(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: -)
جزء فيه ذكر اعتقاد السلف في الحروف والأصوات القسم: العقيدة
الكتاب: جزء فيه ذكر اعتقاد السلف في الحروف والأصوات
المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (ت 676هـ)
المحقق: أحمد بن على الدمياطي
الناشر: مكتبة الأنصار للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 78
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
অক্ষর ও শব্দের বিষয়ে সালাফদের আকিদা বর্ণনাসংবলিত পুস্তিকা বিভাগ: আকিদা
বই: অক্ষর ও শব্দের বিষয়ে সালাফদের আকিদা বর্ণনাসংবলিত পুস্তিকা
লেখক: আবু জাকারিয়া মহিউদ্দিন ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ আন-নববী (মৃ. ৬৭৬ হি.)
গবেষক/সম্পাদক: আহমদ বিন আলী আদ-দামিয়াতি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল আনসার পাবলিকেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল ছাপার অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيق
إن الحمد لله تعالى نحمده، ونستعين به ونستغفره، ونعوذ بالله تعالى من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا. من يهد الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لاشريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد:
فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم. وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
أما بعد:
فإن هذا الجزء الذي هو"جزء الحروف والأصوات" من الأجزاء التي كانت في عداد المفقود من مؤلفات الإمام النووي – رحمه الله – فيسر الله عز وجل لنا هذه النسخة النفيسة من هذا الجزء المبارك الذي أعرب فيه الإمام النووي – رحمه الله– عن معتقده في كتاب الله عموماً والحرف والصوت خصوصاً، فقد صنف هذا الجزء قبل وفاته – رحمه الله– بما يقرب من شهرين حيث انتهى من تصنيفه في الخميس الثالث من شهر ربيع الآخر سنة 676 هـ وتوفي – رحمه الله– في الرابع والعشرين من رجب من نفس السنة.
فقمت بنسخه وضبط نصه ضبطاً يليق به وتخريج ما به من آيات وأحاديث وآثار، وأسأل الله جل وعلا أن يتقبله خالصاً لوجهه الكريم..آمين.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً إلى يوم الدين.
وكتبه
أبو الفضل أحمد بن علي الدمياطي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই এই পুস্তিকাটি যা "বর্ণ ও শব্দ বিষয়ক অংশ" (জুযউল হুরুফ ওয়াল আসওয়াত) নামে পরিচিত, এটি ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ঐ সকল রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত ছিল যা নিখোঁজ বলে গণ্য হতো। অতঃপর মহান আল্লাহ আমাদের জন্য এই বরকতময় পুস্তিকাটির এই মূল্যবান পাণ্ডুলিপিটি সহজ করে দিয়েছেন, যাতে ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) সাধারণভাবে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে এবং বিশেষভাবে 'বর্ণ ও শব্দ' সম্পর্কে তাঁর আকিদা বা বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন। তিনি এই পুস্তিকাটি তাঁর মৃত্যুর প্রায় দুই মাস পূর্বে রচনা করেছিলেন; তিনি এর রচনা সমাপ্ত করেন ৬৭৬ হিজরির রবিউস সানি মাসের তৃতীয় বৃহস্পতিবারে এবং একই বছরের ২৪শে রজব তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ইন্তেকাল করেন।
অতঃপর আমি এটি অনুলিপি করেছি এবং এর পাঠকে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করেছি এবং এতে বিদ্যমান আয়াত, হাদিস ও আছারসমূহের তাহরিজ (উৎস নির্ঘণ্ট) সম্পন্ন করেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির নিমিত্তে কবুল করে নেন.. আমিন।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অধিকহারে দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন
আবু ফজল আহমাদ ইবনে আলী আদ-দামিয়াতি
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৬)
ترجمة الإمام النووي
النواوي الشيخ الإمام القدوة الحافظ، الزاهد، العابد، الفقيه، المجتهد، الرباني، شيخ الإسلام أحسبه، الإمام: محي الدين أبو زكريا يحيى بن شرف بن مري بن حسن بن حسين بن محمد بن حزام بن الحزامي الحوراني النواوي الشافعي صاحب التصانيف التي سارت بها الركبان، واشتهرت بأقاصي البلدان، ولد في المحرم سنة إحدى وثلاثين وستمائة (بنوى) وكان أبوه دكانياً بها، فنشأ الشيخ في ستر وخير وحفظ القرآن، وبقي يتعيش في الدكان لأبيه، ثم نقله أبوه في سنة تسع وأربعين إلى دمشق ليشتغل بها، فنزل بالرواقية يتقوت بالجراية، ويدرس في (التنبيه) فحفظه في أربع أشهر ونصف، وقرأ ربع (المهذب) في تمام السنة على الشيخ: الكمال إسحاق بن أحمد.
ثم حج مع والده، وقد لاحت عليه أمارات النجابة والفهم، فاتفق أنه أقام بالمدينة النبوية شهراً ونصف، وتعلل في أكثر الطرق، ورجع وأكب على طلب العلم ليلاً ونهاراً اشتغالاً فضرب به المثل، وهجر النوم إلا عن غلبة، وضبط أوقاته إلا بلزوم الدرس أو الكتابة أو المطالعة، أو التردد إلى الشيوخ وترك كل رفاهية وتنعم، مع تقوى وقناعة وورع وحسن مراقبة لله في السر والعلانية وترك رعونات النفس، من ثياب حسنة، ومآكل طيبة، وتجمل هيئة، بل طعامه جلف الخبز يابسه، ولباسه خام، وشيخانيته لطيفة، فرحمه الله ورضي عنه وجزاه عن العلم خيراً.
ذكر صاحبه الشيخ أبو الحسن علي بن العطار أن الشيخ محيي الدين حدثه أنه كان يقرأ كل يوم اثني عشر درساً على مشايخه شرحاً وتصحيحاً، درسين في"الوسيط"، ودرساً في"المهذب"، ودرساً في"الجمع بين الصحيحين"، ودرساً في
ইমাম নববীর জীবনী
নববী, শায়খ, ইমাম, আদর্শ পুরুষ, হাফেজ, দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতগুজার, ফকিহ, মুজতাহিদ, রাব্বানি এবং আমি তাকে শায়খুল ইসলাম বলে মনে করি। তিনি হলেন ইমাম মুহিউদ্দিন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ ইবনে মুররি ইবনে হাসান ইবনে হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হিজাম ইবনুল হিজামি আল-হাওরানি আন-নববী আশ-শাফেয়ি। তিনি সেই সকল গ্রন্থরাজির রচয়িতা যা দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে এবং পৃথিবীর প্রান্তরে প্রান্তরে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তিনি ৬৩১ হিজরির মহররম মাসে নাওয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সেখানে একজন দোকানদার ছিলেন। শায়খ শালীনতা ও কল্যাণের মাঝে বেড়ে ওঠেন এবং কুরআন হিফজ করেন। তিনি তার পিতার দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন। এরপর ৬৪৯ হিজরিতে তার পিতা তাকে জ্ঞানার্জনের জন্য দামেস্কে নিয়ে যান। সেখানে তিনি রাওয়াকিয়া মাদরাসায় অবস্থান করেন এবং নির্ধারিত সামান্য খাবার খেয়ে জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি 'আত-তানবিহ' কিতাবটি পাঠ শুরু করেন এবং সাড়ে চার মাসে তা মুখস্থ করেন। বছরের বাকি সময়ে তিনি শায়খ কামাল ইসহাক ইবনে আহমদের নিকট 'আল-মুহাজ্জাব' কিতাবের এক-চতুর্থাংশ পাঠ করেন।
এরপর তিনি তার পিতার সাথে হজ পালন করেন। তখন থেকেই তার মধ্যে মেধা ও প্রজ্ঞার লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল। ঘটনাক্রমে তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় দেড় মাস অবস্থান করেন। সফরের অধিকাংশ সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন। ফিরে এসে তিনি দিনরাত ইলম অর্জনে এমনভাবে আত্মনিয়োগ করেন যা প্রবাদে পরিণত হয়। ঘুমের প্রচণ্ড চাপ ছাড়া তিনি ঘুমাতেন না। পাঠ গ্রহণ, লিখন, অধ্যয়ন অথবা উস্তাদদের নিকট যাতায়াত ছাড়া তিনি নিজের সময়কে অন্য কোনো কাজে ব্যয় করতেন না। তিনি সমস্ত বিলাসিতা ও আরাম-আয়েশ ত্যাগ করেন। সেই সাথে তার মধ্যে ছিল তাকওয়া, অল্পেতুষ্টি, পরহেজগারি এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর সার্বক্ষণিক নজরদারির অনুভূতি। তিনি নফসের যাবতীয় কামনা-বাসনা যেমন—উত্তম পোশাক, সুস্বাদু খাবার এবং বাহ্যিক সাজসজ্জা বর্জন করেন। বরং তার খাবার ছিল কেবল সাধারণ শুকনো রুটি, পোশাক ছিল মোটা কাপড় এবং তার পাগড়ি ছিল অত্যন্ত সাধারণ। আল্লাহ তাকে রহম করুন, তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং ইসলামের সেবার জন্য তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
তার সহচর শায়খ আবুল হাসান আলী ইবনুল আত্তার উল্লেখ করেছেন যে, শায়খ মুহিউদ্দিন তাকে বলেছেন যে, তিনি প্রতিদিন তার উস্তাদদের কাছে ব্যাখ্যা ও সংশোধনীসহ বারোটি পাঠ গ্রহণ করতেন। এর মধ্যে দুটি পাঠ ছিল 'আল-ওয়াসিত' কিতাবের ওপর, একটি পাঠ 'আল-মুহাজ্জাব' কিতাবের ওপর, একটি পাঠ 'আল-জামউ বাইনাস সাহিহাঈন' কিতাবের ওপর এবং একটি পাঠ...
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৭)
" صحيح مسلم" ودرساً في"اللمع" لابن جني، ودرساً في"التعريف" ودرساً في"أصول الفقه" ودرساً في"أسماء الرجال"، ودرساً في"أصول الدين".
قال: وكنت أعلق جميع ما يتعلق بها من شرح مشكل، ووضوح عبارة، وضبط لغة، وبارك الله لي في وقتي، وخطر لي أن اشتغل بالطب، واشتريت كتاب"القانون"، فأظلم قلبي وبقيت أياماً لا أقدر على الاشتغال فأفقت على نفسي وبعت القانون فأنار قلبي.
شيوخه
1 - الشيخ الإمام القاضي الخطيب عماد الدين عبد الكريم بن القاضي جمال الدين عبد الصمد بن محمد المعروف بابن الحرستاني رحمه الله (577-662هـ) .
2- شيخ الشيوخ: شرف الدين عبد العزيز بن محمد بن عبد المحسن الأنصاري الأوسي الدمشقي الأصل، ثم الحموي الدار والوفاة، الشافعي المذهب الأديب الإمام العلامة مجمع الفضائل وشيخ الشيوخ (ت662هـ) .
3- الحافظ الزين خالد بن يوسف بن سعد بن حسن بن مفرج أبو البقاء النابلسي ثم الدمشقي (ت663هـ) .
4- ابن البرهان العدل الصدر رضي الدين أبو إسحاق إبراهيم بن أبي حفص عمر بن أبي مضر بن فارس المضري الواسطي السفار التاجر المعروف بابن البرهان (ت664هـ) .
5 - الإمام الحافظ المتقن المحقق الضابط الزاهد الورع ضياء الدين أبو إسحاق إبراهيم بن عيسى المرادي الأندلسي ثم المصري ثم الدمشقي (ت668هـ) .
