(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: -)
تلخيص أحكام الجنائز القسم: الفقه العام
الكتاب: تلخيص أحكام الجنائز
المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)
الناشر: مكتبة المعارف
الطبعة: الثالثة
عدد الصفحات: 94
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জানাযার বিধান (أحكام) সমূহের সারসংক্ষেপ (تلخيص) বিভাগ: সাধারণ ফিকহ (فقه)
গ্রন্থ: জানাযার বিধান (أحكام) সমূহের সারসংক্ষেপ (تلخيص)
লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন বিন আল-হাজ নূহ বিন নাজাতী বিন আদম আল-আশকুদারী আল-আলবানী (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ
সংস্করণ: তৃতীয়
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد ان محمداً عبده ورسوله.
أما بعد فقد اقتضت مصلحة تيسير المراجعة لأحكام الجنائز أن ألخصها وأقرب أحكامها لمن شاء الرجوع إليها وأخذ فكرة عامة سريعة عنها، وبخاصة عند حلول المناسبة مثل وفاة قريب أو حبيب لديه، فغنه مما لا يخفى أن الرجوع إلى كتابي أحكام الجنائز وبدعتها وقراءته كله والإحاطة بما فيه من الأحكام اللازمة في مثل هذا الحال مما لا يتيسر لأقل الناس لذلك رأيت أن ألخصه وأقرب إلى عامة القراء فوائده وبذلك أكون قد حققت رغبة ذلك الأخ العزيز الذي كان السبب المباشر لتأليف الحكام كما كنت ذكرت ذلك في ال
مقدمة وهي رغبة يشاركه فيها الكثيرون من محبي السنة النبوية والحريصين على إحيائها في مختلف بلاد الدنيا عربا وعجما حتى أن بعضهم أقدم في مصر على اختصار الكتاب دون إذن مني أو علم ولعله قصد بذلك الأجر الأخروي فقط فإن الكثيرين من الناشرين والطابعين أخذوا يسرقون مؤلفاتي ويطبعونها ليتاجروا بها ويأكلوا ربحها سحتا وقد بلغت ببعضهم الوقاحة إلى حد انه طبع عليها عبارة طبع المكتب الإسلامي وهو بذلك مدلس كاذب ولقد كنا نشكو ولا نزال من سرقة الكتب وطبعها كما هي على طريقة التصوير الأوفست. وإذا بهذا البعض تصل به الجرأة إلى طبعه على طريقة تنضيد الأحرف والطبع من جديد ويدلس على الناس بأنها من طبع المكتب الإسلامي بطبع اسم المكتب عليه ولقد بلغني أن بعضهم أفتى بجواز سرقة الكتب وطبعها والتجارة بها دون إذن من مؤلفها وناشرها وهذا ظلم فاضح واستغلال غير شريف لجهود الآخرين من المؤلفين والناشرين الذين اتخذوا التأليف والنشر وسيلة من أشرف وسائل كسب الرزق الحلال فكيف يليق بمسلم بل بكافر أن يقطع عن هؤلاء رزقهم ويأكل هو ربح جهودهم وأتعابهم بله الإفتاء بجوازه؟ تالله إنها لإحدى الكبر!
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজ ও আমাদের আমলের ত্রুটিসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
অতঃপর, জানাযার বিধিবিধানগুলো পর্যালোচনার বিষয়টি সহজতর করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে যাতে যারা এটি দেখতে চান বা এর সম্পর্কে একটি দ্রুত ও সাধারণ ধারণা পেতে চান, তাদের জন্য আমি একে সংক্ষিপ্ত ও নিকটতর করে দিতে পারি। বিশেষ করে কোনো আত্মীয় বা প্রিয়জনের মৃত্যুর মতো পরিস্থিতি উপস্থিত হলে এটি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। কারণ এটি কারো অজানা নয় যে, আমার রচিত 'আহকামুল জানাযা ওয়া বিদাউহা' গ্রন্থটি দেখা, তা আদ্যোপান্ত পাঠ করা এবং এ জাতীয় পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় বিধানসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা অধিকাংশ মানুষের পক্ষে সহজসাধ্য নয়। তাই আমি একে সংক্ষিপ্ত করার এবং সাধারণ পাঠকদের জন্য এর উপকারিতাগুলো সহজলভ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাধ্যমে আমি সেই প্রিয় ভাইয়ের আকাঙ্ক্ষাও পূর্ণ করলাম, যিনি এই বিধিবিধানগুলো সংকলনের সরাসরি কারণ ছিলেন, যেমনটি আমি
ভূমিকা অংশে উল্লেখ করেছি। এটি এমন একটি আকাঙ্ক্ষা যাতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের—চাই তারা আরব হোক বা অনারব—সুন্নাহর অনুসারী এবং সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করতে আগ্রহী অনেকেই তাঁর সাথে অংশীদার। এমনকি মিশরের কেউ কেউ আমার অনুমতি বা জ্ঞান ছাড়াই বইটি সংক্ষিপ্ত করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন; সম্ভবত তিনি এর মাধ্যমে কেবল পরকালীন সওয়াব প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে বাস্তবতা হলো, অনেক প্রকাশক ও মুদ্রণকারী আমার বইগুলো চুরি করে তা ছাপিয়ে ব্যবসা করছে এবং এর লভ্যাংশ অবৈধ (سحت) উপায়ে ভক্ষণ করছে। কারো কারো ধৃষ্টতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা বইটির ওপর 'মাকতাব আল-ইসলামী কর্তৃক মুদ্রিত' বাক্যটি লিখে ছাপিয়েছে; এর মাধ্যমে সে একজন প্রতারক (مدلس) ও মিথ্যাবাদী (كاذب) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। আমরা ইতিপূর্বেও বই চুরি এবং অফসেট পদ্ধতিতে অবিকল ছাপিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ করে আসছিলাম এবং এখনো করছি। কিন্তু এখন কারো কারো দুঃসাহস এতদূর পৌঁছেছে যে, তারা নতুন করে টাইপ সেট করে তা মুদ্রণ করছে এবং মাকতাব আল-ইসলামী-এর নাম ব্যবহার করে মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে যে এটি সেখান থেকেই প্রকাশিত। আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, কেউ কেউ গ্রন্থকার বা প্রকাশকের অনুমতি ছাড়াই বই চুরি করে তা ছাপানো ও তদ্দ্বারা ব্যবসা করা বৈধ হওয়ার ফতোয়া দিয়েছে। এটি এক প্রকাশ্য জুলুম এবং অন্যদের মেহনতের অসাধু শোষণ—বিশেষত সেইসব লেখক ও প্রকাশকদের জন্য যারা লিখন ও প্রকাশনাকে হালাল জীবিকা উপার্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। একজন মুসলিম, এমনকি একজন অমুসলিমের জন্যও কি এটা শোভনীয় যে সে এদের রুজি বন্ধ করে দেবে এবং তাদের কষ্ট ও মেহনতের ফল ভোগ করবে, উপরন্তু একে বৈধ বলে ফতোয়া দেবে? আল্লাহর কসম! এটি নিশ্চিতভাবেই একটি গুরুতর অপরাধ!
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ৬)
ومن العجب ان يتنبه الرجال الغربيون لمثل هذا الظلم فيسنون القوانين العادلة لحفظ حقوق المؤلفين والناشرين والحيلولة بين السارقين وظلمهم ولا يتنبه له بعض المسلمين وهم يعلمون أن من دينهم تحريم الظلم مطلقا كمثل قوله تعالى في الحديث القدسي: "يا عبادي إني حرمت الظلم على نفسي وجعلته بينكم محرما فلا تظالموا..". رواه مسلم في صحيحه وقول النبي صلى الله عليه وسلم اتقوا الظلم فإن الظلم ظلمات يوم القيامة". أخرجه البخاري ومسلم.
ولقد سمعت من بعض المغفلين الذين لا فقه عندهم انه يستجيز مثل هذه السرقة بحجة نشر العلم والله يعلم أن السارقين ما بهم نشر العلم وإنما همهم جمع المال بجهود غيرهم بدليل أنهم قد يطبعون ما لا يروق لهم من الناحية العلمية أو المذهبية من الكتب وما ذلك إلا لعلمهم برواجها وإقبال الناس عليها ومع ذلك فهم يقدمون على طبعها وسرقتها عملا بقاعدة من لا خلاق لهم الغاية تبرر الوسيلة فالله تعالى حسيبهم {وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلاً} .
واعلم أيها القارئ الكريم أنني في هذا التلخيص قد حذفت تخريج الأحاديث اكتفاء بالأصل ولالتزامنا فيها الصحة كما هي عادتنا في كل مؤلفاتنا والحمد لله دائما وأبدا كما حذفت شيئا من بعض متونه وكثيرا من التعليقات التي لا صلة قوية لها بموضوع الكتاب وأضفت إليه قليلا من الفوائد التي لم تكن في الأصل.
والله أسأل ان ينفع به المسلمين ويجعله كأصله وسائر مؤلفاتي عونا لهم على اتباع الكتاب والسنة واستئنافهم للحياة الاسلامية التي لا سبيل إليها إلا بالعلم النافع والعمل الصالح إنه سميع مجيب.
عمان- الأردن 13 جمادى الآخر سنة 1402هـ
محمد ناصر الدين الألباني.
এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, পশ্চিমা ব্যক্তিরা এই ধরণের অন্যায়ের প্রতি সচেতন হয়ে লেখক ও প্রকাশকদের অধিকার রক্ষায় এবং চোরদের দৌরাত্ম্য ও তাদের জুলুম প্রতিরোধে ইনসাফপূর্ণ আইন প্রণয়ন করে, অথচ কিছু মুসলিম এ বিষয়ে সচেতন নয়। অথচ তারা জানে যে, তাদের দ্বীনে সকল প্রকার জুলুমকে নিরঙ্কুশভাবে হারাম করা হয়েছে; যেমন আল্লাহ তাআলা হাদিস কুদসিতে (الحديث القدسي) ইরশাদ করেছেন: "হে আমার বান্দারা! আমি নিজের ওপর জুলুমকে হারাম করেছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করেছি; সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না..."। ইমাম মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো, কারণ জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে।" বুখারি ও মুসলিম এটি উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন।
আমি এমন কিছু নির্বোধের নিকট থেকে শুনেছি যাদের কোনো ফিকহ বা গভীর জ্ঞান নেই যে, তারা জ্ঞান প্রচারের অজুহাতে এই ধরণের চুরিকে বৈধ মনে করে। অথচ আল্লাহ জানেন যে, এই চোরদের উদ্দেশ্য জ্ঞান প্রচার নয়, বরং তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো অন্যের শ্রমের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করা। এর প্রমাণ হলো, তারা অনেক সময় এমন সব বইও ছাপায় যা ইলমি বা মাজহাবি দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের পছন্দ নয়; তারা কেবল বইগুলোর জনপ্রিয়তা ও মানুষের ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনা করে এমনটি করে। তা সত্ত্বেও তারা সেগুলো মুদ্রণ ও চুরি করার দুঃসাহস দেখায়—তাদের সেই মূলনীতি অনুযায়ী যাদের কোনো চারিত্রিক আদর্শ নেই যে, "উদ্দেশ্যই উপায়কে বৈধ করে"। আল্লাহ তাআলাই তাদের হিসাব গ্রহণকারী। "সেদিন জালেম ব্যক্তি নিজের হাত দংশন করবে এবং বলবে, হায়! আমি যদি রাসুলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম।"
হে সম্মানিত পাঠক, জেনে রাখুন যে, আমি এই সংক্ষেপে হাদিসসমূহের উৎসের সূত্রায়ন (تخريج) বাদ দিয়েছি মূল গ্রন্থের ওপর নির্ভর করে এবং আমাদের অন্যান্য সকল রচনার ন্যায় এখানেও বিশুদ্ধতা (الصحة) বজায় রাখার অঙ্গীকারের কারণে। আল্লাহর শোকর সর্বদা ও সর্বদা। এছাড়া আমি হাদিসগুলোর কিছু মূল পাঠের (متونه) অংশবিশেষ এবং এমন অনেক টীকা বাদ দিয়েছি যার সাথে কিতাবের মূল বিষয়ের শক্তিশালী কোনো সম্পর্ক নেই। আর এতে সামান্য কিছু ইলমি ফায়দা যুক্ত করেছি যা মূল গ্রন্থে ছিল না।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং একে মূল গ্রন্থের ন্যায় আমার অন্য সকল রচনার মতো কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণে তাদের জন্য সহায়ক করেন; যেন তারা পুনরায় সেই ইসলামি জীবন ফিরে পায়, যা অর্জনের পথ কেবল উপকারী জ্ঞান ও সৎকর্ম। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও দোয়া কবুলকারী।
আম্মান- জর্ডান, ১৩ জুমাদাল আখিরা, ১৪০২ হিজরি।
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী।
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ৭)
1- ما يجب على المريض
1 - على المريض أن يرضى بقضاء الله ويصبر على قدره ويحسن الظن بربه ذلك خير له لقوله صلى الله عليه وسلم:
"عجبا لأمر المؤمن إن أمره كله خير وليس ذاك لأحد إلا للمؤمن إن أصابته سراء شكر فكان خيرا له وإن أصابته ضراء صبر فكان خيرا له".
وقوله صلى الله عليه وسلم: "لا يموتن أحدكم إلا وهو يحسن الظن بالله تعالى".
2 - وينبغي عليه أن يكون بين الخوف والرجاء يخاف عقاب الله على ذنوبه ويرجو رحمة ربه لحديث أنس المعروف عند الترمذي وغيره:
أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل على شاب وهو بالموت فقال: كيف تجدك؟ قال: والله يا رسول الله إني أرجو الله وإني أخاف ذنوبي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يجتمعان في قلب عبد في مثل هذا الموطن إلا أعطاه الله ما يرجو وأمنه مما يخاف"
3 - ومهما اشتد به المرض فلا يجوز له أن يتمنى الموت.
صحيح فإن كان لا بد فاعلا فليقل: اللهم أحييني ما كانت الحياة خيرا لي وتوفني إذا كانت الوفاة خيرا لي.
4 - وإذا كان عليه حقوق فليؤدها إلى أصحابها إن تيسر له ذلك وإلا أوصى لأمره صلى الله عليه وسلم بذلك.
