(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: -)
تدوين السنة النبوية نشأته وتطوره من القرن الأول إلى نهاية القرن التاسع الهجري القسم: علوم الحديث
الكتاب: تدوين السنة النبوية نشأته وتطوره من القرن الأول إلى نهاية القرن التاسع الهجري
المؤلف: أبو ياسر محمد بن مطر بن عثمان آل مطر الزهراني (ت 1427هـ)
الناشر: دار الهجرة للنشر والتوزيع، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1417هـ/1996م
عدد الصفحات: 255
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সুন্নাহর সংকলন (تدوين السنة): প্রথম শতাব্দী থেকে হিজরি নবম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত এর উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: সুন্নাহর সংকলন (تدوين السنة): প্রথম শতাব্দী থেকে হিজরি নবম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত এর উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ
লেখক: আবু ইয়াসির মুহাম্মদ বিন মাতার বিন উসমান আল মাতার আল জাহরানি (ওফাত (ت) ১৪২৭ হিজরি)
প্রকাশক: দার আল হিজরাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি/১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৫
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ৩)
تَدْوينُ السُّنَّةِ النَّبَوِيَّة نَشْأَتُهُ وَتَطَوُّره من القرن الأوَّل إلى نهاية القرن التاسع الهجري
تأليف: الدكتور محمد بن مطر الزهراني
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مُقَدِّمَة:وَبِهِ نَسْتَعِين
الحمد لله الذي خلق السموات والأرض، وجعل الظلمات والنور ثم الذين كفروا بربهم يعدلون، لا يحصي عدد نعمه العادُّون، ولا يؤدي شكره المتحمِّدون، ولا يبلغ مدى عظمته الواصفون، بديع السموات والأرض إذا قضى أمراً فإنما يقول له كن فيكون، أحمده على آلائه، وأشكره على نعمائه، وأستعين به في الشِّدَّة والرَّخاء، وأتوكل عليه فيما أجراه من القدر والقضاء، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأعتقد أن لا ربَّ إلا إيَّاه، شهادة من لا يرتاب في شهادته، واعتقاد من لا يستنكف عن عبادته، وأشهد أنَّ محمداً صلى الله عليه وسلم عبده الأمين ورسوله المكين حسن الله به اليقين، بلَّغ الرسالة وأظهر المقالة ونصح الأمَّة وكشف الغمَّة، وجاهد في سبيل الله المشركين، وعبد ربه حتى أتاه اليقين، فصلى الله على محمَّدٍ سيد المرسلين، وعلى أهل بيته الطيبين، وأصحابه المنتخبين، وأزواجه الطاهرات أمهات المؤمنين، وتابعيهم بإحسانٍ إلى يوم الدين 1 أما بعد
--------------------------------------------
নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর (السنة) সংকলন: এর উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ (প্রথম শতাব্দী থেকে হিজরি নবম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত)
রচনায়: ডক্টর মুহাম্মদ বিন মাতার আল-জাহরানি
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন; এরপরও যারা কুফরি করে তারা তাদের রবের সমকক্ষ দাঁড় করায়। গণনাকারীরা তাঁর নিয়ামত গণনা করে শেষ করতে পারবে না, প্রশংসাকারীরা তাঁর কৃতজ্ঞতা পুরোপুরি আদায় করতে পারবে না এবং বর্ণনাকারীরা তাঁর মহত্ত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। তিনি আসমান ও জমিনের উদ্ভাবক, যখন তিনি কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তখন তিনি সেটিকে বলেন 'হও', ফলে তা হয়ে যায়। আমি তাঁর সকল দানের জন্য তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সকল অনুগ্রহের জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, বিপদ ও সুসময়ে তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তিনি যে ভাগ্য ও ফয়সালা জারি করেছেন তার ওপর ভরসা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং বিশ্বাস করি যে, তিনি ছাড়া কোনো রব নেই; এমন ব্যক্তির সাক্ষ্য যার সাক্ষ্যে কোনো সংশয় নেই এবং এমন ব্যক্তির বিশ্বাস যে তাঁর ইবাদতে বিমুখ নয়। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর আমানতদার বান্দা এবং সুপ্রতিষ্ঠিত রাসুল; আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে নিশ্চিত বিশ্বাসকে সুন্দর করেছেন। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, বাণীকে সুস্পষ্ট করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং দুঃখ-কষ্ট দূর করেছেন। তিনি আল্লাহর পথে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন এবং মৃত্যু আসা পর্যন্ত তাঁর রবের ইবাদত করেছেন। সুতরাং আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক রাসুলগণের সরদার মুহাম্মদের ওপর, তাঁর পবিত্র আহলে বাইত (পরিবার-পরিজন), তাঁর নির্বাচিত সাহাবীগণের (الصحابة), তাঁর পবিত্রা স্ত্রীগণ যারা মুমিনদের মাতা এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী (التابعين) তাদের ওপর। ১ অত:পর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ৪)
فقد اختار الله طائفةً لصفوته، وهداهم للزوم طاعته من اتباع سبل الأبرار في لزوم السنن والآثار فزيَّن قلوبهم بالإيمان، وأنطق ألسنتهم بالبيان من كشف أعلام دينه، واتِّباع سنن نبيه، بالدؤوب في الرحل والأسفار وفراق الأهل والأوطار، في جمع السنن ورفض الأهواء والتفقه فيها بترك الآراء، فتجرد القوم للحديث وطلبوه، ورحلوا فيه وكتبوه، وسألوا عنه وأحكموه وذاكروا به ونشروه، وتفقهوا فيه وأصَّلوه، وفرَّعوا عليه وبذلوه، وبيَّنوا المرسل من المتصل، والموقوف من المنفصل، والناسخ من المنسوخ، والمحكم من المفسوخ، والمفسَّر من المجمل، والمستعمل من المهمل، والغريب من المشهور.
والعدول من المجروحين، والضعفاء من المتروكين، والكشف عن المجهول، وما حُرِّف أو قُلِب من المنحول من مخايل التدليس وما فيه من التلبيس، حتى حفظ الله بهم الدِّين على المسلمين، وصانه عن ثلب القادحين، وجعلهم عند التنازع أئمة الهدى، وفي النوازل مصابيح الدُّجى، فَهُمْ ورثة الأنبياء ومأنس الأصفياء. 1
وقد جعل الله تعالى أهل الحديث أركان الشريعة، وهدم بهم كل بدعة شنيعة، فهم أمناء الله من خليقته، والواسطة بين
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁর মনোনীত বান্দাদের মধ্য থেকে একটি দলকে বেছে নিয়েছেন এবং তাঁদেরকে পুণ্যবানদের পথ অনুসরণের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্যে অবিচল থাকার হিদায়াত দিয়েছেন, যা সুন্নাহ ও ঐতিহ্যসমূহ (آثار) আঁকড়ে ধরার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি তাঁদের অন্তরসমূহকে ঈমান দ্বারা সুশোভিত করেছেন এবং তাঁর দ্বীনের নিদর্শনসমূহ উন্মোচন ও তাঁর নবীর সুন্নাহ অনুসরণের বর্ণনায় তাঁদের জিহ্বাকে বাগ্মী করেছেন। আর এটি সম্ভব হয়েছে সফর ও ভ্রমণে নিরলস প্রচেষ্টা এবং পরিবার-পরিজন ও কামনা-বাসনা ত্যাগের মাধ্যমে। তাঁরা সুন্নাহ সংগ্রহ এবং খেয়াল-খুশির অনুসরণ বর্জন করেছেন এবং ব্যক্তিগত মতামত পরিহার করে এর গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন। অতঃপর এই দলটি হাদিসের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছেন এবং এর অন্বেষণ করেছেন। তাঁরা এর জন্য সফর করেছেন ও তা লিপিবদ্ধ করেছেন, এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন ও তা সুদৃঢ় করেছেন, এটি নিয়ে আলোচনা করেছেন ও তা প্রচার করেছেন এবং এর গভীর জ্ঞান অর্জন করে এর মূল ভিত্তি স্থাপন করেছেন ও শাখা-প্রশাখা বিন্যাস করেছেন এবং তা অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা সংযুক্ত (متصل) থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل), বিচ্ছিন্ন (منفصل) থেকে মাওকুফ (موقوف), রহিত (منسوخ) থেকে রহিতকারী (ناسخ), বাতিলকৃত (مفسوخ) থেকে সুদৃঢ় (محكم), সংক্ষিপ্ত (مجمل) থেকে ব্যাখ্যাকৃত (مفسر), পরিত্যক্ত (مهمل) থেকে ব্যবহৃত (مستعمل) এবং প্রসিদ্ধ (مشهور) থেকে অপরিচিত (غريب) হাদিসসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
তাঁরা ত্রুটিযুক্ত (مجروحين) বর্ণনাকারীদের থেকে ন্যায়পরায়ণ (عدول) বর্ণনাকারীদের এবং পরিত্যক্ত (متروكين) বর্ণনাকারীদের থেকে দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের পৃথক করেছেন। তাঁরা অজ্ঞাত (مجهول) বর্ণনাকারীদের পরিচয় উন্মোচন করেছেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে যা বিকৃত বা পরিবর্তিত করা হয়েছে, যা প্রতারণার (تدليس) সংশয়যুক্ত এবং যাতে বিভ্রান্তি (تلبيس) রয়েছে, তাও প্রকাশ করেছেন। এভাবে আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে মুসলিমদের দ্বীনকে হিফাজত করেছেন এবং নিন্দুকদের কুৎসা থেকে একে রক্ষা করেছেন। তিনি তাঁদেরকে বিরোধপূর্ণ বিষয়ে হিদায়াতের ইমাম এবং দুর্যোগকালীন সময়ে অন্ধকারের প্রদীপ বানিয়েছেন। তাঁরাই হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী এবং পুণ্যবানদের আশ্রয়স্থল। ১
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আহলুল হাদিসদেরকে শরীয়তের স্তম্ভ বানিয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে প্রত্যেক জঘন্য বিদআতকে সমূলে বিনাশ করেছেন। তাঁরাই সৃষ্টিজগতের মাঝে আল্লাহর আমানতদার এবং তাঁর ও সৃষ্টির মধ্যে যোগসূত্র...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ৫)
النَّبي صلى الله عليه وسلم وأمته، والمجتهدون في حفظ ملَّته، أنوارهم زاهرة، وفضائلهم سائرة، ومذاهبهم ظاهرة، وحججهم قاهرة، وكل فئة تتحيَّز إلى هوى ترجع إليه، أو تستحسن رأياً تعتكف عليه، سوى أصحاب الحديث فإن كتاب الله عُدَّتُهم، والسُّنَّة المطهَّرة حُجَّتُهم، والرسول صلى الله عليه وسلم فِئتهم وإليه نسبتهم، لا يعرِّجون على الأهواء، ولا يلتفتون إلى الآراء، يُقبل منهم ما رووا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وهم المأمونون عليه حفظة الدين وخزنته، وأوعية العلم وحملته، منهم كل عالم فقيه، وإمام رفيع نبيه، وقارئٌ متقن، وخطيب محسن، وهم الجمهور العظيم، وسبيلهم السبيل المستقيم، ومن كادهم قصمه الله، ومن عاندهم خذله الله، لا يضرهم من خالفهم، ولا يفلح من اعتزلهم المحتاط لدينه إلى إرشادهم فقير، وبصر الناظر بالسوء إليهم حسير، وإن الله على نصرهم لقدير 1.
وبعد:
فهذه نبذٌ يسيرة من جهود تلك الأجيال المتعاقبة من سلفنا الصالح المذكور وصفهم آنفاً، الذين بذلوا كل جهد وكل غالٍ ونفيس في سبيل خدمة السُّنَّة المطهَّرة وحفظها وتدوينها ونقلها إلى الأمة.
