(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: -)
حجية خبر الآحاد في العقائد والأحكام - محمد جميل مبارك   (محمد بن جميل مبارك)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: حجية خبر الآحاد في العقائد والأحكام

المؤلف: محمد بن جميل مبارك

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 70

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আকিদা ও আহকামের ক্ষেত্রে একক সংবাদের (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা - মুহাম্মদ জামিল মুবারক   (মুহাম্মদ বিন জামিল মুবারক)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: আকিদা ও আহকামের ক্ষেত্রে একক সংবাদের (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা

লেখক: মুহাম্মদ বিন জামিল মুবারক

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭০

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ১)
حجية خبر الآحاد في العقائد والأحكام

تأليف الدكتور: محمد جميل مبارك

‌‌مقدمة:

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد: فإن بيان هذه القضية يجيب عن أسئلة ذات بال منها:

ما مدى حجية السنة النبوية؟ وما مدى حجية خبر الآحاد؟ وهو سؤال أخص من سابقه، لكن العلاقة بينهما آتية من أن معظم السنة أخبار آحاد، فإذا كان الاحتجاج بخبر الآحاد من حيث هو محل شك، فالاحتجاج بمعظم السنة يكون محل شك!!

غير أن من الذين يجادلون في حجية خبر الآحاد من يؤمنون بالسنة، النبوية، ويعتقدون حجيتها، ولكنهم يحصرون حجية خبر الآحاد منها في إطار محدود، فلابد إذاً من التفرقة بين السؤالين.

وأما الطوائف المنكرة لحجية خبر الآحاد فكلما كاد الزمان يطويهم عاودت نابتتهم إثارة الجدل في هذه الحجية، واجدين البيئة المناسبة في التراكمات الفكرية التي تتفاعل في واقع المسلمين.

وهذا ما يفرض العمل من أجل تحصين الأجيال من التأثر بأفكار هذه الطوائف عن طريق البحث العلمي، الذي تتحمل أعباء القيام به الطائفة المتفقهة في الدين.

والجدل في حجية خبر الآحاد موغل في القدم، ويكفي دليلاً على ذلك أن الإمام الشافعي رحمه الله (ت: 204هـ) قد تصدى لهؤلاء الذين يثيرون هذا الجدل يقيناً منه أن التساهل مع هؤلاء يؤدي إلى التنكر للسنة
আকীদা ও আহকামের ক্ষেত্রে খবরে ওয়াহিদ (خبر الآحاد)-এর প্রামাণিকতা (حجية)

রচনা করেছেন ডক্টর: মুহাম্মদ জামিল মুবারক

‌‌ভূমিকা:

যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ রাসূলের ওপর এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর।

অতঃপর: এই বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়, যার মধ্যে রয়েছে:

সুন্নাতে নববীর প্রামাণিকতা (حجية) কতটুকু? এবং খবরে ওয়াহিদ (خبر الآحاد)-এর প্রামাণিকতা (حجية) কতটুকু? এটি পূর্বোক্ত প্রশ্নের তুলনায় অধিকতর সুনির্দিষ্ট একটি প্রশ্ন; কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যকার সম্পর্কটি এ কারণে যে, সুন্নাহর অধিকাংশ অংশই হলো খবরে ওয়াহিদ (أخبار آحاد)। সুতরাং একক বর্ণনা হিসেবে যদি খবরে ওয়াহিদ (خبر الآحاد)-এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ (الاحتجاج) করা সন্দেহের বিষয় হয়, তবে সুন্নাহর অধিকাংশ অংশ দিয়ে দলিল গ্রহণ (الاحتجاج) করাই সন্দেহের বিষয়ে পরিণত হবে!!

তবে যারা খবরে ওয়াহিদ (خبر الآحاد)-এর প্রামাণিকতা (حجية) নিয়ে বিতর্ক করেন, তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছেন যারা সুন্নাতে নববীর ওপর ঈমান রাখেন এবং এর প্রামাণিকতাকে (حجية) বিশ্বাস করেন; কিন্তু তারা সুন্নাহর মধ্য থেকে খবরে ওয়াহিদ (خبر الآحاد)-এর প্রামাণিকতাকে (حجية) একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখেন। তাই এই দুটি প্রশ্নের মধ্যে পার্থক্য করা অপরিহার্য।

আর খবরে ওয়াহিদ (خبر الآحاد)-এর প্রামাণিকতাকে (حجية) অস্বীকারকারী দলগুলোর কথা বলতে গেলে, কালচক্রে যখনই তারা বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়, তখনই তাদের নতুন প্রজন্মের উত্তরসূরিরা পুনরায় এই প্রামাণিকতা (حجية) নিয়ে বিতর্কের অবতারণা করে। তারা মুসলমানদের বাস্তব জীবনে বিদ্যমান চিন্তাধারার সংমিশ্রণের মধ্যে একটি উপযুক্ত পরিবেশ খুঁজে পায়।

আর এ কারণেই বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মকে এসব দলের ধ্যান-ধারণার প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যার গুরুদায়িত্ব পালনের ভার অর্পিত হয়েছে দ্বীন সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান (المتفقهة في الدين) একদল বিদগ্ধ ব্যক্তির ওপর।

খবরে ওয়াহিদ (خبر الآحاد)-এর প্রামাণিকতা (حجية) নিয়ে বিতর্কটি সুপ্রাচীন। এর প্রমাণ হিসেবে এটিই যথেষ্ট যে, ইমাম শাফিঈ (রহ.) (মৃত্যু: ২০৪ হি.) স্বয়ং সেই ব্যক্তিদের মোকাবিলা করেছিলেন যারা এই বিতর্ক উসকে দিত; কারণ তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে, তাদের প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শন করলে তা সুন্নাহকে অস্বীকার করার দিকেই ধাবিত করবে।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ২)
برمتها، والتنكر للسنة تنكُّرٌ للإسلام جملة من حيث إن السنة بيان للقرآن، ولا فهم للقرآن بلا بيان من السنة، ولا عمل بالقرآن بلا فهم ولا بيان.

وقد تصدى العلماء لِشُبَه المجادلين في حجية خبر الآحاد في ثلاثة علوم بارزة هي: علم الحديث، وعلم العقائد، وعلم أصول الفقه، والعلماء في هذه الفنون الثلاثة يجمعهم همٌّ واحد في هذا التصدي هو همُّ إثبات حجية خبر الآحاد في مجال الاعتقاد وفي مجال الأحكام العملية.

فعلماء الحديث انطلقوا في مقاومتهم لهذا التيار من أن التشكيك في خبر الآحاد يعود بالإبطال على تلك الجهود الجبارة التي قام بها علماء الحديث في مجال خدمة السنة جمعا وتمحيصا ومنهجا من خلال "مصطلح الحديث" وعلم الرجال، وهما مجالان من إبداع العلماء المسلمين، ولذلك كان من منهج علماء الحديث أن يثيروا هذه القضية في علوم الحديث.

وعلماء الأصول انطلقوا من أن استنباط الأحكام عبر القواعد الأصولية يكون من مصدرين هما القرآن الكريم والسنة النبوية، فإذا وقع التشكيك في خبر الآحاد انهدم الأصل الثاني من أصول الاستنباط، فكان من منهج الأصوليين أن يتناولوا هذه القضية من خلال بحثهم في الأدلة، ولذلك طولوا أنفاسهم في طرق الرد على المنكرين كما قام الإمام الجويني (1) .

--------------------------------------------

(1) البرهان في أصول الفقه ج1/600.
সমগ্র সুন্নাহকে অস্বীকার করা মূলত সামগ্রিকভাবে ইসলামকেই অস্বীকার করার নামান্তর। কেননা সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যা ও বিশদ বিবরণ (بيان); আর সুন্নাহর ব্যাখ্যা ব্যতীত কুরআন অনুধাবন করা অসম্ভব এবং অনুধাবন ও ব্যাখ্যা ব্যতিরেকে কুরআনের বিধান পালন করা সম্ভব নয়।

আলেমগণ একক ব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত খবরের (خبر الآحاد) প্রামাণিকতার বিষয়ে বিতর্ককারীদের সংশয়সমূহ নিরসনে তিনটি প্রধান শাস্ত্রে সচেষ্ট হয়েছেন: হাদিস বিজ্ঞান, আকাইদ শাস্ত্র এবং উসুলুল ফিকহ। এই তিনটি শাস্ত্রের আলেমগণ একটি সাধারণ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, আর তা হলো আকিদাহ ও ব্যবহারিক বিধিবিধানের ক্ষেত্রে একক ব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত খবরের (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা সাব্যস্ত করা।

হাদিস বিশারদগণ এই চিন্তাধারার মোকাবিলায় এই যুক্তিতে অগ্রসর হয়েছেন যে, একক ব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত খবরের (خبر الآحاد) বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি করা হলে সুন্নাহর সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং 'হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা' ও 'বর্ণনাকারী তত্ত্ব' (علم الرجال) সংক্রান্ত বিজ্ঞানের মাধ্যমে হাদিস বিশারদগণ যে বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করেছেন, তা বাতিল হয়ে যাবে। এই শাস্ত্রদ্বয় মুসলিম মনীষীদের মেধার অনন্য সৃষ্টি। এ কারণেই হাদিস বিশারদদের কর্মপদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত ছিল হাদিস বিজ্ঞানের আলোচনায় এই বিষয়টি উত্থাপন করা।

উসুলবিদগণ এই মূলনীতি থেকে যাত্রা শুরু করেছেন যে, উসুলি নিয়মনীতির মাধ্যমে বিধান আহরণ (استنباط) করার দুটি উৎস রয়েছে: পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ। এখন যদি একক ব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত খবরের (خبر الآحاد) ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা হয়, তবে বিধান আহরণের দ্বিতীয় মূল উৎসটি ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই উসুলবিদদের পদ্ধতি ছিল দালিলিক আলোচনার মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা। এ কারণে তারা অস্বীকারকারীদের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে সুদীর্ঘ আলোচনা করেছেন, যেমনটি ইমাম জুয়াইনি করেছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান ফি উসুলিল ফিকহ, খণ্ড ১/৬০০।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ৩)
وعلماء التوحيد يقلقهم أن استبعاد خبر الآحاد من مجال العقائد يؤدي إلى إنكار كثير من قضايا العقيدة التي لم تثبت إلا بأخبار الآحاد، كما يؤدي إلى تعطيل الصفات وإبطالها.

وقد ترشح هذا البحث لدحض الشبهات التي تعلق بها منكرو حجية خبر الآحاد، حتى يعود الحق في هذه القضية الشائكة إلى نصابه.

وسيتناول البحث –إن شاء الله - المباحث الآتية:

المبحث الأول: خبر الآحاد: التعاريف والنشأة.

المبحث الثاني: جهود العلماء في الدفاع عن حجية خبر الآحاد.

المبحث الثالث: أدلة وجوب العمل بخبر الآحاد من الكتاب والسنة والإجماع.

المبحث الرابع: إفادة خبر الآحاد للعلم أو الظن.

المبحث الخامس: نشأة التفرقة بين العقائد والأحكام في الاحتجاج بخبر الآحاد.

المبحث السادس: ظاهرة التشكيك في حجية خبر الآحاد ودوافعه.

وهي مباحث أرى أنها كفيلة بإضاءة أهم الجوانب الغامضة في موضوع خبر الآحاد.

ولم يتجه الاهتمام إلى بحث كل القضايا التي لها صلة ما بحجية خبر الآحاد، كقضية الاحتجاج بخبر الآحاد إذا ما تعارض مع ما هو أقوى منه، كما نجد عند بعض الفقهاء؛ لأن الخلاف نشأ بين المثبتين لحجية خبر الآحاد، والنقاش إنما ينصب على مبدأ الحجية نفسها.
তাওহিদ শাস্ত্রের আলেমগণ এই ভেবে উদ্বিগ্ন হন যে, আকিদাহর ক্ষেত্র থেকে একক বর্ণনা (خبر الآحاد)-কে বহিষ্কার করা এমন অনেক আকিদাগত বিষয়কে অস্বীকার করার নামান্তর যা কেবল একক বর্ণনা (خبر الآحاد) দ্বারাই প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া এটি আল্লাহর গুণাবলিকে অস্বীকার ও অর্থহীন করার দিকেও ধাবিত করে।

এই গবেষণাটি মূলত সেই সকল সংশয় খণ্ডনের জন্য পেশ করা হয়েছে যা একক বর্ণনার (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা (حجية) অস্বীকারকারীরা আঁকড়ে ধরেছে, যাতে এই জটিল বিষয়ে সত্য তার সঠিক অবস্থানে ফিরে আসে।

এই গবেষণাটি—ইনশাআল্লাহ—নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলো নিয়ে আলোচনা করবে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: একক বর্ণনা (خبر الآحاد): সংজ্ঞা ও উদ্ভব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: একক বর্ণনার (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা (حجية) রক্ষায় আলেমদের প্রচেষ্টা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা (إجماع) থেকে একক বর্ণনার (خبر الآحاد) ওপর আমল করার আবশ্যকতা সংক্রান্ত দলিলসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: একক বর্ণনা (خبر الآحاد) নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) নাকি প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: একক বর্ণনার (خبر الآحاد) মাধ্যমে দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে আকিদাহ ও বিধিবিধানের মধ্যে পার্থক্যের উদ্ভব।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: একক বর্ণনার (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা (حجية) নিয়ে সন্দেহ পোষণের প্রবণতা ও এর নেপথ্য কারণসমূহ।

এই পরিচ্ছেদগুলো আমার দৃষ্টিতে একক বর্ণনা (خبر الآحاد) বিষয়ের সবচেয়ে অস্পষ্ট দিকগুলো স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।

তবে একক বর্ণনার (خبر الآحاد) প্রামাণিকতার (حجية) সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় আলোচনার লক্ষ্য হিসেবে নেওয়া হয়নি; যেমন—একক বর্ণনা (خبر الآحاد) যখন তার চেয়ে শক্তিশালী দলিলের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তখন তার প্রামাণিকতার বিষয়টি, যা আমরা কিছু ফকিহদের মাঝে দেখতে পাই। কারণ সেই বিরোধটি মূলত একক বর্ণনার প্রামাণিকতা স্বীকারকারীদের মধ্যেই বিদ্যমান ছিল, অথচ বর্তমান আলোচনাটি মূলত খোদ প্রামাণিকতার মূলনীতির ওপরই নিবদ্ধ।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ৪)
على أن في البحث إشارة إلى ما يشبه الخيط الرابط بين موقف من ينكرون حجية خبر الآحاد، وموقف من ينفون عنه الحجية إذا تعارض مع ما هو أقوى منه.

كما لم يتجه الاهتمام إلى استعراض الشروط الواجب توافرها في خبر الآحاد ليكون حجة؛ لأن ذلك يفرض إطالة ذيول البحث ويتحول به من بحث في الحجية إلى بحث في شروط الحجية، والبحث في الشروط لا يتم إلا بتسليم المشروط، والبحث إنما هو فيه.

وأعترف – بعد كل هذا – أن البحث في الحجية يحتاج إلى مزيد من المكابدة في مسألة الرد على الشبه، وفي مسالة التعارض بين الأخبار، والشروط المنهجية لهذه الندوة، ومحدودية مدة الإنجاز من موانع الاسترسال في هذه المكابدة، والعزم معقود على استكمال القضايا الجزئية المكملة لهذه القضية الكلية: قضية حجية خبر الآحاد في العقائد والأحكام.
তবে এই গবেষণায় এমন একটি যোগসূত্রের ইঙ্গিত রয়েছে যা একাকী বর্ণিত সংবাদ (خبر الآحاد)-এর প্রামাণিকতা (حجية) অস্বীকারকারীদের অবস্থান এবং যারা এর প্রামাণিকতা (حجية) তখন অস্বীকার করেন যখন তা নিজের চেয়ে অধিক শক্তিশালী কোনো প্রমাণের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তাদের অবস্থানের মধ্যে একটি সাধারণ যোগসূত্র স্থাপন করে।

অনুরূপভাবে, একাকী বর্ণিত সংবাদ (خبر الآحاد) দলিল (حجة) হওয়ার জন্য যেসব শর্তাবলি থাকা আবশ্যক, তা পর্যালোচনার প্রতি এখানে মনোযোগ দেওয়া হয়নি; কারণ এটি গবেষণার কলেবরকে দীর্ঘায়িত করবে এবং একে প্রামাণিকতা (حجية) সংক্রান্ত আলোচনা থেকে সরিয়ে প্রামাণিকতার (حجية) শর্তাবলি সংক্রান্ত আলোচনায় পর্যবসিত করবে। অথচ শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা তখনই সম্ভব যখন মূল বিষয়টি (প্রামাণিকতা) স্বীকৃত হয়, আর এই গবেষণাটি মূলত সেই বিষয়টি নিয়েই আবর্তিত।

আমি স্বীকার করছি—এই সবকিছুর পর—যে প্রামাণিকতা (حجية) বিষয়ক এই গবেষণায় সংশয়সমূহ (شبهات) নিরসন এবং বর্ণনাগুলোর (أخبار) মধ্যকার বৈপরীত্য (تعارض) নিরসনের ক্ষেত্রে আরও অধিক শ্রমের প্রয়োজন ছিল। তবে এই সেমিনারের পদ্ধতিগত শর্তাবলি এবং কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়ের সীমাবদ্ধতা এই সাধনায় আরও নিবিড়ভাবে নিমগ্ন হওয়ার পথে অন্তরায় ছিল। তবে এই সামগ্রিক বিষয়ের পরিপূরক আংশিক বিষয়গুলো সম্পন্ন করার দৃঢ় সংকল্প রইল, আর বিষয়টি হলো: আকাইদ (عقائد) ও বিধিবিধান (أحكام)-এর ক্ষেত্রে একাকী বর্ণিত সংবাদ (خبر الآحاد)-এর প্রামাণিকতা (حجية)।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المبحث الأول: خبر الآحاد: التعاريف والنشأة

الخبر في اللغة هو النبأ، ويقصد به ما يخبر به أو يرويه شخص واحد (1) ويجمع على أخبار، والآحاد جمع أحد، وأصله وحد، وهو هنا بمعنى واحد، ولذلك يقال: خبر الواحد، وخبر الآحاد، وأخبار الآحاد.

