(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
جهود المحدثين في بيان علل الحديث   (علي الصياح)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: جهود المحدثين في بيان علل الحديث

المؤلف: أبو عمر علي بن عبد الله بن شديد الصياح المطيري

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 79

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل الحديث) বর্ণনায় মুহাদ্দিসগণের প্রচেষ্টা   (আলী আল-সাইয়াহ)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান


গ্রন্থ: হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل الحديث) বর্ণনায় মুহাদ্দিসগণের প্রচেষ্টা

লেখক: আবু ওমর আলী বিন আবদুল্লাহ বিন শাদিদ আল-সাইয়াহ আল-মুতাইরি

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১)
جُهُودُ المُحَدِّثِينَ فِي بَيانِ عِللِ الأحَادِيثِ

د. علي بن عبد الله الصياح

‌‌مقدمة:

إنَّ الحمدَ لله، نحمدُهُ ونستعينهُ، ونستغفرهُ، ونعوذُ باللهِ من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] ، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء: 1] ، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً} [الأحزاب: 70]

أمَّا بعد: فإنَّ خيرَ الحديثِ كتابُ الله، وخيرَ الَهْدي هَدْيُ محمدٍ صلى الله عليه وسلم، وشرَّ الأمورِ محدثاتها وكلَّ بدعةٍ ضلالة.

إنَّ مِنْ نعم الله العظيمة على هذه الأمة حِفْظَ دينهِا بحفظ كتابه العزيز، وسنة نبيه الكريم، قَالَ تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] وهذا الوعدُ والضمانُ بحفظِ الذكر يشمل حفظ القرآن، وحفظ السنة النبوية - التي هي المفسرة للقرآن وهي الحكمة المنزلة كما قَالَ تعالى: {وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} [النساء:113] ، -وقد ظهر مصداقُ ذلك
হাদিসের ত্রুটিসমূহ (علل) বর্ণনায় মুহাদ্দিসগণের প্রচেষ্টা

ড. আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-সাইয়্যাহ

‌‌ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২], {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বিষয়ে (সতর্ক থাকো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} [আন-নিসা: ১], {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো।} [আল-আহজাব: ৭০]

অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দীনের মাঝে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা।

নিশ্চয়ই এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর অন্যতম মহান নেয়ামত হলো তাঁর মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এবং তাঁর মহিমান্বিত নবীর সুন্নাহ সংরক্ষণের মাধ্যমে তাঁর দীনকে সংরক্ষণ করা। মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি এই যিকর (উপদেশ) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।} [আল-হিজর: ৯]। যিকর সংরক্ষণের এই প্রতিশ্রুতি ও নিশ্চয়তা কুরআন সংরক্ষণ এবং নবীর সুন্নাহ সংরক্ষণ—যা কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানকারী এবং অবতীর্ণ হিকমত (الحكمة)—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত (الحكمة) অবতীর্ণ করেছেন।} [আন-নিসা: ১১৩]। আর এর যথার্থতা প্রকাশ পেয়েছে...
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২)
مع طولِ المُدّة، وامتدادِ الأيام، وتوالي الشهور، وتعاقبِ السنين، وانتشارِ أهل الإسلامِ، واتساعِ رُقعتهِ، فقيض الله للقرآن من يحفظه ويحافظ عليه.

وأما السُّنَّةُ فإنَّ الله تعالى - بفضلهِ ومنتهِ وحكمته - وَفَّق لها حُفَّاظاً عارفين، وجهابذةً عالمين، وصيارفةً ناقدين، ينفون عنها تحريف الغالين، وانتحال المُبْطلين، وتأويل الجاهلين، فتفرغوا لها، وأفنوا أعمارهم في تحصيلها، فجزاهم اللهُ عن الإسلامِ والمسلمينَ خيرَ الجزاءِ وأوفرَه.

وقد خلَّفَ لنا هؤلاء الأئمةُ الحفّاظ ثروةً علميةً زاخرةً، مَنْ تأملَ في فنونها وعلومها المختلفة عَلِمَ الجهدَ الشاقّ، والصبرَ الطويلَ، الذي بذله سلفُنَا وعلماؤنا في جَمْعِها، وبيانها والاستنباطِ منها، وتمييزِ ضعيفها من صحيحها، وبذل الغالي والنفيس في سبيلِ ذلكَ، وعَلِمَ أيضاً مقدار ما حَظِي بهِ السلف من تأييدٍ رباني وفضلٍ إلهيّ وتوفيقٍ سماويّ، لمَّا صَدَقوا في الطلب والعلم والعمل والدعوة وصَبَروا على ذلك {ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ} [الجمعة: 4] .

ومن هذه الثروة العلمية وجوانبها: جانبُ العناية بعلل الحديث وبيانها، فإنَّ لعلم علل الحديث دوراً كبيراً ودقيقاً في حفظ السُّنّة النَّبويّة، وهو يحكي التطور النقدي عند نُقّاد الحديثِ وحُفّاظِهِ لمَّا تنوعتْ وخفيتْ وغمضتْ أخطاء الرواة وأوهامهم، وسرتْ إلى روايات الثقات.

وهذا البحثُ الموسوم بـ"جُهُودُ المُحَدِّثِينَ فِي بَيانِ عِللِ الأحَادِيثِ" يكشفُ عن جوانب من عناية المحدثين بهذا الفن، ودوره البارز في حفظ السُّنّة النَّبويّة، ويتكون البحث من:
দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে, দিনগুলোর প্রসারণ, মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর অতিক্রান্ত হওয়ার ফলে যখন ইসলামের অনুসারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং এর ভূখণ্ড বিস্তৃত হলো, তখন আল্লাহ তাআলা কুরআনের জন্য এমন একদল লোক নির্ধারণ করলেন যারা তা মুখস্থ করবেন এবং এর হিফাজত করবেন।

আর সুন্নাহর বিষয়ে মহান আল্লাহ—তাঁর অনুগ্রহ, দান ও প্রজ্ঞায়—একে সংরক্ষণের জন্য জ্ঞানবান হাফিজ (حفاظ), প্রাজ্ঞ বিশারদ এবং সূক্ষ্মদর্শী সমালোচক (ناقدين) হওয়ার তৌফিক দান করেছেন, যারা সুন্নাহ থেকে অতিরঞ্জনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং জ্ঞানহীনদের অপব্যাখ্যা দূর করেন। তাঁরা নিজেদের এই কাজের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন এবং এটি অর্জনের পেছনে নিজেদের জীবন অতিবাহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁদের সর্বোত্তম ও প্রাচুর্যময় প্রতিদান দান করুন।

এই ইমাম ও হাফিজগণ (حفاظ) আমাদের জন্য এক সমৃদ্ধ ইলমি সম্পদ রেখে গেছেন। যে ব্যক্তি এর বিভিন্ন শাখা ও জ্ঞান নিয়ে চিন্তা করবে, সে আমাদের সালাফ ও ওলামায়ে কেরামের সেই কঠোর পরিশ্রম ও দীর্ঘ ধৈর্যের কথা জানতে পারবে যা তাঁরা এটি সংগ্রহ, ব্যাখ্যা, মাসআলা উদ্ভাবন এবং দুর্বল (ضعيف) থেকে সহিহ (صحيح) হাদিসকে পৃথক করার ক্ষেত্রে ব্যয় করেছেন। এই পথে তাঁরা অত্যন্ত মূল্যবান ও অমূল্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এর পাশাপাশি সে আরও জানতে পারবে সালাফগণ কী পরিমাণ রব্বানি সমর্থন, ঐশ্বরিক অনুগ্রহ এবং আসমানি তৌফিক লাভ করেছিলেন; যখন তাঁরা জ্ঞান অন্বেষণ, ইলম অর্জন, আমল ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে সত্যনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার ওপর ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। "এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী।" [জুমুআ: ৪]।

এই ইলমি সম্পদের অন্যতম একটি দিক হলো: হাদিসের সুপ্ত ত্রুটি (علل) চিহ্নিতকরণ ও তা ব্যাখ্যার প্রতি মনোযোগ দান। সুন্নাহর সংরক্ষণে হাদিসের সুপ্ত ত্রুটি সংক্রান্ত ইলমের (علل الحديث) ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক ও সূক্ষ্ম। এটি মূলত হাদিসের সমালোচক (نقاد) ও হাফিজদের (حفاظ) সেই সূক্ষ্ম সমালোচনামূলক বিবর্তনকে তুলে ধরে, যা তখন প্রয়োজন হয়েছিল যখন বর্ণনাকারীদের ভুল ও সন্দেহগুলো বৈচিত্র্যময়, প্রচ্ছন্ন ও অস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল এবং এমনকি নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের বর্ণনায়ও তা প্রবেশ করেছিল।

"হাদিসের সুপ্ত ত্রুটি (علل) বর্ণনায় মুহাদ্দিসগণের প্রচেষ্টা" শিরোনামের এই গবেষণাটি এই শাস্ত্রের প্রতি মুহাদ্দিসগণের গুরুত্বারোপের বিভিন্ন দিক এবং সুন্নাহ সংরক্ষণে এর অনন্য ভূমিকা উন্মোচন করে। গবেষণাটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত:
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩)
- المُقَدّمة -وهي هذه-.

- تمهيد وفيه مبحثان:

المبحثُ الأوَّل: تعريفُ العلل لغةً واصطلاحاً.

المبحثُ الثاني: أهميةُ علمِ العلل وشرفه وعزته، وأسباب ذلك.

- الفصلُ الأوَّل: ذكر أئمة العلل والمصنفات فيه من بدايةِ القرن الثاني إلى نهايةِ القرنِ التاسع (1) .

- الفصلُ الثاني: أمثلةٌ من دقائق تعليل النقاد للأحاديث.

- الخاتمةُ: وفيها أبرزُ نتائجِ البحث، وتوصيات مقترحة.

- المراجع.

- فهرس الموضوعات.

وأختمُ هذه المُقدّمة بمقولةٍ جميلةٍ قالها المعلميّ-رحمة الله عليه- (ت1386هـ) عند ذِكْره لما قد يقاسيه المتقنون والمخلصون من محققي الكتب قَالَ: ((إنّ أحدَهم ليتعب نحوَ هذا التعب في مواضع كثيرة جداً ولكنّه في الغالب ينتهي إلى أحدِ أمرين: إمّا عدمِ الظفَر بشيءٍ فيكتفي بالسكوت، أو بأنْ يقولَ (كذا) أو نحوها، ولا يرى موجباً لذكر ما عاناه في البحث والتنقيب، وإمّا الظفَرِ بنتيجةٍ حاسمةٍ فيقدمها للقراء لُقْمة سائغة، ولا يهمه أن يشرح ما قاساه حتى حَصَلَ عليها، والله المستعان)) (2) .

--------------------------------------------

(1) وشرطي ذكر كلِّ من وُصِفَ بمعرفةِ العللِ، أو صنّفَ مصنفاً في العلل، فإنَّ التصنيفَ فيه مظنة المعرفةِ بهذا الفن الدقيق في الغالب.

(2) حاشية الإكمال (6/331) ، وانظر: ص27 من هذا البحث.
- ভূমিকা —যা বর্তমানে উপস্থাপিত হচ্ছে—।

- প্রারম্ভিকা, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহের (علل) সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সূক্ষ্ম ত্রুটিবিষয়ক শাস্ত্রের (علل) গুরুত্ব, এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর কারণসমূহ।

- প্রথম অধ্যায়: দ্বিতীয় হিজরি শতকের শুরু থেকে নবম হিজরি শতকের শেষ পর্যন্ত সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) শাস্ত্রের ইমামগণ এবং এই বিষয়ের গ্রন্থাবলির বিবরণ (১)।

- দ্বিতীয় অধ্যায়: সমালোচকগণ (نقاد) কর্তৃক হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি নির্ণয়ের (تعليل) সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর কিছু উদাহরণ।

- উপসংহার: এতে রয়েছে গবেষণার প্রধান ফলাফলসমূহ এবং প্রস্তাবিত সুপারিশমালা।

- তথ্যসূত্র।

- বিষয়সূচি।

আমি এই ভূমিকাটি আল-মুআল্লিমী (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু ১৩৮৬ হিজরি) এর একটি চমৎকার উক্তির মাধ্যমে শেষ করছি, যা তিনি পাণ্ডুলিপি গবেষকদের মধ্যে যারা নিপুণ ও নিষ্ঠাবান, তাদের পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছিলেন: ((নিশ্চয়ই তাঁদের কেউ কেউ অনেক স্থানে এই পরিমাণ কঠোর পরিশ্রম করেন, কিন্তু সাধারণত তা দুটির যেকোনো একটির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়: হয় তিনি কাঙ্ক্ষিত কিছু অর্জনে ব্যর্থ হন, ফলে তিনি নীরবতা অবলম্বন করেন অথবা "অনুরূপ ছিল" বা এই জাতীয় কিছু বলে ক্ষান্ত হন; তিনি অনুসন্ধান ও গবেষণার ক্ষেত্রে যে হাড়ভাঙা খাটুনি সহ্য করেছেন তা উল্লেখ করার কোনো আবশ্যকতা অনুভব করেন না। আর নয়তো তিনি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হন, যা তিনি পাঠকদের সামনে অত্যন্ত সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করেন; এই সিদ্ধান্তটি লাভ করতে গিয়ে তাঁকে কী পরিমাণ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে তা ব্যাখ্যা করাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। আর আল্লাহই সাহায্যকারী।)) (২) ।

--------------------------------------------

(১) আমার শর্ত হলো ওই সকল ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা যাদেরকে সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) সম্পর্কে অভিজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে অথবা যারা এই বিষয়ে (علل) কোনো গ্রন্থ রচনা করেছেন। কেননা, সাধারণত এই সূক্ষ্ম শাস্ত্র সম্পর্কে পাণ্ডিত্য থাকলেই কেবল এতে গ্রন্থ রচনা করা সম্ভব হয়।

(২) হাশিয়াহ আল-ইকমাল (৬/৩৩১), এবং দেখুন: এই গবেষণার ২৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৪)
وهذه المقولة تحكي واقع مواطن عديدة مرّتْ عليّ أثناء إعداد البحث أقف فيها متحيراً، وربما راجعتُ من أجل معلومة لا تتجاوز سطراً أو سطرين عشرات الكتب للتحقق منها، وهو"جهدُ المقل والقدر الذي واتاه {وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنْفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللَّهُ} [الطلاق: 7] ، وإليه سبحانه وتعالى السؤال أن يجعل ذلك خالصاً لوجهه الكريم، مقتضياً لرضاه، وألَاّ يجعل العلم حجة على كاتبه في دنياه وأخراه، وعلى الله قصد السبيل، وهو حسبنا ونعم الوكيل" (1) .

ولا يفوتني أنْ أشكر مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة على تنظيم هذه الندوة العلمية"عناية المملكة العربية السعودية بالسُّنّة والسيرة النَّبويّة" فنحن في هذا الوقت بحاجةٍ مُلِحةٍ لمثل هذه الندوات العلمية المنهجية المتخصصة لما فيها من مصالح لا تخفى.

وأسأل الله سبحانه وتعالى أنْ يوفق القائمين على هذه الندوة لكل خيرٍ وصلاحٍ، وأنْ يعينهم ويسددهم بمنهِ وكرمهِ.

--------------------------------------------

(1) مقتبس من مقدمة العلائيّ لكتابه "نظم الفرائد لما تضمنه حديث ذي اليدين من الفوائد" (ص36) .
আর এই উক্তিটি সেই অসংখ্য বাস্তব পরিস্থিতির কথা বলে যা এই গবেষণা প্রস্তুতির সময় আমার সামনে এসেছে যেখানে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম, আর সম্ভবত মাত্র এক বা দুই লাইনের একটি তথ্য যাচাই করার জন্য আমি কয়েক ডজন কিতাব পর্যালোচনা করেছি; আর এটি হলো "এক স্বল্পপুঁজির ব্যক্তির প্রচেষ্টা এবং যতটুকু সামর্থ্য তাকে দেওয়া হয়েছে {আর যার রিযিক সংকুচিত করা হয়েছে, সে যেন আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করে} [আত-তালাক: ৭], আর মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা এই যে, তিনি যেন একে তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠ করেন, তাঁর সন্তুষ্টির কারণ বানান এবং এই জ্ঞানকে দুনিয়া ও আখিরাতে এর লেখকের বিরুদ্ধে দলিল (حجة) না বানান; আর সরল পথ প্রদর্শনের দায়িত্ব আল্লাহরই ওপর, আর তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।" (১) .

মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত 'মাজমাউল মালিক ফাহদ লি তিবাআতিল মুসহাফিশ শরিফ' (কিং ফাহদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং অব দ্য হোলি কুরআন)-কে এই বৈজ্ঞানিক সেমিনার "সুন্নাহ ও সিরাতে নববীর প্রতি সৌদি আরব রাজ্যের যত্ন" আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাতে আমি ভুলছি না; কারণ বর্তমানে আমাদের জন্য এ ধরনের পদ্ধতিগত ও বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক সেমিনারগুলোর একান্ত প্রয়োজন রয়েছে, যেহেতু এতে এমন সব কল্যাণ নিহিত রয়েছে যা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়।

আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই সেমিনারের আয়োজকদের সকল কল্যাণ ও মঙ্গলের তাওফিক দান করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় তাঁদের সাহায্য ও সঠিক পথে পরিচালিত করেন।

--------------------------------------------

(১) আল-আলায়ীর তাঁর রচিত কিতাব "নাজমুল ফারিদ লিমা তাদাম্মানাহু হাদিসু যিল ইয়াদাইনি মিনাল ফাওয়াইদ" (পৃষ্ঠা ৩৬) এর ভূমিকা থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تمهيد

‌‌المبحث الأول: تعريف العلل لغة واصطلاحا

…

المبحثُ الأوَّلُ: تعريفُ العلل لغةً واصطلاحاً

تعريف العلل لغةً:

قَالَ ابنُ فارس: "عَلَّ: العين واللام أصولٌ ثلاثةٌ صحيحة: أحدها: تكرّر أو تكرير، والآخر: عائق يعوق، والثالث: ضعف في الشيء، فالأوَّل: العلل، وهي الشربة الثانية،…والأصل الآخر: العائق يعوق، قال الخليل: العلة حدث يشغل صاحبه عن وجهه…، والأصل الثالث: العِلةُ: المرض، وصاحبها معتل..)) (1) .

واسم المفعول من أعل"مُعَلّ"، واستعمل المحدثون في كلامهم لفظة معلول، قَالَ العراقي: “والتعبير بالمعلول موجود في كلام كثير من أهل الحديث في كلام الترمذي في جامعه، وفي كلام الدارقطني، وأبي أحمد بن عدي، وأبي عبد الله الحاكم، وأبي يعلى الخليلي، ورواه الحاكم في التاريخ، وفي علوم الحديث عن البخاري)) (2) ، واستعمال البخاري نقله الترمذيُّ في العلل الكبير عن البخاريّ (3) .

