(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: -)
حصول المأمول بشرح ثلاثة الأصول القسم: العقيدة
الكتاب: حصول المأمول بشرح ثلاثة الأصول
المؤلف: عبد الله بن صالح الفوزان
الناشر: مكتبة الرشد
عدد الصفحات: 209
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সালাসাতুল উসুলের ব্যাখ্যায় হুসুলুল মামুল বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: সালাসাতুল উসুলের ব্যাখ্যায় হুসুলুল মামুল
লেখক: আবদুল্লাহ বিন সালিহ আল-ফাওজান
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.
أما بعد: فإن رسالة "ثلاثة الأصول وأدلتها"1 للشيخ المجدد محمد بن عبد الوهاب رحمه الله رسالة موجزة جامعة في موضوع توحيد الربوبية والألوهية والولاء والبراء وغير ذلك من المسائل المتعلقة بعلم التوحيد، الذي هو من أشرف العلوم وأجلها قدراً، كتبها الشيخ رحمه الله مقرونة بالدليل بأسلوب سهل ميسر لكل قارئ؛ فأقبل الناس عليها حفظاً وتدريساً؛ لأنها كتبت بقلم عالم جليل من علماء الإسلام نهج منهج السلف الصالح داعياً إلى التوحيد ونبذ البدع والخرافات وتنقية الإسلام مما علق به من أوهام. ويظهر ذلك جلياً في معظم مؤلفات الشيخ ورسائله، فجاءت هذه الرسالة خلاصة وافية لمباحث مهمة لا يستغني عنها المسلم ليبني دينه على أسس سليمة وقواعد صحيحة؛ ليجني ثمرات ذلك سعادة في الدنيا وفلاحاً في الدار الآخرة.
--------------------------------------------
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর: নিশ্চয়ই মুজাদ্দিদ শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব -রাহিমাহুল্লাহ- রচিত "ত্রয়ী মূলনীতি ও এর প্রমাণাদি"১ নামক পুস্তিকাটি তাওহিদে রুবুবিয়্যাহ, উলুহিয়্যাহ, আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা এবং তাওহিদ শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মাসআলাসমূহের উপর একটি সংক্ষিপ্ত অথচ জ্ঞানগর্ভ ও ব্যাপক পুস্তিকা। আর তাওহিদ শাস্ত্র হলো জ্ঞানবিজ্ঞানের সকল শাখার মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও উচ্চতর। শাইখ -রাহিমাহুল্লাহ- এটি দলীল-প্রমাণসহ প্রত্যেক পাঠকের জন্য অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল শৈলীতে লিখেছেন; ফলে মানুষ এটি মুখস্থ করা এবং পাঠদানের মাধ্যমে সাদরে গ্রহণ করেছে। কারণ এটি ইসলামের একজন মহান আলেমের কলমে রচিত হয়েছে, যিনি সালাফে সালেহীনের পথ অনুসরণ করতেন এবং তাওহিদের দিকে আহ্বান জানাতেন ও বিদআত ও কুসংস্কার বর্জন এবং ইসলামের সাথে মিশে যাওয়া নানাবিধ ভ্রান্ত ধারণা থেকে একে পরিশুদ্ধ করার ডাক দিতেন। শাইখের অধিকাংশ রচনা ও পত্রাবলীতে এটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ফলে এই পুস্তিকাটি এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ সারসংক্ষেপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা কোনো মুসলিমের জন্য অপরিহার্য, যাতে সে তার দ্বীনকে সঠিক ভিত্তি ও নির্ভুল নিয়মের উপর প্রতিষ্ঠিত করতে পারে; এবং এর ফলশ্রুতিতে দুনিয়াতে সুখ ও পরকালে সফলতা লাভ করতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৬)
لذا رأيت أن أكتب عليها شرحاً متوسطاً في تفسير آياتها وشرح أحاديثها وتوضيح مسائلها إسهاماً في تسهيل الاستفادة منها، والتشجيع على حفظها وفهمها بعد أن قمت بشرحها للطلبة في المسجد بحمد لله تعالى، وسميته: "حصول المأمول بشرح ثلاثة الأصول".
وقد اعتمدت على نسخة الأصول التي عليها حاشية الشيخ عبد الرحمن قاسم رحمه الله؛ لأنها مطابقة لما في مجموعة مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب التي قوبلت على عدة نسخ أهمها مخطوطة المكتبة السعودية بالرياض كما قال مصححوها، وهي في قسم العقيدة والآداب الإسلامية ص183 من مؤلفات الشيخ رحمه الله.
وختاماً أسأل الله تعالى أن يجزل الأجر والثواب لمؤلفها وكل من ساهم بتوضيح العقيدة وبيان البدع والتحذير منها، كما أسأله وهو أكرم مسئول أن يجعل عملي صالحاً ولوجهه خالصاً ولعباده نافعاً. وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
كتبه
عبد الله بن صالح الفوزان
مساء الجمعة 19/12/1417هـ في بريدة
তাই আমি এর আয়াতসমূহের তাফসীর, হাদীসসমূহের ব্যাখ্যা এবং মাসআলাসমূহ স্পষ্ট করার লক্ষ্যে একটি মধ্যম মানের ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখার সিদ্ধান্ত নিলাম, যাতে এটি থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয় এবং এটি মুখস্থ ও অনুধাবন করতে উৎসাহ যোগায়। আল্লাহর প্রশংসা যে, আমি মসজিদে ছাত্রদের কাছে এটি ব্যাখ্যা করার পর এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং আমি এর নামকরণ করেছি: "হুসুলুল মামূল বিশরহি ছালাছাতিল উসূল"।
আমি 'উসূল'-এর সেই পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি যাতে শায়খ আব্দুর রহমান কাসিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পাদটীকা রয়েছে; কারণ এটি শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব-এর রচনাসমগ্রের সেই কপির সাথে হুবহু মিল রাখে যা একাধিক পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সম্পাদিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রিয়াদের সৌদি লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, যেমনটি এর সম্পাদকগণ উল্লেখ করেছেন। এটি শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাসমগ্রের আকিদা ও ইসলামী আদব বিভাগের ১৮৩ পৃষ্ঠায় অন্তর্ভুক্ত।
পরিশেষে, আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর লেখককে এবং যারা আকিদা স্পষ্ট করতে এবং বিদআত বর্ণনা ও তা থেকে সতর্ক করতে অবদান রেখেছেন, তাদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আমি তাঁর কাছে আরও প্রার্থনা করি—আর তিনিই শ্রেষ্ঠতম যাঞ্চা পূরণকারী—তিনি যেন আমার এই কাজটিকে নেক আমল হিসেবে গ্রহণ করেন, তা যেন একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হয় এবং তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী হয়। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
লিখেছেন
আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-ফাওজান
শুক্রবার সন্ধ্যা, ১৯/১২/১৪১৭ হিজরী, বুরাইদাহ।
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৭)
ترجمة موجزة لمؤلف الرسالة1
هو الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي "من المشارفة أحد فروع الوهبة" من قبيلة تميم.
ولد الشيخ -عليه رحمة الله- عام 1115هـ في بلدة العيينة، وتلقى فيها علومه الأولية. فتعلم القرآن وحفظه على ظهر قلب قبل بلوغه عشر سنين، وكان حاد الفهم وقاد الذهن ذكي القلب سريع الحفظ، واجتمع له مع هذه الملكات وراثة علمية ووسط ديني صالح تربى فيه، فجده كان عالماً جليلاً، ووالده قاضي المدينة؛ فأخذ عن مشايخ بلده ثم رحل في طلب العلم إلى الحجاز واليمن والبصرة، فحاز علوماً وحفظ متوناً، قرأ كثيراً من كتب الحديث والتفسير والأصول، وعني عناية خاصة بمؤلفات شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه العلامة ابن القيم، وتأثر بأفكارهما واستنار بآرائهما مما كان له أثر واضح على دعوة الشيخ ومنهجه.
عاد الشيخ من هذه الرحلات العلمية المباركة إلى حريملاء حيث كان والده قد انتقل إليها من العيينة لخلاف بينه وبين أميرها، فدرس على والده في حريملاء ودعا إلى توحيد الله تعالى وبين بطلان ما عليه عباد القبور.
ولما توفي والده عام 1153هـ أعلن دعوته إلا أنه ما لبث أن قرر أن "حريملاء" لا تصلح أن تكون منطلقاً للدعوة فانتقل منها فيما يقارب عام 1155هـ إلى "العيينة" فناصره أميرها عثمان بن معمر أول الأمر ثم خذله؛
--------------------------------------------
রিসালার লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী১
তিনি হলেন ইমাম শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান বিন আলী "মুশাররাফা থেকে যা ওয়াহবা বংশের একটি শাখা" তামিমি গোত্রভুক্ত।
শাইখ —তাঁর উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক— ১১১৫ হিজরি সনে উয়াইনা জনপদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি দশ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই কুরআন শিক্ষা করেন এবং তা মুখস্থ করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন, প্রখর মেধাবী, বুদ্ধিদীপ্ত হৃদয়ের অধিকারী এবং দ্রুত মুখস্থকরণে পারদর্শী। এই প্রতিভার সাথে তাঁর যুক্ত হয়েছিল ইলমি উত্তরাধিকার এবং এক সৎ ধর্মীয় পরিবেশ যেখানে তিনি লালিত-পালিত হয়েছিলেন। তাঁর দাদা ছিলেন একজন বরেণ্য আলেম এবং তাঁর পিতা ছিলেন শহরের বিচারক (কাজি)। তিনি নিজ শহরের শাইখদের নিকট জ্ঞান অর্জন করেন, অতঃপর ইলম অন্বেষণে হিজাজ, ইয়েমেন এবং বসরায় সফর করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং অনেক মূল পাঠ (মুতুন) মুখস্থ করেন। তিনি হাদিস, তাফসির ও উসুলের প্রচুর কিতাব পাঠ করেন এবং বিশেষভাবে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিমের রচনাবলির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তাঁদের চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত হন এবং তাঁদের মতামতের আলোকে পথ চলেন, যা শাইখের দাওয়াত ও পদ্ধতির (মানহাজ) ওপর স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছিল।
শাইখ এই বরকতময় ইলমি সফর শেষে হুরাইমিলায় ফিরে আসেন, যেখানে তাঁর পিতা উয়াইনার আমিরের সাথে মতবিরোধের কারণে উয়াইনা থেকে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। তিনি হুরাইমিলায় তাঁর পিতার নিকট অধ্যয়ন করেন এবং মহান আল্লাহর তাওহিদের দিকে দাওয়াত দেন ও কবর পূজারীদের রীতিনীতির অসারতা ব্যাখ্যা করেন।
যখন ১১৫৩ হিজরি সনে তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি তাঁর দাওয়াত প্রকাশ্যে প্রচার শুরু করেন। তবে তিনি অল্পকাল পরেই সিদ্ধান্ত নেন যে, 'হুরাইমিলা' দাওয়াতের সূচনাস্থল হিসেবে উপযুক্ত নয়, ফলে তিনি ১১৫৫ হিজরির কাছাকাছি সময়ে সেখান থেকে 'উয়াইনা'য় চলে যান। উয়াইনার আমির উসমান বিন মুআম্মার প্রথম দিকে তাঁকে সমর্থন করলেও পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৮)
فانتقل الشيخ إلى "الدرعية" وهيأ الله له الأمير محمد بن سعود فقويت وانتشرت دعوته فأخذ ينشر التوحيد ويجاهد في إحياء السنة وإماتة البدعة، ويدرس العلوم النافعة ويؤلف الكتب على طريقة السلف الصالح وأخذ عنه كثيرون وخلف من التلاميذ الكبار من نفع الله بهم الإسلام وأهله كما نفع به.
وقد مد الله تعالى في عمر الشيخ فعاش في "الدرعية" بعد انتقاله إليها قرابة خمسين عاماً قضاها في الدعوة إلى الله وتطبيق مبادئها بهدم القباب المقامة على القبور وقطع الأشجار التي يتبرك بها الناس وإقامة الحدود والجهاد والعمل على نشر الدعوة فقرت عينه بانتصار كلمة الحق وشمولها أجزاء الجزيرة، وقد وافته المنية يوم الاثنين آخر شهر شوال سنة 1206هـ كان عمره نحو اثنين وتسعين سنة، ومات ولم يخلف ديناراً ولا درهماً، فلم يوزع بين ورثته مال ولم يقسم.
رحم الله الشيخ محمد بن عبد الوهاب وجزاه الله عن الإسلام والمسلمين الجزاء الأوفى.
অতপর শায়খ "দিরিয়া"তে স্থানান্তরিত হলেন এবং আল্লাহ তাঁর জন্য আমির মুহাম্মদ ইবনে সউদকে সুব্যবস্থা করে দিলেন। ফলে তাঁর দাওয়াত শক্তিশালী হলো এবং বিস্তার লাভ করল। এরপর তিনি তাওহিদ প্রচার করতে লাগলেন এবং সুন্নাহর পুনরুজ্জীবন ও বিদআতের বিলুপ্তিতে জিহাদ করতে শুরু করলেন। তিনি উপকারী ইলম শিক্ষা দিতেন এবং সালাফে সালেহীনের পদ্ধতিতে গ্রন্থাবলি রচনা করতেন। তাঁর নিকট থেকে বহু মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তিনি তাঁর পেছনে এমন সব বড় বড় ছাত্র রেখে গিয়েছেন যাদের দ্বারা আল্লাহ ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর উপকার সাধন করেছেন, যেমনটি তিনি শায়খের মাধ্যমে করেছিলেন।
আল্লাহ তাআলা শায়খের হায়াত দীর্ঘ করেছিলেন। ফলে দিরিয়াতে হিজরতের পর তিনি সেখানে প্রায় পঞ্চাশ বছর জীবন অতিবাহিত করেন। এই সময়টি তিনি আল্লাহর পথে দাওয়াত এবং দাওয়াতের মূলনীতি বাস্তবায়নে ব্যয় করেন; যার অন্তর্ভুক্ত ছিল কবরের ওপর নির্মিত গম্বুজসমূহ ধূলিসাৎ করা, যেসব গাছ থেকে মানুষ বরকত গ্রহণ করত তা কেটে ফেলা, দণ্ডবিধি কার্যকর করা, জিহাদ করা এবং দাওয়াত প্রসারে কাজ করা। সত্যের বাণীর বিজয় এবং জাজিরাতুল আরবের বিভিন্ন অংশে এর বিস্তৃতি দেখে তাঁর চক্ষু শীতল হয়েছিল। ১২০৬ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের শেষ সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়। সে সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় বিরানব্বই বছর। তিনি মৃত্যুবরণ করার সময় কোনো দিনার বা দিরহাম রেখে যাননি, তাই তাঁর উত্তরাধিকারীদের মাঝে কোনো সম্পদ বণ্টন বা ভাগাভাগি করা হয়নি।
আল্লাহ শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবকে রহম করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
ــ
بدأ المصنف هذه الرسالة بالبسملة اقتداء بكتاب الله تعالى، وتأسياً بالنبي صلى الله عليه وسلم، فإنه كان يبدأ كتبه بالبسملة. فقد ورد في "صحيح البخاري" في كتاب بدء الوحي: "بسم الله الرحمن الرحيم من محمد عبد الله ورسوله إلى هرقل عظيم الروم
… "1
أما الأحاديث القولية في مسألة البسملة، كحديث: "كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله فهو أبتر" فهي أحاديث ضعفها العلماء2.