5 - ولا بد من الاستعجال بمثل هذه الوصية لقوله صلى الله عليه وسلم:
"ما حق امرئ مسلم يبيت ليلتين وله شيء يريد أن يوصي فيه إلا ووصيته مكتوبة عند رأسه قال ابن عمر:
১- রোগীর জন্য যা আবশ্যক
১ - রোগীর কর্তব্য হলো আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা, তাঁর তাকদিরের ওপর ধৈর্য ধারণ করা এবং তাঁর রবের প্রতি সুধারণা পোষণ করা। এটি তার জন্য কল্যাণকর, কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"মুমিনের বিষয়টি কতই না বিস্ময়কর! নিশ্চয়ই তার সকল বিষয়ই কল্যাণকর। আর মুমিন ব্যতীত অন্য কারো জন্য এমনটি নেই। যদি সে সুখ লাভ করে তবে শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি সে দুঃখ-কষ্টে পতিত হয় তবে ধৈর্য ধারণ করে, ফলে তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়।"
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমাদের প্রত্যেকে যেন আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা ব্যতীত মৃত্যুবরণ না করে।"
২ - এবং তার উচিত (আল্লাহর) ভয় ও আশার মাঝামাঝি অবস্থায় থাকা; সে তার পাপের কারণে আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করবে এবং তার রবের রহমতের আশা রাখবে। এর সপক্ষে তিরমিজি এবং অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত আনাস (রা.)-এর প্রসিদ্ধ হাদিসটি রয়েছে:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক যুবকের নিকট প্রবেশ করলেন যখন সে মৃত্যুশয্যায় ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি নিজেকে কেমন অনুভব করছ?" সে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ, আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি এবং আমি আমার পাপসমূহকে ভয় করছি।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এইরূপ পরিস্থিতিতে কোনো বান্দার অন্তরে যখন এই দুটির (ভয় ও আশা) একত্র ঘটে, তখন আল্লাহ তাকে তা-ই দান করেন যা সে আশা করে এবং তাকে সেই বিষয় থেকে নিরাপদ রাখেন যা সে ভয় করে।"
৩ - রোগ যতই কঠিন হোক না কেন, তার জন্য মৃত্যু কামনা করা বৈধ নয়।
সহিহ (صحيح)। যদি তাকে এমনটি করতেই হয় তবে সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমাকে ততক্ষণ জীবিত রাখুন যতক্ষণ বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয় এবং আমাকে তখনই মৃত্যু দান করুন যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়।
৪ - আর তার ওপর যদি মানুষের পাওনা বা অধিকার থাকে, তবে সম্ভব হলে সে যেন তা মালিকদের নিকট পরিশোধ করে দেয়। অন্যথায় সে যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সে বিষয়ে ওসিয়ত করে যায়।
৫ - আর এই প্রকার ওসিয়ত বা অসিয়তনামা করার ব্যাপারে দ্রুততা অবলম্বন করা আবশ্যক, কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"কোনো মুসলিম ব্যক্তির জন্য—যার অসিয়ত করার মতো কিছু আছে—এমন অবস্থায় দুই রাত অতিবাহিত করা উচিত নয় যে, তার নিকট তার লিখিত অসিয়তনামাটি সংরক্ষিত নেই।" ইবনে উমর (রা.) বলেন:
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ৮)
ما مرت علي ليلة منذ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ذلك إلا وعندي وصيتي.
6 - ويجب أن يوصي للأقربين الذين لا يرثون منه لقوله تبارك وتعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْراً الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ حَقّاً عَلَى الْمُتَّقِينَ} .
7 - صحيح وله أن يوصي بالثلث من ماله ولا يجوز الزيادة عليه بل الأفضل أن ينقص منه لحديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه الثابت في الصحيحين:
كنت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع فمرضت مرضا أشفيت منه على الموت فعادني رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: يا رسول الله إن لي مالا كثيرا وليس يرثني إلا ابنة لي أفأ وصي بثلثي مالي؟ قال: لا. قلت: بشطر مالي؟ قال: لا. قلت: فثلث مالي؟ قال:
"الثلث والثلث كثير" إنك يا سعد أن تدع ورثتك أغنياء خير لك من أن تدعهم عالة يتكففون الناس وقال بيده إنك يا سعد لن تنفق نفقة تبتغي بها وجه الله تعالى إلا أجرت عليها حتى اللقمة تجعلها في في امرأتك.
قال: فكان بعد الثلث جائزا
وقول ابن عباس رضي الله عنه:
وددت أن الناس غضوا من الثلث إلى الربع في الوصية لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "الثلث كثير"
8 - ويشهد على ذلك رجلين عدلين مسلمين فإن لم يوجدا فرجلين من غير المسلمين على أن يستوثق منهما عند الشك بشهادتهما حسبما جاء بيانه في قول الله تبارك وتعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ حِينَ الْوَصِيَّةِ اثْنَانِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ أَوْ آخَرَانِ مِنْ غَيْرِكُمْ إِنْ أَنْتُمْ ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَأَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةُ الْمَوْتِ تَحْبِسُونَهُمَا مِنْ بَعْدِ الصَّلاةِ فَيُقْسِمَانِ بِاللَّهِ إِنِ ارْتَبْتُمْ لا
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ কথা বলতে শোনার পর থেকে এমন কোনো রাত অতিবাহিত হয়নি, যে রাতে আমার নিকট আমার ওয়াসিয়তনামা সংরক্ষিত ছিল না।
6 - আর সেই সকল নিকটাত্মীয়দের জন্য ওয়াসিয়ত করা ওয়াজিব যারা তার থেকে উত্তরাধিকার পায় না। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেছেন: "তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে ধন-সম্পদ রেখে যায়, তবে ন্যায়সঙ্গতভাবে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ওয়াসিয়ত করা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করা হলো; এটি মুত্তাকীদের উপর একটি আবশ্যিক কর্তব্য।"
7 - এটি সহিহ (صحيح)। আর একজন ব্যক্তির জন্য তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ ওয়াসিয়ত করার সুযোগ রয়েছে, তবে এর বেশি করা জায়েজ নয়; বরং তার চেয়ে কম করা উত্তম। এর সপক্ষে সহিহাইন-এ সাব্যস্ত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি নিম্নরূপ:
আমি বিদায় হজের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তখন আমি এমন কঠোর রোগে আক্রান্ত হলাম যে আমার মৃত্যুর উপক্রম হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে এলেন। আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আমার অনেক সম্পদ রয়েছে এবং আমার এক কন্যা ছাড়া আর কোনো উত্তরাধিকারী নেই। এমতাবস্থায় আমি কি আমার সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ ওয়াসিয়ত করতে পারি?" তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: "অর্ধেক সম্পদ?" তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: "তবে কি এক-তৃতীয়াংশ?" তিনি বললেন:
"এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক।" হে সা'দ! তোমার উত্তরাধিকারীদের অভাবী রেখে যাওয়া এবং তারা মানুষের কাছে হাত পেতে বেড়াবে—তার চেয়ে তাদের সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া তোমার জন্য অনেক কল্যাণকর। আর তিনি স্বহস্তে ইশারা করে বললেন, হে সা'দ! আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তুমি যা-ই ব্যয় করো না কেন, তার বিনিময়ে তোমাকে অবশ্যই প্রতিদান দেওয়া হবে; এমনকি সেই লোকমার বিনিময়েও, যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও।
বর্ণনাকারী বলেন: এরপর থেকে এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ওয়াসিয়ত করা জায়েজ বলে গণ্য হয়।
এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি:
আমি পছন্দ করি যে, মানুষ যেন ওয়াসিয়তের ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশ থেকে কমিয়ে এক-চতুর্থাংশে নিয়ে আসে, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "এক-তৃতীয়াংশও অনেক।"
8 - আর এর ওপর দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) মুসলিম ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখতে হবে। যদি এমন কাউকে পাওয়া না যায়, তবে অমুসলিমদের মধ্য থেকে দুজনকে সাক্ষী রাখা যাবে। যদি তাদের সাক্ষ্যের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ দেখা দেয়, তবে তাদের থেকে শপথ গ্রহণ করে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যেমনটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: "হে মুমিনগণ! তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন ওয়াসিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখবে। আর যদি তোমরা সফরে থাকো এবং সেখানে তোমাদের মৃত্যুর মুসিবত উপস্থিত হয়, তবে অন্য (অমুসলিম)দের মধ্য থেকে দুজনকে সাক্ষী মনোনীত করবে। যদি তোমাদের সন্দেহ হয়, তবে তাদের নামাজের পর আটকে রাখবে এবং তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে..."
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ৯)
نَشْتَرِي بِه ثَمَناً وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى وَلا نَكْتُمُ شَهَادَةَ اللَّهِ إِنَّا إِذاً لَمِنَ الْآثِمِينَ فَإِنْ عُثِرَ عَلَى أَنَّهُمَا اسْتَحَقَّا إِثْماً1 فَآخَرَانِ يَقُومَانِ مَقَامَهُمَا مِنَ الَّذِينَ اسْتَحَقَّ عَلَيْهِمُ الْأَوْلَيَانِ فَيُقْسِمَانِ بِاللَّهِ لَشَهَادَتُنَا أَحَقُّ مِنْ شَهَادَتِهِمَا وَمَا اعْتَدَيْنَا إِنَّا إِذاً لَمِنَ الظَّالِمِينَ} . ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يَأْتُوا بِالشَّهَادَةِ عَلَى وَجْهِهَا أَوْ يَخَافُوا أَنْ تُرَدَّ أَيْمَانٌ بَعْدَ أَيْمَانِهِمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاسْمَعُوا وَاللَّهُ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
9 - وأما الوصية للوالدين والأقربين الذين يرثون من الموصي فلا تجوز لأنها منسوخة بآية الميراث وبين ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم أتم البيان في خطبته في حجة الوداع فقال:
"إن الله قد أعطى كل ذي حق حقه فلا وصية لوارث".
10 - ويحرم الإضرار في الوصية كأن يوصي بحرمان بعض الورثة من حقهم من الإرث أو يفضل بعضهم على بعض فيه لقوله تبارك وتعالى: {لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ. . . . مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ نَصِيباً مَفْرُوضاً. . .ثم قال: {مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍّ وَصِيَّةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ} .
ولقوله صلى الله عليه وسلم:
"لا ضرر ولا ضرار من ضار ضاره الله ومن شاق شاقه الله".
11 - والوصية الجائرة باطلة مردودة لقوله صلى الله عليه وسلم: "من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد".
--------------------------------------------
{আমরা এর বিনিময়ে কোনো মূল্য গ্রহণ করব না, যদিও সে নিকটাত্মীয় হয় এবং আমরা আল্লাহর সাক্ষ্য গোপন করব না; করলে আমরা অবশ্যই পাপীদের অন্তর্ভুক্ত হব। অতঃপর যদি প্রকাশ পায় যে, তারা উভয়ে কোনো পাপে লিপ্ত হয়েছে, তবে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ করা হয়েছে তাদের মধ্য থেকে নিকটতম দুইজন তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে: আমাদের সাক্ষ্য অবশ্যই তাদের সাক্ষ্যের চেয়ে অধিকতর সত্য এবং আমরা কোনো সীমালঙ্ঘন করিনি; করলে আমরা অবশ্যই জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হব। এভাবে সাক্ষ্য প্রদান করলে তা যথার্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, অথবা তারা ভয় পাবে যে, তাদের শপথের পর পুনরায় শপথ গ্রহণ করা হবে। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং শ্রবণ কর; আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।}
৯ - আর যে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়গণ মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী হবেন, তাদের অনুকূলে অসিয়ত করা জায়েজ নেই; কারণ তা মিরাসের আয়াত দ্বারা রহিত (منسوخة) হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে তা পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করে বলেছেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করেছেন, সুতরাং কোনো ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারীর অনুকূলে অসিয়ত করা যাবে না।"
১০ - অসিয়তের মাধ্যমে ক্ষতিসাধন করা হারাম, যেমন কোনো ওয়ারিশকে তার প্রাপ্য মিরাস থেকে বঞ্চিত করার জন্য অসিয়ত করা অথবা তাদের কাউকে অন্য কারো ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ আছে... তা অল্প হোক বা বেশি হোক, এক নির্ধারিত অংশ। ...অতঃপর তিনি বলেছেন: {তিনি যে অসিয়ত করে গেছেন তা সম্পন্ন করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর, যেন কারো ক্ষতি না হয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও পরম সহনশীল।}
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে:
"কারো ক্ষতি করা যাবে না এবং নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না। যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করে, আল্লাহ তার ক্ষতি সাধন করেন, আর যে ব্যক্তি অন্যের ওপর কঠোরতা করে, আল্লাহ তার ওপর কঠোরতা করেন।"
১১ - অন্যায় অসিয়ত বাতিল (باطلة) এবং তা প্রত্যাখ্যাত (مردودة); যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে এমন কিছু নতুন প্রবর্তন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ১০)
12 - ولما كان الغالب على كثير من الناس في هذا الزمان الابتداع في دينهم ولا سيما فيما يتعلق بالجنائز كان من الواجب أن يوصي المسلم بأن يجهز ويدفن على السنة عملا بقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلائِكَةٌ غِلاظٌ شِدَادٌ لا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} .
ولذلك كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يوصون بذلك والآثار عنهم بما ذكرنا كثيرة تراجع في الأصل منها: عن حذيفة قال:
إذا أنا مت فلا تؤذنوا بي أحدا فإني أخاف أن يكون نعيا وإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى عن النعي.
ولهذا قال النووي رحمه الله تعالى في الأذكار:
ويستحب له استحبابا مؤكدا أن يوصيهم باجتناب ما جرت العادة به من البدع في الجنائز ويؤكد العهد بذلك.
১২ - যেহেতু বর্তমান সময়ে অনেক মানুষের মধ্যে তাদের দ্বীনের ব্যাপারে নবউদ্ভাবন (بدعة) করার প্রবণতা প্রবল হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে জানাজা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে; তাই একজন মুসলিমের ওপর কর্তব্য হলো সে যেন অসিয়ত করে তাকে সুন্নাহ অনুযায়ী প্রস্তুত ও দাফন করা হয়। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে: {হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছেন কঠোর ও শক্তিশালী ফেরেশতাগণ; আল্লাহ তাদের যা নির্দেশ দিয়েছেন তারা সে বিষয়ে তাঁর অবাধ্য হয় না এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তাই পালন করে}।
আর এই কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এ বিষয়ে অসিয়ত করতেন এবং তাঁদের থেকে বর্ণিত এ সংক্রান্ত আসারসমূহ (آثار) অনেক, যা মূল কিতাবে দেখা যেতে পারে। সেগুলোর মধ্যে একটি হলো: হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন:
যখন আমি মারা যাব, তখন কাউকে আমার মৃত্যুর খবর প্রচার করো না; কেননা আমি আশঙ্কা করি যে এটি জাহেলি যুগের মতো উচ্চৈঃস্বরে মৃত্যু সংবাদ প্রচারের (نعي) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। আর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে উচ্চৈঃস্বরে এভাবে মৃত্যু সংবাদ প্রচার (نعي) করতে নিষেধ করতে শুনেছি।
এ কারণেই ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) আল-আজকার গ্রন্থে বলেছেন:
ব্যক্তির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মুস্তাহাব যে, সে যেন তার পরিবারকে জানাজার ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রথাগত নবউদ্ভাবনসমূহ (بدع) বর্জন করার অসিয়ত করে এবং এই অঙ্গীকারকে সুদৃঢ় করে।
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ১১)
تلقين المحتضر.
