(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: -)
عروس الأفراح في شرح تلخيص المفتاح   (السبكي، بهاء الدين)

القسم: البلاغة


الكتاب: عروس الأفراح في شرح تلخيص المفتاح

المؤلف: أحمد بن علي بن عبد الكافي، أبو حامد، بهاء الدين السبكي (ت 773 هـ)

المحقق: الدكتور عبد الحميد هنداوي

الناشر: المكتبة العصرية للطباعة والنشر، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2003 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو القعدة 1436

আরুসুল আফরাহ ফি শারহি তালখিসিল মিফতাহ   (আস-সুবকী, বাহাউদ্দিন)

বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)


গ্রন্থ: আরুসুল আফরাহ ফি শারহি তালখিসিল মিফতাহ

লেখক: আহমাদ বিন আলী বিন আব্দুল কাফি, আবু হামিদ, বাহাউদ্দিন আস-সুবকী (মৃত্যু ৭৭৩ হিজরি)

সম্পাদক: ডক্টর আব্দুল হামিদ হিন্দাউয়ী

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ লিত্তিবায়াতি ওয়ান নাশর, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ জুল ক্বাদাহ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: -)
كتاب

عروس الأفراح

في شرح تلخيص المفتاح

تأليف

الشيخ بهاء الدين السبكي

تحقيق

الدكتور عبد الحميد هنداوي

مدرس البلاغة والنقد الأدبي والأدب المقارن بكلية دار العلوم - جامعة القاهرة

[الجزء الأول]

المكتبة العصرية
গ্রন্থ

আরূসুল আফরাহ

'তালখিসুল মিফতাহ' গ্রন্থের ব্যাখ্যায়

রচনায়

শায়খ বাহাউদ্দীন আস-সুবকী

সম্পাদনায়

ডক্টর আব্দুল হামিদ হিন্দাওয়ী

কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম অনুষদের অলংকারশাস্ত্র, সাহিত্য সমালোচনা ও তুলনামূলক সাহিত্যের শিক্ষক

[প্রথম খণ্ড]

আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المحقق

الحمد لله الذى خص بهذا العلم قوما هم به قائمون، وجعلهم حفظة لكتابه حيث قال: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ

فلما جزم الله تعالى بحفظ كتابه من عوادى الدهر ونوازله، تكفل لأولى الألباب حفظه تعالى لهذه الطائفة ما بقى كتابه أبد الدهر.

فلا يخلو عصر من مجدد للبلاغة معيد لرونقها يجلو عنها ما علاها من غبرة الأخلاط، ولكنة الاختلاط.

ولقد مرت البلاغة بعصور مزهرة فاح عبيرها وشذاها فى كتب الأوائل، ولا زلنا نتنسم إلى اليوم نسيمها، ونعطر رسائلنا بعرفها وأريجها.

والبلاغة وإن تعددت مناهج الناس فى دراستها، واختلفت وتباينت مسالكهم إليها، فإن لها فى النهاية غاية واحدة، وهى الوقوف على وجوه جمال التعبير، ومعرفة أسرار الجمل والتراكيب.

لقد مرت البلاغة العربية فى مسيرتها بأطوار شتى اختلفت فيها دروب السالكين ومناهجهم وإن اتحد القصد - كما بينا - فتفاوتت تلك المناهج بين الذاتية والموضوعية وبين الأدبية والتجريدية، والكلامية والمنطقية، وبين الإيجاز والإطناب، الإيجاز الذى قد يصل إلى حدّ التعقيد، ويتسم بجفاف المادة، وقلة الشواهد، وندرة التحليل، والإطناب الذى يبالغ فى الشرح والإفصاح والإكثار من الشواهد والتحليلات كما رأينا عند ابن الأثير والعلوى على سبيل المثال.

كما تنوعت بين الميل إلى التجريد والتعقيد الشديد أو قل: التعقيد كما رأينا عند ابن قدامة وابن سنان والرازى وغيرهم.

وبين إرسال القول على عواهنه وإرخاء الزمام لخواطر العقل، وسوانح الفكر كما رأينا فى مصنفات الأقدمين.

ومنهم من سلك طريقة وسطا بين العناية بالتحليل ورونق التعبير، وحلاوة المنطق، وفصاحة التعبير
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি এই ইলম (জ্ঞান) দ্বারা এমন এক সম্প্রদায়কে বিশিষ্ট করেছেন যারা এর ধারক-বাহক, এবং তিনি তাদের তাঁর কিতাবের সংরক্ষণকারী বানিয়েছেন যেমনটি তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশবাণী (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।"

যেহেতু আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবকে কালের বিপর্যয় ও প্রতিকূলতা থেকে সংরক্ষণের অকাট্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাই তিনি প্রজ্ঞাবানদের জন্য এই দলটির সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যতদিন তাঁর কিতাব চিরকাল বিদ্যমান থাকবে।

কোনো যুগই অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন একজন সংস্কারক (মুজাদ্দিদ) থেকে শূন্য থাকে না, যিনি এর জৌলুস পুনরুদ্ধার করেন এবং এর ওপর পড়া বিজাতীয় সংমিশ্রণের ধুলিকণা ও জড়তা থেকে একে পরিচ্ছন্ন করেন।

অলঙ্কারশাস্ত্র অনেকগুলো প্রস্ফুটিত যুগের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে যার সুবাস ও সুঘ্রাণ পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে পড়েছে; আমরা আজও তার সেই সুবাতাস অনুভব করছি এবং আমাদের পত্রাবলিকে এর সুঘ্রাণ ও সুরভি দ্বারা সুবাসিত করছি।

অলঙ্কারশাস্ত্র অধ্যয়নে মানুষের পদ্ধতিসমূহ বহুবিধ হলেও এবং এর অভিমুখে তাদের পথসমূহ ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় হলেও, দিনশেষে এর লক্ষ্য একটাই; আর তা হলো অভিব্যক্তির সৌন্দর্যের দিকগুলো অনুধাবন করা এবং বাক্য ও গাঠনিক কাঠামোর রহস্যসমূহ উপলব্ধি করা।

আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র তার পথচলায় বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করেছে যেখানে পথিকদের পথ ও পদ্ধতি ভিন্ন ছিল যদিও উদ্দেশ্য অভিন্ন ছিল—যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি। ফলে সেই পদ্ধতিসমূহ ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও বিষয়ভিত্তিক, সাহিত্যিক ও বিমূর্ত, কালামশাস্ত্রীয় ও যৌক্তিক এবং সংক্ষিপ্ততা ও দীর্ঘতার মাঝে বৈচিত্র্যময় হয়েছে। এমন সংক্ষিপ্ততা যা অনেক সময় জটিলতার পর্যায়ে পৌঁছায় এবং যা বিষয়ের নীরসতা, নিদর্শনের স্বল্পতা ও বিশ্লেষণের বিরলতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত; আবার এমন দীর্ঘতা যা ব্যাখ্যা, বিশদ বর্ণনা এবং উদাহরণ ও বিশ্লেষণের আধিক্যে অত্যধিক প্রসারিত, যেমনটি আমরা উদাহরণস্বরূপ ইবনুল আসীর ও আল-আলাভীর ক্ষেত্রে দেখেছি।

তেমনি এটি বিমূর্তায়ন ও চরম জটিলতার দিকে ঝুঁকে পড়ার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্যময় হয়েছে, অথবা বলা যায়: জটিলতা—যেমনটি আমরা ইবনে কুদামা, ইবনে সিনান, আর-রাযী এবং অন্যদের ক্ষেত্রে দেখেছি।

এবং বক্তব্যকে সাবলীলভাবে ছেড়ে দেওয়া এবং চিন্তার উদয় ও ভাবনার কল্পনার লাগাম শিথিল করার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য এসেছে, যেমনটি আমরা প্রাচীনদের রচনাবলিতে দেখেছি।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিশ্লেষণের যত্ন এবং অভিব্যক্তির জৌলুস, যুক্তির মাধুর্য ও বাচনভঙ্গির সাবলীলতার মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وبين التعقيد والتجريد كما فعل عبد القاهر فى كتابه أسرار البلاغة، غير أنه قد اضطرب الزمام فى يده فى دلائل الإعجاز لانشغاله بالرد على متكلمة زمانه والسابقين عليه.

وبعد هذه المقدمة أقول:

إن لكل مرحلة إذا طبيعتها من حيث منهج التأليف سواء فى علوم البلاغة أو غيرها من العلوم، وإنه لمن الظلم الواضح البين أن نحاكم مؤلفات القرن الثامن الهجرى وما بعده - حيث شروح التلخيص والمفتاح على كثرتها - إلى المناهج الحديثة فى الدرس البلاغى، فلكل عصر طبيعته ومنهجه.

وينبغى ألا يصدنا ذلك عن الاهتمام بتحقيق تلك المصادر وتنقيحها وإعادة طبعها ونشرها على الوجه العلمى اللائق بها، حيث تبدو أهميتها فى كونها حلقة من حلقات التراث البلاغى الذى إن فقدنا حلقة منه انقطع إسناده إلينا.

وكما ينبغى على راوى الحديث أن يثبت سلسلة الإسناد بكل رواتها دون نظر إلى حالهم من حيث العدالة أو التجريح، فكذلك تقتضى الأمانة العلمية إظهار التراث البلاغى بكل حلقاته كما هى بما فيها من ضعف أو قوة.

وأخيرا نقول: إن هذه المؤلفات قد أثرت تأثيرا كبيرا فى الإنتاج اللاحق بها، ولا يمكن تفسير ذلك الإنتاج وفهمه على وجه الصواب، إلا بعد الاصطبار على تلك المصنفات ومحاولة فهمها واستيعابها مهما لقى الباحث فى سبيل ذلك من معاناة، وبذل من جهد.

ولذا فنحن نقدم لدارس البلاغة كتاب عروس الأفراح فى ثوب قشيب يليق بجلالته، وبما ترك من تأثير كبير فى التأليف البلاغى بعده، وبما أثاره من مباحث وقضايا عديدة فى التراث البلاغى.

ولقد ذاع صيت السبكى صاحب هذا الكتاب بمصنفه هذا، وبلغت شهرته الآفاق، فحرىّ بنا أن نقف على ما فيه حتى تكتمل لدينا حلقات تراثنا البلاغى وحتى يتصل إلينا إسناده على حقيقته من قوة أو ضعف.

هذا وقد حاولنا جهدنا فى ضبط الكتاب على نسخه القديمة العتيقة، مع مراجعة بعض نسخه المخطوطة بدار الكتب المصرية.
এবং জটিলতা ও বিমূর্তায়নের মাঝে, যেমনটি আব্দুল কাহের তার আসরারুল বালাগাহ গ্রন্থে করেছেন; তবে দালায়েলুল ইজায গ্রন্থে তার নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল হয়ে পড়েছিল, কারণ তিনি তার সমসাময়িক এবং পূর্ববর্তী ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের খণ্ডন করতে ব্যস্ত ছিলেন।

এই ভূমিকার পর আমি বলছি:

নিশ্চয়ই প্রতিটি পর্যায়ের রচনারীতির ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রকৃতি রয়েছে, তা অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) হোক বা অন্য কোনো বিজ্ঞান। হিজরি অষ্টম শতাব্দী এবং তার পরবর্তী সময়ের রচনাবলিকে—যেখানে তালখীস এবং মিফতাহের অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে—আধুনিক অলঙ্কারশাস্ত্রীয় অধ্যয়ন পদ্ধতির মানদণ্ডে বিচার করা স্পষ্টতই একটি অবিচার। কারণ প্রতিটি যুগের নিজস্ব প্রকৃতি ও পদ্ধতি থাকে।

আর এটি যেন আমাদের সেই উৎসগ্রন্থগুলোর সম্পাদনা, পরিমার্জন এবং সেগুলোকে যথাযথ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুনঃমুদ্রণ ও প্রকাশের গুরুত্ব থেকে বিমুখ না করে। কেননা এর গুরুত্ব এই যে, এগুলো অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ঐতিহ্যের একটি ধারাবাহিক শিকল; যদি এর একটি অংশও আমরা হারিয়ে ফেলি, তবে আমাদের কাছে এর সূত্রের ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

যেভাবে হাদিস বর্ণনাকারীর জন্য উচিত হলো বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা বা ত্রুটি-বিচ্যুতি বিবেচনা না করেই সনদের ধারাবাহিকতা সাব্যস্ত করা, ঠিক তেমনি বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার দাবি হলো অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ঐতিহ্যকে তার সমস্ত ধারাসহ উপস্থাপন করা, তাতে দুর্বলতা থাকুক বা সবলতা।

পরিশেষে আমরা বলি: নিশ্চয়ই এই রচনাবলি পরবর্তী জ্ঞানতাত্ত্বিক উৎপাদনের ওপর বিশাল প্রভাব বিস্তার করেছে। সেই পরবর্তী কাজগুলোকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা এবং বোঝা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না এই মূল গ্রন্থগুলোর ওপর ধৈর্য ধারণ করা হয় এবং সেগুলো অনুধাবন ও আত্মস্থ করার চেষ্টা করা হয়, চাই গবেষককে এই পথে যত কষ্টই পোহাতে হোক এবং যত পরিশ্রমই করতে হোক না কেন।

তাই আমরা অলঙ্কারশাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের নিকট 'আরূসুল আফরাহ' গ্রন্থটি একটি চমৎকার নতুন অবয়বে উপস্থাপন করছি, যা এর মর্যাদার অনুকূল এবং এর পরবর্তী অলঙ্কারশাস্ত্রীয় রচনার ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ও এই ঐতিহ্যে এটি যেসব অসংখ্য আলোচনা ও সমস্যার অবতারণা করেছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই গ্রন্থের লেখক আস-সুবকী এই রচনার মাধ্যমে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন এবং তার খ্যাতি দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে। অতএব আমাদের জন্য এটি আবশ্যক যে, আমরা এতে যা আছে তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি, যাতে আমাদের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা পূর্ণতা পায় এবং এর সবলতা বা দুর্বলতার প্রকৃত রূপসহ এর সূত্র আমাদের নিকট পৌঁছে।

আর আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি গ্রন্থটিকে এর প্রাচীন কপিগুলোর ভিত্তিতে সুসংহত করতে এবং সেই সাথে মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ সংরক্ষিত এর কিছু পাণ্ডুলিপির সাথেও মিলিয়ে দেখতে।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
كما قمنا بتفقيره ووضع علامات الترقيم حيث جاءت طبعاته السابقة خلوا من تلك العلامات تماما، فاختلط شعره بنثره، ومتنه بشرحه، وامتلأ بالتصحيفات والأخطاء، فحاولنا إصلاح ذلك ما أمكن، كذلك فقد اعتنينا بتخريج شواهده القرآنية والحديثية والشعرية.

ووضعنا كتاب التلخيص متنا له، وذلك لصعوبة وصول القارئ إلى بغيته من شرح ما يبتغى من متنه لتداخل بعضه ببعض.

هذا، والله نسأل أن يغفر لنا زلاتنا، وأن يجزل لنا المثوبة، وأن ينفع به من شاء من عباده، إنه تعالى هو نعم المولى ونعم النصير.

وكتبه/ عبد الحميد هنداوى مدرس البلاغة والنقد الأدبى بكلية دار العلوم جامعة القاهرة الجيزة فى 15/ 3 / 1421 هـ
আমরা একে অনুচ্ছেদবিভক্ত করেছি এবং যতিচিহ্ন প্রদান করেছি; যেহেতু এর পূর্ববর্তী সংস্করণগুলো এই সকল চিহ্ন থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ছিল, ফলে এর কবিতা গদ্যের সাথে এবং মূলপাঠ (মতন) ব্যাখ্যাগ্রন্থের (শারহ) সাথে মিশে গিয়েছিল এবং তা বর্ণাশুদ্ধি ও ত্রুটিতে পূর্ণ ছিল। আমরা যথাসম্ভব তা সংশোধনের চেষ্টা করেছি। একইভাবে, আমরা এর কুরআনি, হাদিসভিত্তিক এবং কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের উৎস নির্দেশ করার (তাখরিজ) ব্যাপারে যত্নবান হয়েছি।

আর আমরা 'কিতাবুত তালখিস'কে এর মূলপাঠ হিসেবে স্থাপন করেছি, কারণ মূলপাঠ ও ব্যাখ্যার পরস্পর সংমিশ্রণের ফলে পাঠকের জন্য মূলপাঠ থেকে তার কাঙ্ক্ষিত ব্যাখ্যা খুঁজে বের করা কঠিন ছিল।

এই হলো নিবেদন, আর আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন, আমাদের প্রতিদানকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেন এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাঁর জন্য তিনি ইচ্ছা করেন একে উপকারি করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি মহান, তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।

এটি লিখেছেন— আব্দুল হামিদ হিন্দাউয়ি, অলঙ্কারশাস্ত্র ও সাহিত্য সমালোচনা বিষয়ের শিক্ষক, কুল্লিয়াতু দারিল উলুম, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়, গিজা। ১৫/ ০৩/ ১৪২১ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌خطة التحقيق

1 - قمنا بضبط النص على مخطوطة الكتاب المحفوظة بدار الكتب المصرية.

2 - قمنا بترقيمه بعلامات الترقيم المناسبة.

3 - تخريج الشواهد القرآنية.

4 - تخريج الشواهد الحديثية فى كتب الحديث المشهورة.

5 - تخريج الشواهد الشعرية فى دواوينها ومصادرها لا سيما كتب الأدب وكتب التراث البلاغى.

6 - شرح معانى الألفاظ الغريبة.

7 - الترجمة لأعلام البلاغة المذكورين فى الكتاب.

8 - ترجمنا ترجمة مختصرة لكل من الخطيب القزوينى صاحب التلخيص والسبكى صاحب عروس الأفراح.

9 - وضع متن التلخيص أعلى الصفحة وعروس الأفراح كالشرح عليه أسفل الصفحة.

10 - الفهارس العلمية الشاملة للموضوعات وللشواهد القرآنية الشعرية.
সম্পাদনা পরিকল্পনা

১ - আমরা মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ সংরক্ষিত এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী পাঠ্যটি সুবিন্যস্ত করেছি।

২ - আমরা পাঠ্যটিতে যথাযথ বিরামচিহ্ন সংযোজন করেছি।

৩ - কুরআনের দলীলগুলোর সূত্রনির্দেশ করা হয়েছে।

৪ - প্রসিদ্ধ হাদীসগ্রন্থসমূহ হতে হাদীসের দলীলগুলোর সূত্রনির্দেশ করা হয়েছে।

৫ - কাব্যগ্রন্থ ও সংশ্লিষ্ট উৎসসমূহ, বিশেষ করে সাহিত্য ও অলঙ্কারশাস্ত্রের ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থসমূহ হতে কাব্যিক দলীলগুলোর সূত্রনির্দেশ করা হয়েছে।

৬ - কঠিন শব্দগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

৭ - গ্রন্থে উল্লিখিত অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রথিতযশা ইমামগণের জীবনী আলোচনা করা হয়েছে।

৮ - আমরা 'আত-তালখীস' প্রণেতা খতীব আল-কাযওয়িনী এবং 'আরূসুল আফরাহ' প্রণেতা আস-সুবকী—উভয়ের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রস্তুত করেছি।

৯ - পৃষ্ঠার উপরের অংশে 'আত-তালখীস'-এর মূল পাঠ্য এবং নিচের অংশে ব্যাখ্যা হিসেবে 'আরূসুল আফরাহ' স্থাপন করা হয়েছে।

১০ - বিষয়বস্তু এবং কুরআনিক ও কাব্যিক দলীলসমূহের একটি পূর্ণাঙ্গ ও জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ترجمة جلال الدين القزوينى صاحب" التلخيص"

‌‌اسمه ونسبه:

هو محمد بن عبد الرحمن بن عمر بن أحمد بن محمد بن عبد الكريم بن الحسن بن على بن إبراهيم بن على بن أحمد بن دلف بن أبى دلف العجلى القزوينى جلال الدين أبو المعالى بن سعد الدين بن أبى القاسم بن إمام الدين الشافعى العلامة.

 

‌‌ولادته ونشأته:

ولد سنة ست وستين وستمائة 666 هـ وسكن الروم مع والده وأخيه واشتغل وتفقه حتى ولى قضاء ناحية بالروم وله دون العشرين، ثم قدم هو وأخوه أيام التتر من بلادهم إلى دمشق.

 

‌‌صفته:

كان فهما ذكيّا مفوها حسن الإيراد جميل الذات والهيئة والمكارم، وكان جميل المحاضرة حسن الملتقى حلو العبارة حاد الذهن جيد البحث منصفا، فيه مع الذكاء والذوق فى الأدب حسن الخط.

وكان جوادا صرف مال الأوقاف على الفقراء والمحتاجين. وكان مليح الصورة فصيح العبارة كبير الذقن موطأ الأكناف جم الفضيلة يحب الأدب ويحاضر به ويستحضر نكته.

 

‌‌طلبه للعلم ومشايخه:

سمع من العز الفاروتى (1) وطائفة وأخذ عن الأيكى وغيره وخرج له البرزالى جزءا من حديثه وحدث به وتفقه واشتغل فى الفنون وأتقن الأصول والعربية والمعانى والبيان.

وكان يرغب الناس فى الاشتغال بأصول الفقه وفى المعانى والبيان.

