(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: -)
حجية خبر الآحاد في العقائد والأحكام - عامر حسن صبري القسم: علوم الحديث
الكتاب: حجية خبر الآحاد في العقائد والأحكام
المؤلف: عامر بن حسن صبري
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 33
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আকিদা ও আহকামের ক্ষেত্রে একক বর্ণনার (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা - আমের হাসান সাবরি বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান
কিতাব: আকিদা ও আহকামের ক্ষেত্রে একক বর্ণনার (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা
লেখক: আমের বিন হাসান সাবরি
প্রকাশক: কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স ফর দ্য প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন, মদিনা মুনাওয়ারা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১)
حُجيَّة خبر الآحاد في العقائد والأحكام
إعداد الدكتور: عامر حسن صبري أُستاذ الحديث النبوي وعلومه بجامعة الإمارات العربية المتحدة
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمة:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد:
فإن من رحمة الله عز وجل بخلقه أن أرسل سيدنا محمداً صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق، وأنزل عليه القرآن دستوراً ونوراً للأمة ومنهاجاً يضيء طريقها، وجعل رسولَهُ صلى الله عليه وسلم في مقام الشارح للكتاب والمبيِّن له. ولقد قام رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك خير قيام، فتولى تفصيل مجمله وتقييد مطلقه وتخصيص عامه، وربما ذهب في البيان إلى ما لم يتناولْهُ كتاب الله عز وجل مما يدخل في نطاق مهمته الربانية رسولاً يوجه الأمة إلى الخير، سبيله في ذلك عليه الصلاة والسلام قول يخاطب به الصحابة معبرِّاً فيه عن قصده، أو فعل يوضح لهم به مراده، أو موقف بدا منه على الرضا عن قول أو فعل صدر من أصحابه أو بلغه عنهم فيقرهم عليه برضاه عن ذلك القول أو الفعل وسكوته عليه، فهذه الممارسات الثلاث من رسول الله صلى الله عليه وسلم هي التي يُعبرَّ عنها بالسنة أو بالحديث النبوي (1) .
ومن هنا تتحدد طبيعة العلاقةِ القائمة بين الكتاب والسنة؛ فالسنة النبوية تفصِّل مجمل القرآن، وتقيِّد مطلقه، وتخصص عامَّه، وتشرح وتبين ما يحتاج منه إلى بيان، وذلك مصداقاً لقول الله عز وجل: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44] .
--------------------------------------------
আকিদা ও বিধানের ক্ষেত্রে একক বর্ণনার (خبر الآحاد) প্রামাণিকতা (حجية)
প্রস্তুতকারী: ড. আমের হাসান সাবরি, সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের অধ্যাপক।
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা: সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের সরদারের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সৃষ্টিজগতের প্রতি মহান আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ হলো যে, তিনি আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁর ওপর উম্মতের জন্য সংবিধান, নূর ও জীবন বিধান হিসেবে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, যা তাদের পথকে আলোকিত করে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই কিতাবের ব্যাখ্যাকারী ও বিশদ বর্ণনাকারীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেছেন। তিনি কুরআনের সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন, এর নিঃশর্ত (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত (تقييد) করেছেন এবং সাধারণ (عام) বিষয়কে বিশেষায়িত (تخصيص) করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন সব বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা আল্লাহর কিতাবে সরাসরি উল্লেখ নেই, যা একজন রাসূল হিসেবে উম্মতকে কল্যাণের দিকে পরিচালনার ঐশ্বরীয় দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। এ ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি ছিল কখনো সাহাবীদের উদ্দেশে কোনো কথা (قول) বলা যাতে তিনি তাঁর উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতেন, অথবা কোনো কাজের (فعل) মাধ্যমে তাদের নিকট নিজের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা, কিংবা এমন কোনো অবস্থান যা তাঁর সাহাবীদের থেকে প্রকাশ পাওয়া কোনো কথা বা কাজের প্রতি সন্তুষ্টির প্রমাণ দেয়; তিনি তাদের সেই কথা বা কাজের ওপর সন্তুষ্ট থেকে এবং মৌনতা অবলম্বন করে তাতে সম্মতি (تقرير) প্রদান করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই তিন ধরনের চর্চাকেই সুন্নাহ (السنة) বা হাদিস বলা হয় (১)।
এখান থেকেই কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্কের প্রকৃতি নির্ধারিত হয়; কেননা নববী সুন্নাহ (السنة) কুরআনের সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়, এর নিঃশর্ত (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত (تقييد) করে এবং সাধারণ (عام) বিষয়কে বিশেষায়িত (تخصيص) করে। আর কুরআনের যা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় তা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করে। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীরই বাস্তব প্রতিফলন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে} [সূরা আন-নাহল: ৪৪]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২)
والله عز وجل اختار نبيه عليه الصلاة والسلام للرسالة وحمله الأمانة وعصمه من الزلل فيما بلغه عن ربه من قرآن، وفيما نطق به من قول، أو صدر عنه من فعل، أو أَقَرَّ عليه أصحابه مما يدخل في مجال التشريع؛ لأن كل ذلك من عند الله: {وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3،4] . ولذلك أوجب طاعته وقرنها تعالى بطاعته، فقال عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} [النساء: 59] .
وقال تعالى: {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِن تَوَلَّوا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُم مَّا حُمِّلْتُمْ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ} [النور: 54] .
ورتب على طاعته الجزاء الوفير فقال سبحانه: {وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:71] . وحذر الله من مغبة المخالفة لنبيه صلى الله عليه وسلم بقوله: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] .
وتوعد على معصيته وأخبر بعقوبة من عصاه فقال: {وَمَن يَعْصِ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ} [النساء: 14] . وقال: {يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُولُونَ يَا لَيْتَنَا أَطَعْنَا اللَّهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُولَا} [الأحزاب: 66] .
ونبه عباده أن يكونوا عند أمر الرسول ونهيه فقال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا} [الحشر: 7] .
মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে (সা.) রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন, তাঁর ওপর আমানতের ভার অর্পণ করেছেন এবং তাঁর রবের পক্ষ থেকে কুরআন পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এবং তাঁর মুখনিসৃত বাণী (قول), তাঁর সম্পাদিত কাজ (فعل), কিংবা তাঁর সাহাবীদের যেসব বিষয়ে তিনি মৌন সম্মতি (تقرير) প্রদান করেছেন যা শরয়ি বিধান প্রণয়নের (تشريع) অন্তর্ভুক্ত, সেসব ক্ষেত্রে তাঁকে ভুলভ্রান্তি থেকে সুরক্ষা দান করেছেন। কারণ এ সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে: "আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না; এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।" [আন-নাজম: ৩, ৪]। এ কারণেই তিনি তাঁর আনুগত্য করাকে আবশ্যক করেছেন এবং আল্লাহ নিজের আনুগত্যের সাথে তাঁর আনুগত্যকে যুক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলিল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদেরও। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান এনে থাকো। এটাই উত্তম এবং পরিণামে অতি উৎকৃষ্ট।" [আন-নিসা: ৫৯]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "বলো, আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সে-ই দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো তবে তোমরা হিদায়াত পাবে। আর রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।" [আন-নূর: ৫৪]।
আর তিনি তাঁর আনুগত্যের ওপর প্রচুর পুরস্কার নির্ধারণ করেছেন। মহান সত্তা বলেন: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।" [আল-আহযাব: ৭১]। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর (সা.) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করার পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (فتنة) আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে।" [আন-নূর: ৬৩]।
তিনি তাঁর অবাধ্যতার বিষয়ে কঠোর হুমকি দিয়েছেন এবং যে তাঁর অবাধ্য হবে তার শাস্তির কথা জানিয়ে বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।" [আন-নিসা: ১৪]। তিনি আরও বলেন: "সেদিন আগুনের মধ্যে তাদের মুখমণ্ডল উলটপালট করা হবে, তারা বলবে: হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের আনুগত্য করতাম!" [আল-আহযাব: ৬৬]।
তিনি তাঁর বান্দাদের রাসূলের আদেশ ও নিষেধ মেনে চলার ব্যাপারে সজাগ করেছেন এবং বলেছেন: "আর রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" [আল-হাশর: ৭]।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৩)
وأقسم الله لرسوله صلى الله عليه وسلم ألا يكون المؤمنون مؤمنين حقاً حتى يرتضوه حكماً فيما بينهم، وأن يتلقوا حكمه بغاية الإذعان الذي لا تكلف فيه ولا تصنع، وإنما هو نابع عما انعقد عليه القلب من ولاء وتسليم، فقال عز وجل: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيمًا} [النساء:65] . وقد أجمع العلماء على أن هذا التحاكم يكون بعده إلى سنته. فمن هذا المنطلق وبهذا الاعتبار نقرر أن السنة النبوية الصحيحة مع القرآن الكريم في مرتبة واحدة من حيث الاحتجاج بهما في الأحكام الشرعية، فإنها وحي مثله، فيجب القول بعدم تأخرها عنه في الاعتبار (1) .
وقد قام الأئمة بخدمة حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم خير قيام، وأولوه الرعاية والعناية، وبذلوا أقصى ما في الوسع الإنساني احتياطاً لدينهم وشريعتهم أن يدخل فيها ما ليس منها، وكان من نتاج ذلك وضع قواعد مصطلح الحديث، وقواعد علم الجرح والتعديل؛ تلك القواعد التي كفلت لهم التمييز بين الصحيح وغيره، وهذه القواعد نجدها مبثوثة في كتب أصول الرواية وعلوم الحديث وتاريخ الرجال.
وكان من أهم موضوعات علم مصطلح الحديث: تقسيم الحديث من حيث طرق وصوله إلينا إلى قسمين رئيسين، هما: المتواتر والآحاد. وسنتكلم على هذين القسمين وأنواعهما، وحجية كل نوع. والله الموفق والهادي إلى سواء السبيل.
(1) انظر كتاب ((حجية السنة)) للشيخ عبد الغني عبد الخالق رحمه الله، فقد أكد هذا المعنى وأجاد في إثباته أيّما إجادة.
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শপথ করেছেন যে, মুমিনরা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদে তাঁকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাঁর ফয়সালা অত্যন্ত আনুগত্যের সাথে গ্রহণ করে, যার মধ্যে কোনো প্রকার কুণ্ঠা বা কৃত্রিমতা থাকবে না; বরং তা হবে অন্তরের গভীর বিশ্বাস থেকে উৎসারিত আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ। মহান আল্লাহ বলেন: {না, আপনার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আপনাকে তাদের বিবাদসমূহের বিচারক হিসেবে গ্রহণ না করে, অতঃপর আপনি যা ফয়সালা করেন সে বিষয়ে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণভাবে মেনে নেয়} [আন-নিসা: ৬৫]। আর উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তাঁর তিরোধানের পর এই বিচারপ্রক্রিয়া তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমেই হবে। এই প্রেক্ষাপট ও বিবেচনায় আমরা এই সিদ্ধান্ত প্রদান করছি যে, কুরআন কারীমের সাথে সহীহ (صحيح) সুন্নাহ শরীয়তের বিধান আহরণে দলিল হিসেবে একই স্তরের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটিও কুরআনের মতোই ওহী। সুতরাং বিবেচনার ক্ষেত্রে একে কুরআন থেকে পিছিয়ে রাখার কোনো অবকাশ নেই (১)।
ইমামগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের সর্বোত্তম খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন, তাঁরা একে যথাযথ যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং তাঁদের দ্বীন ও শরীয়তের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ মানবীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন যাতে তাতে এমন কিছু প্রবেশ করতে না পারে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। এর ফলে হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) এবং জারহ ও তাদীল (الجرح والتعديل)-এর নীতিমালা প্রণীত হয়েছে; এই নীতিমালাগুলো তাঁদের জন্য সহীহ (صحيح) এবং এর বাইরের বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করা নিশ্চিত করেছে। এই নীতিমালাগুলো আমরা হাদিস বর্ণনার মূলনীতি (أصول الرواية), হাদিস শাস্ত্র এবং বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে থাকতে দেখি।
হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল: আমাদের কাছে পৌঁছানোর সূত্রের ভিত্তিতে হাদিসকে প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত করা, আর তা হলো: মুতাওয়াতির (متواتر) এবং আহাদ (آحاد)। আমরা এই দুই বিভাগ, তাদের প্রকারভেদ এবং প্রত্যেক প্রকারের প্রামাণিকতা নিয়ে আলোচনা করব। আল্লাহ তাআলাই সঠিক পথ প্রদর্শক ও তাওফিক দাতা।
(১) শেখ আব্দুল গনি আব্দুল খালিক রহ.-এর হুজজিয়াতুস সুন্নাহ কিতাবটি দেখুন; তিনি এই বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে এবং নিপুণতার সাথে প্রমাণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৪)
أولاً: المتواتر
ما يفيده المتواتر:…أولاً: المتواتر
وهو: ما رواه جمع تحيل العادة تواطؤَهم على الكذب عن مثلهم إلى منتهاه، وشروط التواتر ما يلي:
1- عدد كثير تحيل العادة اجتماعهم على الكذب.
2- أن تكون هذه الكثرة في جميع طبقات السند.
3- أن يكون مستند خبرهم الحس، كقوله سمعنا أو أخبرنا، أما إذا كان مستندهم العقل كحدوث العالم مثلا، فلا.
فإذا اختل شرط من شروط التواتر، في أي طبقة من طبقات السند فلا يسمى متواتراً، وإنما هو آحاد.
والمتواتر قسمان:
1- لفظي، وهو: ما تواتر لفظه ومعناه. ومن أمثلته:
حديث "من كذب عليَّ متعمداً فليتبوأ مقعده من النار" فقد رواه نحو مائة من الصحابة كما قال الحافظ ابن حجر في فتح الباري (1) ، ونقله عنه السخاوي في فتح المغيث (2) . وقد جمع طرقه ابن الجوزي في مقدمة كتابه «الموضوعات» فجاوز تسعين طريقاً.
2- معنوي، وهو: ما تواتر معناه وإن لم يتواتر لفظه. ومن أمثلته:
أحاديث رفع اليدين في الدعاء، فقد روي عنه صلى الله عليه وسلم أكثرُ من خمسين
--------------------------------------------
প্রথমত: মুতাওয়াতির (متواتر)
মুতাওয়াতির (متواتر) যে তথ্য প্রদান করে:…প্রথমত: মুতাওয়াতির (متواتر)
তা হলো: যা এমন এক বিশাল জনসমষ্টি বর্ণনা করেছেন যাদের পক্ষে সাধারণভাবে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব, আর তারা তাদের মতো সমপর্যায়ের জনসমষ্টি থেকেই বর্ণনা করেছেন বর্ণনাসূত্রের শেষ পর্যন্ত। মুতাওয়াতির (متواتر) হওয়ার শর্তাবলি নিম্নরূপ:
১- এমন বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারী হতে হবে যাদের পক্ষে মিথ্যার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া স্বাভাবিকভাবে অসম্ভব।
২- বর্ণনাসূত্রের (سند) প্রতিটি স্তরে (طبقات) এই বিপুল সংখ্যা বিদ্যমান থাকতে হবে।
৩- তাদের সংবাদের ভিত্তি হতে হবে ইন্দ্রিয়লব্ধ (حسي), যেমন তাদের বলা: 'আমরা শুনেছি' বা 'আমাদের সংবাদ দেওয়া হয়েছে'; পক্ষান্তরে যদি তাদের সংবাদের ভিত্তি হয় যুক্তি (عقلي), যেমন মহাবিশ্ব সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি, তবে তা মুতাওয়াতির (متواتر) হবে না।
বর্ণনাসূত্রের (سند) যেকোনো স্তরে (طبقات) যদি মুতাওয়াতির (متواتر) হওয়ার কোনো একটি শর্ত অনুপস্থিত থাকে, তবে তাকে মুতাওয়াতির (متواتر) বলা যাবে না; বরং সেটি হবে আহাদ (آحاد)।
মুতাওয়াতির (متواتر) দুই প্রকার:
১- শাব্দিক (لفظي): যার শব্দ ও অর্থ উভয়ই মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর উদাহরণ:
এই হাদিস— "যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।" ফাতহুল বারী গ্রন্থে হাফেজ ইবনে হাজার যেমনটি বলেছেন, প্রায় একশত সাহাবী এটি বর্ণনা করেছেন (১), আর সাখাবী ফাতহুল মুগীস গ্রন্থে তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন (২)। ইবনে আল-জাওযী তাঁর আল-মাউদুয়াত গ্রন্থের ভূমিকায় এর বর্ণনার পথগুলো (طرق) একত্রিত করেছেন এবং তা নব্বইয়ের অধিক মাধ্যম (طرق) অতিক্রম করেছে।
২- অর্থগত (معنوي): যার অর্থ মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে যদিও তার শব্দ মুতাওয়াতির (متواتر) নয়। এর উদাহরণ:
দোয়ার সময় হাত তোলার হাদিসসমূহ; কেননা তাঁর (সা.) থেকে পঞ্চাশটিরও বেশি বর্ণিত হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৫)
حديثاً فيه رفع يديه في الدعاء لكنها في قضايا مختلفة، فكل قضية منها لم تتواتر، والقدر المشترك منها - وهو الرفع عند الدعاء – تواتر باعتبار المجموع، وقد جمع طرقها الإمام السيوطي في كتاب سماه (فض الوعاء في أحاديث رفع اليدين في الدعاء) .