غير أنَّ كثيراً من أهل اللغة، وبعض المحدثين انتقدوا هذا الاستعمال، قال ابن الصلاح: ((ويسميه أهل الحديث المعلول، وذلك منهم ومن الفقهاء في قولهم في باب القياس: العلة والمعلول مرذول عند أهل العربية واللغة)) (4) .

--------------------------------------------

(1) معجم مقاييس اللغة (4/12-14) .

(2) التقييد والإيضاح (ص97) .

(3) العلل الكبير للترمذي (ص206) .

(4) علوم الحديث (ص81) .
উপক্রমণিকা

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক দৃষ্টিতে ত্রুটিসমূহ (العلل)-এর সংজ্ঞা

...

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক দৃষ্টিতে ত্রুটিসমূহ (العلل)-এর সংজ্ঞা

আভিধানিকভাবে ত্রুটিসমূহ (العلل)-এর সংজ্ঞা:

ইবনে ফারিস বলেন: "আল্লা (عَلَّ): আইন এবং লাম বর্ণদ্বয় তিনটি বিশুদ্ধ মূল অর্থের ধারক: প্রথমটি হলো কোনো বিষয়ের পুনরাবৃত্তি বা বারবার হওয়া, দ্বিতীয়টি হলো এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা যা কোনো কিছুকে বাধাগ্রস্ত করে, এবং তৃতীয়টি হলো কোনো জিনিসের দুর্বলতা। প্রথম অর্থ অনুযায়ী: 'আল-আলাল' (العلل), যার অর্থ দ্বিতীয়বার পান করা...আর দ্বিতীয় মূল অর্থটি হলো: প্রতিবন্ধকতা যা বাধা সৃষ্টি করে। খলিল বলেন: ত্রুটি (العلة) হলো এমন এক আপতিত বিষয় যা কোনো ব্যক্তিকে তার উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত বা ব্যস্ত রাখে...। আর তৃতীয় মূল অর্থ হলো: ত্রুটি (العِلةُ) অর্থ রোগ, আর এর দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তিকে মু'তাল (معتل) বলা হয়..)) (১)।

এবং 'আ'আল্লা' (أعل) ক্রিয়ামূল থেকে কর্মবাচ্যের বিশেষ্য বা ইসমুল মাফউল হলো "মুআল্ল" (مُعَلّ)। হাদিস বিশারদগণ (أهل الحديث) তাদের পরিভাষায় "মালুল" (معلول) শব্দটিও ব্যবহার করেছেন। আল-ইরাকি বলেন: “মালুল (معلول) শব্দটির ব্যবহার অনেক হাদিস বিশারদগণের (أهل الحديث) বক্তব্যে পাওয়া যায়; যেমন ইমাম তিরমিজির জামি'-এ, দারা কুতনি, আবু আহমদ ইবনে আদি, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম এবং আবু ইয়ালা আল-খালিলির বক্তব্যে। আল-হাকিম এটি তার তারিখ গ্রন্থে এবং ইমাম বুখারি থেকে বর্ণিত উলুমুল হাদিস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন)) (২)। ইমাম বুখারি কর্তৃক এই শব্দটির ব্যবহার সম্পর্কে ইমাম তিরমিজি তার আল-ইলাল আল-কবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৩)।

তবে অনেক ভাষাবিদ এবং কিছু হাদিস বিশারদ (أهل الحديث) এই ব্যবহারের (মালুল শব্দের) সমালোচনা করেছেন। ইবনে আস-সালাহ বলেন: ((হাদিস বিশারদগণ (أهل الحديث) একে মালুল (معلول) বলে অভিহিত করেন। এটি তাদের পক্ষ থেকে এবং ফকিহদের পক্ষ থেকে কিয়াসের অধ্যায়ে 'ইল্লাহ' (العلة) এবং 'মালুল' (المعلول) বলা আরব্য ভাষাবিদ ও সাহিত্যিকদের নিকট অশুদ্ধ বা নিকৃষ্ট প্রয়োগ হিসেবে গণ্য)) (৪)।

--------------------------------------------

(১) মুজাম মাকায়িস আল-লুগাহ (৪/১২-১৪)।

(২) আত-তাকয়িদ ওয়াল ইদাহ (পৃ. ৯৭)।

(৩) তিরমিজির আল-ইলাল আল-কবীর (পৃ. ২০৬)।

(৪) উলুমুল হাদিস (পৃ. ৮১)।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬)
وقال ابنُ منظور: ((واستعمل أَبوإسحاق لفظة المَعْلول في المُتقارِب من العَروض.... والمتكلمون يستعملون لفظة المَعْلول في مثل هذا كثيراً؛ قَالَ ابنُ سِيده: وبالجملة فَلَسْتُ منها على ثِقَةٍ ولا على ثَلَجٍ؛ لأَن المعروف إِنَّما هو أَعَلَّه الله فهو مُعَلٌّ)) (1) .

إلَاّ أنّ أهل اللغة أنفسهم ليسوا متفقين على تخطئة هذا الاستعمال، قَالَ العراقيُّ-بعد نقله كلام ابن الصلاح المتقدم-: ((وقد تبعه عليه الشيخ محيي الدين النوويّ فقال في مختصره: إنه لحن، واعترض عليه بأنه قد حكاه جماعة من أهل اللغة منهم قطرب فيما حكاه اللبلي، والجوهري في الصحاح، والمطرزي في المغرب)) (2) ، واستعمل هذه اللفظة كبار أهل اللغة منهم:

أبو إسحاق الزجاج كما تقدم في كلام ابن منظور (3) ، وقال الفيوميُّ: ((والعلة المرض الشاغل، والجمع علل مثل سدرة وسدر، وأعله الله فهو معلول قيل من النوادر التي جاءت على غير قياس وليس كذلك، فإنه من تداخل اللغتين، والأصل أعله الله فَعُلَّ فهو مَعْلُول)) (4) .

فمما تقدم من عدم اتفاق أهل اللغة على تخطئة استعمال هذه الكلمة، واستعمال كثير من الأئمة المحدثين لها نستفيد أنّها كلمة صحيحة لغوياً، وإنْ كان الأفصح استعمال كلمة مُعَلّ.

--------------------------------------------

(1) لسان العرب (11/471) مادة (علّ) .

(2) التقييد والإيضاح (ص96) .

(3) انظر: التقييد والإيضاح (ص96) ، فتح المغيث للسخاوي (1/259) ، توضيح الأفكار (2/25) .

(4) المصباح المنير (ص426) مادة (علّ) .
ইবনে মঞ্জুর বলেন: "আবু ইসহাক ছন্দবিজ্ঞানের সদৃশ ক্ষেত্রে 'ত্রুটিযুক্ত (المَعْلُول)' শব্দটি ব্যবহার করেছেন... এবং মুতাকাল্লিমগণ এই ধরনের ক্ষেত্রে 'ত্রুটিযুক্ত (المَعْلُول)' শব্দটি প্রচুর ব্যবহার করেন; ইবনে সীদাহ বলেন: মোটের উপর, এই বিষয়ে আমি কোনো নির্ভরযোগ্য (ثِقَة) সূত্রে বা স্থির নিশ্চয়তা পাচ্ছি না; কারণ সুপরিচিত ব্যবহার হলো 'আল্লাহ তাকে রোগাক্রান্ত করেছেন', ফলে সেটি হয় 'ত্রুটিযুক্ত (مُعَلٌّ)'।" (১) ।

তবে খোদ ভাষাবিদগণ এই ব্যবহারের ভুল ধরার বিষয়ে একমত নন। আল-ইরাকি—ইবনুস সালাহ-এর পূর্বোক্ত বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর—বলেন: "শেখ মহিউদ্দিন আন-নববী এক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করেছেন এবং তার সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে বলেছেন: এটি ভাষাগত ভুল। তবে এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, একদল ভাষাবিদ এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আল-লাবলি কর্তৃক বর্ণিত কুতরুব, আস-সিহাহ গ্রন্থে আল-জাওহারি এবং আল-মুগরিব গ্রন্থে আল-মুতাররিজি।" (২), এবং বড় বড় ভাষাবিদগণ এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন:

আবু ইসহাক আয-যাজ্জাজ, যেমনটি ইবনে মঞ্জুরের বক্তব্যে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে (৩)। আল-ফাইয়ুমি বলেন: "ত্রুটি (عِلَّة) হলো এমন অসুস্থতা যা মানুষকে ব্যস্ত বা অক্ষম করে দেয়, এর বহুবচন হলো ত্রুটিসমূহ (عِلَل), যেমন সিদরাত ও সিদার। 'আল্লাহ তাকে রোগাক্রান্ত করেছেন' ফলে তিনি 'ত্রুটিযুক্ত (مَعْلُول)', বলা হয়ে থাকে এটি বিরল উদাহরণগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা ব্যাকরণগত নীতি বহির্ভূতভাবে এসেছে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। বরং এটি দুটি ভাষার সংমিশ্রণ থেকে উদ্ভূত, আর মূল হলো 'আল্লাহ তাকে রোগাক্রান্ত করেছেন' অতঃপর 'সে রোগাক্রান্ত হয়েছে' ফলে সেটি 'ত্রুটিযুক্ত (مَعْلُول)'।" (৪)।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ভাষাবিদগণ এই শব্দের ব্যবহারের ভুল ধরার বিষয়ে একমত নন এবং অনেক হাদিস বিশারদ ইমামগণ এটি ব্যবহার করেছেন, যা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে এটি ভাষাগতভাবে একটি সঠিক শব্দ, যদিও 'ত্রুটিযুক্ত (مُعَلّ)' শব্দটির ব্যবহারই অধিকতর বিশুদ্ধ।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব (১১/৪৭১), শব্দমূল: ‘আল্লা’।

(২) আত-তাকয়ীদ ওয়াত-তাওদীহ (পৃ. ৯৬)।

(৩) দেখুন: আত-তাকয়ীদ ওয়াত-তাওদীহ (পৃ. ৯৬), সাখাভি রচিত ফাতহুল মুগীস (১/২৫৯), তাওদীহুল আফকার (২/২৫)।

(৪) আল-মিসবাহুল মুনীর (পৃ. ৪২৬), শব্দমূল: ‘আল্লা’।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭)
العلة والحديث المُعل في الاصطلاح:

ترد كلمة عِلة، ومعلول في لسان المحدثين على معنيين:

المعنى الأوَّل: معنى عام ويراد به الأسباب التي تقدح في صحة الحديث، المانعة من العمل به، قَالَ ابن الصلاح: "اعلم أنه قد يطلق اسم العلة على غير ما ذكرناه من باقي الأسباب القادحة في الحديث المخرجة له من حال الصحة إلى حال الضعف المانعة من العمل به على ما هو مقتضى لفظ العلة في الأصل، ولذلك نجد في كتب علل الحديث الكثير من الجرح بالكذب، والغفلة، وسوء الحفظ ونحو ذلك من أنواع الجرح، وسمّى الترمذيُّ النسخَ علةً من علل الحديث" (1) .

وما قاله ابنُ الصلاح ظاهر ففي كتابِ العلل لابن أبي حاتم، وكتاب العلل للدارقطني أمثلةٌ كثيرةٌ تدلُ على ما قَالَ، وكذلك في تطبيقات الأئمة المتقدمين، فالعلة عندهم لها معنى واسع وشامل، بحيث تشمل ما قاله ابن الصلاح، والمعنى الخاص الآتي الذكر.

المعنى الثاني: معنى خاص، وعرّفه ابنُ الصلاح بقوله: "هو الحديث الذي اطلع فيه على علةٍ تقدحُ في صحته مع أنّ ظاهره السلامة منها" (2) ، وعرّفه ابنُ حجر بقوله: "هو حديثٌ ظاهرهُ السلامة، اطُّلِعَ فيه بعد التفتيش على قادح" (3) .

--------------------------------------------

(1) علوم الحديث (ص84) ، وانظر: ألفية السيوطي شرح أحمد شاكر (ص59-60) .

(2) علوم الحديث (ص81) .

(3) فتح الباقي على ألفية العراقي (1/226) .
পারিভাষিক সংজ্ঞায় ত্রুটি (العلة) এবং ত্রুটিযুক্ত (المعل) হাদিস:

মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ত্রুটি (عِلة) এবং ত্রুটিযুক্ত (معلول) শব্দ দুটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

প্রথম অর্থ: সাধারণ অর্থ, যা দ্বারা এমন সব কারণকে বোঝানো হয় যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে (صحة) প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং তার ওপর আমল করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়। ইবনে আস-সালাহ বলেন: "জেনে রাখুন যে, অনেক সময় ত্রুটি (العلة) শব্দটি আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও হাদিসের বিশুদ্ধতাকে (صحة) ক্ষুণ্ণকারী অন্যান্য কারণগুলোর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যা হাদিসকে বিশুদ্ধতার (صحة) অবস্থা থেকে দুর্বলতার (الضعف) দিকে নিয়ে যায় এবং এর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়; যা মূলত ত্রুটি শব্দের মূল আভিধানিক অর্থের অনুসারী। এই কারণেই আমরা ইল্লালুল হাদিসের গ্রন্থগুলোতে মিথ্যাচার (الكذب), অসতর্কতা (الغفلة), মুখস্থশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ) এবং এই জাতীয় জরাহ (الجرح)-এর বিভিন্ন প্রকারের মাধ্যমে সমালোচনার অনেক উদাহরণ দেখতে পাই। এমনকি ইমাম তিরমিজি রহিতকরণকেও (النسخ) হাদিসের ত্রুটিসমূহের (علل) অন্তর্ভুক্ত করেছেন।" (১) ।

ইবনে আস-সালাহ যা বলেছেন তা সুস্পষ্ট; কারণ ইবনে আবি হাতিমের কিতাবুল ইলাল এবং দারা কুতনির কিতাবুল ইলাল গ্রন্থে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যা তার বক্তব্যকে প্রমাণ করে। তেমনিভাবে পূর্ববর্তী ইমামগণের প্রয়োগেও এটি পরিলক্ষিত হয়; তাদের নিকট ত্রুটির (العلة) অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত, যা ইবনে আস-সালাহ বর্ণিত সাধারণ অর্থ এবং নিচে বর্ণিত বিশেষ অর্থ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

দ্বিতীয় অর্থ: বিশেষ অর্থ। ইবনে আস-সালাহ এর সংজ্ঞায় বলেছেন: "এটি এমন একটি হাদিস যাতে এমন কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) পরিলক্ষিত হয় যা তার বিশুদ্ধতাকে (صحة) ক্ষুণ্ণ করে, যদিও আপাতদৃষ্টিতে তা ত্রুটিমুক্ত মনে হয়।" (২) । হাফেজ ইবনে হাজার রহ. এর সংজ্ঞায় বলেছেন: "এটি এমন একটি হাদিস যার বাহ্যিক দিকটি ত্রুটিমুক্ত মনে হয়, কিন্তু সূক্ষ্ম অনুসন্ধানের পর তাতে কোনো ক্ষতিকারক ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়।" (৩) ।

--------------------------------------------

(১) উলুমুল হাদিস (পৃ. ৮৪), আরও দেখুন: আলফিয়াতুস সুয়ূতি শারহ আহমদ শাকির (পৃ. ৫৯-৬০)।

(২) উলুমুল হাদিস (পৃ. ৮১)।

(৩) ফাতহুল বাকি আলা আলফিয়াতিল ইরাকি (১/২২৬)।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৮)
وهذا المعنى هو مرادُ من تكلم على أهمية العلل ودقته وقلة من برز فيه، وهو المعنى الذي يتكلم عليه من كتب في علوم الحديث، وقد أشار الحاكم في كتابه"معرفة علو م الحديث" (1) إلى هذا المعنى.

وهو نوعان:

النوع الأوّل: الاختلافُ في إسنادِ الحديثِ كرَفْعهِ ووقفهِ، ووصلهِ وإرسالهِ، ونحو ذلك، أو الاختلافُ في متنِ حديثٍ كاختصار المتن، أو الإدراجِ فيه، أو تغيير المعنى ونحو ذلك، وهذا النوعُ هو الغالبُ على"علل الدارقطني".

النوع الثاني: العلةُ الغامضةُ في إسنادٍ فَرْدٍ ظاهرهُ الصحة، وهذه العلةُ الغامضةُ لا يمكن أن يوضع لها ضابط محدد؛ لأنّ لها صوراً كثيرةً ومتعددةً، وفي بعضها دقة وغموض، لا يعلمها إلاّ حذاق هذا الفن، وهذا النوع يكثر في كلام النقاد المتقدمين، وهم العمدة في الكلام عليه إذْ إنهم-في الغالب- قد باشروا مكمن العلة والخطأ بأنفسهم: تارةً بسؤال الراوي ونقده مباشرةً، وتارةً بالرحلة لجمع طرق الحديث والنظر في موضع الخطأ وغير ذلك.

وسيأتي في الفصلِ الثاني - إنْ شاءَ الله - أمثلةٌ دقيقةٌ على هذين النوعين.

--------------------------------------------

(1) (ص107) .
আর এই অর্থটিই হলো তাদের উদ্দেশ্য যারা ত্রুটিসমূহের (العلل) গুরুত্ব, এর সূক্ষ্মতা এবং এতে পারদর্শী ব্যক্তিদের স্বল্পতা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) ওপর যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, এটি সেই অর্থ যা নিয়ে তারা আলোচনা করেন। আল-হাকিম তাঁর ‘মা’রিফাতু উলূমিল হাদিস’ (১) গ্রন্থে এই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

আর এটি দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: হাদিসের সনদের (إسناد) মধ্যে মতভেদ হওয়া, যেমন—একে মারফু (رفع) ও মাওকুফ (وقف) করা, কিংবা মুত্তাসিল (وصل) ও মুরসাল (إرسال) করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। অথবা হাদিসের মতনের (متن) মধ্যে মতভেদ হওয়া, যেমন—মতনকে সংক্ষিপ্ত করা, কিংবা এতে অন্য কিছু অনুপ্রবেশ (الإدراج) ঘটানো অথবা অর্থের পরিবর্তন ঘটানো ইত্যাদি। ‘ইলালুদ দারাকুতনী’ গ্রন্থে এই প্রকারটিরই প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়।

দ্বিতীয় প্রকার: এমন একক সনদে (إسناد فرد) অস্পষ্ট ত্রুটি (العلة الغامضة) থাকা যার বাহ্যিক দিকটি সহিহ (الصحة) বলে মনে হয়। এই অস্পষ্ট ত্রুটির (العلة الغامضة) জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়; কারণ এর রূপ অনেক ও বহুমুখী। এর কোনো কোনোটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট, যা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ ছাড়া অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারেন না। পূর্ববর্তী সমালোচকগণের (النقاد المتقدمين) বক্তব্যে এই প্রকারটির আধিক্য দেখা যায়। এই বিষয়ে তাদের বক্তব্যই হলো মূল ভিত্তি; কেননা তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ত্রুটি ও ভুলের উৎসসমূহ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন: কখনো বর্ণনাকারীকে (الراوي) সরাসরি প্রশ্ন করা ও তাঁর সমালোচনার (نقد) মাধ্যমে, আবার কখনো হাদিসের বিভিন্ন সূত্র (طرق) সংগ্রহের জন্য সফর করার এবং ভুলের স্থানগুলো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।

ইনশাআল্লাহ, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এই দুই প্রকারের সূক্ষ্ম উদাহরণসমূহ সামনে আসবে।

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা ১০৭)।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المبحثُ الثاني: أهميةُ علمِ العلل وشرفه وعزته، وأسبابُ ذلك

تعدَّدتْ أقوال النقادِ في بيانِ أهميةِ علم العلل وشرفهِ وعزته ودقته، فمن الأقوالِ في ذلكَ:

1- قول عبد الرحمن بن مهدي: "لأنْ أعرف علةَ حديثٍ-هو عندي- أحب إليّ من أنْ أكتب عشرين حديثاً ليسَ عندي" (1) ، وقولُهُ: "إنكارُنا للحديثِ عِند الجهّال كِهانة" (2) .

