিনি বড় বড় আলেমদের সাহচর্য লাভ করেন, বারবার বসরা ও হিজাজে সফর করেন এবং সেখানকার বরেণ্য আলেম ও শ্রেষ্ঠ মাশায়েখদের সাথে মিলিত হন। তিনি আহসায় আসেন, যা তখন মাশায়েখ ও উলামায়ে কেরামে পরিপূর্ণ ছিল। সেখানে তিনি ইলম শ্রবণ করেন, মুনাজারা করেন, গবেষণা করেন ও উপকৃত হন। রব্বানি তাকদির, তাওফিক এবং সাহায্য তাঁর সহায় হয়েছিল।
তাঁদের এক জামাত থেকে বর্ণিত হয়েছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম নজদি অতঃপর মাদানি। তিনি তাঁকে দুটি সূত্রে ইজাজত প্রদান করেন এবং তাঁর নিকট থেকে তিনি সর্বপ্রথম যে হাদিসটি শুনেছিলেন তা ছিল 'হাদিসে মুসালসাল বিল আওয়ালিয়্যাহ'।" শায়খ আব্দুল লতিফ বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
وطالت إقامة الشيخ ورحلته بالبصرة، وقرأ بها كثيرا من كتب الحديث والفقه والعربية، وكتب من الحديث والفقه واللغة ما شاء الله في تلك الأوقات" ا. هـ.
وقال ابن بدران في "المدخل إلى فقه الإمام أحمد بن حنبل" "أجاز - أي: الإمام محمد بن عبد الوهاب - محدثو العصر بكتب الحديث وغيرها على اصطلاح أهل الحديث من المتأخرين" ا. هـ.
هذا بعض ما ذكر أهل العلم في عناية الإمام محمد بن عبد الوهاب بالعلم وكثرة مشايخه فيه. وعلى سبيل المثال لا الحصر أذكر من مشايخه من يلي:
1 - والده الشيخ عبد الوهاب - مفتي نجد - أخذ عنه الفقه بعد أن حفظ القرآن عن ظهر غيب، قال حفيده العلامة الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب: "أخذ - أي: محمد بن عبد الوهاب - الفقه عن أبيه عن جده سليمان بن علي - مفتي الديار النجدية في وقته - وسنده المتصل بأئمة المذهب إلى الإمام أحمد معروف مقرر عندهم"1.
2- الشيخ عبد الله بن إبراهيم بن سيف النجدي المدني، ذكر صاحب "التوضيح عن توحيد الخلاق" أنه قرأ عليه وأجازه بكل ما حواه ثبت الشيخ عبد الباقي أبي المواهب الحنبلي قراءة وتعليما من صحيح البخاري بسنده إلى مؤلفه، وصحيح مسلم بسنده إلى مؤلفه، وشروح كل منهما، وسنن الترمذي بسنده، وسنن أبي داود بسنده، وسنن ابن ماجة بسنده، وسنن النسائي الكبرى بسنده، وسنن الدارمي ومؤلفاته بالسند، وسلسلة العربية بسندها عن أبي الأسود عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه وكتب النووي كلها، وألفية العراقي، والترغيب والترهيب للمنذري، والخلاصة لابن مالك، وسيرة ابن هشام وسائر كتبه، ومؤلفات ابن حجر العسقلاني، وكتب القاضي عياض، وكتب القراءات، وكتاب الغنية لعبد القادر الجيلي، وكتاب القاموس بالسند إلى مؤلفه، ومسند الإمام الشافعي، وموطأ مالك، ومسند الإمام الأعظم، ومسند الإمام أحمد، ومسند أبي داود - أي: الطيالسي - ومعاجم الطبراني، وكتب السيوطي، وفقه الحنابلة وسلسلته وأصولهم".
--------------------------------------------
"বসরায় শায়খের অবস্থান ও সফর দীর্ঘায়িত হয়েছিল। সেখানে তিনি হাদিস, ফিকহ ও আরবি ভাষার অসংখ্য কিতাব পাঠ করেন এবং সেই সময়ে হাদিস, ফিকহ ও ভাষার যা কিছু আল্লাহ চেয়েছিলেন তা লিপিবদ্ধ করেন।" সমাপ্ত।
ইবনে বাদরান ‘আল-মাদখাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল’ গ্রন্থে বলেছেন: "তৎকালীন যুগের মুহাদ্দিসগণ তাঁকে—অর্থাৎ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবকে—পরবর্তী যুগের মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা অনুযায়ী হাদিসের কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য বিষয়ে অনুমতি (ইজাজাহ) প্রদান করেছিলেন।" সমাপ্ত।
ইলম অর্জনে ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের বিশেষ যত্ন এবং এই পথে তাঁর বহুসংখ্যক শিক্ষক সম্পর্কে আহলে ইলমগণ যা বর্ণনা করেছেন, এটি তারই কিয়দাংশ। উদাহরণস্বরূপ, তবে সীমাবদ্ধ না থেকে, আমি তাঁর কতিপয় শিক্ষকের নাম নিচে উল্লেখ করছি:
১ - তাঁর পিতা শায়খ আব্দুল ওয়াহাব—যিনি নজদের মুফতি ছিলেন। কুরআন হিফজ করার পর তিনি তাঁর কাছ থেকে ফিকহ অর্জন করেন। তাঁর পৌত্র আল্লামা শায়খ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব বলেন: "তিনি—অর্থাৎ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব—তাঁর পিতার কাছ থেকে এবং পিতা তাঁর দাদা সুলাইমান বিন আলী—যিনি তাঁর সময়ের নজদ ভূখণ্ডের মুফতি ছিলেন—তাঁর কাছ থেকে ফিকহ গ্রহণ করেন। মাযহাবের ইমামগণের মাধ্যমে ইমাম আহমাদ পর্যন্ত তাঁর অবিচ্ছিন্ন সনদ তাঁদের কাছে সুপরিচিত ও স্বীকৃত।"১।
২- শায়খ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ আন-নাজদি আল-মাদানি। ‘আত-তাওদিহ আন তাওহিদিল খালাক’ গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তিনি তাঁকে শায়খ আব্দুল বাকি আবুল মাওয়াহিব আল-হাম্বলির ‘সাবাত’-এ (সনদ সংকলন) যা কিছু অন্তর্ভুক্ত আছে তার সবকিছুর পাঠদান ও শিক্ষার অনুমতি প্রদান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে: সহিহ বুখারি এর লেখকের পর্যন্ত সনদসহ, সহিহ মুসলিম এর লেখকের পর্যন্ত সনদসহ, এই দুই কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, সুনানে তিরমিজি সনদসহ, সুনানে আবু দাউদ সনদসহ, সুনানে ইবনে মাজাহ সনদসহ, সুনানে নাসায়ি আল-কুবরা সনদসহ, সুনানে দারেমি ও তাঁর অন্যান্য রচনা সনদসহ, আরবি ভাষার সিলসিলা আবু আসওয়াদ থেকে আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত সনদসহ, নববীর সকল কিতাব, ইরাকির আলফিয়্যাহ, মুনজিরির আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব, ইবনে মালিকের আল-খুলাসাহ, ইবনে হিশামের সিরাত ও তাঁর অন্যান্য সকল কিতাব, ইবনে হাজার আল-আসকালানির রচনাবলি, কাজি ইয়াজের কিতাবসমূহ, কিরাত বিষয়ক কিতাবসমূহ, আব্দুল কাদির জিলানির আল-গুনিইয়াহ কিতাব, আল-কামুস গ্রন্থটি এর লেখকের পর্যন্ত সনদসহ, ইমাম শাফেয়ির মুসনাদ, মালিকের মুওয়াত্তা, ইমামে আজমের মুসনাদ, ইমাম আহমাদের মুসনাদ, আবু দাউদের—অর্থাৎ তায়ালিসির—মুসনাদ, তাবারানির মুজামসমূহ, সুয়ুতির কিতাবসমূহ এবং হাম্বলি ফিকহ, এর সিলসিলা ও উসুলসমূহ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
وما تلقاه الإمام محمد بن عبد الوهاب عن الشيخ عبد الله بن ابراهيم بن سيف النجدي بالحديث المسلسل بالأولية والحديث المسلسل بالحنابلة. قال ابن غنام في روضة الأفكار والأفهام جـ 1 صـ 26 في بيان روايته عنه الحديث الأول "نقلت من خطه - أي الشيخ محمد بن عبد الوهاب - ما نصه: "حدثني الشيخ عبد الله بن إبراهيم بمنزله بظاهر المدينة المنورة - على ساكنها أفضل الصلاة والسلام - عن شيخ الإسلام ومفتي الشام أبي المواهب الحنبلي إجازة قال: أخبرنا والدي تقي الدين عبد الباقي الحنبلي، وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا به المعمر الشيخ عبد الرحمن البهوتي الحنبلي، وهو أول حديث سمعته قال: أخبرنا به شيخنا جمال الدين يوسف الأنصاري الخزرجي، وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا به والدي شيخ الإسلام زكريا الأنصاري، وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا به شيخ الإسلام أبو الفضل أحمد بن حجر العسقلاني، وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا الصلاح محمد بن محمد الحكري الصوفي الخازن، وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا الحافظ زين الدين عبد الرحيم العراقي، وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا به الصدر أبو الفتح
… وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا به الحافظ أبو الفرج عبد اللطيف بن عبد المنعم الحراني، وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا به الحافظ أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن الجوزي، وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا به الحافظ إسماعيل بن أبي صالح النيسابوري، وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا به والدي أبو صالح المؤذن، وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا به أبو طاهر محمد بن محمد1 الزيادي، وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا أحمد بن محمد بن يحيى بن بلال البزاز، وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا عبد الرحمن بن بشر بن الحكم النيسابوري، وهو أول حديث سمعته منه قال: أخبرنا سفيان بن عيينة، وهو أول حديث سمعته منه عن عمرو بن دينار، عن أبي قابوس مولى عبد الله بن عمرو بن العاص عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الراحمون يرحمهم الرحمن، ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء" 2 تفرد به سفيان ولا يصح سنده عمن هو فوق سفيان3 ا. هـ.
--------------------------------------------
ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব শায়খ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ আন-নাজদি থেকে 'হাদিস আল-মুসালসাল বিল-আউয়ালিইয়াহ' এবং 'হাদিস আল-মুসালসাল বিল-হানাবিলাহ' গ্রহণ করেছেন। ইবনে গান্নাম 'রাওদাতুল আফকার ওয়াল আফহাম' এর ১ম খণ্ড, ২৬ পৃষ্ঠায় তার থেকে প্রথম হাদিসটি বর্ণনার বিবরণে বলেন: "আমি তার হাতের লেখা থেকে—অর্থাৎ শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের হস্তাক্ষর থেকে—যা অনুলিপি করেছি তার পাঠ নিম্নরূপ: 'শায়খ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম মদিনা মুনাওয়ারার উপকণ্ঠে তার বাসভবনে—যার অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—আমার কাছে বর্ণনা করেছেন শায়খুল ইসলাম ও শামের মুফতি আবুল মাওয়াহিব আল-হাম্বলি থেকে অনুমতি (ইজাজাত) সূত্রে; তিনি বলেন: আমাকে আমার পিতা তাকীউদ্দীন আব্দুল বাকী আল-হাম্বলি সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: আমাকে দীর্ঘজীবী শায়খ আব্দুর রহমান আল-বাহুতী আল-হাম্বলি সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি শুনেছি; তিনি বলেন: আমাদের শায়খ জামালুদ্দীন ইউসুফ আল-আনসারী আল-খাজরাজী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: আমার পিতা শায়খুল ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: শায়খুল ইসলাম আবুল ফজল আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: আস-সালাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-হাকরি আস-সুফি আল-খাজেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: হাফেজ জায়নুদ্দীন আব্দুর রহিম আল-ইরাকি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: আস-সদর আবুল ফাতহ
... আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: হাফেজ আবুল ফারাজ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুল মুনঈম আল-হাররানি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: হাফেজ আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আলী বিন আল-জাওজি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: হাফেজ ইসমাইল বিন আবি সালিহ আন-নাইসাবুরি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: আমার পিতা আবু সালিহ আল-মুয়াজ্জিন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: আবু তাহির মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ১ আয-জিয়াদি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন বিলাল আল-বাজ্জাজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: আব্দুর রহমান বিন বিশর বিন আল-হাকাম আন-নাইসাবুরি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন এবং এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি; তিনি আমর বিন দিনার থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আসের মুক্তদাস আবু কাবুস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দয়াশীলদের ওপর দয়াময় আল্লাহ দয়া করেন; তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের ওপর দয়া করো, তাহলে আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের ওপর দয়া করবেন।" ২ সুফিয়ান এটি একাকী বর্ণনা করেছেন এবং সুফিয়ানের উপরের স্তরের বর্ণনাকারীদের থেকে এর সনদ সহিহ নয়। ৩ (সমাপ্ত)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
وإلى ما أوضحه ابن غنام أشار الشيخ العلامة عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب بقوله في ترجمة الإمام محمد بن عبد الوهاب "روى عن جماعة منهم: الشيخ عبد الله بن إبراهيم النجدي ثم المدني وأجازه من طريقين. وأول ما سمع منه الحديث المسلسل بالأولية كتب السماع بالسند المتصل إلى عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الراحمون يرحمهم الرحمن، ارحموا من في الأرض يرحمكم1 من في السماء".