ما يفيده المتواتر:
اتفقت كلمة العلماء على أنه يفيد العلم القطعي الضروري لا النظري، لذا لا يصح إنكاره ولا البحث عن استدلاله لأنه ثابت قطعاً.
قال الإمام الغزالي في المستصفى: ((أما إثبات كون المتواتر مفيداً للعلم فهو ظاهر، خلافاً للسُّمنِيَّة (1) حيث حصروا العلم في الحواس وأنكروا هذا. وحصرهم باطل
… أما بطلان مذهب الكعبي حيث ذهب إلى أن هذا العلم نظري، فإنا نقول: النظري هو الذي يجوز أن يعرض فيه الشك وتختلف فيه الأحوال، فيعلمه بعض الناس دون بعض
… ونحن لا نجد أنفسنا شاكّين في وجود مكة ووجود الشافعي رحمه الله
… )) (2) الخ كلامه. وقال الشوكاني في إرشاد الفحول: ((وقد اختلف في العلم الحاصل بالتواتر هل هو ضروري أو نظري؟ فذهب الجمهور إلى أنه ضروري، وقال الكعبي وأبو الحسين البصري: إنه نظري
… والحق قول الجمهور
… )) (3) إلى آخر كلامه.
--------------------------------------------
দোয়ায় হাত তোলার বিষয়ে অনেক হাদিস রয়েছে তবে সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বর্ণিত, যার প্রতিটি ঘটনা এককভাবে মুতাওয়াতির (تواتر) নয়। কিন্তু সেগুলোর মধ্যকার সাধারণ বিষয়টি—অর্থাৎ দোয়ার সময় হাত তোলা—সমষ্টিগতভাবে মুতাওয়াতির (تواتر) হিসেবে গণ্য। ইমাম সুয়ূতি এর সকল সূত্র 'ফাদদুল উইয়া ফি আহাদিসি রফয়িল ইয়াদাইনি ফিদ দুআ' নামক একটি গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
মুতাওয়াতির (المتواتر) হাদিসের কার্যকারিতা:
আলেমগণ এই মর্মে একমত হয়েছেন যে, এটি অকাট্য ও স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞান (العلم القطعي الضروري) প্রদান করে, তাত্ত্বিক (النظري) জ্ঞান নয়। তাই এটি অস্বীকার করা কিংবা এর দলিল অনুসন্ধান করা সঠিক নয়, কারণ এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত।
ইমাম গাজালি আল-মুস্তাসফা গ্রন্থে বলেন: "মুতাওয়াতির (المتواتر) যে জ্ঞান প্রদান করে তা সুস্পষ্ট, সুমানিয়াহদের (১) ভিন্নমতের বিপরীতে; যারা জ্ঞানকে কেবল পঞ্চইন্দ্রিয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে এবং একে অস্বীকার করেছে। তাদের এই সীমাবদ্ধকরণ অসার
… আর আল-কাবির মতবাদের অসারতা—যিনি মনে করেন যে এই জ্ঞান তাত্ত্বিক (نظري)—এর উত্তরে আমরা বলি: তাত্ত্বিক (النظري) হলো সেটি যাতে সন্দেহ দেখা দেওয়া সম্ভব এবং অবস্থার প্রেক্ষিতে যাতে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, ফলে কিছু মানুষ তা জানে আর অন্যরা জানে না
… অথচ আমরা মক্কার অস্তিত্ব এবং ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর অস্তিত্ব সম্পর্কে নিজেদের মনে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না
… " (২) ইত্যাদি তাঁর বক্তব্য। শাওকানি ইরশাদুল ফুহুল গ্রন্থে বলেন: "মুতাওয়াতির (التواتر) এর মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান কি স্বতঃসিদ্ধ (ضروري) নাকি তাত্ত্বিক (نظري)? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। জমহুর বা অধিকাংশ উলামাদের মতে এটি স্বতঃসিদ্ধ (ضروري)। তবে আল-কাবি এবং আবু আল-হুসাইন আল-বাসরি বলেছেন: এটি তাত্ত্বিক (نظري)
… আর জমহুর উলামাদের মতটিই সত্য
… " (৩) তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৬)
قلت: والكعبي وأبو الحسين البصري هما من المعتزلة.
وقال الحافظ ابن حجر في شرح نخبة الفكر: ((المتواتر، وهو المفيد للعلم اليقيني
… واليقين: هو الاعتقاد الجازم المطابق، وهذا هو المعتمد: أن الخبرَ المتواتر يفيدُ العلم الضروري، وهو الذي يضطر الإنسان إليه، بحيث لا يمكنه دفعه، وقيل: لا يفيد العلم إلا نظرياً؛ وليس بشيء؛ لأن العلم المتواتر حاصل لمن ليس له أهلية النظر كالعامي، إذ النظر: ترتيب أمور معلومة أو مظنونة يتوصل بها إلى علوم أو ظنون، وليس في العامي أهلية ذلك، فلو كان نظرياً لما حصل لهم، ولاح بهذا التقرير الفرق بين العلم الضروري والعلم النظري، إذ الضروري يفيد العلم بلا استدلال، والنظري يفيده ولكن مع الاستدلال على الإفادة، وأن الضروري يحصل لكل سامع، والنظري لا يحصل إلا لمن فيه أهلية النظر
… )) (1) إلى آخر كلامه.
وبهذا يتبين أن المتواتر يفيد العلم الضروري اليقيني عند عامة المسلمين خلافاً لبعض المعتزلة، وبعض الفرق الضالة، وهذه الإفادة اتفق عليها علماء الحديث والفقه والأصول والعقيدة وغيرهم.
--------------------------------------------
আমি বলছি: আল-কা'বি এবং আবু আল-হুসাইন আল-বাসরি মুতাযিলা সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
হাফেজ ইবনে হাজার শারহু নুখবাতিল ফিকর গ্রন্থে বলেছেন: ((মুতাওয়াতির (المتواتر), যা সুনিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) প্রদান করে
… আর সুনিশ্চিত বিশ্বাস (اليقين) হলো: অটল ও বাস্তবানুগ বিশ্বাস। নির্ভরযোগ্য মত হলো: মুতাওয়াতির সংবাদ (الخبر المتواتر) অকাট্য জ্ঞান (العلم الضروري) প্রদান করে, যা মানুষকে তা গ্রহণ করতে বাধ্য করে, যাতে সে তা অস্বীকার করতে না পারে। কেউ কেউ বলেছেন: এটি কেবল যুক্তি-নির্ভর (نظرياً) জ্ঞান প্রদান করে; তবে এটি গ্রহণীয় নয়; কারণ মুতাওয়াতির (المتواتر) জ্ঞান তার জন্যও অর্জিত হয় যার তাত্ত্বিক বিবেচনার (النظر) যোগ্যতা নেই, যেমন সাধারণ মানুষ। কারণ তাত্ত্বিক বিবেচনা (النظر) হলো: জানা বা ধারণাকৃত বিষয়গুলিকে এমনভাবে বিন্যস্ত করা যার মাধ্যমে কোনো জ্ঞান বা ধারণায় পৌঁছানো যায়, আর সাধারণ মানুষের সেই যোগ্যতা নেই। সুতরাং এটি যদি যুক্তি-নির্ভর (نظرياً) হতো, তবে তাদের তা অর্জিত হতো না। এই আলোচনার মাধ্যমে অকাট্য জ্ঞান (العلم الضروري) এবং যুক্তি-নির্ভর জ্ঞানের (العلم النظري) মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে, কারণ অকাট্য (الضروري) বিষয়টি প্রমাণ (استدلال) ছাড়াই জ্ঞান দান করে, আর যুক্তি-নির্ভর (النظري) বিষয়টি প্রমাণের (استدلال) মাধ্যমে জ্ঞান দান করে। অকাট্য জ্ঞান প্রত্যেক শ্রবণকারীর অর্জিত হয়, কিন্তু যুক্তি-নির্ভর জ্ঞান কেবল তাদেরই অর্জিত হয় যাদের তাত্ত্বিক বিবেচনার (النظر) যোগ্যতা রয়েছে
… )) (১) তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।
এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, কিছু মুতাযিলা এবং কিছু ভ্রান্ত দল ব্যতীত অধিকাংশ মুসলমানদের নিকট মুতাওয়াতির (المتواتر) অকাট্য সুনিশ্চিত জ্ঞান (العلم الضروري اليقيني) প্রদান করে। আর এই উপযোগিতার ব্যাপারে হাদিস, ফিকহ, উসুল এবং আকাইদ শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ ও অন্যান্যরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৭)
ثانياً: الآحاد
ما يفيده خبر الآحاد:…ثانياً: الآحاد
وهو: ما لم يجمع شروط المتواتر المتقدمة أو أحدها، سواء كان رواته واحداً أو عدداً.
وينقسم الآحاد باعتبار عدد طرقه ورواياته إلى ثلاثة أقسام:
1- الغريب، وهو: ما ينفرد بروايته شخص واحد في أي موضع وقع التفرد به من السند، وقد يعبر علماء الحديث عنه بالفرد.
ومثاله: حديث: "إنما الأعمال بالنيات" فقد تفرد به عمر رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولا يرويه عن عمر إلا علقمة بن وقاص، ولا يرويه عن علقمة إلا محمد بن إبراهيم التيمي، ولا يرويه عن التيمي إلا يحيى بن سعيد الأنصاري، ثم اشتهر الحديث.
2- العزيز، وهو: ما يرويه اثنان عن اثنين في كل طبقة، ولو كان ذلك في طبقة واحدة، ولا مانع من أن يزيد في بعض طبقاته، فالمدار تحقق التثنية في طبقة ما.
ومثاله ما رواه البخاري من حديث أبي هريرة، والشيخان من حديث أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من ولده ووالده والناس أجمعين" فقد رواه من الصحابة أنس وأبوهريرة، ورواه عن أنس اثنان: قتادة وعبد العزيز بن صُهَيب، ورواه عن قتادة اثنان: شعبة وسعيد، ورواه عن عبد العزيز اثنان: إسماعيل ابن عُلية وعبد الوارث، ثم رواه عن كل منهما جماعة.
3- المشهور، وسماه جماعة من الفقهاء: المستفيض، وهو: ما له طرق محصورة بأكثر من اثنين ولم يبلغ حد التواتر.
দ্বিতীয়ত: আহাদ (الآحاد)আহাদ সংবাদের (خبر الآحاد) উপকারিতা:…দ্বিতীয়ত: আহাদ (الآحاد)
এটি হলো: যা পূর্বে উল্লিখিত মুতাওয়াতির (المتواتر) এর শর্তাবলি বা তার কোনো একটি শর্ত পূরণ করেনি, চাই তার বর্ণনাকারী একজন হোক বা একাধিক।
সূত্র এবং বর্ণনার সংখ্যার বিচারে আহাদ (الآحاد) তিন ভাগে বিভক্ত:
1- গরিব (الغريب), এটি হলো: যার সনদের (السند) যেকোনো স্তরে কেবল একজন বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন। হাদিস বিশারদগণ একে মাঝে মাঝে ফারদ (الفرد) হিসেবেও ব্যক্ত করেন।
এর উদাহরণ: এই হাদিস: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উমর (রা.) এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। উমর (রা.) থেকে আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি, আলকামা থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আত-তাইমি ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি এবং আত-তাইমি থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি। এরপর হাদিসটি প্রসিদ্ধি লাভ করে।
2- আজিজ (العزيز), এটি হলো: যা প্রতি স্তরে (طبقة) দুইজন থেকে দুইজন বর্ণনা করেছেন, যদিও তা কেবল একটি স্তরেও হয়। তবে কোনো কোনো স্তরে বর্ণনাকারীর সংখ্যা এর চেয়ে বৃদ্ধি পেতে কোনো বাধা নেই। সুতরাং এর মানদণ্ড হলো কোনো একটি স্তরে অন্তত দুইজন বর্ণনাকারীর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া।
এর উদাহরণ হলো যা বুখারি আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে এবং শায়খাইন আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার সন্তান, তার পিতা এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।" সাহাবিদের মধ্য থেকে আনাস এবং আবু হুরায়রা (রা.) এটি বর্ণনা করেছেন। আনাস (রা.) থেকে দুইজন এটি বর্ণনা করেছেন: কাতাদাহ এবং আব্দুল আজিজ ইবনে সুহাইব। কাতাদাহ থেকে দুইজন বর্ণনা করেছেন: শু'বাহ এবং সাঈদ। আব্দুল আজিজ থেকে দুইজন বর্ণনা করেছেন: ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহ এবং আব্দুল ওয়ারিস। এরপর তাদের প্রত্যেকের থেকে একদল বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন।
3- মাশহুর (المشهور), একদল ফকিহ একে মুস্তাফিদ (المستفيض) নামে অভিহিত করেছেন। এটি হলো: যার সূত্রের সংখ্যা দুইয়ের অধিক কিন্তু তা মুতাওয়াতির (المتواتر) এর পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقد جعل الحنفية المشهور قسيم المتواتر والآحاد، وعرَّفوه بأنه ما كان آحاداً في القرن الأول، ثم تواتر بعد ذلك وكثرت رواته في القرن الثاني والثالث (1) .
ومثاله: حديث أنس رضي الله عنه الذي رواه الشيخان: "أن النبي صلى الله عليه وسلم قنت شهراً يدعو على رِعْل وذكوان"، فقد رواه عن أنس: قتادة وعاصم وأبو مِجْلَز: لاحق بن حُميد، وأنس بن سيرين، ورواه عن كل واحد جماعة.
ما يفيده خبر الآحاد:
ذهب العلماء في مجال الأخذ به مذاهب مختلفة، وإليك بيانها مع ذكر حُجج كل مذهب:
المذهب الأول: أن خبر الواحد الثقة يفيد العلم اليقيني مطلقاً.
وهذا مذهب داود الظاهري والحسين بن علي الكرابيسي والحارث بن أسد المحاسبي، ونقل عن الإمام أحمد في رواية، وحكاه ابن خويزمنداد عن الإمام مالك، وجزم به الإمام الشافعي في كتاب اختلاف مالك (2) .وقد أطال ابن حزم النَفَس في إيراد الأدلة على صحة هذا المذهب والرد على مخالفيه في الإحكام، فقال بعد سرد مقدمات: ((وإذا صح هذا فقد ثبت يقيناً أن خبر الواحد العدل عن مثله مُبَلَّغا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم حقٌّ مقطوعٌ به، موجب للعلم والعمل معا)) (3) وقال عبد العزيز البخاري في شرح أصول البزدوي: ((ذهب
--------------------------------------------
হানাফিগণ মাশহুর (مشهور)-কে মুতাওয়াতির (متواتر) ও আহাদ (آحاد)-এর একটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন। তাঁরা এর সংজ্ঞায় বলেছেন: এটি এমন বর্ণনা যা প্রথম শতাব্দীতে আহাদ (آحاد) ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে তা মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে এর বর্ণনাকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে (১)।
এর উদাহরণ হলো: আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যা শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন: "নবী (সা.) এক মাস কুনুত পড়েছেন এবং রিল ও জাকওয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছেন।" আনাস (রা.) থেকে এটি কাতাদাহ, আসিম, আবু মিজলাজ লাহিক ইবন হুমায়দ এবং আনাস ইবন সিরিন বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের নিকট থেকে একটি দল এটি বর্ণনা করেছে।
খবরে আহাদ (خبر الآحاد) যা প্রদান করে:
এটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। প্রতিটি মতের দলীলসহ নিচে তা উপস্থাপন করা হলো:
প্রথম মত: নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর একক খবর (خبر الواحد) নিঃশর্তভাবে সুনিশ্চিত জ্ঞান (يقيني) প্রদান করে।
এটি দাউদ জাহিরি, হুসাইন ইবন আলি কারাবিসি এবং হারিস ইবন আসাদ মুহাসিবির মত। ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনায় এটি বর্ণিত হয়েছে, ইবন খুওয়াইজ মানদাদ ইমাম মালিক থেকে এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম শাফিয়ি তাঁর ‘ইখতিলাফ মালিক’ নামক গ্রন্থে এ বিষয়ে সুনিশ্চিত মত ব্যক্ত করেছেন (২)। ইবন হাজম তাঁর ‘আল-ইহকাম’ গ্রন্থে এ মতটির সঠিকতা প্রমাণে এবং বিরোধীদের খণ্ডনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তিনি কিছু ভূমিকা বর্ণনার পর বলেন: "যখন এটি সঠিক (صحيح) প্রমাণিত হলো, তখন নিশ্চিতভাবেই সাব্যস্ত হলো যে—একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী কর্তৃক তার অনুরূপ বর্ণনাকারীর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া একক খবর (خبر الواحد) একটি ধ্রুব সত্য, যা একই সাথে জ্ঞান এবং আমল উভয়কেই আবশ্যক করে।" (৩) আবদুল আজিজ বুখারি ‘শারহু উসুলিল বাজদাবি’-তে বলেছেন: ((গমন করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৯)
أكثر أصحاب الحديث إلى أن الأخبار التي حكم أهل الصنعة بصحتها توجبُ علمَ اليقين بطريق الضرورة، وهو مذهب الإمام أحمد بن حنبل" (1) .