2- وَقَالَ علي بنُ المديني: "ربما أدركتُ علةَ حديثٍ بعد أربعين سنة" (3) .

3- وَقَالَ عبد الرحمن بن أبي حاتم الرازي: "سمعتُ أبي يقول: جرى بيني وبين أبِى زرعة يوماً تمييز الحديث ومعرفته، فجعل يذكر أحاديثَ ويذكر عللها، وكذلك كنتُ أذكر أحاديث خطأ وعللها وخطأ الشيوخ، فقال لي: يا أبا حاتم قلَّ من يفهم هذا! ما أعز هذا! إذا رفعت هذا من واحد واثنين فما أقلَّ من تجد من يحسنُ هذا! وربما أشك في شيء أو يتخالجنىِ شيء في حديث، فإلى أن ألتقي معكَ لا أجد من يشفيني منه، قَالَ أبي: وكذاكَ كان أمري" (4) ، وَقَالَ

--------------------------------------------

(1) مقدمة علل الحديث لابن أبي حاتم (1/10) وعنده بلفظ (أكتب حديثا ليس عندي) -، معرفة علوم الحديث (ص140) ، - الجامع لأخلاق الراوي (2/294) .

(2) علل ابن أبي حاتم (1/ 10) .

(3) الجامع لأخلاق الراوي (2/257) .

(4) تقدمة الجرح والتعديل (ص356) .
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ত্রুটি বিষয়ক বিজ্ঞানের (علم العلل) গুরুত্ব, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর কারণসমূহ

ত্রুটি বিষয়ক বিজ্ঞানের (علم العلل) গুরুত্ব, মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং সূক্ষ্মতা বর্ণনায় হাদিস বিশারদ বা সমালোচকগণের (النقاد) অনেক উক্তি রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো:

১- আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীর উক্তি: "আমার নিকট রক্ষিত কোনো হাদিসের ত্রুটি (علة) জানতে পারা আমার কাছে এমন বিশটি হাদিস লিখে রাখার চেয়েও অধিক প্রিয় যা আমার কাছে নেই" (১), এবং তাঁর উক্তি: "মূর্খদের নিকট আমাদের হাদিস প্রত্যাখ্যান করা বা ভুল ধরাটা (এক প্রকার) গণৎগিরির মতো মনে হয়" (২)।

২- আলী ইবনুল মাদীনী বলেন: "কখনো কখনো আমি একটি হাদিসের ত্রুটি (علة) চল্লিশ বছর পর অনুধাবন করতে পারি" (৩)।

৩- আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আর-রাজি বলেন: "আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: একদিন আমার এবং আবু যুর'আর মাঝে হাদিস পৃথকীকরণ (تمييز الحديث) এবং তা চেনা সংক্রান্ত আলোচনা হচ্ছিল। তখন তিনি বিভিন্ন হাদিস ও সেগুলোর ত্রুটিসমূহ (علل) উল্লেখ করতে শুরু করলেন। তেমনিভাবে আমিও কিছু ভুল (خطأ) হাদিস, সেগুলোর ত্রুটি (علل) এবং শায়খদের ভুলসমূহ (خطأ) উল্লেখ করছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: হে আবু হাতিম! খুব কম লোকই এটি বোঝে! এটি কতই না দুর্লভ! আপনি যদি একে একে দুই একজনের নিকট তালাশ করেন, তবে এমন লোক খুব কমই পাবেন যারা এ বিষয়ে পারদর্শী। কখনো কোনো বিষয়ে আমার সন্দেহ হয় অথবা কোনো হাদিস সম্পর্কে আমার মনে খটকা লাগে, তখন আপনার সাথে দেখা না হওয়া পর্যন্ত আমি এমন কাউকে পাই না যে আমাকে এ ব্যাপারে সঠিক সমাধান দিতে পারে। আমার পিতা বলেন: আমার অবস্থাও তেমনই ছিল" (৪), এবং তিনি বলেছেন

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি হাতিম রচিত ইলালুল হাদিসের ভূমিকা (১/১০), সেখানে শব্দগুলো হলো: (এমন হাদিস লেখা যা আমার নিকট নেই), মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস (পৃ. ১৪০), আল-জামি লি আখলাকির রাবি (২/২৯৪)।

(২) ইলাল ইবনে আবি হাতিম (১/১০)।

(৩) আল-জামি লি আখলাকির রাবি (২/২৫৭)।

(৪) তাকিদমাতুল জারহ ওয়াত তাদিল (পৃ. ৩৫৬)।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১০)
4- ابنُ أبي حاتم أيضاً: "سمعتُ أبي يقول: الذي كانَ يحسنُ صحيحَ الحديثِ من سقيمهِ وعنده تمييزُ ذلكَ ويحسنُ عللَ الحديثِ أحمدُ بنُ حنبل ويحيى بن معين وعلي بنُ المديني، وبعدهم أبو زرعه كان يحسنُ ذلكَ، قيل لأبي: فغير هؤلاء تعرف اليوم أحداً؟ قَالَ: لا" (1) .

5- وَقَالَ الحاكم أبو عبد الله: "ذكر النوع السابع والعشرين من علوم الحديث: هذا النوع منه معرفة علل الحديث، وهو علمٌ برأسه غير الصحيح والسقيم والجرح والتعديل…فإنّ معرفة علل الحديث من أجلِّ هذه العلوم" (2) .

6- وَقال الخطيبُ البغدادي: "معرفةُ العلل أجل أنواع علم الحديث" (3) ، وَقَالَ أيضاً: "فمن الأحاديث ما تخفى علته فلا يوقف عليها إلاّ بعد النظر الشديد، ومضي الزمن البعيد" (4) .

7- وَقَالَ أبو عبد الله الحميدي: "ثلاثةُ كتبٍ من علوم الحديث يجبُ الاهتمامُ بها: كتابُ العلل، وأحسنُ ما وضع فيه كتاب الدّارقُطنيّ، والثاني: كتابُ المؤتلف والمختلف، وأحسنُ ما وضع فيه الإكمال للأمير ابنِ ماكولا، وكتابُ وفيات المشايخ، وليس فيه كتابٌ (5) " (6) .

--------------------------------------------

(1) الجرح والتعديل (2/23) .

(2) معرفة علوم الحديث (ص140، 148) .

(3) الجامع لأخلاق الراوي (2/294) .

(4) المرجع السابق (2/257) .

(5) مراد الحميديّ بقوله: وليس فيه كتاب يريد كتابًا جامعًا وشاملاً لجميع الوفيات- بيّت ذلك ابنُ الصلاح، والذهبي-، وإلاّ فقد ألفت كتبٌ كثيرةٌ في معرفة الوفيات.

(6) السير (19/ 124-125) .
৪- ইবনে আবি হাতিমও বর্ণনা করেছেন: "আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: যিনি সহিহ (صحيح) হাদিসকে এর ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) থেকে পৃথক করতে পারতেন এবং যাঁর নিকট এর পার্থক্য করার ক্ষমতা ছিল এবং যিনি হাদিসের ইলাল (علل) সম্পর্কে পারদর্শী ছিলেন, তিনি হলেন আহমদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মায়িন এবং আলি ইবনুল মাদিনি। আর তাঁদের পরে আবু জুরআহ এতে পারদর্শী ছিলেন। আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: বর্তমান সময়ে এঁরা ছাড়া আপনি আর কাউকে চেনেন কি? তিনি বললেন: না।" (১)।

৫- এবং আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ বলেছেন: "তিনি হাদিস বিজ্ঞানের সাতাশতম প্রকার উল্লেখ করে বলেন: এই প্রকারটি হলো হাদিসের ইলাল (علل) সংক্রান্ত জ্ঞান; আর এটি স্বতন্ত্র একটি বিদ্যা, যা সহিহ (صحيح), ত্রুটিপূর্ণ (سقيم), জারহ (الجرح) এবং তাদিল (التعديل) থেকে ভিন্ন... নিশ্চয়ই হাদিসের ইলাল (علل) সংক্রান্ত জ্ঞান এই শাস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞান।" (২)।

৬- এবং খতিব আল-বাগদাদি বলেছেন: "ইলাল (العلل) সংক্রান্ত জ্ঞান হাদিস বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠতম প্রকার।" (৩), তিনি আরও বলেছেন: "এমন কিছু হাদিস রয়েছে যার ইল্লত (علته) গোপন থাকে, ফলে গভীর পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া ছাড়া তা উদঘাটন করা সম্ভব হয় না।" (৪)।

৭- এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদি বলেছেন: "হাদিস বিজ্ঞানের তিনটি কিতাবের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা আবশ্যক: কিতাবুল ইলাল, আর এ বিষয়ে রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব হলো দারা কুতনির কিতাব। দ্বিতীয়টি হলো: কিতাবুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ, আর এ বিষয়ে রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব হলো আমির ইবনে মাকুলার আল-ইকমাল। এবং মাশায়েখদের মৃত্যুর তারিখ সংবলিত কিতাব (কিতাবুল ওফায়াতিল মাশায়েখ), তবে এতে (এমন কোনো ব্যাপক) কিতাব নেই (৫)।" (৬)।

--------------------------------------------

(১) আল-জারহ ওয়াত তাদিল (২/২৩)।

(২) মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস (পৃ. ১৪০, ১৪৮)।

(৩) আল-জামি লি আখলাকির রাবি (২/২৯৪)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (২/২৫৭)।

(৫) হুমাইদি তাঁর "এতে কোনো কিতাব নেই" কথাটি দ্বারা মৃত্যুর তারিখ (الوفيات) সংক্রান্ত এমন একটি কিতাব বুঝিয়েছেন যা সর্বজনীন ও ব্যাপক—ইবনুস সালাহ এবং আজ-জাহাবি এটি পরিষ্কার করেছেন—অন্যথায় মৃত্যুর তারিখ (الوفيات) সংক্রান্ত অনেক কিতাবই রচিত হয়েছে।

(৬) আস-সিয়ার (১৯/ ১২৪-১২৫)।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১১)
7- وَقال ابنُ الصلاح: ((اعلم أنّ معرفة علل الحديث من أجل علوم الحديث وأدقها وأشرفها، وإنما يضطلع بذلك أهل الحفظ والخبرة والفهم الثاقب)) (1) .

8- وَقال شيخُ الإسلام ابنُ تيمية -عن أهل الحديث أنهم-: "يضعفون من حديث الثقة الصدوق الضابط أشياء تبين لهم أنه غلط فيها بأمور يستدلون بها ويسمون هذا"علم علل الحديث" وهو من أشرف علومهم بحيث يكون الحديث قد رواه ثقة ضابط وغلط فيه" (2) .

9- وَقَالَ ابن القيم: "ومعرفةُ هذا الشأنِ وعللهِ ذوقٌ ونورٌ يقذفه اللهُ في القلبِ يقطعُ به من ذاقه ولا يشك فيه، ومن ليس له هذا الذوق لا شعور له به، وهذا كنقدِ الدراهم لأربابه فيه ذوق ومعرفة ليستا لكبار العلماء، قال محمدُ بن عبد الله بن نمير: قال عبدُ الرحمن بنُ مهديّ: إنَّ معرفةَ الحديثِ إلهام، قال ابنُ نمير: صَدَقَ لو قلتَ له: مِنْ أينَ قلتَ؟ لم يكن له جواب" (3) .

10- وَقَالَ العلائيُّ: "وهذا الفنُ أغمضُ أنواعِ الحديثِ، وأدقها مسلكاً، ولا يقومُ بهِ إلاّ مَنْ منحه اللهُ فهماً غايصاً، واطلاعاً حاوياً، وإدراكاً لمراتب الرواة، ومعرفة ثاقبة، ولهذا لم يتكلم فيه إلاّ أفراد أئمة هذا الشأنِ وحذاقهم كابنِ المدينيّ، والبخاريّ، وأبي زرعة، وأبي حاتم وأمثالهم" (4) .

--------------------------------------------

(1) علوم الحديث (ص81) .

(2) مجموع الفتاوى (13/352، 353) .

(3) الفروسية (ص 235) .

(4) النكت على كتاب ابن الصلاح (2/777) .
7- এবং ইবনুস সালাহ বলেছেন: "জেনে রেখো, হাদিসের ত্রুটি (علل الحديث) বিষয়ক জ্ঞান হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, সূক্ষ্ম এবং মহৎ একটি শাখা। কেবল মুখস্থ শক্তি, অভিজ্ঞতা ও প্রখর বোধশক্তির অধিকারীরাই এতে পারদর্শী হয়ে থাকেন।" (১) ।

8- এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের সম্পর্কে বলেছেন: "তারা নির্ভরযোগ্য (ثقة), সত্যবাদী (صدوق) ও নির্ভুলতা সংরক্ষণকারী (ضابط) বর্ণনাকারীর হাদিসের এমন কিছু অংশকেও দুর্বল (يضعفون) বলে গণ্য করেন, যা বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের নিকট ভুল হিসেবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারা একে 'হাদিসের ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান' (علم علل الحديث) হিসেবে অভিহিত করেন। এটি তাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান, যেখানে হাদিসটি একজন নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুলতা সংরক্ষণকারী (ثقة ضابط) বর্ণনাকারী বর্ণনা করা সত্ত্বেও তাতে ভুল থাকতে পারে।" (২) ।

9- এবং ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: "এই শাস্ত্র এবং এর ত্রুটিগুলো (علله) চেনা এক প্রকার বিশেষ রুচিবোধ ও নূর (আলো), যা আল্লাহ হৃদয়ে ঢেলে দেন। যিনি এর স্বাদ পেয়েছেন, তিনি এ ব্যাপারে নিশ্চিত হন এবং এতে কোনো সন্দেহ পোষণ করেন না। আর যার এই রুচিবোধ নেই, সে এটি অনুভব করতে পারে না। এটি মুদ্রার বিশুদ্ধতা যাচাই করার মতো, যার বিশেষজ্ঞদের মাঝে এমন এক রুচিবোধ ও জ্ঞান থাকে যা বড় বড় আলেমদেরও থাকে না। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর বলেছেন: আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি বলেছেন: 'হাদিস চেনা এক প্রকার ঐশী প্রেরণা (ইলহাম)।' ইবনে নুমাইর বলেন: 'তিনি সত্য বলেছেন; আপনি যদি তাকে জিজ্ঞেস করেন: আপনি এটি কীভাবে বললেন? তবে তার কাছে কোনো উত্তর থাকবে না'।" (৩) ।

10- এবং আল-আলাঈ বলেছেন: "এই শাখাটি হাদিসের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অস্পষ্ট এবং এর পদ্ধতি অত্যন্ত সূক্ষ্ম। আল্লাহ যাকে গভীর অনুধাবন ক্ষমতা, ব্যাপক অধ্যয়ন, বর্ণনাকারীদের (الرواة) স্তরের উপলব্ধি এবং তীক্ষ্ণ জ্ঞান দান করেছেন, তিনি ছাড়া আর কেউ এটি আয়ত্ত করতে পারে না। এই কারণেই এই বিষয়ের কেবল অনন্য ইমাম ও দক্ষ মনীষীরাই কথা বলেছেন, যেমন ইবনুল মাদিনী, বুখারি, আবু যুরআহ, আবু হাতিম এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ।" (৪) ।

--------------------------------------------

(১) উলূমুল হাদিস (পৃষ্ঠা ৮১) ।

(২) মাজমুউল ফাতাওয়া (১৩/৩৫২, ৩৫৩) ।

(৩) আল-ফুরুসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা ২৩৫) ।

(৪) আন-নুকাতি আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ (২/৭৭৭) ।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১২)
11- وَقَالَ ابنُ رجب: "فالجهابذةُ النقادُ العارفون بعللِ الحديثِ أفرادٌ قليلٌ من أهل الحديث جداً، وأوَّل من اشتهر في الكلام في نقد الحديث ابن سيرين، ثم خَلفه أيوب السختياني، وأخَذ ذلك عنه شعبةُ، وأخذ عَنْ شعبة: يحيى القطان وابن مهدي، وأخذ عنهما: أحمدُ وعلى بنُ المديني وابنُ معين، وأخذ عنهم مثل: البخاريّ وأبي داود وأبي زرعة وأبي حاتم، وكان أبو زرعةَ في زمانه يقول: قلَّ من يفهم هذا! ما أعز هذا! إذا رفعت هذا من واحد واثنين فما أقلّ من تجد من يحسنُ هذا، ولما ماتَ أبو زرعة قال أبو حاتم: ذَهَبَ الذي كان يحسن هذا المعنى - يعني: أبا زرعة - ما بقي بمصر ولا بالعراق واحد يحسن هذا، وقيل له بعد موت أبي زرعة: يعرف اليوم واحد يعرف هذا؟ قَالَ: لا، وجاء بعد هؤلاء جماعة منهم النسائي والعُقيلي وابن عدي والدّارقُطنيّ، وقلّ مَن جاء بعدهم مَنْ هو بارع في معرفة ذلك حتى قال أبو الفرج بن الجوزي في أول كتابه الموضوعات: قل من يفهم هذا بل عُدم، والله أعلم" (1) .

- وَقال أيضاً: "وقد ذكرنا في كتاب العلم أنه علم جليل، قلَّ من يعرفه من أهل هذا الشأن، وأنَّ بساطه قد طوي منذ أزمان" (2) .

- وَقال أيضاً: "ذكرنا فيما تقدم في كتاب العلم شرف علم

--------------------------------------------

(1) جامع العلوم والحكم (ص241-242) .

