(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: -)
تسهيل الفرائض   (ابن عثيمين)

القسم: الفرائض والوصايا


الكتاب: تسهيل الفرائض

المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)

الناشر: دار ابن الجوزي

الطبعة: 1427هـ

عدد الصفحات: 135

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফারাইয সহজীকরণ   (ইবনে উসাইমীন)

বিভাগ: ফারাইয (উত্তরাধিকার আইন) ও অসিয়তসমূহ


গ্রন্থ: ফারাইয সহজীকরণ

লেখক: মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমীন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযী

সংস্করণ: ১৪২৭ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان، وسلّم تسليماً.

أما بعد: فإن الله فرض المواريث بحكمته وعلمه، وقسمها بين أهلها أحسن قسم وأعدله، بحسب ما تقتضيه حكمته البالغة ورحمته الشاملة وعلمه الواسع، وبيَّن ذلك أتمّ بيان وأكمله، فجاءت آيات المواريث وأحاديثها شاملة لكل ما يمكن وقوعه من المواريث، لكن منها ما هو صريح ظاهر يشترك في فهمه كل أحد، ومنها ما يحتاج إلى تأمل وتدبر.

وكان أهل الجاهلية في جاهليتهم لا يورثون النساء، ولا الصغار من الذكور، ويقولون: لا يعطى إلا من قاتل وحاز الغنيمة، فأبطل الله هذا الحكم المبني على الجهل والظلم، وجعل الإناث يشاركن الذكور بحسب ما تقتضيه حاجتهن، فجعل للمرأة نصف ما للرجل من جنسها، ولم يحرمها كما فعل أهل الجاهلية، ولا سوّاها بالرجل كما فعله بعض المنحرفين عن مقتضى الفطرة والعقل، ثم قال: {آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعاً فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيماً حَكِيماً} ."النساء: من الآية11".

وقال في آية أخرى: {وَصِيَّةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ} "النساء: من الآية12"
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাদের সকলের উপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর হিকমত ও ইলমের মাধ্যমে উত্তরাধিকার সম্পদ বণ্টনকে ফরয করেছেন এবং এর হকদারদের মধ্যে সর্বোত্তম ও ইনসাফপূর্ণভাবে বণ্টন করেছেন; যা তাঁর সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞা, ব্যাপক রহমত এবং সুপ্রশস্ত জ্ঞানের দাবী। তিনি তা অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁতভাবে বর্ণনা করেছেন। ফলে মীরাস বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীসসমূহ এমনভাবে এসেছে যা সম্ভাব্য সকল উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রকে শামিল করে। তবে এর মধ্যে কিছু বিষয় অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য যা প্রত্যেকেই বুঝতে পারে, আবার কিছু বিষয় এমন রয়েছে যা গভীর চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণার দাবি রাখে।

জাহেলিয়াত যুগে লোকেরা নারীদের এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের উত্তরাধিকার প্রদান করত না। তারা বলত: "কেবল তাকেই মীরাস দেওয়া হবে যে যুদ্ধ করে এবং গনীমতের মাল অর্জন করে।" অতঃপর আল্লাহ তাআলা মূর্খতা ও জুলুমের ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিধান বাতিল করে দেন এবং নারীদেরকে পুরুষদের সাথে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অংশীদার করেন। তিনি নারীকে তার সমপর্যায়ের পুরুষের অর্ধেক অংশ প্রদান করেছেন; জাহেলিয়াতের লোকদের মতো তাকে বঞ্চিত করেননি, আবার ফিতরাত ও বিবেক-বুদ্ধির দাবি থেকে বিচ্যুতদের মতো তাকে পুরুষের সমানও করেননি। অতঃপর তিনি বলেন: "তোমাদের পিতা ও তোমাদের সন্তানদের মধ্যে কে তোমাদের উপকারের দিক থেকে অধিক নিকটবর্তী তা তোমরা জান না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরয; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।" (আন-নিসা: ১১ নং আয়াতের অংশ)।

তিনি অন্য আয়াতে বলেন: "এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ; এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, পরম সহনশীল।" (আন-নিসা: ১২ নং আয়াতের অংশ)
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ৬)
{تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} . "النساء:13" {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَاراً خَالِداً فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ} . "النساء:14" وقال في آية ثالثة: {يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ أَنْ تَضِلُّوا وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} ."النساء: من الآية176".

فبيَّن الله تعالى أنه فرض المواريث بحسب علمه وما تقتضيه حكمته، وأن ذلك فرض منه لازم لا يحل تجاوزه ولا النقص منه، ووعد من أطاعه في هذه الحدود وتمشى فيها على ما حدّه وفرضه، جنات تجري من تحتها الأنهار خالداً فيها، مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصدِّيقين والشهداء والصالحين، وتوعد من خالفه وتعدى حدوده، بأن يدخله ناراً خالداً فيها وله عذاب مهين.

كما امتنّ بفضله علينا بالبيان التام حتى لا نضل ولا نهلك، فلله الحمد رب العالمين.

واعلم أنك إذا جمعت قوله صلى الله عليه وسلم: "ألحقوا الفرائض بأهلها فما بقي فهو لأولى رجل ذكر" 1، إلى آيات المواريث؛ وجدتها قد استوعبت عامة أحكام المواريث ومهماته، وها أنا أشرح ذلك بحول الله، فأقول وبالله أقول:

--------------------------------------------

1 رواه البخاري "6732" كتاب الفرائض، 5- باب ميراث الولد من أبيه وأمه.
{এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে এবং এটাই মহাসাফল্য।} (আন-নিসা: ১৩) {আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন যেখানে সে চিরস্থায়ী হবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।} (আন-নিসা: ১৪) এবং তিনি তৃতীয় আয়াতে বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।} (আন-নিসা: ১৭৬ আয়াতের অংশ)।

আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর প্রজ্ঞার দাবি অনুযায়ী উত্তরাধিকারের বিধানসমূহ ফরয করেছেন। আর এটি তাঁর পক্ষ থেকে এক অপরিহার্য ফরয বিধান যা অতিক্রম করা বা এর থেকে হ্রাস করা বৈধ নয়। আর তিনি ঐ ব্যক্তিকে জান্নাতসমূহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ব্যক্তি এই সীমারেখার মধ্যে তাঁর আনুগত্য করবে এবং তাঁর নির্ধারিত ও ফরযকৃত বিধান অনুযায়ী চলবে, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত এবং সেখানে সে চিরস্থায়ী হবে—তাদের সাথে যাদের উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন তথা নবীগণ, সিদ্দিকগণ, শহীদগণ ও নেককার বান্দাদের সাথে। আর তিনি ঐ ব্যক্তিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তাঁর অবাধ্য হবে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করবে, তাকে তিনি আগুনে প্রবেশ করাবেন যেখানে সে চিরস্থায়ী হবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।

তেমনিভাবে তিনি তাঁর অনুগ্রহে আমাদের ওপর পূর্ণাঙ্গ বর্ণনার মাধ্যমে ইহসান করেছেন যাতে আমরা পথভ্রষ্ট না হই এবং ধ্বংস না হই। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

জেনে রাখুন যে, যখন আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা নির্ধারিত অংশসমূহ (ফারায়িয) এর হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটবর্তী পুরুষ ব্যক্তির জন্য" ১-কে মিরাসের আয়াতসমূহের সাথে একত্র করবেন, তখন আপনি দেখতে পাবেন যে তা মিরাসের সাধারণ বিধানাবলী ও এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। আর এখন আমি আল্লাহর শক্তিতে তা ব্যাখ্যা করছি, আমি বলছি এবং আল্লাহর সাহায্যেই বলছি:

--------------------------------------------

১ বুখারী (৬৭৩২) কিতাবুল ফারায়িয, ৫- অধ্যায়: পিতা ও মাতার নিকট হতে সন্তানের মিরাস।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ৭)
آيات المواريث التي ذكرها الله نصاً في المواريث ثلاث:

الآية الأولى: في إرث الأصول والفروع.

الآية الثانية: في إرث الزوجين وأولاد الأم.

الآية الثالثة: في إرث الإخوة لغير أم.

فالآية الأولى: قوله تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلادِكُمْ} ."النساء: من الآية11"؛ بيّن الله فيها أن الأولاد وهم الفروع ثلاثة أقسام: ذكور خلّص، وإناث خلّص، ومختلط من الجنسين.

فالذكور الخلّص لم يقدِّر لهم ميراثاً فدل، على أنهم عصبة يرثون بالسوية.

والإناث الخلّص قَدَّر ميراثهن للواحدة النصف، ولمن فوق الثنتين الثلثان، وقد دل الحديث ومفهوم قوله: {وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْف} ."النساء: من الآية11"على أن للثنتين الثلثين.

والمختلط من الجنسين لم يقدر لهم ميراثاً، فدل على أنهم عصبة ولكن للذكر مثل حظ الأنثيين.

أما الأصول؛ فابتدأ الله بيان إرثهم بقوله: {وَلِأَبَوَيْه} "النساء: من الآية11"إلى آخره فذكر لهم حالتين:

إحداهما: أن يكون للميت أحد من الأولاد الذكور أو الإناث.

الثانية: أن لا يكون للميت أحد من الأولاد.

ففي الحال الأولى: ميراث كل واحد من الأبوين السدس فرضاً، والباقي للأولاد إن كانوا ذكوراً أو ذكوراً وإناثاً؛ لأنهم حينئذٍ يكونون عصبة، وعصبة الفروع أولى من عصبة الأصول؛ لأن الفروع جزء من الميت.
উত্তরাধিকার সংক্রান্ত যে আয়াতগুলো আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তা তিনটি:

প্রথম আয়াত: মূল এবং শাখা বংশধরদের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় আয়াত: স্বামী-স্ত্রী এবং বৈপিত্রেয় ভাইবোনদের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে।

তৃতীয় আয়াত: সহোদর ও বৈমাত্রেয় ভাইবোনদের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে।

প্রথম আয়াতটি হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন।" (সুরা আন-নিসা: ১১ নং আয়াতের অংশ); এতে আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, সন্তানরা—যারা শাখা বংশধর—তারা তিন প্রকার: কেবল পুত্র সন্তান, কেবল কন্যা সন্তান এবং উভয় লিঙ্গের মিশ্রিত সন্তান।

কেবল পুত্র সন্তানদের ক্ষেত্রে আল্লাহ কোনো নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করেননি, যা প্রমাণ করে যে তারা আসাবাহ এবং তারা সমানভাবে উত্তরাধিকার লাভ করবে।

আর কেবল কন্যা সন্তানদের ক্ষেত্রে তিনি তাদের অংশ নির্ধারণ করেছেন; একজনের জন্য অর্ধেক, আর দুইজনের অধিক হলে দুই-তৃতীয়াংশ। আর হাদীস এবং তাঁর এই বাণীর মর্মার্থ: "যদি সে একাকী হয় তবে তার জন্য অর্ধেক" (সুরা আন-নিসা: ১১ নং আয়াতের অংশ) নির্দেশ করে যে, দুইজনের জন্যও দুই-তৃতীয়াংশ বরাদ্দ।

আর উভয় লিঙ্গের মিশ্রিত সন্তানদের ক্ষেত্রে তিনি কোনো নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করেননি, যা প্রমাণ করে যে তারা আসাবাহ, তবে এক্ষেত্রে একজন পুরুষের অংশ দুইজন নারীর অংশের সমান হবে।

আর মূল বংশধরদের ক্ষেত্রে; আল্লাহ তাদের উত্তরাধিকারের বর্ণনা শুরু করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "আর তার পিতামাতার জন্য" (সুরা আন-নিসা: ১১ নং আয়াতের অংশ) শেষ পর্যন্ত। সেখানে তিনি তাদের জন্য দুটি অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন:

প্রথমত: মৃতের কোনো সন্তান (পুত্র বা কন্যা) থাকা।

দ্বিতীয়ত: মৃতের কোনো সন্তান না থাকা।

প্রথম অবস্থায়: পিতামাতার প্রত্যেকের জন্য নির্ধারিত অংশ হিসেবে এক-ষষ্ঠাংশ, আর অবশিষ্টাংশ সন্তানদের জন্য যদি তারা কেবল পুত্র হয় অথবা পুত্র ও কন্যা উভয়ই হয়; কারণ সেক্ষেত্রে তারা আসাবাহ হিসেবে গণ্য হবে। আর শাখা বংশধরদের আসাবাহ হওয়া মূল বংশধরদের আসাবাহ হওয়ার চেয়ে অগ্রাধিকার পায়; কারণ শাখা হলো মৃতের অংশ।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ৮)
وإن كان الأولاد إناثاً خلّصاً، أخذن فرضهن والباقي - إن كان - يأخذه الأب؛ لأنه أولى رجل ذكر، ولا يتصور أن يبقى له شيء إذا كن اثنتين فأكثر مع الأم.

وفي الحال الثانية: وهي أن لا يكون للميت أحد من الأولاد، وورثه أبواه، فقد فرض الله للأم الثلث، وسكت عن الأب فيكون له الباقي، إلا أن يكون للميت إخوة اثنان فأكثر، فقد فرض الله لها السدس فقط والباقي للأب.

وتأمل قوله عز وجل: {وَوَرِثَهُ أَبَوَاه} ."النساء: من الآية11"؛ فإنه ربما يؤخذ منه أنه لو ورثه معهما غيرهما، لم يكن للأم الثلث، فيكون فيه إشارة إلى ميراث الأم في العمريتين، وهما زوج وأم وأب، وزوجة وأم وأب، فإن للزوج أو الزوجة فرضه، ثم تعطى الأم ثلث الباقي بعده، والباقي للأب، وذلك أن الله جعل للأب مثليها إذا انفردا بالمال، فقياس ذلك أن يكون له مثلاها إذا انفردا ببعضه، والله أعلم.

والآية الثانية: قوله تعالى: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ} "النساء: من الآية12"، يبيِّن الله تعالى فيها أن للزوج حالين:

إحداهما: أن يكون لزوجته الميتة أحد من الأولاد الذكور أو الإناث؛ ففرضه الربع.

الثانية: أن لا يكون لها أحد من الأولاد؛ ففرضه النصف.

وكذلك بيَّن أن للزوجة حالين:

إحداهما: أن يكون لزوجها الميت أحد من الأولاد الذكور أو الإناث؛ ففرضها الثمن.

الثانية: أن لا يكون له أحد من الأولاد؛ ففرضها الربع.

