(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: -)
جهود علماء المسلمين في تمييز صحيح السيرة النبوية من ضعيفها   (عبد الكريم بن زيد عكوي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: جهود علماء المسلمين في تمييز صحيح السيرة النبوية من ضعيفها

(ضمن أبحاث ندوة عناية السعودية بالسنة والسيرة النبوية)

المؤلف: عبد الكريم بن زيد عكوي

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 46

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সীরাতে নববীর সহীহ ও যয়ীফ বর্ণনার পার্থক্য নিরূপণে মুসলিম উলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টা   (আবদুল করীম বিন যাইদ আকওয়ী)

বিভাগ: সীরাতে নববী


বই: সীরাতে নববীর সহীহ ও যয়ীফ বর্ণনার পার্থক্য নিরূপণে মুসলিম উলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টা

(সুন্নাহ ও সীরাতে নববীর প্রতি সৌদি আরবের যত্ন ও গুরুত্বারোপ সংক্রান্ত সেমিনারের গবেষণাপত্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত)

লেখক: আবদুল করীম বিন যাইদ আকওয়ী

প্রকাশক: কিং ফাহাদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স, মদীনা মুনাওয়ারা

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة

…

تمهيد:

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وأصحابه ومن والاه.

إن من المتفق عليه عند علماء الإسلام في القديم والحديث أن المحدِّثين من علماء الإسلام كانوا أمناء على السنة النبوية، بما وضعوه من القواعد الدقيقة لفحص الأخبار ونقد المرويات. وكان غرضهم من ذلك تمييز ما صح من الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ليقدموه للباحثين والمجتهدين، حتى يتم بناء الأحكام على الصحيح دون غيره. ولما كانت السيرة النبوية – في جزء كبير منها- موضعا للأحكام الفقهية في مجالات مختلفة من الأسرة والبيت إلى التصرفات العامة والعلاقات الدولية، فقد أولاها المحدثون عناية بالغة، فعملوا على تصحيح مروياتها. ومن أسباب العناية بها أيضا أن السيرة النبوية هي من الظروف العامة المحيطة بنزول الوحي وبورود الأحاديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ومعلوم أن أسباب الورود لها فائدة في شرح الأحاديث وبيان فقهها. ولهذا لما صنفت كتب مصطلح الحديث عقد المصنفون أنواعا من علوم الحديث تدخل في ظروف الحديث وملابساته لفائدتها في الفهم الصحيح. منها ما ذكره الحاكم النيسابوري في النوع الثامن والأربعين من علوم الحديث وهو معرفة مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم، أورد فيه ما لا يسع المحدث جهله من سيرة رسول الله ومغازيه وبعوثه وسراياه وسنته في ذلك كله. ووجه ذلك أن عهد النبي صلى الله عليه وسلم هو الزمن الذي وردت
ভূমিকা

…

প্রারম্ভিকা:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাদের প্রতি।

প্রাচীন ও আধুনিক যুগের ইসলামী পণ্ডিতদের নিকট এটি একটি স্বীকৃত বিষয় যে, ইসলামের মুহাদ্দিসগণ নববী সুন্নাহর বিশ্বস্ত আমানতদার ছিলেন। সংবাদ পরীক্ষা এবং বর্ণনাসমূহ পর্যালোচনার জন্য তারা যে সূক্ষ্ম নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন, তার মাধ্যমেই এটি সম্ভব হয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে যা সহীহ (বিশুদ্ধ) তা পৃথক করা, যাতে তারা তা গবেষক ও মুজতাহিদদের সামনে পেশ করতে পারেন এবং এর ফলে কেবল সহীহ হাদীসের ওপর ভিত্তি করেই শরঈ বিধানসমূহ প্রণীত হতে পারে। যেহেতু সীরাতে নববীর একটি বড় অংশ—পরিবার ও ঘরোয়া পরিবেশ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে—ফিকহী বিধানের উৎস, তাই মুহাদ্দিসগণ এর প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়েছেন এবং এর বর্ণনাসমূহকে বিশুদ্ধ করার জন্য কাজ করেছেন। এর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের আরেকটি কারণ হলো, সীরাতে নববী হলো ওহী নাযিল হওয়া এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণিত হওয়ার সময়কালীন সাধারণ পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপট।

এটি সর্বজনবিদিত যে, হাদীসের প্রেক্ষাপট বা 'আসবাবুল উরুদ' হাদীসের ব্যাখ্যা এবং এর ফিকহী মর্ম অনুধাবনে অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এই কারণেই যখন 'মুসতালাহুল হাদীস' বা হাদীস বিজ্ঞানের গ্রন্থগুলো সংকলিত হয়েছে, তখন সংকলকগণ হাদীস শাস্ত্রের এমন কিছু প্রকার অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা হাদীসের প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর সাথে সম্পৃক্ত, যাতে হাদীসের সঠিক মর্ম উপলব্ধি করা যায়। তার মধ্যে একটি হলো ইমাম হাকীম নাইসাপুরী হাদীস বিজ্ঞানের আটচল্লিশতম প্রকার হিসেবে যা উল্লেখ করেছেন, তা হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধবিগ্রহ (মাগাযী) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। এতে তিনি আল্লাহর রাসূলের সীরাত, তাঁর যুদ্ধসমূহ, প্রেরিত সেনাদল, ছোট ছোট অভিযান এবং এ সবকিছুর ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নাহ বা কর্মপন্থা সম্পর্কে এমন বিষয়াদি বর্ণনা করেছেন যা একজন মুহাদ্দিসের পক্ষে না জানা থাকা সম্ভব নয়। এর যৌক্তিক দিক হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগই হলো সেই সময় যখন হাদীসসমূহ বর্ণিত হয়েছিল...
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ২)
فيه الأحاديث، وأن أحوال عهد النبوة هي الظروف العامة المحيطة بالحديث النبوي، وأن استحضار أحداث السيرة والمغازي له فائدة في تنزيل الأحاديث على محالها، لأن أعمال رسول الله صلى الله عليه وسلم في تجهيز الجيوش وبعث السرايا وغيرها، مما يدخل في السيرة من السنن الفعلية التي تدل على أنواع هذه التصرفات: أهي تصرف بالتبليغ أم بالإمامة أم بالقضاء. يقول الحاكم:" هذا النوع من هذه العلوم: معرفة مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم وسراياه وبعوثه وكتبه إلى ملوك المشركين وما يصح من ذلك وما يشذ وما أبلى كل واحد من الصحابة في تلك الحروب بين يديه، ومن ثبت، ومن هرب، ومن جبن عن القتال، ومن كرَّ، ومن تدين بنصرته صلى الله عليه وسلم، ومن نافق، وكيف قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم الغنائم، ومن زاد، ومن نقص، وكيف جعل سلب القتيل بين الاثنين والثلاثة وكيف أقام الحدود في الغلول. وهذه أنواع من العلوم لا يستغني عنها عالم…" (1)

ومن الأسباب العلمية أيضا التي حملت المحدِّثين على العناية بنقد أخبار السيرة وتصحيحها، أن استحضار أحوال عصر النبوة وأخبار المغازي له فائدة في نقد الأحاديث والأخبار. فنقد الحديث المروي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد يتوقف على عرضه على الوقائع التي صحت في السيرة النبوية. وبناء على هذا الأصل تم نقد كثير من الأحاديث، وسيأتي شيء من ذلك فيما بعد إن شاء الله تعالى. فهذه هي الأسباب التي حملت المحدِّثين على العناية بتحقيق السيرة النبوية. ولهذا نجد أخبار السيرة مبثوثة في كتب الحديث

--------------------------------------------

(1) "معرفة علوم الحديث" ص: 238.
এতে হাদিসসমূহ রয়েছে, আর নবুওয়াত যুগের অবস্থাসমূহ হলো সেই সাধারণ পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি যা নববী হাদিসকে ঘিরে থাকে। সিরাত ও মাগাযীর (যুদ্ধাভিযান) ঘটনাবলি স্মরণে রাখা হাদিসসমূহকে তাদের সঠিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার জন্য উপকারী। কারণ, সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করা, ছোট যুদ্ধদল (সারিয়া) প্রেরণ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য কর্মতৎপরতা সিরাতের এমন সব কর্মগত সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত যা এই কাজগুলোর প্রকৃতি নির্দেশ করে: এগুলো কি নবুওয়াতের বাণী পৌঁছানোর কাজ ছিল, নাকি রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের কাজ ছিল, নাকি বিচারিক কোনো সিদ্ধান্ত ছিল। হাকেম বলেন: "এই শাস্ত্রের এই প্রকারটি হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধাভিযান, সারিয়া, প্রেরণকৃত বাহিনী এবং মুশরিক রাজন্যবর্গের প্রতি তাঁর লিখিত পত্রসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা; আর এগুলোর মধ্য থেকে কোনটি সহিহ এবং কোনটি শায (বিচ্ছিন্ন), তাঁর সামনে সংঘটিত যুদ্ধগুলোতে প্রত্যেক সাহাবী কেমন আত্মত্যাগ করেছিলেন, কে অবিচল ছিলেন, কে পলায়ন করেছিলেন, কে যুদ্ধে ভীরুতা দেখিয়েছিলেন, কে পুনরায় আক্রমণ করেছিলেন, কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহায্যের মাধ্যমে দ্বীনদারী প্রকাশ করেছিলেন এবং কে মুনাফিকি করেছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে গনিমতের মাল বণ্টন করেছিলেন, কাকে বেশি দিয়েছিলেন আর কাকে কম, নিহত শত্রুর পরিধেয় সামগ্রী (সালব) কীভাবে দুই বা তিনজনের মধ্যে বণ্টন করেছিলেন এবং গনিমতের মালে খিয়ানতের ক্ষেত্রে কীভাবে হদ (দণ্ডবিধি) কার্যকর করেছিলেন—সেসব জানা। এগুলো এমন সব জ্ঞান যা থেকে কোনো আলেম বিমুখ থাকতে পারেন না..." (১)

মুহাদ্দিসগণকে সিরাতের বর্ণনাসমূহের বিশ্লেষণ ও সেগুলো শুদ্ধিকরণের প্রতি যত্নশীল হতে উদ্বুদ্ধ করার অন্যতম একটি তাত্ত্বিক কারণ হলো, নবুওয়াত যুগের অবস্থা এবং মাগাযীর ঘটনাবলি সামনে রাখা হাদিস ও বর্ণনাসমূহের চুলচেরা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসের পর্যালোচনা অনেক সময় সিরাতে নববীর প্রমাণিত বাস্তব ঘটনাবলির নিরিখে বিচার করার ওপর নির্ভর করে। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই অনেক হাদিস পর্যালোচনা করা হয়েছে, যার কিছু উদাহরণ ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে। মূলত এগুলোই সেই কারণ যা মুহাদ্দিসগণকে সিরাতে নববীর তাহকিক বা গবেষণার প্রতি গুরুত্বারোপে উদ্বুদ্ধ করেছে। এ কারণেই আমরা হাদিসের কিতাবসমূহে সিরাতের বর্ণনাগুলো বিস্তারিতভাবে ছড়িয়ে থাকতে দেখি।

--------------------------------------------

(১) "মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস" পৃষ্ঠা: ২৩৮।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ৩)
ودواوين السنة، ومنها ما خصص فيه المؤلفون كتبا للمغازي والسير مثل ما فعل البخاري في جامعه الصحيح حيث عقد كتاباً للمغازي، أخرج فيه ما صح عنده من أخبار المغازي. ومعنى ذلك أن السيرة النبوية عند المحدِّثين جزء من السنة النبوية.

ومع مرور الزمن صارت السيرة النبوية علما قائما بذاته، فانفصلت عن الحديث، فوجدت كتب خاصة بها دون غيرها، واشتهر من علماء الإسلام طائفة ممن لهم عناية واهتمام بالتواريخ والسير والمغازي وأخبار الإسلام، وهم المعروفون بأئمة المغازي أو الأخباريين. وكان الغالب على هؤلاء الجمع والتقميش، دون الفحص والتفتيش، فوجد بذلك التساهل في كتب المغازي والسير. يقول الدكتور فاروق حمادة: "ومما ينبغي التنبه له… أن كتب السير ومثلها كتب التاريخ تسوق كل ما ورد في الباب مما صح أو لم يصح من الأخبار لتمحيصه وغربلته لا قطعا منهم بصحته، ولا جزما بصدقه…وفي هذا يقول الحافظ زين الدين العراقي المتوفى 806 ? في فاتحة ألفيته في السيرة النبوية:

وليعلم الطالبُ أنَّ السِّيرا … تجمع ما صح وما قد أنكرا

والقصد ذكر ما أتى أهل السير … به وإن إسناده لم يعتبر

ولهذا كان الأئمة عبر العصور يتتبعون ما ورد في كتب السير ويبينون ما فيه من الضعيف والواهي والموضوع"

(1) . ومعنى ذلك أن منهج النقد الذي

--------------------------------------------

(1) مصادر السيرة النبوية وتقويمها " للدكتور فاروق حمادة ص 104، وانظر "السيرة النبوية الصحيحة" للدكتور أكرم ضياء العمري 1/39-40.
সুন্নাহর সংকলনসমূহ, এবং সেগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে যেখানে লেখকগণ মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) ও সিরাত (জীবনী) এর জন্য বিশেষ অধ্যায় বা কিতাব নির্ধারণ করেছেন, যেমন ইমাম বুখারি তাঁর জামে সহিহ-তে করেছেন। সেখানে তিনি মাগাজির ওপর একটি কিতাব রচনা করেছেন, যাতে তাঁর নিকট মাগাজি সংক্রান্ত সংবাদগুলোর মধ্য হতে যা সহিহ প্রমাণিত হয়েছে তা সংকলন করেছেন। এর অর্থ হলো, মুহাদ্দিসগণের নিকট সিরাতে নববী হলো সুন্নাহর একটি অংশ।

সময়ের আবর্তনে সিরাতে নববী একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞানে পরিণত হয়, ফলে এটি হাদিস থেকে পৃথক হয়ে যায়। তখন শুধুমাত্র এটি নিয়ে বিশেষায়িত কিতাবাদি রচিত হয় এবং ইসলামি পণ্ডিতদের মধ্যে এমন একটি দল প্রসিদ্ধি লাভ করেন যাদের বিশেষ মনোযোগ ও আগ্রহ ছিল ইতিহাস, সিরাত, মাগাজি ও ইসলামের ঘটনাবলির প্রতি। তাঁরা 'মাগাজির ইমাম' বা 'আখবারি' (ইতিহাসবেত্তা) হিসেবে পরিচিত। তাঁদের মধ্যে যাচাই-বাছাই ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের চেয়ে তথ্য সংগ্রহ ও স্তূপীকরণের প্রবণতাই প্রবল ছিল। ফলে মাগাজি ও সিরাতের কিতাবসমূহে এক ধরনের শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। ড. ফারুক হামাদা বলেন: "যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখা জরুরি তা হলো... সিরাতের কিতাবসমূহ এবং অনুরূপভাবে ইতিহাসের কিতাবসমূহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বর্ণিত সকল সংবাদ—তা সহিহ হোক বা না হোক—উপস্থাপন করে যাতে সেগুলো যাচাই ও বাছাই করা যায়। তারা এগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে কোনো অকাট্য রায় দেওয়ার জন্য বা সত্যতার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য তা করেন না... এ প্রসঙ্গে হাফেজ যাইনুদ্দিন আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হিজরি) তাঁর সিরাতে নববী বিষয়ক আলফিয়্যাহ-র শুরুতে বলেন:

শিক্ষার্থী যেন জেনে রাখে যে সিরাত … সহিহ এবং যা বর্জনীয় উভয়ই একত্রিত করে

আর উদ্দেশ্য হলো সিরাত রচয়িতাগণ যা নিয়ে এসেছেন তা উল্লেখ করা … যদিও তার সূত্র নির্ভরযোগ্য বিবেচিত না হয়

এই কারণেই যুগে যুগে ইমামগণ সিরাতের কিতাবসমূহে বর্ণিত বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতেন এবং সেখানে যা কিছু দুর্বল, অসার ও জাল ছিল তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতেন।"

(১) । এর অর্থ হলো, পর্যালোচনার যে পদ্ধতিটি

--------------------------------------------

(১) ড. ফারুক হামাদা রচিত "মাসাদিরুস সিরাতিন নাবাবিয়্যাহ ওয়া তাকউইমুহা", পৃষ্ঠা ১০৪; এবং দেখুন ড. আকরাম জিয়া আল-উমারি রচিত "আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাতুস সহিহাহ", ১/৩৯-৪০।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ৪)
وضعه المحدثون، لم يكن له حضور عند أكثر من كتب في السيرة النبوية وتاريخ الإسلام، فكانوا يسوقون الأخبار والروايات من غير نقد ولا تمحيص. ولهذا بقي المحدثون يتتبعون أخبار السيرة النبوية بالنقد والتمحيص ليتميز الصحيح فيها من الضعيف. وبفضل جهود المحدِّثين والاعتماد على مناهجهم أمكن لعلماء الإسلام التمييز بين الصحيح من السيرة النبوية وضعيفها، وذلك لدقة مناهجهم وقوة مسالكهم في النقد. ويمكن بيان منهج المحدِّثين في نقد أخبار السيرة النبوية في الخطوات الآتية:

1- استقصاء مصادر الخبر وطرقه ورواته وألفاظه وصيغه:

إن الناظر في كتب المحدِّثين والمتتبع لتصرفاتهم في التصحيح والتضعيف، يستوقف نظره ولوع علماء الحديث ونقاده بجمع طرق الحديث الواحد واستقصاء الأسانيد التي ورد بها، وحصر طرقه ومخارجه التي أتى منها، وبلغ منهم ذلك أَنْ حَمَلَ بعضَ مَنْ لم يعرف مسلك المحدِّثين على وصفهم بزوامل للأسفار.