13 - فإذا حضره الموت فعلى من عنده أمور:
أ - أن يلقنوه الشهادة لقوله صلى الله عليه وسلم:
"لقنوا موتاكم لا إله إلا الله من كان آخر كلامه لا إله إلا الله عند الموت دخل الجنة يوما من الدهر وإن أصابه قبل ذلك ما أصابه".
ب ج - أن يدعوا له ولا يقولوا في حضوره إلا خيرا لقوله صلى الله عليه وسلم:
"إذا حضرتم المريض أو الميت فإن الملائكة يؤمنون على ما تقولون".
14 - وليس التلقين ذكر الشهادة بحضرة الميت وتسميعها إياه بل هو أمره بأن يقولها خلافا لما يظن البعض والدليل حديث أنس رضي الله عنه:
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عاد رجلا من الأنصار فقال: يا خال قل: لا إله إلا الله. فقال: أخال أم عم؟ فقال: بل خال فقال: فخير لي أن أقول: لا إله إلا الله؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "نعم".
15 - وأما قراءة سورة يس عنده وتوجيهه نحو القبلة فلم يصح حديث بل كره سعيد بن المسيب توجيهه إليها وقال: أليس الميت امرأ مسلما؟.
وعن زرعة بن عبد الرحمن أنه شهد سعيد بن المسيب في مرضه وعنده أبو سلمة بن عبد الحمن فغشي على سعيد فأمر أبو سلمة أن يحول فراشه إلى الكعبة فأفاق فقال: حولتم فراشي؟ فقالوا: نعم فنظر إلى أبي سلمة فقال: أراه بعلمك؟ فقال: أنا أمرتهم فأمر سعيد أن يعاد فراشه.
মুমূর্ষু ব্যক্তিকে তালকিন (কালিমা পাঠ করানো).
১৩ - যখন কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তার নিকট উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর কিছু করণীয় রয়েছে:
ক - তাকে শাহাদাহ (কালিমা) তালকিন করা। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
"তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর তালকিন করো। মৃত্যুর সময় যার শেষ কথা হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', সে জীবনের কোনো এক সময়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে; যদিও তার পূর্বে তাকে যা ভোগ করার তা ভোগ করতে হয়।"
খ ও গ - তার জন্য দোয়া করা এবং তার উপস্থিতিতে কল্যাণকর কথা ছাড়া অন্য কিছু না বলা। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
"যখন তোমরা কোনো অসুস্থ ব্যক্তি বা মৃত ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হও, তখন তোমরা কেবল ভালো কথাই বলো; কারণ তোমরা যা বলো ফেরেশতারা তাতে আমীন বলেন।"
১৪ - তালকিন কেবল মৃত ব্যক্তির সামনে শাহাদাহ (কালিমা) উচ্চারণ করা বা তাকে শোনানো নয়, বরং তাকে তা বলার নির্দেশ দেওয়া—যদিও অনেকে এর বিপরীত মনে করেন। এর প্রমাণ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত হাদিস:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের একজন ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন এবং বললেন: "হে মামা, বলুন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "আমি কি মামা নাকি চাচা?" রাসুলুল্লাহ বললেন: "বরং মামা।" তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: "আমার জন্য কি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা কল্যাণকর হবে?" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হ্যাঁ।"
১৫ - আর মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট সুরা ইয়াসিন পাঠ করা এবং তাকে কিবলার দিকে মুখ করে রাখা সম্পর্কে কোনো হাদিস সহিহ (صحيح) নয়। বরং সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব রহ. তাকে কিবলার দিকে মুখ করে রাখাকে অপছন্দ করতেন এবং বলতেন: "মৃত ব্যক্তি কি একজন মুসলিম ব্যক্তি নয় (যে তাকে আলাদা করে কিবলার দিকে ফেরাতে হবে)?"
জুরআ ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত যে, তিনি সাঈদ ইবনে মুসাইয়িবের অসুস্থতার সময় তার নিকট উপস্থিত ছিলেন। তখন সেখানে আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমানও ছিলেন। সাঈদ যখন সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেন, তখন আবু সালামা তার বিছানা কাবার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। সাঈদ জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা কি আমার বিছানা ঘুরিয়ে দিয়েছ?" তারা বললেন: "হ্যাঁ।" তখন তিনি আবু সালামার দিকে তাকিয়ে বললেন: "আমি মনে করি তোমার পরামর্শেই এটি হয়েছে?" আবু সালামা বললেন: "হ্যাঁ, আমিই তাদের নির্দেশ দিয়েছি।" তখন সাঈদ রহ. তার বিছানা পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ১২)
16 - ولا بأس في أن يحضر المسلم وفاة الكافر ليعرض الإسلام عليه رجاء أن يسلم لحديث أنس رضي الله عنه قال:
كان غلام يهودي يخدم النبي صلى الله عليه وسلم فمرض فأتاه النبي صلى الله عليه وسلم يعوده فقعد عند رأسه فقال له: أسلم فنظر إلى أبيه وهو عنده؟ فقال له: أطع أبا القاسم فأسلم فخرج النبي صلى الله عليه وسلم وهو يقول:
"الحمد لله الذي أنقذه من النار" فلما مات قال:
"صلوا على صاحبكم".
১৬ - কোনো অমুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুকালে একজন মুসলিমের উপস্থিত হওয়াতে কোনো বাধা নেই, যাতে সে তার নিকট ইসলাম পেশ করতে পারে এই আশায় যে সে হয়তো ইসলাম গ্রহণ করবে। এর প্রমাণ হলো আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন:
একজন ইহুদি কিশোর নবী (সা.)-এর সেবা করত। সে অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী (সা.) তাকে দেখতে গেলেন এবং তার শিয়রে বসলেন। তিনি তাকে বললেন: "তুমি ইসলাম গ্রহণ করো।" তখন সে তার পিতার দিকে তাকাল, যিনি তার নিকটেই ছিলেন। পিতা তাকে বললেন: "আবুল কাসিমের অনুসরণ করো।" ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করল। নবী (সা.) সেখান থেকে এই বলতে বলতে বের হলেন:
"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেছেন।" অতঃপর যখন সে মারা গেল, তখন তিনি বললেন:
"তোমাদের এই সাথীর জানাজার সালাত আদায় করো।"
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ১৩)
3- ما على الحاضرين بعد موته.
17 - فإذا قضى وأسلم الروح فعليهم عدة أشياء:
أب - أن يغمضوا عينيه ويدعوا له أيضا لحديث أم سلمة قالت:
دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم على أبي سلمة وقد شق بصره فأغمضه ثم قال: إن الروح إذا قبض تبعه البصر فضج ناس من أهله فقال: "لا تدعوا على أنفسكم إلا بخير فإن الملائكة يؤمنون على ما تقولون". ثم قال:
"اللهم اغفر لأبي سلمة وارفع درجته في المهديين واخلفه في عقبه في الغابرين واغفر لنا وله يا رب العالمين وأفسح له في قبره ونور له فيه".
ج - أن يغطوه بثوب يستر جميع بدنه لحديث عائشة رضي الله عنها: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حين توفي سجي ببردة حبرة.
د - وهذا في غير من مات محرما فإن المحرم لا يغطى رأسه ووجه لحديث ابن عباس قال:
بينما رجل واقف بعرفة إذ وقع عن راحلته فوقصته أو قال: فأقعصته فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "اغسلوه بماء وسدر وكفنوه في ثوبين" وفي رواية: "في ثوبيه اللذين أحرم فيهما". . . ولا تحنطوه وفي رواية: "لا تطيبوه ولا تخمروا رأسه ولا وجهه فإنه يبعث يوم القيامة ملبيا".
هـ - أن يعجلوا بتجهيزه وإخراجه إذا بان موته لحديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعا:
أسرعوا بالجنازة. . الحديث وسيأتي بتمامه في المسألة 50.
و أن يدفنوه في البلد الذي مات فيه ولا ينقلوه إلى غيره لأنه ينافي الإسراع المأمور به في حديث أبي هريرة المتقدم.
৩- মৃত্যুর পর উপস্থিত ব্যক্তিদের যা করণীয়।
১৭ - যখন কারো মৃত্যু ঘটে এবং আত্মা বের হয়ে যায়, তখন উপস্থিতদের ওপর কয়েকটি বিষয় পালন করা আবশ্যক হয়:
ক-খ - তার চোখ দুটি বন্ধ করে দেওয়া এবং তার জন্য দোয়া করা। কারণ উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু সালামাহ-এর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তার দৃষ্টি স্থির হয়ে ছিল। তিনি চোখ দুটি বন্ধ করে দিলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই যখন রুহ কবজ করা হয়, তখন দৃষ্টি তার অনুসরণ করে।" এতে তার পরিবারের কিছু লোক চিৎকার করে কেঁদে উঠল। তখন তিনি বললেন: "তোমরা নিজেদের জন্য কেবল কল্যাণের দোয়াই করো; কারণ তোমরা যা বলো, ফেরেশতারা তার ওপর আমীন বলেন।" অতঃপর তিনি বললেন:
"হে আল্লাহ! আপনি আবু সালামাহকে ক্ষমা করুন, হিদায়াতপ্রাপ্তদের মাঝে তার মর্যাদা উন্নীত করুন, তার পরবর্তী বংশধরদের মাঝে আপনিই তার স্থলাভিষিক্ত ও অভিভাবক হোন। হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক! আমাদের এবং তাকে ক্ষমা করুন, তার কবরকে প্রশস্ত করে দিন এবং তাতে নূর দান করুন।"
গ - পুরো শরীর ঢেকে যায় এমন একটি কাপড় দিয়ে তাকে আচ্ছাদিত করা। এর কারণ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তাকে একটি কারুকার্যখচিত ইয়ামেনি চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।
ঘ - আর এটি ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় যে ইহরাম অবস্থায় মারা গেছে। কেননা ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তির মাথা ও মুখ ঢাকা যাবে না। ইবনে আব্বাস (রা.) এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেন:
এক ব্যক্তি আরাফাতে অবস্থান করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তার সওয়ারি থেকে পড়ে গেলেন এবং সওয়ারিটি তার ঘাড় মটকে দিল (অথবা তিনি বলেছিলেন, তাকে পিষ্ট করে ফেলল)। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমরা তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করাও এবং তাকে দুই কাপড়ে কাফন দাও।" অন্য বর্ণনায় এসেছে: "তার ওই দুই কাপড়েই কাফন দাও যাতে সে ইহরাম অবস্থায় ছিল... এবং তাকে সুগন্ধি লাগাবে না।" অন্য বর্ণনায় এসেছে: "তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা ও মুখমণ্ডল ঢাকবে না, কেননা সে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।"
ঙ - মৃত্যু নিশ্চিত হলে তাকে দাফনের জন্য প্রস্তুত করা এবং জানাজা নিয়ে দ্রুত বের হওয়ার ব্যবস্থা করা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হাদিস অনুসারে:
"তোমরা জানাজা নিয়ে দ্রুত চলো..." হাদিসটি পূর্ণাঙ্গভাবে ৫০ নং মাসআলায় আসবে।
চ - যে শহরে তিনি মারা গেছেন সেখানেই তাকে দাফন করা এবং অন্য শহরে তাকে স্থানান্তর না করা। কেননা এটি আবু হুরায়রা (রা.) এর পূর্বোক্ত হাদিসে দেওয়া দ্রুত দাফন করার নির্দেশের পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولذلك قالت عائشة لما مات أخ لها بوادي الحبشة فحمل من مكانه:
ما أجد في نفسي أو يحزنني في نفسي إلا أني وددت أنه كان دفن في مكانه
قال النووي في الأذكار:
وإذا أوصى بأن ينقل إلى بلد آخر لا تنفذ وصيته فإن النقل حرام على المذهب الصحيح المختار الذي قاله الأكثرون وصرح به المحققون.
ز - أن يبادر بعضهم لقضاء دينه من ماله ولو أتى عليه كله فإن لم يكن له مال فعلى الدولة أن تؤدي عنه إن كان جهد في قضائه فإن لم تفعل وتطوع بذلك بعضهم جاز وفي ذلك أحاديث تراها في الأصل.
এজন্যই আয়েশা (রা.) বলেছিলেন, যখন হাবশার উপত্যকায় তাঁর এক ভাই মারা গেলেন এবং তাঁকে তাঁর স্থান থেকে (অন্যত্র) সরিয়ে নিয়ে আসা হলো:
আমি মনে কোনো কষ্ট অনুভব করি না অথবা আমাকে কোনো কিছু ব্যথিত করে না, কেবল এ বিষয়টি ছাড়া যে—আমি কামনা করেছিলাম যদি তাঁকে তাঁর মৃত্যুর স্থানেই দাফন করা হতো।
ইমাম নববী 'আল-আযকার' গ্রন্থে বলেছেন:
আর যদি কেউ মৃতদেহ অন্য শহরে স্থানান্তরের ওসিয়ত করে, তবে তাঁর ওসিয়ত কার্যকর করা হবে না। কারণ বিশুদ্ধ (صحيح) ও মনোনীত (مختار) মাযহাব অনুযায়ী মৃতদেহ স্থানান্তর করা হারাম (حرام); যা অধিকাংশ আলিম বলেছেন এবং গবেষকগণ (محققون) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
য — তাদের (নিকটাত্মীয়দের) কেউ যেন মৃতের সম্পদ থেকে তাঁর ঋণ পরিশোধে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে, যদিও এতে তাঁর সমস্ত সম্পদ শেষ হয়ে যায়। যদি তাঁর কোনো সম্পদ না থাকে, তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাঁর পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করা, যদি তিনি (বেঁচে থাকতে) তা পরিশোধের চেষ্টা করে থাকেন। আর রাষ্ট্র যদি তা না করে এবং অন্য কেউ স্বেচ্ছায় তা আদায় করে দেয়, তবে তা জায়েজ (جائز) হবে। এ বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস রয়েছে যা আপনি মূল গ্রন্থে দেখতে পাবেন।
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ১৫)
4-
ما يجوز للحاضرين وغيرهم.
