(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: -)
تلخيص فقة الفرائض   (ابن عثيمين)

القسم: الفرائض والوصايا


الكتاب: تلخيص فقة الفرائض

المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)

الناشر: دار الوطن للنشر

الطبعة: طبعة عام 1423 هـ

عدد الصفحات: 52

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফারায়েয শাস্ত্রের ফিকহের সারসংক্ষেপ   (ইবনে উসাইমিন)

বিভাগ: ফারায়েয ও অসিয়ত


কিতাব: ফারায়েয শাস্ত্রের ফিকহের সারসংক্ষেপ

লেখক: মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল ওয়াতান প্রকাশনী

সংস্করণ: ১৪২৩ হিজরি সংস্করণ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২

[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونتوب أليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادى له واشهد أن لا اله آلا الله وحده لا شريك له، واشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم وعلى اله واصحابه ومن تبعهم بإحسان وسلم تسليماً، وبعد:

فهذه رسالة مختصرة في علم الفرائض حسب المنهج الجديد المقرر للسنة الأولى الثانوية راعيت فيها سهولة التعبير مع الإيضاح بالأمثلة وسميتها (تلخيص فقه الفرائض) أسال الله تعالى أن يجعل عملي خالصا له نافعاً لعباده انه جواد كريم.
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা তাঁরই নিকট তাওবা করি এবং আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

এটি ইলমুল ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যা মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের জন্য নির্ধারিত নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রণীত। এতে আমি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়বস্তু স্পষ্ট করার পাশাপাশি সহজ সাবলীল ভাষার প্রতি লক্ষ্য রেখেছি এবং এর নাম দিয়েছি ‘তালখিসু ফিকহিল ফারায়েজ’ (উত্তরাধিকার শাস্ত্রের সারসংক্ষেপ)। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কাজটিকে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করেন; নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও অত্যন্ত দয়ালু।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ৪)
1ـ‌‌ تعريف الفرائض 2ـ فائدته 3ـ حكمه

1ـ الفرائض: جمع فريضة بمعنى مفروضة، وهى لغة: الشي الموجب والمقطوع.

في الاصطلاح هنا: العلم بقسمة المواريث فقها وحسابا1.

2ـ فائدته: إيصال نصيب كل وارث إليه.

3ـ حكمه: فرض كفاية، إذا قام به من يكفى سقط الفرض عن بقية الناس.

--------------------------------------------

1 والمقصود من علم الفرائض فقهها أما حسابها فوسيلة محضة تسلك عند الحاجة إليها.
১ـ‌‌ ফারায়েজের সংজ্ঞা ২ـ এর উপকারিতা ৩ـ এর বিধান

১ـ ফারায়েজ: এটি ফারিদাহ শব্দের বহুবচন যা মাফরুদাহ বা নির্ধারিত অর্থে ব্যবহৃত। আভিধানিক অর্থে: এটি এমন বস্তু যা আবশ্যকীয় এবং সুনির্ধারিত।

এখানে পারিভাষিক অর্থে: ফিকহ ও হিসাবের আলোকে উত্তরাধিকার বণ্টনের জ্ঞান।১

২ـ এর উপকারিতা: প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর প্রাপ্য অংশ তার নিকট পৌঁছে দেওয়া।

৩ـ এর বিধান: ফরজে কেফায়া; যদি পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক এটি আঞ্জাম দেয়, তবে অবশিষ্ট মানুষের ওপর থেকে এই বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যায়।

--------------------------------------------

১। ফারায়েজ শাস্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো এর ফিকহ (বিধানসমূহ); আর এর হিসাব সংক্রান্ত বিষয়টি কেবল একটি নির্ভেজাল মাধ্যম মাত্র, যা প্রয়োজনের সময় অবলম্বন করা হয়।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌الحقوق المتعلقة بالتركة وبيان المقدم منها

الحقوق المتعلقة بالتركة خمسة مرتبة كالتالي:

1ـ مؤن تجهيز الميت من ثمن ماء تغسله وكفنه وحنوطه واجرة غاسله وحافر قبره.

2ـ الحقوق المتعلقة بعين التركة كالديون الموثقة
উত্তরাধিকার (তারকা) সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ এবং সেগুলোর মধ্য থেকে অগ্রগণ্য বিষয়ের বর্ণনা

উত্তরাধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ পাঁচটি, যা ক্রমানুসারে নিম্নরূপ:

১- মৃতব্যক্তির কাফন-দাফন ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির ব্যয়; যেমন গোসলের পানির মূল্য, কাফন, সুগন্ধি এবং গোসলদাতা ও কবর খননকারীর পারিশ্রমিক।

২- উত্তরাধিকারের মূল সম্পদের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত অধিকারসমূহ, যেমন বন্ধকি বা জামানতযুক্ত ঋণ।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ৫)
بالرهن.

3ـ الحقوق المتعلقة بذمة الميت كالديون التي ليس فيها رهن سواء كانت لله تعالى كالزكاة أم للآدميين كالقرض.

4ـ الوصية الجائزة، وهى ما كانت بالثلث فاقل لغير وارث.

5 ـ الإرث، ويقدم منه بالفرض ثم التعصيب ثم الرحم.

مثال يوضح ذلك: أن يموت ميت ويبلغ ما يتعلق بتركته كالتالي:

100 ريال مؤن تجهيزه.

100 ريال دين موثق برهن.

100 ريال دين ليس فيه رهن.

100 ريال وصية جائزة.

وارث: زوج وأخت شقيقة.
বন্ধকের মাধ্যমে।

৩- মৃত ব্যক্তির জিম্মার সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ, যেমন এমন ঋণ যাতে কোনো বন্ধক নেই, চাই তা মহান আল্লাহর জন্য হোক যেমন জাকাত, অথবা মানুষের জন্য হোক যেমন করজ বা ঋণ।

৪- বৈধ অসিয়ত, আর তা হলো এক-তৃতীয়াংশ বা তার কম পরিমাণ যা কোনো উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তির জন্য করা হয়।

৫- উত্তরাধিকার, এতে প্রথমে নির্ধারিত অংশধারীদের (ফরিদাহ), তারপর আসাবা (অবশিষ্টাংশ ভোগী) এবং এরপর জাবিল আরহাম (রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়) কে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য একটি উদাহরণ: একজন ব্যক্তি মারা গেলেন এবং তার ত্যাজ্য সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিম্নরূপ হলো:

১০০ রিয়াল তার কাফন-দাফন ও দাফন পরবর্তী প্রয়োজনীয় খরচ।

১০০ রিয়াল বন্ধক দ্বারা সংরক্ষিত ঋণ।

১০০ রিয়াল এমন ঋণ যাতে কোনো বন্ধক নেই।

১০০ রিয়াল বৈধ অসিয়ত।

উত্তরাধিকারী: স্বামী এবং আপন বোন।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ৬)
فإذا خلف مائة ريال صرفت في مؤن تجهيزه،وترك الباقي.