أو كما قال بعضهم:

زوامل للأشعار لا علم عندها … لعمرك ما يدري البعير إذا غدا

بجيدها إلا كعلم الأباعر … بأحماله أو راح ما في الغرائر (1)

وذلك لما رآهم لا يكتفون بالسند الواحد للحديث حتى يضموا إليه غيره، وكانوا يفرحون بذلك؛ لأنه الطريق إلى معرفة هذا الحديث والحكم

--------------------------------------------

(1) "تأويل مختلف الحديث" لابن قتيبة ص 17. والغرائر جمع غِرارة، وهي: وعاء من الخيش ونحوه توضع فيه الحبوب.
যা মুহাদ্দিসগণ প্রণয়ন করেছেন, তা সীরাতুন নবী ও ইসলামের ইতিহাসের অধিকাংশ লেখকের কাছে উপস্থিত ছিল না। ফলে তারা কোনো সমালোচনা বা যাছাই-বাছাই ছাড়াই সংবাদ ও বর্ণনাগুলো উপস্থাপন করতেন। এই কারণে মুহাদ্দিসগণ সীরাতুন নবীর সংবাদগুলো সমালোচনা ও যাছাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অনুসরণ করতে থাকেন, যাতে এর মধ্য থেকে সহীহ ও যয়ীফকে পৃথক করা যায়। মুহাদ্দিসগণের প্রচেষ্টা এবং তাদের মানহাজের ওপর নির্ভর করার বদৌলতে ইসলামের আলেমদের পক্ষে সীরাতুন নবীর সহীহ ও যয়ীফ বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হয়েছে। এর কারণ হলো তাদের মানহাজের সূক্ষ্মতা এবং সমালোচনা পদ্ধতিতে তাদের শক্ত অবস্থান। সীরাতুন নবীর সংবাদ সমালোচনায় মুহাদ্দিসগণের মানহাজ বা পদ্ধতি নিম্নোক্ত ধাপগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট করা সম্ভব:

১- সংবাদের উৎস, এর সূত্রসমূহ (তুরুক), বর্ণনাকারীগণ, শব্দাবলি এবং এর গঠনশৈলী অনুসন্ধান করা:

নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মুহাদ্দিসগণের কিতাবসমূহ পর্যবেক্ষণ করবে এবং সহীহ ও যয়ীফ নির্ধারণে তাদের কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করবে, তার দৃষ্টিতে হাদীস বিশারদ ও সমালোচকদের একটি হাদীসের বিভিন্ন সূত্র সংগ্রহে এবং যে সমস্ত সনদে তা বর্ণিত হয়েছে তা পূর্ণরূপে অনুসন্ধানে তাদের গভীর অনুরাগ ধরা পড়বে। তারা হাদীসের সূত্র ও উৎসগুলো সীমাবদ্ধ করে আনতেন। এটি তাঁদের মধ্যে এতটাই প্রবল ছিল যে, যারা মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে জানত না, তাদের কেউ কেউ তাঁদেরকে 'পুস্তক বহনকারী বাহন' বলে অভিহিত করেছেন।

অথবা যেমন তাদের কেউ বলেছেন:

কবিতার পঙ্ক্তি বহনকারী বাহন যাদের নিজস্ব কোনো জ্ঞান নেই … তোমার জীবনের কসম, উট যখন ভোরে বের হয় তখন সে জানে না

তার মধ্যে থাকা উত্তম বিষয়গুলো সম্পর্কে, বরং তার জ্ঞান সাধারণ পশুর মতোই … যা সে তার পিঠে অথবা থলের মধ্যে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে (১)

আর এটি এ কারণে যে, তিনি দেখেছিলেন যে তাঁরা হাদীসের একটি মাত্র সনদের ওপর তুষ্ট হন না যতক্ষণ না তার সাথে অন্য সনদ যুক্ত করেন। আর তাঁরা এতে আনন্দিত হতেন; কারণ এটিই ছিল এই হাদীসটি জানার এবং তার ওপর হুকুম প্রদানের একমাত্র পথ।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কুতায়বাহ রচিত "তাওয়ীলু মুখতালিফিল হাদীস", পৃষ্ঠা ১৭। 'গারায়ির' শব্দটি 'গিরারা'-এর বহুবচন, যার অর্থ: পাটের তৈরি বা এ জাতীয় পাত্র যার মধ্যে শস্য রাখা হয়।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ৫)
الصحيح عليه، ومعرفة أوصافه، وكل ما يمكن أن يعرض للأحاديث، ولهذا يقول يحيى بن معين: "لو لم نكتب الحديث من ثلاثين وجها ما عقلناه" (1) . فكلما توسع الناظر في الحديث في جمع الطرق وتتبع الأسانيد التي ورد بها، كثرت فوائده وضَعُفَ احتمال غَلَطه في الحكم على الحديث، وعرف من ذلك ما لم يعرفه لو وقف عند السند الأول الذي وقف عليه أولاً. يقول الإمام أحمد: "الحديث إذا لم تجمع طرقه لم تفهمه، والحديث يفسر بعضه بعضا" (2) . فكل سند للحديث الواحد يأتي بفائدة جديدة في الحكم على الحديث ومعرفة صفته، ولهذا جعل المحدثون الطريق الواحد بمنزلة خبر مستقل ولو كانت الطرق كلها تحكي عن الواقعة نفسها وتحمل المتن نفسه، وكانوا في العد يجعلون كل طريق حديثا واحدا، وفي هذا المعنى يقول الإمام مسلم بن الحجاج في بيان مسلكه في صحيحه:" إنا نعمد إلى جملة ما أسند من الأخبار عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فنقسمها على ثلاثة أقسام، وثلاث طبقات من الناس، على غير تكرار إلا أن يأتي موضع لا يستغنى فيه عن ترداد حديث فيه زيادة معنى أو إسناد يقع إلى جنب إسناد؛ لعلة تكون هناك؛ لأن المعنى الزائد في الحديث المحتاج إليه يقوم مقام حديث تام، فلابد من إعادة الحديث الذي فيه ما وصفنا من الزيادة." (3) فصرح أن الزيادة في الإسناد تقوم مقام حديث تام.

ويتأكد هذا خاصة في أخبار السير والمغازي لأنها في الغالب عبارة عنش

--------------------------------------------

(1) "الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع" 2/212.

(2) المصدر نفسه.

(3) مقدمة صحيح مسلم بشرح النووي 1 / 48 –49.
এর ওপর সঠিকতা যাচাই, এর বৈশিষ্ট্যসমূহ জানা এবং হাদিসে যা কিছু ঘটা সম্ভব সে সম্পর্কে অবগত হওয়া। এই কারণেই ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: "আমরা যদি একটি হাদিস ত্রিশটি দিক (সূত্র) থেকে না লিখতাম, তবে আমরা তা অনুধাবন করতে পারতাম না।" (১)। হাদিস পর্যালোচনাকারী হাদিসের বিভিন্ন সূত্র সংগ্রহে এবং বর্ণিত সনদসমূহ অনুসরণে যত বেশি প্রসারতা লাভ করবেন, তার উপকারিতা তত বৃদ্ধি পাবে এবং হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে তার ভুল হওয়ার সম্ভাবনা তত হ্রাস পাবে। এর মাধ্যমে তিনি এমন কিছু জানতে পারবেন যা কেবল প্রথম প্রাপ্ত সনদের ওপর নির্ভর করলে জানতে পারতেন না। ইমাম আহমাদ বলেন: "হাদিসের বিভিন্ন সূত্র একত্রিত না করলে তুমি তা বুঝতে পারবে না; আর হাদিসের এক অংশ অপর অংশের ব্যাখ্যা প্রদান করে।" (২)। সুতরাং একটি হাদিসের প্রতিটি সনদ হাদিসের হুকুম নির্ধারণে এবং তার বৈশিষ্ট্য বা অবস্থা অনুধাবনে নতুন নতুন উপকারিতা বয়ে আনে। এই কারণেই মুহাদ্দিসগণ প্রতিটি একক সূত্রকে একটি স্বতন্ত্র সংবাদের মর্যাদায় গণ্য করেছেন, যদিও সবকটি সূত্র একই ঘটনার বর্ণনা দেয় এবং একই মতন (মূল পাঠ) বহন করে। গণনার ক্ষেত্রে তাঁরা প্রতিটি সূত্রকে একটি করে হাদিস হিসেবে গণ্য করতেন। এই অর্থেই ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তাঁর সহিহ গ্রন্থের কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত মুসনাদ সংবাদসমূহের যে অংশ আমরা গ্রহণ করি, সেগুলোকে আমরা তিন ভাগে এবং মানুষের তিনটি স্তরে বিভক্ত করি। কোনো পুনরাবৃত্তি ছাড়াই তা করা হয়, তবে এমন কোনো স্থান ব্যতীত যেখানে কোনো হাদিস পুনরায় উল্লেখ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। আর তা হলো যেখানে কোনো অর্থের আধিক্য থাকে অথবা কোনো সনদের পাশে অন্য একটি সনদ উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে কোনো ইল্লত বা কারণবশত; কেননা হাদিসের সেই অতিরিক্ত অর্থ যার প্রয়োজন রয়েছে, তা একটি পূর্ণাঙ্গ হাদিসের স্থলাভিষিক্ত হয়। তাই বর্ণিত সেই আধিক্য সংবলিত হাদিসটি পুনরায় উল্লেখ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।" (৩)। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সনদের এই আধিক্য একটি পূর্ণাঙ্গ হাদিসের স্থলাভিষিক্ত হয়।

এটি সীরাত ও মাগাযীর (যুদ্ধাভিযান) সংবাদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে, কারণ তা সাধারণত...

--------------------------------------------

(১) "আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ী ওয়া আদাবিস সামি" ২/২১২।

(২) একই উৎস।

(৩) শরহে নববীসহ সহিহ মুসলিমের ভূমিকা ১/৪৮-৪৯।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ৬)
حكايات لوقائع وحوادث، وهذه الحوادث تكون متلاحقة، والرواة لها ليسوا كلهم في مرتبة واحدة من الحفظ والضبط، فيحفظ بعضهم ما لم يحفظ غيره، ويروي بعضهم ما لا يرويه غيره. ولهذا نص المحدثون على ضرورة استقصاء طرق الخبر وتتبع أسانيده التي ورد بها، حتى يمكن حصر صيغه واستكمال وقائعه وأجزائه. فكل إسناد من أسانيد الحديث الواحد لا يخلو في الغالب من فوائد وزيادات في نص الحديث ومتنه. فأسانيد الخبر تتعدد بتعدد رواة ذلك الخبر ونقلته، والرواة والنقلة يختلفون في الحفظ والاستيعاب، وقد ينقل بعضهم ما غفل عنه الآخر، ولا سيما في نقل الأحاديث الطويلة ورواية الوقائع المتلاحقة الحوادث، والنوازل المتنوعة المشاهد والمواضع، فمن اقتصر على سند واحد فقد اكتفى برواية واحدة، فلم يؤمن عليه ألا يكتمل عنده متن الحديث، وأن تغيب عنه أجزاء كثيرة من الواقعة، أو يقف على الحديث بمعناه دون لفظه، فلا مناص من البحث عن الروايات الأخرى. وما أكثر الأخبار الواردة في مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم التي لا يمكن استكمال وقائعها وجمع أجزائها إلا بجمع الروايات المختلفة واستقصاء أسانيدها وطرقها؛ ولهذا وجد عند بعض علماء المغازي ورواة السيرة النبوية ما سماه بعضهم بالسند الجماعي: وهو أن يجمع الراوي في الرواية بين أكثر من واحد ممن سمع منه الواقعة، ويضم سماعاته منهم بعضها إلى بعض لتستقيم الواقعة وتكتمل أجزاؤها، ولو اقتصر على الواحد لجاءت الواقعة قاصرة؛ لأن هؤلاء روى بعضهم من الواقعة ما لم يرو غيره؛ لأن كل واحد حفظ ما لم يحفظ غيره، فلابد من ضم ذلك كله بعضه إلى بعض.

وهذا من منهج إمام الحديث والمغازي في عصره ابن شهاب الزهري،
এগুলো হলো বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতির বিবরণ, এবং এই ঘটনাসমূহ ধারাবাহিকভাবে ঘটে থাকে। এগুলোর বর্ণনাকারীরা মুখস্থ রাখা ও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণের (জাবত) দিক থেকে সকলে একই স্তরের নন। ফলে তাঁদের কেউ এমন কিছু মুখস্থ রাখেন যা অন্যজন রাখেননি, এবং কেউ এমন কিছু বর্ণনা করেন যা অন্যজন বর্ণনা করেননি। এই কারণেই মুহাদ্দিসগণ সংবাদের সকল সূত্র অনুসন্ধান করা এবং এটি যে সকল সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে তা নিবিড়ভাবে অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে এর শব্দমালা সীমাবদ্ধ করা যায় এবং এর ঘটনাবলি ও অংশসমূহ পূর্ণতা পায়। কারণ, একটি হাদিসের বিভিন্ন সনদের প্রতিটি সাধারণত হাদিসের পাঠ ও মূল বক্তব্যে অতিরিক্ত উপকারিতা ও বর্ধিত অংশ থেকে খালি থাকে না। সংবাদের বর্ণনাকারী ও বাহকদের সংখ্যাভেদে সংবাদের সনদসমূহও একাধিক হয়। বর্ণনাকারী ও বাহকগণ মুখস্থ রাখা ও অনুধাবনের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকেন। কখনও তাঁদের কেউ এমন কিছু বর্ণনা করেন যা অন্যজন এড়িয়ে গেছেন, বিশেষ করে দীর্ঘ হাদিসসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে, ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি বর্ণনায় এবং বিভিন্ন দৃশ্য ও স্থান সংবলিত বৈচিত্র্যময় পরিস্থিতির বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি কেবল একটি সনদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকল, সে মূলত একটি বর্ণনার ওপরই তুষ্ট থাকল। এমতাবস্থায় তার নিকট হাদিসের মূল বক্তব্য অসম্পূর্ণ রয়ে যাওয়া এবং ঘটনার বহু অংশ অজানা থেকে যাওয়ার ব্যাপারে সে নিরাপদ নয়, অথবা সে হাদিসটি কেবল শব্দের পরিবর্তে অর্থের ভিত্তিতে অবগত হতে পারে; তাই অন্যান্য বর্ণনাসমূহ অনুসন্ধান করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধাভিযান (মাগাজি) সংক্রান্ত এমন অনেক সংবাদ রয়েছে, যেগুলোর ঘটনাবলি পূর্ণ করা এবং অংশসমূহ একত্রিত করা বিভিন্ন বর্ণনার সমষ্টি এবং সেগুলোর সনদ ও সূত্রসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ছাড়া সম্ভব নয়। এই কারণে মাগাজি শাস্ত্রের কোনো কোনো আলিম এবং সিরাতে নববীর বর্ণনাকারীদের নিকট এমন এক পদ্ধতির দেখা মেলে যাকে কেউ কেউ 'যৌথ সনদ' বলে অভিহিত করেছেন। আর তা হলো—বর্ণনাকারী কোনো ঘটনা বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর একাধিক উস্তাদ বা শায়খের নাম একত্রে উল্লেখ করবেন যাঁদের থেকে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। এরপর তিনি তাঁদের প্রত্যেকের নিকট থেকে যা শুনেছেন তা একে অপরের সাথে সমন্বয় করবেন যাতে ঘটনাটি সুসংগত হয় এবং এর অংশসমূহ পূর্ণতা পায়। যদি তিনি কেবল একজনের বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থাকতেন, তবে ঘটনাটি অসম্পূর্ণ থেকে যেত। কারণ তাঁদের কেউ ঘটনার এমন কিছু অংশ বর্ণনা করেছেন যা অন্যজন করেননি। যেহেতু প্রত্যেকেই এমন কিছু মুখস্থ রেখেছেন যা অপরজন রাখেননি, তাই সেগুলোর সবটুকুকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা অপরিহার্য।

এটি ছিল তাঁর যুগের হাদিস ও মাগাজি শাস্ত্রের ইমাম ইবনে শিহাব যুহরীর পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ৭)
فقد أخرج البخاري بسنده عنه في قصة الإفك، قال الزهري: حدثني عروة ابن الزبير وسعيد بن المسيب وعلقمة بن وقاص وعبيد الله بن عبد الله بن عتبة ابن مسعود عن عائشة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم حين قال لها أهل الإفك ما قالوا، وكلهم حدثني طائفة من حديثها، وبعضهم كان أوعى لحديثها من بعض وأثبت له اقتصاصا، وقد وعيت عن كل رجل منهم الحديث الذي حدثني عن عائشة وبعض حديثهم يصدق بعضا، وإن كان بعضهم أوعى له من بعض." (1) قال الحافظ ابن حجر في شرح قول الزهري "وبعضهم كان أوعى..": "هو إشارة إلى أن بعض هؤلاء الأربعة أميز في سياق الحديث من بعض من جهة حفظ أكثره، لا أن بعضهم أضبط من بعض مطلقاً، ولهذا قال: "أوعى له" أي للحديث المذكور خاصة… وحاصله أن جميع الحديث عن مجموعهم لا أن مجموعه عن كل واحد منهم" (2) . فهذا هو المنهج الذي وضعه المحدثون لجمع الأخبار الطويلة التي تتفرق أجزاؤها بحسب تفاوت حفظ الحفاظ، عندما يروي بعضهم ما لم يرو غيره. فلاستكمال الأخبار لابد من تتبع أسانيدها واستقصاء طرقها، فتجتمع بذلك ألفاظه وصيغه، فيكتمل متنه. وهذا المسلك هو المعروف عند علماء الحديث بالمتابعات أي أن المحدث لا يكتفي بالحديث الواحد في مصدر واحد بسند واحد وإنما يبحث له عن أسانيد أخرى فإن وجدت فالحديث له متابعات، وهي مما يتقوى بها الحديث، وإذا لم تكن له متابعات سموه فرداً غريباً.