18 - ويجوز لهم كشف وجه الميت وتقبيله بين عينيه لتقبيل أبي بكر النبي صلى الله عليه وسلم بعد موته والبكاء عليه ثلاثة أيام لحديث صحيح عائشة رضي الله عنها قالت:
أقبل أبو بكر رضي الله عنه على فرسه من مسكنه ب السنح حتى نزل فدخل على المسجد وعمر يكلم الناس فلم يكلم الناس حتى دخل على عائشة رضي الله عنها فتيمم النبي صلى الله عليه وسلم وهو مسجى ببردة حبرة فكشف عن وجهه ثم أكب عليه فقبله بين عينيه ثم بكى فقال: بأبي أنت وأمي يا نبي الله لا يجمع الله عليك موتتين أما الموتة التي عليك فقد متها وفي رواية: لقد مت الموتة التي لا تموت بعدها.
وحديث عبد الله بن جعفر رضي الله عنه:
أن النبي صلى الله عليه وسلم أمهل آل جعفر ثلاثا أن يأتيهم ثم أتاهم فقال:
"لا تبكوا على أخي بعد اليوم". . الحديث.
وسيأتي لفظه في التعزية إن شاء الله تعالى
صحيح وحديث أنس رضي الله عنه قال:
دخلنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم على أبي سيف - وكان ظئرا1لإبراهيم عليه السلام فأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم إبراهيم فقبله وشمه.
ثم دخلنا عليه بعد ذلك وإبراهيم يجود بنفسه فجعت عينا رسول الله صلى الله عليه وسلم تذرفان فقال له عبد الرحمن بن عوف: وأنت يا رسول الله؟ فقال: "يا ابن عوف؟ إنها رحمة".
ثم أتبعها بأخرى فقال:
"إن العين لتدمع والقلب يحزن ولا نقول إلا ما نرضي ربنا وإنا بفراقك يا إبراهيم لمحزونون".
--------------------------------------------
4-
৪- উপস্থিত ব্যক্তি ও অন্যদের জন্য যা বৈধ।18 - মৃত ব্যক্তির চেহারা উন্মোচন করা এবং তাঁর দুই চোখের মাঝে চুম্বন করা তাদের জন্য বৈধ। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর আবূ বকর (রা.) তাঁকে চুম্বন করেছিলেন। আর তাঁর ওপর তিন দিন পর্যন্ত ক্রন্দন করাও বৈধ, আয়েশা (রা.) বর্ণিত সহীহ (صحيح) হাদিসের কারণে, তিনি বলেন:
আবূ বকর (রা.) 'সুন্হ' নামক স্থানে তাঁর বাসগৃহ থেকে ঘোড়ায় চড়ে আসলেন এবং অবতরণ করে মসজিদে প্রবেশ করলেন। তখন ওমর (রা.) লোকদের সাথে কথা বলছিলেন। তিনি কারো সাথে কথা না বলে আয়েশা (রা.)-এর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলেন। তখন তাঁকে একটি 'হিবরা' নামক ইয়ামানি নকশা করা চাদর দিয়ে আবৃত করে রাখা হয়েছিল। তিনি তাঁর চেহারা মুবারক উন্মোচন করলেন এবং তাঁর ওপর ঝুঁকে পড়ে তাঁর দুই চোখের মাঝে চুম্বন করলেন। অতঃপর তিনি কেঁদে উঠলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহর নবী! আপনার ওপর আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোন। আল্লাহ আপনার ওপর দুটি মৃত্যু একত্র করবেন না। আপনার জন্য নির্ধারিত যে মৃত্যু ছিল, তা তো আপনি গ্রহণ করেছেন।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "নিশ্চয়ই আপনি সেই মৃত্যু বরণ করেছেন যার পর আর কোনো মৃত্যু নেই।"
আবদুল্লাহ বিন জাফর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফর (রা.)-এর পরিবারের নিকট আসার জন্য তিন দিন সময় দিলেন, এরপর তিনি তাদের নিকট এসে বললেন:
"আজকের পর থেকে তোমরা আমার ভাইয়ের জন্য আর কেঁদো না।"... হাদিস।
ইনশাআল্লাহ সান্ত্বনা প্রদান অধ্যায়ে এর পূর্ণ পাঠ সামনে আসবে।
সহীহ (صحيح) এবং আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন:
আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আবূ সাইফ-এর নিকট প্রবেশ করলাম—তিনি ছিলেন ইবরাহীম (আ.)-এর ধাত্রীর স্বামী—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবরাহীমকে কোলে নিলেন, তাকে চুম্বন করলেন এবং তার ঘ্রাণ নিলেন।
এরপর আমরা পুনরায় তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন ইবরাহীম মুমূর্ষু অবস্থায় ছটফট করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই চোখ দিয়ে অশ্রু বিসর্জন হতে লাগল। আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) তাঁকে বললেন: আপনিও কি কাঁদছেন, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: "হে ইবনে আউফ! এটি তো দয়া।"
অতঃপর তিনি আরও বললেন:
"নিশ্চয়ই চোখ অশ্রু বিসর্জন দেয় এবং অন্তর ব্যথিত হয়, তবে আমরা তা-ই বলি যাতে আমাদের রব সন্তুষ্ট হন। হে ইবরাহীম! আমরা তোমার বিচ্ছেদে অবশ্যই শোকাহত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ১৬)
5-
ما يجب على أقارب الميت.
19 - ويجب على أقارب الميت حين يبلغهم خبر وفاته أمران:
الأول: الصبر والرضا بالقدر لقوله تعالى: {وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ} .
ولحديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال:
مر رسول الله صلى الله عليه وسلم بامرأة عند قبر وهي تبكي فقال لها:
"اتقي الله واصبري".
فقالت: إليك عني فإنك لم تصب بمصيبتي قال: ولم تعرفه فقيل لها: هو رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخذها مثل الموت فأتت باب رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم تجد عنده بوابين فقالت: يا رسول الله إني لم أعرفك. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن الصبر عند أول الصدمة".
والصبر على وفاة الأولاد له أجر عظيم وقد جاء في ذلك أحاديث كثيرة أذكر بعضها:
أولا: ما من مسلمين يموت لهما ثلاثة من الولد لم يبلغوا الحنث إلا أدخلهم الله وأبويهم الجنة بفضل رحمته قال: ويكونون على باب من أبواب الجنة فيقال لهم: ادخلوا الجنة فيقولون: حتى يجيء أبوانا فيقال لهم: ادخلوا الجنة أنتم وأبواكم بفضل رحمة الله.
ثانيا: أيما امرأة مات لها ثلاثة من الولد كانوا حجابا من النار. قالت: امرأة: واثنان؟ قال: واثنان.
5-
মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনদের ওপর যা করণীয়.
19 - মৃত ব্যক্তির মৃত্যুসংবাদ যখন আত্মীয়-স্বজনদের নিকট পৌঁছায়, তখন তাদের ওপর দুটি বিষয় আবশ্যক হয়:
প্রথমত: ধৈর্য ধারণ করা এবং তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকা। মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব; আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের। যারা তাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে বলে, ‘নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্যই এবং নিশ্চয় আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।’ এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের রবের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হয় এবং এরাই সুপথগামী।}
এবং আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি কবরের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় এক নারীকে ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে বললেন:
"আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো।"
সে বলল: "আমার নিকট থেকে দূরে সরে যান, কারণ আমার ওপর যে বিপদ আপতিত হয়েছে তা আপনার ওপর হয়নি।" বর্ণনাকারী বলেন: সে তাঁকে চিনতে পারেনি। অতঃপর তাকে যখন বলা হলো যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.), তখন সে প্রচণ্ড লজ্জিত ও বিচলিত হয়ে পড়ল (যেন তার ওপর মৃত্যুসম পরিস্থিতি নেমে এল)। এরপর সে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দ্বারে উপস্থিত হলো এবং সেখানে কোনো দ্বাররক্ষী দেখতে পেল না। সে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে চিনতে পারিনি।" রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "প্রকৃত ধৈর্য তো বিপদের প্রথম আঘাতেই।"
সন্তান বিয়োগে ধৈর্য ধারণের বড় প্রতিদান রয়েছে। এ বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, আমি তার কয়েকটি উল্লেখ করছি:
প্রথমত: এমন কোনো মুসলিম দম্পতি নেই যাদের তিনটি অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান মারা যায়, তবে আল্লাহ তাঁর বিশেষ রহমতে তাদের এবং তাদের পিতামাতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। বর্ণনাকারী বলেন: তারা জান্নাতের একটি দরজায় অবস্থান করবে এবং তাদের বলা হবে: তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো। তারা বলবে: যতক্ষণ না আমাদের পিতামাতা আসবে। তখন তাদের বলা হবে: তোমরা এবং তোমাদের পিতামাতা আল্লাহর রহমতের বরকতে জান্নাতে প্রবেশ করো।
দ্বিতীয়ত: যে কোনো মহিলার তিনটি সন্তান মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে প্রতিবন্ধক হবে। এক মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন: আর যদি দু’জন হয়? তিনি বললেন: দু’জন হলেও।
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الثاني: الاسترجاع وهو أن يقولك إنا لله وإنا راجعون للآية المتقدمة ويزيد عليه قوله:
اللهم أجرني في مصيبتي واخلف لي خيرا منها لحديث أم سلمة في صحيح مسلم وغيره.
20 - ولا ينافي الصبر أن تمتنع المرأة من الزينة كلها حدادا على وفاة ولدها أو غيره إذا لم تزد على ثلاثة أيام إلا على زوجها فتحد أربعة أشهر وعشرا لحديث زينب بنت أبي سلمة قالت: دخلت على أم حبيبة زوج النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لا يحل لامرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تحد على ميت فوق ثلاث إلا على زوج أربعة أشهر وعشرا".
ثم دخلت على زينب بنت جحش حين توفي أخوها فدعت بطيب فمست ثم قالت: ما لي بالطيب من حاجة غير أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:. . . . فذكرت الحديث.
21 - ولكنها إذا لم تحد على غير زوجها إرضاء للزوج وقضاء لوطره منها فهو أفضل لها ويرجى لهما من وراء ذلك خير كثير كما وقع لأم سليم وزوجها أبي طلحة الأنصاري رضي الله عنهما وقصتهما في ذلك طويلة ولولا ذلك لسقتها هنا فلتراجع في الأصل.
দ্বিতীয়: ইস্তিরজা (استرجاع), আর তা হলো ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলা, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত আয়াতে রয়েছে। এর সাথে সে আরও বৃদ্ধি করে বলবে:
‘হে আল্লাহ, আমার এই বিপদে আমাকে সওয়াব দান করুন এবং এর চেয়ে উত্তম প্রতিদান আমাকে দান করুন’। এটি সহিহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত উম্মে সালামাহ (রা.)-এর হাদিস অনুযায়ী।
20 - আর ধৈর্যধারণ করার পরিপন্থী নয় যে, একজন নারী তার সন্তানের বা অন্য কারো মৃত্যুতে শোক পালনার্থে (حدادا) যাবতীয় সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকবে, যদি তা তিন দিনের বেশি না হয়। তবে স্বামীর ক্ষেত্রে শোক পালনের সময়সীমা হলো চার মাস দশ দিন। এটি জয়নাব বিনতে আবি সালামাহ (রা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.)-এর স্ত্রী উম্মে হাবিবা (রা.)-এর নিকট গেলাম। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে এমন কোনো নারীর জন্য বৈধ নয় যে, সে কোনো মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন (تحد) করবে, তবে স্বামীর ক্ষেত্রে তা হবে চার মাস দশ দিন।"
অতঃপর আমি জয়নাব বিনতে জাহাশ (রা.)-এর নিকট গেলাম যখন তার ভাই ইন্তেকাল করেন। তিনি সুগন্ধি চাইলেন এবং তা ব্যবহার করলেন। এরপর বললেন: আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই, তবে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি...। অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন।
21 - কিন্তু নারী যদি তার স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য এবং তার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শোক পালন (تحد) না করে, তবে তা তার জন্য উত্তম। এর মাধ্যমে তাদের উভয়ের জন্য প্রভূত কল্যাণের আশা করা যায়, যেমনটি ঘটেছিল উম্মে সুলাইম এবং তার স্বামী আবু তালহা আনসারী (রা.)-এর ক্ষেত্রে। এ বিষয়ে তাদের কাহিনী অনেক দীর্ঘ; তা না হলে আমি এখানে তা বর্ণনা করতাম। সুতরাং মূল গ্রন্থে তা দেখে নেওয়া উচিত।
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ১৮)
6-
ما يحرم على أقارب الميت.
22 - لقد حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم أمورا كان ولا يزال بعض الناس يرتكبونها إذا مات لهم ميت فيجب معرفتها لاجتنابها فلا بد من بيانها:
أ - النياحة1 وفيها أحاديث كثيرة تراها في الأصل منها قوله صلى الله عليه وسلم: "اثنتان في الناس هما بهم كفر: الطعن في النسب والنياحة على الميت"
ب - ج - ضرب الخدود وشق الجيوب لقوله صلى الله عليه وسلم:
"ليس منا من لطم الخدود وشق الجيوب ودعى بدعوى الجاهلية".
د - حلق الشعر لحديث أبي بردة بن أبي موسى قال:
صحيح وجع أبو موسى وجعا فغشي عليه ورأسه في حجر امرأة من أهله فصاحت امرأة من أهله فلم يستطع أن يرد عليها شيئا فلما أفاق قال: أنا بريء ممن بريء منه رسول الله صلى الله عليه وسلم فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم بريء من الصالقة2 والحالقة والشاقة.
هـ - نشر الشعر لحديث امرأة من المبايعات قالت:
كان فيما أخذ علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم في المعروف الذي أخذ علينا أن لا نعصيه فيه وأن لا نخمش وجها ولا ندعو ويلا ولا نشق جيبا وأن لا ننشر شعرا.
و إعفاء بعض الرجال لحاهم أياما قليلة حزنا على ميتهم فإذا مضت عادوا إلى حلقها فهذا الإعفاء في معنى نشر الشعر كما هو ظاهر يضاف إلى ذلك أنه بدعة وقد قال صلى الله عليه وسلم: "كل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار".
--------------------------------------------
6-
মৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়দের জন্য যা হারাম.
