(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
حجاب المرأة ولباسها في الصلاة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: حجاب المرأة ولباسها في الصلاة
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
المحقق: محمد ناصر الدين الألباني
الناشر: المكتب الإسلامي
الطبعة: الطبعة السادسة، 1405هـ/1985م
عدد الصفحات: 50
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নারীর হিজাব ও সালাতে তার পোশাক বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: নারীর হিজাব ও সালাতে তার পোশাক
লেখক: তাক্বীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হানবালী আদ-দিমাশকী (মৃ. ৭২৮ হিজরী)
সম্পাদক: মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামী
সংস্করণ: ষষ্ঠ সংস্করণ, ১৪০৫ হিজরী/১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০
[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
أما بعد فهذه هي الطبعة الثانية لرسالة شيخ الإسلام ابن تيمية رجمه الله تعالى في "اللباس في الصلاة" يقوم بإعادة طبعها الأستاذ الفاضل الأخ زهير الشاويش الدائب على نشر الكتب النافعة التي ملؤها الثقافة الإسلامية الصافية وبخاصة منها كتب الحديث وتأليفات شيخي الإسلام ابن تيمية وابن قيم الجوزية ومن تخطى بخطاهما وسار بسيرهما مثل مجدد دعوة التوحيد في بلاد نجد وما حولها الشيخ محمد بن عبد الوهاب وغيره رحمه الله تعالى.
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
অতঃপর, এটি হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর পুস্তিকা "আল-লিবাস ফিস সালাহ"-এর দ্বিতীয় সংস্করণ। এটি পুনঃমুদ্রণ করছেন বিজ্ঞ উস্তাদ, ভ্রাতৃপ্রতিম জুহাইর আল-শাভিশ; যিনি নিরলসভাবে এমন সব উপকারী কিতাব প্রকাশের কাজে ব্যাপৃত যা বিশুদ্ধ ইসলামি সংস্কৃতিতে পরিপূর্ণ। বিশেষ করে হাদিসের কিতাবসমূহ এবং দুই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ-এর রচনাবলি; এবং যাঁরা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন ও তাঁদের পথে চলেছেন, যেমন নজদ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তাওহিদের দাওয়াতের সংস্কারক শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এবং অন্যান্যরা (রহিমাহুমুল্লাহ)।
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
رسالة شيخ الإسلام هذه هي من رسائله العظيمة حقا فإنها على لطافة حجمها قد لا يجد الطالب الكثير منه في الموسوعات الفقهية وموضوعها في اللباس الواجب على كل من الرجل والمرأة في الصلاة فقد أهبت فيها بالأدلة القاطعة أن هذا اللباس ليس هو اللباس يستر به الرجل عورته خارج الصلاة فقط بل إنه يجب عليه شيء آخر وهو ستر المنكبين أيضا وهذا لحق الصلاة وحرمتها لا لأنها من العورة واستدل لذلك بقوله صلى الله عليه وسلم: "لا يصلين أحدكم في الثوب الواحد ليس على عاتقيه منه شيء"، وبأحاديث أخرى "ص 12 - 13". وهذه مسألة هامة طالما غفل عنها جماهير المصلين الذين يصلون في قميص "الشيال" الذي لا يستر المنكبين إلا خطا دقيقا منهما غافلين عن قول الله تعالى: {خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ} . وما أحسن ما ذكر المؤلف "ص 17" "إن ابن عمر رضي الله عنه قال لغلامه نافع لما رآه يصلي حاسر الرأس: أرأيت لو خرجت إلى الناس كنت تخرج هكذا؟ قال: لا قال: فالله أحق من يتجمل له والجملة الأخيرة قد جاءت مرفوعة في بعض الطرق عن ابن عمر ولفظها في رواية للبيهقي "إذا صلى أحدكم فليلبس ثوبيه فإن الله أحق من تزين له" 1 وسبب الغفلة المذكورة عن هذا الأدب الواجب في الصلاة يعود في رأيي إلى أمرين:
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলামের এই রিসালাহটি (ক্ষুদ্র পুস্তিকাটি) সত্যিই তাঁর এক মহান রচনা। কারণ এটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও একজন শিক্ষার্থী ফিকহী বিশ্বকোষগুলোতেও এর অনেক তথ্য খুঁজে পাবে না। এর বিষয়বস্তু হলো সালাতের মধ্যে পুরুষ ও নারী প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক (واجب) পোশাক সংক্রান্ত। তিনি এতে অকাট্য (قاطعة) দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, এই পোশাক কেবল সেই সতর (عورة) ঢাকার কাপড় নয় যা একজন পুরুষ সালাতের বাইরে পরিধান করেন; বরং তার ওপর আরও অতিরিক্ত কিছু আবশ্যক (واجب), আর তা হলো উভয় কাঁধ ঢাকা। এটি মূলত সালাতের মর্যাদা ও সম্মানের খাতিরে, কাঁধ সতরের (عورة) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে নয়। তিনি এর স্বপক্ষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: "তোমাদের কেউ যেন এক কাপড়ে এমনভাবে সালাত আদায় না করে যে, তার কাঁধের ওপর সেই কাপড়ের কোনো অংশ না থাকে।" এছাড়া আরও অন্যান্য হাদিসের (পৃষ্ঠা ১২-১৩) মাধ্যমেও তিনি দলিল দিয়েছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা যা অধিকাংশ মুসল্লিই দীর্ঘকাল ধরে অবজ্ঞা করে আসছেন, যারা এমন 'গেঞ্জি' বা স্লিভলেস পোশাক পরে সালাত আদায় করেন যা কাঁধের ওপর সামান্য একটি সরু অংশ ছাড়া আর কিছু ঢাকে না। তারা মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে গাফেল হয়ে আছেন: {প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ করো}। লেখক (পৃষ্ঠা ১৭) কতই না চমৎকার উল্লেখ করেছেন যে, "ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর গোলাম নাফেকে যখন খালি মাথায় সালাত আদায় করতে দেখলেন, তখন তাকে বললেন: তুমি কি মনে করো যদি তুমি মানুষের সামনে বের হতে, তবে কি এভাবে বের হতে? তিনি বললেন: না। তখন ইবনে উমর বললেন: আল্লাহ সৌন্দর্য গ্রহণের অধিক হকদার।" শেষ বাক্যটি ইবনে উমর থেকে বর্ণিত কিছু সূত্রে মারফু (مرفوع) হিসেবেও এসেছে এবং বায়হাকীর এক বর্ণনায় (رواية) এর শব্দগুলো হলো: "যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে, সে যেন তার দুটি কাপড় পরিধান করে। কারণ আল্লাহ সৌন্দর্য গ্রহণের অধিক হকদার।" ১ সালাতের এই আবশ্যক (واجب) আদব সম্পর্কে উল্লেখিত এই গাফিলতির কারণ আমার মতে দুটি বিষয়ের দিকে ফিরে যায়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الأول: ظن الكثيرين أن الواجب من اللباس في الصلاة إنما هو ما ستر العورة فقط. وهذا الحصر مع أنه مما لا دليل عليه مطلقا فهو مخالفة صريحة للنصوص المتقدمة ولا سيما الحديث الأول فإنه يدل على بطلان الصلاة إذا لم يكن على عاتقيه من ثوب شيء. وهو مذهب الحنابلة1 وهو الحق الذي لا ريب فيه.
والآخر: جمودهم على التقليد الأعمى فقد يقرؤون أو يسمعون بلك النصوص ولكنهم يتأثرون بها ولا يتخذونها لهم نذهبا لأن المذهب الذي نشأوا عليه يحول بينهم وبين الاهتداء بها ولذلك فالسنة في جانب وهم في جانب كما هو شأنهم في هذه المسألة إلا من عصم الله وقليل ما هم فجزى الله شيخ الإسلام خيرا الذي نهد لهم السبيل في هذه الرسالة المباركة ليتعرفوا على كثير من الحقائق التي غفلوا عنها ومنها هذه. ومن ذلك أنه إذ كان لا يجوز له أن يصلي مكشوف الفخذين سواء قيل: هما عورة أولا؟ "ص 16" وهذا من فقهه الدقيق رحمه الله تعالى.
هذا في لباس الرجل في الصلاة وأما المرأة فقد بين الشيخ رحمه الله أنها وإن كان يجب عليها الجلباب إذا خرجت من بيتها
--------------------------------------------
প্রথমত: অনেকের ধারণা এই যে, সালাতে পোশাকের ক্ষেত্রে যা আবশ্যক (واجب), তা কেবল সতর (عورة) আবৃত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই সীমাবদ্ধকরণের স্বপক্ষে কোনো দলিল যেমন নেই, তেমনি এটি পূর্বে বর্ণিত নস বা মূল পাঠের (نصوص) সুস্পষ্ট পরিপন্থী। বিশেষ করে প্রথম হাদিসটি, যা প্রমাণ করে যে যদি কাঁধের ওপর কাপড়ের কোনো অংশ না থাকে, তবে সালাত বাতিল (بطلان) হয়ে যাবে। এটিই হাম্বলিদের মাযহাব (مذهب) এবং এটিই এমন ধ্রুব সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই।
দ্বিতীয়ত: অন্ধ অনুকরণের (تقليد) প্রতি তাদের জড়তা। তারা হয়তো সেই নস বা মূল পাঠসমূহ (نصوص) পাঠ করে বা শোনে, কিন্তু তারা সেগুলো দ্বারা প্রভাবিত হয় না এবং সেগুলোকে নিজেদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে না। কারণ যে মাযহাবের (مذهب) ওপর তারা বড় হয়েছে, তা তাদের এবং এই নির্দেশনার মাধ্যমে সঠিক পথ লাভের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সুন্নাহ (سنة) থাকে একদিকে আর তারা থাকে অন্যদিকে—যেমনটি এই মাসআলার ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা। তবে যাদের আল্লাহ রক্ষা করেছেন তারা ব্যতীত, আর এমন লোকের সংখ্যা খুবই সামান্য। আল্লাহ তাআলা শায়খুল ইসলামকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, যিনি এই বরকতময় রিসালাহ বা প্রবন্ধে তাদের জন্য পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন যেন তারা এমন অনেক ধ্রুব সত্য সম্পর্কে জানতে পারে যা তারা উপেক্ষা করে গিয়েছিল; এটিও তার মধ্যে একটি। এর অন্তর্ভুক্ত হলো—ব্যক্তির জন্য উরু উন্মুক্ত রেখে সালাত আদায় করা বৈধ নয়, চাই সেটাকে সতর (عورة) বলা হোক বা না হোক? (পৃষ্ঠা ১৬)। এটি তাঁর সূক্ষ্ম ফিকহ (فقه) বা প্রজ্ঞারই অংশ, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
এটি ছিল সালাতে পুরুষের পোশাক সংক্রান্ত আলোচনা। আর নারীর ক্ষেত্রে শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) স্পষ্ট করেছেন যে, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় জিলবাব পরিধান করা যদিও তার জন্য আবশ্যক (واجب)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فإنه لا بجب عليها الجلباب إذا صلت في بيتها وإنما يجب عليها الخمار والقميص الذي يستر ظاهر القدمين فهي إذا سجدت قد يبدو باطن قدمها. كذلك يجوز لها أن تكشف عن وجهها وكفيها مع كونهما من العورة خارج الصلاة في اختياره. "انظر ص 13 – 15"1. وعلى العكس من ذلك فإن المرأة لو صلت وحدها كانت مأمورة بالاختمار بينما هي في غير الصلاة يجوز لها كشف رأسها في بيتها وعند ذوي محارمها وحينئذ فقد يستر المصلي في الصلاة ما يجوز ابتداؤه في غير الصلاة وقد يبدو في الصلاة ما يستره عن الرجال "ص 12 و 13". وهذا أيضا من دقائق المسائل التي تولى شيخ الإسلام رحمه الله شرحها وبيانها جزاه الله عن الإسلام خيرا.