--------------------------------------------

(1) "صحيح البخاري" كتاب المغازي، باب حديث الإفك. (فتح الباري 7/431) . ومسلم في صحيحه، كتاب التوبة، باب في حديث الإفك وقبول التوبة (صحيح مسلم 4/2129) ، صحيح مسلم بشرح النووي 17/102-103) . وأخرجه أيضا الإمام احمد في مسنده، 6/194.

(2) فتح الباري 8 / 457
ইমাম বুখারি তাঁর সানাদসহ ইফকের (মিথ্যা অপবাদ) ঘটনার বর্ণনায় তা সংকলন করেছেন। যুহরি বলেন: উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আলকামাহ ইবনে ওয়াক্কাস এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন—যখন ইফক রটনাকারীরা তাঁর সম্পর্কে যা বলার বলেছিল। তাঁদের প্রত্যেকেই আমার কাছে তাঁর হাদীসের (ঘটনার) একটি অংশ বর্ণনা করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ অন্যদের তুলনায় সেই হাদীসটি অধিক সংরক্ষণকারী এবং বর্ণনায় অধিক সুসংহত ছিলেন। আমি তাঁদের প্রত্যেকের থেকে সেই হাদীসটি স্মরণ রেখেছি যা তাঁরা আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের একজনের বর্ণনা অন্যজনের বর্ণনাকে সত্যায়ন করে, যদিও তাঁদের কেউ কেউ অন্যদের তুলনায় তা অধিক সংরক্ষণকারী ছিলেন।" (১) হাফেজ ইবনে হাজার, যুহরির উক্তি "এবং তাঁদের কেউ কেউ অধিক স্মরণকারী ছিলেন..." এর ব্যাখ্যায় বলেন: "এটি একটি ইঙ্গিত যে, এই চারজন ব্যক্তির মধ্যে কেউ কেউ হাদীসের প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে এর অধিকাংশ হেফজ বা সংরক্ষণের দিক থেকে অন্যদের চেয়ে অধিক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ছিলেন; বিষয়টি এমন নয় যে তাঁদের কেউ কেউ সামগ্রিকভাবে অন্যদের চেয়ে অধিক সুসংহত (দ্বাবিত) ছিলেন। এই কারণেই তিনি বলেছেন: 'তার প্রতি অধিক স্মরণকারী', অর্থাৎ বিশেষ করে উক্ত হাদীসটির ক্ষেত্রে... এর সারকথা হলো, পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি তাঁদের সকলের বর্ণনার সমষ্টি থেকে প্রাপ্ত, এমন নয় যে এর পূর্ণাঙ্গ অংশ তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই বর্ণিত হয়েছে।" (২)। এটিই হলো সেই পদ্ধতি যা মুহাদ্দিসগণ সেই দীর্ঘ বর্ণনাগুলো সংগ্রহের জন্য প্রণয়ন করেছেন, যেগুলোর অংশবিশেষ হাফেজদের হেফজ বা স্মৃতিশক্তির তারতম্য অনুযায়ী বিক্ষিপ্ত হয়ে থাকে, যখন তাঁদের কেউ এমন কিছু বর্ণনা করেন যা অন্য কেউ করেননি। সুতরাং বিবরণগুলো পূর্ণাঙ্গ করার জন্য এর সানাদসমূহ (সূত্র) অনুসন্ধান করা এবং এর পথগুলো (তুরুক) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা আবশ্যক, যার ফলে এর শব্দমালা ও বাক্যরীতিগুলো একত্রিত হয় এবং এর মতন (মূল পাঠ) পূর্ণতা লাভ করে। এই পদ্ধতিটি হাদীস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট 'মুতাবায়াত' (সমর্থনকারী বর্ণনা) নামে পরিচিত। অর্থাৎ, একজন মুহাদ্দিস একটি সূত্রে একটি মাত্র উৎসের হাদীসের ওপর সন্তুষ্ট থাকেন না, বরং তিনি এর জন্য অন্যান্য সানাদ অনুসন্ধান করেন। যদি তা পাওয়া যায়, তবে হাদীসটির 'মুতাবায়াত' রয়েছে বলে গণ্য হয়, যা হাদীসটিকে শক্তিশালী করে। আর যদি এর কোনো মুতাবায়াত না থাকে, তবে তাঁরা একে 'ফারদ গারিব' (একক বা অনন্য) বলে অভিহিত করেন।

--------------------------------------------

(১) "সহীহ বুখারি" কিতাবুল মাগাযি, ইফকের হাদীস অধ্যায়। (ফাতহুল বারী ৭/৪৩১)। এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে, কিতাবুত তাওবাহ, ইফকের হাদীস এবং তাওবাহ কবুল হওয়া অধ্যায় (সহীহ মুসলিম ৪/২১২৯, ইমাম নববীর ব্যাখ্যাসহ সহীহ মুসলিম ১৭/১০২-১০৩)। ইমাম আহমদও তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, ৬/১৯৪।

(২) ফাতহুল বারী ৮ / ৪৫৭
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ৮)
وأما الفائدة الثانية: فهي أن اعتبار المصادر المتنوعة وضم بعضها إلى بعض، يتم به استكمال الخبر وجمع أطرافه؛ لأن كل مصدر إنما يورد منه طرفا أو جزءا، فبعضها يكمل بعضا. وإن هذا المنهج الذي وضعه المحدثون منهج عام يصلح في النقد التاريخي عامة، وليس في الحديث والسيرة النبوية فقط. وقد عبر المؤلفون في النقد التاريخي في العصر الحاضر عن هذا المسلك بتعابير مختلفة، لكنها لا تخرج في حقيقتها عما سطره المحدثون. فقد نصوا على أن منهج النقد التاريخي يقوم أولا على استقصاء الخبر في جميع المصادر المتوافرة، ولا يجوز للناقد أن يزدري أي مصدر قد يرد به الخبر.

إن المؤرخ الذي يقف على خبر تاريخي في مصدر من المصادر أو في وثيقة، لا يكتفي بهذا الخبر من خلال مصدر واحد وإنما يجب عليه استقصاء مصادر الخبر ومظانه المتنوعة. واستقصاء مصادر الخبر "يقتضي عدم الاكتفاء بما يبين للعين أو يعثر عليه بأيسر جهد، بل يتطلب الاستقصاء البعيد والتفتيش الدقيق في كل ركن وزاوية أملا في أن ينكشف شيء جديد" (1) . فكلما عثر المؤرخ على الخبر المنظور فيه في مصدر عَبَرَ منه إلى غيره، فينظر في الخبر الواحد من خلال مصادر عديدة وشواهد متنوعة، " فلا يزدري أيا من المصادر أو يهمله؛ لأن أقلها لدى النظرة الأولى قد يغدو بعد التحقيق أكثرها خطورة، وأغناها بالمعلومات" (2) . فهذا ما نص عليه المحدثون لما ذكروا وجوب تتبع مصادر الخبر واستقصاء أسانيده ومخارجه، وبهذا تمكن علماء الإسلام من جمع أخبار السيرة النبوية.

--------------------------------------------

(1) "نحن والتاريخ" ص: 97.

(2) نفسه ص: 71.
আর দ্বিতীয় উপকারিতা হলো: বৈচিত্র্যময় উৎসসমূহ বিবেচনা করা এবং সেগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে সংবাদের পূর্ণতা লাভ এবং এর সমস্ত দিক সংগৃহীত হয়; কারণ প্রতিটি উৎস কেবল এর একটি দিক বা অংশ উল্লেখ করে, ফলে একটি উৎস অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। মুহাদ্দিসগণ যে পদ্ধতি প্রণয়ন করেছেন তা একটি সাধারণ পদ্ধতি যা সাধারণভাবে ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় প্রযোজ্য, শুধু হাদিস এবং সীরাতুন্নবীর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমান যুগে ঐতিহাসিক পর্যালোচনার লেখকরা এই পথটিকে বিভিন্ন পরিভাষায় ব্যক্ত করেছেন, তবে এগুলো প্রকৃত অর্থে মুহাদ্দিসগণের লিখিত পদ্ধতিরই অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ঐতিহাসিক পর্যালোচনার পদ্ধতিটি সর্বপ্রথম বিদ্যমান সকল উৎস থেকে সংবাদ অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, এবং একজন পর্যালোচকের জন্য এমন কোনো উৎসকে অবজ্ঞা করা বৈধ নয় যাতে সংবাদটি বর্ণিত হয়ে থাকতে পারে।

একজন ইতিহাসবিদ যিনি কোনো একটি উৎস বা নথিতে কোনো ঐতিহাসিক সংবাদের সন্ধান পান, তিনি কেবল একটি উৎসের মাধ্যমেই এই সংবাদে তুষ্ট থাকেন না, বরং তাঁর জন্য সংবাদের উৎসসমূহ এবং এর সম্ভাব্য বিবিধ স্থানসমূহ অনুসন্ধান করা আবশ্যক। আর সংবাদের উৎসসমূহের অনুসন্ধান "কেবল চোখের সামনে যা দৃশ্যমান হয় বা সামান্য প্রচেষ্টায় যা পাওয়া যায় তাতে সন্তুষ্ট না হওয়ার দাবি রাখে, বরং নতুন কিছু উন্মোচিত হওয়ার আশায় প্রতিটি কোণ ও প্রান্তরে সুদূরপ্রসারী অনুসন্ধান এবং সূক্ষ্ম তদন্তের দাবি রাখে" (১)। ফলে ইতিহাসবিদ যখনই কোনো একটি উৎসে উদ্দিষ্ট সংবাদের সন্ধান পান, তিনি তা থেকে অন্য উৎসে গমন করেন। এভাবে তিনি একটি সংবাদের প্রতি একাধিক উৎস এবং বিবিধ প্রমাণের আলোকে দৃষ্টিপাত করেন, "ফলত তিনি কোনো উৎসকেই তুচ্ছজ্ঞান করেন না বা অবহেলা করেন না; কারণ প্রথম দৃষ্টিতে যেটিকে সবচেয়ে নগণ্য মনে হয়, তা-ই অনুসন্ধানের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যে সমৃদ্ধ বলে গণ্য হতে পারে" (২)। মুহাদ্দিসগণ যখন সংবাদের উৎসসমূহ অনুসরণ এবং এর সনদ ও নির্গমস্থলসমূহের অনুসন্ধানের আবশ্যকতা উল্লেখ করেছেন, তখন তাঁরা মূলত এটিই স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। আর এভাবেই ইসলামের আলিমগণ সীরাতুন্নবীর সংবাদসমূহ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) "আমরা ও ইতিহাস" পৃষ্ঠা: ৯৭।

(২) ঐ গ্রন্থ, পৃষ্ঠা: ৭১।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ৯)
2- تحكيم علم الرجال وقواعد الجرح والتعديل:

وهذا أيضا منهج راسخ عند المحدِّثين. فقد اشترط المحدثون لمن ينظر في الخبر لتحقيقه ومعرفة درجته من حيث الصحة والضعف، أن يستحضر أحوال رواته من جهة العدالة والضبط، ومن جهات أخرى لا صلة لها بالعدالة ولا بالضبط، مثل حياة الراوي، مولدا ووفاة، وبلدا ورحلة وتواريخ ذلك كله. بل إنه في بعض الحالات قد يعرف عدالة الرجل وضبطه، لكنه مع ذلك يحتاج إلى أخباره الأخرى، مثل حاجته إلى معرفة البلاد التي دخلها، ومقامه بين أقرانه وغيره ممن يشاركه في الرواية، وفهمه لهذا الحديث الذي يرويه وعلمه به، والطريقة التي تحمل بها هذا الحديث، وتاريخ سماعه، وتاريخ التحديث به. وكلما توسع الناظر في الحديث في استحضار ذلك، حصلت له فوائد جليلة، ولا سيما إذا كان للحديث المنظور فيه معارض، فيحتاج إلى الحكم بالنسخ أو التوفيق أو الترجيح، وإن كثيرا من ضوابط الترجيح ترجع إلى أحوال رواة الحديث من هذه الجهات المختلفة. ولهذا ذكر المصنفون في مصطلح الحديث أنواعا كثيرة تتعلق بأحوال الرواة وأخبارهم، ونصوا على ضرورة استحضارها. وهذه الأنواع هي (1) :

* معرفة صفة من تقبل روايته ومن ترد.

* معرفة الصحابة.

* معرفة التابعين.

* معرفة رواية الأكابر عن الأصاغر.

--------------------------------------------

(1) الأنواع مأخوذة من مقدمة ابن الصلاح مع زيادات السيوطي عليه في " تدريب الراوي".
২- ইলমুর রিজাল (বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞান) এবং জারহ ও তা'দীলের (সমালোচনা ও গুণগান) মূলনীতিসমূহকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা:

এটিও মুহাদ্দিসগণের নিকট একটি সুদৃঢ় পদ্ধতি। কেননা মুহাদ্দিসগণ কোনো সংবাদের সত্যতা যাচাই এবং এর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার স্তর নির্ধারণের জন্য যে ব্যক্তি এতে দৃষ্টি দেবেন, তার ওপর শর্তারোপ করেছেন যে, তিনি যেন বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভুলতা সংক্রান্ত অবস্থা এবং অন্যান্য বিষয়—যেগুলোর সাথে ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভুলতার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই, যেমন: বর্ণনাকারীর জীবনকাল, জন্ম ও মৃত্যু, দেশ, সফর এবং এগুলোর তারিখ—সবই স্মরণে রাখেন। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো একজন ব্যক্তির ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভুলতা সম্পর্কে জানা থাকে, তা সত্ত্বেও তার অন্যান্য সংবাদ জানার প্রয়োজন হয়। যেমন: তিনি যেসব দেশে প্রবেশ করেছেন তা জানার প্রয়োজনীয়তা, তার সমসাময়িক এবং তার সাথে বর্ণনায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্যদের মাঝে তার অবস্থান, তিনি যে হাদীসটি বর্ণনা করছেন সে সম্পর্কে তার উপলব্ধি ও জ্ঞান, কোন পদ্ধতিতে তিনি হাদীসটি গ্রহণ করেছেন, তার শ্রবণের তারিখ এবং হাদীসটি বর্ণনা করার তারিখ। হাদীস বিশারদ এসব বিষয় স্মরণে রাখার ক্ষেত্রে যতই ব্যাপকতা অর্জন করবেন, তার নিকট ততই মহান সব উপকারিতা অর্জিত হবে। বিশেষ করে যখন পর্যালোচনারত হাদীসটির কোনো বিপরীত বর্ণনা থাকে, তখন রহিত হওয়ার হুকুম দেওয়া বা উভয়ের মধ্যে সমন্বয় করা অথবা একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়োজন হয়। আর প্রাধান্য দেওয়ার অনেকগুলো মানদণ্ড মূলত এসব বিভিন্ন দিক থেকে বর্ণনাকারীদের অবস্থার সাথেই সংশ্লিষ্ট। এই কারণেই উসূলে হাদীসের লেখকগণ বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও সংবাদ সংক্রান্ত অনেক প্রকারের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তা স্মরণে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর স্পষ্টভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। এই প্রকারগুলো হলো (১):

* যার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য এবং যার বর্ণনা বর্জনীয় তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা।

* সাহাবীগণ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ।

* তাবিঈগণ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ।

* বড়দের কর্তৃক ছোটদের থেকে বর্ণনার প্রকার সম্পর্কে জানা।

--------------------------------------------

(১) এই প্রকারগুলো ইবনুস সালাহ-এর মুকাদ্দিমাহ থেকে গৃহীত এবং এতে সুয়ূতী তাঁর 'তাদরীবুর রাবী' গ্রন্থে কিছু পরিবর্ধন করেছেন।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ১০)
* معرفة رواية الأقران.

