(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: -)
تصحيح حديث إفطار الصائم قبل سفرة بعد الفجر القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: تصحيح حديث إفطار الصائم قبل سفرة بعد الفجر
المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)
الناشر: مكتبة المعارف
الطبعة: الطبعة الشرعية الوحيدة 1421هـ -2001م
عدد الصفحات: 58
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফজরের পর সফরের পূর্বে রোজাদারের ইফতার বিষয়ক হাদিসের বিশুদ্ধিকরণ বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
গ্রন্থ: ফজরের পর সফরের পূর্বে রোজাদারের ইফতার বিষয়ক হাদিসের বিশুদ্ধিকরণ
লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, বিন আল-হাজ নুহ বিন নাজাতি বিন আদম, আল-আশকুদি আল-আলবানি (মৃত্যু ১৪২০ হি.)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ
সংস্করণ: একমাত্র বৈধ সংস্করণ ১৪২১ হি. -২০০১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাহ সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمه…بسم الله الرحمن الرحيم.
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه ومن والاه.
أما بعد فإني أقدم اليوم إلى القراء الكرام بحوثا طريفة ومناقشات مفيدة إن شاء الله تعالى تعرض لهم لونا جديدا من ألوان التحقيق العلمي الحديثي والفقهي معا حول مسألة هامة كثيرا ما يبدو لبعضهم الحاجة إليها ومعرفة الرأي الصائب فيها ألا وهي "إفطار الصائم في رمضان قبل سفره بعد الفجر".
وإن من الغرائب أن يتوجه بعض الناس اليوم إلى إنكار الحديث الوارد فيها والذي يحدد للمسلم الموقف الذي يجب أن يتخذه منها مع صحة إسناده وعدالة رواته ومطابقته لظاهر القرآن وشهادة الآثار السلفية له وموافقته لأصل من أصول الشريعة الغراء: {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلا يُرِيدُ بِكُمُ
ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও তাঁদের অনুসারীদের ওপর।
অতঃপর, আমি আজ সম্মানিত পাঠকদের সামনে ইনশাআল্লাহ এমন কিছু চমকপ্রদ গবেষণা এবং উপকারী আলোচনা পেশ করছি, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রীয় আধুনিক যাচাই-বাছাইয়ের এক নতুন রূপ তুলে ধরবে। যে বিষয়টি সম্পর্কে প্রায়শই অনেকের জানার প্রয়োজন হয় এবং সঠিক মতামত সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকে, আর তা হলো: "রমজান মাসে সফরের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে ফজর হয়ে যাওয়ার পর রোজাদারের রোজা ভঙ্গ করা"।
এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর যে, বর্তমানে কিছু মানুষ এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসটি অস্বীকার করার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা একজন মুসলিমের জন্য এই ক্ষেত্রে গ্রহণীয় অবস্থান নির্ধারণ করে দেয়; অথচ হাদীসটির সনদ বিশুদ্ধ, এর বর্ণনাকারীগণ ন্যায়পরায়ণ, এটি কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সালাফদের থেকে বর্ণিত আছারসমূহ এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় এবং এটি মহিমান্বিত শরীয়তের একটি মূলনীতির সাথেও সংগতিপূর্ণ: {আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তিনি তোমাদের জন্য কষ্ট চান না...}
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ৪)
الْعُسْرَ} وعمل به جماعة من أئمة الفقه والحديث.
وما ذلك منه إلا تعصبا لفرعه المذهبي خلافا لما صح عن إمامه كأصل من أصوله: "إذا صح الحديث فهو مذهبي"1.
وقد كنت نشرت هذه البحوث في مجلة التمدن الإسلامي الزاهرة "عدد 25 - 36 سنة 1379" في ثلاث مقالات متتابعة فبدا لي فصلها من المجلة ونشرها في رسالة مستقلة كما جاءت في المجلة رجاء أن يعم النفع بها أكثر ويكون أجرنا إن شاء الله تعالى أكبر.
أسأل الله عز وجل أن يجعلها خالصة لوجهه الكريم وأن ينفع النفع العميم.
دمشق مساء يوم عرفة سنة 1379 هـ.
محمد ناصر الدين الألباني.
--------------------------------------------
কষ্ট} এবং ফিকহ ও হাদিসের একদল ইমাম এর ওপর আমল করেছেন।
আর এটি তার পক্ষ থেকে তার মাযহাবি শাখার প্রতি গোঁড়ামি ছাড়া আর কিছুই নয়, যা তার ইমামের নিকট থেকে প্রমাণিত তার অন্যতম মূলনীতির পরিপন্থী: "যখন হাদিস সহিহ সাব্যস্ত হবে, সেটিই আমার মাযহাব"১।
আমি এই গবেষণাগুলো দীপ্তিমান ‘আত-তামাদ্দুন আল-ইসলামি’ সাময়িকীতে (সংখ্যা ২৫-৩৬, ১৩৭৯ হিজরি) তিনটি ধারাবাহিক নিবন্ধে প্রকাশ করেছিলাম। অতঃপর সাময়িকী থেকে তা আলাদা করে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা হিসেবে প্রকাশ করা আমার কাছে সমীচীন মনে হলো—যেভাবে তা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল—এই আশায় যে এর মাধ্যমে উপকারিতা আরও ব্যাপক হবে এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিদান আরও বৃদ্ধি পাবে।
আমি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি একে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে ব্যাপক কল্যাণ দান করেন।
দামেস্ক, আরাফা দিবসের সন্ধ্যা, ১৩৭৯ হিজরি।
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ৫)
مدخل…سبق أن علق الأستاذ الشيخ ناصر الدين الألباني بكلمة على فتوى في هذه المجلة حول هذا الموضوع فبين أن من السنة أن يفطر الصائم في بيته قبل مبارحته وقد وردتنا من الأستاذ الشيخ عبد الله بن محمد الهرري - بواسطة الأستاذ الشيخ حمدي الجويجاني - كلمة ذكر فيها أن بعض القراء عرض عليه تلك الكلمة فرآها مستندة إلى حديث ضعيف وأطلعنا الأستاذ الألباني على كلمة الأستاذ الهرري فأيد ما ذهب إليه من قبل بكلمة جديدة فننشر الكلمتين فيما يلي:
ভূমিকা…ইতিপূর্বে শায়খ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী এই সাময়িকীতে এই বিষয়ের ওপর একটি ফতোয়া প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন এবং স্পষ্ট করেছিলেন যে, সুন্নাত হলো রোজাদার ব্যক্তি তার ঘর ত্যাগ করার পূর্বেই ঘরে ইফতার করবেন। আমাদের নিকট শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হারারী থেকে—শায়খ হামদি আল-জুওয়াইজানির মাধ্যমে—একটি বক্তব্য পৌঁছেছে যাতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কিছু পাঠক তার কাছে উক্ত বক্তব্যটি উপস্থাপন করেছেন এবং তিনি একে একটি দুর্বল হাদিসের ওপর নির্ভরশীল হিসেবে দেখতে পেয়েছেন। আমরা শায়খ আলবানীকে শায়খ হারারীর বক্তব্যের ব্যাপারে অবহিত করলে তিনি একটি নতুন বক্তব্যের মাধ্যমে তার পূর্বের মতকেই সমর্থন করেছেন। অতএব, আমরা নিচে উভয় বক্তব্যই প্রকাশ করছি:
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ৫)
1 - قال الأستاذ الهرري:
"في جامع الترمذي:
باب فيمن أكل ثم خرج سفرا.
حدثنا قتيبة حدثنا عبد الله بن جعفر عن زيد بن أسلم عن محمد بن المنكدر عن محمد بن كعب قال: أتيت أنس بن مالك في رمضان وهو يريد سفرا وقد رحلت راحلته ولبس ثياب السفر فدعا بطعام فأكل فقلت: سنة قال: سنة ثم.
১ - উস্তাদ আল-হারারি বলেছেন:
"জামি আত-তিরমিযীতে রয়েছে:
অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি আহার করল অতঃপর সফরে বের হলো.
কুতায়বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়িদ বিন আসলাম থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আল-মুনকাদির থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রমজান মাসে আনাস বিন মালিকের নিকট আসলাম, এমতাবস্থায় তিনি সফরের ইচ্ছা পোষণ করছিলেন। তাঁর বাহন প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং তিনি সফরের পোশাক পরিধান করেছিলেন। অতঃপর তিনি খাবার আনালেন এবং আহার করলেন। আমি বললাম: এটি কি সুন্নাহ? তিনি বললেন: সুন্নাহ। এরপর।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ৬)
ركب.
حدثنا محمد بن إسماعيل حدثنا سعيد بن أبي مريم حدثنا محمد بن جعفر حدثني زيد بن أسلم حدثني محمد بن المنكدر عن محمد بن كعب قال: أتيت أنس بن مالك في رمضان فذكر نحوه.
قال أبو عيسى: هذا حديث حسن ومحمد بن جعفر هو ابن أبي كثير مدني ثقة وهو أخو إسماعيل بن جعفر وعبد الله بن جعفر هو ابن أبي نجيح والد علي بن المديني وكان يحيى بن معين يضعفه وقد ذهب بعض أهل العلم إلى هذا الحديث وقال: للمسافر أن يفطر في بيته قبل أن يخرج وليس له أن يقصر حتى يخرج من جدار المدينة أو القرية وهو قول إسحق.