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মত এবং তাঁর আদর্শ (মিল্লাত) রক্ষায় সচেষ্ট মুজতাহিদগণ (المجتهدون); তাঁদের নূরসমূহ প্রদীপ্ত, তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব সুপ্রসারিত, তাঁদের মাযহাবসমূহ সুস্পষ্ট এবং তাঁদের প্রমাণসমূহ অকাট্য। প্রতিটি দলই কোনো না কোনো প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং সেদিকেই প্রত্যাবর্তন করে, অথবা কোনো মনগড়া মতকে পছন্দ করে তার ওপর অটল থাকে; তবে হাদিস বিশারদগণ (أصحاب الحديث) ব্যতীত। কেননা আল্লাহর কিতাবই তাঁদের পাথেয়, পবিত্র সুন্নাহ (السنة) তাঁদের দলিল এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই তাঁদের আশ্রয়স্থল ও তাঁর প্রতিই তাঁদের নিসবত (সম্পর্ক)। তাঁরা প্রবৃত্তির অনুগামী হন না এবং ব্যক্তিগত মতামতের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁরা যা বর্ণনা করেছেন (رووا) তা তাঁদের নিকট থেকে কবুল করা হয়; তাঁরাই তাঁর (রাসূলের) ওপর অর্পিত দ্বীনের নির্ভরযোগ্য (المأمونون) হিফাজতকারী (حفظة) ও এর রক্ষণাবেক্ষণকারী, এবং ইলমের আধার ও বাহক (حملته)। তাঁদের মাঝেই রয়েছেন প্রত্যেক ফকিহ (فقيه) আলেম, সুউচ্চ মর্যাদাশীল ও প্রাজ্ঞ ইমাম (إمام), সুদক্ষ ও নিখুঁত (متقن) কারি এবং সুবক্তা খতিব। তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) মহান দল এবং তাঁদের পথই সরল পথ। যে ব্যক্তি তাঁদের সাথে চক্রান্ত করবে আল্লাহ তাকে চূর্ণ করবেন, আর যে তাঁদের সাথে শত্রুতা করবে আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করবেন। যারা তাঁদের বিরোধিতা করে তারা তাঁদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং যে তাঁদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে সে সফলকাম হবে না। স্বীয় দ্বীনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনকারী ব্যক্তি তাঁদের নির্দেশনার মুখাপেক্ষী, আর তাঁদের প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন ব্যক্তির দৃষ্টি অত্যন্ত হীন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁদের সাহায্য করতে পূর্ণ সক্ষম। 1.
অতঃপর:
এটি আমাদের ইতিপূর্বে বর্ণিত সলফে সালেহীনের সেই ধারাবাহিক প্রজন্মগুলোর প্রচেষ্টার অতি সামান্য অংশ মাত্র, যারা পবিত্র সুন্নাহ (السنة) এর খিদমত, এর সংরক্ষণ, সংকলন এবং উম্মতের নিকট তা হস্তান্তরের পথে নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য ও মূল্যবান সবকিছু উৎসর্গ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ৬)
جمعت هذه النبذ من مصادر شتَّى، وألَّفت بينها مع شيء يسير من التعليق والربط والتعريف بتلك الجهود، وذلك خلال قيامي بتدريس (مادة تدوين السُّنَّة النبوية عبر عصوره المختلفة) لطلبة السُّنَّة الأولى بكلية الحديث بالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية، حيث ألفيت موضوعات منهج هذه المادة لايجمعها أو أكثرها كتاب ليكون موافقاً - أو على الأقل مقارباً - لمنهج هذه المادة في الكلية، وليكون مرجعاً بيد الطلبة في العاجل على أن يعود إلى مصادره الأصلية في الآجل.
فرتَّبته وهذَّبته وسمَّيته: تدوين السُّنَّة النبوية نشأته وتطوره من القرن الهجري الأول إلى نهاية القرن الهجري التاسع.
وضمنته خمسة أبواب وتحت كل باب عدة فصول وقسَّمت كل فصل إلى عدة فقرات.
وقد بدأته بتمهيد شرحت فيه معنى جملة تدوين السُّنَّة.
ثم جعلت الباب الأول في بيان مكانة السُّنَّة في الإسلام وعناية السلف بها.
وفيه ثلانة فصول:
الفصل الأول: في ما جاء في التسوية بين حكم كتاب الله عز وجل وحكم سُّنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
এই সারসংক্ষেপগুলো বিভিন্ন উৎস থেকে সংকলন করা হয়েছে এবং সেগুলোর মাঝে সামান্য ব্যাখ্যা, সংযোগ ও সেই প্রচেষ্টাসমূহ পরিচয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়েছে। এটি মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ‘বিভিন্ন যুগে সুন্নাহর (سنة) সংকলন (تدوين)’ বিষয়টি পাঠদানের সময় প্রস্তুত করা হয়েছে; কারণ আমি লক্ষ্য করেছি যে, এই বিষয়ের পাঠ্যসূচির অধিকাংশ বিষয়বস্তু এমন কোনো একটি কিতাবে সংকলিত নেই যা এই অনুষদের পাঠ্যসূচির সাথে সংগতিপূর্ণ বা অন্তত এর কাছাকাছি হতে পারে। আর যাতে এটি আপাতত শিক্ষার্থীদের হাতে একটি রেফারেন্স হিসেবে থাকে, তবে ভবিষ্যতে তারা এর মূল উৎসের দিকে ফিরে যাবে।
আমি এটি সুবিন্যস্ত ও পরিমার্জিত করেছি এবং এর নামকরণ করেছি: তাদউইনুস সুন্নাহ আন-নাবাউইয়্যাহ: নাশাআতুহু ওয়া তাতাউউরুহু মিনাল কারনিল হিজরিয়্যিল আওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিল হিজরিয়্যিত তাসি।
আমি এতে পাঁচটি অধ্যায় (أبواب) অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং প্রতিটি অধ্যায়ের অধীনে বেশ কয়েকটি পরিচ্ছেদ (فصول) রেখেছি এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদকে কয়েকটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি।
আমি এটি একটি ভূমিকা দিয়ে শুরু করেছি যেখানে আমি ‘সুন্নাহর (سنة) সংকলন (تدوين)’ বাক্যটির অর্থ ব্যাখ্যা করেছি।
অতঃপর আমি প্রথম অধ্যায়টি (الباب الأول) ইসলামে সুন্নাহর (سنة) মর্যাদা এবং এ বিষয়ে পূর্বসূরিদের (سلف) যত্নের বর্ণনায় নির্ধারণ করেছি।
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ (فصول) রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ (الفصل الأول): মহান আল্লাহ তাআলার কিতাবের বিধান (حكم) এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর (سنة) বিধানের (حكم) মাঝে সমতার বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ৭)
وذكرت فيه ما جاء في ذلك من الكتاب والسُّنَّة وأقوال السلف.
والفصل الثاني: عن عناية السلف بالسُّنَّة وضمنته ثلاث فقرات هي:
أولاً: عناية الصحابة بالسنة
وثانيا: عناية التابعين ومن بعدهم
وثالثا: الرحلة في طلب الحديث
أما الفصل الثالث فقد تحدثت عن موقف أصحاب الأهواء والفرق من حجية السنة، وقسمته إلى ثلاث فقرات:
الأولى: عن الذين يردُّون السُّنَّة مطلقاً.
الثانية: عن الذين يردُّون خبر الآحاد.
الثالثة: عن الذين يردُّون الزيادة على النص.
وتحدثت في الباب الثاني عن تدوين السُّنَّة في القرنين الأول والثانى حيث قسمته إلى فصلين:
الأول: التدوين في القرن الأول: وقد أثبتُّ فيه بالأدلَّة والبراهين أن التدوين قد بدأ بداياته الأولى في زمن النبي صلى الله عليه وسلم.
ثم ذكرت جهود الصحابة ثم التابعين بمختلف طبقاتهم في التدوين في هذا القرن.
والثاني: التدوين في القرن الثاني الهجري: وفيه أشرت إلى
এবং আমি এতে এ সংক্রান্ত কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং সালাফদের বক্তব্য থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর প্রতি সালাফদের যত্ন ও পরিচর্যা সম্পর্কে। আমি এটি তিনটি অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি, তা হলো:
প্রথমত: সুন্নাহর প্রতি সাহাবীগণের গুরুত্বারোপ।
দ্বিতীয়ত: তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তীগণের গুরুত্বারোপ।
তৃতীয়ত: হাদিস অন্বেষণে সফর।
আর তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমি সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) বিষয়ে প্রবৃত্তিপূজারী ও বিভিন্ন ফিরকার অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছি এবং একে তিনটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথম: যারা সুন্নাহকে ঢালাওভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
দ্বিতীয়: যারা একক বর্ণনা (خبر الآحاد) প্রত্যাখ্যান করে।
তৃতীয়: যারা মূল পাঠের (نص) ওপর অতিরিক্ত অংশ (الزيادة) সংযোজনকে প্রত্যাখ্যান করে।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে সুন্নাহর সংকলন (تدوين) নিয়ে আলোচনা করেছি, যেখানে একে দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথম: প্রথম শতাব্দীতে সংকলন (تدوين): এতে আমি দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি যে, সংকলন (تدوين) তার প্রাথমিক সূচনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগেই হয়েছিল।
এরপর আমি এই শতাব্দীতে সংকলনের (تدوين) ক্ষেত্রে সাহাবীগণ এবং বিভিন্ন স্তরের (طبقات) তাবিঈগণের প্রচেষ্টা উল্লেখ করেছি।
দ্বিতীয়: হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে সংকলন (تدوين): এতে আমি ইশারা করেছি...
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ৮)
تطوُّر التدوين في هذا القرن وذكرت قائمة بأسماء أشهر المصنفين في هذا العصر، ثم درست نموذجاً مما أُلُّف في هذا القرن دراسةً موجزةً، وهذا النموذج هو "موطأ الإمام مالك" رحمه الله.
أما الباب الثالث: فخصصته للكلام عن تدوين السُّنَّة في القرن الثالث الهجري الذي يعتبر أزهى عصور تدوين العلوم الإسلامية، وعلوم السُّنَّة النَّبويَّة على وجه الخصوص.
وقد جعلته في فصلين قدمت لهما بكلمة موجزة عن جهود علماء هذا القرن في تطوير التدوين وابتكارهم في طريقة التأليف، وتنويعهم مجالات التصنيف.
الفصل الأول: ضمنته الكلام عن المسانيد في فقرتين: -
الأولى: عن تعريف المسانيد وطريقة تأليفها وأهم المسانيد.
والثانية: دراسة موجزة عن مسند الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله تعالى.
والفصل الثاني: فيه دراسة موجزة جداً عن كل واحد من الكتب الستة المعروفة، وأوجزت الدراسة فيها لأمرين:
الأول: أنها معروفة ومشهورة والدراسات عنها كثيرة في القديم والحديث.
والثاني: أنَّ هذه الكتب تدرس في سنوات الكُلِّيَّة الأربع، ويأخذ الطلبة نماذج منها مع التعريف بكل كتابٍ ومؤلفه.