وإذا خلف مائتي ريال فقط صرفت في مؤن تجهيزه والدين الموثق، وترك الباقي.

وإذا خلف ثلاثمائة ريال فقط صرفت في مؤن تجهيزه والدين غير الموثق وترك الباقى.

وإذا خلف ستمائة ريال صرفت منها ثلاثمائة فيما سبق، ومائة ريال فى الوصية ومائة ريال للزوج، ومائة ريال للأخت الشقيقة.

ووجه تقديم الوصية على الإرث هنا ان فرض كل واحد من الزوج والأخت الشقيقة، ولم يفرض لهما النصف إلا بالنسبة لما بقى بعد الوصية ولو لم تقدم الوصية عليهما لكان للوصية خمسة وسبعون، ولكل واحد من الزوج والأخت مائة واثنا عشر ريالا ونصف ريال.
সুতরাং যদি তিনি একশত রিয়াল রেখে যান, তবে তা তাঁর কাফন-দাফনের ব্যয়ে ব্যয় করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ রেখে দেওয়া হবে।

আর যদি তিনি কেবল দুইশত রিয়াল রেখে যান, তবে তা তাঁর কাফন-দাফনের ব্যয় এবং বন্ধকী ঋণের ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ রেখে দেওয়া হবে।

আর যদি তিনি কেবল তিনশত রিয়াল রেখে যান, তবে তা তাঁর কাফন-দাফনের ব্যয় এবং সাধারণ (বন্ধকবিহীন) ঋণের ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ রেখে দেওয়া হবে।

আর যদি তিনি ছয়শত রিয়াল রেখে যান, তবে তা থেকে তিনশত রিয়াল পূর্বোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে ব্যয় করা হবে, একশত রিয়াল ওসিয়তের (উইল) জন্য, একশত রিয়াল স্বামীর জন্য এবং একশত রিয়াল সহোদরা বোনের জন্য।

এখানে মীরাসের (উত্তরাধিকার) ওপর ওসিয়তকে অগ্রগণ্য করার কারণ হলো, স্বামী ও সহোদরা বোন প্রত্যেকের অংশ নির্ধারিত; আর ওসিয়তের পর যা অবশিষ্ট থাকে, কেবল সেই প্রেক্ষিতেই তাদের জন্য অর্ধেক অংশ নির্ধারিত হয়েছে। যদি ওসিয়তকে তাদের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া না হতো, তবে ওসিয়তের জন্য পঁচাত্তর রিয়াল হতো এবং স্বামী ও বোনের প্রত্যেকের জন্য একশত বারো দশমিক পাঁচ রিয়াল প্রাপ্য হতো।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أسباب الإرث.

أسباب الإرث ثلاثة: نكاح، ونسب، وولاء.

أـ فالنكاح: عقد الزوجية الصحيح، فيرث به الزوج من زوجته، والزوجة من زوجها بمجرد العقد وان لم يحصل بينهما اجتماع.

ب ـ والنسب: القرابة وهى الاتصال بين شخصين بولادة قريبة أو بعيدة.

ج ـ والولاء: عصوبة تثبت للمعتق وعصبية المتعصبين بأنفسهم بسبب العتق.
উত্তরাধিকারের কারণসমূহ.

উত্তরাধিকারের কারণ তিনটি: বিবাহ, বংশধারা এবং ওয়ালা (দাসমুক্তিসূত্র সম্পর্ক)।

ক— বিবাহ: সঠিক বৈবাহিক চুক্তি; এর মাধ্যমে স্বামী তার স্ত্রীর কাছ থেকে এবং স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে কেবল চুক্তির মাধ্যমেই উত্তরাধিকারী হয়, যদিও তাদের মধ্যে মিলন সংঘটিত না হয়।

খ — বংশধারা: নিকটাত্মীয়তা; যা নিকটবর্তী বা দূরবর্তী জন্মের মাধ্যমে দুই ব্যক্তির মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ।

গ — ওয়ালা: এটি এমন এক বিশেষ উত্তরাধিকারী হওয়ার অধিকার (আসাবাহ) যা দাসমুক্তিকারীর জন্য এবং দাসমুক্তির কারণে যারা সরাসরি আসাবাহ হয় তাদের জন্য সাব্যস্ত হয়।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أقسام القرابة باعتبار جهاتهم

ينقسم القرابة باعتبار جهاتهم إلي ثلاثة أقسام: أصول وفروع وحواشي.

أـ فالأصول من تفرع الميت منهم كالآباء والأمهات وكلهم وارثون بالفرض أو التعصيب سوى صنفين:

1 ـ كل ذكر حال بينه وبين الميت أنثي مثل أب الأم.
সম্পর্কের দিক বিবেচনায় আত্মীয়তার প্রকারভেদ

সম্পর্কের দিক বিবেচনায় আত্মীয়তা তিন ভাগে বিভক্ত: মূল (উর্ধ্বতন), শাখা (অধস্তন) এবং পার্শ্বীয়।

ক— মূল (উর্ধ্বতন) হলেন তারা, যাদের থেকে মৃত ব্যক্তি শাখা হিসেবে বের হয়েছেন, যেমন পিতা ও মাতা; এবং তারা দুই শ্রেণী ব্যতীত সকলেই নির্ধারিত অংশ অথবা অবশিষ্টভোগী হিসেবে উত্তরাধিকারী হবেন:

১ — প্রত্যেক এমন পুরুষ, যার এবং মৃত ব্যক্তির মাঝে কোনো নারী ব্যবধান হিসেবে রয়েছে, যেমন মাতার পিতা।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ৮)
2 ـ كل أنثى أدلت بذكر حال بينه وبين الميت أنثى مثل أم أب الأم.

وهذان الصنفان من ذوى الأرحام.

ب ـ والفروع: من تفرعوا من الميت كالأولاد، وكلهم وارثون بالفرض أو التعصيب إلا من أدلى بأنثى مثل: ابن البنت وبنت البنت فمن ذوى الأرحام.

جـ: والحواشي: من تفرعوا من أصول الميت كالاخوة والأعمام وكلهم وارثون بالفرض أو التعصيب سوى صنفين:

1ـ كل ذكر أدلى بأنثى سوى الاخوة من الام مثل: ابن الأخت وابن الأخ من الام والعم لام والخال.