22 - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কিছু বিষয় হারাম করেছেন যা অতীতে মানুষ করত এবং এখনও তাদের কেউ মারা গেলে কেউ কেউ তা করে থাকে। সুতরাং তা পরিহার করার জন্য এগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক, তাই এগুলোর বর্ণনা প্রদান করা জরুরি:
ক - বিলাপ করা (النياحة)১। এ বিষয়ে অনেক হাদিস রয়েছে যা আপনি মূল গ্রন্থে পাবেন, তন্মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী হলো: "মানুষের মাঝে বিদ্যমান দুটি বিষয় তাদের জন্য কুফরি স্বরূপ: বংশ মর্যাদায় কলঙ্ক লেপন করা এবং মৃত ব্যক্তির ওপর বিলাপ করা (النياحة)।"
খ - গ - গালে চপেটাঘাত করা এবং জামার কলার ছিঁড়ে ফেলা; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে:
"সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে গালে চপেটাঘাত করে, জামার কলার ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহেলিয়াতের ন্যায় চিৎকার দেয়।"
ঘ - চুল মুণ্ডন করা; আবু বুরদাহ বিন আবু মুসা-এর হাদিসের কারণে, তিনি বলেন:
সঠিক/বিশুদ্ধ (صحيح): আবু মুসা ব্যথায় কাতর হয়ে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললেন, তখন তাঁর মাথা তাঁর পরিবারের এক মহিলার কোলে ছিল। এমতাবস্থায় পরিবারের এক মহিলা উচ্চৈঃস্বরে কাঁদতে শুরু করলে তিনি তাঁকে কোনো উত্তর দিতে পারলেন না। অতঃপর যখন তিনি সংজ্ঞা ফিরে পেলেন, তখন বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন, আমিও তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করছি। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিপদের সময় উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দনকারিণী (الصالقة), মুণ্ডনকারিণী (الحالقة) এবং কাপড় ছিঁড়কারিণী (الشاقة) থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।
ঙ - চুল আলুথালু বা এলোমেলো করে রাখা; বায়আত গ্রহণকারী এক মহিলার হাদিসের কারণে, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট হতে মারুফ বা সৎকাজের যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন তার অন্তর্ভুক্ত ছিল এই যে, আমরা যেন তাঁর অবাধ্য না হই এবং আমরা যেন মুখে আঁচড় না দিই, ধ্বংসের আহ্বান না করি, জামার কলার না ছিঁড়ি এবং চুল আলুথালু করে না রাখি।
চ - কিছু পুরুষের তাদের মৃত ব্যক্তির শোকে কয়েক দিনের জন্য দাড়ি রাখা, অতঃপর শোকের সময় পার হয়ে গেলে পুনরায় তা মুণ্ডন করা। এই দাড়ি রাখা মূলত চুল আলুথালু করে রাখারই নামান্তর যেমনটি প্রতীয়মান হয়। এর সাথে আরও যুক্ত হবে যে এটি একটি নব-আবিষ্কৃত প্রথা (بدعة)। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক নব-আবিষ্কৃত প্রথা (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة) এবং প্রত্যেক পথভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামে যাবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ১৯)
علما بأن التزين بحلقها كما يفعل الأكثرون معصية ظاهرة باتفاق الأئمة الأربعة وغيرهم لمخالفتها لأنواع من الأدلة الشرعية كما تراها مبينة في آداب الزفاف ص 118 – 123.
ز - الإعلان عن موته على رؤوس المنائر ونحوها لأنه من النعي وقد ثبت عن حذيفة بن اليمان أنه: كان إذا مات له الميت قال: لا تؤذنوا به أحدا إني أخاف أن يكون نعيا إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى عن النعي.
উল্লেখ্য যে, অধিকাংশ লোক যেভাবে দাড়ি মুণ্ডনের মাধ্যমে সৌন্দর্য চর্চা করে, চার ইমাম এবং অন্যদের ঐকমত্য (إتفاق) অনুযায়ী তা একটি প্রকাশ্য পাপাচার; কেননা এটি বিভিন্ন প্রকার শারয়ি দলিলের পরিপন্থী, যা আপনি আদাবুজ জিফাফ এর ১১৮-১২৩ পৃষ্ঠায় বিস্তারিত বর্ণিত দেখতে পাবেন।
জ - মিনারের চূড়া বা এই জাতীয় জায়গায় কারও মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা করা; কেননা এটি 'নাঈ' (نعي) এর অন্তর্ভুক্ত। আর হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে এটি প্রমাণিত (ثابت) যে, যখন তাঁর কেউ মারা যেতেন, তিনি বলতেন: "কাউকে এ বিষয়ে খবর দিও না, আমি আশঙ্কা করি যে এটি 'নাঈ' (نعي) হয়ে যেতে পারে; কারণ আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে 'নাঈ' (نعي) থেকে নিষেধ করতে শুনেছি।"
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ২০)
7-
النعي الجائز23 - ويجوز إعلان الوفاة إذا لم يقترن به ما يشبه نعي الجاهلية وقد يجب ذلك إذا لم يكن عنده من يقوم بحقه من الغسل والتكفين والصلاة عليه ونحو ذلك لحديث أبي هريرة:
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نعى النجاشي في اليوم الذي مات فيه. . الحديث.
24 - ويستحب للمخبر أن يطلب من الناس أن يستغفروا للميت لقوله صلى الله عليه وسلم في قصة صلاته على النجاشي:
استغفروا لأخيكم. وسيأتي في المسالة 60 / السابع.
قلت: فقول الناس في بعض البلاد: الفاتحة على روح فلان مخالف للسنة المذكورة فهو بدعة بلا شك لا سيما وأن القراءة لا تصل إلى الموتى على القول الصحيح كما سيأتي إن شاء الله تعالى.
৭-
বৈধ মৃত্যু সংবাদ (النعي الجائز)২৩ - মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা করা বৈধ যদি তার সাথে জাহিলিয়াত যুগের শোক সংবাদের (نعي الجاهلية) সদৃশ কোনো কিছু যুক্ত না থাকে। আর কখনো কখনো তা ওয়াজিব হতে পারে যদি মৃত ব্যক্তির নিকট এমন কেউ না থাকে যে তার গোসল, কাফন, জানাযার সালাত এবং অনুরূপ হকসমূহ আদায় করবে; আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষাপটে:
নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.) নাজ্জাশীর মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছিলেন সেই দিনে, যে দিন তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন... (হাদিস)।
২৪ - সংবাদদাতার জন্য মুস্তাহাব হলো মানুষের কাছে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করা। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) নাজ্জাশীর জানাযার সালাতের ঘটনায় বলেছিলেন:
"তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো।" এটি সামনে ৬০ নম্বর মাসআলার সপ্তম পরিচ্ছেদে আসবে।
আমি (লেখক) বলছি: কিছু দেশে মানুষের প্রচলিত এই উক্তি— "অমুকের রূহের জন্য ফাতিহা পাঠ করুন"—এটি উল্লিখিত সুন্নাহর পরিপন্থী। সুতরাং এটি নিঃসন্দেহে একটি বিদআত (بدعة); বিশেষ করে সঠিক (صحيح) মতানুসারে কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছায় না, যা ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত আসবে।
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ২১)
8-
علامات حسن الخاتمة.
25 - ثم إن الشارع الحكيم قد جعل علامات بينات يستدل بها على حسن الخاتمة كتبها الله تعالى لنا بفضله ومنه - فأيما امرئ مات بإحداها كانت بشارة له ويا لها من بشارة.
الأول: نطقه بالشهادة عند الموت وفيه أحاديث مذكورة في الأصل منها قوله صلى الله عليه وسلم:
"من كان آخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة".
الثانية: الموت برشح الجبين لحديث بريدة بن الخصيب رضي الله عنه:
صحيح أنه كان بخراسان فعاد أخا له وهو مريض فوجده بالموت وإذا هو بعرق جبينه فقال: الله أكبر سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "موت المؤمن بعرق الجبين".
الثالثة: الحديث بمجموع طرقه حسن أو صحيح الموت ليلة الجمعة أو نهارها لقوله صلى الله عليه وسلم:
"ما من مسلم يموت الجمعة أو ليلة الجمعة إلا وقاه الله فتنة القبر".
الرابعة: الاستشهاد في ساحة القتال قال الله تعالى: {وَلا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتاً بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُون. فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِمْ مِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللَّهَ لا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ} .
وقال صلى الله عليه وسلم:
"للشهيد عند الله ست خصال: يغفر له في أول دفعة من دمه ويرى مقعده من الجنة ويجار من عذاب القبر ويأمن الفزع الأكبر ويحلى حلية الإيمان ويزوج من الحور العين ويشفع في سبعين إنسانا من أقاربه".
8-
উত্তম পরিণতির লক্ষণসমূহ.
25 - অতঃপর প্রজ্ঞাময় বিধানদাতা কিছু সুস্পষ্ট লক্ষণ নির্ধারণ করেছেন, যার মাধ্যমে উত্তম পরিণতির প্রমাণ পাওয়া যায়; যা মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া স্বরূপ আমাদের জন্য লিখে দিয়েছেন। সুতরাং যে কোনো ব্যক্তি এগুলোর কোনো একটি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, তা তার জন্য সুসংবাদ হিসেবে গণ্য হবে, আর তা কতই না চমৎকার সুসংবাদ!
প্রথম: মৃত্যুর সময় কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করা। এ বিষয়ে মূল কিতাবে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীটি অন্যতম:
"যার শেষ কথা হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
দ্বিতীয়: কপালে ঘাম নিয়ে মৃত্যুবরণ করা। বারিদাহ ইবনে আল-হুসাইব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে:
এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস যে, তিনি খুরাসানে ছিলেন এবং তাঁর এক অসুস্থ ভাইকে দেখতে যান। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পেয়ে দেখলেন যে তার কপালে ঘাম ঝরছে। তখন তিনি বললেন: আল্লাহু আকবার! আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "মুমিনের মৃত্যু হয় কপালে ঘাম নিয়ে।"
তৃতীয়: হাদিসটি তার বর্ণনাসূত্রের সমষ্টির বিচারে হাসান (حسن) অথবা সহিহ (صحيح); জুমার রাতে বা দিনে মৃত্যুবরণ করা। যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন:
"যে কোনো মুসলিম জুমার দিনে অথবা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ অবশ্যই তাকে কবরের ফিতনা (পরীক্ষা বা আজাব) থেকে রক্ষা করেন।"
চতুর্থ: রণক্ষেত্রে শাহাদাত বরণ করা। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: {আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের কখনো মৃত মনে করো না। বরং তারা জীবিত; তাদের রবের নিকট তারা রিযিকপ্রাপ্ত হয়। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ থেকে যা তাদের দিয়েছেন, তারা তাতে আনন্দিত। আর তাদের পেছনে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হতে পারেনি, তাদের জন্য তারা সুসংবাদ গ্রহণ করে যে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারা আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের সুসংবাদ গ্রহণ করে এবং (এ বিষয়ে যে) আল্লাহ মুমিনদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।}
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"আল্লাহর নিকট শহীদের জন্য ছয়টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে: তার রক্তের প্রথম ফোঁটা নির্গত হওয়ার সাথে সাথেই তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, জান্নাতে তার অবস্থান তাকে দেখানো হয়, কবরের আজাব থেকে তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়, বড় আতঙ্ক (কিয়ামত) থেকে সে নিরাপদ থাকে, তাকে ঈমানের অলংকারে সজ্জিত করা হয়, বড় চোখবিশিষ্ট হুরদের সাথে তার বিবাহ দেওয়া হয় এবং তার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্য থেকে সত্তর জনের ব্যাপারে তার সুপারিশ কবুল করা হয়।"
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ২২)
الخامسة: الموت غازيا في سبيل الله لقوله صلى الله عليه وسلم:
"ما تعدون الشهيد فيكم؟ قالوا: يا رسول الله من قتل في سبيل الله فهو شهيد قال: إن شهداء أمتي إذا لقليل. قالو: فمن هم يا رسول الله قال: من قتل في سبيل الله فهو شهيد ومن مات في سبيل الله فهو شهيد ومن مات في الطاعون فهو شهيد ومن مات في البطن1 فهو شهيد والغريق شهيد".
السادسة: الموت بالطاعون وفيه أحاديث منها قوله صلى الله عليه وسلم:
"الطاعون شهادة لكل مسلم".
السابعة: الموت بداء البطن لقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث المتقدم:
"ومن مات في البطن فهو شهيد".
الثامنة والتاسعة: الموت بالغرق والهدم لقوله صلى الله عليه وسلم:
"الشهداء خمسة: المطعون والمبطون والغرق2 وصاحب الهدم والشهيد في سبيل الله".
العاشرة: موت المرأة في نفاسها بسبب ولدها لحديث عبادة بن الصامت:
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عاد عبد الله بن رواحة قال: فما تحوز3 له عن فراشه فقال: أتدري من شهداء أمتي؟ قالوا: قتل المسلم شهادة قال:
"إن شهداء أمتي إذا لقليل قتل المسلم شهادة والطاعون شهادة والمرأة يقتلها ولدها جمعاء4 شهادة يجرها ولدها بسرره5 إلى الجنة".
--------------------------------------------
পঞ্চম: আল্লাহর পথে যুদ্ধরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“তোমরা তোমাদের মধ্যে কাকে শহীদ (شهيد) মনে করো?” তারা বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে নিহত হয় সে-ই শহীদ (شهيد)।” তিনি বললেন: “তাহলে তো আমার উম্মতের শহীদদের (شهداء) সংখ্যা অনেক কম হয়ে যাবে।” তারা বললেন: “তাহলে তারা কারা, হে আল্লাহর রাসূল?” তিনি বললেন: “যে আল্লাহর পথে নিহত হয় সে শহীদ (شهيد), যে আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করে সে-ও শহীদ (شهيد), যে প্লেগ রোগে মৃত্যুবরণ করে সে-ও শহীদ (شهيد), যে পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণ করে সে-ও শহীদ (شهيد) এবং পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তিও শহীদ (شهيد)।”
ষষ্ঠ: প্লেগ রোগে মৃত্যুবরণ করা। এ বিষয়ে অনেক হাদিস রয়েছে, যার মধ্যে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী:
“প্লেগ প্রতিটি মুসলিমের জন্য শাহাদাত (شهادة) স্বরূপ।”
সপ্তম: পেটের পীড়ায় মৃত্যু হওয়া। কারণ পূর্বোক্ত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“আর যে পেটের পীড়ায় মারা গেল সে শহীদ (شهيد)।”
অষ্টম ও নবম: পানিতে ডুবে এবং দেয়াল বা কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করা। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“শহীদ (شهداء) পাঁচ প্রকার: প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত, পেটের পীড়ায় মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, চাপা পড়ে মৃত এবং আল্লাহর পথে জিহাদে শহীদ (شهيد) হওয়া ব্যক্তি।”
দশম: সন্তান প্রসবোত্তর অবস্থায় নিজ সন্তানের কারণে কোনো নারীর মৃত্যু হওয়া। উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযি.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযি.)-কে দেখতে গেলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (ইবনে রাওয়াহা) তখন তার বিছানা থেকে সরতে পারছিলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি কি জানো আমার উম্মতের শহীদ (شهداء) কারা?” তারা বললেন: “মুসলিম নিহত হওয়া শাহাদাত (شهادة)।” তিনি বললেন:
“তাহলে তো আমার উম্মতের শহীদদের (شهداء) সংখ্যা অনেক কম হয়ে যাবে। মুসলিমের নিহত হওয়া শাহাদাত (شهادة), প্লেগে মৃত্যু শাহাদাত (شهادة) এবং গর্ভবতী অবস্থায় যে মহিলাকে তার সন্তান মৃত্যু ঘটায় সে শাহাদাত (شهادة) লাভ করে; তার সন্তান তাকে নাড়ির মাধ্যমে জান্নাতের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الحادية عشرة والثانية عشرة: الموت باالحرق وذات الجنب1 وفيه أحاديث أشهرها عن جابر بن عتيك مرفوعا:
الشهداء سبعة سوى القتل في سبيل الله: المطعون شهيد والغرق شهيد وصاحب ذات الجنب شهيد والمبطون شهيد والحرق شهيد والذي يموت تحت الهدم شهيد والمرأة تموت بجمع2 شهيدة.
