(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: -)
توجيه وتنبيه إلى هواة الصيد ومحبيه   (عبد الله الطيار)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: توجيه وتنبيه إلى هواة الصيد ومحبيه

المؤلف: أ. د / عبد الله بن محمد بن أحمد الطيار

الناشر: دار المتعلم للنشر والوزيع

الطبعة: الأولى، 1424هـ/ 2003م

عدد الصفحات: 69

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শিকার অনুরাগী ও প্রেমীদের জন্য নির্দেশনা ও সতর্কতা   (আবদুল্লাহ আল-তায়্যার)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: শিকার অনুরাগী ও প্রেমীদের জন্য নির্দেশনা ও সতর্কতা

লেখক: প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-তায়্যার

প্রকাশক: দারুল মুতাআল্লিম প্রকাশনা ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরি/ ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ১)
توجيه وتنبيه الى هواة الصيد

تأليف: عبد الله بن محمد بن احمد الطيار

ال‌‌مقدمة

الحمد لله الذي كرمنا بأنواع الكرامات ومنَ علينا بما في البر والبحر من طيب المأكولات وسخر لنا ما في الكون من عجائب المخلوقات ومن تمام لطفه بعباده أن أباح لهم الصيد بنوعيه الجوارح والآلات فله الحمد والشكر على سائر الإنعام. وأشهد أن لا إله إلا الله أحب الكلام إلى رب الأرض والسموات كيف لا وهي تطيش بها الصحف يوم أن تسكب العبرات وتظهر مساوئ السيئات. وأشهد أن محمدا عبده ورسوله أرسله الله بالهدى والآيات والبينات لإرشاد عباده إلى سبل النجاه فمن تمسك بهديه وسار على نهجه أفلح ورب الأرض والسموات ومن تخلف عن هديه وسار على غير نهجه ضل وسار في الظلمات وعلى آله وصحبه الطيبين الذين نالوا الدرجات.

وبعد:

إن من عظيم نعم الله تعالى على عباده أن أنعم عليهم بإباحة ما فيه مصالحهم الدنيوية رحمة بهم وشفقة عليهم ومن أعظم هذه النعم أن أباح لهم الاصطياد.
শিকারীদের জন্য দিকনির্দেশনা ও সতর্কতা

রচনা: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-তাইয়্যার

ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের বিভিন্ন প্রকার সম্মানে ভূষিত করেছেন এবং জল ও স্থলের পবিত্র খাদ্যসামগ্রী দান করে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিজগতের সকল বিস্ময়কর বিষয়কে তিনি আমাদের অনুগত করে দিয়েছেন। তাঁর বান্দাদের প্রতি তাঁর পূর্ণ দয়ার বহিঃপ্রকাশ হলো যে, তিনি তাদের জন্য উভয় প্রকার শিকারকে—অর্থাৎ শিকারী প্রাণী ও সরঞ্জামাদি—বৈধ করেছেন। সুতরাং সকল নেয়ামতের জন্য তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি আসমান ও জমিনের প্রতিপালক এবং তাঁর নিকট এই বাণীই সর্বাধিক প্রিয়। কেনই বা হবে না, অথচ এই বাণীর ভারে কিয়ামতের দিন আমলনামার খাতাগুলো হালকা হয়ে যাবে, যেদিন অশ্রু বিসর্জিত হবে এবং পাপের অশুভ দিকগুলো প্রকাশিত হবে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত, নিদর্শনসমূহ ও সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তাঁর বান্দাদের মুক্তির পথে পরিচালিত করার জন্য প্রেরণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর হেদায়েতকে আঁকড়ে ধরবে এবং তাঁর আদর্শ অনুযায়ী চলবে, আসমান ও জমিনের রবের কসম, সে সফলকাম হবে। আর যে তাঁর হেদায়েত থেকে বিচ্যুত হবে এবং তাঁর আদর্শ ভিন্ন অন্য পথে চলবে, সে পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। আর তাঁর পরিবারবর্গ ও পুণ্যবান সাহাবীগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, যারা সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন।

অতঃপর:

বান্দাদের ওপর মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত হলো, তিনি তাদের প্রতি করুণা ও দয়াপরবশ হয়ে তাদের পার্থিব কল্যাণ নিহিত রয়েছে এমন বিষয়সমূহ বৈধ করে দিয়েছেন। আর এই মহান নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো তিনি তাদের জন্য শিকার করাকে বৈধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ২)
ولما كان الصيد في شريعتنا له مكانته العظيمة جعل الله سبحانه وتعالى أحكامه الخاصة به، ولذا قام فقهاؤنا فجعلوا له كتابا أو بابا يسمى باسمه فيقال كتاب الصيد أو باب الصيد وذلك لأهميته ووجوب الاعتناء بأحكامه المتعلقة به.

ونظراً لأهميته ولطلب بعض الأخوة مني بحثاً في بعض المسائل التي تعرض لهم أثناء اصطيادهم قمت بتأليف هذه الرسالة.

وأحب أن أنبه هنا بأن هذه الرسالة كانت بداية فكرتها أن استضافني مجموعة من هواة الصيد في إحدى جلساتهم على مائدة صيدهم وقد طرح أثناء هذا اللقاء مجموعة من الأسئلة حول الصيد وتمت الإجابة عليها ثم طلب أحد الحاضرين الإجابة على هذه الأسئلة مكتوبة أو مسجلة لتعم الفائدة فطلبت منه تدوين الأسئلة وأخذ يتابع الإجابة كلما قابلني وقد يسر الله ذلك في هذه الرسالة الصغيرة.

وقد جعلت هذه الرسالة في ثمانية مباحث:

المبحث الأول: في قواعد أولية لا بد من ذكرها قبل الشروع في الرسالة.

المبحث الثاني: تعريف الصيد وحكمه.
যেহেতু আমাদের শরিয়তে শিকারের এক সুমহান মর্যাদা রয়েছে, তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর জন্য বিশেষ বিধানাবলি নির্ধারণ করেছেন। এই কারণেই আমাদের ফকিহগণ এর জন্য একটি স্বতন্ত্র কিতাব বা অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন যা এর নামেই নামাঙ্কিত; যেমন—'শিকারের কিতাব' বা 'শিকারের অধ্যায়'। এর গুরুত্ব এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলির প্রতি যত্নশীল হওয়ার আবশ্যকতা বিবেচনা করেই তারা এটি করেছেন।

এর গুরুত্ব এবং কতিপয় ভাইয়ের শিকারকালীন সময়ে উদ্ভূত বিভিন্ন মাসআলা সংক্রান্ত একটি গবেষণামূলক কাজ তৈরির অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমি এই পুস্তিকাটি রচনা করেছি।

আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই যে, এই পুস্তিকাটির মূল ভাবনাটি শুরু হয়েছিল যখন একদল শিকার-অনুরাগী তাদের এক মজলিসে তাদের সংগৃহীত শিকারের দস্তরখানে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই বৈঠকে শিকার সংক্রান্ত একগুচ্ছ প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল এবং সেগুলোর উত্তর প্রদান করা হয়েছিল। এরপর উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখিত বা রেকর্ডকৃত আকারে চাইলেন যেন এর উপকারিতা সর্বজনীন হয়। তখন আমি তাকে প্রশ্নগুলো লিখে নিতে বলি এবং পরবর্তীতে যখনই আমার সাথে তার দেখা হয়েছে, তিনি উত্তরগুলো সংগ্রহ করেছেন। আল্লাহ তাআলা এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাটিতে বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন।

আমি এই পুস্তিকাটিকে আটটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাথমিক কিছু মূলনীতি প্রসঙ্গে, যা মূল আলোচনা শুরু করার পূর্বে উল্লেখ করা আবশ্যক।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিকারের সংজ্ঞা এবং এর বিধান।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ৩)
المبحث الثالث: في ذكر الأحكام المتعلقة بالصائد مع ذكر المسائل في ذلك.

المبحث الرابع: في ذكر الأحكام المتعلقة بالمصيد مع ذكر المسائل في ذلك.

المبحث الحامس: في آداب الصيد.

المبحث السادس: فيما يتعلق بالضب.

المبحث السابع: في الصيد بالجارحة.

المبحث الثامن: في ذكر مسائل هامة تتعلق بالصيد.

وقد بذلت جهدي في كل ذلك رجاء النفع بها والله أسأل أن يعلمنا ما ينفعنا وأن ينفعنا بما علمنا وأن يرزقنا الإخلاص في القول والعمل إنه سميع قريب.

وكتبه أبو محمد عبد الله بن محمد بن أحمد الطيار

الزلفي ص ب 188 الرمز البريدي 11932
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শিকারি সংক্রান্ত বিধি-বিধান এবং এ সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ আলোচনা প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শিকারকৃত বস্তু সংক্রান্ত বিধি-বিধান এবং এ সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ আলোচনা প্রসঙ্গে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শিকারের আদবসমূহ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ধব্ব (এক প্রকার মরুভূমির সরীসৃপ) সংক্রান্ত আলোচনা প্রসঙ্গে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: শিকারি পশুর মাধ্যমে শিকার করা প্রসঙ্গে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: শিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ আলোচনা প্রসঙ্গে।

আমি এই সবকিছুর পেছনে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এই আশায় যে এর মাধ্যমে উপকার সাধিত হবে। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের তা-ই শেখান যা আমাদের উপকারে আসবে এবং যা তিনি আমাদের শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করেন এবং আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী।

এটি লিখেছেন— আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আত-তাইয়্যার

আল-জুলফি, পি.ও. বক্স ১৮৮, পোস্টাল কোড ১১৯৩২
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌المبحث الأول: قواعد أولية لا بد من ذكرها قبل الشروع في الرسالة:

قواعد هامة في أحكام الذبائح والصيد:

القاعدة الأولى: الأصل في ميتة الحيوان مأكول اللحم ما عدا السمك والجراد الحرمة إلا المذكى منها.

دليلها: قوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالْدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَاّ مَا ذَكَّيْتُمْ} 1.

وجه الدلالة من الآية: أن الميتة من الحيوان محرم أكلها إلا ما ذكي منها. أما دليل استثناء السمك والجراد قوله صلى الله عليه وسلم:" في البحر هو الطهور ماؤه الحل ميتته" 2.

ودليل ميتة الجراد: قوله صلى الله عليه وسلم: " أحلت لنا ميتتان ودمان، فأما الميتتان فالحوت والجراد، وأما الدمان فالكبد والطحال" 3.

--------------------------------------------

1 سورة المائدة آية (3) .

2 رواه أحمد (3/373) وابن ماجة (10/137) وأبو داود (1/9) ،وانظر تصحيح الألباني له في الإرواء (1/42) .

3 صحيح ابن ماجة (1/216) ومشكاة المصابيح (4132) .
প্রথম পরিচ্ছেদ: রিসালাহ শুরু করার পূর্বে কতিপয় প্রাথমিক মূলনীতি যা উল্লেখ করা আবশ্যক:

জবেহ ও শিকারের বিধান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহ:

প্রথম মূলনীতি: মাছ ও পঙ্গপাল ব্যতীত ভক্ষণযোগ্য পশুর মৃতদেহের মূল বিধান হলো হারাম হওয়া, যদি না তা শরিয়তসম্মতভাবে জবেহ করা হয়।

এর দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: “তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশত, সেসব পশু যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, যা শ্বাসরোধে মারা গেছে, যা প্রচণ্ড আঘাতে মারা গেছে, যা ওপর থেকে পড়ে মারা গেছে, যা অন্য পশুর গুঁতোয় মারা গেছে এবং যাকে হিংস্র পশু ভক্ষণ করেছে—তবে যা তোমরা জবেহ করতে পেরেছ তা বাদে।” ১।

আয়াত থেকে প্রমাণের দিকনির্দেশনা: নিশ্চয়ই মৃত পশু ভক্ষণ করা হারাম, যদি না তা শরিয়তসম্মতভাবে জবেহ করা হয়। আর মাছ ও পঙ্গপালকে এর ব্যতিক্রম ধরার দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “সমুদ্র সম্পর্কে তিনি বলেন: এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।” ২।

আর পঙ্গপালের মৃতদেহ হালাল হওয়ার দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “আমাদের জন্য দুই প্রকারের মৃত প্রাণী ও দুই প্রকারের রক্ত হালাল করা হয়েছে। মৃত প্রাণী দুটি হলো মাছ ও পঙ্গপাল, আর রক্ত দুটি হলো কলিজা ও প্লীহা।” ৩।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত (৩)।

২ এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৩/৩৭৩), ইবনে মাজাহ (১০/১৩৭) এবং আবু দাউদ (১/৯)। আল-ইরওয়া (১/৪২)-এ আলবানী কর্তৃক একে সহিহ (تصحيح) করার বিষয়টি দেখুন।

৩ সহিহ ইবনে মাজাহ (১/২১৬) এবং মিশকাতুল মাসাবিহ (৪১৩২)।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ৫)
القاعدة الثانية: الأصل فيما ذكى من الحيوان مأكول اللحم من المسلم والكتابي أنه حلال أكله ما لم يعلم ما يقتضي التحريم.