2ـ جميع الإناث سوى الأخوات مثل بنت الأخ والعمة وبنت العم والخالة.

وهذان الصنفان من ذوى الأرحام.

* * *
২. প্রত্যেক এমন নারী যে এমন এক পুরুষের মাধ্যমে সম্পর্কিত যার এবং মৃতের মাঝে কোনো নারী বিদ্যমান, যেমন মায়ের বাবার মা।

আর এই দুই শ্রেণি যাবিল আরহামের অন্তর্ভুক্ত।

খ. শাখা (অধঃস্তন): যারা মৃত থেকে শাখা হিসেবে বের হয়েছে যেমন সন্তানাদি। তারা সকলেই নির্ধারিত অংশ (ফরজ) অথবা অবশিষ্টাংশ (তাসীব) হিসেবে উত্তরাধিকারী হয়, কেবল তারা ব্যতীত যারা কোনো নারীর মাধ্যমে সম্পর্কিত, যেমন: মেয়ের ছেলে এবং মেয়ের মেয়ে; তারা যাবিল আরহামের অন্তর্ভুক্ত।

গ. পার্শ্বস্থ আত্মীয়: যারা মৃতের মূল বা পূর্বপুরুষ থেকে শাখা হিসেবে বের হয়েছে যেমন ভাই ও চাচা। তারা সকলেই নির্ধারিত অংশ অথবা অবশিষ্টাংশ হিসেবে উত্তরাধিকারী হয়, কেবল দুই প্রকারের লোক ব্যতীত:

১. বৈপিত্রীয় ভাই ব্যতীত প্রত্যেক এমন পুরুষ যে কোনো নারীর মাধ্যমে সম্পর্কিত; যেমন: বোনের ছেলে, বৈপিত্রীয় ভাইয়ের ছেলে, পিতার বৈপিত্রীয় ভাই এবং মামা।

২. বোন ব্যতীত সকল নারী; যেমন: ভাইয়ের মেয়ে, ফুফু, চাচার মেয়ে এবং খালা।

আর এই দুই শ্রেণি যাবিল আরহামের অন্তর্ভুক্ত।

* * *
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌شروط الإرث

شروط الإرث ثلاثة.

أـ تحقق موت المورث أو إلحاقه بالأموات.

مثال إلحاقه بالأموات: المفقود1 إذا مضت مدة انتظاره2.

ب ـ تحقق حياة الوارث بعده أو إلحاقه بالأحياء.

مثل إلحاقه بالأحياء: الحمل إذا تحقق وجوده حين موت مورثه وان لم تنفخ فيه الروح. وكذلك المفقود في مدة انتظاره إذا لم نتحقق أن موته قبل موت مورثه3.

وبناء على هذين الشرطين فلا توارث بين متوارثين ماتا

--------------------------------------------

1 هو من انقطعت أخباره ولم يعلم له حياة ولا موت.

2 تقدر مدة انتظاره بحسب اجتهاد الحاكم وتختلف بحسب حال المفقود.

3 يتحقق ذلك إذا وضع حيا حياة مستقرة لأقل من ستة اشهر من موت مورثه مطلقا أو لأكثر من ذلك إن كانت لم توطأبعد موت مورثه.
উত্তরাধিকারের শর্তাবলি

উত্তরাধিকারের শর্ত তিনটি।

ক— মউতকারীর (উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া ব্যক্তি) মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া অথবা তাকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা।

তাকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত করার উদাহরণ: নিখোঁজ ব্যক্তি১ যখন তার অপেক্ষার সময়কাল২ অতিবাহিত হয়।

খ— তার পর উত্তরাধিকারীর জীবন নিশ্চিত হওয়া অথবা তাকে জীবিতদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা।

জীবিতদের অন্তর্ভুক্ত করার উদাহরণ: গর্ভস্থ সন্তান, যদি মউতকারীর মৃত্যুর সময় তার অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া যায়, যদিও তাতে রুহ ফুঁকে দেওয়া না হয়ে থাকে। তদ্রূপ অপেক্ষমাণ সময়কালে থাকা নিখোঁজ ব্যক্তি, যদি আমরা নিশ্চিত না হই যে তার মৃত্যু তার মউতকারীর মৃত্যুর আগে হয়েছে৩।

এই দুটি শর্তের ভিত্তিতে, এমন দুইজন উত্তরাধিকারীর মাঝে উত্তরাধিকার কার্যকর হবে না যারা মারা গেছে...

--------------------------------------------

১. সে এমন ব্যক্তি যার সংবাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তার জীবন বা মৃত্যু সম্পর্কে কিছু জানা নেই।

২. তার অপেক্ষার সময়কাল বিচারকের ইজতিহাদ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থাভেদে তা ভিন্ন ভিন্ন হবে।

৩. এটি তখন নিশ্চিত হয় যখন সে মউতকারীর মৃত্যুর ছয় মাসের কম সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে জীবিতাবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়, অথবা তার চেয়ে বেশি সময় পরে যদি মউতকারীর মৃত্যুর পর (মাতার সাথে) সহবাস না হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১০)
ولم يَعلم أيهما اسبق موتا، مثل ان يموتا بهدم أو غرق أو حريق أو حادث طريق ونحوه لعدم تحقق المورث قبل الوارث وحياة الوارث بعده.

جـ ـ العلم بالجهة الموجبة للإرث من زوجة أو قرابة أو ولاء، بان نعلم هذا يرث هذا الميت لكونه زوجه ونحوه.
এবং তাদের মধ্যে কে আগে মৃত্যুবরণ করেছে তা যদি জানা না যায়, যেমন তারা ভবন ধস, ডুবে যাওয়া, অগ্নিকাণ্ড বা সড়ক দুর্ঘটনা বা এই জাতীয় কোনো কারণে মৃত্যুবরণ করে; কারণ উত্তরাধিকারীর আগে উত্তরাধিকার প্রদানকারীর মৃত্যু হওয়া এবং তার পরে উত্তরাধিকারীর জীবিত থাকা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গ— উত্তরাধিকারের কারণ সম্পর্কে অবগত হওয়া, যেমন— বৈবাহিক সম্পর্ক, আত্মীয়তা বা ওয়ালা (মুক্ত করার সম্পর্ক)। অর্থাৎ এ বিষয়ে অবগত হওয়া যে, এই ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির স্ত্রী বা অনুরূপ হওয়ার কারণে তার উত্তরাধিকারী হবে।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌موانع الإرث

موانع الإرث ثلاثة: اختلاف الدين، والرق، والقتل.