أما خبر الآحاد اصطلاحاً فقد عرف بأنه: "ما كان من الأخبار غير مُنْتَهٍ إلى حد التواتر" (2) ، وعرف أيضاً بأنه: "ما لم يجمع شروط التواتر" (3) .

ومؤدى التعريفين أن خبر الآحاد لا ينحصر في الخبر الذي ينقله الواحد كما قد تفيده عبارة "خبر الواحد" بل يشمل الذي ينقله اثنان أو أكثر ما لم ينته إلى حد التواتر كما تفيده عبارة "خبر الآحاد". قال الزركشي: "وليس المراد ما يرويه الواحد فقط، وإن كان موضوع خبر الواحد في اللغة يقتضي وحدة المخبر الذي ينافيه التثنية والجمع، لكن وقع الاصطلاح به على كل ما لا يفيد القطع، وإن كان المخبر به جمعاً إذا نقصوا عن حد التواتر" (4) .

أما نشأة المصطلح فلم أهتد بعدُ إلى نصوص تبين أول من أطلقه،

--------------------------------------------

(1) قال في لسان العرب: "الخبر ما أتاك من نبأ عمن تستخبر" مادة خبر.

(2) البحر المحيط 1/255-256، وشرح الديباج المذهب في مصطلح الحديث لشمس الدين التبريزي.

(3) نزهة النظر لابن حجر ص 26.

(4) البحر المحيط1/255-256.
প্রথম পরিচ্ছেদ: খবরুল ওয়াহিদ (خبر الآحاد): সংজ্ঞা এবং উৎপত্তি

অভিধান অনুযায়ী 'খবর' হলো সংবাদ বা বার্তা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন বিষয় যা কোনো একজন ব্যক্তি অবগত করেন বা বর্ণনা করেন (১)। এর বহুবচন হলো 'আখবার'। আর 'আহাদ' (آحاد) হলো 'আহাদ' (أحد)-এর বহুবচন, যার মূল শব্দ হলো 'ওয়াহদ' (وحد)। এখানে এটি 'এক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এই কারণেই একে 'খবরুল ওয়াহিদ', 'খবরুল আহাদ' এবং 'আখবারুল আহাদ' বলা হয়।

আর পারিভাষিক অর্থে খবরুল ওয়াহিদ (خبر الآحاد)-এর সংজ্ঞা এভাবে দেওয়া হয়েছে যে: "এটি এমন সংবাদ যা মুতাওয়াতির (تواتر)-এর পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছায়নি" (২)। এর আরও একটি সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে যে: "যাতে মুতাওয়াতির (تواتر)-এর শর্তাবলি পূর্ণ হয়নি" (৩)।

এই দুটি সংজ্ঞার সারমর্ম হলো, খবরুল ওয়াহিদ (خبر الآحاد) কেবল সেই সংবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় যা একজন মাত্র ব্যক্তি বর্ণনা করেন, যেমনটি 'খবরুল ওয়াহিদ' শব্দবন্ধ থেকে প্রতীয়মান হতে পারে। বরং এতে এমন সংবাদও অন্তর্ভুক্ত যা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, যতক্ষণ না তা মুতাওয়াতির (تواتر)-এর পর্যায়ে পৌঁছায়, যা 'খবরুল আহাদ' শব্দবন্ধ দ্বারা বুঝা যায়। ইমাম যারকশি বলেন: "এর দ্বারা কেবল একজনের বর্ণনা উদ্দেশ্য নয়, যদিও ভাষাগতভাবে 'খবরুল ওয়াহিদ' শব্দটি এমন একজন বর্ণনাকারীকে দাবি করে যা দ্বিবচন বা বহুবচনের পরিপন্থী। তবে পারিভাষিক ক্ষেত্রে এটি এমন প্রতিটি সংবাদের জন্য নির্ধারিত যা অকাট্য নিশ্চিত (القطع) জ্ঞান প্রদান করে না, যদিও বর্ণনাকারী একটি দল হয়, তবে তারা মুতাওয়াতির (تواتر)-এর সংখ্যার চেয়ে কম" (৪)।

এই পরিভাষার উৎপত্তির বিষয়ে আমি এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্যসূত্র খুঁজে পাইনি যা স্পষ্ট করে যে, সর্বপ্রথম কে এই পরিভাষাটি প্রয়োগ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব অভিধানে বলা হয়েছে: "খবর হলো এমন সংবাদ যা তোমার কাছে আসে এমন ব্যক্তি থেকে যার কাছে তুমি সংবাদ জানতে চাও", 'খবর' অধ্যায়।

(2) আল-বাহরুল মুহিত ১/২৫৫-২৫৬, এবং শামসুদ্দিন আত-তিবরিজি রচিত শারহুদ দিবাজিল মুযাহহাব ফি মুসতালাহুল হাদিস।

(3) ইবনে হাজার রহ. রচিত নুযহাতুন নাযার, পৃষ্ঠা ২৬।

(4) আল-বাহরুল মুহিত ১/২৫৫-২৫৬।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ৬)
لكن ما أستطيع أن أجزم به أن المصطلح قديم، وأقل ما يمكن قوله: إنه استعمل في أوائل المائة الثانية، فقد استعمله الإمام الشافعي رحمه الله (ت: 204هـ) في ((الرسالة)) تسع عشرة مرة بعبارة "خبر الواحد" (1) واستعمله مرات في كتابه "اختلاف الحديث" (2) وفي كتابه "جماع العلم" (3) .

كما استعمله الإمام البخاري (ت: 256هـ) في ((صحيحه)) وقد ترجم لأحد أبواب "كتاب الأحكام" (4) بعنوان: ((باب ما جاء في إجازة خبر الواحد الصدوق في الأذان والصلاة والصوم والفرائض والأحكام)) .

وهذا يدل على أن تقسيم الأخبار إلى متواتر وآحاد، أو إلى متواتر ومشهور وآحاد، لم يعده العلماء المتقدمون -فيما اطلعت عليه- بدعة، وإن أوهمت عبارة بعض الباحثين المعاصرين أن هذا التقسيم بدعة؛ فقد كرر الأستاذ القاضي برهون ((أن تقسيم الأخبار إلى متواتر وآحاد من ابتداع الجهمية والمعتزلة والرافضة)) (5) ، "فخالفوا بهذا التقسيم إجماع

--------------------------------------------

(1) انظر الرسالة ص: 369-383-384-386-387-390-401-407-408-410-433-435-453-457-458.

(2) من بداية الجزء السابع من الأم إلى ص 38.

(3) في الجزء السابع من الأم من ص 250.

(4) وقع في نسخة الصغاني كتاب أخبار الآحاد، وعلى ما في هذه النسخة فقد خصص البخاري كتابا لأخبار الآحاد، والكتاب يحتوي على أبواب، وعلى ما في النسخ الأخرى يكون هذا الباب وما بعده من أبواب كتاب الأحكام، أو يكون من جملة أبواب كتاب الاعتصام بعده، وهو مناسب له فيكون تقديمه عليه من فعل بعض المبيضين للكتاب، كما ذكر الحافظ ابن حجر في فتح الباري 27/268.

(5) خبر الواحد في التشريع الإسلامي وحجيته ص 92.
তবে আমি যা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি তা হলো, এই পরিভাষাটি প্রাচীন। অন্তত এটুকু বলা যেতে পারে যে, এটি দ্বিতীয় হিজরি শতকের শুরুর দিকে ব্যবহৃত হয়েছে। ইমাম শাফিয়ি রহিমাহুল্লাহ (মৃ: ২০৪ হি.) তার 'আর-রিসালা' গ্রন্থে উনিশ বার "খবরে ওয়াহিদ (خبر الواحد)" অভিব্যক্তিটি ব্যবহার করেছেন (১) এবং তার 'ইখতিলাফুল হাদিস' (২) ও 'জিমাউল ইলম' (৩) গ্রন্থেও কয়েকবার এটি ব্যবহার করেছেন।

একইভাবে ইমাম বুখারি (মৃ: ২৫৬ হি.) তার 'সহিহ' গ্রন্থে এটি ব্যবহার করেছেন এবং তিনি 'কিতাবুল আহকাম'-এর (৪) একটি পরিচ্ছেদের শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে: "অধ্যায়: আজান, সালাত, সাওম, ফারায়েজ ও বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে সত্যবাদী (الصدوق) ব্যক্তির খবরে ওয়াহিদ (خبر الواحد) গ্রহণ করা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে"।

এটি নির্দেশ করে যে, সংবাদসমূহকে মুতাওয়াতির (متواتر) ও আহাদ (آحاد), অথবা মুতাওয়াতির (متواتر), মাশহুর (مشهور) ও আহাদ (آحاد)-এ বিভক্ত করাকে পূর্ববর্তী আলেমগণ—আমার জানামতে—বিদআত গণ্য করেননি; যদিও আধুনিক সময়ের কিছু গবেষকের বক্তব্যে এমন সংশয় জাগতে পারে যে এই বিভাজনটি একটি বিদআত। যেমন উস্তাদ কাজি বারহুন পুনরাবৃত্তি করেছেন যে, "সংবাদকে মুতাওয়াতির (متواتر) ও আহাদ (آحاد)-এ বিভক্ত করা জাহমিয়া, মুতাজিলা ও রাফেজিদের উদ্ভাবন (বিদআত)" (৫), "তারা এই বিভাজনের মাধ্যমে ইজমার (إجماع) বিরোধিতা করেছেন..."

--------------------------------------------

(১) দেখুন আর-রিসালা, পৃষ্ঠা: ৩৬৯-৩৮৩-৩৮৪-৩৮৬-৩৮৭-৩৯০-৪০১-৪০৭-৪০৮-৪১০-৪৩৩-৪৩৫-৪৫৩-৪৫৭-৪৫৮।

(২) আল-উম্ম-এর সপ্তম খণ্ডের শুরু থেকে ৩৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

(৩) আল-উম্ম-এর সপ্তম খণ্ডের ২৫০ পৃষ্ঠা থেকে।

(৪) সাগানি-র পাণ্ডুলিপিতে 'কিতাবু আখবারিল আহাদ' (أخبار الآحاد) হিসেবে এসেছে। এই কপি অনুযায়ী, ইমাম বুখারি খবরে ওয়াহিদ (أخبار الآحاد)-এর জন্য একটি স্বতন্ত্র কিতাব বরাদ্দ করেছেন এবং কিতাবটি বিভিন্ন পরিচ্ছেদ সংবলিত। অন্যান্য পাণ্ডুলিপির বর্ণনা অনুযায়ী, এই পরিচ্ছেদ এবং এর পরবর্তী পরিচ্ছেদগুলো 'কিতাবুল আহকাম'-এর অন্তর্ভুক্ত, অথবা এর পরবর্তী 'কিতাবুল ইতিসাম'-এর পরিচ্ছেদসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি তার সাথেই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে একে আগে নিয়ে আসা কোনো পাণ্ডুলিপি লিপিকারের কাজ হতে পারে, যেমনটি হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারিতে ২৭/২৬৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

(৫) খবরুল ওয়াহিদ ফিত তাশরিইল ইসলামি ওয়া হুজজিয়্যাতুহু, পৃষ্ঠা ৯২।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ৭)
الصحابة والتابعين" (1) . فهو إذاً " قول محدث من غير أهل الحديث" (2) لكنه لم يلبث أن استدرك قائلا: "وهذا لا يعني أن ما رواه العدد الكثير الذي اصطلح عليه بالمتواتر غير موجود فهو واقع فعلاً، وموجود بكثرة، وإنما نعني ما أدى إليه التقسيم من آثار على ما روي آحادا وهو أكثر" (3) .

فالمستنكر ليس تقسيم الأخبار في حد ذاته؛ إذ لا ينتج عنه ما يخدش حجية السنة، وإنما المستنكر ما بناه بعض الناس على التقسيم، فكان لازماً بيان أن المبتدع ليس أصل التقسيم، وإنما المبتدع ما فرعوه على التقسيم من القبول أو الرد، وإلا فكثير من المصطلحات الحديثية غير معروفة في عهد الصحابة رضوان الله عليهم، فهل يقال: إن تلك المصطلحات بدع غير محمودة؟!

ألا ترى أن ابن القيم رحمه الله لم ينتقد تقسيم الأخبار نفسه، وإنما انتقد تقسيم الدين إلى ما يثبت بخبر الواحد وما لا يثبت، فقال: "تقسيم الدين إلى ما يثبت بخبر الواحد وما لا يثبت به تقسيم غير مطرد، ولا منعكس، ولا عليه دليل صحيح" (4) .

فها أنت ترى ابن القيم لم ينكر تقسيم السنة إلى متواتر وآحاد، وإنما

--------------------------------------------

(1) السابق ص 93.

(2) السابق ص 94.

(3) السابق ص 93.

(4) مختصر الصواعق المرسلة ص 495.
সাহাবীগণ (الصحابة) এবং তাবিঈগণ (التابعين)" (১)। সুতরাং এটি হলো "হাদিস বিশারদগণ (أهل الحديث) ব্যতীত অন্যদের পক্ষ থেকে তৈরিকৃত একটি নব উদ্ভাবিত কথা (قول محدث)" (২)। তবে তিনি অনতিবিলম্বে সংশোধন করে বলেন: "এর অর্থ এই নয় যে, অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত হাদিস যা মুতাওয়াতির (المتواتر) হিসেবে পরিভাষিত হয়েছে তা অস্তিত্বহীন; বরং বাস্তবে এর অস্তিত্ব রয়েছে এবং প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। আমরা মূলত সেই প্রভাবগুলো বুঝাতে চেয়েছি যা এই বিভাজনের ফলে একক সূত্রে বর্ণিত (آحادا) বর্ণনার ওপর পড়েছে, যেগুলোর সংখ্যাই বেশি" (৩)।

সুতরাং আপত্তিকর বিষয়টি খবরের (الأخبار) মূল বিভাজন নয়; কারণ এর ফলে সুন্নাহর প্রামাণিকতার (حجية السنة) কোনো ক্ষতি হয় না। বরং আপত্তিকর হলো সেই বিষয় যা কিছু লোক এই বিভাজনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছে। তাই এটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, বিদআত (المبتدع) বা নব আবিষ্কৃত বিষয় এই বিভাজনের মূল নীতিটি নয়, বরং বিদআত হলো সেই শাখা-প্রশাখা যা তারা এই বিভাজনের ওপর ভিত্তি করে গ্রহণ (القبول) বা বর্জনের (الرد) ক্ষেত্রে তৈরি করেছে। অন্যথায়, হাদিস শাস্ত্রের অনেক পরিভাষাই সাহাবীগণের (رضوان الله عليهم) যুগে পরিচিত ছিল না; তবে কি বলা হবে যে, সেই পরিভাষাগুলো নিন্দনীয় বিদআত (بدع غير محمودة)?!

আপনি কি দেখছেন না যে, ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) খবরের (الأخبار) বিভাজনকে সমালোচনা করেননি, বরং তিনি দ্বীনকে এমনভাবে ভাগ করার সমালোচনা করেছেন যেখানে কিছু বিষয় একব্যক্তি বর্ণিত সংবাদের (خبر الواحد) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় আর কিছু হয় না। তিনি বলেন: "দ্বীনকে এমনভাবে ভাগ করা যা একব্যক্তি বর্ণিত সংবাদের (خبر الواحد) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় এবং যা এর দ্বারা সাব্যস্ত হয় না—তা এমন এক বিভাজন যা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সংজ্ঞার অনুকূল নয় এবং এর কোনো সঠিক দলিল (دليل صحيح) নেই" (৪)।

সুতরাং আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, ইবনুল কাইয়্যিম সুন্নাহকে মুতাওয়াতির (متواتر) এবং আহাদ (آحاد) হিসেবে বিভক্ত করাকে অস্বীকার করেননি, বরং...