والبدء بالبسملة يدل عليه أمران:
الأول: كتاب الله تعالى حيث بدئ بالبسملة.
والثاني: ما كان يصنعه النبي صلى الله عليه وسلم في كتاباته إلى الملوك.
وقوله: "بسم الله"، هذا جار ومجرور متعلق بمحذوف يقدر متأخراً، والقاعدة في متعلق الجار والمجرور أنه يقدر متقدماً، وهذا هو الأصل لكن في البسملة يقدر متأخراً؛ ليحصل التبرك بالبدء بالبسملة، وأما نوعية المقدر
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
—
গ্রন্থকার এই রিসালাহটি বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছেন মহান আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ করে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণে; কারণ তিনি তাঁর পত্রাবলি বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করতেন। 'সহীহ বুখারী'র ওহী সূচনার অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে: "পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোমের প্রধান হিরাক্লিয়াসের প্রতি
... "১
আর বিসমিল্লাহ সংক্রান্ত মৌখিক হাদীসসমূহ, যেমন: "যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)", এগুলো এমন হাদীস যা উলামায়ে কেরাম দুর্বল বা যয়ীফ বলেছেন।২
বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করার বিষয়টি দুটি বিষয় দ্বারা প্রমাণিত হয়:
প্রথমত: মহান আল্লাহর কিতাব, যেহেতু তা বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাজন্যবর্গের কাছে তাঁর পত্রাবলীতে যা করতেন।
আর তাঁর উক্তি: "বিসমিল্লাহ" (আল্লাহর নামে), এটি একটি জার ও মাজরুর যা শেষে উহ্য থাকা একটি সংশ্লিষ্ট পদের সাথে সম্পৃক্ত। জার ও মাজরুর-এর সংশ্লিষ্ট পদের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো তা শুরুতে ধরা হয়, এবং এটিই মূল নিয়ম; তবে বিসমিল্লাহর ক্ষেত্রে তা শেষে ধরা হয়, যাতে বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করে বরকত হাসিল করা যায়। আর উহ্য পদের ধরন সম্পর্কে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
فإنه يقدر بما يناسب المقام، فالذي يقرأ يكون التقدير: "بسم الله أقرأ"، والذي يكتب إذا قال: "بسم الله الرحمن الرحيم"، يعني: بسم الله أكتب، وعلى هذا يقاس باقي الأفعال، فإذا قال: "بسم الله أكتب"؛ حصلت البداءة ببسم الله، ولكن لو قال: "أكتب بسم الله"؛ لصارت البداءة بغير البسملة لهذا يقدر المتعلق متأخراً. والمراد باسم الله هنا: كل اسم من أسماء الله تعالى، ولفظ الجلالة "الله" اسم من أسماء الله تعالى الخاصة به ومعناه: المألوه حبّاً وتعظيماً.
وقوله: "الرحمن" هذا اسم من أسماء الله الخاصة به، ومعناه ذو الرحمة الواسعة.
وقوله: "الرحيم" هذا اسم من أسماء الله ومعناه موصل رحمته إلى من يشاء من عباده.
قال ابن القيم رحمه الله: "الرحمن دال على الصفة القائمة به سبحانه، والرحيم دال على تعلقها بالمرحوم ، فكان الأول للوصف ، والثاني للفعل ، فالأول دال على أن الرحمة صفته، والثاني دال على أنه يرحم خلقه برحمته، وإذا أردت فهم هذا فتأمل قوله {وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيماً} 1، {إِنَّهُ بِهِمْ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} 2 ولم يجئ قط: رحمن ربهم. فعلم أن رحمن هو الموصوف بالرحمة، ورحيم هو الراحم برحمته"3.
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
এটি প্রাসঙ্গিক অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি পাঠ করছে, তার ক্ষেত্রে বিষয়টি হবে: "আল্লাহর নামে আমি পাঠ করছি"। আর যে ব্যক্তি লিখছে সে যদি "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" বলে, তবে তার অর্থ হবে: "আল্লাহর নামে আমি লিখছি"। এভাবেই অন্যান্য সব কাজের ক্ষেত্রে অনুমান করতে হবে। যদি সে বলে "আল্লাহর নামে আমি লিখছি", তবে আল্লাহর নাম দিয়েই শুরু করা হলো। কিন্তু যদি সে বলে "আমি লিখছি আল্লাহর নামে", তবে আল্লাহর নামের মাধ্যমে শুরু করা হলো না। এই কারণে (বাক্যের শেষে) সংশ্লিষ্ট উহ্য শব্দটিকে পরে ধরা হয়। আর এখানে আল্লাহর নাম বলতে মহান আল্লাহর প্রতিটি নামকে বোঝানো হয়েছে। আর "আল্লাহ" শব্দটি মহান আল্লাহর একটি বিশেষ নাম যা কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট; এর অর্থ হলো: ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে যাঁর ইবাদত করা হয়।
আর তাঁর বাণী: "আর-রাহমান" এটি আল্লাহর একটি বিশেষ নাম যা কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট, এর অর্থ হলো প্রশস্ত রহমতের অধিকারী।
আর তাঁর বাণী: "আর-রাহিম" এটি আল্লাহর নামসমূহের একটি, এর অর্থ হলো—যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তাঁর রহমত পৌঁছে দেন।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আর-রাহমান শব্দটি মহান আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান গুণের প্রমাণ দেয়, আর আর-রাহিম শব্দটি যার প্রতি দয়া করা হয় তার সাথে সেই গুণের সম্পর্কের প্রমাণ দেয়। সুতরাং প্রথমটি গুণের বর্ণনায় এবং দ্বিতীয়টি কাজের বর্ণনায় ব্যবহৃত হয়। প্রথমটি প্রমাণ করে যে রহমত তাঁর গুণ, আর দ্বিতীয়টি প্রমাণ করে যে তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। আপনি যদি এটি বুঝতে চান তবে আল্লাহর এই বাণী নিয়ে চিন্তা করুন: {আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু}১, {নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতি অতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু}২। কুরআনে কখনোই 'তাদের প্রতি রহমান' হিসেবে আসেনি। এর মাধ্যমে জানা গেল যে, 'রাহমান' হলো রহমত গুণে গুণান্বিত সত্তা, আর 'রাহিম' হলো তিনি যিনি তাঁর রহমতের মাধ্যমে দয়া করেন।"৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১১)
اعلم رحمك الله
ــ
قوله: "اعلم رحمك الله"، هذا دعاء من المصنف رحمه الله لك أيها القارئ يدل على محبته لك وشفقته عليك وأنه راغب في حصول الخير لك، والشيخ رحمه الله يستعمل مثل هذه العبارة كثيراً، يقول: "اعلم رحمك الله"، "اعلم أرشدك الله لطاعته"، "أسأل الله الكريم رب العرش العظيم أن يتولاك في الدنيا والآخرة".
وكلمة "اعلم" يؤتى بها من باب التنبيه وحث السامع على أن يصغي لما سيقال، فهي أمر بتحصيل العلم والتهيؤ لما سيلقى إليك من العلوم.
ولهذا ينبغي للمتكلم إذا تحدث أمام الناس أن يستعمل معهم بين حين وآخر العبارات التي تشد أذهانهم معه؛ لأن السامع بطبيعته يحتاج إلى ما يحرك ذهنه ويثير انتباهه، ولذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يطرح السؤال بين حين وآخر على الصحابة: "ألا أنبئكم بأكبر الكبائر؟ "، "أتدرون ماذا قال ربكم؟ "، "أتدرون ما الغيبة؟ "، والقصد من هذا أن السامعين يستعدون لسماع ما سيقال لهم، وهذا يعتبر من باب اختيار المقدمات المناسبة للكلام.
وقوله: "رحمك الله" جملة خبرية لفظاً، إنشائية معنى؛ لأن المراد بها الدعاء للمتعلم بالرحمة، أي: غفر الله لك ما مضى من ذنوبك ووفقك وعصمك فيما يستقبل، هذا إذا أفردت الرحمة، وإذا قرنت بالمغفرة: فالمغفرة لما مضى، والرحمة لما يستقبل بالتوفيق للخير والسلامة من الذنوب.
জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন
—
তাঁর উক্তি: "জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন", এটি হে পাঠক আপনার প্রতি গ্রন্থকারের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) একটি দোয়া। এটি আপনার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও মমত্ববোধের পরিচায়ক এবং আপনার কল্যাণ অর্জনে তিনি আগ্রহী হওয়ার প্রমাণ। শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এজাতীয় শব্দগুচ্ছ প্রচুর ব্যবহার করেন। তিনি বলেন: "জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন", "জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনাকে তাঁর আনুগত্যের পথে পরিচালিত করুন", "আমি সুমহান আরশের প্রতিপালক মহানুভব আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার অভিভাবক হন"।
"জেনে রাখুন" শব্দটি মূলত সচেতন করার জন্য এবং যা বলা হবে তার প্রতি শ্রোতাকে মনোযোগী হতে উৎসাহিত করার জন্য আনা হয়েছে। সুতরাং এটি জ্ঞান অর্জন এবং আপনার নিকট যে জ্ঞান পেশ করা হবে তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের একটি নির্দেশ।
এই কারণেই একজন বক্তার উচিত যখন তিনি মানুষের সামনে কথা বলবেন, তখন মাঝে মাঝে তাদের সাথে এমন শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা যা তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। কারণ শ্রোতা প্রাকৃতিকভাবেই এমন কিছুর মুখাপেক্ষী যা তার মস্তিষ্ককে সচল করে এবং তার মনোযোগকে জাগ্রত করে। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের নিকট মাঝে মাঝে প্রশ্ন পেশ করতেন: "আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না?", "তোমরা কি জানো তোমাদের প্রতিপালক কী বলেছেন?", "তোমরা কি জানো গীবত কী?"; এর উদ্দেশ্য হলো শ্রোতারা যেন তাদের যা বলা হবে তা শোনার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। এটি আলোচনার জন্য উপযুক্ত ভূমিকা নির্বাচনের অন্তর্ভুক্ত।
এবং তাঁর উক্তি: "আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন" বাক্যটি শাব্দিক দিক থেকে বর্ণনামূলক হলেও অর্থগত দিক থেকে এটি অনুজ্ঞাসূচক বা প্রার্থনামূলক; কারণ এর দ্বারা শিক্ষার্থীর জন্য রহমতের দোয়া করাই উদ্দেশ্য। অর্থাৎ: আল্লাহ আপনার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং ভবিষ্যতে আপনাকে তাওফিক দান করুন ও পাপাচার থেকে রক্ষা করুন। এটি তখনই হয় যখন "রহমত" শব্দটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়। আর যখন একে "ক্ষমা" বা মাগফিরাতের সাথে মিলিয়ে উল্লেখ করা হয়, তখন "ক্ষমা" হলো অতীতের গুনাহের জন্য, আর "রহমত" হলো ভবিষ্যতের জন্য কল্যাণের তাওফিক ও গুনাহ থেকে নিরাপদ থাকার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১২)
المسائل الاربع
العلم…أنه يجب علينا تعلم أربع مسائل: "الأولى" العلم،
ــ
قوله: "يجب علينا تعلم أربع مسائل: ألأولى: "العلم"، المراد هنا: الوجوب العيني، وهو ما يجب أداؤه على كل مكلف بعينه.
والتعلم: تحصيل العلم، والعلم: معرفة الهدى بدليله.
والمراد بالعلم هنا: العلم الشرعي، والمقصود به ما كان تعلمه فرض عين، وهو كل علم يحتاج إليه المكلف في أمر دينه، كأصول الإيمان وشرائع الإسلام، وما يجب اجتنابه من المحرمات، وما يحتاج إليه في المعاملات، ونحو ذلك مما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب عليه العلم به. 1
قال الإمام أحمد رحمه الله: يجب أن يطلب من العلم ما يقوم به دينه، قيل له: مثل أي شيء؟ قال: الذي لا يسعه جهله: صلاته وصيامه، ونحو ذلك2
فالواجب على المسلم أن يتعلم ما يجب عليه من أمر دينه مما يتعلق بعقيدته وعبادته ومعاملته، وعليه أن يسأل أهل العلم، ويحذر من الإعراض عما جاء عن الله تعالى وعن رسوله صلى الله عليه وسلم، وعليه أن يقبل النصح والتوجيه، وينقاد للحق. فهذه صفة المؤمن الحق.
أما العلم الذي تعلمه فرض كفاية كتفاريع المسائل الفقهية والاطلاع على أقوال العلماء ومعرفة الخلاف ومناقشة الأدلة فهذا ليس بواجب على كل مسلم، فإذا وجد من يقوم به من أهل العلم صار في حق الباقين سنة.
