(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: -)
حماية الرسول صلى الله عليه وسلم حمى التوحيد القسم: العقيدة
الكتاب: حماية الرسول صلى الله عليه وسلم حمى التوحيد
المؤلف: محمد بن عبد الله زربان الغامدي
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 14232هـ/2003م
عدد الصفحات: 409
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাওহীদের সীমানা সুরক্ষা বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাওহীদের সীমানা সুরক্ষা
লেখক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ যারবান আল-গামিদী
প্রকাশক: ইসলামিক ইউনিভার্সিটির বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ، মদীনা মুনাওয়ারা، সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরী/২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলার প্রকাশকাল: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة…حماية الرسول صلى الله عليه وسلم حمى التوحيد
تأليف: د. محمد بن عبد الله زربان الغامدي
شكر وتقدير
الحمد لله والصلاة والسلام على عبده ورسوله نبينا محمد وعلى آله وصحبه. وبعد:
يطيب أن أتقدم بوافر الشكر والتقدير لحكومة هذه البلاد وعلى رأسها خادم الحرمين الشريفين على ما تقدمه لخدمة الإسلام وأهله، ومن ذلك هذه الجامعة الإسلامية التي تستقبل أبناء المسلمين من أرجاء المعمورة.
كما أتقدم بالشكر لمعالي رئيس الجامعة على جهوده المتواصلة للسير بهذه الجامعة إلى تحقيق الأهداف التي من أجلها أسست وإلى قسم الدراسات العليا بالجامعة، وإلى فضيلة المشرف الدكتور أحمد بن عطية الغامدي الذي بذل وقته وجهده على متابعته لهذا البحث حتى تم إنجازه بتوفيق الله.
كما أشكر كل من ساعدني على ذلك.
وأسأل الله أن يجزي الجميع خيرا، وأن يجعل العمل خالصا لوجهه، إنه جواد كريم، وصلى الله على محمد بن عبد الله، وعل آله وصحبه وسلم.
ভূমিকা…রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাওহীদের সীমানা সুরক্ষা
রচনা: ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ যারবান আল-গামদি
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাথীদের উপর। অতঃপর:
এই দেশের সরকার এবং বিশেষ করে খাদেমুল হারামাাইন আশ-শারিফাইনকে ইসলাম ও মুসলমানদের সেবায় তাদের অবদানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো আমার জন্য আনন্দের বিষয়। এর একটি অন্যতম উদাহরণ হলো এই ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিম সন্তানদের গ্রহণ করে থাকে।
একইভাবে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রেসিডেন্টের প্রতি তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আরও ধন্যবাদ জানাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগকে এবং শ্রদ্ধেয় তত্ত্বাবধায়ক ড. আহমদ বিন আতিয়্যাহ আল-গামদিকে, যিনি আল্লাহর তৌফিকে এই গবেষণাটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মূল্যবান সময় ও শ্রম দিয়ে এটি তদারকি করেছেন।
এছাড়া যারা আমাকে এই কাজে সহায়তা করেছেন তাদের সকলকেও আমি ধন্যবাদ জানাই।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দানশীল ও দয়ালু। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাথীদের উপর।
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الثالث: أنواع التوحيد. ويشتمل على عدة مباحث:
المبحث الأول: توحيد الربوبية.
المبحث الثاني: توحيد الألوهية.
المبحث الثالث: توحيد الأسماء والصفات.
المبحث الرابع: منهجه عليه الصلاة والسلام في الدعوة إلى التوحيد.
وقبل هذه المباحث بيان أصل هذا التقسيم.
الفصل الرابع: أنواع الشرك. ويشتمل على ثلاثة مباحث.
المبحث الأول: الشرك الأكبر.
المبحث الثاني: الشرك الأصغر.
المبحث الثالث: الشرك الخفي.
الفصل الخامس: منهج الرسول صلى الله عليه وسلم في حماية التوحيد.
ويشتمل على عدة مباحث:
المبحث الأول: حمايته لتوحيد الربوبية.
المبحث الثاني: اهتمامه عليه الصلاة والسلام بتوحيد الألوهية وحمايته له.
المبحث الثالث: حمابته لتوحيد الأسماء والصفات.
الخاتمة: وقد ذكرت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها في هذا البحث.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদের প্রকারভেদ। এটি কয়েকটি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম আলোচনা: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ।
দ্বিতীয় আলোচনা: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ।
তৃতীয় আলোচনা: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত।
চতুর্থ আলোচনা: তাওহীদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) পদ্ধতি।
এই আলোচনাগুলোর পূর্বে এই বিভাজনের মূল ভিত্তির বর্ণনা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শিরকের প্রকারভেদ। এটি তিনটি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।
প্রথম আলোচনা: শিরকে আকবর (বড় শিরক)।
দ্বিতীয় আলোচনা: শিরকে আসগর (ছোট শিরক)।
তৃতীয় আলোচনা: শিরকে খফি (গোপন শিরক)।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাওহীদ সুরক্ষায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি।
এটি কয়েকটি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম আলোচনা: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহর সুরক্ষা।
দ্বিতীয় আলোচনা: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহর প্রতি তাঁর (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) গুরুত্বারোপ এবং এর সুরক্ষা।
তৃতীয় আলোচনা: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের সুরক্ষা।
উপসংহার: এতে আমি এই গবেষণায় প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقد بذلت جهدي في هذا الموضوع مستعينا بالله وحده لا شريك له، ثم بما كتبه علماء الإسلام المخلصون، واجتهدت في ذلك رغم قلة الوقت والعلم.
وأرجو أنني قد أديت شيئا مما يستحقه هذا البحث، وأرجو الله تعالى أن يتقبل عملي هذا ويجعله خالصا لوجهه، ولا شك أن كل عمل بشري عرضة للقصور والخطأ، وحسبي أنني قد اجتهدت، فما كان فيه من كمال وتوفيق للحق فمن الله، وما كان من قصور وخطأ فمني ومن الشيطان.
وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب. وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وآله وصحبه.
আর আমি এই বিষয়ে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি একমাত্র আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে যার কোনো অংশীদার নেই, অতঃপর ইসলামের একনিষ্ঠ আলেমগণ যা লিখেছেন তার মাধ্যমে; এবং আমি এতে পরিশ্রম করেছি সময়ের স্বল্পতা ও জ্ঞানের স্বল্পতা সত্ত্বেও।
আর আমি আশা করি যে, এই গবেষণার যা প্রাপ্য ছিল আমি তার কিছু অংশ আদায় করতে পেরেছি এবং আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজ কবুল করেন এবং একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রতিটি মানবিক কাজই ত্রুটি ও ভুলের সম্মুখীন হয়। আমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে আমি চেষ্টা করেছি; সুতরাং এতে যা কিছু পূর্ণতা ও সত্যের তাওফিক রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ত্রুটি ও ভুল রয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে।
আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহরই সাহায্যে; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হই। আর আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর।
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
مقدمة
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.
أما بعد:
فبفضل الله تعالى وتوفيقه يسر لي القبول في الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، ولما كان من نظامها تقديم بحث علمي في مجال التخصص لنيل درجة الماجستير.
ولأن تخصصي في علم العقيدة الإسلامية، الذي هو أشرف العلوم قدرا وأرفعها مكانة، فقد اجتهدت كثيرا في اختيار الموضوع المناسب، وبتوفيق الله تعالى وقع اختياري على موضوع: (حماية الرسول صلى الله عليه وسلم حمى التوحيد) وذلك للأسباب الآتية:
أولا: أن الرسول صلى الله عليه وسلم وهو الذي علمنا توحيد ربنا عز وجل، كان أول ما دعا إليه، وحياته كلها كانت دعوة إليه، وحماية له، حرصا على أمته وخوفا عليها وبيان ذلك من أعظم ما يهم كل مسلم موحد.
ثانيا: أن هذا الموضوع – فيما أعلم – لم يكتب عنه في بحث مستقل شامل لهذه الحماية منه صلى الله عليه وسلم وإنما ورد ضمن غيره في كتب بعض العلماء.
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর।
অতঃপর:
মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকে মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণায় আমার ভর্তির সুযোগ হয়েছে। যেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রবন্ধ পেশ করতে হয়।
আর যেহেতু আমার বিশেষায়িত ক্ষেত্র হলো ইসলামি আকীদা শাস্ত্র, যা মর্যাদার দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং অবস্থানের দিক থেকে সর্বোচ্চ ইলম, তাই আমি একটি উপযুক্ত বিষয় নির্বাচনের জন্য অনেক প্রচেষ্টা চালিয়েছি। অবশেষে আল্লাহর তাওফিকে আমি এই বিষয়টি নির্বাচন করেছি: (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাওহীদের সীমানা সুরক্ষা)। এর কারণগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
প্রথমত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই আমাদের মহান রবের তাওহীদ শিক্ষা দিয়েছেন। এটিই ছিল তাঁর দাওয়াতের প্রথম বিষয় এবং তাঁর পুরো জীবনই ছিল এর দিকে আহ্বান ও একে সুরক্ষার কাজে নিবেদিত। উম্মতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ও আশঙ্কার কারণেই তিনি এটি করেছিলেন। আর এই বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রত্যেক একত্ববাদী মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয়ত: আমার জানামতে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক এই সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ কোনো গবেষণাপত্র রচিত হয়নি; বরং কিছু আলিমের কিতাবে এটি অন্য আলোচনার অধীনে প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثالثا: التذكير بهذه الحماية، وأنها أمانة في عنق كل مسلم حسب استطاعته الشرعية، ولعل هذا البحث المتواضع أداء لبعض هذه الأمانة.
وقد رتبت هذا البحث على: مقدمة، وخمسة فصول وخاتمة:
المقدمة: بينت فيها معنى التوحيد، والمفاهيم الخاطئة في هذا المعنى.
الفصل الأول: نماذج من دعوة الأنبياء والرسل عليهم الصلاة والسلام. ويشتمل على عدة مباحث:
المبحث الأول: دعوة نوح عليه السلام.
المبحث الثاني: دعوة هود عليه السلام.
المبحث الثالث: دعوة صالح عليه السلام.
المبحث الرابع: دعوة إبراهيم عليه السلام.
المبحث الخامس: دعوة موسى عليه السلام.
المبحث السادس: دعوة عيسى عليه السلام.
الفصل الثاني: دعوة الرسول محمد صلى الله عليه وسلم. ويشتمل على عدة مباحث:
المبحث الأول: حال الناس قبل بعثه عليه الصلاة والسلام.
المبحث الثاني: بعثته عليه الصلاة والسلام.
المبحث الثالث: دعوته عليه الصلاة والسلام:
أ - المرحلة المكية.
ب - المرحلة المدنية.
المبحث الرابع: أهمية التوحيد وأنه أول واجب على العبد.
তৃতীয়ত: এই সুরক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং এটি প্রত্যেক মুসলিমের ঘাড়ে অর্পিত একটি আমানত, তার শরয়ি সামর্থ্য অনুযায়ী। সম্ভবত এই বিনম্র গবেষণাটি সেই আমানতের কিছু অংশ আদায়ের একটি প্রচেষ্টা।
আমি এই গবেষণাটিকে একটি ভূমিকা, পাঁচটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি:
ভূমিকা: এতে আমি তাওহীদের অর্থ এবং এই অর্থের ক্ষেত্রে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো স্পষ্ট করেছি।
প্রথম অধ্যায়: নবী ও রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর দাওয়াতের কিছু নমুনা। এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: নূহ আলাইহিস সালাম-এর দাওয়াত।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হূদ আলাইহিস সালাম-এর দাওয়াত।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সালিহ আলাইহিস সালাম-এর দাওয়াত।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইবরাহিম আলাইহিস সালাম-এর দাওয়াত।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মুসা আলাইহিস সালাম-এর দাওয়াত।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ঈসা আলাইহিস সালাম-এর দাওয়াত।
দ্বিতীয় অধ্যায়: রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াত। এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) প্রেরণের পূর্বে মানুষের অবস্থা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) নবুওয়াত ও প্রেরণ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) দাওয়াত:
ক - মক্কি পর্যায়।
খ - মাদানি পর্যায়।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাওহীদের গুরুত্ব এবং এটি যে বান্দার ওপর প্রথম আবশ্যিক কর্তব্য।
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تمهيدأرى من المناسب قبل الدخول في موضوعات البحث أن أقدم بين يديه تعريفا للتوحيد لغة واصطلاحا، مع بيان ما حصل من مفاهيم خاطئة لمدلول التوحيد الذي جاء به رسول الله صلى الله عليه وسلم.
فأما لغة:
فالتوحيد: مصدر وحد الشيء يوحده توحيدا، إذا أفرده، والوحدة: الانفراد، والله تعالى هو الواحد والأحد: ذو الوحدانية والتوحيد، والفرق بينهما أن الأحد بني لنفي ما يذكر معه من العدد، تقول: ما جاءني أحد.
والواحد: اسم بني لفتح العدد، فتقول: جاءني واحد من الناس، ولا تقول: جاءني أحد، فالواحد منفرد بالذات في عدم المثل والنظير، والأحد منفرد بالمعنى1.
قال ابن الأثير: "في أسماء الله تعالى (الواحد) هو الفرد الذي لم يزل وحده، ولم يكن معه آخر"2.
قال الأزهري: "وأما اسم الله عز وجل – أحد – فإنه لا يوصف شيء بالأحدية غيره، لا يقال: رجل أحد، ولا درهم أحد، كما يقال: رجل وحَدُ أي فرد، لأن أحدا صفة من صفات الله عز وجل استخلصها لنفسه، ولا يشركه فيها شيء، وليس كقولك: الله واحد، وهذا شيء واحد "3.