এই শতাব্দীতে সংকলনের (تدوين) ক্রমবিকাশ এবং এ যুগের প্রসিদ্ধ সংকলকদের নামের একটি তালিকা আমি উল্লেখ করেছি। এরপর এই শতাব্দীতে রচিত গ্রন্থসমূহের একটি নমুনা সংক্ষিপ্তভাবে পর্যালোচনা করেছি, আর সেই নমুনাটি হলো ইমাম মালিক (রহ.)-এর মুয়াত্তা।
আর তৃতীয় পরিচ্ছেদটি আমি হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে সুন্নাহ সংকলন (تدوين) সম্পর্কে আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেছি, যেটিকে ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞান এবং বিশেষ করে সুন্নাহর সংকলন ও চর্চার স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আমি একে দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি এবং শুরুতে এই শতাব্দীর আলেমদের সংকলন (تدوين) পদ্ধতির উন্নতি, রচনাশৈলীতে তাদের উদ্ভাবন এবং গ্রন্থ প্রণয়নের বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রসমূহে তাদের প্রচেষ্টা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা তুলে ধরেছি।
প্রথম অনুচ্ছেদ: এতে আমি দুটি অংশে মুসনাদ গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করেছি: -
প্রথমটি: মুসনাদ-এর সংজ্ঞা, এটি সংকলনের পদ্ধতি এবং গুরুত্বপূর্ণ মুসনাদ গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে।
দ্বিতীয়টি: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মুসনাদ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এতে প্রসিদ্ধ ছয়টি গ্রন্থের প্রত্যেকটি সম্পর্কে অতি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে। এখানে দুটি কারণে আলোচনা সংক্ষিপ্ত করেছি:
প্রথমত: এগুলো অত্যন্ত পরিচিত ও প্রসিদ্ধ এবং প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগেই এগুলো নিয়ে প্রচুর গবেষণা ও আলোচনা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: এই গ্রন্থগুলো কলেজের চার বছরের পাঠ্যক্রমে পড়ানো হয় এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিটি গ্রন্থ ও তার রচয়িতার পরিচয়ের সাথে সাথে এগুলোর নমুনাও পাঠ করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ৯)
أما الباب الرابع: فقد ذكرت فيه التدوين في القرنين الرابع والخامس، وذلك في فصلين:
الأول: عن التدوين في القرن الرابع الهجري، وفيه فقرتان:
الأولى: تعريفٌ موجزٌ ببعض الكتب المدوَّنة في السُّنَّة في هذا القرن وهي سبعة كتب: -
1- صحيح ابن خزيمة.
2- صحيح ابن حبان.
3- مستدرك الحاكم.
4- شرح مشكل الآثار للطحاوي.
5- المعجم الكبير للطبراني.
6- سنن الدارقطني.
7- السنن الكبرى للبيهقى.
والفقرة الثانية: عن كتب المستخرجات.
والفصل الثاني: خصصته للتدوين في القرن الخامس الهجرى.
وقد اشتمل على موضوعين:
الأول: ذكر أهم الكتب المؤلفة في الجمع بين الكتب الستة أو بعضها.
والثاني: تعريفٌ موجزٌ بثلاثة كتب هى:
1- شرح السُّنَّة للبغوي.
2- مصابيح السُّنَّة للبغوي أيضاً.
3- جامع الأصول لابن الأئير.
চতুর্থ অধ্যায় প্রসঙ্গে: এতে আমি চতুর্থ ও পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে সংকলন (التدوين) প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করেছি, যা দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে সংকলন (التدوين) সম্পর্কে, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: এই শতাব্দীতে সুন্নাহর ওপর সংকলিত (المدونة) উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, যা সংখ্যায় সাতটি:-
১- সহিহ ইবনে খুজাইমাহ।
২- সহিহ ইবনে হিব্বান।
৩- মুসতাদরাক আল-হাকিম।
৪- ত্বহাবি রচিত শারহু মুশকিলিল আসার।
৫- তাবারানি রচিত আল-মু'জাম আল-কাবির।
৬- সুনানে দারা কুতনি।
৭- বায়হাকি রচিত আস-সুনান আল-কুবরা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুস্তাখরাজ (المستخرجات) গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি আমি পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে সংকলন (التدوين) প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট করেছি।
এটি দুটি বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমটি: কুতুবুস সিত্তাহ (ছয়টি কিতাব) বা তার মধ্য থেকে কয়েকটি কিতাবের সমন্বয়ে (الجمع) রচিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের বর্ণনা।
দ্বিতীয়টি: তিনটি গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, সেগুলো হলো:
১- বাগাভি রচিত শারহুস সুন্নাহ।
২- বাগাভি রচিত মাসাবিহুস সুন্নাহ।
৩- ইবনুল আসির রচিত জামিউল উসুল।
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وفي الباب الخامس تكلمت عن: "اتجاه التدوين بعد القرن الخامس الهجري" وجعلته فصلين مهَّدتُ لهما بتعريفٍ موجزٍ بأحوال العالم الإسلامي خلال القرون الأربعة من القرن الخامس إلى نهاية الفرن التاسع تقريباً وذلك في فقرتين: -
الأولى: عن أهم المحن والفتن التي واجهت المسلمين عموماً وأهل السُّنَّة خصوصاً.
والثانية: عن جهود العلماء في مقاومة هذه الفتن والمحن وإبراز جهود أهل السُّنَّة في ذلك مع بيان أنهم كانوا هم المنقذ - بعد الله - للمسلمين مما تردَّوا فيه من البدع والخرافات وجميع الانحرافات.
أما الفصل الأول: فقد تضمن الكلام عن الكتب التي أُلِّفت في موضوعات خاصة محدودة مثل:
1- كتب الموضوعات.
2- كتب الأحكام.
3- كتب الغريب.
4- كتب الترغيب والترهيب.
والفصل الثاني: عن كتب الموضوعات الشاملة العامة مثل: كتب الأطراف والتخريج والزوائد والمجاميع ونحوها.
ولعلَّه بهذا البيان الموجز عما تضمَّنه هذا الكتاب يتبيَّن المراد من العنوان: "تدوين السُّنَّة النبوية نشأته وتطوره".
পঞ্চম অধ্যায়ে আমি ‘পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর পরবর্তী সংকলন ধারার গতিপ্রকৃতি’ সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং একে দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি। এই পরিচ্ছেদদ্বয়ের প্রারম্ভে আমি পঞ্চম শতাব্দী থেকে প্রায় নবম শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের অবস্থা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতিমূলক ভূমিকা পেশ করেছি, যা মূলত দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত: -
প্রথমটি: সাধারণভাবে মুসলিম উম্মাহ এবং বিশেষভাবে আহলে সুন্নাহর সম্মুখীন হওয়া প্রধান পরীক্ষা ও ফিতনাগুলো সম্পর্কে।
দ্বিতীয়টি: এই সকল ফিতনা ও পরীক্ষা মোকাবিলায় ওলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টা এবং এতে আহলে সুন্নাহর অবদান তুলে ধরা। সেই সাথে এটি স্পষ্ট করা যে, বিদআত (بدعة), কুসংস্কার ও সকল প্রকার বিচ্যুতিতে নিমজ্জিত হওয়া থেকে—আল্লাহর পরে—তাঁরাই ছিলেন মুসলিমদের ত্রাণকর্তা।
আর প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি নির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ বিষয়বস্তুর ওপর রচিত কিতাবসমূহ নিয়ে আলোচনার ওপর مشتمل, যেমন:
1- বানোয়াট (موضوعات) হাদিস বিষয়ক কিতাবসমূহ।
2- আহকাম বা বিধান বিষয়ক কিতাবসমূহ।
3- গারিব বা দুর্বোধ্য শব্দ বিষয়ক কিতাবসমূহ।
4- তারগিব ও তারহিব বা উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শন বিষয়ক কিতাবসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি ব্যাপক ও সাধারণ বিষয়বস্তুর ওপর রচিত কিতাবসমূহ সম্পর্কে, যেমন: আতরাফ, তাখরিজ, জাওয়ায়েদ, মাজামিউ এবং এই জাতীয় কিতাবসমূহ।
হয়তো কিতাবটিতে যা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তার এই সংক্ষিপ্ত বিবরণের মাধ্যমে এর শিরোনাম—‘সুন্নাহর সংকলন: এর উদ্ভব ও বিকাশ’—এর উদ্দেশ্যটি স্পষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ১১)
وبعد: فهذا تلخيصٌ موجزٌ لتلك الجهود الخيِّرة المباركة التي قدمها سلفنا الصالح عبر عصوره المختلفة في خدمة الإسلام عموماً والسُّنَّة المطهَّرة على وجه الخصوص.
وفي الختام أحب أن أنبِّه على الأمور التالية:
1- أن سبب اقتصاري على القرون التسعة الأولى هو أنه لم يعد في العصور التالية لها تجديد ولا ابتكار، وما كان من جهود في خدمة السُّنَّة بعد ذلك إنما هو بمثابة تكرار لجهود السابقين أو خدمة لها بالشروح والتلخيصات والتعليقات ونحو ذلك.
2- أنه كانت هناك جهود مخلصة ومباركة لعلماء الهند بعد القرن التاسع لخدمة السُّنَّة وذلك من خلال عنايتهم بكتب السلف، روايةً وسماعاً وشرحاً وتعليقاً ونحو ذلك، وعلى رأس تلك الكتب التي اعتنوا بها الكتب الستة، وكذلك من خلال التصنيف في علوم الحديث المختلفة وغير ذلك من المجالات مما لا يتسع المقام لبسطه.
3- عاد للحرمين شيء من مكانتهما العلمية بعد القرن التاسع، وذلك بعد أن فقدت تلك المكانة منذ القرن الثالث الهجري تقريباً، وذلك بسبب تسلط الروافض في هذين البلدين على الولاية والمنبر، نص على ذلك كل من: الإمام ابن تيمية في المجلد الثامن والعشرين من "الفتاوى"، والحافظ الذهبي في كتابه "معرفة الأمصار ذوات الآثار"، وشمس الدين السخاوي في كتابه "التحفة اللطيفة" وكذلك أشار إلى ذلك ابن بطوطة في رحلته.
অতঃপর: এটি সেই কল্যাণময় ও বরকতময় প্রচেষ্টার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ, যা আমাদের পূণ্যবান পূর্বসূরিগণ (السلف الصالح) বিভিন্ন যুগে সাধারণভাবে ইসলাম এবং বিশেষভাবে পবিত্র সুন্নাহর খিদমতে পেশ করেছেন।
পরিশেষে, আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই:
1- প্রথম নয় শতাব্দীর মধ্যে আমার সীমাবদ্ধ থাকার কারণ হলো, এর পরবর্তী যুগগুলোতে কোনো নতুনত্ব বা উদ্ভাবন অবশিষ্ট ছিল না। এরপর সুন্নাহর খিদমতে যে সকল প্রচেষ্টা হয়েছে, তা মূলত পূর্ববর্তীদের প্রচেষ্টার পুনরাবৃত্তি অথবা ব্যাখ্যা (الشروح), সারসংক্ষেপ (التلخيصات) ও টীকা (التعليقات) ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের খিদমত করা মাত্র।
2- নবম শতাব্দীর পর সুন্নাহর খিদমতে হিন্দুস্তানের আলেমদের একনিষ্ঠ ও বরকতময় প্রচেষ্টা ছিল। তারা পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহের বর্ণনা (رواية), শ্রবণ (سماع), ব্যাখ্যা ও টীকা ইত্যাদির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপের মাধ্যমে এই খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। তাদের চর্চিত কিতাবসমূহের শীর্ষে রয়েছে 'কুতুবে সিত্তাহ'। এছাড়া হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) বিভিন্ন শাখায় গ্রন্থনা এবং আরও এমন অনেক ক্ষেত্রে তাদের অবদান রয়েছে যা বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ এখানে নেই।
3- নবম শতাব্দীর পর হারামাইন শরিফাইনের ইলমি মর্যাদা কিছুটা ফিরে আসে, যা হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর পর থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এর কারণ ছিল এই দুই ভূখণ্ডের শাসনক্ষমতা ও মিম্বারের ওপর রাফেজিদের (الروافض) আধিপত্য। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর 'ফাতাওয়া'-এর আটাশতম খণ্ডে, হাফেজ যাহাবি তাঁর 'মা'রিফাতুল আমসার যাওয়াতুল আসার' গ্রন্থে এবং শামসুদ্দিন সাখাবি তাঁর 'আত-তুহফাতুল লাতিফাহ' গ্রন্থে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে ইবনে বতুতাও তাঁর সফরনামায় এ বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ১২)
إذ بعد دخول العثمانيين أرض الشام ومصر والحجاز كان لهم جهودٌ مشكورةٌ في قمع الروافض في الحجاز وفي غيره من ديار الإسلام، كما كان لأسلافهم التركمان والسلاجقة مثل ذلك الموقف مع الروافض والباطنيين في زمانهم.