أما أولاد الأم وهم الإخوة والأخوات من الأم فبيّن الله
আর সন্তানরা যদি কেবল কন্যা হয়, তবে তারা তাদের নির্ধারিত অংশ গ্রহণ করবে এবং অবশিষ্ট যা থাকে—যদি থাকে—তা পিতা গ্রহণ করবেন; কারণ তিনি নিকটতম পুরুষ আত্মীয়। আর মা এবং দুই বা ততোধিক কন্যা থাকলে পিতার জন্য কিছু অবশিষ্ট থাকার সম্ভাবনা থাকে না।

দ্বিতীয় অবস্থা: আর তা হলো যখন মৃতের কোনো সন্তান না থাকে এবং তার পিতা-মাতা তার উত্তরাধিকারী হয়, তখন আল্লাহ মায়ের জন্য এক-তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করেছেন এবং পিতার ব্যাপারে নীরব থেকেছেন, ফলে অবশিষ্ট অংশ পিতার প্রাপ্য হবে। তবে যদি মৃতের দুই বা ততোধিক ভাই-বোন থাকে, তবে আল্লাহ মায়ের জন্য কেবল এক-ষষ্ঠাংশ নির্ধারণ করেছেন এবং অবশিষ্ট অংশ পিতার জন্য।

মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করুন: "এবং তার পিতা-মাতা তার উত্তরাধিকারী হয়" (সূরা আন-নিসা: ১১ নং আয়াতের অংশ); কেননা সম্ভবত এখান থেকে এটি গৃহীত হয় যে, যদি পিতা-মাতার সাথে অন্য কেউও উত্তরাধিকারী হয়, তবে মায়ের জন্য (পূর্ণ সম্পদের) এক-তৃতীয়াংশ থাকবে না। এতে 'উমারিয়্যাতাইন' (উমার রা.-এর ফয়সালাকৃত দুই মাসআলা) মাসআলাদ্বয়ে মায়ের উত্তরাধিকারের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে; আর মাসআলা দুটি হলো: স্বামী, মা ও বাবা এবং স্ত্রী, মা ও বাবা। এক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রী তাদের নির্ধারিত অংশ পাবেন, এরপর অবশিষ্ট যা থাকবে তার এক-তৃতীয়াংশ মাকে প্রদান করা হবে এবং বাকি অংশ পিতার জন্য থাকবে। এর কারণ হলো, যখন তারা কেবল পূর্ণ সম্পদের উত্তরাধিকারী হয় তখন আল্লাহ পিতার জন্য মায়ের দ্বিগুণ অংশ নির্ধারণ করেছেন, সুতরাং কিয়াস বা যুক্তির দাবি হলো—যখন তারা সম্পদের অংশবিশেষের উত্তরাধিকারী হবে তখনও পিতার জন্য মায়ের দ্বিগুণ অংশ থাকবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

দ্বিতীয় আয়াত হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমাদের স্ত্রীরা যা রেখে গেছে তার অর্ধেক তোমাদের জন্য" (সূরা আন-নিসা: ১২ নং আয়াতের অংশ)। এতে আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন যে, স্বামীর জন্য দুইটি অবস্থা রয়েছে:

প্রথমটি: যদি তার মৃত স্ত্রীর কোনো পুত্র বা কন্যা সন্তান থাকে; তবে তার নির্ধারিত অংশ হলো এক-চতুর্থাংশ।

দ্বিতীয়টি: যদি স্ত্রীর কোনো সন্তান না থাকে; তবে তার নির্ধারিত অংশ হলো অর্ধেক।

অনুরূপভাবে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, স্ত্রীর জন্যও দুইটি অবস্থা রয়েছে:

প্রথমটি: যদি তার মৃত স্বামীর কোনো পুত্র বা কন্যা সন্তান থাকে; তবে তার নির্ধারিত অংশ হলো এক-অষ্টমাংশ।

দ্বিতীয়টি: যদি স্বামীর কোনো সন্তান না থাকে; তবে তার নির্ধারিত অংশ হলো এক-চতুর্থাংশ।

আর মায়ের সন্তানদের ক্ষেত্রে—যারা হলো মায়ের দিক থেকে ভাই ও বোন—আল্লাহ বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ৯)
تعالى أنهم يرثون في الكلالة، وأن ميراثهم مقدّر للواحد السدس، وللاثنين فأكثر الثلث بالسوية لا فضل لذكر على أنثى؛ وذلك - والله أعلم - لأن اتصالهم بالميت من طريق الأم - وهي أنثى - فليس هنا جهة أبوة حتى يفضل جانب الذكورة.

والآية الثالثة: قوله تعالى: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلالَة} "النساء: من الآية176"ذكر الله فيها ميراث الإخوة لغير أم، ويؤخذ من الآية الكريمة أنهم ثلاثة أقسام:

أحدها: ذكور خلّص ويرثون بالسوية بلا تقدير.

الثاني: إناث خلّص ويرثن بالتقدير للواحدة النصف، وللثنتين فأزيد الثلثان.

الثالث: مختلط من الجنسين ويرثون بلا تقدير؛ للذكر مثل حظ الأنثيين.

وأما قوله صلى الله عليه وسلم: "ألحقوا الفرائض بأهلها فما بقي فهو لأولى رجل ذكر"؛ فيؤخذ منه إرث من عدا الأصول والفروع والإخوة، وأنه لا يرث منهم إلا الذكور بلا تقدير، يقدم الأولى فالأولى كالعم على ابنه، والشقيق على الذي لأب.

ويؤخذ من قوله تعالى: {وَأُولُوا الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} "لأنفال: من الآية75"إرث ذوي الأرحام وهم من سوى أهل الفرائض والعصب، ولكن هذه الآية ليست نصاً في الميراث، فمن ثَمّ اختلف أهل العلم في إرث ذوي الأرحام، كما يأتي بيانه إن شاء الله.
আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন যে, তারা 'কালালাহ' (পিতা ও সন্তানহীন মৃত ব্যক্তি) অবস্থায় উত্তরাধিকারী হয়। তাদের মিরাস (উত্তরাধিকার) নির্ধারিত: একজনের জন্য ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬), আর দুই বা ততোধিক হলে সবাই সমানভাবে তিন ভাগের এক ভাগে (১/৩) অংশীদার হবে; এতে পুরুষের জন্য নারীর ওপর কোনো অতিরিক্ত প্রাধান্য নেই। এর কারণ—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—যেহেতু মৃতের সাথে তাদের সম্পর্ক মায়ের মাধ্যমে—যিনি একজন নারী—তাই এখানে পিতৃত্বের কোনো দিক নেই যাতে পুরুষ পক্ষকে প্রাধান্য দেওয়া যায়।

তৃতীয় আয়াতটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: "লোকেরা আপনার কাছে ফতোয়া বা সমাধান চায়। আপনি বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে কালালাহ সম্পর্কে সমাধান দিচ্ছেন..." (সূরা আন-নিসা: ১৭৬-এর অংশ)। আল্লাহ এখানে মা ভিন্ন অন্য সম্পর্কের (সহোদর বা বৈমাত্রেয়) ভাই-বোনদের মিরাস উল্লেখ করেছেন। এই সম্মানিত আয়াত থেকে বোঝা যায় যে তারা তিন প্রকার:

প্রথমত: কেবল পুরুষ; তারা কোনো নির্ধারিত অংশ ব্যতীত (আসাবা হিসেবে) সমানভাবে উত্তরাধিকারী হবে।

দ্বিতীয়ত: কেবল নারী; তারা নির্ধারিত অংশে মিরাস পাবে—একজনের জন্য অর্ধেক (১/২), আর দুই বা ততোধিক হলে দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩)।

তৃতীয়ত: উভয় লিঙ্গের মিশ্রণ; তারা কোনো নির্ধারিত অংশ ব্যতীত (আসাবা হিসেবে) এমনভাবে মিরাস পাবে যে, এক পুরুষ দুই নারীর সমান অংশ পাবে।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা নির্ধারিত অংশগুলো (ফারায়েজ) তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।" এখান থেকে মূল (পিতা-দাদা), শাখা (সন্তান-সন্ততি) এবং ভাই-বোন ব্যতীত অন্যান্যদের মিরাস সম্পর্কে জানা যায়। তাদের মধ্য থেকে কেবল পুরুষরাই কোনো নির্ধারিত অংশ ছাড়াই মিরাস পাবে। এতে নৈকট্যের ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে; যেমন নিজের ছেলের তুলনায় চাচা অগ্রগণ্য হবে, এবং বৈমাত্রেয় ভাইয়ের তুলনায় সহোদর ভাই অগ্রগণ্য হবে।

আর মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আত্মীয়রা একে অপরের অধিক হকদার। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।" (সূরা আল-আনফাল: ৭৫-এর অংশ) থেকে 'যাউল আরহাম' (দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়)-দের মিরাস সম্পর্কে জানা যায়। তারা হলেন নির্ধারিত অংশের হকদার এবং আসাবা ব্যতীত অন্যান্য আত্মীয়। তবে এই আয়াতটি মিরাসের ক্ষেত্রে সরাসরি বা সুনির্দিষ্ট نص (নস) নয়, বিধায় যাউল আরহাম-এর মিরাস পাওয়ার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে বিস্তারিতভাবে আসবে।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌علم الفرائض

حدّه ــ موضوعه - ثمرته - حكمه

حدّه: العلم بقسمة المواريث فقهاً وحساباً.

موضوعه: التركات وهي ما يخلفه الميت من أموال وحقوق واختصاصات.

ثمرته: إيصال كل وارث ما يستحقه من التركة، ومن ثم نعرف أهميته وحكمه.

حكمه: فرض كفاية إذا قام به من يكفي صار في حق الباقين سنة.

الحقوق المتعلقة بالتركة

يتعلق بالتركة خمسة حقوق مرتبة بحسب أهميتها كالآتي:

1 - مؤن تجهيز الميت: من ثمن ماء تغسيله، وكفنه، وحنوطه، وأجرة الغاسل، وحافر القبر، ونحو ذلك؛ لأن هذه الأمور من حوائج الميت، فهي بمنزلة الطعام والشراب واللباس والسكن للمفلس.

2 - ثم الحقوق المتعلقة بعين التركة: كأرش جناية العبد المتعلق برقبته، والدَّين الذي فيه رهن، وإنما قدمت على ما بعدها لقوة تعلقها بالتركة حيث كانت متعلقة بعينها.

وعند الأئمة الثلاثة - مالك وأبي حنيفة والشافعي -: تقدم
ফারায়েয শাস্ত্র

সংজ্ঞা ــ আলোচ্য বিষয় - ফলাফল - বিধান

সংজ্ঞা: ফিকহ ও গণিতশাস্ত্রের আলোকে মিরাস বণ্টনের জ্ঞান।

আলোচ্য বিষয়: পরিত্যক্ত সম্পত্তি (তারাকাহ), আর তা হলো মৃত ব্যক্তি যে সমস্ত ধন-সম্পদ, অধিকার এবং বিশেষ স্বত্বাদি রেখে যান।

ফলাফল: প্রত্যেক ওয়ারিশের কাছে পরিত্যক্ত সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ পৌঁছে দেওয়া; আর এর মাধ্যমেই আমরা এর গুরুত্ব ও বিধান জানতে পারি।

বিধান: এটি ফরযে কিফায়া; যদি পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক এটি পালন করে, তবে তা অবশিষ্টদের ক্ষেত্রে সুন্নাত হিসেবে গণ্য হয়।

পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ

পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে গুরুত্বের ক্রমানুসারে পাঁচটি অধিকার সম্পৃক্ত, যা নিম্নরূপ:

১ - মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের খরচ: গোসলের পানির মূল্য, কাফন, সুগন্ধি, গোসলদাতার মজুরি, কবর খননকারীর মজুরি এবং এই জাতীয় বিষয়াদি; কারণ এই বিষয়গুলো মৃত ব্যক্তির মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত, তাই এগুলো নিঃস্ব ব্যক্তির খাদ্য, পানীয়, পোশাক ও বাসস্থানের সমতুল্য।

২ - অতঃপর সরাসরি মূল সম্পত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ: যেমন দাসের কৃত অপরাধের জরিমানা যা তার সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং বন্ধকী ঋণ। এই অধিকারগুলোকে পরবর্তীগুলোর ওপর অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে কারণ সরাসরি মূল সম্পত্তির সাথে এগুলোর জোরালো সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তিন ইমামের নিকট - মালিক, আবু হানিফা এবং শাফেয়ী -: অগ্রগণ্য
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ১২)
هذه الحقوق على مؤن التجهيز؛ لأن تعلقها بعين المال سابق، وعلى هذا فيقوم بمؤن التجهيز من تلزمه نفقة الميت إن كان، وإلا ففي بيت المال، وهذا القول كما ترى له حظ من النظر، والله أعلم.

3 - ثم الديون المرسلة التي لا تتعلق بعين التركة، كالديون التي في ذمة الميت بلا رهن، سواء كانت لله كالزكاة والكفارة، أم للآدمي كالقرض والأجرة وثمن المبيع ونحوها، ويسوّى بين الديون بالحصص إن لم تف التركة بالجميع، سواء كان الدَّين لله أم للآدمي، وسواء كان سابقاً أم لاحقاً.

وإنما قدّم الدَّين على الوصية لما روى أحمد والترمذي وابن ماجه عن أمير المؤمنين علي بن أبي طالب قال: إنكم تقرؤون {مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْن} "النساء: من الآية12"

وإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى بالدَّين قبل الوصية 1.

--------------------------------------------

1 علقه البخاري ووصله أحمد "1/79" والترمذي "2097" كتاب الفرائض،

5- باب ماجاء في ميراث الإخوة من الأب والأم. وقال: تكلم بعض أهل العلم في الحارث.

وقال ابن كثير "1/460": لكنه كان حافظا للفرائض معتنيا بتا وبالحساب.

ورواه ابن ماجه "2715" كتاب الوصيا، 7- باب الدين قبل الوصية.

صححه ابن ماجه "950" وحسنه الألباني، وضعفه البهقي "6/267" وقال الحافظ في "الفتح" "5/377"، وهو إسناد ضعيف، لكن قال الترمذي: إن العمل على مقتضاه. وكأن البخاري اعتمد عليه لاعتضاده بالاتفاق على مقتضاه، وإلا فلم تجر عادته أن يورد الضعيف في مقام الاحتجاج به. وقد أورد في الباب ما يعضده أيضا. ولإجماع حكاه غير الترمذي وابن حجر جمع منهم ابن الملقن في "تحفة المحتاج" "1338".
এই অধিকারগুলো কাফন-দাফনের ব্যয়ের ওপর অগ্রগণ্য; কারণ সম্পদের নির্দিষ্ট বস্তুর সাথে এগুলোর সংশ্লিষ্টতা পূর্ববর্তী। এই মত অনুযায়ী, যদি এমন কেউ থাকে যার ওপর মৃত ব্যক্তির ভরণপোষণ আবশ্যক ছিল, তবে সে কাফন-দাফনের ব্যয় বহন করবে। অন্যথায় তা বায়তুল মাল থেকে প্রদান করা হবে। এই অভিমতটি, আপনি যেমনটি দেখছেন, বিচার-বিশ্লেষণের দাবি রাখে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

৩ - অতঃপর সাধারণ ঋণসমূহ যা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের নির্দিষ্ট কোনো বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, যেমন মৃত ব্যক্তির জিম্মায় থাকা বন্ধকবিহীন ঋণ; চাই তা আল্লাহর হক হোক যেমন জাকাত ও কাফফারা, অথবা মানুষের হক হোক যেমন করজ (ঋণ), পারিশ্রমিক, বিক্রয়মূল্য ইত্যাদি। যদি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ সমস্ত ঋণ পরিশোধের জন্য যথেষ্ট না হয়, তবে ঋণের অংশ অনুপাতে তা বণ্টন করা হবে; চাই তা আল্লাহর ঋণ হোক বা মানুষের, এবং চাই তা আগে হোক বা পরে।

আর ঋণের বিষয়টিকে অসিয়তের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, কারণ ইমাম আহমাদ, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ আমিরুল মুমিনিন আলি ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আপনারা পাঠ করেন: "সে যা অসিয়ত করে তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ পরিশোধ করার পর।" (সূরা আন-নিসা: ১২ নং আয়াতের অংশ)

এবং নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসিয়তের পূর্বে ঋণ পরিশোধ করার ফয়সালা দিয়েছেন ১।

--------------------------------------------

১ বুখারি এটি মুআল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আহমাদ (১/৭৯) ও তিরমিজি (২০৯৭) 'কিতাবুল ফারায়েজ' অধ্যায়ে এটি মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেছেন।

৫- অনুচ্ছেদ: পিতা ও মাতার দিক থেকে ভাইদের উত্তরাধিকার সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: কোনো কোনো ইলম অন্বেষী আল-হারিস সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন।

আর ইবনে কাসির (১/৪৬০) বলেছেন: তবে তিনি ফারায়েজ শাস্ত্রে হাফেজ ছিলেন এবং এটি ও গণিতের প্রতি যত্নশীল ছিলেন।

ইবনে মাজাহও এটি বর্ণনা করেছেন (২৭১৫), 'কিতাবুল ওয়াসায়া', ৭- অনুচ্ছেদ: অসিয়তের আগে ঋণ।

ইবনে মাজাহ (৯৫০) এটিকে সহিহ বলেছেন এবং আলবানি হাসান বলেছেন; আর বায়হাকি (৬/২৬৭) দুর্বল বলেছেন। হাফেজ 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে (৫/৩৭৭) বলেছেন: এর সনদটি দুর্বল, তবে তিরমিজি বলেছেন: আমল এর বিধান অনুযায়ীই হয়ে থাকে। মনে হয় বুখারি এর ওপর নির্ভর করেছেন কারণ এর বিধানের ওপর ঐকমত্য বিদ্যমান, অন্যথায় দলিল হিসেবে দুর্বল হাদিস উল্লেখ করা তাঁর স্বভাব নয়। এই অধ্যায়ে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা একে শক্তিশালী করে। তিরমিজি ও ইবনে হাজার ছাড়া আরও অনেকে ইজমা বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে ইবনুল মুলাক্কিন 'তুহফাতুল মুহতাজ' (১৩৩৮) গ্রন্থে অন্যতম।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وهذا الحديث وإن كان في إسناده مقال إلا أنه يعضده المعنى والإجماع؛

أما المعنى فلأن الدَّين واجب على الميت والوصية تبرع منه، والواجب أولى بالتقديم من التبرع.

