(খণ্ড: ১)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أسد الغابة في معرفة الصحابة - ط العلمية القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: أسد الغابة في معرفة الصحابة
المؤلف: عز الدين ابن الأثير، أبو الحسن، علي بن محمد الجزري (ت 630 هـ)
المحقق: علي محمد معوض - عادل أحمد عبد الموجود
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1415 هـ - 1994 م [ثم أعادوا نشرها مِرارًا بنفس ترقيم الصفحات]
عدد الأجزاء: 7 [ثم طبعوا الفهارس (الثامن) لاحقًا]
[تنبيه]: سقَطَ من الطبعة الثانية وما بعدها الصفحتان 4/ 276 و 277 وهما ثابتتان في الطبعة الأولى
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আসাদুল গাবাহ ফি মা'রিফাতিস সাহাবাহ - ইলমিয়্যাহ সংস্করণ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: আসাদুল গাবাহ ফি মা'রিফাতিস সাহাবাহ
লেখক: ইযযুদ্দিন ইবনুল আসীর، আবুল হাসান، আলী বিন মুহাম্মদ আল-জাযারি (মৃত্যু ৬৩০ হি.)
সম্পাদক/গবেষক: আলী মুহাম্মদ মুআউওয়াদ - আদিল আহমদ আব্দুল মাওজুদ
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৫ হি. - ১৯৯৪ খ্রি. [পরবর্তীতে একই পৃষ্ঠা নম্বর বজায় রেখে বহুবার এটি পুনর্মুদ্রিত হয়েছে]
খণ্ড সংখ্যা: ৭ [পরবর্তীতে সূচিপত্র (অষ্টম খণ্ড) মুদ্রিত হয়েছে]
[সতর্কবার্তা]: দ্বিতীয় সংস্করণ এবং পরবর্তী সংস্করণগুলো থেকে ৪/ ২৭৬ এবং ২৭৭ নং পৃষ্ঠা দুটি বাদ পড়েছে, যা প্রথম সংস্করণে বিদ্যমান রয়েছে
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠٩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلفقال الشيخ الإمام العالم، الحافظ البارع الأوحد، بقية السلف عز الدين أبو الحسن علي بن محمد بن عبد الكريم الجزري، المعروف ب " ابن الأثير " رضي الله عنه: الحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله، والحمد لله المنزه عن أن يكون له نظراء وأشباه، المقدس فلا تقرب الحوادث حماه، الذي اختار الإسلام ديناً، وارتضاه، فأرسل به محمد صلى الله عليه وسلم، واصطفاه، وجعل له أصحاباً فاختار كلاً منهم لصحبته واجتباه، وجعلهم كالنجوم بأيهم اقتدى الإنسان اهتدى إلى الحق واقتفاه، فصلى الله عليه وعلى آله وأصحابه صلاة توجب لهم رضاه، أحمده على نعمه كلها حمداً يقتضي الزيادة من نعمه، ويجزل لنا النصيب من قسمه.
أما بعد، فلا علم أشرف من علم الشريعة فإنه يحصل به شرف الدنيا والآخرة، فمن تحلى به فقد فاز بالصفقة الرابحة، والمنزلة الرفيعة الفاخرة، ومن عري منه فقد حظي بالكرة الخاسرة.
والأصل في هذا العلم كتب الله، عز وجل، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فأما الكتاب العزيز فهو متواتر مجمع عليه غير محتاج إلى ذكر أحوال ناقليه، وأما سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فهي التي تحتاج إلى شرح أحوال رواتها وأخبارهم.
وأول رواتها أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يضبطوا ولا حفظوا في عصرهم كما فعل بمن بعدهم من علماء التابعين وغيرهم إلى زماننا هذا؛ لأنهم كانوا مقبلين على نصرة الدين وجهاد الكافرين إذ كان المهم الأعظم؛ فإن الإسلام كان ضعيفاً وأهله قليلون، فكان أحدهم يشغله جهاده ومجاهدة نفسه في عبادته عن النظر في معيشته والتفرغ لمهم، ولم يكن فيهم أيضاً من يعرف الخط إلا النفر اليسير، ولو حفظوا ذلك الزمان لكانوا أضعاف من ذكره العلماء، ولهذا اختلف العلماء في كثير منهم؛ فمنهم من جعله بعض العلماء من الصحابة، ومنهم من لم يجعله فيهم، ومعرفتهم أمورهم وأحوالهم وأنسابهم وسيرتهم مهم في الدين.
ولا خفاء على من كان له قلب أو ألقى السمع وهو شهيد أن من تبوأ الدار والإيمان من المهاجرين والأنصار السابقين إلى الإسلام والتابعين لهم بإحسان الذين شهدوا الرسول صلى الله عليه وسلم وسمعوا كلامه وشاهدوا أحواله ونقلوا ذلك إلى من بعدهم من الرجال والنساء من الأحرار والعبيد والإماء أولى بالضبط والحفظ، وهم الذين آمنوا ولم يلبسوا إيمانهم بظلم أولئك لهم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকাবিদ্বান ইমাম, অত্যন্ত দক্ষ ও অনন্য হাফেজ, সালাফদের অবশিষ্টাংশ ইজ্জুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম আল-জাজারী, যিনি 'ইবনুল আসীর' নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), তিনি বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন, আর আমরা কখনো পথ পেতাম না যদি আল্লাহ আমাদের পথ না দেখাতেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সমকক্ষ ও সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্র; তিনি অতি পবিত্রময়, কোনো নশ্বর বিষয় তাঁর মহিমা স্পর্শ করতে পারে না। তিনি ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ ও মনোনীত করেছেন, অতঃপর তা দিয়ে মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠিয়েছেন ও তাঁকে নির্বাচিত করেছেন এবং তাঁর জন্য সাহাবীবর্গ দান করেছেন। অতঃপর তাঁদের প্রত্যেককে তাঁর সাহচর্যের জন্য মনোনীত ও নির্বাচিত করেছেন এবং তাঁদের নক্ষত্রতুল্য করেছেন; তাঁদের মধ্যে যাকেই কেউ অনুসরণ করে, সে-ই সত্যের দিশা পায় এবং তা আঁকড়ে ধরে। সুতরাং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর—এমন রহমত যা তাঁদের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অবধারিত করে। আমি তাঁর সকল নিয়ামতের জন্য এমন প্রশংসা করি যা তাঁর নেয়ামত বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে এবং তাঁর পক্ষ থেকে নির্ধারিত অংশে আমাদের জন্য বড় ভাগ্য দান করে।
অতঃপর, শরীয়তের ইলমের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ কোনো ইলম নেই, কেননা এর মাধ্যমেই দুনিয়া ও আখিরাতের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয়। যে ব্যক্তি এর দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করল, সে এক লাভজনক ব্যবসা ও সুউচ্চ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে সফল হলো। আর যে তা থেকে বঞ্চিত হলো, সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো।
এই ইলমের মূল উৎস হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ। আল্লাহর কিতাব তো মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত) এবং এটি সর্বসম্মত, এর বর্ণনাকারীদের অবস্থা আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর ক্ষেত্রে এর বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও সংবাদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।
সুন্নাহর প্রথম বর্ণনাকারী হলেন রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীগণ। তাঁরা তাঁদের যুগে হাদীসসমূহকে সেভাবে সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ বা মুখস্থ করেননি যেভাবে তাঁদের পরবর্তী যুগের তাবেঈ আলেমগণ ও অন্যরা আমাদের এই সময় পর্যন্ত করেছেন। কারণ তাঁরা দ্বীনের বিজয় ও কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদে নিবেদিত ছিলেন, যা ছিল সে সময়ের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তখন ইসলাম ছিল দুর্বল এবং এর অনুসারী ছিল অল্প। ফলে তাঁদের জীবন ধারণের ভাবনা অথবা অন্য কাজের জন্য অবসর বের করার চেয়ে নিজেদের জিহাদ ও ইবাদতের মাধ্যমে নফসের মুজাহাদাই তাঁদের বেশি ব্যস্ত রাখত। এছাড়া তাঁদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া কেউ লিখতে জানত না। তাঁরা যদি সেই সময় তা সংরক্ষণ করতেন, তবে আলেমগণ যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তাঁদের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হতো। এ কারণেই অনেক সাহাবীর ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; আলেমদের কেউ কাউকে সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আবার কেউ করেননি। তাঁদের ঘটনাবলি, অবস্থা, বংশপরিচয় ও জীবনী সম্পর্কে জ্ঞান রাখা দ্বীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
যাঁর হৃদয় আছে অথবা যে অত্যন্ত একাগ্রতার সাথে শ্রবণ করে, তাঁর কাছে এটি গোপন নয় যে, মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা অগ্রবর্তী হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন—যাঁরা রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখেছেন, তাঁর কথা শুনেছেন, তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং পরবর্তী পুরুষ, নারী, স্বাধীন ও দাস-দাসীদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁরাই সুশৃঙ্খলভাবে তা রক্ষা ও মুখস্থ করার বিষয়ে অধিক অগ্রাধিকারের যোগ্য। তাঁরাই সেই সকল ব্যক্তি যাঁরা ঈমান এনেছেন এবং তাঁদের ঈমানকে কোনো জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেননি; তাঁদের জন্যই...
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٠)
الأمن وهم مهتدون بتزكية الله، سبحانه وتعالى لهم وثنائه عليهم، ولأن السنن التي عليها مدار تفصيل الأحكام ومعرفة الحلال والحرام إلى غير ذلك من أمور الدين، إنما ثبتت بعد معرفة رجال أسانيدها ورواتها، وأولهم والمقدر عليهم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ فإذا جهلهم الإنسان كان بغيرهم أشد جهلاً، وأعظم إنكاراً، فينبغي أن يعرفوا بأنسابهم وأحوالهم هم وغيرهم من الرواة، حتى يصح العمل بما رواه الثقات منهم، وتقوم به الحجة؛ فإن المجهول لا تصح روايته، ولا ينبغي العمل بما رواه، والصحابة يشاركون سائر الرواة في جميع ذلك إلا في الجرح والتعديل؛ فإنهم كلهم عدول لا يتطرق إليهم الجرح؛ لأن الله عز وجل ورسوله زكياهم وعدلاهم، وذلك مشهور لا نحتاج لذكره، ويجيء كثير منه في كتابنا هذا، فلا نطول به هنا.
وقد جمع الناس في أسمائهم كتباً كثيرة، ومنهم من ذكر كثيراً من أسمائهم في كتب الأنساب والمغازي وغير ذلك، واختلفت مقاصدهم فيها، إلا أن الذي انتهى إليه جمع أسمائهم الحافظان أبو عبد الله بن منده وأبو نعيم أحمد بن عبد الله الأصفهانيان، والإمام أبو عمر بن عبد البر القرطبي رضي الله عنهم، وأجزل ثوابهم، وحمد سعيهم، وعظم أجرهم وأكرم مآبهم - فلقد أحسنوا فيما جمعوا، وبذلوا جهدهم وأبقوا بعدهم ذكراً جميلاً؛ فالله تعالى يثيبهم أجراً جزيلاً؛ فإنهم جمعوا ما تفرق منه.
فلما نظرت فيها رأيت كلاً منهم قد سلك في جمعه طريقاً غير طريق الآخر، وقد ذكر بعضهم أسماء لم يذكرها صاحبه، وقد أتى بعدهم الحافظ أبو موسى محمد بن أبي بكر بن أبي عيسى الأصفهاني، فاستدرك على ابن منده ما فاته في كتابه، فجاء تصنيفه كبيراً نحو ثلثي كتاب ابن منده.
فرأيت أن أجمع بين هذه الكتب، وأضيف إليها ما شذ عنها ما استدركه أبو علي الغساني، علي أبي عمر بن عبد البر، كذلك أيضاً ما استدركه عليه آخرون وغير من ذكرنا فلا نطول بتعداد أسمائهم هنا، ورأيت ابن منده وأبا نعيم وأبا موسى عندهم أسماء ليست عند ابن عبد البر، وعند ابن عبد البر أسماء ليست عندهم. فعزمت أن أجمع بين كتبهم الأربعة، وكانت العوائق تمنع والأعذار تصد عنه، وكنت حينئذ ببلدي وفي وطني، وعندي كتبي وما أراجعه من أصول سماعاتي، وما أنقل منه، فلم يتيسر ذلك لصداع الدنيا وشواغلها.
فاتفق أني سافرت إلى البلاد الشامية عازماً على زيارة البيت المقدس - جعله الله سبحانه وتعالى داراً للإسلام أبداً - فلما دخلتها اجتمع بي جماعة من أعيان المحدثين، وممن يعتني بالحفظ والإتقان فكان فيما قالوه: إننا نرى كثيراً من العلماء الذين جمعوا أسماء الصحابة يختلفون في النسب والصحبة والمشاهد التي شهدها الصاحب؛ إلى غير ذلك من أحوال
নিরাপত্তা এবং তারা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কর্তৃক তাদের পবিত্রতা ঘোষণা ও প্রশংসার কারণে সঠিক পথের দিশা প্রাপ্ত। আর যেহেতু সুন্নাহর ওপরই বিধানসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং হালাল-হারাম জানা সহ দ্বীনের অন্যান্য বিষয়াবলি আবর্তিত হয়, এবং তা কেবল এর বর্ণনাকারী ও সনদসমূহের ব্যক্তিদের জানার মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়; আর তাদের মধ্যে প্রথম এবং শীর্ষস্থানীয় হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ। সুতরাং কোনো মানুষ যদি তাদের সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, তবে সে অন্যদের ক্ষেত্রে আরও বেশি অজ্ঞ হবে এবং তাদের প্রত্যাখ্যান করার প্রবণতা তার মধ্যে প্রবল হবে। তাই তাদের এবং অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বংশপরিচয় ও অবস্থা জানা আবশ্যক, যাতে তাদের মধ্যে নির্ভরযোগ্যদের বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী আমল করা সঠিক হয় এবং এর মাধ্যমে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। কারণ পরিচয়হীন বা অজ্ঞাত ব্যক্তির বর্ণনা সঠিক হয় না এবং তার বর্ণিত বিষয়ের ওপর আমল করাও উচিত নয়। জরাহ ও তাদীল (দোষ ও গুণ বিচার) ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে সাহাবীগণ অন্যান্য বর্ণনাকারীদের মতোই সমান অংশীদার। তবে তারা সকলেই ন্যায়নিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য, কোনো প্রকার ত্রুটি বা দোষারোপ তাদের স্পর্শ করতে পারে না। কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর রাসূল তাদের পবিত্রতা ও ন্যায়নিষ্ঠতা ঘোষণা করেছেন। এটি একটি সুপ্রসিদ্ধ বিষয় যা বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই, আর আমাদের এই কিতাবের অনেক স্থানেই এর উল্লেখ আসবে, তাই এখানে দীর্ঘ করছি না।
মানুষ তাদের নামের বিষয়ে অনেক কিতাব সংকলন করেছেন। কেউ কেউ তাদের অনেক নাম বংশলতিকা ও যুদ্ধাভিযান সংক্রান্ত কিতাবসমূহে এবং অন্যান্য স্থানে উল্লেখ করেছেন। এগুলোর ক্ষেত্রে তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন ছিল। তবে তাদের নাম সংকলনের বিষয়টি যে পর্যায়ে গিয়ে পূর্ণতা পেয়েছে তা করেছেন দুই হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ বিন মানদাহ এবং আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসবাহানী, এবং ইমাম আবু উমর বিন আব্দুল বার আল-কুরতুবী—আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাদের সওয়াবকে পরিপূর্ণ করুন, তাদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন, তাদের প্রতিদানকে মহান করুন এবং তাদের শেষ আবাসস্থলকে সম্মানিত করুন। তারা যা সংকলন করেছেন তাতে তারা অত্যন্ত নিপুণ কাজ করেছেন, নিজেদের প্রচেষ্টাকে বিলিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের পরে একটি সুন্দর স্মৃতি রেখে গেছেন। মহান আল্লাহ তাদের প্রচুর প্রতিদান দান করুন; কেননা তারা যা বিক্ষিপ্ত ছিল তা একত্রিত করেছেন।
যখন আমি সেগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করলাম, তখন দেখলাম যে তাদের প্রত্যেকেই সংকলনের ক্ষেত্রে একেকটি ভিন্ন পথ অনুসরণ করেছেন। তাদের কেউ কেউ এমন সব নাম উল্লেখ করেছেন যা অন্যজন করেননি। তাদের পরে এসেছেন হাফেজ আবু মুসা মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আবু ঈসা আল-আসবাহানী। তিনি ইবনে মানদাহর কিতাবে যা যা ছুটে গিয়েছিল তা পরিশিষ্ট হিসেবে যোগ করেছেন। ফলে তার এই সংকলনটি ইবনে মানদাহর কিতাবের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে এই কিতাবগুলোকে একত্রিত করব এবং এগুলোর বাইরে যা কিছু বাদ পড়েছে তা যোগ করব, যেমন আবু আলী আল-গাসসানি যা আবু উমর বিন আব্দুল বারের ওপর পরিশিষ্ট হিসেবে যোগ করেছেন। একইভাবে অন্যদের করা পরিশিষ্টগুলোও যোগ করব যাদের নাম উল্লেখ করে এখানে দীর্ঘ করছি না। আমি দেখলাম ইবনে মানদাহ, আবু নুআইম এবং আবু মুসার কাছে এমন কিছু নাম আছে যা ইবনে আব্দুল বারের কাছে নেই। আবার ইবনে আব্দুল বারের কাছে এমন কিছু নাম আছে যা তাদের কাছে নেই। ফলে আমি তাদের এই চারটি কিতাবকে একত্রিত করার সংকল্প করলাম। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতা ও অজুহাত আমাকে বাধা দিচ্ছিল। তখন আমি আমার নিজ শহর ও স্বদেশে অবস্থান করছিলাম। আমার কাছে আমার কিতাবসমূহ এবং আমার শ্রুত মূল পাণ্ডুলিপিগুলো ছিল যা থেকে আমি তথ্য যাচাই ও উদ্ধৃতি দিতাম। কিন্তু দুনিয়াবি ঝামেলা ও ব্যস্ততার কারণে তা সহজ হয়ে উঠছিল না।
ঘটনাক্রমে আমি সিরিয়া অঞ্চলে সফর করলাম বাইতুল মাকদিস জিয়ারতের সংকল্প নিয়ে—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একে চিরকাল ইসলামের আবাসভূমি হিসেবে কবুল করুন। সেখানে প্রবেশের পর একদল বিশিষ্ট মুহাদ্দিস এবং হেফজ ও হাদিসের শুদ্ধতায় পারদর্শী ব্যক্তিরা আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তারা যা বলেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল এই যে: আমরা দেখি সাহাবীদের নাম সংকলনকারী অনেক আলেম তাদের বংশপরিচয়, সাহচর্য এবং তারা যে যুদ্ধগুলোতে অংশগ্রহণ করেছেন, সেসব সহ অন্যান্য অবস্থার বিষয়ে মতভেদ করে থাকেন।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١١)
الشخص ولا نعرف الحق فيه، وحثوا عزمي على جمع كتاب لهم في أسماء الصحابة، رضي الله عنهم؛ أستقصي فيه ما وصل إلي من أسمائهم، وأبين فيه الحق فيما اختلفوا فيه، والله يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم؛ مع الإتيان بما ذكروه واستدراك ما فاتهم، فاعتذرت إليهم بتعذر وصولي إلى كتبي وأصولي وأنني بعيد الدار عنها، ولا أرى النقل إلا منها فألحوا في الطلب؛ فثار العزم الأول وتجدد عندي ما كنت أحدث به نفسي، وشرعت في جمعه والمبادرة إليه، وسألت الله تعالى أن يوفقني إلى الصواب في القول والعمل، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم بمنه وكرمه.
واتفق أن جماعة كانوا قد سمعوا علي أشياء بالموصل وساروا إلى الشام فنقلت منها أحاديث مسندة وغير ذلك، ثم إنني عدت إلى الوطن بعد الفراغ منه وأردت أن أكثر الأسانيد وأخرج الأحاديث التي فيه بأسانيدها، فرأيت ذلك متعباً يحتاج أن أنقض كل ما جمعت، فحملني الكسل وحب الدعة والميل إلى الراحة إلى أن نقلت ما تدعو الضرورة إليه، مما لا يخل بترتيب، ولا يكثر إلى حد الإضجار والإملال.
وأنا أذكر كيفية وضع هذا الكتاب، ليعلم من يراه شرطنا وكيفيته، والله المستعان فأقول.
إني جمعت بين هذه الكتب كما ذكرته قبل، وعلمت على الاسم علامة ابن منده صورة " د " وعلامة أبي نعيم صورة " ع "، وعلامة ابن عبد البر صورة " ب " وعلامة أبي موسى صورة " س " فإن كان الاسم عند الجميع علمت عليه جميع العلائم، وإن كان عند بعضهم علمت عليه علامته، وأذكر في آخر كل ترجمة اسم من أخرجه؛ وإن قلت أخرجه الثلاثة فأعني ابن منده وأبا نعيم وأبا عمر بن عبد البر؛ فإن العلائم ربما تسقط من الكتابة وتنسى، ولا أعني بقولي أخرجه فلان وفلان أو الثلاثة أنهم أخرجوا جميع ما قلته في ترجمته؛ فلو نقلت كل ما قالوه لجاء الكتاب طويلاً؛ لأن كلامهم يتداخل ويخالف بعضهم البعض في الشيء بعد الشيء، وإنما أعني أنهم أخرجوا الاسم.
ثم إني لا أقتصر على ما قالوه إنما أذكر ما قاله غيرهم من أهل العلم، وإذا ذكرت اسماً ليس عليه علامة أحدهم، فهو ليس في كتبهم. ورأيت ابن منده وأبا نعيم قد أكثرا من الأحاديث والكلام عليه، وذكرا عللها، ولم يكثرا من ذكر نسب الشخص، ولا ذكر شيء من أخباره وأحواله، وما يعرف به، ورأيت أبا عمر قد استقصى ذكر الأنساب وأحوال الشخص ومناقبه، وكل ما يعرفه به، حتى إنه يقول: هو ابن أخي فلان وابن عم فلان وصاحب الحادثة الفلانية، وكان هذا هو المطلوب من التعريف؛ أما ذكر الأحاديث وعللها وطرقها فهو بكتب الحديث أشبه؛ إلا أني نقلت من كلام كل واحد منهم أجوده وما تدعو الحاجة إليه طلباً للاختصار، ولم
ব্যক্তি সম্পর্কে এবং তার বিষয়ে সত্যটি আমাদের অজানিত ছিল। তারা আমাকে সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নামের একটি সংকলন তৈরি করতে উৎসাহিত করলেন; যেখানে আমি তাদের নামের যতটুকু তথ্য আমার কাছে পৌঁছেছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করব এবং তারা যে বিষয়ে মতভেদ করেছেন তাতে সত্যটি স্পষ্ট করব। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিশা দেন। তারা যা উল্লেখ করেছেন তা নিয়ে আসার পাশাপাশি তাদের থেকে যা বাদ পড়েছে তা পূরণ করার মাধ্যমে এটি সংকলনের সংকল্প করলাম। তবে আমি আমার মূল গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপিগুলোর কাছে পৌঁছাতে না পারার কারণ দেখিয়ে এবং আমি সেগুলোর থেকে দূরে থাকার কারণে তাদের কাছে অপারগতা প্রকাশ করেছিলাম। আমি কেবল মূল উৎসগুলো থেকেই উদ্ধৃতি নেওয়া সঠিক মনে করি। কিন্তু তারা বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। ফলে আমার পূর্বের সংকল্প পুনরায় জাগ্রত হলো এবং আমি মনে মনে যে পরিকল্পনা করেছিলাম তা কার্যে রূপদান শুরু করলাম। আমি তা সংকলন করতে ব্রতী হলাম এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম যেন তিনি আমাকে কথা ও কাজে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করেন এবং তাঁর অশেষ অনুগ্রহ ও দানে একে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।
ঘটনাক্রমে একদল লোক মসুলে আমার কাছে কিছু বিষয় শ্রবণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে শামে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখান থেকে আমি সূত্রযুক্ত হাদীস ও অন্যান্য বিষয়গুলো উদ্ধৃত করেছি। এরপর আমি কাজ শেষ করে নিজ দেশে ফিরে এলাম এবং চাইলাম যে সনদের সংখ্যা বৃদ্ধি করব এবং এতে থাকা হাদীসগুলো তাদের পূর্ণ সনদসহ বর্ণনা করব। কিন্তু আমি দেখলাম যে এটি অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং এর জন্য আমার সংকলিত সবকিছু নতুন করে বিন্যাস করার প্রয়োজন হবে। ফলে অলসতা, স্বাচ্ছন্দ্যপ্রিয়তা এবং বিশ্রামের প্রতি ঝোঁক আমাকে বাধ্য করল কেবল যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু উদ্ধৃত করতে, যা বিন্যাসে ব্যাঘাত ঘটাবে না এবং বিরক্তি ও ক্লান্তিকর হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছাবে না।
এখন আমি এই কিতাব রচনার পদ্ধতি উল্লেখ করছি, যাতে পাঠক আমাদের শর্ত ও পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমি বলছি:
আমি পূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি, এই প্রধান গ্রন্থগুলোর মধ্যে সমন্বয় করেছি। আমি ইবনে মানদাহর নামের ওপর চিহ্ন হিসেবে ‘দাল’ বর্ণ, আবু নুয়াইমের চিহ্নে ‘আইন’ বর্ণ, ইবনে আব্দুল বার-এর চিহ্নে ‘বা’ বর্ণ এবং আবু মুসার চিহ্নে ‘সিন’ বর্ণ ব্যবহার করেছি। যদি নামটি সবার কাছে থাকে তবে আমি তার ওপর সবকটি চিহ্ন প্রদান করেছি, আর যদি কেবল কারও কারও কাছে থাকে তবে তাদের নির্দিষ্ট চিহ্ন দিয়েছি। প্রতিটি জীবনীর শেষে আমি এটি বর্ণনা করেছেন এমন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করব। আমি যদি বলি ‘তিনজন এটি বর্ণনা করেছেন’, তবে এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো ইবনে মানদাহ, আবু নুয়াইম এবং আবু ওমর ইবনে আব্দুল বার। কারণ মাঝেমধ্যে লিখনী থেকে চিহ্নগুলো বাদ পড়ে যেতে পারে বা বিস্মৃত হতে পারে। আর আমার এই কথা—‘অমুক অমুক এটি বর্ণনা করেছেন’ বা ‘তিনজন বর্ণনা করেছেন’—বলার অর্থ এই নয় যে, আমি তার জীবনীর অধীনে যা কিছু বলেছি তার সবই তারা বর্ণনা করেছেন। কারণ আমি যদি তাদের বলা সব কথা উদ্ধৃত করতাম তবে কিতাবটি অনেক দীর্ঘ হয়ে যেত। কেননা তাদের কথাগুলো একে অপরের সাথে মিলে যায় এবং মাঝে মাঝে একে অপরের বিপরীতও হয়। আমি কেবল বলতে চেয়েছি যে তারা এই নির্দিষ্ট নামটি উল্লেখ করেছেন।
এরপর আমি কেবল তাদের কথার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ যা বলেছেন তাও উল্লেখ করেছি। আমি যদি এমন কোনো নাম উল্লেখ করি যার ওপর তাদের কারও চিহ্ন নেই, তবে বুঝতে হবে সেটি তাদের কিতাবসমূহে নেই। আমি লক্ষ্য করেছি যে, ইবনে মানদাহ এবং আবু নুয়াইম অনেক হাদীস ও সেগুলোর ওপর দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং সেগুলোর ত্রুটিসমূহ উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তারা ব্যক্তির বংশ পরিচয়, সংবাদ, অবস্থা বা পরিচিতিমূলক তথ্যাদি বর্ণনায় খুব একটা গুরুত্ব দেননি। অন্যদিকে আমি দেখেছি যে, আবু ওমর বংশ পরিচয়, ব্যক্তির অবস্থা, মর্যাদা এবং তার যাবতীয় পরিচিতিমূলক বিষয়ের বর্ণনায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। এমনকি তিনি উল্লেখ করেছেন: তিনি অমুকের ভাতিজা, অমুকের চাচাতো ভাই এবং অমুক ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত। আর জীবনীর পরিচয়ের ক্ষেত্রে এটিই ছিল মূল কাম্য। অন্যদিকে হাদীস, সেগুলোর ত্রুটি ও সূত্রের বর্ণনা হাদীসের কিতাবগুলোর সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। তবুও আমি সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তাদের প্রত্যেকের কথা থেকে সবচেয়ে উত্তম এবং প্রয়োজনীয় অংশটুকু উদ্ধৃত করেছি, এবং আমি...