واختاره من المتأخرين العلامة صديق حسن خان فقال في كتابه "الدين الخالص": "والضرب الآخر من السنة خبر الآحاد يرويه الثقات الأثبات بالسند المتصل والصحيح والحسن، فهذا يوجب العمل عند جماعة من علماء الأمة وسلفها الذين هم القدوة في الدين والحجة الأسوة في الشرع المُبِين، ومنهم من قال: يوجب العلم والعمل جميعاً، وهو الحق وعليه درج سلف هذه الأمة وأئمتها، لأن المتواترات – على حساب اصطلاح القوم – قليل جداً، وغالب السنة الشريفة آحاد، والعمل بها واجب حتم" (2) واختار هذا القول من المعاصرين الأستاذ العلامة أحمد شاكر فقال في الباعث الحثيث بعد أن ذكر أقوال العلماء في إفادته: "والحق الذي ترجحه الأدلة الصحيحة ما ذهب إليه ابن حزم ومن قال بقوله، من أن الحديث الصحيح يفيد العلم القطعي، سواء أكان في أحد الصحيحين أم في غيرهما، وهذا العلم اليقيني علم نظري برهاني، لا يتحصل إلا للعالم المتبحر في الحديث العارف بأحوال الرواة والعلل
… وهذا العلم اليقيني النظري يبدو ظاهراً لكل من تبحر في علم من العلوم، وتيقنت نفسه بنظرياته، واطمأن قلبه إليها
… " (3) . وممن قال هذا الرأي أيضاً الدكتور صبحي الصالح في كتابه علوم الحديث حيث قال: "ورأي ابن حزم أولى بالاتباع؛ إذ لا معنى لتخصيص أحاديث الصحيح بإفادة القطع، لأن ما ثبت صحته في غيرهما ينبغي أن يحكم عليه بما حكم عليه
--------------------------------------------
অধিকাংশ হাদিস বিশেষজ্ঞ এই মত পোষণ করেন যে, সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ যে সকল সংবাদকে (الأخبار) সহিহ (صحيح) বলে রায় দিয়েছেন, তা আবশ্যিকভাবে সুনিশ্চিত জ্ঞান (علم اليقين) প্রদান করে। আর এটিই ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের মাযহাব (১)।
পরবর্তী যুগের আলিমদের মধ্য থেকে আল্লামা সিদ্দিক হাসান খান এই মতটি গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর 'আদ-দ্বীনুল খালিস' গ্রন্থে বলেছেন: "সুন্নাহর অপর প্রকার হলো আহাদ সংবাদ (خبر الآحاد), যা নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও সুদৃঢ় (أثبات) বর্ণনাকারীরা নিরবচ্ছিন্ন সনদের (سند متصل) মাধ্যমে বর্ণনা করেন এবং যা সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن)। উম্মাহর একদল আলিম ও সালাফদের নিকট এটি আমল করা ওয়াজিব করে দেয়, যাঁরা দ্বীনের ক্ষেত্রে আদর্শ এবং শরিয়তের সুস্পষ্ট প্রমাণ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি জ্ঞান (علم) ও আমল (عمل) উভয়ই প্রদান করে। আর এটিই সত্য এবং এই উম্মতের সালাফ ও ইমামগণ এর ওপরই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। কারণ মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিসসমূহ—লোকদের পরিভাষা অনুযায়ী—খুবই নগণ্য, আর সুন্নাহর অধিকাংশ বর্ণনাই হলো আহাদ (آحاد), এবং সে অনুযায়ী আমল করা সুনিশ্চিতভাবে ওয়াজিব" (২)। সমসাময়িক আলিমদের মধ্যে আল্লামা আহমদ শাকির এই মতটি পছন্দ করেছেন। তিনি 'আল-বা’ইমুল হাসিস' গ্রন্থে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে আলিমদের মতামত উল্লেখ করার পর বলেছেন: "সঠিক দলিলসমূহ যে সত্যকে প্রাধান্য দেয় তা হলো ইবনে হাজম ও তাঁর অনুসারীদের মত। তা হলো: সহিহ (صحيح) হাদিস সুনিশ্চিত জ্ঞান (علم قطعي) প্রদান করে, চাই তা সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ থাকুক বা অন্য কোনো গ্রন্থে। আর এই সুনিশ্চিত জ্ঞান হলো গবেষণালব্ধ প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান (علم نظري برهاني), যা কেবল হাদিসশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও ত্রুটিসমূহ (علل) সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষেই অর্জন করা সম্ভব
… আর এই গবেষণালব্ধ সুনিশ্চিত জ্ঞান সেই ব্যক্তির নিকট সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে, যে কোনো একটি শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেছে, যার মন সে শাস্ত্রের তত্ত্বগুলোর প্রতি নিশ্চিত হয়েছে এবং যার অন্তর তাতে প্রশান্তি লাভ করেছে
… " (৩)। ডক্টর সুবহি আস-সালিহ-ও তাঁর 'علوم الحديث' (উলুমুল হাদিস) গ্রন্থে এই মতটি ব্যক্ত করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: "ইবনে হাজমের মতটিই অনুসরণের জন্য অধিকতর যোগ্য; কারণ কেবল সহিহাইন-এর হাদিসগুলোর জন্য সুনিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেননা এই দুই কিতাব ছাড়া অন্য যেখানেই কোনো বর্ণনার সঠিকতা (صحة) প্রমাণিত হবে, তার ওপরও একই হুকুম আরোপ করা উচিত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১০)
فيها
… كما أنه لا معنى للقول بظنية حديث الآحاد بعد ثبوت صحته، لأنَّ ما اشْتُرط فيه لقبول صحته يُزيل كل معاني الظن ويستوجب وقوعَ العلم اليقيني به" (1) .
قلت: وهذا الحق الذي لا يعول على غيره، دل على ذلك الكتاب والسنة والإجماع. وسأذكر تفصيل ذلك بعد سرد المذاهب الأخرى.
المذهب الثاني: أنه يفيد العلم اليقيني إذا احتفت به قرائن.
وهذا مذهب عامة أهل الحديث وكثير من محققي الفقه والأصول والكلام من حنفية ومالكية وشافعية وحنابلة وغيرهم.
وقد ذكر الحافظ ابن حجر أنواع الخبر المحتف بالقرائن فقال في نزهة النظر: "والخبر المحتف بالقرائن أنواع: منها ما أخرجه الشيخان في صحيحيهما، مما لم يبلغ حد التواتر، فإنه احتفت به قرائن:
- منها جلالتهما في هذا الشأن.
- وتقدمهما في تمييز الصحيح على غيرهما.
- وتلقي العلماء كتابيهما بالقبول.
وهذا التلقي وحده أقوى في إفادة العلم من مجرد كثرة الطرق القاصرة عن التواتر، إلا أن هذا مختص بما لم ينتقده أحد من الحفاظ مما في الكتابين، وبما لم يقع التجاذب بين مدلوليه مما وقع في الكتابين حيث لا ترجيح، لاستحالة أن يفيد المتناقضان العلم بصدقهما من غير ترجيح لأحدهما على الآخر.
وماعدا ذلك فالإجماع حاصل على تسليم صحته
… وممن صرح بإفادة ما أخرجه الشيخان العلم النظري: الأستاذ أبو إسحاق الإسفراييني، ومن أئمة
--------------------------------------------
এর মধ্যে
… যেমনটি একক বর্ণনা (حديث الآحاد) এর বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণিত হওয়ার পর সেটিকে ধারণাপ্রসূত (ظنية) বলার কোনো অর্থ হয় না। কারণ, এর বিশুদ্ধতা (صحة) কবুলের জন্য যে শর্তাবলিারোপ করা হয়েছে, তা সকল প্রকার ধারণার অবকাশকে দূরীভূত করে এবং এর মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) অর্জিত হওয়াকে আবশ্যক করে।" (১) .
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটিই সেই ধ্রুব সত্য যার বাইরে অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করা যায় না; কুরআন, সুন্নাহ এবং সর্বসম্মত ঐক্য (الإجماع) এর পক্ষেই প্রমাণ পেশ করে। অন্যান্য মাযহাবসমূহ বর্ণনার পর আমি এর বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করব।
দ্বিতীয় মত: যদি পারিপার্শ্বিক আলামত (قرائن) বিদ্যমান থাকে, তবে তা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) প্রদান করে।
আর এটিই অধিকাংশ হাদিস বিশারদ এবং হানাফি, মালেকি, শাফেয়ী, হাম্বলি ও অন্যান্য মাযহাবের ফিকহ, উসুল এবং ইলমুল কালামের অনেক গবেষকের মত।
হাফেজ ইবনে হাজার পারিপার্শ্বিক আলামতযুক্ত সংবাদের (الخبر المحتف بالقرائن) প্রকারভেদ উল্লেখ করে নুজহাতুন নাযার গ্রন্থে বলেছেন: "পারিপার্শ্বিক আলামতযুক্ত সংবাদ (الخبر المحتف بالقرائن) কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে: তন্মধ্যে একটি হলো যা শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন, যা মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ে পৌঁছেনি। তবে এর সাথে কিছু পারিপার্শ্বিক আলামত (قرائن) যুক্ত হয়েছে:
- তার মধ্যে একটি হলো এই শাস্ত্রে তাদের (ইমাম বুখারি ও মুসলিমের) সুমহান মর্যাদা।
- অন্য সবার চেয়ে বিশুদ্ধ (الصحيح) হাদিসকে পৃথক করার ক্ষেত্রে তাদের অগ্রগামিতা।
- আলেম সমাজ কর্তৃক তাদের গ্রন্থদ্বয়কে গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করা।
এই গ্রহণযোগ্যতা একাই কেবল মুতাওয়াতির (تواتر) অপেক্ষা কম সংখ্যক সূত্রসমূহ (الطرق) এর আধিক্যের চেয়ে জ্ঞান লাভের ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী। তবে এটি কেবল সেই সব হাদিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা হাফেজগণের কেউ সমালোচনা করেননি এবং যেগুলোর অর্থের মধ্যে এমন কোনো বৈপরীত্য দেখা দেয়নি যার কোনো অগ্রাধিকারমূলক সমাধান (ترجيح) নেই। কারণ, কোনো একটিকে অন্যের ওপর অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদান করা ব্যতিরেকে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করা অসম্ভব।
এটি ছাড়া বাকিগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) মেনে নেওয়ার ব্যাপারে সর্বসম্মত ঐক্য (الإجماع) অর্জিত হয়েছে
… শায়খাইন যা বর্ণনা করেছেন তা তাত্ত্বিক জ্ঞান (العلم النظري) প্রদান করে—এ কথা যারা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনি এবং ইমামগণের মধ্য থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১১)
الحديث: أبو عبد الله الحميدي وأبو الفضل ابن طاهر وغيرهما".
قلت: ويضاف إلى ذلك أيضاً: وجود المستخرجات الكثيرة على هذين الكتابين، بحيث لا يوجد حديث فيه علة إلا وجاء في المستخرجات في كثير من الأحيان سليماً، مما يفيد تعدد طرق حديث الصحيحين ويزيدها قوة على قوة.
وقال الحافظ: "ومنها المشهور إذا كانت له طرق متباينة سالمة من ضعف الرواة والعلل، وممن صرح بإفادته العلم النظري الأستاذ أبو منصور البغدادي، والأستاذ أبو بكر بن فُوَرك وغيرهما.
ومنها: المسلسل بالأئمة الحفاظ المتقنين، حيث لا يكون غريباً؛ كالحديث الذي يرويه أحمد بن حنبل مثلاً ويشاركه فيه غيره عن الشافعي، ويشاركه فيه غيره عن مالك بن أنس، فإنه يفيد العلم عند سامعه بالاستدلال من جهة جلالة رواته، وأن فيهم من الصفات اللائقة الموجبة للقبول ما يقوم مقام العدد الكثير من غيرهم، ولا يتشكك من له أدنى ممارسة بالعلم وأخبار الناس أن مالكاً مثلاً لو شافهه بخبر أنه صادق فيه، فإذا انضاف إليه من هو في تلك الدرجة ازداد قوة وبَعُدَ عما يُخشى عليه من السهو" (1) .
وقال ابن كثير في مختصر علوم الحديث: "وقفت بعد هذا على كلام لشيخنا العلامة ابن تيمية مضمونه: أنه نقل القطع بالحديث الذي تلقته الأمة بالقبول عن جماعات من الأئمة؛ منهم القاضي عبد الوهاب المالكي، والشيخ أبو حامد الإسفراييني، والقاضي أبو الطيب الطبري، والشيخ أبو إسحاق الشيرازي من الشافعية، وابن حامد وأبو يعلى بن الفراء وأبو الخطاب وابن
--------------------------------------------
হাদিস: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদি এবং আবু আল-ফজল ইবনে তাহের ও অন্যান্য।
আমি বলি: এর সাথে আরও যুক্ত করা যায় যে, এই কিতাবদ্বয়ের ওপর অসংখ্য মুস্তাখরাজ গ্রন্থ বিদ্যমান। ফলে এমন কোনো হাদিস পাওয়া যায় না যাতে কোনো ত্রুটি (علة) রয়েছে, কিন্তু মুস্তাখরাজ গ্রন্থগুলোতে প্রায়শই তা ত্রুটিমুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। যা সহিহাইন-এর হাদিসসমূহের বহুবিধ সূত্র (طرق)-এর ফায়দা দেয় এবং এর শক্তিকে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করে।
হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন: "আর এর মধ্যে রয়েছে মশহুর (المشهور) হাদিস, যখন এর এমন বহুবিধ সূত্র (طرق) থাকে যা বর্ণনাকারীদের (الرواة) দুর্বলতা (ضعف) এবং ত্রুটি (العلل) থেকে মুক্ত থাকে। যারা এই প্রকারের হাদিস তাত্ত্বিক জ্ঞান (العلم النظري) প্রদানের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন উস্তাদ আবু মনসুর আল-বাগদাদি, উস্তাদ আবু বকর ইবনে ফুরাক এবং অন্যান্য।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: মুসালসাল (المسلسل) পর্যায়ের হাদিস যা হাফিজ (الحفاظ) ও দক্ষ (المتقنين) ইমামগণের মাধ্যমে বর্ণিত, যেখানে তা একক (غريباً) নয়; যেমন কোনো হাদিস ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেন এবং তার সাথে অন্যরাও ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনায় শরিক হন, আবার শাফিঈ থেকে বর্ণনায় অন্যরাও ইমাম মালিক ইবনে আনাস থেকে শরিক হন। এ ধরনের হাদিস শ্রবণকারীর নিকট বর্ণনাকারীদের (الرواة) উচ্চ মর্যাদার কারণে দালিলিক জ্ঞানের ফায়দা দেয়। কেননা তাদের মধ্যে এমন সব যোগ্য গুণাবলি বিদ্যমান যা কবুল করার দাবি রাখে এবং অন্যের তুলনায় বর্ণনাকারীর অধিক সংখ্যার স্থলাভিষিক্ত হয়। ইলম এবং লোকজনের সংবাদ সম্পর্কে যার সামান্যতম অভিজ্ঞতা আছে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করবে না যে, ইমাম মালিক যদি তাকে সরাসরি কোনো সংবাদ দেন তবে তিনি তাতে সত্যবাদী। আর যখন তার সাথে সমপর্যায়ের অন্য কেউ যুক্ত হন, তখন তা আরও শক্তিশালী হয় এবং ভুল-ভ্রান্তির (السهو) আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়ে যায়।" (১)।
ইবনে কাসির মুখতাসার উলুমুল হাদিস গ্রন্থে বলেন: "এরপর আমি আমাদের শাইখ আল্লামা ইবনে তায়মিয়াহ-এর একটি বক্তব্যের ব্যাপারে অবগত হয়েছি যার সারমর্ম হলো: তিনি উম্মাহ কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হাদিসের অকাট্যতার বিষয়টি একদল ইমামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাদের মধ্যে রয়েছেন মালিকি মাযহাবের কাজি আব্দুল ওয়াহহাব, শাফিঈ মাযহাবের শেখ আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনি, কাজি আবু তৈয়ব আত-তবারি এবং শেখ আবু ইসহাক আল-শিরাজি। আরও রয়েছেন ইবনে হামিদ, আবু ইয়ালা ইবনুল ফারা, আবুল খাত্তাব এবং ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১২)
الزاغوني وأمثالهم من الحنابلة، وشمس الأئمة السَّرخسي من الحنفية، قال: وهو قول أكثر أهل الكلام من الأشعرية وغيرهم؛ كأبي إسحاق الإسفراييني وابن فُوَرك، قال: وهو مذهب أهل الحديث قاطبة ومذهب السلف عامة" (1) .