فهذا التحسين من الترمذي مردود فقد ضعف هذا الحديث حافظان أحدهما من المتقدمين والآخر من المتأخرين:
আরোহণ করলেন।
আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট যায়েদ ইবনে আসলাম বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আল-মুনকাদির মুহাম্মাদ ইবনে কাব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রমজান মাসে আনাস ইবনে মালিকের নিকট আসলাম এবং তিনি অনুরূপ বর্ণনা করলেন।
আবু ঈসা বলেন: এই হাদীসটি হাসান। মুহাম্মাদ ইবনে জাফর হলেন ইবনে আবি কাসীর আল-মাদানী, তিনি নির্ভরযোগ্য এবং তিনি ইসমাইল ইবনে জাফরের ভাই। আর আবদুল্লাহ ইবনে জাফর হলেন ইবনে আবি নাজীহ, যিনি আলী ইবনুল মাদিনীর পিতা; ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করতেন। বিজ্ঞ আলিমদের কেউ কেউ এই হাদীসটি গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: একজন মুসাফিরের জন্য বের হওয়ার আগেই তার বাড়িতে ইফতার করা (রোজা ভাঙা) বৈধ, তবে শহর বা গ্রামের সীমানা প্রাচীর থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য নামাজ কসর করা বৈধ নয়। এটি ইসহাকের অভিমত।
তিরমিযীর এই 'হাসান' বলার বিষয়টি প্রত্যাখ্যাত, কারণ দুইজন হাফিজ এই হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন; তাদের একজন পূর্বসূরিদের অন্তর্ভুক্ত এবং অপরজন উত্তরসূরিদের অন্তর্ভুক্ত:
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ৭)
الأول: هو الحافظ الناقد أبو حاتم الرازي قال ابنه الحافظ عبد الرحمن في "العلل" "ص 240" ما نصه:
"سألت أبي عن حديث رواه عبد العزيز بن محمد الدراوردي عن زيد بن أسلم عن محمد بن كعب أنه أتى أنس بن مالك في رمضان وهو يريد سفرا فوجده قد رحلت راحلته ولبس ثياب السفر فدعا بطعام فأكل فقلنا: سنة قال: ليس بسنة.
ورواه محمد بن عبد الرحمن بن مجبر عن ابن المنكدر عن محمد بن كعب أنه أتى أنس بن مالك فذكر الحديث قال: فقلت: سنة قال: سنة قال أبي حديث الدراوردي أصح" أهـ.
فهذا هو كما هو ظاهر صريح في أن رواية الترمذي مرجوحة وأن الراجح رواية النفي.
والثاني: فهو الحافظ العراقي زين الدين عبد الرحيم شيخ.
প্রথমজন: তিনি হলেন হাফিয ও সমালোচক আবু হাতিম আর-রাজি। তাঁর পুত্র হাফিয আব্দুর রহমান "আল-ইলাল" (পৃষ্ঠা ২৪০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যার পাঠ হলো:
"আমি আমার পিতাকে একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যা আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আদ-দারাওয়ারদি যায়েদ বিন আসলাম থেকে এবং তিনি মুহাম্মদ বিন কাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রমযান মাসে আনাস বিন মালিকের কাছে এসেছিলেন যখন তিনি সফরের ইচ্ছা করছিলেন। তিনি তাঁকে দেখলেন যে তাঁর বাহন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তিনি সফরের পোশাক পরিধান করেছেন। অতঃপর তিনি খাবার আনালেন এবং আহার করলেন। আমরা বললাম: এটি কি সুন্নাহ? তিনি বললেন: এটি সুন্নাহ নয়।
এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুজাব্বার এটি ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আনাস বিন মালিকের নিকট আসলেন, অতঃপর হাদীসটি উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: আমি বললাম: এটি কি সুন্নাহ? তিনি বললেন: এটি সুন্নাহ। আমার পিতা বললেন: দারাওয়ারদির বর্ণিত হাদীসটিই অধিক বিশুদ্ধ।" সমাপ্ত।
সুতরাং এটি যেমনটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, তিরমিযীর বর্ণনাটি মারজুহ বা দুর্বল এবং রাজীহ বা অগ্রগণ্য হলো না-বোধক বর্ণনাটি।
দ্বিতীয়জন: তিনি হলেন হাফিয আল-ইরাকি যাইনুদ্দীন আব্দুর রহীম শায়খ।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ৮)
الحافظ ابن حجر قال في شرحه على الترمذي: "يوجد في المكتبة المحمودية بالمدينة المنورة نسخة خطية برقم 168".
حديث أنس هذا انفرد بإخراجه الترمذي وحسنه لمتابعة محمد بن جعفر لعبد الله بن جعفر وإلا فعبد الله ضعيف كما حكى المصنف تضعيفه عن ابن معين فإنه قال فيه: ليس بشيء وقال فيه أبو حاتم الرازي: منكر الحديث جدا وقال فيه النسائي: متروك الحديث وقال الفلاس: ضعيف الحديث وقال فيه الدارقطني: كثير المناكير وقال أبو حاتم: كان يهم في الأخبار فيأتي بها مقلوبة ويخطئ في الآثار حتى كأنها مقلوبة وقال ابن عدي: عامة أحاديثه لا يتابعه عليه أحد وهو مع ضعفه ممن يكتب حديثه قال صاحب الميزان: وهو متفق على ضعفه. أهـ.
قال: وإن الترمذي إنما حسن الحديث لكون عبد الله بن جعفر لم ينفرد به بل تابعه عليه محمد بن جعفر بن أبي كثير.
হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর তিরমিযীর ভাষ্যগ্রন্থে বলেছেন: "মদীনা মুনাওয়ারার মাহমুদীয়া লাইব্রেরিতে ১৬৮ নম্বর সম্বলিত একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।"
আনাসের এই হাদিসটি এককভাবে তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং মুহাম্মদ ইবনে জাফর কর্তৃক আব্দুল্লাহ ইবনে জাফরের অনুসরণের (মুতাবায়াত) কারণে তিনি একে হাসান বলেছেন। অন্যথায় আব্দুল্লাহ দুর্বল, যেমনটি গ্রন্থকার ইবনে মঈন থেকে তার দুর্বলতার কথা উদ্ধৃত করেছেন; কেননা তিনি তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু নন।" আবু হাতিম আর-রাযী তার সম্পর্কে বলেছেন: "অত্যন্ত মুনকার হাদিস বর্ণনাকারী।" নাসাঈ তার সম্পর্কে বলেছেন: "পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী।" ফাল্লাস বলেছেন: "দুর্বল হাদিস বর্ণনাকারী।" দারাকুতনী তার সম্পর্কে বলেছেন: "প্রচুর মুনকার বর্ণনাকারী।" আবু হাতিম বলেছেন: "তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে বিভ্রমের শিকার হতেন, ফলে তা উল্টে ফেলতেন এবং আসার (বর্ণনা) সমূহে এমন ভুল করতেন যে মনে হতো সেগুলো ওলটপালট হয়ে গেছে।" ইবনে আদী বলেন: "তার অধিকাংশ হাদিসে কেউ তার অনুসরণ করে না, তবে দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও তিনি এমন ব্যক্তি যার হাদিস লিখে রাখা হয়।" মিযান গ্রন্থের লেখক বলেন: "তার দুর্বলতার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে।" সমাপ্ত।
তিনি বলেন: ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে কেবল এজন্যই হাসান বলেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর এটি বর্ণনায় একক ছিলেন না, বরং মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আবি কাসীর তাঁর অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ৯)
المدني وهو ثقة كما قال الترمذي.
إذا تقرر هذا فهنا أمر يجب التنبيه عليه فمحل الحجة من الحديث كون أنس قال فيه إنه سنة وحكم الصحابي على "أمر" بأنه سنة يكون حكمه حكم الحديث المرفوع على ما هو مقرر في علوم الحديث والأصول وهذه اللفظة إنما رواها على الجزم عبد الله بن جعفر وهو متفق على ضعفه كما تقدم.
وأما طريق محمد بن جعفر فلم يسق الترمذي لفظها وإنما قال فذكر نحوه وهذا لا يقتضي أنه بلفظه كما هو مقرر في علوم الحديث.
ثم فتشنا عن لفظ رواية محمد بن جعفر بن أبي كثير فوجدناه لم يجزم بهذه اللفظة كما جزم بها عبد الله بن جعفر رواه كذلك إسماعيل بن إسحق القاضي في كتاب "الصيام".
قال: حدثنا عيسى بن مينا قال: حدثنا محمد بن جعفر بن أبي كثير عن زيد بن أسلم عن ابن المنكدر عن محمد بن كعب.
আল-মাদানি এবং তিনি নির্ভরযোগ্য যেমনটি তিরমিজি বলেছেন।
যখন এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন এখানে একটি বিষয় রয়েছে যার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা আবশ্যক; হাদিসটি থেকে দলীল গ্রহণের ক্ষেত্র হলো আনাস (রা.)-এর এই কথা যে এটি সুন্নাহ। আর কোনো বিষয়ের ব্যাপারে সাহাবীর এই ফয়সালা যে "এটি সুন্নাহ", তা হাদিস বিজ্ঞান ও উসূলের মূলনীতি অনুযায়ী মারফু হাদিসের পর্যায়ভুক্ত বলে গণ্য হয়। আর এই শব্দচয়নটি দৃঢ়তার সাথে কেবল আবদুল্লাহ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, যার দুর্বলতার বিষয়ে সর্বসম্মত ঐক্যমত রয়েছে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
আর মুহাম্মদ ইবনে জাফরের সূত্রের ব্যাপারে বলতে গেলে, তিরমিজি এর মূল পাঠ উল্লেখ করেননি, বরং তিনি বলেছেন "তিনি এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন"। হাদিস বিজ্ঞানে সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী এটি এমনটি দাবি করে না যে বর্ণনাটি হুবহু একই শব্দে হয়েছে।
অতঃপর আমরা মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আবি কাসিরের বর্ণনার শব্দগুলো অনুসন্ধান করেছি এবং তাকে এই শব্দের ব্যাপারে তেমন দৃঢ়তা অবলম্বন করতে দেখিনি যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে জাফর করেছিলেন। কাজী ইসমাইল ইবনে ইসহাক তাঁর "আস-সিয়াম" গ্রন্থে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন: ঈসা ইবনে মিনা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আবি কাসির আমাদের নিকট জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি ইবনুল মুনকাদির থেকে এবং তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ১০)
قال: أتيت أنس بن مالك في رمضان وهو يريد سفرا فأكل فقلت: سنة؟ فلا أحسبه إلا قال: نعم.