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٢)
أخل بترجمة واحدة من كتبهم جميعها بل أذكر الجميع، حتى إنني أخرج الغلط كما ذكره المخرج له، وأبين الحق والصواب فيه إن علمته؛ إلا أن يكون أحدهم قد أعاد الترجمة بعينها، فأتركها وأذكر ترجمة واحدة، وأقول: قد أخرجها فلان في موضعين من كتابه.
وأما ترتيبه ووضعه فإنني جعلته على حروف أ، ب، ت، ث، ولزمت في الاسم الحرف الأول والثاني الثالث وكذلك إلى آخر الاسم، وكذلك أيضاً في اسم الأب والجد ومن بعدهما والقبائل أيضاً.
مثاله: أنني أقدم " أبانا " على إبراهيم؛ لأن ما بعد الباء في أبان ألف، وما بعدها في إبراهيم راء، وأقدم إبراهيم بن الحارث، على إبراهيم بن خلاد؛ لأن الحارث بحاء مهملة وخلاد بخاء معجمة، وأقدم أبانا العبدي على أبان المحاربي، وكذلك أيضاً فعلت في التعبيد فإني ألزم الحرف الأول بعد عبد، وكذلك في الكنى فإني ألزم الترتيب في الاسم الذي بعد " أبو " فإني أقدم أبا داود على أبي رافع، وكذلك في الولاء، فإني أقدم أسود مولى زيد على أسود مولى عمرو، وإذا ذكر الصحابي ولم ينسب إلى أب بل نسب إلى قبيلة فإنني أجعل القبيلة بمنزلة الأب مثاله: زيد الأنصاري أقدمه على زيد القرشي، ولزمت الحروف في جميع أسماء القبائل.
وقد ذكروا جماعة بأسمائهم، ولم ينسبوهم إلى شيء، فجعلت كل واحد منهم في آخر ترجمة الاسم الذي سمعي به مثاله: زيد، غير منسوب، جعلته في آخر من اسمه زيد، وأقدم ما قلت حروفه على ما كثرت؛ مثال: أقدم " الحارق " على " حارثه ".
وقد ذكر ابن منده، وأبو نعيم، وأبو موسى في آخر الرجال والنساء جماعة من الصحابة والصحابيات لم تعرف أسماؤهم؛ فنسبوهم إلى آبائهم؛ فقالوا: ابن فلان، وإلى قبائلهم وإلى أبنائهم، وقالوا: فلان عن عمه، وفلان عن جده وعن خاله، وروى فلان عن رجل من الصحابة؛ فرتبتهم أولاً بأن ابتدأت بابن فلان، ثم بمن روى عن أبيه؛ لأن ما بعد الباء في ابن نون، وما بعدها في أبيه ياء، ثم بمن روى عن جده، ثم عن خاله، ثم عن عمه؛ لأن الجيم قبل الخاء، وهما قبل العين، ثم بمن نسب إلى قبيلة، ثم بمن روى عن رجل من الصحابة؛ ثم رتبت هؤلاء أيضاً ترتيباً ثانياً؛ فجعلت من روى عن ابن فلان مرتبين على الآباء، مثاله: ابن الأدرع أقدمه على ابن الأسقع، وأقدمهما على ابن ثعلبة، وأرتب من روى عن أبيه على أسماء الآباء، مثاله: إبراهيم عن أبيه أجعله قبل الأسود عن أبيه، وجعلت من روى عن جده على أسماء الأحفاء، مثال: أقدم جد الصلت على جد طلحة وجعلت من روى عن خاله على أسماء أولاد
আমি তাদের কিতাবগুলোর মধ্য থেকে একটি জীবনীও বাদ দেইনি, বরং সবকটি উল্লেখ করেছি। এমনকি আমি ভুলটি সেভাবেই উদ্ধৃত করেছি যেভাবে মূল সংকলক তা উল্লেখ করেছেন এবং আমি যদি তাতে সত্য ও সঠিকটি জানতাম তবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছি; তবে যদি তাদের কেউ হুবহু একই জীবনী পুনরাবৃত্তি করে থাকেন, তখন আমি তা ছেড়ে দিয়ে একটি জীবনী উল্লেখ করেছি এবং বলেছি যে: অমুক ব্যক্তি তার কিতাবের দুই স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন।
আর এর বিন্যাস ও স্থাপনার ক্ষেত্রে আমি একে আলিফ, বা, তা, ছা (বর্ণানুক্রমিক) অক্ষরের ভিত্তিতে সাজিয়েছি। নামের ক্ষেত্রে আমি প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং নামের শেষ পর্যন্ত এই নিয়মটি আবশ্যকীয়ভাবে পালন করেছি। একইভাবে পিতার নাম, দাদার নাম, তাদের পরবর্তী পুরুষগণ এবং গোত্রগুলোর ক্ষেত্রেও আমি একই নীতি অনুসরণ করেছি।
উদাহরণস্বরূপ: আমি 'আবান' নামটিকে 'ইবরাহিম' নামের আগে রেখেছি; কারণ 'আবান' শব্দে 'বা'-এর পরের অক্ষরটি হলো 'আলিফ', আর 'ইবরাহিম' শব্দে 'বা'-এর পরের অক্ষরটি হলো 'রা'। আমি 'ইবরাহিম ইবনে আল-হারিস'কে 'ইবরাহিম ইবনে খাল্লাদ'-এর আগে রেখেছি; কারণ 'হারিস' শব্দটি নুকতাহীন 'হা' দিয়ে এবং 'خلاد' (খাল্লাদ) শব্দটি নুকতাযুক্ত 'খা' দিয়ে শুরু। আমি 'আবান আল-আবদি'কে 'আবান আল-মুহারিবি'-র আগে রেখেছি। একইভাবে আমি 'আবদ' (দাসের নাম) যোগে গঠিত নামের ক্ষেত্রেও করেছি, যেখানে 'আবদ' শব্দের পরের প্রথম অক্ষরটির ক্রম অনুসরণ করেছি। কুনিয়াত (উপনাম)-এর ক্ষেত্রেও আমি 'আবু' শব্দের পরের নামের বিন্যাস মেনে চলেছি; ফলে আমি 'আবু দাউদ'কে 'আবু রাফি'-র আগে রেখেছি। একইভাবে 'ওলা' (মুক্তদাসের সম্পর্ক)-এর ক্ষেত্রেও আমি 'আসওয়াদ মাওলা জায়েদ'কে 'আসওয়াদ মাওলা আমর'-এর আগে রেখেছি। যদি কোনো সাহাবীর উল্লেখ থাকে এবং তাকে তার পিতার দিকে নিসবত (সম্পর্ক) না করে কোনো গোত্রের দিকে করা হয়, তবে আমি গোত্রকে পিতার স্থলাভিষিক্ত ধরেছি। উদাহরণস্বরূপ: 'জায়েদ আল-আনসারি'কে আমি 'জায়েদ আল-কুরাশি'-র আগে রেখেছি। এভাবে সকল গোত্রের নামের ক্ষেত্রে আমি বর্ণানুক্রমিক নিয়ম আবশ্যকীয়ভাবে পালন করেছি।
তারা অনেককে শুধু তাদের নামসহ উল্লেখ করেছেন এবং অন্য কিছুর সাথে তাদের সম্পৃক্ত করেননি। ফলে আমি তাদের প্রত্যেককে সেই নামের জীবনীসমূহের শেষে রেখেছি যে নামে তারা পরিচিত। উদাহরণস্বরূপ: 'জায়েদ', যিনি কোনো কিছুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত নন, তাকে আমি 'জায়েদ' নামধারীদের শেষে রেখেছি। আর যে নামের অক্ষর সংখ্যা কম, তাকে অধিক অক্ষরবিশিষ্ট নামের আগে রেখেছি; উদাহরণস্বরূপ: আমি 'আল-হারিক'কে 'হারিসাহ'-এর আগে রেখেছি।
ইবনে মানদাহ, আবু নুয়াইম এবং আবু মুসা পুরুষ ও নারী বর্ণনাকারীদের শেষে সাহাবী ও সাহাবীয়াদের এমন একটি দল উল্লেখ করেছেন যাদের নাম জানা যায়নি। তাই তারা তাদের পিতার দিকে সম্পৃক্ত করে বলেছেন: 'অমুকের পুত্র', আবার কখনও তাদের গোত্র বা তাদের সন্তানদের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। তারা আরও বলেছেন: 'অমুক তার চাচা থেকে', 'অমুক তার দাদা থেকে', 'অমুক তার মামা থেকে' এবং 'অমুক জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন'। আমি তাদের বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রথমে 'ইবনে ফুলান' (অমুকের পুত্র) দিয়ে শুরু করেছি, তারপর যারা তাদের পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের উল্লেখ করেছি; কারণ 'ইবনে' শব্দে 'বা'-এর পর 'নুন' রয়েছে, আর 'আবিহি' শব্দে 'বা'-এর পর 'ইয়া' রয়েছে। এরপর যারা তাদের দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তারপর যারা মামা থেকে, তারপর যারা চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন; কারণ বর্ণানুক্রমে 'জিম' বর্ণটি 'খা'-এর আগে, আর এই উভয় বর্ণ 'আইন'-এর আগে। এরপর যাদের গোত্রের দিকে নিসবত করা হয়েছে তাদের রেখেছি এবং সবশেষে যারা জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের রেখেছি। এরপর আমি এদের পুনরায় দ্বিতীয়বার বিন্যস্ত করেছি; ফলে যারা 'ইবনে ফুলান' (অমুকের পুত্র) থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের পিতাদের নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি। উদাহরণস্বরূপ: 'ইবনুল আদরা'কে আমি 'ইবনুল আসকা'-এর আগে রেখেছি এবং তাদের উভয়কে 'ইবনে ছালাবাহ'-এর আগে রেখেছি। আর যারা তাদের পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের আমি পিতাদের নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি; উদাহরণস্বরূপ: 'ইবরাহিম তার পিতা থেকে' বর্ণনাকে আমি 'আসওয়াদ তার পিতা থেকে' বর্ণনার আগে রেখেছি। আর যারা তাদের দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের আমি পৌত্রদের (বর্ণনাকারীদের) নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি; উদাহরণস্বরূপ: আমি 'সালতের দাদা'কে 'তালহার দাদা'-এর আগে রেখেছি এবং যারা তাদের মামা থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের ভাগনেদের (বর্ণনাকারীদের) নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি...
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٣)
الأخوات، مثاله: أقدم خال البراء على خال الحارث، ومن روى عن عمه جعلتهم على أسماء أولاد الإخوة، مثاله: عم أنس مقدم على عم جبر، ومن نسب إلى قبيلته ولم يعرف اسمه جعلتهم مرتبين على أسماء القبائل؛ فإنني أقدم الأزدي على الخثعمي.
وقد ذكروا أيضاً جماعة لم يعرفوا إلا بصحبة رسول الله صلى الله عليه وسلم فرتبتهم على أسماء الراوين عنهم، مثاله: أنس بن مالك عن رجل من الصحابة أقدمه على ثابت بن السمط عن رجل من الصحابة، وإن عرفت في هذا جميعه اسم الصحابي ذكرت اسمه؛ ليعرف ويطلب من موضعه.
ورأيت جماعة من المحدثين إذا وضعوا كتابا على الحروف يجعلون الاسم الذي أوله " لا "، مثل: لاحق ولا شر في باب مفرد عن حرف اللام، وجعلوه قبل الياء، فجعلتها أنا من حرف الله في باب اللام مع الألف فهو أصح وأجود، وكذلك أفعل في النساء سواء.
وإذا كان أحد من الصحابة مشهوراً بالنسبة إلى غير أبيه ذكرته بذلك النسب: ك " شرحبيل ابن حسنة "، أذكره فيمن أول اسم أبيه حاء، ثم أبين اسم أبيه، ومثل شريك ابن السحماء، وهي أمه، أذكره أيضاً فيمن أول اسم أبيه سين، ثم أذكر اسم أبيه، أفعل هذا قصداً للتقريب وتسهيل طلب الاسم.
واذكر الأسماء على صورها التي ينطق بها لا على أصولها، مثل: أحمر، أذكره في الهمزة ولا أذكره في الحاء، ومثل أسود في الهمزة أيضاً، ومثل عمار أذكره في " عما " ولا أذكره في " عمم "؛ لأن الحرف المشدد حرفان الأول منهما ساكن؛ فعلته طلباً للتسهيل.
وأقدم الاسم في النسب على الكنية، إذا اتفقا، مثاله: أقدم عبد الله بن ربيعة على: عبد الله بن أبي ربيعة، وأذكر الأسماء المشتبهة في الخط وأضبطها بالكلام لئلا تلتبس؛ فإن كثيراً من الناس يغلطون فيها، وإن كانت النعتية التي ضبطها تعرف الاسم وتبينه، ولكني أزيده تسهيلاً ووضوحاً، مثال ذلك: سلمة في الأنصار، بكسر اللام، والنسبة إليه سلمي، بالفتح في اللام والسين، وأما سليم فهو ابن منصور من قيس عيلان.
وأشرح الألفاظ الغريبة التي ترد في حديث بعض المذكورين في آخر ترجمته.
وأذكر في الكتاب فصلاً يتضمن ذكر الحوادث المشهورة للنبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، كالهجرة إلى الحبشة، وإلى المدينة، وبيعة العقبة، وكل حادثة قتل فيها أحد من الصحابة؛ فإن الحاجة تدعو إلى ذلك؛ لأنه يقال: أسلم فلان قبل دخول رسول الله صلى الله عليه وسلم دار الأرقم، أو وهو فيها، وهاجر فلان إلى الحبشة، وإلى المدينة، وشهد بدراً، وشهد بيعة العقبة، وبيعة
বোনদের। উদাহরণস্বরূপ: আমি বারার মামাকে হারিসের মামার আগে উল্লেখ করেছি। আর যারা তাদের চাচার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তাদেরকে আমি ভাইদের সন্তানদের নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি। উদাহরণস্বরূপ: আনাসের চাচা জাবরের চাচার আগে অগ্রগণ্য। আর যাদেরকে তাদের গোত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কিন্তু তাদের নাম জানা নেই, তাদেরকে আমি গোত্রসমূহের নামের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করেছি; যেমন আমি খাসআমীর আগে আযদীকে প্রাধান্য দিয়েছি।
তারা এমন একদল লোকের কথাও উল্লেখ করেছেন যারা কেবল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্যের মাধ্যমেই পরিচিত। তাই আমি তাদেরকে তাদের নিকট থেকে বর্ণনাকারীদের নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি। উদাহরণস্বরূপ: জনৈক সাহাবী থেকে আনাস ইবনে মালিকের বর্ণনাকে আমি জনৈক সাহাবী থেকে সাবিত ইবনে সামতের বর্ণনার আগে স্থান দিয়েছি। আর এই সবকিছুর মধ্যে যদি সাহাবীর নাম আমার জানা থাকে, তবে আমি তার নাম উল্লেখ করেছি; যাতে তাকে চেনা যায় এবং তার নিজ স্থান থেকে তাকে খুঁজে বের করা যায়।
আমি একদল মুহাদ্দিসকে দেখেছি যে, যখন তারা বর্ণানুক্রমিক কোনো কিতাব সংকলন করেন, তখন তারা 'লা' দিয়ে শুরু হওয়া নামগুলোকে—যেমন লাহিক ও লাশার—লাম বর্ণের একটি পৃথক অধ্যায়ে ইয়া বর্ণের আগে স্থান দেন। কিন্তু আমি সেগুলোকে আলিফযুক্ত লাম অধ্যায়ে রেখেছি, যা অধিকতর সঠিক ও উত্তম। মহিলাদের ক্ষেত্রেও আমি একইভাবে করেছি।
যদি সাহাবীদের মধ্যে কেউ তার পিতা ব্যতীত অন্য কারও দিকে সম্বন্ধের মাধ্যমে প্রসিদ্ধ হন, তবে আমি তাকে সেই সম্বন্ধ অনুসারেই উল্লেখ করেছি: যেমন 'শুরাহবিল ইবনে হাসানাহ'। আমি তাকে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখ করেছি যাদের পিতার নামের প্রথম বর্ণ 'হা', এরপর আমি তার পিতার নাম স্পষ্ট করেছি। অনুরূপভাবে 'শারিক ইবনে সাহমা'—সাহমা তার মা—তাকে আমি এমন ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখ করেছি যাদের পিতার নামের প্রথম বর্ণ 'সীন', এরপর আমি তার পিতার নাম উল্লেখ করেছি। আমি এটি করেছি সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে এবং নাম তালাশ করা সহজ করার জন্য।
আমি নামগুলোকে তাদের উচ্চারিত রূপ অনুযায়ী উল্লেখ করেছি, তাদের মূল ধাতু অনুযায়ী নয়। যেমন: 'আহমার', আমি এটি হামযাহ বর্ণে উল্লেখ করেছি, হা বর্ণে নয়। অনুরূপভাবে 'আসওয়াদ'ও হামযাহ বর্ণে উল্লেখ করেছি। আবার 'আম্মার' নামটি আমি 'আইন-মীম-আলিফ' ক্রমে উল্লেখ করেছি, 'আইন-মীম-মীম' ক্রমে নয়; কারণ তাশদীদযুক্ত বর্ণটি মূলত দুটি বর্ণ যার প্রথমটি সাকিন। সহজ করার উদ্দেশ্যেই আমি এটি করেছি।
বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে আমি নামকে কুনিয়াত বা উপনামের আগে স্থান দিয়েছি, যদি তারা এক হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ: আমি 'আবদুল্লাহ ইবনে রাবিআহ'কে 'আবদুল্লাহ ইবনে আবি রাবিআহ'র আগে উল্লেখ করেছি। আর যেসব নাম লেখার ক্ষেত্রে সদৃশ, আমি সেগুলো বর্ণনার মাধ্যমে সুস্পষ্ট করেছি যাতে বিভ্রান্তি না ঘটে; কারণ অনেক মানুষ এগুলোতে ভুল করে থাকে। যদিও গুণবাচক বর্ণনা যা এগুলোকে নির্দিষ্ট করে তা নামকে চিনিয়ে দেয় এবং স্পষ্ট করে, তবুও আমি আরও সহজবোধ্য ও পরিষ্কার করার জন্য এটি করেছি। উদাহরণস্বরূপ: আনসারদের মধ্যে 'সালামাহ', লাম বর্ণে কাসরা (যের) যোগে, আর তার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত নিসবত হলো 'সালামী', লাম ও সীন বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে। আর 'সুলাইম' হলো কাইস আয়লানের বংশোদ্ভূত ইবনে মানসুর।
আর উল্লেখিত ব্যক্তিদের কারও কারও হাদিসে যেসব বিরল শব্দ এসেছে, আমি তাদের জীবনীর শেষে সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।
আর আমি কিতাবটিতে এমন একটি অধ্যায় উল্লেখ করব যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের প্রসিদ্ধ ঘটনাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করবে; যেমন হাবশায় হিজরত, মদীনায় হিজরত, বায়আতে আকাবাহ এবং এমন প্রতিটি ঘটনা যাতে কোনো সাহাবী শহীদ হয়েছেন। কেননা এর প্রয়োজন রয়েছে; কারণ বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দারুল আরকামে প্রবেশের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, অথবা তিনি যখন সেখানে ছিলেন তখন। আর অমুক ব্যক্তি হাবশায় হিজরত করেছেন, মদীনায় হিজরত করেছেন, বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং বায়আতে আকাবায় উপস্থিত ছিলেন ও বায়আত...
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٤)
الرضوان، وقتل فلان في غزوة، كذا أذكر ذلك مختصراً؛ فليس كل الناس يعرفون ذلك ففيه زيادة كشف.
وأذكر أيضاً فصلاً أضمنه أسانيد الكتب التي كثر تخريدي منها؛ لئلا أكرر الأسانيد في الأحاديث طلباً للاختصار.
وقد ذكر بعض مصنفي معارف الصحابة جماعة ممن كان في زمن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يره، ولم يصحبه ساعة من نهار، كالأحنف بن قيس وغيره، ولا شبهة في أن الأحنف كان رجلاً في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يره؛ ودليل أنه كان رجلاً في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم قدومه على عمر بن الخطاب رضي الله عنه في وفد أهل البصرة، وهو رجل من أعيانهم، والقصة مشهورة إلا أنه لم يفد إلى النبي صلى الله عليه وسلم ولم يصحبه، فلا أعلم لم ذكروه وغيره ممن هذه حاله؟ فإن كانوا ذكروهم لأنهم كانوا موجودين على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم مسلمين فكان ينبغي أن يذكرو كل من أسلم في حياته ووصل إليهم اسمه، لأن الوفود في سنة تسع وسنة عشر قدموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم من سائر العرب بإسلام قومهم؛ فكان ينبغي أن يذكروا الجميع قياساً على من ذكروه.
وأذكر فيه في فصل جميع ما في هذا الكتاب من الأنساب، وجعلتها على حروف المعجم، ولم أذكر من الأنساب إلا ما في هذا الكتاب، لئلا يطول ذلك، وإنما فعلت ذلك؛ لأن بعض من وقف عليه من أهل العلم والمعرفة أشار به ففعلته، وليكون هذا الكتاب أيضاً جامعاً لما يحتاج إليه الناظر فيه غير مفتقر إلى غيره. وما يشاهده الناظر في كتابي هذا من خطأ ووهم فليعلم أني لم أقله من نفسي، وإنما نقلته من كلام العلماء وأهل الحفظ والإتقان، ويكون الخطأ يسيراً إلى ما فيه من الفوائد والصواب، ومن الله سبحانه استمد الصواب في القول والعمل، فرحم الله امرأ أصلح فاسده، ودعا لي بالمغفرة والعفو عن السيئات، وأن يحسن منقلبنا إلى دار السلام عند مجاورة الأموات والسلام.
فصل أذكر فيه أسانيد الكتاب الكبار التي خرجت منها الأحاديث وغيرهاوقد تكرر ذكرها في الكتاب؛ لئلا يطول الإسناد ولا أذكر في أثناء الكتاب إلا اسم المصنف وما بعده، فليعلم ذلك:
রিজওয়ান, এবং অমুক ব্যক্তি অমুক যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন; আমি এগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করছি। কারণ সব মানুষ এসব সম্পর্কে অবগত নয়, তাই এতে বিষয়গুলো আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হবে।
আমি আরও একটি পরিচ্ছেদ উল্লেখ করব যেখানে সেই কিতাবগুলোর সনদসমূহ অন্তর্ভুক্ত করব যেখান থেকে আমি প্রচুর পরিমাণে হাদীস উদ্ধৃত করেছি; যাতে সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে হাদীসগুলোতে সনদের বারবার পুনরাবৃত্তি করতে না হয়।
সাহাবীদের জীবনী বিষয়ক কিতাবসমূহের কোনো কোনো লেখক এমন একদল মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে জীবিত ছিলেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি এবং দিনের এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর সাহচর্য লাভ করেননি, যেমন আহনাফ বিন কায়েস ও অন্যান্যরা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আহনাফ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন কিন্তু তিনি তাঁকে দেখেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তিনি যে প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন তার প্রমাণ হলো বসরার প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে তাঁর আগমন; তিনি তাদের একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিলেন এবং ঘটনাটি প্রসিদ্ধ। তবে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসেননি এবং তাঁর সাহচর্য লাভ করেননি। ফলে আমি জানি না কেন তাঁরা তাঁকে এবং তাঁর মতো অন্যদের কথা উল্লেখ করেছেন? যদি তাঁরা তাঁদের এই কারণে উল্লেখ করে থাকেন যে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মুসলিম হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তবে তাঁদের উচিত ছিল তাঁর জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণকারী প্রত্যেকের কথা উল্লেখ করা যাদের নাম তাঁদের কাছে পৌঁছেছে। কারণ নবম ও দশম হিজরিতে আরবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিধি দলগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাদের গোত্রের ইসলাম গ্রহণের বার্তা নিয়ে এসেছিল; সুতরাং যাদের কথা তাঁরা উল্লেখ করেছেন তাদের সাথে তুলনা করে সবার কথাই উল্লেখ করা উচিত ছিল।
আমি এই কিতাবে একটি পরিচ্ছেদে এখানে বর্ণিত সমস্ত বংশপরিচয় উল্লেখ করব এবং সেগুলোকে বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছি। আমি কেবল এই কিতাবে থাকা বংশগুলোরই উল্লেখ করেছি যাতে এটি দীর্ঘ না হয়। আমি কেবল একারণেই এটি করেছি যে, ইলম ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের মধ্যে যারা এটি পাঠ করেছেন তাঁরা এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন, তাই আমি তা করেছি; আর যাতে এই কিতাবটি এমন একটি সংকলন হয় যার পাঠকের অন্য কোনো কিতাবের প্রয়োজন না হয়। এই কিতাবে পাঠক যদি কোনো ভুল বা ভ্রান্তি দেখতে পান তবে জেনে রাখুন যে, আমি তা নিজের পক্ষ থেকে বলিনি, বরং উলামায়ে কেরাম এবং মুখস্থ ও নিখুঁত বর্ণনার অধিকারীদের কথা থেকেই তা উদ্ধৃত করেছি। আর এর মধ্যে থাকা উপকারিতা ও সঠিক তথ্যের তুলনায় ভুলের পরিমাণ হবে অতি সামান্য। আল্লাহ সুবহানাহুর নিকট আমি কথা ও কাজে সঠিক পথের সহায়তা কামনা করি। আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন যিনি আমার ভুল সংশোধন করে দেবেন এবং আমার জন্য ক্ষমা ও পাপমুক্তির দোয়া করবেন এবং মৃতদের সান্নিধ্যে আমাদের প্রত্যাবর্তনকে শান্তির আবাসে কল্যাণময় করবেন। আস-সালাম।
পরিচ্ছেদ: এতে আমি সেই বড় কিতাবসমূহের সনদ উল্লেখ করব যেখান থেকে হাদীস ও অন্যান্য তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছেকিতাবে সেগুলোর উল্লেখ বারবার আসবে; যাতে সনদ দীর্ঘ না হয় তাই কিতাবের ভেতরে আমি কেবল গ্রন্থকারের নাম এবং তার পরবর্তী অংশ উল্লেখ করব। বিষয়টি যেন স্মরণে রাখা হয়:
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٥)
تفسير القرآن المجيد لأبي إسحاق الثعالبيأخبرنا به أبو العباس أحمد بن عثمان بن أبي علي بن مهدي الزرزاري الشيخ الصالح رحمه الله تعالى قال: أخبرنا الرئيس مسعود بن الحسن القاسم الأصبهاني، وأبو عبد الله الحسن بن العباس الرستمي؛ قالا: أخبرنا أحمد بن خلف الشيرازي، قال: أنبأنا أبو إسحاق أحمد بن محمد بن إبراهيم الثعلبي بجميع كتاب " الكشف والبيان في تفسير القرآن "، سمعت عليه من أول الكتاب إلى آخر سورة النساء، وأما من أول سورة المائدة إلى آخر الكتاب، فإنه حصل لي بعضه سماعاً وبعضه إجازة، واختلط السماع بالإجازة فأنا أقول فيه: أخبرنا به إجازة إن لم يكن سماعاً.
فإذا قلت: أخبرنا أحمد بإسناده إلى الثعلبي، فهو بهذا الإسناد:
الوسيط في التفسير أيضاً للواحديأخبرنا بجميع كتاب " الوسيط في تفسير القرآن المجد " أبو محمد عبد الله بن علي بن سويدة التكريتي قال: أنبأنا أبو عبد الله محمد بن الحسين بن الفرخان السمناني، وعبد الرحمن بن أبي الخير بن سعيد الميهتي، كلاهما إجازة؛ قالا: أنبأنا أبو الحسين علي بن أحمد بن منويه الواحد " ح " قال أبو محمد: وأخبرنا أبو الفضل أحمد بن أبي الخير بن سعيد قراءة حليه وأنا أسمع قال: أنبأنا الواحدي.
