(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: -)
حوار حول منهج المحدثين في نقد الروايات سندا ومتنا القسم: علوم الحديث
الكتاب: حوار حول منهج المحدثين في نقد الروايات سندا ومتنا
المؤلف: عبد الله بن ضيف الله الرحيلي
الناشر: دار المسلم
الطبعة: الطبعه الاولى: 1414هـ-1994م
عدد الصفحات: 72
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সনদ (سند) ও মতন (متن) এর আলোকে বর্ণনা সমালোচনায় (نقد الروايات) হাদিস বিশারদদের (المحدثين) কর্মপদ্ধতি বিষয়ক সংলাপ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: সনদ (سند) ও মতন (متن) এর আলোকে বর্ণনা সমালোচনায় (نقد الروايات) হাদিস বিশারদদের (المحدثين) কর্মপদ্ধতি বিষয়ক সংলাপ
লেখক: আবদুল্লাহ বিন দাইফুল্লাহ আল-রুহাইলি
প্রকাশক: দারুল মুসলিম
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ: ১৪১৪ হিজরি-১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم
الحمد لله، والصلاة والسلام رسول الله وأصحابه ومن والاه؛ أما بعد: فتتضمن هذه الوريقات:
أ – حواراً جرى بيني وبين أخ عزيز حول منهج المحدثين في قبول الروايات وردّها "بين نقْد السند ونقْد المتن.
وألحقت به وريقات في الموضوع ذاته كنت كتبتها بعنوان:
ب- أهمية التثبت من الرواية.
ج- تأملات في منهج المحدثين في النقد "ميزاته ومحاسنه".
ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
উপস্থাপনা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম আল্লাহর রাসূল, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাদের প্রতি। অতঃপর: এই সংক্ষিপ্ত নিবন্ধগুলোতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
ক – বর্ণনা (رواية) গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের মানহাজ বা পদ্ধতি সম্পর্কে আমার এবং এক প্রিয় ভাইয়ের মাঝে সংঘটিত একটি সংলাপ; যা "সনদ (سند) সমালোচনা এবং মতন (متن) সমালোচনার" মধ্যকার বিষয় নিয়ে আবর্তিত।
এবং এর সাথে আমি একই বিষয়ের ওপর আমার লেখা আরও কিছু নিবন্ধ যুক্ত করেছি যেগুলোর শিরোনাম নিম্নরূপ:
খ- বর্ণনা (رواية) যাচাইয়ের গুরুত্ব।
গ- মুহাদ্দিসগণের সমালোচনা (نقد) পদ্ধতির ওপর কিছু পর্যবেক্ষণ: "এর বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি"।
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ৬)
أحببت إخراجها لينظر فيها أهل العلم لاسيما المتخصصين، سائلاً المولى جل وعلا التوفيق السداد.
وقد استأذنتُ محاوري في أن أذْكُرَ اسمه، فلم يَرَ ذلك، فنزلتُ عند رغبته.
ولم أستطع زيادة شيء أو حذف شيء التزاماً بنص الحوار.
وآمل أن يُلْقي هذا الحوار، بأسئلته وأجوبته، الضوء على منهج المحدّثين في نقْد الروايات، الذي لا أشك، من حيث هو منهج، في أنه معجزة من معجزات هذا الدين!.
والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
عبد الله بن ضيف الله الرحيلي
ربيع الثاني 1414هـ
আমি এটি প্রকাশ করা পছন্দ করেছি যাতে বিজ্ঞজন, বিশেষ করে বিশেষজ্ঞগণ এটি পর্যালোচনা করতে পারেন; মহান রবের নিকট সঠিক পথ ও তাওফিক (توفيق) প্রার্থনা করছি।
আমি আমার সংলাপ সঙ্গীর নাম উল্লেখ করার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি তা সমীচীন মনে করেননি, তাই আমি তাঁর ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছি।
সংলাপের মূল পাঠের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখতে আমি এতে কোনো কিছু যোগ বা বিয়োগ করতে পারিনি।
আমি আশা করি এই সংলাপটি—এর প্রশ্ন ও উত্তরগুলোর মাধ্যমে—বর্ণনা যাচাইয়ের (نقد الروايات) ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতির (منهج المحدّثين) ওপর আলোকপাত করবে; যা একটি পদ্ধতি হিসেবে এই দ্বীনের অন্যতম একটি মুজিজা হওয়ার ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
আবদুল্লাহ বিন দাইফুল্লাহ আল-রুহাইলি
রবিউস সানি ১৪১৪ হিজরি
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة
دَارَ حوارٌ بيننا حول منهج المحدثين في نقدهم للسند والمتن في الرواية.
وقد كان لِمُحَاوري عنايةٌ وتحقيق في رواية الأخبار وضوابط صِدْقِها بين منهج البحث العلمي الحديث ومنهجِ المحدثين.
وقد نَمّت تساؤلاته التي أثارها في شكل حوار بيني وبينه – نَمّت عن تصورٍ إجمالي لمنهج المحدثين في تمييز صحيح الروايات من سقيمها كما اتسمتِ التساؤلات بالنقد العقلي – وَفْق ضوابطه الإيمانية – وهو أمر يُقِرُّه منهجُ المحدثين، بل ويُعْنون به في نقْدهم للروايات، من أجْل هذه السِّمات ومن أَجْلِ أهميةِ الموضوع كان اهتمامي بالإجابة والحوار، ولأجْلِ
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
ভূমিকা
আমাদের মধ্যে বর্ণনার সনদ (السند) এবং মতন (المتن) সমালোচনার ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদগণের পদ্ধতি নিয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি এবং হাদিস বিশারদগণের পদ্ধতির আলোকে সংবাদ বর্ণনা এবং এর সত্যতার মানদণ্ড নির্ধারণে আমার আলোচক সঙ্গীর বিশেষ যত্ন ও গভীর পর্যবেক্ষণ ছিল।
আমার ও তাঁর মাঝে আলোচনার আকারে তিনি যে প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেছিলেন, তা সহিহ (صحيح) বর্ণনাকে ত্রুটিযুক্ত (سقيم) বর্ণনা থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদগণের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা ব্যক্ত করে। পাশাপাশি প্রশ্নগুলো তাঁর ঈমানি মানদণ্ড অনুযায়ী বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল—যা হাদিস বিশারদগণের পদ্ধতিও স্বীকার করে, বরং বর্ণনা সমালোচনার ক্ষেত্রে তাঁরা একে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন। এই বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং বিষয়টির গুরুত্বের কারণেই আমি উত্তর প্রদান ও আলোচনায় আগ্রহী হয়েছিলাম; আর...
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ৮)
إدراك مُحَاوِرِي لأهميةِ الموضوع ولعنايته بالتحقيق العلمي كذلك كان طَرْقُهُ معي لهذا الموضوع.
وقد جاءت الإجابات بحسب ورود تساؤلاته، كما أن بعض تلك التساؤلات نشأت عن بعض الإجابات. وقد اقتضى هذا العودةَ لبعض موضوعات البحث أكثر مِنْ مرة وفي مناسبات متفرِّقة، وقد دار حوار بيننا أخيراً في ترتيب هذه المادة للنشر: فمِنْ رَأْي يقول: تُرتَّب حسب التسلسل العقلي المتدرج في طَرْق الموضوع.
ومِنْ رَأْي يقول: يترك الترتيب وَفْق واقع الحوار وترتيبه؛ لقوَّة العلاقة بين السؤال والجواب بغض النظر عن النتيجة، وكان الاختيار الرأيَ الثانيَ.
وأذكر فيما يأتي الحوار وفق أجوبتي – على ما أعلمه في الموضوع وبناء على التأمل في شروط المحدثين لصحة الرواية وتطبيقاتهم في ذلك- فإن أصبت فمن الله وحده، وإن أخطأت فمن نفسي القاصرة، وأستغفر الله. وهو سبحانه المستعان.