* معرفة الأخوة.

* معرفة رواية الآباء عن الأبناء.

* معرفة رواية الأبناء عن الآباء.

* معرفة من اشترك في الرواية عنه اثنان تباعد ما بين وفاتيهما.

* معرفة من لم يرو عنه إلا واحد.

* معرفة من ذكر بأسماء أو صفات مختلفة.

* معرفة المفردات من الأسماء والكنى والألقاب.

* معرفة الأسماء والكنى ومن اشتهر بها.

* معرفة كنى المعروفين بالأسماء.

* معرفة ألقاب المحدِّثين والرواة.

* معرفة المؤتلف والمختلف.

* معرفة المتفق والمفترق.

* معرفة المنسوبين إلى غير آبائهم.

* معرفة النسب التي على خلاف ظاهرها.

* معرفة المبهمات من الرجال والنساء.

* معرفة الثقات والضعفاء.
সমসাময়িকদের বর্ণনা সম্পর্কে জ্ঞান।

ভাইদের (বর্ণনাকারী ভাই-বোন) সম্পর্কে জ্ঞান।

সন্তানদের নিকট থেকে পিতাদের বর্ণনা সম্পর্কে জ্ঞান।

পিতাদের নিকট থেকে সন্তানদের বর্ণনা সম্পর্কে জ্ঞান।

এমন বর্ণনাকারী সম্পর্কে জ্ঞান যার থেকে এমন দুই ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যাদের মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময় অনেক দীর্ঘ।

এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জ্ঞান যার থেকে মাত্র একজন বর্ণনা করেছেন।

বিভিন্ন নাম বা বিশেষণে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে জ্ঞান।

বিরল ও একক নাম, কুনিয়ত এবং উপাধিগুলো সম্পর্কে জ্ঞান।

নাম ও কুনিয়ত এবং যারা সেগুলোর মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন তাদের সম্পর্কে জ্ঞান।

যারা নামে পরিচিত তাদের কুনিয়ত সম্পর্কে জ্ঞান।

মুহাদ্দিস ও বর্ণনাকারীদের উপাধি সম্পর্কে জ্ঞান।

মু'তালিফ (লেখায় এক কিন্তু উচ্চারণে ভিন্ন) ও মুখতালিফ সম্পর্কে জ্ঞান।

মুত্তাফাক (নামে মিল কিন্তু ব্যক্তিতে ভিন্ন) ও মুফতারাখ সম্পর্কে জ্ঞান।

পিতা ছাড়া অন্য কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে জ্ঞান।

এমন বংশীয় পরিচয় যা তার বাহ্যিক রূপের বিপরীত, সে সম্পর্কে জ্ঞান।

অস্পষ্ট বা নাম অনুল্লিখিত পুরুষ ও নারী বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে জ্ঞান।

নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে জ্ঞান।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ১১)
* معرفة من اختلط من الثقات.

* معرفة طبقات العلماء والرواة.

* معرفة الموالي والمنسوبين إلى القبائل منهم.

* معرفة أوطان الرواة وبلدانهم.

* معرفة رواية الصحابة بعضهم عن بعض والتابعين بعضهم عن بعض.

* معرفة ما رواه الصحابة عن التابعين عن الصحابة.

* معرفة من وافقت كنيته اسم أبيه وعكسه.

* معرفة من وافقت كنيته كنية زوجه.

* معرفة من وافق شيخه اسم أبيه.

* معرفة من اتفق اسمه واسم أبيه وجده.

* معرفة من اتفق شيخه والراوي عنه.

* معرفة من وافق اسمه نسبه.

* معرفة الأسماء التي يشترك فيها الرجال والنساء.

* معرفة من لم يرو إلا حديثا واحدا.

* معرفة الحفاظ وما اختص به كل منهم من ناحية العلم.

ويظهر أن هذه الأنواع تتعلق بأحوال الرواة وأخبار الرجال من جهات مختلفة زائدة على العدالة والضبط. وباستحضار هذه الجهات كلها من أخبار
* নির্ভরযোগ্য রাবীদের মধ্যে যারা স্মৃতিভ্রমের শিকার হয়েছেন তাদের পরিচয় জানা।

* আলেম ও রাবীদের স্তরের (তাবাকাত) পরিচয় জানা।

* রাবীদের মধ্যে যারা মুক্তদাস এবং যারা কোনো গোত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত তাদের পরিচয় জানা।

* রাবীদের স্বদেশ ও দেশসমূহের পরিচয় জানা।

* সাহাবীদের একে অপরের থেকে এবং তাবিঈদের একে অপরের থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াত সম্পর্কে জ্ঞান।

* সাহাবীদের তাবিঈদের মাধ্যমে সাহাবীদের থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াত সম্পর্কে জ্ঞান।

* এমন ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যাদের উপনাম (কুনিয়াত) তাদের পিতার নামের সাথে মিলে যায় এবং এর বিপরীত।

* এমন ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যাদের উপনাম তাদের স্ত্রীর উপনামের সাথে মিলে যায়।

* এমন ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যাদের উস্তাদের নাম তাদের পিতার নামের সাথে মিলে যায়।

* এমন ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যাদের নাম, পিতার নাম এবং দাদার নাম অভিন্ন।

* এমন ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যাদের উস্তাদ এবং বর্ণনাকারী (ছাত্রের) নাম অভিন্ন।

* এমন ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যাদের নাম তাদের বংশীয় নিসবতের সাথে মিলে যায়।

* পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সাধারণ নামসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান।

* এমন ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যারা মাত্র একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।

* হাফেজগণের পরিচয় এবং ইলমের দিক থেকে তাঁদের প্রত্যেকের বিশেষত্ব সম্পর্কে জ্ঞান।

প্রতীয়মান হয় যে, এই প্রকারগুলো আদালাত (সততা) এবং দাবত (স্মৃতিশক্তি)-এর অতিরিক্ত বিভিন্ন দিক থেকে রাবীদের অবস্থা ও বর্ণনাকারীদের সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর বর্ণনাকারীদের সংবাদের এই সকল দিক পর্যালোচনার মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ১২)
الرواة، تمكن المحدثون من تحقيق الأخبار وتمييز الصحيح من غيره، والترجيح بين الأخبار المختلفة. فكان الناقد يسمع الخبر أو يقف عليه في مصدره المكتوب، فيستحضر جميع ما يتصل بالرجل الذي رواه في حياته وأحواله وتواريخ مولده ووفاته ورحلاته والبلاد التي دخلها، ومن لقيه من الرجال والشيوخ، وكانوا يستحضرون هذه الأخبار حتى بالنسبة للصحابة رضوان الله تعالى عليهم، فإنهم وإن كانوا عدولا، فإن الاعتبار بأخبارهم وأحوالهم وتواريخهم وتراجمهم له فائدة في نقد مرويات السيرة النبوية خاصة.

وبالاعتبار بأحوال رجال الحديث وأخبار رواته استخلص المحدثون فوائد جليلة في الحكم على الحديث وبيان أقسامه وأنواعه وصفاته، منها:
বর্ণনাকারীদের মাধ্যমেই মুহাদ্দিসগণ সংবাদসমূহ যাচাই করতে, সহীহ সংবাদকে অন্য সংবাদ থেকে পৃথক করতে এবং বিভিন্ন সংবাদের মধ্যে সমন্বয় বা অগ্রাধিকার দিতে সক্ষম হয়েছেন। একজন সমালোচক যখন কোনো সংবাদ শুনতেন অথবা এর লিখিত উৎসে সেটি দেখতেন, তখন তিনি সেই সংবাদ বর্ণনাকারী ব্যক্তির জীবন, তাঁর অবস্থা, জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ, তাঁর সফরসমূহ এবং যেসব দেশ তিনি ভ্রমণ করেছেন, আর যেসব ব্যক্তি ও শায়খদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে, সেই সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় স্মৃতিতে উপস্থিত করতেন। এমনকি তাঁরা সাহাবীগণের (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ক্ষেত্রেও এসব সংবাদ স্মরণে রাখতেন; কেননা তাঁরা নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সংবাদ, অবস্থা, তারিখ এবং জীবনীর পর্যালোচনার মাধ্যমে বিশেষভাবে সীরাত সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ সমালোচনার ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারিতা পাওয়া যায়।

হাদীসের বর্ণনাকারীদের অবস্থা এবং তাঁদের সংবাদসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে মুহাদ্দিসগণ হাদীসের মান নির্ণয় এবং এর বিভাগ, প্রকার ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনায় অতি উচ্চমানের কিছু উপকারিতা লাভ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ১২)
1-‌‌ معرفة الصحيح والضعيف:

فقد اشترط المحدثون لصحة السند عدالة رواته وضبطهم مع الاتصال وانتفاء الشذوذ والعلة القادحة. أما العدالة والضبط فإنما تعرفان بتتبع أحوال الرجل وأخباره من جهة التزامه أحكام الشريعة ومن جهة عنايته بالعلم وحفظه وصيانته. فإن الغرض في الرواية أن يبتعد الرجل عن الكذب والغلط، والكذب إنما يبعد عنه الدين والورع، وقلة الغلط تعرف بمقارنة الرجل في علمه وروايته بغيره ممن شاركه الرواية. ومن هنا يتبين لنا خطورة هذا المسلك والجهد الكبير الذي بذله المحدثون لتحقيق الحديث، فإن معرفة التزام الرجل الشريعة من عدمه، وضبطه من عدمه يحتاج إلى تتبع لحياة الرجل وأعماله وتصرفاته طول عمره، فإن أفعال الرجل وأعماله ممتدة في الزمان على مدى عشرات السنين، وممتدة في المكان أيضا، مع ما هو معروف من طبيعة
১-‌‌ সহীহ ও যঈফ সম্পর্কে জ্ঞান:

মুহাদ্দিসগণ সনদের বিশুদ্ধতার জন্য এর বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সনদের নিরবচ্ছিন্নতা এবং বিচ্যুতি ও ক্ষতিকারক ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকার শর্তারোপ করেছেন। আর ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভুলতা কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা ও খবরাখবর অনুসরণের মাধ্যমেই জানা সম্ভব; বিশেষ করে শরীয়তের বিধানসমূহের প্রতি তার আনুগত্যের দিক থেকে এবং ইলম অর্জন, তা মুখস্থ রাখা ও যথাযথভাবে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তার যত্নের দিক থেকে। কেননা বর্ণনার মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তি যেন মিথ্যা ও ভুল থেকে দূরে থাকে। আর মিথ্যা থেকে কেবল দ্বীনদারী ও পরহেযগারীই তাকে দূরে রাখে; অন্যদিকে ভুলের স্বল্পতা জানা যায় উক্ত ব্যক্তির ইলম ও বর্ণনাকে তার সাথে বর্ণনায় অংশ নিয়েছেন এমন অন্যান্যদের বর্ণনার সাথে তুলনা করার মাধ্যমে। এখান থেকেই আমাদের কাছে এই পদ্ধতির গুরুত্ব এবং হাদীস যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের ব্যয় করা বিশাল পরিশ্রমের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। কেননা একজন ব্যক্তি শরীয়তের প্রতি কতটুকু অনুগত কিংবা তার স্মৃতিশক্তি কতটা প্রখর—তা জানার জন্য উক্ত ব্যক্তির সারা জীবনের কর্মতৎপরতা ও আচার-আচরণ অনুসরণের প্রয়োজন হয়। কারণ মানুষের কর্মকাণ্ড ও কার্যাবলী কয়েক দশক ব্যাপী সময়ের পরিক্রমায় এবং বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃত থাকে, আর সেই সাথে মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি যা সবার জানা...
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
الإنسان، فإنه تارة يقبل على الطاعة وتارة يفتر عنها، وتارة يقع في المعصية، وتارة يقلع عنها، وتارة متيقظ متقن، وتارة غافل، وفي فترة من عمره جيد الحفظ صافي الذهن، وفي فترة أخرى تغلب عليه أسباب الشرود والاضطراب بسبب الهمِّ والغمِّ والهرم، فهذا كله حاضر في أذهان المحدِّثين وهم يفحصون الأحاديث. فقولهم بصحة السند إنما كان بعد استحضار جميع ما تقدم وتتبع كل ما سبق من حالات الرجل وحياته عبر سنوات عمره، وعبر المكان الذي أقام فيه وارتحل في أرجائه. وقولهم بأن الرجل ضابط حافظ، إنما هو بعد استحضار أحوال غيره من أقرانه ومقارنة روايته بروايتهم. وتجد المحدِّثين أحيانا يحكمون على الرجل بأنه ثقة تغير بآخرة، وإنما قالوا ذلك؛ لأنهم استحضروا حياته كلها حتى أواخر عمره وتغير حاله بسبب الهرم، أو بسبب عارض آخر يختلف باختلاف الأشخاص والرجال. وأما اتصال السند فإنما يعرف باستحضار تواريخ المواليد والوفيات وطبقات الرواة والبلدان التي دخلوها وتواريخ ذلك أيضا. وكذلك العلل والشذوذ إنما يعرف بمقارنة رواية الرجل بغيره واعتبار روايته برواية غيره.

মানুষ কখনো ইবাদত-আনুগত্যের দিকে অগ্রসর হয়, আবার কখনো তাতে শিথিলতা দেখায়। কখনো সে পাপে লিপ্ত হয়, আবার কখনো তা থেকে বিরত থাকে। কখনো সে অত্যন্ত সচেতন ও নির্ভুল থাকে, আবার কখনো গাফেল বা উদাসীন হয়ে পড়ে। জীবনের এক পর্যায়ে তার স্মৃতিশক্তি প্রখর ও মেধা স্বচ্ছ থাকে, আবার অন্য সময়ে দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা ও বার্ধক্যের কারণে তার মাঝে অন্যমনস্কতা ও অস্থিরতা প্রবল হয়ে ওঠে। মুহাদ্দিসগণ যখন হাদীসসমূহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, তখন এই সবকিছুই তাঁদের বিবেচনায় থাকে। সুতরাং কোনো সনদের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে তাঁদের উক্তি কেবল তখনই আসে, যখন তাঁরা উল্লিখিত সকল বিষয় সামনে রাখেন এবং সেই ব্যক্তির জীবনের বিগত সকল অবস্থা, তাঁর দীর্ঘ জীবনকাল এবং যেসব স্থানে তিনি বসবাস করেছেন বা ভ্রমণ করেছেন, সেগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। আর কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে তাঁদের এই রায় যে, তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন এবং হাফেয—তা কেবল তাঁর সমসাময়িক অন্যান্যদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং তাঁদের বর্ণনার সাথে এই ব্যক্তির বর্ণনার তুলনামূলক পর্যালোচনার পরেই প্রদান করা হয়। আপনি দেখবেন যে, মুহাদ্দিসগণ কখনো কখনো কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এই সিদ্ধান্ত দেন যে, 'তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন, তবে শেষ জীবনে তাঁর স্মৃতিশক্তি বা অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছিল'। তাঁরা এটি এ কারণেই বলেন যে, তাঁরা তাঁর শৈশব থেকে শেষ বয়স পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি স্তর পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং বার্ধক্য বা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন কোনো আপদকালীন কারণে তাঁর অবস্থার যে পরিবর্তন ঘটেছিল, তা নিরূপণ করেছেন। আর সনদের অবিচ্ছিন্নতা কেবল বর্ণনাকারীদের জন্ম-মৃত্যুর তারিখ, তাঁদের স্তরসমূহ, যেসব দেশ বা জনপদে তাঁরা সফর করেছেন এবং সেই সফরের সময়কাল পর্যালোচনার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায়। একইভাবে হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি ও বৈসাদৃশ্য কেবল একজন বর্ণনাকারীর বর্ণনার সাথে অন্যদের বর্ণনার তুলনা এবং তাঁর বর্ণনাকে অন্যদের বর্ণনার নিরিখে যাচাই করার মাধ্যমেই উদ্ঘাটিত হয়।

(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
2-‌‌ اكتشاف كذب الرواة:

فالمحدِّثون عندما ينظرون في حديث الرجل يستحضرون زمانه وعمره من مولده إلى وفاته، وبلده ورحلاته والبلدان التي دخلها ومن لقيه بها من الشيوخ والأقران وأخبار شيوخه وأقرانه وتواريخهم ورحلاتهم، وكثيرا ما يكتشفون كذب الراوي باعتبار ذلك. وهذا ما قصده الثوري في قوله: "لما استعمل
২-‌‌ বর্ণনাকারীদের মিথ্যা উদ্ঘাটন:

মুহাদ্দিসগণ যখন কোনো ব্যক্তির বর্ণিত হাদিস পর্যালোচনা করেন, তখন তাঁরা তার সময়কাল, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার বয়স, তার স্বদেশ, তার সফরসমূহ, যেসব জনপদে সে প্রবেশ করেছে এবং সেখানে সে যেসব শায়খ ও সমসাময়িকদের সাথে সাক্ষাৎ করেছে—সেসব বিষয় স্মরণে আনেন। সেই সাথে তার শায়খ ও সমসাময়িকদের সংবাদ, তাদের সময়কাল এবং তাদের সফরসমূহও বিবেচনায় রাখেন। আর এ বিষয়গুলোর মাধ্যমেই তাঁরা বহুলাংশে বর্ণনাকারীর মিথ্যা উদ্ঘাটন করেন। ইমাম সাওরি তাঁর এই বাণীতে এটিই উদ্দেশ্য করেছেন: "যখন ব্যবহার করল...
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
الرواة الكذب استعملنا لهم التاريخ" (1) . من ذلك مثلاً ما أخرجه الخطيب البغدادي بسنده عن عفير بن معدان الكلاعي قال: "قدم علينا عمرو بن موسى حمص، فاجتمعنا إليه في المسجد فجعل يقول: حدثنا شيخكم الصالح، فلما أكثر علينا قلت له: من شيخنا الصالح هذا؟ سمه لنا نعرفه. فقال: خالد ابن معدان. قلت له في أي سنة لقيته؟ قال: سنة ثمان ومائة. قلت: فأين لقيته؟ قال: لقيته في غزاة أرمينية. فقلت له: اتق الله يا شيخ ولا تكذب، مات خالد ابن معدان سنة أربع ومائة، وأنت تزعم أنَّك لقيته بعد موته بأربع سنين. وأزيدك أخرى، أنَّه لم يغز أرمينية قط، كان يغزو الروم. (2) فهذا عفير بن معدان الكلاعي نظر في حديث عمرو بن موسى مستحضراً حياته ورحلاته وتواريخ ذلك، وحياة من روى عنه ورحلاته وتواريخ ذلك. ومثال آخر، قال أبو الوليد الطيالسي، كتبت عن عامر بن أبي عامر الخزامي، فقال يوماً: حدثنا عطاء بن أبي رباح، فقلت له: في كم سمعت من عطاء؟ قال: في سنة أربع وعشرين ومائة. قلت: فإن عطاء توفي سنة بضع عشرة." (3) وكان المحدِّثون أيضا يكتشفون التحريف والكذب بالاعتبار بكتب الرجل وما كتبه وخطه والمداد الذي يكتب به. قال زكريا بن يحيى الحلواني: رأيت أبا داود السجستاني قد جعل حديث يعقوب بن كاسب وقاياتٍ على ظهور كتبه، فسألته عنه، فقال: رأينا في مسنده أحاديث أنكرناها، فطالبناه بالأصول، فدافعنا، ثم أخرجها بعد، فوجدنا الأحاديث في الأصول مغيرة بخط طري،

--------------------------------------------

(1) "الكفاية" 119.