--------------------------------------------
চারটি মাসআলাজ্ঞান...নিশ্চয়ই আমাদের ওপর চারটি মাসআলা শেখা ওয়াজিব: "প্রথমটি" হলো জ্ঞান,
--
তাঁর কথা: "আমাদের ওপর চারটি মাসআলা শেখা ওয়াজিব: প্রথমটি: জ্ঞান", এখানে উদ্দেশ্য হলো: ব্যক্তিগত বাধ্যবাধকতা (ফরজে আইন), আর এটি এমন বিষয় যা পালন করা প্রত্যেক মুকাল্লাফের (শরয়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) ওপর ব্যক্তিগতভাবে ওয়াজিব।
শেখা (তাআল্লুম) হলো: জ্ঞান অর্জন করা। আর জ্ঞান (ইলম) হলো: দলিলসহ হিদায়াতকে জানা।
এখানে জ্ঞান বলতে শরয়ী জ্ঞানকে বোঝানো হয়েছে, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা শিক্ষা করা ফরজে আইন। এটি এমন প্রতিটি জ্ঞান যার প্রয়োজন মুকাল্লাফের তার দ্বীনের বিষয়ের ক্ষেত্রে পড়ে, যেমন ঈমানের মূলনীতি ও ইসলামের বিধানসমূহ, এবং যা থেকে বেঁচে থাকা ওয়াজিব এমন হারাম বিষয়সমূহ, আর লেনদেনের ক্ষেত্রে তার যা প্রয়োজন হয় এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা ছাড়া ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, সেই সম্পর্কে জ্ঞান রাখা তার ওপর ওয়াজিব। ১
ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: জ্ঞান থেকে ততটুকু অন্বেষণ করা ওয়াজিব যা দ্বারা তার দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: যেমন কোন বিষয়? তিনি বললেন: যে বিষয়ে অজ্ঞ থাকা তার জন্য সঙ্গত নয়: তার সালাত, তার সিয়াম এবং এই জাতীয় বিষয়। ২
সুতরাং একজন মুসলিমের ওপর ওয়াজিব হলো তার দ্বীনের সেই বিষয়গুলো শিখে নেওয়া যা তার ওপর ওয়াজিব, যার সম্পর্ক রয়েছে তার আকীদা, ইবাদত ও লেনদেনের সাথে। তার উচিত আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করা এবং আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে যা এসেছে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া থেকে সতর্ক থাকা। তার উচিত নসিহত ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা এবং সত্যের অনুগত হওয়া। আর এটিই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
আর যে জ্ঞান শিক্ষা করা ফরজে কিফায়া, যেমন ফিকহী মাসআলাসমূহের সূক্ষ্ম শাখা-প্রশাখা, আলেমদের মতামত সম্পর্কে অবগত হওয়া, মতপার্থক্য জানা এবং দলিলসমূহ নিয়ে আলোচনা করা—এগুলো প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব নয়। সুতরাং যখন আলেমদের মধ্য থেকে কেউ এটি সম্পন্ন করবে, তখন বাকিদের ক্ষেত্রে তা সুন্নাত হিসেবে গণ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وهو معرفة الله، ومعرفة نبيه، ومعرفة دين الإسلام بالأدلة.
ــ
ومما يدل على أن العلم واجب حديث أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "طلب العلم فريضة على كل مسلم" 1
وقد فسر الشيخ رحمه الله العلم الذي لابد من تعلمه بأنه يتناول ثلاثة أمور، فقال: "وهو معرفة الله ومعرفة نبيه ومعرفة دين الإسلام بالأدلة".
--------------------------------------------
আর তা হলো আল্লাহকে চেনা, তাঁর নবীকে চেনা এবং দলীল-প্রমাণসহ ইসলাম ধর্মকে চেনা।
ــ
ইলম বা জ্ঞান অর্জন যে ওয়াজিব, তার একটি দলীল হলো আনাস (রা.) বর্ণিত হাদীস, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।" 1
শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) সেই ইলম বা জ্ঞানকে—যা অর্জন করা আবশ্যক—তিনটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন: "আর তা হলো আল্লাহকে চেনা, তাঁর নবীকে চেনা এবং দলীল-প্রমাণসহ ইসলাম ধর্মকে চেনা।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
وخص الشيخ رحمه الله هذه الأمور؛ لأنها هي أصول الإسلام التي لا يقوم إلا عليها، وهي التي يسأل عنها العبد في قبره. فالإنسان إذا عرف ربه وعرف نبيه وعرف دين الإسلام بالأدلة كمل له دينه، فهذا هو العلم الشرعي الذي لابد منه.
وقوله: "معرفة الله"، أي: أن معرفة الله تعالى هي أساس الدين، ولا يكون الإنسان على حقيقة من دينه إلا بعد العلم بالله تعالى، وذلك بالنظر في الآيات الشرعية من الكتاب والسنة، والنظر في الآيات الكونية التي هي المخلوقات، وهذه المعرفة تستلزم قبول ما شرعه الله تعالى والانقياد له.
وقول: "ومعرفة نبيه"، أي: أن معرفة النبي صلى الله عليه وسلم فرض على كل مكلف، وأحد مهمات الدين؛ لأنه صلى الله عليه وسلم هو المبلغ عن الله تعالى. وهذه المعرفة تستلزم قبول ما جاء به من عند الله تعالى من الهدى ودين الحق1. سيأتي -إن شاء الله تعالى- تفصيل ذلك في محله.
وقوله: "ومعرفة الإسلام بالأدلة"، الإسلام له معنيان: معنى عام ومعنى خاص؛ لأنه قد وردت أدلة تدل على أن الإسلام خاص بهذه الأمة ووردت أدلة على أن الإسلام في الشرائع السابقة، فتحريراً للمسألة نذكر كلام شيخ الإسلام رحمه الله في هذا الموضوع2، وهو أن
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
এবং শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) এই বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট করেছেন; কারণ এগুলোই ইসলামের মূল ভিত্তি যা ছাড়া ইসলাম টিকে থাকতে পারে না, আর এগুলো সম্পর্কেই বান্দাকে কবরে জিজ্ঞাসা করা হবে। সুতরাং মানুষ যখন দলীল-প্রমাণসহ তার রবকে চিনবে, তার নবীকে চিনবে এবং ইসলাম ধর্মকে জানবে, তখন তার দ্বীন পূর্ণতা পাবে। আর এটিই হলো সেই শরয়ী জ্ঞান যা অর্জন করা অপরিহার্য।
তাঁর বক্তব্য: "আল্লাহকে চেনা", অর্থাৎ: আল্লাহ তা'আলার পরিচয়ই হলো দ্বীনের মূল ভিত্তি। আর আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ব্যতীত কোনো মানুষ তার দ্বীনের হাকীকত বা প্রকৃত স্তরে পৌঁছাতে পারে না। আর তা অর্জিত হয় কিতাব ও সুন্নাহর শরয়ী নিদর্শনসমূহ এবং মহাজাগতিক নিদর্শনাবলী তথা সৃষ্টিজগত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে। আর এই জ্ঞান আল্লাহ তা'আলা যা বিধান দিয়েছেন তা গ্রহণ করা এবং তাঁর প্রতি অনুগত হওয়াকে অপরিহার্য করে।
তাঁর কথা: "এবং তাঁর নবীকে চেনা", অর্থাৎ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে চেনা প্রত্যেক মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি)-এর জন্য ফরয এবং দ্বীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; কারণ তিনি আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে প্রচারকারী। আর এই চেনা বা জ্ঞান আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তিনি যে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করাকে অপরিহার্য করে।১ ইনশাআল্লাহ তা'আলা—যথাস্থানে এর বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
তাঁর কথা: "দলীলসহ ইসলামকে চেনা", ইসলামের দুটি অর্থ রয়েছে: একটি সাধারণ অর্থ এবং একটি বিশেষ অর্থ; কারণ এমন কিছু দলীল বর্ণিত হয়েছে যা নির্দেশ করে যে ইসলাম কেবল এই উম্মতের জন্য খাস, আবার এমন কিছু দলীলও বর্ণিত হয়েছে যা পূর্ববর্তী শরীয়তগুলোতেও ইসলামের অস্তিত্ব নির্দেশ করে। সুতরাং বিষয়টি সুস্পষ্ট করার জন্য আমরা এই প্রসঙ্গে শায়খুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য উল্লেখ করছি২, তা হলো এই যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
الإسلام بالمعنى العام يراد به: عبادة الله وحده لا شريك له، وهذا دين الأنبياء عموماً، قال الله عز وجل عن التوراة وأنبياء بني إسرائيل: {يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا} 1، فوصف الله سبحانه وتعالى أنبياء بني إسرائيل بالإسلام مما يدل على أن الإسلام ليس خاصاً بهذه الأمة بل هو عام، وذكر الله تعالى عن موسى عليه السلام أنه قال لقومه: {إِنْ كُنْتُمْ آمَنْتُمْ بِاللَّهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُسْلِمِينَ} 2، وعن أبناء يعقوب عليه السلام: {قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَهاً وَاحِداً وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} 3، فهذا هو الإسلام بالمعنى العام.
أما الإسلام بالمعنى الخاص فيراد به: الدين الذي بعث الله نبيه محمداً به وجعله خاتمة الأديان لا يقبل من أحد دين سواه، قال تعالى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلامِ دِيناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} 4، وقال تَعَالَى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلامَ دِيناً} 5، فهذه الآية تفيد أن الله تعالى ارتضى لهذه الأمة الإسلام ديناً، فيفسر بالمعنى الخاص.
وقوله: "بالأدلة" جمع دليل. والدليل فعيل بمعنى: فاعل. من
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
সাধারণ অর্থে ইসলাম বলতে বোঝায়: অংশীদারহীন এক আল্লাহর ইবাদত করা, আর এটি সাধারণভাবে সকল নবীর দীন ছিল। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত তাওরাত এবং বনী ইসরাঈলের নবীদের সম্পর্কে বলেছেন: {নবীগণ, যারা আত্মসমর্পণ করেছিলেন (মুসলিম হয়েছিলেন), তারা এর মাধ্যমে ফয়সালা করতেন} ১। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বনী ইসরাঈলের নবীদের ইসলামের গুণে গুণান্বিত করেছেন, যা প্রমাণ করে যে ইসলাম কেবল এই উম্মতের জন্য বিশেষ নয়, বরং এটি সাধারণ। আল্লাহ তাআলা মূসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন: {যদি তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনে থাকো, তবে তাঁর ওপরই ভরসা করো, যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকো} ২। এবং ইয়াকুব আলাইহিস সালামের সন্তানদের সম্পর্কে (আল্লাহ বলেছেন): {তারা বলেছিল: আমরা আপনার ইলাহ এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসমাইল ও ইসহাকের ইলাহ—সেই এক ইলাহ-রই ইবাদত করব, আর আমরা তাঁরই অনুগত (মুসলিম)} ৩। এটিই হলো সাধারণ অর্থে ইসলাম।
আর বিশেষ অর্থে ইসলাম বলতে বোঝায়: সেই দীন যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদকে প্রেরণ করেছেন এবং একে সকল দীনের সমাপ্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যা ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে কোনো দীন গ্রহণ করা হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} ৪। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন হিসেবে মনোনীত করলাম} ৫। এই আয়াতটি একথাই প্রকাশ করে যে, আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে পছন্দ করেছেন, তাই এটি বিশেষ অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়।
আর তাঁর উক্তি: "দলিলসমূহের মাধ্যমে"—এটি 'দলিল' (প্রমাণ) শব্দের বহুবচন। আর 'দালিল' শব্দটি 'ফাউইল' ওজনে 'ফায়িল' (কর্তা) অর্থে ব্যবহৃত। এটি শব্দমূল—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
العمل بالعلم، دليله…الثانية العمل به.
ــ
الدلالة، وهي الإرشاد. فالدليل هو المرشد إلى المطلوب. وهو إما سمعي: وهو ما ثبت بالوحي من كتاب أو سنة. وإما عقلي: وهو ما ثبت بالنظر والتأمل. وسيأتي شيء من ذلك في أثناء الرسالة.
وفي كلام الشيخ رحمه الله إشارة إلى أن التقليد لا ينفع في باب العقائد، وأنه لابد من معرفة دين الإسلام بالأدلة من كتاب أو سنة أو إجماع.
قوله المصنف رحمه الله: "الثانية: العمل به"، أي: العمل بالعلم؛ لأن العلم لا يطلب إلا للعمل، وذلك بأن يتحول العلم إلى سلوك واقعي يظهر على فكر الإنسان وتصرفه، وقد وردت النصوص الشرعية في وجوب إتباع العلم بالعمل. وظهور آثار العلم على طالبه. وورد الوعيد الشديد لمن لا يعمل بعلمه. ولم يبدأ بإصلاح نفسه قبل إصلاح غيره، وهي أدلة معروفة معلومة1.