وقال ابن تيمية: "ومن الحديث الصحيح ما تلقاه المسلمون بالقبول، فعملوا به
… فهذا يفيد العلم، ويجزم بأنه صدق؛ لأن الأمة تلقته بالقبول تصديقاً وعملاً بموجبه، والأمة لا تجتمع على ضلالة؛ فلو كان في نفس الأمر كذباً لكانت الأمة قد اتفقت على تصديق الكذب والعمل به وهذا لا يجوز عليها".
ثم قال: "ومن الصحيح ما تلقاه بالقبول والتصديق أهل العلم بالحديث كجمهور أحاديث البخاري ومسلم؛ فإن جميع أهل العلم بالحديث يجزمون بصحة جمهور أحاديث الكتابين، وسائر الناس تبع لهم في معرفة الحديث
… " (2) .
وقال الإمام الصنعاني: "قد عُلم أن خبر الواحد يفيد الظن، فإذا حفته القرائن أفاد العلم كما قال الحافظ في النخبة وشرحها: وقد يقع فيها - أي أخبار الآحاد المنقسمة إلى مشهور وعزيز وغريب، وهي أقسام الآحاد - ما يفيد العلم النظري بالقرائن على المختار" (3) .
المذهب الثالث: أن خبر الواحد الثقة يفيد الظن ولا يفيد العلم، ولا فرق
--------------------------------------------
আয-যাগুনি এবং হাম্বলিগণের মধ্যে তাঁদের সমমনাগণ, এবং হানাফিগণের মধ্য থেকে শামসুল আইম্মাহ আস-সারাকসি; তিনি বলেন: আর এটি আশআরিয়া ও অন্যদের মধ্য থেকে অধিকাংশ ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের অভিমত; যেমন আবু ইসহাক আল-ইসফরাইনি এবং ইবনে ফুওয়াক। তিনি বলেন: এটি সকল হাদিস বিশারদদের ঐক্যবদ্ধ পথ এবং সাধারণভাবে সালাফদের মাযহাব।" (১)।
ইবনে তাইমিয়া বলেন: "সহিহ (صحيح) হাদিসের মধ্যে এমন কিছু আছে যা মুসলিমগণ কবুল করে নিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছেন
… সুতরাং এটি নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে এবং এটি যে সত্য তা দৃঢ়ভাবে বলা যায়; কারণ উম্মত সত্যয়ন এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে একে কবুল করে নিয়েছে। আর উম্মত কখনো পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় না; সুতরাং বিষয়টি যদি বাস্তবে মিথ্যা হতো, তবে উম্মত মিথ্যার সত্যয়ন ও সে অনুযায়ী আমল করার ওপর একমত হতো, যা তাদের ক্ষেত্রে অসম্ভব।"
অতঃপর তিনি বলেন: "আর সহিহ (صحيح) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু রয়েছে যা হাদিস শাস্ত্রের বিজ্ঞজনগণ গ্রহণ ও সত্যয়ন করার মাধ্যমে কবুল করেছেন, যেমন বুখারি ও মুসলিমের অধিকাংশ হাদিস; কেননা হাদিস শাস্ত্রের সকল বিজ্ঞজন এই কিতাবদ্বয়ের অধিকাংশ হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে নিশ্চিত মত পোষণ করেন এবং হাদিস চেনার ক্ষেত্রে অন্যান্য মানুষ তাদের অনুসারী
… " (২)।
ইমাম আস-সানআনি বলেন: "এটি বিদিত যে, একাকী বর্ণনা বা খবরুল ওয়াহিদ (خبر الواحد) ধারণা (الظن) প্রদান করে। তবে যখন এর সাথে বিভিন্ন আলামত যুক্ত হয়, তখন তা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে, যেমন হাফিজ (ইবনে হাজার) নুখবাহ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: এতে এমন কিছু থাকতে পারে—অর্থাৎ খবরে ওয়াহিদ (أخبار الآحاد) যা প্রসিদ্ধ বা মাশহুর (مشهور), আজিজ (عزيز) এবং বিরল বা গারিব (غريب) এ বিভক্ত এবং এগুলো হলো আহাদ (الآحاد) এর প্রকারভেদ—যা পছন্দসই মতানুযায়ী আলামতসমূহের মাধ্যমে তাত্ত্বিক জ্ঞান (العلم النظري) প্রদান করে।" (৩)।
তৃতীয় মত: নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর খবরে ওয়াহিদ (خبر الواحد) ধারণা (الظن) প্রদান করে এবং নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে না, আর এতে কোনো পার্থক্য নেই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بين البخاري ومسلم وغيرهما في ذلك، ولكنه حُجة من حُجج الشرع يلزم العمل به سواء أكان في العقائد أم غيرها. وممن قال بهذا المذهب الإمام ابن عبد البر القرطبي، فهو يقول عن حديث الآحاد: "إنه يوجب العمل دون العلم" (1) .
وقال في أول كتاب التمهيد ما نصه: "أجمع أهل العلم من أهل الفقه والأثر في جميع الأمصار - فيما علمت - على قبول خبر الواحد العدل وإيجاب العمل به، إذا ثبت ولم ينسخه غيره من أثر أو إجماع، على هذا جميع الفقهاء في كل عصر من لدن الصحابة إلى يومنا هذا، إلا الخوارج وطوائف من أهل البدع شرذمة لا تعد خلافاً. وقد أجمع المسلمون على جواز قبول الواحد السائل المستفتي لما يخبره به العالم الواحد إذا استفتاه فيما لا يعلمه، وقبول خبر الواحد العدل فيما يخبر به مثله" (2) وقد أفرد أبو عمر بن عبد البر لهذه المسألة كتاباً مستقلاً سماه "الشواهد في إثبات خبر الواحد" ذكره في مقدمة التمهيد.
ومن القائلين بهذا المذهب أيضاً: النووي ووافقه الإمام العز بن عبد السلام، فقال النووي في كتاب التقريب: "وذكر الشيخ تقي الدين - يعني ابن الصلاح – أن ما روياه - يعني في الصحيحين - أو أحدهما فهو مقطوع بصحته والعلم القطعي حاصل فيه، وخالفه المحققون والأكثرون فقالوا: يفيد الظن ما لم يتواتر" (3) .
وممن قال بهذا الرأي أيضاً: الإمام أبو السعادات ابن الأثير في مقدمة
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে বুখারি, মুসলিম এবং অন্যদের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে, কিন্তু এটি শরিয়তের দলিলসমূহের (حجج) মধ্যে একটি দলিল (حجة) যার ওপর আমল করা আবশ্যক, চাই তা আকিদা (العقائد) সংক্রান্ত বিষয় হোক কিংবা অন্য কিছু। যারা এই মত (مذهب) পোষণ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম ইবনুল বার আল-কুরতুবি। তিনি আহাদ হাদিস (الآحاد) সম্পর্কে বলেন: "এটি আমল করাকে আবশ্যক করে কিন্তু নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে না" (১)।
তিনি আল-তামহিদ গ্রন্থের শুরুতে উল্লেখ করেছেন: "আমার জানামতে সকল অঞ্চলের ফিকহ (الفقه) ও হাদিসশাস্ত্রের (الأثر) পণ্ডিতগণ একক ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীর সংবাদ (خبر الواحد العدل) গ্রহণ করা এবং তার ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন; যখন তা সাব্যস্ত হয় এবং অন্য কোনো হাদিস (أثر) বা ইজমা (إجماع) দ্বারা রহিত (نسخ) না হয়। সাহাবীগণের (الصحابة) যুগ থেকে আজ পর্যন্ত সকল ফকিহ এই মতের ওপর রয়েছেন, কেবল খারেজি (الخوارج) এবং বিদআতিদের (أهل البدع) কিছু ক্ষুদ্র দল ব্যতীত, যাদের মতভেদ ধর্তব্য নয়। আর মুসলিমগণ কোনো ফতোয়া প্রার্থী ব্যক্তির জন্য একজন আলেমের সংবাদ গ্রহণ করার বৈধতার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যখন সে এমন বিষয়ে ফতোয়া চায় যা সে জানে না; ঠিক তেমনি একক ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীর সংবাদ (خبر الواحد العدل) গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও যখন সে তার মতো কারো কাছে সংবাদ দেয়।" (২) আবু উমর ইবনুল বার এই মাসআলাটির জন্য একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম 'আশ-শাওয়াহিদ ফি ইসবাত খাবারি ওয়াহিদ'; যা তিনি আল-তামহিদের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন।
এই মত (مذهب) পোষণকারীদের মধ্যে ইমাম নববিও রয়েছেন এবং ইমাম ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। নববি আল-তাকরিব গ্রন্থে বলেন: "শাইখ তাকিউদ্দীন—অর্থাৎ ইবনে সালাহ—উল্লেখ করেছেন যে, তারা দুজন (অর্থাৎ বুখারি ও মুসলিম) যা বর্ণনা করেছেন অথবা তাদের কেউ একজন যা বর্ণনা করেছেন, তা নিশ্চিতভাবে বিশুদ্ধ (مقطوع بصحته) এবং এর মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান (العلم القطعي) অর্জিত হয়। তবে গবেষক আলেমগণ (المحققون) এবং অধিকাংশ পণ্ডিত তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: মুতাওয়াতির (متواتر) না হওয়া পর্যন্ত তা প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে।" (৩)।
এই মতটি পোষণকারীদের মধ্যে আরও রয়েছেন: ইমাম আবুস সাআদাত ইবনুল আসির, তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
"جامع الأصول"، حيث قال: "وخبر الواحد لا يفيد العلم، ولكنا مُتَعبدون به" (1) .
وقد استدل أصحاب هذا الرأي بجواز الخطأ والنسيان على الثقة عقلاً، ومع هذا الجواز العقلي لا يمكن ادعاء القطع، وتلقي الأمة الحديث بالقبول إنما أفاد وجوب العمل به.
قلت: أرى الخلاف بين هؤلاء وبين الذين يقولون إنها تفيد العلم خلافاً نظرياً ليس له أثر في الواقع، فالجميع يوجبون العمل بخبر الواحد إذا توافرت فيه شروط القبول.
هذا، وإننا لا نقول باستحالة الخطأ على جميع النقلة ولا بعصمتهم من تعمد الكذب، ولكننا نقول بالجزم والتصديق عند ظهور علامات تؤيد ذلك، ويقول الإمام ابن القيم: "إن الراوي إذا كذب أو غلط أو سها فلابد أن يقوم دليل على ذلك، ولابد أن يكون في الأمة من يعرف كذبه وغلطه ليتم حفظه لحججه وأدلته، ولا تلتبس بما ليس منها" (2) .
وينبغي أن نشير إلى أنه لا يمكن أن يكلف الله عز وجل بأمر - ولم يثبت هذا التكليف من طريق التواتر - ثم يعمل المسلم ذلك التكليف وهو يعتقد أن هذا الذي يفعله أمر ظني أو احتمالي والعلم بصحته غير واجب شرعاً، وقد سُئل الإمام أحمد عن إنسان يقول: إن الخبر يوجب عملاً ولا يوجب علماً، فعاب ذلك وقال: ما أدري ما هو؟! (3) .
--------------------------------------------
'জামি আল-উসুল', যেখানে তিনি বলেছেন: "এককের বর্ণনা (خبر الواحد) নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে না, তবে আমরা এর বিধান পালনে আদিষ্ট (متعبدون به)।" (১)
এই মতের অনুসারীরা যুক্তির নিরিখে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রেও ভুল ও বিস্মৃতির সম্ভাবনাকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। আর এই যুক্তিনির্ভর সম্ভাবনার কারণে নিশ্চিত হওয়ার (القطع) দাবি করা সম্ভব নয়; বরং উম্মাহর পক্ষ থেকে কোনো হাদিস গ্রহণ করে নেওয়ার অর্থ হলো তার ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়া।
আমি বলি: যারা বলেন যে এটি নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে এবং যারা ভিন্নমত পোষণ করেন, তাদের মধ্যকার এই মতপার্থক্যকে আমি একটি তাত্ত্বিক বিষয় হিসেবে দেখি, বাস্তবে যার কোনো প্রভাব নেই। কারণ, যখন গ্রহণের শর্তাবলি (شروط القبول) পূরণ হয়, তখন সকলেই এককের বর্ণনা (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করাকে আবশ্যক মনে করেন।
আমরা এটি বলছি না যে সকল বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে ভুল হওয়া অসম্ভব কিংবা তারা ইচ্ছা করে মিথ্যা বলা থেকে নিষ্পাপ, তবে আমরা তখনই দৃঢ়তা ও বিশ্বাসের কথা বলি যখন এর সপক্ষে লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "বর্ণনাকারী (الراوي) যদি মিথ্যা বলে, ভুল করে অথবা উদাসীন হয়, তবে অবশ্যই তার স্বপক্ষে কোনো না কোনো প্রমাণ বিদ্যমান থাকবে। আর উম্মাহর মধ্যে অবশ্যই এমন কেউ থাকবেন যিনি তার মিথ্যা ও ভুল শনাক্ত করতে পারবেন, যাতে করে তাঁর (আল্লাহর) হুজ্জত ও দলিলসমূহ সংরক্ষিত থাকে এবং দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কিছু যেন এর সাথে মিশে না যায়।" (২)
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আল্লাহ তাআলা কোনো বিষয়ে দায়িত্ব প্রদান করবেন—অথচ সেই দায়িত্ব মুতাওয়াতির (التواتر) পদ্ধতিতে প্রমাণিত নয়—আর একজন মুসলিম সেই দায়িত্ব পালন করার সময় বিশ্বাস করবে যে, সে যা করছে তা একটি ধারণাপ্রসূত (ظني) বা সম্ভাব্য বিষয় এবং এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জন করা শরীয়ত অনুযায়ী আবশ্যক নয়—এমনটি হতে পারে না। ইমাম আহমাদকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে বলে: "হাদিস আমল করা ওয়াজিব করে কিন্তু নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না।" তিনি এই উক্তির সমালোচনা করেন এবং বলেন: "আমি জানি না এটি আবার কী?!" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المذهب الرابع: أن خبر الآحاد يفيد الظن، ولذلك لا يصح الاعتماد عليه في العقيدة وفي الغيبيات، أما ما سوى ذلك في الأحكام العملية وغيرها فإنه يجب العمل به، وممن قال بهذا المذهب: بعض علماء الكلام، وقال به جمع من المتأخرين والمعاصرين، منهم الشيخ عبد الوهاب النجار؛ فقد قال في كتاب قصص الأنبياء مانصه: "الخبر إذا كان رواته آحادا فلا يصلح أن يكون دليلاً على ثبوت الأمور الاعتقادية الغرض منها القطع، والخبر الظني الثبوت أو الدلالة لا يفيد القطع" (1) .