--------------------------------------------

(1) كذا فى الدرر الكامنة، وفى بغية الوعاة: الفاروثى، وفى مفتاح السعادة: الفاروقى.
‌'তালখিস' রচয়িতা জালালুদ্দিন আল-কাজউইনির জীবনী

‌‌তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন উমর বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম বিন আল-হাসান বিন আলী বিন ইব্রাহিম বিন আলী বিন আহমাদ বিন দুলফ বিন আবু দুলফ আল-ইজলি আল-কাজউইনি জালালুদ্দিন আবুল মাআলি বিন সাদউদ্দিন বিন আবুল কাসিম বিন ইমামুদ্দিন আশ-শাফিঈ আল-আল্লামা।

 

‌‌তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

তিনি ৬৬৬ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতা ও ভ্রাতার সাথে রোম অঞ্চলে বসবাস করেন। তিনি সেখানে জ্ঞানচর্চা ও ফিকহ শাস্ত্রের অনুশীলনে আত্মনিয়োগ করেন, এমনকি বিশ বছরের কম বয়সেই তিনি রোমের একটি অঞ্চলের বিচারকের (কাজী) দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তাতারদের আক্রমণের সময় তিনি ও তাঁর ভ্রাতা নিজ দেশ থেকে দামেস্কে হিজরত করেন।

 

‌‌তাঁর গুণাবলি:

তিনি প্রখর অনুধাবন শক্তি সম্পন্ন মেধাবী, সুবক্তা ও চমৎকার উপস্থাপনার অধিকারী ছিলেন। তাঁর সত্তা, অবয়ব এবং চরিত্র ছিল অত্যন্ত মাধুর্যমণ্ডিত। তিনি ছিলেন মনোমুগ্ধকর আলোচনার অধিকারী, সদালাপী, মিষ্টভাষী, তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী, নিপুণ গবেষক এবং অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ। প্রখর মেধা ও উন্নত রুচির পাশাপাশি তাঁর হস্তাক্ষর ছিল অত্যন্ত সুন্দর।

তিনি দানশীল ছিলেন এবং ওয়াকফকৃত সম্পদ দরিদ্র ও অভাবীদের কল্যাণে ব্যয় করতেন। তিনি সুদর্শন অবয়ব ও প্রাঞ্জল ভাষার অধিকারী ছিলেন। তাঁর দাড়ি ছিল দীর্ঘ, তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক ও অসীম গুণাবলির আধার। তিনি সাহিত্য পছন্দ করতেন, সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করতেন এবং সাহিত্যের সূক্ষ্ম রসগুলো স্মৃতিতে ধরে রাখতেন।

 

‌‌তাঁর ইলম অন্বেষণ ও শিক্ষকগণ:

তিনি ইজ্জুল ফারুতি (১) ও একদল উলামার নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং আল-আইকি ও অন্যদের নিকট থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেছেন। আল-বারজালি তাঁর বর্ণিত হাদিসের একটি অংশ সংকলন করেছেন এবং তিনি তা বর্ণনা করেছেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন ও বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে তিনি উসুল, আরবি ভাষা এবং মানি ও বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) শাস্ত্রে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন।

তিনি মানুষকে উসুলে ফিকহ এবং মানি ও বায়ান শাস্ত্র অধ্যয়নে উৎসাহিত করতেন।

--------------------------------------------

(১) 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' গ্রন্থে এভাবেই আছে, 'বুগইয়াতুল উয়াত' গ্রন্থে এসেছে: আল-ফারুসি, এবং 'মিফতাহুস সাআদাহ' গ্রন্থে এসেছে: আল-ফারুকি।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ولى القضاء فى ناحية الروم ثم دمشق ثم مصر ثم دمشق، وخطب بجامع القلعة لما أتى مصر بأمر من السلطان.

قال عنه صاحب كشف الظنون:" المعروف بخطيب دمشق" ولعل هذا سبب شهرته بالخطيب القزوينى، وكان يفتى كثيرا.

 

‌‌مصنفاته:

قال ابن كثير:" له مصنفات فى المعانى، مصنف مشهور اسمه التلخيص اختصر فيه المفتاح للسكاكى". وهو من أجل المختصرات فيه كما قال السيوطى. وله: إيضاح التلخيص، والسور المرجانى من شعر الأرجانى.

 

‌‌وفاته:

قال ابن حجر:" قال الذهبى: مات فى منتصف جمادى الأولى سنة 739 هـ وشيعه عالم عظيم وكثر التأسف عليه وسيرته تحتمل كراريس وما كل ما يعلم يقال. هذا كلام الذهبى على عادته فى الرمز إلى الحط على من يخشى غائلة التصريح فيه". اه كلام ابن حجر.

وقال الحافظ ابن كثير:" دفن بالصوفية .. وكان عمره قريبا من السبعين أو جاوزها" (1).

--------------------------------------------

(1) راجع ترجمته فى الدرر الكامنة لابن حجر (4/ 3، 4)، والبداية والنهاية للحافظ ابن كثير (14/ 185)، وبغية الوعاة للسيوطى (1/ 156،

157)، ومفتاح السعادة لطاش كبرى زاده (1/ 194) والأعلام (6/ 192)، وكشف الظنون (1/ 473).
তিনি রোম অঞ্চলে, এরপর দামেস্কে, এরপর মিশরে এবং পুনরায় দামেস্কে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। সুলতানের নির্দেশে মিশরে আসার পর তিনি কেল্লার জামে মসজিদে খুতবা প্রদান করেন।

‘কাশফুয যুনুন’-এর লেখক তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি দামেস্কের খতিব নামে পরিচিত ছিলেন।" সম্ভবত এ কারণেই তিনি খতিব আল-কাযউইনী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি প্রচুর ফতোয়া দিতেন।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

ইবনে কাসীর বলেন: "ইলমুল মাআনীতে তাঁর কতিপয় গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থের নাম ‘আত-তালখিস’, যাতে তিনি সাক্কাকীর ‘আল-মিফতাহ’কে সংক্ষিপ্ত করেছেন।" সুয়ূতী যেমনটি বলেছেন, এটি এই বিষয়ের শ্রেষ্ঠতম সংক্ষিপ্তসারগুলোর একটি। এছাড়াও তাঁর রয়েছে: ‘ঈযাহুত তালখিস’ এবং ‘আস-সুরুল মারজানী মিন শিরাল আরজানী’।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

ইবনে হাজার বলেন: "যাহাবী বলেছেন: তিনি ৭৩৯ হিজরির জুমাদাল উলা মাসের মাঝামাঝিতে ইন্তেকাল করেন। একটি বিশাল জনতা তাঁর জানাজায় শরিক হয় এবং তাঁর বিদায়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর জীবনচরিত নিয়ে অনেক খণ্ড লিখা সম্ভব, তবে যা জানা যায় তার সবকিছুই বলা হয় না। যাহাবীর এই মন্তব্যটি তাঁর স্বভাবসুলভ ইঙ্গিতপূর্ণ কথা, যা তিনি সাধারণত এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন যার সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বিরূপ মন্তব্য করলে বিপদের আশঙ্কা থাকে।" ইবনে হাজারের কথা এখানেই শেষ।

এবং হাফেজ ইবনে কাসীর বলেন: "তাঁকে সুফিয়া কবরস্থানে দাফন করা হয়... তাঁর বয়স সত্তর বছর বা এর কাছাকাছি ছিল।" (১)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: ইবনে হাজারের ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (৪/ ৩, ৪); হাফেজ ইবনে কাসীরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (১৪/ ১৮৫); সুয়ূতীর ‘বুগয়াতুল উয়াত’ (১/ ১৫৬, ১৫৭); তাশ কুবরি জাদাহর ‘মিফতাহুস সাআদাহ’ (১/ ১৯৪); ‘আল-আলাম’ (৬/ ১৯২) এবং ‘কাশফুয যুনুন’ (১/ ৪৭৩)।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ترجمة بهاء الدين السبكى صاحب شرح عروس الأفراح

‌‌اسمه ونسبه ونسبته:

أحمد بن علىّ بن عبد الكافى بن على بن تمّام بن يوسف بن موسى بن تمّام بن حامد بن يحيى بن عمر بن عثمان بن على بن مسوار بن سوّار بن سليم السّبكى.

هكذا ساق أخوه تاج الدين نسب والده فى الطبقات الكبرى (1)، ووقع فى بعض المراجع" سوار" مكان" مسوار"؛ قال محققا الطبقات (2):" وضبطناه بكسر فسكون، وما بعده بفتح فتشديد من الطبقات الوسطى" اه. والطبقات الوسطى من تأليف تاج الدين أيضا وفى بعض المراجع تصحيفات أخرى، انظر الدرر (الكرنكوى ج 1 ص 210).

وأمّا نسبته" السبكى" فهى إلى" سبك" الواقعة فى المنوفية، وهى موجودة إلى الآن، غير أن اسمها" سبك العبيد" وهى الآن سبك الأحد أو سبك العويضات، وفى محافظة المنوفية أيضا" سبك الثلاثاء" وكانت تعرف قديما ب" سبك الضحاك"، أما البيت السّبكى الذى نترجم لواحد منهم فمنسوب إلى" سبك العبيد" أو" سبك الأحد" كما يسمى الآن؛ قال السيد محمد مرتضى الحسينى الزبيدى، نزيل مصر، فى تاج العروس من جواهر القاموس (سبك) (3):" (وسبك الضحاك بالضمة بمصر) (4) من أعمال المنوفية، وهى المعروفة الآن بسبك الثلاثاء، وقد دخلتها وبت بها ليلتين".

" (وسبك العبيد) قرية أخرى بها من المنوفية أيضا، وقد دخلتها مرارا عديدة، وهى تعرف الآن بسبك الأحد وبسبك العويضات منها شيخنا تقى الدين على بن عبد الكافى بن على بن تمام

--------------------------------------------

(1) ج 10 / ص 139.

(2) الأستاذ الدكتور/ محمود الطناحى والأستاذ الدكتور/ عبد الفتاح الحلو رحمهما الله تعالى.

(3) ج 7 ص 140.

(4) التاء المربوطة يرمز بها إلى القرية.
‘আরূসুল আফরাহ’ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের রচয়িতা বাহাউদ্দিন আস-সুবকীর জীবনী

তাঁর নাম, বংশপরিচয় এবং নিসবত (সম্বন্ধ):

আহমদ বিন আলী বিন আব্দুল কাফী বিন আলী বিন তাম্মাম বিন ইউসুফ বিন মূসা বিন তাম্মাম বিন হামিদ বিন ইয়াহইয়া বিন উমর বিন উসমান বিন আলী বিন মিসওয়ার বিন সাওয়ার বিন সালিম আস-সুবকী।

তাঁর ভাই তাজউদ্দীন ‘আত-তাবাকাত আল-কুবরা’ (১) গ্রন্থে তাঁর পিতার বংশধারা এভাবেই উল্লেখ করেছেন। কিছু তথ্যসূত্রে ‘মিসওয়ার’-এর পরিবর্তে ‘সাওয়ার’ শব্দটির প্রয়োগ দেখা যায়; তাবাকাত গ্রন্থের দুই সম্পাদক (২) বলেছেন: “আমরা এটি ‘তাবাকাত আল-উস্তা’ গ্রন্থ অনুসারে প্রথম বর্ণে কাসরা ও দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন, এবং পরবর্তী বর্ণে ফাতহা ও তাশদীদ সহযোগে লিপিবদ্ধ করেছি।” সমাপ্ত। ‘তাবাকাত আল-উস্তা’ গ্রন্থটিও তাজউদ্দীন কর্তৃক রচিত এবং কিছু তথ্যসূত্রে অন্যান্য অনুলিপিগত ভুলও পরিলক্ষিত হয়, দেখুন আদ-দুরার (আল-কারনাকুয়ী ১ম খণ্ড, ২১০ পৃষ্ঠা)।

আর তাঁর নিসবত ‘আস-সুবকী’ মূলত মিনুফিয়া প্রদেশে অবস্থিত ‘সুবক’ নামক স্থানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা আজও বিদ্যমান। তবে এর নাম ছিল ‘সুবক আল-আবিদ’, যা বর্তমানে ‘সুবক আল-আহাদ’ বা ‘সুবক আল-উওয়াইদাত’ নামে পরিচিত। মিনুফিয়া প্রদেশে ‘সুবক আস-সালাসা’ নামেও একটি স্থান রয়েছে যা প্রাচীনকালে ‘সুবক আদ-দাহহাক’ নামে পরিচিত ছিল। তবে সুবকী পরিবারের যে সদস্যের জীবনী আমরা আলোচনা করছি, তিনি ‘সুবক আল-আবিদ’ বা বর্তমান নাম অনুযায়ী ‘সুবক আল-আহাদ’-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। মিশরের অধিবাসী সাইয়্যিদ মুহাম্মদ মুরতাদা আল-হুসাইনী আয-যাবিদী তাঁর ‘তাজুল আরূস মিন জাওয়াহিরিল কামুস’ (সুবক অধ্যায়) (৩) গ্রন্থে বলেছেন: “(পেশ যোগে সুবক আদ-দাহহাক মিশরে অবস্থিত) (৪) মিনুফিয়া প্রদেশের অন্তর্গত একটি এলাকা। এটি বর্তমানে সুবক আস-সালাসা নামে পরিচিত, আমি সেখানে গিয়েছি এবং দুই রাত সেখানে অতিবাহিত করেছি।”

“(সুবক আল-আবিদ) মিনুফিয়ার অন্তর্গত অন্য একটি গ্রাম, সেখানেও আমি বহুবার গিয়েছি। বর্তমানে এটি সুবক আল-আহাদ এবং সুবক আল-উওয়াইদাত নামে পরিচিত। আমাদের শাইখ তাকীউদ্দীন আলী বিন আব্দুল কাফী বিন আলী বিন তাম্মাম এই স্থানেরই অধিবাসী।”

--------------------------------------------

(১) ১০ম খণ্ড / ১৩৯ পৃষ্ঠা।

(২) প্রফেসর ডক্টর মাহমুদ আত-তানাহী এবং প্রফেসর ডক্টর আব্দুল ফাত্তাহ আল-হিলু, আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন।

(৩) ৭ম খণ্ড, ১৪০ পৃষ্ঠা।

(৪) ‘তা-মারবুতা’ (ة) চিহ্নটি দ্বারা গ্রাম বোঝানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
قاضى القضاة، أبو الحسن السبكى، شافعى الزمان، وحجة الأوان … " (1).

وينسب السّبكية إلى الأنصار، رضى الله عنهم. قال تاج الدين فى (طبقات الشافعية الكبرى) (2):" نقلت من خط

الجد رحمه الله نسبتنا معاشر السبكية إلى الأنصار رضى الله عنهم".

وقد رأيت الحافظ النّسابة شرف الدين الدّمياطى رحمه الله يكتب بخطه للشيخ الإمام الوالد رحمه الله: الأنصارى الخزرجى.

وصورة ما نقل من خط الجد: حدثنا الصاحب بهاء الدين أبو الفضائل تمّام، الوزير المالكى المذهب، ولد يوسف بن موسى بن تمام بن حامد بن يحيى بن عمر بن عثمان بن على بن مسوار ابن سوار بن سليم بن أسلم الأنصارى الخزرجى …

وهو عن مسوّدات بخطّ الجدّ رحمه الله وذكر بعده النسبة إلى آدم عليه السلام، ثم قال فى آخره: وقد نقلت هذا من خط الفقيه الفاضل الحافظ شرف الدين محمد بن المخلص بن أسلم السّنهورىّ، فى سنة اثنتين وخمسين وستمائة …

ولم يكتب الشيخ الإمام رحمه الله بخطه لنفسه: الأنصارىّ، قطّ، وإن كان شيخه الدّمياطى يكتبها له، وإنما كان يترك الشيخ الإمام كتابة ذلك؛ لوفور عقله، ومزيد ورعه، فلا يرى أن يطرق نحوه طعن من المنكرين، ولا أن يكتبها مع احتمال عدم الصحة، خشية أن يكون قد دعا نفسه إلى قوم وليس منهم.

وقد كانت الشعراء يمدحونه، ولا يخلون قصائدهم من ذكر نسبته إلى الأنصار، وهو لا ينكر ذلك عليهم، وكان رحمه الله أورع وأتقى من أن يسكت على ما يعرفه باطلا … اه.

ثم ذكر تاج الدين أمثلة من الشعر فيها ذكر تلك النسبة، وسكوت الشيخ تقى الدين، وإقراره

--------------------------------------------

(1) ونسبة السبكى إلى سبك العبيد التى هى سبك الأحد الآن، هو ما حقق صحته الأستاذ/ محمد الصادق حسين فى كتابه القيم" البيت السبكى"، ورد القول بأنها سبك الضحاك أو سبك الثلاثاء، فراجعه إن شئت، والكتاب المذكور فيه فوائد جليلة وإن كنت أرى أيضا فيه بعض التسرع فى الحكم على بهاء الدين السبكى وأيضا على سلاطين المماليك، والحق هو ما كتبه الأستاذ/ محمود رزق سليم فى موسوعته القيمة:" عصر سلاطين المماليك ونتاجه العلمى والأدبى" انظر فيه - على سبيل المثال - المجلد الثالث ص 16 - 86، ثم - على وجه الخصوص - ص 21 - 25.

(2) 10/ 91 - 94.
প্রধান বিচারপতি, আবুল হাসান আস-সুবকী, যুগের শাফেয়ী এবং বর্তমান সময়ের প্রমাণ … " (১)।

সুবকীগণ আনসারদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সাথে সম্পর্কিত। তাজউদ্দীন (তাবাকাতুশ শাফেয়ীয়্যাহ আল-কুবরা)-তে (২) বলেন: "আমি আমার

দাদা (রহিমাহুল্লাহ)-এর হাতের লেখা থেকে আমাদের সুবকী সম্প্রদায়ের বংশধারা আনসারদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) দিকে স্থানান্তর করেছি।"

আমি হাফেজ বংশতত্ত্ববিদ শরফুদ্দীন আদ-দামইয়াতী (রহিমাহুল্লাহ)-কে তাঁর নিজের হাতের লেখায় শাইখ ইমাম পিতার (রহিমাহুল্লাহ) জন্য লিখতে দেখেছি: আল-আনসারী আল-খাজরাজী।

দাদার হস্তলিপি থেকে যা নকল করা হয়েছে তার রূপ হলো: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আস-সাহিব বাহাউদ্দীন আবুল ফাদাইল তাম্মাম, মালেকী মাযহাবের উজির, ইউসুফ ইবনে মূসা ইবনে তাম্মাম ইবনে হামিদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমর ইবনে উসমান ইবনে আলী ইবনে মিসওয়ার ইবনে সাওয়ার ইবনে সালীম ইবনে আসলাম আল-আনসারী আল-খাজরাজী …

এটি দাদা (রহিমাহুল্লাহ)-এর হাতের লেখার খসড়া থেকে গৃহীত এবং এরপর তিনি আদম (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত বংশধারা উল্লেখ করেছেন। তারপর তিনি এর শেষে বলেছেন: আমি এটি ফকিহ, বিজ্ঞ হাফেজ শরফুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনুল মুখলিস ইবনে আসলাম আস-সানহুরী-এর হস্তলিপি থেকে ৬৫২ হিজরি সালে নকল করেছি …

শাইখ ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) নিজের জন্য নিজের হাতের লেখায় কখনো 'আল-আনসারী' লিখতেন না, যদিও তাঁর উস্তাদ আদ-দামইয়াতী তাঁর জন্য এটি লিখতেন। শাইখ ইমাম এটি লেখা ত্যাগ করতেন তাঁর প্রজ্ঞা ও চরম তাকওয়ার কারণে। তিনি চাইতেন না যে অস্বীকারকারীদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি আসুক, আর সঠিক না হওয়ার সামান্যতম সম্ভাবনা থাকাবস্থায় তিনি তা লিখতে চাইতেন না, এই ভয়ে যে তিনি নিজেকে এমন এক কওমের দিকে সম্বন্ধ করে ফেলেন যাদের অন্তর্ভুক্ত তিনি নন।

কবিগণ তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁদের কবিতায় তাঁর বংশধারাকে আনসারদের সাথে সম্পৃক্ত করতেন। তিনি তাদের এটি করতে নিষেধ করতেন না। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এতটা পরহেজগার ও মুত্তাকী ছিলেন যে, কোনো কিছুকে বাতিল বা ভুল জানা সত্ত্বেও সে বিষয়ে চুপ থাকবেন, এমনটা হতে পারে না … সমাপ্ত।

এরপর তাজউদ্দীন কবিতার এমন কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন যেখানে এই বংশীয় সম্পর্কের উল্লেখ আছে এবং শাইখ তাকীউদ্দীন এতে নীরব থেকেছেন ও স্বীকৃতি দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) 'আস-সুবকী' সম্বন্ধটি 'সুবকুল উবীদ'-এর দিকে, যা বর্তমানে 'সুবকুল আহাদ' নামে পরিচিত। এটি উস্তাদ মুহাম্মদ সাদিক হুসাইন তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ 'আল-বাইতুস সুবকী'-তে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি এই মতটি খণ্ডন করেছেন যে এটি 'সুবকুদ দাহহাক' বা 'সুবকুল সুলাসা'। আপনি চাইলে সেখানে দেখে নিতে পারেন। উল্লিখিত কিতাবটিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে, যদিও আমি মনে করি বাহাউদ্দীন সুবকী এবং মামলুক সুলতানদের বিচার করার ক্ষেত্রে সেখানে কিছুটা তড়িঘড়ি করা হয়েছে। সঠিক বিষয় সেটিই যা উস্তাদ মাহমুদ রিজক সালিম তাঁর মূল্যবান বিশ্বকোষ 'আসরু সালাতীনিল মামালিক ওয়া নাতাজুহু আল-ইলমি ওয়াল আদবি'-তে লিখেছেন। দেখুন - উদাহরণস্বরূপ - তৃতীয় খণ্ড ১৬-৮৬ পৃষ্ঠা, বিশেষত ২১-২৫ পৃষ্ঠা।

(২) ১০/ ৯১ - ৯৪।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
على ذلك.

وخلاصة الأمر أن تقى الدين السبكى لم يكن ينكر نسبته إلى الأنصار - رضى الله عنهم - وهو أيضا لم يكن

يجزم بها جزما، وإنما يرى احتمالا لعدم صحتها، وهذا مذهب الذين ترجموا له فى الجملة، وبعضهم جزم بها كالشيخ الأديب صلاح الدين أبى الصفاء خليل بن أيبك الصّفدى فى كتابه" أعيان العصر" (1).

 

‌‌الأسر البارزة:

عرف تاريخ الإسلام أسرا اشتهر أفرادها بالعلم، كما عرف أسرا اشتهر أفرادها بالشجاعة، أو الحكمة … ، وقال الأستاذ/ محمود رزق سليم فى موسوعته (عصر سلاطين المماليك ونتاجه العلمى والأدبى) (2):

" أشرقت فى أفق هذا العصر أسر عدة من صميم الأمة أنجبت، ونبغ منها رجال خدموا الدولة فى مصر، أو الشام خدمات جليلة، سواء أكان ذلك فى وظائف الجيش أو الإدارة أو القضاء أو الكتابة، أو فى العلم والأدب.

والبحث عن هذه الأسر ونجائبها وذكر مآثرهم بحث طريف، يحتاج إلى عناية مستقلة يبذلها أحد الأدباء".

ثم ذكر أسرة السبكى ضمن ما ذكر.

 

‌‌والده (3):

على بن عبد الكافى: سبق سياق نسبه، أول من ذاع صيته فى العالم الإسلامى من علماء السبكية، ذاع صيته فى مصر والشام والعراق والحجاز، وإن عرف بالعلم من السبكية قبله من أب وقريب، لكن لم ينتشر ذكر أحد منهم كما انتشر ذكر تقى الدين أبى الحسين شيخ الإسلام.

أراد الله به خيرا فى طلب العلم، فقدّر له أبوين صابرين على تعليمه، وقدّر له نفسا صابرة

--------------------------------------------

(1) عن الطبقات الكبرى 10/ 157.

(2) ج 2 ص 357.