فهذا لفظ رواية محمد بن جعفر وقد شك بعض رواته في هذه اللفظة وهو عمدة الاحتجاج ولكن قد رواها الدارقطني في سننه عن أبي بكر النيسابوري عن إسماعيل بن إسحق بن سهل عن ابن أبي مريم عن محمد بن جعفر فذكره ولم يشك في هذه اللفظة بل قال: فقلت: سنة قال: نعم.
قال ابن العربي: حديث أنس صحيح لم يقل به إلا أحمد بن حنبل.
قلت: اختلف فيه على بن سعيد بن أبي مريم فقال إسماعيل بن إسحق عنه ما تقدم وخالف يحيى بن أيوب العلاف فجعل القصة في الإفطار يوم الشك لا إرادة السفر.
كذلك رواه الطبراني في المعجم الأوسط قال: حدثنا يحيى بن أيوب العلاف قال: حدثنا سعيد بن أبي مريم حدثنا.
তিনি বললেন: আমি রমজান মাসে আনাস ইবনে মালেকের নিকট আসলাম, এমতাবস্থায় তিনি সফরের ইচ্ছা করছিলেন এবং তিনি আহার করলেন। আমি বললাম: এটি কি সুন্নাত? বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা তিনি বলেছিলেন: হ্যাঁ।
এটি মুহাম্মদ ইবনে জাফরের বর্ণনার শব্দসমূহ, আর তাঁর কোনো কোনো বর্ণনাকারী এই শব্দটির ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন এবং এটিই দলীল হিসেবে পেশ করার মূল ভিত্তি। কিন্তু দারা কুতনী তাঁর সুনান গ্রন্থে আবু বকর আন-নিশাপুরী থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে ইসহাক ইবনে সাহল থেকে, তিনি ইবনে আবি মারইয়াম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এই শব্দটির ব্যাপারে কোনো প্রকার সন্দেহ করেননি, বরং বলেছেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম: সুন্নাত? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
ইবনুল আরাবী বলেন: আনাসের হাদিসটি সহিহ, তবে আহমাদ ইবনে হাম্বল ব্যতীত অন্য কেউ এর প্রবক্তা নন।
আমি বলি: সাঈদ ইবনে আবি মারইয়ামের সূত্রে এই বর্ণনায় মতভেদ হয়েছে। ইসমাইল ইবনে ইসহাক তাঁর থেকে তা-ই বর্ণনা করেছেন যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আল-আল্লাফ এর বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি ঘটনাটিকে সফরের ইচ্ছার পরিবর্তে সন্দেহপূর্ণ দিনে রোজা ভঙ্গের ঘটনারূপে বর্ণনা করেছেন।
অনুরূপভাবে তাবারানি আল-মু'জামুল আওসাতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আল-আল্লাফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ১১)
محمد بن جعفر بن أبي كثير عن زيد بن أسلم عن محمد بن المنكدر عن محمد بن كعب قال: دخلت على أنس بن مالك عند العصر يوم يشكون وأنا أريد أن أسلم عليه فدعا بطعام فأكل فقلت: هذا الذي صنعت سنة؟ قال: نعم.
وقد تابع سعيد بن أبي مريم على روايته على هذا الوجه خالد بن نزار رواه الطبراني أيضا في الأوسط قال: حدثنا المقدام هو ابن داود حدثنا خالد بن نزار حدثنا محمد بن جعفر فالحديث إذا اضطرب ليس بصحيح.
ثم فتشنا هل نجد أحدا تابع عبد الله بن جعفر ومحمد بن جعفر على رواية هذا الحديث عن زيد بن أسلم ليقوى به أحد الروايتين فوجدنا عبد العزيز بن محمد الدراوردي وهو أحد رجال الصحيح قد رواه عن زيد بن أسلم عكس رواية عبد الله بن جعفر رواه كذلك أيضا إسماعيل القاضي قال: حدثنا علي بن المديني وإبراهيم بن.
মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আবি কাসীর যায়িদ বিন আসলাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন মুনকাদির থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আসরের সময় আনাস বিন মালিকের নিকট প্রবেশ করলাম এমন একদিনে যখন মানুষ (রমজানের চাঁদ নিয়ে) সংশয়ে ছিল। আমি তাঁকে সালাম দিতে চেয়েছিলাম। তখন তিনি খাবার আনালেন এবং আহার করলেন। আমি বললাম: আপনি যা করলেন তা কি সুন্নাহ? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
সাঈদ বিন আবি মারইয়ামের এই বর্ণনার ধারাকে খালিদ বিন নিযারও অনুসরণ করেছেন। তাবারানিও এটি ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-মিকদাম (যিনি ইবনে দাউদ) বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট খালিদ বিন নিযার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন জাফর বর্ণনা করেছেন। সুতরাং হাদিসটি যদি বর্ণনায় বৈপরীত্যপূর্ণ (মুদতারিব) হয়, তবে তা সহিহ নয়।
অতঃপর আমরা অনুসন্ধান করেছি যে, যায়িদ বিন আসলামের সূত্রে এই হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ বিন জাফর ও মুহাম্মদ বিন জাফরের কোনো অনুসরণকারী পাওয়া যায় কি না, যাতে করে বর্ণনাদ্বয়ের কোনো একটি শক্তিশালী হয়। তখন আমরা আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আদ-দারাওয়ার্দিকে পেলাম, যিনি সহিহ গ্রন্থের অন্যতম বর্ণনাকারী; তিনি যায়িদ বিন আসলাম থেকে আব্দুল্লাহ বিন জাফরের বর্ণনার বিপরীত বর্ণনা করেছেন। ইসমাইল আল-কাদিও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী বিন আল-মাদিনি এবং ইব্রাহিম বিন... বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ১২)
حمزة عن الدراوردي عن زيد بن أسلم بإسناده وقال فيه فقلت له: سنة؟ فقال: لا ثم ركب..
وهذه الطريق أقوى من طريق عبد الله بن جعفر فوجدنا الطريقين صحيحين أحدهما فيه الشك في اللفظة والأخرى عكسها وفي الطبراني حمل الحديث على معنى غير الفطر للسفر فتبين ضعف رواية إثبات كونها سنة والله أعلم.
وهذه المسألة قد اختلف العلماء فيها على أقوال:
أحدها: وهو قول أكثر أهل العلم أن من أصبح صائما ثم سافر فليس له أن يفطر ذلك اليوم البتة لا قبل الشروع في السفر ولا بعده وهو قول إبراهيم النخعي والزهري ويحيى بن سعيد الأنصاري والأوزاعي وأبي حنيفة وأصحابه ومالك والشافعي وأبي ثور.
والثاني: أنه له الفطر إذا خرج وبرز عن البيوت وهو قول أحمد بن حنبل وروى عن عبد الله بن عمر والشعبي.
হামযাহ আল-দারাওয়ারদী হতে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম হতে তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: আমি তাঁকে বললাম, এটি কি সুন্নাত? তিনি বললেন: না, এরপর তিনি আরোহণ করলেন।
আর এই সূত্রটি আবদুল্লাহ ইবনে জাফরের সূত্রের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। আমরা উভয় সূত্রকেই সহীহ পেয়েছি; তবে একটিতে শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে সংশয় রয়েছে এবং অপরটি তার বিপরীত। তাবারানীতে এই হাদীসটিকে সফর অবস্থায় রোযা ভঙ্গের উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে অন্য অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে, ফলে একে সুন্নাত হিসেবে সাব্যস্ত করার বর্ণনার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
এই মাসআলায় আলেমগণ একাধিক মতে বিভক্ত হয়েছেন:
প্রথমত: এটি অধিকাংশ আলেমদের মত যে, যে ব্যক্তি রোযা অবস্থায় ভোর করল এবং অতঃপর সফরে বের হলো, তার জন্য ওই দিনে রোযা ভঙ্গ করা মোটেও বৈধ নয়—সফর শুরু করার আগে বা পরে কোনোভাবেই নয়। এটি ইব্রাহিম নাখয়ি, যুহরি, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী, আওযায়ি, আবু হানিফা ও তাঁর সাথীবর্গ, মালিক, শাফেয়ি এবং আবু সাওর-এর অভিমত।
দ্বিতীয়ত: যখন সে (লোকালয় থেকে) বের হবে এবং ঘরবাড়ি অতিক্রম করে বাইরে চলে যাবে, তখন তার জন্য রোযা ভঙ্গ করা বৈধ। এটি আহমদ ইবনে হাম্বলের অভিমত এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও শাবি হতেও এটি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
واحتج بعضهم على جواز الفطر بالحديث الصحيح في خروجه صلى الله عليه وسلم في رمضان إلى مكة وأنه صام حتى بلغ الكديد ثم أفطر. وفي رواية حتى بلغ كراع الغميم فتوهم من استدل بهذا أن الكديد والكراع بقرب المدينة وأن النبي صلى الله عليه وسلم أصبح بالمدينة صائما ثم بلغهما في بقية يومه فأفطر فالاستدلال بهذا الحديث على ذلك باطل.
والثالث: إن له الفطر إذا وضع رجله في الرحل وبه قال داود وحكاه ابن عبد البر عن إسحق وهو مخالف لما حكاه الترمذي عنه من أن له الفطر في بيته قبل أن يخرج إلا أن يحمل على أنه وضع رجله في الرحل وهو في بيته ثم أكل قبل أن يخرج وحديث أنس مخالف له في أنه دعا بطعامه فأكل ثم ركب والله أعلم.
والرابع: أن له الفطر في بيته يوم يريد أن يخرج وهو قول أنس والحسن البصري فيما روى عنه وقد حكاه المصنف عن.