6- زين الدين أبو العباس أحمد بن عبد الدائم بن نعمة بن أحمد بن محمد
"সহীহ মুসলিম", ইবন জিন্নীর "আল-লুমআ"-র একটি পাঠ, "আত-তারীফ"-এর একটি পাঠ, "উসুলুল ফিকহ"-এর একটি পাঠ, "আসমাউর রিজাল"-এর একটি পাঠ এবং "উসুলুদ্দীন"-এর একটি পাঠ।
তিনি বলেন: আমি এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল জটিল ব্যাখ্যা, প্রাঞ্জল বর্ণনা এবং ভাষাগত নির্ভুলতা সম্পর্কে টীকা লিখতাম। আল্লাহ আমার সময়ে বরকত দান করেছিলেন। আমার মনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের চর্চা করার খেয়াল আসল এবং আমি "আল-কানুন" বইটি কিনলাম। ফলে আমার অন্তর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেল এবং আমি কয়েকদিন কোন কাজ করতে পারলাম না। এরপর আমি নিজেকে ফিরে পেলাম এবং "আল-কানুন" বিক্রি করে দিলাম, ফলে আমার অন্তর আলোকিত হলো।
তাঁর শিক্ষকগণ
১ - শাইখ, ইমাম, বিচারক, খতিব ইমাদউদ্দীন আব্দুল কারিম বিন কাজী জামালউদ্দীন আব্দুল সামাদ বিন মুহাম্মদ, যিনি ইবনুল হারাসতানি নামে পরিচিত, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন (৫৭৭-৬৬২ হিজরি)।
২- শাইখুশ শুয়ূখ: শরফুদ্দিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন আল-আনসারি আল-আউসি, মূলগতভাবে দামেস্কি, পরবর্তীতে হামাত নিবাসী এবং সেখানেই মৃত্যু বরণ করেন, শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী, সাহিত্যিক, ইমাম, আল্লামা, গুণাবলির আধার এবং শাইখুশ শুয়ূখ (মৃত্যু ৬৬২ হিজরি)।
৩- হাফেজ জাইন খালেদ বিন ইউসুফ বিন সাদ বিন হাসান বিন মুফাররিজ আবুল বাকা আন-নাবুলুসি, পরবর্তীতে আদ-দামেশকি (মৃত্যু ৬৬৩ হিজরি)।
৪- ইবনুল বুরহান আল-আদল আস-সাদর রাজিউদ্দীন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আবি হাফস ওমর বিন আবি মাদার বিন ফারিস আল-মাদারি আল-ওয়াসিতি আস-সাফফার আল-তাজির, যিনি ইবনুল বুরহান নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৬৪ হিজরি)।
৫ - ইমাম, হাফেজ, অতি যত্নশীল, মুহাক্কিক, নিপুণ বর্ণনাকারী, জাহিদ, পরহেজগার জিয়াউদ্দীন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন ঈসা আল-মুরাদি আল-আন্দালুসি, পরবর্তীতে আল-মিসরি এবং এরপর আদ-দামেশকি (মৃত্যু ৬৬৮ হিজরি)।
৬- জাইনউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল দায়িম বিন নি'মাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৮)
بن إبراهيم، مسند الشام وفقيهها ومحدثها الحنبلي الناسخ، (ت668هـ) .
7 - مسند الشام ابن أبي اليسر تقي الدين أبو محمد إسماعيل بن إبراهيم بن أبي اليسر شاكر بن عبد الله التنوخي الكاتب المنشئ (ت672هـ) .
8- ابن الصيرفي المفتي المعمر جمال الدين أبو زكريا يحيى بن أبي منصور بن أبي الفتح بن رافع الحراني الحنبلي المعروف بابن الحبيشي (ت678هـ) .
9 - الشيخ الإمام شمس الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن محمد بن أحمد بن قدامة المقدسي ثم الصالحي الحنبلي (ت682هـ) .
10 _الإمام العلامة الفقيه المفتي كمال الدين أبو إبراهيم إسحاق بن أحمد بن عثمان المغربي
(ت650هـ) .
11 _الشيخ الإمام العلامة مفتي الشام كمال الدين أبو الفضائل سلار بن الحسن بن عمر بن
سعيد الأربلي ثم الحلبي ثم الدمشقي (ت 670هـ.)
12 -الإمام فقيه الشام وشيخ الإسلام المشهور بالفضل والخير والإتباع أبو محمد عبد الرحمن بن إبراهيم الفزاري الشافعي تاج الدين الملقب بالفركاح لنحف في رجليه (ت690هـ) .
13 - القاضي أبو الفتح كمال الدين عمر بن بندار بن عمر التفليسي (ت672هـ) .
14 - أبو العباس جمال الدين أحمد بن سالم المصري النحوي نزيل دمشق (ت672هـ) .
15 - العلامة حجة العرب جمال الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن مالك الطائي الجياني (ت672هـ) .
বিন ইব্রাহিম, শাম দেশের মুসনাদ, ফকিহ, মুহাদ্দিস, হাম্বলি ও লিপিকার (মৃত্যু ৬৬৮ হিজরি)।
৭ - শামের মুসনাদ ইবনুল আবি ইয়াসার তাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আবুল ইয়াসার শাকির বিন আবদুল্লাহ আত-তানুখি, লেখক ও লিপিকার (মৃত্যু ৬৭২ হিজরি)।
৮- ইবনুস সাইরাফি, প্রবীণ মুফতি জামালুদ্দীন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আবি মানসুর বিন আবুল ফাতহ বিন রাফি আল-হাররানি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনুল হুবািশি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৭৮ হিজরি)।
৯ - শায়খুল ইমাম শামসুদ্দীন আবু আল-ফারাজ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি, অতঃপর আস-সালিহি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৬৮২ হিজরি)।
১০ _ইমাম আল্লামা ফকিহ মুফতি কামালুদ্দীন আবু ইব্রাহিম ইসহাক বিন আহমদ বিন উসমান আল-মাগরিবি
(মৃত্যু ৬৫০ হিজরি)।
১১ _শায়খুল ইমাম আল্লামা শামের মুফতি কামালুদ্দীন আবু আল-ফাদায়িল সাল্লার বিন আল-হাসান বিন উমর বিন
সাঈদ আল-ইরবিলি, অতঃপর আল-হালাবি, অতঃপর আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৬৭০ হিজরি।)
১২ -ইমাম, শামের ফকিহ এবং শায়খুল ইসলাম, যিনি শ্রেষ্ঠত্ব, কল্যাণ ও সুন্নাহ অনুসরণের জন্য সুপরিচিত, আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন ইব্রাহিম আল-ফাজারি আশ-শাফেয়ী তাজউদ্দীন, যাকে তার পায়ের কৃশতার কারণে আল-ফিরকাহ উপাধি দেয়া হয়েছিল (মৃত্যু ৬৯০ হিজরি)।
১৩ - কাজি আবু আল-ফাতহ কামালুদ্দীন উমর বিন বুন্দার বিন উমর আত-তিফলিসি (মৃত্যু ৬৭২ হিজরি)।
১৪ - আবু আল-আব্বাস জামালুদ্দীন আহমদ বিন সালিম আল-মিসরি আন-নাহবি, দামেস্কে বসবাসকারী (মৃত্যু ৬৭২ হিজরি)।
১৫ - আল্লামা হুজ্জাতুল আরব জামালুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মালিক আত-তায়ি আল-জায়ানি (মৃত্যু ৬৭২ হিজরি)।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৯)
ومن أشهر تلاميذه
1- الخطيب صدر الدين سليمان الجعفري.
2- شهاب الدين أحمد بن جعوان.
3- القاضي شهاب الدين الأربدي.
4- المفتي علاء الدين بن العطار.
5- ابن أبي الفتح.
6- المزي.
7- محمد بن أبي بكر بن إبراهيم القاضي شمس الدين بن النقيب الشافعي الدمشقي.
8- خطيب داريا أبو الربيع الهاشمي.
مؤلفاته
كانت جهوده – رحمه الله– منصبة على الحديث وعلومه والفقه والتربية واللغة والتراجم والسير. ومن مؤلفاته:
الكتب الحديثية:
المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج.
رياض الصالحين.
الأربعين النووية.
خلاصة الأحكام من مهمات السنن وقواعد الإسلام.
الكتب الفقهية:
المجموع – منهاج الطالبين– الفتاوى – التحقيق– دقائق المنهاج– روضة
এবং তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন
১- আল-খতিব সদরুদ্দিন সুলাইমান আল-জাফারি।
২- শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন জা’ওয়ান।
৩- আল-কাদি শিহাবুদ্দিন আল-আরবাদি।
৪- আল-মুফতি আলাউদ্দিন বিন আল-আত্তার।
৫- ইবনু আবিল ফাতহ।
৬- আল-মিজ্জি।
৭- মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন ইবরাহিম আল-কাদি শামসুদ্দিন বিন আন-নাকীব আশ-শাফিয়ী আদ-দিমাশকি।
৮- দারায়্যার খতিব আবু আল-রবি আল-হাশিমি।
তাঁর রচনাবলি
তাঁর প্রচেষ্টাগুলো –আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন– হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ, ফিকহ, তরবিয়ত, ভাষা, জীবনী ও ইতিহাসের ওপর নিবদ্ধ ছিল। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ:
আল-মিনহাজ শারহু সহিহ মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ।
রিয়াদুস সলিহীন।
আল-আরবাউন আন-নাওয়াবিয়্যাহ।
খুলাসাতুল আহকাম মিন মুহিম্মাতিস সুনান ওয়া কাওয়ায়িদুল ইসলাম।
ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ:
আল-মাজমু – মিনহাজুত তালিবীন – আল-ফাতাওয়া – আত-তাহকিক – দাকায়িকুল মিনহাজ – রাওদাহ
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১০)
الطالبين وعمدة المفتين – الأصول والضوابط.
الكتب التربوية:
الأذكار– بستان العارفين – التبيان في آداب حملة القرآن.
كتب التراجم واللغة:
منتخب طبقات الشافعية– تهذيب الأسماء واللغات – تحرير التنبيه.
وفاته
سافر وزار بيت المقدس فرد إلى نوى مريضاً وانتقل به إلى الله في الرابع والعشرين من رجب سنة 676هـ.
আত্তালিবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন – আল-উসুল ওয়াদ-দাওয়াবিত।
শিক্ষামূলক গ্রন্থসমূহ:
আল-আযকার – বুস্তানুল আরিফিন – আত-তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন।
জীবনী ও ভাষা বিষয়ক গ্রন্থসমূহ:
মুনতাখাব তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ – তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত – তাহরিরুত তানবিহ।
তাঁর মৃত্যু
তিনি সফর করেন এবং বাইতুল মাকদিস যিয়ারত করেন, অতঃপর অসুস্থ অবস্থায় নাওয়া-তে ফিরে আসেন এবং ৬৭৬ হিজরি সনের ২৪শে রজব আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১১)
وصف الأصل المخطوط
عدد الصفحات = 44 صفحة
عدد الأسطر في الصفحة = 19 سطر
عدد الكلمات في السطر = من 8– 10 كلمات
تاريخ النسخ = الخميس الثالث من شهر ربيع الآخر سنة 676هـ
মূল পাণ্ডুলিপির বিবরণ
পৃষ্ঠাসংখ্যা = ৪৪ পৃষ্ঠা
প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা = ১৯ লাইন
প্রতি লাইনে শব্দের সংখ্যা = ৮–১০টি শব্দ
অনুলিপি তৈরির তারিখ = ৬৭৬ হিজরি সনের রবিউল আখির মাসের ৩ তারিখ, বৃহস্পতিবার
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه توفيقي
قال الشيخ الإمام العالم العلامة الزاهد الحافظ الورع إمام الشافعية في وقته محيي الدين أبو زكريا يحيى بن شرف بن مرا النواوي تغمده الله برحمته ورضوانه:
الحمد لله المقدس عن مماثلة المحدثات المتعالي عن النقائص والمتغيرات، المدعو بأنواع الألسن وأصناف اللغات، لا إله إلا هو خالق الأرض والسموات، أحمده على ما أهدى من المنح ومنح من الهدايات، وأصلي على أنبيائه الذين طهروا الأرض من الضلالات، خصوصاً على المبعوث آخر الرسالات، المؤيد بالمعجزات الباهرات والآيات البينات، المشفع في الميقات، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وأزواجه وذريته وتابعيهم صلاةً دائمةً مع الآناء والأوقات.
وبعد: فلما ظهرت الشكوك والشبهات، وكثرت المطاعن والتمويهات، وانتشرت مقالة ذوي الأهواء والتعصبات، وعمت بها البلوى في جميع الأقطار والجهات سألني من إجابته من الواجبات. وإسعافه من أعظم المثوبات أن أجمع له زبد أقوال المتقدمين وغاية ماعولوا عليه من الاعتقاد في الحروف والأصوات، وما نقل عنهم في ذلك من الاختلافات، والتنصيص على ما ذهب إليه علماء الشرع ونقلة الأحاديث الثقات، سالكاً في ذلك طرق متأخري المتكلمين في المباحثات، جارياً على قواعد أهل1 النظر والمجادلات، مختصراً لفظه بأوضح العبارات الوجيزات، من غير تعصبٍ وميلٍ بل رغبة في إظهار الحق ونصرة لما سلف عليه الصحابة والتابعون رضي الله عنهم أجمعين وجمعنا وإياهم في دار كرامته وسائر أحبابنا ومشايخنا وإخواننا إنه أجود الأجودين وأرحم الراحمين.