(2) المصدر نفسه.

(3) "ميزان الاعتدال" 2/360.
"মিথ্যাবাদী বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে আমরা ইতিহাস ব্যবহার করেছি" (১)। এর একটি উদাহরণ হলো খতীব আল-বাগদাদী তার সনদে উফায়র বিন মা'দান আল-কিলা'য়ী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমর বিন মুসা হিমসে আমাদের কাছে আসলেন। আমরা মসজিদে তার কাছে সমবেত হলাম। তিনি বলতে লাগলেন: 'তোমাদের নেককার শায়খ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন।' যখন তিনি এটি বারবার বলতে লাগলেন, তখন আমি তাকে বললাম: 'আমাদের এই নেককার শায়খটি কে? তার নাম বলুন যাতে আমরা তাকে চিনতে পারি।' তিনি বললেন: 'খালিদ ইবনে মা'দান।' আমি তাকে বললাম: 'আপনি কোন সালে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন?' তিনি বললেন: 'একশ আট হিজরিতে।' আমি বললাম: 'কোথায় তার সাথে দেখা হয়েছে?' তিনি বললেন: 'আর্মেনিয়ার যুদ্ধে তার সাথে আমার দেখা হয়েছে।' তখন আমি তাকে বললাম: 'হে শায়খ, আল্লাহকে ভয় করুন এবং মিথ্যা বলবেন না। খালিদ ইবনে মা'দান একশ চার হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন, আর আপনি দাবি করছেন যে আপনি তার মৃত্যুর চার বছর পর তার সাথে দেখা করেছেন। আমি আপনাকে আরও একটি কথা বলি, তিনি কখনো আর্মেনিয়ার যুদ্ধে যাননি, তিনি রোমকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতেন'।" (২) সুতরাং এই উফায়র বিন মা'দান আল-কিলা'য়ী আমর বিন মুসার বর্ণিত হাদিসটি পরীক্ষা করেছিলেন তার জীবন, সফর এবং সেই সময়ের তারিখগুলো, এবং যার কাছ থেকে তিনি বর্ণনা করছেন তার জীবন, সফর এবং তারিখগুলো স্মরণে রেখে। অন্য একটি উদাহরণ, আবু ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি বলেন: "আমি আমির বিন আবি আমির আল-খুজায়ীর নিকট থেকে হাদিস লিখেছি। একদিন তিনি বললেন: 'আতা বিন আবি রাবাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন'। তখন আমি তাকে বললাম: 'আপনি কত সালে আতার নিকট থেকে শুনেছেন?' তিনি বললেন: 'একশ চব্বিশ সালে'। আমি বললাম: 'অথচ আতা তো একশ দশের কোঠার কোনো এক বছর মৃত্যুবরণ করেছেন'।" (৩) মুহাদ্দিসগণ কোনো ব্যক্তির পাণ্ডুলিপি, তার লেখা, হাতের লেখা এবং যে কালি দিয়ে তিনি লিখতেন তা পর্যালোচনার মাধ্যমেও বিকৃতি ও মিথ্যা শনাক্ত করতেন। যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আল-হালওয়ানি বলেন: "আমি আবু দাউদ আস-সিজিস্তানিকে দেখেছি যে তিনি ইয়াকুব বিন কাসিবের হাদিসগুলোকে তার বইয়ের মলাটের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করছেন। আমি তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমরা তার মুসনাদে এমন কিছু হাদিস দেখেছি যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা তার কাছে মূল পাণ্ডুলিপি দাবি করলে তিনি টালবাহানা করেন। পরবর্তীতে যখন তিনি তা বের করলেন, আমরা দেখতে পেলাম যে মূল পাণ্ডুলিপিতে হাদিসগুলো নতুন হাতের লেখায় পরিবর্তন করা হয়েছে।"

--------------------------------------------

(১) "আল-কিফায়া" ১১৯।

(২) একই উৎস।

(৩) "মিযানুল ইতিদাল" ২/৩৬০।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
كانت مراسيل فأسندها وزاد فيها" (1) . فهذه أمثلة من فوائد علم الرجال والجرح والتعديل.

ومعلوم أن المصنفين في السيرة النبوية وفي تاريخ الإسلام من المتقدمين، كانوا يلتزمون بشرط المحدِّثين، وهو النقل بالسند وعزو الروايات إلى مصادرها وبيان مخارجها. ولهذا كانت أخبار السيرة منقولة بأسانيدها، وذلك لبيان رواتها والكشف عن أصحابها. والغاية المرجوة من ذلك هي أن يتمكن الناظر في هذه الأخبار من معرفة درجتها وقيمتها من حيث الصحة والضعف. وإنما يحصل ذلك بتتبع أحوال الرواة في كتب الرجال ومعرفة مراتبهم في الجرح والتعديل. فعلماء الرجال جمعوا أخبار كل من له عناية بالعلم وكل من نقل ولو خبرا واحدا من الحديث أو السيرة النبوية، ودونوا ذلك في كتب الجرح والتعديل. ولهذا فإن من منهج تحقيق أخبار السيرة النبوية الاستعانة بعلم الرجال وتوظيف حقائق الجرح والتعديل. وعلى هذا المسلك يمكن وضع أخبار السيرة في مراتبها، وهذا ما نجده عند من اهتم بالسيرة من المحدِّثين خاصة، فتجدهم يزنون الأخبار اعتماداً على مراتب رجالها وأحوال رواتها. مثال ذلك: خبر ابن عباس أن خديجة ولدت لرسول الله صلى الله عليه وسلم ستة: "عبد الله والقاسم وزينب ورقية وأم كلثوم وفاطمة، وولدت له ماريا القبطية إبراهيم". فالخبر في سنده أبو شيبة إبراهيم ابن عثمان وهو متروك. وعليه فإن هذا الخبر بحسب ميزان المحدِّثين من الضعيف (2) .

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه 4/451.

(2) "مجمع الزوائد ومنبع الفوائد" للهيثمي 9 / 217.
"সেগুলো ছিল মুরসাল (বিচ্ছিন্ন সূত্রবিশিষ্ট), অতঃপর তিনি সেগুলোকে মুসনাদ (সংযুক্ত সূত্রবিশিষ্ট) করেছেন এবং তাতে তথ্য বৃদ্ধি করেছেন" (১)। সুতরাং এগুলো হলো ইলমুর রিজাল এবং জারহ ও তাদীল শাস্ত্রের উপযোগিতার কিছু উদাহরণ।

এটি সুবিদিত যে, পূর্ববর্তী সীরাত ও ইসলামের ইতিহাস রচয়িতাগণ মুহাদ্দিসগণের শর্তাবলি মেনে চলতেন। আর তা হলো সনদসহ বর্ণনা করা, বর্ণনাগুলোকে সেগুলোর মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং সেগুলোর বহির্গমন পথ (উৎস) বর্ণনা করা। একারণেই সীরাতের সংবাদসমূহ সেগুলোর সনদসহ বর্ণিত হয়েছে, যেন বর্ণনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হয় এবং তাদের অবস্থা উন্মোচিত হয়। এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হলো—এই সংবাদসমূহের পর্যালোচনাকারী যেন বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার বিচারে সেগুলোর স্তর ও মান সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। আর এটি কেবল তখনই সম্ভব হয় যখন রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতে বর্ণনাকারীদের অবস্থা অনুসন্ধান করা হয় এবং জারহ ও তাদীলের ক্ষেত্রে তাদের স্তরসমূহ জানা যায়। রিজাল শাস্ত্রের পন্ডিতগণ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির সংবাদ সংকলন করেছেন যাদের ইলমের প্রতি মনোযোগ ছিল এবং যারা অন্তত একটি হাদিস কিংবা সীরাতের একটি সংবাদ বর্ণনা করেছেন; এবং তাঁরা সেগুলো জারহ ও তাদীলের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছেন। একারণেই সীরাতুন্নবীর ঘটনাবলি যাচাইয়ের অন্যতম পদ্ধতি হলো ইলমুর রিজালের সহায়তা নেওয়া এবং জারহ ও তাদীলের বাস্তবতাকে প্রয়োগ করা। আর এই পথ অনুসরণের মাধ্যমেই সীরাতের সংবাদসমূহকে তাদের যোগ্য স্থানে রাখা সম্ভব। বিশেষ করে সেই সব মুহাদ্দিসগণের নিকট এটি আমরা দেখতে পাই যারা সীরাত নিয়ে কাজ করেছেন; আপনি দেখতে পাবেন যে তাঁরা বর্ণনাকারীদের স্তর ও অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সংবাদগুলোকে মূল্যায়ন করেন। উদাহরণস্বরূপ: ইবনে আব্বাসের বর্ণনা যে, খাদিজা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ছয়টি সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন: "আবদুল্লাহ, কাসিম, যয়নব, রুকাইয়া, উম্মু কুলসুম এবং ফাতিমা; আর মারিয়া আল-কিবতিয়্যা তাঁর গর্ভে ইব্রাহিমকে জন্ম দিয়েছিলেন।" এই বর্ণনার সনদে আবু শাইবাহ ইব্রাহিম ইবনে উসমান রয়েছেন, যিনি মাতরুক (পরিত্যক্ত)। সুতরাং মুহাদ্দিসগণের মানদণ্ড অনুযায়ী এই বর্ণনাটি দুর্বল (২) এর অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস ৪/৪৫১।

(২) হায়সামি কৃত "মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ" ৯ / ২১৭।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
3-‌‌ ترتيب مصادر الأخبار بحسب قوتها:

من القواعد العلمية التي سار عليها علماء الإسلام وبخاصة المحدِّثون، في تحقيق أخبار السيرة النبوية، تحديد المصادر الصحيحة للسيرة، وتقويم هذه المصادر. فمن المعلوم أن السيرة النبوية قد جمعت في كتب كثيرة، واهتم بها أصناف مختلفة من الباحثين والدارسين: من المفسرين والمحدِّثين، والمؤرخين والقصاص والأخباريين، وأهل الأدب والسمر… وهذه الكتب ليست في منزلة واحدة من حيث النقد والتمحيص، والمهتمون بها ليسوا كلهم من أهل الأمانة والتحري في النقل.

ولهذا قرر علماء الإسلام أن أعلى المصادر وأوثقها مطلقا هو القرآن الكريم، وقد حوى قدرا غير يسير من أخبار رسول الله صلى الله عليه وسلم ومغازيه وأحواله وأحوال دعوته. ثم يليه في القوة كتب الحديث ومصادر السنة النبوية، ثم تأتي بعدهما المصادر الأخرى من كتب المغازي والسير وتاريخ الإسلام وغيرها (1) . فلابد من مراعاة هذا الترتيب. وبهذا يظهر الانحراف الكبير الذي حصل لكثير من الدارسين في العصر الحاضر في جمعهم أخبار السيرة على غير منهج، ومن غير مراعاة لمكانة المصادر ولا ترتيبها بحسب قوة منهجها. فليس من المنهج العلمي ما سار عليه كثير من المستشرقين، وكثير من المؤرخين العرب والمسلمين المعاصرين، من أخذهم أخبار السيرة النبوية من كتب السير والمغازي فقط دون القرآن الكريم وكتب الحديث والسنة النبوية. فالمنهج السديد والمسلك القويم أن يؤخذ الخبر من

--------------------------------------------

(1) انظر في هذه المصادر كتاب الدكتور فاروق حمادة "مصادر السيرة النبوية وتقويمها".
৩-‌‌ সংবাদ বা তথ্যের উৎসগুলোর নির্ভরযোগ্যতা অনুযায়ী বিন্যাস:

ইসলামি স্কলারগণ, বিশেষ করে মুহাদ্দিসগণ, সীরাতুন নববীর সংবাদসমূহ যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যে বৈজ্ঞানিক মূলনীতিসমূহ অনুসরণ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো সীরাতের সঠিক উৎসসমূহ নির্ধারণ করা এবং এই উৎসগুলোর মান যাচাই করা। এটি সর্বজনবিদিত যে, সীরাতুন নববী অসংখ্য গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রেণির গবেষক ও শিক্ষার্থী এতে মনোনিবেশ করেছেন: মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ঐতিহাসিক, কাহিনীকার, সংবাদ সরবরাহকারী এবং সাহিত্য ও মজলিসি আলোচনার অনুরাগী ব্যক্তিবর্গ… আর এই গ্রন্থগুলো সমালোচনা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের বিচারে একই স্তরের নয় এবং যারা এগুলো নিয়ে চর্চা করেছেন তাদের সকলেই তথ্য বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা ও অনুসন্ধানের অধিকারী ছিলেন না।

এ কারণেই ইসলামি স্কলারগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, সর্বোচ্চ ও নিরঙ্কুশভাবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হলো কুরআন মাজীদ। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদ, তাঁর যুদ্ধাভিযান, তাঁর জীবনাবস্থা এবং তাঁর দাওয়াতের অবস্থা সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য রয়েছে। অতঃপর নির্ভরযোগ্যতার বিচারে এর পরবর্তী স্থান হলো হাদিসের গ্রন্থসমূহ ও সুন্নাহর উৎসগুলোর। এরপর অন্যান্য উৎস যেমন—মাগাযী ও সীরাতের গ্রন্থসমূহ, ইসলামের ইতিহাস এবং অন্যান্য বিষয় আসে (১)। সুতরাং এই ক্রমধারা রক্ষা করা অপরিহার্য। এর মাধ্যমেই বর্তমান যুগের অনেক গবেষকের সেই বড় ধরনের বিচ্যুতিটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা তারা কোনো সঠিক পদ্ধতি ছাড়াই এবং উৎসের মর্যাদা ও তার মান অনুযায়ী বিন্যাস বিবেচনা না করেই সীরাতের সংবাদসমূহ সংগ্রহের ক্ষেত্রে করেছেন। অনেক প্রাচ্যবিদ এবং বর্তমান সময়ের অনেক আরব ও মুসলিম ঐতিহাসিক যে পথ অবলম্বন করেছেন—অর্থাৎ কুরআন মাজীদ এবং হাদিস ও সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সীরাত ও মাগাযীর গ্রন্থগুলো থেকে সীরাতুন নববীর তথ্য গ্রহণ করা—তা মোটেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নয়। সুতরাং সঠিক পদ্ধতি ও যথাযথ পথ হলো সংবাদ গ্রহণ করা...