ومنهم أيضاً: الشيخ محمود شلتوت، فقد قال في الفتاوى - بعد أن ذكر وفاة سيدنا عيسى عليه الصلاة والسلام وأنه لا يَنْزل في آخر الزمان - ما نصه: "وإذا صح هذا الحديث – يعني حديث أبي هريرة في نزول عيسى – فهو حديث آحاد، وقد أجمع العلماء على أن أحاديث الآحاد لا تفيد عقيدة، ولا يصح الاعتماد عليها في شأن المغيَّبات" (2) .
ويستدل هؤلاء على هذا القول بأن العقائد قطعية فلا يجوز أن يحتج عليها إلا بقطعي، وقد نهى الله عز وجل عن اتباع الظن فى العقائد فقال
--------------------------------------------
চতুর্থ অভিমত: একক বর্ণনা (خبر الآحاد) প্রবল ধারণা (ظن) প্রদান করে, আর এই কারণে আকিদা ও অদৃশ্য (غیبيات) বিষয়াবলির ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করা সঠিক নয়। তবে আমলগত বিধান ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এর ওপর আমল করা ওয়াজিব। যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের মধ্যে ইলমে কালাম শাস্ত্রের কতিপয় আলেম এবং পরবর্তী ও সমসাময়িক একদল আলেম রয়েছেন। তাদের মধ্যে শায়খ আব্দুল ওয়াহাব আল-নাজ্জার অন্যতম; তিনি তাঁর কাসাসুল আম্বিয়া গ্রন্থে লিখেছেন: "বর্ণনাকারীগণ যদি একক (آحاد) হন, তবে তা আকিদাগত বিষয় প্রমাণের দলিল হওয়ার যোগ্য নয় যার উদ্দেশ্য হলো অকাট্যতা (قطع)। আর যে বর্ণনা সূত্রগত বা অর্থগতভাবে ধারণাপ্রসূত (ظني), তা অকাট্য জ্ঞান (قطع) প্রদান করে না" (১)।
তাদের মধ্যে শায়খ মাহমুদ শালতুতও রয়েছেন। তিনি আল-ফাতাওয়া গ্রন্থে আমাদের নেতা ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের মৃত্যু এবং শেষ যামানায় তাঁর অবতরণ না করার বিষয়টি উল্লেখ করার পর বলেন: "যদি এই হাদিসটি—অর্থাৎ ঈসা (আ.)-এর অবতরণ সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসটি—সহিহ (صحيح) হয়, তবে সেটি একটি একক বর্ণনা (آحاد) সম্বলিত হাদিস। আর ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, একক বর্ণনা (آحاد) আকিদার ক্ষেত্রে কোনো অকাট্য বিশ্বাস প্রদান করে না এবং অদৃশ্য বিষয়াবলির ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করা সঠিক নয়" (২)।
তারা এই বক্তব্যের সপক্ষে এই দলিল পেশ করেন যে, আকিদাগত বিষয়গুলো অকাট্য (قطعي), তাই অকাট্য (قطعي) প্রমাণ ছাড়া এর সপক্ষে দলিল পেশ করা বৈধ নয়। আর মহান আল্লাহ আকিদার ক্ষেত্রে ধারণার (ظن) অনুসরণ করতে নিষেধ করে বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
تعالى: {إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاء سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنفُسُ وَلَقَدْ جَاءهُم مِّن رَّبِّهِمُ الْهُدَى} [النجم: 23] .
وقال تعالى: {وَمَا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا} [النجم: 28] .
وقال عز وجل: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُواْ بِاللهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَن تَقُولُواْ عَلَى اللهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [الأعراف:33] .
وقولهم هذا ضعيف؛ لأن كل ما ورد عن الرسول صلى الله عليه وسلم فهو واجب التصديق واجب الاتباع خبراً كان أو إنشاء، عقيدة كان أو غير عقيدة، للنصوص الكثيرة التي ذكرنا بعضها فيما سبق والتي تأمر بطاعة الرسول مطلقاً من غير تقييد، وأما الآيات الناهية عن اتباع الظن فإنها تعني الظن المذموم الذي لا يقوم عليه دليل وليس له أسس ثابتة، بل هو قائم على الهوى والغرض المخالف للشرع، مثل إثبات الألوهية لغير الله عز وجل كما هو الحال فى ظن المشركين فى معبوداتهم، وهذا الظن يختلف تماماً عن الظن المنسوب إلى أحاديث الآحاد فهو ظن راجح ملحق بالقطعي فى وجوب الاعتقاد والعمل به، فلا ارتباط بينه وبين النوع الأول من الظن المشار إليه بالنسبة لمعتقدات المشركين، "فإطلاق كلمة الظن على أحاديث الآحاد - وهي في حقيقتها أكثر السنة النبوية - وربطها بالمعنى الوارد عند بعضهم
মহান আল্লাহ বলেন: {এগুলো তো কেবল কতক নাম যা তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা রেখেছো, যেগুলোর স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। তারা তো কেবল ধারণা (الظن) ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে, অথচ তাদের নিকট তাদের রবের পক্ষ থেকে হেদায়াত এসেছে।} [আন-নাজম: ২৩] ।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, তারা কেবল ধারণা (الظن)-এর অনুসরণ করে; আর সত্যের বিপরীতে ধারণা (الظن) কোনো কাজে আসে না।} [আন-নাজম: ২৮] ।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {বলুন, আমার রব তো হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, আর পাপ ও অন্যায় বিদ্রোহ; আর আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না।} [আল-আরাফ: ৩৩] ।
আর তাদের এই বক্তব্যটি দুর্বল (ضعيف); কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং অনুসরণ করা আবশ্যক (ওয়াজিব), তা সংবাদ হোক বা বিধান, আকিদা সংক্রান্ত হোক বা আকিদা বহির্ভূত হোক। এটি সেই অসংখ্য দলিলাদির কারণে যার কিছু আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি এবং যা কোনো শর্ত ছাড়াই নিঃশর্তভাবে রাসূলের আনুগত্য করার নির্দেশ দেয়। আর ধারণার (الظن) অনুসরণে নিষেধকারী আয়াতসমূহ দ্বারা মূলত সেই নিন্দনীয় ধারণা (الظن) বুঝানো হয়েছে যার স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই এবং যার কোনো সুদৃঢ় ভিত্তি নেই। বরং তা প্রবৃত্তি ও শরয়ি বিধান পরিপন্থী উদ্দেশ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ব্যতীত অন্য কারো জন্য উপাস্য হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করা, যেমনটি মুশরিকদের তাদের উপাস্যদের সম্পর্কে ধারণার (الظن) ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়। আর এই ধারণাটি একক বর্ণনার (آحاد) হাদিসসমূহের সাথে সম্পৃক্ত ধারণার (الظن) চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ এটি হলো প্রবল (راجح) ধারণা (الظن), যা বিশ্বাস পোষণ এবং আমল করার আবশ্যকতার ক্ষেত্রে নিশ্চিত (قطعي) বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং মুশরিকদের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ইঙ্গিতকৃত প্রথম প্রকারের ধারণার (الظن) সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। "সুতরাং একক বর্ণনার (آحاد) হাদিসসমূহের ওপর—যা মূলত সুন্নাহর অধিকাংশ অংশ জুড়ে রয়েছে—'ধারণা (الظن)' শব্দের প্রয়োগ করা এবং কারো কারো নিকট বর্ণিত অর্থের সাথে একে সম্পৃক্ত করা..."
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فى عبارة: إن الأئمة قاطبة يرون أن أحاديث الآحاد لا تفيد إلا الظن، وأن الظن لايغني عن الحق شيئاً، خطأ مبين؛ حيث أورد للظن معنى واحداً حصره فى المفهوم الذي اتبعه المشركون فى مواجهة حقائق القرآن الكريم" (1) .
وقد ألف العلامة المحدث الشيخ ناصر الدين الألباني رحمه الله تعالى كتاباً سماه "وجوب الأخذ بأحاديث الآحاد في العقيدة والأحكام" وذكر عشرين وجهاً تدل على وجوب الأخذ بأحاديث الآحاد في العقيدة وغيرها، ورد على هذا المذهب القائل بأنه لا يُحتجُّ بهذه الآحاد فى العقيدة لأنها لا تفيد اليقين، وذكر أن القول بأن أحاديث الآحاد لا يؤخذ بها في العقيدة قول مبتدع محدث لا أصل له فى الشريعة، ولم يقل به أحد من الصحابة وسلف هذه الأمة، ومن المعلوم أن كُلَّ أمر مُبتَدع في أمر من أمور الدين باطل مردود، كما أن هذا القول يستلزم رد مئات الأحاديث الصحيحة الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم لمجرد كونها في العقيدة، وقال أيضاً: "إن التفريق بين العقيدة والأحكام العملية، وإيجاب الأخذ بحديث الآحاد في هذه دون تلك إنما بُني على أساس أن العقيدة لا يقترن معها عمل، والأحكام العملية لا يقترن معها عقيدة، وكلا الأمرين باطل". ثم قال: "ومما يوضح لك أنه لابد من اقتران العقيدة في العمليات أيضاً أو الأحكام: أنه لو افترض أن رجلاً يغتسل أو يتوضأ للنظافة أو يصلي مرتبطاً، أو يصوم تطبباً، أو يحج سياحة، لا يفعل ذلك معتقداً أن الله تبارك وتعالى أوجبه عليه وتعبده به لما أفاده شيئاً، كما لا يفيده
--------------------------------------------
এই বক্তব্যে এক স্পষ্ট ভুল রয়েছে যে: "ইমামগণের সকলেই মনে করেন যে, একক সূত্রে বর্ণিত হাদিসসমূহ (أحاديث الآحاد) কেবল প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে এবং প্রবল ধারণা (الظن) সত্যের মোকাবিলায় কোনো কাজে আসে না।" (১)
প্রখ্যাত আলেম ও মুহাদ্দিস শায়খ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) ‘উজুবুল আখযি বি আহাদিসিল আহাদ ফিল আকিদতি ওয়াল আহকাম’ নামক একটি কিতাব রচনা করেছেন এবং সেখানে আকিদা ও অন্যান্য বিষয়ে একক সূত্রে বর্ণিত হাদিসসমূহ (أحاديث الآحاد) গ্রহণ করার আবশ্যকতা প্রমাণে বিশটি দিক উল্লেখ করেছেন। তিনি সেই মতবাদের খণ্ডন করেছেন যা দাবি করে যে, আকিদার ক্ষেত্রে এই একক সূত্রীয় (الآحاد) বর্ণনাগুলো দলিল (يُحتجُّ) হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ তা নিশ্চিত জ্ঞান (اليقين) প্রদান করে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আকিদার ক্ষেত্রে একক সূত্রে বর্ণিত হাদিস (أحاديث الآحاد) গ্রহণ না করার মতবাদটি একটি নব-উদ্ভাবিত (مبتدع محدث) বিষয় যার শরিয়তে কোনো ভিত্তি নেই এবং সাহাবায়ে কেরাম ও এই উম্মতের পূর্বসূরিদের (সালাফ) মধ্য থেকে কেউ এ কথা বলেননি। আর এটি সুপরিচিত যে, দ্বীনের বিষয়ে প্রতিটি নব-আবিষ্কৃত বিষয়ই বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত (مردود)। তদুপরি, এই বক্তব্যটি নবি কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত শত শত সহিহ (صحيحة) ও প্রমাণিত হাদিসকে কেবল আকিদা সংক্রান্ত হওয়ার অজুহাতে বর্জন করার পথ প্রশস্ত করে। তিনি আরও বলেছেন: "আকিদা ও আমলি বিধানের (আহকাম) মধ্যে পার্থক্য করা এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে একক সূত্রে বর্ণিত হাদিস (حديث الآحاد) গ্রহণ করা আবশ্যকীয় মনে করে প্রথম ক্ষেত্রে তা বর্জন করা—এমন এক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যেখানে মনে করা হয় যে আকিদার সাথে আমলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং আমলি বিধানের সাথে আকিদার কোনো সম্পর্ক নেই; অথচ উভয় ধারণাই অসার।" অতঃপর তিনি বলেন: "ব্যবহারিক বিষয় বা বিধানসমূহের ক্ষেত্রেও আকিদার সংশ্লিষ্টতা যে অপরিহার্য, তা তোমার নিকট এটি দিয়ে স্পষ্ট হবে যে: যদি ধরে নেওয়া হয় কোনো ব্যক্তি কেবল পরিচ্ছন্নতার জন্য গোসল বা অজু করে, কিংবা লৌকিকতার জন্য নামাজ পড়ে, অথবা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রোজা রাখে, কিংবা নিছক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে হজ সম্পাদন করে—সে এই কাজগুলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তার ওপর আবশ্যক করেছেন এবং এটি তাঁর ইবাদত এমন বিশ্বাস (معتقداً) পোষণ না করে সম্পাদন করে, তবে তা তাকে কোনো উপকার দেবে না, যেমন তার উপকারে আসবে না..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
معرفة القلب إذا لم تقترن بعمل القلب الذي هو التصديق. فإذن كل حكم شرعي عملي يقترن به عقيدة ولابد ترجع إلى الإيمان بأمر غيبي لا يعلمه إلا الله تعالى، ولولا أنه أُخبرنا به في سنة نبيه صلى الله عليه وسلم لما وجب التصديق والعمل به".
ومما قاله أيضاً: "إن قولهم يستلزم تعطيل العمل بحديث الآحاد في الأحكام العملية أيضاً، وهذا باطل لايقولون هم أيضاً به، وما لزم منه باطل فهو باطل، وبيانه: أن كثيراً من الأحاديث العملية تتضمن أموراً اعتقادية، فهذا رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لنا: إذا جلس أحدكم فى التشهد الأخير فليستعذ بالله من أربع: يقول: اللهم إني أعوذ بك من عذاب القبر، ومن عذاب جهنم، ومن فتنة المحيا والممات، ومن فتنة المسيح الدجال. رواه الشيخان
… " إلى آخر كلامه.
المذهب الخامس: وهو مذهب الخوارج والمعتزلة، وهؤلاء لا يحتجون بأحاديث الآحاد لا في العقائد ولا في الأحكام.
وحجة هؤلاء هي نفس حجة المذهب السابق الذكر، أي أن هذه الأحاديث لا تفيد إلا الظن ولا تفيد علماً مقطوعاً به لما فيها من احتمال الخطأ والوهم والكذب.
قلت: وهذا القول باطل؛ لأن من لوازمه الاقتصار على ما جاء في القرآن الكريم، وعلى الأحاديث المتواترة، والتي لا يصل عددها إلى مائتي حديث. وكأن هؤلاء هم الذين عناهم الرسول صلى الله عليه وسلم فيما صح عنه من حديث المقدام ابن معد يكرب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "ألا هل عسى رجل يبلُغُهُ الحديث عنّي، وهو متكئ على أريكته، فيقول: بيننا وبينكم كتابُ الله،
"অন্তরের জ্ঞান যদি অন্তরের আমল তথা তাসদিক (التصديق)-এর সাথে সম্পৃক্ত না হয় (তবে তা যথেষ্ট নয়)। সুতরাং প্রতিটি ব্যবহারিক শরয়ি বিধানের সাথে একটি আকিদাহ বা বিশ্বাস জড়িত থাকে এবং অবশ্যই তা এমন এক অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি ঈমানের দিকে ফিরে যায় যা মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানেন না। যদি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর মাধ্যমে আমাদের এ সম্পর্কে জানানো না হতো, তবে তা বিশ্বাস করা ও তদনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হতো না।"
তিনি আরও বলেছেন: "তাদের এই বক্তব্য ব্যবহারিক বিধানের ক্ষেত্রেও একক সূত্র বর্ণিত হাদিস (آحاد) অনুযায়ী আমল করা পরিত্যাগ করাকে আবশ্যক করে তোলে, যা বাতিল। এমনকি তারা নিজেরাও এই মত পোষণ করে না। আর যা থেকে কোনো বাতিল বিষয় জন্ম নেয়, তাও বাতিল। এর ব্যাখ্যা হলো: অনেক ব্যবহারিক হাদিসই বিশ্বাসগত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করে। এই যে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বলছেন: যখন তোমাদের কেউ শেষ তাশাহহুদে বসবে, তখন সে যেন চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে; সে বলবে: 'হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আজাব থেকে, জাহান্নামের আজাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসিহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।' এটি শাইখাইন বর্ণনা করেছেন
… " তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।
পঞ্চম মতবাদ: এটি খাওয়ারিজ ও মুতাজিলাদের মত। তারা আকিদাহ কিংবা আহকাম—কোনো ক্ষেত্রেই একক সূত্র বর্ণিত হাদিস (آحاد) দ্বারা দলিল পেশ করে না।
তাদের যুক্তি হলো পূর্বোল্লিখিত মতবাদের যুক্তির মতোই; অর্থাৎ এই হাদিসগুলো কেবল ধারণা (الظن) প্রদান করে, এগুলো দ্বারা কোনো অকাট্য জ্ঞান অর্জিত হয় না। কারণ এতে ভুল, বিভ্রম ও মিথ্যার সম্ভাবনা রয়েছে।
আমি বলি: এই বক্তব্য বাতিল; কেননা এর অনিবার্য পরিণতি হলো কেবল পবিত্র কুরআন এবং মুতাওয়াতির হাদিস (المتواترة)-এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা, যেগুলোর সংখ্যা দুইশ পর্যন্ত পৌঁছায় না। মনে হয় যেন এরাই তারা, যাদের উদ্দেশ্য করে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই হাদিসে বলেছেন যা মিকদাম ইবনে মা’দি কারিব (রা.) থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "সাবধান! অচিরেই এমন এক ব্যক্তির দেখা মিলতে পারে যার কাছে আমার কোনো হাদিস পৌঁছাবে, অথচ সে তার আসনে হেলান দিয়ে বসে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট,
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فما وجدنا فيه حلالاً استحللْناهُ، وما وجدنا فيه حراماً حرَّمناه، وإن ماحرم رسول الله كما حرم الله" (1) وقال الإمام القرطبي في تفسيره: "وقد أنكرت جماعة من المبتدعة تعبد الله بالظن وجواز العمل به؛ تحكُّماً فى الدين ودعوى في المعقول، وليس فى ذلك أصل يعوَّل عليه
… " (2) .