دليلها: قوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالْدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ} إلى قوله تعالى: {إِلَاّ مَا ذَكَّيْتُمْ} 1 والمخاطب في هذه الآية المسلمون فمتى ذكى المسلم ذبيحته فهي حلال. أما دليل أهل الكتاب في حل ذبائحهم فهو قوله تعالى: {وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ حِلٌّ لَّكُمْ} 2.

فقد بينت الآية حل طعام أهل الكتاب لنا والمراد بطعامهم هنا هو ذبائحهم كما فسره جمع من الصحابة وإجماع العلماء على حل ذبائحهم.

القاعدة الثالثة: أن من ذبح لغير الله أو لم يذكر اسم الله على ذبيحته متعمدا لا تؤكل ذبيحته وإن كانت من مسلم أو كتابي.

دليلها: قوله تعالى: {وَلَا تَأْكُلُواْ مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ} 3

--------------------------------------------

1 سورة المائدة آية (3) .

2 سورة المائدة آية (5) .
দ্বিতীয় নীতি: কোনো মুসলমান বা কিতাবি (আহলে কিতাব) কর্তৃক জবেহকৃত ভক্ষণযোগ্য পশুর মূল বিধান হলো তা হালাল (حلال), যতক্ষণ না এমন কোনো বিষয় জানা যায় যা তা হারাম (تحريم) হওয়া সাব্যস্ত করে।

এর দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত পশু, রক্ত ও শুকরের মাংস...} থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {তবে যা তোমরা জবেহ করেছ} ১ পর্যন্ত। এই আয়াতে সম্বোধন করা হয়েছে মুসলমানদের; সুতরাং যখনই কোনো মুসলমান পশু জবেহ করবে, তা হালাল (حلال) হিসেবে গণ্য হবে। আর আহলে কিতাবদের জবেহকৃত পশুর বৈধতার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল (حلال)} ২।

এই আয়াতটি আমাদের জন্য আহলে কিতাবদের খাদ্যের বৈধতা স্পষ্ট করেছে। এখানে তাদের 'খাদ্য' বলতে তাদের জবেহকৃত পশু উদ্দেশ্য, যেমনটি সাহাবীগণের একটি জামাত ব্যাখ্যা করেছেন। আর আহলে কিতাবদের জবেহকৃত পশু বৈধ হওয়ার ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের ঐক্যমত (إجماع) রয়েছে।

তৃতীয় নীতি: যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নামে জবেহ করে অথবা জবেহ করার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম বর্জন করে, তার জবেহকৃত পশু ভক্ষণ করা যাবে না—চাই সে মুসলমান হোক বা কিতাবি।

এর দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তা থেকে ভক্ষণ করো না যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি} ৩

--------------------------------------------

১. সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত (৩)।

২. সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত (৫)।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ৬)
وقوله تعالى: {… وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِهِ} 1

فمن قال: باسم المسيح أوعزير أوغيره أو قال هذه للبدوي أو للحسيني أو لصاحب القبر الفلاني ثم قام بذبحها عند قبره ونحوه ولم يذكر اسم الله متعمداً لعدم الذكر وهذا معروف لدى السحرة الذين يأمرون من يذهب إليهم بذبح ما طلب منهم ويشترطون عليهم عدم ذكر الله عليه فهذا كله مما لا تحل ذبائحهم.

أما الناسي للتسمية كما سنوضحه إن شاء الله فهو محل خلاف بين أهل العلم والصحيح عندي أنها تحل لقوله تعالى: {رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا … } 2 الآية قال قد فعلت.

ولقوله صلى الله عليه وسلم: " رفع عن أمتي الخطأ والنسيان وما استكرهوا عليه.. ".

أما الناسي من أهل الكتاب لذكر التسمية على ذبيحته هل يأخذ نفس الحكم؟ بمعنى آخر هل تحل ذبيحته؟.

--------------------------------------------

1 سورة المائدة آية 3

2 سورة البقرة آية 276
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {… আর যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়েছে} ১

সুতরাং যে ব্যক্তি বলে: মসীহ বা উযাইরের নামে অথবা অন্য কারো নামে, কিংবা বলে: এটি বদভীর জন্য, অথবা হুসাইনীর জন্য, কিংবা অমুক কবরের অধিপতির জন্য; অতঃপর সে তাদের কবরের নিকট বা অনুরূপ স্থানে তা জবেহ করে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে আল্লাহর নাম উল্লেখ করা বর্জন করে—আর এটি জাদুকরদের নিকট সুপরিচিত, যারা তাদের নিকট আগত ব্যক্তিদের তাদের চাহিত পশু জবেহ করার নির্দেশ দেয় এবং তাদের ওপর শর্তারোপ করে যেন তারা এর ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ না করে; তবে এ সবের কোনোটিরই জবেহকৃত পশু হালাল হবে না।

পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম নিতে ভুলে যায়—যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ অচিরেই স্পষ্ট করব—তা আলিমদের মাঝে মতভেদের একটি বিষয়। তবে আমার নিকট সহিহ (الصحيح) মত এই যে, তা হালাল। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে আমাদের রব! আমরা যদি বিস্মৃত হই কিংবা ভুল করি, তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না … } ২; আয়াতের প্রেক্ষিতে আল্লাহ বলেছেন: "আমি তা কবুল করলাম।"

এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "আমার উম্মতের ভুল-ভ্রান্তি, বিস্মৃতি এবং যে বিষয়ের ওপর তাদের বাধ্য করা হয়েছে, তা ক্ষমা করা হয়েছে...।"

কিন্তু আহলে কিতাবের কোনো ব্যক্তি যদি তার জবেহকৃত পশুর ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে ভুলে যায়, তবে সে কি একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে? অন্য কথায়, তার জবেহকৃত পশু কি হালাল হবে?।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৩

২. সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ২৭৬
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ৭)
الصحيح أنها لا تحل لأن العفو عن النسيان خاص بهذه الأمة دون غيرها فالأمم السابقة كانت تؤاخذ على النسيان.

القاعدة الرابعة: إذا جهل حال الذابح هل هو ممن تحل ذبيحته أم لا؟ أو جهل حل المذبوح هل ذبح على الطريقة الشرعية أم لا؟.

نقول: إن القواعد العامة جاءت باجتناب المشكوك فيه بعدم الأكل منه احتياطاً ومن هذه القواعد.

1. إذا اشتبه مباح ومحرم حرم أحدهما بالأصالة والآخر بعارض التحريم.

2. إذا اجتمع مبيح وحاضر قدم الحاضر لأنه الأحوط وأبعد من الشبهة وإبراء للذمة.

دليلها: قوله صلى الله عليه وسلم:" دع ما يريبك إلى ما لا يريبك".

والمعنى اترك ما تشك فيه وخذ ما لا تشك فيه وقوله صلى الله عليه وسلم: " الحلال بين والحرام بين وبينهما أمور متشابهات لا يعلمهن كثير من الناس فمن اتقى الشبهات استبرأ لدينه وعرضه ومن وقع في الشبهات وقع في الحرام".

فحاصل هذه القاعدة أنه متى شككت وجهلت أمر المذبوح هل هو مذبوح على الطريقة الشرعية أم لا؟ أو جهلت حال الذابح هل
বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো এটি হালাল হবে না, কারণ বিস্মৃতিজনিত ভুলের ক্ষমা কেবল এই উম্মতের জন্য নির্দিষ্ট, অন্য কোনো উম্মতের জন্য নয়। পূর্ববর্তী উম্মতগণ বিস্মৃতির জন্য পাকড়াও হতেন।

চতুর্থ নীতি: যদি যবেহকারীর অবস্থা অজ্ঞাত থাকে যে সে এমন ব্যক্তি কি না যার যবেহকৃত পশু হালাল হয়? অথবা যবেহকৃত পশুর হালাল হওয়ার বিষয়টি অজ্ঞাত থাকে যে এটি শরয়ি পদ্ধতিতে যবেহ করা হয়েছে কি না?

আমরা বলি: সাধারণ নীতিগুলো সতর্কতাস্বরূপ তা না খাওয়ার মাধ্যমে সন্দেহযুক্ত বিষয় পরিহার করার নির্দেশ দেয়। আর এই নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. যখন কোনো বৈধ ও নিষিদ্ধ বিষয়ের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়, তখন একটি মৌলিকভাবে এবং অন্যটি নিষিদ্ধতার আপতিত কারণে হারাম গণ্য হবে।

২. যখন বৈধকারী ও নিষিদ্ধকারী বিষয় একত্রে উপস্থিত হয়, তখন নিষিদ্ধকারীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে; কারণ এটিই অধিক সতর্কতামূলক, সংশয় থেকে অধিকতর দূরবর্তী এবং দায়মুক্তির জন্য অধিক উপযোগী।

এর দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে তা বর্জন করো এবং যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে না তা গ্রহণ করো।"

এর অর্থ হলো, যে বিষয়ে তোমার সন্দেহ হয় তা ছেড়ে দাও এবং যে বিষয়ে সন্দেহ নেই তা গ্রহণ করো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে বহু অস্পষ্ট (متشابهات) বিষয় যা অনেক মানুষই জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি সংশয়পূর্ণ বিষয় থেকে বেঁচে থাকল, সে তার দ্বীন ও সম্মান রক্ষা করল। আর যে ব্যক্তি সংশয়পূর্ণ বিষয়ে লিপ্ত হলো, সে হারামে লিপ্ত হলো।"

এই নীতির সারসংক্ষেপ হলো, যখনই আপনি যবেহকৃত পশু সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবেন এবং যবেহটি শরয়ি পদ্ধতিতে হয়েছে কি না তা আপনার কাছে অজ্ঞাত থাকবে, অথবা যবেহকারীর অবস্থা আপনার অজানা থাকবে যে সে...
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ৮)
هو ممن تحل ذبيحته أم لا؟ وهل هذه الذبيحة قادمة من أهل الكتاب فالأحوط عدم الأكل منها.

ولكي تتضح رؤية هذه القواعد ذكرنا بعد هذه القواعد مسألتين مهمتين تتعلقان بهذه القواعد.

المسألة الأولي: في حكم اللحوم المستوردة.

المسألة الثانية: في حكم صيد الكتابي.

المسألة الأولى: فى حكم اللحوم المستوردة:

عند رحوعنا للقواعد المذكورة في المسألة يمكننا أن نلخص أحكام الذبائح المستوردة في الآتي:

أولاً: لحوم مستوردة من بلاد إسلامية فهي حلال بالاتفاق.

ثانياً: لحوم مستوردة من بلاد غير إسلامية أهلها غير أهل الكتاب فهي حرام بالاتفاق.

ثالثاً: لحوم مستوردة من بلا د غير إسلامية أهلها أهل كتاب وعلم أنهم يذبحون على الطريقة الشرعية من تسمية على المذبوح وقطع للحلقوم والمريء والودجين فهنا تحل بالاتفاق.
তিনি কি এমন ব্যক্তি যাঁর জবেহকৃত পশু হালাল (حلال) হবে নাকি হবে না? আর এই জবেহকৃত পশু কি আহলে কিতাবের (أهل الكتاب) পক্ষ থেকে আগত? এমতাবস্থায় সতর্কতা (الأحوط) হলো তা ভক্ষণ না করা।

আর এই নীতিমালাগুলোর (القواعد) স্বরূপ সুস্পষ্ট করার লক্ষ্যে আমরা এই নীতিমালার পর এর সাথে সংশ্লিষ্ট দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা (مسألتين) উল্লেখ করেছি।

প্রথম মাসয়ালা (المسألة الأولي): আমদানিকৃত গোশতের বিধান প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় মাসয়ালা (المسألة الثانية): কিতাবীর (الكتابي) শিকারের বিধান প্রসঙ্গে।

প্রথম মাসয়ালা (المسألة الأولى): আমদানিকৃত গোশতের বিধান প্রসঙ্গে:

বিষয়টিতে উল্লিখিত নীতিমালাগুলোর (القواعد) প্রতি দৃষ্টিপাত করলে আমরা আমদানিকৃত জবেহকৃত পশুর বিধানসমূহ নিম্নোক্তভাবে সারসংক্ষেপ করতে পারি:

প্রথমত: মুসলিম দেশসমূহ থেকে আমদানিকৃত গোশত; যা সর্বসম্মতিক্রমে (بالاتفاق) হালাল (حلال)।

দ্বিতীয়ত: অমুসলিম দেশসমূহ থেকে আমদানিকৃত গোশত যেখানকার অধিবাসীগণ আহলে কিতাব (أهل الكتاب) নয়; তা সর্বসম্মতিক্রমে (بالاتفاق) হারাম (حرام)।

তৃতীয়ত: অমুসলিম দেশসমূহ থেকে আমদানিকৃত গোশত যেখানকার অধিবাসীগণ আহলে কিতাব (أهل الكتاب) এবং এটি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে তারা শরয়ি পদ্ধতিতে (الطريقة الشرعية) জবেহ করে—যেমন জবেহকৃত পশুর ওপর তাসমিয়া (تسمية) পাঠ করা এবং শ্বাসনালী (الحلقوم), অন্ননালী (المريء) ও ঘাড়ের দুই রগ (الودجين) বিচ্ছিন্ন করা—তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে (بالاتفاق) হালাল (تحل) হবে।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ৯)
رابعاً: لحوم مستوردة من بلاد غير اسلامية وأهلها أهل كتاب غير أنهم يذبحون بطريقة غير شرعية أي غيرمستوفية لما ذكرنا في ثالثاً فهنا لا يجوز أكلها ولا استيرادها ولا شراؤها وكذا لا يحل ثمنها وذلك استدلالاً بالقواعد التي ذكرناها سابقاً لأنها هنا إما أن تكون منخنقة أو موقوذة أو متردية وغيرها مما لم يحله الله لنا.