فمتى وَجد واحد منها في شخص صار كالمعدوم فلا يرث ولا يؤثر على غيره من الورثة.

أـ فأما اختلاف الدين فمعناه: أن يكون إحداهما على ملة والثاني على ملة أخرى، وهو مانع من الجانبين، فالكافر لا يرث المسلم والمسلم لا يرث الكافر، واليهودي لا يرث النصراني، والنصراني لا يرث اليهودي وهكذا.

ب ـ وأما الرق فهو وصف يكون به الشخص مملوكا
মিরাসের প্রতিবন্ধকসমূহ

মিরাসের প্রতিবন্ধক তিনটি: ধর্মের ভিন্নতা, দাসত্ব এবং হত্যা।

যখন কোনো ব্যক্তির মাঝে এগুলোর কোনো একটি পাওয়া যাবে, তখন সে অস্তিত্বহীন বলে গণ্য হবে। ফলে সে মিরাস পাবে না এবং অন্যান্য ওয়ারিশদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ক— ধর্মের ভিন্নতার অর্থ হলো: তাদের একজন এক মিল্লাত বা আদর্শের ওপর থাকা এবং দ্বিতীয় জন অন্য মিল্লাতের ওপর থাকা। এটি উভয় পক্ষ থেকেই প্রতিবন্ধক। ফলে কাফের মুসলমানের উত্তরাধিকারী হবে না এবং মুসলমান কাফেরের উত্তরাধিকারী হবে না। তেমনিভাবে ইহুদি খ্রিষ্টানের উত্তরাধিকার পাবে না এবং খ্রিষ্টান ইহুদির উত্তরাধিকার পাবে না এবং এভাবেই অন্যান্য ক্ষেত্রে।

খ— আর দাসত্ব হলো এমন একটি বৈশিষ্ট্য যার দ্বারা ব্যক্তি মালিকানাধীন দাসে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১১)
وهو مانع من الجانبين فلا يورٌث

ج ـ واما القتل فهو إزهاق الروح والمانع منه ما كان بغير حق سواء كان عمداً أم غير عمد1 وسواء كان مباشرة أم غير مباشرة أم بسبب. وهو مانع من جانب واحد، جانب القاتل، فالقاتل لا يرث من المقتول. واما المقتول فيرث من القاتل مثل أن يجرح أحد الشقيقين أخاه جرحاً مميتاً ثم يموت الجارح قبله فيرث منه المجروح حينئذ.

أما القتل بحق فلا يمنع من الإرث مثل أن يقتل مورثه قصاصاً فيرث منه حينئذ.

--------------------------------------------

1 يرى بعض العلماء أن قتل الخطأ لا يمنع القاتل من الإرث فيسلم الدية إن لم يعف عنه ويرث نصيبه من غيرها وهو مذهب مالك واختاره ابن القيم.
এটি উভয় দিক থেকে বাধা প্রদানকারী, তাই কোনো উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হয় না।

গ — আর হত্যার কথা হলো, তা হলো প্রাণ হরণ করা। এর মধ্যে যা উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধক তা হলো যা অন্যায়ভাবে সংঘটিত হয়, চাই তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত হোক এবং চাই তা সরাসরি হোক বা পরোক্ষভাবে হোক কিংবা কোনো কারণ সৃষ্টির মাধ্যমে হোক। এটি কেবল এক পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধক, আর তা হলো হত্যাকারীর পক্ষ; ফলে হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির থেকে মিরাস পাবে না। কিন্তু নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীর থেকে মিরাস পাবে; যেমন দুই সহোদর ভাইয়ের একজন তার ভাইকে মারাত্মকভাবে জখম করল, অতঃপর আঘাতকারী ব্যক্তি আগে মারা গেল, তখন ঐ আহত ভাই তার থেকে মিরাস পাবে।

পক্ষান্তরে ন্যায়সঙ্গত হত্যা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে না; যেমন কেউ যদি তার মুওয়াররিসকে কিসাস হিসেবে হত্যা করে, তবে সে সেই অবস্থায় তার থেকে মিরাস পাবে।

--------------------------------------------

১ কোনো কোনো আলেম মনে করেন যে, ভুলবশত হত্যা হত্যাকারীকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে না; সুতরাং তাকে ক্ষমা করা না হলে সে দিয়াত প্রদান করবে এবং দিয়াত ব্যতীত অবশিষ্ট সম্পদ থেকে নিজের অংশ লাভ করবে। এটি ইমাম মালিকের মাযহাব এবং ইবনুল কায়্যিম এটিকেই পছন্দ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أقسام الورثة باعتبار نوع الإرث.

ينقسم الورثة باعتبار نوع الإرث ثلاثة أقسام: وارثين بالفرض، ووارثين بالتعصيب، ووارثين بالرحم.
উত্তরাধিকারের ধরন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের প্রকারভেদ.

উত্তরাধিকারের ধরন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীগণ তিন ভাগে বিভক্ত: নির্দিষ্ট অংশের উত্তরাধিকারী, অবশিষ্টাংশভোগী উত্তরাধিকারী এবং আত্মীয়তার সূত্রে উত্তরাধিকারী।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১২)
أـ فالوارثون بالفرض: من ارثهم مقدٌر بجزء كالنصف والربع والثمن والثلثين والثلث والسدس.

ب ـ والوارثون بالتعصيب: من يرثون بلا تقدير.

جـ ـ والوارثون بالرحم: كل قريب ينزل منزلة ذوى الفرض أو التعصيب، وليس وارثا بهما بنفسه.
ক- নির্দিষ্ট অংশের উত্তরাধিকারীগণ: যাদের উত্তরাধিকার অর্ধেক, এক-চতুর্থাংশ, এক-অষ্টমাংশ, দুই-তৃতীয়াংশ, এক-তৃতীয়াংশ এবং এক-ষষ্ঠাংশের মতো সুনির্দিষ্ট অংশ দ্বারা নির্ধারিত।

খ- আসাবা (অবশিষ্টাংশভোগী) উত্তরাধিকারীগণ: যারা কোনো সুনির্দিষ্ট নির্ধারণ ব্যতিরেকে উত্তরাধিকার লাভ করেন।

গ- জাবিল আরহাম (রক্তসম্পর্কীয়) উত্তরাধিকারীগণ: এমন প্রত্যেক নিকটাত্মীয় যারা নির্দিষ্ট অংশের অধিকারী বা আসাবাদের স্থলাভিষিক্ত হন, কিন্তু তারা স্বয়ং এই দুই পদ্ধতিতে সরাসরি উত্তরাধিকারী নন।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌أصحاب الفروض ومقدار نصيب كل وارث

‌‌مقدمة

…

أصحاب الفروض ومقدار نصيب كل وارث.