وما أحسن قول الفضيل بن عياض رحمه الله: "لا يزال العلم جاهلاً حتى يعمل بعلمه فإذا عمل به صار عالماً". وهذا كلام دقيق؛ لأنه إذا كان عنده علم ولكنه لا يعمل بهذا العلم فهو جاهل؛ لأنه ليس بينه وبين الجاهل فرق إذا كان عنده علم ولكنه لا يعمل به، فلا يكون العالم عالماً حقاً إلا إذا عمل بما علم، ثم إن العمل إضافة إلى أنه حجة للإنسان فهو أيضاً من أسباب ثبات العلم وبقائه، ولهذا تجد الذي يعمل بعلمه يستحضر علمه، أما الذي لا يعمل بعلمه، فسرعان ما يضيع علمه، قال بعض السلف: "كنا
--------------------------------------------
ইলম অনুযায়ী আমল করা, এর দলীল…দ্বিতীয়টি হলো এর ওপর আমল করা।
ــ
দালালাত অর্থ হলো দিকনির্দেশনা। সুতরাং দলীল হলো তা-ই, যা উদ্দিষ্ট বস্তুর দিকে পথপ্রদর্শন করে। আর তা হয় শ্রবণলব্ধ: যা কুরআন বা সুন্নাহর ওহীর মাধ্যমে সাব্যস্ত। অথবা হয় বুদ্ধিভিত্তিক: যা চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে সাব্যস্ত। অত্র পুস্তিকার মাঝে এ বিষয়ে কিছু আলোচনা সামনে আসবে।
শায়খ রহিমাহুল্লাহর বক্তব্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, আকিদার ক্ষেত্রে তাকলীদ বা অন্ধ অনুসরণ কোনো উপকারে আসে না; বরং কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমা হতে দলীলের ভিত্তিতে ইসলাম ধর্মকে জানা আবশ্যক।
লেখক রহিমাহুল্লাহর উক্তি: "দ্বিতীয়টি হলো: এর ওপর আমল করা", অর্থাৎ: ইলম অনুযায়ী আমল করা; কেননা আমল করার উদ্দেশ্যেই ইলম অন্বেষণ করা হয়। আর তা হলো ইলমকে এমন এক বাস্তব আচরণে রূপান্তর করা, যা মানুষের চিন্তা ও কর্মে ফুটে ওঠে। শরয়ি দলীলসমূহে ইলম অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা এবং ইলম অন্বেষণকারীর ওপর ইলমের প্রভাব প্রকাশ পাওয়ার বিষয়ে বর্ণনা এসেছে। আর যে ব্যক্তি তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না এবং অন্যকে সংশোধনের পূর্বে নিজেকে সংশোধন করার উদ্যোগ নেয় না, তার জন্য কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। এগুলো সুপরিচিত ও সুবিদিত দলীল।১
ফুদাইল ইবনে ইয়াজ রহিমাহুল্লাহর উক্তিটি কতই না চমৎকার: "একজন আলেম ততক্ষণ পর্যন্ত মূর্খই থেকে যায়, যতক্ষণ না সে তার ইলম অনুযায়ী আমল করে। আর যখন সে আমল করে, তখন সে প্রকৃত আলেম হয়।" এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম কথা; কারণ কারো নিকট ইলম থাকা সত্ত্বেও যদি সে সেই ইলম অনুযায়ী আমল না করে, তবে সে মূলত মূর্খই; কারণ ইলম থাকা সত্ত্বেও আমল না করলে তার ও একজন মূর্খের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকে না। সুতরাং একজন আলেম ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত আলেম হতে পারে না, যতক্ষণ না সে যা জানে সে অনুযায়ী আমল করে। তাছাড়া আমল মানুষের জন্য প্রমাণ হওয়ার পাশাপাশি ইলম সুদৃঢ় ও স্থায়ী হওয়ার অন্যতম কারণ। একারণেই আপনি দেখতে পাবেন যে ব্যক্তি তার ইলম অনুযায়ী আমল করে, সে তার ইলমকে সর্বদা স্মরণে রাখতে পারে। আর যে তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না, অচিরেই তার ইলম বিলুপ্ত হয়ে যায়। সালাফদের কেউ কেউ বলেছেন: "আমরা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
نستعين على حفظ الحديث بالعمل به"1. أضف إلى هذا ما قاله بعض أهل العلم: "من عمل بما علم أورثه الله علم مالم يعلم، ومن لم يعمل بما علم أوشك الله أن يسلبه ما علم"، وهذا يذكره بعضهم على أنه حديث2، وهذا ليس بصحيح3، إنما هي عبارة مأثورة ذكرها شيخ الإسلام رحمه الله، ومعنى أورثه الله علم ما لم يعلم، أي: زاده إيماناً ونور بصيرته وفتح عليه من العلوم أنواعاً وفروعاً؛ ولهذا تجد العالم العامل بازدياد، ويبارك الله في وقته وعلمه، ودليل هذا في كتاب الله، قال تعالى: {وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدىً وَآتَاهُمْ تَقْوَاهُمْ} 4، قال الشوكاني: "زادهم إيماناً وعلماً وبصيرة في الدين، أي: والذي اهتدوا إلى طريق الخير فآمنوا بالله وعملوا بما أمرهم به زادهم إيماناً وعلماً وبصيرة في الدين"5.
فعلى المسلم أن يدرك أهمية العمل بالعلم، وأن الإنسان الذي لا يعمل بعلمه سيكون علمه حجة عليه. كما ورد في حديث أبي برزة رضي الله عنه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تزول قدما عبد يوم القيامة حتى يسأل عن أربع، ومنها: وعن علمه ماذا عمل فيه" 6، وهذا لا يخص العلماء كما قد
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
“আমরা হাদীস মুখস্থ করার জন্য সে অনুযায়ী আমল করার সাহায্য গ্রহণ করি।”১ এর সাথে যোগ করুন যা কিছু আহলে ইলম (বিদ্বানগণ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার জানা অনুযায়ী আমল করে, আল্লাহ তাকে এমন বিষয়ের জ্ঞান দান করেন যা সে জানত না। আর যে ব্যক্তি তার জানা অনুযায়ী আমল করে না, অচিরেই আল্লাহ তার থেকে তার অর্জিত জ্ঞান ছিনিয়ে নেবেন।”২ কেউ কেউ এটাকে হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেন, কিন্তু এটি সঠিক নয়।৩ বরং এটি একটি বর্ণিত উক্তি যা শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন। “আল্লাহ তাকে যা সে জানে না তার জ্ঞান দান করেন” এর অর্থ হলো: তিনি তার ঈমান বৃদ্ধি করেন, তার অন্তর্দৃষ্টির নূর বাড়িয়ে দেন এবং তার জন্য বিভিন্ন প্রকার ও শাখার জ্ঞান উন্মুক্ত করে দেন। এই কারণেই আপনি আমলকারী আলিমকে উত্তরোত্তর বৃদ্ধিতে পাবেন এবং আল্লাহ তার সময় ও জ্ঞানে বরকত দান করেন। আল্লাহর কিতাবে এর প্রমাণ রয়েছে, মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা সৎপথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাদের হেদায়েত বৃদ্ধি করে দেন এবং তাদের তাকওয়া দান করেন}৪। শাওকানী বলেন: “তিনি তাদের ঈমান, জ্ঞান ও দ্বীনের অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধি করে দেন। অর্থাৎ: যারা কল্যাণের পথে পরিচালিত হয়েছে, অতঃপর আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন সে অনুযায়ী আমল করেছে, আল্লাহ তাদের ঈমান, জ্ঞান ও দ্বীনের অন্তর্দৃষ্টি বাড়িয়ে দেন”৫।
অতএব, একজন মুসলিমের উচিত ইলম অনুযায়ী আমলের গুরুত্ব অনুধাবন করা। আর যে মানুষ তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না, তার ইলম তার বিরুদ্ধেই দলিল (হুজ্জাত) হিসেবে দাঁড়াবে। যেমনটি আবু বারযাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার দুই পা নড়বে না যতক্ষণ না তাকে চারটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়; তার মধ্যে একটি হলো: তার ইলম সম্পর্কে, সে তাতে কী আমল করেছে”৬। আর এটি কেবল আলিমদের জন্যই নির্দিষ্ট নয় যেমনটি হতে পারে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
"الثالثة" الدعوة إليه.
ــ
يفهم بعض الناس بل كل من علم مسألة من المسائل قامت عليه الحجة فيها، فإذا سمع إنسان فائدة في محاضرة أو خطبة جمعة تضمنت تحذيراً من معصية هو واقع فيها، فعلم أن هذه المعصية التي وقع فيها أنها أمر محرم، فهذا علم. فتقوم عليه الحجة بما سمع. وقد ثبت في حديث أبي موسى الأشعري رضي الله عنه أنه صلى الله عليه وسلم قال: "والقرآن حجة لك أو عليك" 1.
قول المصنف رحمه الله: "الثالثة: الدعوة إليه"، أي:
الدعوة إلى توحيد الله وطاعته، وهذه وظيفة الرسل وأتباعهم، قال تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} 2؛ لأن الإنسان إذا كملت قوته العلمية بالعلم وقوته العملية بالعمل؛ فإن عليه أن يسعى إلى بذل الخير للآخرين تأسياً برسل الله تعالى عليهم الصلاة والسلام.
والدعوة إلى الله تعالى أمرها عظيم، وثوابها جزيل، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: "فوالله لأن يهدي الله بك رجلاً واحداً خير لك من حمر النعم" 3.
والدعوة لا تؤتى ثمارها وتكون وسيلة إصلاح وبناء، إلا إذا كان الداعي متصفاً بما يكون سبباً لقبول دعوته وظهور أثرها. ومن ذلك:
--------------------------------------------
"তৃতীয়টি" হলো সেদিকে দাওয়াত প্রদান।
—
কিছু মানুষ বরং প্রত্যেকেই যারা কোনো একটি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছে, তার ওপর সে বিষয়ে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি কোনো আলোচনা বা জুমার খুতবায় এমন কোনো উপকারী কথা শোনে যাতে এমন কোনো পাপাচার থেকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে সে লিপ্ত রয়েছে, আর সে জানতে পারল যে পাপাচারটিতে সে লিপ্ত আছে তা একটি নিষিদ্ধ বিষয়, তবে এটিই হলো জ্ঞান। ফলে সে যা শুনল তার মাধ্যমে তার ওপর দলিল প্রতিষ্ঠিত হলো। আবু মুসা আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আর কুরআন তোমার সপক্ষে অথবা তোমার বিপক্ষে দলিল।" ১
গ্রন্থকারের (রহিমাহুল্লাহ) কথা: "তৃতীয়টি: সেদিকে দাওয়াত প্রদান", অর্থাৎ:
আল্লাহর তাওহিদ ও তাঁর আনুগত্যের দিকে দাওয়াত দেওয়া, আর এটিই হলো রাসূলগণ এবং তাঁদের অনুসারীদের দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান ও প্রমাণের ভিত্তিতে দাওয়াত দেই—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা।} ২; কেননা মানুষ যখন ইলমের মাধ্যমে তার তাত্ত্বিক শক্তি এবং আমলের মাধ্যমে তার ব্যবহারিক শক্তিকে পূর্ণতা দান করে, তখন আল্লাহর রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) পদাঙ্ক অনুসরণ করে অন্যদের মাঝে কল্যাণ বিলিয়ে দিতে তাকে সচেষ্ট হতে হবে।
আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত মহান এবং এর প্রতিদানও অত্যন্ত বিশাল, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর শপথ! তোমার মাধ্যমে যদি আল্লাহ একজন ব্যক্তিকেও হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য মূল্যবান লাল উটের মালিক হওয়ার চাইতেও শ্রেষ্ঠ।" ৩
দাওয়াত ততক্ষণ পর্যন্ত সুফল বয়ে আনে না এবং সংশোধন ও গঠনের মাধ্যম হয় না, যতক্ষণ না দাওয়াত দানকারী এমন সব গুণে গুণান্বিত হন যা তার দাওয়াত কবুল হওয়ার এবং তার প্রভাব দৃশ্যমান হওয়ার কারণ হয়। তার মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
1- التقوى: ويقصد بها كل معانيها من امتثال المأمور واجتناب المحظور، والتحلي بصفات أهل الإيمان.
2- الإخلاص: بأن يقصد بدعوته وجه الله تعالى ورضاه، والإحسان إلى خلقه ويحذر من أن يقصد إظهار التميز على غيره. وإذلال المدعو بإشعاره بالجهل والتقصير.
3- العلم: فلا بد أن يكون الداعي عالماً بما يدعو به، ذا فهم لما جاء في كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وسير السلف الصالح.
4- الحلم وضبط النفس عن الغضب؛ لأن ميدان الداعية صدور الرجال ونفوس البشر، وهي متباينة ومختلفة كاختلاف صورهم وأشكالهم.
5- أن يبدأ بالأهم فالأهم على حسب بيئة التي يدعو فيها. فمسائل العقيدة وأصول الدين تأتي في المقام الأول. وقد دل على ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم لمعاذ رضي الله عنه: "فليكن أول ما تدعوهم إليه شَهَادَةُ أَن لا اله إِلا اللهُ وَأَنَّ محمداً رسول الله
… الحديث" 1.
6- أن يسلك في دعوته المنهج الذي نص الله عليه في كتابه الكريم، يقول سبحانه: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} 2، والحكمة معرفة الحق والعمل به والإصابة في القول والعمل، وهذا لا يكون إلا بفهم القرآن، والفقه في شرائع
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--
১- তাকওয়া: এর দ্বারা এর সকল অর্থ উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যেমন—আদেশসমূহ পালন করা, নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করা এবং ঈমানদারগণের গুণে গুণান্বিত হওয়া।
২- ইখলাস (নিষ্ঠা): দাওয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর চেহারা (দীদার) লাভের উদ্দেশ্য করা এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি ইহসান করা; আর অন্যের ওপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার উদ্দেশ্য থেকে সতর্ক থাকা এবং দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে তার অজ্ঞতা ও ত্রুটি অনুভব করানোর মাধ্যমে লাঞ্ছিত করা থেকে বিরত থাকা।
৩- ইলম (জ্ঞান): দাওয়াত প্রদানকারীকে অবশ্যই সে বিষয়ে জ্ঞানী হতে হবে যার দিকে তিনি দাওয়াত দিচ্ছেন। মহান আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনদের জীবনপদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক অনুধাবন থাকতে হবে।
৪- সহনশীলতা ও ক্রোধের সময় আত্মসংযম; কেননা একজন দাঈর কর্মক্ষেত্র হলো মানুষের অন্তর ও প্রবৃত্তি, আর মানুষের প্রবৃত্তি তাদের অবয়ব ও আকৃতির মতোই বৈচিত্র্যময় ও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
৫- দাওয়াতের পরিবেশ অনুযায়ী অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে ক্রমান্বয়ে শুরু করা। এক্ষেত্রে আকিদাগত বিষয়াবলি এবং দ্বীনের মূলনীতিসমূহ প্রথম পর্যায়ে থাকবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা একথাই প্রমাণ করে: "তুমি তাদেরকে সর্বপ্রথমে যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দেবে তা হলো—এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল... (হাদিস)" ১।
৬- দাওয়াতের ক্ষেত্রে সেই পদ্ধতি অবলম্বন করা যা মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র কিতাবে বিধিবদ্ধ করেছেন। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {তুমি তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সেই পন্থায় যা সর্বোত্তম} ২। আর হিকমত হলো সত্যকে জানা, তদনুযায়ী আমল করা এবং কথা ও কাজে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া; আর এটি কেবল কুরআন অনুধাবন এবং শরয়ি বিধিবিধানের গভীর পাণ্ডিত্য অর্জনের মাধ্যমেই সম্ভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২০)
"الرابعة" الصبر على الأذى فيه.