وأروي له ما ثبت به النقل عن سيد المرسلين وأشرف خلق الله من الأولين
--------------------------------------------
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আর তাঁর মাধ্যমেই আমার তৌফিক।
শায়খ, ইমাম, আলিম, সুপণ্ডিত, দুনিয়াবিমুখ, হাফিজ, পরহেজগার, তাঁর সময়ের শাফেয়ী মাযহাবের ইমাম, মুহিউদ্দীন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ ইবনে মুররা আন-নববী—আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা আবৃত করুন—বলেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নব্যসৃষ্ট বস্তুসমূহের সাদৃশ্য থেকে পবিত্র, ত্রুটি-বিচ্যুতি ও পরিবর্তনশীলতা থেকে সুউচ্চ। যাঁকে বিবিধ জিহ্বা ও বিভিন্ন ভাষায় ডাকা হয়। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা। তিনি যে সকল দান উপহার দিয়েছেন এবং যে হিদায়াতসমূহ দান করেছেন তার জন্য আমি তাঁর প্রশংসা করছি। আমি তাঁর নবীগণের ওপর সালাত পাঠ করছি যারা পৃথিবীকে ভ্রষ্টতা থেকে পবিত্র করেছেন, বিশেষ করে তাঁর ওপর যাকে সর্বশেষ রিসালাত দিয়ে পাঠানো হয়েছে, যিনি সুস্পষ্ট মুজিযা ও উজ্জ্বল নিদর্শনাবলি দ্বারা সমর্থিত এবং যিনি নির্ধারিত সময়ে সুপারিশকারী। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, পবিত্র স্ত্রীগণ, সন্তান-সন্ততি এবং তাঁদের অনুসারীদের ওপর চিরস্থায়ী সালাত বর্ষণ করুন যা সময়ের সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকে।
অতঃপর: যখন সন্দেহ ও সংশয় প্রকাশ পেল, কুৎসা ও বিভ্রান্তি বেড়ে গেল, কুপ্রবৃত্তির অনুসারী ও গোঁড়ামিতে লিপ্তদের কথাবার্তা ছড়িয়ে পড়ল এবং সকল প্রান্তে ও অঞ্চলে এর দ্বারা ফিতনা ব্যাপক হলো; তখন এমন এক ব্যক্তি—যাঁর উত্তর দেওয়া আমার জন্য কর্তব্য এবং যাঁর সাহায্য করা মহান সওয়াবের কাজ—তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন যেন আমি তাঁর জন্য পূর্বসূরিদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ এবং হরফ ও আওয়াজ সম্পর্কিত আকিদার বিষয়ে তাঁদের মূল নির্ভরতার বিষয়গুলো সংগ্রহ করি। এছাড়া এ বিষয়ে তাঁদের থেকে বর্ণিত মতপার্থক্যসমূহ এবং নির্ভরযোগ্য শরীয়তবিদ ও হাদিস বর্ণনাকারীদের গৃহীত মতগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করি। এ ক্ষেত্রে আমি আলোচনায় পরবর্তী যুগের কালামশাস্ত্রবিদদের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি এবং যুক্তি ও তর্কের নিয়মগুলো প্রয়োগ করেছি। অত্যন্ত সংক্ষেপে এবং অতি স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত বাক্যে কোনো প্রকার গোঁড়ামি বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই এটি সংকলন করেছি। বরং এর উদ্দেশ্য হলো সত্য প্রকাশ করা এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যা অনুসরণ করে গেছেন তার বিজয় নিশ্চিত করা। আল্লাহ আমাদের ও তাঁদের এবং আমাদের সকল প্রিয়জন, উস্তাদ ও ভাইদের তাঁর মর্যাদাপূর্ণ আবাসে একত্রিত করুন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা এবং পরম দয়ালু।
এবং আমি তাঁর নিকট বর্ণনা করছি যা রাসূলদের সর্দার এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠতম সত্তা থেকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الآخرين محمد بن عبد الله رسول رب العالمين صلى الله عليه وعلى سائر النبيين وآل كلٍّ وسائر الصالحين، فجاء هذا المختصر بحمد الله أنيساً للحاضر وجليساً للناظر، وقسمته بحمد الله فصولاً مشتملة على فنون من القواعد ونفائس من العقائد مما جمعته من كتب العلوم ومما أودعته من كتابنا المعروف بكتاب"التبيان في آداب حملة القرآن"1 وغير ذلك وعلى الله اعتمادي وإليه تفويضي واستنادي، اعتصمت بالله توكلت على الله لا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
ويشتمل هذا المختصر على قسمين:
القسم الأول: في ذكر ماننقله2 عن الشيخ الجليل الإمام المتقن الحافظ الأوحد فخر الدين أبي العباس أحمد بن الحسن بن عثمان بن الأرموي الشافعي رضي الله عنه فيما صنفه في كتابه الموسوم" بغاية المرام في مسألة الكلام"3.
والقسم الثاني: فيما وضعته في كتابنا الموسوم بكتاب"التبيان"
--------------------------------------------
সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ, যিনি বিশ্বজগতের রবের রাসূল, তাঁর ওপর এবং সকল নবীগণ, তাঁদের পরিবারবর্গ ও সকল নেককারদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহর প্রশংসায় এই সংক্ষিপ্ত সারটি উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য এক বন্ধু এবং পাঠকদের জন্য এক সহচর হিসেবে রচিত হয়েছে। আল্লাহর প্রশংসায় আমি একে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি, যা বিভিন্ন প্রকার মূলনীতি এবং মূল্যবান আকিদাহ সংবলিত। এগুলো আমি বিভিন্ন ইলমি কিতাব থেকে এবং আমাদের প্রসিদ্ধ কিতাব "আত-তিবিয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন" ও অন্যান্য কিতাব থেকে সংগ্রহ ও সংকলন করেছি। আল্লাহর ওপরই আমার ভরসা এবং তাঁরই নিকট আমার সকল বিষয় সমর্পণ ও আশ্রয়। আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করছি। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
এই সংক্ষিপ্ত সারটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মহান শায়খ, সুনিপুণ ইমাম, অনন্য হাফেজ ফখরুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে হাসান ইবনে উসমান আল-আরমাউয়ি আশ-শাফিয়ি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) তাঁর 'গাইয়াতুল মারাম ফি মাসআলাতিল কালাম' নামক গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন, তা থেকে আমরা যা উদ্ধৃত করছি তার বর্ণনায়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আমাদের 'আত-তিবিয়ান' নামক গ্রন্থে আমি যা লিপিবদ্ধ করেছি তার বর্ণনায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
القسم الأول:فصل: في الحروف وهل هي قديمة أم حادثةقال الشيخ أبو العباس في كتابه: فصل في الحروف. اعلم أن العلماء اختلفوا في الحروف هل هي قديمة في القرآن أو مطلقاً؟
فذهب قوم إلى القدم مطلقاً إذ قدمها في صورة دون صورة تناقض محض.
وذهب قوم إلى قدمها في القرآن فقط، وذهب قوم إلى قدم حروف قائمة بهذه الحروف المرتبة.
والذي يدل على قدم الحروف على الإطلاق من كتاب الله تعالى وجوه:
الأول: قوله تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: 38] وقال: {الرَّحْمَنُ عَلَّمَ الْقُرْآنَ خَلَقَ الْأِنْسَانَ عَلَّمَهُ الْبَيَانَ} [الرحمن:1-4] فرّق بين ماخلق وبين ما علم فلولم يكن ما علمه غير مخلوق وإلا لما كان لتخصيص أحدهما بالخلق دون الآخر فائدة.
والمراد بالبيان الحروف والكلام العربي في قول أهل التفسير.
الثاني: قوله تعالى: {وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا} [البقرة 31] وثبت بما تقدم إنما علمه غير مخلوق.
وذكر أهل التفسير إن الله تعالى لما أمر (1) الملائكة بالسجود لآدم صلى الله عليه وسلم قالوا: كيف نسجد لمن نحن أعلم منه؟ فأظهر الله لهم أشباح المخلوقات كلها على وجه الماء، وقال لهم: إن كنتم أعلم من آدم فأنبئوني بأسماء هؤلاء فرجعوا إلى الاستغفار، وقالوا: سبحانك لاعلم لنا إلا ما علمتنا فأنزل الله عز وجل على آدم تسعة وعشرين حرفاً، وألهمه أن وضع على كل شخص اسماً فلفق الحروف
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ:অক্ষর প্রসঙ্গে এবং তা কি অনাদি নাকি সৃষ্টিশায়খ আবুল আব্বাস তাঁর কিতাবে বলেছেন: অক্ষর বিষয়ক পরিচ্ছেদ। জেনে রাখুন যে, আলেমগণ অক্ষরসমূহ সম্পর্কে মতভেদ করেছেন যে, তা কি কেবল কুরআনের ক্ষেত্রে অনাদি, নাকি নিরঙ্কুশভাবে অনাদি?
একদল বিশেষজ্ঞ নিরঙ্কুশভাবে অনাদি হওয়ার মত পোষণ করেছেন; কেননা এক অবস্থায় অনাদি হওয়া আর অন্য অবস্থায় না হওয়া স্পষ্ট স্ববিরোধিতা।
আরেক দল কেবল কুরআনের ক্ষেত্রে অনাদি হওয়ার মত দিয়েছেন। আবার অন্য একদল এই সুশৃঙ্খল অক্ষরগুলোর পশ্চাতে বিদ্যমান (অন্য কোনো) সত্তাগত অক্ষরের অনাদি হওয়ার কথা বলেছেন।
আল্লাহ তাআলার কিতাব থেকে অক্ষরসমূহ নিরঙ্কুশভাবে অনাদি হওয়ার স্বপক্ষে যা প্রমাণ বহন করে, তার কয়েকটি দিক হলো:
প্রথম: মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি} [আল-আনআম: ৩৮] এবং তিনি বলেছেন: {পরম করুণাময়। তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাকে স্পষ্ট বর্ণনা (বায়ান) শিক্ষা দিয়েছেন} [আর-রাহমান: ১-৪]। এখানে তিনি যা সৃষ্টি করেছেন এবং যা শিক্ষা দিয়েছেন—এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করেছেন। সুতরাং তিনি যা শিক্ষা দিয়েছেন তা যদি অনাদি (অ-সৃষ্ট) না হতো, তবে একটিকে সৃষ্টির সাথে সুনির্দিষ্ট করা এবং অন্যটিকে না করার মধ্যে কোনো বিশেষ সার্থকতা থাকত না।
মুফাসসিরগণের মতে, 'বায়ান' (স্পষ্ট বর্ণনা) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অক্ষর এবং আরবি ভাষা।
দ্বিতীয়: মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন} [আল-বাকারাহ: ৩১]। ইতিপূর্বে যা আলোচিত হয়েছে তা দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি যা শিক্ষা দিয়েছেন তা অনাদি।
মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা যখন ফেরেশতাদেরকে (১) আদমের (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) প্রতি সিজদা করার নির্দেশ দিলেন, তখন তারা বলেছিল: আমরা কি এমন কাউকে সিজদা করব যার চেয়ে আমরা অধিক জ্ঞানী? তখন আল্লাহ তাদের সামনে পানির উপরিভাগে সমস্ত মাখলুকের অবয়ব প্রকাশ করলেন এবং তাদের বললেন: তোমরা যদি আদমের চেয়ে অধিক জ্ঞানী হয়ে থাকো, তবে আমাকে এগুলোর নাম সম্পর্কে সংবাদ দাও। তখন তারা ক্ষমা প্রার্থনার দিকে ফিরে এল এবং বলল: আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। এরপর আল্লাহ তাআলা আদমের ওপর ঊনত্রিশটি অক্ষর অবতীর্ণ করলেন এবং তাঁকে প্রতিটি সত্তার জন্য একটি নাম নির্ধারণের প্রেরণা (ইলহাম) দান করলেন, ফলে তিনি অক্ষরগুলোকে বিন্যস্ত করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بعضها إلى بعض، فقال: هذا شاة، وهذا بعير، وهذا فرس إلى أن سمى جميع المخلوقات التي ستوجد1.
الثالث: قوله تعالى: {اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ عَلَّمَ الْأِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق: 3-5] وهذا نصّ على أن ما يكون بالقلم، تعليمه سبحانه وتعالى، وثبت بما تقدم إنما هو تعليمه غير مخلوق، والتعليم بالقلم ليس إلا الحروف.
الرابع: هذه الحروف من علم الله لما سبق وقوله تعالى: {وَلا يَأْبَ كَاتِبٌ أَنْ يَكْتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ اللَّهُ فَلْيَكْتُبْ} [البقرة: 282] أخبر تعالى أنه علم الكاتب الكتابة، والكتابة ليس إلا الحروف، وعلمه غير مخلوق بالإجماع.