--------------------------------------------

(১) এই উৎসগুলোর বিষয়ে ডক্টর ফারুক হামাদার গ্রন্থ "মাসাদিরুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ ওয়া তাকউইমুহা" (সীরাতুন নববীর উৎসসমূহ ও তার মূল্যায়ন) দেখুন।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
القرآن الكريم، ثم من كتب الحديث، ثم من كتب السير والمغازي، ثم من كتب التاريخ العام، ثم يتتبع في سائر الكتب التي يمكن أن تكون مظاناً للسيرة، مثل كتب الأدب ونحوها، مع تقدير كل مصدر حق قدره وإعطائه المكانة التي يستحقها، فبهذا تكتمل صورة الخبر، ويمكن المقارنة بين المصادر من جهة الزيادة والتفصيل، ومن جهة الاختلاف والتعارض إن وجد، فيلجأ إلى الترجيح. فورود الخبر مثلا في صحيح البخاري ليس كوروده في الأغاني لأبي الفرج الأصبهاني، فصحيح البخاري من أصح كتب الحديث وقد التزم فيه البخاري منهج التحقيق والنقد الحديثي في أعلى درجاته، فجمع الصحيح دون غيره، ولهذا وقع الاتفاق على صحة ما ورد فيه. أما كتاب الأغاني فهو من كتب الأدب، واهتم فيه صاحبه بإمتاع النفوس والأذواق فجمع فيه من الطرف والأخبار ما تغذى به مجالس اللهو ونوادي السمر. ومن كان هذا غرضه فإنه لاشك متساهل في نقد ما ينقله. ومن استحضر حال هذا الكتاب وهو ينظر فيما ورد فيه من الأخبار التاريخية، فإنه يقدر هذه الأخبار حق قدرها، ويتلقاها بمزيد من الحذر وغاية الاحتياط والتحري. ولبيان هذا الجانب في كتاب الأغاني ليعتبر به عند النظر فيه، يقول الدكتور زكي مبارك:" أريد أن أنص على ناحيتين في الأصبهاني وكتابه… وسيكون لهما أثر عظيم في دعوة المؤلفين إلى الاحتياط حين يرجعون إلى كتاب الأغاني يتلمسون الشواهد في الأدب والتاريخ".

أما الناحية الأولى التي ذكرها الدكتور زكي مبارك فهي أحوال المؤلف صاحب الكتاب أبي الفرج الأصبهاني من جهة خلقه ومنهجه في الحياة، وهذا يدخل في الاعتبار بأحوال صاحب الخبر كما سبق بيانه.
পবিত্র কুরআন, তারপর হাদীসের গ্রন্থসমূহ, তারপর সীরাত ও মাগাযী সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ, এরপর সাধারণ ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ, অতঃপর অন্যান্য সকল গ্রন্থ অনুসন্ধান করা যেগুলোতে সীরাত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন সাহিত্যের কিতাব এবং এই জাতীয় অন্যগুলো, সাথে সাথে প্রতিটি উৎসের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাকে প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করা। এর ফলে বর্ণনার চিত্রটি পূর্ণতা পায় এবং উৎসগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত তথ্য ও বিস্তারিত বর্ণনার দিক থেকে এবং মতভেদ ও বৈপরীত্য (যদি থাকে) বিদ্যমান থাকার দিক থেকে তুলনা করা সম্ভব হয়। এরপর প্রাধান্য প্রদানের (তারজীহ) আশ্রয় নেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, সহীহ বুখারীতে কোনো সংবাদের বর্ণনা থাকা আর আবু আল-ফারাজ আল-ইসফাহানীর আল-আগানী কিতাবে তা থাকা এক কথা নয়। কেননা সহীহ বুখারী হলো হাদীসের বিশুদ্ধতম গ্রন্থসমূহের অন্যতম এবং ইমাম বুখারী এতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তাহকীক ও হাদীস শাস্ত্রীয় সমালোচনার পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তিনি শুধুমাত্র সহীহ হাদীসগুলোই সংকলন করেছেন এবং একারণেই এতে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিশুদ্ধতার ওপর ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পক্ষান্তরে আল-আগানী কিতাবটি হলো সাহিত্যের কিতাব, এর লেখক এতে মন ও রুচির বিনোদনের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে তিনি এতে এমন সব কৌতুক ও সংবাদ জমা করেছেন যা আমোদ-প্রমোদের মজলিস ও নৈশ আড্ডার খোরাক যোগায়। আর যার উদ্দেশ্য এমন হয়, তিনি যা বর্ণনা করেন তার যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে শিথিলতা প্রদর্শন করেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এই কিতাবের অবস্থা স্মরণে রেখে এর মধ্যে বর্ণিত ঐতিহাসিক সংবাদগুলো দেখবেন, তিনি এই সংবাদগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করবেন এবং অত্যন্ত সতর্কতা, চূড়ান্ত সাবধানতা ও গভীর অনুসন্ধানের সাথে তা গ্রহণ করবেন। আল-আগানী কিতাবের এই দিকটি স্পষ্ট করার জন্য ডক্টর জাকি মুবারক বলেন: "আমি আল-ইসফাহানী এবং তার কিতাব সম্পর্কে দু’টি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করতে চাই... এই দু’টি বিষয় লেখকদের সতর্ক হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব ফেলবে যখন তারা সাহিত্য ও ইতিহাসের প্রমাণাদি সন্ধানে আল-আগানী কিতাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করবেন।"

ডক্টর জাকি মুবারক উল্লিখিত প্রথম বিষয়টি হলো এই কিতাবের লেখক আবু আল-ফারাজ আল-ইসফাহানীর চরিত্র ও জীবন পদ্ধতির অবস্থা; যা বর্ণনাকারীর অবস্থা পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আগে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأما الناحية الثانية فهي أحوال كتاب "الأغاني"، وذلك ما بينه الدكتور زكي مبارك بقوله:"… فهو كتاب أدب لا كتاب تاريخ، وأريد بذلك أن المؤلف أراد أن يقدم لأهل عصره أكبر مجموعة تغذى بها الأندية ومجامع السمر، ومواطن اللهو ومغاني الشراب… ولهذا النحو في التأليف قيمة عظيمة جدا إذا فهمه القارئ على وجهه الصحيح، فهو دليل على خصوبة التصور والخيال، وبرهان على أن كُتَّاب اللغة العربية لم يحرموا من القصص الشائق الخلاب… ولكن الخطر كل الخطر، أن يطمئن الباحثون إلى أن لرواية الأغاني قيمة تاريخية، وأن يبنوا على أساسها ما يشاؤون من حقائق التاريخ" (1) .

فهذا مثال لفائدة الاعتبار بقيمة الكتاب ومنهجه ومكانته من جهة التاريخ. ولتيسير هذا العمل على الباحثين في السيرة النبوية، قام أستاذنا الدكتور فاروق حمادة بتقويم الكتب والمصادر التي تضم أخبار السيرة النبوية، وبيان مكانتها التاريخية ليأخذ الناظر ذلك بعين الاعتبار، ورتب هذه المصادر بحسب قوتها ومكانتها ودرجة الوثوق بها، وذلك في كتابه "مصادر السيرة النبوية وتقويمها". ومما قاله في التمهيد: "لذلك فإن عملية تحديد المصادر الأصلية للسيرة النبوية أهم عمل أمام الدارس للسيرة النبوية خصوصا وللإسلام عموما، وتقويم هذه المصادر يعطيه العدة الكافية لتناول السيرة المحمدية نقية من الشوائب، ويطلع على حقيقتها وأبعادها…" (2) وهي إشارة إلى ضرورة استحضار مكانة الكتاب عند أخذ الخبر التاريخي منه، واستحضار

--------------------------------------------

(1) – انظر " مصادر السيرة النبوية وتقويمها" للدكتور فاروق حمادة ص: 132-133.

(2) "مصادر السيرة النبوية وتقويمها" ص: 29.
আর দ্বিতীয় দিকটি হলো "আল-আগানি" গ্রন্থের অবস্থা বা প্রেক্ষাপট। ডক্টর জাকি মুবারক তাঁর বক্তব্যে তা স্পষ্ট করেছেন: "… এটি একটি সাহিত্যের গ্রন্থ, ইতিহাসের গ্রন্থ নয়। এর দ্বারা আমি বুঝাতে চেয়েছি যে, লেখক তাঁর সমসাময়িকদের সামনে এমন একটি বিশাল সংগ্রহ উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন যা আড্ডাস্থল, নৈশ আড্ডার মজলিস, আমোদ-প্রমোদের স্থান এবং পানশালার আসরগুলোকে রসদ যোগাবে… রচনার এই পদ্ধতির একটি সুমহান মূল্য রয়েছে যদি পাঠক একে সঠিকভাবে বুঝতে পারে। কারণ এটি কল্পনা ও ভাবনার উর্বরতার প্রমাণ এবং এটি এই কথার নিদর্শন যে, আরবি ভাষার লেখকরা চিত্তাকর্ষক ও মনোমুগ্ধকর গল্প থেকে বঞ্চিত ছিলেন না… তবে চরম আশঙ্কার বিষয় হলো, গবেষকরা যদি এই ধারণা নিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে যান যে 'আল-আগানি'র বর্ণনার ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে এবং এর ওপর ভিত্তি করে তাঁরা ইতিহাসের তথ্যাবলি নিয়ে যা খুশি তা-ই গড়ে তোলেন" (১)।

এটি ইতিহাসের দিক থেকে কোনো গ্রন্থের মূল্য, তার পদ্ধতি এবং গুরুত্ব বিবেচনার সুফলের একটি উদাহরণ। সীরাতুন্নবীর গবেষকদের জন্য এই কাজটিকে সহজ করার লক্ষ্যে আমাদের উস্তাদ ডক্টর ফারুক হামাদা ঐ সকল গ্রন্থ ও উৎসসমূহের মূল্যায়ন করেছেন যেগুলোতে নববী সীরাতের ঘটনাবলি রয়েছে, এবং তিনি সেগুলোর ঐতিহাসিক মর্যাদা স্পষ্ট করেছেন যাতে গবেষকগণ তা বিবেচনায় নিতে পারেন। তিনি এই উৎসগুলোকে তাদের শক্তি, মর্যাদা এবং নির্ভরযোগ্যতার মাত্রা অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন, যা তাঁর "মাসাদিরুস সীরাতিন নববিয়্যাহ ওয়া তাকউইমুহা" (নববী সীরাতের উৎসসমূহ ও সেগুলোর মূল্যায়ন) নামক গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। ভূমিকাংশে তিনি যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: "তাই সীরাতুন্নবীর মূল উৎসগুলো চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটি সীরাত গবেষকদের সামনে বিশেষভাবে এবং সামগ্রিকভাবে ইসলামের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আর এই উৎসগুলোর মূল্যায়ন তাকে মুহাম্মদী সীরাতকে সকল প্রকার আবিলতা থেকে মুক্ত ও বিশুদ্ধভাবে গ্রহণ করার জন্য পর্যাপ্ত পাথেয় দান করবে এবং তিনি এর প্রকৃত রূপ ও ব্যাপ্তি সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন…" (২)। এটি ঐতিহাসিক সংবাদ গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট গ্রন্থের মর্যাদা স্মরণে রাখা এবং... স্মরণে রাখার প্রয়োজনীয়তার প্রতি একটি ইঙ্গিত।

--------------------------------------------

(১) – দেখুন: ডক্টর ফারুক হামাদা রচিত "মাসাদিরুস সীরাতিন নববিয়্যাহ ওয়া তাকউইমুহা", পৃষ্ঠা: ১৩২-১৩৩।

(২) "মাসাদিরুস সীরাতিন নববিয়্যাহ ওয়া তাকউইমুহা", পৃষ্ঠা: ২৯।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
فالواجب على المؤرخ تتبع الخبر في مصادره واستقصاؤه من مظانه. وللتمثيل لعمل علماء الإسلام المحققين بهذه القاعدة، يمكن تتبع البخاري في كتاب المغازي من جامعه الصحيح، فهو لا يكاد يخرج في مصادره عن القرآن الكريم، ثم ما صح عنده من الأخبار التي يرويها بأسانيده عن الرواة الموثقين، ثم ينزل أحيانا ليأخذ عن أئمة المغازي والسير، لكن يبقى الأصل المعتمد عنده هو القرآن الكريم وما صح له بأسانيده. فإذا وجد في الخبر آية أو آيات من القرآن الكريم، فإن البخاري لا يستجيز لنفسه أن يورد شيئا مما صح عنده حتى يقدم له بالقرآن. فكان يورد الآيات في أول تراجم الأبواب، لتكون هي الأصل المعتمد، ثم يخرج أخباره بعد ذلك.

من أمثلة ذلك قوله:

بَاب قِصَّةِ غَزْوَةِ بَدْر ٍ وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللهُ بِبَدْرٍ وَأَنتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُواْ اللهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَن يَكْفِيكُمْ أَن يُمِدَّكُمْ رَبُّكُم بِثَلَاثَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلآئِكَةِ مُنزَلِينَ بَلَى إِن تَصْبِرُواْ وَتَتَّقُواْ وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هَذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ آلافٍ مِّنَ الْمَلآئِكَةِ مُسَوِّمِينَ وَمَا جَعَلَهُ اللهُ إِلَاّ بُشْرَى لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُم بِهِ وَمَا النَّصْرُ إِلَاّ مِنْ عِندِ اللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ لِيَقْطَعَ طَرَفًا مِّنَ الَّذِينَ كَفَرُواْ أَوْ يَكْبِتَهُمْ فَيَنقَلِبُواْ خَآئِبِينَ} 1.

--------------------------------------------

1- (آل عمران: 123- 127) .
সুতরাং একজন ঐতিহাসিকের কর্তব্য হলো সংবাদের উৎসসমূহ অনুসন্ধান করা এবং এর সম্ভাব্য স্থানসমূহ থেকে তা বিস্তারিতভাবে উদঘাটন করা। মুহাক্কিক ইসলামি স্কলারদের এই নীতি অনুসরণের উদাহরণ হিসেবে ইমাম বুখারীর 'জামে সহীহ' গ্রন্থের 'কিতাবুল মাগাযী' পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। তিনি তাঁর উৎসের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে স্বীয় সনদে বর্ণিত সহীহ সংবাদসমূহের বাইরে প্রায় যান না। কখনো কখনো তিনি মাগাযী ও সীরাত শাস্ত্রের ইমামদের থেকে বর্ণনা গ্রহণের স্তরে অবতরণ করেন, তবে তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য মূল ভিত্তি হিসেবে পবিত্র কুরআন এবং স্বীয় সনদে যা সহীহ বলে প্রমাণিত হয়েছে তাই বহাল থাকে। যখন তিনি কোনো সংবাদের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের এক বা একাধিক আয়াত পান, তখন ইমাম বুখারী নিজের জন্য সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত অন্য কোনো কিছু ততক্ষণ পর্যন্ত পেশ করা সমীচীন মনে করেন না যতক্ষণ না তিনি কুরআন দ্বারা তার সূচনা করেন। তাই তিনি অধ্যায়গুলোর শিরোনামের শুরুতেই আয়াতসমূহ উল্লেখ করতেন যাতে সেগুলোই নির্ভরযোগ্য মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়, এরপর তিনি তাঁর বর্ণিত সংবাদসমূহ পেশ করতেন।

এর একটি উদাহরণ হলো তাঁর এই উক্তি:

বদর যুদ্ধের ঘটনার অধ্যায় এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ তো বদরে তোমাদের সাহায্য করেছেন যখন তোমরা ছিলে হীনবল। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো। যখন তুমি মুমিনদের বলছিলে, ‘তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে তিন হাজার অবতীর্ণ ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন?’ হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, আর তারা দ্রুতগতিতে তোমাদের ওপর চড়াও হয়, তবে তোমাদের প্রতিপালক পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন। আর আল্লাহ এটাকে কেবল তোমাদের জন্য সুসংবাদ করেছেন এবং যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়। আর সাহায্য তো কেবল পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। যাতে তিনি কাফিরদের এক অংশকে ধ্বংস করেন অথবা তাদেরকে অপদস্থ করেন, ফলে তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়।} ১।

--------------------------------------------

১- (আল-ইমরান: ১২৩-১২৭)।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ২০)
وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَإِذْ يَعِدُكُمُ اللَّهُ إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ أَنَّهَا لَكُمْ} ....الآية [الأنفال: 7] .

بَاب قَوْلِ اللَّهِ تعالى: {إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُم بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلآئِكَةِ مُرْدِفِينَ، وَمَا جَعَلَهُ اللهُ إِلَاّ بُشْرَى َلِتَطْمَئِنَّ بِهِ قُلُوبُكُمْ وَمَا النَّصْرُ إِلَاّ مِنْ عِندِ اللهِ إِنَّ اللهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ، إِذْ يُغَشِّيكُمُ النُّعَاسَ أَمَنَةً مِّنْهُ وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُم مِّن السَّمَاء مَاء لِّيُطَهِّرَكُم بِهِ وَيُذْهِبَ عَنكُمْ رِجْزَ الشَّيْطَانِ وَلِيَرْبِطَ عَلَى قُلُوبِكُمْ وَيُثَبِّتَ بِهِ الأَقْدَامَ، إِذْ يُوحِي رَبُّكَ إِلَى الْمَلآئِكَةِ أَنِّي مَعَكُمْ فَثَبِّتُواْ الَّذِينَ آمَنُواْ سَأُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُواْ الرَّعْبَ فَاضْرِبُواْ فَوْقَ الأَعْنَاقِ وَاضْرِبُواْ مِنْهُمْ كُلَّ بَنَانٍ، ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ شَآقُّواْ اللهَ وَرَسُولَهُ وَمَن يُشَاقِقِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ اللهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} [الأنفال: 9-13] .