তাদের কেউ কেউ সিয়াম ভঙ্গের বৈধতার সপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রমজান মাসে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হওয়া এবং আল-কাদীদ পৌঁছানো পর্যন্ত সিয়াম পালন করা ও পরবর্তীতে তা ভঙ্গ করার সহীহ হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। এক বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি কুরাউল গামিম পৌঁছানো পর্যন্ত সিয়াম পালন করেছিলেন। যারা এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, তারা ধারণা করেছেন যে আল-কাদীদ ও আল-কুরা মদীনার নিকটবর্তী এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় সিয়াম অবস্থায় ভোর করেছিলেন, অতঃপর দিনের অবশিষ্ট অংশে সেখানে পৌঁছে সিয়াম ভঙ্গ করেছিলেন। সুতরাং এই হাদিস দ্বারা সে বিষয়ে দলিল পেশ করা বাতিল।
তৃতীয় মত: যখন তিনি সওয়ারিতে নিজের পা রাখবেন, তখন তার জন্য সিয়াম ভঙ্গ করা বৈধ। দাউদ এই মত পোষণ করেছেন এবং ইবনে আব্দুল বার ইসহাক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইমাম তিরমিযী তার থেকে যা বর্ণনা করেছেন এটি তার বিপরীত; যাতে বলা হয়েছে যে— বের হওয়ার আগে নিজ গৃহেই তার জন্য সিয়াম ভঙ্গ করা বৈধ, তবে একে এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে, তিনি নিজ গৃহে থাকাকালীন সওয়ারিতে পা রেখেছেন এবং অতঃপর বের হওয়ার পূর্বে আহার করেছেন। আনাস (রা.)-এর হাদিস এর পরিপন্থী, কেননা তিনি খাবার আনালেন, আহার করলেন এবং অতঃপর আরোহণ করলেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
চতুর্থ মত: যে দিন তিনি বের হওয়ার ইচ্ছা করবেন, সেদিন নিজ গৃহেই তার জন্য সিয়াম ভঙ্গ করা বৈধ। এটি আনাস এবং হাসান বসরীর অভিমত—যেমনটি তাদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। গ্রন্থকার এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ابن راهويه كما تقدم قال ابن عبد البر: "واتفقوا في الذي يريد السفر في رمضان أنه لا يجوز له أن يبيت الفطر لأن المسافر لا يكون مسافرا بالنية إنما يكون مسافرا بالنهوض في سفره". انتهى كلام العراقي.
وأخرج البخاري عن ابن عباس: خرج النبي صلى الله عليه وسلم في رمضان من المدينة ومعه عشرة آلاف من المسلمين يصوم ويصومون حتى بلغ الكديد فأفطر وأفطروا.
قال الحافظ ابن حجر: لو نوى الصوم وهو مقيم ثم سافر في أثناء النهار فهل له أن يفطر في ذلك النهار؟ منعه الجمهور قال أحمد وإسحق بالجواز واختاره المزني محتجا بهذا الحديث فقيل له قال كذلك ظنا منه أنه صلى الله عليه وسلم أفطر في اليوم الذي خرج فيه من المدينة. وليس كذلك فإن بين المدينة والكديد عدة أيام وكذلك لا حجة للمخالف في حديث أبي بصرة الغفاري الذي رواه أحمد وأبو داود من طريق عبيد بن جبير قال: ركبت.
ইবনে রাহওয়াইহ যেমন পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, ইবনুল বারর বলেছেন: "রমজান মাসে যে ব্যক্তি সফরের সংকল্প করে তার ক্ষেত্রে তারা একমত পোষণ করেছেন যে, তার জন্য রাতে রোজা ভঙ্গের নিয়ত করা জায়েজ নয়; কেননা মুসাফির কেবল নিয়তের দ্বারা মুসাফির হয়ে যায় না, বরং সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার মাধ্যমেই সে মুসাফির হিসেবে গণ্য হয়।" ইরাকির বক্তব্য সমাপ্ত।
এবং বুখারি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানে মদিনা থেকে বের হলেন এবং তাঁর সাথে দশ হাজার মুসলিম ছিলেন। তিনি রোজা পালন করছিলেন এবং তাঁরাও রোজা পালন করছিলেন, যতক্ষণ না তিনি কাদিদ নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তিনি রোজা ভঙ্গ করলেন এবং তাঁরাও রোজা ভঙ্গ করলেন।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: যদি কেউ মুকিম থাকা অবস্থায় রোজার নিয়ত করে এবং দিনের বেলায় সফরে বের হয়, তবে সে কি সেই দিনে রোজা ভঙ্গ করতে পারবে? জুমহুর আলেমগণ একে নিষেধ করেছেন। আহমাদ ও ইসহাক একে বৈধ বলেছেন এবং মুজানি এই হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করে এটি গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তাঁকে বলা হয়েছে যে, তিনি এমনটি মনে করে বলেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনা থেকে বের হওয়ার দিনেই রোজা ভঙ্গ করেছিলেন। অথচ বিষয়টি তেমন নয়, কারণ মদিনা ও কাদিদের মধ্যে কয়েক দিনের দূরত্ব রয়েছে। একইভাবে আবু বাসরা আল-গিফারির হাদিসে বিরোধিতাকারীদের জন্য কোনো প্রমাণ নেই, যা আহমাদ ও আবু দাউদ উবায়দ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আরোহণ করলাম।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مع أبي بصرة الغفاري في سفينة بالفسطاط في رمضان فدفع ثم قرب غداءه ثم قال: اقترب فقلت ألست ترى البيوت؟ فقال: أرغبت عن سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فأكل. لأمرين:
الأول: أنه لا يكفي على المعتمد في صحة الحديث سكوت أبي داود على ما يرويه في سننه بل لابد من النظر فيه وذلك من وظيفة الحافظ لما تقرر في علوم الحديث من اشتراط الحفظ في إدراك الصحيح والسقيم من الحديث كما صرح به الحاكم في معرفة علوم الحديث وأما دعوى هذا المخالف لأهلية ذلك لنفسه فليست إلا دعوى فارغة.
الثاني: لو صح لم يكن فيه حجة لأنه ليس فيه أنه خرج بعد الصبح فركب ثم أكل فيحتمل أنه خرج من بيته قبل الفجر وركب السفينة فجاز له الأكل كما هو مذهب الجمهور أن من خرج قبل الفجر جاز له الأكل في نفس ذلك النهار بخلاف من خرج بعد الفجر فإنه ليس له أن يفطر في.
আবু বাসরা আল-গিফারীর সাথে রমজান মাসে ফুসতাতে একটি জাহাজে ছিলাম; তিনি জাহাজটি ভাসিয়ে দিলেন, অতঃপর তাঁর দুপুরের খাবার কাছে আনলেন এবং বললেন: "কাছে এসো।" আমি বললাম: "আপনি কি ঘরবাড়িগুলো দেখছেন না?" তিনি বললেন: "তুমি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত থেকে বিমুখ হতে চাও?" অতঃপর তিনি আহার করলেন। দুটি কারণে:
প্রথমত: হাদীসের বিশুদ্ধতার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী, ইমাম আবু দাউদ তাঁর সুনানে যা বর্ণনা করেছেন তার ওপর কেবল তাঁর নীরব থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং সেটি পর্যালোচনা করা আবশ্যক। আর এটি একজন হাফিজের (হাদীস বিশারদ) দায়িত্ব; কেননা হাদীস বিজ্ঞানে সহীহ ও দুর্বল হাদীস নিরূপণের জন্য হিফয বা প্রাজ্ঞতা শর্ত হিসেবে স্বীকৃত, যা আল-হাকিম তাঁর 'মা'রিফাতু উলূমিল হাদীস' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আর এই বিরোধীর নিজের ক্ষেত্রে এই যোগ্যতার যে দাবি, তা একটি অসার দাবি বৈ কিছু নয়।
দ্বিতীয়ত: যদি বর্ণনাটি বিশুদ্ধও হয়, তবুও এতে কোনো প্রমাণ নেই। কারণ এতে এমনটি উল্লেখ নেই যে, তিনি সুবহে সাদিকের পর বের হয়ে সওয়ার হয়েছেন এবং এরপর আহার করেছেন। বরং সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি ফজরের পূর্বেই ঘর থেকে বের হয়ে জাহাজে আরোহণ করেছিলেন; ফলে তাঁর জন্য আহার করা বৈধ ছিল। যেমনটি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের অভিমত যে, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে বের হবে, সেই দিন তার জন্য আহার করা বৈধ। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ফজরের পর বের হবে, তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ذلك النهار إلا فيما بعده.
ويقرب ما وجهنا به حديثه هذا قول الراوي ثم قرب غداءه والغداء في اللغة ما يؤكل أول النهار بخلاف ما تعورف اليوم في اللغة العامية من إطلاق الغداء على ما يؤكل وسط النهار قبيل الظهر أو بعده فإن هذا عرف حادث ففي "القاموس": الغداء طعام الغدوة وتغدى أكل أول النهار وفيه: الغدوة: البكرة أو ما بين صلاة الفجر وطلوع الشمس. والله أعلم".
সেই দিনের, তবে এর পরবর্তী সময়ের বিষয়গুলো ব্যতীত।
আমরা তাঁর এই হাদিসটির যে ব্যাখ্যা প্রদান করেছি, বর্ণনাকারীর এই উক্তিটি তার অনুকূলে যায়: "অতঃপর তিনি তাঁর সকালের খাবার নিকটবর্তী করলেন।" আর ভাষাগতভাবে 'গাদাউ' হলো দিনের শুরুতে যা আহার করা হয়; বর্তমানে প্রচলিত সাধারণ ভাষায় দিনের মধ্যভাগে জোহরের আগে বা পরে যা খাওয়া হয় তাকে 'গাদাউ' বলার যে রীতি রয়েছে, এটি তার বিপরীত। কেননা এটি একটি পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত পরিভাষা। ‘আল-কামুস’ গ্রন্থে রয়েছে: ‘গাদাউ’ হলো দিনের শুরুর খাবার এবং ‘তাগাদ্দা’ অর্থ হলো দিনের শুরুতে আহার করা। তাতে আরও রয়েছে: ‘গাদওয়াহ’ হলো দিনের শুরু অথবা ফজর নামাজ ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
2 -
يقول محمد ناصر الدين: مستعينا بالله وحده رب العالمين:
ينحصر كلام الشيخ في أربعة أمور:
الأول: تضعيف حديث أنس.
الثاني: فقه الحديث ومن قال به.
الثالث: تضعيف حديث أبي بصرة الغفاري.
الرابع: عدم دلالته عنده على ما دل عليه حديث أنس.