وكان ممن له جهود في خدمة السُّنَّة فيما بعد القرن العاشر الهجري كل من: عبد الرؤف المناوي (ت 1031 هـ) ، وعلي القاري (ت 1014 هـ) ، ومحمد عبد الهادي السندي (ت 1138 هـ) وغيرهم.
4- قامت في جزيرة العرب نهضة علمية سلفيَّة على منهاج أهل السُّنَّة والجماعة مستنيرة بجهود مدرسة شيخ الإسلام الحافظ أبي العباس ابن تيمية وتلاميذه، وذلك على يد شيخ الإسلام المجدد الإمام محمد بن عبد الوهاب وتلاميذه وأحفاده منذ القرن الثاني عشر الهجري، ومازلنا نعيش بفضل الله على آثار تلك النهضة السلفيَّة المباركة، والتي أعادت لأهل السُّنَّة مكانتهم ورفعت رؤوسهم بعد أن طغت البدع وانتفش أصحابها على أهل السُّنَّة في الأعصار المتأخرة.
5- كان لكل من الشيخ أحمد بن محمد بن شاكر- رحمه الله والشيخ محمد ناصر الدين الألباني – حفظه الله - جهود طيبة ومفيدة في هذا القرن في خدمة السُّنَّة وعلومها تحقيقاً وتخريجاً وغير ذلك.
উসমানীয়রা শাম, মিসর এবং হিজাজ ভূমিতে প্রবেশের পর হিজাজ ও ইসলামের অন্যান্য ভূখণ্ডে রাফেজি (الروافض) দমনে তাদের প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ছিল, যেমনটি তাদের পূর্বসূরি তুর্কি ও সেলজুকদের তাদের যুগে রাফেজি (الروافض) ও বাতিনিদের (الباطنيين) বিরুদ্ধে একই অবস্থান ছিল।
হিজরি দশম শতাব্দীর পরবর্তী সময়ে সুন্নাহর খিদমতে যাদের প্রচেষ্টা ছিল তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: আবদুর রউফ আল-মুনাউয়ি (মৃ. ১০৩১ হি.), মোল্লা আলী আল-কারি (মৃ. ১০১৪ হি.), মুহাম্মদ আব্দুল হাদি আস-সিন্ধি (মৃ. ১১৩৮ হি.) এবং আরও অনেকে।
4- আরব উপদ্বীপে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানহাজের ওপর একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক সালাফি পুনর্জাগরণ শুরু হয়, যা শায়খুল ইসলাম হাফিজ (الحافظ) আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া ও তাঁর শিষ্যদের পাঠশালার প্রচেষ্টায় আলোকিত ছিল। এটি হিজরি দ্বাদশ শতাব্দী থেকে শায়খুল ইসলাম মুজাদ্দিদ ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, তাঁর ছাত্র এবং বংশধরদের হাতে পরিচালিত হয়েছিল। আল্লাহর অনুগ্রহে আমরা আজও সেই বরকতময় সালাফি পুনর্জাগরণের প্রভাবের মধ্যে বসবাস করছি, যা আহলে সুন্নাতকে তাদের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছে এবং তাদের মস্তক সমুন্নত করেছে; বিশেষ করে পরবর্তী যুগগুলোতে যখন বিদআত (البدع) প্রবল হয়েছিল এবং এর অনুসারীরা আহলে সুন্নাতের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল।
5- এই শতাব্দীতে সুন্নাহ এবং এর জ্ঞানসমূহের খিদমতে যাচাইকরণ (تحقيقاً), উৎসানুসন্ধান (تخريجاً) এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে শায়খ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন শাকির (রহিমাহুল্লাহ) এবং শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি (হাফিজাহুল্লাহ)-এর অত্যন্ত উত্তম ও উপকারী অবদান ছিল।
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
6- أن من كَتَبَ في التدوين وما يتعلق به قبلي اقتصروا على الكلام عن ذلك في القرن الأول وبعضهم توسع قليلاً إلى القرن الثالث مع الاختصار في ذلك، وأكثر من توسع في هذا فيما اطلعت عليه: الشيخ أبو زهو في كتابه "الحديث والمحدثون"، لكنني سلكت منهجاً غير الذي سلك في كتابه، وذلك أنني راعيت المنهج المقرَّر في الكُلِّيَّة قدر الإمكان، وأسال الله التوفيق والسَّداد لما يحبه ويرضاه.
وكتبه محمّد بن مطر الزهراني
في المدينة النَّبويَّة حرسها الله
في الخامس عشر من شهر ربيع الأول من عام ألف وأربعمائة واثني عشر من هجرة المصطفى صلى الله عليه وسلم.
৬- আমার পূর্বে যারা হাদিস সংকলন (التدوين) এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে লিখেছেন, তারা এ সংক্রান্ত আলোচনায় কেবল প্রথম শতাব্দীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এ আলোচনাকে তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত কিছুটা প্রসারিত করলেও তা ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। এ বিষয়ে আমার জানামতে যিনি সর্বাধিক বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, তিনি হলেন শায়খ আবু যাহু তাঁর "আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন" গ্রন্থে। তবে আমি তাঁর গ্রন্থে অনুসৃত পদ্ধতি (منهج) থেকে ভিন্ন এক পন্থা অবলম্বন করেছি; আর তা এই জন্য যে, আমি যথাসম্ভব কলেজের নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের অনুসরণ করেছি। আমি আল্লাহর নিকট সেই তাওফিক ও সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা করছি যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
এটি লিখেছেন মুহাম্মদ বিন মাতার আল-যাহরানি
মদিনা নববিয়্যাহয়, আল্লাহ একে হিফাজত করুন
মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের এক হাজার চারশ বারো সনের রবিউল আউয়াল মাসের পনেরো তারিখে।
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
تمهيدقبل أن أشرع في بيان أبواب وفصول هذا الكتاب أحب أن أمهِّد بين يدي أبحاثه وموضوعاته بشرح عنوانه:
فالتدوين في اللغة: تقييد المتفرق وجمع المتشتت في ديوان؛ ومنه جمع الصحف في كتاب، وهو فارسي معرَّب. 1
وفي الاصطلاح: يستعمل التدوين بمعنى التصنيف والتأليف.
أما السُّنَّة في اللغة: فهي السيرة والطريقة حسنة كانت أو قبيحة.
ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: "من سنَّ في الاسلام سُنِّةً حسنةً فله أجرها وأجر من عمل بها من بعده من غير أن ينقص من أجورهم شيئأ، ومن سنَّ في الإسلام سُّنَّة سيئةً كان عليه وزرها ووزر من عمل بها من بعده من غير أن ينقص من أوزارهم شيئاً". 2
ومنه قول خالد بن زهير الهذلي:
فلا تجزعن من سُّنَّةٍ أنت سرتها
…فأول راضٍ سُّنَّةً من يسيرها
--------------------------------------------
উপক্রমণিকাএই কিতাবের অধ্যায় এবং পরিচ্ছেদসমূহ বর্ণনা শুরু করার আগে আমি এর গবেষণার বিষয়বস্তু ও প্রসঙ্গের ভূমিকা হিসেবে এর শিরোনামটি ব্যাখ্যা করতে চাই:
আভিধানিক অর্থে 'তাদউইন' (সংকলন) হলো: বিচ্ছিন্ন বিষয়কে সীমাবদ্ধ করা এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিষয়গুলোকে একটি দপ্তরে একত্রিত করা; এর থেকেই কিতাব আকারে বিভিন্ন পৃষ্ঠাকে সমবেত করাকে তাদউইন বলা হয়। এটি মূলত একটি ফারসি শব্দ যা আরবিতে আত্তীকরণ (معرب) করা হয়েছে। ১
আর পারিভাষিক অর্থে: 'তাদউইন' শব্দটি বিন্যাস (تصنيف) এবং রচনা (تأليف) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
আর আভিধানিক অর্থে 'সুন্নাহ' হলো: জীবনপদ্ধতি ও চলন, তা উত্তম হোক কিংবা মন্দ।
এরই প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতির (سنة حسنة) সূচনা করবে, সে এর প্রতিদান পাবে এবং তার পরে যারা সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে, তবে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতির (سنة سيئة) সূচনা করবে, তার ওপর সেই মন্দ কর্মের পাপ বর্তাবে এবং তার পরে যারা সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের পাপও তার ওপর পড়বে, তবে তাদের পাপ থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।" ২
এরই উদাহরণ হলো খালিদ ইবনে যুহাইর আল-হুজালি-র উক্তি:
সুতরাং তুমি এমন কোনো পদ্ধতির কারণে বিচলিত হয়ো না যার সূচনা তুমি নিজেই করেছ,
…কেননা কোনো পদ্ধতির প্রতি সন্তুষ্ট প্রথম ব্যক্তি তো সেই যে তা পরিচালনা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومن معانيها في اللغة أيضاً: حسن الرعاية والقيام على الشيء، وذلك من قول العرب: "سنَّ الرجل إبله إذا أحسن رعايتها والقيام عليها". 1
وفي الاصطلاح: تطلق السُّنَّة ويراد بها عدة اصطلاحات: -
1- قال ابن منظور: "وقد تكرر في الحديث ذكر السُّنَّة وما تصرف منها والأصل فيه: الطريقة والسيرة، وإذا أطلقت في الشرع، فإنما يراد بها ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم ونهى عنه وندب إليه قولاً وفعلاً مما لم ينطق به الكتاب العزيز، ولهذا يقال في أدلة الشرع: الكتاب والسُّنَّة، أي القرآن والحديث". 2
2- وقال الإمام الشاطبي: "ويطلق لفظ السُّنَّة أيضاً في مقابلة البدعة، فيقال: فلان على سُّنَّةٍ، إذا عمل على وفق ما عمل عليه النبي صلى الله عليه وسلم، ويقال: فلان على بدعةٍ، إذا عمل على خلاف ذلك". 3
ثم قال أيضاً: "ويطلق لفظ السُّنَّة على ما عمل عليه الصحابة، وُجد ذلك في الكتاب أو لم يوجد، لكونه اتِّباعاً لسُنَّةٍ ثبتت عندهم لم تُنقل إلينا أو اجتهاداً مجتمعاً عليه منهم أو من
--------------------------------------------
শব্দটির আভিধানিক অর্থের মধ্যে আরও রয়েছে: উত্তম রক্ষণাবেক্ষণ ও কোনো বিষয়ের দেখাশোনা করা। এটি আরবদের এই উক্তি থেকে এসেছে: "ব্যক্তিটি তার উটগুলোকে সুচারুভাবে পরিচালনা (سنَّ) করেছে যখন সে সেগুলোর উত্তম রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখাশোনা করে।" 1
আর পারিভাষিক অর্থে: সুন্নাহ (السنة) শব্দটি প্রয়োগ করা হয় এবং এর দ্বারা বেশ কিছু পরিভাষা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে: -
1- ইবনে মানজুর বলেছেন: "হাদিসে সুন্নাহ (السنة) এবং এর থেকে রূপান্তরিত শব্দাবলির ব্যবহার বারবার হয়েছে। এর মূল অর্থ হলো: পথ (الطريقة) ও জীবনাচার (السيرة)। যখন শরিয়তের পরিভাষায় এটি প্রয়োগ করা হয়, তখন এর দ্বারা কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নির্দেশ দিয়েছেন, যা থেকে নিষেধ করেছেন এবং যার প্রতি উৎসাহিত করেছেন—কথায় ও কাজে—তাই উদ্দেশ্য হয়, যা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বর্ণিত হয়নি। এই কারণেই শরিয়তের দলিলসমূহের ক্ষেত্রে বলা হয়: কিতাব ও সুন্নাহ (السنة), অর্থাৎ কুরআন ও হাদিস।" 2
2- ইমাম শাতিবি বলেছেন: "সুন্নাহ (السنة) শব্দটি বিদআত (البدعة)-এর বিপরীতেও ব্যবহৃত হয়। তখন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি সুন্নাহর (سنة) ওপর রয়েছেন, যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন তার অনুগামী হয়ে আমল করেন। আর বলা হয়: অমুক ব্যক্তি বিদআতের (بدعة) ওপর রয়েছেন, যখন তিনি এর পরিপন্থী আমল করেন।" 3
এরপর তিনি আরও বলেন: "সাহাবিগণ যে বিষয়ের ওপর আমল করেছেন তার ওপরও সুন্নাহ (السنة) শব্দটি প্রয়োগ করা হয়, চাই তা কিতাবে থাকুক বা না থাকুক। কারণ তা হয় তাদের নিকট প্রমাণিত এমন কোনো সুন্নাহর (سنة) অনুসরণ যা আমাদের নিকট বর্ণিত হয়নি, অথবা তাদের পক্ষ থেকে কোনো সম্মিলিত গবেষণা (اجتهاد) বা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
خلفائهم لقوله صلى الله عليه وسلم: "عليكم بسنَّتي وسنَّةِ الخلفاء الراشدين المهديين". 1
وبعد أن استقرت المصطلحات، وقعدت العلوم الاسلامية، أصبح للفظ السُّنَّة مفهومات ومصطلحات جديدة منها:
1- ما يذكره المحدثون في كتبهم: "كل ما أُثِر عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم من قولٍ أو فعلٍ أو تقريرٍ أو صفةٍ". 2
2- ما يذكره علماء أصول الفقه: "كل ما صدر عن النَّبي صلى الله عليه وسلم من قولٍ أو فعلٍ أو تقريرٍ مما يصلح أن يكون دليلاً لحكمٍ شرعى". 3
3- ما يذكره الفقهاء في كتبهم: "ما في فعله ثوابٌ وفي تركه ملامةٌ وعتابٌ لا عقاب". 4
--------------------------------------------
তাদের খলিফাগণ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীর প্রেক্ষিতে: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো।" ১
পরিভাষাগুলো যখন সুসংহত হলো এবং ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন 'সুন্নাহ' শব্দের নতুন কিছু অর্থ ও পারিভাষিক সংজ্ঞা নির্ধারিত হলো, যার মধ্যে রয়েছে:
১- মুহাদ্দিসগণ তাদের কিতাবসমূহে যা উল্লেখ করেন: "নবী (সা.) থেকে বর্ণিত (أُثِر) সকল কথা, কাজ, মৌনসম্মতি অথবা বৈশিষ্ট্য।" ২
২- উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ যা উল্লেখ করেন: "নবী (সা.) থেকে প্রকাশিত সকল কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি যা শরিয়তের কোনো বিধানের দলিল হওয়ার যোগ্য।" ৩
৩- ফকিহগণ তাদের কিতাবসমূহে যা উল্লেখ করেন: "যার পালনে সওয়াব রয়েছে এবং বর্জনে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা রয়েছে কিন্তু কোনো শাস্তি নেই।" ৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أو: "ما أمر به أمراً غير جازم" 1
وجملة تدوين السُّنَّة من باب الإضافة المعنوية الحقيقية المحضة، وذلك لأن الإضافة فيه بمعنى اللام وإنها مؤثرة في المضاف تعريفاً حيث أضيف إلى معرفة فاكتسب التعريف من إضافته إليها 2، والله أعلم.
أما جملة: نشأته وتطوره فتقدم الكلام على ذلك في المقدمة.
--------------------------------------------
অথবা: "যা দ্বারা এমন কোনো আদেশ প্রদান করা হয়েছে যা চূড়ান্ত নয়" ১
আর সুন্নাহর সংকলন (تدوين) বাক্যটি বিশুদ্ধ প্রকৃত অর্থগত সম্বন্ধ (الإضافة المعنوية الحقيقية المحضة)-এর অন্তর্ভুক্ত; আর তা এই কারণে যে, এখানে এই সম্বন্ধটি 'লাম' (اللام) অব্যয়ের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এটি সম্বন্ধযুক্ত পদের (المضاف) নির্দিষ্টকরণে (تعريفاً) প্রভাব ফেলে যেহেতু এটি একটি নির্দিষ্ট পদের (معرفة) সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে, ফলে তার মাধ্যমেই এটি নির্দিষ্টতা লাভ করেছে ২, আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
আর "এর উৎপত্তি ও বিকাশ" বাক্যটি সম্পর্কে ইতিপূর্বে ভূমিকায় আলোচনা করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الباب الأول: مكانة السنة في الإسلام وعناية السلف بها
الفصل الأول: ما جاء في التسوية بين حكم كتاب الله وحكم سُّنَّة…الفصل الأول: ما جاء في التسوية بين حكم كتاب الله وحكم سُّنَّة
رسول الله صلى الله عليه وسلم 1
السُّنَّة بالمعنى الذي مرَّ ذكره في التمهيد "ما أضيف إلى النَّبي صلى الله عليه وسلم من قولٍ أو فعلٍ أو تقريرٍ " هى أحد قسمي الوحي الإلهي الذي أُنزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم والقسم الآخر من الوحي هو القرآن الكريم الذي
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: ইসলামে সুন্নাহর মর্যাদা এবং এর প্রতি সালাফগণের (سلف) বিশেষ গুরুত্ব প্রদানপ্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর কিতাবের বিধান ও সুন্নাহর বিধানের মাঝে সমতা বিধান প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে…প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর কিতাবের বিধান ও সুন্নাহর বিধানের মাঝে সমতা বিধান প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১
সুন্নাহ বলতে উপক্রমণিকায় যে অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে— "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত কোনো কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি"— তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ ওহি (وحي)-এর দুটি অংশের একটি। ওহি (وحي)-এর অপর অংশটি হলো পবিত্র কুরআন, যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
هو كلام الله ربِّ العالمين، مُنَزَّلٌ غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود. وقد جاءت النصوص من القرآن والسُّنَّة وإجماع السلف مصرحة بذلك.
فمن القرآن:
قوله تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنْ الهَوَى إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوْحَى} 1
وقوله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} . 2 وقوله سبحانه: {وَمَاآتَاكُمْ الرَّسُولُ فَخُذُوْهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ شَدِيْدُ العِقَابِ} . 3
وقوله سبحانه: {قلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوُنَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمْ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} . 4
وقوله تبارك وتعالى: {فلَا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيْمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجَاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيْمَاً} . 5
--------------------------------------------
এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর বাণী, যা অবতীর্ণ (منزل) এবং সৃষ্টি (مخلوق) নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর নিকটেই তা ফিরে যাবে। আল-কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফদের ঐকমত্য (إجماع) থেকে প্রাপ্ত দলীলসমূহ (نصوص) স্পষ্টভাবে এটি ব্যক্ত করেছে।
আল-কুরআন থেকে:
মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কথা বলেন না। এটি তো কেবল অহী (وحي), যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।} ১
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমি আপনার প্রতি যিকর অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে দেন এবং যেন তারা চিন্তা-গবেষণা করে।}। ২ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।}। ৩
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।}। ৪
এবং মহান বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর বাণী: {কিন্তু না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা ঈমানদার (مؤمن) হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক নিয়োগ করে; অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।}। ৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقوله عز وجل: {فليحذَرِ الَّذِيْنَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيْبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيْبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ} . 1
وهناك آياتٌ كثيرة في الحثِّ على اتباع السُّنَّة ووجوب لزومها وتحريم مخالفتها، ولا يتسع المقام لسردها كلها هنا.
ومن السُّنَّة:
1- عن أبي رافعٍ مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا ألفين أحدكم متكئاً على أريكته يأتيه أمرٌ مما أَمرتُ به أو نهيت عنه فيقول: لا أدري ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه". 2
2- وعن المقدام بن معد يكرب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه، ألا يوشك رجل شبعان على أريكته يقول: عليكم بهذا القرآن، فما وجدتم فيه من حلالٍ فأحلُّوه، وما وجدتم فيه من حرام فحرِّموه، ألا وإن ما حرَّم رسول الله صلى الله عليه وسلم كما حرَّم الله". 3
3- وعن جابر بن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لعلَّ أحدكم يأتيه حديثٌ من حديثي وهو متكئٌ على أريكته
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর ফিতনা (বিপর্যয়) আপতিত হতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হতে পারে।} ১
সুন্নাহ অনুসরণ করার ব্যাপারে উৎসাহিত করে, এটি আঁকড়ে ধরা আবশ্যিক হওয়ার বিষয়ে এবং এর বিরোধিতা করা হারাম হওয়ার বিষয়ে এমন অনেক আয়াত রয়েছে, যা সব এখানে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করার স্থান সংকুলান হবে না।
এবং সুন্নাহ থেকে:
১- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত দাস আবু রাফে রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে তার আসনে হেলান দেওয়া অবস্থায় এমন না পাই যে, তার কাছে আমার নির্দেশিত কোনো আদেশ কিংবা আমার নিষিদ্ধ কোনো নিষেধ আসে এবং সে বলে: 'আমি জানি না, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি শুধু তারই অনুসরণ করেছি'।" ২
২- মিকদাম ইবনে মা'দী কারিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তারই অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তি তার আসনে হেলান দিয়ে বলবে: 'তোমরা শুধু এই কুরআনকে গ্রহণ করো; এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল মানবে এবং এতে যা হারাম পাবে তাকেই হারাম মানবে'। জেনে রেখো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম করেছেন তা মহান আল্লাহর হারাম করার মতোই।" ৩
৩- জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হয়তো তোমাদের কারো কাছে আমার কোনো হাদিস পৌঁছাবে যখন সে তার আসনে হেলান দিয়ে থাকবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ২০)
فيقول: دعونا من هذا، ما وجدنا في كتاب الله اتَّبعناه". 1
4- وعن العرباض بن سارية أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة وإن عبداً حبشياً، فإنه من يعش منكم فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسنَّتي وسنَّة الخلفاء المهديين الراشدين، تمسَّكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإنَّ كل محدثةٍ بدعة، وكل بدعةٍ ضلالة". 2
والنصوص من السُّنَّة كثيرة في الحثِّ على الالتزام بالسُّنَّة وتبليغها، وأكتفي هنا بما ذكرت. 3
ومن أقوال السلف:
1- عن الحسن البصري أن عمران بن الحصين كان جالساً ومعه أصحابه فقال رجل من القوم: لا تحدثونا إلا بالقرآن، قال: فقال له: أدن فدنا، فقال: "أرأيت لو وُكِلتَ أنت وأصحابك إلى القرآن أكنت تَجِدُ فيه صلاة الظهر أربعاً، وصلاة العصر أربعاً والمغرب ثلاثاً تقرأ في اثنتين
أرأيت لو وُكِلت أنت وأصحابك إلى القرآن، أكنت تَجد الطواف سبعاً، والطواف بالصفا والمروة؟
--------------------------------------------
তিনি বলেন: "আমাদের এসব থেকে রেহাই দিন; আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি কেবল তারই অনুসরণ করেছি।" ১
4- আর আরবাজ ইবন সারিয়াহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি এবং (নেতার কথা) শ্রবণ ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি, যদিও সে একজন হাবশী দাস হয়। কারণ তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই প্রচুর মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাহ (سنة) এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ও সঠিক পথগামী খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে (سنة) আঁকড়ে ধরবে। তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখবে। আর তোমরা দ্বীনের নবপ্রবর্তিত বিষয়সমূহ (محدثات الأمور) থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রতিটি নবপ্রবর্তিত বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة)।" ২
সুন্নাহ (سنة) মেনে চলার এবং তা পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সুন্নাহ (سنة) থেকে এমন অনেক পাঠ (نصوص) বিদ্যমান রয়েছে; আমি এখানে যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট মনে করছি। ৩
আর পূর্বসূরীদের (سلف) কিছু বাণী:
1- হাসান বসরী থেকে বর্ণিত যে, ইমরান ইবন হুসাইন (রা.) বসা ছিলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর সঙ্গীরাও ছিলেন। তখন সেই দলের এক ব্যক্তি বলল: "আমাদের কাছে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু বর্ণনা করবেন না।" তিনি তাকে বললেন: "কাছে আসো।" সে কাছে এল। তখন তিনি বললেন: "তোমার কী মনে হয়, যদি তোমাকে ও তোমার সঙ্গীদের কেবল কুরআনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে কি তুমি সেখানে যোহরের সালাত চার রাকাত, আসরের সালাত চার রাকাত এবং মাগরিবের সালাত তিন রাকাত পেতে, যার দুটিতে কিরাত পড়তে হয়?
