(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: -)
السبر عند المحدثين القسم: علوم الحديث
الكتاب: السبر عند المحدثين
وأثره في معرفة أنواع علوم الحديث في المتن والإسناد وفي الحكم على الرواة وعلى المرويات
أصل الكتاب: أطروحة دكتوراه من جامعة أم درمان الإسلامية - السودان
المؤلف: د عبد الكريم بن محمد جراد
الناشر: مكتبة دار البيان - دمشق
الطبعة: الثانية، 1439 هـ - 2018 م
عدد الصفحات: 522
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 ربيع الآخر 1444
হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) নিকট পরীক্ষণ বা যাচাই পদ্ধতি (السبر) বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) নিকট পরীক্ষণ বা যাচাই পদ্ধতি (السبر)
এবং হাদিসের মূলপাঠ (المتن) ও সনদ (الإسناد) সংক্রান্ত হাদিস শাস্ত্রের প্রকারসমূহ অনুধাবনে এবং বর্ণনাকারী (الرواة) ও বর্ণিত বিষয়সমূহের (المرويات) ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে এর প্রভাব
বইটির মূল উৎস: ওমদুরমান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি - সুদান থেকে প্রাপ্ত পিএইচডি থিসিস
লেখক: ড. আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মদ জাররাদ
প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল বায়ান - দামেস্ক
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ৪)
الإهداء إلى معلمتي الأولى، المربية الفاضلة
والدتي الكريمة
أقدِّمُ لكِ هذَا العملَ - وهوَ
فيضُ {يس} التيْ تلوتِهَا حينَمَا كنتُ جنينَاً طيَّ الحشَا
وفيءُ «مجالسِ الذكرِ» التيْ أوردتِنِيْهَا صغيراً يَفِعَ الصِّبَا
ودعاؤُكِ المبرورُ ليْ عندَ اشتدادِ العُوْدِ أنفسُ ماْ يُجتنَىْ
ورضاؤُكِ المِدوامُ فيْ عنقيْ دَيْنٌ وكلتُ الكريمَ لهُ وفَا
وهذهِ نسماتُ وُدٍّ بهنَّ مُستجْدٍ وفرَ الدُّعاءِ ومذخورَ الرِّضَاْ
سائلاً مولىْ النعمِ المتواليةْ، بصدقِ دعائيْ وحسنِ رجائِيهْ،
أنْ ينسأَ فيْ عُمركِ سنيَّاً باقيةْ، يجللَكِ فيهنَّ لَبُوسَ العافيةْ،
ويُقْرِيْكِ بهنَّ النِّعمَ الوافيةْ
ويختمَ بالحسنىْ المآلَ فيْ غرفِ الجنانِ العاليةْ
ولدك المحب
উৎসর্গ আমার প্রথম শিক্ষিকা, মহীয়সী প্রতিপালিকা,
আমার সম্মানিত আম্মাজানের প্রতি।
আমি আপনার খেদমতে এই কর্মটি পেশ করছি - যা হলো
সূরা ইয়াসিন-এর সেই বরকতের ধারা যা আপনি তিলাওয়াত করতেন যখন আমি মাতৃগর্ভে ভ্রূণ হিসেবে ছিলাম,
এবং সেই ‘জিকিরের মজলিস’-এর ছায়া যেখানে আপনি আমাকে শৈশবে নিয়ে যেতেন,
এবং আমার যৌবনে পদার্পণের সময় আমার প্রতি আপনার কবুল হওয়া দুআসমূহ, যা অর্জিত শ্রেষ্ঠতম সম্পদ,
এবং আপনার নিরন্তর সন্তুষ্টি আমার ঘাড়ে এমন এক ঋণ যার পরিশোধের দায়িত্ব আমি মহান করুণাময়ের ওপর অর্পণ করেছি,
আর এগুলো হলো ভালোবাসার কিছু স্নিগ্ধ বাতাস, যার মাধ্যমে আমি প্রচুর দুআ এবং সঞ্চিত সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা করছি,
আমি অজস্র নিয়ামতের মালিকের নিকট আমার অন্তরের আকুতি ও সুদৃঢ় আশার সাথে প্রার্থনা করছি,
তিনি যেন আপনার হায়াতে বরকত দান করেন এবং অবশিষ্ট বছরগুলোতে আপনাকে সুস্থতার পোশাকে আবৃত রাখেন,
এবং আপনাকে পূর্ণ নিয়ামতে সিক্ত করেন
আর জান্নাতুল ফিরদাউসের সুউচ্চ কামরায় সর্বোত্তম পরিণতির মাধ্যমে জীবনের সমাপ্তি দান করেন।
আপনার স্নেহভাজন পুত্র
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الثانيةالحمدُ للهِ الذي أنزلَ على عبدِهِ الكتابَ ولم يجعلْ لهُ عوجاً، وأحكمَ آياتِهِ ففصَّلَهَا براهينَ قطعَ بهَا الحججَا، والصلاةُ والسَّلامُ على من تركنَا على المحجَّةِ البيضاءِ فحكمناهُ فينَا ولم نجدْ في أنفسنَا حرجاً، وعلى آلِهِ وصحبِهِ ومَنْ على منوالِهِ نسجَاً، وبعدُ:
فهذِهِ هيَ الطبعةُ الثَّانيةُ مِنْ كتابِ «السَّبرُ عندَ المحدثينَ»، والذيْ قدَّمَ تأصيلًا علميًّا منهجيًّا لمسألةِ السَّبرِ على قواعدِ المحدِّثينَ في المتنِ والإسنادِ، وفي الحكمِ على الرِّجالِ وعلى المرويَّاتِ، أضعُهُ بينَ يديْ أهلِ العلمِ وطلبتِهِ، راجيًا منَ اللهِ أنْ يجعلَهُ مِنَ العلمِ الذي يُنتفَعُ بِهِ ولَا ينقطعُ، فقدْ أخرجَ الإمامُ مسلمٌ مِنْ حديثِ أبي هريرةَ رضي الله عنه، قالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إذَا ماتَ الإنسانُ انقطعَ عملُهُ إلَّا مِنْ ثلاثٍ: صدقةٍ جاريةٍ، أو علمٍ يُنتفَعُ بِهِ، أو ولدٍ صالحٍ يدعُو لَهُ». كمَا أسألُهُ سبحانه وتعالى أنْ يرزقنيْ حسنَ القصدِ والإخلاصِ، وأنْ يكتبَ لهُ القبولَ، فمَا كانَ للهِ بقي، وما كانَ لغيرِهِ فني، وإنَّني أبرأُ إلى اللهِ من حولِي وقوَّتِي وعلمِي ومعرفتِي، وألجأُ إلى حولِهِ وقوَّتِهِ وعملِهِ ومعرفتِهِ جل جلاله.
ولعلَّهُ مِنَ التَّحدُّثِ بنعمِ اللهِ جل جلاله أنْ أذكرَ ما تناهَى إلى سمعِي مِنْ إشاداتِ بعضِ الفضلاءِ مِنَ العلماءِ، وكذلكَ مَنْ راسلتُهُم وعرضتُّ عليهِم طرفًا مِنَ الكتابِ
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি; আর তিনি এর আয়াতসমূহকে সুসংহত করেছেন, অতঃপর সেগুলোকে এমন অকাট্য দলীল হিসেবে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন যার মাধ্যমে সকল ওজর-আপত্তি ছিন্ন হয়ে যায়। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যিনি আমাদের এক উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট পথের ওপর রেখে গেছেন; ফলে আমরা তাঁকে আমাদের মাঝে বিচারক হিসেবে মেনে নিয়েছি এবং এ ব্যাপারে নিজেদের অন্তরে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব করিনি। আর তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথি এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণকারীদের ওপরও (সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)। অতঃপর:
এটি হলো ‘আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসিন’ নামক কিতাবের দ্বিতীয় সংস্করণ, যা মূল পাঠ (متن) ও সনদ (إسناد)-এর ক্ষেত্রে এবং বর্ণনাকারী (رجال) ও বর্ণিত বিষয়সমূহের (مرويات) ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের মূলনীতির আলোকে যাচাই-বাছাই (السبر) পদ্ধতির একটি ইলমি ও পদ্ধতিগত ভিত্তি প্রদান করেছে। এটি আমি আলেম সমাজ ও তালিবে ইলমদের খেদমতে পেশ করছি; আল্লাহর কাছে আশা করছি যে, তিনি যেন একে এমন উপকারী ইলম হিসেবে কবুল করেন যার সাওয়াব কখনো বন্ধ হয় না। কেননা ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস সংকলন করেছেন, যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়; তবে তিনটি আমল ব্যতীত: সদকায়ে জারিয়া, বা এমন ইলম যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় অথবা এমন সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’ পাশাপাশি আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে উত্তম উদ্দেশ্য ও ইখলাস দান করেন এবং একে কবুল করে নেন; কারণ যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয় তা-ই টিকে থাকে, আর যা অন্য কিছুর জন্য হয় তা বিলীন হয়ে যায়। আমি আল্লাহর কাছে নিজের শক্তি-সামর্থ্য এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অহমিকা থেকে পানাহ চাচ্ছি এবং তাঁরই অসীম ক্ষমতা, শক্তি ও ইলমের আশ্রয় গ্রহণ করছি।
আল্লাহর নেয়ামত বর্ণনার অংশ হিসেবে সম্ভবত আমি সেই সব প্রশংসার কথা উল্লেখ করতে পারি যা কিছু বিদগ্ধ আলেমের পক্ষ থেকে আমার কানে পৌঁছেছে, অথবা যাঁদের নিকট আমি পত্রালাপ করেছিলাম এবং বইটির কিছু অংশ উপস্থাপন করেছিলাম।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
ممَّنْ لهمْ سَبْقُ فضلٍ وحُسْنُ تأليفٍ وتصنيفٍ، مِنْ هؤلاءِ فضيلةُ الأستاذ الدُّكتور حمزة المليباري، المدرِّسُ في كليَّةِ الدِّراساتِ الإسلاميَّةِ بدبي، ورئيسُ اللجنةِ التَّحضيريَّةِ لمؤتمراتِ النَّدوةِ الدُّوليَّةِ للحديثِ الشَّريفِ - حفظَهُ اللهُ وأطالَ عمُرَهُ - فقد أرسلتُ إليهِ طَرَفاً مِنَ الكتابِ - مُسَلِّمًا عليه - راجياً نصحَهُ ومشورتَهُ، فردَّ عليَّ بقولِهِ: «وعليكمُ السَّلامُ ورحمةُ اللهِ وبركاتُهُ، وبعد: فأنَا شاكرٌ لكُمْ هذَا الاتصالَ، وقرأتُ المبحثَ المتعلِّقَ بالسَّبرِ ووجدتُّهُ جيِّداً وكانَ كلامُكَ دقيقاً وممتازاً
… وهنيئاً لكَ، أُحِبُّ أنْ أتعرَّفَ عليكَ، وأخيراً أدعُو اللهَ تعالَى أنْ يُوفِّقنِي وإياكُم لخدمةِ دينِهِ الحنيفِ ومصادِرِهِ، خدمةً تليقُ بمكانتهِمَا إيماناً واحتساباً».
وكذلكَ فضيلةُ الدُّكتور ماهر الفحل شيخُ دارِ الحديثِ العراقيَّة - حفظَهُ اللهُ وأمتعَ بِهِ - فردَّ عليَّ قائلاً: «وعليكمُ السَّلامُ ورحمةُ اللهِ وبركاتُهُ: اطَّلعتُ على البحثِ، وهوَ بحثٌ ممتازٌ، ووجدتُكَ قد استوعبتَ المصادرَ الجديدةَ، فجزاكَ اللهُ خيرَ الجزاءِ
… أسألُ اللهَ أن يوفِّقَكَ ويفتحَ عليكَ ويزيدكَ من فضلِهِ. والسَّلامُ عليكُم ورحمةُ اللهِ وبركاتُهُ».
وإِنَّنِي على يقينٍ أنَّهُ ما مِنْ كتابٍ خلَا كتابَ اللهِ سبحانه وتعالى إلَّا ويعتريهِ الخطأُ ويعتورُهُ النَّقصُ، قالَ البُويطيُّ: سمعتُ الشَّافعيَّ، يقولُ: «قدْ ألَّفتُ هذِهِ الكتبَ، ولم آلُ فيهَا، ولَا بُدَّ أن يوجدَ فيهَا الخطأُ، لأنَّ اللهَ سبحانه وتعالى يقولُ: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} [النساء: 82]، فمَا وجدتُّم في كُتُبِي هذهِ ممَّا يُخالفُ الكتابَ والسُّنَّةَ، فقدْ رجعنَا عنهُ».
যাদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং রচনা ও সংকলনে বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন দুবাইয়ের ইসলামিক স্টাডিজ কলেজের শিক্ষক এবং হাদিসে শরিফের আন্তর্জাতিক সেমিনারসমূহের প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি ডক্টর হামজা আল-মালিবারি — আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন এবং দীর্ঘজীবী করুন। আমি তাঁকে সালাম জানিয়ে এই গ্রন্থের একটি অংশ পাঠিয়েছিলাম এবং তাঁর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করেছিলাম। তিনি উত্তরে আমাকে লিখেছিলেন: «ওয়ালাইকুম আস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। অতঃপর, আমি আপনার এই যোগাযোগের জন্য কৃতজ্ঞ। আমি তুলনামূলক যাচাই-বাছাই (السبر) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদটি পড়েছি এবং একে অত্যন্ত মানসম্মত পেয়েছি। আপনার উপস্থাপনা ছিল নিখুঁত ও চমৎকার
… আপনাকে অভিনন্দন। আমি আপনার সাথে পরিচিত হতে আগ্রহী। সবশেষে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে এবং আপনাকে তাঁর দ্বীন এবং এর উৎসসমূহের এমন খেদমত করার তাওফিক দেন, যা ঈমান ও সওয়াবের প্রত্যাশায় সেগুলোর সুউচ্চ মর্যাদার জন্য উপযুক্ত হয়»।
অনুরূপভাবে ইরাকি দারুল হাদিসের শাইখ ডক্টর মাহের আল-ফাহল — আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন এবং তাঁর দ্বারা উম্মাহকে উপকৃত করুন — আমাকে জবাবে বলেছেন: «ওয়ালাইকুম আস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু: আমি গবেষণাটি পর্যবেক্ষণ করেছি, এটি একটি চমৎকার গবেষণা। আমি দেখেছি আপনি নতুন উৎসসমূহ পূর্ণাঙ্গরূপে আয়ত্ত করেছেন। আল্লাহ আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন
… আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আপনাকে তাওফিক দান করেন, আপনার জন্য জ্ঞানের দ্বার উন্মুক্ত করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেন। ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু»।
আর আমি এ বিষয়ে সুনিশ্চিত যে, মহান আল্লাহর কিতাব ব্যতীত এমন কোনো কিতাব নেই যা ভুল-ভ্রান্তি ও সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত। বুয়াইতি (রাহ.) বলেন: আমি শাফেয়ী (রাহ.)-কে বলতে শুনেছি: «আমি এই কিতাবগুলো সংকলন করেছি এবং এতে কোনো ত্রুটি না রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তবুও এতে ভুল থাকা অনিবার্য। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ দেখতে পেত} [আন-নিসা: ৮২]। অতএব, আমার এই কিতাবগুলোতে আপনারা যা কিছু কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী পাবেন, আমি তা থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম»।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
ولذَا فإنَّني أهيبُ بالنَّاصحينَ مِنَ العلماءِ وطلبةِ العلمِ، أنْ يُسْدُوا إليَّ النَّصيحةَ، ويُسدِّدُوا ما وجدوهُ من خطأٍ، انتفعُ بتصويبِهِم، وأهتديْ بإرشادِهِم، وأغتبطُ لانتفاعِهِم، وقدْ أدرجتُ بريديَ الالكترونيِّ أسفلَهُ لمنْ أرادَ مراسلتِيْ وإسداءَ النُّصحِ ليْ شاكراً لهُ وداعياً.
اللهمَّ إنْ كانَ توفيقٌ فمنكَ وحدكَ، فلكَ الحمدُ والمنَّةُ، وإنْ كانَ تقصيرٌ فمنِّي، فاعفُ عنِّي برحمتكِ يا أرحمَ الرَّاحمينَ.
وآخرُ دعوانَا أنِ الحمدُ للهِ ربِّ العالمينَ
وكتبه: د. عبد الكريم محمد جراد
Dr.abdulkrim.jrad@gmail.com
অতএব, আমি আলেম এবং ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে যারা কল্যাণকামী, তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই যে, তারা যেন আমাকে সুপরামর্শ প্রদান করেন এবং আমার কোনো ভুল পরিলক্ষিত হলে তা সংশোধন করে দেন। আমি তাদের সংশোধনের মাধ্যমে উপকৃত হব, তাদের নির্দেশনার আলোকে সঠিক পথ প্রাপ্ত হব এবং তাদের উপকারে আনন্দিত হব। যারা আমার সাথে যোগাযোগ করতে এবং আমাকে নসিহত করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য আমি নিচে আমার ইমেইল ঠিকানা সংযুক্ত করেছি; আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তাদের জন্য দোয়া করছি।
হে আল্লাহ, যদি কোনো সাফল্য অর্জিত হয়ে থাকে তবে তা একমাত্র আপনারই পক্ষ থেকে, সুতরাং সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আপনারই প্রাপ্য। আর যদি কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে তবে তা আমার পক্ষ থেকে, অতএব হে পরম দয়ালু, আপনার রহমতে আমাকে ক্ষমা করুন।
আমাদের সর্বশেষ কথা হলো—সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ইতি: ড. আব্দুল কারীম মুহাম্মদ জরাদ
Dr.abdulkrim.jrad@gmail.com
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة الطبعة الأولىالحمدُ للهِ الذي أرسلَ نبيَّهُ المصطفى صلى الله عليه وسلم بكتابٍ بيِّنٍ كالشَّمسِ وضُحاهَا، وبسنَّةٍ نيِّرَةٍ كالقمرِ إذَا تلاهَا، فمنْ سارَ على نهجِهِمَا سارَ في ضوءِ النَّهارِ إذَا جلَّاهَا، ومنْ أعرضَ عنهُمَا جالَ في ظلمةِ اللَّيلِ إذَا يغشاهَا، وبعدُ:
حفظَ اللهُ سبحانه وتعالى القرآنَ الكريمَ، فقيَّضَ لهُ حملةً صرفُوا في حفظِهِ أوقاتَهُمْ، وبذلُوا في كَتْبِهِ أعمارَهُمْ، وأدامُوا تلاوتَهُ آناءَ اللَّيلِ وأطرافَ النَّهارِ، وأقامُوا هديَهُ في البلدانِ والأمصارِ، فنالُوا شرفَ الأهليَّةِ، ومنزلةَ الخصوصيَّةِ، معَ السَّفرةِ الكرامِ البررةِ.