وأما الإجماع فقد أجمع أهل العلم على تقديم الدَّين على الوصية.

فإن قيل: فما الحكمة في تقديم الوصية على الدين في الآية الكريمة؟

فالجواب: إن الحكمة - والله أعلم - هو أن الدَّين واجب والوصية تبرع؛ والتبرع ربما يتساهل به الورثة ويستثقلون القيام به فيتهاونون بأدائه بخلاف الواجب، وأيضاً؛ فالدَّين له من يطالب به، فإذا قُدِّر أن الورثة تهاونوا به فصاحبه لن يترك المطالبة به، فجبرت الوصية بتقديم ذكرها، والله أعلم.

4 - ثم الوصية بالثلث فأقل لغير وارث.

فأما الوصية للوارث فحرام غير صحيحة، قليلة كانت أو كثيرة؛ لأنّ الله قسّم الفرائض ثم قال: {تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} . "النساء:13" {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَاراً خَالِداً فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ} . "النساء:14"

والوصية للوارث مِنْ تعدِّي حدود الله؛ لأنها تقتضي زيادة
এই হাদিসটির সনদে যদিও সমালোচনা রয়েছে, তবুও এর অর্থ এবং ইজমা (ঐক্যমত) একে শক্তিশালী করে।

অর্থের দিক থেকে কারণ হলো—ঋণ মৃত ব্যক্তির ওপর একটি আবশ্যিক দায় (ওয়াজিব), আর অসিয়ত হলো তার পক্ষ থেকে একটি ঐচ্ছিক দান; আর ঐচ্ছিক দানের তুলনায় আবশ্যিক দায় বা ওয়াজিবকে অগ্রগণ্য করা অধিক যুক্তিযুক্ত।

আর ইজমার বিষয়টি হলো—আলেমগণ অসিয়তের পূর্বে ঋণ পরিশোধ করার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

যদি প্রশ্ন করা হয় যে: পবিত্র আয়াতে ঋণের পূর্বে অসিয়তকে কেন আগে উল্লেখ করা হয়েছে (এর হিকমত কী)?

উত্তর হলো: এর হিকমত—আল্লাহই সম্যক পরিজ্ঞাত—হলো এই যে, ঋণ হলো ওয়াজিব আর অসিয়ত হলো ঐচ্ছিক দান। উত্তরাধিকারীরা অনেক সময় ঐচ্ছিক দানের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করে এবং তা সম্পাদন করাকে বোঝা মনে করে, ফলে তারা এটি আদায়ে অবহেলা করে; যা ওয়াজিবের (ঋণের) ক্ষেত্রে সচরাচর হয় না। এছাড়া, ঋণের ক্ষেত্রে দাবি করার মতো পাওনাদার থাকে; তাই উত্তরাধিকারীরা যদি অবহেলাও করে, পাওনাদার তার দাবি ছাড়বে না। একারণে অসিয়তকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য (কুরআনের আয়াতে) আগে উল্লেখ করে এর অভাব পূরণ করা হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

৪ - অতঃপর উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তির জন্য এক-তৃতীয়াংশ বা তার কম সম্পদের অসিয়ত করা।

তবে উত্তরাধিকারীর (ওয়ারিসের) জন্য অসিয়ত করা হারাম এবং তা সঠিক নয়, চাই তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি। কারণ আল্লাহ তাআলা মিরাসের অংশসমূহ বণ্টন করে দিয়েছেন এবং এরপর ইরশাদ করেছেন: “এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। আর এটিই মহা সাফল্য।” (আন-নিসা: ১৩)। “আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানি করে এবং তাঁর সীমা লঙ্ঘন করে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, যেখানে সে চিরকাল থাকবে। আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।” (আন-নিসা: ১৪)।

আর উত্তরাধিকারীর অনুকূলে অসিয়ত করা আল্লাহর সীমা লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি নির্ধারিত অংশের অতিরিক্ত বৃদ্ধিকে আবশ্যক করে...
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৪)
بعض الورثة عما حدَّ الله له وأعطاه إياه، وعن أبي أمامة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إن الله قد أعطى كل ذي حق حقه فلا وصية لوارث" 1. رواه الخمسة إلا النسائي، وقد أجمع العلماء على العمل بمقتضى هذا الحديث.

لكن إن أجاز الورثة المرشدون الوصية لأحد من الورثة، نفذت الوصية؛ لأن الحق لهم، فإذا رضوا بإسقاطه سقط، ولحديث ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تجوز وصية لوارث إلا أن يشاء الورثة" 2. رواه الدارقطني.

--------------------------------------------

1 رواه أبو داود "2870" كتاب الوصايا، باب ماجاء في الوصية للوارث.

والترمذي "2120" كتاب الوصايا، 5- باب ماجاء لا وصية لوارث، وقال: حسن صحيح.

وابن ماجه "2713" كتاب الوصايا، 6- باب لاوصية لوارث.

وأحمد في "المستند" "5/267".

2 رواه الدارقطني "4/152" كتاب الوصايا.

وعنه البهيقي "6/263" كتاب الوصايا، باب نسخ الوصية للوالدين والأفربين والوارثين.

وأبو داود في "المراسيل" "349"، 63- ما جاء في الوصايا وقال: عطا الخراساني لم يدرك ابن عباس.

وضعفه ابن حزم.

قال الحافظ في "الدراية" "2/290": رجاله لا بأس بهم، ولم يجب عن الانقطاع. وثبته في "التخليص" "3/92".

وله شاهد من حديث عمرو بن خارجة عند:

الترمذي "2121" كتاب الوصايا، 5- باب ما جاء لا وصية لوارث.

وقال: حسن صحيح. والنسائي "6468" كتاب الوصايا، 5- باب إبطال الوصية للوارث وابن ماجه "2712" كتاب الوصايا، 6- باب لاوصية لوارث. وصححهما الألباني.
কোনো কোনো উত্তরাধিকারীকে সেই অংশ থেকে [বঞ্চিত করা] যা আল্লাহ তার জন্য নির্ধারিত করেছেন এবং তাকে দান করেছেন। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার হক (অধিকার) প্রদান করেছেন, সুতরাং কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই।" ১. এটি নাসাঈ ব্যতীত সুনান গ্রন্থের পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং আলেমগণ এই হাদিসের দাবি অনুযায়ী আমল করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

তবে যদি প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান উত্তরাধিকারীরা কোনো উত্তরাধিকারীর অনুকূলে অসিয়তটি অনুমোদন করে, তবে সেই অসিয়ত কার্যকর হবে; কারণ হকটি তাদেরই। অতএব, তারা যদি তাদের হক ত্যাগ করতে রাজি হয়, তবে তা রহিত হয়ে যাবে। এর সপক্ষে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস রয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত বৈধ নয়, যদি না অন্য উত্তরাধিকারীরা তা চায় (অনুমোদন দেয়)।" ২. এটি দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন (২৮৭০), অসিয়ত অধ্যায়, উত্তরাধিকারীর অনুকূলে অসিয়ত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

তিরমিজি (২১২০), অসিয়ত অধ্যায়, ৫- উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, এবং তিনি বলেছেন: হাসান সহিহ।

ইবনে মাজাহ (২৭১৩), অসিয়ত অধ্যায়, ৬- উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

এবং আহমাদ তার "মুসনাদ"-এ (৫/২৬৭)।

২. দারা কুতনী এটি বর্ণনা করেছেন (৪/১৫২), অসিয়ত অধ্যায়।

তার সূত্রে বায়হাকি (৬/২৬৩), অসিয়ত অধ্যায়, পিতামাতা, নিকটাত্মীয় ও উত্তরাধিকারীদের জন্য অসিয়ত রহিতকরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

আবু দাউদ "আল-মারাসিল"-এ (৩৪৯), ৬৩- অসিয়তসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়, এবং তিনি বলেছেন: আতা আল-খুরাসানি ইবনে আব্বাসের সাক্ষাৎ পাননি।

ইবনে হাজম একে দুর্বল বলেছেন।

হাফেজ (ইবনে হাজার) "আদ-দিরায়া" গ্রন্থে (২/২৯০) বলেছেন: এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই, তবে তিনি বিচ্ছিন্নতার (ইনকিতা) কোনো উত্তর দেননি। তিনি "আত-তাখলিস" গ্রন্থে (৩/৯২) একে সাব্যস্ত করেছেন।

আমর ইবনে খারিজা থেকে বর্ণিত হাদিসে এর সপক্ষে সমর্থনকারী বর্ণনা (শাহেদ) রয়েছে যা বর্ণিত হয়েছে:

তিরমিজি (২১২১), অসিয়ত অধ্যায়, ৫- উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

এবং তিনি বলেছেন: হাসান সহিহ। নাসাঈ (৬৪৬৮), অসিয়ত অধ্যায়, ৫- উত্তরাধিকারীর অনুকূলে অসিয়ত বাতিল সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ এবং ইবনে মাজাহ (২৭১২), অসিয়ত অধ্যায়, ৬- উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ। আলবানি উভয়টিকে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وأما الوصية لغير الوارث فإنها تجوز وتصح بالثلث فأقل، ولا تصح بما زاد عليه؛ لأن الثلث كثير، فيدخل ما زاد عليه بالمضارة، ولحديث ابن عباس أنه قال: لو أن الناس غضوا من الثلث إلى الربع! فإن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "الثلث والثلث كثير" 1 متفق عليه.

فإن أجاز الورثة المرشدون الوصية بما زاد على الثلث صح ذلك؛ لأن الحق لهم فإذا رضوا بإسقاطه سقط.

وقد اختلف العلماء رحمهم الله: متى تعتبر إجازة الورثة الوصية للوارث أو بما زاد على الثلث؟

فالمشهور من مذهب الإمام أحمد عند أصحابه: أنها لا تعتبر إلا بعد الموت، فلو أجازوا قبله لم تصح الإجازة ولهم الرجوع.

والراجح أن الإجازة إن كانت في مرض موت المورث صح وليس لهم الرجوع، وإن كانت في غير مرض موته لم تصح ولهم الرجوع، وهذا مذهب مالك واختيار شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم ذكره في "بدائع الفوائد" صفحة "4" من الجزء الأول".

--------------------------------------------

= قال ابن عبد البر في "التمهيد" "14/299": هذا إجماع علماء المسلمين.

قال ابن المنذر في "الإجماع" "ص81": وأجمعوا على أن لا وصية لوارث إلا أن يجيز الورثة ذلك.

قال ابن حزم "113": واختلفوا إذا أذن في ذلك سائر الورثة وأجازوه، أيجوز أم لا؟.

1رواه البخاري "1295"كتاب الجنائز، 37- باب رثى النبي صالى الله عليه وسلم سعد بن خولة، ومسلم "1628".
আর ওয়ারিশ (উত্তরাধিকারী) নয় এমন ব্যক্তির অনুকূলে অসিয়ত করা এক-তৃতীয়াংশ বা তার কম পরিমাণ সম্পদে বৈধ ও সহীহ; তবে এর অতিরিক্ত সম্পদে তা সহীহ নয়। কেননা এক-তৃতীয়াংশই অনেক, আর এর অতিরিক্ত অংশ ক্ষতির অন্তর্ভুক্ত হবে। এর স্বপক্ষে দলিল হলো ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি, তিনি বলেছেন: "মানুষ যদি এক-তৃতীয়াংশ থেকে কমিয়ে এক-চতুর্থাংশে নিয়ে আসত! কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক।'" ১ এটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক একযোগে বর্ণিত।

যদি বিচক্ষণ ওয়ারিশগণ এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত অসিয়ত অনুমোদন করেন, তবে তা সহীহ হবে; কারণ অধিকারটি তাদেরই। সুতরাং তারা যখন তা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতে সম্মত হলেন, তখন সেই বাধা অপসারিত হলো।

উলামায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে: ওয়ারিশের অনুকূলে অসিয়ত কিংবা এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত অসিয়তের ক্ষেত্রে ওয়ারিশদের অনুমোদন কখন ধর্তব্য হবে?

ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবের অনুসারীদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো: এটি দাতার মৃত্যুর পরেই কেবল ধর্তব্য হবে। সুতরাং মৃত্যুর পূর্বে যদি তারা অনুমোদন দেয়, তবে সেই অনুমোদন সহীহ হবে না এবং তাদের সেই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার অধিকার থাকবে।

আর অধিকতর সঠিক মত হলো, এই অনুমোদন যদি মীরাস প্রদানকারীর মৃত্যু-কালীন অসুস্থতার সময় হয়, তবে তা সহীহ হবে এবং তাদের আর ফিরে আসার অধিকার থাকবে না। কিন্তু যদি তা মৃত্যু-কালীন অসুস্থতা ব্যতীত সুস্থ অবস্থায় হয়, তবে তা সহীহ হবে না এবং তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অধিকার থাকবে। এটিই ইমাম মালিকের মাযহাব এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের মনোনীত মত। তিনি এটি "বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ" গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের ৪ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

= ইবনে আব্দুল বার "আত-তামহীদ" (১৪/২৯৯) গ্রন্থে বলেছেন: এটি মুসলিম উলামাদের ইজমা বা ঐক্যমত।

ইবনুল মুনযির "আল-ইজমা" (পৃষ্ঠা ৮১) গ্রন্থে বলেছেন: উলামাগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ওয়ারিশের অনুকূলে কোনো অসিয়ত কার্যকর হবে না, যদি না অন্যান্য ওয়ারিশগণ তা অনুমোদন করেন।

ইবনে হাযম (১১৩) বলেছেন: তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, যদি অবশিষ্ট সকল ওয়ারিশ এ ব্যাপারে অনুমতি ও অনুমোদন প্রদান করে, তবে তা জায়েয হবে কি না?

১. বুখারী (১২৯৫), জানাযা অধ্যায়, ৩৭- অনুচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাদ ইবনে খাওলাহ-এর জন্য শোক প্রকাশ করা; এবং মুসলিম (১৬২৮)।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৬)
5- ثم الإرث لأن الله سبحانه قال بعد قسمة المواريث: {مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَار} "النساء: من الآية12"ويبدأ بذوي الفروض وما بقي فللعصبة لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "ألحقوا الفرائض بأهلها فما بقي فهو لأولى رجل ذكر" 1 متفق عليه، فإن لم يكن عصبة ردّ على ذوي الفروض بقدر فروضهم، إلا الزوجين. فإن لم يكن عصبة، ولا ذوو فرض يرد عليهم، فلذوي الأرحام؛ لقوله تعالى: {وَأُولُوا الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ} "لأنفال: من الآية75"، فإن لم يكن ورثة فلبيت المال.

"تنبيه": إذا قيل: ما معنى تقديم الوصية على الإرث، مع أنها لا ينفذ منها - إذا لم تجز الورثة - إلا الثلث، والباقي للورثة؟

فالجواب: أن معناه أن الموصَى به يُخْرَجُ من التركة قبل المواريث كاملاً، ثم يقسم الباقي على الورثة كتركة مستقلة فيدخل النقص عليهم دون الوصية، ويتبين ذلك بالمثال:

فإذا هلكت امرأة عن زوجها وأختها الشقيقة وقد أوصت بالثلث؛ فالمسألة من ثلاثة: للوصية الثلث واحد، ويبقى اثنان هي التركة الموروثة؛ للزوج نصفها وهو واحد، وللأخت نصفها وهو واحد.

فأنت تعرف في هذا المثال أن للوصية الثلث، وللزوج النصف، وللأخت النصف، ولم يحصل لكل من الزوج والأخت حقيقة إلا الثلث.