الثالثة عشرة: الموت بداء السل لقوله صلى الله عليه وسلم:
"القتل في سبيل الله شهادة والنفساء شهادة والحرق3 شهادة والغرق شهادة والسل شهادة والبطن شهادة".
الرابعة عشرة: الموت في سبيل الدفاع عن المال المراد غصبه وفيه أحاديث منها:
"من قتل دون ماله وفي رواية: من أريد ماله بغير حق فقاتل فقتل فهو شهيد".
الخامسة عشرة والسادسة عشر: الموت في سبيل الدفاع عن الدين والنفس لقوله صلى الله عليه وسلم: "من قتل دون ماله فهو شهيد ومن قتل دون أهله فهو شهيد ومن قتل دون دينه فهو شهيد ومن قتل دون دمه فهو شهيد".
--------------------------------------------
একাদশ ও দ্বাদশ: অগ্নিদগ্ধ হয়ে এবং ফুসফুসের পর্দাপ্রদাহ (ذات الجنب) রোগে মৃত্যুবরণ করা। এ বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস রয়েছে, যার মধ্যে জাবির ইবনে আতিক থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিসটি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ:
"আল্লাহর পথে নিহত হওয়া ছাড়াও শহীদ (شهيد) সাত প্রকার: মহামারি বা প্লেগ রোগে (المطعون) মৃত ব্যক্তি শহীদ (شهيد), পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি শহীদ (شهيد), ফুসফুসের পর্দাপ্রদাহ (ذات الجنب) রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ (شهيد), পেটের পীড়ায় (المبطون) মৃত ব্যক্তি শহীদ (شهيد), অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ (شهيد), ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ (شهيد) এবং গর্ভাবস্থায় বা প্রসবকালীন (بجمع) মৃত্যুবরণকারী নারী শহীদ (شهيدة)।"
ত্রয়োদশ: যক্ষ্মা (السل) রোগে মৃত্যু। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"আল্লাহর পথে নিহত হওয়া শাহাদাত (شهادة), প্রসবোত্তর রক্তস্রাবকালীন (النفساء) মৃত্যু শাহাদাত (شهادة), অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু শাহাদাত (شهادة), পানিতে ডুবে মৃত্যু শাহাদাত (شهادة), যক্ষ্মা (السل) রোগে মৃত্যু শাহাদাত (شهادة) এবং পেটের পীড়ায় (البطن) মৃত্যু শাহাদাত (شهادة)।"
চতুর্দশ: জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া থেকে সম্পদ রক্ষার লড়াইয়ে মৃত্যু। এ বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে একটি হলো:
"যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় এবং অন্য বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: যার সম্পদ অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়ার ইচ্ছা করা হয়, অতঃপর সে লড়াই করে নিহত হয়, সে শহীদ (شهيد)।"
পঞ্চদশ ও ষোড়শ: ধর্ম এবং জীবন রক্ষার লড়াইয়ে মৃত্যু। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী অনুযায়ী: "যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ (شهيد), যে তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ (شهيد), যে তার ধর্ম রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ (شهيد) এবং যে নিজের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ (شهيد)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ২৪)
السابعة عشرة: الموت مرابطا في سبيل الله فيه حديثان أحدهما:
رباط يوم وليلة خير من صيام شهر وقيامه وإن مات جرى عليه عمله الذي كان يعمله وأجري عليه رزقه وأمن الفتان.
الثامنة عشرة: الموت على عمل صالح لقوله صلى الله عليه وسلم:
"من قال: لا إله إلا الله ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة ومن صام يوما ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة ومن تصدق بصدقة ابتغاء وجه الله ختم له بها دخل الجنة" 1.
التاسعة عشرة: من قتله الإمام الجائر لأنه قام إليه فنصحه لقوله صلى الله عليه وسلم:
"سيد الشهداء حمزة بن عبد المطلب ورجل قام إلى إمام جائر فأمره ونهاه فقتله".
أخرجه الحاكم وصححه والخطيب2.
--------------------------------------------
সতেরোতম: আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারা দানকারী (مرابطا) অবস্থায় মৃত্যু। এ বিষয়ে দুটি হাদিস রয়েছে, যার একটি হলো:
একদিন ও একরাত সীমান্ত পাহারা দেওয়া এক মাস রোজা রাখা ও রাতে ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়েও উত্তম। আর যদি সে মারা যায়, তবে সে যে আমলটি করছিল তার সওয়াব জারি থাকবে, তার জন্য তার রিজিক জারি থাকবে এবং সে কবরের পরীক্ষা গ্রহণকারী (الفتان) থেকে নিরাপদ থাকবে।
আঠারোতম: নেক আমল রত অবস্থায় মৃত্যু। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলল এবং এর ওপরই তার সমাপ্তি (মৃত্যু) হলো, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন রোজা রাখল এবং এর ওপরই তার সমাপ্তি হলো, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো দান-সদকা করল এবং এর ওপরই তার সমাপ্তি হলো, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে" ১।
উনিশতম: যাকে কোনো অত্যাচারী শাসক হত্যা করে; কারণ সে তার সামনে দাঁড়িয়ে তাকে নসিহত করেছিল। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"শহীদদের সর্দার হলেন হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব এবং ওই ব্যক্তি যে কোনো অত্যাচারী শাসকের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে সৎ কাজের আদেশ দিল এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করল, অতঃপর শাসক তাকে হত্যা করল"।
এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, আর খতিবও এটি বর্ণনা করেছেন ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ২৫)
9-
ثناء الناس على الميت.
26 - والثناء بالخير على الميت من جمع من المسلمين الصادقين أقلهم اثنان من جيرانه العارفين به من ذوي الصلاح والعلم موجب له الجنة وفيه أحاديث:
الأول: عن أنس رضي الله عنه قال:
مر على النبي صلى الله عليه وسلم بجنازة فأثني عليها خيرا وتتابعت الألسن بالخير فقالوا: كان - ما علمنا - يحب الله ورسوله فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم:
"وجبت وجبت وجبت"
ومر بجنازة فأثني عليها شرا وتتابعت الألسن بالشر فقالوا: بئس المرء كان في دين الله فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم:
"وجبت وجبت وجبت" فقال عمر: فدى لك أبي وأمي مر بجنازة فأثني عليها خيرا فقلت: وجبت وجبت وجبت ومر بجنازة فأثني عليها شرا فقلت: وجبت وجبت وجبت؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"من أثنيتم عليه خيرا وجبت له الجنة ومن أثنيتم عليه شرا وجبت له النار" الملائكة شهداء في الله في السماء وأنتم شهداء الله في الأرض أنتم شهداء الله في الأرض أنتم شهداء الله في الأرض وفي رواية: والمؤمنون شهداء الله في الأرض إن لله ملائكة تنطق على ألسنة بني آدم بما في المرء من الخير والشر.
الثاني: عن أبي الأسود الديلي قال:
أتيت المدينة وقد وقع بها مرض وهم يموتون موتا ذريعا فجلست إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه فمرت جنازة فأثني خيرا فقال عمر: وجبت فقلت: ما وجبت يا أمير المؤمنين؟ قال: قلت: كما قال النبي صلى الله عليه وسلم:
"أيما مسلم شهد له أربعة بخير أدخله الله الجنة". قلنا: وثلاثة قال: وثلاثة قلنا: واثنان؟ قال واثنان ثم لم نسأله في الواحد.
9-
মৃত ব্যক্তির জন্য মানুষের প্রশংসা.
26 - সৎ ও সত্যনিষ্ঠ একদল মুসলিমের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির জন্য কল্যাণসূচক প্রশংসা জান্নাত লাভের কারণ হয়। এই দলটিতে ন্যূনতমপক্ষে তার সম্পর্কে অবগত এবং নেককার ও ইলমসম্পন্ন দুইজন প্রতিবেশী থাকতে হবে। এ প্রসঙ্গে বেশ কিছু হাদিস রয়েছে:
প্রথমটি: আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
নবী (সা.)-এর পাশ দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হলো। তখন উপস্থিত লোকেরা সেই মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করল এবং একের পর এক অনেকে তার সম্পর্কে ভালো কথা বলল। তারা বলল: আমাদের জানামতে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসত। তখন আল্লাহর নবী (সা.) বললেন:
"অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল।"
এরপর অন্য একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হলো। তখন লোকেরা সেটির নিন্দা করল এবং একের পর এক অনেকে তার সম্পর্কে মন্দ কথা বলল। তারা বলল: আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে সে খুবই মন্দ লোক ছিল। তখন আল্লাহর নবী (সা.) বললেন:
"অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল।" তখন উমর (রা.) বললেন: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন! একটি জানাজা অতিক্রম করার সময় তার প্রশংসা করা হলো, তখন আপনি বললেন: "অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল।" আবার অন্য একটি জানাজা যাওয়ার সময় তার নিন্দা করা হলো, তখনও আপনি বললেন: "অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল, অবধারিত হয়ে গেল।" তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন:
"তোমরা যার সম্পর্কে ভালো প্রশংসা করেছ, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গেছে। আর যার সম্পর্কে মন্দ বলেছ, তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেছে।" ফেরেশতারা আসমানে আল্লাহর সাক্ষী এবং তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী। অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: এবং মুমিনগণ জমিনে আল্লাহর সাক্ষী। নিশ্চয়ই আল্লাহর কিছু ফেরেশতা রয়েছে যারা মানুষের মধ্যে বিদ্যমান কল্যাণ ও অকল্যাণ আদম সন্তানের জিহ্বা দিয়ে ব্যক্ত করান।
দ্বিতীয়টি: আবু আল-আসওয়াদ আদ-দিলি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আমি মদিনায় আসলাম। তখন সেখানে একটি মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং মানুষ দ্রুত মৃত্যুবরণ করছিল। আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট বসলাম। এমতাবস্থায় একটি জানাজা অতিক্রম করল এবং তার প্রশংসা করা হলো। তখন উমর (রা.) বললেন: অবধারিত হয়ে গেল। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন! কী অবধারিত হয়ে গেল? তিনি বললেন: আমি তা-ই বলেছি যা নবী (সা.) বলেছিলেন:
"যে কোনো মুসলিমের সপক্ষে যদি চারজন ব্যক্তি কল্যাণের সাক্ষ্য দেয়, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।" আমরা বললাম: তিনজনের সাক্ষ্য হলে? তিনি বললেন: তিনজনের ক্ষেত্রেও। আমরা বললাম: দুইজনের সাক্ষ্য হলে? তিনি বললেন: দুইজনের ক্ষেত্রেও। এরপর আমরা একজনের ব্যাপারে আর তাকে জিজ্ঞাসা করিনি।
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الثالث: ما من مسلم يموت فيشهد له أربعة من أهل أبيات جيرانه الأدنيين أنهم لا يعلمون منه إلا خيرا إلا قال الله تبارك وتعالى: قد قبلت قولكم أو قال: بشهادتكم وغفرت له ما لا تعلمون.
واعلم أن مجموع هذه الأحاديث الثلاثة يدل على أن هذه الشهادة لا تختص بالصحابة بل هي أيضا لمن بعدهم من المؤمنين الذين هم على طريقتهم في الإيمان والعلم والصدق وبهذا جزم الحافظ ابن حجر في الفتح فليراجع كلامه من شاء المزيد من البيان.
ثم إن تقييد الشهادة بأربع في الحديث الثالث الظاهر أنه كان قبل حديث عمر الذي قبله ففيه الاكتفاء بشهادة اثنين وهو العمدة.