الخامس: في القرآن آيتان جمعتا حروف المعجم:
إحداهما: في سورة آل عمران وهو قوله تعالى: {ثُمَّ أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ بَعْدِ الْغَمِّ أَمَنَةً نُعَاساً} [آل عمران: 154] .
والثانية: آخر سورة الفتح2.
فمن زعم أن الحروف مخلوقة فقد صرّح بحدث الكتب المنزلة على الأنبياء من إله السماء.
السادس: لما اقتضت الحكمة الإلهية إثبات ما هو كائن في اللوح المحفوظ دلّ
--------------------------------------------
একটিকে অন্যটির সাথে মিলিয়ে তিনি বললেন: এটি ভেড়া, এটি উট এবং এটি ঘোড়া; এভাবে তিনি ভবিষ্যতে অস্তিত্ব লাভ করবে এমন সকল সৃষ্টির নাম দিলেন।১
তৃতীয়: মহান আল্লাহর বাণী: {পাঠ করুন এবং আপনার প্রতিপালক পরম দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না} [আল-আলাক: ৩-৫]। আর এটি এই বিষয়ের ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, যা কলমের মাধ্যমে হয় তা মহান পবিত্র আল্লাহরই শিক্ষা; এবং ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে তাঁর শিক্ষা মূলত অ-সৃষ্ট, আর কলমের মাধ্যমে শিক্ষা মূলত বর্ণমালা ছাড়া আর কিছু নয়।
চতুর্থ: পূর্বোল্লিখিত কারণে এই বর্ণগুলো আল্লাহর ইলমের অন্তর্ভুক্ত এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর কোনো লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না যেমনটি আল্লাহ তাকে শিক্ষা দিয়েছেন, সুতরাং সে যেন লেখে} [আল-বাকারা: ২৮২]। মহান আল্লাহ জানিয়েছেন যে তিনি লেখককে লিখনপদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন, আর লিখনপদ্ধতি হলো মূলত বর্ণমালা, এবং তাঁর ইলম (জ্ঞান) অ-সৃষ্ট হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে।
পঞ্চম: কুরআনে দুটি আয়াত রয়েছে যা বর্ণমালার সকল বর্ণকে একত্রিত করেছে:
তার মধ্যে একটি হলো: সূরা আলে ইমরানে, যা মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর দুঃখের পর তিনি তোমাদের ওপর প্রশান্তি হিসেবে তন্দ্রা অবতীর্ণ করলেন} [আলে ইমরান: ১৫৪]।
এবং দ্বিতীয়টি হলো: সূরা আল-ফাতহ-এর শেষ আয়াত।২
সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করল যে বর্ণমালা সৃষ্ট, সে মূলত আসমানের ইলাহ কর্তৃক নবীদের ওপর অবতীর্ণ কিতাবগুলো নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টিই স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করল।
ষষ্ঠ: যখন ঐশ্বরিক প্রজ্ঞা লাওহে মাহফুজে যা আছে তা সাব্যস্ত করাকে অপরিহার্য করল, তখন তা নির্দেশ করল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ذلك على قدم الحروف إذ لو لم تكن قديمة لكان ثَمّ شيء خارج عن علمه تعالى وذلك محال.
ويدل على قدمها من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وجوه:
الأول: مارواه عثمان بن عفان رضي الله عنه قال" سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ألف ب ت ث إلى آخرها، فقال: "الألف من اسم الله الذي هو الله والباء من اسم الله الذي هو الباري" 1 فاشتق لكل حرف حرفاً من صفات الله إلى آخر الحروف والسر في أن هذه الحروف مباني كتب الله المنزلة بالألسن المختلفة ومباني صفاته القديمة وأسمائه الحسنى، فالقول بحدوثها يوجب طرق الحدوث إلى ذلك، وقدمها ثابت بالإجماع.
الثاني: عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن الله قرأ طه ويس قبل أن يخلق آدم بألفي عام فلما سمعت الملائكة القرآن قالت: طوبى لأمة ينزل عليها هذا، طوبى لأجواف يوعى فيها هذا، طوبى لألسنة تتكلم بهذا" 2
وهذا صريح في تقدم الحروف قبل آدم والخصم لا يقول بذلك فيصير محجوجاً.
الثالث: ماروي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال:"إن الله ناجى موسى بمائة ألف كلمة3"
--------------------------------------------
এটি অক্ষরের অনাদিত্বের প্রমাণ, কারণ সেগুলো যদি অনাদি না হতো, তবে সেখানে মহান আল্লাহর ইলম (জ্ঞান) বহির্ভূত কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকত, যা অসম্ভব।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস থেকে সেগুলোর অনাদিত্বের কয়েকটি প্রমাণ রয়েছে:
প্রথম: উসমান ইবনে আফফান রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আলিফ, বা, তা, ছা থেকে শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বললেন: 'আলিফ আল্লাহর নাম থেকে যা হলো আল্লাহ এবং বা আল্লাহর নাম থেকে যা হলো বারী (স্রষ্টা)'।" ১ অতঃপর তিনি শেষ অক্ষর পর্যন্ত প্রতিটি অক্ষরের জন্য আল্লাহর গুণাবলি থেকে একটি করে অক্ষর গ্রহণ করেছেন। এর রহস্য হলো, এই অক্ষরগুলো বিভিন্ন ভাষায় অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাবসমূহের ভিত্তি এবং তাঁর অনাদি গুণাবলি ও সুন্দর নামসমূহের ভিত্তি। সুতরাং এগুলোর সৃষ্টি (হাদিস) হওয়ার কথা বলা সেগুলোর মধ্যে সৃষ্টি হওয়ার পথকে আবশ্যক করে তোলে, অথচ এগুলোর অনাদিত্ব ইজমা (ঐক্যমত) দ্বারা সাব্যস্ত।
দ্বিতীয়: আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করার দুই হাজার বছর আগে ত্ব-হা এবং ইয়া-সীন তিলাওয়াত করেছেন। ফেরেশতারা যখন কুরআন শুনতে পেল, তখন তারা বলল: সেই উম্মতের জন্য সুসংবাদ যাদের ওপর এটি অবতীর্ণ হবে, সেই বক্ষসমূহের জন্য সুসংবাদ যারা এটি ধারণ করবে এবং সেই জিহ্বাগুলোর জন্য সুসংবাদ যারা এর মাধ্যমে কথা বলবে।" ২
এটি আদমের পূর্বে অক্ষরের অস্তিত্বের বিষয়ে সুস্পষ্ট দলিল, আর বিপক্ষ দল তা স্বীকার করে না, ফলে তারা দালিলিকভাবে পরাভূত হবে।
তৃতীয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মূসার সাথে এক লক্ষ বাক্যে কথোপকথন করেছেন।" ৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২০)
فأثبت الله تعالى المناجاة بهذه الكلمات، والكلمات حقيقتها لاتعقل إلا بالحروف، واتصاف البارئ بما هو من لوازم المحدثات محال تعالى الله عن الحدث علواً كبيراً.
والذي يدل على قدم الحروف من كلام العلماء وإخبار السلف والصلحاء وجوه:
الأول: ما نقل عن الإمام أحمد1 رضي الله عنه في رسالته إلى أهل نيسابور وجرجان أنه قال: من زعم أن حروف الهجى مخلوقة فهو كافر لأنه سلك طريقاً إلى البدعة، لأنه متى حكم بأنها مخلوقة فقد حكم بأن القرآن مخلوق ومن زعم أن القرآن مخلوق فهو كافر.
ونقل عنه أيضاً رحمه الله، أنه قال فيمن حلف لا يتكلم فقرأ القرآن أنه لايحنث ولو كانت مخلوقة لحنث بالقياس على غيرها.
الثاني: ما روي عن أبي القاسم عبد الرحمن بن مندة2 رحمه الله أنه قال:
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা এই শব্দগুলোর মাধ্যমে কথোপকথন (মুনাজাত) সাব্যস্ত করেছেন, আর শব্দের হাকিকত বা বাস্তবতা অক্ষর ছাড়া বোধগম্য নয়। সৃষ্টবস্তুর যা আবশ্যিক বৈশিষ্ট্য, তার মাধ্যমে স্রষ্টাকে বিশেষিত করা অসম্ভব; আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি হওয়া থেকে অনেক উর্ধ্বে।
আলেমদের বক্তব্য এবং সালাফ ও সৎকর্মশীলদের বর্ণনা থেকে অক্ষরের অনাদিত্বের (ক্বিদাম) ওপর যা প্রমাণ বহন করে, তার দিকগুলো হলো:
প্রথমত: ইমাম আহমাদ১ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে নিসাবুর ও জুরজানের অধিবাসীদের কাছে প্রেরিত তাঁর চিঠিতে, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি ধারণা করবে যে বর্ণমালার অক্ষরগুলো সৃষ্টি (মাখলুক), সে কাফির; কারণ সে বিদআতের পথ অবলম্বন করেছে। কেননা, যখনই সে এগুলো সৃষ্টি হওয়ার হুকুম দেবে, তখন সে মূলত কুরআন সৃষ্টি হওয়ারই হুকুম দিল। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে কুরআন সৃষ্টি, সে কাফির।
তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে কথা না বলার শপথ করেছে কিন্তু অতঃপর কুরআন তিলাওয়াত করেছে, সে তার শপথ ভঙ্গকারী হবে না। যদি এটি (কুরআন) সৃষ্টি হতো, তবে অন্যান্য বিষয়ের ওপর কিয়াস (তুলনা) করে সে শপথ ভঙ্গকারী হতো।
দ্বিতীয়ত: আবু আল-কাসিম আবদুর রহমান ইবনে মান্দাহ২ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২১)
" من زعم أن حرفاً من حروف الهجى مخلوق فهو جهمي".
الثالث: ما روي عن القاضي أبي علي محمد بن أحمد بن أبي موسى الهاشمي1 رحمه الله أنه قال:" أدركت مشايخ المذهب كلهم من أهل طبرستان وأصبهان والشام والجزيرة2 وهم يعتقدون3 أن الحروف غير مخلوقة فمن ادعى عليهم غير ذلك فهو كذاب مفترى".
الرابع: قال البخاري4 رحمه الله، كان يحيى بن سعيد القطان5 أنه قال: ما زلت أسمع أصحابنا يقولون: أفعال العباد مخلوقة.
قال البخاري6: حركاتهم وأصواتهم فأما القرآن المتلو المكتوب في المصاحف الموعى في الصدور فهو كلام الله ليس مخلوق، قال تعالى: {بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ} [العننكبوت:49] .
--------------------------------------------
"যে ব্যক্তি দাবি করে যে বর্ণমালার কোনো একটি বর্ণও সৃষ্ট, সে একজন জাহমি।"
তৃতীয়: কাজী আবু আলী মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আবু মুসা আল-হাশেমি (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি মাজহাবের সকল মাশায়েখকে পেয়েছি—যারা তাবারস্তান, আসফাহান, শাম ও আল-জাজিরার অধিবাসী ছিলেন—এই বিশ্বাস পোষণ করতে যে, বর্ণসমূহ অসৃষ্ট। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের পক্ষ থেকে এর বিপরীত কিছু দাবি করে, সে এক চরম মিথ্যাবাদী ও অপবাদদাতা।"
চতুর্থ: ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তান বলতেন: "আমি সর্বদা আমাদের সাথীদের বলতে শুনেছি যে, বান্দাদের কার্যাবলি সৃষ্ট।"
বুখারি বলেছেন: তাদের নড়াচড়া ও তাদের কণ্ঠস্বর (সৃষ্ট); কিন্তু তিলাওয়াতকৃত কুরআন যা মাসহাফসমূহে লিখিত এবং অন্তরসমূহে সংরক্ষিত, তা আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্ট নয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বরং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের অন্তরে তা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ} [আল-আনকাবুত: ৪৯]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২২)
الخامس: ماروي عن ابن المبارك1 رحمه الله أنه قال: الورق والمداد مخلوق فأما القرآن فليس بخالق ولا مخلوق ولكنه كلام الله عز وجل2.
وروي عن إسحاق بن راهويه3 نحو ما ذكرنا4.
قلت: فإشارات هؤلاء السادة الفضلاء والأئمة العلماء رحمهم الله إلى الاحتراز عن القول بحدوث الحروف صيانة الكلام العزيز عن طرق الحدوث إليه بوجه من الوجوه، فلا سبيل إلى الخروج عما اعتقدوه فهم القدوة للإسلام والأنجم في الظلام.