خامساً: لحوم مستوردة من بلاد غير إسلامية وأهلها أهل كتاب ويجهل طريقة ذبحهم أو يجهل عقيدة أو ديانة الذابح لها فهذا القسم محل خلاف بين العلماء والمعاصرين فمنهم من قال إنها حلال لقوله تعالى: {وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ حِلٌّ لَّكُمْ} فأحل لنا طعامهم ولم يأمرنا بالبحث عن طريقة الذبح أو حال الذابح ما دامت أنها جاءت من عندهم وعملاً بالأصل أيضا وهو حل ذبائح أهل الكتاب عموماً وهذا هو الصحيح.

القول الثاني: أن هذا القسم من ذبائح أهل الكتاب المجهول حال طريقة ذبحهم أو المجهول حال من قام بالذبح منهم حرام كما ذكرنا ذلك في القاعدة الرابعة عملاً بالرجوع إلى الأصل عند جهل
চতুর্থত: অমুসলিম দেশসমূহ হতে আমদানিকৃত গোশত, যাদের অধিবাসীরা আহলে কিতাব, তবে তারা অশরয়ি পদ্ধতিতে জবাই করে থাকে, অর্থাৎ ইতিপূর্বে তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার শর্তাবলি এখানে পূর্ণ হয় না; এমতাবস্থায় তা ভক্ষণ করা, আমদানি করা কিংবা ক্রয় করা জায়েজ নয়। তদ্রূপ এর বিনিময় মূল্যও হালাল নয়। এটি ইতিপূর্বে আমাদের বর্ণিত মূলনীতিসমূহের (قواعد) ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয়েছে, কেননা এমতাবস্থায় এগুলো হয়তো শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত (منخنقة), অথবা আঘাতের ফলে মৃত (موقوذة), অথবা ওপর হতে পড়ে মৃত (متردية) কিংবা এমন কিছু যা আল্লাহ আমাদের জন্য হালাল করেননি।

পঞ্চমত: অমুসলিম দেশসমূহ হতে আমদানিকৃত গোশত, যেখানে অধিবাসীরা আহলে কিতাব কিন্তু তাদের জবাই করার পদ্ধতি অজ্ঞাত অথবা জবাইকারীর আকিদা বা ধর্ম সম্পর্কে জানা নেই; এই প্রকারটি ওলামায়ে কেরাম এবং সমসাময়িক ফকিহদের মাঝে মতপার্থক্যের বিষয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে এটি হালাল, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য বৈধ।" সুতরাং তিনি আমাদের জন্য তাদের খাদ্য বৈধ করেছেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তা তাদের নিকট হতে আসে, ততক্ষণ জবাইয়ের পদ্ধতি বা জবাইকারীর অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করার নির্দেশ আমাদের দেননি। এছাড়াও এটি মূলনীতির (أصل) ওপর আমল করার কারণেও হালাল, যা হলো সাধারণভাবে আহলে কিতাবদের জবেহকৃত পশু হালাল হওয়া; আর এটিই সঠিক (صحيح)।

দ্বিতীয় মত: আহলে কিতাবদের জবেহকৃত পশুর এই শ্রেণীটি—যার জবাইয়ের পদ্ধতি অজ্ঞাত অথবা যার জবাইকারীর অবস্থা অজ্ঞাত—তা হারাম। যেমনটি আমরা চতুর্থ মূলনীতিতে উল্লেখ করেছি, অজ্ঞাত অবস্থার ক্ষেত্রে মূল অবস্থার (أصل) দিকে ফিরে যাওয়ার ওপর আমল করে...
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ১০)
حال المذبوح والذابح وهو أنها ميتة.

والقول الأول أرجح ولا سيما أن كثيرا من الذين سافروا إلى تلك البلاد ثبت لهم أن الذبح شرعي وقد ثبت ذلك لجهة الإفتاء في بلادنا في وقت سابق.

لكن إن تركها ولم يأكل منها عملاً بالأحوط والأبرأ له جاز له ذلك.

المسألة الثانية: هل يحل صيد الكتابي؟.

جمهور الفقهاء من الشافعية والحنابلة والمالكية والحنفية يرون حل صيد الكتابي ونقل هذا عن عطاء والليث والثوري والأوزاعي وحجتهم في ذلك أن الإرسال والرمي بمنزلة الذبح والذمي من أهل الكتاب من أهل الذبح والطعام في قوله تعالى: {وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ حِلٌّ لَّكُمْ} المقصود به في الآية الذبائح سواء كانت عن طريق التذكية أو الذبح أو النحر أو كانت بالصيد.

لكن هذا مقيد بما ذكرناه في القاعدة الثانية من القواعد الهامة في الذبائح والصيد في المبحث الأول وقلنا فيها أن ذبيحة المسلم أو الكتابي حلال ما لم يعلم مقتضى التحريم من شرك أكبر أو ردة أو نحوه.
যবেহকৃত পশুর এবং যবেহকারীর অবস্থা এই যে, এটি মৃত (ميتة)।

প্রথম মতটি অধিকতর অগ্রগণ্য (أرجح), বিশেষ করে যারা সেই দেশগুলোতে সফর করেছেন তাদের অনেকের নিকট এটি প্রমাণিত হয়েছে যে যবেহ শরয়ি পদ্ধতিতে হয়েছে এবং ইতিপূর্বে আমাদের দেশের ফতোয়া বিভাগেও এটি প্রমাণিত হয়েছে।

তবে যদি কেউ সতর্কতা (الأحوط) এবং দায়মুক্তির (الأبرأ) ওপর আমল করে তা বর্জন করে এবং তা থেকে না খায়, তবে তার জন্য তা জায়েজ।

দ্বিতীয় মাসআলা: আহলে কিতাবের শিকার কি হালাল?

শাফেয়ী, হাম্বলি, মালিকি এবং হানাফি মাযহাবের অধিকাংশ ফকিহ (جمهور الفقهاء) আহলে কিতাবের শিকার হালাল হওয়ার মত পোষণ করেন। এটি আতা, লাইস, সাওরি এবং আওযায়ি থেকেও বর্ণিত হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের দলিল হলো যে, (শিকারের উদ্দেশ্যে প্রাণী) প্রেরণ করা এবং নিক্ষেপ করা যবেহ করার সমতুল্য। আর আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত জিম্মি (ذمي) ব্যক্তি যবেহ করার এবং খাবারের উপযুক্ত, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {যাদের কিতাব প্রদান করা হয়েছে তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল}। আয়াতে এখানে 'খাদ্য' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যবেহকৃত পশু, চাই তা সাধারণ যবেহ (تذكية), জবেহ (ذبح), নহর (نحر) বা শিকারের মাধ্যমেই হোক না কেন।

তবে এটি আমরা প্রথম পরিচ্ছেদে যবেহ ও শিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালার দ্বিতীয় নীতিমালায় যা উল্লেখ করেছি তার সাথে শর্তযুক্ত (مقيد)। সেখানে আমরা বলেছি যে, মুসলিম বা আহলে কিতাবের যবেহকৃত পশু হালাল, যতক্ষণ না শিরকে আকবর (شرك أكبر), মুরতাদ (ردة) হওয়া বা অনুরূপ কোনো হারামের কারণ সম্পর্কে জানা যায়।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المبحث الثاني: في تعريف الصيد وحكمه.

تعريفه في اللغة: الصيد مصدر تارة يراد به الفعل وتارة يراد به المفعول ومراد الفعل يكون الاصطياد فعله أن يقول القائل سأصيد صيدا.

ومراد المفعول أي المصادر كقوله تعالى {أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ وَطَعَامُهُ} أي مصيده.

أما تعريفه في الشرع: فقد اختلفت فيه أقوال أهل العلم والمختار عندي قول الحنابلة في تعريفه حيث قالوا: "الصيد هو اقتناص حيوان حلال متوحش طبعاً غير مملوك ولا مقدور عليه".

فقولهم: (اقتناص) المراد به الاصطياد وخرج بهذا القيد الذكاة لأنها ليست مقتنصة وقولهم: (حيوان حلال) خرج به الغير حلال أي الذي لا يجوز أكله فلو صاده فليس بصيد وقولهم: (متوحش) خرج به الغير متوحش غير أنه قيده هنا بقوله: (طبعاً) .

إلا ما ندَّ من الأهلي فحكمه حكم الصيد وقولهم: (غير مملوك) خرج به المملوك فإن كان مملوكاً لا يحل له صيده
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিকারের সংজ্ঞা ও তার বিধান প্রসঙ্গে.

শাব্দিক সংজ্ঞা: শিকার (الصيد) একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), যা কখনো ক্রিয়া (فعل) হিসেবে আবার কখনো কর্ম (مفعول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ক্রিয়া অর্থে এর দ্বারা শিকার করার কাজকে বোঝানো হয়; যেমন কেউ বলল: 'আমি একটি শিকার ধরব'।

আর কর্ম অর্থে এর দ্বারা শিকারকৃত বস্তু (مصيد) বোঝানো হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার (صيد البحر) ও তা আহার করা হালাল করা হয়েছে," অর্থাৎ যা শিকার করা হয়েছে।

শারয়ী সংজ্ঞা: এ বিষয়ে আলেমগণের (أهل العلم) বিভিন্ন অভিমত রয়েছে। আমার নিকট এ ক্ষেত্রে হাম্বলি ফকীহগণের সংজ্ঞাটিই মনোনীত বা গ্রহণযোগ্য (مختار) বলে মনে হয়েছে, যেখানে তারা বলেছেন: "শিকার হলো স্বভাবগতভাবে বন্য এমন হালাল প্রাণীকে পাকড়াও করা, যা কারো মালিকানাধীন নয় এবং যা আয়ত্তের বাইরে।"

তাদের বক্তব্যে 'পাকড়াও করা' (اقتناص) বলতে শিকার করাকে বোঝানো হয়েছে; এই শর্তের মাধ্যমে শরয়ী পদ্ধতিতে যবেহ করা (ذكاة) বহির্ভূত হয়েছে, কারণ তা শিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর 'হালাল প্রাণী' (حيوان حلال) বলার মাধ্যমে হারাম প্রাণী বাদ পড়েছে, অর্থাৎ যা খাওয়া জায়েয নয়; সুতরাং কেউ তা শিকার করলে তা (শারয়ী) শিকার হিসেবে গণ্য হবে না। আর 'বন্য' (متوحش) বলার মাধ্যমে যা বন্য নয় (গৃহপালিত) তা বাদ পড়েছে, তবে তিনি এখানে 'স্বভাবগতভাবে' (طبعاً) শব্দ দ্বারা বিষয়টিকে শর্তযুক্ত করেছেন।

তবে গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে যা অবাধ্য হয়ে বন্য প্রাণীর মতো পালিয়ে যায়, সেটির বিধান শিকারের বিধানেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। আর 'কারো মালিকানাধীন নয়' (غير مملوك) বলার মাধ্যমে অন্যের মালিকানাধীন প্রাণী বাদ পড়েছে; সুতরাং কোনো প্রাণী যদি কারো মালিকানাধীন হয়, তবে তা শিকার করা হালাল হবে না।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ১২)
وقولهم: (ولا مقدور عليه) خرج به المقدور عليه فإن كان يقدر عليه فلا يعد صيداً.