هذا وأما قول بعض الناس عقب صلاة الجنازة: ما تشهدون فيه؟ اشهدوا له بالخير فيجيبونه بقولهم صالح. أو من أهل الخير ونحو ذلك فليس هو المراد بالحديث قطعا بل هو بدعة قبيحة لأنه لم يكن من عمل السلف ولأن الذين يشهدون بذلك لا يعرفون الميت في الغالب بل قد يشهدون بخلاف ما يعرفون استجابة لرغبة طالب الشهادة بالخير ظنا منهم أن ذلك ينفع الميت وجهلا منهم بأن الشهادة النافعة إنما هي التي توافق الواقع في نفس المشهود له كما يدل على ذلك قوله في الحديث: إن لله ملائكة تنطق على ألسنة بني آدم بما في المرء من الخير والشر
তৃতীয়: কোনো মুসলিম যখন মৃত্যুবরণ করেন এবং তার নিকটতম প্রতিবেশী চার ঘরের অধিবাসী এই মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, তারা তার সম্পর্কে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছু জানেন না, তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: "আমি তোমাদের কথা কবুল করেছি অথবা বলেছেন: তোমাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি এবং তার সম্পর্কে তোমরা যা জানো না তা আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।"
জেনে রাখুন যে, এই তিনটি হাদিসের সমষ্টি নির্দেশ করে যে, এই সাক্ষ্য প্রদান কেবল সাহাবিগণের জন্য নির্দিষ্ট নয়; বরং এটি তাদের পরবর্তী ওই সকল মুমিনদের জন্যও প্রযোজ্য যারা ঈমান, ইলম এবং সততার ক্ষেত্রে তাদের পথ অনুসরণ করেন। হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারি গ্রন্থে এটি সুনিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন; সুতরাং যে ব্যক্তি আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করেন, তিনি যেন তার আলোচনাটি দেখে নেন।
অতঃপর তৃতীয় হাদিসে সাক্ষ্য প্রদানকে চারজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার বিষয়টি দৃশ্যত ওমর (রা.)-এর পূর্ববর্তী হাদিসের আগের ঘটনা। কারণ উক্ত হাদিসে দুজনের সাক্ষ্যকেই যথেষ্ট বলা হয়েছে এবং সেটিই প্রধান ভিত্তি (عمدة)।
এটি গেল এক বিষয়; আর জানাজার নামাজের পর কিছু মানুষের এই উক্তি: "আপনারা এই ব্যক্তির ব্যাপারে কী সাক্ষ্য দেন? তার কল্যাণের পক্ষে সাক্ষ্য দিন"; তখন তারা উত্তরে বলে: "তিনি নেককার (صالح)" অথবা "কল্যাণময় ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত" ইত্যাদি—এটি নিশ্চিতভাবেই হাদিসের উদ্দেশ্য নয়। বরং এটি একটি মন্দ বিদআত (بدعة قبيحة); কারণ এটি পূর্বসূরিদের (سلف) আমল ছিল না এবং যারা এই সাক্ষ্য দিচ্ছে তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিকে চেনেও না। বরং তারা অনেক সময় যা জানে তার বিপরীতে সাক্ষ্য প্রদান করে কেবল আবেদনকারীর অনুরোধ রক্ষা করার জন্য—এই ধারণা থেকে যে এটি মৃত ব্যক্তির উপকারে আসবে। তারা এ বিষয়ে অজ্ঞ যে, কেবল সেই সাক্ষ্যই ফলপ্রসূ যা যার সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে তার প্রকৃত অবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। যেমনটি হাদিসের এই বাণী নির্দেশ করে: "নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু ফেরেশতা রয়েছে যারা বনী আদমের জবানে কোনো ব্যক্তির ভালো ও মন্দ বিষয়ে কথা বলে।"
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الوفاة عند الكسوف؟
27 - وإذا اتفق وفاة أحد مع انكساف الشمس أو القمر فلا يدل ذلك على شيء واعتقاد أنه يدل على عظمة المتوفى إنما هو من خرافات الجاهلية التي أبطلها رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم مات ابنه إبراهيم عليه السلام وانكسفت الشمس فخطب الناس وحمد الله وأثنى عليه ثم قال:
صحيح أما بعد أيها الناس إن أهل الجاهلية كانوا يقولون: إن الشمس والقمر لا يخسفان إلا لموت عظيم وإنهما آيتان من آيات الله لا ينخسفان لموت أحد ولا لحياته ولكن يخوف الله به عباده فإذا رأيتم شيئا من ذلك فافزعوا إلى ذكره ودعائه واستغفاره وإلى الصدقة والعتاقة والصلاة في المساجد حتى تنكشف
গ্রহণের সময় কি মৃত্যু হতে পারে?
২৭ - যদি কারো মৃত্যু সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময়ের সাথে কাকতালীয়ভাবে মিলে যায়, তবে তা বিশেষ কোনো কিছুর ইঙ্গিত দেয় না। এ ধরনের ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব বা মাহাত্ম্যের প্রমাণ রয়েছে বলে বিশ্বাস করা মূলত জাহিলিয়াত আমলের কুসংস্কারের অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পুত্র ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর ইন্তেকালের দিন সূর্যগ্রহণের সময় এ ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাস বাতিল করে দিয়েছিলেন। সেদিন তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপনের পর বলেন:
বিশুদ্ধ (صحيح) অতঃপর হে লোকসকল! জাহিলিয়াত আমলের লোকেরা বলত: ‘কোনো মহান ব্যক্তির মৃত্যু ছাড়া সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না।’ প্রকৃতপক্ষে সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি বিশেষ নিদর্শন; কারো মৃত্যু বা জীবনের কারণে এগুলোর গ্রহণ হয় না। বরং আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। সুতরাং যখন তোমরা এর কোনো কিছু প্রত্যক্ষ করবে, তখন আল্লাহর জিকির, তাঁর কাছে প্রার্থনা, ক্ষমা প্রার্থনা এবং দান-সদকা, দাসমুক্তি ও মসজিদে সালাত আদায়ের দিকে ধাবিত হও, যতক্ষণ না তা অপসারিত হয়।
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ২৮)
10-
غسل الميت28 - فإذا مات الميت وجب على طائفة من الناس أن يبادروا إلى غسله أما المبادرة فقد سبق دليلها في الفصل الثالث المسألة 17 الفقرة هـ وأما وجوب الغسل فلأمره صلى الله عليه وسلم به في غير ما حديث:
الأول: قوله صلى الله عليه وسلم في المحرم الذي وقصته ناقته:
اغسلوه بماء وسدر. . . الحديث. وقد مضى بتمامه في المسألة المشار إليها فقرة د
الثاني: قوله صلى الله عليه وسلم في ابنته زينب رضي الله عنها:
اغسلنها ثلاثا أو خمسا أو سبعا. . . أو أكثر من ذلك. . . الحديث
ويأتي بتمامه في المسألة التالية
29 - ويراعى في غسله الأمور الآتية:
أولا: غسله ثلاثا فأكثر على ما يرى القائمون على غسله.
ثانيا: أن تكون الغسلات وترا.
ثالثا: أن يقرن مع بعضها سدر أو ما يقوم مقامه في التنظيف كالأشنان والصابون.
رابعا: أن يخلط مع آخر غسلة منها شيء من الطيب والكافور أولى.
خامسا: نقض الضفائر وغسلها جيدا.
سادسا: تسريح شعره.
سابعا: جعله ثلاث ضفائر للمرأة وإلقاؤها خلفها.
ثامنا: البدء بميامنه ومواضع الوضوء منه.
تاسعا: أن يتولى غسل الذكر الرجال والأنثى النساء إلا ما استثنى كما يأتي بيانه.
10-
মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো28 - যখন কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, তখন একদল লোকের ওপর তাকে গোসল করানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক (واجب) হয়ে পড়ে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রমাণ তৃতীয় অধ্যায়, ১৭ নং মাসআলাহ, পরিচ্ছেদ ‘হা’-তে ইতিবাহিত হয়েছে। আর গোসল আবশ্যক (واجب) হওয়ার বিষয়টি একাধিক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের কারণে প্রমাণিত:
প্রথম: ঐ মুহরিম ব্যক্তি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, যাকে তার উষ্ট্রী পিষ্ট করে মেরে ফেলেছিল:
তোমরা তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করাও... (হাদিস)। উল্লিখিত মাসআলার ‘দাল’ পরিচ্ছেদে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে অতিবাহিত হয়েছে।
দ্বিতীয়: তাঁর কন্যা জায়নাব রাযিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী:
তোমরা তাকে তিনবার, পাঁচবার অথবা সাতবার... অথবা এর চেয়েও বেশিবার গোসল করাও... (হাদিস)
পরবর্তী মাসআলায় এটি পূর্ণাঙ্গভাবে আসবে।
29 - তাকে গোসল করানোর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে:
প্রথমত: তিনবার অথবা তার চেয়ে বেশিবার গোসল করানো, যেমনটি গোসল প্রদানকারীরা সমীচীন মনে করেন।
দ্বিতীয়ত: গোসলের সংখ্যা যেন বিজোড় (وتر) হয়।
তৃতীয়ত: কোনো কোনোবারের গোসলের সাথে বরই পাতা অথবা পরিষ্কার করার কাজে এর স্থলাভিষিক্ত কোনো কিছু যেমন ক্ষার বা সাবান যুক্ত করা।
চতুর্থত: সর্বশেষ গোসলের সাথে কিছু সুগন্ধি মেশানো, আর কপূর হওয়া উত্তম।
পঞ্চমত: চুলের বেণীগুলো খুলে ফেলা এবং তা ভালোভাবে ধৌত করা।
ষষ্ঠত: তার চুল আঁচড়িয়ে দেওয়া।
সপ্তমত: মহিলার ক্ষেত্রে তিনটি বেণী করা এবং তা তার পেছনের দিকে ফেলে রাখা।
অষ্টমত: তার ডান দিক এবং ওযুর অঙ্গগুলো থেকে শুরু করা।
নবমত: পুরুষকে পুরুষরা এবং নারীকে নারীরা গোসল করাবে, তবে যে সকল ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে সেগুলো ব্যতীত যা সামনে বর্ণিত হবে।
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والدليل على هذه الأمور حديث أم عطية رضي الله عنها قالت:
صحيح دخل علينا النبي صلى الله عليه وسلم ونحن نغسل ابنته زينب فقال:
اغسلنها ثلاثا أو خمسا أو سبعا أو أكثر من ذلك إن رأيتن ذلك. قالت: قلت: وترا؟ قال:
نعم واجعلن في الآخرة كافورا أو شيئا من كافور فإذا فرغتن فآذنني. فلما فرغنا آذناه فألقى إلينا حقوه1 فقال: أشعرنها2 إياه تعني إزاره قالت: ومشطناها ثلاثة قرون وفي رواية نقضنه ثم غسلنه فضفرنا شعرها ثلاثة أثلاث: قرنيها وناصيتها وألقيناها خلفها قالت: وقال لنا: ابدأن بميامنها ومواضع الوضوء منها.
عاشرا: أن يغسل بخرقة أو نحوها تحت ساتر لجسمه بعد تجريده من ثيابه كلها فإنه كذلك كان العمل على عهد النبي صلى الله عليه وسلم كما يفيد حديث عائشة رضي الله عنها:
لما أرادوا غسل النبي صلى الله عليه وسلم قالوا: والله ما ندري أنجرد رسول الله صلى الله عليه وسلم من ثيابه كما نجرد موتانا أم نغسله وعليه ثيابه؟ فلما اختلفوا ألقى الله عليهم النوم حتى ما منهم رجل إلا وذقنه في صدره ثم كلمهم مكلم من ناحية البيت لا يدرون من هو: أن اغسلوا النبي صلى الله عليه وسلم وعليه ثيابه فقاموا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فغسلوه وعليه قميصه يصبون الماء فوق القميص ويدلكونه بالقميص دون أيديهم.
وكانت عائشة تقول: لو استقبلت من أمري ما استدبرت ما غسله إلا نساؤه.
--------------------------------------------
এই বিষয়গুলোর প্রমাণ হলো উম্মে আতিয়্যাহ (রাযিআল্লাহু আনহা)-এর বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন:
সহিহ (صحيح); নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট প্রবেশ করলেন যখন আমরা তাঁর কন্যা যয়নবকে গোসল দিচ্ছিলাম, তখন তিনি বললেন:
তোমরা তাকে তিনবার, পাঁচবার, সাতবার অথবা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে বেশিবার ধৌত করো। তিনি (উম্মে আতিয়্যাহ) বলেন: আমি বললাম: বেজোড় সংখ্যায়? তিনি বললেন:
হ্যাঁ, এবং শেষবারে কর্পূর বা কিছু পরিমাণ কর্পূর ব্যবহার করবে। যখন তোমাদের কাজ শেষ হবে তখন আমাকে জানাবে। যখন আমরা শেষ করলাম, তখন তাঁকে জানালাম। তিনি তাঁর পরিধেয় চাদরটি আমাদের দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেন: এটি তাঁর শরীরের সাথে মিলিয়ে পরিয়ে দাও। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমরা তাঁর চুল আঁচড়ে তিনটি বেণী করে দিলাম। অন্য বর্ণনায় এসেছে: তারা চুলগুলো খুলে ফেলেছিল, তারপর ধুয়েছিল এবং আমরা তাঁর চুলগুলোকে তিনটি ভাগে বিনুনি করে দিলাম: দুই পার্শ্বের চুল এবং কপালের উপরিভাগের চুল; আর সেগুলো তাঁর পিছন দিকে ফেলে দিলাম। তিনি আরও বলেন: তিনি (নবীজি) আমাদের বলেছিলেন: তোমরা তাঁর ডান দিক এবং অজু করার স্থানগুলো থেকে শুরু করো।
দশম: শরীর থেকে সমস্ত কাপড় খোলার পর পর্দা বজায় রেখে কোনো ন্যাকড়া বা অনুরূপ কিছু দিয়ে ধৌত করতে হবে; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে এভাবেই কাজ সম্পন্ন হতো, যা আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বোঝা যায়:
যখন তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গোসল দেওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন তারা বললেন: আল্লাহর কসম! আমরা জানি না যে আমরা কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাপড় খুলে ফেলব যেভাবে আমরা আমাদের মৃতদের কাপড় খুলে থাকি, নাকি কাপড় পরিহিত অবস্থায় তাঁকে গোসল করাব? যখন তারা মতবিরোধ করছিলেন, তখন আল্লাহ তাদের ওপর নিদ্রা ঢেলে দিলেন, এমনকি তাদের প্রত্যেকের চিবুক তাদের বুকের ওপর ঝুলে পড়ল। অতঃপর ঘরের এক কোণ থেকে এক অদৃশ্য বক্তা তাদের উদ্দেশ্যে কথা বললেন, তারা জানতেন না যে তিনি কে: তোমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর কাপড় পরিহিত অবস্থায় গোসল দাও। তখন তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে দাঁড়ালেন এবং তাঁর গায়ের কামিস পরা অবস্থাতেই তাঁকে গোসল দিলেন; তারা কামিসের ওপর দিয়ে পানি ঢালছিলেন এবং সরাসরি হাত স্পর্শ না করে কামিসের মাধ্যমেই মর্দন করছিলেন।
আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) বলতেন: আমি যদি আগে বুঝতে পারতাম যা পরে বুঝতে পেরেছি, তবে তাঁর স্ত্রীগণ ব্যতীত অন্য কেউ তাঁকে গোসল দিত না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ৩০)
حادي عشر: حسن والغرض من ستر جسمه واستعمال الخرقة أن لا يطلع على عورته ولا تمس وعورة الرجل من السرة إلى الركبة على الصحيح: لقوله صلى الله عليه وسلم:
"ما بين السرة والركبة عورة" 1.
صحيح وقوله صلى الله عليه وسلم:
"القخد عورة" 2.
وأما المرأة مع المرأة المسلمة - طبعا - فهي عورة إلا مواطن الزينة منها هي الرأس والأذن والنحر وأعلى الصدر: موضع القلادة والذراع مع شيء من العضد: موضع الدملج والقدم وأسفل الساق: موضع الخلخال وما سوى ذلك فعورة لا يجوز للمرأة - كالمحارم - أن تنظر إلى شيء منها ولا أن تبديه لصريح قوله تعالى:
{وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ} . . الآية3.
ثاني عشر: ويستثنى مما ذكر في رابعا المحرم فإنه لا يجوز تطييبه لقوله في الحديث الذي سبقت الإشارة إليه قريبا:
لا تحنطوه وفي رواية: ولا تطيبوه. . فإنه يبعث يوم القيامة ملبيا.