أصحاب الفروض عشرة: الزوج، والزوجة، والام، والأب، والجدة، والجد، والبنات، وبنات الابن، والأخوات من غير أم وأولاد الام.
নির্ধারিত অংশের হকদারগণ এবং প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর অংশের পরিমাণ

ভূমিকা

…

নির্ধারিত অংশের হকদারগণ এবং প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর অংশের পরিমাণ।

নির্ধারিত অংশের হকদারগণ দশ জন: স্বামী, স্ত্রী, মা, বাবা, দাদি ও নানি, দাদা, কন্যারা, পুত্রের কন্যারা, সহোদর ও বৈমাত্রেয় বোনরা এবং বৈপিত্রেয় সন্তানরা।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১২)
1ـ‌‌ ميراث الزوج

ميراث الزوج النصف أو الربع:

فيرث النصف بشرط ألا يكون للزوجة فرع وارث1

--------------------------------------------

1 الفرع الوارث: هم الأولاد وأولاد الأبناء وإن نزلوا إذا لم يكن فيهم مانع من موانع الإرث.
১ـ‌স্বামীর উত্তরাধিকার

স্বামীর উত্তরাধিকার হলো অর্ধেক অথবা এক-চতুর্থাংশ:

তিনি অর্ধেক অংশ পাবেন এই শর্তে যে, যদি স্ত্রীর কোনো ওয়ারিশ শাখা (সন্তান বা সন্তানের সন্তান) না থাকে।১

--------------------------------------------

১ ওয়ারিশ শাখা: তারা হলো সন্তান এবং পুত্র-সন্তানের সন্তানসন্ততি, তারা যত নিচেই যাক না কেন, যদি তাদের মধ্যে উত্তরাধিকারের কোনো প্রতিবন্ধক না থাকে।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১৩)
ويرث الربع بشرط أن يكون للزوجة فرع وارث.

مثال ارثه النصف: أن تموت امرأة عن زوجها وأبيها فللزوج النصف وللأب الباقي.

ومثال ارثه الربع: أن تموت امرأة عن زوجها وابنها فللزوج الربع وللابن الباقي.
এবং তিনি এক-চতুর্থাংশ উত্তরাধিকার লাভ করবেন এই শর্তে যে, স্ত্রীর কোনো উত্তরাধিকারী বংশধর থাকে।

তার অর্ধেক উত্তরাধিকার পাওয়ার উদাহরণ: কোনো নারী তার স্বামী ও পিতাকে রেখে মৃত্যুবরণ করলে স্বামী অর্ধেক পাবেন এবং পিতা অবশিষ্টাংশ পাবেন।

এবং তার এক-চতুর্থাংশ উত্তরাধিকার পাওয়ার উদাহরণ: কোনো নারী তার স্বামী ও পুত্রকে রেখে মৃত্যুবরণ করলে স্বামী এক-চতুর্থাংশ পাবেন এবং পুত্র অবশিষ্টাংশ পাবে।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১৩)
2 ـ‌‌ ميراث الزوجة

ميراث الزوجة الربع أو الثمن:

فترث الربع بشرط أن لا يكون للزوج فرع وارث، وترث الثمن بشرط أن يكون للزوج فرع وارث.

مثال ارثها الربع: أن يموت شخص عن زوجته وأبيه فللزوجة الربع وللأب الباقي.

مثال ارثها الثمن: أن يموت شخص عن زوجته وابنه فللزوجة الثمن وللابن الباقي.

والزوجتان فاكثر كالزوجة الواحدة، فلا يزيد الفرض بزيادتهن.
2 ـ‌স্ত্রীর মিরাস

স্ত্রীর মিরাস হলো এক-চতুর্থাংশ অথবা এক-অষ্টমাংশ:

তিনি এক-চতুর্থাংশ মিরাস পাবেন এই শর্তে যে, স্বামীর কোনো উত্তরাধিকারী বংশধর না থাকে; এবং তিনি এক-অষ্টমাংশ মিরাস পাবেন এই শর্তে যে, স্বামীর উত্তরাধিকারী বংশধর থাকে।

তার এক-চতুর্থাংশ মিরাস পাওয়ার উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রী ও পিতাকে রেখে মৃত্যুবরণ করলে স্ত্রীর জন্য এক-চতুর্থাংশ এবং পিতার জন্য অবশিষ্ট অংশ।

তার এক-অষ্টমাংশ মিরাস পাওয়ার উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রী ও পুত্রকে রেখে মৃত্যুবরণ করলে স্ত্রীর জন্য এক-অষ্টমাংশ এবং পুত্রের জন্য অবশিষ্ট অংশ।

একাধিক স্ত্রী থাকলেও তারা একজন স্ত্রীর মতোই বিবেচিত হবেন, সুতরাং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নির্ধারিত অংশ বৃদ্ধি পাবে না।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১৪)
3 ـ‌‌ ميراث الأم

ميراث الام الثلث أو السدس أو ثلث الباقي.

فترث الثلث بشرط أن لا يكون للميت فرع وارث ولا عدد من الاخوة الأخوات، وان تكون المسالة إحدى العمريتين.

وترث السدس إذا كان للميت فرع وارث أو عدد من الاخوة أو الأخوات1 وترث ثلث الباقي في العمريتين2 وهما:

1 ـ زوج وأم وأب. تقسم من ستة للزوج النصف ثلاثة وللام ثلث الباقي واحد، وللأب الباقي.

2 ـ زوجة وأم وأب. تقسم من أربعة. للزوجة الربع

--------------------------------------------

1 سواء كانوا ذكورا أم ذكورا وإناثا أم إناثا وسواء كانوا أشقاء أم من الأب أم من الأم.