فإذا قلت: أخبرنا أبو محمد بن سويدة قال: أخبرنا الواحدي فهو بهذا الإسناد.
صحيح محمد بن إسماعيل البخاريأخبرنا بجميع " الجامع الصحيح " تأليف الإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، رضي الله عنه أبو عبد الله محمد بن محمد بن سرايا بن علي، وأبو الفرج محمد بن عبد الرحمن بن أبي العز الواسطي، وأبو بكر مسمار بن عمر بن العويس النيار البغدادي، وأبو عبد الله الحسين بن أبي صالح بن فناخسرو الديلمي التكريتي الضرير، قالوا: أخبرنا أبو الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب السجزي، قال: أخبرنا أبو الحسن عبد الرحمن بن محمد الداودي، أخبرنا أبو محمد عبد الله بن أحمد الحموي السرخسي، قال: أخبرنا محمد بن يوسف الفربري، أخبرنا محمد بن إسماعيل.
فإذا قلت: أخبرنا أحد هؤلاء أو كلهم بإسنادهم عن البخاري، وذكرت إسناده إلى النبي صلى الله عليه وسلم فهو بهذا الإسناد.
আবু ইসহাক আস-সা'লাবি প্রণীত তাফসিরুল কুরআনিল মাজিদনেককার শাইখ আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে উসমান ইবনে আবি আলি ইবনে মাহদি আয-যারযারি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) আমাদের এর সংবাদ দিয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রইস মাসউদ ইবনুল হাসান আল-কাসিম আল-আসফাহানি এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান ইবনুল আব্বাস আর-রুস্তমি; তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে খালাফ আশ-শিরাজি, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু ইসহাক আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আস-সা'লাবি তাঁর সম্পূর্ণ গ্রন্থ "আল-কাশফ ওয়াল বায়ান ফি তাফসিরিল কুরআন"-এর মাধ্যমে। আমি তাঁর নিকট কিতাবটির শুরু থেকে সুরা আন-নিসা-এর শেষ পর্যন্ত শ্রবণ করেছি। আর সুরা আল-মায়িদার শুরু থেকে কিতাবের শেষ পর্যন্ত কিছু অংশ শ্রবণ এবং কিছু অংশ ইজাযত হিসেবে লাভ করেছি। ফলে শ্রবণ ও ইজাযত মিলেমিশে যাওয়ার কারণে আমি এর ব্যাপারে বলি: তিনি আমাদের ইজাযত হিসেবে সংবাদ দিয়েছেন যদি তা শ্রবণ করা না হয়ে থাকে।
সুতরাং যখন আমি বলি: "আহমাদ আস-সা'লাবি পর্যন্ত তাঁর সনদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন", তখন তা এই সনদের মাধ্যমেই।
আল-ওয়াহিদি প্রণীত তাফসির আল-ওয়াসিতআবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আলি ইবনে সুইদা আত-তিকরিতি আমাদের সম্পূর্ণ "আল-ওয়াসিত ফি তাফসিরিল কুরআনিল মাজিদ" কিতাবটি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফারখান আস-সামনানি এবং আব্দুর রহমান ইবনে আবিল খায়র ইবনে সাঈদ আল-মিহাতি, উভয়েই ইজাযতসহকারে; তাঁরা বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু হুসাইন আলি ইবনে আহমাদ ইবনে মানউইয়াহ আল-ওয়াহিদি। (সনদ পরিবর্তনের সংকেত - হা) আবু মুহাম্মাদ বলেন: আর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল আহমাদ ইবনে আবিল খায়র ইবনে সাঈদ, তিনি আমার সামনে কিরাত পাঠ করেছেন এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আল-ওয়াহিদি।
সুতরাং যখন আমি বলি: "আবু মুহাম্মাদ ইবনে সুইদা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আল-ওয়াহিদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন", তখন তা এই সনদের মাধ্যমেই।
মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারির সহিহইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রচিত সম্পূর্ণ "আল-জামি আস-সহিহ" সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সারায়া ইবনে আলি, আবু ফরাজ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবিল ইয আল-ওয়াসিতি, আবু বকর মিসমার ইবনে উমর ইবনুল উওয়াইস আন-নায়ার আল-বাগদাদি এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আবি সালিহ ইবনে ফানাখসরু আদ-দাইলামি আত-তিকরিতি আল-আ'মা। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আওয়াল ইবনে ঈসা ইবনে শুআইব আস-সিজযি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দাওয়ুদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-হামুয়ি আস-সারখাসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল।
সুতরাং আমি যখন এদের মধ্যে একজন অথবা তাঁদের সকলের পক্ষ থেকে বুখারি পর্যন্ত তাঁদের সনদে সংবাদ দেই এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত তাঁর সনদ উল্লেখ করি, তখন তা এই সনদের মাধ্যমেই।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٦)
صحيح مسلم بن الحجاجأخبرنا بجميع " الصحيح " تأليف أبي الحسين مسلم بن الحجاج النيسابوري رضي الله عنه أبو الفرج يحيى بن محمود بن سعد الأصفهاني الثقفي قراءة عليه، وأنا أسمع، قال: أخبرنا عم جدي أبو الفضل جعفر بن عبد الواحد بن محمد الثقفي قراءة عليه وأنا أسمع، وأبو عبد الله محمد بن الفضل الفراوي إجازة، قال جعفر: أجاز لنا، وقال الفراوي: أخبرنا سماعاً أبو الحسين عبد الغافر بن محمد الفارسي؛ أخبرنا أبو أحمد محمد بن عيسى بن عمرويه الجلودي، أخبرنا أبو إسحاق وإبراهيم بن محمد بن سفيان الفقيه، أخبرنا أبو الحسين مسلم بن الحجاج النيسابوري.
فإذا قلت: أخبرنا يحيى وأبو ياسر بإسنادهما عن مسلم، فهو بهذا الإسناد.
الموطأ لمالك بن أنس رواية يحيى بن يحيىأخبرنا به الشيخ أبو الحرم مكي بن زيان ابن شبه المقري النحوي الماكسيني رحمه الله، أخبرنا أبو بكر يحيى بن سعدون بن تمام الأزدي القرطبي، أخبرنا الفقيه أبو محمد عبد الرحمن بن محمد بن عتاب، أخبرنا القاضي أبو الوليد يونس بن عبد الله بن مغيث، أخبرنا أبو عيسى يحيى بن عبيد الله، أخبرنا عم أبي عبيد الله بن يحيى، أخبرنا أبو يحيى بن يحيى، أخبرنا الإمام مالك بن أنس رضي الله عنه.
فإذا قلت: أخبرنا أبو الحرم بإسناده عن يحيى بن يحيى عن مالك، فهو بهذا الإسناد.
الموطأ لمالك أيضاً رواية القعنبيأخبرنا به أبو المكارم فتيان بن أحمد بن محمد بن سمينة الجوهري، أخبرنا أبو عبد الله الحسين بن محمد بن نصر بن خميس الفقيه، أخبرنا أبو الحسن أحمد بن عبد القادر بن يوسف، أنبأنا أبو عمرو عثمان بن محمد بن يوسف العلاف، أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الله بن إبراهيم الشافعي، أخبرنا أبو يعقوب إسحاق بن الحسن بن ميمون بن سعد الحربي، أخبرنا القعنبي عن مالك رضي الله عنه.
مسند أحمد بن حنبلأخبرنا به أبو ياسر عبد الوهاب بن هبة الله بن أبي حبة قال: أخبرنا أبو القاسم هبة الله بن محمد بن عبد الواحد بن الحصين، أخبرنا أبو علي الحسن بن علي بن المذهب الواعظ، أخبرنا أبو بكر بن مالك القطيعي، أخبرنا عبد الله بن أحمد بن حنبل، حدثني أبي رضي الله عنه.
সহীহ মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজআবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রচিত পূর্ণ "সহীহ" গ্রন্থটি সম্পর্কে আমাদের অবহিত করেছেন আবু আল-ফারাজ ইয়াহইয়া বিন মাহমুদ বিন সাদ আল-আসফাহানি আস-সাকাফি তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, আর আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আমার দাদার চাচা আবু আল-ফাদল জাফর বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ আস-সাকাফি তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম, এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল আল-ফাররাওয়ি ইজাজাহ বা অনুমতির মাধ্যমে। জাফর বলেন: তিনি আমাদের ইজাজাহ দিয়েছেন। আর আল-ফাররাওয়ি বলেন: আমাদের নিকট সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন আবু আল-হুসাইন আব্দুল গাফির বিন মুহাম্মদ আল-ফারিসি; আমাদের অবহিত করেছেন আবু আহমাদ মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আমরুয়াহ আল-জালুদি, আমাদের অবহিত করেছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান আল-ফকিহ, আমাদের অবহিত করেছেন আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী।
অতএব আমি যখন বলি: ইয়াহইয়া এবং আবু ইয়াসির মুসলিম থেকে তাঁদের সনদের মাধ্যমে আমাদের অবহিত করেছেন, তখন তা এই সনদের মাধ্যমেই উদ্দেশ্য।
ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়ার বর্ণনা সূত্রে মালিক বিন আনাসের মুয়াত্তাআমাদের এটি অবহিত করেছেন শায়খ আবু আল-হারাম মক্কি বিন জিয়ান ইবনে শিবহ আল-মুকরি আন-নাহবি আল-মাকসিনি (রাহিমাহুল্লাহ), আমাদের অবহিত করেছেন আবু বকর ইয়াহইয়া বিন সাদুন বিন তাম্মাম আল-আজদি আল-কুরতুবি, আমাদের অবহিত করেছেন ফকিহ আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আত্তাব, আমাদের অবহিত করেছেন কাজী আবু আল-ওয়ালিদ ইউনুস বিন আব্দুল্লাহ বিন মুগিস, আমাদের অবহিত করেছেন আবু ঈসা ইয়াহইয়া বিন উবাইদুল্লাহ, আমাদের অবহিত করেছেন আমার বাবার চাচা উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া, আমাদের অবহিত করেছেন আবু ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া, আমাদের অবহিত করেছেন ইমাম মালিক বিন আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
অতএব আমি যখন বলি: আবু আল-হারাম ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে মালিকের সূত্রে তাঁদের সনদের মাধ্যমে আমাদের অবহিত করেছেন, তখন তা এই সনদের মাধ্যমেই উদ্দেশ্য।
মালিকের মুয়াত্তা, আল-কা'নাবীর বর্ণনা সূত্রেআমাদের এটি অবহিত করেছেন আবু আল-মাকারিম ফাতইয়ান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন সামিনাহ আল-জাওহারি, আমাদের অবহিত করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন নাসর বিন খামিস আল-ফকিহ, আমাদের অবহিত করেছেন আবু আল-হাসান আহমাদ বিন আব্দুল কাদির বিন ইউসুফ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-আল্লাফ, আমাদের অবহিত করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আশ-শাফিয়ি, আমাদের অবহিত করেছেন আবু ইয়াকুব ইসহাক বিন আল-হাসান বিন মাইমুন বিন সাদ আল-হারবি, আমাদের অবহিত করেছেন আল-কা'নাবী মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
মুসনাদ আহমাদ বিন হাম্বলআমাদের এটি অবহিত করেছেন আবু ইয়াসির আব্দুল ওয়াহহাব বিন হিবাতুল্লাহ বিন আবি হাব্বাহ, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-حصিন (আল-হুসাইন), আমাদের অবহিত করেছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আলী বিন আল-মুজাহহিব আল-ওয়াইজ, আমাদের অবহিত করেছেন আবু বকর বিন মালিক আল-কাতিয়ি, আমাদের অবহিত করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٧)
فكل ما فيه أخبرنا أبو ياسر أو عبد الوهاب بإسناده: حدثني أبي، فهو بهذا الإسناد.
مسند أبي داود الطيالسيأخبرنا به الخطيب أبو الفضل عبد الله بن أحمد بن عبد القاهر الطوسي، أخبرنا أبو سعد محمد بن محمد المطرز الفقيه إذناً، أخبرنا أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن إسحاق الأصفهاني، وأبو عبد الله الحسين بن إبراهيم الجمال، قالا: أخبرنا أبو محمد عبد الله بن جعفر بن فارس، أخبرنا يونس بن حبيب، أخبرنا أبو داود الطيالسي رضي الله عنه.
فإذا قلت: قال أبو داود الطيالسي، فهو بهذا الإسناد.
الجامع الكبير للترمذيأخبرنا به أجمع أبو الفدا إسماعيل بن علي بن عبيد الواعظ الموصلي وأبو جعفر عبيد الله بن أحمد بن علي بن السمين، وأخبرنا به ما عدا أبواب الطهارة الفقيه أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن مهران الشافعي، قالوا: أخبرنا أبو الفتح عبد الملك بن أبي القاسم بن أبي سهل الكروخي، قال: أخبرنا القاضي أبو عامر محمود بن القاسم بن محمد بن محمد الأزدي، وأبو نصر عبد العزيز بن محمد بن علي الترياقي، وأبو بكر عبد الصمد بن أبي الفضل الفورجي، قالوا: أخبرنا أبو محمد بن أبي الجراح الجراحي المروزي، أخبرنا أبو العباس المحبوبي، أخبرنا أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي رضي الله عنه.
سنن أبي داود السجستانيأخبرنا به أبو أحمد عبد الوهاب بن علي بن علي بن الأمين الصوفي الشيخ الصالح المعروف بابن سكينة رضي الله عنه، أخبرنا أبو غالب محمد بن الحسن المارودي، أخبرنا أبو علي بن أحمد التستري، أخبرنا أبو عمر القاسم بن جعفر الهاشمي، أخبرنا أبو علي محمد بن أحمد اللؤلؤي، أخبرنا أبو داود سليمان بن الأشعث السجستاني.
فإذا قلت: أخبرنا أبو أحمد بإسناده عن أبي داود، فهو بهذا الإسناد.
سنن أبي عبد الرحمن النسائيأخبرنا به أبو القاسم يعيش بن صدقة بن علي الفقيه الشافعي الضرير رضي الله عنه قال: أخبرنا أبو الحسن علي بن أحمد بن محمويه اليزدي، أخبرنا أبو محمد عبد الرحمن بن الحسن الدوني، أخبرنا أبو نصر أحمد بن الحسين الكسار، أخبرنا أبو بكر أحمد بن محمد السبتي، أخبرنا أبو عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي رضي الله عنه.
এর মধ্যে যা কিছু আছে যেখানে আবু ইয়াসির অথবা আব্দুল ওয়াহাব তাঁর সনদ সহকারে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: "আমার পিতা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন", তা এই সনদ অনুসারেই।
মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসিআমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন খতিব আবুল ফজল আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল কাহির আত-তুসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুতাররিজ আল-ফকিহ অনুমতিক্রমে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুয়াইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইসহাক আল-আসফাহানি এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইবরাহিম আল-জাম্মাল; তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে ফারিস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস ইবনে হাবিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)।
অতএব যখন আমি বলব: "আবু দাউদ আত-তায়ালিসি বলেছেন", তখন তা এই সনদের মাধ্যমেই।
তিরমিযীর আল-জামি আল-কাবিরআমাদের কাছে এই পুরো গ্রন্থটি বর্ণনা করেছেন আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে আলী ইবনে উবাইদ আল-ওয়ায়েজ আল-মাওসিলি এবং আবু জাফর উবাইদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আলী ইবনাস সামিন; আর পবিত্রতা অধ্যায়সমূহ ব্যতীত অবশিষ্টাংশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মিহরান আশ-শাফিয়ি; তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ আব্দুল মালিক ইবনে আবুল কাসিম ইবনে আবু সাহল আল-কুরুখি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু আমির মাহমুদ ইবনে আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কাসিম আল-আযদি, আবু নাসর আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আত-তিরায়াকি এবং আবু বকর আব্দুস সামাদ ইবনে আবুল ফজল আল-ফাওরাজি; তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ ইবনে আবুল জাররাহ আল-জাররাহি আল-মারওয়াযি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-মাহবুবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা আত-তিরমিযী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)।
সুনানে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানিআমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ আব্দুল ওয়াহাব ইবনে আলী ইবনে আলী ইবনুল আমিন আস-সুফি—যিনি ইবনে সাকিনাহ নামে পরিচিত নেককার শায়খ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আল-মাওয়ারুদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইবনে আহমদ আত-তুস্তারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আল-কাসিম ইবনে জাফর আল-হাশেমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-লুলুয়ি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি।
সুতরাং যখন আমি বলব: "আবু আহমদ তাঁর সনদ সহকারে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ থেকে", তা এই সনদ অনুসারেই।
সুনানে আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ীআমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবু আল-কাসিম ইয়ায়িশ ইবনে সাদাকা ইবনে আলী আল-ফকিহ আশ-শাফিয়ি আদ-দারির (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন); তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে মাহমুয়াইহ আল-ইয়াযদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে আল-হাসান আদ-দুনি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আহমদ ইবনে আল-হুসাইন আল-কাসসার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাবতি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٨)
فإذا قلت: أخبرنا القاسم أو يعيش بإسناده إلى عبد الرحمن، أو أحمد بن شعيب، فهو بهذا الإسناد.
مسند أبي يعلى الموصليأخبرنا به أبو الفضل المنصور بن أبي الحسن بن أبي عبد الله الطبري الفقيه المخزومي المعروف بالديني، أخبرنا أبو القاسم زاهر بن طاهر الشحامي، أخبرنا أبو سعيد محمد بن عبد الرحمن الكنجرودي، أخبرنا أبو عمرو بن حمدان، أخبرنا أبو يعلى أحمد بن علي بن المثنى الموصلي رضي الله عنه.
مغازي ابن إسحاقأخبرنا به أبو جعفر عبيد الله بن أحمد بن علي، أخبرنا أبو الفضل محمد بن ناصر بن علي، قال: أخبرنا أبو الحسين أحمد بن محمد بن النقور إجازة " ح " قال أبو جعفر: وأخبرنا أبو الحسن علي بن عساكر البطائحي، أخبرنا أبو بكر محمد بن الحسين بن علي المرزوقي، أخبرنا أبو الحسين بن النقور، أخبرنا أبو طاهر محمد بن عبد الرحمن المخلص، أخبرنا أبو الحسين رضوان بن أحمد الصيدلاني، أخبرنا أبو عمر أحمد بن عبد الجبار العطاردي، حدثنا يونس بن بكير، عن ابن إسحاق.
فإذا قلت في الكتاب بهذا الإسناد، فهو معروف.
الآحاد والمثاني لابن أبي عاصمأخبرنا به أبو الفرج يحيى بن محمود الثقفي إجازة أخبرنا عم جدي الرئيس أبو الفضل جعفر بن عبد الواحد بن محمد الثقفي قال: أخبرنا أبو القاسم عبد الرحمن الأصبهاني، أخبرنا أبو القاسم عبد الرحمن بن أبي بكر بن محمد بن أبي علي أحمد بن عبد الرحمن الذكواني، أخبرنا أبو بكر عبد الله بن محمد بن العتاب، أخبرنا القاضي أبو بكر أحمد بن عمرو بن أبي عاصم المصنف.
فكل ما في هذا الكتاب عن ابن أبي عاصم فهو بهذا الإسناد، وإذا كان بغيره ذكرته.
طبقات محدثي الموصلأخبرنا به أبو منصور بن مكارم بن أحمد بن سعد المؤدب الموصلي، أخبرنا أبو القاسم نصر بن محمد بن صفوان، أخبرنا أبو البركات سعد بن محمد بن إدريس والخطيب أبو الفضائل الحسن بن هبة الله، قالا: أخبرنا أبو الفرج محمد بن إدريس بن محمد إدريس قال:
যখন আমি বলি: কাসেম বা ইয়ায়িশ তাঁর সনদে আব্দুর রহমান বা আহমদ বিন শুআইব পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন, তখন তা এই সনদের মাধ্যমেই গণ্য হবে।
মুসনাদ আবু ইয়ালা আল-মাওসিলিআমাদের এটি জানিয়েছেন আবুল ফজল মানসুর বিন আবিল হাসান বিন আবি আব্দুল্লাহ আত-তাবারী আল-ফকিহ আল-মাখজুমি, যিনি আদ-দ্বীনি নামে পরিচিত। আমাদের জানিয়েছেন আবুল কাসেম জাহির বিন তাহির আশ-শাহামি। আমাদের জানিয়েছেন আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-কাঞ্জারুদি। আমাদের জানিয়েছেন আবু আমর বিন হামদান। আমাদের জানিয়েছেন আবু ইয়ালা আহমদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না আল-মাওসিলি (রাজিআল্লাহু আনহু)।
মাগাজি ইবনে ইসহাকআমাদের এটি জানিয়েছেন আবু জাফর উবাইদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আলী। আমাদের জানিয়েছেন আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন নাসির বিন আলী। তিনি বলেন: আমাদের ইজাজাত হিসেবে জানিয়েছেন আবুল হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আন-নাক্কুর। 'হা' (সনদ পরিবর্তন)। আবু জাফর বলেন: এবং আমাদের জানিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আসাকির আল-বাতাইহি। আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী আল-মারজুকি। আমাদের জানিয়েছেন আবু হুসাইন বিন আন-নাক্কুর। আমাদের জানিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-মুখলিস। আমাদের জানিয়েছেন আবু হুসাইন রিদওয়ান বিন আহমদ আস-সাইদালানি। আমাদের জানিয়েছেন আবু ওমর আহমদ বিন আব্দুল জাব্বার আল-আতারিদি। আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইউনুস বিন বুকাইর, ইবনে ইসহাক থেকে।
যখন আমি কিতাবে 'এই সনদের মাধ্যমে' বলব, তখন তা হবে সুপরিচিত।
ইবনে আবি আসিমের আল-আহাদ ওয়াল মাসানিআমাদের এটি ইজাজাত হিসেবে জানিয়েছেন আবুল ফারাজ ইয়াহইয়া বিন মাহমুদ আস-সাকাফি। আমাদের জানিয়েছেন আমার দাদার ভাই রাইস আবুল ফজল জাফর বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ আস-সাকাফি। তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবুল কাসেম আব্দুর রহমান আল-আসফাহানি। আমাদের জানিয়েছেন আবুল কাসেম আব্দুর রহমান বিন আবি বকর বিন মুহাম্মদ বিন আবি আলী আহমদ বিন আব্দুর রহমান আজ-জাকওয়ানি। আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আত্তাব। আমাদের জানিয়েছেন বিচারক আবু বকর আহমদ বিন আমর বিন আবি আসিম, যিনি এই গ্রন্থের রচয়িতা।
সুতরাং এই কিতাবে ইবনে আবি আসিম থেকে বর্ণিত যা কিছু আছে, তা এই সনদের মাধ্যমেই। আর যদি অন্য কোনো সনদে হয়, তবে আমি তা উল্লেখ করব।
তাবাকাতু মুহাদ্দিসি আল-মাওসিলআমাদের এটি জানিয়েছেন আবু মানসুর বিন মাকারিম বিন আহমদ বিন সাদ আল-মুয়াদ্দিব আল-মাওসিলি। আমাদের জানিয়েছেন আবুল কাসেম নাসর বিন মুহাম্মদ বিন সাফওয়ান। আমাদের জানিয়েছেন আবুল বারাকাত সাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইদরিস এবং খতিব আবুল ফাযায়িল আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবুল ফারাজ মুহাম্মদ বিন ইদরিস বিন মুহাম্মদ ইদরিস। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١٩)
أخبرنا أبو منصور المظفر بن محمد الطوسي، أخبرنا أبو زكريا يزيد بن محمد بن إياس بن القاسم الأزدي المصنف.
مسند المعافى بن عمرانأخبرنا به أبو منصور بن مكارم، أيضاً أخبرنا به أبو القاسم ابن صفوان، أخبرنا الخطيب أبو الحسن علي بن إبراهيم السراج، أخبرنا أبو طاهر هبة الله بن إبراهيم بن أنس، أخبرنا أبو الحسن علي بن عبيد الله بن طوق، أخبرنا أبو جابر زيد بن عبد العزيز بن حبان، حدثنا محمد بن عبد الله بن عمار، أخبرنا المعافى بن عمران الأزدي، رضي الله عنه.
فهذه الكتب التي كثر النقل منها، وما عداها فإنني أذكر إسنادي إليها لأنها لا تتكرر كثيراً، والله ولي التوفيق.
فصل نذكر فيه من يطلق عليه اسم الصحبةقال الإمام أبو بكر أحمد بن علي الحافظ بإسناده عن سعيد بن المسيب أنه قال: الصحابة لا نعدهم إلا من أقام مع رسول الله صلى الله عليه وسلم سنة أو سنتين وغزا معه غزوة أو غزوتين.
قال الواقدي: ورأينا أهل العلم يقولون: كل من رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد أدرك الحلم فأسلم، وعقل أمر الدين ورضيه، فهو عندنا ممن صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم ولو ساعة من نهار، ولكن أصحابه على طبقاتهم وتقدمهم في الإسلام.
وقال أحمد بن حنبل: أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كل من صحبه شهراً أو يوماً أو ساعة أو رآه.
وقال محمد بن إسماعيل البخاري: من صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم أو رآه من المسلمين فهو من أصحابه.
وقال القاضي أبو بكر محمد بن الطيب: لا خلاف بين أهل اللغة في أن الصحابي مشتق من الصحبة وأنه ليس مشتقاً على قدر مخصوص منها؛ بل هو جار على كل من صحب قليلاً كان أو كثيراً، وكذلك جميع الأسماء المشتقة من الأفعال ولذلك يقال: صحبت فلاناً حولاً وشهراً ويوماً وساعة، فيوقع اسم الصحبة لقليل ما يقع عليه منها وكثيره، قال: ومع هذا فقد تقرر للأمة عرف، أنهم لا يستعملون هذه التسمية إلا فيمن كثرت صحبته، ولا يجيزون ذلك إلا فيمن كثرت صحبته، لا على من لقيه ساعة أو مشى معه خطاً، أو سمع منه حديثاً؛ فوجب لذلك أن لا يجري هذا الاسم إلا على من هذه حاله، ومع هذا فإن خبر الثقة الأمين عنه مقبول ومعمول به، وإن لم تطل صحبته ولا سمع منه إلا حديثاً واحداً، ولو رد قوله أنه صحابي لرد خبره عن الرسول.