وحفظَ السُّنَّةَ المطهَّرةَ، فهيَّأَ لهَا رجالاً مَلَؤُوا بهَا الصُّدورَ، ودوَّنُوهَا في السُّطورِ، وقطعُوا في سبيلِهَا الفيافيَ والقفارَ، وسنُّوا لأجلِهَا الرِّحلةَ في الأقطارِ والأمصارِ، فحازُوا شرفَ الصُّحبةِ بصحبتِهِمْ لأنفاسِهِ صلى الله عليه وسلم، وعلوَّ النِّسبةِ بلحظِهِمْ لآثارِهِ، وقدْ صدقَ القائلُ:
أَهْلُ الحَدِيثِ هُمُ أَهْلُ النَّبِيِّ وَإِنْ
… لَمْ يَصْحَبُوا نَفْسَهُ أَنْفَاسَهُ صَحِبُوا
ولمَّا كانتِ السُّنَّةُ المطهَّرةُ المصدرَ الثَّانيَ منْ مصادِرِ التَّشريعِ الإسلاميِّ، تستقلُّ بتشريعِ الأحكامِ، وتُفصِّلُ ما جاءَ في القرآنِ، تُبيِّنُ مجملَهُ، وتُخصِّصُ عامَّهُ، وتُقيِّدُ مُطلقَهُ،
প্রথম সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সূর্যের উজ্জ্বলতার ন্যায় সুস্পষ্ট কিতাব এবং চন্দ্রের জ্যোতির ন্যায় জ্যোতির্ময় সুন্নাহসহ প্রেরণ করেছেন; যে ব্যক্তি এই দুটির পথ অনুসরণ করবে, সে দিবালোকের ন্যায় উজ্জ্বল পথে বিচরণ করবে যা তাকে স্পষ্ট পথ দেখায়, আর যে তা থেকে বিমুখ হবে, সে রাতের অন্ধকারের ন্যায় বিভ্রান্তিতে আচ্ছন্ন হবে। অতপর:
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনকে সংরক্ষণ করেছেন। আর এর জন্য তিনি এমন একদল বাহক (সংরক্ষক) নিযুক্ত করেছেন, যাঁরা এর সংরক্ষণে নিজেদের সময় ব্যয় করেছেন, এটি লিপিবদ্ধ করতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, দিন-রাতের প্রহরে প্রহরে নিরন্তর এটি তিলাওয়াত করেছেন এবং বিভিন্ন জনপদ ও নগরীতে কুরআনের হেদায়েত প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফলে তাঁরা সম্মানিত ও পুণ্যবান ফিরিশতাদের সাথে বিশেষ মর্যাদা ও যোগ্যতার সম্মান অর্জন করেছেন।
তিনি পবিত্র সুন্নাহকেও সংরক্ষণ করেছেন এবং এর জন্য এমন কিছু মহামনীষীকে প্রস্তুত করেছেন, যাঁরা নিজেদের অন্তরসমূহকে সুন্নাহর জ্ঞানে পূর্ণ করেছেন এবং তা পাতায় পাতায় লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁরা সুন্নাহর সন্ধানে মরু-প্রান্তর ও বিজন ভূমি পাড়ি দিয়েছেন এবং এর জন্য দেশ-দেশান্তরে জ্ঞানার্জনের সফরের (الرحلة) রীতি প্রবর্তন করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর সাহচর্যের ফলে তাঁরই সান্নিধ্যের মর্যাদা এবং তাঁর রেখে যাওয়া ঐতিহ্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টির মাধ্যমে উচ্চতর সম্পর্ক লাভ করেছেন। জনৈক কবি যথার্থই বলেছেন:
আহলে হাদিসগণই হলেন নবীর প্রকৃত আপনজন, যদিও তাঁরা সশরীরে তাঁর সাহচর্য পাননি, তবে তাঁর বাণীর সাহচর্য লাভ করেছেন।
যেহেতু পবিত্র সুন্নাহ ইসলামি বিধান প্রণয়নের (التشريع) দ্বিতীয় উৎস, যা স্বতন্ত্রভাবে বিধান প্রদান করে এবং কুরআনে অবতীর্ণ বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে; এটি কুরআনের সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের ব্যাখ্যা দেয়, সাধারণ (عام) বিধানকে বিশেষায়িত (تخصيص) করে এবং শর্তহীন (مطلق) বিধানকে শর্তযুক্ত (تقييد) করে,
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
وَتُوضِّحُ مُشكِلَهُ، وجبَ تمييزُ صحيحِهَا منْ سقيمِهَا، ومنقولِهَا منْ مُتَقَوَّلِهَا، ومقبولِهَا منْ منحولِهَا.
ولأجلِ هذَا فقدِ انبرى أجلَّةٌ مِنَ العلماءِ الرَّاسخينَ، الصَّيارفةِ النَّاقدينَ، ينفونَ عَنِ السُّنَّةِ تحريفَ الغالينَ، وانتحالَ المبطلينَ، وتأويلَ الجاهلينَ، فحرَّرُوا وحقَّقُوا، واجتهدُوا في نخلِ الأصولِ، وحفظِ المنقولِ، فاستنبطُوا ووضعُوا القواعدَ التي تحكمُ روايةَ الحديثِ، وتُحاكمُ رُوَاتَهُ، فنشأَتْ علومُ الحديثِ، أصولُهُ ومصطلحُهُ وعِلَلُهُ، والجرحُ والتَّعديلُ، فكانَ كلُّ علمٍ منْ هذِهِ العلومِ أُسَّاً تُبْنَى عليهِ معرفةُ الحديثِ الشَّريفِ روايةً ودرايةً، وأصلاً يُتوصَّلُ مِنْ خلالِهِ إلى الحكمِ على الحديثِ صحَّةً أو ضعفَاً.
ومنْ أدقِّ قواعدِ علمِ الحديثِ مسلكَاً، وأعمقِهَا غورَاً، وأكثرِهَا تطبيقَاً، وأعظمِهَا أثرَاً: قاعدةُ السَّبرِ عندَ المحدِّثينَ، فهيَ العمودُ الفقريُّ الذي عليهِ مدارُ علمِ الحديثِ في التَّصحيحِ والتَّضعيفِ، والجرحِ والتَّعديلِ، وذلكَ لأنَّ كشفَ العللِ، وإبرازَ الفوائدِ، والحكمَ على ضبطِ الرِّجالِ ومرويَّاتِهِمْ إنَّمَا يرتكزُ على جمعِ طُرُقِ الحديثِ والموازنَةِ بينَهَا، كمَا إنَّهُ السَّبيلُ لاستيضاحِ أوجُهِ الاتِّفاقِ والاختلافِ، واستبيانِ الزَّائدِ والنَّاقصِ في المتنِ والإسنادِ.
وقدْ يُعتمدُ السَّبرُ استقلالَاً في الكشفِ عنِ العلَّةِ أو إبرازِ الفائدةِ - وذلكَ في الأعمِّ الأغلبِ -، وقدْ يكونُ قرينةً مُقوِّيةً للطُّرقِ الأُخرى في معرفةِ أنواعِ علومِ الحديثِ، وقدْ يُغفلُ ويُهملَ في بعضِ الأنواعِ لعدمِ الحاجةِ إليهِ، ولغناءِ الطُّرقِ الأخرى عنهُ،
এবং এর অস্পষ্ট বিষয়সমূহকে স্পষ্ট করে; তাই এর বিশুদ্ধ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) বর্ণনাগুলোর মধ্যে, এবং যা নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত (منقول) তা থেকে যা মনগড়া (متقول) তার মধ্যে, এবং গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনা থেকে বানোয়াট (منحول) বর্ণনাকে পৃথক করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
এ কারণেই একদল প্রথিতযশা গভীর জ্ঞানের অধিকারী আলেম এবং বিশেষজ্ঞ সমালোচক এগিয়ে এসেছেন। তারা সুন্নাহ থেকে অতিরঞ্জনকারীদের বিকৃতি (تحريف), বাতিলপন্থীদের অপবাদ (انتحال) এবং অজ্ঞদের অপব্যাখ্যা (تأويل) দূর করেন। তারা মূলনীতিসমূহকে পরিশুদ্ধ ও যাচাই-বাছাই করেছেন এবং মূল উৎসগুলোর বিন্যাস ও বর্ণিত (منقول) বিষয়াবলি সংরক্ষণে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তারা এমন সব নিয়মনীতি উদ্ভাবন ও প্রতিষ্ঠা করেছেন যা হাদিসের বর্ণনা (رواية) পদ্ধতিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং এর বর্ণনাকারীদের (رواة) বিচার-বিশ্লেষণ করে। এর ফলে হাদিস বিজ্ঞান, এর মূলনীতি (أصول), পরিভাষা (مصطلح), সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل) এবং জরাহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের উদ্ভব ঘটে। এই শাস্ত্রগুলোর প্রতিটি ছিল এমন এক ভিত্তি যার ওপর হাদিস শাস্ত্রের বর্ণনাগত (رواية) ও অর্থগত (دراية) জ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং এটি এমন একটি মূল পদ্ধতি যার মাধ্যমে হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) বা দুর্বলতা (ضعف) সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।
হাদিস বিজ্ঞানের অত্যন্ত সূক্ষ্ম, গভীর, বহুল প্রয়োগকৃত এবং সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী নিয়মগুলোর মধ্যে একটি হলো মুহাদ্দিসগণের নিকট 'পর্যবেক্ষণ ও যাচাই' (السبر) পদ্ধতি। এটিই হাদিস বিজ্ঞানের মেরুদণ্ড, যার ওপর হাদিসকে সহিহ সাব্যস্ত করা (تصحيح) ও জয়িফ সাব্যস্ত করা (تضعيف) এবং জরাহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) প্রক্রিয়া আবর্তিত হয়। কারণ, সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل) উন্মোচন করা, এর থেকে প্রাপ্ত বিশেষ বৈশিষ্ঠ্যসমূহ (فوائد) প্রকাশ করা এবং বর্ণনাকারীদের মুখস্থ রাখার সক্ষমতা (ضبط) ও তাদের বর্ণিত বিষয়াবলির ওপর হুকুম প্রদান করা মূলত হাদিসের বিভিন্ন সূত্র (طرق) সংগ্রহ এবং সেগুলোর মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি, এটিই হলো বর্ণনার ঐক্য ও পার্থক্যের দিকগুলো স্পষ্ট করার এবং মূল পাঠ (متن) ও বর্ণনাসূত্রে (إسناد) কোনো অংশ বৃদ্ধি বা হ্রাস পেয়েছে কি না তা যাচাই করার পথ।
কখনো কখনো সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) উদঘাটন বা বিশেষ তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে এই পর্যবেক্ষণ (السبر) পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা হয়—যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। আবার কখনো কখনো এটি হাদিস বিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রকারভেদ জানার ক্ষেত্রে অন্যান্য পদ্ধতির জন্য একটি শক্তিশালী সহায়ক প্রমাণ (قرينة) হিসেবে কাজ করে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন না থাকায় বা অন্যান্য পদ্ধতিই যথেষ্ট হওয়ায় এটি গুরুত্বহীন বিবেচিত বা বর্জন করা হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقدْ تكونُ دلالةُ السَّبرِ في معرفةِ ذلكَ دلالةً قطعيَّةً، وقدْ تكونُ ظنيَّةً لا بُدَّ لهَا مِنْ عواضدَ تدعمُهَا وتُقوِّيهَا.
كمَا قدْ يكونُ السَّبرُ عاملَاً في إدراكِ ومعرفةِ أنواعِ علومِ الحديثِ، أو عاملَاً في إدراكِ ضِدِّهِا، فيأتي دلالَةً على التَّفرُّدِ بنفيِ المتابعِ والشَّاهدِ، أو يكونُ عاملَاً في نفيِ التَّفرُّدِ بالوقوفِ مِنْ طريقِهِ على المتابِعِ أو الشَّاهدِ، وكذلكَ في معرفةِ الإدراجِ في الحديثِ أو نفيِهِ
…* * *
وهذِهِ الأهميَّةُ البالغةُ لمسألةِ السَّبرِ عندَ المُحدِّثينَ، كانتِ السَّببَ الرئيسَ في اختيارِي لهذَا الموضوعِ والكتابةِ فيهِ، حيثُ لمْ يُفرَدْ بالبحثِ والتَّصنيفِ، ولمْ يُكتبْ فيهِ إلَّا بعضُ المباحثِ القليلةِ التي أُلقيتْ في النَّدواتِ، وبعضُ الفصولِ المتفرِّقةِ المُبعثرةِ في بطونِ الكتبِ والأمَّهاتِ، منهَا ما هوَ نظريٌّ يحتاجُ إلى التَّمثيلِ والتَّطبيقِ، ومنهَا ما هوَ عمليٌّ يحتاجُ إلى الاستقراءِ والتقعيدِ فجمعتُ المتفرِّقَ، واستقرأتُ المُطبَّقَ.
وثمَّةَ سببٌ آخرُ، وهوَ أنَّ الطريقةَ العلميَّةَ العمليَّةَ والتَّطبيقيَّةَ للتَّوصُّلِ إلى النَّتائجِ والقواعدِ والنَّظريَّاتِ، هيَ الطَّريقةُ الأنجعُ والأقومُ في إدراكِ العلومِ التي تعتمدُ النَّاحيةَ التَّطبيقيَّةَ أكثرَ مِنَ النَّظريَّةِ، وعلمُ الحديثِ درايةً علمٌ قِوامُهُ العملُ والتَّطبيقُ، وهيئةُ التَّوصُّلِ إليهِ منْ خلالِ السَّبرِ هيَ الطَّريقةُ العلميَّةُ العمليَّةُ التي انتهجَهَا الأئمَّةُ المحدِّثونَ، لاستخراجِ عللِ الحديثِ وإبرازِ فوائدِهِ، فهيَ السَّبيلُ المختصرُ الذي يَفيدُ الباحثُ منهُ في دراسةِ الأسانيدِ والمتونِ.
কখনও কখনও এটি নির্ণয় করার ক্ষেত্রে সিবর বা সূক্ষ্ম যাচাইয়ের (السبর) প্রমাণ সুনিশ্চিত (قطعية) হতে পারে, আবার কখনও তা অনুমানমূলক (ظنية) হতে পারে যার জন্য এমন সহায়ক প্রমাণের প্রয়োজন হয় যা তাকে সমর্থন ও শক্তিশালী করবে।
যেমন সিবর (السبর) হাদিস বিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রকারভেদ অনুধাবন ও জানার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে, অথবা এর বিপরীত বিষয়গুলো অনুধাবনে সহায়ক হতে পারে। এটি মুতাবি (المتابع) ও শাহিদ (الشاهد) এর অনুপস্থিতি প্রমাণের মাধ্যমে কোনো বর্ণনার এককত্ব (التفرد) নিশ্চিত করতে পারে, অথবা মুতাবি (المتابع) কিংবা শাহিদ (الشاهد) খুঁজে পাওয়ার মাধ্যমে এককত্ব (التفرد) নাকচ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে হাদিসের মধ্যে অনুপ্রবেশ বা সংযুক্তি (الإدراج) চেনার ক্ষেত্রে বা তা নাকচ করার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর
…* * *
মুহাদ্দিসগণের নিকট সিবর (السبর) বিষয়ের এই অত্যন্ত গুরুত্বই ছিল আমার এই বিষয়টি নির্বাচন করার এবং এতে লেখার প্রধান কারণ। কেননা ইতিপূর্বে এর ওপর স্বতন্ত্র কোনো গবেষণা বা গ্রন্থ রচনা করা হয়নি। এই বিষয়ে কেবল সেমিনারগুলোতে উপস্থাপিত কিছু সামান্য প্রবন্ধ এবং মূল উৎসগ্রন্থগুলোর ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু বিচ্ছিন্ন পরিচ্ছেদ ছাড়া আর কিছুই লেখা হয়নি। এর মধ্যে কিছু আলোচনা তাত্ত্বিক (نظري) যা উদাহরণ ও প্রয়োগের মুখাপেক্ষী, আর কিছু আলোচনা প্রায়োগিক (عملي) যা নিবিড় অনুসন্ধান ও মূলনীতি নির্ধারণের মুখাপেক্ষী। ফলে আমি এই বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছি এবং প্রয়োগিক দিকগুলো নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করেছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
وتصانيفُ الأئمَّةِ في علومِ الحديثِ ومصطلحِهِ وتقعيدُهُمْ لنظريَّاتِهِ إنَّمَا جاءتْ بناءً على صنيعِ المحدِّثينَ في مُصنَّفاتِهِمْ، وعلمُ مصطلحِ الحديثِ مِنَ الأهميَّةِ بحيثُ لا تُجهَلُ قيمَتُهُ، ولا يُغفلُ نفعُهُ، لكنَّهُ نتائجُ نظريةٌ لا بُدَّ لطالبِ العلمِ منْ معرفَتِهَا، إلَّا أنَّهَا لا تُبلورُ طالبَ علمٍ مُحدِّثٍ مُحقِّقٍ، يمتلكُ المكنةَ في التَّصحيحِ والتَّضعيفِ، والملكةَ في دراسةِ الأسانيدِ ومَخْرِ عُبابِ المتونِ، وعلى مثلِ هذَا أيضَاً كُتُبُ طرائقِ التَّخريجِ التي عنيَتْ باستخراجِ الحديثِ وإظهارِهِ منْ بطونِ الكتبِ والأمَّهاتِ، إلَّا أنَّهَا أغفلتِ الطَّريقةَ العلميَّةَ العمليَّةَ في دراسةِ الحديثِ والحكمِ عليهِ صحَّةً أو ضعفَاً، ولذَا ينبغي أنْ تكونَ الطَّريقةُ العمليَّةُ المبنيَّةُ على السَّبرِ وجمعِ الطُّرُقِ السَّبيلَ الذي ينتهجُهُ طالبُ الحديثِ في دراسةِ هذَا العلمِ وتأصيلِهِ.
* * *
وقدَّمَ هذَا الكتابُ تأصيلَاً علميَّاً منهجيَّاً لمسألةِ السَّبرِ على قواعدِ المحدِّثينَ في المتنِ والإسنادِ، وفي الحكمِ على الرِّجالِ وعلى المرويَّاتِ، جهدتُ في أنْ يكونَ شاملاً لكلِّ ما يتعلَّقُ بمسألةِ السَّبرِ عند المحدثين، لا يندُّ عنْهُ إلَّا ما لا أهميَّةَ في إدراجِهِ، وما لا حاجةَ إليهِ.