ومن ذلك أنه مع تقريره أن الحجاب مختص بالحرائر دون
--------------------------------------------
কারণ, নারী যখন তার ঘরে সালাত আদায় করে, তখন তার ওপর জিলবাব পরিধান করা আবশ্যক নয়; বরং তার ওপর কেবল ওড়না এবং এমন কামিজ পরিধান করা আবশ্যক যা পায়ের উপরের অংশ ঢেকে রাখে। ফলে সে যখন সিজদা করে, তখন তার পায়ের তালু প্রকাশ পেতে পারে। একইভাবে, তাঁর পছন্দ অনুযায়ী, সালাতের বাইরে মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি সতর (عورة) হওয়া সত্ত্বেও সালাতে তা উন্মুক্ত রাখা নারীর জন্য বৈধ। "দেখুন পৃষ্ঠা ১৩–১৫"১। এর বিপরীতে, নারী যদি একাকীও সালাত আদায় করে, তবে তাকে ওড়না পরিধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; অথচ সালাতের বাইরে সে তার ঘরে এবং মাহরামদের (محارم) সামনে মাথা উন্মুক্ত রাখতে পারে। এমতাবস্থায়, মুসল্লি সালাতে এমন কিছু ঢেকে রাখে যা সালাতের বাইরে প্রকাশ করা বৈধ, আর সালাতে এমন কিছু প্রকাশ পেতে পারে যা সাধারণত পুরুষদের সামনে ঢেকে রাখা হয় "পৃষ্ঠা ১২ ও ১৩"। এটিও সেই সূক্ষ্ম মাসআলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা শাইখুল ইসলাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেছেন; আল্লাহ তাঁকে ইসলামের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো, স্বাধীন নারীদের ক্ষেত্রে হিজাব নির্দিষ্ট হওয়ার ব্যাপারে তাঁর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الإماء وأن الأمة يظهر منها رأسها وشعرها "ص 26" فإنه يعود ليناقش المسألة على ضوء بعض القواعد الإسلامية العامة التي منها "درء المفاسد قبل جلب المصالح" فلا يدع المسألة على إطلاقها المستلزم جواز بروز الأمة الحسناء أيضا بشعرها فيقول بعد توطئة مفيدة:
وكذلك الأمة إذا كان يخاف منها الفتنة كان عليها أن تحتجب "ص 27". ثم يؤكد ذلك فيقول:
"فلو أراد الرجل أن يترك الإماء التركيات الحسان يمشين بين الناس في مثل هذه البلاد والأوقات كما كان أولئك الإماء يمشين كان هذا من باب الفساد".
أقول: وعلى هذا فمذهب ابن تيمية وسط بين الجمهور الذين لا يوجبون الخمار على الأمة مطلقا وبين ابن حزم غير الذين يوجبون ذلك عليها. مطلقا ومن الواضح أنه إنما ذهب ابن تيمية إلى ذلك توفيقا بين بعض الآثار التي تدل لمذهب الجمهور "انظر ص 26، 33" وبين القاعدة المشار إليها آنفا. وهذا المذهب وإن كان أقرب إلى الصواب من مذهب الجمهور الذي كنا استدللنا على رده في كتاب "حجاب المرأة المسلمة" "ص 42 – 46". فلا يزال في النفس منه شيء لأن تقدير الجمال المترتب عليه خوف الفساد أمر نسبي وكم من أمة سوداء تكون جميلة الأعضاء والتكوين بحيث يفتتن بها البيض ثم إنها قد لا تكون كذلك عند هؤلاء ولكنها جميلة عند بني جنسها من السود. فالأمر غير منضبط. والله أعلم.
ক্রীতদাসীদের বিষয়ে এবং ক্রীতদাসীর মাথা ও চুল অনাবৃত রাখা সম্পর্কে (পৃ. ২৬), তিনি পুনরায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন কিছু সাধারণ ইসলামি মূলনীতির আলোকে, যার মধ্যে একটি হলো "কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অকল্যাণ দূর করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ"। তিনি বিষয়টি তার সাধারণ অবস্থায় ছেড়ে দেননি, যার ফলে সুন্দরী ক্রীতদাসীরও তার চুল অনাবৃত রেখে চলাফেরা করা বৈধ হয়ে যায়। অতঃপর তিনি একটি ফলপ্রসূ ভূমিকার পর বলেন:
"অনুরূপভাবে ক্রীতদাসী, যখন তার মাধ্যমে ফিতনার (فتنة) আশঙ্কা থাকবে, তখন তার জন্য পর্দা করা আবশ্যক (পৃ. ২৭)।" অতঃপর তিনি এটি নিশ্চিত করে বলেন:
"সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি সুন্দরী তুর্কি ক্রীতদাসীদের এই সময়ের এই ধরণের জনপদে মানুষের মাঝে চলাফেরা করতে ছেড়ে দিতে চায়, যেভাবে (প্রাচীনকালের) ঐ ক্রীতদাসীরা চলাফেরা করত, তবে তা হবে ফাসাদ বা বিপর্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।"
আমি বলছি: এর ওপর ভিত্তি করে ইবনে তাইমিয়াহর মাযহাব বা মত হলো জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমদের—যারা ক্রীতদাসীর ওপর ওড়না বা খিমার পরিধান করাকে সাধারণভাবে ওয়াজিব মনে করেন না—এবং ইবনে হাজম ও অন্যান্যদের—যারা এর ওপর তা সাধারণভাবে ওয়াজিব মনে করেন—এই দুই মতের মাঝামাঝি একটি অবস্থান। এটি স্পষ্ট যে, ইবনে তাইমিয়াহ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমদের মতের সপক্ষে দলীল হিসেবে আসা কিছু বর্ণনা (آثار) (দেখুন পৃ. ২৬, ৩৩) এবং ইতিপূর্বে উল্লিখিত মূলনীতির মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে। আর এই মতটি যদিও জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশের মত অপেক্ষা সত্যের অধিক নিকটবর্তী, যার অসারতা আমরা 'হিজাবুল মারআতিল মুসলিমাহ' গ্রন্থে (পৃ. ৪২-৪৬) দলীলসহ প্রমাণ করেছি, তবুও এই মতটি সম্পর্কে মনে কিছুটা সংশয় থেকেই যায়। কারণ সৌন্দর্যের পরিমাপ, যার ওপর ফাসাদ বা বিপর্যয়ের আশঙ্কা নির্ভর করে, তা একটি আপেক্ষিক বিষয়। এমন অনেক কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসী আছে যারা অঙ্গসৌষ্ঠব ও দৈহিক গড়নে এতটাই সুন্দরী হতে পারে যে শ্বেতাঙ্গরা তার দ্বারা ফিতনায় (فتنة) নিপতিত হতে পারে, আবার তারা হয়তো এদের নিকট তেমন সুন্দরী না হলেও নিজ বর্ণের কৃষ্ণাঙ্গদের নিকট সুন্দরী। সুতরাং বিষয়টি সুনির্দিষ্ট নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومن ذلك أنه رجح مذهب الشافعي وأحمد أن النظر إلى وجه الأجنبية من غير حاجة لا يجوز وإن كانت الشهوة منتفية لأنه يخاف ثورانها وقال "ص 34":
ولهذا حرم الخلوة بالأجنبية لأنها مظنة الفتنة والأصل أن ما كان سببا للفتنة فإنه لا يجوز فإن الذريعة إلى الفساد يجب سدها إذا لم يعارضها مصلحة راجحة ولهذا كان النظر الذي قد يفضي إلى الفتنة محرما.
أقول: ولو أن العلماء قديما والكتاب حديثا راعوا هذا الأصل الذي ذكره: "ما كان سببا للفتنة فإنه لا يجوز" وجعله دليلا مرجح لتحريم النظر المذكور لما تورطوا في إصدار بعض الفتاوى التي لا يشك المتفقه في أصول الشريعة وفروعها أنها تؤدي إلى مفاسد ظاهرة كقول بعض الحنفية:
"يجوز للأجنبي النظر إلى شعر الأمة وذراعها وساقها وصدرها وثدييها1" وقول بعض المذاهب:
--------------------------------------------
তন্মধ্যে একটি বিষয় এই যে, তিনি শাফিঈ ও আহমদ-এর মাযহাবকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, প্রয়োজন ব্যতিরেকে পরনারীর চেহারার দিকে তাকানো জায়েজ নেই, যদিও কামভাব অনুপস্থিত থাকে; কারণ এতে কামভাব জাগ্রত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি (পৃষ্ঠা ৩৪-এ) বলেছেন:
এই কারণেই পরনারীর সাথে নির্জনে অবস্থান (خلوة) হারাম করা হয়েছে, কারণ এটি ফিতনা (فتنة) সৃষ্টির উৎস। আর মূলনীতি হলো, যা ফিতনার কারণ হয় তা জায়েজ নয়। কেননা অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করা (سد الذريعة) ওয়াজিব, যদি এর বিপরীতে কোনো জোরালো কল্যাণ (مصلحة راجحة) বিদ্যমান না থাকে। এই কারণেই যে দৃষ্টি ফিতনার দিকে ধাবিত করে তা হারাম।
আমি বলি: প্রাচীনকালের আলেমগণ এবং আধুনিককালের লেখকগণ যদি তাঁর উল্লিখিত এই মূলনীতি—"যা ফিতনার কারণ হয় তা জায়েজ নয়"—বিবেচনায় রাখতেন এবং এটিকে উল্লিখিত দৃষ্টিপাত হারাম হওয়ার সপক্ষে প্রাধান্যদানকারী দলিল হিসেবে গ্রহণ করতেন, তবে তারা এমন কিছু ফতোয়া প্রদানের বিড়ম্বনায় পড়তেন না, যার ব্যাপারে শরিয়তের মূলনীতি (أصول) এবং শাখা-প্রশাখা (فروع) বিষয়ে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের কোনো সন্দেহ নেই যে এগুলো প্রকাশ্য অনিষ্টের দিকে নিয়ে যায়। যেমন কোনো কোনো হানাফি আলেমের বক্তব্য:
"পরপুরুষের জন্য দাসীর চুল, বাহু, নলা, বক্ষ এবং স্তনদ্বয়ের১ দিকে তাকানো জায়েজ।" এবং অন্য কোনো মাযহাবের বক্তব্য:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
"يجوز النظر إلى المرأة الأجنبية وعورتها من المرآة"
وعلل ذلك بعضهم بأنه إنما ينظر إلى خيال وتبنى ذلك اليوم - مع الأسف - أحد الأحزاب الإسلامية الذي يأخذ من كل مذهب ما يناسب المصلحة بزعمه ولم يقف عند هذا فحسب بل إنه جعله كالنص المعصوم فرتب عليه ما هو أشد إفسادا من الأول لأنه أمس بحياة شبابنا اليوم وواقعهم وهو جواز النظر إلى الصور الخلاعية في التلفزيون والسينما والمجلات معللا ذلك بما تقدم أنه إنما ينظر إلى خيال وكل ذي عقل ولب حتى ولو كان غير مسلم يعلم يقينا أن هذه الصور من أشد الأنواع المثيرة لشهوة الشباب وغرائزهم بحيث أنهم لا يجدون بعد ذلك سبيلا إلى إطفائها إلا بارتكاب المحرم نصا ولو كان تحريمه من باب سد الذريعة كالنظر والسمع ونحوهما مما ذكره رسول الله صلى الله عليه وسلم في قوله ".... وزنا العينين النظر وزنا اللسان النطق والنفس تمنى وتشتهي والفرج يصدق ذلك كله أو يكذبه" أخرجه الشيخان وغيرهما1.