وأما ما نقل عن أصحاب السير والأخبار:
فقد نقل عن ابن قتيبة5 في كتاب" المعارف" إن الله تعالى عوض آدم عن ولده هابيل شيث وأنزل عليه تحريم الميتة والدم ولحم الخنزير وأنزل عليه حروف المعجم في تسع وعشرين صحيفة.
--------------------------------------------
পঞ্চম: ইবনে মুবারক (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: কাগজ এবং কালি সৃষ্টি, কিন্তু কুরআন স্রষ্টাও নয় এবং সৃষ্টিও নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর বাণী।
এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ থেকেও আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আমি বলছি: এই পুণ্যবান মহোদয় এবং বিদগ্ধ ইমামগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) ইঙ্গিত ছিল অক্ষরের নশ্বরতা (সৃষ্টি হওয়া) বলা থেকে বিরত থাকার দিকে, যাতে সম্মানীত এই কালামকে যেকোনো দিক থেকে নশ্বরতার অনুপ্রবেশ থেকে সুরক্ষা প্রদান করা যায়। সুতরাং তাঁরা যা বিশ্বাস করতেন তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো পথ নেই, কারণ তাঁরাই ইসলামের আদর্শ এবং অন্ধকারের নক্ষত্ররাজী।
আর জীবনীকার ও ঐতিহাসিকদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো:
ইবনে কুতাইবাহ থেকে তাঁর 'আল-মাআরিফ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ আদমকে তাঁর পুত্র হাবিলের পরিবর্তে শীষ প্রদান করেছিলেন এবং তাঁর ওপর মৃত প্রাণী, রক্ত ও শূকরের মাংস হারাম হওয়ার বিধান অবতীর্ণ করেছিলেন এবং তাঁর ওপর ঊনত্রিশটি সহীফায় বর্ণমালা অবতীর্ণ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وذكر ذلك النحاس1 في كتاب"الحروف" والمعتمد في قدم الحروف قوله تعالى: {إِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَيْءٍ إِذَا أَرَدْنَاهُ أَنْ نَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} [النحل:40] .
و" كن" حرفان وليس المراد بمعنى"كن" إذ هو خروج عن صريح اللفظ ولكون المعنى لو كان مقتضياً، الإيجاد لزم من ذلك قدم العالم وهو محال فلا يكون الأمر مقتضياً، وحدوثها يستلزم إثبات حوادث لا أول لها وهو محال فلا بد من الاعتراف بكون"كن" قديمة رفعاً لهذا التسلسل، وإذا ثبت ذلك في" كن" ثبت في الجميع لعدم القائل، فالفصل لايقال هي متأخرة في الآية فتكون محدثة ضرورة كون المتأخر محدثاً لأنا نقول ذلك تأخر لفظي لا يتحقق إلا في الخارج وهو غير مشعر بالحدوث فإنه يقال في صفات الله تعالى حي، عالم، سميع، بصير، مع قدم الجميع بالاتفاق، لايقال يلزم على هذا أن تكون المعاصي مأموراً بها لكونها مرادة لله تعالى فتكون مندرجة تحت"كن" إذ وجودها غير موجب، بل الموجب هو تعلق"كن" بالمراد بالقول المذكور في الآية إذ لو لم يكن كذلك لخرج ذكر القول في الآية عبثاً، والبارئ تعالى منزه عن ذلك، والاعتماد في قدم الحروف يظهر في دليل المسألة بالاستنتاج الصحيح، فليتأمل ذلك ففيه الكفاية والغنية للمستبصر بنور العلم المستضيء بضياء الشرع.
لايقال يلزم على ما ذكرتم من قدم الحروف، قدم كل ما يتخاطب به الناس في معايشهم وأمورهم ضرورة عدم انفكاك الحروف عن جميع ذلك لأنا نجيب من وجهين:
--------------------------------------------
আন-নাহহাস১ এটি তাঁর "কিতাবুল হুরুফ"-এ উল্লেখ করেছেন। হরফের অনাদিত্বের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আমরা যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করি, তখন আমাদের কথা কেবল এই যে, আমরা তাকে বলি 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।" [আন-নাহল: ৪০]।
আর "কুন" (হও) শব্দটিতে দুটি হরফ রয়েছে। এখানে "কুন"-এর কেবল অর্থগত দিকটি উদ্দেশ্য নয়, কারণ তা শব্দের স্পষ্ট উচ্চারণ থেকে বিচ্যুত হওয়া। তাছাড়া যদি অর্থই অস্তিত্বদানের জন্য প্রভাবক হতো, তবে জগত অনাদি হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ত, যা অসম্ভব। সুতরাং নির্দেশটি (জগত অনাদি হওয়ার) প্রভাবক হতে পারে না। আর এই হরফগুলোর নবত্ব (হাদীস হওয়া) এমন সব নবসৃষ্ট বিষয় সাব্যস্ত করাকে অপরিহার্য করে যার কোনো শুরু নেই, যা অসম্ভব। অতএব, এই ধারাবাহিকতা (তাসালসুল) নিরসনের জন্য "কুন" শব্দটি অনাদি হওয়ার স্বীকৃতি দেওয়া আবশ্যক। আর যখন "কুন" শব্দের ক্ষেত্রে এটি সাব্যস্ত হলো, তখন তা সকল হরফের ক্ষেত্রেই সাব্যস্ত হবে, কারণ এদের মাঝে পার্থক্যের কোনো প্রবক্তা নেই। সুতরাং এমনটি বলা যাবে না যে, আয়াতে এটি পরবর্তীতে এসেছে বিধায় তা অনিবার্যভাবে নবসৃষ্ট হবে; কারণ আমরা বলি যে, এটি শাব্দিক পরম্পরা যা বাহ্যিক জগত ছাড়া বাস্তবায়িত হয় না এবং এটি নবত্বের প্রমাণ দেয় না। কেননা মহান আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে বলা হয়—তিনি চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা; অথচ সর্বসম্মতিক্রমে এগুলোর সবই অনাদি। এমনটি বলা যাবে না যে, এর ফলে পাপকাজগুলোও নির্দেশিত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে যেহেতু সেগুলো আল্লাহর ইচ্ছাধীন, ফলে সেগুলোও "কুন" শব্দের অধীনে চলে আসে। কারণ পাপের অস্তিত্ব কোনো আবশ্যিক বিষয় নয়, বরং আবশ্যিক বিষয় হলো আয়াতে উল্লিখিত বাণীর মাধ্যমে অভিপ্রায়ের সাথে "কুন"-এর সংশ্লিষ্টতা। যদি বিষয়টি এমন না হতো, তবে আয়াতে বাণীর উল্লেখ বৃথা হয়ে যেত, অথচ স্রষ্টা মহান আল্লাহ তা থেকে পবিত্র। আর হরফের অনাদিত্বের ব্যাপারে নির্ভরতা সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই মাসআলার দলীলেই প্রকাশ পায়। অতএব, এটি নিয়ে চিন্তা করা উচিত; কারণ ইলমের আলোয় আলোকিত এবং শরীয়তের প্রদীপ দ্বারা উদ্ভাসিত অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য এতে পর্যাপ্ততা ও অমুখাপেক্ষিতা রয়েছে।
এমনটি বলা যাবে না যে, হরফের অনাদিত্ব সম্পর্কে আপনারা যা উল্লেখ করেছেন, তার ফলে মানুষের জীবন ও কাজকর্মের সকল কথাবার্তাও অনাদি হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, কারণ হরফ তো এই সবকিছুর সাথেই অবিচ্ছেদ্য। এর উত্তরে আমরা দুটি দিক উল্লেখ করব:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أحدهما: أن الحروف التي يصدق عليها أنها قديمة وقعت تبعًا لما يتخاطب به الناس ولما هو كسبهم ومقدورهم فلا جرم لم يخبر فيها أحكام القرآن بل اكتسبت من متبوعها حكمه، ولا يقدح ذلك في قدمها، وهذا كما نقول في التفسير وكتب الفقه لما وقع القرآن تبع لما فيها اكتسب حكمها وكما إن الحبر والمداد اكتسب بوقوعه تبعاً لكتاب الله تعالى التعظيم والاحترام مع أنه في نفسه محدث بالإجماع فكذلك فيما نحن فيه اكتسب عكس ذلك للتبعية مع إن حقيقته لم تتغير1 بل التغير يقع لأمور خارجة عارضة فهو بمثابة سكين قطعت بها مسكاً وعنبراً فطاب ريحها ثم قطعت بها بصلاً فاكتسبت ضد تلك الرائحة مع إن جوهر السكين غير مختلف.
الثاني: الحروف كونها منطوق بها يخالف كونها غير منطوق بها.
وحينئذ لا تنافي بين قدم به الموافقة وحدوث ما به المخالفة ضرورة كونهما غيرين، وقد أشرنا إلى هذا في صدر هذا الفصل على أنا نقول: قضية الدليل إن يجري في الجميع أحكام القرآن ولكن لما تعذر ذلك على الناس، إذ ليس في القوى البشرية الاحتراز عند التخاطب والتكالم عن الحروف، ولا يمكن إطباق جميع الخلق على السكوت أو استعمال الإشارات العقلية، فلا جرم سقط حكمة على هذه الضرورة.
دقيقة: اعلم إن جريان اليد بالقلم والمداد ونحو الخط ودقته وسقمه وجودته، واعوجاجه واستقامته، كل ذلك محدث والحروف التي2 يتضمنه هذا المجموع قديم، وكذلك نقول في الصوت حركة اللسان والشفة، وصفاء الحنجرة وخشونتها، وغلظها ودقتها، والإسرار والإجهار، كل ذلك أيضاً محدث لأن هذه
--------------------------------------------
এর একটি হলো: সেই অক্ষরসমূহ যেগুলোর ক্ষেত্রে ‘কাদীম’ (অনাদি) হওয়া প্রযোজ্য, সেগুলো মানুষের বাক্যালাপ এবং তাদের উপার্জন ও সামর্থ্যের অনুবর্তী হয়ে সংঘটিত হয়েছে। ফলে সংগত কারণেই সেগুলোর ক্ষেত্রে কুরআনের বিধানসমূহ প্রকাশ পায়নি, বরং সেগুলো যার অনুসারী হয়েছে তারই বিধান লাভ করেছে। এটি সেগুলোর কাদীম হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না। বিষয়টি ঠিক তেমনই যেমন আমরা তাফসীর ও ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থাবলির ক্ষেত্রে বলে থাকি; যখন কুরআন সেগুলোর অনুসারী হয়ে সেখানে স্থান পায়, তখন কুরআন সেই গ্রন্থাবলির বিধান প্রাপ্ত হয়। আর যেমন কালি ও দোয়াত আল্লাহর কিতাবের অনুসারী হওয়ার কারণে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করে, যদিও তা স্বয়ং নিজে সর্বসম্মতভাবে ‘মুহদাস’ (সৃষ্ট)। ঠিক একইভাবে আমাদের আলোচ্য বিষয়েও অনুবর্তিতার কারণে এর বিপরীত বিষয়টি অর্জিত হয়েছে, যদিও এর প্রকৃত সত্তা পরিবর্তিত হয়নি১ বরং পরিবর্তনটি ঘটে বাহ্যিক ও আপতিক কারণে। এটি ঠিক সেই ছুরির মতো যা দিয়ে কস্তুরী ও আম্বর কাটা হয়েছে ফলে তার ঘ্রাণ সুগন্ধিময় হয়েছে, এরপর তা দিয়ে পেঁয়াজ কাটা হয়েছে ফলে তা সেই দুর্গন্ধ লাভ করেছে; অথচ ছুরির মূল উপাদান অভিন্নই রয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত: অক্ষরসমূহ উচ্চারিত হওয়া এবং উচ্চারিত না হওয়ার অবস্থা পরস্পর ভিন্ন।
এমতাবস্থায়, যার দ্বারা সাদৃশ্য রয়েছে তা কাদীম হওয়া এবং যার দ্বারা বৈসাদৃশ্য রয়েছে তা মুহদাস হওয়ার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, যেহেতু এই দুটি বিষয় ভিন্ন। আমরা এই পরিচ্ছেদের শুরুতেই এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছি এই মর্মে যে: দলীলের দাবি হলো সমস্ত কিছুর ওপর কুরআনের হুকুম জারি হওয়া, কিন্তু মানুষের জন্য তা দুঃসাধ্য হওয়ায়—কেননা মানুষের পক্ষে কথা বলা ও কথোপকথনের সময় অক্ষরসমূহ পরিহার করা সম্ভব নয় এবং সকল সৃষ্টির পক্ষে একযোগে নীরব থাকা বা কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক ইশারা ব্যবহার করাও সম্ভব নয়—তাই সংগত কারণেই এই প্রয়োজনের খাতিরে সেই বিধান রহিত হয়েছে।
সূক্ষ্ম তত্ত্ব: জেনে রাখুন যে, কলম ও কালির মাধ্যমে হাতের সঞ্চালন, লেখার ধরন, এর সূক্ষ্মতা, ত্রুটি, উৎকর্ষ, বক্রতা ও ঋজুতা—এই সবই মুহদাস। আর এই সমষ্টি যে অক্ষরসমূহকে২ ধারণ করে আছে তা কাদীম। একইভাবে আমরা শব্দের ক্ষেত্রেও বলি যে, জিহ্বা ও ঠোঁটের নড়াচড়া, কণ্ঠনালীর স্বচ্ছতা ও কর্কশতা, এর স্থূলতা ও সূক্ষ্মতা, চুপিচুপি ও উচ্চস্বরে পাঠ করা—এই সবই মুহদাস। কারণ এগুলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الأمور بأسرها من كسب الآدمي ومقدوره بإجراء الله تعالى العادة في ذلك كذلك، والذي يسمع عند تحقق هذا المجموع فهو الكلام القديم وقد أشار إلى ذلك الإمام أحمد1 رضي الله عنه فيما رواه ابناه صالح2 وعبد الله في كتاب"المحنة"3 أنه قال: من قال لفظي بالقرآن مخلوق، فهو ضال مبتدع وقائل بما لم يقل به أحد من سلف الأمة.