حكم الصيد: الصيد يدور حكمه بين الجواز والكراهة والتحريم. فالجائز منه ما كان لحاجة كالأكل أونحوه فهذا مما أحله الله سبحانه ورسوله وأجمع عليه المسلمون.

أما المكروه فهو ماكان لغير حاجة ولا يبالي بصيده. فهذا يدور بين الكراهية والتحريم وإن كان القول بتحريمه أولى من القول بكراهيته لأنه عبث بمخلوقات الله تعالى وأذية لها بدون حاجة.

أما المحرم فهو ماكان فيه أذية كأن يلتزم نزول مزارعهم وإفساد أموالهم فهذا لا شك في أنه محرم.
এবং তাদের উক্তি: (এবং যার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই) এর দ্বারা যা নিয়ন্ত্রণাধীন তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং যদি তার ওপর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়, তবে তাকে শিকার হিসেবে গণ্য করা হবে না।

শিকারের বিধান: শিকারের বিধান বৈধতা (جواز), অপছন্দনীয়তা (كراهة) এবং নিষিদ্ধতার (تحريم) মধ্যে আবর্তিত হয়। এর মধ্যে যা বৈধ (جائز) তা হলো প্রয়োজনের তাগিদে যেমন—আহার বা অনুরূপ উদ্দেশ্যে; এটি এমন বিষয় যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ও তাঁর রাসূল হালাল করেছেন এবং মুসলিমগণ এর ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন।

পক্ষান্তরে যা অপছন্দনীয় (مكروه), তা হলো যা কোনো প্রয়োজন ছাড়া করা হয় এবং সে তার শিকারের ব্যাপারে কোনো গুরুত্ব দেয় না। এটি অপছন্দনীয়তা (كراهة) এবং নিষিদ্ধতার (تحريم) মধ্যে আবর্তিত হয়, যদিও একে নিষিদ্ধ (تحريم) বলাটাই অপছন্দনীয় (كراهة) বলার চেয়ে অধিক শ্রেয়; কারণ এটি আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি নিয়ে অনর্থক খেলা এবং প্রয়োজন ছাড়া তাদের কষ্ট দেওয়া।

আর যা নিষিদ্ধ (محرم), তা হলো যাতে অন্যের ক্ষতি সাধিত হয়, যেমন তাদের ফসলি জমিতে অনধিকার প্রবেশ এবং তাদের ধন-সম্পদ নষ্ট করা; এটি যে নিষিদ্ধ (محرم) সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المبحث الثالث: ذكر بعض الأحكام المتعلقة بالصائد.

ذكر أهل العلم مجموعة من الشروط التي يجب توافرها في الصائد منها:

1. الأهلية: ومعناها كون الصائد من أهل الذكاة والمراد به المسلم العاقل والكتابي العاقل وكذا المميز وما عداهما كالمجنون وغير الكتابي لا يجوز صيده ولا أكل صيده.

2. القصد: ونعني بها كون الصائد قاصدا للصيد فلو أن رجلا صوب سهمه نحو هدف ما وأثناء سير السهم مر بطير من غير الصيد كدجاجة فقتله فإنها لا تحل لعدم القصد.

3. الآلة: والمراد بها ما يستخدم في الاصطياد وهي نوعان:-

الأولى: آلة محددة. الثانية: آلة جارحة.

فالآلة المحددة المراد بها ما يصاد به كالسهم والرمح والسيف وغيره ويشترط فيه ما يشترط في آلة الذبح أى ليس سنا ولا ظفراًلعموم قوله صلى الله عليه وسلم "ما أنهر الدم وذكر اسم الله عليه فكلوا" 1.

--------------------------------------------

1 رواه البخاري (في كتاب الصيد باب ما أصاب في المعراض) جـ 7/75.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শিকারি সংক্রান্ত কিছু বিধানের বর্ণনা.

বিদ্বানগণ শিকারির মধ্যে থাকা আবশ্যক এমন কিছু শর্ত উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

1. যোগ্যতা: এর অর্থ হলো শিকারি যবেহ করার যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন আহলে কিতাব, সেই সাথে ভালো-মন্দ পার্থক্য করার জ্ঞানসম্পন্ন শিশু। এ ছাড়া অন্যদের—যেমন পাগল ও অ-কিতাবীদের—শিকার বৈধ নয় এবং তাদের শিকার করা পশুর গোশত খাওয়াও জায়েজ নয়।

2. সংকল্প: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শিকারি যেন শিকারের উদ্দেশ্য পোষণ করে। যদি কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যবস্তুর দিকে তীর নিক্ষেপ করে এবং সেই তীরটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাওয়ার পথে কোনো শিকার নয় এমন পাখি—যেমন গৃহপালিত মুরগি—এর ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় সেটিকে বিদ্ধ করে মেরে ফেলে, তবে সংকল্পের অভাবের কারণে তা হালাল হবে না।

3. হাতিয়ার: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা শিকারের কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এটি দুই প্রকার:—

প্রথম: ধারালো হাতিয়ার। দ্বিতীয়: শিকারি প্রাণী।

ধারালো হাতিয়ার বলতে সেগুলোকে বোঝায় যা দিয়ে শিকার করা হয়, যেমন—তীর, বর্শা, তলোয়ার ইত্যাদি। এর ক্ষেত্রেও যবেহ করার হাতিয়ারের শর্তসমূহ প্রযোজ্য; অর্থাৎ তা যেন দাঁত বা নখ না হয়। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাধারণ বাণীর মর্ম হলো: "যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, তা তোমরা খাও" ১।

--------------------------------------------

১. এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) বুখারি (শিকার অধ্যায়ে, মি’রাদ্ব এর আঘাতে যা বিদ্ধ হয় সেই পরিচ্ছেদে), খণ্ড ৭/৭৫।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ১৪)
ويشترط أيضاً أن تجرح فإن لم تجرح فهنا يحرم الذبح أو الصيد بها.

وهنا ذكر بعض المسائل في الآلة المحددة.

المسألة الاولى: حكم الصيد بالآلة المسروقة:

اختلف أهل العلم في هذه المسألة والصحيح إن شاء الله أن ماصيد بمسروق حلال مع الإثم أي إثم السارق أو الغاصب.

المسألة الثانية: حكم الصيد بالبندق:

البندق في كلام الفقهاء الحنابلة كصاحب زاد المستقنع حين قال (كالبندق والعصا والشبكة) المراد الطين اليابس والغالب أنه من الخزف وحجمه كالحمصة أو أكبر فهذا لا يكون آلة صيد ومثاله ما نراه في أيدي أطفالنا ما يسمى (بالنباطة) فهذا لا يجوز الاصطياد به لقوله صلى الله عليه وسلم حينما سئل عن الصيد بالخذف (وهي الحصاة والنواة) فقال صلى الله عليه وسلم: "إنها لا تصيد صيداً ولا تنكأ عدواً ولكنها تكسر السن وتفقأ العين" 1.

أما البندق الذي يستعمل بالرصاص المعروفة لدينا فالصحيح جواز الاصطياد بها بخلاف من قال بعدم الجواز.

--------------------------------------------

1 رواه مسلم (6/72) كتاب الصيد والذبائح.
আরও শর্ত হলো যে, এটি যেন ক্ষতবিক্ষত করে; যদি এটি ক্ষত সৃষ্টি না করে, তবে তা দিয়ে জবেহ করা বা শিকার করা নিষিদ্ধ বা হারাম।

এখানে ধারালো সরঞ্জামের বিষয়ে কিছু মাসয়ালা উল্লেখ করা হলো।

প্রথম মাসয়ালা: চুরি করা সরঞ্জাম দিয়ে শিকার করার বিধান:

এই মাসয়ালায় আলেমগণ মতভেদ করেছেন এবং ইনশাআল্লাহ সঠিক (الصحيح) মত হলো এই যে, চুরি করা সরঞ্জাম দিয়ে যা শিকার করা হয়েছে তা হালাল, তবে গোনাহ হবে—অর্থাৎ চোর বা জবরদখলকারীর গোনাহ হবে।

দ্বিতীয় মাসয়ালা: বুন্দুক দিয়ে শিকার করার বিধান:

হাম্বলী ফকিহগণের পরিভাষায় ‘বুন্দুক’—যেমন 'যাদুল মুস্তাকনি' গ্রন্থের রচয়িতা যখন বলেছেন "(যেমন) বুন্দুক, লাঠি এবং জাল"—বলতে শুকনা কাদা বুঝানো হয়েছে, যা সাধারণত পোড়া মাটির তৈরি এবং এর আকার ছোলার দানার মতো বা তার চেয়ে বড়। এটি শিকারের সরঞ্জাম হিসেবে গণ্য নয়। এর উদাহরণ হলো আমাদের শিশুদের হাতে আমরা যা দেখি, যাকে 'নাব্বাতা' (গুলতি) বলা হয়। এটি দিয়ে শিকার করা বৈধ নয়। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখন 'খাজাফ' (অর্থাৎ ছোট পাথর বা ফলের আঁটি ছুঁড়ে মারা) দিয়ে শিকার করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই এটি কোনো শিকার শিকার করে না এবং শত্রুকে আহত করে না, তবে এটি দাঁত ভেঙে দেয় এবং চোখ উপড়ে ফেলে।" ১।

তবে আমাদের পরিচিত সীসার গুলি ব্যবহৃত 'বুন্দুক' (বন্দুক) দিয়ে শিকার করার বিষয়টিই সঠিক (الصحيح), যদিও কেউ কেউ এটি নাজায়েজ বলেছেন।

--------------------------------------------

১ বর্ণনা করেছেন মুসলিম (৬/৭২), শিকার ও জবেহ অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ১৫)
المسألة الثالثة: في حكم الاصطياد بالشبكة:

أما الشبكة والفخ فلا يحل الاصطياد بهما لأنهما يقتلان المصيد لكن إذا أمسكت الشبكة أو الفخ المصيد ثم قام الصائدبأخذ المصيد فذبحه بعد الإمساك به فهذا جائز أما استقلال الشبكة أو الفخ بالقتل فهذا لا يحل.

المسألة الرابعة: في حكم الاصطياد بالعصا:

في هذه المسألة تفصيل:

إن أرسل عصاه فأصاب طيراً فقتله فلا يحل أما إن أصابه في شيئ من بدنه فلم يقتل فقام فذبحه فهذا يحل.

النوع الثاني: من الآلة آله جارحة:

الجارحة نوعان: جارحة تعدو وجارحة تطير.

فالتي تعدو كالكلب والتي تطير كالصقر. أما الكلب فقد جاءت نصوص الشريعة بثبوت حل صيده. وسأجعل لذلك مبحثاً إن شاء الله يتناول أحكام الصيد بالجارحة.

ومن الأحكام المتعلقة بالصائد:

إرسال الآلة: ومعناه أن يرسل الصائد آلة الصيد قاصداً بذلك الصيد والآلة هنا بنوعيها سواء كانت محددة أو
তৃতীয় মাসআলা: জাল দিয়ে শিকার করার বিধান (حكم) প্রসঙ্গে:

জাল ও ফাঁদের ক্ষেত্রে বিধান হলো, এগুলোর মাধ্যমে শিকার করা হালাল (يحل) নয়; কারণ এগুলো শিকারকৃত প্রাণীকে (আঘাতের পরিবর্তে শ্বাসরোধ বা চাপের মাধ্যমে) মেরে ফেলে। তবে জাল বা ফাঁদ যদি শিকারটিকে আটকে ধরে এবং শিকারি ব্যক্তি তা হাতে পেয়ে ধরার পর জবাই করে, তবে তা বৈধ (جائز)। কিন্তু জাল বা ফাঁদ যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিকারটিকে মেরে ফেলে, তবে তা হালাল (يحل) হবে না।

চতুর্থ মাসআলা: লাঠি দিয়ে শিকার করার বিধান (حكم) প্রসঙ্গে:

এই মাসআলায় বিস্তারিত বিবরণ (تفصيل) রয়েছে:

যদি কেউ লাঠি নিক্ষেপ করে আর তা কোনো পাখিকে আঘাত করে মেরে ফেলে, তবে তা হালাল (يحل) হবে না। কিন্তু যদি পাখির শরীরের কোনো অংশে আঘাত লাগে এবং সেটি মারা না যায়, এরপর শিকারি সেটিকে জীবিত অবস্থায় পেয়ে জবাই করে, তবে তা হালাল (يحل) হবে।

দ্বিতীয় প্রকার সরঞ্জাম: শিকারি প্রাণী (جارحة):

শিকারি প্রাণী (جارحة) দুই প্রকার: চতুষ্পদ শিকারি প্রাণী এবং খেচর শিকারি প্রাণী।

চতুষ্পদ শিকারি প্রাণী যেমন কুকুর এবং খেচর শিকারি প্রাণী যেমন বাজপাখি। কুকুরের ক্ষেত্রে শরিয়তের নসসমূহ (نصوص) এর মাধ্যমে তার শিকার হালাল হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমি এর জন্য একটি আলাদা অনুচ্ছেদ (مبحث) নির্ধারণ করব, যেখানে শিকারি প্রাণীর (جارحة) মাধ্যমে শিকারের বিধানাবলি আলোচনা করা হবে।

শিকারি সংশ্লিষ্ট বিধানাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো:

সরঞ্জাম প্রেরণ (إرسال الآلة): এর অর্থ হলো শিকারি ব্যক্তি শিকারের উদ্দেশ্যে শিকারের সরঞ্জামটি প্রেরণ করবে। এখানে সরঞ্জাম বলতে উভয় প্রকার সরঞ্জামই উদ্দেশ্য, চাই তা ধারালো (محددة) হোক অথবা...
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ১৬)
4. جارحة فإن كان ممسكاً بها فانطلق منها سهم مثلاً غير قاصدٍ للصيد فأصاب طيرا من غير الصيد كدجاج بدون قصد الإرسال فإنها لا تحل فلا بد من قصد الإرسال، ولكن نضيف هنا أيضا أنه إن كان ممن يصيد بالجارحة أي بالكلب أو الصقر فهل يحل له صيده إن لم يرسله قاصداً؟ الصحيح أنه لا يحل له ذلك فلا بد من قصد الإرسال لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا أرسلت الكلب.. " 1 فعلق الحكم بالإرسال.