আবু মানসুর আল-মুজাফফর বিন মুহাম্মদ আত-তুসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাকারিয়া ইয়াজিদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াস বিন আল-কাসিম আল-আজদি আল-মুসান্নিফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
মুসনাদে মুআফা বিন ইমরানএটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মানসুর বিন মাকারিম, এছাড়াও এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-কাসিম ইবনে সাফওয়ান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-খাতিব আবু আল-হাসান আলি বিন ইব্রাহিম আস-সাররাজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির হিবাতুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন আনাস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলি বিন উবাইদুল্লাহ বিন তওক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাবির জাইদ বিন আব্দুল আজিজ বিন হাব্বান, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুআফা বিন ইমরান আল-আজদি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
এগুলোই সেই কিতাবসমূহ যেখান থেকে অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি নেওয়া হয়েছে, আর এগুলোর বাইরে অন্য যা কিছু রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি আমার সনদ উল্লেখ করছি কারণ সেগুলো খুব বেশি পুনরাবৃত্তি হয় না; আর আল্লাহই তাওফিক দানকারী।
পরিচ্ছেদ: সাহচর্য (সাহাবী) নাম যাদের উপর প্রযোজ্য হয় সে বিষয়ে আলোচনাইমাম আবু বকর আহমদ বিন আলি আল-হাফিজ তাঁর সনদে সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আমরা কেবল তাদেরকেই সাহাবী হিসেবে গণ্য করি যারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এক বা দুই বছর অবস্থান করেছেন এবং তাঁর সাথে এক বা দুটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
আল-ওয়াকিদি বলেন: আমরা ইলম অন্বেষণকারীদের বলতে দেখেছি: যারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন এবং সাবালক হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, দ্বীনের বিষয়াবলি বুঝেছেন এবং তা পছন্দ করেছেন, আমাদের কাছে তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তা দিনের কোনো এক মুহূর্তের জন্য হয়। তবে তাঁর সাহাবীদের মধ্যে স্তরভেদ এবং ইসলাম গ্রহণে অগ্রগণ্যতা রয়েছে।
আহমদ বিন হাম্বল বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবী হলেন তারা যারা তাঁর সাথে এক মাস, এক দিন বা এক মুহূর্ত সাহচর্য পেয়েছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন।
মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি বলেন: মুসলিমদের মধ্যে যারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্য পেয়েছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন, তারা তাঁর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত।
কাজী আবু বকর মুহাম্মদ বিন আত-তয়্যিব বলেন: ভাষাবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, 'সাহাবী' শব্দটি 'সাহচর্য' (সুহবাত) থেকে নির্গত এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণের সাহচর্যের উপর ভিত্তি করে গঠিত নয়; বরং অল্প বা অধিক যে কোনো সাহচর্য লাভকারীর ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। একইভাবে ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন সকল বিশেষ্যের ক্ষেত্রেও এমনটি হয়। একারণেই বলা হয়: আমি অমুকের সাথে এক বছর, এক মাস, একদিন বা এক মুহূর্ত সাহচর্য কাটিয়েছি। ফলে সাহচর্য শব্দটি অল্প বা অধিক সব ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। তিনি আরও বলেন: তবুও উম্মতের মাঝে একটি রীতি প্রচলিত হয়ে গেছে যে, তারা এই নামটি কেবল তাদের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করেন যাদের সাহচর্য দীর্ঘ ছিল, এবং তারা এটি কেবল দীর্ঘ সাহচর্য লাভকারীদের জন্যই অনুমোদন করেন; কেবল এক মুহূর্তের জন্য সাক্ষাৎকারী, কয়েক কদম সাথে চলা বা একটি হাদিস শ্রবণকারীর ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করেন না। একারণে এই নামটি কেবল তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক যাদের অবস্থা এমন (অর্থাৎ দীর্ঘ সাহচর্য)। এতদসত্ত্বেও, তাঁর পক্ষ থেকে একজন বিশ্বস্ত ও আমানতদার ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণযোগ্য এবং আমলযোগ্য, যদিও তাঁর সাহচর্য দীর্ঘ না হয় কিংবা তিনি একটি মাত্র হাদিস শুনে থাকেন। যদি তাঁকে সাহাবী হিসেবে অস্বীকার করা হয়, তবে রাসূলের পক্ষ থেকে তাঁর বর্ণনাকেও অস্বীকার করা হবে।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٠)
وقال الإمام أبو حامد الغزالي: لا يطلق اسم الصحبة إلا على من صحبه، ثم يكفي في الاسم من حيث الوضع الصحبة ولو ساعة، ولكن العرف يخصصه بمن كثرت صحبته.
قلت: وأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم على ما شرطوه كثيرون؛ فإن رسول الله شهد حنيناً ومعه اثنا عشر ألفاً سوى الأتباع والنساء، وجاء إليه هوازن مسلمين فاستنفذوا حريمهم وأولادهم، وترك مكة مملوءة ناساً، وكذلك المدينة أيضاً، وكل من اجتاز به من قبائل العرب كانوا مسلمين؛ فهؤلاء كلهم صحبة، وقد شهد معه تبوك من الخلق الكثير ما لا يحصيهم ديوان، وكذلك حجة الوداع، وكلهم له صحبة، ولم يذكروا إلا هذا القدر، مع أن كثيراً منهم ليست له صحبة، وقد ذكر الشخص الواحد في عدة تراجم، ولكنهم معذورون، فإن من لم يرو ولا يأتي ذكره في رواية كيف السبيل إلى معرفته!.
وهذا حين فراغنا من الفصول المقدمة على الكتاب، ثم نخوض غمرته فنقول: نبدأ بذكر سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم تبركاً باسمه، وتشريفاً للكتاب بذكره المبارك، ولأن معرفة المصحوب ينبغي أن تقدم على معرفة الصاحب، وإن كان أظهر من أن يعرف.
لقد ظهرت فما تخفى على أحد
… إلا على أحد لا يعرف القمرا
لكن الأكثر يعرفونه جملة فارغة عن معرفة شيء من أحواله، ونحن نذكر جملاً من تفاصيل أموره على سبيل الاختصار، فنقول وبالله التوفيق وهو حسبنا ونعم الوكيل:
ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালী বলেন: সাহচর্য বা 'সোহবত' শব্দটি কেবল তার জন্যই প্রযোজ্য যে কারো সাহচর্য লাভ করেছে। শব্দটির আভিধানিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে অল্প সময়ের সাহচর্যই যথেষ্ট, যদিও প্রচলিত ব্যবহারে সাহচর্য বলতে তাদেরই বোঝানো হয় যাদের সাহচর্য দীর্ঘস্থায়ী ছিল।
আমি বলি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, তাদের নির্ধারিত শর্তানুসারে সংখ্যায় অনেক। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের যুদ্ধে উপস্থিত হয়েছিলেন এমতাবস্থায় যে, তাঁর সাথে অনুসারী এবং নারীদের ব্যতিরেকে বারো হাজার লোক ছিল। এছাড়া হাওয়াযিন গোত্র মুসলিম হয়ে তাঁর কাছে এসেছিল এবং তাদের নারী ও সন্তানদের মুক্ত করে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি মক্কাকে জনপূর্ণ অবস্থায় রেখে এসেছিলেন, তদ্রূপ মদীনাকেও। আর আরব গোত্রসমূহের মধ্য থেকে যারাই তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছিল তারা সকলেই মুসলিম ছিল। সুতরাং এরা সবাই সাহাবী। তাঁর সাথে তাবুকের যুদ্ধে এত অধিক সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিল যাদের কোনো দপ্তরে গণনা করা সম্ভব নয়। বিদায় হজও তদ্রূপ। তাদের সকলেরই সাহচর্য লাভের সম্মান রয়েছে। অথচ তারা (গ্রন্থকারগণ) কেবল এই সামান্য সংখ্যার কথাই উল্লেখ করেছেন, যদিও তাদের অনেকেরই দীর্ঘকালীন সাহচর্য ছিল না। এমনকি কখনও একজন ব্যক্তিকে একাধিক জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তারা এ ক্ষেত্রে অপারগ, কারণ যে ব্যক্তি কোনো বর্ণনা করেননি বা কোনো বর্ণনায় যার উল্লেখ আসেনি, তাকে জানার উপায় কী!
বইটির মুখবন্ধের পরিচ্ছেদগুলো সমাপ্ত করার সময় এখন এটি। এরপর আমরা মূল বিষয়ে প্রবেশ করব। আমরা বলি: আমরা আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি তাঁর নামের বরকত লাভের উদ্দেশ্যে এবং তাঁর বরকতময় স্মরণের মাধ্যমে এই কিতাবকে সম্মানিত করার জন্য। তাছাড়া যাঁর সাহচর্য গ্রহণ করা হয়েছে (রাসূল) তাঁর পরিচয়, সাহচর্য গ্রহণকারীর (সাহাবী) পরিচয়ের পূর্বেই হওয়া উচিত, যদিও তাঁর সত্তা পরিচিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার চেয়েও অধিক প্রকাশমান।
আপনি এতোটাই প্রকাশিত যে কারো কাছেই গোপন নন
… কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে চন্দ্রকে চেনে না।
কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তাঁকে কেবল ভাসাভাসাভাবে চেনে, যা তাঁর অবস্থা ও ঘটনাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞানশূন্য। আমরা সংক্ষেপে তাঁর জীবনবৃত্তান্তের কিছু বিস্তারিত বিষয় উল্লেখ করব। আমরা বলছি—আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি, তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক:
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢١)
محمد رسول الله صلى الله عليه وسلمهو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان أبو القاسم، سيد ولد آدم صلى الله عليه وسلم.
فأما ما بعد عدنان من آبائه إلى إسماعيل بن إبراهيم الخليل - صلى الله عليهما وسلم - ففيه اختلاف كثير في العدد والأسماء، لا ينضبط ولا يحصل منه غرض فتركناه لذلك، ومضر وربيعة هم صريح ولد إسماعيل باتفاق جميع أهل النسب، وما سوى ذلك فقد اختلفوا فيه اختلافاً كثيراً، وأم رسول الله صلى الله عليه وسلم آمنة بنت وهب بن عبد مناف بن زهرة بن كلاب بن مرة القرشية الزهرية، تجتمع هي وعبد الله في كلاب.
خرج عبد المطلب بابنه عبد الله إلى وهب بن عبد مناف، فزوجه ابنته آمنة، وقيل كانت آمنة في حجر عمها وهيب بن عبد مناف، فأتاه عبد المطلب، فخطب إليه ابنته هالة بنت وهيب لنفسه، وخطب على ابنه عبد الله ابنة أخيه آمنة بنت وهب، فتزوجا في مجلس واحد فولدت هالة لعبد المطلب حمزة.
أخبرنا عبيد الله بن أحمد بن علي بن جعفر بإسناده عن يونس بن بكير، عن ابن إسحاق، قال: وكانت آمنة بنت وهب تحدث أنها أتيت حين حملت برسول الله صلى الله عليه وسلم فقيل لها: إنك حملت بسيد هذه الأمة فسميه محمداً .. فلما وضعته أرسلت إلى جده عبد المطلب تقول: قد ولد لك الليلة ولد فانظر إليه، فلما جاءها أخبرته بالذي رأت.
وكان أبوه عبد الله قد توفي وأمه حامل به، وقيل: توفي وللنبي صلى الله عليه وسلم ثمانية وعشرون شهراً وقيل: كان له سبعة أشهر، والأول أثبت، وكانت وفاته بالمدينة عند أخواله بني عدي بن النجار، وكان أبوه عبد المطلب بعثه إلى المدينة يمتار تمراً، فمات، وقيل: بل أرسله إلى الشام في تجاره فعاد من غزة مريضاً فتوفي بالمدينة، وكان عمره خمساً وعشرين سنة ويقال: كان عمره ثمانياً وعشرين سنة.
وإنما قيل لبني عدي أخواله لأن أم عبد المطلب سلمى بنت زيد، وقيل بنت عمرو بن زيد، من بني عدي بن النجار.
আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কা'ব ইবনে লুওয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুযাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান আবু কাসিম, আদম সন্তানদের সরদার (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)।
আদনান থেকে তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে ইবরাহীম খলীলুল্লাহর (তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) পুত্র ইসমাঈল পর্যন্ত যা রয়েছে, তাতে সংখ্যা এবং নামের ব্যাপারে অনেক মতভেদ আছে, যা সুনির্দিষ্ট নয় এবং তা থেকে কোনো উদ্দেশ্যও হাসিল হয় না, তাই আমরা তা বর্জন করেছি। বংশধারা বিশেষজ্ঞদের সর্বসম্মতিক্রমে মুদার এবং রাবীআহ হলেন ইসমাঈলের সরাসরি বংশধর। এছাড়া অন্য বিষয়ে তারা অনেক মতভেদ করেছেন। আর আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর মাতা হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে যুহরাহ ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ আল-কুরাশিয়া আয-যুহরিয়া। তিনি এবং আব্দুল্লাহ কিলাব-এর বংশে গিয়ে মিলিত হন।
আব্দুল মুত্তালিব তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহকে নিয়ে ওয়াহাব ইবনে আব্দ মানাফের কাছে যান এবং তাঁর কন্যা আমিনার সাথে তাঁর বিয়ে দেন। বলা হয় যে, আমিনা তাঁর চাচা উহাইব ইবনে আব্দ মানাফের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তখন আব্দুল মুত্তালিব তাঁর কাছে আসেন এবং নিজের জন্য তাঁর কন্যা হালা বিনতে উহাইবকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, আর তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর জন্য তাঁর ভাতিজি আমিনা বিনতে ওয়াহাবকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ফলে এক মজলিসেই তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। অতঃপর হালা আব্দুল মুত্তালিবের জন্য হামযাকে জন্ম দেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আলী ইবনে জাফর তাঁর সনদসহ ইউনুস ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমিনা বিনতে ওয়াহাব বর্ণনা করতেন যে, যখন তিনি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-কে গর্ভে ধারণ করেছিলেন, তখন তাঁকে বলা হয়েছিল: নিশ্চয়ই তুমি এই উম্মতের সরদারকে গর্ভে ধারণ করেছ, তাই তাঁর নাম রেখো মুহাম্মাদ... যখন তিনি তাঁকে জন্ম দিলেন, তখন তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের কাছে এই বলে সংবাদ পাঠালেন: আজ রাতে আপনার একটি নাতি ভূমিষ্ঠ হয়েছে, তাকে এসে দেখে যান। তিনি যখন তাঁর কাছে এলেন, তখন আমিনা তাঁকে যা দেখেছিলেন তা জানালেন।
তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেছিলেন যখন তাঁর মাতা গর্ভবতী ছিলেন। মতান্তরে বলা হয়: নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর বয়স যখন আটাশ মাস তখন তিনি মারা যান। আবার কেউ বলেন: তাঁর বয়স তখন সাত মাস ছিল। তবে প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল মদীনায় তাঁর মাতুল গোষ্ঠী বনী আদি ইবনে নাজ্জারের কাছে। তাঁর পিতা আব্দুল্লাহকে তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব খেজুর সংগ্রহের জন্য মদীনায় পাঠিয়েছিলেন, সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আবার কেউ বলেন: বরং তিনি তাঁকে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় পাঠিয়েছিলেন, ফেরার পথে গাজা থেকে অসুস্থ হয়ে তিনি মদীনায় ফিরে আসেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর। কেউ কেউ বলেন: তাঁর বয়স ছিল আটাশ বছর।
বনী আদি ইবনে নাজ্জারকে তাঁর মাতুল বলা হয় একারণে যে, আব্দুল মুত্তালিবের মা সালমা বিনতে যায়েদ (মতান্তরে বিনতে আমর ইবনে যায়েদ) ছিলেন বনী আদি ইবনে নাজ্জার গোত্রের।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٢)
وكان عبد المطلب قد أرسل ابنه الزبير بن عبد المطلب إلى أخيه عبد الله بالمدينة فشهد وفاته، ودفن في دار النابغة.
وكان عبد الله والزبير وأبو طالب إخوة لأب وأم؛ أمهم فاطمة بنت عمرو بن عائذ بن عمران بن مخزوم.
وورث النبي صلى الله عليه وسلم من أبيه أم أيمن وخمسة أجمال وقطيع غنم، وسيفاً مأثوراً وورقاً، وكانت أم أيمن تحضنه.
قال: أخبرنا ابن إسحاق قال: حدثني المطلب بن عبد الله بن قيس عن أبيه عن جده قيس بن مخرمة قال: ولدت أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل كنالدتين قيل: وكان مولد رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الاثنين لعشر ليال خلون من ربيع الأول، ويقال لليلتين خلتا منه، وقيل لثمان خلون منه عام الفيل، وذلك لأربعين سنة مضت من ملك كسرى أنوشروان بن قباذ، وكان ملك أنوشروان سبعاً وأربعين سنة وثمانية أشهر.
ولما ولد ختنه جده عبد المطلب في اليوم السابع، وقيل: ولد مختوناً مسروراً، وقد استقصينا ذكر آبائه وأسمائهم وأحوالهم في الكامل في التاريخ فلا نطول بذكره هنا؛ فإننا نقصد ذكر الجمل لا التفصيل.
ولما ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم التمسوا له الرضعاء، فاسترضع له امرأة من بني سعد بن بكر بن هوازن بن منصور، يقال لها: حليمة بنت أبي ذؤيب واسمه الحارث، فليطلب خبرها من ترجمتها، ومن ترجمة أخته من الرضاعة: الشيماء، فقد ذكرناهما.
قال ابن إسحاق: قالت حليمة: " فلم نزل يرينا الله البركة ونتعرفها تعني برسول الله صلى الله عليه وسلم حتى بلغ سنتين، فقد منا به على أمه ونحن أضن شيء به مما رأينا فيه من البركة؛ فلما رأته قلنا لها: دعينا نرجع به هذه السنة الأخرى فإنا نخشى عليه وباء مكة، فسرحته معنا، فأقمنا به شهرين أو ثلاثة؛ فبينا هو خلف بيوتنا مع أخ له إذ جاء أخوه يشتد، فقال: أخي القرشي قد جاء رجلان فأضجعاه وشقا بطنه، فخرجت أنا وأبوه نشتد نحوه، فنجده قائماً ممتقعاً لونه، فاعتنقه أبوه وقال: أي بني، ما شأنك؟ فقال: جاءني رجلان عليهما ثياب بياض فشقا بطني فاستخرجا منه شيئاً ثم رداه فقال أبوه: لقد خشيت أن يكون قد أصيب، فلنرده إلى أهله قبل أن يظهر به ما نتخوف، قالت: فاحتملناه؛ فقالت أمه: ما ردكما به فقد كنتما عليه حريصين؟ فقلنا: إن الله قد أدى عنا وقضينا الذي علينا، وإنا نخشى عليه الأحداث، فقالت: أصدقاني شأنكما، فأخبرناها خبره، فقالت: أخشيتما
আব্দুল মুত্তালিব তাঁর পুত্র যুবাইর ইবনে আব্দুল মুত্তালিবকে মদিনায় তাঁর ভাই আব্দুল্লাহর কাছে পাঠিয়েছিলেন। তিনি সেখানে তাঁর মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেন এবং তাঁকে দারুন নাবিগায় দাফন করা হয়।
আব্দুল্লাহ, যুবাইর এবং আবু তালিব ছিলেন সহোদর ভাই; তাঁদের মাতা ছিলেন ফাতিমা বিনতে আমর ইবনে আইয ইবনে ইমরান ইবনে মাখযুম।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে উম্মে আয়মান, পাঁচটি উট, এক পাল ছাগল, 'মা'সুর' নামক একটি তলোয়ার এবং কিছু রৌপ্য মুদ্রা লাভ করেন; আর উম্মে আয়মান তাঁকে লালন-পালন করতেন।
বর্ণনাকারী বলেন: ইবনে ইসহাক আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা কায়স ইবনে মাখরামা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তিবর্ষে যমজ সন্তানের ন্যায় জন্মগ্রহণ করেছি। বলা হয়ে থাকে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসের দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার জন্মগ্রহণ করেন। আবার বলা হয়, দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, আর কেউ বলেন হস্তিবর্ষের আট দিন অতিবাহিত হওয়ার পর। এটি ছিল পারস্য সম্রাট কিসরা আনুশিরওয়ান ইবনে কুবাদ-এর রাজত্বকালের চল্লিশতম বছর। আনুশিরওয়ানের রাজত্বকাল ছিল সাতচল্লিশ বছর আট মাস।
যখন তিনি জন্মগ্রহণ করেন, তখন সপ্তম দিনে তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর খতনা করান। কেউ বলেন: তিনি খতনাকৃত এবং নাভিকাটা অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আমরা 'আল-কামিল ফিত তারিখ' গ্রন্থে তাঁর পূর্বপুরুষদের নাম ও অবস্থা বিস্তারিত আলোচনা করেছি, তাই এখানে তা দীর্ঘায়িত করছি না; কারণ আমাদের উদ্দেশ্য হলো সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা, বিস্তারিত বর্ণনা নয়।
যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেন, তখন তারা তাঁর জন্য দুধমাতা অনুসন্ধান করেন। অতঃপর বনু সাদ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াজিন ইবনে মনসুর গোত্রের এক মহিলার কাছে তাঁর দুধপানের ব্যবস্থা করা হয়, যাঁকে হালিমা বিনতে আবি যুআইব বলা হয়, যাঁর পিতার নাম ছিল হারিস। তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এবং তাঁর দুগ্ধ-বোন শায়মার জীবনী সম্পর্কে আমাদের আলোচনা সংশ্লিষ্ট জীবনী থেকে জেনে নেওয়া যেতে পারে, কারণ আমরা ইতিপূর্বেই তা উল্লেখ করেছি।
ইবনে ইসহাক বলেন: হালিমা বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কারণে আল্লাহ আমাদের বরকত দেখাতে থাকেন এবং আমরা তা অনুভব করতে থাকি, এমনকি তিনি দুই বছর বয়সে উপনীত হলেন। অতঃপর আমরা তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে আসলাম, অথচ আমরা তাঁর মধ্যে বরকত প্রত্যক্ষ করার কারণে তাঁকে নিজেদের কাছে রাখতেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলাম। যখন তাঁর মাতা তাঁকে দেখলেন, তখন আমরা তাঁকে বললাম: ‘আমাদেরকে তাঁকে আরও এক বছর রাখতে দিন, কারণ আমরা তাঁর ব্যাপারে মক্কার মহামারীর আশঙ্কা করছি।’ ফলে তিনি তাঁকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দিলেন। আমরা তাঁকে নিয়ে দুই বা তিন মাস অবস্থান করলাম। একদিন তিনি আমাদের ঘরের পেছনে তাঁর এক ভাইয়ের সাথে ছিলেন, এমন সময় তাঁর ভাই দৌড়ে এসে বলল: ‘আমার কুরাইশ ভাইটির কাছে দুজন লোক এসে তাঁকে শুইয়ে দিয়ে তাঁর পেট চিরে ফেলেছে।’ তখন আমি এবং তাঁর পিতা দৌড়ে তাঁর দিকে গেলাম এবং তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পেলাম, তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর পিতা তাঁকে জড়িয়ে ধরে বললেন: ‘হে বৎস, তোমার কী হয়েছে?’ তিনি বললেন: ‘সাদা পোশাক পরিহিত দুজন লোক আমার কাছে এসে আমার পেট চিরে ফেলল এবং তা থেকে কিছু একটা বের করে আবার তা যথাস্থানে ফিরিয়ে দিল।’ তখন তাঁর পিতা বললেন: ‘আমার ভয় হচ্ছে যে শিশুটি কোনো বিপদে পড়েছে, সুতরাং চলো তাঁকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আসি, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু প্রকাশ পাওয়ার আগেই তা করা যায়।’ হালিমা বলেন: অতঃপর আমরা তাঁকে বহন করে নিয়ে আসলাম। তাঁর মা বললেন: ‘তোমরা তাঁকে কেন ফিরিয়ে আনলে, অথচ তোমরা তো তাঁকে কাছে রাখার জন্য খুব আগ্রহী ছিলে?’ আমরা বললাম: ‘আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আমরা আমাদের কর্তব্য শেষ করেছি। তাছাড়া আমরা তাঁর কোনো দুর্ঘটনার ভয় করছি।’ তিনি বললেন: ‘আমাকে সত্য কথা বলো, আসলে কী হয়েছে?’ তখন আমরা তাঁকে পুরো ঘটনা জানালাম। তিনি বললেন: ‘তোমরা কি ভয় পেয়েছ...’
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٣)
عليه الشيطان؟ كلا، والله، إني رأيت حين حملت به أنه خرج مني نور أضاءت له قصور الشام، فدعاه عنكما ".
وأرضعته أيضاً ثويبة مولاة أبي لهب أياماً قبل حليمة بلبن ابن لها يقال له مسروح، وأرضعت قبله حمزة عمه، وأرضعت بعده أبا سلمة بن عبد الأسد، ولما هاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يبعث إلى ثويبة بصلة وكسوة حتى توفيت منصرفه من خيبر سنة سبع، فسأل عن ابنها مسروح فقيل: توفي قبلها، فقال: هل ترك من قرابة؟ فقيل: لم يبق له أحد.
ذكر وفاة أمه وجده وكفالة عمه أبي طالب لهوالإسناد عن ابن إسحاق قال: حدثني عبد الله بن أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم، قال: قدمت آمنة بنت وهب أم رسول الله صلى الله عليه وسلم برسول الله صلى الله عليه وسلم على أخواله بني عدي بن النجار المدينة، ثم رجعت فماتت بالأبواء ورسول الله صلى الله عليه وسلم ابن ست سنين، وقيل: ماتت بمكة ودفنت في شعب أبي دب، والأول أصح.
قال ابن إسحاق: وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم مع جده عبد المطلب قال: فحدثني العباس بن عبد الله بن معبد عن بعض أهله قال: كان يوضع لعبد المطلب فراش في ظل الكعبة، وكان لا يجلس عليه أحد من بنيه إجلالاً له، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأتي حتى يجلس عليه، فيذهب أعمامه يؤخرونه، فيقول عبد المطلب: دعوا ابني، ويمسح على ظهره، ويقول: أن لابني هذا لشأناً، فتوفي عبد المطلب، والنبي ابن ثمان سنين، وكان قد كف بصره قبل موته.
وكان عبد المطلب أول من خضب بالوسمة، ولما حضره الموت جمع بنيه وأوصالهم برسول الله صلى الله عليه وسلم، فاقترع الزبير وأبو طالب أيهما يكفل رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأصابت القرعة أبا طالب فأخذه إليه، وقيل: بل اختاره رسول الله صلى الله عليه وسلم على الزبير، وكان ألطف عميه به، وقيل: أوصى عبد المطلب أبا طالب به، وقيل: بل كفله الزبير حتى مات، ثم كفله أبو طالب بعده، وهذا غلط، لأن الزبير شهد حلف الفضول بعد موت عبد المطلب، ولرسول الله صلى الله عليه وسلم يومئذ نيف وعشرون سنة.
وأجمع العلماء أن رسول الله صلى الله عليه وسلم شخص مع عمه أبي طالب إلى الشام بعد موت عبد المطلب بأقل من خمس سنين؛ فهذا يدل على أن أبا طالب كفله؛ ثم إن أبا طالب سار إلى الشام وأخذ معه رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان عمره اثنتي عشرة سنة وقيل: تسع سنين والأول أكثر، فرآه بحيرا الراهب، ورأى علائم النبوة، وكانوا يتوقعون ظهور نبي من قريش، فقال لعمه: ما هذا منك؟ قال: ابني، قال: لا ينبغي أن يكون أبوه حياً، قال: هو ابن أخي، قال: إني لأحبسه الذي بشر به عيسى؛ فإن زمانه قد قرب فاحتفظ به، فرده إلى مكة.