(3) من مصادر ترجمته: البداية والنهاية 14/ 252، البدر الطالع 1/ 467، بغية الوعاة 2/ 176، تذكرة الحفاظ 4/ 1507، حسن المحاضرة 1/ 321 وقبل كل هذا الطبقات الكبرى لابنه تاج الدين ج 10، وانظر مصادر أخرى فى حاشية الطبقات.
এর ওপর।

সারকথা হলো, তাকিউদ্দীন আস-সুবকি আনসারদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) প্রতি তাঁর বংশীয় সম্পৃক্ততাকে অস্বীকার করেননি, আবার তিনি একে নিশ্চিতভাবে দৃঢ়তার সাথেও ব্যক্ত করেননি। বরং তিনি এর সঠিক না হওয়ার একটি সম্ভাবনা দেখতেন। এটিই মূলত তাঁদের অভিমত যারা তাঁর জীবনী লিখেছেন। তবে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একে নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেমনটি করেছেন সাহিত্যিক শায়খ সালাহুদ্দীন আবুস সাফা খলিল ইবনে আইবেক আস-সাফাদি তাঁর 'আইয়ানুল আসর' (১) গ্রন্থে।

 

‌‌বিশিষ্ট পরিবারসমূহ:

ইসলামের ইতিহাস এমন কিছু পরিবারের সাথে পরিচিত হয়েছে যাদের সদস্যরা ইলমের জন্য সুপরিচিত ছিলেন, তেমনি এমন কিছু পরিবারের সাথেও পরিচিত হয়েছে যাদের সদস্যরা বীরত্ব বা প্রজ্ঞার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন... , এবং উস্তাদ মাহমুদ রিযক সালিম তাঁর বিশ্বকোষ 'আসরু সালাতিনিল মামালিক ওয়া নাতাজুহুল ইলমি ওয়াল আদাবি' (২)-তে বলেছেন:

"এই যুগের দিগন্তে উম্মাহর গভীর থেকে বেশ কিছু পরিবার উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, যারা এমন সব সন্তানদের জন্ম দেয় এবং তাদের মধ্য থেকে এমন সব ব্যক্তি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন যারা মিসর বা শামে রাষ্ট্রের মহান সেবা আঞ্জাম দিয়েছেন; হোক তা সেনাবাহিনী, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, লেখনী অথবা ইলম ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে।

এই সব পরিবার ও তাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্পর্কে অনুসন্ধান করা এবং তাদের কীর্তিগুলো উল্লেখ করা একটি চমৎকার গবেষণা, যার জন্য কোনো সাহিত্যিকের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র মনোযোগ প্রয়োজন।"

এরপর তিনি যা কিছু উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে সুবকি পরিবারের কথা উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌তাঁর পিতা (৩):

আলী ইবনে আব্দুল কাফি: তাঁর বংশপরম্পরার বর্ণনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তিনি সুবকি ওলামাদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যার সুখ্যাতি ইসলামি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাঁর খ্যাতি মিসর, শাম, ইরাক ও হিজাজে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও তাঁর পূর্বে তাঁর পিতা ও নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে সুবকি বংশের কেউ কেউ ইলমের জন্য পরিচিত ছিলেন, কিন্তু তাঁদের কারো আলোচনা শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল হুসাইন-এর মতো ছড়িয়ে পড়েনি।

আল্লাহ তাআলা ইলম অন্বেষণে তাঁর কল্যাণের ইচ্ছা করেছিলেন, তাই তাঁর জন্য এমন পিতা-মাতা নির্ধারণ করেছিলেন যারা তাঁর শিক্ষার ব্যাপারে ধৈর্যশীল ছিলেন এবং তাঁর জন্য ধৈর্যশীল এক নফস নির্ধারণ করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুল কুবরা ১০/১৫৭ থেকে।

(২) ২য় খণ্ড, ৩৫৭ পৃষ্ঠা।

(৩) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহের মধ্যে রয়েছে: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৪/২৫২, আল-বাদরুত তালি ১/৪৬৭, বুগইয়াতুল উয়াত ২/১৭৬, তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১৫০৭, হুসনুল মুহাযারা ১/৩২১ এবং এ সবকিছুর আগে তাঁর পুত্র তাজউদ্দীনের লেখা আত-তাবাকাতুল কুবরা ১০ম খণ্ড; এছাড়াও তাবাকাত-এর টীকায় অন্যান্য উৎস দেখুন।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
على الطلب، وقد عاش نحو 73 سنة، وكان إلى أن بلغ نحو 56 سنة منقطعا للعلم تحصيلا وتدريسا، وتأليفا، وفتيا، فبلغ الغاية، وطار اسمه فملأ الأقطار، وحلق على الدنيا، ولم يكتف بمصر من الأمصار.

" ولد فى صفر سنة ثلاث وثمانين وستمائة، وتفقه فى صغره على والده وعلى غيره، وصحب فى التصوف الشيخ تاج الدين بن عطاء، ودرس بالقاهرة، وولى قضاء دمشق ستّ عشرة سنة، ودرّس بعدة مدارس.

وقد ذكر له ولده فى (الطبقات الكبرى) ترجمة طنانة. ودفن بمقابر الصوفية خارج باب النصر" (1).

وكان أشعريّا فى الاعتقاد لم يختلف فى ذلك من ترجموا له، بل قطعوا بذلك، وانظر ما حكاه ابنه تاج الدين فى الطبقات الكبرى ج 10 ص 200 - 201. هذا من حيث علم التوحيد، وأما فى الفقه فكان شافعيّا.

 

‌‌إخوته:

أخوه محمد بن على - أبو بكر: أكبر أولاد على بن عبد الكافى؛ لكنه مات قبل أن يكون له شأن، ولم أقف على شئ من أخباره سوى ما جاء فى الطبقات، ومن ذلك قول تاج الدين (2):

" أنشد الشيخ الإمام قصيدة يخاطب بها أخى الأكبر أبا بكر محمد - تغمده الله برحمته - وهى طويلة الأبيات … ".

أخوه الحسين: قال أخوهما:" واجتمعنا ليلة أنا والحافظ تقى الدين أبو الفتح، والأخ المرحوم جمال الدين الحسين … ".

أخته سارة: بنت على بن عبد الكافى (734 - 805 هـ) ذكرها ابن حجر العسقلانى فى معجمه (3).

--------------------------------------------

(1) بتصرف من (ابن قاضى شهبة) وفيات سنة 756 هـ.

(2) الطبقات الكبرى ج 10 ص 177، وانظر البيت السبكى ص 65 - 66.

(3) الضوء اللامع ج 12 ص 52، البيت السبكى ص 65.
তিনি জ্ঞান অন্বেষণে নিবিষ্ট ছিলেন এবং প্রায় ৭৩ বছর জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। প্রায় ৫৬ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি ইলম অর্জন, অধ্যাপনা, গ্রন্থনা ও ফতওয়া প্রদানের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি ইলমের চরম শিখরে পৌঁছেছিলেন এবং তাঁর সুখ্যাতি চর্তুদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছিল। তিনি কেবল একটি জনপদ বা মিশরেই সীমাবদ্ধ থাকেননি।

তিনি ৬৮৩ হিজরির সফর মাসে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি তাঁর পিতা ও অন্যদের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তাসাউফ শাস্ত্রে তিনি শায়খ তাজউদ্দীন বিন আতা’র সান্নিধ্য লাভ করেন। তিনি কায়রোতে অধ্যাপনা করেন এবং দীর্ঘ ষোলো বছর দামেস্কের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি বেশ কিছু মাদরাসায় পাঠদান করেছেন।

তাঁর পুত্র 'আত-তাবাকাতুল কুবরা' গ্রন্থে তাঁর একটি অত্যন্ত চমৎকার ও বিস্তারিত জীবনী উল্লেখ করেছেন। তাঁকে বাবুন নাসরের বাইরে সুফিয়া কবরস্থানে সমাহিত করা হয় (১)।

আকিদাহর ক্ষেত্রে তিনি আশআরী ছিলেন, তাঁর জীবনীকারদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো মতভেদ নেই; বরং তাঁরা এ বিষয়ে সুনিশ্চিত। দেখুন তাঁর পুত্র তাজউদ্দীন আত-তাবাকাতুল কুবরা-এর ১০ম খণ্ড, ২০০-২০১ পৃষ্ঠায় যা বর্ণনা করেছেন। এটি তাওহীদ শাস্ত্রের দিক থেকে, আর ফিকহের ক্ষেত্রে তিনি শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী ছিলেন।

 

‌‌তাঁর ভাইগণ:

তাঁর ভাই মুহাম্মদ বিন আলী - আবু বকর: তিনি আলী বিন আব্দুল কাফীর সন্তানদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন; কিন্তু প্রসিদ্ধি লাভের পূর্বেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আমি 'তাবাকাত' গ্রন্থে যা আছে তা ছাড়া তাঁর সম্পর্কে আর কোনো সংবাদ পাইনি। এর মধ্যে তাজউদ্দীনের এই উক্তিটি উল্লেখযোগ্য (২):

"শায়খ ইমাম একটি কাসিদা আবৃত্তি করেছেন যা তিনি আমার বড় ভাই আবু বকর মুহাম্মদকে —আল্লাহ তাঁকে রহমতের চাদরে আবৃত করুন— সম্বোধন করে লিখেছিলেন। সেটি দীর্ঘ চরণের একটি কবিতা ছিল … "।

তাঁর ভাই হুসাইন: তাঁদের ভাই (তাজউদ্দীন) বলেছেন: "এক রাতে আমি, হাফেজ তাকীউদ্দীন আবুল ফাতহ এবং মরহুম ভাই জামালুদ্দীন হুসাইন একত্রিত হয়েছিলাম … "।

তাঁর বোন সারাহ: বিনতে আলী বিন আব্দুল কাফী (৭৩৪ - ৮০৫ হিজরি)। ইবনে হাজার আসকালানী তাঁর 'মু'জাম' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাযী শুহবাহ-এর (৭৫৬ হিজরির ইন্তেকালসমূহ) আলোচনা থেকে পরিমার্জিত।

(২) আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১০ম খণ্ড, ১৭৭ পৃষ্ঠা; আরও দেখুন: আল-বাইতুস সুবকী, ৬৫ - ৬৬ পৃষ্ঠা।

(৩) আদ-দাউউল লামি‘, ১২তম খণ্ড, ৫২ পৃষ্ঠা; আল-বাইতুস সুবকী, ৬৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
أخته ستيتة: بنت على بن عبد الكافى، ت 776 هـ بالطاعون (1).

أخوه عبد الوهاب تاج الدين أبو نصر: ولد بالقاهرة سنة ثمان وعشرين وسبعمائة - على الراجح (2)، وتوفى عام 771 هـ، صاحب طبقات الشافعية، كان يجل أخاه بهاء الدين أبا حامد إجلالا، ونقل فى طبقاته كثيرا مما يتعلق بوالده عن أخيه، وبهاء الدين يكبره بنحو عشر سنين.

 

‌‌إجلال أخيه ووالده له:

يذكر أخوه تاج الدين فى طبقاته:" نقلت من خط أخى شيخنا شيخ الإسلام أبى حامد أحمد، سلمه الله تعالى أن‌‌ الوالد … " الطبقات 10/ 181.

ووصفه بشيخ الإسلام أيضا فيها 10/ 209، 9/ 124.

تاج الدين:" كتاب المناقضات للأخ الشيخ الإمام العلامة بهاء الدين أبى حامد أحمد، أمتع الله ببقائه … " 10/ 190.

ووصفه بالشيخ الإمام العلامة أيضا فى 10/ 216.

تاج الدين:" ورأيت الأخ، سيدى الشيخ الإمام أبا حامد، سلمه الله، ذكر فى شرح التلخيص فى المعانى والبيان … ".

الوالد:

يقول تاج الدين عن والده:" وأنشدنا لنفسه وقد وقف على كتاب المناقضات للأخ الشيخ الإمام العلامة بهاء الدين أبى حامد أحمد، أمتع الله ببقائه:

أبو حامد فى العلم أمثال أنجم … وفى النقد كالإبريز أخلص بالسّبك

فأوّلهم من إسفرايين نشؤه … وثانيهم الطوسىّ والثالث السبكى

--------------------------------------------

(1) شذرات الذهب ج 6 ص 242، البيت السبكى ص 67.

(2) قلت على الراجح؛ لأن هذا قول الصفدى فى الوافى (19/ 315)، وقيل سنة 727، وقيل سنة تسع وعشرين، وإنما رجحت قول الصفدى؛ لأنه من أقرب الناس إلى هذه الأسرة.
তাঁর বোন স্তাইতাহ: আলী বিন আব্দুল কাফীর কন্যা, মৃত্যু ৭৭৬ হিজরি প্লেগ রোগে (১)।

তাঁর ভাই আব্দুল ওয়াহাব তাজউদ্দীন আবু নাসর: কায়রোতে ৭২৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন - অধিকতর সঠিক মতানুসারে (২), এবং মৃত্যু বরণ করেন ৭৭১ হিজরিতে। তিনি 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ'-এর রচয়িতা। তিনি তাঁর ভাই বাহাউদ্দীন আবু হামিদকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে তাঁর পিতা সম্পর্কিত অনেক কিছুই তাঁর ভাইয়ের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। আর বাহাউদ্দীন তাঁর চেয়ে প্রায় দশ বছরের বড় ছিলেন।

 

‌‌তাঁর প্রতি তাঁর ভাই ও পিতার শ্রদ্ধা প্রদর্শন:

তাঁর ভাই তাজউদ্দীন তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেন: "আমি আমার ভাই, আমাদের শাইখ, শাইখুল ইসলাম আবু হামিদ আহমাদ - আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিরাপদ রাখুন - এর হস্তলিপি থেকে নকল করেছি যে, পিতা ... " তাবাকাত ১০/ ১৮১।

তিনি সেখানে ১০/ ২০৯ এবং ৯/ ১২৪ পৃষ্ঠায় তাঁকে 'শাইখুল ইসলাম' হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

তাজউদ্দীন: "ভাই শাইখ ইমাম আল্লামা বাহাউদ্দীন আবু হামিদ আহমাদ-এর প্রণীত 'কিতাবুল মুনাকিদাত', আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘায়িত করুন ... " ১০/ ১৯০।

তিনি তাঁকে ১০/ ২১৬ পৃষ্ঠায় 'শাইখ ইমাম আল্লামা' হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

তাজউদ্দীন: "আমি ভাইকে দেখেছি, আমার সাইয়্যেদ শাইখ ইমাম আবু হামিদ - আল্লাহ তাঁকে নিরাপদ রাখুন, তিনি 'শারহুত তালখিস ফিল মাআনী ওয়াল বায়ান' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন ... "।

পিতা:

তাজউদ্দীন তাঁর পিতা সম্পর্কে বলেন: "তিনি তাঁর স্বরচিত একটি কবিতা আমাদের পাঠ করে শোনালেন, যা তিনি ভাই শাইখ ইমাম আল্লামা বাহাউদ্দীন আবু হামিদ আহমাদ - আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘায়িত করুন - এর 'কিতাবুল মুনাকিদাত' দেখার পর লিখেছিলেন:

জ্ঞানের জগতে আবু হামিদ যেন নক্ষত্ররাজির তুল্য ... আর পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তিনি খাঁটি সোনার ন্যায় পরিশোধিত।

তাঁদের প্রথম জনের উৎপত্তি ইসফিরাইন থেকে ... দ্বিতীয় জন তুসী আর তৃতীয় জন হলেন সুবকী।

--------------------------------------------

(১) শাযারাতুয যাহাব খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৪২; আল-বাইতুস সুবকী, পৃষ্ঠা ৬৭।

(২) আমি বলেছি 'অধিকতর সঠিক মতানুসারে'; কারণ এটি আস-সাফাদীর উক্তি 'আল-ওয়াফী' (১৯/ ৩১৫) গ্রন্থে। কেউ কেউ বলেন ৭২৭ হিজরি, আবার কেউ বলেন ৭২৯ হিজরি। আমি সাফাদীর উক্তিটিকেই প্রাধান্য দিয়েছি; কারণ তিনি এই পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وهذه منقبة للأخ، سلمه الله، فأى مرتبة أعلى من تشبيه والده، وهو من هو، علما ودينا وتحرزا فى المقال، له بالغزالى وأبى حامد الإسفرايينى.

ولقد كان الوالد - رضى الله عنه - يجل الأخ ويعظمه، سمعته غير مرة يقول:" أحمد والد" …

وكذلك سمعت الشيخ الإمام رحمه الله يقول فى مرض موته، والأخ غائب فى الحجاز:" غيبة أحمد أشد علىّ مما أنا فيه من المرض".

وبلغه أن دروس الأخ خير من دروسه فقال:

دروس أحمد خير من دروس على … وذاك عند علىّ غاية الأمل (1)

 

‌‌أبناؤه:

1 - تقى الدين أبو حاتم محمد: ترجم له عمه (2) فقال: ولد سنة خمس وأربعين وسبعمائة وتوفى فى طاعون القاهرة سنة أربع وستين وسبعمائة، وله ذكر فى الطبقات الكبرى لعمه تاج الدين (3).

2 - صالحة: ذكرها الأستاذ/ محمد الصادق حسين نقلا عن الضوء اللامع 12/ 70 العدد 428.

3 - عبد الله - جمال الدين: ت 776 هـ ذكره الأستاذ/ محمد الصادق حسين.

4 - عبد العزيز: ت 776 هـ مع أخيه عبد الله بالطاعون، راجع شذرات الذهب 6/ 242 (نقلا عن البيت السبكى).

 

‌‌شيوخه:

أحضر على أبى العباس الحجار وأسمع على يونس الدبوسى وأبى الحسن على بن عمر الوانى، والبدر بن جماعة، وجماعة، وبدمشق من الجزرى والمزى، وغيرهما.

وأخذ عن أبيه وأبى حيان والرشيدى، والأصبهانى، وسمع على الشيخ تقى الدين بن الصائغ

--------------------------------------------

(1) الطبقات 10/ 190.

(2) 9/ 124.

(3) 10/ 209
এটি ভাইয়ের জন্য একটি গৌরবগাথা, আল্লাহ তাঁকে নিরাপদে রাখুন। তাঁর পিতার সাথে তাঁর তুলনা করার চেয়ে উচ্চতর মর্যাদা আর কী হতে পারে? অথচ তাঁর পিতা জ্ঞান, ধর্মপরায়ণতা এবং বাকসংযমের ক্ষেত্রে ছিলেন অনন্য; তিনি তাঁকে আল-গাজালী এবং আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনীর সাথে তুলনা করেছেন।

পিতা—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন—ভাইকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন। আমি তাঁকে একাধিকবার বলতে শুনেছি: "আহমদ হলো পিতা" ...

অনুরূপভাবে আমি শাইখ ইমামকে—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—তাঁর মৃত্যুশয্যায় বলতে শুনেছি, যখন ভাই হিজাজে অনুপস্থিত ছিলেন: "আহমদের অনুপস্থিতি আমার নিকট আমার এই অসুস্থতার চেয়েও অধিক যন্ত্রণাদায়ক।"

তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, ভাইয়ের পাঠদান তাঁর নিজের পাঠদানের চেয়েও উত্তম। তখন তিনি বললেন:

আহমদের পাঠদান আলীর পাঠদানের চেয়েও উত্তম ... আর আলীর নিকট এটাই পরম আকাঙ্ক্ষার বিষয় (১)

 

‌‌তাঁর সন্তানগণ:

১ - তাকিউদ্দীন আবু হাতিম মুহাম্মদ: তাঁর চাচা (২) তাঁর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: তিনি সাতশ পঁয়তাল্লিশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং সাতশ চৌষট্টি হিজরি সনে কায়রোর প্লেগ মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর চাচা তাজউদ্দীনের 'তবাকাতুল কুবরা'-তে তাঁর উল্লেখ রয়েছে (৩)।

২ - সালিহা: উস্তাদ মুহাম্মদ সাদিক হুসাইন 'আদ-দউউল লামি' (১২/৭০, নং ৪২৮) এর বরাতে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।

৩ - আব্দুল্লাহ - জামালুদ্দীন: মৃত্যু ৭৭৬ হিজরি, উস্তাদ মুহাম্মদ সাদিক হুসাইন তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।

৪ - আব্দুল আজিজ: মৃত্যু ৭৭৬ হিজরি, তাঁর ভাই আব্দুল্লাহর সাথে প্লেগ মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: 'শাজারাতুজ জাহাব' ৬/২৪২ (আল-বাইতুস সুবকি থেকে উদ্ধৃত)।

 

‌‌তাঁর শিক্ষকগণ:

তিনি আবুল আব্বাস আল-হাজ্জারের নিকট উপস্থিত হয়েছেন এবং ইউনুস আদ-দাব্বুসি, আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আল-ওয়ানি, বদর ইবনে জামাআহ এবং আরও একদল আলিমের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। দামেস্কে তিনি আল-জাজারি, আল-মিযযি এবং অন্যদের নিকট পড়েছেন।

তিনি তাঁর পিতা, আবু হাইয়ান, আর-রশিদি এবং আল-আসফাহানি থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনুস সায়িগের নিকট পাঠ শ্রবণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আত-তবাকাত ১০/১৯০।

(২) ৯/১২৪।

(৩) ১০/২০৯।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
عدة قراءات، وتفقه على المجد الزنكلونى وابن القماح وغيرهما.

هذا ما ذكره الحافظ ابن حجر (1) وغيره، وأكثر هذه الأسماء يحتاج إلى ترجمة وتحقيق، فلعل الله ييسر ذلك فى مقام آخر.

 

‌‌تلاميذه:

- الدميرى: كمال الدين محمد بن موسى صاحب كتاب" حياة الحيوان الكبرى"

ويقول ابن شهبة:" إن الدميرى قدم على الشيخ بهاء الدين السبكى وأخذ عنه … " (2).

وقد نقل ابن حجر فى الدرر كلاما للدميرى يدل على صحبته لبهاء الدين السبكى فراجعه.

 

‌‌وظائفه:

أذن له بالإفتاء وعمره عشرون سنة (3) ولما توجه والده إلى قضاء القضاة بالشام ولاه السلطان الملك الناصر محمد مناصب والده فى تدريس المنصورية، والسيفية والهكارية (4) وله عشرون سنة (5).

وذكر الصفدى توليه مشيخة الحديث بالجامع الطولونى والجامع الظاهرى (6) ولفظ ابن قاضى شهبة بعد ما ذكر المنصورية والسيفية والهكارية (7).

" ثم درس بتربة الشافعى، وبجامع الحاكم، ودرّس بالشيخونية أوّل ما فتحت، وخطب بجامع

--------------------------------------------

(1) الدرر الكامنة ج 1 ص 210.

(2) عن مقدمة (حياة الحيوان الكبرى) ط. دار الشعب، والمقدمة منقولة عن دائرة معارف الشعب مادة حياة الحيوان الكبرى. بقلم د. حسين فرج زين الدين.

(3) الوافى 7/ 246.

(4) السابق.

(5) ابن قاضى شهبة سنة 773 هـ.

(6) الوافى 7/ 246 وما بعدها.