بَاب غَزْوَةِ أُحُدٍ وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَإِذْ غَدَوْتَ مِنْ أَهْلِكَ تُبَوِّئُ الْمُؤْمِنِينَ مَقَاعِدَ لِلْقِتَالِ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [آل عمران: 121] .

وَقَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ: {وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ، إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِّثْلُهُ وَتِلْكَ الأيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللهُ الَّذِينَ آمَنُواْ وَيَتَّخِذَ مِنكُمْ
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন যে, দুই দলের একটি তোমাদের জন্য হবে} ... আয়াত [আল-আনফাল: ৭]।

পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট ফরিয়াদ করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিলেন যে, আমি তোমাদের সাহায্য করব পর্যায়ক্রমে আগত এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা। আর আল্লাহ এটি কেবল সুসংবাদ হিসেবে দান করেছিলেন যাতে তোমাদের অন্তর এর মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করে। আর সাহায্য কেবল আল্লাহর নিকট থেকেই আসে; নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের ওপর তন্দ্রা আরোপ করেছিলেন তাঁর পক্ষ হতে নিরাপত্তা স্বরূপ এবং আকাশ থেকে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেছিলেন যেন এর মাধ্যমে তোমাদের পবিত্র করেন এবং তোমাদের থেকে শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর করেন আর তোমাদের অন্তরকে সুদৃঢ় করেন এবং এর মাধ্যমে তোমাদের পা সুসংহত রাখেন। স্মরণ করো, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের প্রতি ওহী পাঠালেন যে, নিশ্চয় আমি তোমাদের সাথে আছি, অতএব তোমরা মুমিনদের সুদৃঢ় রাখো। অচিরেই আমি কাফিরদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করব, সুতরাং তোমরা আঘাত করো তাদের ঘাড়ের ওপর এবং আঘাত করো তাদের প্রতিটি আঙুলের জোড়ায়। এটি এজন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করেছে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।} [আল-আনফাল: ৯-১৩]।

পরিচ্ছেদ: উহুদ যুদ্ধ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {স্মরণ করো, যখন তুমি প্রত্যুষে তোমার পরিবার থেকে বের হয়ে মুমিনদের যুদ্ধের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে বিন্যস্ত করছিলে; আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [আল ইমরান: ১২১]।

এবং তাঁর মহান বাণী: {তোমরা হীনবল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও। যদি তোমাদের কোনো আঘাত লেগে থাকে, তবে অনুরূপ আঘাত তো ওই কওমকেও লেগেছে। আর এই দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তন করি, যাতে আল্লাহ মুমিনদের জেনে নেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে...}
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ২১)
شُهَدَاء وَاللهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِين، وَلِيُمَحِّصَ اللهُ الَّذِينَ آمَنُواْ وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ،أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُواْ الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللهُ الَّذِينَ جَاهَدُواْ مِنكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ، وَلَقَدْ كُنتُمْ تَمَنَّوْنَ الْمَوْتَ مِن قَبْلِ أَن تَلْقَوْهُ فَقَدْ رَأَيْتُمُوهُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ} [آل عمران: 152] .

وَقَوْلِهِ: {وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللهُ وَعْدَهُ إِذْ تَحُسُّونَهُم بِإِذْنِهِ حَتَّى إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِي الأَمْرِ وَعَصَيْتُم مِّن بَعْدِ مَا أَرَاكُم مَّا تُحِبُّونَ مِنكُم مَّن يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ الآخِرَةَ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ وَلَقَدْ عَفَا عَنكُمْ وَاللهُ ذو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِين}

قَوْلِهِ: {تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتاً} [آل عمران: 169] .

بَاب: {إذْ هَمَّتْ طَائِفَتَانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلا وَاللَّهُ وَلِيُّهُمَا وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ} [آل عمران: 122] .

بَاب قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {إنَّ الَّذِينَ تَوَلَّوْا مِنْكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ إِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمُ الشَّيْطَانُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوا وَلَقَدْ عَفَا اللَّهُ عَنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ} [آل عمران: 155] .

باب: {ثُمَّ أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ بَعْدِ الْغَمِّ أَمَنَةً نُعَاساً يَغْشَى طَائِفَةً
শহীদগণ; আর আল্লাহ জালেমদের ভালোবাসেন না। আর আল্লাহ যেন মুমিনদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং কাফিরদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেন। তোমরা কি মনে করেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ আল্লাহ এখনো তোমাদের মধ্যে যারা জিহাদ করেছে তাদের জেনে নেননি এবং ধৈর্যশীলদেরও জেনে নেননি? আর তোমরা তো মৃত্যু আসার আগেই তা কামনা করতে, এখন তো তোমরা তা দেখলে যখন তোমরা তাকিয়ে ছিলে। [আলে ইমরান: ১৫২] .

এবং তাঁর বাণী: {আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের সাথে তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছিলেন যখন তোমরা তাঁর অনুমতিক্রমে তাদের সংহার করছিলে; অবশেষে যখন তোমরা সাহস হারালে এবং নির্দেশ সম্পর্কে মতভেদে লিপ্ত হলে এবং যা তোমরা ভালোবাসো তা তোমাদের দেখানোর পর তোমরা অবাধ্য হলে। তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া চাচ্ছিল এবং তোমাদের মধ্যে কেউ আখিরাত চাচ্ছিল। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য; আর অবশ্যই তিনি তোমাদের ক্ষমা করেছেন এবং আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।}

তাঁর বাণী: {যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের কখনো মৃত মনে করো না।} [আলে ইমরান: ১৬৯] .

অধ্যায়: {যখন তোমাদের মধ্য থেকে দুটি দল সাহস হারাবার উপক্রম করেছিল, অথচ আল্লাহ ছিলেন তাদের উভয়ের অভিভাবক; আর মুমিনদের উচিত আল্লাহর ওপরই ভরসা করা।} [আলে ইমরান: ১২২] .

মহান আল্লাহর বাণীর অধ্যায়: {যেদিন দুই দল পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিল, সেদিন তোমাদের মধ্যে যারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল, তাদের কোনো কোনো কৃতকর্মের কারণে শয়তানই তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল। আর অবশ্যই আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম সহিষ্ণু।} [আলে ইমরান: ১৫৫] .

অধ্যায়: {অতঃপর দুঃখের পর তিনি তোমাদের ওপর প্রশান্তি হিসেবে তন্দ্রা নাজিল করলেন, যা তোমাদের এক দলকে আচ্ছন্ন করেছিল...
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ২২)
مِنْكُمْ وَطَائِفَةٌ قَدْ أَهَمَّتْهُمْ أَنْفُسُهُمْ يَظُنُّونَ بِاللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِ يَقُولُونَ هَلْ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ مِنْ شَيْءٍ قُلْ إِنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ لِلَّهِ يُخْفُونَ فِي أَنْفُسِهِمْ مَا لا يُبْدُونَ لَكَ يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ مَا قُتِلْنَا هَاهُنَا قُلْ لَوْ كُنْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ لَبَرَزَ الَّذِينَ كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلُ إِلَى مَضَاجِعِهِمْ وَلِيَبْتَلِيَ اللَّهُ مَا فِي صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحِّصَ مَا فِي قُلُوبِكُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ} [آل عمران: 154] .

بَاب غَزْوَةِ الْحُدَيْبِيَةِ وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {قَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ} [الفتح: 18] .

وكما يظهر فإنه يحرص على أخذ الأخبار من القرآن الكريم، بل في كثير من التراجم لا يزيد على آية من القرآن أو آيات. وأما نقله عن أصحاب المغازي فإنه يورده في التراجم، وقد نقل عن ابن إسحاق، وعروة بن الزبير رواية الزهري عنه، وموسى بن عقبة. مثال ذلك قوله: بَاب غَزْوَةِ الْعُشَيْرَةِ أَوِ الْعُسَيْرَةِ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ أَوَّلُ مَا غَزَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الأَبْوَاءَ ثُمَّ بُوَاطَ ثُمَّ الْعُشَيْرَةَ.

بَاب غَزْوَةِ بَنِي الْمُصْطَلِقِ مِنْ خُزَاعَةَ وَهِيَ غَزْوَةُ الْمُرَيْسِيعِ قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَذَلِكَ سَنَةَ سِتٍّ وَقَالَ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَقَالَ النُّعْمَانُ بْنُ رَاشِدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ كَانَ حَدِيثُ الإِفْكِ فِي غَزْوَةِ الْمُرَيْسِيعِ * بَاب حَدِيثِ بَنِي النَّضِيرِ وَمَخْرَجِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِمْ فِي دِيَةِ الرَّجُلَيْنِ وَمَا
...তোমাদের একদল এমন ছিল যাদের নিজেদের প্রাণ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছিল; তারা আল্লাহ সম্পর্কে জাহেলিয়াতের ন্যায় অন্যায় ধারণা পোষণ করছিল। তারা বলছিল, 'আমাদের কি কোনো কর্তৃত্ব আছে?' বলুন, 'নিশ্চয়ই সমস্ত কর্তৃত্ব আল্লাহরই।' তারা তাদের অন্তরে এমন কিছু গোপন রাখত যা আপনার নিকট প্রকাশ করত না। তারা বলত, 'আমাদের যদি কোনো কর্তৃত্ব থাকত তবে আমরা এখানে নিহত হতাম না।' বলুন, 'তোমরা যদি তোমাদের ঘরেও থাকতে, তবে যাদের জন্য নিহত হওয়া অবধারিত ছিল তারা তাদের বধ্যভূমির দিকে বের হয়ে আসত।' আর এটি এ জন্য যে, আল্লাহ তোমাদের অন্তরে যা আছে তা পরীক্ষা করেন এবং তোমাদের হৃদয়ে যা আছে তা নির্মল করেন। আর আল্লাহ অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত। [আলে ইমরান: ১৫৪] .

হুদায়বিয়ার যুদ্ধের পরিচ্ছেদ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করছিল} [আল-ফাতহ: ১৮] .

যেমনটি প্রতীয়মান হয় যে, তিনি কুরআনুল কারীম থেকে সংবাদ গ্রহণ করতে আগ্রহী ছিলেন, বরং অনেক শিরোনামে তিনি কুরআনের এক বা একাধিক আয়াতের অতিরিক্ত কিছু উল্লেখ করেন না। আর মাগাজি শাস্ত্রের লেখকদের থেকে তাঁর উদ্ধৃতিগুলো তিনি শিরোনামে বর্ণনা করেন; তিনি ইবনে ইসহাক, উরওয়াহ ইবনুল জুবায়ের—জুহরি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—এবং মুসা ইবনে উকবা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এর উদাহরণ হলো তাঁর বক্তব্য: উশায়রা বা উসায়রার যুদ্ধের পরিচ্ছেদ। ইবনে ইসহাক বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম যে যুদ্ধ পরিচালনা করেন তা হলো আল-আবওয়া, এরপর বুওয়াত, এরপর আল-উশায়রা।

খুজাআ গোত্রের বনু মুস্তালিক যুদ্ধের পরিচ্ছেদ, যা মুরাইসি'র যুদ্ধ নামে পরিচিত। ইবনে ইসহাক বলেন, এটি ষষ্ঠ হিজরিতে সংঘটিত হয়েছে। মুসা ইবনে উকবা বলেন, এটি চতুর্থ হিজরির ঘটনা। নুমান ইবনে রাশিদ জুহরি থেকে বর্ণনা করেন যে, ইফকের (অপবাদের) ঘটনাটি মুরাইসি'র যুদ্ধে হয়েছিল। * বনু নাজিরের কাহিনী এবং দুই ব্যক্তির রক্তপণের বিষয়ে তাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গমনের পরিচ্ছেদ এবং যা...
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
أَرَادُوا مِنَ الْغَدْرِ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. قَالَ الزُّهْرِيُّ عَنْ عُرْوَةَ كَانَتْ عَلَى رَأْسِ سِتَّةِ أَشْهُرٍ مِنْ وَقْعَةِ بَدْرٍ قَبْلَ أُحُدٍ وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {هُوَ الَّذِي أَخْرَجَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ دِيَارِهِمْ لِأَوَّلِ الْحَشْرِ مَا ظَنَنْتُمْ أَنْ يَخْرُجُوا} وَجَعَلَهُ ابْنُ إِسْحَاقَ بَعْدَ بِئْرِ مَعُونَةَ وَأُحُدٍ.

فهذه أمثلة من منهج علماء الإسلام في ترتيب مصادر السيرة والتعامل معها بحسب قوة منهجها. فلا يقدمون على كتاب الله تعالى شيئا ثم يثنون بكتب الحديث، ثم تأتي بعد ذلك المصادر الأخرى.
তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার ইচ্ছা করেছিল। উরওয়াহ থেকে বর্ণিত, যুহরী বলেন, এটি ছিল বদর যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার সময় এবং উহুদ যুদ্ধের পূর্বে। আর মহান আল্লাহর বাণী: “তিনিই সেই সত্তা যিনি আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল, তাদেরকে প্রথমবার দেশান্তরের সময় তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। তোমরা কল্পনাও করোনি যে তারা বের হয়ে যাবে।” ইবনে ইসহাক একে বির মাউনা এবং উহুদ যুদ্ধের পরবর্তী সময়ের ঘটনা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

এগুলো সীরাতের উৎসসমূহ বিন্যস্ত করা এবং সেগুলোর পদ্ধতির সক্ষমতা অনুযায়ী সেগুলোর সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে ইসলামি পণ্ডিতদের অনুসৃত পদ্ধতির উদাহরণ। তারা মহান আল্লাহর কিতাবের উপর অন্য কোনো কিছুকেই প্রাধান্য দেন না, এরপর দ্বিতীয় স্থানে হাদিসের গ্রন্থসমূহকে রাখেন এবং এরপর অন্যান্য উৎসগুলো আসে।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌النقد الداخلي للأخبار

‌‌مراعاة أحوال الخبر واستحضار لوازمه وما يحتف به من قرائن وملابسات

…

4- النقد الداخلي للأخبار.

إن قواعد البحث والنقد التي سبق بيانها تتعلق كلها ببحث وتحليل العناصر الخارجية للخبر. فاستقصاء الطرق والأسانيد يحصل بها جمع أجزاء الخبر وضم بعضها إلى بعض. وتحكيم قواعد الرجال يتم به معرفة مراتب رواة الخبر من حيث العدالة والضبط مما يمكن من سبر روايتهم. وترتيب المصادر يمكن من الرجوع إلى المصادر الصحيحة المعتمدة. لكن هذه العناصر كلها إنما هي من متعلقات الخبر ولوازمه، وليس من مضمونه ومعناه. وهي جزء مهم من النقد، لكن النقاد ينظرون بعد ذلك إلى متن الخبر ومضمونه، فيحللون أجزاءه ومضامينه. فقد يكون المصدر المرجوع إليه مصدرا معتمدا في السيرة النبوية، مثل السنن الأربعة أو المسانيد أو غيرها من أمهات السنة النبوية، ورواته ممن تقبل روايتهم. لكن مع هذا كله يزيد النقاد في التثبت، فيتوقفون: لعل أحد هؤلاء الرواة قد حصل له وهم أو غلط، لأنه لا أحد يسلم من الغلط، لأن الثقة والأمانة لا تمنع من الوهم والخطأ. فالحكم بالثقة على الرجل
সংবাদের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা

সংবাদের অবস্থা বিবেচনা করা এবং এর অপরিহার্য বিষয়াবলি ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট পারিপার্শ্বিক নিদর্শন ও অবস্থাসমূহ উপস্থিত রাখা

...