أما الوصية فَأُعْطِي الموصَى له الثلث كاملاً، وصار النقص على الورثة. ولو قلنا بعدم تقديم الوصية لجعلنا الثلث الموصَى به

--------------------------------------------

1 سبق "ص6" وأنه في "الصحيحين".
৫- এরপর উত্তরাধিকার (মীরাস); কারণ মহান আল্লাহ মিরাস বণ্টনের বর্ণনার পর বলেছেন: "এমন অসিয়ত যা করা হয়েছে অথবা ঋণের পর, যাতে কোনো ক্ষতি সাধন করা না হয়" (সুরা আন-নিসা: ১২ নং আয়াতের অংশ)। বণ্টন শুরু করা হবে ফারায়েযের হকদারদের (যাবিল ফুরুয) মাধ্যমে এবং যা অবশিষ্ট থাকবে তা আসাবাগণের জন্য; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা ফারায়েযসমূহ (নির্ধারিত অংশসমূহ) তাদের হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও, এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা নিকটতম পুরুষ ব্যক্তির জন্য।" ১ মুত্তাফাকুন আলাইহি। যদি কোনো আসাবা না থাকে, তবে স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত অন্যান্য ফারায়েযের হকদারদের নিকট তাদের অংশের অনুপাতে অবশিষ্ট অংশ ফেরত দেওয়া হবে (রদ)। যদি কোনো আসাবা এবং রদ পাওয়ার যোগ্য কোনো ফারায়েযের হকদার না থাকে, তবে তা জাবিল আরহাম (রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়)-দের জন্য; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর আল্লাহর কিতাবে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়গণ একে অপরের অধিক হকদার।" (সুরা আল-আনফাল: ৭৫ নং আয়াতের অংশ)। যদি কোনো ওয়ারিশ না থাকে, তবে তা বাইতুল মালের জন্য সাব্যস্ত হবে।

"সতর্কবার্তা": যদি প্রশ্ন করা হয়: উত্তরাধিকারের (মীরাস) পূর্বে অসিয়তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থ কী, অথচ ওয়ারিশরা অনুমতি না দিলে - এক-তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত কার্যকর হয় না এবং বাকি অংশ ওয়ারিশদের প্রাপ্য হয়?

উত্তর হলো: এর অর্থ হলো অসিয়তকৃত সম্পদটি উত্তরাধিকার বণ্টনের পূর্বেই পূর্ণরূপে মূল সম্পদ থেকে বের করে নেওয়া হবে, এরপর অবশিষ্ট অংশকে স্বতন্ত্র মিরাস হিসেবে ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করা হবে। ফলে অসিয়তকারীর অংশে কোনো ঘাটতি না হয়ে বরং ওয়ারিশদের অংশের উপর ঘাটতি আসবে। উদাহরণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হবে:

যদি এক নারী তার স্বামী এবং সহোদর বোনকে রেখে মারা যান এবং এক-তৃতীয়াংশ অসিয়ত করে যান; তবে মাসআলা হবে তিন থেকে: অসিয়তের জন্য এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ এক ভাগ, আর বাকি থাকে দুই ভাগ যা উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পদ; স্বামীর জন্য এর অর্ধেক অর্থাৎ এক ভাগ এবং বোনের জন্য অর্ধেক অর্থাৎ এক ভাগ।

আপনি এই উদাহরণে দেখতে পাচ্ছেন যে, অসিয়তের জন্য এক-তৃতীয়াংশ, স্বামীর জন্য অর্ধেক এবং বোনের জন্য অর্ধেক নির্ধারিত ছিল, কিন্তু বাস্তবে স্বামী এবং বোন প্রত্যেকে কেবল এক-তৃতীয়াংশ করেই পেয়েছেন।

পক্ষান্তরে অসিয়তের ক্ষেত্রে, যার নামে অসিয়ত করা হয়েছে তাকে পূর্ণ এক-তৃতীয়াংশই প্রদান করা হয়েছে এবং ঘাটতি ওয়ারিশদের উপর বর্তেছে। যদি আমরা অসিয়তকে অগ্রাধিকার না দিতাম, তবে আমরা অসিয়তকৃত এক-তৃতীয়াংশকে...

--------------------------------------------

১ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে (পৃষ্ঠা ৬), এবং এটি "সহীহাইন"-এ বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
كثلث مفروض؛ فتكون المسألة من ستة، وتعول إلى ثمانية؛ للوصية الثلث اثنان، وللزوج النصف ثلاثة، وللأخت النصف ثلاثة، وتعول إلى ثمانية فيدخل النقص على الجميع.

وخلاصة ما سبق أن الحقوق المتعلقة بالتركة خمسة مرتبة كالآتي:

الأول: مؤن التجهيز.

الثاني: الحقوق المتعلقة بعين التركة، ومذهب الأئمة الثلاثة أن هذا مقدّم على مؤن التجهيز.

الثالث: الديون المرسلة.

الرابع: الوصية لغير وارث بالثلث فأقل.

الخامس: الإرث.
যেমন একটি নির্ধারিত এক-তৃতীয়াংশ; ফলে মাসআলাটি ছয় থেকে হবে এবং আউলের মাধ্যমে আটে পৌঁছাবে; অসিয়তের জন্য এক-তৃতীয়াংশ হিসেবে দুই, স্বামীর জন্য অর্ধেক হিসেবে তিন, এবং বোনের জন্য অর্ধেক হিসেবে তিন; আর মাসআলা আটে উন্নীত হওয়ার কারণে ঘাটতি সকলের ওপর বন্টিত হবে।

পূর্বোক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো, মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ পাঁচটি, যা নিম্নরূপ ক্রমানুসারে বিন্যস্ত:

প্রথম: দাফন-কাফন ও সৎকারের ব্যয়।

দ্বিতীয়: পরিত্যক্ত সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট বস্তুর সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ; এবং তিন ইমামের অভিমত হলো, এটি দাফন-কাফনের ব্যয়ের ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য।

তৃতীয়: সাধারণ ঋণসমূহ।

চতুর্থ: উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তির অনুকূলে এক-তৃতীয়াংশ বা তার কম পরিমাণ সম্পদের অসিয়ত।

পঞ্চম: উত্তরাধিকার।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الإرث

أركانه - شروطه - أسبابه - موانعه - أقسامه

أركان الإرث ثلاثة: مورِّث، ووارث، وموروث.

فالمورِّث: من انتقلت التركة منه وهو الميت.

والوارث: من انتقلت التركة إليه.

والموروث: التركة.

وشروط الإرث ثلاثة:

- أحدها: موت المورِّث حقيقة أو حكماً.

- الثاني: حياة الوارث بعده ولو لحظة، حقيقة أو حكماً.

- الثالث: العلم بالسبب المقتضي للإرث.

أما موت المورِّث فلقوله تعالى: {إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَك} "النساء: من الآية176"والهلاك الموت، وتركه لماله لا يكون إلا بعد انتقاله من الدنيا إلى الآخرة.

ويحصل تحقق الموت بالمعاينة والاستفاضة وشهادة عدلين.

وأما الموت حكماً: فذلك في المفقود إذا مضت المدة التي تحدد للبحث عنه؛ فإننا نحكم بموته إجراء للظن مجرى اليقين عند تعذره، لفعل الصحابة رضي الله عنهم.

وأما اشتراط حياة الوارث بعد موت مورِّثه؛ فلأن الله تعالى
উত্তরাধিকার

এর রুকনসমূহ - এর শর্তাবলি - এর কারণসমূহ - এর প্রতিবন্ধকসমূহ - এর প্রকারভেদ

উত্তরাধিকারের রুকন তিনটি: মুরিস (উত্তরাধিকার প্রদানকারী), ওয়ারিস (উত্তরাধিকার লাভকারী) এবং মাওরূস (উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ)।

মুরিস: যাঁর থেকে পরিত্যক্ত সম্পদ হস্তান্তরিত হয়, আর তিনি হলেন মৃত ব্যক্তি।

ওয়ারিস: যাঁর কাছে পরিত্যক্ত সম্পদ হস্তান্তরিত হয়।

মাওরূস: পরিত্যক্ত সম্পদ।

উত্তরাধিকারের শর্ত তিনটি:

- প্রথমটি: মুরিসের মৃত্যু হওয়া, বাস্তবে অথবা আইনত।

- দ্বিতীয়টি: মুরিসের মৃত্যুর পর ওয়ারিসের জীবিত থাকা, যদিও তা এক মুহূর্তের জন্য হয়, বাস্তবে অথবা আইনত।

- তৃতীয়টি: উত্তরাধিকার প্রাপ্তির দাবিদার হওয়ার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান থাকা।

মুরিসের মৃত্যুর শর্ত হওয়ার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায় এবং তার কোনো সন্তান না থাকে, কিন্তু তার এক বোন থাকে, তবে সে তার পরিত্যক্ত সম্পদের অর্ধেক পাবে।" (সূরা আন-নিসা: ১৭৬)। এখানে 'হালাক' (ধ্বংস হওয়া) অর্থ মৃত্যু। আর ব্যক্তির সম্পদ ছেড়ে যাওয়া কেবল দুনিয়া থেকে আখিরাতে প্রস্থানের পরেই সম্ভব হয়।

চাক্ষুষ দর্শন, লোকমুখে বহুল প্রসিদ্ধি এবং দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির সাক্ষ্যের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

আর আইনত মৃত্যু (হুকমান): এটি নিখোঁজ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যখন তাকে সন্ধানের জন্য নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে যায়; তখন আমরা তার মৃত্যুর ফয়সালা করি। কারণ সরাসরি নিশ্চিত হওয়া অসম্ভব হলে প্রবল ধারণাকে নিশ্চিত বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত করা হয়; যা সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কর্মপন্থা দ্বারা প্রমাণিত।

আর মুরিসের মৃত্যুর পর ওয়ারিসের জীবিত থাকার শর্ত হওয়ার কারণ হলো, মহান আল্লাহ...
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ذكر في آيات المواريث استحقاق الورثة باللام الدالة على التمليك، والتمليك لا يكون إلا للحي.

ويحصل تحقق حياته بعد موت مورثه بالمعاينة، والاستفاضة، وشهادة عدلين.

وأما حياة الوارث حكماً: فمثلوا له بالحمل يرث من مورثه إذا تحقق وجوده حين موت مورثه، وإن لم تنفخ فيه الروح بشرط خروجه حياً.

وأما اشتراط العلم بالسبب المقتضي للإرث؛ فلأن الإرث مرتب على أوصاف كالولادة والأبوة والأخوة والزوجية والولاء ونحو ذلك، فإذا لم نتحقق وجود هذه الأوصاف، لم نحكم بثبوت ما رتب عليها من الأحكام؛ لأن من شروط ثبوت الحكم أن يصادف محله، فلا يحكم بالشيء إلا بعد وجود أسبابه وشروطه وانتفاء موانعه.

ومعنى العلم بالسبب المقتضي للإرث: أن تعلم كيف يتصل الوارث بالمورث؛ هل هو زوج أو قريب أو ذو ولاء أو نحو ذلك؟ لكن ههنا حالان:

إحداهما: أن يكون للميت وارث معلوم فيدعي آخر أنه أولى بإرث الميت منه؛ ففي هذه الحال لا بد أن نعلم بكيفية اتصال المدعي بالميت، وبمنزلته منه أيضاً؛ بأن نعلم أنه أخوه أو عمه أو ابن أخيه أو ابن عمه، وهل هو بعيد المنزلة من الميت أو قريب؛ لتعلم بذلك أيهما أولى بالإرث، ولا يكفي في هذه الحال أن تعلم أنه قريبه ونحوه؛ لئلا ندفع به حق الوارث المعلوم بلا علم.
মীরাস বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াতসমূহে উত্তরাধিকারীদের হক বা পাওনা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে মালিকানা নির্দেশক ‘লাম’ (বর্ণ) ব্যবহার করা হয়েছে; আর মালিকানা কেবল জীবিত ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব।

মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীর জীবন বিদ্যমান থাকার বিষয়টি চাক্ষুষ দর্শন, লোকপরম্পরায় প্রসিদ্ধি এবং দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির সাক্ষ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।

আর উত্তরাধিকারীর হুকমী বা আইনগতভাবে জীবিত থাকার বিষয়টি ফকীহগণ গর্ভস্থ ভ্রূণের মাধ্যমে উদাহরণ দিয়েছেন। গর্ভস্থ ভ্রূণ তার নিকটাত্মীয়ের উত্তরাধিকারী হবে যদি মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তার অস্তিত্ব নিশ্চিত থাকে, যদিও তখন পর্যন্ত তার মধ্যে রূহ সঞ্চারিত না হয়; তবে শর্ত হলো তাকে জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হতে হবে।

আর উত্তরাধিকারের আবশ্যকতা সৃষ্টিকারী কারণ সম্পর্কে অবগত থাকার শর্তের বিষয়টি এ কারণে যে, উত্তরাধিকার প্রাপ্তি কিছু গুণ বা বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল; যেমন—জন্মগত সম্পর্ক, পিতৃত্ব, ভ্রাতৃত্ব, বৈবাহিক সম্পর্ক, ‘ওলা’ (মুক্তদাসের সম্পর্ক) ইত্যাদি। যখন আমরা এই বৈশিষ্ট্যগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারব না, তখন এর ওপর ভিত্তি করে যে বিধানসমূহ আবর্তিত হয়, তা সাব্যস্ত হওয়ার ফয়সালাও দেব না। কেননা কোনো বিধান সাব্যস্ত হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো তা যথোপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হওয়া। সুতরাং কোনো বিষয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত বিধান দেওয়া যাবে না, যতক্ষণ না তার কারণ ও শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে এবং প্রতিবন্ধকসমূহ দূরীভূত হয়।

উত্তরাধিকারের আবশ্যকতা সৃষ্টিকারী কারণ সম্পর্কে অবগত থাকার অর্থ হলো—উত্তরাধিকারী ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির সাথে কী সম্পর্কে যুক্ত তা জানা; সে কি স্বামী/স্ত্রী, নাকি নিকটাত্মীয়, নাকি ‘ওলা’র সম্পর্কের অধিকারী অথবা অনুরূপ কিছু? তবে এক্ষেত্রে দুটি অবস্থা রয়েছে:

প্রথমটি হলো: মৃত ব্যক্তির একজন পরিচিত উত্তরাধিকারী রয়েছে, এমতাবস্থায় অন্য কেউ দাবি করল যে সে ওই উত্তরাধিকারীর তুলনায় মৃত ব্যক্তির মীরাসের অধিক হকদার। এই অবস্থায় মৃত ব্যক্তির সাথে দাবিকারীর সম্পর্কের ধরন এবং তার স্তরের বিষয়টিও নিশ্চিতভাবে জানা আবশ্যক; যেমন—সে কি মৃত ব্যক্তির ভাই, নাকি চাচা, নাকি ভাতিজা, নাকি চাচাতো ভাই? সে কি মৃত ব্যক্তি থেকে দূরবর্তী স্তরের নাকি নিকটবর্তী? যাতে এর মাধ্যমে জানা যায় যে, তাদের দুজনের মধ্যে কে উত্তরাধিকারের অধিক দাবিদার। এমতাবস্থায় কেবল সে একজন আত্মীয় বা অনুরূপ কিছু—এতটুকু জানাই যথেষ্ট নয়; যাতে নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়াই আমরা একজন পরিচিত উত্তরাধিকারীর অধিকার নষ্ট না করি।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ২০)
الثانية: أن لا يكون للميت وارث معلوم ففي هذه الحال يكفى أن نعلم أنه قريبه أو من قبيلته ونحوه، ويستأنس لهذا بما رواه عبد الله بن بريدة عن أبيه قال: مات رجل من خزاعة فأتى النبي صلى الله عليه وسلم بميراثه فقال: "التمسوا وارثاً أو ذا رحم"، فلم يجدوا له وارثاً ولا ذا رحم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "انظروا أكبر رجل من خزاعة". رواه أبو داود"1".

وأسباب الإرث ثلاث: نكاح، ونسب، وولاء.

فالنكاح عقد الزوجية الصحيح؛ فيرث به الزوج من زوجته والزوجة من زوجها بمجرد العقد، وإن لم يحصل وطء ولا خلوة؛ لعموم قوله تعالى: {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُم} ."النساء: من الآية12" {وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ} ."النساء: من الآية12": 12] . والمرأة تكون زوجة بمجرد العقد ولا تكون زوجة إلا بعقد صحيح، وروى الخمسة من حديث علقمة عن عبد الله بن مسعود: أنه قضى في امرأة توفي عنها زوجها ولم يكن دخل بها أن لها الميراث، فشهد معقل بن سنان الأشجعي أن النبي صلى الله عليه وسلم قضى في بروع بنت واشق بمثل ما قضى به. وصححه الترمذي"2".

--------------------------------------------

1 رواه أبو داود "2903، 2904" كتاب الفرائض، باب في ميراث ذوي الأرحام، والنسائي "6394" كتاب الفرائض، 28- توريث ذوي الأرحام.