--------------------------------------------
“সুতরাং আমরা তাতে (কুরআনে) যা হালাল পেয়েছি তাকেই হালাল হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং যা তাতে হারাম পেয়েছি তাকেই হারাম বলে গণ্য করেছি। অথচ আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন, তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের মতোই” (১)। এবং ইমাম কুরতুবি তাঁর তাফসীরে বলেছেন: “একদল বিদআতি (مبتدعة) সম্প্রদায় ধারণার (ظن) মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা এবং তার ওপর আমল করার বৈধতাকে অস্বীকার করেছে; যা দ্বীনের ব্যাপারে স্বেচ্ছাচারিতা এবং যুক্তিনির্ভর দাবি মাত্র। এর স্বপক্ষে এমন কোনো মূল ভিত্তি নেই যার ওপর নির্ভর করা যায় … ” (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২০)
القول الحق في قبول خبر الآحاد
وبعد أن سردنا المذاهب فى الاحتجاج بخبر الآحاد نقول: إن الحق الذي لا يعول على غيره: أن خبر الآحاد يفيد العلم والعمل جميعاً، إذا توافرت فيه شروط القبول، ولم يطعن فيه أحد من العلماء المعتبرين، سواء أكان في الصحيحين أم في غيرهما. وإليك الأدلة التي تفيد ذلك من الكتاب والسنة والإجماع.
أولاً: الكتاب:
1- قول الله عز وجل: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُواْ كَآفَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآئِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُواْ فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُواْ قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُواْ إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122] فالفرقة في الآية يراد بها الثلاثة فأكثر، والطائفة تصدق على الواحد والاثنين فهي جزء من الفرقة، ومن ذلك أن الله أمر بتشكيل واحد أو اثنين للخروج من كل فرقة تضم ثلاثة أفراد من أجل التفقه فى الدين ومن أجل الإنذار بعد العودة، فدل ذلك على صحة أخذ العلم عن خبر الآحاد ودل بالتالي على وجوب العمل به (1) .
2- وقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا} [الحجرات: 6] .
وفى قراءة لحمزة والكسائي وخلف: {فتثبَّتوا} .
--------------------------------------------
খবরুল ওয়াহিদ (خبر الآحاد) গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক অভিমত
একক বর্ণনা বা খবরুল ওয়াহিদ (خبر الآحاد) দ্বারা দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাযহাবসমূহ আলোচনার পর আমরা বলছি: সেই সত্য যা ব্যতিরেকে অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করা যায় না তা হলো—খবরুল ওয়াহিদ (خبر الآحاد) জ্ঞান (ইলম) ও আমল উভয়টিরই ফায়দা প্রদান করে, যদি তাতে গ্রহণযোগ্যতার (القبول) শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে এবং নির্ভরযোগ্য ও বরেণ্য আলেমদের কেউ তাতে কোনো আপত্তি না তোলেন; চাই তা সহিহাইন-এ থাকুক কিংবা অন্য কোনো গ্রন্থে। আপনার সামনে কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ ও ইজমা থেকে এর সপক্ষে দলীলসমূহ উপস্থাপন করা হলো।
প্রথমত: কুরআন:
১- মহান আল্লাহর বাণী: {আর মুমিনদের সকলের পক্ষে অভিযানে বের হওয়া সম্ভব নয়। তবে তাদের প্রত্যেক বড় দল থেকে একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসবে, তখন যেন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়।} [আত-তাওবাহ: ১২২]। এই আয়াতে 'ফিরকাহ' (দল) বলতে তিন বা ততোধিক ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, আর 'ত্বয়িফাহ' (অংশ) শব্দটির প্রয়োগ একজন বা দুইজনের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে, যা মূলত ফিরকাহ বা বড় দলেরই অংশ। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা তিন সদস্য বিশিষ্ট প্রতিটি বড় দল থেকে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন ও ফিরে গিয়ে সতর্ক করার জন্য এক বা দুইজন ব্যক্তিকে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি খবরুল ওয়াহিদ (خبر الآحاد) এর মাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদ সঠিক হওয়ার প্রমাণ বহন করে এবং ফলশ্রুতিতে এর ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ারও নির্দেশ দেয় (১)।
২- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে ঈমানদারগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও।} [আল-হুজুরাত: ৬]।
হামযাহ, কিসাঈ এবং খালাফ-এর কিরাতে পাঠভেদ অনুযায়ী শব্দটি হলো: {তোমরা নিশ্চিত হয়ে নাও (فتثبَّتوا)}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২১)
ذكر الشيخ العلامة محمد الأمين الشنقيطي فى أضواء البيان: أنَّ أهل الأصول استدلّوا بالآية على "قبول خبر العدل؛ لأن قوله تعالى: {إِن جَاءكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا} يدل بدليل خطابه - أعني مفهوم مخالفته - أن الجائي بنبأ إن كان غير فاسق بل عدلا لايلزم التبين فى نبئه على قراءة: فتبينوا. ولا التثبيت على قراءة: فتثبتوا. وهو كذلك" (1) .
3- وقال تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] قال ابن القيم: "وهذا يعم كل مخالف بلغه أمره صلى الله عليه وسلم إلى يوم القيامة، ولو كان ما بلغه لم يفده علماً لما كان متعرضاً بمخالفة مالا يفيد علماً للفتنة والعذاب الأليم، فإن هذا إنما يكون بعد قيام الحجة القاطعة التي لا يبقى معها لمخالف أمره عذر" (2) .
4- وقال الله عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ} [النساء: 59] .
قال ابن القيم: "ووجه الاستدلال: أنه أمر أن يُرد ما تنازع فيه المسلمون إلى الله ورسوله، والرد إلى الله هو الرد إلى كتابه، والرد إلى رسوله هو الرد إليه في حياته وإلى سننه بعد وفاته، فلولا أن المردود إليه يفيد العلم وفصل النّزاع لم يكن في الرد إليه فائدة، إذ كيف يرد حكم المتنازع فيه إلى مالا يفيد
--------------------------------------------
শায়খ আল্লামা মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকীতি আদওয়াউল বায়ান গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: উসুলবিদগণ (أهل الأصول) এই আয়াতের মাধ্যমে 'ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির সংবাদ (خبر العدل)' কবুল করার ব্যাপারে দলীল দিয়েছেন; কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: {যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও} এর মাধ্যমে শব্দার্থগত দলীল (دليل الخطاب) —অর্থাৎ এর বিপরীত অর্থ (مفهوم المخالفة)— দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সংবাদ আনয়নকারী যদি পাপাচারী (فاسق) না হয়ে বরং ন্যায়পরায়ণ (عدل) হয়, তবে 'ফাতাবাইয়ানু' (فتبينوا) কিরাত অনুযায়ী তার সংবাদের সত্যতা যাচাই করা আবশ্যক নয় এবং 'ফাতাসাব্বাতু' (فتثبتوا) কিরাত অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়াও জরুরি নয়। আর বিষয়টি এমনই। (১) ।
৩- এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা বা যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হতে পারে} [আন-নূর: ৬৩]। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "কিয়ামত পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ যার কাছে পৌঁছেছে, এমন প্রত্যেক বিরুদ্ধাচরণকারীর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। যদি সেই সংবাদটি তার নিকট পৌঁছানোর মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান লাভ না হতো, তবে নিশ্চিত জ্ঞান দান করে না এমন বিষয়ের বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে সে ফিতনা ও যন্ত্রণাদায়ক আজাবের সম্মুখীন হতো না। কেননা এটি কেবল তখনই হয় যখন অকাট্য দলীল (حجة قاطعة) প্রতিষ্ঠিত হয়, যার পরে তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণকারীর আর কোনো অজুহাত থাকে না।" (২) ।
৪- এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো রাসূলের আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলিল আমুর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদের। এরপর যদি কোনো বিষয়ে তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো} [আন-নিসা: ৫৯] ।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো: তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, মুসলমানরা যা নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দিতে হবে। আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়া মানে তাঁর কিতাবের দিকে ফিরিয়ে দেয়া, আর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেয়া মানে তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর কাছে এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়া। যার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা যদি নিশ্চিত জ্ঞান দান না করত এবং বিরোধ নিষ্পত্তি না করত, তবে তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো উপকারিতা থাকত না। কেননা বিবাদপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা কীভাবে এমন কিছুর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে যা নিশ্চিত জ্ঞান দান করে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২২)
علماً ألبتة؟ ولا يدري حق هو أم باطل؟ وهذا برهان قاطع بحمد الله" (1) .
5- وقال تعالى: {وَأَنِ احْكُم بَيْنَهُم بِمَآ أَنزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَن يَفْتِنُوكَ عَن بَعْضِ مَا أَنزَلَ اللهُ إِلَيْكَ فَإِن تَوَلَّوْاْ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللهُ أَن يُصِيبَهُم بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ، أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ} [المائدة: 49-50] .
قال ابن القيم: "وجه الاستدلال أن كل ما حكم به رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو مما أنزل الله، وهو ذكر من الله أنزله على رسوله، وقد تكفل سبحانه بحفظه، فلو جاز على حكمه الكذب والغلط والسهو من الرواة، ولم يقم دليل على غلطه وسهو ناقله لسقط حكم ضمان الله وكفالته لحفظه، وهذا من أعظم الباطل" (2) .
وقال الحافظ ابن حجر: "واحتج بعض الأئمة لقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ} [المائدة:67] . مع أنه كان رسولاً إلى الناس كافة ويجب عليه تبليغهم، فلو كان خبر الآحاد غير مقبول لتعذر إبلاغ الشريعة إلى الكل ضرورة، لتعذر خطاب جميع الناس شفاهاً، وكذا تعذر إرسال عدد التواتر إليهم". قال الحافظ: "وهو مسلك جيد" (3) .
6- وقال الإمام أبو محمد بن حزم: "قال الله عز وجل عن نبيه
--------------------------------------------
আদৌ কি তা নিশ্চিত জ্ঞান? এবং সে জানে না তা কি সত্য নাকি মিথ্যা? আর আল্লাহর প্রশংসাসহ এটি একটি অকাট্য প্রমাণ।" (১) ।
৫- এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আপনি তাদের মাঝে বিচার-ফয়সালা করুন যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী, এবং তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না; আর তাদের থেকে সতর্ক থাকুন যাতে তারা আপনার কাছে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার কোনোটি থেকে আপনাকে বিচ্যুত করতে না পারে। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখুন যে আল্লাহ কেবল তাদের কিছু পাপের কারণে তাদের বিপদগ্রস্ত করতে চান। আর মানুষের মধ্যে অনেকেই তো পাপাচারী। তবে কি তারা জাহিলিয়াতের বিধান চায়? আর দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম?} [আল-মায়িদাহ: ৪৯-৫০] ।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "দলিল পেশের পদ্ধতি হলো এই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছুই ফয়সালা করেছেন তা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তারই অন্তর্ভুক্ত। আর এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একটি জিকর (ذكر), যা তিনি তাঁর রাসুলের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন এবং মহান আল্লাহ নিজেই তা সংরক্ষণের জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন। সুতরাং যদি তাঁর বিধানে বর্ণনাকারীদের (الرواة) পক্ষ থেকে মিথ্যা (الكذب), ভুল (الغلط) এবং বিস্মৃতি (السهو) ঘটা সম্ভব হতো এবং বর্ণনাকারীর ভুল ও বিস্মৃতির ওপর কোনো প্রমাণ বিদ্যমান না থাকত, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তা সংরক্ষণের জামানত ও জিম্মাদারি অকার্যকর হয়ে যেত। আর এটি চরম একটি অসার কথা।" (২) ।
হাফিয ইবনে হাজার বলেন: "কতিপয় ইমাম মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {হে রাসুল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন} [আল-মায়িদাহ: ৬৭]। অথচ তিনি ছিলেন সকল মানুষের প্রতি প্রেরিত রাসুল এবং তাদের কাছে দ্বীন পৌঁছে দেওয়া তাঁর জন্য আবশ্যকীয় ছিল। সুতরাং যদি একক সংবাদ (خبر الآحاد) গ্রহণযোগ্য না হতো, তবে অবধারিতভাবে সবার কাছে শরীয়ত পৌঁছে দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ত; কারণ সরাসরি মৌখিকভাবে সকল মানুষের সাথে কথা বলা যেমন অসম্ভব, তেমনি তাদের কাছে মুতাওয়াতির (التواتر) সংখ্যক লোক পাঠানোও অসম্ভব।" হাফিয বলেন: "এটি একটি চমৎকার পদ্ধতি।" (৩) ।
৬- এবং ইমাম আবু মুহাম্মদ ইবনে হাযম বলেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর নবী সম্পর্কে বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
{وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3-4] . وقال تعالى آمراً نبيه صلى الله عليه وسلم أن يقول: {إِنْ أَتَّبِعُ إِلَاّ مَا يُوحَى إِلَيَّ} [الأنعام:50] . وقال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] .
وقال تعالى: {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} . [النحل:44] . فصح أن كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم كله في الدين وحي من عند الله عز وجل لاشك في ذلك، ولا خلاف بين أحد من أهل اللغة والشريعة في أن كل وحي نزل من عند الله تعالى فهو ذكر مُنَزل، فالوحي كله محفوظ بحفظ الله تعالى له بيقين، وكل ما تكفل الله بحفظه فمضمون أن لا يضيع منه وأن لا يُحَرف منه شيء أبدًا تحريفاً لا يأتي البيان ببطلانه؛ إذ لو جاز غير ذلك لكان كلام الله تعال كذباً وضمانه خائساً، وهذا لا يخطر ببال ذي مسكة عقل، فوجب أن الدين الذي أتانا به محمد صلى الله عليه وسلم محفوظ بتولي الله تعالى حفظه، مبلغ كما هو إلى كل من طلبه مما يأتي أبداً إلى انقضاء الدنيا، قال تعالى: {لأُنذِرَكُم بِهِ وَمَن بَلَغَ} . [الأنعام:19]
فإذ ذلك كذلك فبالضروري ندري أنه لا سبيل البتة إلى ضياع شيء قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم في الدين، ولا سبيل ألبتة إلى أن يختلط به باطل موضوع اختلاطاً لا يتميز عن أحد من الناس بيقين؛ لو جاز ذلك لكان الذكر غير محفوظ، ولكان قول الله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} كذباً ووعداً مخلفاً، وهذا لا يقوله مسلم" (1) .