وأما الحديث المسلسل فيقول ابن غنام في روضة الأفكار والأفهام جـ 1 صـ 27 "قال الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله: حدثني الشيخ عبد الله بن إبراهيم الحنبلي بمنزله بظاهر المدينة المنورة عن شيخ الإسلام ومفتي الشام أبي المواهب بن تقي الدين عبد الباقي الحنبلي إجازة عن والده تقي الدين المذكور قال: أخبرنا الشيخ عبد الرحمن البهوتي الحنبلي قال: أخبرنا الشيخ تقي الدين بن النجار الفتوحي الحنبلي صاحب "منتهى الإرادات" أخبرنا والدي شهاب الدين أحمد - قاضي القضاة الحنبلي - قال: أخبرنا به بدر الدين الصفدي القاهري والحنبلي قال: أخبرنا عز الدين أبو البركات الحنبلي قال: أخبرنا أبو علي حنبل بن عبد الله الرصافي الحنبلي قال: أخبرنا أبو القاسم هبة الله الحنبلي قال: أخبرنا أبو الحسن بن علي الحنبلي قال: أخبرنا أبو بكر أحمد بن جعفر الحنبلي قال: أخبرنا أبو محمد عبد الله بن الإمام أحمد الحنبلي قال: حدثني أبي أحمد بن محمد بن حنبل إمام كل حنبلي عن ابن أبي عدي عن حميد عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا أراد الله بعبده خيرا استعمله، قالوا: كيف يستعمله؟ قال: يوفقه لعمل صالح قبل موته" 2 هذا حديث عظيم قد وقع ثلاثيا للإمام
--------------------------------------------
ইবনে ঘান্নাম যা ব্যাখ্যা করেছেন, সেদিকে আল্লামা শাইখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনীতে এই বলে ইঙ্গিত করেছেন: "তিনি একদল লোকের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: শাইখ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আন-নাজদি অতঃপর আল-মাদানি এবং তিনি তাঁকে দুই পথে ইজাজত দিয়েছেন। আর সর্বপ্রথম তিনি তাঁর থেকে যা শুনেছেন তা হলো 'মুসালসাল বিল আওয়ালিইয়াহ' হাদীস। তিনি অবিচ্ছিন্ন সনদে আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) পর্যন্ত শ্রবণের প্রমাণলিপি লিখেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'দয়াকারীদের ওপর পরম করুণাময় দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তবে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন'।"
আর মুসালসাল হাদীস সম্পর্কে ইবনে ঘান্নাম 'রওদাতুল আফকার ওয়াল আফহাম' এর ১ম খণ্ড, ২৭ পৃষ্ঠায় বলেন: "ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: শাইখ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-হাম্বলি মদিনা মুনাওয়ারার উপকণ্ঠে তাঁর নিজ বাসভবনে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন শাইখুল ইসলাম ও শামের মুফতি আবুল মাওয়াহিব বিন তাকিউদ্দীন আব্দুল বাকি আল-হাম্বলির সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা উল্লিখিত তাকিউদ্দীনের সূত্রে ইজাজতপ্রাপ্ত হয়ে বলেছেন: শাইখ আব্দুর রহমান আল-বুহুতি আল-হাম্বলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: 'মুনতাহাল ইরাদাত' প্রণেতা শাইখ তাকিউদ্দীন বিন আন-নাজ্জার আল-ফুতুহি আল-হাম্বলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা শিহাবুদ্দীন আহমদ—যিনি হাম্বলি প্রধান বিচারপতি ছিলেন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বদরুদ্দীন আস-সাফাদি আল-কাহেরি ওয়াল হাম্বলি আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইজ্জুদ্দীন আবুল বারাকাত আল-হাম্বলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী হাম্বল বিন আব্দুল্লাহ আর-রুসাফি আল-হাম্বলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ আল-হাম্বলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান বিন আলী আল-হাম্বলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ বিন জাফর আল-হাম্বli আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইমাম আহমদের পুত্র আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-হাম্বলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: প্রত্যেক হাম্বলির ইমাম আমার পিতা আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি আদির সূত্রে, তিনি হুমাইদের সূত্রে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'আল্লাহ যখন তাঁর কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাঁকে কাজে লাগান।' তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: 'তিনি তাঁকে কীভাবে কাজে লাগান?' তিনি বললেন: 'মৃত্যুর পূর্বে তাঁকে সৎকাজের তাওফিক দান করেন'।" ২ এটি একটি মহান হাদীস যা ইমামের কাছে 'সুলাসি' (তিন স্তর বিশিষ্ট সনদ) হিসেবে পৌঁছেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
أحمد1 " وإلى هذا المسلسل بفقهاء الحنابلة أشار العلامة الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن بن الإمام محمد بن عبد الوهاب بقوله في ترجمة جده الإمام "سمع منه - أي: من عبد الله بن إبراهيم النجدي - مسلسل الحنابلة بسنده إلى أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا أراد الله بعبده خيرا استعمله، قالوا: كيف يستعمله؟ قال: يوفقه لعمل صالح قبل موته" 2 وهذا الحديث من ثلاثيات أحمد" ا. هـ.
هذا - وهناك طريقان آخران أجاز بهما الشيخ عبد الله بن إبراهيم النجدي شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب كما ذكره ابن غنام في "روضة الأفكار والأفهام" وأوضحه صاحب التوضيح، إحداهما - عن ابن نصر الله عن الشيخ محمد البلباني عن الشيخ أحمد بن علي الوفائي المصلحي عن الشيخ موسى الحجاوي عن القاضي برهان الدين بن مفلح عن والده نجم الدين بن مفلح عن والده القاضي صاحب الفروع عن جده عبد الله بن مفلح عن الشيخ تقي الدين أحمد ابن تيمية عن شمس الدين أبي عمر عن عمه موفق الدين بن قدامة عن الشيخ عبد القادر عن القاضي أبي يعلى المرداوي عن ابن حامد عن أبي بكر الخلال عن أبي بكر المرُّوذي عن الإمام أحمد بن سفيان بن عيينة عن عمرو بن دينار عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم.
2- عن عبد القادر التغلبي عن عبد الباقي أبي المواهب المحدث عن الشيخ أحمد الوفائي عن موسى الحجاوي عن أحمد الشوبكي عن العسكري عن عبد الرحمن بن رجب3 عن ابن القيم عن تقي الدين أحمد ابن تيمية عن شمس الدين نجل أبي عمر عن عمه موفق الدين عن الشيخ عبد القادر الجيلاني عن أبي الوفاء بن عقيل عن
--------------------------------------------
আহমদ১ "হাম্বলি ফকিহগণের এই মুসালসাল (পরম্পরা) বর্ণনার দিকে আল্লামা শাইখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব তাঁর দাদা ইমামের জীবনীতে ইঙ্গিত করে বলেছেন: 'তিনি তার থেকে—অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম আন-নাজদি থেকে—হাম্বলিগণের মুসালসাল হাদিসটি তার সনদ সহকারে আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যখন আল্লাহ কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে কাজে লাগান। তারা বললেন: কীভাবে তাকে কাজে লাগান? তিনি বললেন: তার মৃত্যুর পূর্বে তাকে নেক আমল করার তাওফিক দান করেন।"' ২ এই হাদিসটি আহমদের সুলাসিয়াত (তিন স্তরের সনদ বিশিষ্ট হাদিস) সমূহের অন্তর্ভুক্ত।" সমাপ্ত।
এটি ছাড়াও আরও দুটি পথ (সনদ) রয়েছে যার মাধ্যমে শাইখ আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম আন-নাজদি শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবকে অনুমতি (ইজাজাহ) দিয়েছিলেন, যেমনটি ইবনে গান্নাম 'রওদাতুল আফকার ওয়াল আফহাম' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং 'আত-তাওদিহ' এর লেখক তা স্পষ্ট করেছেন। তার একটি হলো—ইবনে নাসরুল্লাহ থেকে, তিনি শাইখ মুহাম্মদ আল-বালবানি থেকে, তিনি শাইখ আহমদ বিন আলি আল-ওয়াফাই আল-মুসলিহি থেকে, তিনি শাইখ মুসা আল-হাজ্জাবি থেকে, তিনি কাজি বুরহানউদ্দিন বিন মুফলিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা নাজমুদ্দিন বিন মুফলিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা কাজি ও 'আল-ফুরু' এর রচয়িতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ বিন মুফলিহ থেকে, তিনি শাইখ তাকিউদ্দিন আহমদ ইবনে তাইমিয়া থেকে, তিনি শামসুদ্দিন আবু উমর থেকে, তিনি তাঁর চাচা মুওয়াফফাকুদ্দিন বিন কুদামা থেকে, তিনি শাইখ আব্দুল কাদির থেকে, তিনি কাজি আবু ইয়ালা আল-মারদাউই থেকে, তিনি ইবনে হামিদ থেকে, তিনি আবু বকর আল-খাল্লাল থেকে, তিনি আবু বকর আল-মাররুজি থেকে, তিনি ইমাম আহমদ থেকে, তিনি সুফিয়ান বিন উইয়াইনা থেকে, তিনি আমর বিন দিনার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে, তিনি নবী (সা.) থেকে।
২- আব্দুল কাদির আত-তাগলিবি থেকে, তিনি মুহাদ্দিস আব্দুল বাকি আবুল মাওয়াহিব থেকে, তিনি শাইখ আহমদ আল-ওয়াফাই থেকে, তিনি মুসা আল-হাজ্জাবি থেকে, তিনি আহমদ আশ-শাওবাকি থেকে, তিনি আল-আসকারি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন রাজাব ৩ থেকে, তিনি ইবনুল কাইয়্যিম থেকে, তিনি তাকিউদ্দিন আহমদ ইবনে তাইমিয়া থেকে, তিনি শামসুদ্দিন আবু উমরের পুত্র থেকে, তিনি তাঁর চাচা মুওয়াফফাকুদ্দিন থেকে, তিনি শাইখ আব্দুল কাদির জিলানি থেকে, তিনি আবুল ওয়াফা বিন আকিল থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
القاضي أبي يعلى عن ابن حامد عن أبي بكر الخلال عن أبي بكر المرُّوذي1 عن الأثرم عن الإمام أحمد عن سفيان بن عيينة عن عمرو بن دينار عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم" اهـ.
3- من مشايخ الإمام محمد بن عبد الوهاب الإمام المحدث محمد حياة السندي2 ذكر ذلك غير واحد منهم حفيده وتلميذه العلامة الشيخ عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب، والشيخ عثمان بن بشر. قال الشيخ عبد الرحمن في الرسالة التي أجاب بها من سأله عمن روى عنهم من المشايخ بعد أن ذكر ما تلقاه عن جده محمد بن عبد الوهاب "سنده - أي: محمد بن عبد الوهاب رحمه الله معروف، تلقاه عن عدة من علماء المدينة وغيرهم رواية خاصة وعامة منهم: محمد حياة السندي، والشيخ عبد الله بن إبراهيم الفَرَضي الحنبلي" وقال الشيخ عثمان بن بشر في "عنوان المجد في تاريخ نجد" صـ 36 في ترجمة محمد حياة السندي "أخذ العلم عن جماعة منهم: الشيخ عبد الله بن سالم البصري، صاحب الإمداد في علوم الإسناد، وأخذ عنه جماعة أجلهم شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب - قدس الله روحه- والشيخ علاء الدين السوري وغيرهما" اهـ
وقد بين العلامة الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن في "مصباح الظلام" ما للشيخ محمد حياة السندي من أكبر الأثر على الإمام محمد بن عبد الوهاب حيث قال صـ 39 "كان له- أي الشيخ محمد حياة السندي - أكبر الأثر في توجيهه - أي: الشيخ محمد بن عبد الوهاب - إلى إخلاص توحيد عبادة الله، والتخلص من رق التقليد الأعمى والاشتغال بالكتاب والسنة" ا. هـ.
--------------------------------------------
কাজী আবু ইয়ালা, ইবনে হামিদ থেকে, তিনি আবু বকর আল-খাল্লাল থেকে, তিনি আবু বকর আল-মাররুযী থেকে, তিনি আল-আশরাম থেকে, তিনি ইমাম আহমদ থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়না থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।" সমাপ্ত।
৩- ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের শায়খদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ হায়াত আস-সিন্দী। এ কথা একাধিক ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর নাতি ও ছাত্র আল্লামা শেখ আব্দুর রহমান ইবনে হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এবং শেখ উসমান ইবনে বিশর। শেখ আব্দুর রহমান সেই পত্রে উল্লেখ করেছেন যাতে তিনি তাঁর শিক্ষকদের সম্পর্কে করা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি তাঁর দাদা মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব থেকে যা লাভ করেছেন তা উল্লেখ করার পর বলেন: "তাঁর সনদ—অর্থাৎ: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সনদ—সুপরিচিত। তিনি মদীনার বেশ কিছু আলেম এবং অন্যদের নিকট থেকে বিশেষ ও সাধারণ বর্ণনাসূত্রে তা লাভ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মাদ হায়াত আস-সিন্দী এবং শেখ আব্দুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম আল-ফারাদী আল-হাম্বলী।" এবং শেখ উসমান ইবনে বিশর "উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নাজদ" এর ৩৬ পৃষ্ঠায় মুহাম্মাদ হায়াত আস-সিন্দীর জীবনীতে বলেন: "তিনি একদল আলেমের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শেখ আব্দুল্লাহ ইবনে সালিম আল-বাসরী, যিনি 'আল-ইমদাদ ফি উলূমিল ইসনাদ' গ্রন্থের রচয়িতা। আর তাঁর নিকট থেকে একদল আলেম ইলম গ্রহণ করেছেন যাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—এবং শেখ আলাউদ্দিন আস-সুরী ও অন্যান্যরা।" সমাপ্ত।
আল্লামা শেখ আব্দুল লতিফ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হাসান "মিসবাহুজ জুলাম" গ্রন্থে ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের উপর শেখ মুহাম্মাদ হায়াত আস-সিন্দীর বিশাল প্রভাবের কথা বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি ৩৯ পৃষ্ঠায় বলেন: "আল্লাহর ইবাদতে তাওহীদকে একনিষ্ঠ করা, অন্ধ তাকলীদের দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া এবং কুরআন ও সুন্নাহর চর্চায় আত্মনিয়োগ করার ক্ষেত্রে তাঁর—অর্থাৎ শেখ মুহাম্মাদ হায়াত আস-সিন্দীর—সবচেয়ে বড় প্রভাব ছিল তাঁর—অর্থাৎ শেখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের—পথনির্দেশনার ক্ষেত্রে।" সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
4- الشيخ محمد المجموعي صاحب البصرة، وهو عالم جليل أقام الإمام محمد بن عبد الوهاب يقرأ عليه. قال ابن بشر في عنوان المجد في تاريخ نجد جـ 1 صـ 16 في خروج الإمام محمد بن عبد الوهاب من نجد إلى البصرة يريد الشام قال: "فلما وصلها - أي: البصرة - جلس يقرأ فيها عند عالم جليل من أهل المجموعة - قرية من قرى البصرة - في مدرسة فيها، ذكر لي أن اسمه محمد المجموعي، فأقام مدة يقرأ عليه فيها، وينكر أشياء من الشركيات والبدع، وأعلن الإنكار، واستحسن شيخه قوله، وقرر له التوحيد، وانتفع به" ا. هـ.
5- الشيخ على أفندي الداغستاني، حينما اجتمع بالإمام محمد بن عبد الوهاب في المدينة المنورة وأجازه، ذكر ذلك صاحب التوضيح عن توحيد الخلاق1. وذكر أنه أجاز الإمام محمد بن عبد الوهاب بكل ما حواه ثبت الشيخ أبي المواهب الحنبلي قراءة وتعلما وتعليما مما تقدم ذكره في إجازة الشيخ عبد الله بن ابراهيم بن سيف النجدي للإمام محمد بن عبد الوهاب، وممن عد الشيخ علي أفندي الداغستاني من مشايخ الإمام محمد بن عبد الوهاب الشيخ ابن بدران في "المدخل إلى فقه الإمام أحمد بن حنبل" قال صـ23 "وأخذ - أي: الشيخ محمد بن عبد الوهاب - عن الشيخ علي أفندي الداغستاني، وعن المحدث الشيخ إسماعيل العجلوني وغيرهما من العلماء" اهـ. وذكر - أيضا - الكتاني في "فهرس الفهارس والأثبات ومعجم المعاجم والمشيخات والمسلسلات" فقد صرح بأن الشيخ محمد بن عبد الوهاب أخذ عن طبقة كبار تلاميذ البصري وتلاميذ تلاميذه كعلي الداغستاني ومحمد العفالقي" وذكره - أيضا - الشيخ محمد حامد الفقي في كتابه "تاريخ الدعوة الوهابية في الإصلاح الديني والعمراني في جزيرة العرب وغيرها" والشيخ عبد الرحمن بن قاسم في جزء التراجم من "الدرر السنية" الطبعة الأولى.