(2) شرح علل الترمذي (2/467) .
১১- ইবনে রজব বলেন: "হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) সম্পর্কে সম্যক অবগত বিচক্ষণ সমালোচকগণ (النقاد) হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) মধ্যে সংখ্যায় অতি নগণ্য। হাদিস সমালোচনা (نقد الحديث) নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে প্রথম যিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন তিনি হলেন ইবনে সিরিন। এরপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি। তাঁর নিকট থেকে এই জ্ঞান গ্রহণ করেন শু'বাহ। শু'বাহর নিকট থেকে ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এবং ইবনুল মাহদি এটি গ্রহণ করেন। তাঁদের উভয়ের নিকট থেকে আহমাদ, আলী ইবনুল মাদিনি এবং ইবনে মাঈন এই জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁদের নিকট থেকে বুখারি, আবু দাউদ, আবু জুরআহ এবং আবু হাতিমের মতো ব্যক্তিগণ এই জ্ঞান অর্জন করেন। আবু জুরআহ তাঁর যুগে বলতেন: ‘খুব কম মানুষই এটি বোঝে! এটি কতই না দুষ্প্রাপ্য! যদি আপনি একে এক বা দুইজন ব্যক্তি থেকে সরিয়ে নেন, তবে খুব কম লোককেই পাবেন যারা এটিতে পারদর্শী।’ যখন আবু জুরআহ ইন্তেকাল করলেন, তখন আবু হাতিম বললেন: ‘যিনি এই বিষয়টি (অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্রের নিগূঢ় তত্ত্ব) অনুধাবন করতে পারতেন তিনি চলে গেলেন — অর্থাৎ আবু জুরআহ — এখন মিসর বা ইরাকে এমন একজনও অবশিষ্ট নেই যিনি এটি বোঝেন।’ আবু জুরআহর মৃত্যুর পর তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: ‘বর্তমানে কি এমন কেউ আছেন যিনি এটি জানেন?’ তিনি বললেন: ‘না।’ তাঁদের পরে একদল মনীষী এসেছেন, যাদের মধ্যে নাসায়ি, উকাইলি, ইবনে আদি এবং দারা কুতনি অন্যতম। তাঁদের পরবর্তীকালে এই বিদ্যায় পারদর্শী ব্যক্তি খুব কমই এসেছেন, এমনকি আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি তাঁর কিতাব আল-মাওদুআত-এর শুরুতে বলেছেন: ‘খুব কম মানুষই এটি বোঝে, বরং এটি এখন বিলুপ্তপ্রায়। আল্লাহই ভালো জানেন।’" (১)।

- তিনি আরও বলেন: "আমরা কিতাবুল ইলম-এ উল্লেখ করেছি যে এটি একটি সুমহান জ্ঞান, যা এই শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের (أهل هذا الشأن) মধ্যে খুব কম লোকই জানেন। দীর্ঘকাল আগেই এর বিস্তার গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে (অর্থাৎ এটি চর্চাহীন হয়ে পড়েছে)।" (২)।

- তিনি আরও বলেন: "আমরা পূর্বে কিতাবুল ইলম-এ এই ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছি...

--------------------------------------------

(১) জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম (পৃ. ২৪১-২৪২)।

(২) শারহু ইলালিত তিরমিজি (২/৪৬৭)।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৩)
العلل وعزته، وأنّ أهله المتحققين به أفراد يسيرة من بين الحفاظ وأهل الحديث، وقد قَالَ أبو عبد الله بن منده: إنّما خص الله بمعرفة هذه الأخبار نفراً يسيراً من كثير ممن يدعي علم الحديث" (1) .

- وَقَالَ أيضاً- بعد ذكره حديث أبي إسحاق، عن الأسود، عن عائشة قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم ينام وهو جنب ولا يمس ماء-: "وهذا الحديث مما اتفق أئمة الحديث من السلف على إنكاره على أبي إسحاق..وأمّا الفقهاء المتأخرون: فكثيرٌ منهم نظر إلى ثقةِ رجالهِ فظنَّ صحته، وهؤلاء يظنون أنَّ كلَّ حديثٍ رواه ثقة فهو صحيحٌ ولا يتفطنون لدقائق علم علل الحديث" (2) .

12- وَقال ابنُ حجر: "المُعَلَّل: وهو من أغمض أنواع علوم الحديث وأدقها، ولا يقوم به إلاّ من رزقه الله فهماً ثاقباً، وحفظاً واسعاً، ومعرفةً تامةً بمراتب الرواة، وملكةً قويةً بالأسانيد والمتون، ولهذا لم يتكلم فيه إلاّ القليل من أهل هذا الشأن؛ كعلي بن المديني، وأحمد ابن حنبل، والبخاري، ويعقوب بن شيبة، وأبي حاتم، وأبي زرعة.." (3) .

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق (2/339) .

(2) فتح الباري لابن رجب (1/362-363) .

(3) نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر (ص43) ، وانظر: النكت على كتاب ابن الصلاح (2/711) .
হাদিসের ত্রুটি (علل) এবং এর দুর্লভতা, আর যারা এতে পারদর্শী তারা হাফেজ (حفاظ) ও হাদিসবিদদের (أهل الحديث) মধ্যে অত্যন্ত নগণ্য সংখ্যক ব্যক্তি। আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ বলেছেন: "হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানের দাবিদার অসংখ্য মানুষের মধ্য থেকে আল্লাহ তাআলা কেবল অল্প কয়েকজন ব্যক্তিকেই এই সকল সংবাদ চেনার বিশেষ জ্ঞান দান করেছেন।" (১) ।

- তিনি আরও বলেছেন—আবু ইসহাক থেকে, আসওয়াদ থেকে এবং আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করার পর (যেখানে বলা হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র অবস্থায় পানি স্পর্শ না করেই ঘুমাতেন): "এই হাদিসটি এমন একটি বিষয় যার ব্যাপারে সালাফের হাদিস বিশারদগণ আবু ইসহাকের বর্ণনার ক্ষেত্রে একে অগ্রহণযোগ্য (إنكار) সাব্যস্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন... আর পরবর্তী যুগের ফকিহদের কথা বলতে গেলে, তাদের অনেকেই বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) দেখে একে বিশুদ্ধ (صحة) মনে করেছেন। তারা ধারণা করেন যে, নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির বর্ণিত প্রতিটি হাদিসই বিশুদ্ধ (صحيহ), অথচ তারা হাদিসের ত্রুটি (علل) বিষয়ক শাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উপলব্ধি করেন না।" (২) ।

12- ইবনে হাজার বলেছেন: "ত্রুটিযুক্ত হাদিস (المعلل): এটি হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে অত্যন্ত জটিল ও সূক্ষ্ম একটি প্রকার। আল্লাহ যাকে তীক্ষ্ণ মেধা, ব্যাপক স্মৃতিশক্তি, বর্ণনাকারীদের স্তর (মারাতীব) সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান এবং সনদ ও মতনের উপর শক্তিশালী দক্ষতা দান করেছেন তিনি ছাড়া অন্য কেউ এই কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। এ কারণেই এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে কেবল অল্প কয়েকজনই এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন; যেমন আলী ইবনুল মাদিনী, আহমাদ ইবনে হাম্বল, বুখারি, ইয়াকুব ইবনে শাইবাহ, আবু হাতিম এবং আবু যুরআহ..." (৩) ।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (২/৩৩৯) ।

(২) ইবনে রজব কৃত ফাতহুল বারী (১/৩৬২-৩৬৩) ।

(৩) নুযহাতুন নাযার ফি তাওদিহি নুখবাতিল ফিকার (পৃ. ৪৩), এবং দেখুন: আন-নুকাত আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ (২/৭১১) ।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৪)
وكلام الأئمة والنقاد في أهميةِ هذا العلم، وشرفهِ، وعزته ودقته كثير، ولعل ما تقدم كافٍ في بيان ذلك.

ومن خلال ما تقدم من النقول يتبين أنَّ أهمية علم العلل ترجع إلى عدة أسباب أبرزها أمران:

الأوَّل: قلةُ العلماء البارعين والمتمكنين من هذا الفن، لعدة أسباب:

1- أنَّ العلة أمر خفيّ فلا تدرك إلاّ بعد النظر الشديد، ومضي الزمن البعيد، وتقدم كلام علي بن المديني، والخطيب البغدادي في ذلك.

2- أنَّ معرفة العلة ومأخذها يحتاج إلى دقة فهم وجودة فكر ونظر، قال ابنُ دقيق العيد- بعد أن طوّل النفس على حديث ابن عباس مرفوعاً: "إذا وقع الرجل بأهله وهي حائض فليتصدق بنصف دينار" وبيَّن علله وناقشها-: "إذا تنبهت لهذه الدقائق التي ذكرناها في هذا الحديث ظهر لك احتياج هذا الفن إلى جودة الفكر والنظر، فإنَّ الأمر ليس بالهيِّن، لا كما يظنه قوم أنه مجرد حفظ ونقل لا يحتاج إلى غيرهما فيه" (1) .

3- الحاجة في هذا الفن إلى الحفظ الواسع، والتقصي في جمع الطرق، قال ابنُ المبارك: "إذا أردتَ أن يصح لك الحديث فاضرب بعضه ببعض" (2) ، وقال علي بنُ المديني: "البابُ إذا لم تجمع طرقه لم يتبين

--------------------------------------------

(1) الإمام (3/268) .

(2) الجامع لأخلاق الراوي (2/295-296) .
এই শাস্ত্রের গুরুত্ব, মর্যাদা, মাহাত্ম্য এবং সূক্ষ্মতা সম্পর্কে ইমাম ও সমালোচকগণের (النقاد) বক্তব্য অনেক, এবং সম্ভবত যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে তা বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।

উপরিউক্ত উদ্ধৃতিগুলোর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) সংক্রান্ত শাস্ত্রের গুরুত্ব কয়েকটি কারণে নিহিত, যার মধ্যে প্রধান দুটি কারণ হলো:

প্রথমত: কয়েকটি কারণে এই শিল্পে পারদর্শী ও দক্ষ আলেমদের স্বল্পতা:

1- হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة) একটি অত্যন্ত গোপন বিষয়, যা গভীর পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘ সময় ব্যয় করা ছাড়া অনুধাবন করা যায় না। এ বিষয়ে আলী ইবনুল মাদিনী এবং খতিব বাগদাদীর বক্তব্য পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

2- সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة) এবং এর উৎস শনাক্ত করার জন্য প্রখর মেধা, উন্নত চিন্তা ও গভীর পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন। ইবনে দাকীক আল-ঈদ—ইবনে আব্বাসের মারফূ (مرفوعاً) হাদিস: "যদি কোনো ব্যক্তি ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, তবে সে যেন অর্ধেক দিনার সদকা করে"—এর ওপর দীর্ঘ আলোচনার পর এবং এর সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علله) বর্ণনা ও পর্যালোচনার পর বলেন: "আমরা এই হাদিসে যে সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি, আপনি যদি সেদিকে লক্ষ্য করেন তবে আপনার নিকট এই শিল্পের জন্য উন্নত চিন্তা ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কেননা বিষয়টি সহজ নয়, যেমনটি কোনো এক সম্প্রদায় মনে করে যে এটি কেবল মুখস্থ করা ও বর্ণনা করার নাম মাত্র, যা অর্জনে অন্য কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই।" (১) .

3- এই বিদ্যায় ব্যাপক মুখস্থশক্তি এবং হাদিসের সূত্রসমূহ (الطرق) সংকলনে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের প্রয়োজন। ইবনুল মুবারক বলেন: "যদি তুমি হাদিসটিকে সহিহ (يصح) রূপে পেতে চাও, তবে এর এক অংশকে অপর অংশের সাথে মিলিয়ে দেখো।" (২) , আলী ইবনুল মাদিনী বলেন: "একটি বিষয়ের বিভিন্ন সূত্রসমূহ (طرقه) একত্রিত করা না হলে তা স্পষ্ট হয় না

--------------------------------------------

(১) আল-ইমাম (৩/২৬৮) .

(২) আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি (২/২৯৫-২৯৬) .
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৫)
خطؤه" (1) ، وقال يحيى بنُ معين: "اكتب الحديث خمسين مرة، فإنّ له آفات كثيرة" (2) .

4- الدقة في معرفة مراتب الثقات، وترجيح بعضهم على بعض عند الاختلاف.

الثاني: أثرُ علم العلل الكبير في تصحيح الحديث وتضعيفه، ولاسيما لمَّا تنوعتْ أخطاء وأوهام الرواة وخفيتْ وغمضتْ، وسرت إلى روايات الثقات بقصد-لأسباب عديدة- وبغير قصد.

قال ابن مفوّز (3) : "..حديثُ أبي إسحاق من رواية الثوريِّ وغيره ِفأجمعَ من تقدم من المحدثين ومن تأخر منهم أنه خطأ منذ زمان أبي إسحاق إلى اليوم … وبعض المتأخرين من الفقهاء الذين لا يعتبرون الأسانيد، ولا ينظرون الطرق يجمعون بينهما بالتأويل، فيقولون: لا يمس ماء للغسل، ولا يصح هذا، وفقهاء المحدثين وحفاظهم على ما أعلمتك" (4) .

وقال ابن رجب: "اعلم أن معرفة صحة الحديث وسقمه تحصل من وجهين: أحدهما: معرفة رجاله وثقتهم وضعفهم ومعرفة هذا هين؛ لأن الثقات والضعفاء قد دونوا في كثير من التصانيف وقد اشتهرت بشرح أحوالهم التواليف.

والوجه الثاني: معرفة مراتب الثقات، وترجيح بعضهم على بعض عند

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق (2/212) .

(2) المرجع السابق.

(3) في المطبوع (ابن معوذ) وهو تصحيف، وهو محمد بن حيدرة يأتي ذكره في أئمة العلل ص33.

(4) تهذيب سنن أبي داود (1/154) .
তার ভুল" (১), এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: "হাদিসটি পঞ্চাশ বার লেখো, কারণ এতে অনেক ত্রুটি (آفات) রয়েছে" (২)।

৪- নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের স্তর (مراتب) নির্ণয়ে সূক্ষ্মতা এবং মতভেদের সময় তাদের একজনকে অন্যজনের ওপর অগ্রাধিকার প্রদান।

দ্বিতীয়ত: হাদিসকে সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) এবং দুর্বল সাব্যস্তকরণের (تضعيف) ক্ষেত্রে ইলমে ইলাল (علم العلل)-এর বিশাল প্রভাব; বিশেষ করে যখন বর্ণনাকারীদের (رواة) ভুলভ্রান্তি ও বিভ্রমগুলো (أوهام) বহুমুখী হয় এবং তা অস্পষ্ট ও গোপন থাকে এবং তা বিভিন্ন কারণে—ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে—নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় অনুপ্রবেশ করে।

ইবনে মুফাওওয়াজ (৩) বলেন: "..সাওরী ও অন্যদের মাধ্যমে বর্ণিত আবু ইসহাকের হাদিসটির ব্যাপারে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মুহাদ্দিস (محدثين) একমত যে, আবু ইসহাকের জামানা থেকে আজ পর্যন্ত এটি একটি ভুল... তবে পরবর্তীকালের কিছু ফকিহ (فقهاء), যারা সনদসমূহের (أسانيد) প্রতি গুরুত্ব দেন না এবং বর্ণনার সূত্রগুলোর (طرق) দিকে লক্ষ্য করেন না, তারা ব্যাখ্যার মাধ্যমে এগুলোর মাঝে সমন্বয় করার চেষ্টা করেন এবং বলেন: গোসলের জন্য পানি স্পর্শ করবে না। অথচ এটি সঠিক নয়; বরং ফকিহ মুহাদ্দিসগণ (محدثين) এবং হাফেজগণ (حفاظ) তা-ই বলেন যা আমি আপনাকে অবগত করেছি" (৪)।

ইবনে রাজাব বলেন: "জেনে রাখুন, হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও ত্রুটিপূর্ণতা (سقم) সম্পর্কে জ্ঞান দুটি উপায়ে অর্জিত হয়: প্রথমটি হলো, এর বর্ণনাকারীদের (رجال) পরিচয় এবং তাদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) ও দুর্বলতা (ضعف) সম্পর্কে জানা। আর এটি জানা সহজ; কারণ নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে অনেক গ্রন্থে সংকলন করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা বর্ণনার ক্ষেত্রে বহু রচনা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

আর দ্বিতীয় উপায়টি হলো: নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের স্তর (مراتب) সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং মতভেদের সময় তাদের একজনকে অন্যজনের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত সূত্র (২/২১২)।

(২) পূর্বোক্ত সূত্র।

(৩) মুদ্রিত কপিতে এটি (ইবনে মুআওয়াজ) এসেছে, যা একটি লিপিক্রমিক ভুল (تصحيف)। তিনি মূলত মুহাম্মদ ইবনে হায়দারা, যাঁর কথা আইম্মাতুল ইলাল (أئمة العلل) এর ৩৩ পৃষ্ঠায় আসবে।

(৪) তাহজীবু সুনানি আবি দাউদ (১/১৫৪)।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৬)
الاختلاف، إمّا في الإسناد، وإمّا في الوصل والإرسال، وإما في الوقف والرفع ونحو ذلك، وهذا هو الذي يحصل من معرفته وإتقانه وكثرة ممارسته الوقوف على دقائق علل الحديث" (1) .

تنبيه:

ربما يُفْهَم من بعضِ الأقوال المتقدمة أنّ علم العلل يحصل في القلب من فراغ بدون عمل ولا طلب، وهذا الفهم غير مراد قطعاً، لكن لمَّا كان علم العلل خفياً ودقيقاً وبحاجةٍ إلى كثرةِ طلبٍ، وسعةِ حفظٍ، وجودةِ فكر ودقةِ نظر، وتوفيق من الله أولا وآخراً، -وهو ما توافر لأولئك النقاد- أصبح عند من لا يحسنه نوعٌ من الكهانة والإلهام.

وهذا التوجيه يتبين من مجموع أقوالهم وأحوالهم، فمن الخطأ أخذ جزء من الكلام وبناء الأحكام عليه، فلا بدّ من ضم الكلام بعضه إلى بعض ليتضح ويتبين المراد، ومما يوضح ذلك قول أبي حاتم لمّا قَالَ له السائل: تدَّعي الغيب؟ قَالَ قلت: ما هذا ادعاء الغيب، قال: فما الدليل على ما تقول؟ قلتُ: سلْ عما قلتُ من يحسن مثل ما أحسن فإن اتفقنا علمتَ أنَّا لم نجازف ولم نقله إلا بفهم، قال: من هو الذي يحسن مثل ما تحسن؟ قلت: أبوزُرْعة … " (2) فقول أبي حاتم" سلْ عما قلتُ من يحسن مثل ما أحسن" يدل على أنه علم يتعلم ويحسنُ معرفتَه من يأخذ بأسبابه، وكذلك قول عبد الرحمن

--------------------------------------------

(1) شرح علل الترمذي (2/663) .

(2) تقدمة الجرح والتعديل (ص349-351) .
বৈচিত্র্য (الاختلاف) হয় কখনো সনদে (الإسناد), কখনো সংযুক্ত (الوصل) ও বিচ্ছিন্ন (الإرسال) হওয়ার ক্ষেত্রে, আবার কখনো মাওকুফ (الوقف) ও মারফু (الرفع) হওয়ার ক্ষেত্রে এবং অনুরূপ বিষয়ে। আর এই বিষয়গুলোর জ্ঞান, দক্ষতা এবং প্রচুর চর্চার মাধ্যমেই হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل الحديث) সম্পর্কে অবগত হওয়া সম্ভব।" (১) .