এ বিষয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে আমার আলোচনা-সঙ্গীর উপলব্ধি এবং বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাইয়ের (تحقيق علمي) প্রতি তাঁর বিশেষ মনোযোগের কারণেই তিনি আমার সাথে এ বিষয়ের অবতারণা করেছেন।
তাঁর প্রশ্নের ধারাক্রম অনুযায়ী উত্তরগুলো প্রদান করা হয়েছে, ঠিক যেভাবে কিছু উত্তর থেকে পুনরায় নতুন প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। এর ফলে গবেষণার কিছু বিষয়ে একাধিকবার এবং ভিন্ন ভিন্ন উপলক্ষে পুনরায় আলোকপাত করার প্রয়োজন হয়েছে। পরিশেষে এই উপাদানগুলো প্রকাশের জন্য বিন্যস্ত করার বিষয়ে আমাদের মাঝে আলোচনা হয়: একটি মত হলো, বিষয়টি আলোচনার ক্ষেত্রে যৌক্তিক ও ধারাবাহিক ক্রমানুসারে এটি সাজানো হোক।
অন্য একটি মত হলো, প্রশ্ন ও উত্তরের মধ্যকার গভীর সম্পর্কের খাতিরে ফলাফলের তোয়াক্কা না করে আলোচনার প্রকৃত ধারা ও বিন্যাস অনুযায়ী এটি রেখে দেওয়া হোক; শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় মতটিই গ্রহণ করা হয়েছে।
নিম্নে আমি আমার উত্তর অনুযায়ী আলোচনাটি তুলে ধরছি—এ বিষয়ে আমার জানা জ্ঞান এবং বর্ণনার (رواية) বিশুদ্ধতার (صحة) ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের শর্তাবলি (شروط) ও এ ক্ষেত্রে তাঁদের প্রায়োগিক পদ্ধতির পর্যালোচনার ভিত্তিতে—যদি আমি সঠিক বলে থাকি তবে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল করি তবে তা আমার নিজস্ব সীমাবদ্ধতা; আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর তিনিই একমাত্র সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ৯)
نصُّ الحوارتجاذبنا الحديث – وقد حُبِّبَ إليه النقاش والحوار في المسائل العلمية بالأسلوب العلمي كما حُبِّبَ إليّ ذلك؛ لأنه طريقٌ لمعرفة الصواب.
সংলাপের পাঠআমরা আলাপচারিতায় মগ্ন হলাম – আর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়সমূহে আলোচনা ও সংলাপ করা তাঁর নিকট প্রিয় ছিল, যেমনটি আমার নিকটও প্রিয় ছিল; কারণ এটিই হলো সঠিক বিষয়টি উদ্ঘাটনের পথ।
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ১০)
خلل أو تقصير في هذا الجانب، كما أنهم نظروا في السند –أيضاً- النظرَ الكافي اللازم دول خلل أو تقصير. وإن كانت أنواع علوم السند الناتجة عن فحْصهم له ربما تكون أكثر من أنواع علوم المتن الناتجة عن فحصه، وذلك لما تقتضيه طبيعة كل منهما.
وهذا من الأدلة على أنهم أعطوا كلاً من السند والمتن حقه، وليس دليلاً على أنهم أهملوا المتن.
ولو تساءل متسائل عن مدى وفاء منهج المحدثين في نقد الروايات بالغرض منه، لكان الجواب: أنه وفّى به على أتم الغاية، وقواعدُهم تشهد بهذا، وهي باقية صالحة للتطبيق إلى اليوم، ومما يدل على هذه الحقيقة أنواعُ علوم الحديث التي انبثقت عن تمحيصهم للسند، وأنواعُ علوم الحديث التي انبثقت عن تمحيصهم للمتن، بحيث لو أراد أحدٌ أن يزيد وجهاً واحداً في نقد السند على صنيعهم أو وجهاً واحداً في نقد السند على صنيعهم أو وجهاً واحداً في جانب المتن قد تركه المحدثون مما ينبغي أن يوجد لِنقْد الرواية لو أراد أحد ذلك لما استطاع.
এই ক্ষেত্রে কোনো বিচ্যুতি বা ত্রুটি নেই, ঠিক যেমন তাঁরা সনদের (السند) ক্ষেত্রেও কোনো বিচ্যুতি বা ত্রুটি ছাড়াই পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। যদিও তাঁদের পরীক্ষার ফলে উদ্ভূত সনদ (السند) বিষয়ক বিজ্ঞানসমূহের (علوم) প্রকারভেদ সম্ভবত মতন (المتن) বিষয়ক বিজ্ঞানসমূহের (علوم) প্রকারভেদের চেয়ে বেশি, তবে তা কেবল উভয়ের প্রকৃতির চাহিদার কারণেই হয়েছে।
এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে, তাঁরা সনদ (السند) এবং মতন (المتن) উভয়কেই তাঁদের যথাযথ প্রাপ্য অধিকার দিয়েছেন; এটি কোনোভাবেই তাঁরা মতনকে (المتن) উপেক্ষা করেছেন বলে প্রমাণ করে না।
যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, বর্ণনা (الروايات) সমালোচনায় (نقد) মুহাদ্দিসগণের অনুসৃত পদ্ধতি তার লক্ষ্য অর্জনে কতটুকু সফল হয়েছে, তবে এর উত্তর হবে: এটি পূর্ণাঙ্গভাবে লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং তাঁদের মূলনীতিসমূহ (القواعد) এরই সাক্ষ্য দেয়। এই নীতিগুলো আজও প্রয়োগের উপযোগী হিসেবে টিকে আছে। এই বাস্তবতার অন্যতম প্রমাণ হলো সনদ (السند) যাচাই-বাছাই থেকে উদ্ভূত হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) প্রকারসমূহ এবং মতন (المتن) যাচাই-বাছাই থেকে উদ্ভূত হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) প্রকারসমূহ। পরিস্থিতি এমন যে, কেউ যদি বর্ণনা (الرواية) সমালোচনার (نقد) প্রয়োজনে মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতির বাইরে সনদের (السند) সমালোচনায় (نقد) একটি নতুন দিক, অথবা সনদের (السند) সমালোচনায় (نقد) একটি নতুন দিক, অথবা মতনের (المتن) ক্ষেত্রে এমন কোনো নতুন দিক যোগ করতে চায় যা মুহাদ্দিসগণ বাদ রেখেছেন, তবে সে তা করতে সক্ষম হবে না।
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ১১)
ومن هنا فإننا نطالب من يعترض على المحدثين في منهجهم في قبول الروايات وردها:
أوّلاً: أن يَدْرس منهجهم ويستوعبه قبل إصدار الحكم عليه، لأن الحكم على الشيء فرع عن تصوره.
وثانياً: أن يُثْبت لنا وجهاً واحداً يتعين مراعاتُهُ في نقد السند أو المتن قد قصّر المحدثون في مراعاته أو لم يتنبهوا له. ونقول له: دونك أسانيد الأحاديث ومتونها، فتشْ فيها عساك تجد قُصُوراً في منهجهم في التثبت والتمحيص فتثبتَهُ لنا بمنهج علمي يرقى إلى مستوى منهجهم فضلاً عن أن يَعْلوَ عليه أو يَسْتَدْرِك. وأما الدعوى التي لا دليل عليها فهي باطلة.
فإن قيل: إن المنهج لا يصلح، فنقول على القائل إثبات ذلك، وعليه نَقْضه بإثبات البديل الصالح، أما أن يقول: إنه لا يصلح، وهو لا يستطيع فهمه فضلاً عن أن ينقض قواعده فهذا لغْوٌ من القول لا يُعتدُّ به، وكلُّ إنسان لا معرفة عنده يستطيع أن يقول مثل هذه الكلمة. وأما أن يقول: إنه لا يصلح، وهو لا يقدر على إيجاد
এখান থেকেই আমরা তাদের নিকট দাবি জানাচ্ছি যারা বর্ণনা (الروايات) গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) অনুসৃত পদ্ধতির বিরোধিতা করেন:
প্রথমত: তাদের পদ্ধতির ওপর কোনো সিদ্ধান্ত প্রদানের পূর্বে তা অধ্যয়ন করা এবং আত্মস্থ করা। কারণ কোনো বিষয়ের ওপর হুকুম বা সিদ্ধান্ত প্রদান করা ওই বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক ধারণারই একটি শাখা।
দ্বিতীয়ত: আমাদের নিকট এমন একটি দিক প্রমাণ করা যা সনদ (السند) বা মতন (المتن) সমালোচনার ক্ষেত্রে রক্ষা করা অপরিহার্য ছিল অথচ হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) তা পালনে ত্রুটি করেছেন অথবা সেদিকে লক্ষ্য করেননি। আমরা তাকে বলব: এই তো হাদিসের সনদসমূহ (أسانيد) এবং মতনসমূহ (متونها) আপনার সামনে, এগুলোতে অনুসন্ধান করুন; হয়তো আপনি সত্যতা নিশ্চিতকরণ এবং যাচাই-বাছাইয়ের (التمحيص) ক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি খুঁজে পাবেন। অতঃপর তা আমাদের নিকট এমন এক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রমাণ করুন যা তাদের পদ্ধতির সমপর্যায়ে পৌঁছে, তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়া কিংবা ভুল সংশোধন করা তো দূরের কথা। আর প্রমাণবিহীন দাবি তো বাতিল (باطلة)।
যদি বলা হয়: এই পদ্ধতি উপযুক্ত নয়, তবে আমরা বলব—বক্তার দায়িত্ব হলো তা প্রমাণ করা এবং এর পরিবর্তে একটি উপযুক্ত বিকল্প উপস্থাপনের মাধ্যমে এটিকে খণ্ডন করা। কিন্তু সে যদি বলে যে এটি উপযুক্ত নয় অথচ সে এটি বুঝতেও অক্ষম, এর মূলনীতিসমূহ (قواعد) খণ্ডন করা তো পরের কথা, তবে তা হবে অসার কথা যা গ্রহণযোগ্য নয়। জ্ঞানহীন যে কেউ এ ধরনের কথা বলতে পারে। আর যদি সে বলে যে এটি উপযুক্ত নয় অথচ সে কোনো কিছু উদ্ভাবনে অক্ষম...