--------------------------------------------
উপক্রমনিকাগবেষণার মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে আমি এর শুরুতে আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে তাওহীদের একটি পরিচয় তুলে ধরা এবং সেই সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে তাওহীদ নিয়ে এসেছিলেন, তার মর্মার্থ সম্পর্কে যেসব ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে তা স্পষ্ট করা সমীচীন মনে করছি।
আভিধানিক অর্থ:
তাওহীদ: এটি কোনো কিছুকে এক বা একক করা অর্থে ব্যবহৃত ক্রিয়ামূল। আর 'আল-ওয়াহদাহ' অর্থ হলো একক হওয়া। আল্লাহ তাআলা হলেন 'আল-ওয়াহিদ' এবং 'আল-আহাদ', অর্থাৎ তিনি একত্ব ও তাওহীদের অধিকারী। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো, 'আহাদ' শব্দটি তার সাথে উল্লিখিত সংখ্যার সম্ভাবনা নাকচ করার জন্য গঠিত হয়েছে; যেমন আপনি বলেন: 'আমার কাছে কেউ (আহাদ) আসেনি'।
আর 'ওয়াহিদ' এমন একটি নাম যা সংখ্যার ক্রম শুরু করার জন্য গঠিত হয়েছে; যেমন আপনি বলেন: 'আমার কাছে একজন (ওয়াহিদ) ব্যক্তি এসেছে', কিন্তু আপনি বলেন না: 'আমার কাছে আহাদ ব্যক্তি এসেছে'। সুতরাং 'ওয়াহিদ' সত্তাগতভাবে এমন একক যার কোনো সদৃশ ও সমকক্ষ নেই, আর 'আহাদ' হলো অর্থগত দিক থেকে একক।১
ইবনুল আসীর বলেন: "আল্লাহ তাআলার নামসমূহের ক্ষেত্রে (আল-ওয়াহিদ) হলেন সেই একক সত্তা যিনি অনাদিকাল থেকে একাই ছিলেন এবং তাঁর সাথে অন্য কেউ ছিল না।"২
আল-আযহারী বলেন: "আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নাম—আহাদ—সম্পর্কে বলা যায় যে, তিনি ছাড়া অন্য কাউকে এককত্বের এই গুণে গুণান্বিত করা যায় না। বলা হয় না: 'আহাদ ব্যক্তি' বা 'আহাদ দিরহাম', যেভাবে 'ওয়াহাদ ব্যক্তি' বা একক ব্যক্তি বলা হয়। কারণ 'আহাদ' আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণসমূহের মধ্য হতে এমন একটি গুণ যা তিনি নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, এতে কোনো কিছুই তাঁর অংশীদার নয়। এটি তোমার এই কথার মতো নয় যে: 'আল্লাহ এক (ওয়াহিদ)' এবং 'এই বস্তুটি এক (ওয়াহিদ)'।"৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ومما تقدم يتبين أن مادة (وحد) تدل عل الانفراد، فالواو والحاء والدال أصل واحد يدل على الانفراد، يقال: هو واحد في قبيلته، إذا لم يكن مثله. قال الشاعر:
يا واحد العرب الذي
… ما في الأنام له نظير1
فوَحَد تدل على التفرد وعدم النظير والمثيل للشيء فيم كان واحداً فيه، والله عز وجل هو الواحد الأحد، المتصف بصفات الكمال، فهو واحد أحد في ذاته، وأفعاله، وفي أسمائه وصفاته، لا نظير له في ذاته وصفاته، ولا ند له في إلهيته ولا شريك له في ربوبيته وملكه2.
التوحيد في الاصطلاح:
مادة (وَحَدَ) كما تقدم في المعنى اللغوي تدل على التفرد، والتوحيد مصدر وحد، يوحد، توحيداً، أي جعله واحدا.
والتوحيد في الاصطلاح: إفراد الله تبارك وتعالى بالعبادة، وإخلاصها له وحده لا شريك له وهذاهو دين الرسل الذي أرسلهم الله إلى عباده3.
فإفراد الله سبحانه بالعبادة يقتضي أن تصرف جميع العبادات له عز وجل خالصة له دون من سواه كائنا من كان، لأنه الواحد الأحد الذي لا شريك له ولا مثيل ولا كفء ولا ند في ذاته وأفعاله وأسمائه وصفاته، قال
--------------------------------------------
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, (ওয়াহাদ) শব্দমূলটি অনন্যতা বুঝায়। সুতরাং 'ওয়াও', 'হা' এবং 'দাল' একটি মূল যা একক সত্তা হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। বলা হয়: সে তার গোত্রে অদ্বিতীয়, যখন তার মতো আর কেউ থাকে না। কবি বলেন:
হে আরবের সেই একক ব্যক্তি যার... সৃষ্টির মাঝে কোনো উপমা নেই১
সুতরাং 'ওয়াহাদা' শব্দটি কোনো কিছুর অনন্যতা এবং তার কোনো উপমা বা সাদৃশ্য না থাকাকে নির্দেশ করে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা হলেন এক ও অদ্বিতীয়, যিনি সকল পূর্ণতা ও মহিমা গুণের অধিকারী। তিনি তাঁর সত্তা, তাঁর কার্যাবলী এবং তাঁর নাম ও গুণাবলিতে এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে তাঁর কোনো সমতুল্য নেই, তাঁর উলুহিয়্যাত বা উপাসনায় কোনো সমকক্ষ নেই এবং তাঁর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্ব ও রাজত্বে কোনো অংশীদার নেই২।
পারিভাষিক অর্থে তাওহীদ:
'ওয়াহাদা' শব্দমূলটি শাব্দিক অর্থের বর্ণনায় যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, তা অনন্যতা বুঝায়। আর তাওহীদ হলো 'ওয়াহাদা', 'ইউওয়াহ্হিদু', 'তাওহীদান' এর ক্রিয়ামূল, যার অর্থ হলো কোনো কিছুকে এক হিসেবে সাব্যস্ত করা।
আর পারিভাষিক অর্থে তাওহীদ হলো: ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলাকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা এবং সকল ইবাদত তাঁরই জন্য একনিষ্ঠ করা যাঁর কোনো অংশীদার নেই। আর এটাই হলো সেই রাসূলগণের দ্বীন যাদেরকে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নিকট প্রেরণ করেছেন৩।
সুতরাং ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে একক সাব্যস্ত করা এই দাবি রাখে যে, সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্যই নিবেদিত হবে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও জন্য নয়, সে যেই হোক না কেন। কারণ তিনি হলেন এক ও অদ্বিতীয়, যাঁর কোনো অংশীদার নেই, কোনো সাদৃশ্য নেই, কোনো সমতুল্য নেই এবং যাঁর সত্তা, কর্ম, নাম ও গুণাবলিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তিনি বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلاّ لِيَعْبُدُوا إِلَهاً وَاحِداً لا إِلَهَ إِلا هُوَ} 1.
وقال عز وجل: {وَمَا أُمِرُوا إِلَاّ لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} 2.
وقال جل شأنه: {قُلِ اللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصاً لَهُ دِينِي فَاعْبُدُوا مَا شِئْتُمْ مِنْ دُونِه} 3.
وقال تبارك وتعالى: {إياك نعبد وإياك نستعين} 4.
وقال سبحانه: {فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيّاً} 5.
وقال عز من قائل: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ*اللَّهُ الصَّمَدُ*لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ*وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ} 6.
وقال جل وعلا: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} 7.
ومن كان هذا شأنه وهذه صفته كان هو المستحق أن يفرد بالعبادة
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {আর তাদেরকে কেবল একজন ইলাহের ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই।} ১।
এবং পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: {আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে, বিশুদ্ধচিত্তে; এবং তারা যেন সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। আর এটাই সঠিক ও সুদৃঢ় দ্বীন।} ২।
এবং তাঁর শান অতি মহান, তিনি বলেন: {বলুন, আমি আল্লাহরই ইবাদত করি আমার দ্বীনকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করে। অতএব তোমরা তাঁর পরিবর্তে যা ইচ্ছা তারই ইবাদত করো।} ৩।
এবং বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ বলেন: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি।} ৪।
এবং পবিত্র সত্তা আল্লাহ বলেন: {অতএব তাঁরই ইবাদত করুন এবং তাঁর ইবাদতে ধৈর্য ধারণ করুন। আপনি কি তাঁর সমতুল্য কাউকে জানেন?} ৫।
এবং পরাক্রমশালী সত্তা বলেন: {বলুন, তিনি আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।} ৬।
এবং মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ বলেন: {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} ৭।
আর যাঁর মর্যাদা এমন এবং যাঁর বৈশিষ্ট্য এই, তিনিই কেবল ইবাদতে একক হওয়ার যোগ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وحده لا شريك له، وكان صرف شيء منها لغيره شركا وجهلا وضلالا.
والعبادة: اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه من الأقوال والأعمال الظاهرة والباطنة.
وبهذا المعنى فهي حق له تعالى على عباده لا يستحقها أحد سواه، كما جاء في حديث معاذ رضي الله عنه حيث قال: "كنت رديف النبي صلى الله عليه وسلم على حمار، قال: "يا معاذ، أتدري ما حق الله على العباد، وما حق العباد على الله؟ " قلت: الله ورسوله أعلم. قال: "حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا، وحق العباد على الله: أن لا يعذب من لا يشرك به شيئا". قلت: يا رسول الله أفلا أبشر الناس؟ قال: "لا تبشرهم فيتكلوا" 1.
ومما تقدم نعلم أن إفراد الله عز وجل بالعبادة واعتقاد أنه سبحانه لا شريك له ولا ند ولا مثيل في ربوبيته وإليته وأسمائه وصفاته، حق واجب له تعالى على عباده، بل أول الواجبات وأعظمها وأساسها.
وهذا هو دين الله عز وجل الذي أرسل به رسله جميعا من نوح إلى محمد عليهم الصلاة والسلام، كما قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 2.
--------------------------------------------
তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; আর এর (ইবাদতের) কোনো অংশ অন্য কারো জন্য নিবেদন করা শিরক, মূর্খতা ও বিভ্রান্তি।
আর ইবাদত হলো: আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সকল প্রকাশ্য ও গোপন কথা ও কাজের একটি সামগ্রিক নাম।
এই অর্থে এটি বান্দাদের ওপর মহান আল্লাহর একটি প্রাপ্য অধিকার যা তিনি ব্যতীত অন্য কেউ পাওয়ার যোগ্য নয়, যেমনটি মুয়ায রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পেছনে একটি গাধার ওপর আরোহী ছিলাম। তিনি বললেন: 'হে মুয়ায, তুমি কি জান বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক কী এবং আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক কী?' আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: 'বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক হলো তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক হলো, তিনি এমন কাউকে শাস্তি দেবেন না যে তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক করে না।' আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি মানুষকে সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন: 'তাদের সুসংবাদ দিও না, পাছে তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকে'।" ১।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারি যে, ইবাদতে মহান আল্লাহকে একক করা এবং এই বিশ্বাস রাখা যে তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব), উলুহিয়্যাত (উপাস্যত্ব) এবং নাম ও গুণাবলিতে কোনো অংশীদার, প্রতিপক্ষ বা সদৃশ নেই—তা বান্দাদের ওপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অত্যাবশ্যকীয় অধিকার; বরং এটিই প্রথম, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং মূল কর্তব্য।
আর এটিই মহান আল্লাহর সেই দ্বীন যা নিয়ে তিনি নূহ থেকে শুরু করে মুহাম্মদ (তাঁদের সবার ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) পর্যন্ত সকল রাসূলকে প্রেরণ করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।} ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال سبحانه: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَاّ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ أَنَا فَاعْبُدُونِ} 1.
وقال عز وجل: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحاً وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ يُنِيبُ} 2.
فجميعهم جاءوا يدعون إلى عبادة الله وحده، ونبذ عبادة غيره منذ أن ظهر أول شرك في الأرض حتى بعث الله خاتمهم محمد صلى الله عليه وسلم، فالعجب كل العجب ممن يشرك بالله بعد ذلك وله أدنى بصيرة، ولكن الله يضل من يشاء ويهدي من يشاء.
المفاهيم الخاطئة في معنى التوحيد:
ومع وضوح الرؤية وظهور الأدلة في هذا الجانب، فقد وجدت طوائف فهمت التوحيد فهما خاطئا وضلت في ذلك ضلالا بعيدا، وجعلت هذا الفهم الخاطئ غاية توحيدها، وأساس معتقدها.