2 نسبة إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه لأنه أول من قضى بهما في ذلك حين وقعتا في خلافته.
3 ـ‌‌ মায়ের মিরাস

মায়ের মিরাস হলো এক-তৃতীয়াংশ, এক-ষষ্ঠাংশ অথবা অবশিষ্টের এক-তৃতীয়াংশ।

তিনি এক-তৃতীয়াংশ মিরাস পাওয়ার শর্ত হলো, মৃত ব্যক্তির কোনো উত্তরাধিকারী বংশধর না থাকা এবং একাধিক ভাই-বোন না থাকা, এবং মাসআলাটি যেন উমারিয়্যাহ মাসআলাদ্বয়ের একটি না হয়।

আর তিনি এক-ষষ্ঠাংশ পাবেন যখন মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী বংশধর থাকবে অথবা একাধিক ভাই বা বোন থাকবে১ এবং তিনি উমারিয়্যাহ মাসআলাদ্বয়ে২ অবশিষ্টের এক-তৃতীয়াংশ পাবেন। মাসআলা দুটি হলো:

১ ـ স্বামী, মা ও বাবা। মাসআলাটি ছয় থেকে বণ্টিত হবে। স্বামীর জন্য অর্ধেক অর্থাৎ তিন, মায়ের জন্য অবশিষ্টের এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ এক, এবং বাবার জন্য অবশিষ্ট অংশ।

২ ـ স্ত্রী, মা ও বাবা। মাসআলাটি চার থেকে বণ্টিত হবে। স্ত্রীর জন্য এক-চতুর্থাংশ

--------------------------------------------

১ তারা পুরুষ হোক বা পুরুষ ও নারী উভয়ই হোক কিংবা কেবল নারী হোক; এবং তারা সহোদর হোক বা বৈমাত্রেয় হোক কিংবা বৈপিত্রেয় হোক।

২ উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর দিকে সম্বন্ধিত করে এই নামকরণ করা হয়েছে, কেননা তার খিলাফতকালে যখন এই মাসআলা দুটি উদ্ভূত হয়েছিল, তখন তিনিই সর্বপ্রথম এ বিষয়ে এমন ফয়সালা দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১৫)
واحد وللام ثلث الباقي واحد وللأب الباقي.

مثال ارثها الثلث: أن يموت شخص عن أمه وأبيه، فللأم الثلث وللأب الباقي.

مثال ارثها السدس: أن يموت شخص عن أمه وابنه فللام السدس وللابن الباقي.

مثال آخر: أن يموت شخص عن أمه أخويه الشقيقين فللام السدس، وللشقيقين الباقي.
এক, এবং মায়ের জন্য অবশিষ্টের এক-তৃতীয়াংশ যা এক, এবং পিতার জন্য অবশিষ্ট অংশ।

তার এক-তৃতীয়াংশ উত্তরাধিকার পাওয়ার উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তার মা ও পিতাকে রেখে মারা গেল, এমতাবস্থায় মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ এবং পিতার জন্য অবশিষ্ট অংশ।

তার এক-ষষ্ঠাংশ উত্তরাধিকার পাওয়ার উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তার মা ও পুত্রকে রেখে মারা গেল, এমতাবস্থায় মায়ের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ এবং পুত্রের জন্য অবশিষ্ট অংশ।

অন্য একটি উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তার মা ও দুই জন সহোদর ভাইকে রেখে মারা গেল, এমতাবস্থায় মায়ের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ এবং দুই সহোদর ভাইয়ের জন্য অবশিষ্ট অংশ।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১৫)
4-‌‌ ميراث الأب

ميراث الأب بالفرض فقط وهو السدس أو بالتعصيب فقط، أو بالفرض والتعصيب معا.

فيرث بالفرض فقط بشرط أن يكون للميت فرع وارث ذكر.

ويرث بالتعصيب فقط بشرط أن يكون للميت فرع وارث.
৪-‌‌ পিতার মিরাস

পিতার মিরাস কেবল ফরয হিসেবে—যা হলো এক-ষষ্ঠাংশ, অথবা কেবল আসাবা হিসেবে, অথবা ফরয ও আসাবা উভয় পদ্ধতিতে একত্রে হতে পারে।

তিনি কেবল ফরয হিসেবে উত্তরাধিকারী হবেন এই শর্তে যে, মৃত ব্যক্তির কোনো পুরুষ উত্তরাধিকারী অধস্তন থাকে।

এবং তিনি কেবল আসাবা হিসেবে উত্তরাধিকারী হবেন এই শর্তে যে, মৃত ব্যক্তির কোনো উত্তরাধিকারী অধস্তন থাকে।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১৬)
ويرث بالفرض والتعصيب معاً بشرط أن يكون للميت فرع وارث أنثى لا ذكر معها.

مثال ارثه بالفرض فقط: أن يموت شخص عن أبيه وابنه فللأب السدس وللابن الباقي.

مثال ارثه بالتعصيب فقط: أن يموت شخص عن زوجته وأبيه فللزوجة الربع وللأب الباقي.

مثال ارثه بالفرض والتعصيب: أن يموت شخص عن ابنته وأبيه فللبنت النصف وللأب السدس فرضا والباقي تعصيبا.
এবং তিনি নির্ধারিত অংশ ও অবশিষ্টভোগী হিসেবে একত্রে উত্তরাধিকারী হন এই শর্তে যে, মৃত ব্যক্তির কোনো পুরুষ বংশধর না থেকে কেবল নারী বংশধর থাকে।

শুধুমাত্র নির্ধারিত অংশ হিসেবে তাঁর উত্তরাধিকারের উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তাঁর পিতা ও পুত্রকে রেখে মৃত্যুবরণ করলেন; এক্ষেত্রে পিতা ষষ্ঠাংশ পাবেন এবং পুত্র অবশিষ্ট অংশ পাবে।

শুধুমাত্র অবশিষ্টভোগী হিসেবে তাঁর উত্তরাধিকারের উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী ও পিতাকে রেখে মৃত্যুবরণ করলেন; এক্ষেত্রে স্ত্রী চতুর্থাংশ পাবেন এবং পিতা অবশিষ্ট অংশ পাবেন।

নির্ধারিত অংশ ও অবশিষ্টভোগী হিসেবে একত্রে তাঁর উত্তরাধিকারের উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তাঁর কন্যা ও পিতাকে রেখে মৃত্যুবরণ করলেন; এক্ষেত্রে কন্যা অর্ধাংশ পাবেন এবং পিতা নির্ধারিত অংশ হিসেবে ষষ্ঠাংশ ও অবশিষ্ট অংশ অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবেন।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১৬)
5 ـ‌‌ ميراث الجدة

المراد بالجدة هنا: من لم تدل بذكر بينه وبين الميت أنثى كأم أبى الام. ولا ترث جدة مع وجود الام ولا مع وجود جدة اقرب منها كأم الام مع وجود أم الأب.