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ১২)
عُشْر مِعْشاره بديلاً له، فهذا لغْوٌ من القول لا اعتداد به في المنهج العلمي.
وليس الأمر أمر عاطفة أو هوى، ولكنه إذعانٌ لمنهج علمي وإيمان به أو نقْض له بأدلة علمية لا تتأثر بالهوى أو العواطف.
এর দশমাংশের এক দশমাংশকেও এর স্থলাভিষিক্ত করা—এটি একটি অসার বক্তব্য যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে (المنهج العلمي) কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আর বিষয়টি আবেগ বা খেয়াল-খুশির নয়; বরং এটি একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির (المنهج العلمي) প্রতি আনুগত্য ও তাতে বিশ্বাস স্থাপন করা, অথবা এমন বৈজ্ঞানিক দলিলের (أدلة علمية) মাধ্যমে তা খণ্ডন করা যা প্রবৃত্তি বা আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ৯)
س1: فقال لي:
ماذا عن منهج المحدثين في نقد الروايات،
هل عنايتهم ينقد السند أكثر من عنايتهم بنقد المتن؟ أي أنه أكثر من حيث الكم؟.
قلت له:
القول بأنّ المحدثين قد نقدوا المتن كما نقدوا السند ليس معناه أنّ نقدهم للمتن مساوٍ في المقدار والكمية لنقد السند، إنما المراد بهذا أنهم نظروا في المتن النظرَ الكافي اللازم للتثبت من الروايات دون
প্রশ্ন ১: তিনি আমাকে বললেন:
বর্ণনাসমূহ (روايات) পর্যালোচনায় মুহাদ্দিসগণের কর্মপন্থা কেমন?
মতন (متن) পর্যালোচনার তুলনায় কি তারা সনদ (سند) পর্যালোচনায় অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন? অর্থাৎ পরিমাণের দিক থেকে কি এটিই অধিক ছিল?
আমি তাকে বললাম:
মুহাদ্দিসগণ সনদের (سند) ন্যায় মতনেরও (متن) সমালোচনা করেছেন—একথা বলার অর্থ এই নয় যে, মতন (متن) সমালোচনা পরিমাণ ও মাত্রার দিক থেকে সনদের (سند) সমালোচনার সমান। বরং এর তাৎপর্য হলো, বর্ণনাসমূহ (روايات) নিশ্চিত করার জন্য তারা মতনের (متن) প্রতি ততটুকুই পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন যা ব্যতীত...
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ১২)
س2: قال لي:
أي منهج علمي تريد؟ ذاك الذي هو عِلْمانيّ المُنْطَلَق أو ذاك الذي هو إيمانيّ المُنْطَلَق؟ وبعبارة أخرى: نحن نعتقد صحة أشياء كثيرة، ويحق لنا ذلك، دون أن تَثْبُتَ بالمنهج العلمانيِّ المُنْطَلَق، وإنما لثبوتها بالمنهج العلميِّ الإيمانيِّ المُنْطَلَق.
فقلت له:
الضوابط العلمية للتّثبت في الرواية عندنا نحن المسلمين –كما هي الحال في منهج المحدثين- ليستْ مستندة للإيمان بالغيب، بحيث يكون ضابطاً من ضوابط تثبيت الرواية أو تزييفها، بل هي ضوابط عقلية
২য় প্রশ্ন: তিনি আমাকে বললেন:
আপনি কোন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চান? যা ধর্মনিরপেক্ষ-ভিত্তিক নাকি যা বিশ্বাস-ভিত্তিক? অন্য কথায়: আমরা অনেক বিষয়ের সঠিকতা (صحة) বিশ্বাস করি এবং আমাদের জন্য তেমনটি করার অধিকার রয়েছে, যদিও সেগুলো ধর্মনিরপেক্ষ-ভিত্তিক পদ্ধতিতে প্রমাণিত নয়; বরং বৈজ্ঞানিক বিশ্বাস-ভিত্তিক পদ্ধতিতে সেগুলো প্রমাণিত হওয়ার কারণে।
তখন আমি তাকে বললাম:
আমাদের মুসলিমদের নিকট বর্ণনার (رواية) সত্যতা যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক নীতিমালাগুলো—যেমনটি হাদিস বিশারদদের (المحدثين) পদ্ধতির ক্ষেত্রে দেখা যায়—অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি যে, তা বর্ণনার (رواية) সত্যতা নিশ্চিতকরণ বা বানোয়াট (تزييف) হওয়া নিরূপণের কোনো মানদণ্ড হবে; বরং এগুলো হচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তিক মানদণ্ড।
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تستند إلى العقل، وإلى القضايا التاريخية الثابتة، ومقارنةِ الروايات وعَرْضها على بعضها أو على سواها مما رآه المحدثون ضابطاً أو دليلاً على صحة الرواية.
وهذه الضوابط بهذا الوصف تُعَدُّ عقليةً فطرية يشترك البشر –غالباً- في إدراكها وقبولها، بغض النظر عن أديانهم واتجاهاتهم؛ فالخبر بالسند المنقطع مثلاً تشترك العقول السليمة في الشك فيه أو عدم التسليم به من هذا الوجه، وذلك لعدم وجود الناقِل المتصل بمصْدر الخبر، وإذا لم يتوفر هذا الناقل فكيف يتصور العلم بالخبر؟!. إن العقول البشرية تُفَرِّق بين الخبر من جهة وبين التوقع والظن من جهة أخرى. ومن هنا لا يَرِد التساؤل القائل أي منهج علميّ يستند إليه منهج المحدثين في التثبت من صحة الرواية؟ هل هو ذاك المنهج العلمانيّ المُنْطَلَق أم الإيماني المُنْطَلَق؟ ذلك أن عنصر الإيمان بالغيب في منهجنا لم يتدخل في مقاييس قبول الرواية وردها –من هذه الحيثية- وإن كانت مقاييسنا لا تنافي الإيمان بالغيب بل تُثْبته لكن هذا الجانب من منهج المحدثين متعلِّقٌ بجانب الرواية، وليس بالرأي والاعتقاد وعلْم الغيب.
এটি বুদ্ধি, অকাট্য ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং বর্ণনাগুলোর পারস্পরিক তুলনা ও পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল, অথবা এমন বিষয়ের ওপর যা হাদিস বিশারদগণ বর্ণনার বিশুদ্ধতার (صحة) মানদণ্ড বা প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
আর এই মানদণ্ডগুলো এই বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয় হিসেবে গণ্য হয়, যা উপলব্ধি এবং গ্রহণে মানুষ সাধারণত শরিক থাকে—তাদের ধর্ম ও আদর্শ নির্বিশেষে। উদাহরণস্বরূপ, বিচ্ছিন্ন (منقطع) সনদের সংবাদের ক্ষেত্রে সুস্থ বিবেক তা সন্দেহ করার ক্ষেত্রে বা এই প্রেক্ষিত থেকে তা গ্রহণ না করার ব্যাপারে একমত; আর তা হলো সংবাদের উৎসের সাথে যুক্ত কোনো নিরবচ্ছিন্ন (متصل) বর্ণনাকারী না থাকার কারণে। আর যদি এই বর্ণনাকারীই না থাকে, তবে সংবাদটি সম্পর্কে জ্ঞান কীভাবে কল্পনা করা সম্ভব?! মানব মস্তিষ্ক একদিকে সংবাদ এবং অন্যদিকে প্রত্যাশা ও ধারণার (ظن) মাঝে পার্থক্য করে থাকে। এখান থেকেই এই প্রশ্নের অবকাশ থাকে না যে, বর্ণনার বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাইয়ের ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদগণ কোন জ্ঞানতাত্ত্বিক পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেন? এটি কি ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি-প্রসূত কোনো পদ্ধতি নাকি বিশ্বাস-প্রসূত কোনো পদ্ধতি? কারণ আমাদের পদ্ধতিতে অদৃশ্যের বিশ্বাসের বিষয়টি বর্ণনার গ্রহণ (قبول) বা বর্জনের (رد) মানদণ্ডে—এই দিক থেকে—হস্তক্ষেপ করে না। যদিও আমাদের মানদণ্ডগুলো অদৃশ্যের বিশ্বাসের পরিপন্থী নয় বরং তা একে সুপ্রতিষ্ঠিত করে, কিন্তু হাদিস বিশারদদের পদ্ধতির এই দিকটি বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট, ব্যক্তিগত মতামত, বিশ্বাস বা অদৃশ্যের জ্ঞানের সাথে নয়।
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هل كان نقد المتن – في منهج المحدثين – غير مساوٍ لنقد السند....إلخ؟
…وانتقل بنا الحال إلى السؤال التالي:
س3: قال لي:
هل كان نقد المتن – في منهج المحدثين – غير مساوٍ لنقد السند بأن كان عندهم نقد المتن ليس في قوّة نقد السند؛ لأن الأساس عندهم هو الاعتماد على السند أو أن الأمر ليس كذلك؟.