তোমার কী মনে হয়, যদি তোমাকে ও তোমার সঙ্গীদের কেবল কুরআনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে কি তুমি তওয়াফ সাতবার হওয়ার এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে তওয়াফ (সায়ী) করার বিধান সেখানে পেতে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ২১)
ثم قال: أي قوم خذوا عنَّا، فإنَّكم والله إن لا تفعلوا لتضُلُّن". 1
2- عن محمد بن كثير، عن الأوزاعى، عن حسان بن عطية قال: "كان جبريل ينزل على النَّبي صلى الله عليه وسلم بالسُّنَّة كما ينزل عليه بالقرآن". 2
3- وعن أيوب السختياني: أن رجلاً قال لمطرف بن عبد الله ابن الشخير: لا تحدثونا إلا بما في القرآن، فقال له مطرف: "إنَّا والله ما نريد بالقرآن بدلاً، ولكنا نريد من هو أعلم بالقرآن منا". 3
4- وعن الأوزاعي قال: قال أيوب السختيانى: "إذا حدثت الرجل بالسُّنَّة فقال: دعنا من هذا وحدثنا من القرآن، فاعلم أنه ضالٌّ مضلٌّ". 4
5- قال الأوزاعي، ومكحول، ويحي بن أبى كثير وغيرهم: "القرآن أحوج إلى السُّنَّة من السُّنَّة إلى الكتاب، والسُّنَّة قاضيةٌ على الكتاب، وليس الكتاب قاضياً على السُّنَّة". 5
--------------------------------------------
এরপর তিনি বললেন: "হে লোক সকল! তোমরা আমাদের থেকে (ইলম) গ্রহণ করো, কারণ আল্লাহর শপথ, তোমরা যদি তা না করো তবে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবে।" 1
2- মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর থেকে বর্ণিত, তিনি আওজাঈ থেকে, তিনি হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সুন্নাহ নিয়ে অবতীর্ণ হতেন, যেভাবে তিনি তাঁর নিকট কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হতেন।" 2
3- আইয়ুব সাখতিয়ানী থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আশ-শিখখীরকে বলল: "আপনি আমাদের কাছে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু বর্ণনা করবেন না।" তখন মুতাররিফ তাকে বললেন: "আল্লাহর শপথ, আমরা কুরআনের কোনো বিকল্প চাইছি না, বরং আমরা এমন কাউকে চাইছি যিনি আমাদের চেয়ে কুরআন সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখেন।" 3
4- আওজাঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আইয়ুব সাখতিয়ানী বলেছেন: "যখন তুমি কোনো ব্যক্তির কাছে সুন্নাহ বর্ণনা করবে আর সে বলবে: 'এসব ছাড়ো, আমাদের কাছে কুরআন থেকে বর্ণনা করো', তবে জেনে রেখো যে সে নিজে পথভ্রষ্ট (ضال) এবং অন্যকে পথভ্রষ্টকারী (مضل)।" 4
5- আওজাঈ, মাকহুল, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর এবং অন্যান্যগণ বলেন: "কুরআন সুন্নাহর প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী, সুন্নাহ কিতাবুল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার চেয়েও বেশি। আর সুন্নাহ হলো কিতাবুল্লাহর ওপর ফয়সালাকারী (قاضية), কিন্তু কিতাবুল্লাহ সুন্নাহর ওপর ফয়সালাকারী (قاضية) নয়।" 5
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ২২)
6- وقال الفضل بن زياد: "سمعت أبا عبد الله يعني أحمد بن حنبل - وسئل عن الحديث الذي روي أن السُّنَّة قاضيةٌ على الكتاب فقال -: ما أجسر على هذا أن أقوله، ولكن السُّنَّةَ تفسر الكتاب، وتعرف الكتاب وتبيِّنُه". 1
7- ذكر الإمام الشافعي الآيات التي ذكر فيها الكتاب والحكمة كقوله تعالى: {لقدَ مَنَّ اللهُ عَلَى المؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيْهِمْ رَسُولاً مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيْهِمْ وَيُعَلِّمُهُمْ الكِتَابَ وَالحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ} . 2
ثم قال: "ذكر الله الكتاب وهو القرآن، وذكر الحكمة فسمعت من أرضى من أهل العلم بالقرآن يقول: الحكمة سُّنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لأنَّ القرآن ذِكرٌ واتَّبعته الحكمة، وذكر الله منَّه على خلقه بتعليمهم الكتاب والحكمة، فلم يجز- والله أعلم – أن يقال: الحكمة ها هنا إلا سُّنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وذلك أنها مقرونة مع كتاب الله، وأن الله افترض طاعة رسوله وحتَّم على الناس اتِّباع أمره، فلا يجوز أن يقال لقولٍ: فرض إلا لكتاب الله، ثم سُّنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم. 3
8- قال الحافظ أبو عمر ابن عبد البر: "البيان منه صلى الله عليه وسلم على ضربين:
--------------------------------------------
6- এবং ফজল ইবনে জিয়াদ বলেছেন: "আমি আবু আব্দুল্লাহ অর্থাৎ আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি—যখন তাকে সেই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যাতে বর্ণিত হয়েছে (روي) যে সুন্নাহ কুরআনের ওপর ফয়সালাকারী (قاضية), তখন তিনি বললেন—: আমি এটি বলার সাহস রাখি না; বরং সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করে (تفسر), কুরআনকে পরিচিত করে এবং তা বিশদভাবে বর্ণনা করে (تبينه)।" 1
7- ইমাম শাফিঈ সেই আয়াতগুলো উল্লেখ করেছেন যাতে কিতাব ও হিকমাহ-এর কথা বর্ণিত হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল}। 2
এরপর তিনি বলেন: "আল্লাহ কিতাব উল্লেখ করেছেন যা হলো কুরআন, এবং তিনি হিকমাহ উল্লেখ করেছেন। আমি কুরআন সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এমন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে যাঁকে পছন্দ করি বা যাঁর প্রতি আমি সন্তুষ্ট (أرضى) তাঁকে বলতে শুনেছি: হিকমাহ হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة); কারণ কুরআন হলো মূল উপদেশ এবং সুন্নাহ তার অনুসারী। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ওপর কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষার মাধ্যমে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং—আর আল্লাহই ভালো জানেন—এখানে হিকমাহ বলতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) ব্যতীত অন্য কিছু বলা বৈধ নয়। আর তা এই কারণে যে, এটি আল্লাহর কিতাবের সাথে যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়েছে, এবং আল্লাহ তাঁর রাসুলের আনুগত্য ফরজ (فرض) করেছেন ও মানুষের ওপর তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করা আবশ্যক করেছেন। অতএব আল্লাহর কিতাব এবং এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) ব্যতীত অন্য কোনো কথাকে আবশ্যিক বা ফরজ (فرض) বলা সংগত নয়। 3
8- হাফেজ আবু ওমর ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে বিশদ ব্যাখ্যা বা বর্ণনা (البيان) দুই প্রকার:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الأول: بيان المجمل في الكتاب العزيز كالصلوات الخمس في مواقيتها وسجودها وركوعها وسائر أحكامها، وكبيانه للزكاة وحدِّها ووقتها وما الذي تؤخذ منه الأموال، وبيان مناسك الحج، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ حج الناس: "خذوا عني مناسككم" 1.
الثاني: زيادة على حكم الكتاب كتحريم نكاح المرأة على عمتها وخالتها، وكتحريم الحُمُر الأهلية، وكل ذي نابٍ من السباع إلى أشياء يطول ذكرها.
وقد أمر الله عز وجل بطاعته واتباعه أمراً مطلقاً مجملاً لم يُقيَّد بشيءٍ كما أمرنا باتِّباع كتاب الله، ولم يقل ما وافق كتاب الله كما قال بعض أهل الزيغ". 2
9- قال ابن القيم: "وقد صنَّف الإمام أحمد رضي الله عنه كتاباً في طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم ردَّ فيه على من احتجَّ بظاهر القرآن في معارضة سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم وترك الاحتجاج بها، فقال في أثناء خطبته: إن الله جلَّ ثناؤه وتقدست أسماؤه بعث محمداً بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون، وأنزل عليه كتابه الهدى والنور لمن اتبعه، وجعل رسوله الدَّال على ما أراد من ظاهره وباطنه، وخاصِّه وعامِّه، وناسخه ومنسوخه، وما قصد له الكتاب، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم هو
--------------------------------------------
প্রথমত: পবিত্র কুরআনের অস্পষ্ট (مجمل) বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা প্রদান, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়সূচি, এর সিজদা, রুকু এবং অন্যান্য বিধিবিধান; তেমনিভাবে যাকাতের বর্ণনা, এর সীমা, সময় এবং কোন ধরণের সম্পদ থেকে তা গ্রহণ করা হবে তার বর্ণনা এবং হজের নিয়মাবলীর বর্ণনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মানুষের সাথে হজ পালন করেন, তখন বলেছিলেন: "তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলী শিখে নাও।" 1.