اتَّبعتُ فيهِ منهجي الجمعِ والاستقراءِ:
جمعِ المتفرِّقِ مِنْ أقوالِ المحدِّثينَ مِنَ المتقدِّمينَ والمتأخِّرينَ والمعاصرينَ، والتأليفِ بينهَا، واستصدارِ النَّتائجِ منْ خلالِهَا.
واستقراءِ صنيعِهِمْ في المصنَّفاتِ الحديثيَّةِ، ومناهجِهِمْ فيمَا أفردوهُ مِنَ المصنَّفاتِ المختصَّةِ بكلِّ نوعٍ منْ أنواعِ علومِ الحديثِ، وقدْ برزَ ذلكَ جليَّاً في فصولِ ومباحثِ
হাদিস বিজ্ঞান এবং এর পরিভাষা (اصطلاح) বিষয়ে ইমামদের রচনাবলি এবং এর তত্ত্বসমূহের নিয়মনীতি প্রণয়ন মূলত মুহাদ্দিসগণের কিতাবসমূহে তাঁদের কর্মপদ্ধতির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (اصطلاح الحديث) বিজ্ঞানের গুরুত্ব এমন যে, এর মূল্য সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকা বা এর উপকারিতা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তবে এগুলো হলো তাত্ত্বিক ফলাফল যা একজন তালিবে ইলমের জানা আবশ্যক; কিন্তু এগুলো একজন তালিবে ইলমকে এমন অভিজ্ঞ ও গবেষক মুহাদ্দিস হিসেবে গড়ে তোলে না, যার সহিহায়ন (تصحيح) ও জয়িফায়ন (تضعيف) করার সামর্থ্য থাকে, কিংবা সনদসমূহ (أسانيد) পর্যালোচনা এবং মতনসমূহের (متون) গভীরতা অনুধাবনের বিশেষ যোগ্যতা অর্জিত হয়। অনুরূপভাবে তাখরিজ (تخريج)-এর নিয়মাবলি সংক্রান্ত কিতাবসমূহের অবস্থাও একই, যা মূলত মূল উৎসগ্রন্থসমূহ থেকে হাদিস খুঁজে বের করা এবং তা উপস্থাপন করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। তবে এগুলো হাদিস পর্যালোচনা এবং এর সহিহ (صحة) কিংবা জয়িফ (ضعف) হওয়ার হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও প্রায়োগিক পদ্ধতির বিষয়টি উপেক্ষা করেছে। তাই সাবর (سبر) এবং সকল সূত্র একত্রিত করার ওপর ভিত্তি করে যে প্রায়োগিক পদ্ধতি রয়েছে, তা-ই হওয়া উচিত হাদিসের ছাত্রের জন্য এই শাস্ত্র অধ্যয়ন ও এর মৌলিক ভিত্তি রচনার পথ।
* * *
এই কিতাবটি মতন (متن) ও ইসনাদ (إسناد)-এর ক্ষেত্রে এবং বর্ণনাকারী ও বর্ণিত হাদিসসমূহের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের মূলনীতির আলোকে সাবর (سبر)-এর মাসআলার একটি তাত্ত্বিক ও পদ্ধতিগত ভিত্তি প্রদান করেছে। আমি মুহাদ্দিসগণের নিকট সাবর (سبر) সংক্রান্ত সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি; ফলে অপ্রাসঙ্গিক বা অপ্রয়োজনীয় বিষয় ব্যতীত অন্য কিছু এতে বাদ পড়েনি।
এক্ষেত্রে আমি সংগ্রহ ও ইস্তিকরা (استقراء) - এই দুই পদ্ধতির অনুসরণ করেছি:
পূর্ববর্তী, পরবর্তী এবং সমসাময়িক মুহাদ্দিসগণের বিক্ষিপ্ত উক্তিগুলো সংগ্রহ করা, সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এবং এর মধ্য থেকে ফলাফল নির্যাস করা।
এবং হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহে তাঁদের কর্মপদ্ধতি এবং হাদিস বিজ্ঞানের প্রতিটি প্রকারের জন্য তাঁদের স্বতন্ত্র কিতাবসমূহে অনুসৃত পদ্ধতির ইস্তিকরা (استقراء) করা। আর এটি এই কিতাবের অধ্যায় ও অনুচ্ছেদগুলোতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الكتابِ، أخصُّ مِنْ ذلكَ مبحثَي: «المصنَّفاتُ التي اعتمدتِ السَّبرَ» و «الطَّريقةُ العلميَّةُ والعمليَّةُ للسَّبرِ عندَ المحدثينَ».
وهذَا بيانٌ إجماليٌّ ل
خطَّةِ الكتابِ:• البَابُ الأوَّلُ: السَّبْرُ - مَفْهُومُهُ - أَهَمِّيَّتُهُ - الحَاجَةُ إِلَيهِ:
• الفَصْلُ الأَوَّلُ: تَعْرِيفُهُ - مُصْطَلَحَاتُهُ - أَهَمِّيَّتُهُ - وَمَا يَتَعَلَّقُ بِذَلِكَ:
• المَبْحَثُ الأَوَّلُ: التَّعْرِيفُ، وَالمُصْطَلَحَاتُ:
• المَبْحَثُ الثَّانِي: أَهَمِّيَّةُ السَّبْرِ، وَأَقْوَالُ الأَئِمَّةِ فِيهِ:
• المَبْحَثُ الثَّالِثُ: شُبُهَاتٌ وَإِشْكَالاتٌ:
• المَبْحَثُ الرَّابِعُ: الحَاجَةُ إِلَى السَّبْرِ، وَالأَسْبَابُ الدَّاعِيَةُ إِلَيهِ:
• الفَصْلُ الثَّانِي: نَشْأَةُ السَّبْرِ، وَصُوَرُهُ، والمُصَنَّفَاتُ المُتَعَلِّقَةُ بِهِ:
• المَبْحَثُ الأَوَّلُ: نَشْأَةُ السَّبْرِ وَتَطَوُّرُهُ عَبْرَ القُرُونِ:
• المَبْحَثُ الثَّانِي: صُوَرُ السَّبْرِ عِنْدَ المُحَدِّثِينَ:
• المَبْحَثُ الثَّالِثُ: المُصَنَّفَاتُ فِي السَّبْرِ:
• الفَصْلُ الثَّالِثُ: تَصْحِيحِ الحَدِيثِ، وتَطْبِيقِ السَّبْرِ، وَطَرِيقَتُهُ العِلْمِيَّةُ:
• المَبْحَثُ الأَوَّلُ: تَصْحِيحِ المُتَأَخِّرِينَ لِلْأَحَادِيثِ مِنْ خِلَالِ السَّبْرِ:
• المَبْحَثُ الثَّانِي: تَطْبِيقِ المُتَأَخِّرِينَ للسَّبْرِ:
• المَبْحَثُ الثَّالِثُ: الطَّرِيقَةُ العِلْمِيَّةُ العَمَلِيَّةُ لِسَبْرِ الأَسَانِيدِ:
* * *
কিতাবটির, এর মধ্যে বিশেষভাবে দুটি পরিচ্ছেদ হলো: «সেই সকল সংকলন যা যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) ওপর নির্ভর করেছে» এবং «মুহাদ্দিসগণের নিকট যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক পদ্ধতি»।
এবং এটি
কিতাবের পরিকল্পনার একটি সামগ্রিক বিবরণ:
• প্রথম অধ্যায়: যাচাই-বাছাই (السبر) - এর ধারণা - এর গুরুত্ব - এর প্রয়োজনীয়তা:
• প্রথম পরিচ্ছেদ: এর সংজ্ঞা - এর পরিভাষাসমূহ (المصطلحات) - এর গুরুত্ব - এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি:
• প্রথম অনুচ্ছেদ: সংজ্ঞা এবং পরিভাষাসমূহ (المصطلحات):
• দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) গুরুত্ব এবং এতে ইমামগণের (الأئمة) উক্তি:
• তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সংশয় ও জটিলতাসমূহ:
• চতুর্থ অনুচ্ছেদ: যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) প্রয়োজনীয়তা এবং এর উদ্বুদ্ধকারী কারণসমূহ:
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) উদ্ভব, এর রূপসমূহ এবং এ বিষয়ক সংকলনসমূহ:
• প্রথম অনুচ্ছেদ: শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) উদ্ভব ও বিবর্তন:
• দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুহাদ্দিসগণের নিকট যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) রূপসমূহ:
• তৃতীয় অনুচ্ছেদ: যাচাই-বাছাই (السبر) বিষয়ে সংকলনসমূহ:
• তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিস সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح), যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) প্রয়োগ এবং এর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি:
• প্রথম অনুচ্ছেদ: যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) মাধ্যমে পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرين) হাদিস সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح):
• দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخرين) যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) প্রয়োগ:
• তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সনদসমূহের (الأسانيد) যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক পদ্ধতি:
* * *
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
البَابُ الثَّانِي: أَثَرُ السَّبْرِ فِي الحُكْمِ عَلَى الرِّجَالِ ومرويَّاتِهِمْ:
• الفَصْلُ الأَوَّلُ: أَثَرُ السَّبْرِ فِي الحُكْمِ عَلَى الرِّجَالِ:
• المَبْحَثُ الأَوَّلُ: الحُكْمُ عَلَى الرِّجَالِ مِنْ خِلَالِ السَّبْرِ:
• المَبْحَثُ الثَّانِي: حُكْمُ المُتَقَدِّمِينَ، وَسَبْرُ المُتَأَخِّرِينَ:
• الفَصْلُ الثَّانِي: أَثَرُ السَّبْرِ فِي الحُكْمِ عَلَى مَرْوِيَّاتِ الرِّجَالِ:
• المَبْحَثُ الأَوَّلُ: المُتَابَعَاتُ وَالشَّوَاهِدُ، وَشُرُوطُ تَقْوِيَةِ الأَحَادِيثِ بِهَا:
• المَبْحَثُ الثَّانِي: تَقْوِيَةُ الحَدِيثِ الحَسَنِ مِنْ خِلَالِ السَّبْرِ «الصَّحِيحُ لِغَيرِهِ»:
• المَبْحَثُ الثَّالثُ: تَقْوِيَةُ الحَدِيثِ الضَّعِيفِ مِنْ خِلَالِ السَّبْرِ «الحَسَنُ لِغَيرِهِ»:
* * *
• البَابُ الثَّالِثُ: أَثَرُ السَّبْرِ فِي الحُكْمِ عَلَى الحَدِيثِ سَنَدَاً وَمَتْنَاً:
• الفَصْلُ الأَوَّلُ: أَثَرُ السَّبْرِ فِي السَّنَدِ:
• المَبْحَثُ الأَوَّلُ: مَعْرِفَةُ الحَدِيثِ الفَرْدِ وَالغَرِيبِ:
• المَبْحَثُ الثَّانِي: مَعْرِفَةُ الحَدِيثِ الشَّاذِّ وَالمُنْكَرِ:
• المَبْحَثُ الثَّالِثُ: مَعْرِفَةُ المَزِيدِ فِي مُتَّصِلِ الأَسَانِيدِ:
• المَبْحَثُ الرَّابِعُ: مَعْرِفَةُ الاِضْطِرَابِ فِي الإِسْنَادِ:
• المَبْحَثُ الخَامِسُ: مَعْرِفَةُ المَقْلُوبِ فِي الإِسْنَادِ:
• المَبْحَثُ السَّادِسُ: مَعْرِفَةُ الإِدْرَاجِ فِي الإِسْنَادِ:
• المَبْحَثُ السَّابِعُ: مَعْرِفَةُ التَّدْلِيسِ فِي الإِسْنَادِ:
• المَبْحَثُ الثَّامِنُ: مَعْرِفَةُ المُرْسَلِ الخَفِيِّ:
দ্বিতীয় অধ্যায়: বর্ণনাকারী (الرجال) এবং তাদের বর্ণিত হাদিসসমূহের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার (السبر) প্রভাব:
• প্রথম পরিচ্ছেদ: বর্ণনাকারীদের (الرجال) ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার (السبر) প্রভাব:
• প্রথম অনুচ্ছেদ: পর্যালোচনার (السبر) মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের (الرجال) ওপর হুকুম প্রদান:
• দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পূর্বসূরিদের (المتقدمين) হুকুম এবং উত্তরসূরিদের (المتأخرين) পর্যালোচনা (السبر):
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বর্ণনাকারীদের (الرجال) বর্ণিত হাদিসসমূহের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার (السبر) প্রভাব:
• প্রথম অনুচ্ছেদ: মুতাবাআত (المتابعات) এবং শাওয়াাহিদ (الشواهد), এবং এর মাধ্যমে হাদিসসমূহ শক্তিশালী করার শর্তাবলি:
• দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পর্যালোচনার (السبر) মাধ্যমে হাসান (الحسن) হাদিসকে শক্তিশালী করা: «সহিহ লি-গাইরিহি (الصحيح لغيره)»:
• তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পর্যালোচনার (السبر) মাধ্যমে জয়িফ (الضعيف) হাদিসকে শক্তিশালী করা: «হাসান লি-গাইরিহি (الحسن لغيره)»:
* * *
• তৃতীয় অধ্যায়: সনদ (السند) ও মতনের (المتن) ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার (السبر) প্রভাব:
• প্রথম পরিচ্ছেদ: সনদের (السند) ক্ষেত্রে পর্যালোচনার (السبر) প্রভাব:
• প্রথম অনুচ্ছেদ: ফারদ (الفرد) ও গরিব (الغريب) হাদিস চেনার উপায়:
• দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শাজ (الشاذ) ও মুনকার (المنكر) হাদিস চেনার উপায়:
• তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মাজিদ ফি মুত্তাসিলিল আসানিদ (المزيد في متصل الأسانيد) সম্পর্কে জ্ঞান:
• চতুর্থ অনুচ্ছেদ: সনদে ইজতিরাব (الاضطراب) সম্পর্কে জ্ঞান:
• পঞ্চম অনুচ্ছেদ: সনদে মাকলুব (المقلوب) সম্পর্কে জ্ঞান:
• ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: সনদে ইদরাজ (الإدراج) সম্পর্কে জ্ঞান:
• সপ্তম অনুচ্ছেদ: সনদে তাদলিস (التدليس) সম্পর্কে জ্ঞান:
• অষ্টম অনুচ্ছেদ: মুরসাল খাফি (المرسل الخفي) সম্পর্কে জ্ঞান:
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المَبْحَثُ التَّاسِعُ: مَعْرِفَةُ الإِرْسَالِ فِي الإِسْنَادِ:
• المَبْحَثُ العَاشِرُ: مَعْرِفَةُ الحَدِيثِ المُتَّصِلِ من المُنْقَطِعِ وَالمُعْضَلِ وَالمُعَلَّقِ:
• المَبْحَثُ الحادي عشرَ: مَعْرِفَةُ الحَدِيثِ المَرْفُوعِ مِنَ المَوقُوفِ وَالمَقْطُوعِ:
• المَبْحَثُ الثَّانِي عَشَرَ: مَعْرِفَةُ العَالِي وَالنَّازِلِ:
• المَبْحَثُ الثَّالِثَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ المُتَوَاتِرِ وَالآَحَادِ وَالمَشْهُورِ وَالعَزِيزِ:
• المَبْحَثُ الرَّابِعَ عَشَرَ: تَعْيِينُ المُبْهَمِ وَتَمْيِيزُ المُهْمَلِ فِي الإِسْنَادِ:
• المَبْحَثُ الخَامِسَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ التَّصْحِيفِ وَالتَّحْرِيفِ فِي الإِسْنَادِ:
* * *
• الفَصْلُ الثَّانِي: أَثَرُ السَّبْرِ فِي المتنِ:
• المَبْحَثُ الأَوَّلُ: مَعْرِفَةُ زِيَادَةِ الثِّقَةِ فِي المَتْنِ:
• المَبْحَثُ الثَّانِي: أَثَرُ السَّبْرِ فِي مَعْرِفَةِ الشَّاذِّ وَالمُنْكَرِ فِي المَتْنِ:
• المَبْحَثُ الثَّالِثُ: أَثَرُ السَّبْرِ فِي مَعْرِفَةِ الإِدْرَاجِ فِي المَتْنِ:
• المَبْحَثُ الرَّابِعُ: أَثَرُ السَّبْرِ فِي مَعْرِفَةِ الاِضْطِرَابِ فِي المَتْنِ:
• المَبْحَثُ الخَامِسُ: أَثَرُ السَّبْرِ فِي مَعْرِفَةِ القَلْبِ فِي المَتْنِ:
• المَبْحَثُ السَّادِسُ: أَثَرُ السَّبْرِ فِي مَعْرِفَةِ المبهمِ فِي المَتْنِ:
• المَبْحَثُ السَّابِعُ: أَثَرُ السَّبْرِ فِي مَعْرِفَةِ التَّصْحِيفِ فِي المَتْنِ:
• المَبْحَثُ الثَّامِنُ: ضَبْطُ الحَدِيثِ «الرِّوَايَةُ بِاللَّفْظِ وَالمَعْنَى»:
• المَبْحَثُ التَّاسِعُ: مَعْرِفَةُ غَرِيبِ الحَدِيثِ:
• المَبْحَثُ العَاشِرُ: مَعْرِفَةُ أَسْبَابِ وُرُودِ الحَدِيثِ:
* * *
নবম পরিচ্ছেদ: সনদে বিচ্ছিন্নতা (الإرسال) সম্পর্কে জ্ঞান।
• দশম পরিচ্ছেদ: সংযুক্ত (المتصل) হাদিসকে বিচ্ছিন্ন (المنقطع), জটিল (المعضل) এবং ঝুলন্ত (المعلق) হাদিস থেকে পৃথক করার জ্ঞান।
• একাদশ পরিচ্ছেদ: মারফু (المرفوع) হাদিসকে মাউকুফ (الموقوف) ও মাকতু (المقطوع) হাদিস থেকে পৃথক করার জ্ঞান।
• দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: উচ্চস্তরীয় (العالي) এবং নিম্নস্তরীয় (النازل) সনদ সম্পর্কে জ্ঞান।
• ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: মুতাওয়াতির (المتواتر), আহাদ (الآحاد), মাশহুর (المشهور) এবং আজিজ (العزيز) সম্পর্কে জ্ঞান।
• চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: সনদে অস্পষ্ট (المبهم) রাবি নির্ধারণ এবং উপেক্ষিত (المهمل) রাবিকে পৃথকীকরণ।
• পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: সনদে শব্দগত পরিবর্তন (التصحيف) ও অর্থগত বিকৃতি (التحريف) সম্পর্কে জ্ঞান।
* * *
• দ্বিতীয় অধ্যায়: মতন বা মূল পাঠে পর্যালোচনার (السبر) প্রভাব।
• প্রথম পরিচ্ছেদ: মতনে নির্ভরযোগ্য (الثقة) রাবির অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) সম্পর্কে জ্ঞান।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মতনে শায (الشاذ) ও মুনকার (المنكر) বর্ণনা নির্ণয়ে পর্যালোচনার (السبر) প্রভাব।
• তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মতনে অনুপ্রবেশ (الإدراج) নির্ণয়ে পর্যালোচনার (السبر) প্রভাব।
• চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মতনে অস্থিরতা (الاضطراب) নির্ণয়ে পর্যালোচনার (السبر) প্রভাব।
• পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মতনে শব্দ উল্টে যাওয়া (القلب) নির্ণয়ে পর্যালোচনার (السبر) প্রভাব।
• ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মতনে অস্পষ্টতা (المبهم) নির্ণয়ে পর্যালোচনার (السبر) প্রভাব।
• সপ্তম পরিচ্ছেদ: মতনে শব্দগত পরিবর্তন (التصحيف) নির্ণয়ে পর্যালোচনার (السبر) প্রভাব।
• অষ্টম পরিচ্ছেদ: হাদিস সংরক্ষণ: শাব্দিক ও অর্থগত বর্ণনা (الرواية باللفظ والمعنى)।
• নবম পরিচ্ছেদ: গরিব (غريب) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান।
• দশম পরিচ্ছেদ: হাদিস অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب ورود الحديث) সম্পর্কে জ্ঞান।
* * *
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وهذِهِ جملةُ
الخطواتِ المتَّبعةِ في الكتابِ:• اعتمدتُ نقولاتِ الأئمَّةِ المحدِّثينَ مِنَ المتقدِّمينَ والمتأخِّرينَ والمعاصرينَ، كدليلٍ وشاهدٍ على كلِّ ما أمليتُهُ، وكقاعدةٍ لكلِّ نتيجةٍ خلصتُ بهَا، تأصيلَاً للكتابِ، وإحياءً لكلامِهِمْ، وسيرَاً بركابِهِمْ، فقولُهُمْ أولَى وأجلَى، وأبعدُ عنِ الخطأِ وأقربُ إلى الصَّوابِ.