শয়তান কি তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তার করবে? কখনোই না, আল্লাহর শপথ! আমি যখন তাঁকে গর্ভে ধারণ করেছিলাম, তখন দেখেছিলাম যে আমার থেকে একটি নূর নির্গত হয়েছে যার মাধ্যমে শামের প্রাসাদগুলো আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং তোমরা তাঁর ব্যাপারে এ জাতীয় চিন্তা ছেড়ে দাও।
হালিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর আগে আবু লাহাবের মুক্তদাসী সুওয়াইবাও তাঁকে কয়েকদিন দুধ পান করিয়েছিলেন। তিনি তাঁর মাসরুহ নামক পুত্রের দুধের সাথে তাঁকে দুধ পান করান। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগে তাঁর চাচা হামজাকে এবং তাঁর পরে আবু সালামা ইবনে আব্দুল আসাদকে দুধ পান করিয়েছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করলেন, তখন তিনি সুওয়াইবার কাছে উপহার ও পোশাক পাঠাতেন, অবশেষে সপ্তম হিজরিতে খায়বার থেকে ফেরার পথে সুওয়াইবা ইন্তেকাল করেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ) তাঁর পুত্র মাসরুহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, জানানো হলো যে সে তাঁর আগেই মারা গেছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: সে কি কোনো আত্মীয় রেখে গেছে? বলা হলো: তার কেউ অবশিষ্ট নেই।
তাঁর মাতা ও দাদার মৃত্যু এবং তাঁর চাচা আবু তালিব কর্তৃক তাঁর লালন-পালনের বিবরণইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত সনদ অনুযায়ী তিনি বলেন: আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা আমিনা বিনতে ওয়াহাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে মদিনায় তাঁর মামার বংশ বনু আদি ইবনে নাজ্জারের কাছে গিয়েছিলেন। এরপর ফেরার পথে তিনি আবওয়া নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ছিল ছয় বছর। কেউ কেউ বলেন: তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন এবং শু’আব আবু দুবে তাঁকে দাফন করা হয়েছে, তবে প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ।
ইবনে ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবের সাথে থাকতেন। তিনি বলেন: আব্বাস ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাবাদ তাঁর পরিবারের কোনো এক সদস্যের সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাবার ছায়ায় আবদুল মুত্তালিবের জন্য একটি বিছানা পাতা হতো। তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে তাঁর পুত্রদের কেউ সেখানে বসতেন না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে সেখানে বসে পড়তেন। তখন তাঁর চাচারা তাঁকে সরিয়ে দিতে চাইলে আবদুল মুত্তালিব বলতেন: "আমার পুত্রকে ছেড়ে দাও।" এরপর তিনি তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে দিতেন এবং বলতেন: "নিশ্চয়ই আমার এই পুত্রের এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।" অবশেষে আবদুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন, তখন নবীর বয়স ছিল আট বছর। মৃত্যুর আগে তিনি (আবদুল মুত্তালিব) দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন।
আবদুল মুত্তালিবই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি ওয়াসমা (এক প্রকার লতা) দিয়ে খিযাব (চুলে রঙ) লাগিয়েছিলেন। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন তিনি তাঁর পুত্রদের একত্র করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাপারে তাঁদের অসিয়ত করলেন। তখন জুবায়ের এবং আবু তালিবের মধ্যে লটারি করা হলো যে, কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব নেবেন। লটারিতে আবু তালিবের নাম উঠল এবং তিনি তাঁকে নিজের জিম্মায় নিয়ে নিলেন। কেউ কেউ বলেন: বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই জুবায়েরের পরিবর্তে আবু তালিবকে পছন্দ করেছিলেন, আর তিনি তাঁর দুই চাচার মধ্যে অধিক দয়ালু ছিলেন। কেউ বলেন: আবদুল মুত্তালিব আবু তালিবকেই তাঁর দায়িত্ব প্রদানের অসিয়ত করেছিলেন। আবার কেউ কেউ বলেন: জুবায়ের মারা যাওয়া পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং এরপর আবু তালিব তাঁর দায়িত্ব নেন। তবে এটি ভুল ধারণা, কারণ জুবায়ের আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পর সংঘটিত 'হিলফুল ফুজুল'-এ উপস্থিত ছিলেন, আর তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ছিল বিশ বছরের কিছু বেশি।
উলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পাঁচ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে শামের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন; এটি প্রমাণ করে যে আবু তালিবই তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এরপর আবু তালিব যখন শামের পথে সফর করলেন, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সাথে নিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল বারো বছর, কেউ বলেন নয় বছর, তবে প্রথম মতটিই অধিক প্রসিদ্ধ। তখন বাহিরা পাদ্রী তাঁকে দেখতে পান এবং তাঁর মধ্যে নবুয়তের নিদর্শনসমূহ লক্ষ্য করেন। তারা কুরাইশদের মধ্য থেকে একজন নবীর আবির্ভাবের প্রতীক্ষায় ছিল। তিনি তাঁর চাচাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "এই বালকটি আপনার কে হয়?" তিনি বললেন: "আমার পুত্র।" পাদ্রী বললেন: "তাঁর পিতা জীবিত থাকা বাঞ্ছনীয় নয়।" তখন তিনি বললেন: "সে আমার ভাতিজা।" পাদ্রী বললেন: "আমি তাঁকে সেই ব্যক্তি হিসেবেই মনে করছি যার সুসংবাদ ঈসা (আলাইহিস সালাম) দিয়েছিলেন; নিশ্চয়ই তাঁর সময় অতি নিকটে, সুতরাং তাঁকে সযত্নে রক্ষা করুন।" এরপর তিনি তাঁকে মক্কায় ফেরত পাঠিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٤)
ثم إن رسول الله صلى الله عليه وسلم شهد مع عمومته حرب الفجار، يوم نخلة، وهو من أعظم أيام الفجار. والفجار حرب كانت بين قريش ومعها كنانة، وبين قيس وقد ذكرناه في الكامل، وهو من أعظم أيام العرب، وكان يناولهم النبل ويحفظ متاعهم، وكان عمره يومئذ نحو عشرين سنة أو ما يقاربها.
وقيل: إنه شهد يوم شمطة أيضاً وهو من أعظم أيام الفجار وكانت الهزيمة فيه على قريش وكنانة، قال الزهري: لم يشهد رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا اليوم، ولو شهده لم تنهزم قريش، وهذا ليس بشيء؛ فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد انهزم أصحابه عنه يوم أحد، وكثر القتل فيهم.
ذكر تزوج رسول الله خديجة وذكر أولادهقال: وأخبرنا يونس عن ابن إسحاق قال: وكانت خديجة بنت خويلد امرأة ذات شرف ومال، تستأجر له الرجال، أو تضاربهم بشيء تجعله لهم منه، فلما بلغها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بلغها من صدق حديثه، وعظم أمانته، وكرم أخلاقه، بعثت إليه، فعرضت عليه أن يخرج في مالها إلى الشام مع غلام لها يقال له: ميسرة، فقبله منها رسول الله صلى الله عليه وسلم وخرج في مالها إلى الشام، فرآه راهب اسمه نسطور، فأخبر ميسرة أنه نبي هذه الأمة، ثم باع رسول الله صلى الله عليه وسلم واشترى ما أراد، ثم أقبل قافلاً، فلما قدم مكة على خديجة بمالها باعته فأضعف أو قريباً، وحدثها ميسرة عن قول الراهب، فأرسلت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم أني قد رغبت فيك، لقرابتك مني، وشرفك وأمانتك، وحسن خلقك، وصدق حديثك، وعرضه عليه نفسها، فخطبها وتزوجها على اثنتي عشرة أوقية ونش الأوقية وأربعون درهماً. وقد ذكرنا ذلك في ترجمة خديجة رضي الله عنها.
وولد له من الولد بناته كلهن، وأولاده الذكور كلهم من خديجة إلا إبراهيم؛ فأما البنات فزينب ورقية وأم كلثوم وفاطمة رضي الله عنهن وأما الذكور فالقاسم، وبه كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يكنى، والطاهر والطيب وقيل: القاسم والطاهر، وعبد الله وهو الطيب؛ لأنه ولد في الإسلام، وقيل: القاسم وعبد الله وهو الطاهر والطيب، فمات القاسم بمكة وهو أول من مات من ولده، ثم عبد الله قاله الزبير بن بكار. وقد ذكرت في خديجة وفي بناته رضي الله عنهن أكثر من هذا.
ولما تزوج خديجة كان عمره خمساً وعشرين سنة، وكانت هي ابنة أربعين سنة، وقيل: غير ذلك.
ذكر بناء الكعبة ووضع رسول الله الحجر الأسودقال ابن إسحاق: كانت الكعبة رضماً فوق القامة، فأرادت قريش أن يهدموها ويرفعوها ويسقفوها، وكانوا يهابون هدمها، فاتفق أن نفراً من قريش سرقوا كنز الكعبة، وكان يكون في جوف الكعبة، وكان البحر قد ألقى سفينة إلى جدة لرجل من الروم، فتحطمت، فأخذوا خشبها
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচাদের সাথে ফিজারের যুদ্ধে (হারবুল ফিজার) অংশগ্রহণ করেন, যা ছিল নাখলা দিবসে, এবং এটি ছিল ফিজারের যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। ফিজার ছিল কুরাইশ ও তাদের মিত্র কিনানা এবং কায়েস গোত্রের মধ্যকার যুদ্ধ, যা আমরা ‘আল-কামিল’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। এটি ছিল আরবদের অন্যতম প্রধান যুদ্ধের দিন। তিনি (রাসূলুল্লাহ) তাদের তীর এগিয়ে দিতেন এবং তাদের মালপত্র পাহারা দিতেন। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় বিশ বছর বা এর কাছাকাছি।
কেউ কেউ বলেন, তিনি শামতা দিবসেও উপস্থিত ছিলেন, যা ছিল ফিজারের যুদ্ধের অন্যতম বড় দিন এবং তাতে কুরাইশ ও কিনানা পরাজিত হয়েছিল। যুহরী বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দিনে উপস্থিত ছিলেন না, যদি তিনি উপস্থিত থাকতেন তবে কুরাইশ পরাজিত হতো না। তবে এই বক্তব্যটি সঠিক নয়; কারণ উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ তাঁর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরাজিত হয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে প্রচুর সংখ্যক শাহাদাত বরণ করেছিলেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদিজাকে বিবাহ এবং তাঁর সন্তানদের বিবরণতিনি বলেন: ইউনুস ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: খুওয়াইলিদ কন্যা খাদিজা ছিলেন উচ্চ মর্যাদা ও সম্পদের অধিকারী নারী। তিনি পুরুষদের পারিশ্রমিক দিয়ে নিযুক্ত করতেন অথবা লভ্যাংশের বিনিময়ে মুদারাবা হিসেবে ব্যবসার জন্য পাঠাতেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা এবং উচ্চমানের চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্বের কথা তাঁর কাছে পৌঁছাল, তিনি তাঁর কাছে সংবাদ পাঠালেন। তিনি প্রস্তাব দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ যেন তাঁর ব্যবসায়িক পণ্য নিয়ে সিরিয়ায় যান এবং তাঁর সাথে ‘মায়সারা’ নামক এক গোলামও থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি গ্রহণ করলেন এবং তাঁর পণ্য নিয়ে সিরিয়ায় গেলেন। সেখানে ‘নাস্তুর’ নামক একজন পাদ্রী তাঁকে দেখেন এবং মায়সারাকে জানান যে, তিনি এই উম্মতের নবী। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেনা-বেচা শেষ করে মক্কায় ফিরে আসেন। যখন তিনি মক্কায় খাদিজার কাছে তাঁর পণ্য নিয়ে পৌঁছালেন, খাদিজা তা দ্বিগুণ বা প্রায় সমপরিমাণ লাভে বিক্রি করলেন। মায়সারা পাদ্রীর কথা তাঁর কাছে বর্ণনা করলেন। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, আপনার সাথে আমার আত্মীয়তা, আপনার মর্যাদা, আমানতদারিতা, সুন্দর চরিত্র এবং সত্যবাদিতার কারণে আমি আপনার প্রতি আগ্রহী। তিনি নিজের পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করেন এবং মহরানা হিসেবে বারো উকিয়া ও এক নাশ প্রদান করেন; এক নাশ মানে হলো চল্লিশ দিরহাম। আমরা খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর জীবনীতে এ বিষয়টি উল্লেখ করেছি।
তাঁর সব কন্যা এবং ইব্রাহীম ছাড়া সব পুত্রই খাদিজার গর্ভে জন্ম নিয়েছেন। কন্যারা হলেন যয়নব, রুকাইয়াহ, উম্মে কুলসুম এবং ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহুন)। পুত্ররা হলেন কাসেম—যার নামে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনিয়াত (উপনাম) গ্রহণ করেছিলেন, তাহির এবং তায়্যিব। কেউ বলেন: কাসেম ও তাহির, এবং আব্দুল্লাহ-ই হলেন তায়্যিব, কারণ তিনি ইসলাম আগমনের পর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আবার কেউ বলেন: কাসেম ও আব্দুল্লাহ, আর তিনিই হলেন তাহির ও তায়্যিব। মক্কায় কাসেম ইন্তেকাল করেন এবং সন্তানদের মধ্যে তিনিই প্রথম মারা যান, এরপর আব্দুল্লাহ—যুবাইর ইবনে বাক্কার এমনটি বলেছেন। খাদিজা ও তাঁর কন্যাদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুন) জীবনীতে আমি এর চেয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করেছি।
যখন তিনি খাদিজাকে বিবাহ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর এবং খাদিজার বয়স ছিল চল্লিশ বছর। কেউ কেউ ভিন্ন মতও দিয়েছেন।
কাবা নির্মাণ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করার বিবরণইবনে ইসহাক বলেন: কাবা ছিল মানুষের উচ্চতার চেয়ে সামান্য বেশি উচ্চতাসম্পন্ন পাথরের গাঁথুনি। কুরাইশরা তা ভেঙে আরও উঁচু করতে এবং ছাদ তৈরি করতে চাইল। তবে তারা এটি ভাঙতে ভয় পাচ্ছিল। ইত্যবসরে কুরাইশদের একটি দল কাবার ভেতর থাকা সম্পদ চুরি করে ফেলল। সেই সময় জেদ্দা উপকূলে সমুদ্র এক রোমান ব্যক্তির একটি জাহাজ আছড়ে ফেলেছিল, যা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তারা তখন এর কাঠগুলো সংগ্রহ করে।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٥)
فأعدوه لسقفها، فاجتمعت قريش على هدمها، وذلك بعد الفجار بخمس عشرة سنة، ورسول الله صلى الله عليه وسلم إذ ذاك ابن خمس وثلاثين سنة، فلما أجمعوا على هدمها قام أبو وهب بن عمرو بن عائذ بن عمران بن مخزوم، وهو جد سعيد بن المسيب بن حزن بن أبي وهب، فتناول حجراً من الكعبة فوثب من يده فرجع إلى موضعه، فقال: يا معشر قريش، لا تدخلن في بنيانها من كسبكم إلا طيباً، ولا تدخلوا فيها مهر بغي، ولا رباً ولا مظلمة.
وقيل: إن الوليد بن المغير قال هذا.
فهدموها واقتسمت قريش عمارة البيت، فكان الباب لبني عبد مناف وبني زهرة، وكان ما بين الركن الأسود واليماني لبني مخزوم وتيم وقبائل من قريش، وكان ظهرها لسهم وجمح، وكان شق الحجر لبني عبد الدار وبني أسد، وبني عدي بن كعب؛ فبنوا حتى بلغ البناء موضع الركن، فكانت كل قبيلة تريد أن ترفعه حتى تجاذبوا وتخالفوا وأعدوا للقتال، فبقوا أربع ليال أو خمس ليال، فقال أبو أمية المخزومي: يا معشر قريش، اجعلوا بينكم أول من يدخل من باب المسجد، فلما توافقوا على ذلك ورضوا به، دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا: هذا الأمين قد رضينا به، فلما انتهى إليهم أخبروه الخبر، فقال: هلموا ثوباً، فأتوه به، فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم الركن فيه بيده، ثم قال: لتأخذ كل قبيلة بناحية من الثوب، ثم ارفعوا جميعاً، فرفعوه حتى إذا بلغوا به موضعه، وضعه رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده، ثم بنى عليه.
وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسمى في الجاهلية: الأمين، قبل أن يوحى إليه.
وقيل: كان سبب بنائها أن السيل ملأ الوادي، ودخل الكعبة فتصدعت، فبنتها قريش.
وقيل: إن الذي أشار بأول من يدخل أبو حذيفة بن المغيرة، وكانت هذه فضيلة لرسول الله صلى الله عليه وسلم على سائر قريش، ومما قدمه الله قبل المبعث من الكرامة.
ذكر المبعثقالوا: بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وله أربعون سنة، وذلك في ملك أبرويز بن هرمز بن كسرى أنوشروان ملك الفرس.
وقال ابن المسيب: بعثه الله، عز وجل، وله ثلاث وأربعون سنة، فأقام بمكة عشراً وبالمدينة عشراً.
وقال ابن إسحاق: بعثه الله وله أربعون سنة، فأقام بمكة ثلاث عشرة سنة، وبالمدينة عشراً.
وقيل: إنه كتم أمره ثلاث سنين، فكان يدعو مستخفياً إلى أن أنزل الله تعالى: " وأنذر عشيرتك الأقربين " فأظهر الدعوة.
তারা কাবার ছাদের জন্য তা প্রস্তুত করল, এরপর কুরাইশগণ তা ভেঙে পুনর্নির্মাণের ব্যাপারে একমত হলো। এটি ছিল ফিজার যুদ্ধের পনেরো বছর পরের ঘটনা। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ বছর। যখন তারা এটি ভেঙে ফেলার ব্যাপারে একমত হলো, তখন আবু ওয়াহাব ইবনে আমর ইবনে আয়িয ইবনে ইমরান ইবনে মাখজুম (যিনি সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব ইবনে হাযন ইবনে আবু ওয়াহাবের দাদা ছিলেন) উঠে দাঁড়ালেন। তিনি কাবার একটি পাথর স্পর্শ করলে সেটি তার হাত থেকে লাফিয়ে বেরিয়ে পুনরায় নিজ স্থানে ফিরে গেল। তখন তিনি বললেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়! এর নির্মাণকাজে তোমাদের উপার্জিত কেবল পবিত্র অর্থই ব্যয় করো। এতে কোনো ব্যভিচারিণীর পারিশ্রমিক, সুদ কিংবা কারো ওপর জুলুম করে উপার্জিত অর্থ প্রবেশ করাবে না।
বর্ণিত আছে যে, ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরা এই কথা বলেছিলেন।
অতঃপর তারা তা ভেঙে ফেলল এবং কুরাইশগণ ঘরের নির্মাণের কাজ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল। দরজার অংশটি ছিল বনু আবদ মানাফ এবং বনু জুহরার জন্য। রুকন আসওয়াদ (কালো পাথর) এবং রুকন ইয়ামানির মধ্যবর্তী অংশটি ছিল বনু মাখজুম, তাইম এবং কুরাইশের কিছু গোত্রের জন্য। এর পেছনের অংশটি ছিল সাহাম ও জুমাহ গোত্রের জন্য। আর হাতিমের দিকের অংশটি ছিল বনু আবদুদ দার, বনু আসাদ এবং বনু আদি ইবনে কাবের জন্য। তারা নির্মাণ কাজ চালিয়ে গেল, যখন নির্মাণ কাজ রুকন (হাজরে আসওয়াদ) স্থাপনের স্থানে পৌঁছাল, তখন প্রতিটি গোত্রই সেটি স্থাপন করতে চাইল। এমনকি তারা বিবাদ ও মতভেদে জড়িয়ে পড়ল এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নিল। এভাবে চার বা পাঁচ রাত অতিবাহিত হলো। তখন আবু উমাইয়া আল-মাখজুমি বললেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি প্রথম মসজিদের দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, তাকেই তোমাদের বিচারক মানো। তারা এ বিষয়ে একমত হলো এবং সন্তুষ্ট হলো। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন। তারা বলল: এই তো আল-امین (বিশ্বস্ত), আমরা তার ফয়সালায় সন্তুষ্ট। তিনি যখন তাদের কাছে পৌঁছালেন, তারা তাকে বিষয়টি অবহিত করল। তিনি বললেন: আমার কাছে একটি চাদর নিয়ে এসো। তারা সেটি নিয়ে এলো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে রুকনটি (পাথরটি) তার ওপর রাখলেন। এরপর বললেন: প্রতিটি গোত্র চাদরের এক এক প্রান্ত ধরুক, তারপর সকলে মিলে এটি উপরে ওঠাও। তারা তা ওঠাল। যখন তারা পাথরটিকে তার নির্ধারিত স্থানে নিয়ে পৌঁছাল, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে সেটি যথা স্থানে স্থাপন করলেন এবং এরপর এর ওপর গাঁথুনি দিলেন।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহী নাযিল হওয়ার পূর্বে জাহেলিয়াতের যুগেও 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) নামে অভিহিত হতেন।
বলা হয়ে থাকে যে, কাবার পুনর্নির্মাণের কারণ ছিল এই যে, প্রবল বন্যায় উপত্যকা প্লাবিত হয়েছিল এবং কাবাঘরে পানি প্রবেশ করে এতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। তাই কুরাইশগণ এটি পুনর্নির্মাণ করে।
অন্য একটি মতে, প্রথম প্রবেশকারী ব্যক্তিকে বিচারক মানার পরামর্শ আবু হুজাইফা ইবনুল মুগিরা দিয়েছিলেন। এটি ছিল কুরাইশদের ওপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক শ্রেষ্ঠত্ব এবং নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত অন্যতম সম্মান।
নবুয়ত প্রাপ্তির বিবরণঐতিহাসিকগণ বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নবুয়ত লাভ করেন, তখন তার বয়স ছিল চল্লিশ বছর। এটি ছিল পারস্য সম্রাট হরমুজের পুত্র কিসরা আনুশিরওয়ানের পুত্র আবরওয়েজের রাজত্বকালে।
ইবনুল মুসায়্যিব বলেন: আল্লাহ তাআলা তাকে তেতাল্লিশ বছর বয়সে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেন। তিনি মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছিলেন।
ইবনে ইসহাক বলেন: আল্লাহ তাকে চল্লিশ বছর বয়সে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেন। তিনি মক্কায় তেরো বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছিলেন।
বর্ণিত আছে যে, তিনি তিন বছর পর্যন্ত তার বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন এবং অত্যন্ত গোপনে দাওয়াত দিচ্ছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন: "আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।" এরপর তিনি প্রকাশ্যে দাওয়াত শুরু করেন।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٦)
قال أبو عمر: بعثه الله، عز وجل، نبياً يوم الاثنين لثمان من ربيع الأول سنة إحدى وأربعين من عام الفيل.
أخبرنا أبو جعفر عبيد الله بن أحمد بإسناده عن يونس عن ابن إسحاق، حدثني عبد الملك بن عبد الله بن أبي سفيان بن جارية الثقفي - وكان واعية - عن بعض أهل العلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حين أراد الله كرامته وابتدأه بالنبوة؛ فكان لا يمر بحجر ولا شجر إلا سلم عليه وسمع منه، فيلتفت رسول الله صلى الله عليه وسلم خلفه، وعن يمينه وشماله، فلا يرى إلا الشجر وما حوله من الحجارة، وهي تقول: السلام عليك يا رسول الله.
وأخبرنا غير واحد بإسنادهم عن محمد بن إسماعيل، أخبرنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عائشة أنها قالت: " أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم؛ كان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح، ثم حبب إليه الخلاء؛ فكان يخلو بغار حراء فيتحنث فيه - وهو التعبد - الليالي ذوات العدد، حتى جاءه الحق، وهو في غار حراء، فجاءه الملك فقال: اقرأ، فقال: ما أنا بقارئ، قال: فأخذني فغطني حتى بلغ مني الجهد، ثم أرسلني، فقال: اقرأ، فقلت: ما أنا بقارئ قال: فأخذني فغطني الثانية حتى بلغ مني الجهد، ثم أرسلني فقال: اقرأ، قلت: ما أنا بقارئ، فأخذني فغطني الثالثة، ثم أرسلني فقال: " اقرأ باسم ربك الذي خلق، خلق الإنسان من علق، اقرأ وربك الأكرم " فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجف فؤاده، فدخل على خديجة، وذكر الحديث في ذهابها إلى ورقة بن نوفل.
وروي عن جابر بإسناد صحيح: أن أول ما نزل من القرآن " يا أيها المدثر ".
أخبرنا أبو جعفر بإسناده عن يونس، عن ابن إسحاق قال: فابتدئ رسول الله صلى الله عليه وسلم بالتنزيل يوم الجمعة في رمضان بقول الله، عز وجل، " شهر رمضان الذي أنزل فيه القرآن " إلى آخر الآية. وقال تعالى: " وما أنزلنا على عبدنا يوم الفرقان يوم التقى الجمعان " وذلك ملتقى رسول الله صلى الله عليه وسلم والمشركين يوم بدر صبيحة الجمعة لسبع عشرة مضت من رمضان.
وقال يونس عن بشر بن أبي حفص الكندي الدمشقي قال: حدثني مكحول أن رسول
আবু উমর বলেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তাকে হাতি বছর বা আমুল ফীলের একচল্লিশতম বর্ষে রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ সোমবার নবি হিসেবে প্রেরণ করেন।
আবু জাফর উবায়দুল্লাহ বিন আহমাদ তার সনদে ইউনুস থেকে এবং তিনি ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু সুফিয়ান বিন জারিয়া আস-সাকাফি—যিনি একজন প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন—তিনি জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেন যে, যখন আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্মানিত করতে চাইলেন এবং নবুওয়াতের সূচনা করলেন, তখন তিনি কোনো পাথর বা বৃক্ষের পাশ দিয়ে গেলেই তা তাকে সালাম দিত এবং তিনি তা শুনতে পেতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পেছনে, ডানে এবং বামে তাকাতেন, কিন্তু বৃক্ষ এবং চারপাশের পাথর ছাড়া আর কিছুই দেখতেন না। সেগুলো বলত: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
একাধিক বর্ণনাকারী তাদের সনদে মুহাম্মদ বিন ইসমাইল থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন বুকাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ওহীর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা সুবহে সাদেকের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে প্রকাশ পেত। এরপর তার কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে ওঠে; তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে ইবাদত করতেন—যা ছিল বেশ কয়েক রাতব্যাপী এক নিরবচ্ছিন্ন সাধনা। অবশেষে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় তার কাছে পরম সত্য (ওহী) নিয়ে আগমন ঘটল। ফেরেশতা এসে তাকে বললেন: পড়ুন। তিনি বললেন: আমি তো পাঠ করতে জানি না। তিনি (রাসূল) বলেন: তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং সজোরে চাপ দিলেন, এমনকি আমার সহ্যশক্তির শেষ সীমায় পৌঁছে গেল। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: পড়ুন। আমি বললাম: আমি তো পাঠ করতে জানি না। তিনি পুনরায় আমাকে ধরে দ্বিতীয়বার সজোরে চাপ দিলেন, এমনকি আমার সহ্যশক্তির শেষ সীমায় পৌঁছে গেল। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: পড়ুন। আমি বললাম: আমি তো পাঠ করতে জানি না। অতঃপর তিনি তৃতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে সজোরে চাপ দিলেন এবং ছেড়ে দিয়ে বললেন: 'পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন এবং আপনার রব অতি মহিমান্বিত।' এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আতঙ্কিত হৃদয়ে ফিরে এলেন। তিনি খাদিজার নিকট প্রবেশ করলেন এবং ওরাকা বিন নওফলের নিকট যাওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করলেন।"
জাবির (রা.) থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে: কুরআনের যা কিছু প্রথম নাজিল হয়েছিল তা হলো "হে চাদরাবৃত ব্যক্তি"।
আবু জাফর তার সনদে ইউনুস থেকে এবং তিনি ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: রমজান মাসের এক জুমুআ বারে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: "রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে"—এই আয়াতের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ওহী অবতরণ শুরু হয়। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "এবং যা আমি আমার বান্দার ওপর ফয়সালার দিনে নাজিল করেছিলাম, যেদিন দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল।" আর তা ছিল বদরের দিন জুমুআর সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুশরিকদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা, যা ছিল রমজানের সতেরো তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর।
ইউনুস বিশর বিন আবু হাফস আল-কিন্দি আদ-দিমাশকি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মাকহুল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল...
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٧)
الله صلى الله عليه وسلم قال لبلال: " لا يغادرنك صيام يوم الاثنين، فإني ولدت يوم الاثنين، وأوحي إلي يوم الاثنين، وهاجرت يوم الاثنين ".
ثم إن جبريل عليه السلام علم رسول الله صلى الله عليه وسلم الوضوء، والصلاة ركعتين، فأتى خديجة فأخبرها، فتوضأت وصلت ركعتين معه، وقيل: كانت الصلاة الضحى والعصر.
ثم دعا الناس إلى الإسلام، وقد ذكرنا أول من أسلم في أبي بكر، وعلي، وزيد بن حارثة، واستجاب له نفر من الناس سراً حتى كثروا فظهر أمرهم، والوجوه من كفار قريش غير منكرين لما يقول، وكان إذا مر بهم يقولون: " إن محمداً يكلم من السماء " فلم يزالوا كذلك، حتى أظهر عيب آلهتهم، وأخبرهم أن آباءهم ماتوا على الكفر والضلال، وأنهم في النار، فعادوه وأبغضوه، وآذوه، وكان أصحابه إذا صلوا انطلقوا إلى الأودية وصلوا سراً، ولما أظهرت قريش عداوته حدب عليه أبو طالب عمه ونصره ومنعه، ثم إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما خاف كفار قريش، اختفى هو ومن معه في دار الأرقم بن أبي الأرقم المخزومي إلى أن أسلم عمر فخرجوا، ووثبت قريش على من فيها من المستضعفين فعذبوهم، وذكرنا ذلك في أسمائهم مثل: بلال، وعمار، وصهيب وغيرهم، ثم إن المسلمين هاجروا إلى الحبشة هجرتين على ما نذكره، إن شاء الله تعالى، وأرادت قريش قتل رسول الله صلى الله عليه وسلم وأن يترك أبو طالب بينهم وبينه، فلم يفعل؛ فكتبوا صحيفة. على أن يقاطعوا بني هاشم وبني المطلب ومن أسلم معهم ولا يناكحوهم ولا يبايعونهم ولا يكلموهم ولا يجلسوا إليهم؛ على ما نذكره، إن شاء الله تعالى.