ثانياً: السنة:
1- ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يرسل رسله إلى الملوك فى مختلف الأمصار
--------------------------------------------
{আর তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কথা বলেন না। তা কেবল ওহি (وحي), যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} [নাজম: ৩-৪]। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই কথা বলার নির্দেশ দিয়ে বলেন: {আমার প্রতি যা ওহি (وحي) করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি} [আন'আম: ৫০]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয় আমিই যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} [হিজর: ৯]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে}। [নাহল: ৪৪]। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, দ্বীনের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সকল কথা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহি (وحي), এতে কোনো সন্দেহ নেই। ভাষা ও শরিয়ত বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ প্রতিটি ওহিই (وحي) হলো অবতীর্ণ যিকর। সুতরাং সকল ওহি (وحي) নিশ্চিতভাবেই আল্লাহর হেফাজতে সংরক্ষিত। আর আল্লাহ যে বিষয় সংরক্ষণের জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন, তা কখনো হারিয়ে যাবে না এবং তাতে কখনোই এমন কোনো বিকৃতি (تحريف) ঘটবে না যার অসারতা বর্ণনার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে না। কারণ এর অন্যথা হওয়া সম্ভব হলে আল্লাহর কালাম মিথ্যা প্রতিপন্ন হতো এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হতো; আর কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষের হৃদয়ে এ ধরনের চিন্তার উদয় হতে পারে না। অতএব, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে যে দ্বীন নিয়ে এসেছেন, আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধানে তা সংরক্ষিত থাকা অপরিহার্য; দুনিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত যে কেউ তা অন্বেষণ করবে, তার নিকট তা অবিকৃত অবস্থায় পৌঁছে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যাতে আমি তোমাদের এবং যার নিকট তা পৌঁছাবে তাকে এর মাধ্যমে সতর্ক করি}। [আন'আম: ১৯]
বিষয়টি যখন এই রূপ, তখন আমরা অনিবার্যভাবে জানতে পারি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বীনের ব্যাপারে যা কিছু বলেছেন, তা হারিয়ে যাওয়ার কোনো পথ নেই। এবং এর সাথে কোনো জাল (موضوع) ও বাতিল বিষয় এমনভাবে সংমিশ্রিত হওয়ারও বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই যা মানুষের নিকট নিশ্চিতভাবে পৃথক করা যাবে না। যদি এমনটি হওয়া সম্ভব হতো, তবে সেই যিকর আর সংরক্ষিত থাকত না এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় আমিই যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} মিথ্যা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হতো; অথচ কোনো মুসলিম এ কথা বলতে পারে না। (১)।
দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ:
১- এটি প্রমাণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিভিন্ন জনপদের রাজাদের নিকট তাঁর দূত প্রেরণ করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لدعوتهم إلى دين الإسلام، كما كان يبعث برسله إلى الآفاق لنشر الدعوة الإسلامية وبيان أحكام هذا الدين، فقاموا بذلك وهم فرادى (1) .
قال الشافعي: "وبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عماله واحداً واحداً ورسله واحدًا واحداً، وإنما بعث عماله ليخبروا الناس بما أخبرهم به رسول الله صلى الله عليه وسلم من شرائع دينهم، ويأخذوا منهم ما أوجب الله عليهم، ويعطوهم مالهم، ويقيموا عليهم الحدود، وينفذوا فيهم الأحكام.. ولو لم تقم الحجة عليهم بهم إذ كانوا في كل ناحية وجههم إليها أهل صدق عندهم ما بعثهم" (2) فمن ذلك:
أ- عن المسور بن مخرمة رضي الله عنه قال: "خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: إن الله بعثني رحمة للناس كافة، فأدوا عني رحمكم الله
… فبعث ابن حذافة إلى كسرى، وبعث سليط بن عمرو إلى هوذة بن علي صاحب اليمامة، وبعث العلاء بن الحضرمي إلى المنذر بن ساوى صاحب هَجَر، وبعث عمرو بن العاص إلى جيفر وعباد ابني الجُلندي ملكي عمان، وبعث دحية الكلبي إلى قيصر، وبعث شجاع بن وهب الأسدي إلى المنذر بن الحارث بن أبي شمر الغساني، وبعث عمرو بن أمية الضمري إلى النجاشي، فرجعوا جميعاً قبل وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم غير العلاء بن الحضرمي، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم توفي وهو بالبحرين" (3) فالحديث يدل على أن خبر الآحاد يفيد العلم والعمل معاً.
--------------------------------------------
তাদের ইসলাম ধর্মের দাওয়াত প্রদানের জন্য, যেমন তিনি তাঁর দূতদের বিভিন্ন দিগন্তে ইসলামি দাওয়াত প্রচার এবং এই ধর্মের বিধানসমূহ বর্ণনার জন্য পাঠাতেন। তারা একাকী (فرادى) সেই কাজ সম্পাদন করেছিলেন (১)।
ইমাম শাফেঈ বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কর্মকর্তাদের এবং দূতদের একে একে পাঠাতেন। তিনি তাঁর কর্মকর্তাদের পাঠাতেন যাতে তারা মানুষদের তাদের দ্বীনের শরীয়ত সম্পর্কে অবহিত করতে পারেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জানিয়েছিলেন, এবং তাদের ওপর আল্লাহ যা ফরজ করেছেন তা গ্রহণ করতে পারেন, তাদের প্রাপ্য তাদের দিতে পারেন, তাদের ওপর হদ (الحدود) কার্যকর করতে পারেন এবং তাদের মধ্যে বিধানসমূহ (الأحكام) বাস্তবায়ন করতে পারেন। যদি তাদের মাধ্যমে মানুষের ওপর দলিল (الحجة) প্রতিষ্ঠিত না হতো—যেহেতু প্রতিটি অঞ্চলে যাদের কাছে তাদের পাঠানো হতো তারা তাদের কাছে সত্যবাদী (أهل صدق) হিসেবে গণ্য ছিলেন—তবে তিনি তাদের পাঠাতেন না" (২)। এর মধ্যে রয়েছে:
অ- আল-মিসওয়ার বিন মাখরামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে সকল মানুষের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন, সুতরাং আমার পক্ষ থেকে তোমরা (দ্বীন) পৌঁছে দাও, আল্লাহ তোমাদের ওপর রহম করুন
… অতঃপর তিনি ইবনে হুজাফাকে কিসরার কাছে, সলাইত বিন আমরকে ইয়ামামার অধিপতি হাওজা বিন আলীর কাছে, আলা বিন হাদরামিকে হাজারের অধিপতি মুনজির বিন সাওয়ার কাছে, আমর বিন আসকে ওমানের দুই রাজা জুলান্দার দুই ছেলে জয়ফর ও আব্বাদের কাছে, দিহিয়া আল-কালবিকে কায়সারের কাছে, শুজা বিন ওয়াহাব আল-আসাদিকে মুনজির বিন হারিস বিন আবি শিমর আল-গাস্সানির কাছে এবং আমর বিন উমাইয়া আদ-দামরিকে নাজাশির কাছে পাঠালেন। তারা সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পূর্বে ফিরে এসেছিলেন, আলা বিন হাদরামি ব্যতীত। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি বাহরাইনে ছিলেন" (৩)। সুতরাং এই হাদিস প্রমাণ করে যে, একক সংবাদ (خبر الآحاد) একই সাথে ইলম (العلم) ও আমল (العمل) উভয়েরই উপকার প্রদান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال الإمام أبو المظفر منصور بن محمد السمعاني فى كتاب الانتصار: "لو لم يقع العلم بخبر الواحد فى أمور الدين لم يقتصر على إرسال الواحد من الصحابة فى هذا الأمر" (1) .
ب- عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لمعاذ بن جبل رضي الله عنه حين بعثه إلى اليمن: "إنك ستأتي قوماً أهل كتاب، فإذا جئتهم فادعهم إلى أن يشهدوا أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله، فإن هم أطاعوا لك بذلك، فأخبرهم أن الله قد فرض عليهم خمس صلوات فى كل يوم وليلة، فإن هم أطاعوا لك بذلك فأخبرهم أن الله قد فرض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم فترد على فقرائهم، فإن هم أطاعوا لك بذلك فإياك وكرائمَ أموالهم، واتقِ دعوة المظلوم، فإنه ليس بينها وبين الله حجاب" (2) .
قال الحافظ ابن حجر: "وفي الحديث قبول خبر الواحد ووجوب العمل به" (3) .
2- مارواه الشافعي قال: أخبرنا سفيان، عن عبد الملك بن عمير، عن عبد الرحمن بن عبد الله بن مسعود عن أبيه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "نَضَر الله عبداً سمع مقالتي، فحفظها ووعاها وأداها، فَرُبَّ حامِل فقهٍ غيرِ فقيهٍ، ورُبَّ حامل فقه إلى من هو أفقه منه" (4) . ووجه دلالته أنه أمر كل عبد يسمع مقالته أن يبلغها، مع إمكان كونه غير فقيه، والعبد حقيقة للشخص الواحد،
--------------------------------------------
ইমাম আবু মুজাফফর মনসুর ইবনে মুহাম্মদ আস-সামআনি 'কিতাবুল ইনতিসার'-এ বলেন: "যদি দ্বীনি বিষয়ে একক সংবাদ (خبر الواحد) দ্বারা জ্ঞান লাভ না হতো, তবে এই বিষয়ে এককভাবে কোনো সাহাবীকে পাঠানোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হতো না" (১)।
খ- ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়েমেনে পাঠান, তখন তাঁকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের একটি জাতির কাছে যাচ্ছ। যখন তুমি তাদের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের এই সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতি আহ্বান করবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। তারা যদি এটি মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। তারা যদি এটিও মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর সদকা ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হবে (বণ্টন করা হবে)। তারা যদি এটিও মেনে নেয়, তবে তাদের উত্তম সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকো। আর মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো, কারণ এর মাঝে এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই" (২)।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "এই হাদিসে একক সংবাদ (خبر الواحد) গ্রহণ করা এবং এর ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে" (৩)।
২- ইমাম শাফেঈ যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সুফিয়ান সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে, আত্মস্থ করেছে এবং তা পৌঁছে দিয়েছে। কারণ অনেক ফিকহ বা জ্ঞান বহনকারী এমন রয়েছেন যারা নিজেরা ফকিহ নন, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়েও বেশি ফকিহ" (৪)। এর দ্বারা দলিল প্রদানের দিকটি হলো, তিনি তাঁর কথা শ্রবণকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, অথচ সেই ব্যক্তির ফকিহ না হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে; আর 'আবদ' (ব্যক্তি) শব্দটি মূলত একজন ব্যক্তিকেই নির্দেশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولا يأمره إلا وخبره مما تقوم الحجة به.
وقال الإمام الشافعي: "فلما ندب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى استماع مقالته وحفظها وأدائها امرأ يؤديها، والمرء واحد، دلَّ على أنه لا يأمر أن يؤدى عنه إلا ما تقوم به الحجة على من أدى إليه، لأنه إنما يؤدى عنه حلال يؤتى، وحرام يجتنب، وحدّ يقام، ومال يؤخذ ويعطى، ونصيحة في دين ودنيا، ودلَّ على أنه قد يحمل الفقهَ غيرُ الفقيهِ يكون له حافظاً ولا يكون فيه فقيهاً" (1) .
3- حديث المقدام بن معد يكرب رضي الله عنه الآنف الذكر: "ألا هل عسى رجلٌ يبلغه الحديث عني وهو متكئ على أريكته
… " الحديث. ووجه الاستدلال كما قال ابن القيم: "أن هذا نهي عام لكل من بلغه حديث صحيح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يخالفه أو يقول: لا أقبل إلا القرآن، بل هو أمر لازم، وفرض حتم بقبول أخباره وسننه، وإعلام منه صلى الله عليه وسلم أنها من الله أوحاها إليه، فلو لم تفد علماً لقال من بلغته: إنها آحاد لا تفيد علماً فلا يلزمني قبول مالا علم لي بصحته، والله تعالى لم يكلفني العمل بما لم أعلم صحته ولا اعتقاده، بل هذا بعينه هو الذي حذر منه رسول الله صلى الله عليه وسلم أمته ونهاهم عنه، ولما علم أن في هذه الأمة من يقوله حذرهم منه، فإن القائل إن أخباره لاتفيد العلم هكذا يقول سواه لا ندري ما هذه الأحاديث، وكان سَلَفُ هؤلاء يقولون: بيننا وبينكم القرآن، وخَلَفُهُم يقولون: بيننا وبينكم أدلة العقول، وقد صَرَّحوا بذلك وقالوا: نقدم العقول على هذه الأحاديث، آحادها ومتواترها ونقدم الأقيسة عليها" (2) .
--------------------------------------------
এবং তিনি তাকে কেবল এমন বিষয়েরই আদেশ দেন যার সংবাদ নির্ভরযোগ্য প্রমাণ (حجة) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইমাম শাফিঈ (র.) বলেছেন: "যেহেতু রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর বাণী শোনা, তা মুখস্থ রাখা এবং তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তিকে উৎসাহিত করেছেন—যেখানে ব্যক্তিটি একজনই—এটি প্রমাণ করে যে, যার কাছে সংবাদ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে তার বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ (حجة) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার উপযোগী বিষয় ব্যতিরেকে অন্য কিছু তাঁর পক্ষ থেকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দেননি। কারণ তাঁর পক্ষ থেকে যা পৌঁছে দেওয়া হয় তা হলো পালনীয় হালাল, বর্জনীয় হারাম, কার্যকর করার যোগ্য দণ্ডবিধি, গ্রহণ ও প্রদানের যোগ্য সম্পদ এবং দ্বীন ও দুনিয়া বিষয়ক নসিহত। এটি আরও নির্দেশ করে যে, কখনও কখনও ফিকহ সম্পর্কে প্রজ্ঞা নেই এমন ব্যক্তিও ফিকহ বহন করতে পারে, যেখানে সে কেবল এর সংরক্ষণকারী হবে কিন্তু নিজে ফকীহ বা বিশেষজ্ঞ হবে না।" (১) ।
৩- মিকদাম বিন মা’দীকারিব (রা.) হতে বর্ণিত পূর্বে উল্লেখিত হাদিস: "সাবধান! অচিরেই এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যার কাছে আমার হাদিস পৌঁছাবে আর সে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে..." হাদিস। এর থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিম (র.) বলেছেন: "এটি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস যার কাছে পৌঁছেছে, তার সবার জন্য একটি সাধারণ নিষেধাজ্ঞা যাতে সে এর বিরোধিতা না করে অথবা এই কথা না বলে যে: 'আমি কুরআন ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করি না।' বরং এটি তাঁর সংবাদ ও সুন্নাহ গ্রহণ করার ব্যাপারে একটি অপরিহার্য নির্দেশ এবং অবধারিত ফরজ। এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ ﷺ অবগত করেছেন যে, এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি ওহি। যদি এই সংবাদগুলো নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান না করত, তবে যার কাছে এটি পৌঁছেছে সে বলতে পারত: 'এটি তো একক বর্ণনা (آحاد) যা নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে না, সুতরাং যার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে আমার নিশ্চিত জ্ঞান নেই তা গ্রহণ করা আমার জন্য আবশ্যক নয়। আর মহান আল্লাহ আমাকে এমন বিষয়ে আমল বা বিশ্বাসের দায়িত্ব দেননি যার বিশুদ্ধতা (صحة) আমার জানা নেই।' মূলত এটিই সেই বিষয় যা থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেছেন এবং নিষেধ করেছেন। আর যখন তিনি জানতে পেরেছিলেন যে এই উম্মতের মধ্যে এমন লোক থাকবে যারা এই কথা বলবে, তখন তিনি তাদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। কারণ যে ব্যক্তি বলে যে রাসূলের সংবাদ নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে না, সে অন্যদের মতো এই দাবিই করে যে আমরা জানি না এই হাদিসগুলো কী। এদের পূর্বসূরিরা বলত: 'আমাদের ও তোমাদের মধ্যে ফয়সালাকারী হলো কুরআন', আর উত্তরসূরিরা বলে: 'আমাদের ও তোমাদের মধ্যে ফয়সালাকারী হলো যুক্তিনির্ভর প্রমাণ'। তারা বিষয়টি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে এবং বলেছে: 'আমরা এই হাদিসগুলোর ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তিকে অগ্রাধিকার দেই, চাই তা একক বর্ণনা (آحاد) হোক বা মুতাওয়াতির (متواتر) হোক, এবং আমরা এর ওপর কিয়াসকে অগ্রাধিকার দেই'।" (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
4- عن ابن عمر رضي الله عنهما: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن بلالاً يؤذن بليل، فكلوا واشربوا حتي يؤذن ابنُ أمِّ مكتوم" (1) .
ودلالة هذا الحديث فى الأمر بتصديق المؤذن وهو واحد والعمل بخبره فى فعل الصلاة، والعلم بدخول وقت الصلاة، وأول وقت الإفطار والإمساك، مع أن هذه من العبادات التي تختل بتغير وقتها، ولم يزل المسلمون فى كل وقت ومكان يقلدون المؤذنين، ويعملون بأذانهم في أوقات مثل هذه العبادات، وإن هذا لأوضح دليل على وجوب العمل بخبر الآحاد.