وسأتكلم فيما يأتي على هذه الأمور واحدة بعد أخرى على الترتيب المذكور سائلا المولى سبحانه وتعالى أن يلهمني الصواب في ذلك كله وأن يوفق المخلصين إلى تقبله والعمل بما فيه من الفقه إنه سميع مجيب.
1 - تأكيد صحة حديث أنس.
أما حديث أنس فقد تأملت كلام الشيخ عليه فلم أجد فيه إلا ما زادني بصيرة في صحته ويقينا بضعف كلامه ووهاء ما تشبث به في تضعيفه فإنه لم يأت على ما يدل عليه بما يصلح.
2 -
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন বলছেন: জগতসমূহের রব একমাত্র আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি:
শাইখের বক্তব্য চারটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ:
প্রথম: আনাস (রা.)-এর হাদিসকে যঈফ (দুর্বল) সাব্যস্ত করা।
দ্বিতীয়: হাদিসের ফিকহ এবং যারা এ মত পোষণ করেছেন।
তৃতীয়: আবু বাসরা আল-গিফারি (রা.)-এর হাদিসকে যঈফ সাব্যস্ত করা।
চতুর্থ: তার নিকট এই হাদিসটি আনাস (রা.)-এর হাদিস যা প্রমাণ করে তা প্রমাণ না করা।
আমি সামনে উল্লিখিত ক্রম অনুযায়ী এই বিষয়গুলো নিয়ে একে একে আলোচনা করব। আমি মহান মওলা সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে এই সব বিষয়ে সঠিক পথের ইলহাম দান করেন এবং একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের এটি গ্রহণ করার ও এতে যে ফিকহ রয়েছে তদনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
1 - আনাস (রা.)-এর হাদিসের বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা প্রদান।
আনাস (রা.)-এর হাদিসের ব্যাপারে বলতে গেলে, আমি এই বিষয়ে শাইখের বক্তব্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছি। কিন্তু আমি সেখানে এমন কিছুই পাইনি যা আমাকে হাদিসটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আরও বেশি অন্তর্দৃষ্টি এবং শাইখের বক্তব্যের দুর্বলতা ও তিনি যে বিষয়গুলো আঁকড়ে ধরে হাদিসটিকে যঈফ বলতে চেয়েছেন সেগুলোর অসারতা সম্পর্কে নিশ্চিত করা ছাড়া অন্য কিছু দেয়। কেননা তিনি এই বিষয়ে কোনো উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أن يعتبر شبهة في صحته فضلا عن أن يكون حجة على ضعفه إذا ما عرض ذلك على قواعد علم الحديث وأصوله وشهادات العلماء بثبوته وإليك التفصيل:
لقد تجرأ الشيخ - على خلاف ما علمناه منه في بعض رسائله - فجزم بخطأ الترمذي في تحسينه للحديث ولم يبال البتة بتصحيح الإمام ابن العربي إياه وغيره ممن سنذكره وتشبث في ذلك بأمور يمكن أن نلخصها في أربعة:
الأول: ترجيح أبي حاتم لرواية الدراوردي بلفظ: "ليس بسنة" على الرواية الأخرى: "قال: نعم سنة" وسنعبر عنها ب "رواية الإثبات".
الثاني: تضعيف الحافظ العراقي للرواية الأخرى.
الثالث: عدم جزم بعض الرواة بها.
الرابع: الاختلاف في متنه على سعيد بن أبي مريم فذكر بعضهم عنه: أن الفطر إنما كان من أجل السفر وبعضهم أنه.
হাদীস শাস্ত্রের নিয়ম-কানুন, মূলনীতি এবং এর সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে উলামায়ে কেরামের সাক্ষ্যের আলোকে বিচার করলে একে এর বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে সংশয় হিসেবে গণ্য করা যায় না, একে দুর্বল প্রমাণের দলিল হিসেবে গণ্য করা তো দূরের কথা। বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে দেওয়া হলো:
শায়খ—তার কিছু রিসালায় যা আমরা তার থেকে জেনেছি তার বিপরীতে গিয়ে—সাহস করে হাদীসটিকে ‘হাসান’ বলার ক্ষেত্রে ইমাম তিরমিযীর ভুল হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ইমাম ইবনুল আরাবী এবং যাদের নাম আমরা সামনে উল্লেখ করব, তাদের কর্তৃক একে ‘সহীহ’ সাব্যস্ত করার প্রতি তিনি ভ্রুক্ষেপই করেননি। এ ক্ষেত্রে তিনি এমন কিছু বিষয় আঁকড়ে ধরেছেন যা আমরা চারটিতে সংক্ষিপ্ত করতে পারি:
প্রথম: আদ-দারাওয়ারদীর বর্ণনা যাতে ‘ইহা সুন্নাহ নয়’ শব্দাবলী রয়েছে, তাকে অন্য বর্ণনার ওপর আবু হাতিম কর্তৃক প্রাধান্য দেওয়া, যাতে রয়েছে: ‘তিনি বললেন: হ্যাঁ, ইহা সুন্নাহ’। আমরা একে ‘সাব্যস্তকারী বর্ণনা’ হিসেবে অভিহিত করব।
দ্বিতীয়: হাফেজ ইরাকী কর্তৃক অপর বর্ণনাটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করা।
তৃতীয়: কোনো কোনো বর্ণনাকারীর এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া।
চতুর্থ: সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে বর্ণিত এর মতনের (মূল পাঠের) ক্ষেত্রে মতভেদ; তাদের কেউ কেউ তার থেকে উল্লেখ করেছেন যে: সিয়াম ভঙ্গ করা হয়েছিল মূলত সফরের কারণে, আর কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে...
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كان من أجل يوم الشك.
الجواب عن الأمر الأول:
1-إذا تبين ذلك فنقول في الإجابة عن الأمر الأول:
أولا: إن فهم قول أبي حاتم: "إن حديث الدراوردي أصح من حديث ابن مجبر" على أنه يدل أن رواية الترمذي مرجوحة ضعيفة وأن الراجح رواية النفي يدل - مع الأسف - على الجهل البالغ بأساليب المحدثين في الترجيح وسوء فهم لمقاصدهم من ذلك إذ أن ترجيح أبي حاتم إنما هو محصور بين روايتين ليس منهما رواية الترمذي ثم هو ترجيح صحيح لأن الدراوردي ثقة على ضعف يسير في حفظه كما يأتي بخلاف المخالف له: ابن مجبر فإنه ضعيف اتفاقا وقد قال فيه أبو حاتم نفسه: "ليس بالقوي" وقال صاحبه أبو زرعه: "واهي الحديث"1.
--------------------------------------------
এটি ছিল সন্দেহপূর্ণ দিবসের কারণে।
প্রথম বিষয়ের উত্তর:
১-যখন বিষয়টি স্পষ্ট হলো, তখন আমরা প্রথম বিষয়ের উত্তরে বলব:
প্রথমত: আবু হাতিমের এই বক্তব্য—"আদ-দারাওয়ার্দীর হাদিস ইবনে মুজাব্বিরের হাদিসের চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ"—এর দ্বারা এটি বোঝানো যে, তিরমিযীর বর্ণনাটি অগ্রহণযোগ্য ও দুর্বল এবং অস্বীকৃতিমূলক (নাফি) বর্ণনাটিই অগ্রগণ্য, তা দুঃখজনকভাবে মুহাদ্দিসগণের অগ্রাধিকার প্রদানের (তারজীহ) পদ্ধতি সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা এবং তাদের উদ্দেশ্যের প্রতি ভুল বুঝাবুঝিরই বহিঃপ্রকাশ। কেননা আবু হাতিমের এই অগ্রাধিকার প্রদান কেবল দুটি বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যেগুলোর মধ্যে তিরমিযীর বর্ণনাটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তদুপরি, এটি একটি সঠিক অগ্রাধিকার প্রদান; কারণ আদ-দারাওয়ার্দী নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, যদিও তার মুখস্থশক্তিতে সামান্য দুর্বলতা রয়েছে যা সামনে আলোচিত হবে। পক্ষান্তরে তার বিরোধী বর্ণনাকারী ইবনে মুজাব্বির সর্বসম্মতিক্রমে দুর্বল। স্বয়ং আবু হাতিম তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি শক্তিশালী নন" এবং তার সঙ্গী আবু জুরআ বলেছেন: "তার হাদিস অত্যন্ত দুর্বল"১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ২০)
ولكن أي عالم بل أي عاقل عنده قليل من الفهم بالأسلوب العربي يفهم من ذلك ترجيح رواية الدراوردي هذه على رواية الترمذي وهي لم يرد لها ذكر في كلام أبي حاتم لا تصريحا ولا تلويحا بل لعله لم يقف عليها أصلا ثم هي أقوى وأرجح من رواية الدراوردي كما سأبينه في الوجه الآتي بعد هذا.
فسقط بذلك قول الشيخ عقب كلام أبي حاتم: "هو صريح في أن رواية الترمذي مرجوحة وأن الراجح رواية النفي".
ثانيا: إن قول الدراوردي في روايته "ليس بسنة" منكر أو على الأقل شاذ لسببين:
أ - مخالفته لمن هو أوثق منه ألا وهو محمد بن جعفر بن أبي كثير وهو ثقة كما قال الترمذي ونقله عنه الشيخ نفسه ولا خلاف فيه عند الأئمة النقاد بل احتج به الشيخان وجميع أصحاب السنن وغيرهم فروايته هي الراجحة عند.