وليس هذا فقط فقد أصدر نشرة منذ عهد غير بعيد ذهب فيها إلى التصريح بجواز تقبيل المرأة الأجنبية عند السلام عليها
--------------------------------------------
"বেগানা (أجنبية) নারী এবং তার লজ্জাস্থানের (عورة) দিকে আয়নার মাধ্যমে দৃষ্টিপাত করা বৈধ।"
তাদের কেউ কেউ এর কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, দর্শক মূলত কেবল একটি প্রতিচ্ছবিই দেখছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বর্তমানে একটি ইসলামি দল এই মতটি গ্রহণ করেছে, যারা তাদের দাবি অনুযায়ী নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে প্রতিটি মাযহাব থেকে বিভিন্ন বিষয় গ্রহণ করে থাকে। তারা শুধু এখানেই থেমে থাকেনি, বরং বিষয়টিকে একটি ভুলত্রুটিমুক্ত অকাট্য দলিল (نص معصوم) হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। ফলে তারা এমন কিছু বিধিবিধান সাজিয়েছে যা প্রথমটির চেয়েও বেশি ধ্বংসাত্মক, কারণ এটি বর্তমান সময়ের যুবসমাজের জীবন ও বাস্তবতার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। আর তা হলো টেলিভিশন, সিনেমা এবং ম্যাগাজিনে প্রদর্শিত অশ্লীল ছবি দেখার বৈধতা প্রদান; এর স্বপক্ষে তারা পূর্বের সেই যুক্তিই প্রদান করেছে যে, দর্শক মূলত কেবল প্রতিচ্ছবিই দেখছে। অথচ যেকোনো বুদ্ধিমান ও বিবেকবান ব্যক্তি, এমনকি তিনি অমুসলিম হলেও নিশ্চিতভাবে জানেন যে, এই ছবিগুলো যুবকদের কামলালসা ও প্রবৃত্তিকে উত্তেজিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তারা এই উত্তেজনা প্রশমনের জন্য অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ (محرم نصا) কাজে লিপ্ত হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পায় না; যদিও এর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা মূলত অশুভ পথ বন্ধ করার (سد الذريعة) অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেমন—দৃষ্টিপাত করা, শ্রবণ করা এবং অনুরূপ বিষয়াবলি, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন: "....চোখের ব্যভিচার হলো দৃষ্টিপাত করা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো কথা বলা, আর অন্তর আকাঙ্ক্ষা ও কামলালসা পোষণ করে এবং লজ্জাস্থান তা সত্যে পরিণত করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।" এটি দুই ইমাম এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।১
শুধু তা-ই নয়, অতি সম্প্রতি তারা একটি ইশতেহার প্রকাশ করেছে যেখানে তারা বেগানা (أجنبية) নারীকে সালাম দেওয়ার সময় তাকে চুম্বন করার বৈধতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ولكن بدون شهوة وقد قلنا وقال غيرنا لبعض أولئك الحزبيين: افترض أن يفعل ذلك بأختك وزوجتك فوجم!
ولهم من مثل هذه المسائل البعيدة عن الكتاب والسنة بل العقل السليم الشيء الكثير لا مجال الآن للتوسع فيه وإنما استطردنا إلى ما ذكرنا من شواذهم وانحرافهم عن العلم الصحيح لنقول:
يجب على هؤلاء وغيرهم ممن يهمهم أن يكونوا على معرفة بالعلم الصحيح المستنبط من الكتاب والسنة استنباطا قائما على العلم بالقواعد الأصولية وحسن تطبيق لها على الفروع أن يجعلوا دينهم - بعد دراسة الكتاب والسنة - مطالعة كتب شيخ الإسلام ابن تيمية ومنها هذه الرسالة المباركة - وبذلك يتمرنون على الاستنباط الصحيح والتفريح الرجيح وينجون من الإتيان باجتهادات وآراء لا يقول بها أحد ممن يعقل ما ينطق به لسانه أو يجري به قلمه من مثل ما تقدم بيانه!
تلك هي بعض المسائل التي جاءت في طي هذه الرسالة القيمة وفيها مسائل وفوائد أخرى ستمر بالقارئ إن شاء الله تعالى وبمجموعها كانت الرسالة فريدة في بابها لا مثيل لها بين أترابها فإن غالبها ما تفردت به عن مثيلاتها ككتاب "الحجاب" للعلامة المودودي وكتابي "حجاب المرأة المسلمة" وغيرهما فليعض عليها بالنواجذ وليحمد الله تعالى أن جعله من قراء كتب ابن تيمية المستفيدين منها فإنه هو "العارف بالله" حقا ومن نحا نحوه.
কিন্তু কামনা-বাসনা ব্যতীত। আমরা এবং আমাদের মতো আরও অনেকে সেই দলীয় লোকদের (الحزبيين) কাউকে কাউকে বলেছি: "কল্পনা করুন যে আপনার বোন বা স্ত্রীর সাথে এমনটি করা হচ্ছে"; তখন সে নির্বাক হয়ে গিয়েছিল!
তাদের কাছে কিতাব ও সুন্নাহ—বরং সুস্থ বিবেক থেকেও দূরে—এমন বহু মাসআলা রয়েছে যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এখন নেই। আমরা তাদের এই বিচ্যুতি ও সঠিক জ্ঞান (العلم الصحيح) থেকে বিচ্যুতির কথা কেবল একারণেই উল্লেখ করেছি যাতে বলতে পারি যে:
এদের জন্য এবং যারা কিতাব ও সুন্নাহ থেকে উৎসারিত সঠিক জ্ঞান (العلم الصحيح) সম্পর্কে জানতে আগ্রহী—যে মাসআলা উদ্ভাবন (الاستنباط) প্রক্রিয়া উসূল শাস্ত্রীয় মূলনীতি (القواعد الأصولية) এবং শাখা-প্রশাখায় (الفروع) তার যথাযথ প্রয়োগের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত—তাদের জন্য আবশ্যক হলো কিতাব ও সুন্নাহ অধ্যয়নের পর শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর কিতাবসমূহ এবং বিশেষ করে এই বরকতময় রিসালাহটি পাঠ করাকে নিজেদের দ্বীনী পাথেয় বানানো। এর মাধ্যমে তারা সঠিক মাসআলা উদ্ভাবন (الاستنباط) এবং অগ্রগণ্য শাখা মাসআলা (التفريع الرجيح) নির্ধারণে অভ্যস্ত হবে এবং এমন সব ইজতিহাদ (اجتهادات) ও মতামত প্রদান থেকে রক্ষা পাবে যা সুস্থ বিবেকসম্পন্ন বা সচেতন কোনো ব্যক্তি ইতিপূর্বে বর্ণিত উদাহরণগুলোর মতো মুখে উচ্চারণ করবে না কিংবা কলমে লিখবে না!
এই মূল্যবান রিসালাহ বা পুস্তিকার অন্তর্ভুক্ত কিছু মাসআলা এগুলোই। এতে আরও অনেক মাসআলা ও জ্ঞানগর্ভ বিষয় রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ তাআলা পাঠকগণ সামনে পাবেন। সামগ্রিকভাবে এই পুস্তিকাটি তার নিজ বিষয়ে অনন্য এবং তার সমজাতীয় অন্য কোনো কিতাবের মধ্যে এর কোনো তুলনা নেই। কারণ এর অধিকাংশ বিষয়বস্তুই আল্লামা মওদুদীর "আল-হিজাব" কিংবা "হিজাবুল মারআতিল মুসলিমাহ" ও অন্যান্য বইয়ের চেয়ে স্বতন্ত্র। সুতরাং একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা উচিত এবং আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত যে তিনি পাঠককে ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর কিতাব পাঠ করার ও তা থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফিক দিয়েছেন; কারণ তিনিই প্রকৃতপক্ষে "আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানবান (العارف بالله)" এবং যারা তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন তারাও।
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ونحن إذ نشهد له بهذا لا ندعي له العصمة كيف وقد أبدينا بعض الملاحظات على مواطن معدودة قليلة من الرسالة مصداقا لقول الإمام مالك رحمه الله تعالى: ما منا من أحد إلا ورد عليه إلا النبي صلى الله عليه وسلم وقد روي عن غيره أيضا1 وذلك مما لا يحط من قدره أو قدر رسالته بلا ريب بل إن ذلك ليرفع من قيمتها للقلة المشار إليها على حد قول الشاعر:
كفى المرء نبلا
… أن تعد معايبه
بل لا عيب عليه في ذلك مطلقا فإنه مجتهد مأجور إما أجرين وهو الأكثر بفضل الله أو أجرا واحدا.
هذا وقد كانت الرسالة طبعت سابقا تحت عنوان "حجاب المرأة ولباسها في الصلاة وغيرها" ولولا أن ثمة بعض الموانع منها اشتهارها بالاسم المذكور لرأيت أن نجعل عنوانها:
لباس الرجل والمرأة في الصلاة
لأنه هو الموضوع الذي اختصت به الرسالة ودندن المؤلف حوله وجاء بما يعز وجوده من الفوائد والفقه الصحيح.