(7) هذه أسماء لمدارس نسبت إلى من أنشأها أو قام عليها أو غير ذلك من مكان ونحوه؛ فالهكارية مدرسة بدرب الهكارية بجواره حارة الجودرية، هكذا نقل الأستاذ/ محمد صادق حسين من خطط المقريزى ج 2 ص 41، ونقلته من كتابه (البيت السبكى)، والأمر مع ذلك يحتاج إلى الرجوع إلى كتب المدارس والحضارات للعلم بدقيق ذلك.
বিভিন্ন কেরাআত পড়েছেন এবং আল-মাজদ আয-যানকালুনি ও ইবনুল কাম্মাহসহ অন্যান্যদের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন।

হাফেজ ইবনে হাজার (১) ও অন্যান্যরা এটিই উল্লেখ করেছেন। এই নামগুলোর অধিকাংশেরই জীবনী ও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে, সম্ভবত আল্লাহ অন্য কোনো স্থানে তা সহজ করে দেবেন।

 

‌‌তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

- আদ-দামিরি: কামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুসা, "হায়াতুল হাইওয়ান আল-কুবরা" গ্রন্থের লেখক।

ইবনে শাহবাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আদ-দামিরি শেখ বাহাউদ্দিন আস-সুবকির নিকট আগমন করেন এবং তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন..." (২)।

ইবনে হাজার 'আদ-দুরার' গ্রন্থে আদ-দামিরির এমন একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যা বাহাউদ্দিন আস-সুবকির সাথে তাঁর সান্নিধ্যের প্রমাণ দেয়, অতএব তা দেখে নিন।

 

‌‌তাঁর দায়িত্বসমূহ:

বিশ বছর বয়সেই তাঁকে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দেওয়া হয় (৩)। যখন তাঁর পিতা শামের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনে সেখানে গমন করেন, তখন সুলতান আল-মালিকুন নাসির মুহাম্মদ তাঁর পিতার আল-মানসুরিয়া, আস-সাইফিয়া ও আল-হাক্কারিয়া মাদরাসায় পাঠদানের পদসমূহে তাঁকে নিযুক্ত করেন (৪), তখন তাঁর বয়স ছিল বিশ বছর (৫)।

আস-সাফাদি তুলুনি জামে মসজিদ ও যাহিরি জামে মসজিদে তাঁর শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করেছেন (৬)। ইবনে কাযি শাহবাহ-এর বর্ণনা হলো, তিনি আল-মানসুরিয়া, আস-সাইফিয়া ও আল-হাক্কারিয়া (৭) উল্লেখ করার পর বলেন:

"এরপর তিনি তুরবাতুশ শাফিয়ি ও জামে আল-হাকিমে পাঠদান করেন এবং শায়খুনিয়া মাদরাসা খোলার পর সেখানে প্রথম পাঠদান করেন। এছাড়া তিনি একটি জামে মসজিদে খুতবা প্রদান করেন..."

--------------------------------------------

(১) আদ-দুরারুল কামিনাহ, ১ম খণ্ড, ২১০ পৃষ্ঠা।

(২) 'হায়াতুল হাইওয়ান আল-কুবরা' (দারুশ শা’ব সংস্করণ)-এর ভূমিকা হতে গৃহীত। ভূমিকাটি 'দা-ইরাতুল মা’আরিফিশ শা’ব' এর 'হায়াতুল হাইওয়ান আল-কুবরা' নিবন্ধ হতে সংগৃহীত, যা ডক্টর হুসাইন ফারাজ যাইনুদ্দিন লিখেছেন।

(৩) আল-ওয়াফি, ৭/২৪৬।

(৪) প্রাগুক্ত।

(৫) ইবনে কাযি শাহবাহ, ৭৭৩ হিজরি।

(৬) আল-ওয়াফি, ৭/২৪৬ ও পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ।

(৭) এগুলো বিভিন্ন মাদরাসার নাম যা তাদের প্রতিষ্ঠাতার নামে বা পরিচালকের নামে অথবা স্থান বা অন্য কিছুর সাথে সম্পৃক্ত। আল-হাক্কারিয়া হলো দারবুল হাক্কারিয়ায় অবস্থিত একটি মাদরাসা যার পাশেই জুদারিয়াহ এলাকা অবস্থিত। উস্তাদ মুহাম্মদ সাদিক হুসাইন মাকরিজির 'খিতাত' (২য় খণ্ড, ৪১ পৃষ্ঠা) থেকে এভাবেই উদ্ধৃত করেছেন এবং আমি তা তাঁর 'আল-বাইতুস সুবকি' গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছি। তবে এ বিষয়ে সূক্ষ্ম জ্ঞানের জন্য মাদরাসা ও সভ্যতা সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الحاكم، وولى إفتاء دار العدل، ثم ولى قضاء الشام فى شعبان سنة ثلاث وستين (أى 763 هـ) كارها لذلك (1)، وتوجه أخوه إلى مصر على وظائفه، ودرس بدمشق بمدارس القضاء، ثم عاد إلى مصر فى صفر سنة أربع وستين على وظائفه، ثم ولى قضاء العسكر (2) ". اه.

وثمة وظيفة أخرى تولاها شابا؛ لكن سرعان ما نزعت منه، ذلك ما فهمته من كلام أخيه فى الطبقات الكبرى (3) وهى قضاء القضاة بالعساكر المنصورة، سنة اثنتين وأربعين وسبعمائة.

 

‌‌وفاته:

توفى البهاء السبكى سنة 773 هـ، قال الحافظ ابن حجر فى كتابه الدرر الكامنة (4):

" ومات بهاء الدين مجاورا بمكة ليلة الخميس السابع عشر من شهر رجب سنة 773 وله أربع وخمسون سنة وبضع أشهر، ووهم ابن حبيب فقال: عاش ستا وخمسين سنة".

--------------------------------------------

(1) لأن أخاه عزل وكان هو عوضه.

(2) وذلك فى سنة 766 هـ.

(3) 9/ 97 ترجمة محمد بن أحمد الكنانى.

(4) ج 1 ص 216 ترجمة 544.
শাসক, এবং তিনি দারুল আদলের ইফতা (ফতোয়া প্রদান) পদের দায়িত্ব লাভ করেন। এরপর ৭৬৩ হিজরির শাবান মাসে তিনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও (১) শামের বিচারকের (কাযা) দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার ভাই নিজের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে মিসর অভিমুখে রওনা হন। তিনি দামেস্কের বিচার বিষয়ক মাদরাসাগুলোতে পাঠদান করেন। এরপর ৭৬৪ হিজরির সফর মাসে তিনি নিজের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে পুনরায় মিসরে ফিরে আসেন। অতঃপর তিনি সামরিক বাহিনীর বিচারকের (কাযা আল-আসকার) দায়িত্ব লাভ করেন (২)। [সমাপ্ত]

যৌবনকালে তিনি আরও একটি পদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, কিন্তু শীঘ্রই তা তার কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তার ভাইয়ের 'তাবাকাতুল কুবরা' (৩) গ্রন্থের আলোচনা থেকে আমি এমনটিই বুঝতে পেরেছি। আর তা হলো ৭৪২ হিজরিতে বিজয়ী সামরিক বাহিনীর প্রধান বিচারপতির (কাযিল কুযাত) পদ।

 

‌‌তার মৃত্যু:

বাহাউদ্দিন আস-সুবকি ৭৭৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। হাফেজ ইবনে হাজার তার 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (৪) গ্রন্থে বলেন:

"বাহাউদ্দিন ৭৭৩ হিজরির ১৭ই রজব বৃহস্পতিবার রাতে মক্কায় অবস্থানরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তখন তার বয়স ছিল চৌয়ান্ন বছর কয়েক মাস। ইবনে হাবিব ভুলবশত বলেছেন যে, তিনি ছাপ্পান্ন বছর বেঁচে ছিলেন।"

--------------------------------------------

(১) কারণ তার ভাইকে পদচ্যুত করা হয়েছিল এবং তিনি তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।

(২) আর তা ছিল ৭৬৬ হিজরিতে।

(৩) ৯/ ৯৭, মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কেনানির জীবনী।

(৪) ১ম খণ্ড, ২১৬ পৃষ্ঠা, জীবনী নং ৫৪৪।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌مصنفاته:

-‌‌ تناقض كلام الرافعى والشيخ محيى الدين النووى:

صنفه وكان عمره ست عشرة سنة.

 

-‌‌ تعليق على الحاوى:

ذكره فى مصنفاته ابن حجر فى الدرر الكامنة 1/ 125 ط. دار الكتب العلمية. وذكره أيضا صاحب معجم المؤلفين.

 

-‌‌ تكملة شرح المنهاج.

-‌‌ شرح مختصر ابن الحاجب:

وقد وصف هذا الشرح بأنه مطول، كما فى معجم المؤلفين.

 

-‌‌ شرح كتاب تسهيل الفوائد لابن مالك:

ذكره فى معجم المؤلفين.

 

-‌‌ شرح التخليص للقزوينى فى المعانى والبيان، سماه" عروس الأفراح":

وهو كتابنا هذا.

ذكره صاحب معجم المؤلفين وقال أخوه فى الطبقات الكبرى (1):" ورأيت الأخ، سيدى الشيخ الإمام أبا حامد، سلمه الله، ذكر فى شرح التلخيص فى المعانى والبيان … ".

 

-‌‌ قطعة على شرح المنهاج:

شرح المنهاج لأبيه. فكأنه أراد أن يكمله لا أن يعلق عليه؛ ولهذا يقال له: تكملة شرح المنهاج. كما فى معجم المؤلفين.

 

-‌‌ هدية المسافر فى المدائح النبوية:

وقد ذكره بهاء الدين السبكى ضمن شعراء المديح النبوى فى العصر المملوكى، وذلك فى موسوعة الأستاذ/ محمود رزق سليم (2).

--------------------------------------------

(1) 2/ 196.

(2) (عصر سلاطين المماليك) ج 8 ص 284.
তাঁর রচনাবলি:

-‌ইমাম রাফেয়ী এবং শেখ মহিউদ্দিন নববীর বক্তব্যের বৈপরীত্য:

এটি তিনি যখন রচনা করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ষোল বছর।

 

-‌আল-হাউয়ী-এর ওপর টীকা:

ইবনে হাজার তাঁর 'আদ-দুরার আল-কামিনাহ' ১/১২৫ (দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ)-এ তাঁর গ্রন্থতালিকায় এটি উল্লেখ করেছেন। মুয়াজজামুল মুআল্লিফিনের লেখকও এটি উল্লেখ করেছেন।

 

-‌শারহুল মিনহাজের পরিশিষ্ট।

-‌শরহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব:

মুয়াজজামুল মুআল্লিফিনে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে দীর্ঘ বা বিস্তারিত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

-‌ইবনে মালিকের তাসনীলুল ফাওয়াইদ গ্রন্থের ব্যাখ্যা:

মুয়াজজামুল মুআল্লিফিনে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

 

-‌মা'আনী ও বয়ান শাস্ত্রে কাজভীনীর তালখিস-এর ব্যাখ্যা, যার নাম তিনি রেখেছেন "আরূসুল আফরাহ":

আর এটিই হলো আমাদের বর্তমান এই বইটি।

মুয়াজজামুল মুআল্লিফিনের লেখক এটি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর ভাই আত-তাবাকাতুল কুবরা (১)-তে বলেছেন: "আমি আমার ভাইকে দেখেছি, আমার সায়্যিদ শায়খ ইমাম আবু হামিদ—আল্লাহ তাঁকে শান্তিতে রাখুন—মা'আনী ও বয়ান শাস্ত্রের শারহুত তালখিসে উল্লেখ করেছেন … "।

 

-‌শারহুল মিনহাজের একাংশ:

তাঁর পিতার শারহুল মিনহাজ। তিনি সম্ভবত এটি সম্পূর্ণ করতে চেয়েছিলেন, এর ওপর কেবল টীকা লেখা নয়; এ কারণেই একে 'তাকমিলাতু শারহিল মিনহাজ' বলা হয়। যেমনটি মুয়াজজামুল মুআল্লিফিনে এসেছে।

 

-‌হাদিয়াতুল মুসাফির ফি মাদাইহিন নাবাবিয়্যাহ:

বাহাউদ্দিন আস-সুবকি মামলুক যুগে নবী প্রশস্তিমূলক কবিতার কবিদের মধ্যে তাঁকে উল্লেখ করেছেন, যা উস্তাদ মাহমুদ রিজক সালিমের বিশ্বকোষ (২)-এ বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ২/ ১৯৬।

(২) (আসরু সালাতিনিল মামালিক) খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ২৮৪।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الفنّ الأول علم المعانى
প্রথম শাস্ত্র: ইলমুল মাআনী
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المصنف لعروس الأفراح

قال الشيخ الإمام، العالم العلامة، حجة الإسلام، مفتى الأنام أوحد الفصحاء والبلغاء، شيخ النحاة والأدباء، كنز المحققين وسيف المناظرين بهاء الملة والدين: أبو حامد أحمد ابن سيدنا ومولانا قاضى القضاة بقية المجتهدين ولسان المتكلمين تقى الدين السبكى، تغمده الله برحمته وأسكنه فسيح جنته:

الحمد لله الذى فتق عن بديع المعانى لسان أهل البيان، ورتق الأفواه عن تفسير المثانى إلى أن فتحتها بلاغة آل عدنان، ومحق ببراعة كتابه العربى، وأسنة دينه القوى ما خالفهما من جدال اللسان، وجلاد السنان، ورزق الفصاحة المحمدية من الحكمة البالغة ما مزق حكم اليونان.

نحمده على نعمتى الإنشاء والإعادة، ونشكره شكرا ورد به الخبر المسند فنصدر عن مبتداه بمنتهى السعادة، ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له شهادة تشتمل على جناح القلب فتسكن بمد النصر لها يرمى بشرر كالقصر، وتنكس حصون الشرك بملائكة السبع الطباق لما شيد لها النفى والإثبات من القصر، وتفتح عند موازنة الأعمال باب الغفران بعد المعاضلة، وتتحف بالجبر (1) إذا بدت من كتاب السيئات تخاريج المقابلة، ونشهد أن سيدنا محمدا عبده ورسوله، صاحب الفصل والوصل فى الواقعة إذا وقف الصف يوم الحشر، والمسند إليه الشفاعة إذا التفت الساق بالساق، واشتد كرب ذلك اللف والنشر صلى الله عليه وسلم وعلى آل محمد وصحبه، الذين اغتدوا باستخدامه لهم ملوكا يستعبدون معالى الصفات، وارتدوا ملابس التقوى بتجريد قلوب لم يكن لها إلى غيره التفات، واقتدوا به فهم فى التشبيه كالنجوم، لأن محاسن الأمة منهم استعارة، وإليهم إضافات صلاة جارية على الخطاب المنصف والأسلوب الحكيم، حاوية لتمام الاتصال بالصراط المستقيم، وسلم تسليما يعلن به اللسان الطاهر، ويبطن القلب من اعتباره المناسب ما يساعده مقتضى الظاهر، ما خفقت للبلاغة راية مجد فى بنى غالب بن فهر، وتعلقت بأزمة الفصاحة أهل مصر، لما لهم من نسب وصهر.

--------------------------------------------

(1) كذا بالأصل المخطوط بدار الكتب المصرية 38 بلاغة.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌'আরূসুল আফরাহ' গ্রন্থকারের ভূমিকা

শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, হুজ্জাতুল ইসলাম, সৃষ্টিজগতের মুফতি, বাগ্মী ও অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের মধ্যে অনন্য, ব্যাকরণবিদ ও সাহিত্যিকদের প্রধান, গবেষকদের ভাণ্ডার এবং তার্কিকদের তলোয়ার, মিল্লাত ও দ্বীনের উজ্জ্বল জ্যোতি: আবু হামিদ আহমাদ ইবনে আমাদের সাইয়্যিদ ও মাওলা, প্রধান বিচারপতি, মুজতাহিদদের অবশিষ্টাংশ এবং কালাম শাস্ত্রবিদদের মুখপাত্র তকিউদ্দীন আস-সুবকি (আল্লাহ তাকে স্বীয় রহমতে আবৃত করুন এবং তাকে জান্নাতের প্রশস্ত উদ্যানে স্থান দান করুন) বলেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বয়ান শাস্ত্রবিদদের জিহ্বাকে সূক্ষ্ম অর্থ প্রকাশের মাধ্যমে উন্মুক্ত করেছেন, এবং 'মসানি' (আল-কুরআন) এর ব্যাখ্যা থেকে মুখসমূহকে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন যতক্ষণ না আদনান বংশের (মুহাম্মাদ সা.-এর) বাগ্মিতা তা উন্মুক্ত করেছে। তিনি তাঁর আরবি কিতাবের চমৎকারিত্ব এবং তাঁর শক্তিশালী দ্বীনের বর্শাফলক দ্বারা সেই সব কিছুকে মিটিয়ে দিয়েছেন যা জিহ্বার বিবাদ এবং তরবারির যুদ্ধের পরিপন্থী ছিল। আর তিনি মুহাম্মাদী ফাসাহাতকে (সাবলীলতা) এমন সুগভীর প্রজ্ঞা দান করেছেন যা গ্রীকদের যুক্তিকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।

আমরা সৃষ্টি এবং পুনরুত্থানের দুই নিআমতের জন্য তাঁর প্রশংসা করি, এবং তাঁর প্রতি এমন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি যা বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে এসেছে। ফলে আমরা তাঁর সূচনার মাধ্যমে পরম সৌভাগ্যের শিখরে উপনীত হই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এমন সাক্ষ্য যা হৃদস্পন্দনকে আবেষ্টন করে নেয়, অতঃপর সাহায্যের প্রসারের মাধ্যমে তা প্রশান্তি লাভ করে যা প্রাসাদের ন্যায় স্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করে। আর তা সপ্ত আকাশলব্ধ ফেরেশতাদের মাধ্যমে শিরকের দুর্গসমূহকে ধুলিসাৎ করে দেয় যখন তার জন্য নেতিবাচকতা ও ইতিবাচকতার (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) প্রাসাদ নির্মিত হয়। আর আমলসমূহের পাল্লা পরিমাপের সময় তা জটিলতার পর ক্ষমার দ্বার উন্মুক্ত করে, এবং প্রতিকার প্রদান করে যখন পাপের আমলনামা থেকে তুলনামূলক বিশ্লেষণের ফলাফল প্রকাশিত হয়। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল, যিনি হাশরের ময়দানে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানোর দিনে বিচ্ছেদ ও মিলনের অধিকারী। আর তাঁর প্রতিই শাফায়াত বা সুপারিশ ন্যস্ত করা হবে যখন পায়ের গোছার সাথে পায়ের গোছা জড়িয়ে যাবে এবং পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশের সেই সমাবেশ অত্যন্ত কঠিন আকার ধারণ করবে। আল্লাহ তাঁর উপর এবং মুহাম্মাদের পরিবারবর্গ ও তাঁর সাথীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, যাঁরা তাঁর খিদমতের মাধ্যমে এমন বাদশাহে পরিণত হয়েছেন যে তাঁরা উচ্চতর গুণাবলিকেও অনুগত করেন। তাঁরা তাকওয়ার পোশাক পরিধান করেছেন এমন একনিষ্ঠ হৃদয়ের মাধ্যমে যার লক্ষ্য তিনি ছাড়া অন্য কোনো দিকে ছিল না। তাঁরা তাঁর অনুসরণ করেছেন, ফলে তাঁরা উপমায় নক্ষত্রতুল্য, কারণ উম্মতের গুণাবলি তাঁরাই ধারণ করেন এবং তাঁদের দিকেই তা সম্বন্ধযুক্ত। এটি এমন এক সালাত (দরুদ) যা ন্যায়ানুগ ভাষণ এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ শৈলী অনুযায়ী প্রবহমান, যা সিরাতুল মুস্তাকিমের সাথে পূর্ণ সংযোগ ধারণকারী। আর এমন সালাম বর্ষিত হোক যা পবিত্র জিহ্বা ঘোষণা করবে এবং যা অন্তরের উপযুক্ত উপলব্ধিকে ধারণ করবে যা বাহ্যিক চাহিদাকে সহায়তা করে। যতক্ষণ না গালিব ইবনে ফাহরের বংশধরদের মাঝে অলঙ্কারশাস্ত্রের গৌরবের পতাকা উড়বে এবং মিসরবাসীদের সাথে বাগ্মিতার লাগাম যুক্ত থাকবে তাদের বংশীয় ও আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে।

--------------------------------------------

(১) দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহর ৩৮ নং বালাগাহ পাণ্ডুলিপির মূলে এভাবেই রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

(أما بعد) فإن تلخيص المفتاح (1) فى علم البلاغة وتوابعها بإجماع من وقف عليه، واتفاق من صرف العناية إليه أنفع كتاب فى هذا العلم صنف، وأجمع مختصر فيه على مقدار حجمه ألف، ولم أزل مشغوفا بهذا الفن وله محبا، مشغول الخاطر بالعزم على التجرد إليه وإن كنت على غيره من العلوم مكبا، منذ أبرزتنى الإرادة إلى الوجود إبراز الهلال، وبشرتنى حال المولد بالبلوغ لهذا العلم براعة الاستهلال، وآذنتنى الفراسة أن حسن التخلص حينئذ إنما كان كناية عن مقتضى الحال، وتعريضا بحقيقة ما سيكون من إدراك الآمال.

أتانى هواها قبل أن أعرف الهوى … فصادف قلبا خاليا فتمكّنا (2)

إلى أن أعربت عن حال التمييز، وبلغت ما تنازع إليه النفس من الاشتغال بمصنفاته ما بين مطنب ووجيز، فلم أطلع للمتأخرين فيه على تصنيف محكم تقر بتهذيبه العين، ولا وقفت لهم فيه على تأليف مجمل أو مفصل أشاهد صحاح معانيه فلا أطلب أثرا بعد عين، أما أهل بلادنا فهم مستغنون عن ذلك بما طبعهم الله تعالى عليه من الذوق السليم، والفهم المستقيم، والأذهان التى هى أرق من النسيم، وألطف من ماء الحياة فى المحيا الوسيم، أكسبهم النيل تلك الحلاوة، وأشار إليهم بأصبعه فظهرت عليهم هذه الطلاوة، فهم يدركون بطباعهم ما أفنت فيه العلماء فضلا عن الأغمار الأعمار، ويرون فى مرآة قلوبهم الصقيلة ما احتجب من الأسرار خلف الأستار.

والسيف ما لم يلف فيه صيقل (3) … من طبعه لم ينتفع بصقال (4)

فيا لها غنيمة لم يوجف عليها من خيل ولا ركاب، ولم يزحف إليها بعدو عديّة ولا بلحاق لا حق وانسكاب سكاب، فلذلك صرفوا هممهم إلى العلوم التى هى نتيجة أو مادة لعلم البيان، كاللغة، والنحو، والفقه، والحديث، وتفسير القرآن. وأما أهل بلاد المشرق، الذين لهم اليد الطولى فى العلوم، ولا سيما العلوم العقلية والمنطق، فاستوفوا هممهم الشامخة فى تحصيله،

--------------------------------------------

(1) طبع الكتاب فى طبعة أنيقة بتحقيقى فى مكتبة دار الكتب العلمية. بيروت.

(2) البيت من الطويل، وهو بلا نسبة فى مفتاح العلوم ص 91 ط المطبعة الأدبية، والتبيان للطيبى بتحقيقى (1/ 143) ط المكتبة التجارية بمكة. وهو لقيس ليلى العامرية فى روح المعانى للآلوسى (1/ 39).

(3) الصيقل: شحاذ السيوف وجلاؤها.