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৩।

(২) প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৪।

(৩) প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৩।

(৪) মুখতাসারুস সাওয়াইকুল মুরসালাহ, পৃ. ৪৯৫।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ৮)
أنكر تقسيم الدين إلى ما يثبت بخبر الواحد كالأحكام، وإلى ما لا يثبت به وهو العقائد، ولعل هذا ما حاول الأستاذ القاضي برهون التعبير عنه بقوله: "ومن نظر فيما ذكرنا علم أن تقسيم الدين إلى متواتر وآحاد، وعقائد وفروع باطل" (1) لكن ما عبر عنه غير ما عبر عنه ابن القيم، والباطل الذي حكم به يحتاج إلى دليل، وإلا فما الذي دفع أميرُ المؤمنين في الحديث الإمامُ البخاريُّ إلى عقد باب بعنوان: باب ما جاء في إجازة خبر الواحد.. في صحيحه؟ فهل الدافع هو رده التفرقة بين المجالين كما يتضح من الأحاديث التي ساقها؟ وهل ذلك إقرار منه بصحة التقسيم وبِرَدِّ التفرقة بين العقائد والأحكام، كما صنع الإمام الشافعي في الرسالة؟

وادَّعى الأستاذ بعد ذلك أن تقسيم الأصوليين للحديث إلى متواتر وآحاد كان نتيجة تأثرهم بمنهج المعتزلة (2) .

لكن كلام الشافعي – وهو رأس الأصوليين، ومن أعلام المحدِّثين – يفيد أن هذا التقسيم معروف في عهده، بدليل تكراره لمصطلح "خبر الواحد" كما سبق، وبدليل قوله: "لأن الأخبار كلما تواترت وتظاهرت كان أثبت للحجة وأطيب لنفس السامع" (3) .

فقوله: "لأن الأخبار كلما تواترت" إقرار منه بوجود أحاديث متواترة، وإن أمكن ادعاء أن التواتر في كلامه يحتمل المعنى اللغوي بدليل

--------------------------------------------

(1) خبر الواحد ص 98.

(2) خبر الواحد للقاضي برهون ص97.

(3) الرسالة ص 433.
তিনি দ্বীনকে এমনভাগে বিভক্ত করা অস্বীকার করেছেন যা একক ব্যক্তির বর্ণনা (خبر الواحد) দ্বারা প্রমাণিত হয় যেমন বিধানাবলী (الأحكام), এবং যা এর দ্বারা প্রমাণিত হয় না অর্থাৎ আকিদাহ (عقائد)। সম্ভবত উস্তাদ আল-কাদি বারহুন এটিই তার এই উক্তির মাধ্যমে ব্যক্ত করার চেষ্টা করেছেন: “আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে যে দৃষ্টিপাত করবে সে জানবে যে, দ্বীনকে মুতাওয়াতির (متواتر) ও আহাদ (آحاد) এবং আকিদাহ (عقائد) ও শাখা-প্রশাখায় (فروع) বিভক্ত করা বাতিল।” (১) কিন্তু তিনি যা ব্যক্ত করেছেন তা ইবনুল কাইয়্যিম যা ব্যক্ত করেছেন তার থেকে ভিন্ন। আর তিনি যে বাতিলের রায় দিয়েছেন তার জন্য দলিলের প্রয়োজন। অন্যথায়, কিসের তাড়নায় হাদিসশাস্ত্রে আমিরুল মুমিনিন ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে ‘একক ব্যক্তির বর্ণনা (خبر الواحد) অনুমোদন প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে’ শিরোনামে একটি অধ্যায় বিন্যাস করলেন? তবে কি এর প্রেরণা ছিল এই দুই ক্ষেত্রের মধ্যে পার্থক্যের বিরোধিতা করা, যেমনটি তার উপস্থাপিত হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট হয়? এবং এটি কি তার পক্ষ থেকে এই বিভক্তির বৈধতার স্বীকৃতি এবং আকিদাহ (عقائد) ও বিধানাবলীর (الأحكام) মধ্যে পার্থক্যের খণ্ডন, যেমনটি ইমাম শাফেয়ী আর-রিসালা গ্রন্থে করেছেন?

উস্তাদ এরপর দাবি করেছেন যে, উসুলবিদদের (الأصوليين) পক্ষ থেকে হাদিসকে মুতাওয়াতির (متواتر) ও আহাদ (آحاد) ভাগে বিভক্ত করা মুতাযিলাদের (المعتزلة) পদ্ধতির দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ফল ছিল। (২) .

কিন্তু শাফেয়ীর বক্তব্য—যিনি উসুলবিদদের (الأصوليين) প্রধান এবং হাদিসবিশারদদের (المحدثين) অন্যতম পথিকৃৎ—প্রমাণ করে যে, এই বিভাজন তার যুগে সুপরিচিত ছিল; যার প্রমাণ হলো তার ‘একক ব্যক্তির বর্ণনা’ (خبر الواحد) পরিভাষাটির বারবার ব্যবহার, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার এই উক্তিও এর প্রমাণ: “কেননা সংবাদসমূহ যত বেশি মুতাওয়াতির (تواتر) ও সুসংবদ্ধ হয়, তা প্রমাণ (حجة) হিসেবে তত বেশি সুদৃঢ় হয় এবং শ্রোতার হৃদয়ের জন্য অধিক প্রশান্তিদায়ক হয়।” (৩) .

সুতরাং তার উক্তি: “কেননা সংবাদসমূহ যত বেশি মুতাওয়াতির (تواتر) হয়” এটি তার পক্ষ থেকে মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিস বিদ্যমান থাকার স্বীকৃতি, যদিও দাবি করা সম্ভব যে তার বক্তব্যে ‘তাওয়াতুর’ (تواتر) শব্দটি আভিধানিক অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে...

--------------------------------------------

(১) খবরুল ওয়াহিদ, পৃ. ৯৮।

(২) কাদি বারহুন রচিত খবরুল ওয়াহিদ, পৃ. ৯৭।

(৩) আর-রিসালা, পৃ. ৪৩৩।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ৯)
عطف التظاهر عليه.

ومن ثم فلا نُسَلِّم قول من قال: "لم يذكر التواتر باسمه الخاص إلا الحاكم النيسابوري (ت: 405هـ) وابن حزم (ت: 456هـ) والخطيب البغدادي (ت: 463هـ) وابن عبد البر (ت: 463هـ) وابن الصلاح (ت: 643هـ) ، وقد تبعوا فيه أهل الأصول (1) "، لوجود إشارات قوية للمتواتر في كلام الإمام الشافعي في النص السابق، وقد وافق مناظره على إطلاق التواتر في قوله: "فما الوجه الثاني؟ قال: تواتر الأخبار، فقلت له حدد لي تواتر الأخبار بأقل ما يثبت الخبر … ؟ " (2) فهو لم ينكر تقسيم مناظره الأخبار، وإلا لقال له: لقد جئت شيئاً نكراً بابتداعك تواتر الأخبار.

بل إن ابن القيم نفسه قسم الأخبار المقبولة في باب الأمور الخبرية العلمية أربعة أقسام: متواترة لفظاً ومعنى، ومتواترة معنى لا لفظاً، ومستفيضة متلقاة بالقبول بين الأمة، وأخبار آحاد عدول (3) ، فكيف ينكر التقسيم، ثم يقره؟

ونقل عن شيخه ابن تيمية رحمه الله أنه قسم الأخبار إلى متواتر وآحاد (4) .

--------------------------------------------

(1) خبر الواحد (مرجع سابق) ص 96.

(2) جماع العلم بهامش الأم 7/258-259.

(3) مختصر الصواعق المرسلة ص 453.

(4) السابق ص 464.
এর ওপর সমর্থনকে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ফলে যারা বলেন তাদের বক্তব্য আমরা মেনে নিচ্ছি না যে: “মুতাওয়াতির (تواتر)-কে এর নির্দিষ্ট নামে কেবল আল-হাকিম আন-নিশাপুরি (মৃত: ৪০৫ হি.), ইবনে হাজম (মৃত: ৪৫৬ হি.), আল-খতিব আল-বাগদাদি (মৃত: ৪৬৩ হি.), ইবনে আবদিল বার (মৃত: ৪৬৩ হি.) এবং ইবনে আস-সালাহ (মৃত: ৬৪৩ হি.) উল্লেখ করেছেন এবং তারা এ বিষয়ে মূলনীতিবিদদের (أهل الأصول) (১) অনুসরণ করেছেন”, কেননা পূর্বোক্ত পাঠে ইমাম শাফিঈর বক্তব্যে মুতাওয়াতির (متواتر)-এর ব্যাপারে শক্তিশালী ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি তার বিতর্ককারীর মুতাওয়াতির (تواتر) শব্দের ব্যবহারের সাথে একমত পোষণ করেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: “তাহলে দ্বিতীয় দিকটি কী? তিনি বললেন: সংবাদসমূহের মুতাওয়াতির (تواتر) হওয়া। তখন আমি তাকে বললাম, আমার কাছে সংবাদসমূহের মুতাওয়াতির (تواتر) হওয়ার সীমা নির্ধারণ করুন যা দ্বারা সর্বনিম্ন পর্যায়ে কোনো সংবাদ (خبر) সাব্যস্ত হয় … ? (২)”। অতএব তিনি তার বিতর্ককারীর সংবাদসমূহের শ্রেণিবিন্যাসকে অস্বীকার করেননি; নতুবা তিনি তাকে বলতেন: সংবাদসমূহের মুতাওয়াতির (تواتر) হওয়ার বিষয়টি উদ্ভাবন করে আপনি এক গর্হিত কাজ করেছেন।

বরং ইবনে আল-কাইয়িম নিজেই ইলমি সংবাদ সংক্রান্ত অধ্যায়ে গ্রহণযোগ্য (مقبولة) সংবাদসমূহকে চার ভাগে ভাগ করেছেন: শব্দগত ও অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির (متواترة), শব্দগতভাবে না হলেও অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির (متواترة), উম্মাহর নিকট সর্বজনগৃহীত (متلقاة بالقبول) সুপ্রসিদ্ধ (مستفيضة) এবং ন্যায়পরায়ণ (عدول) একক (آحاد) সংবাদসমূহ (৩)। তবে তিনি কীভাবে এই শ্রেণিবিন্যাসকে অস্বীকার করেন, আবার পরবর্তীতে তা স্বীকার করে নেন?

তাঁর শিক্ষক ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সংবাদসমূহকে মুতাওয়াতির (متواتر) এবং একক (آحاد) এই দুই ভাগে ভাগ করেছেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) খাবরুল ওয়াহিদ (পূর্বোক্ত সূত্র) পৃ. ৯৬।

(২) আল-উম্ম-এর টীকায় ‘জিমাউল ইলম’ ৭/২৫৮-২৫৯।

(৩) মুখতাসার আস-সওয়ায়িক আল-মুরসালাহ পৃ. ৪৫৩।

(৪) পূর্বোক্ত পৃ. ৪৬৪।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌المبحث الثاني: جهود العلماء في التأليف والدفاع عن حجية خبر الآحاد

يتسم أسلوب العلماء في دفاعهم عن حجية خبر الآحاد بالإسهاب والإيعاب والقوة، مما ينبئ عن كثرة الدوافع التي دفعتهم للإفاضة في الاستدلال، وأهم هذه الدوافع ثلاثة.

الأول: قوة الخلاف وكثرة التشغيب اللذان يوردهما المخالفون.

الثاني: رغبة هؤلاء العلماء في استئصال تشغيب المخالفين المنكرين لحجية خبر الواحد مطلقاً، أو لحجيته في العقائد.

الثالث: خطورة الأثر الذي يخلفه القول بعدم حجية خبر الواحد من حيث إفضاؤه إلى إنكار معظم السنة، فإذا ترك هذا القول دون تفنيد فربما يغتر به الكثيرون في رد السنن.

ويتعين استحضار هذه الدوافع أثناء تتبع استدلالات العلماء، حتى إذا نبتت نابتة جديدة تدعو إلى رفض خبر الواحد جملة أو إلى رفضه في العقائد ووجهت بهذه الأدلة الموعبة، وأضيفت إليها أدلة أخرى قد تستنبط بالنظر في نصوص أخرى في الشرع.

وأكثر من أفاضوا في الاستدلال لحجية خبر الواحد من السلف: الإمام الشافعي رحمه الله، ثم الإمام البخاري، وسار كثير من العلماء على منوالهما كالإمام ابن حزم في ((الإحكام)) ، وكالحافظ ابن عبد البر في كتابه: "جامع بيان العلم وفضله.." وفي مناسبات في كتاب "التمهيد"
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থনা এবং একব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত সংবাদের (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা (حجية) রক্ষার ক্ষেত্রে আলেমদের প্রচেষ্টা

একব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত সংবাদের (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা (حجية) রক্ষার ক্ষেত্রে আলেমদের অনুসৃত পদ্ধতিটি বিস্তারিত, ব্যাপক এবং শক্তিশালী; যা দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনে তাঁদের বিস্তারিত আলোচনার পেছনে বহুবিধ কারণের উপস্থিতিকে নির্দেশ করে। আর এই কারণগুলোর মধ্যে প্রধান তিনটি হলো:

প্রথমত: বিরোধীদের উত্থাপিত মতভেদের প্রবলতা এবং তাদের সৃষ্টি করা অত্যধিক বিভ্রান্তি।

দ্বিতীয়ত: একব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত সংবাদের (خبر الواحد) প্রামাণিকতাকে (حجية) যারা ঢালাওভাবে অস্বীকার করে অথবা আকিদার (العقائد) ক্ষেত্রে এর প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করে, সেই সব বিরোধীদের বিভ্রান্তি সমূলে উৎপাটিত করার ব্যাপারে এই আলেমদের ঐকান্তিক ইচ্ছা।

তৃতীয়ত: একব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত সংবাদ (خبر الواحد) প্রামাণ্য না হওয়ার উক্তির ভয়াবহ প্রভাব; যা সুন্নাহর অধিকাংশ অংশকে অস্বীকার করার দিকে ধাবিত করে। সুতরাং এই উক্তিটিকে যদি খণ্ডন করা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে অনেকেই সুন্নাহ প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে এর দ্বারা প্রতারিত হতে পারে।

আলেমদের উপস্থাপিত দলিলসমূহ পর্যালোচনার সময় এই কারণগুলোকে স্মরণে রাখা আবশ্যক, যাতে করে পরবর্তীতে যদি নতুন কোনো গোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে যারা একব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত সংবাদকে (خبر الواحد) সামগ্রিকভাবে অথবা আকিদার ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানায়, তবে যেন তাদের এই সকল ব্যাপক দলিলের মাধ্যমে মোকাবিলা করা যায় এবং সেই সাথে শরিয়তের অন্যান্য মূল পাঠসমূহ (نصوص) থেকে উদ্ভাবিত আরও দলিলও সংযোজন করা সম্ভব হয়।

সালাফদের (السلف) মধ্যে যারা একব্যক্তি কর্তৃক বর্ণিত সংবাদের (خبر الواحد) প্রামাণিকতার (حجية) সপক্ষে সবচেয়ে বিস্তারিত দলিল পেশ করেছেন তারা হলেন: ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ), অতঃপর ইমাম বুখারি। পরবর্তীতে বহু আলেম তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, যেমন: আল-ইহকাম গ্রন্থে ইমাম ইবনে হাজম এবং হাফেজ ইবনে আব্দুল বার তাঁর ‘জামেউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি’ গ্রন্থে ও ‘আত-তামহিদ’ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ১১)
وفي كتابه الذي ألفه في الموضوع بعنوان: "الشواهد في إثبات خبر الواحد" الذي قال عنه في مقدمة كتابه "التمهيد": "وقد أفردت لذلك كتاباً موعباً كافياً، والحمد لله" (1) .

وكالخطيب البغدادي في كتابه: "الدلائل والشواهد على صحة العمل بخبر الواحد" (2) وفي كتابه: "الكفاية في علم الرواية" الذي عقد فيه باباً لصحة العمل بخبر الواحد.

وألف الإمام السيوطي (ت: 911هـ) كتابا في الاحتجاج بالسنة سمَّاه: "مفتاح الجنة في الاحتجاج بالسنة".

أما الإمام الشافعي فقد أطال في الاحتجاج لخبر الواحد في ثلاثة من كتبه هي:

- ((كتاب الرسالة))

- ((كتاب اختلاف الحديث))

- ((كتاب جماع العلم))

وذكر الزركشي أن الشافعي صنف كتاباً في إثبات العمل بخبر الواحد أورد فيه نحواً من ثلاثمائة حديث، وذكر وجوه الاستدلال فيها (3) .

--------------------------------------------

(1) التمهيد 1/2 وكرر ذكره في الجزء الخامس ص 116.

(2) ذكره في كتابه الكفاية في علم الرواية ص 66.