وأحمد "5/347".

وضعفه المنذري والألباني.

2 رواه أحمد "1/430".

وأبو داواد "2114 - 2116" كتاب النكاح، باب فيمن تزوج ولم يسم صداقا حتى مات. والترمذي "1145" كتاب النكاح، 44- باب ما جاء في الرجل يتزوج المرأة فيموت عنها قبل أن يفرض لها. وقال: حسن صحيح
দ্বিতীয়ত: মৃত ব্যক্তির কোনো পরিচিত উত্তরাধিকারী না থাকা; এমতাবস্থায় তিনি মৃত ব্যক্তির আত্মীয় বা গোত্রভুক্ত কি না—এতটুকু জানাই যথেষ্ট। এর সমর্থনে আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদিসটি পেশ করা যায়, তিনি বলেন: খুযা'আ গোত্রের এক ব্যক্তি মারা গেল, তখন তার মিরাস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে আসা হলো। তিনি বললেন: "তোমরা তার কোনো ওয়ারিশ বা কোনো আত্মীয় খোঁজ করো।" তারা তার কোনো ওয়ারিশ বা আত্মীয় পেল না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "খুযা'আ গোত্রের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করো।" আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন (১)।

উত্তরাধিকারের কারণ তিনটি: বিবাহ, বংশীয় সম্পর্ক এবং ওয়ালা (মুক্তকরণের সম্পর্ক)।

বিবাহ হলো সঠিক বৈবাহিক চুক্তি; এর মাধ্যমে স্বামী তার স্ত্রীর নিকট থেকে এবং স্ত্রী তার স্বামীর নিকট থেকে উত্তরাধিকার লাভ করেন কেবলমাত্র বিবাহের মাধ্যমেই, যদিও সহবাস বা নির্জনবাস সম্পন্ন না হয়। আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাপকতার কারণে: "তোমাদের স্ত্রীদের ত্যাজ্য সম্পদের অর্ধেক তোমাদের জন্য।" [নিসা: আয়াত ১২-এর অংশ] এবং "তোমরা যা রেখে যাবে তার এক-চতুর্থাংশ তাদের জন্য।" [নিসা: আয়াত ১২-এর অংশ]। নারী কেবল চুক্তির মাধ্যমেই স্ত্রী হিসেবে গণ্য হয় এবং সঠিক চুক্তি ছাড়া স্ত্রী হওয়া যায় না। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের সূত্রে আলকামাহ থেকে পাঁচজন মুহাদ্দিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এমন এক নারীর ক্ষেত্রে ফয়সালা দিয়েছিলেন যার স্বামী মারা গেছে অথচ তার সাথে স্বামী সহবাস করেনি, যে সে উত্তরাধিকার পাবে। তখন মা'কাল ইবনে সিনান আল-আশজাঈ সাক্ষ্য দেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরওয়া বিনতে ওয়াশিক-এর ব্যাপারে অনুরূপ ফয়সালাই দিয়েছিলেন। তিরমিযী এটিকে সহিহ বলেছেন (২)।

--------------------------------------------

১. আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (২৯০৩, ২৯০৪) ফারাইদ অধ্যায়, যিল আরহামের মিরাস অনুচ্ছেদ; নাসাঈ (৬৩৯৪) ফারাইদ অধ্যায়, ২৮- যিল আরহামের উত্তরাধিকার।

আহমাদ (৫/৩৪৭)।

মুনযিরি ও আলবানি একে দুর্বল বলেছেন।

২. আহমাদ বর্ণনা করেছেন (১/৪৩০)।

আবু দাউদ (২১১৪ - ২১১৬) নিকাহ অধ্যায়, মোহর নির্ধারণের পূর্বেই মৃত ব্যক্তির বিবাহ অনুচ্ছেদ। তিরমিযী (১১৪৫) নিকাহ অধ্যায়, ৪৪- মোহর নির্ধারণের পূর্বে মৃত ব্যক্তির বিবাহ অনুচ্ছেদ। তিনি বলেছেন: হাসান সহিহ।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ২১)
والنسب: هو الرحم، وهو الاتصال بين إنسانين بولادة قريبة أو بعيدة، لقوله تعالى: {وَأُولُوا الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ} ."لأنفال: من الآية75"

والولاء: ولاء العتاقة وهي العصوبة التي تثبت للمُعْتِقِ وعصبته المتعصبين بأنفسهم، سواء كان العتق تبرعاً أو عن واجب؛ من نذر أو زكاة أو كفارة؛ لعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: "إنما الولاء لمن أعتق" 1. متفق عليه.

--------------------------------------------

= والنسائي "5515" كتاب النكاح، 70- إباحة التزوج بغير من صداق.

وابن ماجه "1831" كتاب النكاح، 18- باب الرجل يتزوج ولا يفرض لها فيموت على ذلك.

وصححه ابن حزم والألبان، والحاكم "2/196-197".

1 رواه البخاري "2155" كتاب البيوع، 67- باب البيع والشراء مع النساء، ومسلم "1504" كتاب العتق، 2- باب إنما الولاء لمن أعتق.

من حديث عائشة.
বংশসূত্র: এটি হলো আত্মীয়তার সম্পর্ক, যা নিকটবর্তী বা দূরবর্তী জন্মের মাধ্যমে দুই মানুষের মধ্যকার যোগসূত্র। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর আল্লাহর বিধানে রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়গণ একে অপরের অধিক নিকটবর্তী।" (আল-আনফাল: আয়াত ৭৫-এর অংশ)

ওয়ালা: এটি হলো দাসমুক্ত করার কারণে অর্জিত উত্তরাধিকারী হওয়ার অধিকার (আসাবিয়্যাহ), যা মুক্তকারী এবং তার ওই সকল পুরুষ আত্মীয়দের জন্য সাব্যস্ত হয় যারা সরাসরি আসাবাহভুক্ত, চাই সেই মুক্তিদানটি স্বেচ্ছায় হোক কিংবা কোনো ওয়াজিব বিধান পালনার্থে হোক; যেমন মানত, জাকাত বা কাফফারা থেকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাধারণ বাণীর কারণে: "ওয়ালা কেবল তারই প্রাপ্য, যে মুক্ত করেছে।" ১. মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম)।

--------------------------------------------

= এবং নাসায়ি "৫৫১৫" বিবাহ অধ্যায়, ৭০- মোহর নির্ধারণ ছাড়া বিবাহের বৈধতা।

এবং ইবনে মাজাহ "১৮৩১" বিবাহ অধ্যায়, ১৮- পরিচ্ছেদ: কোনো ব্যক্তি বিবাহ করল কিন্তু মোহর নির্ধারণ করল না এবং সে অবস্থায় মারা গেল।

একে সহিহ বলেছেন ইবনে হাজম ও আলবানি, এবং হাকেম "২/১৯৬-১৯৭"।

১ ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন "২১৫৫" ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়, ৬৭- পরিচ্ছেদ: নারীদের সাথে ক্রয়-বিক্রয়, এবং ইমাম মুসলিম "১৫০৪" দাসমুক্তি অধ্যায়, ২- পরিচ্ছেদ: ওয়ালা কেবল তারই প্রাপ্য যে মুক্ত করেছে।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌فروع تتعلق بأسباب الإرث

الفرع الأول: يمتد التوارث بين الزوجين إلى أن تحصل البينونة بينهما بطلاق أو فسخ، فإذا حصلت البينونة انقطع التوارث بينهما، وعلى هذا فيثبت التوارث بين الزوجين في الطلاق الرجعي ما دامت في العدة؛ لأن الرجعية لا تبين إلا بانقضاء عدتها.

وأما الفسخ والطلاق البائن فينقطع التوارث فيهما بين الزوجين بمجرد الفرقة، إلا أن تقع من أحدهما في حال يتهم فيها بقصد حرمان الآخر من الإرث؛ فإن المتهم يُوْرَث ولا يَرِث معاقبة له بنقيض قصده السيّئ، ومثَّلوا لذلك بأمثلة منها:

1- أن يطلق زوجته في مرض موته المخوف متهماً بقصد حرمانها، فلا يرثها لو ماتت؛ لأن البينونة منه، وأما هي فترثه ما دامت في العدة، وأما بعد انقضائها فلا ترثه في قول أبي حنيفة وأصحابه وقديم قولي الشافعي، وعن أحمد ما يدل عليه، لكن المشهور عنه أنها ترثه ما لم تتزوج، قال الأصحاب: أو ترتد، فإن ارتدت أو تزوجت سقط إرثها سواء عادت إلى الإسلام أم لا، وسواء فارقها الزوج الثاني أم لا. وقال مالك: لا يسقط إرثها بالزواج فترث ولو كانت مع الزوج، والله أعلم بالصواب.

وفي هذا المثال التهمة من الزوج.

2 - أن تفعل الزوجة في مرض موتها المخوف، ما يفسخ نكاحها من زوجها متهمة بقصد حرمانه، مثل: أن يعقد عليها
উত্তরাধিকারের কারণসমূহ সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহ

প্রথম শাখা: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক উত্তরাধিকার বলবৎ থাকে যতক্ষণ না তালাক বা ফাসখের (বিবাহ বিচ্ছেদ) মাধ্যমে তাদের মধ্যে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ (বাইনুনাহ) ঘটে। যখন চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটে যায়, তখন তাদের মধ্যকার পারস্পরিক উত্তরাধিকার ছিন্ন হয়ে যায়। আর এই মূলনীতির ভিত্তিতেই, রাজয়ি তালাকের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হবে যতক্ষণ স্ত্রী ইদ্দত পালনরত থাকে; কারণ রাজয়ি তালাকপ্রাপ্তা নারী তার ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন হয় না।

পক্ষান্তরে ফাসখ এবং তালাক-ই-বাইনের ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ ঘটার সাথে সাথেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উত্তরাধিকার ছিন্ন হয়ে যায়। তবে যদি তাদের একজনের পক্ষ থেকে এমন অবস্থায় বিচ্ছেদ ঘটে যেখানে অপর পক্ষকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্য অভিযুক্ত হয়, তবে সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি থেকে উত্তরাধিকার লাভ করা যাবে কিন্তু সে নিজে উত্তরাধিকারী হবে না; এটি তার অসৎ উদ্দেশ্যের বিপরীত দণ্ড হিসেবে। ফকীহগণ এর জন্য কিছু উদাহরণ দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

১- কোনো ব্যক্তি তার মৃত্যুভয় সংবলিত রোগের সময় স্ত্রীকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্যে তালাক দেওয়া। এমতাবস্থায় স্ত্রী যদি মারা যায় তবে স্বামী তার উত্তরাধিকারী হবে না; কারণ বিচ্ছেদটি তার পক্ষ থেকেই হয়েছে। আর যদি স্বামী মারা যায় তবে স্ত্রী ইদ্দত পালনরত থাকা অবস্থায় তার উত্তরাধিকার পাবে। তবে ইদ্দত শেষ হওয়ার পর সে আর উত্তরাধিকার পাবে না—এটি ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সঙ্গীদের অভিমত এবং ইমাম শাফেঈর পুরাতন অভিমত। ইমাম আহমাদ থেকেও এর সপক্ষে বর্ণনা রয়েছে, তবে তাঁর থেকে প্রসিদ্ধ মত হলো, স্ত্রী যতক্ষণ বিবাহ না করবে ততক্ষণ সে তার উত্তরাধিকার পাবে। হাম্বলি মাযহাবের বিশেষজ্ঞগণ বলেন: অথবা মুরতাদ হওয়া পর্যন্ত। সুতরাং সে যদি মুরতাদ হয় অথবা বিবাহ করে ফেলে, তবে তার উত্তরাধিকার বাতিল হয়ে যাবে, চাই সে পুনরায় ইসলামে ফিরে আসুক বা না আসুক এবং দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দিক বা না দিক। ইমাম মালিক বলেন: বিবাহের কারণে তার উত্তরাধিকার বাতিল হবে না, বরং সে উত্তরাধিকারী হবে যদিও সে অন্য স্বামীর সাথে থাকে। আর আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।

এই উদাহরণে অভিযোগটি স্বামীর পক্ষ থেকে।

২ - স্ত্রী তার মৃত্যুভয় সংবলিত রোগের সময় স্বামীকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্যে এমন কিছু করা যা তার বিবাহকে বিচ্ছেদ করে দেয়। যেমন: তার ওপর বিবাহ হওয়া...
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
لطفل صغير فترضعه رضاعاً تثبت به الأمومة، فإن النكاح ينفسخ ويرث منها لو ماتت ولا ترثه.

والتهمة في هذا المثال من الزوجة.

الفرع الثاني: القرابة ثلاثة أصناف أصول، وفروع، وحواشي.

فالأصول: من لهم ولادة على الشخص كالأم والأب وإن عَلَوا، والوارث منهم:

1 - كل ذكر ليس بينه وبين الميت أنثى، كالأب وأبيه، وإن علا بمحض الذكور، فإن كان بينه وبين الميت أنثى فهو من ذوي الأرحام كأبي الأم ونحوه.

2 - كل أنثى ليس بينها وبين الميت ذكر قبله أنثى، كالأم وأمها وأم الأب وأم الجد وإن علون بمحض الإناث، فإن كان بينها وبين الميت ذكر قبله أنثى فهي من ذوي الأرحام كأم أبي الأم؛ لأنها مدلية بمن هو من ذوي الأرحام، فكانت من ذوي الأرحام.

واختلف أهل العلم في الجدة المدلية بذكر وارث فوق الأب كأم الجد وأبيه وإن علت، والصواب أنها وارثة لأنها مدلية بوارث كأم الأب، وهذا مذهب أبي حنيفة والشافعي واختيار شيخ الإسلام ابن تيمية. قال في "المغني": وروي عن ابن عباس، قال ابن سراقة وبهذا قال عامة الصحابة إلا شاذاً. انتهى.

والفروع: كل من للشخص عليهم ولادة كالأولاد وأولادهم وإن نزلوا، والوارث منهم كل من ليس بينه وبين الميت أنثى، كالأولاد وأولاد الأبناء، فأما من بينه وبين الميت أنثى كأولاد البنات فمن ذوي الأرحام.
একটি ছোট শিশুকে, অতঃপর সে তাকে এমনভাবে স্তন্যদান করল যার ফলে মাতৃত্ব সাব্যস্ত হয়, তবে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে। আর সে (স্ত্রী) মারা গেলে সে (স্বামী) তার উত্তরাধিকারী হবে, কিন্তু সে (স্ত্রী) তার উত্তরাধিকারী হবে না।

এবং এই উদাহরণে অপবাদ বা দায় স্ত্রীর পক্ষ থেকে।

দ্বিতীয় শাখা: আত্মীয়তা তিন প্রকার; মূল (পূর্বপুরুষ), শাখা (বংশধর) এবং পার্শ্বীয় আত্মীয় (অন্যান্য নিকটাত্মীয়)।

মূল (পূর্বপুরুষ): যারা ব্যক্তির জন্মদাতা, যেমন মা ও বাবা এবং তাদের উপরের স্তরের ব্যক্তিবর্গ। তাদের মধ্য থেকে উত্তরাধিকারী হলেন:

১ - প্রত্যেক এমন পুরুষ যার এবং মৃত ব্যক্তির মাঝে কোনো নারী নেই, যেমন বাবা এবং তার বাবা, যদিও কেবল পুরুষদের মাধ্যমে উপরে যায়। আর যদি তার এবং মৃত ব্যক্তির মাঝে কোনো নারী থাকে, তবে সে ‘যাবিল আরহাম’ (দূরবর্তী আত্মীয়) হিসেবে গণ্য হবে, যেমন মায়ের বাবা এবং অনুরূপ ব্যক্তিগণ।

২ - প্রত্যেক এমন নারী যার এবং মৃত ব্যক্তির মাঝে এমন কোনো পুরুষ নেই যার আগে কোনো নারী রয়েছে। যেমন মা, মায়ের মা, বাবার মা এবং দাদার মা, যদিও কেবল নারীদের মাধ্যমে উপরে যায়। আর যদি তার এবং মৃত ব্যক্তির মাঝে এমন কোনো পুরুষ থাকে যার আগে কোনো নারী রয়েছে, তবে সে ‘যাবিল আরহাম’ হিসেবে গণ্য হবে, যেমন মায়ের বাবার মা; কারণ সে এমন একজনের মাধ্যমে সম্পর্কিত যে নিজে ‘যাবিল আরহাম’, তাই সেও ‘যাবিল আরহাম’ ভুক্ত হবে।

আলেমগণ এমন দাদী বা নানীর ব্যাপারে মতভেদ করেছেন যারা বাবার উপরে থাকা কোনো পুরুষ উত্তরাধিকারীর মাধ্যমে সম্পর্কিত, যেমন দাদার মা এবং তার বাবা, যদিও তা উপরে যাক। সঠিক মত হলো সে উত্তরাধিকারী হবে, কারণ সে একজন উত্তরাধিকারীর মাধ্যমে সম্পর্কিত যেমন বাবার মা। আর এটিই ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর পছন্দনীয় মত। ‘আল-মুগনী’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে সুরাকাহ বলেন, অধিকাংশ সাহাবী এই মত পোষণ করেছেন, কেবল ব্যতিক্রম ছাড়া। সমাপ্ত।

শাখা (বংশধর): যাদের উপর ব্যক্তির জন্মদান প্রক্রিয়া রয়েছে (অর্থাৎ যারা ব্যক্তির বংশধর), যেমন সন্তানাদি এবং তাদের সন্তানাদি, যদিও তারা নিচের স্তরের হোক। তাদের মধ্যে উত্তরাধিকারী হলেন প্রত্যেক এমন ব্যক্তি যার এবং মৃত ব্যক্তির মাঝে কোনো নারী নেই, যেমন সন্তানাদি এবং ছেলের সন্তানাদি। পক্ষান্তরে যার এবং মৃত ব্যক্তির মাঝে কোনো নারী রয়েছে, যেমন মেয়ের সন্তানাদি, তারা ‘যাবিল আরহাম’ ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
والحواشي: فروع الأصول كالإخوة والأعمام وأبنائهم، وإن نزلوا، والوارث منهم:

1 - الأخوات مطلقاً، فأما غيرهن من إناث الحواشي فمن ذوي الأرحام؛ كالعمة والخالة وبنت الأخ وبنت العم ونحوهن.