সতর্কবার্তা:

পূর্বোক্ত কিছু উক্তি থেকে হয়তো এমন ধারণা হতে পারে যে, হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান (علم العلل) কোনো পরিশ্রম বা অন্বেষণ ছাড়াই শূন্য থেকে অন্তরে অর্জিত হয়। এ ধরনের বোধ নিশ্চিতভাবেই কাম্য নয়। তবে এই ‘ইলমুল ইলাল’ (علم العلل) যেহেতু অত্যন্ত প্রচ্ছন্ন ও সূক্ষ্ম এবং এর জন্য প্রচুর জ্ঞানান্বেষণ, প্রখর মুখস্থশক্তি, উন্নত চিন্তাশক্তি, গভীর দৃষ্টি এবং সর্বাগ্রে ও পরিশেষে আল্লাহর তাওফিকের প্রয়োজন—যা সেই সমালোচকদের (النقاد) মাঝে বিদ্যমান ছিল—তাই যারা এই শাস্ত্রে পারদর্শী নয়, তাদের কাছে এটি এক প্রকার গণতগিরি বা ইলহাম বলে মনে হয়।

তাঁদের সামগ্রিক বক্তব্য ও জীবনধারা থেকে এই ব্যাখ্যাটি স্পষ্ট হয়। কোনো বক্তব্যের কেবল একটি অংশ গ্রহণ করে তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত প্রদান করা ভুল। বরং প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হওয়ার জন্য বক্তব্যের সকল অংশকে একত্রে মিলিয়ে দেখা আবশ্যক। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আবু হাতিম-এর সেই উক্তিটি উল্লেখযোগ্য, যখন জনৈক প্রশ্নকারী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "আপনি কি অদৃশ্যের দাবি করছেন?" তিনি বললেন: "আমি বললাম: এটি অদৃশ্যের দাবি নয়।" তিনি বললেন: "তাহলে আপনি যা বলছেন তার প্রমাণ কী?" আমি বললাম: "আমি যা বলেছি সে সম্পর্কে এমন কাউকে জিজ্ঞাসা করুন যিনি এই বিষয়ে আমার মতোই পারদর্শী। যদি আমাদের বক্তব্য মিলে যায়, তবে আপনি বুঝতে পারবেন যে আমরা কোনো অনুমাননির্ভর কথা বলিনি এবং গভীর বোধশক্তি (فهم) ব্যতিরেকে তা উচ্চারণ করিনি।" তিনি বললেন: "আপনার মতো আর কে পারদর্শী আছে?" আমি বললাম: "আবু জুরআ … " (২)। আবু হাতিম-এর এই উক্তি—"আমি যা বলেছি সে সম্পর্কে এমন কাউকে জিজ্ঞাসা করুন যিনি এই বিষয়ে আমার মতোই পারদর্শী"—এটি প্রমাণ করে যে, এটি একটি অর্জিত বিদ্যা যা শিক্ষা করা যায় এবং যারা এর প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ গ্রহণ করবে তারা এতে পারদর্শিতা অর্জন করতে পারবে। অনুরূপভাবে আবদুর রহমানের উক্তি...

--------------------------------------------

(১) শারহু ইলালিত তিরমিজি (২/৬৬৩) ।

(২) তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তাদিল (পৃ. ৩৪৯-৩৫১) ।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৭)
ابن مهدي: "إنكارنا للحديث عند الجهال كهانة"، فتأملْ التعبير"بالجهال" أي ليس عندهم علم بهذا الفن.

قال المعلميُّ: "وهذه الملكة لم يُؤْتَوْها من فراغ، وإنما هي حصاد رحلة طويلة من الطلب، والسماع، والكتابة، وإحصاء أحاديث الشيوخ، وحفظ أسماء الرجال، وكناهم، وألقابهم، وأنسابهم، وبلدانهم، وتواريخ ولادة الرواة ووفياتهم، وابتدائهم في الطلب والسماع، وارتحالهم من بلد إلى آخر، وسماعهم من الشيوخ في البلدان، من سمع في كل بلد؟ ومتى سمع؟ وكيف سمع؟ ومع من سمع؟ وكيف كتابه؟، ثم معرفة أحوال الشيوخ الذين يحدث الراوي عنهم، وبلدانهم، ووفياتهم، وأوقات تحديثهم، وعادتهم في التحديث، ومعرفة مرويات الناس عن هؤلاء الشيوخ، وعرض مرويات هذا الراوي عليها، واعتبارها بها، إلى غير ذلك مما يطول شرحه.

هذا مع سعة الاطلاع على الأخبار المروية، ومعرفة سائر أحوال الرواة التفصيلية، والخبرة بعوائد الرواة ومقاصدهم وأغراضهم، وبالأسباب الداعية إلى التساهل والكذب، وبمظنات الخطأ والغلط، ومداخل الخلل.

هذا مع اليقظة التامة، والفهم الثاقب، ودقيق الفطنة،..وغير ذلك" (1) .

--------------------------------------------

(1) النكت الجياد (1/10) ، وانظر: مقدمة الجرح والتعديل (ب-ج) ، (فتح المغيث (1/273-274) .
ইবনে মাহদী বলেন: "মূর্খদের (الجهال) নিকট আমাদের হাদিস প্রত্যাখ্যান করা (إنكار) যেন গণকগিরি।" সুতরাং 'মূর্খদের' এই শব্দপ্রয়োগটি নিয়ে চিন্তা করুন; অর্থাৎ যাদের এই শিল্প বা শাস্ত্র (الفن) সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই।

মুআল্লিমী বলেন: "এই বিশেষ দক্ষতা (الملكة) তারা শূন্য থেকে লাভ করেননি। বরং এটি হলো জ্ঞান অন্বেষণ (الطلب), শ্রবণ (السماع), লিখন, শায়খদের হাদিসসমূহের পরিসংখ্যান তৈরি, বর্ণনাকারীদের (الرجال) নাম হিফজ করা এবং তাদের উপনাম (كناهم), উপাধি (ألقابهم), বংশপরিচয় (أنسابهم), আবাসস্থল, বর্ণনাকারীদের (الرواة) জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ, তাদের জ্ঞান অন্বেষণ ও শ্রবণের (السماع) সূচনা লগ্ন, এক শহর থেকে অন্য শহরে তাদের সফর এবং বিভিন্ন শহরের শায়খদের থেকে তাদের হাদিস শ্রবণ—কে কোন শহরে শ্রবণ করেছেন? কখন শ্রবণ করেছেন? কীভাবে শ্রবণ করেছেন? কার সাথে শ্রবণ করেছেন? এবং তার পাণ্ডুলিপি কেমন ছিল?—এসব কিছুর এক দীর্ঘ সফরের ফসল। এরপর সেই সব শায়খদের অবস্থা (أحوال) সম্পর্কে অবগত হওয়া যাদের থেকে বর্ণনাকারী (الراوي) বর্ণনা করেন; তাদের শহর, মৃত্যু, হাদিস বর্ণনার (تحديثهم) সময়কাল এবং হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের অভ্যাস সম্পর্কে জানা। তদুপরি ওই শায়খদের থেকে মানুষের বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহ সম্পর্কে জানা এবং এই বর্ণনাকারীর বর্ণিত রেওয়ায়েতগুলোকে সেগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখা ও তুলনামূলক বিচার (اعتبارها) করা এবং আরও অনেক কিছু যার ব্যাখ্যা দীর্ঘ।

এর সাথে প্রয়োজন বর্ণিত সংবাদসমূহ (الأخبار) সম্পর্কে ব্যাপক জানাশোনা, বর্ণনাকারীদের (الرواة) যাবতীয় বিস্তারিত অবস্থা (أحوال) সম্পর্কে অবগত হওয়া, তাদের অভ্যাস, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকা এবং শিথিলতা (التساهল) ও মিথ্যার (الكذب) দিকে ধাবিত করার কারণসমূহ, ভুল ও ভ্রান্তির সম্ভাব্য স্থানসমূহ এবং ত্রুটি প্রবেশের পথগুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখা।

এর সাথে পূর্ণ সতর্কতা, তীক্ষ্ণ অনুধাবন ক্ষমতা, সূক্ষ্ম প্রজ্ঞা এবং আরও অনেক কিছু।" (১) ।

--------------------------------------------

(১) আন-নুকাতুল জিয়াদ (১/১০); আরও দেখুন: মুকাদ্দিমাতুল জারহ ওয়াত তা'দিল (ব-জ), ফাতহুল মুগীস (১/২৭৩-২৭৪)।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الفصل الأول: ذكر أئمة العلل والمصنفات فيه من بداية القرن الثاني إلى نهاية القرن التاسع

‌‌مدخل

…

الفصلُ الأول (1) : ذكر أئمة العلل والمصنفات فيه من بداية القرن الثاني إلى نهاية القرن التاسع

سلكتُ في هذا الفصل الطريقة الآتية:

1- رتبتُ الأعلام حسب وفياتهم.

2- أذكرُ اسم العَلَم كاملاً وكنيته وموطنه ومولده ووفاته ومؤلفاته في العلل –إن وُجدتْ-، فإنْ كانَ كتابهُ مطبوعاً وضعتُ حرف"ط".

3- وفي الحاشية أذكر المرجع الذي نُصَّ فيه على معرفته بالعلل أو مؤلفاته في العلل ثم إن كانت هناك دراسة عن هذا العَلَم وجهوده في الحديث

قلتُ: وفيه مؤلف أو مؤلفات.

وكنتُ في بداية البحث أذكر كلام النقاد في وصف هذا العَلَم بمعرفة العلل، وثنائهم عليه في هذا الفن، وأبين مؤلفاته تفصيلاً ما طُبع وما لم يُطْبع، وأذكر في الحاشية الدراسات عنه وعن جهودهِ في الحديثِ، فإذا بهذا الفصل فقط يتجاوز الحدّ الأعلى المقدر لبحوث هذه الندوة -وهو ستون صفحة- فحذفت هذه المعلومات كلها واكتفيتُ بذكر المرجع الذي نصَّ على معرفته أو مؤلفاته في العلل، ولعلَ الله -بمنّهِ وفضلهِ- أنْ ييسِّر بيانها في وقتٍ آخر.

--------------------------------------------

(1) عُنيتُ في هذا الفصل بذكر كلِّ من وُصِفَ بمعرفةِ العللِ، أو صَنّفَ مصنفاً في العلل.
প্রথম অধ্যায়: দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরু থেকে নবম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত ইল্লাল বা ত্রুটি (العلل) শাস্ত্রের ইমামগণের আলোচনা এবং এতে রচিত গ্রন্থসমূহ

‌উপক্রমণিকা

…

প্রথম অধ্যায় (১): দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরু থেকে নবম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত ইল্লাল বা ত্রুটি (العلل) শাস্ত্রের ইমামগণের আলোচনা এবং এতে রচিত গ্রন্থসমূহ

আমি এই অধ্যায়ে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১- আমি প্রখ্যাত মনীষীদের তাঁদের মৃত্যুসাল অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি।

২- আমি সংশ্লিষ্ট মনীষীর পূর্ণ নাম, কুনিয়াত (উপনাম), আবাসস্থল, জন্মসাল, মৃত্যুসাল এবং ইল্লাল বা ত্রুটি (العلل) বিষয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ—যদি থাকে—উল্লেখ করব। যদি তাঁর কোনো গ্রন্থ মুদ্রিত হয়, তবে আমি 'ত' (ط) অক্ষরটি ব্যবহার করেছি।

৩- আর পাদটীকায় আমি সেই সব সূত্রের উল্লেখ করেছি, যেখানে ইল্লাল বা ত্রুটি (العلل) শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য অথবা এই বিষয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির কথা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এরপর যদি সেই মনীষী এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অবদান সম্পর্কে কোনো গবেষণা বিদ্যমান থাকে—

তবে আমি বলেছি: এতে একটি বা একাধিক গবেষণামূলক গ্রন্থ রয়েছে।

গবেষণার শুরুতে আমি সংশ্লিষ্ট মনীষীর ইল্লাল বা ত্রুটি (العلل) শাস্ত্রের জ্ঞান সম্পর্কে সমালোচক (النقاد) মহোদয়গণের মন্তব্য এবং এই শাস্ত্রে তাঁদের প্রশংসাসমূহ উল্লেখ করছিলাম। এছাড়া তাঁর মুদ্রিত ও অমুদ্রিত গ্রন্থাবলির বিস্তারিত বিবরণ দিচ্ছিলাম এবং পাদটীকায় তাঁকে ও হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অবদান বিষয়ক গবেষণার কথা উল্লেখ করছিলাম। তবে দেখা গেল যে, কেবল এই অধ্যায়টিই এই সেমিনারের প্রবন্ধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা—যা ষাট পৃষ্ঠা—অতিক্রম করে যাচ্ছে। তাই আমি এই সমস্ত তথ্য বাদ দিয়েছি এবং কেবল সেই সূত্রটি উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি, যেখানে ইল্লাল বা ত্রুটি (العلل) শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য অথবা তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির বর্ণনা রয়েছে। আশা করি মহান আল্লাহ—তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায়—অন্য কোনো সময়ে এগুলোর বিস্তারিত বর্ণনার সুযোগ করে দেবেন।

--------------------------------------------

(১) এই অধ্যায়ে আমি এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছি, যাঁকে ইল্লাল বা ত্রুটি (العلل) শাস্ত্রের অভিজ্ঞ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে অথবা যিনি এই বিষয়ে কোনো গ্রন্থ রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌أولاً: أئمة علم العلل:

فمن أئمة العلل والعارفين به:

1- محمَّد بنُ سيرين، أبو بكر البصريّ (33 -110هـ) . (1)

2- وأيوبُ بن أبي تَمِيمَة السَّخْتياني، أبو بكر البصريّ (66 -131هـ) (2) .

3- وشعبةُ بنُ الحجاج، أبو بسطام الواسطي ثم البصري (83-160هـ) (3) .

4- ويحيى بنُ سعيد القطان، أبو سعيد البصريّ (120-198) (4) ، وذكر ابنُ رجب أنَّ هناك مؤلفاً في علل الحديث منقول عنه.

5- وعبد الرحمن بن مَهْدي، أبو سعيد البصريّ (135-198هـ) (5) .

وهما أشهر أهل زمانهما في هذا الفن، وأخذ عنهما من جاء بعدهما من أئمة هذا الشأن.

6- ومُحمَّد بنُ إدريس الشافعيُّ المكي نزيل مصر (150- 204هـ) (6) ، ذكر ابنُ حجر كتابه"اختلاف الحديث ط" ضمن كتب العلل.

--------------------------------------------

(1) شرح علل الترميذي (1/335) ، جامع العلوم والحكم (ص 241-242) .

(2) المرجعين السابقين.

(3) تقدمة الجرح والتعديل (ص157) ، شرح علل الترمذي (1/448) وفيه مؤلف.

(4) تقدمة الجرح والتعديل (ص235) ، مشاهير علماء الأمصار (ص161) ، السير (9/176) ، شرح علل الترمذي (2/892) ، تسمية ما ورد به الخطيب دمشق من الكتب (ص291) ، وفيه مؤلف.

(5) تقدمة الجرح والتعديل (ص235) ، وفيه مؤلفات.

(6) تاريخ مدينة دمشق (51/335) ، كتاب الأربعين المرتبة على طبقات الأربعين (ص241) ، آداب الشافعي ومناقبه لابن أبي حاتم (215) ، مناقب الشافعي للبيهقي (2/5) ، المعجم المفهرس (ص159) ، وفيه مؤلفات.
‌‌প্রথমত: হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটিবিষয়ক বিজ্ঞান (علل الحديث) এর ইমামগণ:

নিগূঢ় ত্রুটি (علل) শাস্ত্রের ইমাম এবং এ বিষয়ে পারদর্শীদের মধ্যে রয়েছেন:

১- মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, আবু বকর আল-বসরি (৩৩-১১০ হিজরি)। (১)

২- আইয়ুব ইবনে আবি তামিমা আস-সাখতিয়ানি, আবু বকর আল-বসরি (৬৬-১৩১ হিজরি) (২)।

৩- শুবা ইবনুল হাজ্জাজ, আবু বিসতাম আল-ওয়াসিতি অতঃপর আল-বসরি (৮৩-১৬০ হিজরি) (৩)।

৪- ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, আবু সাঈদ আল-বসরি (১২০-১৯৮ হিজরি) (৪), ইবনে রজব উল্লেখ করেছেন যে, হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি (علل الحديث) বিষয়ে তাঁর থেকে বর্ণিত একটি সংকলন রয়েছে।

৫- আবদুর রহমান ইবনে মাহদি, আবু সাঈদ আল-বসরি (১৩৫-১৯৮ হিজরি) (৫)।

তাঁরা উভয়ই তাঁদের সময়ের এই শিল্পে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং পরবর্তীকালের এই বিষয়ের ইমামগণ তাঁদের নিকট থেকেই জ্ঞান অর্জন করেছেন।

৬- মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিঈ আল-মাক্কি, মিশরের অধিবাসী (১৫০-২০৪ হিজরি) (৬), ইবনে হাজার তাঁর "ইখতিলাফুল হাদিস" গ্রন্থটিকে নিগূঢ় ত্রুটি (علل) বিষয়ক গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) শারহু ইলালিত তিরমিজি (১/৩৩৫), জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম (পৃ. ২৪১-২৪২)।

(২) পূর্বোক্ত দুটি সূত্র।

(৩) তাকদিমাতুল জারহ ওয়াত তাদিল (পৃ. ১৫৭), শারহু ইলালিত তিরমিজি (১/৪৪৮) এবং এতে একটি সংকলন রয়েছে।

(৪) তাকদিমাতুল জারহ ওয়াত তাদিল (পৃ. ২৩৫), মাশাহিরু উলামাইল আমসার (পৃ. ১৬১), আস-সিয়ার (৯/১৭৬), শারহু ইলালিত তিরমিজি (২/৮৯২), তাসমিয়া মা ওয়ারাদা বিহীন খাতিব দিমাস্ক মিনাল কুতুব (পৃ. ২৯১), এবং এতে একটি সংকলন রয়েছে।

(৫) তাকদিমাতুল জারহ ওয়াত তাদিল (পৃ. ২৩৫), এবং এতে একাধিক সংকলন রয়েছে।

(৬) তারিখু মাদিনাতি দিমাস্ক (৫১/৩৩৫), কিতাবুল আরবাঈন আল-মুরাত্তাবাহ আলা তাবাকাতিল আরবাঈন (পৃ. ২৪১), আদাবুশ শাফিঈ ওয়া মানাকিবুহু লি ইবনি আবি হাতিম (২১৫), মানাকিবুশ শাফিঈ লিল বায়হাকি (২/৫), আল-মুজামুল মুফাহরাস (পৃ. ১৫৯), এবং এতে একাধিক সংকলন রয়েছে।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২০)
7- ومنصور بن سلمة أبو سلمة الخزاعي البغدادي (بعد140-210?) (1) .

8- ويحيى بن معين أبو زكريا البغداديّ (158-233هـ) (2) ،له مصنف في"العلل"، وذكر ابنُ رجب أنَّ هناك مؤلفاً في علل الحديث منقول عن ابن معين.

9- وعلي بن عبد الله المديني أبو الحسن البصريّ (161-234هـ) (3) ، وهو مِنْ أبرز مَنْ أظهر هذا الفن وشهره، وأكثر فيه التصنيف، وقد استفاضت شهرته بهذا الفن، قَالَ الذّهليُّ: ((رأيتُ لعلي بن المديني كتاباً على ظَهره مكتوب المائة والنيف والستين من علل الحديث)) ، ومن الكتب التي سُمِّيتْ له في باب العلل: علل المسند، العلل كتبها عنه إسماعيل القاضي، علل حديث ابن عيينة، العلل المتفرقة، العلل رواية أبي الحسن محمد بن أحمد بن البراء"ط"، واختلاف الحديث.