5. التسمية:

التسمية عند إرسال الآلة بنوعيها وفيها مسائل.

المسألة الأولى: في حكمها:

اختلف أهل العلم في حكم التسمية عند الصيد والصحيح وجوبها بخلاف من قال بغير ذلك، لأمره سبحانه وتعالى بقوله: {فَكُلُواْ مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ} ولنهيه عن الأكل مما لم يذكر اسم الله عليه بقوله: {وَلَا تَأْكُلُواْ مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ} .

--------------------------------------------

1 رواه أحمد (3/333) .
4. শিকারি পশু বা পাখি: যদি কেউ এটি ধরে থাকে এবং তা থেকে শিকারের উদ্দেশ্য ছাড়াই উদাহরণস্বরূপ একটি তীর নিক্ষিপ্ত হয় আর তা শিকারযোগ্য নয় এমন কোনো পাখি যেমন মুরগিকে আঘাত করে (প্রেরণের নিয়ত ছাড়া), তবে তা হালাল হবে না। কারণ প্রেরণের নিয়ত থাকা আবশ্যক। তবে আমরা এখানে আরও যোগ করতে পারি যে, যদি কেউ শিকারি পশু যেমন কুকুর বা বাজপাখি দিয়ে শিকার করে, তবে সে কি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রেরণ না করলে তার শিকার করা প্রাণীটি হালাল হবে? সঠিক (الصحيح) মত হলো, এটি তার জন্য হালাল হবে না; বরং প্রেরণের নিয়ত করা আবশ্যক। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তুমি তোমার কুকুরকে প্রেরণ করবে..." ১। এখানে হুকুমটিকে প্রেরণের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

5. তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ পাঠ):

উভয় প্রকার শিকারি উপকরণ প্রেরণের সময় তাসমিয়াহ পাঠ করা এবং এ প্রসঙ্গে কয়েকটি মাসয়ালা রয়েছে।

প্রথম মাসয়ালা: এর বিধান (হুকুম) প্রসঙ্গে:

শিকারের সময় তাসমিয়াহ পাঠের বিধান নিয়ে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। তবে যারা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন তাদের বিপরীতে সঠিক (الصحيح) মত হলো এটি আবশ্যিক (وجوب)। কারণ মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো যার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে} এবং যার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি তা আহার করতে নিষেধ করে বলেছেন: {আর তোমরা তা থেকে আহার করো না যার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি}।

--------------------------------------------

১ এটি আহমদ বর্ণনা করেছেন (৩/৩৩৩)।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومن السنة قوله صلى الله عليه وسلم " إذا أرسلت سهمك وذكرت اسم الله عليه فكل ".

المسألة الثانية: متى يسمي؟ .

الصحيح أنه يسمي عند إرسال السهم لا عند التعبئة فهناك من يخطئ في ذلك ويقول إنني سميت عند التعبئة وهذا غير صحيح لقوله صلى الله عليه وسلم " إذا أرسلت سهمك وذكرت اسم الله عليه … " والواو تقتضي الاشتراك والاجتماع في الزمن.

المسألة الثالثة: في حكم من نسي التسمية عند الإرسال.

اختلف أهل العلم في ذلك والصحيح أن التسمية تسقط سهواً وجهلاً لكن نجعل هنا شيئا من التفصيل في حق الصائد وهو أنه إذا شك هل سمى أم لا؟ يعني أنه بعد ما صاد شك فهنا إن كان ممن هو كثير الشكوك فإنه لا يلتفت إلى هذا الشك ويكون صيده حلالاً.

أما إن كان ممن لا يشك كثيراً فهنا ننظر إلى حاله. فإن كان ممن يحافظ على التسمية أي معتاداً لذلك فهنا لا يلتفت إلى الشك وإن كان ممن لا يبالي بذلك بل يتعمد أحياناً يسمي وأحيانا لا يسمي فهنا الأولى ألا يأكل منها بخلاف كثير الشكوك.
সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "যখন তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করবে এবং তাতে আল্লাহর নাম স্মরণ করবে, তখন তা ভক্ষণ করো।"

দ্বিতীয় মাসআলা: কখন বিসমিল্লাহ বলবে? .

সঠিক (الصحيح) মত হলো এই যে, তীর নিক্ষেপ করার সময় বিসমিল্লাহ বলতে হবে, তীর প্রস্তুত করার সময় নয়। এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ ভুল করেন এবং বলেন যে, 'আমি তীর প্রস্তুত করার সময়ই বিসমিল্লাহ বলেছি'। এটি সঠিক নয়; কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী হলো: "যখন তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করবে এবং তাতে আল্লাহর নাম স্মরণ করবে …"। এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি সময়ের অংশীদারিত্ব ও একত্র হওয়াকে দাবি করে।

তৃতীয় মাসআলা: তীর নিক্ষেপের সময় বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যাওয়ার বিধান প্রসঙ্গে।

আলেমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। সঠিক (الصحيح) মত হলো এই যে, বিস্মৃতি বা অজ্ঞতাবশত বিসমিল্লাহ বাদ পড়লে তা ক্ষমাযোগ্য। তবে শিকারির ক্ষেত্রে আমরা এখানে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করব; আর তা হলো—সে যদি সন্দেহ করে যে সে বিসমিল্লাহ বলেছে কি না? অর্থাৎ, শিকার করার পর তার মনে সন্দেহ জাগল। এমতাবস্থায় সে যদি এমন ব্যক্তি হয় যার প্রচুর সন্দেহ হয়, তবে সে এই সন্দেহের প্রতি কোনো ভ্রূক্ষেপ করবে না এবং তার শিকার হালাল গণ্য হবে।

পক্ষান্তরে, সে যদি এমন ব্যক্তি হয় যার খুব বেশি সন্দেহ হয় না, তবে আমরা তার অবস্থার দিকে লক্ষ করব। সে যদি বিসমিল্লাহ বলার প্রতি যত্নবান ও অভ্যস্ত হয়, তবে সে সন্দেহের প্রতি কর্ণপাত করবে না। আর যদি সে এমন হয় যে এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয় না, বরং মাঝেমধ্যে ইচ্ছা করেই বিসমিল্লাহ বলে আবার কখনো বলে না, তবে এ ক্ষেত্রে তা না খাওয়াই উত্তম হবে; যা অধিক সন্দেহবাতিকগ্রস্ত ব্যক্তির হুকুমের বিপরীত।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ১৮)
المسألة الرابعة: فيمن ترك التسمية عند الإرسال ثم سمى بعده:

ذكرنا فيما سبق أن التسمية تكون عند الإرسال لا قبله أي لا تكون عند التعبئة أما كونه لم يسم إلا بعد الإرسال فالصحيح عدم الحل أرأيت لو أنه ذبح فلما فرغ من الذبح سمى هل تحل ذبيحته؟ الصحيح لا هكذا الصيد هذا إن تركها قاصداًأما نسياناً فالصحيح كما ذكرنا أنها تحل.

المسألة الخامسة: هل يشترط التسمية عند نصب الحديدة ونحو ذلك؟.

نعم يشترط ذلك لأننا قلنا سابقاً لابد من إرادة القصد فما دام أنه قاصدٌ الصيد فإنه يشترط لذلك التسمية.

المسألة السادسة: إذا سمى على طائر معين فأصاب غيره:

اختلف أهل العلم في هذه المسألة وأصح الأقوال فيها الحل ما دام أنه عين صيداً عند الإرسال أما كونه لم يعين صيداً فأرسل سهماً فأصاب بغير تعيين فهذا كما ذكرناه سابقاً.

وخلاصة القول في هذه المسألة الحل.

المسألة السابعة: إذا صاد الصائد المجموعة من الطيور فخلطها ثم تذكر أنه لم يأت بالتسمية على بعض منها فما الحكم؟.
চতুর্থ মাসআলা: শিকার ছাড়ার (الإرسال) সময় বিসমিল্লাহ পাঠ (التسمية) বর্জন করে পরবর্তীতে তা পাঠ করা প্রসঙ্গে:

আমরা ইতঃপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, বিসমিল্লাহ পাঠ (التسمية) শিকার ছাড়ার (الإرسال) সময় হতে হবে, তার আগে নয়; অর্থাৎ শিকারের সরঞ্জাম প্রস্তুত করার সময় নয়। আর যদি সে শিকার ছাড়ার (الإرسال) পরেই কেবল বিসমিল্লাহ পাঠ করে থাকে, তবে সঠিক (الصحيح) মত হলো তা হালাল না হওয়া। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, যদি কেউ যবেহ করার পর বিসমিল্লাহ পাঠ করে, তবে কি তার যবেহকৃত পশুটি হালাল হবে? সঠিক (الصحيح) উত্তর হলো—না; শিকারের বিষয়টিও তদ্রূপ। এটি তখন প্রযোজ্য যখন সে ইচ্ছাকৃতভাবে (قاصداً) তা বর্জন করে। তবে বিস্মৃতবশত (نسياناً) বর্জন করলে সঠিক (الصحيح) মত হলো তা হালাল হবে, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।

পঞ্চম মাসআলা: তীরের ফলা বা অনুরূপ বস্তু স্থাপন করার সময় কি বিসমিল্লাহ পাঠ (التسمية) করা শর্ত (يشترط)?

হ্যাঁ, তা শর্ত (يشترط); কারণ আমরা ইতঃপূর্বে বলেছি যে, নিয়ত বা সংকল্প (القصد) থাকা আবশ্যক। সুতরাং যতক্ষণ সে শিকারের সংকল্পকারী (قاصدٌ) থাকবে, ততক্ষণ তার জন্য বিসমিল্লাহ পাঠ (التسمية) করা শর্ত হিসেবে গণ্য হবে।

ষষ্ঠ মাসআলা: যদি নির্দিষ্ট কোনো পাখির ওপর বিসমিল্লাহ পাঠ (سمى) করে তীর ছোড়া হয় এবং তা অন্য একটিকে আঘাত করে:

এই মাসআলায় আলেমগণ মতভেদ (اختلف) করেছেন এবং এতে সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত (أصح الأقوال) হলো তা হালাল হওয়া (الحل), যতক্ষণ পর্যন্ত সে শিকার ছাড়ার (الإرسال) সময় কোনো শিকারকে নির্দিষ্ট করবে। আর যদি সে কোনো শিকারকে নির্দিষ্ট না করে তীর নিক্ষেপ করে এবং কোনো প্রকার নির্দিষ্ট করা ছাড়াই তা অন্য কাউকে আঘাত করে, তবে এর বিধান আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি।

এই মাসআলার সারকথা হলো তা হালাল হওয়া (الحل)।

সপ্তম মাসআলা: যদি শিকারি একঝাঁক পাখি শিকার করার পর সেগুলো মিশিয়ে ফেলে এবং পরবর্তীতে তার স্মরণে আসে যে সে সেগুলোর কোনো কোনোটির ওপর বিসমিল্লাহ পাঠ (التسمية) করেনি, তবে এর বিধান কী হবে?
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ১৯)
في هذه المسألة عليه أن يتحرى فما غلب على ظنه أنه لم يسم عليه متعمداً تركه وقام بتنحيته والباقي هو حلال له.

المسألة الثامنة: حكم إضافة الله أكبر بعد التسمية: أي يعني قول الذابح (بسم الله: الله أكبر) ؟

الصحيح أنه يسن ذلك فالواجب التسمية وزيادة ذلك مستحب.