ذكر وفاة خديجة وأبي طالب وذهاب رسول الله إلى الطائف وعودهقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " مازالت قريش كاعة عني حتى مات عمي أبو طالب ". وفي السنة العاشرة أول ذي القعدة وقيل: النصف من شوال توفي أبو طالب وكان عمره بضعاً وثمانين سنة، ثم توفيت بعده خديجة بثلاثة أيام، وقيل بشهر، وقيل: كان بينهما شهر وخمسة أيام، وقيل: خمسون يوماً ودفنها رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحجون، ولم تكن الصلاة على الجنائز يومئذ، وقيل: إنها ماتت قبل أبي طالب وكان عمرها خمساً وستين سنة، وكان مقامها مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ما
আল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বিলালকে বললেন: "সোমবারের রোজা যেন তোমাকে ছেড়ে না যায়, কারণ আমি সোমবার জন্মগ্রহণ করেছি, সোমবার আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে এবং সোমবার আমি হিজরত করেছি।"
অতঃপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে অজু এবং দুই রাকাত সালাত শিক্ষা দিলেন। তারপর তিনি খাদিজার নিকট আসলেন এবং তাঁকে জানালেন। ফলে তিনিও অজু করলেন এবং তাঁর সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। আর বলা হয়েছে যে: সেই সালাত ছিল চাশত ও আসর।
এরপর তিনি মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিলেন। আমরা আবু বকর, আলী এবং যায়েদ বিন হারিসার বর্ণনায় প্রথমে কে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তা উল্লেখ করেছি। একদল মানুষ গোপনে তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন, এমনকি তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং তাদের বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে গেল। কুরাইশ কাফেরদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁর কথাকে অস্বীকার করত না; তিনি যখন তাদের পাশ দিয়ে যেতেন তখন তারা বলত: "নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ আসমান থেকে কথোপকথন করেন।" তারা এই অবস্থায় ছিল, যতক্ষণ না তিনি তাদের উপাস্যদের ত্রুটিগুলো প্রকাশ করলেন এবং তাদের জানালেন যে তাদের পিতৃপুরুষরা কুফর ও গোমরাহীর ওপর মৃত্যুবরণ করেছে এবং তারা জাহান্নামে রয়েছে। তখন তারা তাঁর সাথে শত্রুতা শুরু করল, তাঁকে ঘৃণা করল এবং কষ্ট দিল। তাঁর সাহাবীগণ যখন সালাত আদায় করতেন, তখন তারা উপত্যকাসমূহে চলে যেতেন এবং গোপনে সালাত আদায় করতেন। যখন কুরাইশরা তাঁর সাথে শত্রুতা প্রকাশ করল, তখন তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁর প্রতি সদয় হলেন, তাঁকে সাহায্য করলেন এবং তাঁকে রক্ষা করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কুরাইশ কাফেরদের ভয় করলেন, তখন তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা আরকাম বিন আবিল আরকাম আল-মাখজুমীর ঘরে আত্মগোপন করলেন, যতক্ষণ না উমর ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তারা বের হলেন। কুরাইশরা সেখানে থাকা দুর্বল মুমিনদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাদের নির্যাতন করল। আমরা তাদের নামের বিবরণে তা উল্লেখ করেছি, যেমন: বিলাল, আম্মার, সুহাইব ও অন্যান্যরা। এরপর মুসলিমরা হাবশায় দুইবার হিজরত করেন, যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা উল্লেখ করব। কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হত্যা করতে চাইল এবং চাইল যেন আবু তালিব তাদের ও তাঁর মাঝখান থেকে সরে দাঁড়ান, কিন্তু তিনি তা করেননি। ফলে তারা একটি অঙ্গীকারনামা লিখল এই মর্মে যে, তারা বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব এবং যারা তাদের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছে তাদের বয়কট করবে; তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না, তাদের সাথে ক্রয়-বিক্রয় করবে না, তাদের সাথে কথা বলবে না এবং তাদের সাথে বসবে না; যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা বর্ণনা করব।
খাদিজা ও আবু তালিবের মৃত্যু এবং রাসূলুল্লাহর তায়েফ গমন ও ফিরে আসার বর্ণনারাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার চাচা আবু তালিবের মৃত্যু পর্যন্ত কুরাইশরা আমার ক্ষতি করা থেকে বিরত ছিল।" নবুওয়াতের দশম বর্ষের জিলকদ মাসের শুরুতে, মতান্তরে শাওয়ালের মাঝামাঝি সময়ে আবু তালিব মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বয়স ছিল আশির সামান্য বেশি। এরপর তাঁর তিন দিন পর খাদিজা মৃত্যুবরণ করেন। কেউ বলেছেন এক মাস পর, কেউ বলেছেন তাঁদের উভয়ের মৃত্যুর মাঝে এক মাস পাঁচ দিনের ব্যবধান ছিল, আবার কেউ বলেছেন পঞ্চাশ দিন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে 'হাজুন' নামক স্থানে দাফন করেন। সে সময় জানাযার সালাত প্রচলিত ছিল না। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি আবু তালিবের আগেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং তাঁর বয়স ছিল পঁয়ষট্টি বছর। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাঁর অবস্থান ছিল...
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٨)
تزوجها أربعاً وعشرين سنة وستة أشهر، وكان موتها قبل الهجرة بثلاث سنين وثلاثة أشهر ونصف، وقيل: قبل الهجرة بسنة، والله أعلم.
قال عروة: ما ماتت خديجة إلا بعد الإسراء، وبعد أن صلت الفريضة مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولما اشتد بأبي طالب مرضه دعا بني عبد المطلب فقال: إنكم لن تزالوا بخير ما سمعتم قول محمد واتبعتم أمره؛ فاتبعوه وصدقوه ترشدوا.
أخبرنا عبيد الله بن أحمد بإسناده عن يونس بن بكير عن ابن إسحاق قال: ثم إن خديجة وأبا طالب ماتا في عام واحد؛ فتتابعت على رسول الله صلى الله عليه وسلم المصائب، وكانت خديجة وزير صدق على الإسلام، وكان يسكن إليها، ولم يتزوج عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ماتت.
ولما توفيا خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الطائف لثلاث بقين من شوال سنة عشر من المبعث، ومعه مولاه زيد بن حارثة، يدعوهم إلى الإسلام؛ فآذته ثقيف وسمع منهم ما يكره، وأغروا به سفاءهم وذكرنا القصة في عداس وغيره، ولما عاد من الطائف أرسل إلى المطعم بن عدي يطلب منه أن يجيره، فأجاره فدخل المسجد معه، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يشكرها له، وكان دخوله من الطائف لثلاث وعشرين ليلة خلت من ذي القعدة.
ذكر الإسراءأسري برسول الله صلى الله عليه وسلم من المسجد الحرام إلى المسجد الأقصى، وقد اختلفوا في المكان الذي أسري به منه فقيل: المسجد. وقيل: كان في بيته، وقيل: كان في بيت أم هانئ ومن قال هذين قال: المدينة كلها مسجد.
واختلفوا في الوقت الذي أسري به، فروى عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أنه أسري به ليلة سبع من ربيع الأول قبل الهجرة بسنة، وقال ابن عباس وأنس: أسري به قبل الهجرة بسنة. وقال السدي: قبل الهجرة بستة أشهر. وقال الواقدي: أسري به لسبع عشرة من رمضان قبل الهجرة بثمانية عشر شهراً، وقيل: أسري به في رجب.
أخبرنا أبو الفرج محمد بن عبد الرحمن بن أبي العز الواسطي، والحسين بن صالح بن فناخسرو التكريتي وغيرهما، قالوا بإسنادهم عن محمد بن إسماعيل قال: حدثنا هدبة بن خالد، حدثنا همام بن يحيى، حدثنا قتادة، عن أنس بن مالك، عن مالك بن صعصعة أن نبي الله صلى الله عليه وسلم حدثهم عن ليلة أسري به قال: " بينما أن في الحطيم - وربما قال في الحجر - مضطجعاً إذ أتاني آت فقد قال، وسمعته يقول: فشق ما بين هذه إلى هذه فقلت للجارود - وهو إلى جنبي - ما يعني؟ قال من ثغرة نحره إلى شعرته فاستخرج قلبي، ثم أتيت بطست من ذهب مملوءة إيماناً فغسل قلبي، ثم حشي ثم أعيد، ثم أتيت بدابة دون البغل وفوق الحمار أبيض، فقال له الجارود:
তিনি তাঁকে চব্বিশ বছর ছয় মাস বিবাহিত অবস্থায় রেখেছিলেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল হিজরতের তিন বছর তিন মাস পনেরো দিন আগে; কেউ কেউ বলেছেন: হিজরতের এক বছর আগে। আল্লাহই ভালো জানেন।
উরওয়াহ বলেন: খাদিজা কেবল ইসরা-এর পরেই ইন্তেকাল করেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ফরজ সালাত আদায় করার পরেই মারা যান। যখন আবু তালিবের অসুস্থতা তীব্র হলো, তিনি বনু আবদিল মুত্তালিবকে ডাকলেন এবং বললেন: "তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ মুহাম্মদের কথা শুনবে এবং তার নির্দেশ অনুসরণ করবে; অতএব তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করো, তবেই তোমরা সঠিক পথ পাবে।"
উবায়দুল্লাহ ইবনে আহমদ তাঁর সনদে ইউনুস ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেন: অতঃপর খাদিজা ও আবু তালিব একই বছরে ইন্তেকাল করেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর একের পর এক বিপদ আসতে থাকে। খাদিজা ইসলামের জন্য একজন একনিষ্ঠ সহায়িকা ছিলেন, রাসূলুল্লাহ তাঁর কাছে প্রশান্তি পেতেন এবং খাদিজার মৃত্যু পর্যন্ত তিনি আর কোনো বিবাহ করেননি।
যখন তাঁরা উভয়ে ইন্তেকাল করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়তের দশম বর্ষের শাওয়াল মাসের তিন দিন বাকি থাকতে তায়েফের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর আযাদকৃত দাস যায়েদ ইবনে হারিসাহ। তিনি তাঁদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন। কিন্তু সাকিফ গোত্র তাঁকে কষ্ট দিল এবং তিনি তাঁদের কাছ থেকে অপ্রীতিকর আচরণ পেলেন। তারা তাদের নির্বোধদের তাঁর পেছনে লেলিয়ে দিয়েছিল। আমরা আদ্দাস ও অন্যদের বর্ণনায় এই কাহিনী উল্লেখ করেছি। যখন তিনি তায়েফ থেকে ফিরে এলেন, তিনি মুত’ইম ইবনে আদির কাছে খবর পাঠালেন যেন তিনি তাঁকে আশ্রয় দেন। তিনি তাঁকে আশ্রয় দিলেন এবং তিনি তাঁর সাথে মসজিদে প্রবেশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই উপকারের জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন। তায়েফ থেকে তাঁর এই প্রবেশ ছিল জিলকদ মাসের তেইশ তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর।
ইসরা বা নৈশ ভ্রমণের বিবরণরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসায় নৈশ ভ্রমণ করানো হয়েছিল। যে স্থান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সে সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেছেন: মসজিদ থেকে। কেউ বলেছেন: তাঁর নিজ ঘর থেকে। আবার কেউ বলেছেন: উম্মে হানির ঘর থেকে। যারা শেষোক্ত দুটি মত পোষণ করেন, তাঁরা বলেন যে, পুরো শহরটিই মসজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইসরার সময় সম্পর্কেও তাঁরা মতভেদ করেছেন। আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হিজরতের এক বছর আগে রবিউল আউয়াল মাসের সাত তারিখ রাতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ইবনে আব্বাস ও আনাস বলেন: হিজরতের এক বছর আগে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সুদ্দি বলেন: হিজরতের ছয় মাস আগে। ওয়াকিদি বলেন: হিজরতের আঠারো মাস আগে রমজান মাসের সতেরো তারিখে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কেউ কেউ বলেছেন: রজব মাসে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
আবু আল-ফারাজ মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবিল ইয আল-ওয়াসিতি, হুসাইন ইবনে সালেহ ইবনে ফানাখাসরু আত-তিকরিতি এবং অন্যরা তাঁদের সনদে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হুদবাহ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি মালিক ইবনে সা’সা’আহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের কাছে সেই রাত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে রাতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন: "আমি যখন হাতিমে—সম্ভবত তিনি হিজর (কা’বার অংশ) বলেছেন—শুয়েছিলাম, তখন এক আগন্তুক আমার কাছে এলেন এবং তিনি বিদীর্ণ করলেন; আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: তিনি এখান থেকে এখান পর্যন্ত চিরে ফেললেন। আমি আমার পাশে থাকা জারুদকে জিজ্ঞেস করলাম, এর অর্থ কী? তিনি বললেন: কণ্ঠনালীর উপরিভাগ থেকে তলপেটের পশম গজানোর স্থান পর্যন্ত। অতঃপর তিনি আমার হৃৎপিণ্ড বের করলেন। এরপর ঈমানে ভরপুর একটি সোনার পাত্র আনা হলো এবং আমার হৃৎপিণ্ড ধৌত করা হলো। এরপর তাতে ঈমান পূর্ণ করে পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করা হলো। অতঃপর আমার কাছে খচ্চরের চেয়ে ছোট এবং গাধার চেয়ে বড় একটি সাদা রঙের পশু আনা হলো।" জারুদ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন:
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢٩)
هو البراق يا أبا حمزة؟ قال: نعم، يضع خطوه عند أقصى طرفه، فحملت عليه، فانطلق بي جبريل حتى أتى السماء الدنيا، فاستفتح قيل: من هذا؟ قال: جبريل قيل: ومن معك؟ قال: محمد - قيل: أو قد أرسل إليه؟ قال: نعم، قيل: مرحباً، فنعم المجيء جاء ".
وذكر الحديث في صعوده إلى السماء السابعة إلى سدرة المنتهى قال: " فمررت على موسى فقال لي: بم أمرت؟ قلت: أمرت بخمسين صلاة كل يوم. قال: إن أمتك لا تستطيع ذلك؛ قد جربت بني إسرائيل قبلك، فارجع إلى ربك فسله التخفيف لأمتك فرجعت فوضع عني عشراً، فرجعت إلى موسى، فقال مثله، فرجعت فوضع عني عشراً، فرجعت إلى موسى فأخبرته، فقال: إن أمتك لا تطيق ذلك. فلم أزل بين ربي وموسى حتى جعلها خمساً، فقال موسى: إن أمتك لا تطيق ذلك فسله التخفيف، قال: قلت قد سألت ربي حتى استحييت، فلما جاوزت نادى مناد: قد أمضيت فريضتي، وخففت عن عبادي ".
قال أحمد بن يحيى بن جابر البلاذري قالوا: فرض على رسول الله صلى الله عليه وسلم الصلاة ركعتين ركعتين ثم أتمت صلاة المقيم أربعاً، وبقيت صلاة المسافر على حالها، وذلك قبل قدوم رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المدينة مهاجراً بشهر.
الهجرة إلى المدينةلما بايعت الأنصار رسول الله صلى الله عليه وسلم على ما نذكره، إن شاء الله تعالى، أمر أصحابه فهاجروا إلى المدينة، وبقي هو وأبو بكر وعلي فخرج هو وأبو بكر مستخفيين من قريش فقصدا غاراً بجبل ثور، فأقاما به ثلاثة، وقيل أكثر من ذلك؛ ثم سارا إلى المدينة ومعهما عامر بن فهيرة مولى أبي بكر، ودليلهم عبد الله بن اريقط، وكان مقامه بمكة عشر سنين، وقيل ثلاث عشرة سنة، وقيل خمس عشرة سنة، والأكثر ثلاث عشرة سنة. وكان قدوم رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المدينة في قول ابن إسحاق يوم الاثنين لاثنتي عشرة خلت من ربيع الأول، وقال الكلبي: خرج من الغار أول ربيع الأول، وقدم المدينة لاثنتي عشرة خلت منه يوم الجمعة، والله تعالى أعلم.
হে আবু হামযা, এটি কি বুরাক? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এটি তার দৃষ্টির শেষ সীমানায় তার কদম ফেলে। অতঃপর আমি তার ওপর আরোহণ করলাম, আর জিবরাঈল আমাকে নিয়ে চলতে লাগলেন যতক্ষণ না তিনি দুনিয়ার আসমানে আসলেন। তিনি দ্বার উন্মোচন করতে চাইলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: ইনি কে? তিনি বললেন: জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মদ—জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। বলা হলো: সুস্বাগতম, কতই না উত্তম আগন্তুকের আগমন।
এবং তিনি সপ্তম আসমানে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত তাঁর আরোহণের হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: "অতঃপর আমি মূসার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, তিনি আমাকে বললেন: আপনাকে কীসের আদেশ দেওয়া হয়েছে? আমি বললাম: আমাকে প্রতিদিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন: আপনার উম্মত এটি করতে সক্ষম হবে না; আমি আপনার পূর্বে বনী ইসরাঈলকে পরীক্ষা করেছি। সুতরাং আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য তা লাঘব করার আবেদন করুন। তখন আমি ফিরে গেলাম এবং তিনি আমার থেকে দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। পুনরায় আমি মূসার কাছে ফিরে এলাম, তিনি একই কথা বললেন। আমি আবার ফিরে গেলাম এবং তিনি আরও দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। আমি পুনরায় মূসার কাছে ফিরে এসে তাঁকে তা জানালাম, তিনি বললেন: আপনার উম্মত এটি সহ্য করতে পারবে না। এভাবে আমি আমার রব ও মূসার মাঝে যাতায়াত করতে থাকলাম যতক্ষণ না তিনি তা পাঁচ ওয়াক্তে নিয়ে আসলেন। মূসা বললেন: আপনার উম্মত এটি সহ্য করতে পারবে না, সুতরাং তাঁর কাছে আরও লাঘবের আবেদন করুন। আমি বললাম: আমি আমার রবের কাছে এতবার আবেদন করেছি যে, এখন আমি লজ্জিত। অতঃপর আমি যখন অতিক্রম করলাম, তখন এক ঘোষণাকারী ঘোষণা দিলেন: আমি আমার ফরয বলবৎ করেছি এবং আমার বান্দাদের ওপর তা সহজ করে দিয়েছি।"
আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন জাবির আল-বালাজুরি বলেন, তাঁরা বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর সালাত দুই রাকাত দুই রাকাত করে ফরয করা হয়েছিল। অতঃপর মুকিমের সালাত চার রাকাত পূর্ণ করা হয় এবং মুসাফিরের সালাত তার পূর্বের অবস্থায় বহাল থাকে। আর এটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুহাজির হিসেবে মদীনায় হিজরতের এক মাস পূর্বের ঘটনা।
মদীনায় হিজরতআনসারগণ যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে সেই বিষয়ের ওপর বায়আত করলেন যা আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা উল্লেখ করব, তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন এবং তাঁরা মদীনায় হিজরত করলেন। তিনি নিজে এবং আবু বকর ও আলী থেকে গেলেন। অতঃপর তিনি ও আবু বকর কুরাইশদের থেকে সংগোপনে বের হলেন এবং জাবালে সাউরের একটি গুহার দিকে যাত্রা করলেন। সেখানে তাঁরা তিন দিন অবস্থান করলেন, কেউ কেউ বলেছেন তার চেয়েও বেশি। এরপর তাঁরা মদীনার অভিমুখে যাত্রা করলেন এবং তাঁদের সাথে ছিলেন আবু বকরের মুক্তদাস আমির বিন ফুহাইরা আর তাঁদের পথপ্রদর্শক ছিল আবদুল্লাহ বিন আরীকাত। মক্কায় তাঁর অবস্থানকাল ছিল দশ বছর, কারো মতে তেরো বছর, আবার কারো মতে পনেরো বছর; তবে তেরো বছরের মতটিই অধিক প্রচলিত। ইবনে ইসহাকের মতে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মদীনায় আগমন হয়েছিল রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ সোমবার। আর আল-কালবী বলেন: তিনি রবিউল আউয়ালের শুরুতে গুহা থেকে বের হয়েছিলেন এবং উক্ত মাসের বারো তারিখ জুমুআর দিনে মদীনায় পৌঁছেছিলেন। আল্লাহ তাআলাই সম্যক অবগত।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٠)
ذكر الحوادث بعد الهجرةأخبرنا أبو الفرج بن أبي الرجاء الأصبهاني، أخبرنا الأديب أبو الطيب طلحة بن أبي منصور الحسين بن أبي ذر الصالحاني، أخبرنا جدي أبو ذر محمد بن إبراهيم سبط الصالحاني، أخبرنا أبو الشيخ الحافظ، حدثنا ابن أبي حاتم، حدثنا الفضل بن شاذان، حدثنا محمد بن عمرو زنيج، حدثنا أبو زهير، حدثنا الحجاج بن أبي عثمان الصواف عن أبي الزبير عن جابر قال: غزا رسول الله صلى الله عليه وسلم إحدى وعشرين غزوة بنفسه، شهدت منها تسع عشرة غزوة وغبت عن اثنتين.
أخبرنا عبيد الله بن أحمد بن علي بإسناده، عن يونس عن ابن إسحاق قال: فجميع ما غزا رسول الله صلى الله عليه وسلم بنفسه ست وعشرون غزوة.
وأول غزوة غزاها " ودان " وهي الأبواء؛ قال ابن إسحاق: وكان آخر غزوة غزاها رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قبضه الله تعالى تبوك، وبالإسناد عن ابن إسحاق قال: وكانت سرايا رسول الله صلى الله عليه وسلم وبعوثه فيما بين أن قدم المدينة إلى أن قبضه الله خمسة وثلاثين من بعث وسرية.
وفي السنة الأولى من الهجرة بعد شهر من مقدمة المدينة، جعلت الصلاة أربع ركعات، وكانت ركعتين.
وفيها صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم الجمعة لما ارتحل من قباء إلى المدينة، صلاها في طريقه في بني سالم وهي أول جمعة صليت، وخطبهم وهي أول خطبة في الإسلام.
وفيها بنى رسول الله صلى الله عليه وسلم مسجده ومساكنه ومسجده قباء.
وفيها أري عبد الله بن زيد الأذان، فعلمه بلال المؤذن.
وفيها آخى رسول الله صلى الله عليه وسلم بين المهاجرين والأنصار، بعد ثمانية أشهر.
وفي السنة الثانية كانت غزوة بدر العظمة في شهر رمضان.
وفيها، في شعبان، فرض صوم رمضان، وأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بزكاة الفطر.
وفيها، في شعبان، أيضاً صرفت القبلة عن البيت المقدس إلى الكعبة، وقيل في رجب.
وفيها فرضت زكاة الفطر قبل العيد بيومين.
وفيها ضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة، وخرج بالناس إلى المصلى، وذبح بيده شاتين، وقيل شاة.
وفي السنة الثالثة كانت غزوة أحد في شوال، وفيها، وقيل سنة أربع، حرمت الخمر في ربيع الأول.
হিজরতের পরবর্তী ঘটনাবলির আলোচনাআমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফরাজ বিন আবিল রাজা আল-আসফাহানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাহিত্যিক আবু তাইয়িব তালহা বিন আবি মানসুর আল-হুসাইন বিন আবি যার আল-সালেহানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা আবু যার মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম সিবত আল-সালেহানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুশ শায়খ আল-হাফিয, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনু আবি হাতিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফজল বিন শাযান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আমর যানিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুহাইর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ বিন আবি উসমান আস-সাওয়াফ, তিনি আবু যুহাইর থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং একুশটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে আমি উনিশটি যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম এবং দুটিতে অনুপস্থিত ছিলাম।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আলী তার সনদের মাধ্যমে ইউনুস থেকে, তিনি ইবনু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং সর্বমোট ছাব্বিশটি যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন।
আর প্রথম যুদ্ধ যা তিনি পরিচালনা করেছিলেন তা হলো ‘ওয়াদ্দান’, যা ‘আবওয়া’ নামেও পরিচিত। ইবনু ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ যে যুদ্ধটি পরিচালনা করেছিলেন এবং এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর জান কবজ করেন, সেটি ছিল তাবুক যুদ্ধ। ইবনু ইসহাক থেকে একই সনদে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: মদীনায় আগমনের পর থেকে আল্লাহ তাঁর জান কবজ করা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত ছোট ও বড় অভিযানের সংখ্যা ছিল পঁয়ত্রিশটি।
হিজরতের প্রথম বছরে মদীনায় আগমনের এক মাস পর, নামাজকে চার রাকাত করা হয়, যা পূর্বে ছিল দুই রাকাত।
এই বছরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবা থেকে মদীনায় যাত্রাকালে জুমার নামাজ আদায় করেন। তিনি বনু সালিম গোত্রে তাঁর যাত্রাপথে এই নামাজ আদায় করেছিলেন এবং এটিই ছিল প্রথম জুমার নামাজ। তিনি সেখানে খুতবা প্রদান করেন, যা ছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রথম খুতবা।
এই বছরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মসজিদ (মসজিদে নববী), তাঁর বাসগৃহসমূহ এবং কুবা মসজিদ নির্মাণ করেন।
এই বছরেই আবদুল্লাহ বিন যায়েদকে স্বপ্নে আযান দেখানো হয় এবং তিনি তা মুয়াজ্জিন বিলালকে শিক্ষা দেন।
এই বছরেই (মদীনায় আসার) আট মাস পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করেন।
দ্বিতীয় হিজরিতে রমজান মাসে ঐতিহাসিক মহান বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
এই বছরেই শাবান মাসে রমজানের রোজা ফরজ করা হয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দেন।
এই বছরেই শাবান মাসে কিবলা বায়তুল মাকদিস থেকে কাবার দিকে পরিবর্তন করা হয়; কারো মতে এটি রজব মাসে হয়েছিল।
এই বছরেই ঈদের দুই দিন আগে সদকাতুল ফিতর ফরজ করা হয়।
এই বছরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় কুরবানি করেন এবং লোকজনকে নিয়ে ঈদগাহে গমন করেন। সেখানে তিনি নিজ হাতে দুটি দুম্বা জবেহ করেন, মতান্তরে একটি।
তৃতীয় হিজরিতে শাওয়াল মাসে উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই বছরেই, অথবা মতান্তরে চতুর্থ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে মদ হারাম ঘোষণা করা হয়।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣١)
وفي سنة أربع صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الخوف في غزوة ذات الرقاع، وقيل: إن فيها قصرت الصلاة.
وفيها رجم رسول الله صلى الله عليه وسلم اليهودي واليهودية والقصة معروفة.
وفيها نزلت آية التيمم.
وفي سنة خمس نزلت آية الحجاب في ذي القعدة.
وفيها زلزلت المدينة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إن الله عز وجل يستعتبكم فأعتبوه " وفيها كانت غزوة الخندق.
وفي سنة ست قال أهل الإفك ما قالوا في غزوة بني المصطلق.
وفيها قال عبد الله بن أبي ابن سلول رأس المنافقين: " لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل ".
وفيها كسفت الشمس، فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الكسوف وهي أول ما صليت.
وفيها في ذي القعدة اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم عمرة الحديبية، وبايع بيعة الرضوان تحت الشجرة.
وفيها قحط الناس فاستسقى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأتاهم المطر ودام، فقال له رجل: يا رسول الله، انقطعت الطرق وتهدمت المنازل؛ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " اللهم، حوالينا ولا علينا " فانقشع السحاب عن المدينة.
وفيها سابق رسول الله صلى الله عليه وسلم بين الرواحل، فسبق قعود لرجل من العرب القصواء ناقة رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم تكن تسبق قبلها، فاشتد ذلك على المسلمين، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " حق على الله أن لا يرفع شيئاً من الدنيا إلى وضعه ".