وقد زدت في التعليق عليها بعض الفوائد العلمية والحديثية مما
--------------------------------------------
আমরা যখন তাঁর এই গুণের সাক্ষ্য দিচ্ছি, তখন আমরা তাঁর জন্য নিষ্পাপতা (عصمة) দাবি করছি না; আর তা কীভাবে সম্ভব যখন আমরা এই গবেষণাপত্রটির নির্দিষ্ট কিছু স্বল্পসংখ্যক স্থানে কিছু পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করেছি, যা ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এই বাণীরই প্রতিফলন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত আমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার কথা প্রত্যাখ্যান (رد) করা হয় না।" আর এটি অন্য কারো থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ১ আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি তাঁর অথবা তাঁর গবেষণাপত্রের মর্যাদা বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করে না; বরং উল্লিখিত যৎসামান্য ত্রুটির কারণে এটি এর গুরুত্বকেই বৃদ্ধি করে, যেমনটি কবির ভাষায়:
কোনো ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে
… তার দোষগুলো গণনা করা যায়
বস্তুত এতে তাঁর কোনো দোষ নেই, কারণ তিনি একজন ইজতিহাদকারী (مجتهد), যিনি সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন—হয়তো আল্লাহর অনুগ্রহে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাপ্ত দ্বিগুণ সওয়াব (أجرين), অথবা একগুণ সওয়াব (أجر)।
উল্লেখ্য যে, এই গবেষণাপত্রটি ইতিপূর্বে "নারীর হিজাব এবং সালাতে ও সালাতের বাইরে তার পোশাক" শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। যদি এই নামটির প্রসিদ্ধি বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকত, তবে আমি এর শিরোনাম দিতাম:
সালাতে পুরুষ ও নারীর পোশাক
কারণ এটিই মূল বিষয় যা এই গবেষণাপত্রটিতে স্বতন্ত্রভাবে আলোচিত হয়েছে এবং লেখক একে কেন্দ্র করেই তাঁর আলোচনা আবর্তিত করেছেন। আর এতে তিনি এমন কিছু বিরল জ্ঞানগর্ভ তথ্য ও সঠিক ফিকহ (فقه صحيح) উপস্থাপন করেছেন যা সচরাচর পাওয়া যায় না।
আমি এর টীকায় কিছু ইলমি ও হাদিস সংক্রান্ত উপকারিতা (فوائد حديثية) সংযোজন করেছি যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
كان فاتني في الطبعة السابقة وبذلك ازدادت الفائدة بهذه الطبعة على سابقتها فالحمد لله الذي يسر لنا ذلك ووفق الأستاذ الأخ أبو بكر زهير الشاويش لطبعها من جديد في هذا الثوب القشيب.
نسأل الله تعالى أن يجعل عملنا خالصا لوجهه وأن ينفع به المسلمين. وصلى الله على محمد وآله وصحبه أجمعين.
والحمد لله رب العالمين.
دمشق في 7 رمضان سنة 1393
وكتبه: محمد ناصر الدين الألباني
পূর্ববর্তী মুদ্রণে আমার যা বাদ পড়েছিল, তা এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী সংস্করণের তুলনায় এই সংস্করণের উপকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য এটি সহজ করে দিয়েছেন এবং শ্রদ্ধেয় ভাই আবু বকর জুহাইর আল-শাভিশকে এই নতুন ও সুন্দর অবয়বে এটি পুনরায় মুদ্রণের তৌফিক দান করেছেন।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই কাজকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করেন। আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
দামেস্ক, ৭ রমজান, ১৩৯৩ হিজরি
লেখক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فصل في "اللباس في الصلاة"
وقال شيخ الإسلام رحمه الله فصل في "اللباس في الصلاة" وهو أخذ الزينة عند كل مسجد: الذي يسميه الفقهاء: "باب ستر العورة في الصلاة" فإن طائفة من الفقهاء ظنوا أن الذي يستر في الصلاة هو الذي يستر عن أعين الناظرين وهو العورة وأخذ ما يستر في الصلاة من قوله: {وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} ثم قال {وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ} يعني الباطنة {إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ} 1 الآية، فقالوا: يجوز لها في الصلاة أن تبدي الزينة الظاهرة دون الباطنة
والسلف قد تنازعوا في الزينة الظاهرة على قولين:
1 - فقال: ابن مسعود ومن وافقه هي الثياب
2 - وقال ابن عباس ومن وافقه: هو ما في الوجه واليدين،
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: "সালাতে পরিধেয় পোশাক"শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, পরিচ্ছেদ: "সালাতে পরিধেয় পোশাক" প্রসঙ্গে, যা মূলত প্রত্যেক মাসজিদে সৌন্দর্য গ্রহণ করা: ফকীহগণ (الفقهاء) একে "সালাতে সতর আবৃতকরণ (ستر العورة) অধ্যায়" নামে অভিহিত করেন। কেননা ফকীহদের (الفقهاء) একদল ধারণা করেছেন যে, সালাতে যা আবৃত করা আবশ্যক তা-ই যা দর্শকদের দৃষ্টি থেকে আবৃত করতে হয় এবং তা হলো সতর (العورة)। তারা সালাতে যা আবৃত করতে হয় তা আল্লাহর এই বাণী থেকে গ্রহণ করেছেন: {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত; এবং তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশ আবৃত রাখে}। অতঃপর তিনি বলেছেন: {আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে} অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য {তাদের স্বামীদের নিকট ব্যতীত...} ১ (আয়াত শেষ পর্যন্ত)। তারা বলেছেন: নারীর জন্য সালাতে প্রকাশ্য সৌন্দর্য প্রকাশ করা বৈধ, অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য নয়।
সালাফগণ (السلف) প্রকাশ্য সৌন্দর্যের বিষয়ে দুটি মতের (قولين) ওপর মতভেদ করেছেন:
১ - ইবনে মাসউদ এবং যারা তাঁর সাথে একমত হয়েছেন তারা বলেছেন, তা হলো পোশাক।
২ - ইবনে আব্বাস এবং যারা তাঁর সাথে একমত হয়েছেন তারা বলেছেন, তা হলো মুখমণ্ডল ও দুই হাত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مثل الكحل والخاتم. وعلى هذين القولين تنازع الفقهاء في النظر إلى المرأة الأجنبية.
فقيل: يجوز النظر لغير شهوة إلى وجهها ويديها وهو مذهب أبي حنيفة والشافعي وقول في مذهب أحمد.
وقيل: لا يجوز وهو ظاهر مذهب أحمد قال: كل شيء منها عورة حتى ظفرها وهو قول مالك.
وحقيقة الأمر: أن الله جعل الزينة زينتين: زينة ظاهرة وزينة غير ظاهرة وجوز لها إبداء زينتها الظاهرة لغير الزوج وذوي المحارم وأما الباطنة فلا تبديها إلا للزوج وذوي المحارم.
وكانوا قبل أن تنزل آية الحجاب كان النساء يخرجن بلا جلباب يرى الرجل وجهها ويديها وكان إذ ذاك يجوز لها أن تظهر الوجه والكفين وكان حينئذ يجوز النظر إليها لأنه يجوز لها إظهاره1.
--------------------------------------------
যেমন সুরমা ও আংটি। এই দুই মতামতের ভিত্তিতে ফকিহগণ (فقهاء) কোনো পরনারীর প্রতি দৃষ্টিপাতের বিষয়ে মতভেদ করেছেন।
বলা হয়েছে যে: কুপ্রবৃত্তি (شهوة) ব্যতিরেকে তার চেহারা ও দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত দেখা বৈধ (جائز)। এটি ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফিঈর মাজহাব এবং ইমাম আহমাদের মাজহাবের একটি অভিমত।
অন্য মতে: এটি বৈধ (جائز) নয়। এটি ইমাম আহমাদের মাজহাবের সুস্পষ্ট অবস্থান। তিনি বলেছেন: নারীর নখ পর্যন্ত প্রতিটি অঙ্গই সতর (عورة)। এটি ইমাম মালিকের অভিমত।
বিষয়টির প্রকৃত হাকিকত হলো: মহান আল্লাহ সৌন্দর্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: প্রকাশ্য সৌন্দর্য ও অপ্রকাশ্য সৌন্দর্য। তিনি স্বামীর বাইরে ও মাহরাম ব্যক্তিদের নিকট তার প্রকাশ্য সৌন্দর্য প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। পক্ষান্তরে অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য স্বামী ও মাহরাম ব্যক্তিগণ ছাড়া অন্য কারো নিকট প্রকাশ করবে না।
হিজাবের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে নারীরা জিলবাব ছাড়াই বাইরে বের হতেন; পুরুষরা তাদের চেহারা ও হাত দেখতে পেত। সেই সময় তাদের জন্য চেহারা ও কব্জি পর্যন্ত হাত প্রকাশ করা বৈধ (جائز) ছিল এবং তখন এর দিকে তাকানোও বৈধ (جائز) ছিল, যেহেতু তখন তা প্রকাশ করার অনুমতি ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثم لما أنزل الله عز وجل آية الحجاب بقوله: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلابِيبِهِنَّ} 1 حجب النساء عن الرجال.
وكان ذلك لما تزوج النبي صلى الله عليه وسلم زينب بنت جحش2 فأرخى النبي صلى الله عليه وسلم الستر ومنع أنساً أن ينظر.
ولما اصطفى صفية بنت حيي بعد ذلك عام خيبر قالوا: إن حجبها3 فهي من أمهات المؤمنين. وإلا فهي ملكت يمينه،
--------------------------------------------
এরপর যখন মহান আল্লাহ পর্দার আয়াত অবতীর্ণ করলেন এই বলে: {হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়।} ১ তখন নারীদেরকে পুরুষদের থেকে পর্দার আড়ালে রাখা হলো।
আর এটি ছিল যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জয়নাব বিনতে জাহশকে বিবাহ করলেন ২ তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন এবং আনাসকে দেখতে নিষেধ করলেন।
আর এরপরে যখন তিনি খায়বারের বছর সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াইকে মনোনীত করলেন, তখন লোকেরা বলল: যদি তিনি তাঁকে পর্দার আড়ালে রাখেন ৩ তবে তিনি উম্মুল মুমিনীনদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। অন্যথায় তিনি তাঁর মালিকানাধীন দাসী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فحجبها فلما1 أمر الله أن لا يسألن إلا من وراء حجاب وأمر أزواجه وبناته ونساء المؤمنين أن يدنين عليهن من جلابيبهن.
و"الجلباب" هو الملاءة وهو الذي يسميه ابن مسعود وغيره: الرداء وتسميه العامة الإزار وهو الإزار الكبير الذي يغطي رأسها وسائر بدنها.
وقد حكى عبيدة وغيره: أنها تدنيه من فوق رأسها فلا تظهر إلا عينها ومن جنسه النقاب فكن النساء ينتقبن.
وفي الصحيح: "أن المحرمة لا تنتقب ولا تلبس القفازين".