• أوردتُ مذاهبَ العلماءِ باختصارٍ في المسائلِ التي تعدَّدَتْ فيهَا الآراءُ، وفصَّلتُ ما يخصُّ السَّبرَ وما يتعلقُ بِهِ منْ قرائنِ التَّرجيحِ ودلائلِ التَّمييزِ، كمَا في الإدراجِ والمزيدِ في مُتَّصلِ الأسانيدِ، وناقشتُ أقوالَهُمْ معَ بيانِ الرَّاجحِ مُستدلَّاً بأقوالِ جهابذَةِ أئمَّةِ الحديثِ واستقراءِ مناهجِهِمْ، وأهملتُ ما لا صلةَ لهُ بالسَّبرِ. وما كانَ مُختلفَاً فيهِ اختلافَاً كثيرَاً ومُتباينَاً أشرتُ إليهِ إشارةً فقطْ وبيَّنْتُ الرَّاجحَ المُعوَّلَ عليهِ عندَ العلماءِ، كمَا في مسألةِ «زيادةِ الثِّقةِ».
• التزمتُ اتِّفاقَ المحدِّثينَ في جميعِ المسائلِ التي أوردتُهَا، وإذَا اشتدَّ الخلافُ في مسألةٍ ما أوردتُ كلامَ المتأخِّرينَ منَ العلماءِ، وإنْ لمْ تُحسمِ المسألةُ عندَ المتأخرينَ، أوردتُ كلامَ المعاصرينَ فيهَا ممَّنْ عليهمْ مدارُ علمِ الحديثِ في العالمِ الإسلاميِّ المعاصرِ، وممَّنْ لهمْ مؤلَّفاتٌ قيِّمةٌ في هذَا العلمِ الشَّريفِ، كمسألةِ «تصحيحِ المتأخِّرينَ للحديثِ»، ومسألةِ «حكمِ المتقدِّمينَ وسبرِ المتأخِّرينَ في الحكمِ على الرِّجالِ».
• ناقشتُ في الحاشيةِ ما ذهبَتْ إليهِ بعضُ مُصنَّفاتِ علماءِ العصرِ، ممَّا خالفَ ما أقرَّتْهُ كُتبُ أصولِ الحديثِ - وذلكَ قليلٌ بعضَ الشَّيءِ - مستدلَّاً باتِّفاقِ العلماءِ في مُصنَّفاتِهِمْ، كمسألةِ الجمعِ بينَ المزيدِ في مُتَّصلِ الأسانيدِ والعالِي والنَّازلِ بجعلهِمَا نوعَاً واحدَاً.
এবং কিতাবে অনুসৃত
পদক্ষেপসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:• আমি আমার বর্ণিত প্রতিটি বিষয়ের দলিল ও প্রমাণ হিসেবে এবং উপনীত প্রতিটি সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে পূর্বসূরি (المتقدمين), উত্তরসূরি (المتأخرين) এবং সমসাময়িক (المعاصرين) ইমাম ও মুহাদ্দিসগণের উক্তিগুলোকে গ্রহণ করেছি; যাতে কিতাবটি মৌলিক রূপ পায়, তাঁদের বাণীসমূহ পুনরুজ্জীবিত হয় এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা হয়। কারণ তাঁদের বক্তব্যই অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য ও সুস্পষ্ট এবং তা ভুল থেকে মুক্ত থাকার ক্ষেত্রে অধিক নিরাপদ ও সঠিকের নিকটবর্তী।
• যেসব বিষয়ে একাধিক মত রয়েছে, সেখানে আমি আলেমদের মতামতসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি। আর 'যাচাই-বাছাই' (السبر) সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাধান্যদানের সূত্রসমূহ (قرائن الترجيح) ও পার্থক্যের প্রমাণাদি বিস্তারিত আলোচনা করেছি; যেমনটি 'অনুপ্রবেশ' (الإدراج) এবং 'মুত্তাসিল সনদে অতিরিক্ত বর্ণনাকারী' (المزيد في متصل الأسانيد)-এর ক্ষেত্রে করা হয়েছে। আমি বিজ্ঞ হাদিস বিশারদ ইমামদের উক্তি এবং তাঁদের অনুসৃত পদ্ধতির বিশ্লেষণের মাধ্যমে দলিল পেশ করে অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি বর্ণনাসহ তাঁদের বক্তব্যগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি, আর 'যাচাই-বাছাই' (السبر)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন বিষয়গুলো বর্জন করেছি। যেসব বিষয়ে মতভেদ অত্যন্ত বেশি ও বৈচিত্র্যময়, সেগুলোর প্রতি কেবল ইঙ্গিত করেছি এবং আলেমদের নিকট যা নির্ভরযোগ্য ও অগ্রগণ্য (الراجح) মত তা স্পষ্ট করেছি; যেমনটি 'নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য' (زيادة الثقة) সংক্রান্ত মাসআলায় করা হয়েছে।
• আমি উপস্থাপিত সকল মাসআলায় মুহাদ্দিসগণের ঐকমত্য অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি। যখন কোনো মাসআলায় মতভেদ তীব্র হয়েছে, তখন আমি উত্তরসূরি (المتأخرين) আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি। আর যদি উত্তরসূরিদের নিকটও বিষয়টি মীমাংসিত না হয়, তবে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের হাদিস শাস্ত্রের প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং এই মহান শাস্ত্রে যাঁদের মূল্যবান গ্রন্থ রয়েছে, এমন সমসাময়িক (المعاصرين) আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি। যেমন—'উত্তরসূরিদের হাদিস সহিহ সাব্যস্ত করা' (تصحيح المتأخرين للحديث) সংক্রান্ত মাসআলা এবং 'বর্ণনাকারীদের বিষয়ে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের সিদ্ধান্ত ও উত্তরসূরিদের যাচাই-বাছাই' (حكم المتقدمين وسبر المتأخرين في الحكم على الرجال) সংক্রান্ত মাসআলা।
• বর্তমান যুগের কিছু কিতাবে হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الحديث)-এর কিতাবসমূহে স্বীকৃত বিষয়ের বিপরীতে যা বলা হয়েছে—যদিও এমন বিষয় কিছুটা কম—আমি টীকাতে সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। এক্ষেত্রে আমি আলেমদের কিতাবসমূহে তাঁদের ঐকমত্যকে দলিল হিসেবে পেশ করেছি; যেমন—'মুত্তাসিল সনদে অতিরিক্ত বর্ণনাকারী' (المزيد في متصل الأسانيد) এবং 'উচ্চস্তরের সনদ' (العالي) ও 'নিম্নস্তরের সনদ' (النازل)-কে এক প্রকার গণ্য করে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করার মাসআলা।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
• فصَّلتُ القولَ ببيانِ مناهجِ العلماءِ في كُتُبهِمْ التي أفردُوهَا لأنواعٍ معيَّنةٍ منْ علومِ الحديثِ، خصوصَاً ما كانَ منهَا قائمَاً على السَّبرِ والمقارنةِ بينَ المرويَّاتِ، واقتبستُ مِنْ مُقدِّماتِهَا ما يُثري الموضوعَ ويغنيهِ، كمَا بيَّنتُ في الحاشيةِ ما يتعلَّقُ بمعلوماتِ الكتابِ المطبعيَّةِ.
• أفدتُ مِنَ الرَّسائلِ العلميَّةِ المتخصِّصَةِ «الماجستيرِ أو الدُّكتوراةِ»، والمُؤلَّفاتِ المفردَةِ في كلِّ نوعٍ مِنْ أنواعِ علومِ الحديثِ، لأنَّهَا غالبَاً ما تكونُ جامعةً في موضوعِهَا لتخصُّصِهَا، ومحيطةً بكلِّ دقائقِهِ، وقدْ أشرتُ لأماكنِ تواجُدِهَا، ومعلوماتِ النَّشرِ تامَّةً في الحاشيةِ.
• لمْ تخلُ الحاشيةُ منْ بعضِ الفوائدِ والنُّكاتِ العلميَّةِ والتَّعليقاتِ المناسبةِ لموضِعِهَا، منهَا ما يتعلَّقُ بالسَّبرِ ومنهَا ما لهُ مُتعلَّقٌ بغيرِهِ، قصدتُ منْ ذلكَ تكاملَ الموضوعِ وإغناءَهُ، وإزالةَ الإشكالاتِ والإجابةَ على التَّساؤلاتِ التي قدْ تعلقُ بذهنِ القارئِ، وكذلكَ بيانَ وإيضاحَ ما ينوءُ ببيانِهِ متنُ الكتابِ فحمَّلتُهُ للحواشي.
• ترجمتُ في الحاشيةِ للأعلامِ الذينَ أوردَتُ أقوالَهُمْ فحسبُ، بذكرِ اسمِ الرَّاوي، ونسبِهِ، ونسبَتِهِ، وبلدِهِ، وموطنِ مولدِهِ، وكنيتِهِ، ولقبِهِ، وما يدلُّ عليهِ منْ مثلِ ذلكَ، ثمَّ تاريخِ الوِّلادِةِ والوفاةِ بالعامِ الهجريِّ، ثمَّ مرتبتِهِ العلميَّةِ، وبعضِ كتبِهِ في الحديثِ وعلومِهِ، وأهملتُ غيرَهَا مِنَ الكتبِ في العلومِ الأخرى.
• আমি হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) নির্দিষ্ট শাখাগুলোতে আলেমগণের রচিত গ্রন্থসমূহের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছি; বিশেষ করে সেই পদ্ধতিগুলো যা বর্ণনাসমূহের সূক্ষ্ম যাচাই (السبر) এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আমি সেগুলোর ভূমিকা থেকে এমন কিছু উদ্ধৃত করেছি যা বিষয়বস্তুকে আরও সমৃদ্ধ ও অর্থবহ করে তোলে। পাশাপাশি গ্রন্থের প্রকাশনা সংক্রান্ত তথ্য আমি পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।
• আমি বিশেষায়িত গবেষণাপত্র (মাস্টার্স বা পিএইচডি) এবং হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) প্রতিটি শাখার ওপর রচিত স্বতন্ত্র গ্রন্থগুলো থেকে উপকৃত হয়েছি। কারণ, বিশেষায়িত হওয়ার কারণে এগুলো সাধারণত নিজ নিজ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ হয় এবং সূক্ষ্ম বিষয়সমূহকে পরিবেষ্টন করে রাখে। আমি এগুলোর প্রাপ্তিস্থান এবং প্রকাশনার পূর্ণ তথ্য পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।
• পাদটীকাগুলো কিছু জ্ঞানগত ফায়দা, সূক্ষ্ম তত্ত্ব এবং প্রাসঙ্গিক আলোচনা থেকে মুক্ত নয়। এর কিছু অংশ সূক্ষ্ম যাচাইয়ের (السبر) সাথে সংশ্লিষ্ট এবং কিছু অংশ অন্যান্য বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। এর মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য ছিল বিষয়বস্তুকে পূর্ণাঙ্গ ও সমৃদ্ধ করা, অস্পষ্টতা দূর করা এবং পাঠকের মনে উদয় হতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। তদুপরি, মূল পাঠ বা মতন (متن) যা ব্যাখ্যা করতে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে, তা স্পষ্ট করার জন্য আমি পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।
• আমি পাদটীকায় শুধুমাত্র সেই সকল ব্যক্তিত্বের জীবনী সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি যাদের উক্তি আমি উদ্ধৃত করেছি। এক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর (راوي) নাম, বংশপরিচয়, নিসবত, দেশ, জন্মস্থান, কুনিয়াত বা উপনাম, উপাধি এবং এ জাতীয় পরিচয় তুলে ধরেছি। এরপর হিজরি সনে জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ, তারপর তাঁর জ্ঞানগত মর্যাদা এবং হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট কিছু কিতাবের নাম উল্লেখ করেছি; অন্যান্য শাস্ত্রের গ্রন্থাবলি পরিহার করেছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
• اقتصرتُ على ذكرِ وفَيَاتِ الأعلامِ المدوَّنَةِ أقوالُهُمْ في الكتابِ، وذلكَ في كلِّ مرَّةٍ يردُ فيهَا ذكرُ العَلَمِ، بيانَاً للأقدميَّةِ في إيرادِ الأقوالِ، وإظهارَاً للتَّرتيبِ الزَّمنيِّ في حالِ تعدُّدِ النُّقولاتِ في المسألةِ الواحدةِ، ورمزتُ للوفاةِ بحرفِ «ت»، وللعامِ الهجريِّ بحرفِ «هـ».
• ضبطتُ بالشَّكلِ آخرَ كلِّ كلمةٍ منَ الكتابِ، وبيَّنتُ بالضَّبطِ التَّامِّ الكلماتِ المُشْكِلَةَ، كأسماءِ الأعلامِ وما كانَ منْ قبيلِ المؤتلفِ والمختلفِ، وميَّزتُ أيضَاً بالضَّبطِ الكاملِ وباللَّونِ الأسودِ السَّميكِ أقوالَ الأئمَّةِ، إبرازَاً لهَا، ودلالةً على عمدتِهَا.
• شرحتُ في الحاشيةِ بعضَ المفرداتِ الغريبةِ والمصطلحاتِ الغامضةِ التي وردَتْ في ثنايَا الكتابِ.
• أوردْتُ في الحاشيةِ المصدرَ أو المرجعَ للنُّصوصِ المقتبسةِ حرفيَّاً خالياً منْ كلمةِ «انظرْ» وإذَا كانَ فيهِ تغييرٌ بسيطٌ أو كلامٌ مُستفادٌ، أوردتُهُ مُصدَّرَاً بكلمةِ «انظرْ».
• قيَّدتُ في الحاشيةِ معلوماتِ النَّشرِ لكلِّ كتابٍ وردَ ذكرُهُ في الكتابِ، بذكرِ الدَّارِ النَّاشرةِ، وبلدِ النَّشرِ، وتاريخِ النَّشرِ، واسمِ المؤلِّفِ، واسمِ المحقِّقِ إذَا كانَ الكتابُ مُحَقَّقَاً، واعتمدتُ أفضلَ الطَّبعاتِ إلَّا ما كانَ مِنهَا مُتوفِّرَاً لديَّ، وإذَا لمْ يكنِ الكتابُ مطبوعَاً أوردتُ منْ ذكرَهُ أو أشارَ إليهِ مِنَ العلماءِ في المصنَّفاتِ الحديثيَّةِ، أو المصنَّفاتِ المتخصِّصةِ ب «ببلوغرافيَا» علمِ الحديثِ، كالرِّسالةِ المستطرفَةِ، ومعجمِ المصنَّفاتِ الحديثيَّةِ، وغيرِهَا
…
• আমি এই কিতাবে সেই সকল বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের মৃত্যুসন (وفاة) উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি যাদের বক্তব্য এখানে লিপিবদ্ধ হয়েছে। এটি প্রত্যেকবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম আসার সময় করা হয়েছে, যাতে বক্তব্যগুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা স্পষ্ট হয় এবং কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে একাধিক উদ্ধৃতি থাকলে তার কালানুক্রমিক বিন্যাস ফুটে ওঠে। আমি মৃত্যুর নিদর্শনের জন্য ‘ত’ (ت) এবং হিজরি বর্ষের জন্য ‘হ’ (هـ) অক্ষর ব্যবহার করেছি।
• আমি কিতাবের প্রতিটি শব্দের শেষ অক্ষরে হরকত প্রদান করেছি এবং ব্যক্তিত্বদের নাম ও ‘সাদৃশ্যপূর্ণ ও বৈসাদৃশ্যপূর্ণ’ (المؤتلف والمختلف) পর্যায়ের শব্দসমূহের মতো অস্পষ্ট শব্দগুলোকে পূর্ণ হরকতের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি। এছাড়া ইমামগণের বক্তব্যগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে ফুটিয়ে তুলতে এবং সেগুলোর মৌলিকত্ব নির্দেশ করতে পূর্ণ হরকত ও গাঢ় কালো বর্ণের মাধ্যমে চিহ্নিত করেছি।
• কিতাবের অভ্যন্তরে আসা কিছু বিরল শব্দ এবং অস্পষ্ট পরিভাষাগুলো (مصطلح) আমি পাদটীকায় ব্যাখ্যা করেছি।
• আমি পাদটীকায় হুবহু উদ্ধৃত পাঠ্যের ক্ষেত্রে ‘দেখুন’ (انظر) শব্দটি ব্যতিরেকে মূল উৎস বা তথ্যসূত্র উল্লেখ করেছি। আর যদি তাতে সামান্য পরিবর্তন থাকে অথবা বক্তব্যটি মূল পাঠ্য থেকে সংগৃহীত হয়, তবে আমি তা শুরুতে ‘দেখুন’ (انظر) শব্দটি যুক্ত করে উল্লেখ করেছি।
• আমি কিতাবে উল্লিখিত প্রতিটি বইয়ের প্রকাশনা সংক্রান্ত তথ্য যেমন—প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, প্রকাশের শহর, প্রকাশের তারিখ, লেখকের নাম এবং বইটি যদি সম্পাদিত (محقق) হয়ে থাকে তবে গবেষকের নাম পাদটীকায় লিপিবদ্ধ করেছি। আমি বইটির সর্বোত্তম সংস্করণগুলোর ওপর নির্ভর করেছি, তবে যেসব ক্ষেত্রে আমার কাছে যা সহজলভ্য ছিল তা ব্যবহার করেছি। যদি কোনো বই মুদ্রিত না হয়ে থাকে, তবে হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ অথবা হাদিস বিজ্ঞানের গ্রন্থপঞ্জি (ببلوغرافيا) বিষয়ক বিশেষায়িত কিতাবসমূহ—যেমন আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফাহ, মু'জামুল মুসান্নাফাতিল হাদিসিয়্যাহ ইত্যাদিতে যে সকল আলেম সেই কিতাব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন বা ইঙ্গিত করেছেন, তা উল্লেখ করেছি
…
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
• أوردتُ في الحاشيةِ الأمثلةَ وموضعَ الشَّاهدِ فيهَا مِنَ المصنَّفاتِ الحديثيَّةِ التي ذكرتُهَا في متنِ الكتابِ كمصنَّفاتٍ اعتمدتِ السَّبرَ سواءٌ في الحديثِ أو الرِّجالِ أو غيرِ ذلكَ.