وفيها أيضاً سابق بين الخيل، فسبق فرس لأبي بكر فأخذ السبق؛ وهذان أول مسابقة كانت في الإسلام.
وفي سنة سبع اعتمر رسول الله عمرة القضاء، قضاء عن عمرة الحديبية، حيث صده
চতুর্থ হিজরি সনে যাতুর রিকা যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতুল খাউফ আদায় করেন। বলা হয়ে থাকে যে, এই বছরেই সালাত কসর করার বিধান দেওয়া হয়েছিল।
এই বছরেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহুদি পুরুষ ও ইহুদি নারীকে রজম করেছিলেন এবং এই ঘটনাটি সুপ্রসিদ্ধ।
এই বছরেই তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ হয়।
পঞ্চম হিজরি সনের জিলকদ মাসে পর্দার (হিজাব) আয়াত অবতীর্ণ হয়।
এই বছরেই মদিনায় ভূমিকম্প হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমাদের নিকট সন্তুষ্টি কামনা করছেন, অতএব তোমরা তাঁকে সন্তুষ্ট করো।" এই বছরেই খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
ষষ্ঠ হিজরি সনে বনী মুস্তালিকের যুদ্ধে অপবাদকারীরা যা বলার ছিল তা বলেছিল।
এই বছরেই মুনাফিকদের সর্দার আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুল বলেছিল: "যদি আমরা মদিনায় ফিরে যাই, তবে সেখান থেকে অবশ্যই অধিক সম্মানীরা হীনদের বের করে দেবে।"
এই বছরেই সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুসূফের সালাত আদায় করেন এবং এটিই ছিল প্রথমবার আদায়কৃত কুসূফের সালাত।
এই বছরের জিলকদ মাসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুদাইবিয়ার উমরা পালন করেন এবং গাছের নিচে বাইয়াতে রিদওয়ান গ্রহণ করেন।
এই বছরেই মানুষের মাঝে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বৃষ্টির প্রার্থনা (ইসতিসকা) করেন। ফলে তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয় এবং তা অব্যাহত থাকে। তখন এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে আল্লাহ, আমাদের আশপাশে বর্ষণ করো, আমাদের ওপর নয়।" তখন মদিনার আকাশ থেকে মেঘ অপসারিত হলো।
এই বছরেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উটের দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। তখন এক মরুবাসী আরবের একটি তরুণ উট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাসওয়া নামক উটকে ছাড়িয়ে গেল, যা ইতিপূর্বে কখনো পিছিয়ে পড়েনি। বিষয়টি মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত কঠিন মনে হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আল্লাহর ওপর এটি অবধারিত যে, তিনি পার্থিব জগতের কোনো কিছুকে যখন উচ্চ মর্যাদা দান করেন, তখন তাকে অবনমিতও করেন।"
এই বছরেই তিনি ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেন। এতে আবু বকর (রা.)-এর ঘোড়াটি প্রথম হয়ে পুরস্কার লাভ করে। ইসলামে এ দুটিই ছিল সর্বপ্রথম প্রতিযোগিতার আয়োজন।
সপ্তম হিজরি সনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমরাতুল কাযা আদায় করেন, যা ছিল হুদাইবিয়ার উমরার কাজা, যেখানে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٢)
المشركون، فاضطبع فيها رسول الله والمسلمون ورملوا، وهو أول اضبطاع ورمل كان في الإسلام.
وفيها كانت غزوة خيبر.
وفيها سم صلى الله عليه وسلم، سمته امرأة اسمها زينب امرأة سلام بن مشكم، أهدت له شاة مسمومة فأكل منها.
وفيها بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم الرسل إلى الملوك: كسرى وقيصر والنجاشي وملك غسان وهوذة بن علي، واتخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم الخاتم وختم به الكتب التي سيرها إلى الملوك.
وفيها حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم لحوم الحمر الأهلية، ومتعة النساء يوم خيبر.
وفي سنة ثمان عمل منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فخطب عليه، وكان يخطب إلى جزع فحن الجذع حتى سمع الناس صوته، فنزل إليه فوضع يده عليه فسكن، وهو أول منبر عمل في الإسلام.
وفيها أقاد رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلاً من هذيل برجل من بني ليث، وهو أول قود كان في الإسلام.
وفيها فتح رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة، وحصر الطائف، ونصب عليه المنجنيق وهو أول منجنيق نصب في الإسلام.
وفي سنة تسع آلى رسول الله من نسائه، وأقسم أن لا يدخل عليهن شهراً، والقصة مشهورة.
وفيها هدم رسول الله مسجد الضرار بالمدينة، وكان المنافقون بنوه، وكان هدمه بعد عود رسول الله صلى الله عليه وسلم من تبوك.
وفيها قدمت الوفود على رسول الله صلى الله عليه وسلم من كل النواحي وكانت تسمى سنة الوفود.
وفيها لاعن رسول الله صلى الله عليه وسلم بين عويمر العجلاني، وبين امرأته في مسجده بعد العصر في شعبان، وكان عويمر قدم من تبوك فوجدها حبلى.
وفيها في شوال مات عبد الله بن أبي ابن سلول المنافق، فصلى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يصل بعدها على منافق، لأن الله أنزل " ولا تصل على أحد منهم مات أبداً ".
وفيها آمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أبا بكر على الحج، فحج بالناس، وأمر علي بن أبي طالب أن يقرأ سورة براءة على المشركين وينبذ إليهم عهدهم، وأن لا يحج بعد العام مشرك، ولا يطوف بالبيت عريان، وهي آخر حجة حجها المشركون.
وفي سنة عشر نزلت " يا أيها الذين آمنوا ليستأذنكم الذين ملكت أيمانكم والذين لم يبلغوا الحلم منكم ثلاث مرات " وكانوا لا يفعلونه قبل ذلك.
মুশরিকরা; তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুসলিমগণ এতে ইযতিবা (গায়ের চাদর ডান বগলের নিচ দিয়ে বাম কাঁধের ওপর রাখা) করেন এবং রমল (দ্রুতপদে পথ চলা) করেন। ইসলামে এটিই ছিল প্রথম ইযতিবা ও রমল।
এই বছরেই খায়বর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
এই বছরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষ প্রয়োগ করা হয়। সালাম বিন মিশকামের স্ত্রী যয়নাব নামক এক মহিলা তাঁকে বিষ প্রয়োগ করেছিল; সে তাঁকে একটি বিষমিশ্রিত ছাগল উপহার দেয় এবং তিনি তা থেকে ভক্ষণ করেন।
এই বছরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন রাজাদের কাছে দূত প্রেরণ করেন: কিসরা, কায়সার, নাজাশী, গাসসানের রাজা এবং হাওযা বিন আলী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মোহর তৈরি করেন এবং রাজাদের কাছে প্রেরিত পত্রসমূহে এর দ্বারা মোহর অঙ্কিত করেন।
এই বছরেই খায়বরের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোশত এবং মুতআ বিবাহ নিষিদ্ধ করেন।
অষ্টম হিজরীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিম্বর তৈরি করা হয় এবং তিনি তার ওপর খুতবা প্রদান করেন। ইতিপূর্বে তিনি একটি খেজুর গাছের কাণ্ডের ওপর ভর দিয়ে খুতবা দিতেন, তখন সেই কাণ্ডটি কান্নায় ভেঙে পড়ে, এমনকি মানুষ তার আওয়াজ শুনতে পায়। অতঃপর তিনি নিচে নেমে তার ওপর হাত রাখলে সেটি শান্ত হয়। ইসলামে এটিই ছিল প্রথম তৈরিকৃত মিম্বর।
এই বছরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু লাইস গোত্রের এক ব্যক্তির হত্যার বদলে হুযাইল গোত্রের এক ব্যক্তিকে কিসাস বা মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। ইসলামে এটিই ছিল প্রথম কিসাস।
এই বছরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয় করেন এবং তায়েফ অবরোধ করেন। সেখানে তিনি মিনজানিক স্থাপন করেন; আর ইসলামে এটিই ছিল প্রথম স্থাপিত মিনজানিক।
নবম হিজরীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সাথে ‘ঈলা’ করেন এবং কসম করেন যে এক মাস তাঁদের নিকট প্রবেশ করবেন না; এ ঘটনাটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।
এই বছরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় ‘মসজিদে দিরার’ ধ্বংস করে দেন, যা মুনাফিকরা নির্মাণ করেছিল। এটি ধ্বংস করা হয়েছিল তাবুক থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যাবর্তনের পর।
এই বছরেই সব দিক থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রতিনিধি দলগুলো আসতে শুরু করে, তাই একে ‘প্রতিনিধি দলের বছর’ বলা হয়।
এই বছরেই শাবান মাসে আসরের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মসজিদে উওয়াইমির আল-আজলানি ও তার স্ত্রীর মধ্যে লিআন করান। উওয়াইমির তাবুক থেকে ফিরে তার স্ত্রীকে গর্ভবতী পেয়েছিলেন।
এই বছরের শাওয়াল মাসে মুনাফিক আবদুল্লাহ বিন উবাই ইবনে সালুল মৃত্যুবরণ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাজা পড়ান। এরপর তিনি আর কোনো মুনাফিকের জানাজা পড়াননি, কারণ আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেছিলেন: “তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার ওপর জানাজা পড়বেন না।”
এই বছরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে হজ্জের আমির নিযুক্ত করেন এবং তিনি লোকদের নিয়ে হজ্জ সম্পন্ন করেন। তিনি আলী বিন আবি তালিবকে নির্দেশ দেন যেন তিনি মুশরিকদের সামনে সূরা বারাআত পাঠ করেন এবং তাদের সাথে কৃত চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন; আর এই মর্মে ঘোষণা দেন যে, এই বছরের পর কোনো মুশরিক হজ্জ করতে পারবে না এবং উলঙ্গ অবস্থায় কেউ বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারবে না। এটিই ছিল মুশরিকদের করা শেষ হজ্জ।
দশম হিজরীতে এই আয়াতটি নাযিল হয়: “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসী এবং তোমাদের মধ্যকার যারা এখনো বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি, তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে।” ইতিপূর্বে তারা এমনটি করত না।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٣)
وفيها حج رسول الله صلى الله عليه وسلم حجة الوداع، وقيل: إنه اعتمر معها، ولم يحج رسول الله بعد الهجرة غيرها.
ذكر صفته وشيء من أخلاقه صلى الله عليه وسلمأخبرنا الحسين بن توحن بن أبوية بن النعمان البارودي، وأحمد بن عثمان بن علي، قالا: أخبرنا أبو الفضل محمد بن عبد الواحد بن محمد النيلي الأصفهاني، أخبرنا أبو القاسم أحمد بن منصور الخليلي البلخي، أخبرنا أبو القاسم علي بن أحمد بن محمد الخزاعي، أخبرنا أبو سعيد الهيثم بن كليب الشاشي، حدثنا محمد بن عيسى بن سورة الترمذي، حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا جميع بن عمر بن عبد الرحمن العجلي، حدثني رجل من ولد أبي هالة زوج خديجة، يكنى: أبا عبد الله، عن ابن أبي هالة، عن الحسن بن علي رضي الله عنهما قال: سألت خالي هند بن أبي هالة، وكان وصافاً، عن حلية رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا أشتهي أن يصف لي منها شيئاً أتعلق به، فقال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم فخماً مفخماً، يتلألأ وجهه تلؤلؤ القمر ليلة البدر، أطول من المربوع وأقصر من المشذب، عظيم الهامة، رجل الشعر، إن انفرقت عقيصته فرق، وإلا فلا يجاوز شعره شحمة أذنيه إذا هو وفره، أزهر اللون، واسع الجبين، أزج الحواجب سوابغ في غير قرن، بينهما عرق يدره الغضب أقنى العرنين، له نور يعلوه، يحسبه من لم يتأمله أشم، كث اللحية، سهل الخدين، ضليع الفم، مفلج الأسنان، دقيق المسربة، كأن عنقه جيد دمية في صفاء الفضة، معتدل الخلق، بادن متماسك، سواء البطن والصدر، بعيد ما بين المنكبين، ضخم الكراديس، أنور المتجرد، موصول ما بين السرة واللبة بشعر يجري كالخط، عاري الثديين والبطن مما سوى ذلك، أشعر الذراعين والمنكبين وأعالي الصدر، رحب الراحة، شثن الكفين والقدمين، سائل الأطراف، أو سائن الأطراف، خمصان، الأخمصين مسيح القدمين ينبو عنهما الماء إذا زال زال قلعاً يخطو تكفياً، ويمشي هوناً ذريع المشية، إذا مشى كأنما ينحط من صبب، وإذا التفت التفت جميعاً، خافض الطرف، نظره إلى الأرض أطول من نظره إلى السماء، جل نظره الملاحظة يسوق أصحابه، يبدر من لقي بالسلام.
قال: وحدثنا محمد بن عيسى، وأحمد بن عبدة الضبي، وعلي بن حجر، وأبو جعفر محمد بن الحسين وهو ابن أبي حليمة، المعنى واحد، قالوا حدثنا عيسى بن يونس، عن عمر بن عبد الله مولى غفرة، حدثنا إبراهيم بن محمد من ولد علي بن أبي طالب قال:
كان علي رضي الله عنه إذا وصف رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لم يكن بالطويل الممغط ولا بالقصير المتردد، كان ربعة من القوم، لم يكن بالجعد القطط ولا بالسبط، كان جعداً رجلاً، ولم
সেই বছরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ পালন করেন। বলা হয় যে, তিনি এর সাথে একটি উমরাও পালন করেছিলেন। হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি ছাড়া অন্য কোনো হজ পালন করেননি।
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দৈহিক বৈশিষ্ট্য এবং স্বভাব-চরিত্রের কিছু বর্ণনাআমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন ইবনে তুহান ইবনে আবুয়াহ ইবনে নুমান আল-বারুদি এবং আহমদ ইবনে উসমান ইবনে আলি। তাঁরা বলেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ আন-নিলি আল-আসফাহানি। তিনি বলেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু কাসিম আহমদ ইবনে মনসুর আল-খলিলি আল-বালখি। তিনি বলেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু কাসিম আলি ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-খুজায়ি। তিনি বলেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ হাইসাম ইবনে কুলাইব আশ-শাশি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সুরাহ আত-তিরমিজি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুমা ইবনে উমর ইবনে আব্দুর রহমান আল-ইজলি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খাদিজাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র স্বামী আবু হালার সন্তানদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি, যাঁর উপনাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ। তিনি ইবনে আবু হালা হতে, তিনি হাসান ইবনে আলি (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেন। হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি আমার মামা হিন্দ ইবনে আবু হালাকে তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবয়ব বা দৈহিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম—আর তিনি ছিলেন গুণাবলি বর্ণনায় অত্যন্ত দক্ষ। আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল তিনি আমার নিকট রাসূলুল্লাহর এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দেবেন যার সাথে আমি নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখতে পারি। তখন তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সত্তায় অত্যন্ত মহিমান্বিত ও অন্যের দৃষ্টিতেও ছিলেন মর্যাদাবান। তাঁর চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল ও জ্যোতির্ময় ছিল। তিনি মধ্যমাকৃতি অপেক্ষা কিছুটা দীর্ঘ এবং অতিরিক্ত দীর্ঘকায় লোক অপেক্ষা কিছুটা খাটো ছিলেন। তাঁর মস্তক ছিল সুঠাম ও বড়। তাঁর চুল ছিল কিঞ্চিৎ ঢেউ খেলানো। যদি তাঁর চুলের সিঁথি স্বাভাবিকভাবে হয়ে যেত, তবে তিনি তা সিঁথি করে রাখতেন; অন্যথায় তাঁর চুল কানের লতি অতিক্রম করত না যখন তিনি তা পূর্ণরূপে রাখতেন। তাঁর গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল ও দীপ্তিময়। তাঁর ললাট ছিল প্রশস্ত। ভ্রুযুগল ছিল ঘন, সরু ও দীর্ঘ, যা একে অপরের সাথে মিলিত ছিল না। দুই ভ্রুর মাঝখানে একটি রগ ছিল, যা রাগান্বিত হলে ফুলে উঠত। তাঁর নাসিকা ছিল উন্নত এবং এর মাঝখানে এক প্রকার জ্যোতি ও ঔজ্জ্বল্য বিদ্যমান ছিল; যে ব্যক্তি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করত না সে তাঁকে উন্নত নাসিকাবিশিষ্ট মনে করত। তাঁর দাড়ি ছিল অত্যন্ত ঘন। গাল দুটি ছিল সমতল ও মসৃণ। তাঁর মুখগহ্বর ছিল কিঞ্চিৎ প্রশস্ত। সম্মুখের দাঁতগুলোর মাঝে কিঞ্চিৎ ফাঁক ছিল। তাঁর বুক হতে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি অতি সরু রেখা বিদ্যমান ছিল। তাঁর গ্রীবা যেন রূপার ন্যায় স্বচ্ছ ও শুভ্র কোনো মূর্তির ঘাড়ের ন্যায় সুন্দর ছিল। তাঁর শারীরিক গঠন ছিল অত্যন্ত সুসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি ছিলেন সুঠাম দেহের অধিকারী এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিল সুসংবদ্ধ। তাঁর বুক ও পেট ছিল সমান্তরাল। দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত। হাড়ের জোড়াগুলো ছিল বড় ও মজবুত। শরীরের উন্মুক্ত বা লোমহীন অংশগুলো ছিল অত্যন্ত জ্যোতির্ময়। তাঁর নাভি ও বুকের উপরিভাগের মাঝখানে একটি পশমের রেখা প্রলম্বিত ছিল। তাঁর স্তনদ্বয় ও পেটের অন্যান্য অংশ পশমহীন ছিল। তবে বাহুদ্বয়, কাঁধ এবং বুকের উপরিভাগে লোম বা পশম ছিল। তাঁর হাতের তালু ছিল প্রশস্ত। দুই হাতের কব্জি এবং দুই পা ছিল পুষ্ট ও মাংসল। আঙুলগুলো ছিল দীর্ঘ ও সুঠাম। তাঁর পায়ের তালুর মধ্যভাগ ছিল কিঞ্চিৎ শূন্য বা খাঁজযুক্ত। তাঁর পা দুটি ছিল অত্যন্ত মসৃণ, যার ওপর পানি ঢাললে তা স্থির না হয়ে গড়িয়ে পড়ে যেত। তিনি যখন হাঁটতেন, পা সজোরে মাটি থেকে উঠাতেন, সামনের দিকে কিঞ্চিৎ ঝুঁকে ধীরস্থিরভাবে পথ চলতেন। তাঁর হাঁটা ছিল দ্রুত। চলার সময় মনে হতো যেন তিনি কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচের দিকে অবতরণ করছেন। যখন তিনি কারো দিকে মনোযোগ দিতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরে তাকাতেন। তাঁর দৃষ্টি ছিল অবনত। আকাশের চেয়ে জমিনের দিকেই তাঁর দৃষ্টি অধিক নিবদ্ধ থাকত। তাঁর অধিকাংশ দৃষ্টি ছিল আড়চোখে অবলোকন করা। তিনি তাঁর সাথীদের আগে পাঠিয়ে নিজে পেছনে চলতেন। যাঁর সাথে সাক্ষাৎ হতো তাকেই তিনি প্রথমে সালাম দিতেন।
তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ঈসা, আহমদ ইবনে আবদাহ আদ-দাব্বি, আলি ইবনে হুজর এবং আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন (যিনি ইবনে আবু হালিমা নামে পরিচিত) বর্ণনা করেছেন—তাদের সকলের বর্ণিত অর্থের মর্ম একই। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট ঈসা ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি উমর ইবনে আব্দুল্লাহ মাওলা গুফরাহ হতে, তিনি আলি ইবনে আবি তালিবের বংশধর ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
আলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈহিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিতেন তখন বলতেন: তিনি অতিরিক্ত দীর্ঘ ও লিকলিকে ছিলেন না এবং একেবারে খাটো বা বেঁটেও ছিলেন না। তিনি ছিলেন লোকজনের মধ্যে মধ্যম আকৃতির। তাঁর চুল অতিরিক্ত কোঁকড়ানো ছিল না আবার একেবারে সোজাও ছিল না; বরং তাঁর চুল ছিল ঈষৎ ঢেউ খেলানো। তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٤)
يكن بالمطهم ولا بالمكلثم كان في وجهه تدوير أبيض مشرب، أدعج العينين أهدب الأشفار، جليل المشاش والكتد، أجرد ذو مسربة، شئن الكفين والقدمين، إذا مشى تقلع كأنما ينحط من صبب، إذا التفت التفت معاً، بين كتفيه خاتم النبوة، وهو خاتم النبيين، أجرأ الناس صدراً وأصدق الناس لهجة، وألينهم عريكة، وأكرمهم عشرة، من رآه بديهة هابه، ومن خالطه معرفة أحبه، يقول ناعته: لم أر قبله ولا بعده مثله صلى الله عليه وسلم.
أخبرنا يحيى بن محمد بن سعد الأصفهاني، أخبرنا أبو الطيب طلحة بن أبي منصور الحسين بن أبي الصالحاني، أخبرنا جدي أبو ذر محمد بن إبراهيم سبط الصالحاني الواعظ، أخبرنا أبو محمد عبد الله بن محمد بن جعفر أبو الشيخ، حدثنا محمد بن العباس بن أيوب، حدثنا عبيد بن إسماعيل الهباري من كتابه " ح " قال أبو الشيخ: وحدثنا إسحاق بن جميل حدثنا سفيان بن وكيع قالا: حدثنا جميع بن عمر العجلي، حدثني رجل من بني تميم من ولد أبي هالة زوج خديجة عن ابن أبي هالة عن الحسن بن علي قال: سألت خالي عن دخول النبي صلى الله عليه وسلم فقال: كان دخوله لنفسه مأذوناً له في ذلك، فكان إذا أوى إلى منزله جزأ دخوله ثلاثة أجزاء: جزءاً لله، عز وجل، وجزءاً لأهله وجزءاً لنفسه، ثم يجعل جزأه بينه وبين الناس، فيرد ذلك على العامة بالخاصة، ولا يدخر عنهم شيئاً.
فكان من سيرته في جزء الأمة إيثار أهل الفضل على قدر فضائلهم في الدين، فمنهم ذو الحاجة، ومنهم ذو الحاجتين، ومنهم ذو الحوائج فيتشاغل بهم ويشغلهم فيما يصلحهم والأمة عن مسألتهم وإخبارهم بالذي ينبغي لهم، ويقول: " ليبلغ الشاهد الغائب، وأبلغوني حاجة من لا يقدر على إبلاغي حاجته؛ فإنه من أبلغ سلطاناً حاجة من لا يستطيع إبلاغها إياه ثبت الله قدميه يوم القيامة " لا يذكر عنده إلا ذلك ولا يقبل من أحد غيره، يدخلون رواداً ولا يتفرقون إلا عن ذواق ويخرجون أدلة.
قال: فسألته عن مخرجه: كيف كان يصنع فيه؟ فقال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخزن لسانه إلا فيما يعنيه أو يعنيهم، ويؤلفهم ولا ينفرهم، ويكرم كريم كل قوم ويوليه عليهم، ويحذر الناس ويحترس منهم، من غير أن يطوي عن أحد منهم بشره ولا خلقه، ويتفقد أصحابه، ويسأل عما في الناس، يحسن الحسن ويقويه، ويقبح القبيح ويوهيه. معتدل الأمر غير مختلف، لا يميل مخافة أن يغفلوا ويميلوا، لا يقصر عن الحق ولا يتجاوزه، الذين يلونه من الناس خيارهم، وأفضلهم عنده أعمهم نصيحة، وأعظمهم عنده منزلة أحسنهم مواساة ومؤازرة.
فسألته عن مجلسه فقال:
তিনি অত্যধিক স্থূলকায় ছিলেন না এবং তাঁর চেহারা একেবারে গোল বা চ্যাপ্টাও ছিল না। তাঁর চেহারায় কিছুটা গোলভাব ছিল, গায়ের রঙ ছিল ধবধবে সাদার মধ্যে রক্তিম আভা মিশ্রিত। তাঁর চক্ষুদ্বয় ছিল কুচকুচে কালো, চোখের পাপড়ি ছিল দীর্ঘ। হাত-পায়ের জোড়া ও কাঁধের হাড় ছিল বড় ও মজবুত। তাঁর শরীর ছিল পশমহীন, তবে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি সরু রেখা ছিল। তাঁর হাতের তালু ও পায়ের পাতা ছিল মাংসল। যখন তিনি হাঁটতেন তখন অত্যন্ত সজোরে পা ফেলতেন যেন তিনি কোনো ঢালু জায়গা দিয়ে নিচের দিকে নামছেন। যখন তিনি কারো দিকে ফিরতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরতেন। তাঁর দুই কাঁধের মাঝে নবুওয়তের মোহর ছিল, আর তিনি হলেন সর্বশেষ নবী। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সাহসী হৃদয়ের অধিকারী, সর্বাধিক সত্যভাষী, স্বভাবের দিক থেকে সবচেয়ে কোমল এবং মেলামেশার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সম্মানজনক। যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত সে ভীত হতো, আর যে ব্যক্তি পরিচয়ের ভিত্তিতে তাঁর সাথে মেলামেশা করত সে তাঁকে ভালোবেসে ফেলত। তাঁর বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাঁর পূর্বে বা পরে তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাদ আল-আসফাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তৈয়ব তালহা ইবনে আবি মনসুর আল-হুসাইন ইবনে আবি আস-সালিহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার দাদা আবু যর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম সিবত আস-সালিহানি আল-ওয়ায়েজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আবুশ শেখ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে আইয়ুব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, উবাইদ ইবনে ইসমাইল আল-হাব্বারি তাঁর কিতাব থেকে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন "হা", আবুশ শেখ বলেন: ইসহাক ইবনে জামিল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: জামি' ইবনে উমর আল-ইজলি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, বনু তামীম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি যিনি খাদিজা (রা.)-এর স্বামী আবু হালার বংশধর ছিলেন, তিনি ইবনে আবি হালা থেকে এবং তিনি হাসান ইবনে আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, হাসান (রা.) বলেন: আমি আমার মামার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে প্রবেশের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তাঁর ঘরে প্রবেশ করা তাঁর জন্য অনুমোদিত ও নির্ধারিত ছিল। যখন তিনি নিজের ঘরে আসতেন, তখন তিনি তাঁর প্রবেশের সময়কে তিন ভাগে ভাগ করতেন: এক ভাগ আল্লাহর জন্য (ইবাদতে), এক ভাগ পরিবারের জন্য এবং এক ভাগ নিজের জন্য। এরপর তিনি নিজের জন্য রাখা ভাগটিকে তাঁর ও মানুষের মাঝে বণ্টন করে দিতেন। এভাবে তিনি বিশিষ্ট সাহাবীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ফয়েজ ও জ্ঞান পৌঁছে দিতেন এবং তাঁদের থেকে কোনো কিছুই গোপন রাখতেন না।
উম্মতের জন্য নির্ধারিত ভাগের ক্ষেত্রে তাঁর নীতি ছিল দ্বীনের মর্যাদার ভিত্তিতে ফযীলতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া। তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন এক প্রয়োজনধারী, কেউ দুই প্রয়োজনধারী, আবার কেউ বহু প্রয়োজনে জর্জরিত। তিনি তাঁদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন এবং তাঁদের এমন সব বিষয়ে নিয়োজিত রাখতেন যা তাঁদের এবং উম্মতের সংশোধনের জন্য উপযোগী। তিনি তাঁদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অবহিত করতেন এবং বলতেন: "উপস্থিত ব্যক্তিরা যেন অনুপস্থিতদের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেয়। আর তোমরা আমার কাছে এমন ব্যক্তির প্রয়োজন পৌঁছে দাও যে তা নিজে আমার কাছে পৌঁছাতে সক্ষম নয়। কেননা যে ব্যক্তি এমন কোনো ব্যক্তির প্রয়োজন কোনো কর্তৃত্বশীল ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয় যে তা নিজে পৌঁছাতে অক্ষম, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার পা অবিচল রাখবেন।" তাঁর মজলিসে কেবল এই কল্যাণকর বিষয়গুলোই আলোচনা করা হতো এবং তিনি কারো কাছ থেকে এ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতেন না। তাঁরা (সাহাবীরা) জ্ঞানপিপাসু হয়ে প্রবেশ করতেন এবং কোনো কিছু আস্বাদন (তথা জ্ঞান লাভ) না করে বের হতেন না, আর তাঁরা বের হতেন এক একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে।
তিনি বলেন: আমি তাঁর বাইরে বের হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তিনি তখন কী করতেন? তিনি বললেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জিহ্বাকে কেবল তাঁদের প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া অন্য সব কিছু থেকে সংযত রাখতেন। তিনি তাঁদের ঐক্যবদ্ধ করতেন এবং বিচ্ছিন্ন করতেন না। তিনি প্রত্যেক গোত্রের সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান করতেন এবং তাঁদের ওই গোত্রের ওপর দায়িত্বশীল নিযুক্ত করতেন। তিনি মানুষকে (বিপদ বা ফিতনা থেকে) সতর্ক করতেন এবং নিজে তাঁদের থেকে সতর্ক থাকতেন, তবে কারো থেকেই তাঁর হাসি-খুশি মুখ বা উত্তম চরিত্র সংকুচিত করতেন না। তিনি তাঁর সাহাবীদের খোঁজখবর নিতেন এবং মানুষের মধ্যে কী ঘটছে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। তিনি ভালো কাজকে ভালো বলতেন এবং তার সমর্থন ও শক্তি বৃদ্ধি করতেন, আর মন্দ কাজকে মন্দ বলতেন এবং তা তুচ্ছ ও দুর্বল করে দিতেন। তাঁর সকল বিষয় ছিল সুষম, তাতে কোনো অসংগতি ছিল না। তিনি এই আশঙ্কায় উদাসীন হতেন না যে পাছে তাঁরা (লোকেরা) গাফেল হয়ে পড়ে এবং বিপথে চলে যায়। তিনি সত্য থেকে কখনো বিচ্যুত হতেন না এবং সত্যের সীমা অতিক্রম করতেন না। মানুষের মধ্যে যাঁরা তাঁর নিকটতম ছিলেন তাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তাঁর কাছে সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি ছিলেন তিনি, যিনি সবার প্রতি সর্বাধিক কল্যাণকামী। আর তাঁর কাছে মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে মহান ছিলেন তিনি, যিনি মানুষের সহানুভূতি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন।
এরপর আমি তাঁর মজলিস বা বৈঠক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন:
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٥)
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يجلس ولا يقوم إلا على ذكر الله عز وجل، ولا يوطن الأماكن وينهي عن إيطانها وإذا انتهى إلى قوم جلس حيث ينتهي به المجلس، ويأمر بذلك، ويعطي كل جلسائه نصيبه، لا يحسب أحد من جلسائه أن أحداً أكرم عليه منه؛ من جالسه أو قاومه لحاجة سايره حتى يكون هو المنصرف، ومن سأله حاجة لم ينصرف إلا بها، أو بميسور من القول، قد وسع الناس خلقه فصار لهم أباً، وصاروا عنده في الحق سواء، مجلسه مجلس حلم وحياء وصبر وأمانة وصدق، لا ترفع فيه الأصوات ولا تؤبن فيه الحرم، ولا تنثى فلتاته، معتدلين يتواصون فيه بالتقوى، متواضعين يوقرون فيه الكبير ويرحمون فيه الصغير، ويؤثرون ذا الحاجة ويحفظون الغريب.