ــ
الإسلام وحقائق الإيمان {وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} الأمر والنهي المقرون بالترغيب والترهيب، وإلانة القول وتنشيط الموعوظ.
{وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} فيسلك كل طريق يكون أدعى للاستجابة: من الالتزام بالموضوع والبعد عن الانفعال والترفع عن المسائل الصغيرة في مقابل القضايا الكبرى حفظاً للوقت وعزة للنفس وكمالاً للمروءة1.
قوله: "الرابعة: الصبر على الأذى فيه"، أي: الرابعة من المسائل الأربع:
الصبر على الأذى في الدعوة إلى الله تعالى، بأن يكون الداعية صابراً على ما يناله من أذية الناس؛ لأن الدعاة من طبيعة البشر إلا من هدى الله كما قال تعالى: {وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوا عَلَى مَا كُذِّبُوا وَأُوذُوا حَتَّى أَتَاهُمْ نَصْرُنَا} 2.
فيجب على الداعية أن يكون صابراً على دعوته مستمراً فيها، صابراً على ما يعترض دعوته أو ما يعترضه هو من الأذى؛ لأن الداعية يطلب من الناس أن يتحرروا من شهواتهم ورغباتهم، وعادات أقوامهم، ويقفوا عند حدود الله تعالى في أوامره ونواهيه وأكثر الناس لا يؤمن بهذا المنهج.
فلهذا يقاومون الدعوة بكل قوة، ويحاربون دعاتها بكل سلاح، قال
--------------------------------------------
"চতুর্থ বিষয়টি" হলো এতে (দীনের পথে) কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করা।
—
ইসলাম ও ঈমানের হাকীকতসমূহ {এবং উত্তম উপদেশ} হলো আদেশ ও নিষেধ যা উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শনের সাথে সম্পৃক্ত, এবং কথা নরম করা ও যাকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে তাকে উদ্দীপ্ত করা।
{আর তাদের সাথে বিতর্ক করো সেই পন্থায় যা সর্বোত্তম} সুতরাং এমন প্রতিটি পথ অবলম্বন করা যা দাওয়াত কবুলের ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক হয়: যেমন বিষয়ের ওপর অবিচল থাকা, আবেগ পরিহার করা এবং বড় বিষয়ের মোকাবিলায় ছোটখাটো বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা; সময়ের সুরক্ষা, আত্মসম্মান রক্ষা এবং মনুষ্যত্বের পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে।১
তাঁর কথা: "চতুর্থত: এতে কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করা", অর্থাৎ: চারটি বিষয়ের মধ্যে চতুর্থটি হলো:
মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করা । তা এভাবে যে, দাঈ বা আহ্বানকারী মানুষের পক্ষ থেকে যে কষ্ট বা নির্যাতনের শিকার হবে, তাতে যেন সে ধৈর্যশীল হয়; কারণ আল্লাহ যাদের হিদায়াত দিয়েছেন তারা ব্যতীত মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিই এমন (যে তারা দাওয়াতের বিরোধিতা করবে), যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আপনার পূর্বেও অনেক রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে, কিন্তু তাদের ওপর যে মিথ্যা আরোপ করা হয়েছে এবং যে কষ্ট তাদের দেওয়া হয়েছে তাতে তারা ধৈর্য ধারণ করেছেন, যতক্ষণ না তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছেছে।} ২
সুতরাং দাঈর জন্য আবশ্যক হলো তার দাওয়াতের কাজে ধৈর্যশীল হওয়া এবং তাতে অবিচল থাকা; আর তার দাওয়াতের পথে যা কিছু বাধা হয়ে দাঁড়াবে কিংবা তার নিজের ওপর যে নির্যাতন আসবে তাতে সবর করা। কারণ দাঈ মানুষের কাছে দাবি করে যেন তারা তাদের প্রবৃত্তি, কামনা-বাসনা এবং তাদের কওমের বা গোত্রের কুসংস্কার থেকে মুক্ত হয় এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ পালনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান করে; অথচ অধিকাংশ মানুষ এই পদ্ধতির ওপর বিশ্বাস রাখে না।
এ কারণেই তারা পূর্ণ শক্তি দিয়ে দাওয়াতের গতিরোধ করে এবং সকল প্রকার অস্ত্র দিয়ে এর দাঈদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তিনি বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২১)
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: بسم الله الرحمن الرحيم {وَالْعَصْرِ إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ} .
ــ
تعالى عن لقمان الحكيم في وصيته لابنه: {يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ} 1.
وعلى الداعية أن يتأسى بالرسل الكرام الذين قص الله علينا أخبارهم، وما حصل لهم من مشاق الدعوة ومتاعبها من إعراض الناس عن دعوتهم وأذيتهم بالقول والفعل مع طول الطريق واستبطاء النصر، قال تعالى: {فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُوا الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ} 2، وقد جعل الله تعالى العاقبة للمتقين، وكتب النصر لدعاة الحق، قال تعالى: {أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ} 3.
قوله: "وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: بسم الله الرحمن الرحيم {وَالْعَصْرِ إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ} 4"
استدل المصنف رحمه الله على هذه المسائل الأربع بسورة عظيمة لا تزيد على ثلاث آيات وهي سورة العصر، فالمسألة الأولى والثانية في قوله سبحانه: {إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} ، فإن الإيمان لا يكون صحيحاً، والعمل لا يكون صالحاً إلا بعلم بأن يعبد الله
--------------------------------------------
এবং এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। {সময়ের শপথ! নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।} ।
—
মহান আল্লাহ লুকমান হাকিমের তাঁর পুত্রকে দেওয়া অসিয়ত সম্পর্কে বলেন: {হে আমার প্রিয় বৎস! সালাত কায়েম কর, সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে নিষেধ কর এবং তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয় এটি দৃঢ় সংকল্পের কাজ।} ১।
আর দাঈর কর্তব্য হলো সেই সম্মানিত রাসুলগণের অনুসরণ করা যাঁদের সংবাদ আল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন এবং দাওয়াতের পথে তাঁরা যেসব কষ্ট ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন—যেমন তাঁদের দাওয়াত থেকে মানুষের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং দীর্ঘ পথচলা ও বিজয় অর্জনে বিলম্ব হওয়ার সাথে সাথে কথা ও কাজের মাধ্যমে তাঁদের কষ্ট দেওয়া। মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যেমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ রাসুলগণ} ২। আর মহান আল্লাহ মুত্তাকীদের জন্যই শুভ পরিণাম রেখেছেন এবং সত্যের দাঈদের জন্য বিজয় অবধারিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা কি মনে করেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ এখনো তোমাদের কাছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো অবস্থা আসেনি? তাদের ওপর এসেছিল কষ্ট ও দুর্দশা এবং তারা প্রকম্পিত হয়েছিল, এমনকি রাসুল ও তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিল তারা বলে উঠেছিল, ‘কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য?’ জেনে রেখো, নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।} ৩।
তাঁর উক্তি: "এবং এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। {সময়ের শপথ! নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।} ৪"
লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) এই চারটি বিষয়ের ওপর একটি মহান সুরা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা তিন আয়াতের বেশি নয়, আর তা হলো সুরা আল-আসর। প্রথম ও দ্বিতীয় বিষয়টি মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে}। কারণ জ্ঞান ছাড়া ঈমান সঠিক হতে পারে না এবং আমলও নেক হতে পারে না; আর তা হলো এই জ্ঞান থাকা যার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা হবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
على بصيرة. والمسألة الثالثة في قوله: {وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ} . والرابعة في قوله: {وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ} .
وقوله تعالى: {وَالْعَصْرِ} هذا قسم، والعصر المراد به: الزمن الذي تقع فيه الأحداث من خير أو شر. أقسم الله به؛ لأن أفعال الناس وتصرفاتهم كلها تقع في هذا الزمن فهو ظرف يودعه العباد أعمالهم إن خيراً فخير وإن شراً فشر فهو جدير أن يقسم به. وقيل: {وَالْعَصْرِ} ما بعد العشي وهو آخر النهار، ومنه صلاة العصر، والأول هو الأظهر في معنى الآية، والله أعلم1.
وجواب القسم قوله تعالى: {إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ} ، فالله تعالى يقسم بالعصر على أن الإنسان في خسر. والألف واللام للاستغراق والشمول بدليل الاستثناء بعده، أي: كل إنسان في خسر، كقوله تعالى: {وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفاً} 2.
والخسر: هو النقصان والهلكة؛ لأن حياة الإنسان هي رأس ماله، فإذا مات ولم يؤمن ولم يعمل صالحاً خسر كل الخسران.
ولم يبين هنا نوع الخسران في أي شيء بل أطلق ليعم، فقد يكون مطلقاً كحال من خسر الدنيا والآخرة وفاته النعيم، واستحق الجحيم وقد يكون خاسراً من بعض الوجوه دون بعض.
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
সুনিশ্চিত জ্ঞানের ওপর। আর তৃতীয় বিষয়টি হলো তাঁর বাণী: {এবং তারা পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয়}। আর চতুর্থটি হলো তাঁর বাণী: {এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়}।
মহান আল্লাহর বাণী: {সময়ের কসম} এটি একটি শপথ। আর 'আসর' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই কাল বা সময়, যাতে ভালো বা মন্দের যাবতীয় ঘটনাপ্রবাহ সংঘটিত হয়। আল্লাহ এর শপথ করেছেন; কারণ মানুষের যাবতীয় ক্রিয়াকর্ম ও আচার-আচরণ এই সময়ের মধ্যেই সংঘটিত হয়। ফলে এটি এমন একটি আধার যাতে বান্দারা তাদের আমলসমূহ গচ্ছিত রাখে; যদি তা ভালো হয় তবে ভালো, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ। সুতরাং এটি শপথ করার যোগ্য। আরও বলা হয়েছে: {আসর} হলো অপরাহ্ণ বা দিনের শেষ ভাগ, যা থেকে আসরের সালাতের নামকরণ হয়েছে। তবে আয়াতের অর্থের ক্ষেত্রে প্রথমটিই অধিক স্পষ্ট, আর আল্লাহই ভালো জানেন ১।
শপথের উত্তর হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে}। সুতরাং আল্লাহ তাআলা সময়ের কসম খেয়ে বলছেন যে, মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। এখানে 'মানুষ' শব্দের শুরুতে আলিফ ও লাম (ال) অক্ষরদ্বয় ব্যাপকতা ও অন্তর্ভুক্তির অর্থ প্রদান করে, যার প্রমাণ হচ্ছে এর পরবর্তী ব্যতিরেক (ইস্তিসনা)। অর্থাৎ: প্রত্যেক মানুষই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর মানুষকে দুর্বল হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে} ২।
ক্ষতি হলো: হ্রাস পাওয়া ও ধ্বংস হওয়া; কারণ মানুষের জীবনই হলো তার মূলধন। সুতরাং যদি সে ঈমান না এনে এবং নেক আমল না করে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হলো।
এখানে কোন বিষয়ের ক্ষতি তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি বরং ব্যাপক অর্থ প্রদানের জন্য তা সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এটি নিরঙ্কুশ ক্ষতি হতে পারে যেমন সেই ব্যক্তির অবস্থা যে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারিয়েছে, জান্নাতের নেয়ামত হাতছাড়া করেছে এবং জাহান্নামের যোগ্য হয়েছে। আবার কেউ কোনো কোনো দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সব দিক থেকে নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
والذي يستفاد من مفهوم الآية أن الخسران قد يكون بالكفر- والعياذ بالله- قال تعالى: {لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} 1، وقال تعالى: {قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ اللَّهِ} 2، وقد يكون بترك العمل قال تعالى: {وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ} 3، وقال تعالى: {وَمَنْ يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيّاً مِنْ دُونِ اللَّهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَاناً مُبِيناً4} ، وقال تعالى: {أَلا إِنَّ حِزْبَ الشَّيْطَانِ هُمُ الْخَاسِرُونَ} 5، وقد يكون الخسران بترك التواصي بالحق كلية أو التواصي بالباطل. وليس بعد الحق إلا الضلال. وقد يكون بترك الصبر كلية أو بالوقوع في الهلع والجزع، قال تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ انْقَلَبَ عَلَى وَجْهِهِ خَسِرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ} 6.
والمقصود أن الإنسان في خسر مهما كثر ماله وولده، وعظم قدره وشرفه إلا من اتصف بالصفات الأربع. فعلى الإنسان أن يتأمل حاله ويعلم يقيناً أنه لا نجاة للعبد من الخسران إلا بهذا الطريق الذي رسمه الله تعالى.
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
আয়াতের মর্মার্থ থেকে যা অর্জিত হয় তা হলো—ক্ষতি কখনও কুফর বা অবিশ্বাসের কারণে হতে পারে—আল্লাহর কাছে তা থেকে আশ্রয় চাই—মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি যদি শিরক করো তবে তোমার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হবে এবং তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} ১, মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে} ২, আবার কখনও আমল বা কাজ বর্জনের কারণেও হতে পারে; মহান আল্লাহ বলেন: {আর যাদের (নেকির) পাল্লা হালকা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে; তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে} ৩, মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে, সে অবশ্যই স্পষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে৪} , মহান আল্লাহ আরও বলেন: {জেনে রেখো, শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত} ৫, আবার সত্যের উপদেশ দেওয়া সম্পূর্ণরূপে বর্জন করার কারণে অথবা মিথ্যার উপদেশ দেওয়ার কারণেও ক্ষতি হতে পারে। আর সত্যের পর পথভ্রষ্টতা ছাড়া আর কী-ই বা থাকে? আবার ধৈর্য পুরোপুরি বর্জন করার কারণে কিংবা আতঙ্ক ও অস্থিরতায় নিপতিত হওয়ার কারণেও ক্ষতি হতে পারে, মহান আল্লাহ বলেন: {মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা-দ্বন্দ্বের সাথে আল্লাহর ইবাদত করে। যদি সে কল্যাণের সম্মুখীন হয়, তবে তাতে প্রশান্ত হয়; আর যদি কোনো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়, তবে সে তার পূর্বের অবস্থায় (কুফরিতে) ফিরে যায়। সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই ক্ষতিগ্রস্ত হলো। এটিই তো স্পষ্ট ক্ষতি} ৬।
উদ্দেশ্য হলো, মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে—তা তার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যত বেশিই হোক না কেন এবং তার মর্যাদা ও সম্মান যত বড়ই হোক না কেন—তবে তারা ব্যতীত যারা চারটি গুণে গুণান্বিত হয়েছে। সুতরাং মানুষের উচিত তার নিজের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করা এবং দৃঢ়ভাবে এটা জানা যে, আল্লাহ তাআলা যে পথ অঙ্কন করে দিয়েছেন তা ছাড়া এই ক্ষতি থেকে বান্দার মুক্তি পাওয়ার আর কোনো উপায় নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قال الشافعي رحمه الله: لَوْ مَا أَنْزَلَ اللهُ حُجَّةً عَلَى خَلْقِهِ إلا هذه السورة لكفتهم.