--------------------------------------------
৪- শেখ মুহাম্মদ আল-মাজমুঈ, বসরার অধিবাসী। তিনি একজন মহান আলেম ছিলেন, যাঁর নিকট অবস্থান করে ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব পাঠ গ্রহণ করেছিলেন। ইবনে বিশর 'উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নাজদ' গ্রন্থের ১ম খণ্ড ১৬ পৃষ্ঠায় নজদ থেকে ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বসরার পথে যাত্রার বর্ণনায় বলেন: "যখন তিনি সেখানে—অর্থাৎ বসরায়—পৌঁছালেন, তখন সেখানকার একটি মাদ্রাসায় আল-মাজমুআহ (বসরার একটি গ্রাম) অধিবাসী এক মহান আলেমের নিকট পাঠ গ্রহণের জন্য বসলেন। আমার নিকট উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর নাম মুহাম্মদ আল-মাজমুঈ। তিনি সেখানে দীর্ঘকাল তাঁর কাছে অবস্থান করে পড়াশোনা করেন এবং সেখানে বিদ্যমান শিরক ও বিদআতের বিষয়গুলো প্রত্যাখ্যান করেন ও তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। তাঁর শিক্ষক তাঁর কথাকে পছন্দ করেন, তাঁর নিকট তাওহিদকে সুদৃঢ় করেন এবং তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হন।" সমাপ্ত।
৫- শেখ আলী আফেন্দি আদ-দাগিস্তানি; যখন তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁকে ইজাজত (অনুমতি) প্রদান করেন। 'আত-তাওযীহ আন তাওহিদুল খালাক' এর লেখক এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, শেখ আবু আল-মাওয়াহিব আল-হাম্বলীর সংকলনে যা কিছু ছিল, তার সবকিছুর ওপর তিনি ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবকে পঠন, শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদানের ইজাজত প্রদান করেছিলেন, যা ইতিপূর্বে শেখ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ আন-নাজদি কর্তৃক ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবকে প্রদত্ত ইজাজতে বর্ণিত হয়েছে। আর যারা শেখ আলী আফেন্দি আদ-দাগিস্তানিকে ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শেখ ইবনে বদরান। তিনি তাঁর 'আল-মাদখাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমদ বিন হাম্বল' গ্রন্থের ২৩ পৃষ্ঠায় বলেন: "তিনি—অর্থাৎ শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব—শেখ আলী আফেন্দি আদ-দাগিস্তানি, মুহাদ্দিস শেখ ইসমাইল আল-আজলুনি এবং অন্যান্য আলেমদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।" সমাপ্ত। আল-কাত্তানিও তাঁর 'ফিহরিসুল ফাহারিস ওয়াল আসবাত ওয়া মু'জামুল মা'আজিম ওয়াল মাশইয়াখাত ওয়াল মুসালসালাত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, "শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব আল-বসরীর প্রবীণ ছাত্র এবং তাঁর ছাত্রদের ছাত্রদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, যেমন আলী আদ-দাগিস্তানি ও মুহাম্মদ আল-আফালিকি।" শেখ মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকিও তাঁর 'তারিখুদ দাওয়াতিল ওয়াহাবিয়্যাহ ফিল ইসলাহিদ দ্বীনি ওয়াল উমরানি ফি জাজিরাতিল আরব ওয়া গাইরিহা' গ্রন্থে এবং শেখ আব্দুর রহমান বিন কাসিম 'আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ' এর প্রথম সংস্করণের জীবনী খণ্ডে এটি উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
6- عبد اللطيف العفالقي الأحسائي، أجاز الإمام محمد بن عبد الوهاب بكل ما حواه ثبت الشيخ عبد الباقي أبي المواهب الحنبلي قراءة وتعلما وتعليما، ذكر ذلك صاحب "التوضيح عن توحيد الخلاق" وممن ذكر إجازة العفالقي للإمام محمد بن عبد الوهاب الشيخ محمد حامد الفقي في كتابه "في أثر دعوة الإمام محمد بن عبد الوهاب".
7- الشيخ إسماعيل العجلوني، ذكر ذلك العلامة ابن بدران في "المدخل إلى فقه الإمام أحمد بن حنبل" والشيخ عبد الرحمن بن قاسم في جزء التراجم من "الدرر السنية" والشيخ محمد حامد الفقي في كتابه في أثر دعوة الإمام محمد بن عبد الوهاب.
8- الشيخ عبد الله بن سالم البصري، فقد جاء في "حصر الشارد" من أسانيد الشيخ محمد عابد في كتاب المحب الطبري "القرى لقاصد أم القرى" رواه الشيخ عبد الله ابن محمد بن عبد الوهاب عن أبيه - الشيخ محمد بن عبد الوهاب - عن البصري. ذكر ذلك العلامة الشيخ عبد الحي الكتاني الفاسي في "فهرس الفهارس والأثبات ومعجم المعاجم والمشيخات والمسلسلات". وتعقبه بقوله "ما ذكره - أي: صاحب حصر الشارد" من أن محمد بن عبد الوهاب أخذ عن البصري فيه عندي نظر، فإن المعروف في تاريخ الوهابية أن محمد بن عبد الوهاب ولد عام 1111 هـ ومات سنة 1207 هـ، وهو الذي في الخلاصة الدحلانية ; فإذا إنما عاصر البصري بنحو العشرين سنة؛ لأن وفاة البصري كانت سنة 1134 هـ، وعلى ما في التوضيح لحفيده سليمان أن ولادته كانت سنة 1110هـ، وكذا في الحطة لصديق حسن، فعلى هذا يستبعد أخذه عنه وهو بمكة وابن عبد الوهاب في نجد. والمعروف أن ابن عبد الوهاب إنما أخذ عن طبقة كبار تلاميذ البصري وتلاميذ تلاميذه، كعلي الداغستاني ومحمد العفالقي. وفي الحطة أنه أخذ عن عبد الله بن إبراهيم النجدي تلميذ الشيخ أبي المواهب الحنبلي، وانظر كتب أولاده كالتوضيح لسليمان بن عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب وغيره، والله أعلم، ولو صح أخذ محمد بن عبد الوهاب عن البصري لكان آخر تلاميذه في الدنيا، مع أن آخرهم موتا فيما نحفظ الشمس محمد بن عبد الله المغربي، مات قبله سنة 1201هـ كما سبق في الأضداد للبصري" هذا ما تعقب به الكتاني ما في حصر الشارد، وفيه عندي نظر من وجوه؛ أولها أن المعروف في تاريخ دعوة الإمام محمد بن عبد الوهاب أو ولادة الإمام محمد بن عبد الوهاب كانت سنة 1115هـ لا عام 1111هـ.
৬- আব্দুল লতিফ আল-আফালিকি আল-আহসায়ি; তিনি ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবকে শেখ আব্দুল বাকি আবি আল-মাওয়াহিব আল-হাম্বলির সংকলনে (সাবাত) যা কিছু রয়েছে তার সবকিছুর পাঠ, শিক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষা প্রদানের অনুমতি প্রদান করেছেন। "আত-তাওদিহ আন তাওহিদিল খাল্লাক" গ্রন্থের লেখক এটি উল্লেখ করেছেন। আর যারা ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের প্রতি আল-আফালিকির এই অনুমতি প্রদানের কথা উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে শেখ মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকিও তাঁর "ফি আসার দাওয়াতি ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব" গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
৭- শেখ ইসমাইল আল-আজলুনি; আল্লামা ইবনে বদরান তাঁর "আল-মাদখাল ইলা ফিকহিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও শেখ আব্দুর রহমান বিন কাসিম "আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ" এর জীবনী খণ্ডে এবং শেখ মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকি তাঁর "ফি আসার দাওয়াতি ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
৮- শেখ আব্দুল্লাহ বিন সালিম আল-বাসরি; শেখ মুহাম্মাদ আবিদের সনদসমূহের বর্ণনা সম্বলিত "হাসরুল শারিত" গ্রন্থে মুহিব্ব আল-তবারির "আল-কুরা লি-কাসিদ উম্মিল কুরা" গ্রন্থের বর্ণনায় এসেছে যে, এটি শেখ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর পিতা - শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব - থেকে এবং তিনি আল-বাসরি থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লামা শেখ আব্দুল হাই আল-কাত্তানি আল-ফাসি তাঁর "ফিহরিস আল-ফাহারিস ওয়াল আসবাত ওয়া মু'জামুল মাআ-জিম ওয়াল মাশয়াখাত ওয়াস মুসালসালাত" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "'হাসরুল শারিত' এর লেখক মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-বাসরির নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বলে যা উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে আমার পর্যবেক্ষণ রয়েছে। কারণ ওহাবি আন্দোলনের ইতিহাসে এটি সুপরিচিত যে, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ১১১১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২০৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, যা 'আল-খুলাসাতুদ দাহলানিয়া' গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে। সেই হিসেবে তিনি আল-বাসরির সমসাময়িক ছিলেন মাত্র বিশ বছর; কারণ আল-বাসরির মৃত্যু হয়েছিল ১১৩৪ হিজরিতে। আর তাঁর পৌত্র সুলাইমানের 'আত-তাওদিহ' গ্রন্থ অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১১১০ হিজরিতে, যা সিদ্দিক হাসানের 'আল-হিত্তাহ' গ্রন্থেও উল্লেখ রয়েছে। এমতাবস্থায়, তিনি মক্কায় থাকাকালীন তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বলে ধরাটা অবাস্তব মনে হয়, যেহেতু ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব তখন নজদে ছিলেন। বরং এটিই প্রসিদ্ধ যে, ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-বাসরির শীর্ষস্থানীয় ছাত্রদের এবং ছাত্রদের ছাত্রদের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন, যেমন আলী আদ-দাগেস্তানি এবং মুহাম্মাদ আল-আফালিকি। 'আল-হিত্তাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, তিনি শেখ আবু আল-মাওয়াহিব আল-হাম্বলির ছাত্র আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আন-নাজদির নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে তাঁর সন্তানদের লিখিত কিতাবসমূহ দেখা যেতে পারে, যেমন সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের 'আত-তাওদিহ' এবং অন্যান্য গ্রন্থ। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। যদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের আল-বাসরি থেকে শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি সঠিক হতো, তবে তিনি পৃথিবীতে তাঁর সর্বশেষ জীবিত ছাত্র হতেন। অথচ আমাদের জানামতে তাঁর ছাত্রদের মধ্যে সবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন শামস মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাগরিবি, যিনি ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের মৃত্যুর পূর্বে ১২০১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, যেমনটি আল-বাসরির 'আল-আদদাদ' বর্ণনায় ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।" কাত্তানি 'হাসরুল শারিত' এর বর্ণনার ওপর এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমারও কয়েকটি দিক থেকে ভিন্নমত রয়েছে; তার মধ্যে প্রথমটি হলো, ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের ইতিহাস অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১১১৫ হিজরিতে, ১১১১ হিজরিতে নয়।
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
الثاني: أن ما عزاه إلى "التوضيح" و "الحطة" غير صحيح. فقد جاء في "التوضيح" ما نصه: "ولد: أي: الشيخ محمد بن عبد الوهاب سنة 1115 هـ، وجاء في الخطة أنه سنة خمسة عشر بعد المائة والألف. وأما الخلاصة الدحلانية وغيرها من كتابات مؤلفها عن الإمام محمد بن عبد الوهاب فلا اعتبار بها؛ لكراهته لدعوته وبغضه له، بل لو فرضنا أن الأمر بخلاف ذلك لا ينبغي للكتاني أن يقلد من أخطأ في خطئه. فقد قال المؤرخ: الإغراق في التقليد الأعمى إلى اتباع الأوهام الساقطة التي تدل على أن الناقل أو الناسخ كان لا يتأمل ما يقرأ ويجري به قلمه ولله عاقبة الأمور" اهـ.
الثالث: أن الإمام محمد بن عبد الوهاب قد حج في السنة الثانية عشرة من عمره، وكان الشيخ عبد الله بن سالم البصري إذ ذاك لم يزل حيا؛ لأنه لم يتوف إلا عام 1130هـ. فلا يستبعد اتصاله ما دام الأمر كذلك.
9- الشيخ صبغة الله الحيدري. ذكر ذلك الشيخ محمود شكرى الألوسي في تاريخ نجد: "يقال إنه - أي: الإمام محمد بن عبد الوهاب - قدم بغداد وأخذ عن صبغة الحيدري"1.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: তিনি 'আত-তাওদিহ' এবং 'আল-হিত্তাহ' গ্রন্থের দিকে যা সম্পৃক্ত করেছেন তা সঠিক নয়। 'আত-তাওদিহ' গ্রন্থে এই মর্মে উদ্ধৃতি এসেছে: "শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ১১১৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন", আর 'আল-হিত্তাহ' গ্রন্থে এসেছে যে, তা ছিল এক হাজার একশ পনেরো সালে। আর 'আল-খুলাসাতু আদ-দাহলানিয়্যাহ' এবং এই লেখকের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব সম্পর্কে অন্যান্য রচনার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই; কারণ তিনি তার দাওয়াতের প্রতি অনীহা ও তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতেন। বরং যদি আমরা তর্কের খাতিরে ধরেও নিই যে বিষয়টি এর উল্টো, তবুও কাত্তানির জন্য এমন কারো ভুলকে অন্ধভাবে অনুসরণ করা উচিত নয় যে ভুল করেছে। জনৈক ইতিহাসবিদ বলেছেন: "অন্ধ অনুকরণের গভীরে নিমজ্জিত হওয়া এমন সব ভিত্তিহীন ভ্রান্ত ধারণার অনুসরণের দিকে নিয়ে যায় যা প্রমাণ করে যে, বর্ণনাকারী বা অনুলিপিকার যা পড়তেন এবং যা তার কলম দিয়ে লিখতেন, তা নিয়ে তিনি চিন্তা করতেন না। আর সমস্ত বিষয়ের পরিণাম আল্লাহর হাতে।" সমাপ্ত।
তৃতীয়ত: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব তার বয়সের দ্বাদশ বর্ষে হজ পালন করেছিলেন, আর শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে সালিম আল-বাসরি তখন পর্যন্ত জীবিত ছিলেন; কারণ তিনি ১১৩০ হিজরির আগে মৃত্যুবরণ করেননি। সুতরাং বিষয়টি যখন এমন, তখন তার সাথে যোগাযোগ হওয়া অসম্ভব নয়।
৯- শায়খ সিবগাতুল্লাহ আল-হায়দারি। শায়খ মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি 'তারিখে নজদ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন: "বলা হয়ে থাকে যে, তিনি—অর্থাৎ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব—বাগদাদে এসেছিলেন এবং সিবগাতুল্লাহ আল-হায়দারির নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।"১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
من ثناء أهل العلم على الإمام محمد بن عبد الوهابحظي شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب من ثناء أهل العلم عليه بالشيء الوفير ; وعلى سبيل المثال لا الحصر نذكر منهم من يلي: -
1- والده الشيخ عبد الوهاب، كان يتوسم فيه الخير ويحدث بذلك ويبديه ويؤمل بذلك ويرجوه، ويعترف بالاستفادة منه على صغر سنه. قال سليمان أخو الإمام محمد بن عبد الوهاب - كان عبد الوهاب أبوه - أي: محمد - يتعجب من فهمه وإدراكه قبل بلوغه، ويقول: لقد استفدت من ولدي محمد فوائد من الأحكام، أو قريبا من هذا الكلام، وذكر ذلك العلامة ابن غنام في "روضة الأفكار والأفهام" جـ1 صـ25.