(3) انظر البحر المحيط 1/261، قال ذكر في أوله الحديث المشهور: (رحم الله امرأً سمع مقالتي…) فاعترض أبو داود وقال: أثبت خبر الواحد بخبر الواحد، والشيء لا يثبت بنفسه…قال الأصحاب: هذا الذي ذكره باطل، فإن الشافعي لم يستدل بحديث واحد، وإنما ذكر نحوا من ثلاثمائة حديث وذكر وجوه الاستدلال فيها فالمجموع هو الدال عليه…" البحر المحيط 1/261.
এবং এই বিষয়ে তাঁর রচিত কিতাব—যার শিরোনাম: "আশ-শাওয়াহিদ ফি ইসবাত খাবরিল ওয়াহিদ", যে সম্পর্কে তিনি তাঁর "আত-তামহিদ" কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন: "আর আমি এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত ও পর্যাপ্ত কিতাব আলাদাভাবে রচনা করেছি, আলহামদুলিল্লাহ" (১)।

অনুরূপভাবে খতিব আল-বাগদাদি তাঁর কিতাব: "আদ-দালাইল ওয়াশ-শাওয়াহিদ আলা সিহহাতিল আমাল বি-খাবরিল ওয়াহিদ" (২) এবং তাঁর কিতাব: "আল-কিফায়া ফি ইলমির রিওয়ায়াহ"-তে, যেখানে তিনি একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল করার বিশুদ্ধতা (صحة) বিষয়ে একটি অধ্যায় পরিচ্ছেদ করেছেন।

ইমাম সুয়ুতি (মৃ. ৯১১ হিজরি) সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: "মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজ বিস সুন্নাহ"।

আর ইমাম শাফিঈ তাঁর তিনটি কিতাবে একক বর্ণনাকে দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج لخبر الواحد) বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, সেগুলো হলো:

- কিতাবুর রিসালাহ

- কিতাবু ইখতিলাফিল হাদিস

- কিতাবু জিমাইল ইলম

আয-যারকাশি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম শাফিঈ একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল করার বৈধতা প্রমাণে একটি কিতাব রচনা করেছেন, যেখানে তিনি প্রায় তিনশ হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর দলিল পেশের পদ্ধতিসমূহ (وجوه الاستدلال) বর্ণনা করেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) আত-তামহিদ ১/২; এবং ৫ম খণ্ড ১১৬ পৃষ্ঠায় পুনরায় এর উল্লেখ করেছেন।

(২) তিনি এটি তাঁর আল-কিফায়া ফি ইলমির রিওয়ায়াহ কিতাবের ৬৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

(৩) দেখুন আল-বাহরুল মুহিত ১/২৬১; তিনি বলেন, তিনি এর শুরুতে একটি প্রসিদ্ধ হাদিস (الحديث المشهور) উল্লেখ করেছেন: (আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করুন যে আমার কথা শুনেছে...) তখন আবু দাউদ আপত্তি (اعترض) করে বললেন: তিনি একক বর্ণনা (خبر الواحد) দিয়ে একক বর্ণনার (خبر الواحد) সত্যতা প্রমাণ করেছেন, অথচ কোনো বিষয় নিজের দ্বারা নিজে প্রমাণিত হয় না... মাযহাবের আলেমগণ (الأصحاب) বললেন: তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা বাতিল (باطل); কারণ ইমাম শাফিঈ কেবল একটি হাদিস দিয়ে দলিল পেশ (استدل) করেননি, বরং তিনি প্রায় তিনশ হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর দলিল পেশের পদ্ধতিসমূহ (وجوه الاستدلال) বর্ণনা করেছেন, সুতরাং সবগুলোর সমষ্টিই এর প্রমাণ বহন করে..." আল-বাহরুল মুহিত ১/২৬১।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ১২)
وقد ساق في هذه الكتب عشرات الأدلة في حجية خبر الواحد، معظمها من السنة، وبعضها من القرآن الكريم دون استقصاء للأدلة كما يفهم من قوله: "وفي تثبيت خبر الواحد أحاديث يكفي بعض هذا منها" (1) .

أما الإمام البخاري فقد ساق في صحيحه اثنين وعشرين حديثا لإثبات حجية خبر الواحد، واحد وعشرون حديثا مسندا، وواحد معلق عن ابن عباس، وهي موزعة على ستة أبواب، وكل باب مترجم بما يفيد وجوب العمل بخبر الواحد وهي:

1 – باب ما جاء في إجازة خبر الواحد الصدوق…

2 – باب بعث النبي صلى الله عليه وسلم الزبير طليعة وحده.

3 – باب قول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ} [الأحزاب: 53] فإن أذن واحد جاز.

4 – باب ما كان يبعث النبي صلى الله عليه وسلم من الأمراء والرسل واحداً بعد واحد.

5 – باب وصاة النبي صلى الله عليه وسلم ود العرب أن يبلغوا مَنْ وراءهم.

--------------------------------------------

(1) الرسالة ص 453.
তিনি এই গ্রন্থগুলোতে একক সংবাদের (خبر الواحد) প্রামাণিকতা (حجية) বিষয়ে বহু প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন, যার অধিকাংশই সুন্নাহ থেকে এবং কিছু অংশ পবিত্র কুরআন থেকে, তবে সকল প্রমাণের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ছাড়াই; যেমনটি তাঁর এই উক্তি থেকে বোঝা যায়: "একক সংবাদের (خبر الواحد) সাব্যস্তকরণের ক্ষেত্রে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যার মধ্যে সামান্যই যথেষ্ট।" (১) ।

আর ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে একক সংবাদের (خبر الواحد) প্রামাণিকতা (حجية) প্রমাণের জন্য বাইশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে একুশটি হাদিস মুসনাদ (مسندا) এবং একটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত মুআল্লাক (معلق)। এগুলো ছয়টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত এবং প্রতিটি অধ্যায়ের শিরোনাম এমনভাবে দেওয়া হয়েছে যা একক সংবাদের (خبر الواحد) ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়া (وجوب العمل) নির্দেশ করে, আর সেগুলো হলো:

১ – সত্যবাদী (الصدوق) রাবির একক সংবাদ (خبر الواحد) গ্রহণযোগ্য হওয়া প্রসঙ্গে অনুচ্ছেদ…

২ – নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক একা জুবাইরকে অগ্রবর্তী সেনাদল (طليعة) হিসেবে প্রেরণের অনুচ্ছেদ।

৩ – মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা নবীর ঘরসমূহে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না তোমাদের অনুমতি প্রদান করা হয়} [আল-আহজাব: ৫৩]। সুতরাং যদি একজন ব্যক্তিও অনুমতি দেয় তবে তা বৈধ।

৪ – নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আমির ও দূতদের একে একে প্রেরণের অনুচ্ছেদ।

৫ – নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আরবের প্রতিনিধি দলকে তাদের পেছনে থাকা লোকদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার অসিয়ত করার অনুচ্ছেদ।

--------------------------------------------

(১) আর-রিসালাহ, পৃষ্ঠা ৪৫৩।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ১৩)
6 – باب خبر المرأة الواحدة.

وتعدد هذه الأبواب قد يؤيد ما في نسخة الصغاني من ترجمته كتاب أخبار الآحاد، وتخصيص كتاب لأخبار الآحاد دليل على شدة اهتمام البخاري بإقامة البراهين على حجية خبر الواحد، وعلى القول بأنها أبواب ضمن كتاب "الاعتصام بالكتاب والسنة"، فإنَّ ذِكْرَه لهذه الأبواب تحت هذا الكتاب إشارة إلى أن من وسائل الاعتصام بالكتاب والسنة تثبيت حجية خبر الواحد.

وأضاف ابن حزم رحمه الله أدلة أخرى بطريقته الحجاجية القوية من مثل قوله: "من نشأ في قرية أو مدينة ليس بها إلا مقرئ واحد أو محدث واحد أو مفت واحد فنقول لمن خالفنا: ماذا تقولون: أيلزمه إذا قرأ القرآن على ذلك المقرئ أن يؤمن بما أقرأه، وأن يصدق بأنه كلام الله…؟ " (1) .

وتتابع العلماء بعدهم في إثبات حجية خبر الواحد بتضمين كتبهم أدلة حجية خبر الواحد، كما نجد عند ابن القيم في كتابه: "الصواعق المرسلة" فقد ضمنه مباحث في الاحتجاج بالسنة عامة، وفي الاحتجاج بخبر الواحد خاصة في مجال إثبات العقائد.

وللإمام أبي الحسن الأشعري (ت: 324هـ) إشارات إلى القضية في كتابه "الإبانة" ونجد عند معظم شراح كتب الحديث وقفات ينبهون فيها

--------------------------------------------

(1) الإحكام 1/99.
৬ – অধ্যায়: একজন মাত্র নারীর বর্ণনা (خبر المرأة الواحدة)।

এই অধ্যায়গুলোর আধিক্য সগণীর পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত তাঁর ‘কিতাব আখবারুল আহাদ’ শিরোনামকে সমর্থন করতে পারে। একক ব্যক্তির বর্ণনা (خبر الواحد)-এর জন্য একটি স্বতন্ত্র কিতাব নির্ধারণ করা একক ব্যক্তির বর্ণনার প্রামাণিকতা (حجية خبر الواحد) বিষয়ে প্রমাণাদি উপস্থাপনে বুখারীর গভীর গুরুত্ব প্রদানেরই প্রমাণ। আর এই মত অনুযায়ী যে, এগুলো ‘কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ’-এর অন্তর্গত কিছু অধ্যায়; তবে এই কিতাবের অধীনে অধ্যায়গুলো উল্লেখ করা এই বিষয়ের প্রতি ইশারা করে যে, কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার অন্যতম মাধ্যম হলো একক ব্যক্তির বর্ণনার প্রামাণিকতা (حجية خبر الواحد) সুপ্রতিষ্ঠিত করা।

ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর শক্তিশালী তর্কমূলক পদ্ধতিতে আরও কিছু দলিল যোগ করেছেন, যেমন তাঁর উক্তি: "যে ব্যক্তি এমন কোনো গ্রাম বা শহরে বড় হয়েছে যেখানে মাত্র একজন কুরআন পাঠক (مقرئ), একজন মুহাদ্দিস (محدث) অথবা একজন মুফতি (مفتي) ছাড়া আর কেউ নেই, তবে আমরা আমাদের বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলব: আপনারা কী বলেন? সে যদি সেই কুরআন পাঠকের নিকট কুরআন পাঠ করে, তবে কি সেই পঠিত বিষয়ের ওপর ঈমান আনা এবং তা আল্লাহর কালাম বলে বিশ্বাস করা কি তার জন্য আবশ্যক হবে না…?" (১)।

তাঁদের পরবর্তী উলামায়ে কেরামও তাঁদের কিতাবসমূহে একক ব্যক্তির বর্ণনার প্রামাণিকতা (حجية خبر الواحد)-এর দলিলসমূহ অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে তা প্রমাণের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। যেমনটি আমরা ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাব ‘আস-সওয়ায়েকুল মুরসালাহ’-তে দেখতে পাই; সেখানে তিনি সাধারণভাবে সুন্নাহর মাধ্যমে দলিল পেশ করা এবং বিশেষভাবে আকিদাহ প্রমাণের ক্ষেত্রে একক ব্যক্তির বর্ণনার প্রামাণিকতা (حجية خبر الواحد) সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী (মৃত্যু: ৩২৪ হিজরি) তাঁর ‘আল-ইবানা’ কিতাবে এই বিষয়ে ইঙ্গিত প্রদান করেছেন এবং হাদিসের অধিকাংশ ব্যাখ্যাকারদের নিকট আমরা এমন সব পর্যবেক্ষণ পাই যেখানে তাঁরা এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন

--------------------------------------------

(১) আল-ইহকাম ১/৯৯।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ১৪)
على حجية خبر الواحد، كما نجد عند ابن عبد البر في التمهيد، وعند النووي في "شرح مسلم"، وعند الحافظ ابن حجر في "فتح الباري".

فلا يتركون فرصة لإثبات حجية خبر الواحد من خلال شرح الأحاديث إلا انتهزوها، فابن عبد البر مثلا يجعل من فقه حديث أم سلمة (1) : "إيجاب العمل بخبر الواحد الثقة ذكراً كان أو أنثى، وعلى ذلك جماعة أهل الفقه والحديث وأهل السنة، ومن خالف ذلك فهو عند الجميع مبتدع … " (2) .

والنووي وابن حجر جعلا مِنْ فقه حديث معاذ بن جبل رضي الله عنه لما بعثه النبي صلى الله عليه وسلم إلى اليمن قبول خبر الواحد والعمل به.

أما الأصوليون فقد أبلَوا البلاء الحسن في الدفاع عن السنة، وعن خبر الآحاد خاصة، وقد عبر إمام الحرمين عن حسن بلائهم بقوله: "وقد أكثر الأصوليون، وطوَّلوا أنفاسهم في طرق الرد على المنكرين" (3) .

ولم يغفل المفسرون استثمار بعض الآيات لتثبيت حجية خبر الواحد، كالآيات التي استدل بها جمهور العلماء على حجية خبر الواحد (4) ، والتي سيأتي بعضها في المبحث الثالث.

--------------------------------------------

(1) وهو حديث: أن رجلاً قَبَّل امرأته وهو صائم في رمضان، فوجد من ذلك وجداً شديداً، فأرسل امرأته تسأل له عن ذلك، فدخلت على أم سلمة فذكرت ذلك لها، فأخبرتها أم سلمة أن رسول الله (يقبل وهو صائم، فرجعت فأخبرت زوجها بذلك … الحديث بطوله.

(2) التمهيد 5/115.

(3) البرهان 1/600.

(4) انظر مثلا: روح المعاني 26/146 وقارن بأحكام القرآن للجصاص 5/279.
একক সূত্রের সংবাদ (خبر الواحد) এর প্রামাণিকতার বিষয়ে, যেমনটি আমরা ইবনে আবদিল বারর-এর 'আত-তামহিদ', নববীর 'শরহ মুসলিম' এবং হাফেজ ইবনে হাজারের 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে দেখতে পাই।

সুতরাং তাঁরা হাদিসের ব্যাখ্যার মাধ্যমে একক সূত্রের সংবাদের (خبر الواحد) প্রামাণিকতা প্রমাণের কোনো সুযোগই হাতছাড়া করেননি। উদাহরণস্বরূপ, ইবনে আবদিল বারর উম্মে সালামার (১) বর্ণিত হাদিসের ফিকহ থেকে বর্ণনা করেছেন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة) একক সূত্রের সংবাদের (خبر الواحد) ওপর আমল করা ওয়াজিব, সে বর্ণনাকারী পুরুষ হোক বা নারী। ফিকহ ও হাদিস বিশারদগণ এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এ বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ, আর যারা এর বিরোধিতা করবে তারা সবার কাছেই বিদআতি (مبتدع) হিসেবে গণ্য..." (২)।

আর নববী এবং ইবনে হাজার মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযি.)-এর হাদিসের ফিকহ থেকে প্রমাণ করেছেন যে—যখন নবী (সা.) তাঁকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেছিলেন—একক সূত্রের সংবাদ (خبر الواحد) গ্রহণ করা এবং এর ওপর আমল করা বৈধ।

আর উসুলবিদগণ সুন্নাহর পক্ষে এবং বিশেষ করে একক সূত্রের সংবাদের (خبر الآحاد) পক্ষে প্রতিরক্ষা করতে গিয়ে চমৎকার ভূমিকা পালন করেছেন। ইমামুল হারামাইন তাঁদের এই বলিষ্ঠ ভূমিকার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন: "উসুলবিদগণ অস্বীকারকারীদের সংশয় নিরসনের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে অনেক বেশি এবং দীর্ঘ আলোচনা করেছেন" (৩)।

আর মুফাসসিরগণও একক সূত্রের সংবাদের (خبر الواحد) প্রামাণিকতা সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য কিছু আয়াতের ব্যবহার করতে ভোলেননি, যেমনটি জুমহুর উলামায়ে কেরাম একক সূত্রের সংবাদের (خبر الواحد) প্রামাণিকতার স্বপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন (৪), যার কিছু অংশ তৃতীয় পরিচ্ছেদে আসবে।

--------------------------------------------

(১) আর এটি হলো সেই হাদিস: জনৈক ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা থাকা অবস্থায় তাঁর স্ত্রীকে চুম্বন করেছিলেন, ফলে তিনি মনে মনে ভীষণ অনুশোচনা ও কষ্ট অনুভব করলেন। তাই তিনি তাঁর স্ত্রীকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালেন। তিনি উম্মে সালামার কাছে গিয়ে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। উম্মে সালামাহ তাঁকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) রোজা থাকা অবস্থায় চুম্বন করতেন। এরপর তিনি ফিরে গিয়ে তাঁর স্বামীকে তা জানালেন... পূর্ণ হাদিস।

(২) আত-তামহিদ ৫/১১৫।

(৩) আল-বুরহান ১/৬০০।

(৪) দেখুন উদাহরণস্বরূপ: রুহুল মাআনি ২৬/১৪৬ এবং তুলনা করুন জাসসাস-এর আহকামুল কুরআন ৫/২৭৯ এর সাথে।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ১৫)
وللعلماء والباحثين المعاصرين جهود طيبة في الدفاع عن حجية خبر الآحاد، كما أن الجدل قد أثير حوله في هذا العصر. ومن أبرز الأمثلة لهذه الجهود:

1 – وجوب الأخذ بحديث الآحاد في العقيدة والرد على شبه المخالفين، للشيخ محمد ناصر الدين الألباني.