2 - الإخوة من الأم دون فروعهم.

3 - كل ذكر أدلى بذكر كالإخوة والأعمام لغير أم وأبنائهم، فأما المدلي بأنثى كالخال والعم لأم وابن الأخت ونحوهم فمن ذوي الأرحام.

الفرع الثالث: لا يرث بالولاء إلا المُعْتِق وعصبته المتعصبون بأنفسهم؛ كابن المعتق وأبيه وجده وأخيه لغير أم ونحوهم، وذلك لأن الولاء يورث به ولا يورث، هذا قول جماهير العلماء، وقال شريح: "إن الولاء يورث كما يورث المال، فلا يختص بالعصبة المتعصبين بأنفسهم"، وهو مروي عن الإمام أحمد.

فلو مات العتيق عن ابن معتقه وابنة معتقه فالمال للابن فقط على قول الجمهور؛ لأنه عاصب بنفسه، وليس للبنت شيءٌ لأنها عاصبة بغيرها، وعلى قول شريح المال بينهما للذكر مثل حظ الأنثيين.

الفرع الرابع: ليس للميراث سبب غير هذه الأسباب الثلاثة عند جمهور العلماء، وزاد شيخ الإسلام ابن تيمية عند عدم الأسباب المذكورة أسباباً أُخر، وهي: الموالاة، والمعاقدة، والإسلام على يديه، والالتقاط، وكونهما من أهل الديوان، وقال: هو رواية عن الإمام أحمد، قال: "ويرث المولى من أسفل وهو العتيق عند عدم الورثة، وقاله بعض العلماء". انتهى.
পার্শ্ববর্তী আত্মীয় (হাওয়াশি): মূল বংশীয়দের শাখা, যেমন ভাই ও চাচা এবং তাদের সন্তানরা, তারা যতই নিম্নগামী হোক না কেন। তাদের মধ্যে যারা উত্তরাধিকারী তারা হলো:

১ - সকল প্রকার বোন। আর তারা ব্যতীত পার্শ্ববর্তী নারী আত্মীয়রা যাবিল আরহাম (রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়)-এর অন্তর্ভুক্ত; যেমন ফুফু, খালা, ভ্রাতুষ্পুত্রী, চাচাতো বোন এবং তাদের অনুরূপ নারীগণ।

২ - বৈপিত্রেয় ভাইগণ, তাদের পরবর্তী বংশধররা ব্যতীত।

৩ - এমন প্রত্যেক পুরুষ যারা কোনো পুরুষের মাধ্যমে মূলের সাথে যুক্ত, যেমন বৈপিত্রেয় ব্যতীত অন্যান্য ভাই ও চাচাগণ এবং তাদের পুত্রসন্তানরা। আর যারা কোনো নারীর মাধ্যমে যুক্ত, যেমন মামা, বৈপিত্রেয় চাচা, ভাগ্নে এবং তাদের অনুরূপ ব্যক্তিগণ যাবিল আরহাম-এর অন্তর্ভুক্ত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: 'ওয়ালা' (দাসমুক্তির সম্পর্ক) এর ভিত্তিতে উত্তরাধিকারী হয় কেবল মুক্তিদাতা এবং তার নিজের মাধ্যমে আসাবা হওয়া ব্যক্তিগণ (আসাবা বিন-নাফস); যেমন মুক্তিদাতার পুত্র, পিতা, দাদা এবং বৈপিত্রেয় ব্যতীত অন্যান্য ভাই এবং তাদের ন্যায় ব্যক্তিবর্গ। কারণ, 'ওয়ালা' এর মাধ্যমে উত্তরাধিকার লাভ করা যায় কিন্তু এটি উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হয় না। এটি জমহুর (অধিকাংশ) উলামার অভিমত। শুরাইহ বলেন: "সম্পদের মতো 'ওয়ালা'ও উত্তরাধিকার সূত্রে বণ্টিত হয়, তাই এটি কেবল আসাবা বিন-নাফসদের সাথে নির্দিষ্ট নয়।" আর এটি ইমাম আহমাদ থেকেও বর্ণিত আছে।

সুতরাং কোনো মুক্তদাস যদি তার মুক্তিদাতার পুত্র এবং মুক্তিদাতার কন্যাকে রেখে মারা যায়, তবে জমহুরের মতে সকল সম্পদ কেবল পুত্রই পাবে; কারণ সে আসাবা বিন-নাফস। আর কন্যার জন্য কিছুই নেই, কারণ সে অন্যের মাধ্যমে আসাবা হয় (আসাবা বিল-গাইর)। কিন্তু শুরাইহ-এর মতে, সম্পদ উভয়ের মধ্যে বণ্টিত হবে, যেখানে একজন পুরুষ দুইজন নারীর অংশের সমান পাবে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জমহুর উলামার মতে উত্তরাধিকারের এই তিনটি কারণ ব্যতীত অন্য কোনো কারণ নেই। তবে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ উল্লিখিত কারণগুলো না থাকার ক্ষেত্রে আরও কিছু কারণ যোগ করেছেন, সেগুলো হলো: পারস্পরিক মিত্রতা, চুক্তি সম্পাদন, কারও হাতে ইসলাম গ্রহণ করা, কুড়িয়ে পাওয়া এবং উভয়ে একই দপ্তরের অন্তর্ভুক্ত হওয়া। তিনি বলেছেন: এটি ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা। তিনি আরও বলেন: "উত্তরাধিকারীদের অনুপস্থিতিতে নিম্ন স্তরের মাওলা অর্থাৎ মুক্তদাসও উত্তরাধিকারী হতে পারে, আর এটি কিছু আলেমও বলেছেন।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وفي بعض ذلك أحاديث في "السنن" منها:

1 - عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم آخى بين أصحابه، وكانوا يتوارثون بذلك حتى نزل قوله تعالى: {وَأُولُوا الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ} "لأنفال: من الآية75"

] ، فتوارثوا بالنسب. رواه أبو داود والدارقطني"1"، وفي إسناده من فيه مقال.

2- عن قبيصة عن تميم الداري قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما السنة في الرجل من أهل الشرك يسلم على يد رجل من المسلمين؟ فقال: "هو أولى الناس بمحياه ومماته". رواه الخمسة وصححه أبو زرعة، وقال الشافعي: ليس بثابت. وقال الترمذي: ليس بمتصل"2".

--------------------------------------------

1 رواه الدراقطني "4/88".

والطبراني في "الكبير" "11/284/11748"، وقال الهيثمي في "مجمع الزوائد" "7/28": رجاله رجال الصحيح.

ويلاحظ أن لفظ أبي داود "2921، 2924" في إرث الحلف لا إرث المؤاخاة. كتاب الفرائض، باب نسخ ميراث العقد بميراث الرحم.

وانظر عنده "2922". وكلها صححها الشيخ الألباني.

2 علقه البخاري في "صحيحه".

قال: ويذكر عن تميم الداري واختلفوا في صحة الخير.

وجزم في "التاريخ الكبير" "5/198" أنه لا يصح.

ووصله الترمذي "2112" كتاب الفرائض، باب في الرجل يسلم على يدي الرجل.

وابن ماجه "2752" كتاب الفرائض، 18- باب الرجل يسلم على يدي الرجل. =
এ সম্পর্কে "সুনান" গ্রন্থসমূহে কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করেছিলেন এবং তাঁরা এর ভিত্তিতেই উত্তরাধিকার লাভ করতেন, যতক্ষণ না মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়: {আর আল্লাহর বিধানে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়গণ একে অপরের অধিক হকদার} "সূরা আল-আনফাল: আয়াত ৭৫-এর অংশ"

] , অতঃপর তাঁরা বংশীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে উত্তরাধিকার লাভ করতে শুরু করেন। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ও দারা কুতনী (১), তবে এর সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে।

২- ক্বাবিসাহ থেকে বর্ণিত, তিনি তামীম আদ-দারী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: শিরকের অনুসারীদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মুসলিমের হাতে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তার ব্যাপারে সুন্নাহ কী? তিনি বললেন: "সেই (মুসলিম) ব্যক্তি তার জীবন ও মরণে মানুষের মধ্যে অধিক হকদার।" এটি পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং আবু যুরআ এটিকে সহীহ বলেছেন। ইমাম শাফেঈ বলেছেন: এটি সাব্যস্ত নয়। আর তিরমিযী বলেছেন: এটি মুত্তাসিল (অবিচ্ছিন্ন) নয় (২)।

--------------------------------------------

১. দারা কুতনী এটি বর্ণনা করেছেন (৪/৮৮)।

এবং তাবারানী "আল-মু'জামুল কাবীর" গ্রন্থে (১১/২৮৪/১১৭৪৮), আর হাইতামী "মাজমাউয যাওয়াইদ" গ্রন্থে (৭/২৮) বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।

লক্ষ্যণীয় যে, আবু দাউদের শব্দগুলো (২৯২১, ২৯২৪) চুক্তিবদ্ধ উত্তরাধিকার সম্পর্কে, ভ্রাতৃত্বের উত্তরাধিকার সম্পর্কে নয়। কিতাবুল ফারায়িয, অধ্যায়: আত্মীয়তার সম্পর্কের মিরাস দ্বারা চুক্তিবদ্ধ মিরাস রহিত হওয়া।

এবং তাঁর নিকট ২৯২২ নং হাদীসটিও দেখুন। এর সবগুলোকে শেখ আলবানী সহীহ বলেছেন।

২. বুখারী তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে এটি তা'লীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেছেন: তামীম আদ-দারী থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে এবং এই সংবাদের বিশুদ্ধতা নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন।

তিনি "আত-তারীখুল কাবীর" গ্রন্থে (৫/১৯৮) দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, এটি সহীহ নয়।

তিরমিযী (২১১২) এটি মউসুল হিসেবে বর্ণনা করেছেন; কিতাবুল ফারায়িয, অধ্যায়: কোনো ব্যক্তির অন্য ব্যক্তির হাতে ইসলাম গ্রহণ করা সম্পর্কে।

আর ইবনে মাজাহ (২৭৫২); কিতাবুল ফারায়িয, ১৮- অধ্যায়: কোনো ব্যক্তির অন্য ব্যক্তির হাতে ইসলাম গ্রহণ করা। =
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
3- عن واثلة بن الأسقع: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "تحوز المرأة ثلاثة مواريث: عتيقها ولقيطها وولدها الذي لاعنت عليه". أخرجه الخمسة إلا أحمد، وقال الترمذي: حسن غريب، وصححه الحاكم، وفي إسناده عمر بن ربيعة التغلبي، قال البخاري: فيه نظر، وقال أبو حاتم: صالح الحديث، قيل: تقوم به الحجة؟ قال: لا، ولكن صالح"1".

4 - عن ابن عباس: أن رجلاً مات على عهد النبي صلى الله عليه وسلم ولم يترك وارثاً إلّا عبداً هو أعتقه، فأعطاه ميراثه. رواه الخمسة، وفي إسناده عوسجة؛ قال النسائي: ليس بالمشهور. وقال أبو زرعة: ثقة"2".

--------------------------------------------

= والنسائي "6411- 6413" كتاب الفرائض، 32- باب ميراث موالي الموالاة.

وأحمد "4/102،103".

وضعفه البهقي "10/297"، وحسنه أبو زرعة الدمشقي والألباني.

1 رواه أبو داود "2906" كتاب الفرائض، 9- باب ميراث ابن الملاعنة.

والنسائي "6420" كتاب الفرائض، 12-باب تحوز المرأة ثلاث مواريث.

والترمذي "2115" كتاب الفرائض، 23- باب ما جاء مايرث النساء من الولاء. وقال: حسن غريب.

وأحمد "4/106".

وضعفه ابن عدي والبيهقي "6/259" وابن حزم والألباني، ويفهم أن الحافظ في "الفتح" "12/31" مال إلى تحسينه، ولعل ذلك "بجزء ابن الملاعنة" وانظر "ص64" هنا.

2 رواه أبو داود "2905" كتاب الفرائض، باب ميراث ذوي الأرحام.
৩- ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নারী তিনটি উত্তরাধিকার (মীরাস) অর্জন করে: তার আযাদকৃত দাস, তার কুড়িয়ে পাওয়া সন্তান এবং তার সেই সন্তান যার ব্যাপারে সে লিয়ান করেছে।" আহমাদ ব্যতীত পাঁচজন ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী বলেছেন: হাসান গারীব। হাকেম একে সহীহ বলেছেন। এর সনদে উমর ইবন রাবীআহ আত-তাগলিবী রয়েছেন, যার সম্পর্কে বুখারী বলেছেন: তার ব্যাপারে আপত্তি আছে; আবু হাতিম বলেছেন: হাদীসের ক্ষেত্রে তিনি সালিহ (ভালো)। জিজ্ঞেস করা হলো: তার দ্বারা কি দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়? তিনি বললেন: না, তবে তিনি সালিহ।

৪ - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে এক ব্যক্তি মারা গেল এবং সে তার আযাদকৃত এক দাস ছাড়া অন্য কোনো ওয়ারিশ রেখে যায়নি। ফলে তিনি (নবী) তাকেই তার উত্তরাধিকার প্রদান করলেন। এটি পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন, এর সনদে আওসাজাহ রয়েছেন; নাসায়ী বলেছেন: তিনি প্রসিদ্ধ নন। আবু যুরআহ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।

--------------------------------------------

= এবং নাসায়ী "৬৪১১-৬৪১৩", কিতাবুল ফারায়েজ, ৩২- অনুচ্ছেদ: মাওয়ালি আল-মুওয়ালাতের মীরাস।

এবং আহমাদ "৪/১০২, ১০৩"।

বায়হাকী "১০/২৯৭" একে যয়ীফ বলেছেন, আর আবু যুরআহ আদ-দিমাশকী ও আলবানী একে হাসান বলেছেন।

১. এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ "২৯০৬", কিতাবুল ফারায়েজ, ৯- অনুচ্ছেদ: লিআনকারিনী নারীর সন্তানের মীরাস।

এবং নাসায়ী "৬৪২০", কিতাবুল ফারায়েজ, ১২- অনুচ্ছেদ: নারী তিনটি মীরাস অর্জন করে।

এবং তিরমিযী "২১১৫", কিতাবুল ফারায়েজ, ২৩- অনুচ্ছেদ: ওয়ালা সূত্রে নারীদের মীরাস সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন: হাসান গারীব।

এবং আহমাদ "৪/১০৬"।

ইবনে আদী, বায়হাকী "৬/২৫৯", ইবনে হাযম ও আলবানী একে যয়ীফ বলেছেন। তবে এটি প্রতীয়মান হয় যে, হাফেজ (ইবনে হাজার) "আল-ফাতহ" "১২/৩১" গ্রন্থে একে হাসান বলার দিকে ঝুঁকেছেন; সম্ভবত সেটি "লিআনকৃত সন্তানের অংশের" ক্ষেত্রে। এখানে ৬৪ পৃষ্ঠা দেখুন।

২. এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ "২৯০৫", কিতাবুল ফারায়েজ, অনুচ্ছেদ: যিল আরহামের মীরাস।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهذه الأحاديث وإن كان في إسنادها ما ترى؛ فإن بَيْن هؤلاء وبين الميت من الصلة الخاصة ما يجعلهم أولى بميراثه من بيت المال، الذي هو لعموم المسلمين. والله أعلم.