فقد تلخص في هذه المقدمة حقيقة الكلام والحروف وما قيل فيهما فعند ذلك نشرع في المقصود وهو:
--------------------------------------------
সমস্ত বিষয়ই মানুষের অর্জন এবং তার সক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ তাআলা এভাবে সাধারণ রীতি জারির মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন। আর এই সমষ্টি যখন বাস্তবায়িত হয় তখন যা শোনা যায়, তা-ই হলো অনাদি বাণী (কালামে কাদীম)। ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁর দুই পুত্র সালিহ এবং আবদুল্লাহ কর্তৃক বর্ণিত 'আল-মিহনা' গ্রন্থে এ দিকেই ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলবে যে, কুরআনের ক্ষেত্রে আমার উচ্চারণ সৃষ্ট (মাখলুক), সে পথভ্রষ্ট বিদআতী এবং এমন এক কথার প্রবক্তা যা এই উম্মাহর সালাফদের মধ্যে কেউ বলেননি।"
সুতরাং এই ভূমিকায় কালাম ও অক্ষরের হাকীকত এবং এ সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ উঠে এসেছে। অতঃপর আমরা মূল বিষয়ে প্রবেশ করছি, যা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
القسم الثاني: تحرير محل النزاع وذكر البرهان عليه
فصل في كلام الله الأمور بأسرها من كسب الآدمي ومقدوره بإجراء الله تعالى العادة في ذلك كذلك، والذي يسمع عند تحقق هذا المجموع فهو الكلام القديم وقد أشار إلى ذلك الإمام أحمد1 رضي الله عنه فيما رواه ابناه صالح2 وعبد الله في كتاب"المحنة"3 أنه قال: من قال لفظي بالقرآن مخلوق، فهو ضال مبتدع وقائل بما لم يقل به أحد من سلف الأمة.
فقد تلخص في هذه المقدمة حقيقة الكلام والحروف وما قيل فيهما فعند ذلك نشرع في المقصود وهو:
القسم الثاني
في تعين محل النزاع وذكر البرهان عليه وإيراد الأسئلة والجواب عنها وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب.
مسألة:
كلام الله ليس إلا الحروف والأصوات المفيدة لأمور الشرع المنزلة على النبي صلى الله عليه وسلم بنظم القرآن. وهو الموجود بين أظهرنا، الذي نتلوه بألسنتنا وتحفظه أولادنا ونكتبه في مصاحفنا، وليس لله كلام سواه، هذا مذهبنا وبه قال الإمام
--------------------------------------------
দ্বিতীয় ভাগ: বিরোধের বিষয়বস্তু নির্ধারণ এবং এর স্বপক্ষে দলিল উপস্থাপনআল্লাহর বাণী সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ মানুষের যাবতীয় কাজ মানুষের উপার্জন এবং তার সাধ্যায়ত্ত, যা আল্লাহ তাআলা সেই নিয়ম অনুযায়ী জারি রাখার মাধ্যমেই হয়ে থাকে। এই সামগ্রিক বিষয়টির উপস্থিতিতে যা শ্রুত হয়, তা-ই হলো অনাদি কালাম (বাণী)। ইমাম আহমদ১ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর দুই পুত্র সালেহ২ এবং আবদুল্লাহর বর্ণিত "কিতাবুল মিহনা"৩ গ্রন্থে এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলে যে আমার পঠিত কুরআনের শব্দাবলি সৃষ্ট, সে পথভ্রষ্ট বিদআতী এবং এমন এক কথা বলেছে যা উম্মতের পূর্বসূরিদের (সালাফ) কেউ বলেননি।"
এই উপক্রমণিকায় কালাম (বাণী) ও অক্ষরের প্রকৃত স্বরূপ এবং এ বিষয়ে যা বলা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ উঠে এসেছে। অতঃপর আমরা মূল লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হব, যা হলো:
দ্বিতীয় ভাগ
বিরোধের বিষয়বস্তু নির্দিষ্টকরণ, এর প্রমাণ উল্লেখ এবং প্রশ্ন ও উত্তর উপস্থাপন। আমার সামর্থ্য কেবল আল্লাহর সাহায্যেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করি।
মাসআলা:
আল্লাহর বাণী মূলত সেই অক্ষর এবং ধ্বনিসমূহ ব্যতীত আর কিছুই নয়, যা শরিয়তের বিধি-বিধানকে অর্থবহ করে এবং যা কুরআনের সুশৃঙ্খল বিন্যাসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। এটিই আমাদের মাঝে বিদ্যমান, যা আমরা আমাদের জিহ্বা দ্বারা তিলাওয়াত করি, আমাদের সন্তানরা মুখস্থ করে এবং আমরা আমাদের মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ করি। এছাড়া আল্লাহর আর কোনো কালাম নেই। এটিই আমাদের মাযহাব (মতাদর্শ) এবং এটিই বলেছেন ইমাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الشافعي1 رضي الله عنه على ما نقل عنه أنه قال: من قال لفظي بالقرآن مخلوق فهو كافر2.
وكذلك سئل عن رجل حلف بالطلاق الثلاث لا تكلمت، فقرأ القرآن هل يحنث؟ فقال: لايحنث لأن القرآن كلام الله وليس بكلام الآدميين3.
وقد نقلنا فيما سلف بعض ما نقل عن الإمام أحمد رضي الله عنه، وبه قال حماد بن زيد4 وحماد بن سلمة5 ويزيد بن هارون6 وعبد الرحمن بن مهدي7،
--------------------------------------------
আশ-শাফিঈ১ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সে অনুযায়ী তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলে যে, কুরআন পাঠে আমার উচ্চারণ সৃষ্টি, সে কাফির"২।
অনুরূপভাবে তাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনটি তালাকের শপথ করেছিল যে সে কথা বলবে না, এরপর সে কুরআন পাঠ করল; এতে কি তার শপথ ভঙ্গ হবে? তিনি বললেন: "তার শপথ ভঙ্গ হবে না, কারণ কুরআন আল্লাহর বাণী এবং তা মানুষের কথা নয়"৩।
আমরা ইতিপূর্বে ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত কিছু অংশ উল্লেখ করেছি। হাম্মাদ বিন যায়িদ৪, হাম্মাদ বিন সালামাহ৫, ইয়াযিদ বিন হারুন৬ এবং আবদুর রহমান বিন মাহদী৭-ও একই কথা বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وإسماعيل بن علية1، وسفيان بن عيينة2 ويوسف بن الماجشون3 وغير هؤلاء من الأئمة. والسادات من كبار العلماء والمحدثين ممن يضيق هذا المختصر عن ذكرهم وتعدادهم4
وذهب أبو الحسن الأشعري5 وأتباعه كأبي إسحاق الإسفراييني6. وأبي
--------------------------------------------
ইসমাইল ইবন উলাইয়্যাহ১, সুফিয়ান ইবন উইয়াইনাহ২, ইউসুফ ইবনুল মাজিশুন৩ এবং ইমামগণের মধ্যে আরও অনেকে। এছাড়াও এমন বহু শীর্ষস্থানীয় আলেম ও মুহাদ্দিস রয়েছেন, যাদের নাম উল্লেখ করা ও গণনা করা এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে সম্ভব নয়৪
আবু আল-হাসান আল-আশআরি৫ এবং তার অনুসারীরা যেমন আবু ইসহাক আল-ইসফারাঈনি৬ এবং আবু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بكر بن فورك 1، وأبي بكر الباقلاني2، وأبي القاسم القشيري3، وأبي القاسم الإسفراييني، وأبي محمد الجويني4 وأبي سهل الصعلوكي5 وغيرهم. إلى أن هذه الحروف والأصوات التي نتلوها ويحفظها أولادنا ونرجع إليها في حلالنا وحرامنا، المنزلة على النبي صلى الله عليه وسلم بنظم القرآن، محدثة وإنها عبارة ودلالة على الكلام القديم ولم ينزل على النبي صلى الله عليه وسلم كلام قديم.
ووجه البرهان على ما ادعيناه أن نقول كلام الله تعالى منزل، والمنزل ليس إلا الحرف والصوت ينتج أن كلام الله هو الحرف والصوت، فإذا أثبتنا أن كلام الله
--------------------------------------------
বকর বিন ফুরাক ১, আবু বকর আল-বাকিলানি ২, আবুল কাসিম আল-কুশায়রি ৩, আবুল কাসিম আল-ইসফারায়িনি, আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়ায়নি ৪ এবং আবু সাহল আস-সালুকি ৫ ও অন্যান্যরা এই মত পোষণ করেন যে—এই সকল অক্ষর ও শব্দ যা আমরা তিলাওয়াত করি, আমাদের সন্তানরা মুখস্থ করে এবং যেগুলোর দিকে আমরা আমাদের হালাল ও হারামের বিষয়ে প্রত্যাবর্তন করি, যা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর কুরআনের সুশৃঙ্খল বিন্যাসে অবতীর্ণ হয়েছে, তা সৃষ্ট এবং তা কেবল অনাদি কালামের (কালামে কদিম) একটি অভিব্যক্তি ও নির্দেশক মাত্র; আর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর কোনো অনাদি কালাম অবতীর্ণ হয়নি।
আমরা যা দাবি করেছি তার স্বপক্ষে প্রমাণের দিকটি হলো এই যে, আমরা বলি—আল্লাহ তাআলার কালাম অবতীর্ণকৃত, আর যা অবতীর্ণকৃত তা অক্ষর ও শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়; এর দ্বারা এটিই ফলশ্রুতি হিসেবে আসে যে, আল্লাহর কালাম হলো অক্ষর ও শব্দ। সুতরাং যখন আমরা প্রমাণ করলাম যে আল্লাহর কালাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
هو الحرف والصوت، وذكرنا الدليل على المقدمات، ثبت كونه قديماً بالإجماع.
وبيان كونه منزلاً من وجهين:
أحدهما: الآيات منها قوله تعالى: {وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتَابَ مُفَصَّلاً وَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ} [الأنعام:114] ، {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ} [الشعراء:192-193] ، {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ} [القدر: 1] {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ} [الحجر: 9] ، {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآناً عَرَبِيّا} [يوسف:2] ، {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ تَنْزِيلاًً} [الإنسان:23] ، {وَبالْحَقِّ أَنْزَلْنَاهُ وَبالْحَقِّ نَزَلَ} [الإسراء: 105] ، {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدىً لِلنَّاسِ} [البقرة:184] وأمثال هذا كثير في الكتاب العزيز. فهذه الإضمارات عائدة إلى كلام الله تعالى بالإجماع أو لضرورة عدم عودها إلى غير كلام الله تعالى. والوجه الثاني: إجماع الصحابة واتفاقهم على أن كلام الله تعالى منزل والذي يحقق ذلك تتبع جريانهم، وإن هذا الأمر كان مقرراً في عقائدهم جازمين، إذ لو تطرق إلى أحد منهم في ذلك شك أو شبهة لأزالوه بالسؤال للنبي صلى الله عليه وسلم مع ما كانوا فيه من الحمية في الدين والاحتراز عن الوقوع في الجهالات، وحينئذ يعلم أن عدم سؤالهم مع كثرة إطلاق لفظ النزول فيما بينهم وانتظارهم ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم في وقائعهم دليل على إجماعهم واتفاقهم على أن كلام الله منزل على نبيه. ونحن نشير إلى جملة من تلك الوقائع التي يعسر إحصائها ليحصل الجزم بأنهم كانوا معتقدين ذلك: فمن ذلك: حديث عائشة رضي الله عنها، أن الحارث بن هشام سأل النبي صلى الله عليه وسلم كيف يأتيك الوحي؟ الحديث في أول صحيح البخاري1.