কিন্তু যেকোনো আলিম, বরং আরবি শৈলী সম্পর্কে সামান্যতম বুঝসম্পন্ন যেকোনো বিবেকবান ব্যক্তিও এর থেকে তিরমিযীর বর্ণনার ওপর আদ-দারাওয়ার্দীর এই বর্ণনার প্রাধান্য বুঝতে পারবেন; অথচ আবু হাতিমের বক্তব্যে এর কোনো উল্লেখ স্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিত আকারেও আসেনি। বরং সম্ভবত তিনি এ বিষয়ে অবগতই ছিলেন না। অধিকন্তু, এটি আদ-দারাওয়ার্দীর বর্ণনার চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও অগ্রগণ্য, যা আমি এর পরবর্তী অংশে বর্ণনা করব।
এর ফলে আবু হাতিমের বক্তব্যের পর শাইখের এই উক্তিটি বাতিল হয়ে গেল যে: "এটি এ বিষয়ে স্পষ্ট যে তিরমিযীর বর্ণনাটি মারজুহ বা দুর্বল এবং অগ্রগণ্য হলো নাফী বা অস্বীকৃতিমূলক বর্ণনাটি।"
দ্বিতীয়ত: আদ-দারাওয়ার্দীর তার বর্ণনায় 'সুন্নত নয়' উক্তিটি মুনকার অথবা অন্ততপক্ষে দুটি কারণে শাজ (বিচ্যুতি):
ক - তিনি এমন একজনের বিরোধিতা করেছেন যিনি তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য, আর তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আবি কাসির। তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) যেমনটি তিরমিযী বলেছেন এবং শাইখ নিজেও তা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে সমালোচক ইমামগণের মাঝে কোনো মতভেদ নেই, বরং শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং সুনান গ্রন্থসমূহের সকল সংকলক ও অন্যান্যরা তাঁর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। ফলে তাঁর বর্ণনাটিই অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ২১)
التعارض على رواية الدراوردي لأنه مختلف فيه وقد وصفه أبو زرعة وغيره بأنه "سيئ الحفظ" فلا جرم أن البخاري لم يحتج به بينما احتجا جميعا بمخالفه.
فثبت أن روايته هي أحق بالترجيح من رواية الدراوردي ولا يشك في هذا منصف شم رائحة مصطلح الحديث.
ب- أن رواية الدراوردي لا متابع لها ولا شاهد خلافا لرواية محمد بن جعفر فإن لها متابعا وشاهدا:
أما المتابع فهو عبد الله بن جعفر عند الترمذي وهو وإن كان ضعيفا فإنه يكتب حديثه كما قال ابن عدي فهو لا بأس به في المتابعات والشواهد.
وأما الشاهد فهو حديث ابن المجبر الذي نقله الشيخ عن ابن أبي حاتم ولا يضر ضعفه لأنه في الشواهد كما لا يخفى ولا أظن أن الشيخ يخالف في ذلك لأنه ذكر نحو هذا في رسالته "التعقب الحثيث" "ص 5".
আদ-দারওয়ার্দীর বর্ণনার ওপর বিরোধ পরিলক্ষিত হয়, কারণ তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে এবং আবু যুরআহ ও অন্যান্যরা তাকে "দুর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমাম বুখারী তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেননি, যেখানে তাঁরা উভয়েই (বুখারী ও মুসলিম) তার বিপরীত বর্ণনাকারীকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, আদ-দারওয়ার্দীর বর্ণনার তুলনায় উক্ত বর্ণনাটিই অগ্রাধিকার পাওয়ার অধিক যোগ্য। হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান রাখেন এমন কোনো ইনসাফকারী ব্যক্তিই এ ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করবেন না।
খ- আদ-দারওয়ার্দীর বর্ণনার কোনো মুতাবি (সমর্থনকারী বর্ণনা) বা শাহিদ (সাক্ষ্য প্রদানকারী বর্ণনা) নেই; যা মুহাম্মদ বিন জাফরের বর্ণনার বিপরীত, কারণ তার বর্ণনার সপক্ষে মুতাবি ও শাহিদ উভয়ই বিদ্যমান রয়েছে:
মুতাবি-এর ক্ষেত্রে বলা যায়, তিনি হলেন তিরমিযীর নিকট বর্ণিত আব্দুল্লাহ বিন জাফর। তিনি যদিও দুর্বল, তবুও ইবনে আদি যেমনটি বলেছেন—তার হাদীস লিখে রাখা যায়; সুতরাং মুতাবিআত এবং শাওয়াাহিদ-এর ক্ষেত্রে তিনি গ্রহণযোগ্য।
আর শাহিদ বা সাক্ষ্যমূলক বর্ণনাটি হলো ইবনে আল-মুজাব্বিরের হাদীস, যা শাইখ ইবনে আবি হাতিম থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এর দুর্বলতা কোনো ক্ষতি করবে না, কারণ এটি শাহিদ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং বিষয়টি কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। আমার মনে হয় না শাইখ এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করবেন, কারণ তিনি তার "আত-তাআককুব আল-হাথীস" (পৃষ্ঠা ৫) নামক পুস্তিকায় অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ২২)
فسقط بهذا التحقيق تعلق الشيخ بكلام أبي حاتم وتبين أن الصواب رواية الإثبات وأن رواية الدراوردي في النفي خطأ لا يعول عليه.
الجواب عن الأمر الثاني:
2 - وأما الأمر الثاني وهو تضعيف العراقي لرواية الإثبات فالجواب من وجهين:
أولا: معارضته بتصحيح من صحح الحديث وهم جماعة فقولهم أرجح عند التعارض من قول من خالفهم وهو فرد فممن صححه: الترمذي وابن العربي والضياء المقدسي - كما سيأتي - وابن القيم في "زاد المعاد" وأبو المحاسن المقدسي في "مختصر أحاديث الأحكام" "ق 61/1" ويمكن أن يضم إليهم الإمام أحمد وإسحق بن راهويه فإنهما أخذا بالحديث وعملا به باعتراف العراقي نفسه وذلك دليل - إن شاء الله تعالى - على أن الحديث ثابت عندهما وهو المطلوب.
এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে আবু হাতিমের বক্তব্যের সাথে শাইখের সংশ্লিষ্টতা বাতিল হয়ে গেল এবং এটি স্পষ্ট হলো যে, সাব্যস্তকারী বর্ণনাটিই সঠিক এবং না-বাচক বর্ণনায় দারাওয়ার্দীর বর্ণনাটি ভুল যা নির্ভরযোগ্য নয়।
দ্বিতীয় বিষয়ের উত্তর:
২ - আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, সাব্যস্তকারী বর্ণনাটিকে ইরাকির দুর্বল আখ্যা দেওয়া; এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
প্রথমত: যারা হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন তাদের মতামতের মাধ্যমে একে খণ্ডন করা হয়েছে, আর তারা একদল বড় জামাত। সুতরাং বিরোধপূর্ণ ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্যই ওই ব্যক্তির চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য যিনি একাকী এর বিরোধিতা করেছেন। যারা হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: তিরমিজি, ইবনুল আরাবি, দিয়া আল-মাকদিসি—যেমনটি সামনে আসবে—এবং "জাদুল মাআদ" গ্রন্থে ইবনুল কায়্যিম এবং "মুখতাসার আহাদিসিল আহকাম" গ্রন্থে আবু মাহাসিন আল-মাকদিসি (পত্র ৬১/১)। তাদের সাথে ইমাম আহমাদ এবং ইসহাক বিন রাহওয়াইহকেও যুক্ত করা সম্ভব; কারণ খোদ ইরাকির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তারা উভয়েই হাদিসটি গ্রহণ করেছেন এবং এর ওপর আমল করেছেন। আর এটিই—ইনশাআল্লাহ তাআলা—প্রমাণ করে যে, হাদিসটি তাদের নিকট প্রমাণিত ও সাব্যস্ত, আর এটিই হলো কাঙ্ক্ষিত বিষয়।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثانيا: أن قواعد علم الحديث تدل على خطأ التضعيف المذكور وأرجو ألا يستغل الأستاذ الشيخ أو أحد من المتعصبين له أو من غيرهم فيبادروا إلى الإنكار علينا بسبب هذا التصريح لأن الحق فوق الأشخاص والتحقيق العلمي لا يعرف النفاق.
على أن الشيخ قد سبقني إلى مثل هذه التخطئة فهو قد جزم بتخطئة الترمذي كما رأيت فكذلك أجزم بتخطئة العراقي والشيخ معا مع فارق جوهري بيني وبينه فإنه يخطئ الترمذي تقليدا للعراقي وهذا ترجيح بدون مرجح كما لا يخفى ولو عكس أحد عليه الأمر فقلد الترمذي وخطأ العراقي لم يجد سبيلا إلى تخطئته إلا مجرد الدعوى أو اتباع الهوى وأما نحن فإنما نخطئ اتباعا للقواعد العلمية التي وضعها العلماء ميزانا لمعرفة الخطأ من الصواب وشتان بين هذا وذاك.
দ্বিতীয়ত: ইলমে হাদিসের নীতিমালাসমূহ উল্লিখিত দুর্বল সাব্যস্ত করার ভুল নির্দেশ করে। এবং আমি আশা করি উস্তাদ শেখ অথবা তাঁর প্রতি কোনো পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তি কিংবা অন্য কেউ যেন এই বিষয়টিকে পুঁজি করে এই সুস্পষ্ট বক্তব্যের কারণে আমাদের অস্বীকার করতে তড়িঘড়ি না করেন; কারণ সত্য ব্যক্তিদের ঊর্ধ্বে এবং তাত্ত্বিক গবেষণা কপটতা চেনে না।
তদুপরি, শেখ এই ধরনের ভুল ধরার ক্ষেত্রে আমার আগেই ছিলেন, কেননা তিনি তিরমিযীকে ভুল সাব্যস্ত করার ব্যাপারে দৃঢ়মত ব্যক্ত করেছেন যেমনটি আপনারা দেখেছেন। তাই একইভাবে আমি ইরাকি এবং শেখ উভয়কেই ভুল সাব্যস্ত করার ব্যাপারে দৃঢ়তা পোষণ করছি, তবে আমার ও তাঁর মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে; কারণ তিনি ইরাকির অনুকরণে তিরমিযীকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন, যা কোনো প্রমাণ ছাড়াই একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া—যা কারো অজানা নয়। আর যদি কেউ বিষয়টি উল্টোভাবে করত—অর্থাৎ তিরমিযীর অনুসরণ করত এবং ইরাকিকে ভুল সাব্যস্ত করত—তবে সে নিছক দাবি অথবা খেয়ালখুশির অনুসরণ ছাড়া তাকে ভুল প্রমাণের কোনো পথ পেত না। আর আমাদের ক্ষেত্রে, আমরা কেবল সেই তাত্ত্বিক নীতিমালা অনুসরণ করেই ভুল সাব্যস্ত করি যা উলামায়ে কেরাম সত্য-মিথ্যা নির্ণয়ের মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; আর এই দুই বিষয়ের মধ্যে কতই না ব্যবধান!