5- ما ثبت عن أبي هريرة وزيد بن خالد الجُهني رضي الله عنهما في قصة العسيف، وفيه قول النبي صلى الله عليه وسلم: "اغد يا أُنيس - لرجل من أسلم - إلى امرأة هذا، فإن اعترفت فارجمها" فغدا عليها فاعترفت فأمر بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فرجمت. (2)
ووجه الاستدلال فيه أن النبي اعتمد خبره في اعترافها، مع ما فيه من إقامة حد وقتل نفس مسلمة. وقال الحافظ ابن حجر فى الفتح: "فيه دليل على أن الحكم المبني على الظن ينقضي بما يفيد القطع" (3) .
ثالثاً: الإجماع (4) :
1- قال الإمام أبو المظفر منصور بن محمد السمعاني في كتاب الانتصار:
(1) رواه البخاري 4 / 117، ومسلم (1092) ، ومالك 1 / 74، والنسائي 2 / 10.
(2) أخرجه البخاري (برقم 6842، 6843) .
(3) فتح الباري 12 / 124.
(4) ولعل الباحث – وفقه الله – لم يقصد الإجماع الاصطلاحي، وإنما قصد الإجماع اللغوي؛ فإن الإجماع بمعناه الاصطلاحي لم يقع في زمن النبي صلى الله عليه وسلم، وإنما بعد وفاته، لذا فإن الدليلين الثاني والثالث اللذين ذكرهما الباحث لا يدخلان في أدلة الإجماع بالمعنى الذي أراده. (اللجنة العلمية) .
4- ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই বিলাল রাতে আযান দেয়, সুতরাং তোমরা আহার ও পান করো যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতূম আযান দেয়।" (১) .
এই হাদিসের নির্দেশ হলো একজন মুয়াযযিনকে সত্য বলে গণ্য করা—যিনি একজন ব্যক্তি মাত্র—এবং সালাত আদায়, ওয়াক্ত শুরু হওয়ার জ্ঞান লাভ এবং ইফতার ও ইমসাকের (পানাহার বন্ধ রাখা) শুরুর ক্ষেত্রে তাঁর সংবাদের (خبره) ওপর আমল করা। অথচ এগুলি এমন ইবাদত যা সময়ের পরিবর্তনে ত্রুটিপূর্ণ হয়ে পড়ে। মুসলমানরা সর্বকালে ও সর্বস্থানে মুয়াযযিনদের অনুসরণ করে আসছেন এবং এই ইবাদতগুলোর ওয়াক্তের ক্ষেত্রে তাঁদের আযানের ওপর ভিত্তি করে আমল করছেন। একক সংবাদ (خبر الآحاد)-এর ওপর আমল করা যে ওয়াজিব (আবশ্যক), এটি তার অত্যন্ত স্পষ্ট দলিল।
5- শ্রমিক (আসীয়) সংক্রান্ত ঘটনায় আবু হুরায়রা ও জায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি (রা.) থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে; তাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী রয়েছে: "হে উনাইস—আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি—তুমি এই মহিলার কাছে যাও, যদি সে স্বীকারোক্তি দেয় তবে তাকে রজম করো।" এরপর তিনি মহিলার কাছে গেলেন, সে স্বীকারোক্তি দিল এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশে তাকে রজম করা হলো। (২)
এর মাধ্যমে দলিলের দিক হলো যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহিলার স্বীকারোক্তির বিষয়ে তাঁর সংবাদের (خبره) ওপর নির্ভর করেছেন, যদিও এতে দণ্ডবিধি (حد) কার্যকর করা এবং একজন মুসলিমের প্রাণদণ্ডের বিষয় জড়িত ছিল। হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে বলেছেন: "এতে দলিল রয়েছে যে, প্রবল ধারণা (الظن)-এর ওপর ভিত্তি করে প্রদত্ত ফয়সালা এমন কিছুর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে যা নিশ্চিত জ্ঞান (القطع) প্রদান করে।" (৩) .
তৃতীয়ত: সর্বসম্মতি (الإجماع) (৪) :
1- ইমাম আবু আল-মুজাফফর মনসুর বিন মুহাম্মদ আল-সামআনি তাঁর 'আল-ইন্তিসার' কিতাবে বলেছেন:
(1) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ৪ / ১১৭, মুসলিম (১০৯২), মালিক ১ / ৭৪ এবং নাসাঈ ২ / ১০।
(2) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (নম্বর ৬৮৪২, ৬৮৪৩) ।
(3) ফাতহুল বারী ১২ / ১২৪।
(4) সম্ভবত গবেষক—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দিন—এখানে পারিভাষিক সর্বসম্মতি (الإجماع) বুঝাতে চাননি, বরং আভিধানিক সর্বসম্মতি বুঝিয়েছেন; কারণ পারিভাষিক অর্থে ইজমা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে সংঘটিত হয়নি, বরং তাঁর ইন্তেকালের পর হয়েছে। তাই গবেষক যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দলিল উল্লেখ করেছেন, তা তাঁর অভীষ্ট পারিভাষিক ইজমার দলিলের অন্তর্ভুক্ত নয়। (বৈজ্ঞানিক কমিটি)।
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
"أجمع أهل الإسلام متقدموهم ومتأخروهم على رواية الأحاديث في صفات الله تعالى وفي مسائل القدر والرؤية وأصول الإيمان والشفاعة والحوض وإخراج الموجودين من المذنبين من النار، وفي صفة الجنة والنار، وفي الترغيب والترهيب والوعد والوعيد، وفي فضائل النبي صلى الله عليه وسلم ومناقب أصحابه وأخبار الأنبياء المتقدمين وأخبار الرقاق وغيرها مما يكثر ذكره، وهذه الأشياء علمية لا عملية، وإنما تروى لوقوع العلم للسامع بها، فإذا قلنا خبر الواحد لا يجوز أن يوجب العلم، حملنا أمر الأمة في نقل هذه الأخبار على الخطأ وجعلناهم لاغين هازلين مشتغلين بما لا يفيد أحداً شيئاً ولاينفعه، ويصير كأنهم قد دوَّنوا في أمور الدين مالا يجوز الرجوع إليه والاعتماد عليه". ثم قال: "وربما يرتقي هذا القول إلى أعظم من هذا، فإنَّ النبي صلى الله عليه وسلم أدى هذا الدين إلى الواحد فالواحد من الصحابة، وهذا الواحد يؤديه إلى الأمة وينقله عنه، فإذا لم يُقبل قول الراوي لأنه واحد رجع هذا العيب إلى المؤدِّي، نعوذ بالله من هذا القول البشع والاعتقاد القبيح" (1) .
2- ما ثبت عن أنس رضي الله عنه أنه قال: "كنت ساقي القوم في منْزِل أبي طلحة، فكان خمرهم يومئذ الفضيخ، فأتاهم آت فقال: إن الخمر قد حرمت، فقال أبو طلحة: يا أنس قم إلى هذه الجرة فاكسرها
… " الحديث (2) . وهذا فيه دليل على أنهم اعتمدوا خبر هذا الشخص، وأن العمل بخبر الواحد كان معروفاً عندهم.
3- وقال الإمام القرطبي فى تفسير قول الله تعالى: {وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ
--------------------------------------------
ইসলামের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী বিশেষজ্ঞগণ আল্লাহর গুণাবলি, তাকদির (القدر), (আল্লাহর) দিদার (الرؤية), ঈমানের মূলনীতি (أصول الإيمان), শাফায়াত (الشفاعة), হাউজ (الحوض), জাহান্নাম থেকে পাপিষ্ঠদের বের করে আনা, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ, সৎকাজের অনুপ্রেরণা ও অসৎকাজে ভীতিপ্রদর্শন (الترغيب والترهيب), প্রতিশ্রুতি ও ধমকি (الوعد والوعيد), নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মর্যাদা ও তাঁর সাহাবিগণের ফযিলত (مناقب), পূর্ববর্তী নবিগণের সংবাদ এবং হৃদয় বিগলনকারী (الرقاق) ঘটনাবলি ও এ জাতীয় সচরাচর আলোচিত বিষয়গুলোর হাদিস বর্ণনার (رواية) ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আর এই বিষয়গুলো তাত্ত্বিক (علمية), কর্মগত (عملية) নয়। এগুলো মূলত বর্ণনা করা হয় শ্রোতার মাঝে জ্ঞান তৈরির জন্য। সুতরাং যদি আমরা বলি যে একক বর্ণনা (خبر الواحد) নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করা বৈধ করে না, তবে আমরা এই সংবাদগুলো পৌঁছানোর ক্ষেত্রে উম্মাহর আমলকে ভুল হিসেবে সাব্যস্ত করলাম এবং তাদের এমন অনর্থক ও খেলতামাশায় লিপ্ত হিসেবে গণ্য করলাম যা কারও কোনো উপকারে আসে না এবং কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। এর ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়াবে যেন তারা দ্বীনের এমন বিষয়গুলো সংকলন করেছেন যেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা বা যেগুলোর ওপর নির্ভর করা বৈধ নয়। তিনি আরও বলেন: "সম্ভবত এই বক্তব্য এর চেয়েও গুরুতর দিকে মোড় নিতে পারে। কেননা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দ্বীন সাহাবিগণের মধ্যে একজনের পর একজনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং এই একজন ব্যক্তিই তা উম্মাহর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন ও বর্ণনা করেছেন। সুতরাং বর্ণনাকারীর (الراوي) কথা যদি কেবল একক হওয়ার কারণে গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে এই ত্রুটি স্বয়ং প্রচারকারীর দিকেই ফিরে যায়। আমরা এই জঘন্য কথা ও কদর্য বিশ্বাস থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" (১) .
২- আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা প্রমাণিত তা হলো, তিনি বলেন: "আমি আবু তালহার ঘরে লোকদের পানীয় পরিবেশন করছিলাম। সেদিন তাদের পানীয় ছিল 'ফাদিখ' (খেজুরের তৈরি মদ)। তখন জনৈক ব্যক্তি এসে বললেন: নিশ্চয়ই মদ হারাম করা হয়েছে। তখন আবু তালহা বললেন: হে আনাস! এই মটকাটির কাছে যাও এবং এটি ভেঙে ফেল … " হাদিস (২)। এর মধ্যে দলিল রয়েছে যে, তারা এই ব্যক্তির সংবাদের ওপর নির্ভর করেছিলেন এবং একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল করা তাদের মাঝে সুবিদিত ছিল।
৩- ইমাম আল-কুরতুবি আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে বলেন: {আর আপনি যেখান থেকেই বের হন না কেন...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুজ্জিয়াতু খাবারিল আহাদ ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম - আমির হাসান সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّواْ وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ} [البقرة: من الآية150] . مانصه: "في الآية دليل على جواز القطع بخبر الواحد، وذلك أن استقبال بيت المقدس كان مقطوعاً به من الشريعة عندهم، ثم إن أهل قباء لما أتاهم الآتي، وأخبرهم أن القبلة قد حُوِّلت إلى المسجد الحرام قبلوا قوله واستداروا نحو الكعبة، فتركوا المتواتر بخبر الواحد وهو مظنون" (1) .
4- وقال ابن القيم: "إن خبر الواحد لو لم يفد العلم لم يثبت به الصحابة التحليل والتحريم والإباحة والفروض ويُجْعَلُ ذلك ديناً يدان به في الأرض إلى آخر الدهر، فهذا الصدّيق رضي الله عنه زاد في الفروض التي في القرآن فرض الجدَّة وجعله شريعة مستمرة إلى يوم القيامة بخبر محمد بن مَسلمة والمغيرة بن شعبة فقط، وجعل حكم ذلك الخبر في إثبات هذا الفرض حكم نص القرآن في إثبات فرض الأم، ثم اتفق الصحابة والمسلمون بعدهم على إثباته بخبر الواحد، وأثبت عمر بن الخطاب بخبر حمل بن مالك دية الجنين وجعلها فرضاً لازماً للأمة، وأثبت ميراث المرأة من دية زوجها بخبر الضحاك بن سفيان الكلابي وحده، وصار ذلك شرعاً مستمراً إلى يوم القيامة، وأثبت شريعة عامة في حق المجوس بخبر عبد الرحمن بن عوف وحده، وأثبت عثمان بن عفان شريعة عامة في سكنى المتوفى عنها بخبر فريعة بنت مالك وحدها، وهذا أكثر من أن يذكر، بل هو إجماع معلوم منهم، ولا يقال على هذا إنما يدل على العمل بخبر الواحد في الظنيات ونحن لاننكر ذلك لأنا قد قدمنا أنهم أجمعوا
--------------------------------------------
{অতএব তোমরা তোমাদের মুখ পবিত্র মাসজিদুল হারামের দিকে ফেরাও; এবং তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের মুখ সেদিকেই ফেরাও} [আল-বাকারা: আয়াত ১৫০-এর অংশ]। এর পাঠ্য হলো: "এই আয়াতে একক ব্যক্তির বর্ণনার (خبر الواحد) মাধ্যমে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বৈধতার প্রমাণ রয়েছে। বিষয়টি হলো, তাদের নিকট শরিয়তের বিধানে বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করাটা ছিল সুনিশ্চিত। অতঃপর যখন কুবা-বাসীদের নিকট এক ব্যক্তি আগমন করলেন এবং তাদের সংবাদ দিলেন যে কিবলা মাসজিদুল হারামের দিকে পরিবর্তন করা হয়েছে, তখন তারা তার কথা কবুল করলেন এবং কাবার দিকে ঘুরে গেলেন। ফলে তারা একক ব্যক্তির বর্ণনার (خبر الواحد) ভিত্তিতে, যা ধারণাপ্রসূত (مظنون), একটি অবিচ্ছিন্নভাবে জনশ্রুতিপূর্ণ (متواتر) বিষয়কে পরিত্যাগ করলেন।" (১) .
৪- এবং ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "যদি একক ব্যক্তির বর্ণনা (خبر الواحد) নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান না করত, তবে সাহাবীগণ এর মাধ্যমে হালাল, হারাম, বৈধতা এবং ফরজ বিধানসমূহ সাব্যস্ত করতেন না এবং একে এমন দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করতেন না যা কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীতে পালন করা হবে। এই যে সিদ্দিক (রা.) কুরআনে বর্ণিত উত্তরাধিকারের অংশগুলোর সাথে দাদীর অংশ যোগ করেছেন এবং মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা ও মুগীরা ইবনে শু'বা (রা.)-এর একক বর্ণনার ভিত্তিতেই একে কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত একটি শরিয়তি বিধানে পরিণত করেছেন। তিনি মায়ের অংশ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কুরআনের অকাট্য প্রমাণের যে মর্যাদা, এই বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সেই একক সংবাদের মর্যাদাকে তারই সমতুল্য করেছেন। অতঃপর সাহাবীগণ এবং তাদের পরবর্তী মুসলিমগণ একক ব্যক্তির বর্ণনার (خبر الواحد) মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত করার ব্যাপারে ঐক্যমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হামাল ইবনে মালিক (রা.)-এর সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রূণের রক্তপণ সাব্যস্ত করেছেন এবং উম্মতের জন্য একে একটি আবশ্যকীয় ফরজ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এছাড়া তিনি দাহহাক ইবনে সুফিয়ান আল-কিলাবি (রা.)-এর একক সংবাদের ভিত্তিতে স্বামীর রক্তপণ থেকে স্ত্রীর উত্তরাধিকারের বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত একটি শাশ্বত শরিয়ত হিসেবে গণ্য হয়েছে। তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর একক সংবাদের ভিত্তিতে অগ্নিপূজকদের ব্যাপারে একটি সাধারণ বিধান প্রবর্তন করেন। উসমান ইবনে আফফান (রা.) ফুরায়আ বিনতে মালিক (রা.)-এর একক সংবাদের ভিত্তিতে বিধবা নারীর ইদ্দতকালীন বাসস্থানের বিষয়ে একটি সাধারণ বিধান সাব্যস্ত করেন। এই ধরনের উদাহরণ উল্লেখ করে শেষ করার মতো নয়, বরং এটি তাদের পক্ষ থেকে একটি সুবিদিত ঐক্যমত্য (إجماع)। এক্ষেত্রে এমনটি বলা যাবে না যে, এটি কেবল ধারণামূলক বিষয়াদির (الظنيات) ক্ষেত্রে একক ব্যক্তির বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল করার দলিল পেশ করে—আর আমরা তা অস্বীকারও করি না—কারণ আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে তারা ঐক্যমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন...
--------------------------------------------