• ذكرتُ المعنى اللُّغويَّ لكلِّ مُصطلَحٍ حديثيٍّ وردَ في الكتابِ، بمَا يفي بالغرضِ، ويُؤدِّي المعنى المرادَ، معَ التَّوسُّعِ في تعريفِ السَّبرِ، والمُصطلحاتِ المرادفةِ لهُ والمتعلِّقةِ بِهِ. وتمَّ العزوُ إلى معاجمِ اللُّغةِ العربيَّةِ بذكرِ المادَّةِ إذَا كانَ المعجمُ مجلَّدَاً واحِداً، وبذكرِ الجزءِ والصَّفحةِ بالإضافةِ إلى المادَّةِ إذَا تعدَّدتِ الأجزاءُ.
• اقتصرتُ في التَّعريفِ الاصطلاحيِّ على الجامعِ المانعِ الذي اعتمدَهُ المحدِّثونَ، وإنْ كانَ ثمَّةَ اختلافاتٌ مهمَّةٌ ومعتبرةٌ في التَّعريفاتِ بَيَّنْتُهَا في الحاشيةِ، كمَا في تعريفِ الشاذِّ عندَ الحاكمِ والخليليِّ.
• ضمَّنْتُ الحاشيةَ بدايةَ كلِّ مبحثٍ منْ مباحثِ الكتابِ - وذلكَ في الأغلبِ الأعمِّ - المصادرَ والمراجعَ التي درسَتِ المبحثَ الذي أكتبُ فيهِ، وأشرتُ إلى ما أُفرِدَ في المبحثِ مِنْ رسائلَ علميةٍ أو كتبٍ معاصرةٍ مطبوعةٍ، وكذلكَ ما أُفردَ بالتَّصنيفِ في بعضِ المسائلِ التي أثارتْ جدلَاً في علمِ الحديثِ - كمسألةِ حُجيَّةِ الآحادِ - معَ ذكرِ معلوماتِ النَّشرِ كاملةً، إثراءً للموضوعِ، وتسهيلاً للرُّجوعِ إلى مصادِرِهِ الأصليَّةِ، ومراجعِهِ المستوعِبَةِ.
• أوردْتُ الفُروقاتِ بينَ الأنواعِ الحديثيَّةِ المُختلفةِ، وأوجهِ الاشتراكِ والافتراقِ فيمَا بينَهَا، وذكرتُ المعتمدَ المعوَّلَ عليهِ عندَ علماءِ الحديثِ، كالفرقِ بينَ الفردِ والغريبِ، والفرق بين الشَّاذِّ والمُنكرِ.
• আমি টীকায় উদাহরণসমূহ এবং সেগুলোর প্রমাণস্থল (الشاهد) সেই সব হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে উল্লেখ করেছি যেগুলো আমি কিতাবের মূল পাঠে আলোচনা করেছি; অর্থাৎ এমন সব গ্রন্থ যা হাদিস, বর্ণনাকারী (الرجال) অথবা অন্যান্য ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই (السبر) পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে রচিত।
• আমি কিতাবে উল্লেখিত প্রতিটি হাদিস বিষয়ক পরিভাষার আভিধানিক অর্থ এমনভাবে বর্ণনা করেছি যা উদ্দেশ্য পূরণে সক্ষম এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থ প্রকাশ করে। এর পাশাপাশি যাচাই-বাছাই (السبر) এর সংজ্ঞা এবং এর সমার্থক ও সংশ্লিষ্ট পরিভাষাগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। আরবি অভিধানসমূহের ক্ষেত্রে তথ্যসূত্র প্রদানের সময় যদি অভিধানটি এক খণ্ডের হয় তবে মূল ধাতু (المادة) উল্লেখ করা হয়েছে, আর যদি একাধিক খণ্ডের হয় তবে মূল ধাতুর (المادة) পাশাপাশি খণ্ড ও পৃষ্ঠাসংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে।
• পারিভাষিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে আমি হাদিস বিশারদগণ কর্তৃক গৃহীত পূর্ণাঙ্গ ও নিবারক (الجامع المانع) সংজ্ঞার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। তবে সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য মতপার্থক্য থাকে, তবে তা টীকায় স্পষ্ট করেছি; যেমন হাকেম ও খালীলী-এর নিকট শায বা বিচ্যুতিপূর্ণ (الشاذ) এর সংজ্ঞা।
• আমি কিতাবের প্রায় প্রতিটি আলোচনার শুরুতে সেই সকল মূল উৎস ও সহায়ক গ্রন্থাবলি যুক্ত করেছি যেগুলোতে উক্ত বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। আমি সেই নির্দিষ্ট বিষয়ে রচিত বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রবন্ধ বা সমকালীন মুদ্রিত বইগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি। পাশাপাশি হাদিস বিজ্ঞানের এমন কিছু বিষয় যা বিতর্কের সৃষ্টি করেছে—যেমন একক বর্ণনা (الآحاد) এর প্রামাণিকতা (حجية) সংক্রান্ত মাসয়ালা—সে বিষয়ে রচিত স্বতন্ত্র গ্রন্থগুলোর পূর্ণাঙ্গ প্রকাশনা তথ্য উল্লেখ করেছি, যাতে বিষয়টি সমৃদ্ধ হয় এবং এর মূল উৎস ও বিস্তৃত রেফারেন্সগুলো খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
• আমি বিভিন্ন প্রকারের হাদিসের মধ্যকার পার্থক্য এবং সেগুলোর পারস্পরিক মিল ও অমিলের দিকগুলো তুলে ধরেছি। হাদিস বিশারদদের নিকট যা নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য তা উল্লেখ করেছি; যেমন ফারদ বা একক (الفرد) ও গরীব বা অখ্যাত (الغريب) এর মধ্যকার পার্থক্য এবং শায বা বিচ্যুতিপূর্ণ (الشاذ) ও মুনকার বা বর্জিত (المنكر) এর মধ্যকার পার্থক্য।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
• ذكرتُ أقسامَ بعضِ أنواعِ علومِ الحديثِ - إنْ كانَ ثمَّةَ أقسامٌ - ومثَّلتُ لكلٍّ منهَا بحديثٍ أقومُ بسبرِهِ واستيفاءِ ما يتحقَّقُ الغرضُ مِنْ طُرُقِهِ، وأهملتُ التمثيلَ لما لا شُهرةَ لهُ معتبرةً في كتبِ مصطلحِ الحديثِ مِنْ الأقسامِ، كمَا في بعضِ أقسامِ «التَّدليسِ».
وإذَا كانَ للنَّوعِ الحديثيِّ تقسيماتٌ مختلفةٌ مِنْ جوانبَ مُتعدِّدةٍ، اخترتُ التَّقسيماتِ المتعلِّقةَ بمسألة السَّبرِ، وأهملتُ التَّقسيماتِ الأُخرى، كمَا في العالي والنَّازلِ، فقدِ اخترتُ تقسيمَ «المسافةِ والصِّفةِ»، على «المطلقِ والنِّسبيِّ»، لأنَّ المسافةَ تُدركُ بالسَّبرِ بتباينِ عددِ الرُّواةِ.
• بيَّنتُ حكمَ كلِّ نوعٍ مِنْ أنواعِ علومِ الحديثِ، وأشرتُ إلى خلافِ العلماءِ مُبيِّناً الرَّاجحَ الذي اتفقَ عليهِ جمهورُ المحدِّثينَ، كمَا في حُكمِ «المرسلِ»، وبيانُ ذلكَ مدخلٌ لمعرفةِ ما إذَا كانتِ العلَّةُ المتكشِّفةُ بالسَّبرِ قادحةً أو غيرَ قادحةٍ، وكذلكَ الفائدةُ مقبولةً أو مردودةً.
• تكلَّمتُ في أهميَّةِ وفوائدِ معرفةِ كُلِّ نوعٍ مِنْ أنواعِ علومِ الحديثِ كمدخلٍ ل «أثرِ السَّبرِ في معرفتِهِ»، وأحيانَاً أُفرِدُ ل «الأهميَّةِ» مبحثَاً.
• بيَّنتُ أثرَ السَّبرِ في معرفةِ كلِّ نوعٍ مِنْ أنواعِ علومِ الحديثِ، وذكرتُ جميعَ الطُّرقِ التي وضعَهَا العلماءُ لمعرفتِهَا ومثَّلتُ لهَا باختصارٍ، وفصَّلتُ الكلامَ فيمَا يخصُّ طريقةَ السَّبرِ معَ الأمثلةِ المستفيضةِ.
• أوضحتُ قرائنَ التَّرجيحِ بينَ المُتخالفِ والمتعارضِ مِنَ المسائلِ، مبيناً أنَّ العمدةَ للقرائنِ والمرجِّحاتِ التي تتمخَّضُ عَنِ السَّبرِ حالَ التَّعارضِ بينَ نوعينِ أو أكثرَ منْ علومِ الحديثِ، كتعارضِ الوصلِ والإرسالِ، والوقفِ والرَّفعِ.
• আমি হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) কোনো কোনো প্রকারের বিভাজন উল্লেখ করেছি—যদি সেখানে কোনো বিভাজন থেকে থাকে—এবং এর প্রত্যেকটির জন্য এমন একটি হাদিস দ্বারা উদাহরণ পেশ করেছি যা আমি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা (سبر) করেছি এবং এর বিভিন্ন সূত্র (طرق) থেকে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান সম্পন্ন করেছি। আর হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে যেসব প্রকারের তেমন কোনো বিশেষ প্রসিদ্ধি নেই, সেগুলোর উদাহরণ প্রদান আমি পরিহার করেছি, যেমনটি ‘তাদলিস’ (التدليس) বা বর্ণনাকারীর দোষ গোপন করার কিছু প্রকারের ক্ষেত্রে হয়েছে।
হাদিসের কোনো প্রকারের যদি বিভিন্ন দিক থেকে একাধিক বিভাজন থাকে, তবে আমি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা (سبر) সংক্রান্ত বিভাজনগুলোই বেছে নিয়েছি এবং অন্যান্য বিভাজনগুলো পরিহার করেছি। যেমন ‘উচ্চ সনদ’ (العالي) এবং ‘নিম্ন সনদ’ (النازل) এর ক্ষেত্রে আমি ‘পরম’ (المطلق) ও ‘আপেক্ষিক’ (النسبي) বিভাজনের পরিবর্তে ‘দূরত্ব ও বৈশিষ্ট্য’ ভিত্তিক বিভাজনকে প্রাধান্য দিয়েছি। কারণ বর্ণনাকারীদের সংখ্যার ভিন্নতার মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার (سبر) সাহায্যে দূরত্ব নিরূপণ করা সম্ভব হয়।
• আমি হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) প্রত্যেক প্রকারের বিধান (حكم) বর্ণনা করেছি এবং আলেমদের মতপার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করে সেই অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি স্পষ্ট করেছি যার ওপর জমহুর মুহাদ্দিসগণ (جمهور المحدثين) একমত হয়েছেন; যেমনটি ‘মুরসাল’ (المرسل) হাদিসের বিধানের ক্ষেত্রে হয়েছে। আর এটি স্পষ্ট করা মূলত এই বিষয়টি জানার প্রবেশদ্বার যে, পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার (سبر) মাধ্যমে প্রকাশিত ত্রুটিটি (العلة) কি গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণকারী (قادحة) নাকি ক্ষুণ্ণকারী নয়; তদ্রূপ এর থেকে প্রাপ্ত ফায়দাটি কি গ্রহণযোগ্য (مقبولة) নাকি বর্জনীয় (مردودة)।
• হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) প্রত্যেক প্রকার সম্পর্কে জানার গুরুত্ব ও উপকারিতা নিয়ে আমি আলোচনা করেছি ‘এর পরিচয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার (سبر) প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনার প্রবেশদ্বার হিসেবে। আর কখনো কখনো আমি ‘গুরুত্ব’ বিষয়ক আলোচনার জন্য স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছি।
• আমি হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) প্রতিটি প্রকার চেনার ক্ষেত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার (سبر) প্রভাব বর্ণনা করেছি এবং এগুলো চেনার জন্য আলেমগণ যে সকল পন্থা নির্ধারণ করেছেন তা উল্লেখ করে সংক্ষেপে উদাহরণ পেশ করেছি। তবে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার (سبر) পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত উদাহরণসহ সবিস্তার আলোচনা করেছি।
• আমি পরস্পর বিরোধী ও সাংঘর্ষিক মাসআলাসমূহের মধ্যে প্রাধান্য নিরূপণের আলামতসমূহ স্পষ্ট করেছি। আমি এটিও ব্যক্ত করেছি যে, হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) দুই বা ততোধিক বিষয়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার (سبر) মাধ্যমে প্রাপ্ত আলামত ও প্রাধান্যদানকারী বিষয়গুলোই হলো মূল ভিত্তি। যেমন ‘সংযুক্ত সনদ’ (الوصل) ও ‘বিচ্ছিন্ন সনদ’ (الإرسال) এর মধ্যকার বিরোধ, কিংবা ‘মাওকুফ’ (الوقف) ও ‘মারফু’ (الرفع) হওয়ার মধ্যকার বিরোধ।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
• وكذلكَ دلائلَ التَّمييزِ بينَ المتشابهاتِ أو المشتبهاتِ مِنْ أنواعِ علومِ الحديثِ، كالدَّلائلِ التي تُميِّزُ المرسلَ مِنَ المزيدِ في مُتَّصلِ الأسانيدِ منَ العالي والنَّازلِ.
حيثُ إنَّ السَّبرَ وجمعَ الطُّرقِ لا تتحقَّقُ الفائدةُ الكاملةُ منهُ إلَّا بهذينِ الأخيرينِ «قرائنِ التَّرجيحِ، ودلائلِ التَّمييزِ» لمتعلَّقِهِمَا الوطيدِ بِهِ.
• مثَّلتُ بأمثلةٍ حديثيَّةٍ لكلِّ نوعٍ أو قسمٍ مِنْ أقسامِ علومِ الحديثِ، طبَّقتُ فيهَا طريقَةَ السَّبرِ في كشفِ العلَّةِ أو إبرازِ الفائدةِ، سواءٌ في المتنِ أو الإسنادِ، مُتَّبعَاً المنهجَ الآتي:
* اعتمدتُ في إيرادِ الطُّرقِ كتبَ الحديثِ المشهورةِ بمَا تتمُّ منهُ الفائدةُ، ويحصلُ بِهِ المرادُ، ببيانِ موضعِ الشَّاهدِ مِنَ الحديثِ، ولمْ أستوعبْ جميعَ الطُّرقِ، لأنَّ كلَّ حديثٍ تحتاجُ طرقُهُ لجزءٍ مُفردٍ.
* أوردتُ أوَّلَاً طريقَ الحديثِ كاملَاً، مُعتمدَاً أصحَّ الكتبِ الحديثيَّةِ «البخاريِّ فمسلمٍ فأبي داودَ فالتِّرمذيِّ فالنَّسائيِّ فابنِ ماجةَ»، أو أقدمَهَا إنْ لمْ أجدهُ في الكتبِ السِّتَّةِ، ثُمَّ بيَّنتُ مدارَ الحديثِ، ومَنْ تابعَهُ مِنَ الرُّواةِ، ومَنْ أخرجَ كلَّ متابعةٍ مِنْ أصحابِ المصنَّفاتِ، مُكتفيَاً باسمِ المُصَنَّفِ ورقَمِ الحديثِ فيهِ.
وقدْ أُوردُ بعضَ الشَّواهدِ للحديثِ التي تفيدُ في تأكيدِ ما تمَّ بيانُهُ، ثمَّ أُبيِّنُ العلَّةَ أو الفائدةَ وموضِعَهَا مِنَ الحديثِ وواضِعَهَا مِنَ الرُّواةِ.