والسبب في ذلك هو البعد عن كتاب الله تعالى وسنة رسوله محمد صلى الله عليه وسلم، والاعتماد على العقل وحده، وتقديمه على النصوص، ومعلوم تباين العقول واختلاف الأفهام.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমার পূর্বে আমি যে রাসূলই পাঠিয়েছি তাকে এই ওহীই দিয়েছি যে, 'আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো।'} ১।
মহাসম্মানিত ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই পথই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি এবং যার নির্দেশ ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম—এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। মুশরিকদের কাছে তা বড়ই কঠিন মনে হয় যে বিষয়ের দিকে তুমি তাদের আহ্বান করছ। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আপন সান্নিধ্যে টেনে নেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি হিদায়াত দান করেন।} ২।
পৃথিবীতে সর্বপ্রথম শিরক প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত তাঁদের সকলেই একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর ইবাদত বর্জন করার আহ্বান নিয়ে এসেছেন। সুতরাং যার সামান্যতম অন্তর্দৃষ্টি আছে, তার জন্য এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে সে এরপরও আল্লাহর সাথে শিরক করে; কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন।
তাওহীদের অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে ভ্রান্ত ধারণাগুলো:
এই বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা এবং দলীল-প্রমাণের সুস্পষ্টতা সত্ত্বেও এমন কিছু গোষ্ঠী পাওয়া গিয়েছে যারা তাওহীদকে ভুলভাবে বুঝেছে এবং এই বিষয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে বহু দূরে ছিটকে পড়েছে। তারা এই ভ্রান্ত উপলব্ধিকেই তাদের তাওহীদের লক্ষ্য এবং আকিদার ভিত্তি বানিয়ে নিয়েছে।
এর কারণ হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে বিমুখ হওয়া এবং কেবলমাত্র বিবেকের ওপর নির্ভর করা ও দলীলসমূহের ওপর বিবেককে প্রাধান্য দেওয়া। অথচ এটা তো জানা কথা যে, মানুষের বিবেক ও উপলব্ধিতে বিস্তর পার্থক্য বিদ্যমান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ومن أهم الطوائف التي سلكت هذا المسلك:
المعتزلة:
وهم الذي سموا أنفسهم أهل التوحيد، وجعلوه الأصل الأول من أصولهم، وغاية هذا التوحيد عندهم: نفي صفات الله عز وجل، فيثبتون له سبحانه ذاتا مجردة عن الصفات، ووجودا مطلقا بشرط الإطلاق، لاعتقادهم أن إثباتها يوجب مشابهة الله لخلقه، وهذا شرك1.
فكل من أثبت لله تعالى علما أو قدرة أو أنه يرى في الآخرة، أو أن القرآن كلامه منزل غير مخلوق، أو أنه سميع بصير، مستو على عرشه بائن من خلقه، وغير ذلك من الصفات الثابتة بالكتاب والسنة، فهو عندهم مشبه وليس بموحد. فالحكم عندهم هو العقل فما وافقه قبلوه، وما لم يوافقه ردوه وأنكروه أو فوضوه أو أولوه، ولإيضاح هذا المنهج يقول الإمام ابن تيمية رحمه الله:
ومثل هذا القانون الذي وضعه هؤلاء يضع كل فريق لأنفسهم قانونا فيما جاءت به الأنبياء عن الله، فيجعلون الأصل الذي يعتقدونه ويعتمدونه هو ما ظنوا أن عقولهم عرفته، ويجعلون ما جاءت به الأنبياء تبعا له، فما وافق قانونهم قبلوه وما خالفه لم يتبعوه "2.
--------------------------------------------
এবং এই পথ অনুসরণকারী প্রধান দলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
মুতাজিলা:
তারা সেই গোষ্ঠী যারা নিজেদেরকে ‘আহলুত তাওহীদ’ (তাওহীদপন্থী) বলে অভিহিত করে এবং তারা একে তাদের মূলনীতিগুলোর মধ্যে প্রথম মূলনীতি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। তাদের কাছে এই তাওহীদের লক্ষ্য হলো: মহান আল্লাহর গুণাবলী (সিফাত) অস্বীকার করা। ফলে তারা আল্লাহর জন্য গুণাবলী বিবর্জিত এক সত্তা এবং নিরঙ্কুশ শর্তে এক পরম অস্তিত্ব সাব্যস্ত করে। কারণ তাদের বিশ্বাস হলো, গুণাবলী সাব্যস্ত করা আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সদৃশ করাকে অনিবার্য করে তোলে, আর এটি হলো শিরক ১।
অতএব, যে ব্যক্তিই মহান আল্লাহর জন্য জ্ঞান বা ক্ষমতা সাব্যস্ত করে, কিংবা বিশ্বাস করে যে আখিরাতে তাঁকে দেখা যাবে, অথবা কুরআন তাঁর নাযিলকৃত বাণী ও তা সৃষ্টি নয়, অথবা তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন এবং সৃষ্টির থেকে পৃথক, এবং কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত অন্যান্য গুণাবলী সাব্যস্ত করে—তাদের মতে সে হলো সাদৃশ্যদানকারী (মুশাব্বিহ) এবং সে তাওহীদপন্থী নয়। তাদের কাছে ফয়সালাকারী হলো বুদ্ধি (আকল); যা তাদের বুদ্ধির অনুকূল হয় তা তারা গ্রহণ করে, আর যা তাদের বুদ্ধির অনুকূল হয় না তা তারা প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করে, অথবা তা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেয় (তাফবীয করে) কিংবা অপব্যাখ্যা (তাবীল) করে। এই পদ্ধতিটি স্পষ্ট করার জন্য ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
“এরা যে নিয়ম তৈরি করেছে, অনুরূপ নিয়ম প্রতিটি দলই আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীদের আনীত বিষয়ের ক্ষেত্রে নিজেদের জন্য তৈরি করে নেয়। ফলে তারা সেই বিষয়কেই তাদের আকিদা ও নির্ভরতার মূল ভিত্তি বানায় যা তাদের বুদ্ধি অনুধাবন করেছে বলে তারা মনে করে এবং নবীদের আনীত বিষয়কে তারা এর অনুগামী করে নেয়। ফলে যা তাদের নিয়মের সাথে মিলে যায় তা তারা গ্রহণ করে, আর যা এর পরিপন্থী হয় তা তারা অনুসরণ করে না” ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
والمعتزلة متفقون جميعا على نفي صفات الله تعالى، ويسمون ذلك توحيدا ولكنهم يختلفون في التعبير عن ذلك:
فمنهم من يقول: إنها نفس الذات، فيقول: إن الله عالم بعلم هو ذاته وقادر بقدرة هي ذاته ونحو ذلك، ومن هؤلاء أبو الهذيل العلاف1.
ومعنى ذلك عندهم: أن الذات تسمى باعتبار تعلقها بالمعلوم علما، ونحو ذلك في بقية الصفات، لا أن الصفات شيء غير الذات.
ومنهم من يعبر عنها بالسلب ونفي الضد، فمعنى كونه علما – عندهم – ليس بجاهل، وقادرا ليس بعاجز، ونحوه، ومن هؤلاء النظام2.
ومنهم: من يعبر عنها بأنها أحوال وراء الذات، فيقول مثلا: لله عالمية وقادرية، لا علما ولا قدرة، ثم يقول: وهذه الأحوال ليست بموجودة ولا معدومة، وأشهر من قال بذلك: أبو هاشم، حتى نسبت إليه فقيل: أحوال أبي هاشم3.
وقوله هذا محال، إذ لا يتصور حصول شيء وقيامه، وهو لا موجود ولا معدوم.
وقد اعتمد المعتزلة في نفيهم صفات الله سبحانه وتعالى على قاعدة فاسدة، اتخذوها من عند أنفسهم مبعثها: بعدهم عن كتاب الله عز وجل،
--------------------------------------------
মুতাজিলাগণ মহান আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার ব্যাপারে সবাই একমত এবং তারা একে 'তাওহিদ' বলে অভিহিত করে। তবে এ বিষয়ে ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে তারা মতভেদ করে:
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে: এগুলো (গুণাবলি) স্বয়ং সত্তাই (জাত)। তারা বলে: আল্লাহ এমন ইলমের মাধ্যমে জানেন যা তাঁর সত্তা এবং এমন কুদরতের মাধ্যমে সক্ষম যা তাঁর সত্তা—অনুরূপ অন্যান্য বিষয়ও। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আবু আল-হুযাইল আল-আল্লাফ ১।
তাদের নিকট এর অর্থ হলো: জ্ঞাত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্টতার বিচারে সত্তাকেই 'ইলম' (জ্ঞান) বলা হয় এবং অন্যান্য গুণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। গুণাবলি সত্তা থেকে পৃথক কোনো কিছু নয়।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এগুলোকে অভাবাত্মক এবং বিপরীত বিষয়কে নাকচ করার মাধ্যমে ব্যক্ত করে। সুতরাং তাদের নিকট তিনি 'জ্ঞানী' হওয়ার অর্থ হলো—তিনি অজ্ঞ নন, এবং 'সক্ষম' হওয়ার অর্থ হলো—তিনি অক্ষম নন—অনুরূপ অন্যান্য বিষয়ও। তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আন্-নাজ্জাম ২।
তাদের মধ্যে এমনও আছে যারা এগুলোকে সত্তার অতিরিক্ত 'অবস্থা' হিসেবে ব্যক্ত করে। উদাহরণস্বরূপ তারা বলে: আল্লাহর জন্য 'জ্ঞানী হওয়া' এবং 'সক্ষম হওয়া' সাব্যস্ত, কিন্তু 'জ্ঞান' বা 'ক্ষমতা' নয়। অতঃপর তারা বলে: এই অবস্থাগুলো অস্তিত্ববানও নয় আবার অস্তিত্বহীনও নয়। এই মতের প্রবক্তাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন আবু হাশিম; এমনকি এটি তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে বলা হয়: 'আবু হাশিমের অবস্থাসমূহ' ৩।
তাঁর এই কথা অসম্ভব; কারণ কোনো কিছুর ঘটা এবং বিদ্যমান হওয়া কল্পনা করা যায় না যখন তা অস্তিত্ববানও নয় আবার অস্তিত্বহীনও নয়।
মুতাজিলাগণ মহান আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে একটি ভ্রান্ত নীতির ওপর নির্ভর করেছে, যা তারা নিজেদের পক্ষ থেকে গ্রহণ করেছে। এর মূল উৎস হলো মহান আল্লাহর কিতাব থেকে তাদের দূরত্ব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وتقديمهم العقل على النص، ثم الأقيسة الفاسدة، والتأويلات الباطلة التي درجوا عليها، فقالوا: لو أثبتنا الصفات وقلنا: إنها زائدة على الذات، فإن قلنا: إنها محدثة لزم من ذلك قيام الحوادث بذاته تعالى.
وإن قلنا: بأنها قديمة، لزم من ذلك تعدد القدماء، والقائل بذلك يقع في أشد مما وقعت فيه النصارى فإنهم قالوا بقدماء ثلاثة، وهو يقول بأكثر من ذلك!
وبناء على قولهم هذا، فمن أثبت صفات الله على حقيقتها فقد شبه الله بخلقه، وهذا شرك، أو يقول بتعدد القدماء وهذا شرك – عندهم – أشد من شرك النصارى الدين قالوا: {إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلاثَةٍ} .
وسبب ضلالهم هذا كما سلف ذكره هو عدم اعتصامهم بالكتاب والسنة.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "وعامة هذه الضلالات إنما تطرق من لم يعتصم بالكتاب والسنة، كما كان الزهري يقول: كان علماؤنا يقولون: الاعتصام بالسنة هو النجاة، وقال مالك رحمه الله: السنة سفينة نوح، من ركبها نجا، ومن تخلف عنها غرق، ثم يقول شيخ الإسلام رحمه الله: "والعجب أن من هؤلاء من يصرح بأن عقله إذا عارضه الحديث – لا سيما في أخبار الصفات – حمل الحديث على عقله، وصرح بتقديمه على الحديث، وجعل عقله ميزانا للحديث فليت شعري هل عقله هذا مصرحا بتقدميه في الشريعة المحمدية، فيكون من السبيل
এবং দলিলের ওপর বিবেকের প্রাধান্য দেওয়া, অতঃপর ভ্রান্ত অনুমান এবং বাতিল ব্যাখ্যাসমূহ যা তারা অবলম্বন করেছে। তারা বলেছে: যদি আমরা গুণাবলি সাব্যস্ত করি এবং বলি যে এগুলো সত্তার অতিরিক্ত, তবে আমরা যদি বলি এগুলো নতুন সৃষ্টি, তবে মহান আল্লাহর সত্তার সাথে নশ্বর বা সৃষ্ট বিষয়ের সম্পৃক্ত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।
আর যদি আমরা বলি যে এগুলো অনাদি, তবে একাধিক অনাদি সত্তার অস্তিত্ব আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি এমন কথা বলবে, সে নাসারাদের চেয়েও কঠিন বিভ্রান্তিতে পতিত হবে, কারণ তারা তো তিনজন অনাদির কথা বলেছিল, অথচ সে তার চেয়েও অধিক সংখ্যক অনাদির কথা বলছে!
তাদের এই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে, যে ব্যক্তি আল্লাহর গুণাবলিকে তার প্রকৃত অর্থে সাব্যস্ত করবে, সে আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করল, আর এটি শিরক; অথবা সে একাধিক অনাদি সত্তার অস্তিত্বের কথা বলল, যা তাদের নিকট—নাসারাদের শিরকের চেয়েও ভয়াবহ, যারা বলেছিল: {নিশ্চয় আল্লাহ তিনের তৃতীয় জন}।
তাদের এই পথভ্রষ্টতার কারণ—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—হলো কিতাব ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে না ধরা।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়য়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সাধারণত এই সকল বিভ্রান্তি তাদের পথেই আসে যারা কিতাব ও সুন্নাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরেনি। যেমন ইমাম যুহরী বলতেন: আমাদের আলেমগণ বলতেন: সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরাই হলো মুক্তি। ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: সুন্নাহ হলো নূহের নৌকার মতো, যে তাতে আরোহণ করবে সে মুক্তি পাবে, আর যে তা থেকে বিরত থাকবে সে ডুবে মরবে। এরপর শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যারা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেয় যে, যখন কোনো হাদিস তার বিবেকের পরিপন্থী হয়—বিশেষ করে সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত সংবাদের ক্ষেত্রে—তখন সে হাদিসকে তার বিবেকের ছাঁচে ফেলে ব্যাখ্যা করে এবং হাদিসের ওপর বিবেকের প্রাধান্য দেওয়ার কথা ব্যক্ত করে। সে তার বিবেককে হাদিসের মানদণ্ড বানিয়ে নেয়। আক্ষেপ! তার এই বিবেককে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি কি মুহাম্মাদী শরীয়তে স্বীকৃত, যা অনুসৃত পথ হতে পারে?"