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أخطاء العراقي حول الحديث:
إن الباحث المدقق في كلام الحافظ العراقي الذي نقله الشيخ ليجد فيه كثيرا من الأخطاء التي لابد من الكشف عنها دفاعا عن الحديث لا الأشخاص.
الأولى: إنه يقر الترمذي على تحسين الحديث لمتابعة محمد بن جعفر ثم يقول في رواية الإثبات: "إنما رواها على الجزم عبد الله بن جعفر وهو متفق على ضعفه" مع أنه ذكر بعد ذلك بقليل أن الدارقطني رواها على الجزم من طريق محمد بن جعفر الثقة فكيف يصح إذن قوله المذكور المتضمن حصر هذه الرواية بعبد الله الضعيف؟.
وكذلك قوله في رواية محمد هذا: "لم يجزم بهذه اللفظة كما جزم بها عبد الله بن جعفر" لا شك في أن هذا القول وذاك خطأ مخالف للواقع.
ثانيا: قوله أن رواية محمد بن جعفر على الشك مع أن.
হাদীস সম্পর্কে আল-ইরাকীর ভুলসমূহ:
শায়খ কর্তৃক উদ্ধৃত হাফেজ আল-ইরাকীর বক্তব্যের সূক্ষ্ম গবেষক সেখানে এমন অনেক ভুল খুঁজে পাবেন যা ব্যক্তিদের নয় বরং হাদীস রক্ষার খাতিরে উন্মোচন করা আবশ্যক।
প্রথমত: তিনি মুহাম্মাদ ইবনে জাফরের সমর্থনের কারণে হাদীসটিকে 'হাসান' বলার ব্যাপারে আত-তিরমিযীর সাথে একমত পোষণ করেন, অতঃপর সাব্যস্তকরণের বর্ণনায় বলেন: "আবদুল্লাহ ইবনে জাফরই কেবল এটি দৃঢ়তার সাথে বর্ণনা করেছেন, যার দুর্বলতার ব্যাপারে সকলে একমত", অথচ এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি উল্লেখ করেছেন যে আদ-দারা কুতনী নির্ভরযোগ্য মুহাম্মাদ ইবনে জাফরের সূত্র ধরে এটি দৃঢ়তার সাথে বর্ণনা করেছেন। এমতাবস্থায়, এই বর্ণনাটিকে কেবল দুর্বল আবদুল্লাহর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া তার উক্ত বক্তব্য কীভাবে সঠিক হতে পারে?
অনুরূপভাবে এই মুহাম্মাদের বর্ণনার ব্যাপারে তার উক্তি: "তিনি এই শব্দটির ব্যাপারে তেমন দৃঢ়তা প্রকাশ করেননি যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে জাফর করেছেন"; কোনো সন্দেহ নেই যে এই বক্তব্য এবং পূর্ববর্তী বক্তব্যটি বাস্তবতার পরিপন্থী একটি ভুল।
দ্বিতীয়ত: তার এই উক্তি যে মুহাম্মাদ ইবনে জাফরের বর্ণনাটি সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে, অথচ... 181 characters.
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
هذه الرواية عنه لا تثبت ولو ثبتت لم تخالف الرواية الثابتة عنه كما سيأتي بيانه في الجواب المشار إليه.
ثالثا: إعلاله الحديث بالاختلاف على سعيد بن أبي مريم برواية العلاف عنه مع أنها رواية شاذة مخالفة لرواية الثقات عن سعيد كما سيأتي تحقيقه في الجواب عن الأمر الثالث.
رابعا: ذكر رواية الدراوردي ثم قال: "إنها أقوى من طريق عبد الله بن جعفر" وهذا صحيح ولكنه يوهم أن عبد الله لم يتابع على روايته مع أنه قد ذكر هو أن محمد بن جعفر قد تابعه على لفظه عند الدارقطني كما سبق.
فرواية محمد وعبد الله أصح من رواية الدراوردي كما سبق بيانه.
هذه الأخطاء هي دعائم قول الحافظ العراقي ب "ضعف رواية إثبات كونها سنة".
فإذ قد انهارت هذه الدعائم فقد انهار قوله القائم عليها.
তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণিত এই বর্ণনাটি সাব্যস্ত নয়; আর যদি তা সাব্যস্ত হয়েও থাকে, তবে তা তাঁর থেকে বর্ণিত সাব্যস্ত বর্ণনার বিরোধিতা করে না, যেমনটি নির্দেশিত জওয়াবে এর বর্ণনা সামনে আসবে।
তৃতীয়ত: আল-আল্লাফের বর্ণনার মাধ্যমে সাঈদ ইবনে আবি মারইয়ামের বর্ণনায় মতভেদের কারণে হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা; অথচ এটি একটি শায বর্ণনা যা সাঈদ থেকে বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের বর্ণনার পরিপন্থী, যেমনটি তৃতীয় বিষয়ের জওয়াবে এর তাহকীক সামনে আসবে।
চতুর্থত: আদ-দারওয়ার্দীর বর্ণনা উল্লেখ করা এবং অতঃপর তাঁর এই উক্তি যে: "এটি আবদুল্লাহ ইবনে জাফরের সূত্রের চেয়ে অধিক শক্তিশালী।" এটি সঠিক, তবে এতে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় যে আবদুল্লাহর বর্ণনার কোনো মুতাবাআত নেই, অথচ তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন যে দারাকুতনীতে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর তাঁর শব্দের ওপর মুতাবাআত করেছেন, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
সুতরাং মুহাম্মাদ ও আবদুল্লাহর বর্ণনা আদ-দারওয়ার্দীর বর্ণনার চেয়ে অধিক সহীহ, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
এই ভুলগুলোই হলো হাফেজ ইরাকীর সেই উক্তির ভিত্তি যাতে তিনি "এটি সুন্নাত হওয়ার বর্ণনার দুর্বলতার" কথা বলেছেন।
যেহেতু এই ভিত্তিগুলো ভেঙে পড়েছে, সেহেতু এগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত তাঁর উক্তিটিও বাতিল হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وسقط بالتالي تشبث الشيخ به ورجع منه بخفي حنين.
وفي الجوابين التاليين زيادة بيان لما أجملناه هنا.
الجواب عن الأمر الثالث:
3 - وأما الجواب عن الأمر الثالث وهو عدم جزم بعض الرواة برواية الإثبات فهو أنه لا يجوز التمسك بها في إعلال الروايات الأخرى الجازمة بالإثبات بل إن هذه تعل رواية ذلك البعض وذلك لوجوه:
الأول: أن من لم يجزم معناه أنه لا علم عنده بالأمر وأنه لم يحفظه بخلاف الذي جزم فإنه يدل على أنه قد علمه وحفظه فكيف يصح ترجيح رواية من لم يحفظ على رواية من حفظ؟.
وهل هذا إلا خلاف ما هو مسلم به عند جميع العلماء: أن من حفظ حجة على من لم يحفظ ومن علم حجة على من لم يعلم وخلاف للقاعدة المقررة عندهم وهي التي تقول:
ফলে শায়খের এটি আঁকড়ে ধরা অসার হয়ে গেল এবং তিনি রিক্তহস্তে ফিরে এলেন।
পরবর্তী দুটি উত্তরে আমরা এখানে যা সংক্ষেপে বলেছি তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে।
তৃতীয় বিষয়ের উত্তর:
৩ - আর তৃতীয় বিষয়ের উত্তর হলো, কিছু বর্ণনাকারীর সাব্যস্তকারী বর্ণনার ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া সংক্রান্ত—তা হলো, অন্য সাব্যস্তকারী নিশ্চিত বর্ণনাগুলোকে ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণের ক্ষেত্রে একে আঁকড়ে ধরা বৈধ নয়। বরং এই নিশ্চিত বর্ণনাগুলোই সেই বর্ণনাকারীর সংশয়যুক্ত বর্ণনাকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করে, আর তা কয়েকটি কারণে:
প্রথমত: যে ব্যক্তি নিশ্চিত হতে পারেনি তার অর্থ হলো যে, বিষয়টি সম্পর্কে তার জ্ঞান নেই এবং সে তা সংরক্ষণ করতে পারেনি। পক্ষান্তরে যিনি নিশ্চিত হয়েছেন, তা প্রমাণ করে যে তিনি তা জেনেছেন এবং সংরক্ষণ করেছেন। সুতরাং যে সংরক্ষণ করেনি তার বর্ণনাকে সংরক্ষণকারী ব্যক্তির বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দেওয়া কীভাবে শুদ্ধ হতে পারে?
আর এটি কি সকল আলেমদের নিকট স্বীকৃত বিষয়ের পরিপন্থী নয় যে: যে মুখস্থ রেখেছে সে তার ওপর দলিল যে মুখস্থ রাখেনি, এবং যে জানে সে তার ওপর দলিল যে জানে না; এবং এটি তাদের নিকট প্রতিষ্ঠিত সেই মূলনীতির পরিপন্থী যা বলে:
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
"المثبت مقدم على النافي".
فكيف وهذا الذي لم يجزم ينف بل إنه أثبت ولكن بدون جزم فهذه الرواية في الحقيقة مؤيدة لرواية الإثبات ومقوية لها فكيف يصح أن تجعل معلة لها؟.
ثانيا: أن رواية من لم يجزم بالإثبات لا تصح أصلا فلا يجوز أن يحتج بها فضلا عن أن يعارض بها ما رواه الثقات الأثبات عن محمد بن جعفر من الجزم بالإثبات ذلك لأن هذه الرواية تفرد بها عن محمد هذا عيسى بن مينا وهو ضعيف قال الذهبي في "المغني": "حجة في القراءة لا في الحديث سئل عنه أحمد بن صالح؟ فضحك وقال: يكتبون عن كل أحد"1.