ثالث عشر: ويستثنى أيضا مما ورد في تاسعا الزوجان فغنه يجوزك لكل منهما أن يتولى غسل الآخر إذ لا دليل يمنع منه والأصل الجواز ولا سيما انه مؤيد بحديثين:
الأول: صحيح قول عائشة رضي الله عنها في حديثها المتقدم:
لو كنت استقبلت من أمري ما استدبرت ما غسل النبي صلى الله عليه وسلم غير نسائه.
--------------------------------------------
একাদশ: উত্তম (حسن) এবং শরীর আবৃত করা ও কাপড়ের টুকরো ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো যাতে তার সতর প্রকাশিত না হয় এবং সতর স্পর্শ করা না হয়। সঠিক (صحيح) মতানুযায়ী পুরুষের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত; কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"নাভি এবং হাঁটুর মধ্যবর্তী অংশ সতর।" ১।
সহিহ (صحيح) এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী:
"ঊরু হলো সতর।" ২।
আর মুসলিম নারীর সাথে অন্য মুসলিম নারীর সতর—স্বভাবতই—সৌন্দর্যের স্থানগুলো ব্যতীত শরীরের বাকি অংশ। আর সৌন্দর্যের স্থানগুলো হলো মাথা, কান, গলা, বুকের উপরিভাগ—যা হার পরার স্থান, হাত ও বাহুর কিছু অংশ—যা বাজুবন্ধ পরার স্থান, এবং পায়ের পাতা ও নলার নিচের অংশ—যা নূপুর পরার স্থান। এ ছাড়া বাকি সব সতর, যা কোনো নারীর জন্য—মাহরামদের মতো—দেখা জায়েজ নেই এবং তা প্রকাশ করাও বৈধ নয়। কেননা মহান আল্লাহর বাণী সুস্পষ্ট:
{তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, কেবল তা ব্যতীত যা সাধারণতঃ প্রকাশ পায়। তারা যেন তাদের ওড়না বক্ষদেশ পর্যন্ত টেনে দেয় এবং তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে কেবল তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, নিজেদের নারী...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। ৩।
দ্বাদশ: চতুর্থ অনুচ্ছেদে যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে মুহরিম (ইহরামকারী) ব্যক্তি ব্যতিক্রম হবে। কেননা তাকে সুগন্ধি লাগানো জায়েজ নেই, যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লিখিত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
"তোমরা তাকে সুগন্ধি (হানুত) মাখিও না।" অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: "তাকে সুগন্ধি দিও না... কেননা তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে।"
ত্রয়োদশ: নবম অনুচ্ছেদে যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে স্বামী-স্ত্রীও ব্যতিক্রম। কেননা তাদের প্রত্যেকের জন্য অন্যজনকে গোসল করানো জায়েজ। যেহেতু এটি নিষিদ্ধ করার মতো কোনো দলিল (دليل) নেই এবং মূলনীতি (أصل) হলো বৈধতা; বিশেষ করে যখন এটি দুটি হাদিস দ্বারা সমর্থিত:
প্রথমটি: সহিহ (صحيح), আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বাণী তাঁর পূর্বে বর্ণিত হাদিসে:
"আমি যদি আমার বিষয়ের সেই দিকটি আগে অনুধাবন করতে পারতাম যা পরে করেছি, তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর স্ত্রীগণ ব্যতীত আর কেউ গোসল দিত না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الثاني: عنها أيضا قالت:
رجع إلي رسول الله صلى الله عليه وسلم من جنازة بالبقيع وأنا أجد صداعا في رأسي وأقول: وارأساه فقال:
بل أنا وارأساه ما ضرك لو مت قبلي فغسلتك وكفنتك ثم صليت عليك ودفنتك.
رابع عشر: أن يتولى غسله من كان أعرف بسنة الغسل لا سيما إذا كان من أهله وأقاربه لأن الذين تولوا غسله صلى الله عليه وسلم كانوا كما ذكرنا فقد قال علي رضي الله عنه:
غسلت رسول الله صلى الله عليه وسلم فجعلت أنظر ما يكون من الميت فلم أر شيئا وكان طيبا حيا وميتا صلى الله عليه وسلم.
30 - ولمن تولى غسله أجر عظيم بشرطين اثنين:
الأول: أن يستر عليه ولا يحدث بما قد يرى من المكروه لقوله صلى الله عليه وسلم:
من غسل مسلما فكتم عليه غفر له الله أربعين مرة ومن حفر له فأجنه أجري عليه كأجر مسكن أسكنه إياه إلى يوم القيامة ومن كفنه كساه الله يوم القيامة من سندس واستبرق الجنة.
الثاني: أن يبتغي بذلك وجه الله لا يريد به جزاء ولا شكورا ولا شيئا من أمور الدنيا لما تقرر في الشرع أن الله تبارك وتعالى لا يقبل من العبادات إلا ما كان خالصا لوجهه الكريم والأدلة على ذلك من الكتاب والسنة كثيرة جدا اجتزئ هنا بذكر اثنين منها:
الأول: قوله تبارك وتعالى:
{قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَداً} . أي: لا يقصد بها غير وجه الله تعالى.
দ্বিতীয়টি: তাঁর (আয়িশাহ রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকী‘ গোরস্থানে একটি জানাজা শেষ করে আমার নিকট ফিরে আসলেন। তখন আমার মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হচ্ছিল এবং আমি বলছিলাম: ‘হায় আমার মাথা!’ তখন তিনি বললেন:
‘বরং আমারই মাথায় ব্যথা! তোমার কী-ই বা ক্ষতি হতো যদি তুমি আমার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে, আর আমি তোমাকে গোসল দিতাম, কাফন পরাতাম, এরপর তোমার জানাজা পড়াতাম এবং তোমাকে দাফন করতাম।’
চতুর্দশ: মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার দায়িত্ব এমন ব্যক্তির পালন করা উচিত যিনি গোসলের সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক অবগত, বিশেষ করে যদি তিনি তাঁর পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনের অন্তর্ভুক্ত হন। কারণ যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গোসল দিয়েছিলেন তারা তেমনই ছিলেন যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:
‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গোসল দিয়েছি। তখন আমি মৃতের দেহে যা প্রকাশ পায় তা দেখার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না। তিনি জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় পবিত্র ও সুগন্ধময় ছিলেন।’
৩০ - আর যে ব্যক্তি মৃতকে গোসল দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে তার জন্য দুটি শর্তে বিশাল সওয়াব রয়েছে:
প্রথম: মৃতের গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং কোনো অপছন্দনীয় কিছু দেখলে তা অন্যের নিকট বর্ণনা না করা। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে গোসল দেবে এবং তার ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ তাকে চল্লিশ বার ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি তার জন্য কবর খনন করবে ও তাকে সেখানে শায়িত করবে, তার আমলনামায় কিয়ামত পর্যন্ত তাকে একটি বাসস্থানে থাকতে দেওয়ার সমপরিমাণ সওয়াব জারি থাকবে। আর যে ব্যক্তি তাকে কাফন পরাবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে জান্নাতের সুক্ষ্ম ও পুরু রেশমী বস্ত্র পরিধান করাবেন।’
দ্বিতীয়: এর মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা; এর বিনিময়ে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা অথবা পার্থিব কোনো স্বার্থ কামনা না করা। কেননা শরিয়তে এটি প্রতিষ্ঠিত যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইবাদতের মধ্যে কেবল তা-ই কবুল করেন যা একমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠভাবে সম্পাদিত হয়। এ বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহর দলিল অনেক। এখানে তার মধ্য থেকে দুটি উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে:
প্রথম: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী:
{বলুন: আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল একজনই। সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।} অর্থাৎ: এর দ্বারা একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য না করা।
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الثاني: قوله صلى الله عليه وسلم:
"إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله ورسوله ومن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها أو امرأة ينكحها فهجرته إلى ما هاجر إليه".
31 - ويستحب لمن غسله أن يغتسل لقوله صلى الله عليه وسلم:
"من غسل ميتا فليغتسل ومن حمله فليتوضأ".
وظاهر الأمر يفيد الوجوب وإنما لم نقل به لحديثين:
الأول: قوله صلى الله عليه وسلم: "ليس عليكم في غسل ميتكم غسل إذا غسلتموه فإن ميتكم ليس بنجس فحسبكم أن تغسلوا أيديكم".
الثاني: قول ابن عمر رضي الله عنه:
كنا نغسل الميت فمنا من يغتسل ومنا من لا يغتسل.
32 - ولا يشرع غسل الشهيد قتيل المعركة ولو اتفق أنه كان جنبا وفي ذلك أحاديث:
الأول: عن جابر قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم:
ادفنوهم في دمائهم يعني يوم أحد ولم يغسلهم. وفي رواية فقال: أنا شهيد على هؤلاء لفوهم في دمائهم فإنه ليس جريح يجرح في الله إلا جاء وجرحه يوم القيامة يدمى لونه لون الدم وريحه ريح المسك وفي رواية: لا تغسلوهم فإن كل جرح يفوح مسكا يوم القيامة ولم يصل عليهم.
الثاني: عن أبي برزه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان في مغزى له فأفاء الله عليه فقال لأصحابه:
هل تفقدون من أحد؟ . قالوا: نعم فلانا وفلانا وفلانا. ثم قال:
هل تفقدون من أحد؟ قالوا: لا. قال: لكني أفقد جليبيبا
দ্বিতীয়টি: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী:
"নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য হবে অথবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।"
31 - যে ব্যক্তি মৃতকে গোসল করাবে, তার জন্য গোসল করা মুস্তাহাব (مستحب)। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
"যে ব্যক্তি মৃতকে গোসল করাবে সে যেন গোসল করে, আর যে তাকে বহন করবে সে যেন ওযু করে।"
নির্দেশের বাহ্যিক রূপটি ওয়াজিব (واجب) হওয়াকে বুঝায়, তবে আমরা দুটি হাদিসের কারণে একে ওয়াজিব বলছি না:
প্রথমটি: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমাদের মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর কারণে তোমাদের ওপর গোসল করা আবশ্যক নয়; কারণ তোমাদের মৃত ব্যক্তি অপবিত্র (نجس) নয়। বরং তোমাদের জন্য তোমাদের হাত ধুয়ে নেওয়াই যথেষ্ট।"
দ্বিতীয়টি: ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর উক্তি:
আমরা মৃত ব্যক্তিকে গোসল করাতাম, তখন আমাদের মধ্যে কেউ গোসল করত আবার কেউ গোসল করত না।
32 - রণক্ষেত্রে নিহত শহীদের (شهيد) গোসল বিধিবদ্ধ (مشروع) নয়, যদিও সে অপবিত্র বা জানাবাত (جنب) অবস্থায় থাকে। এ বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস রয়েছে:
প্রথমটি: জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধের দিন বলেছিলেন:
তাদেরকে তাদের রক্তমাখা অবস্থাতেই দাফন করো। অর্থাৎ তিনি তাদের গোসল করাননি। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে, তিনি বলেছিলেন: আমি এদের জন্য সাক্ষী (شهيد)। তোমরা তাদেরকে রক্তসহ কাপড়ে জড়িয়ে দাও; কেননা আল্লাহর পথে আহত কোনো ব্যক্তি কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে তার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরবে, যার রঙ হবে রক্তের মতো কিন্তু ঘ্রাণ হবে কস্তুরীর মতো। অপর এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: তোমরা তাদের গোসল দিও না, কেননা প্রতিটি ক্ষতস্থান থেকে কিয়ামতের দিন কস্তুরীর ঘ্রাণ বিচ্ছুরিত হবে। আর তিনি তাদের জানাযার সালাত আদায় করেননি।
দ্বিতীয়টি: আবু বারযাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি যুদ্ধে ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিজয় দান করলেন। এরপর তিনি তাঁর সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বললেন:
তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? তারা বললেন: হ্যাঁ, অমুক অমুক এবং অমুককে। এরপর তিনি পুনরায় বললেন:
তোমরা কি আর কাউকে হারিয়েছ? তারা বললেন: না। তিনি বললেন: কিন্তু আমি জুলাইবিবকে পাচ্ছি না।
(খণ্ড: ১)
তালখীসু আহকামিল জানাইয
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فاطلبوه. فطلب في القتلى فوجدوه إلى جنب سبعة قتلهم ثم قتلوه فأتي النبي صلى الله عليه وسلم فوقف عليه فقال:
قتل سبعة ثم قتلوه هذه مني وأنا منه هذا مني وأنا منه قالها مرتين أو ثلاثا ثم قال بذراعيه هكذا فبسطهما قال: فوضعه على ساعديه ليس له سرير إلا ساعدي النبي صلى الله عليه وسلم قال: فحفر له ووضع في قبره. ولم يذكر غسلا.
الثالث: صحيح عن عبد الله بن الزبير في قصة أحد واستشهاد حنظلة بن أبي عامر قال: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"إن صاحبكم تغسله الملائكة فاسألوا صاحبته فقالت: خرج وهو جنب لما سمع الهائعة " 1 فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"لذلك غسلته الملائكة".
--------------------------------------------
"অতএব তোমরা তাকে তালাশ করো।" অতঃপর নিহতদের মধ্যে তাকে খোঁজা হলো এবং তাকে সাতজনের লাশের পাশে পাওয়া গেল, যাদেরকে তিনি হত্যা করেছিলেন এবং এরপর তারা তাকে হত্যা করেছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে তাঁকে আনা হলো এবং তিনি তার লাশের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন:
"সে সাতজনকে হত্যা করেছে, অতঃপর তারা তাকে হত্যা করেছে। সে আমার থেকে এবং আমি তার থেকে; সে আমার থেকে এবং আমি তার থেকে।" তিনি এটি দুই বা তিনবার বললেন। এরপর তিনি তাঁর দুই বাহু এভাবে প্রসারিত করলেন। রাবী বলেন: অতঃপর তিনি তাকে তাঁর দুই বাহুর ওপর রাখলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুই বাহু ছাড়া তার জন্য আর কোনো খাটিয়া ছিল না। রাবী বলেন: অতঃপর তার জন্য কবর খনন করা হলো এবং তাকে কবরে রাখা হলো। তিনি গোসলের কোনো কথা উল্লেখ করেননি।
তৃতীয়: আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ (صحيح), উহুদ যুদ্ধের ঘটনা এবং হানজালা ইবনে আবু আমের (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাত বরণের বর্ণনায় তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:
"তোমাদের সাথীকে ফেরেশতারা গোসল করাচ্ছেন, তোমরা তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করো।" তখন তিনি (স্ত্রী) বললেন: "যুদ্ধের আহ্বান শোনার পর তিনি জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় বেরিয়ে পড়েছিলেন।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:
"এ কারণেই ফেরেশতারা তাকে গোসল করিয়েছে।"
--------------------------------------------