فإذا كن مأمورات بالجلباب لئلا يعرفن2 وهو ستر الوجه
--------------------------------------------
এরপর তিনি তাদের পর্দার (حجاب) অন্তরালে নিলেন। সুতরাং যখন (১) আল্লাহ নির্দেশ দিলেন যে, তাদের নিকট পর্দার (حجاب) অন্তরাল ছাড়া কিছু চাওয়া হবে না, এবং তিনি তাঁর স্ত্রীগণ, কন্যাগণ ও মুমিনদের নারীদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা তাদের জিলবাবের (جلباب) একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়।
আর 'জিলবাব' (جلباب) হলো চাদর (ملاءة), যাকে ইবনে মাসউদ ও অন্যান্যরা রিদা (رداء) এবং সাধারণ মানুষ ইজার (إزار) বলে অভিহিত করে। এটি হলো মূলত একটি বড় চাদর (إزار) যা নারীর মাথা ও সমগ্র শরীর ঢেকে ফেলে।
উবাইদাহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে: নারী তা তার মাথার ওপর থেকে নিচে টেনে দেবে, ফলে তার চোখ ছাড়া অন্য কিছু প্রকাশ পাবে না। আর নিকাব (نقاب) বা নেকাবও এই জাতীয় পোশাকের অন্তর্ভুক্ত, কেননা তৎকালীন নারীরা নিকাব (نقاب) পরিধান করত।
আর সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নিকাব (نقاب) পরিধান না করে এবং হাতমোজা (قفازين) না পরে।"
সুতরাং যখন তাদের জিলবাব (جلبাব) পরিধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা পরিচিত না হতে পারে (২), আর তা হলো মুখমণ্ডল আবৃত করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أو ستر الوجه بالنقاب: كان حينئذ الوجه واليدان من الزينة التي أمرت ألا تظهرها للأجانب.
فما بقي يحل للأجانب النظر إلا الثياب الظاهرة فابن مسعود ذكر آخر الأمرين وابن عباس ذكر أول الأمرين1.
وعلى هذا فقوله: {أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ} 2 يدل على أن لها أن تبدي الزينة الباطنة لمملوكها. وفيه قولان:
--------------------------------------------
অথবা নেকাবের মাধ্যমে মুখমণ্ডল আবৃত করা: তখন মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় ছিল সেই সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত যা পরপুরুষদের সামনে প্রকাশ না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এমতাবস্থায় পরপুরুষদের জন্য প্রকাশ্য বস্ত্র ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে তাকানো বৈধ থাকল না। সুতরাং ইবনে মাসউদ (রা.) বিষয় দুটির শেষোক্ত অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে আব্বাস (রা.) প্রথমোক্ত অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন১।
এই প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তাদের নারীগণ কিংবা তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীগণ} ২ এটি প্রমাণ করে যে, একজন নারীর জন্য তার দাসের সামনে অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য প্রকাশ করা বৈধ। এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
1 - قيل المراد الإماء والإماء الكتابيات كما قاله ابن المسيب ورجحه أحمد وغيره.
2 - وقيل: هو المملوك الرجل: كما قاله ابن عباس وغيره وهذا مذهب الشافعي وغيره وهو الرواية الأخرى عن أحمد فهذا يقتضي جواز نظر العبد إلى مولاته.
وقد جاءت بذلك أحاديث1 وهذا لأجل الحاجة لأنها محتاجة إلى مخاطبة عبدها أكثر من حاجتها إلى رؤية الشاهد والعامل والخاطب.
فإذا جاز نظر أولئك فنظر العبد أولى وليس في هذا ما يوجب أن يكون محرما يسافر بها كغير أولي الإربة فإنهم يجوز لهم النظر وليسوا محارم يسافرون بها.
فليس كل من جاز له النظر جاز له السفر بها ولا الخلوة بها بل عبدها ينظر إليها للحاجة وإن كان لا يخلو بها ولا يسافر بها فإنه لم يدخل في قوله صلى الله عليه وسلم: "لا تسافر المرأة إلا مع زوج أو ذي محرم" 2 فإنه يجوز له أن يتزوجها إذا عتق كما يجوز لزوج أختها أن يتزوجها إذا طلق أختها
--------------------------------------------
১ - বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দাসী এবং আহলে কিতাবভুক্ত দাসীগণ, যেমনটি ইবনুল মুসায়্যিব বলেছেন এবং ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যগণ একে প্রাধান্য দিয়েছেন।
২ - আবার বলা হয়েছে: এটি হলো পুরুষ ক্রীতদাস: যেমনটি ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যগণ বলেছেন এবং এটিই শাফেঈ ও অন্যান্যদের মাযহাব এবং এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত অপর একটি বর্ণনা (رواية)। এর দ্বারা দাসের পক্ষে তার মালিকিনীর দিকে তাকানোর বৈধতা প্রতীয়মান হয়।
এ বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস১ বর্ণিত হয়েছে। আর এটি প্রয়োজনের তাগিদে, কারণ তার দাসের সাথে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা একজন সাক্ষী, কর্মী কিংবা বিয়ের প্রস্তাবদাতার দর্শনের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।
সুতরাং তাদের জন্য দৃষ্টিপাত যদি বৈধ হয়, তবে দাসের জন্য তা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। তবে এতে এমন কিছু সাব্যস্ত হয় না যে তাকে মাহরাম হতে হবে যে তার সাথে সফর করবে, যেমন যৌন কামনা রহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কেননা তাদের জন্য দৃষ্টিপাত বৈধ হলেও তারা মাহরাম নন যে তার সাথে সফর করবেন।
অতএব, যার জন্য দৃষ্টিপাত বৈধ, তার জন্য সফর বা নির্জনে অবস্থান করা বৈধ হওয়া আবশ্যক নয়। বরং দাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তাগিদে সে মালিকিনীর দিকে তাকাতে পারে, যদিও সে তার সাথে নির্জনে অবস্থান করবে না এবং সফরও করবে না। কেননা সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত নয়: "কোনো নারী যেন স্বামী অথবা মাহরাম ব্যতীত সফর না করে।"২ কারণ দাস যদি মুক্ত হয়ে যায়, তবে তাকে বিবাহ করা তার জন্য বৈধ; ঠিক যেমন বোনের স্বামী তাকে বিবাহ করতে পারে যদি সে তার বোনকে তালাক দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
والمحرم: من تحرم عليه على التأبيد ولهذا قال ابن عمر: سفر المرأة مع عبدها ضيعة1.
فالآية رخصت في إبداء الزينة لذوي المحارم وغيرهم وحديث السفر ليس فيه إلا ذوو المحارم وذكر في الآية {أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ} و {غَيْرِ أُولِي الْأِرْبَةِ} 2 وهي لا تسافر معهم.
وقوله: {أَوْ نِسَائِهِنَّ} قال: احتراز عن النساء المشركات فلا تكون المشركة قابلة للمسلمة ولا تدخل معهن الحمام3.
لكن قد كن النسوة اليهوديات يدخلن على عائشة وغيرها فيرين وجهها ويديها بخلاف الرجال فيكون هذا في الزينة الظاهرة في حق النساء الذميات وليس للذميات أن يطلعن على
--------------------------------------------
মাহরাম (المحرم): মাহরাম হলেন তিনি, যাঁর সাথে বিবাহ বন্ধন চিরস্থায়ীভাবে হারাম। এ কারণেই ইবনে উমর (রা.) বলেছেন: "দাসের সাথে নারীর সফর করা তাকে নষ্ট করার নামান্তর"১।
সুতরাং এই আয়াতটি মাহরাম (ذوي المحارم) এবং অন্যদের সামনে সৌন্দর্য প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে, অথচ সফরের হাদিসে কেবল মাহরামদের (ذوي المحارم) কথাই উল্লেখ আছে। আয়াতে আরও বর্ণিত হয়েছে—{অথবা তাদের নারীরা অথবা তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসী} এবং {যৌনকামনামুক্ত পুরুষ পরিচারক}২, যাদের সাথে তারা সফর করতে পারে না।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তাদের নারীরা}—এ বিষয়ে বলা হয়েছে: এটি মুশরিক নারীদের থেকে সতর্কতাস্বরূপ; সুতরাং কোনো মুশরিক নারী কোনো মুসলিম নারীর ধাত্রী হতে পারবে না এবং তাদের সাথে হাম্মামেও (গোসলখানায়) প্রবেশ করবে না৩।
কিন্তু ইহুদি নারীরা আয়েশা (রা.) ও অন্যান্যদের নিকট প্রবেশ করত এবং তারা তাদের মুখমণ্ডল ও হাত দেখত, যা পুরুষদের ক্ষেত্রে ছিল না। সুতরাং জিম্মি (الذميات) নারীদের ক্ষেত্রে এটি কেবল প্রকাশ্য সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর জিম্মি (الذميات) নারীদের জন্য সমীচীন নয় যে তারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الزينة الباطنة ويكون الظهور والبطون بحسب ما يجوز لها إظهاره.
ولهذا كان أقاربها تبدي لهن الباطنة وللزوج خاصة ليست للأقارب.
وقوله: {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} دليل على أنها تغطي العنق فيكون من الباطن لا الظاهر ما فيه من القلادة وغيرها.
অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য (الزينة الباطنة) এবং প্রকাশমান হওয়া (الظهور) বা প্রচ্ছন্ন থাকা (البطون) নির্ভর করে যতটুকু প্রকাশ করা তার জন্য বৈধ তার ওপর।
আর একারণেই নারীরা তাদের নিকটাত্মীয়দের সামনে অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো প্রকাশ করে থাকে এবং স্বামীর জন্য বিশেষভাবে এমন কিছু প্রকাশ করে যা অন্য আত্মীয়দের জন্য নয়।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশের ওপর ফেলে রাখে} এটি এই বিষয়ের দলিল (دليل) যে, নারী তার ঘাড় আবৃত রাখবে; সুতরাং ঘাড়ের ওপর পরিহিত হার বা অলংকারসমূহ প্রকাশ্য (الظاهر) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে অভ্যন্তরীণ (الباطن) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فصل في ستر النساء والرجالفهذا ستر النساء عن الرجال وستر الرجال عن الرجال والنساء عن النساء في العورة الخاصة كما قال صلى الله عليه وسلم: "لا ينظر الرجل إلى عورة الرجل ولا تنظر المرأة إلى عورة المرأة" 1 وكما قال: "احفظ عورتك إلا عن زوجتك أو ما ملكت يمينك".
قلت: فإذا كان القوم بعضهم في بعض؟.
قال: إن استطعت أن لا يرينها أحد فلا يرينها.
قلت: فإذا كان أحدنا خاليا؟ قال: "فالله أحق أن يستحيا منه" 2
"ونهى أن يفضي الرجل إلى الرجل في ثوب واحد والمرأة إلى المرأة في ثوب واحد"3 وقال عن الأولاد: " مروهم بالصلاة لسبع واضربوهم عليها لعشر وفرقوا بينهم في المضاجع" 4
--------------------------------------------
নারী ও পুরুষের পর্দা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদএটি পুরুষদের থেকে নারীদের পর্দা এবং পুরুষ থেকে পুরুষ ও নারী থেকে নারীর লজ্জাস্থান (عورة) আবৃত রাখা বিষয়ক আলোচনা, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো পুরুষ যেন অন্য পুরুষের লজ্জাস্থানের (عورة) দিকে না তাকায় এবং কোনো নারী যেন অন্য নারীর লজ্জাস্থানের (عورة) দিকে না তাকায়।" ১ এবং যেমনটি তিনি বলেছেন: "তোমার স্ত্রী অথবা তোমার অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত অন্য সকলের নিকট থেকে তোমার লজ্জাস্থান (عورة) হেফাযত করো।"
আমি বললাম: যদি লোকজন একে অপরের সাথে (একই স্থানে) থাকে?