(4) الصقل: الجلاء، والاسم: الصّقال.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

(অতঃপর) ইলমে বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও এর অনুষঙ্গসমূহের বিষয়ে 'তালখিসুল মিফতাহ' বইটি তাদের সর্বসম্মত মতে যারা এটি পাঠ করেছেন এবং তাদের ঐকমত্যে যারা এর প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন—এই শাস্ত্রের মধ্যে রচিত সর্বাধিক উপকারী গ্রন্থ এবং এর আয়তন অনুযায়ী সঙ্কলিত সংক্ষিপ্তসারসমূহের মধ্যে সর্বাধিক তথ্যবহুল। আমি সর্বদা এই শাস্ত্রের প্রতি অনুরাগী এবং এর প্রেমিক ছিলাম, যদিও অন্যান্য ইলমের প্রতিও আমি নিবিষ্ট ছিলাম, তবুও এর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার সংকল্পে আমার মন ব্যতিব্যস্ত ছিল। সেই সময় থেকেই যখন আল্লাহর ইচ্ছা আমাকে নতুন চাঁদের প্রকাশের ন্যায় অস্তিত্বে নিয়ে এসেছে, আর আমার জন্মলগ্নের অবস্থা আমাকে এই ইলমে পারদর্শিতা অর্জনের সুসংবাদ দিয়েছিল, এবং আমার প্রজ্ঞা আমাকে জানিয়েছিল যে, তখন সেই চমৎকার উত্তরণ ছিল মূলত পরিস্থিতির দাবি এর একটি রূপক এবং ভবিষ্যতে আকাঙ্ক্ষা পূরণের বাস্তবতার প্রতি একটি ইঙ্গিত।

প্রেম কী তা জানার আগেই তার প্রেম আমার হৃদয়ে এসেছে … অতঃপর তা একটি শূন্য হৃদয় পেয়ে সেখানে জেঁকে বসেছে।

অবশেষে যখন আমি বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়ার স্তরে উপনীত হলাম এবং দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত রচনার মধ্যে এই শাস্ত্রের গ্রন্থাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য মনের যে ব্যাকুলতা ছিল তা পূর্ণ করলাম, তখন আমি এই বিষয়ে পরবর্তীকালের আলিমদের এমন কোনো সুসংহত রচনা খুঁজে পাইনি যার পরিশীলিত রূপ দেখে চক্ষু শীতল হয়। আর আমি তাদের এমন কোনো সংক্ষিপ্ত বা বিস্তারিত সংকলনও পাইনি যার সঠিক অর্থসমূহ প্রত্যক্ষ করার পর আমার মনে আর কোনো সংশয় থাকত। আর আমাদের দেশের অধিবাসীদের কথা যদি বলি, তবে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যে সুস্থ রুচি, সঠিক অনুধাবন ক্ষমতা এবং সুশীতল বায়ুর চেয়েও সূক্ষ্ম ও সুন্দর চেহারায় জীবনের পানির চেয়েও কোমল মেধা দান করেছেন, তার কারণে তারা এর মুখাপেক্ষী নয়। নীল নদ তাদেরকে সেই মিষ্টতা দান করেছে এবং তাদের প্রতি তার আঙুল দিয়ে ইশারা করেছে, ফলে তাদের মাঝে এই লাবণ্য প্রকাশ পেয়েছে। তারা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি দিয়েই তা অনুধাবন করতে পারে যা অর্জন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি আলেমরাও তাদের জীবন শেষ করে দেন। আর তারা তাদের হৃদয়ের স্বচ্ছ দর্পণে পর্দার আড়ালে থাকা সেই সব রহস্য দেখতে পায় যা অন্যের কাছে গোপন।

তলোয়ারের নিজস্ব ধাতুর মাঝে যদি উজ্জ্বল হওয়ার গুণ না থাকে … তবে পালিশকারীর পালিশে তার কোনো উপকার হয় না।

হায়! এ তো এমন এক গনিমত (লব্ধ সম্পদ), যার জন্য কোনো ঘোড়া বা উট চালনা করতে হয়নি, এবং কোনো শত্রুর আক্রমণ বা পশ্চাদ্ধাবনেরও প্রয়োজন পড়েনি। এই কারণেই তারা তাদের সমস্ত মনোযোগ সেই সব ইলমের দিকে নিবদ্ধ করেছে যা ইলমে বায়ানের ফলাফল বা মূল উপকরণ, যেমন: ভাষাতত্ত্ব, ব্যাকরণ, ফিকহ, হাদিস এবং কুরআনের তাফসির। আর প্রাচ্যের অধিবাসীগণ, ইলমসমূহের ক্ষেত্রে বিশেষ করে যৌক্তিক বিদ্যা ও মানতিকের (তর্কশাস্ত্র) ক্ষেত্রে যাদের সুদীর্ঘ হাত (বিশেষ পারদর্শিতা) রয়েছে, তারা এটি অর্জনে তাদের সুউচ্চ হিম্মত ব্যয় করেছেন।

--------------------------------------------

(১) বৈরুতের মাকতাবাতু দারিল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ থেকে আমার সম্পাদনায় কিতাবটি একটি সুন্দর সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে।

(২) কবিতাটি 'তবিল' ছন্দের। এটি 'মিফতাহুল উলুম' (পৃষ্ঠা ৯১, আল-মাতবাআতুল আদাবিয়্যাহ সংস্করণ) এবং আমার সম্পাদিত তিব্বির 'আত-তিবয়ান' (১/১৪৩, মক্কার আল-মাকতাবাতুত তিজারিইয়াহ সংস্করণ) গ্রন্থে কবির নাম উল্লেখ ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে। আলূসীর 'রুহুল মাআনি' (১/৩৯) গ্রন্থে এটি কায়স লায়লা আল-আমিরি-এর কবিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

(৩) সাইকাল: তলোয়ার শানদাতা এবং উজ্জ্বলকারী।

(৪) সাকল: উজ্জ্বল করা; এবং বিশেষ্য পদ হলো: সিকাল।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

واستولوا بجدهم على جملته وتفصيله، ووردوا مناهل هذا العلم فصدروا من عندها (1) بملء مسجلهم، وكيف لا وقد أجلبوا عليه بخيلهم ورجلهم، فلذلك عمروا منه كل دارس، وعبروا من حصونه المشيدة ما رقد عنه الحارس، وبلغوا عنان السماء فى طلبه" ولو كان الدين بالثريا لناله رجال من فارس" (2)، إلى أن خرج عنهم المفتاح فكأن الباب أغلق دونهم، وظهر من مشكاة بلاد المغرب المصباح، فكأنما حيل بينه وبينهم وأدارت المنون على قطبهم الدوائر، فتعطلت بوفاته من علومه أفواه المحابر، وبطون الدفاتر، وانقطعت زهراتهم الطيبة عن المقتطف، وتسلط على العضد لسان من يعرف كيف تؤكل الكتف، فلم نظفر بعد هؤلاء الأئمة - رحمهم الله تعالى - من أهل تلك البلاد بمن مخض هذا العلم فألقى للطالب زبدته، ومخض النصح فنشر على أعطاف العارى بردته، ولا حملت قبول القبول إلينا عنهم بطاقة، ولا حصلت للمتطلعين لهذا العلم على تلك الأبواب طاقة، ولا رأينا بعد أن انطمست تلك الشموس المشرقة، واندرست طبقة تحرى الفرقة، ولم يبق إلا رسوم هى من فضائلهم مسترقة، من أطلع غصن قلمه من روض الأذهان زهرة على ورقه، ولا من علق شنه بطبقتهم فيقال: وافق شن طبقة (3)، بل ركدت بينهم فى هذا الزمان ريحه، وخبت مصابيحه، وناداهم الأدب سواكم أعنى، ورب كلمة تقول دعنى.

وما بعض الإقامة فى ديار … يهان بها الفتى إلّا بلاء (4)

فعند ذلك أزمع هذا العلم الترحل، وآذن بالتحول:

وإذا الكريم رأى الخمول نزيله … فى منزل فالرّأى أن يتحوّلا

وفزع إلى مصر فألقى بها عصا التسيار، وأنشد من ناداهم من تلك الديار:

--------------------------------------------

(1) فى الأصل: عنها.

(2) لفظ حديث أخرجه مسلم بنحوه فى" فضائل الصحابة"، باب: فضل فارس، (ح 2546)، واتفقا على صحته بلفظ آخر.

(3) وافق شنّ طبقة: هذه عبارة تضرب مثلا، وتفسيرها فى بعض الروايات: أن شن قبيلة كانت تكثر الغارات فوافقهم طبق من الناس فأباروهم وأبادوهم، عن اللسان.

(4) البيت من الوافر، وهو لقيس بن الخطيم فى ديوانه ص 153، ولسان العرب (نوك)، وتاج العروس (نوك)، وخزانة الأدب 7/ 36.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

তারা তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এর সামগ্রিক ও বিস্তারিত বিষয়ের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এই ইলমের ঝর্ণাধারায় অবগাহন করে সেখান থেকে (১) পূর্ণ পাত্র নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছেন। আর তা হবেই না কেন, যখন তারা এর ওপর তাদের অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে চড়াও হয়েছিলেন (অর্থাৎ সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন)। ফলে তারা এর প্রতিটি জরাজীর্ণ অংশকে আবাদ করেছেন এবং এর সুদৃঢ় দুর্গের সেই সব অংশ অতিক্রম করেছেন যা থেকে প্রহরী তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিল। তারা এর অন্বেষণে আকাশের উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন; "যদি দ্বীন সুরাইয়া নক্ষত্রেও থাকত, তবে পারস্যের কিছু লোক তা অর্জন করত" (২)। পরিশেষে তাদের হাত থেকে চাবিকাঠি বেরিয়ে গেল, ফলে যেন তাদের সামনে দরজাটি বন্ধ হয়ে গেল। এরপর মাগরিব (পাশ্চাত্য) ভূখণ্ডের কুলুঙ্গি থেকে প্রদীপ উদ্ভাসিত হলো, তখন যেন তাদের ও এর মাঝে অন্তরায় তৈরি হলো। কালচক্র তাদের কেন্দ্রের (প্রধান ব্যক্তিত্বের) ওপর আপতিত হলো, ফলে তাঁর ইন্তেকালের কারণে এই ইলম থেকে কালির দোয়াতের মুখ এবং খাতাগুলোর অভ্যন্তরভাগ শূন্য হয়ে গেল। তাদের সুগন্ধি ফুলগুলো আহরণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল এবং স্কন্ধের ওপর এমন ব্যক্তির জিহ্বা প্রভাব বিস্তার করল যে জানে কীভাবে কাঁধের গোশত খেতে হয় (সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হয়)। এই ইমামগণের—আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—পর সেই দেশের অধিবাসীদের মধ্যে আমরা এমন কাউকে পাইনি যিনি এই ইলমকে মন্থন করে শিক্ষার্থীর জন্য তার নির্যাস বের করে দেবেন, কিংবা উপদেশের মন্থন করে অভাবীর কাঁধে চাদর বিছিয়ে দেবেন। তাদের পক্ষ থেকে কোনো গ্রহণযোগ্যতার বার্তা আমাদের কাছে পৌঁছেনি, আর এই ইলম প্রত্যাশীদের জন্য সেই সব দ্বারে প্রবেশের কোনো সামর্থ্যও অর্জিত হয়নি। সেই দীপ্তিমান সূর্যগুলো অস্তমিত হওয়ার পর এবং সত্য অন্বেষী দলটি বিলুপ্ত হওয়ার পর আমরা কাউকে দেখিনি—কেবল কিছু অবশিষ্টাংশ ছাড়া যা তাদেরই শ্রেষ্ঠত্বের উচ্ছিষ্ট—যে তার কলমের ডাল থেকে মেধার বাগানে কোনো ফুল প্রস্ফুটিত করেছে, অথবা তাদের স্তরের সাথে যুক্ত হয়েছে যাতে বলা যায়: শান তাবাকার অনুরূপ হয়েছে (৩)। বরং এই যুগে তাদের মাঝে এর সুবাতাস থমকে গেছে, এর প্রদীপগুলো নিভে গেছে এবং সাহিত্য তাদের ডেকে বলেছে: তোমরা ছাড়া অন্য কেউ আমার লক্ষ্য, আর অনেক কথাই এমন আছে যা বলে 'আমাকে ছেড়ে দাও'।

আর কোনো জনপদে এমন কিছুকাল অবস্থান করা যেখানে যুবক লাঞ্ছিত হয়, তা বিপদ ছাড়া আর কিছুই নয় (৪)।

তখনই এই ইলম প্রস্থানের সংকল্প করল এবং স্থানান্তরের ঘোষণা দিল:

আর যখন কোনো সম্মানিত ব্যক্তি কোনো স্থানে নিজেকে অবজ্ঞার শিকার হতে দেখে, তখন সেখান থেকে সরে যাওয়াই উত্তম সিদ্ধান্ত।

অতঃপর এটি মিশরের দিকে ধাবিত হলো এবং সেখানে তার সফরের যতি টানল, এবং সেই জনপদ থেকে যারা তাকে আহ্বান করেছিল তাদের উদ্দেশ্যে আবৃত্তি করল:

--------------------------------------------

(১) মূলে রয়েছে: عنها।

(২) এটি একটি হাদিসের শব্দ যা মুসলিম 'সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা' অধ্যায়ে, 'পারস্যের মর্যাদা' পরিচ্ছেদে (হাদিস নং ২৫৪৬) অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা উভয়েই অন্য শব্দে এর বিশুদ্ধতার ওপর একমত হয়েছেন।

(৩) শান তাবাকার অনুরূপ হয়েছে: এটি একটি প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিছু বর্ণনায় এর ব্যাখ্যা হলো: শান ছিল একটি গোত্র যারা ঘনঘন আক্রমণ করত, অতঃপর একদল লোক (তাবাকা) তাদের মুখোমুখি হয় এবং তাদের ধ্বংস ও নির্মূল করে দেয়। লিসানুল আরব থেকে সংগৃহীত।

(৪) এই পঙক্তিটি ওয়াফির ছন্দের, যা কায়স ইবনে আল-খাতীমের তাঁর দিওয়ানের ১৫৩ পৃষ্ঠায় রয়েছে, এবং লিসানুল আরব (নাওয়াক), তাজুল আরুস (নাওয়াক) এবং খিজানাতুল আদব ৭/৩৬-এ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

أقمت بأرض مصر فلا ورائى … تخبّ بى الرّكاب ولا أمامى (1)

ولقد وصل إلينا من تلك البلاد على التلخيص شروح رحم الله مصنفيها؛ فإنهم ماتوا وهم أخيار وبيض وجوههم

فى الآخرة كما سودهم بالمعالى فى هذه الدار، لا تنشرح لبعضها الصدور الضيقة، ولا تنفتح عندها مغلقة، ولا ينقدح فيها زناد الفكر عن مسألة محققة. يتناولون المعنى الواحد بالطرق المختلفة، ويتناوبون المشكل والواضح على أسلوب واحد كلهم قد ألفه، لا يخالف المتأخر منهم المتقدم إلا بتغيير العبارة، ولا يجد له على حل ما أشكل على غيره أو استشكال ما اتضح جسارة. ولا يطمع أن يذوق ما فى الاستدراك من اللذة، ولا تطمح نفسه لأن يقال برز على من سبقه وبزّه (2)، بل يسرى خلف من تقدمه حتى فى الكلمة الفذة، ويسير أثره حذو القذة بالقذة، قصارى أحدهم أن يعزو أبياتا من الشواهد لقائليها، ويوسع الدائرة بما لا يقام له وزن من تكميل ناقصها وإنشاد ما قبلها وما يليها، وينشر للراغب مفردات الألفاظ من واضح كلام العرب، ويذكر ما لا حرج على مخالفه من اصطلاحات لبعض أهل الأدب، ولا يزيد فى شرح عبارة المصنف على الإيضاح زينا وجد فيه أم شينا، فلو نطق التلخيص لتلا ما جئتم به هذه بضاعتنا ردت إلينا، هذا والشرح يطول، والوقت ينفق ولم يكتب لطالب البيان وصول، قد استفرغوا فى ذلك قوى أفكارهم واستوعبوا مدى أعمارهم فليت شعرى وقد انقضى العمر متى يسبحون فى اللجة، ويجنحون إلى بياض المحجة. أبعد أن يشيب الغراب ويرجع الشباب الحائل. أم يصيرون إلى أن تعود إلى الدنيا القرون الأوائل؟

وحتّى يئوب القارظان كلاهما … وينشر فى القتلى كليب لوائل (3) (4)

--------------------------------------------

(1) البيت من الوافر، وهو لأبى الطيب المتنبى فى ديوانه (2/ 247) ط. دار الكتب العلمية.

والخبب ضرب من المشى، الركاب: الإبل، يعنى أنه مكث فى مصر ولم يبرح على غير عادته فى السفر الدائم. اه من هامش الديوان.

(2) يقال: بزّ فلان أقرانه، إذا فاقهم وتقدمهم.

(3) القارظ: الذى يجمع القرظ ويجتنيه، ومن أمثالهم: لا يكون ذلك حتى يئوب القارظان، وهما رجلان:

أحدهما من عنزة، والآخر عامر بن تميم بن يقدم بن عنزة خرجا ينتحيان القرظ ويجتنيانه فلم يرجعا فضرب بهما المثل، عن اللسان.

(4) البيت من الطويل، وهو لأبى ذؤيب الهذلى فى شرح أشعار الهذليين ص 147، ولسان العرب (قرظ)، وتاج العروس (قرظ)، وتهذيب اللغة 9/ 68.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

আমি মিসর ভূমিতে অবস্থান করছি, তাই আমার পেছনে … বা সামনে কোনো উট আমাকে বহন করে দ্রুত চলছে না (১)

আর সেই দেশগুলো থেকে 'আত-তালখিস' গ্রন্থের ওপর সংক্ষেপে এমন কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ আমাদের নিকট পৌঁছেছে যাদের রচয়িতাদের ওপর আল্লাহ রহম করুন; কেননা তারা সজ্জন হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং পরকালে তাদের চেহারা শ্বেত-শুভ্র হবে, যেমন আল্লাহ এই নশ্বর ধামে শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করেছেন। সেগুলোর কোনো কোনোটির কারণে সংকীর্ণ বক্ষসমূহও প্রশান্ত হয় না, কোনো রুদ্ধ দ্বার উন্মোচন হয় না এবং কোনো সুনিশ্চিত মাসআলার ক্ষেত্রে চিন্তার স্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত হয় না। তারা একই অর্থকে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেন এবং জটিল ও স্পষ্ট বিষয়গুলোকে এমন এক অভিন্ন শৈলীতে আবর্তন করেন যার সাথে তারা সকলেই অভ্যস্ত। তাদের পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের সাথে কেবল শব্দ পরিবর্তনের মাধ্যমেই ভিন্নমত পোষণ করেন। অন্যের নিকট যা জটিল মনে হয়েছে তার সমাধানের ক্ষেত্রে কিংবা যা স্পষ্ট তার ওপর প্রশ্ন উত্থাপনের ক্ষেত্রে তারা কোনো সাহস খুঁজে পান না। কোনো ভুল সংশোধন বা সংযোজনের যে স্বাদ, তা আস্বাদন করার আকাঙ্ক্ষাও তারা পোষণ করেন না; বরং তারা পূর্ববর্তীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন এমনকি একক কোনো শব্দের ক্ষেত্রেও, এবং তাদের অনুকরণ হয় তীরের এক পালকের সাথে অপর পালকের হুবহু মিলের মতো। তাদের একজনের দৌড় বড়জোর এতটুকু যে, তিনি উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত কবিতাগুলোকে তাদের রচয়িতাদের দিকে সম্বন্ধিত করেন এবং কোনো গুরুত্বহীন অসম্পূর্ণ অংশ পূর্ণ করে কিংবা এর আগে-পরের অংশ আবৃত্তি করে আলোচনার পরিধি বিস্তৃত করেন। তিনি অন্বেষুর সামনে আরবদের স্পষ্ট কালাম থেকে একক শব্দসমূহের অর্থ প্রকাশ করেন এবং কতিপয় সাহিত্যিকের এমন পরিভাষা উল্লেখ করেন যার বিরোধিতায় কোনো দোষ নেই। মূল লেখকের বক্তব্য ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তিনি কোনো সৌন্দর্য বা ত্রুটি খুঁজে পেলেও নিছক বর্ণনার অতিরিক্ত কিছুই যোগ করেন না। যদি 'আত-তালখিস' কথা বলতে পারত, তবে সে তিলাওয়াত করত: 'তোমরা যা এনেছ তা তো আমাদেরই পণ্য যা আমাদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে'। এমতাবস্থায় ব্যাখ্যা দীর্ঘায়িত হয়, সময় অপব্যয়িত হয় কিন্তু অলঙ্কারশাস্ত্র অন্বেষীর জন্য গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তারা এই কাজে তাদের চিন্তাশক্তি নিঃশেষ করেছেন এবং জীবনের আয়ু ব্যয় করেছেন। হায়! জীবন তো শেষ হয়ে এল, তারা কবে গভীর সমুদ্রে সাঁতার কাটবেন এবং কবে সঠিক উজ্জ্বল পথের দিকে ঝুঁকে পড়বেন? এটা কি কাকের পালক সাদা হওয়ার পর এবং গত হয়ে যাওয়া যৌবন ফিরে আসার পর ঘটবে? নাকি তারা দুনিয়ায় আদি যুগসমূহ ফিরে আসার অপেক্ষা করছেন?

এমনকি যতক্ষণ না দুই কষ সংগ্রহকারী ফিরে আসবে … এবং নিহতদের মধ্য থেকে ওয়ায়েল গোত্রের জন্য কুলাইবকে পুনরুত্থিত করা হবে (৩) (৪)

--------------------------------------------

(১) এটি আবু তৈয়ব আল-মুতানাব্বির দিওয়ানে (২/২৪৭) 'ওয়াফির' ছন্দে রচিত কবিতা। দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ মুদ্রণ। 'খাবাব' এক ধরণের দ্রুত হাঁটা। 'রিকাাব' অর্থ উট। অর্থাৎ তিনি মিসরে অবস্থান করেছেন এবং সফর করার সাধারণ অভ্যাস থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে প্রস্থান করেননি। দিওয়ানের টীকা থেকে সংগৃহীত।

(২) বলা হয়: অমুক তার সমকক্ষদের ছাপিয়ে গেছে, যখন সে তাদের অতিক্রম করে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে।

(৩) আল-কারিজ: যে ব্যক্তি 'কারাজ' (এক প্রকার কষ) সংগ্রহ করে। প্রবাদ হিসেবে বলা হয়: 'দুই কারিজ ফিরে না আসা পর্যন্ত এটি হবে না'। তারা দুজন ব্যক্তি:

একজন আনাজাহ গোত্রের এবং অন্যজন আমির বিন তামীম বিন ইয়াকদাম বিন আনাজাহ। তারা কারাজ সংগ্রহ করতে বের হয়েছিল কিন্তু আর ফিরে আসেনি। লিসানুল আরব থেকে সংগৃহীত।

(৪) এটি আবু জুয়াইব আল-হুজালির 'তাবিল' ছন্দে রচিত কবিতা, যা 'শারহু আশআরিল হুজালিয়্যিন' (পৃ. ১৪৭), 'লিসানুল আরব' (কারাজ), 'তাজুল আরুস' (কারাজ) এবং 'তাহজিবুল লুগাহ' (৯/৬৮) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

وفى أية مدة يصلون إلى تلك اللطائف، ويحصلون على تلك الحقائق التى طاف بأركان بيتها ممن له حجر سليم ومقام كريم كل طائف.