• তেমনিভাবে হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যকার সদৃশ বা অস্পষ্ট বিষয়াবলির মধ্যে পার্থক্যকরণের প্রমাণাদিও আলোচিত হয়েছে। যেমন উচ্চতর (عالي) ও নিম্নতর (نازل) সনদের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন সনদে অতিরিক্ত বর্ণনাকারী (المزيد في متصل الأسانيد) থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসকে পার্থক্যকারী প্রমাণসমূহ।
কেননা পর্যবেক্ষণ (سبر) এবং সনদ সংগ্রহ (جمع الطرق) থেকে পূর্ণ ফায়দা হাসিল করা সম্ভব নয় এই শেষোক্ত দুটি বিষয় অর্থাৎ «দালিলিক অগ্রাধিকারের আলামত (قرائن التَّرجيح) এবং পার্থক্যকরণের প্রমাণাদি (دلائل التَّمييز)» ব্যতীত; কারণ এ দুটির সাথে এর নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।
• আমি হাদিস শাস্ত্রের প্রতিটি প্রকার বা বিভাগের জন্য হাদিস থেকে উদাহরণ পেশ করেছি, যেখানে মতন (متن) অথবা সনদ (إسناد) -এর ত্রুটি (علة) উদঘাটন কিংবা কোনো উপকারিতা ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে আমি পর্যবেক্ষণ (سبر) পদ্ধতি প্রয়োগ করেছি এবং নিম্নোক্ত কর্মপন্থা অনুসরণ করেছি:
* সনদসমূহ (طرق) বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি যাতে প্রয়োজনীয় উপকারিতা অর্জিত হয় এবং লক্ষ্য পূর্ণ হয়। এক্ষেত্রে হাদিসের সমর্থনকারী অংশের (شاهد) স্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে আমি সমস্ত সনদ (طرق) অন্তর্ভুক্ত করিনি, কারণ প্রতিটি হাদিসের সনদসমূহ আলোচনার জন্য স্বতন্ত্র খণ্ডের প্রয়োজন।
* প্রথমে আমি একটি হাদিসের পূর্ণাঙ্গ সনদ (طرق) উল্লেখ করেছি। এক্ষেত্রে আমি সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি (বুখারি, এরপর মুসলিম, এরপর আবু দাউদ, এরপর তিরমিজি, এরপর নাসায়ি এবং এরপর ইবনে মাজাহ)। যদি কুতুবে সিত্তাহ গ্রন্থে তা না পাই, তবে প্রাচীনতম গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করেছি। অতঃপর হাদিসের মূল আবর্ত (مدار الحديث) বর্ণনা করেছি এবং বর্ণনাকারীদের (رواة) মধ্য থেকে কে তাকে অনুসরণ করেছেন (تابعه) এবং গ্রন্থকারদের মধ্য থেকে কে প্রতিটি অনুসরণমূলক বর্ণনা (متابعة) সংকলন করেছেন তা উল্লেখ করেছি; এক্ষেত্রে গ্রন্থের নাম এবং হাদিস নম্বর উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।
কখনো কখনো আমি হাদিসের কিছু সমর্থনকারী বর্ণনা (شواهد) উল্লেখ করেছি যা পূর্বোল্লিখিত বিষয়ের দৃঢ়তায় সহায়ক হয়। অতঃপর আমি ত্রুটি (علة) বা উপকারিতা এবং হাদিসের কোথায় তার অবস্থান এবং বর্ণনাকারীদের (رواة) মধ্যে কে তার সূত্রপাতকারী তা স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
* بيَّنتُ في الحاشيةِ مراتبَ الرُّواةِ المُتابِعينَ في الأمثلةِ التي سبرتُهَا، فإذَا كانَ الرَّاوي مُجمعَاً على ثقتِهِ أو ضعفِهِ اكتفيتُ بتقريبِ ابنِ حجرٍ، فأوردتُ اسمَهُ ونسبَهُ وكنيتَهُ ولقبَهُ، ثمَّ تاريخَ وفاتِهِ، ومرتبَتَهُ، ومَنْ أخرجَ لهُ. وإنْ كانَ فيهِ خلافٌ أوردتُ كلامَ أئمَّة الجرحِ والتَّعديلِ والخلاصةَ في الرَّاوي، فإذَا تكرَّرَ اسمُ الرَّاوي في حديثٍ آخرَ أحلتُ على مكانِ ترجمتِهِ الأولى معَ ذكرِ رقمِ الصَّفحةِ مِنَ الكتابِ.
* ألحقتُ بذلكَ كلِّهِ أقوالَ الأئمَّةِ الأعلامِ مِنَ المحدثينَ، في بيانِ علَّةِ الحديثِ وفوائدِهِ، تأصيلَاً للنَّتيجةِ، وكعاضدٍ وشاهدٍ لما توصَّلتُ إليهِ.
• قمتُ بصناعةِ فهارسَ فنيَّةً للكتابِ، ضمَّتْ فهرساً للموضوعاتِ، وثبتاً للمصادرِ والمراجعِ.
* * *
هذَا ولا بُدَّ في كلِّ عملٍ مِنْ
صعوباتٍ تعترضُ المؤلِّفَ، أُجملُهَا بمَا يأتي:
1 - فقدانُ المُؤلَّفاتِ المُفردةِ في مسألةِ السَّبرِ عندَ المحدِّثينَ، وندرةُ الأبحاثِ المدوَّنةِ فيهِ، ممَّا حدَا بي لأنْ اعتمدَ استقراءَ صنيعِ المحدِّثينَ ومناهِجِهِمْ، وجمعَ شتاتِ أقوالِهِمْ، ولا تخفى صعوبةُ ووعورةُ ذلكَ في كتابٍ واحدٍ يتضمَّنُ جُلَّ مباحثِ علومِ الحديثِ.
2 - عدمُ وجودِ مُصنَّفاتٍ مُتخصِّصةٍ بتراجمَ لبعضِ العلماءِ المعاصرينَ، ممَّا كانَ يضطرُّني للاعتمادِ على الشَّبكةِ العنكبوتيَّةِ في تراجِمِهِمْ، والمعلومُ أنَّ الشَّبكةَ ليستْ مصدرَاً علميَّاً يُمكنُ الوثوقُ بِهِ والتَّوثيقُ منهُ.
* আমি টীকায় সেই সব উদাহরণে অনুগামী (متابع) রাবীগণের মান বর্ণনা করেছি যেগুলোকে আমি পরীক্ষা (سبر) করেছি। যদি রাবীর নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) অথবা দুর্বলতার (ضعيف) বিষয়ে ঐকমত্য থাকে, তবে আমি ইবনে হাজারের তাকরিব-এর ওপর নির্ভর করেছি; যেখানে আমি তার নাম, বংশপরিচয়, উপনাম, লকব, মৃত্যুর তারিখ, মান এবং কারা তার হাদিস বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছি। আর যদি রাবীর বিষয়ে মতভেদ থাকে, তবে আমি জারহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) ইমামগণের বক্তব্য এবং রাবী সম্পর্কে সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছি। যদি অন্য কোনো হাদিসে রাবীর নাম পুনরায় আসে, তবে আমি গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বরসহ তার প্রথম জীবনী আলোচনার স্থানের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।
* এর সাথে আমি প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ইমামগণের বক্তব্যসমূহ যুক্ত করেছি, যাতে হাদিসের ত্রুটি (علة) ও এর উপকারিতাগুলো স্পষ্ট হয়, যা গবেষণালব্ধ ফলাফলকে তাত্ত্বিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে এবং আমি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি তার জন্য সহায়ক ও সাক্ষী (شاهد) হিসেবে কাজ করে।
• আমি বইটির জন্য একটি পদ্ধতিগত নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি, যার মধ্যে বিষয়সূচি এবং উৎস ও সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
* * *
বস্তুত প্রতিটি কাজেই কিছু
অসুবিধা লেখকের সামনে আসে, যা আমি নিম্নে সংক্ষেপে উল্লেখ করছি:
1 - মুহাদ্দিসগণের নিকট পরীক্ষা (سبر) পদ্ধতির ওপর স্বতন্ত্র রচনার অভাব এবং এ বিষয়ে লিখিত গবেষণার বিরলতা; যা আমাকে মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি ও মানহাজ পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করতে এবং তাঁদের বিক্ষিপ্ত বক্তব্যসমূহ একত্রিত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। একটি একক গ্রন্থে হাদিস বিজ্ঞানের অধিকাংশ মৌলিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার কাঠিন্য ও জটিলতা কারো অজানা নয়।
2 - কিছু সমসাময়িক আলেমদের জীবনী বিষয়ক বিশেষায়িত গ্রন্থের অনুপস্থিতি, যার ফলে তাঁদের জীবনীর জন্য আমাকে ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, ইন্টারনেট এমন কোনো ইলমি উৎস নয় যার ওপর আস্থা রাখা যায় বা যা থেকে প্রামাণিক তথ্য গ্রহণ করা যায়।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
3 - مِنَ المسائلِ التي لم توفَّ حقَّهَا مِنَ الدِّراسةِ بشكلٍ تامٍ وكاملٍ، مسألتانِ غايةً في الأهميَّةِ، وهمَا: «أثرُ السَّبرِ في الحكمِ على الرِّجالِ» و «قرائنُ التَّرجيحِ ودلائلُ التَّمييزِ». لضيقِ الكتابِ عنِ استيعابِهَا، ولقلَّةِ المصادِرِ والمراجعِ التي تكلَّمتْ فيهَا، ولحاجَتِهَا إلى دراسةٍ مُفردةٍ مُستقلَّةٍ، وإنَّني أهيبُ بطلبةِ العلمِ أنْ يُفردُوا هاتينِ المسألتينِ بالدِّراسةِ:
مسألةُ «أثرُ السَّبرِ في الحكمِ على الرِّجالِ» باستقراءِ منهجِ ابنِ عديٍّ في «الكاملِ»، وابنِ حبَّانَ في «الثِّقاتِ» و «المجروحينَ»، ومنهجِ ابنِ حجرٍ في مرتبةِ المقبولِ في «التقريبِ».
ومسألةُ «قرائنُ التَّرجيحِ ودلائلُ التَّمييزِ» بالتَّوسُّعِ في ذكرِ القرائنِ الخاصَّةِ التي تخصُّ كلَّ نوعٍ مِنْ أنواعِ علومِ الحديثِ، بناءً على ما ذكرَهُ ابنُ الصَّلاحِ وفصَّلَهُ العراقيُّ «ت 806 هـ» في «التقييدِ والإيضاحِ»
(1)، كمَا ينبغي تفصيلُ ما يصلحُ مِنَ القرائنِ على قواعدِ المحدِّثينَ، وما لا يصلحُ منهَا ممَّا يختصُّ بالأصوليِّينَ أو الفقهاءِ أو اللُّغويينَ أو غيرِهِمْ، وتبيينُ ما كانَ مِنَ القرائنِ دلالتُهُ دلالةٌ قطعيَّةٌ أو ظنيَّةٌ
(2).
--------------------------------------------
3 - যে বিষয়গুলো গবেষণার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথভাবে পর্যালোচনার হক আদায় করা হয়নি, তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হলো: ‘রাবিদের (الرجال) মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) প্রভাব’ এবং ‘অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) নিদর্শন ও পার্থক্য নির্ণয়ের (التمييز) আলামতসমূহ’। গ্রন্থটির কলেবর বিষয় দুটিকে বিস্তারিতভাবে ধারণ করার মতো প্রশস্ত না হওয়ায়, এ বিষয়ে আলোচনা করে এমন উৎস ও তথ্যসূত্র সীমিত থাকায় এবং বিষয় দুটির জন্য স্বতন্ত্র ও স্বাধীন গবেষণার প্রয়োজনীয়তা থাকায় আমি ইলম অন্বেষণকারীদের আহ্বান জানাচ্ছি তারা যেন এই বিষয় দুটিকে গবেষণার জন্য পৃথকভাবে বেছে নেন:
‘রাবিদের (الرجال) মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) প্রভাব’ শীর্ষক বিষয়টি ইবনে আদির ‘আল-কামিল’, ইবনে হিব্বানের ‘আস-সিকাত’ ও ‘আল-মাজরুহীন’ এবং ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থে ‘গ্রহণযোগ্য’ (المقبول) স্তরের রাবিদের ক্ষেত্রে ইবনে হাজারের মানহাজ বা কর্মপন্থা পর্যালোচনার মাধ্যমে হতে পারে।
আর ‘অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) নিদর্শন ও পার্থক্য নির্ণয়ের (التمييز) আলামতসমূহ’ শীর্ষক বিষয়টি হাদিস বিজ্ঞানের প্রতিটি প্রকারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ নিদর্শনসমূহের (القرائن) বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যমে হতে পারে; যা ইবনেুস সালাহ উল্লেখ করেছেন এবং আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হি.) ‘আত-তাকয়ীদ ওয়াল ইহদাহ’
(1) গ্রন্থে বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে মুহাদ্দিসগণের মূলনীতি অনুযায়ী যে সব নিদর্শন (القرائن) গ্রহণযোগ্য এবং যে সব নিদর্শন গ্রহণযোগ্য নয় (যা উসুলবিদ, ফকিহ, ভাষাবিদ বা অন্যদের জন্য খাস) সেগুলো সবিস্তারে বর্ণনা করা প্রয়োজন। সেই সাথে কোন নিদর্শনগুলো (القرائن) অকাট্য (قطعية) প্রমাণ বহন করে আর কোনগুলো ধারণাভিত্তিক (ظنية) প্রমাণ বহন করে তাও স্পষ্ট করা জরুরি।
(2)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وكذلكَ دلائلُ التَّمييزِ بينَ المشتبهِ مِنْ أنواعِ علومِ الحديثِ، مُشفَعَاً بالأمثلةِ المستفيضةِ
(1).
وتكمنُ قيمةُ النَّتائجِ التي توصَّلتُ إليهَا أنَّها جاءتْ موافقةً ومطابقةً لمَا قعَّدَهُ ونصَّ عليهِ الأئمَّةُ المحدِّثونَ، وإذَا صحَّ المسلكُ صدقتِ النَّتيجةُ، حرصتُ مِنْ كلِّ ذلكَ الدَّعوةَ إلى دراسةِ أُصولِ الحديثِ على مناهجِ المحدِّثينَ العمليَّةِ والتَّطبيقيَّةِ.
* * *
هذَا وقدْ كُنْتُ أسألُ اللهَ تعالى الفتحَ في هذِا الكتابِ دُبُرَ كلِّ صلاةٍ، وابتداءَ كلِّ شغلٍ بهِ راجياً منَ اللهَ أنْ يكونَ قدِ استجابَ الدُّعاءَ وبلَّغَ الرَّجاءَ، وأسألُهُ في الختامِ أنْ يتقبَّلَهُ خالصاً مُخلصاً لوجهِهِ الكريمِ، وأنْ يضعَ لهُ القبولَ والنفعَ عندَ الناسِ.
اللهمَّ إنْ كانَ توفيقٌ فمنكَ وحدكَ، فلكَ الحمدُ والمنَّةُ، وإنْ كانَ تقصيرٌ فمنِّي، فاعفُ عنِّي برحمتكِ يا أرحمَ الرَّاحمينَ.
وآخرُ دعوانَا أنِ الحمدُ للهِ ربِّ العالمينَ
وكتبه: عبد الكريم محمد جراد
--------------------------------------------
এবং একইভাবে হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদগুলোর (أنواع علوم الحديث) মধ্যে সদৃশ বিষয়গুলোর (المشتبه) পার্থক্যের নির্দেশনাবলী বিস্তারিত উদাহরণসহ বর্ণনা করা হয়েছে
(১)।
আমি যেসব সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি সেগুলোর গুরুত্ব এখানে নিহিত যে, সেগুলো মুহাদ্দিস ইমামগণের প্রণীত ও বর্ণিত মূলনীতিসমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। আর কর্মপন্থা সঠিক হলে ফলাফলও যথার্থ হয়। এসবের মাধ্যমে আমি মুহাদ্দিসগণের বাস্তব ও ফলিত পদ্ধতির আলোকে হাদিসের মূলনীতিসমূহ (أصول الحديث) অধ্যয়নের প্রতি আহ্বান জানানোর চেষ্টা করেছি।
* * *
আমি প্রত্যেক সালাতের পর এবং এই কিতাবের কাজ শুরু করার প্রাক্কালে আল্লাহর কাছে এর সফলতার জন্য প্রার্থনা করতাম। আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে তিনি আমার দুআ কবুল করেছেন এবং আশা পূর্ণ করেছেন। পরিশেষে আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং মানুষের মাঝে একে গ্রহণযোগ্য ও উপকারী করেন।
হে আল্লাহ! যদি কোনো তাওফিক হয়ে থাকে তবে তা একমাত্র আপনার পক্ষ থেকে, তাই সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আপনারই। আর যদি কোনো ত্রুটি থেকে থাকে তবে তা আমার পক্ষ থেকে, সুতরাং হে আরহামার রাহিমিন! আপনি আপনার রহমতে আমাকে ক্ষমা করুন।
আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন: আব্দুল কারিম মুহাম্মদ জারাদ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
البَابُ الأوَّلُ السَّبْرُ - مَفْهُومُهُ - أَهَمِّيَّتُهُ - الحَاجَةُ إِلَيهِ
الفَصْلُ الأَوَّلُ: تَعْرِيفُهُ - مُصْطَلَحَاتُهُ - أَهَمِّيَّتُهُ - وَمَا يَتَعَلَّقُ بِذَلِكَ:
المَبْحَثُ الأَوَّلُ: التَّعْرِيفُ، وَالمُصْطَلَحَاتُ:
المَطْلَبُ الأَوَّلُ: تَعْرِيفُ السَّبْرِ:السَّبْر: لغةً: بفتحِ السِّينِ وسكونِ الباءِ، مصدرُ سبرَ.
لِلسَّبرِ في اللُّغةِ معانٍ عدَّةٌ، نُبيِّنُهَا فيمَا يأتي:
أولاً: الحزْرُ والتَّجربةُ: قالَ ابنُ منظورٍ: «السَّبرُ: التَّجربةُ، سَبَرَ الشَّيءَ سَبْراً: حَزَرَهُ وَخَبَرَهُ»
(1). وقالَ الفراهيديُّ: «سَبَرَ ما عندَهُ: أي جرَّبَهُ»
(2). وقالَ ابنُ فارسٍ: «السَّبرُ: هوَ روزُ الأمرِ»
(3). أي: تجربتُهُ.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: আস-সাবর (السبر) - এর ধারণা - এর গুরুত্ব - এর প্রয়োজনীয়তা
প্রথম পরিচ্ছেদ: এর সংজ্ঞা - এর পরিভাষাসমূহ - এর গুরুত্ব - এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াদি:
প্রথম পরিপাঠ: সংজ্ঞা এবং পরিভাষাসমূহ:
প্রথম অনুচ্ছেদ: আস-সাবর (السبر)-এর সংজ্ঞা:আস-সাবর (السبر): আভিধানিকভাবে: 'সীন' বর্ণে ফাতহা (জবর) এবং 'বা' বর্ণে সুকুন (سكون) যোগে, এটি 'সাবারা' (سبر) এর মাসদার (ক্রিয়ামূল)।
আভিধানিক অর্থে 'সাবর' (السبر)-এর বেশ কিছু অর্থ রয়েছে, যা নিচে বর্ণনা করা হলো:
প্রথমত: অনুমান করা এবং পরীক্ষা করা: ইবনে মানজুর বলেছেন: «আস-সাবর (السبر) হলো পরীক্ষা করা; কোনো কিছুকে 'সাবর' করা অর্থ হলো সেটি অনুমান করা বা পরিমাপ করা এবং তা যাচাই করা (خبره)»
(১)। আল-ফারাহিদি বলেছেন: «তার নিকট যা আছে সে তা 'সাবর' করেছে: অর্থাৎ সে তা পরীক্ষা করেছে»
(২)। ইবনে ফারিস বলেছেন: «আস-সাবর (السبر) হলো কোনো বিষয়ের স্বরূপ বা গভীরতা যাচাই করা»
(৩)। অর্থাৎ: সেটির পরীক্ষা করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ثانياً: الاختبارُ والامتحانُ: قالَ ابنُ منظورٍ: «سَبَرَ الجرحَ يسبُرُهُ: نظرَ مقدارَهُ وقاسَهَ لِيَعرفَ غورَهُ»
(1). قالَ ابنُ الأثيرِ: «وفي حديثِ الغارِ، قال أبو بكرٍ رضي الله عنه للنبيِّ صلى الله عليه وسلم: "لا تَدْخُلْهُ حَتَّى أَسْبُرَهُ قَبْلَكَ". أي أَختَبِرَه وأعتبرَهُ وأنظُرَ هل فيهِ أحدٌ، أو شيءٌ يؤذِي»
(2). قالَ الزَّمخشريُّ «وَمِنَ المَجَازِ: خَبَرْتُ فُلَاناً وَسَبَرْتُهُ»
(3).