قلت له:
إن المحدثين كي يتعرفوا على ثبوت الرواية من عدمه، لابد أن ينقدوا السند والمتن جميعاً، النقدَ الكافي الذي تتبين به صحة السند، وصحة المتن، أو عدمه، ومن يتتبع منهجهم يستطعْ أن يقول: لا يغلِّبون اختبار السند على اختبار المتن، والسبب في هذا أنهم اشترطوا شروطهم لصحة السند وشروطهم لصحة المتن، ومتى ما تخلف واحد أو أكثر من شروط الصحة انعدمتْ صحة الرواية، سواء أكان ذلك الشرط متعلِّقاً بالسند أم بالمتن.
على أنه يمكن أن يقال إضافة إلى هذا: إن مما
হাদিস বিশারদদের মানহাজে কি মূলপাঠের সমালোচনা (نقد المتن) সনদের সমালোচনার (نقد السند) সমান ছিল না... ইত্যাদি?…এবং আমরা পরবর্তী প্রশ্নের দিকে অগ্রসর হলাম:
স৩: তিনি আমাকে বললেন:
হাদিস বিশারদদের মানহাজে কি মূলপাঠের সমালোচনা (نقد المتن) সনদের সমালোচনার (نقد السند) সমতুল্য ছিল না? অর্থাৎ তাদের নিকট কি মূলপাঠের সমালোচনা (نقد المتن) সনদের সমালোচনার (نقد السند) মতো শক্তিশালী ছিল না? কারণ তাদের মূল ভিত্তি কি ছিল সনদের (سند) ওপর নির্ভর করা, নাকি বিষয়টি এমন নয়?
আমি তাঁকে বললাম:
হাদিস বিশারদগণ কোনো বর্ণনার (رواية) সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সনদ (سند) ও মূলপাঠ (متن) উভয়টিরই যথাযথভাবে সমালোচনা (نقد) করা আবশ্যক মনে করেন, যার মাধ্যমে সনদের বিশুদ্ধতা (صحة السند) এবং মূলপাঠের বিশুদ্ধতা (صحة المتن) বা এর অভাব সুস্পষ্ট হয়। যারা তাঁদের মানহাজ অনুসরণ করেন তারা বলতে পারেন যে, তারা সনদ (سند) পরীক্ষাকে মূলপাঠ (متن) পরীক্ষার ওপর প্রাধান্য দেন না। এর কারণ হলো তারা সনদের বিশুদ্ধতার (صحة السند) জন্য যেমন শর্তারোপ করেছেন, তেমনি মূলপাঠের বিশুদ্ধতার (صحة المتن) জন্যও শর্ত নির্ধারণ করেছেন। যখনই বিশুদ্ধতার (صحة) এক বা একাধিক শর্ত অনুপস্থিত থাকে, তখনই বর্ণনার (رواية) বিশুদ্ধতা বাতিল হয়ে যায়; চাই সেই শর্তটি সনদের (سند) সাথে সংশ্লিষ্ট হোক বা মূলপাঠের (متن) সাথে।
অধিকন্তু এর সাথে এও বলা যেতে পারে যে: যা থেকে
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يظهر به قوة العناية بالمتن لديهم أنَّ نقد السند عندهم شرْط لصحة المتن، فيتبين بهذا أنّ نقد السند في منهجهم إنما هو لصالح نقد المتن، وإلا لما احتاجوا إلى النظر في السند أصلاً!.
ومسالك نقد المتن عندهم أسهل من مسالك نقد السند، وبناء على هذا يمكن أن يشاركهم غيرهم في قدرٍ أو مستوىً مِنْ نقْد المتن، بخلاف نقد السند فلا يَقْدر عليه غيرُهم، وإن كانت قواعد النظر في السند عندهم –مع صعوبتها- أكثر اطراداً، وأوضح في ضوابطها من القواعد الخاصة بالمتن – فيما يبدو لي – والله أعلم.
ولا نستطيع أن نقول في نقد السند والمتن: إنَّ أحدهما هو الأساس بل كلاهما نقده أساس للتعرف على صحة الرواية.
على أن دراسة السند تسبق دراسة المتن"1"،
--------------------------------------------
বর্ণনার মূল পাঠ (متن)-এর প্রতি তাঁদের প্রগাঢ় যত্ন ও গুরুত্বারোপের বিষয়টি এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, তাঁদের নিকট সনদের সমালোচনা (نقد السند) হলো মূল পাঠের বিশুদ্ধতার (صحة) জন্য একটি শর্ত (شرط)। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁদের পদ্ধতিতে সনদের সমালোচনা মূলত মূল পাঠের সমালোচনার (نقد المتن) স্বার্থেই করা হয়; অন্যথায় তাঁদের আদৌ সনদের (سند) দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন হতো না!
তাঁদের নিকট মূল পাঠের সমালোচনার (نقد المتن) পদ্ধতিগুলো সনদের সমালোচনার (نقد السند) পদ্ধতির চেয়ে সহজতর। এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, মূল পাঠের সমালোচনার একটি নির্দিষ্ট পর্যায় বা স্তরে অন্যরা তাঁদের সাথে অংশ নিতে পারে, কিন্তু সনদের সমালোচনার বিষয়টি এমন নয়, যা অন্যরা করতে সক্ষম নয়। যদিও আমার নিকট মনে হয় যে, সনদের পর্যালোচনার নিয়মগুলো (قواعد)—কঠিন হওয়া সত্ত্বেও—অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ (اطراداً) এবং এর নীতিমালাগুলো (ضوابط) মূল পাঠের সুনির্দিষ্ট নিয়মগুলোর চেয়ে অধিকতর সুস্পষ্ট—আল্লাহই ভালো জানেন।
আমরা সনদ (سند) ও মূল পাঠের (متن) সমালোচনার ক্ষেত্রে এ কথা বলতে পারি না যে, এর যেকোনো একটিই হলো মূল ভিত্তি; বরং বর্ণনার (رواية) বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাই করার জন্য উভয়টির সমালোচনাই মৌলিক ভিত্তি।
তবে সনদের (سند) অধ্যয়ন বা গবেষণা মূল পাঠের (متن) গবেষণার অগ্রবর্তী।"১",
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ويتحوّل نقد المتن بدون سند إلى النظر في استقامة معناه في ذاته، ولا علاقة له في هذه الحال بالرواية، أي أنه بدون السند إنما يتعرّف الناقد على صحة معناه واستقامته دون أن يعزوه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم مثلاً أو إلى أحد غيره، لأن العزو إنما يكو بواسطة السند، فتكون نتيجة دراسة المتن – في هذه الحال – أن معناه صحيح أو غير صحيح أي مستقيم أو غير مستقيم.
وبهذا الاعتبار يكون السند هو الأساس في معرفة عزو المتن إلى من يروى عنه، في حين أنه – أي السند – لا يكفي وحده لإثبات النسبة أو معرفتها حتى يُنْقد المتن المروي وتتضافر نتائج دراسته مع نتائج دراسة السند في تَثْبيت الرواية أو عدمه.
সনদ (سند) বিহীন মতন (متن) বিশ্লেষণ মূলত তার অর্থের নিজস্ব সঠিকতা ও যৌক্তিকতা পর্যালোচনার দিকে মোড় নেয়; এমতাবস্থায় বর্ণনার (رواية) সাথে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকে না। অর্থাৎ, সনদ (سند) না থাকলে একজন সমালোচক কোনো বক্তব্যকে উদাহরণস্বরূপ রাসূলুল্লাহ (সা.) কিংবা অন্য কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত না করেই কেবল এর অর্থের বিশুদ্ধতা (صحة) ও যৌক্তিকতা নিরূপণ করেন। কেননা, কোনো ব্যক্তিত্বের দিকে কোনো বক্তব্যকে সম্বন্ধযুক্ত করা কেবল সনদ (سند)-এর মাধ্যমেই সম্ভব হয়। এমতাবস্থায় মতন (متن) পর্যালোচনার ফলাফল কেবল এটাই দাঁড়ায় যে, এর অর্থ সঠিক (صحيح) নাকি বেঠিক, অর্থাৎ তা সংগতিপূর্ণ নাকি অসংগতিপূর্ণ।
এই বিচারে, মতনটি (متن) যার থেকে বর্ণিত তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করার ক্ষেত্রে সনদ (سند)-ই হলো মূল ভিত্তি। তবে কোনো বর্ণনাকে সাব্যস্ত করা বা সম্বন্ধ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেবল সনদ (سند)-ই যথেষ্ট নয়; বরং বর্ণিত মতন (متن) সমালোচনা করা এবং বর্ণনাটি (رواية) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে মতন পর্যালোচনার ফলাফলের সাথে সনদ পর্যালোচনার ফলাফলের সমন্বয় করা জরুরি।
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إِن قولك: لا نستطيع أن نقول في نقد السند والمتن: إن أحدهما هو الأساس.....غير صحيح؟
…س4: قال لي:
إِن قولك: لا نستطيع أن نقول في نقد السند والمتن: إن أحدهما هو الأساس، بل كلاهما نقده أساس للتعرف على صحة الرواية "، هذا غير صحيح بدليل السْبق الذي ذكرتَه، فبما أَن نقد السند يَسْبِق فهو دليل على كونه هو الأصل والأساس.