2 – فتح الغني الماجد ببيان حجية خبر الواحد للشيخ عبد الله بن الصديق الغماري.

3 – خبر الواحد في السنة أثره في الفقه الإسلامي، للدكتورة سهير رشاد مهنا.

4 – خبر الواحد في التشريع الإسلامي وحجيته للقاضي برهون.

5 – الأدلة والشواهد على وجوب الأخذ بخبر الواحد لسليم الهلالي.

6 – رد شبهات الإلحاد عن أحاديث الآحاد لعبد العزيز بن راشد.

7 – حديث الآحاد لخليل إبراهيم ملا خاطر.

8 – دراسة في خبر الآحاد لمحمد مبارك السيد.
সমকালীন আলেম ও গবেষকগণের খবরুল ওয়াহিদ (خبر الواحد)-এর প্রামাণিকতা রক্ষায় প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা রয়েছে, ঠিক যেমন এই যুগে এটি নিয়ে বিতর্কের অবতারণা হয়েছে। এই প্রচেষ্টাসমূহের উল্লেখযোগ্য কিছু উদাহরণ হলো:

১ – আকিদার ক্ষেত্রে আحاد (آحاد) হাদিস গ্রহণ করার আবশ্যকতা এবং বিরোধীদের সংশয় নিরসন, লেখক: শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী।

২ – ফাতহুল গানিয়্যিল মাজিদ বি বায়ানি হুজ্জিয়্যাতি খবরিল ওয়াহিদ (خبر الواحد), লেখক: শেখ আবদুল্লাহ বিন আল-সিদ্দিক আল-গুমারি।

৩ – সুন্নাহর ক্ষেত্রে খবরুল ওয়াহিদ (خبر الواحد) এবং ইসলামি ফিকহে এর প্রভাব, লেখক: ডক্টর সুহায়র রাশাদ মুহান্না।

৪ – ইসলামি শরিয়ত প্রণয়নে খবরুল ওয়াহিদ (خبر الواحد) এবং এর প্রামাণিকতা, লেখক: কাজী বারহুন।

৫ – খবরুল ওয়াহিদ (خبر الواحد) গ্রহণ করার আবশ্যকতা সম্পর্কে প্রমাণ ও সাক্ষ্যসমূহ, লেখক: সেলিম আল-হিলালি।

৬ – আحاد (آحاد) হাদিসসমূহ থেকে নাস্তিকতার সংশয় নিরসন, লেখক: আব্দুল আজিজ বিন রাশিদ।

৭ – আحاد (آحاد) হাদিস, লেখক: খলিল ইব্রাহিম মোল্লা খাতির।

৮ – খবরুল ওয়াহিদ (خبر الواحد) সংক্রান্ত একটি গবেষণা, লেখক: মুহাম্মদ মুবারক আল-সাইয়িদ।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المبحث الثالث: أدلة وجوب العمل بخبر الواحد والرد على شبه منكريه

الأدلة من الكتاب:

1 – قوله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} [الأحزاب: 36] .

فقد استدل به ابن عباس رضي الله عنهما على طاوس لما سأله عن الركعتين بعد العصر، فنهاه عنهما فقال له طاوس: ما أدعهما، فتلا عليه ابن عباس الآية.

قال الشافعي: "فرأى ابن عباس الحجة قائمة على طاوس بخبره عن النبي، ودلَّه بتلاوة كتاب الله على أن فرضاً عليه أن لا تكون له الخيرة إذا قضى الله ورسوله أمرا، وطاوس حينئذ إنما يعلم قضاء رسول الله بخبر ابن عباس وحده، ولم يدفعه طاوس بأن يقول: "هذا خبرك وحدك فلا أثبته عن النبي، لأنه يمكن أن تنسى" (1) .

2 – قوله تعالى: {فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122] .

ووجه الاستدلال بالآية: أن الله تعالى أوجب على كل فرقة قبول نذارة من نفر منها للتفقه في الدين، وأوجب على النافر التفقه والإنذار،

--------------------------------------------

(1) الرسالة ص 443 – 444، وانظر مفتاح الحجة للسيوطي ص 47.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এককের সংবাদ (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার দলীলসমূহ এবং তা অস্বীকারকারীদের সংশয়ের খণ্ডন

কুরআন থেকে দলীলসমূহ:

১ – মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দের অবকাশ থাকে না।} [আল-আহজাব: ৩৬] ।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এটি দ্বারা তাউসের বিরুদ্ধে দলীল পেশ করেছিলেন যখন তিনি তাঁকে আসরের পরের দুই রাকাত নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি (ইবনে আব্বাস) তাঁকে তা থেকে নিষেধ করেন। এরপর তাউস বললেন: "আমি এ দুটি বর্জন করব না।" তখন ইবনে আব্বাস তাঁর সামনে এই আয়াতটি পাঠ করলেন।

ইমাম শাফেয়ী বলেন: "ইবনে আব্বাস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত তাঁর সংবাদ (خبر)-এর মাধ্যমে তাউসের বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে গণ্য করেছেন। আর আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াতের মাধ্যমে তিনি তাঁকে এ কথা নির্দেশ করেছেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে তা মেনে নেয়া তাঁর জন্য ফরয (فرض) এবং সেখানে কোনো ইখতিয়ার রাখার সুযোগ নেই। সেই সময় তাউস রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ফয়সালা সম্পর্কে কেবল ইবনে আব্বাসের একক সংবাদ (خبر)-এর মাধ্যমেই অবগত হয়েছিলেন। তাউস এই বলে তা প্রত্যাখ্যান করেননি যে: 'এটি কেবল আপনার একার সংবাদ (خبر), তাই আমি এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত করছি না, কারণ আপনার ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে'।" (১) ।

২ – মহান আল্লাহর বাণী: {তবে কেন তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের কওম যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়?} [আত-তাওবাহ: ১২২] ।

এই আয়াত থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো: আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক দলের ওপর তাদের মধ্য থেকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য বহির্গত হওয়া ব্যক্তিদের সতর্কতা বা সতর্কবাণী গ্রহণ করা ওয়াজিব করেছেন এবং যারা বহির্গত হয়েছে তাদের ওপর দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন ও সতর্ক করা ওয়াজিব করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-রিসালাহ, পৃষ্ঠা ৪৪৩ – ৪৪৪; এবং দেখুন সুয়ূতী রচিত মিফতাহুল হুজ্জাহ, পৃষ্ঠা ৪৭।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ১৭)
وإنذار النافر إخبار، والناذر طائفة، والطائفة تطلق في اللغة على الواحد فصاعداً، فدلَّت الآية على وجوب قبول خبر الواحد (1) .

وقد استدل بها الإمام البخاري في صحيحه إذ ضمنها ترجمة أول باب من أبواب أخبار الآحاد حين قال: "ويسمى الرجل طائفة لقوله تعالى: {وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا} [الحجرات: 9] فلو اقتتل رجلان دخلا في معنى الآية.

3 – قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْماً بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} [الحجرات: 6] .

والاستدلال بالآية على قبول خبر الواحد من وجهين:

أحدهما: أنه لو لم يقبل خبره لما علل عدم قبوله بالفسق.

وثانيهما: مفهوم الشرط وهو حجة، ومفهومه وجوب العمل بخبر الواحد إن لم يكن فاسقا (2) .

وقد ركب ابن حزم الدليل من هذه الآية والتي قبلها فجعلهما "مقدمتين أنتجتا قبول خبر الواحد العدل دون الفاسق بضرورة البرهان" (3) .

واستدل البخاري بها وبالتي قبلها في صحيحه، وهذه الآيات لا يخلو الاستدلال بأي منها من اعتراضات أوردها المستدلون بها أنفسهم

--------------------------------------------

(1) انظر: الإحكام لابن حزم 1/98، والإحكام للآمدي 2 /58.

(2) انظر: روح المعاني 26/146، والإحكام للآمدي 2/58.

(3) الإحكام 1/100.
আর প্রত্যাবর্তনকারী দলের সতর্কীকরণ হলো সংবাদ প্রদান, আর সতর্ককারী হলো একটি দল (طائفة), আর ভাষাগতভাবে 'তায়েফাহ' (طائفة) শব্দটি একজনের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, তাই এই আয়াতটি একক সংবাদ (خبر الواحد) গ্রহণ করার আবশ্যকতা নির্দেশ করে (১)।

ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যখন তিনি এটিকে আহাদ সংবাদ (أخبار الآحاد) এর অধ্যায়সমূহের প্রথম অনুচ্ছেদের শিরোনামের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: "এক ব্যক্তিকেও তায়েফাহ (طائفة) বলা হয়, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়} [আল-হুজুরাত: ৯]; সুতরাং যদি দুই ব্যক্তিও যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তারা এই আয়াতের অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে।"

৩ – মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও।} [আল-হুজুরাত: ৬] ।

একক সংবাদ (خبر الواحد) গ্রহণের ক্ষেত্রে এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করার পদ্ধতি দুটি:

প্রথমটি: যদি তার সংবাদ গ্রহণযোগ্য না হতো, তবে তা গ্রহণ না করার কারণ হিসেবে পাপাচার (فسق)-কে উল্লেখ করা হতো না।

দ্বিতীয়টি: শর্তের বিপরীত অর্থ (مفهوم الشرط), যা একটি দলিল (حجة)। এর মর্মার্থ হলো, বর্ণনাকারী যদি পাপাচারী (فاسق) না হয়, তবে একক সংবাদ (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব (২)।

ইবনে হাজম এই আয়াত এবং এর পূর্ববর্তী আয়াতটি সমন্বয় করে দলিল সাজিয়েছেন এবং এ দুটিকে এমন দুটি "প্রস্তাবনা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যা অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে পাপাচারী (فاسق) নয় বরং ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারীর একক সংবাদ (خبر الواحد) গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত প্রদান করে" (৩)।

বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এই আয়াত এবং এর পূর্ববর্তী আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তবে এই আয়াতগুলোর যে কোনটি দ্বারা দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে এমন কিছু আপত্তি রয়েছে যা খোদ দলিল পেশকারীরাই উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে হাজমের আল-ইহকাম ১/৯৮ এবং আমেদির আল-ইহকাম ২/৫৮।

(২) দেখুন: রুহুল মাআনি ২৬/১৪৬ এবং আমেদির আল-ইহকাম ২/৫৮।

(৩) আল-ইহকাম ১/১০০।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ১৮)
كالرازي والآمدي والكلوذاني، وحاولوا أن يجيبوا عنها (1) ، ولذلك قال الحافظ ابن حجر تعليقاً على استدلال البخاري بقوله تعالى: {إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا} [الحجرات: 6] "وهذا الدليل يورَد للتَقوِّي لا للاستقلال؛ لأن المخالف قد لا يقول بالمفاهيم" (2) .

وهذا ما دفع آخرين إلى الإحجام عن الاستدلال بها كالجويني والغزالي.

الأدلة من السنة:

أدلة تثبيت حجية خبر الآحاد كثيرة في السنة النبوية، واستقصاؤها غير لازم هنا منهجياً، وسأورد منها ما لعله يفي بالغرض.

الدليل الأول: حديث ابن عمر رضي الله عنه قال: "بينما الناس بقباء في صلاة الصبح إذ أتاهم آت فقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أنزل عليه قرآن، وقد أمر أن يستقبل القبلة فاستقبلوها، وكانت وجوههم إلى الشام فاستداروا إلى الكعبة" (3) .

وقد استدل بالحديث على حجية خبر الواحد الإمامان الشافعي والبخاري، وأفاض الشافعي في بيان وجه الاستدلال بالحديث على المطلوب، وخلاصته: أن أهل قباء أهل سابقة في الإسلام، وأهل فقه، ولم

--------------------------------------------

(1) انظر: المحصول للرازي 2/1/509 وما بعدها، والإحكام للآمدي 2/56 وما بعدها، والتمهيد للكلوذاني 3/46 وما بعدها.

(2) فتح الباري 13/234.

(3) أخرجه الإمام الشافعي في الرسالة ص 123 – 124 – 406 والبخاري في كتاب خبر الواحد باب ما جاء في إجازة خبر الواحد… وغيرهما.
যেমন আল-রাজি, আল-আমিদি এবং আল-কালওয়াজানি; তাঁরা এগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন (১)। এই কারণেই হাফেজ ইবনে হাজার ইমাম বুখারীর আল্লাহর বাণী: {যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও} [আল-হুজুরাত: ৬] দ্বারা দলিল পেশ করার প্রেক্ষিতে মন্তব্য করেছেন যে, "এই দলিলটি শক্তিশালী করার (للتَقوِّي) জন্য উপস্থাপন করা হয়, স্বতন্ত্র প্রমাণের (للاستقلال) জন্য নয়; কারণ বিপক্ষ পক্ষ হয়তো ইঙ্গিতার্থ (المفاهيم) দ্বারা দলিল গ্রহণ করার প্রবক্তা নাও হতে পারে" (২)।

আর এটিই আল-জুওয়ায়নি ও আল-গাজালির মতো অন্যদের এটি দ্বারা দলিল পেশ করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করেছে।

সুন্নাহ থেকে প্রমাণসমূহ:

নববী সুন্নাহয় একক সংবাদ-এর (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা (حجية) সাব্যস্ত করার দলিল অনেক; এখানে পদ্ধতিগতভাবে সেগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করা আবশ্যক নয়, আমি এখান থেকে এমন কিছু উল্লেখ করব যা সম্ভবত উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট হবে।

প্রথম দলিল: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "একদা মানুষ কুবা পল্লীতে ফজরের নামাজ পড়ছিলেন, এমতাবস্থায় একজন আগমনকারী এসে বললেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর কুরআন নাযিল হয়েছে এবং তাঁকে কিবলার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অতএব তোমরাও সেদিকে মুখ করো। তাঁদের মুখ সিরিয়ার দিকে ছিল, তখন তাঁরা কাবার দিকে ঘুরে গেলেন" (৩)।

ইমাম শাফেঈ ও ইমাম বুখারী উভয়ই এই হাদিস দ্বারা একক সংবাদ-এর (خبر الواحد) প্রামাণিকতার (حجية) ওপর দলিল পেশ করেছেন। ইমাম শাফেঈ উদ্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি এই হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করার পদ্ধতি বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন; যার সারসংক্ষেপ হলো: কুবার অধিবাসীগণ ইসলামের অগ্রবর্তী এবং ফিকহ (فقه) বিশেষজ্ঞ ছিলেন, তাঁরা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-রাজি রচিত আল-মাহসুল ২/১/৫০৯ এবং পরবর্তী অংশ, আল-আমিদি রচিত আল-ইহকাম ২/৫৬ এবং পরবর্তী অংশ, এবং আল-কালওয়াজানি রচিত আল-তামহিদ ৩/৪৬ এবং পরবর্তী অংশ।

(২) ফাতহুল বারী ১৩/২৩৪।

(৩) এটি ইমাম শাফেঈ আল-রিসালা পৃষ্ঠা ১২৩ – ১২৪ – ৪০৬ এবং ইমাম বুখারী কিতাব খবরুল ওয়াহিদ-এর 'একক সংবাদের (خبر الواحد) বৈধতা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে' অনুচ্ছেদে... এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ১৯)
يكن لهم أن يتحولوا عن القبلة التي كانوا عليها بخبر واحد إلا وهم على علم بأن الحجة ثابتة بخبره مع كونه من أهل الصدق، فلما تحولوا من فرض إلى فرض بخبر واحد دلَّ على أن العمل بخبره فرض، وإلا لأنكر عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد علمه بتحولهم عن قبلتهم التي كانوا عليها (1) .

ففي الحديث حجة قوية على وجوب العمل بخبر الواحد، ويكفيه قوة أن اتفق على الاستدلال به هذان الإمامان.

الدليل الثاني: حديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال: ((كنت أسقي أبا طلحة الأنصاري وأبا عبيدة بن الجراح وأبي بن كعب شراباً من فضيخ (2) وهو تمر، فجاءهم آت فقال: إن الخمر قد حرمت، فقال أبو طلحة: قم إلى هذه الجرار فاكسرها، قال أنس: فقمت إلى مهراس (3) لنا فضربتها بأسفله حتى انكسرت (4) .

ووجه الاستدلال بالحديث واضح من حيث إنهم –وهم أهل مكانة في العلم والنصيحة- اعتمدوا على خبر واحد في تحريم ما كان حلالا لهم، وفي كسر الجرار إهراق ما فيها، ولم يعترض أحد منهم على خبر الواحد بالبقاء على حِلِّية الخمر حتى يشافههم رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك، وهم قريبون منه، كما لم ينههم رسول الله صلى الله عليه وسلم عن قبول خبر الواحد (5) ،

--------------------------------------------

(1) انظر الرسالة ص 407 – 408.

(2) في الرسالة: من فضيخ وتمر، والفضيخ شراب يتخذ من البسر.

(3) المهراس حجر مستطيل منقور. يُدقُّ فيه، ويُتوضأ منه.

(4) أخرجه البخاري في أخبار الآحاد باب ما جاء في إجازة خبر الواحد …والشافعي في الرسالة ص 409.

(5) انظر: الرسالة ص 409 – 410.
তাদের পক্ষে কেবল একজন ব্যক্তির একক বর্ণনার (خبر واحد) ভিত্তিতে পূর্ববর্তী কিবলা পরিবর্তন করা সম্ভব ছিল না, যতক্ষণ না তারা এই ব্যাপারে নিশ্চিত হতেন যে, সত্যবাদী হওয়ার কারণে তার খবরের মাধ্যমেই দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং, যখন তারা একক বর্ণনার (خبر واحد) ভিত্তিতে এক ফরজ (فرض) থেকে অন্য ফরজে (فرض) স্থানান্তরিত হলেন, তখন এটি প্রমাণিত হয় যে, তার খবরের ওপর আমল করা ফরজ (فرض)। অন্যথায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কিবলা পরিবর্তনের কথা জানার পর অবশ্যই তাদের কাজকে প্রত্যাখ্যান করতেন (১)।

সুতরাং এই হাদিসে একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল করা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার ব্যাপারে শক্তিশালী দলিল (حجة) রয়েছে। এর শক্তির জন্য এটাই যথেষ্ট যে, এই দুই ইমাম এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের (استدلال) ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

দ্বিতীয় দলিল: আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আবু তালহা আনসারী, আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ এবং উবাই ইবনে কাবকে খেজুর থেকে তৈরি পানীয় 'ফাদিখ' (২) পান করাচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় একজন আগমনকারী এসে বললেন: 'নিশ্চয়ই মদ হারাম করা হয়েছে।' তখন আবু তালহা বললেন: 'ওঠো এবং এই কলসগুলো ভেঙে ফেলো।' আনাস বলেন: 'অতঃপর আমি আমাদের একটি বড় পাথরের পাত্রের (৩) দিকে গেলাম এবং এর নিচের দিকে আঘাত করলাম যতক্ষণ না সেটি ভেঙে গেল' (৪)।

এই হাদিসের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি (استدلال) অত্যন্ত স্পষ্ট; কারণ তারা—যারা জ্ঞান ও নসিহত দানে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন—তাদের জন্য যা হালাল ছিল তা হারাম করার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির একক বর্ণনার (خبر واحد) ওপর নির্ভর করেছিলেন। আর কলসগুলো ভেঙে ফেলার অর্থ হলো তাতে যা ছিল তা ঢেলে ফেলা। তাদের কেউই একক বর্ণনার (خبر الواحد) বিপরীতে মদ হালাল থাকার যুক্তিতে আপত্তি জানাননি যে, যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং তাদের এই নির্দেশ দিচ্ছেন, অথচ তারা তাঁর কাছাকাছিই ছিলেন। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের একক বর্ণনা (خبر الواحد) গ্রহণ করতে নিষেধও করেননি (৫),

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আর-রিসালাহ পৃষ্ঠা ৪০৭ – ৪০৮।

(২) আর-রিসালাহ গ্রন্থে রয়েছে: ফাদিখ ও খেজুর থেকে। আর ফাদিখ হলো এমন পানীয় যা আধাপাকা খেজুর থেকে তৈরি করা হয়।

(৩) মেহরাস হলো খোদাই করা একটি দীর্ঘাকৃতি পাথর, যাতে কোনো কিছু চূর্ণ করা হয় এবং তা থেকে অজুও করা হয়।

(৪) এটি বুখারি 'আখবারুল আহাদ' অধ্যায়ের 'একক বর্ণনা (خبر الواحد) জায়েজ হওয়ার পরিচ্ছেদ'-এ এবং শাফেয়ি আর-রিসালাহ পৃষ্ঠা ৪০৯-এ বর্ণনা করেছেন।

(৫) দেখুন: আর-রিসালাহ পৃষ্ঠা ৪০৯ – ৪১০।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ২০)
وأثبت هؤلاء ما كان مباحاً بخبر الواحد (1) .

وقد اتفق الإمامان الشافعي والبخاري على الاستدلال بالحديث على حجية خبر الواحد، ومما يزيد هذه الحجية قوة ما ورد في بعض طرقه: "فوالله ما سألوا عنها ولا راجعوها بعد خبر الرجل (2) ".

الدليل الثالث: جملة من الأحاديث التي فيها بعث النبي صلى الله عليه وسلم آحادا من الصحابة دعاة وولاة وقضاة وأمراء ورسلا؛ فبعث أبا بكر والياً على الحج ليقيم للناس مناسكهم "وأخبرهم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بما لهم وما عليهم" (3) ، وخبره خبر واحد، وبعث علي بن أبي طالب لينبذ إلى قوم عهدهم، ولولم تكن الحجة قائمة بخبر كل واحد منهما لما بعثه النبي صلى الله عليه وسلم.

وبعث معاذ بن جبل إلى اليمن، وولى زيد بن حارثة بعث مؤتة، وبعث ابن أنيس سرية وحده، وبعث اثني عشر رسولا إلى اثني عشر ملكا يدعو كل واحد منهم من بعث إليه إلى الإسلام (4) .

وقد ضمن الإمام البخاري هذا المعنى بابين: باب ما جاء في إجازة خبر الواحد… وكيف بعث النبي صلى الله عليه وسلم أمراءه واحداً بعد واحد، فإن سها أحد منهم رد إلى السنة، وباب ما كان يبعث النبي صلى الله عليه وسلم من الأمراء والرسل واحداً بعد واحد.

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 27/276.

(2) السابق 27/276.

(3) الرسالة ص 414.

(4) انظر السابق ص 414 – 418.
এবং তাঁরা একক ব্যক্তির বর্ণনার (خبر الواحد) মাধ্যমে যা মুবাহ ছিল তা সাব্যস্ত করেছেন (১)।

ইমাম শাফিঈ এবং ইমাম বুখারি একক ব্যক্তির বর্ণনার (خبر الواحد) প্রামাণিকতার (حجية) স্বপক্ষে হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন। এই প্রামাণিকতাকে (حجية) আরও শক্তিশালী করে যা এর কিছু সূত্রে (طرق) বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহর শপথ, তারা সেই ব্যক্তির সংবাদ (خبر الرجل) পাওয়ার পর এ সম্পর্কে আর কোনো প্রশ্ন করেননি এবং তা পুনরায় পর্যালোচনাও করেননি (২)।"

তৃতীয় দলিল: এমন কতগুলো হাদিস যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীগণের মধ্য থেকে একক ব্যক্তিদের দাঈ, গভর্নর, বিচারক, আমির এবং দূত হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন; তিনি আবু বকরকে হজের গভর্নর হিসেবে প্রেরণ করেন যাতে তিনি মানুষের জন্য হজের আহকাম পালন করেন এবং "তাদেরকে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত করেন (৩)"। আর তাঁর প্রদানকৃত সংবাদটি ছিল একক ব্যক্তির বর্ণনা (خبر واحد)। তিনি আলী ইবনে আবি তালিবকে প্রেরণ করেছিলেন কোনো জাতির সাথে কৃত চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিতে। যদি তাঁদের প্রত্যেকের একক বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণ (الحجة) প্রতিষ্ঠিত না হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের প্রেরণ করতেন না।

তিনি মুয়াজ ইবনে জাবালকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, যায়েদ ইবনে হারিসাকে মুতার অভিযানে সেনাপতি নিযুক্ত করেন এবং ইবনে উনাইসকে একাকী একটি ক্ষুদ্র অভিযানে (سرية) প্রেরণ করেন। এছাড়া তিনি বারোজন দূতকে বারোজন রাজার নিকট প্রেরণ করেছিলেন, যাঁদের প্রত্যেকে যাঁর নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন (৪)।

ইমাম বুখারি এই বিষয়টি দুটি অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন: একক ব্যক্তির বর্ণনার (خبر الواحد) গ্রহণযোগ্যতা (إجازة) বিষয়ক অধ্যায়... এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কীভাবে একে একে তাঁর আমিরদের পাঠাতেন, যদি তাঁদের কেউ ভুল করতেন তবে তাঁকে সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে আনা হতো; এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেভাবে একে একে আমির ও দূতদের প্রেরণ করতেন সেই বিষয়ক অধ্যায়।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী ২৭/২৭৬।

(২) প্রাগুক্ত ২৭/২৭৬।

(৩) আর-রিসালাহ পৃ. ৪১৪।

(৪) দেখুন প্রাগুক্ত পৃ. ৪১৪–৪১৮।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ২১)
دليل الإجماع:

إجماع الصحابة من أقوى الأدلة على وجوب العمل بخبر الواحد، إذ لم يكن يثبت عن أحد منهم أنه رفض قبول خبر الواحد من حيث هو كذلك، حتى إن الأصوليين أكدوا أن "إجماعهم على العمل بخبر الواحد منقول تواتراً" (1) والتواتر دليل قطعي لا يتطرق إليه شك، وقد رويت وقائع كثيرة جداً تدل على أنهم جميعاً يقبلون خبر الواحد ويعملون به.

ومن هذه الوقائع الكثيرة: اعتماد أبي بكر الصديق رضي الله عنه على خبر الواحد في توريث الجدة السدس (2) .

ومنها: ما صح عن سعيد بن المسيب "أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه كان يقول: الدية للعاقلة، ولا ترث المرأة من دية زوجها شيئا حتى أخبره الضحاك بن سفيان أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كتب إليه أن يورث امرأة أشيم الضبابي من ديته، فرجع إليه عمر" (3) .

ومثله: ما روى طاوس أن عمر قال: "أذكر الله امرأ سمع من النبي صلى الله عليه وسلم في الجنين شيئاً؟ فقام حمل بن مالك بن النابغة فقال: كنت بين جارتين لي –يعني ضرتين- فضربت إحداهما الأخرى بمسطح، فألقت جنيناً ميتاً، فقضى فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم بغرة فقال عمر: لو لم أسمع فيه لقضينا بغيره" (4) .

--------------------------------------------

(1) البرهان للجويني 1/600.

(2) انظر الحديث في جامع الترمذي كتاب الفرائض باب ما جاء في ميراث الجدة، وفي غيره.

(3) أخرجه الشافعي في الرسالة ص 426 وانظر أيضاً: الأم 6/77.

(4) الرسالة ص 427.
ইজমা (ঐকমত্য) এর দলিল:

সাহাবিদের ইজমা (ঐকমত্য) হলো একক সংবাদ (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলিল। কেননা তাঁদের কারো পক্ষ থেকেই এমনটি প্রমাণিত নয় যে, তিনি একক সংবাদ (خبر الواحد) হওয়ার কারণে তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমনকি উসুলবিদগণ নিশ্চিত করে বলেছেন যে, "একক সংবাদ (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করার বিষয়ে তাঁদের ইজমা মুতাওয়াতির হিসেবে (تواتراً) বর্ণিত হয়েছে।" (১) আর মুতাওয়াতির (التواتر) হলো এমন একটি সুনিশ্চিত দলিল (دليل قطعي) যাতে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই। এছাড়া এমন অনেক অসংখ্য ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যা প্রমাণ করে যে, তাঁরা সকলেই একক সংবাদ (خبر الواحد) গ্রহণ করতেন এবং সে অনুযায়ী আমল করতেন।

এই অসংখ্য ঘটনার মধ্যে একটি হলো: দাদীর মিরাসের ক্ষেত্রে তাকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদানের বর্ণনায় আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর একক সংবাদ (خبر الواحد)-এর ওপর নির্ভর করা। (২)

আরেকটি ঘটনা হলো: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে যা সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত যে, "উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলতেন: দিয়াত (রক্তপণ) কেবল আকিলার (পিতার দিককার আত্মীয়) প্রাপ্য, স্ত্রী তার স্বামীর দিয়াত থেকে কিছুই পাবে না; যতক্ষণ না যাহহাক ইবনে সুফিয়ান তাকে সংবাদ দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে লিখে পাঠিয়েছেন যেন তিনি আশয়াম আদ-দুবাবি-এর স্ত্রীকে তার স্বামীর দিয়াত থেকে অংশ প্রদান করেন। তখন উমর (রা.) সেই সংবাদের দিকেই ফিরে আসলেন (অর্থাৎ তা মেনে নিলেন)।" (৩)

অনুরূপ আরেকটি ঘটনা: তাউস থেকে বর্ণিত যে, উমর (রা.) বলেছিলেন: "আমি সেই ব্যক্তিকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যে ব্যক্তি ভ্রূণ হত্যার ফয়সালা সম্পর্কে নবী (সা.) থেকে কিছু শুনেছে।" তখন হামাল ইবনে মালিক ইবনুন্ নাবাগাহ দাঁড়িয়ে বললেন: "আমি আমার দুই স্ত্রীর মধ্যে ছিলাম—অর্থাৎ তারা সতীন ছিল—তাদের একজন অন্যজনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তার গর্ভস্থ মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে একটি 'গোরাহ' (গোলাম বা দাসী) প্রদানের ফয়সালা দেন।" তখন উমর (রা.) বললেন: "যদি আমি এ সম্পর্কে না শুনতাম, তবে আমরা ভিন্নভাবে ফয়সালা দিতাম।" (৪)

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান, জুওয়াইনী ১/৬০০।

(২) জামি আত-তিরমিজি, কিতাবুল ফারায়েজ, অনুচ্ছেদ: দাদীর মিরাস সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে এবং অন্যান্য কিতাবে হাদিসটি দেখুন।

(৩) শাফেয়ি এটি আর-রিসালা পৃষ্ঠা ৪২৬-এ বর্ণনা করেছেন। আরও দেখুন: আল-উম্ম ৬/৭৭।

(৪) আর-رিসালা পৃষ্ঠা ৪২৭।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ২২)
قال الشافعي: "فقد رجع عمر عما كان يقضي به لحديث الضحاك إلى أن خالف حكم نفسه" (1) .

ففي هاتين الواقعتين دليل واضح على قبول خبر الواحد العدل مع كون عمر أعلم ممن أخبره، وأكثر صحبة، ولم يقل للضحاك: "أنت رجل من أهل نجد، ولحمل بن مالك: أنت رجل من أهل تهامةلم تريا رسول الله، ولم تصحباه إلا قليلاً، ولم أزل معه ومن معي من المهاجرين والأنصار، فكيف عزب هذا عن جماعتنا وعلمته أنت، وأنت واحد، يمكن فيك أن تغلط وتنسى؟ " (2) .

ومنها: اعتماد عثمان بن عفان رضي الله عنه على خبر الفريعة بنت مالك في كون المتوفى عنها زوجها تعتد في بيت الزوجية (3) .

قال الشافعي: "وعثمان في إمامته وعلمه يقضي بخبر امرأة بين المهاجرين والأنصار" (4) .

وقد صرَّح كثير من علماء الحديث وعلماء الأصول بحصول إجماع الصحابة على العمل بخبر الواحد، واستمر ذلك الإجماع إلى أن حدثت مذاهب تشكك في خبر الواحد.

ولم يمنع الشافعي من التصريح بالإجماع إلا تحفظه المعروف في

--------------------------------------------

(1) السابق ص 429.

(2) اختلاف الحديث بهامش الأم 7/20.

(3) الرسالة ص 438 – 439.

(4) السابق ص 439.
ইমাম শাফেঈ বলেছেন: "আদ-দাহহাকের বর্ণিত হাদিসের কারণে উমর (রা.) তাঁর পূর্ববর্তী ফয়সালা থেকে ফিরে এসেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি স্বীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ করেছিলেন।" (১) ।

এই দুটি ঘটনায় একজন ন্যায়পরায়ণ (العدل) রাবীর একক বর্ণনা (خبر الواحد) গ্রহণ করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে, যদিও উমর (রা.) সংবাদদাতার চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং অধিক দীর্ঘ সময় সাহচর্যে ছিলেন। তিনি আদ-দাহহাককে বলেননি: "তুমি নজদ এলাকার লোক, আর হামাল বিন মালিককে বলেননি: তুমি তিহামা এলাকার লোক; তোমরা আল্লাহর রাসূলকে তেমন দেখনি এবং খুব অল্প সময় তাঁর সাহচর্যে ছিলে। অথচ আমি এবং আমার সাথে থাকা মুহাজির ও আনসারগণ সর্বদা তাঁর সাথেই ছিলাম; সুতরাং এই বিষয়টি আমাদের সবার নিকট অস্পষ্ট থেকে গেল আর তুমি তা জেনে ফেললে? অথচ তুমি মাত্র একজন (واحد) ব্যক্তি, তোমার ক্ষেত্রে ভুল করা বা ভুলে যাওয়া সম্ভব।" (২) ।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: উসমান বিন আফফান (রা.)-এর ফুরাইয়া বিনতে মালিক-এর বর্ণনার (خبر) ওপর নির্ভর করা যে, বিধবা নারী তার স্বামীর গৃহেই ইদ্দত পালন করবে (৩) ।

ইমাম শাফেঈ বলেছেন: "উসমান (রা.) তাঁর ইমামত এবং অগাধ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও মুহাজির ও আনসারদের উপস্থিতিতে একজন মহিলার বর্ণনার (خبر) ভিত্তিতে ফয়সালা দিয়েছেন" (৪) ।

হাদিস বিশারদগণ এবং উসুলবিদগণের অনেকেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল করার ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ঐক্যমত্য (إجماع) ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল যতক্ষণ না এমন কিছু মতাদর্শের উদ্ভব ঘটে যারা একক বর্ণনার (خبر الواحد) ব্যাপারে সংশয় তৈরি করে।

ইমাম শাফেঈকে এই ঐক্যমত্য (إجماع) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থেকে তাঁর সেই সুপরিচিত সতর্কতা ছাড়া আর কিছুই বিরত রাখেনি যা...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪২৯।

(২) আল-উম্ম-এর পার্শ্বটীকায় ইখতিলাফুল হাদিস, ৭/২০।

(৩) আর-রিসালাহ, পৃষ্ঠা ৪৩৮ – ৪৩৯।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪৩৯।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ২৩)
الموضوع، ولكن كلامه غير بعيد عن التصريح بالإجماع، وذلك أنه لمَّا ذكر كثيراً من أعلام الصحابة والتابعين ومن بعدهم قال: "كلهم يحفظ عنه تثبيت خبر الواحد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم والانتهاء إليه، والإفتاء به، ويقبله كل واحد عن مَن فوقه ويقبله عن مَن تحته".

ولو جاز لأحد من الناس أن يقول في علم الخاصة: أجمع المسلمون قديما وحديثا على تثبيت خبر الواحد والانتهاء إليه بأنه لم يعلم من فقهاء المسلمين أحد إلا وقد ثبته – جاز لي- ولكن أقول: "لم أحفظ عن فقهاء المسلمين أنهم اختلفوا في تثبيت خبر الواحد" (1) .

وصرَّح ابن عبد البر بإجماع أهل العلم في جميع الأمصار على قبول خبر الواحد وإيجاب العمل به (2) .

وهكذا "شاع فاشياً عمل الصحابة والتابعين بخبر الواحد من غير نكير، فاقتضى الاتفاق منهم على القبول" (3) .

ومثل المحدِّثين علماء الأصول، فقد قال الآمدي بعد أن ساق أدلة من القرآن الكريم على حجية خبر الواحد، وأورد اعتراضات عليها: "والأقرب في هذه المسألة إنما هو التمسك بإجماع الصحابة" (4) .

--------------------------------------------

(1) السابق ص 456 – 457.

(2) انظر التمهيد 1/2.

(3) فتح الباري 27/270.

(4) الإحكام ج 2/64، ومثله قول الكلوذاني الحنبلي: أجمع الصحابة رضي الله عنهم على قبول خبر الواحد، التمهيد في أصول الفقه 3/54.
বিষয়টি হলো, তবে তাঁর কথা ইজমার (إجماع) সুস্পষ্ট ঘোষণার খুব একটা দূরে নয়। আর তা এভাবে যে, তিনি যখন সাহাবী (صحابة), তাবেয়ী (تابعين) এবং তাদের পরবর্তী স্তরের বহু প্রথিতযশা মনীষীর কথা উল্লেখ করেছেন, তখন বলেছেন: "তাঁদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একক বর্ণনা (خبر الواحد) সাব্যস্ত করা, সেটির ওপর নির্ভর করা এবং সে অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করার বিষয়টি সংরক্ষিত। এছাড়া প্রত্যেক ব্যক্তি তাঁর ঊর্ধ্বস্থ এবং অধস্তন ব্যক্তির নিকট থেকে এটি গ্রহণ করতেন।"

যদি কোনো ব্যক্তির জন্য বিশেষ ইলমের ক্ষেত্রে এ কথা বলা বৈধ হতো যে, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মুসলিম একক বর্ণনা (خبر الواحد) সাব্যস্তকরণ এবং সেটির ওপর আমল করার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন—যেহেতু মুসলিম ফকীহদের (فقهاء) মধ্যে এমন কাউকে জানা নেই যিনি একে সাব্যস্ত করেননি—তবে তা বলা আমার জন্যও বৈধ হতো। কিন্তু আমি বলছি: "আমি মুসলিম ফকীহদের (فقهاء) নিকট থেকে এমনটি পাইনি যে, তাঁরা একক বর্ণনা (خبر الواحد) সাব্যস্ত করার বিষয়ে কোনো মতভেদ করেছেন।" (১)

ইবনে আবদিল বার সকল অঞ্চলের আলেমদের ইজমার (إجماع) কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, একক বর্ণনা (خبر الواحد) কবুল করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। (২)

এভাবেই "সাহাবী (صحابة) ও তাবেয়ীদের (تابعين) মাঝে কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই একক বর্ণনা (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করার বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা এটি কবুল করার ব্যাপারে তাঁদের পক্ষ থেকে ঐক্যমত্যের (اتفاق) দাবি রাখে।" (৩)

মুহাদ্দিসদের ন্যায় উসুলবিদ আলেমগণও অনুরূপ মত পোষণ করেন। যেমন আমেদী পবিত্র কুরআন থেকে একক বর্ণনার (خبر الواحد) দলিলযোগ্যতার (حجية) ওপর বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপনের পর এবং এর ওপর উত্থাপিত আপত্তিগুলো উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এই মাসআলায় সর্বাধিক সঠিক অবস্থান হলো সাহাবীদের (صحابة) ইজমার (إجماع) ওপর অটল থাকা।" (৪)

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪৫৬-৪৫৭।

(২) দেখুন: আত-তামহিদ ১/২।

(৩) ফাতহুল বারী ২৭/২৭০।

(৪) আল-ইহকাম খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৪; অনুরূপ বক্তব্য রয়েছে কালওয়াযানী হাম্বলীর: "সাহাবীগণ (صحابة) রাদিয়াল্লাহু আনহুম একক বর্ণনা (خبر الواحد) কবুল করার বিষয়ে ঐক্যমত (أجمع) পোষণ করেছেন", আত-তামহিদ ফি উসুলিল ফিকহ ৩/৫৪।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقبله الإمام الجويني الذي اختار في الاستدلال على وجوب العمل بخبر الواحد مسلكين:

أحدهما: يستند إلى أمر متواتر لا يتمارى فيه إلا جاحد، ولا يدرؤه إلا معاند.

"والمسلك الثاني مستند إلى إجماع الصحابة " (1) .

والجويني يلخص بهذا موقف الأصوليين، ويوحد بينهم وبين المحدثين في وجوب العمل بخبر الواحد، رغم المناقشات المستفيضة التي أثارها الأصوليون حول إفادة خبر الواحد العلم أو الظن كما سيأتي، لكن العبرة بهذه النتيجة التي جمع فيها الجويني حجتين يقينيتين قاطعتين هما: التواتر والإجماع، أي التواتر في نقل الروايات التي توجب العمل بخبر الواحد، وإجماع الصحابة على العمل بخبر الواحد، وهذا الإجماع منقول نقلاً متواتراً مفيداً للقطع واليقين.

فلم يُبْقِ الأصوليون بعد هذه الحجج عذراً لأحد في مخالفة خبر الواحد.

ولم يكتف العلماء بإقامة هذه الحجج على وجوب العمل بخبر الواحد حتى دحضوا كل الشبه، وفندوا كل الحجج التي تعلق بها منكرو حجية خبر الآحاد، سواء منهم أولئك الذين ردُّوه جملة، وأولئك الذين ردوه إذا كان في موضوع العقائد.

ومن تلك الشبه: ما تعلقوا به من قوله تعالى: {وَلا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ

--------------------------------------------

(1) البرهان 1/600 – 601، وأضاف الزركشي إلى هذين مسلكا ثالثا وهو: " أن العمل بخبر الواحد يقتضي رفع ضرر مظنون فكان العمل به واجبا…" البحر المحيط 1/260.
এবং তাঁর পূর্বে ইমাম জুওয়াইনী, যিনি একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে দলীল প্রদানের ক্ষেত্রে দুটি পথ বেছে নিয়েছেন:

প্রথমটি: এমন একটি মুতাওয়াতির (متواتر) বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যার ব্যাপারে কেবল সত্য অস্বীকারকারীই সন্দেহ করতে পারে এবং কেবল হঠকারীই তা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

"এবং দ্বিতীয় পথটি সাহাবায়ে কেরামের ইজমা বা ঐকমত্যের (إجماع) ওপর নির্ভরশীল" (১)।

এর মাধ্যমে জুওয়াইনী উসুলবিদদের (الأصوليون) অবস্থান সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন এবং একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ও হাদিস বিশারদদের (المحدثون) মধ্যে সমন্বয় করেছেন। যদিও একক বর্ণনা (خبر الواحد) নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে নাকি প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে, সে বিষয়ে উসুলবিদদের (الأصوليون) পক্ষ থেকে বিস্তারিত আলোচনা উত্থাপিত হয়েছে যেমনটি সামনে আসবে; তবে আসল বিবেচ্য বিষয় হলো সেই ফলাফল যাতে জুওয়াইনী দুটি নিশ্চিত ও অকাট্য দলীলকে একত্রিত করেছেন, আর তা হলো: মুতাওয়াতির (التواتر) এবং ইজমা (الإجماع)। অর্থাৎ, সেই বর্ণনাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন স্থানান্তর বা তাওয়াতুর (التواتر) যা একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল করা ওয়াজিব করে এবং একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল করার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের ইজমা (إجماع)। আর এই ইজমা (إجماع) মুতাওয়াতির (متواتراً) সূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত যা নিশ্চিত ও ধ্রুব (القطع واليقين) জ্ঞান প্রদান করে।

ফলে উসুলবিদগণ (الأصوليون) এই সকল দলীলের পর একক বর্ণনার (خبر الواحد) বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে কারো জন্য কোনো অজুহাত অবশিষ্ট রাখেননি।

ওলামায়ে কেরাম একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে কেবল এই দলীলগুলো পেশ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তারা সকল সংশয় নিরসন করেছেন এবং একক বর্ণনার (خبر الآحاد) প্রামাণ্যতা অস্বীকারকারীরা যে সকল দলীলের ওপর নির্ভর করেছিল তা খণ্ডন করেছেন—চাই তারা যারা এটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে, অথবা তারা যারা আকিদার (العقائد) ক্ষেত্রে এটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

আর সেই সকল সংশয়ের মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ তাআলার এই বাণীকে তাদের আঁকড়ে ধরা: {যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না...}

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান ১/৬০০ – ৬০১; আর যারকাশী এই দুটির সাথে তৃতীয় একটি পথ যোগ করেছেন, আর তা হলো: "একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল করা সম্ভাব্য ক্ষতি দূর করার দাবি রাখে, তাই এর ওপর আমল করা ওয়াজিব ছিল..." আল-বাহরুল মুহিত ১/২৬০।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ২৫)
بِهِ عِلْمٌ} [الإسراء: 36] فقد فهموا أن النهي يتناول الأخذ بخبر الواحد من حيث إن الأخذ به اتباع ما ليس للآخذ به علم، وقد عَدَّ ابن حزم تعلقهم بهذه الآية أقوى ما شغبوا به، ورد عليهم بقوله: "وهذه الآية حجة لنا عليهم في هذه المسألة؛ لأنا لم نَقْفُ ما ليس لنا به علم، بل قد صَحَّ لنا به العلم، وقام البرهان على قبوله، وصح العلم بلزوم اتباعه والعمل به، فسقط اعتراضهم بهذه الآية … " (1) .

ورد عليهم إمام الحرمين تمسكهم بظاهر هذه الآية بأن "مضمون الآية: النهي عن اقتناء الظنون من غير ضبط متأيد بمراسم الشرع، وليس الغرض الإضراب عن كل ما ليس معلوما" (2) .

وقد عاكسهم ابن القيم في الاحتجاج بالآية على عكس ما احتجوا بها عليه، وهو وجوب العمل بخبر الواحد، وإفادته للعلم من حيث إن المسلمين لم يزالوا منذ عهد الصحابة يتبعون أخبار الآحاد ويعملون بمقتضاها، ويثبتون بها صفات الله تعالى "فلو كانت لا تفيد علما لكان الصحابة والتابعون وتابعوهم وأئمة الإسلام كلهم قد قَفَوْا ما ليس لهم به علم" (3) .

ومن تلك الشبه: أنهم رأوا وقائع في عهد الصحابة فهموا منها أنهم يرفضون الاحتجاج بخبر الواحد، كرد أبي بكر لخبر المغيرة بن شعبة في

--------------------------------------------

(1) الإحكام 1/103.

(2) البرهان 1/605.

(3) مختصر الصواعق المرسلة ص 479.
যাদের জ্ঞান নেই} [আল-ইসরা: ৩৬]। তারা বুঝেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা একক ব্যক্তির সংবাদ (خبر الواحد) গ্রহণকেও অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ তা গ্রহণ করা হলো এমন কিছুর অনুসরণ করা যার সম্পর্কে গ্রহণকারীর কোনো জ্ঞান নেই। ইবনে হাজম এই আয়াতের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতাকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বিতর্ক বলে গণ্য করেছেন এবং তাদের উত্তরে বলেছেন: "এই আয়াতটি এই মাসআলায় আমাদের পক্ষেই তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة); কারণ আমরা এমন কিছুর অনুসরণ করিনি যার জ্ঞান আমাদের নেই। বরং এর মাধ্যমে আমাদের নিকট জ্ঞান অর্জিত হয়েছে এবং এটি গ্রহণ করার সপক্ষে প্রমাণ (البرهان) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর অনুসরণ ও আমল করার আবশ্যকতা সম্পর্কে জ্ঞান বিশুদ্ধ (صح) প্রমাণিত হয়েছে। ফলে এই আয়াতের মাধ্যমে তাদের আপত্তি বাতিল হয়ে গেছে … " (১)।

ইমামুল হারামাইন এই আয়াতের বাহ্যিক অর্থের (ظاهر) ওপর তাদের নির্ভরতার জবাবে বলেছেন যে, "আয়াতের মূল বক্তব্য হলো: শরিয়তের বিধি-বিধান দ্বারা সমর্থিত নির্ভুলতা (ضبط) ব্যতীত কেবল ধারণার (الظنون) অনুসরণ থেকে নিষেধ করা। এর উদ্দেশ্য এমন সবকিছু বর্জন করা নয় যা নিশ্চিতভাবে জানা নেই" (২)।

ইবনে আল-কাইয়িম এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে তাদের বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন। আর তা হলো একক ব্যক্তির সংবাদ (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়া এবং তা জ্ঞান প্রদান করা। কেননা সাহাবিদের (الصحابة) যুগ থেকে মুসলমানরা সর্বদা একক ব্যক্তির সংবাদসমূহের (أخبار الآحاد) অনুসরণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছেন। এমনকি এর মাধ্যমেই তারা মহান আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন। "যদি তা জ্ঞান প্রদান না করত, তবে সাহাবি (الصحابة), তাবেয়ি (التابعون) ও তাদের অনুসারীগণ এবং ইসলামের সকল ইমামগণ এমন বিষয়ের অনুসরণ করতেন যার সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান ছিল না" (৩)।

সেই সংশয়গুলোর (الشبه) মধ্যে একটি হলো: তারা সাহাবিদের (الصحابة) যুগে এমন কিছু ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন যা থেকে তারা বুঝেছেন যে, তারা একক ব্যক্তির সংবাদ (خبر الواحد) দ্বারা দলিল পেশ করা প্রত্যাখ্যান করতেন। যেমন মুগিরা ইবনে শু'বার সংবাদের ক্ষেত্রে আবু বকরের প্রত্যাখ্যান...

--------------------------------------------

(১) আল-ইহকাম ১/১০৩।

(২) আল-বুরহান ১/৬০৫।

(৩) মুখতাসার আস-সাওয়ায়িক আল-মুরসালাহ, পৃষ্ঠা ৪৭৯।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ২৬)
ميراث الجدة حتى استظهر بمحمد بن مسلمة (1) ، وكرد عمر لخبر أبي موسى في الاستئذان حتى ظاهَرَهُ أبو سعيد الخدري (2) ، وكرده لخبر فاطمة بنت قيس في السكنى (3) ، وكرد علي لخبر أبي سنان الأشجعي في قصة بَرْوَع بنت واشق أن النبي صلى الله عليه وسلم قضى لها بعد أن توفي زوجها - ولم يفرض لها صداقا ولم يدخل بها- أن لها مثل صداق نسائها، ولها الميراث وعليها العدة (4) .