وقالَ ابنُ دريدٍ: «سَبَرْتُ الرَّجُلَ: إِذَا بَلَوتُهُ»
(4). وقالَ الزُّبيديُّ: «السَّبرُ: بفتحٍ فسكونٍ: امتحانُ غورِ الجرحِ وغيرِهِ»
(5).
ثالثاً: النَّظَرُ والتَّأمُّلُ: قالَ الفيُّوميُّ: «سَبَرْتَ القَومَ: تَأَمَّلتَهُمْ وَاحَدَاً بَعْدَ وَاحِدٍ لِتَعْرِفَ عَدَدَهُمْ»
(6).
رابعاً: القياسُ والاعتبارُ: قالَ ابنُ الأثيرِ: «حَتَّى أَسْبُرَه: أَي أَعْتَبِرَه»
(7). قالَ الأزهريُّ: «السَّبْرُ: مَصدرُ سَبَرْتُ الجرْحَ أسبُره سَبْراً: إذا قِسْتُهُ ليُعرَفَ غَورُهُ»
(8). قالَ الطَّالقانيُّ: «السِّبَارُ: القِيَاسُ»
(9). والقياسُ يكونُ لمقدارِ الشَّيءِ بمفردِهِ، ويكونُ أيضَاً لقياسِ الشَّيءِ على الشَّيءِ.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: পরীক্ষা (اختبار) ও নিরীক্ষা (امتحان): ইবনে মঞ্জুর বলেন: «ক্ষতস্থান পরীক্ষা করা: তার গভীরতা জানার জন্য তার পরিমাণ দেখা ও পরিমাপ করা»
(১)। ইবনে আল-আসির বলেন: «গুহার হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু বকর (রা.) নবি (সা.)-কে বললেন: "আমি আপনার আগে তা পরীক্ষা করার (أَسْبُرَهُ) পূর্ব পর্যন্ত আপনি তাতে প্রবেশ করবেন না।" অর্থাৎ আমি তা পরীক্ষা করব, মূল্যায়ন (أعتبرَهُ) করব এবং দেখব সেখানে কোনো ব্যক্তি বা কষ্টদায়ক কিছু আছে কি না»
(২)। আল-জামাকশারি বলেন: «রূপক অর্থে: আমি অমুক ব্যক্তিকে পরীক্ষা করেছি ও যাচাই (سَبَرْتُهُ) করেছি»
(৩)।
ইবনে দুরাইদ বলেন: «আমি লোকটিকে যাচাই করেছি: যখন আমি তাকে পরীক্ষা করেছি»
(৪)। আজ-জাবিদি বলেন: «আস-সাবর (السَّبرُ): ফাতহা ও সুকুন সহযোগে: ক্ষতস্থান ও অন্যান্য বিষয়ের গভীরতা পরীক্ষা (امتحان) করা»
(৫)।
তৃতীয়ত: পর্যবেক্ষণ ও গভীর চিন্তা: আল-ফাইয়ুমি বলেন: «তুমি কওমকে পর্যবেক্ষণ করেছ: অর্থাৎ তুমি তাদের সংখ্যা জানার জন্য একে একে সবাইকে গভীরভাবে লক্ষ্য করেছ»
(৬)।
চতুর্থত: পরিমাপ (قياس) ও মূল্যায়ন (اعتبار): ইবনে আল-আসির বলেন: «যাতে আমি তা পরীক্ষা (أَسْبُرَه) করতে পারি: অর্থাৎ আমি তা মূল্যায়ন (أَعْتَبِرَه) করি»
(৭)। আল-আজহারি বলেন: «আস-সাবর (السَّبْرُ): এটি ক্ষতস্থান পরীক্ষা করার ক্রিয়ামূল: যখন আমি এর গভীরতা জানার জন্য পরিমাপ (قِسْتُهُ) করি»
(৮)। আল-তালকানি বলেন: «আস-সিবার (السِّبَارُ): পরিমাপ (القِيَاسُ)»
(৯)। পরিমাপ (قياس) কখনো কোনো বস্তুর একক পরিমাণের জন্য হয়, আবার কখনো এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে তুলনা (قياس) করার জন্যও হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
خامساً: التَّقديرُ: قالَ ابنُ الأعرابيِّ: «سَبَرَ: إِذَا قَدَّرَ»
(1). وقالَ ابنُ دُريدٍ: «أَسبُرُهُ سَبْرَاً: إِذَا قَدَّرْتُ قَعْرَهُ»
(2).
سادساً: العِلمُ والمعرفةُ: قالَ ابنُ منظورٍ: «اِسْبِرْ لِي مَا عِنْدَهُ: أَي: اِعْلَمْهُ»
(3). وقالَ الزَّمخشريُّ: «وَفِيهِ خَيرٌ كَثِيرٌ لَا يُسْبَرُ، وَهَذَا أَمْرٌ عَظِيمٌ لَا يُسْبَرُ، وَهَذِهِ مَفَازَةٌ لَا تُسْبَرُ: لَا يُعْرَفُ قَدْرُ سِعَتِهَا»
(4). وقالَ الفيُّوميُّ: «سَبَرْتُ الجُرْحَ سَبْرَاً: تَعَرَّفتُ عُمْقَهُ»
(5).
سابعاً: استخراجُ كُنهِ الأمرِ: قالَ ابنُ منظورٍ: «السَّبْر: اسْتِخْراجُ كُنْهِ الأَمر»
(6).
السَّبْرُ: اصطلاحاً:
قبلَ أنْ نُعرِّجَ على تعريفِ المحدِّثينَ لمصطلحِ السَّبر، لا بدَّ من استقراءِ صنيعِ المحدِّثينَ في استخدامِهِم لهذَا المصطلحِ:
قالَ ابنُ حِبَّان
(7) «ت 354 هـ»: في ترجمَةِ ابنِ لَهيعَة: «سَبَرْتُ أَخْبَارَهُ فِي رِوَايَةِ المُتَقَدِّمِينَ وَالمُتَأخِّرِينَ عَنْهُ، فَرَأَيتُ التَّخْلِيطَ فِي رِوَايَةِ المُتَأخِّرِينَ مَوجُودَاً»
(8).
--------------------------------------------
পঞ্চম: পরিমাপ করা (التَّقديرُ): ইবনুল আ’রাবি বলেছেন: «সাবারা (سَبَرَ): যখন সে পরিমাপ করল»
(১)। ইবনে দুরাইদ বলেছেন: «আমি এটি পরিমাপ করি (অসবুরুহু) বিশেষভাবে পরিমাপ করা (সবারান - سَبْرَاً): যখন আমি এর গভীরতা পরিমাপ করি»
(২)।
ষষ্ঠ: জ্ঞান ও অবগতি (العِلمُ والمعرفةُ): ইবনে মানযুর বলেছেন: «আমার জন্য তার নিকট যা আছে তা নিরীক্ষণ (ইসবের - اِسْبِرْ) করো: অর্থাৎ, তা অবগত হও»
(৩)। আয-যামাখশারি বলেছেন: «এতে এমন প্রচুর কল্যাণ রয়েছে যা পরিমাপ করা (ইউসবারু - يُسْبَرُ) যায় না, এটি এমন এক মহান বিষয় যা পরিমাপ করা যায় না, এবং এটি এমন এক বিস্তৃত মরুভূমি যা পরিমাপ করা যায় না: অর্থাৎ যার বিশালতার পরিমাণ জানা যায় না»
(৪)। আল-ফাইউমি বলেছেন: «আমি ক্ষতটি পরীক্ষা করলাম (সবারতু - سَبَرْتُ): আমি এর গভীরতা অবগত হলাম»
(৫)।
সপ্তম: বিষয়ের নিগূঢ় রহস্য উন্মোচন করা (استخراجُ كُنهِ الأمرِ): ইবনে মানযুর বলেছেন: «নিরীক্ষণ (আস-সবার - السَّبْر): বিষয়ের নিগূঢ় রহস্য উন্মোচন করা»
(৬)।
নিরীক্ষণ (السَّبْرُ): পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে:
হাদিসবিশারদদের পক্ষ থেকে ‘নিরীক্ষণ’ (السَّبْر) পরিভাষাটির সংজ্ঞার দিকে যাওয়ার আগে, এই পরিভাষাটি ব্যবহারে হাদিসবিশারদদের কর্মপদ্ধতি নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করা আবশ্যক:
ইবনে হিব্বান
(৭) «মৃত্যু ৩৫৪ হিজরি»: ইবনে লাহিয়াহ-এর জীবনীতে (ترجمة) বলেছেন: «আমি তার থেকে বর্ণিত পূর্বসূরি (المُتَقَدِّمِينَ) এবং উত্তরসূরিদের (المُتَأخِّرِينَ) বর্ণনাসমূহ নিরীক্ষণ (সবারতু - سَبَرْتُ) করেছি; ফলে আমি দেখতে পেয়েছি যে, উত্তরসূরিদের বর্ণনায় সংমিশ্রণ বা বিশৃঙ্খলা (التَّخْلِيطَ) বিদ্যমান রয়েছে»
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ويكادُ يكونُ ابنُ حِبَّانَ أوَّلَ وأكثرَ منِ استخدَمَ مُصطلحَ السَّبْرِ في كتابَيهِ «الثِّقَاتِ» و «المجروحِين»
(1).
وقالَ ابنُ عَدِيٍّ
(2) «ت 365 هـ»: في ترجمةِ حبيبِ بنِ أبي الأشرَس: «فَأمَّا أَحَادِيثُهُ وَرِوَايَاتُهُ فَقَدْ سَبَرْتُهَا، وَلَا أَرَى بِهِ بَاسَاً، وَأَمَّا رَدَاءَةُ دينِهِ
… فهُمْ أَعْلَمُ وَمَا يَذْكُرُونَهُ»
(3).
وقالَ الحافظ العَلائيُّ
(4) «ت 761 هـ»، في «جامِعِ التَّحصيلِ» معلِّقَاً على حكمِ المرسَلِ عندَ الشَّافعيِّ
(5): «وَمُقْتَضَى ذَلِكَ أَنَّ مَنْ سَبَرَ أَحْوَالَ الرَّاوِي وَعَرَفَ مِنْهُ أنَّهُ لَا يُرْسِلُ إِلَّا عَنْ عَدْلٍ ثقَةٍ، يُحتَجُّ بِمُرْسَلِهِ»
(6).
وقالَ ابنُ رجبٍ الحنبليُّ
(7) «ت 795 هـ»، في «شرحِ عللِ التِّرمذيِّ» في ترجمَةِ جعفرِ بنِ بُرقَان:
--------------------------------------------
ইবনে হিব্বান সম্ভবত প্রথম এবং সর্বাধিক ব্যক্তি যিনি তাঁর 'আদ-থিকাত' এবং 'আল-মাজরুহীন' গ্রন্থদ্বয়ে 'পর্যবেক্ষণ' (السبر) পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন
(1)।
ইবনে আদি
(2) (মৃত্যু ৩৬৫ হি.) হাবিব ইবনে আবু আল-আশরাস-এর জীবনীতে বলেছেন: "তার হাদিস ও বর্ণনাসমূহ আমি পর্যবেক্ষণ (سبرت) করেছি এবং তাতে কোনো সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি না (لا أرى به بأسا)। আর তার দ্বীনদারির ত্রুটির বিষয়ে... তারাই ভালো জানেন যা তারা উল্লেখ করেন।"
(3)।
হাফিজ আল-আলাই
(4) (মৃত্যু ७৬১ হি.) 'জামি আত-তাহসিল' গ্রন্থে ইমাম শাফেয়ির
(5) নিকট বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসের বিধানের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "এর দাবি হলো এই যে, যে ব্যক্তি বর্ণনাকারীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ (سبر) করেছেন এবং জানতে পেরেছেন যে তিনি কেবল ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা (يرسل) করেন না, তবে তার বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (يحتج به) হবে।"
(6)।
ইবনে রাজাব আল-হাম্বলি
(7) (মৃত্যু ৭৯৫ হি.) 'শারহু ইলালিত তিরমিজি'-তে জাফর ইবনে বুরকানের জীবনীতে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
«قُلْتُ: لَا يَبْعُدُ أَنْ يَكُونَ حَدِيثُهُ عَنْ أَهْلِ الجَزِيرَةِ خَاصَّةً مَحْفُوظَاً بِخِلَافِ حَدِيثِهِ عَنْ غَيرِهِمْ، وَتَحْقِيقُ ذَلِكَ يَحْتَاجُ إِلَى سَبْرِ أَحَادِيثِهِ عَنْ غَيرِ الجَزَرِيِّينَ كَعِكْرِمَةَ وَنَافِعٍ»
(1).
الجامعُ بينَ هذهِ الأقوالِ أنَّهَا بيَّنتْ أنَّ السَّبرَ إنَّمَا هوَ آليَّةُ جمعِ حديثِ الرَّاوي واختبارِهَا ومقارنَتِهَا بغيرِهَا للتَّوصُّلِ إلى الأغراضِ التي ذُكرتِ فيهَا.
أمَّا تعريفُ السَّبرِ، فلعلَّ أوَّلَ مَنْ عرَّفَ السَّبرَ السَّخاويُّ في شرحِهِ لألفيَّةِ العراقيِّ، حيثُ عَرَّفَ العِرَاقِيُ «ت 806 هـ» الاعتبارَ بأنَّهُ السَّبرُ، فقالَ في ألفيَّتِهِ:
الاعتبارُ سبرُكَ الحديثَ هلْ
… شاركَ راوٍ غيرَهُ فيما حمَل
فقالَ السَّخَاويُّ
(2) «ت 902 هـ» مُفسِّراً قولَ العراقيِّ «سَبْرُكَ»: «اِخْتِيَارُكَ وَنَظَرُكَ الحَدِيثَ مِنَ الدَّوَاوِينِ المُبَوَّبَةِ وَالمُسْنَدَةِ، وَغَيرِهِمَا كَالمَعَاجِمِ وَالمَشْيَخَاتِ وَالفَوَائِدِ، لِتَنْظُرَ هَلْ شَارَكَ رَاوِيَهُ الذِي يُظَنُّ تَفَرُّدُهُ بِهِ رَاوٍ غَيرُهُ
… »
(3).
فعرَّفَ السَّبرَ على أنَّهُ الاختيارُ والنَّظرُ في طرقِ الحديثِ مِنَ الكتبِ الحديثيَّةِ المسندةِ، لغرضِ بيانِ تفرُّدِ الرَّاوي أو المرويِّ مِنْ عدمِهِ، وأنَّهُ الآليَّةُ التي يُتوصَّلُ بهَا إلى الاعتبارِ، فجعلَ الاعتبارَ غرضَاً مِنْ أغراضِ السَّبرِ.
--------------------------------------------
«আমি বলি: জাজিরাবাসীদের থেকে তাঁর বর্ণিত হাদিস বিশেষভাবে সংরক্ষিত (محفوظ) হওয়া অসম্ভব নয়, যা অন্যদের থেকে তাঁর বর্ণিত হাদিসের বিপরীত। আর বিষয়টি যাচাই করার জন্য জাজিরাবাসী ব্যতীত অন্যদের থেকে—যেমন ইকরিমাহ ও নাফে’ থেকে—তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ পর্যালোচনা (سبر) করা প্রয়োজন।»
(১).
এই বক্তব্যগুলোর সারকথা হলো—এগুলো স্পষ্ট করেছে যে, পর্যালোচনা (سبر) হলো বর্ণনাকারীর হাদিস সংগ্রহ, পরীক্ষা এবং সেগুলোকে অন্যদের সাথে তুলনা করার একটি কৌশল, যাতে সেখানে উল্লিখিত উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করা যায়।
পর্যালোচনার (سبر) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সম্ভবত ইমাম সাখাভিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি আলফিয়্যাতুল ইরাকি-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। সেখানে ইমাম ইরাকি (মৃত্যু: ৮০৬ হিজরি) পর্যবেক্ষণকে (الاعتبار) পর্যালোচনা (سبر) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তিনি তাঁর আলফিয়্যায় বলেছেন:
পর্যবেক্ষণ (الاعتبار) হলো হাদিস নিয়ে তোমার পর্যালোচনা (سبر), যাতে দেখা হয়
… অন্য কোনো বর্ণনাকারী তাঁর প্রাপ্ত বর্ণনায় শরিক হয়েছেন কি না।
অতঃপর ইমাম সাখাভি
(২) (মৃত্যু: ৯০২ হিজরি) ইরাকির উক্তি "তোমার পর্যালোচনা" (سبرك)-এর ব্যাখ্যায় বলেন: "অধ্যায়ভিত্তিক ও মুসনাদ হাদিস সংকলন এবং অন্যান্য গ্রন্থ যেমন মু'জাম, মাশইয়াখাহ ও ফাওয়ায়েদ থেকে তোমার হাদিস বাছাই ও নিরীক্ষণ করা, যাতে তুমি দেখতে পারো যে—যে বর্ণনাকারীকে এই হাদিস বর্ণনায় একক (تفرد) বলে মনে করা হচ্ছিল, অন্য কোনো বর্ণনাকারী তাঁর সাথে শরিক হয়েছেন কি না
… "
(৩).
সুতরাং তিনি পর্যালোচনার (سبر) সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, এটি হলো মুসনাদ হাদিস গ্রন্থসমূহ থেকে হাদিসের সূত্রসমূহ (طرق) বাছাই ও নিরীক্ষণ করা, যার উদ্দেশ্য হলো বর্ণনাকারীর বা বর্ণিত বিষয়ের একক হওয়া (تفرد) বা না হওয়া স্পষ্ট করা। আর এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে (الاعتبار) পৌঁছানো যায়। ফলে তিনি পর্যবেক্ষণকে (الاعتبار) পর্যালোচনার (سبر) অন্যতম একটি লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقالَ الصَّنعانيُّ: «وَاعْتِبَارُهُ يَكُونُ بِسَبْرِهِ: أَي المُحَدِّثُ، أي بِتَتَبُّعِهِ طُرُقَ الحَدِيثِ لِيَعْرِفَ المُحَدِّثُ هَلْ يُشَارِكُهُ، أَي يُشَارِكُ الرَّاوِي فِي رِوَايَةِ ذَلِكَ الحَدِيثِ الذِي سَبَرَ طُرُقَهُ رَاوٍ غَيرِهِ»
(1).