فقلت له:
يكون الأمر كما تقول لو نظروا في السند فقط، ولم ينظروا في المتن أَمَا وقد اشترطوا شروطاً أخرى في المتن، لو اختلت رَدُّوا الرواية – وإن اكتملت الشروط الخاصة بالسند – فهذا دليل على ما أقول.
আপনার এই কথাটি: "সনদ (السند) ও মতন (المتن) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি না যে, এদের মধ্যে কোনো একটিই মূল ভিত্তি"... এটি সঠিক নয়।?
…৪র্থ প্রশ্ন: তিনি আমাকে বললেন:
আপনার এই কথাটি: "সনদ (السند) ও মতন (المتن) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি না যে, এদের কোনো একটিই মূল ভিত্তি; বরং বর্ণনার বিশুদ্ধতা (صحة) নিরূপণের জন্য উভয়ের পর্যালোচনাই হলো ভিত্তি"—এটি আপনার উল্লিখিত অগ্রাধিকারের যুক্তিতে সঠিক নয়। কারণ, যেহেতু সনদের (السند) পর্যালোচনা প্রথমে আসে, তাই এটিই মূল ও ভিত্তি হওয়ার প্রমাণ।
আমি তাকে বললাম:
বিষয়টি আপনার বর্ণনামতো হতো যদি তারা কেবল সনদের (السند) দিকে দৃষ্টি দিতেন এবং মতনের (المتن) দিকে লক্ষ্য না করতেন। কিন্তু তারা মতনের (المتن) ক্ষেত্রেও এমন কিছু শর্তারোপ করেছেন, যা লঙ্ঘিত হলে তারা বর্ণনাটিকে প্রত্যাখ্যান করেন—যদিও সনদের (السند) বিশেষ শর্তাবলি পূর্ণ হয়ে থাকে। আর এটিই আমার বক্তব্যের সপক্ষে প্রমাণ।
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
س5: قال لي:
وهل يهدف المنهج التاريخي إلا إلى إثبات كون الحادثة المعيَّنة حصلت أو لم تحصل؟ أو أن فلاناً قال ما يَنْسبه إليه الناس أوْ لم يقله؟.
قلت له:
প্রশ্ন ৫: তিনি আমাকে বললেন:
ঐতিহাসিক পদ্ধতির লক্ষ্য কি কেবল এটিই প্রমাণ করা নয় যে, একটি নির্দিষ্ট ঘটনা সংঘটিত হয়েছে নাকি হয়নি? অথবা অমুক ব্যক্তি কি তা-ই বলেছেন যা মানুষ তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করে, নাকি তিনি তা বলেননি?।
আমি তাকে বললাম:
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بلى هذا هو ما يهدف له منهج البحث التاريخي عندهم.
হ্যাঁ, এটিই তাদের ঐতিহাসিক গবেষণা পদ্ধতির (منهج) লক্ষ্য।
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
س6: قال لي:
ماذا تعني بنقد المتن؟ أليس المقصود استواء المعنى أو الأسلوب حسب المعيار البشري، وهو معيار ناقص.
قلت له:
لكن تَحْكيم العقل إلى درجة إلغاء حُكْم العقل، لا يَحْكُمُ به العقلُ وليس ذلك من الدِّقة العلمية، وإنما هو من مجانبة الدِّقة العلمية في نظري.
وأما مِنْ حيث الواقع التاريخي في منهجهم فإليك بعضَ أقوال العلماء في مَدَى استخدام النقد العقلي لدى المحدثين.
يقول الدكتور/ محمد مصطفى الأعظمي:1 "يبدو للوهلة الأولى أن جهود المحدثين كانت منصبة حول
--------------------------------------------
প্রশ্ন ৬: তিনি আমাকে বললেন:
মূল পাঠের সমালোচনা (نقد المتن) বলতে আপনি কী বুঝাতে চাচ্ছেন? এর উদ্দেশ্য কি মানবিক মানদণ্ড অনুযায়ী অর্থ বা শৈলীর সামঞ্জস্যতা নয়, যা একটি অপূর্ণাঙ্গ মানদণ্ড?.
আমি তাকে বললাম:
কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিকে এমন পর্যায়ে বিচারক সাব্যস্ত করা যা বুদ্ধিবৃত্তির সিদ্ধান্তকেই নাকচ করে দেয়, বুদ্ধিবৃত্তি এমন রায় দেয় না এবং এটি বৈজ্ঞানিক সূক্ষ্মতার পরিচায়ক নয়; বরং আমার দৃষ্টিতে এটি বৈজ্ঞানিক সূক্ষ্মতা থেকে বিচ্যুতি।
আর তাদের পদ্ধতির (منهج) ঐতিহাসিক বাস্তবতার নিরিখে মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) নিকট যৌক্তিক সমালোচনার (النقد العقلي) ব্যবহারের পরিধি সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের কিছু বক্তব্য আপনার সামনে পেশ করছি।
ডক্টর মুহাম্মদ মোস্তফা আল-আজমী বলেন: ১ "প্রথম দর্শনে মনে হয় যে মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) প্রচেষ্টা নিবদ্ধ ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الأسانيد، وقلّما تكلموا على المتون، أو بمعنى آخر: قلما استعملوا عقولهم في نقد المتون، والأمر على عكس ذلك إذْ ما من عملية نقد لنص إلا وقد استُعمل فيها العقل، لكن ما كان اعتمادهم على العقل فقط في قبول الحديث أو رده إلا في النادر ولا يمكن أن يكون المنهج العلمي في نقد الأحاديث إلا هكذا. إذْ مِن المستحيل استعمال العقل -من الناحية العقلية نفسها- في تقويم كل حديث".
ولله در الشافعي حيث قال"1": "ولا يُسْتدل على أكثر صدق الحديث وكذبه إلا بصدق المخبِرِ وكذبه، إلا في الخاص القليل من الحديث. وذلك أن يُستدل على الصدق والكذب فيه بأن يُحدِّث المحدث ما لا يجوز أن يكون مثله، أو ما يخالفه ما هو أثبت وأكثر دلالات بالصدق منه""2".
وكيف يحكم المحدثون بالعلة أو الشذوذ في
--------------------------------------------
সনদসমূহ (الأسانيد), এবং তারা মতনসমূহ (المتون) সম্পর্কে খুব কমই আলোচনা করেছেন; অথবা অন্য কথায়: তারা মতন (المتون) পর্যালোচনায় (نقد) খুব কমই নিজেদের বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করেছেন। বিষয়টি আসলে তার বিপরীত, কারণ কোনো পাঠ্য পর্যালোচনার এমন কোনো প্রক্রিয়া নেই যেখানে বিবেক-বুদ্ধি ব্যবহৃত হয়নি। তবে হাদিস গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে কেবল বুদ্ধিবৃত্তির ওপর তাদের নির্ভরতা ছিল অত্যন্ত বিরল, আর হাদিস পর্যালোচনার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটি এছাড়া অন্য কিছু হওয়া সম্ভবও নয়। কারণ স্বয়ং যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রতিটি হাদিস মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তির একক ব্যবহার অসম্ভব।
ইমাম শাফেয়ীর জন্য কতই না প্রশংসা! তিনি যেখানে বলেছেন "১": "অল্প কিছু বিশেষ হাদিস ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাদিসের সত্যতা বা অসত্যতা সম্পর্কে সংবাদদাতার (المخبِر) সত্যবাদিতা বা মিথ্যাচারের মাধ্যমেই প্রমাণ পাওয়া যায়। আর ওই বিশেষ ক্ষেত্রটি হলো যেখানে সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে এভাবে প্রমাণ পেশ করা হয় যে, বর্ণনাকারী (المحدث) এমন কিছু বর্ণনা করেন যার অনুরূপ হওয়া সম্ভব নয়, অথবা যা এমন বিষয়ের বিরোধী যা অধিকতর সুদৃঢ় এবং সত্যতার ক্ষেত্রে অধিকতর শক্তিশালী দলীল সমৃদ্ধ।" "২"
আর মুহাদ্দিসগণ কীভাবে ইল্লত (العلة) বা শ্যুজুজ (الشذوذ) এর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ২০)
المتن، أو يعرفون وجودها فيه إلا بعد النظر في المتن ودراسته؟.