وعن ابن المديني أخذ هذا العلم: البخاريُّ، ويعقوبُ بنُ شيبة، وأبوزُرْعة، وأبو حاتم وغيرهم من المبرزين في هذا الفن.

10- ومُحمَّد بن عبد الله بن نُمير أبو عبد الرحمن الكوفي (؟ -234هـ) (4) .

--------------------------------------------

(1) السير (9/561) ، تاريخ بغداد (13/70) .

(2) تقدمة الجرح والتعديل (ص314) ، ذكر أخبار أصبهان (1/218) ، شرح علل الترمذي (2/892) ، وفيه مؤلفات.

(3) تقدمة الجرح والتعديل (ص319) ، الثقات (8/469) ، معرفة علوم الحديث (ص89) ، الجامع لأخلاق الراوي (2/295، 302) ، ميزان الاعتدال (5/170) ، شرح علل الترمذي (1/486) ، هدي الساري (ص346) ، علي بن المديني ومنهجه في نقد الرجال (ص262) ، وفيه مؤلفات.

(4) تقدمة الجرح والتعديل (ص327) ، وفيه مؤلف.

??
৭- এবং মনসুর বিন সালামাহ আবু সালামাহ আল-খুজায়ি আল-বাগদাদি (১৪০ হিজরির পর-২১০?) (১)।

৮- এবং ইয়াহইয়া বিন মাইন আবু জাকারিয়া আল-বাগদাদি (১৫৮-২৩৩ হিজরি) (২), হাদিসের ত্রুটি (العلل) বিষয়ে তার একটি সংকলন রয়েছে এবং ইবনে রাজাব উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে মাইন থেকে বর্ণিত হাদিসের ত্রুটি (علل الحديث) সংক্রান্ত একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

৯- এবং আলি বিন আব্দুল্লাহ আল-মাদিনি আবু আল-হাসান আল-বাসরি (১৬১-২৩৪ হিজরি) (৩), তিনি এই শাস্ত্রকে প্রকাশ ও সুপরিচিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং এতে সর্বাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই শাস্ত্রে তার খ্যাতি অত্যন্ত ব্যাপক। আয-যুহলি বলেন: "আমি আলি বিন আল-মাদিনির একটি কিতাব দেখেছি যার ওপর লেখা ছিল— হাদিসের ত্রুটি (علل الحديث) বিষয়ক একশত ষাটেরও বেশি বিষয়।" তার ইলাল (العلل) বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইলালুল মুসনাদ, আল-ইলাল (যা তার থেকে ইসমাইল আল-কাদি লিপিবদ্ধ করেছেন), ইলালু হাদিস ইবনে উইয়াইনাহ, আল-ইলাল আল-মুতাফাররিকাহ, আল-ইলাল (আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-বাররা-এর বর্ণনা "মুদ্রিত"), এবং ইখতিলাফুল হাদিস।

আর ইবনুল মাদিনির নিকট থেকে এই শাস্ত্র অর্জন করেছেন: বুখারি, ইয়াকুব বিন শাইবাহ, আবু যুরআহ, আবু হাতিম এবং এই শাস্ত্রের অন্যান্য বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ।

১০- এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর আবু আব্দুর রহমান আল-কুফি (?-২৩৪ হিজরি) (৪)।

--------------------------------------------

(১) আস-সিয়ার (৯/৫৬১), তারিখ বাগদাদ (১৩/৭০)।

(২) তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তাদিল (পৃ. ৩১৪), যিকর আখবার আসবাহান (১/২১৮), শারহু ইলালিত তিরমিজি (২/৮৯২), এবং এতে বিভিন্ন রচনা রয়েছে।

(৩) তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তাদিল (পৃ. ৩১৯), আস-সিকাত (৮/৪৬৯), মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস (পৃ. ৮৯), আল-জামি লি-আখলাকির রাওয়ি (২/২৯৫, ৩০২), মিজানুল ইতিদাল (৫/১৭০), শারহু ইলালিত তিরমিজি (১/৪৮৬), হাদি আস-সারি (পৃ. ৩৪৬), আলি বিন আল-মাদিনি ওয়া মানহাজুহু ফি নাকদির রিজাল (পৃ. ২৬২), এবং এতে বিভিন্ন রচনা রয়েছে।

(৪) তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তাদিল (পৃ. ৩২৭), এবং এতে একটি গ্রন্থ রয়েছে।

??
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২১)
11- أحمد بن سعيد أبو جعفر الدارمي السرخسي (بعد180 -235هـ) (1) .

12 وإسحاق بنُ راهويه أبو يعقوب النَّيْسَابوريّ (161-239هـ) (2) .

13- وأحمد بن حنبل أبو عبد الله المروزي نزيل بغداد (164-241هـ) (3) ، ونُقِلَ عنه كلام كثير في العلل من رواية ابنيه: عبد الله وصالح، ومن رواية: المروذي، والميموني والأثرم، وخطاب بن بشر وغيرهم، وقد طُبع كثير منها.

14- ومُحمَّد بن عبد الله بن عمّار أبو جعفر البغدادي نزيل الموصل (162-242?) (4) ، له كتاب كبير ونفيس في"عِلل الحديث ومعرفة الشيوخ".

15- وعبد الرحمن بن إبراهيم أبو سعيد الدمشقي يعرف بدُحَيْم (170 – 245هـ) (5) .

16- وأحمد بن الحسن بن جُنَيدب أبو الحسن الترمذيّ (؟ -بين 241و250هـ) (6) .

17- وأحمد بن حميد أبو زُرْعة الجُرْجَانيّ الصيدلاني (؟ -؟) (7) ،وأبو زُرْعة هذا غير أبي زُرْعة الكَشِّي محمد بن يوسف الجُرْجَانيّ (ت390هـ) .

--------------------------------------------

(1) السير (12/234) .

(2) شرح علل الترمذي (1/483) ، وفيه مؤلف.

(3) تقدمة الجرح والتعديل (ص314) ، الضعفاء الكبير (3/239) ، السير (11/331) ، المعجم المفهرس (ص158) ، وفيه مؤلفات ودراسات تزيد على تسعين دراسة، أكثرها في الحديث وعلومه، وذكر ابنُ رجب في كتابه "الرد على من اتبع غير المذاهب الأربعة" (ص41) أنّ أحمد أعلم الحفاظ بعلل الآثار الموقوفة.

(4) تاريخ بغداد (5/417) ، تهذيب الكمال (25/511) ، السير (11/469) .

(5) السير (11/515)

(6) تهذيب الكمال (1/292) ، السير (12/156-157) .

(7) تاريخ جرجان (ص61،412-413) ، السير (17/44-45) .
১১- আহমাদ বিন সাঈদ আবু জাফর আদ-দারিমি আস-সারখাসি (১৮০ হিজরির পর - ২৩৫ হিজরি) (১)।

১২ এবং ইসহাক বিন রাহাওয়াইহ আবু ইয়াকুব আন-নাইসাবুরি (১৬১-২৩৯ হিজরি) (২)।

১৩- এবং আহমাদ বিন হাম্বল আবু আব্দুল্লাহ আল-মারওয়াজি, যিনি বাগদাদে বসবাস করতেন (১৬৪-২৪১ হিজরি) (৩); তার দুই পুত্র: আব্দুল্লাহ ও সালিহ-এর বর্ণনা এবং আল-মারুজি, আল-মাইমুনি, আল-আহরাম, খাত্তাব বিন বিশর ও অন্যদের বর্ণনার মাধ্যমে তার থেকে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) বিষয়ে প্রচুর বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে, যার অনেকগুলোই মুদ্রিত হয়েছে।

১৪- এবং মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার আবু জাফর আল-বাগদাদি, যিনি মুসিলে বসবাস করতেন (১৬২-২৪২? হিজরি) (৪); "ইলালুল হাদিস ওয়া মা'রিফাতুশ শুয়ুখ" বিষয়ে তার একটি বৃহৎ ও মূল্যবান কিতাব রয়েছে।

১৫- এবং আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম আবু সাঈদ আদ-দামেশকি, যিনি দুহাইম নামে পরিচিত (১৭০ – ২৪৫ হিজরি) (৫)।

১৬- এবং আহমাদ বিন আল-হাসান বিন জুনাইদাব আবু আল-হাসান আত-তিরমিজি (? - ২৪১ থেকে ২৫০ হিজরির মধ্যে) (৬)।

১৭- এবং আহমাদ বিন হুমাইদ আবু জুরআ আল-জুরজানি আস-সাইদালানি (? - ?) (৭); আর এই আবু জুরআ তিনি নন যিনি আবু জুরআ আল-কাশশি মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-জুরজানি (মৃত্যু ৩৯০ হিজরি)।

--------------------------------------------

(১) আস-সিয়ার (১২/২৩৪)।

(২) শারহু ইলালিত তিরমিজি (১/৪৮৩), এতে একটি রচনা রয়েছে।

(৩) তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তা'দিল (পৃ. ৩১৪), আদ-দুয়াফাউল কাবির (৩/২৩৯), আস-সিয়ার (১১/৩৩১), আল-মু'জামুল মুফাহরাস (পৃ. ১৫৮); এতে নব্বইটিরও বেশি রচনা ও গবেষণা রয়েছে, যার অধিকাংশই হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (علوم الحديث) সংক্রান্ত। ইবনে রজব তার "আর-রাদ্দু আলা মান ইত্তাবা'আ গইরাল মাজাহিবিল আরবা'আহ" কিতাবে (পৃ. ৪১) উল্লেখ করেছেন যে, আহমাদ সাহাবিদের থেকে বর্ণিত বর্ণনার সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل الآثار الموقوفة) সম্পর্কে হাফেজদের (الحفاظ) মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন।

(৪) তারিখ বাগদাদ (৫/৪১৭), তাহজিবুল কামাল (২৫/৫১১), আস-সিয়ার (১১/৪৬৯)।

(৫) আস-সিয়ার (১১/৫১৫)

(৬) তাহজিবুল কামাল (১/২৯২), আস-সিয়ার (১২/১৫৬-১৫৭)।

(৭) তারিখ জুরজান (পৃ. ৬১, ৪১২-৪১৩), আস-সিয়ার (১৭/৪৪-৪৫)।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২২)
18- وأحمد بن صالح أبو جعفر المِصْري (175-248هـ) (1) .

19- وعَمْرو بنُ علي الفلاّس أبو حفص البصريّ (؟ -249هـ) (2) ، له مصنف في" العلل".

20- وعبد الله بن عبد الرحمن التميمي أبو محمد الدارميّ (181-255هـ) (3) .

21- ومُحمَّد بن إسماعيل الجعفيّ أبوعبد الله البخاريّ (194-256هـ) (4) ، له مصنف في"العلل"، وهو ممن استفاضت شهرته بهذا الفن.

22- ومُحمَّد بن يحيى الذُّهْلِيُّ أبو عبد الله النَّيْسَابوريّ (بعد 170-258هـ) (5) له مصنف في"علل حديث الزهري".

23- ويحيى بن إبراهيم بن مُزيّن أبو زكريا الأندلسيّ (؟ -260هـ) (6) ، له مصنف في علل الموطأ اسمه"المُسْتَقْصِية".

24- ومسلم بن الحجاج القُشيري أبوالحسين النَّيْسَابوريّ (204-261هـ) (7) ، له عدد من المصنفات في العلل منها كتاب"التمييز ط"،" والعلل"، و"جزء ما استنكر أهل العلم من حديث عمرو بن شعيب".

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد (4/195، 199) .

(2) التهذيب (8/81) ، الإعلان بالتوبيخ (ص586) ، تسمية ما ورد به الخطيب دمشق من الكتب (ص291) ، وفيه مؤلف.

(3) شرح علل الترمذي (1/ 337) ، السير (12/227) ، وفيه مؤلف.

(4) هدي الساري (ص492) ، المعجم المفهرس (ص158) ، شرح علل الترمذي (1/32) ، السير (12/227) ، وفيه مؤلفات.

(5) السير (12/227، 284) ، وكتاب الذهلي ينقل عنه ابن خزيمة، والبيهقي، وابن عبد البر، وابن عساكر، والذهبي وابن حجر – والعلل من مروياته كما في آخر تغليق التعليق- وغيرهم.

(6) فهرست ابن خير (ص92) ، تاريخ العلماء بالأندلس (2/178) ، الديباج المذهب (2/361) .

(7) السير (12/227) ،طبقات الشافعية الكبرى (4/ 158) ، المعجم المفهرس (ص159) ، وفيه مؤلف.
১৮- এবং আহমদ ইবনে সালেহ আবু জাফর আল-মিসরি (১৭৫-২৪৮ হিজরী) (১)।

১৯- এবং আমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাস আবু হাফস আল-বাসরি (? -২৪৯ হিজরী) (২), 'সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل)' বিষয়ে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে।

২০- এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আত-তামিমি আবু মুহাম্মদ আদ-দারিমি (১৮১-২৫৫ হিজরী) (৩)।

২১- এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-জুফি আবু আবদুল্লাহ আল-বুখারি (১৯৪-২৫৬ হিজরী) (৪), 'সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل)' বিষয়ে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে, এবং তিনি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের খ্যাতি এই শিল্পে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

২২- এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আজ-জুহলি আবু আবদুল্লাহ আন-নাইসাবুরি (১৭০ হিজরীর পর-২৫৮ হিজরী) (৫), 'ইলাল হাদিস আজ-জুহরি' (জুহরি-র হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل)) বিষয়ে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে।

২৩- এবং ইয়াহইয়া ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুজাইন আবু জাকারিয়া আল-আন্দালুসি (? -২৬০ হিজরী) (৬), মুয়াত্তার সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) বিষয়ে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে যার নাম 'আল-মুস্তাকসিয়া'।

২৪- এবং মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরি আবু আল-হুসাইন আন-নাইসাবুরি (২০৪-২৬১ হিজরী) (৭), সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) বিষয়ে তাঁর বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে 'আত-তাময়িজ', 'আল-ইলাল' এবং 'জুযউ মা উসতানকারা (استنكر) আহলুল ইলম মিন হাদিস আমর ইবনে শুআইব' (আমর ইবনে শুআইবের হাদিস থেকে জ্ঞানীদের নিকট যা অস্বীকৃত (استنكر) হয়েছে এমন অংশ)।

--------------------------------------------

(১) তারিখ বাগদাদ (৪/১৯৫, ১৯৯)।

(২) আত-তাহজিব (৮/৮১), আল-ই'লান বিত-তাওবিহ (পৃ. ৫৮৬), তাসমিয়া মা ওয়ারাদা বিহি আল-খাতিব দিমাস্ক মিনাল কুতুব (পৃ. ২৯১), এবং এতে গ্রন্থ রয়েছে।

(৩) শারহ ইলাল আত-তিরমিজি (১/৩৩৭), আস-সিয়ার (১২/২২৭), এবং এতে গ্রন্থ রয়েছে।

(৪) হাদয়ুস সারি (পৃ. ৪৯২), আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস (পৃ. ১৫৮), শারহ ইলাল আত-তিরমিজি (১/৩২), আস-সিয়ার (১২/২২৭), এবং এতে গ্রন্থসমূহ রয়েছে।

(৫) আস-সিয়ার (১২/২২৭, ২৮৪), এবং আজ-জুহলির গ্রন্থ থেকে ইবনে খুজাইমাহ, আল-বায়হাকি, ইবনে আব্দুল বারর, ইবনে আসাকির, আদ-দাহাবি এবং ইবনে হাজার উদ্ধৃতি দিয়েছেন – এবং 'আল-ইলাল' তাঁর বর্ণিত বিষয়সমূহের (مرويات) অন্তর্ভুক্ত যেমনটি তাগলিক আত-তালিক-এর শেষে রয়েছে – এবং অন্যান্যরা।

(৬) ফিহরিস্ট ইবনে খাইর (পৃ. ৯২), তারিখুল উলামা বিল আন্দালুস (২/১৭৮), আদ-দিবাজ আল-মুজাহহাব (২/৩৬১)।

(৭) আস-সিয়ার (১২/২২৭), তাবাকাত আশ-শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (৪/১৫৮), আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস (পৃ. ১৫৯), এবং এতে গ্রন্থ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৩)
25- ومُحمَّد بن علي بن حمزة أبو علي المروزيّ (؟ -261هـ) (1) .

26- ويعقوبُ بنُ شيبة السّدُوسي أبو يوسف البصريّ، نزيل بغداد (182-262هـ) (2) ، صاحب كتاب"المسند المعلل".

27- وعبيدُ الله بنُ عبد الكريم أبوزُرْعة الرَّازيّ (194-264هـ) (3) ، له مصنف في" العلل".

28- وإسماعيل بن عبد الله بن مسعود أبو بشر الأصبهاني (190- 267هـ) (4) ، له مصنف في العلل.

29- وأحمد بن مُحمَّد بن هانئ الأثرم أبو بكر البغداديُّ (؟ -273هـ) (5) ، صاحبُ أحمد بن حنبل، له مصنف في"علل الحديث".

30- وسليمان بن الأشعث أبو داود السجستاني (202-275هـ) (6) .

31- وبقيّ بن مَخلد أبو عبد الرحمن الأندلسيّ (201-276هـ) (7) .

32-ومُحمَّد بن إدريس الحنظليُّ أبو حَاتم الرَّازيّ (195-277هـ) (8) ، له

--------------------------------------------

(1) تهذيب الكمال (26/143) ، التهذيب (9/352) .

(2) تذكرة الحفاظ (2/577) ، وقد حققتُ–ولله الحمد والمنة والفضل- الجزء الموجود من مسند أمير المؤمنين عمر بن الخطاب، وطبع 1423?، دار الغرباء، وفيه مؤلف.

(3) تسمية ما ورد به الخطيب دمشق من الكتب (ص291) ، أبو زرعة الرازي وجهوده في السنة (1/188) ، موارد الخطيب (ص322) . وأبوزُرْعة من مصادر ابن أبي حاتم المباشرة في كتاب العلل، ونُقول ابن أبي حاتم عنه تدل على إمامته في هذا الفن، وفيه مؤلف.

(4) السير (13/10) ، فتح المغيث (2/378) .

(5) تاريخ بغداد (5/110) ، المعجم المفهرس (ص158) .

(6) تاريخ بغداد (9/58) ، وفيه مؤلف.

(7) تاريخ مدينة دمشق (10/354) ، وفيه مؤلف.

(8) توضيح المشتبه (1/225، 5/285، 7/174) ، وأبوحَاتم من مصادر ابنه في كتاب العلل، ونقولُ ابنهِ عنه تدل على إمامته في هذا الفن، وفيه مؤلف.