2- العلامة الأمير محمد بن إسماعيل الصنعاني1 أنشد فيه قصيدة أثنى عليه فيها بقيامه بالتوحيد وبإلزامه من تحت يده إقامة شعائر الإسلام. بين في تلك القصيدة ما عليه أكثر الناس في زمان الشيخ محمد بن عبد الوهاب من التبرك بالأشجار والأحجار والقبور وغير ذلك من أنواع الانحراف.
يقول الصنعاني في تلك القصيدة:
سلامي على نجد ومن حل في نجد
… وإن كان تسليمي على البعد لا يجدي
لقد صدرت من سفح صنعا سقي الحيا
… رباها وحياها بقهقهة الرعد
سرت من أثير ينشد الريح أن سرت
… ألا ياصبا نجد متى هجت من نجد
--------------------------------------------
ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের প্রতি আলিমগণের প্রশংসার কিছু অংশশাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আলিমগণের পক্ষ থেকে প্রচুর প্রশংসা লাভ করেছেন; উদাহরণস্বরূপ (সব নয়) আমরা নিম্নোক্ত কয়েকজনের কথা উল্লেখ করছি: -
১- তাঁর পিতা শাইখ আব্দুল ওয়াহহাব: তিনি তাঁর মধ্যে কল্যাণের চিহ্ন দেখতে পেতেন এবং সে সম্পর্কে কথা বলতেন ও তা প্রকাশ করতেন, আর সে বিষয়ে আশা ও আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। তিনি তাঁর অল্প বয়সেই তাঁর থেকে উপকৃত হওয়ার কথা স্বীকার করতেন। ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ভাই সুলাইমান বলেন—তার পিতা আব্দুল ওয়াহহাব অর্থাৎ মুহাম্মদ—বালেগ হওয়ার পূর্বেই তাঁর বুঝ ও প্রজ্ঞায় বিস্মিত হতেন এবং বলতেন: আমি আমার ছেলে মুহাম্মদের থেকে আহকাম বা বিধিবিধান বিষয়ক কিছু ফায়দা অর্জন করেছি, অথবা এই জাতীয় কোনো কথা। আল্লামা ইবনে গান্নাম তাঁর "রাওদাতুল আফকার ওয়াল আফহাম" ১ম খণ্ড, ২৫ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন।
২- আল্লামা আল-আমীর মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আস-সানআনী: তিনি তাঁর প্রশংসায় একটি কাসিদা (কবিতা) আবৃত্তি করেছেন যেখানে তিনি তাওহীদ প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা এবং তাঁর প্রভাবাধীন ব্যক্তিদের ওপর ইসলামের নিদর্শনাবলী পালনে বাধ্য করার প্রশংসা করেছেন। সেই কাসিদায় তিনি শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সমসাময়িক অধিকাংশ মানুষ গাছ, পাথর, কবর ইত্যাদির মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা সহ যে সকল বিচ্যুতিতে লিপ্ত ছিল, তা বর্ণনা করেছেন।
আস-সানআনী সেই কাসিদায় বলেন:
নজদ এবং নজদে যারা বসবাস করছেন তাদের প্রতি আমার সালাম... যদিও দূর থেকে আমার এই সালাম প্রদান ফলপ্রসূ নয়।
এটি সানআর পাদদেশ থেকে বিচ্ছুরিত হয়েছে, বৃষ্টির পানি এর উচ্চভূমিকে সিক্ত করুক এবং বজ্রের গর্জনের মাধ্যমে তাকে অভিবাদন জানাক।
এটি এমন এক আকাশ থেকে প্রবাহিত হয়েছে যা বাতাসকে চলতে বলছে... হে নজদের পূবালী বাতাস, তুমি কখন নজদ থেকে প্রবাহিত হয়েছ?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
يذكرني مسراك نجدا وأهله
… لقد زادني مسراك وجدا على وجد
قفي واسألي عن عالم حل سوحها
… به يهتدي من ضل عن منهج الرشد
محمد الهادي لسنة أحمد
… فيا حبذا الهادي ويا حبذا المهدى
لقد أنكرت كل الطوائف قوله
… بلا صدر في الحق منهم ولا ورد
وما كل قول بالقبول مقابل
… ولا كل قول واجب الطرد والرد
سوى ما أتى عن ربنا ورسوله
… فذلك قول جل قدرا عن الرد
وأما أقاويل الرجال فإنها
… تدور على قدر الأدلة في النقد
وقد جاءت الأخبار عنه بأنه
… يعيد لنا الشرع الشريف بما يبدي
وينشر جهرا ما طوى كل جاهل
… مبتدع منه فوافق ما عندي
ويعمر أركان الشريعة هادما
… مشاهد ضل الناس فيها عن الرشد
أعادوا بها معنى سواع ومثله
… يغوث وود بئس ذلك من ود
وقد هتفوا عند الشدائد باسمها
… كما يهتف المضطر بالصمد الفرد
وكم عقروا في سوحها من عقيدة
… أهلت لغير الله جهرا على عمد
وكم طائف حول القبور مقبل
… ومستلم الأركان منهي باليد
إلى أن قال:
فقد سرني ما جاءني من طريقه
… وكنت أرى هذه الطريقة لي وحدي 1
وفي بيان حالة الأقطار وقت ظهور الشيخ محمد بن عبد الوهاب يقول الصنعاني في قصيدة له أخرى:
--------------------------------------------
তোমার রাতের সফর আমাকে নজদ ও তার অধিবাসীদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়
… তোমার এ সফর সত্যিই আমার ব্যাকুলতার ওপর ব্যাকুলতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
থামো এবং সেই আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো যিনি সেখানে বসতি স্থাপন করেছেন
… হেদায়েতের পথ থেকে বিচ্যুত ব্যক্তি যার মাধ্যমে সঠিক পথের দিশা পায়।
মুহাম্মাদ, যিনি আহমদের সুন্নাহর দিকে পথপ্রদর্শক
… কতই না চমৎকার সেই পথপ্রদর্শক এবং কতই না চমৎকার সেই হেদায়েত প্রাপ্ত জন।
সমস্ত দল-উপদল তার কথাকে অস্বীকার করেছে
… তাদের পক্ষ থেকে হকের ব্যাপারে কোনো ভিত্তি বা দলিল ছাড়াই।
সব কথাই গ্রহণের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হয় না
… আবার সব কথা বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করাও ওয়াজিব নয়।
কেবল আমাদের রব এবং তাঁর রাসূলের কাছ থেকে যা এসেছে তা ব্যতীত
… কেননা সেটি এমন কথা যার মর্যাদা প্রত্যাখ্যানের ঊর্ধ্বে।
আর মানুষের কথাগুলোর ভিত্তি হলো
… সমালোচনার ক্ষেত্রে দলিলের শক্তিমত্তার ওপর।
তাঁর সম্পর্কে এই সংবাদ এসেছে যে
… তিনি যা প্রকাশ করছেন তার মাধ্যমে আমাদের জন্য শরীয়তে মুহাম্মদীকে পুনরায় ফিরিয়ে আনছেন।
প্রত্যেক অজ্ঞ বিদআতি যা গুটিয়ে ফেলেছিল, তিনি তা প্রকাশ্যে প্রচার করছেন
… যা আমার কাছে থাকা বিষয়ের সাথে মিলে গেছে।
তিনি শরীয়তের রুকনগুলোকে আবাদ করছেন সেইসব মাজার ধ্বংস করার মাধ্যমে
… যেখানে মানুষ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে।
তারা সেখানে ‘সুওয়া’ এবং তার মতো ‘ইয়াগুস’ ও ‘উদ্দ’-এর অর্থকে পুনর্জীবিত করেছে
… কতই না মন্দ সেই ভালোবাসা।
বিপদের সময় তারা তাদের নাম ধরে আর্তনাদ করে
… যেভাবে একজন নিরুপায় ব্যক্তি অমুখাপেক্ষী একক সত্তার কাছে আর্তনাদ করে।
কত পশু তারা সেসব প্রাঙ্গণে জবেহ করেছে
… যা প্রকাশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।
কবরের চারপাশে কত মানুষ তওয়াফ করছে এবং চুম্বন করছে
… আর রুকনগুলো স্পর্শ করছে যা আল্লাহর হাত দিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।
পরিশেষে তিনি বলেন:
তাঁর পন্থায় আমার কাছে যা পৌঁছেছে তা আমাকে আনন্দিত করেছে
… অথচ আমি ভাবতাম এই তরীকা বুঝি কেবল আমার একারই। ১
শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের আবির্ভাবের সময় বিভিন্ন অঞ্চলের অবস্থা বর্ণনায় সানআনী তাঁর অন্য একটি কবিতায় বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
أسائل من دار الأراضي سياحة
… عسى بلدة فيها هدى وصواب
فيخبر كل عن قبائح ما رأى
… وليس لأهليها يكون متاب
لأنهم عدوا قبائح فعلهم
… محاسن يرجى عندهن ثواب
3- العلامة محمد بن علي الشوكاني صاحب نيل الأوطار وغيره من الكتب المهمة، ذكره في ترجمة غالب بن مساعد أمير مكة من كتابه "البدر الطالع بمحاسن من بعد القرن السابع" وقال في جـ 12 "وفي سنة 1215 وصل من صاحب نجد المذكور أي: عبد العزيز بن سعود مجلدان لطيفان أرسل بهما إلى حضرة حولان الإمام حفظه الله، أحدهما يشتمل على رسائل لمحمد بن عبد الوهاب كلها في الإرشاد إلى إخلاص التوحيد والتنفير من الشرك الذي يفعله المعتقدون في القبور، وهي رسائل جيدة مشحونة بأدلة الكتاب والسنة. والمجلد الآخر يتضمن الرد على جماعة من المقصرين من سفهاء صنعاء وصعدة ذكروه في مسائل متعلقة بأصول الدين وبجماعة من الصحابة، فأجاب عليهم جوابات محررة مقررة محققة تدل على أن المجيب من العلماء المحققين العارفين بالكتاب والسنة. وقد هدم عليهم جميع ما بنوه وأبطل جميع ما دونوه؛ لأنهم مقصرون متعصبون، فصار ما فعلوه خزيا عليهم وعلى أهل صنعاء وصعدة، وهكذا من تصدر ولم يعرف مقدار نفسه، وأرسل صاحب نجد مع الكتابين المذكورين بمكاتبة منه إلى سيدي المولى الإمام فدفع حفظه الله جميع ذلك، فأجبت عن كتابه الذي كتب إلى مولانا الإمام حفظه الله على لسانه بما معناه: أن الجماعة الذين أرسلوا إليه بالمذكرة لا ندري من هم، وكلامهم يدل على أنهم جهال، والأصل والجواب موجودان في مجموعين" اهـ.
وذكر الشوكاني في ترجمة الإمام سعود بن عبد العزيز بن محمد بن سعود من "البدر الطالع بمحاسن من بعد القرن السابع" جـ1 صـ262. ذكر ما قام به الإمام محمد بن عبد الوهاب من الدعوة إلى توحيد الله عز وجل والإنكار على المعتقدين في الأموات، وما قام به الإمام محمد بن سعود من إجابته ونصره ومجاهرة من خالف دعوته دعوة التوحيد، وقيام الإمام عبد العزيز بن محمد بن سعود مقامه، وقيام الإمام سعود بن عبد العزيز مقام عبد العزيز من بعده، وما لذلك في بلاد اليمن من الآثار العظيمة، فقال: "وصل إليه - أي: إلى محمد بن سعود - الشيخ العلامة محمد بن عبد الوهاب
আমি সেই পর্যটকদের জিজ্ঞাসা করি যারা দেশ-দেশান্তর ঘুরে বেড়ায়
… হয়তো এমন কোনো শহর মিলবে যেখানে হিদায়াত ও সঠিক পথ বিদ্যমান।
প্রত্যেকেই যা কিছু মন্দ দেখেছে তার সংবাদ দেয়
… আর সেখানকার অধিবাসীদের কোনো অনুশোচনা নেই।
কারণ তারা তাদের মন্দ কাজগুলোকে
… পুণ্য মনে করে যার মাধ্যমে সওয়াবের আশা করা হয়।
৩- আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে আলী আশ-শাওকানী, যিনি 'নাইলুল আওতার' ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি তাঁর 'আল-বাদরুত তালি বি-মাহাসিন মান বা'দাল করনিস সাবি' গ্রন্থে মক্কার আমির গালিব ইবনে মুসাঈদের জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর ১২তম খণ্ডে বলেছেন: "১২১৫ হিজরি সালে নজদের উল্লিখিত শাসক অর্থাৎ আব্দুল আজিজ ইবনে সাউদের পক্ষ থেকে দুটি চমৎকার খণ্ড এসে পৌঁছেছিল, যা ইমামের (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) খিদমতে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে একটি খণ্ডে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের কিছু রিসালা বা পুস্তিকা ছিল, যার সবগুলোই তাওহীদের একনিষ্ঠতার দিকে নির্দেশনা এবং কবরের প্রতি যারা বিশ্বাস পোষণ করে তাদের শিরক থেকে সতর্ক করার বিষয়ে। এই পুস্তিকাগুলো অত্যন্ত চমৎকার এবং কুরআন ও সুন্নাহর দলিলে পরিপূর্ণ। অন্য খণ্ডটি সানা ও সাদার কিছু নির্বোধ ও কসুরকারী ব্যক্তির খণ্ডন সংবলিত, যারা দ্বীনের মূলনীতি ও একদল সাহাবী সম্পর্কে কিছু বিষয় উল্লেখ করেছিল। তিনি তাদের এমন সুসংবদ্ধ, সুপ্রতিষ্ঠিত ও তাহকীকপূর্ণ উত্তর দিয়েছেন যা প্রমাণ করে যে, উত্তরদাতা কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে বিজ্ঞ ও পারদর্শী মুহাক্কিক আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাদের নির্মিত সমস্ত ভিত ধসিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের লিখিত সবকিছু বাতিল করে দিয়েছেন; কারণ তারা ছিল ত্রুটিপূর্ণ ও গোঁড়া। ফলে তারা যা করেছিল তা তাদের নিজেদের জন্য এবং সানা ও সাদার অধিবাসীদের জন্য অপমানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যারা নিজের যোগ্যতা না জেনে সামনে অগ্রসর হয় তাদের পরিণতি এমনই হয়। নজদের শাসক উক্ত দুটি কিতাবের সাথে আমার সায়্যিদ মাওলা ইমামের কাছে একটি পত্রও পাঠিয়েছিলেন। ইমাম (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) এই সবকিছুই অর্পণ করেন। ফলে আমি আমাদের ইমামের (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) পক্ষ থেকে তাঁর চিঠির উত্তর দিই যার মর্মার্থ ছিল: যে দলটি তাঁর কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছিল আমরা জানি না তারা কারা, এবং তাদের কথা প্রমাণ করে যে তারা মূর্খ। মূল চিঠি ও উত্তর উভয়টিই দুটি সংকলনে সংরক্ষিত আছে।" সমাপ্ত।
শাওকানী 'আল-বাদরুত তালি বি-মাহাসিন মান বা'দাল করনিস সাবি' গ্রন্থের ১ম খণ্ড ২৬২ পৃষ্ঠায় ইমাম সাউদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাউদের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। তিনি সেখানে মহান আল্লাহর তাওহীদের দিকে আহ্বান এবং মৃতদের ব্যাপারে যারা বিশ্বাস পোষণ করে তাদের প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব যা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। আরও উল্লেখ করেছেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদের পক্ষ থেকে তাঁর আহবানে সাড়া দান, তাঁকে সাহায্য করা এবং যারা তাওহীদের দাওয়াতের বিরোধিতা করেছিল তাদের সাথে প্রকাশ্য সংগ্রাম করার কথা। অতঃপর ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাউদের তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া এবং আব্দুল আজিজের পরে ইমাম সাউদের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার বিবরণ এবং ইয়ামেন ভূখণ্ডে এর মহান প্রভাবের কথা আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "তাঁর কাছে অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে সাউদের কাছে আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব উপস্থিত হলেন..."