يقول د. محمد مصطفى الأعظمي"1": "فالمحدثون ينظرون في نقدهم للحديث إلى ناحيتين أساسيتين هما:
1-البحث في الرواة.
2-والبحث في المتن من الناحية العقلية إن اقتضى الأمر ذلك، أما بحثهم عن الرواة فيرتكز في زاويتين هامتين، هما:
أ – شخصية حامل الحديث ومستواه الخُلقي وهو ما يُسمى في اصطلاح المحدثين بالعدالة.
ب- وما رَوَى من العِلم ومدى دقته في نقله، وهو ما يسمى في اصطلاح المحدثين بالضبط والإتقان، لأننا نرى النقاد يصرحون أحياناً بصحة الحديث أو بالأحرى بصحة المتن، وفي الوقت ذاته
--------------------------------------------
মূলপাঠ (متن), অথবা তারা এতে এর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন না যতক্ষণ না মূলপাঠ (متن) পর্যবেক্ষণ ও তা নিয়ে গবেষণা করা হয়?
ড. মুহাম্মদ মুস্তফা আল-আ'জামি "১" বলেন: "মুহাদ্দিসগণ হাদিস পর্যালোচনার ক্ষেত্রে দুটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি প্রদান করেন, তা হলো:
১-বর্ণনাকারীদের (رواة) নিয়ে অনুসন্ধান।
২-এবং প্রয়োজনবোধে যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূলপাঠ (متن) নিয়ে অনুসন্ধান। আর বর্ণনাকারীদের (رواة) সম্পর্কে তাদের অনুসন্ধান দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, তা হলো:
ক – হাদিস বহনকারীর ব্যক্তিত্ব ও তার চারিত্রিক মান, যা মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নামে অভিহিত।
খ- তিনি যে জ্ঞান বর্ণনা করেছেন এবং তা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তার নির্ভুলতা বা সূক্ষ্মতার মাত্রা, যা মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় মুখস্থশক্তি ও পারদর্শিতা (ضبط وإتقان) নামে অভিহিত। কেননা আমরা দেখতে পাই যে, সমালোচকগণ (نقاد) কখনো কখনো হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) অথবা আরো স্পষ্টভাবে মূলপাঠের (متن) বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে স্পষ্টভাবে মত প্রকাশ করেন, আবার একই সাথে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ২১)
يُخْبِرون بعدم معرفتهم عدالة الراوي، إذ لا يكفي لصحة الحديث أن يكون المتن صحيحاً بغض النظر عن سلوك الراوي، سواء كان صادقاً أم كاذباً، بل لابد أن يكون عدلاً أيضاً".
سئل يحيى بن معين عن حاجب، فقال: "لا أعرفه، وهو صحيح الحديث""1" فإن اختلت العدالة لم تُقبل الرواية. ولو كان ما جاء به من الأحاديث صحيحاً وثابتاً، إذْ ما كانوا يقبلون حديثاً –ولو صحيحاً- إلا من يدٍ نظيفة ورجلٍ عدل، وإذا ثبتت العدالةُ وصحةُ الإسناد ووجدوا مشكلة في قبول الحديث ردوه أيضاً، وقالوا: "صحة الإسناد لا تستلزم صحة المتن".
ويقول د. الأعظمي: "ومن الشروط الأساسية للحديث الصحيح أن لا يكون شاذاً، والشاذ هو: مخالفة الثقة لمن هو أوثق منه أو أكثر عدداً، ولا تعرف المخالفة من الموافقة إلا بمقارنة المتون ومعانيها، ويدل هذا على أن المحدث لا يستطيع أن
--------------------------------------------
তারা বর্ণনাকারীর (راوي) ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সম্পর্কে তাঁদের অজ্ঞাত থাকার কথা জানান, কারণ হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة الحديث) জন্য বর্ণনাকারীর চালচলন উপেক্ষা করে কেবল মতন (متن) সহিহ (صحيح) হওয়া যথেষ্ট নয়—তিনি সত্যবাদী (صادق) হোন বা মিথ্যাবাদী (كاذب)—বরং তাঁকে অবশ্যই ন্যায়পরায়ণ (عدل) হতে হবে।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে হাজিব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমি তাকে চিনি না, তবে তিনি সহিহ হাদিস (صحيح الحديث) বর্ণনাকারী।""১" সুতরাং যদি ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ক্ষুণ্ন হয়, তবে বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা হবে না; এমনকি তার বর্ণিত হাদিসগুলো সহিহ (صحيح) ও সাব্যস্ত (ثابت) হলেও। কারণ তাঁরা কোনো হাদিস—তা সহিহ (صحيح) হলেও—পবিত্র হাত ও ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে গ্রহণ করতেন না। আর যখন ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও সনদের বিশুদ্ধতা (صحة الإسناد) প্রমাণিত হতো এবং তারা হাদিসটি গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখতে পেতেন, তখনও তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করতেন এবং বলতেন: "সনদের বিশুদ্ধতা (صحة الإسناد) মতনের বিশুদ্ধতাকে (صحة المتن) আবশ্যক করে না।"
ড. আল-আযমি বলেন: "সহিহ (صحيح) হাদিসের অন্যতম মৌলিক শর্ত হলো তা শায (شاذ) হবে না। আর শায (شاذ) হলো: কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী কর্তৃক তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) বা অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করা। মতনের (متن) তুলনা ও অর্থ বিশ্লেষণ ছাড়া এই বিরোধিতা বা সাদৃশ্য নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এটি প্রমাণ করে যে, একজন মুহাদ্দিস (محدث) সক্ষম হন না যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ২২)
يحكم على حديث بالصحة قبل أن يطمئن إلى عدم شذوذ متنه، الأمر الذي يَفْرِض عليه النظرَ في المتن أيضاً""1".
وقال ابن أبي حاتم: "تُعْرف جودة الدينار بالقياس إلى غيره فإن خالفه في الحمرة والصفاء عُلِم أنه مغشوش، ويُعْلم جنس الجوهر بالقياس إلى غيره فإن خالفه في الماء والصلابة علم أنه زجاج، ويقاس صحة الحديث بعدالة ناقليه، وأن يكون كلاماً يصلح أن يكون من كلام النبوة، ويعلم سقمه وإنكاره بتفرد مَنْ لم تصح عدالته بروايته. والله أعلم""2".
قال الخطيب البغدادي: "وإذا روى الثقة المأمون خبراً متصل الإسناد رُدّ بأمور:
أحدها: أن يخالف موجبات العقول، فيُعْلم بطلانه، لأن الشرع إنما يَرِدُ بمجوزات العقول، وأما بخلاف العقول فلا.
--------------------------------------------
হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে ফয়সালা করার আগে এর পাঠ (متن)-এর মধ্যে কোনো বিচ্যুতি (شذوذ) নেই বলে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন, যা একজন গবেষককে পাঠের (متن) দিকেও দৃষ্টি দিতে বাধ্য করে।""1".
ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: "দিনারের গুণাগুণ যেমন অন্য দিনারের সাথে তুলনা করে বোঝা যায়; যদি তা লাল রঙ বা স্বচ্ছতায় ভিন্নতর হয়, তবে বোঝা যায় যে এটি ভেজাল। মণি-মুক্তার ধরণও অন্যের সাথে তুলনা করে চেনা যায়; যদি তা উজ্জ্বলতা ও কাঠিন্যে ভিন্ন হয়, তবে বোঝা যায় যে এটি কাঁচ। তেমনিভাবে হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) তার বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) দ্বারা পরিমাপ করা হয়। এছাড়া এটি এমন কথা হতে হয় যা নবুয়তের বাণী হওয়ার যোগ্য। আর হাদিসের ত্রুটিপূর্ণতা (سقم) ও অগ্রহণযোগ্যতা (إنكار) জানা যায় এমন ব্যক্তির একক বর্ণনা (تفرد) দ্বারা যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) প্রমাণিত হয়নি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।""2".