ــ
وقوله تعالى: {إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا} هذا هو الوصف الأول لمن يسلم من الخسار وهو وصف الإيمان، والمعنى: إلا الذين آمنوا بما أمر الله تعالى من الإيمان به، وهو الإيمان بالملائكة والكتاب والنبيين، وكل ما يقرب إلى الله تعالى من اعتقاد صحيح وعلم نافع.
وقوله تعالى: {وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} المراد بالعمل الصالح: أفعال الخير كلها سواء كانت ظاهرة أو باطنة، وسواء كانت متعلقة بحقوق الله تعالى، أو متعلقة بحقوق العباد، وسواء كانت من قبيل الواجب أو كانت من قبيل المستحب إذا خالصة صواباً.
وقوله تعالى: {وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ} المراد بالحق في هذه الآية –والله أعلم- هو ما تقدم من الإيمان بالله والعمل الصالح {وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ} جميع أنواع الصبر، الصبر على طاعة الله وأداء فرائضه والقيام بحقوقه وحقوق عباده فهذا يحتاج إلى صبر، والصبر عن معصية الله؛ لأن النفس أمارة بالسوء فلابد للإنسان أن يصبر لئلا يقع في المعصية.
ومن الصبر أيضاً: الصبر عن البطر عند كثرة النعم، فيصبر الإنسان عن البطر والإسراف والتبذير عند وجود النعم أو كثرتها، ومن الصبر أيضاً: الصبر على المصائب وهي ما يصيب الإنسان في هذه الدنيا من مصائب وحوادث فإنه عرضة لذلك.
قوله: "قال الشافعي رحمه الله: "لَوْ مَا أَنْزَلَ اللهُ حُجَّةً عَلَى خَلْقِهِ إلا هذه السورة لكفتهم" معنى قول الشافعي: لو أن الله جل وعلا ما أنزل
ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আল্লাহ যদি তাঁর সৃষ্টির ওপর এই সূরাটি ব্যতীত অন্য কোনো প্রমাণ নাজিল না করতেন, তবে এটিই তাদের জন্য যথেষ্ট হতো।"
--
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে} এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে যারা মুক্ত থাকবে তাদের জন্য প্রথম বৈশিষ্ট্য এবং তা হলো ঈমানের বৈশিষ্ট্য। এর অর্থ হলো: তারা ব্যতীত যারা আল্লাহ তাআলা যে বিষয়গুলোর ওপর ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন তার ওপর ঈমান এনেছে—অর্থাৎ ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ ও নবীগণের ওপর ঈমান এবং সেই সকল সঠিক আকিদা ও উপকারী জ্ঞান যা মানুষকে মহান আল্লাহর নিকটবর্তী করে।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং সৎকর্ম করেছে} সৎকর্ম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সমস্ত কল্যাণকর কাজ, চাই তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন, চাই তা মহান আল্লাহর হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক কিংবা বান্দার হকের সাথে, এবং তা ওয়াজিবের পর্যায়ভুক্ত হোক কিংবা মুস্তাহাবের—যদি তা ইখলাসপূর্ণ ও সঠিক হয়।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে} এই আয়াতে 'সত্য' দ্বারা উদ্দেশ্য—আল্লাহই ভালো জানেন—পূর্বে উল্লেখিত আল্লাহর প্রতি ঈমান ও সৎকর্ম। {এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে} অর্থাৎ সকল প্রকার ধৈর্য; আল্লাহর আনুগত্যে এবং তাঁর ফরজসমূহ পালনে ও তাঁর হক ও বান্দাদের হক আদায়ে ধৈর্য ধারণ করা—কেননা এতে ধৈর্যের প্রয়োজন হয়; আর আল্লাহর নাফরমানি থেকে বিরত থাকতে ধৈর্য ধারণ করা—কেননা নফস বা কুপ্রবৃত্তি মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়, তাই গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে বাঁচতে মানুষকে অবশ্যই ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
ধৈর্যের আরও প্রকারভেদ হলো: নেয়ামতের আধিক্যের সময় দম্ভ ও অহংকার থেকে ধৈর্য ধারণ করা। সুতরাং নেয়ামত পাওয়া গেলে বা তার আধিক্য ঘটলে মানুষ দম্ভ, অপব্যয় ও অপচয় থেকে বিরত থাকতে ধৈর্য ধারণ করে। ধৈর্যের আরও প্রকার হলো: বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করা, আর তা হলো এই দুনিয়ায় মানুষের ওপর আপতিত বিভিন্ন মুসিবত ও দুর্ঘটনা—কেননা মানুষ এগুলোর সম্মুখীন হওয়ারই লক্ষ্যস্থল।
তাঁর উক্তি: "ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: 'আল্লাহ যদি তাঁর সৃষ্টির ওপর এই সূরাটি ব্যতীত অন্য কোনো প্রমাণ নাজিল না করতেন, তবে এটিই তাদের জন্য যথেষ্ট হতো'।" শাফিঈর উক্তির অর্থ হলো: যদি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা নাজিল না করতেন...
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
للبشرية منهاجاً، ولا جهل لها طريقاً إلا هذه السورة القصيرة ذات الثلاث الآيات لكانت كافية؛ لأن هذه السورة رسمت المنهج الذي شرعه الله تعالى طريقاً للنجاة وهو الإيمان والعمل الصالح والتواصي بالحق والتواصي بالصبر، فهذه الأمور الأربعة هي التي تحصل بها النجاة، فلو أن الله تعالى ما أنزل إلا هذه السورة لكان من أراد الله هدايته يعرف أنه لا نجاة له إلا بالإيمان والعمل الصالح والتواصي بالحق والتواصي بالصبر وهذا من الإعجاز الذي لا يقدر عليه إلا الله تعالى، آية واحدة تبين وظيفة الأمة الإسلامية ووظيفة كل فرد من أفراد الأمة الإسلامية وهي التواصي بالحق والتواصي بالصبر. بعد الإيمان والعمل الصالح فما أعظمها من سورة ولهذا فإن شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله لما نقل كلام الشافعي قال: "هو كما قال -يعني: ما قال الإمام الشافعي هو في محله- فإن الله جل وعلا أخبر أن جميع الناس خاسرون إلا من كان في نفسه مؤمناً صالحاً ومع غيره موصياً بالحق وموصياً بالصبر" انتهى كلامه1.
وقد جاء في تفسير ابن كثير ما يختلف عن العبارة التي ذكرها المصنف فقد جاء فيه قال الشافعي رحمه الله: "لو تدبر الناس هذه السورة لوسعتهم"، والمعنى واحد، والله أعلم.
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
মানবজাতির জন্য যদি কোনো জীবনপদ্ধতি না থাকত এবং এই তিন আয়াতের সংক্ষিপ্ত সূরাটি ছাড়া পথপ্রদর্শনের অন্য কোনো পথ জানা না থাকত, তবে এটিই যথেষ্ট হতো; কারণ এই সূরাটি সেই জীবনপদ্ধতি অঙ্কন করেছে যা মহান আল্লাহ নাজাতের পথ হিসেবে বিধিবদ্ধ করেছেন। আর তা হলো ঈমান, নেক আমল, সত্যের উপদেশ দেওয়া এবং ধৈর্যের উপদেশ দেওয়া। এই চারটি বিষয়ের মাধ্যমেই মুক্তি অর্জিত হয়। সুতরাং আল্লাহ তাআলা যদি এই সূরাটি ছাড়া অন্য কিছু নাযিল না করতেন, তবে আল্লাহ যাকে হিদায়াত প্রদানের ইচ্ছা করতেন সে ঠিকই বুঝতে পারত যে, ঈমান, নেক আমল, সত্যের উপদেশ এবং ধৈর্যের উপদেশ ছাড়া তার কোনো নাজাত নেই। এটি মহান আল্লাহর এমন এক অলৌকিকত্ব (ই'জায) যা তিনি ছাড়া অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। একটি মাত্র সূরা মুসলিম উম্মাহ এবং উম্মাহর প্রত্যেকটি সদস্যের দায়িত্ব স্পষ্ট করে দিচ্ছে, আর তা হলো ঈমান ও নেক আমলের পর সত্যের উপদেশ দেওয়া এবং ধৈর্যের উপদেশ দেওয়া। এটি কতই না মহান একটি সূরা! এই কারণেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) যখন ইমাম শাফিঈ-এর উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন তখন তিনি বলেছেন: "বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন—অর্থাৎ ইমাম শাফিঈ যা বলেছেন তা যথার্থ—কেননা মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে সকল মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত, কেবল তারা ছাড়া যারা নিজের সত্তায় মুমিন ও নেককার এবং অন্যের প্রতি সত্যের উপদেশদাতা ও ধৈর্যের উপদেশদাতা।" তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।১
তাফসীরে ইবনে কাসীরে গ্রন্থকারের উল্লেখ করা বাক্যটি থেকে কিছুটা ভিন্ন শব্দ বর্ণিত হয়েছে; সেখানে এসেছে যে ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মানুষ যদি এই সূরাটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করত, তবে এটিই তাদের জন্য যথেষ্ট হতো।" উভয় বর্ণনার অর্থ একই। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَقَالَ البُخَارِيُّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى:
"بَابُ: العِلْمُ قَبْلَ القَوْلِ وَالْعَمَلِ، وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ} فبدأ بالعلم قبل القول والعمل".
ــ
قوله: "وقال البخاري رحمه الله تعالى"، يعني: في كتاب العلم من "صحيحه": "باب: العلم قبل القول والعمل".
وقوله: "باب" يقرأ بالتنوين؛ لأنه مقطوع عن الإضافة، والعلم: مبتدأ، قبل القول: خبر المبتدأ، أفادت هذه الترجمة أن قول الإنسان وعمله لا اعتبار له في ميزان الشرع إلا إذا كان قائماً على العلم، فالعلم شرط لصحة القول والعمل.
وقوله: "والدليل" هذا من كلام البخاري، والذي في "الصحيح" أن البخاري قال: "باب: العلم قبل القول والعمل لقول الله تعالى"1، ولكن الشيخ رحمه الله عبر بقوله "والدليل" ليكون أوضح. "قَوْلُهُ تَعَالَى {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ} 2 فبدأ بالعلم قبل القول والعمل"، وهذا من كلام البخاري أيضاً، لكن ليس في "صحيحه" كلمة "قبل القول والعمل" إنما الذي فيه "فبدأ بالعلم"، فإما أن يكون قوله: "قبل القول والعمل" من كلام الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله للتوضيح، أو أنه في نسخة أخرى، وقوله تَعَالَى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} الخطاب للرسول صلى الله عليه وسلم، وهو يشمل الأمة، وهذا هو العلم.
--------------------------------------------
ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি তাআলা বলেছেন:
"অধ্যায়: কথা ও কাজের পূর্বে ইলম (জ্ঞান) অর্জন। এর দলীল হচ্ছে মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনার গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন}। অতঃপর তিনি কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান দিয়ে শুরু করেছেন।"
ــ
তাঁর উক্তি: "ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি তাআলা বলেছেন", অর্থাৎ তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থের ‘কিতাবুল ইলম’ (জ্ঞান অধ্যায়) এ: "পরিচ্ছেদ: কথা ও কাজের পূর্বে ইলম" ।
তাঁর উক্তি: "বাব" (পরিচ্ছেদ) শব্দটি তানভীন যোগে পড়তে হবে; কারণ এটি ইজাফাত (সম্বন্ধ) থেকে বিচ্ছিন্ন। "আল-ইলম" (জ্ঞান) হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য), আর "ক্ববলাল ক্বাউল" (কথার আগে) হলো মুবতাদার খবর (বিধেয়)। এই শিরোনামটি এই অর্থ প্রদান করে যে, মানুষের কথা ও কাজ শরীয়তের মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষণ না তা জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং কথা ও কাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য ইলম বা জ্ঞান একটি শর্ত।
তাঁর উক্তি: "আর দলীল" এটি ইমাম বুখারীর কথা। ‘সহীহ’ গ্রন্থে ইমাম বুখারী যা বলেছেন তা হলো: "পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণীর কারণে কথা ও কাজের পূর্বে ইলম"১। তবে শাইখ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার জন্য "আর দলীল" শব্দটি ব্যবহার করেছেন। "মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনার গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন}২। অতঃপর তিনি কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান দিয়ে শুরু করেছেন।" এটিও ইমাম বুখারীর কথা, তবে তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে "কথা ও কাজের পূর্বে" শব্দগুলো (এই বাক্যের শেষে) নেই, বরং সেখানে রয়েছে "অতঃপর তিনি জ্ঞান দিয়ে শুরু করেছেন"। সুতরাং "কথা ও কাজের পূর্বে" কথাটি হয় শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব রহমাতুল্লাহি আলাইহি ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে বলেছেন, অথবা এটি অন্য কোনো পাণ্ডুলিপিতে এভাবে ছিল। আর মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই}। এই সম্বোধন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি হলেও তা সমগ্র উম্মতকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটিই হলো ইলম বা জ্ঞান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المسائل الثالث*
…اعْلَمْ رَحِمَكَ اللهُ أَنَّه يَجِبُ عَلَى كُلِّ مسلم ومسلمة تعلم هذه المسائل الثلاث والعمل بهن:
ــ
{وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ} هذا هو العمل، وقد استدل بعض السلف بهذه الآية على فضل العلم، فقد ذكر أبو نعيم رحمه الله في "الحلية" عن سفيان بن عيينة رحمه الله أنه سئل عن فضل العلم فقال: ألم تسمع قوله تعالى حين بدأ به فقال: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} ، ثم أمره بالعمل بعد ذلك فقال: {وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ} 1.