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المأمور باتباعه، أم هو عقل مبتدع جاهل ضال حائر خارج عن السبيل، فلا حول ولا قوة إلا بالله"1.
ومن جهلهم بكتاب الله تعالى تشبيههم لمن أثبت صفات الله تعالى وقال إنها قديمة بالنصارى حيث قالوا: {إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلاثَةٍ} وهذا تشبيه باطل وقياس فاسد، فإن سبب كفر النصارى أنهم قالوا بثلاثة آلهة كما قال تعالى: {لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلاثَةٍ وَمَا مِنْ إِلَهٍ إِلاّ إِلَهٌ وَاحِدٌ} 2، فقد كذبهم الله بقوله عز وجل: {َمَا مِنْ إِلَهٍ إِلاّ إِلَهٌ وَاحِدٌ} ولم يقل: وما من قديم إلا قديم واحد3.
وقد جعلوا لفظ (القديم) من أسماء الله تعالى، والحق أنه ليس من أسماء الله الحسنى، وهي التي تدل على خصوص ما يمدح به، والقديم في لغة العرب التي نزل بها القرآن هو المتقدم على غيره، ولم يستعمل فيما لم يسبقه عدم، والأمثلة على ذلك في كتاب الله تعالى كثيرة. قال عز من قائل: {وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ} 4 والعرجون القديم هو الذي يبقى إلى حين وجود العرجون الثاني، فإذا وجد قيل للأول قديم.
--------------------------------------------
যার অনুসরণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, নাকি তা একটি বিদআতি, জাহেল, পথভ্রষ্ট, বিভ্রান্ত ও সঠিক পথ বিচ্যুত আকল (বুদ্ধি); আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।"১.
মহান আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার একটি দিক হলো যে, যারা আল্লাহর সিফাতসমূহ (গুণাবলি) সাব্যস্ত করেন এবং সেগুলোকে অনাদি (কাদিম) বলেন, তাদেরকে তারা নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) সাথে তুলনা করে; যেহেতু তারা বলেছিল: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তিনজনের তৃতীয় জন}। এটি একটি বাতিল তুলনা এবং ভ্রান্ত কিয়াস (অনুমান), কারণ নাসারাদের কুফরির কারণ হলো তারা তিনজন ইলাহ বা উপাস্যের কথা বলেছিল, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই তারা কুফরি করেছে যারা বলেছে আল্লাহ তিনজনের তৃতীয় জন, অথচ এক ইলাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই} ২। আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন: {আর এক ইলাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই} এবং তিনি বলেননি যে: আর এক অনাদি ছাড়া কোনো অনাদি নেই ৩।
আর তারা 'অনাদি' (আল-কাদিম) শব্দটিকে আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছে, অথচ সত্য হলো এটি আল্লাহর আসমাউল হুসনার (সুন্দরতম নামসমূহ) অন্তর্ভুক্ত নয়। আসমাউল হুসনা হলো সেগুলো যা বিশেষ প্রশংসার অর্থ বহন করে। আর আরবি ভাষা, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে 'কাদিম' (পুরনো) অর্থ হলো এমন কিছু যা অন্য কিছুর অগ্রবর্তী, আর এটি এমন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়নি যার পূর্বে কোনো অনস্তিত্ব (অভাব) ছিল না। মহান আল্লাহর কিতাবে এর উদাহরণ অনেক। মহান আল্লাহ বলেন: {আর চাঁদের জন্য আমি মঞ্জিলসমূহ নির্ধারিত করেছি, পরিশেষে তা শুষ্ক বাঁকা পুরনো খেজুর শাখার মতো হয়ে যায়} ৪। আর পুরনো খেজুর শাখা (আল-উরজুন আল-কাদিম) হলো সেটি যা দ্বিতীয় শাখাটি আসা পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে; ফলে যখন দ্বিতীয়টি পাওয়া যায়, তখন প্রথমটিকে 'কাদিম' বা পুরনো বলা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال جل شأنه: {وَإِذْ لَمْ يَهْتَدُوا بِهِ فَسَيَقُولُونَ هَذَا إِفْكٌ قَدِيمٌ} 1 ومعناه التقدم في الزمان
… وغير ذلك من الأدلة.
وقد جاء الشرع باسم (الأول) ، وهو أحسن من (القديم) فهو يشعر بأن ما بعده راجع إليه وتابع له بخلاف القديم. قال الله تبارك وتعالى: {هُوَ الأَوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} 2.
والله تعالى وحده له الأسماء الحسنى، {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} 3.
وفي الحديث عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن لله تسعة وتسعين اسما مائة إلا واحدا، من أحصاها دخل الجنة، وهو وتر يحب الوتر" 4 ولفظ القديم ليس من أسماء الله تعالى الثابتة في الكتاب والسنة5.
وقد لجأ المعتزلة إلى هذا القول فرارا من التشبيه، الذي يرونه لازما لإثبات صفات الله تعالى كما يزعمون، فيرون أن من أثبت صفات الله تعالى على الحقيقة فقد شبه الله بخلقه، وهذا شرك، فهم قد فروا من أمر
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {আর যেহেতু তারা এর দ্বারা হেদায়েত প্রাপ্ত হয়নি, তাই তারা অচিরেই বলবে, এটি এক প্রাচীন মিথ্যা} ১ এবং এর অর্থ হলো সময়ের দিক থেকে অগ্রসর হওয়া
… এবং এ জাতীয় অন্যান্য দলীলসমূহ।
আর শরীয়তে ‘আল-আউয়াল’ (প্রথম) নামটি এসেছে, যা ‘আল-কাদীম’ (প্রাচীন) শব্দের চেয়ে অধিক উত্তম। কেননা এটি ইঙ্গিত দেয় যে, পরবর্তী সবকিছু তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী এবং তাঁর অনুগামী, যা ‘কাদীম’ শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: {তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য এবং তিনিই অপ্রকাশ্য; আর তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত} ২।
এবং একমাত্র মহান আল্লাহরই সুন্দরতম নামসমূহ রয়েছে, {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো; আর তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে} ৩।
এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যা এক কম একশ; যে ব্যক্তি এগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর আল্লাহ বেজোড়, তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন" ৪ এবং ‘আল-কাদীম’ শব্দটি কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয় ৫।
আর মুতাজিলা সম্প্রদায় এই মতের আশ্রয় নিয়েছে ‘তাশবীহ’ (সাদৃশ্য প্রদান) থেকে বাঁচার জন্য, যা তাদের দাবি অনুযায়ী মহান আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করার জন্য অনিবার্য। তারা মনে করে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর গুণাবলিকে প্রকৃত অর্থে সাব্যস্ত করল, সে মূলত আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করল, আর এটি শিরক। তাই তারা একটি বিষয় থেকে পলায়ন করেছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ووقعوا في أعظم منه وهو التعطيل، إذ عطلوا صفات الله سبحانه التي أثبتها لنفسه وأثبتها له رسوله صلى الله عليه وسلم وجعلوا ذلك غاية التوحيد عندهم.
ولا شك أن من شبه الله بخلقه فقد أشرك، ولكن ذلك ليس لازما من إثبات صفات الله تعالى، فله سبحانه صفاته التي تليق بجلاله وعظمته ووحدانيته، والمخلوق له صفاته التي تناسبه، ولا يلزم من توافقها في الاسم توفقها في الحقيقة، بل إن المخلوقات نفسها قد تتوافق في الأسماء مع تباين الحقائق واختلافها كما هو معلوم.
والواقع أن المعتزلة أنفسهم بقولهم هذا قد وقعوا في التشبيه أيضا، بل في أقبحه، فهم حين أثبتوا لله تعالى ذاتا مجردة من الصفات، وهذا لا يتصور إلا في الأذهان ولا حقيقة له في الخارج، فهم بفعلهم هذا قد شبهوا الله تعالى بالمعدومات، مما قد يؤدي بهم إلى نفي وجود الله سبحانه وتعالى عن ذلك علوا كبيرا.
الجهمية:
الجهمية هم أتباع الجهم بن صفوان تلميذ الجعد بن درهم، أول من قال بتعطيل الصفات، وأخذها عنه الجهم، وأظهرها فنسبت إليه، وقيل إن الجعد بن درهم أخذ عن أبان بن سمعان، وأبان أخذها عن طالوت ابن أخت لبيد بن الأعصم، وهو اليهودي الذي سحر النبي صلى الله عليه وسلم، فهي ترجع في أصلها إلى اليهود.
ولما أظهر الجعد بن درهم مقالته في نفي الصفات في زمن هشام بن عبد الملك، وكان الجعد في مدينة واسط، وعامل هشام عليها خالد
এবং তারা এর চেয়েও বড় বিপদে পতিত হয়েছে, আর তা হলো 'তাতিল' (আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করা); যেহেতু তারা মহান আল্লাহর ঐসব গুণাবলিকে অস্বীকার করেছে যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন, আর তারা একেই তাদের নিকট তাওহীদের চরম লক্ষ্য বলে গণ্য করেছে।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল, সে শিরক করল। কিন্তু মহান আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করার মাধ্যমে এটি অনিবার্য হয় না। কারণ মহান আল্লাহর এমন সব গুণাবলি রয়েছে যা তাঁর মহিমা, শ্রেষ্ঠত্ব ও একত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; আর মাখলুক বা সৃষ্টির রয়েছে এমন গুণাবলি যা তাদের জন্য উপযোগী। নামের ক্ষেত্রে এক হওয়া মানেই হাকীকত বা প্রকৃত সত্তার ক্ষেত্রে এক হওয়া অনিবার্য নয়। বরং খোদ মাখলুকাত বা সৃষ্টিজীবের মধ্যেও অনেক সময় নামের ক্ষেত্রে মিল থাকে অথচ তাদের স্বরূপ ও হাকীকত ভিন্ন ও আলাদা হয়, যেমনটি সকলের জানা।
প্রকৃতপক্ষে মুতাজিলারা নিজেরা তাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমেও 'তাশবীহ' বা সাদৃশ্য প্রদানের মধ্যে নিপতিত হয়েছে, বরং এটি এর নিকৃষ্টতম রূপ। কেননা তারা যখন মহান আল্লাহর জন্য গুণাবলিহীন একটি নিছক সত্তা সাব্যস্ত করল—যার কল্পনা কেবল মস্তিষ্কপ্রসূত চিন্তা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং বাহ্যিক বাস্তবতায় যার কোনো অস্তিত্ব নেই—তখন তারা তাদের এই কাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহকে অস্তিত্বহীন বা অবিদ্যমান বস্তুর সাথে তুলনা করল। যা শেষ পর্যন্ত তাদেরকে মহান আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করার দিকে নিয়ে যেতে পারে; আল্লাহ তাআলা তাদের এই বক্তব্য থেকে অনেক ঊর্ধ্বে ও সুমহান।
জাহমিয়া সম্প্রদায়:
জাহমিয়া হলো জাহ্ম ইবনে সাফওয়ানের অনুসারীগণ, যে ছিল জা'দ ইবনে দিরহামের ছাত্র। এই জা'দ ইবনে দিরহামই সর্বপ্রথম গুণাবলি অস্বীকার বা 'তাতিল'-এর কথা বলেছিল। জাহ্ম তার কাছ থেকেই এটি গ্রহণ করে এবং তা প্রচার করে, যার ফলে এই মতবাদটি তার (জাহ্মের) দিকেই সম্বন্ধিত করা হয়। বর্ণিত আছে যে, জা'দ ইবনে দিরহাম এটি আবান ইবনে সামআন থেকে গ্রহণ করেছিল, আর আবান গ্রহণ করেছিল তালূত থেকে, যে ছিল লাবীদ ইবনুল আসমের ভাগ্নে। এই লাবীদ ইবনুল আসম ছিল সেই ইহুদি যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জাদু করেছিল। সুতরাং এই মতবাদের মূল উৎস ইহুদিদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
যখন জা'দ ইবনে দিরহাম হিশাম ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনামলে গুণাবলি অস্বীকার করার বিষয়ে তার এই মতবাদ প্রকাশ করল, তখন সে (জা'দ) ওয়াসিত শহরে অবস্থান করছিল। আর সেখানে হিশামের গভর্নর ছিলেন খালিদ
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ابن عبد الله القسري، فقتله في يوم الأضحى كما ورد عنه أنه قال للناس يوم الأضحى: "ارجعوا فضحوا تقبل الله منكم، فإني مضح بالجعد بن درهم، فإنه زعم أن الله لم يتخذ إبراهيم خليلا، ولم يكلم موسى تكليما، تعالى الله علوا كبيرا عما يقول ابن درهم"،ونزل وذبحه1.
ويتبين مما ذكر أن أساس مذهب الجهمية بما فيه من كفر وإلحاد قد نبع أصله من اليهود أعداء الله تعالى وأنبيائه ورسله عليهم الصلاة والسلام كما نبع الرفض منهم على يدي عبد الله بن سبأ اليهودي.