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
الداعي إلى التوحيد المنكر على المعتقدين في الأموات، فأجابه وقام بنصره وما زال يجاهد من يخالفه. وكانت تلك البلاد قد غلبت عليها أمور الجاهلية وصار الإسلام فيها غريبا، ثم مات محمد بن سعود وقد دخل في الدين بعض البلاد النجدية، وقام ولده عبد العزيز مقامه، فافتتح جميع الديار النجدية والبلاد المقدسة والبلاد العارضية والحسا والقطيف، وجاوزها إلى فتح كثير من البلاد الحجازية، ثم استولى على الطائف ومكة والمدينة وغالب جزيرة العرب، وغالب هذه الفتوح على يد ولده سعود، ثم قام بعده ولده سعود فتكاثرت جنوده واتسعت فتوحه ووصلت جنوده إلى اليمن، فافتتحوا بلاد أبي عريش وما يتصل بها، ثم تابعهم الشريف حمود بن محمد شريف أبي عريش، وأمدوه بالجنود ففتح البلاد التهامية كاللحية والحديدة وبيت الفقيه وزبيد وما يتصل بهذه البلاد، وما زال الوافدون من سعود يفدون إلينا إلى صنعاء إلى حضرة الإمام المنصور وإلى حضرة ولده الإمام المتوكل، فكتب إليهما بالدعوة إلى التوحيد، وهدم القبور المشيدة والقباب المرتفعة، ويكتب إلي - أيضا - مع ما يصل من الكتب إلى الإمامين، ثم وقع الهدم للقباب والقبور المشيدة في صنعاء، وفي كثير من الأمكنة المجاورة لها، وفي جهة ذمار وما يتصل بها" ا. هـ.
4- الشيخ العلامة محمد بن أحمد بن عبد القادر الحفظي1 قال في الثناء عليه والإشادة بدعوته:
الحمد حقا مستحقا أبدا
… لله رب العالمين أبدا
مصليا على الرسول الشارع
… وآله وصحبه والتابعي
في البدء والختم وأما بعد
… فهذه منظومة تعد
--------------------------------------------
তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী এবং মৃতদের ব্যাপারে ভুল আকিদা পোষণকারীদের প্রত্যাখ্যানকারী। অতঃপর তিনি (মুহাম্মদ ইবনে সউদ) তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলেন এবং তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন। তিনি তাঁর বিরোধীদের বিরুদ্ধে জিহাদ চালিয়ে যেতে থাকলেন। সেই দেশগুলোতে জাহেলিয়াতের বিষয়গুলো প্রবল ছিল এবং সেখানে ইসলাম আগন্তুক হয়ে গিয়েছিল। এরপর মুহাম্মদ ইবনে সউদ মৃত্যুবরণ করেন, ততদিনে নজদ অঞ্চলের কিছু এলাকায় এই দ্বীন প্রবেশ করেছিল। অতঃপর তাঁর পুত্র আব্দুল আজিজ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন। তিনি নজদের সকল অঞ্চল, পবিত্র ভূমিসমূহ (মক্কা-মদিনা), আরদিয়া অঞ্চল, হাসা এবং কাতিফ জয় করলেন। এরপর তিনি হিজাজ অঞ্চলের অনেক শহর জয়ের দিকে অগ্রসর হলেন। অতঃপর তিনি তায়েফ, মক্কা, মদিনা এবং আরব উপদ্বীপের অধিকাংশ এলাকার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন। এসব বিজয়ের অধিকাংশই অর্জিত হয়েছিল তাঁর পুত্র সউদের নেতৃত্বে। অতঃপর তাঁর পরে তাঁর পুত্র সউদ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর সৈন্যবাহিনী সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় এবং তাঁর বিজয় অভিযান সম্প্রসারিত হয়। তাঁর সৈন্যরা ইয়েমেন পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং তারা আবু আরিশ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো জয় করে। এরপর আবু আরিশের শরীফ হামুদ বিন মুহাম্মদ শরীফ তাঁদের আনুগত্য গ্রহণ করেন। তাঁরা তাঁকে সৈন্য দিয়ে সাহায্য করেন এবং তিনি লুহাইয়াহ, হুদাইদাহ, বাইত আল-ফকিহ, জাবিদ এবং এর সংলগ্ন তিহামা অঞ্চলের শহরগুলো জয় করেন। সউদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা ধারাবাহিকভাবে আমাদের কাছে সানায় ইমাম মানসুর এবং তাঁর পুত্র ইমাম মুতাওয়াক্কিলের দরবারে আসতেন। তিনি তাঁদের কাছে তাওহীদের দাওয়াত দিয়ে এবং সুউচ্চ কবর ও নির্মিত গম্বুজগুলো ভেঙে ফেলার আহ্বান জানিয়ে পত্র লিখতেন। ইমামদ্বয়ের কাছে আসা চিঠিপত্রের সাথে তিনি আমার কাছেও চিঠি লিখতেন। অতঃপর সানা এবং এর নিকটবর্তী অনেক স্থানে, সেইসাথে যামার ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে সুউচ্চ গম্বুজ এবং নির্মিত কবরগুলো ভেঙে ফেলা হয়। (সমাপ্ত)
৪- শাইখ আল্লামা মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল কাদির আল-হিফজি ১ তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে এবং তাঁর দাওয়াতের গুণগান গেয়ে বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা প্রকৃতপক্ষে এবং চিরকাল মহান আল্লাহর প্রাপ্য
… যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক চিরকাল।
দরুদ পাঠ করছি শরীয়ত প্রবর্তনকারী রাসূলের ওপর
… এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও তাবেঈগণের ওপর।
শুরুতে এবং শেষে। অতঃপর
… এটি একটি কাব্যগ্রন্থ যা রচিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
حركني لنظمها الخير الذي
… قد جاءنا في آخر العصر القذي
لما دعا الداعي من المشارق
… بأمر رب العالمين الخالق
وبعث الله لنا مجددا
… من أرض نجد عالما مجتهدا
شيخ الهدى محمد المحمدي
… الحنبلي الأثري الأحمدي
فقام والشرك الصريح قد سرى
… بين الورى وقد طغى واعتكرا
لا يعرفون الدين والتهليلا
… وطرق الإسلام والسبيلا
إلا أساميها وباقي الرسم
… والأرض لا تخلو من أهل العلم
وكل حزب فله وليجة
… يدعونه في الضيق للتفريجة
وملة الإسلام والأحكام
… في غربة وأهلها أيتام
دعا إلى الله وبالتهليلة
… يصرخ بين أظهر القبيلة
مستضعفا وما له من ناصر
… ولا له مساعد موازر
في زلة وقلة وفي يده
… مهفة تغنيه عن مهذه
كأنها ريح الصبا في الرعب
… والحق يعلو بجنود العرب
قد أذكرتني درة لعمر
… وضرب موسى العصا بالحجر
ولم يزل يدعو إلى دين النبي
… ليس إلى نفس دعا أو مذهب
يعلم الناس معاني أشهد
… أن لا إله غير فرد يعبد
محمد نبيه وعبده
… رسوله إليكم وقصده
أن تعبدوه وحده لا تشركوا
… شيئا به والابتداع فاتركوا
ومن دعا دون الإله أحدا
… أشرك بالله ولو محمدا
إن قلتم نعبدهم للقربة
… أو للشفاعة فتلك الكذبة
فربنا يقول في كتابه
… هذا هو الشرك بلا تشابه
هذه معاني دعوة الشيخ لمن
… عاصره فاستكبروا عن السنن
فانقسم الناس فمنهم شارد
… مخاصم محارب معاند
ما بين خفاش وبين جعل
… شاهت وجوه أهل هذا المثل
وبعدما استجيب لله فمن
… حاد في الله تردى وافتتن
এই কবিতা রচনার জন্য আমাকে সেই কল্যাণ অনুপ্রাণিত করেছে যা এই পঙ্কিল যুগের শেষে আমাদের কাছে এসেছে।
…যখন পূর্ব দিগন্ত থেকে একজন আহ্বানকারী আহ্বান জানালেন, জগতসমূহের প্রতিপালক ও স্রষ্টার আদেশে।
আর আল্লাহ আমাদের জন্য নজদ ভূমি থেকে একজন সংস্কারক পাঠালেন, যিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ মুজতাহিদ।
…হেদায়েতের শায়খ মুহাম্মদ আল-মুহাম্মাদী, যিনি হাম্বলী, আসারি এবং আহমাদী।
তিনি যখন উঠে দাঁড়ালেন তখন স্পষ্ট শিরক জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা সীমা লঙ্ঘন করেছিল এবং পঙ্কিল হয়ে উঠেছিল।
…তারা দ্বীন এবং তাওহীদী কালেমা চিনত না, চিনত না ইসলামের পথ ও পন্থা।
কেবল এর নাম এবং অবশিষ্ট কিছু বাহ্যিক রূপ ছাড়া তারা কিছুই জানত না; যদিও পৃথিবী কখনও আহলে ইলমদের থেকে শূন্য থাকে না।
…প্রত্যেক দলই একেকজন অভিভাবক গ্রহণ করেছিল, সংকটের সময় বিপদমুক্তির জন্য তারা তাকেই ডাকত।
আর ইসলামের আদর্শ ও বিধানসমূহ তখন ছিল প্রবাসে, আর এর অনুসারীরা ছিল এতিমের মতো।
…তিনি আল্লাহর দিকে এবং তাওহীদের প্রতি আহ্বান জানালেন, গোত্রসমূহের মাঝে তিনি উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা দিলেন।
সেই অবস্থায় তিনি ছিলেন দুর্বল, তাঁর কোনো সাহায্যকারী বা সহযোগী ছিল না।
…নিঃসঙ্গতা ও স্বল্পতার মাঝেও তাঁর হাতে ছিল এমন এক পাখা যা তাঁকে তলোয়ারের অভাব মিটিয়ে দিত।
ভীতি সঞ্চারে তা যেন ছিল পুবালি বাতাস; আর সত্য আরব সৈন্যদের মাধ্যমে বিজয়ী হয়।
…এটি আমাকে ওমরের চাবুক এবং মুসার পাথরে লাঠি মারার কথা মনে করিয়ে দিল।
তিনি নিরন্তর নবীর দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিতে থাকলেন; তিনি নিজের দিকে বা কোনো বিশেষ মাযহাবের দিকে ডাকেননি।
…তিনি মানুষকে ‘সাক্ষ্য দিচ্ছি’ এর মর্ম শেখাতেন—অর্থাৎ সেই একক সত্তা ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই যাঁর ইবাদত করা হয়।
মুহাম্মদ তাঁর নবী ও বান্দা, তোমাদের প্রতি প্রেরিত তাঁর রাসূল এবং তাঁর উদ্দেশ্য হলো—
…যেন তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো, তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক না করো এবং বিদআত পরিত্যাগ করো।
আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে আহ্বান করে, সে আল্লাহর সাথে শিরক করল, এমনকি তিনি মুহাম্মদ হলেও।
…যদি তোমরা বলো যে, আমরা তাদের নৈকট্য লাভের জন্য অথবা সুপারিশের জন্য ইবাদত করি—তবে তা চরম মিথ্যা।
কারণ আমাদের প্রতিপালক তাঁর কিতাবে বলেন: এটিই হলো শিরক, যাতে কোনো সংশয় নেই।
…এই ছিল সমকালীন লোকদের প্রতি শায়খের দাওয়াতের মর্মার্থ; কিন্তু তারা সুন্নাহর ব্যাপারে অহংকার প্রদর্শন করল।
ফলে মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়ল; তাদের মধ্যে কেউ বিচ্যুত, কেউ ঝগড়াটে, কেউ যুদ্ধংদেহী এবং কেউ হঠকারী।
…কেউ চামচিকার মতো আর কেউ গুবরে পোকার মতো; এই দৃষ্টান্তের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের চেহারা কলঙ্কিত হোক।
আর আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দেওয়ার পর, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বিরোধিতা করল, সে ধ্বংস হলো এবং ফিতনায় নিপতিত হলো।
…
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
ذكر هذه الأبيات الشيخ سليمان بن سحمان في كتابه "الصواعق المرسلة الشهابية على الشبه الداحضة الشامية" صـ72، وأضاف الحفظي إلى ذلك ما صرح به في "اللجام المكين والزمام المتين" حيث قال: ولقد كتبت إلى بعض علماء اليمن وقضاتها منظومة قلتها في ذلك - أي في الدفاع عن دعوة الإمام محمد بن عبد الوهاب.
والحق أولى أن يجاب وإنما
… لم أدر ما حيلولة المتحيل
إن كان ظنا أن ذاك مخالف
… فهو البري من الخلاف المبطل
بل قام يدعو الناس للتوحيد
… والتجريد والتغريد للرب العلي
ويذب عن شرع النبي محمد
… ويذم من يدعو النبي أو الولي
أو كان ظنا أن فيه غلاظة
… وفظاظة وشكامة لم تجمل
فأقول حاشا أن فيه ليونة
… وهيونة للمقبل المستقبل
وإذا رأيت مفاسدا من بعضهم
… فالشيخ عن ذاك الفساد بمعزل
ومما وفق فيه العلامة الحفظي مكاتبة أئمة الدعوة في كل مناسبة تقتضي ذلك. فقد كتب إليهم يسأل عن مسألة الضيافة هل هي واجبة أم لا؟ وعن طلب الإمام وعماله الزكاة من الأموال للباطنة هل يجوز له أم لا؟ وعن حكم العمل بصريح الحديث وظاهره إذا وجده المرء الأمهات الست أو ما التزم مخرجه فيه الصحة والحسن. هل للإنسان العمل به والاعتماد عليه وإن لم يبحث عنه هل هو منسوخ أم لا؟ وهل عارضه أقوى منه؟ وفي خطاب الحفظي المتضمن لتلك الأسئلة تصريحه بأنه على ما عليه الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب من إخلاص الدعاء لله وترك عبادة ما سواه وأنه لا يرضى بالإشراك والتخلف عن التوحيد ولو قدر فواق، فأجابه الشيخان الجليلان حسين وعبد الله ابنا الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب عن تلك الأسئلة بجواب سجل تحت عنوان "المسائل الحفظية" في الجزء الرابع من مجموعة الرسائل والمسائل النجدية ط مطبعة المنار صـ54- 549.