ووجه الاستدلال على فضل العلم أن الله تعالى بدأ به فأمر نبيه صلى الله عليه وسلم بالعلم قبل أن يأمره بالعمل، وهذا يدلنا على أمرين:
أولاً: على فضل العلم.
ثانياً: على أن العلم مقدم على العمل.
ثم ذكر المصنف مسائل أخرى مفرعة على ما تقدم فقال: "اعلم رحمك الله"، وهذا دعاء من المصنف رحمه الله يدل على حرصه ونفعه لأخيه المسلم كما تقدم.
قوله: "أَنَّه يَجِبُ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَمُسْلِمَةٍ تَعَلُّمُ هذه المسائل الثلاث2 والعمل بهن"، هذه المسائل الثلاث مجملها: الأولى في توحيد الربوبية، والثانية في توحيد الألوهية، والثالثة في الولاء والبراء.
--------------------------------------------
তৃতীয় মাসআলাসমূহ*
...জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন যে, প্রত্যেক মুসলিম নর ও নারীর ওপর এই তিনটি মাসআলা শিক্ষা করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক:
--
{আর আপনার পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন} এটিই হলো আমল। সালাফদের কেউ কেউ এই আয়াত দ্বারা ইলমের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর দলিল পেশ করেছেন। আবু নুআইম (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: আপনি কি মহান আল্লাহর বাণী শোনেননি যখন তিনি এটি দিয়ে শুরু করেছেন এবং বলেছেন: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই}, অতঃপর তিনি এরপর আমলের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {আর আপনার পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন}। ১
ইলমের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর দলিল পেশ করার পদ্ধতি হলো এই যে, আল্লাহ তাআলা ইলম দ্বারা শুরু করেছেন, ফলে তিনি তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমলের নির্দেশ দেওয়ার আগে ইলম অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি আমাদের দুটি বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে:
প্রথমত: ইলমের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর।
দ্বিতীয়ত: আমলের আগে ইলম অগ্রগণ্য হওয়ার ওপর।
অতঃপর লেখক ইতিপূর্বে বর্ণিত আলোচনার শাখা হিসেবে আরও কিছু মাসআলা উল্লেখ করে বলেছেন: "জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন", এটি লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) পক্ষ থেকে একটি দুআ যা তাঁর ঐকান্তিকতা এবং তাঁর মুসলিম ভাইয়ের উপকারের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
তাঁর কথা: "প্রত্যেক মুসলিম নর ও নারীর ওপর এই তিনটি মাসআলা শিক্ষা করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক", এই তিনটি মাসআলার সংক্ষিপ্ত সার হলো: প্রথমটি তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ সম্পর্কে, দ্বিতীয়টি তাওহীদে উলুহিয়্যাহ সম্পর্কে এবং তৃতীয়টি আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বন্ধুত্ব ও শত্রুতা) সম্পর্কে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
توحيد الربوبية وأدلتة…الأُولَى: أَنَّ اللهَ خَلَقَنَا وَرَزَقَنَا وَلَمْ يَتْرُكْنَا هملاً،
ــ
وهذه المسائل الثلاث مسائل عظيمة لابد من تعلمها والعمل بها؛ لأنها قاعدة الدين وأساس العقيدة، فـ "الأولى" التي هي توحيد الربوبية "أن الله خلقنا وورزقنا ولم يتركنا هملاً"، هذه ثلاثة أمور:
الأولى: أن الله تعالى خلقنا، والدليل على أن الله خلقنا هو السمع والعقل، أما السمع فآياته كثيرة كقوله تَعَالَى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْأِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} 1، وقوله تعالى: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ} 2، أما العقل فقد دل عليه قول الله تعالى في سورة الطور: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ} 3، ففي هذه الآية دليل عقلي على أنه لابد من خالق، وأنه لم يوجد هذا الكون صدفة؛ لأن القسمة العقلية تقتضي ثلاثة أمور لا رابع لها: إما أننا خلقنا بدون خالق، وهذا لا يمكن؛ لأن الخلق لابد أن يتعلق بخالق كالتحريك يتعلق بمحرك، فلا يمكن للشيء أن يتحرك من مكانه إلا بوجود محرك له، وهذا أمر ضروري يعرفه العقلاء، فكوننا خلقنا بدون خالق هذا لا يمكن، والناس بمقتضى عقولهم –حتى المعاندون منهم- يعرفون هذا، فلو قيل لشخص: إن هناك قصراً من القصور الذي جهز بكل ما تشتهيه الأنفس وتتمناه، ولكن هذا القصر وجد صدفة بدون بناء ولا إعداد لبادر الناس إلى التكذيب، وقالوا: هذا لا يمكن؛ لأن القصر يحتاج إلى بناء، وما فيه يحتاج إلى إعداد، فلابد من عمال وصُناع.
--------------------------------------------
রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ এবং এর প্রমাণাদি…প্রথমত: নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আমাদের রিযিক দিয়েছেন এবং তিনি আমাদের লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি,
—
এই তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা শিক্ষা করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা অপরিহার্য; কারণ এগুলো হলো দ্বীনের মূলনীতি এবং আকিদার ভিত্তি। সুতরাং "প্রথম" বিষয়টি যা রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ— "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আমাদের রিযিক দিয়েছেন এবং তিনি আমাদের লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি"—এখানে তিনটি বিষয় বিদ্যমান:
প্রথম: আল্লাহ তাআলা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ যে আমাদের সৃষ্টি করেছেন তার প্রমাণ হলো শ্রবণলব্ধ (শরয়ি) এবং যৌক্তিক দলিল। শ্রবণলব্ধ প্রমাণের ক্ষেত্রে অনেক আয়াত রয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।" (১), এবং আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ সর্বকিছুর স্রষ্টা।" (২)। আর যৌক্তিক প্রমাণের ক্ষেত্রে সূরা আত-তূরে মহান আল্লাহর এই বাণীটি দিকনির্দেশনা দেয়: "তারা কি কোনো কিছু (স্রষ্টা) ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা?" (৩)। এই আয়াতে একটি যৌক্তিক দলিল রয়েছে যে, অবশ্যই একজন স্রষ্টা থাকতে হবে এবং এই মহাবিশ্ব আকস্মিকভাবে বা দৈবক্রমে সৃষ্টি হয়নি; কারণ যৌক্তিক বিভাজন তিনটি বিষয় দাবি করে যার চতুর্থ কোনো বিকল্প নেই: হয় আমাদের কোনো স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্টি করা হয়েছে—যা অসম্ভব; কারণ সৃষ্টির সাথে স্রষ্টার সংশ্লিষ্টতা অপরিহার্য, যেমন গতির সাথে গতিদাতার সংশ্লিষ্টতা থাকে। কোনো বস্তু একজন চালনাকারী বা গতিদাতা ছাড়া তার স্থান থেকে নড়াচড়া করতে পারে না, এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয় যা বুদ্ধিমান ব্যক্তিমাত্রই জানেন। সুতরাং আমাদের কোনো স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব। মানুষ তাদের স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী—এমনকি তাদের মধ্য হতে যারা সত্যবিমুখ ও হঠকারী তারাও—এটি জানে। যদি কোনো ব্যক্তিকে বলা হয় যে, এখানে এমন একটি প্রাসাদ রয়েছে যা মনের আকাঙ্ক্ষা ও কামনা অনুযায়ী সকল প্রকার উপাদানে সুসজ্জিত, কিন্তু এই প্রাসাদটি কোনো নির্মাণকারী বা কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে, তবে মানুষ তৎক্ষণাৎ তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে এবং বলবে: এটি অসম্ভব; কারণ প্রাসাদের জন্য একজন নির্মাতার প্রয়োজন এবং এর অভ্যন্তরীণ সরঞ্জামাদির জন্য প্রস্তুতির প্রয়োজন, সুতরাং অবশ্যই সেখানে শ্রমিক ও কারিগর থাকতে হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
الأمر الثاني: أننا خلقنا أنفسنا، وهذا أشد فساداً مما قبله؛ لأننا معدومون، والمعدوم لا يمكن أن يكون قادراً على إيجاد نفسه؛ لأن العدم نقص، والخلق كمال، فكيف يكون الناقص كاملاً، هذا لا يمكن، فيتعين الأمر الثالث وهو أنه لابد لنا من خالق وهو رب القادر، ولهذا قال تعالى: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ} يعني: هل هم خلقوا هكذا دون خالق؟ هذا الأمر الأول، أم هم الخالقون؟ يعني لأنفسهم هذا الأمر الثاني، والأمر الثالث لم تذكره الآية؛ لأنه إذا امتنع الأمر الأول والثاني يتعين الأمر الثالث.
وقد ورد في الحديث أن رجلاً مشركاً سمع هذا الآية فدخل الإيمان في قلبه وهو جبير بن مطعم رضي الله عنه كما في "صحيح البخاري"1 أنه جاء في موضوع أسارى بدر والنبي صلى الله عليه وسلم يقرأ في صلاة المغرب بسورة الطور فمرت الآية وجبير يسمع فيقول معبراً عن نفسه: "كاد قلبي أن يطير، ومنذ ذلك الوقت وقر الإيمان في قلبي"؛ لأنه من أهل اللسن والفصاحة والبلاغة، فعرف الآية ومعناها وما تدل عليه فوقر الإيمان في قلبه2.
قوله: "ورزقنا"، هذا الأمر الثاني مما يتعلق بتوحيد الربوبية، والدليل على أن الله تعالى رزقنا آيات كثيرة من القرآن الكريم، كقول الله تعالى:
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
দ্বিতীয় বিষয়: আমরা নিজেদের সৃষ্টি করেছি, এবং এটি পূর্বের বিষয়ের চেয়েও অধিকতর ভ্রান্ত; কারণ আমরা অস্তিত্বহীন ছিলাম, আর অস্তিত্বহীন সত্তার পক্ষে নিজেকে অস্তিত্ব দান করতে সক্ষম হওয়া সম্ভব নয়; কারণ অনস্তিত্ব হলো অপূর্ণতা আর সৃষ্টি হলো পূর্ণতা। সুতরাং অপূর্ণ সত্তা কীভাবে পূর্ণ হতে পারে? এটি সম্ভব নয়। ফলে তৃতীয় বিষয়টি অবধারিত হয়ে যায়, আর তা হলো আমাদের একজন স্রষ্টা থাকা আবশ্যক, আর তিনি হলেন সক্ষম প্রতিপালক। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা কি কোনো স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে?} অর্থাৎ: তারা কি কোনো স্রষ্টা ছাড়াই এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে? এটি হলো প্রথম বিষয়। অথবা তারা কি নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা? অর্থাৎ নিজেদের জন্য, এটি হলো দ্বিতীয় বিষয়। আর তৃতীয় বিষয়টি আয়াতে উল্লেখ করা হয়নি; কারণ যখন প্রথম ও দ্বিতীয় বিষয়টি অসম্ভব প্রমাণিত হয়, তখন তৃতীয় বিষয়টি অবধারিত হয়ে যায়।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, একজন মুশরিক ব্যক্তি এই আয়াতটি শুনেছিলেন এবং তাঁর অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেছিল; তিনি হলেন জুবায়ের ইবনে মুতয়িম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। যেমনটি "সহীহ বুখারী"-তে এসেছে যে, তিনি বদরের যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে এসেছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাগরিবের সালাতে সূরা আত-তুর তিলাওয়াত করছিলেন। তখন এই আয়াতটি অতিক্রম করল এবং জুবায়ের তা শুনছিলেন, অতঃপর তিনি নিজের অবস্থা ব্যক্ত করে বলেন: "আমার অন্তর যেন উড়ে যাচ্ছিল, আর সেই মুহূর্ত থেকেই আমার অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয়ে যায়"; কারণ তিনি ছিলেন ভাষা, প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের পারদর্শী। ফলে তিনি আয়াতটি, এর অর্থ এবং এটি কিসের প্রতি ইঙ্গিত করছে তা বুঝতে পেরেছিলেন, ফলে তাঁর অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয়েছিল।
তাঁর বাণী: "এবং তিনি আমাদের রিযিক দিয়েছেন", এটি রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ সংশ্লিষ্ট দ্বিতীয় বিষয়। আল্লাহ তাআলা যে আমাদের রিযিক দিয়েছেন তার প্রমাণে কুরআন মাজীদে অনেক আয়াত রয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
{وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوعَدُونَ} 1، وقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} 2، وقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ} 3 إلى غير ذلك من الآيات.
والرزق: اسم لما يسوقه الله إلى الحيوان فيأكله. قال في "القاموس": الرزق –بالكسر-: ما ينتفع به كل مرتزق. والرزق نوعان:
1- خاص: وهو الرزق الحلال للمؤمنين. وهذا هو الرزق النافع الذي لا تبعة فيه إذا كان عوناً على طاعة الله تعالى، قال تعالى: {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ} 4.
2- عام: وهو ما به قوام سواء كان حلالاً أو حراماً، وسواء كان المرزوق مسلماً أو كافراً، قال تعالى: {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا} 5.