المسألة التاسعة: إذا وجد طيرأ مجروحاً فهل يأخذه وهو لم يسم عليه؟.

إذا وجد طيراً مجروحاً وهو لم يسم عليه فهنا له حالتان:

أن يكون الطير به رمق فإنه يذكيه.

أما إن لم يكن به رمق فمات بجرحه وهو متيقن من عدم التسمية فهنا لا يجوز أخذه.

ومن الأحكام الأخرى المتعلقة بالصائد:

6. أن يكون الصائد مأذوناً له بالصيد:

ومعنى هذا الشرط أن لا يكون مُحرِماً ولا يكون في حَرَمٍ فإن صاد بالحرم أو صاده وهو مُحرِم فلا يحل لقوله تعالي: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ
এই মাসআলায় তাকে অনুসন্ধান করতে হবে; অতঃপর তার প্রবল ধারণায় যা আসবে যে, যেগুলোর ওপর সে ইচ্ছাকৃতভাবে তাসমিয়াহ (تسمية) পাঠ করেনি, সেগুলো সে বর্জন করবে ও সরিয়ে রাখবে এবং অবশিষ্টগুলো তার জন্য হালাল (حلال)।

অষ্টম মাসআলা: তাসমিয়াহ (تسمية)-র পর ‘আল্লাহু আকবার’ যোগ করার বিধান: অর্থাৎ যবাইকারীর ‘বিসমিল্লাহ: আল্লাহু আকবার’ বলার হুকুম কী?

বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো এটি সুন্নাত (سنة); কেননা তাসমিয়াহ (تسمية) পাঠ করা ওয়াজিব (واجب) এবং এর অতিরিক্ত অংশটি মুস্তাহাব (مستحب)।

নবম মাসআলা: যদি কেউ একটি আহত পাখি পায় অথচ সেটির ওপর সে তাসমিয়াহ (تسمية) পাঠ করেনি, তবে সে কি তা গ্রহণ করবে?

যদি সে একটি আহত পাখি পায় আর সেটির ওপর তাসমিয়াহ (تسمية) পাঠ না করে থাকে, তবে এক্ষেত্রে তার জন্য দুটি অবস্থা হতে পারে:

পাখিটির মধ্যে যদি প্রাণের স্পন্দন অবশিষ্ট থাকে, তবে সে সেটিকে যবাই (تذكية) করবে।

আর যদি তাতে প্রাণের স্পন্দন না থাকে বরং জখমের কারণে মারা যায় এবং সে তাসমিয়াহ (تسمية) না পড়ার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে, তবে সেটি গ্রহণ করা জায়েয (جائز) হবে না।

শিকারী সংক্রান্ত অন্যান্য বিধানাবলির মধ্যে রয়েছে:

6. শিকারীর শিকার করার অনুমতি থাকতে হবে:

এই শর্তের অর্থ হলো—সে যেন ইহরাম অবস্থায় (محرم) না থাকে এবং হারম (حرم) এলাকায় না থাকে। কারণ যদি সে হারম এলাকায় শিকার করে অথবা ইহরাম অবস্থায় থাকাকালীন শিকার করে, তবে তা হালাল (حلال) হবে না। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে যারা ঈমান এনেছ...}
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ২০)
آمَنُواْ لَا تَقْتُلُواْ الصَّيْدَ وَأَنتُمْ حُرُمٌ} 1 والمقصود بالصيد هنا صيد البر لقوله تعالى {وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُماً} 2.

وهاتان الآيتان في حق الصائد.

أما في حق المصيد والنهي عن صيده في الحرم فقوله صلى الله عليه وسلم في تحريم مكة: "… لا يختلى خلاها ولا يعضد شجرها ولا ينفر صيدها " 3 فإذا كان النهي وارداً في تنفيرها فقتلها من باب أولى وكذا الآيات السابقة تدل دلالة واضحة على النهي عن صيدها

--------------------------------------------

1 سورة المائدة آية (95) .

2 سورة المائدة آية (96) .

3 رواه البخاري (3/13) كتاب المحصر باب لا ينفر صيد مكة.
{...মুমিনগণ! তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকার হত্যা করো না।} ১ এবং এখানে শিকার বলতে স্থলের শিকারকে বোঝানো হয়েছে, কারণ আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {তোমাদের জন্য স্থলের শিকার হারাম করা হয়েছে যতক্ষণ তোমরা ইহরাম অবস্থায় থাকো।} ২.

আর এই আয়াত দুটি শিকারীর বিধানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

পক্ষান্তরে শিকারকৃত পশুর ব্যাপারে এবং হারাম এলাকায় তা শিকার করার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মক্কার পবিত্রতা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী হলো: "... এখানকার তাজা ঘাস উপড়ানো যাবে না, এখানকার গাছ কাটা যাবে না এবং এখানকার শিকারকে তাড়িয়ে দেওয়া যাবে না।" ৩ সুতরাং যখন শিকারকে তাড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারেই নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তখন তাকে হত্যা করা তো অধিকতর যুক্তিতেই নিষিদ্ধ হবে। তেমনিভাবে পূর্বোক্ত আয়াতসমূহও এর শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা (دلالة) প্রদান করে।

--------------------------------------------

১. সুরা আল-মায়েদাহ, আয়াত (৯৫)।

২. সুরা আল-মায়েদাহ, আয়াত (৯৬)।

৩. বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) (৩/১৩), কিতাবুল মুহসার, পরিচ্ছেদ (باب): মক্কার শিকারকে তাড়িয়ে না দেওয়া।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الرابع: الأحكام المتعلقة بالصيد

…

المبحث الرابع: الأحكام المتعلقة بالمصاد

أولاً: الشروط المعتبرة في المصيد:

ذكر أهل العلم شروطاً في المصيد منها:

1. أن يكون المصادمأذوناً بأكله من قبل الشارع فإن كان غير مأذون له فيه فلا يجوز صيده، إلا أن يخاف على نفسه منه فإنه يجوز له قتله دفعاً لشره ودليل ذلك نهيه صلى الله عليه وسلم عن كل ذي ناب من السباع وكل ذي مخلب من الطير لكن إذا صاد طيراًوهو لا يعلم حرمته أو حله فالصحيح أنه يباح له الأكل منه لأن الأصل الحل.

2. أن لا يكون المصاد مملوكاً لأحد فإن كان مملوكاً لأحد فإنه لا يجوز صيده فإ ن صاده فإنه حلال لكن حرام أكله.

3. أن يكون المصاد متوحشاً بطبعه وقد ذكرنا ذلك الشرط عند التعريف بالصيد.

ثانياً: ذكر بعض المسائل المتعلقة بالمصاد:

المسألة الأولى: في حكم المصاد إذا كان في أملاك الناس:
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শিকার সংক্রান্ত বিধানসমূহ

…

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শিকারকৃত প্রাণী সংক্রান্ত বিধানসমূহ

প্রথমত: শিকারকৃত প্রাণীর ক্ষেত্রে বিবেচ্য শর্তাবলি:

আহলে ইলম শিকারকৃত প্রাণীর ক্ষেত্রে কিছু শর্ত উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

1. শিকারকৃত প্রাণীটি শারীয়াহ কর্তৃক ভক্ষণ করার অনুমতিপ্রাপ্ত হতে হবে। যদি তা অনুমতিপ্রাপ্ত না হয়, তবে তা শিকার করা জায়েজ নয়; তবে যদি নিজের জীবনের প্রতি আশঙ্কা থাকে, তবে তার অনিষ্টতা প্রতিহত করার জন্য তাকে হত্যা করা জায়েজ। এর দলিল হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওই নিষেধাজ্ঞা যা তিনি সকল দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র পশু এবং নখরবিশিষ্ট পাখির ব্যাপারে প্রদান করেছেন। কিন্তু যদি কেউ এমন কোনো পাখি শিকার করে যার হারাম বা হালাল হওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই, তবে সঠিক (الصحيح) মত হলো তা ভক্ষণ করা তার জন্য বৈধ, কারণ মূল বিধান হলো হালাল হওয়া।

2. শিকারকৃত প্রাণীটি অন্য কারও মালিকানাধীন হওয়া যাবে না। যদি তা কারও মালিকানাধীন হয়, তবে তা শিকার করা জায়েজ নয়। যদি কেউ তা শিকার করে, তবে তা মূলত হালাল (حلال) হলেও তা ভক্ষণ করা হারাম (حرام)।

3. শিকারকৃত প্রাণীটি স্বভাবগতভাবে বন্য হতে হবে; আমরা শিকারের সংজ্ঞায় এই শর্তটি উল্লেখ করেছি।

দ্বিতীয়ত: শিকারকৃত প্রাণী সংক্রান্ত কয়েকটি মাসআলার আলোচনা:

প্রথম মাসআলা: মানুষের মালিকানাধীন সম্পত্তির অভ্যন্তরে শিকারকৃত প্রাণীর বিধান প্রসঙ্গে:
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ২২)
هذه المسألة مبناها على إذن صاحب الملك في الصيد في ملكه فإن كان ممن أذن في ذلك فلا حرج في صيده لكن بلا ضرر على المزروع ونحوه، أما إذا كان صاحب الملك لا يأذن بذلك فلا يجوز الاصطياد ويصبح الصيد محرماً فإن صاد فقد حل الصيد وأصبح الأكل منه محرماً.

المسألة الثانية: هل يلزم ذبح الطير المراد إذا سقط وبه رمق؟.

في هذه المسألة تفصيل:

أولاً: إذا كان المصاد لم يبق به رمق إطلاقاً كأن يسقط ميتاً وذلك بقطع عضو من أعضائه مثلا فإنه في هذه الحالة يحل من غير ذكاة بالإجماع لأن السهم هو الذي قتله.

ثانياً: إذا كان المصاد فيه رمق وذلك كأن تكون به حركة فإنه لابد أن يذكى أي يقوم بذبحه فإن مات دون التذكية هل يحل له فيه تفصيل إن مات بتفريط من الصائد وإهمال منه لا يحل. أما إن مات مع إفراغ الوسع لتذكيته فإنه يحل لكونه لم يقدر على ذكاته.

المسألة الثالثة: حكم المصاد إذا وقع في الماء:

إذا قام شخص فصاد طيراً فوقع الطير في الماء فقد جاءت
এই মাসআলাটির ভিত্তি হলো নিজ মালিকানাধীন ভূমিতে শিকারের বিষয়ে মালিকের অনুমতির ওপর। যদি তিনি এমন ব্যক্তি হন যিনি অনুমতি প্রদান করেন, তবে সেখানে শিকার করতে কোনো বাধা নেই, তবে তা ফসলাদি বা অনুরূপ কিছুর ক্ষতি না করে হতে হবে। আর যদি ভূমির মালিক অনুমতি না দেন, তবে সেখানে শিকার করা বৈধ নয় এবং সেই শিকার নিষিদ্ধ (محرم) হয়ে যায়। এমতাবস্থায় কেউ শিকার করলে শিকারটি বৈধ (حل) হলেও তা ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ (محرم) হয়ে যায়।

দ্বিতীয় মাসআলা: শিকারকৃত পাখিটি যদি জীবিত অবস্থায় (প্রাণস্পন্দন থাকা অবস্থায়) পড়ে যায়, তবে কি তা জবেহ করা আবশ্যক?

এই মাসআলায় বিস্তারিত বিবরণ (تفصيل) রয়েছে:

প্রথমত: যদি শিকারকৃত প্রাণীর মধ্যে বিন্দুমাত্র প্রাণ অবশিষ্ট না থাকে, যেমন কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে সেটি মৃত অবস্থায় পতিত হয়, তবে এই অবস্থায় সর্বসম্মতভাবে (إجماع) জবেহ (ذكاة) ছাড়াই তা বৈধ (يحل); কারণ তীরই সেটিকে হত্যা করেছে।

দ্বিতীয়ত: যদি শিকারকৃত প্রাণীর মধ্যে প্রাণ অবশিষ্ট থাকে, যেমন তাতে নড়াচড়া বিদ্যমান থাকে, তবে সেটিকে অবশ্যই জবেহ করতে হবে। যদি জবেহ করার আগেই সেটি মারা যায়, তবে তা বৈধ (يحل) হবে কি না সে বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ (تفصيل) রয়েছে: যদি শিকারির অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে সেটি মারা যায়, তবে তা বৈধ নয় (لا يحل)। পক্ষান্তরে, যদি জবেহ করার আপ্রাণ চেষ্টা করা সত্ত্বেও সেটি মারা যায়, তবে তা বৈধ (يحل) হবে; কারণ সেটিকে জবেহ করার সামর্থ্য তার ছিল না।

তৃতীয় মাসআলা: শিকারকৃত প্রাণী পানিতে পড়ে যাওয়ার বিধান (حكم):

যদি কোনো ব্যক্তি একটি পাখি শিকার করে এবং পাখিটি পানিতে পড়ে যায়, তবে বর্ণিত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ২৩)
نصوص السنة بالنهي عن أكله لقوله صلى الله عليه وسلم: " إن وجدته غريقاً في الماء فلا تأكل فإنك لا تدري الماء قتله أم سهمك " 1.