দ্বিতীয়ত: কুরআনের বিধানের অতিরিক্ত কিছু বিধান প্রদান, যেমন কোনো নারীকে তার ফুফু বা খালার সাথে একত্রে বিবাহ করা নিষিদ্ধ (تحريم) করা, গৃহপালিত গাধা নিষিদ্ধ (تحريم) করা এবং শিকারি দাঁতযুক্ত সকল হিংস্র প্রাণী নিষিদ্ধ (تحريم) করা থেকে শুরু করে এমন আরও অনেক বিষয় যা বর্ণনা করতে গেলে দীর্ঘ হবে।
আল্লাহ তাআলা তাঁর (রাসুলের) আনুগত্য ও অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন একটি শর্তহীন (مطلق) ও সামগ্রিক (مجمل) আদেশের মাধ্যমে, যা কোনো কিছুর দ্বারা সীমাবদ্ধ (مقيد) করা হয়নি, যেমনটি তিনি আমাদের আল্লাহর কিতাব অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এমনটি বলেননি যে, 'যা আল্লাহর কিতাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে (কেবল সেটিই অনুসরণ করো)', যেমনটি কিছু বিভ্রান্ত লোকের দল বলে থাকে। ২
৯- ইবনুল কায়্যিম বলেন: "ইমাম আহমাদ (রা.) রাসুলের আনুগত্য সম্পর্কে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যাতে তিনি এমন লোকদের প্রতিবাদ করেছেন যারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর বিরোধিতায় কুরআনের বাহ্যিক (ظاهر) অর্থের মাধ্যমে দলিল (احتجاج) পেশ করে এবং সুন্নাহকে দলিল (احتجاج) হিসেবে গ্রহণ করা ত্যাগ করে। তিনি তাঁর আলোচনার সূচনায় বলেছেন: মহান আল্লাহ—যার প্রশংসা উচ্চ এবং নামসমূহ পবিত্র—মুহাম্মাদ (সা.)-কে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তিনি একে সমস্ত দ্বীনের উপর বিজয়ী করেন যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। তিনি তাঁর ওপর এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা অনুসারীদের জন্য হিদায়াত ও আলো। আর তিনি তাঁর রাসুলকে কিতাবের বাহ্যিক (ظاهر) ও অভ্যন্তরীণ (باطن), বিশেষ (خاص) ও সাধারণ (عام), এবং রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়সমূহ সহ কিতাব দ্বারা যা উদ্দেশ্য করা হয়েছে তার নির্দেশক বানিয়েছেন। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المعبِّر عن كتاب الله، الدَّال على معانيه، شاهده في ذلك أصحابه الذين ارتضاهم الله لنبيه واصطفاهم له، ونقلوا ذلك عنه، فكانوا هم أعلم الناس برسول الله صلى الله عليه وسلم وبما أراد الله من كتابه بمشاهدتهم، وما قصد له الكتاب، فكانوا هم المعبِّرين عن ذلك بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم قال جابر: ورسول الله صلى الله عليه وسلم بين أظهرنا، عليه ينزل القرآن، وهو يعرف تأويله وما عمل به من شيء عملنا به".
ثم ساق الآيات الدَّالة على طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم. 1
--------------------------------------------
আল্লাহর কিতাবের মর্মার্থ ব্যক্তকারী এবং এর অর্থসমূহের নির্দেশক (রাসূলুল্লাহ সা.)-এর সাক্ষী ছিলেন তাঁর সেই সকল সাহাবী, যাঁদের আল্লাহ তাঁর নবীর জন্য মনোনীত ও নির্বাচিত করেছেন। তাঁরা তাঁর নিকট থেকে তা বর্ণনা (نقل) করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শিতার কারণে তাঁরাই ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং কিতাবের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য (مقصد) সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর তাঁরাই ছিলেন এর ব্যাখ্যাকারী। জাবির (রা.) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল এবং তিনি এর ব্যাখ্যা (تأويل) জানতেন। তিনি কোনো বিষয়ে যেমন আমল করতেন, আমরাও তদ্রূপ আমল করতাম"৷
এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্যের আবশ্যকতা নির্দেশক আয়াতসমূহ উল্লেখ করেছেন। ১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الفصل الثاني: عناية السلف بالسنة
أولا: العناية بالسنة في عصر الصحابة…الفصل الثاني: عناية السلف بالسُّنَّة
تنوعت عناية السلف - رحمهم الله تعالى - بالسُّنَّة المطهرة، وذلك حسب الإمكانات والوسائل المتاحة في كل عصر، ولذلك نلاحظ أنهم يبذلون غاية الجهد وكافة الإمكانات ومختلف الوسائل في العناية بالسُّنَّة علماً وعملاً، حفظاً وكتابة، ودراسة ونشراً بين الأمة كما سأبيِّنه في هذا الفصل إن شاء الله تعالى، وسأذكر نماذج من تلك العناية مراعياً ترتيب العصور تاريخياً ومقتصراً على القرون المفضلة التي تنتهي بنهاية القرن الثالث الهجري عصر ازدهار تدوين السُّنَّة وعلومها.
أولاً: العناية بالسُّنَّة في عصر الصحابة:
كان الصحابة رضوان الله عليهم في عهد الرسول الله صلى الله عليه وسلم يستفيدون أحكام الشريعة من القرآن الكريم الذي يتلقونه عن الرسول صلى الله عليه وسلم.
وكثيراً ما كانت تنزل آيات من القرآن الكريم مجملة غير مفصلة، أو مطلقة غير مقيدة كالأمر بالصلاة جاء مجملاً لم يبيّن في القرآن عدد ركعاتها ولا هيئتها ولا أوقاتها، وكالأمر بالزكاة جاء مطلقاً لم يقدر بالحد الأدنى الذي تجب فيه الزكاة ولم يبين مقاديرها ولا شروطها.
وكذلك كثيرٌ من الأحكام التي لا يمكن العمل بها دون الوقوف
দ্বিতীয় অধ্যায়: সুন্নাহর প্রতি সালাফদের গুরুত্বারোপপ্রথমত: সাহাবায়ে কেরামের যুগে সুন্নাহর প্রতি গুরুত্বারোপ…দ্বিতীয় অধ্যায়: সুন্নাহর প্রতি সালাফদের গুরুত্বারোপ
সালাফ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন)-গণ পবিত্র সুন্নাহর প্রতি বিবিধ উপায়ে গুরুত্বারোপ করেছেন, যা প্রতিটি যুগে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা ও উপায়-উপকরণের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই কারণে আমরা লক্ষ্য করি যে, তাঁরা জ্ঞানগত ও আমলিভাবে, হিফজ (সংরক্ষণ) ও লিখন এবং উম্মাহর মাঝে অধ্যয়ন ও প্রসারের ক্ষেত্রে সুন্নাহর প্রতি যত্ন নিতে গিয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা, সকল সক্ষমতা ও বিভিন্ন মাধ্যম ব্যয় করেছেন। ইনশাআল্লাহ, আমি এই অধ্যায়ে এ বিষয়টি স্পষ্ট করব। আমি ঐতিহাসিকভাবে যুগের পর্যায়ক্রম বজায় রেখে এবং কেবলমাত্র সেই মর্যাদাপূর্ণ যুগসমূহের ওপর সীমাবদ্ধ থেকে এই বিশেষ গুরুত্বারোপের কতিপয় নমুনা উল্লেখ করব, যা হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগে সুন্নাহর সংকলন ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহের সমৃদ্ধির যুগের সমাপ্তির সাথে শেষ হয়েছে।
প্রথমত: সাহাবায়ে কেরামের যুগে সুন্নাহর প্রতি গুরুত্বারোপ:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁর কাছ থেকে প্রাপ্ত কুরআন মাজিদ থেকে শরিয়তের বিধানসমূহ গ্রহণ করতেন।
প্রায়শই কুরআন মাজিদের আয়াতসমূহ সংক্ষিপ্ত (مجمل) বা বিস্তারিত ব্যাখ্যাহীন এবং সাধারণ (مطلق) বা সীমাবদ্ধতাহীন অবস্থায় অবতীর্ণ হতো। যেমন সালাতের আদেশটি সংক্ষিপ্ত (مجمل) আকারে এসেছে, কুরআনে এর রাকাত সংখ্যা, পদ্ধতি বা ওয়াক্তসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়নি। অনুরূপভাবে জাকাতের নির্দেশটি সাধারণ (مطلق) হিসেবে এসেছে, যেখানে জাকাত ফরজ হওয়ার সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করা হয়নি এবং এর পরিমাণ বা শর্তাবলিও বর্ণনা করা হয়নি।
তেমনিভাবে আরও অনেক বিধান রয়েছে যেগুলো পরিপালন করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না সেগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত অবগত হওয়া যায়...
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
على شرح ما يتصل بها من شروط وأركان، فكان لا بد لهم من الرجوع إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لمعرفة الأحكام معرفة تفصيلية
ورسول الله صلى الله عليه وسلم هو المبلِّغ عن ربِّه وأدرى الخلق بمقاصد شريعة الله عز وجل وحدودها ومراميها.
وقد أخبر الله في كتابه الكريم عن مهمة الرسول صلى الله عليه وسلم بالنسبة للقرآن أنه مبيِّنٌ له، وموضحٌ لمراميه وآياته حيث يقول تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} . 1
وكان الصحابة رضي الله عنهم يلتزمون حدود أمره ونهيه، ويقتدون به صلى الله عليه وسلم في كل أعماله وعباداته ومعاملاته - إلا ما علموا منه أنه خاص به - فكانوا يتعلمون منه أحكام الصلاة وأركانها وهيئتها أخذاً بقوله صلى الله عليه وسلم: "صلوا كما رأيتموني أصلي". 2
ويأخذون عنه مناسك الحج وشعائره امتثالاً لأمره صلى الله عليه وسلم: "خذوا عني مناسككم". 3
وقد بَلَغَ من اقتدائهم به أنْ كانوا يفعلون ما يفعل، ويتركون ما
--------------------------------------------
শর্তাবলি (شروط) ও রুকনসমূহ (أركان) সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক ব্যাখ্যা প্রদানের প্রয়োজনে আহকাম বা বিধানাবলি বিস্তারিতভাবে জানার নিমিত্তে তাঁদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রত্যাবর্তন করা অপরিহার্য ছিল।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন তাঁর রবের পক্ষ থেকে বার্তা পৌঁছানোকারী এবং তিনি সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ, এর সীমারেখা ও লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।
আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবে কুরআনের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দায়িত্ব সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি এর ব্যাখ্যাকারী (مبين) এবং এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও আয়াতসমূহের সুস্পষ্টকারী। যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: "আর আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।" ১
সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম তাঁর আদেশ ও নিষেধের সীমারেখা মেনে চলতেন এবং তাঁর সকল কাজ, ইবাদত ও লেনদেনের ক্ষেত্রে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুসরণ করতেন—কেবল সেই বিষয়গুলো ব্যতীত যা তাঁরা তাঁর জন্য সুনির্দিষ্ট (خاص) বলে জানতেন। তাঁরা তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী অনুসরণে সালাতের আহকাম, রুকনসমূহ (أركان) ও এর নিয়ম-পদ্ধতি শিখতেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।" ২
এবং তাঁরা তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ পালনার্থে তাঁর নিকট থেকে হজের নিয়মাবলি (مناسك) ও এর নিদর্শনসমূহ গ্রহণ করতেন: "তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি গ্রহণ করো।" ৩
তাঁদের অনুকরণের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তিনি যা করতেন তাঁরা তা-ই করতেন এবং তিনি যা বর্জন করতেন তাঁরা তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يترك دون أن يعلموا لذلك سبباً، أو يسألوه عن علَّته أو حكمته.