وقوله: "ولم يتركنا هملاً" هذا الأمر الثالث، والهمل بالتحريك: هو السدى المتروك ليلاً ونهاراً، ولم يرد اللفظ هذا في القرآن الكريم، إنما الذي ورد في القرآن الكريم: {أَيَحْسَبُ الْإنْسَانُ أَنْ يُتْرَكَ سُدىً} 6 وورد في
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
{আর আসমানে রয়েছে তোমাদের রিযিক এবং যা তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।} ১, এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহই হচ্ছেন একমাত্র রিযিকদাতা, অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুদৃঢ়।} ২, এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন অগণিত রিযিক দান করেন।} ৩ এ ছাড়াও অন্যান্য আয়াতসমূহ।
রিযিক: এটি এমন একটি নাম যা আল্লাহ কোনো প্রাণীর নিকট পৌঁছে দেন এবং সে তা আহার করে। ‘আল-কামুস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: রিযিক—বর্ণের নিচে কাসরা (যের) যোগে—হলো এমন কিছু যা দ্বারা প্রত্যেক রিযিক গ্রহণকারী উপকৃত হয়। আর রিযিক দুই প্রকার:
১- বিশেষ: আর তা হলো মুমিনদের জন্য নির্ধারিত হালাল রিযিক। এটিই সেই উপকারী রিযিক যাতে কোনো মন্দ পরিণতি নেই যদি তা আল্লাহ তাআলার আনুগত্য পালনে সহায়ক হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, আল্লাহর দেওয়া সেই সৌন্দর্যকে কে হারাম করেছে যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বের করেছেন এবং পবিত্র রিযিকসমূহকে? বলুন, এগুলো পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্য, আর কিয়ামতের দিনে কেবল তাদেরই জন্য।} ৪।
২- সাধারণ: আর তা হলো যার মাধ্যমে জীবন সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে, চাই তা হালাল হোক কিংবা হারাম, এবং রিযিকপ্রাপ্ত ব্যক্তি মুসলিম হোক কিংবা কাফির। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর জমিনে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।} ৫।
এবং তাঁর উক্তি: "এবং তিনি আমাদেরকে লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি" এটি হলো তৃতীয় বিষয়। 'হামাল' (হরকতের সাথে): হলো এমন লক্ষ্যহীনভাবে পরিত্যক্ত যা দিনরাত ঘুরে বেড়ায়। এই শব্দটি পবিত্র কুরআনে আসেনি, বরং পবিত্র কুরআনে যা এসেছে তা হলো: {মানুষ কি মনে করে যে তাকে লক্ষ্যহীনভাবে (সুদা) ছেড়ে দেওয়া হবে?} ৬ এবং এটি বর্ণিত হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بَلْ أَرْسَلَ إِلَيْنَا رَسُولاً، فَمَنْ أَطَاعَهُ دَخَلَ الجنة، ومن عصاه دخل النار.
ــ
القرآن الكريم: {أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثاً وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لا تُرْجَعُونَ} 1، فالهمل والسدى والعبث بمعنى واحد، وهو المتروك الذي لا يؤمر ولا ينهى، والدليل من السمع على أن الله تعالى لم يتركنا سدى هو ما تقدم.
أما الدليل من العقل فإن الله جل وعلا حكيم، فقد خلقنا ورزقنا، وأرسل إلينا الرسل، وأنزل عليهم الكتب، وأوجب علينا طاعتهم، وأمرنا بقتال المعاندين، فلو لم يكن هناك حساب ولا عقاب ولا ثواب ولا جزاء؛ لكان هذا من العبث الذي ينزه الله تعالى عنه. فالله تعالى شرع هذه الأمور لمعاد يحاسب عليه الإنسان المحسن بإحسانه والمسيء بإساءته، فهذا الدليل العقلي يدل على أن الله تعالى لم يتركنا هملاً، وأن الجزاء الأخروي تعقبه الحياة الأبدية، وهي الحياة الحقيقية كما في قوله تعالى: {يَقُولُ يَا لَيْتَنِي قَدَّمْتُ لِحَيَاتِي} 2 سماها حياة مع أن الدنيا حياة لكنها حياة إلى زوال وانقضاء، وأما حياة البقاء والخلود فهي الحياة في الدار الآخرة، إما في عذاب سرمدي، وإما في نعيم دائم، -نسأل الله الكريم من فضله-.
قوله: "بَلْ أَرْسَلَ إِلَيْنَا رَسُولاً، فَمَنْ أَطَاعَهُ دَخَلَ الجنة، ومن عصاه دخل النار". هذا دليل على أن الله تعالى لم يتركنا هملاً، والمراد بالرسول هو محمد صلى الله عليه وسلم، والمراد بقول المصنف "أرسل إلينا"، أي: معشر الأمة، وقد جاء في القرآن الكريم آية عظيمة تبين الغاية من بعثة الرسول صلى الله عليه وسلم، قال
--------------------------------------------
বরং তিনি আমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন। যে তাঁকে অনুসরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে তাঁর অবাধ্য হবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
—
পবিত্র কুরআন: {তোমরা কি ভেবেছিলে যে আমি তোমাদের অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?} ১, সুতরাং লক্ষ্যহীনতা, উদ্দেশ্যহীনতা এবং অনর্থকতা একই অর্থ বহন করে; আর তা হলো এমন পরিত্যক্ত যাকে কোনো আদেশ বা নিষেধ করা হয় না। আল্লাহ তাআলা যে আমাদের উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি, তার শ্রবণযোগ্য (শরয়ি) দলীল হচ্ছে যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
আর বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল হলো, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা প্রজ্ঞাময়; তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আমাদের রিযিক দিয়েছেন, আমাদের নিকট রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন, আমাদের ওপর তাঁদের আনুগত্য আবশ্যক করেছেন এবং হঠকারিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং যদি সেখানে কোনো হিসাব-নিকাশ, শাস্তি, সওয়াব বা প্রতিদান না থাকতো, তবে তা হতো একটি অনর্থক কাজ, যা থেকে আল্লাহ তাআলা পবিত্র। অতএব আল্লাহ তাআলা এই বিষয়গুলো পরকালের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন যেখানে ভালো মানুষকে তার ভালো কাজের জন্য এবং মন্দ মানুষকে তার মন্দ কাজের জন্য হিসাব দিতে হবে। এই বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের অবহেলায় ছেড়ে দেননি। আর পরকালীন প্রতিদানের পরবর্তী ধাপ হবে অনন্ত জীবন, যা প্রকৃত জীবন। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {সে বলবে, হায়! আমি যদি আমার এই জীবনের জন্য কিছু অগ্রিম পাঠাতাম!} ২ তিনি একে জীবন বলে অভিহিত করেছেন, যদিও দুনিয়াও একটি জীবন কিন্তু তা বিলুপ্তি ও সমাপ্তির জীবন। পক্ষান্তরে স্থায়িত্ব ও অমরত্বের জীবন হলো পরকালীন জীবন; হয় তা চিরস্থায়ী আজাবে, নতুবা চিরস্থায়ী নিয়ামতে। —আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করি—।
তাঁর উক্তি: "বরং তিনি আমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন। যে তাঁকে অনুসরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে তাঁর অবাধ্য হবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" এটি এই কথার দলীল যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি। এখানে 'রাসূল' বলতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বোঝানো হয়েছে। আর গ্রন্থকারের বক্তব্য "আমাদের নিকট পাঠিয়েছেন" এর অর্থ হলো: উম্মত সমষ্টির নিকট। পবিত্র কুরআনে একটি মহান আয়াত বর্ণিত হয়েছে যা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণের উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট করে, তিনি বলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ــ
تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ} 1 فالغاية من إرسال الرسل: طاعتهم واتباعهم فيما جاءوا به عن الله تعالى، وأما الحكمة من إرسال الرسل فهي هداية البشرية إلى الصراط المستقيم، وبيان عبادة الله تعالى على الوجه المرضي؛ لأن العقل البشري لا يستقل بمعرفة ذلك. والتلقي لا يمكن عن الله تعالى إلا بواسطة الرسل، فالرسل واسطة بين الله تعالى وبين الخلق، والرسول صلى الله عليه وسلم هو الذي يشرع للأمة بعد تشريع الله تعالى {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ} 2.
ثم بين المصنف رحمه الله مآل الطائعين والعصاة بقوله: "فَمَنْ أَطَاعَهُ دَخَلَ الجَنَّةَ وَمَنْ عَصَاهُ دَخَلَ النار"، وهذا دل عليه القرآن الكريم في آيات كثيرة، قال تعالى: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} 3، وفي الجانب الآخر: {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَاراً خَالِداً فِيهَا} 4.
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبى. قالوا: يا رسول الله، ومن يأبى؟ قال: من أطاعني دخل الجنة، ومن عصاني فقد أبى" 5.
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
—
মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি কোনো রাসূলই পাঠাইনি এ উদ্দেশ্য ছাড়া যে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর আনুগত্য করা হবে।" ১ সুতরাং রাসূল প্রেরণের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো: মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁরা যা নিয়ে এসেছেন সে বিষয়ে তাঁদের আনুগত্য করা এবং তাঁদের অনুসরণ করা। আর রাসূল প্রেরণের রহস্য হলো মানবজাতিকে সরল পথের দিশা দেওয়া এবং মহান আল্লাহর ইবাদত সন্তোষজনক পদ্ধতিতে বর্ণনা করা; কারণ মানবীয় বিবেক এককভাবে তা জানতে সক্ষম নয়। আর রাসূলগণের মাধ্যম ব্যতীত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নয়। তাই রাসূলগণ হলেন মহান আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে মাধ্যম। আর মহান আল্লাহর বিধান প্রদানের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি উম্মতের জন্য বিধান প্রদান করেন, "বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহরই।" ২
অতঃপর গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) আনুগত্যকারী ও অবাধ্যদের পরিণাম বর্ণনা করে বলেছেন: "সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে ব্যক্তি তাঁর অবাধ্য হলো সে জাহান্নামে প্রবেশ করল।" আর পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে এ বিষয়টি নির্দেশিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আর এটাই হলো মহাসাফল্য।" ৩ অন্যদিকে ইরশাদ হয়েছে: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন যেখানে সে চিরকাল থাকবে।" ৪
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে ব্যতীত যে অস্বীকার করেছে। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: যে আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে-ই অস্বীকার করল।" ৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুসুলুল মা’মূল বি শারহি ছালাছাতিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّا أَرْسَلْنَا إِلَيْكُمْ رَسُولاً شَاهِداً عَلَيْكُمْ كَمَا أَرْسَلْنَا إِلَى فِرْعَوْنَ رَسُولاً فَعَصَى فِرْعَوْنُ الرَّسُولَ فَأَخَذْنَاهُ أَخْذاً وَبِيلاً} .
ــ
قوله: "وَالدَّلِيلُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّا أَرْسَلْنَا إِلَيْكُمْ رَسُولاً شَاهِداً عَلَيْكُمْ كَمَا أَرْسَلْنَا إِلَى فِرْعَوْنَ رَسُولاً فَعَصَى فِرْعَوْنُ الرَّسُولَ فَأَخَذْنَاهُ أَخْذاً وَبِيلاً} 1". هذا دليل على المسألة الأخيرة وهي قوله: "بل أرسل إلينا رسولا"، والخطاب في قوله تعالى: {إِنَّا أَرْسَلْنَا إِلَيْكُمْ} ، يعني: شاهداً على أعمالكم كما في قوله تعالى: {لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيداً عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ} ، وقوله تعالى: {كَمَا أَرْسَلْنَا إِلَى فِرْعَوْنَ رَسُولاً} ، هو موسى عليه الصلاة والسلام وعدم تعيينه؛ لعدم دخوله في التشبيه أو لأنه معلوم غني عن البيان2.
والمقصود من هذه الآية –والله أعليم- تذكير هذه الأمة بهذه النعمة العظيمة، وهي إرسال هذا النبي الكريم وتحذيرها أن تفعل مثل ما فعل قوم فرعون فيصيبهم ما أصابهم. والمعنى: أن الله جل وعلا أرسل إليكم رسولاً كما أرسل إلى فرعون رسولاً فانظروا ماذا كان موفق فرعون وقومه من الرسول؛ لأن سنة الله واحدة لا تتغير ولا تتبدل قال تعالى: {فَعَصَى فِرْعَوْنُ الرَّسُولَ فَأَخَذْنَاهُ أَخْذاً وَبِيلاً} ، وأصل الوبيل في اللغة بمعنى: الثقيل الشديد، كما ورد عن ابن عباس رضي الله عنهما3 "تقول
--------------------------------------------
এবং এর দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছি তোমাদের ওপর সাক্ষী হিসেবে, যেমন আমি ফিরআউনের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছিলাম। অতঃপর ফিরআউন সেই রাসূলের অবাধ্য হলো, ফলে আমি তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করলাম।}
—
তাঁর কথা: "এবং এর দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছি তোমাদের ওপর সাক্ষী হিসেবে, যেমন আমি ফিরআউনের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছিলাম। অতঃপর ফিরআউন সেই রাসূলের অবাধ্য হলো, ফলে আমি তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করলাম।} ১"। এটি সর্বশেষ মাসআলা বা প্রসঙ্গের দলীল, যা হলো তাঁর কথা: "বরং তিনি আমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন"। আর মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট পাঠিয়েছি}-এর সম্বোধন হলো— অর্থাৎ তোমাদের কর্মের ওপর সাক্ষী হিসেবে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {যাতে রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও}। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যেমন আমি ফিরআউনের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছিলাম}, তিনি হলেন মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)। এখানে তাঁর নাম নির্দিষ্ট না করার কারণ হলো তিনি এই উপমার মূল উদ্দেশ্য নন অথবা তিনি অতি পরিচিত হওয়ার কারণে বর্ণনার প্রয়োজন নেই ২।
আর এই আয়াতের উদ্দেশ্য—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—এই উম্মতকে এই মহান নিআমত সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া, আর তা হলো এই সম্মানিত নবীকে প্রেরণ করা; এবং তাদেরকে সতর্ক করা যাতে তারা ফিরআউনের কওমের মতো কাজ না করে, ফলে তাদের ওপরও যেন তা-ই আপতিত না হয় যা তাদের ওপর হয়েছিল। এর অর্থ হলো: আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা তোমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন যেমন তিনি ফিরআউনের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছিলেন। সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো যে, ফিরআউন ও তার কওম রাসূলের সাথে কী আচরণ করেছিল; কারণ আল্লাহর নীতি অভিন্ন, তা পরিবর্তন বা বিবর্তিত হয় না। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর ফিরআউন সেই রাসূলের অবাধ্য হলো, ফলে আমি তাকে কঠোরভাবে পাকড়াও করলাম}। আর ভাষার অভিধানে 'ওয়াবিল' শব্দের মূল অর্থ হলো: ভারী ও অত্যন্ত কঠোর, যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) ৩ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে "তুমি বলো...
--------------------------------------------