لكن هنا شيئ من التفصيل وضعه بعض أهل العلم، فقال: إن كان جرح الطائر بالغاً ويوحي بأن الماء لم يؤثر في موته فإنه يكون حلالاً أما إن كان فيه شك بمعنى أنه لا يعرف هل الماء الذي قتله أم السهم فإنه لا يحل للحديث السابق.

المسألة الرابعة: في حكم المصاد إذا أصيب ثم غاب عن صائده فترة فوجده:

هذه المسألة محل خلاف بين أهل العلم بين الحل وعدمه وبين التفصيل في ذلك والذي يظهر والله أعلم أنه إن وجده وبه أثر سهمه ولم يوجد به أثر آخر فإنه يحل.

دليل ذلك حديث عدي بن حاتم عند البخارى وفيه أنه قال للنبي صلى الله عليه وسلم: يرمي الصيد فيفتقر وفي رواية فيقفوا أثره اليومين والثلاثة ثم يجده ميتاً وفيه سهمه قال يعني النبي صلى الله عليه وسلم: " يأكل منه إن شاء " 2.

--------------------------------------------

1 رواه مسلم (6/58) كتاب الصيد باب الصيد بالكلاب المعلمة.

2 رواه البخاري (7/76) كتاب الصيد باب إذا غاب عنه يومين أو ثلاثة.
সুন্নাহর নসসমূহ (نصوص) এটি ভক্ষণ নিষিদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দেয়, কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি তুমি তাকে পানিতে নিমজ্জিত পাও তবে তা ভক্ষণ করো না, কারণ তুমি জানো না পানি তাকে হত্যা করেছে নাকি তোমার তীর।" ১।

তবে এখানে এক প্রকার বিশ্লেষণ (تفصيل) কিছু ইলমধারী (أهل العلم) ব্যক্তিবর্গ প্রদান করেছেন। তারা বলেছেন: যদি পাখির ক্ষতটি গভীর হয় এবং তা ইঙ্গিত দেয় যে পানি তার মৃত্যুতে কোনো প্রভাব ফেলেনি, তবে তা হালাল হবে। কিন্তু যদি এতে সন্দেহ থাকে—অর্থাৎ এটি জানা না যায় যে পানি তাকে মেরেছে নাকি তীর—তবে পূর্বোক্ত হাদিসের কারণে তা বৈধ হবে না।

চতুর্থ মাসআলা: শিকারকৃত প্রাণী যখন আহত হয় এবং এরপর শিকারির নিকট থেকে কিছু সময় নিখোঁজ থাকে, অতঃপর সেটিকে পাওয়া যায়, তার বিধান সম্পর্কে:

এই মাসআলাটি বিজ্ঞ আলেমদের মাঝে বৈধতা ও অবৈধতা এবং এ সংক্রান্ত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের (خلاف) বিষয়। আর যা প্রতীয়মান হয়—এবং আল্লাহই ভালো জানেন—তা হলো যদি সেটিকে এমন অবস্থায় পাওয়া যায় যে তাতে কেবল তার তীরের চিহ্ন বিদ্যমান এবং অন্য কোনো চিহ্ন নেই, তবে তা হালাল হবে।

এর দলিল হলো বুখারীতে বর্ণিত আদি বিন হাতিম (রা.)-এর হাদিস, যাতে উল্লেখ আছে যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলেন: শিকার করা হলে তা হারিয়ে যায়—অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে—দুই বা তিন দিন পর্যন্ত তার পদচিহ্ন অনুসরণ করা হয়, অতঃপর তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তাতে তার তীর বিদ্ধ থাকে। তিনি অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সে চাইলে তা থেকে খেতে পারে।" ২।

--------------------------------------------

১ মুসলিম (৬/৫৮), শিকার অধ্যায়, প্রশিক্ষিত কুকুর দ্বারা শিকার পরিচ্ছেদ।

২ বুখারী (৭/৭৬), শিকার অধ্যায়, শিকার যখন দুই বা তিন দিন অনুপস্থিত থাকে পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ২৪)
غير أنه مشروط بعدم النتن فإن نتن فإنه لا يجوز أكله وإن كان واجداً لأثر سهمه به دليل ذلك ما رواه مسلم عن أبي ثعلبة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " إذا رميت بسهمك فغاب عنك فأدركته فكل ما لم ينتن " 1.

المسألة الخامسة: إذا صاد طيراً ثم سقط معه غيره؟ هذه المسألة فيها تفصيل.

أن يرى أثر سهمه في كلا الطائرين فهنا يحل له ذلك بأن يصيب سهمه كلا الطائرين.

أما إن وجد سهمه في أحدهما دون الآخر فلا، لأنه قد يكون مات من أثر ما فجع به.

المسألة السادسة: في حكم ذبح الطير بالعود والحجر؟

يصح الذبح بكل ما أنهر الدم ويستثنى من ذلك السن والظفر لنهي النبي صلى الله عليه وسلم عنها لكن يراعى عدم تعذيب المذبوح بذلك لعموم قوله صلى الله عليه وسلم: " إذا قتلتم فأحسنو القتلة وإذا ذبحتم فأحسنوا الذبحة " ومن تمام الإحسان بالذبيحة ألا تعذب حال الذبح ولا شك أن العود وأن الحجر قد يكون من

--------------------------------------------

1 رواه مسلم (6/59) كتاب الصيد باب إذا غاب عنه الصيد ثم وجده.
তবে এটি পচে না যাওয়ার শর্তের সাথে যুক্ত; যদি তা পচে যায়, তবে সেটি খাওয়া বৈধ হবে না, যদিও সেখানে তার তীরের আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান থাকে। এর দলিল হলো ইমাম মুসলিম আবু সা’লাবা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করবে এবং সেটি তোমার দৃষ্টির আড়ালে চলে যাবে, এরপর যখন তুমি সেটি খুঁজে পাবে, তখন তা খাও যতক্ষণ না তা পচে যায়।" ১।

পঞ্চম মাসআলা: যদি কেউ একটি পাখি শিকার করে এবং তার সাথে অন্য একটি পাখি পড়ে যায়? এই মাসআলাটিতে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

যদি উভয় পাখির মধ্যেই তার তীরের চিহ্ন দেখা যায়, তবে সেটি তার জন্য হালাল (حلال) হবে; অর্থাৎ তার তীর উভয় পাখিকেই আঘাত করেছে।

আর যদি সে কেবল একটির মধ্যে তার তীরের চিহ্ন পায় এবং অন্যটিতে না পায়, তবে তা হবে না; কারণ হতে পারে সেটি আঘাতজনিত আতঙ্ক বা অন্য কোনো কারণে মারা গেছে।

ষষ্ঠ মাসআলা: কাঠ এবং পাথর দিয়ে পাখি জবেহ করার বিধান কী?

রক্ত প্রবাহিত করতে পারে এমন সবকিছুর মাধ্যমেই জবেহ করা সহিহ (صحيح) হবে, তবে দাঁত ও নখ এর ব্যতিক্রম; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোর মাধ্যমে জবেহ করতে নিষেধ করেছেন। তবে জবেহ করার সময় পশুকে কষ্ট না দেওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধারণ বাণী হলো: "যখন তোমরা হত্যা করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা করো এবং যখন তোমরা জবেহ করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে জবেহ করো।" আর জবেহকৃত পশুর প্রতি পূর্ণ ইহসানের একটি দিক হলো জবেহ করার সময় তাকে কষ্ট না দেওয়া। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কাঠ এবং পাথর কখনো কখনো হতে পারে—

--------------------------------------------

১ মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৬/৫৯), কিতাবুস সাইদ, পরিচ্ছেদ: যখন শিকার হারিয়ে যায় এবং পরে তা পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ২৫)
أسباب حصول التعذيب لكونهما غير محددين جيداً فينبغي على الصائد أن يكون معه آلة حادة تريح المصاد حال ذبحه لكن إن اضطر إلى استخدام العود والحجر فلا حرج في ذلك.

المسألة السابعة: إذا رمى صيداً ظنه حجراً فأصاب صيداً هذه المسألة على خلاف عند أهل العلم كما ذكرناه آنفاً في هل يشترط القصد عند الرمي أم لا فمن رأى أنه لا يشترط القصد عند الإرسال أحل أكله ومن يرى اشتراط القصد لم يحل له أكله.

المسألة الثامنة: إذا رمى الصائد صيد اً فأصابه فمات بسبب آخر كسقوط من على سطح دار أو سقوط من مكان شاهق ونحوه هنا إن تأكد أنه لم يمت بسبب سهمه فإنه لا يحل، أما إن تأكد أنه مات من سهمه ثم تردى من شاهق ونحوه فإنه يحل له لأنه لم يمت من أثر السقوط وإنما من السهم.
যন্ত্রণাদায়ক হওয়ার কারণ হলো সরঞ্জাম দুটি যথাযথভাবে ধারালো না হওয়া। তাই শিকারির উচিত তার সাথে এমন একটি ধারালো অস্ত্র রাখা যা যবেহ করার সময় শিকারকৃত পশুকে আরাম দেয়। তবে যদি সে কাঠ বা পাথর ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

সপ্তম মাসআলা: যদি কেউ কোনো শিকারকে পাথর মনে করে নিক্ষেপ করে এবং তা শিকারে গিয়ে লাগে; এই মাসআলাটি আলেমদের নিকট মতভেদপূর্ণ, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি যে, নিক্ষেপ করার সময় উদ্দেশ্য থাকা শর্ত কি না। যারা মনে করেন যে শিকার নিক্ষেপ করার সময় উদ্দেশ্য থাকা শর্ত নয়, তারা তা ভক্ষণ করা হালাল সাব্যস্ত করেছেন। আর যারা উদ্দেশ্য থাকাকে শর্ত মনে করেন, তারা তা ভক্ষণ করা বৈধ মনে করেন না।

অষ্টম মাসআলা: যদি শিকারি কোনো শিকারের প্রতি লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করে এবং সেটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, অতঃপর অন্য কোনো কারণে মারা যায়, যেমন ঘরের ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা উঁচু কোনো স্থান থেকে নিচে পড়ে যাওয়া ইত্যাদি; এক্ষেত্রে যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেটি তীরের আঘাতেই মারা যায়নি, তবে তা হালাল হবে না। কিন্তু যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেটি তীরের আঘাতেই মারা গেছে এবং এরপর উঁচু স্থান থেকে নিচে পড়েছে, তবে তা তার জন্য হালাল হবে; কারণ সেটি পতনের প্রভাবে মারা যায়নি, বরং তীরের আঘাতেই মারা গেছে।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المبحث الخامس: في ذكر بعض آداب الصيد

تمهيد:

إنه مما ينبغي التنبيه عليه أن الله سبحانه وتعالى حينما أباح لعباده الصيد لم يجعل هذه الإباحة مطلقة دون قيد يضبطها بل قيده حفاظاً على حياة الإنسان في الدنيا والآخرة، وإن مما يؤسف له جهل الكثير ممن اعتادوا الصيد بالآداب الشرعية التي ينبغي مراعاتها ولذا كم نسمع عن أسر ضاعت بسبب تفريط الزوج بحقهم وانشغاله بالصيد وكم كنا نسمع عن أناس لا يزال لسانه رطباً من ذكر الله وفجأة تغير الحال فتراه مشغولا بهذه المهنة والحرفة بل أصبح قلبه متعلقاً بها وتجده قد يتأخر عن الصلاة في الجماعة وإذا صلى قام فنقر الصلاة كنقر الغراب وذلك كله لانشغال القلب بالاصطياد وصدق النبي صلى الله عليه وسلم حين قال: " من بدا جفا ومن تبع الصيد غفل " 1 ومعنى الحديث من بدا جفا أي من سكن البادية جفا وذلك لبعده عن المدن التي يتعلم فيها ويتعرف فيها على حدود الله تعالى وشرعه.