وخلاصة قول الجهمية في التوحيد: إنكار أسماء الله عز وجل وصفاته، وتعطيلها، فيقولون: لا يجوز أن يوصف الله بصفة يوصف بها خلقه، لأن ذلك تشبيه لله بخلقه2، فهم في نفي الصفات متفقون مع المعتزلة، وقد تقدم الكلام عن معنى التوحيد عندهم، وهم تلامذة الجهمية، وكل هذا ناتج عن كيدهم للإسلام وبعدهم عن كتاب الله سبحانه وتعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وجهلهم بهما واعتمادهم على ما تمليه عقولهم، فمعرفة الإنسان للحق والهدى بقدر قربه وفهمه لكتاب الله تعالى وسنة رسوله، وسلامته من الأغراض والمقاصد الخبيثة.
فهؤلاء وأمثالهم ظنوا أن كل صفة يمكن أن يوصف الله بها المخلوق لا
--------------------------------------------
ইবন আবদুল্লাহ আল-কাসরি। তিনি তাকে ঈদুল আযহার দিনে হত্যা করেন যেমনটি বর্ণিত আছে যে তিনি ঈদুল আযহার দিনে লোকদেরকে বলেছিলেন: "আপনারা ফিরে যান এবং কুরবানি করুন, আল্লাহ আপনাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয়ই আমি জা'দ ইবন দিরহামকে কুরবানি করছি, কারণ সে দাবি করেছে যে আল্লাহ ইবরাহিমকে খলিল হিসেবে গ্রহণ করেননি এবং মুসার সাথে সরাসরি কথা বলেননি। ইবন দিরহাম যা বলে তা থেকে আল্লাহ অত্যন্ত মহান ও উচ্চ।" এরপর তিনি নিচে নেমে তাকে জবেহ করলেন।১।
উল্লিখিত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে, কুফর ও নাস্তিকতাসহ জাহমিয়া মাযহাবের ভিত্তি মূলত আল্লাহর শত্রু এবং তাঁর নবি ও রাসুলগণের (তাঁদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) শত্রু ইহুদিদের থেকে উৎসারিত হয়েছে, যেমন তাদের থেকেই আবদুল্লাহ ইবন সাবা আল-ইয়াহুদির মাধ্যমে রাফিজি মতবাদের উদ্ভব ঘটেছিল।
তাওহিদের ব্যাপারে জাহমিয়াদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো: মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করা এবং সেগুলোকে অর্থহীন সাব্যস্ত করা। তারা বলে: আল্লাহকে এমন কোনো গুণে গুণান্বিত করা বৈধ নয় যার মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টিকে গুণান্বিত করা হয়, কারণ তা আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করা।২। সুতরাং গুণাবলি অস্বীকারের ক্ষেত্রে তারা মুতাজিলাদের সাথে একমত। তাদের নিকট তাওহিদের অর্থ সম্পর্কে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে এবং তারা জাহমিয়াদের ছাত্র। এ সবই ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্র এবং মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সুন্নাহ থেকে তাদের দূরবর্তী হওয়ার ফলাফল; এর পাশাপাশি এ দু’টি বিষয়ে তাদের অজ্ঞতা এবং তাদের বিবেক যা নির্দেশ দেয় তার ওপর নির্ভর করার ফল। বস্তুত সত্য ও হেদায়াত সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান ততটুকুই হয় যতটুকু সে মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর নিকটবর্তী থাকে ও তা বুঝতে পারে এবং যতটুকু সে অশুভ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য থেকে মুক্ত থাকে।
সুতরাং এরা এবং এদের মতো যারা ধারণা করেছে যে, প্রত্যেকটি গুণ যার মাধ্যমে আল্লাহকে গুণান্বিত করা সম্ভব তা সৃষ্টির জন্য নয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يجوز أن يوصف الله بها، لزعمهم أن ذلك يستلزم تشبيه الله بخلقه، وهذا لازم فرضوه على أنفسهم من عند أنفسهم نتيجة ما تمليه عليهم عقولهم البعيدة عن الكتاب والسنة، والمعلوم عند أهل الحق أن لكل شيء صفة تناسبه، حتى بين المخلوقات نفسها.
والجهمية شر الطوائف المبتدعة، وقد مكث زعيمها جهم أربعين يوما لا يعرف ربه، قال الإمام أحمد رحمه الله: "فكان مما بلغنا من أمر الجهم عدو الله أنه كان من أهل خراسان، من أهل ترمذ، وقد كان صاحب خصومات وكلام، وكان أكثر كلامه في الله تعالى، فلقي أناسا من المشركين يقال لهم السمنية1، فعرفوا الجهم فقالوا له: نكلمك فإن ظهرت حجتنا عليك دخلت في ديننا، وإن ظهرت حجتك علينا دخلنا في دينك، فكان مما كلموا به الجهم أن قالوا له: ألست تزعم أن لك إلها؟ قال الجهم: نعم، فقالوا له: فهل رأيت إلهك؟ قال: لا، قالوا: فهل سمعت كلامه؟ قال: لا، قالوا: فشممت رائحته؟ قال: لا، قالوا: فما يدريك أنه إله؟ قال: فتحير الجهم، فلم يدر من يعبد أربعين يوما.
ثم إنه استدرك حجة مثل حجة زنادقة النصارى، وذلك أن زنادقة النصارى يزعمون أن الروح الذي في عيسى هو روح الله من ذات الله، فإذا أراد أن يُحدث أمرا دخل في بعض خلقه، فتكلم على لسان خلقه، فيأمر بما يشاء، وينهى عما يشاء، وهو روح غائبة عن الأبصار، فاستدرك
--------------------------------------------
আল্লাহকে এসব বিশেষণে বিশেষিত করা (তারা অস্বীকার করে), কারণ তাদের দাবি যে এটি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য প্রদানের আবশ্যক করে। এটি এমন এক আবশ্যকতা যা তারা কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বিমুখ নিজেদের বিবেকের তাড়নায় নিজেরা নিজেদের ওপর আরোপ করে নিয়েছে। সত্যপন্থীদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, প্রত্যেক বস্তুরই এমন বৈশিষ্ট্য থাকে যা তার জন্য উপযুক্ত, এমনকি স্বয়ং সৃষ্টির মধ্যেও (পরস্পর পার্থক্য) বিদ্যমান।
আর জাহমিয়াহরা হলো বিদআতি দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। তাদের নেতা জাহম চল্লিশ দিন যাবত তার রবকে না চিনে অতিবাহিত করেছিল। ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আল্লাহর শত্রু জাহমের ব্যাপারে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা হলো— সে ছিল খোরাসানের তিরমিযের অধিবাসী। সে ছিল বাদানুবাদ ও ইলমুল কালামে (তাত্ত্বিক বিতর্ক) পারদর্শী এবং তার অধিকাংশ আলোচনা ছিল আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে। একদা সে 'সুমানিয়্যাহ' নামক একদল মুশরিকের দেখা পায়১। তারা জাহমকে চিনত, তাই তারা তাকে বলল: 'আমরা তোমার সাথে বিতর্ক করব। যদি আমাদের যুক্তি তোমার ওপর জয়ী হয়, তবে তুমি আমাদের ধর্মে প্রবেশ করবে; আর যদি তোমার যুক্তি আমাদের ওপর জয়ী হয়, তবে আমরা তোমার ধর্মে প্রবেশ করব।' জাহমের সাথে তাদের বিতর্কের একটি অংশ ছিল এমন যে, তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল: 'তুমি কি দাবি করো না যে তোমার একজন ইলাহ আছে?' জাহম বলল: 'হ্যাঁ।' তারা বলল: 'তুমি কি তোমার ইলাহকে দেখেছ?' সে বলল: 'না।' তারা বলল: 'তুমি কি তাঁর কথা শুনেছ?' সে বলল: 'না।' তারা বলল: 'তুমি কি তাঁর ঘ্রাণ পেয়েছ?' সে বলল: 'না।' তারা বলল: 'তবে তুমি কীভাবে জানলে যে তিনি ইলাহ?' এতে জাহম কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল এবং সে চল্লিশ দিন পর্যন্ত জানত না যে সে কার ইবাদত করছে।
এরপর সে খ্রিস্টান যিনদিকদের (ধর্মদ্রোহীদের) যুক্তির মতো একটি যুক্তি উদ্ভাবন করল। খ্রিস্টান যিনদিকদের দাবি ছিল এই যে, ঈসার মধ্যে যে রূহ রয়েছে তা আল্লাহর সত্তা থেকে নির্গত আল্লাহরই রূহ। ফলে যখন আল্লাহ কোনো কাজ সম্পন্ন করার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাঁর সৃষ্টির কোনো অংশে প্রবেশ করেন এবং সৃষ্টির জবান দিয়ে কথা বলেন। ফলে তিনি যা ইচ্ছা নির্দেশ দেন এবং যা ইচ্ছা নিষেধ করেন, অথচ তিনি হলেন এমন এক রূহ যা দৃষ্টির আড়ালে থাকে। অতঃপর সে (জাহম) উদ্ভাবন করল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الجهم حجة مثل هذه الحجة، فقال للسمني: ألست تزعم أن فيك روحا؟ فقال: نعم، فقال: هل رأيت روحك؟ قال: لا، قال: فسمعت كلامه؟ قال: لا، قال: فوجدت له حسا أو مجسا؟ قال: لا، قال: فكذلك الله: لا يرى له وجه، ولا يسمع له صوت، ولم يشم له رائحة، وهو غائب عن الأبصار، ولا يكون في مكان دون مكان، ووجد ثلاث آيات من المتشابه، قوله: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} 1، {وَهُوَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَفِي الأَرْضِ} 2 {لا تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الأَبْصَار} 3 فبنى أصل كلامه على هذه الآيات، وتأول القرآن على غير تأويله، وكذب بأحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وزعم أن من وصف الله بشيء بما وصف به نفسه في كتابه، أو حدث عنه رسوله، كان كافرا، وكان من المشبهة، فأضل بكلامه بشرا كثيرا، وتبعه على قوله رجال من أصحاب أبي حنيفة4، وأصحاب عمروبن عبيد5
--------------------------------------------
জহম এইরূপ একটি যুক্তি পেশ করল। সে সুমানিকে বলল: "তুমি কি দাবি কর না যে তোমার মধ্যে একটি আত্মা রয়েছে?" সে বলল: "হ্যাঁ।" সে বলল: "তুমি কি তোমার আত্মা দেখেছ?" সে বলল: "না।" সে বলল: "তবে কি তুমি তার কথা শুনেছ?" সে বলল: "না।" সে বলল: "তবে কি তুমি তার কোনো অনুভূতি বা স্পর্শযোগ্য অস্তিত্ব পেয়েছ?" সে বলল: "না।" সে বলল: "আল্লাহর বিষয়টিও ঠিক তেমনই: তাঁর কোনো চেহারা দেখা যায় না, তাঁর কোনো কণ্ঠস্বর শোনা যায় না এবং তাঁর কোনো ঘ্রাণ পাওয়া যায় না। তিনি দৃষ্টির অগোচরে থাকেন এবং তিনি কোনো নির্দিষ্ট স্থানে থাকা অবস্থায় অন্য স্থান হতে অনুপস্থিত থাকেন না।" সে তিনটি মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট অর্থবোধক) আয়াত খুঁজে পেল; তাঁর বাণী: {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই} ১, {তিনিই আল্লাহ আসমানসমূহে এবং জমিনে} ২ এবং {দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না, অথচ তিনি সকল দৃষ্টিকে আয়ত্ত করেন} ৩। সে তার আলোচনার ভিত্তি এই আয়াতগুলোর ওপর স্থাপন করল এবং কুরআনের ভুল ব্যাখ্যা করল। সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং দাবি করল যে, আল্লাহ তাঁর কিতাবে নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁর সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন, তার মাধ্যমে কেউ যদি আল্লাহর কোনো গুণের বর্ণনা দেয়, তবে সে কাফের হবে এবং সে মুশাব্বিহা (সাদৃশ্য দানকারী)-দের অন্তর্ভুক্ত হবে। ফলে সে তার কথার মাধ্যমে বহু মানুষকে পথভ্রষ্ট করল এবং আবু হানিফার একদল অনুসারী ৪ ও আমর ইবন উবাইদের অনুসারীরা ৫ তার এই মতের অনুসরণ করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بالبصرة، ووضع دين الجههمية"1.
فغاية توحيد الجهمية وأمثالهم من المعطلة نفي صفات الله تعالى بدعوى تنزيهه عن مشابهة الخلق، فيعطلونه سبحانه من صفات الكمال الثابتة له عز وجل بهذه الدعوى الباطلة، ويقعون في شر مما فروا منه، وهو تشبيه الله تعالى بالمعدومات، وهذا من أجهل الجهل وأضل الضلال، تعالى الله عما يقولون علوا كبيرا.
قال الإمام ابن قيم الجوزية رحمه الله: "وتوحيد الجهمية والفلاسفة مناقض لتوحيد الرسل من كل درجة، فإن مضمونه إنكار حياة الرب وعلمه وقدرته وسمعه وبصره، وكلامه واستوائه على عرشه، ورؤية المؤمنين له بأبصارهم عيانا من فوقهم يوم القيامة، وإنكار ما أخبر به الرسول عنه، ومعلوم أن هذا التوحيد هو نفس تكذيب الرسول بما أخبر به عن الله، فاستعار له أصحابه اسم التوحيد"2.