لولا العقول لكان أدنى ضيغم … أدنى إلى شرف من الإنسان

فكم من معضلة فى الكتاب يمرون عليها وهم عن حلاوة حلها معرضون، ومشكلة يصححون ألفاظها وهم للمعانى ممرضون، وكم أوردوا أسئلة وصارخ من التوفيق يناديهم: لو قبل ما هكذا تورد يا سعد الإبل (1). وكم هتف بطائرهم هاتف من العقل بصوت شجى:

هيهات ما هذا بعشك فادرجى، وكم عاود النظر فى شئ من هذه الشروح على سبيل التنزل مطالع، ثم ثنى طرفه وهو يقول: يا خيبة المطامع، ويحلف صادقا أنها لم تكن تكتب إلا بأطراف الأصابع، هنالك يعلم الطالب أنه أملى له فيما أملى عليه، وأنه فى مهمه مهمل لا يجاب داعيه ولا يلتفت إليه.

فلو أنشدت نعشا هناك بناته … لمات ولم يسمع لها صوت منشد

وإنما أحلت ذلك كله على سوء تصرف من لسان الناقل أو يد الناسخ وأحلت أن يصدر شئ منه عن المصنفين فإنهم أرباب قدم فى العلم راسخ. ولله در القائل:

أخا العلم لا تعجل بعيب مصنّف … ولم تتيقّن زلّة منه تعرف

فكم أفسد الرّاوى كلاما بعقله … وكم حرّف المنقول قوم وصحّفوا

وكم ناسخ أضحى لمعنى مغيّرا … وجاء بشئ لم يرده المصنّف

فحدانى ذلك على أن أشد جياد الحزم، وأمد ركاب العزم، إلى شرح للتلخيص يحيى من هذا العلم الرفات، ويدرك منه ما فات، ويمتطى من معاليه أقصاها، ولا يغادر صغيرة ولا كبيرة من أعمال مصنفيه إلا أحصاها، ويجمع من شتاته ما تفرق شغر بغر (2)، ويضم من شذوره

--------------------------------------------

(1) هذا قريب من عجز بيت من الرجز وتمام البيت:

أوردها سعد وسعد مشتمل … ما هكذا يا سعد تورد الإبل

وهو للنوار زوجة مالك بن زيد مناة فى اللسان (خنطل)، ولمالك بن زيد مناة فى جمهرة الأمثال 1/ 93 ولعلى بن أبى طالب - رضى الله عنه - فى مجمع الأمثال 1/ 406، وتاج العروس (سعد).

(2) شغر بغر: يقال تفرقت الإبل وذهب القوم شغر بغر، وذهب القوم شغر مغر، وشغر بغر، أى: متفرقين فى كل وجه، اللسان.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

আর তারা কত সময়ের মধ্যে সেই সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে পৌঁছাবে এবং সেই সত্যগুলো অর্জন করবে, যার ঘরের স্তম্ভগুলোকে সেই প্রত্যেক তাওয়াফকারী প্রদক্ষিণ করেছে যার রয়েছে সুস্থ বিচারবুদ্ধি এবং সম্মানজনক অবস্থান।

যদি বুদ্ধি না থাকত, তবে তুচ্ছতম সিংহও … মানুষের চেয়ে সম্মানের অধিক নিকটবর্তী হতো।

গ্রন্থের কত জটিল বিষয়ের ওপর দিয়ে তারা অতিক্রম করে যায় অথচ সেগুলোর সমাধানের মাধুর্য থেকে তারা বিমুখ থাকে; কত সমস্যা রয়েছে যার শব্দগুলোকে তারা সংশোধন করে কিন্তু অর্থের ক্ষেত্রে সেগুলোকে রোগাক্রান্ত করে ফেলে। তারা কত প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, অথচ সফলতার পক্ষ থেকে এক আহ্বানকারী তাদের ডাক দিয়ে বলছেন: যদি এটি গ্রহণ করা হতো, তবে হে সা'দ, উটকে এভাবে পানি পান করাতে আনতে হয় না (১)। বুদ্ধির পক্ষ থেকে এক অদৃশ্য আহ্বানকারী কত করুণ স্বরে তাদের অন্তরের পাখিকে উদ্দেশ্য করে হাহাকার করে বলেছে:

হায়! এটি তোমার বাসা নয়, অতএব প্রস্থান করো। কত পাঠক বিনয়বশত এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর কোনো কোনোটির দিকে বারবার দৃষ্টিপাত করেছে, অতঃপর তার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়েছে এই বলতে বলতে যে: হায়, আকাঙ্ক্ষাগুলো কতই না ব্যর্থ! এবং সে সত্যনিষ্ঠ হয়ে হলফ করে বলে যে, এগুলো তো কেবল আঙ্গুলের ডগা দিয়ে (অবহেলার সাথে) লেখা হয়েছে। সেখানে তালিবে ইলম জানতে পারে যে, তার ওপর যা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে তাতে তাকে কেবল অবকাশই দেওয়া হয়েছে এবং সে এক জনমানবহীন প্রান্তরে পরিত্যক্ত, যেখানে তার আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেওয়া হয় না এবং তার দিকে ভ্রুক্ষেপও করা হয় না।

যদি সেখানে 'ব্যানাতু নাশ' (নক্ষত্রপুঞ্জ) বিলাপ করত … তবে সে মরে যেত তবুও কোনো বিলাপকারীর কণ্ঠ শুনতে পেত না।

আমি এই সবকিছুর দায়ভার বর্ণনাকারীর জিহ্বার অপব্যবহার বা পাণ্ডুলিপি লেখকের হাতের ত্রুটির ওপর চাপিয়েছি। আর আমি অসম্ভব মনে করেছি যে, গ্রন্থকারদের পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রকাশ পাবে; কারণ তারা ইলমের ময়দানে সুদৃঢ় পদমর্যাদার অধিকারী। কবির কথা কতই না চমৎকার:

হে ইলমের ভাই! কোনো গ্রন্থকারের দোষ অন্বেষণে তাড়াহুড়ো করো না … যতক্ষণ না তুমি তার কোনো সুনিশ্চিত পদস্খলন সম্পর্কে নিশ্চিত হও।

কত বর্ণনাকারী তার নিজ বুদ্ধির ভুলে বক্তব্যকে কলুষিত করেছে … আর কত সম্প্রদায় বর্ণিত বিষয়কে বিকৃত ও ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।

আর কত পাণ্ডুলিপি লেখক অর্থের পরিবর্তনকারী হয়ে দাঁড়িয়েছে … এবং এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা গ্রন্থকার ইচ্ছা করেননি।

এটিই আমাকে প্ররোচিত করেছে দূরদর্শিতার ঘোড়াকে প্রস্তুত করতে এবং দৃঢ় সংকল্পের বাহনকে চালিত করতে 'তালখীস'-এর এমন এক ব্যাখ্যার দিকে, যা এই ইলমের জীর্ণাবশেষকে পুনরুজ্জীবিত করবে, যা হারিয়ে গেছে তা পুনরুদ্ধার করবে এবং এর সুউচ্চ শিখরগুলোর সর্বোচ্চটিতে আরোহণ করবে। এটি এর লেখকদের কর্মের ছোট-বড় কোনো কিছুই বাদ দেবে না বরং সবকিছু গণনা করবে। এটি এর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে (২) একত্রিত করবে এবং এর মণিমুক্তাগুলোকে গ্রথিত করবে।

--------------------------------------------

(১) এটি একটি রজজ ছন্দের কবিতার শেষাংশের কাছাকাছি, আর পূর্ণ কবিতাটি হলো:

সা'দ উটগুলোকে পানি পানে নিয়ে এল অথচ সে চাদর মুড়ি দিয়ে আছে … হে সা'দ, উটকে এভাবে পানি পানে আনতে হয় না।

এটি মালিক ইবনে যায়েদ মানাত-এর স্ত্রী নাওয়ার-এর উক্তি যা 'লিসান' (খনতল) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া জামহারাতুল আমসাল ১/৯৩ অনুযায়ী মালিক ইবনে যায়েদ মানাত-এর, মাজমাউল আমসাল ১/৪০৬ অনুযায়ী আলী ইবনে আবু তালিব (রা.)-এর এবং তাজুল আরুস (সা'দ) গ্রন্থেও এটি উল্লিখিত হয়েছে।

(২) শাগরা বাগর: বলা হয় উটগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং লোকজন 'শাগরা বাগর' বা 'শাগরা মাগরা' অবস্থায় চলে গেছে, অর্থাৎ সব দিকে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে। (লিসান)।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

الذهبية ما ذهب أيدى سبا وتمزق شذر مذر (1)، ويقتض من أبكاره ما مضت عليه القرون، ويفتض من ختامه ما انطوى على كل در مكنون، وينسج على منوال التفهيم تفاصيل محرره، ويحوى من القصب ما أحرز المدى وأطرب، وسكرت عن تبعه أبصار قوم لم يذوقوا حل ألوانه المكررة، ويقدم للطلاب معمولا على نمط ما قلاه من

المتحلين باستعمال الأدب عام ولا خاص، محشوا بتأليف حبات من القلوب تصلح مسيرا طبقا عن طبق لدست (2) الخواص، مختصا بصواب من مختار القول لأنه معمول ومقدم وتقديم المعمول مفيد للاختصاص. ويكون واسطة بين مفتاح المشرق ومصباح المغرب، خليا من العصبية حريا بالنسبة إلى مصر فإنها بقعة من عند الله مباركة طيبة لا شرقية ولا غربية فسبحان فالق إصباحها عن اعتدال يكون بين الحق والباطل فيصلا.

وجاعل الشّمس مصرا لا خفاء به … بين النّهار وبين اللّيل قد فصلا (3)

وكيف لا يدرك الفسطاط من هذا العلم المدى ويسلك فى إبراز حقائقه طرائق قددا، ويستخرج من ركابه أفلاذ الأكباد، ويضم من جياده ما سرح فى البلاد بداد، وهو قد اقتلع من تخوم خوارزم أساس البلاغة وأخذ زهرة أصفهان وأخلى ابن داود منها باعه وزفت إليه من ثم الخريدة بالأغانى وكفل لنيسابور اليتيمة فكان كما دل عليه الخبر خير المغانى، واقتطع من جيد المغرب عقده، ورشق مصنفاته بسهام النقد فما أغنت عن ابن رشيق العمدة (4). ونشر قلائد

--------------------------------------------

(1) شذر مذر: يقال ذهب القوم شذر مذر، أى: متفرقين، وتفرقت إبله شذر مذر إذا تفرقت فى كل وجه، ويتمذر: يتفرق، ويتشذر القوم: تفرقوا، عن اللسان.

(2) طبقا عن طبق لدست الخواص: أى حالا بعد حال لدست الخواص أى: مجلس الخواص وكلمة دست:

معربة عن المعجمة واستعملها المتأخرون بمعنى الديوان ومجلس الوزارة والرئاسة، انظر تاج العروس (1/ 543).

(3) البيت من البسيط، وهو لعدى بن زيد فى ديوانه ص 159، ولسان العرب (مصر)، وأساس البلاغة (مصر)، والتنبيه والإيضاح (2/ 206)، ولأمية بن أبى الصلت فى تاج العروس (مصر)، والمخصص 13/ 164.

ويروى: وجعل الشمس …

والمصر: الحاجز والحدّ بين الشيئين، أى جعل الشمس حدّا وعلامة بين الليل والنهار. اللسان (مصر).

(4) لنا تحقيق على كتاب العمدة لابن رشيق، ط. المكتبة العصرية - بيروت.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

এই স্বর্ণালি নির্যাস যা সাবার অধিবাসীদের ন্যায় বিলীন হয়ে গিয়েছিল এবং ছিন্নভিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল (১), তা এর প্রারম্ভিক বিষয়গুলো থেকে এমন কিছু চয়ন করে যার ওপর দিয়ে বহু শতাব্দী অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং এর সমাপ্তি থেকে সেই মোহর উন্মোচন করে যা প্রতিটি লুক্কায়িত মুক্তাকে বেষ্টন করে আছে। এটি অনুধাবনের পদ্ধতিতে এর পরিমার্জিত বিবরণসমূহকে বুনে তুলে এবং এমন শ্রেষ্ঠত্বকে ধারণ করে যা লক্ষ্য অর্জন করে এবং আনন্দ দান করে। যারা এর পুনরাবৃত্ত বর্ণের মাধুর্য আস্বাদন করেনি, তাদের দৃষ্টি এর অনুসরণ থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের সামনে এমন এক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা হয়েছে যা সাহিত্যের অলঙ্কারে অলঙ্কৃত ব্যক্তিবর্গ অপছন্দ করে না, চাই তারা সাধারণ হোক বা বিশেষ। এটি হৃদয়ের এমন সব সারবস্তুর সমন্বয়ে সমৃদ্ধ যা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উচ্চাসনের (২) জন্য স্তরে স্তরে সাজানো বাহন হওয়ার যোগ্য। এটি সংগৃহীত বক্তব্যের মধ্য হতে সঠিক বিষয় দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; কেননা এটি সুবিন্যস্ত ও উপস্থাপিত, আর ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী কর্মকে (মা’মূল) অগ্রবর্তী করা বিশেষত্ব বা সুনির্দিষ্টকরণ অর্থ প্রদান করে। এটি প্রাচ্যের চাবিকাঠি এবং পাশ্চাত্যের প্রদীপের মধ্যবর্তী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এটি সংকীর্ণতা ও গোঁড়ামি থেকে মুক্ত এবং মিশরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার যোগ্য; কেননা মিশর আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বরকতময় ও পবিত্র ভূমি, যা প্রাচ্যেরও নয় আবার পাশ্চাত্যেরও নয়। সুতরাং পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এর প্রভাতকে এমন ভারসাম্যপূর্ণভাবে প্রস্ফুটিত করেছেন যা সত্য ও মিথ্যার মাঝে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী।

আর তিনি সূর্যকে একটি প্রকাশ্য সীমানা বানিয়েছেন যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই … যা দিন এবং রাতের মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করে দিয়েছে (৩)

আর কেনই বা ফুসতাত (মিশর) এই ইলমের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাবে না এবং এর গূঢ় সত্যসমূহ উদ্ঘাটনে বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় পথ অবলম্বন করবে না? এটি এর আরোহী থেকে হৃদয়ের মণিকোঠাসমূহ বের করে আনে এবং এর সেই শ্রেষ্ঠ বিষয়গুলোকে একত্রিত করে যা বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। এটি খাওয়ারিজমের সীমানা থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রের ভিত্তি উপড়ে নিয়েছে এবং ইসফাহানের সৌন্দর্য গ্রহণ করেছে এবং ইবনে দাউদকে তা থেকে রিক্তহস্ত করেছে। সেখান থেকে ‘আল-খারিদাহ’ তার দিকে গীতিসহকারে চালিত হয়েছে এবং নিশাপুরের ‘আল-ইয়াতিমাহ’র দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, ফলে সংবাদ অনুযায়ী এটি শ্রেষ্ঠ জনপদে পরিণত হয়েছে। এটি মাগরিবের (মরক্কো) গর্দান থেকে তার কণ্ঠহার বিচ্ছিন্ন করেছে এবং আপন রচনাবলী দ্বারা সমালোচনার তীর নিক্ষেপ করেছে, ফলে ইবনে রশিকের ‘আল-উমদাহ’ও কোনো কাজে আসেনি (৪)। আর এটি সেই মুক্তার মালা ছড়িয়ে দিয়েছে...

--------------------------------------------

(১) শাযার মাযার: বলা হয় যে, লোকেরা ‘শাযার মাযার’ হয়ে গেছে, অর্থাৎ: বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর উটগুলো ‘শাযার মাযার’ হয়ে গেছে যখন তারা সব দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ‘যাতামাযযারু’ অর্থ: সে বিচ্ছিন্ন হয়। আর ‘ইয়াতাশাযযারুল কওমু’ অর্থ: লোকেরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সূত্র: লিসানুল আরব।

(২) বিশিষ্টজনদের উচ্চাসনের জন্য স্তরে স্তরে: অর্থাৎ বিশিষ্টজনদের মজলিস বা সভার জন্য অবস্থাভেদে। আর ‘দস্ত’ শব্দটি অনারব শব্দ থেকে আরবায়ন করা হয়েছে, পরবর্তীকালের লেখকগণ এটি দেওয়ান, মন্ত্রিপরিষদ ও নেতৃত্বের মজলিস অর্থে ব্যবহার করেছেন। দেখুন: তাজুল আরূস (১/৫৪৩)।

(৩) কবিতাটি বাসীত ছন্দের, এটি আদী বিন যায়দ-এর যা তাঁর দীওয়ানের ১৫৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া লিসানুল আরব (মিশর), আসাসুল বালাগাহ (মিশর), আত-তানবীহ ওয়াল ঈযাহ (২/২০৬) এবং উমাইয়াহ বিন আবিস সালত-এর বরাতে তাজুল আরূস (মিশর) ও আল-মুখাসসাস ১৩/১৬৪-তে এটি পাওয়া যায়।

বর্ণিত আছে: ‘ওয়া জা‘আলাশ শামসা’ (তিনি সূর্যকে বানিয়েছেন)...

আর ‘মিসর’ অর্থ: দুই বস্তুর মধ্যবর্তী প্রতিবন্ধক ও সীমানা। অর্থাৎ তিনি সূর্যকে দিন ও রাতের মাঝে একটি সীমানা ও চিহ্ন বানিয়েছেন। লিসানুল আরব (মিশর)।

(৪) ইবনে রশিকের ‘আল-উমদাহ’ গ্রন্থের ওপর আমাদের একটি সম্পাদিত সংস্করণ (তাহকীক) রয়েছে, যা আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ, বৈরুত থেকে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

عقيانه، ونثر زهر آدابه عن أفنانه. واستولى على الذخيرة. واستوفى محاسن أهل الجزيرة، فلذلك رجوت أن تخرج طينته فى هذا العلم كتابا يملى على المغترين من العلم فيملأ صدورهم ملاءة، وأن يرد ما أخذه عباءة ملاءة. ثم أحجمت عن سلوك هذا المسرى فصرت أقدم رجلا وأؤخر أخرى لعلمى أن الباع قصير والمتاع يسير، والبضاعة مزجاة، والصناعة لا تسعف الآمل كل وقت بما رجاه. هذا موضع ضيق الوقت بأعداء ندرأ بالله فى

نحورهم، ونعوذ به من شرورهم: يَعْرِفُونَ نِعْمَتَ اللَّهِ ثُمَّ يُنْكِرُونَها (1). ويمكرون ويصدفون عما انتهى إليهم منا فنتلو: ذلِكَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ عَلَيْنا وَعَلَى النَّاسِ وَلكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَشْكُرُونَ (2).

إن يسمعوا ريبة طاروا بها فرحا … منّى وما سمعوا من صالح دفنوا

مثل العصافير أحلاما ومقدرة … لو يوزنون بزفّ (3) الرّيش ما وزنوا

صمّ إذا سمعوا خيرا ذكرت به … وإن ذكرت بسوء عندهم أذنوا (4)

يتناهبون من العمر الأيام والليالى، ويحولون لو قدروا بين القلب وما يحاوله من العلوم والمعالى، لا تصدع المواعظ قلوبهم فتردعهم، ولا يسمعهم المذكر بأيام الله ولو أسمعهم، ولم يرد الله نفعهم فما نفعهم، هذا مع غشيان الفتنة لهم فى كل عام، وإتيان دائرة السوء عليهم بما ينحرهم كالأنعام، وأن أحدا منهم لا يصل إلى ما يتمناه. فإنا حول مائدة الكرم نستبشر بقوله تعالى كُلَّما أَوْقَدُوا ناراً لِلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللَّهُ (5).

وأيّامنا مشهورة فى عدوّنا … لها غرر (6) معروفة وحجول

--------------------------------------------

(1) سورة النحل: 83.

(2) سورة يوسف: 38.

(3) الزّف: صغير الريش، وخصّ بعضهم به ريش النعام. اللسان (زفف).

(4) الأبيات من البسيط، وهى لقعنب ابن أم صاحب فى لسان العرب (شور)، (همع)، (أذن) والأول فى سمط اللآلى ص 362، والثالث فى تاج العروس (أذن) ويروى الأول: (إن يسمعوا سبة)، (وما يسمعوا).

(5) سورة المائدة: 64.