فعرَّفَ الصنعانيُّ السَّبرَ بأنَّهُ التَّتبُّعُ، كمَا بيَّنَ أنَّ الآليَّةَ الموصلةَ للاعتبارِ هيَ السَّبرُ.
وقدْ عرَّفَ الدكتورُ أحمدُ العزيُّ «السَّبرَ» في معرضِ حديثِهِ عَنِ ابنِ عديٍّ ومنهجِهِ في كتابِهِ «الكاملِ»، فقالَ: «اِسْتِقْصَاءُ مَروِيَّاتِ الحَدِيثِ الوَاحِدِ، وَتَتَبُّعِ طُرُقِهِ، ثُمَّ اخْتِبَارُهَا، وَمُوَازَنَتُهَا بِرِوَايَاتِ الثِّقَاتِ». ثمَّ قالَ مُبيِّناً ما اشتملَ عليهِ التَّعريفِ: «فَقِوَامُهُ اسْتِنَاداً لِهذَا التَّعرِيفِ أَمْرَانِ هُمَا: الأَوَّلُ: اسْتِقْصَاءُ رِوَايَاتِ الحَدِيثِ: وَهَذَا يَعنِي أَنْ يَجْمَعَ النَّاقِدُ رِوَايَاتِ الحَدِيثِ الوَاحِدِ جَمْعَ اسْتِقْصَاءٍ وَإِحَاطَةٍ
…الأمرُ الثَّاني: الاِخْتِبَارُ، أي اِعْتِبَارُ تِلْكَ الرِّوَايَاتِ، وَالنَّظَرُ فِيمَنْ شُورِكَ مِنْ رُوَاتِهَا، وَتُوبِعَ مِمَّنْ تَفَرَّدَ أَوْ خَالَفَ؛ وَهَذَا يَقتَضِي مَعْرِفَةَ مُتَابَعَاتِ تِلكَ الرِّوَايَةِ وَشَوَاهِدِهَا، ثُمَّ مُوَازَنَتِهَا مَعَ مَروِيَّاتِ الرَّاوِي، وَالحُكْمَ عَلَيهِ»
(2).
والملاحظُ أنَّ «الدكتور العزيَّ» قصرَ تعريفَ السَّبرِ في الحكمِ على الرُّواةِ مِنْ خِلالِ أحاديثِهِمْ، وذلكَ أحدُ أغراضِ السَّبرِ، وهوَ يتماشى معَ طبيعةِ بحثِهِ في الكلامِ على منهجِ ابنِ عديٍّ في الكاملِ، إلَّا أنَّهُ أشارَ إلى أثرِ السَّبرِ في معرفةِ أنواعِ علومِ الحديثِ المتعلِّقةِ بالمتنِ والإسنادِ إشارةً وجيزةً.
--------------------------------------------
আল-সানআনি বলেন: «আর হাদিসের পর্যালোচনা (اعتبار) হয় তার যাচাই-বাছাইয়ের (سبر) মাধ্যমে: অর্থাৎ হাদিস বিশারদ (محدث) কর্তৃক হাদিসের সূত্রসমূহ অনুসন্ধান (تتبع) করার মাধ্যমে, যাতে হাদিস বিশারদ জানতে পারেন যে, উক্ত বর্ণনাকারীর (راوٍ) সাথে অন্য কোনো বর্ণনাকারী সেই হাদিসটি বর্ণনায় অংশীদার হয়েছে কি না, যার সূত্রসমূহ তিনি যাচাই-বাছাই করেছেন»
(1).
এভাবে আল-সানআনি যাচাই-বাছাইকে (سبر) অনুসন্ধান (تتبع) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। পাশাপাশি তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, পর্যালোচনা (اعتبار) পর্যন্ত পৌঁছানোর মাধ্যম হলো যাচাই-বাছাই (سبر)।
ডক্টর আহমাদ আল-ইজ্জি ইবনে আদি এবং তাঁর গ্রন্থ আল-কামিল-এ তাঁর মানহাজ সম্পর্কে আলোচনার প্রাক্কালে ‘যাচাই-বাছাই’ (سبر)-এর সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেন: «একটি নির্দিষ্ট হাদিসের বর্ণিত সকল বর্ণনা সবিস্তারে অনুসন্ধান করা এবং এর সূত্রগুলো তালাশ করা (تتبع), অতঃপর সেগুলো পরীক্ষা (اختبار) করা এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (ثقات) বর্ণনার সাথে সেগুলোর তুলনা (موازنة) করা»। অতঃপর তিনি সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করে বলেন: «এই সংজ্ঞা অনুযায়ী এর ভিত্তি হলো দুটি বিষয়: প্রথমটি: হাদিসের বর্ণনাগুলো সবিস্তারে অনুসন্ধান করা। এর অর্থ হলো, একজন সমালোচক (ناقد) একটি একক হাদিসের বর্ণনাগুলো সবিস্তারে এবং সামগ্রিকভাবে সংগ্রহ করবেন
…দ্বিতীয়টি: পরীক্ষা (اختبار), অর্থাৎ উক্ত বর্ণনাগুলোর পর্যালোচনা (اعتبار) করা এবং এটা দেখা যে, বর্ণনাকারীদের মধ্যে কে বর্ণনায় অংশীদার হয়েছেন, কার বর্ণনার সমর্থন (متابعة) পাওয়া গেছে এবং কে একক বর্ণনা (تفرد) করেছেন কিংবা বিরোধিতা (مخالفة) করেছেন; আর এটি উক্ত বর্ণনার সমর্থনমূলক বর্ণনা (متابعات) এবং সাক্ষী বর্ণনাগুলো (شواهد) জানার দাবি রাখে। অতঃপর বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদিসগুলোর সাথে সেটির তুলনা (موازنة) করা এবং তার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করা»
(2).
লক্ষণীয় যে, ডক্টর আল-ইজ্জি যাচাই-বাছাইয়ের (سبر) সংজ্ঞাকে বর্ণনাকারীদের হাদিসের আলোকে তাদের ওপর হুকুম প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। এটি যাচাই-বাছাইয়ের (سبر) অন্যতম উদ্দেশ্য এবং এটি আল-কামিল গ্রন্থে ইবনে আদির মানহাজ সম্পর্কে তাঁর আলোচনার প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তিনি মূল পাঠ (متن) এবং সনদ (إسناد) সংশ্লিষ্ট হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন প্রকারভেদ নির্ণয়ে যাচাই-বাছাইয়ের (سبر) প্রভাবের দিকেও একটি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত প্রদান করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وقدْ أشارَ الدكتور منصورُ الشَّرايريُّ في كتابِهِ «نظريَّةُ الاعتبارِ عندَ المحدِّثينَ» إلى تعريفِ الدكتورِ العزيِّ، ثمَّ قالَ مُعقِّباً: «وَهَذَا الذِي قَالَهُ الدُّكتورُ العِزِّيُّ صَحِيحٌ، إِلَّا أَنَّنِي وَجَدْتُ أَنَّ المُحَدِّثِينَ أَكْثَرُ مَا يَسْتَعْمِلُونَ السَّبْرَ فِي اسْتِقْصَاءِ جَمِيعِ أَحَادِيثِ الرَّاوِي، ثُمَّ اخْتِبَارِهَا، بِعَرْضِهَا عَلَى أَحَادِيثِ الثِّقَاتِ لِمعرِفَةِ مَا أَصَابَ فِيهِ الرَّاوِي مِمَّا أَخْطَأَ فِيهِ، وَبِالآَتِي الحُكْمَ عَلَيهِ بِمَا يُنَاسِبُ حَالَهُ جَرْحَاً وَتَعْدِيلَاً، فَغَرَضُ السَّبرِ عِنْدَ المُحَدِّثِينَ هُوَ اخْتِبَارُ الرَّاوِي، وَمَعْرِفَةُ مَدَى عَدَالَتِهِ وَضَبْطِهِ، وَإِنْ كَانَ هَذَا لَا يَكُونُ إِلَّا بَعْدَ اخْتِبَارِ أَحَادِيثِهِ وَاحِدَاً وَاحِدَاً»
(1).
وما بيَّنهُ فيهِ نظرٌ كبيرٌ، لأنَّ من استقرأَ صنيعَ المحدِّثينَ وجدَ أنَّهمْ استخدمُوا السَّبرَ كمرادفٍ ل «جمعِ الطُّرقِ والتَّتبعِ والاستقراءِ والاستقصاءِ
… ثمَّ الاختبارِ»، للأغراضِ التي يُؤدِّي إليهَا مِنْ حكمٍ على الرَّاوي والمرويِّ، وكشفِ العلَّةِ، وإبرازِ الفائدةِ، وبالتَّالي معرفةِ كلِّ نوعٍ مِنْ أنواعِ علومِ الحديثِ المتعلِّقةِ بالمتنِ والإسنادِ.
ومنْ خلالِ ما تقدَّمَ نجدُ أنَّ السَّبرَ هوَ الآليَّةُ المتضمِّنَةُ لجمعِ الطُّرقِ ثمَّ اختبارِهَا ومقارنتِهَا، وهذَا لَا يكونُ فقطْ للحكمِ علَى الرِّجالِ، وإنَّمَا تتعدَّدُ أغراضُهُ بتعدُّدِ صورِهِ
…كمَا إنَّ الاعتبارَ ليسَ قسيمَاً للسَّبرِ، وإنَّمَا السَّبرُ آليَّةٌ للاعتبارِ، بمعنى أنَّ الاعتبارَ غرضٌ مِنْ أغراضِ السَّبرِ كمَا بيَّنَهُ المُحدِّثونَ، من ذلكَ تعريفُهُم للاعتبارِ:
--------------------------------------------
ড. মানসুর আল-শারায়িরি তাঁর ‘নাজরিয়াতুল ই’তিবার ইনদাল মুহাদ্দিসিন’ গ্রন্থে ড. আল-ইজ্জির সংজ্ঞার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, অতঃপর এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: «ড. আল-ইজ্জি যা বলেছেন তা সঠিক (صحيح), তবে আমি দেখেছি যে মুহাদ্দিসগণ একজন বর্ণনাকারীর (راوي) সকল হাদিস বিস্তারিত অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে ‘সাবর’ (سبر) শব্দটি বেশি ব্যবহার করেন; এরপর সেই হাদিসগুলোকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (ثقات) হাদিসের সাথে তুলনা করে পরীক্ষা করেন, যাতে বর্ণনাকারী কোথায় সঠিক বর্ণনা করেছেন আর কোথায় ভুল করেছেন তা জানা যায়। এর মাধ্যমে তাঁর অবস্থার উপযুক্ত জারহ (جرح) ও তাদিল (تعديل) সম্পর্কিত হুকুম প্রদান করা হয়। সুতরাং মুহাদ্দিসগণের নিকট ‘সাবর’-এর উদ্দেশ্য হলো বর্ণনাকারীকে (راوي) পরীক্ষা করা এবং তাঁর আদালত (عدالة) ও দাবত (ضبط)-এর মাত্রা নিরূপণ করা, যদিও এটি তাঁর হাদিসগুলো একটি একটি করে পরীক্ষা করা ছাড়া সম্ভব নয়»
(১).
তিনি যা স্পষ্ট করেছেন তাতে যথেষ্ট পর্যালোচনার অবকাশ (نظر) রয়েছে। কারণ যিনি মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, তিনি দেখবেন যে তাঁরা ‘সাবর’ (سبر) শব্দটিকে ‘সূত্রসমূহ সংগ্রহ (جمع الطرق), অনুসন্ধান (تتبع), পর্যবেক্ষণ (استقراء) ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত (استقصاء)... অতঃপর পরীক্ষা’-এর সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন; যার লক্ষ্য হলো বর্ণনাকারী (راوي) ও বর্ণিত হাদিসের ওপর হুকুম প্রদান করা, ইল্লাত (علة) উন্মোচন করা এবং এর ফায়দা ফুটিয়ে তোলা। ফলশ্রুতিতে মতন (متن) ও ইসনাদ (إسناد) সংশ্লিষ্ট হাদিস বিজ্ঞানের প্রতিটি প্রকার সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয়।
উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, ‘সাবর’ (سبر) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা সূত্রসমূহ সংগ্রহ (جمع الطرق), অতঃপর সেগুলো পরীক্ষা ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটায়। এটি কেবল বর্ণনাকারীদের (رجال) ওপর হুকুম প্রদানের জন্য নয়, বরং এর রূপভেদে এর উদ্দেশ্যও বহুমুখী হয়...
তেমনিভাবে ‘ই’তিবার’ (اعتبار) ‘সাবর’-এর কোনো সমান্তরাল অংশ নয়, বরং ‘সাবর’ (سبر) হলো ‘ই’তিবার’-এর একটি প্রক্রিয়া। অর্থাৎ ‘ই’তিবার’ হলো ‘সাবর’-এর উদ্দেশ্যসমূহের একটি, যা মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেছেন। যেমন ‘ই’তিবার’-এর ব্যাপারে তাঁদের সংজ্ঞা:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قالَ الحافظُ العراقيُّ
(1) «ت 806 هـ»، في «شرحِ التَّبصرَةِ والتَّذكرةِ» في تعريفِهِ للاعتبارِ: «أَنْ
تَاتيَ إِلَى حَدِيثٍ لِبَعْضِ الرُّوَاةِ، فَتَعْتَبِرَهُ بِرِوَايَاتِ غَيرِهِ مِنَ الرُّوَاةِ بِسَبْرِ طُرُقِ الحَدِيثِ لِيُعْرَفَ هَلْ شَارَكَهُ فِي ذَلِكَ الحَدِيثِ رَاوٍ غَيرُهُ فَرَوَاهُ عَنْ شَيخِهِ أَمْ لَا؟»
(2).
وقالَ السُّيوطِيُّ
(3) «ت 902 هـ» عندَ حديثِهِ عنِ الاعتبارِ: «فَيَعْتَبِرَهُ بِرِوَايَاتِ غَيرِهِ مِنَ الرُّوَاةِ بِسَبْرِ طُرُقِ الحَدِيثِ، لِيَعْرِفَ هَلْ شَارَكَهُ فِي ذَلِكَ الحَدِيثِ»
(4).
والمُنَاويُّ
(5) «ت 1031 هـ»، قالَ في «اليواقيتِ والدُّرَرِ»: «الاِعْتِبَارُ: أَنْ يَاتِيَ إِلَى حَدِيثِ بَعْضِ الرُّوَاةِ فَيَعْتَبِرُهُ بِرِوَايَاتِ غَيرِهِ مِنَ الرُّوَاةِ بِسَبْرِ طُرُقِ الحَدِيثِ لِيُعرَفَ هَلْ شَارَكَهُ فِيهِ غَيرُهُ فَرَوَاهُ عَنْ شَيخِهِ أَوْ لَا»
(6). وسيأتي تفصيلٌ أكثرُ عنِ الفرقِ بينَ السَّبرِ والاعتبارِ عندَ الحديثِ عَنْ مرادفاتِ السَّبِر.
--------------------------------------------
হাফিজ আল-ইরাকি
(১) «মৃত্যু ৮০৬ হি.», ইতিবার (الاعتبار)-এর সংজ্ঞায় «শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ» গ্রন্থে বলেছেন: «তুমি
কোনো বর্ণনাকারীর (الرواة) একটি হাদিসের কাছে আসবে, অতঃপর হাদিসের সূত্রসমূহ অনুসন্ধানের (سبر طرق الحديث) মাধ্যমে অন্যান্য বর্ণনাকারীদের (الرواة) বর্ণনার সাথে তা মিলিয়ে দেখবে (فتعتبره), যাতে জানা যায় যে সেই হাদিসে অন্য কোনো বর্ণনাকারী (راو) তার সাথে অংশীদার হয়েছে কি না, অর্থাৎ সেটি কি তিনি তার উস্তাদ (شيخه) থেকে বর্ণনা করেছেন নাকি না?»
(২).
এবং আস-সুয়ূতী
(৩) «মৃত্যু ৯০২ হি.» ইতিবার (الاعتبار) সম্পর্কে আলোচনার সময় বলেছেন: «অতঃপর হাদিসের সূত্রসমূহ অনুসন্ধানের (سبر طرق الحديث) মাধ্যমে অন্যান্য বর্ণনাকারীদের (الرواة) বর্ণনার সাথে তা মিলিয়ে দেখবে (فتعتبره), যাতে জানা যায় যে সেই হাদিসে অন্য কেউ তার সাথে অংশীদার হয়েছে কি না»
(৪).
আর আল-মুনাউয়ী
(৫) «মৃত্যু ১০৩১ হি.», «আল-ইয়াওয়াকিত ওয়াদ দুরার» গ্রন্থে বলেছেন: «ইতিবার (الاعتبار): কোনো বর্ণনাকারীর (الرواة) হাদিসের কাছে আসা এবং হাদিসের সূত্রসমূহ অনুসন্ধানের (سبر طرق الحديث) মাধ্যমে অন্যান্য বর্ণনাকারীদের (الرواة) বর্ণনার সাথে তা মিলিয়ে দেখা (فتعتبره), যাতে জানা যায় যে অন্য কোনো বর্ণনাকারী তার সাথে শরিক হয়েছে কি না এবং তা তার উস্তাদ (شيخه) থেকে বর্ণনা করেছে কি না»
(৬)। 'সাবর' (السبر) ও ইতিবার (الاعتبار)-এর মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত আলোচনা 'সাবর' এর প্রতিশব্দসমূহ আলোচনার সময় সামনে আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবরু ইনদাল মুহাদ্দিসীন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وعلى هذَا فيُمكنُنَا القولُ بأنَّ تعريفَ السَّبرِ في اصطلاحِ المحدِّثينَ:
اسْتِقْصَاءُ مَرْوِيَّاتِ الحَدِيثِ، ومُعَارَضَةُ بَعْضِهَا بِبَعْضٍ، لكَشْفِ عِلَّةٍ، أو الوُقُوفِ عَلَى فَائِدَةٍ، أو الحُكْمِ عَلَى رَاوٍ، أو الاِعْتِبَارِ بِمَرْوِيَّاتِه.
এর প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় যাচাই-বাছাইয়ের (السبر) সংজ্ঞা হলো:
হাদিসের বর্ণনাগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান এবং সেগুলোর একটির সাথে অপরটির তুলনা করা; যেন কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) উদ্ঘাটন করা যায়, অথবা কোনো তাত্ত্বিক উপকারিতা লাভ করা যায়, অথবা কোনো বর্ণনাকারীর (راوٍ) বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান করা যায়, কিংবা তার বর্ণিত হাদিসগুলোর দ্বারা সমর্থন অনুসন্ধান (الاِعْتِبَارِ) করা যায়।