তিনি বললেন: যদি সম্ভব হয় যে তোমার লজ্জাস্থান (عورة) কেউ দেখবে না, তবে যেন কেউ তা না দেখে।
আমি বললাম: আমাদের কেউ যখন নির্জনে থাকে? তিনি বললেন: "আল্লাহ তাআলাই অধিক হকদার যে তাঁকে লজ্জা করা হবে।" ২
"তিনি আরও নিষেধ করেছেন যেন একজন পুরুষ অন্য পুরুষের সাথে এক কাপড়ে না শোয় এবং একজন নারী অন্য নারীর সাথে এক কাপড়ে না শোয়।" ৩ এবং সন্তানদের সম্পর্কে বলেছেন: "তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের আদেশ দাও, দশ বছর বয়সে তার জন্য তাদের প্রহার করো এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।" ৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فهذا نهي عن النظر والمس لعورة النظير لما في ذلك من القبح والفحش وأما الرجال مع النساء فلأجل شهوة النكاح فهذان نوعان.
وفي الصلاة نوع ثالث فإن المرأة لو صلت وحدها كانت مأمورة بالاختمار1 وفي غير الصلاة يجوز لها كشف رأسها في بيتها فأخذ الزينة في الصلاة لحق الله فليس لأحد أن يطوف بالبيت عريانا2 ولو كان وحده بالليل ولا يصلي عريانا ولو كان وحده فعلم أن أخذ الزينة في الصلاة لم يكن ليحتجب عن الناس فهذا نوع وهذا نوع.
وحينئذ فقد يستر المصلي في الصلاة ما يجوز إبداؤه في غير الصلاة وقد يبدي في الصلاة ما يستره عن الرجال.
فالأول: مثل المنكبين فإن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يصلي الرجل في
--------------------------------------------
এটি সমলিঙ্গের আওরাত দেখা এবং স্পর্শ করার প্রতি এক নিষেধাজ্ঞা, কারণ এতে কদর্যতা ও অশ্লীলতা রয়েছে। আর পুরুষ ও নারীর বিষয়টি হচ্ছে বৈবাহিক কামনার কারণে। সুতরাং এগুলো হলো দুই প্রকার।
আর সালাতের ক্ষেত্রে তৃতীয় একটি প্রকার রয়েছে। কারণ নারী যদি একাকীও সালাত আদায় করে, তবে তাকে খিমার বা শিরোবস্ত্র পরিধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ সালাতের বাইরে নিজ ঘরে তার জন্য মাথা খোলা রাখা বৈধ। সুতরাং সালাতে সৌন্দর্য অবলম্বন (জিনাহ) করা আল্লাহর হকের অন্তর্ভুক্ত। তাই কারো জন্যই বিবস্ত্র অবস্থায় বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করা বৈধ নয়, এমনকি সে রাতে একাকী থাকলেও; এবং একাকী হলেও উলঙ্গ অবস্থায় সালাত আদায় করবে না। ফলে এটি জানা গেল যে, সালাতে সৌন্দর্য গ্রহণ করার বিষয়টি মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল হওয়ার জন্য নয়। সুতরাং এটি এক প্রকার এবং ওটি অন্য প্রকার।
এমতাবস্থায়, একজন মুসল্লি সালাতের মধ্যে এমন অঙ্গ আবৃত করতে পারেন যা সালাতের বাইরে প্রকাশ করা জায়েজ, আবার সালাতের মধ্যে এমন কিছু প্রকাশ করতে পারেন যা (পর) পুরুষদের নিকট আবৃত রাখা আবশ্যক।
প্রথম প্রকারটি হলো: যেমন দুই কাঁধ। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ব্যক্তিকে কেবল একটি কাপড়ে এমনভাবে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الثوب الواحد ليس على عاتقه منه شيء1 فهذا لحق الصلاة ويجوز له كشف منكبيه للرجال خارج الصلاة،
وكذلك المرأة الحرة2 تختمر في الصلاة كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: " لا يقبل الله صلاة حائض إلا بخمار" 3 وهي لا تختمر عند زوجها ولا عند ذوي محارمها فقد جاز لها إبداء الزينة الباطنة لهؤلاء ولا يجوز لها في الصلاة أن تكشف رأسها لهؤلاء ولا لغيرهم.
وعكس ذلك: الوجه واليدان والقدمان ليس لها أن تبدي ذلك للأجانب على أصح القولين بخلاف ما كان قبل النسخ بل لا تبدي إلا الثياب.
وأما ستر ذلك في الصلاة فلا يجب باتفاق المسلمين بل يجوز لها كشف الوجه بالإجماع وإن كان من الزينة الباطنة وكذلك اليدان يجوز إبداؤهما في الصلاة عند جمهور العلماء كأبي حنيفة والشافعي وغيرهما وهو إحدى الروايتين عن أحمد وكذلك القدم
--------------------------------------------
এক কাপড়ে যদি তার কাঁধের ওপর কোনো অংশ না থাকে১ তবে এটি নামাজের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর নামাজের বাইরে পুরুষদের জন্য কাঁধ খোলা রাখা বৈধ।
অনুরূপভাবে স্বাধীন নারী২ নামাজে ওড়না পরিধান করবে, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ কোনো ঋতুবতী নারীর নামাজ ওড়না ব্যতীত কবুল করেন না"৩। অথচ সে তার স্বামী বা মাহরামদের সামনে ওড়না পরিধান করে না; কেননা তাদের সামনে অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য প্রকাশ করা তার জন্য বৈধ হলেও নামাজের মধ্যে তাদের সামনে বা অন্য কারো সামনে মাথা উন্মুক্ত রাখা তার জন্য বৈধ নয়।
আর এর বিপরীত বিষয় হলো: মুখমণ্ডল, দুই হাত ও দুই পা—সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) মতানুসারে পরপুরুষদের সামনে এগুলো প্রকাশ করা তার জন্য বৈধ নয়, যা রহিতকরণের (النسخ) পূর্বের বিধানের বিপরীত; বরং সে তার বহিরাবরণ বা পোশাক ব্যতীত আর কিছুই প্রকাশ করবে না।
পক্ষান্তরে নামাজের মধ্যে এগুলো আবৃত করা মুসলমানদের ঐকমত্যে (اتفاق) ওয়াজিব নয়, বরং সর্বসম্মতভাবে (إجماع) তার জন্য মুখমণ্ডল খোলা রাখা বৈধ, যদিও তা অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে জমহুর ওলামায়ে কেরামের (جمهور العلماء) মতে, যেমন আবু হানিফা, শাফিয়ী এবং অন্যান্যদের নিকট নামাজের মধ্যে দুই হাত প্রকাশ করা বৈধ, আর এটি ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (الروايتين) একটি; একই বিধান পায়ের ক্ষেত্রেও।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يجوز إبداؤه عند أبي حنيفة وهو الأقوى فإن عائشة جعلته من الزينة الظاهرة قالت: {وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا} 1 قالت: "الفتخ" حلق من فضة تكون في أصابع الرجلين2 رواه ابن أبي حاتم فهذا دليل على أن النساء كن يظهرن أقدامهن أولا كما يظهرن الوجه واليدين فإنهن كن يرخين ذيولهن فهي إذا مشت قد يظهر قدمها ولم يكن يمشين في خفاف وأحذية وتغطية هذا في الصلاة فيه حرج عظيم وأم سلمة قالت: "تصلي المرأة في ثوب سابغ يغطي ظهور قدميها "3 فهي إذا سجدت قد يبدو باطن القدم.
وبالجملة: قد ثبت بالنص والإجماع أنه ليس عليها في الصلاة أن تلبس الجلباب الذي يسترها إذا كانت في بيتها وإنما ذلك إذا خرجت وحينئذ فتصلي في بيتها وإن بدا وجهها ويداها وقدماها كما كن يمشين أولا قبل الأمر بإدناء الجلابيب عليهن فليست العورة في الصلاة مرتبطة بعورة النظر لا طردا ولا عكسا
وابن مسعود رضي الله عنه لما قال: الزينة الظاهرة هي
--------------------------------------------
ইমাম আবু হানিফার নিকট এটি প্রকাশ করা বৈধ এবং এটিই অধিক শক্তিশালী মত। কেননা আয়েশা (রা.) একে প্রকাশ্য সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত} ১। তিনি বলেন: "ফাত্খ" হলো রুপার আংটি যা পায়ের আঙুলে পরা হয় ২। এটি ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন। এটি এই বিষয়ের দলিল যে, মহিলারা শুরুতে তাদের পা প্রকাশ করতেন যেভাবে তারা মুখমণ্ডল ও হাত প্রকাশ করতেন। কেননা তারা তাদের কাপড়ের আঁচল ঝুলিয়ে রাখতেন, ফলে হাঁটার সময় কখনো কখনো তাদের পা প্রকাশ পেয়ে যেত এবং তারা মোজা বা জুতা পরে হাঁটতেন না। আর সালাতে এটি ঢেকে রাখা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। উম্মে সালামা (রা.) বলেন: "নারী এমন প্রশস্ত পোশাকে সালাত আদায় করবে যা তার পায়ের উপরিভাগ ঢেকে রাখে" ৩। সুতরাং সে যখন সিজদা করে, তখন পায়ের নিচের অংশ প্রকাশ পেতে পারে।
সারকথা: নস (النص) এবং ইজমা (الإجماع) দ্বারা এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, নারী যখন তার ঘরে থাকে তখন সালাতে তার জন্য এমন জিলবাব পরিধান করা আবশ্যক নয় যা তাকে সম্পূর্ণ আবৃত করে ফেলে; বরং এটি কেবল বাইরে বের হওয়ার সময়ের জন্য। সুতরাং এমতাবস্থায় সে তার ঘরে সালাত আদায় করবে যদিও তার মুখমণ্ডল, দুই হাত ও দুই পা প্রকাশ পায়, যেমনটি তাদের ওপর জিলবাব ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আসার পূর্বে তারা চলাফেরা করতেন। অতএব, সালাতের সতর এবং দৃষ্টির সতর পরস্পর সংশ্লিষ্ট নয়—অন্বয় কিংবা ব্যতিরেক কোনোভাবেই নয়।
আর ইবনে মাসউদ (রা.) যখন বললেন: প্রকাশ্য সৌন্দর্য হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الثياب لم يقل إنها كلها عورة حتى ظفرها بل هذا قول أحمد يعني به أنها تستره في الصلاة فإن الفقهاء يسمون ذلك: "باب ستر العورة" وليس هذا من ألفاظ الرسول ولا في الكتاب والسنة أن ما يستره المصلي فهو عورة بل قال تعالى: {خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ} 1 ونهى النبي صلى الله عليه وسلم أن يطوف بالبيت عريانا2 فالصلاة أولى. وسئل عن الصلاة في الثوب الواحد فقال: "أو لكلكم ثوبان؟ " 3 وقال في الثوب الواحد: "إن كان واسعا فالتحف به وإن كان ضيقا فاتزر به"4 ونهى أن يصلي الرجل في ثوب واحد ليس على عاتقه منه شيء5 فهذا دليل على أنه يؤمر في الصلاة بستر العورة: الفخذ وغيره وإن جوزنا للرجل النظر إلى ذلك.