??
২৫- এবং মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হামজা আবু আলী আল-মারওয়াজি (?-২৬১ হিজরি) (১)।

২৬- এবং ইয়াকুব ইবনে শায়বা আস-সাদূসী আবু ইউসুফ আল-বাসরী, বাগদাদের অধিবাসী (১৮২-২৬২ হিজরি) (২), যিনি "আল-মুসনাদ আল-মুআল্লাল" গ্রন্থের লেখক।

২৭- এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল কারিম আবু যুরআ আর-রাজি (১৯৪-২৬৪ হিজরি) (৩), 'ক্রুটিসমূহ (العلل)' বিষয়ে তাঁর একটি সংকলন রয়েছে।

২৮- এবং ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আবু বিশর আল-আসবাহানি (১৯০-২৬৭ হিজরি) (৪), ক্রুটিসমূহ (العلل) বিষয়ে তাঁর একটি সংকলন রয়েছে।

২৯- এবং আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হানি আল-আছরাম আবু বকর আল-বাগদাদি (?-২৭৩ হিজরি) (৫), আহমদ ইবনে হাম্বলের সঙ্গী, হাদিসের ক্রুটিসমূহ (علل الحديث) বিষয়ে তাঁর একটি সংকলন রয়েছে।

৩০- এবং সুলাইমান ইবনুল আশআছ আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি (২০২-২৭৫ হিজরি) (৬)।

৩১- এবং বাকি ইবনে মাখলাদ আবু আব্দুর রহমান আল-আন্দালুসি (২০১-২৭৬ হিজরি) (৭)।

৩২- এবং মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আল-হানজালি আবু হাতিম আর-রাজি (১৯৫-২৭৭ হিজরি) (৮), তাঁর

--------------------------------------------

(১) তাহযীব আল-কামাল (২৬/১৪৩), আত-তাহযীব (৯/৩৫২)।

(২) তাযকিরাত আল-হুফফাজ (২/৫৭৭), এবং আমি তাহকিক করেছি—আল্লাহরই সমস্ত প্রশংসা, অনুগ্রহ ও কৃপা—আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাবের মুসনাদের বিদ্যমান অংশটি, যা ১৪২৩ হিজরিতে দারুল গুরাবা থেকে মুদ্রিত হয়েছে, এবং এতে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে।

(৩) তাসমিয়া মা ওয়ারাাদা বিহি আল-খতিব দিমাশকাল মিনাল কুতুব (পৃ. ২৯১), আবু যুরআ আর-রাজি ওয়া জুহুহুহু ফিস সুন্নাহ (১/১৮৮), মাওয়ারিদ আল-খতিব (পৃ. ৩২২)। আর আবু যুরআ হলেন 'কিতাবুল ইলাল'-এ ইবনে আবি হাতিমের সরাসরি উৎসসমূহের অন্যতম, এবং তাঁর থেকে ইবনে আবি হাতিমের উদ্ধৃতিগুলো এই বিদ্যায় তাঁর পারদর্শিতার (إمامة) প্রমাণ দেয়, এবং এতে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে।

(৪) আস-সিয়ার (১৩/১০), ফাতহুল মুগীস (২/৩৭৮)।

(৫) তারিখ বাগদাদ (৫/১১০), আল-মুজাম আল-মুফাহরাস (পৃ. ১৫৮)।

(৬) তারিখ বাগদাদ (৯/৫৮), এবং এতে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে।

(৭) তারিখ মদিনাত দিমাশক (১০/৩৫৪), এবং এতে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে।

(৮) তাওযীহ আল-মুশতাবিহ (১/২২৫, ৫/২৮৫, ৭/১৭৪), এবং আবু হাতিম তাঁর পুত্রের 'কিতাবুল ইলাল'-এর অন্যতম উৎস, এবং তাঁর থেকে তাঁর পুত্রের উদ্ধৃতিগুলো এই বিদ্যায় তাঁর পারদর্শিতার (إمامة) পরিচয় দেয়, এবং এতে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে।

(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৪)
مصنف في"العلل"–رواية محمد بن إبراهيم الكتاني-.

33-ومُحمَّد بن عيسى أبو عيسى الترمذيّ (209-279هـ) (1) ، له كتب منها"العلل"- طبع باسم العلل الكبير وهو ترتيب القاضي أبي طالب-، وختم كتابه السنن بكتاب العلل، وهو الذي شرحه ابن رجب - ضمن شرحه للسنن - شرحاً نفيساً.

34-وعبد الرحمن بن عَمرو أبو زُرْعة الدمشقيُّ (قبل200-280هـ) (2) ، له مصنف في"العلل".

35-وأحمد بن محمد بن عيسى أبو العباس البِرْتي (200-280هـ) (3) .

36- وإبراهيم بن الحسين أبو إسحاق الهمَذَاني (قبل200-281هـ) (4) .

37- وإبراهيمُ بنُ إسحاق أبو إسحاق الحربي البغداديّ (198-285هـ) (5) ، له مصنف في"العلل".

38- وأحمد بن عمرو بن أبي عاصم الشيباني أبو بكر البصري (206-287هـ) (6) ، له مصنف في"علل حديث الزهري".

--------------------------------------------

(1) التذكرة (2/633) ، السير (13/270) .

(2) ذيل تاريخ مولد العلماء (ص78) ، طبقات الحنابلة (1/205) ، الرياض النضرة (ص151) ، كشف الظنون (2/1440) ، السير (13/311) .

(3) العبر (1/296) ، السير (13/407) .

(4) السير (13/184) .

(5) تاريخ بغداد (6/ 28) ، وكتابه ""العلل" ينقل عنه ابنُ حجر وغيره، انظر: تهذيب التهذيب (7/207) ، (11/193) ، ومغلطاي في شرحه لابن ماجه (2/675) .

(6) الآحاد والمثاني (1/238، 240، 4/342،317، 5/429، 6/17) .
ত্রুটি (العلل) বিষয়ক একটি সংকলন – মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-কাত্তানির বর্ণনা।

৩৩-এবং মুহাম্মদ বিন ঈসা আবু ঈসা আত-তিরমিজি (২০৯-২৭৯ হি.) (১), তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে যার মধ্যে একটি হলো "আল-ইল্লাল" – যা 'আল-ইল্লাল আল-কাবীর' নামে মুদ্রিত এবং এটি কাজি আবু তালিব কর্তৃক বিন্যস্ত–। তিনি তাঁর সুনান গ্রন্থটি 'কিতাবুল ইল্লাল' দ্বারা সমাপ্ত করেছেন এবং এটিই সেই গ্রন্থ যার একটি চমৎকার ব্যাখ্যা ইবনে রাজাব তাঁর সুনানের ব্যাখ্যার অংশ হিসেবে প্রদান করেছেন।

৩৪-এবং আব্দুর রহমান বিন আমর আবু জুরআ আদ-দিমাশকি (২০০ হিজরির পূর্বে-২৮০ হি.) (২), তাঁর ত্রুটি (العلل) বিষয়ক একটি সংকলন রয়েছে।

৩৫-এবং আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা আবুল আব্বাস আল-বিরতি (২০০-২৮০ হি.) (৩)।

৩৬- এবং ইব্রাহিম বিন আল-হুসাইন আবু ইসহাক আল-হামদানি (২০০ হিজরির পূর্বে-২৮১ হি.) (৪)।

৩৭- এবং ইব্রাহিম বিন ইসহাক আবু ইসহাক আল-হারবি আল-বাগদাদি (১৯৮-২৮৫ হি.) (৫), তাঁর ত্রুটি (العلل) বিষয়ক একটি সংকলন রয়েছে।

৩৮- এবং আহমদ বিন আমর বিন আবি আসিম আশ-শাইবানি আবু বকর আল-বাসরি (২০৬-২৮৭ হি.) (৬), তাঁর "যুহরির হাদিসের ত্রুটি (العلل)" বিষয়ে একটি সংকলন রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আত-তাযকিরা (২/৬৩৩), আস-সিয়ার (১৩/২৭০)।

(২) জাইলু তারিখি মাওলিদিল উলামা (পৃ. ৭৮), তাবাকাতুল হানাবিলা (১/২০৫), আর-রিয়াদুন নাদিরা (পৃ. ১৫১), কাশফুয যুনুন (২/১৪৪০), আস-সিয়ার (১৩/৩১১)।

(৩) আল-ইবার (১/২৯৬), আস-সিয়ার (১৩/৪০৭)।

(৪) আস-সিয়ার (১৩/১৮৪)।

(৫) তারিখু বাগদাদ (৬/২৮), তাঁর "আল-ইল্লাল" গ্রন্থ থেকে ইবনে হাজার ও অন্যান্যরা উদ্ধৃতি দিয়েছেন, দেখুন: তাহযিবুত তাহযিব (৭/২০৭), (১১/১৯৩) এবং মুগলতাই তাঁর সুনান ইবনে মাজাহ-এর ব্যাখ্যায় (২/৬৭৫)।

(৬) আল-আহাদ ওয়াল মাসানি (১/২৩৮, ২৪০, ৪/৩৪২, ৩১৭, ৫/৪২৯, ৬/১৭)।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৫)
39- ومُحمَّد بن وَضَّاح المرواني أبو عبد الله القرطبيّ (199-287هـ) (1) .

40-وإبراهيم بن نصر أبو إسحاق الأندلسيّ يعرف بابن أبْرول (؟ 287هـ) (2) .

41-وعبد الله بن أحمد بن حنبل أبوعبد الرحمن البغداديّ (213-290هـ) (3) ، له كتاب في"العلل".

42- وعلي بن الحُسين بن الجُنَيْد أبو الحسن الرَّازيّ (؟ -291هـ) (4) .

43- وأحمد بن عمرو بن عبد الخالق البزار أبو بكر البصريّ (نيف عشرة ومائتين-292هـ) (5) ، صنّف"المسند الكبير المعلل"، وطبع أجزاء منه.

44- ومُوسى بنُ هارون أبو عِمران الحمّال البغداديّ (241-294هـ) (6) .

45- وعبدُ الله بنُ مُحمَّد أبو علي البلخيّ (؟ -295هـ) (7) ،له مصنف في"العلل".

46- وإبراهيمُ بنُ أبي طالب أبو إسحاق النَّيْسَابوريّ (؟ -295هـ) (8) ، له مصنف في"العلل".

--------------------------------------------

(1) تاريخ العلماء بالأندلس (2/18) ، العبر (1/412) ، وفيه مؤلف.

(2) تاريخ العلماء بالأندلس (1/20) .

(3) سنن البيهقي (8/37) ، الضعفاء الكبير (3/239) ، التذكرة (2/665) ، فتح الباري (3/474) .

(4) التذكرة (2/671) ، طبقات علماء الحديث (2/387) ، وقد حدّث عنه ابنُ أبي حاتم وسأله عدة أسئلة في العلل وغيرها وسماه "حافظ حديث الزهري ومالك"، انظر: علل ابن أبي حاتم (المسألة رقم 2808،891، 1858، 1004) ، تاريخ دمشق (41/354) .

(5) تاريخ بغداد (4/334) ، اختصار علوم الحديث-مع شرحه الباعث الحثيث- (ص64) ، التذكرة (2/653) .

(6) تاريخ بغداد (12/36) ، العبر (1/427) .

(7) السير (13/529) ، التذكرة (2/690) .

(8) التذكرة (2/638) ، وانظر السير (12/227، 13/547) .
39- এবং মুহাম্মদ বিন ওয়াদদাহ আল-মারওয়ানি আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবি (১৯৯-২৮৭ হিজরি) (১)।

40-এবং ইবরাহিম বিন নাসর আবু ইসহাক আল-আন্দালুসি, যিনি ইবনে আবরুল নামে পরিচিত (? - ২৮৭ হিজরি) (২)।

41-এবং আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আবু আব্দুর রহমান আল-বাগদাদি (২১৩-২৯০ হিজরি) (৩), তাঁর 'ইলাল' বিষয়ক একটি কিতাব রয়েছে।

42-এবং আলী বিন আল-হুসাইন বিন আল-জুনাইদ আবু আল-হাসান আর-রাজি (? - ২৯১ হিজরি) (৪)।

43-এবং আহমাদ বিন আমর বিন আব্দুল খালিক আল-বাজার আবু বকর আল-বাসরি (২১০ এর কিছু বেশি - ২৯২ হিজরি) (৫), তিনি 'আল-মুসনাদ আল-কাবির আল-মুআল্লাল' সংকলন করেছেন এবং এর কিছু অংশ মুদ্রিত হয়েছে।

44-এবং মুসা বিন হারুন আবু ইমরান আল-হাম্মাল আল-বাগদাদি (২৪১-২৯৪ হিজরি) (৬)।

45-এবং আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আবু আলী আল-বালখি (? - ২৯৫ হিজরি) (৭), তাঁর 'ইলাল' বিষয়ক একটি সংকলন রয়েছে।

46-এবং ইবরাহিম বিন আবি তালিব আবু ইসহাক আন-নায়সাবুরি (? - ২৯৫ হিজরি) (৮), তাঁর 'ইলাল' বিষয়ক একটি সংকলন রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) তারিখুল উলামা বিল আন্দালুস (২/১৮), আল-ইবার (১/৪১২), এবং এতে তিনি লেখক হিসেবে বর্ণিত।

(2) তারিখুল উলামা বিল আন্দালুস (১/২০)।

(3) সুনান আল-বায়হাকি (৮/৩৭), আদ-দুয়াফা আল-কাবির (৩/২৩৯), আত-তাযকিরাহ (২/৬৬৫), ফাতহুল বারি (৩/৪৭৪)।

(4) আত-তাযকিরাহ (২/৬৭১), তাবাকাতু উলামাইল হাদিস (২/৩৮৭); ইবনে আবি হাতিম তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে 'সূক্ষ্ম ত্রুটি' (العلل) ও অন্যান্য বিষয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন করেছেন এবং তাঁকে "যুহরি ও মালিকের হাদিসের হাফেজ (حافظ)" হিসেবে অভিহিত করেছেন। দেখুন: ইলাল ইবনে আবি হাতিম (মাসয়ালা নং ২৮০৮, ৮৯১, ১৮৫৮, ১০০৪), তারিখু দিমাশক (৪১/৩৫৪)।

(5) তারিখু বাগদাদ (৪/৩৩৪), ইখতিসারু উলুমিল হাদিস —এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-বাইসুল হাসিস সহ— (পৃ. ৬৪), আত-তাযকিরাহ (২/৬৫৩)।

(6) তারিখু বাগদাদ (১২/৩৬), আল-ইবার (১/৪২৭)।

(7) আস-সিয়ার (১৩/৫২৯), আত-তাযকিরাহ (২/৬৯০)।

(8) আত-তাযকিরাহ (২/৬৩৮), এবং দেখুন আস-সিয়ার (১২/২২৭, ১৩/৫৪৭)।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৬)
47- ومُحمَّد بن إبراهيم أبوعبد الله الكناني الأصبهاني ثم السمرقندي (؟؟) (1) .

48- وأحمد بن هارون أبو بكر البردِيجيّ (بعد230-301هـ) (2) ،له جزء لطيفٌ"معرفة المتصل من الحديث والمرسل والمقطوع وبيان الطرق الصحيحة".

49- وجعفر بن مُحمَّد أبو بكر الفريابي (207-301هـ) (3) .

50- وأحمد بن شعيب أبو عبد الرحمن النّسَائيُّ (214-303هـ) (4) ، له"مسند حديث الزهري بعلله والكلام عليه"، وصناعة العلل واضحة في سنُنه (ط) الكبرى والصغرى، وبقية مؤلفاته.

51- وسعيد بنُ عثمان أبو عثمان الأعْنَاقي الأندلسيّ (233-305هـ) (5) .

52- ومُحمَّد بن إبراهيم بن حَيُّون أبو عبد الله الأندلسيّ (؟ -305هـ) (6) .

53- وزكريا بن يحيى السّاجي أبو يحيى البصريّ (217-307هـ) (7) له مصنف

--------------------------------------------

(1) ذكر أخبار أصبهان (2/212) ، طبقات علماء الحديث (2/495) ، التذكرة (3/785) ، طبقات الحفاظ (ص329) ، وانظر: توضيح المشتبه (5/285، 7/174) ووقع في التذكرة والتوضيح وطبقات الحفاظ "الكتاني" بالتاء، قال الذهبيُّ: ((لم أظفر له بتاريخ وفاة)) ، قال أبو نُعيم:"حدث بهراة سنة تسع وثمانين ومائتين".

(2) فهرست ابن خير (ص207) ، شرح علل الترمذي (2/653) ، فتح المغيث (1/ 111) ، وفيه مؤلف.

(3) السير (14/96) ، طبقات الشافعية الكبرى (4/ 158) .

(4) فهرست ابن خير (ص145) ، السير (14/133) ، وفيه مؤلف.

(5) تاريخ العلماء بالأندلس (1/195) ، نفح الطيب (2/ 633) ، الديباج المذهب (1/391) .

(6) تاريخ العلماء بالأندلس (2/28) ، السير (14/412) ، نفح الطيب (2/ 50) .

(7) السير (14/199) ، التذكرة (2/709) ، نقل عن الكتاب عدد من العلماء منهم ابن عدي في الكامل (1/266) ، والبيهقي في الكبرى (8/88) ، واللالكائي في شرح أصول اعتقاد أهل السنة (4/735) ، وفيه مؤلف.
47- এবং মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আবু আব্দুল্লাহ আল-কিনানি আল-আসবাহানি অতঃপর আস-সামারকান্দি (??) (১)।

48- এবং আহমদ বিন হারুন আবু বকর আল-বারদিজি (২৩০ হিজরীর পর-৩০১ হি.) (২), তাঁর একটি চমৎকার পুস্তিকা রয়েছে যার নাম: "হাদিসের সংযুক্ত (المتصل), বিচ্ছিন্ন (المرسل) ও ছিন্ন (المقطوع) সম্পর্কে জ্ঞান এবং বিশুদ্ধ (الصحيحة) সূত্রসমূহের বর্ণনা"।

49- এবং জাফর বিন মুহাম্মদ আবু বকর আল-ফিরইয়াবি (২০৭-৩০১ হি.) (৩)।

50- এবং আহমদ বিন শুআইব আবু আব্দুর রহমান আন-নাসাঈ (২১৪-৩০৩ হি.) (৪), তাঁর "মুসনাদু হাদিসিল জুহরি বি-ইলালিহি ওয়াল কালামি আলাইহি" নামক গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর সুনানে কুবরা ও সুগরা এবং অন্যান্য রচনাবলিতে ত্রুটি-বিচ্যুতির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ বা ইল্লাতবিদ্যা (العلل) এর পারদর্শিতা সুস্পষ্ট।

51- এবং সাঈদ বিন উসমান আবু উসমান আল-আ'নাকি আল-আন্দালুসি (২৩৩-৩০৫ হি.) (৫)।

52- এবং মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন হাইয়ুন আবু আব্দুল্লাহ আল-আন্দালুসি (?-৩০৫ হি.) (৬)।

53- এবং যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আস-সাজি আবু ইয়াহইয়া আল-বাসরি (২১৭-৩০৭ হি.) (৭), তাঁর একটি সংকলন (মুসান্নাফ) রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) যিকর আখবার আসবাহান (২/২১২), তাবাকাতু উলামাইল হাদিস (২/৪৯৫), আত-তাযকিরাহ (৩/৭৮৫), তাবাকাতুল হুফফাজ (পৃ. ৩২৯), এবং দেখুন: তাওদিহুল মুশতাবিহ (৫/২৮৫, ৭/১৭৪); আত-তাযকিরাহ, আত-তাওদিহ এবং তাবাকাতুল হুফফাজ গ্রন্থে "আল-কাত্তানি" (الكتاني) 'তা' বর্ণ সহযোগে এসেছে। আয-যাহাবি বলেন: "আমি তাঁর মৃত্যুর তারিখ পাইনি।" আবু নুয়াইম বলেন: "তিনি দুইশ উননব্বই হিজরিতে হেরাতে হাদিস বর্ণনা করেছেন।"

(২) ফিহরিসত ইবনে খায়ের (পৃ. ২০৭), শারহু ইলালিত তিরমিজি (২/৬৫৩), ফাতহুল মুগিস (১/১১১), এতে একটি স্বতন্ত্র রচনা রয়েছে।

(৩) আস-সিয়ার (১৪/৯৬), তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (৪/১৫৮)।

(৪) ফিহরিসত ইবনে খায়ের (পৃ. ১৪৫), আস-সিয়ার (১৪/১৩৩), এতে একটি স্বতন্ত্র রচনা রয়েছে।

(৫) তারিখু উলামাই বিল আন্দালুস (১/১৯৫), নাফহুত তিব (২/৬৩৩), আদ-দিবাজুল মুজাহহাব (১/৩৯১)।

(৬) তারিখু উলামাই বিল আন্দালুস (২/২৮), আস-সিয়ার (১৪/৪১২), নাফহুত তিব (২/৫০)।

(৭) আস-সিয়ার (১৪/১৯৯), আত-তাযকিরাহ (২/৭০৯), এই কিতাব থেকে একদল আলেম উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আল-কামিল (১/২৬৬) গ্রন্থে ইবনে আদি, সুনানে কুবরা (৮/৮৮) গ্রন্থে আল-বায়হাকি, এবং শারহু উসুল ই'তিকাদ আহলিস সুন্নাহ (৪/৭৩৫) গ্রন্থে আল-লালকাঈ; এতে একটি স্বতন্ত্র রচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৭)
في"علل الحديث" يدل على تبحره في هذا الفن كما قال الذهبيُّ.