ولخطورة هذه الفرقة الضالة المضلة، التي هي أول من أظهر التعطيل الذي هو أعظم من شرك عباد الأصنام والأوثان والكواكب، فقد تصدى
--------------------------------------------
বসরায়, এবং জাহমিয়াদের দ্বীন (মতাদর্শ) প্রতিষ্ঠা করেন।১
জাহমিয়া এবং তাদের মতো মুয়াত্তিলাদের (গুণাবলি অস্বীকারকারী) তাওহীদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সৃষ্টির সদৃশ হওয়া থেকে মহান আল্লাহকে পবিত্র করার দাবি তুলে তাঁর গুণাবলি অস্বীকার করা। এই ভ্রান্ত দাবির মাধ্যমে তারা মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত থাকা পূর্ণতার গুণাবলিকে অস্বীকার করে এবং তারা যা থেকে পালিয়েছিল তার চেয়েও জঘন্য বিষয়ে লিপ্ত হয়, আর তা হলো মহান আল্লাহকে অস্তিত্বহীন বস্তুর সাথে তুলনা করা। এটি চরম মূর্খতা এবং নিকৃষ্টতম পথভ্রষ্টতা। তারা যা বলে আল্লাহ তা থেকে অতি ঊর্ধ্বে ও সুমহান।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "জাহমিয়া ও দার্শনিকদের তাওহীদ সকল দিক থেকে রাসূলগণের আনীত তাওহীদের পরিপন্থী। কারণ এর সারমর্ম হলো রবের জীবন, জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণ, দৃষ্টি, কথা বলা এবং তাঁর আরশের উপর উঠাকে অস্বীকার করা এবং কিয়ামতের দিন মুমিনদের সরাসরি চাক্ষুষভাবে তাদের ওপর থেকে তাঁকে দেখতে পাওয়াকে অস্বীকার করা। সেই সাথে রাসূল তাঁর (আল্লাহর) পক্ষ থেকে যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তা অস্বীকার করা। এটি সর্বজনবিদিত যে, এই তথাকথিত তাওহীদ মূলত আল্লাহ সম্পর্কে রাসূল যা সংবাদ দিয়েছেন তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করারই নামান্তর, যদিও এর প্রবক্তারা একে 'তাওহীদ' নাম দিয়েছে।"২
এই পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী দলটির ভয়াবহতার কারণে—যারা সর্বপ্রথম 'তা'তিল' বা গুণাবলি অস্বীকার করার মতবাদ প্রকাশ করেছিল যা মূর্তি, প্রতিমা ও নক্ষত্র পূজারীদের শিরকের চেয়েও ভয়াবহ—তাই মোকাবিলা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
لهم علماء الإسلام المخلصون، وحماة التوحيد الصادقون، فكشفوا خباياهم وفضحوا باطلهم، وحذروا المسلمين شرورهم، فما تجد كتابا من كتب العقيدة إلا وتجد الرد على هؤلاء المعطلة أبرز موضوعاته وأبوابه وفصوله، بل وهناك من العلماء من كتب كتبا خاصة في الرد على الجهمية، ومنها: كتاب الرد على الجهمية لابن أبي حاتم، وكتاب الرد على الزنادقة والجهمية للإمام أحمد بن حنبل، وكتاب خلق أفعال العباد والرد على الجهمية وأصحاب التعطيل للإمام البخاري، وكتاب الصواعق المرسلة على الجهمية والمعطلة للإمام ابن قيم الجوزية، وكتاب الشهب المرمية في الرد على المعطلة والجهمية لشيخ الإسلام ابن تيمية.
وقد فند هؤلاء الأئمة العظام والعلماء الأعلام أقوالهم وكفروا من قال بها، قال عبد الله بن المبارك رحمه الله: إنا لنحكي كلام اليهود والنصارى ونستعظم أن نحكي قول جهم، وقال رحمه الله:
ولا أقول بقول الجهم إن له
… قولا يضارع قول الشرك أحيانا
ولا أقول تخلى من بريته
… رب العباد وولى الأمر شيطانا
ما قال فرعون هذا في تجبره
… فرعون موسى ولا فرعون هامانا1
وقال رحمه الله: "كل قوم يعرفون من يعبدون إلا الجهمية"2.
--------------------------------------------
ইসলামের একনিষ্ঠ আলিমগণ এবং তাওহিদের সত্যনিষ্ঠ রক্ষকগণ তাদের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন, তাদের বাতিল মতবাদকে লাঞ্ছিত করেছেন এবং মুসলিমদেরকে তাদের অনিষ্ট থেকে সতর্ক করেছেন। আপনি আকিদাহর এমন কোনো কিতাব পাবেন না যাতে এই মুআত্তিলাদের (গুণাবলি অস্বীকারকারীদের) খণ্ডন অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু, অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ হিসেবে নেই। এমনকি অনেক আলিম জাহমিয়াদের খণ্ডনে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: ইবনে আবি হাতিমের 'কিতাবুর রাদ্দ আলাল জাহমিয়া', ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের 'কিতাবুর রাদ্দ আলায যানাদিকা ওয়াল জাহমিয়া', ইমাম বুখারির 'কিতাবু খালকি আফআলিল ইবাদ ওয়ার রাদ্দ আলাল জাহমিয়া ওয়া আসহাবিত তা’তিল', ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর 'কিতাবুস সাওয়াইকুল মুরসালা আলাল জাহমিয়া ওয়াল মুআত্তিলা', এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর 'কিতাবুশ শুহুবুল মারমিয়্যা ফির রাদ্দি আলাল মুআত্তিলা ওয়াল জাহমিয়া'।
এই মহান ইমাম ও প্রথিতযশা আলিমগণ তাদের বক্তব্যসমূহ খণ্ডন করেছেন এবং যারা এই মত পোষণ করে তাদের কাফির বলেছেন। আবদুল্লাহ বিন মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমরা ইহুদি ও নাসারাদের বক্তব্য বর্ণনা করতে পারি, কিন্তু জাহমের বক্তব্য বর্ণনা করাকে আমরা অত্যন্ত ভয়াবহ মনে করি।" তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন:
আমি জাহমের কথার ন্যায় কথা বলি না, নিশ্চয়ই তার
… কথা কখনও কখনও শিরকের কথার সাদৃশ্য রাখে
আর আমি বলি না যে, বান্দাদের রব তাঁর সৃষ্টিজগত ছেড়ে দিয়েছেন
… এবং বিষয়াবলির দায়িত্ব কোনো শয়তানের হাতে সোপর্দ করেছেন
ফেরাউন তার ঔদ্ধত্যের সময়ও এমন কথা বলেনি
… না মূসার ফেরাউন, আর না হামানের ফেরাউন১
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: "প্রত্যেক দলই জানে তারা কার ইবাদত করে, কেবল জাহমিয়ারা ছাড়া।"২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وسئل وكيع رحمه الله عن الجهمية فقال: "يكفرون من وجه كذا، ويكفرون من وجه كذا، حتى أكفرهم من كذا وكذا وجها، وقال رحمه الله: الرافضة شر من القدرية، والحرورية شر منهما، والجهمية شر هذه الأصناف، قال الله تعالى: {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيماً} 1 ويقولون: لم يكلمه، ويقولون: الإيمان بالقلب"2.
وقال سعيد بن عامر3: "الجهمية أشر قولا من اليهود والنصارى، قد اجتمعت اليهود النصارى وأهل الأديان أن الله تبارك وتعالى على العرش، وقالوا هم: ليس على العرش شيء "4.
وقال الإمام أبو حنيفة رحمه الله: "بالغ جهم في نفي التشبيه حتى قال: إن الله ليس بشيء"5.
وأقوال العلماء فيهم كثيرة مشهورة6، قال أبو سعيد عثمان الدارمي رحمه الله: "وأي زندقة بأظهر ممن ينتحل الإسلام في الظاهر، وفي الباطن يضاهي قوله في القرآن قول مشركي قريش الذين ردوا على الله ورسوله
--------------------------------------------
ওয়াকি রহমাতুল্লাহকে জাহমিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "তারা অমুক অমুক দিক থেকে কুফরি করে, এবং তারা অমুক অমুক দিক থেকে কুফরি করে, এমনকি আমি তাদের কুফরি সাব্যস্ত করেছি অমুক অমুক কারণ বা দিক থেকে।" তিনি আরও বলেন: "রাফেজিরা কাদারিয়াদের চেয়েও নিকৃষ্ট, আর হারুরিয়া (খারিজি) এই উভয় অপেক্ষা নিকৃষ্ট, আর জাহমিয়ারা হলো এই সকল দলের মধ্যে নিকৃষ্টতম। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহ মুসার সাথে কথা বলেছেন}১, অথচ তারা বলে: তিনি তার সাথে কথা বলেননি, এবং তারা বলে: ইমান হলো কেবল অন্তরের বিশ্বাস"২।
সাঈদ ইবনে আমির৩ বললেন: "জাহমিয়াদের বক্তব্য ইহুদি ও নাসারাদের চেয়েও জঘন্য। ইহুদি, নাসারা এবং সকল ধর্মের অনুসারীরা একমত হয়েছে যে, আল্লাহ বরকতময় ও মহান আরশের উপর আছেন, কিন্তু তারা (জাহমিয়ারা) বলেছে: আরশের উপর কিছুই নেই"৪।
ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহ বলেন: "জাহম সাদৃশ্য অস্বীকারের ক্ষেত্রে এতোটাই বাড়াবাড়ি করেছে যে, সে শেষ পর্যন্ত বলেছে: আল্লাহ বলতে কিছুই নেই"৫।
তাদের সম্পর্কে আলেমদের উক্তি অসংখ্য ও সুপ্রসিদ্ধ৬। আবু সাঈদ উসমান আদ-দারিমি রহমাতুল্লাহ বলেন: "সেই ব্যক্তির চেয়ে প্রকাশ্য জিন্দিকি আর কার হতে পারে যে বাহ্যিকভাবে ইসলামের পরিচয় দেয়, অথচ গোপনে কুরআনের ব্যাপারে তার বক্তব্য কুরাইশ মুশরিকদের বক্তব্যের অনুরূপ হয়, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে প্রত্যাখ্যান করেছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فقالوا: {إِنْ هَذَا إِلَاّ اخْتِلاقٌ} 1 و {إِنْ هَذَا إِلَاّ أَسَاطِيرُ الأَوَّلِينَ} 2 و {إِنْ هَذَا إِلَاّ قَوْلُ الْبَشَرِ} 3 كما قالت الجهمية سواء: إن هذا إلا مخلوق، ولهم في ذلك أئمة سوء أقدم من مشركي قريش، وهم عاد قوم هود الذين قالوا لنبيهم: {سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُنْ مِنَ الْوَاعِظِينَ إِنْ هَذَا إِلَاّ خُلُقُ الأَوَّلِينَ وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ} 4 فأي فرق بين الجهمية وبينهم، حتى نجبن عن قتلهم وإكفارهم؟! ولو لم يكن عندنا حجة في قتلهم وإكفارهم إلا قول حماد ابن زيد، وسلام بن أبي مطيع، وابن المبارك، ووكيع، ويزيد بن هارون، وأبي توبة، ويحيى بن يحيى، وأحمد بن حنبل، ونظرائهم رحمه الله عليهم أجمعين، لجبنا عن قتلهم وإكفارهم بقول هؤلاء حتى نستبرئ ذلك عمن هو أعلم منهم وأقدم، ولكنا نكفرهم بما تأولنا فيهم من كتاب الله عز وجل، وروينا فيهم من السنة، وبما حكينا عنهم من الكفر الواضح المشهور، الذي يعقله أكثر العوام، وبما ضاهوا مشركي الأمم قبلهم بقولهم في القرآن فضلا على ما ردوا على الله ورسوله، من تعطيل صفاته،
--------------------------------------------
তারা বলেছিল: {এটি মিথ্যা উদ্ভাবন ছাড়া আর কিছুই নয়} ১ এবং {এটি তো পূর্ববর্তীদের উপকথা ছাড়া আর কিছুই নয়} ২ এবং {এটি তো মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয়} ৩ ঠিক যেমন জাহমিয়্যারা হুবহু বলে থাকে: "এটি (কুরআন) তো সৃষ্ট (মাখলুক) ছাড়া আর কিছুই নয়।" এ বিষয়ে তাদের এমন কিছু মন্দ নেতা রয়েছে যারা কুরাইশ মুশরিকদের চেয়েও প্রাচীন; তারা হলো হুদ-এর সম্প্রদায় ‘আদ, যারা তাদের নবীকে বলেছিল: {আপনি আমাদের উপদেশ দিন কিংবা আপনি উপদেশদাতাদের অন্তর্ভুক্ত না হোন, আমাদের নিকট উভয়ই সমান। এটি তো পূর্ববর্তীদের স্বভাব ছাড়া আর কিছুই নয় এবং আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না} ৪ অতএব জাহমিয়্যা ও তাদের মধ্যে কী পার্থক্য আছে যে, আমরা তাদের হত্যা করতে এবং কাফির ঘোষণা করতে কুণ্ঠাবোধ করব?! যদি আমাদের নিকট তাদের হত্যা ও কাফির সাব্যস্ত করার ব্যাপারে হাম্মাদ ইবনে যাইদ, সালাম বিন আবি মুতি‘, ইবনুল মুবারক, ওয়াকি‘, ইয়াযিদ বিন হারুন, আবু তাওবা, ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া, আহমাদ বিন হানবাল এবং তাঁদের সদৃশ অন্যান্যদের (আল্লাহ তাঁদের সকলের উপর রহমত বর্ষণ করুন) উক্তি ব্যতীত অন্য কোনো প্রমাণ নাও থাকত, তবে তাঁদের উক্তির ভিত্তিতেই তাদের হত্যা ও কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়ে আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত বিরত থাকতাম যতক্ষণ না আমরা তাঁদের চাইতেও অধিক জ্ঞানী ও প্রাচীন কারো মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করতাম। কিন্তু আমরা তাদের কাফির ঘোষণা করি আল্লাহ তাআলার কিতাব থেকে তাদের সম্পর্কে আমরা যা অনুধাবন করেছি তার ভিত্তিতে, সুন্নাহ থেকে তাদের সম্পর্কে আমরা যা বর্ণনা করেছি তার ভিত্তিতে এবং তাদের থেকে বর্ণিত সেই স্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ কুফরির কারণে যা সাধারণ মানুষের অধিকাংশও বুঝতে পারে। এছাড়া কুরআনের ব্যাপারে তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে তারা তাদের পূর্ববর্তী মুশরিক জাতিগুলোর সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে, সেই সাথে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহর গুণাবলিকে অস্বীকার (তাতিল) করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وإنكار وحدانيته، ومعرفة مكانه واستوائه على عرشه بتأويل ضلال، به هتك الله سترهم، وأبدى سوءتهم، وعبر عن ضمائرهم، كلما أرادوا به احتاجا، ازدادت مذاهبهم اعوجاجا، وازدادوا أهل السنة بمخالفتهم ابتهاجا، ولما يخفون من خفايا زندقتهم استخراجا"1.