وميراث الجدة الواحدة السدس فان تعددن فالسدس بينهن بالسوية ولا يزيد الفرض بزيادتهن.
5 ـ‌‌দাদীর মিরাস

এখানে দাদী বলতে উদ্দেশ্য হলো: এমন নারী যিনি এমন কোনো পুরুষের মাধ্যমে সম্পর্কিত নন যার এবং মৃতের মাঝে কোনো নারী রয়েছে, যেমন মায়ের বাবার মা। মায়ের উপস্থিতিতে কোনো দাদী মিরাস পায় না এবং অধিকতর নিকটবর্তী দাদীর উপস্থিতিতেও (পাবে না), যেমন মায়ের মায়ের উপস্থিতিতে বাবার মা।

একজন দাদীর মিরাস হলো ষষ্ঠাংশ। যদি তারা একাধিক হন তবে সেই ষষ্ঠাংশ তাদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নির্ধারিত অংশ বৃদ্ধি পাবে না।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১৭)
مثال الجدة الواحدة: أن يموت شخص عن جدته (أم أبيه) وابنه فللجدة السدس وللابن الباقي.

ومثال المتعددات: أن يموت شخص عن جداته (أم أم أمه، وأم أم أبيه، وأم أبى أبيه) وأبيه فللجدات السدس بالسوية وللأب الباقي.
একক দাদির উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তার দাদি (পিতার মা) এবং তার পুত্রকে রেখে মারা গেলে দাদি ষষ্ঠাংশ পাবেন এবং পুত্র অবশিষ্ট অংশ পাবে।

একাধিক দাদির উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তার দাদিদের (মায়ের মায়ের মা, পিতার মায়ের মা এবং পিতার পিতার মা) এবং তার পিতাকে রেখে মারা গেলে দাদিগণ সমানভাবে ষষ্ঠাংশ পাবেন এবং পিতা অবশিষ্ট অংশ পাবেন।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১৭)
6ـ‌‌ ميراث الجد

المراد بالجد هنا: من لم يكن بينه وبين الميت أنثى كأبي الام ولا يرث جدٌ مع وجود الأب ولا مع وجود جدٌ اقرب منه كأبي أبى الأب مع وجود أبى الأب.

وميراث الجد بالفرض فقط وهو السدس، وبالتعصيب فقط وبالفرض والتعصيب معاً.

فيرث بالفرض فقط بشرط أن يكون للميت فرع وارث ذكر.

ويرث بالتعصيب فقط بشرط أن لا يكون للميت فرع
6- দাদার মিরাস (উত্তরাধিকার)

এখানে দাদা বলতে উদ্দেশ্য হলো: এমন ব্যক্তি যার এবং মৃতের মাঝখানে কোনো নারী মাধ্যম নেই, যেমন মায়ের বাবা। পিতার উপস্থিতিতে কোনো দাদা উত্তরাধিকার পান না এবং অধিকতর নিকটবর্তী দাদার উপস্থিতিতে দূরবর্তী কোনো দাদা উত্তরাধিকার পান না; যেমন বাবার বাবার (দাদা) উপস্থিতিতে বাবার বাবার বাবা (পরদাদা) উত্তরাধিকার পান না।

দাদার মিরাস কখনো কেবল নির্ধারিত অংশ (ফারজ) হিসেবে হয় আর তা হলো এক-ষষ্ঠাংশ, কখনো কেবল আসাবা (উদ্বৃত্তভোগী) হিসেবে এবং কখনো নির্ধারিত অংশ ও আসাবা উভয় পদ্ধতিতে একত্রে হয়।

তিনি কেবল নির্ধারিত অংশ হিসেবে উত্তরাধিকার পাবেন এই শর্তে যে, যদি মৃতের কোনো পুরুষ অধস্তন উত্তরাধিকারী থাকে।

আর তিনি কেবল আসাবা হিসেবে উত্তরাধিকার পাবেন এই শর্তে যে, যদি মৃতের কোনো অধস্তন উত্তরাধিকারী না থাকে।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১৮)
وارث.

ويرث بالفرض والتعصيب معا بشرط أن يكون للميت فرع وارث أنثى لا ذكر معها.

مثال ارثه بالفرض فقط: أن يموت شخص عن جدة وابنة فللجد السدس وللابن الباقي.

مثال ارثه بالتعصيب فقط. أن يموت شخص عن أمه وجده فللام الثلث وللجد الباقي.

ومثال ارثه بالفرض والتعصيب: أن يموت شخص عن بنته وجده فللبنت النصف وللجد السدس فرضا والباقي تعصيبا.
উত্তরাধিকারী।

তিনি নির্ধারিত অংশ এবং অবশিষ্টভোগী উভয় পদ্ধতিতে একত্রে উত্তরাধিকারী হন, তবে শর্ত হলো মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে কোনো নারী বংশধর থাকতে হবে এবং তার সাথে কোনো পুরুষ বংশধর থাকা চলবে না।

শুধুমাত্র নির্ধারিত অংশ হিসেবে তাঁর উত্তরাধিকারী হওয়ার উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তাঁর দাদি এবং কন্যার উপস্থিতিতে মারা গেলেন, এমতাবস্থায় দাদা এক-ষষ্ঠাংশ পাবেন এবং পুত্র অবশিষ্ট অংশ পাবে।

শুধুমাত্র অবশিষ্টভোগী হিসেবে তাঁর উত্তরাধিকারী হওয়ার উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তাঁর মা এবং দাদাকে রেখে মারা গেলেন, এমতাবস্থায় মা এক-তৃতীয়াংশ পাবেন এবং দাদা অবশিষ্ট অংশ পাবেন।

নির্ধারিত অংশ এবং অবশিষ্টভোগী উভয় পদ্ধতিতে তাঁর উত্তরাধিকারী হওয়ার উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তাঁর কন্যা এবং দাদাকে রেখে মারা গেলেন, এমতাবস্থায় কন্যা অর্ধেক পাবে এবং দাদা নির্ধারিত অংশ হিসেবে এক-ষষ্ঠাংশ এবং অবশিষ্ট অংশ অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবেন।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১৮)
7ـ‌‌ ميراث البنات

ميراث البنات بالتعصيب فقط وبالفرض فقط.

فيرثن بالتعصيب بشرط أن يكون للميت ابن. للذكر مثل حظ الانثيين ويرثن بالفرض بشرط أن لا يكون للميت
7ـ‌‌ কন্যাদের মিরাস

কন্যাদের মিরাস কেবল আসাবা হিসেবে এবং কেবল নির্ধারিত অংশ হিসেবে হয়।

তারা আসাবা হিসেবে উত্তরাধিকার লাভ করে এই শর্তে যে, মৃত ব্যক্তির পুত্র থাকে। এক পুরুষের জন্য দুই নারীর অংশের সমান পরিমাণ এবং তারা নির্ধারিত অংশ হিসেবে উত্তরাধিকার লাভ করে এই শর্তে যে, মৃত ব্যক্তির কোনো...
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ১৯)
ابن للواحدة النصف، وللثنتين فاكثر الثلثان.