--------------------------------------------

والنسائي "6409، 6410" كتاب الفرائض، 31- إذا مات العتيق وبقي المعتق.

والترمذي "2106" كتاب الفرائض، 14- باب ميراث المولى الأسفل.

وحسنه. وابن ماجه "2741" كتاب الفرئض، 11- باب من لا وارث له.

وأحمد "1/358".

وضعفه المنذري والألباني.

ولعل أصله ما رواه الفاكهي في "أخبار مكة" "2164" بإسناد صحيح عن غطاء عن عمر موقوفا، ولكنه منقطع.
আর এই হাদীসগুলোর বর্ণনাসূত্রে (ইসনাদে) যা আপনি দেখছেন তা থাকা সত্ত্বেও; এই ব্যক্তিদের এবং মৃত ব্যক্তির মধ্যে বিদ্যমান বিশেষ সম্পর্ক তাদেরকে বাইতুল মালের তুলনায় তার মিরাসের (উত্তরাধিকারের) অধিকতর হকদার করে তোলে, যা সাধারণ মুসলিমদের জন্য। আর আল্লাহই অধিক পরিজ্ঞাত।

--------------------------------------------

এবং আন-নাসায়ী "৬৪০৯, ৬৪১০" কিতাবুল ফারায়েজ, ৩১- যখন আযাদকৃত দাস মারা যায় এবং আযাদকারী অবশিষ্ট থাকে।

এবং আত-তিরমিযী "২১০৬" কিতাবুল ফারায়েজ, ১৪- অনুচ্ছেদ: নিম্নস্তরের আযাদকৃত দাসের উত্তরাধিকার।

এবং তিনি একে হাসান বলেছেন। এবং ইবনে মাজাহ "২৭৪১" কিতাবুল ফারায়েজ, ১১- অনুচ্ছেদ: যার কোনো ওয়ারিশ নেই।

এবং আহমাদ "১/৩৫৮"।

এবং আল-মুনযিরী ও আল-আলবানী একে যয়ীফ বলেছেন।

সম্ভবত এর মূল ভিত্তি হলো যা আল-ফাকিহী 'আখবারু মক্কা' গ্রন্থে "২১৬৪" এ সহীহ সনদে আতা থেকে উমর (রা.) এর মাওকুফ রেওয়ায়েত হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌موانع الإرث

موانع الإرث ثلاثة: الرق والقتل واختلاف الدِّين.

فالرق: وصف يكون به الإنسان مملوكاً يباع ويوهب، ويورث ويتصرف فيه، ولا يتصرف تصرفاً مستقلاً.

وعرّفه بعضهم بأنه: عجز حكمي يقوم بالشخص بسبب الكفر.

وإنما كان الرق مانعاً من الإرث؛ لأن الله أضاف الميراث إلى مستحقه باللام الدالة على التمليك، فيكون ملكاً للوارث، والرقيق لا يملك لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "من باع عبداً له مال فماله للبائع إلى أن يشترطه المبتاع" 1. متفق عليه. فإذا كان لا يملك لم يستحق الإرث لأنه لو ورث لكان لسيده وهو أجنبي من الميت.

والقتل: إزهاق الروح مباشرة أو تسبباً، والذي يمنع من الإرث من القتل ما كان بغير حق، بحيث يأثم بتعمده لحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا يرث القاتل شيئاً" 2. رواه أبو داود.

--------------------------------------------

1 رواه البخاري "2379" كتاب المساقاة، 17- باب الرجل يكون له ممر أو شرب في حائط أو في نخل.

ومسلم "1543" كتاب البيوع، 15- باب من باع نخلا عليها ثمر.

2 رواه أبو داود "4564" كتاب الديات، باب ديات الأعضاء.
উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধকসমূহ

উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধক তিনটি: দাসত্ব, হত্যা এবং ধর্মের ভিন্নতা।

দাসত্ব: এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যার কারণে মানুষ মালিকানাধীন বস্তুতে পরিণত হয়, যাকে কেনা-বেচা করা যায়, দান করা যায়, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হওয়া যায় এবং তার ওপর অন্যের অধিকার থাকে, আর সে নিজে স্বাধীনভাবে কোনো কিছুর মালিকানা বা ব্যবহারের অধিকার রাখে না।

কেউ কেউ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে: এটি কুফর বা অবিশ্বাসের কারণে ব্যক্তির ওপর আপতিত একটি আইনি অক্ষমতা।

দাসত্ব উত্তরাধিকারের পথে প্রতিবন্ধক হওয়ার কারণ হলো; আল্লাহ তাআলা উত্তরাধিকারকে এর হকদারের সাথে 'লাম' অক্ষর দ্বারা সম্বন্ধযুক্ত করেছেন যা মালিকানা নির্দেশ করে, ফলে তা উত্তরাধিকারীর মালিকানায় পরিণত হয়। অথচ দাস কোনো কিছুর মালিক হতে পারে না; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো দাস বিক্রি করল যার সম্পদ আছে, তবে সেই সম্পদ বিক্রেতারই প্রাপ্য হবে, যদি না ক্রেতা তা নিজের জন্য শর্ত করে নেয়।" ১. এটি ইমাম বুখারি ও মুসলিম ঐক্যমত্যভাবে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং সে যেহেতু মালিক হতে পারে না, তাই উত্তরাধিকারের যোগ্যও হতে পারে না। কারণ সে যদি উত্তরাধিকার লাভ করত, তবে তা তার মুনিব বা মালিকের প্রাপ্য হতো, অথচ মালিক মৃত ব্যক্তির জন্য একজন সম্পর্কহীন বা বহিরাগত ব্যক্তি।

হত্যা: সরাসরি বা কোনো উপায়ে প্রাণ হরণ করা। হত্যার ক্ষেত্রে যা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে তা হলো অন্যায়ভাবে হত্যা করা, যাতে হত্যাকারী ইচ্ছাকৃতভাবে তা করার কারণে পাপিষ্ঠ হয়। আমর ইবন শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হত্যাকারী উত্তরাধিকারের কোনো কিছুই পাবে না।" ২. এটি ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন "২৩৭৯", মুসাকাত (সেচ) অধ্যায়, ১৭- অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তির বাগানে বা খেজুর গাছে যাতায়াতের পথ বা পানি পানের অংশ রয়েছে।

এবং ইমাম মুসলিম "১৫৪৩", ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়, ১৫- অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ফলসহ খেজুর গাছ বিক্রি করল।

২. ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন "৪৫৬৪", দিয়াত (রক্তপণ) অধ্যায়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দিয়াত বিষয়ক অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وعن عمر نحوه مرفوعاً رواه مالك في "الموطأ" وأحمد وابن ماجه.

ولأنه قد يقتل مورّثه ليتعجل إرثه منه؛ فحرم من الإرث سداً للذريعة.

ولا فرق بين أن يكون القتل عمداً أو خطأ تعميماً لسد الذريعة، ولئلا يدّعي العامد أنه قتل خطأ. وقال مالك: "يرث القاتل خطأ من تِلاد مال المقتول دون الدية". وذكره ابن القيم في "إعلام الموقعين" صفحة "521" ج في فتاوي النبي صلى الله عليه وسلم في الزوجين يقتل أحدهما صاحبه خطأ أنه يرث من ماله ولا يرث من ديته. ذكره ابن ماجه"1" قال ابن القيم: وبه نأخذ. انتهى.

--------------------------------------------

= والنسائي "6367" كتاب الفرائض، 21- باب توريث القاتل.

وقواه البهقي "6/219، 220" بشواهده. وصححه الألباني في "الإرواء" "1671" وشاهده من حديث عمر: رواه مالك "2/867/10" كتاب العقول، والنسائي "6368" كتاب الفرئض، باب توريث القاتل.

وابن ماجه "2646" كتاب الديات، 14- باب القاتل لا يرث.

وأحمد "1/46" مرسلا، إلا أحمد فوصله وفيه الحجاج وهو ضعيف.

1 رواه ابن ماجه "2736" كتاب الفرائض، 8- باب ميراث القاتل.

والدرقطني "4/72- 73/16" كتاب الفرائض والسير وغير ذلك.

ومال إلى تصحيحه.

وضعفه البوصيري والألباني، بل قال: موضوع، وابن الجوزي في "التحقيق" "2/242/1661"، وعبد الحق، كما في "نصب الراية" "4/330".

وقد روي عن عطاء ومجاهد وابن أبي نجيح والزهري ومحمد بن جبير وغيرهم القول بتوريث القاتل خطأ من المال دون الدية.

انظر: المصنف لابن أبي شيبة "11/358" ومصنف عبد الرزاق "9/400".
এবং উমর (রা.) থেকে অনুরূপ একটি বর্ণনা মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে; এটি মালিক "আল-মুওয়াত্ত্তা" গ্রন্থে, আহমাদ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

এবং যেহেতু সে হয়তো তার উত্তরাধিকার দ্রুত পাওয়ার জন্য তার উত্তরাধিকার প্রদানকারীকে হত্যা করতে পারে; তাই অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করার (সাদ্দুজ জারিয়া) জন্য তাকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

আর অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করার বিধানকে ব্যাপক করার জন্য এবং ইচ্ছাকৃত হত্যাকারী যাতে ভুলবশত হত্যা করার দাবি না করতে পারে, সেজন্য হত্যা ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত—উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ইমাম মালিক বলেন: "ভুলবশত হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির মূল সম্পদ থেকে উত্তরাধিকার পাবে, তবে রক্তপণ (দিয়াত) থেকে নয়।" ইবনুল কায়্যিম এটি "ইলামুল মুওয়াক্কিঈন" গ্রন্থের ৫২১ পৃষ্ঠায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফতোয়া অধ্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একজনের অন্যজনকে ভুলবশত হত্যার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, সে তার সম্পদ থেকে উত্তরাধিকার পাবে কিন্তু তার রক্তপণ থেকে উত্তরাধিকার পাবে না। এটি ইবনে মাজাহ (১) বর্ণনা করেছেন। ইবনুল কায়্যিম বলেন: আমরা এটিই গ্রহণ করি। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

= এবং নাসায়ি (৬৩৬৭), ফারায়িজ অধ্যায়, ২১- হত্যাকারীকে উত্তরাধিকার প্রদানের অনুচ্ছেদ।

এবং বায়হাকি (৬/২১৯, ২২০) এর স্বপক্ষে বিভিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে একে শক্তিশালী করেছেন। এবং আলবানি একে "আল-ইরওয়া" (১৬৭১) গ্রন্থে সহিহ বলেছেন। উমর (রা.)-এর হাদিস থেকে এর স্বপক্ষে একটি বর্ণনা রয়েছে যা মালিক (২/৮৬৭/১০) আল-উকুল (রক্তপণ) অধ্যায়ে এবং নাসায়ি (৬৩৬৮) ফারায়িজ অধ্যায়, হত্যাকারীকে উত্তরাধিকার প্রদানের অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

এবং ইবনে মাজাহ (২৬৪৬), দিয়াত (রক্তপণ) অধ্যায়, ১৪- হত্যাকারী উত্তরাধিকার পাবে না অনুচ্ছেদ।

এবং আহমাদ (১/৪৬) মুরসাল হিসেবে, তবে আহমাদ একে মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন আর তাতে হাজ্জাজ রয়েছেন যিনি দুর্বল।

১. ইবনে মাজাহ (২৭৩৬) বর্ণনা করেছেন, ফারায়িজ অধ্যায়, ৮- হত্যাকারীর উত্তরাধিকার অনুচ্ছেদ।

এবং দারা কুতনি (৪/৭২-৭৩/১৬), ফারায়িজ ও সিয়ার এবং অন্যান্য অধ্যায়।

এবং তিনি এটি সহিহ হওয়ার দিকে মত দিয়েছেন।

তবে বুসিরি এবং আলবানি একে দুর্বল বলেছেন, বরং আলবানি একে জাল (মাওজু) বলেছেন; এছাড়া ইবনুল জাওজি "আত-তাহকিক" (২/২৪২/১৬৬১) গ্রন্থে এবং আবদুল হক "নাসবুর রাইয়াহ" (৪/৩৩০) গ্রন্থে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে।

আর আতা, মুজাহিদ, ইবনে আবি নাজিহ, যুহরি, মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের এবং অন্যান্যদের থেকে ভুলবশত হত্যাকারীকে সম্পদ থেকে উত্তরাধিকার দেওয়ার এবং রক্তপণ থেকে বঞ্চিত করার অভিমত বর্ণিত হয়েছে।

দেখুন: ইবনে আবি শায়বার "আল-মুসান্নাফ" (১১/৩৫৮) এবং আবদুর রাজ্জাকের "মুসান্নাফ" (৯/৪০০)।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
قلت: وعلى هذا القول فالظاهر أنه لا بد من قرينة ظاهرة تدل على أن القتل ليس بعمد. والله أعلم.

فأما القتل الذي لو تعمده لم يكن آثماً كقتل الصائل فلا يمنع الإرث، وكذلك القتل الحاصل بتأديب أو دواء أو نحوه؛ فإنه لا يمنع الإرث إذا كان مأذوناً فيه، ولم يحصل تعدٍّ ولا تفريط.

واختلاف الدين: أن يكون أحدهما على ملة والثاني على ملة أخرى؛ مثل أن يكون أحدهما مسلماً والثاني كافراً، أو أحدهما يهودياً والآخر نصرانياً أو لا دين له، ونحو ذلك؛ فلا توارث بينهما لانقطاع الصلة بينهما شرعاً، ولذلك قال الله تعالى لنوح عن ابنه الكافر: {إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ} "هود: من الآية46"ولحديث أسامة بن زيد أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا يرث المسلم الكافر ولا الكافر المسلم " 1. رواه الجماعة.

وعن ابن عمرو أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا يتوارث أهل ملتين شتى" 2. رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه.

--------------------------------------------

1 وأخرجه ابن حبان من حديث عبد الله بن عمر في حديث كما ذكره الحافظ في التخليص "3/97".

2 رواه أبو داواد "2911" كتاب الفرائض، باب هل يرث المسلم الكافر.

والنسائي "6382، 6384" كتاب الفرائض، 6- باب ميراث أهل الإسلام من أهل الشرك.

وأحمد "2/178"، وصححه الألباني، وابن الملقن في "الخلاصة" "2/135/1744"، وقال الحافظ في "الفتح" "12/51": وسند أبي داواد إلى عمر بن شعيب صحيح.
আমি বলছি: এই মতানুসারে প্রকাশ্য বিষয় হলো, এমন একটি সুস্পষ্ট আলামত থাকা আবশ্যক যা নির্দেশ করে যে এই হত্যাকাণ্ড ইচ্ছাকৃত নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আর সেই হত্যাকাণ্ড, যা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে করলেও গুনাহগার হবে না—যেমন কোনো আক্রমণকারীকে হত্যা করা—তা উত্তরাধিকার লাভে বাধা সৃষ্টি করে না। অনুরূপভাবে শাসন, চিকিৎসা বা এই জাতীয় কোনো কারণে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডও উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত করে না, যদি তা অনুমোদিত পন্থায় হয় এবং সেখানে কোনো সীমালঙ্ঘন বা অবহেলা না থাকে।

আর ধর্মের ভিন্নতা হলো: তাদের একজন এক মিল্লাতের (ধর্মাদর্শের) হওয়া এবং দ্বিতীয় জন অন্য মিল্লাতের হওয়া; যেমন তাদের একজন মুসলিম এবং দ্বিতীয় জন কাফির হওয়া, অথবা একজন ইহুদি এবং অন্যজন খ্রিষ্টান হওয়া কিংবা ধর্মহীন হওয়া এবং এই জাতীয় বিষয়। এমতাবস্থায় শরয়িভাবে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে একে অপরের উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হবে না। আর এই কারণেই আল্লাহ তাআলা নুহ (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর কাফির সন্তান সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয় সে তোমার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত নয়, নিশ্চয় তার কাজ সৎ নয়" (সূরা হুদ: ৪৬ নম্বর আয়াতের অংশ)। আর উসামা বিন যায়িদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কাফিরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না।" ১. এটি একদল মুহাদ্দিস বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ভিন্ন ভিন্ন দুই ধর্মের অনুসারীরা একে অপরের উত্তরাধিকারী হবে না।" ২. এটি আহমাদ, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. আর ইবনে হিব্বান আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-র হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি হাফেজ (ইবনে হাজার) আত-তালখিস গ্রন্থে (৩/৯৭) উল্লেখ করেছেন।

২. এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (২৯১১), ফারায়েজ (উত্তরাধিকার) অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: মুসলিম কি কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে?