(6) الغرة: البياض فى جبهة الفرس، والتحجيل: بياض فى أقدام الفرس حتى موضع القيد، يعنى أن وقائعهم بين الأيام، كالأفراس الغر المحجلة بين الخيل.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

তার খাঁটি সোনা, এবং তার শাখা-প্রশাখা থেকে শিষ্টাচারের ফুল বিচ্ছুরিত করেছেন। তিনি 'আয-যাখিরা'র (ভাণ্ডার) ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব লাভ করেছেন এবং জাযিরাবাসীদের সৌন্দর্যের পূর্ণতা দান করেছেন। তাই আমি আশা করেছিলাম যে, এই বিদ্যায় তাঁর প্রকৃতি এমন একটি কিতাব প্রকাশ করবে যা জ্ঞানগর্বীদের জন্য পাঠ করে শোনানো হবে এবং তাদের অন্তরকে পূর্ণতায় ভরিয়ে দেবে, আর তিনি যা চাদর হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তা যেন পূর্ণ পোশাক হিসেবে ফিরিয়ে দেন। এরপর আমি এই পথে চলতে দ্বিধাবোধ করলাম, ফলে আমি একবার পা বাড়াচ্ছিলাম আর একবার পিছিয়ে নিচ্ছিলাম; কারণ আমি জানতাম যে আমার সাধ্য সীমিত, পাথেয় সামান্য, পুঁজি নগণ্য এবং এই শিল্প সর্বদা আশাবাদীর আশা পূরণ করে না। এটি সংকীর্ণ সময়ের এক অবস্থান এমন শত্রুদের কারণে যাদের গ্রীবায় আমরা আল্লাহর সাহায্যে আঘাত হানি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় চাই: "তারা আল্লাহর অনুগ্রহ চেনে, এরপর তা অস্বীকার করে" (১)। তারা ষড়যন্ত্র করে এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাই আমরা পাঠ করি: "এটি আমাদের ওপর এবং মানুষের ওপর আল্লাহর এক অনুগ্রহ, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ শুকরিয়া আদায় করে না" (২)।

যদি তারা আমার কোনো সংশয় বা দোষের কথা শোনে, তবে তা নিয়ে আনন্দে উড়ে বেড়ায় … কিন্তু আমার কোনো ভালো কথা শুনলে তা দাফন করে ফেলে।

বুদ্ধি ও সামর্থ্যের দিক থেকে তারা চড়ুই পাখির মতো … যদি তাদের পাখির কোমল পালক দিয়েও ওজন করা হয়, তবে তাদের কোনো ওজন হবে না।

যখন তারা আমার সম্পর্কে কোনো ভালো কথা শোনে তখন তারা বধির হয়ে যায় … আর যখন আমার কোনো মন্দ চর্চা করা হয় তখন তারা কান পেতে শোনে (৪)।

তারা জীবন থেকে দিন ও রাতগুলোকে কেড়ে নেয় এবং যদি তারা সক্ষম হতো তবে তারা অন্তর ও তার কাঙ্ক্ষিত জ্ঞান ও উচ্চমর্যাদার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াত। উপদেশসমূহ তাদের অন্তরকে বিদীর্ণ করে না যে তাদের বিরত রাখবে, আর কোনো স্মারক আল্লাহর দিবসসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও তারা শোনে না যদিও তিনি তাদের শোনাতেন। আল্লাহ তাদের কল্যাণ চাননি, তাই তাদের কোনো উপকার হয়নি। অথচ প্রতি বছর ফিতনা তাদের আচ্ছন্ন করে রাখে এবং অমঙ্গলের আবর্তন তাদের ওপর আপতিত হয় যা তাদের গবাদি পশুর ন্যায় নিধন করে। তাদের কেউই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। অতএব আমরা মহানুভবতার দস্তরখানের পাশে মহান আল্লাহর এই বাণীতে সুসংবাদ লাভ করি: "যতবার তারা যুদ্ধের আগুন প্রজ্জ্বলিত করেছে, আল্লাহ তা নিভিয়ে দিয়েছেন" (৫)।

আমাদের শত্রুদের ওপর আমাদের দিনগুলো (বিজয়সমূহ) প্রসিদ্ধ … যার রয়েছে সুপরিচিত শুভ্র ললাট ও পদচিহ্ন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাহল: ৮৩।

(২) সূরা ইউসুফ: ৩৮।

(৩) আয-যিফ: ছোট পালক, কেউ কেউ একে উটপাখির পালকের সাথে নির্দিষ্ট করেছেন। আল-লিসান (য-ফ-ফ)।

(৪) কবিতাগুলো বাসীত ছন্দের, যা লিসানুল আরব-এ কা'নাব ইবনে উম্মে সাহিবের প্রতি সম্বোধিত হয়েছে (শ-ও-র), (হ-ম-অ), (অ-য-ন) ধাতু দ্রষ্টব্য। প্রথম পঙ্ক্তিটি সিমতুল লাআলি-র ৩৬২ পৃষ্ঠায় এবং তৃতীয়টি তাজুল আরুস (অ-য-ন)-এ রয়েছে। প্রথম পঙ্ক্তিটি 'যদি তারা কোনো গালি শোনে' (إن يسمعوا سبة) এবং 'তারা যা শোনে না' (وما يسمعوا) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে।

(৫) সূরা আল-মায়িদাহ: ৬৪।

(৬) আল-গুররাহ: ঘোড়ার কপালে বিদ্যমান শুভ্রতা। আত-তাহজীল: ঘোড়ার পায়ে সীমানার জায়গা পর্যন্ত বিদ্যমান শুভ্রতা। অর্থাৎ তাদের বীরত্বগাঁথা দিনগুলোর মাঝে এমনভাবে প্রসিদ্ধ যেমন শুভ্র কপাল ও পা বিশিষ্ট ঘোড়া অন্যান্য ঘোড়ার মাঝে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

وأسيافنا ألطاف رب دفاعه … منيع يردّ الطّرف (1) وهو كليل

معوّدة نصرا من الله غالبا … يعزّ على من كاده ويطول

هو الصّمد الفرد الّذى مستجيره … عزيز وجار المعتدين ذليل

سلى إن جهلت النّاس عنّا وعنهم … فليس سواء عالم وجهول

فإنّ رسول الله قطب رحائنا … تدور رحانا حوله وتجول (2)

ألهم الله كلا منا ومنهم توبة تضع من الأوزار عن الظهور كلا. وكفانا وإياهم حصائد الألسنة" وهل يكب الناس فى النار على وجوههم إلا" (3). وحساد على نعم الله تعالى لا فى اثنتين، ولا يتربصون بنا إلا إحدى الحسنيين، لا أقول حان حينهم، بل كفينا عينهم ومينهم، وحال الله بين مناهم وبينهم، يريدون إطفاء العلم بأفواههم، فلا يحصلون إلا على إتعاب شفاههم وتسويد جباههم.

وفى تعب من يحسد الشّمس نورها … ويجهد أن يأتى لها بضريب

نسأل الله أن يجعلنا من قوم عرفوا نعمته فحمدوا.

محسّدين على ما كان من نعم … لا ينزع الله منهم ما له حسدوا (4)

--------------------------------------------

(1) الطرف: النظر والعين أيضا، أى يرد طرف الناظر وهو حسير، عن هامش الحماسة.

(2) الأبيات من الطويل، وهى من قصيدة طويلة، فى الحماسة البصرية ص 146 - 149. منسوبة للسموأل بن عاديا (جاهلى)، وتروى لعبد الملك بن عبد الرحيم الحارثى من شعراء الدولة العباسية والأبيات هنا مختلفة فى الترتيب والألفاظ عما فى الحماسة البصرية بل ركبت فيها صدور لأعجاز أبيات أخر. فألفاظها هنا إسلامية وألفاظها فى الحماسة البصرية محتملة وهى أقرب لأن تكون جاهلية.

وانظر أيضا ديوان السموأل ص 90 - 92، وخزانة الأدب 10/ 331.

(3) جزء من حديث معاذ بن جبل، أخرجه أحمد والترمذى وابن ماجه، والحاكم وغيرهم، وأورده الشيخ الألبانى فى صحيح الجامع (ح 5136)، وقال:" صحيح".

(4) البيت لزهير فى العمدة لابن رشيق (2/ 105) وروايته:

محسدون …
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

আমাদের তরবারিগুলো আমাদের রবের অনুগ্রহস্বরূপ, যাঁর প্রতিরক্ষা … দুর্ভেদ্য, যা দৃষ্টিকে ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসতে বাধ্য করে (১)

তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক প্রবল বিজয়ে অভ্যস্ত … যা ষড়যন্ত্রকারীদের ওপর প্রবল হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়

তিনিই অমুখাপেক্ষী (আস-সামাদ), একক সত্তা, যাঁর আশ্রয়প্রার্থী … সম্মানিত হয় এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের প্রতিবেশী লাঞ্ছিত হয়

যদি তুমি আমাদের ও তাদের সম্পর্কে অজ্ঞ হও, তবে মানুষকে জিজ্ঞাসা করো … কেননা জ্ঞানী ও মূর্খ সমান নয়

নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল আমাদের যাঁতাকলের কেন্দ্রবিন্দু … আমাদের যাঁতাকল তাঁকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত ও ধাবিত হয় (২)

আল্লাহ আমাদের এবং তাদের উভয় পক্ষকে এমন তাওবা নসিব করুন যা পৃষ্ঠদেশ হতে গুনাহের বোঝা নামিয়ে দেয়। আর তিনি আমাদের ও তাদের জন্য 'জিহ্বার ফসল' হতে রক্ষাকারী হোন; "মানুষকে কি তাদের চেহারার ওপর উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয় কেবল তাদের [জিহ্বার ফসলের কারণে নয়]?" (৩)। তারা আল্লাহর নেয়ামতের ওপর এমন হিংসুক যাদের কথা সেই দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় [যাদের হিংসা বা ঈর্ষা করা বৈধ], আর তারা আমাদের জন্য দুইটি কল্যাণের (বিজয় বা শাহাদাত) একটি ব্যতীত অন্য কিছুর প্রতীক্ষা করে না। আমি বলছি না যে তাদের ধ্বংসের সময় উপস্থিত হয়েছে, বরং আমরা তাদের কুদৃষ্টি ও মিথ্যার বিরুদ্ধে যথেষ্ট হয়েছি। আল্লাহ তাদের আকাঙ্ক্ষা ও তাদের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন; তারা তাদের মুখ দিয়ে জ্ঞানের নূর নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু তারা তাদের ওষ্ঠদ্বয়ের ক্লান্তি এবং ললাটের কালিমা ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারে না।

সে ব্যক্তি ক্লান্তিতেই থাকে যে সূর্যের আলোর প্রতি হিংসা করে … আর তার সমতুল্য কিছু আনয়নের বৃথা চেষ্টা করে

আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ঐসব লোকেদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা তাঁর নেয়ামত চিনেছে এবং শুকরিয়া আদায় করেছে।

তারা সেই নেয়ামতসমূহের জন্য ঈর্ষান্বিত হয়েছে যা তাদের ছিল … আল্লাহ যেন তাদের থেকে সেই বস্তু ছিনিয়ে না নেন যার জন্য তারা ঈর্ষান্বিত হয়েছে (৪)

--------------------------------------------

(১) আত-তারফ: দৃষ্টি এবং চোখও; অর্থাৎ দর্শকের দৃষ্টি পরিশ্রান্ত হয়ে ফিরে আসে। হামাসাহ-এর টীকা হতে।

(২) পংক্তিগুলো আত-তাবীল ছন্দে রচিত, যা একটি দীর্ঘ কসিদার অংশ। এটি হামাসাহ আল-বাসরিয়্যাহ (পৃ. ১৪৬-১৪৯) এ উদ্ধৃত। এটি জাহেলি যুগের কবি সামাওয়াল ইবনে আদিয়া-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, আবার আব্বাসীয় যুগের কবি আবদুল মালিক ইবনে আবদুর রাহিম আল-হারিসি হতেও বর্ণিত হয়েছে। এখানকার পংক্তিগুলোর ক্রম ও শব্দ হামাসাহ আল-বাসরিয়্যাহ-এর থেকে ভিন্ন, বরং এখানে বিভিন্ন পংক্তির প্রথমাংশ ও শেষাংশ মিলিয়ে গঠন করা হয়েছে। এখানকার শব্দাবলি ইসলামি ভাবাপন্ন, যেখানে হামাসাহ আল-বাসরিয়্যাহ-এর শব্দাবলি জাহেলি যুগের হওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী। আরও দেখুন: দিওয়ান আল-সামাওয়াল পৃ. ৯০-৯২ এবং খাজানাতুল আদব ১০/৩৩১।

(৩) এটি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বর্ণিত হাদিসের অংশ, যা আহমদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, হাকীম এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। শায়খ আলবানী এটি সহীহুল জামি'তে (হাদিস ৫১৩৬) উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "সহীহ"।

(৪) পংক্তিটি ইবনে রাশিকের আল-উমদাহ (২/১০৫) গ্রন্থে জুহাইরের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত, এবং তাঁর বর্ণনাটি হলো: 'মুহাসসাদূনা' (হিংসার পাত্র হওয়া)...
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

إلى ما انضم إلى ذلك من فراق لذلك الوالد استولى على الجسد فهد قواه، ورمى القلب بسهام الوجد فأصماه، وشارفه باستيفاء أقسام الحزن عاملا على مباشرة سهمى رقيبه ومعلاه. فانصرفت آمال النفس عن الأمانى وانحرفت عما كان يعز عليها من معالى المعانى.

قد كنت أشفق من دمعى على بصرى … فاليوم كلّ عزيز بعدهم هانا

إلى استغراق الزمان بذكر الدروس التى هى لغير هذا العلم موضوعة، والأخذ فى تصانيف فى الفقه وأصوله نرجو إكمالها إن شاء الله تعالى وتكميل ما شرع فيه من الخير سنة مشروعة، فليت شعرى هل تفضل من العمر

عن هذه الشواغل بقية؟ وهل دون هذه السهام القواتل من تقية؟ غير أنه قد أسعفت الألطاف الإلهية، وأسعدت العناية المحمدية (1) حتى وضعت لهذا الكتاب شرحا ليس غائب الرسم فأعرفه بالحد، ولا مجانب الوسم فأصفه بما يوجب القبول أو الرد، بل هو بادى الصفحة، مدرك باللمحة، وها أنا قد أخرجته عن يدى وجعلته موقوفا فى سوق الاعتراض، مصروفا لمن يستحق منافعه وهو المبرأ من أمراض الأغراض، فمن نظر بعين الإنصاف، واعتبر وهو مصاف، وله بصحة الذهن اتصاف، علم أهو جدير بأن ينبذ بالعراء ويهجر هجر واصل للراء؟ أم هو حقيق بأن تضرب له أيدى النجباء آباط النجائب، وتعقد الخناصر على ما فيه من عجائب المحاسن ومحاسن العجائب؟ فإن تصفح الناظر فيه الغلط فليصفح ولا يكن من أناس بالأغاليط يفرحون، وليصلح ما يجده فاسدا فإن الله تعالى ذم رهطا قال فيهم: يُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَلا يُصْلِحُونَ (2)، وإن رآه أمثل مما فرح الطلاب بجمعه من كلام كثيرين فليعوذه بقوله تعالى: قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ (3). وكأنى بمن لا يعرف من التحقيق قبيلا من دبير، ولا هو من التدقيق فى العير ولا فى النفير، ولا تملك يده من هذا العلم قطميرا، وإن بسط ذراعيه بوصيد كهف العلم كأنه قطمير، يجد فى كتابى هذا قواعد مخترعة، ومعاقد هى فى بادئ الرأى هاذمة لقواعد المتقدمين وإنما هى عند التأمل والتحقيق من كلامهم منتزعة، وركوب لجة ما ركبها السابحون،

--------------------------------------------

(1) هذا مما تسلل إلى الشيخ من عقيدة المتصوفة التى كانت سائدة فى ذلك العصر.

(2) سورة النمل: 48.

(3) سورة يونس: 58.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

সেই সাথে পিতার বিচ্ছেদ যোগ হওয়ায় তা দেহের ওপর আধিপত্য বিস্তার করল এবং এর শক্তিকে ভেঙে চুরমার করে দিল। হৃদয়ে তীব্র অনুরাগের বাণ ছুড়ল যা তাকে হতবিহ্বল করে দিল। এটি তাকে দুঃখের সবটুকু আস্বাদন করাল, যেন তার পর্যবেক্ষক ও উচ্চাভিলাষের তীরগুলো সরাসরি কার্যে পরিণত হলো। ফলে মনের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং যে উচ্চতর অর্থসমূহ তার কাছে অতীব প্রিয় ছিল তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ল।

আমি আমার অশ্রু থেকে আমার দৃষ্টির ব্যাপারে আশঙ্কা করতাম … কিন্তু আজ তাদের পর প্রতিটি মূল্যবান বস্তুই তুচ্ছ হয়ে গেছে।

সময়ের এই নিমগ্নতা সেই সব পাঠের চর্চায় যা এই শাস্ত্রের বাইরের বিষয়ের ওপর রচিত, এবং ফিকহ ও উসূলুল ফিকহের এমন সব সংকলনের কাজে হাত দেওয়া যা আমরা আল্লাহ তাআলা চাইলে সম্পন্ন করার আশা রাখি। এছাড়া যে কল্যাণের কাজ শুরু হয়েছে তা পূর্ণ করা একটি বিধিবদ্ধ সুন্নত। হায়! আমি যদি জানতাম, এই ব্যস্ততার পর কি জীবনের আর কোনো অংশ অবশিষ্ট থাকবে? আর এই প্রাণঘাতী তীরগুলো থেকে কি কোনো আত্মরক্ষার উপায় আছে? তবে ঐশ্বরিক অনুগ্রহ সাহায্য করেছে এবং মুহাম্মদী তত্ত্বাবধান (১) সৌভাগ্য দান করেছে, যার ফলে আমি এই কিতাবের এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছি যা অবয়বে অদৃশ্য নয় যে আমাকে সংজ্ঞার মাধ্যমে তা পরিচয় করাতে হবে, আর না তা বৈশিষ্ট্যহীন যে আমাকে এমন বর্ণনা দিতে হবে যা গ্রহণ বা বর্জনের কারণ হবে। বরং এর পৃষ্ঠাগুলো উন্মুক্ত, যা এক পলকেই অনুধাবনযোগ্য। আর এই তো আমি এটি আমার হাত থেকে বের করেছি এবং পর্যালোচনার বাজারে পেশ করেছি, একে অর্পণ করেছি তার জন্য যে এর উপকারের যোগ্য এবং যে সব প্রকার ব্যক্তিস্বার্থের ব্যাধি থেকে মুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি ইনসাফের দৃষ্টিতে দেখবে, নির্মল চিত্তে বিচার করবে এবং সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হবে, সে বুঝতে পারবে যে এটি কি উন্মুক্ত প্রান্তরে ছুড়ে ফেলার যোগ্য এবং একে কি এমনভাবে বর্জন করা উচিত যেভাবে ওয়াছিল 'রা' বর্ণকে বর্জন করেছিল? নাকি এটি এমন হওয়ার যোগ্য যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা এর কাছে পৌঁছাতে তাদের বাহনের বগলে আঘাত করবে (দ্রুত ছুটে আসবে) এবং এর মধ্যকার বিস্ময়কর সৌন্দর্য ও সুন্দর বিস্ময়গুলোর ওপর কড়কড়ে গিট বাঁধবে? যদি কোনো পাঠক এতে কোনো ভুল দেখতে পান, তবে যেন তিনি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন এবং যেন সেই সব লোকদের অন্তর্ভুক্ত না হন যারা ভুলভ্রান্তি দেখে আনন্দিত হয়। বরং তিনি যা ত্রুটিপূর্ণ পাবেন তা যেন সংশোধন করে দেন, কারণ আল্লাহ তাআলা এক সম্প্রদায়ের নিন্দা করে বলেছেন: তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং সংশোধন করে না (২)। আর যদি তিনি একে সেই সব সংকলনের চেয়ে উত্তম মনে করেন যা শিক্ষার্থীরা অনেকের বক্তব্য থেকে সংগ্রহ করে আনন্দিত হয়, তবে যেন তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর আশ্রয় নেন: বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়; সুতরাং এতেই যেন তারা আনন্দিত হয়। তারা যা সঞ্চয় করে তার চেয়ে এটি উত্তম (৩)। আর আমি যেন এমন ব্যক্তিকে দেখতে পাচ্ছি যে গবেষণার আগাপাছতলা কিছুই বোঝে না, আর না সে সূক্ষ্ম বিচারে কোনো ছোট বা বড় বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার হাত এই শাস্ত্রের অতি সামান্য অংশেরও মালিক নয়, যদিও সে ইলমের গুহার প্রবেশপথে তার দুই বাহু প্রসারিত করে রেখেছে যেন সে ক্বিতমীর (গুহাবাসীদের কুকুর), সে আমার এই কিতাবে কিছু উদ্ভাবিত মূলনীতি এবং এমন কিছু জটিল গ্রন্থি খুঁজে পাবে যা প্রাথমিক দৃষ্টিতে পূর্ববর্তীদের মূলনীতিসমূহকে ধূলিসাৎকারী মনে হতে পারে, অথচ গভীরভাবে চিন্তা ও গবেষণা করলে দেখা যাবে সেগুলো তাদের বক্তব্য থেকেই সংগৃহীত এবং এমন এক গভীর সমুদ্রে অবগাহন যা অন্য সাঁতারুরা করেনি।

--------------------------------------------

(১) এটি সেই সব বিষয় থেকে যা শায়খের কাছে সূফীদের আকিদা থেকে অনুপ্রবেশ করেছে, যা সেই যুগে প্রচলিত ছিল।

(২) সূরা আন-নামল: ৪৮।

(৩) সূরা ইউনুস: ৫৮।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

وسلوك محجة ما طرقها الشارحون، ولا سلكها الغادون والرائحون، أو ينظر أول كلامى دون آخره، ويقصر عن درك دقائقه حتى تمضى ساعاته حول ظواهره، فيظن أنه قد وجد تمرة الغراب، أو أنه قد سبق الهجين العراب.

عذرت البزل إن هى خاطرتنى … فما بالى وبال بنى لبون

هيهات لا يدرك شأوى الضليع هذا الضالع، ولا يملك ما طمع فيه وإنما تقطع أعناق الرجال المطامع، فليعلم هذا القصير الباع المبطن من مكيدته ما استطاع، أنه لم يبق وجهه بل فضح نفسه وصنفه، ولأمر ما جدع قصير أنفه، وأنه لا يزال يتقلب من كمده على الجمر، ويأمر من اجتناب هذا الكتاب بالفحشاء ولا يطاع لقصير أمر:

وكم من عائب قولا صحيحا … وآفته من الفهم السّقيم

ولكن تأخذ الآذان منه … على قدر القرائح والعلوم (1)

أيحسب أن ما فقده من كلام الشارحين صار الكتاب منه غفلا؟! أم يظن أن التقصير أغلق على خزائنهم دونى قفلا؟! ولا يدرى أننى وردت حياضهم فرشفت صفوا وقذفت ثفلا، وجبت أنجادهم وأغوارهم فتخيرت منها ما يصلح علوا وسفلا. أولى له فأولى إن لم يعط القوس باريها، لقد كان الأحرى به والأولى أن ينظر آخر الكلام أو يرجع من كتب المتقدمين ما فيها، فالاستيعاب لأطراف الكلام الموطأ يرشده ويوقظه من سنة الكرى، والاستذكار لما أسسه السلف من تمهيد القواعد ينشده:

أطرق كرا، أطرق كرا … إنّ النّعام فى القرى (2)

كأنما ضرب بينه وبين العلم بسور من الشدائد، وجعل عليه دون هذا الكتاب سدّا من حديد فهو يضرب فيه بذهنه الكليل الشارد، وقيل ارجع وراءك فالتمس نورا فإنما أنت تضرب فى حديد حتى يرجع بخفى حنين (3)، ويسمى بحسده أشغل من ذات النحيين «3»، ولو

--------------------------------------------

(1) البيتان من الوافر، والأول منهما بلا نسبة فى تاج العروس (كفر).

(2) هذا قول للعرب لكنه مرجوز، وهو فى اللسان (كرا) وتاج العروس (كرا)، والكامل بتحقيقى - ط دار الكتب العلمية.

(3) حتى يرجع بخفى حنين: هذه عبارة تضرب مثلا لمن رد عن حاجته ورجع بالخيبة، وتفسيرها فى بعض الروايات: أن حنينا كان رجلا شريفا ادّعى إلى أسد بن هاشم بن عبد مناف فأتى إلى عبد المطلب
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

এবং এমন এক প্রশস্ত পথের অনুসরণ করা যা ব্যাখ্যাকারগণ মাড়াননি, এবং যে পথে সকাল-সন্ধ্যায় বিচরণকারীরা চলেননি। অথবা সে যেন আমার বক্তব্যের শেষের দিকে দৃষ্টিপাত না করে শুধু শুরুর দিকে নজর না দেয়, এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়ে শুধু এর বাহ্যিক দিকগুলোর পেছনেই সময় ব্যয় না করে। ফলে সে ধারণা করতে পারে যে সে কোনো বিরল বস্তু পেয়ে গেছে, অথবা মনে করতে পারে যে হীন ঘোড়া উচ্চবংশীয় ঘোড়াকে ছাড়িয়ে গেছে।

আমি শক্তিশালী উটদের ক্ষমা করেছি যদি তারা আমাকে চ্যালেঞ্জ করে … কিন্তু আমার সাথে এই ছোট উটশাবকদের কী সম্পর্ক?