مثال ارثهن بالتعصيب: أن يموت شخص عن أبيه وبنته فلها المال كله، له سهمان، ولها سهم واحد.

ومثال ارث الواحدة بالفرض النصف: أن يموت شخص عن زوجته وابنته وأخيه وأخيه الشقيق فللزوجة الثمن وللبنت النصف وللشقيق الباقي.

ومثال ارث الثنتين بالفرض الثلثين: أن يموت شخص عن بنته وأبيه فللبنتين الثلثان وللأب السدس فرضا والباقي تعصيبا.

ومثال ارث الأكثر من الثنتين بالفرض الثلثين: ان يموت شخص عن بناته الثلاث وأمه وأبيه فللبنات الثلثان وللام السدس وللأب السدس ولم يرث الأب هنا بالتعصيب لانه لم يبق بعد الفرض شي.
একজনের জন্য অর্ধেক এবং দুই বা ততোধিক জনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ।

আসাবাহ (অবশিষ্টাংশভোগী) হিসেবে তাদের উত্তরাধিকারের উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তার এক পুত্র ও এক কন্যা রেখে মারা গেল, এমতাবস্থায় তারা সম্পূর্ণ সম্পদের মালিক হবে; সেখানে পুত্রের জন্য দুই অংশ এবং কন্যার জন্য এক অংশ।

নির্ধারিত অংশ (ফরজ) হিসেবে একজনের অর্ধেক পাওয়ার উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রী, এক কন্যা এবং আপন ভাই রেখে মারা গেল; এমতাবস্থায় স্ত্রী পাবেন এক-অষ্টমাংশ, কন্যা পাবেন অর্ধেক এবং আপন ভাই পাবেন অবশিষ্ট অংশ।

নির্ধারিত অংশ হিসেবে দুইজনের দুই-তৃতীয়াংশ পাওয়ার উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তার দুই কন্যা ও পিতাকে রেখে মারা গেল; এমতাবস্থায় দুই কন্যা পাবেন দুই-তৃতীয়াংশ এবং পিতা নির্ধারিত অংশ হিসেবে এক-ষষ্ঠাংশ ও আসাবাহ হিসেবে অবশিষ্ট অংশ পাবেন।

নির্ধারিত অংশ হিসেবে দুইয়ের অধিক কন্যার দুই-তৃতীয়াংশ পাওয়ার উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি তার তিন কন্যা, মাতা ও পিতাকে রেখে মারা গেল; এমতাবস্থায় কন্যারা পাবেন দুই-তৃতীয়াংশ, মাতা পাবেন এক-ষষ্ঠাংশ এবং পিতা পাবেন এক-ষষ্ঠাংশ। এখানে পিতা আসাবাহ হিসেবে কোনো অংশ পাবেন না, কারণ নির্ধারিত অংশসমূহ বণ্টনের পর আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
(খণ্ড: ১) তালখীসু ফিকহিল ফারাইয (পৃষ্ঠা: ২০)
8 ـ‌‌ ميراث بنات الابن1

لا ترث بنات الابن مع وجود ذكر وارث من الفروع أعلى منهن مطلقا، ولا مع وجود انثتين وارثتين من الفروع أعلى منهن إلا أن يكون للميت ابن ابن بدرجتهن أو انزل منهن فيرثن معه بالتعصيب للذكر مثل حظ الانثيين.

وميراثهن فيما سوى ذلك بالتعصيب فقط وبالفرض فقط فيرثن بالتعصيب بشرط ان يكون للميت ابن ابن بدرجتهن للذكر مثل حظ الانثيين.

ويرثن بالفرض بشرط إلا يكون للميت ابن ابن بدرجتهن للواحدة النصف وللثنتين فاكثر الثلثان ألا أن يوجد أنثى من الفروع أعلى منهن ورثت النصف، فيرثن السدس تكملة الثلثين سواء كن واحدة أم اكثر، لا يزيد الفرض عن السدس

--------------------------------------------

1 المراد بهن: كل أنثى من الفروع أدلت بذكر ليس بينه وبين الميت أنثى وإن كان نازلا.
৮ - পুত্রের কন্যাদের উত্তরাধিকার১

পুত্রের কন্যারা উত্তরাধিকার পায় না যখন তাদের চেয়ে উচ্চ স্তরের কোনো পুরুষ অধস্তন বংশধর নিঃশর্তভাবে বিদ্যমান থাকে। অনুরূপভাবে যখন তাদের চেয়ে উচ্চ স্তরের দুইজন নারী অধস্তন বংশধর বিদ্যমান থাকে তখনও তারা উত্তরাধিকার পায় না, তবে যদি মৃত ব্যক্তির এমন কোনো পৌত্র (পুত্রের পুত্র) থাকে যে তাদের সমপর্যায়ের অথবা তাদের চেয়ে নিচের স্তরের হয়, তবে তারা তার সাথে আসাবা হিসেবে উত্তরাধিকার লাভ করবে; যেখানে একজন পুরুষের অংশ দুইজন নারীর অংশের সমান হবে।

এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের উত্তরাধিকার কেবল আসাবা হিসেবে অথবা কেবল নির্ধারিত অংশ হিসেবে হয়। তারা আসাবা হিসেবে উত্তরাধিকারী হবে এই শর্তে যে, মৃত ব্যক্তির যদি তাদের সমপর্যায়ের কোনো পৌত্র থাকে; সেক্ষেত্রে একজন পুরুষের অংশ দুইজন নারীর অংশের সমান হবে।

আর তারা নির্ধারিত অংশে উত্তরাধিকার লাভ করবে এই শর্তে যে, যদি মৃত ব্যক্তির তাদের সমপর্যায়ের কোনো পৌত্র না থাকে। তখন একজনের জন্য অর্ধেক এবং দুই বা ততোধিক হলে দুই-তৃতীয়াংশ। তবে যদি তাদের চেয়ে উচ্চ স্তরের এমন একজন নারী অধস্তন বংশধর থাকে যে অর্ধেক অংশ পেয়েছে, তবে তারা দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণ করার জন্য এক-ষষ্ঠাংশ পাবে, চাই তারা একজন হোক বা একাধিক। এই নির্ধারিত অংশ এক-ষষ্ঠাংশের বেশি হবে না।

--------------------------------------------

১ তাদের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: অধস্তন বংশধরদের মধ্য থেকে এমন প্রত্যেক নারী, যে এমন পুরুষের মাধ্যমে সম্পর্কিত যার এবং মৃত ব্যক্তির মাঝে কোনো নারী নেই, যদিও সে নিচের স্তরের হয়।