খতিব আল-বাগদাদী বলেছেন: "যখন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বিশ্বস্ত (مأمون) ব্যক্তি নিরবচ্ছিন্ন সনদ (متصل الإسناد) যুক্ত কোনো সংবাদ বর্ণনা করেন, তখন তা কিছু বিষয়ের কারণে প্রত্যাখ্যাত হতে পারে:
তার মধ্যে একটি হলো: সেটি যদি যুক্তির অনিবার্য দাবিগুলোর পরিপন্থী হয়, তবে এর অসারতা (بطلان) নিশ্চিত হওয়া যায়। কেননা শরিয়ত কেবল যুক্তিসঙ্গত বিষয়ই নিয়ে আসে, কিন্তু যুক্তিবিরুদ্ধ কোনো কিছু নিয়ে আসে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والثاني: أن يخالف نص الكتاب أو السنة المتواترة فيُعْلم أنه لا أصل "له" أو منسوخ.
والثالث: أن يخالف الإجماع فيُسْتَدل على أنه منسوخ، أو لا أصل له، لأنه لا يجوز أن يكون صحيحاً غير منسوخ وتجمع الأمة على خلافه
…والرابع: أن ينفرد الواحد برواية ما يجب على كافة الخلق علمُهُ فيدل ذلك على أنه لا أصل له، لأنه لا يجوز أن يكون له أصل وينفرد هو بعلمه من بين الخلق العظيم.
والخامس: أن ينفرد بما جَرَت العادة بأن ينقله أهل التواتر، فلا يقبل، لأنه لا يجوز أن ينفرد في مثل هذا بالرواية.
وأما إذا ورد مخالفاً لقياس أو انفرد الواحد برواية ما تعم به البلوى لم يُرَدّ
… ""1".
"ولقد سئل ابن القيم: هل يمكن معرفة الحديث
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: এটি কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশ বা নসের (نص) অথবা মুতাওয়াতির সুন্নাহর (السنة المتواترة) বিরোধী হওয়া; যার ফলে জানা যায় যে এর কোনো ভিত্তি নেই অথবা এটি রহিত (منسوخ)।
তৃতীয়ত: এটি ইজমার (الإجماع) বিরোধী হওয়া; যা থেকে দলীল পাওয়া যায় যে এটি রহিত (منسوخ) অথবা এর কোনো ভিত্তি নেই। কারণ, কোনো হাদিস সহিহ (صحيحا) ও রহিত না হওয়া সত্ত্বেও উম্মাহর তার বিপরীতে ঐকমত্য পোষণ করা অসম্ভব
…চতুর্থত: এমন বিষয় বর্ণনায় কোনো একজন বর্ণনাকারীর একক হওয়া যা জানা সকল সৃষ্টির জন্য আবশ্যক; এটি প্রমাণ করে যে এর কোনো ভিত্তি নেই। কারণ, কোনো বিষয়ের ভিত্তি থাকা এবং বিশাল জনসমষ্টির মধ্যে কেবল একজনেরই তার জ্ঞান থাকা অসম্ভব।
পঞ্চমত: এমন বিষয় বর্ণনায় একক হওয়া যা সাধারণত মুতাওয়াতির (التواتر) স্তরের বর্ণনাকারীদের বর্ণনা করার কথা; এমতাবস্থায় তা গ্রহণযোগ্য হবে না, কারণ এ জাতীয় বর্ণনায় একক হওয়া সম্ভব নয়।
আর যখন কোনো বর্ণনা কিয়াসের পরিপন্থী হয় অথবা এমন কোনো বিষয়ে কোনো একক রাবীর বর্ণনা হয় যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপকভাবে ঘটে থাকে (تعم به البلوى), তখন তা প্রত্যাখ্যান করা হবে না
… "১"।
"ইবনুল কাইয়্যিমকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: হাদিস চেনা কি সম্ভব
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الموضوع بضابط من غير أن يُنْظر في سنده؟، فأجاب رحمه الله قائلاً: "إنما يَعْلم ذلك مَنْ تضلّع في معرفة السنن الصحيحة، واختلطت بلحمه ودمه، وصار له فيها ملكة، وصار له اختصاص شديد بمعرفة السنن والآثار، ومعرفة سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم وهَدْيه فيما يأمر به وينهى عنه، ويخبر عنه ويدعو إليه، ويحبّه ويكرهه ويشرعه للأمة، بحيث كأنه مخالط للرسول صلى الله عليه وسلم وهَدْيه فيما يأمر به وينهى عنه، ويخبر عنه ويدعو إليه، ويحبّه ويكرهه ويشرعه للأمة، بحيث كأنه مخالط للرسول صلى الله عليه وسلم كواحد من أصحابه""1".
ثم ذكر ابن القيم أموراً كلّيّة يُعْرف بها كون الحديث موضوعاً، منها:
1-اشتماله على المجازفات التي لا يقول مثلها رسول الله صلى الله عليه وسلم كقوله في الحديث المكذوب: "من قال لا إله إلا الله، خَلَق الله من تلك الكلمة طائراً له سبعون ألف لسان
… ".
--------------------------------------------
সনদ (سند) পর্যবেক্ষণ না করে কি কেবল কোনো মূলনীতির ভিত্তিতে জাল (موضوع) হাদিস চেনা সম্ভব? উত্তরে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "নিশ্চয়ই এটি কেবল তিনিই অবগত হতে পারেন যিনি সহিহ (صحيح) সুন্নাহর জ্ঞানে পূর্ণ পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং এটি যাঁর রক্ত ও মাংসের সাথে মিশে গেছে এবং এতে যাঁর একটি বিশেষ ব্যুৎপত্তি (ملكة) তৈরি হয়েছে। আর যাঁর সুন্নাহ ও আছার (آثار) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত ও তাঁর আদর্শ সম্পর্কে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জিত হয়েছে—তিনি কীসের আদেশ দিতেন, কী থেকে নিষেধ করতেন, কী বিষয়ে সংবাদ দিতেন, কীসের দিকে দাওয়াত দিতেন, কী পছন্দ করতেন ও কী অপছন্দ করতেন এবং উম্মতের জন্য কী শরীয়ত প্রবর্তন করতেন—সে সম্পর্কে তিনি এমন জ্ঞান লাভ করেছেন যে, মনে হয় যেন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সহাবস্থান করেছেন; তাঁর আদেশ ও নিষেধ, সংবাদ প্রদান ও দাওয়াত, পছন্দ ও অপছন্দ এবং উম্মতের জন্য শরীয়ত প্রবর্তনের ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ সম্পর্কে এমন জ্ঞান লাভ করেছেন যে, মনে হয় যেন তিনি তাঁর সাহাবীদের একজনের মতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সহাবস্থান করেছেন।""১".
অতঃপর ইবনুল কাইয়্যিম এমন কিছু মৌলিক বিষয় উল্লেখ করেছেন যার মাধ্যমে কোনো হাদিস জাল (موضوع) হওয়ার বিষয়টি জানা যায়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১-এমন সব অতিরঞ্জন ও অসম্ভব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকা যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো কেউ বলতে পারেন না; যেমন একটি মিথ্যা আরোপিত (مكذوب) হাদিসে বলা হয়েছে: "যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, আল্লাহ সেই কালিমা থেকে একটি পাখি সৃষ্টি করবেন যার সত্তর হাজার জিহ্বা থাকবে
… "।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
1- تكذيب الحِسّ له كقولهم: "الباذنجان لما أُكل له".
2- سماجة الحديث وكونه مما يُسْخر منه كحديث: "لو كان الأرز رجلاً لكان حليماً، ما أكله جائع إلا أشبعه".
3- مناقضته لما جاءت به السنة الصريحة مناقضة بَيّنَةً كأحاديث في مدح مَن اسمه محمد وأحمد.
4- أن يَدَّعِيَ على النبي صلى الله عليه وسلم أنه فعل أمراً ظاهراً بمحضر من الصحابة كلهم وأنهم اتفقوا على كتمانه ولم ينقلوه، كما يزعم أكذب الطوائف أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في حجة الوداع: "هذا وَصِيّي وأخي والخليفة بعدي".
5- أن يكون الحديث باطلاً في نفسه كقولهم: "إذا غضب الله تعالى أنزل الوحي بالفارسية".