قلت: كيف كانت سيرته في جلسائه؟ قال:
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم دائم البشر، سهل الخلق، لين الجانب، ليس بفظ ولا غليظ ولا سخاب في الأسواق، ولا فاحش ولا عياب ولا مداح، يتغافل عما لا يشتهي، ولا يؤيس منه ولا يحبب فيه، قد ترك نفسه من ثلاث: المراء، والإكثار، وما لا يعينه، وترك الناس من ثلاث: كان لا يذم أحداً ولا يعيره، ولا يطلب عورته، ولا يتكلم إلا فيما يرجو ثوابه، إذا تكلم أطرق جلساؤه، كأنما على رؤوسهم الطير، وإذا سكت تكلموا، ولا يتنازعون عنده الحديث، من تكلم أنصتوا له حتى يفرغ، حديثهم عنده حديث أولهم، يضحك مما يضحكون منه، ويتعجب مما يتعجبون منه، ويصبر للغريب على الجفوة في منطقه ومسألته؛ حتى كان أصحابه يستجلبونهم فيقول: إذا رأيتم طالب حاجة يطلبها فأرفدوه، ولا يقبل الثناء إلى من مكافئ، ولا يقطع على أحد حديثه حتى يجوز فيقطعه بنهي أو قيام.
قال: فسألته كيف كان سكوته؟ فقال: كان سكوت رسول الله صلى الله عليه وسلم على أربع: على الحلم، والحذر، والتقدير، والتفكير؛ فأما تقديره ففي تسوية النظر والاستماع من الناس، وأما تفكيره ففيما يبقى ويفنى، وجمع له الحلم والصبر، فكان لا يغضبه شيء ولا يستفزه، وجمع له الحذر في أربعة: أخذه بالحسن ليقتدى به، وتركه القبيح ليتناهى عنه، واجتهاده الرأي فيما أصلح أمته، والقيام فيما هو خير لهم، وفيما جمع لهم خير الدنيا والآخرة.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর যিকির ব্যতীত বসতেন না বা উঠতেন না। তিনি বসার জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করতেন না এবং তা করতে নিষেধ করতেন। তিনি যখন কোনো সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছাতেন, তখন মজলিসের শেষ প্রান্তে যেখানে জায়গা খালি থাকত সেখানেই বসে পড়তেন এবং এরূপ করারই নির্দেশ দিতেন। তিনি তাঁর মজলিসে উপস্থিত প্রত্যেকের প্রাপ্য হক আদায় করতেন। তাঁর মজলিসে বসা কোনো ব্যক্তিই মনে করত না যে, অন্য কেউ তাঁর কাছে তার চেয়ে বেশি সম্মানিত। যে কেউ তাঁর সাথে কোনো প্রয়োজনে বসত বা অবস্থান করত, তিনি তার সাথে ধৈর্য ধরে ততক্ষণ অবস্থান করতেন যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজে বিদায় নিত। যে ব্যক্তি তাঁর কাছে কোনো প্রয়োজনে আসত, তিনি তাকে তা দান না করে অথবা অন্তত নম্র ও সন্তোষজনক কোনো কথা না বলে বিদায় করতেন না। তাঁর সদাচরণ ও মহান চরিত্র সকল মানুষকে পরিবেষ্টন করেছিল, ফলে তিনি তাদের জন্য এক দয়ালু পিতার মতো হয়ে গিয়েছিলেন এবং সত্যের বিচারে তারা সবাই তাঁর কাছে সমান ছিল। তাঁর মজলিস ছিল সহনশীলতা, লজ্জা, ধৈর্য, আমানতদারি ও সত্যবাদিতার মজলিস। সেখানে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা হতো না, কারো সম্মানহানি করা হতো না এবং মজলিসে ঘটে যাওয়া কোনো বিচ্যুতি বাইরে প্রচার করা হতো না। মজলিসে উপস্থিতরা পরস্পর ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ করত এবং তাকওয়ার উপদেশ দিত। তারা ছিল অত্যন্ত বিনয়ী; সেখানে বড়দের সম্মান করা হতো, ছোটদের প্রতি স্নেহ প্রদর্শন করা হতো, অভাবী ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো এবং আগন্তুক মুসাফিরের দেখাশোনা করা হতো।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম: তাঁর সঙ্গীদের সাথে তাঁর আচার-আচরণ কেমন ছিল? তিনি বললেন:
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত উন্নত চরিত্রের অধিকারী এবং কোমল স্বভাবের। তিনি রূঢ় বা কঠোর প্রকৃতির ছিলেন না। তিনি হাটে-বাজারে চেঁচামেচি করতেন না। তিনি কটুভাষী, দোষ অন্বেষণকারী বা অতি প্রশংসাকারী ছিলেন না। নিজের অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে তিনি নির্লিপ্ত থাকতেন (উপেক্ষা করতেন)। তাঁর কাছে কোনো আশা নিয়ে আসলে কেউ নিরাশ হতো না, আবার তিনি কাউকে তাঁর প্রতি অত্যাধিক অনুরাগী হওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করতেন না। তিনি নিজেকে তিনটি বিষয় থেকে মুক্ত রেখেছিলেন: ঝগড়া-বিবাদ, অনর্থক আধিক্য এবং যা তাঁর উপকারে আসে না এমন বিষয়। তিনি মানুষের ব্যাপারেও তিনটি বিষয় বর্জন করেছিলেন: তিনি কাউকে মন্দ বলতেন না, কাউকে লজ্জা দিতেন না এবং কারো দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করতেন না। তিনি কেবল সেসব কথা বলতেন যাতে সওয়াবের আশা থাকত। তিনি যখন কথা বলতেন, তখন তাঁর সঙ্গীরা এমনভাবে মাথা নত করে নিস্তব্ধ থাকতেন যেন তাদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে। তিনি যখন নীরব হতেন, কেবল তখনই তারা কথা বলতেন। তাঁর সামনে তারা কোনো বিষয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত হতেন না। তাঁর মজলিসে কেউ কথা বললে অন্যরা তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনত। তাদের মধ্যে যিনি সর্বাগ্রে কথা বলা শুরু করতেন, তাঁর কথাকেই সবাই সমান গুরুত্ব দিয়ে শুনত। তাঁরা যে বিষয়ে হাসতেন, তিনিও তাতে হাসতেন; তাঁরা যে বিষয়ে আশ্চর্য হতেন, তিনিও তাতে আশ্চর্যবোধ করতেন। আগন্তুক মুসাফিরের কথাবার্তার অসংলগ্নতা ও প্রশ্ন করার রূঢ় আচরণ তিনি ধৈর্যের সাথে সহ্য করতেন; এমনকি তাঁর সাহাবীগণ তখন সেই আগন্তুকদের নিয়ে আসার চেষ্টা করতেন। তিনি বলতেন: "যখন তোমরা কাউকে নিজের প্রয়োজন পূরণ করতে দেখবে, তখন তাকে সাহায্য করো।" তিনি কেবল কৃতজ্ঞতাস্বরূপ যথাযথ প্রশংসা গ্রহণ করতেন। আর তিনি কারো কথা মাঝপথে কাটতেন না যতক্ষণ না সে সীমালঙ্ঘন করত; সীমালঙ্ঘন করলে তিনি তাকে নিষেধ করার মাধ্যমে অথবা সেখান থেকে উঠে যাওয়ার মাধ্যমে তার কথা থামিয়ে দিতেন।
বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, তাঁর নীরবতা কেমন ছিল? তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নীরবতা চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হতো: সহনশীলতা, সতর্কতা, পরিমিতিবোধ ও চিন্তা-গবেষণা। তাঁর পরিমিতিবোধ প্রকাশ পেত সকলের প্রতি সমভাবে দৃষ্টিপাত করা ও সকলের কথা সমানভাবে শোনার মাধ্যমে। আর তাঁর চিন্তা-গবেষণা ছিল যা অবিনশ্বর এবং যা নশ্বর তা নিয়ে। তাঁর মাঝে সহনশীলতা ও ধৈর্য একীভূত ছিল, তাই কোনো কিছুই তাঁকে রাগান্বিত করত না কিংবা বিচলিত করতে পারত না। তাঁর সতর্কতা চারটি বিষয়ে নিহিত ছিল: উত্তম কাজ গ্রহণ করা যাতে অন্যরা তা অনুসরণ করতে পারে, মন্দ কাজ বর্জন করা যাতে অন্যরা তা থেকে বিরত থাকে, নিজ উম্মতের সংশোধনের জন্য সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করা এবং এমন কাজ সম্পাদন করা যাতে তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٦)
تفسير غريبهكان فخماً مفخماً: أي كان جميلاً مهيباً، مع تمام كل ما في الوجه، من غير ضخامة ولا نقصان.
والمشذب: المفرط في الطول ولا عرض له، وأصله النخلة إذا جردت عن سعفها كانت أفحش في الطول، يعني أن طوله يناسب عرضه.
وقوله عظيم الهامة: أي تام الرأس في تدويره.
والرجل: بين القطط والسبط.
والعقيصة فعيلة بمعنى مفعولة، وهي الشعر المجموع في القفا من الرأس، يريد: إن تفرق شعره بعد ما جمعه وعقصه فرق - بتخفيف الراء - وترك كل شيء في منبته، وقال ابن قتيبة: كان هذا أول الإسلام ثم فرق شعره بعد.
والأزهر: هو الأنور الأبيض المشرق، وجاء في الحديث الآخر: أبيض مشرباً حمرة، ولا تناقض يعني ما ظهر منه للشمس مشرب حمرة، وما لم يظهر فهو أزهر.
وقوله: أزج الحواجب في غير قرن، يعني أن حاجبيه طويلة سابقة غير مقترنة، أي ملتصقة في وسط أعلى الأنف، بل هو أبلج: والبلج بياض بين الحاجبين، وإنما جمع الحواجب لأن كل اثنين فما فوقهما جمع؛ قال الله تعالى " وكنا لحكمهم شاهدين " يعني داود وسليمان، وأمثاله كثير.
وقوله: بينهما عرق يدره الغضب أي إذا غضب النبي امتلأ العرق دماً فيرتفع.
وقوله: أقنى العرنين، فالعرنين: الأنف والقنا: طول في الأنف مع دقة الأرنبة، والأشم: الدقيق الأنف المرتفعه يعني أن القنا الذي فيه ليس بمفرط.
سهل الخدين، يريد: ليس فيهما نتوء وارتفاع، وقال بعضهم: يريد أسيل الخدين.
والضليع الفم: أي الواسع وكانت العرب تستحسنه، والأسنان المفلجة: أي المتفرقة.
والمسربة: الشعر ما بين اللبة إلى السرة. والجيد: العنق. والدمية: الصورة.
وقوله: معتدل الخلق أي: كل شيء من بدنه يناسب ما يليه في الحسن والتمام.
والبادن: التام اللحم، والمتماسك: الممتلئ لحماً غير متسرخ، وقوله: سواء البطن والصدر: أي ليس بطنه مرتفعاً ولكنه مساو لصدره.
والكراديس، رؤوس العظام مثل الركبتين والمرفقين وغيرهما.
অপ্রচলিত শব্দের ব্যাখ্যাতিনি ছিলেন মহিমান্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ: অর্থাৎ তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর ও গাম্ভীর্যপূর্ণ, তাঁর চেহারার প্রতিটি অঙ্গ ছিল পূর্ণাঙ্গ, যা স্থূলতা বা অপূর্ণতা থেকে মুক্ত ছিল।
আর 'মুশাযযাব' হলো এমন ব্যক্তি যার উচ্চতা অত্যাধিক কিন্তু কোনো প্রশস্ততা নেই। এর মূল শব্দ হলো খেজুর গাছ, যা থেকে ডালপালা সরিয়ে ফেললে তা দৈর্ঘ্যে দৃষ্টিকটু দেখায়। অর্থাৎ তাঁর উচ্চতা তাঁর শরীরের গঠনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
আর তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে 'মাথার খুলি বড় ছিল': অর্থাৎ তাঁর মাথাটি গোলাকৃতিতে পূর্ণাঙ্গ ছিল।
আর তাঁর চুল ছিল 'রাজিল': অর্থাৎ অত্যধিক কোঁকড়ানো এবং একেবারে সোজা চুলের মাঝামাঝি।
আর 'আকীসাহ' শব্দটি মাফউল-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা মাথার পেছনের দিকে জমা করা চুলকে বোঝায়। উদ্দেশ্য হলো: যদি তিনি তাঁর চুল জমা করে খোঁপা বাঁধার পর তা ছেড়ে দিতেন, তবে প্রতিটি চুল তার উৎপত্তিস্থল অনুযায়ী স্বাভাবিক অবস্থায় থাকত। ইবনে কুতাইবাহ বলেছেন: এটি ইসলামের প্রাথমিক যুগের অবস্থা ছিল, পরবর্তীতে তিনি তাঁর চুলে সিঁথি কাটতেন।
আর 'আযহার' হলো অত্যন্ত উজ্জ্বল, শ্বেত ও দীপ্তিময়। অন্য হাদীসে এসেছে: লালাভ মিশ্রিত সাদা। এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই; অর্থাৎ তাঁর শরীরের যে অংশ সূর্যের আলোতে অনাবৃত থাকত তা লালাভ দেখাত, আর যা আবৃত থাকত তা ছিল উজ্জ্বল শুভ্র।
আর বলা হয়েছে: তাঁর ভ্রূ ছিল দীর্ঘ ও সরু কিন্তু তা জোড়া ছিল না; অর্থাৎ নাকের উপরের অংশে ভ্রূদ্বয় একে অপরের সাথে মিলিত ছিল না। বরং তিনি ছিলেন 'আবলাজ' বা প্রশস্ত ভ্রূবিশিষ্ট: আর 'বালাজ' হলো দুই ভ্রুর মধ্যবর্তী উজ্জ্বল শুভ্র স্থান। এখানে 'ভ্রূসমূহ' বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে কারণ দুই বা ততোধিক সংখ্যাকেও বহুবচন বলা হয়; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন, "আর আমি তাদের বিচারের সাক্ষী ছিলাম"—এখানে দাউদ ও সুলায়মান উভয়কে বোঝানো হয়েছে; আর এ ধরনের উদাহরণ অনেক রয়েছে।
আর বলা হয়েছে: ভ্রূদ্বয়ের মাঝখানে একটি রগ ছিল যা রাগের সময় ফুলে উঠত। অর্থাৎ যখন নবী রাগান্বিত হতেন তখন সেই রগটি রক্তে পূর্ণ হয়ে উঁচু হয়ে যেত।
আর বলা হয়েছে: তাঁর নাক ছিল উচ্চ ও উন্নত। 'আরনীন' মানে নাক এবং 'কানা' বলতে নাকের উচ্চতা ও নাসিকার অগ্রভাগের সূক্ষ্মতাকে বোঝায়। আর 'আশাম' হলো সূক্ষ্ম ও উন্নত নাক, অর্থাৎ তাঁর নাকের উচ্চতা অতিরিক্ত ছিল না।
গাল দুটি ছিল সমতল, এর অর্থ হলো গালদ্বয় উঁচু বা মাংসপিণ্ডযুক্ত ছিল না। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো তাঁর গাল ছিল মসৃণ ও দীর্ঘ।
আর মুখ ছিল প্রশস্ত: আরবরা প্রশস্ত মুখমণ্ডল পছন্দ করত। আর দাঁতগুলো ছিল 'মুফাল্লাজ': অর্থাৎ দাঁতগুলোর মাঝে সামান্য ফাঁকা ছিল।
'মাসরুবাহ' হলো কণ্ঠনালী থেকে নাভি পর্যন্ত লম্বা পশমের রেখা। 'জীদ' মানে ঘাড়। আর 'দুমিয়াহ' মানে প্রতিমূর্তি বা ছবি।
বলা হয়েছে: তাঁর শারীরিক গঠন ছিল সুষম, অর্থাৎ তাঁর শরীরের প্রতিটি অঙ্গ সৌন্দর্য ও পূর্ণতার দিক থেকে একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
'বাদিন' হলো সুঠাম ও মাংসল দেহ। 'মুতামাসিক' হলো সুসংহত দেহ যা শিথিল নয়। আর বলা হয়েছে: তাঁর পেট ও বুক ছিল সমান, অর্থাৎ তাঁর পেট উঁচু ছিল না বরং তা বুকের সাথে সমান স্তরে ছিল।
'কারাদিস' হলো হাড়ের সংযোগস্থল বা হাড়ের মাথা, যেমন হাঁটু ও কনুই এবং এই জাতীয় অন্যান্য অঙ্গ।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - ত বা ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣٧)
والمتجرد: أي ما تستره الثياب من البدن فيتجرد عنها في بعض الأحيان يصفها بشدة البياض.
وقوله: رحب الراحة: يكنون به عن السخاء والكرم. والشن: الغليظ. وقوله: خمصان الأخمصين فالأخمص وسط القدم من أسفل، يعني أن أخمصه مرتفع من الأرض تشبيهاً بالخمصان، وهو ضامر البطن.
وقوله مسيح القدمين: أي ظهر قدميه ممسوح أملس لا يقف عليه الماء.
وقوله: زال قلعاً إن روي بفتح القاف كان مصدراً بمعنى الفاعل، أي: يزول قالعاً لرجله من الأرض، وقال بعض أهل اللغة بضم القاف، وحكى أبو عبيد الهروي أنه رأى بخط الأزهري بفتح القاف وكسر اللام؛ غير أن المعنى فيه ما ذكرناه، وأنه عليه السلام كان لا يخط الأرض برجليه.
وقوله: تكفياً، أي: يميد في مشيته.
والذريع: السريع المشي، وقد كان يتثبت في مشيته ويتابع الخطو ويسبق غيره، وورد في حديث آخر: كان يمشي على هينة وأصحابه يسرعون فلا يدركونه، والصبب: الحدور وقوله: يسوق أصحابه: أي يقدمهم بين يديه.
وقوله: يفتتح الكلام ويختمه بأشداقه، قيل: إنه كان يتشدق في كلامه، بأن يفتح فاه كله ويتقعر في الكلام.
وأشاح: أي أعرض، وترد بمعنى جد وانكمش.
وقوله: فيرد ذلك على العامة بالخاصة: يعني أن الخاصة تصل إليه فتستفيد منه، ثم يردون ذلك إلى العامة، ولهذا كان يقول: ليليني منكم أولوا الأحلام والنهي.
يحذر الناس: أكثر الرواة على فتح الياء والذال والتخفيف، يعني يحترس منهم، وإن روي بضم الياء وتشديد الذال وكسرها فله معنى، أي: إنه يحذر بعض الناس من بعض.
وقوله: لا يوطن الأماكن: يعني لا يتخذ لنفسه مجلساً لا يجلس إلا فيه، وقد فسره ما بعده.
قاومه: أي قام معه.
وقوله: لا تؤبن فيه الحرم، أي: لا يذكرن بسوء، وقوله: ولا تنثى فلتاته أي: لا تذكر، والفلتات هو ما يبدر من الرجل، والهاء عائدة إلى المجلس.
وقوله لا يتفرقون إلا عن ذواق: الأصل فيه الطعام إلا أن المفسرين حملوه على العلم.
আর মুতাজাররাদ: অর্থাৎ শরীরের সেই অংশ যা কাপড় ঢেকে রাখে এবং মাঝেমধ্যে তা থেকে অনাবৃত হয়; তিনি সেই অংশের চরম শুভ্রতা বর্ণনা করছেন।
আর তাঁর বাণী: ‘প্রশস্ত করতল’: এর দ্বারা তারা দানশীলতা ও মহানুভবতা বুঝিয়ে থাকেন। আর ‘শান’ অর্থ হলো মোটা বা খসখসে। আর তাঁর বাণী: ‘পায়ের তালুর মধ্যভাগ অধিক ফাঁকা’: ‘আখমাস’ হলো পায়ের নিচের মাঝের অংশ। এর অর্থ হলো তাঁর পায়ের তালুর মধ্যভাগ মাটি থেকে উঁচুতে থাকত, যাকে ‘খামাসান’ বা কৃশোদর (চিকন পেট বিশিষ্ট) এর সাথে তুলনা করা হয়েছে।
আর তাঁর বাণী: ‘মসৃণ পা’: অর্থাৎ তাঁর পায়ের উপরিভাগ ছিল মোলায়েম ও মসৃণ, যার ওপর পানি স্থির হয়ে থাকত না।
আর তাঁর বাণী: ‘শক্তভাবে পা উঠিয়ে চলতেন’: যদি এটি ‘ক্বফ’ বর্ণের জবর দিয়ে বর্ণিত হয়, তবে তা কর্তাবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ, তিনি জমিন থেকে পা শক্তভাবে উঠিয়ে চলতেন। কিছু ভাষাবিদ ‘ক্বফ’ বর্ণের পেশ যোগে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু উবাইদ আল-হারাবী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল-আযহারীর হাতের লেখায় ‘ক্বফ’ বর্ণে জবর এবং ‘লাম’ বর্ণে যের দেখেছেন; তবে এর অর্থ আমরা যা উল্লেখ করেছি তাই, আর তা হলো তিনি (আলাইহিস সালাম) মাটির ওপর পা টেনে চলতেন না।
আর তাঁর বাণী: ‘সামনের দিকে ঝুঁকে চলা’: অর্থাৎ তিনি তাঁর হাঁটার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে চলতেন।
আর ‘যারীয়’ অর্থ হলো দ্রুত হাঁটা। তিনি তাঁর চলায় ধীরস্থির ছিলেন, কদম অনুসরণ করতেন এবং অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী হতেন। অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: তিনি স্বাভাবিক গতিতে হাঁটতেন আর তাঁর সাহাবীগণ দ্রুত হেঁটেও তাঁর নাগাল পেতেন না। আর ‘সাবাব’ অর্থ হলো ঢালু জায়গা। আর তাঁর বাণী: ‘সাহাবীদের আগে বাড়িয়ে দিতেন’: অর্থাৎ তিনি তাঁদেরকে তাঁর সামনে রাখতেন।
আর তাঁর বাণী: ‘তিনি তাঁর কথা শুরু ও শেষ করতেন তাঁর মুখের দুই পাশ দিয়ে’: বলা হয়েছে যে, তিনি কথা বলার সময় তাঁর পুরো মুখ উন্মুক্ত করতেন এবং অত্যন্ত স্পষ্ট ও গম্ভীরভাবে কথা বলতেন।
আর ‘আশাহা’ অর্থ হলো বিমুখ হওয়া। এটি গুরুত্ব প্রদান করা এবং গুটিয়ে নেওয়া অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
আর তাঁর বাণী: ‘তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন’: এর অর্থ হলো, বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর কাছে আসতেন এবং তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন, তারপর তারা তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন। এই কারণেই তিনি বলতেন: ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিজ্ঞ ও বুদ্ধিমান তারা যেন আমার নিকটবর্তী থাকে।’
‘মানুষদের থেকে সতর্ক থাকতেন’: অধিকাংশ বর্ণনাকারী ‘ইয়া’ এবং ‘যাল’ বর্ণে জবর ও হালকা উচ্চারণসহ বর্ণনা করেছেন, যার অর্থ হলো তিনি তাদের থেকে আত্মরক্ষা করতেন বা সতর্ক থাকতেন। আর যদি এটি ‘ইয়া’ বর্ণে পেশ এবং ‘যাল’ বর্ণে তাশদীদ ও যের সহকারে বর্ণিত হয়, তবে এর অর্থ হবে: তিনি মানুষকে একে অন্যের ব্যাপারে সতর্ক করতেন।
আর তাঁর বাণী: ‘তিনি স্থান নির্দিষ্ট করতেন না’: অর্থাৎ তিনি নিজের জন্য এমন কোনো মজলিস বা বসার জায়গা নির্ধারণ করতেন না যেখানে তিনি ছাড়া আর কেউ বসবে না। এর পরবর্তী অংশই এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।
‘কাওয়ামাহু’ অর্থ হলো তাঁর সাথে দাঁড়িয়েছেন।
আর তাঁর বাণী: ‘সেখানে সম্মানহানি করা হতো না’: অর্থাৎ কারো সম্পর্কে মন্দ আলোচনা করা হতো না। আর তাঁর বাণী: ‘তাঁর ভুলভ্রান্তিগুলো প্রচার করা হতো না’: অর্থাৎ তা উল্লেখ করা হতো না। ‘ফালাতাত’ হলো সেই ভুল যা মানুষের দ্বারা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ পায়, আর এখানে সর্বনামটি মজলিসের দিকে নির্দেশ করছে।
আর তাঁর বাণী: ‘তারা কোনো কিছু আস্বাদন করা ব্যতিরেকে বিদায় নিতেন না’: এর মূল অর্থ খাবারের সাথে সম্পৃক্ত হলেও ব্যাখ্যাকারগণ একে জ্ঞান অর্জনের অর্থে গ্রহণ করেছেন।