أخرج البخاري عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: "اتخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم خاتماً من ذهب، فاتخذ الناس خواتيم من ذهب، ثم نبذه النبي صلى الله عليه وسلم وقال: إني لن ألبسه أبداً، فنبذ الناس خواتيمهم". 1
وأخرج أبو داود عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: "بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي بأصحابه إذْ خلع نعليه فوضعهما عن يساره، فلما رأى ذلك القوم ألقوأ نعالهم، فلما قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاته قال: ما حملكم على إلقاء نعالكم قالوا: رأيناك ألقيت نعليك فألقينا نعالنا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن جبريل عليه السلام أتاني فأخبرني أن فيهما قذراً، أو قال: أذى". 2
ولقد بلغ حرصهم على تتبعهم لأقواله وأعماله أن كان بعضهم يتناوبون ملازمة مجلسه يوماً بعد يوم، فهذا عمر بن الخطاب رضي اله عنه يقول - فيما أخرجه عنه البخاري -: "كنت أنا وجارٌ لي من الأنصار في بني أمية بن زيد - وهي من عوالي المدينة - وكنا نتناوب النزول على رسول الله صلى الله عليه وسلم، ينزل يوماً
--------------------------------------------
তারা এর কারণ না জেনেই অথবা এর কার্যকারণ (علة) বা প্রজ্ঞা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা না করেই তা বর্জন করতেন।
বুখারী ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি স্বর্ণের আংটি গ্রহণ করলেন, ফলে লোকেরাও স্বর্ণের আংটিসমূহ গ্রহণ করল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি বর্জন করলেন এবং বললেন: আমি এটি আর কখনো পরিধান করব না। ফলে লোকেরাও তাদের আংটিগুলো বর্জন করল।" ১
আবু দাউদ আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর জুতো জোড়া খুলে ফেললেন এবং তা নিজের বাম পাশে রাখলেন। যখন লোকেরা তা দেখল, তারা তাদের জুতো জোড়া ছুঁড়ে ফেলল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন: তোমাদের জুতো ছুঁড়ে ফেলার কারণ কী? তারা বলল: আমরা আপনাকে জুতো খুলে ফেলতে দেখেছি, তাই আমরাও আমাদের জুতো ছুঁড়ে ফেলেছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: নিশ্চয়ই জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমাকে জানিয়েছিলেন যে, তাতে অপবিত্রতা রয়েছে, অথবা তিনি বলেছেন: ময়লা রয়েছে।" ২
তাঁর কথা ও কাজ অনুসরণের ব্যাপারে তাঁদের আগ্রহ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তাঁদের কেউ কেউ দিন বদল করে পালাক্রমে তাঁর মজলিসে উপস্থিত থাকতেন। এই যে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলছেন—যা তাঁর থেকে বুখারী বর্ণনা করেছেন—: "আমি এবং আনসারদের মধ্য থেকে আমার একজন প্রতিবেশী বনু উমাইয়া বিন যায়দ গোত্রে থাকতাম—যা মদীনার উচ্চভূমি এলাকার অন্তর্ভুক্ত—এবং আমরা পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হতাম; সে একদিন যেত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأنزل يوماً، فإذا نزلت جئته بخبر ذلك اليوم، وإذا نزل فعل مثل ذلك". 1
كما كانت القبائل النائية عن المدينة ترسل إليه صلى الله عليه وسلم بعض أفرادها ليتعلموا أحكام الإسلام من رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم يرجعون إليه معلمين ومرشدين، بل كان الصحابي يقطع المسافات الشاسعة ليسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن مسألةٍ نازلةٍ أو حكمٍ شرعيٍ، ثم يرجع لا يلوي على شيء.
أخرج البخاري في صحيحه عن عقبة بن الحارث "أن امرأة أخبرته بأنها أرضعته وزوجته فركب من فوره – وكان بمكة - قاصداً المدينة حتى بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم، فسأله عن حكم الله فيمن تزوج امرأةً لا يعلم أنها أخته من الرضاع، ثم أخبرته بذلك من أرضعتهما، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "كيف وقد قيل". 2
وكذلك كان من عادتهم رضي الله عنهم أن يسألوا زوجات النَّبي صلى الله عليه وسلم فيما يتعلق بشئون الرجل مع زوجته لعلمهن بذلك.
كما كانت النساء تذهب إلى زوجات النَّبي صلى الله عليه وسلم ليسألنهن عن أمور دينهن، وأحيانأ يسألن رسول الله صلى الله
--------------------------------------------
"...এবং আমি একদিন (মদিনায়) যেতাম; যখন আমি যেতাম তাঁর নিকট ঐ দিনের সংবাদ নিয়ে আসতাম, আর যখন তিনি যেতেন তিনিও অনুরূপ করতেন।" ১
তেমনিভাবে মদিনা থেকে দূরবর্তী গোত্রগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাদের কিছু সদস্যকে প্রেরণ করত যাতে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে ইসলামের বিধানসমূহ শিখতে পারে, অতঃপর তারা শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে তাদের কওমের নিকট ফিরে যেত। এমনকি সাহাবীগণ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসতেন কোনো উদ্ভূত সমস্যা বা শরয়ী বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য, অতঃপর কোনো কিছুর অপেক্ষা না করেই ফিরে যেতেন।
ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে উকবা ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "এক নারী তাঁকে সংবাদ দিলেন যে তিনি তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে দুধপান করিয়েছেন। ফলে তিনি তৎক্ষণাৎ—মক্কায় থাকা সত্ত্বেও—মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালেন। তিনি তাঁকে ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে আল্লাহর বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে এমন এক নারীকে বিবাহ করেছে যাকে সে তার দুধবোন হিসেবে জানত না, অতঃপর যিনি তাদের উভয়কে দুধপান করিয়েছেন তিনি তাঁকে বিষয়টি জানালেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'কিভাবে (বিবাহ অটুট থাকবে) অথচ তা বলা হয়েছে'।" ২
অনুরূপভাবে তাঁদের (সাহাবায়ে কেরাম) রীতি ছিল যে, পুরুষের সাথে তাঁর স্ত্রীর ব্যবহারিক বিষয়াদি সম্পর্কে তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের নিকট জিজ্ঞাসা করতেন, কারণ তাঁরা এ সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
যেমন মহিলারাও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের নিকট যেতেন তাদের দ্বীনি বিষয়সমূহ জিজ্ঞাসা করার জন্য, আর কখনো কখনো তারা সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
عليه وسلم ما يشأن السؤال عنه من أمورهن، فإذا كان هنالك ما يمنع النبي صلى الله عليه وسلم من التصريح للمرأة بالحكم الشرعي أمر إحدى زوجاته أن تفهمها إياه كما في حديث عائشة رضي الله عنها في كيفية التطهُّر من الحيض. 1
هكذا كانت عناية خير القرون - رضوان الله عليهم - بالسُّنَّة المطهَّرة في حياته صلى الله عليه وسلم اقتداءاً تاماً به ووقوفاً عند حدود أمره ونهيه، وتسليماً كاملاً لحكمه، والتزاماً دقيقاً بهديه، وحرصاً شديداً على تعلم سنَّتِه صلى الله عليه وسلم.
أما بعد وفاته صلى الله عليه وسلم فإننا نجدهم رضي الله عنهم إضافة إلى ما سبق ذكره - يسلكون مجالات أخرى للعناية بسُنَّة المصطفى صلى الله عليه وسلم والحفاظ عليها، من ذلك حفظها والتثبت من ذلك حتى كان أحدهم يرحل في الحديث الواحد مسافة شهر ليتثبَّت من حفظه، وكذلك كتابتها في الصحف والأجزاء، ثم نشرها بين الناس وغير ذلك من المجالات.
كل ذلك وفق منهج عملي وعلمي يمكن الإشارة إلى أهم ملامحه فيما يلي:
استشعر الصحابة الكرام رضي الله عنهم عظم المسؤلية الملقاة على عواتقهم لحفظ الشريعة - كتاباً وسنةً - وتطبيقها، ثم تبليغها إلى الأمة أداءاً للأمانة التي اختيروا لها كما أدَّاها رسول الله صلى الله عليه وسلم إليهم. وقد
--------------------------------------------
...তাঁদের (নারীদের) বিষয়াবলী সম্পর্কে যা জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন ছিল তা তাঁরা করতেন। যখন নবী (সা.)-এর পক্ষে কোনো নারীকে সরাসরি শরীয়তের বিধান (الحكم الشرعي) বর্ণনা করার ক্ষেত্রে কোনো সংকোচবোধ বা প্রতিবন্ধকতা থাকত, তখন তিনি তাঁর পবিত্র স্ত্রীদের একজনকে নির্দেশ দিতেন তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য; যেমনটি ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার পদ্ধতির বিষয়ে আয়েশা (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। ১
এভাবেই নবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় সর্বোত্তম প্রজন্মের (خير القرون) ব্যক্তিবর্গ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—পবিত্র সুন্নাহর প্রতি তাঁর পূর্ণ অনুসরণ, তাঁর আদেশ ও নিষেধের সীমানায় অবিচল থাকা, তাঁর ফয়সালার প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ, তাঁর আদর্শের যথাযথ অনুসরণ এবং তাঁর সুন্নাহ শেখার প্রতি তীব্র আগ্রহের মাধ্যমে সুন্নাহর চরম যত্ন নিতেন।
নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর, আমরা দেখতে পাই যে সাহাবীগণ (রা.)—পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ছাড়াও—মুস্তফা (সা.)-এর সুন্নাহর প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে এবং তা সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য পথ অবলম্বন করেছিলেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সুন্নাহ মুখস্থ রাখা এবং তা যাচাই করা (التثبت), এমনকি তাঁদের কেউ কেউ একটিমাত্র হাদিস যাচাই করার (التثبت) জন্য এক মাসের পথ সফর করতেন। তেমনিভাবে বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি (الصحف) ও ক্ষুদ্র সংকলনে (الأجزاء) হাদিস লিখে রাখা এবং মানুষের মাঝে তা প্রচার করাসহ অন্যান্য পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন।
এ সবকিছুই একটি প্রায়োগিক ও তাত্ত্বিক পদ্ধতির (منهج) আলোকে সম্পন্ন হয়েছিল, যার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নোক্তভাবে নির্দেশ করা যেতে পারে:
সম্মানিত সাহাবীগণ (রা.) শরীয়ত—কুরআন ও সুন্নাহ—সংরক্ষণ এবং তা বাস্তবায়নের জন্য তাঁদের কাঁধে অর্পিত মহান দায়িত্ব অনুভব করেছিলেন। এরপর সেই আমানত আদায়ের লক্ষ্যে উম্মতের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছিলেন যার জন্য তাঁরা মনোনীত হয়েছিলেন, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁদের নিকট তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদবীনুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ নাশাআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসিইল হিজরী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كانوا رضي الله عنهم خير من حمل هذه الأمانة وخير من أدَّاها بعد نبي الله صلى الله عليه وسلم، وكان هذا الاستشعار لعظم المسؤلية منطلقاً مما وعوه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في مثل قوله: "بلغوا عني ولو آية، وحدِّثوا عن بني إسرائيل ولا حرج". 1
وقوله: "نضَّر الله امرءاً سمع مقالتي ووعاها فأدَّاها كما سمعها، فرُبَّ مُبلغٍ أوعى من سامع". 2
وكذلك في مثل قوله عليه الصلاة والسلام: "من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار". 3
وقوله: "كفى بالمرء كذباً أن يحدِّث بكلِّ ما سمع". 4
وقوله: "من حدث عني بحديثٍ يرى أنه كذبٌ فهو أحد الكذابين". 5 وغير ذلك من الأحاديث
لذلك كله كان الصحابة رضوان الله عليهم مع حرصهم على تبليغ دين الله للأمة شديدي التحرِّي والتثبُّت فيما يروونه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكانوا لا يحدِّثون بشيءٍ إلا وَهُم واثقون من صحته عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا يقبلون من
--------------------------------------------
সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরে এই আমানত বহনকারী এবং তা আঞ্জাম দানকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন। দায়িত্বের এই মহানুভবতা ও গুরুত্বের অনুভূতি উৎসারিত হয়েছিল আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই বাণী থেকে যা তাঁরা অনুধাবন করেছিলেন, যেমন তাঁর বাণী: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়; আর বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, তাতে কোনো দোষ নেই।" 1
এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমার কথা শুনল, তা স্মরণ রাখল এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা অন্যের নিকট পৌঁছে দিল। কেননা, অনেক সময় যার নিকট পৌঁছে দেওয়া হয়, সে শ্রবণকারীর তুলনায় অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।" 2
অনুরূপভাবে তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এই বাণী: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন আগুনের মধ্যে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" 3
এবং তাঁর বাণী: "কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে।" 4
এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করে, যা সে মিথ্যা (كذب) বলে মনে করে, তবে সে মিথ্যাবাদীদেরই একজন।" 5 এবং অন্যান্য হাদিসসমূহ...
এসকল কারণেই সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) উম্মতের কাছে আল্লাহর দ্বীন পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করতেন, সে ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্কতা ও যাচাই-বাছাই (تثبت) অবলম্বন করতেন। তাঁরা ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো কিছু বর্ণনা করতেন না, যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সেটির বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন। আর তাঁরা গ্রহণ করতেন না...
--------------------------------------------