হায় আফসোস! এই অক্ষম ব্যক্তি আমার গতির নাগাল পাবে না, এবং সে যা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করছে তা অর্জন করতে পারবে না; মূলত মানুষের আকাঙ্ক্ষাই তাদের ধ্বংস ডেকে আনে। এই স্বল্পজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির জানা উচিত—যে তার সাধ্যমতো ষড়যন্ত্র গোপন রেখেছে—যে সে নিজের সম্মান রক্ষা করতে পারেনি বরং নিজেকে এবং নিজের শ্রেণীকে অপমানিত করেছে। কোনো এক গূঢ় কারণেই 'কুসাইর' তার নাক কেটেছিল। সে তার মনস্তাপের কারণে জ্বলন্ত কয়লার ওপর ছটফট করতে থাকবে। সে এই কিতাব বর্জন করার জন্য অশ্লীল বিষয়ের নির্দেশ দেয়, কিন্তু কোনো 'কুসাইর'-এর আদেশ মানা হয় না:

কত দোষ অন্বেষণকারীই না সঠিক কথার নিন্দা করে … অথচ তার সমস্যা হলো তার রুগ্ন উপলব্ধি।

তবে কানগুলো তা থেকে গ্রহণ করে … মেধা ও জ্ঞানের পরিমাপ অনুযায়ী। (১)

সে কি মনে করে যে ব্যাখ্যাকারদের বক্তব্যের মধ্যে যা অনুপস্থিত, এই কিতাব তা থেকে রিক্ত?! নাকি সে মনে করে যে অক্ষমতা আমার আগে তাদের জ্ঞানভাণ্ডারে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে?! সে জানে না যে আমি তাদের জ্ঞান-সরোবরে উপস্থিত হয়েছি, অতঃপর আমি স্বচ্ছ বারিধারা পান করেছি এবং তলানি বর্জন করেছি। আমি তাদের উচ্চভূমি ও নিম্নভূমি চষে বেড়িয়েছি এবং সেখান থেকে তা-ই নির্বাচন করেছি যা উচ্চ ও নিম্ন স্তরের জন্য উপযুক্ত। তার জন্য ধ্বংস অনিবার্য যদি সে ধনুক তার উপযুক্ত কারিগরকে প্রদান না করে। তার জন্য এটাই অধিক সংগত ও সমীচীন ছিল যে সে বক্তব্যের শেষাংশ দেখত অথবা পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহে যা রয়েছে তা পর্যালোচনা করত। কেননা সুবিন্যস্ত বক্তব্যের সকল দিকের ব্যাপক অনুসন্ধান তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করত এবং তাকে গভীর নিদ্রা থেকে জাগিয়ে তুলত। আর সালাফগণ যে মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তার স্মরণ তাকে উচ্চস্বরে বলবে:

হে বক, মাথা নিচু করো; হে বক, মাথা নিচু করো … নিশ্চয়ই উটপাখি জনপদে প্রবেশ করেছে। (২)

যেন তার এবং ইলমের মাঝে প্রতিকূলতার এক প্রাচীর তুলে দেওয়া হয়েছে, এবং এই কিতাবের সামনে তার জন্য লোহার এক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। তাই সে তার ভোঁতা ও বিভ্রান্ত বুদ্ধি দিয়ে এতে আঘাত করছে। আর বলা হলো—"তোমরা পেছনে ফিরে যাও এবং আলো অন্বেষণ করো।" কারণ তুমি লোহা পিটাচ্ছ মাত্র, যতক্ষণ না তুমি 'হুনাইনের মোজা' নিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসো (৩)। আর সে তার হিংসার কারণে 'যাতুন নাহিয়াইন'-এর চেয়েও বেশি ব্যস্ত বলে অভিহিত হয়। আর যদি—

--------------------------------------------

(১) পঙ্ক্তি দুটি 'ওয়াফির' ছন্দে রচিত। এর প্রথম পঙ্ক্তিটি 'তাজুল আরুস' (ক-ফ-র) গ্রন্থে কোনো লেখকের নাম ছাড়াই উদ্ধৃত হয়েছে।

(২) এটি আরবদের একটি প্রবাদ যা 'রাজজ' ছন্দে রচিত। এটি 'লিসানুল আরব' (ক-র-অ), 'তাজুল আরুস' (ক-র-অ) এবং আমার তাহকিককৃত 'আল-কামিল' (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ) গ্রন্থে বিদ্যমান।

(৩) 'হুনাইনের মোজা নিয়ে ফিরে আসা': এই প্রবাদটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয় যে নিজের উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে আসে। কিছু বর্ণনায় এর ব্যাখ্যা হলো: হুনাইন ছিল একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি যে আসাদ ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফের বংশধর হওয়ার দাবি করেছিল, অতঃপর সে আবদুল মুত্তালিবের কাছে আসে।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

أوتى رشده لأنف أن يسخر منه الساخر، واغترف من هذا البحر الزاخر، واعترف بأنه الذى يلتقط منه جواهر المفاخر، وترى الفلك فيه بشراع العلم مواخر، ويقول من تقرع أسماعه: كم ترك الأول للآخر؟ وهب أنه ظفر بزلات معدودة، وعثر على هفوات ليست أمثالها عن جهابذة هذا الفن مردودة، ألم يعلم أن السعيد من عدت غلطاته، وردت إلى استقصاء الإحصاء سقطاته؟!

فمن ذا الّذى ترضى سجاياه كلّها … كفى المرء نبلا أن تعدّ معايبه (1)

ولكن لأمر ما يسود من يسود، وعسى أن يكره الإنسان من ذم الحاسد ما تسفر عقباه عن محمود السعود:

وإذا أراد الله نشر فضيلة … طويت أتاح لها لسان حسود

لولا اشتعال النار فيما جاورت … ما كان يعرف طيب عرف العود (2)

أعاذنا الله تعالى من هوى يرمى بالخرس لسان الاعتراف، ويعمى أبصار البصائر عن جميل الأوصاف، ويصمى (3) القلوب فلا يصل إليها نور الإنصاف، ولما أوصلتنى السرى منه إلى صباح قدر صدته فلاح، وأسفر صبحه فأجاب من سمع من مناديه حى على الفلاح، وشرح طائره الميمون ببطاقة بالحتم مبشرة بالقدوم يخفق بها جناح النجاح، ووصلت فيه إلى اجتناء غروس ثمارها على أفنان الفنون مرتصة، وحصلت منه على اجتلاء عروس فى حلى الأفراح

--------------------------------------------

- وعليه خفان أحمران، فقال: يا عم، أنا ابن أسعد بن هاشم فقال له عبد المطلب: لا وثياب هاشم، ما أعرف شمائل هاشم فيك فارجع راشدا، فانصرف خائبا، عن اللسان.

أشغل من ذات النحيين: هذه عبارة تضرب مثلا، وتفسيرها أن ذات النحيين امرأة من تميم كانت تبيع السمن في الجاهلية، فأتى خوّات بن جبير الأنصاري يبتاع منها سمنا فساومها، فحلت نحيا - زقا من سمن - مملوءا، فقال: أمسكيه حتى أنظر غيره ثم حل آخر وقال لها: أمسكيه، فلما شغل يديها ساورها حتى قضى ما أراد وهرب، عن اللسان.

(1) البيت من الطويل، وهو ليزيد بن محمد المهلبى فى تاج العروس (حبر). وروايته (ومن …).

(2) البيتان من الكامل، وهما لأبى تمام فى ديوانه ص 85 ط. دار الكتب العلمية، وأسرار البلاغة ص 92 ط. رشيد رضا، والمصباح ص 113، 114، والإيضاح ص 204. والعمدة لابن رشيق (2/ 189).

(3) الوصم: المرض، عن اللسان.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

যাকে সঠিক পথপ্রদর্শন করা হয়েছে, সে উপহাসকারীর উপহাসকে অবজ্ঞা করে। সে এই উত্তাল সমুদ্র থেকে অঞ্জলি ভরে গ্রহণ করেছে এবং স্বীকার করেছে যে, সে এখান থেকেই গৌরবের মণি-মুক্তা কুড়িয়ে নেয়। আপনি সেখানে জ্ঞানের পাল উড়িয়ে জাহাজগুলোকে চলতে দেখবেন। আর যার কানে এর ধ্বনি পৌঁছাবে সে বলবে: ‘পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন!’ ধরুন, সে গুটি কয়েক পদস্খলন খুঁজে পেল এবং এমন কিছু ভুল পেল যা এই শিল্পের পন্ডিতদের ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক নয়। সে কি জানে না যে, সেই সৌভাগ্যবান যার ভুলগুলো গণনা করা যায় এবং যার বিচ্যুতিগুলো সূক্ষ্ম পরিমাপের আওতায় আনা যায়?!

এমন কে আছে যার সব স্বভাবই সন্তোষজনক? … মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে তার দোষগুলো গণনা করা যায় (১)

কিন্তু কোনো এক কারণে যে নেতৃত্ব পাওয়ার সে পায়। হতে পারে মানুষ হিংসুকের নিন্দার কারণে এমন কিছুকে অপছন্দ করে, যার শেষ পরিণতি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সৌভাগ্যের হয়:

যখন আল্লাহ কোনো সুপ্ত গুণের প্রকাশ ঘটাতে চান … তখন তিনি তার জন্য হিংসুকের জিহ্বাকে সুযোগ করে দেন

যদি আগুনের শিখা তার চারপাশকে গ্রাস না করত … তবে আগর কাঠের সুগন্ধি চেনা যেত না (২)

মহান আল্লাহ আমাদের সেই প্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করুন যা সত্য স্বীকারোক্তির জিহ্বাকে বোবা করে দেয়, অন্তর্দৃষ্টির চোখকে সুন্দর গুণাবলি দেখা থেকে অন্ধ করে দেয় এবং হৃদয়কে বিদ্ধ করে, ফলে সেখানে ইনসাফের আলো পৌঁছাতে পারে না। যখন নৈশভ্রমণ আমাকে এমন এক মর্যাদাপূর্ণ প্রভাতে পৌঁছে দিল যার উদয় আমি প্রত্যক্ষ করেছি, তখন তার সকাল উদ্ভাসিত হলো এবং যে ঘোষণাকারীর 'কল্যাণের দিকে এসো' আহ্বান শুনেছিল সে সাড়া দিল। তার সৌভাগ্যবান পাখিটি আগমনের সুনিশ্চিত সুসংবাদবাহী একটি বার্তা নিয়ে ডানা মেলল যা সফলতার ইঙ্গিত দেয়। সেখানে আমি শাখা-প্রশাখার ওপর সুবিন্যস্ত বিভিন্ন বিদ্যার ফল আহরণ করতে সক্ষম হলাম এবং উৎসবের অলঙ্কারে সজ্জিত এক নববধূর ন্যায় বিষয়বস্তুর সাক্ষাৎ পেলাম।

--------------------------------------------

— তার পায়ে দুটি লাল মোজা ছিল, সে বলল: হে চাচা, আমি আসআদ বিন হাশিমের ছেলে। আব্দুল মুত্তালিব তাকে বললেন: না, হাশিমের পোশাকের কসম, আমি তোমার মধ্যে হাশিমের বৈশিষ্ট্যগুলো চিনতে পারছি না। সুতরাং তুমি সঠিক পথে ফিরে যাও। ফলে সে নিরাশ হয়ে ফিরে গেল। —লিসানুল আরব থেকে।

'যাতুন নাহিয়াইন (দুই ঘৃতপাত্রী)-এর চেয়েও ব্যস্ত': এটি একটি প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ব্যাখ্যা হলো, যাতুন নাহিয়াইন ছিল তামীম গোত্রের এক মহিলা, যে জাহেলী যুগে ঘি বিক্রি করত। খাওয়াত বিন জুবাইর আনসারী তার কাছ থেকে ঘি কিনতে এসে দরদাম করতে লাগল। সে একটি ঘি ভর্তি চামড়ার পাত্রের মুখ খুলল, খাওয়াত বলল: এটি ধরে রাখুন যতক্ষণ না আমি অন্যটি দেখি। তারপর সে অন্যটি খুলল এবং তাকে বলল: এটিও ধরুন। যখন তার দুই হাত ব্যস্ত হয়ে পড়ল, তখন সে তাকে আক্রমণ করল এবং নিজের উদ্দেশ্য পূরণ করে পালিয়ে গেল। —লিসানুল আরব থেকে।

(১) এই কবিতাটি 'তাওয়ীল' ছন্দের। এটি ইয়াজিদ বিন মুহাম্মদ আল-মুহাল্লাবির, যা 'তাজুল আরুস' (হবর) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এর একটি পাঠ হলো (আর কে সেই ব্যক্তি...)।

(২) এই দুটি পঙ্ক্তি 'কামিল' ছন্দের। এগুলো আবু তামাম-এর দিওয়ান (পৃষ্ঠা ৮৫, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ), আসরারুল বালাগাহ (পৃষ্ঠা ৯২, রশীদ রেদা সংস্করণ), আল-মিসবাহ (পৃষ্ঠা ১১৩, ১১৪) এবং আল-ইদাহ (পৃষ্ঠা ২০৪)-এ রয়েছে। এছাড়াও ইবনে রশিকের 'আল-উমদাহ' (২/১৮৯)-তে পাওয়া যায়।

(৩) 'আল-ওয়াসম' অর্থ রোগ। —লিসানুল আরব থেকে।
(খণ্ড: ১) আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখিসিল মিফতাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ــ

على منصة حمدت الله تعالى على إتمام نعمتى الإتمام والافتتاح، وسميته: (عروس الأفراح فى شرح تلخيص المفتاح) ولقد احتوى هذا الشرح بحمد الله تعالى من المباحث التى هى من بنات فكرى فلم أسبق إليها، ومن هبات ذكرى فما عثر أحد فيما علمت من أهل هذا الفن عليها، على جملة لا أعقد لها عددا حتى أفرغ من عدّ النجوم، ولا أعهد لها مددا سوى إلهام الحى القيوم، وكأين فيه من شاهد يردّ على هذا العلم ما يدعيه عن حق ضائع، ويثبت له عرفا يحفظ طيب الثناء بعرف ضائع، ويأمن من الإسقاط فإنى استخرجته بالفكرة، وعدلته بتزكيتى العقل والنقل عند قاض من التأمل ليست عنده فترة، وأجلسته فى مجالس العلماء فأثبتوا فخره، وأطلت البحث عنه ولم أجده فى كتاب ولم أسمعه من ذى فطرة.

واعلم أنى مزجت قواعد هذا العلم بقواعد الأصول والعربية، وجعلت نفع هذا الشرح مقسوما بين طالبى العلوم الثلاثة وأكاد أقول بالسوية، وأضفت إليه من إعراب الآيات الواقعة فيه ما هو محرر وإن كان رقيق الحاشية، ومن

ضبط ألفاظ أحاديثه النبوية ما كانت خباياه من الجامع الأزهر الصحيح فى زاوية، وضمنته شيئا من القواعد المنطقية والمقاعد الكلامية والحكمة الرياضية أو الطبيعية، وأتحفته من فوائد الوالد (1) وتحقيقه، ومن فوائد علمه الطارف والتالد وتدقيقه، ما هو تاج على هام الكواكب، وسراج إذا ادلهمت الغياهب، وطراز على حلة الطالب، وغرة فى جبهة العلوم ترفع عن عين اليقين الحاجب، وهو الذى تلقفت عنه علم البيان، وتكيفت منه بكل ما منحنى الله من المواهب الحسان، وأنا أسأل الله تعالى وأتضرع إليه، وأتوسل (2) إليه بمحمد صلى الله عليه وسلم فإنه أكرم خلقه عليه أن يسكنه وإياى وسائر ذريته فى الجنة مكانا مرفوعا، وأن يجعل المحمول على ظهورنا من مقدمات سوء المنطق وغيره من أشكال للأعمال المنتجة للأصغر والأكبر من الأوزار موضوعا.

واعلم أننى لم أضع هذا الشرح، حتى استعنت عليه بنحو من ثلاثمائة تصنيف، وأنه تضمن الخلاصة من مائة تصنيف فى هذا العلم، منها ما وقفت عليه، ومنها ما وقفت على كلام من وقف عليه، وقال: إنه جمع بين طرفيه وإنى اختصرت فيه أكثر من خمسين مصنفا فى علم البلاغة وقفت عليها، لم أترك منها إلا ما هو خارج عن هذا العلم، أو قليل الجدوى فيه، أو هو فى غاية الوضوح، أو شواهد لا حاجة لها لكثرتها، أو ما زاغ البصر عنه، أو ما إن تأملته علمت أنه فاسد لا ترتضيه فمن

--------------------------------------------

(1) سبق التعريف به فى ترجمة المصنف.

(2) هذا ونحوه مما تسرب إلى الشيخ من عقيدة المتصوفة، وقد سبق التنبيه على مثله.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

—

সাফল্যমণ্ডিত পরিসমাপ্তি ও সূচনার নেয়ামত পূর্ণ করার জন্য আমি একটি মঞ্চে মহান আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। আমি কিতাবটির নাম রেখেছি: (তালখীস আল-মিফতাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আরুসুল আফরাহ)। মহান আল্লাহর প্রশংসায় এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি এমন কিছু গবেষণালব্ধ বিষয়বস্তু ধারণ করেছে যা আমার নিজস্ব মৌলিক চিন্তাপ্রসূত এবং এতে আমার পূর্বে আর কেউ উপনীত হতে পারেনি। এটি আমার মেধার এমন কিছু উপহার যা আমার জানামতে এ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কেউ লাভ করতে সক্ষম হয়নি। আমি এর আধিক্য বুঝাতে কোনো সংখ্যা নির্ধারণ করব না যতক্ষণ না আমি নক্ষত্ররাজি গণনা শেষ করতে পারি। চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক আল্লাহর (আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম) পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ইলহাম ব্যতীত এর অন্য কোনো সাহায্যের উৎস আমি জানি না। এতে এমন অনেক সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে যা এই শাস্ত্রের হারিয়ে যাওয়া অধিকার পুনরুদ্ধার করে এবং এর জন্য এমন পরিচিতি সাব্যস্ত করে যা সুগন্ধযুক্ত প্রশংসাকে অটুট রাখে। আমি গভীর চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে এটি বের করেছি এবং বিচার-বিশ্লেষণ ও দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে একে সুসংহত করেছি এমন এক নিরবচ্ছিন্ন ধ্যানের বিচারালয়ে যেখানে কোনো ক্লান্তি নেই। আমি একে আলেমদের মজলিসে উপস্থাপন করেছি এবং তাঁরা এর শ্রেষ্ঠত্ব ও গৌরব স্বীকার করেছেন। আমি দীর্ঘ সময় এর অনুসন্ধান করেছি কিন্তু কোনো কিতাবে তা পাইনি এবং কোনো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির কাছেও শুনিনি।

জেনে রাখুন, আমি এই শাস্ত্রের নীতিমালার সঙ্গে উসুল ও আরবি ব্যাকরণের নীতিমালা মিশ্রিত করেছি। আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের উপকারিতাকে এই তিন শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় সমানভাবে বণ্টিত করেছি। এতে ব্যবহৃত কুরআনের আয়াতসমূহের এমন পরিমার্জিত ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব) যুক্ত করেছি যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম। নবীজীর (সা.) হাদীসসমূহের শব্দ চয়ন ও বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে এমন সতর্কতা অবলম্বন করেছি যা অনেক ক্ষেত্রে দুষ্প্রাপ্য ছিল। আমি এতে তর্কশাস্ত্রীয় (মানতিক) নীতিমালা, কালামশাস্ত্রীয় আলোচনা এবং গাণিতিক ও প্রাকৃতিক দর্শনের (হিকমত) কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমি একে আমার পিতার (১) তাহকীক ও গবেষণালব্ধ বিষয়সমূহ এবং তাঁর অর্জিত ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জ্ঞানের সূক্ষ্মতা দ্বারা সুশোভিত করেছি, যা নক্ষত্ররাজির মস্তকে মুকুট স্বরূপ এবং ঘোর অন্ধকারে প্রদীপ্ত চেরাগ সমতুল্য। এটি জ্ঞানান্বেষীর পোশাকে এক অনন্য কারুকাজ এবং জ্ঞানসমূহের ললাটে এমন এক উজ্জ্বল তিলক যা নিশ্চিত বিশ্বাসের চক্ষু থেকে আবরণ উন্মোচন করে দেয়। তিনিই সেই সত্তা যাঁর নিকট থেকে আমি ইলমুল বয়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) অর্জন করেছি এবং আল্লাহ আমাকে যে সব সুন্দর প্রতিভা দান করেছেন তা তাঁর মাধ্যমেই বিকশিত হয়েছে। আমি মহান আল্লাহর কাছে আরজি জানাই ও বিনীত প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উসিলায় (২) প্রার্থনা করছি—যিনি আল্লাহর কাছে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সবচাইতে সম্মানিত—যেন তিনি তাঁকে, আমাকে এবং তাঁর সকল বংশধরকে জান্নাতের সুউচ্চ স্থানে আসীন করেন। আর আমাদের পিঠে বোঝা হয়ে থাকা মন্দ যুক্তিবিদ্যা ও অন্যান্য কর্মের সেই কুফলগুলো যা ছোট-বড় পাপের কারণ হয়, তা যেন তিনি ক্ষমা করে দেন।

জেনে রাখুন, আমি প্রায় তিনশত গ্রন্থের সাহায্য না নেওয়া পর্যন্ত এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি প্রণয়ন করিনি। এটি এই শাস্ত্রের প্রায় একশত গ্রন্থের সারসংক্ষেপ ধারণ করেছে; যার কিছু আমি সরাসরি দেখেছি, আর কিছু এমন যাঁর বক্তব্য আমি পড়েছি যিনি সরাসরি মূল গ্রন্থগুলো দেখেছিলেন এবং বলেছিলেন যে তিনি এর আদ্যোপান্ত একত্রিত করেছেন। আমি এতে অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) পঞ্চাশটিরও বেশি গ্রন্থ সংক্ষিপ্ত আকারে নিয়ে এসেছি যা আমি অধ্যয়ন করেছি। আমি কেবল সেই বিষয়গুলোই বর্জন করেছি যা এই শাস্ত্রের বহির্ভূত, অথবা যার উপকারিতা অতি সামান্য, অথবা যা অত্যন্ত স্পষ্ট, অথবা এমন সব কাব্যিক উদাহরণ যার আধিক্যের কারণে কোনো প্রয়োজন নেই, অথবা যা দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে, কিংবা এমন বিষয় যা গভীরভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায় যে তা ত্রুটিপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি...

--------------------------------------------

(১) গ্রন্থকারের জীবনীতে ইতিপূর্বে তাঁর পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

(২) এটি এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো শাইখের মধ্যে সুফী আকিদার প্রভাবে অনুপ্রবেশ করেছে, এ সম্পর্কে ইতিপূর্বে সতর্ক করা হয়েছে।