এবং নাসায়ি (৬৩৮২, ৬৩৮৪), ফারায়েজ অধ্যায়, ৬- অনুচ্ছেদ: মুশরিকদের থেকে ইসলাম অনুসারীদের উত্তরাধিকার লাভ।

এবং আহমাদ (২/১৭৮)। আলবানি এবং ইবনুল মুলাক্কিন 'আল-খুলাসা' (২/১৩৫/১৭৪৪) গ্রন্থে এটিকে সহিহ বলেছেন। হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আল-ফাতহ' (১২/৫১) গ্রন্থে বলেছেন: আমর বিন শুআইব পর্যন্ত আবু দাউদের সনদটি সহিহ।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩১)
واستثنى الأصحاب رحمهم الله من ذلك مسألتين:

إحداهما: الإرث بالولاء فلا يمنعه اختلاف الدِّين بل يرث المولى ممن له عليه ولاء وإن كان مخالفاً له في دينه.

الثانية: إذا أسلم الكافر قبل قسمة التركة فيرث من قريبه المسلم ترغيباً له في الإسلام.

كما استثنى شيخ الإسلام ابن تيمية ثلاث مسائل:

إحداها: الاختلاف بالإسلام الصحيح والنفاق، قال: "فالنفاق، لا يمنع التوارث بين المسلم والمنافق للحكم بإسلامه ظاهراً".

الثانية: المسلم يرث من قريبه الذمي ولا عكس.

الثالثة: المرتد إذا مات أو قتل على ردته ورثه قريبه المسلم.

والصواب أنه لا يستثنى من ذلك شيء، لعموم الأدلة على منع التوارث مع اختلاف الدين، ولا دليل صحيح على التخصيص، لكن المنافق إذا لم يظهر نفاقه فإننا نحكم بظاهر حاله، وهو الإسلام؛ فيرث من قريبه المسلم وبالعكس، أما إذا كان معلوم النفاق؛ فالصواب أن لا توارث بينه وبين قريبه المسلم. والله أعلم.
এবং ফকীহগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) এ থেকে দুটি বিষয়কে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন:

প্রথমটি: ‘ওয়ালা’ বা সম্পর্কের ভিত্তিতে মিরাস লাভ; এতে ধর্মের ভিন্নতা কোনো বাধা প্রদান করে না। বরং মুক্তকারী মনিব তার মুক্তকৃত ব্যক্তির মিরাস লাভ করবে যার ওপর তার ‘ওয়ালা’র অধিকার রয়েছে, যদিও সে তার ধর্মের বিপরীত ধর্মাবলম্বী হয়।

দ্বিতীয়টি: যদি কোনো কাফির ব্যক্তি সম্পত্তি বণ্টনের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তাকে ইসলামের প্রতি আগ্রহী করার উদ্দেশ্যে সে তার মুসলিম আত্মীয়ের মিরাস লাভ করবে।

অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তিনটি বিষয়কে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন:

প্রথমটি: সঠিক ইসলাম ও মুনাফেকির কারণে ভিন্নতা। তিনি বলেন: "মুনাফেকি কোনো মুসলিম ও মুনাফেকের মধ্যে উত্তরাধিকার লাভের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে না, কারণ বাহ্যিকভাবে তাকে মুসলিম হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে।"

দ্বিতীয়টি: মুসলিম ব্যক্তি তার জিম্মি আত্মীয়ের মিরাস লাভ করবে, কিন্তু এর বিপরীতটি হবে না।

তৃতীয়টি: মুরতাদ ব্যক্তি যদি তার ধর্মত্যাগের ওপর থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে অথবা তাকে হত্যা করা হয়, তবে তার মুসলিম আত্মীয় তার মিরাস লাভ করবে।

আর সঠিক অভিমত হলো এই যে, এ থেকে কোনো কিছুই ব্যতিক্রম হবে না। কেননা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার লাভে বাধা থাকা সংক্রান্ত দলিলসমূহ ব্যাপক। আর একে নির্দিষ্ট করার মতো কোনো সহীহ দলিল নেই। তবে মুনাফেক ব্যক্তির মুনাফেকি যদি প্রকাশ না পায়, তবে আমরা তার বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ফয়সালা করব, আর তা হলো ইসলাম; ফলে সে তার মুসলিম আত্মীয়ের মিরাস পাবে এবং তার মুসলিম আত্মীয়ও তার মিরাস পাবে। কিন্তু যদি সে জ্ঞাত মুনাফেক হয়, তবে সঠিক কথা হলো তার এবং তার মুসলিম আত্মীয়ের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকার বিনিময় হবে না। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌فروع تتعلق بموانع الإرث

الفرع الأول: تنقسم موانع الإرث إلى قسمين:

أحدهما: ما يمنع من الجانبين.

والثاني: ما يمنع من جانب واحد.

فالذي يمنع من الجانبين اختلاف الدين والرق؛ فلا يرث المخالف في الدين لمن خالفه، ولا يرثه من خالفه، ولا يرث الرقيق ولا يورث.

والذي يمنع من جانب واحد القتل؛ فالقاتل لا يرث من المقتول والمقتول يرث من القاتل إذا مات القاتل قبله، ويتصور ذلك بأن يجرح مورثه جرحاً مميتاً ثم يموت الجارح قبله.

الفرع الثاني: الرق إن كان كاملاً منع من الإرث كله، وإن كان بعض الشخص رقيقاً وبعضه حراً - ويسمى المبعض - تبعض الحكم فيرث ويورث بقدر حريته؛ لأن الحكم يدور مع علته، قال الإمام أحمد: "إذا كان العبد نصفه حر ونصفه عبد ورث بقدر الحرية كذلك روي عن النبي صلى الله عليه وسلم"1". انتهى.

لكن ما كسبه أو ورثه بجزئه الحر فليس لمالك باقيه منه

--------------------------------------------

1 رواه أبو داواد "4582" كتاب الديات، باب في دية المكاتب.

والترمذي "1529" كتاب البيوع، 35- باب ماجاء في المكتاب إذا كان عند والنسائي في "إلمجتبى" "4808" كتاب القسامة، دية المكاتب.

وصححه ابن حزم "6/137" و "9/35" والألباني في "الإرواء" "1726".
উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধকতা সংক্রান্ত শাখাসমূহ

প্রথম শাখা: উত্তরাধিকারের প্রতিবন্ধকতা দুই ভাগে বিভক্ত:

একটি হলো: যা উভয় পক্ষ থেকে বাধা প্রদান করে।

আর দ্বিতীয়টি হলো: যা কেবল এক পক্ষ থেকে বাধা প্রদান করে।

সুতরাং যা উভয় দিক থেকে বাধা প্রদান করে তা হলো ধর্মের ভিন্নতা এবং দাসত্ব; অতএব ভিন্ন ধর্মাবলম্বী তার বিপরীত ধর্মাবলম্বীর উত্তরাধিকারী হবে না, এবং তার বিপরীত ধর্মাবলম্বীও তার উত্তরাধিকারী হবে না। তেমনিভাবে দাস উত্তরাধিকার লাভ করে না এবং তার থেকেও কেউ উত্তরাধিকার লাভ করে না।

আর যা এক পক্ষ থেকে বাধা প্রদান করে তা হলো হত্যা; সুতরাং হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হবে না, কিন্তু নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীর উত্তরাধিকারী হবে যদি হত্যাকারী তার পূর্বে মারা যায়। আর এর একটি চিত্র এমন হতে পারে যে, কেউ তার উত্তরাধিকার প্রদানকারী ব্যক্তিকে মারাত্মকভাবে আহত করল এবং এরপর আহতকারী ব্যক্তি তার (আহতের) পূর্বেই মারা গেল।

দ্বিতীয় শাখা: দাসত্ব যদি পূর্ণাঙ্গ হয়, তবে তা উত্তরাধিকারের সম্পূর্ণ অংশ থেকে বাধা প্রদান করে। আর যদি ব্যক্তির কিছু অংশ দাস হয় এবং কিছু অংশ স্বাধীন হয়—যাকে 'মুবা’আদ' (আংশিক স্বাধীন) বলা হয়—তবে বিধানটিও আংশিক হবে। সেক্ষেত্রে সে তার স্বাধীনতার মাত্রা অনুযায়ী উত্তরাধিকার লাভ করবে এবং তার থেকেও উত্তরাধিকার প্রাপ্তি ঘটবে; কারণ বিধান তার কারণের (ইল্লত) সাথেই আবর্তিত হয়। ইমাম আহমাদ বলেন: "যদি দাসের অর্ধেক স্বাধীন এবং অর্ধেক দাস হয়, তবে সে তার স্বাধীনতার পরিমাপ অনুযায়ী উত্তরাধিকার লাভ করবে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও এরূপ বর্ণিত হয়েছে" ১। সমাপ্ত।

তবে সে তার স্বাধীন অংশের মাধ্যমে যা উপার্জন করেছে বা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছে, তাতে তার বাকি অংশের মালিকের কোনো অধিকার থাকবে না।

--------------------------------------------

১. আবু দাউদ (৪৫৮২), দিয়ত অধ্যায়, মুকাতাব দাসের দিয়ত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

তিরমিযী (১৫২৯), ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়, ৩৫- মুকাতাব দাসের ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে পরিচ্ছেদ; এবং নাসাঈ 'আল-মুজতাবা' গ্রন্থে (৪৮০৮), কাসামাহ অধ্যায়, মুকাতাব দাসের দিয়ত।

একে সহীহ বলেছেন ইবনে হাজম (৬/১৩৭) ও (৯/৩৫) এবং আলবানী 'আল-ইরওয়া' গ্রন্থে (১৭২৬)।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
شيء، وإنما يكون لورثة المبعض كما صرح به الأصحاب رحمهم الله.

الفرع الثالث: المرتد لا يرث ولا يورث، فإن مات أو قتل قبل أن يعود إلى الإسلام؛ كان ماله فيئاً يصرف في مصالح المسلمين، واختار الشيخ تقي الدين أن ماله يكون لورثته المسلمين، وقال: أنه رواية عن أحمد، وأنه المعروف عن الصحابة.رضي الله عنهم.
কোনো কিছু, বরং তা আংশিক মুক্ত দাসের উত্তরাধিকারীদের হবে যেমনটি ফকীহগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) স্পষ্ট করেছেন।

তৃতীয় শাখা: মুরতাদ উত্তরাধিকার লাভ করে না এবং তার থেকেও উত্তরাধিকার লাভ করা যায় না। সুতরাং সে যদি ইসলামে ফিরে আসার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে অথবা তাকে হত্যা করা হয়, তবে তার সম্পদ 'ফাই' হিসেবে গণ্য হবে যা মুসলিমদের জনকল্যাণে ব্যয় করা হবে। শায়খ তাকীউদ্দীন এই মতটি গ্রহণ করেছেন যে, তার সম্পদ তার মুসলিম উত্তরাধিকারীদের হবে। তিনি বলেছেন: এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা এবং সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিকট এটিই সুপরিচিত ছিল।
(খণ্ড: ১) তাসহীলুল ফারায়েজ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌أقسام الإرث

الإرث ينقسم إلى قسمين: إرث بفرض وإرث بتعصيب.

فالإرث بالفرض أن يكون للوارث نصيب مقدر كالنصف والربع.

والإرث بالتعصيب أن يكون للوارث نصيب غير مقدر.

والفروض الواردة في القرآن ستة: نصف، وربع، وثمن، وثلثان، وثلث، وسدس، وأما ثلث الباقي فثابت بالاجتهاد في العمريتين، وفي بعض مسائل الجد، ومن يرث معه من الإخوة، على ما يأتي إن شاء الله.

واعلم أن لأهل العلم في الكلام على الفروض ومستحقيها طريقتين:

إحداهما: الكلام في كل فرض على حِدَة؛ فيذكر النصف ومن يرث به، والربع ومن يرث به، وهكذا.

الثانية: الكلام على مستحقي الفروض وبيان أحوالهم كل على حِدَة؛ فيذكر الزوج بأنه تارة يرث النصف، وتارة يرث الربع.

ويذكر الأم بأنها تارة ترث الثلث، وتارة ترث السدس، وتارة ترث ثلث الباقي.

ويبين شروط كل حالة.

وقد سلكت في هذه الرسالة هذه الطريقة لأنها طريقة القرآن، وأقرب إلى الفهم، وأبعد عن التشتت، والله الموفق.
উত্তরাধিকারের প্রকারভেদ

উত্তরাধিকার দুই ভাগে বিভক্ত: নির্ধারিত অংশের মাধ্যমে উত্তরাধিকার এবং আসাবা (অবশিষ্টভোগী) হওয়ার মাধ্যমে উত্তরাধিকার।

নির্ধারিত অংশের মাধ্যমে উত্তরাধিকার হলো উত্তরাধিকারীর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অংশ থাকা, যেমন অর্ধেক বা এক-চতুর্থাংশ।

আর আসাবা হওয়ার মাধ্যমে উত্তরাধিকার হলো উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট অংশ নির্ধারিত না থাকা।

কুরআনে বর্ণিত নির্ধারিত অংশ ছয়টি: অর্ধেক, এক-চতুর্থাংশ, এক-অষ্টমাংশ, দুই-তৃতীয়াংশ, এক-তৃতীয়াংশ এবং এক-ষষ্ঠাংশ। আর 'অবশিষ্টাংশের এক-তৃতীয়াংশ' বিষয়টি উমারিয়্যাতাইন (দুই উমারী মাসআলা) এবং দাদা ও তাঁর সাথে থাকা ভাইদের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কিছু মাসআলায় ইজতিহাদের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

জেনে রাখুন যে, নির্ধারিত অংশ এবং এর হকদারদের বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আলেমগণের দুটি পদ্ধতি রয়েছে:

প্রথমটি: প্রতিটি নির্ধারিত অংশ সম্পর্কে পৃথক পৃথক আলোচনা করা; অর্থাৎ অর্ধেক এবং কারা এর মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হয় তা উল্লেখ করা, তারপর এক-চতুর্থাংশ এবং কারা এর মাধ্যমে উত্তরাধিকারী হয় তা উল্লেখ করা—এভাবে আলোচনা করা।

দ্বিতীয়টি: নির্ধারিত অংশের হকদারদের সম্পর্কে আলোচনা করা এবং তাদের প্রত্যেকের অবস্থা পৃথকভাবে বর্ণনা করা; অর্থাৎ স্বামীর কথা উল্লেখ করা যে, তিনি কখনো অর্ধেক উত্তরাধিকার পান, আবার কখনো এক-চতুর্থাংশ পান।

আর মায়ের কথা উল্লেখ করা যে, তিনি কখনো এক-তৃতীয়াংশ পান, কখনো এক-ষষ্ঠাংশ পান, আবার কখনো অবশিষ্টাংশের এক-তৃতীয়াংশ পান।

এবং প্রতিটি অবস্থার শর্তাবলি বর্ণনা করা।

আমি এই পুস্তিকায় এই পদ্ধতিটিই অনুসরণ করেছি, কারণ এটি কুরআনের পদ্ধতি, যা বোঝার জন্য অধিকতর সহজ এবং বিক্ষিপ্ততা থেকে মুক্ত। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।