--------------------------------------------
এটি অক্ষর ও শব্দ, এবং আমরা ভূমিকাগুলোর দলিল উল্লেখ করেছি; এটি অনাদি হওয়ার বিষয়টি ইজমার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে।
এটি অবতীর্ণ হওয়ার বর্ণনা দুটি দিক থেকে হতে পারে:
প্রথমটি হলো আয়াতসমূহ, যার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: "আর তিনিই তোমাদের নিকট বিস্তারিত কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা জানে যে, এটি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ।" [আল-আনআম: ১১৪], "আর নিশ্চয়ই এটি জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত রুহ এটি নিয়ে অবতরণ করেছেন।" [আশ-শুয়ারা: ১৯২-১৯৩], "নিশ্চয়ই আমি এটি কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি।" [আল-কদর: ১], "নিশ্চয়ই আমিই উপদেশবাণী অবতীর্ণ করেছি।" [আল-হিজর: ৯], "নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি।" [ইউসুফ: ২], "নিশ্চয়ই আমি আপনার ওপর পর্যায়ক্রমে কুরআন অবতীর্ণ করেছি।" [আল-ইনসান: ২৩], "আর সত্যের সাথে আমি এটি অবতীর্ণ করেছি এবং সত্যের সাথেই এটি অবতীর্ণ হয়েছে।" [আল-ইসরা: ১০৫], "রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে মানুষের হেদায়েত স্বরূপ।" [আল-বাকারা: ১৮৪] এবং মহাগ্রন্থ কুরআনে এই ধরণের উদাহরণ অনেক রয়েছে। এই সর্বনামগুলো ইজমা অনুযায়ী মহান আল্লাহর কালামের দিকে ফিরেছে অথবা অপরিহার্য কারণে এগুলো মহান আল্লাহর কালাম ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে ফেরার সুযোগ নেই। দ্বিতীয় দিক: সাহাবীগণের ইজমা ও ঐকমত্য যে, আল্লাহর কালাম অবতীর্ণ। যা তাদের কর্মধারা অনুসরণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। এই বিষয়টি তাদের আকিদায় দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। কেননা যদি তাদের কারোর মনে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ বা সংশয় উদিত হতো, তবে দ্বীনের ব্যাপারে তাদের প্রবল অনুরাগ এবং মূর্খতায় নিপতিত হওয়া থেকে সতর্ক থাকার কারণে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করার মাধ্যমে তা দূর করে নিতেন। এমতাবস্থায় এটি স্পষ্ট হয় যে, তাদের মাঝে অবতরণ শব্দের ব্যাপক ব্যবহার এবং বিভিন্ন ঘটনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে এর অপেক্ষায় থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনো প্রশ্ন না করা প্রমাণ করে যে, আল্লাহর কালাম তাঁর নবীর ওপর অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়ে তারা একমত ও ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। আমরা সেই ঘটনাগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটির প্রতি ইঙ্গিত করব যা গণনা করা কঠিন, যাতে এই দৃঢ় বিশ্বাস অর্জিত হয় যে তারা এই আকিদাই পোষণ করতেন। এর মধ্যে একটি হলো: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিস, যাতে হারিস ইবন হিশাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করেছিলেন, 'আপনার নিকট ওহী কীভাবে আসে?' হাদিসটি সহীহ বুখারীর শুরুতে রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومنها: ماروي عن أنس بن مالك رضي الله عنه، أنه قال:" أغفي النبي صلى الله عليه وسلم إغفاءة فرفع رأسه مبتسماً فأما قال وإما قالوا يا رسول الله: لم ضحكت؟ قال: " إنه أنزلت علي آنفًا سورة فقرأ {إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ} حتى ختمها "1 رواه مسلم وأبو داوود والنسائي. ومنها: ماروي عن عبد الحميد صاحب الزيادي قال: سمعت أنس بن مالك رضي الله عنه يقول: قال أبو جهل بن هشام: اللهم إن كان هذا هو الحق من عندك فأمطر علينا حجارة من السماء أو ائتنا بعذاب أليم، فنزلت {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} 2 اتفق عليه البخاري ومسلم. ومنها: حديث الإفك وقول عائشة رضي الله عنها:" ماكنت ظننت أن ينزل في شأني وحي يتلى، ولإن أصغر في نفسي أن يتكلم الله بالقرآن في أمري"3 الحديث بطوله حتى أنزل عليه فلما أنزل الله إلى آخره اتفقا على صحته. وعن الحسن في قوله تعالى4: {فَلا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ} [البقرة:232] قال: حدثني معقل بن يسار أنها نزلت فيه اتفق عليه البخاري وأبو داوود والترمذي والنسائي5.وعن أبي سلمة، عن عبد الله بن سلام رضي الله عنه قال: أخذنا نفراً من
--------------------------------------------
এগুলোর মধ্যে রয়েছে আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "নবী (সা.) সামান্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেন, এরপর তিনি মুচকি হেসে তাঁর মাথা তুললেন। হয় তিনি বললেন অথবা তারা বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন হাসলেন?' তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই আমার ওপর এইমাত্র একটি সূরা নাযিল হয়েছে।' এরপর তিনি পাঠ করলেন: {নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি} শেষ পর্যন্ত।" ১ মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসায়ি এটি বর্ণনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা আব্দুল হামিদ সাহেব আল-জিয়াদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে বলতে শুনেছি যে, আবু জেহেল ইবনে হিশাম বলেছিল: 'হে আল্লাহ! এটি যদি আপনার পক্ষ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের ওপর আসমান থেকে পাথর বর্ষণ করুন অথবা আমাদের কাছে কোনো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নিয়ে আসুন।' তখন নাযিল হলো: {আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায় তাদের শাস্তি দেবেন এবং আল্লাহ এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করা অবস্থায় তাদের শাস্তি দেবেন} ২ বুখারি ও মুসলিম এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ইফকের (মিথ্যা অপবাদ) হাদিস এবং আয়েশা (রা.)-এর উক্তি: "আমি কখনো ধারণা করিনি যে আমার ব্যাপারে তিলাওয়াতযোগ্য কোনো ওহি নাযিল হবে, আর আমি নিজের মনে নিজেকে অনেক তুচ্ছ মনে করতাম যে আল্লাহ আমার ব্যাপারে কুরআনের মাধ্যমে কথা বলবেন।" ৩ দীর্ঘ এই হাদিসটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর ওহি নাযিল হওয়া পর্যন্ত, আর যখন আল্লাহ নাযিল করলেন শেষ পর্যন্ত। উভয়ে এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। আর হাসান (রহ.) থেকে মহান আল্লাহর বাণী ৪: {তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধা দিও না} [বাকারা: ২৩২] সম্পর্কে বর্ণিত, তিনি বলেন: মা'কিল ইবনে ইয়াসার আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি তাঁর ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে। বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং নাসায়ি ৫ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন। আর আবু সালামাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা একদল লোক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فتذاكرنا لو نعلم أي الأعمال أحب إلى الله لعملناه1 فأنزل الله تعالى: {سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} حتى ختمها2 [الصنف 1] رواه أبو عيسى الترمذي* وعن سالم بن عبد الله عن أبيه رضي الله عنهما، أنه قال: ماكنا ندعوا زيد بن حارثة، إلا زيد بن محمد حتى نزل القرآن: {ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ} 3 [الأحزاب:5] أخرجه الترمذي والنسائي*.وفي جامع الترمذي من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال:" كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا نزل عليه الوحي، سمع عند وجهه كدوي النحل"4.*وفيه أيضاً من حديث الصديق رضي الله عنه قال:"كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم فأنزلت
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, আমরা পরস্পর আলোচনা করছিলাম যে, যদি আমরা জানতাম কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়, তবে আমরা তা অবশ্যই পালন করতাম।১ অতঃপর আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: "আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে; আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়" সূরাটি শেষ পর্যন্ত।২ [শ্রেণী ১] এটি আবু ঈসা তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।* সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ হতে তাঁর পিতার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা যায়েদ ইবনে হারিসাহকে কেবল যায়েদ ইবনে মুহাম্মাদ বলেই ডাকতাম, যতক্ষণ না কুরআনের এই আয়াত নাযিল হলো: 'তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো' [আল-আহযাব: ৫]"৩ এটি তিরমিযী ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।* এবং তিরমিযীর জামে গ্রন্থে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ওহী নাযিল হতো, তখন তাঁর চেহারার কাছে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ শোনা যেত।"৪* তাতে আরও বর্ণিত হয়েছে সিদ্দীক (আবু বকর) রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে, তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, তখন নাযিল হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
هذه الآية {مَنْ يَعْمَلْ سُوءاً يُجْزَ بِه} " [النساء:123] "1. وفي حديث البراء بن عازب رضي الله عنه قال:" لما نزلت {لا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} جاء ابن أم مكتوم وكان أعمى وجلس بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: كيف بمثلي وأنا ضرير فنزل تلك الساعة {غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ} 2 [النساء:65] "وفي حديث عبادة بن الصامت وكان عقبياً بدرياً أحد نقباء الأنصار رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا أنزل عليه الوحي كرب لذلك وتربد3 له وجهه. فأنزل الله ذات يوم فلقي ذلك فلما سري عنه قال خذوا عني4.* وعن جابر بن عبد الله رضي الله عنه، أن اليهود قالوا للمسلمين: من أتى امرأة مدبرة جاء ولدها أحول فأنزل الله {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} 5 [البقرة:223] .*وعن ابن عباس في قوله تعالى: {لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ} [القيامة:16] قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا نزل جبريل عليه السلام بالوحي فكان مما يحرك به لسانه وشفتيه فيشتد عليه وكان يعرق منه فأنزل الله هذه الآية6.