6- أن يكون كلامه لا يشبه كلام الأنبياء فضلاً عن كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم
1- ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তা মিথ্যা প্রতিপন্ন হওয়া, যেমন তাদের উক্তি: "বেগুন যে উদ্দেশ্যে খাওয়া হয়, তা সে উদ্দেশ্যেই কাজ দেয়।"
2- হাদিসটির বর্ণনাভঙ্গি কুরুচিপূর্ণ হওয়া এবং এমন হওয়া যা নিয়ে উপহাস করা হয়, যেমন এই হাদিস: "যদি চাল (ভাত) একজন মানুষ হতো, তবে সে অত্যন্ত ধৈর্যশীল হতো; কোনো ক্ষুধার্ত ব্যক্তিই তা আহার করেনি যার ক্ষুধা নিবারণ হয়নি।"
3- সুস্পষ্ট সুন্নাহর সাথে এমনভাবে সাংঘর্ষিক হওয়া যা অত্যন্ত প্রকাশ্য, যেমন মুহাম্মদ এবং আহমদ নামধারীদের প্রশংসায় বর্ণিত হাদিসসমূহ।
4- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাপারে এমন দাবি করা যে, তিনি সকল সাহাবীর উপস্থিতিতে কোনো প্রকাশ্য কাজ করেছেন, অথচ তারা সকলে তা গোপন করার ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন এবং তা বর্ণনা করেননি। যেমন চরম মিথ্যাবাদী দলগুলো দাবি করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জে বলেছিলেন: "এই ব্যক্তি আমার স্থলাভিষিক্ত, আমার ভাই এবং আমার পরবর্তী খলিফা।"
5- হাদিসটি স্বয়ং অসার (باطل) হওয়া, যেমন তাদের কথা: "যখন আল্লাহ তাআলা রাগান্বিত হন, তখন তিনি ফারসি ভাষায় ওহী নাযিল করেন।"
6- এর বক্তব্য আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণের বাণীর সদৃশ না হওয়া, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর সদৃশ হওয়া তো দূরের কথা।
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
1- أن يكون الحديث بوصْف الأطباء والطرقية أشبه، كقولهم: أكل السمك يوهن الجسد.
2- مخالفة الحديث صريح القرآن.
3- ركاكة ألفاظ الحديث وسماجتها"1".
1- হাদিসটি চিকিৎসকদের বর্ণনা এবং কবিরাজদের (الطرقية) বক্তব্যের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া; যেমন তাদের উক্তি: "মাছ খাওয়া শরীরকে দুর্বল করে দেয়।"
2- হাদিসটি কুরআনের সুস্পষ্ট (صريح) বাণীর পরিপন্থী হওয়া।
3- হাদিসের শব্দাবলির দুর্বলতা (ركاكة) এবং এর কদর্যতা (سماجة)।
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
س7: فقال لي:
سؤالي السابق يلحق به سؤال آخر هو:
لماذا يضطر الفقهاء إلى عملية "التوفيق" أو "الترجيح" بين النصوص؟ أليس ذلك لوجود تنافر أو تعارض ظاهر بين بعض النصوص القرآنية والحديثية أو الحديثية والحديثية؟.
قلت له:
الجمع والترجيح بين الأدلة لهما ضوابطهما المعتمدة المعلومة في مواضعها، ووفق هذه الضوابط يجمع بين الأدلة الثابتة التي ظاهرها التعارض بين
--------------------------------------------
প্রশ্ন ৭: অতঃপর তিনি আমাকে বললেন:
আমার পূর্ববর্তী প্রশ্নের সাথে আরেকটি প্রশ্ন যুক্ত হচ্ছে, তা হলো:
কেন ফকিহগণ (ইসলামি আইনজ্ঞগণ) নস বা টেক্সটসমূহের মধ্যে "সমন্বয় (التوفيق)" অথবা "প্রাধান্য প্রদান (الترجيح)" এর প্রক্রিয়া গ্রহণে বাধ্য হন? এটি কি কিছু কুরআনিক ও হাদিস সংক্রান্ত ভাষ্যের মধ্যে অথবা হাদিস ও হাদিসের মধ্যে বাহ্যিক অসামঞ্জস্য বা বৈপরীত্য (التعارض) থাকার কারণে নয়?।
আমি তাকে বললাম:
দলিলসমূহের মধ্যে সমন্বয় (الجمع) এবং প্রাধান্য প্রদান (الترجيح)-এর নিজস্ব স্বীকৃত নীতিমালা রয়েছে যা নিজ নিজ স্থানে সুবিদিত। এই নীতিমালা অনুযায়ী সেই সকল সুসাব্যস্ত দলিলের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হয় যেগুলোর মধ্যে বাহ্যিকভাবে বৈপরীত্য (التعارض) দেখা যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الدليلين تعارضاً يصل إلى درجة الإلغاء أو التساقط. ويرجَّح أحدهما على الآخر إذا كانت الضوابط تَحْكم بعدم إمكان الجمع بينهما وكثيراً ما يكون الترجيح منصبّاً على درجة ثبوت الرواية وربما يكون منصبّاً على فِقْه النص، وبهذا يُعْلم أنّ هذا المسلك إنما هو من منهج المحدثين والفقهاء معاً.
على أنه ينبغي أن يُعْلم أن التعارض قد يكون بين النصين الصحيحين في الظاهر فقط، أما في حقيقة الأمر فليس ثمة تعارض، ولذا كان الإمام محمد بن خزيمة رحمه الله يقول: "لا أعرف أنه رُوِي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثان بإسنادين صحيحين متضادان، فمن كان عنده فليأت به حتى أؤلف بينهما" "1".
ولذا كان ينبغي أن تكون الصيغة في سؤالك: لوجود تعارض في الظاهر وليس "لوجود تنافر وتعارض ظاهر" ولك أن تتصور حقيقة الأمر وأنه على ما ذكرتُ بدليلٍ آخرَ هو: إن ما سألتَ عنه من التعارض في
--------------------------------------------
দুইটি প্রমাণের মাঝে এমন বিরোধ (تعارض) যা বাতিল (إلغاء) বা অকার্যকর (تساقط) হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। যখন নীতিমালাসমূহ এমন সিদ্ধান্ত দেয় যে এগুলোর মাঝে সমন্বয় (جمع) করা সম্ভব নয়, তখন একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়ার বিষয়টি বর্ণনার (رواية) সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) পর্যায়ের ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে, আবার কখনো তা মূলপাঠের ফিকহ (فقه) এর ওপর ভিত্তি করে হয়। এর মাধ্যমে জানা যায় যে, এই পথটি মুহাদ্দিস (محدثين) ও ফকিহ (فقهاء) উভয়েরই সম্মিলিত মানহাজ বা কর্মপন্থা।
তবে এটি জেনে রাখা উচিত যে, বিরোধ (تعارض) কেবল আপাতদৃষ্টিতে দুটি সঠিক (صحيح) মূলপাঠের মধ্যে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে সেখানে কোনো বিরোধ (تعارض) থাকে না। এজন্যই ইমাম মুহাম্মদ বিন খুজাইমাহ (রহ.) বলতেন: "আল্লাহর রাসূল (সা.) থেকে সঠিক (صحيح) সনদ (إسناد) সহকারে বর্ণিত এমন কোনো পরস্পরবিরোধী দুটি হাদিস আমার জানা নেই; যদি কারো কাছে এমনটি থাকে তবে সে যেন তা নিয়ে আসে যাতে আমি সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় (جمع) করে দিতে পারি।" "১"
তাই আপনার প্রশ্নের শব্দচয়ন এমন হওয়া উচিত ছিল: "আপাতদৃষ্টিতে বিরোধ (تعارض) থাকার কারণে", এটি নয় যে "পারস্পরিক বৈপরীত্য ও স্পষ্ট বিরোধ থাকার কারণে"। আপনি বিষয়টি প্রকৃত অবস্থা অনুযায়ী চিন্তা করতে পারেন এবং আমি যা উল্লেখ করেছি তার স্বপক্ষে অন্য একটি প্রমাণ হলো: আপনি যে বিরোধ (تعارض) সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিওয়ারুন হাওলা মানহাজিল মুহাদ্দিসীনা ফী নাকদির রিওয়ায়াতি সানাদাউঁ ওয়া মাতনান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الظاهر بَيْن النصوص قد يحصل بين آيات الكتاب العزيز، وأنتَ لا تقول ولا أنا ولا أي مسلم بأن ذلك تعارض حقيقي، فإذا سلّمنا بيقين في هذه الصورة فالصور الباقية –أي التعارض في الظاهر بين بعض الآيات وبعض الأحاديث أو بين الأحاديث – مثلُها لا فرق. والحمد لله رب العالمين.
وبعد هذا انتقلنا إلى السؤال الآتي:
নصوص (মূলপাঠসমূহের) মধ্যে আপাত (ظاهر) যা পরিলক্ষিত হয় তা মহাগ্রন্থের আয়াতসমূহের মধ্যেও সংঘটিত হতে পারে। আপনি, আমি কিংবা কোনো মুসলিমই এ কথা বলবেন না যে সেটি কোনো প্রকৃত বৈপরীত্য (تعارض حقيقي)। সুতরাং, আমরা যদি এই বিষয়ের ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে বিষয়টি মেনে নিই, তবে অবশিষ্ট ক্ষেত্রগুলো—অর্থাৎ কিছু আয়াত ও কিছু হাদিসের মধ্যে অথবা হাদিসসমূহের মধ্যে আপাত বৈপরীত্য (تعارض في الظاهر)—একই রূপ, এতে কোনো পার্থক্য নেই। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এরপর আমরা পরবর্তী প্রশ্নের দিকে অগ্রসর হলাম: