(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: -)
حجية خبر الآحاد في العقائد والأحكام - فرحانة بنت علي شويتة   (فرحانة بنت علي شويتة)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: حجية خبر الآحاد في العقائد والأحكام

المؤلف: فرحانة بنت علي شويتة

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 64

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আকিদাহ ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রে একক বর্ণনার (خبر الآحاد) প্রামাণ্যতা - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ   (ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


বই: আকিদাহ ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রে একক বর্ণনার (خبر الآحاد) প্রামাণ্যতা

লেখক: ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ১)
ال‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين نحمده ونشكره ونستعين به ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فهو المهتد، ومن يضلل فلن تجد له ولياً مرشداً، والصلاة والسلام على سيدنا محمد، عبد الله ورسوله، إمام المتقين ورحمة الله للعالمين وعلى آله وصحبه، ومن دعا بدعوته واتبع سنته إلى يوم الدين.

أما بعد: فهذا بحث في حجية خبر الآحاد في العقائد والأحكام: ويشتمل على تمهيد، وفصلين، وخاتمة.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, সে-ই হেদায়েতপ্রাপ্ত; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য আপনি কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, মুত্তাকীদের ইমাম এবং বিশ্বজগতের জন্য আল্লাহর রহমত। আরও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর দাওয়াতের পথে আহ্বান জানাবে ও তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করবে তাদের প্রতি।

অতপর: এটি আকিদা ও আহকামের ক্ষেত্রে একক বর্ণনার (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা বিষয়ক একটি গবেষণা; যা একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে গঠিত।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ২)
ال‌‌تمهيد

ويشتمل على مطلبين

المطلب الأول: مكانة السنة في التشريع

السنة النبوية هي المصدر الثاني من مصادر التشريع الإسلامي بعد القرآن الكريم، سواء أكانت قولية أم فعلية أم تقريرية. وتعد السنة وحياً غير متلو. ويلحق بهذه الأقسام اجتهاد النبي صلى الله عليه وسلم على رأي أكثر العلماء فيما أقره الله سبحانه وتعالى عليه.

وعلاقة السنة مع القرآن الكريم في التشريع على ثلاثة أوجه:

أولاً: أن تكون موافقة له من كل وجه وحينئذ تكون مقررة ومؤكدة لما جاء في القرآن الكريم؛ مثل قول الرسولصلى الله عليه وسلم: "بني الإسلام على خمس" (1) مع قوله تعالى {وَأَقِيمُواْ الصَّلَاةَ وَآتُواْ الزَّكَاة} [سورة البقرة آية:110] . وقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَام} [سورة البقرة آية: 183] . وقوله تعالى {وَلِلّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً} [سورة آل عمران آية: 97] .

ثانياً: أن تكون السنة مبينة للقرآن الكريم؛ كأن تفصل مجمله وتوضح مبهمه وتقيد مطلقه وتخصص عامَّه. فمن أمثلة تفصيل المجمل قوله تعالى: {وَأَقِيمُواْ الصَّلَاة} فقد أمر الله سبحانه وتعالى بإقامة الصلاة في القرآن مجملة، ولم يبين وقتها وكيفيتها وعدد ركعاتها وشروطها، فبيَّن الرسول صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري ج 1/64، كتاب الإيمان، باب دعاؤكم إيمانكم رقم/8.
ভূমিকা

এটি দুটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত

প্রথম পরিচ্ছেদ: শরীয়াহর বিধানে সুন্নাহর মর্যাদা

সুন্নাহ নববী হলো পবিত্র কুরআনের পর ইসলামি শরীয়াহর দ্বিতীয় উৎস; চাই তা বাচনিক (قولية), কর্মগত (فعلية) অথবা মৌনসম্মতিমূলক (تقريرية) হোক। সুন্নাহকে অপঠিত ওহী হিসেবে গণ্য করা হয়। অধিকাংশ আলিমের মতে, এই বিভাগগুলোর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই ইজতিহাদ (اجتهاد)-ও যুক্ত হবে, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বহাল রেখেছেন।

শরীয়াহর বিধানে পবিত্র কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক তিনটি পর্যায়ের:

প্রথমত: সব দিক থেকে কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া; সে ক্ষেত্রে সুন্নাহ কুরআনে বর্ণিত বিষয়ের সমর্থনকারী ও সুদৃঢ়কারী হিসেবে গণ্য হয়। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর" (১), যা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: "তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১১০]। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৩]। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার ওপর আবশ্যক" [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৯৭]।

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যাকারী হওয়া; যেমন তা সংক্ষিপ্ত বা মুজমাল (مجمل) বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়, অস্পষ্ট বা মুবহাম (مبهم) বিষয়কে স্পষ্ট করে, শর্তহীন বা মুতলাক (مطلق) বিষয়কে সীমাবদ্ধ করে এবং সাধারণ বা আম (عام) বিষয়কে সুনির্দিষ্ট করে। বিস্তারিত বিবরণহীন বা মুজমাল (مجمل) বিষয়ের একটি উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমরা সালাত কায়েম করো"; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনে সালাত কায়েমের নির্দেশ দিয়েছেন সংক্ষেপে, কিন্তু এর সময়, পদ্ধতি, রাকাত সংখ্যা ও শর্তাবলি বর্ণনা করেননি। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, খণ্ড ১/৬৪, কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: তোমাদের দুয়াই তোমাদের ঈমান, নং/৮।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
كل ذلك عملياً، وقال: "صلوا كما رأيتموني أصلي" (1) .

ومن أمثلة توضيح المبهم قوله تعالى: {الَّذِينَ آمَنُواْ وَلَمْ يَلْبِسُواْ إِيمَانَهُم بِظُلْمٍ} [سورة الأنعام آية:82] . حيث وضح الظلم بأنه خصوص الشرك.

ومن أمثلة تقييد المطلق: قوله تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُواْ أَيْدِيَهُمَا} : [سورة المائدة آية:38] إذ اليد تطلق على الكف وعلى الساعد وعلى الذراع، فقيدت السنة هذا الإطلاق وبينت أن القطع من الكوع (2) .

ثالثاً: أن تأتي السنة بأحكام جديدة سكت عنها القرآن فلم ينص عليها. كالأحاديث الدالة على تحديد الرضعات المحرمة، وتحريم الجمع بين المرأة وعمتها أو خالتها، والحكم بشاهد ويمين، وغير ذلك من الأحكام التي سكت عنها القرآن.

وإذا تبينت مكانة السنة في التشريع فبوحي الله تعالى ثبت ذلك، فقال تعالى: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ} [سورة النحل آية:44] . وقوله تعالى: {إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللهُ وَلَا تَكُن لِّلْخَآئِنِينَ خَصِيمًا} [سورة النساء آية:105] .

فاستبعاد السنة من التشريع وإنكارها - مصدراً ثانياً بعد القرآن- هو رفض لوحي الله المتلو وغير المتلو.

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري ج 1/153. كتاب الأذان. باب الأذان للمسافر إذا كانوا جماعة. جزء من حديث رواه مالك بن حويرث.

(2) أصول الفقه للمقدسي ج 1/ 329.
এই সবকিছুই ছিল ব্যবহারিক পর্যায়ে এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ" (১)।

অস্পষ্টের (مبهم) ব্যাখ্যার একটি উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশিয়ে ফেলেনি} [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৮২]। এখানে 'জুলুম'-কে বিশেষভাবে 'শিরক' হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

শর্তহীনকে (مطلق) সীমাবদ্ধ (تقييد) করার একটি উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {চোর ও চোরনী, উভয়ের হাত কেটে দাও} [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩৮]। এখানে 'হাত' শব্দটি কবজি, বাহু ও পুরো হাতের ওপর সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়; কিন্তু সুন্নাহ এই শর্তহীনতাকে (إطلاق) সীমাবদ্ধ (تقييد) করে বর্ণনা করেছে যে, হাত কাটতে হবে কবজি (২) থেকে।

তৃতীয়ত: সুন্নাহ এমন কিছু নতুন বিধান নিয়ে আসা যা সম্পর্কে কুরআন নীরব থেকেছে এবং কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি। যেমন: হারামি (নিষিদ্ধ) দুগ্ধপানের সংখ্যা নির্ধারণকারী হাদিসসমূহ, কোনো নারীকে তার ফুফু বা খালার সাথে একত্রে বিবাহে রাখা হারাম ঘোষণা করা, একজন সাক্ষী ও কসমের ভিত্তিতে বিচার করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিধান যা সম্পর্কে কুরআন নীরব থেকেছে।

যখন শরিয়তের বিধানে সুন্নাহর মর্যাদা স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন তা আল্লাহ তাআলার ওহির মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি আপনার প্রতি এই জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের সামনে তা ব্যাখ্যা করে দেন} [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৪৪]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আল্লাহ আপনাকে যা দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন; আর আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষাবলম্বনকারী হবেন না} [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০৫]।

সুতরাং শরিয়ত থেকে সুন্নাহকে বাদ দেওয়া এবং একে কুরআনের পর দ্বিতীয় উৎস হিসেবে অস্বীকার করা হলো আল্লাহর পঠিত (ওহি মাতলু) ও অপঠিত (ওহি গাইরে মাতলু) ওহিকে প্রত্যাখ্যান করার নামান্তর।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি, খণ্ড ১/১৫৩। কিতাবুল আজান। পরিচ্ছেদ: মুসাফির জামাতবদ্ধ থাকলে তাদের জন্য আজান দেওয়া। মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসের অংশ।

(২) আল-মাকদিসির উসুলুল ফিকহ, খণ্ড ১/ ৩২৯।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
حجية السنة:

وحجية السنة نافذةٌ، وفرضيتها على المسلمين ثابتة، وطاعتها واجبة بمقتضى كثير من الآيات القرآنية منها قوله تعالى:} وَأَطِيعُواْ اللهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [سورة آل عمران آية:132] وقوله تعالى: {أَطِيعُواْ اللهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ َ} [النساء آية:59] . وقوله: و [سورة الحشر آية:7] وقوله تعالى: {وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ} [سورة محمد آية: 33] .

ويكون الاحتجاج بالسنة بما صح من الأحاديث والعمل بها في كل شعب الإسلام عقيدة وشريعة.

وتقسيم السنة إلى متواتر وآحاد تقسيم حادث مخالف لما عليه منهج الصحابة والتابعين فقد كان منهجهم رضوان الله عليهم في رواية السنة والعمل بها والاحتجاج بها في كل أبواب الدين وشعبه، عقيدة وعبادة ومعاملة وسلوكاً.

وصاحب هذا التقسيم مفاهيم ضيعت أحكاماً بُنِيت على أخبار الآحاد، فكانت بداية إعلان رد أحاديث الآحاد والتقليل من أهميتها ودورها في التشريع الإسلامي، أو تضعيف العمل بها مع أنها أكثر السنة.

كما أن علماء الحديث - وهم أصحاب الفن وأولى من اعتمد قوله- لم يعرفوا هذا التقسيم في عهد الصحابة والتابعين، ولم يكن من صنيعهم، فالمعتبر في الحديث عن عامتهم هو ثبوته وصحته، وعلى هذا مدار القبول أو الرد سواء رواه الواحد أو الجماعة.
সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية):

সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) কার্যকর এবং মুসলমানদের ওপর এর আবশ্যকতা (فرضية) সুসাব্যস্ত। পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতের দাবি অনুযায়ী সুন্নাহর আনুগত্য করা ওয়াজিব (واجبة); যার মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো, যাতে তোমাদের ওপর দয়া করা হয়।} [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩২] এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো রাসূলের আর তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের।} [সূরা নিসা, আয়াত: ৫৯]। এবং তাঁর বাণী: [সূরা হাশর, আয়াত: ৭] এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তোমরা রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না।} [সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ৩৩]।

সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করা হবে হাদিসসমূহের মধ্যে যা সহিহ (صح) হয়েছে তার মাধ্যমে এবং ইসলামের প্রতিটি শাখা—আকিদা (عقيدة) ও শরিয়ত (شريعة)—উভয় ক্ষেত্রেই তার ওপর আমল করার মাধ্যমে।

সুন্নাহকে মুতাওয়াতির (متواتر) এবং আহাদ (آحاد) ভাগে বিভক্ত করা একটি পরবর্তী উদ্ভাবিত বিষয়, যা সাহাবী ও তাবেয়ীদের মানহাজ (منهج)-এর পরিপন্থী। সুন্নাহ বর্ণনা (رواية), তার ওপর আমল এবং দ্বীনের সকল অধ্যায় ও শাখায়—আকিদা (عقيدة), ইবাদত, মুয়ামালাত (লেনদেন) ও আচরণের ক্ষেত্রে সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার (الاحتجاج) ব্যাপারে তাঁদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মানহাজ (منهج) এমনই ছিল।

এই বিভক্তির সাথে এমন কিছু ধারণা যুক্ত হয়েছে যা আহাদ (آحاد) সংবাদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত বিধানগুলোকে নষ্ট করে দিয়েছে। এটি ছিল আহাদ (آحاد) হাদিস প্রত্যাখ্যানের ঘোষণার সূচনা এবং ইসলামী শরিয়ত (شريعة) প্রনয়ণে এর গুরুত্ব ও ভূমিকা হ্রাস করা, অথবা এর ওপর আমল করার বিষয়টিকে দুর্বল করে দেওয়া; যদিও সুন্নাহর অধিকাংশ অংশই এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।

তদুপরি, হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ—যাঁরা এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং যাঁদের বক্তব্য গ্রহণ করাই সবচেয়ে সমীচীন—তাঁরা সাহাবী ও তাবেয়ীদের যুগে এই বিভক্তি সম্পর্কে জানতেন না এবং এটি তাঁদের কর্মপদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সাধারণ মুহাদ্দিসগণের নিকট হাদিসের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হলো সেটি সাব্যস্ত হওয়া (ثبوته) এবং তার বিশুদ্ধতা (صحته)। এর ওপরই হাদিস গ্রহণ বা বর্জনের বিষয়টি আবর্তিত হয়, তা একজন বর্ণনা করুক বা একটি দল।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
ومن هنا بدأ أعداء الإسلام التشكيك والطعن في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فظنوا أنهم سيتوصلون إلى ذلك عن طريق زعزعة الثقة والتشكيك في صحة أخبار الآحاد، فوجدوا التفاوت الملحوظ في درجة نقل السنة النبوية: فمنها المتواتر، وهو الأقل عدداً، وغالبيتها العظمى أخبار آحاد، فعدُّوا هذه النسبة هي الثغرة التي تمكنهم مما أرادوا. ولكن هيهات لهم ذلك.
এখান থেকেই ইসলামের শত্রুরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি ও আক্রমণ শুরু করে। তারা ধারণা করেছিল যে, একক বর্ণনার (أخبار الآحاد) প্রতি আস্থা টলিয়ে দিয়ে এবং এর শুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টির মাধ্যমে তারা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। তারা নববী সুন্নাহর বর্ণনার স্তরে লক্ষ্যণীয় তারতম্য দেখতে পায়: যার মধ্যে কিছু হলো মুতাওয়াতির (المتواتر), যা সংখ্যায় অত্যন্ত কম, আর এর সিংহভাগই হলো একক বর্ণনা (أخبار الآحاد)। ফলে তারা এই অনুপাতকেই এমন একটি ছিদ্রপথ হিসেবে গণ্য করেছিল, যা তাদের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। কিন্তু তাদের সেই উদ্দেশ্য সফল হওয়া অসম্ভব।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
المطلب الثاني: بيان مصطلحات البحث:

من مقتضيات الدراسة المنهجية فَهْمُ مداخل الموضوع ومصطلحاته التي تحمل كل واحدة منها دلالتها الخاصة التي تعطي للموضوع بُعْدَه المميز، وبالتالي تحدد المفاهيم الأولية أو الكلية التي يراد بحثها.

البحث هو: "حجية أخبار الآحاد في العقائد والأحكام".

ويتكون من المصطلحات الآتية:

حجية: والحجية في اللغة مِنْ حجّ أي احتج على خصمه بحجة شهباء وبحجج شهب (1) . واحتج عليه: أي أقام الحجة مستنكراً فعله، وتحاجُّوا: تجادلوا. والحجة أي الدليل، والبرهان، وصك البيع، والعالم الثبت. (2) وقيل: الحجة والدليل واحد.

وفي الاصطلاح: ما دلَّ به على صحة الدعوى (3) .

والخبر في اللغة: بالتحريك واحد الأخبار، وهو ما أتاك من نبأ عَمَّنْ تستخبر، فيقال: خبَّره بكذا وأخبره نبأ. واستخبره: سأله عن الخبر، وطلب أن يخبره (4) .

وفي الاصطلاح: اختلف العلماء في حدِّ الخبر، فذهب بعضهم إلى أنه لا يحدُّ، والبعض الآخر إلى أنه يحدُّ. فذكر ابن الحاجب عن بعض أهل العلم أنهم

--------------------------------------------

(1) أساس البلاغة /112.

(2) المعجم الوسيط ج1/17.

(3) التعريفات للجرجاني/112.

(4) لسان العرب ج2/ 1090مختار الصحاح/131 القاموس المحيط 2/17.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গবেষণার পারিভাষিক শব্দাবলির বর্ণনা:

পদ্ধতিগত গবেষণার অন্যতম দাবি হলো বিষয়ের প্রবেশদ্বার এবং এর পারিভাষিক শব্দাবলি অনুধাবন করা, যার প্রতিটি শব্দ তার নিজস্ব তাৎপর্য বহন করে যা বিষয়টিকে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা প্রদান করে এবং ফলস্বরূপ গবেষণার প্রাথমিক বা সামগ্রিক ধারণাগুলো নির্ধারিত হয়।

গবেষণাটি হলো: "আকিদাহ ও আহকামের ক্ষেত্রে একক সংবাদ (أخبار الآحاد)-এর প্রামাণিকতা (حجية)"।

এটি নিম্নোক্ত পারিভাষিক শব্দাবলির সমন্বয়ে গঠিত:

প্রামাণিকতা (حجية): ভাষাগতভাবে 'হুজজিয়্যাহ' শব্দটি 'হাজ্জা' থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ হলো শক্তিশালী ও অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুক্তি পেশ করা (১)। আর 'সে তার বিরুদ্ধে যুক্তি পেশ করেছে' বলতে বোঝায়: সে তার কাজকে অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। আর 'তারা পরস্পর বিতর্ক করেছে' অর্থ: তারা একে অপরের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে। 'হুজ্জাহ' অর্থ হলো দলিল, প্রমাণ, বিক্রয় দলিল এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (ثبت) আলেম (২)। বলা হয়ে থাকে যে, 'হুজ্জাহ' এবং 'দলিল' একই অর্থবোধক।

পারিভাষিক অর্থে: যার মাধ্যমে কোনো দাবির সত্যতা সাব্যস্ত করা হয় (৩)।

সংবাদ (الخبر) এর আভিধানিক অর্থ: এটি যবর যোগে উচ্চারিত শব্দ যা 'আখবার' (الأخبار) এর একবচন। এটি এমন সংবাদ যা আপনার নিকট এমন কোনো ব্যক্তি থেকে পৌঁছেছে যার কাছ থেকে আপনি তথ্য জানতে চেয়েছেন। বলা হয়: সে তাকে এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছে এবং তাকে অবহিত করেছে। আর তার কাছে সংবাদ জানতে চাওয়া অর্থ: তার কাছে খবর জিজ্ঞাসা করা এবং সংবাদ প্রদানের অনুরোধ করা (৪)।

পারিভাষিক অর্থে: সংবাদের (الخبر) সংজ্ঞার বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন এর কোনো সংজ্ঞা প্রদান করা সম্ভব নয়, আবার কেউ কেউ মনে করেন এর সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব। ইবনুল হাজিব কতিপয় জ্ঞানীর বরাতে উল্লেখ করেছেন যে তাঁরা...

--------------------------------------------

(১) আসাসুল বালাগাহ /১১২।

(২) আল-মু'জামুল ওয়াসিত খণ্ড ১/১৭।

(৩) আল-তারিফাত লিল জুরজানি/১১২।

(৪) লিসানুল আরব খণ্ড ২/ ১০৯০, মুখতারুস সিহাহ/১৩১, আল-কামুসুল মুহিত ২/১৭।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
قالوا: لا يحد لعسره، ويحتمل أن يكون لوضوحه؛ لأن توضيح الواضحات من المشكلات (1) .

والذين قالوا إنه يحدُّ اختلفوا في تعريفه:

فذهب الأصوليون إلى أن الخبر هوكلام يفيد بنفسه إضافة أمر من الأمور نفياً أو إثباتاً (2) . وقيل هو "المحتمل للتصديق والتكذيب لذاته" (3) وقيل: هو "عبارة عن اللفظ الدال بالوضع على نسبة معلوم أو سلبها على وجه يحسن السكوت عليه من غير حاجة إلى تمام، مع قصد المتكلم به الدلالة على النسبة أو سلبها" (4) .

والخبر عند المحدِّثين: مرادف للحديث (5) ، والمراد بالخبر هنا ما أضيف إلى النبي صلى الله علية وسلم من قول أو فعل أو وصف.

الآحاد: في اللغة جمع أحد وهو بمعنى الواحد أول العدد مأخوذ من اسمه خبر رواه واحد عن واحد (6) ، فهمزة أحد مبدلة من واو، وأصلها "وحد" وأصل آحاد أأحاد بهمزتين أبدلت الثانية ألفاً؛ للتخفيف مثل آدم (7) .

وقيل الأحد لا يوصف به إلا الله سبحانه وتعالى لخلوص هذا الاسم له

--------------------------------------------

(1) شرح مختصر بن الحاجب ج2/45.

(2) المعتمد ج2/544.

(3) الفروق للقرافي ج1/18.

(4) الإحكام للآمدى ج2/9.

(5) شرح نخبة الفكر لابن حجر/ 3.

(6) لسان العرب ج 8/4779. القاموس المحيط ج 1/356، التعريفات للجرجاني/96.

(7) القاموس المحيط ج 1/ 383.
তারা বলেছেন: এর সংজ্ঞা প্রদান করা কঠিন হওয়ার কারণে তা বর্জন করা হয়েছে। আবার এও হতে পারে যে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট হওয়ার কারণে তা করা হয়নি; কারণ স্পষ্ট বিষয়কে আরও স্পষ্ট করতে যাওয়া কঠিন বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত (১)।

আর যারা বলেছেন যে সংবাদ-এর সংজ্ঞা প্রদান করা আবশ্যক, তারা এর সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন:

উসুলবিদগণ (الأصوليون) এই মত গ্রহণ করেছেন যে, সংবাদ (خبر) হলো এমন বাক্য যা স্বয়ং কোনো বিষয়কে নেতিবাচক বা ইতিবাচকভাবে সাব্যস্ত করার অর্থ প্রদান করে (২)। আবার বলা হয়েছে, এটি হলো "এমন বিষয় যা স্বীয় সত্তার দিক থেকে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে" (৩)। আরও বলা হয়েছে: এটি হলো "এমন শব্দ যা আভিধানিক প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো জ্ঞাত বিষয়ের সম্বন্ধ বা তার নেতিবাচকতা এমনভাবে নির্দেশ করে যার ওপর বিরতি দেওয়া সংগত এবং অন্য কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী না হয়েই তা পূর্ণাঙ্গ অর্থ দেয়, আর এর মাধ্যমে বক্তার উদ্দেশ্যও সেই সম্বন্ধ বা তার নেতিবাচকতা নির্দেশ করা" (৪)।

হাদিস বিশারদগণের (المحدِّثين) নিকট সংবাদ (خبر) হলো হাদিসের সমার্থক (مرادف) (৫); আর এখানে সংবাদ (خبر) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে—তা সে কথা, কাজ কিংবা বৈশিষ্ট্য যাই হোক না কেন।

আহাদ (الآحاد): আভিধানিক অর্থে এটি ‘আহাদ’ শব্দের বহুবচন যা সংখ্যার শুরুতে ‘এক’ এর অর্থ প্রদান করে। এটি এমন সংবাদ (خبر) থেকে গৃহীত যা একজন বর্ণনাকারী অন্যজন থেকে বর্ণনা করেছেন (৬)। ‘আহাদ’ শব্দের হামজাটি মূলত ‘ওয়াও’ থেকে পরিবর্তিত হয়েছে এবং এর মূল রূপ ছিল ‘ওয়াহদ’। আর ‘আহাদ’ (বহুবচন)-এর মূল রূপ ছিল ‘আ-আহাদ’ (দুটি হামজা সহ), যেখানে সহজ উচ্চারণের জন্য দ্বিতীয় হামজাটিকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে; যেমনটি ‘আদম’ শব্দের ক্ষেত্রে হয়েছে (৭)।

আবার বলা হয়েছে যে, ‘আহাদ’ শব্দ দ্বারা একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ব্যতীত আর কাউকে বিশেষিত করা যায় না, কারণ এই নামটি কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট।

--------------------------------------------

(১) শারহু মুখতাসার ইবনিল হাজিব, খণ্ড ২/৪৫।

(২) আল-মু'তামাদ, খণ্ড ২/৫৪৪।

(৩) আল-ফুরুক লিল কারাফি, খণ্ড ১/১৮।

(৪) আল-ইহকাম লিল আমেদি, খণ্ড ২/৯।

(৫) শারহু নুখবাতুল ফিকার লি ইবনি হাজার/ ৩।

(৬) লিসানুল আরব, খণ্ড ৮/৪৭৭৯। আল-কামুসুল মুহিত, খণ্ড ১/৩৫৬, আত-তারিফাত লিল জুরজানি/৯৬।

(৭) আল-কামুসুল মুহিত, খণ্ড ১/ ৩৮৩।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وحده (1) وخبر الواحد هو ما يرويه شخص واحد. وإذا قيل للخبر آحاد فلأن رواته آحاد فهو إما من باب حذف المضاف أو تسمية الأثر باسم المؤثر مجازاً لأن الراوية أثر الراوي (2) .

والخبر مفرد وآحاد جمع وأضيف "الآحاد إلى الخبر، والمراد بخبر الآحاد عند الأصوليين: هو "مالم ينته إلى حد التواتر" (3) .

والمراد بخبر الواحد عند المحدثين: ما لم يتواتر سواء أكان من رواته شخص واحد أم أكثر (4) .

وذكر إمام الحرمين: أنه لا يراد بخبر الواحد الذي ينقله الواحد ولكن كل خبر عن جائز ممكن لا سبيل إلى القطع بصدقه ولا القطع بكذبه لا اضطراراً ولا استدلالاً فهو خبر الواحد وخبر الآحاد سواء نقله واحد أو جمع منحصرون، وقد يخبر الواحد فيعلم صدقه قطعاً كالنبي صلى الله عليه وسلم فيما يخبر به عن الغائبات ولا يعد من إخبار الآحاد (5) .

العقائد: أي ما يتعلق بالعقيدة، والعقيدة ما يدين الإنسان به وله "عقيدة حسنة سالمة من الشك" واعتقدت كذا: عقدت عليه القلب والضمير حتى قيل العقيدة (6) .

--------------------------------------------

(1) خبر الواحد في التشريع الإسلامي وحجيته ج 1/ 150. للقاضي.

(2) نزهة الخاطر على روضة الناظر ج 1/ 260.

(3) إرشاد الفحول / 47 شرح مختصر ابن الحاجب ج 2/655. البحر المحيط ج 4/ 255.

(4) فتح الباري ج 9/ 15.

(5) البرهان في أصول الفقه ج 1/ 583.

(6) المصباح المنير ج 2/ 71.
একাকী (১) এবং একক সংবাদ (خبر الواحد) হলো তা যা একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেন। আর যখন সংবাদকে আহাদ (آحاد) বলা হয়, তখন তার কারণ হলো এর বর্ণনাকারীগণ (رواة) হলেন একক ব্যক্তি। এটি হয় মুদাফ (সম্বন্ধপদ) বিলুপ্ত করার কারণে, অথবা রূপকভাবে প্রভাবকের নামে প্রভাবকে (আসার) নামকরণের অন্তর্ভুক্ত; কারণ বর্ণনা (راوية) হলো বর্ণনাকারীর (راوي) কর্মের প্রভাব (২)।

সংবাদ (خبر) শব্দটি একবচন এবং আহাদ (آحاد) হলো তার বহুবচন। এখানে 'আহাদ' শব্দটিকে সংবাদের (خبر) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। উসুলবিদদের (الأصوليين) মতে একক সংবাদ (خبر الآحاد) বলতে বোঝায়: "যা মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ের সীমায় পৌঁছায়নি" (৩)।

হাদিস বিশারদদের (المحدثين) নিকট একক সংবাদের (خبر الواحد) অর্থ হলো: যা মুতাওয়াতির (متواتر) হয়নি, চাই তার বর্ণনাকারীগণ (رواة) একজন হোক বা ততোধিক (৪)।

ইমামুল হারামাইন উল্লেখ করেছেন যে: একক সংবাদ (خبر الواحد) বলতে কেবল এমন সংবাদকে বোঝায় না যা একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেন, বরং অকাট্য নয় এমন প্রতিটি সংবাদ—যার সত্যতা বা মিথ্যা হওয়া সম্পর্কে অকাট্য জ্ঞান লাভের কোনো উপায় নেই, চাই তা অপরিহার্যতা (ইজতিরার) বা প্রমাণের (ইস্তিদলাল) মাধ্যমে হোক—তাহলো একক সংবাদ (خبر الواحد) এবং আহাদ (آحاد)। চাই তা একজন ব্যক্তি বর্ণনা করুক বা এমন এক সীমাবদ্ধ গোষ্ঠী বর্ণনা করুক যারা মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কখনো কখনো একজন ব্যক্তি এমন সংবাদ প্রদান করেন যার সত্যতা অকাট্যভাবে জানা যায়, যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অদৃশ্য বিষয়াদি সম্পর্কে যা সংবাদ দেন, এবং তা একক সংবাদের (إخبار الآحاد) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হয় না (৫)।

আকাইদ: অর্থাৎ যা আকিদার (العقيدة) সাথে সংশ্লিষ্ট। আর আকিদা (العقيدة) হলো সেই বিষয় যা মানুষ দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে। বলা হয়, "তার একটি সুন্দর ও সন্দেহমুক্ত আকিদা (عقيدة) রয়েছে।" আর "আমি অমুক বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছি" (اعتقدت كذا) এর অর্থ হলো: আমি অন্তর ও বিবেকের মাধ্যমে তা দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করেছি, যে পর্যন্ত না একে আকিদা (عقيدة) বলা হয়েছে (৬)।

--------------------------------------------

(১) ইসলামি শরিয়তে একক সংবাদ (خبر الواحد) এবং এর প্রামাণিকতা, খণ্ড ১/ ১৫০। লেখক: আল-কাদি।

(২) নুজহাতুল খাতির আলা রওদাতিন নাজির, খণ্ড ১/ ২৬০।

(৩) ইরশাদুল ফুহুল / ৪৭, শারহু মুখতাসারি ইবনিল হাজিব, খণ্ড ২/৬৫৫। আল-বাহরুল মুহিত, খণ্ড ৪/ ২৫৫।

(৪) ফাতহুল বারি, খণ্ড ৯/ ১৫।

(৫) আল-বুরহান ফি উসুলিল ফিকহ, খণ্ড ১/ ৫৮৩।

(৬) আল-মিসবাহুল মুনির, খণ্ড ২/ ৭১।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
والإنسان بحاجة إلى الدين، فآفاق دين الله واسعة وأموره كثيرة متنوعة وفي القرآن والسنة من أسرار الهداية ووسائل التوحيد والتربية والتقويم

ما تعالج به النفوس المضطربة والعقول الحائرة والقلوب المريضة، كما تعالج به قضايا الإنسان وأمور حياته، فيصير أطولَ وأسلسَ قيادة لتوجيهات شرع الله.

والعقيدة بكل جزئياتها لا سبيل إلى معرفتها والعلم بها إلا سبيل الخبر الصادق الصحيح ولقد أخبر الرسل عليهم الصلاة والسلام أممهم بأمور الغيب كلها عن طريق ما أوحى الله به إليهم. وقد أتم الله بناء النبوة بالرسول صلى الله عليه وسلم الذي بعثه الله لهذه الأمة بشيراً ونذيراً وهادياً ورحمة مهداة مبلغاً لها عن الله وقد بلَّغها الدين كاملاً عقيدة وشريعة، وهو الصادق والمصدوق فيما أخبر به عن الله (1) .

والأحكام: جمع حكم، والحكم في اللغة: المنع ومنه قيل للقضاء حُكْم؛ لأنه يمنع من غير المقضي به. وحكمت عليه كذا: إذ منعته من خلافة (2) .

وفي الاصطلاح هو: "إثبات أمر لأمر أو نفيه عنه" نحو زيد قائم، وعمرو ليس بقائم" وهو ينقسم بدليل الاستقراء إلى ثلاثة أقسام (3) :

حكم عقلي: وهو ما يَعْرف فيه العقل النسبة إيجاباً أو سلباً نحو: "الكل أكبر من الجزء" إيجاباً. أو "الجزء ليس أكبر من الكل" سلباً.

حكم عادي: وهو ما عرفت فيه النسبة بالعادة نحو، السيقمونيا مسهل

--------------------------------------------

(1) خبر الواحد في التشريع الإسلامي وحجيته للقاضي برهون ج1/397.

(2) المصباح المنير /145.

(3) مذكرة في أصول الفقه للشنقيطي/10.
মানুষের দ্বীনের প্রয়োজন রয়েছে। আল্লাহর দ্বীনের দিগন্ত অত্যন্ত প্রশস্ত এবং এর বিষয়াবলি বহুবিধ ও বৈচিত্র্যময়। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর মাঝে হিদায়াতের রহস্য এবং তাওহিদ, তরবিয়ত ও সংশোধনের এমন সব উপায় ও উপকরণ নিহিত রয়েছে

যার মাধ্যমে অশান্ত আত্মা, বিভ্রান্ত বুদ্ধি এবং রুগ্ন হৃদয়ের চিকিৎসা করা সম্ভব; ঠিক সেভাবেই মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ সমস্যা ও বিষয়াবলি এর মাধ্যমে সমাধান করা যায়, যার ফলে সে আল্লাহর শরিয়তের নির্দেশনার সামনে নিজেকে সমর্পণ করাকে সহজতর ও সাবলীল মনে করে।

আকিদাহ বা বিশ্বাসের প্রতিটি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় জানার একমাত্র পথ হলো সত্য ও সহিহ (صحيح) সংবাদ। রাসুলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁদের উম্মতদের গায়িব বা অদৃশ্যের সমস্ত বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেছেন যা আল্লাহ তাঁদের কাছে ওহির মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা নবুওয়াতের অট্টালিকা সম্পন্ন করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে, যাঁকে আল্লাহ এই উম্মতের জন্য সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, পথপ্রদর্শক এবং উপহারস্বরূপ রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি উম্মতের কাছে পূর্ণ দ্বীন—তা আকিদাহ হোক বা শরিয়াহ—সবই পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তাতে তিনি সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ (১)।

আহকাম শব্দটি হুকুম শব্দের বহুবচন। আভিধানিক অর্থে হুকুম অর্থ হলো: কোনো কিছু থেকে বিরত রাখা বা বাধা প্রদান করা। এ কারণেই বিচারকার্যকে হুকুম বলা হয়; কারণ তা ফয়সালার বাইরে যেতে বাধা দেয়। 'আমি তার ওপর এরূপ হুকুম করেছি'—এর অর্থ হলো: আমি তাকে এর বিরুদ্ধাচরণ করতে বাধা দিয়েছি (২)।

পারিভাষিক সংজ্ঞায় হুকুম হলো: "একটি বিষয়কে অন্য একটি বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করা কিংবা তা থেকে নাকচ করা।" যেমন: "যায়েদ দণ্ডায়মান" এবং "আমর দণ্ডায়মান নয়।" আরোহ পদ্ধতির প্রমাণ অনুযায়ী এটি তিন ভাগে বিভক্ত (৩):

যৌক্তিক বিধান: এটি এমন বিষয় যেখানে বিবেক বা বুদ্ধি ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে কোনো সম্বন্ধ নির্ধারণ করে। যেমন ইতিবাচকভাবে: "সমষ্টি তার অংশ থেকে বড়", অথবা নেতিবাচকভাবে: "অংশ তার সমষ্টির চেয়ে বড় নয়"।

স্বভাবজাত বা অভ্যাসগত বিধান: এটি এমন বিষয় যেখানে অভ্যাসের মাধ্যমে সম্বন্ধ নির্ণিত হয়। যেমন: "স্ক্যামোনি (ভেষজ বিশেষ) হলো রেচক বা কোষ্ঠপরিষ্কারক।"

--------------------------------------------

(১) ইসলামি আইন প্রণয়নে একক সংবাদ (خبر الواحد) এবং এর প্রামাণিকতা, কাজী বারহুন, খণ্ড ১/৩৯৭।

(২) আল-মিসবাহুল মুনীর /১৪৫।

(৩) মুজাক্কিরাহ ফি উসুলিল ফিকহ, শানকিতি/১০।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
للصفراء.

حكم شرعي: وهو خطاب الله تعالى المتعلق بأفعال المكلفين بالاقتضاء أو التخيير أو الوضع.

والمراد به هنا هو النصوص الشرعية المتعلقة بأفعال المكلفين، وليس المراد بالأحكام الواردة في عنوان البحث هي النصوص الشرعية وإنما المراد بها "الفروع الفقهية" أو الأحكام الشرعية العملية.

والبحث المقصود منه: ذكر الأدلة الصحيحة على كون خبر الواحد مقبولاً في العقائد والأحكام، أو البرهان على قبول خبر الآحاد في العقائد والأحكام الشرعية.
সফরা-এর জন্য।

শরয়ী বিধান (حكم شرعي): এটি হলো মুকাল্লাফ (المكلفين) ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট মহান আল্লাহ তাআলার ওই বাণী যা কোনো কিছু দাবি করা (الاقتضاء), ঐচ্ছিকতা প্রদান (التخيير) অথবা কোনো কিছু নির্ধারণের (الوضع) সাথে সম্পৃক্ত।

এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুকাল্লাফ (المكلفين) ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ী মূলপাঠসমূহ (النصوص الشرعية)। এই গবেষণার শিরোনামে উল্লিখিত 'আহকাম' (বিধানসমূহ) দ্বারা মূল শরয়ী নস বা পাঠসমূহ উদ্দেশ্য নয়, বরং এর দ্বারা "ফقهী শাখা-প্রশাখা" (الفروع الفقهية) বা ব্যবহারিক শরয়ী বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية العملية) উদ্দেশ্য।

উক্ত গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো: আকিদা (العقائد) ও বিধানের (الأحكام) ক্ষেত্রে একক বর্ণনা (خبر الواحد) গ্রহণযোগ্য হওয়ার স্বপক্ষে সঠিক (صحيح) প্রমাণসমূহ উপস্থাপন করা, অথবা আকিদা ও শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে একক বর্ণনা (خبر الآحاد) গ্রহণের যৌক্তিক প্রমাণ পেশ করা।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الفصل الأول: الاحتجاج بخبر الآحاد في العقائد

‌‌المبحث الثاني: إفادة خبر الآحاد العلم أو الظن

…

المبحث الأول: إفادة خبر الآحاد العلم (1) أو الظن (2)

لما كان البحث في الاحتجاج بخبر الآحاد في العقائد والأحكام، كان لزاماً علينا أن نصدر البحث بـ"هل يفيد خبر الآحاد العلم أو الظن؟ "؛ لأن من قال: إن خبر الآحاد يفيد العلم قال بالاحتجاج به في العقائد، ومن قال إنه يفيد الظن اختلفوا فيه: منهم من قال بالاحتجاج به في العقائد، ومنهم من قال بعدم الاحتجاج به.

وقبل أن أتعرض لآراء الأصوليين والمحدثين في هذا الأمر لا بد أن نحرر محل النزاع والخلاف.

حكى الشوكاني أن الخلاف في هذه المسألة مقيد بما إذا كان خبر الآحاد لم ينضم إليه ما يقويه أو كان مشهوراً أو مستفيضاً (3) .

والذي ذكره جمهور الأصوليين أن خبر الآحاد إذا تلقته الأمة بالقبول

--------------------------------------------

(1) العلم: هو الاعتقاد الجازم المطابق للواقع (التعريفات للجرجاني/ 154) أما العلم الذي يفيده خبر الآحاد فقد اختلف فيه العلماء هل المراد به العلم الضروري وهو الذي يحصل دون استدلال، أو العلم النظري وهو الذي يحصل بعد نظر وتأمل، أو العلم اليقيني وهو القطعي الذي لا يحتمل الشك أو التردد. العدة ج1/88.

(2) الظن: هو أحد طرفي الشك بصفة الرجحان (التعريفات / 144) ويطلق الظن على معنى العلم كما في قوله تعالى: {إني ظننت أني ملاق حسابيه} [الحاقة آية:20] وعلى معنى اليقين كما في قوله تعالى: {الذين يظنون أنهم ملاقوا ربهم} [سورة البقرة آية: 46] وعلى معنى الشك كما في قوله تعالى: {إن نظن إلا ظن وما نحن بمستيقنين} [سورة الجاثية آية: 32] .

(3) إرشاد الفحول / 50.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আকিদাহ (العقائد) এর ক্ষেত্রে একক সংবাদ (خبر الآحاد) এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: একক সংবাদ (خبر الآحاد) নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) নাকি প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে

...

প্রথম অনুচ্ছেদ: একক সংবাদ (خبر الآحاد) নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) (১) অথবা প্রবল ধারণা (الظن) (২) প্রদান করা প্রসঙ্গে

যেহেতু আকিদাহ (العقائد) এবং বিধিবিধানের ক্ষেত্রে একক সংবাদ (خبر الآحاد) এর প্রামাণ্যতা নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে, তাই আমাদের জন্য এই প্রশ্নটি দিয়ে আলোচনা শুরু করা আবশ্যক যে, "একক সংবাদ (خبر الآحاد) কি নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে নাকি প্রবল ধারণা (الظন)?" কারণ, যারা বলেন যে একক সংবাদ (خبر الآحاد) নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে, তারা আকিদাহ (العقائد) এর ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করাকে সাব্যস্ত করেন। আর যারা বলেন যে এটি প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে, তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন: তাদের মধ্যে কেউ আকিদাহ (العقائد) এর ক্ষেত্রে একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার পক্ষে মত দিয়েছেন, আবার কেউ একে দলিল হিসেবে গ্রহণ না করার কথা বলেছেন।

এই বিষয়ে উসুলবিদ (الأصوليين) এবং মুহাদ্দিস (المحدثين) গণের মতামতগুলো তুলে ধরার আগে, বিরোধ ও মতভেদের প্রকৃত ক্ষেত্রটি আমাদের স্পষ্ট করে নেয়া প্রয়োজন।

শাওকানী বর্ণনা করেছেন যে, এই মাসআলার মতভেদটি কেবল তখনই সীমাবদ্ধ যখন একক সংবাদ (خبر الآحاد) এর সাথে এমন কোনো বিষয় যুক্ত না হয় যা একে শক্তিশালী করে, অথবা যখন তা প্রসিদ্ধ (مشهور) বা মুস্তাফিদ (مستفيض) (৩) না হয়।

জমহুর উসুলবিদ (الأصوليين) যা উল্লেখ করেছেন তা হলো, একক সংবাদ (خبر الآحاد) যদি উম্মতের কাছে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে...

--------------------------------------------

(১) নিশ্চিত জ্ঞান (العلم): এটি হলো বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাস (الاعتقاد الجازম) (আত-তারিফাত লিল জুরজানি/ ১৫৪)। একক সংবাদ (خبر الآحاد) যে জ্ঞান প্রদান করে সে সম্পর্কে আলেমগণ মতভেদ করেছেন যে, এর দ্বারা কি 'অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞান' (العلم الضروري) উদ্দেশ্য—যা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই অর্জিত হয়; নাকি 'তাত্ত্বিক জ্ঞান' (العلم النظري)—যা পর্যবেক্ষণ ও চিন্তা-ভাবনার পর অর্জিত হয়; অথবা 'সুনিশ্চিত জ্ঞান' (العلم اليقيني)—যা চূড়ান্ত (القطعي) এবং যাতে কোনো সন্দেহ (الشك) বা দ্বিধা (التردد) এর অবকাশ নেই। আল-উদ্দাহ, খণ্ড ১/৮৮।

(২) প্রবল ধারণা (الظن): এটি সন্দেহের দুটি দিকের মধ্যে প্রাধান্য পাওয়া দিকটি (আত-তারিফাত / ১৪৪)। 'জান্ন' (الظن) শব্দটি নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) অর্থ প্রকাশেও ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় আমি জানতাম যে, আমি আমার হিসাবের সম্মুখীন হব" [সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত: ২০]। আবার এটি দৃঢ় বিশ্বাস (اليقين) অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "যাদের প্রবল বিশ্বাস যে, তারা তাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৪৬]। আবার এটি সন্দেহ (الشك) অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আমরা কেবল এক প্রকার ধারণা করি মাত্র এবং আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নই" [সূরা আল-জাসিয়াহ, আয়াত: ৩২]।

(৩) ইরশাদুল ফুহুল / ৫০।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
أفاد العلم عند جماهير العلماء من السلف والخلف (1) .

والذي ذكره أيضاً أهل الحديث: "أن خبر الآحاد إذا تلقَّته الأمة بالقبول عملاً وتصديقاً يفيد العلم عند جماهير الأمة" (2) .

ومذهب الأئمة الأربعة أن خبر الآحاد إذا حفَّت به قرائن، وتلقته الأمة بالقبول يفيد العلم (3) .

وذكر ابن الصلاح أن من ضمن ما تلقته الأمة بالقبول ما انفرد به كل من البخاري ومسلم لتلقي الأمة كل واحد من كتابيهما بالقبول (4) .

وذكر ابن حجر أن خبر الآحاد المحتف بالقرائن المتصلة: منه ما أخرجه الشيخان في صحيحيهما والمسلسل بالأئمة الحفاظ المتقنين (5) .

والذي نستطيع أن نقوله هو أنه اتفق أكثر أهل العلم من الأصوليين والمحدثين على أن خبر الآحاد إذا تلقته الأمة بالقبول أو احتفت به قرائن فإنه يفيد العلم.

ولكنهم اختلفوا فيما إذا لم تتلقَّه الأمة بالقبول ولم تحتف به قرائن هل يفيد العلم أو يفيد الظن؟

فذهب جمهور الأصوليين إلى أن خبر الواحد العدل لا يفيد إلا الظن (6) ،

--------------------------------------------

(1) الإحكام للآمدي ج 2/ 31. المسودة/242 فواتح الرحموت ج 2/121. أصول السرخسي ج1/32.

(2) شرح العقيدة الطحاوية / 228.

(3) الإحكام للآمدي ج 2 / 32 شرح العضد ج 2 / 56 نهاية السول ج2 /215 غاية الوصول/97.

(4) التقييد والإيضاح / 41 – علوم الحديث لابن الصلاح/ 25.

(5) النزهة للحافظ ابن حجر / 15.

(6) أصول السرخسي ج / 32 كشف الأسرار للبخاري ج 2 / 370 فواتح الرحموت ج 2/ 121.
সলফ এবং খলফ ওলামায়ে কেরামের সংখ্যাগরিষ্ঠের নিকট এটি নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে (১)।

এবং হাদিস বিশারদগণ যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: "একক সংবাদ (خبر الآحاد) যখন উম্মত আমল ও বিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করে নেয়, তখন তা উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠের নিকট নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে" (২)।

এবং চার ইমামের মাযহাব হলো, একক সংবাদ (خبر الآحاد) এর সাথে যখন পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (قرائن) যুক্ত হয় এবং উম্মত তা গ্রহণ করে নেয়, তখন তা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে (৩)।

ইবনুস সালাহ উল্লেখ করেছেন যে, উম্মত যা গ্রহণ করে নিয়েছে তার অন্তর্ভুক্ত হলো যা ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন; কারণ উম্মত তাঁদের উভয়ের কিতাবকে গ্রহণ করে নিয়েছে (৪)।

ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, পারিপার্শ্বিক প্রমাণের সাথে সংশ্লিষ্ট একক সংবাদ (خبر الآحاد) এর মধ্যে রয়েছে: যা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন এবং যা হাফেজ (الحفاظ) ও অত্যন্ত নিখুঁত (المتقنين) ইমামগণের পরম্পরায় বর্ণিত (৫)।

আমরা যা বলতে পারি তা হলো, উসুলবিদ (الأصوليين) এবং হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) অধিকাংশ এই বিষয়ে একমত যে, একক সংবাদ (خبر الآحاد) যখন উম্মত গ্রহণ করে নেয় অথবা তার সাথে পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (قرائن) যুক্ত হয়, তখন তা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে।

তবে তাঁরা এই বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, যদি উম্মত তা গ্রহণ না করে এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (قرائن) যুক্ত না হয়, তবে কি তা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করবে নাকি প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করবে?

উসুলবিদগণের (الأصوليين) সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত হলো যে, একজন ন্যায়পরায়ণ (العدل) বর্ণনাকারীর একক সংবাদ (خبر الواحد) প্রবল ধারণা (الظن) ব্যতীত অন্য কিছু প্রদান করে না (৬),

--------------------------------------------

(১) আল-ইহকাম লি-আমীদি, ২য় খণ্ড/ ৩১। আল-মুসাউওয়াদাহ/ ২৪২। ফাওয়ালিহুর রাহমুত, ২য় খণ্ড/ ১২১। উসুলুস সারখাসি, ১ম খণ্ড/ ৩২।

(২) শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ/ ২২৮।

(৩) আল-ইহকাম লি-আমীদি, ২য় খণ্ড/ ৩২। শারহুল আদুদ, ২য় খণ্ড/ ৫৬। নিহায়াতুস সুল, ২য় খণ্ড/ ২১৫। গায়াতুল উসুল/ ৯৭।

(৪) আত-তাকয়িদ ওয়াল ইদাহ/ ৪১ – উলূমুল হাদিস লি-ইবনুস সালাহ/ ২৫।

(৫) আন-নুঝাহ লিল হাফেজ ইবনে হাজার/ ১৫।

(৬) উসুলুস সারখাসি, ১ম খণ্ড/ ৩২। কাশফুল আসরার লিল বুখারি, ২য় খণ্ড/ ৩৭০। ফাওয়ালিহুর রাহমুত, ২য় খণ্ড/ ১২১।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وذهب جمهور أهل الظاهر وأهل الحديث إلى أن خبر الواحد العدل يفيد القطع (1) .

الأدلة:

استدل أصحاب المذهب الأول القائل بأن خبر الواحد لا يفيد إلا الظن وهم جمهور الأصوليين وعزاه النووي إلى الأكثرين والمحققين (2) بما يلي:

أولاً: أنا نعلم ضرورة أنا لا نصدق كل خبر نسمعه (3) فلو كان خبر الواحد مفيداً للعلم لما ورد احتمال الكذب. فلما احتمل الكذب في الخبر ثبت أنه لا يوجب العلم.

أجيب عن هذا الدليل بما يلي:

1 - إننا جعلنا خبر الواحد مفيداً للعلم للقرائن التي انضمت إليه ككون المخبر من أهل العدالة وكون الخبر قد تلقته الأمة بالقبول، وقد حصل اتفاق على هذا ولم ينكره أحد ممَّنْ يعتدُّ بقوله.

2 -إننا لم نقل إن كل خبر واحد مفيد للعلم، بل اشترطنا في الخبر أن يرويه العدل الضابط عن مثله، من أول السند إلى منتهاه من غير شذوذ ولا علة وقد أجمع أهل العلم على أنه لا يقبل إلا خبر الواحد العدل أما الفاسق فلا مجال للاحتجاج بحديثه ألبتة (4) .

--------------------------------------------

(1) مختصر الصواعق ج 2 /480. المسودة / 242 المدخل / 91. شرح الروضة ج 2 / 603.

(2) شرح النووي على صحيح مسلم ج 1 /20.

(3) إتحاف ذوي البصائر بشرح روضة الناظر ج 3 / 123.

(4) الإحكام للآمدي ج 2 / 32 المعتمد ج 2 /566.
অধিকাংশ আহলে জাহির এবং হাদিস শাস্ত্রবিদদের মতে, ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির একক সংবাদ (خبر الواحد) অকাট্য নিশ্চয়তা (قطع) প্রদান করে (১)।

প্রমাণাদি:

প্রথম মতাবলম্বীরা, যারা মনে করেন যে একক সংবাদ (خبر الواحد) কেবল প্রবল ধারণা (ظن) প্রদান করে—আর তারা হলেন জমহুর উসুলবিদ (أصوليون), এবং ইমাম নববী একে অধিকাংশ ও গবেষক আলিমদের অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন (২)—তারা নিম্নোক্ত বিষয়াদি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:

প্রথমত: আমরা আবশ্যিকভাবেই জানি যে, আমরা যা শুনি তার সবকিছুই বিশ্বাস করি না (৩)। সুতরাং একক সংবাদ (خبر الواحد) যদি জ্ঞান (علم) দান করত, তবে তাতে মিথ্যার সম্ভাবনা থাকত না। যেহেতু সংবাদে মিথ্যার সম্ভাবনা বিদ্যমান, তাই প্রমাণিত হয় যে এটি অকাট্য জ্ঞান (علم) আবশ্যক করে না।

এই দলিলের উত্তর নিম্নরূপভাবে দেওয়া হয়েছে:

১ - আমরা একক সংবাদকে (خبر الواحد) জ্ঞানের (علم) উৎস হিসেবে গণ্য করেছি এমন কিছু পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (قرائن) ভিত্তিতে যা এর সাথে যুক্ত হয়েছে। যেমন: সংবাদদাতার ন্যায়পরায়ণ (عدالة) হওয়া এবং উম্মাহ কর্তৃক সংবাদটি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করা। এই বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং নির্ভরযোগ্য আলিমদের কেউই একে অস্বীকার করেননি।

২ -আমরা এ কথা বলিনি যে প্রতিটি একক সংবাদই (خبر الواحد) জ্ঞান (علم) দান করে। বরং আমরা সংবাদের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করেছি যে, তা যেন একজন ন্যায়পরায়ণ ও নিখুঁত সংরক্ষণকারী (عدل ضابط) তার অনুরূপ ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, যা সনদের (سند) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন হবে এবং তাতে কোনো বিচ্যুতি (شذوذ) কিংবা ত্রুটি (علة) থাকবে না। আলিমগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির একক সংবাদ (خبر الواحد) ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করা হবে না। আর পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করার কোনো অবকাশ নেই (৪)।

--------------------------------------------

(১) মুখতাসারুস সাওয়াইক, খণ্ড ২ / ৪৮০। আল-মুসাউওয়াদাহ / ২৪২; আল-মাদখাল / ৯১; শারহুর রওদাহ, খণ্ড ২ / ৬০৩।

(২) সহিহ মুসলিমের শারহ নববী, খণ্ড ১ / ২০।

(৩) ইতহাফু যবিল বাসাইর বি-শারহি রওদাতিন নাযির, খণ্ড ৩ / ১২৩।

(৪) আল-ইহকাম লিল-আমিদি, খণ্ড ২ / ৩২; আল-মুতামাদ, খণ্ড ২ / ৫৬৬।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
3 - هذا الدليل فيه ضعف؛ لأن حاصله يرجع إلى محض الدعوى في موضع الخلاف من غير دلالة ومع ذلك هي مقابلة بمثلها، وهو أن نقول: "ونحن نجد في أنفسنا العلم بذلك، وليس أحد الأمرين أولى من الآخر" (1) .

ثانياً: لو كان خبر الواحد مفيداً للعلم لما صح ورود خبرين متعارضين

- لاستحالة اجتماع الضدين - لكن رأينا وجود التعارض في أخبار الآحاد كثيراً. إذ لو كانت مفيدة للعلم لما وقع التعارض بينها؛ لأن الخبرين المفيدين للعلم لا يتعارضان (2) .

أجيب عن ذلك الدليل بما يلي:

1 - أن خبر الواحد إذا حُفَّت به قرائن تدل على صدقه لا يسوغ ولا يجوز أن يتعارض مع غيره أبداً في الأمر نفسه إلا كما يسوغ ويجوز التعارض بين الأخبار المتواترة أو التعارض بين الآيات الكريمة، والتعارض في واقع الأمر نفسه لا يقع بين الأدلة الشرعية، وإنما يبدو لذهن المجتهد، وحينئذ لابد من الترجيح، وذلك بحمل العام على الخاص أو المطلق على المقيد أو الحقيقة على المجاز. وقبل الترجيح يسلك المجتهد طريقَ معرفةِ تاريخ ورود كل منهما، فإن علم تقدم أحدهما على الآخر حَكَمَ بالنسخ، ولا كلام في ذلك، فإن لم يعلم التاريخ فإنه يلجأ إلى الجمع بين الدليلين المتعارضين.

ثالثاً: أن خبر الواحد لو كان مفيداً للعلم لجاز أن ينسخ القرآن والحديث المتواتر، لكونه بمنزلتهما في إفادة العلم، ولكن لما لم يجز نسخ خبر الواحد للقرآن والحديث المتواتر دلَّ على أنه لا يفيد العلم فصارت مرتبته أقل

--------------------------------------------

(1) إتحاف ذوي البصائر بشرح روضة الناظر ج 3/123.

(2) الإحكام للآمدي ج 2/ 33. إتحاف ذوي البصائر بشرح روضة الناظر ج 3/ 123.
৩ - এই দলিলের মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে; কারণ এর সারমর্ম কোনো প্রমাণ ছাড়াই মতপার্থক্যের বিষয়ে নিছক দাবির দিকে ধাবিত হয়। তদুপরি, এটি একটি অনুরুপ দাবির মুখোমুখি হয়, আর তা হলো আমাদের এ কথা বলা: "আমরা নিজেরাও এ বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) লাভ করি, এবং এই দুই বিষয়ের কোনোটিই অন্যটির চেয়ে অধিক গ্রহণযোগ্য নয়" (১)।

দ্বিতীয়ত: যদি একক সংবাদ (خبر الواحد) নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করত, তবে দুটি পরস্পরবিরোধী সংবাদ আসা সঠিক হতো না

- কেননা দুটি বিপরীত বিষয়ের একত্রে অবস্থান অসম্ভব - কিন্তু আমরা একক সংবাদসমূহের (أخبار الآحاد) মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে বৈপরীত্য দেখতে পাই। কেননা এগুলো যদি নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করত, তবে তাদের মধ্যে বৈপরীত্য ঘটত না; কারণ নিশ্চিত জ্ঞান প্রদানকারী দুটি সংবাদের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয় না (২)।

এই দলিলের উত্তর নিম্নোক্তভাবে দেওয়া হয়েছে:

১ - একক সংবাদ (خبر الواحد) যখন এমন কিছু লক্ষণ (قرائن) দ্বারা পরিবেষ্টিত হয় যা তার সত্যতা প্রমাণ করে, তখন একই বিষয়ে অন্য কোনো দলিলের সাথে তার বৈপরীত্য ঘটা কক্ষনোই সমীচীন বা জায়েজ নয়; কেবল মুতাওয়াতির সংবাদসমূহের (الأخبار المتواترة) মধ্যে অথবা পবিত্র আয়াতসমূহের মধ্যে যেভাবে বৈপরীত্য হতে পারে (তেমনটি ভিন্ন)। মূলত প্রকৃত বিচারে শরয়ি দলিলসমূহের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য ঘটে না, বরং মুজতাহিদের মেধায় তা অনুভূত হয়। এমতাবস্থায় প্রাধান্য দান (ترجيح) অপরিহার্য হয়ে পড়ে, আর তা হয় সাধারণকে (عام) বিশেষের (خاص) ওপর, অথবা নিঃশর্তকে (مطلق) শর্তযুক্তের (مقيد) ওপর, কিংবা প্রকৃত অর্থকে (حقيقة) রূপক অর্থের (مجاز) ওপর প্রয়োগ করার মাধ্যমে। প্রাধান্য প্রদানের পূর্বে মুজতাহিদ উভয় দলিলের আগমনের ইতিহাস জানার পথ অবলম্বন করবেন; যদি একটি অপরটির পূর্বে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে তিনি রহিতকরণের (نسخ) বিধান দেবেন, এবং এতে কোনো বিতর্ক নেই। আর যদি ইতিহাস জানা না যায়, তবে তিনি পরস্পরবিরোধী দলিলদ্বয়ের মধ্যে সমন্বয়ের (جمع) পথ অবলম্বন করবেন।

তৃতীয়ত: একক সংবাদ (خبر الواحد) যদি নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদানকারী হতো, তবে এর মাধ্যমে কুরআন ও মুতাওয়াতির হাদিস রহিত করা জায়েজ হতো; যেহেতু জ্ঞান প্রদানের ক্ষেত্রে এটি ওই দুইটির সমপর্যায়ের হতো। কিন্তু যেহেতু একক সংবাদ (خبر الواحد) দ্বারা কুরআন ও মুতাওয়াতির হাদিস রহিত করা জায়েজ নয়, তাই এটি প্রমাণ করে যে, তা নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে না, ফলে এর মর্যাদা নিম্নতর হয়ে গেছে।

--------------------------------------------

(১) ইতহাফু যাবিল বাসাইর বিশারহি রওদাতিন নাযির, খণ্ড ৩/১২৩।

(২) আল-ইহকাম লিল-আমিদি খণ্ড ২/ ৩৩। ইতহাফু যাবিল বাসাইর বিশারহি রওদাতিন নাযির, খণ্ড ৩/ ১২৩।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأضعف من مرتبتهما فهو يفيد الظن.

أجيب عن الدليل بما يلي:

أن هذا القول على مذهب بعض العلماء، ولكن البعض الآخر قالوا إن خبر الواحد ينسخ القرآن والسنة المتواترة، والدليل على ذلك الوقوع، إذ روي عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أنه قال: "بينما الناس بقباء في صلاة الصبح إذ جاءهم آتٍ فقال: إن رسول الله قد أنزل عليه القرآن وقد أُمر أن يستقبل القبلة فاستقبلوها، وكانت وجوههم إلى الشام فاستداروا إلى الكعبة" (1) .

والتحقيق الذي لا شك فيه هو جواز وقوع نسخ المتواتر بالآحاد الصحيحة الثابت تأخرها عنه، والدليل الوقوع (2) .

رابعاً: لو كان خبر الواحد مفيداً للعلم لأفاده على أي صفة وُجِد المُخْبِر، سواء أكان المخبر عدلاً أم فاسقاً نظراً لاستوائهما في حصول العلم بخبرهما ولكن خبر الواحد يشترط في المخبر أن يكون عدلاً تقوية له فلا يقبل خبر الفاسق، فلو كان خبر الواحد مفيداً للعلم لما فرق بينهما (3) .

أجيب عن هذا الدليل بما يلي:

نظراً إلى اشتراط العدالة في المخبر فإنه يقبل خبر الراوي العدل ولا يقبل خبر الراوي الفاسق، بخلاف الخبر المتواتر فنظراً لكثرتهم فإنه يستوي الفاسق والعدل وغيرهما فيه.

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم بشرح النووي ج 5/10. كتاب المساجد. باب تحويل القبلة من القدس إلى الكعبة.

(2) مذكرة في أصول الفقه للشنقيطي/ 103.

(3) إتحاف ذوي البصائر بشرح روضة الناظرج 3/ 125.
এবং তাদের (পূর্বোক্ত দুই স্তরের) মর্যাদার চেয়ে নিম্নতর পর্যায়ের সংবাদ ধারণার (الظن) উদ্রেক করে।

এই দলিলের উত্তর নিম্নোক্তভাবে প্রদান করা হয়েছে:

নিশ্চয়ই এই মতটি কিছু আলিমের মাযহাব অনুযায়ী, তবে অপর কেউ কেউ বলেছেন যে, একক সংবাদ (خبر الواحد) কুরআন এবং মুতাওয়াতির (المতواترة) সুন্নাহকে রহিত করতে পারে। এর সপক্ষে দলিল হলো এর বাস্তবতা (অর্থাৎ বাস্তবে এমনটা ঘটা), কেননা আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "লোকেরা যখন কুবা মসজিদে ফজরের সালাত আদায় করছিল, তখন জনৈক ব্যক্তি এসে বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর কুরআন নাযিল হয়েছে এবং তাঁকে কিবলার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অতএব তোমরা কিবলার দিকে মুখ ফেরাও। তাঁদের মুখ ছিল শামের দিকে, তখন তাঁরা কাবার দিকে ঘুরে গেলেন" (১)।

আর নিসন্দেহে যে বিষয়টি গবেষণালব্ধ ও সঠিক তা হলো, মুতাওয়াতির (المتواتر) বিষয়কে ওই সকল বিশুদ্ধ (الصحيحة) একক সংবাদ (الآحاد) দ্বারা রহিত করা জায়েয, যেগুলোর পরবর্তী সময়ে আসা প্রমাণিত। আর এর দলিল হলো এর বাস্তবতা (২)।

চতুর্থত: একক সংবাদ (خبر الواحد) যদি নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদানের সহায়ক হতো, তবে সংবাদদাতার অবস্থা যাই হোক না কেন তা জ্ঞান প্রদান করত; সংবাদদাতা ন্যায়পরায়ণ (عدلاً) হোক বা পাপাচারী (فاسقاً), কারণ সংবাদ দ্বারা জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে উভয়ই সমান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একক সংবাদের (خبر الواحد) ক্ষেত্রে সংবাদের শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংবাদদাতার ন্যায়পরায়ণ (عدلاً) হওয়া শর্ত করা হয়েছে; ফলে পাপাচারীর (الفاسق) সংবাদ গ্রহণ করা হয় না। সুতরাং একক সংবাদ (خبر الواحد) যদি নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করত, তবে এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা হতো না (৩)।

এই দলিলের উত্তর নিম্নোক্তভাবে দেওয়া হয়েছে:

সংবাদদাতার ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) শর্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে ন্যায়পরায়ণ (العدل) বর্ণনাকারীর (الراوي) সংবাদ গ্রহণ করা হয় এবং পাপাচারী (الفاسق) বর্ণনাকারীর (الراوي) সংবাদ গ্রহণ করা হয় না। মুতাওয়াতির (المتواتر) সংবাদের বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ সেখানে বর্ণনাকারীদের আধিক্যের কারণে পাপাচারী, ন্যায়পরায়ণ এবং অন্যরা সমান (অর্থাৎ সবার উপস্থিতিতে সংবাদটি নিশ্চিত হয়ে যায়)।

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম বিশরাহ আন-নববী, ৫ম খণ্ড/১০। কিতাবুল মাসাজিদ। বায়তুল মাকদিস থেকে কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তন অধ্যায়।

(২) মুযাক্কিরাহ ফি উসুলিল ফিকহ আশ-শানকীতি/ ১০৩।

(৩) ইতহাফু যাউইল বাসাইর বিশরাহ রওদাতুন নাযির, ৩য় খণ্ড/ ১২৫।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
كما أن هذا قياس عكس وقياس العكس يفيد الظن.

خامساً: لو كان خبر الواحد مفيداً للعلم لحصل العلم بنبوة من يخبر بكونه نبياً من غير حاجة إلى معجزة دالة على صدقه (1) .

--------------------------------------------

(1) الإحكام للآمدي ج 2/ 31.
তদুপরি, এটি একটি বিপরীত অনুমান (قياس العكس) এবং বিপরীত অনুমান কেবল প্রবল ধারণা (ظن) প্রদান করে।

পঞ্চমতঃ যদি একক সংবাদ (خبر الواحد) নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করত, তবে যে ব্যক্তি নিজেকে নবী বলে দাবি করতেন, তাঁর সত্যতার ওপর প্রমাণ হিসেবে কোনো মুজিজার প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই তাঁর নবুওয়াত সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) অর্জিত হতো (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইহকাম, আল-আমিদি, খণ্ড ২/ ৩১।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أجيب عن هذا الدليل بما يلي:

أن النبوة أمر في غاية الندرة ونهاية العظمة والعادة تحيل صدق مُدَّعيها من غير معجزة دالة على صدقه؛ لأنه يخبرنا عن الله تعالى. أمَّا من يُخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فإنما يشترط فيه ما اتفق عليه من العدالة والضبط والإسلام والحفظ وغيرهما (1) .

أدلة المذهب الثاني:

وهو المذهب القائل بأن خبر الواحد العدل إذا صح فإنه يفيد العلم.

وذهب إلى هذا المذهب بعض أهل الحديث، وحكاه ابن حزم في الإحكام عن داود الظاهري، والحسين بن علي الكرابيسي، والحارث بن أسد المحاسبي، وقال: وبه نقول واختاره ابن خويز منداد من المالكية (2) وذكر

ابن القيم أكثر من عشرين وجهاً في كتابه الصواعق المرسلة تدل على ذلك نذكر منها ما يلي:

--------------------------------------------

(1) التقرير والتحبير ج 2 /272.

(2) الإحكام في أصول الأحكام لابن حزم ج 1 /107. العدة ج 3 / 899. المسودة / 242. مختصر الصواعق 2/ 457. إتحاف ذوي البصائر ج 3 /127.
এই দলিলের উত্তর নিম্নরূপভাবে প্রদান করা হয়েছে:

নবুওয়াত হলো অত্যন্ত বিরল এবং চূড়ান্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি বিষয়। অলৌকিক নিদর্শন (মোজেজা) ব্যতীত নবুওয়াতের দাবিদারকে সত্যবাদী মেনে নেওয়া স্বাভাবিক অভ্যাসের পরিপন্থী, কেননা তিনি মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সংবাদ দেন। পক্ষান্তরে, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সংবাদ প্রদান করেন, তাদের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة), প্রখর স্মৃতিশক্তি (الضبط), ইসলাম, মুখস্থ করার ক্ষমতা (الحفظ) এবং অন্যান্য সর্বসম্মত শর্তাবলী বিদ্যমান থাকা আবশ্যক (১)।

দ্বিতীয় মতের দলীলসমূহ:

এটি ঐ মত যা বলে যে, কোনো ন্যায়পরায়ণ (العدل) ব্যক্তির একক সংবাদ (خبر الواحد) যদি সহিহ বা সঠিক (صح) হয়, তবে তা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে।

কিছু আহলে হাদিস এই মত পোষণ করেছেন। ইবনে হাজম আল-ইহকাম গ্রন্থে দাউদ আজ-জাহেরি, হুসাইন ইবনে আলী আল-কারাবিসি এবং হারিস ইবনে আসাদ আল-মুহাসিবি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "আমরাও এই কথাই বলি।" মালিকি মাযহাবের ইবনে খুওয়াইজ মানদাদও এই মতটি বেছে নিয়েছেন (২)। ইবনুল কাইয়্যিম

তাঁর আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালা গ্রন্থে এর সপক্ষে বিশটিরও বেশি যুক্তি উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে কিছু নিম্নরূপ:

--------------------------------------------

(১) আত-তাকরির ওয়াত-তাহবির, খণ্ড ২ / ২৭২।

(২) ইবনে হাজম বিরচিত আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম, খণ্ড ১ / ১০৭; আল-উদ্দাহ, খণ্ড ৩ / ৮৯৯; আল-মুসাউওয়াদাহ / ২৪২; মুখতাসারুস সাওয়ায়িক, ২/ ৪৫৭; ইতহাফু জাবিল বাসাইর, খণ্ড ৩ / ১২৭।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الأدلة من القرآن:

أولاً: قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ} : [سورة المائدة آية:67] وقوله تعالى: {وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ} [سورة النور آية:54] .

وجه الدلالة: أن الله سبحانه وتعالى أمر رسوله بالبلاغ، وحصر البلاغ عليه لأن البلاغ هو الذي تقوم به الحجة على المبلغ ويحصل به العلم فلو كان خبر الواحد لا يحصل به العلم. لم يقع به التبليغ الذي تقوم به حجة الله على العبد، فإن الحجة إنما تقوم بما يحصل به العلم وقد كان الرسول (يرسل الواحد من الصحابة يبلغ عنه فتقوم الحجة على من بلغه، وكذلك قامت حجته علينا بما بلغنا العدول الثقات من أقواله وأفعاله وسننه، ولو لم يفد العلم لم تقم علينا بذلك حجة (1) .

ثانياً: قوله تعالى: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ}

[سورة الإسراء آية:36] وقوله تعالى: {إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ} [سورة النجم آية:28] .

وجه الدلالة: حيث نهى الله سبحانه وتعالى عن اتباع الظن ونعى على من يتبع الظن، ولم يزل الصحابة ومن بعدهم يعتدُّون بأخبار الآحاد ويعملون بها ولو كانت لا تفيد علماً لكانوا قد قَفَوْا ما ليس لهم به علم واتبعوا الظن

--------------------------------------------

(1) مختصر الصواعق 2/ 479.
কুরআন থেকে দলিলসমূহ:

প্রথমত: মহান আল্লাহর বাণী: {হে রাসুল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছে দিলেন না।} : [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬৭] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর রাসুলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।} [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৪]।

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর রাসুলকে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটি তাঁর ওপরই সীমাবদ্ধ করেছেন। কারণ এই পৌঁছানোর মাধ্যমেই সম্বোধিত ব্যক্তির ওপর দলিল বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর দ্বারা নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয়। এখন যদি একক সংবাদ (خبر الواحد) দ্বারা নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত না হতো, তবে এর মাধ্যমে সেই পৌঁছানো বা তাবলিগ সম্পন্ন হতো না যার দ্বারা বান্দার ওপর আল্লাহর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। কারণ প্রমাণ কেবল তা দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত হয় যা দ্বারা নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয়। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবীদের মধ্য থেকে কোনো একজনকে পাঠাতেন যেন তিনি তাঁর পক্ষ থেকে দ্বীন পৌঁছে দেন, ফলে যাকে তা পৌঁছে দেওয়া হতো তার ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হতো। একইভাবে, রাসুলের কথা, কাজ ও সুন্নাহর মধ্য থেকে ন্যায়পরায়ণ (العدول) ও নির্ভরযোগ্য (الثقات) রাবিগণ আমাদের কাছে যা পৌঁছে দিয়েছেন, তার মাধ্যমে আমাদের ওপর তাঁর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যদি এটি নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান না করত, তবে আমাদের ওপর এর মাধ্যমে কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হতো না। (১)।

দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহর বাণী: {যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।}

[সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩৬] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তো কেবল ধারণারই অনুসরণ করে।} [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ২৮]।

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: এখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ধারণার অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন এবং যারা ধারণার অনুসরণ করে তাদের নিন্দা করেছেন। অথচ সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তীগণ সর্বদা একক সংবাদসমূহকে (أخبار الآحاد) গ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য করতেন এবং সে অনুযায়ী আমল করতেন। যদি এগুলো নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান না করত, তবে তাঁরা এমন কিছুরই অনুসরণ করতেন যে বিষয়ে তাঁদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাঁরা কেবল ধারণারই অনুসরণ করতেন।

--------------------------------------------

(১) মুখতাসারুস সাওয়ায়িক ২/ ৪৭৯।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
المنهي عنه (1) .

الأدلة من السنة:

أولاً: بعث الرسول صلى الله عليه وسلم معاذاً إلى اليمن قائلاً له: "إنك تأتي قوماً أهل كتاب فادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله وأني رسول الله فإن هم أطاعوك لذلك فأعلمهم أن الله افترض في أموالهم صدقة ترد من أغنيائهم إلى فقرائهم" (2) .

وجه الدلالة: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أرسل رجلاً واحداً يبلغ شرائع الإسلام وقد قامت الحجة على أهل الكتاب بهذا الرجل، فلو كان مثل هذا البلاغ لا يفيد علماً لم تكن الحجة على أي إنسان يبلغه عن الله تعالى أو عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فيرده (3) .

ثانياً: عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: "بينما الناس بقباء في صلاة الصبح إذ جاءهم آت فقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أُنزل عليه القرآن وقد أمر أن يستقبل الكعبة فاستقبلوها، وكانت وجوههم إلى الشام فاستداروا إلى الكعبة (4) .

وجه الدلالة: أنهم قبلوا خبره، وتركوا الجهة التي كانوا عليها، واستداروا إلى القبلة، ولم يُنْكِرْ عليهم رسولُ الله صلى الله عليه وسلم، بل شُكروا على ذلك وكانوا على أمر مقطوع به من القبلة الأولى فلولا حصول العلم لهم بخبر الواحد لم يتركوا المقطوع به المعلوم لخبر لا يفيد العلم (5) .

--------------------------------------------

(1) مختصر الصواعق 2/ 478.

(2) صحيح البخاري ج2 /529. كتاب الزكاة – باب لا تؤخذ كرائم الناس في الصدقة.

(3) مختصر الصواعق / 479.

(4) صحيح مسلم بشرح النووي. ج 5/ 10 كتاب المساجد باب تحويل القبلة من القدس إلى الكعبة.

(5) مختصر الصواعق 2/ 477.
যা নিষিদ্ধ (المنهي عنه) (১)।

সুন্নাহ থেকে প্রমাণসমূহ:

প্রথমত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুয়ায (রাযি.)-কে ইয়ামেনে এই বলে প্রেরণ করেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তাদের এই সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতি দাওয়াত দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তোমার এই কথা মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের সম্পদে সদকা (যাকাত) ফরয করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করে তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হবে" (২)।

প্রমাণের ধরণ: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসলামের বিধিবিধান পৌঁছে দেওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে পাঠিয়েছিলেন এবং এই একজন ব্যক্তির মাধ্যমেই আহলে কিতাবদের ওপর দলিল (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যদি এ ধরনের সংবাদ পৌঁছানো নিশ্চিত জ্ঞান (علماً) প্রদান না করত, তবে মহান আল্লাহ বা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তির সংবাদ পৌঁছানোর পর তা প্রত্যাখ্যান করলে কারো বিরুদ্ধে দলিল (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হতো না (৩)।

দ্বিতীয়ত: আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "লোকেরা যখন কুবা মসজিদে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন, তখন একজন আগমনকারী তাদের কাছে এসে বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাকে কাবার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সুতরাং আপনারাও কাবার দিকে মুখ করুন। সে সময় তাদের মুখ ছিল শামের দিকে, অতঃপর তারা কাবার দিকে ঘুরে গেলেন" (৪)।

প্রমাণের ধরণ: তারা সেই ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণ করেছিলেন, তারা যে অভিমুখে ছিলেন তা ত্যাগ করেছিলেন এবং কিবলার দিকে ঘুরে গিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের এই কাজকে অস্বীকার করেননি, বরং এর জন্য তারা প্রশংসিত হয়েছেন। তারা পূর্ববর্তী কিবলার বিষয়ে একটি সুনিশ্চিত (مقطوع به) বিষয়ের ওপর অটল ছিলেন। সুতরাং একক সংবাদ (خبر الواحد) দ্বারা যদি নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) অর্জিত না হতো, তবে তারা এমন সংবাদের কারণে—যা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে না—সুনিশ্চিত (المقطوع به) ও জ্ঞাত বিষয়টি ত্যাগ করতেন না (৫)।

--------------------------------------------

(১) মুখতাসারুস সাওয়াইক ২/ ৪৭৮।

(২) সহীহ বুখারী ২য় খণ্ড /৫২৯। যাকাত অধ্যায় – পরিচ্ছেদ: মানুষের উত্তম মাল সদকা হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।

(৩) মুখতাসারুস সাওয়াইক / ৪৭৯।

(৪) ইমাম নববী কৃত ব্যাখ্যাসহ সহীহ মুসলিম। ৫ খণ্ড/ ১০, মসজিদ অধ্যায় – পরিচ্ছেদ: বায়তুল মাকদিস থেকে কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তন।

(৫) মুখতাসারুস সাওয়াইক ২/ ৪৭৭।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ثالثاً: أن أبا بكر الصديق وعمر بن الخطاب رضي الله عنهما لو رويا شيئاً عن النبي صلى الله عليه وسلم قد سمعاه منه أو أخبرا عن شيء قد رأياه، فإن السامع يصدق ذلك نظراً لحصول العلم بخبره، ولا يمكن أن يشك أدنى شك في هذا النقل (1) .

رابعاً: أن علماء السلف- رحمهم الله – قد أجمعوا على نقل أخبار صفات الله عز وجل، ومعروف أن تلك الصفات ليس فيها عمل وإنما المراد بها العلم والاعتقاد والإيمان بها من غير تأويل ولا تحريف ولا تعطيل ولا تشبيه فهنا أفادت أخبار الصفات العلم مع أن أكثرها آحاد، وسبب ذلك أن تلك الأخبار قد أيدت بقبول الأمة لها وعدم وجود أي منكر يعتد بقوله - منهم لها فهذا يدل دلالة واضحة على أن خبر الواحد يفيد العلم إذا توافرت فيه تلك الشروط.

تعقيب:

بعد عرض آراء العلماء في إفادة خبر الآحاد للعلم أو الظن وذكر أدلة كل منهم نستطيع أن نقول ما يلي:

أولاً: أن هذا الخلاف لفظي؛ لأن الذين يقولون إن خبر الآحاد يفيد الظن يقولون بوجوب العمل به فكيف يتصور العمل بدون علم؟ فالعمل فرع تصور العلم.

ثانياً: لا بد أن نستفسر عن حقيقة الظن الذي يفيده هل المراد به الشك والخرص والوهم والتخمين الوارد في قوله تعالى: {إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا

--------------------------------------------

(1) إتحاف ذوي البصائر بشرح روضة الناظر ج 3 /130.
তৃতীয়ত: আবু বকর আল-সিদ্দিক এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেন যা তাঁরা তাঁর থেকে শুনেছেন অথবা এমন কিছুর সংবাদ দেন যা তাঁরা দেখেছেন, তবে শ্রবণকারী উক্ত সংবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) অর্জিত হওয়ার কারণে তা সত্য বলে গণ্য করবে এবং এই বর্ণনার (نقل) ব্যাপারে সামান্যতম সন্দেহ পোষণ করা সম্ভব নয় (১)।

চতুর্থত: সালাফী ওলামায়ে কেরাম—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—আল্লাহ তাআলার গুণাবলি সম্পর্কিত সংবাদসমূহ (أخبار) বর্ণনা করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এটি সুবিদিত যে, সেই গুণাবলিগুলোর ক্ষেত্রে আমল বা কর্মের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোনো রূপক ব্যাখ্যা (تأويل), বিকৃতি (تحريف), অস্বীকার (تعطيل) বা সাদৃশ্য প্রদান (تشبيه) ছাড়াই সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা, বিশ্বাস স্থাপন করা এবং ঈমান আনা। সুতরাং এখানে সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত সংবাদগুলো নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করেছে, যদিও সেগুলোর অধিকাংশ একক সংবাদ (آحاد)। এর কারণ হলো, সেই সংবাদগুলো উম্মতের গ্রহণযোগ্যতার মাধ্যমে সমর্থিত হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে এমন কোনো আপত্তিকারী (منكر) নেই যার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, একক সংবাদ (خبر الواحد) নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে যদি তাতে উক্ত শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে।

পর্যালোচনা:

একক সংবাদ (خبر الآحاد) নিশ্চিত জ্ঞান (علم) নাকি প্রবল ধারণা (ظن) প্রদান করে সে বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মতামত এবং প্রত্যেকের দলীলসমূহ উপস্থাপনের পর আমরা নিম্নোক্ত কথাগুলো বলতে পারি:

প্রথমত: এই মতপার্থক্যটি শাব্দিক; কারণ যারা বলেন যে একক সংবাদ (خبر الآحاد) প্রবল ধারণা (ظن) প্রদান করে, তাঁরাও এর ওপর আমল করা ওয়াজিব বা আবশ্যক বলে মনে করেন। সুতরাং জ্ঞান (علم) ব্যতীত আমল কীভাবে কল্পনা করা যায়? কেননা আমল হলো জ্ঞান বা উপলব্ধিরই একটি শাখা।

দ্বিতীয়ত: এটি যে প্রবল ধারণা (ظن) প্রদান করে তার প্রকৃত রূপ সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই জিজ্ঞাসা করতে হবে যে, এর দ্বারা কি সন্দেহ, অনুমান, বিভ্রম বা জল্পনা-কল্পনা উদ্দেশ্য যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {তারা তো কেবল ধারণারই (الظن) অনুসরণ করে এবং যা...}

--------------------------------------------

(১) ইত্তিহাফু যাউয়িল বাসাইর বিশারহি রওদাতিন নাজির, ৩য় খণ্ড/১৩০ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
تَهْوَى الْأَنفُسُ} [سورة النجم آية:23] أو قوله تعالى: {إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا} [سورة النجم آية:28] أو قوله تعالى: {إِن نَّظُنُّ إِلَّا ظَنًّا وَمَا نَحْنُ بِمُسْتَيْقِنِينَ} [سورة الجاثية آية:32] وهذا هو الظن المذموم.

أو المراد به الظن الغالب الملحق باليقين أو الظن الراجح دون مرتبة اليقين كما في قوله تعالى: {وَظَنُّواْ أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُواْ} [سورة يوسف آية:110] وقوله تعالى: {وَظَنَّ دَاوُودُ أَنَّمَا فَتَنَّاهُ} [سورة ص آية: 24] . وهذا هو الظن المحمود.

ولا أعتقد أن أحداً من أهل العلم يقول بالمعنى الأول، وإنما المعنى الذي يتفق مع إفادة أخبار الآحاد هو الظن الغالب الملحق باليقين أو الظن الراجح دون مرتبة اليقين، يؤيد هذا أن من العلماء الذين قالوا بإفادة أخبار الآحاد للظن قالوا بوجوب الاحتجاج بها في العقائد كأبي الحسين البصري وابن عبد البر والغزالي والقرافي والنووي والبيضاوي والأسنوي.

ثالثاً: أن أهل الحديث - وقولهم مقدم على غيرهم في هذا الموضوع -

لم يختلفوا في إفادة أخبار الآحاد العلم، وإنما اختلفوا في نوعية العلم: أهو قطعي، أم ضروري أم نظري ولم يفرقوا بين أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم بعضها يفيد العلم وبعضها يفيد الظن لأن مصدر الأخبار عندهم واحد.

رابعاً: أن الذين قالوا إن أخبار الآحاد تفيد الظن نجدهم يقولون بصحة أقوال أئمتهم ومذاهبهم، مع أن هذه الأقوال وصلت إليهم بطريق الآحاد فكيف حصل لهم ذلك.
যা প্রবৃত্তি কামনা করে} [সুরা আন-নাজম আয়াত: ২৩] অথবা আল্লাহ তাআলার বাণী: {তারা কেবল অনুমানেরই (الظن) অনুসরণ করে, অথচ সত্যের মোকাবিলায় অনুমানের (الظن) কোনো কার্যকারিতা নেই} [সুরা আন-নাজম আয়াত: ২৮] অথবা আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমরা কেবল সামান্য ধারণাই (ظن) করি, আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নই} [সুরা আল-জাসিয়া আয়াত: ৩২] এবং এটিই হলো নিন্দনীয় অনুমান (الظن المذموم)।

অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রবল ধারণা (الظن الغالب) যা নিশ্চিত জ্ঞানের (اليقين) নিকটবর্তী অথবা এমন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ধারণা (الظن الراجح) যা নিশ্চিত জ্ঞানের (اليقين) স্তরের নিচে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: {এবং তারা ধারণা (ظنوا) করেছিল যে তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে} [সুরা ইউসুফ আয়াত: ১১০] এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর দাউদ ধারণা (ظن) করলেন যে আমি তাকে পরীক্ষা করেছি} [সুরা সোয়াদ আয়াত: ২৪]। আর এটিই হলো প্রশংসনীয় অনুমান (الظن المحمود)।

আমি মনে করি না যে কোনো আলেম প্রথম অর্থের প্রবক্তা, বরং যে অর্থটি একক বর্ণনার (أخبار الآحاد) তথ্য প্রদানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা হলো প্রবল ধারণা (الظن الغالب) যা নিশ্চিত জ্ঞানের (اليقين) নিকটবর্তী অথবা এমন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ধারণা (الظن الراجح) যা নিশ্চিত জ্ঞানের (اليقين) স্তরের নিচে। এর সমর্থনে বলা যায় যে, সেইসব উলামায়ে কেরাম যারা একক বর্ণনাকে (أخبار الآحاد) ধারণা (ظن) প্রদানকারী বলেছেন, তারাও আকাইদ বা বিশ্বাসগত বিষয়ে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা (الاحتجاج) ওয়াজিব বা আবশ্যক বলে মত দিয়েছেন; যেমন: আবুল হুসাইন আল-বসরি, ইবনে আবদিল বার, আল-গাজালি, আল-কারাফি, আন-নববী, আল-বায়যাবি এবং আল-আসনাবি।

তৃতীয়ত: হাদিস বিশারদগণ (أهل الحديث) — এবং এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য অন্যদের তুলনায় অগ্রগণ্য —

তারা একক বর্ণনা (أخبار الآحاد) জ্ঞান (العلم) প্রদানের বিষয়ে দ্বিমত করেননি, বরং তারা দ্বিমত করেছেন জ্ঞানের ধরনের ব্যাপারে: তা কি সুনিশ্চিত (قطعي), নাকি অপরিহার্য (ضروري), নাকি গবেষণালব্ধ (نظري)। তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি যে কিছু হাদিস জ্ঞান (العلم) প্রদান করে আর কিছু ধারণা (الظن) প্রদান করে, কারণ তাদের নিকট সংবাদের উৎস অভিন্ন।

চতুর্থত: যারা বলেন যে একক বর্ণনা (أخبار الآحاد) ধারণা (الظن) প্রদান করে, আমরা তাদেরকেই তাদের ইমামদের বাণী ও মাযহাবের বিশুদ্ধতার (صحة) কথা বলতে দেখি, অথচ এই বাণীগুলো তাদের কাছে একক বর্ণনার (الآحاد) মাধ্যমে পৌঁছেছে; তাহলে তাদের কাছে এটি কীভাবে অর্জিত হলো?
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الثاني: الأدلة على وجوب الأخذ بخبر الآحاد في العقائد

استدل القائلون بوجوب الأخذ بأخبار الآحاد في العقيدة بأدلة كثيرة، فذكر الدكتور عمر الأشقر أن الشيخ ناصر الدين الألباني ساق عشرين وجهاً تدل على ذلك.

ولكننا نركز على أهم الأدلة التي استدلوا بها ونذكر منها ما يلي:

أولاً: الأدلة من القرآن الكريم:

1- قوله تعالى: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُواْ كَآفَّةًفَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآئِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُواْ فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُواْ قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُواْ إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة آية:122] .

وجه الدلالة: أن الطائفة تطلق على الواحد فما فوق في اللغة. وذكر الإمام البخاري أن الرجل يسمى طائفة لقوله تعالى: {وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِن بَغَتْ إِحْدَاهُمَاعَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ فَإِن فَاءتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا} [الحجرات آية:9] . فلو اقتتل رجلان دخلا في معنى الآية (1) .

فأفادت الآية أن الطائفة تنذر قومها إذا رجعت إليهم، والإنذار: الإعلام بما يفيد العلم، وهو يكون بتبليغ العقيدة وغيرها مما جاء به الشرع، وإذا كان

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري بشرح فتح الباري ج 3 / 231.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আকীদার ক্ষেত্রে একক সংবাদ (خبر الآحاد) গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা প্রসঙ্গে প্রমাণাদি

আকীদার ক্ষেত্রে একক সংবাদ (خبر الآحاد) গ্রহণ করা আবশ্যক হওয়ার প্রবক্তারা অনেক দলিল উপস্থাপন করেছেন। ডক্টর ওমর আল-আশকার উল্লেখ করেছেন যে, শাইখ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী বিশটি দিক থেকে এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করেছেন।

তবে আমরা তাদের উপস্থাপিত দলিলের প্রধান দিকগুলোর ওপর আলোকপাত করব এবং তা নিম্নে উল্লেখ করছি:

প্রথমত: পবিত্র কুরআন থেকে দলিলসমূহ:

১- মহান আল্লাহর বাণী: {আর মুমিনদের সকলের পক্ষে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়; তবে তাদের প্রত্যেক বড় দল থেকে একটি ছোট দল (طائفة) কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন যেন তারা তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়?} [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২২]

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি: ভাষাগতভাবে 'তায়েফা' বা দল (طائفة) শব্দটি একজন এবং তদূর্ধ্ব ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইমাম বুখারী উল্লেখ করেছেন যে, একজন ব্যক্তিকেও 'তায়েফা' (طائفة) বলা হয়; যার প্রমাণ মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর মুমিনদের দুই দল (طائفتان) যদি যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও...} [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ৯]। সুতরাং যদি দুইজন লোকও যুদ্ধে লিপ্ত হয় তবে তারা এই আয়াতের অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে (১)।

আয়াতটি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সেই দলটি (طائفة) তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসার পর তাদেরকে সতর্ক করবে। আর সতর্কীকরণ (ইনযার) হলো: এমন সংবাদ প্রদান করা যা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) লাভে সহায়ক হয়। আর এটি সম্পন্ন হয় আকীদা ও শরীয়ত প্রদত্ত অন্যান্য বিষয়াদি প্রচারের মাধ্যমে। আর যখন...

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী এর ব্যাখ্যাসহ সহীহ বুখারী, খণ্ড ৩ / ২৩১।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الرجل يؤخذ بما يخبر به من أمور دينه، كان هذا دليلاً على أن خبره حجة، والتفقه في الدين يشمل العقائد والأحكام، بل إن التفقه في العقيدة أهم من التفقه في الأحكام (1) .

2- قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ} [النساء آية:59] .

وجه الدلالة: أجمع المسلمون على أن الرد إلى الرسول صلى الله عليه وسلم هو الرجوع إليه في حياته والرجوع إلى سنته بعد مماته، واتفقوا على أن فرض هذا الرد لم يسقط بموته، فإن كان متواتر أخباره وآحادها لا تفيد علماً ولا يقينا لم يكن للرد إليه وجه، (2) ولما كانت أخبار الآحاد تفيد العلم كانت حجة في العقيدة.

ثانيا: الأدلة من السنة:

1- قول الرسول صلى الله عليه وسلم لمعاذ بن جبل حين بعثه إلى اليمن: "إنك تقدم على قوم أهل كتاب، فليكن أول ما تدعوهم إليه عبادة الله، فإذا عرفوا الله، فأخبرهم أن الله قد فرض عليهم خمس صلوات في يومهم وليلتهم، فإذا فعلوا الصلاة فأخبرهم أن الله قد افترض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم وترد إلى فقرائهم، فإن هم أطاعوك بذلك فإياك وكرائم أموالهم، واتق دعوة المظلوم

--------------------------------------------

(1) أصل الاعتقاد/ 63. العقيدة في الله / 51.

(2) مختصر الصواعق ج 2 / 352.
একজন ব্যক্তির নিকট থেকে তার দ্বীনি বিষয়ে যা বর্ণিত হয় তা গ্রহণ করা হয়; এটি একথার প্রমাণ যে তার বর্ণনা (خبر) একটি প্রমাণ (حجة)। আর দ্বীন সম্পর্কে প্রজ্ঞা লাভ করা (তফাক্কুহ) আকিদাহ এবং বিধিবিধান (আহকাম) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে; বরং আকিদাহ বিষয়ে প্রজ্ঞা লাভ করা বিধিবিধান বিষয়ে প্রজ্ঞা লাভের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ (১)।

২- মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য হতে উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল)-দের আনুগত্য করো। অতঃপর কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হলে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও} [আন-নিসা, আয়াত: ৫৯] ।

দলিলাদির ধরন: মুসলিমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে কোনো কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর জীবদ্দশায় সরাসরি তাঁর শরণাপন্ন হওয়া এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা। তাঁরা একমত হয়েছেন যে, এই প্রত্যাবর্তনের আবশ্যকতা তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে রহিত হয়ে যায়নি। এখন যদি তাঁর বর্ণিত মুতাওয়াতির (متواتر) এবং আহাদ (آحاد) সংবাদসমূহ নিশ্চিত জ্ঞান বা ধ্রুব সত্য প্রদান না করত, তবে তাঁর দিকে কোনো কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো সার্থকতা থাকত না (২)। আর যেহেতু আহাদ (آحاد) সংবাদসমূহ জ্ঞান প্রদান করে, তাই আকিদাহর ক্ষেত্রেও তা প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য।

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ থেকে দলিলাদি:

১- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, তখন তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ। সুতরাং তাদের প্রতি তোমার প্রথম দাওয়াত যেন হয় আল্লাহর ইবাদত করা। যখন তারা আল্লাহকে চিনতে পারবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যখন তারা নামাজ আদায় করবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর সদকা ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হবে। যদি তারা এ বিষয়ে তোমার আনুগত্য করে, তবে তাদের মূল্যবান সম্পদসমূহ গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকো এবং মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো।"

--------------------------------------------

(১) আসলুল ইতিকাদ/ ৬৩। আল-আকিদাহ ফিল্লাহ/ ৫১।

(২) মুখতাসারুস সাওয়াইক, খণ্ড ২ / ৩৫২।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فإنه ليس بينه وبين الله حجاب (1) .

وجه الدلالة: الحديث نص في المطلوب؛ إذ إن فيه دعوة صريحة إلى التوحيد أي الإيمان بالله والرسول والإيمان بالله ورسوله من أصول العقائد وبالتالي فخبر الآحاد حجة في العقائد.

2- عن ابن مسعود رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " نضر الله عبداً سمع مقالتي فحفظها ووعاها وأداها، فرب حامل فقه غير فقيه وَرُبَّ حامل فقه إلى من هو أفقه منه" (2) .

وجه الدلالة: ما ذكره الشافعي في رسالته بقوله: "دلَّ على أنه لا يأمر أن يُؤَدَّى عنه إلا ما تقوم به الحجة على من أدى إليه؛ لأنه إنما يؤدى عنه حلال، وحرام يجتنب، وحدٌّ يقام، ومال يؤخذ ويعطى، ونصيحة في دين ودنيا، ودل على أنه يحمل الفقه غير فقيه، يكون له حافظاً ولا يكون فيه فقيهاً. وأمرُ رسول الله بلزوم جماعة المسلمين مما يُحتج به في أن إجماع المسلمين لازم" (3) .

وهذا الحديث هو الحديث الأول من جملة أحاديث ساقها الشافعي للاحتجاج بأخبار الآحاد في العقائد.

وهذا الحديث عام متناول لأحاديث الأعمال والأحكام والعقائد، ولولم يكن الإيمان بما يثبت عنه صلى الله عليه وسلم من عقائد بأخبار الآحاد واجباً لما كان لهذا الأمر من النبي صلى الله عليه وسلم بتبليغ حديثه مطلقاً معنى.

3- ما روي عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال: إن وفد عبد القيس

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري ج 2/529. كتاب الزكاة. باب لا تؤخذ كرائم الناس في الصدقة.

(2) سنن الترمذي ج 5 /33. كتاب العلم. باب ما جاء في الحثِّ على تبليغ السماع رقم / 2656.

(3) الرسالة / 403.
কেননা তার মাঝে এবং আল্লাহর মাঝে কোনো অন্তরাল নেই (১)।

প্রমাণের দিক: হাদিসটি উদ্দিষ্ট বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট পাঠ; কারণ এতে তাওহিদের প্রতি সরাসরি আহ্বান রয়েছে, অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনয়ন। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আকিদার অন্যতম মূল বিষয়। ফলে আকিদার ক্ষেত্রে একক সংবাদ (خبر الآحاد) একটি প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য।

২- ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ করল, হৃদয়ে গেঁথে নিল এবং তা পৌঁছে দিল। কারণ জ্ঞানের অনেক বাহক নিজে বিজ্ঞ (فقيه) নন, আবার অনেকে তার চেয়ে অধিক বিজ্ঞ (أفقه) ব্যক্তির কাছে জ্ঞান পৌঁছে দেন" (২)।

প্রমাণের দিক: ইমাম শাফেঈ তাঁর রিসালাহ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন: "এটি নির্দেশ করে যে, তিনি (রাসুল) কেবল তা-ই পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন না যার দ্বারা সেই ব্যক্তির ওপর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় যাকে তা পৌঁছানো হয়েছে; কারণ তাঁর পক্ষ থেকে কেবল হালাল, বর্জনীয় হারাম, নির্ধারিত দণ্ড (حد), গ্রহণীয় ও বর্জনীয় সম্পদ এবং দ্বীন ও দুনিয়ার উপদেশই পৌঁছে দেওয়া হয়। এটি আরও প্রমাণ করে যে, জ্ঞানের বাহক নিজে বিজ্ঞ (فقيه) না হয়েও তা সংরক্ষণ করতে পারেন। আর মুসলিম উম্মাহর জামাতের সাথে যুক্ত থাকার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহর নির্দেশ এটি প্রমাণ করে যে, মুসলিমদের ঐক্যমত (إجماع) আবশ্যকীয়" (৩)।

আর এই হাদিসটি হচ্ছে সেই ধারাবাহিক হাদিসসমূহের প্রথমটি যা ইমাম শাফেঈ আকিদার ক্ষেত্রে একক সংবাদ (خبر الآحاد) এর মাধ্যমে দলিল পেশ করার জন্য উপস্থাপন করেছেন।

এই হাদিসটি ব্যাপক অর্থবোধক যা আমল, আহকাম ও আকিদা বিষয়ক সকল হাদিসকেই শামিল করে। নবী (সা.) থেকে একক সংবাদ (خبر الآحاد) এর মাধ্যমে আকিদার যেসব বিষয় সাব্যস্ত হয়, তার ওপর ঈমান আনা যদি ওয়াজিব বা আবশ্যক না হতো, তবে সাধারণভাবে তাঁর হাদিস প্রচার করার জন্য নবী (সা.)-এর এই নির্দেশের কোনো অর্থ থাকত না।

৩- ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দল...

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি ২/৫২৯। জাকাত অধ্যায়। পরিচ্ছেদ: সদকা আদায়ের ক্ষেত্রে মানুষের উৎকৃষ্ট সম্পদ গ্রহণ করা যাবে না।

(২) সুনানে তিরমিজি ৫/৩৩। ইলম অধ্যায়। পরিচ্ছেদ: শ্রুত বিষয় পৌঁছে দেওয়ার অনুপ্রেরণা দান প্রসঙ্গে, হাদিস নং ২৬৫৬।

(৩) আর-রিসালাহ / ৪০৩।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
لما أتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من الوفد أو من القوم؟ " قالوا: ربيعة، فقال: "مرحباً بالقوم - أو بالوفد غير خزايا ولا ندامى". قالوا: يا رسول الله، إنا لا نستطيع أن نأتيك إلا في الشهر الحرام، وبيننا وبينك هذا الحيُّ من كفار مضر، فمرنا بأمر فصلٍ نخبر به مَنْ وراءنا، وندخل به الجنة، وسألوه عن الأشربة فأمرهم بأربع ونهاهم عن أربع: أمرهم بالإيمان بالله وحده قال: "هل تدرون ما الإيمان بالله وحده؟ " قالوا: الله ورسوله أعلم. قال: شهادة أن لا إله إلا الله وحده وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة - وصيام رمضان - وأن تعطوا من المغنم الخمس، ونهاهم عن أرْبع: الدباء والحنتم والمزفت والنقير" (1) قال: احفظوهن وأبلغوهن من وراءكم (2) .

وجه الدلالة: ما ذكره ابن حجر بقوله: "والغرض من قوله في آخره احفظوهن وأبلغوهن من وراءكم، فإن الأمر بذلك يتناول كل فرد فلولا أن الحجة تقوم بتبليغ الواحد ما حضهم عليه" (3) .

4- ما تواتر من إرسال رسول الله صلى الله عليه وسلم رسله وسعاته إلى الآفاق والملوك المجاورين لجزيرة العرب والقبائل لتبليغ الرسالة.

فمن ذلك أنه بعث صلى الله عليه وسلم دحية بن خليفة الكلبي إلى هرقل عظيم بصرى، وبعث عبد الله بن حذافة السهمي بكتابه إلى كسرى، وعمرو بن أمية الضمري إلى الحبشة، وعثمان بن أبي العاص إلى الطائف، وحاطب بن أبيض

--------------------------------------------

(1) الدباء: هو القرع. وقال النووي المراد هو اليابس منه. والحنتم: الجرة وفي رواية إنها جرار كانت تعمل من طين وشعر ودم. والمزفت. ماطلي بالزفت والمقير ما طلي بالقار ويقال له القير وهو نبت يحرق إذا يبس تطلى به السفن وغيرها. والنقير أصل النخلة ينقر فيتخذ منه وعاء. (فتح الباري ج 1/134) .

(2) صحيح البخاري ج 1 / 129 كتاب الإيمان. باب أداء الخمس من الإيمان. رقم /53.

(3) فتح الباري ج 1 / 133.
जब তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এলেন, তিনি বললেন: "তোমরা কোন প্রতিনিধি দল নাকি কোনো কওম?" তারা বলল: 'রাবিয়াহ' গোত্র। তখন তিনি বললেন: "স্বাগতম সেই কওমকে - অথবা প্রতিনিধি দলকে - যারা লাঞ্ছিত বা অনুতপ্ত না হয়েই এসেছে।" তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা নিষিদ্ধ মাস ব্যতীত আপনার নিকট আসতে পারি না, কারণ আমাদের ও আপনার মাঝে মুদার গোত্রের এই কাফিররা অবস্থান করছে। সুতরাং আমাদের এমন কিছু অকাট্য নির্দেশ দিন যা আমরা আমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদের জানাব এবং যার মাধ্যমে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। এরপর তারা বিভিন্ন পানীয় সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাদের চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করলেন: তিনি তাদের একমাত্র আল্লাহর ওপর ঈমান আনার নির্দেশ দিয়ে বললেন: "তোমরা কি জানো একমাত্র আল্লাহর ওপর ঈমান আনা বলতে কী বোঝায়?" তারা বলল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: "এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; নামাজ কায়েম করা; জাকাত প্রদান করা; রমজানের রোজা রাখা এবং যুদ্ধের গণিমত থেকে এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) প্রদান করা।" আর তিনি তাদের চারটি পাত্র থেকে নিষেধ করলেন: দুব্বা, হানতাম, মুজাফফাত এবং নাকীর (১)। তিনি বললেন: "এগুলো মুখস্থ রাখো এবং তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদের কাছে এগুলো পৌঁছে দাও" (২)।

প্রমাণের দিক (وجه الدلالة): ইবনে হাজার তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে যা উল্লেখ করেছেন: "এর শেষে তাঁর এই বাণীর উদ্দেশ্য হলো 'এগুলো মুখস্থ রাখো এবং তোমাদের পেছনে থাকাদের কাছে পৌঁছে দাও', কেননা এই নির্দেশটি প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যদি একজনের সংবাদ পৌঁছানোর মাধ্যমে দলিল (حجة) সাব্যস্ত না হতো, তবে তিনি তাদের এর ওপর উৎসাহিত করতেন না" (৩)।

৪- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক আরব উপদ্বীপের দিগন্তরে এবং পার্শ্ববর্তী রাজন্যবর্গ ও গোত্রসমূহের নিকট রিসালাত পৌঁছানোর জন্য দূত ও কর্মচারী প্রেরণের বিষয়টি যা মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এর উদাহরণ হলো, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিহইয়া ইবনে খলিফা আল-কালবি-কে বসরার মহান অধিপতি হিরাক্লিয়াসের নিকট প্রেরণ করেছিলেন; আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা আস-সাহমি-কে তাঁর পত্রসহ কিসরার নিকট প্রেরণ করেছিলেন; আমর ইবনে উমাইয়া আদ-দুমারি-কে আবিসিনিয়ায় (হাবশা); উসমান ইবনে আবিল আস-কে তায়েফে এবং হাতিব ইবনে আবইয়াদ...

--------------------------------------------

(১) দুব্বা: এটি হলো লাউ বা কদু। ইমাম নববী বলেন, এখানে শুকনো লাউ উদ্দেশ্য। হানতাম: মাটির কলস; একটি বর্ণনায় আছে যে এগুলো কাদা, পশম ও রক্ত দিয়ে তৈরি করা হতো। মুজাফফাত: যা আলকাতরা (যিফাত) দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। মুক্বাইয়ার: যা ক্বীর (পিচ) দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়েছে; ক্বীর হলো এক প্রকার উদ্ভিদ যা শুকিয়ে গেলে জ্বালিয়ে জাহাজ বা অন্য কিছুতে প্রলেপ দেওয়া হয়। নাকীর: খেজুর গাছের কাণ্ড যা খোদাই করে পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। (ফাতহুল বারী, খণ্ড ১/১৩৪)।

(২) সহীহ বুখারী, খণ্ড ১ / ১২৯, কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: ঈমানের অংশ হিসেবে খুমুস আদায়। হাদিস নং ৫৩।

(৩) ফাতহুল বারী, খণ্ড ১ / ১৩৩।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
بلتعة إلى المقوقس. وغيرهم ولم يبعث هؤلاء إلا ليقيم بهم الحجة على من بعثوا إليهم ومن المعلوم أن أهم ما بعث به هؤلاء هو الدعوة إلى التوحيد (1) .

ثالثا: من العقل:

1- أن القول بأن أخبار الآحاد لا يحتج بها في العقائد قول مخالف لجميع أدلة الكتاب والسنة التي نحتج جميعاً بها على وجوب الأخذ بحديث الآحاد في الأحكام الشرعية؛ وذلك لعمومها وشمولها لما جاء به رسول الله عن ربه سواء كان عقيدة أو حكماً لتخصيص هذه الأدلة بالأحكام دون العقائد، تخصيص بدون مخصص وذلك باطل وما لزم من الباطل فهو باطل (2) .

2- أن القول بعدم قبول خبر الآحاد في العقائد يستلزم رد السنة؛ لندرة المتواتر، ولأن كل حكم شرعي عملي يقترن به عقيدة ولا بد أن ترجع إلى الإيمان بأمر غيبي لا يعلمه إلا الله تعالى، ولولا أنه أخبرنا به في سنة نبيه صلى الله عليه وسلم لما وجب التصديق والعمل ولذلك لم يجز لأحد أن يُحَرِّمَ أو يحلل بدون حجة من كتاب أو سنة قال تعالى: {وَلَا تَقُولُواْ لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُواْ عَلَى اللهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ} [النحل آية:116] . فأفادت هذه الآية الكريمة أن التحريم والتحليل بدون إذن منه كذب على الله تعالى وافتراء عليه، فإذا كنا متفقين على جواز التحليل والتحريم بحديث الآحاد وإننا به ننجو من القول على الله فكذلك

--------------------------------------------

(1) خبر الواحد وحجيته د. أحمد الشنقيطي / 204- 205.

(2) أصل الاعتقاد / 64.
বালতাআহ-কে মুকাউকিসের নিকট এবং আরও অন্যান্যদের কাছে প্রেরণ করেছিলেন। আর তাদের কেবল এই উদ্দেশ্যেই পাঠানো হয়েছিল যাতে যাদের নিকট তাদের পাঠানো হয়েছে তাদের ওপর দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি সর্বজনবিদিত যে, তাদের প্রেরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তাওহিদের প্রতি দাওয়াত (১)।

তৃতীয়ত: আকল বা যুক্তির নিরিখে:

১- এই দাবি করা যে, আকিদাহ বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে একক সংবাদ (أخبار الآحاد) দলিল হিসেবে গৃহীত হবে না—তা কুরআন ও সুন্নাহর সেই সকল দলিলের পরিপন্থী যা দ্বারা আমরা সকলে শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে একক (آحاد) হাদিস গ্রহণ করার আবশ্যকতা সম্পর্কে দলিল পেশ করি। এর কারণ হলো সেই দলিলগুলো ব্যাপক এবং রাসূলুল্লাহ তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন—তা আকিদাহ হোক বা বিধান—সবকিছুকেই তা অন্তর্ভুক্ত করে। এই দলিলগুলোকে আকিদাহ ব্যতিরেকে শুধু বিধানের সাথে সুনির্দিষ্ট করা কোনো সুনির্দিষ্টকারী (مخصص) ছাড়াই নির্দিষ্ট করার (تخصيص) নামান্তর, যা বাতিল (باطل)। আর বাতিল বিষয় থেকে যা কিছু অনিবার্যভাবে সাব্যস্ত হয় তাও বাতিল (باطل) (২)।

২- আকিদাহর ক্ষেত্রে একক সংবাদ (خبر الآحاد) গ্রহণ না করার দাবি মূলত সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করার নামান্তর; কারণ মুতাওয়াতির (متواتر) বর্ণনার সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। অধিকন্তু, প্রতিটি আমলি শরয়ি বিধানের সাথেই আকিদাহ যুক্ত থাকে এবং অবশ্যই তা কোনো গায়বি বা অদৃশ্যের বিষয়ের ওপর ঈমানের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে যা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কেউ জানেন না। যদি তিনি তাঁর নবীর সুন্নাহর মাধ্যমে আমাদের তা না জানাতেন, তবে তা সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হতো না। এ কারণেই কিতাব বা সুন্নাহর দলিল (حجة) ব্যতীত কারো জন্য কোনো কিছু হারাম বা হালাল করা বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের জিহ্বা থেকে মিথ্যা বর্ণনা আসে বলে তোমরা এমন বলো না যে, ‘এটি হালাল এবং এটি হারাম’, যাতে তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করতে পার। নিশ্চয় যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে তারা সফলকাম হয় না} [আন-নাহল, আয়াত: ১১৬]। এই বরকতময় আয়াতটি এই অর্থই প্রদান করে যে, আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো কিছুকে হারাম বা হালাল সাব্যস্ত করা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ এবং অপবাদ দেওয়ার শামিল। সুতরাং আমরা যদি একক (آحاد) হাদিসের মাধ্যমে হালাল ও হারামের বৈধতার বিষয়ে একমত হই এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর ব্যাপারে (মনগড়া) বলা থেকে রক্ষা পাই, তবে (আকিদাহর বিষয়টিও) তদ্রূপ।

--------------------------------------------

(১) একক সংবাদ (خبر الواحد) এবং এর প্রামাণ্যতা, ড. আহমদ শানকিতি / ২০৪-২০৫।

(২) আসলুল ইতিকাদ / ৬৪।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
يجوز إيجاب العقيدة بحديث الآحاد، ولا فرق بينهما، ومن ادعى الفرق فعليه البرهان من كتاب الله وسنة رسوله، ودون ذلك خرط القتاد (1) .

3- أن أخبار الآحاد لولم تفد اليقين فإن الظن الغالب حاصل منها، ولا يمنع إثبات الأسماء والصفات بها كما لا يمنع إثبات الأحكام الطلبية فما الفرق بين باب الطلب وباب الخبر بحيث يحتج بها في أحدهما دون الآخر؛ وهذا التفريق باطل بإجماع الأمة؛ فإنها لم تزل تحتج بأحاديث الآحاد في الخبريات العلميات كما تحتج به في الطلبيات العملية، ولاسيما أن الأحكام العملية تتضمن الخبر من الله بأنه شرع كذا أو أوجبه ورضيه دينا، فشرعه ودينه راجع إلى أسمائه وصفاته، ولم يزل الصحابة والتابعون وتابعوهم وأهل الحديث والسنة يحتجون بهذه الأخبار في مسائل الصفات والقدر والأسماء والأحكام ولم ينقل عن أحد منهم ألبتة أنه جَوَّز الاحتجاج بها في مسائل الأحكام دون الأخبار عن الله وأسمائه وصفاته.

فأين سَلَفُ المفرقين بين البابين..؟ نعم سلفهم بعض متأخري المتكلمين الذين لا عناية لهم بما جاء عن الله ورسوله وأصحابه، بل يصدون القلوب عن الاهتداء في هذا الباب بالكتاب والسنة وأقوال الصحابة ويحيلون على آراء المتكلمين وقواعد المتكلفين. فهم الذين يعرف عنهم التفريق بين الأمرين فإنهم قسموا الدين إلى مسائل علمية وعملية، وسمُّوها أصولاً وفروعاً (2) .

4- أن الخلاف في الاحتجاج بخبر الآحاد في العقائد مسبوق بانعقاد

--------------------------------------------

(1) وجوب الأخذ بحديث الآحاد في العقيدة / 20. خبر الواحد للشنقيطي / 215.

(2) مختصر الصواعق 2/ 489. خبر الواحد في التشريع الإسلامي. أبي عبد الرحمن برهون/ 381.
আহাদ (آحاد) হাদিসের মাধ্যমে আকিদা সাব্যস্ত করা বৈধ এবং এতদুভয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। যে ব্যক্তি পার্থক্যের দাবি করবে, তাকে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে প্রমাণ পেশ করতে হবে; আর এটি করা অত্যন্ত দুঃসাধ্য।

৩- আহাদ (آحاد) সংবাদসমূহ যদি নিশ্চিত জ্ঞান (يقين) প্রদান না-ও করে, তবে তা থেকে প্রবল ধারণা (ظن غالب) অর্জিত হয়। আর এর মাধ্যমে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করতে কোনো বাধা নেই, যেমনটি তলাবি (অনুরোধমূলক) বিধানসমূহ সাব্যস্তকরণে কোনো বাধা নেই। সুতরাং তলাব (আদেশ-নিষেধ) এবং খবর (সংবাদ)-এর অধ্যায়ের মধ্যে পার্থক্য কোথায় যে, একটির ক্ষেত্রে এটি দলিল হিসেবে গৃহীত হবে আর অন্যটির ক্ষেত্রে হবে না? এই পার্থক্যকরণ উম্মতের ঐক্যমত্য (إجماع) অনুযায়ী বাতিল; কেননা উম্মত সর্বদা তাত্ত্বিক সংবাদসমূহের ক্ষেত্রে আহাদ (آحاد) হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে আসছে, যেমনটি তারা আমলি তলাবিয়্যাহ (কর্মগত আদেশ-নিষেধ) বিষয়ে দলিল পেশ করে। বিশেষ করে আমলি বা কর্মগত বিধানাবলি আল্লাহর পক্ষ থেকে এই সংবাদও অন্তর্ভুক্ত করে যে, তিনি অমুক বিধান প্রবর্তন করেছেন অথবা তা আবশ্যক করেছেন এবং দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন। সুতরাং তাঁর শরিয়ত ও দ্বীন তাঁর নাম ও গুণাবলির দিকেই ফিরে যায়। সাহাবী, তাবেয়ি, তাঁদের অনুসারী এবং আহলে হাদিস ও সুন্নাহ সর্বদা গুণাবলি, তাকদির, নামসমূহ এবং বিধানাবলির মাসআলায় এই সংবাদগুলো দ্বারা দলিল পেশ করে আসছেন। তাঁদের কারোর পক্ষ থেকেই এমনটি মোটেই বর্ণিত হয়নি যে, তিনি আল্লাহর সংবাদ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলি ব্যতীত কেবল আহকামের মাসআলায় এর দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ মনে করতেন।

এই দুই অধ্যায়ের মধ্যে পার্থক্যকারীদের পূর্বসূরি কোথায়? হ্যাঁ, তাদের পূর্বসূরি হলো পরবর্তী যুগের কিছু কালামশাস্ত্রবিদ, আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও সাহাবীদের পক্ষ থেকে যা এসেছে তার প্রতি যাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। বরং তারা এই বিষয়ে কিতাব, সুন্নাহ ও সাহাবীদের বাণীর মাধ্যমে হিদায়াত লাভের পথে অন্তরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং কালামশাস্ত্রবিদদের রায় ও কৃত্রিমতা অবলম্বনকারীদের মূলনীতির দিকে ঠেলে দেয়। এরাই সেই লোক যাদের থেকে এই দুই বিষয়ের মাঝে পার্থক্যের বিষয়টি পরিচিতি পেয়েছে। কেননা তারা দ্বীনকে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক মাসআলায় বিভক্ত করেছে এবং সেগুলোর নামকরণ করেছে মূলনীতি (أصول) ও শাখা (فروع) হিসেবে।

৪- আকিদার ক্ষেত্রে আহাদ (آحاد) সংবাদের মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টির পূর্বেই ঐক্যমত্য (إجماع) সংঘটিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) উজুবুল আখযি বি-হাদিসিল আহাদ ফিল আকিদাহ / ২০। খবরুল ওয়াহিদ লিশ-শানকিতি / ২১৫।

(২) মুখতাসারুস সাওয়াইক ২/ ৪৮৯। খবরুল ওয়াহিদ ফিত-তাশরিয়িল ইসলামি। আবি আবদির রহমান বারহুন/ ৩৮১।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الإجماع المتيقن على قبول هذه الأحاديث وإثبات صفات الرب تعالى والأمور العلمية الغيبية بها فيقول ابن القيم: "فهذا لا يشك فيه من له خبرة بالمنقول، فإن الصحابة هم الذين رووا هذه الأحاديث، وتلقَّاها بعضهم عن بعض بالقبول ولم ينكرها أحد منهم على مرادها، ثم تلقاها عنهم جميع التابعين من أولهم إلى آخرهم، ومَنْ سمعها منهم تلقَّاها بالقبول والتصديق لهم، ومن لم يسمعها منهم تلقاها عن التابعين كذلك، وكذلك تابع التابعين عن التابعين. هذا أمر يعلمه ضرورة أهل الحديث، كما يعلمون عدالة الصحابة وصدقهم وأمانتهم، ونقلهم ذلك عن نبيهم كنقلهم الوضوء والغسل من الجنابة وأعداد الصلوات وأوقاتها ونقل الأذان والتشهد والجمعة والعيدين، فإن الذين نقلوا هذا هم الذين نقلوا أحاديث الصفات، فإن جاز عليهم الخطأ والكذب في نقلها جاز عليهم ذلك في نقل غيرها مما ذكرنا، وحينئذ فلا وثوق لنا بشيء نقل لنا عن نبينا صلى الله عليه وسلم ألبتة وهذا انسلاخ من الدين والعلم والعقل (1) .

تعقيب:

وبعد عرضنا الأدلة الدالة على وجوب الآخذ بخبر الآحاد في العقائد، فالحق الذي لا يجوز العدول عنه أن أخبار الآحاد الصحيحة كما تقبل في الفروع تقبل في الأصول. وبهذا نعلم أن ما أطبق عليه أهل الكلام ومن تبعهم من أن أخبار الآحاد لا تقبل في العقائد، ولا يثبت بها شيء من صفات الله، زاعمين أن أخبار الآحاد لا تفيد اليقين وأن العقائد لا بد فيها من اليقين باطل لا يعول عليه، ويكفي من ظهور بطلانه أنه يستلزم ردَّ الروايات الصحيحة

--------------------------------------------

(1) أصل الاعتقاد / 77. مختصر الصواعق 2/ 502 مذكرة في أصول الفقه للشنقيطي/ 125.
এই হাদিসগুলো গ্রহণ করা এবং এর মাধ্যমে মহান রব্ব তাআলার গুণাবলি ও অদৃশ্য জ্ঞানসংক্রান্ত বিষয়াদি সাব্যস্ত করার ব্যাপারে নিশ্চিত ঐক্যমত (الإجماع المتيقن) রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "বর্ণিত বিষয়াদি সম্পর্কে যার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তার নিকট এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা সাহাবীগণই এই হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা একে অপরের নিকট থেকে তা গ্রহণযোগ্যতার (القبول) সাথে গ্রহণ করেছেন। তাঁদের কেউ এর উদ্দিষ্ট অর্থের ব্যাপারে কোনো আপত্তি করেননি। অতঃপর তাঁদের থেকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল তাবেয়ীগণ তা গ্রহণ করেছেন। যারা তাঁদের নিকট থেকে শুনেছেন, তারা তা সত্যয়ন ও গ্রহণযোগ্যতার (القبول) সাথে গ্রহণ করেছেন; আর যারা তাঁদের থেকে সরাসরি শুনেননি, তারা একইভাবে তাবেয়ীদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করেছেন। একইভাবে তাবে-তাবেয়ীগণ তাবেয়ীদের থেকে গ্রহণ করেছেন। এটি এমন এক বিষয় যা হাদিস বিশারদগণ (أهل الحديث) অপরিহার্যভাবে জানেন, যেমনটি তাঁরা সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), সততা ও আমানতদারী সম্পর্কে জানেন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এই হাদিসগুলো তাঁদের বর্ণনা করা ঠিক তেমনই, যেমনটি অজু, জানাবাতের গোসল, সালাতের সংখ্যা ও সময় এবং আজান, তাশাহহুদ, জুমা ও দুই ঈদের বর্ণনা। কেননা যারা এগুলো বর্ণনা করেছেন, তারাই গুণাবলি সংক্রান্ত হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যদি এই বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের ভুল বা মিথ্যার সম্ভাবনা থাকে, তবে আমাদের উল্লেখ করা অন্যান্য বিষয়ের বর্ণনার ক্ষেত্রেও তা সম্ভব হবে। এমতাবস্থায় আমাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো বিষয়ের ওপরই আর বিন্দুমাত্র আস্থা থাকবে না। আর এটি হবে দ্বীন, জ্ঞান ও বিবেক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুতি (১)।

মন্তব্য:

আকিদাহর ক্ষেত্রে একক বর্ণনা (خبر الآحاد) গ্রহণ করার আবশ্যকতা (وجوب) বিষয়ক দলিলাদি উপস্থাপনের পর প্রতীয়মান হয় যে, যে সত্যটি থেকে বিচ্যুত হওয়া বৈধ নয় তা হলো—সহিহ (صحيحة) একক বর্ণনা (خبر الآحاد) যেমন শরিয়তের শাখা-প্রশাখায় (الفروع) গ্রহণযোগ্য, তেমনি তা মৌলিক আকিদাহর (الأصول) ক্ষেত্রেও গ্রহণযোগ্য। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদগণ এবং তাদের অনুসারীরা যে বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে—আকিদাহর ক্ষেত্রে একক বর্ণনা (خبر الآحاد) গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর কোনো গুণাবলি সাব্যস্ত হয় না—তা ভিত্তিহীন (باطل) ও অগ্রাহ্য। তাদের দাবি হলো, একক বর্ণনা (خبر الآحاد) নিশ্চিত জ্ঞান (اليقين) প্রদান করে না, অথচ আকিদাহর ক্ষেত্রে নিশ্চিত জ্ঞান (اليقين) থাকা অপরিহার্য। এই দাবির অসারতা প্রমাণের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, এটি সহিহ বর্ণনা (روايات صحيحة) প্রত্যাখ্যান করাকে আবশ্যক করে তোলে।

--------------------------------------------

(১) আসলুল ইতিকাদ / ৭৭; মুখতাসারুস সাওয়ায়িক ২/ ৫০২; মুজাক্কিরা ফী উসুলিল ফিকহ লিশ-শানকিতী / ১২৫।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - ফারহানা বিনতে আলী শুয়াইতাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم بمجرد تحكيم العقل (1) . ولاسيما أن الذين لا يأخذون بخبر الواحد في العقائد يلزمهم أن يردوا كثيراً من العقائد التي تثبت بأحاديث الآحاد ومنها (2) :

1 - أفضلية نبينا محمد على جميع الأنبياء والمرسلين.

2 - شفاعته العظمى في المحشر.

3 - شفاعته صلى الله عليه وسلم لأهل الكبائر من أمته.

4 - معجزاته كلها ما عدا القرآن.

5 - كيفية بدء الخلق وصفة الملائكة والجن وصفة الجنة والنار ممالم يذكر في القرآن الكريم.

6 - سؤال منكر ونكير في القبر.

7 - ضغطة القبر للميت.

8 - الإيمان بأن الله تعالى كَتَبَ على كل إنسان سعادته أو شقاوته ورزقه وأجله وهو في بطن أمه.

9 - الصراط والحوض والميزان ذو الكفتين.

10 - خصوصياته صلى الله عليه وسلم مما جمعه السيوطي في كتاب "الخصائص الكبرى" مثل دخوله في حياته الجنة، وإسلام قرينه من الجن.

--------------------------------------------

(1) مذكرة في أصول الفقه للشنقيطي / 125.

(2) أشراط الساعة يوسف الوابل / 52.
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত বিষয়সমূহকে নিছক যুক্তিনির্ভর বিচারের মাধ্যমে (১)। বিশেষত যারা আকিদার ক্ষেত্রে একক বর্ণনা (خبر الواحد) গ্রহণ করেন না, তাদের জন্য এমন অনেক আকিদাহ প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক হয়ে পড়ে যা একক বর্ণনা (أحاديث الآحاد) সম্বলিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, আর সেগুলোর মধ্যে রয়েছে (২):

১ - সকল নবি ও রাসুলের উপর আমাদের নবি মুহাম্মাদ-এর শ্রেষ্ঠত্ব।

২ - হাশরের ময়দানে তাঁর মহান সুপারিশ।

৩ - তাঁর উম্মতের কবিরা গুনাহগারদের জন্য তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুপারিশ।

৪ - কুরআন ব্যতীত তাঁর সকল মুজিজা।

৫ - সৃষ্টির সূচনা পদ্ধতি এবং ফেরেশতা ও জিনের বৈশিষ্ট্য এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ, যার উল্লেখ পবিত্র কুরআনে আসেনি।

৬ - কবরে মুনকার ও নাকিরের সওয়াল-জওয়াব।

৭ - মৃতব্যক্তির জন্য কবরের চাপ।

৮ - এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষের সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য, তার রিজিক ও আয়ু সে যখন মায়ের গর্ভে থাকে তখনই লিখে দেন।

৯ - সিরাত, হাউজ এবং দুই পাল্লা বিশিষ্ট মিজান।

১০ - তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ যা ইমাম সুয়ূতি তাঁর "আল-খাসাইসুল কুবরা" গ্রন্থে সংকলন করেছেন; যেমন জীবদ্দশায় তাঁর জান্নাতে প্রবেশ এবং তাঁর জিন সহচর বা কারিনের ইসলাম গ্রহণ।

--------------------------------------------

(১) শানকিতি-র মুজাক্কিরা ফি উসুলিল ফিকহ / ১২৫।

(২) ইউসুফ আল-ওয়াবিল-এর আশরাতুস সাআহ / ৫২।