وكتب الحفظي - أيضا - إلى أئمة الدعوة يسأل عن ضبط كلمة الإخلاص ومعناها وحقيقتها وحكمها ولازمها وفائدتها ومقتضاها ونواقضها ومتمماتها، فأجاب عن ذلك
শেখ সুলায়মান বিন সাহমান এই পংক্তিগুলো তাঁর ‘আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিইয়্যাহ আলাশ-শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ’ গ্রন্থের ৭২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। আর আল-হিফযি এর সাথে যুক্ত করেছেন যা তিনি ‘আল-লিঝাম আল-মাকিন ওয়াল যিমাম আল-মাতিন’ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: আমি ইয়ামেনের কিছু আলেম ও বিচারকের নিকট একটি কাব্য লিখেছি যা আমি এ বিষয়ে বলেছিলাম—অর্থাৎ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের প্রতিরক্ষায়।
সত্যই হলো কবুল হওয়ার অধিক যোগ্য, তবে আমি জানি না প্রতারকের প্রতিবন্ধকতা কী।
… যদি ধারণা করা হয় যে এটি (দাওয়াত) বিরোধী, তবে তিনি বাতিল মতবিরোধ থেকে মুক্ত।
… বরং তিনি মানুষকে তাওহীদ, একনিষ্ঠতা এবং সুউচ্চ রবের মহিমা বর্ণনার দিকে আহ্বান করতে দাঁড়িয়েছেন।
… তিনি নবী মুহাম্মাদ-এর শরীয়তকে রক্ষা করছেন এবং সেই ব্যক্তিকে নিন্দা করছেন যে নবী বা ওলীকে ডাকে।
… অথবা যদি ধারণা করা হয় যে এতে কর্কশতা, রূঢ়তা এবং অসুন্দর কঠোরতা রয়েছে;
… তবে আমি বলব, কক্ষনোই না! বরং এতে রয়েছে নম্রতা এবং যারা এর দিকে অগ্রসর হয় তাদের জন্য এটি সহজবোধ্য।
… আর যদি তুমি তাদের কারো পক্ষ থেকে কোনো অনিষ্ট দেখো, তবে শাইখ সেই অনিষ্ট থেকে সম্পূর্ণ বিমুক্ত।
… আল্লামা হিফযি যে বিষয়ে তাওফীক লাভ করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রতিটি প্রয়োজনে দাওয়াতের ইমামগণের নিকট পত্র বিনিময় করা। তিনি তাঁদের নিকট মেহমানদারির মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে লিখেছিলেন যে তা ওয়াজিব কি না? এবং ইমাম ও তাঁর প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে অপ্রকাশ্য সম্পদের যাকাত তলব করা তাঁদের জন্য জায়েয কি না? আর সুস্পষ্ট হাদীস ও তার প্রকাশ্য রূপ অনুযায়ী আমল করার বিধান সম্পর্কে, যখন মানুষ তা উম্মাহাতুস সিত্তাহ (প্রধান ছয়টি হাদীস গ্রন্থ) বা এমন কোনো গ্রন্থে পায় যার সংকলক তাতে সহীহ ও হাসান হাদীস বর্ণনার দায়বদ্ধতা রক্ষা করেছেন। মানুষের জন্য কি এর ওপর আমল করা এবং এর ওপর নির্ভর করা জায়েয, যদিও সে এটি মানসুখ (রহিত) কি না তা অনুসন্ধান না করে? এবং এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো বিরোধী দলিল আছে কি না (তা না জেনেও)? হিফযির সেই পত্রে এই প্রশ্নগুলোর পাশাপাশি তাঁর এই স্পষ্ট ঘোষণা ছিল যে, তিনি ইমাম শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব যে আদর্শের ওপর ছিলেন—অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর ইবাদত বর্জন করা—তার ওপরই অটল আছেন। এবং তিনি এক মুহূর্তের জন্যও শিরক করা বা তাওহীদ থেকে বিচ্যুত হওয়া পছন্দ করেন না। অতঃপর দুই মহান শাইখ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দুই পুত্র হুসাইন ও আব্দুল্লাহ, সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছিলেন যা ‘মাজমুআতুর রাসায়িল ওয়াল মাসায়িল আন-নাজদিয়্যাহ’ (আল-মানার ছাপাখানা) এর চতুর্থ খণ্ডের ৫৪-৫৪৯ পৃষ্ঠায় ‘আল-মাসায়িল আল-হিফযিইয়্যাহ’ শিরোনামে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
হিফযি দাওয়াতের ইমামগণের নিকট কালিমায়ে ইখলাসের সংজ্ঞা, এর অর্থ, প্রকৃত রূপ, বিধান, অপরিহার্য বিষয়, উপকারিতা, দাবি, ভঙ্গকারী বিষয় এবং এর পূর্ণতাদানকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে লিখেছিলেন। অতঃপর তাঁরা তার উত্তর দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
السؤال العلامة سعيد بن حجي الحنبلي النجدي بجواب طويل جدا ورد في الجزء الرابع من مجموعة الرسائل والمسائل النجدية صـ840- 874.
وكتب مسألة أخرى يسأل فيها عن مسائل أوردها عليه بعض المجادلين في الدعوة وسمى تلك الرسالة "اللجام المكين والزمام المتين" فأجاب عنها الشيخ حمد بن ناصر بن عثمان بن معمر الحنبلي بجواب جيد في مجموعة الرسائل والمسائل النجدية جـ4 صـ582- 659.
وللحفظي ألفية ما زالت مخطوطة نظم فيها خمسة كتب للإمام محمد بن عبد الوهاب هي: تفسير كلمة التوحيد والخصال الثماني وكتاب التوحيد والثلاثة الأصول وكشف الشبهات. وله في التوحيد رسالة قيمة سماها "درجات الصاعدين إلى مقامات الموحدين" أثنى فيها على الإمام محمد بن عبد الوهاب وعلى أنصار دعوته أئمة آل سعود حق الثناء، قال فيها صـ43 "فمن حين ظهرت هذه الدعوة النجدية إلى توحيد الإلهية وجردت عليها السيوف فمن ردها وأباها فالكلام عليه واللوم متوجه إليه، وهي الآن بحمد الله قد غارت وطارت. والقرآن العظيم أكبر حجة على من بلغه، والمسائل الواضحة التي يشترك في معرفتها الخاص والعام، مثل توحيد الله بالعبادة وأنه لا شريك له فيها، يدل عليها القرآن دلالة صريحة معقولة للتالي والسامع مع هداية العقل إلى ذلك ودلالته عليه، وفهم الحجة غير بلوغها. وللعلماء أقوال في هذا المجال. وقد نص القرآن العظيم على ذم قوم يحسبون أنهم يحسنون صنعا".. قال "كالدعوة إلى التوحيد".
هذا أمر مستفيض وشيء مشهور على علم التوحيد أنه فرض لازم. وعلى الشرك أنه حرام محض، ولكنها حصلت غلطات شنيعة وعادات فظيعة وأعمال كفرية وأقوال شركية وردة صريحة وأفعال قبيحة تتابع فيها كثير من الناس، وقلد بعضهم بعضا إلا قليلا من الأكياس، وكادت تنطمس آثار مباني الشريعة، وتنهدم معانيها المنيعة، وما أوتي الناس إلا من قبل الولايات. وهل أفسد الدين إلا أولئك وأحبار سوء ورهبانها. حتى بزغ قمر التجديد وطلعت شمس التوحيد بدعوة شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب أسكنه الله جنة المآب، فنور الظلام وأجلى الله به الغمام، وبين سبل السلام إلى بلوغ المرام، وألف
আলামাহ সাঈদ বিন হাজ্জি আল-হাম্বলি আন-নাজদি একটি অত্যন্ত দীর্ঘ উত্তরের মাধ্যমে এই প্রশ্নটি করেছেন, যা মাজমুআতুর রাসায়িল ওয়াল মাসায়িল আন-নাজদিয়ার চতুর্থ খণ্ডের ৮৪০-৮৭৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
তিনি আরেকটি মাসআলা লিখেছেন যাতে তিনি দাওয়াত সম্পর্কে কিছু বিতর্ককারীর উত্থাপিত প্রশ্নাবলী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং সেই পুস্তিকাটির নাম দিয়েছেন "আল-লিজামুল মাকিন ওয়াল যিমামুল মাতিন"। শায়খ হামাদ বিন নাসির বিন উসমান বিন মুয়াম্মার আল-হাম্বলি এর একটি উত্তম উত্তর প্রদান করেছেন, যা মাজমুআতুর রাসায়িল ওয়াল মাসায়িল আন-নাজদিয়ার চতুর্থ খণ্ডের ৫৮২-৬৫৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
আল-হিফযির একটি আলফিয়্যাহ (সহস্র পঙক্তির কবিতা) রয়েছে যা এখনও পাণ্ডুলিপি অবস্থায় আছে, যাতে তিনি ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের পাঁচটি কিতাবকে কাব্যে রূপান্তর করেছেন। সেগুলো হলো: তাফসিরু কালিমাতিত তাওহিদ, আল-খিসালুস সামানি, কিতাবুত তাওহিদ, সালাসাতুল উসুল এবং কাশফুশ শুবুহাত। তাওহিদের বিষয়ে তাঁর একটি মূল্যবান পুস্তিকা রয়েছে যার নাম তিনি দিয়েছেন "দারাজাতুস সায়িদিন ইলা মাকামাতিল মুওয়াহহিদিন"। সেখানে তিনি ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এবং তাঁর দাওয়াতের আনসার তথা আল-সাউদ ইমামগণের যথাযথ প্রশংসা করেছেন। তিনি তার ৪৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন, "যখন থেকে উলুহিয়্যাতের তাওহিদের দিকে এই নাজদি দাওয়াত প্রকাশ পেয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে তলোয়ার কোষমুক্ত করা হয়েছে, তখন যারা একে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অস্বীকার করেছে, তাদের বিরুদ্ধেই কথা এবং তাদের দিকেই নিন্দা ধাবিত হয়। আল্লাহর প্রশংসায় এটি এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মহান কুরআন তার কাছে পৌঁছানো ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুজ্জাত (দলিল)। আর সুস্পষ্ট মাসআলাসমূহ যা সাধারণ এবং বিশিষ্ট সবাই জানে, যেমন ইবাদতে আল্লাহর একত্ববাদ এবং এতে তাঁর কোনো শরিক না থাকা—কুরআন তিলাওয়াতকারী এবং শ্রবণকারীর জন্য যুক্তিগ্রাহ্য ও স্পষ্ট প্রমাণ প্রদান করে, সাথে সাথে বিবেকও সেদিকে পথনির্দেশ করে। তবে হুজ্জাত অনুধাবন করা আর হুজ্জাত পৌঁছানো ভিন্ন বিষয়। এ বিষয়ে আলেমদের বিভিন্ন অভিমত রয়েছে। মহান কুরআন এমন এক সম্প্রদায়ের নিন্দায় অবতীর্ণ হয়েছে যারা মনে করে যে তারা ভালো কাজ করছে..." তিনি বলেন, "যেমন তাওহিদের দিকে দাওয়াত।"
এটি একটি সুপ্রসিদ্ধ বিষয় এবং তাওহিদ শাস্ত্রের এমন এক মশহুর দিক যে, এটি একটি আবশ্যকীয় ফরজ। আর শিরক হচ্ছে নিছক হারাম। কিন্তু অত্যন্ত জঘন্য ভুল, ভয়াবহ প্রথা, কুফরি কর্মকাণ্ড, শিরকি কথাবার্তা, স্পষ্ট ধর্মত্যাগ এবং কদর্য কার্যাদি প্রকাশ পেয়েছিল যাতে বহু মানুষ লিপ্ত হয়েছে। তারা একে অপরকে অন্ধভাবে অনুকরণ করেছে, কেবল অল্প কিছু বুদ্ধিমান ব্যক্তি ছাড়া। শরিয়তের বুনিয়াদের চিহ্নসমূহ প্রায় মুছে যেতে বসেছিল এবং এর সুদৃঢ় অর্থসমূহ ধ্বংস হতে চলেছিল। মানুষ কেবল অশুভ নেতৃত্বের কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা এবং পথভ্রষ্ট আলেম ও দরবেশরাই কি দ্বীনকে ধ্বংস করেনি? অবশেষে সংস্কারের চাঁদ উদিত হলো এবং শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের (আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল মাওয়ায় স্থান দান করুন) দাওয়াতের মাধ্যমে তাওহিদের সূর্য উদ্ভাসিত হলো। এর ফলে অন্ধকার দূরীভূত হলো এবং আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে মেঘমালা অপসারিত করলেন। তিনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য শান্তির পথসমূহ স্পষ্ট করলেন এবং তিনি রচনা করলেন...
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
المؤلفات في التوحيد بجميع العبادات مع إقامة الحجج القاطعة والإنصاف التام في المناظرة والمراجة، فعاد قارح الإسلام به جذعا، ورجع دارس الأحكام به متبعا، وكان رحمه الله سنيا أثريا متبعا، وأجاب دعوته وآوى غربته السعيد المسعود محمد بن سعود على قلة من الأعوان وابتكار لهذا الشأن، ثم وازره بجهوده وبطوقه وعارضه حتى استوى على سوقه الإمام عبد العزيز بن محمد بن سعود.
5- الشيخ محمود شكري الألوسي قال في تاريخ نجد صـ114 (كان - أي: الإمام محمد بن عبد الوهاب - شديد التعصب للسنة كثير الإنكار على من خالف الحق من العلماء، والحاصل أنه - أي: الإمام محمد بن عبد الوهاب - من العلماء الآمرين بالمعروف الناهين عن المنكر، وكان يعلم الناس الصلاة وأحكامها وسائر أركان الدين ويأمر بالجماعات، وقد جد في تعليم الناس وحثهم على الطاعة وأمرهم بتعلم أصول الدين وشرائطه وأحكام الصلاة وأركانها وواجباتها وسننها وسائر أحكام الدين وأمر جميع أهل البلاد بالمذاكرة في المساجد كل يوم بعد صلاة الصبح وبعد العشاءين في معرفة الله تعالى ومعرفة دينه الإسلام ومعرفة أركانه وما ورد عليه من أدلة، ومعرفة النبي صلى الله عليه وسلم ونسبه ومبعثه وهجرته، وأول ما دعا إليه من كلمة التوحيد وسائر العبادات التي لا تنبغي إلا لله؛ كالدعاء والذبح والنذر والخوف والرجاء والخشية والرغبة والتوكل والإنابة وغير ذلك، فلم يبق أحد من عوام أهل نجد جاهلا بأحكام دين الإسلام، بل كلهم تعلموا ذلك إلى اليوم بعد أن كانوا جاهلين بها إلا الخواص منهم. وانتفع الناس به من هذه الجهة الحميدة" ا. هـ.