৪- সংবাদের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা।

গবেষণা ও পর্যালোচনার যে নিয়মাবলি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তার সবই সংবাদের বাহ্যিক উপাদানসমূহের অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের সাথে সংশ্লিষ্ট। সূত্র ও সনদসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংবাদের বিভিন্ন অংশ একত্রিত করা এবং একটির সাথে অপরটি জুড়ে দেওয়া সম্ভব হয়। আর রাবি (বর্ণনাকারী) শাস্ত্রের নিয়মাবলি প্রয়োগের মাধ্যমে সংবাদের বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) ও স্মৃতিশক্তি (যাবত)-এর দিক থেকে তাদের স্তর জানা যায়, যা তাদের বর্ণনাকে সূক্ষ্মভাবে যাচাই করতে সক্ষম করে তোলে। আর উৎসসমূহের বিন্যাস নির্ভরযোগ্য সহীহ উৎসসমূহের দিকে ফিরে যাওয়াকে সম্ভবপর করে। কিন্তু এই উপাদানগুলোর সবই সংবাদের অনুষঙ্গ ও আনুষঙ্গিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, তার মূল বিষয়বস্তু বা অর্থের অংশ নয়। এটি পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু পর্যালোচকগণ এরপর সংবাদের মূল পাঠ (মতন) ও বিষয়বস্তুর দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং এর বিভিন্ন অংশ ও বিষয়বস্তুকে বিশ্লেষণ করেন। কেননা এমন হতে পারে যে, যে উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে তা সীরাতে নববীর ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য উৎস, যেমন সুনানে আরবাআ বা মাসানিদ অথবা সুন্নাহর অন্যান্য মূল গ্রন্থসমূহ; এবং এর বর্ণনাকারীগণও এমন যাদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এতদসত্ত্বেও পর্যালোচকগণ অধিকতর যাচাই-বাছাই করেন এবং তারা থমকে দাঁড়ান এই ভাবনায় যে: সম্ভবত এই বর্ণনাকারীদের মধ্যে কারোর কোনো বিভ্রম (ওয়াহম) বা ভুল হয়ে থাকতে পারে; কারণ ভুলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আর নির্ভরযোগ্যতা ও বিশ্বস্ততা বিভ্রম বা ভুল থেকে মুক্তি দেয় না। সুতরাং কোনো ব্যক্তির নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে ফয়সালা করার অর্থ হলো-
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
ليس قطعا بعدم احتمال صدور الخطأ منه، وإنما حكم بالظن الراجح. قال ابن الصلاح:" ومتى قالوا: "هذا حديث صحيح" فمعناه أنه اتصل سنده، مع سائر الأوصاف المذكورة. وليس من شرطه أن يكون مقطوعا به في حقيقة الأمر؛ إذ منه ما ينفرد بروايته عدل واحد، وليس من الأخبار التي أجمعت الأمة على تلقيها بالقبول". (1) . وبسبب هذا الاحتمال يعمد النقاد إلى النظر في متن الخبر فيحصرون عناصره المختلفة مثل ما ورد فيه من أعلام وأماكن ووقائع وغيرها، ثم يعرضونها على ما ثبت عندهم من الأخبار، وما تقرر من قواعد الشريعة وأصولها وقواعدها العامة، وما عرف من أصول العادة في أحوال البشر، وبناء على ذلك يكون الحكم على الخبر.

ويمكن تفصيل ذلك من خلال القواعد الآتية:

أ- مراعاة أحوال الخبر واستحضار لوازمه وما يحتفُّ به من قرائن وملابسات

إن الأخبار والحوادث حلقات متصلة بعضها ببعض، فكل حدث له صلة بما بعده وما قبله، وكل واقعة لا تكون مستقلة بذاتها شاذة عن غيرها من الحوادث. ولهذا فإن التحقيق في الحدث التاريخي يوجب النظر فيه موصولا بغيره من الحوادث السابقة واللاحقة، مضموما إلى ما سواه من الأخبار والحوادث المتصلة بالزمان الذي يتعلق به، والمكان الذي يجري فيه.

ولهذا فإن الناقد من علماء الإسلام لا ينظر في الخبر معزولاً عن غيره، وإنما

--------------------------------------------

(1) مقدمة ابن الصلاح في علوم الحديث ص 83.
এটি ভুল হওয়ার সম্ভাবনা না থাকার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বিষয় নয়, বরং প্রবল ধারণার ভিত্তিতে একটি হুকুম। ইবনুল সালাহ বলেন: "মুহাদ্দিসগণ যখন বলেন: 'এটি একটি সহীহ হাদীস', তখন এর অর্থ হলো—এর সনদটি নিরবচ্ছিন্ন এবং এতে বর্ণিত অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে। প্রকৃত বাস্তবতায় এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হওয়া এর জন্য শর্ত নয়; কারণ এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা কেবল একজন ন্যায়নিষ্ঠ বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি সেই সকল খবরের অন্তর্ভুক্ত নয় যার গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে উম্মাহর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।" (১) । আর এই সম্ভাবনার কারণেই সমালোচকগণ খবরের মূল পাঠ বা মতন পর্যবেক্ষণের দিকে মনোনিবেশ করেন। ফলে তাঁরা এতে বর্ণিত বিভিন্ন উপাদান যেমন—ব্যক্তি, স্থান, ঘটনা এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ চিহ্নিত করেন; তারপর সেগুলোকে তাঁদের নিকট সাব্যস্ত হওয়া অন্যান্য সংবাদের আলোকে এবং শরীয়তের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি ও সাধারণ নিয়মাবলির সাথে তুলনা করেন। সেই সাথে মানুষের জীবনযাত্রার স্বাভাবিক রীতিনীতির আলোকে সেগুলোকে যাচাই করেন। আর এর ওপর ভিত্তি করেই খবরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

নিম্নে বর্ণিত নিয়মাবলির মাধ্যমে এর বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব:

ক- খবরের অবস্থাসমূহ বিবেচনা করা এবং এর আবশ্যিক অনুষঙ্গ, লক্ষণ ও পারিপার্শ্বিকতা আমলে নেওয়া

নিশ্চয়ই সংবাদ ও ঘটনাবলি একে অপরের সাথে সংশ্লিষ্ট শিকল বা কড়ির মতো। প্রতিটি ঘটনারই তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ঘটনার সাথে যোগসূত্র থাকে। কোনো ঘটনাই স্বয়ংসম্পূর্ণ বা অন্য সকল ঘটনা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও স্বতন্ত্র নয়। এই কারণে, কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের জন্য তাকে পূর্বাপর অন্যান্য ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করে দেখা আবশ্যক। সেই সাথে একে সংশ্লিষ্ট সময় ও স্থানের সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য খবর ও ঘটনার সাথে মিলিয়ে বিচার করা জরুরি।

একারণেই ইসলামী বিজ্ঞ আলিমদের মধ্যে যারা সমালোচক, তাঁরা কোনো খবরকে অন্য সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখেন না, বরং

--------------------------------------------

(১) উলূমুল হাদীসে ইবনুল সালাহ-এর মুকাদ্দিমা, পৃষ্ঠা ৮৩।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
ينظر فيه آخذاً في الاعتبار كل ما يتصل به من الأخبار والحوادث، أي أنه يستحضر الإطار العام كله، فينظر في الخبر في انسجام مع الحوادث المتعلقة به سابقا ولاحقاً، وآخذاً بعين الاعتبار كل ما له صلة بالخبر المنظور فيه، وكل ما يتعلق بمضمونه وعناصره المتنوعة وكل ما يدخل في الظروف العامة للخبر. وإن هذه القاعدة – قاعدة استحضار ظروف الخبر ولوازمه- قاعدة عظيمة تدل على دقة مسلك النقد التاريخي عند علماء الإسلام، وتكشف تهافت ما تردد على بعض الألسنة من غفلة علماء الإسلام عن النقد الداخلي وفحص المتون، والاكتفاء بالنقد الخارجي المعتمد على أوصاف الرواة دون أحوال المتون.

وإن الظروف العامة للخبر متنوعة ومختلفة، ولا يمكن حصرها أو عدها، لأنها تختلف باختلاف الأخبار. فهي كل ما له تعلق بالخبر المنظور فيه من جهة موضوعه ومضمونه، ومن جهة الأطراف والعناصر المذكورة في الخبر، من أعلام وأشخاص ومواضع جغرافية، ومعالم حضارية وقيم فكرية ومعنوية.

والخطوة الأولى لعملية استحضار الظروف العامة للخبر هي حصر العناصر التي يتكون منها الخبر، فيتم تقسيمه إلى وحدات بحسب عناصره المتنوعة، فقد تكون عناصر جغرافية إذا ذكر في الخبر بلد أو موقع، وقد تكون عناصر فكرية وثقافية إذا كان الخبر يتعلق بقضية فكرية وعلمية، وقد تكون أعلاماً إذا ورد فيه أسماء أشخاص، وغيرها من العناصر المتنوعة التي يمكن أن يتضمنها الخبر. وهذه العناصر قد تكون منها عناصر أساسية هي صلب الخبر. وقد تكون ثانوية لأنها إنما تذكر فيه عرضا. وبعد حصر العناصر الواردة في الخبر، يعمد الناقد إلى كل عنصر فيبحث عنه مفصلا في مصادره ومظانه.
একে এমনভাবে বিবেচনা করা হয় যেখানে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বর্ণনা ও ঘটনাবলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়; অর্থাৎ এটি পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটকে সামনে উপস্থিত করে। ফলে বর্ণনাটিকে এর সাথে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলির সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে দেখা হয়। পাশাপাশি আলোচিত বর্ণনাটির সাথে সম্পৃক্ত বিষয়াদি এবং এর বিষয়বস্তু ও বৈচিত্র্যময় উপাদানসমূহসহ বর্ণনার সাধারণ পরিস্থিতির অন্তর্ভুক্ত যাবতীয় বিষয়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়। আর এই মূলনীতিটি—অর্থাৎ বর্ণনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও তার অনুষঙ্গসমূহ সামনে উপস্থিত করার নিয়মটি—একটি মহান মূলনীতি যা মুসলিম পণ্ডিতদের ঐতিহাসিক পর্যালোচনামূলক পদ্ধতির সূক্ষ্মতা প্রমাণ করে। এটি সেই সব অমূলক দাবির অসারতা উন্মোচন করে যা কিছু মুখে মুখে উচ্চারিত হয় যে, মুসলিম পণ্ডিতগণ অভ্যন্তরীণ সমালোচনা ও মূলপাঠ (মতন) বিশ্লেষণে গাফেল ছিলেন এবং তারা কেবল বর্ণনাকারীদের গুণাবলির ওপর ভিত্তি করে বাহ্যিক সমালোচনার ওপর নির্ভর করতেন, মূলপাঠের অবস্থার দিকে ভ্রূক্ষেপ করতেন না।

বর্ণনার সাধারণ পরিস্থিতিগুলো বৈচিত্র্যময় ও ভিন্ন ভিন্ন হয়, যা সীমাবদ্ধ করা বা গণনা করা সম্ভব নয়; কারণ বর্ণনার ভিন্নতার সাথে সাথে এগুলোও ভিন্ন হয়। মূলত আলোচ্য বর্ণনার বিষয়বস্তু ও কাঠামোর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় এবং বর্ণনায় উল্লিখিত বিভিন্ন পক্ষ ও উপাদান—যেমন প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিগণ, ভৌগোলিক স্থানসমূহ, তمدদুনী নিদর্শন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ—সবই এর অন্তর্ভুক্ত।

বর্ণনার সাধারণ পরিস্থিতি উপস্থাপনের প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপ হলো সেই উপাদানগুলোকে চিহ্নিত করা যা দিয়ে বর্ণনাটি গঠিত হয়েছে। ফলে একে এর বৈচিত্র্যময় উপাদান অনুযায়ী বিভিন্ন এককে বিভক্ত করা হয়। যদি বর্ণনায় কোনো দেশ বা স্থানের কথা উল্লেখ থাকে তবে তা ভৌগোলিক উপাদান হতে পারে, আবার যদি বর্ণনাটি কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক বা বৈজ্ঞানিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় তবে তা বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান হতে পারে। আবার যদি এতে ব্যক্তিদের নাম আসে তবে তা ব্যক্তিত্ব-সম্পর্কিত উপাদান হতে পারে। এছাড়াও আরও নানাবিধ উপাদান এতে থাকতে পারে। এই উপাদানগুলোর মধ্যে কিছু হতে পারে মৌলিক উপাদান যা বর্ণনার মূল ভিত্তি। আবার কিছু হতে পারে গৌণ উপাদান যা সেখানে প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে। বর্ণনায় বিদ্যমান উপাদানগুলো চিহ্নিত করার পর, সমালোচক প্রতিটি উপাদান নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করেন এবং এর উৎস ও সম্ভাব্য স্থানগুলোতে তা নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালান।
(খণ্ড: ১) জুহুদু উলামাইল মুসলিমীন ফী তামিযি সহীহিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ মিন যঈফিহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
وكلما توسع الناظر في جمع ما يتعلق بالعناصر الواردة في الخبر، كان أكثر فائدة وأعظم لمعرفة حال الخبر المنظور فيه. مثال ذلك نقد العلماء لحديث صحيح من جهة رواته وإسناده وهو قول ابن عباس: "كان المسلمون لا ينظرون إلى أبي سفيان ولا يقاعدونه فقال للنبي صلى الله عليه وسلم: ثلاث أعطنيهن، قال: نعم، قال: عندي أحسن العرب وأجمله أم حبيبة بنت أبي سفيان أزوجكها، قال: نعم، قال: ومعاوية تجعله كاتباً بين يديك، قال: نعم، قال: وتؤمرني حتى أقاتل الكفار كما كنت أقاتل المسلمين، قال: نعم" (1) . ولفحص هذا الخبر عمد النقاد إلى البحث خارج الخبر عما عرف واشتهر عن عناصره التي وردت فيه وهي: أبو سفيان بن حرب، وبخاصة زمن إسلامه، وأم حبيبة بنت أبي سفيان، وزواج رسول الله صلى الله عليه وسلم منها، ومعاوية بن أبي سفيان. ولما استحضر الأئمة ما عرف من أحوال هذه العناصر ظهر أن هذا الخبر لا ينسجم معها، لأن المعروف في أخبار السيرة أن أبا سفيان إنما أسلم عام الفتح، وأن زواج النبي صلى الله عليه وسلم من أم حبيبة كان قبل ذلك بسنين. وفي ذلك يقول النووي: "إن هذا الحديث من الأحاديث المشهورة بالإشكال، وهذا مشهور لا خلاف فيه، وكان النبي صلى الله عليه وسلم قد تزوج أم حبيبة قبل ذلك بزمن طويل" (2) . ولهذا حكم ابن حزم لهذا الحديث بالوضع (3) .

ومثاله أيضاً نقد الحافظ ابن حجر لخبر أورده الواقدي وهو أن قدوم

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم، كتاب فضائل الصحابة، باب من فضائل أبي سفيان.

(2) "شرح النووي على صحيح مسلم" 16/63.

(3) انظر "المنهج الإسلامي في الجرح والتعديل" ص: 383.
একজন পর্যবেক্ষক যখন কোনো সংবাদের (খবর) মধ্যে বর্ণিত উপাদানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছু সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে যত বেশি ব্যাপ্তি ঘটাবেন, আলোচ্য সংবাদটির অবস্থা জানার ক্ষেত্রে তা তত বেশি ফলপ্রসূ ও মহান হবে। এর উদাহরণ হলো, আলেমগণ কর্তৃক একটি হাদীসের সমালোচনা করা যা এর বর্ণনাকারী ও সনদের দিক থেকে সহীহ, আর সেটি হলো ইবনে আব্বাসের উক্তি: "মুসলিমগণ আবু সুফিয়ানের দিকে তাকাত না এবং তার সাথে বসত না। তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: আমাকে তিনটি জিনিস দান করুন। তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি (আবু সুফিয়ান) বললেন: আরবের সবচেয়ে রূপবতী ও সুন্দরী নারী উম্মে হাবীবা বিনতে আবু সুফিয়ান আমার নিকট আছে, আমি তাকে আপনার সাথে বিয়ে দেব। তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আর মুয়াবিয়াকে আপনার সামনে লেখক হিসেবে নিযুক্ত করবেন। তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আর আমাকে সেনাপতি নিযুক্ত করুন যাতে আমি কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি যেমনভাবে আমি মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াই করতাম। তিনি বললেন: হ্যাঁ।" (১)। এই সংবাদটি যাচাই করার জন্য সমালোচকগণ সংবাদের বাইরের এমন বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণার দিকে ধাবিত হন যা এতে বর্ণিত উপাদানগুলো সম্পর্কে পরিচিত ও প্রসিদ্ধ। আর সেগুলো হলো: আবু সুফিয়ান বিন হারব, বিশেষ করে তার ইসলাম গ্রহণের সময়কাল, উম্মে হাবীবা বিনতে আবু সুফিয়ান এবং তার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহ, এবং মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান। যখন ইমামগণ এই উপাদানগুলোর পরিচিত অবস্থাগুলো সামনে আনলেন, তখন প্রকাশ পেল যে এই সংবাদটি সেগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ সীরাতের বর্ণনাসমূহে এটি পরিচিত যে, আবু সুফিয়ান কেবল মক্কা বিজয়ের বছর ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, আর উম্মে হাবীবার সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহ এর বহু বছর আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। এ বিষয়ে ইমাম নববী বলেন: "নিশ্চয়ই এই হাদীসটি অসংগতির জন্য প্রসিদ্ধ হাদীসগুলোর অন্তর্ভুক্ত, আর এটি সর্বজনবিদিত যাতে কোনো মতভেদ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অনেক আগে থেকেই উম্মে হাবীবার সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।" (২)। একারণেই ইবনে হাযম এই হাদীসটিকে জাল হওয়ার রায় দিয়েছেন (৩)।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো হাফেজ ইবনে হাজার কর্তৃক ওয়াকিদী বর্ণিত একটি সংবাদের সমালোচনা, আর সেটি হলো এই যে আগমন

--------------------------------------------

(১) সহীহ মুসলিম, সাহাবীগণের ফযীলত অধ্যায়, আবু সুফিয়ানের ফযীলত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

(২) "সহীহ মুসলিমের উপর ইমাম নববীর শারহ" ১৬/৬৩।

(৩) দেখুন "আল-মানহাজুল ইসলামী ফিল জারহি ওয়াত তা’দীল" পৃষ্ঠা: ৩৮৩।