54- ومُحمَّد بن جرير أبو جعفر الطبريُّ (224-310هـ) (1) له كتاب"تهذيب الآثار (ط) " يتكلم على الأحاديث وعللها وطرقها وما فيها من الفقه واختلاف العلماء وحججهم واللغة، ومات قبل أن يكمله.

55- وأحمدُ بن يحيى أبو جَعْفر التُستري (؟ - 310هـ) (2) .

56- ومُحمَّد بنُ إسحاق بن خُزَيْمة أبو بكر النَّيْسَابوريّ (223-311هـ) (3) صاحب الصحيح، له مصنف في المزارعة ذكر فيه علل الأحاديث الواردة في ذلك، قاله الخطابيُّ.

57- وأحمد بن مُحمَّد الخلال أبو بكر البغداديّ (234-311هـ) (4) له كتاب العلل في عدة مجلدات، قاله الذهبيّ.

58- وأحمد بن عمرو الألبيريّ أبو جعفر الأندلسيّ (؟ -312هـ) (5) .

59- وعبد الله بن سليمان بن الأشعث أبو بكر السجستاني (230-316هـ) (6) .

--------------------------------------------

(1) التذكرة (2/710) ، وقد طبع من تهذيب الآثار:مسند عمر بن الخطاب، وعلي، وابن عباس، وطلحة وعبد الرحمن بن عوف والزبير بن العوام.

(2) السير (14/362) .

(3) التذكرة (2/702) ، معالم السنن (3/81) ، وفيه مؤلف.

(4) طبقات الحنابلة (2/12) ، السير (14/297-298) ، شرح العلل (1/339) ، المعجم المفهرس (ص158) ، وقد طبع "المنتخب من العلل للخلال" لابن قدامة، وهو نفيسٌ في بابه.

(5) تاريخ العلماء بالأندلس (1/38) ، تذكرة الحفاظ (3/814) .

(6) طبقات المحدثين بأصبهان (3/533) ، التذكرة (2/767) ، السير (13/221) .
"ইল্লালুল হাদিস" (علل الحديث) এর ক্ষেত্রে [তার অবদান] এই শাস্ত্রে তার গভীর পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়, যেমনটি ইমাম যাহাবি বলেছেন।

৫৪- এবং মুহাম্মাদ বিন জারির আবু জাফর আত-তাবারী (২২৪-৩১০ হিজরী) (১), তার "তাহজীবুল আসার" নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে; যেখানে তিনি হাদিসসমূহ, সেগুলোর ত্রুটি (علل), সেগুলোর সূত্র (طرق), এর অন্তর্ভুক্ত ফিকহ, উলামায়ে কেরামের মতভেদ ও তাদের দলিলসমূহ এবং ভাষাতত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি সম্পন্ন করার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন।

৫৫- এবং আহমদ বিন ইয়াহইয়া আবু জাফর আত-তুস্তারি (? - ৩১০ হিজরী) (২)।

৫৬- এবং মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমাহ আবু বকর আন-নাইসাবুরি (২২৩-৩১১ হিজরী) (৩), যিনি 'সহিহ'-এর সংকলক। বর্গা চাষ (মুজারাআহ) বিষয়ে তার একটি সংকলন রয়েছে যেখানে তিনি এ সংক্রান্ত হাদিসগুলোর ত্রুটি (علل) উল্লেখ করেছেন; ইমাম খাত্তাবি এটি বলেছেন।

৫৭- এবং আহমদ বিন মুহাম্মাদ আল-খল্লাল আবু বকর আল-বাগদাদি (২৩৪-৩১১ হিজরী) (৪), তার কয়েক খণ্ডে বিন্যস্ত "কিতাবুল ইলাল" (العلل) রয়েছে; ইমাম যাহাবি এটি বলেছেন।

৫৮- এবং আহমদ বিন আমর আল-আলবিরি আবু জাফর আল-আন্দালুসি (? - ৩১২ হিজরী) (৫)।

৫৯- এবং আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন আল-আশআস আবু বকর আস-সিজিস্তানি (২৩০-৩১৬ হিজরী) (৬)।

--------------------------------------------

(১) আত-তাযকিরাহ (২/৭১০); আর তাহজীবুল আসার-এর যে অংশগুলো মুদ্রিত হয়েছে সেগুলো হলো: মুসনাদ উমর বিন আল-খাত্তাব, আলী, ইবনে আব্বাস, তালহা, আবদুর রহমান বিন আউফ এবং যুবাইর বিন আল-আওয়াম।

(২) আস-সিয়ার (১৪/৩৬২)।

(৩) আত-তাযকিরাহ (২/৭০২), মাআলিমুস সুনান (৩/৮১), এবং এতে [তার] সংকলন রয়েছে।

(৪) তাবাকাতুল হানাবিলাহ (২/১২), আস-সিয়ার (১৪/২৯৭-২৯৮), শারহুল ইলাল (১/৩৩৯), আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস (পৃ. ১৫৮); আর ইবনে কুদামা কর্তৃক সংক্ষেপিত "আল-মুনতাখাব মিন ইলালিল খল্লাল" মুদ্রিত হয়েছে, যা এই বিষয়ে অত্যন্ত মূল্যবান।

(৫) তারিখু উলামাই বিল আন্দালুস (১/৩৮), তাযকিরাতুল হুফফাজ (৩/৮১৪)।

(৬) তাবাকাতুল মুহাদ্দিসিন বি-আসবাহান (৩/৫৩৩), আত-তাযকিরাহ (২/৭৬৭), আস-সিয়ার (১৩/২২১)।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৮)
60-ومُحمَّد بن أبي الحسين بن عمّار الجارودي أبو الفضل الهرويّ

(؟ -317هـ) (1) صاحب كتاب"علل أحاديث مسلم ط".

61-ويحيى بنُ محمد بن صَاعد أبو محمد البغداديّ (228-318هـ) (2) .

62- وعبد الله بن محمد الكلاعيّ أبو مُحمَّد القرطبيّ يعرف بابن أخي رُفَيْع الصائغ (؟ -318هـ) (3) له تآليف في معرفة الرجال، وعلل الحديث.

63- وأحمد بن عُمير بن جَوْصَاء أبو الحسن الدمشقي (؟ -320هـ) (4) .

64- ومُحمَّد بن عَمْرو العُقيليُّ أبو جعفر الحجازيُّ (؟ -322هـ) (5) ، له مصنف في"العلل"، وصناعة العلل واضحة في كتابه"الضعفاء ط".

65- وعبد الله بن مُحمَّد بن زياد أبو بكر النَّيْسَابوريّ (238-324هـ) (6) .

66- وأحمد بن مُحمَّد الشَّرقيّ أبوحامد النَّيْسَابوريّ تلميذ مسلم بن الحجاج (240-325هـ) (7) .

67- وعبدُ الرحمن بنُ أبي حاتم أبو مُحمَّد الرَّازيّ (240- 327هـ) (8) ،

--------------------------------------------

(1) تذكرة الحفاظ (2/494-495) ، الوافي بالوفيات (2/37) .

(2) التذكرة (6/776) ، السير (14/501) .

(3) تاريخ العلماء بالأندلس (1/262) ، السير (15/245) ، الديباج المذهب (1/436) ، وقد تعبت في البحث والتدقيق عن اسم وعين هذا الإمام؛ إذْ لا يخلو كتابٌ ممن ترجم له من تصحيف وتحريف في اسمه ونسبه وغموض في سيرته-وليس هذا موضع الإطالة في بيان ذلك وأسبابه-، فالمقارنة بين الكتب المذكورة في الإحالة وبخاصة الديباج تبين هذا!، وهنا أقول: رحم الله المعلميَّ فقد ذَكّرني هذا المقام كلامه المذكور في المقدمة.

(4) التذكرة (3/795) ، السير (15/15) .

(5) الضعفاء الكبير (4/351) ، وفيه مؤلف.

(6) السير (15/65-66) ، شرح علل الترمذي (2/639) ، طبقات الشافعية الكبرى (4/ 158) .

(7) التذكرة (3/821) ، طبقات الشافعية الكبرى (4/ 158) .

(8) التذكرة (3/829) .
60-এবং মুহাম্মদ বিন আবিল হুসাইন বিন আম্মার আল-জারুদি আবু আল-ফাদল আল-হারাউই

(?-৩১৭ হিজরি) (১) 'ইলাল আহাদিসে মুসলিম' কিতাবের রচয়িতা।

61-এবং ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়েদ আবু মুহাম্মদ আল-বাগদাদি (২২৮-৩১৮ হিজরি) (২)।

62- এবং আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-কালাঈ আবু মুহাম্মদ আল-কুরতুবি, যিনি ইবনে আখি রুফাই আস-সায়িগ নামে পরিচিত (?-৩১৮ হিজরি) (৩), বর্ণনাকারী পরিচিতি (معرفة الرجال) এবং হাদিসের ত্রুটি (علل الحديث) বিষয়ে তার রচনা রয়েছে।

63- এবং আহমাদ বিন উমায়ের বিন জাওসা আবু আল-হাসান আদ-দিমাশকি (?-৩২০ হিজরি) (৪)।

64- এবং মুহাম্মদ বিন আমর আল-উকাইলি আবু জাফর আল-হিজাজি (?-৩২২ হিজরি) (৫), ত্রুটি (العلل) বিষয়ে তার একটি সংকলন রয়েছে এবং তার 'আদ-দুয়াফা' কিতাবে ত্রুটি অন্বেষণের দক্ষতা (صناعة العلل) সুস্পষ্ট।

65- এবং আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আবু বকর আন-নাইসাবুরি (২৩৮-৩২৪ হিজরি) (৬)।

66- এবং আহমাদ বিন মুহাম্মদ আশ-শারকি আবু হামিদ আন-নাইসাবুরি, মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজের ছাত্র (২৪০-৩২৫ হিজরি) (৭)।

67- এবং আবদুর রহমান বিন আবি হাতিম আবু মুহাম্মদ আর-রাজি (২৪০-৩২৭ হিজরি) (৮),

--------------------------------------------

(১) তাজকিরাতুল হুফফাজ (২/৪৯৪-৪৯৫), আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত (২/৩৭)।

(২) আত-তাজকিরাহ (৬/৭৭৬), আস-সিয়ার (১৪/৫০১)।

(৩) তারিখুল উলামা বিল-আন্দালুস (১/২৬২), আস-সিয়ার (১৫/২৪৫), আদ-দিবাজ আল-মুজাহহাব (১/৪৩৬); এই ইমামের নাম এবং পরিচয় অনুসন্ধানে ও যাচাইয়ে আমি যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি; কেননা তার জীবনীকারদের কোনো গ্রন্থই তার নাম ও বংশপরিচয়ে বর্ণবিভ্রাট (تصحيف) ও বিকৃতি (تحريف) এবং তার জীবনীতে অস্পষ্টতা থেকে মুক্ত নয়—আর এটি সেই কারণসমূহ ও তার বর্ণনার দীর্ঘ আলোচনার স্থান নয়—। তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখিত গ্রন্থসমূহ, বিশেষ করে 'আদ-দিবাজ'-এর সাথে তুলনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়! এখানে আমি বলব: আল্লাহ আল-মুয়াল্লিমির ওপর রহম করুন, এই বিষয়টি আমাকে তার ভূমিকায় উল্লিখিত কথার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।

(৪) আত-তাজকিরাহ (৩/৭৯৫), আস-সিয়ার (১৫/১৫)।

(৫) আদ-দুয়াফা আল-কাবির (৪/৩৫১), এতে তিনি একজন লেখক।

(৬) আস-সিয়ার (১৫/৬৫-৬৬), শারহু ইলালিত তিরমিজি (২/৬৩৯), তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (৪/১৫৮)।

(৭) আত-তাজকিরাহ (৩/৮২১), তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (৪/১৫৮)।

(৮) আত-তাজকিরাহ (৩/৮২৯)।
(খণ্ড: ১) জুহুদুল মুহাদ্দিসীন ফী বায়ানি ইলালিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৯)
وكتابه"علل الحديث ط" من أشهر مؤلفات هذا الفن.

68- وأحمد بن مُحمَّد أبو العباس بن عُقْدَة الكوفيُّ (249-332هـ) (1) .

69- ومُحمَّد بن يعقوب بن الأخرم أبو عبد الله النيسابوري (250-344هـ) (2) .

70- ووهبُ بن مَسَرَّة أبو الحَزْم التميميّ الأندلسي (حدود260-346هـ) (3) .

71- وعبدُ الرحمن بنُ أحمد بن يونس الصَّدَفيُّ (281-347هـ) (4) .

72- وحسين بن علي أبو علي النَّيْسَابوريّ (؟ -349هـ) (5) له مصنف في العلل.

73- ومُحمَّد بن أحمد العَسَّال أبو أحمد الأصبهاني (269-349هـ) (6) .

74- وحسّان بن محمد أبوالوليد القرشي النَّيْسَابوريّ (بعد 270-349هـ) (7) .

75- وخالد بن سعد أبو القاسم الأندلسي (290تقريباً- 352هـ) (8) .

76- وإبراهيم بن مُحمَّد بن حمزة أبو إسحاق الأصبهاني (بضع وسبعين ومائتين-353هـ) (9) .

--------------------------------------------

(1) السير (15/340) ، طبقات الشافعية الكبرى (4/ 158) .

(2) تذكرة الحفاظ (3/865) ، العبر (2/68) .

(3) التذكرة (3/890) ، السير (15/556) .

(4) تاريخ الإسلام (ص381سنة 347) .

(5) السير (16/51-55) ، طبقات الشافعية الكبرى (4/ 158) ، فتح المغيث (2/334) .

(6) التذكرة (3/886) ، طبقات الشافعية الكبرى (4/ 158) .

(7) العبر (2/ 80) ،شرح علل الترمذي (2/639) ، فتح المغيث (1/212) .

(8) تاريخ العلماء بالأندلس (1/154) ، العبر (2/90) .

(9) التذكرة (3/910) ، طبقات الشافعية الكبرى (4/ 158) .
এবং তাঁর রচিত "ইলালুল হাদিস" গ্রন্থটি এই শাস্ত্রের (الفن) অন্যতম প্রসিদ্ধ সংকলন।

৬৮- এবং আহমদ বিন মুহাম্মদ আবুল আব্বাস বিন উকদাহ আল-কুফি (২৪৯-৩৩২ হিজরি) (১)।

৬৯- এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন আল-আখরাম আবু আব্দুল্লাহ আন-নিশাপুরি (২৫০-৩৪৪ হিজরি) (২)।

৭০- এবং ওয়াহাব বিন মাসাররাহ আবু আল-হাজম আত-তামিমি আল-আন্দালুসি (প্রায় ২৬০-৩৪৬ হিজরি) (৩)।

৭১- এবং আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন ইউনুস আস-সাদাফি (২৮১-৩৪৭ হিজরি) (৪)।

৭২- এবং হুসাইন বিন আলি আবু আলি আন-নিশাপুরি (? - ৩৪৯ হিজরি) (৫), হাদিসের ত্রুটি (العلل) বিষয়ে তাঁর একটি সংকলন রয়েছে।

৭৩- এবং মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আসসাল আবু আহমদ আল-আসফাহানি (২৬৯-৩৪৯ হিজরি) (৬)।

৭৪- এবং হাসসান বিন মুহাম্মদ আবুল ওয়ালিদ আল-কুরাশি আন-নিশাপুরি (২৭০ হিজরির পর - ৩৪৯ হিজরি) (৭)।

৭৫- এবং খালিদ বিন সাদ আবু আল-কাসিম আল-আন্দালুসি (প্রায় ২৯০-৩৫২ হিজরি) (৮)।

৭৬- এবং ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন হামজাহ আবু ইসহাক আল-আসফাহানি (২৭০-এর কিছু পরে - ৩৫৩ হিজরি) (৯)।

--------------------------------------------

(১) আস-সিয়ার (১৫/৩৪০), তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (৪/১৫৮)।

(২) তাযকিরাতুল হুফফায (৩/৮৬৫), আল-ইবার (২/৬৮)।

(৩) আত-তাযকিরাহ (৩/৮৯০), আস-সিয়ার (১৫/৫৫৬)।

(৪) তারিখুল ইসলাম (পৃষ্ঠা ৩৮১, ৩৪৭ হিজরি)।

(৫) আস-সিয়ার (১৬/৫১-৫৫), তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (৪/১৫৮), ফাতহুল মুগিস (২/৩৩৪)।

(৬) আত-তাযকিরাহ (৩/৮৮৬), তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (৪/১৫৮)।

(৭) আল-ইবার (২/৮০), শারহু ইলালিত তিরমিজি (২/৬৩৯), ফাতহুল মুগিস (১/২১২)।

(৮) তারিখুল উলামা বিল আন্দালুস (১/১৫৪), আল-ইবার (২/৯০)।

(৯) আত-তাযকিরাহ (৩/৯১০), তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা (৪/১৫৮)।