وقد رد العلماء تمسكهم بهذه الشبهة بأن هناك فرقا بين التثبت والاستظهار، وبين رفض الاحتجاج، فهؤلاء الصحابة إنما أرادوا بفعلهم التثبت في قبول خبر الواحد في تلك الوقائع لأسباب اقتضت ذلك، بدليل أنهم في وقائع أخرى اعتمدوا على خبر الواحد (5) .

ولا عيب في الاستظهار على الخبر بخبر ثان وثالث ورابع وخامس وسادس "لأن الأخبار كلما تواترت وتظاهرت كان أثبت للحجة وأطيب لنفس السامع" (6) .

--------------------------------------------

(1) انظر: سنن أبي داود كتاب الفرائض باب في الجدة، وسنن الترمذي كتاب الفرائض باب ما جاء في ميراث الجدة.

(2) انظر: صحيح البخاري في كتاب الاستئذان باب التسليم والاستئذان ثلاثا، وصحيح مسلم كتاب الأدب باب الاستئذان.

(3) انظر قصتها في: صحيح مسلم كتاب الطلاق باب المطلقة ثلاثا لا نفقة لها.

(4) انظر: سنن أبي داود كتاب النكاح باب فيمن تزوج ولم يسم صداقا حتى مات، وسنن الترمذي كتاب النكاح باب ما جاء في الرجل يتزوج امرأة فيموت عنها قبل أن يفرض لها.

(5) انظر: تدريب الراوي 1/73 وما بعدها.

(6) الرسالة ص 433.
দাদীর উত্তরাধিকারের বিষয়টি, যতক্ষণ না তিনি মুহাম্মদ বিন মাসলামাহর মাধ্যমে সমর্থন লাভ (استظهار) করেছিলেন (১); এবং অনুমতি প্রার্থনার বিষয়ে আবু মুসা (রা.)-এর বর্ণনাকে ওমরের (রা.) ফিরিয়ে দেওয়া, যতক্ষণ না আবু সাঈদ খুদরী (রা.) তাঁকে সমর্থন করলেন (২); এবং আবাসন সংক্রান্ত ফাতেমা বিনতে কায়সের বর্ণনাকে তাঁর প্রত্যাখ্যান করা (৩); আর বারওয়া’ বিনতে ওয়াশিকের ঘটনায় আবু সিনান আল-আশজায়ীর বর্ণনার প্রতি আলী (রা.)-এর অস্বীকৃতি, যাতে বর্ণিত হয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্বামীর মৃত্যুর পর—যার মোহরানা নির্ধারিত ছিল না এবং দাম্পত্য মিলনও ঘটেনি—এই ফয়সালা দিয়েছিলেন যে, সে তার পরিবারের নারীদের অনুরূপ মোহরানা ও উত্তরাধিকার পাবে এবং তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে (৪)।

আলেমগণ এই সংশয়ের ওপর তাঁদের নির্ভরতাকে এই বলে খণ্ডন করেছেন যে, বিষয়টি নিশ্চিতকরণ বা যাচাই (تثبت) ও সমর্থন লাভ (استظهار) এবং দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করতে অস্বীকৃতি জানানোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কেননা, এই সাহাবীগণ তাঁদের এই কাজের মাধ্যমে বিশেষ কিছু কারণে সেই সকল ঘটনায় একক ব্যক্তির বর্ণনা (خبر الواحد) গ্রহণের ক্ষেত্রে কেবল যাচাইয়ের উদ্দেশ্য পোষণ করেছিলেন। এর প্রমাণ হলো, তাঁরা অন্যান্য ঘটনায় একক ব্যক্তির বর্ণনার (خبر الواحد) ওপরই নির্ভর করেছিলেন (৫)।

কোনো বর্ণনার সমর্থনের জন্য দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম বা ষষ্ঠ বর্ণনার সহায়তা নেওয়ায় কোনো দোষ নেই; "কেননা বর্ণনাগুলো যত বেশি মুতাওয়াতির (تواترت) হবে এবং পরস্পরের সমর্থক হবে, তা প্রমাণের (الحجة) জন্য তত বেশি শক্তিশালী এবং শ্রোতার মনের জন্য অধিক প্রশান্তিদায়ক হবে" (৬)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল ফারায়েজ, দাদীর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ; এবং সুনান তিরমিজি, কিতাবুল ফারায়েজ, দাদীর উত্তরাধিকার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে।

(২) দেখুন: সহিহ বুখারি, কিতাবুল ইস্তিজান, সালাম প্রদান ও তিনবার অনুমতি প্রার্থনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ; এবং সহিহ মুসলিম, কিতাবুল আদাব, অনুমতি প্রার্থনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

(৩) দেখুন সহিহ মুসলিম, কিতাবুত তালাক, তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীর ভরণপোষণ না থাকা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে তার ঘটনা।

(৪) দেখুন: সুনান আবু দাউদ, কিতাবুন নিকাহ, যে ব্যক্তি মোহরানা নির্ধারণ ছাড়াই বিয়ে করেছে এবং মারা গেছে—সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ; এবং সুনান তিরমিজি, কিতাবুন নিকাহ, মোহরানা নির্ধারণের পূর্বে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

(৫) দেখুন: তাদরিবুর রাবী ১/৭৩ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো।

(৬) আর-রিসালাহ, পৃষ্ঠা ৪৩৩।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ২৭)
وما فعله بعض الصحابة من تحليف الراوي الواحد أو اشتراط شهادة آخرين على قبول خبر الواحد محمول على التثبت والاستظهار (1) .

والحاصل أن تَرْكَ الاحتجاج ببعض أخبار الآحاد في فروع فقهية لا يستلزم عدم الاحتجاج بها من حيث الأصل؛ إذ قد يكون ترك الاحتجاج بتلك الأخبار آتياً من أسباب أخرى كالاحتياط والتثبت في الرواية.

ومن تلك الشبه: أنهم رأوا اختلاف الأئمة في العمل بالخبر الواحد في فروع فقهية، فظنوا أن ذلك بسبب رد خبر الواحد، وقد ألمح الشافعي إلى هذه الشبهة بقوله: "فإن شبه على رجل بأن يقول: قد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم حديث كذا، وحديث كذا، وكان فلان يقول قولاً يخالف ذلك الحديث" (2) ثم أجاب عنها بأن ذلك ليس بسبب رد الخبر، بل إما أن يكون عنده خبر آخر يخالفه، أو يكون سمع خبراً ممن هو أوثق عنده من الذي سمع منه الخبر الذي رده، أو يكون سمعه من غير حافظ أو من متهم، أو يكون الحديث محتملا عنده معنيين فيذهب إلى أحدهما دون الآخر (3) .

ومن تلك الشبه: أن خبر الواحد يمكن فيه الغلط، وإمكان الغلط فيه دفعهم إلى رده بناء على مبدأ انطلقوا منه وهو أن الحجة لا تقوم "بأمر يمكن فيه الغلط" (4) .

--------------------------------------------

(1) انظر: البرهان 1/609 – 610.

(2) الرسالة ص 458.

(3) انظر السابق ص 458 – 610.

(4) جماع العلم بهامش الأم 7/256.
কতিপয় সাহাবী একক বর্ণনাকারীকে (الراوي الواحد) কসম করানো বা একক সংবাদ (خبر الواحد) কবুল করার ক্ষেত্রে অন্যদের সাক্ষ্য প্রদানের শর্তারোপ করার যে বিষয়টি করেছেন, তা মূলত সতর্কতা (التثبت) ও অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার (الاستظهار) ওপর নির্ভরশীল (১)।

সারকথা হলো, ফিকহ শাস্ত্রের শাখাগত মাসআলাসমূহে কতিপয় একক সংবাদের (أخبار الآحاد) মাধ্যমে দলীল গ্রহণ (الاحتجاج) বর্জন করা মূলনীতির দিক থেকে সেগুলোকে দলীল হিসেবে গ্রহণ না করাকে আবশ্যক করে না। কেননা সেই সংবাদগুলো দ্বারা দলীল গ্রহণ বর্জন করার বিষয়টি অন্যান্য কারণ যেমন—সতর্কতা (الاحتياط) এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিক যাচাই-বাছাইয়ের (التثبت) কারণে হতে পারে।

সেসব সংশয়ের মধ্যে একটি হলো: তারা ফিকহী শাখা মাসআলাসমূহে একক সংবাদের (الخبر الواحد) ওপর আমল করার ক্ষেত্রে ইমামগণের মতপার্থক্য লক্ষ্য করেছেন। ফলে তারা ধারণা করেছেন যে, এটি একক সংবাদকে (خبر الواحد) প্রত্যাখ্যান (رد) করার কারণেই হয়েছে। ইমাম শাফেঈ এই সংশয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: "যদি কোনো ব্যক্তির মনে এমন সংশয় তৈরি হয় যে, সে বলবে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অমুক হাদিস এবং অমুক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, অথচ অমুক ব্যক্তি সেই হাদিসের বিরোধী কথা বলেছেন" (২)। অতপর তিনি এর উত্তর দিয়েছেন যে, এটি সংবাদকে (الخبر) প্রত্যাখ্যান (رد) করার কারণে নয়; বরং হয় তার কাছে এর বিরোধী অন্য কোনো সংবাদ (خبر) রয়েছে, অথবা তিনি এমন কারো কাছ থেকে সংবাদ (خبر) শুনেছেন যিনি তার কাছে সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) যার কাছ থেকে তিনি প্রত্যাখ্যাত সংবাদটি শুনেছিলেন। অথবা তিনি হাদিসটি এমন কোনো ব্যক্তি থেকে শুনেছেন যিনি মুখস্থকারী (حافظ) নন কিংবা অভিযুক্ত (متهم)। অথবা হাদিসটি তার নিকট দুটি অর্থের সম্ভাবনা রাখে, তাই তিনি অন্যটি ছেড়ে একটি গ্রহণ করেছেন (৩)।

সেসব সংশয়ের মধ্যে একটি হলো: একক সংবাদে (خبر الواحد) ভুল (الغلط) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর ভুলের এই সম্ভাবনাই তাদেরকে এটি প্রত্যাখ্যান (رد) করার দিকে ধাবিত করেছে এমন একটি মূলনীতির ভিত্তিতে যা থেকে তারা যাত্রা করেছিলেন, আর তা হলো— "যাতে ভুল (الغلط) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তা দ্বারা হুজ্জাত (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না" (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-বুরহান ১/৬০৯ – ৬১০।

(২) আর-রিসালাহ পৃ. ৪৫৮।

(三) পূর্বোক্ত উৎস পৃ. ৪৫৮ – ৬১০ দেখুন।

(৪) জিমাইল ইলম, আল-উম্ম-এর টীকা ৭/২৫৬।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد رُدَّتْ عليهم هذه الشبهة بأن إمكان الغلط لا يستلزم وجوده وعدم اطلاع أهل العلم عليه؛ لأن ذلك يتنافى مع وعد الله بحفظ دينه (1) ، ويستلزم إضلال العباد "فإن ما يجب قبوله شرعاً من الأخبار لا يكون باطلا في نفس الأمر" (2) .

--------------------------------------------

(1) انظر تفصيل هذا الرد في الإحكام لابن حزم 1/109 ومختصر الصواعق المرسلة ص 462.

(2) وجوب الأخذ بحديث الآحاد في العقيدة للشيخ الألباني ص 13.
তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এই সংশয়টি এই বলে খণ্ডন করা হয়েছে যে, ভুলের সম্ভাবনা থাকা মানেই তা বাস্তবে সংঘটিত হওয়া এবং আলেমগণের সে সম্পর্কে অবগত না থাকাকে অনিবার্য করে না; কারণ এটি আল্লাহর দ্বীন সংরক্ষণের (১) প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী এবং এটি বান্দাদেরকে বিভ্রান্ত করার শামিল। "কেননা শরয়িভাবে যেসব বর্ণনা (أخبار) গ্রহণ করা আবশ্যক, তা প্রকৃতপক্ষে বাতিল (باطل) হতে পারে না" (২)।

--------------------------------------------

(১) এই খণ্ডনের বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন: ইবনে হাজম রচিত আল-ইহকাম ১/১০৯ এবং মুখতাসার আস-সাওয়াইকুল মুরসালাহ পৃষ্ঠা ৪৬২।

(২) শাইখ আলবানি রচিত 'আকীদার ক্ষেত্রে একক বর্ণনা গ্রহণ করার আবশ্যকতা' পৃষ্ঠা ১৩।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - মুহাম্মাদ জামিল মুবারক (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المبحث الرابع: نشأة ظاهرة التشكيك في حجية خبر الآحاد وأسبابها

هذه القضية من أهم القضايا المرتبطة بخبر الواحد من حيث نشأة النابتة التي ابتدعت رفض قبول خبر الواحد جملة، وهذه النابتة قد بذرت بذرتها منذ عقد الأربعين الذي ينظر إليه على أنه الحد الفاصل بين صفاء السنة والتزيد فيها (1) .

بل إن تيار الاقتصار على ما في القرآن قد ظهر مبكراً منذ عهد الصحابة كما يظهر من موقف الرجل (الخارجي) الذي جاء إلى عمران ابن حصين وهو يحدِّث الناس عن السنة فقال: يا أبا نجيد: حدثنا بالقرآن، فقال له عمران: أنت وأصحابك تقرؤون القرآن؟ أكنت تحدثني عن الصلاة وما فيها وحدودها؟ أكنت تحدثني عن الزكاة في الذهب والإبل والبقر وأصناف المال؟ لكن قد شهدت وغبت أنت، ثم قال: فرض رسول صلى الله عليه وسلم في الزكاة كذا وكذا، فقال الرجل: أحييتني، أحياك الله.

قال الحسن: "فما مات ذلك الرجل حتى صار من فقهاء المسلمين" (2) .

وقد نفهم من هذه الواقعة إشارات:

--------------------------------------------

(1) انظر: خبر الواحد للقاضي برهون ص 76.

(2) مفتاح الجنة للسيوطي ص 38.
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এককের সংবাদ (خبر الآحاد)-এর প্রামাণিকতা বিষয়ে সংশয় সৃষ্টির প্রেক্ষাপট ও এর কারণসমূহ

এই বিষয়টি একক বর্ণনা (خبر الواحد) সংশ্লিষ্ট অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, বিশেষত এমন এক গোষ্ঠীর উত্থানের প্রেক্ষাপটে যারা একক বর্ণনা (خبر الواحد) গ্রহণ করার বিষয়টি সামগ্রিকভাবে প্রত্যাখ্যান করার অভিনবত্ব তৈরি করেছিল। এই গোষ্ঠীর বীজ বপন করা হয়েছিল হিজরি চল্লিশের দশকে, যাকে সুন্নাহর বিশুদ্ধতা এবং এতে নতুন কিছু সংযোজনের মধ্যকার একটি বিভাজন রেখা হিসেবে গণ্য করা হয় (১)।

বস্তুত কেবল কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার প্রবণতা সাহাবীদের যুগ থেকেই বেশ আগেভাগে প্রকাশ পেয়েছিল। যেমনটি জনৈক ব্যক্তির (খারেজি) অবস্থান থেকে স্পষ্ট হয়, যে ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.)-এর নিকট এসেছিল যখন তিনি লোকদের নিকট সুন্নাহ বর্ণনা করছিলেন। সে বলল: "হে আবু নুজাইদ! আমাদের নিকট কুরআন থেকে বর্ণনা করুন।" তখন ইমরান (রা.) তাকে বললেন: "তুমি এবং তোমার সাথীরা কি কুরআন পাঠ করো? তুমি কি আমাকে সালাত এবং এর অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি ও এর সীমারেখা সম্পর্কে বলতে পারবে? তুমি কি আমাকে স্বর্ণ, উট, গরু এবং বিভিন্ন প্রকার সম্পদের জাকাত সম্পর্কে বলতে পারবে? আমি তো উপস্থিত ছিলাম আর তুমি ছিলে অনুপস্থিত।" এরপর তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাকাতের ব্যাপারে এই এই বিধান নির্ধারণ করেছেন।" তখন লোকটি বলল: "আপনি আমাকে নতুন জীবন দান করেছেন, আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন।"

হাসান (রহ.) বলেন: "সেই ব্যক্তিটি মৃত্যুর পূর্বেই মুসলিমদের ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন" (২)।

এই ঘটনা থেকে আমরা কিছু ইঙ্গিত অনুধাবন করতে পারি:

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: কাজী বারহুনের ‘খবরুল ওয়াহিদ’, পৃষ্ঠা ৭৬।

(২) সুয়ুতির ‘মিফতাহুল জান্নাহ’, পৃষ্ঠা ৩৮।