--------------------------------------------

1 رواه أحمد (2/371، 440) وحسنه الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة (1272) .
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শিকারের কিছু আদব বা শিষ্টাচার প্রসঙ্গে

ভূমিকা:

এটি লক্ষ্য করা জরুরি যে, মহান আল্লাহ যখন তাঁর বান্দাদের জন্য শিকারকে বৈধ করেছেন, তখন তিনি এই বৈধতাকে কোনো প্রকার নিয়ন্ত্রণমূলক নিয়ম-নীতি ছাড়া নিরঙ্কুশ করেননি; বরং মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের নিরাপত্তার খাতিরে একে বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত করেছেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, যারা নিয়মিত শিকার করেন তাদের অনেকেই এই সংশ্লিষ্ট শরয়ি আদব বা শিষ্টাচারগুলো সম্পর্কে অজ্ঞ, যা পালন করা অপরিহার্য। এই কারণেই আমরা এমন অনেক পরিবারের কথা শুনি যারা ধ্বংস হয়ে গেছে, কারণ স্বামী তাদের হকের ব্যাপারে অবহেলা করেছে এবং শিকার নিয়ে মগ্ন থেকেছে। আমরা এমন অনেক মানুষের কথা শুনতাম যাদের জিহ্বা সর্বদা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকত, কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং তাদের এই পেশা বা বৃত্তিতে মগ্ন হতে দেখা যায়; বরং তাদের অন্তর এর সাথে গভীরভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে। এমনকি আপনি দেখবেন যে, তারা জামাতে নামাজ পড়তে দেরি করে ফেলে এবং যখন নামাজ পড়ে, তখন কাকের ঠোকর দেওয়ার মতো দ্রুততার সাথে নামাজ আদায় করে। এই সবই ঘটে শিকারের প্রতি অন্তরের অতিমাত্রায় মগ্নতার কারণে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যই বলেছেন: "যে ব্যক্তি মরুভূমিতে বসবাস করে সে রুক্ষ স্বভাবের হয় এবং যে ব্যক্তি শিকারের পেছনে ছোটে সে উদাসীন হয়ে যায়।" ১ আর এই হাদিসের অর্থ হলো— যে ব্যক্তি মরুভূমিতে বসবাস করে সে রুক্ষ হয়; কারণ সে শহর বা লোকালয় থেকে দূরে থাকে যেখানে আল্লাহর সীমারেখা ও তাঁর শরিয়ত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও পরিচিতি লাভ করা যায়।

--------------------------------------------

১ আহমদ (২/৩৭১, ৪৪০) এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে হাসান (حسن) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ (১২৭২)-তে।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ২৭)
"ومن تبع الصيد غفل " أي من تتبعه وصار يطارده فإنه لاشك أنه يغفل ويشغله عن مصالح دنياه وآخرته.

وسأذكر إخواني ببعض الآداب الشرعية التي يجب مراعاتها عند الاصطياد لعل الله أن ينفع بها.

من هذه الآداب:-

1. أن يقصد بصيده التعبد لله سبحانه وتعالى بذلك فإن المباح إذا خرج بنية التعبد لربه فإنه يؤجر عليه فالأكل مثلا مباح فإذا أكل الإنسان بنية التقوي على طاعة الله أو بمثابة إعداد القوة لإرهاب أعداء الله فإنه يؤجر على ذلك وكذا الاصطياد إن خرج بنية التعبد من أكل الصيد الذي يقويه على طاعة الله فإنه يؤجر.

2. أن لا يشغله الصيد عن الواجبات التي أوجبها الله عليه فلا يدع أهله وأولاده مدة يخشى عليهم من الضياع فيها وأن يحافظ على الطهارة والصلاة في أوقاتها في جماعة وغير ذلك من الواجبات.
"এবং যে ব্যক্তি শিকারের পেছনে ছোটে সে উদাসীন হয়ে যায়" অর্থাৎ যে ব্যক্তি শিকারের পেছনে পড়ে থাকে এবং তা তাড়া করতে থাকে, তবে নিঃসন্দেহে সে উদাসীন হয়ে পড়ে এবং এটি তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকর কার্যাবলি থেকে বিমুখ করে রাখে।

শিকার করার সময় যেসকল শরিয়তসম্মত শিষ্টাচার বজায় রাখা আবশ্যক, আমি আমার ভাইদের সে সম্পর্কে কিছু স্মরণ করিয়ে দেব; আশা করি আল্লাহ এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করবেন।

এই শিষ্টাচারসমূহের মধ্যে রয়েছে:-

১. শিকারের মাধ্যমে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ইবাদত করার উদ্দেশ্য পোষণ করা; কেননা কোনো বৈধ (مباح) কাজ যখন নিজ রবের ইবাদতের নিয়তে করা হয়, তখন তার জন্য প্রতিদান পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, আহার করা একটি বৈধ (مباح) বিষয়; যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের শক্তি সঞ্চয়ের নিয়তে অথবা আল্লাহর শত্রুদের ভীত করার জন্য শক্তি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহার করে, তবে সে এর জন্য সওয়াব পাবে। শিকারের বিষয়টিও তদ্রূপ; যদি কেউ ইবাদতের নিয়তে শিকারে বের হয়—যেমন শিকারকৃত পশু আহার করে আল্লাহর আনুগত্যে শক্তি অর্জনের ইচ্ছা করা—তবে সে সওয়াব লাভ করবে।

২. শিকার যেন তাকে আল্লাহ প্রদত্ত আবশ্যিক (واجبات) বিধানাবলি থেকে বিমুখ করে না রাখে। সে যেন তার পরিবার ও সন্তানদের এমন দীর্ঘ সময়ের জন্য ত্যাগ না করে যাতে তাদের নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর তাকে পবিত্রতা বজায় রাখা এবং জামাতের সাথে যথাসময়ে সালাত আদায়সহ অন্যান্য আবশ্যিক (واجبات) কার্যাবলির প্রতি যত্নশীল হতে হবে।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ২৮)
3. من الآداب أيضاً اجتناب إيذاء المسلمين وذلك بانتهاك حرمات مزارعهم فلا يجوز له الاصطياد فيها إلا بإذنه وبخاصة إذا علم أنه ممن لا يأذن بالاصطياد في مزرعته.

4. بعض الناس يأخذ إجازة من المؤسسة أو الهيئة التي يعمل بها أو الطالب من مدرسته من أجل هذه الهواية وهذا لا ينبغي لأنه يؤدي لترك العمل وهو الواجب الوظيفي لشيئ ليس بواجب بل ولا مطلوب ولا مستحب.

5. ومن الآداب التي ينبغي مراعاتها في الصائد عدم رفع السلاح أي آلة الصيد في وجه أخيه بحجة المزاح لعموم النهي عن ذلك فقد قال صلى الله عليه وسلم: " لا يشر أحدكم إلى أخيه بالسلاح فإنه لا يدري لعل الشيطان ينزع في يده فيقع في حفرة من نار " 1 وعند مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " من أشار إلى أخيه بحديدة فإن الملائكة تلعنه حتى ينتهي وإن كان أخاه لأبيه وأمه " 2.

--------------------------------------------

1 رواه البخاري (6661) ومسلم (2617) .

2 رواه مسلم (2616) .
3. শিষ্টাচারের (آداب) মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত হলো মুসলমানদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, আর তা হলো তাদের ফসলি জমির সীমানা বা অধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে। সুতরাং মালিকের অনুমতি ব্যতীত সেখানে শিকার করা বৈধ নয়, বিশেষ করে যদি জানা থাকে যে তিনি তার জমিতে শিকার করার অনুমতি দেন না।

4. কিছু মানুষ যে প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় কর্মরত সেখান থেকে অথবা কোনো শিক্ষার্থী তার বিদ্যালয় থেকে এই শখের কারণে ছুটি নেয়। এটি করা উচিত নয়; কারণ এটি কর্মস্থল ত্যাগ করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, অথচ পেশাগত দায়িত্ব পালন করা হলো আবশ্যক (واجب), আর এই শখের বিষয়টি আবশ্যক (واجب) নয়, এমনকি তা শরয়ি দৃষ্টিতে কাম্য বা পছন্দনীয়ও (مستحب) নয়।

5. শিকারির জন্য যেসব শিষ্টাচার (آداب) বজায় রাখা উচিত, তার মধ্যে একটি হলো কৌতুকের ছলে নিজের ভাইয়ের দিকে অস্ত্র তথা শিকারের কোনো সরঞ্জাম না তোলা। কারণ এ বিষয়ে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের দিকে অস্ত্র দিয়ে ইশারা না করে, কারণ সে জানে না যে শয়তান হয়তো তার অজান্তেই তার হাত দিয়ে তা ছুটিয়ে দিতে পারে, ফলে সে জাহান্নামের গর্তে নিপতিত হবে।" ১। মুসলিম-এ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দিকে লোহার কোনো বস্তু (অস্ত্র) দিয়ে ইশারা করবে, ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দিতে থাকে যতক্ষণ না সে তা ত্যাগ করে, এমনকি সে যদি তার আপন সহোদর ভাইও হয়।" ২।

--------------------------------------------

১ এটি বুখারি (৬৬৬১) ও মুসলিম (২৬১৭) কর্তৃক বর্ণিত (رواه)।

২ এটি মুসলিম (২৬১৬) কর্তৃক বর্ণিত (رواه)।
(খণ্ড: ১) তাওজীহুন ওয়া তানবীহুন ইলা হুওয়াতিল সাইদি ওয়া মুহিব্বীহি (পৃষ্ঠা: ২৯)
3. ومن الآداب أيضا عدم اتخاذ صيد الطيور غرضا أي لمجرد اللهو واللعب والعبث فإن هذا منهي عنه فقد قال صلى الله عليه وسلم: " لا تتخذوا شيئا فيه الروح غرضاً " 1 بل لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم من فعل ذلك فقد روى مسلم عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه مر بنفر نصبوا دجاجة يترامونها، فلما رأوا ابن عمر تفرقوا عنها فقال ابن عمر من فعل هذا؟ إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لعن من فعل هذا 2.

4. ومن الآداب الشرعية في الصيد عدم الذهاب إليه إلا بعد رضا الأبوين في ذلك فإن البعض عافانا الله وإياهم يذهبون من غير رضا الوالدين فإذا منعاه من ذلك حرم عليه الذهاب لأن طاعتهما واجبة والذهاب إلى الصيد مباح فكيف يقدم المباح على الواجب.

5. ومن الأمور التي تحصل بين الناس المفاخرة بالصيد ويجعلونه ديدنهم في مجالسهم مفاخرة ومباهاة وكل هذا منهي عنه فليتق هؤلاء ربهم فإن المفاخرة وما شابهها أمور محرمة ولا تجوز في ديننا بل هي من عادات الجاهلية.

--------------------------------------------

1 رواه مسلم (6/73) كتاب الصيد باب النهي عن جر البهائم.

2 المرجع السابق.
3. শিষ্টাচারসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো পাখি শিকারকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গ্রহণ না করা, অর্থাৎ নিছক বিনোদন, খেলাধুলা ও বৃথা কাজের উদ্দেশ্যে শিকার না করা। কেননা এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা প্রাণ আছে এমন কোনো কিছুকে লক্ষ্যবস্তু বানিও না।" ১ অধিকন্তু, যে ব্যক্তি এমনটি করে তাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অভিসম্পাত করেছেন। মুসলিম ইবনে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, তিনি একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা একটি মুরগিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে স্থাপন করে সেটিকে লক্ষ্য করে তীর ছুড়ছিল। যখন তারা ইবনে ওমরকে দেখল, তখন তারা সেখান থেকে সরে পড়ল। তখন ইবনে ওমর বললেন, "কে এটি করেছে? নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওই ব্যক্তিকে অভিসম্পাত করেছেন যে এমন কাজ করে।" ২

4. শিকারের শরয়ী আদবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো পিতা-মাতার অনুমতি ব্যতিরেকে শিকারে না যাওয়া। কারণ কেউ কেউ—আল্লাহ আমাদের এবং তাদের ক্ষমা করুন—পিতা-মাতার সন্তুষ্টি ছাড়াই শিকারে চলে যায়। যদি তারা তাকে এ থেকে নিষেধ করেন, তবে তার জন্য যাওয়া হারাম বা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। কেননা তাদের আনুগত্য করা আবশ্যিক (واجب), আর শিকারে যাওয়া বৈধ (مباح); সুতরাং বৈধ (مباح) বিষয়কে কীভাবে আবশ্যিক (واجب) বিষয়ের ওপর প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে?

5. মানুষের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো শিকার নিয়ে অহঙ্কার করা এবং তাদের মজলিসগুলোতে তারা একে অভ্যাসে পরিণত করে গর্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য। এর সবকিছুই নিষিদ্ধ। সুতরাং তাদের উচিত তাদের প্রতিপালককে ভয় করা। কেননা অহঙ্কার ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ হারাম এবং আমাদের দ্বীনে তা বৈধ নয়; বরং এগুলো জাহেলিয়াতের স্বভাব।

--------------------------------------------

১ মুসলিম বর্ণনা (رواه) করেছেন (৬/৭৩), শিকার অধ্যায়, পশুদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর নিষেধাজ্ঞা পরিচ্ছেদ।

২ পূর্বোক্ত সূত্র।