فإذا قلنا على أحد القولين وهو إحدى الروايتين عن أحمد: أن العورة هي السوءتان وأن الفخذ ليست بعورة فهذا في جواز نظر الرجل إليها ليس هو في الصلاة والطواف فلا يجوز أن
--------------------------------------------
পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কে তিনি বলেননি যে, নখ পর্যন্ত তা সম্পূর্ণই লজ্জাস্থান (عورة), বরং এটি ইমাম আহমদের মত। এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন যে, এটি তাকে সালাতে আবৃত রাখবে। নিশ্চয়ই ফকিহগণ একে "লজ্জাস্থান আবৃতকরণ অধ্যায়" নামে অভিহিত করেন। এটি রাসুলের কোনো শব্দ নয় এবং কিতাব ও সুন্নাহর কোথাও এমনটি নেই যে, মুসাল্লি যা আবৃত করে তাই লজ্জাস্থান (عورة)। বরং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ করো}। আর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উলঙ্গ অবস্থায় কাবা ঘর তাওয়াফ করতে নিষেধ করেছেন, ফলে সালাত আবৃত হওয়ার অধিক দাবি রাখে। তাঁকে একটি কাপড়ে সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "তোমাদের প্রত্যেকের কি দুটি করে কাপড় আছে?" এবং তিনি একটি কাপড়ের বিষয়ে বললেন: "যদি তা প্রশস্ত হয় তবে তা শরীরে জড়িয়ে নাও, আর যদি সংকীর্ণ হয় তবে তা লুঙ্গি হিসেবে পরিধান করো।" তিনি আরও নিষেধ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যেন এমন একটি কাপড়ে সালাত আদায় না করে যার কোনো অংশ তার কাঁধের ওপর না থাকে। এটি প্রমাণ করে যে, সালাতে উরু এবং অন্যান্য লজ্জাস্থান (عورة) আবৃত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও আমরা পুরুষের জন্য তার দিকে তাকানো বৈধ মনে করি।
দুটি মতের একটি অনুযায়ী—যা ইমাম আহমদের বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি—যদি আমরা বলি: লজ্জাস্থান (عورة) বলতে কেবল গুহ্যদ্বার ও লিঙ্গ বা লজ্জাস্থানদ্বয় (السوءتان), এবং উরু লজ্জাস্থান (عورة) নয়; তবে এটি পুরুষের জন্য সেদিকে তাকানোর বৈধতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সালাত ও তাওয়াফের ক্ষেত্রে নয়। ফলে তা জায়েজ হবে না যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يصلي الرجل مكشوف الفخذين سواء قيل هما عورة أو لا ولا يطوف عريانا بل عليه أن يصلي في ثوب واحد ولا بد من ذلك إن كان ضيقا اتزر به وإن كان واسعا التحف به كما أنه لو صلى وحده في بيت كان عليه تغطية ذلك باتفاق العلماء.
وأما صلاة الرجل بادي الفخذين مع القدرة على الإزار فهذا لا يجوز1 ولا ينبغي أن يكون في ذلك خلاف ومن بنى هذا على الروايتين في العورة كما فعله طائفة فقد غلطوا ولم يقل أحمد ولا غيره: أن المصلي يصلي على هذه الحال كيف وأحمد يأمره بستر المنكبين؟ فكيف يبيح له كشف الفخذ؟ فهذا هذا.
وقد اختلف في وجوب ستر العورة إذا كان الرجل خاليا ولم يختلف في أنه في الصلاة لا بد من اللباس وأنه لا تجوز الصلاة عريانا مع القدرة على اللباس باتفاق العلماء ولهذا جوز أحمد وغيره للعراة أن يصلوا قعودا ويكون إمامهم وسطهم بخلاف خارج الصلاة هذا الستر لحرمة الصلاة لا لأجل النظر
وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم في حديث بهز بن حكيم عن أبيه عن جده لما قال: يا
--------------------------------------------
একজন ব্যক্তি উরুদ্বয় উন্মুক্ত রেখে সালাত আদায় করবেন—চাই সেগুলোকে সতর (عورة) বলা হোক বা না হোক; তবে তিনি নগ্ন অবস্থায় তাওয়াফ করবেন না। বরং তার জন্য একটি কাপড়ে সালাত আদায় করা আবশ্যক। যদি কাপড়টি সংকীর্ণ হয় তবে তা পরিধান করবেন (লুঙ্গি হিসেবে), আর যদি প্রশস্ত হয় তবে তা শরীরে জড়িয়ে নেবেন। যেমন কোনো ব্যক্তি নির্জনে সালাত আদায় করলেও আলেমদের সর্বসম্মত (اتفاق العلماء) মতে তাকে সতর আবৃত করতে হবে।
আর সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তির উরুদ্বয় উন্মুক্ত রেখে সালাত আদায় করা বৈধ (لا يجوز) নয় এবং এ বিষয়ে কোনো মতভেদ থাকা সমীচীন নয়। যারা সতর (عورة) সংক্রান্ত দুটি বর্ণনার (الروايتين) ওপর ভিত্তি করে একে বৈধ মনে করেছেন, যেমনটি একটি দল করেছে, তারা মূলত ভুল করেছেন। ইমাম আহমাদ বা অন্য কোনো আলেম বলেননি যে, মুসল্লি এমতাবস্থায় সালাত আদায় করবে। ইমাম আহমাদ যেখানে মুসল্লিকে দুই কাঁধ ঢেকে রাখার নির্দেশ দেন, সেখানে তিনি উরু উন্মুক্ত রাখাকে কীভাবে বৈধ করবেন? সুতরাং বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট।
নির্জন অবস্থায় সতর (عورة) আবৃত করার আবশ্যকতা (وجوب) নিয়ে মতভেদ থাকলেও, সালাতে পোশাক পরিধান করা যে জরুরি সে বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। পোশাকের সংস্থান থাকা সত্ত্বেও নগ্ন অবস্থায় সালাত আদায় করা আলেমদের সর্বসম্মত (اتفاق العلماء) মতে বৈধ (لا يجوز) নয়। এ কারণেই ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যগণ বস্ত্রহীন ব্যক্তিদের জন্য বসে সালাত আদায় করা এবং তাদের ইমামকে তাদের মধ্যখানে দাঁড়ানোর অনুমতি (جوز) প্রদান করেছেন। সালাতের বাইরের অবস্থার বিপরীতে এই পর্দা বজায় রাখা হয় সালাতের মর্যাদার কারণে, কেবল দৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য নয়।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাহ্য বিন হাকিম কর্তৃক তার পিতা ও দাদা থেকে বর্ণিত হাদিসে বলেছেন, যখন তিনি বলেছিলেন: হে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
رسول الله، فإذا كان أحدنا خاليا؟ قال: "فالله أحق أن يستحيا منه من الناس" 1
فإذا كان هذا خارج الصلاة فهو في الصلاة أحق أن يستحيا منه فتؤخذ الزينة لمناجاته سبحانه وتعالى
ولهذا قال ابن عمر لغلامه نافع لما رآه يصلي حاسرا: أرأيت لو خرجت إلى الناس كنت تخرج هكذا؟ قال: لا قال: فالله أحق من يتجمل له.2
وفي الحديث الصحيح لما قيل له صلى الله عليه وسلم الرجل يحب أن يكون ثوبه حسنا ونعله حسنا فقال: "إن الله جميل يحب الجمال" 3.
وهذا كما أمر المصلي بالطهارة والنظافة والطيب فقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم "أن تتخذ المساجد في البيوت وتنظف وتطيب"4 وعلى هذا فيستتر في الصلاة أبلغ مما يستتر الرجل من الرجل والمرأة من المرأة.
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ যদি নির্জনে থাকে (তবে কি সে বিবস্ত্র হতে পারে)? তিনি বললেন: "মানুষের তুলনায় আল্লাহই অধিক হকদার যে, তাঁকে লজ্জা করা হবে।" 1
যদি নামাজের বাইরে এই বিধান হয়, তবে নামাজের মধ্যে তিনি লজ্জা পাওয়ার অধিক হকদার। সুতরাং সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাথে নিভৃতে কথা বলার জন্য সৌন্দর্য অবলম্বন করা উচিত।
এই কারণেই ইবনে উমর তাঁর গোলাম নাফে’কে যখন মাথা খোলা অবস্থায় নামাজ পড়তে দেখলেন, তখন বললেন: তোমার কী অভিমত, তুমি যদি মানুষের সামনে বের হতে তবে কি এভাবে বের হতে? তিনি বললেন: না। ইবনে উমর বললেন: আল্লাহ এর চেয়েও বেশি হকদার যে, তাঁর সমীপে সৌন্দর্য মন্ডিত হয়ে উপস্থিত হওয়া হবে। 2
এবং সহিহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যখন তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলা হলো যে, কোনো ব্যক্তি পছন্দ করে যে তার পোশাক সুন্দর হোক এবং তার জুতো সুন্দর হোক। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন।" 3.
আর এটি তেমনই যেমন নামাজিকে পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদ্রূপ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন "যেন ঘরবাড়িতে মসজিদ (নামাজের স্থান) প্রস্তুত করা হয় এবং তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় রাখা হয়।" 4 সেই অনুযায়ী, একজন পুরুষ অন্য পুরুষ থেকে কিংবা একজন নারী অন্য নারী থেকে যতটুকু আবরণ গ্রহণ করে, নামাজের মধ্যে তার চেয়েও নিবিড়ভাবে আবরণ গ্রহণ করা কর্তব্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ولهذا أمرت المرأة أن تختمر في الصلاة وأما وجهها ويداها وقدماها1 فهي إنما نهيت عن إبداء ذلك للأجانب لم تنه عن إبدائه للنساء ولا لذوي المحارم، فعلم أنه ليس من جنس عورة الرجل مع الرجل والمرأة مع المرأة التي نهي عنها لأجل الفحش وقبح كشف العورة بل هذا من مقدمات الفاحشة فكان النهي عن إبدائها نهيا عن مقدمات الفاحشة كما قال في الآية: {ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ} 2 وقال في آية الحجاب: {ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ} 3 فنهى عن هذا سدا للذريعة لا أنه عورة مطلقة لا في الصلاة ولا غيرها فهذا هذا.
وأمر المرأة في الصلاة بتغطية يديها بعيد جدا واليدان يسجدان كما يسجد الوجه4 والنساء على عهد النبي صلى الله عليه وسلم إنما كان لهن قمص وكن يصنعن الصنائع والقمص عليهن فتبدي المرأة يديها إذا عجنت وطحنت وخبزت ولو كان ستر اليدين في الصلاة واجبا لبينه النبي صلى الله عليه وسلم وكذلك القدمان وإنما أمر بالخمار فقط مع القميص فكن يصلين في قمصهن وخمرهن.