التوحيد عند الفلاسفة:
كان المأمون العباسي شديد الشغف بالعلوم القديمة، وانتشرت في عهده ترجمة كتب غير المسلمين، وغير العرب، ونقلت إلى بلاد المسلمين، وكان من بينها كتب الفلاسفة، إذ بعث إلى بلاد الروم من ترجم له كتبهم، ونقلها إليه فانتشر مذهب الفلاسفة بانتشار كتبهم في أكثر الأمصار الإسلامية، وأقبل عليها المعتزلة والقرامطة والجهمية وغيرهم، وأكثروا النظر فيها، وقراءتها، وازدادوا بها بلاء إلى بلائهم، ودخل على المسلمين بذلك، من آراء الفلاسفة وضلالهم ما لا يعلم مداه إلا الله، وزاد به ضلال أهل البدع والانحراف2.
وكان ممن اشتهر بذلك، وتكلم به، ودعا إليه، الرازي، والفارابي، وغيرهما ممن فتنوا بآراء الفلاسفة، كسقراط وأفلاطون، وأرسطو، وغيرهم.
وخلاصة معنى التوحيد عندهم: أن الله عز وجل موجود ولا ماهية له ولا حقيقة، فلا ماهية عندهم زائدة على الوجود، ولا يعلم الجزئيات، ولا
--------------------------------------------
এবং তাঁর একত্বের অস্বীকৃতি, এবং ভ্রান্ত ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাঁর স্থান ও আরশের উপর তাঁর উঠার বিষয়টিকে জানা—এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের পর্দা উন্মোচন করেছেন, তাদের কদর্যতা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের মনের কথা ব্যক্ত করেছেন। তারা যখনই এর মাধ্যমে কোনো দলিল পেশ করতে চেয়েছে, তখনই তাদের মতবাদসমূহের বক্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে, আর আহলুস সুন্নাহ তাদের বিরোধিতার কারণে অধিক আনন্দিত হয়েছেন এবং তাদের নাস্তিকতার গোপন বিষয়গুলো উদঘাটন করার ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় হয়েছেন।"১।
দার্শনিকদের নিকট তাওহীদ:
আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন প্রাচীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। তাঁর যুগে অমুসলিম ও অনারবদের বইসমূহের অনুবাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা মুসলিম দেশগুলোতে স্থানান্তরিত হয়। এর মধ্যে দার্শনিকদের বইপত্রও ছিল, কেননা তিনি রোম সাম্রাজ্যে লোক পাঠিয়েছিলেন যারা তাঁর জন্য তাদের বইসমূহ অনুবাদ করে তাঁর কাছে পাঠিয়েছিল। ফলে অধিকাংশ ইসলামি শহরে বইগুলোর প্রচারের সাথে সাথে দার্শনিকদের মতবাদও ছড়িয়ে পড়ে। মুতাজিলা, কারামাতিয়া, জাহমিয়া ও অন্যান্যরা এগুলোর প্রতি ঝুঁকে পড়ে এবং ব্যাপকভাবে সেগুলোর পর্যালোচনা ও পঠন শুরু করে। এর ফলে তাদের পূর্বের বিপথগামিতার সাথে নতুন বিপদ যুক্ত হয়। এর মাধ্যমে দার্শনিকদের এমন সব মতামত ও ভ্রষ্টতা মুসলমানদের মধ্যে প্রবেশ করে যার সীমা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না এবং এর ফলে বিদআতি ও পথভ্রষ্টদের বিভ্রান্তি আরও বৃদ্ধি পায়।২।
যারা এই বিষয়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন, এটি নিয়ে কথা বলেছিলেন এবং এর দিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন আর-রাজি, আল-ফারাবি এবং আরও অনেকে যারা সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল ও অন্যান্য দার্শনিকদের মতামতের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছিলেন।
তাদের নিকট তাওহীদের সংক্ষেপিত অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলা অস্তিত্ববান কিন্তু তাঁর কোনো সত্তাগত স্বরূপ বা প্রকৃত হাকিকত নেই। তাদের মতে অস্তিত্বের অতিরিক্ত কোনো সত্তাগত বৈশিষ্ট্য নেই এবং তিনি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়সমূহ জানেন না, আর না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
يفعل بقدرته ولا مشيئته، والعالم لازم له أزلا وأبدا، وإن سموه مفعولا له، فذلك مصانعة للمسلمين، وأخص خصائص الألوهية عندهم وجوب الوجود بالذات لله سبحانه، وينفون عن الله سبحانه جميع صفات الكمال، والقرآن عندهم فيض فياض فاض من العقل الفعال على قلب بشر زاكي النفس طاهر، ومتميز عن النوع الإنساني بثلاث خصائص: قوة الإدراك وسرعته، وقوة النفس، وقوة التخييل.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "وأما زعم المتفلسفة إنه بالعقل الفعال، فمن الخرافات التي لا دليل عليها وأبطل من ذلك زعمهم أن ذلك هو جبريل، وزعمهم أن كل ما يحصل في عالم العناصر من الصور الجسمانية وكمالاتها فهو من فيضه وبسببه، فهو من أبطل الباطل1.
ولا يثبتون لله سبحانه صفة، فلا يكلم ولا يتكلم، كما ينفون عنه سائر صفاته تعالى، فلا سمع ولا بصر ولا قدرة ولا حياة ولا إرادة، ولا وجه ولا يدين وحجتهم أنه لو كان كذلك لكان مركبا وكان جسما مؤلفا، ولم يكن واحدا من كل وجه.
فغاية توحيدهم إنكار أسماء الله الحسنى وصفاته العلى، وإثباتها عندهم تشبيه لا توحيد2.
--------------------------------------------
তিনি তাঁর শক্তি বা ইচ্ছার মাধ্যমে কাজ করেন না। জগৎ অনাদি ও অনন্তকাল ধরে তাঁর সাথে অপরিহার্যভাবে লেগে আছে। তারা যদি একে তাঁর সৃষ্টি বলে অভিহিত করে, তবে তা মুসলমানদের সাথে চাতুর্যপূর্ণ আচরণ মাত্র। তাদের নিকট উপাস্যত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মহান আল্লাহর সত্তাগতভাবে অস্তিত্বের আবশ্যকতা। তারা মহান আল্লাহ থেকে সমস্ত পূর্ণতার গুণাবলীকে অস্বীকার করে। তাদের নিকট কুরআন হলো 'সক্রিয় বুদ্ধি' (আকল-ই-ফায়্যাল) থেকে বিচ্ছুরিত একটি প্রবাহ, যা একজন পবিত্র ও নিষ্কলুষ আত্মার অধিকারী মানুষের হৃদয়ে বর্ষিত হয়েছে। এই মানুষটি তিনটি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে মানবজাতি থেকে স্বতন্ত্র: উপলব্ধির শক্তি ও তার দ্রুততা, মানসিক শক্তি এবং কল্পনাশক্তি।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: "দার্শনিকদের এই দাবি যে, এটি 'সক্রিয় বুদ্ধির' মাধ্যমে ঘটে—তা এমন এক রূপকথা যার কোনো দলিল নেই। আর এর চেয়েও অসার হলো তাদের এই ধারণা যে, এই সক্রিয় বুদ্ধিই হলেন জিবরাঈল। আবার মৌলিক উপাদানের জগতে যা কিছু শারীরিক অবয়ব ও তাদের পূর্ণতা প্রকাশ পায়, তা এই সক্রিয় বুদ্ধির বিচ্ছুরণ ও প্রভাবে ঘটে বলে তাদের দাবি—তা চরম ভ্রষ্টতা।"
তারা মহান আল্লাহর জন্য কোনো গুণ সাব্যস্ত করে না। সুতরাং তিনি কারো সাথে কথা বলেন না এবং তাঁর কথা বলার গুণও নেই। তেমনিভাবে তারা তাঁর অন্যান্য সকল গুণাবলীকেও অস্বীকার করে। ফলে (তাদের মতে) আল্লাহর শ্রবণ, দৃষ্টি, ক্ষমতা, জীবন বা ইচ্ছা নেই; এমনকি তাঁর চেহারা কিংবা আল্লাহর হাতও নেই। তাদের যুক্তি হলো, যদি বিষয়টি এমন হতো, তবে তিনি যৌগিক সত্তা ও একটি সংমিশ্রিত দেহে পরিণত হতেন এবং সর্বদিক থেকে একক থাকতেন না।
অতএব, তাদের তাওহীদের চরম লক্ষ্য হলো আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলীকে অস্বীকার করা। তাদের দৃষ্টিতে এসব গুণ সাব্যস্ত করা হলো সাদৃশ্য দান (তাশবীহ), তাওহীদ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وقد وقعوا في هذا الباطل والضلال نتيجة تأثرهم بكتب الفلاسفة المليئة بالإلحاد والكفر، وكانوا يظنون أن أولئك الفلاسفة هم أهل الصواب لأنهم يعتمدون على التجارب والبراهين، ثم حالوا التلفيق بين هذه الفلسفة وبين عقيد الإسلام، فضلوا في ذلك ضلالا مبينا.
وقد تصدى لهم علماء الإسلام بالرد عليهم وكشف باطلهم، كما فعل شيخ الإسلام ابن تيمية في كثير من كتبه ومنها: نقض تأسيس الجهمية، ومنهاج السنة، ودرء تعارض العقل والنقل – المعروف بموافقة صحيح المنقول لصريح المعقول
… وغيرها.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى عن الفلاسفة: "وهم مخطئون في المنقول والمعقول، أما المنقول: فإن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يخبر قط بقدم ذات مجردة عن الصفات والأفعال، بل النصوص الإلهية متظاهرة باتصاف الرب بالصفات والأفعال، وهذا معلوم بالضرورة لمن سمع الكتاب والسنة، وهم يسلمون أن هذا هو الذي يظهر من النصوص، ولكن أخبر عن الله بأسمائه الحسنى وآياته المثبتة لصفاته وأفعاله، وأنه {خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْش} 1 فمن قال الأفلاك قديمة أزلية "فقوله مناقض لقول الرسول صلى الله عليه وسلم بلا ريب.
--------------------------------------------
নাস্তিক্যবাদ ও কুফরে পরিপূর্ণ দার্শনিকদের কিতাবসমূহ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ফলে তারা এই বাতিল ও গোমরাহীর মধ্যে নিপতিত হয়েছে। তারা মনে করত যে, ঐ সকল দার্শনিকরাই সঠিক পথের অনুসারী, কারণ তারা অভিজ্ঞতা ও দলীল-প্রমাণের ওপর নির্ভর করে। অতঃপর তারা এই দর্শনের সাথে ইসলামী আকিদার সমন্বয় করার চেষ্টা করে, ফলে তারা স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে পথভ্রষ্ট হয়।
আর ইসলামের উলামায়ে কেরাম তাদের প্রত্যুত্তর প্রদান এবং তাদের বাতিল মতবাদ উন্মোচনের মাধ্যমে তাদের মোকাবেলা করেছেন, যেমনটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর অনেক কিতাবে করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে: নাকদু তা’সিসিল জাহমিয়্যাহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, এবং দারউ তাআ’রুদিল আকলি ওয়ান নাকলি – যা মুয়াফাকাতু সহীহিল মানকুল লি-সারীহিল মাকুল নামে পরিচিত
… এবং আরও অন্যান্য।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) দার্শনিকদের সম্পর্কে বলেছেন: "তারা বর্ণিত উদ্ধৃতি এবং যুক্তি উভয় ক্ষেত্রেই ভুল করেছে। বর্ণিত উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে কথা হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো গুণাবলী ও কার্যাবলি বর্জিত কোনো সত্তার অনাদিত্বের সংবাদ দেননি। বরং খোদায়ী পাঠ্যসমূহ রবের গুণাবলী ও কার্যাবলিতে গুণান্বিত হওয়ার ব্যাপারে পরস্পর সুসংহত। যারা কুরআন ও সুন্নাহ শুনেছে, তাদের কাছে এটি অকাট্যভাবে পরিচিত। তারা স্বীকার করে যে, পাঠ্যসমূহ থেকে এটিই প্রকাশ পায়। তবে আল্লাহ তাঁর সুন্দর নামসমূহ এবং তাঁর গুণাবলী ও কার্যাবলি সাব্যস্তকারী নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি {আসমানসমূহ, যমিন এবং তাদের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে সব ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} ১। সুতরাং যে ব্যক্তি বলে যে নক্ষত্রমন্ডলী অনাদি ও চিরন্তন, তার কথা নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর বিপরীত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
كما أن من قال: "أن الرب تعالى لا علم له ولا قدرة ولا كلام ولا فعل" فقوله مناقض لقول الرسول صلى الله عليه وسلم.