ثالثا: أن عيسى هذا قد ورد الحديث عنه بالإثبات كما رواه الثقات أخرجه عنه الضياء المقدسي في "الأحاديث المختارة".
--------------------------------------------
"অস্বীকৃতিদানকারীর ওপর স্বীকৃতিদানকারী অগ্রগণ্য।"
এমতাবস্থায় এটি কীভাবে হতে পারে, যেখানে যিনি দৃঢ়তার সাথে বলেননি তিনি একে অস্বীকারও করেননি? বরং তিনি বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন কিন্তু দৃঢ়তা ব্যতীত। সুতরাং এই বর্ণনাটি প্রকৃতপক্ষে সাব্যস্তকরণ বা স্বীকৃতির বর্ণনাটির স্বপক্ষে একটি দলিল এবং তাকে শক্তিশালীকারী। এমতাবস্থায় একে কীভাবে ওই বর্ণনার ত্রুটি হিসেবে গণ্য করা সঠিক হতে পারে?
দ্বিতীয়ত: যিনি দৃঢ়তার সাথে বিষয়টি সাব্যস্ত করেননি, তার বর্ণনাটি মূলত সঠিক নয়। সুতরাং একে দলিল হিসেবে পেশ করা বৈধ নয়, আর মুহাম্মদ ইবনে জাফর থেকে নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে সাব্যস্তকরণের যে বর্ণনা দৃঢ়তার সাথে বর্ণিত হয়েছে, তার বিপরীতে একে দাঁড় করানোর তো প্রশ্নই আসে না। এর কারণ হলো, মুহাম্মদ থেকে এই বর্ণনাটি এককভাবে ঈসা ইবনে মিনা বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী। ইমাম যাহাবি "আল-মুগনি" গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি কিরাআতের ক্ষেত্রে প্রমাণযোগ্য, কিন্তু হাদিসের ক্ষেত্রে নয়। আহমদ বিন সালিহকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি হেসে দিলেন এবং বললেন: তারা তো প্রত্যেকের থেকেই লিখে নেয়"১।
তৃতীয়ত: এই ঈসা থেকেই হাদিসটি সাব্যস্তকরণের সাথে বর্ণিত হয়েছে যেমনটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীরা বর্ণনা করেছেন। জিয়া আল-মাকদিসি তার "আল-আহাদিসুল মুখতারাহ" গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
"ق 124/2" "رقم 2602" من طريق إبراهيم بن الحسين ثنا عيسى بن مينا به بلفظ: "فقلت له سنة؟ قال: نعم" فجزم بالإثبات ولم يشك وقال المقدسي عقبها: "رواه الترمذي عن محمد بن إسماعيل عن سعيد بن أبي مريم عن محمد بن جعفر وقال: حديث حسن" وأقره.
وابن الحسين هذا هو ابن ديزل وهو ثقة مأمون كما قال الحافظ ابن ناصر الدين الدمشقي1.
فهذا دليل واضح على أن رواية عيسى مثل رواية غيره في الجزم بالإثبات والظاهر أن إسماعيل القاضي نفسه هو الذي لم يضبط الرواية عن عيسى جيدا وإن كان أشار في الوقت ذاته إلى أنها هي الراجحة عنده بقوله: "
… أحسبه" وذلك من دقته في الرواية رحمه الله تعالى.
رابعا: أنه قد خالف في ذلك جماعة من الثقات كلهم.
--------------------------------------------
"পৃষ্ঠা ১২৪/২" "নম্বর ২৬০২" ইব্রাহিম ইবনুল হুসাইনের সূত্রে বর্ণিত, ঈসা ইবনে মিনা আমাদের নিকট এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আমি তাকে বললাম, এটি কি সুন্নাহ? তিনি বললেন: হ্যাঁ।" সুতরাং তিনি দৃঢ়তার সাথে এটি সাব্যস্ত করেছেন এবং কোনো সন্দেহ করেননি। আল-মাকদিসি এর পরে বলেছেন: "তিরমিযী এটি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি হাসান হাদিস" এবং তিনি একে বহাল রেখেছেন।
আর এই ইবনুল হুসাইন হলেন ইবনে দাইযিল এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত, যেমনটি হাফেজ ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি বলেছেন১।
এটি একটি স্পষ্ট দলিল যে, ঈসার বর্ণনাটি বিষয়টিকে দৃঢ়ভাবে সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অন্যদের বর্ণনার মতোই। আর বাহ্যত এটিই প্রতীয়মান হয় যে, ইসমাইল আল-কাদি নিজেই ঈসা থেকে বর্ণনাটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারেননি, যদিও তিনি একই সময়ে তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এটিই তাঁর কাছে অগ্রগণ্য: "
... আমি মনে করি।" আর এটি বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর সূক্ষ্মতার প্রমাণ, আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন।
চতুর্থত: একদল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এই বিষয়ে তাঁর বিরোধিতা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
جزموا في روايتهم عن محمد بن جعفر أن أنسا قال: "نعم" بدون أي شك وهؤلاء الثقات هم:
الأول: عثمان بن سعيد الدارمي وهو ثقة ثبت حافظ إمام1 ولفظ حديثه
… عن محمد بن كعب قال: أتيت أنس بن مالك في رمضان وهو يريد السفر وقد رحلت دابته ولبس ثياب السفر وقد تقارب غروب الشمس فدعا بطعام فأكل منه ثم ركب فقلت له سنة؟ قال: نعم.
أخرجه البيهقي في سننه الكبرى "4/247".
الثاني: إسماعيل بن إسحق بن سهل وهو صدوق كما قال ابن أبي حاتم "1/1/158" ولفظه مثل لفظ حديث الدارمي تماما.
أخرجه الدارقطني "ص 241" وقد عزاه إليه الشيخ نفسه عن العراقي وهو من عجائبه فإنه سكت عنه مع أنه صحيح.
--------------------------------------------
তারা মুহাম্মদ ইবনে জাফর থেকে তাদের বর্ণনায় সুনিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আনাস কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই "হ্যাঁ" বলেছেন এবং এই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ হলেন:
প্রথমজন: উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, হাফেজ এবং ইমাম১ আর তার হাদিসের শব্দগুলো হলো
… মুহাম্মদ ইবনে কাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রমজান মাসে আনাস ইবনে মালেকের নিকট আসলাম যখন তিনি সফরের ইচ্ছা করছিলেন। তখন তার সওয়ারি প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং তিনি সফরের পোশাক পরিধান করেছিলেন। সূর্য ডোবার সময় নিকটবর্তী হয়েছিল। এমতাবস্থায় তিনি খাবার চাইলেন এবং তা থেকে আহার করলেন। এরপর তিনি সওয়ারিতে আরোহণ করলেন। আমি তাকে বললাম, এটি কি সুন্নাত? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
আল-বায়হাকি এটি তার 'আস-সুনান আল-কুবরা' (৪/২৪৭)-এ বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়জন: ইসমাইল ইবনে ইসহাক ইবনে সাহল। তিনি একজন সত্যবাদী, যেমনটি ইবনে আবি হাতিম (১/১/১৫৮) বলেছেন। আর তার বর্ণনার শব্দগুলো ঠিক আদ-দারিমির হাদিসের শব্দের মতোই।
আদ-দারাকুতনি (পৃষ্ঠা ২৪১) এটি বর্ণনা করেছেন। শায়খ নিজেই আল-ইরাকির বরাতে এটি তার দিকে সম্বন্ধ করেছেন, যা তার আশ্চর্যজনক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। কেননা তিনি এ ব্যাপারে নীরব থেকেছেন যদিও এটি সহিহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসহীহু হাদীসি ইফতিারিস সায়িমি কবলা সাফারিহি বাদাল ফাজর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الإسناد وآثر عليه رواية الشك مع ضعفها ونكارتها وعدم صلاحيتها للمعارضة لو صحت كما سبق.
الثالث: محمد بن إسماعيل وهو الإمام البخاري صاحب "الجامع الصحيح".
أخرجه عنه الترمذي "1/152" وهو وإن لم يكن قد ساق لفظه فإنه قد أحال فيه على لفظ عبد الله بن جعفر المصرح بالإثبات وذلك بقوله عقبه: "نحوه" مشيرا بذلك إلى أنه مثله في المعنى.
فهذا القول من الترمذي وإن كان لا يقتضي أن رواية البخاري لفظها مثل لفظ حديث عبد الله بن جعفر كما قال العراقي فإنه لا ينفي أن يكون مثلها في المعنى بل هو نص على اتحادهما في المعنى كما هو مبين في علم "مصطلح الحديث"1.
--------------------------------------------
সনদ এবং তার ওপর সংশয়যুক্ত বর্ণনাটিকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন, যদিও তা দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য এবং তা অন্য বর্ণনার সাথে বিরোধিতার যোগ্য নয়, যদি তা সহীহও হতো যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
তৃতীয়: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল, আর তিনি হলেন "আল-জামিউস সহীহ" গ্রন্থের রচয়িতা ইমাম বুখারী।
তিরমিযী (১/১৫২) তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি যদিও এর শব্দাবলি উল্লেখ করেননি, তবে তিনি একে আবদুল্লাহ ইবনে জাফরের সেই শব্দের দিকে ন্যস্ত করেছেন যা ইতিবাচক সাব্যস্ত করার ব্যাপারে স্পষ্ট; আর তা করেছেন এর পরেই "নাহউহু" (অনুরূপ) বলার মাধ্যমে, যা দ্বারা তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে এটি অর্থের দিক থেকে তাঁর মতো।
তিরমিযীর এই বক্তব্যটি যদিও ইরাকী যেমনটি বলেছেন তেমন ইমাম বুখারীর বর্ণনার শব্দাবলি এবং আবদুল্লাহ ইবনে জাফরের হাদীসের শব্দাবলি হুবহু এক হওয়াকে আবশ্যক করে না, তবে এটি অর্থের দিক থেকে এক হওয়াকে নাকচও করে না। বরং এটি তাদের অর্থে এক হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা, যেমনটি "হাদীস পরিভাষা" শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে।১
--------------------------------------------