--------------------------------------------
এ কারণেই নারীকে সালাতে মস্তক আবৃত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর তার চেহারা, দুই হাত ও দুই পা সম্পর্কে কথা হলো—তাকে এগুলো কেবল পরপুরুষের সামনে প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়েছে; নারী কিংবা মাহরামদের সামনে তা প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়নি। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, এটি পুরুষে-পুরুষে কিংবা নারীতে-নারীতে সেই সতর সদৃশ নয়, যা অশ্লীলতা এবং সতর উন্মোচনের কুৎসিত স্বভাবের কারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বরং এটি অশ্লীলতার উপক্রমসমূহের অন্তর্ভুক্ত; তাই এগুলো প্রকাশে নিষেধ করা মূলত অশ্লীলতার উপক্রমসমূহকেই নিষিদ্ধ করার নামান্তর। যেমনটি আল্লাহ তাআলা আয়াতে বলেছেন: {এটিই তাদের জন্য অধিক পবিত্র}। এবং হিজাবের আয়াতে বলেছেন: {এটি তোমাদের এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র}। সুতরাং অশুভ পথ রুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এটি নিষেধ করা হয়েছে; এমন নয় যে এটি সালাতে কিংবা সালাতের বাইরে ‘নিরঙ্কুশ সতর’। বিষয়টি এমনই।
সালাতে নারীকে দুই হাত ঢাকার নির্দেশ প্রদান অত্যন্ত অবান্তর কথা। কেননা চেহারা যেভাবে সিজদাহ করে, দুই হাতও সেভাবে সিজদাহ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে নারীদের কেবল কামিজ থাকত এবং তারা সেই কামিজ পরিহিত অবস্থায় যাবতীয় কাজকর্ম সম্পাদন করতেন। ফলে আটা মাখা, পিষা কিংবা রুটি তৈরির সময় নারীর দুই হাত প্রকাশিত হয়ে যেত। যদি সালাতে দুই হাত ঢাকা আবশ্যকীয় হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তা বর্ণনা করতেন। অনুরূপভাবে দুই পায়ের বিধানও একই। তাকে কেবল কামিজের সাথে ওড়না ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তাই তারা তাদের কামিজ ও ওড়না পরেই সালাত আদায় করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وأما الثوب التي كانت المرأة ترخيه وسألت عن ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال: "شبرا" فقلن: إذن تبدو سوقهن؟ فقال: "ذراع لا يزدن عليه" 1 وقول عمر بن أبي ربيعة:
كتب القتل والقتال علينا
… وعلى الغانيات جر الذيول2
فهذا كان إذا خرجن من البيوت ولهذا سئل عن المرأة تجر ذيلها على المكان القذر فقال: "يطهره ما بعده" 3 وأما في نفس البيت فلم تكن تلبس ذلك كما أن الخفاف اتخذها النساء بعد ذلك لستر السوق إذا خرجن وهن لا يلبسنها في البيوت ولهذا قلن: إذن تبدوا سوقهن وكان المقصود تغطية الساق لأن الثوب إذا كان فوق الكعبين بدا الساق عند المشي.
وقد روي: "أعروا النساء يلزمن الحجال" 4 يعني إذا لم يكن لها ما تلبسه في الخروج لزمت بيتها.
--------------------------------------------
আর নারীরা যে পোশাকটি ঝুলিয়ে রাখতেন এবং সে সম্পর্কে নবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন: "এক বিঘত।" তখন তারা বললেন: তাহলে তো তাদের পায়ের নলা প্রকাশ পেয়ে যাবে? তিনি বললেন: "এক হাত, তারা যেন এর চেয়ে বেশি বৃদ্ধি না করে।" 1 আর উমর ইবনে আবি রাবি'আর উক্তি:
আমাদের ওপর হত্যা ও যুদ্ধ নির্ধারিত হয়েছে
… আর রূপসীদের ওপর পোশাকের আঁচল টেনে চলা2
এটি ছিল যখন তারা ঘর থেকে বের হতেন তখনকার জন্য। এ কারণেই সেই নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যিনি নোংরা স্থানের ওপর দিয়ে তাঁর পোশাকের আঁচল টেনে নিয়ে যান; তখন তিনি বলেছিলেন: "তার পরবর্তী অংশ তাকে পবিত্র করে দেয়।" 3 তবে ঘরের ভেতরে তারা এমনটি পরতেন না, যেমনটি নারীরা পরবর্তীতে বাইরে বের হওয়ার সময় পায়ের নলা ঢাকার জন্য মোজা ব্যবহার শুরু করেছিলেন, অথচ তারা ঘরের ভেতরে সেগুলো পরতেন না। এই কারণেই তারা বলেছিলেন: "তাহলে তো তাদের পায়ের নলা প্রকাশ পেয়ে যাবে।" এর উদ্দেশ্য ছিল পায়ের নলা ঢেকে রাখা, কারণ পোশাক যদি টাখনুর উপরে থাকে তবে হাঁটার সময় পায়ের নলা প্রকাশ পায়।
আর বর্ণিত হয়েছে: "নারীদের বস্ত্রহীন রাখো, তারা অন্তঃপুরেই অবস্থান করবে" 4 অর্থাৎ বাইরে বের হওয়ার জন্য পরিধান করার মতো কিছু না থাকলে সে তার ঘরেই অবস্থান করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وكن نساء المسلمين يصلين في بيوتهن وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تمنعوا إماء الله مساجد الله وبيوتهن خير لهن" 1 ولم يؤمرن مع القمص إلا بالخمر لم تؤمر بما يغطي رجليها لا خف ولا جورب ولا بما يغطي يديها لا بقفازين ولا غير ذلك.
فدل على أنه لا يجب عليها في الصلاة ستر ذلك إذا لم يكن عندها رجال أجانب وقد روي: "أن الملائكة لا تنظر إلى الزينة الباطنة فإذا وضعت خمارها وقميصها لم ينظر إليها" وروي في ذلك حديث عن خديجة2 فهذا القدر للقميص والخمار هو المأمور به لحق الصلاة كما يؤمر الرجل إذا صلى في ثوب واسع أن يلتحف به فيغطي عورته ومنكبيه.
والمنكبان في حقه كالرأس في حق المرأة لأنه يصلي في قميص أو ما يقوم مقام القميص وهو في الإحرام لا يلبس على بدنه ما يقدر له كالقميص والجبة كما أن المرأة لا تنتقب ولا تلبس القفازين وأما رأسه فلا يخمره.
ووجه المرأة فيه قولان في مذهب أحمد وغيره:
1 - قيل: إنه كرأس الرجل فلا يغطى.
--------------------------------------------
মুসলিম নারীগণ তাঁদের ঘরে সালাত আদায় করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে যেতে বাধা দিও না, তবে তাঁদের ঘরই তাঁদের জন্য উত্তম।" ১ কামিসের (জামা) সাথে তাঁদের শুধুমাত্র খিমার (মাথা ঢেকে রাখা কাপড়) ব্যবহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা তাঁদের পা ঢাকার জন্য চামড়ার মোজা (خف) বা সাধারণ মোজা (جورب) ব্যবহারের কিংবা তাঁদের হাত ঢাকার জন্য হাতমোজা (قفازين) বা অন্য কিছু ব্যবহারের নির্দেশপ্রাপ্ত হননি।
এটি প্রমাণ করে যে, নিকটস্থ কোনো পরপুরুষ না থাকলে সালাতে তা আবৃত করা তাঁদের ওপর আবশ্যক নয়। বর্ণিত (روي) হয়েছে যে: "নিশ্চয়ই ফেরেশতাগণ অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের দিকে তাকান না, সুতরাং যখন তিনি তাঁর খিমার ও কামিস খুলে ফেলেন, তখন তাঁরা তাঁর দিকে তাকান না।" এই বিষয়ে খাদিজা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত (روي) হয়েছে। ২ সুতরাং কামিস ও খিমারের এই পরিমাণটি সালাতের হকের কারণে আদিষ্ট হয়েছে, যেমনটি কোনো পুরুষকে প্রশস্ত কাপড়ে সালাত আদায়ের সময় তা দিয়ে শরীর জড়িয়ে নেওয়া এবং সতর (عورة) ও দুই কাঁধ ঢেকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুরুষের ক্ষেত্রে দুই কাঁধের বিষয়টি নারীর মাথার সমতুল্য। কারণ সে কামিস বা কামিসের স্থলাভিষিক্ত কোনো পোশাকে সালাত আদায় করে। অথচ ইহরাম অবস্থায় সে শরীরের মাপ অনুযায়ী তৈরি পোশাক যেমন কামিস বা জুব্বা পরিধান করে না, ঠিক যেমন নারী নিকাব ব্যবহার করেন না এবং হাতমোজা (قفازين) পরিধান করেন না। আর পুরুষের ক্ষেত্রে সে তার মাথা ঢেকে রাখে না।
নারীর চেহারার ব্যাপারে ইমাম আহমাদ (র.) এর মাযহাব ও অন্যদের মতে দুটি মত রয়েছে:
১ - বলা হয়েছে: এটি পুরুষের মাথার মতো, তাই তা ঢাকা হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হিজাবুল মারআতি ওয়া লিবাশুহা ফিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
2 - وقيل: إنه كيديه فلا يغطى بالنقاب والبرقع ونحو ذلك مما صنع على قدره وهذا هو الصحيح فإن النبي صلى الله عليه وسلم لم ينه إلا عن القفازين والنقاب.
وكن النساء يدنين على وجوههن ما يسترها من الرجال من غير وضع ما يجافيها عن الوجه1 فعلم أن وجهها كيدي الرجل ويديها وذلك أن المرأة كلها عورة كما تقدم فلها أن تغطي وجهها ويديها2 لكن بغير اللباس المصنوع بقدر العضو كما أن الرجل لا يلبس السراويل ويلبس الإزار والله سبحانه وتعالى أعلم.
--------------------------------------------
2 - এবং বলা হয়েছে যে, এটি (মুখমণ্ডল) তার দুই হাতের মতো; সুতরাং নেকাব (النقاب), বোরকা (البرقع) এবং এই জাতীয় যা অঙ্গের মাপ অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে তা দিয়ে আবৃত করা যাবে না। আর এটাই হলো সঠিক (الصحيح) মত। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দস্তানা (القفازين) ও নেকাব (النقاب) ছাড়া অন্য কিছু নিষেধ করেননি।
আর মহিলারা পুরুষদের থেকে আড়াল করার জন্য চেহরার ওপর এমন কিছু ঝুলিয়ে দিতেন যা চেহরাকে ঢেকে রাখত, চেহরা থেকে পৃথক করে রাখার মতো কোনো কিছু স্থাপন করা ছাড়াই। এতে বোঝা গেল যে, মহিলার চেহারা পুরুষের দুই হাত এবং মহিলার নিজের দুই হাতের মতো। আর এর কারণ হলো পুরো মহিলাই সতর বা আবৃত রাখার অংশ (عورة), যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে। সুতরাং তার জন্য চেহারা ও দুই হাত ঢেকে রাখার অবকাশ রয়েছে, তবে তা অঙ্গের মাপে তৈরিকৃত পোশাক ব্যতীত। যেমন পুরুষ পাজামা (السراويل) পরিধান করবে না কিন্তু লুঙ্গি (الإزار) পরিধান করবে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অধিক পরিজ্ঞাত।
--------------------------------------------