فليس لواحد منهما عقل صريح يدل على قوله، بل العقل الصريح مناقض لقوله، كما قد بين في موضعه من وجوه كثيرة، مثل ما يقال: "إن العقل الصريح يعلم أن إثبات عالم بلا علم وقادر بلا قدرة ممتنع كإثبات علم بلا عالم، وقدرة بلا قادر، وأعظم امتناعا من ذلك أن يكون العلم هو العالم، والعلم هو القدرة، فهذا قول نفاة الصفات"1.
التوحيد عند الأشاعرة:
الأشاعرة فرقة تنتسب إلى أبي الحسن الأشعري، وقد تتلمذ أبو الحسن على أبي علي الجبائي، من كبار علماء المعتزلة، ولازمه قريبا من أربعين عاما، فكان من أكبر الناس معرفة بمذهب المعتزلة، ثم انتقل إلى مذهب الكلابية أتباع عبد الله بن سعيد بن كلاب، وألف في بيان فساد آراء المعتزلة، والرافضة، والفلاسفة، وغيرهم من النحل الباطلة، والفرق المنحرفة، ثم رجع إلى مذهب أهل السنة والجماعة، وتخلى عما كان عليه، وبقي الأشاعرة ينتسبون إليه رغم رجوعه عن المذهب الذي يتشبثون به، والذي يمثل المرحلة الوسطى من حياته.
ومذهب الأشعرية يجمع خليطا من مذهب الجمهية والمعتزلة والكلابية، فيثبتون لله تعالى سبعا من الصفات وهي التي يسمونها صفات المعاني،
--------------------------------------------
যেমন কেউ যদি বলে: "মহিমান্বিত রবের কোনো জ্ঞান নেই, ক্ষমতা নেই, কথা (কালাম) নেই এবং কোনো কাজ নেই", তবে তার এই বক্তব্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর পরিপন্থী।
তাদের কারোরই এমন কোনো সুস্পষ্ট বিবেক নেই যা তার বক্তব্যের সপক্ষে প্রমাণ দেয়, বরং সুস্পষ্ট বিবেক তার বক্তব্যের পরিপন্থী। যেমনটি তার উপযুক্ত স্থানে অনেকগুলো দিক থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, যেমন বলা হয়: "সুস্পষ্ট বিবেক জানে যে, জ্ঞান ব্যতীত জ্ঞানী এবং ক্ষমতা ব্যতীত ক্ষমতাবান সাব্যস্ত করা অসম্ভব, যেমনটি জ্ঞানী ব্যতীত জ্ঞান এবং ক্ষমতাবান ব্যতীত ক্ষমতা সাব্যস্ত করা অসম্ভব। আর এর চেয়েও বড় অসম্ভব হলো এটি বলা যে, জ্ঞানই হলেন জ্ঞানী এবং জ্ঞানই হলো ক্ষমতা; আর এটিই হলো গুণাবলী অস্বীকারকারীদের বক্তব্য।"১
আশআরিদের নিকট তাওহীদ:
আশআরিরা এমন একটি দল যারা আবুল হাসান আল-আশআরির দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করে। আবুল হাসান মুতাজিলাদের অন্যতম বড় আলেম আবু আলী আল-জুব্বাইয়ের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন এবং দীর্ঘ প্রায় চল্লিশ বছর তাঁর সাথে ছিলেন। ফলে তিনি মুতাজিলাদের মাযহাব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলেন। এরপর তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে কুল্লাবের অনুসারী কুল্লাবিয়াহ মাযহাবে স্থানান্তরিত হন এবং মুতাজিলা, রাফেজি, দার্শনিক ও অন্যান্য বাতিল মতাদর্শ এবং বিচ্যুত দলগুলোর মতামতের অসারতা বর্ণনায় গ্রন্থ রচনা করেন। অতঃপর তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাবে ফিরে আসেন এবং তিনি যা অবলম্বন করেছিলেন তা বর্জন করেন। তবে আশআরিরা তাঁর সেই মাযহাবটিকেই আঁকড়ে ধরে আছে যা তাঁর জীবনের মধ্যবর্তী পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাঁর ফিরে আসা সত্ত্বেও তারা তাঁর দিকেই নিজেদের সম্বন্ধ করে থাকে।
আর আশআরি মাযহাব হলো জাহ্মিয়াহ, মুতাজিলা এবং কুল্লাবিয়াহ মাযহাবের একটি সংমিশ্রণ। তারা মহান আল্লাহর জন্য সাতটি সিফাত সাব্যস্ত করে এবং এগুলোকে তারা 'সিফাতুল মাআনি' হিসেবে অভিহিত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وهي: العلم، والقدرة، والإرادة، والحياة، والسمع، والبصر، والكلام، وينكرون ما عدا ذلك من الصفات بتأويلاتهم الباطلة.
فالتوحيد عندهم نفي التثنية أو التعدد، ونفي التبعيض والتركيب والجزئة1، ويقولون كما يقول إخوانهم من المتكلمين: واحد في ذاته لا قسيم له، وواحد في صفاته لا شبيه له، وواحد في أفعاله لا شريك له، ويفسرون معنى الإلهية بالقدرة على الاختراع2 ويجعلون ذلك هو التوحيد المطلوب، ويرون أن توحيد الأفعال وهو قولهم واحد في أفعاله لا شريك له، هو الذي بعث الأنبياء والرسل عليهم الصلاة والسلام بالدعوة إليه، وأنه يتضمن توحيد الألوهية، وأطالوا في بحثه، وأقاموا الأدلة والبراهين العقلية في إثباته، وأتعبوا أنفسهم فيه، وهو من الأمور المسلمة بين المسلمين وخصومهم - سوى الملحدين منهم. قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "والإلهية تتضمن أشخاص للعبادة والدعاة لا أنها بمعنى القدرة على الاختراع كما يذكر ذلك عن الأشعري، فإن هذا هو الربوبية التي كان المشركون يقرون بها"3.
ومعلوم أن المشركين الذي بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم كانوا يقرون بذلك وأن الله تعالى خالق كل شيء، ولا ينازعون في ذلك، ولكن ذلك لم
--------------------------------------------
সেগুলো হলো: জ্ঞান, ক্ষমতা, ইচ্ছা, জীবন, শ্রবণ, দৃষ্টি এবং কথা। তারা তাদের ভ্রান্ত ব্যাখ্যার মাধ্যমে এগুলো ছাড়া অন্যান্য গুণাবলী অস্বীকার করে।
তাদের নিকট তাওহীদ হলো দ্বিত্ববাদ বা বহুত্ববাদকে নাকচ করা এবং বিভাজন, সংমিশ্রণ ও অংশ সাব্যস্ত করাকে অস্বীকার করা।১ তারা মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদ) মধ্যে তাদের ভাইদের মতো বলে থাকে: তিনি তাঁর সত্তায় একক, তাঁর কোনো বিভাজক নেই; তিনি তাঁর গুণাবলীতে একক, তাঁর কোনো সদৃশ নেই; এবং তিনি তাঁর কার্যাবলীতে একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তারা ইলাহ হওয়ার অর্থকে নতুন কিছু উদ্ভাবন করার ক্ষমতা হিসেবে ব্যাখ্যা করে২ এবং এটিকেই তারা কাঙ্ক্ষিত তাওহীদ বলে গণ্য করে। তারা মনে করে যে কার্যাবলীর তাওহীদ—যা তাদের এই কথা: ‘তিনি তাঁর কার্যাবলীতে একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই’—এটিই সেই তাওহীদ যা প্রচারের জন্য নবী ও রাসূলগণ (তাঁদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) প্রেরিত হয়েছিলেন। আর তারা মনে করে যে এটি উলুহিয়্যাহর তাওহীদকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তারা এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছে এবং এটি প্রমাণের জন্য যৌক্তিক দলিল ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছে এবং এতে তারা নিজেদের পরিশ্রান্ত করেছে। অথচ এটি নাস্তিক ব্যতীত সকল মুসলিম ও তাদের প্রতিপক্ষদের মাঝে একটি স্বীকৃত বিষয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: "উলুহিয়্যাহ ইবাদত ও দোয়ার নিষ্ঠাকে অন্তর্ভুক্ত করে, এটি নতুন কিছু উদ্ভাবন করার ক্ষমতার অর্থে নয়—যেমনটি আশআরী সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়। কারণ এটিই হলো সেই রুবুবিয়্যাহ যা মুশরিকরা স্বীকার করত।"৩।
আর এটি সুবিদিত যে, মুশরিকরা যাদের কাছে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরিত হয়েছিলেন, তারা এটি স্বীকার করত যে মহান আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা। এ বিষয়ে তারা কোনো বিতর্ক করত না, তবে এটি তাদের...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিমায়াতুর রাসূলি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিমাত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
ينفعهم شيئا، بل هم مع ذلك مشركون بالله تعالى، حيث لم يحققوا معنى الألوهية الحقة له سبحانه وتعالى، وهذا هو التوحيد الأعظم الذي بعث الأنبياء والرسل عليهم الصلاة والسلام بالدعوة إليه، وفيه قامت الخصومة بينهم وبين أممهم، وهذا ما لا ذكر له ولا اهتمام في كتب الأشاعرة1.
"وليس المراد بـ (الإله) هو القادر على الاختراع، كما ظنه من ظنه من أئمة المتكلمين، حيث ظن أن الإلهية هي القدرة على الاختراع دون غيره، وأن من أقر بأن الله هو القادر على الاختراع دون غيره فقد شهد أن لا إله إلا الله، فإن المشركين كانوا يقرون بهذا وهم مشركون – كما تقدم بيانه – بل الإله الحق هو الذي يستحق أن يعبد، فهو إله بمعنى مألوه، لا إله بمعنى آله، والتوحيد أن يعبد الله وحده لا شريك له، والإشراك أن يجعل مع الله إلها آخر. وإذا تبين أن غاية ما يقرره هؤلاء النظار، أهل الإثبات للقدرة المنتسبون إلى السنة إنما هو توحيد الربوبية، وأن الله رب كل شيء، ومع هذا فالمشركون كانوا مقرين بذلك، مع أنهم مشركون"2.
التوحيد عند الصوفية:
الصوفية من الفرق التي انحرفت وضلت عن المعنى الصحيح للتوحيد، وهي فرق وطوائف كثيرة منهم المعتدل ومنهم الغالي المنحرف، والتوحيد
--------------------------------------------
তাদের কোনো উপকারে আসবে না, বরং তা সত্ত্বেও তারা মহান আল্লাহর সাথে শিরককারী, যেহেতু তারা তাঁর জন্য সত্য উলুহিয়্যাতের (উপাস্য হওয়ার) প্রকৃত অর্থ বাস্তবায়ন করেনি। আর এটিই হলো সেই মহান তাওহীদ, যার দিকে আহ্বান করার জন্য নবী ও রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) প্রেরিত হয়েছিলেন এবং যা নিয়ে তাঁদের ও তাঁদের উম্মতদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। আর আশআরিদের কিতাবসমূহে এর কোনো উল্লেখ বা গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি ১।
"আর 'ইলাহ' বলতে 'সৃষ্টির উদ্ভাবনে সক্ষম' সত্তা বুঝায় না, যেমনটি মুতাকাল্লিম ইমামদের কেউ কেউ ধারণা করেছেন। তারা মনে করেছেন যে, ইলাহ হওয়া বলতে কেবল সৃষ্টি করার সক্ষমতাকেই বোঝায়, আর যে ব্যক্তি এ কথা স্বীকার করল যে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়, সে ব্যক্তিই যেন সাক্ষ্য দিল যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। অথচ মুশরিকরা এ বিষয়ে স্বীকৃতি দিত কিন্তু তারা মুশরিকই ছিল—যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বরং সত্য ইলাহ তিনিই যিনি ইবাদত পাওয়ার যোগ্য। সুতরাং তিনি 'মা’লুহ' (যাঁর ইবাদত করা হয়) অর্থে ইলাহ, 'আলিহ' (সৃষ্টিকর্তা) অর্থে ইলাহ নন। তাওহীদ হলো কেবলমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা যার কোনো অংশীদার নেই, আর শিরক হলো আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ইলাহ সাব্যস্ত করা। আর যখন এটি স্পষ্ট হলো যে, এই সকল চিন্তাবিদ—যারা আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতা প্রমাণের প্রবক্তা এবং সুন্নাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত—তাদের আলোচনার সর্বোচ্চ বিষয় হলো কেবল তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ এবং আল্লাহ যে সবকিছুর রব তা প্রমাণ করা। অথচ মুশরিকরা এ বিষয়ের স্বীকৃতি দেওয়া সত্ত্বেও মুশরিক ছিল" ২।
সুফিদের নিকট তাওহীদ:
সুফিরা এমন সব দলের অন্তর্ভুক্ত যারা তাওহীদের সঠিক মর্মার্থ থেকে বিচ্যুত ও পথভ্রষ্ট হয়েছে। তারা অনেক দল ও উপদলে বিভক্ত, যাদের মধ্যে কেউ মধ্যপন্থী আবার কেউ চরমপন্থী ও বিভ্রান্ত। আর তাওহীদ...
--------------------------------------------