وقال الألوسي في هذا الكتاب في موضع آخر "وقد قرر - أي: الإمام محمد بن عبد الوهاب - رحمه الله تعالى - على شهادة أن محمدا رسول الله من بيان ما تستلزمه هذه الشهادة وتستوعبه وتقتضيه من تجريد المتابعة، والقيام بالحقوق النبوية من الحب والتوقير والنصرة والمتابعة والطاعة وتقديم سنته صلى الله عليه وسلم على كل سنة وقول، والوقوف معها حيثما وقفت والانتهاء حيث انتهت في أصول الدين وفروعه، باطنه وظاهره وخفيه وجليه كليه وجزئيه ما ظهر به فضله وتأكد علمه ونبله، وأنه سباق غايات وصاحب آيات لا يشق غباره ولا تدرى في البحث والإفادة آثاره وأن أعداءه ومنازعيه
তাওহীদ এবং সকল প্রকার ইবাদত সংক্রান্ত রচনাবলী, সাথে অকাট্য দলিল উপস্থাপন এবং বিতর্ক ও পর্যালোচনায় পূর্ণ ইনসাফ বজায় রাখা; এর মাধ্যমে ইসলামের বার্ধক্য পুনরায় যৌবনে রূপান্তরিত হলো এবং শরীয়তের বিলুপ্ত বিধানগুলো পুনরায় অনুসৃত হতে শুরু করল। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন সুন্নী, আসারি ও সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী। তাঁর দাওয়াহ কবুল করলেন এবং তাঁর প্রবাস জীবনে আশ্রয় দিলেন সৌভাগ্যবান মুহাম্মদ বিন সাউদ, যদিও তখন সাহায্যকারীর সংখ্যা ছিল নগণ্য এবং বিষয়টি ছিল নতুন। অতঃপর ইমাম আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন সাউদ তাঁর প্রচেষ্টা ও সামর্থ্য দিয়ে তাঁকে সহায়তা করেন এবং পাশে দাঁড়ান, যতক্ষণ না তা (দাওয়াহর মিশনটি) মজবুতভাবে নিজের কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়ালো।
৫- শেখ মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি তাঁর 'তারিখ নজদ' গ্রন্থের ১১৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন, "(তিনি - অর্থাৎ: ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব - সুন্নাহর প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন এবং আলেমদের মধ্যে যারা সত্যের বিরোধিতা করত তাদের কড়া সমালোচনা করতেন। সারকথা হলো, তিনি - অর্থাৎ: ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব - ছিলেন সৎকাজের আদেশদাতা এবং অসৎকাজের নিষেধকারী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মানুষকে সালাত, এর আহকাম এবং দ্বীনের অন্যান্য রোকন শিক্ষা দিতেন এবং জামায়াতে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দান ও আনুগত্যে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত পরিশ্রম করেছেন এবং তাদেরকে দ্বীনের মূলনীতি, এর শর্তাবলী, সালাতের আহকাম, রোকন, ওয়াজিব, সুন্নাহ এবং দ্বীনের অন্যান্য বিধিবিধান শেখার নির্দেশ দিতেন। তিনি দেশের সকল মানুষকে প্রতিদিন ফজর এবং মাগরিব ও ইশার পর মসজিদে আল্লাহ তাআলার পরিচয়, তাঁর দ্বীন ইসলাম ও এর রোকনসমূহ এবং এ সংক্রান্ত দলিলাদি নিয়ে আলোচনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরিচয়, বংশপরিচয়, নবুয়ত প্রাপ্তি এবং হিজরত সম্পর্কে জানার নির্দেশ দেন। তিনি সর্বপ্রথম যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন তা হলো তাওহীদের কালিমা এবং যাবতীয় ইবাদত যা আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য হওয়া সমীচীন নয়; যেমন দুআ, জবেহ, মানত, ভয়, আশা, ভীতি, আগ্রহ, তাওয়াক্কুল, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন এবং অন্যান্য বিষয়। ফলে নজদ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামের বিধিবিধান সম্পর্কে কেউ আর অজ্ঞ রইল না, বরং একদল বিশিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া যারা আগে অজ্ঞ ছিল তারা সবাই আজ পর্যন্ত তা শিখে আসছে। এই প্রশংসনীয় দিক থেকে মানুষ তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে।" সমাপ্ত।
আলুসি এই কিতাবের অন্য এক স্থানে বলেন, "তিনি - অর্থাৎ: ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) - 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে এই শাহাদাত যা কিছু আবশ্যক করে, যা কিছু শামিল করে এবং একমাত্র অনুসরণের যে দাবি রাখে, তা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। সেই সাথে নবীর হকসমূহ যেমন: ভালোবাসা, সম্মান, সাহায্য, অনুসরণ ও আনুগত্য করা এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহকে অন্য যে কোনো নীতি বা কথার উপর প্রাধান্য দেওয়া এবং সুন্নাহ যেখানে অবস্থান করে সেখানে অবস্থান করা এবং দ্বীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায়, অন্তরে ও প্রকাশ্যে, গোপনে ও প্রকাশ্যে, সামগ্রিক ও আংশিক ক্ষেত্রে সুন্নাহ যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে সমাপ্ত হওয়া—এই বিষয়গুলো তিনি এমনভাবে বয়ান করেছেন যার মাধ্যমে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পেয়েছে এবং তাঁর ইলম ও মহত্ত্ব সুনিশ্চিত হয়েছে। তিনি লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগামী এবং বহু নিদর্শনের অধিকারী, যাঁর সমকক্ষ হওয়া যায় না এবং গবেষণা ও জ্ঞান বিতরণে যাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করা দুঃসাধ্য। আর তাঁর শত্রু ও বিরোধীরা..."
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
وخصومه في الفضل وشانئيه يصدق عليهم المثل السائر بين أهل المحابر والدفاتر.
حسدوا الفتى إذ لم ينالوا سعيه
… فالناس أعداء له وخصوم
كضرائر الحسناء قلن لوجهها
… حسدا وبغيا إنه لدميم
6- العلامة الشيخ عبد القادر بن أحمد بن مصطفى، المعروف بابن بدران الدمشقي، وصف الإمام محمد بن عبد الوهاب في كتابه "المدخل إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل" صـ229؛ بأنه العالم الأثري والإمام الكبير قال: "ولما امتلأ وطابه من الآثار وعلم السنة وبرع في مذهب أحمد، أخذ ينصر الحق ويحارب البدع ويقاوم ما أدخله الجاهلون في هذا الدين الحنفي والشريعة السمحاء، وأعانه قوم وأخلصوا العبادة لله وحده على طريقته التي هي إقامة التوحيد الخالص والدعوة إليه وإخلاص الوحدانية والعبادة كلها بسائر أنواعها لخالق الخلق وحده، وهب إلى معارضة أقوام ألفوا الجمود على ما كان عليه الآباء وتدرعوا بالكسل عن طلب الحق، وهم لا يزالون إلى اليوم يضربون على ذلك الوتر، وجنود الحق تكافحهم فلا تبقي منهم ولا تذر، وما أحقهم بقول القائل:
كناطح صخرة يوما ليوهنها
… فلم يضرها وأعيا1 قرنه الوعل
ولم يزل مثابرا على الدعوة إلى دين الله حتى توفاه الله تعالى سنة ست ومائتين وألف.
--------------------------------------------
তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার ক্ষেত্রে তাঁর শত্রু ও বিদ্বেষ পোষণকারীদের অবস্থা সেই প্রবাদের মতোই সত্য হয়, যা আলেম ও লেখক সমাজের নিকট সুপরিচিত।
তারা সেই যুবকের প্রতি হিংসা পোষণ করল যেহেতু তারা তার সমকক্ষ হতে পারল না
… ফলে মানুষেরা তার শত্রু ও প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াল।
ঠিক যেমন কোনো রূপবতীর সপত্নীরা হিংসা ও বিদ্বেষবশত তার চেহারা সম্পর্কে বলেছিল
… নিশ্চয়ই সে কুৎসিত।
৬- আল্লামা শাইখ আব্দুল কাদির বিন আহমদ বিন মুস্তফা, যিনি ইবনে বদরান আদ-দিমাশকী নামে পরিচিত, তিনি তাঁর ‘আল-মাদখাল ইলা মাযহাবি আল-ইমাম আহমদ বিন হাম্বল’ কিতাবের ২২৯ পৃষ্ঠায় ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবকে আসারি আলেম ও মহান ইমাম হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন: “যখন তাঁর ইলমের ভাণ্ডার কুরআন-সুন্নাহর বর্ণনা ও সুন্নাহর জ্ঞানে পরিপূর্ণ হলো এবং তিনি আহমদের মাযহাবে পারদর্শিতা লাভ করলেন, তখন তিনি সত্যকে সাহায্য করতে, বিদআতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং জাহেলরা এই হানীফ দ্বীন ও উদার শরীয়তের মধ্যে যা কিছু অনুপ্রবেশ করিয়েছিল তা প্রতিরোধ করতে শুরু করলেন। একদল লোক তাঁকে সহযোগিতা করলেন এবং তাঁর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠ হলেন; যা হলো বিশুদ্ধ তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা, তার দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং সৃষ্টিজগতের একমাত্র স্রষ্টার জন্য সকল প্রকার একত্ববাদ ও ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা। অন্যদিকে এমন কিছু লোক তাঁর বিরোধিতায় লিপ্ত হলো যারা তাদের পিতৃপুরুষদের রীতিনীতির ওপর অন্ধ অনুকরণের অভ্যস্ত ছিল এবং সত্য অন্বেষণের ব্যাপারে অলসতার বর্ম পরিধান করেছিল। তারা আজও সেই একই সুরে কথা বলে যাচ্ছে, আর সত্যের সৈন্যরা তাদের সাথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে যা তাদের কাউকেই অবশিষ্ট রাখবে না। আর তাদের ক্ষেত্রে কবির এই উক্তিটি কতই না যথাযথ:
ঠিক যেন সেই পাহাড়ি ছাগলের মতো যে একদিন কোনো শক্ত পাথরকে দুর্বল করার জন্য গুঁতো মারল
… এতে পাথরের কোনো ক্ষতি হলো না, বরং পাহাড়ী ছাগলের নিজের শিংই ক্লান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো।
তিনি আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াতের কাজে অবিচল ছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা বারোশ ছয় হিজরি সনে তাঁকে মৃত্যু দান করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
تلامذة الشيخ محمد بن عبد الوهاب…تلامذة الإمام محمد بن عبد الوهاب
تلقى العلم عن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب عدة من العلماء الأجلاء نذكر منهم من يلي:
1- سعود بن عبد العزيز بن محمد بن سعود، أقام مدة سنتين يقرأ على الإمام محمد بن عبد الوهاب، ثم كان يلازم مجالس الدرس عنده، ولهذا الإمام معرفة بالفقه والحديث وغير ذلك، وكان كما وصفه بعض العمانيين حيث قال:
إذا جزت باب السيف تلقاه فارسا
… وإن جزت باب الخوف تلقاه خائفا
وإن جزت باب الدين تلقى ديانة
… وإن جزت باب العلم تلقاه عالما
وإن جزت باب السلم تلقى مسالما
… وإن جزت باب الحكم تلقاه حاكما
ولهذا الإمام ترجمة حاسمة في عنوان المجد.
2- حسين بن الشيخ محمد بن عبد الوهاب القاضي في بلد الدرعية. قال ابن بشر في "عنوان المجد في تاريخ نجد" جـ1 صـ151 "له مجالس عديدة في الفقه والتفسير وغير ذلك وانتفع أناس كثيرون بعلمه" ووصفه بأنه العلامة المفيد مفتي فرق أهل التوحيد.
3- علي بن الشيخ محمد بن عبد الوهاب. وهو عالم جليل ورع شديد الخوف من الله عز وجل، يضرب به المثل في الورع والديانة، وله معرفة تامة بالفقه والتفسير وغير ذلك، وقد عرض عليه القضاء فأبى.
4- عبد الله بن الشيخ محمد بن عبد الوهاب القاضي في الدرعية زمن سعود، وكان آية في العلم وفي معرفته ومعرفة فنونه.
শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ছাত্রগণ…ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ছাত্রগণ
শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের নিকট থেকে বেশ কয়েকজন বরেণ্য আলেম জ্ঞান অর্জন করেছেন, আমরা তাদের মধ্যে থেকে নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করছি:
১- সাউদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন সাউদ। তিনি দুই বছর কাল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের নিকট অবস্থান করে পড়াশোনা করেন, এরপর তিনি তার পাঠদান মজলিসসমূহে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। এই ইমামের ফিকহ, হাদিস ও অন্যান্য বিষয়ে গভীর জ্ঞান ছিল। ওমানের জনৈক ব্যক্তি তার সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা নিম্নরূপ:
যখন তুমি তরবারির দুয়ার অতিক্রম করবে, তখন তাকে একজন বীর অশ্বারোহী হিসেবে পাবে
… আর যখন তুমি ভয়ের দুয়ার অতিক্রম করবে, তখন তাকে আল্লাহর প্রতি ভীত পাবে।
যখন তুমি দীনের দুয়ার অতিক্রম করবে, তখন তুমি ধার্মিকতা পাবে
… আর যখন তুমি ইলমের দুয়ার অতিক্রম করবে, তখন তাকে একজন আলেম হিসেবে পাবে।
যখন তুমি শান্তির দুয়ার অতিক্রম করবে, তখন তাকে শান্তিকামী হিসেবে পাবে
… আর যখন তুমি বিচারের দুয়ার অতিক্রম করবে, তখন তাকে একজন বিচারক হিসেবে পাবে।
এই ইমামের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী 'উনওয়ানুল মাজদ' গ্রন্থে রয়েছে।
২- হুসাইন বিন শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, দিরইয়াহ শহরের বিচারক। ইবনুল বিশর 'উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নাজদ' (১ম খণ্ড, ১৫১ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে বলেন: "ফিকহ, তাফসির ও অন্যান্য বিষয়ে তার অনেকগুলো মজলিস ছিল এবং বহু মানুষ তার ইলম দ্বারা উপকৃত হয়েছে।" তিনি তাকে তাওহিদপন্থী দলসমূহের মুফতি এবং একজন মহা-বিদ্বান ও উপকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
৩- আলী বিন শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব। তিনি একজন মর্যাদাবান আলেম, পরহেজগার এবং মহান আল্লাহর প্রতি অত্যন্ত ভীত ব্যক্তি ছিলেন। তাকওয়া ও ধর্মপরায়ণতার ক্ষেত্রে তার উদাহরণ দেওয়া হতো। ফিকহ, তাফসির ও অন্যান্য বিষয়ে তার পূর্ণ পাণ্ডিত্য ছিল। তার কাছে বিচারকের পদের প্রস্তাব পেশ করা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
৪- আব্দুল্লাহ বিন শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, সাউদের শাসনামলে দিরইয়াহর বিচারক। তিনি জ্ঞান এবং এর বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর নিদর্শন ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
5- إبراهيم بن الشيخ محمد بن عبد الوهاب. وهو عالم فاضل أدركه ابن بشر وقرأ عليه "كتاب التوحيد" للإمام محمد بن عبد الوهاب، وقال في عنوان المجد في تاريخ نجد صـ103 "وأما إبراهيم بن الشيخ فرأيت عنده حلقة في التدريس، له معرفة في العلم، ولكنه لم يل القضاء. قرأت عليه في صغري في كتاب التوحيد سنة أربع وعشرين ومائتين وألف ".