--------------------------------------------
এই আয়াত {যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে, তাকে তার বিনিময় দেওয়া হবে} [আন-নিসা: ১২৩] ১। বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে আছে, তিনি বলেন: "যখন {মুমিনদের মধ্যে যারা বসে থাকে তারা সমান নয়} অবতীর্ণ হলো, তখন ইবনে উম্মে মাকতূম এলেন, তিনি ছিলেন অন্ধ। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে বসলেন এবং বললেন: 'আমার মতো ব্যক্তির কী অবস্থা হবে অথচ আমি তো দৃষ্টিহীন?' তখন সেই মুহূর্তেই অবতীর্ণ হলো {অক্ষম ব্যক্তিরা ছাড়া} ২ [আন-নিসা: ৬৫]।" উবাদাহ ইবনে সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)—যিনি আকাবায় অংশগ্রহণকারী, বদরী সাহাবী এবং আনসারদের অন্যতম প্রতিনিধি (নকীব) ছিলেন—থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যখন ওহী অবতীর্ণ হতো, তখন তিনি অত্যন্ত কষ্ট বোধ করতেন এবং তাঁর চেহারা বিবর্ণ ৩ হয়ে যেত। একদিন আল্লাহ ওহী অবতীর্ণ করলেন এবং তিনি একই অবস্থার সম্মুখীন হলেন। যখন সেই অবস্থা কেটে গেল, তখন তিনি বললেন, 'তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো।' ৪। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, ইহুদিরা মুসলিমদের বলত: "কেউ যদি স্ত্রীর পিছন দিক থেকে (যোনিপথে) সঙ্গম করে তবে তার সন্তান টেরা হয়।" তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র; অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো} ৫ [আল-বাকারা: ২২৩]। ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহর বাণী: {আপনি ওহী দ্রুত মুখস্থ করার জন্য আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না} [আল-কিয়ামাহ: ১৬] সম্পর্কে বর্ণিত: যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) ওহী নিয়ে আসতেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জিহ্বা ও ওষ্ঠদ্বয় নাড়াতেন, যা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হতো এবং তিনি ঘামতেন। তখন আল্লাহ এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وعن عائشة وابن عباس رضي الله عنهما قالا:" مكث النبي صلى الله عليه وسلم بمكة عشر سنين ينزل عليه القرآن وبالمدينة عشر سنين"1.*وعن مسروق قال: قال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه:"والذي لا إله غيره ما أنزلت سورة من كتاب الله إلا وأنا أعلم أين نزلت، ولا أنزلت آية من كتاب الله إلا وأنا أعلم فيمن أنزلت ولو أعلم أن أحداً أعلم مني بكتاب الله تبلغه الإبل ركبت إليه*"2.*وعن ابن إسحاق قال سمعت البراء رضي الله عنه يقول: آخر آية نزلت {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلالَةِ} [النساء:176] وآخر سورة نزلت: براءة3.وروي عن عثمان بن عطاء4 عن أبيه عن ابن عباس قال" أول ما أنزل من القرآن بمكة {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} إلى قوله: {مَا لَمْ يَعْلَمْ} ثم {نْ وَالْقَلَمِ} ثم {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ} ثم {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} ثم {تُبْتُ} ثم {إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ} ثم {سَبَّحَ} ثم {وَاللَّيْلِ} ثم {وَالْفَجْرِ} ثم {وَالضُّحَى} ثم {أَلَمْ نَشْرَحْ} ثم {وَالْعَصْرِ} ثم {وَالْعَادِيَاتِ} ثم {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} ثم {الْكَوْثَرَ} ثم {أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ} ثم" المعوذتين" على الاختلاف ثم {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} ثم {وَالنَّجْمِ} ثم {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ} ثم {وَالشَّمْسِ} ثم {وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ} ثم {وَالتِّينِ} ثم {لِإِيلافِ} ثم {الْقَارِعَة} ثم {لا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ} ثم {وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ} ثم {وَالْمُرْسَلاتِ} ثم {أَرَأَيْتَ} ثم {لا أُقْسِمُ} ثم {وَالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ} ثم
--------------------------------------------
আয়েশা ও ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেন যখন তাঁর ওপর কুরআন নাজিল হচ্ছিল এবং মদিনায় দশ বছর।"১।
এবং মাসরুক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আল্লাহর কিতাবের এমন কোনো সূরা নাজিল হয়নি যার সম্পর্কে আমি জানি না যে তা কোথায় নাজিল হয়েছে। আল্লাহর কিতাবের এমন কোনো আয়াত নাজিল হয়নি যার সম্পর্কে আমি জানি না যে তা কার বিষয়ে নাজিল হয়েছে। আমি যদি জানতাম যে উটের পিঠে চড়ে পৌঁছানো যায় এমন কোনো ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী, তবে আমি অবশ্যই সওয়ার হয়ে তাঁর কাছে যেতাম।"২।
ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: সর্বশেষ নাজিল হওয়া আয়াত হলো {লোকেরা আপনার কাছে সমাধান চায়। বলুন: আল্লাহ তোমাদের 'কালালাহ' সম্পর্কে সমাধান দিচ্ছেন...} [আন-নিসা: ১৭৬] এবং সর্বশেষ নাজিল হওয়া সূরা হলো বারাআহ।৩।
উসমান ইবনে আতা৪ তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মক্কায় কুরআনের যা প্রথম নাজিল হয়েছিল তা হলো {পাঠ করুন আপনার রবের নামে} থেকে {যা তিনি জানতেন না} পর্যন্ত, এরপর {নুন ও কলম}, এরপর {হে বস্ত্রাবৃত}, এরপর {হে চাদরাবৃত}, এরপর {ধ্বংস হোক}, এরপর {যখন সূর্য গুটিয়ে নেওয়া হবে}, এরপর {মহিমা ঘোষণা করুন}, এরপর {শপথ রাতের}, এরপর {শপথ ভোরের}, এরপর {শপথ পূর্বাহ্নের}, এরপর {আমরা কি প্রশস্ত করিনি}, এরপর {শপথ সময়ের}, এরপর {শপথ দ্রুতগামী ঘোড়াসমূহের}, এরপর {বলুন: হে কাফিরগণ}, এরপর {কাওসার}, এরপর {আপনি কি দেখেননি কেমন আচরণ করেছেন}, এরপর মতভেদ অনুযায়ী 'আশ্রয় প্রার্থনার দুই সূরা' (ফালাক ও নাস), এরপর {বলুন: তিনিই আল্লাহ এক}, এরপর {শপথ নক্ষত্রের}, এরপর {নিশ্চয়ই আমরা তা নাজিল করেছি}, এরপর {শপথ সূর্যের}, এরপর {শপথ নক্ষত্ররাজিশোভিত আকাশের}, এরপর {শপথ তীন ফলের}, এরপর {কুরাইশদের আসক্তির জন্য}, এরপর {মহা বিপদ}, এরপর {আমি শপথ করছি কিয়ামত দিবসের}, এরপর {দুর্ভোগ প্রত্যেকের জন্য যে পশ্চাতে নিন্দা করে}, এরপর {শপথ প্রেরিত বায়ুর}, এরপর {আপনি কি দেখেছেন}, এরপর {আমি শপথ করছি}, এরপর {শপথ আকাশের ও রাতে আগমনকারীর}, এরপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
{الأعراف} ثم {قل أوحي} ثم {يس} ثم {الفرقان} ثم {الملائكة} ثم {كهيعص} ثم {طه} ثم {اقتربت} ثم {إذا وقعت} ثم {الشعراء} ثم {النمل} ثم {القصص} 1 ثم {بني إسرائيل} ثم {يونس} 2 ثم" هود " ثم" يوسف "ثم" الحجر "ثم" الأنعام "3 ثم {والصافات} ثم" لقمان "ثم" سبأ "ثم" الزمر "4 ثم {حم المؤمن} ثم {حم السجدة} ثم {حم عسق} ثم {الزخرف} ثم {الدخان} ثم {الجاثية} ثم {الأحقاف} 5 ثم {وا لذاريات} ثم {هل أتى على الإنسان} على الاختلاف ثم {الغاشية} ثم {الكهف} 6 ثم {النحل} 7 ثم {نوح} ثم {إبراهيم} ثم {الأنبياء} ثم {المؤمنون} ثم {آلم تنزيل السجدة} ثم {والطور} ثم {الملك} ثم {الحاقة} ثم {سأل سائل} ثم {عم يتساءلون} ثم {والنازعات} ثم {انفطرت} ثم {انشقت} ثم {الروم} ثم {العنكبوت} ثم {ويل للمطففين} . فهذه خمسة وثمانون موضوعاً8 كلها مكية. ثم أول ما نزل بالمدينة: فاتحة الكتاب ثم البقرة ثم الأنفال9 ثم آل عمران ثم الأحزاب ثم الممتحنة ثم النساء ثم {إذا زلزلت} ثم الحديد ثم الصف ثم سورة محمد صلى الله عليه وسلم ثم الرعد ثم الرحمن ثم الطلاق ثم {لم يكن} ثم"الحشر" ثم {إذا جاء}
--------------------------------------------
{আল-আ’রাফ} তারপর {কুল উহিয়া} তারপর {ইয়াসিন} তারপর {আল-ফুরকান} তারপর {আল-মালাইকাহ} তারপর {কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ} তারপর {ত্বহা} তারপর {ইকতরাবাত} তারপর {ইযা ওয়াকাআত} তারপর {আশ-শুআরা} তারপর {আন-নামল} তারপর {আল-কাসাস} 1 তারপর {বনী ইসরাঈল} তারপর {ইউনুস} 2 তারপর "হুদ" তারপর "ইউসুফ" তারপর "আল-হিজর" তারপর "আল-আনআম" 3 তারপর {আস-সাফফাত} তারপর "লুকমান" তারপর "সাবা" তারপর "আজ-জুমার" 4 তারপর {হা-মীম আল-মুমিন} তারপর {হা-মীম আস-সাজদাহ} তারপর {হা-মীম আইন-সীন-কাফ} তারপর {আজ-জুখরুফ} তারপর {আদ-দুখান} তারপর {আল-জাসিয়াহ} তারপর {আল-আহকাফ} 5 তারপর {আয-যারিয়াত} তারপর {হাল আতা আলাল ইনসান} মতভেদ অনুযায়ী তারপর {আল-গাশিয়াহ} তারপর {আল-কাহাফ} 6 তারপর {আন-নাহল} 7 তারপর {নূহ} তারপর {ইবরাহীম} তারপর {আল-আম্বিয়া} তারপর {আল-মুমিনুন} তারপর {আলিফ-লাম-মীম তানযীল আস-সাজদাহ} তারপর {আত-তূর} তারপর {আল-মুলক} তারপর {আল-হাক্কাহ} তারপর {সাআলা সাইল} তারপর {আম্মা ইয়াতাসাউলুন} তারপর {আন-নাযিআত} তারপর {ইনফাতরাত} তারপর {ইনশাক্কাত} তারপর {আর-রূম} তারপর {আল-আনকাবুত} তারপর {ওয়াইলুল লিল মুতাফফিফিন}। সুতরাং এগুলো পঁচাশিটি বিষয় (সূরা)8 যার সবই মক্কী। এরপর মদিনায় সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: ফাতিহাতুল কিতাব তারপর আল-বাকারাহ তারপর আল-আনফাল9 তারপর আল ইমরান তারপর আল-আহযাব তারপর আল-মুমতাহিনা তারপর আন-নিসা তারপর {ইযা যুলযিলাত} তারপর আল-হাদীদ তারপর আস-সাফ তারপর সূরা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তারপর আর-রাদ তারপর আর-রাহমান তারপর আত-তালাক তারপর {লাম ইয়াকুন} তারপর "আল-হাশর" তারপর {ইযা জা-আ}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি যিকরু ই’তিকাদিস সালাফ ফিল হুরুফি ওয়াল আসওয়াত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
{نصر الله} ثم النور ثم الحج1 ثم المنافقون2 ثم المجادلة ثم الحجرات ثم التحريم ثم الجمعة ثم التغابن ثم الفتح ثم التوبة فهذه ثمانية وعشرون3 سور مدنية وشيوع نزول كلام الله بل نزول كتبه أظهر من أن يحتاج إلى إقامة الدليل عليه.*فقد روي عن أبي ذر رضي الله عنه قال:"قلت يا رسول الله! كم كتاب أنزل الله؟ قال:" مائة كتاب وأربعة كتب، أنزل على آدم عشرة صحائف، وعلى شيث خمسين صحيفة4 وعلى إدريس ثلاثين صحيفة، وعلى إبراهيم عشر صحائف، وأنزل على موسى التوراة، وعلى داود الزبور، وعلى عيسى الإنجيل وأنزل على نبيكم الفرقان 5"*وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال:"نزلت التوراة على موسى لست خلون من شهر رمضان، وأنزل الزبور على داود لاثنتي عشرة خلت من شهر رمضان، وأنزل الإنجيل على عيسى لثمان عشرة خلت من شهر رمضان، وأنزل الفرقان جملة واحدة إلى السماء الدنيا في ليلة القدر. وصحف إبراهيم أنزلت عليه في أول ليلة من شهر رمضان"6.
--------------------------------------------
{নাসরুল্লাহ} এরপর আন-নূর, এরপর আল-হাজ্জ১, এরপর আল-মুনাফিকুন২, এরপর আল-মুজাদালাহ, এরপর আল-হুজুরাত, এরপর আত-তাহরীম, এরপর আল-জুমুআহ, এরপর আত-তাগাবুন, এরপর আল-ফাতহ, এরপর আত-তাওবাহ। সুতরাং এগুলো আটাশটি৩ মাদানী সূরা। আর আল্লাহর কালামের অবতরণ, বরং তাঁর কিতাবসমূহের অবতরণ এতই প্রসিদ্ধ যে এর উপর দলিল পেশ করার কোনো প্রয়োজন নেই। আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তাআলা মোট কতটি কিতাব নাযিল করেছেন? তিনি বললেন: 'একশ চারটি কিতাব। আদমের উপর দশটি সহীফা, শীষের উপর পঞ্চাশটি সহীফা৪, ইদরীসের উপর ত্রিশটি সহীফা, ইবরাহীমের উপর দশটি সহীফা; আর মূসার উপর তাওরাত, দাউদের উপর যাবুর, ঈসার উপর ইনজীল এবং তোমাদের নবীর উপর ফুরকান৫ নাযিল করেছেন'।" ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তাওরাত মূসার উপর রমজান মাসের ছয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পর নাযিল হয়েছিল, যাবুর দাউদের উপর রমজানের বারো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর নাযিল হয়েছিল, ইনজীল ঈসার উপর রমজানের আঠারো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর নাযিল হয়েছিল, আর ফুরকান লাইলাতুল কদরে একসাথে দুনিয়ার আসমানে নাযিল হয়েছিল। আর ইবরাহীমের সহীফাসমূহ তাঁর উপর রমজানের প্রথম রাতে নাযিল করা হয়েছিল"৬।
--------------------------------------------