6- حفيد الشيخ محمد بن عبد الوهاب1 الإمام القاضي عبد الرحمن بن حسن بن الشيخ محمد بن عبد الوهاب. ذكر تلمذته على جده في رسالته التي أجاب بها السؤال عن مشايخه الذين روى عنهم العلم قال: "اعلم أني قرأت على شيخنا الإمام المجدد شيخ الإسلام - أي: محمد بن عبد الوهاب -
--------------------------------------------
৫- ইব্রাহিম বিন শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব। তিনি ছিলেন একজন গুণী আলেম, ইবনে বিশর তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন এবং তাঁর নিকট ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের "কিতাবুত তাওহীদ" পাঠ করেছিলেন। তিনি 'উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নাজদ'-এর ১০৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আর শাইখের পুত্র ইব্রাহিমের কথা বলতে গেলে, আমি তাঁর কাছে পাঠদানের একটি হালকাহ বা চক্র দেখেছি, ইলমের প্রতি তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল, তবে তিনি বিচারকের (কাজী) দায়িত্ব পালন করেননি। আমি আমার শৈশবে বারোশো চব্বিশ হিজরি সনে তাঁর কাছে কিতাবুত তাওহীদ পাঠ করেছি।"
৬- শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের পৌত্র১ ইমাম কাজী আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব। তিনি তাঁর সেই পত্রে তাঁর দাদার নিকট ছাত্রত্বের কথা উল্লেখ করেছেন যেটিতে তিনি তাঁর সেই সকল শিক্ষকদের সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন যাদের নিকট থেকে তিনি ইলম বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "জেনে রাখুন যে, আমি আমাদের শাইখ মুজাদ্দিদ ইমাম শাইখুল ইসলাম—অর্থাৎ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব—এর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
رحمه الله - كتاب التوحيد من أوله إلى أبواب السحر وجملة من آداب المشي إلى الصلاة، وحضرت عليه مجالس كثيرة في البخاري والتفسير وكتب الأحكام بقراءة شيخنا الشيخ ابنه عبد الله رحمهما الله، وشيخنا الشيخ ابنه علي - رحمهما الله - في سورة البقرة من تفسير ابن كثير وفي كتاب منتقى الأحكام بقراءة الشيخ عبد الله بن ناصر وغيرهم وسنده - أي: الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله معروف تلقاه عن عدة من علماء المدينة وغيرهم رواية خاصة وعامة، منهم محمد حياة السندي والشيخ عبد الله بن إبراهيم الفرضي" ا. هـ.
7- العلامة الجليل القاضي حمد بن ناصر بن عثمان بن معمر. قال ابن بشر في "عنوان المجد" جـ1 صـ159 "أخذ العلم عن عدة مشايخ أعلام، أجلهم الشيخ محمد بن عبد الوهاب". ثم ذكر ابن بشر في ترجمته أنه صنف ودرس وأفتى.
8- قاضي ناحية الوشم عبد العزيز بن عبد الله الحصين الناصري1، وهو عالم عامل زاهد ورع حليم ليس للدنيا عنده قدر. أقام عند الشيخ محمد بن عبد الوهاب عدة سنين يقرأ عليه، وكان الشيخ يكرمه، وهو الذي استعمله قاضيا في تلك الناحية - ذكر ذلك ابن بشر في "عنوان المجد" جـ1 صـ236.
9- الشيخ العالم الزاهد سعيد بن حجر قاضي حوطة بني تميم في ناحية الجنوب زمن عبد العزيز وابنه سعود. قال ابن بشر جـ1 صـ172 "أخذ العلم عن الشيخ محمد بن عبد الوهاب، وأخذ عنه عدة من ناحيتهم".
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁকে দয়া করুন - কিতাবুত তাওহীদের শুরু থেকে জাদুর অধ্যায়সমূহ পর্যন্ত এবং নামাজের দিকে গমনের আদবসমূহের একটি বড় অংশ; আর আমি তাঁর নিকট বুখারি, তাফসির এবং আহকামের কিতাবসমূহের অনেক মজলিসে উপস্থিত হয়েছি আমাদের শায়খ, তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর দয়া করুন)-এর পাঠের মাধ্যমে। এবং আমাদের শায়খ, তাঁর পুত্র আলী (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর দয়া করুন)-এর নিকট সূরা আল-বাকারার তাফসির ইবনে কাসির থেকে এবং 'মুনতাক্বাল আহকাম' কিতাবটি শায়খ আব্দুল্লাহ বিন নাসির ও অন্যদের পাঠের মাধ্যমে। তাঁর (অর্থাৎ ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল্লাহ তাঁকে দয়া করুন) সনদ সুপরিচিত, যা তিনি মদিনার বহু আলেম ও অন্যদের নিকট থেকে বিশেষ ও সাধারণ বর্ণনার মাধ্যমে লাভ করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ হায়াত আস-সিন্ধি এবং শায়খ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-ফারদি। ইতি।
৭- মহান আল্লামা কাজী হামাদ বিন নাসির বিন উসমান বিন মুআম্মার। ইবনে বিশর 'উনওয়ানুল মাজদ' ১ম খণ্ড, ১৫৯ পৃষ্ঠায় বলেন, "তিনি অনেক প্রখ্যাত শায়খদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, যাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব"। এরপর ইবনে বিশর তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেন যে, তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন, অধ্যাপনা করেছেন এবং ফতোয়া প্রদান করেছেন।
৮- আল-ওয়াশম অঞ্চলের কাজী আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন আন-নাসিরি১। তিনি একজন আমলকারী আলেম, দুনিয়াবিমুখ, পরহেজগার ও সহনশীল ব্যক্তি ছিলেন; দুনিয়ার কোনো মূল্য তাঁর কাছে ছিল না। তিনি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের কাছে বেশ কয়েক বছর অবস্থান করে তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। শায়খ তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং তিনিই তাঁকে উক্ত অঞ্চলের কাজী হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন - ইবনে বিশর 'উনওয়ানুল মাজদ' ১ম খণ্ড, ২৩৬ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন।
৯- শায়খ, আলেম ও দুনিয়াবিমুখ সাঈদ বিন হাজার, যিনি আব্দুল আজিজ এবং তাঁর পুত্র সাউদের শাসনামলে দক্ষিণ অঞ্চলের হাওতাহ বানি তামিমে কাজী ছিলেন। ইবনে বিশর ১ম খণ্ড, ১৭২ পৃষ্ঠায় বলেন, "তিনি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের নিকট ইলম অর্জন করেন এবং তাঁর অঞ্চলের অনেকে তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন" ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
10- قاضي مرات الشيخ حمد بن إبراهيم بن حمد بن عبد الوهاب بن عبد الله، قال ابن بشر في "عنوان المجد" جـ1 صـ83 "قرأ على الشيخ محمد - أي: ابن عبد الوهاب - وتزوج ابنته وسكن الدرعية عنده".
11- قاضي الدلم وناحية الخرج محمد بن سويلم.
12- عبد الرحمن بن خميس إمام قصر آل سعود في الدرعية والقاضي زمن عبد العزيز وابنه سعود.
13- الشيخ عبد الرحمن بن ناصر، كان قاضي بلد العيينة ثم كان قاضيا في الأحساء زمن سعود وابنه عبد الله.
14- الشيخ محمد بن سلطان العوسجي قاضي المحمل والأحساء.
15- الشيخ عبد الرحمن بن عبد المحسن أبو حسين قاضي حريملاء وبلد الزلفى وغيرهما.
16- الشيخ حسين بن عبد الله بن عيدان القاضي في حريملاء زمن عبد العزيز.
17- الشيخ عبد العزيز بن سويلم. قاضي ناحية القصيم زمن عبد العزيز وابنه سعود، وابنه عبد الله.
18- حمد بن راشد العويني قاضي سدير زمن عبد العزيز.
19- الشيخ العلامة حسين بن غنام صاحب "روضة الأفكار والأفهام" وصفه ابن بشر في "عنوان المجد" جـ1 صـ156 بقوله: "كانت له اليد الطولى في معرفة العلم وفنونه، وله معرفة بالشعر والنثر. صنف مصنفات منها: "العقد الثمين في شرح أحاديث أصول الدين" ذكر ذلك في وفيات السنة الخامسة والعشرين بعد المائتين والألف.
هذا قليل من كثير ممن أخذوا العلم عن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب - رحمه الله تعالى - فقد قال ابن بشر بعد ذكر من سردناهم قبل من القضاة جـ1 صـ104 قال:
১০- মারাত-এর বিচারক শায়খ হামাদ বিন ইবরাহিম বিন হামাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল্লাহ। ইবনে বিশর "উনোয়ানুল মাজদ" গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ৮৩ পৃষ্ঠায় বলেন: "তিনি শায়খ মুহাম্মাদ - অর্থাৎ: ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব - এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন, তাঁর কন্যাকে বিবাহ করেন এবং তাঁর সাথে দিরইয়াহ-তে বসবাস করেন।"
১১- আদ-দিলাম ও আল-খারজ অঞ্চলের বিচারক মুহাম্মাদ বিন সুওয়াইলাম।
১২- আব্দুল রহমান বিন খামিস; তিনি দিরইয়াহ-তে আল-সাউদ প্রাসাদের ইমাম এবং আব্দুল আজিজ ও তাঁর পুত্র সাউদের শাসনামলের বিচারক ছিলেন।
১৩- শায়খ আব্দুল রহমান বিন নাসির; তিনি আল-উয়াইনাহ শহরের বিচারক ছিলেন, অতঃপর সাউদ ও তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর শাসনামলে আল-আহসা অঞ্চলের বিচারক ছিলেন।
১৪- শায়খ মুহাম্মাদ বিন সুলতান আল-আওসাজি; আল-মাহমাল ও আল-আহসা অঞ্চলের বিচারক।
১৫- শায়খ আব্দুল রহমান বিন আব্দুল মুহসিন আবু হুসাইন; হারাইমিলা, আল-যুলফি ও অন্যান্য অঞ্চলের বিচারক।
১৬- শায়খ হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন আইদান; আব্দুল আজিজের শাসনামলে হারাইমিলা-র বিচারক।
১৭- শায়খ আব্দুল আজিজ বিন সুওয়াইলাম; আব্দুল আজিজ, তাঁর পুত্র সাউদ এবং আব্দুল্লাহর শাসনামলে আল-কাসিম অঞ্চলের বিচারক।
১৮- হামাদ বিন রাশিদ আল-উওয়াইনি; আব্দুল আজিজের শাসনামলে সাদেয়র-এর বিচারক।
১৯- প্রখ্যাত শায়খ হুসাইন বিন গান্নাম; "রাওদাতুল আফকার ওয়াল আফহাম" গ্রন্থের রচয়িতা। ইবনে বিশর "উনোয়ানুল মাজদ" গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ১৫৬ পৃষ্ঠায় তাঁর সম্পর্কে বলেন: "ইলম ও এর বিভিন্ন শাখায় তাঁর সুদীর্ঘ হাত (অগাধ পাণ্ডিত্য) ছিল এবং কাব্য ও গদ্যে তাঁর বিশেষ বুৎপত্তি ছিল। তিনি বেশ কিছু কিতাব রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: 'আল-ইকদুত থামিন ফি শারহি আহাদিসি উসুলিদ দ্বীন'। ১২২৫ হিজরির মৃত্যুসংবাদে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।"
এরা শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব - রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা - এর নিকট যারা ইলম অর্জন করেছেন, তাদের বিশাল সংখ্যার মধ্য থেকে সামান্য কয়েকজন মাত্র। ইবনে বিশর ইতিপূর্বে আমাদের বর্ণিত বিচারকদের নাম উল্লেখ করার পর ১ম খণ্ড, ১০৪ পৃষ্ঠায় বলেন:
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
"أخذ عنه من القضاة من لا يحضرني الآن عَدُّهُ عدد كثير، وأخذ عنه ممن لم يل القضاء من الرؤساء والأعيان ومن دونهم الغفير" ا. هـ.
"তাঁর নিকট থেকে বিচারকদের মধ্য হতে এক বিশাল সংখ্যক লোক ইলম অর্জন করেছেন যাদের গণনা এই মুহূর্তে আমার পক্ষে সম্ভব নয়, এবং যারা বিচারকের দায়িত্ব পালন করেননি এমন নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের সাধারণ স্তরের এক বিশাল জনসমষ্টিও তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
হায়াতুশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আছারুহু আল-ইলমিয়্যাহ (মাতবুউন দ্বিমনা বুহুছি নাদওয়াতি দা’ওয়াতিশ শাইখি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউয়াল)
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
مصنفات الإمام محمد بن عبد الوهابصنف الإمام محمد بن عبد الوهاب مصنفات كثيرة نافعة منها:
1- كتاب التوحيد فيما يجب من حق الله على العبيد.
2- كتاب الإيمان.
3- أصول الإيمان.
4- فضائل الإسلام.
5- فضائل القرآن.
6- السيرة المختصرة.
7- السيرة المطولة.
8- مختصر الصواعق.
9- مختصر العقل والنقل.
10- مختصر منهاج السنة.
11- مختصر فتح الباري.
12- مختصر الهدي النبوي.
13- مجموع الحديث المرتب على أبواب الفقه.
14- مختصر الشرح الكبير والإنصاف.
15- كشف الشبهات.
16- آداب المشي إلى الصلاة.
17- الاستنباط.
ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাবের রচনাবলিইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব অনেকগুলো উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১- কিতাবুত তাওহীদ (বান্দাদের ওপর আল্লাহর যে অধিকার রয়েছে সেই বিষয়ে তাওহীদের কিতাব)।
২- কিতাবুল ঈমান (ঈমান বিষয়ক গ্রন্থ)।
৩- উসুলুল ঈমান (ঈমানের মূলনীতিসমূহ)।
৪- ফাযায়িলুল ইসলাম (ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বসমূহ)।
৫- ফাযায়িলুল কুরআন (কুরআনের শ্রেষ্ঠত্বসমূহ)।
৬- সংক্ষিপ্ত সীরাত।
৭- বিস্তারিত সীরাত।
৮- মুখতাসারুস সাওয়ায়িক (সাওয়ায়িক গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার)।
৯- মুখতাসারুল আকল ওয়ান নাকল (বিবেক ও দলিলের সংক্ষিপ্তসার)।
১০- মুখতাসারু মিনহাজিস সুন্নাহ (মিনহাজুস সুন্নাহ গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার)।
১১- মুখতাসারু ফাতহুল বারী (ফাতহুল বারী গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার)।
১২- মুখতাসারুল হাদি আন-নাবাউয়ী (নববী নির্দেশনার সংক্ষিপ্তসার)।
১৩- ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত হাদিস সংকলন।
১৪- আশ-শারহুল কাবীর ও আল-ইনসাফ গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার।
১৫- কাশফুশ শুবুহাত (সংশয় নিরসন)।
১৬- সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের আদবসমূহ।
১৭- আল-ইস্তিনবাত (উদ্ঘাটন)।